• ১২ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

ভ্রমণ

ভ্রমণ

সিকিমের অফবিট সৌন্দর্যে মুগ্ধ করবে জুলুক থেকে জোংগু, ঘুরে এলে মন চাইবে বারবার

ব্যস্ত শহরের কোলাহল, কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি আর প্রতিদিনের দৌড়ঝাঁপ থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি পেতে আমরা কয়েকজন বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম ভারতের উত্তর-পূর্বের ছোট্ট অথচ অপরূপ সুন্দর রাজ্য সিকিমের উদ্দেশ্যে। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা আর সবুজ প্রকৃতির টানে বহুদিন ধরেই সিকিম আমাদের স্বপ্নের গন্তব্য ছিল।শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে চড়ে যখন সিকিমের পথে যাত্রা শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পারলাম এক অন্য জগতে প্রবেশ করতে চলেছি। তিস্তা নদী আমাদের পথসঙ্গী হয়ে বয়ে চলছিল। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা, দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর নদীর কলকল শব্দ যেন মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিল।গ্যাংটক পৌঁছে আমরা প্রথমেই শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলা দেখে মুগ্ধ হলাম। তবে আমাদের আসল লক্ষ্য ছিল সিকিমের কিছু অফবিট বা কম পরিচিত স্থান ঘুরে দেখা। তাই পরদিন সকালে আমরা রওনা দিলাম জুলুকের উদ্দেশ্যে। পূর্ব সিকিমের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি পর্যটকদের কাছে এখনও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। পথে বিখ্যাত জিগজ্যাগ রোডের ৩২টি বাঁক দেখে আমরা অভিভূত হয়ে গেলাম। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের রাস্তা দেখতে যেন বিশাল কোনো শিল্পকর্মের মতো লাগছিল।জুলুকের ঠান্ডা আবহাওয়া আর নিস্তব্ধ পরিবেশ আমাদের মন জয় করে নিল। রাতের আকাশে অসংখ্য তারার মেলা দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গের খুব কাছাকাছি এসে গেছি। শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে এই অভিজ্ঞতা সত্যিই ছিল অসাধারণ।পরের দিন আমরা গেলাম থাম্বি ভিউ পয়েন্টে। ভোরবেলায় সূর্যের প্রথম আলো যখন কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা শৃঙ্গে পড়ল, তখন সেই দৃশ্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। সোনালি আলোয় ঝলমল করা পর্বতশ্রেণি আমাদের চোখে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে রইল।এরপর আমরা উত্তর সিকিমের এক সুন্দর অফবিট গ্রাম জোংগুতে পৌঁছালাম। এটি লেপচা সম্প্রদায়ের সংরক্ষিত এলাকা। এখানকার মানুষজন অত্যন্ত আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ণ। তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করল। ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, পাহাড়ি ঝরনা এবং সবুজ বনভূমির মধ্যে কয়েকটি দিন কাটিয়ে মনে হলো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অপূর্ব সহাবস্থান প্রত্যক্ষ করছি।জোংগু থেকে ফেরার পথে আমরা কয়েকটি অজানা ঝরনা এবং ছোট পাহাড়ি গ্রামে থামলাম। প্রতিটি স্থান যেন প্রকৃতির নিজস্ব হাতে সাজানো একেকটি চিত্রপট। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও ঝরনার শব্দ, আবার কোথাও শুধুই নীরবতাসব মিলিয়ে সিকিমের প্রকৃতি যেন হৃদয়কে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।ভ্রমণের শেষ দিনে আমরা বুঝতে পারলাম, সিকিম শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি এক অনুভূতির নাম। এখানে পাহাড় শুধু চোখকে নয়, মনকেও ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির এত কাছে এসে জীবনের ছোট ছোট সুখগুলোর মূল্য আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়।ফেরার পথে গাড়ির জানালা দিয়ে শেষবারের মতো পাহাড়গুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সিকিম যেন নীরবে বলছেআবার এসো। আমরাও মনে মনে প্রতিশ্রুতি দিলাম, এই অফবিট সৌন্দর্যের রাজ্যে আবার ফিরে আসব। কারণ সিকিমের মায়া একবার যার মনে জায়গা করে নেয়, তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় তার সবুজ পাহাড়, নীল আকাশ আর মেঘের দেশে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
ভ্রমণ

একদিনেই ঘুরে নিন বর্ধমান, সীতাভোগ-মিহিদানার শহরের কোনায় কোনায় ইতিহাসের হাতছানি, মুঘল আমল থেকে রাজকাহিনী, মন্দির

রাজ্যের অন্যতম বর্ধিষ্ণু জেলা বর্ধমান। বর্ধমান প্রকৃতই ক্রম-বর্ধমান। একদিনের ভ্রমণে বর্ধমান শহরকে বেছে নিলে জানতে পারবেন অনেক অজানা ইতিহাস। বঙ্গের অন্য়তম প্রাচীন জনপদ বর্ধমান। দূরে ভ্রমণের আগে একবার বর্ধমান শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরলে আপনি সমৃদ্ধ হবেনই। এমনকী আপনার ভ্রমণ কাহিনীতে জুড়ে যাবে বিরাট রসদের ভান্ডার। তাই আর দেরি না করে বর্ধমান শহরে ইতিহাসকে জেনে নিন এক ঝলকে। রাজ্যের যে কোনও স্থান থেকে বর্ধমান শহরের যোগাযোগও খুব সহজ।বর্ধমানের নাম নিয়ে নানা মতবাদ আছে। বর্ধমান শব্দটি সংস্কৃত বর্ধ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বৃদ্ধি পাওয়া, উন্নতি হওয়া বা সমৃদ্ধি লাভ করা। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল কৃষি, বাণিজ্য ও জনবসতির দিক থেকে সমৃদ্ধ ছিল। তাই এলাকাটির নাম বর্ধমান হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪তম তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীরের অপর নাম ছিল বর্ধমান। বলা হয়, তাঁর জন্মের পর রাজ্য ও পরিবারের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাই তাঁর নাম রাখা হয় বর্ধমান। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে মহাবীরের আগমন ও ধর্মপ্রচারের স্মৃতি নিয়ে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। এই কারণে অনেকের মতে জেলার নাম বর্ধমান মহাবীর বর্ধমানের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, জেলার নামের মূল উৎস হলো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধির ধারণা, যদিও জৈন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাবও স্থানীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। শহরের মধ্যস্থলে রাজবাড়ি যাওয়ার পথেই দেখা মিলবে বিখ্যাত কার্জন গেটের যা এখন বিজয় তোরণ নামেই পরিচিত। বর্ধমান রাজবাড়ি এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস।সর্বমঙ্গলা মন্দিরবর্ধমানের অধিষ্ঠার্থী দেবি মা সর্বমঙ্গলা। বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় শক্তিপীঠসদৃশ তীর্থস্থান। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী সর্বমঙ্গলা অত্যন্ত জাগ্রত, অর্থাৎ তিনি ভক্তদের প্রার্থনা শোনেন এবং তাঁদের মনোবাসনা পূরণ করেন। বহু মানুষ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মানত পূরণ এবং অলৌকিক ঘটনার কাহিনি এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মাহাত্ম্য মূলত বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা, দেবীর অলৌকিক কাহিনি এবং দীর্ঘকালীন লোকবিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। কথিত আছে, এক জেলের জালে দেবীর মূর্তি উঠে আসে। পরে বর্ধমানের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকেই দেবী সর্বমঙ্গলার পূজা শুরু হয় এবং মন্দিরটি বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।গড়গড়াঘাটের গুরুদোয়ারাপ্রচলিত ঐতিহাসিক ও শিখ ধর্মীয় সূত্র অনুযায়ী, **গুরু নানক দেব জি প্রায় ১৫০৫-১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পূর্ব ভারত ভ্রমণের সময় বর্ধমানে এসেছিলেন। তিনি এখানে কিছুদিন অবস্থান করেন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে মানবতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও এক ঈশ্বরের বাণী প্রচার করেন। এই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই পরে বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা পাড়ার পাশেই গড়গড়া ঘাটে গুরুদোয়ারা বড়া সঙ্গত প্রতিষ্ঠিত হয়। শিখ সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। বলা হয়, গুরু নানক এখানে ধর্মীয় আলোচনা ও কীর্তন করেছিলেন এবং তাঁর পদধূলিতে স্থানটি পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।কমলাকান্তের কালীবাড়িবর্ধমান শহরের কোটালহাটে অবস্থিত কমলাকান্তের কালীবাড়ি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রসিদ্ধ কালীমন্দির। এই মন্দিরটি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য এর সাধনাক্ষেত্র হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য (প্রায় ১৭৬৯১৮২১) ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাক্ত কবি, শ্যামাসংগীত রচয়িতা ও তন্ত্রসাধক। তাঁর জন্ম পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনায়। তিনি ছোটবেলা থেকেই মা কালীর উপাসনায় আকৃষ্ট হন এবং পরে তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন বলে ভক্তদের মধ্যে বিশ্বাস প্রচলিত। বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি ও পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজগুরু ও সভাসদ হিসেবে সম্মানিত করেন। মহারাজা তেজচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্ধমানের কোটালহাটে মা কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সাধক কমলাকান্ত পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করতেন। বর্তমানে এই মন্দিরই কমলাকান্তের কালীবাড়ি নামে বিখ্যাত। কথিত আছে, মহারাজা তেজচন্দ্র একবার তাঁর অলৌকিক শক্তি পরীক্ষা করতে চাইলে কমলাকান্ত অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন। বর্ধমানের মানুষের মুখে মুখে একথা প্রচলিত। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব প্রায়ই কমলাকান্তের শ্যামাসংগীত গাইতেন এবং তাঁর ভক্তিভাবের অত্যন্ত প্রশংসা করতেন। ফলে কমলাকান্তের গান ও সাধনা সমগ্র বাংলায় আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।শের আফগানের সমাধিবর্ধমান শহরের শের আফগানের সমাধি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুঘল যুগের ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ। এটি বিখ্যাত মূলত শের আফগান ও মেহেরুন্নিসা (পরবর্তীকালে সম্রাজ্ঞী নূরজাহান)-এর ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে। শের আফগানের প্রকৃত নাম ছিল আলি কুলি ইস্তাজলু। তিনি ছিলেন একজন পারস্য বংশোদ্ভূত মুঘল সেনাপতি। সম্রাট আকবর তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে শের আফগান(বাঘ-বধকারী) উপাধি দেন। শের আফগানের স্ত্রী ছিলেন মেহেরুন্নিসা, যিনি পরে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী এবং বিখ্যাত সম্রাজ্ঞী নূরজাহান নামে পরিচিত হন। এই কারণে শের আফগানের জীবন ও মৃত্যু ভারতীয় ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের ফৌজদার কুতুবউদ্দিন খান কোকা সম্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে শের আফগানের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সংঘর্ষের সময় শের আফগান কুতুবউদ্দিনকে হত্যা করেন, কিন্তু তিনিও গুরুতর আহত হয়ে নিহত হন। পরে তাঁকে বর্ধমানে সমাহিত করা হয়। দুজনকে পাশাপাশি সমাধিস্ত করা হয়। ইতিহাস বলছে, মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে যেতেই কুতুবুদ্দিনকে পাঠিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। শের আফগানের মৃত্যুর পর মেহেরুন্নিসাকে মুঘল দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক বছর পরে তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বিবাহ করেন এবং নূরজাহান নামে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নারী হয়ে ওঠেন। তাই বর্ধমানের এই সমাধি শুধু একটি কবরস্থান নয়, বরং মুঘল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক।শুলি পুকুরবর্ধমান শহরের শুলি পুকুর একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, বর্ধমান রাজাদের আমলে গুরুতর অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই এলাকার কাছে শুলি (ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ডের এক প্রকার ব্যবস্থা) কার্যকর করা হতো। সেই কারণেই পুকুরটির নাম হয় শুলি পুকুর। বর্ধমান রাজবাড়ির গেটের উল্টোদিকের রাস্তার বাদিকেই এই শুলি পুকুরের অবস্থান। বর্ধমান রাজবংশের শাসনামলের সঙ্গে এই স্থানের নাম জড়িত।সীতাভোগ ও মিহিদানাবর্ধমানে ভ্রমণ করবেন আর মিষ্টি খাওয়া হবে না তা হয় নাকি! বর্ধমানে নানা স্বাদের মিষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু মূল আকর্ষণ সীতাভোগ ও মিহিদানায়। সীতাভোগ ও মিহিদানা বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্ববিখ্যাত মিষ্টি। এই দুই মিষ্টি বর্ধমান রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয় এবং আজও বর্ধমানের পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। মিহিদানা কী? মিহিদানা দেখতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বোঁদের মতো। বেসনের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের চালের গুঁড়ো ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম দানার আকারে এটি তৈরি করা হয়। এর দানাগুলি খুবই ছোট ও নরম হওয়ায় এর নাম হয়েছে মিহি (সূক্ষ্ম) + দানা। সীতাভোগ কী? সীতাভোগ দেখতে অনেকটা সাদা ভাতের মতো। চালের গুঁড়ো, ছানা ও চিনি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছোট ছোট মিষ্টি দানাও মেশানো থাকে। দেখতে ভাতের মতো হলেও এটি একটি সুস্বাদু মিষ্টান্ন। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড কার্জন বর্ধমান সফরে এলে রাজা বিজয়চাঁদ মহতাবের উদ্যোগে ময়রা ভৈরবচন্দ্র নাগ এই দুই মিষ্টি পরিবেশন করেন। লর্ড কার্জন এর স্বাদে মুগ্ধ হন। এরপর থেকেই সীতাভোগ ও মিহিদানা সারা দেশে খ্যাতি লাভ করে।বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরবর্ধমান শহরের নবাবহাটে অবস্থিত ১০৮ শিবমন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত শৈব তীর্থস্থান। এটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়, এর অনন্য স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও প্রসিদ্ধ। ১৮শ শতাব্দীর শেষ দিকে বর্ধমান রাজবংশের মহারাণী বিষ্ণুকুমারী দেবী (কিছু সূত্রে মহারাজ তেজচন্দ্রের মাতৃকা) এই ১০৮টি শিবমন্দির নির্মাণ করান। মন্দিরগুলি প্রায় ১৭৮৮-১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় বলে জানা যায়। হিন্দুধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়। জপমালায় ১০৮টি দানা থাকে এবং শিবের ১০৮টি নামও প্রচলিত। সেই কারণেই এখানে ১০৮টি পৃথক শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্ধমান শহর লাগোয়া নবাবহাটে আয়তাকারে ১০৮টি শিব মন্দির আছে। এই মন্দিরগুলির বাইরে আরেকটি শিব মন্দির আছে। অন্যদিকে কালনায় আরেকটি ১০৮ শিব মন্দির আছে। এখানে বিশেষত্ব হল মন্দিরগুলি দুটি বৃত্তাকার সারিতে নির্মিত। বাইরের বৃত্তে ৭৪টি এবং ভিতরের বৃত্তে ৩৪টি মন্দির রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে একটি করে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। কালো ও সাদা রঙের শিবলিঙ্গ পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। শ্রাবণ মাসে হাজার ভক্ত এই দুই ১০৮ শিব মন্দিরে পুজো দেন। একই জেলায় দুটি জায়গায় একই স্থানে ১০৮টা শিব মন্দির বিরল।বীরহাটা বড়মা কালীবর্ধমান শহরের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় স্থান হল বীরহাটা বড়মা কালীমন্দির। এই মন্দিরটি বর্ধমান রাজপরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। জনশ্রুতি অনুসারে, বর্ধমানের মহারাজারা তাঁদের কুলদেবী হিসেবে মা কালীর আরাধনা করতেন এবং সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বীরহাটা অঞ্চলে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবীকে অনেকে জাগ্রত মা কালী বলে মনে করেন। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে মা কালী মনোবাসনা পূরণ করেন। তাই সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে, বিশেষ করে কালীপূজা, দীপাবলি ও অমাবস্যা তিথিতে। বীরহাটা একসময় বর্ধমান রাজবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল। ফলে মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বর্ধমানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু বছর ধরে এখানে নিয়মিত পূজা, হোম-যজ্ঞ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।কঙ্কালেশ্বরীশহরের কাঞ্চননগরে অবস্থিত কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির জেলার অন্যতম প্রাচীন ও রহস্যময় তীর্থস্থান। ধারণা করা হয়, মন্দিরটির ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরোনো। কাঞ্চননগর একসময় গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল এবং এখানেই দেবী কঙ্কালেশ্বরীর পূজা প্রতিষ্ঠিত হয়। দেবীর মূর্তি সাধারণ কালীমূর্তির মতো নয়; তাঁর রূপে কঙ্কালসদৃশ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা তন্ত্রসাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।সোনার কালীবাড়িবর্ধমান শহরের মিঠাপুকুর এলাকায় অবস্থিত সোনার কালীবাড়ি (ভুবনেশ্বরী মন্দির) বর্ধমান রাজপরিবারের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৮৯৯ সালে বর্ধমানের রাজা মহতাব চাঁদ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বলে প্রচলিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী রানি নারায়ণী দেবী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ভুবনেশ্বরী মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথমে এখানে সোনার তৈরি দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই কারণেই মন্দিরটি সোনার কালীবাড়ি নামে পরিচিত হয়। ১৯৭০-এর দশকে সোনার মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। পরে সেখানে অষ্টধাতুর ভুবনেশ্বরী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়, কিন্তু সোনার কালীবাড়ি নামটি আজও রয়ে গেছে। এখানে দেবীর জিভ বাইরে বেরিয়ে নেই। দেবীর পদতলে শিব নেই, যা সাধারণ কালীমূর্তির থেকে আলাদা। প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা হয়।বর্ধমান ও জৈন ধর্মের ঐতিহাসিক সম্পর্কবর্ধমান শহরের নামকরণ নিয়ে একটি সুপ্রচলিত মত হলো, এটি ২৪তম জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর বর্ধমানের নামানুসারে হয়েছে। জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি এই অঞ্চলে কিছু সময় অবস্থান করেছিলেন। তাই প্রাচীনকাল থেকেই বর্ধমানে জৈন সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল। সোনার কালীবাড়িতে জৈনদের ডান্ডিয়া করার কারণ ধর্মীয় নয় বরং বর্ধমানের গুজরাটি-জৈন সমাজের নবরাত্রি উদ্যাপনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সম্প্রীতির প্রকাশ। এমনকী বর্ধমান রাজ পরিবারের কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরেও ডান্ডিয়া উৎসবের প্রচলন আছে। নানা ধর্মীয় উৎসবে এই মন্দিরে হাজির হন রাজ পরিবারের সদস্যরা।বর্ধমান ভ্রমণে এলে গোলাপবাগ চত্বরে যেতে ভুলবেন না। সেখানে কৃষ্ণসায়র পার্ক, সায়েন্স সেন্টার, রমনাবাগান মিনি জু, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম ক্যাম্পাস, তারা মন্ডল নানা কিছু রয়েছে পর্যটকদের জন্য। এমন গাছগাছালির প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। তাহলে আর দেরি কেন? বর্ধমান শহরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ুন।

আগস্ট ০১, ২০২৬
ভ্রমণ

টেরাকোটার টানে বাংলার গর্বের শহর বিষ্ণুপুর, ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনভূমি

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শুধু একটি শহর নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক অমূল্য ভাণ্ডার। মল্লরাজাদের রাজধানী হিসেবে বিষ্ণুপুর প্রায় এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করে চলেছে। বিশেষ করে এর বিখ্যাত টেরাকোটা মন্দিরসমূহ আজও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।বিষ্ণুপুরের ইতিহাস-বিষ্ণুপুরের ইতিহাস মূলত মল্ল রাজবংশকে ঘিরে। প্রচলিত মতে, সপ্তম শতাব্দীতে রাজা আদিমল্ল মল্ল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এই রাজবংশের শাসকেরা বিষ্ণুপুরকে শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে রাজা বীর হাম্বীর এবং তাঁর উত্তরসূরিদের আমলে বিষ্ণুপুর সর্বাধিক সমৃদ্ধি লাভ করে। বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবে এখানে অসংখ্য মন্দির নির্মিত হয়, যেগুলি আজও বাংলার স্থাপত্য ঐতিহ্যের গৌরব বহন করছে।টেরাকোটা শিল্পের ইতিহাস-বিষ্ণুপুরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল টেরাকোটা শিল্প। টেরাকোটা শব্দের অর্থ পোড়ামাটি। বাংলায় পাথরের অভাব থাকায় মন্দির নির্মাণে পোড়া ইট ও মাটির ফলক ব্যবহার করা হতো।মন্দিরের গায়ে সূক্ষ্ম কারুকার্যে ফুটে উঠেছে* রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনি* কৃষ্ণলীলা* রাজদরবারের দৃশ্য* যুদ্ধ ও শিকার* সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাএই শিল্পকর্মগুলি শুধু ধর্মীয় নয় বরং তৎকালীন সমাজ ও সংস্কৃতির জীবন্ত দলিল।দর্শনীয় স্থান-রাসমঞ্চ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত রাসমঞ্চ বিষ্ণুপুরের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপত্য। রাস উৎসবের সময় বিভিন্ন মন্দিরের বিগ্রহ এখানে এনে রাখা হতো।জোড়বাংলা মন্দিরবাংলার ঐতিহ্যবাহী দোচালা ঘরের আদলে নির্মিত এই মন্দির টেরাকোটা শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন।শ্যামরায় মন্দিরপঞ্চরত্ন শৈলীর এই মন্দিরের গায়ে অসাধারণ কারুকাজ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।মদনমোহন মন্দিরবিষ্ণুপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈষ্ণব মন্দির। এখানকার টেরাকোটা অলংকরণ অত্যন্ত সমৃদ্ধ।দলমাদল কামানমারাঠা আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক কামান, যা আজও বিষ্ণুপুরের গৌরবের প্রতীক।ভ্রমণের জন্য কেন উপযোগী?বিষ্ণুপুর এমন একটি গন্তব্য যেখানে ইতিহাস, শিল্প, ধর্ম ও প্রকৃতি একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।* কলকাতা থেকে সহজে ট্রেন বা সড়কপথে পৌঁছানো যায়।* এক বা দুই দিনের ভ্রমণের জন্য আদর্শ।* ইতিহাসপ্রেমী, স্থাপত্যপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য স্বর্গতুল্য।* বিখ্যাত **বালুচরী শাড়ি** কেনার সুযোগ রয়েছে।* শীতকালে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং দর্শন আরামদায়ক হয়।কখন যাবেন?বিষ্ণুপুর ভ্রমণের সেরা সময় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই সময় আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে এবং ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বিষ্ণুপুর মেলা স্থানীয় সংস্কৃতি ও হস্তশিল্পের এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। বাংলার ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানতে চাইলে বিষ্ণুপুর অবশ্যই আপনার ভ্রমণ তালিকায় থাকা উচিত। মল্লরাজাদের ইতিহাস, টেরাকোটা মন্দিরের অনবদ্য কারুকার্য, বালুচরী শাড়ির ঐতিহ্য এবং শান্ত পরিবেশ, সব মিলিয়ে বিষ্ণুপুর এক অনন্য ঐতিহাসিক ভ্রমণগন্তব্য। এখানে একদিন কাটালেই মনে হবে, যেন কয়েকশো বছর পিছিয়ে বাংলার গৌরবময় অতীতে ফিরে গেছেন।

জুলাই ৩০, ২০২৬
ভ্রমণ

কম খরচে কেরালা ভ্রমণ: ব্যাকওয়াটার থেকে পাহাড়, সবই হাতের নাগালে স্বর্গীয় সৌন্দর্য

ভারতের মানচিত্রে কেরালাকে বলা হয় Gods Own Country। আর এই উপাধির সবচেয়ে বড় কারণ তার অনন্য ব্যাকওয়াটার, সবুজ নারকেল বন, শান্ত গ্রাম আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। অনেকেই মনে করেন কেরালা ভ্রমণ মানেই প্রচুর খরচ, বিলাসবহুল হাউসবোট আর দামি রিসর্ট। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করলেই খুব কম খরচেও উপভোগ করা যায় কেরালার মনোমুগ্ধকর ব্যাকওয়াটার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।ভোরবেলা আলাপ্পুঝা (Alappuzha) বা আলেপ্পির ঘাটে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই একটি জলরঙের ছবি এঁকেছে। চারদিকে শান্ত জলরাশি, তার মাঝে ভেসে চলেছে ছোট ছোট নৌকা। দূরে দেখা যাচ্ছে নারকেল গাছের সারি, মাঝে মাঝে গ্রামের মানুষ নৌকায় করে বাজারে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখার জন্য লাখ লাখ পর্যটক কেরালায় আসেন। অনেকেই হাউসবোট ভাড়া করেন, যার খরচ বেশ বেশি। কিন্তু কম খরচে ব্যাকওয়াটার উপভোগ করতে চাইলে সরকারি ফেরি বা স্থানীয় নৌকায় চড়া সবচেয়ে ভালো উপায়। মাত্র কয়েকশো টাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাকওয়াটারের বুক চিরে ভ্রমণ করা যায়। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গল্প করতে করতে প্রকৃত কেরালাকে কাছ থেকে দেখা যায়।নৌকা যখন ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে, তখন দুপাশে চোখে পড়ে সবুজ ধানক্ষেত, ছোট্ট চার্চ, মন্দির এবং নদীর ধারে গড়ে ওঠা গ্রাম। কোথাও জেলেরা মাছ ধরছেন, কোথাও আবার শিশুরা জলে খেলছে। শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে এই শান্ত পরিবেশ মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। কেরালার প্রকৃতির সৌন্দর্য শুধু ব্যাকওয়াটারেই সীমাবদ্ধ নয়। মুন্নারের পাহাড়ি অঞ্চলে গেলে দেখা যায় অসীম বিস্তৃত চা-বাগান। পাহাড়ের গায়ে সবুজের কারুকাজ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা। সকালের কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়া মুহূর্তেই মন জয় করে নেয়। কম খরচে থাকার জন্য এখানে অনেক হোমস্টে ও বাজেট হোটেল পাওয়া যায়।এছাড়া ভরকালা ও কোভালামের সমুদ্রসৈকতও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সূর্যাস্তের সময় আরব সাগরের বুকে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়ে থাকতে পারে। সৈকতে বসে শুধু প্রকৃতিকে উপভোগ করলেও কোনও অতিরিক্ত খরচ হয় না। কেরালার স্থানীয় খাবারও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। কলাপাতায় পরিবেশিত ভাত, সাম্বর, থোরান, মাছের কারি কিংবা আপ্পাম ও স্ট্যু স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনি দামেও সাধ্যের মধ্যে। স্থানীয় রেস্তোরাঁয় খেলে খাবারের খরচ অনেকটাই কমে যায়।কম খরচে কেরালা ভ্রমণের জন্য ট্রেন সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। কোচি বা আলাপ্পুঝা পর্যন্ত ট্রেনে পৌঁছে স্থানীয় বাস ও ফেরি ব্যবহার করলে যাতায়াতের খরচ অনেক কম হয়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টি ভ্রমণের জন্য আদর্শ, কারণ তখন আবহাওয়া মনোরম থাকে।কেরালার ব্যাকওয়াটারে সূর্যাস্তের সময় যখন আকাশের রং জলের ওপর প্রতিফলিত হয়, তখন মনে হয় প্রকৃতি যেন নিজের সেরা রূপটি মেলে ধরেছে। শান্ত জল, নারকেল গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর গ্রামের সরল জীবনসব মিলিয়ে কেরালা শুধু একটি পর্যটনস্থল নয়, বরং এক অনুভূতির নাম। তাই যদি কম খরচে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কয়েকটি স্মরণীয় দিন কাটাতে চান, তাহলে কেরালার ব্যাকওয়াটার আপনার জন্য এক অসাধারণ গন্তব্য। একবার ঘুরে এলে মন বারবার ফিরে যেতে চাইবে সেই শান্ত, সবুজ আর জলময় স্বর্গরাজ্যে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
ভ্রমণ

ট্রেন যাত্রার অগ্রিম সংরক্ষণের সময়সীমা কমিয়ে হল ৬০ দিন

এতদিন ধরে ১২০ দিনে কবে রিজারভেশন হবে এই নিয়ে মানুষের মনে একটি বিভ্রান্তি বা কনফিউশন থাকত, কিন্তু ভারতীয় রেল সেই কনফিউশন দূর করে ১২০ দিনের পরিবর্তে এবার ৬০ দিনে রিজারভেশন চালু করেছে যা যাত্রীদের জন্য একটি সুসংবাদ। এমন অনেক যাত্রী রয়েছেন যারা বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের যাত্রার অনেক আগে পরিকল্পনা করতে অসুবিধা বোধ করেন। যাত্রীসুবিধায় রেলওয়ে ট্রেন যাত্রার জন্য অ্যাডভান্সড রিজার্ভেশন পিরিয়ড (এআরপি) ১২০ দিন থেকে কমিয়ে ৬০ দিন করেছে। সংশোধিত নতুন এআরপি নিম্নরূপ কার্যকর হবে:১. অ্যাডভান্সড রিজার্ভেশন পিরিয়ড (এআরপি) হবে ৬০ দিন (যাত্রার দিন বাদে) যা ০১.১১.২০২৪ থেকে কার্যকর এবং সেই অনুযায়ী বুকিং করা হবে। তবে, ১২০ দিনের এআরপি-র অধীনে ৩১.১০.২০২৪ পর্যন্ত করা সমস্ত বুকিং বৈধ থাকবে।২. ৬০ দিনের এআরপি-র বাইরে করা আগের বুকিং থাকলে তা বাতিল করা যাবে।৩. তাজ এক্সপ্রেস, গোমতী এক্সপ্রেস ইত্যাদির মতো নির্দিষ্ট দিনের সময়ের এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না যেখানে অগ্রিম সংরক্ষণের জন্য নিম্ন সময়সীমা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।৪. বন্ধন এক্সপ্রেস ও মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো আন্তর্জাতিক ট্রেনে বিদেশি পর্যটকদের ৩৬৫ দিনের বুকিংয়ের সময়সীমার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না।

অক্টোবর ১৭, ২০২৪
ভ্রমণ

দুর্গাপুজোয় দার্জিলিং বেড়াতে যেতে চাইছেন? স্পেশাল ট্রেন পূর্বরেলের

আগামী ৯ অক্টোবর (বুধবার) দুর্গা ষষ্ঠী আর বেশিরভাগ বাঙালি ঠিক ষষ্ঠীর দিনটাই বেছে নেন বেড়াতে যাওয়ার জন্য। কেউ যাবেন পুরী , কেউ কাশ্মীর, কেউবা যাবেন দার্জিলিং। কিন্তু সময় মত টিকিট কাটা হয়নি, বেশিরভাগ ট্রেনেই ওয়েটিং লিস্টের লাইন লম্বা। এদিকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছেও আপনার আছে। চিন্তা কিসের? মুশকিল আসান পূর্ব রেল তো আছে, আপনাদের সঙ্গে। অক্টোবর মাসের ৯ তারিখ , ১৬ তারিখ, ৩০ তারিখ (অর্থাৎ কালীপুজোর আগের দিন) এবং নভেম্বর মাসের ৬ তারিখ (অর্থাৎ ছট পুজোর আগের দিন) দার্জিলিং যাওয়ার জন্য আপনাদের জন্য হাওড়া থেকে ছাড়বে স্পেশাল ট্রেন (০৩০২৭ আপ)। ট্রেনটি হাওড়া থেকে রাত ১১ঃ৫৫ মিনিটে ছেড়ে ব্যান্ডেল জংশন, নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, জঙ্গিপুর রোড, মালদা টাউন, বারসোই, কিষাণগঞ্জ ও আলুয়াবাড়ি রোড হয়ে পরের দিন সকাল ১০ঃ৪৫ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছাবে। যারা ইতিমধ্যেই ওই সময়ে দার্জিলিঙে যাওয়ার টিকিট পেয়েছেন কিন্তু আসার টিকিট কেটে উঠতে পারেননি তাদের জন্য আগামী অক্টোবর মাসের ১০, ১৭, ৩১ এবং নভেম্বর মাসের ৭ তারিখ নিউ জলপাইগুড়ি থেকে হাওড়া আসার জন্য একটি স্পেশাল ট্রেন চলবে (০৩০২৮ ডাউন)। ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দুপুর ১২ঃ৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে আলুয়াবাড়ি রোড, কিষাণগঞ্জ, বারসোই, মালদা টাউন, জঙ্গিপুর রোড, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া, নবদ্বীপধাম, ব্যান্ডেল হয়ে রাত ১২:১০ মিনিটে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছাবে। ট্রেনটিতে একটি এসি ফার্স্ট এবং এসি 2 টায়ার কম্বাইন্ড কোচ, একটি এসি 2 টায়ার, পাঁচটি AC 3 টায়ার, একটি এসি ৩ ইকোনমি, আটটি স্লিপার কোচ এবং ৩টি জেনারেল সেকেন্ড ক্লাস কোচ থাকবে।

আগস্ট ২৯, ২০২৪
ভ্রমণ

বিস্তীর্ণ দু'পাড়ে অসংখ্য বিদেহী আত্মার হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে দানিয়ুব বয়ে চলেছে, যুগ যুগ ধরে

স্পন্দিত নদীজল ঝিকিমিকি করে...I দুকুলপ্রবাহিনী অতিকায় এক স্রোতস্বিনী... দশটি দেশের মাটি ছুঁয়ে চলা তার দুর্দম প্রবাহ... কত কবি-চারণ-গায়ক -নাট্যকারের সৃষ্টিসুখের জননী সেই পযস্বিনী আজ আমার দুচোখের সামনে... দানিয়ুব!পয়লা মে , ২০১৮, পূর্ব-মধ্য ইউরোপ আন্ডা-বাচ্চা নিয়ে সদলবলে ঘুরতে ঘুরতে আগের রাতে এসে পৌঁছেছি বুদাপেস্ট। হাঙ্গেরির রূপসী রাজধানী রাতের আলোয় যে মায়াকাজল বুলিয়ে দিয়েছে চোখে, তার ঘোর কাটতে না কাটতেই সকাল সকাল ছোট্ট বাসে আমরা পনের জন বেরিয়ে পরেছি আবার, দানিয়ুব -এর দুপাশে ছড়ানো যমজ নগরী বুদা ও পেস্ট -এর রূপ-রস-শব্দ-গন্ধ চেটেপুটে খেতে। সঙ্গে ফ্রেন্ড-ফিলোসফার-গাইড হিসেবে আমার কলেজজীবনের বন্ধু প্রবাল, গত চার বছর ধরে যে টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসের স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান হয়ে এ দেশে অধিষ্ঠান করছে!আজ থেকে চারদিন এদেশে জাতীয় ছুটি। পথেঘাটে যানবাহন কম, মানুষজন ফুর্তির মেজাজে দলে দলে রাস্তায়। সুন্দর পথঘাট... নয়নশোভন বাগান -ঝিল -বুলেভার্ড... ভীমকায় গীর্জা-স্মারকসৌধ-দুর্গ -প্রাসাদ ঘুরে দুপুরের মুখে এলাম দানিয়ুব -এর পূব পারে।কাতারে কাতারে মানুষ চড়া রোদে অধীর আগ্রহে বসে আছে নদীপারের বাঁধানো চত্বরে; একটু পরেই শুরু হবে চোখধাঁধানো এয়ার-শো। নদীতটে সুরম্য হর্ম্যরাজির মধ্যে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ইউরোপের বৃহত্তম পার্লামেন্ট বলে কথিত হাঙ্গেরিয়ান আইনসভা-- তার অপরূপ শুভ্র রাজসিক গরিমায় চোখ ধাঁধিয়ে যায়!কিন্তু এসব দেখতে আমরা আসি নি। আমাদের চঞ্চল পদবিক্ষেপের প্রাথমিক উদ্দেশ্য, ইউরোপ তথা আধুনিক মানবসভ্যতার সবচেয়ে মর্মান্তিক এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের স্মারকদর্শন-- Shoes on the Danube, চলতি কথায় The Shoe Memorial। চারের দশকের মাঝামাঝি। হিটলার হাঙ্গেরি জয় করে অপসারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী Miklos Horthy -কে; ক্ষমতায় এলো এক পুতুল সরকার, নেতৃত্বে Ferenc Szalasi, যাঁর চরম দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক বিশ্বাস হিটলারের কাছাকাছিই I ক্ষমতায় এসেই তিনি গঠন করলেন Arrow Cross Militia বাহিনী I এরা জার্মানি-পন্থী , চরম ইহুদী-বিরোধী I এদের প্রধান কাজই হলো ইহুদী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের খতম করা I ধনসম্পত্তি -পূর্বপুরুষের ভিটে ছেড়ে তাদের ঠাই হলো বুদাপেস্টের মনুষ্যেতর ইহুদী ঘেটো গুলিতে I সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রাউল ওয়ালেনবার্গ বা সুইস কনসাল Carl Lutz -এর মতো কিছু কুশলী মানবদরদী রাষ্ট্রদূত ও সমাজকর্মীর চেষ্টায় বেশ কয়েক হাজার ইহুদী প্রাণে বেঁচে অন্য দেশে পালাতে পারলেও, Arrow Cross -এর মৃত্যুদূতদের যথেচ্ছাচারে প্রলয় ঘটে গেল আর্থিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মানবিক সম্পর্কে সমৃদ্ধ হাঙ্গেরীয় ইহুদিদের গোষ্ঠী-জীবনে ! লক্ষ লক্ষ হাঙ্গেরীয় ইহুদিকে মৃত্যুমিছিলে সামিল করে পার করে দেওয়া হলো অস্ট্রীয় সীমান্ত , গ্যাস চেম্বারে প্রাণ দিলেন অগণন মানুষ ! ৪৪ -এর অক্টোবর থেকে ৪৫ -এর মার্চ রাজত্ব করেছিল Arrow Cross বাহিনী। এর মধ্যে ৪৪-এর ডিসেম্বর থেকে ৪৫ -এর জানুয়ারী -- বার বার ইহুদী ঘেটোগুলি থেকে বন্দুকের ডগায় তুলে আনা হয়েছিল কাতারে কাতারে ইহুদী নরনারী, এমনকি বয়স নির্বিশেষে শিশু-কিশোর-কিশোরী দেরও!দানিয়ুব-এর এই পূব পারে জলের ধারে জুতো খুলে রেখে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বাজারে ইউরোপের সর্বত্র জুতো ছিল বড়ই প্রয়োজনীয় ও মহার্ঘ্য সামগ্রী!) নদীর দিকে পিছন ফিরে বেয়নেটধারী মৃত্যুদাতাদের দিকে তাকিয়ে সারি দিয়ে দাঁড়াতেন শিশু-মহিলা-যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে হতভাগ্য মানুষ (প্রধানতঃ ইহুদী ), তিনজন তিনজন করে মাঝের জনের দুই পায়ের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হতো দুপাশের দুজনের পা তারপর মাঝের মানুষটি শরীরে বুলেট নিয়ে উল্টে পরতেন দানিয়ুব -এর হিমশীতল জলে, সঙ্গে সঙ্গে বাকি দুজনও খরস্রোতে উল্টিপালটি খেতে খেতে শয়ে শয়ে মৃতদেহ ভেসে যেত কৃষ্ণসাগরের দিকে.....ঠিক কত প্রাণপ্রদীপ নিভে গিয়েছিল এভাবে? সঠিক হিসেব জানে না কেউ।তবে সংখ্যাটা সাড়ে তিন হাজারের কম নয়। ছেড়ে যাওয়া জুতোগুলি নিজেরাই ব্যবহার করত, বা বেচে পয়সা কামাতো মিলিশিয়া -বাহিনী!বিস্তীর্ণ দুপাড়ে অসংখ্য বিদেহী আত্মার হাহাকার শুনেও নিঃশব্দে নীরবে দানিয়ুব বয়ে চলেছে, যুগ যুগ ধরে, শীতল ঔদাসীন্যে ....এলো ২০০৫ সাল। বিখ্যাত চিত্র পরিচালক Can Togay ও স্বনামধন্য স্হপতি Gyula Pauer উদ্যোগ নিলেন সেই সব হতভাগ্যের স্মৃতির উদ্দ্যেশ্যে এই মৃত্যুভূমিতে এক অভিনব নির্মানের, যা পরবর্তীকালে হয়ে উঠলো সারা ইউরোপের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে গড়ে ওঠা মহত্তম স্মারকগুলির একটি -- Shoes on the Danube!লোহা ঢেলে গড়া হলো ষাট জোড়া খুলে রাখা জুতো, সেই চারের দশকের রচনাশৈলীতে I ছোট্ট শিশুর মিষ্টি জুতুয়া... মায়ের হিল তোলা কেতাদুরস্ত জুতো ...সম্পন্ন ব্যবসায়ীর গম্ভীর বুটজুতো... ক্রীড়াপ্রেমী নওজোয়ানের তৎকালীন স্পোর্টস শু...সবই ছিল সেই পাদুকা -সম্ভারে, যা আজও মনে করিয়ে দেয় বয়স-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সেই মৃত্যুমিছিল। বাঁধানো নদীতটের কঠিন শিলায় সংবদ্ধ অনড় জুতোগুলি এলোমেলো চেয়ে আছে আকাশপানে। পিছনে ৪০ মিটার লম্বা ও ৭০ সে.মি. উঁচু এক পাথরের বেঞ্চি, যার তিন জায়গায় লোহার ক্রস লাগানো। লেখা আছে হিব্রু, হাঙ্গেরীয়, ও ইংরেজি ভাষায়-- To the memory of the victims shot into the Danube by Arrow Cross militia men in 1944 -45, erected 16 April 2005.আজও সেই সব হতভাগ্যদের উত্তরসুরীরা ফুল গুঁজে দিয়ে যান মৃত্যুঞ্জয়ী জুতোগুলির পেটে... জ্বালান মোমবাতি... আমাদের মতো উটকো ভ্রমনার্থীরা উদগত দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে ক্যামেরায় ক্লিক করেন...বিকেলের সূর্যের অস্তরাগ লালে লাল করে দেয় দানিয়ুবের বুক...যেমনটি হয়েছিল পঁচাত্তর বছর আগে...। এত জানে, তবু নদী কথা বলে না! ফ্যাসিবাদ মরে নি আজও ! Those who forget history, are condemned to repeat it!!ড. সুজন সরকার, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩
ভ্রমণ

Deuli: কলকাতার পাশেই ছুটি কাটানোর দারুন সুযোগ, সুন্দরবনের পথে অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র তার পরিধি বাড়িয়েছে। সেসব তো বাস্তুতন্ত্রের কথা। কিন্তু পর্যটনের নজর বলছে কলকাতা থেকে দুঘণ্টার মধ্যেই সুন্দরবনের শুরু!ঠিকই পড়ছেন। আক্ষরিক দূরত্ব না ভাবালে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ২৪ পরগনার সীমানায় এক গ্রামের নাম দেউলি। স্থানীয়রা বলেন, এখান থেকেই সুন্দরবনের শুরু। কেমন? হাতেকলমে ঠিক ১৫০ কিলোমিটার গেলেই গোসাবা। কিন্তু তার সীমানা শুরু এই দেউলি থেকেই। খুব সাদামাটা এক গ্রাম। কাদার গন্ধ লাগা মানুষজন। তবে কেউ উদাসীন নয়। জীবনের কড়ি হিসাব করেই রাখেন। তঁারাই বলেন, শহর থেকে একটু দূরে অসংখ্য মানুষ এখানে একদুদিনের জন্য ছুটি কাটাতে আসেন স্রেফ গা এলিয়ে ভরপুর অক্সিজেন মাখার জন্য।পৌঁছবেন কীভাবে? সায়েন্স সিটি পেরিয়ে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে গাড়ি ছোটাতে গেলেই একটু যা দূর। নিউটাউনের শেষে ভোজেরহাট ধরে ঢুকলে দেখতে দেখতে রাস্তা ফুরোবে। পাগলারহাট পেরিয়েই ডান হাতের পিচ রাস্তা। বেশ কিছু জনপদ পেরিয়ে সোজা দেউলি। ভুল হলে এগিয়ে গিয়ে আরেকটা রাস্তা ঢুকবে চণ্ডীপুর হয়ে। সেটাও যদি ভুল হয় তবে সোজা মিনাখা। তবে সবথেকে সহজ রাস্তা পাগলারহাট। দুই দিকে একরের পর একর নিচু ধান জমি ফেলে রেখে সবুজ চিরে রাস্তা এগোবে। ও বাড়ির মুরগী, এ বাড়ির খাসি রাস্তা পেরোলেই যা একটু সাবধান। এ বাদে মানুষ সামনে পড়ে গেলে প্রতিবেশির চেয়েও মিঠে গলায় বকুনি দেবে।বিশেষত্ব বলতে সেখানকার জমি। জমির চরিত্র বদল হয়নি ঠিক। কিন্তু বছরের বছর বিদ্যাধরীর মতো একটাদুটো নদীর জল বহন ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সবটাই উপচে আশপাশের গ্রামের জমি ডুবিয়ে রাখে। চেহারা নেয় ভেড়ির। গরমের শুরু থেকে পুজোর মরশুম পর্যন্ত সেসব ধান জমিতে স্রেফ মাছের চাষ। এক সময় যে জমিতে ধান চাষই ছিল প্রধান জীবীকা, নদীর উপচানো জল বেরোতে না পেরে সেসবের বৈশিষ্ট্য এখন একেবারে আলাদা। জল ধরা জমিতে মাছ চাষ। তাতে লাভও অনেক গুণ বেশি। ক্ষতি বলতে অধিক বর্ষায় জম ছাপিয়ে সব ভেড়ি এক হয়ে গেলে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।তবে গ্রামের লোকেই ভুল ধরিয়ে দিল। জানাল মাছেদের মজার কথা। যেখানে একবার খাবারের সন্ধান পাবে, সেখান থেকে আর পালাবে না। একমাত্র প্রবল বর্ষণে ভেসে না গেলে তাদের আর ভেড়ি ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই ধরনের ভেড়িতে সাধারণ দুই রকমের মাছ চাষ হয়। মিঠে জলের মাছ আর নোনা মাছ। নোনা মাছ মানেই নানারকম চিংড়ি। সেসব আবার বাড়ির পুকুরের মিঠে জলেও চাষ করেন অনেকে। এক গেরস্থ বাড়ির যুবকের তো সেসব আবার অহঙ্কার। শহরের মানুষ একরকম মাছ দিয়ে ভাত খান। আমাদের পাতে একই দিনে দুতিনরকমের মাছ পড়ে। এমন কথাও শুনতে হতে পারে।ঠিক এখান থেকেই গ্রামের অর্থনীতিতে বদল শুরু। আগে যার তিন বিঘা জমি তিন বছরের লিজে নিয়ে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে ধান বা সবজি চাষের পরও একটু বাড়তি বৃষ্টিতে লোকসানের মুখ দেখা ছিল রোজনামচা। সেখানে এখন ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। মিঠে জলের মাছেদের খাওয়ানোর জন্য যা একটু খরচখরচা করতে হয়। নোনা জলের জন্য তাও লাগে না। উল্টে লাভই লাভ। একটু বেলা গড়ালে রাস্তার দুধার ধরে হঁাটলে চোখেও পড়বে সেসব দৃশ্য।এলাকায় একসময় একটা বড় মেলা বসত। হাট শেষ করে সে মেলায় জিলিপি, বুড়ির চুল, মিঠে পান, চানাচুর, জাদুর খেলার ভিড় ছিল দেখার মতো। করোনার আবহে সেসব অতীত। ফলে এখন নিরবচ্ছিন্ন অভ্যাসের জীবনই অভ্যাস। এর মধ্যেই দুই বিপরীতমুখী ছবি ধরা পড়বে গাড়ি ভুল করলে চণ্ডীপুর গ্রামে ঢুকলে। স্থানীয়রা বলেন খারাপ রাস্তা। সত্যিই তাই। রাস্তা বলে আর সেখানে কিছু নেই। পিচ ভেঙে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। মাজা ভেঙে না গেলে এই রাস্তা পেরিয়ে দেউলিতে ঢুকতে আলাদা করে এক ঘণ্টা ধরে রাখতে হবে। কিন্তু আরামের বিষয় হল, এ রাস্তার দুধারে দিগন্ত বিস্তৃত ছোট জলভরা ধানি জমি। ছোট ছোট গাছে ছায়া বানিয়ে রেখেছে। চরছে ছাগল গরু। গ্যাঙোর গ্যাং ডাকের মাঝে মাঝে ছোট ছোট জলাশয়ে মাছেদের ছপাৎ ছপাৎ ঘাই দেওয়ার শব্দ। দিঘল জলার ধারে মেঘলা হাওয়ায় একের পর এক ঠাণ্ডা দুপুর কাটিয়ে দেওয়া যায় অনায়াসে।হাতে গোনা কটা রিসর্ট গজিয়ে উঠেছে এলাকায়। গুগল করলেই খেঁাজ মিলবে। চেকইন আর চেকআউটের নিয়ম ব্রেকফাস্ট থেকে ব্রেকফাস্ট। খাবারদাবার তাদের বেশ ভালই চেহারা ভারী করবে। মিঠে হাওয়ার সেঁাদা গুণ আর অফুরন্ত খাবার মন ধরে রাখবে। শহরে ফিরতে কষ্টই হবে। পোড়া দূষণ মাখা করোনা আর কোমর্বিডিটির শব্দে কান ঝালপালা শহরের গা ঘেঁষা এই গ্রামে পা রাখলে এক মুহূর্তে বাষ্প করে দেবে সব গ্লানি। একদুদিনের ছুটিতে একবুক অক্সিজেন মেখে নতুন উদ্যমে ঘরে ফেরা।শাশ্বত রায়আরও পড়ুনঃ দেবতার হ্রদে একদিনআরও পড়ুনঃ বিপদসংকুল ও ভয়ঙ্কর সাচ পাস অভিযানের অভিজ্ঞতা

আগস্ট ২২, ২০২১
ভ্রমণ

Rakhal Raja: রাখাল রাজের দেশে, বিস্তীর্ণ প্রান্তর যেথায় দিগন্তে গিয়ে মেশে

বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরেবহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরেদেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়াঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়াএকটি ধানের শিষের উপরেএকটি শিশিরবিন্দু।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকবির প্রকৃতি প্রেম খুব সুন্দর করে এই পংক্তি গুলির মধ্যে ফুটে উঠেছে। সত্যিই তো আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, প্রকৃতি যেখানে জিঅকৃপণ ভাবে নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে, তার কতটুকুই বা আমরা জানি। লকডাউনের বিধিনিষেধ দূর ভ্রমণে বাধা হলেও, অদূর ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে। মুক্তির স্বাদ খুব অল্প সময়ের হলেও তা প্রাপ্তির ভাণ্ডার কে পরিপূর্ণ করে তোলে। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়ে অপার আনন্দ অনুভব করার এমনই এক ঠিকানা রাখাল রাজার মন্দির।প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মন্দিরময় স্থান কালনা। কালনার ই বৈদ্যপুর রথতলা থেকে মিনিট ১৫ গেলেই গোপালদাসপুর গ্রামে অবস্থিত এই রাখাল রাজ মন্দির। নিরিবিলি পরিবেশ, চারদিকে বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, পাখির কলকাকলিতে মুখরিত, তার মাঝখানে লাল ইটের তৈরি প্রাচীন মন্দিরে রাখাল রাজ বিরাজমান। প্রকৃতি এখানে রাখাল রাজের খেলার উপযুক্ত স্থান হিসাবেই নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে। মন্দির এর সামনে বিস্তৃত নাট মন্দির, তার দেয়ালে শ্রীকৃষ্ণের বাল্য লীলার নানান কাহিনী যেমন পুতনা বধ, ননী চুরি, কংস বধ ইত্যাদি ছবির মাধ্যমে বর্ণিত আছে।মন্দিরের গর্ভগৃহে তিনটি মূর্তি রয়েছে, সবচেয়ে বড় রাখাল রাজের মূর্তি, আকাশী নীল গায়ের রঙ, বড় বড় টানা চোখ, বাম হাতে নাড়ু আর ডান হাতে লাঠি নিয়ে গোপবালকদের দলপতির মত সমস্ত কিছু পরিচালনা করছেন। দুপাশে সাদা গাভী। তাঁর ডানদিকে ছোট রঘুনাথ মূর্তি, গায়ের রঙ সবুজ আর বামদিকে গোপীনাথজী আকাশী নীল গায়ের রঙ। মূর্তিগুলি অপরূপ মায়াময়, তাকিয়ে থাকলে প্রশান্তিতে মন ভরে যায়। পুরোহিতের সাথে কথা বলে যা ইতিহাস জানা গেল তা প্রায় ৫০০ বছর আগের, বেশিরভাগটাই জনশ্রুতির উপর ভিত্তি করে।কাহিনীটি অনেকটা এরকম, বর্ধমানের খাতুন্দীর বাসিন্দা গোপীনাথ ভক্ত রামকানাই গোস্বামী বর্গী আক্রমণের ভয়ে বা পারিবারিক কলহের কারণে আরাধ্য দেবতাকে সাথে নিয়ে বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।পথে ঘন জঙ্গল পড়ে, এদিকে গোপীনাথকেও ও ভোগ দেওয়ার সময় হয়ে আসায়, রামকানাই গোস্বামী জঙ্গলেই কাঠ কুটো জ্বালিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করেন। এই সময়েই রাজা গোপালদাস তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে মৃগয়া করতে এসেছিলেন, পথে ক্লান্ত হয়ে ফেরার সময় দেখলেন জঙ্গলে এক জায়গা থেকে ধোঁয়া উঠছে। রাজা সেখানে সপারিষদ উপস্থিত হতে, গোস্বামী মহাশয় তাদের সাদর অভ্যর্থনা জানান, ও খেয়ে যেতে বলেন। গোপীনাথজী র অসীম কৃপায় একটা ছোট হাঁড়ির ভোগেই সবাই পরিতৃপ্তির সাথে খাওয়া সম্পূর্ণ করেন। রাজা গোপীনাথ এর মাহাত্ম্য বুঝতে পারেন এবং উনি রামকানাই গোস্বামীকে কিছু জমি দান করেন। মন্দির নির্মাণ করেন। তার নামানুসারে এই গ্রামের নাম গোপালদাসপুর।সেই দিন রাত্রে রামকানাই গোস্বামী স্বপ্নাদিষ্ট হন যে রাখাল রাজ বালকের বেশে তাকে বলছেন তার আর বৃন্দাবন যাত্রার প্রয়োজন নেই। পরের দিন পাশের যমুনা পুষ্করিণী তে যে কাঠ ভেসে থাকবে তাই নিয়ে নদীয়ার বাঘনাপারার এক পাঁচ বছরের বালকের কাছে গেলে, সে রাখাল রাজার মূর্তি তৈরি করে দেবে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে রামকানাই পরের দিন পুষ্করিনী থেকে কাঠ সংগ্রহ করে, বাঘনাপাড়ায় গিয়ে সেই বালক, নাম মহাদেব, কে দিয়ে মূর্তি তৈরি করান, সেই মূর্তিই আজও পূজিত হয়ে আসছে। সেই বালকের বংশধরেরাই এখনো মাঘী পূর্ণিমার দিন মূর্তির অঙ্গরাগ করেন। পাশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন গোপীনাথ।রামনবমী ও জন্মাষ্টমী তে বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, প্রচুর ভক্ত সমাগম ঘটে। মূল মন্দিরের পাশে আছে দোল মন্দির এখানে দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। একটু দূরে আছে সাধক রামকানাই গোস্বামী র সমাধি মন্দির।সকাল থেকে মোট চারবার ভোগ নিবেদন করা হয়। দুপুরে থাকে অন্নভোগ। মন্দিরে এসে আগে থেকে কুপন কেটে রাখলে ভোগ খাবার ব্যবস্থা আছে।বিকেল বেলা শীতল ভোগ হয়ে গেলে, মন্দির ও তার চারপাশে কেউ যায়না, মানা হয় এই সময় রাখাল রাজা স্বয়ং তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে খেলা করেন। ভক্তজনের বিশ্বাস আর ভক্তিতেই তিনি সদা জাগ্রত। এই সব কাহিনী শুনতে শুনতেই রাখাল রাজের লাঞ্চ এর সময় হয়ে গেল। আরতির পর তিনি খেতে বসলেন, সাথীদের নিয়ে। আরতি দর্শন করে ও দুপুরের ভোগ খেয়ে পরিপূর্ণ হৃদয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলাম আমরা।প্রকৃতি ও ঈশ্বরকে অনুভব করার অপূর্ব অনুভূতি মনের মণিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে অনেকদিন।ডঃ ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়সহকারী অধ্যাপকচন্দ্রপুর কলেজ (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়)কিভাবে যাবেনবর্ধমান থেকে হাওড়া গামী মেন লাইন লোকাল ট্রেন ধরে নামতে হবে বৈঁচি স্টেশনে। সেখান অম্বিকা কালনা অভিমুখে যে বাস যাচ্ছে সেই বাসে উঠে নামতে হবে বৈদ্যপুর বাজার। সেখান থেকে গোপালদাসপুর যাওয়ার টোটো ধরতে হবে। গোপালদাসপুরে যে কেউ দেখিয়ে দেবে রাখালরাজার মন্দির। কেউ যদি থাকতে চান তাহলে বৈদ্যপুরে হোটেল বা লজে থাকতে পারেন। বৈদ্যপুর থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে কালনা শহরে থাকার জন্য অনেক হোটেল আছে।

জুলাই ১৮, ২০২১
ভ্রমণ

বিপদসংকুল ও ভয়ঙ্কর সাচ পাস অভিযানের অভিজ্ঞতা

জীর্ণতাকে চ্যালেঞ্জ করে বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ধসে পড়লো পাহাড়টা মানুষের ভাষায় ল্যান্ড স্লাইড। অক্টোবরের ১৪ আজ... সামনের পথ বন্ধ। চারিদিকে পাহাড়চূড়ার দল দাঁড়িয়ে আছে নির্ভেদ্য অহঙ্কার নিয়ে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোষ তারা পোষে না। দ্বিধাহীন থ্রোটলে বিশ্বাসের হাত রেখে চলছিলাম। ওডোমিটার দেখিয়ে চলেছিল দূরত্বের হিসাব। তাকেও থামতে হলো প্রকৃতির এই নির্দেশে। গাড়ি থেকে নেমে জ্যাকেট নামালাম। হিসাব করলাম আজকের গন্তব্য চিল্লি এখনও ১২ কিলোমিটার দূরে। শুরু হলো এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ভাব জমাতে শুরু করলাম অন্যান্য অপেক্ষমান মানুষগুলোর সাথে। তাঁদের যেমন বিভিন্ন আচার, তেমনি তাদের নানাবিধ প্রয়োজন। হিমালয়ের পাহাড়ি টানে লন্ডন থেকে ছুটে আসা ম্যাডক সাহেবের সঙ্গে চলল একপ্রস্থ আড্ডা। স্থানীয়দের থেকে তথ্য নিয়ে বুঝলাম রাস্তা আজ আর পরিষ্কার হবে না। এক শিক্ষক বাতলে দিলেন অন্য পথ -- যা ৫০ কিলোমিটার বেশি দূরত্ব। তবে তা নিশ্চিতভাবেই চাম্বা থেকে চিল্লি পৌঁছে দেবে। হাঁটালাম গাড়ি, ঘুরপথে...। টান্ডি কিশওর রোড সোজা পথে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম ৯ই অক্টোবর, ২০১৯, সকাল-সকাল; মোটরসাইকেল, লাগেজ, সঙ্গী-সাথী আর একমাথা বৃষ্টি নিয়ে। উদয়নারায়ণপুর থেকে শুরু করে তারকেশ্বর হয়ে বর্ধমান পর্যন্ত বৃষ্টিই ছাতা হয়ে রইল আমাদের। আমরা ছজন। এক্স-ব্লেড নিয়ে আমি উৎসব; আমার পিঠে, মানে পিলিয়ন সীটে পিতৃসম দাসুদা, অযান্ত্রিক লিবেরোয় সওয়ার ক্যাপ্টেন গোপীকাকু, শাইন-সঙ্গে বিবেক স্যার, সঙ্গে অ্যাভেঞ্জার-এ কাকু অরিন্দম, আর পালসার-সাথে অসীমদা ভিলেজ বাইকার্স-এর এক ছোট্ট ইউনিট। বড় ট্যুরে সকলেরই কমবেশি অভিজ্ঞতা থাকলেও আমি এখানে একেবারেই কোরা কাগজ। কানপুর, আগ্রা, পাঠানকোট হয়ে নিঃশ্বাস নিলাম দুনেরা-তে। ৫ দিন কেটেছে। কোরা কাগজে নানা বর্ণের দাগও পড়তে শুরু করেছে। গুরুদোয়ারা, আশ্রম, খোলা মন্দিরে রাত কাটানো থেকে শুরু করে হাইওয়েতে চক্ষুযুগলের তীব্র ঘুমের আকুতি সবই রেকর্ড হচ্ছে। আপাতত গেস্ট হাউসে অসীমদার হাতের সুস্বাদু চিকেনকারীর জাদুতে সরগরম ডাইনিং টেবিলে চলছে কনকনে ঠাণ্ডা সাচ পাস-এর প্ল্যানিং। চিকেনের রসনাতৃপ্তি অবশ্যম্ভাবীভাবে এনে দিল একটা কোয়ালিটি ঘুম আর অনেকটা এনার্জি। ভোর-ভোর উঠে গাড়ি স্টার্ট করলাম সাড়ে পাঁচটায়। গন্তব্য চিল্লি। আর তার মাঝেই এই বিপত্তি, বা বলা ভালো ল্যান্ডস্লাইডের চ্যালেঞ্জ, যা দিয়ে আমাদের স্বাগত জানালো পীরপাঞ্জাল। ঝুপ করে নামল সন্ধে। স্ট্রীটলাইটের পাহারা নেই এখানে। বন্ধুর পাহাড়ি রাস্তায় ক্লান্তিহীন দুটো চাকা গড়াতে শুরু করলো।সঙ্গী পাঁচজনের সঙ্গে আরও একজন, স্থানীয় রমজান ভাই। দুর্ভেদ্য অন্ধকারে পাহাড়ি নদী রাগিণীর আহ্বানের কাছে গাড়ির শব্দ আর আলো দুটোই কেমন ফিকে হয়ে আসছিল। উঁচু পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে সাজানো বাড়িগুলোর মিটিমিটি আলো মিশে গিয়েছিলো তারাদের সাথে। আমি তফাৎ করতে পারিনি। এটাকেই কি ধর্ম বলো তোমরা? আমি বাই-ডিফল্ট হিন্দু, যে আমাদের গাইড করছে এই অন্ধত্বের অন্ধকারে তার গায়ে মুসলিম ট্যাগ, আর এর দুদিন আগে যে আমি গুরুদোয়ারার প্রার্থনা কক্ষে বসে প্রার্থনা করে এলাম! আমি তফাৎ করতে পারিনি ...। ধারালো এলইডি বীমের তীক্ষ্ণ ফলা দিয়ে অন্ধকার কেটে ছুটে চললাম। পাহাড়ি সর্পিল পথের বাঁকে বাঁকে বহুদিন ধরে সাধনা করতে থাকা সন্ন্যাসীর জটার মতো ঝোপ। এরই একটা আশ্রয় হয়েছে অপেক্ষারত দুটো হলুদ পাথুরে ঠাণ্ডা চোখের। লেপার্ড, দৃষ্টি আটকালো আমার। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মেপে নিচ্ছে অন্ধকারের অভিযাত্রীদের। শিরদাঁড়ার ঠাণ্ডা স্রোত নামতে নামতে পৌঁছে গেলাম চিল্লি। ঠাণ্ডাটা তুলনা করলাম। শিরদাঁড়ারটা যেন বেশি ছিল। সে দিনের পথে পায়ের ছাপ রেখে এসেছিলাম স্বপ্নের খাজিয়ার-এর সবুজ গালিচায়। খাজিয়ার হিমাচলের মিনি সুইজারল্যান্ড, যা সুইস রাজধানী বার্ন থেকে মাত্র ৬১৯৪ কিলোমিটার দূরে। পট বদলাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্বেতশুভ্র স্মৃতিভরা এই দিনটা এক স্বপ্নের মতো। ১৫ই অক্টোবর, ২০১৯। প্রায় এগারো বছর আগে বাবার হাত ধরে প্রথম সাইকেলে চড়া শেখা। তখন ছেলেটা ভাবেনি এসব, ভাবতেও শেখেনি। ক্লাস সেভেনে প্রথম বাইকে হাত, বাবার হাত ধরেই। উন্মাদনার অহরহ সঙ্গী ছিল আছাড়। তবে, এবারে আর নয়। ইন্ডিয়ান আর্মি চেকিং সেরে সকাল সাড়ে এগারোটায় ২২ বছর ১১ মাস বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় হিসেবে ছেলেটা অতিক্রম করল সাচ পাস (৪৫০০ মিটার)। পৃথিবীর এক সর্বাধিক বিপদসংকুল আর ভয়ঙ্কর রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছানো জায়গাটা স্বর্গের কিছুটা কাছাকাছি। দেখতে স্বপ্নের মতো। মুখে দুবার অক্সিজেন স্প্রে করে বুঝলাম যে এটা স্বপ্ন নয়। আসলে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় চিমটি কাটার সামর্থ্য হয়নি। মহাদেবের আশীর্বাদ নিয়ে এগিয়ে পড়লাম। হালকা স্নোফলে মুখ ভিজিয়ে দিনের যাত্রা শেষ করলাম কিল্লার-। এশিয়ার উচ্চতম সেতু চিচাম বেড়ানো আসলে শেখা। এটা অনেক জীবন দর্শনের একটা বিশাল সমাহার, যা আমাদের প্রতি মুহূর্তে আরও বড় হতে শেখায়। যেমনটা আনন্দের মাঝে থাকে বেদনার করুন সুর। এর পরের দিন। একটু বেদনার, বিচ্ছেদসম্পৃক্ত। সময় আর কর্তব্যে জড়ানো বিবেক স্যার, অসীমদা আর কাকু অরিন্দমকে বিদায় জানাতে হল। কোকসার থেকে মানালির পথে থ্রোটল-আপ করলো তিনজন; আর বাকি তিনমূর্তি আটকে গেল স্পিতির ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায়। পৃথিবীর উচ্চতম ডাকঘর পাইলট করতে শুরু করলো ক্যাপ্টেন। পিছনে আমি দক্ষ ফলোয়ার, সঙ্গে লাইভ গাইড দাসুদা। মাঝে মাঝে এগিয়ে পড়তে মন্দ লাগছিল না। চন্দ্রভাগার দেখানো পথে বেশ কড়া পাকের অফ্-রোডিং করতে করতে পেরোতে থাকলাম একের পর এক ঝরনা আর ওয়াটারক্রস। হাড় কাঁপানো হিমালয়ের বাতাসকে সঙ্গী করে বাতাল পেরিয়ে পৌঁছলাম কুনজুম পাস। শহরের ঘিঞ্জিতে বেশ কয়েকটা মন্দির চোখে পড়েছিল; এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে মন্দির যেন এখানেই হওয়া উচিত। কনকনে ঠান্ডায় অনুভূতির ক্ষমতা হারিয়েছি আগেই। বৌদ্ধ স্তুপ-এর সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা কী করেছিলাম মনে নেই, তবে মাথা নত করে ছিলাম শিশুর মতো। আজ পাহাড় আমার দেবতা। তার কোলে আসতে পারাটাই এক সাধনা। গাড়ি ঘোরালাম চন্দ্রতাল লেকের পথে। এক কিলোমিটার ট্রেকিং-এর পর অপার্থিব সৌন্দর্যে হারিয়ে ফেললাম নিজেকে। মোহাবিষ্ট মন শুধু অনুভব পেল এক বিশালত্ত্বের, পাথুরে স্নেহের। সীমার মাঝে অসীমের মায়াবী স্মৃতি বুকে আঁকড়ে রাতের পাড়ি জমালাম লোসার-এ। লাংজার বুদ্ধ মূর্তি সকালে উঠে দেখি বাইকের সিটের উপর বরফ অপেক্ষা করছে আমার জন্য। বুঝতে পারলাম সব। বুঝতে পারলাম রাত্রে কেন চারটে ব্ল্যাঙ্কেট-এর কফিনে শুয়েও হচ্ছিল না, কিংবা, রুটি তরকারি খেয়ে হাত কেন ধুতে পারিনি, মুছতে হয়েছিল। সকাল আটটায় চলতে শুরু করেও আধঘন্টা পর দাঁড়াতে হলো। নিজের আঙুলের উপর কোনো অধিকার নেই যে ... সব কাঠের মতো মনে হচ্ছে! এটাই তো সেই আদি অকৃত্রিম প্রকৃতি। যতই যন্ত্রদানবের হুংকার ছোটাই তার ওপর, শেষে মাথানত করতেই হয় যে। মাতা-পিতা সকল সত্ত্বা একই গঠনে -- এটাই তার স্নেহ, এটাই তার তিরস্কার। তিনিই রক্ষক, তিনিই সংহারক। তিনি শিল্পী। তার পাগলামো তো সহ্য করতেই হয়। বাইকের একজস্টে হাত একটু গরম করে আগুন জ্বালালাম। কিছু সময় আগুন পোহানোর পর শুরু হলো আবার গাড়ি ছোটানো। ডেজার্ট মাউন্টেনের রঙিন সাম্রাজ্যে পরম যত্নে সাজানো বায়ুর ক্ষয়কার্যের অপরূপ নিদর্শনগুলো দেখতে দেখতে চলে এলাম মান্ডি জেলায় অবস্থিত এশিয়ার উচ্চতম সেতু চিচাম-এ (৪১৪৫ মিটার)। তারপর কি মনাস্ট্রি হয়ে পৌঁছলাম লাংজার বুদ্ধ মূর্তির পাদদেশে। ধ্যানমগ্নতার আবহের মধ্যে স্থানীয় ভাষা অর্ধেক বুঝে আর অর্ধেক না বুঝে বেশ লাগছিল। লাংজা গ্রাম যেন সেই আদি অনন্তকাল থেকে ধ্যানমগ্ন; আর তাদের সবার পিতা এই বিশালাকায় বুদ্ধ। পেয়ে হারানোর বেদনা নয় এটা, এটার অবগাহন এক সুখ, যা পরিতৃপ্তি বয়ে নিয়ে যায় শিরায় শিরায়। মোটোরেবল রোড দিয়ে সংযুক্ত পৃথিবীর উচ্চতম গ্রাম কোমিক আমাদের স্বাগত জানালো বিকেল-বিকেল। স্থানীয় গোম্ফা ঘুরে দেখে চাকা গড়ালাম হিক্কিমের পথে। ওঁ মণিপদ্মে হুঁ উচ্চারণ করতে করতে পৃথিবীর উচ্চতম ডাকঘর-এর গ্রামে পৌঁছতে খুব বেশি সময় লাগলো না। শেষ বিকেলে ভেড়ার পালের ধুলো সঙ্কেত দিল সূর্যাস্তের ঘন্টা বেজে গেছে। কাজায় রাত্রিবাস সমাপন করে পরের দিন মামির সাথে দেখা করলাম। মামি , মানে মমি, সাধক সাঙ্ঘা তেনজিং-এর প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি পুরানো সেল্ফ-মামিফায়েড মমি। ধানখড়, তাবো আর নাকো লেক, সঙ্গে নাকো মনাস্ট্রিতে একটা জমজমাট বিয়ের অনুষ্ঠান -- আপন করে নিলো সবাই। নতুন আত্মীয়দের আবেগকে মনে ভরে নিলাম। ব্যাগে আলাদা করে আর জায়গা ফাঁকা নেই। যা ছিল এতক্ষনে সব আপেলে ভর্তি করে ফেলেছি। মুখটাও যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছে। প্রেয়ার হুইল ঘুরিয়ে বিদায় জানালাম উৎসবমুখর পরিবেশটা আর তার সাথে একাত্মতাকে। পৃথিবীর উচ্চতম গ্রাম কোমিক পরদিন কল্পা, রিকং পিও আর সুইসাইড পয়েন্ট পেরিয়ে তরী, থুড়ি, গাড়ি ভিড়ালাম সারহানের ভীমাকালী মন্দিরের গেস্টহাউসে। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে, দাসুদার মতে এখানের সব জায়গাই সুইসাইড পয়েন্ট, কোনো একটা জায়গার এরকম নাম দেবার কোনও মানেই হয় না! থেমে থাকলে তো আর চলে না বন্ধু। সেকেন্ডের কাঁটার সেই সিনেম্যাটিক টিক্-টিক্ শব্দ যেন কানের কাছে তাড়া দেয়। অফিসের পেনের খস্-খস্ আওয়াজ, পাতা উল্টানোর অবয়ব ভেসে আসতে থাকে অগোচরে। সেসব থেকে এখনও আমি লক্ষ যোজন দূরে। এক সপ্তাহ পর মোবাইলটা নেটওয়ার্ক ফিরে পেলো ...। রোহড়ু, মিনাস পেরিয়ে নামতে শুরু করলাম উত্তরাখণ্ডের জংলি সবুজ পথ ধরে। বাইকের গতিকে প্রতিমুহূর্তে পরাজিত করছে প্রাণচঞ্চল খরস্রোতারা। পাথররাশির এবড়োখেবড়ো সম্পত্তির অনায়াস দখল নিয়ে এগিয়ে চলেছে তাদের প্রাণস্পন্দনের সূক্ষ্ম অনুভূতির তুফান। গারাম্ফু বটকল কাজা রোড বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বৃষ্টি, দিল্লি অঞ্চলের তীব্র রোদ আর গরম, আর হিমালয়ের উল্টানো কর্ণেটোর কোনের মাথায় বরফের টুপি দেখার পর ফেরার পথে উত্তরপ্রদেশে ঢুকে আবার সার্কেল-অফ-লাইফ কমপ্লিট হতে শুরু করলো বৃষ্টি দিয়ে। দুদিন ধরে ফিরলাম রায়বেরিলি থেকে দুর্গাপুর; রাত্রিবাস এক কাকুর কোয়ার্টারে। রাজকীয় খাওয়াদাওয়া সেরে কুম্ভকর্ণ স্তরের একপিস ঘুম দিয়ে বেরোলাম পরদিন সকাল ৯ টায়। শক্তিগড়ের ল্যাংচা নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরলাম দুপুরে; হ্যাঁ, আমার নিজের বাড়িতে, বেরোনোর পর ১৮ দিনের মাথায়। একরাশ পাহাড়ি সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত আর স্বপ্নের ক্লিফহ্যাঙ্গারগুলো পেরিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। বেরিলিতে ঝুমকোর খোঁজ করাটা বাকি রয়ে গেল যে! হারানোর হিসেব আজ নয়, আর কখনোই নয়; কারন, যা পেয়েছি তা হারানোর নয়। আঠারো দিনের মুসাফিরানা শেষে মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের সেই রক্তাক্ত সঙ্গমস্থলে নাড়ি ছেঁড়া শিশুর কান্না আর শতদ্রুর স্রোতের সিম্ফনি বাজতে শুনি -- সফর খুবসুরত হ্যায় মঞ্জিল সে ভী.....। উৎসব সিনহা (ভিলেজ বাইকার্স)

নভেম্বর ২৮, ২০২০
ভ্রমণ

দেবতার হ্রদে একদিন

দেওরিয়া তাল নাকি দেবতাদের হ্রদ... শোনা যায় পূর্ণিমার রাতে দেবতারা নাকি নেমে আসেন এই হ্রদের জলে স্নান করতে... তাঁরা আসেন কিনা জানা নেই, তবে স্থানীয় ফরেস্ট গার্ডের সাথে কথা বলে জানা যায় অনেক বন্য প্রাণীরা আসে এই তালে জল খেতে। সেই কারনেই হয়তো রাতে এই তালের ধারে টেন্ট খাটিয়ে আর কাউকে থাকতে দেওয়া হয় না। কথিত আছে এই হ্রদের তীরে যুধিষ্ঠির বকবেশী ধর্মরাজের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন। স্থানীয় দের বিশ্বাস এই হ্রদের তলাতেই নাগ দেবতার বাস তাই প্রতি জন্মাষ্টমীতে পুজো হয় নাগ দেবতার। মেলা ও বসে।অক্টোবর মাস। নীল আকাশ, ঝকঝকে রোদ নিয়ে কেদার থেকে নেমে আমরা চলেছিলাম সারি গ্রামের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য দেওরিয়া তাল। কুন্ড থেকে রুদ্রপ্রয়াগের রাস্তা ছেড়ে বাঁক নিলাম বাম দিকে উখিমঠের দিকে। মহকুমা সদর উখিমঠ থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে সারি গ্রাম।সারি গ্রাম... দেওরিয়া তাল যাওয়ার জন্য এখান থেকেই শুরু হয় আনুমানিক ৩ কিমি-র ছোট্ট ট্রেক। সারি পৌঁছতে পৌঁছতে বেলা প্রায় বিকেল। আমাদের বুকিং ছিল উমেধজির হোম স্টে তে। কিন্তু উনি ছিলেন না বলে ব্যবস্থা করে দেন ওনারই ভাই রাকেশজির কাছে। খুব সুন্দর ছবির মত ছোট্ট একটা গ্রাম, পাহাড়ের ঢালে যেন অপেক্ষা করে আছে আমাদেরই জন্য। সামনেই ধাপে ধাপে নেমে গেছে বাড়ি, তারপর রামদানার ক্ষেত। পথের ধারে অযত্নেই ফুটে আছে ডালিয়া, গাঁদা ও আরো মরসুমী ফুল।গাছে ঝুলছে একধরনের লেবু মাল্টা। ক্ষণে ক্ষণে আকাশ চিরে উড়ে যাচ্ছে পাখি। পুব আকাশে তখন উঠছে ত্রয়োদশীর চাঁদ।দেওরিয়াতালের পথেপরদিন সকাল ৯:৩০ নাগাদ চলতে শুরু করলাম চড়াই ভেঙে। পথের অপরূপ দৃশ্যে মুগ্ধ হয়ে মাঝে মাঝেই থেমে যাচ্ছিলাম আর খচা-খচ শব্দে ক্লিক হচ্ছিল ক্যামেরার শাটার। এবড়ো খেবড়ো পাথর দিয়ে সাজানো চড়াই রাস্তা। পথের দুধারে ফুটে আছে অজস্র নাম না জানা অপরূপ সুন্দর বুনো ফুল। রোদের আলপনা, হাওয়ার দোলায় তৈরি করছে মনোরম পরিবেশ। দুপাশে ওক, পাইন, রডোডেনড্রন এর ঘন জঙ্গল। পথে পড়বে শিব মন্দিরএপ্রিলে রাস্তা রডোডেনড্রন এর রঙে রঙিন হয়ে থাকে। কিন্তু এখন অক্টোবর, শুধু গাছ দেখেই তাই সন্তুষ্ট থাকতে হল। অক্টোবর মাস হলে কি হবে? রোদের তেজ বেশ বেশি। উঠতে উঠতে ঘেমে-নেয়ে হাঁপিয়ে উঠছি। কোথাও বা বসে পড়ছি রাস্তার পার্শ্ববর্তী কোন পাথরে। কিলোমিটার খানেক উঠে পৌঁছলাম শিবের মন্দিরে। আরো বেশকিছুটা উঠে ছোট্ট এক দোকানে গলা ভেজালাম রডোডেনড্রন জুসের শরবতে। আরো প্রায় দু কিমি চড়াই ভেঙে আমরা পৌঁছলাম লেকের প্রবেশপথে। লেকের প্রবেশ পথে ফরেস্ট গার্ডের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে নিতে হবে জনপ্রতি ১৫০ টাকার বিনিময়ে। এই অনুমতিপত্র তিনদিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য এবং এই একই প্রবেশপত্রে তুঙ্গনাথ ও চন্দ্রশিলাও ঘুরে আসা যাবে। এতসব কান্ড করে যখন লেকের ধরে পৌঁছলাম জাস্ট মন্ত্রমুগ্ধ। মখমলের মত ঘাস, সবুজ বনানী আর তার মাঝে টলটলে পান্না সবুজ জলের মাঝারি মাপের একটা হ্রদ। এত সুন্দর জায়গায় থাকতে পারে!!! তখন আকাশ মেঘে ঢাকা... ফলে কোন শৃঙ্গ ই দেখা যাচ্ছে না... তাতে কি, যা দেখছি তার কোন তুলনা হয় না। লেকের চারপাশে ঘুরতে মন্দ লাগল না। তারপর নরম সবুজ গালিচার মত ঘাসে পা ডুবিয়ে বসে রইলাম অনেকক্ষণ। চারিদিকে ছেয়ে থাকা নির্জনতা ভেঙে যাচ্ছিল হরেক নাম না জানা পাখির কলকাকলিতে। দেখি এক লম্বা লেজের ব্লু ম্যাগপাই ঘুরে ঘুরে ফল খেতে ব্যস্ত। মুগ্ধতার তখনও কিছু বাকি ছিল। আসলে পাহাড়ের সৌন্দর্য ই এমন। পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর মত পরতে পরতে খুলতে থাকে আলাদা আলাদা রূপ। বিকেলে আস্তে আস্তে মেঘ কাটতে থাকল। সূর্যাস্তের শেষ আলো মেখে আবির রাঙা হয়ে উঠলো চৌখাম্বা, মন্দানি, কেদারনাথ পাহাড়ের শৃঙ্গ। চৌখাম্বা এখানে স্বমহিমায় উজ্জ্বল। মুগ্ধ চোখে শুধু তাকিয়ে আছি ওইদিকে... এর টানেই তো ছুটে আসি বারবার... যতক্ষণ আলো ছিল কাটালাম তালের ধারে। সন্ধ্যায় ফিরে গেলাম টেন্টে, নামল ঝিরঝিরে বৃষ্টি। সূর্যাস্তের আলোয় চৌখাম্বাতার মাঝেই আমরা ক্যালকুলেশন করতে শুরু করলাম বৃষ্টি হয়ে গেলে সকালে ঝকঝকে হয়ে উঠবে সব পাহাড়গুলো। রাতে টেন্টে স্লীপিং ব্যাগে শুয়ে পড়লাম। বাপরে বাপ কি ঠান্ডা। নাক যেন ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছে। পরদিন ভোর পৌনে ছটায় রওনা দিলাম ২০০মিটার দূরের তালের দিকে। চারিদিকে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। প্রাক শীতের হাওয়া শরীরে কাঁপন ধরাচ্ছে। হাতে মোবাইলের টর্চ। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পৌঁছলাম তালের পাড়ে। আগের দিন ভালো করে দেখে নিয়েছিলাম কোথায় দাঁড়ালে পুরো বরফঢাকা পাহাড়গুলোর প্রতিবিম্ব পড়বে ওই তালের জলে। আর কি... সাক্ষী হলাম সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্তের। সূর্যের প্রথম আলোয় ধীরে ধীরে আগুন লাগতে থাকল চৌখাম্বা, মন্দানি, ভাতৃকুণ্ঠ, কেদারনাথ, কেদারডোম, জনূকুট, থলয়সাগর, গঙ্গোত্রী, মেরু সুমেরু, খর্চাকুন্ড, বন্দরপুন্ছ শৃঙ্গগুলিতে। ছবি তুলে তুলে যেন আর আশ মেটে না। তালের ওপাড়েই আছে একটা ওয়াচ টাওয়ার। ঘুরে এলাম সেখানেও। এই পথ ধরেই রোহিনী বুগিয়াল হয়ে চলে যাওয়া যায় চোপতা আর সেখান থেকে তুঙ্গনাথ ও চন্দ্রশিলা। বেলা আটটা নাগাদ আবার একপ্রস্থ ছবি তুলে পিছনে তাকাতে তাকাতে চললাম তৈরি হতে। তখন আস্তে আস্তে মেঘ এসে ঢাকতে শুরু করেছে বরফ মুকুট শৃঙ্গ গুলিকে। এবার তো নামতে হবে... যদিও মন একটুকুও চাইছিল না। ফিরে চললাম সারি গ্রামে। মনে মনে বললাম এবারের মত চললাম হিমালয়, আবার আসব তোমায় চোখ দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে।মৌসুমী দেসহকারী শিক্ষকবর্ধমান দুবরাজদীঘি উচ্চ-বিদ্যালয়, বর্ধমান কিভাবে যাবেনদুন এক্সপ্রেস, কুম্ভ বা উপাসনা এক্সপ্রেসে হরিদ্বার। সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়িতে উখিমঠ হয়ে সারি গ্রাম। বাসে গেলে উখিমঠের পর গাড়িতে যেতে হবে। সারিগ্রাম থেকে তিন কিমি হাঁটাপথে দেওরিয়া তাল। দিনের দিন ফিরেও আসতে পারেন। ভালো হয় এক রাত দেওরিয়া তালে থেকে গেলে। তালের ধারে এখন আর থাকতে দেওয়া হয় না। থাকতে হবে 200 মিটার দূরের টেন্ট এ। কোথায় থাকবেনসারিগ্রামে রাকেশ সিং নেগী 09411534715

নভেম্বর ০৩, ২০২০
ভ্রমণ

শিব- পার্বতীর বিবাহ স্থলে

শিব ঠাকুরের একটা সরল, সাধাসিধে ভোলাভালা ইমেজ আছে, তিনি ভোলানাথ। জাঁকজমক, আড়ম্বরের বেশী দরকার হয় না, অল্পেই তিনি তুষ্ট তাই তিনি আশুতোষ। কোনো অহঙ্কারের লেশ মাত্র নেই, অথচ তিনিই সব। ছোটবেলা থেকে তাঁর অনেক গল্প - কাহিনী মায়ের কাছে শোনা। সচরাচর রাগ করেন না, কিন্তু রেগে গেলে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন, নটরাজ রূপে। ২০১৩ সালে কেদারনাথ মহাপ্রলয়ের সময়ে প্রকৃতির যে প্রলয়ঙ্করী রূপ দেখে আমরা শিউরে উঠেছিলাম, সেও ছিল বাবার রুদ্র রূপের প্রকাশ। আসলে ঈশ্বর আর প্রকৃতি তো আলাদা নয়, প্রকৃতির মধ্যেই তিনি বিরাজ করেন। পৌরাণিক কাহিনী তে আমরা জানি দক্ষ যজ্ঞের স্থলে সতীর দেহ ত্যাগের পর শিবের তাণ্ডব এবং তারপর বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হওয়া, যা থেকে ৫১টি সতী পিঠের উৎপত্তি। পরবর্তী কালে সতী জন্ম নেন হিমালয় কন্যা পার্বতী রূপে। শিব কে পতি হিসাবে পাবার জন্য তিনি বহু বছর কঠোর তপস্যা করেন। আর পার্বতী তো আমাদের ঘরের মেয়ে। উমা, গৌরী, দুর্গা কত আদরের নামে আমরা তাকে ডাকি। কৈলাস থেকে প্রতি বছর তিনি আমাদের কাছে ছেলে মেয়ে সহ আসেন। কেদারনাথ থেকে ফেরার সময় পৌঁছে গিয়াছিলাম ত্রিয়ুগীনারায়ণ, কথিত আছে যেখানে রাজনন্দিনী পার্বতী ও শিবের স্বর্গীয় বিবাহ সম্পন্ন হয়।ব্রহ্ম শিলাপার্বতীর তপস্যার স্থানটি ছিল বর্তমান গৌরীকুণ্ড। তপস্যায় সন্তুষ্ট মহাদেব পার্বতীর বিবাহ প্রস্তাব মঞ্জুর করেন গুপ্তকাশী তে। কেদারনাথ যাওয়া - আসার পথে শোন প্রয়াগ থেকে ১২ কিমি দূরে ত্রিয়ুগীনারায়ণ নামক একটি ছোট্ট পাহাড়ী গ্রাম। শোনপ্রয়াগ থেকে ত্রিয়ুগীনারায়ণ পর্যন্ত পুরো পথটাই চিরপাইনে ঢাকা, বেশ মনোমুগ্ধকর।গঠনশৈলী র দিক থেকে কেদারনাথ মন্দিরের মত একটি ছোট মন্দির আছে। মনে করা হয় এই মন্দিরের বর্তমান রূপ আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত। ভিতরে তিনটি যুগ (সত্য, ত্রেতা এবং দ্বাপর) ধরে প্রজ্জ্বলিত অখণ্ড অগ্নিশিখা, যা জ্বালানো হয়ে ছিল সেই বিবাহের সময়, তাই এটি ত্রিযুগী। এই মন্দিরের আরাধ্য দেবতা নারায়ণ, শিব-পার্বতীর বিবাহে তিনি ছিলেন পার্বতীর ভাই এর ভূমিকায়। এই দুটি কারণে মন্দিরের নাম ত্রিয়ুগীনারায়ণ। এই মন্দির অখণ্ড ধুনি মন্দির নামেও খ্যাত। মন্দিরের সীমানায় চারটি কুণ্ড আছে। রুদ্র কুণ্ড স্নানের জন্য, বিষ্ণু কুণ্ড পরিষ্কারের জন্য, ব্রহ্ম কুণ্ড পানের জন্য, সরস্বতী কুণ্ড পূর্বপুরুষ দের জলদানের জন্য নির্দিষ্ট। এই বিবাহে পৌরহিত্য করেন প্রজাপতি ব্রহ্মা। ব্রহ্ম শিলা নামক এক শিলা খন্ড আছে, যা বিবাহ স্থলটিকে নির্দেশ করে। মন্দিরের ভিতরে রুপোর বিষ্ণু, লক্ষী ও সরস্বতীর মূর্তি আছে। এই মন্দিরে পূজো দেবার সময় দর্শনার্থীরা কাঠ নিয়ে আগুনে অর্পণ করে, তার ছাই নিয়ে আসেন আশীর্বাদ হিসাবে। এটি বৈবাহিক সম্পর্কের শান্তি নিয়ে আসে বলে মনে করা হয়। পূজার জিনিসপত্র নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করার পর, পুজারিজী ব্রহ্ম শিলা র চারপাশে ঘুরিয়ে তারপর পূজো নিবেদন করলেন। এটাই প্রচলিত রীতি। তাঁর সাথে অনেকক্ষণ ধরে কথোপকথনে জানতে পারলাম পার্বতীর তপস্যা স্থল থেকে শুরু করে এই মন্দিরের সমস্ত কথা। তিনি জানালেন বহু প্রাচীন কাল থেকেই অনেক পরিব্রাজক এই মন্দিরে এসেছেন। উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এখানে এসেছিলেন, তাঁর রচিত হিমালয়ের পথে পথে গ্রন্থে এর উল্লেখ আছে। শিব-পার্বতীর বিবাহে-র স্থান হিসাবে খুব জনপ্রিয় ও পবিত্র এই জায়গায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন প্রথিতযশা শিল্পপতি ধিরুভাই আম্বানি ও কোকিলাবেন সহ আরো অনেক বিখ্যাত মানুষ। এখানে বিবাহ অনুষ্টানের জন্য আনেক আগে থেকে মন্দির কমিটির কাছে বুকিং করে রাখতে হয়। মন্দির সহ চারপাশের পরিবেশ অদ্ভুত শান্ত, নিরিবিলি। এখান থেকে গাড়য়াল হিমালযের বিখ্যাত গিরিশৃঙ্গ গুলি দৃশ্যমান। এখানকার মৃদুমন্দ বাতাস আজও চুপি চুপি সেই সুদূর অতীতের গল্প গাথা ই শুনিয়ে যায়। কেদারনাথ যাওয়া বা আসার পথে আধ বেলা হাতে থাকলে এই সুন্দর মন্দির ও স্বর্গীয় বিবাহের স্থানটি ঘুরে রোমাঞ্চকর অনুভূতির স্বাদ নিতে পারেন।ডঃ ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়সহকারী অধ্যাপকচন্দ্রপুর কলেজ (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়)কিভাবে যাবেনহরিদ্বার থেকে শোন প্রয়াগ ২৩১ কিমি। শোন প্রয়াগ থেকে ১২ কিমি দূরে ত্রিয়ুগীনারায়ণ মন্দির। কোথায় থাকবেনশোন প্রয়াগ এ থাকার জন্য অনেক লজ ও হোটেল আছে। ত্রিয়ুগীনারায়ণ এ GMVN এর হোটেল আছে।

অক্টোবর ২৯, ২০২০
ভ্রমণ

মোহময় 'গরসন বুগিয়াল': এক রূপকথার দেশ

হিমালয়ের এক অদ্ভুত মাদকতা আছে। একবার তার কাছে গেলে যেনো নেশা ধরে যায়। গাড়োয়াল হিমালয় দেবভূমি নামে পরিচিত। পুণ্যসলিলা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রাণসুধা সঞ্চারকারিনী ভাগীরথীর সৃষ্টি এই গাড়োয়াল হিমালয় অঞ্চলের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ থেকে। এছাড়া অসংখ্য ছোট-বড় নদী, দেবালয়, সাধু মহাত্মাদের তপস্যার স্থল হিসাবে এই গাড়োয়াল হিমালয় প্রসিদ্ধ। দেবভুমি হিসাবে সার্থকনামা। হিমালয়ের অসংখ্য বিখ্যাত গিরি শৃঙ্গের সমাহার এখানে। চৌখাম্বা, সুমেরু, নীলকন্ঠ, নন্দাদেবী, বন্দর পুঞ্ছ ইত্যাদি সমস্ত শৃঙ্গরাজি তাদের অপার সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে স্বমহিমায় বিরাজ করছে। আর এর টানেই যুগ যুগ ধরে মানুষ সমস্ত শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করে ছুটে যায় পাহাড়ের কাছে। এখন পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে, অনেক কম সময়ে অনায়াসে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে ঝিনুকের ভিতরে লুকানো মুক্তোর মতই, হিমালয়ের অসংখ্য গিরিকন্দরে ছড়িয়ে আছে অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অতুলনীয় মানসিক শান্তির ঠিকানা। পায়ে পায়ে পৌঁছে যাওয়া যায় সেই সব স্থানে, তবে একটু আয়াস করে, ভালোবেসে। এমনই একটি নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যে ভরপুর জায়গা গরসন বুগিয়াল। বুগিয়াল কথাটার অর্থ ঘাসে ঢাকা জমি। একবারে সবুজের কার্পেট বিছানো। এই সবুজ মখমলের দিগন্ত বিস্তৃত বুগিয়াল থেকে মনভরে উপভোগ করা যায় নন্দাদেবী, নন্দকোট, হাতি ঘরী পালকি ও নন্দঘুন্টির রূপকে। দেখলে মনে হয় হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। আবার চুপ করে বসে তাদের ধ্যানমগ্ন রূপকে অনুভব করতেও অসাধারণ লাগে। যোশীমঠ থেকে ১০ কিমি দূরে আউলি। সকাল সকাল পৌঁছে হাল্কা ব্রেকফাস্ট করে আমরা যখন রোপওয়ের লাইনে দাঁড়ালাম তখন বেশ ভিড়। এক এক বারে ২৫জন করে যাওয়া যায় এই রোপওয়েতে। এই যাত্রাও সারাজীবনের সঞ্চয়, উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামনের ছোট পাহাড়ের সারির পিছন থেকে একটু একটু করে সামনে আসতে থাকে বরফের মুকুট শোভিত, রৌদ্রস্নাত পর্বত শৃঙ্গেরা। সে এক অপূর্ব অনুভূতি। ১০ নম্বর টাওয়ার-এ নেমে পড়লাম আমরা। এখানে গাইড পাওয়া যায়। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু হল। পুরো পথটাই হাল্কা থেকে মাঝারি চড়াই, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে। গাছের ফাঁক দিয়ে মেঘ ও রোদের লুকোচুরিতে মোহময় পর্বতমালার হাতছানি। যেতে যেতে গাইডের মুখে নন্দাদেবীর সাথে জড়িত এক লৌকিক কাহিনী শোনা গেল। মা নন্দা পর্বত দুহিতা। প্রতি ১২বছর অন্তর তার পুজো অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর প্রাক্কালে আশ্চর্যজনক ভাবে এই অঞ্চলের আশপাশের এলাকায় জন্মায় এক চার শিং যুক্ত ভেড়া। সেই ভেড়া ও পুজোর সামগ্রী নিয়ে এই পথ ধরে শোভাযাত্রা সহকারে মানুষ এক নির্দিষ্ট স্থানে সব পৌঁছে দিয়ে আসে মা নন্দাদেবীর কাছে। ওই ভেড়াটি অদৃশ্য হয়ে যায়। এই পথেই চলে যাওয়া যায় রূপকুণ্ডের ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপের সন্ধানে। সে পথ আরও অনেক দূর, অনেক দূর্গম। গাইড-এর সঙ্গে গল্প করতে করতে আর নৈঃস্বর্গিক শোভা দেখতে দেখতে বুঝতেই পারিনি পৌঁছে গিয়েছি সেই স্বপ্নের দেশে। চোখের সামনেই স্বগর্বে দাঁড়িয়ে নন্দাদেবী সহ সকল শৃঙ্গ, বরফ শীতল বাতাস, ঢেউ খেলানো অপরিসীম সবুজ প্রান্তর সবনিয়ে গরসন বুগিয়াল এক মায়াবী রূপকথার দেশ। আমরা যারা শহুরে জীবনে অভ্যস্ত তাদের কাছে ছোট্ট এই ৫ কিমি ট্রেক করে কষ্টের থেকে পাওনা অনেক বেশি, যা মনের মনিকোঠায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে চিরদিন। ডঃ ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায় সহকারী অধ্যাপক চন্দ্রপুর কলেজ (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়) কিভাবে যাবেন হরিদ্বার থেকে যোশী মঠ ২৭৫ কিমি। সেখানে রাত্রিবাস করে, পরের দিন খুব ভোরে উঠে চলে যান ১০কিমি দূরে আউলী। সেখানে রোপওয়ের লাইনে দাঁড়াতে হবে। রোপওয়ের ১০ নম্বর টাওয়ারে নেমে, গাইড বুক করে যাত্রা শুরু করুন। ৫কিমি হাল্কা থেকে মাঝারি চড়াই পথ। যেতে আসতে সময় লাগবে ঘণ্টা পাঁচেক। ফিরে এসে খোলা প্রকৃতির মাঝে, সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে লাঞ্চ সেরে নিতে পারেন। তারপর আবার রোপওয়ে করে ফিরে আসুন আউলী। থাকার জন্য যোশী মঠে থাকার জন্য GMVN এর জ্যোতি টুরিস্ট কমপ্লেক্স (৯৫৬৮০০৬৬৬৭) গাড়ী বা হোটেল বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করতে পারেন কিশোর ট্রাভেলস (৯১-৯৯২৭৭১২০৯০) www.kishoretravels.in

অক্টোবর ০৪, ২০২০
ভ্রমণ

উইকএন্ড ডেস্টিনেশন হোক এই অচেনা পাহাড়ি ঠিকানা

বেড়াতে যেতে কার না ভালো লাগে! অবকাশ পেলেই ঘুরতে যাওয়ার জন্য ছটফট করতে থাকে মন। প্রতিটা দিনের কর্মক্লান্তি ও একঘেয়েমি জীবন থেকে মন ও শরীর বিশ্রাম নিতে চায় স্বাভাবিকভাবেই। তাই দুদিনের ছুটি পেলেই অনেকে বেরিয়ে পড়েন প্রকৃতির টানে। পর্যটনে আগ্রহীরা সারা বছর ধরেই ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকেন। হোক ছোট ট্যুর, তবু সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়া চাই। বেড়াতে যেতে কার না ভাল লাগে! অফিসে দুদিনের ছুটি পেলেই মন ডানা মেলে উড়তে চায় অচেনা দিগন্তের উদ্দেশে। সুযোগ পেলেই অনেকে বেরিয়ে পড়েন প্রকৃতির টানে। উইকএন্ড কিংবা ছোট ছুটিতে প্রকৃতির বুকেই অবকাশের ঠিকানা খুঁজে নেন ভ্রমণরসিকরা। বেড়াতে ভালবাসেন অথচ দার্জিলিঙে যাননি এখন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু কজন জানেন দার্জিলিঙের কাছেই রয়েছে আরও এক সুন্দর ঠিকানা। শিয়ালদহ থেকে রাত ৮ টা বেজে ৩০ মিনিটের ১৩১৪৯ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে উঠুন। পরদিন সকালে নিউ জলপাইগুড়ি। স্টেশনের বাইরে মিলবে ভাড়ার গাড়ি। ঘণ্টা চারেকের মধ্যেই পৌঁছে যান নিবিড় সবুজের ঠিকানায়।যারা অফবিট ভ্রমণ ভালোবাসেন তাদের জন্য রংবুল হতে পারে সেরা ঠিকানা। এখানে বেড়াতে গেলে মনে আসে প্রশান্তি। দার্জিলিঙের ঘুম থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম রংবুল। সারা বছরই এখানে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে।খুব অল্প সময়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে ভ্রমণ রসিকদের কাছে বিশেষ প্রিয়। এখন এখানে গড়ে উঠেছে নানা মানের থাকার জায়গা। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসুন অল্প দূরের লামাহাটা থেকে। অবকাশে জমিয়ে পাহাড়কে উপভোগ করুন। তাহলে আর সময় নষ্ট না করে আজই আপনার ট্যুর প্ল্যান করে ফেলুন!

অক্টোবর ০২, ২০২০
ভ্রমণ

'মানা' যেন এক টুকরো  স্বর্গ

ছোটবেলা থেকেই সুন্দর জায়গা বা অপার শান্তির পরিবেশ এর উপমা আমরা সাধারণত টানি স্বর্গের সঙ্গে। ওখানে তো স্বর্গ সুখ বা কি সুন্দর জায়গা, ঠিক যেন স্বর্গ। কথাগুলো শুনে অনেক সময়েই ভাবতাম, যদি দেখতে বা অনুভব করতে পারতাম, কি ভালই হত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝলাম, পৃথিবীর সকল কাজ সমাধা করার পরই সেখানে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়, অবশ্যই সেটা ভালো কাজের পুরস্কার। অপকর্মের ফলে নরকের দরজা খোলা হয়। মহাভারত এর যুগের কথা অবশ্য আলাদা। কথিত আছে তখনকার সময়ে অনেক যোগী, ঋষিগণ তাঁদের তপস্যার বলে স্বশরীরে স্বর্গে যেতে আসতে পারতেন, দেবদেবীদের সাথে কথাবার্তাও সম্ভব হত। কঠোর তপস্যার পর অর্জুন স্বর্গে গিয়াছিলেন দেবতাদের কাছ থেকে অস্ত্র আনতে যা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি ব্যবহার করতে পারেন। এরপর যুধিষ্ঠির স্বশরীরে স্বর্গে গিয়াছিলেন স্বর্গরোহিণীর পথ ধরে, জীবন সায়াহ্নে, পরীক্ষিতকে সাম্রাজ্যভার অর্পণ করে, পথে চার পাণ্ডব সহ দ্রৌপদীর মৃত্যু হয়েছিলো। এই গৌরচন্দ্রিকা র উদ্দেশ্য হলো এই ঘোর কলিতে তো স্বশরীরে স্বর্গে যাওয়া যাবে না, তবে স্বর্গীয় অনুভুতি এবং সেসব মহামানবদের কীর্তিকাহিনী, পুরাণের গল্প সবকিছুর স্বাদ নিতে বদ্রীনাথ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে মানা গ্রামে চলে যাওয়া যাবে।মানা-র প্রবেশপথমানা একটি ছোট্ট পাহাড়ি জনবসতি, প্রাচীনকালে যার নাম ছিল মনিবভদ্রপুরম। কমবেশি ছয় মাস এখানে মানুষ বসবাস করে, প্রবল শীতে সাধারন মানুষ এই জনবসতি ত্যাগ করে নিচের দিকে নেমে আসেন। চারিদিকে সুউচ্চ পর্বত শৃঙ্গ, নীলকন্ঠ, আলোকাপুরী (এটাই নাকি সবচেয়ে ধনী দেবতা কুবেরের রাজধানী), নর এবং নারায়ণ পর্বত (শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন এর বন্ধুত্বের সাক্ষ্য বহন করে, এই নারায়ণ পর্বতেই বর্তমানে বদ্রি দ্রীবিশালজীর অপূর্ব সুন্দর মন্দির অবস্থিত), একটু দূরে তাকালে দেখা যায় স্বর্গরোহিনীর সুবিশাল উপস্থিতি। ধাপে ধাপে উঠে গেছে অসীমের দিকে, বুঝি স্বর্গের দিকে।সরস্বতী মন্দিরপঞ্চ পাণ্ডব সহ দ্রৌপদী কোন পথে স্বর্গে গিয়াছিলেন তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। একটি মত অনুযায়ী এই মানা - বসুধারার পথ ধরেই নাকি তাঁরা যাত্রা করেছিলেন। মতের বিভিন্নতা যাই থাক, গ্রামটির অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়, যা কল্পনার স্বর্গের মতই। জনশ্রুতি অনুযায়ী কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাস এখানেই মহাভারত রচনা করেছিলেন। ব্যাস গুম্ফা নামে একটি গুহা বর্তমান, ভিতরে কৃষ্ণ বর্ণের ব্যাস দেবের মূর্তি। অদূরে গণেশ গুম্ফা, ভিতরে পার্বতী পুত্রের মূর্তি, তিনিই মহাভারতের লেখক। ব্যাসদেব বলেছিলেন আর গণেশ শুনে লিখেছিলেন। বেশ হাইটেক ব্যাপার সেযুগেও ছিল যা বুঝলাম, কি ছিল তা অবশ্য তাঁরাই জানতেন, কারণ গুহা দুটি নিকটবর্তী হলেও কথা শুনতে পাওয়ার মতো নয়। ব্যাস গুম্ফার উপরে প্রস্তরীভুত পুঁথির আকারে তাঁর রচনা বর্তমান, কারণ কলিকালের মানুষের কাছে সত্যি কারের সেই পুঁথি দর্শন সম্ভব নয়। প্রস্তরীভুত পুঁথিএই রচনার সঙ্গে আর একটি ঘটনাও ঘটেছিল, ব্যাসদেব যখন বলছিলেন এবং গণেশজী লিখছিলেন, বিদ্যাচর্চার সেই স্থানে দেবী সরস্বতীর আবির্ভাব ঘটে, নদী রূপে। প্রচন্ড গর্জনের সাথে, প্রবল বেগে ছুটে চলা নদীর শব্দে মনঃসংযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তাতে কুপিত ব্যাসদেব অভিশাপ দেন অদূরেই এই নদী বিলীন হবে। সৃষ্টি হয় কেশবপ্রয়াগের, যেখানে সরস্বতী লীন হয়েছে অলকানন্দাজলে। এই সরস্বতীর উপরেই বিদ্যমান ভীমপুল, একটি মাত্র বিশাল পাথরের দ্বারা দুই পাড়ের সংযোগ রক্ষা করছে। মহাপ্রস্থানের পথে সরস্বতী নদীর প্রাবল্যে ভীত দ্রৌপদী নদী পার হতে অসমর্থ হলে, মহাবলী ভীম একটি মাত্র শিলা দ্বারা এই পুল তৈরী করেন। দেবী সরস্বতীর একটি মন্দির এখানে আছে। আছে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। এখানকার সব গল্প, কাহিনী আমাদের গাইড ভাই এর কাছে শোনা। চায়ের কাপ হাতে, প্রচন্ড বেগে ধাবমান সরস্বতীর ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপ দর্শনের সাথে এইসব কাহিনীর বর্ণনা শুনতে শুনতে টাইম মেশিনে চলে গিয়েছিলাম সেই সুদূর অতীতে।এই পথ চলে গেছে বসুধারা, লক্ষ্মীবন, চক্র তীর্থ, সতপন্থ হয়ে সেই অসীমের দিকে। এখান থেকেই সৃষ্টি হোয়েছে স্বর্গের গঙ্গা অলকানন্দা, আলোকপুরী হিমবাহ থেকে। বিপুল জলরাশির জোগান দিয়ে প্রানসুধা সঞ্চার করেছে ভাগীরথীর বুকে। সবকিছু নিয়ে মানা গ্রামটি ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে একটুকরো স্বর্গ, অপার শান্তির ঠিকানা।ব্যাস গুম্ফাডঃ ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়সহকারী অধ্যাপকচন্দ্রপুর কলেজ (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়) কিভাবে যাবেনহাওড়া থেকে হরিদ্বার যাবার দৈনিক ট্রেন ১৩০০৯ দুন এক্সপ্রেস। এছাড়া ১২৩৬৯ কুম্ভ এক্সপ্রেস (মঙ্গলবার ও শুক্রবার বাদে), উপাসনা এক্সপ্রেস ১২৩২৭ (মঙ্গলবার ও শুক্রবার থাকে) ট্রেন দুটি হরিদ্বার যায়। হরিদ্বার পৌঁছে সেদিন বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। পরের দিন সকালে বেরিয়ে চলে আসুন যোশী মঠ, হরিদ্বার থেকে দূরত্ব ২৭৭ কিমি, গাড়িতে যেতে সময় লাগবে ১০ঘণ্টা। যোশী মঠ এ দেখে নিতে পারেন আদি শঙ্করাচার্য নিসৃংহ বদ্রী মন্দির, এটিই বদ্রীবিশাল জীর শীতকালীন আবাস।খুব সকালে পরের দিন রওনা দিন বদ্রীনাথের উদ্দেশ্যে। যোশী মঠ থেকে দূরত্ব ৪৫ কিমি। সেখান থেকে মানা গ্রামটি আরো ৪কিমি। গাড়ী থেকে নেমে পায়ে হেঁটে দেখেনিন দ্রষ্টব্য স্থানগুলি। হাতে একদিন অতিরিক্ত থাকলে ৬ কিমি দূরে বসুধারা জলপ্রপাত দেখতে পারেন। পুরোটাই হাঁটা পথ।হরিদ্বারে থাকার জন্যGMVN এর রাহী মোটেল (০১৩৩৪-২২৬৪৩০)যোশী থাকার জন্যGMVN এর জ্যোতি টুরিস্ট কমপ্লেক্স (৯৫৬৮০০৬৬৬৭)বদ্রীনাথে থাকার জন্যGMVN এর দেবলোক (৯৫৬৮০০৬৬৫১)গাড়ী বা হোটেল বুকিং এর জন্য যোগাযোগ করতে পারেনকিশোর ট্রাভেলস (৯১-৯৯২৭৭১২০৯০)

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

‘আমার খুব আনন্দ হচ্ছে’, ইন্দ্রনীল সেন জেলে যেতেই বিস্ফোরক বুদ্ধদেব-পুত্র সুচেতন!

পুজোর পাস নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এ বার মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য। ইন্দ্রনীলের সঙ্গীত সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর কী কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন সুচেতন। তাঁর অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের আচরণ ছিল অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ। প্রাক্তন মন্ত্রীর জেলবন্দি হওয়ার খবর তাঁকে খুশি করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।কলেজ পাশ করার পর ২০০৫ সালে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গীত সংস্থায় চাকরি শুরু করেন সুচেতন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছিলেন তিনি। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এর পর ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে বলে দাবি সুচেতনের। সেই পরিস্থিতিতে সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।সুচেতনের অভিযোগ, ২০১৩ সালে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠালেও ইন্দ্রনীল তা গ্রহণ করেননি। ইস্তফাপত্রের কপি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে অফিসে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। সুচেতনের কথায়, তাঁর ঔদ্ধত্য এতটাই ছিল যে আমার ইস্তফাপত্র গ্রহণ পর্যন্ত করেননি। সেটা রিসিভ করে আমাকে কপি দেবেন বলে ডেকে পাঠিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে অপেক্ষা করিয়েছেন। নিজে কথা বলেননি, বাকি কর্মীদের দিয়ে বলে পাঠাচ্ছিলেন, অপেক্ষা করতে হবে। ভাবুন কী অপমানজনক! একটা ইস্তফাপত্র সই করতে এতখানি ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন।ইন্দ্রনীলের সংস্থায় কাজ করা রেকর্ডিস্ট এবং অন্য সঙ্গীতশিল্পীদের পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন সুচেতন। তাঁর দাবি, অনেক সময় কাজ করানোর পরেও শিল্পীদের ঠিকমতো টাকা দেওয়া হত না। এক সময়ে নিজের টাকা থেকে কয়েক জন শিল্পীর পারিশ্রমিক মিটিয়ে দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।সুচেতনের আরও দাবি, ইন্দ্রনীলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয়েছিল যে বাবার অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে যেন তিনি তাঁদের বাড়ির আশপাশে না আসেন, সে কথা দলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের সময়েও তৎকালীন মন্ত্রীকে পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে ঢুকতে দিতে চাননি বলে জানিয়েছেন সুচেতন।ইন্দ্রনীল সেনের জেলবন্দি হওয়ার প্রসঙ্গে সুচেতন বলেন, পাপ ও কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। তাঁর আরও বক্তব্য, আমার মনে হয়, শুধু আমি নই, যাঁরা ওঁর দুর্নীতির পরিচয় পেয়েছেন, তাঁরা সকলে আজ খুশি।ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে সুচেতনের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা। অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রাজ্য

‘বড় চোর জেলে যাবেই’, বারুইপুরের সভা থেকে কাকে নিশানা করলেন শুভেন্দু?

বড় চোর জেলে যাবেই, চিন্তা করবেন না। ধৈর্য রাখুন। শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কারও নাম না করেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি।শুভেন্দু বলেন, আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোর কবে যাবে? বড় চোর যাবে। আমার রাজনীতিতে সহ্য, ধৈর্য ধরি। সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক নেতার গ্রেফতারির প্রসঙ্গেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সেই তালিকায় ইন্দ্রনীল সেন ও অজিত মাহাতোর নামও উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।এ দিনের সভা থেকে তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সিপিএম ও তৃণমূল এখন একসঙ্গে কাজ করছে। দুই পক্ষকে নিশানা করে তিনি বলেন, বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্যের লক্ষ্য ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, সাহস থাকলে আপনি লড়ুন। আবার হারাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ওঁরা কলকাতায় না থেকে দিল্লি যাচ্ছেন। আপনি দিল্লি যান। পশ্চিমবঙ্গে আপনার আর কিছু হবে না।উল্লেখ্য, দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং পরবর্তী কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমের একাংশের অবস্থানে মিল দেখা গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে দিল্লিতে কেরলের সিপিএম নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্বের একাংশের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই এম এ বেবির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চা খাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হেরেই পঞ্চত্বপ্রাপ্তি একটা দলের।এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নাম না করে নিশানা করেন শুভেন্দু। ডিজে প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গোটা জেলায় গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছ। ২০১৪ সালের পর থেকে একটাও ভোট করতে দাওনি। ৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন উনি। কিন্তু ৬ মাস কোথায়? সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। তারই জবাবে এ দিনের সভা থেকে নাম না করে পাল্টা আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু। তবে বড় চোর বলতে কাকে বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
দেশ

দীপাবলির আগে কলকাতা-দিল্লি বিমানের ভাড়া ৮০ হাজার! টিকিটের দাম দেখে মাথায় হাত যাত্রীদের

উৎসবের মরশুমে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন? তা হলে বিমান টিকিট কাটার আগে এক বার ভাড়া দেখে নেওয়া জরুরি। দুর্গাপুজোয় যাঁরা ছুটি পাননি, তাঁদের অনেকেই দীপাবলির ছুটিতে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু উৎসবের আগে বিমান ভাড়া যে ভাবে বাড়ছে, তাতে যাত্রীদের পকেটে বড়সড় টান পড়তে পারে। কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার বিমানের টিকিটের দাম বেড়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যে টিকিটের দাম ১০ থেকে ১১ হাজার টাকার মধ্যে থাকে, তার দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় অবাক যাত্রীরা।জানা গিয়েছে, ৬ নভেম্বর কলকাতা-দিল্লি রুটে বিমানের টিকিটের দাম এক ধাক্কায় ১১ হাজার ৬৬৯ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮ হাজার ৬৯৮ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, এই রুটে টিকিটের দাম প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। উৎসবের মরশুমে বাড়ি ফেরার জন্য যাঁরা শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটতে চাইছেন, তাঁদের অনেককেই এখন বেশি টাকা খরচ করার কথা ভাবতে হচ্ছে।শুধু কলকাতা-দিল্লি রুটেই নয়, দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটেও বিমান ভাড়া বেড়েছে। মুম্বই থেকে দিল্লি যাওয়ার বিমানের টিকিটের দাম ১১ হাজার ৫৩১ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ হাজার ৫৭৭ টাকা হয়েছে। দিল্লি থেকে আহমেদাবাদ যাওয়ার ভাড়া ৬ হাজার ১২১ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৪১৩ টাকা হয়েছে। দিল্লি-হায়দরাবাদ রুটে টিকিটের দাম ৮ হাজার ৯৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ২৭ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়েছে। অন্য দিকে, বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি যাওয়ার বিমানের ভাড়া ১৫ হাজার ৯০১ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ হাজার ৫০৬ টাকা হয়েছে।উৎসবের সময়ে যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে বিমান টিকিটের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিভিন্ন বিমান সংস্থার দাবি, কোন ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটা হচ্ছে, কোন ধরনের আসন পাওয়া যাচ্ছে এবং কতগুলি আসন বাকি রয়েছে, তার উপরেও ভাড়ার পার্থক্য নির্ভর করে। তাই একই রুটে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে টিকিটের দাম আলাদা হতে পারে।দুর্গাপুজোয় বাড়ি ফিরতে না পারা অনেকেই দীপাবলির ছুটিতে পরিবারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিমান টিকিটের এত বেশি দাম তাঁদের পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই উৎসবের মরশুমে বিমানযাত্রার পরিকল্পনা থাকলে টিকিটের দাম বিভিন্ন সংস্থার ওয়েবসাইটে মিলিয়ে দেখে নেওয়াই ভাল।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বিদেশ

হ্রদ ভেঙে ভাসল ভুটান, তবু প্রাণহানি শূন্য! কীভাবে বিপর্যয় সামলাল পড়শি দেশ?

হ্রদ ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল নেমে এসে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে রাস্তা, বাড়িঘর, গাছপালা এবং গবাদি পশু। তবু এখনও পর্যন্ত ভুটানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর মেলেনি। এর পিছনে রয়েছে বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদগুলির উপর নিয়মিত নজরদারি এবং আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থা। নেপালের বিপর্যয়ের পর পাহাড়ি হ্রদগুলির বিপদ সম্পর্কে আরও সতর্ক হয়েছিল ভুটান। সেই প্রস্তুতিই এ বার কাজে এসেছে বলে মনে করছেন ভূ-বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি এখনও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পাহাড়ের নীচে থাকা সিনতাপু হ্রদ থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘন মিটার জল নেমে আসে মো চু নদীতে। প্রবল জলস্রোতের সঙ্গে পাথর, মাটি ও গাছপালা ভেসে যায়। গাসা ও পুনাখা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় উত্তর ভুটানের একাধিক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহু গবাদি পশুও জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ভুটান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বিপজ্জনক হ্রদগুলির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। হ্রদের জলস্তরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে যাতে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া যায়, তার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসানো হয়েছে। হ্রদের জল বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সঙ্কেত পাওয়ার পর সাইরেন বাজিয়ে নদীর ধারের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। জল নেমে আসার আগেই তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই কারণেই এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলে মনে করা হচ্ছে।ভুটানের এই বিপর্যয়ের খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের প্রশাসনকেও সতর্ক করা হয়। কারণ, ভুটানের মো চু নদী পুনাখায় ফো চু নদীর সঙ্গে মিশে পুনাৎসাংচু নদী তৈরি করেছে। এই নদী ভারতে ঢোকার পর সঙ্কোশ নামে পরিচিত। ফলে ভুটানে জল বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের নদী সংলগ্ন এলাকায়।বন্যার আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। কুমারগ্রাম, বানারহাট ও ময়নাগুড়ি এলাকায় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে শুরু করে। আলিপুরদুয়ার জেলার নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সঙ্কোশ ও জলঢাকা নদীর ধারের বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ওই দুই নদীর জলস্তর স্বাভাবিক থাকলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছে প্রশাসন।ভুটানে আরও একটি বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিনতাপু হ্রদ থেকে নেমে আসা কাঠ, পাথর ও মাটি লুনানা এবং গাংচেন তাগ নদীর মিলনস্থলে তাকতসেমাথাং এলাকায় জমে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি করেছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়ে থাকলে তা ভেঙে আচমকা জল নেমে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে হড়পা বানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই নদী উপত্যকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।ভুটানের ১৭টি বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে সিনতাপু অন্যতম। ২০২৩ সালের মে ও জুন মাসে এই হ্রদ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। নেপালে হড়পা বানের বিপর্যয়ের পর থেকেই ভুটানের বিপজ্জনক হ্রদগুলির উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, হ্রদের জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে বিশেষ পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে।চোপড়া কলেজের অধ্যক্ষ তথা ভূ-বিশেষজ্ঞ মধুসূদন কর্মকার জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে ভুটান বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখছে। লুনানার থোরথোরমি হ্রদে সাইফন পদ্ধতি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত ভাবে জলস্তর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে হ্রদের জল ধীরে ধীরে বের করে জলস্তর কমানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বড় বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করতে পারে।তবে আগাম সতর্কবার্তা ও নজরদারি থাকলেও ভুটানের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়নি। রাস্তা, ঘরবাড়ি এবং গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। কৃত্রিম হ্রদে জমে থাকা জল নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই আপাতত ভুটান ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
কলকাতা

স্বাস্থ্যসাথীর ৩০ লক্ষ উপভোক্তার খোঁজ নেই! ২৫ হাজার কোটি টাকা খরচ নিয়ে বড় প্রশ্ন

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার খোঁজ মিলছে না বলে দাবি উঠেছে। নতুন করে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে এই গরমিল ধরা পড়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। রাজ্য সরকারের দাবি, স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই কাজের জন্য তথ্য যাচাই করতে গিয়েই পুরনো তালিকায় থাকা বহু নামের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।নবান্ন সূত্রে খবর, বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করার সময় দেখা যাচ্ছে, অনেকের নামে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড থাকলেও তাঁদের অস্তিত্বের খোঁজ মিলছে না। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০ লক্ষ এমন উপভোক্তার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনায় রাজ্যের কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ খরচ হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। সেই অঙ্ক ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে এই অর্থের পরিমাণ এবং উপভোক্তাদের তালিকায় গরমিলের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট দফতরকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিমা যোজনার আওতায় আনার কথা আগেই ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী, উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করে ধাপে ধাপে তাঁদের নাম আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে।এই যাচাইয়ের সময়েই স্বাস্থ্যসাথীর পুরনো তালিকায় থাকা বহু নাম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। আধিকারিকদের বক্তব্য, যাঁদের নামে কার্ড রয়েছে, তাঁদের প্রকৃত পরিচয় এবং অস্তিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। সেই সঙ্গে প্রকল্পের সুবিধা দিতে গিয়ে সরকারি অর্থের কোনও অপচয় হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।শুধু স্বাস্থ্যসাথী নয়, আগের সরকারের আমলে চালু হওয়া অন্যান্য প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকাতেও একই ধরনের গরমিল থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। তবে সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের কাজ শেষ হলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বিদেশ

সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই! ইজরায়েলে ফের ক্ষমতায় ফিরবেন নেতানিয়াহু?

প্রায় দুদিন ধরে ভোটগণনার পর ইজরায়েলে নির্বাচনের ফলের ছবি স্পষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেকটাই দূরে তাঁর জোট। ফলে ইজরায়েলে পরবর্তী সরকার কারা গড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ইজরায়েলের সংসদ কেনেসেটের মোট আসন ১২০। সরকার গড়তে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। কিন্তু নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। বিরোধী জোটের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। অন্য দিকে, রাম এবং জয়েন্ট লিস্ট-সহ আরব দলগুলি পেয়েছে মোট ১৯টি আসন। ফলে কোনও জোটই একক ভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আগামী ৪ নভেম্বর ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজোগের হাতে তুলে দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির। তার পরে ১০ নভেম্বর নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন কে জোগাড় করতে পারবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এই পরিস্থিতিতে ফের ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন নেতানিয়াহু। ইহুদি ভোটারদের আবেগকে সামনে রেখে তিনি আরব দলগুলির সঙ্গে জোট না করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতা দখলের জন্য আরব দলগুলির সঙ্গে হাত মেলালে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। পাশাপাশি, সরকার গঠনের সমর্থন জোগাড় করতে বিভিন্ন ইহুদি দলের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছেন তিনি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের কিছু দল নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালে তাঁর সরকার গড়ার পথ সহজ হতে পারে। বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের শিবির থেকে কয়েকটি দল সরে এলে সংখ্যার অঙ্কে বদল আসতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা কতটা বাস্তব, তা এখনও পরিষ্কার নয়।অন্য দিকে, একসময় মনে করা হচ্ছিল, সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে আরব দলগুলি। এই দলগুলি ইজরায়েলে বসবাসকারী প্যালেস্তিনীয় জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু আইজেনকোট আরব দলগুলির সঙ্গে জোটে যেতে রাজি নন বলে জানা গিয়েছে। যদিও জোটের বাইরে থেকে তাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।ফলে ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কারা সরকার গড়বে। নেতানিয়াহুর দল সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাঁকে অন্য দলের সমর্থন জোগাড় করতে হবে। আগামী কয়েক দিনেই সেই রাজনৈতিক অঙ্ক অনেকটাই স্পষ্ট হতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রাজ্য

বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির নামে ব্যাঙ্ক থেকে ২৯০ কোটি টাকা ঋণ! এ বার ইডির নজরে দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে শুক্রবার সকালে কলকাতা ও উত্তরপাড়ার একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ঝাড়খণ্ডের একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া টাকা কলকাতায় পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে বিপুল অঙ্কের টাকা সরানোর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট।শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে উত্তরপাড়ার শিবতলা স্ট্রিটে সুদীপ্ত ঘোষের বাড়িতে পৌঁছন ইডির আধিকারিকেরা। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুদীপ্তর বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।সুদীপ্ত জানিয়েছেন, ইডি তদন্ত করছে। তবে এই দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তদন্তকারীরা প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই এসেছেন বলেও জানিয়েছেন সুদীপ্ত। তদন্তে তিনি সহযোগিতা করছেন বলে তাঁর বক্তব্য।অন্য দিকে, লেকটাউনের অভিজাত অবনী অক্সফোর্ড আবাসনের প্রথম পর্যায়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অশোক সারথির বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডির আধিকারিকেরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় সেখানে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া প্রায় ২৯০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তদন্তের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি সংস্থাটির নাম কোহিনূর পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেড। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কথা বলে ব্যাঙ্কের একাধিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল।তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রকল্প তৈরির জন্য নেওয়া ওই বিপুল অঙ্কের টাকা নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে অন্যত্র সরানো হয়ে থাকতে পারে। এই আর্থিক লেনদেনে অশোক সারথির ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয়।তল্লাশির সময় বিভিন্ন নথি, ব্যাঙ্কের লেনদেনের তথ্য এবং ডিজিটাল নথি খতিয়ে দেখছেন ইডির আধিকারিকেরা। এই মামলায় আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সে দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
রাজ্য

বন দফতরে সরকারি চাকরির টোপ, ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা!

বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছু দিন আগে। ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা সজল দাস অজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে বন দফতরে স্থায়ী চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অজিত।অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে চার দফায় অজিতকে মোট ১০ লক্ষ টাকা দেন সজল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি পাননি তিনি। এর পর টাকা ফেরত চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ।সজলের আরও দাবি, টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আরও ২ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। একই ভাবে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরও কয়েক জন বেকার যুবকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে অজিতের নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তবে অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশি তদন্তের পরেই এই ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal