• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Cid

রাজ্য

মনোনয়ন দিতে বাধা, কার্যালয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিজেপি প্রার্থীর!

শ্লীলতাহানির মামলা চলায় গলসির বিজেপি প্রার্থীকে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিলেন দলের স্থানীয় নেতারা। কিন্তু তা মানতে নারাজ প্রার্থী। জোর করে ভোটের ময়দান থেকে সরানো হলে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিলেন তিনি। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছে দল।১৭ মার্চ বিজেপির তরফে পূর্ব বর্ধমানের গলসি বিধানসভা আসনের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় তপন বাগদির। স্বাভাবিকভাবেই এরপর পুরোদমে ভোটপ্রচারে নামেন তিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন। জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে গতকাল অর্থাৎ ২৬ মার্চ তপন বাগদিকে ডেকে পাঠান পূর্ব বর্ধমানের বিজেপির জেলা সভাপতি ও বর্ধমান-দুর্গাপুরের বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। তাঁর নামে শ্লীলতাহানির মামলা থাকায় তপনকে প্রার্থীপদ থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেন জেলা সভাপতি। কিন্তু তা মানতে নারাজ প্রার্থী। তাঁর কথায়, বহু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও চলছে। তাঁরা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে। আমি কেন পারব না।এই ঘটনার জেরেই আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তপন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা ঠিক মনে করেছেন বলেই আমার উপর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি ইতিমধ্যেই এবিষয়ে রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কেন্দ্রকে চিঠিও পাঠিয়েছি। ২৯ মার্চ মনোনয়ন জমা দেব। ওই দিন যদি কোনও বাধা দেওয়া হয় বা শেষ পর্যন্ত আমাকে সরে যেতে বাধ্য করা হয় তবে জেলা কার্যালয়ে আত্মহত্যা করব।

মার্চ ২৮, ২০২১
স্বাস্থ্য

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় কী কী খাবেন না, দেখুন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সকালে উঠে মাটিতে পা ফেলতেই ব্যথা শুরু। দু-একদিন পর হাত-পায়ের জয়েন্টেও একই অবস্থা। কিছুক্ষণ হাঁটাচলার পর ব্যথা কমছে ঠিকই, কিন্তু পুরোপুরি সারছে না। জয়েন্ট ফুললে সমস্যা আরও বাড়ছে। মাটিতে পা ফেলাটাই তখন বিভীষিকা। একজন সুস্থ, সবল মানুষ রাতারাতি শয্যাশায়ী। এতটাই মারাত্মক হতে পারে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা। কেন হয়-৪০ বছরের পর এমন সমস্যা হয়। তবে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, প্রোটিনের আধিক্য, মদ্যপানের জন্য এখন অল্পবয়সিদের মধ্যেও এর প্রবণতা বাড়ছে। অনেকেই তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে প্রোটিন বেশি খান। সেখান থেকেই সমস্যা সূত্রপাত।মেটাবলিক ডিসঅর্ডারের জন্য শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ইউরিক অ্যাসিডের ক্যালসিফিকেশনহয়, ফলে ইনফ্লেমেশন হয়ে ফুলে যায়। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বেশি। মহিলাদের শরীরের ইস্ট্রোজেন হরমোন ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।কী খাবেন আর কী খাবেন না? ইউরিক অ্যাসিডের ডায়েট নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই টমেটো খাওয়া ছেড়ে দেন। রান্নায় টমেটো, পিঁয়াজ খেতে পারেন তবে কাঁচা পিঁয়াজ বা টমেটো খাবেন না। ভাত, রুটি, চিঁড়ে, মুড়ি, ভুট্টা খেতে পারেন। পালং, ফুলকপি, বাঁধাকপি অল্প খাবেন। বীজ আছে এরকম সবজিও খেতে পারেন, পরিমাণ কম। তৈলাক্ত নয় এমন মাছ খান। ইলিশে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। বর্ষাকালে এক-দুদিন ইলিশ খেলে সমস্যা নেই। সব ফল খেতে পারেন। তবে মিক্সড ফ্রুটের বদলে সারাদিনে যে কোনও একটা ফল খান। ড্রাই ফ্রুটস চলবে। ২০০-২৫০ এম.এল.-এর বেশি দুধ খাবেন না। দই, ছানা খেতে পারেন। খাবারের তালিকা থেকে প্রোটিনের পরিমাণ কমান। ৬০ কেজি ওজনের কেউ সারাদিনে ৬০ গ্রামের বেশি প্রোটিন খাবেন না। ডাল বা ডাল থেকে তৈরি জিনিস, রাজমা, সয়াবীন খাদ্যতালিকা থেকে সরিয়ে রাখুন।ডিমের সাদা অংশই খেতে পারেন। চিকেন চলবে। মাটন, মাটনের মেটে, চিংড়ি খাবেন না। অক্সালেট জাতীয় স্টোনের সমস্যা থাকলে দুধ বা দুগ্ধজাতীয় কিছু খাবেন না। ফলের রস খাবেন না। কারণ ফ্রুকটোজ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

মার্চ ১৭, ২০২১
কলকাতা

নিউ মার্কেটের হোটেলে বাবা-মা-ছেলের দেহ উদ্ধার

দুদিন আগে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বাবা-মা-ছেলে। নিউ মার্কেটের রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের হোটেল থেকে তিন জনের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, দেহ থেকে পচা গন্ধ বেরোচ্ছে। মনে করা হচ্ছে ১৪ তারিখ রাতেই আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁরা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে গোটা বিষয় স্পষ্ট হবে বলেই মত তদন্তকারীদের।১৭, রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডের একটি হোটেলে সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ এসে ওঠেন শিলিগুড়ির তিন বাসিন্দা। সুশীল বনশাল, ছন্দাদেবী বনশাল এবং সুনীত বনশাল নামে তিনজন শিলিগুড়ির সেবক রোডের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ওই দিন রাতের খাবার হিসেবে তাঁরা রুটি, চানা দেওয়ার কথা জানায় হোটেলে। খাবার নিয়ে সাড়ে নটা নাগাদ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর মঙ্গলবার বেলা গড়ালেও ওই ঘর থেকে কেউ না বেরনোয় সন্দেহ হয় হোটেল কর্মীদের। তাঁরা খবর দেন নিউ মার্কেট থানার পুলিশে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হোটেল কর্মীরা দরজা ভেঙে ঢোকেন ঘরে। দেখা যায়, তিন সদস্যই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। পাশে বিষের শিশি, সুইসাইড নোট।পুলিশ সূত্রে খবর, সুইসাইডে নোটে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা। কিন্তু কী কারণে শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় এসে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। আবার তাঁরা খুন হতে পারেন, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত সুশীল বনশালের বয়স ৬৬ বছর, ছন্দাদেবী ৬০ বছরের এবং সুনীত সিংয়ের বয়স ৪৫ বছর। তাঁদের মৃত্যুর খবর পাঠানো হয়েছে শিলিগুড়ির সেবক রোডের বাড়িতে। একটি সূত্রে খবর, সুনীতের মানসিক সমস্যা ছিল। তাঁকে নিয়ে বিপর্যস্ত ছিল পরিবার। ঠিক কী কারণে এই সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃতদেহগুলো পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

মার্চ ১৬, ২০২১
রাজ্য

অপসারিত রাজ্যের নিরাপত্তা অধিকর্তা

নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হওয়ার জের। অপসারিত রাজ্যের নিরাপত্তা অধিকর্তা বিবেক সহায়।পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিভু গোয়েল ও পুলিশ সুপারকেও সরানোর নির্দেশ দিল কমিশন। ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে স্থানীয় দুই থানার ওসি ও এডিএমের বিরুদ্ধে। গত বুধবার সন্ধেয় নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ায় গিয়ে জখম হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পায়ে গুরুতর চোট পান তিনি। অসুস্থ অবস্থায় রাতেই কলকাতায় ফিরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। দেড়দিন এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জখম হওয়ার এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির রং লেগেছিল। একাধিক অভিযোগ নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে পর্যাপ্ত তদন্তের দাবিতে কমিশনে যায় বিজেপি। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জখম হওয়ার ঘটনায় মুখ্যসচিব ও সিইও-র কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে দুই বিশেষ পর্যবেক্ষককে নিজেদের মতামত জানানোর কথাও বলা হয়েছিল। তাঁদের রিপোর্ট নিয়ে রবিবার কমিশনের ফুলবেঞ্চ বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকেই রাজ্যের নিরাপত্তা অধিকর্তা পদ থেকে বিবেক সহায়কে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগেই সরানো হচ্ছে তাঁকে। পাশাপাশি, সরানো হচ্ছে পূ্র্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিভু গোয়েলকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পাচ্ছেন স্মৃতি পাণ্ডে। সরানো হচ্ছে পূ্র্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশকে। তাঁর জায়গায় আসছেন সুনীলকুমার যাদব। সূত্রের খবর, আরও কয়েকজনের অপসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বদলি যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে ওয়াকিবহলমহল।

মার্চ ১৪, ২০২১
রাজ্য

ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা বর্ধমানে, পর পর পিষতে থাকল ট্রাক

ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার শিকার হল চারজন। বেপরোয়া ট্রাক টানা পিষে দিল একাধিকজনকে। মৃত চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গিয়েছে। রিপন মণ্ডল (২০), অনিমেষ রায়(২২) ও বিকাশ শর্মা(৫৫)। বারে বারে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে। অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পালসিটে যান এসডিপিও সাউথ আমিনুল ইসলাম খান। তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েন।জানা গিয়েছে, বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের পালসিট স্টেশনের কাছে একটি লরি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে টানা পিষে দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা চিৎকার চেচামেচি করলেও লরিটি পর পর মানুষজনকে ধাক্কা মারতে থাকে। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজন মারা গিয়েছে। লরিটি কলকাতা থেকে বর্ধমানের দিকে যাচ্ছিল।পালসিট স্টেশনের কাছে লরির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকে প্রথমে ধাক্কা মারে।তারপর রাস্তার বাঁদিকে বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে একের পর একজনকে পিষে দিয়ে চলে যায়। এই দুর্ঘটনার ১৪ জন জখম হয়। তাঁদের উদ্ধার করে অনাময় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চারজন মারা যায়। মৃতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ভাগ্যের জোরে বাঁচলেন টাইগার উডস

ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে কিংবদন্তি গল্ফার টইগার উডস। লস অ্যাঞ্জেলসের রোলিং হিলস এস্টেট এবং র্যা ঞ্চো পালোসা ভার্দাসের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে টাইগারের গাড়ি। শরীরের একাধিক জায়গায় মারাত্মক আঘাত পান কিংবদন্তি গল্ফার। তাঁর পায়ের চোট রীতিমতো গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। আপাতত হাসপাতালে ভর্তি তিনি। তাঁর শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে আপাতত তিনি বিপন্মুক্ত।লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে উডসের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেসময় ঘটনাস্থলে অন্য কোনও গাড়ি ছিল না। কিংবদন্তি গল্ফার নিজেই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের একটি গাছে ধাক্কা মারেন। ধাক্কা খাওয়ার পর রাস্তার ঢাল ধরে গাড়িতে গড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকবার গাড়িটি ডিগবাজিও খায়। গড়াগড়ি খাওয়ায় উডসের গাড়ি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রীতিমতো দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। তবে, সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন উডস। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল। সেই সময় জ্ঞান ছিল উডসের। কথাও বলতে পারছিলেন। দমকল কর্মীরাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তাঁরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় সিটবেল্ট বেঁধেছিলেন উডস। সম্ভবত সেকারণেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১
দেশ

মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনায় মৃত কমপক্ষে ১৫

ফের ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা মহারাষ্ট্রে। রবিবার গভীর রাতে জলগাঁও জেলায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি উলটে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১৫জন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।গতকাল রাতে জলগাঁওয়ের ইয়াবল তালুকের কিনাগাঁওয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও স্থানীয়রা। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃতদেহগুলোকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, তীব্র গতিতে ছুটছিল যাত্রীবাহী গাড়িটি। তার উপর অত্যাধিক যাত্রী সওয়ার থাকার ফলে সেটির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। টাল সামলাতে না পেরে মুহূর্তে উলটে যায় বাহনটি। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ১৫ জনের। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী। আহতদের অনেকেরই আঘাত গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনার একেবারের উপরের দিকেই রয়েছে মহারাষ্ট্র। ২০২০ সালে ওই রাজ্যে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ হাজার ৪৫২ জন। ফলে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়েছে ওই রাজ্যের প্রশাসন। প্রশ্ন উঠছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও সড়কগুলোতে গতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১
দেশ

মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনায় মৃত ১৪

ভোররাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মৃত্যু অন্তত ১৪ জন তীর্থযাত্রীর। আশঙ্কাজনক অবস্থা আরও অন্তত ৪ জনের। রবিবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের কারনুল জেলার মাদারপুরম গ্রামের ভেলদুর্থি মণ্ডলের কাছে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিতোরের মদনাপল থেকে একদল তীর্থযাত্রী রাজস্থানের আজমেড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। রবিবার ভোর তিনটে-সাড়ে তিনটে নাগাদ তীর্থযাত্রীদের মিনি ভ্যানটির সঙ্গে উলটো দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৮ মহিলা, ৫ পুরুষ ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকি ২৪ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে। জানা গিয়েছে, মিনি ভ্যানটিতে ১৮জন ছিলেন। ছিন্নভিন্ন অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।Andhra Pradesh: 13 people killed, 4 injured in a collision between a bus and a truck near Madarpur village in Veldurti Mandal, Kurnool district in the early morning hours; injured admitted to Government General Hospital pic.twitter.com/Ve1hHqTBkZ ANI (@ANI) February 14, 2021

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১
দেশ

চৌরী-চৌরার ঘটনা নিয়ে আক্ষেপ মোদির

১৯২২ সালে ব্রিটিশ শাসিত ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল চৌরী-চৌরার ঘটনা। সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের সেই লড়াইয়ের ১০০ বছর অতিক্রান্ত। আর সেই কারণেই এবার এই ঘটনাকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হচ্ছে উত্তরপ্রদেশে। বৃহস্পতিবার যার ভার্চুয়াল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ঘটনা ভারতীয় ইতিহাসের পাতায় সেভাবে গুরুত্ব পায়নি বলে আক্ষেপ মোদির।এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত থেকে একটি পোস্টাল স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরই মোদির ভাষণে উঠে আসে ১৯২২ সালের সেই লড়াই মর্মস্পর্শী ঘটনার কথা। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সেই অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, তাঁদের সেই রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ইতিহাসের পাতায় সেভাবে গুরুত্ব না পেলেও দেশবাসীর মননে রয়ে গিয়েছে। এবং তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়।একইসঙ্গে মোদির ভাষণে উঠে আসে কৃষকদের কথা। দেশে কৃষকদের গুরুত্ব বোঝাতে বিপ্লবীদের সঙ্গেও তাঁদের তুলনা টানেন প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে এও স্পষ্ট করেন, গত কয়েক বছরে দেশ কৃষিতে উল্লেখ্যযোগ্য উন্নতি করেছে। আর পুরোটাই সম্ভব হয়েছে কৃষকদের জন্য।Centenary celebrations of Chauri Chaura incident. https://t.co/X9yixxmrIX Narendra Modi (@narendramodi) February 4, 2021

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২১
দেশ

মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত ১০

ভোররাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কমপক্ষে ১০ জনের। একটি পিক আপ ভ্যান উল্টে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। ঘটনাটি ঘটেছে ওডিশার কোরাপুট জেলায় কোটপুট থানা এলাকায়। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। টুইটারে তিনি বলেছেন, কোরাপুটের দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারালেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আশা করছি আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পটনায়েকও দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন।স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবার রাতে ছত্তিশগড়ের নাগরনার এলাকা থেকে ওডিশার কোটপুটে যাচ্ছিলেন ওই পিক আপ ভ্যানের যাত্রীরা। রাস্তায় হঠাতই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৯ জনের। আরও অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পিক আপ ভ্যানটিতে যাত্রী সংখ্যা ছিল অত্যাধিক। যার ফলে দুর্ঘটনাটির ভয়াবহতা অনেক বেশি হয়েছে বলেই দাবি স্থানীয়দের।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২১
রাজ্য

মণীশ শুক্লা খুনে গ্রেফতার আরও এক অভিযুক্ত

মণীশ শুক্লা খুনে আরও একজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে তল্লাশি চালিয়ে নাসির আলি মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা গিয়েছে, সে আসলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের পর গা ঢাকা দিয়েছিল সে। আজ তাকে আদালতে পেশ করা হবে। এ নিয়ে মণীশ শুক্লা খুনে মোট ১০ জন গ্রেপ্তার হল। আরও পড়ুন ঃ বীরভূম থেকে গ্রেফতার এক জঙ্গি প্রসঙ্গত, মাস দুই আগে এক রবিবার টিটাগড়ে প্রকাশ্য রাস্তায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিলেন বিজেপি কাউন্সিলর মণীশ শুক্লা। তদন্তে নেমে বহু রাঘব বোয়ালের জড়িত থাকার কথা জানতে পারেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। সেইমতো তাঁদের গ্রেপ্তারির প্রক্রিয়া শুরু হয়। জানা যায়, ভিনরাজ্যের সুপারি কিলারদের দিয়ে মনীশকে খুন করানোর চক্রান্ত হয় এবং সেইমতোই অপারেশন হয়। এই ভিনরাজ্যের যোগসূত্র খুঁজতে বিহারের যান তদন্তকারীদের একটি দল। পাটনার জেলে বন্দি এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী মণীশ হত্যার ব্লু প্রিন্ট ছকে দিয়েছিল বলে তাঁদের কাছে খবর ছিল। সেই সূত্র মারফতই এদিন গ্রেফতার হলেন নাসির।

ডিসেম্বর ১১, ২০২০
রাজ্য

সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ সিআইডির

কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাস খুনের মামলায় বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করল সিআইডি। শনিবার এটি আদালতে জমা পড়েছে। খুনের ষড়যন্ত্রে মুকুল রায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ৩০২ ও ১২০ বি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুকুল রায় ছাড়াও এই খুনের ঘটনায় রাণাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বিরুদ্ধে আগেই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পণ্ডারি ও আরও একজনের সঙ্গে খুনের আগে ও পরে ফোনে কথা বলেছিলেন জগন্নাথ। জগন্নাথ সরকার এই খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অভিযোগ সিআইডির। এফআইআরে নাম ছিল মুকুলের। সন্দেহভাজন হিসেবে আগে জমা দেওয়া চার্জশিটে নাম ছিল মুকুলের। আরও পড়ুন ঃ মেদিনীপুর থেকেই রাজ্যে প্রতিনিধিত্ব করবেন শুভেন্দু অধিকারীঃ দিলীপ এদিন মুকুল রায় বলেন, সত্যজিত বাচ্চা ছেলে। আমি এই খুনের ব্যাপারে জানি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো পুলিশমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশেই তো এই চার্জশিট হয়েছে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, বুকে হাত দিয়ে বলুন , মুকুল কি খুন করতে পারেন ? তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে ৪৪টি মামলা আছে। আমার আইনের উপর ভরসা আছে। আইনের পথেই লড়ে নেব। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি গুলি করে খুন করা হয় সত্যজিত বিশ্বাসকে। সেই খুনের ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তখন আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল আদালত। তবে আদালত জানিয়েছিল, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাকে সহযোগিতা করতে হবে। নদিয়া জেলায় যেতে পারবেন না তিনি।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২০
রাজ্য

ধূলাগড়ে গরুবোঝাই লরি উল্টে দুর্ঘটনা, মৃত ১, জখম বহু

গরুবোঝাই লরি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটল হাওড়ার ধূলাগড়ে। মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটেছে হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকার সন্ধিপুরে। দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু হয়েছে একজনের। তাঁর পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। আহত হয়েছেন ১৯ জন। যার মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে হাওড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বেশ কয়েকটি গরুও। আরও পড়ুন ঃ কেন্দ্রের নতুন আইনে বেড়ে গিয়েছে কালোবাজারিঃ মমতা জানা গেছে, সামনের চাকা ফেটে উল্টে যায় লরিটি। ট্রাকে ভর্তি করে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় টায়ার ফেটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর জাতীয় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সন্ধিপুরে একটি গরু ভর্তি লরি চাকা ফেটে ডিভাইডারে উঠে উলটে যায়। উল্টে যাওয়া গাড়িটি সরিয়ে দেয় পুলিশ। তবে এটি গরু পাচারের ঘটনা কিনা তা খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। এই দুর্ঘটনায় আহত হন ট্রাকের এক যাত্রী আবদুল কাদের বিশ্বাস। তিনি বলেন, তাঁরা গরু নিয়ে ৬ নং জাতীয় সড়ক দিয়ে দিয়ে আসছিল। তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুরের নরঘাট থেকে বেলাঘাটা যাচ্ছিলেন। দুপুর নাগাদ সন্ধিপুরের কাছে হটাৎই গাড়ির সামনের চাকা ফেটে গার্ডওয়ালের ওপর উঠে যায়। এরপর সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি উলটে যায়। গরুগুলি পাচার হচ্ছিল কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নভেম্বর ২৪, ২০২০
রাজ্য

হোটেল থেকে সংকটজনক অবস্থায় যুবক- যুবতী উদ্ধার

হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন হোটেলের একটি ঘর থেকে এক যুবক ও যুবতীকে সংকটজনক অবস্থায় উদ্ধার করল গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে , হোটেলটি হাওড়া স্টেশনের কাছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে তাঁদের নাম প্রীতম প্রামানিক (২২) ও সরস্বতী মাইতি মিদ্দে (২০)। তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির বাসিন্দা। হোটেলে জমা দেওয়া আধার র্কাড থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে প্রীতমের বয়স ২২ ও সরস্বতীর বয়স ২০। হোটেল মালিক বলেন, দুজনেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে ওঠেন। তাঁরা হোটেলের দোতলার ১০১ নম্বর রুমে ছিলেন। হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৬টা নাগাদ স্বামী - স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে ঘর নেন তাঁরা। দুজনেরই মুখ দিয়ে গাঁজলা বেরোচ্ছিল। মুখ থেকে উৎকট ঝাঁঝালো গন্ধ বেরিয়ে আসছিল। আরও পড়ুন ঃ প্রধানমন্ত্রী কি দেশের নাগরিক নয়? প্রশ্ন কৈলাসের হোটেলের ম্যানেজার ঈষান মিশ্র জানান, শনিবার দুপুর র্পযন্ত অনেকবার ডাকাডাকি করার পরও ১০১ নম্বর ঘরের বোর্ডার দরজা না খোলায় তাঁদের সন্দেহ হয়। শেষ র্পযন্ত তাঁরা থানায় খবর দেন। গোলাবাড়ি থানার পুলিশ এসে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে দুজনকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায় দুজনের অবস্থাই আশংকাজনক। যুবক -যুবতী কীটনাশক জাতীয় কিছু খেয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। হোটেলের কর্মীরা জানান, শুক্রবার থেকে ঘরেই ছিলেন তাঁরা। শনিবার সকাল থেকে তাঁদের সাড়া শব্দ না পেয়ে কর্মীদের সন্দেহ হয়। সেই কথা হোটেলের মালিককে জানালে তিনিই পুলিশকে খবর দেন। কি কারণে তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা জানতে পুলিশ দুই পরিবারের লোককে ডেকে পাঠিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

নভেম্বর ২১, ২০২০
কলকাতা

পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু মহিলার , রণক্ষেত্র কাদাপাড়া মোড়

পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক মহিলার। রাস্তা পারাপারের সময় সিগন্যাল ভেঙে আসা গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় তাঁর। মৃতের নাম গৌরি দত্ত। তিনি দত্তাবাদের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রবিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ সল্টলেকের দিক থেকে একটি সাদা রঙের গাড়ি আসছিল। ইএম বাইপাসের কাদাপাড়া মোড়ের কাছে সিগন্যাল ভেঙে এগিয়ে আসে গাড়িটি। সেই সময় রাস্তা পার হচ্ছিলেন এক মহিলা। দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসা ওই গাড়িটি মহিলাকে সজোরে ধাক্কা মারে। মহিলাকে গাড়ির চাকায় জড়িয়ে বেশ কিছুটা রাস্তা টেনে হিঁচড়ে নিয়েও যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় মহিলার। গাড়িটিকে আটকে রাখে স্থানীয় বাসিন্দারা। গাড়ির চালক এবং আরোহীকে মারধরও করা হয়। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে ফুলবাগান থানার পুলিশ পৌছলে তাদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভও দেখাতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা। আরও পড়ুন ঃ রাজ্যবাসীকে কালীপুজো ও দীপাবলির শুভেচ্ছা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এরপর উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান। এছাড়া স্থানীয় বিধায়ক পরেশ পালও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের হস্তক্ষেপে প্রায় ঘণ্টাদুয়েক পর অবরোধ উঠে যায়। ওই গাড়ির চালক এবং আরোহীকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য এনআরএস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নভেম্বর ১৫, ২০২০
রাজ্য

বালি বোঝাই লরি উলটে দুর্ঘটনা , মৃত্যু একই পরিবারের তিনজনের

এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল একই পরিবারের তিনজনের। এই দুর্ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর এলাকা। মৃতরা হলেন , সন্ধ্যা বাউরি (৩০), রিঙ্কু বাউরি (১৪) ও রাহুল বাউরি(১২)। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন স্বামী স্বামী প্রশান্ত বাউরি। জানা গিয়েছে , বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব বর্ধমান জামালপুর থানার কুলির মুইদিপুর গ্রামে বালি বোঝাই লরি উলটে যায় দামোদরের বাঁধের রাস্তার ধারে থাকা একটি বাড়ির উপরে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শুরু করে উদ্ধারকাজ। বাড়ির মধ্যেই প্রশান্ত বাউরির ছেলে ও মেয়ে চাপা পড়ে মারা যায়। হাসপাতালে মারা যান সন্ধ্যা বাউরি। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ফলে এই বিপত্তি ঘটেছে। আরও পড়ুন ঃ শীর্ষ নেতার ফোনেই জেলা কমিটি ঘোষণা বন্ধ করে পালালেন কল্যাণ? নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। এছাড়া ওই এলাকা দিয়ে বালিবোঝাই লরি চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নচেৎ পুলিশের হাতে কোনওভাবেই দেহ তুলে দেওয়া হবে না। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ তাদের বোঝাতে গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। গ্রামবাসীরা পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে সেই জনরোষ বালিখাদানে গিয়েও পড়ে। উত্তেজিত মানুষজন ওই এলাকার বালিখাদানে চড়াও হয়। সেখানের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিসকে লাঠিচার্জ করতে হয় । কিছু সময় পর অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোন রকমে বিক্ষুব্ধ মানুষজনকে সরিয়ে দিয়ে মৃত ও জখমদের উদ্ধার করে।

নভেম্বর ০৬, ২০২০
দেশ

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেফতার অর্ণব গোস্বামী

দুবছর আগে ঋণ শোধ না করা এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের এডিটর অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতার করল মহারাষ্ট্র সিআইডি। তাঁকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতারের ঘটনার কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি এদিন এই বিষয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে টুইটে লেখেন, কংগ্রেস এবং সঙ্গীরা আরও একবার গনতন্ত্রকে লজ্জায় ফেলল। অর্ণব গোস্বামীর উপর আক্রমণ ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের উপর হামলা। এটা আমাকে জরুরি অবস্থার কথা মনে করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করা হবে। জানা গিয়েছে , বুধবার সকালে অর্ণবের বাড়িতে হানা দেয় মুম্বই পুলিশ ও সিআইডির একটি দল। সেই দলে ছিলেন ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ আধিকারিক। অর্ণবের অভিযোগ, তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করেছে পুলিশ। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তাঁকে বলপূর্বক পুলিশ ভ্যানে তোলা হচ্ছে। যে মামলায় অর্ণবকে আটক করা হয়েছে সেটি বছর দুয়েকের পুরনো।ওই বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে শোধ না করা এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আরও পড়ুন ঃ বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধার আগে রাজনীতি থেকে অবসর নেবঃ মায়াবতী প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের মে মাসে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার অন্বয় নায়েক এবং তাঁর মা কুমুদ নায়েককে আলিবাগের একটি বাংলোতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্বয়ের মেয়ে আদন্যা দাবি করেন, ওই বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের থেকে বকেয়া টাকা না পেয়ে আত্মহত্যা করেন তাঁর বাবা ও ঠাকুমা।সেইসময় ওই বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে দাবি করে, কিছু সংগঠন অসৎ উদ্দেশে ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই ধরনের মিথ্যা প্রচারর করছে। অন্যদিকে , এদিন অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতার করার নিন্দা করে বিজেপি নেতা তথা সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত লিখেছেন , এই ঘটনায় ধর্মনিরপেক্ষ বা্মপন্থী ও তৃণমূলপন্থী্রা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বাক স্বাধীনতা নিয়ে এবার কিছু বলতে এলে এদের একদম বিদায় করুন। তিনি সকলকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে একসঙ্গে প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে টুইটে লিখেছেন , আমি মনে করি না , এই গ্রেফতারি অর্ণব গোস্বামীকে চুপ করাতে পারবে।এই ঘটনা তাঁর আবেদন আরও বাড়িয়ে তুলবে। কংগ্রেস ও শিবসেনাকে আরও হাস্যকর করে তুলবে। বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা টুইটে লিখেছেন , মহারাষ্ট্র সরকারের প্রতিহিংসামূলক চিন্তাভাবনায় বাংলার সরকারের চিন্তাভাবনার প্রতিচ্ছবি। নির্লজ্জ মুম্বই পুলিশ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যোগ্য প্রতিযোগী। দেশের সমস্ত সাংবাদিক বন্ধুদের এই লজ্জাজনক ঘটনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। মহারাষ্ট্র সরকারের পতন আসন্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নভেম্বর ০৪, ২০২০
রাজ্য

মন্তেশ্বরে গায়ে আগুন দিয়ে একই পরিবারের তিনজন আত্মঘাতী

সপরিবারে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হল একই পরিবারের তিনজন। ঘটনাটি ঘটেছে , মন্তেশ্বরের বাঘাসোন গ্রামে। মৃতদের নাম সুদেব চন্দ্র দে (৩৯) , তাঁর স্ত্রী রেখা দে (২৮) ও তাঁর ছেলে স্নেহাংশু দে (৮)। জানা গিয়েছে , সুদেব চন্দ্র দে রেল পুলিশে কর্মরত। মঙ্গলবার ভোরবেলায় মন্তেশ্বর থানার পুলিশ একই ঘর থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। আরও পড়ুন ঃ দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেডে বিস্ফোরণ , মৃত ১ তাদের বড় মেয়ে রিমঝিমকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বর্ধমান হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। মৃতের দাদা জানান আজ ভোর ৩ টে ১৫ নাগাদ তাঁর ভাইঝি তাঁকে ফোন করে আগুন লাগার ঘটনার কথা জানায়। এরপরই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঢুকে তিনজনের মৃতদেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকেরা। এরপর পুলিশ দেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।ঘটনার তদন্তে নেমেছে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ। ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নভেম্বর ০৩, ২০২০
রাজ্য

বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় ধৃত ২ শার্প শুটার

টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় দুই শার্প শুটারকে পাঞ্জাব থেকে গ্রেফতার করল সিআইডি। অভিযুক্তদের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ধৃতদের নাম রোশন রাই, সুদীপ যাদব। প্রসঙ্গত , ওই খুনের ঘটনায় আগেই খুররম, গুলাব শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের জেরা করার পর সিআইডি দাবি করে , পাটনার জেলে বন্দী সুবোধ সিং এই খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত। আরও পড়ুন ঃ তারাপীঠে মহাসমারোহে পালিত হল তারা মায়ের আবির্ভাব তিথি জেলে বসেই সে তৈরি করে এই খুনের ব্লু-প্রিন্ট । সুবোধ রায় নামে অপর অভিযুক্তকেও পাকড়াও করা হয়। এরপর সুবো্ধকে জেরা করে প্রচুর তথ্য জোগাড় করেন তারা। এরপর তাদের খোঁজে বিহারে রীতিমতো ঘাঁটি গেড়েছিলেন তদন্তকারীরা । সেখান থেকেই সূত্র মেলে । তারপর এদিন তাদের পাঞ্জাব থেকে গ্রেফতার করা হয়।

অক্টোবর ৩০, ২০২০
রাজ্য

পথ দুর্ঘটনা কমাতে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচি পালন

পথ দুর্ঘটনা কমানোর জন্য হাওড়া সিটি পুলিশ ট্রাফিক বিভাগের তরফ থেকে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচি নেওয়া হল। মঙ্গলবার এই সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ কর্মসূচি পালন করে হাওড়া রেল স্টেশন ট্রাফিক গার্ড। হাওড়ার ওল্ড এবং নিউ কমপ্লেক্সের সামনে পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী এবং গাড়ি চালকদের এই নিয়ে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি হাওড়া স্টেশন এলাকায় সাধারণ মানুষের হাতে দেওয়া হয় মাস্ক ও স্যানিটাইজার। হাওড়া সিটি পুলিশ ট্রাফিক গার্ড এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই ধরনের কর্মসূচি আগামীদিনেও লাগাতার চলবে। আরও পড়ুন ঃ আমি আমি হল সর্বনাশের মূল : শুভেন্দু অধিকারী হাওড়া রেল স্টেশন ট্রাফিক গার্ড সূত্রের খবর, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ এর প্রচার উপলক্ষ্যে মাস্ক বিলি এবং গাড়িতে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ এর স্টিকার লাগানো হয়েছে। এদিন হাওড়া রেল স্টেশন ট্রাফিক গার্ডের তরফ থেকে হাওড়া স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্স ও নিউ কমপ্লেক্সের সামনে যেসব কুলিরা ঠেলাগাড়ি ব্যবহার করে তাদের ঠেলায় রিফ্লেক্টর টেপ লাগানো হয়েছে। এছাড়া সেখানে আসা বেশ কিছু প্রাইভেট গাড়িতে সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফএর বড় রিফ্লেক্টর স্টিকার লাগানো হয়েছে। এই রিফ্লেক্টর স্টিকারে রাতে আলো পড়লে উজ্জ্বল দেখাবে। এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে একদিন করে এই প্রচার কর্মসূচি চলবে।

অক্টোবর ২৮, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

গলব্লাডারের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার! প্রকাশ্যে আসতেই গোপালকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে পিত্তথলির পাথরের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর। গোপালের দাবি, তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা গোপাল পোড়েলের বয়স ৪৭ বছর। তিনি একশো দিনের কাজ করে সংসার চালান। বেশ কিছু দিন ধরে পেটের ডান দিকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো হলে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে।গোপালের অভিযোগ, পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্যই তাঁকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, পিত্তথলির বদলে ভুল করে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন গোপালের এলাকার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিষয়টি সামনে আসার পর গলব্লাডারের পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য গোপালকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল।তবে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বিভ্রাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগটি খারিজ করে দেন।এর মধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আসে। দপ্তরের তরফে প্রথমে বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোন করা হয় গোপাল পোড়েলের সঙ্গে।গোপালের দাবি, তিনি আর্থিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ তাঁর হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।গোপাল আরও জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ঠিক কী কারণে এমন অভিযোগ উঠল, অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরে কী কী পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

বৃষ্টি থামার নাম নেই! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আজও ভারী বৃষ্টি, বৃহস্পতিবার থেকে বদলাবে আবহাওয়া

নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে বাংলায় নাছোড় বৃষ্টি এখনই থামার সম্ভাবনা নেই। বুধবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট।সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বর্ষার দাপট অব্যাহত। সামনে পুজো। তাই কবে বৃষ্টি কমবে, কবে মিলবে পরিষ্কার আকাশের দেখা, সেই প্রশ্নই এখন অনেকের মনে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি।বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে একাধিক নদীতে জলস্তর বেড়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা উপকূল, সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের এলাকায় রয়েছে। ধীরে ধীরে সেটি ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোচ্ছে। তবে তার প্রভাবে এখনও বাংলায় জলীয় বাষ্প ঢুকছে। ফলে বৃষ্টির পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটছে না।বুধবার কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে দিনভর বিক্ষিপ্ত ভাবে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ অবস্থান করায় সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তার জেরেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমতে পারে। তবে পুরোপুরি বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে।অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার থেকে বদলাতে পারে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে দক্ষিণবঙ্গে যখন ধীরে ধীরে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তখন উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় নতুন করে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা।সব মিলিয়ে পুজোর আগে বাংলার আকাশ থেকে বর্ষার দাপট কবে পুরোপুরি কাটবে, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের প্লাবনের পর নদীতে অচেনা মাছের ঢল, খেলে অসুস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসী! বড় সতর্কতা

নেপালের ভয়ংকর প্লাবনের প্রভাব এবার বিহারের নদীগুলিতেও পড়েছে। ত্রিশূলী নদীর জল গণ্ডক ও কোসি নদীতে এসে জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে উত্তর বিহারের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী ও বন্যার জলে ভেসে আসছে প্রচুর মাছ। কিন্তু সেই মাছ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিহার প্রশাসন।বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের আপাতত নদী, পুকুর, হ্রদ বা জলাধার থেকে মাছ না ধরার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মাছ ধরা নয়, সেই মাছ কেনা, বিক্রি করা এবং খাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যার সময় নদী ও জলাশয়ের মাছ প্রবল জলস্রোতে দূরের এলাকায় চলে যেতে পারে। বন্যার জলের সঙ্গে দূষিত নর্দমার জল, মৃত প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থও নদী ও জলাশয়ে মিশে যায়। ফলে ওই জলে থাকা মাছের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার আশঙ্কা থাকে।বন্যাকবলিত এলাকায় কিছু অপরিচিত প্রজাতির মাছও দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই মাছ খেয়ে কয়েক জন অসুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে মাছ খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কোনও ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বন্যার জল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে মাছ ধরে খাওয়া বা বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপালের প্রশাসনের তরফেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রচুর মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মৃতদেহ এবং মৃত পশুর দেহ পড়ে থাকার খবর সামনে এসেছে। এর ফলে বন্যার জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।এই পরিস্থিতিতে নদী বা বন্যার জল থেকে ভেসে আসা মাছকে নিরাপদ মনে না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে মার সব থেকেও বৃদ্ধাশ্রমে বাস, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal