• ১২ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার ০১ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

শিক্ষা

শিক্ষা

“মেয়েরা সুস্থ থাকলেই এগিয়ে যাবে সমাজ”—কাঞ্চননগর স্কুলে নারী স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা শিবির

নারী সুস্থ থাকলেই সুস্থ পরিবার, সুস্থ সমাজকাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে নারী স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা শিবিরনারীর স্বাস্থ্য শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজের সুস্থতা। ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি, সংক্রমণ প্রতিরোধ, মানসিক সুস্থতা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন স্বাস্থ্যবিধিনারী স্বাস্থ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ সচেতনতা শিবির।শিবিরে ছাত্রীদের সামনে নারী স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছোট বয়স থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিজের শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও প্রত্যেকের রয়েছে।বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুনীতা সাহা বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারীস্বাস্থ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি পরিবারের সুস্থতার সঙ্গে মেয়েদের স্বাস্থ্য সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাড়িঘর এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও ছাত্রীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, পরিচ্ছন্নতা শুধু অভ্যাস নয়, সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম ভিত্তি।অন্যদিকে শিক্ষিকা নন্দিনী দে স্বাস্থ্যকে শুধুমাত্র শারীরিক সুস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানসিক সুস্থতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুস্থ শরীরের পাশাপাশি সুস্থ মনও প্রয়োজন। তাই দৈনন্দিন জীবনে একটি সাধারণ পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও ছাত্রীদের সচেতন করা হয়। এই সময়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সংক্রমণের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং শরীরের কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং অলসতা এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়।খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টিও উঠে আসে শিবিরে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। শরীরে ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে নিয়মিত পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণ এবং খাদ্যতালিকায় উপযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তথা জাতীয় শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত নারীস্বাস্থ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অনেক ক্ষেত্রেই নারীর স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক পরিকাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসও নারীস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেকেরই নিজের সুস্থতার পাশাপাশি অন্যের সুস্থতার কথাও ভাবতে হবে। কারণ, একটি সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই সমাজের মেয়েরা সুস্থ, সচেতন এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।শিবিরে নারীস্বাস্থ্য নিয়ে এমন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ছাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই যে সুস্থ ভবিষ্যতের অন্যতম চাবিকাঠিসেই বার্তাই উঠে আসে এই সচেতনতা শিবির থেকে।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
শিক্ষা

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মী বদলির বিল বিধানসভায় পাশ, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার যুক্তি সরকারের, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হবেআপত্তি শিক্ষকমহলের।কলকাতা: রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলির পথ খুলে গেল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬। যদিও সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকমহল ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, এই আইনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষ অধিবেশনে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বিলটি পেশ করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছিল। সংশোধিত আইনে ২০১৭ সালের আইনের ১৪এ ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করতে পারবে সরকার।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতেই বদলি, দাবি সরকারেরসরকারের যুক্তি, রাজ্যের নতুন তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের পাঠানো হলে সেখানকার পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত হবে। ঝাড়গ্রাম বা কোচবিহারের মতো জায়গায় গড়ে ওঠা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এ পরিণত করার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় বিলটির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং সরকারের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে পিএইচডি-র তত্ত্বাবধান বা গবেষণা প্রকল্পে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের পাঠানো হলে তাঁরা পরিকাঠামো তৈরি, ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন। তাঁর কথায়, নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিতে অভিজ্ঞ মানবসম্পদ পৌঁছনোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে মানবসম্পদের আদানপ্রদানও হবে।সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, সরব শিক্ষকমহলতবে সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষকমহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা আইনগত স্বশাসিত সংস্থা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি বদলির ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক সাগরময় ঘোষের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার জন্য সরাসরি বদলির পথে না গিয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং করানো যেত।তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সম্পদ ও দক্ষতার ভাগাভাগির মতো মডেল জাতীয় শিক্ষানীতিতেও রয়েছে। কিন্তু জোর করে অধ্যাপকদের বদলি করলে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।এক অধ্যাপকও প্রশ্ন তুলেছেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা সিন্ডিকেট শিক্ষক নিয়োগ করে, সেই শিক্ষকদের পরে রাজ্য সরকার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার ক্ষমতা পাবে কেন?গবেষণা নিয়েও আশঙ্কাবিলটি ঘিরে গবেষণার ক্ষেত্রেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস ঘোষ। তাঁর দাবি, একটি বিভাগে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা থাকলেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব। হঠাৎ করে শিক্ষক বদলি শুরু হলে গবেষণার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।তাঁর মতে, বিভিন্ন গবেষণা ও অর্থদাতা সংস্থা কোনও অধ্যাপকের নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে। ঘন ঘন বা ইচ্ছেমতো বদলি শুরু হলে সেই অর্থসাহায্যও প্রভাবিত হতে পারে।প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্ণব হালদারও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করুক সরকারকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমস্যার মূল কারণ যদি পরিকাঠামোগত দুর্বলতা হয়, তাহলে তার সমাধান হিসেবে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের বদলি না করে সরকারকে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।তাঁর মতে, সাধারণত অভিজ্ঞ অধ্যাপকেরা উন্নত গবেষণার সুযোগ, ল্যাবরেটরি, পরিকাঠামো এবং একাডেমিক পরিবেশের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে শুধু শিক্ষক বদলি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।বদলি নিয়ে নতুন বিতর্কএকদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ শিক্ষক-মানবসম্পদ কাজে লাগানোর যুক্তি দিচ্ছে সরকার, অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কাএই ক্ষমতা ভবিষ্যতে নির্বাচিতভাবে কোনও শিক্ষককে বদলি বা চাপের মুখে ফেলার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।ফলে বিধানসভায় বিল পাশ হলেও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বনাম সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।Source: Telegraph India

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
শিক্ষা

‘শিক্ষাষ্টকম্’ মডেলের জাতীয় স্বীকৃতি, জাতীয় সম্মানে সম্মানিত পূর্ব বর্ধমানের জেলা শিক্ষা আধিকারিক

আনন্দ, সৃজনশীলতা আর সামগ্রিক বিকাশবিদ্যালয় শিক্ষার এই নতুন ভাবনাই এবার পেল জাতীয় স্বীকৃতি। পূর্ব বর্ধমানের জেলা শিক্ষা আধিকারিক পৌষালী চক্রবর্তীর পরিকল্পিত শিক্ষাষ্টকম্ মডেল জাতীয় স্তরে পুরস্কৃত হল। বিদ্যালয়কে শুধু পুঁথিগত শিক্ষার জায়গা না রেখে শিশুদের আনন্দ, সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগই এনে দিল এই বিশেষ সম্মান।৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর সভাগৃহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পৌষালী চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও শংসাপত্র। পূর্ব বর্ধমানের শিক্ষাক্ষেত্রে এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।শিক্ষাষ্টকম্ মডেলের মূল ভাবনা হলবিদ্যালয়ের সঙ্গে পড়ুয়াদের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে তোলা এবং শিক্ষার পরিবেশকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে কোনও পড়ুয়া মাঝপথে স্কুলছুট না হয়। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা কমানো এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।এই মডেলটি গড়ে উঠেছে আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রয়েছে পরিবেশ সচেতনতা, ডিজিটাল শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন বা স্কিলিং, শিক্ষাগত সহায়তা, স্বাস্থ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র পরীক্ষার ফল নয়একজন পড়ুয়ার সার্বিক বিকাশকেই এখানে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হয়েছে।এই মডেলের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পরিসরে এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে পড়ুয়ারা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাবে, আনন্দের সঙ্গে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। একইসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামাজিক সচেতনতার যোগসূত্রও তৈরি করছে শিক্ষাষ্টকম্।জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়ার পর পৌষালী চক্রবর্তীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে এই উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা। তিনি বলেন, জেলাশাসকের সহযোগিতা না পেলে এই পুরস্কার আমরা পেতাম না। বিদ্যালয় পরিদর্শক থেকে শিক্ষকরা সবাই সঙ্গ দিয়েছেন। তাই এই পুরস্কার সবার সঙ্গেই ভাগ করে নিয়েছি।তবে জাতীয় সম্মানের আনন্দের মধ্যেও তাঁর নজর রয়েছে আরও বড় লক্ষ্যের দিকে। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ রোধের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও এখনও যে পথ অনেকটা বাকি, তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাল্যবিবাহ রোধ করতে পেরেছি অনেকটা। পুরোটা তো পারিনি। চেষ্টা করব আগামীতে শূন্য বাল্যবিবাহ করার জন্য।একদিকে স্কুলছুট রোধ, অন্যদিকে পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করে তোলা, তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার বিকাশ এবং সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতাএই সমস্ত লক্ষ্যকে একসূত্রে বেঁধেছে শিক্ষাষ্টকম্। আর সেই ভাবনাই এবার দিল্লির মঞ্চে পেল জাতীয় স্বীকৃতি। পূর্ব বর্ধমানের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই সম্মান তাই শুধু একজন আধিকারিকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিদর্শক, প্রশাসন এবং পড়ুয়াদের সম্মিলিত প্রয়াসেরও স্বীকৃতি।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত ওডিশি নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
শিক্ষা

হারানোর বেদনা থেকে জয়ের মঞ্চে, জীববিজ্ঞানের প্রেমে সাফল্যের শিখরে—দুই কৃতীর অনন্য কাহিনি

এ সারা দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছেন পাঞ্জাবের আর্যন গুপ্ত এবং হরিয়ানার পাংশুল বনসল। দুজনেই ৭২০-এর মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক (AIR)-১ অর্জন করেছেন। তবে তাঁদের সাফল্যের পিছনের গল্প শুধুই দীর্ঘ পড়াশোনা নয়, রয়েছে ব্যক্তিগত সংগ্রাম, অনুপ্রেরণা এবং চিকিৎসক হওয়ার অদম্য স্বপ্ন।শোক থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নআর্যন গুপ্তের চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছার সূত্রপাত একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে। পরিবারের এক প্রিয়জনকে হারানোর পর তিনি উপলব্ধি করেন, চিকিৎসা পরিষেবার গুরুত্ব কতটা গভীর। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। এরপর নিরলস পরিশ্রম, কঠোর রুটিন এবং ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি দেশের অন্যতম কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করেন।জীববিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসাই সাফল্যের চাবিকাঠিঅন্যদিকে, পাংশুল বনসলের গল্প একেবারেই আলাদা। ছোটবেলা থেকেই জীববিজ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তাঁর। মানুষের শরীর কীভাবে কাজ করে, রোগের কারণ এবং তার চিকিৎসাএসব বিষয়ে জানার প্রবল কৌতূহলই তাঁকে মেডিক্যালের পথে নিয়ে আসে। সেই ভালোবাসাকেই তিনি পরিণত করেছেন সাফল্যে।পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতাই মূল মন্ত্রদুই কৃতীরই বক্তব্য, শুধু দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাই যথেষ্ট নয়। বরং নিয়মিত রিভিশন, ভুল বিশ্লেষণ, মক টেস্ট এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের উপর তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পরীক্ষার আগে সিলেবাস বারবার ঝালিয়ে নেওয়া এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাই তাঁদের সাফল্যের অন্যতম কারণ।আরও পড়ুনঃ দিনে ১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা, তবেই ৭২০-র মধ্যে ৭১৫! NEET টপার আর্যন গুপ্ত জানালেন সাফল্যের আসল মন্ত্র১১ লক্ষের বেশি পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণজাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, পুনঃপরীক্ষার পর প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১.২১ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী NEET UG 2026-এ উত্তীর্ণ হয়েছেন। এবার থেকে সফল পরীক্ষার্থীরা মেডিক্যাল কাউন্সেলিং কমিটি (MCC)-র কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে MBBS, BDS এবং অন্যান্য মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

জুলাই ১৮, ২০২৬
শিক্ষা

দিনে ১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা, তবেই ৭২০-র মধ্যে ৭১৫! NEET টপার আর্যন গুপ্ত জানালেন সাফল্যের আসল মন্ত্র

দেশের অন্যতম কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET UG ২০২৬-এ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন পঞ্জাবের ১৭ বছরের ছাত্র আর্যন গুপ্ত। ৭২০-র মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়ে তিনি অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক (AIR) ১ অর্জন করেছেন। এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং শিক্ষকদের প্রতি অগাধ আস্থা।আর্যনের কথায়, প্রস্তুতির সময় তিনি প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। অনেক দিন ঘুমও ঠিকমতো হতো না। তবে লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে যাননি। তাঁর মতে, সাফল্যের জন্য শুধু দীর্ঘ সময় পড়লেই হবে না, শিক্ষকদের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।চিকিৎসক পরিবার, লক্ষ্য ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইআর্যন এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে সকলেই যুক্ত। ছোটবেলায় ক্যানসারে ঠাকুমাকে হারানোর পর থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বড় হয়ে অঙ্কোলজিস্ট (ক্যানসার বিশেষজ্ঞ) হবেন। সেই স্বপ্নই তাঁকে প্রতিদিন আরও বেশি পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করেছে।পরীক্ষার্থীদের জন্য আর্যনের পরামর্শভবিষ্যতের NEET পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে আর্যনের বার্তা স্পষ্ট* শিক্ষকদের উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখুন।* নিয়মিত পড়াশোনা ও পুনরাবৃত্তি করুন।* লক্ষ্য স্থির রেখে ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যান।* কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস হারাবেন না।আরও পড়ুনঃ মাত্র ১৪ বছরেই জেইই অ্যাডভান্সডে বাজিমাত! উত্তরপ্রদেশের হিন্দি-মাধ্যমের ছাত্র যুবরাজ সিং সোলাঙ্কির সাফল্যে চমকে দেশবিতর্কের মধ্যেও সাফল্যএবারের NEET UG পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস বিতর্কের কারণে প্রথমে বাতিল হয়েছিল। পরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আর্যন গুপ্ত অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।

জুলাই ১৮, ২০২৬
শিক্ষা

মাত্র ১৪ বছরেই জেইই অ্যাডভান্সডে বাজিমাত! উত্তরপ্রদেশের হিন্দি-মাধ্যমের ছাত্র যুবরাজ সিং সোলাঙ্কির সাফল্যে চমকে দেশ

মেটা ডেসক্রিপশন: উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরের ১৪ বছরের হিন্দি-মাধ্যমের ছাত্র যুবরাজ সিং সোলাঙ্কি মাত্র এক বছরের অনলাইন প্রস্তুতিতে JEE Advanced-এ সাফল্য অর্জন করেছে। জেনে নিন তাঁর অনুপ্রেরণামূলক যাত্রার গল্প।ভারতের অন্যতম কঠিন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা JEE Advanced-এ সাফল্য অর্জন করাই যেখানে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীর কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ, সেখানে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নজির গড়লেন উত্তরপ্রদেশের এক কিশোর। তাঁর নাম যুবরাজ সিং সোলাঙ্কি। হিন্দি-মাধ্যমে পড়াশোনা করা এই ছাত্র মাত্র এক বছরের অনলাইন প্রস্তুতিতেই জেইই অ্যাডভান্সডে ক্যাটেগরি র্যাঙ্ক ১,৬৪০ অর্জন করে সারা দেশের নজর কেড়েছেন।যুবরাজের এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়, বরং এটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে বয়স, ভাষা কিংবা শহর-গ্রামের সীমাবদ্ধতা মেধা ও অধ্যবসায়ের সামনে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।১৪ বছরেই দ্বাদশ শ্রেণি, তারপর JEE Advancedউত্তরপ্রদেশের গোরখপুর জেলার চৌরি চৌরা এলাকার বাসিন্দা যুবরাজ ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর শিক্ষকদের নজরে আসে যে তিনি সমবয়সীদের তুলনায় অনেক দ্রুত বিষয়বস্তু আয়ত্ত করতে পারেন। সেই কারণেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে তাঁকে স্কুলজীবনে দুটি শ্রেণি একসঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।ফলে যখন তাঁর সমবয়সী অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী অষ্টম বা নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিল, তখন যুবরাজ ইতিমধ্যেই দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। সেখানে তাঁর সহপাঠীদের অধিকাংশের বয়স ছিল ১৭ থেকে ১৮ বছর।সহপাঠীদের সমর্থনও ছিল বড় শক্তিসংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়সের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও স্কুলে কখনও অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়নি যুবরাজকে। বরং শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীরা তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন এবং নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি JEE Advanced-এর প্রস্তুতিতেও যথেষ্ট সহযোগিতা করেন।এই ইতিবাচক পরিবেশ তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয় এবং কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা পালন করে।হিন্দি-মাধ্যমেই তৈরি ইতিহাসযুবরাজের সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল, তিনি কোনও নামী কোচিং শহরে না গিয়ে অনলাইন হিন্দি-মাধ্যমের কোচিংয়ের মাধ্যমে JEE Advanced-এর প্রস্তুতি নেন।দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে IIT-তে সুযোগ পেতে হলে ইংরেজি-মাধ্যমে পড়াশোনা, বড় শহরে থাকা কিংবা ব্যয়বহুল কোচিং অপরিহার্য। যুবরাজ সেই ধারণাকেই কার্যত ভেঙে দিয়েছেন।বর্তমানে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং মাতৃভাষাভিত্তিক অনলাইন শিক্ষার সুযোগ যে গ্রামাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের কাছেও নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, যুবরাজের সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।অনেকের কাছে অনুপ্রেরণাযুবরাজ সিং সোলাঙ্কির এই কৃতিত্ব ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই তাঁর সঙ্গে ভারতের তরুণ ক্রিকেট প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর তুলনা করছেন। যদিও দুইজনের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা, তবুও কম বয়সেই অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দুজনেই নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।শিক্ষাবিদদের মতে কী শেখার আছে?বিশেষজ্ঞদের মতে, যুবরাজের এই সাফল্যকে সব ছাত্রছাত্রীর জন্য মানদণ্ড হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রত্যেক শিশুর শেখার গতি ও দক্ষতা আলাদা। তবে তাঁর গল্প থেকে একটি বিষয় স্পষ্টসঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায়, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থাকলে যে কোনও শিক্ষার্থী নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

জুলাই ১৬, ২০২৬
শিক্ষা

বিকাশ ভবনে গেস্ট টিচারদের জোরালো সওয়াল, চাকরির নিরাপত্তা-নির্দিষ্ট মাসিক সম্মানীর দাবিতে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি

রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে কর্মরত হাজার হাজার গেস্ট টিচার, ইনভাইটেড টিচার ও ভিজিটিং ফ্যাকাল্টিদের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক বৈষম্যের অবসান ঘটানোর দাবিতে আবারও সরব হল পশ্চিমবঙ্গ কলেজ গেস্ট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (WBCGTWA)। বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে বিকাশ ভবনে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী শ্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সেই স্মারকলিপি গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিক প্রাপ্তিস্বীকারও দেওয়া হয়েছে।সংগঠনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে গেস্ট টিচাররা অত্যন্ত কম পারিশ্রমিকে এবং সম্পূর্ণ অনিশ্চিত কর্মপরিবেশে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদান এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাস্তব পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই সরকারের কাছে মানবিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আবেদন জানানো হয়েছে।বিকাশ ভবনে জমা দেওয়া এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সুজিৎ দাস, সাধারণ সম্পাদক অনুপম দাস এবং সহ-সম্পাদক ড. অসিত কুমার মণ্ডল। প্রতিনিধিদলটি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সামনে গেস্ট টিচারদের বিভিন্ন সমস্যা, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘদিনের দাবি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।কী কী দাবি জানানো হয়েছে?স্মারকলিপিতে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।প্রথমত, চাকরির নিরাপত্তা। সংগঠনের বক্তব্য, বহু শিক্ষক বছরের পর বছর কলেজে কর্মরত থাকলেও তাঁদের চাকরির কোনও স্থায়ী নিশ্চয়তা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তাই গেস্ট টিচারদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।দ্বিতীয়ত, পরিষেবার ধারাবাহিকতা। সংগঠনের দাবি, যোগ্য ও অভিজ্ঞ গেস্ট টিচারদের সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী অন্তত ৬০ কিংবা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত কর্মরত থাকার সুযোগ দিতে হবে। তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেই সংগঠনের মত।তৃতীয়ত, নির্দিষ্ট মাসিক সম্মানী চালু। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্লাসভিত্তিক পারিশ্রমিকের উপর নির্ভর করতে হয় গেস্ট টিচারদের। সংগঠনের দাবি, এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে কর্মরত গেস্ট টিচারদের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাসিক সম্মানী চালু করা হোক। এতে তাঁরা আর্থিক নিরাপত্তা পাবেন এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।আরও পড়ুনঃ পূর্ণ সময়ের শিক্ষকের চেয়েও বেশি স্যাক্ট (SACT), তবু বঞ্চনার অভিযোগ! হরিয়ানা মডেল চালুর দাবিতে সরব স্টেট এডেড কলেজ টিচাররাদীর্ঘদিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতাসংগঠনের দাবি, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ কলেজ গেস্ট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে গেস্ট টিচারদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বিকাশ ভবনে এই ডেপুটেশনও সেই ধারাবাহিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, এর আগেও তারা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে। নবান্ন-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে একাধিক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই চাকরির নিরাপত্তা, পরিষেবার ধারাবাহিকতা এবং নির্দিষ্ট মাসিক পারিশ্রমিকের বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দাবি জানানো হয়েছে।সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের প্রত্যাশাWBCGTWA-র নেতৃত্বের মতে, ধারাবাহিকভাবে সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি তুলে ধরার ফলে গেস্ট টিচারদের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হবে। তাঁদের আশা, উচ্চশিক্ষা দপ্তর ও রাজ্য সরকার এই বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাবে।সংগঠনের বক্তব্য, গেস্ট টিচারদের ন্যায্য অধিকার, সম্মানজনক পারিশ্রমিক এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষকদের স্বার্থেই নয়, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা কলেজগুলির শিক্ষাদান প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।আন্দোলন চলবে, জানাল সংগঠনপশ্চিমবঙ্গ কলেজ গেস্ট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গেস্ট টিচারদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন থামবে না। ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক পথেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংগঠন।উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া এই স্মারকলিপির মাধ্যমে গেস্ট টিচারদের দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের পথ খুলবে বলেই আশাবাদী সংগঠনের সদস্যরা।

জুলাই ১৬, ২০২৬
শিক্ষা

পৌষের গন্ধে গ্রামবাংলা: পিঠে, ঘুড়ি আর লোকজ জীবনের উৎসব

পৌষ নামলেই গ্রামবাংলার হাওয়া বদলে যায়। ভোরের কুয়াশা আরও ঘন হয়, খড়ের গাদায় রোদ্দুর বসে, আর মাটির উঠোনে ভেসে আসে চাল ভাপার সোঁদা গন্ধ। এই সময়েই বাঙালির ঘরে ঘরে আসে এক লোকজ উৎসবপৌষ পার্বণ, যাকে গ্রামবাংলা আদর করে ডাকে পিঠে পার্বণ বলে।এই উৎসব কোনও মন্দিরে বাঁধা নয়, কোনও মন্ত্রে আবদ্ধ নয়। এ উৎসব ছড়িয়ে থাকে উঠোনে, রান্নাঘরে, খোলা মাঠে আর মানুষের মুখের হাঁসিতে। নতুন ধান ওঠার আনন্দে কৃষকের ঘরে যে তৃপ্তি, তারই রসায়ন মিশে যায় পিঠের নরম স্বাদে।গ্রামবাংলার মায়েদের কাছে পৌষ পার্বণ মানে শুধু রান্না নয়এ এক সামাজিক আচার। ভোর থেকে শুরু হয় চাল ভেজানো, বাটা, খোলায় নলেন গুড় বসানো। মাটির উনুনে ধোঁয়া ওঠে, কাঁসার থালায় সাজে ভাপা পিঠে (সিদ্ধ পিঠে), সরু চাকলি, পাটিসাপটা। দুধ পুলির ভেতর গুড় আর নারকেলের মিশেলে লুকিয়ে থাকে দিদিমা-ঠাকুমার হাতের ছোঁয়া, যা কোনও রেসিপির বইয়ে লেখা নেই।লোকসংস্কৃতির এই পরম্পরায় পিঠে শুধু খাবার নয়, এক ভাষা। সেই ভাষায় কথা বলে মমতা, আতিথেয়তা আর ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ। পৌষের সকালে প্রতিবেশীর ঘরে পিঠে পাঠানো যেমন রীতি, তেমনই রীতি একসঙ্গে বসে খাওয়ারধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ছাপিয়ে।পৌষ সংক্রান্তির আর এক অবিচ্ছেদ্য ছবি আকাশ। নীল আকাশ জুড়ে রঙিন ঘুড়ির উড়ান যেন লোকশিল্পের চলমান ক্যানভাস। যা দেখে কবির সুমন (তখন সুমন চট্টোপাধ্যায়) লিখেছিলেন পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা - আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক, মাটিতে অবজ্ঞা। রাঢ় বঙ্গের অন্যতম জনবহুল বর্ধমান শহরে ও তার আশপাশের গ্রামগুলিতে এই দিনে ঘুড়ি ওড়ানো শুধু খেলা নয়, এক উৎসব, সকাল সকাল চা খেয়েই ছাদে জড়ো আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, চোখ বন্দি আকাশে, ছাদে-ছাদে চটুল হিন্দি গানের ভিতরেই ভেসে আসছে একটাই আওয়াজ ভোও-কাট্টা। দামোদরের পাড়ে বসা আদিবাসী ও উপজাতিদের মেলায় ঘুড়ির সঙ্গে মিশে যায় ঢাক, ধামসা, মাদল ও বাঁশির সুর। লোকনৃত্য, হস্তশিল্প আর খোলা মাঠের এই মিলনমেলা যেন বাংলার বহুত্বকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে।এই মেলায় দেখা যায় সাঁওতাল, বাউরী, বাগদি সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতিনতুন রঙিন পোশাক, পায়ের তালে মাটির ছন্দ দিরি দিম দিম বোল তোলে। আধুনিক শহুরে জীবনের বাইরে দাঁড়িয়ে এই লোকজ উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়সংস্কৃতি মানে শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ।আজ শহরের ফ্ল্যাটবাড়িতে পিঠে আসে বাক্সবন্দি হয়ে, ঘুড়ি ওড়ানো হয় ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে। তবু পৌষ পার্বণ এলেই মন ছুটে যায় গ্রামেমাটির ঘর, খোলা উঠোন আর আগুন পোহানো বিকেলের দিকে। কারণ এই উৎসব আমাদের শেখায়, উৎসবের আসল সৌন্দর্য জাঁকজমকে নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের উষ্ণতায়।পৌষ পার্বণ তাই শুধুই একটি দিন নয়এ এক স্মৃতি, এক গন্ধ, এক জীবন্ত লোকসংস্কৃতি। সময় বদলায়, রূপ বদলায়, কিন্তু পিঠের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকা গ্রামবাংলার আত্মা আজও অটুট।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
শিক্ষা

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রকৃত "প্রকৃতি" পাঠ করল বর্ধমানের স্কুল

বিশ্ব পরিবেশ দিবস কে সফল করতে সকল শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মী সহ প্রধান শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীরা প্রার্থনা সভায় পরিবেশ দিবসে তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন বিজ্ঞানের শিক্ষক কুমার দে সহ বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষিক কে দিয়ে চাইল্ড ক্যাবিনেটেড প্রধানমন্ত্রী পরিবেশমন্ত্রী খাদ্যমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী সহ সকল মন্ত্রীকে সম্বর্ধিত করেন। এবং স্মারক হিসাবে একটি কারি পাতার ভেষজ গাছ রোপন করা হয়। কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় আজ পার্শ্ববর্তী দামোদর নদ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিবিড় প্রকৃতিপাঠে অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ছিলেন কৃষ্ণেন্দু কুমার দে, শামীম মন্ডল, সনজিৎ পাল, সঞ্জীব নন্দী সহ সমস্ত শিক্ষক এবং শিক্ষিকা শ্যামলী দাস, অনন্যা ঘোষ কৃষ্ণ ঘোষ, টুসু সরকার, এবং অন্যান্যরা। সাইকেল রেলি করে যেতে যেতে, নদীর ভৌগোলিক ব্যাপ্তি নিয়ে, বহুবিচিত্র উদ্ভিদরাজি নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা লাভ করল তাঁদের কাছে। সায়রপাড়া নামের একটি গ্রামে গ্রামীণদের সাথে কথায় কথায় বর্ষা, সুরজ, মৌসুমী, সোহিনী, চিরশ্রী, মুনমুনরা জানল অনেক অজানা কথা যা বইয়েতে জানা যায় না, জানতে হয় কৃষিজীবীদের নিত্যদিনের কাজেকর্মে। বর্ধমান শহরের অদূরে অবস্থিত উদয় পল্লীর কাছে দামোদর নদের কাছে জোর বাঁধ এলাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা দেখল জীব-বৈচিত্র্যে ভরপুর ছাই বালি দিয়ে তৈরি ল্যান্ড আর্ট। প্রায় ১৮ জন শিল্পী এই শিল্পকর্ম কে দাও ফিরে সে অরণ্য ফুটিয়ে তুলেছে। তারা সেখানে দেখতে পেল ছাই দিয়ে কিভাবে প্রকৃতির প্রাকৃতিক শিল্পকর্মে সাজিয়ে তুলতে পারে।কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত জনতার কথাকে বলেন, পরিবেশ মুখিতাই আজকের পড়ুয়াদের প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। এমনিতেই এই বিদ্যালয় প্রকৃতি মায়ের কোলে গড়ে উঠেছে। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি গাছ চেনে আর তার ব্যবহার করতে পারে।

জুন ০৬, ২০২৫
শিক্ষা

ব্যাগের ভারে চাপা পড়ছে শৈশব, চর্চা জারি, সমাধান কোথায়?

প্রতিদিন প্রায় ৮-৯ কেজি ওজন পিঠে নিয়ে দোতলা, তিনতলায় উঠতে হয়। একটু উঁচু ক্লাসে গেলে ব্যাগের ওজন দাঁড়ায় ৯-১০কেজি। কোনও সময় তার বেশিও হতে পারে। পড়ার নামে এ আরেক যন্ত্রনা। শিশু থেকেই লড়াই শুরু। ভোরে ঘুম ভাঙিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয় যুদ্ধের ময়দানে। ঘুম চোখে ইউনিফর্ম গলিয়ে রেডি ফর স্কুল। তাঁদের ছোট্ট ছোট্ট কাঁধে চেপে যায় বই নামক অস্ত্রের বোঝা। এই বোঝার ওজন বচ্ছার ছোট্ট শরীরের থেকে যেন বেশি ভারী! তার ভেতর ঠাসা থাকে বই, খাতা, টিফিন, জলের বোতল, পেন্সিল বক্স ইত্যাদি।রঙিন এই স্কুল ব্যাগ যেন ছোট ছোট মালগাড়িতে পরিণত হয়েছে। সোম থেকে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর এই বোঝা বইতে হয় এই ছোট্ট কাঁধগুলিকে।সপ্তাহে শনি-রবিবার ছুটি। নেই কোনও খেলাধূলার সময়। পড়াশোনার চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তার সাথে বাড়ছে ব্যাগের ভার। বছরভর চলে এই প্রক্রিয়া।এই অতিরিক্ত ওজনের বোঝা বাচ্ছাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ওজনের কারণে তাদের পিঠে, ঘড়ে ও কোমরে ব্যাথা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা আনতে পারে তাদের শরীরে। বিশেষত শিরদাঁড়ায়।এই ভারী ব্যাগ বওয়া ও পড়াশোনার চাপ তাঁদের কাছে এক ক্লান্তিকর রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লান্তি, বিরক্তি, অতিরিক্ত রাগ, এগুলো যেন বাচ্ছাদেই মধ্যে বেড়েই চলেছে। শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক সকলের এ বিষয়ে নজর দেওয়ার দরকার আছে। ডিজিটাল এই যুগে অল্প অংশ ডিজিটাল এডুকেশন বাড়ানো যেতে পারে। তাতে ব্যাগের বোঝা হয়তো একটু হলেও কমবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে বাচ্ছাদের ব্যাগ হালকা রেখে আরও ইন্টারেক্টিভ শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতেই পারে।সকলের একত্রিত ভাবনা ও পরিকল্পনায় নিশ্চিত এই অব্যস্থার সুরাহা সম্ভব। বাচ্ছাদের শৈশব যেন বই এর ভারে চাপা পড়ে না যায়, তাঁদের হাসি মুখগুলি যেন মলিন না হয়ে যায়। তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুক্তিযুক্ত, আধুনিক, আনন্দময় করে তুলতে হবে। শিশুমন যেন খোলা হাওয়া থেকে বঞ্চিত। ব্যাগের বোঝা নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক, পরামর্শ, চর্চা হয়েছে। এবার অন্তত বাস্তব রূপ দিতে সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। কবে হবে এই সমস্যার সমাধান? স্কুলে স্কুলে অভিভাবকদের এটাই বড় প্রশ্ন।শতাব্দী পাল ঘোষ

এপ্রিল ২৯, ২০২৫
শিক্ষা

জেলিফিশ বা স্টারফিশ কি ভূমিকম্পের আগাম সর্তকতা দিতে পারে? কি জানাচ্ছেন পরিবেশবিদ ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত?

সম্প্রতি ভূমিকম্পের সময় সৈকত শহর দীঘা ঘুরে আসা পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, জাতীয় শিক্ষক, শিক্ষারত্ন, জাতীয় মেন্টার, স্টেম এডুকেটর ও বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও গবেষক কি বলছেন শুনে নেব।ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত ১৯৮৬ -১৯৮৭ কলেজ লাইফ থেকে শিক্ষামূলক ভ্রমণ ও বেড়াবার জন্য ২০২৪ পর্যন্ত অন্তত দশবার দিঘার সমুদ্র বেড়াতে গেছেন, এবং সাতবার পুরীর সমুদ্র গেছেন । প্রথম যখন সরকারি অতিথিশালার সামনে নিউ দীঘায় যান, তখন নিউ দীঘা থেকে খুব সহজেই সি-বিচ ধরে ওল্ড-দিঘা ও মোহনা পায়ে হেঁটে যাওয়া যেত । তখন সৈকতে প্রচুর বিভিন্ন রকমের সামুদ্রিক জীবজন্তু দেখা পাওয়া যেত । কিন্তু বছর তিন চারেক পর ১৯৯১ থেকেই ওল্ড দিঘা সমুদ্র সৈকতের কিনারা ধরে হেঁটে যাওয়া যেত না, এবং জীবজন্তু আগের মত আর পাওয়া যেত না, পরিমাণও কমতে শুরু করে। ২০২৩-২৪ এর আগে জেলিফিশ জেলেদের মাছ ধরার জালে এলেও কখনো দীঘার ব্যাককারেন্টে বা ভাটার সময় সমুদ্র সৈকতে দেখা যেত না। সম্প্রতি ড. দত্ত ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ যখন দিঘার সমুদ্রে প্রাতঃভ্রমণে বের হন সকালবেলায় অসংখ্য এধার উধার ছড়িয়ে তারার মত স্টারফিশ, এবং জেলির মতো স্বচ্ছ ছাতার মত হালকা নীলাভ দাগ কাটা জেলিফিশ জলে ঢেউয়ের সঙ্গে ভাসতে দেখতে পান। তিনি জানান, এইরকমই দুটি জেলিফিশ ব্যাক কারেন্টে আটকে গেল। তার পাশাপাশি অসংখ্য তারামাছ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকলো । জেলিফিসের উপরের তল অর্থাৎ অ্যাবরাল সাইডে প্রচুর ছোট স্টারফিস ছোট ছোট শামুক, ঝিনুক, ও মাছ দেখতে পেলেন। ওরাল সাইডে বিভিন্ন জুওয়েড সহ হলুদ রঙের গোনোজুওয়েড। এখন ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত কি বলছেন; তিনি কিছু ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে জেলিফিস টিকে জলে ভাসিয়ে দিতে সমর্থ হলেন। কিছুটা চুপসে যাওয়া জেলিফিস গাড়ির টায়ারের মতো বা ছাতার মতো দেখতে লাগলো। সেইদিন দেখেছিলেন আগের দিনের থেকে সমুদ্র বেশ কিছুটা ক্ষেপে উঠেছে। ঢেউগুলো অনেক বেশ বড় বড় আকার নিচ্ছিল এবং তীর পর্যন্ত চলে আসছিল। তখন বোঝা যায়নি কেন এরকম হচ্ছিল।ফেব্রুয়ারি ২৫ তারিখ সকাল ছয়টা দশে ভূমিকম্প দিঘা-তে কম্পন এর মাত্রা ছিল ৫.৩০ যেটার উৎপত্তি সমুদ্রের ২৩ কিলোমিটার গভীর, এবং ১৩১ কিলোমিটার পূর্ব বঙ্গোপসাগরে।এখন ডক্টর সুভাষচন্দ্র দত্ত কি মনে করছেন?তার প্রশ্ন হলো ২০২৩ সালের আগে জেলিফিশ সেভাবে কখনো আসেনি? ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দেখা গিয়েছিল। তারা মাছও এত সংখ্যায় দেখা যায়নি? বাড়ি এসে বিভিন্ন জার্নালের লিটারেচার সার্ভে করে ডক্টর দত্ত দেখলেন যে জলের দূষণ, তাপমাত্রা, চাপ, তাপ, চৌম্বকত্ব, তীব্রতা, কম্পাঙ্ক, প্লবতা, বিভিন্ন ভারী ধাতু বিশেষ করে ক্যাডমিয়াম, নিকেল, পারদ এর প্রাচুর্যতা ও প্লাস্টিক দূষণ, অত্যাধিক মাছের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত মাছ ধরা, মানুষের কার্যকলাপ, এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ইত্যাদি জেলিফিশ কে বিব্রত করে তাদের বাস্তুতন্ত্রে থাকতে এবং এরা সক্রিয়ভাবে সারা দেয় ও ওই ইকোলজিক্যাল নিচ বা থাকার জায়গা থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। পিঁপড়ে, পাখি, হাতি, ইঁদুর, এবং বিভিন্ন প্রাণীরা যেমন আগে থেকে বুঝতে পারে ভূমিকম্পের কথা।এই সমস্ত কারণে তিনি মনে করেন জেলিফিশ ও স্টারফিস রা ২৪ তারিখে ভূমিকম্পের কথা আগাম বুঝতে পেরে ছিল এবং তাদের বাস্তুতন্ত্র ছেড়ে সমুদ্র সৈকতে চলে এসেছিল। ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত একই ঘটনা চাক্ষুষ করেছিলেন ২০০৪ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর সমুদ্রের ভূমিকম্পে তথা সুনামিতে। সেই সময় সমুদ্রের জল পিছিয়ে গেছিল, সমুদ্রের তলদেশ ওঠা নামা করছিল, এবং বিভিন্ন কাংরা, শামুক, ঝিনুক, ও বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ প্রাণী সেদিন দেখেছিলেন। সেদিন বিভিন্ন জলজ প্রাণীরা ভূমিকম্পের তথা সুনামির ফলে সমুদ্র সৈকতের দিকে নিজস্ব বস্তুতন্ত্র ছেড়ে চলে এসেছিল।এই সমস্ত ঘটনা ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি, ভবিষ্যতে জেলিফিশ ও স্টারফিশ কে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস জানার বায়ো-ইন্ডিকেটার হিসাবে কাজে লাগানো যেতে পারে । যদিও এ ব্যাপারে অনেক গবেষণা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত ।

মার্চ ১৬, ২০২৫
শিক্ষা

নকলে বাধা উচ্চ মাধ্যমিকে, ধুন্ধুমার মালদার বৈষ্ণবনগর থানার চামাগ্রাম হাইস্কুল

উচ্চ মাধ্যমিকের ইংরেজি পরীক্ষার দিন নকল করতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ধুন্ধুমার মালদার বৈষ্ণবনগর থানার চামাগ্রাম হাইস্কুল। অভিযোগ,নকলে বাধা দেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের একাংশ সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের মারধর করে বলে অভিযোগ। এমনকি অফিস ঘরের চা তৈরীর গরম জল হুড়োহুড়ির মধ্যে শিক্ষকদের গায়ে পড়েও জখম হন কয়েকজন। বুধবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় এমন ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে চামাগ্রাম হাইস্কুল চত্বরে। পরে ঘটনার খবর পেয়ে ওই স্কুলে পৌঁছায় বৈষ্ণবনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও ইংরেজি পরীক্ষা পরে সুষ্ঠু মতো সম্পন্ন হলেও, আতঙ্কে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষিকারা। এই হামলার ঘটনায় ৬ জন শিক্ষক জখম হয়েছেন বলে অভিযোগ। যাদের মধ্যে দুইজনকে বৈষ্ণবনগর থানার বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে।এদিকে এদিন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার তদারকি করতে মালদা এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কাউন্সিল সভাপতি চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য। তিনিও পরীক্ষার শেষে ওই স্কুলে পরিদর্শনে যান এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এই হামলার বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জেলা শিক্ষা দপ্তরের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কাউন্সিল সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর চামাগ্রাম হাইস্কুলে সিট পড়েছে কান্দিটোলা হাইমাদ্রাসা, চর সুজাপুর হাইস্কুল এবং পারলালপুর হাইস্কুলের। পরীক্ষা শুরুর সময় মেন গেটের সামনে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি চালাচ্ছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। সেই সময় পরীক্ষার্থীদের একাংশ তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদ জানিয়ে আচমকায় কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আর তাতেই পরীক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ মধ্যে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে যায় । পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ।চামাগ্রাম হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক বিলাশচন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, এদিন ইংরেজি পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে স্কুলের মেনগেট দিয়ে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রবেশ করছিল, তখন মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে কয়েকজন শিক্ষক তাদের তল্লাশি চালাচ্ছিল। সেই সময় তল্লাশি চালাতে বাঁধা দেয় একাংশ পরীক্ষার্থীরা। তখনই হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং সে সময় কয়েকজন শিক্ষকের ওপর একাংশ পরীক্ষার্থীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তখনকার মতো বিষয়টি মিটে গেলেও পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগেই হঠাৎ করে একদল পরীক্ষার্থী স্কুলের অফিস ঘরে ঢুকেই গোলমাল শুরু করে। প্রতিবাদ করাতেই শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানো হয়। কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করা হয়। সেই সময় টেবিলের চা তৈরির জন গামলায় গরম জল ছিল। সেটিও কয়েকজন শিক্ষকদের গায়ে এসে পড়ে। চামাগ্রাম হাই স্কুলের শিক্ষকদের বক্তব্য, পরীক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু পরবর্তী পরীক্ষাগুলিতে এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। রীতিমতো নকলে বাঁধা দেওয়ার কারণেই এদিন একাংশ পরীক্ষার্থীরা এই অশান্তি সৃষ্টি করেছে। পুরো বিষয়টি জেলা শিক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পর এদিন দুপুরে চামাগ্রাম হাইস্কুলে গিয়ে পৌঁছায় পশ্চিমবঙ্গ হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কাউন্সিল সভাপতি চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য । কথা বলেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে। চিরঞ্জীববাবু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এমন ঘটনা কখনো আশা করা যায় না। শিক্ষকেরা পরীক্ষার্থীদের নকলে বাধা দেওয়ার জন্যই তল্লাশি চালানোর কাজ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে শিক্ষকদের ওপর একাংশ পরীক্ষার্থীদের হামলা সেটা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা দপ্তরের কাছে পুরো রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছি। সবদিক দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে বহিরাগত কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মার্চ ০৫, ২০২৫
শিক্ষা

কলকাতা বয়েজ স্কুলের সোনারপুর শাখায় বিক্ষোভ অভিভাবকদের, অভিযোগের কোনও অন্ত নেই

কলকাতা বয়েজ স্কুলের সোনারপুর শাখায় বিক্ষোভ দেখাল অভিভাবকরা। মূলত ফি বৃদ্ধি এবং স্কুলের পরিকাঠামো অত্যন্ত খারাপ, তার প্রতিবাদেই এই বিক্ষোভ বলে জানালেন অভিভাবকরা।বিক্ষোভরত অভিভাবকদের দাবি স্কুলের মাঠ, স্কুলের বাথরুম, ক্লাসরুমের অবস্থা খারাপ, মাঝেমধ্যেই চাঙড় ভেঙে পড়ে, পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, ক্লাসরুমে সিসিটিভি নেই, পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই। বারবার আলোচনায় বসার দাবি জানানো হলেও তাদের সেই দাবি মানা হয়নি। বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সোনারপুর থানার পুলিশ। সকাল থেকেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, প্রতিমাসে ৪ হাজার টাকা করে ফি দেওয়া হয়। সেই টাকা আরও বাড়ানোর সার্কুলার দেওয়া হয়েছে ২০শে জানুয়ারি। অভিভাবকদের দাবি স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নতি হলে তবে তাঁরা বাড়তি ফি দেবেন। পুলিশের সঙ্গে মধ্যস্ততায় আগামী ১লা ফেব্রুয়ারী মিটিং ডেকেছেন স্কুল কতৃপক্ষ। এইদিনই স্কুলের বেলেঘাটা শাখায় মিনি মেলা আছে। সেই পরিস্থিতিতে কিভাবে এই আলোচনা সম্ভব তা নিয়ে সন্দিহান অভিভাবকরা। যদিও এই বিষয়ে স্কুল কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছু বলতে চাননি।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৫
শিক্ষা

এবার আরও সতর্ক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, প্রশ্নপত্র ফাঁসে একাধিক পরিকল্পনা

প্রতিবছরই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে। অনেক সময় দেখা গিয়েছে এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মালদা জেলা। এবার উচ্চমাধ্যমিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে এবারে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।বিগত দিনে যেখানে পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেনু সুপার ভাইজারের ঘরে খোলা হত। কিন্তু এবার থেকে সেই প্রশ্নপত্র একেবারে পরীক্ষা শুরুর মুহূর্তে পরীক্ষা হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে খোলা হবে। সেই সঙ্গে প্রত্যেকটি ভেনুতে থাকছে মেটাল ডিরেক্টরের ব্যবস্থা। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে বারকোড, সিরিয়াল নাম্বার, কিউ আর কোডসহ একাধিক অত্যাধুনিক সিকিউরিটি ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদায় এসে এই পরিকল্পনার কথা জানান পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। এদিন মালদা টাউন হলে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা জেলা শিক্ষা দপ্তরের কর্মী আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নানা ব্যবস্থার কথা বলেন চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।শিক্ষা দপ্তরে জানা গিয়েছে, আগামি বছর ৩ মার্চ থেকে শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। চলবে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। সুষ্ঠুভাবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে এদিন মালদা টাউন হলে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয় এই প্রস্তুতি সভা থেকে।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২৪
শিক্ষা

SC-2016 নিয়োগ, যোগ্যদের চাকরি বহাল রাখতে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষের দাবি

সল্টলেকের আচার্য সদনে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার এর কাছে ডেপুটেশন জমা দেন।(১) যোগ্য অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথকীকরণ (সেগ্রিগেশন) এবং যোগ্যদের চাকরি বাঁচানোর জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশন কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।(২) আগামী ১৬ই জুলাই, ২০২৪ তারিখ স্কুল সার্ভিস কমিশনকে মাইগ্রেশন লিস্ট মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে জমা দিতে হবে।(৩) মহামান্য সুপ্রিমকোর্টর নির্দেশ অনুযায়ী, ইতিমধ্যে চিহ্নিত অযোগ্যদের থেকে যে মুচলেকা নেওয়ার কথা ছিল তা এখনো পর্যন্ত কেনো কার্যকর হলো না?অতিদ্রুত উক্ত নির্দেশ কার্যকর করতে হবে।(৪) যে সকল পোস্টের (বিশেষত: XI-XII) শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীনের OMR এখনও পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি, অভিদ্রুত তা প্রকাশ করতে হবে।(৫) সকল যোগ্য ও বৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি সুনিশ্চিত করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা সহ লিস্ট প্রকাশ করতে হবে।(৬) যোগ্য ও বৈধ টিচারদের মধ্যে কতজন ইন-সার্ভিস (IN-SERVICE) টিচার ২০১৬ পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত হযেছেন ও স্কুল শিক্ষা দপ্তরের নিয়মানুযায়ী কন্টিনিউশপন (Continuation) পেয়েছেন তাদের নাম ও পোস্ট সহ সুস্পষ্ট লিস্ট প্রকাশ করতে হবে। এইরকম বহু সংখ্যক শিক্ষক- শিক্ষিকা সুপ্রিম কোর্টে SLP ও করেছেন।(৭) কর্মরত বহু সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী এমন আছেন যারা রেকমেন্ডেশন ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে স্কুলে গিয়ে দেখেন সেখানে ভ্যাকেন্সি প্রবলেম রয়েদে ও যোগ দিতে পারেন না। পুনরায় আবেদন করেন এবং নতুন রেকমেন্ডেশন ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে নতুন স্কুলে যোগদান করেন। এই সমস্যার জন্য স্কুলে যোগদানের ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হয়েছে। এবিষয়ে অতিরিক্ত এপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তথ্য সহ স্কুল সার্ভিস কমিশনকে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট দিতে হবে।(৮) Rank জাম্প, ফাঁকা OMR, প্যানেল উত্তীর্ণ, প্যানেল বর্হিভূত, CBI লিস্টে নাম থাকা যে সকল অবৈধ ও অযোগ্য কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের লিস্ট অবিলম্বে প্রকাশ করে তাদের চাকরি বাতিল করে সেই স্নানে যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে নিয়োগ করতে হবে।(৯) সিবিআই রিপোর্ট, বাগ কমিটি রিপোর্ট ও SSC রিপোর্ট অনুযায়ী Rank Jumping, Out of Panel, OMR Manipulation, Excess Appointment এর ক্ষেত্রে কোথাও যাদের নাম নেই সেই List প্রকাশ করা হোক।(১০) যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মেডিকেল টেস্ট ও VR মাধ্যমে Service Confirmation প্রক্রিয়া নিয়ে কোন Adverse Report নেই। এই বিষয়টিকে সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরতে হবে। সর্বপরি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই ভয়ংকর দুর্নীতি যা পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে তার সাথে যুক্তসকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের পদক্ষেপ নিতে হবে।

জুলাই ০৫, ২০২৪
শিক্ষা

উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম আলিপুরদুয়ারের অভীক, রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলির স্নেহা

প্রকাশিত হল উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট। এবার ১৫টা জেলা থেকে ৫৮ জন প্রথম দশে স্থান পেয়েছে। হুগলিতে ১৩ জন, বাঁকুড়াতে ৯ দক্ষিণ ২৪ পরগানায় ৭, কলকাতায় ৫, পূর্ব বর্ধমান ও পূর্ব মেদিনীপুরের ৪ জন করে আছেন প্রথম দশে। উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হয়েছেন আলিপুরদুয়ারের অভীক দাস। পেয়েছেন ৪৯৬ অর্থাৎ ৯৯.২ শতাংশ। দ্বিতীয় সৌম্যদীপ সাহা ৪৯৫ নরেন্দ্রপুর হাইস্কুলের ছাত্র। ৪৯৪ পেয়ে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন অভিষেক গুপ্ত। রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুল, মালদার ছাত্র অভিষেক। চতুর্থ প্রতীচি ও স্নেহা ঘোষ হুগলি থেকে। নম্বর ৫৯৩। মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্নেহা। এবার পঞ্চম হয়েছেন ৭ জন। তাঁরা ৪৯২ পেয়েছেন।

মে ০৮, ২০২৪
শিক্ষা

দেখে নিন এক ঝলকে ২০২৪ মাধ্যমিকের মেধা তালিকা

প্রকাশিত হল ২০২৪ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। এবারের রাজ্য মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় প্রথম দশে রয়েছেন মোট ৫৭ জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রী। মেধাতালিকায় ছেলেদের সংখ্যা ৪৫ জন এবং মেয়েদের সংখ্যা ১২ জন। যদিও পাশের হারে মেয়েরা এবার ছেলেদের থেকে বেশী পাশ করেছে। মাধ্যমিক ২০২৪-এ প্রথম দশের সম্পূর্ণ মেধাতালিকা জেনে নিন। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮০ দিনের মাথায় ফলাফল বেরোলো। পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে কালিম্পং জেলা। অন্য জেলাগুলির সফলতাও এবারে নজরকাড়া। কোন জেলার কোন পড়ুয়া সেরা দশে? রইল তার সবিস্তার তালিকা।প্রথম:চন্দ্রচূড় সেন। কোচবিহারের রামভোলা হাইস্কুলের এই কৃতী ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩ (৯৯%)।দ্বিতীয়:সাম্যপ্রিয় গুরু পুরুলিয়া জেলা স্কুলের ছাত্র। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২ (৯৮.৯৬%)।তৃতীয়:এবারের মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ৩ জন পরীক্ষার্থী। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের ছাত্র উদয়ন প্রসাদ, বীরভূমের ইলামবাজারের নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের পুষ্পিতা বাঁশুরি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র নৈঋতরঞ্জন পাল তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।চতুর্থ:এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় চতুর্থ হয়েছেন হুগলির কামারপুকুর রামকৃষ্ণ হাইস্কলের ছাত্র তপজ্যোতি মণ্ডল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০ (৯৮.৫৭%)।পঞ্চম:পূর্ব বর্ধমানের অর্ঘ্যদীপ বসাক ৬৮৯ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। অর্ঘ্যদীপ পারুলডাঙা নসরতপুর হাইস্কুলের পড়ুয়া।ষষ্ঠ:মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্থানে ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রয়েছেন মোট ৪ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের কৃষাণু সাহা, পশ্চিম মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র কৌস্তভ সাহু। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র অলিভ গায়েন এবং মালদহের মোহামপুর এইচএসএসবি হাইস্কুলের ছাত্র মহম্মদ সাহারুদ্দিন।সপ্তম:৬৮৭ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে সপ্তম স্থানে রয়েছেন মোট ৯ জন। তাঁরা হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী আবৃত্তি ঘটক, কোচবিহারের মাথাভাঙা হাইস্কুলের আসিফ কামাল। বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের অর্পিতা ঘোষ, বালুরঘাট হাইস্কুলের সাত্যদা দে, পূর্ব মেদিনীপুরের জ্ঞানদীপ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের সুপমকুমার রায়, বীরভূমের সরোজিনী দেবী শিশু মন্দিরের আরত্রিক শ, পূর্ব মেদিনীপুরের বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের কৌস্তভ মল, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণমিশনের আলেখ্য মাইতি।অষ্টম:৬৮৬ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে অষ্টম স্থানে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মিশন গার্লস স্কুলের ছাত্রী তনুকা পাল, পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবনের ছাত্রী ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী, নদিয়ার কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ঋদ্ধি মল্লিক ও বর্ধমান মিউনিসিপাল হাইস্কুলের ছাত্র দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য।নবম:মাধ্যমিকে ৬৮৫ নম্বর পেয়ে নবম স্থানে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাউল পরমেশ্বর হাইস্কুলের অস্মিতা চক্রবর্তী, এই জেলারই রৌণক ঘোষ, মালদহের মোহামপুর এইচএসএসবি হাইস্কুলের বিশালচন্দ্র মণ্ডল, এই স্কুলেরই আমিনুল ইসলাম। বীরভূমের সাইঁথিয়া টাউন স্কুলের চন্দ্রদীপ দাস, বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলের অরুণিমা চট্টোপাধ্যায়, মেদিনীপুরের কলেজিয়েট স্কুলের ধৃতিমান পাল। ঝাড়গ্রামের রানি বিনোদমঞ্জরী গার্লস হাইস্কুলের অণ্বেষা ঘোষ, রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের সায়ক শাসমল ও সাগর জানা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ঋতব্রত নাথ, ঋত্বিক দত্ত। নদিয়ার চাকদহের রামলাল অ্যাকাডেমির ছাত্র জিষ্ণু দাস, বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের সাগ্নিক ঘটক, শ্যামপুর হাইস্কুলের অরণ্যদেব বর্মন, সারজোনী বিদ্যাপীঠের সায়নদীপ মান্না।দশম:২০২৪ র মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন মোট ১৫ জন। এদের প্রত্যেকেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৪। তারা হলেনঃ১। পূর্ব মেদিনীপুরের কন্টই মডেল ইন্সটিউশনের সম্পাদ পারিয়া, ঋতম দাস। ২। পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী সম্পূর্ণা নাথ, ৩। হুগলির ইএলআইটি কো-এডুকেশন স্কুলের ছাত্র নীলাঙ্কন মণ্ডল, ৪। বাঁকড়ার তালডাংরা ফুলমতী হাইস্কুলের সৌমিক খান। ৫। পূর্ব বর্ধমানের পারুলডাঙা নসরতপুকর হাইস্কুলের অর্ণব বিশ্বাস, ৬। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া কাশীরাম দাস ইন্সটিটিউশনের অনীশ কোনার।৭। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী ভূমি সরকার, ৮। মালদহের মোজামপুর হাইস্কুলের বিশাল মণ্ডল, ৯। বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সৌভিক দত্ত, গড় রায়পুর হাইস্কুলের ছাত্র সৌম্যদীপ মণ্ডল। ১০। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাবভনের ছাত্র অগ্নিভ পাত্র, ১১। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র শুভ্রকান্তি জানা, ১২। সারদী বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের ইশান বিশ্বাস।

মে ০২, ২০২৪
শিক্ষা

২০২৬ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন

সম্পূর্ণ পরিবর্তন হতে চলেছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পদ্ধতি। শুধু মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষা বাবস্থাতেই নয়, রাজ্যের সমস্ত রকমের শিক্ষা ব্যাবস্থার ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হবে বলে জানিয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এবার যারা মাধ্যমিক পাশ করে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হবে, তারা এই নতুন নিয়ম অনুসারে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। তবে এখন যারা একাদশ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠছে, তারা অবশ্য ২০২৫ সালের নির্ধারিত পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণীতে হবে দুটি সেমিস্টার এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে হবে দুটি সেমিস্টার। দুবছরে মোট চারটে সেমিস্টারে পরীক্ষা হবে। বুধবার বিকেলে এমনই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদ। কিছুদিন আগে এক সংবাদ মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালেই উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাসের পরিবর্তন করে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হতে পারে। এবিষয়ে তাঁরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন, যার ফলে যারা এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল তারা একাদশ শ্রেণীর পড়াশোনা শুরু করতে পারছিল না। নতুন সিলেবাসে সম্পর্কে জানতে চাইছেন পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকেরা। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যবলেন, দ্বাদশ শ্রেণীতে যে দুটি সেমিস্টার হবে তার প্রথমটি হবে নভেম্বরে, দ্বিতীয়টি হবে মার্চে। প্রথম পরীক্ষাটি হবে শুধু মাল্টিপল চয়েস নির্বাচনী প্রশ্ন বা এমসিকিউ এর উপর এবং দ্বিতীয় পরীক্ষাটিতে সবিস্তার উত্তর লিখতে হবে। পরীক্ষাগুলির নম্বর বিভাজন সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি শিক্ষা দপ্তর থেকে। শিক্ষক সংগঠনগুলি অনেকেই মনে করেছেন এই জাতীয়নীতির অনুসরণে পুড়ুয়াদের ক্ষতি হবে। উচ্চমাধ্যমিকের পর উচ্চতর ডিগ্রির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য সামগ্রিক পাঠ্যক্রম জানা জরুরি। তবে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের মতে, দুটি ভাগে পরীক্ষা হলে পড়ুয়াদের কাছে উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন আরো নিখুঁত হবে। একটি সেমিস্টারে খারাপ ফল হলে পরবর্তী পরীক্ষায় সেই ভুল শুধরে নেয়ার একটা সুযোগ থাকবে। আরো বলেছেন, সেমিস্টারের সিলেবাসে এমনভাবে করা হবে যাতে পুড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় কোনো ক্ষতি না হয়।

মার্চ ১৪, ২০২৪
শিক্ষা

যাদবপুরে অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু নিয়ে গর্জে উঠল 'বাংলা পক্ষ', তোলপাড় বিশ্ববিদ্যালয়

আবার লাইমলাইটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা পক্ষের জানায়, সেখানে দৃষ্টিহীন ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাসের অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা আরও জানায়, দুই বহিরাগত ক্রিমিনাল সুরজ ঝাঁ ও পাপ্পূ সোনা গান্ধীর শারীরিক-মানসিক অত্যাচারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিহীন, মেধাবী বাঙালি ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাস আত্মহত্যা করেছে। খুনিদের শাস্তির দাবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভার অয়োজন করে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, মৃতা রেনেসাঁ দাস জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের বাসিন্দা। এই অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু-র প্রতিবাদে বাংলা পক্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে মুখর হয়। বাংলা পক্ষ ও ছাত্র সংগঠন বাংলা ছাত্র পক্ষ, ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয়। খুন হওয়া বাঙালি মেয়ের খুনিদের শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের জলপাইগুড়ি জেলার বোন, বাঙালি বোন রেনেসাঁ দাসকে অত্যাচার করে খুন করেছে দুই বহিরাগত জন্তু সুরজ ঝাঁ এবং পাপ্পু সোনা গান্ধী। লজ্জার কথা যে বিপ্লবের কথা বলা, বড় বড় রাজনীতির কথা বলা সব দল, সব ছাত্র সংগঠন আজ চুপ। মিডিয়ায় প্রাইম টাইমে টক শো নেই। কিন্তু বাংলা পক্ষ লড়ছে। বাংলা ছাত্র পক্ষ লড়ছে। এই গুন্ডাদের বাংলার মাটি থেকে উপড়ে ফেলবে বাংলা পক্ষ। খুনিদের ফাঁসি চাই। আমরা বাংলার মাটিতে কোনো কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত ক্রিমিনালদের আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেব না।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, আজ যাদবপুরের বাকি ছাত্র সংগঠন গুলো খুনিদের বাঁচাতে ব্যস্ত। বোনের খুনিদের শাস্তির দাবিতে কেউ সোচ্চার নয়। কিন্তু ভাবুন তো যাদবপুরে বাংলা ছাত্র পক্ষর বড় সংগঠন থাকলে কোনো বহিরাগত জন্তু বাঙালি মেয়েকে অত্যাচার তো দূরের কথা, বাঙালি মেয়েদের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারতো? আমরা আগামীতে সব বড় ইউনিভার্সিটিতে সংগঠন খুলবো। আমরা যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৯০% ডোমিসাইল চালু করিয়েছি। এবার সব বিভাগে ডোমিসাইল চালু করাবো। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোমিসাইল চালু করাবো৷বাংলা ছাত্র পক্ষর প্রধান রণ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যাদবপুর সহ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, মেডিক্যাল কলেজে যাতে গ্রাম তথা জেলার ছেলেমেয়েরা অত্যাচারিত না হয় সেজন্য বাংলা ছাত্র পক্ষ সব জায়গায় লড়াই করবে এবং সংগঠন খুলবে। আমরা যাদবপুরকে বহিরাগতদের আবাদ ভূমি হতে দেব না।এছাড়াও এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, অর্ক ঘোষ, অভিজিৎ দে, কুশনাভ মণ্ডল, লীনা রায় সহ আরও অনেকে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই যেতে পারতেন না রচনা! ইন্দ্রনীলকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি সাংসদের

নিজের লোকসভা কেন্দ্রের একটি বিধানসভা এলাকায় যেতে হলেও অনুমতি নিতে হত তাঁকে। এমনই দাবি করলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ার পর চন্দননগরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। রচনার দাবি, তৃণমূলে থাকার সময় চন্দননগরে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত। এমনকি তাঁকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগেও অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হত বলে জানিয়েছেন সাংসদ। তবে গায়ক হিসেবে ইন্দ্রনীলের প্রশংসাও করেছেন তিনি।চন্দননগর পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন রচনা। সেখানে তিনি জানান, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম এমন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন। ২০২৪ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরেও কেন তাঁকে চন্দননগরের অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি।রচনার দাবি, তৃণমূলে থাকার সময় চন্দননগরের তৎকালীন বিধায়ক তথা মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় কোনও অনুষ্ঠানে যেতে পারতেন না তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁকে কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগেও ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত বলে দাবি করেছেন রচনা।তাঁর কথায়, একই দলের সাংসদ থাকলেও ইন্দ্রনীলের সঙ্গে সেই ভাবে কাজ করা হয়নি। ওঁর বিধানসভা এলাকায় কোনও অনুষ্ঠানে যেতে হলে অনুমতি নিয়েই যেতে হত। এমনকি কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত। দলের কর্মীরাই এ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিলেন।ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারি নিয়ে অবশ্য বেশি কিছু বলতে চাননি রচনা। তিনি জানিয়েছেন, এখন তিনি অন্য দলের সাংসদ। তাই আগের দলের কোনও নেতাকে নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। একই সঙ্গে আইনি বিষয়টি আদালতেই মীমাংসা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ইন্দ্রনীল সেনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য না করলেও গায়ক হিসেবে তাঁর প্রশংসা করেছেন রচনা। তাঁর কথায়, ইন্দ্রনীল সেন যখন গায়ক ছিলেন, তাঁর অনেক ক্যাসেট বিক্রি হয়েছে। শিল্পী ইন্দ্রনীল গায়ক হিসেবে ভালো ছিলেন।উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর দুর্গাপুজোর ই-পাস সংক্রান্ত মামলায় ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বউবাজার থানায় মাস আর্ট নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ভ্রমণ সংস্থার এজেন্ট এই অভিযোগ দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করছে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা।ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কলকাতা

ফের মা উড়ালপুলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ডিভাইডার টপকে উল্টো লেনে গাড়ি, আহত অন্তত ৪

ফের দুর্ঘটনা মা উড়ালপুলে। শনিবার সকালে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত চার জন। দুর্ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ ব্যাহত হয় যান চলাচল। মা উড়ালপুলে যানজট তৈরি হয়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি গাড়ি সরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের যান চলাচল শুরু হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে পার্ক সার্কাসের দিক থেকে আসছিল একটি গাড়ি। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডার টপকে উল্টো দিকের লেনে চলে যায়। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসছিল একটি ব্যক্তিগত গাড়ি। দুটি গাড়ির মধ্যে সজোরে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের অভিঘাতে দুটি গাড়িই দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় দুটি গাড়িরই এয়ারব্যাগ খুলে যায়।দুর্ঘটনায় দুটি গাড়িতে থাকা অন্তত চার জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে এক জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বাকিদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পার্ক সার্কাসের দিক থেকে আসা গাড়িটি দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। সেই সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর পর গাড়িটি ডিভাইডার টপকে উল্টো দিকের লেনে ঢুকে পড়ে। তখনই উল্টো দিক থেকে আসা অন্য গাড়িটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।দুর্ঘটনার পর দুটি গাড়িই আটক করেছে পুলিশ। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার জেরে কিছুক্ষণের জন্য মা উড়ালপুলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ি দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
দেশ

বিদেশে পড়াশোনার কথা জানতেন মা-বাবা, পুনের ফ্ল্য়াটের খাটের তলা থেকে মিলল মেয়ের দেহ

এমবিএ পড়তে লন্ডনে গিয়েছিলেন মেয়ে। অন্তত তেমনটাই জানতেন তাঁর মা-বাবা। কিন্তু তাঁদের অজান্তেই গত অগস্টে দেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। পুণের একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। কয়েক দিন ধরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা-বাবা। শেষ পর্যন্ত বন্ধ ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে উদ্ধার হল ওই যুবতীর দেহ। খাটের তলায় পড়েছিল তাঁর নিথর শরীর। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।মৃত যুবতীর নাম মুগ্ধা অবিনাশ দেশমুখ। গত বছরের জুলাই মাসে এমবিএ পড়তে ব্রিটেনে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চলতি বছরের অগস্টে কাউকে কিছু না জানিয়ে ভারতে ফিরে আসেন। এর পর পুণের একটি ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন। তবে মেয়ের সঙ্গে ফোনে নিয়মিত কথা হত বলেই দাবি তাঁর মা-বাবার। তাই তিনি যে দেশে ফিরে এসেছেন, সে কথা তাঁরা বুঝতে পারেননি।গত ২৪ অক্টোবরের পর থেকে মুগ্ধার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। ফোনও বন্ধ ছিল। মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। এর পর মুগ্ধার এক বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বান্ধবী লন্ডন পুলিশের কাছে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানাতে গেলে জানতে পারেন, মুগ্ধা ব্রিটেন থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।এর পর লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি মুগ্ধার অনলাইনে কেনাকাটা ও বিক্রির তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। সেই সূত্র ধরেই শম্ভাজিনগরের একটি ঠিকানা জানতে পারে পুলিশ। সেখানে পৌঁছে বন্ধ অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। ঘরের ভিতরে খাটের তলায় মুগ্ধার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুগ্ধার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। আরও পরীক্ষার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা তদন্তকারীদের।কেন মুগ্ধা লন্ডন থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে ভারতে ফিরে এসেছিলেন, পুণের ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন কি না, তাঁর মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর উদ্যোগ কংগ্রেসের, তার আগেই বিরোধীদের কী চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অমিত শাহ?

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পাবলিক ইমপিচমেন্ট কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। শনিবার এই কর্মসূচি হওয়ার কথা। তার আগেই কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, এসআইআর নিয়ে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনা করতে প্রস্তুত বিজেপি।উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে বিজেপির একটি বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, আপনাদের দুজনকে এখানেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, বিজেপি এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আসুন, সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে সংসদের কাজ বার বার ব্যাহত হয়। বিরোধীরা সংসদে আলোচনা করতে চায় না বলেও দাবি করেন তিনি।বাংলার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কম বুঝেই বিরোধীরা ভোট চুরির অভিযোগ তুলছে। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে বিজেপি প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিনই এই মন্তব্য করেন অমিত শাহ। ওই নির্বাচনে বিজেপি ছটি এবং সমাজবাদী পার্টি পাঁচটি আসনে জয়ী হয়েছে। বিজেপি তাদের আগের আসনগুলি ধরে রেখেছে। অন্য দিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এই ফলকে বিজেপির পরাজয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন।এদিকে, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের বৃহত্তর সমাবেশ হওয়ার কথা। তার আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাড়িতে পাবলিক ইমপিচমেন্ট কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে কোন কোন বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বিরোধী নেতারা।এই কর্মসূচিতে প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার মীরা কুমারের উপস্থিত থাকার কথা। সাধারণ মানুষেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে বলে অভিযোগ, এমন দুজন ভোটারও সেখানে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। এক দিকে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচি, অন্য দিকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার চ্যালেঞ্জএই দুইয়ের মধ্যে বিতর্ক কোন দিকে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কলকাতা

পরোটা বিক্রি করতে লাইসেন্স আছে? রাজুদার দোকানে হানা দিয়ে কী জানতে চাইলেন আধিকারিকেরা?

শিয়ালদহের এনআরএস হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে পরোটা বিক্রি করে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন রাজুদা। শনিবার সকালে তাঁর দোকানে আচমকা হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা। পরোটা বিক্রির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা জানতে চান তাঁরা। রাজুদা লাইসেন্স দেখাতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দোকান থেকে খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর তৈরি তরকারি উত্তীর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজুদা। নমুনাগুলি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সাত দিন পর সেই রিপোর্ট আসার কথা।শুধু রাজুদার দোকানেই নয়, শনিবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের একাধিক খাবারের দোকানেও অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা। বিভিন্ন দোকান থেকে সিঙারা, কচুরি, তরকারি, মাছ, মাংস-সহ নানা খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়।আধিকারিকদের দাবি, পরীক্ষায় কয়েকটি খাবারের মান সন্তোষজনক পাওয়া যায়নি। এর পর প্রায় ১০০টি সিঙারা, কচুরির ডাল, তরকারি, পচা মুরগির মাংস এবং মাছের ডিম ফেলে দেওয়া হয়। দোকানদারদের খাবারের মান বজায় রাখার বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছে।এর পর আধিকারিকেরা যান রাজুদার দোকানে। সেখানে তাঁর কাছে পরোটা বিক্রির লাইসেন্স দেখতে চান তাঁরা। কিন্তু রাজুদা কোনও লাইসেন্স দেখাতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দোকান থেকে তরকারির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় সেই তরকারি উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজুদা। তবে খাবারের চূড়ান্ত মান সম্পর্কে জানতে পরীক্ষাগারের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।এই বিষয়ে রাজুদা বলেন, লাইসেন্স সম্পর্কে কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। বাড়িতে ১০-১২ কেজি ময়দার পরোটা বানাই। ৩টে ৪৫-এর ট্রেন ধরে কলকাতায় এসে বিক্রি করি। সকাল ১১টায় আবার ফিরে যাই। স্যরেরা লাইসেন্সের কথা বললেন। এ বার লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করব। কিন্তু খাবার নিয়ে কেউ কোনও আপত্তি জানাতে পারবেন না।আধিকারিকেরা তাঁকে সার্জিক্যাল টুপি পরার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন রাজুদা। এর পর থেকে টুপি ও দস্তানা পরে খাবার বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের খাবারের দোকানগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজুদার দোকানের খাবারের চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। তাই তাঁর তৈরি খাবারের মান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য পরীক্ষাগারের রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
রাজ্য

বছরখানেক আগে গুলিবিদ্ধ, এ বার রেললাইনের ধারে পুলিশ আধিকারিকের দেহ! রহস্য ঘনাল বাঁকুড়ায়

বছরখানেক আগে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনা ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। এ বার সেই পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত পালের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া শহরের কেঠারডাঙা রেলগেটের কাছে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। আরণ্যক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।জয়ন্ত পাল বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সেটি বাঁকুড়ার সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রেললাইন পারাপারের সময় দুর্ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর কারণ জানতে জয়ন্তের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।এর আগে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার ঘোষপাড়ার একটি পেট্রল পাম্পে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জয়ন্ত। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লাগে। সেই সময় তিনি হুগলির চণ্ডীতলা থানার আইসি পদে কর্মরত ছিলেন। ওই গুলিকাণ্ডের পর এক তরুণীকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জানা গিয়েছিল, ওই তরুণী হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা। সামাজিক মাধ্যমে জয়ন্তের সঙ্গে তাঁর আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। জয়ন্ত এবং ওই তরুণীকে এলাকার একটি বহুতলেও একাধিক বার দেখা গিয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর তরুণীর মা দাবি করেছিলেন, তিনি জয়ন্তকে চিনতেন না। এই ঘটনাকে ঘিরে তখন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।পরবর্তী সময়ে জয়ন্তকে সাসপেন্ড করে রাজ্য পুলিশ। সেই সময় রাজ্য পুলিশের এডিজি পদে থাকা জাভেদ শামিম জানিয়েছিলেন, কাউকে কিছু না জানিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে অন্য জেলায় চলে গিয়েছিলেন জয়ন্ত। কর্তব্যরত অবস্থায় নিয়মভঙ্গের অভিযোগেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলে জানানো হয়।সাসপেনশন ওঠার পর জয়ন্ত একে একে খানাকুল, চণ্ডীতলা এবং সিঙ্গুর থানায় দায়িত্ব সামলান। পরে তিনি বাঁকুড়া পুলিশ লাইনে ইনস্পেক্টর পদে যোগ দেন। সেই জয়ন্তেরই এ বার মৃত্যু হল বাঁকুড়ার রেলগেটের কাছে। তাঁর মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
রাজ্য

হাসিমারা থেকে সেনা জওয়ান গ্রেফতার, আইএসআইকে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ! কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে ধৃত চিনা নাগরিকও

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে হাসিমারা থেকে এক সেনা জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম জবীর সিং। তিনি পাঞ্জাবের বাসিন্দা। পাঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অভিযান শাখা তাঁকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার তাঁকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হলে দুদিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এর পর তাঁকে পাঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জবীরের বিরুদ্ধে অন্যদের সঙ্গে মিলে সেনা ছাউনির গোপন তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর ফাজিলকার রাজ্য বিশেষ অভিযান শাখায় সরকারি গোপনীয়তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্তের সূত্রেই জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ধৃত জওয়ান ঠিক কী ধরনের তথ্য পাচার করেছেন, তাঁর কাছ থেকে কোন কোন গোপন তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কেন তিনি এই কাজ করেছেন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন।অন্য দিকে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার নাম করে ভারতে ঢোকার অভিযোগে এক চিনা নাগরিককে আটক করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তাঁর নাম ইউহাস লিউ। তিনি চলতি মাসে চিন থেকে নেপালে এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। নেপালে তাঁর পরিচয় হয় দীনেশ পুরি নামে এক নেপালি গাইডের সঙ্গে।শুক্রবার ভোররাতে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে দুজনকে ভারতের দিকে আসতে দেখেন টহলরত সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ান ও আধিকারিকেরা। তাঁদের চলাফেরা দেখে সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। এর পর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে যৌথ ভাবে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীনেশ নিজেকে নেপালের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। লিউ-ও নিজেকে নেপালি বলে দাবি করেন। কিন্তু গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়, কারণ লিউ ভাঙা ইংরেজি ছাড়া নেপালি বা হিন্দিতে কথা বলতে পারছিলেন না। এর পর দোভাষীর সাহায্যে তাঁকে জেরা করা হয়। তখনই তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে এবং তিনি চিনের নাগরিক বলে জানা যায়। এর পর দুজনকে আটক করেন গোয়েন্দারা।সেনা জওয়ানের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ এবং সীমান্তে চিনা নাগরিক আটকের ঘটনায় উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। দুই ক্ষেত্রেই তদন্তকারীরা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছেন।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
কলকাতা

‘আমার খুব আনন্দ হচ্ছে’, ইন্দ্রনীল সেন জেলে যেতেই বিস্ফোরক বুদ্ধদেব-পুত্র সুচেতন!

পুজোর পাস নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এ বার মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য। ইন্দ্রনীলের সঙ্গীত সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর কী কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন সুচেতন। তাঁর অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের আচরণ ছিল অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ। প্রাক্তন মন্ত্রীর জেলবন্দি হওয়ার খবর তাঁকে খুশি করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।কলেজ পাশ করার পর ২০০৫ সালে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গীত সংস্থায় চাকরি শুরু করেন সুচেতন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছিলেন তিনি। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এর পর ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে বলে দাবি সুচেতনের। সেই পরিস্থিতিতে সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।সুচেতনের অভিযোগ, ২০১৩ সালে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠালেও ইন্দ্রনীল তা গ্রহণ করেননি। ইস্তফাপত্রের কপি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে অফিসে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। সুচেতনের কথায়, তাঁর ঔদ্ধত্য এতটাই ছিল যে আমার ইস্তফাপত্র গ্রহণ পর্যন্ত করেননি। সেটা রিসিভ করে আমাকে কপি দেবেন বলে ডেকে পাঠিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে অপেক্ষা করিয়েছেন। নিজে কথা বলেননি, বাকি কর্মীদের দিয়ে বলে পাঠাচ্ছিলেন, অপেক্ষা করতে হবে। ভাবুন কী অপমানজনক! একটা ইস্তফাপত্র সই করতে এতখানি ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন।ইন্দ্রনীলের সংস্থায় কাজ করা রেকর্ডিস্ট এবং অন্য সঙ্গীতশিল্পীদের পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন সুচেতন। তাঁর দাবি, অনেক সময় কাজ করানোর পরেও শিল্পীদের ঠিকমতো টাকা দেওয়া হত না। এক সময়ে নিজের টাকা থেকে কয়েক জন শিল্পীর পারিশ্রমিক মিটিয়ে দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।সুচেতনের আরও দাবি, ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয়েছিল যে বাবার অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে যেন তিনি তাঁদের বাড়ির আশপাশে না আসেন, সে কথা দলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের সময়েও তৎকালীন মন্ত্রীকে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে ঢুকতে দিতে চাননি বলে জানিয়েছেন সুচেতন।ইন্দ্রনীল সেনের জেলবন্দি হওয়ার প্রসঙ্গে সুচেতন বলেন, পাপ ও কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। তাঁর আরও বক্তব্য, আমার মনে হয়, শুধু আমি নই, যাঁরা ওঁর দুর্নীতির পরিচয় পেয়েছেন, তাঁরা সকলে আজ খুশি।ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে সুচেতনের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা। অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal