• ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

DA

রাজ্য

সাসপেন্ড, বাবরি, নতুন দল! ভোটের আগে হুমায়ুন কবীরের সম্পত্তির অজানা তথ্য ফাঁস

দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই ফের শিরোনামে উঠে এসেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রথমে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, তারপর নতুন দল গঠনের ইঙ্গিতসব মিলিয়ে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। এর মধ্যেই জানা গিয়েছে, বাবরি মসজিদের জন্য কোটি কোটি টাকার অনুদান আসছে তাঁর কাছে। পেশায় ব্যবসায়ী হুমায়ুনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে।হলফনামার হিসেব অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে হুমায়ুনের আয় ছিল ২ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লক্ষ টাকার উপরে। পরের বছরেও আয়ে সামান্য বৃদ্ধি হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে তাঁর আয় নেমে আসে ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকার কাছে। আর ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে, অর্থাৎ ভোটের ঠিক আগের বছরে হুমায়ুনের আয় ছিল প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা।হুমায়ুনের স্ত্রী মীরা সুলতানার আয়ও কম নয়। ২০১৫-১৬ সালে তাঁর আয় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষেও তিনি প্রায় একই অঙ্কের আয় করেছেন। ২০১৮-১৯ সালে তাঁর আয় নেমে আসে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার কাছে। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তিনি আয় করেন প্রায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা।হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবী আজাদ, যিনি বর্তমানে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ, তিনিও বছরে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মতো আয় করেন। ২০১৯-২০ সালে তাঁর আয় ছিল ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা।২০২১ সালের হলফনামা বলছে, হুমায়ুনের হাতে নগদ ছিল ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর হাতে ছিল ২৫ হাজার টাকা। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন অঙ্কে মোট কয়েকটি জমা ছিল, যার মধ্যে একটি অ্যাকাউন্টে ছিল ২৮ হাজার টাকা। পেনশন অ্যাকাউন্টে ছিল ১৭২৬ টাকা। অন্যদিকে স্ত্রীর দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৩ লক্ষ টাকার মতো ছিল।বিনিয়োগের অঙ্ক কিন্তু আরও বড়। হুমায়ুনের নামে ছিল প্রায় ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার জীবনবিমা, এছাড়া ১ লক্ষ ৯৯ হাজার, ৩ লক্ষ এবং ২ লক্ষ টাকার আরও তিনটি বিমা ছিল। ৫০ হাজার টাকার তিনটি এলআইসিও ছিল তাঁর নামে। এছাড়া তিনি নিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার লোন।হুমায়ুনের নামে রয়েছে ৪ লক্ষ টাকার একটি টাটা সাফারি গাড়ি। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮ লক্ষ টাকার একটি জেসিবি মেশিন। হুমায়ুনের নামে স্থাবর সম্পত্তি হিসাবে রয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার সম্পত্তি। মীরার নামে রয়েছে প্রায় ১৯ লক্ষ টাকার সোনা।সব মিলিয়ে, ২০২১ সালের হিসাবে, হুমায়ুনের মোট সম্পত্তির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৭ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার সামান্য বেশি।অস্থাবর সম্পত্তির দিক থেকেও হুমায়ুন যথেষ্ট স্বচ্ছল। তাঁর নামে মোট ১.৭ একর জমি রয়েছে। রেজিনগরে দুটি এবং বহরমপুরে একটি জমি রয়েছে, যার দাম মিলিয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার মতো। পাশাপাশি কলকাতার রাজারহাট এবং কলিন স্ট্রিটে তাঁর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫
রাজ্য

ছুটির দিনে গোপন বৈঠক! নানুরে SP–কে নিয়ে রহস্যে ঢাকল বীরভূম—ভোটের আগে তুঙ্গে জল্পনা

নিজস্ব সংবাদদাতা: বীরভূমে ছুটির দিনে হঠাৎই জেলা পুলিশের এসপির গোপন বৈঠক ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রবিবার বিকেল তিনটে থেকে পাঁচটার মধ্যে সার্কিট হাউসে এই বৈঠক হয়। ঠিক কী কারণে এমন একান্ত বৈঠক করা হল, তা নিয়ে নানুর জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। কারণ, সামনে বিধানসভা ভোট। ভোটের আগে পুলিশ সুপারের এমন গোপনীয় সভা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এসআইআর নিয়ে আলোচনা করার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কারণ, আগের দিনই তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ কেষ্ট মণ্ডল একটি সভায় কেন্দ্রীয় নীতি নিয়ে কড়া বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বীরভূমে কোনও বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নেই এবং এখানে এসআইআর বা এনআরসি কোনও ভাবেই কার্যকর হবে না। কেষ্টের ওই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসপির সঙ্গে বৈঠক হওয়ায় নতুন করে জল্পনা আরও বেড়েছে।এদিকে, নানুরে সম্প্রতি তৃণমূলের এক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন হন এক স্থানীয় নেতা। অভিযোগ উঠেছে, অনুব্রত ঘনিষ্ঠ ওই নেতাকে হত্যা করেছে কাজল শেখের গোষ্ঠী। খুন হওয়া নেতা ছিলেন কেষ্ট মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ। তাই এই বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনার বিষয় হতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।ঘটনা নিয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন, এই বৈঠকে খুনের পরিকল্পনাও হতে পারে। তাঁর দাবি, কে কাকে খুন করল এবং পুলিশ কীভাবে তাকিয়ে বসে থাকে, সেই নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। যদিও পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে কেউ এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।ছুটির দিনে এমন গোপন বৈঠক হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে রহস্য আরও গভীর হয়েছে। বীরভূমে ঠিক কী ঘটছে, তা নিয়ে এখনই নতুন চর্চা শুরু হয়েছে জেলায়।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫
কলকাতা

দমদমে আগুনে দাউদাউ গেঞ্জি কারখানা! বস্তি বাঁচাতে দমকলের মরিয়া লড়াই—অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা

দমদমে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সোমবার সন্ধ্যায় সেভেন পয়েন্টের কাছে একটি গেঞ্জি কারখানায় হঠাৎ আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে গোটা কারখানা। কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন চোখের পলকে ছড়িয়ে পড়ে। দূর থেকেও আগুনের তেজ দেখা যাচ্ছিল। আগুন বাড়তে থাকতেই আতঙ্ক তৈরি হয় আশপাশের বস্তিতে। বাসিন্দারা তড়িঘড়ি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেন, গ্যাস সিলিন্ডার বাইরে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।কারখানার কয়েকজন কর্মী সময়মতো বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও উল্টো দিকের একটি বাড়িতে কয়েকজন আটকে ছিলেন। স্থানীয়রা তাঁদের নিরাপদে বের করে আনে। ঠিক তখনই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। চারদিক বস্তি থাকায় আগুন যাতে সেগুলিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই দিকেই প্রথম নজর ছিল দমকলের। এক দমকলকর্মী জানান, বস্তিগুলো রক্ষা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এবং তারা সেই চ্যালেঞ্জে সফল হয়েছে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দমকল জানিয়েছে। এখনও কারখানার কোথাও আগুন লুকিয়ে আছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কোনো হতাহতের খবর না মিললেও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কারখানার মালিক বা কর্মীরা এখনো কিছু বলেননি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানায় ঠিকমতো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। বস্তিতে আগুন না ছড়ানোয় স্বস্তি পেয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক অতীন ঘোষও।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫
রাজ্য

স্ত্রীর সঙ্গে চলছিল বিবাদ, লাইভ ভিডিওর পর রহস্যমৃত্যু মালদহের যুবকের!

বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই অশান্তি ক্রমে এতটাই বেড়ে যায় যে স্ত্রী আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শুক্রবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ ভিডিও করার পর রহস্যজনকভাবে মৃত পাওয়া গেল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কালিতলা মোবারকপুর এলাকার যুবক দুর্লভ সাহাকে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্লভ একটি শোরুমে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী মৌসুমী সাহার সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। কয়েক বছর আগে তাঁদের বিয়ে হলেও সংসারে শান্তি ছিল না। দম্পতির দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, নিয়মিত বিবাদের জেরে মৌসুমী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চাঁচোলে ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। পরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেন তিনি।পরিবারের অশান্তি আরও বাড়ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার রাতে লাইভ ভিডিওর পর শনিবার সকালে দুর্লভের দেহ উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। দেহ পাঠানো হয়েছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫
কলকাতা

বাবরি শিলান্যাসের পরই ব্রিগেডে গীতাপাঠ! বাংলায় হঠাৎ উত্তাপ, কাদের দিকে আঙুল তুললেন সুকান্ত?

৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় জাঁকজমক করে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভোটের আগে এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। হুমায়ুন নতুন দল গঠনের কথাও ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর তার এক দিনের মধ্যেই ব্রিগেডে আয়োজন হয়েছে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের অনুষ্ঠান। ভোর থেকেই সেখানে ঢল নেমেছে ভক্ত ও শিষ্যদের।রাজপথ থেকে ব্রিগেড দুই জায়গাতেই একইসঙ্গে চড়ছে রাজনীতির পারদ। গীতাপাঠের মঞ্চে কার্তিক মহারাজ, সাধ্বী ঋতম্ভরা, বাবা রামদেব, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে উপস্থিত থাকছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যরাও।এই পরিস্থিতিতেই হুমায়ুনের বাবরি শিলান্যাস নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, হিন্দু ভোট ভাগ করা এবং মুসলিম ভোট একত্রিত করার চেষ্টা চলছে। এর জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুকান্তের কথায়, হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করে না। একুশের ভোটেই সেটা স্পষ্ট।অন্যদিকে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে রাজনীতির রং লেগেছে কি না, সে বিষয়ে সুকান্ত বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে গীতাপাঠের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। গীতা হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান। রাজনীতি নিজের জায়গায় থাকবে, গীতা শাশ্বত।বাবরি শিলান্যাস থেকে ব্রিগেডের গীতাপাঠ দুই দিক থেকেই রাজ্যে উত্তাপ বাড়তে থাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ শিলান্যাস! এক দাতার ৮০ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি—কে তিনি? প্রশ্নে গরম রাজনীতি

পূর্বঘোষণা মতোই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করলেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। দীর্ঘ টানাপড়েন, রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক এবং আদালতে নিষেধাজ্ঞার পর অবশেষে হাইকোর্টের সবুজ সঙ্কেত মিলতেই শুক্রবার বৃহৎ আয়োজনের মধ্যেই সম্পন্ন হয় শিলান্যাস।হুমায়ুন জানান, মসজিদ নির্মাণে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। তবে এক পয়সাও সরকারি তহবিল থেকে নেবেন না বলে সরাসরি জানিয়ে দেন তিনি। তাঁর দাবি, পুরো টাকাই আসবে সংখ্যালঘু সমাজের অনুদানে। সভা মঞ্চ থেকেই তিনি জানান, এক ব্যবসায়ী ৮০ কোটি টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তা এক মাসের মধ্যেই দেওয়া হবে। তবে ওই দাতার পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি। শুধু বলেন, তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চান না। কোম্পানির মাধ্যমেই টাকা দেবেন। সরকারের টাকায় মসজিদ করলে পবিত্রতা নষ্ট হবে।হুমায়ুনের হাতে রয়েছে ২৫ বিঘা জমি। আপাতত তার মধ্যে ৩ কাঠা জমিতে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ওই জমির মধ্যেই ইসলামিক হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, মুসাফিরখানা ও হেলিপ্যাড তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন তিনি। জায়গাটি জাতীয় সড়ক থেকে মাত্র ৩০০-৪০০ মিটার দূরে হওয়ায় ভবিষ্যতে প্রচুর মানুষের যাতায়াতেও সুবিধা হবে বলে দাবি তাঁর।এই শিলান্যাস ঘিরে তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। দলের তরফে হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করা হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে এই বিতর্ক দলকে আরও বিপাকে ফেলতে পারে। বিরোধী দলনেতা দাবি করেছেন, সংখ্যালঘু ভোটে প্রভাব ফেলতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন হুমায়ুন। অন্যদিকে তৃণমূল বলছে, সংখ্যালঘু প্রার্থীর বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন তিনি এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।বেলডাঙার রাজনৈতিক আবহ এখন উত্তপ্ত। মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাসের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, যা আগামী দিনে রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর পর অবশেষে দেশে ফেরা! অন্তঃসত্ত্বা সোনালির বিস্ফোরক অভিযোগ দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে অবশেষে নিজের দেশে ফিরলেন মালদহের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন এবং তাঁর আট বছরের ছেলে। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও বাংলাদেশেই আটকে রয়েছেন। দেশে ফিরেই সোনালি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশে আট মাসেরও বেশি সময় তাঁরা চরম কষ্টে ছিলেন এবং দিল্লি পুলিশের হাতে অমানবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তাঁর কথায়, আমরা বহুবার অনুরোধ করেছিলাম। তবুও বিএসএফ দিয়ে আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হল।সোনালি এখনও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। জানিয়েছেন, আর কোনওদিনও দিল্লি ফিরতে চান না। স্বামী-সহ বাকিরা ফিরতে না পারায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সোনালির পরিবারের বাকি সদস্যদেরও দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা উচিত।উল্লেখ্য, কাজের খোঁজে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকর এলাকার সোনালি বিবি ও সুইটি বিবিদের পরিবার। অভিযোগ, তাঁদের কাছে বৈধ ভারতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও ১৭ জুন দিল্লি পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। কারণতাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলছিলেন, এবং সেই কারণেই তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়। ঠিক সেই সন্দেহের জেরেই ২৬ জুন ছজনকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।সেই সময় সোনালি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। বাংলাদেশে ঢোকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী বলে ধরে এবং মামলা রুজু করে। একশোরও বেশি দিন তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। অবশেষে সোমবার ওই মামলায় জামিন পান সকলেই।ঘটনা পৌঁছে যায় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত স্পষ্ট জানায়, যেহেতু অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে দিল্লি থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বাল ও সঞ্জয় হেগড়ে আরও জানান, সোনালির স্বামী ও পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে রয়েছেনতাঁদেরও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা জরুরি। সিলিসিটর জেনারেল এ বিষয়ে আলাদা নির্দেশ চাইতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তুষার মেহতা দাবি করেন, সোনালি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশি, মানবিক কারণেই শুধু সোনালি ও তাঁর ছেলেকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও জটিলই রয়ে গিয়েছে। সোনালি দেশে ফিরলেও তাঁর স্বামী ও পরিবার কবে ফিরবেন, সেই দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
কলকাতা

কলকাতাবাসীর জন্য সুখবর! রবিবার থেকে শীতের জাঁকিয়ে ঠান্ডা, কম্বল বের করুন

অবশেষে বাংলায় শীতের আসল রূপ ফিরে এল। ঘূর্ণাবর্তের বাধা কেটে গিয়েছে, পশ্চিম থেকে শীতল হাওয়া এখন অবাধে ঢুকছে রাজ্যে। তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। উইকেন্ডের মধ্যে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। আগামী কয়েকদিন আরও এক থেকে তিন ডিগ্রি পারদ পড়তে পারে। শীতের আমেজ জাঁকিয়ে বাড়বে।আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সাতদিন আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক। বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনাই নেই। সকালে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে, বিশেষ করে উপকূলের জেলাগুলোতে। দৃশ্যমানতা কোথাও কোথাও ২০০ মিটার পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। দিনের বেলায় আকাশ পরিষ্কার থাকবে। সকাল-সন্ধ্যায় শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হবে।আজ শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৭ ডিগ্রি। কয়লকাতা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও শীতের আমেজ বেড়েছে। দার্জিলিং-কার্শিয়াংয়ে পারদ ৫ ডিগ্রির কাছাকাছি। মালদহেও নেমেছে ১৬ ডিগ্রিতে।আবহাওয়াবিদদের কথায়, উত্তর-পশ্চিম ভারতে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢোকায় শীতল হাওয়া বইছে। আজ আরও একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশ করবে। তার জেরে আগামী পাঁচ-সাতদিন তাপমাত্রা আর বড় বাড়বে না। বরং ধীরে ধীরে আরও কমবে। উইকেন্ড থেকেই কম্বল-চাদর বের করার সময় এসে গেল বাংলার মানুষের।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২৫
বিদেশ

হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর শরীর আগের তুলনায় আরও দুর্বল হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, অল্প হলেও চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন ৮০ বছরের এই নেত্রী। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন।দেশি ও বিদেশি চিকিৎসকদের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় কোনও উন্নতির খবর মেলেনি। শুক্রবার তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করে বিএনপি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ও দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনার অনুরোধ জানান। শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও তাঁর জন্য প্রার্থনা করা হয়।এই কঠিন সময়ে মায়ের পাশে থাকতে চাইছেন খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন। দেশে ফিরতে চাইলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখনও ফেরা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। নিজের ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, এমন সংকটের সময় মায়ের পাশে থাকার ইচ্ছা যে কোনও সন্তানের মতো তাঁরও আছে। কিন্তু এই বিষয়টি একক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।এক সপ্তাহ আগে, গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। হাসপাতাল সূত্রের খবর, চিকিৎসায় সামান্য সাড়া মিললেও তাঁর অবস্থা এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএনপির তরফেও জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে প্রার্থনাই একমাত্র ভরসা।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

দু’টি নিম্নচাপের ধাক্কা, শীত কি তবে বিদায় নিচ্ছে? বাংলার আবহাওয়ায় বড় বদল

একসঙ্গে দুটি নিম্নচাপের প্রভাবে ফের বদলাচ্ছে বাংলার আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গে সামান্য বেড়েছে তাপমাত্রা। এই রকম আবহাওয়া সোমবার পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গলবার থেকে আবার তাপমাত্রা নামতে শুরু করবে। আপাতত কলকাতার তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির আশপাশেই ঘোরাফেরা করবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা থাকবে ১৪ ডিগ্রির ঘরে।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকেও নিচেই থাকবে। অনেক জেলায় তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ১৭ থেকে ১৮ ডিগ্রির কাছাকাছি। শনিবার ও রবিবার কুয়াশার সম্ভাবনাও বাড়বে। তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই কুয়াশা দেখা যেতে পারে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে কুয়াশার প্রভাব বেশি হতে পারে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।মঙ্গলবার থেকে আবার ঠান্ডা বাড়বে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবারের মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শনিবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে সামান্য কম। গতকাল বিকেলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেটিও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা নিচে।উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই শীতের জাঁকিয়ে উপস্থিতি। পাহাড়ি শহর দার্জিলিং-এ তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ৬ ডিগ্রির ঘরে। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সকাল ও রাতের দিকে শীতের প্রভাব স্পষ্ট। দিনের বেলায় অবশ্য শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
কলকাতা

ঔপনিবেশিক নামের অবসান, বাংলার রাজভবন এখন জনগণের ‘লোক ভবন’

বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস-এর আবেদনে এবার সিলমোহর দিল কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক ছাপ সরিয়ে রাজভবনের নতুন নাম ঠিক হল লোক ভবন। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের পর ইতিমধ্যেই রাজভবনের এক্স হ্যান্ডেলের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে লোকভবন। সেই এক্স হ্যান্ডেল থেকেই নতুন নামকরণের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগ তৈরি করতেই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঔপনিবেশিক নাম ছেড়ে এবার মানুষের রাজভবন হিসেবেই পরিচিত হতে চলেছে লোক ভবন।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

সেক্সটরশন চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের MLA খোকন দাস, তদন্ত শুরু পুলিশের

বড়সড় সাইবার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেলেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। কয়েক সেকেন্ডের ভুলেই যাঁরা লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে বসেন, সেই একই সেক্সটরশন চক্রের ফাঁদে পা দিতে দিতে অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। অপরিচিত একটি নম্বর থেকে আসা ভিডিও কল রিসিভ করতেই তাঁর ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে এক মহিলার আপত্তিকর ভিডিও। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি বুঝে নিয়ে কল কেটে দেন বিধায়ক এবং তড়িঘড়ি পৌঁছে যান বর্ধমান সাইবার থানায়।সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পর শুরু হয় তদন্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়কের ফোনে আসা ওই ভিডিও কলটি এসেছে রাজস্থানের ভরতপুর এলাকা থেকে। টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করেই কলকারীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ, এবং তাকে ধরতে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু হয়েছে।বিধায়কের ভাষায়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই তালিকায় থাকে অনেক অপরিচিত নম্বরও। কয়েকদিন আগে তেমনই একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ভিডিও কল আসে। কল ধরে মুহূর্তেই তিনি দেখেন স্ক্রিনে চলছে মহিলার নগ্ন ভিডিও। যা সাধারণত সেক্সটরশন চক্রের প্রথম ধাপ। বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেন এবং থানায় অভিযোগ জানান।পুলিশ জানাচ্ছে, রাজস্থানের বেশ কয়েকটি সাইবার গ্যাং রাতের দিকে এলোমেলো নম্বরে ভিডিও কল করে। কল ধরলেই চালানো হয় পর্ন ভিডিও। একই সঙ্গে স্ক্রিন রেকর্ড করে ভুক্তভোগী ও মহিলার ভিডিও একসঙ্গে জুড়ে ফেক আপত্তিকর ভিডিও বানানো হয়। এরপরই শুরু হয় ব্ল্যাকমেলিং। টাকা না দিলে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। এই চক্রের শিকার হয়ে কেউ সম্মানের ভয়ে টাকা দেন, কেউ আবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত খুইয়ে বসেন।তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভিডিও কলকারীকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাকে ধরার প্রস্তুতি চলছে। রাজস্থানের এই সাইবার চক্রে ইতিমধ্যেই বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। তবে বর্ধমানের এই বিধায়কের অভিযোগ দায়েরের ফলে এবার বিপাকে পড়তেই চলেছে সেক্সটরশন চক্র।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

টানা এসআইআর কাজেই কি প্রাণ গেল আরও এক বিএলও-র? মুর্শিদাবাদে মৃত্যু ঘিরে তীব্র বিতর্ক

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ করতে গিয়েই কি আরও এক প্রাণ ঝরল? মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে এক বিএলও-র আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে সেই প্রশ্নই ঘুরছে চারদিকে। বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে দিঘা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তথা বিএলও জাকির হোসেনের। দিনের পর দিন স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনের অতিরিক্ত কাজ সামলাতে গিয়েই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনিএমনই অভিযোগ পরিবারের।পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই টানা মাঠ পর্যায়ে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন জাকির হোসেন। সকাল থেকে রাত অবধি ভোটার লিস্ট সংশোধনের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।এই ঘটনার পরেই ফের রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন উঠছেএসআইআর প্রক্রিয়ার বাড়তি চাপেই কি একের পর এক অসুস্থ হচ্ছেন, এমনকি প্রাণ হারাচ্ছেন বিএলও-রা? সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এক বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তার আগে কোন্নগরের এক বিএলও একইভাবে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত চারজন বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এর আগে বর্ধমানে এক মহিলা বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে মালবাজার ও নদিয়ায় দুই বিএলও আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ক্ষেত্রেও পরিবারগুলির বক্তব্য ছিলঅতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক চাপই এই ঘটনার পিছনে অন্যতম কারণ।বারবার সামনে আসছে একই অভিযোগভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না বিএলও-রা। মাঠে নেমে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে স্কুলের নিয়মিত দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে। ফলে শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক চাপ।এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরেও। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা আর অসুস্থ হলে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। কিন্তু শুধু আর্থিক সাহায্যেই কি ফিরবে হারানো প্রাণ? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে।খড়গ্রামের এই মৃত্যুর ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের সহকর্মী থেকে পড়ুয়াদের অভিভাবকসবারই চোখে জল। একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক ও দায়িত্ববান কর্মীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। একইসঙ্গে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অন্যান্য বিএলও কর্মীদের মধ্যেও।এসআইআর-এর কাজ যত এগোচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে আতঙ্ক। কাজের পরিমাণ কমানো হবে কি না, বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে কি নাএই সব প্রশ্নের উত্তর এখন রাজ্য প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

২০০২ সালের মৃত ভোটারের ফর্মে নিজের নাম তুলতে গিয়ে গ্রেফতার বাংলাদেশী যুবক

হুগলির ডানকুনি পৌরসভার মাথুরডাঙি এলাকায় প্রকাশ্যে ধরা পড়ল ভোটার তালিকায় ভয়ঙ্কর গণ্ডগোলের ঘটনা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা মৃত ব্যক্তি মহসিন খানের এনুমারেশন ফর্ম ব্যবহার করে নিজের নাম তালিকায় তুলতে চেয়েছেন বাংলাদেশি যুবক নাদিম। ২০১৫ সালে মারা যাওয়া মহসিন খানের ফর্ম নিয়েই ভোটার কার্ড বানানোর চেষ্টা এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেন নাদিম। ঘটনার সত্যতা জেনে মহসিন খানের আত্মীয় মইদুল খান নাদিমকে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেন।বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নাদিমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। নাদিম দাবি করেছেন, তিনি ১৫ বছর ধরে ডানকুনিতে বসবাস করছেন। চার হাজার টাকার বিনিময়ে মৃত মহসিন খানের এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করে নিজে ছবি লাগিয়ে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারা খুঁজছে, এই কেলেঙ্কারিতে আর কারা জড়িত এবং কীভাবে মৃত ব্যক্তির ভোটার কার্ড ব্যবহার করে এসআইআর তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রীতিমতো ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভোটার তালিকায় অনৈতিক হস্তক্ষেপ, বিদেশি নাগরিকদের হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে ফের ভোট সংক্রান্ত এ ধরনের প্র্যাকটিস নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নভেম্বর ২৭, ২০২৫
রাজ্য

ঘূর্ণিঝড় বনাম শীত! ডিসেম্বরের শুরুতে কোন দিকে পাল্টাবে আবহাওয়া?

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গ জুড়ে নেমে এসেছে শীতের প্রকট কামড়। দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা এক লাফে নেমে পৌঁছেছে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পাহাড়ে সকাল-সন্ধ্যায় হিমেল হাওয়া ও তীব্র ঠান্ডায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরাও শীতের স্বাদ পাচ্ছেন। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে আলিপুরদুয়ার উত্তরের প্রায় সব জেলাতেই পারদ পতন স্পষ্ট। সকালের দিকে বহু জায়গায় কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রাস্তা, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও আপাতত উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, ফলে শুষ্ক আবহাওয়া চলবে এবং শীতও বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।কলকাতায়ও শীতের হাওয়া ঢুকে পড়েছে। বুধবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৩ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করেছে ৪১ থেকে ৯১ শতাংশের মধ্যে। ভোরবেলা হালকা কুয়াশা দেখা গেলেও বেলা বাড়লে আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা এই মুহূর্তে স্বাভাবিকের নিচেই রয়েছে। তবে আবহবিদদের মতে, আগামী দুই-তিন দিনে তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বাড়তে পারে, কিন্তু সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে উঠবে না।এই সময়ই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে জোড়া নিম্নচাপ। তার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা উড়ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছেএই নতুন সিস্টেম কি দক্ষিণবঙ্গের শীতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতির উপর অনেকটাই নির্ভর করছে শীতের আগ্রাসন। তবে এখনই শীত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েকদিন সকালের কুয়াশা, রাতে হালকা ঠান্ডা আর দিনের দিকে কিছুটা উষ্ণতা এই মিলেমিশে তৈরি হবে ডিসেম্বরের শুরুর স্বাভাবিক আবহাওয়া।

নভেম্বর ২৬, ২০২৫
দেশ

২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’ গড়তে কী করতে বললেন মোদি? সংবিধান দিবসে নতুন বার্তা

সংবিধান দিবসে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মূল কথা কর্তব্য পালন করলেই অধিকার জন্ম নেয়, আর সেই কর্তব্য পালনই ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি বিকশিত দেশে পরিণত করবে।বুধবার দেশবাসীকে উদ্দেশে মোদি বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিটি পদক্ষেপ সংবিধানকে আরও শক্তিশালী করে। জাতীয় লক্ষ্য ও স্বার্থকে সামনে রেখে এগোলে দেশ উন্নতির পথে আরও দৃঢ়ভাবে হাঁটতে পারবে। তাঁর কথায়, যদি দেশের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকে, তবে কর্তব্য পালন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।নিজের জীবনের কথাও স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, একটি দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী আর তার পেছনে সংবিধানের শক্তি ও সুযোগই রয়েছে। বলেন, আমাদের সংবিধান মহৎ, শক্তিশালী এবং সকলের জন্য সমান সুযোগের বার্তা দেয়।মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, অধিকার আসে কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়েই। সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তিই হলো এই কর্তব্য। এদিন ডঃ বি আর আম্বেডকর, ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদসহ গণপরিষদের বিশিষ্ট নারী সদস্যদেরও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের দূরদর্শিতা ও চিন্তাশীলতার ফলেই ভারত পেয়েছে এই সংবিধান এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি।এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, দেশের সংবিধান মানুষের মর্যাদা, সাম্য ও স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এটি যেমন নাগরিকদের অধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা দেয়, তেমনই কর্তব্য পালনের কথাও মনে করিয়ে দেয়। আর সেই কর্তব্যই শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি।সংবিধান দিবসের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন নাগরিকদের ভোটাধিকারের গুরুত্ব। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সকলে ভোট দেওয়া ও দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

নভেম্বর ২৬, ২০২৫
রাজ্য

মায়ের কোল থেকে শিশুচুরি, প্রশ্নের মুখে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সিসিটিভি দেখে খোঁজ পুলিশের

ভরদুপুরে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে মায়ের কোল থেকে ১১ দিনের কন্যা শিশুকে চুরি করে চম্পট। এই ঘটনার পর মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় মালদার মোথাবাড়ির বাঙ্গিটোলা সরকারি গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা। সোমবার দুপুর নাগাদ এমন ঘটনার জেরে হাসপাতাল চত্ত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েকে না পেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই নবমাতৃকা মনিকা বিবি। পরে স্থানীয়রা জল ছিটিয়ে ও সান্ত্বনা দিয়ে তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন।গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে মনিকা বিবি মোথাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাসপাতালে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক মধ্যবয়স্ক মহিলা মনিকার কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই ছবি সংগ্রহ করে আশপাশের সব থানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মোথাবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুলতানটোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও মনিকা বিবির সদ্যোজাত কন্যা সন্তান শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে এদিন হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আউটডোরের বেঞ্চে বসে ছিলেন মনিকা। ওই সময় শিশুটি কান্না শুরু করলে একটি অচেনা মহিলা এগিয়ে এসে বলেন, তিনি নাকি শিশুর কান্না থামাতে সাহায্য করবেন। শিশুকে কোলে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মনিকা চিকিৎসকের ডাকে এগিয়ে যান। আর সেই সুযোগেই শিশুকে নিয়ে গা-ঢাকা দেয় ওই মহিলা।মনিকা অভিযোগে জানান, মেয়ের ঠান্ডা লেগেছিল, খুব কান্না করছিল। ওই মহিলা বলেছিল কোলে নিয়ে চুপ করাবে। আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে যেতেই সে আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। একই অভিযোগ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও। শিশুটির কাকা আশরাফুল হক বলেন, সরকারি হাসপাতালে কোনও নিরাপত্তা নেই। ভরদুপুরে বাচ্চা চুরি হয়ে গেল! এখানে যে এমন অপরাধ চক্র সক্রিয়, তা বুঝতেই পারিনি।মোথাবাড়ি থানার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানান, সিসিটিভি পরীক্ষা করেই তদন্ত শুরু হয়েছে। আশেপাশের থানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানা এলাকার বিশেষ নজরদারি চলছে কারণ ওই হাসপাতাল থেকে খুব কাছেই গঙ্গার ওপারে ঝাড়খণ্ডের সীমানা। কালিয়াচক এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের মুখ স্পষ্ট দেখা গেয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।মালদা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, ঘটনাটি উদ্বেগজনক। পুলিশ তদন্ত করছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর। দিনে-দুপুরে এত লোকজনের সামনে থেকে শিশু চুরি। এমন ঘটনা প্রমাণ করে হাসপাতালে পাহারা বা নজরদারির কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বহু রোগীর আত্মীয়ই বলছেন, চুরি চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব নবজাতককে উদ্ধার করা এবং অভিযুক্ত মহিলাকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা। ইতিমধ্যেই ছবি ও তথ্য সব থানায় পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করার আশাতেই ব্যাকুল পরিবার।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কাজ করছে বিএলওরা, বাংলায় এসআইআরের আপডেট জানুন একনজরে

রাজ্যে ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯৯.৭৫% এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সংখ্যায় যা ৭ কোটি ৬৪ লক্ষেরও বেশি। খুবই অল্প অংশের ফর্ম বিলি এখনও বাকি রয়েছে।ফর্ম জমা ও আপলোডের কাজও সমান্তরালে এগোচ্ছে। কমিশনের তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত ৪ কোটির বেশি ফর্ম ডিজিটাইজ় করা হয়েছে, যা মোটের ৫৯.৪ শতাংশ। বাকি অংশের ডিজিটাইজেশনও চলছে দ্রুত গতিতে।ফর্ম ফেরত, কোথায় কোন সমস্যা?বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করার পরে তা সংগ্রহ করেন। সেই সময়ই তাঁরা বোঝেন কোন কোন ফর্ম পূরণ না হয়েই ফেরত এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ফেরত আসা ১০ লক্ষ ফর্মের মধ্যে প্রায় ৬.৫ লক্ষই মৃত ভোটারের। এছাড়া বাকি অংশে রয়েছেন, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার, অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটার ও দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ ব্যক্তিরা।কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে উত্তর কলকাতায় বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত বুথ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এসে যাবে বলে আশা। তখনই স্পষ্ট হবে, মোট কত সংখ্যক নাম বাদ পড়তে চলেছে।কখন জানা যাবে চূড়ান্ত চিত্র?২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের ভিত্তির তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত কত নাম বাদ গেল, তার পূর্ণ হিসেব মিলবে খসড়া প্রকাশে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা। সেদিনই স্পষ্ট হবেএই পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় কত নতুন নাম যুক্ত হলো,কত নাম বাদ গেল এবং ভোটার তালিকার মোট সংখ্যা কত দাঁড়াল।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
রাজ্য

শীত ভুলে যান! আন্দামান সাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় ‘সেনিয়ার’ বদলে দিতে পারে বাংলার আবহাওয়া

নভেম্বর প্রায় শেষ। অথচ শীতের দেখা নেই। সকাল-বিকেলের হালকা ঠান্ডাটুকুও এখনও শহর-গ্রামের মানুষ ঠিক টের পাচ্ছেন না। আবহাওয়া অফিসের হিসেব আরও হতাশাজনকনভেম্বর তো বটেই, ডিসেম্বরের শুরুতেও শীতের সম্ভাবনা নেই। বরং নতুন ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি হয়েছে, যা পুরো পূর্বভারতের আবহাওয়া পাল্টে দিতে পারে। ফলে শীত আরও পিছিয়ে যেতে পারে।এই মুহূর্তে আন্দামান সাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এই নিম্নচাপ সোমবারেই আরও শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। তারপর দফায় দফায় শক্তি বাড়িয়ে বুধবার এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে। নতুন ঘূর্ণিঝড়টির নাম সেনিয়ার, নামকরণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ঘূর্ণিঝড়টি কোন দিকে যাবেওড়িশা, অন্ধ্র, পশ্চিমবঙ্গ নাকি বাংলাদেশতা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, পর্যটকদের সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।ঘূর্ণিঝড়ের মূল গতিপথ স্পষ্ট না হলেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গে। আবহাওয়া দপ্তর প্রাথমিকভাবে মনে করছে, নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ঠান্ডা আরও দেরিতে নামবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে তাপমাত্রা কমার পরিবর্তে উল্টে বেড়েও যেতে পারে। আগেও, ২০২১-২২ সালে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শীত কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছিল। এবারও সেই চিত্রই ধরা পড়ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।অন্যদিকে, এই সময়টায় ধান কাটা ও আলুর চাষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়। ঠিক এখন যদি বৃষ্টি নামতে শুরু করে, তাহলে মাঠে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। ফলে কৃষক মহলেও চিন্তার ছায়া গাঢ় হচ্ছে।শীতের অপেক্ষায় বহু মানুষ, কিন্তু আবহাওয়ার বর্তমান প্রবণতা বলছেএই অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে।

নভেম্বর ২৩, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: একই গ্রুপে ভারত–পাকিস্তান, প্রকাশিত সূর্যকুমারদের ম্যাচ সূচি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ একই গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তান। সূর্যকুমারদের সম্পূর্ণ ম্যাচ সূচি, গ্রুপ তালিকা, ভেন্যু ও তারিখ জেনে নিন এক নজরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: একই গ্রুপে ভারতপাকিস্তান, সূর্যকুমারদের ম্যাচের সূচি প্রকাশ। র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে চার গ্রুপে ভাগ করেছে আইসিসি। ভারতের গ্রুপে পাকিস্তানসহ পাঁচ দল। ৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু।আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে গ্রুপ ভাগ করে দিয়েছে। চারটি গ্রুপে পাঁচটি করে দল অংশ নেবে টুর্নামেন্টে। সুপার এইটে উঠবে প্রতিটি গ্রুপের প্রথম দুই দল।সহজ গ্রুপে ভারত, একই গ্রুপে পাকিস্তানটি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ভারত পেয়েছে তুলনামূলক সহজ গ্রুপ। সূর্যকুমার যাদবদের সাথে সেই গ্রুপে হয়েছে পাকিস্তান (৭), নেদারল্যান্ডস (১৩), নামিবিয়া (১৫) এবং আমেরিকা (১৮)। ভারতপাকিস্তান ছাড়া সব কটি দলই অ্যাসোসিয়েট সদস্যফলে কাগজে-কলমে গ্রুপটি ভারতের পক্ষে সুবিধাজনক।কঠিন চ্যালেঞ্জে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাআয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কার গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জ়িম্বাবোয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমানচারটি টেস্ট খেলিয়ে দেশ। ইংল্যান্ডের গ্রুপও কঠিন। তাদের মুখোমুখি হতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, নেপাল ও কোয়ালিফায়ার ইটালি। দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রুপে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কানাডাযা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্ত গ্রুপগুলির মধ্যে একটি বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।ভারতের ম্যাচ সূচি কবে খেলবে কার বিরুদ্ধে?আইসিসি সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে, ভারত গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচ খেলবে৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অহমদাবাদ ভারত বনাম আমেরিকা১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দিল্লি ভারত বনাম নামিবিয়া১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, কলম্বো ভারত বনাম পাকিস্তান১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মুম্বই ভারত বনাম নেদারল্যান্ডসভেন্যুর তালিকাঃভারতের পাঁচটি শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচ হবেঅমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই ও চেন্নাই।শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ হবে কলম্বোর দুটি স্টেডিয়াম ও ক্যান্ডিতে।ফাইনাল সম্ভাব্য ভেন্যুঅমেদাবাদ।দুটি সেমিফাইনাল হবে কলকাতা এবং মুম্বইয়ে। তবে পাকিস্তান সেমি বা ফাইনালে পৌঁছলে তাদের ম্যাচ স্থানান্তরিত হবে শ্রীলঙ্কায়।২৫ নভেম্বর প্রকাশ হবে অফিসিয়াল সূচিঃআইসিসি ২৫ নভেম্বর সরকারি ভাবে পুরো সূচি ঘোষণা করবে। তার আগেই গ্রুপ ভাগ ও সম্ভাব্য দ্বৈরথ নিয়ে ক্রিকেট মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • ...
  • 99
  • 100
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিনোদুনিয়া

‘ভারতে আর শান্তি পাই না’, তুমুল বিতর্কের মাঝেই সঞ্জয় দত্তের ইউটার্ন! কী সাফাই দিলেন মুন্নাভাই?

ভারতে আর শান্তি পাই নাশেখর সুমনের অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দত্তের এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানের একটি অংশ প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে অভিনেতাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে না হতেই এবার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সঞ্জয়। অভিনেতার দাবি, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং পুরো কথোপকথনটাই ছিল আগে থেকে লেখা ও হালকা মেজাজের।শেখর সুমনের অনুষ্ঠানে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় বলেছিলেন, ভারতের মানুষ অত্যন্ত ভালো ও অতিথিপরায়ণ। কিন্তু ইদানীং দেশে আগের মতো শান্তি তিনি অনুভব করছেন না। সেই শান্তির সময় যেন দ্রুত ফিরে আসে, শিবের কাছে এমন প্রার্থনা করেন বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। এই মন্তব্যের একটি অংশ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক।এর পরেই সঞ্জয় দত্ত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা প্রতিষ্ঠানের অনুভূতিতে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। কাউকে অপমান বা অসম্মান করার ইচ্ছাও তাঁর ছিল না বলে জানান অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের কথোপকথনটি চিত্রনাট্য মেনেই তৈরি হয়েছিল এবং দর্শকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই তা বলা হয়েছিল।সঞ্জয়ের ব্যাখ্যা, তাঁর কথাগুলিকে অনুষ্ঠানের মূল প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করে দেখা হয়েছে। মুন্নাভাই ছবির হাস্যরস ও ব্যঙ্গের ধাঁচেই কথাগুলি বলা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। বিশেষ করে গান্ধীগিরি-র ভাবনার মাধ্যমে ভালোবাসা, আন্তরিকতা, একতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই বক্তব্যের মূল ভাবটি হারিয়ে গিয়ে তা অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।বিতর্কের সূত্রপাত মূলত অনুষ্ঠানের সেই অংশ নিয়ে, যেখানে সঞ্জয় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য করেছিলেন। পরে তাঁর বক্তব্যের আরও কিছু অংশও সামনে আসে, যেখানে মুন্নাভাই-এর ভঙ্গিতে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং শান্তির বার্তা ছিল। ফলে পুরো কথোপকথনটি কী প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।তবে বিতর্ক থামেনি। মন্তব্যটি নিয়ে সমাজমাধ্যমে একাংশের সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অন্য দিকে সঞ্জয়ের বক্তব্য, তাঁর কথার উদ্দেশ্য ছিল না কাউকে ছোট করা বা দেশের মানুষকে অসম্মান করা। বরং হাস্যরসের মাধ্যমে শান্তি, ভালোবাসা ও ঐক্যের বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি।ফলে একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন অন্য মোড় নিয়েছে। প্রথমে ভারতে শান্তি নেই মন্তব্য, তার পর সমাজমাধ্যমে সমালোচনা এবং শেষে অভিনেতার চিত্রনাট্য-নির্ভর কথোপকথনের ব্যাখ্যাসঞ্জয় দত্তকে ঘিরে এই বিতর্কে আপাতত নজর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
দেশ

সর্বসম্মতি না থাকলে এসআইআর বাতিল? জ্ঞানেশ কুমার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে বড় মোড়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের একক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের প্রশ্ন ঘিরেও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।মামলাকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব কমিশনারের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। আইনজীবী বিকাশ সিং আদালতে অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একক ভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই পর্যায়ে আদালত জ্ঞানেশ কুমারকে স্থগিত করার অন্তর্বর্তী আবেদন গ্রহণ করেনি।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৩ সালের আইনে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের তাঁদের সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত কিছু কাজের ক্ষেত্রে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেই রক্ষাকবচের সাংবিধানিক বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।এই মামলায় আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী নির্বাচন কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলাকারীদের তরফে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই মূল আপত্তি জানানো হয়েছে।শুনানিতে ফর্ম-৬-এর পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে আসে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত এই ফর্মে সাম্প্রতিক সময়ে একটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরে সেই পরিবর্তন সরিয়ে নেয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে দুই নির্বাচন কমিশনার ওই পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।ফর্ম-৬ নিয়ে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানতে চান, ওই পরিবর্তন কে করেছিলেন। আদালতের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, ফর্ম-৬-এ যে পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তার জন্য আদালতের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে কী ভাবে এবং কার নির্দেশে পরিবর্তন হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এসআইআর নিয়েও মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। মামলাকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন যদি সাংবিধানিক ভাবে নির্ধারিত যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে থাকে, তা হলে সেই সিদ্ধান্তগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এসআইআর ইতিমধ্যেই বাতিল হয়ে গিয়েছে বা আদালত তা বাতিল করে দিয়েছেএমন কোনও নির্দেশ এই শুনানিতে দেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নোটিস জারি করে পরবর্তী শুনানির পথ তৈরি হয়েছে।এর আগে নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, গত এক বছরে নেওয়া সব সিদ্ধান্তই সর্বসম্মত ছিল। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য বা পরামর্শ থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। অন্য দিকে, প্রকাশিত নথি নিয়ে প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনারের একাধিক আপত্তির কথা উঠে এসেছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভিতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। ফর্ম-৬ পরিবর্তনের বিষয়টি কী ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে আদালত কী বলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচের বৈধতা নিয়ে মামলাটি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েই এখন অপেক্ষা।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে হাজার হাজার মানুষ, ইসলামাবাদমুখী মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা!

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের রাজপথে ফের বড় মিছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করেছে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের সমর্থকেরা। মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ সোহেল আফ্রিদি। দলীয় সমর্থকদের নিয়ে মিছিলের লক্ষ্য ইসলামাবাদে পৌঁছনো।ইমরানের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এই মিছিল শুরু হওয়ার আগেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারের সঙ্গে তেহরিক-ই-ইনসাফের আলোচনা কোনও সমাধানে পৌঁছয়নি। এরপরই পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মিছিল শুরু করে ইমরানপন্থীরা। বিভিন্ন জেলা থেকে বহু সমর্থক লাক্কি মারওয়াতে জড়ো হন। মিছিলের সঙ্গে থাকা বহর ধীরে ধীরে ইসলামাবাদের দিকে এগোচ্ছে।মিছিল আটকাতে প্রশাসনের তরফেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। একাধিক জায়গায় রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে কন্টেনার দিয়ে। রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।মিছিল ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলেও খবর। কিছু এলাকায় পাথর ছোড়াছুড়ি এবং লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইমরানের দলও অভিযোগ করেছে, তাদের বহু সমর্থককে আটক করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার জনকে আটকের কথা বলা হয়েছে। তবে আটকের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।অন্য দিকে, ইমরানপন্থীরা জানিয়েছে, প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও তারা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাবে না। মিছিলের লক্ষ্য ইসলামাবাদে পৌঁছে ইমরান খানের মুক্তির দাবিকে আরও জোরালো করা। তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বের বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনা সফল না হওয়াতেই ফের রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই মিছিলের নেতৃত্বে থাকা খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি লাক্কি মারওয়াত থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, প্রদেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও নীতি মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইমরান খানের নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সমর্থনও জানান তিনি।ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় তাঁকে সাজাও দেওয়া হয়েছে। ইমরান ও তাঁর দল অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ মানে না। ফলে ইমরানের জেলবন্দি থাকা এবং তাঁর মুক্তির দাবিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে।এ বার সেই টানাপোড়েনই নতুন করে রাজপথে এসে পড়েছে। লাক্কি মারওয়াত থেকে শুরু হওয়া মিছিল কত দূর এগোয়, ইসলামাবাদে পৌঁছতে পারে কি না এবং প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত কতটা বাড়ে, এখন নজর সেদিকেই। পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই মিছিল নতুন করে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

মমতার পায়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে! হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস, এবার কী হবে?

২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে সেই সময়ের একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে দাবি করেন, রিপোর্টে পায়ে হাড় ভাঙা বা স্থানচ্যুতির প্রমাণ মেলেনি। এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।আইনি নোটিসে মূল প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে প্রকাশ্যে এল। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও সরকারি সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ আইন মেনে কোনও মেডিক্যাল নথি সংগ্রহ করলেও, সেই নথি সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার অধিকার স্বয়ংক্রিয় ভাবে তৈরি হয় না। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিসে সংবিধানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ বলেও আইনজীবীর তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার অধিকার রয়েছেএই বিষয়টিকেও বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।এই বিতর্কের সূত্রপাত নন্দীগ্রামের পুরনো ঘটনা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ২০২১ সালের এগারো মার্চের বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের রেডিয়ো ডায়াগনসিস বিভাগের একটি রিপোর্ট দেখান। তাঁর দাবি, সেই রিপোর্টে পায়ে হাড় ভাঙা বা স্থানচ্যুতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেই নথি দেখিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন পায়ের চোট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টি তদন্তের কথা জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিষয়টি সিআইডির নজরে রয়েছে। নির্বাচনী বিধি উঠে যাওয়ার পর এই ঘটনা নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে মেডিক্যাল রিপোর্টে হাড় ভাঙার প্রমাণ না থাকার অর্থ এই নয় যে ওই সময় কোনও ধরনের চোটই ছিল না। সমসাময়িক চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে পা ও শরীরের অন্য অংশে আঘাতের কথা উল্লেখ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে রিপোর্টের ব্যাখ্যা নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখন মূল প্রশ্ন তোলা হয়েছে রিপোর্ট প্রকাশের বৈধতা নিয়ে। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সরকারি দফতরের হাতে থাকলেই তা প্রকাশ্যে আনার অধিকার তৈরি হয় না। সেই কারণেই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।অন্য দিকে, তৃণমূলের তরফেও রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যে শাসক দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি কীভাবে প্রকাশ্যে এল। আবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০২১ সালের পায়ের চোট নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই তদন্তের প্রয়োজন।ফলে নন্দীগ্রামের পাঁচ বছর আগের সেই পায়ের চোটের ঘটনা ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এক দিকে মেডিক্যাল রিপোর্টে হাড় ভাঙার প্রমাণ না থাকার দাবি, অন্য দিকে সেই রিপোর্ট প্রকাশের বৈধতা নিয়ে মমতার আইনি পদক্ষেপদুই দিকের প্রশ্নেই এখন নজর। তদন্ত এগোলে পুরনো ঘটনার আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

তৃণমূলের পর এবার বিজেপি, রাজ্যসভার টিকিট হাতে কোয়েল! পুরনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?

রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রবিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সোমবার সকালে দলীয় দফতরে তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এর পরেই রাজ্যসভায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল জানান, এই দায়িত্ব তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি। বাংলার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি, কর্মসংস্থান এবং আরও বেশি স্কুল তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি নিজের মতো করে সেই দায়িত্ব পালন করতে চান।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। গত কয়েক মাসে বাংলায় উন্নয়নের কাজ দেখে তিনি উৎসাহিত হয়েছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, সামাজিক মাধ্যমে তিক্ততা বাড়ছে। কাজের সুযোগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলে সেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে মনে করেন তিনি।তবে কোয়েলের বিজেপিতে যোগদানের পর সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে তাঁর পুরনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে। কয়েক মাস আগেই তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। পরে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। রবিবার বিজেপি তাঁকেই ফের পশ্চিমবঙ্গের ওই আসনের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক পথবদল আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর অবশ্য দেননি কোয়েল। বরং তিনি জানান, অতীতে তিনি কারও সম্পর্কে খারাপ কথা বলেননি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে চান না। রাজনৈতিক মতবদলের পরেও ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে হাঁটবেন না বলেই বার্তা দিয়েছেন অভিনেত্রী।আগামিদিনে সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁকে আরও বেশি দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন কোয়েল। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবার সঙ্গে তাঁর পরিচয় রয়েছে। ছুটির সময়ে তাঁর মা তাঁকে মিশনারিজ় অব চ্যারিটিতে নিয়ে যেতেন বলেও জানান তিনি। মানুষের জীবনে সামান্য হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে সেটাকেই নিজের সাফল্য বলে মনে করবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।এদিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষও শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে কোয়েল বলেন, যাঁরা অন্যকে ছোট করে আনন্দ পান, তাঁদের প্রতি তাঁর কোনও রাগ নেই। মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে বিষয়টিকে তিনি অন্য ভাবে দেখেন বলেও জানান। কটাক্ষকারীদের মানসিক সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।ফলে অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক যাত্রায় আরও একটি বড় মোড় এল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ থেকে পদত্যাগ, তার পর বিজেপিতে যোগ এবং ফের রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়াপরপর এই ঘটনাগুলিই এখন বাংলার রাজনীতিতে কোয়েলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্র তৈরি করেছে। আগামী রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

রবিবারের সংঘর্ষের পর সকালেই বদলে গেল এসআরএফটিআই, গেটে গান্ধীর ছবি, ফের দেওয়াল লিখন!

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট। রবিবার বিকেলে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিলকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিলকারীদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তিও হয়। ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা পড়ুয়া ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে বাইরে থেকে ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরাও তাঁদের উপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন।রবিবার অজয়নগর থেকে মিছিল করে এসআরএফটিআইয়ের সামনে পৌঁছন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যেরা। সংগঠনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় স্বামী বিবেকানন্দ এবং ভারতমাতাকে অসম্মান করা হয়েছে। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই এই মিছিল বলে জানানো হয়। মিছিল এসআরএফটিআইয়ের সামনে পৌঁছনোর পর গেটের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বন্ধ গেট ঠেলে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা পড়ুয়া ও শিক্ষকদের দিকে বাইরে থেকে ইট এবং জলের বোতল ছোড়া হয়। এক জন অধ্যাপক আহত হয়েছেন বলেও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্য দিকে, মিছিলকারীদের কয়েক জনও আহত হয়েছেন বলে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।এই ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকেই এসআরএফটিআইয়ের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। মূল ফটকের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যাতে নতুন করে কোনও উত্তেজনা তৈরি না হয়। রবিবারের ঘটনায় মহাত্মা গান্ধীর ছবি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। তার পরের দিন সকালে পড়ুয়ারা ফের ক্যাম্পাসের গেটে গান্ধীর ছবি টাঙিয়ে দেন।এদিকে, রবিবার পুলিশের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে কিছু লেখা মুছে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকালে পড়ুয়ারা ফের সেখানে দেওয়াল লিখন করেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশ প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যের কাছেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।এসআরএফটিআইয়ে এই নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বার উত্তেজনা তৈরি হল। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পড়ুয়া এবং ওই সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এক সপ্তাহ না কাটতেই ফের বাইরের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল।ঘটনার পর এখন মূল নজর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং দুই পক্ষের ওঠানো অভিযোগের তদন্তের দিকে। একের পর এক রবিবারে এসআরএফটিআইয়ের মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং যাতে আর কোনও সংঘর্ষ না হয়, সেই জন্য নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে নন্দীগ্রামে বড় বদল! আইসি সরিয়ে নতুন আধিকারিক, কেন এমন সিদ্ধান্ত?

রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, সোমবার নন্দীগ্রাম থানার আইসি বদল করল নির্বাচন কমিশন। এত দিন এই পদে ছিলেন অজয়কুমার মিশ্র। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবাশিস সরকারকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অবিলম্বে এই বদলি কার্যকর করতে হবে। ভোটের ঠিক আগে এই রদবদল ঘিরে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আইসি বদলের নির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। দেবাশিস সরকার এর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ইনস্পেক্টর ইন-চার্জ হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। এখন তাঁকেই নন্দীগ্রাম থানার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হল। কমিশন তাঁর যোগদানের রিপোর্টও দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৬ অক্টোবর। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে নিয়ম অনুযায়ী তিনি একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়। সেই কারণেই এই উপনির্বাচন।নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক গুরুত্ব অবশ্য নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছিল। সেই নির্বাচনে শুভেন্দু জয়ী হন। পরবর্তী সময়েও নন্দীগ্রাম রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে থেকেছে। এবারের উপনির্বাচনেও তাই এই কেন্দ্রের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।এবারের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন মিলন প্রধান। নন্দীগ্রামের নির্বাচনী লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রচারে উত্তাপ ছিল যথেষ্ট। রবিবার সন্ধ্যায় প্রচারপর্ব শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের আগে সোমবারই আইসি বদলের সিদ্ধান্ত সামনে এল।গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেও অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্যের একাধিক থানার ওসি ও আইসি বদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সময় নন্দীগ্রাম-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি স্তরে রদবদল করা হয়েছিল।তবে এবার ভোটের মাত্র এক দিন আগে নন্দীগ্রামের আইসি বদলের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতেও কারণ জানানো হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তের এই প্রশাসনিক রদবদল নিয়েই এখন জোর চর্চা। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের ভোটে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসির অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী থাকে, সেদিকেই এখন নজর।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬
বিদেশ

৯/১১-র ছকেই কি হামামির পরিকল্পনা? স্মিতকে সরিয়ে ইজরায়েলে বিমান আছড়ানোর ভয়ঙ্কর নকশা ফাঁস

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝ আকাশে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সূত্র ও একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি শুধু ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেনি, বরং বিমানটিকে ইজরায়েলে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে। এমনকি তার পরিকল্পনার সঙ্গে ৯/১১-র ধাঁচের আত্মঘাতী বিমান হামলার মিল রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।তদন্তকারীদের জেরায় হামামি কী জানিয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে সরিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এরপর বিমানটিকে স্বাভাবিক ভাবে তেল আভিভের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে বিমানবন্দরের কোনও ভবন বা অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।ইতালির সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও দাবি করা হয়েছে, ককপিটে প্রার্থনা করার অছিলায় হামামি কুঠার বের করে স্মিতকে আক্রমণ করে। প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটিকে মরুভূমিতে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করার পর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করারও চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।ঘটনার ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায় যখন বিমানটি মাত্র কয়েক দশ সেকেন্ডে হাজার হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। এর আগে প্রকাশিত তদন্ত-তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার ফুট পর্যন্ত দ্রুত নেমে গিয়েছিল। গুরুতর আহত হয়েও স্মিত ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি করেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটদের হস্তক্ষেপে হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয়।তদন্তে হামামি একাই এই পরিকল্পনা করেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত হামামির সঙ্গে কোনও সংগঠিত গোষ্ঠীর যোগসূত্রের প্রমাণ সামনে আসেনি এবং সে একাই কাজ করে থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং তার উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশের তদন্তকারী সংস্থা খোঁজখবর করছে।এদিকে আরও একটি দাবি সামনে এসেছে। হামামি নাকি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগেই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। জুলাই মাসেও তার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কেন বাতিল হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এমনকি তেল আভিভগামী উড়ানের জন্যই সে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার পর হামামির আগের উড়ান-জীবন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওমানের একটি বিমান সংস্থা আগে তাকে উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। তবে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি এখনও তদন্তাধীন এবং হামামির অতীত সম্পর্কে সব তথ্যের সরকারি নিশ্চিতকরণ হয়নি।গত বুধবারের সেই ঘটনার সময় বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। ককপিটে হামলার পর বিমানটি দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। স্মিতের প্রতিরোধ, ককপিটের দরজা খোলা এবং যাত্রী ও অন্য পাইলটদের দ্রুত হস্তক্ষেপের জেরেই বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হামামির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য, তার সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল কি না এবং বিমানটি ঠিক কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলএই প্রশ্নগুলির তদন্ত এখনও চলছে।

অক্টোবর ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal