• ১৯ পৌষ ১৪৩২, সোমবার ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

বিদেশ

বিদেশ

মাদুরোর পর এবার ডেলসি! ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে হুমকি ট্রাম্পের

ভেনেজুয়েলা নিয়ে হুমকি থামছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অভিযোগের পর এবার সরাসরি হুমকি দিলেন দেশের সদ্য ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ঠিক পথে না চললে মাদুরোর থেকেও বড় মূল্য চোকাতে হবে ডেলসিকে।একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডেলসি রড্রিগেজ যদি তাঁর নির্দেশ মতো কাজ না করেন, তাহলে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, মাদুরোর চেয়েও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে ভেনেজুয়েলার নতুন প্রশাসনকে।ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় ইতিমধ্যেই সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, নতুন নেতৃত্ব শপথ নিয়েছে এবং আমেরিকা দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যদিও তাঁর ধারণা, সেই ধাপ হয়তো আর প্রয়োজনই হবে না। ট্রাম্প বলেন, সঠিক সময়ে নির্বাচন করানো হবে এবং ভেনেজুয়েলার তেল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতেই যাবে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে কারাকাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর প্রথমদিকে ডেলসি রড্রিগেজের প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর ডেলসি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করবেন এবং দেশের সার্বভৌমত্বে কোনও আপস করবেন না। সদ্য নিজের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকও করেছেন ডেলসি। এখনও পর্যন্ত আমেরিকার কাছে নতিস্বীকারের কোনও ইঙ্গিত তাঁর বক্তব্যে নেই। অপহরণের সিদ্ধান্তের পক্ষেও সাফাই দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় এখন পুনর্গঠনের সময় চলছে, সরকার বদল হচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি আগের থেকে ভাল এবং এর থেকে খারাপ কিছু আর হতে পারে না।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
বিদেশ

মাদক, তেল না কি রাজনীতি? মাদুরো আটক ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড়

এক সময় বাস চালাতেন। সেখান থেকেই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের শুরু। ধাপে ধাপে ক্ষমতার শিখরে উঠে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন নিকোলাস মাদুরো। সেই মাদুরোকেই শনিবার আটক করেছে মার্কিন সেনা। তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি। এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। কিন্তু কী ভাবে বাসচালক থেকে রাষ্ট্রপতি হলেন মাদুরো? আর কেনই বা তাঁর উপর এতটাই ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে জন্ম নেন নিকোলাস মাদুরো। তাঁর বাবা ছিলেন একজন শ্রমিক নেতা। স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় মাদুরোর। ছাত্র সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ১৯৮৬ সালে আদর্শগত শিক্ষা নিতে তিনি কিউবায় যান। কয়েক বছর সেখানে কাটানোর পর দেশে ফেরেন। সেই সময় থেকেই কিউবান সরকারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।ভেনেজুয়েলায় ফিরে এসে মাদুরো কাজ শুরু করেন কারাকাসের মেট্রো ব্যবস্থায় বাসচালক হিসেবে। সেখানেই শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে ইউনিয়ন নেতা হয়ে ওঠেন। নব্বইয়ের দশকে ভেনেজুয়েলার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাঁকে বামপন্থী কট্টর নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে।১৯৯২ সালে সেনা অফিসার হুগো চাভেজ সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটাতে গিয়ে ব্যর্থ হন এবং জেলে যান। ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পান চাভেজ। এরপর রাজনীতিতে ফিরে এসে তিনি একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেই আন্দোলনেই যোগ দেন মাদুরো। বাসচালকের চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অল্প সময়েই হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে ওঠেন মাদুরো।১৯৯৯ সালে চাভেজ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন। তাঁর সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন মাদুরো। ২০০৬ সালে তিনি বিদেশমন্ত্রী নিযুক্ত হন। সেই সময় তাঁকে চাভেজের ডান হাত হিসেবেই দেখা হত। ২০১৩ সালে চাভেজের মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন নিকোলাস মাদুরো।কিন্তু মাদুরোর শাসনকালেই দেশ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। মুদ্রাস্ফীতি আকাশছোঁয়া হয়। খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়। দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। লক্ষ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়ে। প্রায় ৭৭ লক্ষ ভেনেজুয়েলাবাসী দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয় মাদুরো সরকার।অভিযোগ ওঠে, সরকারের সমালোচনা করলেই মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিরোধীদের জেলে ভরা হচ্ছে এবং বন্দিদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দেশের ভিতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মাদুরো। আন্তর্জাতিক মহল ভেনেজুয়েলার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপায়।২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন। তখন থেকেই মাদুরোর সঙ্গে তাঁর সংঘাত শুরু। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার উপর কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আমেরিকার অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন মাদুরো। পাশাপাশি, মাদক পাচার চক্র চালানো এবং অবৈধ অভিবাসন বাড়ানোর অভিযোগও তোলে ট্রাম্প সরকার। ট্রাম্পের দাবি, মাদুরো ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন।আমেরিকার বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই মাদুরো সরকারের পতন জরুরি হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একাধিক নৌযানে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। আমেরিকার দাবি, ওই নৌযানগুলি মাদক পাচারে যুক্ত ছিল। যদিও মাদুরো সরকারের দাবি, ওই হামলায় বহু নিরীহ মৎস্যজীবীর প্রাণ গিয়েছে।এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করে মার্কিন নৌবাহিনী। মাদুরোর অভিযোগ, আসলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের উপর নজর রয়েছে আমেরিকার। শেষ পর্যন্ত মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসের মামলা দায়ের করে তাঁকে নিউ ইয়র্কে আটক করা হয়েছে। সেখানেই ফেডারাল আদালতে তাঁর বিচার হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
বিদেশ

অন্য দেশের প্রেসিডেন্ট বন্দি আমেরিকায়! আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার অভিযোগ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স তুলে নিয়ে যাওয়ার পর রবিবার নিউ ইয়র্কের একটি জেলে আটক রাখা হয়েছে। শনিবার ভেনেজুয়েলায় এই অভিযান চালানো হয়। নতুন বছরের শুরুতে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বামমনস্ক রাজনীতিক জোহরান মামদানি। তাঁর শহরের জেলেই মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কের দক্ষিণ অংশের একটি জেলে মাদুরো দম্পতিকে বন্দি রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, মাদুরোর সরকার আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত। সেই কারণে মাদক-সন্ত্রাস, অস্ত্র পাচার-সহ একাধিক ধারায় মাদুরো, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে মোট ছজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে অবৈধ শাসক বলে আখ্যা দিলেও আপাতত এই মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তারির কথা জানানো হয়েছে। তবে অন্য দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে দাবি করছে।এদিকে ভেনেজুয়েলায় জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার মধ্যরাতে হামলার পরেও মার্কিন সেনা পুরোপুরি দেশ ছাড়েনি। মাঝে মাঝেই ভেনেজুয়েলার আকাশে মার্কিন সামরিক বিমান উড়তে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে আরও বড় কোনও সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। কলোম্বিয়ার অনুরোধে এই বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য চিন এবং স্থায়ী সদস্য রাশিয়াও এই বৈঠকের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
বিদেশ

১৯৮৯-এর পানামার পর ফের ইতিহাস! ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান

শনিবার ভেনেজুয়েলায় বড়সড় সামরিক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের কথা স্বীকার করে জানান, এটি ছিল ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক আক্রমণ। তাঁর দাবি, এই অভিযান মার্কিন আইনরক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই চালানো হয়েছে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর উপর চাপ বাড়াচ্ছিল ওয়াশিংটন। আমেরিকার অভিযোগ, মাদুরো সরকার মাদক পাচার চক্র এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যার ফলে সেই অপরাধ আমেরিকার মাটিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।এই হামলাকে লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার প্রথম সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, ১৯৮৯ সালের পর। ওই বছর পানামায় সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল আমেরিকা। সেই অভিযান এখনও মার্কিন সামরিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ অপারেশন জাস্ট কজ নামে পানামায় সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই অভিযানে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছিল। সরকারি হিসেবে, সেই অভিযানে ৫১৪ জন পানামার সেনা ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, মৃতের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি ছিল। আমেরিকারও ২৩ জন সেনা প্রাণ হারান।সেই সময় পানামার শাসক নরিয়েগা আশ্রয় নিয়েছিলেন ভ্যাটিকানের দূতাবাসে। তাঁকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে দূতাবাসের বাইরে জোরে জোরে রক গান বাজিয়েছিল মার্কিন সেনা। এই অভিনব কৌশল বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত ১১ দিন পর নরিয়েগা আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে মাদক পাচারসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে কি না, তা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা নিয়ে আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপ লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

৯/১১-এর পর সবচেয়ে বড় হামলার ছক? উত্তর ক্যারোলিনায় আইএসের পরিকল্পনা ফাঁস

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ধৃত যুবক ক্রিস্টিয়ান স্টারডিভ্যান্টের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। বর্ষবরণের রাতে উত্তর ক্যারোলিনার একটি খাবারের দোকান এবং জনবহুল এলাকায় ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল সে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, পুলিশকর্মীদের উপরও হামলা চালানোর ছক ছিল অভিযুক্তের। এই গোটা ষড়যন্ত্রই ইসলামিক স্টেটের মদতে তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফবিআই।শেষ মুহূর্তে এই ভয়ংকর নাশকতা বানচাল করে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এই ঘটনায় একটি বিবৃতি জারি করেছে তারা। এফবিআই প্রধান, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কাশ প্যাটেল জানান, বর্ষবরণের রাতে একটি সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা রোখা গিয়েছে এবং এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিল ইসলামিক স্টেট।এফবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিস্টিয়ান নাবালক থাকাকালীন থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিল। সামাজিক মাধ্যমে একাধিকবার ইসলামিক স্টেটের প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেই সূত্রেই ইউরোপের একাধিক আইএস হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে তার। তাদের প্ররোচনাতেই আমেরিকায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল সে।তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে একাধিক ধারাল অস্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে হাতে লেখা একটি নোট, যেখানে স্পষ্ট ভাবে লেখা ছিল, নতুন বছরে হামলা ২০২৬। এই তথ্য সামনে আসার পর আরও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।৯/১১-এর পর আমেরিকাকে ফের রক্তাক্ত করার ছক কষেছিল ইসলামিক স্টেট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভয়ংকর পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ক্রিস্টিয়ান স্টারডিভ্যান্টকে এবং তদন্ত এখনও চলছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

মাদুরো কি আমেরিকার হাতে বন্দি? ওয়াশিংটনের কাছে প্রমাণ চাইল ভেনেজুয়েলা

আশঙ্কাই সত্যি হল। শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবি এখনও পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করেনি।ভেনেজুয়েলার এক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ জানিয়েছেন, মাদুরোকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনও তথ্য নেই। তিনি স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনের কাছে মাদুরো জীবিত আছেন কি না, তার প্রমাণ চেয়েছেন। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি।তবে মার্কিন সেনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, এই বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। নিজের এক্স হ্যান্ডলে মাইক লি লেখেন, রুবিও তাঁকে জানিয়েছেন যে আমেরিকায় মাদুরোর বিরুদ্ধে চলা একাধিক ফৌজদারি মামলার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে বন্দি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপছন্দের তালিকায় রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন নয়। সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান এলাকায় বিপুল পরিমাণ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়। তার পরই মাদুরো অভিযোগ করেন, আমেরিকা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করেছে এবং জোর করে দেশের শাসনব্যবস্থা বদলাতে চাইছে।গত মাসে ভেনেজুয়েলা ও সংলগ্ন এলাকার আকাশসীমা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয় সেখানে।সম্প্রতি চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় হোয়াইট হাউসের অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে ভেনেজুয়েলার এক বন্দরে মার্কিন হামলার দাবি করে সিএনএন। অভিযোগ ছিল, ওই বন্দর ব্যবহার করে মাদক পাচার করা হচ্ছিল। সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

কারাকাসে রাতভর বিস্ফোরণ, শুরু কি আমেরিকার সরাসরি হামলা?

মাথার উপর দিয়ে একের পর এক বিমান উড়ছে, লাগাতার বিস্ফোরণের শব্দ। শনিবার ৩ জানুয়ারি ভোর থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভেনেজুয়েলার উপর সরাসরি মার্কিন হামলা শুরু হয়ে গেল?সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ২টো নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা কারাকাস। ভেনেজুয়েলার প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট টিউনা এবং লা কার্লোটা এলাকায় সামরিক বিমান উড়তে দেখা গিয়েছে। রাজধানীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।চোখে দেখা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশে বারবার মার্কিন সেনার অ্যাপাচে ও চিনুক হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গিয়েছে। মিরান্ডা এলাকার বিমানবন্দরেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, সারফেস টু এয়ার মিসাইল ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত মার্কিন সরকার বা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করেননি।অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার সেনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের উপর হামলা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং গোটা শহর অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও প্রেসিডেন্ট ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নির্দেশে সেনা পাল্টা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে প্রশাসন। মার্কিন আগ্রাসনের ফলে বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। মাদুরো সরকার দাবি করেছে, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের দখল নিতেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।এর আগেও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই অভিযোগে অতীতে মাদক বোঝাই জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে রাজধানী কারাকাসে এই ধরনের ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

বর্ষবরণের রাতে বিভীষিকা, আগুনে ঝলসে মৃত্যু হিন্দু ব্যবসায়ীর

মাথায় পেট্রোল ঢেলে তাঁকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াই। টানা তিন দিন সেই লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত হার মানলেন খোকন চন্দ্র দাস। তিনি বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা এলাকার বাসিন্দা। বর্ষবরণের রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় খোকনের। তাঁর এক আত্মীয় প্রান্ত দাস জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁরা শাহবাগ থানায় যাচ্ছেন। ময়নাতদন্তের কাজ শেষ হলে দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার জানান, খোকনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এই সময়ের মধ্যেই খোকন তাঁর উপর হামলা চালানো কয়েক জনের নাম পুলিশকে বলে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।পুলিশি সূত্রে খবর, খোকন দুই অভিযুক্তের নাম বলেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান এবং অন্য জন রাব্বি মোল্লা। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ২১ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পলাশ সরদার নামে আরও এক জনের নাম উঠে এসেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যায়নি।ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। খোকন চন্দ্র দাস পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। কেউরভাঙা বাজারে তাঁর একটি ওষুধের দোকান এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবসা ছিল। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের মতো অটো রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। সেই সময় ডামুড্যা-শরিয়তপুর সড়কে কেউরভাঙা বাজারের কাছে তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।অভিযুক্তদের চিনে ফেলায় খোকনের মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা সেই চিৎকার শুনে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল তাঁর।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

শেষ নিঃশ্বাস ঢাকার হাসপাতালে, প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছিল। দিন তিনেক আগেও তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। শেষ পর্যন্ত জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হার মানলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।বড়দিনের দিনই মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। দেশে ফিরে অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। তখনও চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়েছিল, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল। তবে সেই সময় আশার কথা শোনাতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান। শেষ পর্যন্ত সেই আশা আর বাস্তব হল না।বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ দল ও পরিবারের একাধিক সদস্য। নির্বাচনের মুখে এই সময় খালেদা জিয়ার মৃত্যু বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় জমতে শুরু করে।উল্লেখ্য, ২০২১ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তার পর থেকেই তাঁর শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করে। একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাঁকে। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছিল। বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা ও নানা শারীরিক জটিলতা মিলিয়ে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশের এই প্রবীণ নেত্রী। গত নভেম্বর মাসে ফের অসুস্থ হলে তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
বিদেশ

প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান

দীর্ঘ রোগভোগের পর অবশেষে জীবনযুদ্ধে হার মানলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিগত কয়েক দিন ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সঙ্কটজনক।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে ফুসফুসে সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া। বয়সজনিত জটিলতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কিডনির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছিল। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শেষপর্যন্ত তাঁকে সিসিইউ-তে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।সোমবারই খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল বোর্ড জানিয়েছিল, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। একাধিক রোগে আক্রান্ত শরীরে একটি চিকিৎসা শুরু করলে অন্য সমস্যার অবনতি হচ্ছিলফলে চিকিৎসকেরা কার্যত কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছিলেন। সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান মাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এর আগে তিনি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে মায়ের আরোগ্যকামনায় প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছিলেন।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসাবেই প্রথমে পরিচিত হলেও, স্বামীর মৃত্যুর পর নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির হাল ধরে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে আরও এক দফা, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।নারীশিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর সরকারের কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও, শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগও উঠে আসে। ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতি মামলায় তাঁর ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়। সেই সময় থেকেই একের পর এক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হলেও, শেষপর্যায়ে ফের বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে বাস্তবায়িত করা যায়নি।একদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা, অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া, এই দুই নেত্রীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে দীর্ঘদিন আবর্তিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে সেই অধ্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের অবসান ঘটল।দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনেরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
বিদেশ

জামাতের সঙ্গে হাত মেলাতেই ভাঙনের শুরু, এনসিপিতে একের পর এক পদত্যাগ

রবিবার প্রকাশ্যেই জামাতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের ঘোষণা করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। কিন্তু সেই ঘোষণার পরদিনই দলটির অন্দরে শুরু হয়ে গেল প্রবল অশান্তি। জামাতের সঙ্গে জোট মানতে না পেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি, জামাতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে প্রায় ৩০ জন নেতা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।রবিবার জামাতের আমির শফিকুর রহমান জানান, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপি এবং কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি জামাতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে। পরে এনসিপির তরফ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই ঘোষণার পরেই দলের ভিতরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে এবং একের পর এক নেতা পদত্যাগ করেন।যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এই পদত্যাগে এনসিপির উপর বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে নাহিদ ইসলাম বলেন, জামাতের সঙ্গে জোট নিয়ে দল অনড় অবস্থানেই রয়েছে। তাঁর দাবি, দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা এই জোটকে সমর্থন করছেন।এদিকে পদত্যাগ করা নেতাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতা দলের আদর্শ ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই কারণেই তারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথমে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মির আরশাদুল হক। এরপর ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনুভা জাবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং ফেনি-৩ আসনের প্রার্থী আবুল কাশেম দল ছাড়েন। যদিও তাসনিম জারা জানিয়েছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।এনসিপির প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবিন ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, জামাতের সঙ্গে জোট কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ধাপে ধাপে সাজানো একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যেই নতুন দল গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মাহফুজ আলম। ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এনসিপি-জামাত জোটের সঙ্গে তিনি থাকবেন না। পাশাপাশি বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।প্রসঙ্গত, কয়েক মাস ধরেই নাহিদ ইসলাম দাবি করে আসছিলেন যে এনসিপি এককভাবে নির্বাচন লড়বে। সেই অনুযায়ী প্রথমে ১২৫টি আসনে প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠনের কথা জানানো হয় এবং জামাতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এনসিপি জামাতের কাছে ৫০টি আসন দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত ৩০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি জামাত। এই পরিস্থিতিতে দলের বহু ছাত্রনেতার মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়। জোট ঘোষণার পর সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
বিদেশ

ফের ভারতকে নিশানা! শাহবাগ থেকে ২৪ দিনের আল্টিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের

আবার ভারতকে লক্ষ্য করে কড়া সুরে সরব হল বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চ। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ওসমান হাদির স্বপ্ন পূরণ করতেই তারা এই পথে নেমেছে বলে দাবি সংগঠনের। রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঢাকার শাহবাগ মোড়ে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি থেকে একাধিক দাবি ঘোষণা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাব। সেই সঙ্গে এই দাবিগুলি পূরণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান দাবি, হাদির হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেককে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আবদুল্লাহ আল জাবের বক্তব্য, যারা হাদিকে খুন করেছে, যারা এই হত্যার পরিকল্পনা করেছে কিংবা যারা সহায়তা করেছে, তাদের সকলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।এই দাবির পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে ভারতবিরোধী অবস্থান। ঢাকার বুকে নিহত ওসমান হাদি তাঁর বক্তব্যে যেভাবে বারবার ভারতবিরোধিতা তুলে ধরতেন, ঠিক সেই সুরই শোনা গিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের দাবির মধ্যেও। সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে দেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিল করতে হবে।তৃতীয় দাবিতে আরও একধাপ এগিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লিগের যেসব নেতা-কর্মী বর্তমানে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের যদি ফেরত না দেওয়া হয়, তা হলে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে।চতুর্থ দাবিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে থাকা হাসিনা-পন্থীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে সংগঠনটি। এই চার দফা দাবি পূরণের জন্য ইউনূস সরকারকে মোট ২৪ দিনের সময় দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।উল্লেখ্য, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে গত শুক্রবার দুপুর থেকেই শাহবাগ মোড়ে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার রাতে আবদুল্লাহ আল জাব এই আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক দেন। সেই আহ্বানের জেরে সোমবার দুপুর দুটো থেকে শাহবাগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
বিদেশ

হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড়, সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয়ে আশ্রয় অভিযুক্তদের

হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় তথ্য সামনে আনল ঢাকা মহানগর পুলিশ। রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠকে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এন এন মহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এই মামলার মূল দুই অভিযুক্ত ফয়জ়ল করিম ওরফে দাউদ এবং আলমগীর শেখ বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে তারা মেঘালয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে।ঢাকা পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পালানোর পুরো ঘটনায় আরও দুই জন সহযোগিতা করেছিল। তাদের নাম পুত্তি এবং সামী। এই দুজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতে ঢোকার পর পুত্তি প্রথমে ফয়জ়ল ও আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর সামী নামে আর এক সহযোগীর ট্যাক্সিতে ওঠে তারা। সেই ট্যাক্সিতেই তারা মেঘালয়ের তুরা পৌঁছয়।প্রশ্ন উঠছে, হাদি হত্যার পর সারা বাংলাদেশে হাই অ্যালার্ট জারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পুলিশের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে গেল অভিযুক্তরা। এই প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম জানান, একাধিক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে হত্যার পরেই ফয়জ়ল ও আলমগীর প্রথমে আমিনবাজারে যায়। সেখান থেকে তারা মানিকগঞ্জের কালামপুরে পৌঁছয়। সেখানে আগে থেকেই একটি ট্যাক্সি তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই গাড়িতেই তারা হালুয়াঘাট সীমান্তের দিকে রওনা দেয়।পুলিশের দাবি, সীমান্তের কাছে ফয়জ়ল ও আলমগীরের সঙ্গে পরিচয় হয় ফিলিপ ও সঞ্জয়ের। তারাই দুই অভিযুক্তকে ভারতে অনুপ্রবেশ করতে সাহায্য করে। এরপর তারা মেঘালয়ের দিকে চলে যায়।এই হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা পুলিশ। তাদের মধ্যে ছজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মূল দুই অভিযুক্ত এখন ঠিক কোথায় রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এদিকে, ভারতের মাটিতে হাদি হত্যার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ঢাকা পুলিশ। মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে বলে দাবি। যদিও ফয়জ়ল ও আলমগীর এখনও পলাতক। পুলিশের অনুমান, মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের কোথাও তারা লুকিয়ে রয়েছে।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
বিদেশ

চীনে ইতিহাস! ৭০০ কিমি/ঘন্টা গতিতে ছুটল সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগলেভ ট্রেন

চীন বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তাদের নতুন সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগলেভ ট্রেন পরীক্ষার মাধ্যমে। মাত্র দুই সেকেন্ডে ট্রেনটি ৭০০ কিমি/ঘন্টা গতিতে পৌঁছায়, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের দ্রুততম ম্যাগলেভ ট্রেন।জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৪০০ মিটার দীর্ঘ ট্র্যাকে পরীক্ষাটি চালান। এক টন ওজনের এই ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ছুটে পৌঁছায় রেকর্ড গতিতে, তারপর নিরাপদে থামানো হয়। পরীক্ষার ভিডিওতে ট্রেনটি যেন রূপালি আলোয় এক ঝলক দেখায়, চোখে ধরা প্রায় অসম্ভব, যা দেখলে মনে হয় কোনো বিজ্ঞান কল্পকাহিনী হচ্ছে।ট্রেনটি ট্র্যাকের উপরে ভাসে সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকের সাহায্যে, ফলে রেলরেলের সঙ্গে কোনো সংস্পর্শ নেই এবং ঘর্ষণহীন গতিতে চলে। পরীক্ষায় ব্যবহৃত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিস্টেম এতটাই শক্তিশালী যে গবেষকরা বলছেন, এটি তাত্ত্বিকভাবে রকেট উৎক্ষেপণেও ব্যবহার করা যেতে পারে।এমন উচ্চ গতিতে, দূরবর্তী শহরের মধ্যে যাত্রার সময় কয়েক মিনিটে সীমিত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে হাইপারলুপ বা ভ্যাকুয়াম টিউব ট্রান্সপোর্টের মতো আধুনিক প্রযুক্তির জন্যও এটি নতুন দিশা দেখাচ্ছে।দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্টের খবর অনুযায়ী, এই সিস্টেম অনেক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জকে কাটিয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ গতির ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্রপালশন, সঠিক সাসপেনশন ও গাইডেন্স, শক্তিশালী পাওয়ার স্টোরেজ এবং উচ্চ-ফিল্ড সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বক ব্যবহারের মতো বিষয়। অধ্যাপক লি জি বলেন, সফল পরীক্ষার ফলে চীনের উচ্চগতির ম্যাগলেভ গবেষণা অনেক দ্রুত এগোবে।গবেষণা দল প্রায় দশ বছর ধরে এই প্রকল্পে কাজ করছে। এর আগে, এই একই ট্র্যাকে জানুয়ারিতে ৬৪৮ কিমি/ঘন্টা গতি অর্জন করা হয়। প্রায় ৩০ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় চীনের প্রথম মানুষ বহনকারী একক বগির ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরি করেছিল, যার ফলে চীন বিশ্বে তৃতীয় দেশ হিসেবে ম্যাগলেভ প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করে।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
বিদেশ

ঢাকার কেরানিগঞ্জে মাদ্রাসা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নারী-শিশুসহ চারজন আহত

ঢাকার কেরানিগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে শুক্রবার দুপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে নারী ও শিশু-সহ চারজন আহত হন। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের কয়েকটি কক্ষের দেয়াল উড়ে যায়। দুই কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের ভবনের দেয়াল ও জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মাদ্রাসায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় কোনও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না, ফলে প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো গেছে।বিস্ফোরণে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লা (৭) আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বিস্ফোরণে তাদের ভবনের কিছু অংশ ফেটে গেছে এবং ঘরের আসবাবপত্রও ভেঙে পড়েছে। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি গাড়ি গ্যারেজে রাখার সময় ইটের আঘাতে অজ্ঞান হয়ে যান।ভবনের মালিক পারভীন বেগম জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে মাদ্রাসাটি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতেন মুফতি হারুন। তিনি মাঝে মাঝে মাদ্রাসায় আসতেন, কিন্তু ভবনের আড়ালে কী ঘটছিল, তা বুঝতে পারেননি। পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম জানিয়েছেন, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ক্রাইম সিন ইউনিট ও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট তদন্ত চালাচ্ছে।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
বিদেশ

রকস্টার জেমসের শোয়ে তাণ্ডব, স্কুলের অনুষ্ঠানে আচমকা হামলায় আহত বহু

শুধু ভারতীয় শিল্পী নয়, এ বার বাংলাদেশি শিল্পীরাও হামলার মুখে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় রকস্টার জেমসের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার ফরিদপুর জেলার এক স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন জেমস ও তাঁর ব্যান্ড। সেই অনুষ্ঠান চলাকালীনই আচমকা হামলা চালায় একদল লোক।আয়োজকদের দাবি, কয়েকজন বহিরাগত জোর করে স্কুল চত্বরে ঢুকে অনুষ্ঠান দেখার চেষ্টা করছিল। বাধা দেওয়া হলে তারা ইট ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। এর পর হামলাকারীরা মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে জেমসের স্টেজ দখল করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।ইট-পাথরের হামলার মধ্যে কোনও রকমে রক্ষা পান জেমস। তবে ঘটনায় অন্তত ১৫ জন পড়ুয়া আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহতরা সবাই অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিল। হামলার পর পড়ুয়াদের বিক্ষোভ শুরু হলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসনের তরফে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়। যদিও গায়ক জেমস আহত হননি বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার জেমসের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
বিদেশ

বোমা বিষ্ফোরণে কেঁপে উঠলো ঢাকা, মৃত্যু এক, অপরাধ-হিংসা বেড়েই চলেছে বাংলাদেশে

ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর থেকে বাংলাদেশ উত্তপ্ত। তারপর ময়মনসিংহের দীপুচন্দ্র দাসকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করেছে জেহাদীরা। চট্টগ্রামে হিন্দু বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। অতপর আজ, বুধবার ঢাকায় নিউ ইস্কাটনে ককটেল বোমা নিক্ষেপ করেছে দুষ্কৃতীরা। সেই বোমায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। ইউনূস সরকারের আমলে একের পর এক অপরাধ ঘটেই চলেছে। বড়সড় প্রশ্নের মুখে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্ব।প্রথম আলো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেলের বিস্ফোরণে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এটাকে বোমার বিস্ফোরণ বলেছিল।এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউ ইস্কাটনের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ফটকের সামনে শক্তিশালী ককটেলের বিস্ফোরণ হয়। এ সময় ওই যুবক গুরুতর আহত হন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।পুলিশের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, নিহত ব্যক্তির নাম সিয়াম বলে জানা গেছে। তিনি সেখানে চা খেতে এসেছিলেন। ওপর থেকে ককটেল এসে তাঁর মাথার ওপর পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।এদিকে নির্বাচনে লড়াই করার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি। খালেদাপুত্র তারেক রহমানের আগামী কাল বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষ্যে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে সরকার। পাশাপাশি তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিএনপি নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তিনি বাংলাদেশে ফিরছেন।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫
বিদেশ

ঢাকায় ছাত্রনেতা ওসমান হাদী হত্যা, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের একাংশের বিরুদ্ধে

ঢাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশি ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পরই ওসমান হাদীর পরিবার সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশের বিরুদ্ধে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে এই হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলেছে।২০২৪ সালের জুলাই মাসের বিদ্রোহের পর গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চএর মুখপাত্র ছিলেন শরীফ ওসমান হাদী। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বিমানে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এই মৃত্যুর পর ঢাকায় সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। একাধিক জায়গায় জনতা বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিস লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।ওসমান হাদীর ভাই শরীফ ওমর হাদী ঢাকার শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, আপনারাই ওসমান হাদীকে হত্যা করেছেন, আর এখন সেই হত্যাকাণ্ডকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন।ওমর হাদী জানান, তার ভাই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন চেয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নয় বরং একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন। তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, খুনিদের শাস্তি না হলে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হবে। সরকার এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ন্যায়বিচার না হয়, তবে বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরও একদিন দেশ ছাড়তে হতে পারে। যেমনটি গত বছর গণবিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে ঘটেছিল। ওমর অভিযোগ করেন, কোনও সংস্থা বা বিদেশি প্রভুদের কাছে মাথা নত না করায় ওসমান হাদীকে হত্যা করা হয়েছে।দ্য ডেইলি স্টারএর প্রতিবেদনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড জুলাইয়ের বিদ্রোহের অর্জন ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের উদ্দেশ্যে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা শক্তি ও দেশের ভেতরের ফ্যাসিবাদী সহযোগীরা এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত।বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন তারা কোনও কর্মসূচি নেবেন না। একইসঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তারেক রহমান তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাবেন।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫
বিদেশ

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে হামলার পরও অকুতোভয় কর্তৃপক্ষ, সন্ত্রাসের নিন্দার ঝড় বিশ্বের সর্বত্র

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল ঢাকায় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দেশের দুটি প্রথম সারির সংবাদপত্রের দফতরে এই হামলার অভিযোগ সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে সাংবাদিক মহল, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে নিন্দার ঝড় বয়েছে অন্যত্র।ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে আসার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। পরবর্তীতে হিংসা ছড়িয়ে পরে নানা জায়গায়। নৃশংস ভাবে হিন্দু যুবক খুন থেকে সংস্কৃতি সংগঠনের ওপর হামাল। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ক্রমাগত হামলা চলতে থাকে।প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকায় অবস্থিত প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। তারা অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। আগুন লাগিয়ে দেয় এই অফিসদুটিতে। যদিও এই ঘটনায় বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতির খবর নেই, তবে আচমকা হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য সংবাদকর্ম ব্যাহত হয়। সংবাদপত্র প্রকাশনা বন্ধ রাখতে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অনলাইন পোর্টালেও আর খবর আপলোড করা যায়নি।হামলার ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সম্পাদকীয় মহল একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি, আর সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা গভীর উদ্বেগজনক। এই দুই সংবাদপত্র গোষ্ঠীও জানিয়ে দেয় তারা ভয় পায় না। খবর প্রকাশ করতে কোনও পরোয় তারা করবে না। এমনকী দফতরের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে।ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।এই ঘটনার পর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হুমকি বা হামলার মাধ্যমে সত্য প্রকাশ থামানো যাবে না। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসনের কাছে।আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলার ঘটনা শুধু দুটি সংবাদপত্রের ওপর আঘাত নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিল। এখন দেখার, প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
বিদেশ

আইএমএফের চাপে লাগামছাড়া জিএসটি! পাকিস্তানে জনবিস্ফোরণের আশঙ্কা

কন্ডোমের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি নিয়ে চরম উদ্বেগে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর নির্দেশে এই কর বসানো হয়েছে। এর ফলে কন্ডোমের দাম এতটাই বেড়েছে যে তা এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আইএমএফ-এর কাছে কর কমানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আইএমএফ। এই সিদ্ধান্তে দেশে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের আশঙ্কা করছে পাক সরকার।আইএমএফ-এর ঋণের উপরই কার্যত নির্ভরশীল পাকিস্তানের অর্থনীতি। দেশের আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি বছরে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছে ইসলামাবাদ। সেই ঋণের শর্ত হিসেবেই কর আদায় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে আইএমএফ। তার জেরেই কন্ডোম, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিশুদের ডাইপারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি বসানো হয়েছে।পাকিস্তান সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, জনস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কথা ভেবে অন্তত কন্ডোমের উপর থেকে কর কমানো হোক। কিন্তু আইএমএফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের মাঝপথে কর কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন করা যাবে না। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে। আইএমএফের যুক্তি, কন্ডোমের উপর থেকে কর তুলে নিলে সরকারের কয়েকশো কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে, যা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগে রয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার। পাকিস্তানে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ২.৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ বাড়ছে। সরকার মনে করছে, কন্ডোমের দাম বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ তা ব্যবহার করতে পারছেন না। এর ফলে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের উপর আরও চাপ ফেলবে।পাক সরকারের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। কিন্তু আইএমএফ-এর কড়া অবস্থানের সামনে আপাতত অসহায় ইসলামাবাদ। এখন পরের বাজেটের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া শাহবাজ সরকারের হাতে আর কোনও পথ খোলা নেই।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ...
  • 14
  • 15
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

মাদক, তেল না কি রাজনীতি? মাদুরো আটক ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে ঝড়

এক সময় বাস চালাতেন। সেখান থেকেই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের শুরু। ধাপে ধাপে ক্ষমতার শিখরে উঠে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন নিকোলাস মাদুরো। সেই মাদুরোকেই শনিবার আটক করেছে মার্কিন সেনা। তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি। এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। কিন্তু কী ভাবে বাসচালক থেকে রাষ্ট্রপতি হলেন মাদুরো? আর কেনই বা তাঁর উপর এতটাই ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে জন্ম নেন নিকোলাস মাদুরো। তাঁর বাবা ছিলেন একজন শ্রমিক নেতা। স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় মাদুরোর। ছাত্র সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমেই তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ১৯৮৬ সালে আদর্শগত শিক্ষা নিতে তিনি কিউবায় যান। কয়েক বছর সেখানে কাটানোর পর দেশে ফেরেন। সেই সময় থেকেই কিউবান সরকারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।ভেনেজুয়েলায় ফিরে এসে মাদুরো কাজ শুরু করেন কারাকাসের মেট্রো ব্যবস্থায় বাসচালক হিসেবে। সেখানেই শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে ইউনিয়ন নেতা হয়ে ওঠেন। নব্বইয়ের দশকে ভেনেজুয়েলার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাঁকে বামপন্থী কট্টর নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে।১৯৯২ সালে সেনা অফিসার হুগো চাভেজ সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটাতে গিয়ে ব্যর্থ হন এবং জেলে যান। ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পান চাভেজ। এরপর রাজনীতিতে ফিরে এসে তিনি একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেই আন্দোলনেই যোগ দেন মাদুরো। বাসচালকের চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অল্প সময়েই হুগো চাভেজের ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে ওঠেন মাদুরো।১৯৯৯ সালে চাভেজ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন। তাঁর সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন মাদুরো। ২০০৬ সালে তিনি বিদেশমন্ত্রী নিযুক্ত হন। সেই সময় তাঁকে চাভেজের ডান হাত হিসেবেই দেখা হত। ২০১৩ সালে চাভেজের মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন নিকোলাস মাদুরো।কিন্তু মাদুরোর শাসনকালেই দেশ ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। মুদ্রাস্ফীতি আকাশছোঁয়া হয়। খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়। দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। লক্ষ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়ে। প্রায় ৭৭ লক্ষ ভেনেজুয়েলাবাসী দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয় মাদুরো সরকার।অভিযোগ ওঠে, সরকারের সমালোচনা করলেই মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিরোধীদের জেলে ভরা হচ্ছে এবং বন্দিদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দেশের ভিতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মাদুরো। আন্তর্জাতিক মহল ভেনেজুয়েলার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপায়।২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন। তখন থেকেই মাদুরোর সঙ্গে তাঁর সংঘাত শুরু। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার উপর কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আমেরিকার অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন মাদুরো। পাশাপাশি, মাদক পাচার চক্র চালানো এবং অবৈধ অভিবাসন বাড়ানোর অভিযোগও তোলে ট্রাম্প সরকার। ট্রাম্পের দাবি, মাদুরো ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন।আমেরিকার বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই মাদুরো সরকারের পতন জরুরি হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একাধিক নৌযানে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। আমেরিকার দাবি, ওই নৌযানগুলি মাদক পাচারে যুক্ত ছিল। যদিও মাদুরো সরকারের দাবি, ওই হামলায় বহু নিরীহ মৎস্যজীবীর প্রাণ গিয়েছে।এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করে মার্কিন নৌবাহিনী। মাদুরোর অভিযোগ, আসলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের উপর নজর রয়েছে আমেরিকার। শেষ পর্যন্ত মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসের মামলা দায়ের করে তাঁকে নিউ ইয়র্কে আটক করা হয়েছে। সেখানেই ফেডারাল আদালতে তাঁর বিচার হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ডোমিসাইল বাতিলের অভিযোগ! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় সংঘাত রাজ্য-কমিশনের

ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বাতিল করা হচ্ছে এই অভিযোগে চরম হয়রানির মুখে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। রাজ্য সরকারের দাবি, অনানুষ্ঠানিক ভাবে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আর ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত নির্দেশ বা আইনি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। রাজ্যের আপত্তি না মানা হলে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগেও গত নভেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। সেই চিঠিতে এসআইআর-এর প্রথম ধাপে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং বাংলা সহায়ক কেন্দ্রের কর্মীদের ব্যবহার না করার কমিশনের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।রাজ্যের অভিযোগ, কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদেরও শুনানির জন্য সশরীরে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁরা ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক চরম অসুবিধা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়ায় ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় কলকাতা পুরসভায় এই শংসাপত্রের জন্য আবেদন হঠাৎ বেড়ে যায়। পুরসভার সদর দফতর ও বিভিন্ন বরো অফিসে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়ে প্রতিদিন অন্তত ৮০টি করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন জমা পড়ছে। সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দফতর থেকে কলকাতার সমস্ত কাউন্সিলরের কাছে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকাও পাঠানো হয়।এই প্রক্রিয়া ঘিরে বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের কালনায় অভিযোগ ওঠে, পৌরসভার একটি ওয়ার্ডের ৩২ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হলেও তাঁদের কাছে থাকা পুরনো বাড়ির দলিল মানা হয়নি। নতুন করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট চাওয়া হয়। অথচ সেই শংসাপত্রই এখন বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, শুনানির কারণ না জানিয়েই ভোটারদের ডাকা হচ্ছে। প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিক ভাবে অক্ষম মানুষকেও ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকী ভিন রাজ্যে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদেরও ব্যক্তিগত ভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বানান বা বয়স সংক্রান্ত সামান্য ভুলের জন্যও নতুন করে নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা কার্যত অসম্ভব। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত তালিকা উপেক্ষা করে অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের নির্ধারিত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ। এই ত্রুটিগুলি অবিলম্বে সংশোধন না হলে সম্পূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
রাজ্য

অমিত শাহের বৈঠকের পরেই কি চুপ দিলীপ? জল্পনা তুঙ্গে

খড়গপুরে চা-চক্রে বসে সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ আর সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্যামেরায় কথা বলবেন না। প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন দিলীপ, তা নিয়েই ঘোরাফেরা করছে প্রশ্ন ।বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। তার পরদিনই রাম মন্দির প্রসঙ্গে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। বৃহস্পতিবার দিলীপ বলেন, মন্দির-মসজিদ ইস্যু ভোটের ফলাফলে তেমন প্রভাব ফেলে না। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি অযোধ্যার রাম মন্দির এবং বাংলার মন্দির প্রসঙ্গ টানেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফৈজাবাদ আসনে বিজেপির হার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় মন্দির তৈরি করলেই যে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত, এমন ভাবা ভুল।এই মন্তব্যের পরেই অস্বস্তিতে পড়ে রাজ্য বিজেপি। দলীয় সূত্রের দাবি, দিলীপের বক্তব্যে শীর্ষ নেতৃত্ব খুশি হয়নি। শুক্রবারই তাঁকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। সূত্রের খবর, অমিত শাহের তরফে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছেও বার্তা যায় নেতাদের যেন অহেতুক মন্তব্য না করতে বলা হয়। এমনকী শাহ নিজেই বুঝিয়ে দেন, সমস্ত তথ্য তাঁর হাতেই রয়েছে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, বুধবারের সেই বৈঠকে অমিত শাহ দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিলীপের মন্তব্য ভাল ভাবে নেননি শাহ, এমনটাই দাবি দলীয় সূত্রের। সেই কারণেই কি এবার পাকাপাকি ভাবে মুখ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন দিলীপ, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।শুক্রবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে ঢোকার সময় দিলীপ বলেছিলেন, যা বলার সকালে বলেছেন। যদিও তার পরেও শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খড়গপুরে চা-চক্রে সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দেন, আর ক্যামেরার সামনে কথা বলবেন না। পরিস্থিতি বুঝেই কি আরও বিতর্ক এড়াতে এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে চাপানউতোর চলছেই।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
বিদেশ

অন্য দেশের প্রেসিডেন্ট বন্দি আমেরিকায়! আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার অভিযোগ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স তুলে নিয়ে যাওয়ার পর রবিবার নিউ ইয়র্কের একটি জেলে আটক রাখা হয়েছে। শনিবার ভেনেজুয়েলায় এই অভিযান চালানো হয়। নতুন বছরের শুরুতে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বামমনস্ক রাজনীতিক জোহরান মামদানি। তাঁর শহরের জেলেই মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কের দক্ষিণ অংশের একটি জেলে মাদুরো দম্পতিকে বন্দি রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, মাদুরোর সরকার আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত। সেই কারণে মাদক-সন্ত্রাস, অস্ত্র পাচার-সহ একাধিক ধারায় মাদুরো, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে মোট ছজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে অবৈধ শাসক বলে আখ্যা দিলেও আপাতত এই মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তারির কথা জানানো হয়েছে। তবে অন্য দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে দাবি করছে।এদিকে ভেনেজুয়েলায় জারি হয়েছে জরুরি অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার মধ্যরাতে হামলার পরেও মার্কিন সেনা পুরোপুরি দেশ ছাড়েনি। মাঝে মাঝেই ভেনেজুয়েলার আকাশে মার্কিন সামরিক বিমান উড়তে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে আরও বড় কোনও সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। কলোম্বিয়ার অনুরোধে এই বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য চিন এবং স্থায়ী সদস্য রাশিয়াও এই বৈঠকের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
রাজ্য

টাকা তোলার অভিযোগ, পুলিশের পিছনে ধাওয়া! ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিন জনের

পিছনে পুলিশের গাড়ি দেখে আরও গতি বাড়িয়ে দিয়েছিল লরি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই সামনে থাকা টোটোতে সজোরে ধাক্কা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল টোটোর তিন যাত্রীর। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের নলহাটিতে, রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে পালোয়ান বাবা মাজারের কাছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে রামপুরহাটের দিক থেকে নলহাটির দিকে যাচ্ছিল পেঁয়াজ বোঝাই একটি লরি। পালোয়ান বাবা মাজারের কাছে নলহাটি থানার পুলিশ প্রহরারত ছিল। অভিযোগ, পুলিশ লরিটিকে থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে উল্টে আরও জোরে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। পুলিশের একটি বাইক লরিটিকে ধাওয়া করে।পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে অতিরিক্ত গতিতে লরি চালাতে থাকেন চালক। ঠিক সেই সময় সামনে একটি টোটো চলছিল। টোটোতে চালক ছাড়াও আরও তিন জন যাত্রী ছিলেন। দ্রুতগতির লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থেকে আসা ওই টোটোতে ধাক্কা মারে। তীব্র ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় টোটোটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় টোটোর তিন যাত্রীর।দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নলহাটি থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশ পৌঁছতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। মৃতদের দেহ জাতীয় সড়কের উপর রেখে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় পুলিশের একাংশ পণ্যবাহী লরি থামিয়ে টাকা তোলে। সেই ভয়েই অনেক সময় লরিচালকরা বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালান। আর তারই পরিণতি হল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
বিদেশ

১৯৮৯-এর পানামার পর ফের ইতিহাস! ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান

শনিবার ভেনেজুয়েলায় বড়সড় সামরিক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের কথা স্বীকার করে জানান, এটি ছিল ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক সামরিক আক্রমণ। তাঁর দাবি, এই অভিযান মার্কিন আইনরক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই চালানো হয়েছে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর উপর চাপ বাড়াচ্ছিল ওয়াশিংটন। আমেরিকার অভিযোগ, মাদুরো সরকার মাদক পাচার চক্র এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, যার ফলে সেই অপরাধ আমেরিকার মাটিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।এই হামলাকে লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার প্রথম সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, ১৯৮৯ সালের পর। ওই বছর পানামায় সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল আমেরিকা। সেই অভিযান এখনও মার্কিন সামরিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ অপারেশন জাস্ট কজ নামে পানামায় সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই অভিযানে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছিল। সরকারি হিসেবে, সেই অভিযানে ৫১৪ জন পানামার সেনা ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, মৃতের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি ছিল। আমেরিকারও ২৩ জন সেনা প্রাণ হারান।সেই সময় পানামার শাসক নরিয়েগা আশ্রয় নিয়েছিলেন ভ্যাটিকানের দূতাবাসে। তাঁকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে দূতাবাসের বাইরে জোরে জোরে রক গান বাজিয়েছিল মার্কিন সেনা। এই অভিনব কৌশল বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত ১১ দিন পর নরিয়েগা আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে মাদক পাচারসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে কি না, তা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা নিয়ে আমেরিকার এই সামরিক পদক্ষেপ লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

৯/১১-এর পর সবচেয়ে বড় হামলার ছক? উত্তর ক্যারোলিনায় আইএসের পরিকল্পনা ফাঁস

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ধৃত যুবক ক্রিস্টিয়ান স্টারডিভ্যান্টের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। বর্ষবরণের রাতে উত্তর ক্যারোলিনার একটি খাবারের দোকান এবং জনবহুল এলাকায় ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল সে। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, পুলিশকর্মীদের উপরও হামলা চালানোর ছক ছিল অভিযুক্তের। এই গোটা ষড়যন্ত্রই ইসলামিক স্টেটের মদতে তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফবিআই।শেষ মুহূর্তে এই ভয়ংকর নাশকতা বানচাল করে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এই ঘটনায় একটি বিবৃতি জারি করেছে তারা। এফবিআই প্রধান, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কাশ প্যাটেল জানান, বর্ষবরণের রাতে একটি সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা রোখা গিয়েছে এবং এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিল ইসলামিক স্টেট।এফবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিস্টিয়ান নাবালক থাকাকালীন থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিল। সামাজিক মাধ্যমে একাধিকবার ইসলামিক স্টেটের প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেই সূত্রেই ইউরোপের একাধিক আইএস হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে তার। তাদের প্ররোচনাতেই আমেরিকায় হামলার পরিকল্পনা করেছিল সে।তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে একাধিক ধারাল অস্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে হাতে লেখা একটি নোট, যেখানে স্পষ্ট ভাবে লেখা ছিল, নতুন বছরে হামলা ২০২৬। এই তথ্য সামনে আসার পর আরও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।৯/১১-এর পর আমেরিকাকে ফের রক্তাক্ত করার ছক কষেছিল ইসলামিক স্টেট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভয়ংকর পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ক্রিস্টিয়ান স্টারডিভ্যান্টকে এবং তদন্ত এখনও চলছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিদেশ

মাদুরো কি আমেরিকার হাতে বন্দি? ওয়াশিংটনের কাছে প্রমাণ চাইল ভেনেজুয়েলা

আশঙ্কাই সত্যি হল। শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবি এখনও পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করেনি।ভেনেজুয়েলার এক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ জানিয়েছেন, মাদুরোকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনও তথ্য নেই। তিনি স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনের কাছে মাদুরো জীবিত আছেন কি না, তার প্রমাণ চেয়েছেন। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি।তবে মার্কিন সেনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, এই বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর। নিজের এক্স হ্যান্ডলে মাইক লি লেখেন, রুবিও তাঁকে জানিয়েছেন যে আমেরিকায় মাদুরোর বিরুদ্ধে চলা একাধিক ফৌজদারি মামলার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে বন্দি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপছন্দের তালিকায় রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন নয়। সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান এলাকায় বিপুল পরিমাণ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়। তার পরই মাদুরো অভিযোগ করেন, আমেরিকা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করেছে এবং জোর করে দেশের শাসনব্যবস্থা বদলাতে চাইছে।গত মাসে ভেনেজুয়েলা ও সংলগ্ন এলাকার আকাশসীমা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয় সেখানে।সম্প্রতি চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় হোয়াইট হাউসের অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে ভেনেজুয়েলার এক বন্দরে মার্কিন হামলার দাবি করে সিএনএন। অভিযোগ ছিল, ওই বন্দর ব্যবহার করে মাদক পাচার করা হচ্ছিল। সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal