সংসদের বাদল অধিবেশনের আগের দিন সর্বদলীয় বৈঠকে বড় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা বিদ্রোহী সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়ল বিরোধী শিবির। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের বৈঠকে ডাকা হলে তৃণমূল-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ প্রতীকী ওয়াকআউট করেন।
রবিবার সকাল ১১টা থেকে সর্বদলীয় বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে এনসিপিআইয়ের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৈঠক শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিরোধী সাংসদরা বাইরে বেরিয়ে যান। পরে তাঁরা আবার বৈঠকে ফিরে যোগ দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের তরফে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌগত রায় ও মহুয়া মৈত্র। সৌগত রায় প্রশ্ন তোলেন, সংসদের ওয়েবসাইটে যার নাম নেই, এমন একটি অস্বীকৃত দলকে কীভাবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হল। তিনি বলেন, এখনও ওই ২০ জন সাংসদকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।
ওয়াকআউটের পর মহুয়া মৈত্র বলেন, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, জেএমএম, সিপিআইএম, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং শিবসেনা ইউবিটি-সহ সমস্ত বিরোধী দল এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে। তাঁর দাবি, স্পিকার এখনও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেননি। সাংসদ পদ খারিজের আবেদনও শুনানি হয়নি। তাহলে আলাদা ব্লক স্বীকৃতি কীসের ভিত্তিতে দেওয়া হল?
অন্যদিকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেই তাঁরা বৈঠকে এসেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁরা নতুন দলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং সংসদে বিরোধীদের যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। তাঁর মতে, এনসিপিআই ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের নীতিতে বিশ্বাসী।
উল্লেখ্য, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ইতিমধ্যেই এনসিপিআইয়ের ২০ জন সাংসদকে বাদল অধিবেশন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের থেকে আলাদা বসার অনুমোদন দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই সংসদের আগে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
- More Stories On :
- Opposition Walk Out
- NCPI
- Sudip Banerjee

