• ১১ আশ্বিন ১৪৩৩, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Ed

রাজ্য

ফের রাঙাপানিতে দুর্ঘটনার কবলে রেল, এখানেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা

সেই রাঙাপানিতে ফের রেল দুর্ঘটনা। মাস দেড়েক আগেই ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। বুধবার সেই জায়গাতেই আবারও রেল দুর্ঘটনা ঘটল। এবার লাইনচ্যুত হল মালগাড়ি।মঙ্গলবারই ঝাড়খণ্ডের চক্রধরপুর ডিভিশনের বারাবাম্বুতে মালগাড়ি লাইনচ্যুত হয়। সেই লাইনচ্যুত মালগাড়ির বগিতে পিছন থেকে ধাক্কা মারে হাওড়া-মুম্বই মেল। বেলাইন হয়ে ছিটকে পড়ে মুম্বই মেলের ১৮টি কামরা। দুর্ঘটনায় দুইজন যাত্রী নিহত হন, আহত হন শতাধিক। তার পরদিনই আবার লাইনচ্যুত হল মালগাড়ি। রেলের দুর্ঘটনা যেন লেগেই রয়েছে।বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ রাঙাপানি স্টেশনের কাছেই দুর্ঘটনা হয়। গত ১৭ জুন, এই রাঙাপানিতেই মালগাড়ির সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে মালগাড়ির চালকও ছিলেন। একই জায়গায় বারবার কেন দুর্ঘটনা, প্রশ্নের মুখে রেলের ভূমিকা।এদিকে এদিনের ট্রেন দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে লিখেছেন, আজ আরেকটি রেল দুর্ঘটনা, উত্তরবঙ্গের সেই একই, রাঙ্গাপানি এলাকায়, যেখানে মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে সবচেয়ে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছিলাম আমরা! যা ঘটছে তা নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন!!এদিকে, ঝাড়খণ্ডের চক্রধরপুর ডিভিশনের বারাবাম্বুতে স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত মুম্বই মেলের লাইনচ্যুত কামরাগুলি সরানোর কাজ চলছে। সরানো হচ্ছে বেলাইন হওয়া মালগাড়ির বগিও। আজ একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার ভোরে দুর্ঘটনা কবলে মুম্বই-হাওড়া মেল। রেললাইনে পড়ে থাকা মালগাড়ির বগির সঙ্গে ধাক্কা লাগে এক্সপ্রেস ট্রেনের। ২ জনের মৃত্যু হয়। এখনও ৮ জন আহত যাত্রী চক্রধরপুরের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

জুলাই ৩১, ২০২৪
রাজ্য

বাজারে আকাশছোঁয়া সবজির মূল্য, শেষমেষ বৈঠক কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

আকাশছোঁয়া সবজির দাম নিয়ে এবার পুলিশকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, ১০ দিনের মধ্যে সবজির দাম কমাতে হবে। এবং দাম কতটা কমল তা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট জমা দিতে হবে তাঁর কাছে। একদিকে উত্তরবঙ্গ ভাসছে অন্যদিকে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহেও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে সেই অর্থে বর্ষার এখনও দেখা মেলেনি। এদিকে বাজারে যেন আগুনের গোলা ছুটছে। লঙ্কা, বেগুন সবই ডবল সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে। ঢ্যারশ, উচ্ছের মতো সবজিও বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৯০ থেকে ১১০। ফসলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের একাংশ অনাবৃষ্টিকে দায়ী করছেন। তবে এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কারভাষায় জানিয়ে দেন, কিছু মুনাফাখোরের জন্যই এই মূলবৃদ্ধি।কৃষি পণ্য-সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিতে এবারের সাত দফার লোকসভা ভোটকেও দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তুলোধনা করেছেন একাংশের ব্যবসায়ীকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিন মাস ধরে ভোট চলেছে। তখন যে যত পেরেছে কামিয়েছে। ভোটের সময় সরকার কমিশনের আওতায় থাকে। কমিশনের তো এটা দেখা কাজ নয়। শুধু অফিসারদের বদলি করলেই কাজ হয়ে যায়? শাক-সবজির দাম বৃদ্ধি নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগের বছরের তুলনায় দাম কিছু জিনিসের বেড়ে গেছে। আলু, বেগুন, পেঁয়াজ, লঙ্কা, টমেটো, পটল সব কিছুর দাম বেড়েছে। বর্ষা এসে গেল, তাও কিছুতেই দাম কমছে না। সাধারণ মানুষ তো এখন বাজারে যেতেই ভয় পাচ্ছে।বড় ব্যবসায়ীদের একটা অংশ কোল্ড স্টোরেজে আলু আটকে রাখছেন। রাজ্যের হিমঘরগুলিতে আলু কেন পড়ে রয়েছে?পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী :মহারাষ্ট্রের নাসিকের পরিবর্তে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনুন। সুফল বাংলায় ৮ টাকা কমে পেঁয়াজ মিলছে। পেঁয়াজ স্টোর করার চার হাজার পেঁয়াজ গোলা তৈরি করেছি। সেখান থেকে পেঁয়াজ নিচ্ছি। চাষিদের কাছ থেকে কিনলে দাম কমে যাবে। সুফল বাংলায় আমরা কম দামে দিচ্ছি বাজারের তুলনায়। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাবে। নাসিকের পেঁয়াজের উপর ভরসা না করে নিজস্ব সুখসাগরের মতো পেঁয়াজ চাষিদের থেকে কিনুন। পেঁয়াজের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। আগেরবার ছিল ৩৫ এবার তো ৫০। আগে এফসিআই থেকে চাল কিনতাম। এখন রেশনের চাল কৃষকদের থেকে কিনি।

জুলাই ১০, ২০২৪
রাজ্য

উত্তরপ্রদেশের হাতরস ফের শিরোনামে, এবার পদপিষ্টে ৫০ জনের মৃত্য়ুর আশঙ্কা

আবার খবরের শিরোনামে উত্তরপ্রদেশের হাথরস। চার বছর আগে এই হাথরসেই এক দলিত নাবালিকার গণধর্ষণে মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল সারা দেশ দেশ। এবার যোগী রাজ্যের এই শহরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল অন্তত ৫০ জনের। গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনের ভূমিকা।সূত্রে খবর, হাথরসের মুঘলগড়ি গ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এটাওয়ার পুলিশ সুপার রাজেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, হতাহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। মৃতদের দেহ শনাক্তকরণের কাজ চলছে।জানা গিয়েছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ হতেই চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বিপুল সংখ্যক ভক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হুড়োহুড়ির ফলে অনেকে মাটিতে পড়ে যান, তাতেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। নিহতের মধ্যে বহু মহিলা এবং বেশ কয়েকটি শিশুও রয়েছে। কীভাবে কেন এই ঘটনা ঘটল তা তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। জানা গিয়েছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শিবকথা চলছিল। তা শেষ হতেই হলের ছোট দরজা দিয়ে সবাই একসঙ্গে বেরনোর চেষ্টা করেন। তাতেই ঘটে বিপত্তি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। আহতদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কাজনক। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার বিবরণ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জুলাই ০২, ২০২৪
রাজনীতি

বিজেপির লোকসভার প্রার্থীই দল বিরোধী কাজে অভিযুক্ত! সাময়িক বরখাস্ত

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস তথা ববিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিজেপি। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দলের অভ্য়ন্তরেই। দল বিরোধী অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। রাজ্য় বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রমুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত ভাবে জানিয়েছেন কমিটির সুপারিশে ও রাজ্য সভাপতির নির্দেশ এই পত্র দিয়েছেন। আগামী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত দল অভিজিৎ দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা বলা হয়েছে।মঙ্গলবার দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার কিছু জায়গায় অত্য়াচারিতদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিয় দল। মঙ্গলবার সকালে বারুইপুর যাওয়ার পথে আমতলা দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি দল। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে কথা বলতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা দাবি জানাতে থাকে, তাঁদের প্রার্থীর বাড়িতে বিজেপির ঘরছাড়ারা রয়েছে তাঁদের সঙ্গে দেখা করে কথা শুনতে হবে। যদিও তাঁরা সেখানে যাননি। বারুইপুর দলীয় কার্যালয়ে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে চলে যান। অভিজিৎ দাসের বিরুদ্ধে বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি একাধিক অভিযোগ এনেছে। মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে না থাকা, ভোট পরবর্তী হামলায় আক্রান্তদের সেই বৈঠকে যেতে না দেওয়া, কর্মীদের দ্বারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ঘেরাও, অনৈতিক মন্তব্য়, বিজেপির ডায়মন্ড হারবার জেলা কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলা- এই সব ঘটনার পিছনে অভিজিতের ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে বলে চিঠিতে লেখা হয়েছে। চিঠিতেবলা হয়েছে, আপনি দলের কার্যকর্তা সেই কথা মাথায় রেখে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সুপারিশে ও দলের করাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নির্দেশে ৭ দিনের মধ্যে দলবিরেোধী কার্যকলাপের কারণ দর্শাতে হবে। আপাতত সাময়িক বরখাস্ত করেছে দল। চিঠি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রমুখ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

জুন ১৯, ২০২৪
রাজ্য

ক্ষণিকের ভুলে চোখের সামনেই দীঘার উত্তাল সমুদ্রে তলিয়ে গেল ছেলে

ফের দিঘার সমুদ্রে মর্মান্তিক ঘটনা। সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল এক স্কুল পড়ুয়া। ১৫ বছরের ওই কিশোরের নাম শুভজিৎ দে। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা শুভজিৎ মা ও ভাইয়ের সঙ্গে দিঘা বেড়াতে আসে। শুক্রবার সকালে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে ঘটে বিপত্তি। উত্তাল ঢেউ সামলাতে পারেনি ওই কিশোর। তাঁর দেহের খোঁজে চলছে তল্লাশি।পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার শুভজিৎ এবং তার ভাই বিশ্বজিৎ মায়ের সঙ্গে দিঘা বেড়াতে যায়। শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ ওল্ড দিঘার জগন্নাথ ঘাটে স্নান করতে যায় তারা। এদিকে সকাল থেকেই দিঘার সমুদ্র ছিল উত্তাল। স্নান করতে নেমে কিছুক্ষের মধ্যে বিপদ ঘনিয়ে আসে।

জুন ১৪, ২০২৪
রাজ্য

পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিপাকে, পাটুলি, বিষ্ণুপুর, বোলপুরের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে আরও বিপাকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তদন্তের সূত্রে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর আরও অনেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কলকাতার পাটুলি, বোলপুর, বিষ্ণুপুর-সহ একাধিক জায়গা থেকে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর।ইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যে সম্পত্তি তারা বাজেয়াপ্ত করেছে তা সরাসরি পার্থের নামে নয় তবে তদন্তে কেন্দ্রীয় এজেন্সি জানতে পেরেছে, এই সম্পত্তিগুলি পার্থরই। শুধুমাত্র বোলপুরেই অন্তত পাঁচটি সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। যার বাজারমূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা। জমি ছাড়াও একাধিক সংস্থার কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করেছে ইডি। এগুলি পার্থর বলেই মনে করা হচ্ছে। নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে এই সব জমি-সম্পত্তির যোগ রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে শুরুতে পার্থর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নামে বোলপুরে একটি বাড়ির সন্ধান পেয়েছিল ইডি। সেই বাড়ির নাম আবার অপা। পরে সেই বাড়ি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে এক্ষেত্রে ইডি সূত্রের খবর, কোনও সম্পত্তিই নিজের নামে রাখেননি পার্থ। সব নথিতেই তাঁর কোনও না কোনও ঘনিষ্ঠের নাম রয়েছে।নিয়োগ মামলার তদন্তে নেমে ২০২২ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। সেই থেকে তিনি জেলবন্দি। সে সময়ে পার্থের বান্ধবী হিসাবে পরিচিত অর্পিতার ডায়মন্ড সিটির ফ্ল্যাট থেকে ২২ কোটির বেশি এবং বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ২৭ কোটির বেশি টাকা উদ্ধার হয়। দুই ফ্ল্যাট থেকে বিদেশি মুদ্রা এবং সোনাও উদ্ধার করে ইডি। এই সমস্ত সম্পত্তি এবং সোনাদানা, ফ্ল্যাট-বাড়ি মিলিয়ে কম করে ৬০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যা আদতে অর্পিতার নামে থাকা পার্থের সম্পত্তি বলেই দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।এবার পাটুলি, বোলপুর, বিষ্ণুপুর থেকে যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তাতে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ ৬০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় মোট ১৩৫ কোটি টাকার নগদ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।

জুন ১৪, ২০২৪
রাজ্য

অধিকারী গড় পূর্ব মেদিনীপুরে ফের জেলাশাসক পদে পূর্ণেন্দু

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক বদল। ফেরানো হলো পূর্ণেন্দু কুমার মাজিকে। নির্বাচনের আগে এই জেলায় জয়শী দাশগুপ্তকে জেলাশাসক করে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আচরণবিধি উঠে যেতেই জয়শীকে জেলাশাসকের পদ থেকে সরানোর বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল গতকাল। ঘোষণা প্ নতুন জেলাশাসকের নাম।লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, পূর্ব মেদিনীপুরে ভোট লুঠ করা হয়েছে। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, ওসি-আইসিদের নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দিতেই বিজেপি ভোট লুঠ করেছে। নানা পন্থা অবলম্বন করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলকে।উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি ও তমলুক লোকসভা কেন্দ্র তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের এগরা ও ঘাটালের পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা ক্ষেত্রেও লিড পেয়েছে বিজেপি। জেলার ১৬টির মধ্যে ১৫টি বিধানসভা এলাকায় এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে যে জেলাশাসকদের বিভিন্ন জেলায় আনা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককেই প্রথম সরানো হল। রাজনৈতিক দিক থেকেও তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। গত ২২ মার্চের বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন আইএএস জয়শী দাশগুপ্ত। তৎকালীন জেলাশাসক তনভীর আফজলকে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব করা হয়েছিল।পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জেলাশাসকের দায়িত্ব সামলানো পূর্ণেন্দু কুমার মাজিকে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণার আগে তাঁকেও বীরভূমের জেলাশাসক করা হয়েছিল। বীরভূমের জেলাশাসক বিধানচন্দ্র রায় পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের দায়িত্বে আসেন।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সরানো হয় পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককেও। ২২ মার্চ বিজ্ঞপ্তি করে জানানো হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক হবেন আইএএস কে রাধিকা আইয়ার। তখন বিধানচন্দ্র রায়কে বিদ্যুৎ দফতরের বিশেষ সচিব পদে পাঠানো হয়েছিল।বীরভূমের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজিকে বদলি করা হয়েছিল রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগমের এমডি পদে। এবার তাঁকে পাঠানো হলো পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক করে, যে দায়িত্ব তিনি আগেও সামলেছেন।

জুন ১০, ২০২৪
বিদেশ

নিউ টাউনে খুন বাংলাদেশের এমপি আনোয়ার উল আজিম

গত ১২ তারিখ কলকাতায় আসে চিকিৎসার জন্য। এরপর সেখান থেকে নিউ টাউন এর একটি বিলাসবহুল আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেন তারপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায়। বাড়ির লোক বারংবার ফোন করলেও যোগাযোগ করতে পারেনি। এরপরই বাংলাদেশ মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। এরপরই আনোয়ার উল আজিম দেহ উদ্ধার হয় নিউটাউনের বিলাসবহুল আবাসন থেকে।পুলিশ সূত্রে খবর, খুলনার ঝিনাইদহ এলাকার চার আসনের এমপি আনোয়ার উল আজিম। তিনি যখন নিউটাউনের বিলাসবহুল আবাসনে ওঠেন তার সঙ্গে ছিল একজন মহিলা সঙ্গী সহ বেশ কয়েকজন। তবে কারা খুন করল, কেনই বা খুন করল এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে নিউটাউন থানার পুলিশ এবং বিধান নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ ও এইচডিএফ আধিকারিকেরা তদন্তে নেমেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসনে সিসিটিভি ফুটেজ।

মে ২২, ২০২৪
রাজনীতি

শুভেন্দু গড়ে জনসভায় গড়হাজির, ঝাড়গ্রামের মঞ্চ থেকে মোদীর নিশানায় তৃণমূল

প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাহত হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি। কাঁথি এবং তমলুকের সভা তাঁকে সারতে হল ঝাড়গ্রাম থেকেই। সোমবার ঝাড়গ্রামে ছিল মোদীর দ্বিতীয় জনসভা। আবহাওয়াজনিত কারণে, ঝাড়গ্রামের মঞ্চ থেকেই তিনি কাঁথি এবং তমলুকের প্রার্থীদের হয়ে ভাষণ দেন।এক সভা থেকে অন্য সভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী কপ্টারে করে পৌঁছন। কিন্তু, তাঁর কপ্টার ছাড়ার অনুমতি রক্ষীরা দেননি। তার কারণ, পুরোপুরি আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ। সোমবারই প্রধানমন্ত্রীর তমলুকে বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি যাওয়ার কথা ছিল কাঁথির বিজেপি প্রার্থী সৌমেন্দু অধিকারীর হলদিয়ার সভায়। কিন্তু, সেখানে পৌঁছতে না পেরে ঝাড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থীর সভামঞ্চ থেকেই তিনি বাকি দুটি সভার কাজ সারেন। প্রধানমন্ত্রী যে দুটি সভায় স্বশরীরে থাকতে পারবেন না, তা বিজেপি কর্মীদের জানিয়ে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।ঝাড়গ্রামের সভাস্থল থেকে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে চরম আক্রমণ করেন। এর আগে রবিবার পুরুলিয়া, বিষ্ণুপুর এবং মেদিনীপুরে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার দেশে পঞ্চম দফা লোকসভা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে বাংলায় সাতটি আসনে হয়েছে নির্বাচন। এমনিতে প্রতিটি নির্বাচনের দিন প্রধানমন্ত্রী সভা করেন। যে অঞ্চলে ভোট হবে, সেই জায়গার জন্য তিনি সভা করেন।প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচি বহু আগে থেকেই ঠিক থাকলেও আবহাওয়া দফতর সোমবার সকালেই জানিয়েছে, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হবে। সঙ্গে বজ্রপাতেরও সম্ভাবনা আছে। ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ইতিমধ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন রাজ্যের মানুষ। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর সভাও প্রাকৃতিক দু্যোগের কারণে ব্যাহত হল। তবে, প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলে পৌঁছতে না পারলেও দুর্যোগ উপেক্ষা করে বিজেপি কর্মীরা সভায় যোগ দিয়েছিলেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব ছিল বুথকর্মীদের সভাস্থলে নিয়ে আসার। তাঁরা সেইমত দূর-দূরান্ত থেকে কর্মীদের ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সভাস্থলে নিয়ে এসেছিলেন।

মে ২১, ২০২৪
শিক্ষা

উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম আলিপুরদুয়ারের অভীক, রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলির স্নেহা

প্রকাশিত হল উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট। এবার ১৫টা জেলা থেকে ৫৮ জন প্রথম দশে স্থান পেয়েছে। হুগলিতে ১৩ জন, বাঁকুড়াতে ৯ দক্ষিণ ২৪ পরগানায় ৭, কলকাতায় ৫, পূর্ব বর্ধমান ও পূর্ব মেদিনীপুরের ৪ জন করে আছেন প্রথম দশে। উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হয়েছেন আলিপুরদুয়ারের অভীক দাস। পেয়েছেন ৪৯৬ অর্থাৎ ৯৯.২ শতাংশ। দ্বিতীয় সৌম্যদীপ সাহা ৪৯৫ নরেন্দ্রপুর হাইস্কুলের ছাত্র। ৪৯৪ পেয়ে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন অভিষেক গুপ্ত। রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুল, মালদার ছাত্র অভিষেক। চতুর্থ প্রতীচি ও স্নেহা ঘোষ হুগলি থেকে। নম্বর ৫৯৩। মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্নেহা। এবার পঞ্চম হয়েছেন ৭ জন। তাঁরা ৪৯২ পেয়েছেন।

মে ০৮, ২০২৪
রাজ্য

নির্বাচনের মুখে মালদায় বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা

লোকসভা নির্বাচনের মুখে চাঁচোলের বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় চাঁচোল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির ইনচার্জ তিলক রাম সহ গাড়িতে থাকা আরও তিন দলীয় কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে নির্বাচন কমিশনের স্কোয়াড বাহিনীর অফিসারেরা। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচোল থানার পাহাড়পুর বাইপাস সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। যদিও চাঁচোলের বিজেপি নেতা তিলক রাম স্বীকার করেছে যে দলের জেলা নেতৃত্ব বুথ খরচের জন্য এই টাকাগুলি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আর বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হতেই মালদায় শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক।পুলিশ সূত্রে খবর, লোকসভা ভোট ঘোষণা হতেই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের স্কোয়াড বাহিনী মালদার বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি চালানো শুরু করেছে। মূলত মালদার বিহার, ঝাড়খন্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাতেই বেশি করেই তদারকি চলছে। এরই মধ্যে বুধবার রাতে চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চার বিজেপি নেতা একটি চার চাকার গাড়ি নিয়ে মালদা থেকে ফিরছিলেন। সেই সময় চাঁচোলের পাহাড়পুর বাইপাস রোডে ওই গাড়িটি আটকায় নির্বাচন কমিশনের তদন্তকারী টিম স্কোয়াড বাহিনীর অফিসারেরা। কিন্তু পুলিশের ঘেরাটোপে এড়িয়ে গাড়িটি সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ। এরপরই স্কোয়াড টিমের অফিসারেরা ধাওয়া করে গাড়িটিকে মাঝ রাস্তায় আটক করে । তারপরে ওই গাড়ি থেকেই ৮ লক্ষ টাকার পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বিজেপির বিভিন্ন ধরনের প্রচার পত্র, ফেস্টুন। এই ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া ৮ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এদিকে লোকসভা ভোটের মুখে বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের চাঁচোল ১ ব্লক সভাপতি শেখ আফসার আলি জানিয়েছেন, বুথ খরচের জন্য এত টাকা বিজেপি দিচ্ছে তা ভাবতে অবাক লাগছে। এসবই কালো টাকা। মানুষ ১০০ দিনের কাজের টাকা পাচ্ছে না। অথচ সেই গরিব মানুষের টাকা ভোটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। লোকসভা ভোটের মাধ্যমে মানুষ এর বিচার করবে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও আমরা আশা করছি।চাঁচোল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির ইনচার্জ তিলক রাম জানিয়েছেন, মালদা জেলা বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকেই এই আট লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল বুথ খরচের জন্য। এদিন জেলা বিজেপি পার্টি অফিস থেকে টাকাগুলি নিয়েই আমরা চাঁচোলে আসছিলাম। তখনই পুলিশ নজরদারি চালিয়ে টাকাগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যাদের গাড়ি থেকেই টাকাগুলি উদ্ধার হয়েছে সেই বিজেপির কর্মকর্তাদের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়ার টাকাগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী মামলার রুজু করা হয়েছে।

মে ০২, ২০২৪
শিক্ষা

দেখে নিন এক ঝলকে ২০২৪ মাধ্যমিকের মেধা তালিকা

প্রকাশিত হল ২০২৪ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। এবারের রাজ্য মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় প্রথম দশে রয়েছেন মোট ৫৭ জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রী। মেধাতালিকায় ছেলেদের সংখ্যা ৪৫ জন এবং মেয়েদের সংখ্যা ১২ জন। যদিও পাশের হারে মেয়েরা এবার ছেলেদের থেকে বেশী পাশ করেছে। মাধ্যমিক ২০২৪-এ প্রথম দশের সম্পূর্ণ মেধাতালিকা জেনে নিন। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮০ দিনের মাথায় ফলাফল বেরোলো। পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে কালিম্পং জেলা। অন্য জেলাগুলির সফলতাও এবারে নজরকাড়া। কোন জেলার কোন পড়ুয়া সেরা দশে? রইল তার সবিস্তার তালিকা।প্রথম:চন্দ্রচূড় সেন। কোচবিহারের রামভোলা হাইস্কুলের এই কৃতী ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩ (৯৯%)।দ্বিতীয়:সাম্যপ্রিয় গুরু পুরুলিয়া জেলা স্কুলের ছাত্র। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২ (৯৮.৯৬%)।তৃতীয়:এবারের মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ৩ জন পরীক্ষার্থী। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের ছাত্র উদয়ন প্রসাদ, বীরভূমের ইলামবাজারের নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের পুষ্পিতা বাঁশুরি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র নৈঋতরঞ্জন পাল তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।চতুর্থ:এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় চতুর্থ হয়েছেন হুগলির কামারপুকুর রামকৃষ্ণ হাইস্কলের ছাত্র তপজ্যোতি মণ্ডল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০ (৯৮.৫৭%)।পঞ্চম:পূর্ব বর্ধমানের অর্ঘ্যদীপ বসাক ৬৮৯ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। অর্ঘ্যদীপ পারুলডাঙা নসরতপুর হাইস্কুলের পড়ুয়া।ষষ্ঠ:মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্থানে ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রয়েছেন মোট ৪ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের কৃষাণু সাহা, পশ্চিম মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র কৌস্তভ সাহু। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র অলিভ গায়েন এবং মালদহের মোহামপুর এইচএসএসবি হাইস্কুলের ছাত্র মহম্মদ সাহারুদ্দিন।সপ্তম:৬৮৭ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে সপ্তম স্থানে রয়েছেন মোট ৯ জন। তাঁরা হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী আবৃত্তি ঘটক, কোচবিহারের মাথাভাঙা হাইস্কুলের আসিফ কামাল। বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের অর্পিতা ঘোষ, বালুরঘাট হাইস্কুলের সাত্যদা দে, পূর্ব মেদিনীপুরের জ্ঞানদীপ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের সুপমকুমার রায়, বীরভূমের সরোজিনী দেবী শিশু মন্দিরের আরত্রিক শ, পূর্ব মেদিনীপুরের বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের কৌস্তভ মল, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণমিশনের আলেখ্য মাইতি।অষ্টম:৬৮৬ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে অষ্টম স্থানে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মিশন গার্লস স্কুলের ছাত্রী তনুকা পাল, পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবনের ছাত্রী ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী, নদিয়ার কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ঋদ্ধি মল্লিক ও বর্ধমান মিউনিসিপাল হাইস্কুলের ছাত্র দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য।নবম:মাধ্যমিকে ৬৮৫ নম্বর পেয়ে নবম স্থানে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাউল পরমেশ্বর হাইস্কুলের অস্মিতা চক্রবর্তী, এই জেলারই রৌণক ঘোষ, মালদহের মোহামপুর এইচএসএসবি হাইস্কুলের বিশালচন্দ্র মণ্ডল, এই স্কুলেরই আমিনুল ইসলাম। বীরভূমের সাইঁথিয়া টাউন স্কুলের চন্দ্রদীপ দাস, বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলের অরুণিমা চট্টোপাধ্যায়, মেদিনীপুরের কলেজিয়েট স্কুলের ধৃতিমান পাল। ঝাড়গ্রামের রানি বিনোদমঞ্জরী গার্লস হাইস্কুলের অণ্বেষা ঘোষ, রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের সায়ক শাসমল ও সাগর জানা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ঋতব্রত নাথ, ঋত্বিক দত্ত। নদিয়ার চাকদহের রামলাল অ্যাকাডেমির ছাত্র জিষ্ণু দাস, বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের সাগ্নিক ঘটক, শ্যামপুর হাইস্কুলের অরণ্যদেব বর্মন, সারজোনী বিদ্যাপীঠের সায়নদীপ মান্না।দশম:২০২৪ র মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন মোট ১৫ জন। এদের প্রত্যেকেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৪। তারা হলেনঃ১। পূর্ব মেদিনীপুরের কন্টই মডেল ইন্সটিউশনের সম্পাদ পারিয়া, ঋতম দাস। ২। পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী সম্পূর্ণা নাথ, ৩। হুগলির ইএলআইটি কো-এডুকেশন স্কুলের ছাত্র নীলাঙ্কন মণ্ডল, ৪। বাঁকড়ার তালডাংরা ফুলমতী হাইস্কুলের সৌমিক খান। ৫। পূর্ব বর্ধমানের পারুলডাঙা নসরতপুকর হাইস্কুলের অর্ণব বিশ্বাস, ৬। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া কাশীরাম দাস ইন্সটিটিউশনের অনীশ কোনার।৭। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী ভূমি সরকার, ৮। মালদহের মোজামপুর হাইস্কুলের বিশাল মণ্ডল, ৯। বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সৌভিক দত্ত, গড় রায়পুর হাইস্কুলের ছাত্র সৌম্যদীপ মণ্ডল। ১০। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাবভনের ছাত্র অগ্নিভ পাত্র, ১১। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র শুভ্রকান্তি জানা, ১২। সারদী বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের ইশান বিশ্বাস।

মে ০২, ২০২৪
রাজনীতি

"চাকরি খেকো মানুষ দেখেছেন?", মেদিনীপুরের জনসভায় প্রশ্ন মমতার

এদিন তৃণমূলের দুই প্রার্থী তমলুকের দেবাংশু ভট্টাচার্য ও মেদিনীপুরের জুন মালিয়ার সমর্থনে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আপনারা মানুষ খেকো বাঘ দেখেছেন। চাকরি খেকো মানুষ দেখেছেন?মমতা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, একদিকে যেমন বিনা পয়সায় রেশন দেওয়ার মত মিথ্যাচার করছে বিজেপি, অন্যদিকে গদ্দাররা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে বাংলায় হিংসার বাতাবরণ সৃষ্টি করছে। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের জোড়াফুলের প্রার্থী, যুব সমাজের প্রতিনিধি দেবাংশু ভট্টাচার্য এবং মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের জোড়াফুলের প্রার্থী, বিশিষ্ট অভিনেত্রী জুন মালিয়াকে আপনারা জয়ী করুন এবং এই মাটি থেকে সকল অপশক্তিদের বিদায় দিন। কারণ এরা কোনও দিন আপনাদের ভালো চায় না, চাইতে পারে না। এদের ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই থামবে না।মমতা বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মেদিনীপুরের এই ধাত্রীভূমি কোনও দিন কোনও সাম্প্রদায়িক-বিভেদকামী শক্তির কাছে বশ্যতা স্বীকার করেনি। এই পবিত্র মাটি শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর মাটি, মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সতীশ সামন্ত, সুশীল ধাড়া, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল-এর মাটি। আজকের কেশিয়াড়ী এবং দাঁতনের জনসভায় অসহ্য গরমেও বিপুল সংখ্যায় মানুষ এসে, এই সভা দুটিকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন। এর জন্য আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো।

এপ্রিল ২৬, ২০২৪
নিবন্ধ

ঝাপসা পলাশ

সেই কাকভোর থেকে অগোছালো শরীরটাকে টেনে হিচড়ে, ইচ্ছে -অনিচ্ছের রাস্তা মাড়িয়ে বয়ে নিয়ে যাওয়া এখন করুণ অভ্যেস।রাতের বিছানায় নেতিয়ে না পড়া পর্যন্ত শান্তি নেই, সংসার বড় বালাই। তাই চা, বিড়ি, ফর্দ, সমালোচনা, গালাগালি, হিসেবনিকেশ।অসুখটা ঠিক শরীরে নয়। চাওয়া পাওয়ার ঘাটতি গুলো মনের ভিতর জমে বাষ্প হয়ে মেঘ হয়, কিন্তু বৃষ্টি হয়না।জীবাণুদের কোলাহল বাড়তে থাকে, বিপ্লবের টের পাই সেই অদ্ভুত নীরব অনুভূতির সাম্রাজ্যে - যেটা আজও বেশ অচেনা।কল্পনার বেনো জলে ভেসে আসে উদগ্র বাসনা - ব্যার্থ চাহিদাগুলো সার দিয়ে দাঁড়ায়, সস্তা লালসার দংশনে মন জেরবার।রাত বাড়ে, পাল্লা দিয়ে চলে গাঢ় নীলচে অন্ধকারে অগাধ সাঁতার, অন্তহীন আকাশের মতো, যেখানে শব্দ নেই আছে বিস্তার।হারতে হারতেও লড়াইটা টিকিয়ে রাখার ক্ষীণ প্রয়াস, বারোমাস। কুয়াশা মাখা ভোরের পর একঘেয়ে সকাল, ঘর্মস্রাবি দিনের শেষে চোখের কোনে জমে ঝুল।সাতচল্লিশটা বসন্ত পার করার পর পলাশ, কৃষ্ণচূড়ারা আজও শুধুই লালচে ফুল।দীপক কুমার মণ্ডলবর্ধমান

এপ্রিল ১৯, ২০২৪
দেশ

উত্তর বনাম দক্ষিণ

১৯ শে এপ্রিল শুরু লোকসভা নির্বাচন। রামমন্দির, সিএএ (CAA), দূর্নীতি, ইলেক্টরাল বন্ড (Electoral Bond), ইডি (ED), সিবিআই-র (CBI) গ্ৰেফতার কড়া নাড়া। প্রচারে এই সমস্তই হাতিয়ার। এর পাশাপাশি চলছে লাভার্থী বা সুবিধা ভোগী বাড়িয়ে ভোট কুড়োনোর জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা। এর তুলনায় বেকারত্বের সমস্যা, ক্ষুধার সমস্যা, বৈষম্য বেড়ে চলা, স্বাস্থ্য পরিষেবার অপ্রতুলতা নিয়ে হইচই অনেক কম। অনেকে বলছেন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যুক্তরাস্ট্রীয় কাঠামোর চেহারা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ও বিরোধী রাজনীতির পরিসরের মত বিষয়গুলি ভবিষ্যতে কোন দিকে বাঁক নেবে তা নির্ধারিত হবে এবারের নির্বাচনে। তবে এরই মাঝে চোরা স্রোতের মত বইছে আরো এক সমস্যা। যা গত বছর কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পরে বাড়তি গতি পেয়েছে। এই হারের পরে বিন্ধ পর্বতের নিচে কোনো রাজ্যেই আর গেরুয়া শাসন নেই। এই পথ বেয়েই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে উত্তর বনাম দক্ষিণের বিভাজন। সংসদীয় রাজনীতির এই পাশা খেলার ফল প্রতিফলিত হচ্ছে ভাষা, আর্থিক উন্নয়ন, আর সামাজিক রূপান্তরের রাজনীতিতেও।আরও পড়ুনঃ কেজরীওয়াল: টেক্কা না পুট?Colonial Hangover বলে ইংরেজি কে যতই গাল পাড়ুন, বর্তমানে হিন্দি-হিন্দুস্তানের দাপটের মাঝেও ইংরেজি বিনা গীত নেই। চাকরির ক্ষেত্রে, সমাজে কল্কি পাওয়ার ক্ষেত্রে, ইংরেজের মাতৃভাষা-ই এখনো অধিকাংশের কাছে ধারালো হাতিয়ার। অনেকের কাছে আবার বদ্ধ জলাশয় থেকে স্রোতে অবগাহনে কার্যকরি উপায়। এই পরশ পাথরের মুল্য দক্ষিণ ভারত অনেক আগেই বুঝেছে। তাই উত্তরের অনেক রাজ্যে যখন ইংরেজি হঠানোর জন্য লাফঝাঁপ দিচ্ছে, দক্ষিণ তার এই অবস্থানে অনড় থেকে ক্রমশ এগোচ্ছে। ন্যাসো-র (NSSO) সমীক্ষা বলছে দক্ষিণ ভারতের রাজ্য গুলিতে প্রায় ৬০ শতাংশ স্কুলে ক্লাস ১২ পর্যন্ত ইংরেজি-ই শিক্ষার বাহন। প্রতিতুলনায় উত্তরপ্রদেশে ১৪% এবং বিহারে ৬% স্কুলে ইংরেজিতে পঠনপাঠন চলে। শুধু তাই নয় উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ নিয়ে ২০২০-২১ সালে সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে দক্ষিণে ১৮-২৩ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫০% উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হয়। যেখানে সর্বভারতীয় গড় হচ্ছে ২৭%। হরিয়ানা এবং হিমাচল ছাড়া হিন্দি বলয়ের সব রাজ্য, গুজরাট এবং দেশের পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির হার জাতীয় গড়ের অনেক নিচে। এর পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে আর্থিক বৈষম্যের পার্থক্যটাও ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। ইংরাজি জানা দক্ষ কর্মী এবং উন্নত পরিকাঠামোর কারণে দক্ষিনে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে। জাতীয় পরিসংখ্যান বলছে বিহার, ছত্তিশগঢ়, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের তুলনায় কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, তামিল নাড়ু তে মাথা পিছু আয় অনেকটাই বেশি।আরও পড়ুনঃ গ্যারান্টি বনাম ন্যায় - ভোটের হালহকিকতরাজনীতির অলিন্দে শোনা যাচ্ছে বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলে দেশের লোকসভা কেন্দ্র গুলির সীমা নির্ধারণ-র (Delimitation ) কাজ শুরু হবে। জনসংখ্যার বিচারে নির্ধারিত হবে কেন্দ্র গুলির সীমানা। কেন্দ্রীয় পরিবার পরিকল্পনা নীতি মেনে দক্ষিণে অনেক আগে থেকেই জন সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। নারী শিক্ষায় অগ্ৰাধিকারের জন্য দক্ষিণে Fertility Rate কমেছে। ১৯৭১ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা ২৪.৮% ছিল দক্ষিণ ভারত। ২০২১সালে তাই কমে ১৯.৯% এসে দাঁড়িয়েছে। আর বিহার এবং উত্তর প্রদেশে এই হার ২৩% থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬%। ৮৪৮ সদস্য আসন বিশিষ্ট নতুন সংসদ ভবন চালু হয়ে গিয়েছে। Delimitation য়ের পরে ৮৪৮ আসনে লোকসভার ভোট হবে। রাজনৈতিক পন্ডিতদের মতে জন সংখ্যার ভিত্তিতে উত্তর প্রদেশে লোকসভার আসন ৮০ থেকে বেড়ে ১৪৩ হবে। যেখানে জনসংখ্যার ভিত্তিতে দশটি লোকসভার আসন বাড়বে তামিলনাড়ুতে।আরও পড়ুনঃ এক দেশ এক ভোটহিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ছত্তিশগঢ়, ঝাড়খণ্ড এই দশটি রাজ্য নিয়ে হিন্দি বলয়। বর্তমানে এই দশটি রাজ্যে রয়েছে ২২৫টি লোকসভা আসন। ২০১৯শের লোকসভা নির্বাচনে এই ২২৫টি আসনের মধ্যে ২০৩ টি আসন পেয়েছিল NDA। ৫৪৩ আসনের লোকসভায় ম্যাজিক ফিগার হলো ২৭২। এবার ও হিন্দি বলয়ে বিজেপির এই দাপট বজায় থাকলে ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিত। তবে দলকে এবার ৩৭০ আসনের লক্ষ্য মাত্রায় বেঁধেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হিন্দি বলয়ে আসন বাড়ার যেহেতু আর জায়গা নেই বিজেপির বিশেষ নজরে এবার দক্ষিণ ও দেশের অন্যান্য অংশ। তাই ৫০ বছর আগে কংগ্রেস শাসনে পকপ্রনালীর এক দ্বীপ কচ্ছথিভু চুক্তি করে শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দক্ষিণে প্রচারে গিয়ে দ্রাবিড় অস্মিতা জাগিয়ে তোলার সব রকম চেষ্টাই তিনি করেছেন। কিন্তু ক্ষমতায় ফিরে delimitation য়ের কাজ সম্পূর্ণ করার পরে দক্ষিণের এই গুরুত্ব কি বিজেপির কাছে থাকবে? তখন হিন্দি বলয়ের দশটি রাজ্যে আসন সংখ্যার যে বৃদ্ধি হবে তার জোরেই বিপুল আসন হাতের মুঠোয় আসার পথ খোলা থাকবে। আর কে না জানে যার ভোট নেই তার গুরুত্বও নেই। তখন দক্ষিণের রাজ্য গুলিতে কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরনে স্লোগান তুলে গলা ফাটালেও বিশেষ লাভ হবে বলে মনে হয় না। অতএব জাতীয় রাজনীতিতে উত্তর বনাম দক্ষিণের দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার অপেক্ষা।

এপ্রিল ১৮, ২০২৪
কলকাতা

লেকটাউনে পরিতক্ত বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার ঘিরে রহস্য।

সোমবার সকালে লেকটাউন যশোর রোডের ধারে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার ঘিরে রহস্য। লেকটাউন ব্লক এ ৮৪৮ বি/১ একটি বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার হয়। এদিন রাস্তায় প্যান্ডেল করার সময় এক কর্মী কঙ্কাল দেখতে পায়। এরপরে লেকটাউন থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। স্থানীয় সূত্রে ওই ব্যক্তির নাম রাজীব বড়াল। এদিন পুলিশ সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাঁধা দেয়।

এপ্রিল ১৫, ২০২৪
দেশ

ভোট প্রচারে বেরিয়ে ঢিলের ঘায়ে আহত হলেন মুখ্যমন্ত্রী

ভোটের প্রচারে বেরিয়ে ঢিলের ঘায়ে আহত হলেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা ওয়াইএসআরসিপি প্রধান জগন মোহন রেড্ডি। সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন তিনি। রোড-শো চলার সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে কেউ। কপালে লেগে রক্তারক্তি কাণ্ড হয়। ঘটনার জেরে বন্ধ হয়ে যায় রোড-শো।বিজয়ওয়াড়ায় ভোটের প্রচারে বেরিয়েছিলেন ওয়াইএসআরসিপির প্রধান।সেখানে মেমান্থা সিদ্ধম র্যালি চলছিল তাঁর। হুডখোলা গাড়িতে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সকলের সঙ্গে কথাও বলছিলেন। এই জনসংযোগ যাত্রায় বহু মানুষের ভিড় হয়েছিল। আচমকাই একটি ঢিল উড়ে আসে জগন মোহন রেড্ডির দিকে। কপালে মাঝখানে গিয়ে আঘাত করে সেটি। রক্ত বেরোতে থাকে কপাল দিয়ে।

এপ্রিল ১৪, ২০২৪
রাজ্য

রেড রোডে ইদের অনুষ্ঠানে হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আবেদন

ইদের মঞ্চে ভোটের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকেই ভোট দেওয়ার বার্তা দলনেত্রীর। বৃহস্পতিার কলকাতার রেড রোডে ইদের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ওই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই এদিন তৃণমূলনেত্রী ফের একবার তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপিকে।বৃহস্পতিবার ইদের সকালে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে রেড রোডের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ফের একবার সিএএ, এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এই ইস্যুতে তৃণমূলনেত্রী বলেন, CAA, NRC চাই না। আমরা কোনও ভেদাভেদ চাই না। সবাই মিলে একসঙ্গে থাকতে চাই। সবাইকে এককাট্টা হতে হবে। একাধিক এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের আগে ভয়ের আবহ তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, এমনই অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায় ,ভোটের আবহে ভয় দেখাতে চাইছে কেউ কেউ। ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতর দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। সবাইকে জেলে ঢোকাতে চাইছে। ভোটের সময় বেছে বেছে মুসলিম লিডারদের ফোন করে বলছে কি চাই? আমাদের সঙ্গে বিজেপির লড়াই এখানে। তৃণমূল ছাড়া একটা ভোটও অন্য কোনও দলকে দেবেন না।এবারের লোকসভা নির্বাচনে ৪০০-র বেশি আসন পার করে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। বিজেপির সেই লক্ষ্যকে কটাক্ষ করে এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো একুশের বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ টেনে এদিন বলেন, বলেছিল এবার দুশো পার। সত্তরেই শেষ। এখন বলছে চারশো পার। আগে দুশো পার করে দেখাও।

এপ্রিল ১১, ২০২৪
রাজ্য

এনআইএ-র গাড়িতে হামলা, সরবেড়িয়ার পর ভূপতিনগরে, বাংলাদেশী যোগের আশঙ্কা দিলীপের

ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কান্ড ভূপতি নগর থেকে আটক দুই। তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি বালাই মাইতি ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা মনোব্রত জানাকে গ্রেফতার করে NIA কলকাতার অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে।ভুপতি নগর বিস্ফোরনের ঘটনায় চারজনকে সমান করা হয় এনআইএর পক্ষ থেকে। তারা এনআইএ অফিসে হাজিরা না দেওয়ায় শনিবার ভোর বেলায় পূর্ব মেদিনীপুরের ভুপতি নগরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায় NIA। সেখান থেকে বালাই মাইতি ও মনোব্রত জানা নামে দুই স্থানীয় তৃণমূল নেতাকে আটক করে এনআইএ। তাদেরকে নিয়ে আসার সময় অভিযোগ যে সেখানকার স্থানীয় মানুষ ঘিরে ফেলে এনআইয়ের গাড়ি লক্ষ্য করে চলে ইট বৃষ্টি করে।এই ঘটনায় এনআইএর গাড়ির কাঁচ ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি দুজন এনআইএ অফিসার আহত হয়। এই ঘটনায় ভূপতি নগর থানায় এন আই এর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের। দিল্লির NIA উচ্চকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে কলকাতার এনআইএ কর্তারা।বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি পার্থী দিলীপ ঘোষ ভূপতিনগর বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ তদন্তে গিয়ে হামলার মুখে পড়ার ঘটনায় স্বমন্ধে জানান, এই ঘটনা আমাদের আবার কান খাড়া করে দিয়েছে। এর আগে আমরা সন্দেশখালিতে দেখেছি সাধারণ মানুষকে এগিয়ে দিয়ে দুষ্কৃতীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এখানেও আমরা একই জিনিস দেখলাম। বারবার মহিলাদের এগিয়ে দিয়ে দোষীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের হাতে লালিত পালিত সন্ত্রাসবাদীদের বাঁচানোর চেষ্টা। আমার মনে হয়, বাংলাদেশী যোগ থাকতে পারে গোটা ঘটনায়।

এপ্রিল ০৬, ২০২৪
কলকাতা

সোশাল মিডিয়ায় যুবতীর ছবি পোস্ট, সেক্টর ফাইভের অফিস থেকে যুবক গ্রেফতার

আইটি কর্মীর নামে ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট খুলে অশ্লীল ছবি পোস্টের অভিযোগ। আইটি কর্মী যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল বিধান নগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ এর একটি আইটি সংস্থায় কাজ করতেন এক যুবতী। কিছু বছর আগে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। সেই যুবকও তার সঙ্গে একই অফিসে কাজ করতে বলে পুলিশকে জানান তিনি। এরপরই তার সাথে একই জায়গায় থাকতে শুরু করে তারা। কেষ্টপুর এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এরপরেই যুবতীর সঙ্গে যুবকের সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তার কিছুদিন পরে যুবতী জানতে পারে এই যুবতীর নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট তৈরি করে কেউ বা কারা তার কিছু গোপনীয় ছবি প্রকাশ করছে। ঘটনা তদন্ত শুরু করে পুলিশ লোকেশন ট্র্যাক করে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ এর একটি অফিসে হানা দিয়ে বিহারের বাসিন্দা সুভাষ বলে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আজ তাকে বিধাননগর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতের নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কি কারনে এই ধরনের ঘটনা তিনি ঘটিয়েছিলেন সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

এপ্রিল ০৬, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • 26
  • ...
  • 91
  • 92
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

পুজোর পাসে ৬০ কোটির অভিযোগ! রাত ১১টা পর্যন্ত ইন্দ্রনীলের বাড়িতে ইডি, এরপর কী?

প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়িতে মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর রাত ১১টা নাগাদ তদন্তকারীরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে ইন্দ্রনীল সেনকে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল (Indranil Sen) । অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।ইডি সূত্রে অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপুজোর পুজো পরিক্রমা বা প্রিভিউ শো-এর নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হয়েছিল। সেই প্রবেশপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে (Indranil Sen) ।চলতি বছরের জুন মাসে এই সংক্রান্ত অভিযোগ বউবাজার থানায় দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরে আর্থিক তছরূপের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা শুরু হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই মঙ্গলবার ইডি কলকাতার একাধিক জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি চালায়।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) কসবার বাড়ি ছাড়াও কলকাতার আরও কয়েকটি ঠিকানায় তদন্তকারীরা পৌঁছন। হিন্দুস্তান পার্ক এবং হাইল্যান্ড পার্কের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইভেন্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জনের বাড়িতেও অভিযান চলে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতেও তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন বলে খবর।প্রতিটি ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছিল। একাধিক দলে ভাগ হয়ে ইডির আধিকারিকেরা এই অভিযান চালান। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল অভিযোগে উঠে আসা আর্থিক লেনদেন এবং পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রির সঙ্গে যুক্ত নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা।এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মাস আর্ট নামে একটি সংগঠন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর ওই সংগঠনটি তৈরি হয়। সংগঠনটির তরফে নিজেদের ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বা অনুমোদিত উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিচয় ব্যবহার করে পুজো পরিক্রমার জন্য চড়া দামে প্রবেশপত্র বিক্রি করা হত বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) স্ত্রী মধুছন্দা সেন ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাস বিক্রি এবং ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়।প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, পুজোর প্রিভিউ শো বা পুজো পরিক্রমার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে এই পাস বিক্রির অনুমতি আদৌ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাসের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।ইন্দ্রনীল সেন অবশ্য শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার দীর্ঘ তল্লাশির পরও তিনি অভিযোগ মানেননি বলে জানা গিয়েছে। বরং প্রয়োজন হলে আইনি পথে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।এখন বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর ইন্দ্রনীল সেনকে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। পুজোর প্রবেশপত্র বিক্রি, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগে উঠে আসা টাকার অঙ্কসবই তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ইডির মঙ্গলবারের তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়নি। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর মুখে চাকরি নিয়ে বড় আশ্বাস! বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান তুলে নিলেন ৩৭১৯ কম্পিউটার শিক্ষক

পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেছিলেন রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সেই অবস্থান ও বিক্ষোভ মঙ্গলবার পর্যন্ত চলে। পরে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষকদের সংগঠন আইসিটি ঐক্য মঞ্চ।বৈঠকে শিক্ষকদের একাধিক দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। আপাতত যাতে চাকরিতে কোনও ছেদ না পড়ে, সেই ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। টেন্ডারে নির্বাচিত সংস্থার অধীনেই ৩৭১৯ জন শিক্ষক কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে।শিক্ষকদের দাবি পূরণের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ছমাস সময় চেয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন এবং অন্যান্য বিষয় শ্রম আইন মেনে কী ভাবে করা যায়, তা নিয়ে চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।সোমবার থেকেই একাধিক দাবি নিয়ে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছিলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। রাতভর সেখানে বিক্ষোভ চলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকার পর শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরেই আপাতত আন্দোলন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।শিক্ষক রাহুল দাসের দাবি, প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যায়ে নিযুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার কম্পিউটার প্রশিক্ষকের সঙ্গে সরকারের যে ভাবে সরাসরি চুক্তি রয়েছে, একই ধরনের ব্যবস্থা তাঁদের ক্ষেত্রেও করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর তরফে এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এই সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে চুক্তি নিয়ে জটিলতা। ২০২২ সাল বা তার আশপাশের সময়ে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ৩৭১৯ জন কম্পিউটার শিক্ষককে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অনেকের চুক্তির মেয়াদ আরও কিছুদিন থাকার কথা থাকলেও, হঠাৎ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি শেষ করার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, আগের কয়েকটি পর্যায়ে নিযুক্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষকদের দীর্ঘমেয়াদি কাজের সুযোগ দেওয়া হলেও ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের বেতন কমানোর অভিযোগও উঠেছে।চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শুধু শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার নয়, স্কুল কর্তৃপক্ষও সমস্যায় পড়তে পারেন বলে শিক্ষক সংগঠনের দাবি। কারণ সরকারি বিভিন্ন ডিজিটাল শিক্ষা প্রকল্পে এই কম্পিউটার শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ-এর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করা কঠিন এবং স্কুলের কাজে এই শিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।আপাতত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও তাঁদের মূল দাবি পূরণ কতটা দ্রুত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি সরকারি চুক্তি, বেতন কাঠামো এবং চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে আগামী ছমাসে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

যশোভূমিতে ফিজিওথেরাপির মহামিলন: ১০ হাজারের মঞ্চে বাংলার গর্ব, সম্মানে IAP Bengal

২,০০০ কিলোমিটারের Physio Baton যাত্রা থেকে দিল্লির বর্ণাঢ্য মহাযাত্রাআন্তর্জাতিক সম্মেলনে উজ্জ্বল বাংলার উপস্থিতিনয়াদিল্লি: ফিজিওথেরাপির জগতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টার। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত World Physiotherapy Asia Western Pacific (AWP) Regional Conference 2026-এ দেশ-বিদেশের ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক, ছাত্রছাত্রী ও পেশাজীবীদের মিলন ঘটল এক বিশাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। Fitness for Allএই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনে ফিজিওথেরাপির ভবিষ্যৎ, আধুনিক চিকিৎসা-পদ্ধতি, গবেষণা, জনস্বাস্থ্য এবং পেশাগত বিকাশ নিয়ে হয় একাধিক আলোচনা।সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের একসঙ্গে উপস্থিতি। এই বিপুল অংশগ্রহণকে World Record হিসেবে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ফলে সম্মেলনটি শুধু একটি পেশাগত অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আন্তর্জাতিক ফিজিওথেরাপি জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়।বিশেষ সম্মান IAP Bengal Branch-এরএই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। IAP Bengal Branch-কে দেশের সেরা শাখা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত উন্নয়ন এবং ফিজিওথেরাপি সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মানকে দেখা হচ্ছে।দিল্লির আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিদের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের কাছে এটি নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে ওঠে।বর্ধমান থেকে শুরু Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রাসম্মেলনের আগে বাংলার সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করে Physio Baton বা মশাল যাত্রা। ২২ সেপ্টেম্বর বর্ধমানের ঐতিহাসিক কার্জন গেট হয়ে সেই মশাল যাত্রার সূচনা হয়।কার্জন গেটে Physio Baton-কে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ জন ফিজিওথেরাপিস্ট। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য, ডাঃ শুভেন্দু দ্বিবেদী (PT), ডাঃ আদিত্য পাল ডাঃ অতনু রায়, ডাঃ অনিন্দ দে (PT), ডাঃ শুকদেব মুখার্জী (PT)-সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন গোলাপবাগ ফিজিওথেরাপি কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এম. এস. আনোয়ার (PT)।ঐতিহাসিক বর্ধমানের মাটি থেকে শুরু হয়ে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার সড়কপথ পেরিয়ে Physio Baton পৌঁছে যায় দিল্লিতে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং পেশাগত সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়।বাংলার ঐতিহ্য ধরা পড়ল দিল্লির মহাযাত্রায়দিল্লিতে পৌঁছনোর পর Physio Baton-কে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য মহাযাত্রা। সেখানে বাংলার প্রতিনিধিরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে তুলে ধরেন।পুরুষ প্রতিনিধিদের অনেকেই ধুতি-পাঞ্জাবি এবং মহিলা প্রতিনিধিরা শাড়ি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলাদা মাত্রা যোগ করে।বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া মশাল যাত্রার সেই ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় World Physiotherapy-এর সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের মঞ্চে।ডাঃ রুচি ভার্শনে (PT) (Dr. Ruchi Varshney) এবং ডাঃ সঞ্জীব ঝা (PT) (Dr. Sanjeev Jha)-এর হাত ধরে Physio Baton তুলে দেওয়া হয় World Physiotherapy-এর President-এর হাতে। মুহূর্তটি উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে বিশেষ আবেগ ও গর্বের সৃষ্টি করে।যাত্রার নেতৃত্বে ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT)এই দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ যাত্রার পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডাঃ কৌশিক মল্লিক (PT), Vice President, IAP West Bengal Branch।প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের এই সড়কযাত্রা শুধুমাত্র একটি মশাল বহনের কর্মসূচি ছিল না। পথে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ, তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পেশাগত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও এই যাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।ফলে Physio Baton-এর যাত্রা কার্যত বাংলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের মধ্যে একটি সংযোগের সেতু তৈরি করে।১৩টি হলে একসঙ্গে বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারের বিশাল পরিসরে সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব পরিচালিত হয় ১৩টি হলে। একই সঙ্গে চলে একাধিক বৈজ্ঞানিক ও পেশাগত অধিবেশন।পেপার ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন, বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ফিজিওথেরাপিস্টদের অংশগ্রহণে সম্মেলন কার্যত পরিণত হয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক বিশাল প্ল্যাটফর্মে।এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বর্ধমানের ফিজিওথেরাপিস্ট ডাঃ সত্যেন ভট্টাচার্য (PT) ও বক্তা হিসেবে অংশ নেন। বাংলার একটি জেলা শহর থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখার বিষয়টিও স্থানীয় পেশাজীবীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।শুধু চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব উপলব্ধি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, পডকাস্টার এবং ডিজিটাল মিডিয়ার জন্যও বিশেষ পরিসর রাখা হয় সম্মেলনে।ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তাঁর বক্তব্যে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্বের বিষয়টি উঠে আসে।এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তা এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও ভিডিও বার্তা সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর ফলে ফিজিওথেরাপি যে শুধুমাত্র পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসার একটি অংশ নয়, বরং বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গএই বার্তাটিও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।বাংলার জন্য একাধিক গর্বের মুহূর্তএকদিকে ১০ হাজারেরও বেশি ফিজিওথেরাপিস্টের ঐতিহাসিক উপস্থিতি, অন্যদিকে IAP Bengal Branch-এর বিশেষ সম্মাননা। তার সঙ্গে বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর প্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের যাত্রা এবং দিল্লির মহাযাত্রায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাকে প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণসব মিলিয়ে সম্মেলনে বাংলার উপস্থিতি হয়ে ওঠে বিশেষভাবে স্মরণীয়।এই যাত্রা দেখিয়ে দিল, ফিজিওথেরাপি এখন আর শুধুমাত্র চিকিৎসাক্ষেত্রের একটি নির্দিষ্ট শাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গবেষণা, জনস্বাস্থ্য, ফিটনেস, পুনর্বাসন, প্রযুক্তি এবং সামাজিক সচেতনতার বৃহত্তর পরিসরে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।যশোভূমির আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা গেল। আর সেই মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব, IAP Bengal Branch-এর স্বীকৃতি এবং বর্ধমান থেকে শুরু হওয়া Physio Baton-এর ঐতিহাসিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের ফিজিওথেরাপি মহলের জন্য তৈরি করল এক স্মরণীয় অধ্যায়।বর্ধমানের কার্জন গেট থেকে দিল্লির যশোভূমিপ্রায় ২,০০০ কিলোমিটারের সেই যাত্রা তাই কেবল একটি মশাল বহনের গল্প নয়; এটি বাংলার ফিজিওথেরাপি পেশাজীবীদের ঐক্য, উদ্যোগ, পেশাগত সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এক অনন্য কাহিনি।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা কবে ফিরবে? হাই কোর্টের নির্দেশে সামনে এল নির্দিষ্ট সময়

রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর কাজ চললেও তার গতি যথেষ্ট নয় বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতির হিসাব আদালতে জমা দিতে হবে।বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ এবং বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করাই সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির মূল দায়িত্ব। এর বাইরে কমিটির কোনও অতিরিক্ত আইনি ক্ষমতা নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা সহযোগী সংস্থা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে হোটেল পরিচালনার যে চুক্তি করেছিল, তার অনুমোদনের ক্ষমতা কমিটির ছিল না। ফলে ওই ধরনের অনুমোদনহীন চুক্তিগুলিকে শুরু থেকেই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে আদালত।আমানতকারীদের পক্ষের আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে কমিটির হাতে বিপুল সম্পত্তি থাকলেও সেই তুলনায় টাকা ফেরানোর কাজ খুব ধীর গতিতে হয়েছে। আদালতে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে দাবি। গত ১১ বছরে মাত্র ১০টি সম্পত্তির নিলাম এবং ৮০টি সম্পত্তির মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।অন্যদিকে, রোজভ্যালি সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক দফায় এক লক্ষেরও বেশি দাবিদারকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৩২ লক্ষ দাবি নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে আগের বছরগুলিতে কাজের গতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়াটিও আদালতের নজরে রয়েছে।হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা মুলতুবি থাকা দাবিগুলির ভিত্তিতে যোগ্য আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে ৩২ লক্ষ ৪৩ হাজার ২২০টি মুলতুবি দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সম্পত্তি বিক্রি এবং সেই অর্থ আমানতকারীদের মধ্যে বণ্টনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শুধু সময়সীমা বেঁধে দিয়েই থামেনি আদালত। প্রতি মাসে সম্পদ নিষ্পত্তি কমিটিকে আদালতে কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অর্থাৎ কতগুলি সম্পত্তি বিক্রি হল, কত টাকা বণ্টন করা হল এবং কতগুলি দাবি এখনও বাকি রয়েছে, সেই সংক্রান্ত অগ্রগতির হিসাব আদালতের নজরে থাকবে।আদালত আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার পরেও যদি কাজ বাকি থাকে, তা হলে অবশিষ্ট সম্পত্তি, অর্থ এবং অন্যান্য অসম্পূর্ণ বিষয় বিচারপতি এস পি তালুকদারের নেতৃত্বাধীন এক সদস্যের কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।রোজভ্যালি মামলায় জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়ায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও যুক্ত রয়েছে। এবার বাজেয়াপ্ত না হওয়া বাকি সম্পত্তি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইডিকে নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে চিহ্নিত নতুন সম্পত্তির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।এ ছাড়া সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফরেনসিক অডিট শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এর ফলে রোজভ্যালির সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় আরও নজরদারি বাড়তে চলেছে।রোজভ্যালি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বহু আমানতকারী। আদালতের এই নির্দেশে এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে সম্পত্তি বিক্রি, দাবির যাচাই এবং টাকা বণ্টনের কাজ কতটা দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাসপাতাল থেকে সরাসরি এশিয়ান গেমস! বৃষ্টির মধ্যেই সোনা জিতে ইতিহাস নীরুর

এই কাহিনী শুনলে যে কারও মন ভালো হতে বাধ্য। লক্ষ্য যদি অবিচল থাকে তাহলে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, কেউ তাঁকে হারাতে পারবে না। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার মাত্র ১০ দিন আগেও তাঁর কেরিয়ার নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় অনিশ্চয়তা। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভারতীয় ট্র্যাপ শুটার নীরু ধান্ডা। সংক্রমণের কারণে শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে আদৌ অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই অসুস্থতাকেই পিছনে ফেলে মঙ্গলবার ইতিহাস গড়লেন ২৬ বছরের এই ভারতীয় শুটার।জাপানের গ্রামীণ টয়োটার উরেনোচো শুটিং রেঞ্জে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই ট্র্যাপ শুটিংয়ের ফাইনালে ৩০টির মধ্যে ২৮টি লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। এর ফলে এশিয়ান গেমসের নতুন রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন তিনি। চিনের সুন ইউনং ২৬টি লক্ষ্যভেদ করে রুপো পান। এশিয়ান গেমসে এটিই ভারতের পঞ্চম সোনা। তবে নীরুর সাফল্যের গুরুত্ব শুধু পদকের হিসাবেই নয়। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ভারতীয় মহিলা ট্র্যাপ শুটিংয়ে ব্যক্তিগত সোনা জিতলেন। একইসঙ্গে ১৯৭৮ সালের পর এই ইভেন্টে কোনও ভারতীয় শুটারের ব্যক্তিগত সোনার অপেক্ষাও শেষ হল। ১৯৭৮ সালে রণধীর সিং ট্র্যাপ শুটিংয়ে সোনা জিতেছিলেন।এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল কঠিন এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। নয়াদিল্লিতে জাতীয় শিবিরে প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন করতে পারেননি নীরু। অসুস্থতার সময় টানা পাঁচ দিন খাবারও খাননি, শুধু জল খেয়ে ছিলেন। হাসপাতালেও তিন দিন কাটাতে হয় তাঁকে। এই কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন তাঁর কোচ অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত মনশের সিং। প্রতিদিন ফোন করে নীরুকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতেন তিনি। নীরুর কথায়, কোচ তাঁকে বলতেন কয়েক দিন অনুশীলন না করলেও কিছু যায় আসে না, তিনি প্রতিভাবান এবং তারকা হয়েই থাকবেন। প্রাক্তন সাংসদ তথা ক্রীড়ামন্ত্রী যশোধরা রাজের কাছ থেকেও সমর্থনের বার্তা পেয়েছিলেন নীরু।ভারতের ট্র্যাপ শুটিং কোচ পিটার উইলসন জানান, হাসপাতালে থাকার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই নীরু প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সাড়ে তিন সপ্তাহ অনুশীলন না করেও জাপানে মাত্র দুদিন শুটিং করে ফাইনালে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। নীরুর শুটিংয়ে আসার গল্পও বেশ চমকপ্রদ। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে তাঁর খুড়তুতো ভাই লক্ষ্য শেওরান ট্র্যাপ শুটিংয়ে রুপো জেতার পর এই খেলায় আগ্রহী হন তিনি। পরে ভোপালের মধ্যপ্রদেশ স্টেট শুটিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরু করেন।গত বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে ISSF বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ট্র্যাপ সোনা জেতার পর এবার এশিয়ান গেমসেও সাফল্য পেলেন নীরু। তার উপর মঙ্গলবার ছিল প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির জল শুটারদের হাতে পড়ছিল, মনোযোগও নষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু নিজেকে বারবার প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনে লক্ষ্যভেদ করেন নীরু। হাসপাতালের বিছানা থেকে এশিয়ান গেমসের মঞ্চ, এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শেষে তাঁর হাতেই উঠল ঐতিহাসিক সোনা।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
রাজ্য

জেএমবি-যোগের সন্দেহে মঙ্গলকোটের মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার এনআইএ-র, বাজেয়াপ্ত ডায়েরি ও মোবাইল

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহেই পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদের ইমাম পিয়ার মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে অভিযান চালায় এনআইএ। সেখান থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ার মোহাম্মদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে। গত প্রায় তিন-চার বছর ধরে তিনি মঙ্গলকোটের পালিশ গ্রামের পূর্বপাড়ার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁর পাসপোর্ট পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন, একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন তিনি।এনআইএ সূত্রে খবর, মসজিদে ইমাম থাকার জন্য যে ঘরটি পিয়ার মোহামদ ব্যবহার করতেন, সেখান থেকে একটি ডায়েরি এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই ডায়েরিতে বাংলাদেশের কয়েকজনের ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলেও তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই যোগাযোগগুলির সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকেন্দ্রিক কথিত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পিয়ার মোহাম্মদের নাম তদন্তকারীদের নজরে আসে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাবলিগ জামাতের কাজে বৈধভাবে প্রায় ৪০ দিন বাংলাদেশে ছিলেন পিয়ার মোহাম্মদ। তবে সেই সফরের সময়ে তিনি জেএমবির কোনও সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, কোনও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন কি না, কিংবা বাংলাদেশের কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর আদৌ কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, এই সব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁর মাধ্যমে কোনও বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ ও স্থানীয় পুলিশ।ইমামকে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পালিশ গ্রামে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পিয়ার মোহাম্মদকে তাঁরা বরাবরই শান্ত এবং সাধারণ স্বভাবের মানুষ হিসেবেই জানতেন। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর তাঁদের বিস্মিত করেছে।এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ধৃত ইমামকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় এনআইএ। তাঁকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।পিয়ার মোহাম্মদের আইনজীবী কাজি সাহাবাব জামান জানিয়েছেন, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে বার্তালাপের অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর মক্কেল নির্দোষ বলে দাবি করেছেন আইনজীবী।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

২৭০০ থেকে ২৭ হাজার! ক্যানসারের ওষুধে দশ গুণ দাম দেখে সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়

ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসায় ওষুধের খরচ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি ক্যানসারের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা খুচরো বিক্রেতাকে যে দামে ওষুধ দিচ্ছে, তার তুলনায় সর্বোচ্চ খুচরো দামের ব্যবধান দশ গুণ পর্যন্ত হতে পারেএমন তথ্য শুনানিতে উঠে আসে। উদাহরণ হিসেবে আদালত জানতে পারে, ২৭০০ টাকায় খুচরো বিক্রেতার কাছে পৌঁছনো একটি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো দাম ২৭ হাজার টাকা। এই বিপুল ব্যবধান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত।বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ, জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম সংক্রান্ত মামলার শুনানি করছিল। সেখানেই ক্যানসারের ওষুধের দামে খুচরো বিক্রেতার জন্য নির্ধারিত দাম এবং রোগীর জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরো দামের মধ্যে এত বড় ফারাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আদালত জানতে চায়, ২৭০০ টাকায় যে ওষুধ বিক্রেতার কাছে যাচ্ছে, সেটির সর্বোচ্চ খুচরো দাম কেন ২৭ হাজার টাকা হবে।আদালতের প্রশ্ন ছিল, এই অতিরিক্ত টাকার বড় অংশ কোথায় যাচ্ছে এবং এর ফলে কারা লাভবান হচ্ছে। বিচারপতিরা এমন দামের ব্যবধানকে রোগীদের উপর গুরুতর আর্থিক চাপ হিসেবে দেখেছেন। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো রোগে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ওষুধের দাম বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগী এবং পরিবারের উপর।শীর্ষ আদালত বেসরকারি হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেছে। শুনানিতে এমন অভিযোগের প্রসঙ্গ ওঠে যে, কিছু কর্পোরেট হাসপাতাল রোগীদের নিজেদের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করে। বাইরে থেকে একই ওষুধ কিনে আনলে চিকিৎসা নিয়ে সমস্যার আশঙ্কাও রোগীদের সামনে থাকে বলে আদালতে বিষয়টি উঠে আসে।সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ওষুধের বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। কারণ কোনও সরকারি প্রকল্পে চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ বেশি হলে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের একটা অংশ সরকারি অর্থ থেকে মেটানো হয়। ফলে এর আর্থিক প্রভাব সাধারণ মানুষের উপরও পড়তে পারে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে।শুনানিতে ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় এবং অনত্যাবশ্যকীয়এই ভাগ করে আলাদা নিয়ম রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতিরা জানতে চান, সব ধরনের ওষুধের ক্ষেত্রেই কি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। আদালতের তরফে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমার কথাও আলোচনায় আসে।কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের অবস্থান আদালতকে জানানো হবে। কেন্দ্র আরও সময় চেয়েছে বলেও সাম্প্রতিক শুনানির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১২ অক্টোবর হওয়ার কথা।তবে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের সীমা এখনই কার্যকর কোনও নতুন নিয়ম নয়। এটি শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব বা প্রশ্ন। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ে এই শুনানি তাই রোগীদের চিকিৎসার খরচ, ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের ওষুধ বিক্রির পদ্ধতিতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেই সামনে এনেছে। এখন কেন্দ্রের বক্তব্য এবং পরবর্তী শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দেশ

সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি! কাঠুয়ায় সিআইএসএফ শিবিরে ভয়াবহ ঘটনায় মৃত্যু ৪ জওয়ানের

জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় সিআইএসএফের একটি শিবিরে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসার পর এক সহকর্মী কয়েকজন জওয়ানকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় চার সিআইএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সিআইএসএফ সূত্রে খবর, বিকেলে ডিউটি পরিবর্তনের সময় হেড কনস্টেবল অবধেশ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন জওয়ানের বচসা হয়। প্রথমে বিষয়টি কথা কাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে সেই বচসা বড় আকার নেয়।অভিযোগ, এক পর্যায়ে অবধেশ সিং নিজের রাইফেল তুলে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিতে চার জওয়ান গুরুতর আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনেরই মৃত্যু হয়।নিহত জওয়ানদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী কমান্ড্যান্ট অঙ্কিত কুমার পাণ্ডে, সাব-ইন্সপেক্টর লক্ষ্মণ সিং, কনস্টেবল সঞ্জীব কুমার এবং কনস্টেবল মহম্মদ রফিক।ঘটনার পর কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কী কারণে ডিউটি পরিবর্তনের সময় বচসা শুরু হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইএসএফ সদর দপ্তরের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সিআইএসএফের মহাপরিচালক গোটা পরিস্থিতি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেফতার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। চার সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কাঠুয়া সিআইএসএফ শিবিরে এখন তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal