• ২৪ মাঘ ১৪৩২, বৃহস্পতি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SI

দেশ

শুনানির আগেই সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলা মমতার! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় দাবি

এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি বুধবার সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা। সেই শুনানিতে জনতার হয়ে নিজে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুনানির আগেই শীর্ষ আদালতে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করলেন তিনি। এই নতুন মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর মূল আবেদন, অবিলম্বে ভোটারদের নাম বাতিল করার প্রক্রিয়া বন্ধ করা হোক।আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নামের বানান সংক্রান্ত অসঙ্গতির জন্য বহু ভোটারকে অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এই ধরনের নোটিস অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। তাঁর দাবি, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি রয়েছে এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। এই অবস্থায় নামের বানান নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হবেন বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, যেসব ভোটারের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা পড়েছে, তাঁদের নাম অনলাইনে প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন যেন আধার কার্ডকে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাঁরা ফর্ম-৭ জমা দিচ্ছেন, তাঁদের শুনানিতে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হোক।এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ থেকে সমস্ত মাইক্রো অবজার্ভারকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে মামলায়। মমতার বক্তব্য, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত নজরদারির মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা হচ্ছে।বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই সব মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলাও একই দিনে শোনা হবে। কবি জয় গোস্বামীর করা মামলাও সেই তালিকায় রয়েছে।আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলবেন। সেই অনুযায়ী বুধবার সকাল ঠিক ১০টার কিছু পরে তিনি শীর্ষ আদালতে পৌঁছন। শুনানির আগেই তাঁর নতুন মামলার দায়ের হওয়া ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
দেশ

কালো গাউনে সুপ্রিম কোর্টে মমতা? এসআইআর শুনানিতে নজির গড়ার সম্ভাবনা

এসআইআর ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি এখন পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলায় প্রয়োজনে নিজে আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন, এমন ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। সূত্রের খবর, এদিন তাঁকে আইনজীবীর কালো গাউন পরেই দেখা যেতে পারে।এই সম্ভাবনার মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নীল পাড় সাদা শাড়ি পরে এক মহিলা সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন, গায়ে আইনজীবীর কালো গাউন। ছবির মাধ্যমে যে মুখ্যমন্ত্রীকেই বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে তৃণমূল শিবিরে কোনও সংশয় নেই। ছবির উপরে লেখা রয়েছে, শয়তানের উকিল বনাম জনতার উকিল।এসআইআর নিয়ে বাংলার মানুষকে অন্যায়ভাবে হেনস্তা করা হলে কাউকে ছাড়া হবে না বলে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এসেছে।বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের দায়ের করা মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এক নম্বর কোর্টে শুনানির তালিকায় রয়েছে ২১ নম্বরে। একই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে যে পিটিশন দায়ের করেছেন, তা রয়েছে ৩৭ নম্বরে। কবি জয় গোস্বামীর মামলাটি রয়েছে ৩৬ নম্বরে।আইন সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন পোর্টাল বার অ্যান্ড বেঞ্চ জানিয়েছে, বুধবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি গেট পাস ইস্যু করা হয়েছে। তিনি জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্রও ইতিমধ্যেই মিলেছে। ফলে এদিন তাঁর উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত।তবে তিনি আদৌ নিজে সওয়াল করবেন কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে হলে বার কাউন্সিলের সদস্য হওয়া এবং হাই কোর্টে অন্তত তিন বছরের প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগেশচন্দ্র ল কলেজ থেকে আইন পাশ করেছেন এবং আশির দশকে কিছুদিন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসও করেছিলেন। কংগ্রেস নেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে তিনি নিম্ন আদালতে সওয়াল করেছিলেন বলেও জানা যায়।দীর্ঘদিন কোর্ট চত্বর থেকে দূরে থাকার পর আজ সত্যিই তাঁকে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এসআইআর মামলার শুনানিকে ঘিরে গোটা দেশের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ইতিহাস গড়তে চলেছেন মমতা? এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করার জল্পনা

এসআইআর মামলায় প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক দিন আগেই তিনি সে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই সম্ভাবনাই কি বাস্তব হতে চলেছে বুধবার? মঙ্গলবার এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রারের কাছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, মামলার আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে তাঁর সঙ্গে কতজন নিরাপত্তারক্ষী থাকবেন, সেই বিষয়েও আলাদা করে অনুমতির আবেদন জানানো হয়েছে। এই সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স চাওয়াতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি সত্যিই শীর্ষ আদালতে নিজে সওয়াল করবেন মুখ্যমন্ত্রী।নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে কোনও নথিভুক্ত আইনজীবী অথবা মামলার আবেদনকারী নিজে সওয়াল করতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের নথিভুক্ত আইনজীবী নন। তবে এসআইআর ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের সিইও দফতরের বিরুদ্ধে তিনি নিজেই শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সেই কারণে আবেদনকারী হিসেবে তাঁর সওয়াল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বুধবার রাজ্যের এসআইআর মামলায় চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই বক্তব্য রাখতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেস বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। তবু নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমতির আবেদন জমা পড়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে।এই মুহূর্তে দিল্লিতেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তিনি নির্বাচন সদনে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় বৈঠক চলার পর বাইরে এসে মমতা অভিযোগ করেন, তাঁদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।এই আবহে বুধবার শীর্ষ আদালতে এসআইআর মামলায় আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, তিনি সত্যিই সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নিজে সওয়াল করেন কি না।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

প্লেব্যাক ছাড়ার পরও আমিরের ছবিতে অরিজিত? জিয়াগঞ্জ সফর ঘিরে তোলপাড়

প্লেব্যাক গান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই রবিবার রাতে জিয়াগঞ্জে অরিজিৎ সিংয়ের বাড়িতে হাজির হলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান। মুম্বই থেকে বিশেষ ভাবে অরিজিতের সঙ্গে দেখা করতেই এসেছিলেন তিনি। এ দিন হাতে একগোছা পান নিয়ে অরিজিতের বাড়ির ছাদে দেখা যায় আমিরকে। এমনকি লাটাই হাতে ছাদের উপর দাঁড়িয়ে স্থানীয়দের দিকে হাত নেড়েও সৌজন্য বিনিময় করেন সুপারস্টার।সোমবার সকাল থেকেই এই মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই চর্চা শুরু হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আমিরকে দেখা গেলেও, প্রকাশ্যে দেখা মেলেনি অরিজিতের। ফলে জিয়াগঞ্জে কী ভাবে অতিথি আপ্যায়ন হল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মুম্বই থেকে তারকা অতিথি এলে খাবারের আয়োজন যে বিশেষ হবে, তা বলাই বাহুল্য।জানা গিয়েছে, আমিরের জন্য খাবারের সমস্ত ব্যবস্থা করেছিলেন অরিজিতের জেঠতুতো দাদা সুরিন্দর সিং। তিনি জানিয়েছেন, অরিজিতের ফোন পাওয়ার পর রবিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ সাদা ভাত, বাটার নান, চিকেন, মাটন কষা, মিক্সড ভেজ এবং পনির বাটার মশালা পাঠানো হয়েছিল। অর্থাৎ নিরামিষ ও আমিষদুধরনের পদেই সাজানো ছিল আমিরের খাবারের থালা।এ দিন অরিজিতের বাড়ির আশপাশের ছাদে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা আমির তাঁদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। জিয়াগঞ্জে এসে অরিজিতের রেকর্ডিং স্টুডিওতেও গিয়েছেন আমির। কারণ নিজের ছবির গানের জন্য বরাবরই অরিজিতের কণ্ঠ পছন্দ করেন তিনি।এই সফরের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি অরিজিতকে আবার রেকর্ডিং স্টুডিওয় ফেরাতেই এসেছেন আমির? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেউই মুখ খোলেননি। তবে অনেকেরই ধারণা, আমির খানের আগামী ছবির জন্য অরিজিত নতুন গান গাইতে পারেন। শোনা যাচ্ছে, প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পরেও আমিরের ছবির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নাকি দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।উল্লেখ্য, রবিবার রাতে আমির খানের জিয়াগঞ্জের নিহালিয়া পাড়ায় অরিজিতের বাড়িতে আসার খবর নিশ্চিত করেছিলেন আজিমগঞ্জ-জিয়াগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

ঘণ্টাখানেকের বৈঠক পরেই মমতা কমিশনকে তোপ, ERO অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে তৃণমূল কী বলল?

ঘণ্টাখানেকের বেশি বৈঠক শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন সদনের বাইরে এসে সেই বৈঠক বয়কট করেছেন। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মিথ্যাবাদী বলে আক্রমণ করেছেন। মমতার অভিযোগ, কমিশন তাদের কথা শোনেনি এবং তাঁদের অপমান করা হয়েছে।বৈঠকের পরে নির্বাচন কমিশনও মুখ খুলেছে। কমিশন জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল এসেছিল এবং পশ্চিমবঙ্গে SIR সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দিয়েছেন। কমিশন জানিয়েছে, কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেন, তাহলে সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কমিশনের অভিযোগ, তৃণমূলের কিছু বিধায়ক প্রকাশ্যে কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তৃণমূল কর্মী ও বিধায়করা ERO অফিসেও ভাঙচুর করেছেন। এছাড়া SIR কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের উপর কোনও চাপ বা হস্তক্ষেপ করা যাবে না বলে কমিশন স্পষ্ট করেছে।কমিশনের আরেকটি অভিযোগ, রাজ্য সরকার BLO-এর সাম্মানিকের টাকা আটকে রেখেছে। কমিশন বলেছে, এই টাকা সময়মতো দিতে হবে। রাজনীতিকরা বলছেন, মমতা যখন অভিযোগ করছেন যে তাঁদের অপমান করা হয়েছে, তখনই কমিশন পাল্টা তোপ দিচ্ছে। এই দ্বন্দ্ব কতদূর গড়াবে, তা এখন দেখার।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

‘উনি জমিদার, আমরা চাকর নই’, কমিশন বৈঠকের পর ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্বাচন সদনে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি অভিযোগ করেন, বৈঠকে তাঁদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন তাঁরা।এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদ্য মৃত তিন জন বিএলও-র পরিবার এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারও। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে বৈঠক চলে। বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মমতা বলেন, বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন যে, বিজেপির চাপে তিনি কাজ করছেন। তাঁর অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার মিথ্যে কথা বলেছেন এবং জেনে বুঝে তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এমন ভঙ্গিতে কথা বলা হয়েছে যেন কমিশনার নিজেকে জমিদার ভাবছেন আর অন্যরা তাঁর অধীনস্থ কর্মচারী।তিনি আরও বলেন, বহু নির্বাচন কমিশনার দেখেছেন তিনি, কিন্তু এমন আচরণ আগে কখনও দেখেননি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বিজেপির তোতাপাখি বলেও কটাক্ষ করেন মমতা। সেই সঙ্গে সীমা খান্নার নাম তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি কমিশনের কেউ নন, বিজেপির আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, সীমা খান্নার নির্দেশেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।তবে এত অভিযোগের মধ্যেও মমতা স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনওভাবেই নির্বাচন বয়কট করবে না। তিনি বলেন, এই ভুল তাঁর দল কখনও করবে না। ভোটের লড়াই তাঁরা রাস্তায় নেমেই লড়বেন।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
দেশ

বাজেট ২০২৬–এ পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি: মেট্রোতে জোরালো বিনিয়োগ, গতি পাচ্ছে ফ্রেট করিডর

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্র সরকার। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো রেল প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে চাঙ্গা করতে ফ্রেট করিডর সম্প্রসারণে বরাদ্দএই দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হয়েছে রাজ্যের।মেট্রো রেলে গতি, শহুরে যাত্রায় স্বস্তির আশ্বাসবাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউ গড়িয়াএয়ারপোর্ট মেট্রো, জোকাএসপ্ল্যানেড লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে শহরের যানজট কমবে, যাত্রার সময় বাঁচবে এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ আরও জনপ্রিয় হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার যাত্রীদেরও সরাসরি উপকার হবে।কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণে ফের বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। শহর ও শহরতলির গণপরিবহণকে আরও গতিশীল করতে অরেঞ্জ লাইন, পার্পল লাইন ও গ্রিন লাইনের জন্য মোট ২,১৪১.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দকে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ শহুরে পরিবহণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।অরেঞ্জ লাইন: বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগে জোরনিউ গড়িয়ানেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ মূলত ভায়াডাক্ট নির্মাণ, স্টেশন অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেক-নিউ টাউনের সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পার্পল লাইন: জোকাএসপ্ল্যানেডে শহর-উপশহর সেতুবন্ধনজোকাএসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য সর্বাধিক বরাদ্দ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। এই লাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রথমবারের মতো মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যাবে এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ, রোলিং স্টক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে। কেন্দ্রের দাবি, এই লাইনের কাজ দ্রুত শেষ হলে শহরের দক্ষিণ প্রান্তের যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় স্বস্তি মিলবে।গ্রিন লাইন: পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোতে গতি ফেরানোর চেষ্টাপূর্ব-পশ্চিম মেট্রো করিডর বা গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯.০০ কোটি টাকা। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর-৫ পর্যন্ত এই লাইন কলকাতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অংশের প্রযুক্তিগত কাজ, স্টেশন ফিনিশিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।শহুরে পরিবহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবপরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি লাইনে বিনিয়োগ শুধু যাত্রী সুবিধা বাড়াবে না, বরং যানজট ও দূষণ কমাতেও বড় ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এই মেট্রো প্রকল্পগুলি।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬২৭-এ অরেঞ্জ, পার্পল ও গ্রিন লাইনের জন্য ঘোষিত বরাদ্দ কলকাতা মেট্রোকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।ফ্রেট করিডর: শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্তবাজেট ২০২৬-এ পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (EDFC)-এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ আরও শক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলিকে এই করিডরের সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।বিশেষ করে হলদিয়া বন্দর, দুর্গাপুরআসানসোল শিল্পাঞ্চল এবং কলকাতা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত মাল পরিবহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যবিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট বরাদ্দ শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পূর্ব ভারতের প্রবৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। যদিও রাজ্য সরকার আরও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলতে পারে, তবু মেট্রো ও ফ্রেট করিডরএই দুই ক্ষেত্রে ঘোষণাকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য মেট্রো রেল ও ফ্রেট করিডর সংক্রান্ত বিনিয়োগ রাজ্যের শহুরে জীবনযাত্রা ও শিল্প-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে বলেই আশা।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফাঁকে কেন্দ্রের বাজেট: স্বস্তি সীমিত, হতাশা বিস্তৃত

রবিবার সংসদে ২০২৬২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। টানা নবমবার বাজেট বক্তৃতা করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তাঁর সরকারের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট। তবে বাজেট বক্তৃতা শেষ হতেই স্পষ্টপ্রত্যাশার পাহাড়ের তুলনায় প্রাপ্তি অনেকটাই খর্ব।বাজেট পেশের আগেই ব্যয় বরাদ্দ ও করছাড় ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহলসর্বত্র উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদে ভাষণ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর ক্রমশ স্পষ্ট হয়, বড় কোনও চমক নেই।বিশেষ করে রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাংলা কার্যত ব্রাত্য। পরিকাঠামো, শিল্প বা বিশেষ প্রকল্পকোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা শোনা যায়নি। করদাতাদের ক্ষেত্রেও হতাশা চোখে পড়ার মতো। আয়কর কাঠামোয় তেমন কোনও বড় পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ছাড় ঘোষণা হয়নি।তবে সম্পূর্ণ হতাশার ছবি নয়। কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ফলে দৈনন্দিন জীবনে সীমিত হলেও স্বস্তি মিলতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বিমানের যন্ত্রাংশে শুল্ক কমানো হবে। এর ফলে বিমান সংক্রান্ত খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোওভেনের যন্ত্রাংশ-সহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিন পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে ১৭টি ক্যানসারের ওষুধে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধও সস্তা হতে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কিছুটা কমবে বলেই আশা।পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও শুল্কছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিচালিত প্যানেলের দাম কমতে পারে। মোবাইল ফোন তৈরির কাঁচামালের উপর শুল্ক কমানোয় দেশীয় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট সস্তা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।চামড়াশিল্পকে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার উচ্চ শুল্কের চাপে থাকা চামড়া রফতানিকারকদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণের খরচ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, স্বস্তির পাশাপাশি চাপও বাড়ছে কিছু ক্ষেত্রে। বিলাসবহুল ঘড়ি এবং বিদেশি মদের উপর কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই সব পণ্যের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। কফি রোস্টিং ও ব্রিউইং মেশিনে ছাড় তুলে নেওয়ায় সেগুলিও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সার, আমদানিকৃত টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাজেট বক্তৃতাজুড়ে আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ভারত-এর কথা বারবার উঠে এসেছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্র। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাস্তবে এই বাজেটে এমন কোনও যুগান্তকারী ঘোষণা নেই, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।সব মিলিয়ে, ২০২৬২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট সীমিত স্বস্তি দিলেও বৃহত্তর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থএই মূল্যায়নই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

কর জট ছেঁটে সরল পথে সম্পত্তি লেনদেন, বাজেটে এনআরআইদের স্বস্তি

অনাবাসী ভারতীয়দের (এনআরআই) থেকে স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ঘোষণা করেন, এবার থেকে প্যান-ভিত্তিক চালানের মাধ্যমে মাত্র ১ শতাংশ টিডিএস জমা করলেই চলবে। এর ফলে আর ট্যান (ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যান্ড কালেকশন অ্যাকাউন্ট নম্বর) সংগ্রহের প্রয়োজন পড়বে না।এত দিন অনাবাসী ভারতীয়দের থেকে সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাকে বাধ্যতামূলক ভাবে ট্যান সংগ্রহ করতে হত এবং তার মাধ্যমে টিডিএস জমা ও রিটার্ন দাখিল করতে হত। এই প্রক্রিয়া ছিল সময়সাপেক্ষ ও জটিল। নতুন বাজেট ঘোষণায় সেই জট খুলতে চলেছে বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী দিনে এনআরআই সম্পত্তি লেনদেনে একটি একক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (সিঙ্গেল রেগুলেটরি সিস্টেম) চালু করা হবে। পাশাপাশি, প্যান-ভিত্তিক চালানের মাধ্যমে টিডিএস জমার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ ক্রেতাদের কর সংক্রান্ত ঝামেলা কমে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনাবাসী ভারতীয়দের থেকে সম্পত্তি কেনার সময় বিক্রেতার প্যান নম্বর থাকলে মাত্র ১ শতাংশ টিডিএস কাটা হবে। তবে প্যান না থাকলে করের হার বেড়ে ২০ শতাংশ হবে। ফলে প্যান ব্যবহারকে কার্যত বাধ্যতামূলক করেই স্বচ্ছ লেনদেনের দিকে এগোতে চাইছে সরকার।এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ট্যান ছাড়াই টিডিএস জমা দেওয়া যাবে এবং আলাদা করে টিডিএস রিটার্ন দাখিল করার প্রয়োজন হবে না। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়েই সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য জানালেই চলবে।শুধু তা-ই নয়, বাজেটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। যেসব ভারতীয় নাগরিকের বিদেশে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যের সম্পত্তি রয়েছে এবং তাঁরা তা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধেও আর কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবরের পর দায়ের হওয়া এই ধরনের মামলাগুলিতে ছাড় দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন এনআরআই সম্পত্তি বাজারে গতি আসবে, তেমনই সাধারণ করদাতাদের উপর নির্ভরতা কমবে কর পরামর্শদাতাদের উপর। সামগ্রিক ভাবে এই পদক্ষেপকে কর সংস্কারের পথে আরও এক ধাপ এগোনো বলেই মনে করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকা শুনানিতে হইচই, কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত কাউন্সিলরের

এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে শুনানি কেন্দ্রে হুলস্থুল কাণ্ড। অভিযোগের কেন্দ্রে কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মেয়র পরিষদের সদস্য অসীম বসু। শরৎ বোস রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন তিনি সেখানে পৌঁছন। তারপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।গত কয়েক দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা নথি নিচ্ছেন, কিন্তু তার বদলে কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কাউন্সিলর অসীম বসু শুনানি কেন্দ্রে যান বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছেই তিনি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকী, রসিদ না দিলে কোনও নথি জমা না দিতে শুনানিতে আসা মানুষজনকে নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, কাউন্সিলর এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জন এভাবে শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে পারেন না। বিষয়টি শান্তভাবে আলোচনা করা যেত। তাঁদের আরও বক্তব্য, এই ঘটনার ফলে শুনানির কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং দেরি হচ্ছে।ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু বলেন, মানুষ কীভাবে প্রমাণ করবেন তাঁরা কোন কোন নথি জমা দিয়েছেন, যদি কোনও রসিদ না দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে নথি নেওয়ার পর রসিদ দিতে হবে। তা সত্ত্বেও কেন এই অনিয়ম চলছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রসিদ না দিলে প্রয়োজনে শুনানি বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন কাউন্সিলর।এই ঘটনাকে ঘিরে ভবানীপুর এলাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

দিল্লি যাওয়ার আগে বিস্ফোরক চিঠি মমতার! ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সোমবার বিকেলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠির মূল বিষয়, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া।চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। মমতার চিঠি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্যায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক মাস আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০। নতুন চিঠিতে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।মমতা আরও লিখেছেন, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮,১০০ জন মাইক্রো-অবজার্ভার মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই নিয়োগের কোনও আইনি ভিত্তি নেই। শুরু থেকেই বাংলায় নির্বাচনী রোল সংশোধনের ক্ষেত্রে ERO এবং AERO-দের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের একমাত্র আইনগত ক্ষমতা ERO এবং AERO-দের। অথচ সেই ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।চিঠিতে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে যেখানে SIR প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে কেন এই ধরনের মাইক্রো-অবজার্ভার মোতায়েন করা হয়নি। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই কেন আলাদা নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ত্রিপুরা ক্যাডারের চার জন আইএএস অফিসার-সহ একাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।মমতার অভিযোগ, কিছু পর্যবেক্ষক বেআইনিভাবে CEO অফিস থেকে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তথ্য বদলের চেষ্টা করছেন। এর ফলে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে এবং তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। চিঠিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই বিষয়গুলির তাৎক্ষণিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।একই আইন সারা দেশে প্রযোজ্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে আলাদা নিয়মে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার দাবি, এই প্রক্রিয়া গণতন্ত্র এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মানুষের আস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

২৭ জনের মৃত্যু! এখনও নিখোঁজ বহু! এক সপ্তাহ পরে সিট গঠন, প্রশ্ন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে

আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। শুক্রবার রাতের দিকে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে দমকল ও পুলিশের যৌথ দল। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭-এ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অবশেষে ওই কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পরে সিট গঠন হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন পরে কেন তদন্তে এই তৎপরতা।গত রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকার ওই কারখানায় আগুন লাগে। রাত প্রায় ৩টে নাগাদ কারখানার গুদাম অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর টানা প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলে। ১২টি ইঞ্জিন নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় দমকলকে। আগুনের তীব্রতায় কারখানার ভিতরেই আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে তাঁদের আর্তনাদ শোনার কোনও সুযোগই পাননি কেউ।ভয়াবহ এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরে অবশেষে সিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বারুইপুর জেলা পুলিশ। আগুনে পুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওই কারখানাতেই এবার তদন্ত চালাবে বিশেষ দল। পাঁচ সদস্যের এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপার শুভেন্দু কুমার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি (ক্রাইম), ডিইবি-র এক ইন্সপেক্টর এবং আরও এক জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরেন্সিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, কারখানায় কী ধরনের নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এবং কীভাবে আগুন এত দ্রুত ছড়ালসব দিকই খতিয়ে দেখবে সিট। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নামজাদা একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। জলাভূমি বুজিয়ে কারখানা তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই সংস্থার ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। তদন্ত আরও গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

‘বুদ্ধবাবুর কোলে ছিলেন, এখন মমতার’, নতুন সিপিকে কটাক্ষ বিজেপির

ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদল ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে আইপিএস সুপ্রতিম সরকারের নিয়োগকে ঘিরে শাসক ও বিরোধীর মধ্যে দড়ি টানাটানি আরও বেড়েছে। বিজেপির দাবি, সন্দেশখালি কাণ্ড সামলানোর পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে নগরপালের চেয়ারে বসানো হয়েছে। এই ভাষাতেই নতুন কমিশনারকে কটাক্ষ করেছে বিরোধী দল।বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, সিঙ্গুরে কৃষক আন্দোলনের সময় সুপ্রতিম সরকার বামফ্রন্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ অফিসার হিসেবে কৃষকদের উপর লাঠিচার্জ করেছিলেন। তাঁর কথায়, আগে তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে নিজের ঘনিষ্ঠ করে নিয়েছেন। সিঙ্গুরকে মই হিসেবে ব্যবহার করে আজ তিনি তৃণমূলের কাছের লোক হয়ে উঠেছেন বলে কটাক্ষ করেন সুকান্ত।এদিকে নন্দীগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই নিয়োগ নিয়ে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, এটি শুধু সন্দেশখালির পুরস্কার নয়। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের চাপে আটকে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। সুপ্রতিম সরকারের অতীত সম্পর্কে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালি গুহ আরও ভাল জানেন বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু।তবে রাজ্য সরকার এই সব অভিযোগ মানতে নারাজ। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্পষ্ট করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বদলি। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, এ ধরনের কথা বলাই বিজেপির সংস্কৃতি। উন্নাওয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা ধর্ষণে অভিযুক্তদের মালা দিয়ে বরণ করে, তাদের কাছ থেকে এমন বিকৃত মন্তব্যই স্বাভাবিক।উল্লেখ্য, এতদিন কলকাতা পুলিশ কমিশনার ছিলেন মনোজ বর্মা। তাঁকে সরিয়ে এবার রাজ্যের ডিরেক্টর অব সিকিউরিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নগরপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আইপিএস সুপ্রতিম সরকার, যিনি এতদিন রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) পদে কর্মরত ছিলেন। এবার শহরের আইনশৃঙ্খলার ভার তাঁর কাঁধে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

বিএলও বনাম মাধ্যমিক! শিক্ষক সংকটে পরীক্ষার আগে মুখোমুখি সংঘাত

আগামী সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। রাজ্য জুড়ে এই পরীক্ষায় বসছেন প্রায় সাড়ে দুই লক্ষ পরীক্ষার্থী। কয়েক হাজার পরীক্ষা কেন্দ্রে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে বড় অনিশ্চয়তার মুখে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। প্রশ্ন উঠছে, যাঁদের গার্ড দেওয়ার কথা, সেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা আদৌ পরীক্ষার কাজে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না।পর্ষদের উদ্বেগের মূল কারণ, বহু শিক্ষক বর্তমানে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাজে যুক্ত। কতজন শিক্ষক এই দায়িত্বে রয়েছেন এবং তাঁরা মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় গার্ডের কাজ থেকে ছাড় পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ। পর্ষদ সূত্রে দাবি, নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনও লিখিত উত্তর পাওয়া যায়নি।শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগেই জানিয়েছিলেন, বিএলও নিয়োগের বিষয়টি রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতরকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করা নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল পর্ষদ। সেই কারণেই শিক্ষকদের পরীক্ষার সময়ে কমিশনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিকে সমর্থনও করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুমাসে পরপর দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। তবে কোনও চিঠিরই উত্তর মেলেনি বলে দাবি পর্ষদের। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কাছে কোনও চিঠিই পৌঁছয়নি। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পরীক্ষা শুরুর একদিন আগেও নির্বাচন কমিশন ও পর্ষদের মধ্যে কার্যত মুখোমুখি সংঘাত তৈরি হয়েছে।পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষকরা যদি বিএলওর কাজ করেন, তা হলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় গার্ড দেবেন কারা। তাঁর বক্তব্য, মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের সম্পূর্ণ সময় পরীক্ষার কাজেই যুক্ত থাকতে হবে। কোনওভাবেই এই দায়িত্বে ঘাটতি রাখা যাবে না।এই বিতর্কে রাজনৈতিক রংও লেগেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিষয়টি রাজ্য সরকার ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি এ নিয়ে বেশি মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাঁর দাবি, তৃণমূলের উদ্দেশ্য হল যেকোনও উপায়ে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চে কী ভাবে এল মামলা? প্রশ্নে সরব হাই কোর্ট

ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার বিচার কী ভাবে পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ থেকে হঠাৎ করে ডিভিশন বেঞ্চে চলে এল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে শুক্রবার এই সংক্রান্ত মোট ১৪টি মামলা শুনানির জন্য ওঠে। তার মধ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলাও ছিল।ওই মামলায় মামলাকারী তথা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুনানির আবেদন জানাতেই প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যে মামলা পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয়ে রায় পর্যন্ত হয়েছে, তা কী ভাবে কোনও নতুন নির্দেশ ছাড়াই ডিভিশন বেঞ্চে ফিরে এল। আদালতে এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।এর পরেই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দেয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালতকে সঠিক দিশা দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষের আইনজীবীদের এতদিনে দেওয়া সব রায় ও নির্দেশ খতিয়ে দেখে আদালতকে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে। ফলপ্রকাশের পর বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর, খুন, ধর্ষণ, লুঠপাট এবং ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। বিরোধী দলগুলির দাবি ছিল, শাসক দলের কর্মী ও সমর্থকদের হাতেই এই হিংসা ঘটেছে।এই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সেই কারণে বহু মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়, কোথাও বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়। খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।এই সমস্ত মামলা শুনানির জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেছিলেন। ওই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল, হরিশ টন্ডন, ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, সৌমেন সেন এবং সুব্রত তালুকদার। সেই বেঞ্চ থেকেই সিবিআই তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই মামলাগুলি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য চলে আসে। বর্তমানে ওই পাঁচ বিচারপতির কেউই আর কলকাতা হাই কোর্টে কর্মরত নন।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
কলকাতা

ভবানীপুরে গোপন বৈঠক মমতার, এসআইআর নিয়ে কড়া নির্দেশ বিএলএদের

এক মাসের ব্যবধানে ফের দলীয় বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আগের বারের মতো রাজ্যের সমস্ত বিএলএ নয়, এ বার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের কাউন্সিলর ও বুথ লেভেল এজেন্টদের নিয়েই রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন তিনি। শুক্রবারের এই বৈঠকে মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া।দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলর ও বিএলএদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব ভোটারকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যুক্তিগত অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, শুধুমাত্র তাঁদেরই বিস্তারিত তালিকা দিতে হবে। মমতা স্পষ্ট করে জানান, সামান্য ভুল বা তথ্যগত ত্রুটির জন্য যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বা যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট ভোটারদের নাম-ঠিকানা ও নথি বিএলএদের হাতে থাকতে হবে।উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে এসআইআর সংক্রান্ত প্রায় সব নোটিসেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি শব্দবন্ধ ব্যবহার করছে। এই শব্দের আড়ালে যাতে অকারণে ভোটারদের নাম বাদ না পড়ে, সে বিষয়েই বিএলএদের সতর্ক থাকতে বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।রাজনৈতিক ভাবে ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই বিপুল লিডে জয় পান তিনি। বিশেষ করে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ওয়ার্ডের লিডই আবার তাঁকে ক্ষমতার শীর্ষে ফিরতে সাহায্য করেছিল।নতুন করে ভোটের আবহে বাংলার রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এসআইআর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ হলে ভবানীপুরে আর তৃণমূল এত বড় লিড পাবে না। এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই শুভেন্দু মন্তব্য করেছিলেন, ভবানীপুর কখনওই তৃণমূলের নিরাপদ আসন নয়। তাঁর দাবি ছিল, ভবানীপুরে সংখ্যালঘু ভোটার মাত্র ২০ শতাংশ এবং চেতলার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই প্রায় ১৭ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এ বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের নাম বাদ গেলে সেই লিড আর থাকবে না বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।এসআইআর প্রক্রিয়া যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই ভবানীপুরের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইচ্ছাকৃত ভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাউন্সিলর ও বিএলএদের স্পষ্ট ভাবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
দেশ

বাজেটের আগে বড় বার্তা মোদীর, ‘এখন সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়’

শুরু হয়ে গেল সংসদের বাজেট অধিবেশন। আজ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগেই, প্রথা মেনে বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের বাইরে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সমাধানের সময় এসেছে। সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখন। তিনি সাংসদদের কাছে আবেদন জানান, দলমত নির্বিশেষে এগিয়ে এসে দেশের স্বার্থে কাজ করার জন্য। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রে বিরোধিতা স্বাভাবিক হলেও শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করাটাই আসল। এই সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজের ডেলিভারির উপর জোর দিয়েছে এবং সেই পরম্পরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের গণতন্ত্র ও জনসংখ্যাগত বৈচিত্র আজ গোটা বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা। এই সরকারের মূল পরিচয় হল রিফর্ম, পারফর্ম এবং ট্রান্সফর্ম। তাঁর দাবি, সরকার সংস্কার করেছে, কাজ করে দেখিয়েছে এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে দেশকে রূপান্তরের পথেও এগিয়ে নিয়ে যাবে। দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান খুঁজে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথে দেশ এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।মোদী বলেন, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত মানুষকেন্দ্রিক। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানবিক ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনাকে আশার আলো বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবর্ষের শুরুতেই ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই চুক্তির ফলে ২৭টি দেশের বাজার ভারতের সামনে খুলে গিয়েছে। তবে এর জন্য পণ্যের গুণমান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ গুণমানই দীর্ঘদিন মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে। এই চুক্তি দেশের কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্যও নতুন সুযোগ এনে দেবে বলে তিনি জানান।তিনি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে পৌঁছনোর যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী ২৫ বছর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম বাজেট হতে চলেছে এটি। উল্লেখ করেন, নির্মলা সীতারামন দেশের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে সংসদে টানা নবার বাজেট পেশ করতে চলেছেন।প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগের দিন রাষ্ট্রপতি সংসদের উভয় কক্ষে সাংসদদের উদ্দেশে দিশা দেখানো বক্তব্য রেখেছেন। সেই বক্তব্যে এই অধিবেশন ও আগামী দিনের জন্য সাংসদদের কাছে নানা প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, সব সাংসদই সেই বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবেন। এভাবেই শুরু হল চলতি বছরের বাজেট অধিবেশন।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
রাজ্য

সিঙ্গুর থেকে কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ, ‘আমাকে আঘাত করলে টর্নেডো হয়ে যাই’

প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক দশ দিনের মাথায় সিঙ্গুরে জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চার বছর পরে আবার সিঙ্গুরের মাটিতে পা রাখলেন তিনি। সভার শুরুতেই আবেগঘন ভাষণে মমতা বলেন, সিঙ্গুর তাঁর খুব প্রিয় জায়গা। দিনের পর দিন এই মাটিতে পড়ে থেকেছেন তিনি। এই মাটিই তাঁর লড়াইয়ের সাক্ষী। সিঙ্গুরে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন বলেও স্মরণ করান মুখ্যমন্ত্রী।সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী SIR নিয়ে লেখা নিজের কবিতা পাঠ করে শোনান। তিনি জানান, হেলিকপ্টারে আসার সময়ই ওই কবিতা লিখেছেন। মমতা বলেন, এসআইআর-এর নামে মানুষকে ভয় দেখানো ও মারার চক্রান্ত চলছে। তিন দিনে তিনি ২৬টি কবিতা লিখেছেন, যার সংকলনের নাম স্যর বাংলায়। ইংরেজিতে যার নাম SIR।সভা থেকে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ১,৬৯৪টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। এই সব প্রকল্পে মোট খরচ হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আগে এক কোটি পরিবারকে সাহায্য করা হয়েছে। সম্প্রতি আরও ১২ লক্ষ পরিবারকে টাকা দেওয়া হয়েছে এবং এ দিন আরও ২০ লক্ষ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ মাত্র দুমাসে ৩২ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই প্রকল্পে কেন্দ্র এক টাকাও দেয় না।দুর্যোগে যাঁদের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার ঘর তৈরি করে দিয়েছে বলেও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে মোট ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে তিনি জানান। ঘাটাল প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ডিভিসির জলের জন্য বারবার বন্যায় ভেসেছে এলাকা। তিনি টানা ১০ বছর কেন্দ্রকে চিঠি লিখলেও কোনও উত্তর মেলেনি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য সরকারই দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং ৩০০ কোটি টাকার কাজ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।মমতা বলেন, তাঁর সরকার ডাবল ইঞ্জিন সরকার নয়, মানুষের সরকার। যতদিন তাঁর সরকার থাকবে, কন্যাশ্রী-সহ সমস্ত সামাজিক প্রকল্প চলবে। সিঙ্গুরে ৮ একর জমির উপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। ২৮টি প্লটের মধ্যে ২৫টি ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কৃষিজমি দখল না করে কৃষি ও শিল্প পাশাপাশি চলবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।এ ছাড়া সিঙ্গুরে ৭৭ একর জমিতে একটি বেসরকারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সেখানে অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের বড় ওয়্যারহাউস তৈরি হবে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মমতা বলেন, মহাত্মা গান্ধীর নাম তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার তাই মহাত্মাশ্রী কর্মশ্রী প্রকল্প চালু করেছে। বাংলায় ১০০ দিনের কাজ চলছে এবং রাজ্যের টাকাতেই চলবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।ভাষা প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে কেন্দ্র মিথ্যা কথা বলছে। বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়েই সব ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি দিল্লিতে প্রমাণ-সহ পাঁচ বস্তা বই পাঠিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রকে বাধ্য হয়েই বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। সভার শেষে বলেন, তাঁকে আঘাত করলে তিনি প্রত্যাঘাত করেন এবং তখন তিনি টর্নেডোর মতো হয়ে ওঠেন।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর বিতর্কে বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন কবি জয় গোস্বামী

পদবি সংক্রান্ত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে তৈরি হওয়া গোলযোগ এবার পৌঁছে গেল সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে মামলাটি দায়ের করেছেন কবি জয় গোস্বামী নিজেই। এত দিন এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন খোদ কবি। ফলে এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় জয় গোস্বামীর নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই তালিকায় রয়েছে তাঁর মেয়ের নামও। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল না থাকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা তুলে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। গত ২ জানুয়ারি তিনি প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছেন।এই বিষয়টি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, আজ যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকতেন, তাঁকেও হয়তো এসআইআরের লাইনে দাঁড় করানো হত।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্য, প্রতিদিন নতুন করে আবেদন জমা পড়ছে এবং তাতে গোটা প্রক্রিয়াটাকেই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। শুনানিতে আইনজীবী জানান, বাংলায় পদবীর নানা রকম বানানের কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেমন মুখার্জি ও মুখোপাধ্যায়এই ধরনের পার্থক্যের জন্যই অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। এমনকি আধার কার্ডও অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।বাংলার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারিই এই মামলার শুনানি হবে। অর্থাৎ আগেই যে দিন ধার্য ছিল, সেই দিনেই বিষয়টি শুনবে শীর্ষ আদালত।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশন! তিন আধিকারিকের বদলি ঘিরে কড়া চিঠি, বেঁধে দেওয়া সময়

নবান্ন এবং নির্বাচন কমিশনের সংঘাত আরও তীব্র হল। রাজ্য প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে কেন তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে এই বদলির নির্দেশ বাতিল করার দাবি জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি বুধবার বিকেল তিনটের মধ্যে রাজ্যকে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন কমিশনের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনও সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে বদলি করা যাবে না। এই নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব ছিল রাজ্যের মুখ্যসচিবের উপর। অথচ সেই সময়েই রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভারকে বদলি করেছে, যা কমিশনের মতে সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ।যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন স্মিতা পাণ্ডে, যিনি পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের দায়িত্বে ছিলেন, অশ্বিনী কুমার যাদব, যিনি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর দেখতেন, এবং রণধীর কুমার, যাঁর দায়িত্বে ছিল উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তর। এই তিন আধিকারিকের বদলির ক্ষেত্রেই কমিশনের কাছ থেকে কোনও আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।নির্বাচন কমিশনের মতে, এই বদলি তাদের স্পষ্ট নির্দেশের লঙ্ঘন। সেই কারণেই মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত জবাব চাওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বুধবার বিকেলের মধ্যে রাজ্য সরকারকে পুরো বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান জানাতে হবে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 88
  • 89
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

লোকসভায় বিস্ফোরণ! স্পিকারের ঘরে ঢুকে গালিগালাজ? কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

বাজেট অধিবেশন ঘিরে লোকসভায় শাসক ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোট লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তার মাঝেই স্পিকারকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসের ২০ থেকে ২৫ জন সাংসদ একসঙ্গে স্পিকারের ঘরে ঢুকে তাঁকে গালিগালাজ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সংসদে দাঁড়িয়ে রিজিজু বলেন, কংগ্রেস সাংসদদের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তা বর্ণনা করার মতো নয়। তাঁর কথায়, স্পিকার নরম স্বভাবের মানুষ বলেই তিনি কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেননি।রিজিজু আরও অভিযোগ করেন, যখন কংগ্রেস সাংসদরা স্পিকারের ঘরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন সেখানে মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর মতো সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উল্টে আরও উসকানি দিচ্ছিলেন। বিজেপির অভিযোগ, সংসদের মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে।অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গম্ভীরের ডিনার ছেড়ে হাসপাতালে! নামিবিয়া ম্যাচে বড় ধাক্কা কি টিম ইন্ডিয়ায়?

বিশ্বকাপের মাঝেই বড় ধাক্কা টিম ইন্ডিয়ায়। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অভিষেক শর্মা। দিল্লিতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে এই খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভারতীয় শিবিরে। অভিষেক ওই ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দলের পক্ষ থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।জানা গিয়েছে, অভিষেকের পাকস্থলীতে সংক্রমণ হয়েছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগেই তিনি পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন। ম্যাচের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। উচ্চ জ্বর আসে এবং ওষুধ দেওয়া হলেও তাতে বিশেষ উপকার হয়নি। তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি। দিল্লিতে কোচ গৌতম গম্ভীরের আয়োজিত নৈশভোজেও কিছুক্ষণ থাকার পর চলে যান অভিষেক।ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন, অভিষেকের পেটের সমস্যা রয়েছে, তবে দুদিনের মধ্যে তাঁকে মাঠে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি দেখে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি তিনি খেলতে না পারেন, তা হলে তাঁর জায়গায় সঞ্জু স্যামসনের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অভিষেকের অনুপস্থিতি ভারতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।এর আগে চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন হর্ষিত রানা। ওয়াশিংটন সুন্দর এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের অসুস্থতা দলের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, অসুস্থতা কাটিয়ে এদিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন জসপ্রীত বুমরা। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর খেলা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলের ওপর এখন চাপ আরও বেড়ে গেল।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
দেশ

বেলডাঙা মামলায় রাজ্যকে বড় ধাক্কা! NIA তদন্তে সায় সুপ্রিম কোর্টের

বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় NIA তদন্তে সায় দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আলাদা করে হস্তক্ষেপ করা হবে না।এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বেলডাঙার পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করবে। পাশাপাশি কেন্দ্র যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে NIA তদন্তও হতে পারে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে এবং মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়।শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, UAPA-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ সঠিক হয়েছে কি না, সেই বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট খতিয়ে দেখবে। অর্থাৎ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া আপাতত হাইকোর্টের নজরেই চলবে।জানুয়ারি মাসের শুরুতে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ জেলায় ফেরার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর এলাকায় রেললাইনেও অবরোধ করা হয়। রেললাইনে বাঁশ ফেলে দেওয়া হয় এবং সেখানে মৃতদেহের ঝুলন্ত ছবি দেখা যায়। পুলিশ পৌঁছলে স্থানীয়দের সঙ্গে বচসা বাধে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। এই ঘটনায় সাংসদ ইউসুফ পাঠান কেন সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় যাননি, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিন দিন পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন মিম নেতা বলেও জানা গেছে।এই অশান্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, শুক্রবার জুম্মাবারের দিন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত থাকে। কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি আগে থেকেই তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাইকোর্টে মামলা হলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি NIA তদন্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়।সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ না করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের আবেদন গ্রহণ করেনি এবং মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠিয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের আবেদনে শীর্ষ আদালত গুরুত্ব দেয়নি।সব মিলিয়ে বেলডাঙা হিংসা মামলায় NIA তদন্তের পথে বড় বাধা সরল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে হাইকোর্টে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বিস্ফোরক ভিডিও! ভবানীপুরে বিজেপির পতাকায় আগুন, তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর

বিধানসভা ভোটের আগে ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। একটি সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ফাঁকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বা দুটি ট্যাক্সি। সেই সময় টুপি পরে মুখ ঢাকা দুজন ব্যক্তি সেখানে এসে একটি বিজেপি পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।ঘটনাকে ঘিরে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আসন্ন বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নিরাপদ আসন নয়। পতাকা পোড়ানোর ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে অভিযোগ করেন। শুভেন্দুর কথায়, ভবানীপুরে বিজেপির কার্যালয়ের কাছে তৃণমূল কর্মীরাই এই কাজ করেছে। তিনি আরও বলেন, যত বিজেপির পতাকা পোড়ানো হবে, ততই মানুষের সমর্থন বাড়বে। নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও মানুষ জবাব দেবে।অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নেতা জয়প্রকাশ মিশ্র বলেন, যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করুন। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করে লাভ নেই। তিনি দাবি করেন, ভোটের আগে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি।উল্লেখ্য, ভোটের আগে ভবানীপুরে একাধিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। ফলে ভবানীপুর এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পতাকা পোড়ানোর এই ঘটনা ঘিরে ভোটের আগে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

ডিএ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা, বিরোধীদের আক্রমণ তীব্র

ডিএ আর বিচারাধীন বিষয় নয় বলে দাবি করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য খারিজ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে এবং এটি এখন ক্লোজড চ্যাপ্টার।সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন ডিএ মামলা এখনও বিচারাধীন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। কীভাবে এরিয়ার দিয়ে ডিএ মেটাতে হবে, তার রূপরেখাও শীর্ষ আদালত দিয়েছে। তাঁর দাবি, মার্চ মাসের মধ্যে ২৫ শতাংশ ডিএ না মেটালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী বারবার বিচার ব্যবস্থাকে অপমান করছেন।একই দিনে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এসআইআর নয়, ডিএ সংক্রান্ত হতাশা থেকেই মানুষ চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডিএ ইস্যুতে রাজ্য সরকার চাইলে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডিএ মামলার প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন, তাই তিনি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না। এই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করেছেন বিরোধী দলনেতা।গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে। ২০০৮ সাল থেকে বকেয়া এরিয়ারও দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী ডিএ দিতে হবে বলে স্পষ্ট করে দেয় আদালত। রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পঞ্চম বেতন কমিশন ও রিভিশন অফ পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স রুল অনুযায়ী ডিএ দেওয়া হচ্ছে এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের আর্থিক কাঠামোয় পার্থক্য রয়েছে। তবে আদালত AICPI অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।এরপর ডিএ মেটানোর দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ নবান্নে স্মারকলিপি জমা দিতে যায়। অনুমতি না পেয়ে তারা ট্রাফিক গার্ডের কাছেই স্মারকলিপি জমা দেয়। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, সাবজুডিস আর জুডিশিয়ারির পার্থক্য বোঝা উচিত। রাজ্য সরকার আর্থিক সঙ্কটের কথা বললেও বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।ডিএ ইস্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ও এরিয়ার মেটানো নিয়ে এখন নজর মার্চ মাসের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
দেশ

সরকারি অনুষ্ঠানে এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’! বড় নির্দেশ শাহের মন্ত্রকের

সরকারি অনুষ্ঠানে এবার থেকে রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন একসঙ্গে গাওয়া বা বাজানো হয়, তবে প্রথমে বন্দে মাতরম বাজাতে হবে। এছাড়া গান চলাকালীন উপস্থিত সকলকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বন্দে মাতরম-এর পূর্ণ ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের সংস্করণ, যাতে মোট ছয়টি স্তবক রয়েছে, সেটিই সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়া বা বাজানো উচিত। এতদিন সাধারণত দুটি স্তবক গাওয়া হত। বাকি চারটি স্তবক বাদ থাকত। নতুন নিয়মে ছয়টি স্তবকই গাইতে হবে।জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়, সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থানকালে, জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে ও পরে রাষ্ট্রীয় গীত বাজানো হবে। পদ্ম সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও বন্দে মাতরম বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে রাজ্যপালের আগমন ও ভাষণের আগে এবং পরে এই গান গাওয়া বা বাজানো হবে। তবে সিনেমা হলে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়নি।উল্লেখ্য, জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন গাইতে সময় লাগে ৫২ সেকেন্ড। তার তুলনায় বন্দে মাতরম-এর পূর্ণ সংস্করণ গাইতে সময় লাগবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্র বছরভর নানা কর্মসূচি নিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, হঠাৎ করে বন্দে মাতরম নিয়ে নতুন করে কথা বলা হচ্ছে। গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুর দিয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, পরের স্তবকগুলো নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করা হতে পারে।কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে একদিকে সমর্থন, অন্যদিকে প্রশ্নদুইই সামনে এসেছে। সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার এই নির্দেশিকা নিয়ে দেশজুড়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
বিদেশ

দুপুরে হাইস্কুলে ঢুকে গুলি! মুহূর্তে লাশের স্তূপ, কাঁপছে কানাডা

কানাডার একটি হাইস্কুলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালালেন এক মহিলা বন্দুকবাজ। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। হামলাকারীরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের বন্দুকের গুলিতেই তিনি জখম হন এবং পরে মারা যান। কেন তিনি এই হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনাটি ঘটেছে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিট নাগাদ হঠাৎই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। মোট পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ১৭৫। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলের কর্মী ও পড়ুয়া মিলিয়ে অন্তত ১০০ জনকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়েছে।পুলিশ স্কুলে ঢুকে এক জায়গায় ৬ জনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। অন্য একটি অংশ থেকে উদ্ধার হয় আরও ২ জনের দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতদের মধ্যে কতজন পড়ুয়া রয়েছে, তা এখনও জানানো হয়নি।হামলাকারী মহিলা একাই এই হামলা চালিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও, অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।একজন নবম শ্রেণির পড়ুয়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, গুলির শব্দ শোনার পর সে সহপাঠীদের সঙ্গে একটি ঘরে লুকিয়ে ছিল। আতঙ্কে কাঁপছিল সবাই।এর আগে ২০২০ সালে নোভা স্কোটিয়ায় এলোপাথাড়ি গুলির ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। ফের স্কুলে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় স্তব্ধ কানাডা।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

নির্বাচন কমিশনে জমা তালিকা নিয়ে কারচুপি? শেষ পর্যায়ে নতুন বিতর্ক

এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও বিতর্ক থামছে না। এবার রাজ্য সরকার অভিযোগ তুলেছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। এই নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। কারা এই ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা করছে, তা স্পষ্ট না করলেও স্বার্থান্বেষী মহল-এর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে।রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসআইআর-এর কাজের জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট ৮৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিকের নাম জমা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সেই তালিকাই ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। রাজ্যের দাবি, নির্বাচন কমিশনে যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত পে-লেভেল মানদণ্ড মেনেই প্রস্তুত করা হয়েছে।নবান্ন আরও জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির পর্যবেক্ষণের পরই এই তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ এ, বি, সি ও ডি হিসেবে যে শ্রেণিবিভাগ রয়েছে, তা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত। সেই নিয়ম মেনেই অত্যন্ত সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে গ্রুপ বি কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করে কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে কোনও অনিয়ম বা বিচ্যুতি হয়নি বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।নবান্নের বক্তব্য, সম্প্রতি যে অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া। বাস্তবের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বলে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়েও রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে চাপানউতোর চলছে, এই বিজ্ঞপ্তি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal