• ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২, বুধবার ০৪ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

T20

খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ ট্রফির উপর পা, তারপরই পতন? দুই বছরে ছন্দহারা অজি ব্রিগেড

বিশ্বক্রিকেটে এক সময় অপ্রতিরোধ্য শক্তি ছিল অস্ট্রেলিয়া। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ জিতে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ করেছিল তারা। ফাইনালে হারাতে হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলকে। সেই জয়ের পর উল্লাসে মেতেছিলেন অজি ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে মাইকেল মার্শের বিশ্বকাপ ট্রফির উপর পা তুলে বসে বিয়ার খাওয়ার ছবি নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়।মাত্র দুবছরের ব্যবধানে ছবিটা একেবারে বদলে গেছে। চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই শেষ হয়ে গেছে তাদের স্বপ্ন। এমনকি জিম্বাবোয়ের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের কাছেও হারতে হয়েছে তাদের। নেটদুনিয়ায় অনেকেই বলছেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই আজ অস্ট্রেলিয়ার পতনের কারণ।২০২৩ বিশ্বকাপ জয়ের পর দুটি টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। কোনওবারই সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি তারা। ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে সুপার এইটে উঠে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। ২০২৫ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফির শিরোপা জিততে পারেনি অজিরা। সেমিফাইনালে আবারও ভারতের কাছেই হারতে হয়। একই বছরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেও ট্রফি হাতছাড়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে খেতাব জেতা হয়নি প্যাট কামিন্সদের।শুধু পুরুষ দল নয়, অস্ট্রেলিয়ার মহিলা দলও সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্য থেকে দূরে। গতবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠলেও ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। ফলে সব মিলিয়ে অজি ক্রিকেটে চলছে ট্রফিখরা।সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মনে করছেন, ২০২৩ সালের সেই বিতর্কিত উদ্যাপনই আজ অস্ট্রেলিয়ার জন্য কাল হয়েছে। কারও মতে, বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি অসম্মান দেখানোর ফল ভুগতে হচ্ছে। আবার কেউ বলছেন, দীর্ঘদিনের আধিপত্য থেকেই এসেছে অতিরিক্ত অহংকার, আর সেই কারণেই ছন্দপতন।এক সময়ের অজেয় অস্ট্রেলিয়া এখন বড় টুর্নামেন্টে বারবার ব্যর্থ। আর সেই দৃশ্য দেখে খুশি বহু ভারতীয় সমর্থক। ক্রিকেট দুনিয়ায় শক্তির সমীকরণ যে দ্রুত বদলে যায়, অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স যেন তারই প্রমাণ।

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

অবাধ্য থেকে অবিশ্বাস্য! পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৭ রানে জ্বলে উঠলেন ঈশান

একসময় তাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছিল। অবাধ্য, উচ্ছৃঙ্খলএমন অনেক বিশেষণই জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ঈশান কিষানের নামের সঙ্গে। জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়তে হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করে আবার নিজের জায়গা ফিরে পেয়েছেন। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়েই যেন আগুন ঝরালেন।ভারতের ইনিংসের শুরুটা ভালো ছিল না। দ্রুত অভিষেক শর্মার উইকেট পড়ে যায়। কিন্তু সেখান থেকেই দায়িত্ব তুলে নেন ঈশান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। পাকিস্তানের বোলারদের উপর এক মুহূর্তের জন্যও চাপ কমতে দেননি। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শাদাব খান হোক বা শাহিন আফ্রিদি, কাউকেই রেয়াত করেননি।মাঠের চারদিকে শট খেলেছেন ঈশান। দর্শকেরা অপেক্ষা করছিলেন, পরের বলটি কোন দিকে পাঠাবেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৭৭ রান করে ফেরেন। সাইম আয়ুবের বলে আউট হওয়ার সময় ভারতের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে গেছে। তাঁর এই ইনিংসই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।ম্যাচ শেষে ঈশান বলেন, এই ম্যাচ সব সময় আলাদা। এই জয় শুধু দলের জন্য নয়, দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, পাকিস্তানের দলে কয়েকজন ভালো স্পিনার রয়েছে, তাই এই জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। পাশাপাশি জশপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার প্রশংসাও করেন তিনি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও বলেন, এই জয় দেশের জন্য।ঈশানের কাছে এই ইনিংস ব্যক্তিগতভাবেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে ডবল সেঞ্চুরি করার পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁর জায়গা স্থায়ী হয়ে গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে দল থেকে বাদ পড়েন। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই। এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে ভগবদ্গীতার প্রেরণা। বাবার কাছ থেকে গীতার শ্লোকের অর্থ জেনে তিনি ধীরে ধীরে সেই দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন। ব্যাট ও গ্লাভসের পাশাপাশি গীতা হয়ে ওঠে তাঁর নিত্যসঙ্গী। কঠিন সময়েও সেই শিক্ষাই তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৭ রানের এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্যাটে। আর প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে বড় মঞ্চেই তিনি নিজের সেরাটা দিতে পারেন।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘নো হ্যান্ডশেক’ নিয়ম ভেঙে আক্রমের সঙ্গে করমর্দন! রোহিতকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখন তলানিতে। ক্রিকেট মাঠেও তার প্রভাব স্পষ্ট। দুই দেশের ম্যাচে এখন আর অধিনায়কদের করমর্দন দেখা যায় না। বোর্ডের অঘোষিত নির্দেশ মেনে অনেক ক্রিকেটারই দূরত্ব বজায় রাখছেন। সেই আবহেই ওয়াসিম আক্রমের সঙ্গে রোহিত শর্মার করমর্দন ও হাসিমুখে গল্পের ছবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর রোহিত শর্মা। তাঁর হাত ধরেই শেষ টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। এবারের আসরে ট্রফি মাঠে আনার দায়িত্বও ছিল তাঁর উপর। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আক্রম। সেখানেই দেখা যায়, দুজন বেশ কিছুক্ষণ কথা বলছেন, করমর্দন করছেন, হাসিমুখে খোশগল্প করছেন। মুহূর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে।অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যখন ভারত-পাক ম্যাচে নো হ্যান্ডশেক প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে, তখন রোহিতের এই আচরণ কতটা সমীচীন? এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপেও কলম্বোয় টসের সময় দুই অধিনায়ককে গম্ভীর মুখে দেখা যায়। করমর্দন হয়নি। বয়কটের আবহে ম্যাচের গুরুত্বও ছিল অনেক বেশি।এই পরিস্থিতিতে রোহিত ও আক্রমের খোলামেলা আলাপ অনেকের চোখে বেমানান লেগেছে। তবে অন্য দিকও রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে রোহিত ভারতীয় দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তি ও টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা হিসেবে আরেক কিংবদন্তির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করায় দোষের কিছু আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।ওয়াসিম আক্রম শুধু পাকিস্তানের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার হিসেবে স্বীকৃত। ক্রিকেটের ময়দানে তাঁর অবদান সীমান্তের গণ্ডি ছাপিয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে দেখলে দুই প্রজন্মের দুই তারকার সাক্ষাৎ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে স্বাভাবিক বলেই মনে হতে পারে।তবু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই এখন অতিরিক্ত আবেগ, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক ছায়া। তাই ছোট একটি মুহূর্তও বড় বিতর্কে রূপ নিচ্ছে। রোহিতের এই করমর্দন কি শুধুই সৌজন্য, না কি অঘোষিত নিয়ম ভাঙার বার্তাসেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

“বয়কটই ভালো ছিল?” ভারতের কাছে ফের চূর্ণ পাকিস্তান, প্রশ্নে নেটদুনিয়া

গত বছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে টানা তিন ম্যাচে হারানোর পর ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেছিলেন, এখন আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে সেই আগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, খেলা একপেশে হয়ে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সেই কথাই যেন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক ম্যাচেও পাকিস্তানের পারফরম্যান্স দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এভাবে হারতে হলে বয়কটই কি ভালো ছিল না?পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘার একাধিক সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এত বড় ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। শুরুতে স্পিনাররা ভালো বল করলেও দলের অন্যতম ভরসা উসমান তারিককে দেরিতে আনা হয়। যখন তিনি বোলিংয়ে এলেন, তখন ভারতের স্কোর প্রায় একশোর কাছাকাছি। ততক্ষণে ঈশান কিষান ঝড় তুলে ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছেন।শেষ দিকেও প্রশ্ন উঠেছে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত নিয়ে। স্পিনারদের ওভার বাকি থাকা সত্ত্বেও শেষ ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে বল দেওয়া হয়। সেই ওভারেই ১৬ রান তুলে নেয় ভারত। ম্যাচের শেষভাগে এই রানই বড় ব্যবধান তৈরি করে দেয়। ১৭৬ রানের লক্ষ্য অজেয় ছিল না, কিন্তু পাকিস্তানের ব্যাটিং শুরু থেকেই ভেঙে পড়ে।প্রথম কয়েক ওভারেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। দেখে মনে হচ্ছিল, দলটি যেন আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের রেকর্ডও তাদের পক্ষে কথা বলে না। আট ম্যাচের মধ্যে একবার ছাড়া প্রতিবারই হারতে হয়েছে। কখনও বোল আউটে নাটকীয় পরাজয়, কখনও ফাইনালে মিসবা উল হকের ভুল শট, কখনও মেলবোর্নে বিরাট কোহলির ঐতিহাসিক ইনিংসপ্রতিবারই ভারতের বিরুদ্ধে হারের আলাদা গল্প রয়েছে পাকিস্তানের।২০২১ সালে একমাত্র জয়টি পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন আসে। নেতৃত্বে বদল হয়, নতুন পরিকল্পনা আসে, এবং পরবর্তীতে আইসিসি ট্রফিও জেতে ভারত। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটে সেই ধারাবাহিক উন্নতি চোখে পড়ে না। বরং বড় ম্যাচে বারবার একই ভুল, একই ভাঙন দেখা যাচ্ছে।একসময় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ছিল টানটান উত্তেজনা, শেষ বল পর্যন্ত অনিশ্চয়তা। এখন সেই রোমাঞ্চ অনেকটাই কমে গিয়েছে। মাঠের লড়াই একপেশে হয়ে গেলে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ম্লান হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠছে, যদি এমন পারফরম্যান্সই চলতে থাকে, তবে এই মহারণের মান কোথায় দাঁড়াবে? পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলা। না হলে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের সেই পুরনো মর্যাদা আর ফিরবে কি?

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বয়কটের হুঙ্কার, শেষে ৬১ রানে ধ্বংস! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে সুপার এইটে ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় ভারতের। শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে ৬১ রানে হারিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিল টিম ইন্ডিয়া। এই নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে আটবার হারাল ভারত। বড় ম্যাচে সূর্যকুমার যাদবদের জয়ের পরিসংখ্যান বদলাল না।টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। শুরুতেই অভিষেক শর্মার উইকেট হারালেও চাপে পড়েনি ভারত। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত নিজেদের হাতে নিয়ে নেন ঈশান কিষান। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। পাকিস্তানের বোলারদের একের পর এক বাউন্ডারি মেরে চাপে ফেলে দেন। শাদাব খান ও শাহিন আফ্রিদির বলেও সমান আক্রমণাত্মক ছিলেন ঈশান। ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ বলে ৭৭ রান করে ভারতের ইনিংসের শক্ত ভিত গড়ে দেন তিনি।মাঝে তিলক বর্মা ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার দ্রুত আউটে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। সূর্যকুমার যাদব চেষ্টা করলেও বড় রান করতে পারেননি। ৩২ রানে আউট হন তিনি। উসমান তারিকের স্পিন কিছুটা সমস্যায় ফেলেছিল ভারতীয় ব্যাটারদের। তবে শেষ দিকে রিঙ্কু সিং ও শিবম দুবের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে ১৬ রান ওঠে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের রান দাঁড়ায় ১৭৫।১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান হার্দিক পাণ্ডিয়া। পরের ওভারে জশপ্রীত বুমরাহ জোড়া আঘাত করেন। সাইম আয়ুব ও সলমন আলি আঘা দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন। সেখান থেকেই ম্যাচ কার্যত ভারতের দিকে ঝুঁকে যায়।বাবর আজম কিছুটা সময় ক্রিজে থাকলেও রানের গতি বাড়াতে পারেননি। অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। উসমান খান লড়াইয়ের চেষ্টা করেন, কিন্তু অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে। শাদাব খান, মহম্মদ নওয়াজ কেউই বড় রান করতে পারেননি। কুলদীপ যাদব ও তিলক বর্মাও উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেলের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে আউট হন উসমানও। শেষ দিকে শাহিন আফ্রিদি ১৯ বলে ২৩ রান করে ব্যবধান কিছুটা কমান।শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। হার্দিক, বুমরাহ, অক্ষর ও বরুণপ্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। ৬১ রানের বড় ব্যবধানে জিতে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে ভারত। আর বিশ্বকাপে আবারও ভারতের সামনে থমকে দাঁড়াল পাকিস্তান।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাই ভোলটেজ ম্যাচে ৬ স্পিনার! কৌশল না বাধ্যবাধকতা?

এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটে পেস ফ্যাক্টরি হিসেবে পরিচিত ছিল পাকিস্তান। ইমরান খান, ওয়াসিম আক্রম, ওয়াকার ইউনুস,আকিব জাভেদ, শোয়েব আখতার থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্মে মহম্মদ আমির দাপুটে পেসারদের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব কাঁপিয়েছে তারা। কিন্তু সেই পাকিস্তানই আজকের ম্যাচে একসঙ্গে ৬ জন স্পিনার খেলানোয় বিস্মিত ক্রিকেটবিশ্ব ও বিশেষজ্ঞ মহল। আজকের ম্যাচে একসঙ্গে ছয় জন স্পিনার খেলিয়ে পাকিস্তান গড়ল অনন্য বিশ্বরেকর্ড আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে এক দলে সর্বাধিক স্পিন বোলার বল করানোর নজির গড়ল পাকিস্তান।নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০-এর দশক পাকিস্তানের শক্তির মূল স্তম্ভ ছিল আগ্রাসী পেস আক্রমণ। রিভার্স সুইং ছিল তাদের অস্ত্র। ব্যাটসম্যানদের আতঙ্কিত করা, শর্ট বলের চাপে ভুল করানো এটাই ছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটের পরিচয়। তাই আজকের দলগঠনে হঠাৎ স্পিননির্ভর কৌশল অনেককেই অবাক করেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে সম্ভাব্য কারণগুলো হতে পারে১. পিচের চরিত্রযদি উইকেট শুষ্ক ও ধীরগতির হয়, তাহলে স্পিনারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে মাঝের ওভারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিক স্পিনার কার্যকর হতে পারে।২. প্রতিপক্ষের ব্যাটিং কম্বিনেশনপ্রতিপক্ষ দলে যদি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি থাকে বা স্পিনে দুর্বলতা থাকে, তাহলে স্পিন আক্রমণ বাড়ানো হতে পারে পরিকল্পিত কৌশল।৩. পেস আক্রমণে আস্থার ঘাটতিসাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের পেস বোলিং ধারাবাহিকভাবে আগের মতো ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলতে পারছে না এমন মতও রয়েছে বিশ্লেষকদের একাংশের।বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়াঅনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তান নিজেদের ঐতিহ্য থেকে সরে এসে অতিরিক্ত পরীক্ষানিরীক্ষায় যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টিতে বৈচিত্র্য জরুরি হলেও ৬ জন স্পিনার কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পাওয়ারপ্লেতে গতি না থাকলে প্রতিপক্ষ দ্রুত রান তুলতে পারে।আবার অন্য একদল বলছেন, আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী দল গঠনই আসল নামের চেয়ে কৌশল গুরুত্বপূর্ণ।পেসের দেশ পাকিস্তানের স্পিনমুখী কৌশল সময়ই বলবে সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল। তবে এতদিনের ঐতিহ্য মাথায় রাখলে আজকের দলগঠন যে ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনার ঝড় তুলেছে, তা বলাই যায়।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত-পাকিস্তান: মহারণ নয়, একতরফা বার্তা, পেস বলের দেশ -৬ জন স্পিনার!

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বয়কটের হুঁশিয়ারি, তারপর হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলএই নাটকীয়তার আবহেই নামতে হয়েছিল ভারত-পাকিস্তানকে। কিন্তু মাঠে যে লড়াই দেখা গেল, তাতে মহারণ শব্দটা কেবল নামেই রয়ে গেল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি পরিসংখ্যান ৭১ থেকে বেড়ে ৮১ভারতের পক্ষে।কলম্বোর মন্থর উইকেটে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ভারত তোলে ১৭৫/৭। জবাবে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১১৪ রানে। শেষদিকে শাহিন আফ্রিদির ঝড়ো কয়েকটি শট না থাকলে তিন অঙ্কও হয়তো ছোঁয়া হত না। ম্যাচের প্রথম দুওভারেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, অলৌকিক কিছু না ঘটলে ফলাফল কোন দিকে যাবে।ঈশানের আগুনে ইনিংস: মন্থর পিচে আলাদা আলোকলম্বোর পিচ ধীরগতিরএই ধারণা ম্যাচের আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেই পিচে যেভাবে ব্যাট করলেন ঈশান, তা শুধু ম্যাচ নয়, টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুরুতেই শাহিনকে ছয় মেরে বার্তা দেন তিনিআত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি নেই।স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর পায়ের ব্যবহার, ফাঁকা জায়গা খুঁজে বাউন্ডারি বের করার দক্ষতাসব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন অন্য ট্র্যাকে খেলছেন। ভারতীয় দল দীর্ঘদিন পর এমন এক ইনিংস পেল, যা স্কোরবোর্ডে শুধু রান যোগ করেনি, মানসিক দিক থেকেও পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছে। ঈশানের এই ইনিংস না থাকলে ১৭৫ রান নাগালের বাইরে থাকত।সূর্য-তিলকের মাপা ব্যাটিং: ঝুঁকি নয়, বুদ্ধির খেলাঈশানের আগ্রাসনের পর পরিস্থিতি বুঝে খেলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মা। তাঁরা জানতেন, একই ছন্দে চালালে উইকেট পড়তে পারে দ্রুত। তাই বেছে নেন খুচরো রান ও স্ট্রাইক রোটেশনের পথ। তৃতীয় উইকেটে ৩৮ রানের জুটি ম্যাচের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সূর্য আবারও দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেনঅধিনায়কের মতোই। রানের গতি খানিক কমলেও স্কোরবোর্ড কখনও থামেনি। এই মাপা ব্যাটিং শেষ পর্যন্ত বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়।শেষের ঝড়: শিবম-রিঙ্কুর কাঁধে বাড়তি ২৫-৩০ রান১৫০ পার হওয়াই যেখানে চ্যালেঞ্জ ছিল, সেখানে শেষ তিন ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শিবম দুবে ও রিঙ্কু সিংহ। শিবমের ১৭ বলে ২৭ ও রিঙ্কুর ৪ বলে ১১এই দ্রুত রানই ভারতের স্কোর ১৭৫-এ পৌঁছে দেয়। শেষ ওভারে শাহিনের হাতে বল তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য ব্যুমেরাং হয়ে যায়। অতিরিক্ত ১৫-১৬ রানই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।প্রথম চার ওভারেই ধস: সূর্যের কৌশলে কাবু পাকিস্তানপাকিস্তানের ইনিংস শুরু হতেই সূর্যের কৌশল নজর কাড়ে। স্পিনে ভরসা না করে প্রথম চার ওভার বল করান জোরে বোলারদের দিয়ে। ফল? আট বলের মধ্যে দুই উইকেট। হার্দিকের বলে ফারহানের বিদায়, তারপর বুমরাহর নিখুঁত ইয়র্কারে সাইম আয়ুবের স্টাম্প উড়ে যাওয়াপাকিস্তান চাপে পড়ে যায় শুরুতেই।সলমনের একটি ঢিলেঢালা শট ধরে নেন হার্দিক। তিন উইকেট পড়ে গেলে মন্থর পিচে ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব। পাকিস্তান আর সেই অলৌকিক প্রত্যাবর্তন দেখাতে পারেনি।স্পিন-ঝুঁকি ও সিদ্ধান্তের ফারাকপাঁচ স্পিনার নিয়ে নামা পাকিস্তান ইতিহাসে নজির গড়লটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ইনিংসে ছজন স্পিনার ব্যবহার। কিন্তু পরিকল্পনা আর বাস্তবের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে গেল।অন্যদিকে সূর্যের সিদ্ধান্ত ছিল পরিস্থিতি-ভিত্তিক। প্রথমে পেসে আঘাত, তারপর স্পিনে চেপে ধরাএই কৌশলই ম্যাচের রাশ টেনে নেয় ভারতের হাতে। ফিল্ডিং সেটআপেও দেখা যায় আক্রমণাত্মক মানসিকতা, যা পাকিস্তানকে আরও চাপে ফেলে।নামেই মহারণ, মাঠে একতরফাদুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ, বয়কটের নাটকসবকিছুর পরেও ক্রিকেটপ্রেমীরা চেয়েছিলেন সমানতালে লড়াই। কিন্তু কলম্বোয় দেখা গেল একতরফা আধিপত্য। ভারত শুধু জিতল না, কৌশল, মানসিকতা ও কার্যকারিতায় প্রতিপক্ষকে অনেক পিছনে ফেলে দিল।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের ঐতিহাসিক আবেগ থাকলেও, এদিনের ম্যাচ প্রমাণ করলমহারণ হতে হলে দুই পক্ষের সমান প্রস্তুতি ও স্থিরতা দরকার। কলম্বোয় সেই সমতা দেখা যায়নি। ফলাফল তাই শুধু স্কোরলাইনে নয়, খেলায়ও স্পষ্ট।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মহারণ: ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ রবিবার কলম্বোয়, দ্বীপরাস্ট্রে বৃষ্টির ভ্রূকুটি

আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে নির্ধারিত সূচি মেনেই হচ্ছে। রবিবার কলম্বোর R Premadasa Stadium-এ মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। গ্রুপ পর্বে এই হাইভোল্টেজ লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে।ফর্মের বিচারে দুই দলডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত অভিযান শুরু করেছে জয়ের সুরে। যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর পর নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৯৩ রানের দাপুটে জয় নিয়ে কলম্বোয় পৌঁছেছে সূর্যকুমার যাদবের দল। অন্যদিকে পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও সংগঠিত পারফরম্যান্সে সহজ জয় পায় তারা।বিশ্বকাপে মুখোমুখি ইতিহাসটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই আলাদা উত্তাপ। এই টুর্নামেন্টে দুই দল এখন পর্যন্ত আট বার মুখোমুখি হয়েছেভারত জিতেছে সাত বার, পাকিস্তানের একমাত্র জয় ২০২১ সালে।গত পাঁচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং আগের দুইটি ৫০ ওভারের বিশ্বকাপেও দুই দল একই গ্রুপে ছিল। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে তারা আলাদা গ্রুপে পড়েছিল বটে, তবে সেমিফাইনালে দেখা হয়। সেই ম্যাচে ভারত জিতে ফাইনালে উঠে পরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে।কলম্বোয় ভারতের শক্তিশালী রেকর্ডকলম্বোর এই ভেন্যুতে ভারতের পরিসংখ্যান যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। ২০০৯ সালের পর থেকে এখানে ১৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ভারতজিতেছে ১১টি, হেরেছে মাত্র ৪টি। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে তাদের সাফল্যের হারই আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কাতবে ম্যাচের আগে চিন্তার কারণ বৃষ্টি। পূর্বাভাস বলছে, রবিবার দিনে প্রায় ৭৬% বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যায় সেই সম্ভাবনা কমে ১৩%-এ নামতে পারে, যদিও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার সম্ভাবনা ১০০%। ফলে ম্যাচে বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব অবশ্য আবহাওয়াকে বড় করে দেখছেন না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আবহাওয়া আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। আমরা প্রস্তুতিতেই মন দিচ্ছি।সম্ভাব্য দলভারত: সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, সঞ্জু স্যামসন, শিবম দুবে, ইশান কিশন, হার্দিক পান্ডিয়া, অর্শদীপ সিং, জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ, বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, রিঙ্কু সিং।পাকিস্তান: সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, খাওয়াজা নাফায়, মহম্মদ নওয়াজ, মহম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, উসমান খান, উসমান তারিক।সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি মহারণের অপেক্ষা। পরিসংখ্যান ভারতের পক্ষে থাকলেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। কলম্বোর আকাশ পরিষ্কার থাকলে ক্রিকেটপ্রেমীরা হয়তো উপভোগ করবেন আরেকটি স্মরণীয় লড়াই।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাসপাতাল থেকে ছাড়া, তবু মাঠে অনিশ্চিত অভিষেক! পাকিস্তান ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা ভারতের শিবিরে?

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখনও পুরো সুস্থ নন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। কবে তিনি সম্পূর্ণ ফিট হয়ে মাঠে নামবেন, তা স্পষ্ট নয়। টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁর খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিষেকের ফিরতে আরও এক-দুটি ম্যাচ সময় লাগতে পারে।বৃহস্পতিবার নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের পর ড্রেসিংরুমে একটি ভিডিও করেন অর্শদীপ সিং। সেই ভিডিওতেই দেখা যায় অভিষেককে। তাঁকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। অর্শদীপ জানতে চাইলে অভিষেক বলেন, তিনি ডাল-ভাত খাচ্ছেন, তবে পুরোপুরি ভালো নেই। অর্শদীপ মজা করে বলেন, তাঁকে অনেকটা রোগা লাগছে। যদিও সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি অভিষেক। শোনা গিয়েছিল, পেটের সমস্যার কারণে তাঁর ওজন অনেকটাই কমে গিয়েছে। ভিডিও দেখেও অনেকে একই মন্তব্য করেছেন।অসুস্থতা নিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন অভিষেক। কিন্তু প্রথম বলেই আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তার পর আর তাঁকে মাঠে দেখা যায়নি। দিল্লি ফেরা, কোচ গৌতম গম্ভীর-এর বাড়িতে যাওয়া, পরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াসবই হয়েছে চুপিসারে। গতকাল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও নামিবিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে তিনি খেলবেন কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। টসের সময় সূর্যকুমার বলেন, অভিষেক এখনও পুরো সুস্থ নন। ফলে পাকিস্তান ম্যাচে তাঁর নামার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ম্যাচের পরে বরুণ চক্রবর্তী জানান, অভিষেক অনেকটাই ভালো আছেন।তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলে এই অনিশ্চয়তা চিন্তা বাড়াচ্ছে সমর্থকদের। অভিষেক কবে মাঠে ফিরবেন, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ছোট দলের বিরুদ্ধে জয়, তবু স্পষ্ট দুর্বলতা — পাকিস্তান ম্যাচের আগে চিন্তায় ভারত

নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৯৩ রানের দাপুটে জয়। স্কোরবোর্ড বলছে একতরফা ম্যাচ। কিন্তু মাঠের ছবিটা অন্য কথা বলছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ উইকেটে ২০৯ রান তুলে ভারত জিতলেও, ব্যাটিংয়ের শেষভাগের ধস ও স্পিন-দুর্বলতা পাকিস্তান ম্যাচের আগে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।ঝড়ো শুরু, কিন্তু শেষটা ধসঅভিষেক শর্মার অসুস্থতায় সুযোগ পান সঞ্জু স্যামসন। ৮ বলে ২২ রান করে শুরুটা ভালো হলেও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। নিউ জিল্যান্ড সিরিজেও ব্যর্থ সঞ্জু বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না।তবে পাওয়ারপ্লেতে ভারত ছিল অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৬.৫ ওভারে ১০০ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এত দ্রুত ১০০ করার নজির আগে ছিল না। এই কৃতিত্বের বড় অংশ জুড়ে ঈশান কিশন। অনুশীলনে চোট পাওয়ার পরও ২৪ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন তিনি। ৬টি চার ও ৫টি ছয়ে নামিবিয়ার বোলিং ছিন্নভিন্ন করে দেন।কিন্তু মাঝের ওভারে তাল কাটে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ১৩ বলে মাত্র ১২ রান করেন। তিলক বর্মা ২৫ করে থামেন। শেষদিকে ইনিংস টেনে নেন হার্দিক পান্ডিয়া ২৮ বলে ৫২ রানের ইনিংস ভারতকে ২০০ পার করায়।তারপরই চরম ধস। শেষ ১১ বলে ৫ উইকেট, শেষ দুই ওভারে মাত্র ১০ রান। ২০৯ থেকে স্কোর আরও বড় হতে পারত, কিন্তু নামিবিয়ার স্পিনে ছন্দ হারায় ভারত। অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ভিত কাঁপিয়ে দেন। স্পিনারদের দাপটে ভারতের ৯ উইকেটের মধ্যে ৫টিই স্পিনে।ছোট দলের বিরুদ্ধে বড় সতর্কবার্তানামিবিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিরুদ্ধেও স্পিন সামলাতে হিমশিম খেল ভারত। বিশেষ করে ইনিংসের শেষভাগে ব্যাটারদের শট-নির্বাচন ও রানিং বিটুইন দ্য উইকেট ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। রিঙ্কু-শিবমের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট, অক্ষরের প্রথম বলেই বোল্ড এসব বিশ্বচ্যাম্পিয়নসুলভ নয়।আরও বিস্ময়, নতুন বলে জসপ্রীত বুমরাহ-কে আনা হয়নি। সপ্তম ওভারে আক্রমণে আসেন তিনি। পাওয়ারপ্লেতে ৫.৪ ওভারে ৫০ তোলে নামিবিয়া যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম ৫০। প্রথম ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়া মোহাম্মদ সিরাজ-কে একাদশে না রাখাও কৌশলগত প্রশ্ন তুলেছে।বোলারদের হাত ধরে রক্ষাতবে ম্যাচ জেতালেন বোলাররাই। বরুণ চক্রবর্তী ৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। হার্দিক ও অক্ষর দুটি করে উইকেট নেন। ১৮.২ ওভারে ১১৬ রানে থামে নামিবিয়া।পাকিস্তান ম্যাচের আগে উদ্বেগস্কোরলাইন বড় জয় দেখালেও বাস্তব বলছে ভারতের ব্যাটিং এখনও স্থিতিশীল নয়। আমেরিকার বিরুদ্ধে সমস্যার ইঙ্গিত মিলেছিল, নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও তা স্পষ্ট হল। স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বলতা, ইনিংসের শেষভাগে ধস, নতুন বলের ব্যবহার নিয়ে দ্বিধা সব মিলিয়ে পাকিস্তান ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।নামিবিয়ার মতো ছোট দলের বিরুদ্ধেও যদি এমন ফাঁকফোকর দেখা যায়, তবে পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে ভারত কতটা প্রস্তুত সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। জয় এসেছে, কিন্তু বিশ্ব ত্রাস দলের ভিত যে পুরোপুরি মজবুত নয়, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গম্ভীরের ডিনার ছেড়ে হাসপাতালে! নামিবিয়া ম্যাচে বড় ধাক্কা কি টিম ইন্ডিয়ায়?

বিশ্বকাপের মাঝেই বড় ধাক্কা টিম ইন্ডিয়ায়। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অভিষেক শর্মা। দিল্লিতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে এই খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভারতীয় শিবিরে। অভিষেক ওই ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দলের পক্ষ থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।জানা গিয়েছে, অভিষেকের পাকস্থলীতে সংক্রমণ হয়েছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগেই তিনি পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন। ম্যাচের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। উচ্চ জ্বর আসে এবং ওষুধ দেওয়া হলেও তাতে বিশেষ উপকার হয়নি। তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি। দিল্লিতে কোচ গৌতম গম্ভীরের আয়োজিত নৈশভোজেও কিছুক্ষণ থাকার পর চলে যান অভিষেক।ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন, অভিষেকের পেটের সমস্যা রয়েছে, তবে দুদিনের মধ্যে তাঁকে মাঠে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি দেখে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি তিনি খেলতে না পারেন, তা হলে তাঁর জায়গায় সঞ্জু স্যামসনের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অভিষেকের অনুপস্থিতি ভারতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।এর আগে চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন হর্ষিত রানা। ওয়াশিংটন সুন্দর এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের অসুস্থতা দলের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, অসুস্থতা কাটিয়ে এদিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন জসপ্রীত বুমরা। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর খেলা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলের ওপর এখন চাপ আরও বেড়ে গেল।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ভারত–পাক ম্যাচে টানাপোড়েন, আইসিসির সামনে কড়া শর্ত পাকিস্তান বোর্ডের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার আগে আইসিসির কাছে তিনটি দাবি তুলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই দাবিগুলি মানা হলে তবেই তারা সরকারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত বদলের কথা ভাববে বলে জানানো হয়েছে।রবিবার লাহোরে আইসিসির এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। মূল লক্ষ্য ছিল ভারতপাকিস্তান ম্যাচটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত করা।ক্রিকবাজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির কাছে তিনটি শর্ত দিয়েছে পাকিস্তান। প্রথমত, আইসিসির আয় থেকে পাকিস্তানের ভাগ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ আবার শুরু করতে হবে। তৃতীয়ত, মাঠে দুই দলের মধ্যে হ্যান্ডশেক প্রোটোকল বাধ্যতামূলক করতে হবে।বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যখন পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে দেবে না। ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বয়কটের স্পষ্ট কারণ সরকার জানায়নি।ক্রিকেট মহলে মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশকে সমর্থন করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। কারণ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা তুলে নিজেদের ম্যাচ ভারতের বাইরে সরানোর আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। সেই আবেদন আইসিসি খারিজ করার পরই বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়।এই পরিস্থিতিতে আইসিসি পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসে। বৈঠকে অনলাইনে যোগ দেন আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত। লাহোরে উপস্থিত ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশও আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। সেই বিষয়েও আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতা করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।পাকিস্তানের এই তিন দাবির মাধ্যমে আইসিসির উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারতপাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্প্রচার থেকে বড় অঙ্কের আয় কমে যেতে পারে। সেই কারণেই এই ম্যাচকে হাতিয়ার করে নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করছে পাকিস্তান।বর্তমানে আইসিসির আয়ের ভাগের দিক থেকে পাকিস্তান চতুর্থ স্থানে রয়েছে। মোট আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পায় তারা। ২০২৩ সালের হিসাবে আইসিসি থেকে বছরে প্রায় ৩৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পায় পাকিস্তান বোর্ড। এই অর্থ দেশের ক্রিকেট চালানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের থেকে বেশি আয় পায় কেবল অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত।পিসিবির দ্বিতীয় দাবি, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ফের শুরু করা। তবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুই দেশের সরকারের হাতে। আইসিসি সরাসরি এমন সিরিজ আয়োজন করতে পারে না, তারা শুধু মধ্যস্থতা করতে পারে।তৃতীয় দাবি, হ্যান্ডশেক প্রোটোকল চালু করা। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাহেলগাম জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় দল পাকিস্তানের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকার করেছিল। সেই ঘটনার পরই এই বিষয়টি সামনে এসেছে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সূর্যের আলোয় জয়, কিন্তু ভারতের ব্যাটিংয়ের ছায়া প্রকট বিশ্বকাপ শুরুতেই

ওয়াংখেড়েতে প্রত্যাশিত অঘটন ঘটেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আমেরিকাকে হারিয়েই অভিযান শুরু করল ভারত। তবে ২৯ রানের এই জয়ের আড়ালে লুকিয়ে রইল একাধিক প্রশ্নচিহ্নবিশেষ করে ভারতের ব্যাটিং নিয়ে।টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ১৬১ রান। নামের ভারে শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের থেকে যা অনেকটাই কম। সূর্যকুমার যাদব ছাড়া কার্যত ব্যর্থ সবাই। একাই লড়াই করে ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর ইনিংস না থাকলে ভারতের পরিস্থিতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা সহজেই অনুমেয়।ম্যাচের শুরু থেকেই অস্বস্তিতে পড়ে ভারত। দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে ফেরেন অভিষেক শর্মা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম বলেই আউট হওয়ার প্রবণতা আবারও চোখে পড়ল। ঈশান কিশন ও তিলক বর্মা কিছুটা আশার আলো দেখালেও এই মন্থর পিচে দৌড়ে রান নেওয়ার বদলে বড় শটের উপর নির্ভর করাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। শ্যাডলে ফান শকউইকের দুরন্ত স্পেলে মুহূর্তে ভেঙে পড়ে ভারতের ইনিংস। ৪৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।পাওয়ার প্লে-র পর সূর্য ও রিঙ্কু সিংহ জুটি বাঁধার চেষ্টা করলেও রান তোলার গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। এক সময় টানা ২৭ বল কোনও বাউন্ডারি আসেনি। রিঙ্কু, হার্দিককেউই তাল কাটাতে পারেননি। ৭৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ওয়াংখেড়ে কার্যত স্তব্ধ।সেই কঠিন মুহূর্তেই দায়িত্ব নেন সূর্যকুমার যাদব। পিচ বুঝে, ঝুঁকি কমিয়ে, দৌড়ে রান আর সঠিক সময়ে বড় শটএই মিশ্রণেই ইনিংস সাজান তিনি। স্কোয়্যার অঞ্চলে শট, সুইপ, উইকেটের চারদিকে খেলেই প্রমাণ করেন কেন তাঁকে ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটার বলা হয়। অক্ষর পটেলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৪১ রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি। শেষ পাঁচ ওভারে ভারত তোলে ৬৯ রান।আমেরিকার বোলিংয়ে শকউইক নজর কাড়েন ৪ উইকেটে। তবে সৌরভ নেত্রভলকর ভুলে যাওয়ার মতো দিন কাটান৪ ওভারে ৬৫ রান, উইকেটশূন্য।১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আমেরিকাও এই পিচে যে সমস্যায় পড়বে, তা শুরুতেই বোঝা যায়। সিরাজ ও অর্শদীপের আগ্রাসী বোলিংয়ে ১৩ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা। মাঝখানে মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তির জুটি কিছুটা লড়াইয়ের রসদ জোগালেও প্রয়োজনীয় রানরেটের চাপ সামলাতে পারেনি আমেরিকা।শেষ দিকে বড় শট মারার চেষ্টা করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারায় তারা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩২ রানেই থামে আমেরিকার ইনিংস। সিরাজ নেন ৩টি উইকেট, অক্ষর ২টি, বরুণ ও অর্শদীপ পান ১টি করে।ম্যাচ জিতলেও ভারতের শিবিরে স্বস্তির হাসি নেই। ডাগআউটে গম্ভীর মুখে বসে থাকা গৌতম গম্ভীরই যেন তার ইঙ্গিত। জলপানের বিরতিতে মাঠে নেমে পরামর্শ দিলেও, ব্যাটিংয়ের এই ছবি নিশ্চয়ই কোচিং স্টাফকে ভাবাচ্ছে।বিশ্বকাপ শুরু হল জয়ে, কিন্তু ভারতের সামনে বার্তাটা স্পষ্টশুধু সূর্যের উপর ভর করে অনেক দূর যাওয়া যাবে না।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

শেষমেশ নতি স্বীকার? ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি পাকিস্তান!

শেষ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামতে পারে পাকিস্তান। এমনই জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগেই একাধিক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যে কোনও সময় অবস্থান বদলাতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকে।এতদিন পর্যন্ত ভারত ম্যাচ না খেলার বিষয়ে অনড় ছিল পিসিবি। তাদের যুক্তি ছিল, পাকিস্তান সরকার এই ম্যাচ খেলতে রাজি নয়। তাই বোর্ডের হাতে কিছু করার নেই। এটাকে তারা ফোর্সা মেজোর বলেই ব্যাখ্যা করেছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।সূত্রের খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত ম্যাচ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই পিসিবির। অর্থাৎ দর কষাকষির রাস্তা খুলে দিতে চাইছে পাক বোর্ড। আইসিসিও চাইছে, যে কোনও ভাবেই এই ম্যাচ হোক। সেই কারণেই পিসিবির বক্তব্য শুনতে তারা প্রস্তুত বলে জানা যাচ্ছে।পিসিবির অবস্থান বদলের পিছনে বড় কারণ রয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তানকে। মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা তো রয়েছেই, এমনকি নির্বাসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তার উপর দলের বর্তমান পারফরম্যান্সও চিন্তার। টুর্নামেন্টে যে কোনও ম্যাচেই হারতে পারে পাকিস্তান। আর একটি ম্যাচ হারলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই সুর নরম করছে পিসিবি।এর মধ্যেই আসরে নেমেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানকে কড়া চিঠি দিয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কা আয়োজক দেশ হওয়ায় এই ম্যাচ বাতিল হলে বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদেরও। চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ম্যাচ না হলে আর্থিক ও পর্যটন ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা আসতে পারে।শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সেই চিঠির পরেই আরও নরম হয়েছে পিসিবির অবস্থান। পাক বোর্ডের এক সূত্র শনিবার জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরকারের সম্পর্ক ভালো। ক্রিকেটের দিক থেকেও দুই দেশের বোর্ড ঘনিষ্ঠ। তাই শ্রীলঙ্কার অনুরোধ উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। পাক বোর্ড প্রধান মহসিন নকভির সঙ্গে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভার কথা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানের কত বড় ক্ষতি হতে পারে।সব মিলিয়ে এখন ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে রাজি হওয়ার সব পথই খোলা রাখছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। শেষ পর্যন্ত ১৫ ফেব্রুয়ারি কি দেখা যাবে সেই বহু প্রতীক্ষিত মহারণ, সেটাই এখন দেখার।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এক ম্যাচেই ৪৫০০ কোটি! ভারত-পাক না খেললে কাঁপবে ক্রিকেটের অর্থনীতি

টি-২০ বিশ্বকাপে যদি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ না হয়, তাহলে গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে বড়সড় আর্থিক ধাক্কা খেতে হতে পারে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই একটি ম্যাচ না হলে প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিপুল লাভ। সম্প্রচারকারী সংস্থা থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনদাতা, স্পনসর, টিকিট বিক্রিসব ক্ষেত্রেই এই ম্যাচ সবচেয়ে বেশি আয় এনে দেয়।এই কারণেই প্রতি মেগা টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তানকে সাধারণত একই গ্রুপে রাখা হয়। কিন্তু আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে যদি দুই দল মুখোমুখি না হয়, তাহলে ক্রিকেটের ব্যবসায়িক দুনিয়ায় বড় ধাক্কা লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্যবসার দিক থেকে ভারত-পাক ম্যাচের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, ভারত যদি অন্য কোনও দলের বিরুদ্ধে ফাইনালও খেলে, তাতেও এই পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয় না।প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, একটি ভারত-পাক ম্যাচ থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসা হয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যদি মাঠে না নামে, তাহলে এই বিশাল অঙ্কের লোকসান হবে বলেই আশঙ্কা।পরিসংখ্যান বলছে, শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই এই ম্যাচে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আয় হয়। ম্যাচ চলাকালীন মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম উঠতে পারে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। সূত্রের খবর, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করতে পারেএই আশঙ্কা করেই সম্প্রচারকারী সংস্থা জিও হটস্টার আইসিসির কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে। আইসিসি যদি সেই ছাড় দেয়, তাহলে তাদের লাভ কমবে। আর আইসিসির আয় কমলে তার প্রভাব পড়বে সদস্য দেশগুলির উপরও। আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থ কমে যেতে পারে বিভিন্ন বোর্ডের।ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অন্তত ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে অনুমান। এর জেরে বোর্ডের একাধিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি থমকে যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ভারতীয় বোর্ডও। ভারত-পাক ম্যাচ ঘিরে সাধারণত হোটেল ভাড়া, বিমান ভাড়া এবং পর্যটন সংক্রান্ত খরচ বেড়ে যায়। ম্যাচ না হলে এই ক্ষেত্রগুলিও আর্থিক ধাক্কা খাবে।এছাড়াও আইসিসি থেকে যে বিপুল অর্থ পাওয়ার কথা, তা থেকেও বঞ্চিত হতে পারে পাকিস্তান বোর্ড। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এইভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ালে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে তাদের উপর ভরসা করে বড় কোনও সংস্থা বিনিয়োগ করবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ঈশান কোনে মেঘ দেখছেন সঞ্জু! তিরুঅনন্তপুরমে কিউয়িদের উড়িয়ে ৪-১ সিরিজ় জয় ভারতের

বিশ্বকাপের আগে বোলার ও ফিল্ডিংয়ের বাস্তব পরীক্ষা নিতে টস জিতে আগে বোলিং বেছে নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শিশির বাড়লে অর্শদীপ সিংহ, বরুণ চক্রবর্তীরা রান সামলাতে পারেন কি না, সেটাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু পরিকল্পনার মাঝেই দৃশ্যপট বদলে দিলেন ঈশান কিশন। ব্যাট হাতে ঝড় তুলে তিরুঅনন্তপুরমে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪৬ রানে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় জিতে নিল ভারত।ভারত তোলে ৫ উইকেটে ২৭১ রানটি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। জবাবে কিউয়িদের ইনিংস থামে ১৯.৪ ওভারে ২২৫ রানে। ম্যাচে দুদল মিলিয়ে ওঠে ৪৯৬ রান ও ৩৬টি ছক্কাটি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে যা নতুন নজিরের শামিল।দুবছরের বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফেরা ঈশান কিশন যেন প্রমাণ করতেই নেমেছিলেন। তিন নম্বরে নেমে ৪৩ বলে নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ৬টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে কিউয়ি বোলারদের কার্যত ছেলেখেলা বানান ঈশান। তাঁকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৩০ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন সূর্য। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ৫৭ বলে ১৩৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন।এর পর পাঁচ নম্বরে নেমে হার্দিক পাণ্ড্য করেন ১৭ বলে ৪২। শেষ দিকে রিঙ্কু সিংহ ও শিবম দুবে নামেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সারতে। কিউয়ি বোলারদের মধ্যে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন লকি ফার্গুসন (৪১ রানে ২ উইকেট), বাকিরা ভারতীয় ব্যাটিং তাণ্ডবের সামনে অসহায় দেখিয়েছেন।লক্ষ্য তাড়ায় নিউ জ়িল্যান্ডের শুরুটা নড়বড়ে হলেও ফিন অ্যালেন (৩৮ বলে ৮০) এবং রাচিন রবীন্দ্র (১৭ বলে ৩০) লড়াই জিইয়ে রাখেন। অ্যালেন আউট হওয়ার পরই ভেঙে পড়ে কিউয়িদের ইনিংস। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে ম্যাচ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেন অর্শদীপ ও অক্ষর পটেল।চাপের মুখে ড্যারেল মিচেল চেষ্টা করলেও একা কিছু করার ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলারদের মধ্যে উজ্জ্বলতম পারফরম্যান্স অর্শদীপের৫১ রানে ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে এটাই তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট। অক্ষর নেন ৩৩ রানে ৩ উইকেট। হার্দিক কার্যকর হলেও বুমরাহ ও বরুণ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন, যা বিশ্বকাপের আগে ভাবনার জায়গা রেখে গেল।সব মিলিয়ে, ঈশানের শতরান আর অর্শদীপের পাঁচ উইকেটদুটোই একসঙ্গে এনে দিল ভারতের বড় জয় এবং আত্মবিশ্বাসী সিরিজ় সমাপ্তি।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বাংলাদেশের পর এবার পাকিস্তানের নাটক, বিশ্বকাপ খেলবে কি না ঠিক করবে সরকার!

বাংলাদেশের পর এবার বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন নাটক শুরু করল পাকিস্তান। ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসা নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের অবস্থান ঘিরে জটিলতা আরও বাড়ছে। নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতে খেলতে না আসার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে আইসিসি। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। আর সেই সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই, বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক দুসপ্তাহ আগে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর তাদের পাশে দাঁড়ানোর ভান করে এবার সরব হলেন পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি। হঠাৎ করেই তিনি জানালেন, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান সরকার। অর্থাৎ বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি তিনি ঠেলে দিলেন প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে।পাক বোর্ড প্রধানের কথায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নকভি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার অনুমতি না দিলে পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলতে নাও যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আইসিসি চাইলে অন্য কোনও দেশকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এখানেই থামেননি নকভি। তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পিসিবির কাছে একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর কথায়, পিসিবির কাছে প্ল্যান এ, বি ও সি তৈরি আছে এবং প্রয়োজন হলে তা ব্যবহার করা হবে। আগেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের এই অবস্থান ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ক্রিকেটমহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশের বাদ পড়ার পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আইসিসির উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং পাকিস্তান বিশ্বকাপে নামে কি না।

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ঈশান কোনে সূর্যোদয়! ব্যাটের তাপপ্রভাবে ঝলসে গেল কিউই স্বপ্ন, ২০৯ তাড়া করে ইতিহাস গড়ল ভারত

রায়পুরে এমন এক রাত দেখল ভারতীয় ক্রিকেট, যেখানে হার মানল সব সংশয়, উড়ে গেল প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস। শুরুটা ছিল ভয় ধরানোসাত বলের মধ্যেই দুই ওপেনারের বিদায়। স্টেডিয়াম তখন নিস্তব্ধ। ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্যাট হাতে আগুন ধরালেন ঈশান কিশন ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।২০৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন ঈশান। বোলার, ফিল্ডারকাউকেই রেয়াত করেননি তিনি। মাত্র ২১ বলে অর্ধশতরান করে বুঝিয়ে দেন, বিশ্বকাপের দলে তাঁর থাকা অকারণ নয়। ৩২ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। শতরান হাতছাড়া হলেও ম্যাচের রাশ তখন ভারতের দখলেই।এক প্রান্তে ঝড় তুললেও অন্য প্রান্তে ঠান্ডা মাথায় ইনিংস গড়ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। ঈশান আউট হওয়ার পর পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক। ১৪ মাস পর অর্ধশতরান করে মাঠ ছুঁয়ে প্রণামসে দৃশ্যই বলে দিচ্ছিল, পুরনো সূর্য ফিরে এসেছেন। ৩৭ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় নিউ জ়িল্যান্ডের বোলিং ভেঙে পড়ে।শেষের কাজটা আরও সহজ করে দেন শিবম দুবে। সূর্যের সঙ্গে তাঁর অর্ধশতরানের জুটি দেখে মনে হচ্ছিল, কে আগে ম্যাচ শেষ করবেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। মাত্র ১৫.২ ওভারে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিরিজে ২-০ এগিয়ে যায় ভারত। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে ২০০-র বেশি রান তাড়া করে এত বল বাকি থাকতে জয়ের নজির খুব কমই আছে।এর আগে ব্যাট করতে নেমে কিউইরা ২০ ওভারে ২০৮ রান করলেও তা যথেষ্ট হয়নি। রাচিন রবীন্দ্র ও মিচেল স্যান্টনার লড়াই চালালেও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দাপটে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়। কুলদীপ যাদব বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নেন।এই জয় শুধু সিরিজের লিড নয়, বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসের বড় বার্তা। দেশের মাটিতে এই ভারতকে হারানো যে কতটা কঠিন, রায়পুরে আবারও তা বুঝে গেল প্রতিপক্ষ।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

শর্মা-সিংহের যুগলবন্দি, নাগপুরে রানের বন্যা, নজিরের রাতে নিউ জ়িল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজ়ে এগোল ভারত

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ় শুরু করল দাপুটে জয় দিয়ে ভারত। নাগপুরে প্রথম ম্যাচে ব্যাটে-বলে সর্বাত্মক আধিপত্য দেখিয়ে ৪৮ রানে জয় তুলে নিল সূর্যকুমার যাদবের দল। এই ম্যাচে একাধিক নজির গড়ার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শক্তিশালী বার্তাও দিয়ে রাখল টিম ইন্ডিয়া।টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউ জ়িল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তবে সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল প্রমাণিত হতে চলেছে, তা বুঝিয়ে দেন ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই। আগ্রাসী মেজাজে ইনিংস শুরু করেন অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। যদিও সঞ্জু (১০) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দুবছরের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ঈশান কিশনও (৮) ব্যর্থ হন। ২৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে সাময়িক চাপে পড়ে ভারত।চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও অভিষেক শর্মা। অভিষেক শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। অন্যদিকে সূর্য সংযত ব্যাটিং করে ইনিংস গুছিয়ে নেন। ২২ বলে ৩২ রানের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন সূর্যকুমার। এই ইনিংস তাঁর ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেয়, যা বিশ্বকাপের আগে কোচ গৌতম গম্ভীরের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির।তবে ম্যাচের আসল নায়ক অভিষেক শর্মা। ৩৫ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের কার্যত দিশেহারা করে দেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কা। নিখুঁত টাইমিং, শক্তিশালী শট আর অনায়াস আগ্রাসনে তিনি প্রমাণ করে দেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেন তাঁকে অন্যতম ভয়ংকর ব্যাটার বলা হয়।অভিষেকের গড়া ভিতের উপর দাঁড়িয়ে ভারতের রান পাহাড়ে পরিণত করেন রিঙ্কু সিং। সাত নম্বরে নেমে ফিনিশারের ভূমিকায় ফের সাফল্য পেলেন কেকেআরের এই ব্যাটার। ২০ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন তিনি। তাঁর সঙ্গে হার্দিক পাণ্ড্যও (১৬ বলে ২৫) কার্যকর অবদান রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৩৮ রান তোলে ভারতটি-টোয়েন্টিতে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে যা ভারতের সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। একই সঙ্গে এই ম্যাচে ১৪টি ছক্কা মারে ভারত, এটিও নতুন রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪৪তম বার ২০০-এর বেশি রান করল ভারতযা আর কোনও দলের নেই।লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউ জ়িল্যান্ড। মাত্র ১ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে (০) ও রাচিন রবীন্দ্র (১) ফিরে যান। অর্শদীপ সিং ও হার্দিক পাণ্ড্যের নিখুঁত নতুন বলের স্পেলে কার্যত ম্যাচের শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে কিউয়িরা। টিম রবিনসন (২১) কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বরুণ চক্রবর্তীর বলে বিদায় নেন।এর পর গ্লেন ফিলিপ্স ও মার্ক চাপম্যান পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। বিশেষ করে ফিলিপ্সের ব্যাটিং ভারতীয় শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করে। ৪০ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে তিনি ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন। তবে অক্ষর পটেলের বলে ফিলিপ্স আউট হতেই ম্যাচ ফের ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চাপম্যানও (৩৯) বরুণের শিকার হন।শেষদিকে ড্যারেল মিচেল (২৮) ও স্যান্টনার (২০) চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় রান রেটের চাপ সামলাতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯০ রানেই থেমে যায় নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংস।ভারতের বোলারদের মধ্যে বরুণ চক্রবর্তী ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন। শিবম দুবে ২৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার। অর্শদীপ ও হার্দিকও একটি করে উইকেট পান। তবে জসপ্রীত বুমরাহ প্রত্যাশামতো প্রভাব ফেলতে পারেননি। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে একাধিক সহজ ক্যাচ ফসকে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে কিছুটা চিন্তা বাড়াবে ভারতীয় শিবিরে।এই ম্যাচে একমাত্র অস্বস্তির কারণ অক্ষর পটেলের চোট। ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। বিশ্বকাপের আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে তৈরি হল নতুন প্রশ্নচিহ্ন।সব মিলিয়ে, ব্যাটিংয়ে আগ্রাসন, রেকর্ড গড়া স্কোর এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলারদের সাফল্যে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ভারত। সিরিজ়ের শুরুতেই নিউ জ়িল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখল সূর্যকুমারের দলটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা যে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বাংলাদেশ বাদ পড়লে নতুন দল? আইসিসির বৈঠকে বড় ইঙ্গিত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিশ্বকাপ থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বিকল্প দল খেলার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে আইসিসি। এই টানাপড়েনের মাঝেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল পাকিস্তান। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তারা চাইলে বাংলাদেশের সব ম্যাচ আয়োজন করতে প্রস্তুত।বুধবারের মধ্যে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সময় দিয়েছিল আইসিসি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি বিসিবি। এর মধ্যেই আইসিসির ভারচুয়াল বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপে না খেলে, সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন বেশিরভাগ সদস্য। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা নরম হয়েছে আইসিসি। বিসিবিকে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।এই বৈঠকেই বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সূত্রের খবর, পিসিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের দাবিকে তারা যুক্তিসংগত বলেই মনে করছে। সেই দাবি মানা উচিত। যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না হয়, তাহলে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি পাকিস্তান বোর্ড। আইসিসির বৈঠকে পাকিস্তানের হয়ে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড প্রধান মহসিন নকভি।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এতদিন ডেডলাইনের বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতীয় বোর্ডের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় বাংলাদেশ। তবে বিসিবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ না খেললে অন্য দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।এই অবস্থায় বড় প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ কি নিজের অবস্থানে অনড় থাকবে? নাকি ক্রিকেটারদের স্বার্থে ও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বাঁচাতে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করবে?

জানুয়ারি ২১, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

মিঠুন জল্পনা উড়িয়ে শেষমেশ রাহুলই ভরসা! রাজ্যসভায় যাচ্ছে বিজেপির পুরনো সৈনিক

রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। বাংলা থেকে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রাহুল সিনহাকে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় মোট পাঁচটি আসন ফাঁকা রয়েছে। তার মধ্যে চারটি আসনে ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল। বাকি একটি আসনে কাকে প্রার্থী করবে বিজেপি, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। একাধিক নাম ঘুরছিল রাজনৈতিক মহলে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাহুল সিনহার নামেই সিলমোহর দিল।মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ছয়টি রাজ্যের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। বিহার, অসম, ছত্তীসগঢ়, হরিয়ানা, ওড়িশা এবং বাংলা থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। বিহার থেকে প্রার্থী হচ্ছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। অসম থেকে তেরাস গোয়ালা ও যোগেন মোহন, ছত্তীসগঢ় থেকে লক্ষ্মী বর্মা, হরিয়ানা থেকে সঞ্জয় ভাটিয়া এবং ওড়িশা থেকে মনমোহন সমল ও সুজিত কুমারের নাম ঘোষণা হয়েছে।বাংলার ক্ষেত্রে পঞ্চম আসনে বিজেপির ভরসা রাহুল সিনহা। এর আগে অনন্ত মহারাজ ও শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় গিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাহুলের নাম। তিনি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং দীর্ঘদিনের সংগঠক। তবে গত কয়েক বছরে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে তেমন দেখা যায়নি। দলের অন্দরেই অনেক সময় তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে আলোচনা ছিল।শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর থেকেই রাহুল সিনহাকে আবার সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়। বিভিন্ন সভা, মিছিল ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। একইভাবে দিলীপ ঘোষকেও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য নির্বাচনের আগে পুরনো মুখদের সামনে আনার কৌশল নিয়েছে বিজেপি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাহুল সিনহা এখনও পর্যন্ত যে কটি নির্বাচন লড়েছেন, সবকটিতেই পরাজিত হয়েছেন। চারবার বিধানসভা এবং পাঁচবার লোকসভা নির্বাচনে লড়ে জিততে পারেননি তিনি। মোট নয়বার ভোটে হেরেছেন। বরাবরই তাঁর আক্ষেপ ছিল, রাজ্য সভাপতি হলেও কখনও বিধায়ক বা সাংসদ হতে পারেননি। রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ পেলেন তিনি।আগামী ১৬ মার্চ বাংলার পাঁচটি আসনে রাজ্যসভা নির্বাচন হবে। চারটি আসনে তৃণমূল প্রার্থী করেছে কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, মেণকা গুরুস্বামী ও রাজীব কুমারকে। সেই তালিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। বিশেষ করে মেণকা গুরুস্বামী ও রাজীব কুমারের নাম ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে।পাঁচটি আসনের মধ্যে একটি আসন বিজেপির দখলে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। তবে সেই আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে জল্পনা ছিল প্রবল। রাহুল সিনহার পাশাপাশি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং এক পদ্মশ্রী প্রাপক সঙ্গীতশিল্পীর নামও শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত দলের পুরনো মুখের উপরেই ভরসা রাখল বিজেপি।

মার্চ ০৩, ২০২৬
রাজ্য

এক ভোটার, দু’টি কেন্দ্র! এসআইআর চূড়ান্ত তালিকায় বড়সড় গরমিল ফাঁস

মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোট এবং একাধিক জায়গায় একই নাম বাদ দিতেই এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এনুমারেশন ফর্ম পূরণ, শুনানি এবং তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেই তালিকাতেই এবার ধরা পড়ল বড় গরমিল। একই ভোটারের নাম পাওয়া গেল দুই আলাদা বিধানসভা কেন্দ্রে। এক জায়গায় শ্যামপুকুর, অন্য জায়গায় অশোকনগর। শুনানির পরও কীভাবে দুজায়গায় নাম থেকে গেল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে, ওই ভোটার এবং তাঁর বাবার নাম দুই জায়গাতেই একই রয়েছে। শুধু বয়সে সামান্য পার্থক্য। একটি কেন্দ্রে বয়স লেখা ৫৬ বছর, অন্য কেন্দ্রে ৫৮ বছর। ডিসেম্বর মাসেই সিইও দফতর জানিয়েছিল, ওই ভোটারকে শোকজ করা হয়েছে। কেন তিনি দুই বিধানসভা কেন্দ্রে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ বিষয়টি আগে থেকেই কমিশনের নজরে ছিল। তবুও চূড়ান্ত তালিকায় দুজায়গায় তাঁর নাম থেকে যাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।শ্যামপুকুর উত্তর কলকাতার একটি বিধানসভা কেন্দ্র। অশোকনগর উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত। কীভাবে এই ভুল থেকে গেল, তা জানতে চেয়ে দুই জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় ৬২ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। আবার প্রায় ৬০ লক্ষ নাম রয়েছে অমীমাংসিত তালিকায়। তাঁদের নথি এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে একই ভোটারের নাম দুই জায়গায় থাকার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়াল।

মার্চ ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বাহিনী ও কর্মী সঙ্কট, বাংলায় একদিনে ভোট অসম্ভব! অবশেষে মানল নির্বাচন কমিশন

বাংলায় এক দফায় বিধানসভা ভোট করার প্রস্তুতি শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বাহিনীর অপ্রতুলতা এবং পর্যাপ্ত ভোটকর্মীর অভাবের কথা জানিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিল রাজ্য সরকার। তাদের দাবি ছিল, একদিনে ভোট করা বাস্তবে সম্ভব নয়। অবশেষে দুদিনের পর্যালোচনা বৈঠকের পর রাজ্যের সেই বক্তব্যই মানতে বাধ্য হল কমিশন। সিইও কার্যালয় সূত্রে খবর, এক দফায় নির্বাচনের ভাবনা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। তবে কত দফায় ভোট হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ৯ মার্চ দিল্লি থেকে কলকাতায় আসছেন জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল। দুদিন রাজ্যে থেকে তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবেন। তার আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, পুলিশ মহাপরিচালক, আইনশৃঙ্খলা বিভাগের শীর্ষ কর্তা ও জেলাশাসকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দিল্লি থেকেও দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শীর্ষ আধিকারিক ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।বৈঠকে স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, প্রয়োজন মতো বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি বাহিনী যাতে কোনও রকম আতিথেয়তা গ্রহণ না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে রাজ্য পুলিশকে।এ বার বিধানসভা ভোটে ওয়েব কাস্টিং নিয়েও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে কমিশন। সূত্রের খবর, নজরদারির দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মচারীদের আরও বেশি জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একজন কর্মী চার ঘণ্টার বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। দায়িত্ব শেষের পর লিখিতভাবে জানাতে হবে ওই সময়ের মধ্যে কী কী দেখেছেন। পরবর্তীতে কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দায় নিতে হতে পারে। প্রয়োজনে ওয়েব কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরও নিয়োগ করা হতে পারে।কমিশনের প্রতিনিধি দল রাজ্য সফর সেরে ফেরার পরই বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দফা ভোটের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

মার্চ ০৩, ২০২৬
বিদেশ

ইরানের পালটা আঘাত? কুয়েতে ভেঙে পড়ল মার্কিন যুদ্ধবিমান, ভাইরাল বিস্ফোরণের ভিডিও

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল কুয়েতে। তেহরানে হামলা চালাতে গিয়ে কুয়েতের মাটিতে ভেঙে পড়ল আমেরিকার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ পনেরো। প্রাথমিক অনুমান, ইরানের হামলার জেরেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানটি। যদিও শেষ মুহূর্তে পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে জানা যাচ্ছে।ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মাঝ আকাশে বিস্ফোরণের পর আগুন জ্বলতে জ্বলতে প্রায় তিরিশ সেকেন্ড চক্কর খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে যুদ্ধবিমানটি। এই ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি আমেরিকা বা কুয়েত। একাংশের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে। আবার অন্য একটি সূত্রের মতে, ভুলবশত মিত্রপক্ষের হামলাতেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এর পর থেকেই পালটা আঘাত হানছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক মার্কিন ঘাঁটি এবং ইজরায়েলের উপর হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে।রবিবার ইরান রিভলিউশনারি গার্ড দাবি করে, তারা আমেরিকার বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনের উপর একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও এ বিষয়ে আমেরিকার তরফে এখনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।এই পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনা যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল। ইরান-আমেরিকা সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

মার্চ ০২, ২০২৬
দেশ

হরমুজ বন্ধ, তেলের দামে আগুন! চাপে ভারত, বাড়বে কি পেট্রল-ডিজেলের দাম?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। শেয়ার বাজারে ধস নামার পর এবার তেলের দামে বড় উল্লম্ফন। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কার্যত থমকে গেছে। তার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ছয় শতাংশ বেড়েছে।সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি আশি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। শুক্রবার এই দাম ছিল প্রায় বাহাত্তর দশমিক নয় ডলার। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনে ব্যারেল প্রতি প্রায় দশ ডলার বৃদ্ধি। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভারতের উপরও পড়ছে। কারণ দেশের প্রায় নব্বই শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে।পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর কমিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, ব্যারেল প্রতি দশ ডলার দাম বাড়লে ভারতের বার্ষিক আমদানি খরচ তেরো থেকে চোদ্দ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকার বেশি।বর্তমানে ভারতের হাতে চুয়াত্তর দিনের তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দিয়ে দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ আসে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশও এই পথেই আসে। সারা বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় কুড়ি শতাংশ সরবরাহ হয় এই প্রণালী দিয়ে। ফলে এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্ব জুড়েই চাপ বাড়ছে।এখন বিকল্প উৎসের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নয়াদিল্লি। আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা-সহ ল্যাটিন আমেরিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকা থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত এক বছরে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কিছুটা কমিয়েছে ভারত। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এখন নজর হরমুজ প্রণালী কবে খুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজার কতটা স্থিতিশীল হয় তার উপর।

মার্চ ০২, ২০২৬
রাজ্য

বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার মাঝেই তফশিলি সমাবেশে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন, নজর মতুয়া গড়ে

রাজ্য জুড়ে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার মাঝেই তফশিলি ভোটে জোর দিচ্ছে তৃণমূল। সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে তফশিলি সমাবেশের আয়োজন করেছে ঘাসফুল শিবির। সেখানে তফশিলি জাতি ও উপজাতি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।লোকসভা নির্বাচনের আগেও তফশিলি সংলাপ কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল। সেই সময় তফশিলি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এবার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও সেই রণকৌশলেই ফিরছে দল। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিধায়ক, সংগঠক ও নেতা উপস্থিত থাকবেন।বৈঠকে থাকছেন ভোট কুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনও। তফশিলি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে কীভাবে জনসংযোগ বাড়ানো যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে মতুয়া গড়। সম্প্রতি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মতুয়া সমাজের বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করেছেন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। এই বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে।রাজ্যের একশোরও বেশি বিধানসভা আসনে তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভোটারদের প্রভাব রয়েছে। ফলে ভোটের অঙ্কে এই সম্প্রদায়ের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে যে রূপরেখা তৈরি হবে, তার ভিত্তিতে আগামী দিনে দুয়ারে দুয়ারে প্রচার চালাবেন জনপ্রতিনিধিরা। প্রচার গাড়ি নিয়ে তফশিলি অধ্যুষিত গ্রাম ও এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন নেতা-নেত্রীরা। তাঁদের সমস্যা, দাবি এবং অভাব-অভিযোগ শোনা হবে বলে দল সূত্রে জানা গিয়েছে।দক্ষিণবঙ্গে নদিয়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তফশিলি জনগোষ্ঠীর বড় অংশের বাস। উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারেও এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটের হার ছিল প্রায় পঁয়তাল্লিশ থেকে ছেচল্লিশ শতাংশ। এবার সেই হার আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই তফশিলি সমাবেশকে বড় কৌশল হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ০২, ২০২৬
বিদেশ

মুসলিম বিশ্বে একঘরে ইরান! দূতাবাস বন্ধ করল আমিরশাহী, তেহরানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরানের লাগাতার হামলায় রক্তাক্ত একাধিক মুসলিম দেশ। সৌদি আরব, কাতার, ওমান-সহ বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে কার্যত একঘরে করার পথে হাঁটল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। তেহরানে থাকা তাদের দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানে নিযুক্ত কূটনীতিকদেরও ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষ ব্যক্তিত্বের। তার পর থেকেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তেহরান। শনিবার ও রবিবার দুবাই, আবুধাবি, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।ইরানের এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আরব দেশগুলি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এভাবে আগ্রাসী হওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, নিজেদের যুদ্ধ অন্য দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।কিন্তু সতর্কবার্তার পরও হামলা থামেনি। বরং আক্রমণের মাত্রা বেড়েছে বলেই অভিযোগ। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় আমিরশাহী। সে দেশের বিদেশমন্ত্রক জানায়, এই হামলা সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। কয়েক দশকের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম ইরানে দূতাবাস বন্ধ করল আমিরশাহী।শনিবার মার্কিন হামলার পরই দুবাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাম জুমেইরাহ অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা-র কাছেও বিস্ফোরণের খবর মেলে। নিরাপত্তার কারণে খালি করে দেওয়া হয় ওই ভবন।রবিবারও হামলা অব্যাহত থাকে। আবুধাবির একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুবাইয়ের রুওয়াইস শিল্পাঞ্চলে ছোড়া রকেট আছড়ে পড়ে। একাধিক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। মুসলিম বিশ্বের বড় অংশ ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগুন কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।

মার্চ ০২, ২০২৬
দেশ

মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে, দিল্লিতে তৎপরতা! নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেই কড়া বার্তা দিলেন মোদী

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার গভীর রাতে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কথা হয়। সূত্রের খবর, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করার আবেদনও জানিয়েছেন মোদী।শনিবার থেকে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। আমেরিকাও ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। পালটা আক্রমণ চালাচ্ছে ইরান। একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দিল্লিতে ফিরে জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পরই নেতানিয়াহুকে ফোন করা হয় বলে জানা গিয়েছে।সামাজিক মাধ্যমে মোদী জানান, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মত জানান তিনি।এদিকে ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সার-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।রবিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর সঙ্গেও কথা বলেন মোদী। সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে আশ্বাস দিয়েছেন, কঠিন সময়ে ভারত পাশে রয়েছে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন মোদী। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিশেষ সম্মানও দেওয়া হয় তাঁকে। সেই সফর শেষে ভারতে ফেরার আগেই ইরানের উপর যৌথ হামলা শুরু হয়। ফলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে চাপের মুখে পড়েছে ভারত।হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেল আমদানিও প্রভাবিত হচ্ছে। দেশে ফিরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা, তেল আমদানি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে এখনই ইরান থেকে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই। বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের কারণে পরিস্থিতি জটিল। কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে সকলকে।মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখন নজরে আন্তর্জাতিক মহলের। যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

মার্চ ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal