• ১৯ কার্তিক ১৪৩৩, সোমবার ০৯ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Son

দেশ

ইন্দিরার জরুরি অবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক সোনিয়া! সঞ্জয় গান্ধীকে একা দায়ী করতে নারাজ, ফাঁস করলেন কী?

১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলে দেশে জারি হয়েছিল জরুরি অবস্থা। ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সেই সময়কে আজও কালো অধ্যায় হিসাবে দেখা হয়। এ বার সেই জরুরি অবস্থা নিয়েই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর দাবি, জরুরি অবস্থার সময় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল ঠিকই, তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সংবিধান মেনেই। পাশাপাশি, জরুরি অবস্থার সময় হওয়া সমস্ত ভুলের জন্য শুধু সঞ্জয় গান্ধীকে দায়ী করতে রাজি নন তিনি। তাঁর মতে, সেই পরিস্থিতি তৈরির পিছনে অনেক প্রবীণ নেতা ও আমলারও ভূমিকা ছিল।আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ। বই প্রকাশের আগে একটি সাক্ষাৎকারে জরুরি অবস্থা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন তিনি।সোনিয়া বলেন, জরুরি অবস্থার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সেই সময় কত বড় ঘটনা ঘটেছিল। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই কাজ করা হয়েছিল সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।জরুরি অবস্থার সময়কার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সঞ্জয় গান্ধীর প্রসঙ্গও তোলেন সোনিয়া। তাঁর মতে, সেই সময়ের সমস্ত ঘটনার জন্য শুধু সঞ্জয়কে দায়ী করা ঠিক নয়। জরুরি অবস্থার সঙ্গে সঞ্জয়ের নাম জড়িয়ে থাকলেও, পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ছিল।সোনিয়ার দাবি, সেই সময় দেশে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছিল। সরকারি দফতর ও বাসে আগুন লাগানো হচ্ছিল। বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ছড়াচ্ছিল। এমনকি সরকারি আধিকারিক ও সেনাকর্মীদের নির্দেশ অমান্য করার আহ্বানও জানানো হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্দিরা গান্ধীকে প্রবল চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। একাধিক প্রবীণ নেতা ও আমলার তরফেও তাঁর উপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি সোনিয়ার।সেই সময় রাজীব গান্ধীও মায়ের সঙ্গে সব বিষয়ে একমত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সোনিয়া। তাঁর কথায়, রাজীব সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও অসন্তোষের কথা ইন্দিরা গান্ধীকে জানাতেন। শেষ পর্যন্ত ইন্দিরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেন।সোনিয়া আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭৭ সালের মার্চে নিজেই লোকসভা নির্বাচনের ঘোষণা করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সেই সঙ্গে তুলে নেওয়া হয়েছিল জরুরি অবস্থা। পরে জরুরি অবস্থার সময় হওয়া বাড়াবাড়ির জন্য প্রকাশ্যে অনুতাপও জানিয়েছিলেন ইন্দিরা। ক্ষমা চাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন সোনিয়া। তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছিল।একই সাক্ষাৎকারে গত ১২ বছরে বিজেপি সরকারের আমলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন সোনিয়া। তাঁর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা কি ভুলে গিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী? তাঁর বক্তব্য, সেই সময় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। প্রায় ২১ মাস পর, ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ তা তুলে নেওয়া হয়। সেই সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও তার প্রভাব নিয়ে দেশের রাজনীতিতে বিতর্ক এখনও অব্যাহত। সোনিয়া গান্ধীর নতুন মন্তব্যে সেই পুরনো বিতর্কই আবার সামনে এল।

নভেম্বর ০৭, ২০২৬
দেশ

সোনম ওয়াংচুকের স্কুলে তালা! হঠাৎ কেন বন্ধের নির্দেশ দিল লাদাখ প্রশাসন?

জমি নিয়ে আইনি জটিলতায় বন্ধ হয়ে গেল সোনম ওয়াংচুকের স্কুল। লাদাখের ফিয়াংয়ে অবস্থিত ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুল-এর সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। জমি সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত স্কুলের কোনও কাজ চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে লাদাখে।প্রশাসনের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ছাড়পত্র ছাড়াই স্কুলটি চালানো হচ্ছিল। সেই কারণেই গত ১ নভেম্বর লেহর তহশিলদার দফতর থেকে স্কুল বন্ধ রাখার নোটিস পাঠানো হয় সোনমের স্ত্রী তথা হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গীতাঞ্জলি জে আংমোকে।এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভসকে বরাদ্দ করা ১,০৭৬ কানাল জমি। জমির পরিমাণ প্রায় ১৩৪.৫ একর। এর সঙ্গে রয়েছে আরও এক মারলা জমি। প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জম্মু ও কাশ্মীর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় সোনমের প্রতিষ্ঠান। মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন।প্রশাসনের পাঠানো নোটিসে ২২ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন গীতাঞ্জলি লেহর ডেপুটি কমিশনারকে চিঠি লিখে স্কুলের প্রস্তাবিত পরিচালন সমিতির সদস্যদের জন্য অনাপত্তিপত্র চেয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেই ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই স্কুলে ক্লাস শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ।প্রশাসনের বক্তব্য, জমি সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত স্কুলের কাজকর্ম চালানো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান এবং তার প্রতিনিধিদের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। এমন কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না, যার প্রভাব আদালতে চলা মামলার উপর পড়তে পারে।ফলে আপাতত আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে সোনম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠানকে। জমি নিয়ে আইনি জট না কাটলে কবে আবার স্কুলের কাজকর্ম শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়, নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশ! কিউয়িদের ২২৫ রান টপকে সিরিজে এগিয়ে ভারত

ক্রাইস্টচার্চে চার উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় টিম ইন্ডিয়ার, শেষ মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিলেন নমন ধীর। তবে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েও বোলিংয়ের দুর্বলতা ঢাকতে পারল না ভারত।সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়, নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশ! কিউয়িদের ২২৫ রান টপকে সিরিজে এগিয়ে ভারতনিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতেই রুদ্ধশ্বাস জয় ভারতের। গ্লেন ফিলিপ্সের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২২৫ রানের পাহাড় গড়েও শেষরক্ষা হল না কিউয়িদের। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো অর্ধশতরান এবং শ্রেয়স আইয়ারের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর শেষবেলায় ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন নমন ধীর। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দুই বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেলেন সূর্যকুমার যাদবরা।নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ফিলিপ্সের দাপটটস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বড় রানের লক্ষ্যে এগোতে থাকে নিউজিল্যান্ড। ভারতের বোলাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করতে না পারায় ক্রমশ হাত খুলে খেলার সুযোগ পান কিউয়ি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তোলে স্বাগতিক দল। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের নজিরও গড়ে নিউজিল্যান্ড।কিউয়িদের ইনিংসের মূল আকর্ষণ গ্লেন ফিলিপ্স। কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলিংকে কার্যত দিশেহারা করে দেন তিনি। ৪৮ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন ফিলিপ্স। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক শটের সম্ভার। ইনিংসের শেষ বলেও সুইচ হিটে চার মেরে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন এই কিউয়ি তারকা।ফিলিপ্সকে যোগ্য সঙ্গত দেন ফিন অ্যালেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। এ ছাড়া বেভন জ্যাকবসের ৩১ এবং ড্যারিল মিচেলের ২৮ রানের ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেয়। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং ও ময়াঙ্ক যাদব একটি করে উইকেট নেন। তবে রান আটকানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শেষের দিকে কিউয়ি ব্যাটারদের আগ্রাসন সামলাতে পারেননি তাঁরা।সঞ্জুর বিধ্বংসী শুরু, পাওয়ার প্লে থেকেই চাপে কিউয়িরা২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার। সঞ্জুর ব্যাটে চার-ছক্কার বন্যায় দ্রুত বাড়তে থাকে ভারতের রান। মাত্র ২৩ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে কিউয়ি বোলারদের কোনও সুযোগই দিতে চাননি ভারতীয় ওপেনার।অভিষেক শর্মাও ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ১২ বলে ২৯ রান করে দলের রানকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। ফলে পাওয়ার প্লে-র পরেও রান তোলার গতি কমেনি ভারতের। সপ্তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারকে চার মেরে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করান সঞ্জু। আট ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় এক উইকেটে ১১২।কিন্তু এই ঝোড়ো শুরুই শেষ পর্যন্ত সহজ জয় এনে দিতে পারেনি ভারতকে। স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই বদলাতে থাকে ম্যাচের ছবি। ব্রেসওয়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষেক। এরপর তিলক বর্মার ব্যাট থেকেও প্রত্যাশিত রান আসেনি। ১১ বলে মাত্র ছয় রান করে আউট হন তিনি।এর মধ্যেই স্যান্টনারের বলে প্লেড-অন হয়ে সাজঘরে ফেরেন সঞ্জু। ৩৩ বলে ৬৭ রানের দুরন্ত ইনিংসে আটটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন তিনি। ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিলেও ম্যাচ শেষ করে যেতে পারেননি এই ওপেনার।মাঝের ওভারেই পাল্টে গেল ম্যাচের চিত্রসঞ্জু আউট হওয়ার পর ভারতের ব্যাটিংয়ে চাপ বাড়তে থাকে। তিন নম্বরের পরিবর্তে পাঁচ নম্বরে নামা ঈশান কিষাণও ব্যর্থ হন। মাত্র তিন বল খেলে এক রান করে ফেরেন তিনি। একসময় বিনা উইকেটে ৯৩ রান তুলে ফেলা ভারত অল্প সময়ের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।এরপর অক্ষর প্যাটেল ১৪ বলে ২৪ রান করে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় ম্যাচের রাশ ক্রমশ কিউয়িদের হাতে চলে যাচ্ছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি। ২৮ বলে ৪২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হন শ্রেয়স।শেষ ১২ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। চাপের মুখে ম্যাচ তখন কার্যত দোলাচলে। এমন পরিস্থিতিতেই ক্রিজে নিজের উপস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন নমন ধীর। দ্রুত রান তুলে ম্যাচের সমীকরণ বদলে দিতে শুরু করেন তিনি। কিউয়ি বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ভারতকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দেন এই ব্যাটার।শেষ ওভারে নমনের বিস্ফোরণ, জয় ভারতেরশেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল আট রান। উত্তেজনায় টানটান ম্যাচে তখন সামান্য ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত। কিন্তু নমন ধীর কোনওরকম স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়েননি। বরং সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক শট খেলেন তিনি। ম্যাট হেনরির বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দুই বল বাকি থাকতেই ভারতের জয় নিশ্চিত করেন নমন।মাত্র ১৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। সঞ্জুর বিধ্বংসী সূচনা এবং শ্রেয়সের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর নমনের এই ফিনিশিং ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি এনে দেয়। বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসও নিঃসন্দেহে বাড়াবে এই জয়।কিউয়িদের ফিল্ডিং ব্যর্থতাও ভারতের জয়ের বড় কারণতবে ভারতের জয়কে সহজ করে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাঁচটি ক্যাচ ফেলে দেন কিউয়ি ফিল্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্যাটাররা ম্যাচে টিকে থাকার পাশাপাশি রান তোলার গতি বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত ফিল্ডিংয়ের এই দুর্বলতার মূল্য দিতে হয় স্বাগতিক দলকে।যদিও ভারতের ফিল্ডিংও খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। দুই দলের ফিল্ডিংয়েই একাধিক ভুল চোখে পড়েছে। ফলে ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়ে জয় এলেও ভারতীয় দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।জয় এল, কিন্তু চিন্তা বাড়াল বোলিংম্যাচ জিতলেও ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গা কম। ২০ ওভারে ২২৫ রান খরচ করে কিউয়িদের বড় স্কোরে পৌঁছতে দেওয়া নতুন করে উদ্বেগ বাড়াবে টিম ম্যানেজমেন্টের। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান আটকাতে না পারা ভারতের দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।বড় রান তাড়া করে জয় পাওয়ার নজির আগেও রয়েছে ভারতের। তবে এই ম্যাচে ব্যাটাররা যেভাবে পরিস্থিতি সামলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন, বোলারদের কাছ থেকেও তেমনই কার্যকর পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করবে দল। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে সেই ঘাটতি মেটানোই হবে ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।সব মিলিয়ে ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টি-টোয়েন্টি ভারতের কাছে একদিকে স্বস্তির জয়, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও। সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং, শ্রেয়স আইয়ারের লড়াই এবং নমন ধীরের অবিশ্বাস্য ফিনিশিং ম্যাচ জিতিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বোলিংয়ের দুর্বলতা দূর করতে না পারলে পরের ম্যাচগুলিতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে নজর থাকবে সেই দিকেই।ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফলনিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ২২৫/৪ভারত: ১৯.৪ ওভারে ২৩০/৬ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ীসঞ্জু স্যামসন: ৩৩ বলে ৬৭শ্রেয়স আইয়ার: ২৮ বলে ৪২নমন ধীর: ১৫ বলে অপরাজিত ৪২গ্লেন ফিলিপ্স: ৪৮ বলে অপরাজিত ৮২

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
দেশ

রবিবারের মধ্যে আটক নেতাদের মুক্তি না দিলে অনশন! সিজেপির আন্দোলন ঘিরে ফের বার্তা সোনমের

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে একের পর এক নেতাকে আটক করার ঘটনায় এ বার সরব হলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। আটক ব্যক্তিদের রবিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে অনশন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে পদযাত্রাও করবেন বলে জানিয়েছেন সোনম। তাঁর এই বার্তাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক নেতা এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার খবর সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে বিরোধী দলের কয়েক জন শীর্ষ নেতাও ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করেন সোনম। তিনি জানান, আন্দোলনের আগে শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু এত জন নেতা-নেত্রী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের আটক করা হয়েছে জানতে পেরে তিনি উদ্বিগ্ন। সোনমের আশা, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে। তা না হলে রবিবারের মধ্যে অনশন শুরু করার কথা ভাববেন তিনি। প্রয়োজনে পদযাত্রার পথেও হাঁটতে পারেন বলে জানিয়েছেন সমাজকর্মী। সোনমের বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে এ ভাবে পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন বলেও তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে। তবে এ দিনের বিক্ষোভে তিনি নিজে যোগ দেননি। লাদাখে হিমবাহ সংক্রান্ত কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে তিনি কর্মসূচি থেকে দূরে ছিলেন, যদিও আটক আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুক্তির দাবি তুলেছেন। গত জুলাই মাসেও ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সেই সময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন হয়। দীর্ঘ বিক্ষোভের পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এ বার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজধানী। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে সোনমের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেদিকেই নজর।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি! কাঠুয়ায় সিআইএসএফ শিবিরে ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু ৪ জওয়ানের

জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় সিআইএসএফের একটি শিবিরে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসার পর এক সহকর্মী কয়েকজন জওয়ানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় চার সিআইএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সিআইএসএফ সূত্রে খবর, বিকেলে ডিউটি পরিবর্তনের সময় হেড কনস্টেবল অবধেশ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন জওয়ানের বচসা হয়। প্রথমে বিষয়টি কথা কাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে সেই বচসা বড় আকার নেয়।অভিযোগ, এক পর্যায়ে অবধেশ সিং নিজের রাইফেল তুলে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিতে চার জওয়ান গুরুতর আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।নিহত জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার এবং কনস্টেবল মহম্মদ রফিক।ঘটনার পর কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কী কারণে ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসা শুরু হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইএসএফ সদর দপ্তরের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সিআইএসএফের মহাপরিচালক গোটা পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। চার সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে এখন তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

'ধ্যনমগ্ন' অভিষেকের ঝড়ে আফগানিস্তান উড়ে গেল, ১২৭ রানে জয় ভারতের

সিরিজ় আগেই পকেটে চলে এসেছিল। তাই বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি ছিল কার্যত নিয়মরক্ষার। কিন্তু মাঠে নামার পর ভারত বুঝিয়ে দিল, সিরিজ় জেতাই তাদের শেষ কথা নয়শেষ ম্যাচটিও নিজেদের দাপটে জিততে চায় তারা। আর সেই জয়ের মঞ্চ তৈরি করে দিলেন অভিষেক শর্মা। তাঁর বিধ্বংসী শতরানের পর ভারতীয় বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে মাত্র ৯৪ রানেই গুটিয়ে গেল আফগানিস্তান। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১২৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ়ে আফগানিস্তানকে চুনকাম করল ভারত।টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজ়েই সাফল্যের মুখ দেখলেন শ্রেয়স আয়ার। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ২২১/৭ রান তোলে। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ৯৪ রানেই। ভারতের হয়ে নীতীশ রেড্ডি এবং রবি বিশ্নোই তিনটি করে উইকেট নেন। অক্ষর পটেল নেন দুটি, আর একটি করে উইকেট পান জসপ্রীত বুমরাহ ও যশ ঠাকুর।শুরু থেকেই ঝড় তুললেন অভিষেকভারতের ইনিংসের শুরুটা ছিল একেবারেই অন্য রকম। ওপেন করতে নেমে অভিষেক শর্মা প্রথম ওভারটি কিছুটা দেখে খেললেও তার পর থেকেই বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ফজলহক ফারুকি-সহ আফগান বোলারদের উপর একের পর এক আক্রমণ শুরু করেন তিনি।দ্বিতীয় ওভারে আসে ১৭ রান, পরের ওভারে ২৩। আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জ়াদরান দ্রুত স্পিন আক্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মহম্মদ নবির ওভারও বাঁচাতে পারেনি আফগানিস্তানকে। সেই ওভার থেকেই ভারত পেয়ে যায় ২৯ রান।পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ভারতের স্কোর পৌঁছে যায় ১০০-তে। অভিষেক তখন কার্যত একাই আফগান বোলিংকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছেন। অন্য প্রান্তে সঞ্জু স্যামসনও তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন। এমনকি ২২ রানের মাথায় সঞ্জুর ক্যাচ পড়ে যাওয়াও আফগানিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।১৬ বলে অর্ধশতরান, ৩০ বলে শতরানঅভিষেকের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল তাঁর গতির ধারাবাহিকতা। মাত্র ১৬ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। এরপরও থামার কোনও লক্ষণ ছিল না। বরং সময় যত গড়িয়েছে, তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়েছে আরও বেশি বড় শট।মাত্র ৩০ বলে শতরান পূর্ণ করেন অভিষেক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে দ্রুততম শতরানের নজিরগুলির তালিকাতেও নিজের জায়গা আরও শক্ত করেন তিনি। শতরানের পর তাঁর উদযাপনও ছিল নজরকাড়া। ব্যাট তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার পর হঠাৎ মাঠে বসে ধ্যানের ভঙ্গিতে উদযাপন করতে দেখা যায় তাঁকে। ফুটবল তারকা আর্লিং হালান্ডের গোল উদযাপনের সঙ্গে সেই দৃশ্যের মিল খুঁজে পান অনেকেই।শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের বলে অভিষেকের ইনিংস থামে। ৩৪ বলে ১০৮ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ১১টি ছক্কা। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই আসে ১০২ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি অভিষেকের তৃতীয় শতরান।সঞ্জুর ব্যাটেও অর্ধশতরানঅভিষেকের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের মাঝে নিজের ইনিংসটি ধৈর্য ধরে এগিয়ে নিয়ে যান সঞ্জু স্যামসন। অভিষেক যখন একের পর এক ছক্কা মারছিলেন, তখন অন্য প্রান্ত থেকে তাঁকে সঙ্গ দেওয়াই ছিল সঞ্জুর প্রধান দায়িত্ব। শেষ পর্যন্ত তিনিও পৌঁছে যান অর্ধশতরানে।সঞ্জুর ৫০ রানের ইনিংস শেষ হয় অর্ধশতরান পূর্ণ করার পরেই। তিলক বর্মা মাত্র ২ রান করে ফেরেন। শিবম দুবে ১৪ রান করে আউট হন। ঈশান কিশনও বড় ইনিংস খেলতে পারেননিতাঁর সংগ্রহ ১০।মাঝের দিকে পর পর উইকেট পড়ায় ভারতের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। তিনি করেন ২৯ রান। শেষ পাঁচ ওভারে ভারত মাত্র ৩৭ রান তুলতে পারায় ৩০০ রানের সম্ভাবনা বাস্তবে পরিণত হয়নি। তবুও ২২১ রানের লক্ষ্য আফগানিস্তানের সামনে যথেষ্ট বড় হয়ে দাঁড়ায়।তিন ওভারে ৩১, তারপরই ধসজবাবে আফগানিস্তানও শুরুটা করেছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। প্রথম তিন ওভারেই উঠে যায় ৩১ রান। মনে হচ্ছিল, ভারতের বড় রান তাড়া করতে গিয়ে অন্তত শুরুটা শক্তিশালী রাখতে চাইছে আফগান দল।কিন্তু এরপরই ভারতীয় বোলারদের সামনে দ্রুত পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। রহমানুল্লাহ গুরবাজ় ১৫ এবং ইব্রাহিম জ়াদরান ২৫ রান করে ফিরে যাওয়ার পর আফগান ব্যাটিংয়ে আর কোনও প্রতিরোধ দেখা যায়নি।একটার পর একটা উইকেট পড়তে থাকে। ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে অভিজ্ঞ রশিদ খান, মহম্মদ নবিরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ইনিংস গড়ে তুলতে পারেননি। মাত্র দুজন আফগান ব্যাটার দুই অঙ্কের বেশি রান করতে সক্ষম হন।বোলারদের দাপটে ৯৪ রানেই শেষআফগানিস্তানের রান তাড়া থেমে যায় ৯৪ রানেই। নীতীশ রেড্ডি এবং রবি বিশ্নোই তিনটি করে উইকেট নিয়ে আফগান ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। অক্ষর পটেল তুলে নেন দুটি উইকেট। বুমরাহ এবং যশ ঠাকুর পান একটি করে।ভারতের পক্ষে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল বুমরাহকে খুব বেশি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি। মাত্র দুই ওভার বল করেই নিজের কাজ সেরে নেন তিনি।তিন ম্যাচেই ভারতের একতরফা দাপটতিন ম্যাচের সিরিজ়ের কোনও ম্যাচেই ভারতকে সেভাবে চাপে ফেলতে পারেনি আফগানিস্তান। ব্যাটিং হোক বা বোলিংদুই বিভাগেই ভারত ধারাবাহিক ভাবে এগিয়ে থেকেছে।শেষ ম্যাচে সেই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। অভিষেক শর্মার বিস্ফোরক ব্যাটিং ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয়, আর পরের কাজটি নিখুঁত ভাবে শেষ করেন বোলাররা। ফলে সিরিজ়ের শেষ ম্যাচেও আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ানোর মতো সুযোগ তৈরি হয়নি।শ্রেয়স আয়ারের নেতৃত্বে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ়েই ভারতের এই সাফল্য যেমন উল্লেখযোগ্য, তেমনই আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেন অভিষেক শর্মা। ৩৪ বলে ১০৮ রানের সেই ইনিংস শুধু ম্যাচের মোড় ঘোরায়নি, সিরিজ়ের শেষ ম্যাচটিকেও পরিণত করেছে এক ক্রিকেটীয় প্রদর্শনীতে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

আটটি চেম্বার, প্রেসক্রিপশনে বিদেশি ডিগ্রি! রোগী সেজে পুলিশ যেতেই ধরা পড়লেন ‘ডাক্তার’

সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকায় একের পর এক চেম্বার খুলে চিকিৎসা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট বলে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বরূপ আচার্য। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা ফি নেওয়া হলেও তিনি আদৌ চিকিৎসক নন। তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাডে বিদেশি ডিগ্রির উল্লেখ থাকলেও তদন্তে সেগুলি ভুয়ো বলে অভিযোগ উঠেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরে ঘাসিয়াড়া এলাকায় মোট আটটি চেম্বার খুলেছিলেন বিশ্বরূপ। রোগী পিছু ৮০০ টাকা করে ফি নেওয়া হত বলে অভিযোগ। ধীরে ধীরে এলাকায় তাঁর পরিচিতিও তৈরি হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি এই ভাবেই তিনি বিপুল টাকা উপার্জন করছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।সম্প্রতি একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নতুন করে চেম্বার খোলেন বিশ্বরূপ। সেই সময় বাড়ির মালিকের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়। তাঁর পরিচয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় বাড়ির মালিকের মনে। এরপরই সোনারপুর থানায় অভিযোগ জানান তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্তে নেমে পুলিশ অভিনব কৌশল নেয়। সোমবার রাতে রোগীর ছদ্মবেশে বিশ্বরূপের চেম্বারে পৌঁছে যান পুলিশকর্মীরা। রোগীর মতো করেই তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করা হয়। কয়েক মিনিটের কথোপকথনের পরই পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয় বলে জানা গিয়েছে।এরপর বিশ্বরূপকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি কোনও স্বীকৃত চিকিৎসক নন। তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাডে থাকা একাধিক ডিগ্রিও ভুয়ো বলে অভিযোগ। নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে এত দিন কী ভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা নিয়েই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে।পুলিশের আরও প্রশ্ন, বিশ্বরূপ কোথা থেকে এই ভুয়ো ডিগ্রিগুলি সংগ্রহ করেছিলেন এবং এর পিছনে অন্য কেউ জড়িত কি না। ভুয়ো শংসাপত্র তৈরির সঙ্গে কোনও চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার বিশ্বরূপকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে আটটি চেম্বারে তাঁর চিকিৎসার নামে কী ধরনের কাজ চলছিল এবং তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়গুলিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

মিরিক যাওয়ার পথে ফের বিপদ! বালাসনের জলে ভেসে গেল অস্থায়ী সেতু

রাতভর টানা বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। বালাসন নদীর জলস্তর বাড়তেই কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। এর ফলে সড়কপথে মিরিকের সঙ্গে যোগাযোগ আংশিক ভাবে ব্যাহত হয়েছে। আপাতত বেইলি সেতু দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করলেও বড় গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তার উপর নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকেরা।গত জুলাইয়েও টানা বৃষ্টিতে বালাসন নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শেষ পর্যন্ত জলের তোড়ে ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।এর পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় সেতু মেরামতির কাজ। দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সেনার তরফে তৈরি করা হয় বেইলি সেতুও। কিন্তু দেড় মাস যেতে না যেতেই ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হল।বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে বালাসন নদীর জলস্তর। এক সময় নদীর প্রবল স্রোতে ফের ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। ফলে মিরিকের পথে নতুন করে তৈরি হয়েছে যোগাযোগের সমস্যা।আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি সরে গিয়ে এখন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকে রয়েছে। পাশাপাশি হরিয়ানা থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওই নিম্নচাপ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। সেই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। এর প্রভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলির দু-এক জায়গাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।শনিবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও থাকছে। দুধিয়ার সেতু ভেসে যাওয়ার পর নতুন করে সেই আশঙ্কা স্থানীয়দের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস।দুধিয়ার সেতু ফের ভেসে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মিরিকমুখী পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আপাতত ছোট গাড়ি বেইলি সেতু দিয়ে চলাচল করলেও বড় গাড়ি বন্ধ থাকায় যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
দেশ

রাহুলকে ডেকেও সাড়া মেলেনি! বিস্ফোরক অভিযোগে মুখ খুললেন সোনম ওয়াংচুক

রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। দীর্ঘ অনশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শুধু রাহুল গান্ধী নন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই কারণেই এখন সব রাজনৈতিক নেতার উপর থেকে তাঁর আস্থা উঠে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনম।নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে টানা ছাব্বিশ দিন অনশন করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী চেয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে অনশন ভাঙতে। সেই উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। সোনমের কথায়, তাঁর স্ত্রীর কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি শুধু চেয়েছিলেন রাহুল এসে অনশন ভাঙান। কিন্তু তা হয়নি।অনশন শেষ হওয়ার সময়ের ঘটনাও সামনে এনেছেন সোনম। তাঁর দাবি, তিনি চেয়েছিলেন শাসক ও বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি ছাত্র প্রতিনিধিরাও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকুন। সেই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং মধ্যরাতে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আনুষ্ঠানিকভাবে অনশন শেষ করার ঘোষণার পরেই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। আগেভাগেই ছবি প্রকাশ্যে চলে আসে। এই ঘটনায় তিনি গভীরভাবে হতাশ হন।সোনম ওয়াংচুক বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর কথায়, এখন তিনি কোনও রাজনৈতিক নেতার উপরই আর ভরসা করতে পারেন না।মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যে রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ উঠেছিল, তা-ও খারিজ করেছেন সোনম। তাঁর বক্তব্য, যদি রাজনৈতিক সমঝোতাই উদ্দেশ্য হত, তাহলে ছাব্বিশ দিন অনশন করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ছাত্রদের স্বার্থেই তিনি আন্দোলনে নেমেছিলেন। তাঁর দাবি, গোটা আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং তার লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র জনস্বার্থ।

আগস্ট ০৭, ২০২৬
দেশ

চাপ বাড়তেই বড় ঘোষণা! নিট মামলায় দ্রুত বিচারের পথে কেন্দ্র, সামনে নতুন অধ্যায়

নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই দীর্ঘ ছাব্বিশ দিনের অনশন শেষ করেছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। অনশনের পর কেন্দ্র নিট সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।দীর্ঘদিন ধরে সোনম ওয়াংচুক প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবারের উদ্বেগকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।দীর্ঘদিন ধরে নিট, জেইই এবং অন্যান্য সর্বভারতীয় পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই এই সংস্থার কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে একাধিক পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে।সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।সোনম ওয়াংচুকের অনশন দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। বহু পড়ুয়া, অভিভাবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এখন নজর, সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষা ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আসে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

শেষ পর্যন্ত কেন অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক? সামনে এল পর্দার আড়ালের বড় তথ্য

ছাব্বিশ দিনের টানা অনশনের পর অবশেষে অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে তরল খাদ্য গ্রহণ করে তিনি অনশন শেষ করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাসহ একাধিক দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।সূত্রের খবর, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠার পর কেন্দ্রীয় স্তরে একাধিক বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে সোনমের দাবিগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাঁর শারীরিক নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং সোনম ওয়াংচুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর স্ত্রীকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি সোনমকে অনশন ভাঙানোর জন্যও পরিবারের সহযোগিতা চাওয়া হয়।পরে জেপি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিং হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আশ্বাসপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাঁকে জানানো হয়, আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিরপেক্ষ জায়গায় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।সূত্রের দাবি, কেন্দ্র নতুন আইন আনার বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়েও সদর্থক অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। সরকারের আশ্বাসের পরই অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন সোনম ওয়াংচুক।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে খেলেন জল

নয়াদিল্লি: টানা ২৬ দিন অনশন করার পর অবশেষে অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরগাঁওয়ের মেডান্তা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁদের উপস্থিতিতেই অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক।সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর সহায়তায় কাপ থেকে জল পান করছেন ওয়াংচুক। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোও। অনশন ভাঙার পর ওয়াংচুক বলেন, আমি কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত যে আজ আমার অনশন ভাঙতে পারছি। আপনাদের ধন্যবাদ। স্ত্রী গীতাঞ্জলির উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি তাঁর পাশে থেকেছেন।অনশন ভাঙার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তায় ওয়াংচুক জানান, ২৬ দিন পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন অথবা চিঠির মাধ্যমে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর একাধিক শর্ত নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান ওয়াংচুক।আরও পড়ুনঃ দুই ঘণ্টার অপেক্ষার পর অবশেষে নাড্ডার সাক্ষাৎ! সিজেপিকে কী আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কী কী শর্তে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন, তা শীঘ্রই একটি পৃথক ভিডিও বার্তায় বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের কোথাও যাতে কোনও ধরনের হিংসার ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন ওয়াংচুক।ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ওয়াংচুককে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে হবে এবং দ্রুত তাঁর হারানো ওজন ফিরে পেতে হবে। তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।এর আগে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা প্রতিবাদের মধ্যেই তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালেও তিনি তাঁর অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যান।END OF HUNGER... BEGINNING OF ACCOUNTABILITY...!Sonam Wangchuk ends his fast after 26 days upon getting assurance from the government and members of parliament of all political parties that the issue of accountability in the failing examination system will be discussed on the pic.twitter.com/0C9YX5VlsL Sonam Wangchuk (@Wangchuk66) July 24, 2026বুধবার ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে নাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত। তাঁর আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি।আরও পড়ুনঃ পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পথে সিজেপি, যন্তর মন্তরে তুমুল ধুন্ধুমারগত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে ছিলেন ওয়াংচুক। পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের জেরে তাঁর অনশন জাতীয় স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।এদিকে, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের যাতে একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।Sonam Wangchuk ji has ended his fast after my colleagues, Shri @JPNadda ji and Shri @DrJitendraSingh ji met him at Medanta Hospital, Gurugram, and assured him of the governments commitment to address the concerns.Wangchuk jis decision to end his fast reflects his trust in the pic.twitter.com/T5KGB4X25b Piyush Goyal (@PiyushGoyal) July 24, 2026প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের মতো গুরুতর মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মধ্যেই সোনম ওয়াংচুক তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভাঙায় আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

হাসপাতালেও অনশন ভাঙলেন না সোনম, মুক্তির দাবিতে হাই কোর্টে স্ত্রী

২১ দিন অনশনের পর জোর করে সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে নিয়েও তাঁর অনশন ভাঙানো যায়নি। তিনি চিকিৎসা নিতে অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অভিযোগ করেছেন, তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সেই কারণেই তিনি দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।শনিবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, সোনমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েছে এবং পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাচ্ছে। রক্তচাপ, নাড়ির গতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও চিকিৎসকদের মতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।হাসপাতাল সূত্রে খবর, সোনমকে আইভি ফ্লুইড দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছেন। এমনকি কোনও ওরাল ওষুধও গ্রহণ করছেন না। অর্থাৎ, জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও তিনি এখনও অনশন প্রত্যাহার করেননি।গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোনমকে ছাড়ছে না এবং বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতিও দিচ্ছে না। তাঁর দাবি, এতদিন যাঁরা সোনমের চিকিৎসা করছিলেন, তাঁরাই যেন চিকিৎসার দায়িত্ব পান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল চত্বরে একশোর বেশি পুলিশ মোতায়েন করে সোনমকে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়েছে।অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে আন্দোলন আরও জোরদার হচ্ছে। এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি এবং যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ যন্তরমন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার থেকেই তাঁদের এই কর্মসূচি শুরু হবে।সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও তিনি অনশনে অটল রয়েছেন। এখন নজর দিল্লি হাই কোর্টের দিকে, যেখানে তাঁর স্ত্রী দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছেন।

জুলাই ১৯, ২০২৬
দেশ

২০ দিনের অনশনে শরীর ভেঙে পড়েছে! সোনমকে ঘিরে বড় আশঙ্কা চিকিৎসকদের

সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে শনিবার সকালে দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। টানা ২০ দিন অনশনে থাকার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, তিনি স্যালাইন, ওষুধ বা অন্য কোনও চিকিৎসা নিতে রাজি হননি। চিকিৎসকেরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।গত ২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর প্রায় ৯ কেজি ওজন কমে গেছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই অবস্থায় অনশন চলতে থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে কিডনির উপর গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।শনিবার প্রকাশিত হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিনে বলা হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ সত্ত্বেও সোনম কোনও ধরনের স্যালাইন, ওআরএস বা ওষুধ গ্রহণ করতে চাননি। তাই তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর সারাক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাঁকে চিকিৎসা গ্রহণে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল প্রায় পৌনে আটটা নাগাদ ৫৯ বছর বয়সি সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার সময় তিনি সচেতন ছিলেন। তাঁর রক্তচাপ, নাড়ির গতি এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও শরীরে জলের ঘাটতি ধরা পড়ে। দীর্ঘ অনশনের কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন।উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখার কথাও বলা হয়। সেই নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

জুলাই ১৮, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

সোনমকে চিনতেনই না আমির! ‘থ্রি ইডিয়টস’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ভেঙে গেল বহু বছরের বিশ্বাস

দিল্লির যন্তরমন্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনশনে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে নিয়ে বহু বছরের একটি প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিলেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই বিশ্বাস করতেন, জনপ্রিয় ছবি থ্রি ইডিয়টস-এর ফুনসুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুককে ভিত্তি করেই তৈরি। তবে সেই দাবি একেবারে খারিজ করে দিয়েছেন আমির।লন্ডনে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে থ্রি ইডিয়টস ছবির বিশেষ প্রদর্শনের পর প্রশ্নোত্তর পর্বে আমির বলেন, ছবির গল্প বা তাঁর চরিত্র কোনওভাবেই সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকে নেওয়া নয়। চিত্রনাট্য লেখা এবং ছবির কাজের সময় তাঁরা সোনম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এমনকি ব্যক্তিগতভাবেও তিনি সোনমকে চিনতেন না বলে জানান অভিনেতা।আমিরের এই বক্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, এর আগেই একটি জনপ্রিয় কুইজ অনুষ্ঠানে সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, বহু বছর আগে দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আমিরের দেখা হয়েছিল। সেই সময় তিনি সিয়াচিন নিয়ে একটি ছবি তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। পাশাপাশি যুদ্ধ নয়, শান্তির বার্তা তুলে ধরার অনুরোধ করেছিলেন অভিনেতাকে।/pসেই পুরনো ভিডিও আবারও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, আমির কি সেই সাক্ষাতের কথা ভুলে গিয়েছেন, নাকি বর্তমান বিতর্ক এড়াতেই এই মন্তব্য করেছেন?উল্লেখ্য, দুই হাজার নয় সালে মুক্তি পাওয়া থ্রি ইডিয়টস ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় ছবি। ছবিটি মূলত চেতন ভগতের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল। তবে ফুনসুখ ওয়াংড়ু চরিত্রকে ঘিরে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে মিলের আলোচনা বহু বছর ধরেই চলছিল। এবার সেই জল্পিত সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি মুখ খুলে সব জল্পনায় ইতি টানার চেষ্টা করলেন আমির খান। তবে তাঁর এই মন্তব্যের পর বিতর্ক আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

জুলাই ১৭, ২০২৬
দেশ

উদ্বেগ বাড়ছে! টানা অনশনে সোনমের ওজন কমল সাড়ে আট কেজি, নড়েচড়ে বসল আদালত

টানা উনিশ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, এই কয়েক দিনে তাঁর ওজন সাড়ে আট কেজিরও বেশি কমে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে বিষয়টি নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে জরুরি আবেদন করা হয়। এরপর আদালত কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।আদালতে জানানো হয়, সোনম যদি অনশন না ভাঙেন, তবে তাঁর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়, শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ পৌঁছে দেওয়ার জন্য দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।এই আবেদন শুনে আদালত জানায়, প্রতিটি নাগরিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। তাই সোনমের শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখতে হবে। সরকারি চিকিৎসকদের দিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও আদালতে জানানো হয়েছে, সোনমের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উপর ইতিমধ্যেই নজর রাখা হচ্ছে। চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রয়োজন হলে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে বলেও কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে।চিকিৎসকদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোনমের ওজন নেমে এসেছে প্রায় ছাপ্পান্ন কেজির কাছাকাছি। মাত্র এক দিনেই আরও প্রায় আধ কেজি ওজন কমেছে। রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই নেমে গেছে। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।দীর্ঘদিনের এই অনশন ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। আদালতের নির্দেশের পর এখন নজর কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

জুলাই ১৬, ২০২৬
দেশ

অনশনে সোনম, উদ্বেগে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর অভিনেতা! কী এমন বললেন ওমি বৈদ্য?

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। নিট-সহ একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিও জানিয়েছে তারা। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী ও গবেষক সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন থ্রি ইডিয়টস ছবির অভিনেতা ওমি বৈদ্য।সম্প্রতি সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন ওমি বৈদ্য। পরে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, সোনমের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তিত। তাঁর কথায়, দীর্ঘ অনশনের কারণে সোনমের যেন কোনও অঘটন না ঘটে, সেটাই তিনি চান।ভিডিও বার্তায় ওমি বৈদ্য সকলকে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার আবেদন জানান। তাঁর দাবি, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, লাদাখের স্বায়ত্তশাসন এবং পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছেন সোনম। এই বিষয়গুলি সম্পর্কে মানুষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, অনশন শুরুর পর থেকে সোনম ওয়াংচুকের ওজন প্রায় আট কেজি কমে গিয়েছে। রক্তে শর্করার মাত্রাও কমে গেছে বলে জানা গিয়েছে। তবুও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।ভিডিও বার্তায় আবেগঘন সুরে ওমি বৈদ্য বলেন, আমি চাই না ফুনসুখ ওয়াংড়ু মারা যান। উল্লেখ্য, থ্রি ইডিয়টস ছবির ফুনসুখ ওয়াংড়ু চরিত্রটি বাস্তবের সোনম ওয়াংচুককে অনুপ্রেরণা করেই তৈরি হয়েছিল। অভিনেতা আরও বলেন, আপনি তাঁর সঙ্গে একমত না-ও হতে পারেন, কিন্তু তাঁর মতো একজন অনুপ্রেরণাদায়ক মানুষকে হারানো উচিত নয়।শেষে তিনি সকলকে সমাজ ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি থ্রি ইডিয়টস-এর জনপ্রিয় সংলাপের ঢঙে নিজের বক্তব্য শেষ করেন ওমি বৈদ্য।

জুলাই ১৪, ২০২৬
রাজ্য

ভোর হতেই বড় অভিযান! শওকত মোল্লার ছেলের ক্যাফেতে বুলডোজার, মুহূর্তে গুঁড়িয়ে গেল সব

মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে ক্যাফে তৈরির অভিযোগে শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু করল জেলা প্রশাসন। আগেই সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ক্যাফেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও সেই নির্দেশ মানা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসন নিজেই বুলডোজার নামিয়ে অভিযান চালায়।ভোর থেকেই ক্যাফের সামনে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও রাখা হয় ঘটনাস্থলে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শুরু হয় ভাঙার কাজ। প্রথমে বুলডোজার দিয়ে ক্যাফের প্রধান প্রবেশদ্বার ভেঙে ফেলা হয়। এরপর একে একে ভেঙে দেওয়া হয় ক্যাফের ভিতরের বিভিন্ন নির্মাণ এবং সাজানো বাগানের অংশ।এর কয়েক দিন আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাফে ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় প্রশাসন নিজেই ব্যবস্থা নেবে। নোটিসের পর ক্যাফে থেকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ ভাঙা হয়নি। এরপরই প্রশাসন আইন অনুযায়ী অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।এই ভাঙার কাজ ক্যানিং পূর্বের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমির উপর বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুনানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজ উদ্যোগে নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারি নিয়ম মেনেই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে।উল্লেখ্য, এই ক্যাফে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত ভাঙার নির্দেশ কার্যকর করা হল।

জুলাই ০২, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার এনআরএসের চিকিৎসকের ঝুলন্ত দেহ! ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনেছিলেন আবাসিকেরা, ঘনাচ্ছে রহস্য

নাগেরবাজারের একটি হস্টেল থেকে উদ্ধার হল এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম অভিজিৎ সরকার (৩০)। তিনি এনআরএস হাসপাতালের হাউস স্টাফ ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় হস্টেলের ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চিকিৎসকের মৃত্যুর পিছনে কী কারণ, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় হস্টেলের ঘরে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় অভিজিতের দেহ দেখতে পান আবাসিকেরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত। হস্টেলের অন্যান্য আবাসিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।তদন্তে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হস্টেলের কয়েক জন আবাসিক দাবি করেছেন, ঘরের ভিতর থেকে বাঁচাও, বাঁচাও বলে চিৎকার শুনেছিলেন তাঁরা। সেই দাবি ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কখন ওই চিৎকার শোনা গিয়েছিল? চিৎকার শোনার পর কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।মাত্র ৩০ বছর বয়সি এক চিকিৎসকের এমন আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যার আশঙ্কা করা হলেও, মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।ইতিমধ্যে হস্টেল থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি হস্টেলের আবাসিকদের বয়ান এবং ঘটনার আগে ও পরের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আরজি কর-কাণ্ডের স্মৃতি এখনও তাজা। তার মধ্যেই এক চিকিৎসকের হস্টেলে এমন মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অভিজিতের মৃত্যুর সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

নভেম্বর ০৮, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বাধা, তাই কেরলে নতুন কৌশল! মোদী সরকারের বিরুদ্ধে পথে অভিজিৎ দীপক, পাশে প্রকাশ রাজ

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন প্রথম দিকে বেশ সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আন্দোলনের প্রভাব কিছুটা কমেছে। এর আগে দিল্লিতে দুবার গ্রেফতার হয়েছেন দলের নেতা অভিজিৎ দীপক ও সৌরভ দাসরা। অন্য দিকে, দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের বিরুদ্ধে আন্দোলনও তেমন জমেনি। তাই এ বার কংগ্রেস শাসিত কেরলের কোচিতে নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি নিলেন অভিজিৎ দীপকেরা। এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভের মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করলেন তাঁরা।সম্প্রতি একাধিক বার গ্রেফতার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককেও তাঁর বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে গ্রেফতারি বা পুলিশের পদক্ষেপে যে তিনি পিছিয়ে আসবেন না, কোচির সভা থেকে সেই বার্তাই দিলেন তিনি।শনিবার কোচির মেরিন ড্রাইভে মিছিল করেন দলের নেতা ও সমর্থকেরা। এই কর্মসূচি থেকে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি মোদী সরকারকেও আক্রমণ করেন অভিজিৎ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও ওঠে মিছিল থেকে।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ বলেন, জাতীয় পতাকা তোলার জন্য তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর দুই সঙ্গী সৌরভ ও আশুকেও একই কারণে জেলে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিজিতের কথায়, ব্রিটিশ শাসনের সময় ভারতে এমন ঘটনা ঘটত। স্বাধীনতার পর আবার কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে অভিজিৎ জানান, আন্দোলন থামাতে গ্রেফতার করা হলেও তিনি পিছিয়ে আসবেন না। আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ কর্মসূচি করবেন তাঁরা। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরল কিংবা তামিলনাড়ুযেখানেই তাঁদের আটক করা হোক না কেন, আবার জাতীয় পতাকা তুলে প্রতিবাদ জানাবেন বলে ঘোষণা করেন তিনি।এ দিন কোচির রাস্তায় জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলে হাঁটেন ককরোচ জনতা পার্টির বহু সমর্থক। মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। দলের এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি। বামপন্থী যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইও এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে। ফলে মিছিলে বেশ ভালো ভিড় দেখা যায়।তবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। মিছিল থেকে একাধিক বার আজাদি স্লোগান ওঠে। সব মিলিয়ে দিল্লিতে বারবার গ্রেফতারির পর কেরলের কোচিতে নতুন করে আন্দোলনের মঞ্চ তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করলেন অভিজিৎ দীপকেরা।

নভেম্বর ০৮, ২০২৬
দেশ

সীমান্তে জওয়ানদের সঙ্গেই দীপাবলি কাটাবেন মোদি! কোথায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী? জল্পনা তুঙ্গে

দেশবাসীকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আলোর উৎসবের দিনে সীমান্তে কর্তব্যরত সেনাদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথাও জানালেন তিনি। শনিবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতি বছরের মতো এ বারও দীপাবলির দিন দেশের বীর জওয়ানদের সঙ্গে কাটাবেন তিনি। তবে এ বার ঠিক কোন সেনা ছাউনি বা সীমান্ত এলাকায় যাবেন, তা এখনও জানাননি প্রধানমন্ত্রী।ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, দীপাবলির পবিত্র উৎসবে গোটা দেশ আলোয় সেজে উঠেছে। অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াই এবং নতুন আশার বার্তা দেয় এই উৎসব। দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দীপাবলি সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অন্য সকলের মতো তিনিও অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এই উৎসব পালন করেন। তবে দীপাবলির দিন সেনাদের সঙ্গে সময় কাটানো তাঁর কাছে বিশেষ অভ্যাস হয়ে উঠেছে। তাই এ বারও দেশের নিরাপত্তায় সীমান্তে পাহারায় থাকা জওয়ানদের সঙ্গেই উৎসবের দিনটি কাটাবেন তিনি।তবে এ বার প্রধানমন্ত্রীর গন্তব্য কোথায়, তা নিয়ে এখনও কৌতূহল রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে সাধারণত শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সফরের জায়গা প্রকাশ করা হয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই সেনা বা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করেছেন মোদি। কখনও সিয়াচেনে, কখনও কাশ্মীরে, আবার কখনও নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিক্রান্তে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে উৎসব কাটিয়েছেন তিনি।এ দিন সকালে উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গেও দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। দুজনে একে অপরকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান। পরে সেই সাক্ষাতের ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন মোদি। তিনি জানান, উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে দীপাবলির শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।এর আগে ধনতেরস উপলক্ষেও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ বার দীপাবলির শুভেচ্ছা বার্তার পাশাপাশি সেনাদের সঙ্গে উৎসব কাটানোর কথা জানিয়ে দেশের নিরাপত্তারক্ষীদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও দিলেন তিনি।

নভেম্বর ০৮, ২০২৬
বিদেশ

আমেরিকায় দীপাবলির অনুষ্ঠানেই তাণ্ডব! হিন্দুদের ‘দেশছাড়া’র ডাক, ট্রাম্পের মাগা সমর্থকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আমেরিকার সিয়াটেলে দীপাবলির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হল তীব্র উত্তেজনা। অভিযোগ, উৎসব চলাকালীন সেখানে ঢুকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক স্লোগান দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কট্টর দক্ষিণপন্থী সমাজকর্মী জেক ল্যাং। শুধু স্লোগান নয়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষদের হেনস্থা ও হামলার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকায় শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সিয়াটেলে দীপাবলির অনুষ্ঠান চলাকালীন সেখানে প্রবেশ করেন জেক ল্যাং এবং তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের হাতে ছিল একাধিক প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ছিল হিন্দু-বিরোধী নানা বার্তা। অভিযোগ, তাঁরা হিন্দুদের আমেরিকা থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানান। এমনকি খ্রিস্টানদের দেশে হিন্দুদের কোনও জায়গা নেই বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি বিশেষ অবমাননাকর শব্দডট হেড। মূলত কপালে টিপ, তিলক বা সিঁদুর পরা ভারতীয় এবং হিন্দুদের অপমান করতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। দীপাবলির মতো একটি ধর্মীয় উৎসবের অনুষ্ঠানে এই ধরনের মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে।ঘটনার পর সমাজমাধ্যমেও সরব হন জেক ল্যাং। সেখানে হিন্দুদের উদ্দেশে কটূক্তি করার পাশাপাশি আমেরিকার রাজনীতিতে তাঁদের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, হিন্দুদের কারণেই আমেরিকায় ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য তথা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেত্রী প্রমিলা জয়পাল। গোটা ঘটনাকে ঘৃণ্য এবং বর্ণবিদ্বেষী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রমিলা লেখেন, এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। দীপাবলি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। আমেরিকায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নিরাপদে এই উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, আমেরিকায় বিদ্বেষের কোনও জায়গা নেই।প্রমিলা জয়পাল ছাড়াও বহু মার্কিন নাগরিক এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমেরিকার একাধিক হিন্দু সংগঠনও ঘটনার নিন্দা করেছে। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় উৎসবের অনুষ্ঠানে ঢুকে কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো শুধু অগ্রহণযোগ্য নয়, তা আমেরিকার বহুত্ববাদী সমাজের ভাবনারও বিরোধী।দীপাবলির মতো উৎসব যেখানে আলো, আনন্দ এবং সম্প্রীতির বার্তা দেয়, সেখানে এমন ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিয়াটেলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকায় হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নভেম্বর ০৮, ২০২৬
বিদেশ

কপালে তিলক পরায় স্কুলে বাধা! ছেলেকে অন্যত্র ভর্তি করাতে বাধ্য বাবা, ২৫ হাজার পাউন্ডের মামলা

ছোট থেকেই স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের ভক্ত সে। হিন্দু ধর্মাচরণের অঙ্গ হিসাবে কপালে তিলক ও চন্দন পরত। বাড়ির পাশাপাশি স্কুলেও সেই অভ্যাস বজায় রাখতে চাইত ৯ বছরের পড়ুয়া। কিন্তু অভিযোগ, তার কপালে তিলক দেখে আপত্তি জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ছেলেকে ওই স্কুল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন বাবা-মা। এ বার পশ্চিম লন্ডনের সেই প্রাথমিক স্কুলের বিরুদ্ধেই মামলা করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই পড়ুয়ার বাবা। তাঁর দাবি, ধর্মাচরণের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হয়েছে ছেলেকে। ক্ষতিপূরণ হিসাবে ২৫ হাজার পাউন্ড দাবি করেছেন তিনি। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। মামলাটির এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।পশ্চিম লন্ডনের ভাইকারস গ্রিন প্রাথমিক স্কুলে পড়ত ওই ছাত্র। সে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের অনুগামী। বাড়িতে যেমন তিলক ও চন্দন পরত, স্কুলেও একই ভাবে যেত। অভিযোগ, ছাত্রের কপালে তিলক দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ নানা প্রশ্ন করতেন। এমনকি তাকে কটূক্তির মুখেও পড়তে হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। ২০২৫ সালের ওই ঘটনার পর ছেলেকে স্কুল থেকে সরিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করান তার বাবা-মা।এ বার ওই স্কুলের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ছাত্রের বাবা। আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর অভিযোগ, তিলক পরার কারণে ছেলেকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে সে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তাকে ওই স্কুল ছাড়াতে হয়। বাবার দাবি, ছেলের পড়াশোনার খরচ বাবদ ২৫ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিতে হবে স্কুলকে।লন্ডনের আশ্রয় নামে একটি আইনি পরামর্শদাতা সংস্থার মাধ্যমে মামলা করেছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর আইনজীবী অম্বরীশ লিম্বাচিয়ার দাবি, এই ঘটনা শুধু একটি স্কুল বা এক পড়ুয়ার সমস্যা নয়। তাঁর মতে, ব্রিটেনে প্রত্যেকের নিজের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। স্কুলে পড়ার সময়েও কোনও পড়ুয়াকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস বা পরিচয় থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করা যায় না।আইনজীবী বলেন, এটি স্বাধীন ভাবে ধর্মাচরণের অধিকারের প্রশ্ন। কোনও পড়ুয়া স্কুলে পড়ছে বলে তার ধর্মীয় বিশ্বাসে বাধা দেওয়া যায় না। ব্রিটেনে প্রত্যেক শিশুর স্বাধীন ভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। সেখানে কোনও ভেদাভেদ থাকার কথা নয়। তাঁর আরও দাবি, ব্রিটেনে প্রায় ১০ লক্ষ হিন্দু নাগরিক রয়েছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা হয়েছে। আদালত শিশুদের স্বাধীনতা ও ধর্মাচরণের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে রায় দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।তবে মামলাটির এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে অভিযোগ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

নভেম্বর ০৮, ২০২৬
দেশ

এক সময় নকশাল হামলায় প্রাণ যেত জওয়ানদের, এখন বদলেছে পরিস্থিতি! বস্তারে দাঁড়িয়ে কী বললেন মোদী?

নকশাল দমনে বড় সাফল্যের দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারাননি কোনও সিআরপিএফ জওয়ান। রবিবার দীপাবলি উপলক্ষে ছত্তীসগঢ়ের বস্তারে নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই দেশের নকশালবিরোধী লড়াইয়ের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। মোদীর দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে মাওবাদী দমনে দেশের পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা ২০১৪ সালের পর আরও শক্তিশালী হয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শত্রুদের বিরুদ্ধে দৃঢ় মনোভাব এবং সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে লড়াই করতে হবে। তাঁর কথায়, একটা সময় নকশাল হামলায় নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ানদের মৃত্যুর সংখ্যা নকশালদের মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়নি। গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম বলে দাবি করেন তিনি।এই সাফল্যের কৃতিত্ব নিরাপত্তাবাহিনীর সাহস, ধৈর্য এবং দৃঢ় মনোভাবের পাশাপাশি সরকারের নীতিকেও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নকশাল দমনে দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যা ছিল, তা মোকাবিলায় আগের সরকারগুলি যথেষ্ট পদক্ষেপ করেনি।২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পূর্বতন সরকারগুলিকে নিশানা করেন মোদী। তাঁর দাবি, ওই সময়ে প্রতি বছর নকশালদের তুলনায় বেশি সংখ্যায় নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ান প্রাণ হারাতেন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকারগুলি নকশাল সমস্যাকে এমন একটি রোগ বলে মনে করত, যার কোনও সমাধান নেই। ফলে সমস্যার মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মাওবাদীরা শুধু নিরাপত্তাবাহিনীর উপরেই হামলা চালায়নি, সাধারণ মানুষকেও নিশানা করেছে। বহু এলাকায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে তারা। এমনকি সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এক বছরে দেশে প্রায় ২ হাজার নকশাল হামলার ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানান তিনি।ছত্তীসগঢ়ের ২০১০ সালের ভয়াবহ হামলার কথাও স্মরণ করেন মোদী। দান্তেওয়াড়ায় নকশাল হামলায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি। ওই বছরই একই জেলায় আরও একটি ঘটনায় ৪৪ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এত বড় হামলার পরেও তৎকালীন প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে সেই ঘটনার জন্য যথেষ্ট উদ্বেগ দেখা যায়নি।মোদীর দাবি, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ছত্তীসগঢ়ে নকশাল হিংসা চলেছে। এই সময়ে শুধু ওই রাজ্যেই এক হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, শত্রুরা হামলা চালিয়ে যাবে আর দেশ চুপ করে সব মেনে নেবে, এমন মনোভাব নিয়ে কোনও দেশ চলতে পারে না।এ দিন ২০২৬ সালের দীপাবলিকে বিশেষ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েক দশকের নকশাল ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত বড় জয় পেয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা এখন নকশালমুক্ত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, নকশাল আতঙ্কের ভয় ছাড়াই এ বার কোটি কোটি মানুষ দীপাবলি উদ্যাপন করতে পারছেন।বস্তারে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোদী বলেন, ১৪০ কোটি ভারতীয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন। দেশের সীমান্তে যাঁরা পাহারা দেন এবং দেশের ভিতরে নিরাপত্তা বজায় রাখেন, তাঁদের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় দুই বাহিনীর অবদান অপরিসীম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।দীপাবলি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের জন্য গোটা দেশ গর্বিত বলেও জানান তিনি।

নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

এক প্রতিবাদের মূল্য প্রাণ! ১৮ বছর পরেও কালীপুজোয় বাজি ফাটে না এই গ্রামগুলিতে

কালীপুজো আসে, গ্রামে গ্রামে শ্যামামায়ের আরাধনা হয়। দীপাবলিতে বাড়ি, রাস্তা সাজে আলোয়। কিন্তু পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় আর শোনা যায় না শব্দবাজির আওয়াজ। ফাটে না চকোলেট বোম বা কালীপটকা। তুবড়ি, চড়কির ফুলকিও যেন মাটিতে পড়ে না। এর পিছনে রয়েছে এক মর্মান্তিক স্মৃতি। শব্দবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন সুবোধচন্দ্র মাহাতো। এলাকার মানুষের কাছে তিনি আজও শব্দ শহিদ।দুবড়া-সাঁওতালডিহি সড়কের দুপাশে রয়েছে পাহাড়িগোড়া, দেউলি, পড়াশ্যা, শ্যামপুর, মধুডি, ডুমুরডি, বেলকুঁড়া এবং চকবাদের মতো একাধিক গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় শব্দবাজি ফাটানো হয় না। এ জন্য পুলিশকে আলাদা করে প্রচারও করতে হয় না। সুপ্রিম কোর্ট বা কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে চলার কথা মাইকে ঘোষণা করারও প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, এলাকার মানুষের স্মৃতিতে এখনও অমলিন সুবোধচন্দ্রের মৃত্যু।ঘটনাটি ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবরের। কালীপুজোর রাত। দেউলি কালীমন্দিরে তখন পুজো চলছে। দুবড়া-সাঁওতালডিহি রাস্তার ধারে নিজের তিনতলা বাড়িতে ছিলেন সুবোধচন্দ্র। বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ছিলেন। ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের সিন্দ্রি সার কারখানায় কাজ করতেন।সেই রাতে এলাকায় চলছিল শব্দবাজি ফাটানো। একের পর এক বাজির আওয়াজে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন সুবোধচন্দ্র। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমোতে যাওয়ার আগে বাড়ির দরজা খুলে বাইরে আসেন তিনি। বাজি ফাটানো যুবকদের লোকালয় থেকে দূরে গিয়ে বাজি ফাটাতে অনুরোধ করেন।কিন্তু তাঁর সেই প্রতিবাদে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুবকেরা তাঁর বাড়ির দরজার সামনেই বাজি ফাটাতে শুরু করেন। এলাকার কয়েক জনের হস্তক্ষেপে কিছুক্ষণের জন্য বাজি ফাটানো বন্ধ হলেও পরে আবার তা শুরু হয়। এমনকি বাড়ির ভিতরেও বাজি ছুড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।রাত ১২টা পেরিয়ে যাওয়ার পর ছেলে মানসকে সঙ্গে নিয়ে ফের বাইরে আসেন সুবোধচন্দ্র। শান্তভাবেই যুবকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আচমকাই এক যুবক তাঁর বুক ও পেটের মাঝখানে ঘুসি মারেন বলে অভিযোগ। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুবোধচন্দ্র। এর পর তাঁর শরীরে একের পর এক বাজি ছুড়ে মারা হয়। বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ছেলে মানস। কিন্তু বাবাকে সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি সুবোধচন্দ্রকে কাছের পিডিসিএল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় তাঁর।এখনও সেই রাতের স্মৃতি ভুলতে পারেননি সুবোধচন্দ্রের ছেলে মানস। তাঁর কথায়, বাবা হয়তো সবাইকে সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তো তাঁকে হারালাম। আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে গিয়েছে। মানসের দাবি, এই ঘটনায় অভিযুক্ত নজনই বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।মানসের বয়স এখন ৪৪ বছর। তবু কালীপুজোর সময় সেই রাতের আতঙ্ক তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। তাঁর কথায়, সেই বছরই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কর্তা এবং রাজ্যের আধিকারিকেরা বাবার নামে শব্দ শহিদ শংসাপত্র ও এক লক্ষ টাকার চেক দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা শাস্তি পাবে। কিন্তু কোথায় কী?দেউলি গ্রামের বাসিন্দা এবং বিজেপির পাড়া তিন মণ্ডলের সহ-সভাপতি চিনিবাস মাহাতো বলেন, আগে কী হয়েছে, জানি না। তবে এখানে আর কোনও উৎসবে শব্দবাজি ফাটবে না। এটাই আমাদের শপথ।একটি প্রতিবাদ, একটি মৃত্যু। সেই ঘটনার পর বহু বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু সুবোধচন্দ্র মাহাতোর স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি এলাকার মানুষ। তাই কালীপুজো ও দীপাবলিতে আলো জ্বললেও সাঁওতালডিহির এই গ্রামগুলিতে শব্দবাজির আওয়াজ শোনা যায় না।

নভেম্বর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষমতায় নেই তৃণমূল, তবু অনুব্রতর কালীপুজোয় ৭০০ ভরি সোনা! কী বললেন কেষ্ট?

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। তৃণমূল আর ক্ষমতায় নেই। বোলপুরে দলের কার্যালয়ের কালীপুজোয় তাই আগের মতো জৌলুস নেই। কমেছে লোকজনের ভিড়ও। তবে পুজোর আয়োজনে কোনও খামতি রাখতে চান না অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, এ বারও মায়ের প্রতিমা সাজানো হয়েছে প্রায় ৭০০ ভরি সোনার গয়নায়। তিহার জেল থেকে ফিরে এসেও মায়ের গয়নার পরিমাণে কোনও পরিবর্তন দেখেননি তিনি।শনিবার বোলপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে কালীপুজো নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন অনুব্রত। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই কালীপুজোর সঙ্গে যুক্ত তিনি। প্রথমে বোলপুরের নিচুপট্টিতে পুজো করতেন। পরে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে পুজো শুরু করেন। সেই পুজোর বয়সও প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর। অনুব্রতর কথায়, দল ক্ষমতায় নেই। ভেবেছিলাম, পুজোর উপকরণ জোগাড় করতে সমস্যা হবে। কিন্তু মায়ের আশীর্বাদে কোনও অভাব হয়নি।পুজোর আয়োজন নিয়ে অনুব্রত বলেন, সবাই নিজের মতো করে জিনিস দিয়ে যাচ্ছে। আগে মায়ের যত ভরি গয়না ছিল, এ বারও ততটাই রয়েছে। তাঁর দাবি, এ বারও প্রতিমাকে সাজানো হয়েছে প্রায় ৭০০ ভরি সোনার গয়নায়। রবিবার মায়ের ভোগে থাকছে খিচুড়ি, তরকারি, ন রকম ভাজা, পায়েস, চাটনি এবং পাঠার মাংস।২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে অনুব্রতর কালীপ্রতিমার গয়নার পরিমাণ ছিল ৫৭০ ভরি। তার পর থেকে প্রতি বছর গয়নার পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়। এ বার সেই পরিমাণ প্রায় ৭০০ ভরি। গয়নার আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ১১ কোটি টাকা বলে জানা যাচ্ছে।একসময় এই কালীপুজো ঘিরে বোলপুরে বড়সড় আয়োজন হত। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় তৃণমূল নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী এবং সাংসদেরা ভিড় জমাতেন। খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও থাকত চোখে পড়ার মতো। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ বারের ছবিটা অনেকটাই আলাদা। এখন হাতে গোনা কয়েক জনকে নিয়েই পুজোর আয়োজন করছেন অনুব্রত। তবু পুজোর প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা। ইতিমধ্যেই সাজিয়ে তোলা হয়েছে বোলপুরের তৃণমূল কার্যালয়।অন্য দিকে, বোলপুরের বাড়িপুকুর সম্মিলনীর কালীপুজোর সঙ্গেও একসময় অনুব্রতর যোগ ছিল। তাঁর হাত ধরেই ওই পুজোর সূচনা হয়েছিল। এ দিন সেই পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তিনি বলেন, এটাই জগতের নিয়ম। উনি যখন নিজের জায়গায় ছিলেন, তখন পুজো করেছেন। আজ এলেও কোনও বাধা ছিল না। পুজোর ক্ষেত্রে রাজনীতি নেই। পুজো সবার। এখানে পাড়ার লোকেরাই সমস্ত আয়োজন করেছেন।রাজনৈতিক পালাবদলের পর বোলপুরে অনুব্রতর কালীপুজো কেমন হয়, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল অনেকের। ক্ষমতায় না থাকলেও পুজোর আয়োজন ঘিরে নিজের পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন অনুব্রত।

নভেম্বর ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal