• ৭ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

KK

দেশ

একনাগাড়ে বৃষ্টির পর সিকিমে ভয়াবহ ধস! চোখের সামনে মাটির নীচে বাড়ি, গুরুতর পরিস্থিতি

পাহাড়ে একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত সিকিম। পশ্চিম সিকিমের রিম্বিতে ভয়াবহ ধস নেমেছে। ধসের জেরে একাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাদামাটির স্রোতে রিম্বি থেকে ইয়াকসাং যাওয়ার রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর বলে জানিয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। তবে এখনও পর্যন্ত ধসে হতাহতের কোনও খবর মেলেনি।পেলিংয়ের আরও পশ্চিমে রিম্বি এলাকা। সেখান থেকেই ইয়াকসাং যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। পর্যটকদের কাছেও এই এলাকা পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় এক মাস ধরে রিম্বি গ্রামে বার বার ধস নামছে। ইতিমধ্যেই ধসের জেরে বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।গতকাল রাতের প্রবল বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। রিম্বি থেকে ইয়াকসাং যাওয়ার রাস্তা কাদামাটিতে ঢেকে যায়। ধসের জেরে নতুন করে বেশ কয়েকটি বাড়ি মাটির নীচে চাপা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। আজ সকালেও পাহাড় থেকে ফের কাদার স্রোত নেমে আসে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।গতকাল দিনভর সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। ধসের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আগেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর মেলেনি।রিম্বিতে বর্তমানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের তরফে কাজ শুরু হয়েছে।রিম্বির পাশাপাশি পশ্চিম সিকিমের জোড়থাং থেকে ডেনতাম যাওয়ার রাস্তাতেও কাদামাটির স্রোত নেমেছে। ফলে ওই সড়কেও যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে পশ্চিম সিকিমের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।শুধু সিকিম নয়, নিম্নচাপের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড়ও। দুধিয়ায় হিউম পাইপ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সেতু ফের প্রবল জলস্রোতে ভেসে গিয়েছে। এই নিয়ে তৃতীয় বার ওই অস্থায়ী সেতুটি ভেসে গেল। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির মেরামতির কাজ চলছিল। তার মধ্যেই প্রবল বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্রোত বাড়ায় সেতুর একটি অংশ ভেসে যায়।সেতুর অংশ ভেসে যাওয়ার পর আপাতত ওই পথে যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ধস নামছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দশ নম্বর জাতীয় সড়কেরও একাধিক অংশে ধস নেমেছে।সিকিম ও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে একটানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সতর্কতার। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রশাসনের নজর রয়েছে ধসপ্রবণ এলাকাগুলির দিকে। নতুন করে কোথাও ধস নামে কি না এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা কত দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
দেশ

পুজোর আগে সিকিমে বড় বিপদ! পাহাড় থেকে নামছে কাদা-পাথরের স্রোত, বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা

একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসের খবর মিলছে। কোথাও জাতীয় সড়ক বন্ধ, কোথাও হাইওয়ে অবরুদ্ধ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকেরাও। পুজোর মরসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলেও।উত্তর সিকিমে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি চলছে। শুক্রবার ভোরে সিকিম-শিলিগুড়ি যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বারডাংয়ের ২০ মাইল এলাকায় ধস নামে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদা ও পাথরের স্রোত নামায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে পর্যটক, সকলেই সমস্যায় পড়েন।গ্যাংটক জেলাতেও একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। ধসের কারণে বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও বাড়ি ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কবি-টিংদা কেন্দ্রের বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি যৌথ দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে।বোজোগহারি সংলগ্ন লুয়িং-রাঙ্কা সড়ক, লোয়ার বোজোগহারি, লিংডিং, হাইকোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি, আপার জেড-বোজোগহারি, পাংথাং-লিংডক সড়ক, পামরো গাঁও, লিং পারবিং, আপার ও মিডল লুয়িং, ফেনজং, রাঙ্কা, রকডং তিনটেক, দারাগাঁও, আপার বুরতুক, সিচে এবং আরিথাং-সহ একাধিক এলাকায় ধসের প্রভাব পড়েছে।বহু জায়গায় এখনও রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বহুতলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। সিচের নিকাশি জল পরিশোধন কেন্দ্র এবং এনচে স্কুলের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কাছেও ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।উত্তর সিকিমেও ব্যাপক ধসের খবর এসেছে। ফেনসং, কবি এবং লিংচুম-টিংদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা ফের চালু করার কাজ চলছে। ধসপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির জল যাতে মাটির গভীরে ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ না করে, সে জন্য ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ধসপ্রবণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ৩২ মাইলের কাছে রাডাং এলাকাতেও ধসের কারণে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে।পূর্ব সিকিমের দুগা এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। এই পথটি গ্যাংটকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রাস্তা। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের সমস্যাও বেড়েছে।শুধু সিকিম নয়, নেপালেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জামিরেঘাটে ভূমিধসের কারণে পৃথ্বী হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। রাস্তার উপরের দিক থেকে বড় ধস নেমে কাঠমান্ডুগামী দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাদিংয়ের ট্রাফিক পুলিশ প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, ধসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রাস্তা পরিষ্কার করতে সময় লাগতে পারে। কৃষ্ণভির এলাকাতেও ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।ভুটানেও কয়েকটি পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। দোচুলা-ওয়াংদুয়ে সড়কের পেনজালুম দ্রুবচু এলাকায় একমুখী যান চলাচল শুরু হলেও পর্যটকদের সতর্ক হয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পানবাং-মাথাংগুড়ি সংযোগ সড়কের কিছু অংশও অবরুদ্ধ হয়েছে।সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথে ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পুজোর আগে পর্যটন শিল্প নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সময় পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। ফলে আগামী দিনে বৃষ্টি ও ধসের পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, তার দিকে নজর রাখছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে রোহিতের ভবিষ্যৎ কী? দলবদলের জল্পনার মধ্যেই মিলল তাঁর নিজের বার্তা

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটমহলে নানা জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ঘিরে দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, রোহিত কি ফের মুম্বইয়ের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন? পাশাপাশি তাঁর অন্য কোনও আইপিএল দলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। সেই আলোচনাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের হেড কোচ অভিষেক নায়ার।তবে এই জল্পনার সূত্রপাত কোনও ক্রিকেট ম্যাচে নয়, রোহিত শর্মার নতুন একটি রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা সেই অনুষ্ঠানের টিজারে রোহিত এবং অভিষেক নায়ারের কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রোহিতের পোশাকের রং নিয়েই মজার ছলে শুরু হয় দলবদলের প্রসঙ্গ।টিজারে দেখা যায়, রোহিতের পরনে হলুদ পোশাক। সেই রং দেখে অভিষেক নায়ার মজা করে চেন্নাইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানতে চান, রোহিত কি তবে দল বদলানোর কথা ভাবছেন? কারণ হলুদ রং চেন্নাইয়ের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন শুনে রোহিতও মজার ছলে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, তাঁর পোশাকের রং সরষের মতো হলুদ।এর পরেই কথোপকথনে উঠে আসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রসঙ্গ। অভিষেক নায়ার বলেন, সোনালি এবং হলুদ রঙের সঙ্গে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজিরও যোগ রয়েছে। ফলে রোহিত কি এবার কলকাতার দলে যোগ দেবেন, সেই ইঙ্গিতও মজার ছলে দেওয়া হয়।অভিষেকের প্রশ্নের মধ্যেই দর্শকদের একাংশ মুম্বইয়ের নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই সময় রোহিত মৃদু হেসে বলেন, চিরকাল। তাঁর এই এক শব্দের উত্তর থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এই বক্তব্যকে দলবদলের জল্পনার প্রেক্ষিতে দেখছেন। তবে টিজারের এই কথোপকথন থেকে রোহিতের আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিতের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তাঁর নেতৃত্বে দলটি আইপিএলে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবেও রোহিতের সাফল্য রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে।এ বার ক্রিকেটের মাঠের পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে রোহিতকে। তাঁর নতুন অনুষ্ঠানের প্রথম টিজার প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টিজারে অভিষেক নায়ারের সঙ্গে রোহিতের কথোপকথনও সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।রোহিত সত্যিই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়বেন কি না, কিংবা অন্য কোনও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে নতুন অনুষ্ঠানের টিজারে মুম্বই নিয়ে রোহিতের চিরকাল মন্তব্য দলবদলের জল্পনার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে। এখন দেখার, টেলিভিশনের মঞ্চে রোহিতের এই নতুন ইনিংস দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

একের পর এক ভূমিধসে বসে যাচ্ছে আস্ত পাহাড়! সিকিমে হড়পা বানের আতঙ্ক, সরানো হল ৩৮ পরিবার

পশ্চিম সিকিমের গিয়ালশিং জেলার সিঙ্গলিথাম গ্রাম এবং সংলগ্ন রিম্বি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকে ভূমিধসের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পাহাড়ের ঢাল থেকে কাদা, পাথর ও গাছের ধ্বংসাবশেষ নেমে আসছে। এর জেরে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায় সিকিম প্রশাসনের তরফে রিম্বির ৩০টি এবং সিঙ্গলিথামের ৮টি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় সিঙ্গলিথামের বেশ কয়েকটি বাড়িও ইতিমধ্যে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সিঙ্গলিথামের পাহাড়ের ঢাল থেকে ক্রমাগত কাদা, বড় পাথর এবং গাছ নেমে এসে স্থানীয় ঝোরার গতিপথ আটকে দিচ্ছে। ফলে রিম্বির নিচের দিকে আচমকা হড়পা বান নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। প্রশাসনের নজরদারিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, রিম্বির ঠিক উপরে সিঙ্গলিথাম গ্রামের কাছে একটি টিলা ধীরে ধীরে বসে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল নরম হয়ে যাওয়ায় মাটি, কাদা এবং পাথর ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, গত অগস্ট মাস থেকেই ওই এলাকায় ভূমিধস শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধস গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে।ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে রিম্বি-ইউকসম এবং রিম্বি-খেচুপেরি সড়কের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ইউকসম-তাশিডিং এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনের তরফে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এবং যাত্রীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিপদের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে শুরু করেছেন।প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। পাহাড়ের ঢাল আরও নরম হলে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে ঝোরা অবরুদ্ধ হলে নিচের এলাকায় হড়পা বান তৈরি হতে পারে কি না, সেই দিকেই এখন নজর স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
দেশ

ফের পাহাড় ভাঙল সিকিমে! রিম্বি-ইউকসম সড়কে নামল বিশাল ধস, ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে আতঙ্ক

সিকিমের পাহাড়ে যেন বিপদ কাটতেই চাইছে না। রবিবার সকালে উত্তর সিকিমে ভূমিধসের জেরে চ্যাকুং চু এবং তিস্তা নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই আতঙ্ক পুরোপুরি কাটার আগেই পশ্চিম সিকিমের রিম্বিতে ফের বড়সড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটল। রিম্বি-ইউকসম প্রধান সড়কের উপর পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ায় ওই পথে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। ফলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউকসম-তাশিডিং এলাকার রিম্বি গ্রামে বিশাল ভূমিধস নেমেছে। পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর নেমে এসে রিম্বির সঙ্গে ইউকসম এবং খেচুপরিকে যুক্ত করা প্রধান সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদার স্রোতও বয়ে যায়। বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর এবং ধ্বংসস্তূপে রাস্তার একটি বড় অংশ ঢেকে গিয়েছে।ভূমিধসের জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে ওই এলাকা দিয়ে হেঁটেও যাতায়াত করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের পাদদেশ এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৃষ্টি আরও বাড়লে নতুন করে ভূমিধস হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।রিম্বি-ইউকসম সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, ধস নামার পরও পাহাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত ঢাল পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। তাই রাস্তার কাছাকাছি থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল পরীক্ষা করা হোক এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই এই এলাকায় একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই শুধু ধসের মাটি-পাথর সরিয়ে রাস্তা খুলে দিলেই স্থায়ী সমাধান হবে না।স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষিত করা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। প্রশাসন বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত ওই এলাকায় যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ থাকতে পারে।অন্যদিকে রবিবার সকালে চ্যাকুং চু-তে ভূমিধসের কারণে তিস্তা নদীর গতিপথ যে অংশে আটকে গিয়েছিল, সেটি পরে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে তাতেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রশাসনের একটি দল।চুংথাংয়ের মহকুমা শাসক অরুণ ছেত্রীর নেতৃত্বে ওই দলটি এলাকা ঘুরে দেখে। পরিদর্শনের সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সীমান্ত সড়ক সংস্থার আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিশ অত্রি, ক্যাপ্টেন সুরজ এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা। দলটি ভূমিধসের উৎসস্থল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল পরীক্ষা করে। পাশাপাশি ওই এলাকায় আরও ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে কি না এবং টুং-পারটেম সড়ক নির্মাণের কাজে এর প্রভাব পড়তে পারে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।ফলে উত্তর সিকিমে তিস্তার গতিপথ আটকে যাওয়ার আতঙ্কের পর পশ্চিম সিকিমে রিম্বির ভূমিধস নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার উপর চলছে ভারী বৃষ্টি। ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আরও ধস নামার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধস, আরও বড় বিপদ সামনে? গঙ্গা-পদ্মা মিশে গেলে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে বহু এলাকা!

নিউ ফরাক্কায় রেললাইনে ধসের জেরে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ কার্যত ব্যাহত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মেরামতের কাজ চলছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজকের মধ্যেই রেললাইনের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ধসের ঘটনায় শুধু রেল যোগাযোগ নয়, ফরাক্কার ভাঙন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।নিউ ফরাক্কা রেলস্টেশনের কাছে রেললাইনের এক দিকে রয়েছে ভাগীরথী বা হুগলি নদীর প্রবাহ, অন্য দিকে রয়েছে গঙ্গার মূল স্রোত বা পদ্মার দিক। স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের জায়গা হল, এই দুই জলধারার মধ্যের স্থলভাগের দূরত্ব এখন প্রায় দেড় কিলোমিটার বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।নদীভাঙন আরও বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে এই স্থলভাগের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গঙ্গা ও পদ্মার জলধারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও দাবি বিশেষজ্ঞের।নদী বিশেষজ্ঞ কৌশিক চক্রবর্তীর দাবি, ফরাক্কা বাঁধ তৈরি হওয়ার পর থেকেই নদীর জলপ্রবাহ এবং চর তৈরির ক্ষেত্রে নানা পরিবর্তন দেখা যায়। তাঁর মতে, জল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাংলাদেশে জল সরবরাহ এবং ১৯৯৬ সালের জলচুক্তির পর পরিস্থিতির পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, এরপর নদীর গতিপথে চর তৈরি হওয়া এবং নীচের দিকে জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা যায়। কয়েক বছর পর থেকেই ভাঙন ভয়াবহ আকার নেয়।নিউ ফরাক্কার কাছে ভাঙন আরও বাড়লে তার প্রভাব শুধু রেললাইনের উপরেই পড়বে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মধ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগও দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে। ধুলিয়ান, বল্লারপুরের মতো এলাকাও বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞের দাবি।রেললাইন মেরামত করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও নদীভাঙন ঠেকানো না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ নদীভাঙনের জেরে বসতি, রাস্তা, রেলপথ এবং চাষের জমি একসঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।গঙ্গা ও পদ্মার জলধারা সত্যিই এক জায়গায় মিশে যাবে কি না, তা নিয়ে অবশ্যই আরও বিস্তারিত সমীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে নিউ ফরাক্কার কাছে নদীভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি যে উদ্বেগের, সে বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।কৌশিক চক্রবর্তীর দাবি, ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে ওই এলাকার ভৌগোলিক চরিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব শুধু জমি বা নদীর উপর সীমাবদ্ধ থাকবে না, সরাসরি অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।ফলে নিউ ফরাক্কার রেললাইন মেরামত হয়ে গেলেই যে গোটা সমস্যা মিটে যাচ্ছে, তা নয়। আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নদীভাঙন কী ভাবে ঠেকানো হবে এবং গঙ্গা-পদ্মার মাঝের বিস্তীর্ণ স্থলভাগকে কী ভাবে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

শুক্রবার রাতের প্রতিশ্রুতিও পূরণ হল না! ফরাক্কায় রেললাইন মেরামত নিয়ে ফের বড় অনিশ্চয়তা

ফরাক্কার ধসে যাওয়া রেললাইন এখনও পুরোপুরি মেরামত হয়নি। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।পূর্ব রেলের তরফে আগে জানানো হয়েছিল, শুক্রবার রাতের মধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ করা হবে। শনিবার সকাল থেকে ফরাক্কার আপ লাইনে ফের স্বাভাবিক ভাবে ট্রেন চলাচলের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার সকাল পর্যন্ত কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।রেল সূত্রে খবর, মাটি নরম থাকার কারণেই মেরামতের কাজে বেশি সময় লাগছে। ফলে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রেলকর্মীদের।এরই মধ্যে ফরাক্কা রেললাইন বিপর্যয়ের জেরে শুক্রবার একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথও বদলে দেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকটি ট্রেনকে ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। শনিবারও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।শনিবার বাতিল করা হয়েছে নাহারলাগুন-সাঁতরাগাছি বিশেষ ট্রেন, গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, বামনহাটি-শিয়ালদহ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, হলদিবাড়ি-শিয়ালদহ দার্জিলিং মেল, বালুরঘাট-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ পদাতিক এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-কলকাতা এক্সপ্রেস, কাটিহার-হাওড়া এক্সপ্রেস, জোগবনী-কলকাতা এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস, মালদহ টাউন-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস এবং সহর্ষ-শিয়ালদহ হাটেবাজারে এক্সপ্রেস।এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথও বদল করা হয়েছে। কাটিহার, মানসি, মুঙ্গের ও কিউল হয়ে চালানো হচ্ছে মালদহ টাউন-নিউ দিল্লি এক্সপ্রেস, ভাতিন্ডা-বালুরঘাট ফরাক্কা এক্সপ্রেস এবং উধনা-মালদহ টাউন বিশেষ ট্রেন।নিউ ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া ও ব্যান্ডেল হয়ে চালানো হচ্ছে নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস, হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, হাওড়া-রাধিকাপুর কুলিক এক্সপ্রেস এবং কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস।অন্য দিকে, নিউ ফরাক্কা, আজিমগঞ্জ ও নলহাটি হয়ে চালানো হচ্ছে বালুরঘাট-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস, আগরতলা-চারলাপল্লি এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, বেঙ্গালুরু-রাধিকাপুর এক্সপ্রেস এবং তাম্বারাম-নিউ তিনসুকিয়া এক্সপ্রেস।রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা। ট্রেনের পরিবর্তে এখন সড়কপথই অনেকের কাছে প্রধান ভরসা। ফলে বাসে যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বাসের ভাড়াও।পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত বাস চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটে অতিরিক্ত ২৩টি বাস নামানো হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে ১৮টি বাস চলছে। দুর্গাপুর-বালুরঘাট রুটে আরও দুটি বাস দেওয়া হয়েছে। মালদহ-কলকাতা রুটেও পাঁচটি বিশেষ বাস চালানো হচ্ছে।সন্ধ্যার দিকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাঁরা রওনা হবেন, তাঁদের জন্য কলকাতার এসপ্ল্যানেড বাস টার্মিনাস থেকে শিলিগুড়ির এনজিপি বাস টার্মিনাস পর্যন্ত বিশেষ বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এই পরিষেবা থাকার কথা।তবে ফরাক্কার ধসে যাওয়া রেললাইন কবে পুরোপুরি মেরামত হবে এবং কবে থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আপাতত রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রী দুর্ভোগ আরও কত দিন চলবে, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

ফরাক্কায় রেললাইনে ধস, দ্বিতীয় দিনেও বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

প্রবল বৃষ্টির জেরে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে আপ লাইনে রেললাইনের নীচে ধস নামার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনেও স্বাভাবিক হল না উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ধস নামার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতির কাজ চলছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। মেরামতির কাজ চলাকালীন বৃহস্পতিবার রাতেও ফের ধস নামায় কাজ আরও পিছিয়ে যায়। নতুন করে ধসের জেরে রেললাইন ও বৈদ্যুতিক পোলও সরে যায় বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।রেলপথ দ্রুত সচল করতে উচ্চপদস্থ আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ার-সহ ১৫০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে মেরামতির কাজ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয় বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে।পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশন সূত্রে খবর, নিউ ফরাক্কা স্টেশনে রেললাইনের নীচের মাটি ধসে যাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়। শুক্রবারও বাতিল রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। নিউ ফরাক্কার স্টেশন ম্যানেজার তন্ময় বিশ্বাস জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে মালদা টাউন-সাহেবগঞ্জ মেমু। পাশাপাশি কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, গৌড় এক্সপ্রেস, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, পদাতিক এক্সপ্রেস এবং কলকাতা-রাধিকাপুর এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছে।তবে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের লোকো পাইলটের তৎপরতায়। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৯ মিনিট নাগাদ নিউ ফরাক্কা স্টেশন পার হওয়ার সময় আপ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করেন চালক। বিপদের আঁচ পেয়ে তিনি দ্রুত রেলের কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। পরে দেখা যায়, প্রবল বৃষ্টির কারণে স্টেশনের কাছে আপ লাইনের নীচের মাটি ধসে গিয়ে ট্র্যাক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চালকের সময়োচিত সতর্কতার কারণেই হাজার হাজার যাত্রী ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান।রেললাইন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। এই পরিস্থিতিতে সড়কপথে কলকাতার দিকে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। তারই সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ, ভলভো বাসে কলকাতা যাওয়ার জন্য যেখানে প্রায় এক হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়, সেখানে কোনও কোনও ক্ষেত্রে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।অভিযোগ সামনে আসতেই শুক্রবার বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দফায় দফায় অভিযান চালায় আরটিও দফতর। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গৌড়কন্যা বাস টার্মিনাসেও যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। কলকাতাগামী সরকারি বাস কার্যত ছিল না। যে তিন-চারটি বাস ছিল, সেগুলিও সকালেই ছেড়ে যায়। ফলে গৌড়কন্যা বাস টার্মিনাসের পাশাপাশি মালদা শহরের রথবাড়ি এলাকাতেও কলকাতাগামী গাড়ির অপেক্ষায় বহু মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।জেলা আরটিও আধিকারিক অনুপম চক্রবর্তী জানান, অধিকাংশ দূরপাল্লার বাসের টিকিট অনলাইনে কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে রেল যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের অসুবিধার সুযোগ নিয়ে যাতে কোনওভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে পরিবহন সংগঠন ও বাস কাউন্টারগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।এদিকে শুক্রবার ফরাক্কায় ধসের জায়গা পরিদর্শন করেন উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। তিনি জানান, ট্রেনে কলকাতা থেকে মালদায় ফেরার কথা থাকলেও রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত হওয়ায় তাঁকে সড়কপথে ফিরতে হয়েছে। ফরাক্কায় এসে রেল আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মেরামতির কাজ চলছে। দ্রুত ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ভ্রমণ

সিকিমের অফবিট সৌন্দর্যে মুগ্ধ করবে জুলুক থেকে জোংগু, ঘুরে এলে মন চাইবে বারবার

ব্যস্ত শহরের কোলাহল, কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি আর প্রতিদিনের দৌড়ঝাঁপ থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি পেতে আমরা কয়েকজন বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম ভারতের উত্তর-পূর্বের ছোট্ট অথচ অপরূপ সুন্দর রাজ্য সিকিমের উদ্দেশ্যে। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা আর সবুজ প্রকৃতির টানে বহুদিন ধরেই সিকিম আমাদের স্বপ্নের গন্তব্য ছিল।শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে চড়ে যখন সিকিমের পথে যাত্রা শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পারলাম এক অন্য জগতে প্রবেশ করতে চলেছি। তিস্তা নদী আমাদের পথসঙ্গী হয়ে বয়ে চলছিল। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা, দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর নদীর কলকল শব্দ যেন মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিল।গ্যাংটক পৌঁছে আমরা প্রথমেই শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলা দেখে মুগ্ধ হলাম। তবে আমাদের আসল লক্ষ্য ছিল সিকিমের কিছু অফবিট বা কম পরিচিত স্থান ঘুরে দেখা। তাই পরদিন সকালে আমরা রওনা দিলাম জুলুকের উদ্দেশ্যে। পূর্ব সিকিমের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি পর্যটকদের কাছে এখনও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। পথে বিখ্যাত জিগজ্যাগ রোডের ৩২টি বাঁক দেখে আমরা অভিভূত হয়ে গেলাম। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের রাস্তা দেখতে যেন বিশাল কোনো শিল্পকর্মের মতো লাগছিল।জুলুকের ঠান্ডা আবহাওয়া আর নিস্তব্ধ পরিবেশ আমাদের মন জয় করে নিল। রাতের আকাশে অসংখ্য তারার মেলা দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গের খুব কাছাকাছি এসে গেছি। শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে এই অভিজ্ঞতা সত্যিই ছিল অসাধারণ।পরের দিন আমরা গেলাম থাম্বি ভিউ পয়েন্টে। ভোরবেলায় সূর্যের প্রথম আলো যখন কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা শৃঙ্গে পড়ল, তখন সেই দৃশ্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। সোনালি আলোয় ঝলমল করা পর্বতশ্রেণি আমাদের চোখে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে রইল।এরপর আমরা উত্তর সিকিমের এক সুন্দর অফবিট গ্রাম জোংগুতে পৌঁছালাম। এটি লেপচা সম্প্রদায়ের সংরক্ষিত এলাকা। এখানকার মানুষজন অত্যন্ত আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ণ। তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করল। ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, পাহাড়ি ঝরনা এবং সবুজ বনভূমির মধ্যে কয়েকটি দিন কাটিয়ে মনে হলো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অপূর্ব সহাবস্থান প্রত্যক্ষ করছি।জোংগু থেকে ফেরার পথে আমরা কয়েকটি অজানা ঝরনা এবং ছোট পাহাড়ি গ্রামে থামলাম। প্রতিটি স্থান যেন প্রকৃতির নিজস্ব হাতে সাজানো একেকটি চিত্রপট। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও ঝরনার শব্দ, আবার কোথাও শুধুই নীরবতাসব মিলিয়ে সিকিমের প্রকৃতি যেন হৃদয়কে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।ভ্রমণের শেষ দিনে আমরা বুঝতে পারলাম, সিকিম শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি এক অনুভূতির নাম। এখানে পাহাড় শুধু চোখকে নয়, মনকেও ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির এত কাছে এসে জীবনের ছোট ছোট সুখগুলোর মূল্য আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়।ফেরার পথে গাড়ির জানালা দিয়ে শেষবারের মতো পাহাড়গুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সিকিম যেন নীরবে বলছেআবার এসো। আমরাও মনে মনে প্রতিশ্রুতি দিলাম, এই অফবিট সৌন্দর্যের রাজ্যে আবার ফিরে আসব। কারণ সিকিমের মায়া একবার যার মনে জায়গা করে নেয়, তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় তার সবুজ পাহাড়, নীল আকাশ আর মেঘের দেশে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশ

সিকিমের সুড়ঙ্গে মৃত্যুমিছিল, তিনদিন পরও চলছে উদ্ধার—আরও কত দেহ ভিতরে?

সিকিমের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস ও মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, টানেল থেকে ২৫টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে, আর সেই সঙ্গেই দুর্ঘটনার কারণ জানতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিকিম সরকার।সোমবার দক্ষিণ সিকিমের সামারডুং এলাকায় তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হেড রেস টানেল-এ ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। টানেলের ভিতরে মিথেন গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ও ধসের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২৫ জনের মধ্যে মাত্র ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। বাকিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, এখনও টানেলের ভিতরে কিছু দেহ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিষাক্ত গ্যাস, অন্ধকার এবং ধসে পড়া অংশের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, এনএইচপিসি, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস এবং ওয়েস্টার্ন কোলফিল্ডস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।উদ্ধারকাজে গতি আনতে আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড থেকে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বুধবার রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচটি দেহ উদ্ধার করা হয়।দুর্ঘটনার তদন্তে সিকিম সরকার চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। মুখ্যসচিব আর তেলং-এর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কমিটিতে রয়েছেন সিকিম পুলিশের আইজি তাশি ওয়াংয়াল, খনি ও ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর ফিগু শেরিং ভুটিয়া, অতিরিক্ত অধিকর্তা কেশর লুইটেল এবং সিআইডি-র ডিআইজি তেনজিং লোডেন লেপচা।এনএইচপিসি নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে এককালীন আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানিয়েছেন, কোথায় গাফিলতি ছিল এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ২৩, ২০২৬
রাজ্য

সিকিমের টানেল দুর্ঘটনায় মাল মহকুমার আরও এক যুবকের মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

সিকিমে টানেল নির্মাণের কাজে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল নাগরাকাটা ব্লকের মনমোহনধুরা গ্রামের যুবক অর্জুন সাউতালের। মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও গোটা এলাকায়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে বাড়তি রোজগারের আশায় সিকিমে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন অর্জুন। সেখানে টানেল নির্মাণের কাজ চলাকালীন দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে মনমোহনধুরা গ্রাম। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।অর্জুন সাউতাল ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য। পরিবারে বাবা-মা, চার ভাই ও বৌদিদের নিয়ে বড় সংসার। সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হল।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিকিমের এই টানেল দুর্ঘটনায় মাল মহকুমা থেকে এখনও পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এর মধ্যে মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লক মিলিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর গোটা মহকুমাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।এলাকাবাসীদের অভিযোগ, নাগরাকাটা ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। বাধ্য হয়েই বহু যুবক জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেন। কিন্তু কাজের খোঁজে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে বহু মানুষকে আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে হতো না।

জুলাই ২২, ২০২৬
দেশ

সিকিমের টানেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ৭ শ্রমিকের মৃত্যু, এখনও ভিতরে আটকে ১৮ জন

সিকিমের নামচি জেলায় একটি নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের জেরে টানেলের ভিতরে ধস নামে এবং প্রবেশপথের একটি অংশ বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। আরও অন্তত ১৮ জন শ্রমিক টানেলের ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে প্রশাসন জানিয়েছে।আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ জোরকদমে কাজ চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে এসডিআরএফ, সিকিম পুলিশ, দমকল এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন রয়েছে।জানা গিয়েছে, নির্মীয়মাণ এই টানেলটি ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, টানেলের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভিতরে প্রাকৃতিকভাবে নির্গত মিথেন গ্যাস জমে ছিল। সেই গ্যাস বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলার সময় আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে।বিস্ফোরণের পর টানেলের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকজন শ্রমিক কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও বহু শ্রমিক ভিতরেই আটকে পড়েন।সোমবার বিস্ফোরণের সময় টানেলের ভিতরে মোট ২৫ জন শ্রমিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এনএইচপিসির কর্মীরাও ছিলেন। জেলা প্রশাসন ৭ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। বাকি ১৮ জনকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মিথেন গ্যাস, অক্সিজেনের ঘাটতি, কম দৃশ্যমানতা এবং টানেলের সংকীর্ণ পথ। ফলে উদ্ধারকারী দল সহজে ভিতরে পৌঁছতে পারছে না।সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার খবর পায়। এরপরই এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, জেলা পুলিশ এবং দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।প্রথমে দমকল কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করলেও মিথেন গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় অভিযান মাঝপথে বন্ধ করতে হয়। উদ্ধারকারী দলের কয়েকজন সদস্যও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে এনডিআরএফ উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও একই কারণে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।সিকিম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নামচি জেলা প্রশাসন, এনএইচপিসি, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সিকিম পুলিশ, দমকল এবং স্বাস্থ্য দফতর রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। তবে এখনও আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জুলাই ২১, ২০২৬
রাজ্য

আট দিন পর ট্রলার মিলতেই শিউরে ওঠার দৃশ্য! একসঙ্গে মিলল ৯ মৎস্যজীবীর দেহ, এখনও নিখোঁজ অনেকে

বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি ট্রলার থেকে উদ্ধার হল ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ। পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর বন্দর থেকে ২ জুলাই মাছ ধরতে বেরিয়েছিল মা কালী নামে ট্রলারটি। ৫ জুলাইয়ের পর থেকে ট্রলারের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। দীর্ঘ আট দিন ধরে তল্লাশির পর বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘেরচরের কাছে ট্রলারটির খোঁজ মেলে।রবিবার দুপুরে পুলিশ, বন দপ্তর এবং ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর যৌথ অভিযানে ডুবে থাকা ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটিকে সীতারামপুরে নিয়ে এসে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়। ট্রলারের ভিতর থেকে একে একে ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।জানা গিয়েছে, ট্রলারটিতে মোট ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। এখনও ৬ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের সন্ধানে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান চলছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের অনুমান, খারাপ আবহাওয়া বা সমুদ্রের দুর্যোগের জেরে ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। খবর পেয়ে ট্রলারের মালিকপক্ষ এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। একাধিক ট্রলারের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটিকে উপকূলে আনা হয়।ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। তাঁর কথায়, এখনও ট্রলারের ভিতরে আরও কয়েকজন মৎস্যজীবীর দেহ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

জুলাই ১৩, ২০২৬
রাজ্য

ভিড়ের মাঝে আগুনঝরা ভাষণ, তারপর গা ঢাকা! বাগডোগরায় ধরা পড়লেন মোফাক্কেরুল

বুধবার কালিয়াচকের ঘটনার পর একটি ভিডিয়ো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, একটি গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি ভিড়ের মাঝে বক্তৃতা দিচ্ছেন। তাঁর কথা শুনে উপস্থিত অনেকেই হাততালি দিচ্ছেন এবং মোবাইলে সেই মুহূর্ত রেকর্ড করছেন। ঘটনার পর থেকে ওই ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।অবশেষে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের নাম মোফাক্কেরুল ইসলাম। পুলিশের দাবি, তিনি বেঙ্গালুরুতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও করার ঘটনায় মোফাক্কেরুল ইসলামের উস্কানি ছিল। এই ঘটনায় তাঁর নামে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি কেন মালদহে গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা যায়, ২০২১ সালে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তারপর রাজনৈতিক ময়দানে তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী না হলেও, তাঁর দল মালদহ জেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এই ঘটনার পর ওই দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।রাজনীতির পাশাপাশি মোফাক্কেরুল ইসলাম পেশায় একজন আইনজীবী। আগে তিনি জেলা আদালতে কাজ করতেন, বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করেন। হাইকোর্টে তাঁর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে বলেই জানা গেছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্য শুনতে ভিড় করেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর প্রচুর অনুসারী রয়েছে।গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে নিজের গ্রেফতারির কথা জানান। গত কয়েকদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রাজ্যের ছবি ও ভিডিয়ো পোস্ট করছিলেন, যাতে মনে হয় তিনি রাজ্যের বাইরে রয়েছেন। কখনও তেলেঙ্গানা, কখনও তামিলনাড়ু, আবার কখনও পাঞ্জাবের আদালতের ছবি শেয়ার করেছিলেন। এমনকি একটি ভিডিয়োতে তিনি কেরল যাওয়ার কথাও বলেন।তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এপ্রিল ০৩, ২০২৬
রাজ্য

চার দিনে ৩৯ বার কাঁপল সিকিম! বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা

ভূমিকম্পের পরে আফটারশকের কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু টানা চার দিন ধরে একের পর এক কম্পনের ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। পশ্চিমবঙ্গের লাগোয়া পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে ঠিক এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা কম্পনে উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।জানা গিয়েছে, এই চার দিনে মোট ৩৯ বার কেঁপে উঠেছে সিকিম। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা কখনও ৩, কখনও ৪। মাত্রা খুব বেশি না হলেও বারবার কম্পন হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। তার প্রভাব পড়ে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এরপর মাত্র ৪ ঘণ্টা ১২ মিনিটের মধ্যে পরপর ১২টি ভূমিকম্প হয়। মঙ্গলবার সকালেও নামচি ও মঙ্গন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক কম্পন ফোর শক হতে পারে। অনেক সময় বড় ভূমিকম্পের আগে এ ধরনের কম্পন দেখা যায়। তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। সিকিমের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও নিরাপদ জায়গা খুঁজে রাখার কথা জানিয়েছে বাসিন্দাদের।এই ধারাবাহিক কম্পনের পিছনে পাহাড়ে অতিরিক্ত নির্মাণ, জলাধার তৈরির কাজ, বা রেলপথ নির্মাণের সময় ডিনামাইট ফাটানোর মতো কার্যকলাপ কোনও ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়েও খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।সিকিম পশ্চিমবঙ্গের খুব কাছেই অবস্থিত। সারা বছরই সেখানে বহু বাঙালি পর্যটক যান। তাই সিকিমে বড় কোনও ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
রাজ্য

ভর সন্ধ্যায় ফের কেঁপে উঠল সিকিম, আতঙ্ক ছড়াল পাহাড় জুড়ে

ভর সন্ধ্যায় ফের কেঁপে উঠল সিকিম। গত দুদিন ধরেই একের পর এক ভূমিকম্পে অস্বস্তি বাড়ছে পাহাড়ি রাজ্যে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৩৫ মিনিট নাগাদ প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.২। কম্পনের কেন্দ্র ছিল পশ্চিম সিকিমের গেলসিং জেলা। এই কম্পনের প্রভাব সিকিমের পাশাপাশি শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকাতেও টের পাওয়া যায়।এর কিছুক্ষণ পরেই আবার কেঁপে ওঠে সিকিম। সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৫৪ মিনিট নাগাদ দ্বিতীয়বার কম্পন অনুভূত হয়। তবে এই কম্পনের মাত্রা ছিল তুলনামূলক ভাবে কম। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ২.৩। কম্পনের কেন্দ্র ছিল উত্তর সিকিমের মঙ্গন এলাকা।এরপর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ আরও একবার কম্পন হয়। তৃতীয়বারের এই কম্পনের মাত্রাও ছিল ২.৩। যদিও এই কম্পনের উৎসস্থল এখনও স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি।বর্তমানে সিকিমে পর্যটনের ভরা মরসুম চলছে। এই সময় পাহাড়ি রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বারবার ভূমিকম্প হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বর্ষার সময় সিকিমে ভূমিধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনা নতুন নয়। অতীতে বহুবার পর্যটকেরা আটকে পড়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে পৌঁছয়নি, তবু পরপর কম্পনের জেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের একাংশের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
রাজ্য

এক রাতেই ১৩ বার কাঁপল সিকিম! গভীর রাতে ভূমিকম্পে আতঙ্ক পাহাড়ে

একটা নয়, পরপর একাধিক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল সিকিম। গভীর রাতে আচমকা শুরু হওয়া এই ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়ায় পাহাড়ে। সিকিমের ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে উত্তরবঙ্গেও। জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে সিকিমে মোট ১৩টি ভূমিকম্প হয়েছে।জানা গিয়েছে, রাত দেড়টা নাগাদ সিকিমের গেলসিং এলাকায় প্রথম বড় কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৫। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল। মূল কম্পনের পরেই শুরু হয় একের পর এক আফটারশক।পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সিকিমের মঙ্গন এলাকায় সাতটি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হয়। নামচিতে চারটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গ্যাংটকেও ৩.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এই কম্পনের জেরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গাতেও মাটি কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।মধ্য রাতে একের পর এক ভূমিকম্প হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকেই ঘুম ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ হোটেল বা বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ নিজেদের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন।তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২৬
রাজ্য

ডেডলাইন পেরোল, তবু এফআইআর নেই! কমিশনকে উল্টে হুঁশিয়ারি তৃণমূল বিধায়কের

নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গেলেও ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই রয়েছেন তিনি। উল্টে প্রকাশ্য সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই এফআইআর করার হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গিয়েছে তাঁকে।মনিরুল ইসলামের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার জেরে বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। তাই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই গণ এফআইআর হওয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেন। মঞ্চ থেকে কমিশনকে কার্যত চোখরাঙান ফরাক্কার বিধায়ক।তবে প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেও চিঠিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন মনিরুল ইসলাম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথা উঠতেই তিনি নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা ইআরও-কে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে তিনি লেখেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সংবিধান মেনেই কাজ করেন।উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসে ব্যাপক অশান্তি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেই সময় মঞ্চ থেকে মনিরুল ইসলাম বলেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই। আদালত সকলের জন্যই খোলা আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গণহারে এফআইআর করার ডাকও দেন বিধায়ক।ফরাক্কার ঘটনা ঘিরেই রাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত অশান্তির সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর চাকুলিয়া, সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লক, ইটাহার সহ একাধিক জায়গায় বিডিও অফিস ও শুনানি কেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। ধীরে ধীরে এই অশান্তি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।ফরাক্কার ঘটনার পর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে সরাসরি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরেই নড়েচড়ে বসেন তৃণমূল বিধায়ক। চিঠিতে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য কমিশনকে আঘাত করা নয়। বরং সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়টি বোঝাতেই তিনি কথা বলেছেন। নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন তিনি। এই চিঠি ইতিমধ্যেই জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়েছে।এদিকে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় দেখানো, ভাঙচুর ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র এফআইআর করার নির্দেশ দিলেই চলবে না। নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক স্তরে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-বাংলাদেশ টানাপোড়েনে আইপিএল সিদ্ধান্ত, কেকেআর দলে বড় বদল

শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে আর খেলবেন না বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএল ২০২৬-এ তাঁকে খেলানো যাবে না বলে কেকেআরকে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।জানা গিয়েছে, মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে সরানোর জন্য কেকেআরকে চিঠি পাঠিয়েছে বিসিসিআই। বোর্ডের তরফে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি ক্রিকেটারের বদলে কেকেআর অন্য কোনও বিদেশি খেলোয়াড় নিতে পারবে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এবারের আইপিএল নিলামে মোট সাতজন বাংলাদেশি খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একমাত্র মুস্তাফিজুর রহমানই দল পেয়েছিলেন। কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনেছিল। তবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে তাঁর আইপিএলে খেলা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।গত কয়েক দিন ধরে এই ইস্যুতে বিসিসিআই ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ নীতি নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বোর্ড নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে কেকেআরকে মুস্তাফিজকে ছাড়ার অনুরোধ জানায়।প্রসঙ্গত, ২৬/১১ মুম্বই হামলার পর থেকেই কোনও পাকিস্তানি ক্রিকেটার আইপিএলে খেলার সুযোগ পান না। এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি নেওয়া হবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
রাজ্য

এবার পুজোয় বাসেই সিকিম, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্স, তাকলাগানো প্যাকেজ NBSTC-র!

আসন্ন দুর্গাপুজোয় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি) পর্যটকদের জন্য নিয়ে আসছে নতুন চমক। সবুজের পথে হাতছানি নামে একাধিক ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করতে চলেছে সংস্থা। ফলে সিকিম, দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা ডুয়ার্স ঘোরার সুযোগ মিলবে অনেক কম খরচে। খাওয়াদাওয়া মিলিয়ে ভ্রমণের ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ৭০০ টাকা থেকে সর্বাধিক ২৫০০ টাকার মধ্যে। বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়িতে এমনটাই ঘোষণা করেছেন নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়।তিনি জানান, এক দিনের ট্যুর থেকে শুরু করে দুদিন-এক রাত কিংবা তিন দিন-দু রাতের মতো নানা রকমের প্যাকেজ সাজানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা রাখা হবে। পাশাপাশি পর্যটক আকর্ষণে রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে মাইকিং, লিফলেট বিলি এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার থেকে এই বিশেষ প্যাকেজ পরিষেবা চালানো হবে। প্রতিটি জায়গায় দুটি করে বাস থাকছে ১৬ সিট ও ২৬ সিটের। চাহিদা বাড়লে গাড়ির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।পর্যটন মানচিত্রে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক ছাড়াও থাকছে দার্জিলিং, কালিম্পং, লাভা, লোলেগাঁও, ঝালং, বিন্দু, লাটাগুড়ি, মূর্তি, গোরুমারা, জলদাপাড়া, রাজাভাতখাওয়া ও জয়ন্তী। নিগমের চেয়ারম্যানের বক্তব্য, আমাদের লক্ষ্য একটাই স্বল্প খরচে বেশি জায়গা ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া। পুজোর সময় উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় দুর্গাপুজো ঘোরার বিশেষ ব্যবস্থাও থাকবে।এই উদ্যোগে খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। লাটাগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। জলপাইগুড়ি বা লাটাগুড়ি থেকে সরাসরি দার্জিলিং বা গ্যাংটক গেলে বহু পর্যটক প্রথমে ডুয়ার্স ঘুরে পাহাড়ে যেতে চাইবেন। এতে খরচ কমবে এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও বাড়বে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিহার থেকে ডুয়ার্সের সরাসরি সরকারি বাস চালু হলে আরও পর্যটক টানতে সুবিধা হবে। নিগম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।এছাড়া মহালয়ার পরদিন থেকে চতুর্থী পর্যন্ত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ পুজো পরিক্রমা চালানোর পরিকল্পনাও করছে এনবিএসটিসি। একইসঙ্গে পুজোর সময় কলকাতা-উত্তরবঙ্গ রুটে অতিরিক্ত বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যে ১১টি বাস প্রতিদিন চলছে, তার সঙ্গে আরও দশটি যোগ করার চেষ্টা চলছে। দীঘা রুটেও সপ্তাহে দুদিনের বদলে চার দিন বাস চালানো হবে।সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে নতুন গতি দিতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এনবিএসটিসি।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

শাহবাজ রাষ্ট্রসংঘে ভারতকে কাঠগড়ায় তুলতেই পাল্টা জবাব! ওসামা প্রসঙ্গ টেনে দিল্লির কড়া বার্তা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভারতকে নিশানা করে একাধিক অভিযোগ তোলেন। কাশ্মীর, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি এবং গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এর পরেই ভারতের তরফে জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তানের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়।রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব পেটল গেহলট ভারতের হয়ে বক্তব্য রাখেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধির বক্তব্যকে তিনি অদ্ভুত বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্তদের তার পরিণতি ভুগতে হবে।ভারতের পাল্টা বক্তব্যে বিশেষ ভাবে উঠে আসে আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ। পেটল গেহলট বলেন, রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের সময় ৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রসঙ্গও মনে রাখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে পাক সেনার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছে বসবাস করছিলেন।ভারতীয় প্রতিনিধির বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত বছর ভারত দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়ার বা লুকিয়ে থাকার জায়গা থাকবে না। সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথাও তিনি জানান। পাকিস্তানের সন্ত্রাসনীতি নিয়ে ভবিষ্যতে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গও ছিল। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের ওই চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে ভারত বলেছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসের পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তানের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে গত বছরের সংঘাত এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গও ফিরে আসে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওই সংঘাতের ফলাফল নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক দাবি তুলেছেন। ভারত অবশ্য সেই দাবিগুলির পাল্টা জবাব দিয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।এর আগে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। সেই সময় জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান কত দিন সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে যাবে। এই মন্তব্য নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।ফলে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের পর ভারতের পাল্টা জবাব ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল দিল্লি-ইসলামাবাদের তীব্র মতবিরোধ। সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির মতো একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থান যে এখনও পরস্পরের বিপরীত, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চের এই বক্তব্যে তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশেই পুরভোট? কমিশনের ভাবনায় বড় বদল

পশ্চিমবঙ্গে ফের পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতা ও হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে ভোটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহকে সামনে রেখে প্রস্তুতি এগোচ্ছে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি।এই সাতটি পুরসভা হল কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং। প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই বুথ, ভোটকর্মী, ভোটকেন্দ্র এবং ইভিএম সংক্রান্ত কাজ শুরু হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ইভিএম পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণের কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলকাতা ও হাওড়ার ক্ষেত্রে সংরক্ষিত আসনের তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় ভোটকর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে কাজ এগোচ্ছে।নিরাপত্তার বিষয়টিও কমিশনের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে রাজ্য পুলিশ দিয়েই পুরভোট পরিচালনার বিষয়ে কমিশনের প্রাথমিক ভাবনা রয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির রিপোর্ট পাওয়ার পরেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা যাচ্ছে।ভোটের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোন এলাকাকে বেশি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, কোথায় কত পুলিশ মোতায়েন প্রয়োজন এবং কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়গুলিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করে রাখতে চাইছে কমিশন।এদিকে পুরভোটের জন্য ইভিএমের জোগান নিয়েও প্রস্তুতি চলছে। পর্যাপ্ত যন্ত্র পাওয়া যায় কি না, তার উপর ভোট এক দিনে হবে নাকি একাধিক দিনে আয়োজন করা হবে, সেই বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে। ফলে ভোটের দিন ঘোষণা করার আগে একাধিক প্রশাসনিক বিষয় মিটিয়ে নিতে চাইছে কমিশন।কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নিয়ে এবার বিশেষ নজর রয়েছে। হাওড়া পুরসভায় দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন হয়নি। বর্তমানে রাজ্যের মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই এবং প্রশাসকের মাধ্যমে পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় দীর্ঘদিন ভোট না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে।প্রাথমিক ভাবে সাতটি পুরসভায় ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চললেও রাজ্যের আরও একাধিক পুরসভায় নির্বাচন বকেয়া রয়েছে। সেই তালিকায় বিধাননগর, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি, মিরিক, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, পাঁশকুড়া, কুপার্স ক্যাম্প এবং নলহাটির মতো পুরসভাও রয়েছে। ফলে আগামী দিনে বাকি পুরসভাগুলির ভোট কী ভাবে এবং কখন আয়োজন করা হবে, তা নিয়েও নজর রয়েছে।সব মিলিয়ে পুজোর মরসুম শেষ হওয়ার পর রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে এখনই ভোটের চূড়ান্ত দিন ঘোষণা হয়নি। কমিশনের প্রস্তুতি কোন দিকে এগোয় এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ না অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার উপরই পরবর্তী ছবিটা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

মমতার সভার কয়েক ঘণ্টা আগে কুণালের গাড়িতে হামলা! ভাঙল কাচ, শরীরে ঢুকল কাচের টুকরো

শনিবার শ্রীরামপুরে সভা করার কথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জমায়েতে সর্বাধিক এক হাজার মানুষের উপস্থিতির শর্তও রয়েছে। সভার কয়েক ঘণ্টা আগে মমতার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।কুণাল ঘোষের অভিযোগ, উত্তরপাড়ার কাছে তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এরপর একদল মানুষ গাড়ির দিকে ডিম, পাথর এবং অন্যান্য জিনিস ছুড়তে শুরু করেন বলে তাঁর দাবি। হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি। কাচের টুকরোয় তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে বলে কুণালের দাবি।কুণালের বক্তব্য, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রাস্তা আটকে কিছু মানুষ লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। গাড়ি থামিয়ে কোন গাড়িতে কোন নেতা যাচ্ছেন, তা দেখা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।ঘটনার পর কুণাল ঘোষ পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, গাড়ির কাচ ভেঙে পাথর ঢুকে তাঁর ডান কাঁধে আঘাত লাগে। ভাঙা গাড়ি নিয়েই তিনি কলকাতার দিকে রওনা হন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন।ঘটনাটি নিয়ে তৃণমূলের তরফে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, পরিকল্পিত ভাবে কুণাল ঘোষের গাড়ি আটকানো হয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছে। উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহও একই দাবি করেছেন।ফলে কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। হামলার পেছনে কারা ছিলেন এবং ঠিক কী কারণে গাড়ি আটকানো হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এরই মধ্যে শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরেও রাজনৈতিক নজর রয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সভাটি নির্দিষ্ট সময় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মধ্যে করতে হবে। জিটি রোডে স্বাভাবিক যান চলাচল বজায় রাখার নির্দেশও রয়েছে।এ দিনের সভাটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। ফলে সভা থেকে তিনি কী বার্তা দেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

সিপিএম, কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলার পরেই বড় সিদ্ধান্ত! অভিষেকের সঙ্গে দিল্লি যাচ্ছেন মমতা

রাজনৈতিক মহলে ফের বিরোধী দলগুলির সমন্বয় নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির একটি বৈঠক হতে পারে। সেই বৈঠকে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যেতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকতে পারেন বলে সূত্রের দাবি।জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের পরেই আগামী সপ্তাহে বিরোধীদের বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার পরদিন বিরোধী দলগুলির বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।বর্তমানে বিরোধী দলগুলির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি জানিয়েছেন।বিরোধী শিবিরের সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে ফের নোটিস দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কে বিরোধী দলগুলির যৌথ অবস্থান কী হবে এবং আগামী দিনে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।কয়েক দিন আগেই সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন। পরে দুজনের মধ্যে ফোনে কথাও হয়। বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে ওই কথোপকথন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।তবে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে এখনও সব দলের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন, বৈঠকের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি। তাঁর দাবি, এমএ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী নেতার সঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।বিরোধী শিবিরের আলোচনায় শুধু ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলিই থাকবে, নাকি জোটের বাইরে থাকা বিজেপি বিরোধী দলগুলিকেও বৈঠকে আনার চেষ্টা হবে, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তবে কোন কোন দল শেষ পর্যন্ত বৈঠকে যোগ দেবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তাঁর দিল্লি সফর এবং বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও সূত্রনির্ভর বলেই জানা যাচ্ছে।সব মিলিয়ে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির ক্ষোভের আবহে দিল্লির সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কে বিরোধীরা যৌথ কোনও কর্মসূচি নেয় কি না, কিংবা ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা দলগুলিকে এই সমন্বয়ের মধ্যে আনা যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

নিম্নচাপ দুর্বল হলেও বৃষ্টি থামছে না! কোথায় জারি করা হল কমলা সতর্কতা?

নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করলেও দক্ষিণবঙ্গে শনিবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দু-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে। সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ মেঘলা এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে দুপুরের পর থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জেলার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রবিবার থেকেও বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে কমবে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী তিন থেকে চার দিনে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ছত্তীসগঢ় এবং সংলগ্ন মধ্যপ্রদেশের কাছে অবস্থান করছে। এটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবে রয়েছে এবং ধীরে ধীরে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দিকে যেতে পারে। নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গ থেকে দূরে সরে গেলেও সমুদ্রের উপর ঝোড়ো হাওয়া থাকতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের জন্যও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পরামর্শ রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে শনিবারের পর থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হলেও পুরোপুরি বৃষ্টিমুক্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে। রবিবারও দক্ষিণবঙ্গের দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ এবং বিস্তার দুটোই ধীরে ধীরে কমবে। সেপ্টেম্বর মাসের বাকি দিনগুলিতে দক্ষিণবঙ্গে বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে শনিবার পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই তিন জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির কিছু এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সোমবার থেকে আরও কমবে বৃষ্টির প্রবণতা। কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাস।ফলে আগামী কয়েক দিনে বাংলার আবহাওয়ায় দুই রকম ছবি দেখা যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব কাটায় ধীরে ধীরে বৃষ্টি কমবে। অন্য দিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে শনিবার ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতাতেও শনিবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও রবিবার থেকে ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়ে ক্ষমতায় মমতা, সেই দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গেই ফোনে কথা! কেন এই বদল?

বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। সেই দুই দলের মধ্যে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের আবহে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই পক্ষের মধ্যে চিঠি বিনিময়ের পর এই ফোনালাপ হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক হোক। এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এই যোগাযোগের নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে একাধিক বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এম এ বেবি বিরোধী নেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা এবং যৌথ কৌশল তৈরির কথা বলা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার জবাবে চিঠি দেন। এরপর দুজনের মধ্যে ফোনে কথাও হয়েছে।তবে এই যোগাযোগকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও সিপিএমের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোট হিসেবে দেখানো হয়নি। আপাতত বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের প্রচেষ্টা হিসেবেই সামনে এসেছে।এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন এবং আগের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ফের ভোট নেওয়ার দাবিও তোলেন। এগুলি মমতার রাজনৈতিক দাবি; নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্কের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কমিশনের নিজস্ব বক্তব্যও রয়েছে।এদিকে মমতা ও এম এ বেবির যোগাযোগের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তৃণমূল ও সিপিএমের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের কারণে। পশ্চিমবঙ্গে দুই দল বহু বছর ধরে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। জাতীয় স্তরে দুদল একই বিরোধী জোটের অংশ হলেও এত দিন তাদের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ সীমিত ছিল বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে এম এ বেবির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাদা করে কথাবার্তা হয়েছিল বলেও সূত্রের খবর। সেই আলোচনায় ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত বিষয় উঠে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে মমতা-বেবির বর্তমান ফোনালাপের সঙ্গে ওই আগের কথোপকথনকে এক করে দেখার মতো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।সম্প্রতি কলকাতার মুকুন্দপুরে তৃণমূলের মিছিলে হামলার অভিযোগও ওঠে। কয়েক জন কর্মী আহত হন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনার খবর সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তি-তেও প্রকাশিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদন রয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য আলাদা এবং ঘটনাটির দায় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে জাতীয় স্তরের বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এম এ বেবির ফোনালাপ এবং দিল্লিতে বিরোধী বৈঠকের উদ্যোগ সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী দিনে এই যোগাযোগ কেবল নির্দিষ্ট একটি ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বিরোধী দলগুলির মধ্যে আরও সমন্বয় তৈরি হবে, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোরে বাঁশ-লাঠি নিয়ে দফায় দফায় হামলা! মেদিনীপুরে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু, প্রকাশ্যে ভয়াবহ ভিডিয়ো

পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর ব্লকের হাতিহলকা এলাকায় বিজেপি কর্মী শামসের বিশ্বাসকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। বাঁশ ও লাঠি নিয়ে একদল লোক দফায় দফায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনায় আরও এক বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেলে। একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা হয়েছিল বলে খবর। পরে পরিস্থিতি সাময়িক ভাবে শান্ত হয়ে যায়। কিন্তু শনিবার ভোরে ফের গোলমাল শুরু হয়। সেই সময়েই শামসেরের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বলে জানা গিয়েছে।প্রকাশ্যে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েক জন ব্যক্তি বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা চালাচ্ছেন। এক বার নয়, একাধিক বার হামলার দৃশ্য ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ওই ফুটেজ দেখে এখনও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটির সত্যতা এবং হামলার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।হামলায় আরও এক বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হাতিহলকা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশি টহল চলছে।হামলাকারীরা কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অজয় জানা দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরাই হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের সম্পর্কে কিছু তথ্য পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।অন্য দিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি সৌমেন তিওয়ারি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোলমাল এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছিল। তাঁর দাবি, সেই পরিস্থিতির জেরেই ফের উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে শামসের বিশ্বাস আদৌ বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।ফলে এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঠিক কী কারণে শুক্রবার বিকেলে বচসা হয়েছিল, তার সঙ্গে শনিবার ভোরের হামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, সিসিটিভিতে দেখা ব্যক্তিরাই হামলায় জড়িত কি না এবং মৃত শামসেরের রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিলসবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।এখনও পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কারও নাম নিশ্চিত ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ-সহ অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরেই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
দেশ

তিন দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, এসবিআই গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা! এটিএম থেকে টাকা তুললে লাগবে না বাড়তি টাকা

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে তিন দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক খোলা রাখার পরিবর্তে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির দাবিসহ একাধিক বিষয়ে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠনগুলি। মাসের শেষে এই ধর্মঘটের কারণে শাখাভিত্তিক ব্যাঙ্ক পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া।স্টেট ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ধর্মঘট চলাকালীন তাদের গ্রাহকেরা দেশের যে কোনও ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন এবং ওই সময় এটিএম লেনদেনের প্রযোজ্য চার্জ নেওয়া হবে না। এমনকি সাধারণ নিয়মে মাসিক বিনামূল্যে লেনদেনের সীমা পেরিয়ে গেলে যে অতিরিক্ত এটিএম চার্জ দিতে হয়, ধর্মঘটের ওই তিন দিনে সেই চার্জও মকুব থাকবে।অর্থাৎ, ধর্মঘটের কারণে ব্যাঙ্কের শাখায় পরিষেবা ব্যাহত হলেও জরুরি প্রয়োজনে এটিএম থেকে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে এসবিআই গ্রাহকদের অতিরিক্ত এটিএম চার্জ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তবে কোন এটিএমে পর্যাপ্ত নগদ রয়েছে, তা এলাকা ও সময় অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় নগদ ব্যবস্থার বিষয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করে নেওয়া ভাল।শুধু এটিএম নয়, ধর্মঘটের সময় এসবিআইয়ের ডিজিটাল পরিষেবাগুলিও চালু থাকবে। ইউপিআই, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, ওয়াই-ফাইভো অ্যাপ এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় ব্যাঙ্কিং পরিষেবার মাধ্যমে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে। ফলে টাকা পাঠানো, বিল দেওয়া বা অন্যান্য সাধারণ ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।তবে চেক জমা দেওয়া, ডিমান্ড ড্রাফট তৈরি, ঋণ সংক্রান্ত নথি জমা বা শাখায় গিয়ে করতে হয় এমন অন্য কোনও জরুরি কাজ থাকলে তা ধর্মঘটের আগে সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ধর্মঘটের দিনগুলিতে শাখার স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির শাখা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওই দিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কও ওই দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা, দফতর, এটিএম-সংযুক্ত শাখা এবং নগদ ভাণ্ডার চালু রাখার অনুমোদন দিয়েছে।এর ফলে ২৬ সেপ্টেম্বরের ছুটি, ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার এবং তার পরের তিন দিনের ধর্মঘট মিলিয়ে শাখাভিত্তিক ব্যাঙ্ক পরিষেবায় টানা কয়েক দিনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ধর্মঘটের আগে রবিবার ব্যাঙ্ক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ব্যাঙ্ক কর্মীদের সপ্তাহে দুদিন ছুটির দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। এবার ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক পরিষেবা যাতে দীর্ঘ সময় ধরে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।সব মিলিয়ে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর শাখায় গিয়ে ব্যাঙ্কের কাজ করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অসুবিধা হতে পারে। তবে এসবিআইয়ের ঘোষণায় ওই তিন দিন এটিএম থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে বাড়তি চার্জ মকুব থাকবে এবং ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবাও চালু থাকবে। তাই জরুরি শাখাভিত্তিক কাজ থাকলে তা ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেরে নেওয়াই সুবিধাজনক।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal