• ৫ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SI

কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
দেশ

পাকিস্তান থেকে চলত সিম, বাংলাদেশে পৌঁছত হাওয়ালার টাকা! দিল্লিতে ধৃত শিলিগুড়ির প্রদীপ্তকে ঘিরে বড় রহস্য

দিল্লি থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে শিলিগুড়ির বাসিন্দা প্রদীপ্তকুমার সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপ্ত হাওয়ালা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পৌঁছে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। সেই টাকা পরে পাকিস্তানি গুপ্তচর এবং তাদের সহযোগীদের কাছে পৌঁছত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তদন্তকারীদের নজরে আসার পর প্রদীপ্তের কাছ থেকে একটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। সেই সিমটি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হত বলে প্রাথমিক তদন্তে দাবি তদন্তকারীদের। বিষয়টি নিশ্চিত করতে সিম কার্ডটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই সিমের মাধ্যমে কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হত এবং এর সঙ্গে হাওয়ালা চক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপ্ত বর্তমানে দিল্লিতে থাকলেও তাঁর শিকড় শিলিগুড়িতে। নেপালকে করিডোর করে উত্তরবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত হাওয়ালার একটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে থাকা কয়েক জনের সহযোগিতায় এই লেনদেন চলত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।তদন্তকারীদের আরও দাবি, হাওয়ালার টাকার হিসাব মেলাতে প্রদীপ্তকে মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশে যেতে হত। সেই সূত্র ধরেই তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। এরপর তাঁর মোবাইল এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখে একাধিক বিষয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।প্রদীপ্তের সঙ্গে জাল নোট এবং সিম পাচার চক্রেরও যোগাযোগ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তবে এই অভিযোগগুলির কোনওটিই এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলেই জানিয়েছে তদন্তকারী দল।অন্যদিকে, জাল নোট এবং সিম কার্ড পাচারের অভিযোগে ইসলামপুর থেকে গ্রেপ্তার ফজলে রাব্বি সিদ্দিকিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারীরা। শুক্রবার তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। ফজলে রাব্বি ইসলামপুরের তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি জাকির হোসেনের ভাই।ইসলামপুরের পাটাগোরা গ্রাম থেকে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ফজলে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সাপের বিষ পাচারের একটি মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রদীপ্তের সঙ্গে ফজলে রাব্বির কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনও যোগসূত্র থাকলে তার মাধ্যমে হাওয়ালা, জাল নোট এবং সিম পাচারের চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। প্রদীপ্তের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সিমের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের দিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের।

আগস্ট ২২, ২০২৬
কলকাতা

৩৭ ঘণ্টা পর যাদবপুরে এফআইআর! বুধবার রাতের ঘটনায় ঠিক কী অভিযোগ জানাল বিশ্ববিদ্যালয়?

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাতের ঘটনার প্রায় ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে যাদবপুর থানায় এফআইআর করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবারের অশান্তির ঘটনায় তদন্তের সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। সেই মতো শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তিন সদস্যই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আরও এক আধিকারিক।যাদবপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২টার পর কয়েক জন বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সিসিটিভি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। এরপর অরবিন্দ ভবনের কোলাপসেবল গেটের সামনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এফআইআরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নাকি বহিরাগত, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।অন্য দিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী ফলক নিয়ে কর্মবিরতিতে বসেছেন অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্তকে তাঁরা প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।তাঁর দাবি, ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পড়ুয়া ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার বহিরাগতরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।ফলক ভাঙার ঘটনাতেও পৃথক তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন অধ্যাপকদের একাংশ। ফলে এফআইআর দায়ের এবং তদন্ত কমিটি গঠনের পর যাদবপুরের অশান্তির ঘটনায় এবার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নিয়ে অমিত শাহের মুখে এমন কথা! কী বদলেছে বাংলায়, মঞ্চে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই আবহেই উত্তরবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য জমি দেওয়াএকাধিক বিষয় তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সমন্বয়ের কথা জানান শাহ।মঞ্চে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পাওয়া সহজ হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজন হলে ফোন করলেই অনুমতি পাওয়া যায়, চিঠি পরে যায়। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।শাহ আরও জানান, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ এবং এসএসবির জন্য ১১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই জমি ২০১৪ সাল থেকেই চাওয়া হচ্ছিল। আরও ২৯ একর জমি দেওয়ার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব রয়েছে। বাংলার উন্নয়ন এবং রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ বন্ধ না হলে বাংলা বা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেই কারণে সীমান্তে কাঁটাতারের প্রয়োজন রয়েছে।এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ের কথাও টেনে আনেন শাহ। তাঁর দাবি, বিএসএফের জন্য জমি দেওয়ার বিষয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছিল। এমনকি তিনি নিজে তাঁর দফতরেও গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত জমি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহ।শাহের কথায়, এসএসবি বা বিএসএফ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে জওয়ানদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর ১০০ দিনের সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরে অমিত শাহের এই বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য জমি দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে ফের রণক্ষেত্র! মুখোমুখি এসএফআই-এবিভিপি, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা, উত্তেজনা চরমে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের অশান্তির আঁচ এ বার ছড়িয়ে পড়ল বাইরেও। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই এবং এবিভিপির পৃথক মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গোটা এলাকা। দুই সংগঠনের মিছিল মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দুদিকের মিছিল আটকে দেয়। তাতেও অবশ্য উত্তেজনা কমেনি।এইট বি-র সামনে এসএফআইয়ের জমায়েতে আটকে পড়েন রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে এবং যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধর। অন্য দিকে, ঢাকুরিয়া সেতুর কাছে এবিভিপির মিছিলও আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সংগঠনের কয়েক জন সদস্য।এর মধ্যেই এইট বি-র কাছে সকাল থেকে জমায়েত করা এবিভিপির কয়েক জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে পৌঁছে যান। সেখানে তাঁরা সংগঠনের পতাকা ওড়ান। বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা তার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের জমায়েত ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।বুধবার রাত থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বাম ছাত্র সংগঠন ফেটসুর গভর্নিং বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলাকালীন এবিভিপির কয়েক জন সদস্য সেখানে ঢুকে হামলা চালান। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র সংসদ না থাকলে গভর্নিং বডির বৈঠক ডাকা হল কেন।এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়। পালটা অভিযোগ ওঠে, ফেটসুর সদস্যরা এবিভিপির সদস্যদের মারধর করেছেন। ঘটনায় কয়েক জন আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কর্মসূচির ডাক দেয় এসএফআই। পালটা মিছিলের ডাক দেয় এবিভিপিও। দুপুরে দুই পক্ষের জমায়েত ও মিছিল শুরু হতেই যাদবপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট, এইট বি, ঢাকুরিয়া সেতু-সহ একাধিক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুই মিছিল যাতে সরাসরি মুখোমুখি না হয়, সে জন্য ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। কিন্তু একাধিক জায়গায় ব্যারিকেডের সামনে সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার ফের দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি যাতে আর না ঘোরালো হয়, সে দিকে নজর রাখছে পুলিশ।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে রাতের সংঘর্ষের পরই হাই কোর্টে মামলা! আবেদন ফিরিয়ে দিল আদালত, আজ ফের রণক্ষেত্রের আশঙ্কা

ফেটসুর সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে রাতভর উত্তেজনা ছিল ক্যাম্পাসে। দুপক্ষেরই কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার দুই পক্ষই পৃথক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। নতুন করে মামলা দায়ের করে আসার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি মামলা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন। বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনাকে সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে পৃথক মামলা করার পরামর্শ দেয়।বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে অশান্তির সূত্রপাত বলে অভিযোগ। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র সংসদ নেই। তা হলে সাধারণ সভার বৈঠক ডাকা হল কীভাবে, সেই প্রশ্ন তুলেই তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন।অভিযোগ, সেই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে তাঁদের উপর হামলা হয়। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দাবি, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হয়েছিলেন। পাল্টা বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফেও অভিযোগ রয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষে রাতেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।বৃহস্পতিবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে পৃথক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দুই পক্ষই। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী-সমর্থকেরা যাদবপুর থানার সামনে জমায়েত করছেন। গোলপার্ক থেকে মিছিল করে যাওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে, আট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমায়েত করছে বাম ছাত্র সংগঠন।ফলে বৃহস্পতিবার ফের দুপক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আট বি, গোলপার্ক-সহ সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও পক্ষের একতরফা কর্তৃত্ব তাঁরা মেনে নেবেন না। অন্যদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও নিজেদের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসেনি। ফলে রাতের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার যাদবপুরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।আদালত বুধবারের ঘটনার বিষয়ে আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করায় এখন নজর থাকছে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির দিকে। দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে কোনও সংঘর্ষ হয় কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ২০, ২০২৬
কলকাতা

সংঘর্ষের পর যাদবপুরে কি বদলাচ্ছে নিয়ম? পুলিশের ফাঁড়ি নিয়ে উপাচার্যের বার্তা

বুধবার থেকে ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বামপন্থী ছাত্রদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে বুধবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। অভিযোগ, সংঘর্ষে কয়েক জন ছাত্র আক্রান্ত হয়েছেন। রাতের দিকে আরও একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বামপন্থী ছাত্রদের একাংশ অরবিন্দ ভবনের ভিতরে নিজেদের আটকে রাখেন বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি যদি বারবার বিঘ্নিত হয়, তা হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর কথা ভাবতে হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এমন ব্যবস্থা যাদবপুরের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কখনও ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগ, কখনও রাজনৈতিক মতবিরোধ, আবার কখনও র্যাগিংয়ের অভিযোগে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে ক্যাম্পাস। প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব উঠেছিল। সেই সময় ছাত্রদের একাংশের আপত্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।এর মধ্যেই বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত পরিবেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশি নজরদারি কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে উপাচার্যের বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে নিরাপত্তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেশের আইনশৃঙ্খলার বাইরে নয়। তাই দেশের প্রচলিত আইন ক্যাম্পাসেও কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, যাদবপুরের মুক্ত ও খোলামেলা পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেই তাঁরা।উপাচার্য আরও জানান, আগে আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য চব্বিশ ঘণ্টার পুলিশ ফাঁড়ির প্রসঙ্গ উঠেছিল। তবে যাদবপুরের নিজস্ব সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে সেই ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটে, তা হলে ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।এদিকে বুধবারের অশান্তির ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সুরক্ষা আইনের ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত অপর পক্ষের তরফে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে।যাদবপুরে ফের অশান্তির পর এখন মূল প্রশ্ন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশের ফাঁড়ি বসানো হবে? উপাচার্যের মন্তব্যে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে এসেছে।

আগস্ট ২০, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা শুধু একটি দিন নয়, বারবার ফিরে আসে—জয়ের পতাকায়, গৌরবের মুহূর্তে

স্বাধীনতাশব্দটি উচ্চারণ করলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭-এর সেই ঐতিহাসিক সকাল। দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে ভারতবর্ষ সেদিন পেয়েছিল নিজের আকাশ, নিজের পতাকা, নিজের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা কি কেবল একটি তারিখ? কেবল একটি দিনের উদ্যাপন? কেবল লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভেসে আসা ভাষণ, জাতীয় পতাকার উত্তোলন আর জাতীয় সঙ্গীতের গর্বিত সুর?না।স্বাধীনতা আসলে ফিরে ফিরে আসে।কখনও তা আসে একটি ক্রিকেট মাঠে, কখনও অলিম্পিকের ট্র্যাকের ওপর, কখনও হকির সবুজ ঘাসে, কখনও কোনও বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে, কোনও সুরকারের সুরে। কখনও আবার আসে এমন এক ভারতীয়ের চোখের জলে, যে নিজের দেশের পতাকাকে বিশ্বের মঞ্চে উঠতে দেখে বুকের ভিতর অদৃশ্য এক ঢেউ অনুভব করে।১৯৮৩ সাল। লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে ভারতীয় ক্রিকেটের সামনে তখন দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কপিল দেবের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তোলা সেই মুহূর্তটি শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় ছিল না। তা ছিল আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ। সেদিন যেন ভারত বুঝেছিলআমরাও পারি। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরাও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প লিখতে পারি। ১৯৪৭-এ যে জাতি রাজনৈতিক স্বাধীনতা পেয়েছিল, ১৯৮৩-তে তার আত্মবিশ্বাস যেন আরও একবার স্বাধীনতার স্বাদ পেল।তারও বহু আগে, ১৯২৮ সালে অলিম্পিকের হকিতে ভারত প্রথম সোনা জিতেছিল। ধ্যানচাঁদের জাদুকাঠিতে ভারতীয় হকি তখন বিশ্বকে দেখিয়েছিল এক অন্যরকম শিল্প। পরপর বহু অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় হকি দলের সাফল্য দেশের ক্রীড়া-পরিচয়ের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে উঠেছিল। তেরঙ্গা যখন বিদেশের মাটিতে উঠত, তখন মনে হতোএই তো স্বাধীনতা! বন্দুকের গর্জন নয়, স্টিক আর বলের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণেও একটি জাতি তার অস্তিত্বের ঘোষণা করতে পারে।তারপর আসে অ্যাথলেটিক্সের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের অলিম্পিক সাফল্যের ইতিহাসে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। টোকিও অলিম্পিকের সেই রাতএকজন ভারতীয় যখন জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ঘরে ঘরে যেন আবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ল। মাঠে একজন, কিন্তু গর্বে ছিল ১৪০ কোটিরও বেশি হৃদয়।ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের আর এক অমর নাম পি. টি. উষা। আশির দশকে এশিয়ান গেমসের ট্র্যাকে তাঁর দৌড় ভারতীয় মেয়েদের স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছিল। ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার-সহ একাধিক পদক জিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেনভারতের মেয়েরাও বিশ্বের দ্রুততম ট্র্যাকের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। তাঁর পায়ের শব্দ শুধু একটি দৌড়ের শব্দ ছিল না; তা ছিল সামাজিক বাধা, সংশয় আর প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে এক তরুণীর স্বাধীনতার ঘোষণা।এরপর এল ক্রিকেটের আর একটি নতুন অধ্যায়। ২০০৭ এ প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ। মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দল যখন ট্রফি হাতে তুলল, তখন ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার স্বাদ যেন আরও একবার নতুন করে ধরা দিল। আর ২০১১ সালে ঘরের মাঠে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে ধোনির সেই ছক্কাআজও ভারতীয় ক্রীড়া-স্মৃতির অন্যতম আবেগঘন ছবি। একজন অধিনায়ক ট্রফি তুলেছিলেন, কিন্তু আসলে যেন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের স্বপ্নকে তুলে ধরেছিল।স্বাধীনতার এই গল্প শুধু খেলাধুলায় থেমে নেই।ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বজয়ের কথাও তো একইভাবে বলতে হয়। সত্যজিৎ রায়ের Pather Panchali কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছিল। ১৯৯২ এ বিশ্ব চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদান ও অনন্য সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সত্যজিৎ রায়কে সম্মানসূচক অনারারি অস্কার প্রদান করে অ্যাকাডেমি। এই পুরস্কার কোনো একটি নির্দিষ্ট ছবির জন্য নয়, বরং তাঁর সমগ্র চলচ্চিত্র জীবন, শিল্পসত্তা এবং বিশ্বসিনেমায় তাঁর গভীর ও স্থায়ী প্রভাবের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। অসুস্থ সত্যজিতের বিছানায় শুয়ে অস্কার হাতে নিয়ে যে বক্তব্য দেন তা আজও আপামোর চলচিত্রপ্রেমীর কানে বাজে। পরে ২০০৯ সালে এ. আর. রহমান Slumdog Millionaire চলচ্চিত্রের জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সুরের এক অনন্য পরিচয় তৈরি করেন। অস্কারের মঞ্চে তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি যখন বিশ্ব শুনেছিল, তখন সেটিও ছিল এক ধরনের স্বাধীনতানিজের মাটির সুরকে পৃথিবীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার স্বাধীনতা।বিজ্ঞানেও এমন অসংখ্য মুহূর্ত এসেছে। মহাকাশে ভারতের সাফল্য, চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ, মঙ্গলযানের অসাধারণ অভিযানপ্রতিটি সাফল্যের মধ্যেই যেন লুকিয়ে থাকে সেই একই অনুভূতি। একসময় যে দেশ নিজের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির চিন্তায় সংগ্রাম করছিল, সেই দেশই একদিন মহাকাশের অজানা প্রান্তে নিজের পতাকা পৌঁছে দেয়। এই অগ্রযাত্রাও স্বাধীনতারই আর এক ভাষা।কারণ স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা নয়। স্বাধীনতা মানে নিজের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখা।স্বাধীনতা মানেআমি পারব বলার সাহস।স্বাধীনতা মানেব্যর্থতার পরেও আবার উঠে দাঁড়ানো।স্বাধীনতা মানেবিশ্বের চোখে চোখ রেখে নিজের পরিচয় ঘোষণা করা।তাই ১৫ই আগস্ট এলেই আমরা শুধু ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করব কেন? আমরা মনে করব সেই সব দিনকে, যেদিন ভারত নতুন করে জিতেছিল। কোনও খেলোয়াড়ের হাতে যখন পদক উঠেছে, কোনও বিজ্ঞানীর অভিযানে যখন ভারতীয় পতাকা মহাকাশ ছুঁয়েছে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিতে যখন ভারত বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে, কোনও তরুণ-তরুণী যখন অসম্ভবকে সম্ভব করেছেসেই প্রতিটি মুহূর্তে স্বাধীনতা নতুন করে জন্ম নিয়েছে।স্বাধীনতার বয়স আজ ৭৯ বছর। কিন্তু স্বাধীনতা বৃদ্ধ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে তার বয়স কমে আসে। কোনও শিশুর হাতে ক্রিকেট ব্যাটে, কোনও কিশোরীর দৌড়ের জুতোয়, কোনও তরুণ বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে, কোনও শিল্পীর তুলিতে, কোনও সুরকারের যন্ত্রেস্বাধীনতা প্রতিদিন নতুন হয়ে ওঠে।১৫ই আগস্ট তাই শুধু অতীতের স্মৃতির দিন নয়। এটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিনও।যে তেরঙ্গা ১৯৪৭ সালে পরাধীনতার আকাশে স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে উঠেছিল, সেই তেরঙ্গাই আজও ওঠেলর্ডসের মাঠে, অলিম্পিকের মঞ্চে, বিশ্বকাপের আসরে, অস্কারের মঞ্চে, মহাকাশযানের অভিযানে, কিংবা কোনও অচেনা ভারতীয়ের ছোট্ট সাফল্যের মুহূর্তে।সেখানেই স্বাধীনতার আসল সৌন্দর্য।স্বাধীনতা একবার অর্জন করা কোনও স্মারক নয়স্বাধীনতা এমন এক অনুভূতি, যা প্রতিটি প্রজন্ম নিজের সাফল্য দিয়ে নতুন করে অর্জন করে।তাই ১৫ই আগস্ট শুধু একটি দিন নয়।স্বাধীনতা বারবার ফিরে আসে।জয়ের পতাকায়, অশ্রুসিক্ত চোখে, করতালির শব্দে, স্বপ্নপূরণের হাসিতেআর কোটি কোটি ভারতীয়ের বুকের ভিতর নিঃশব্দে উচ্চারিত একটি শব্দেভারত।

আগস্ট ১৫, ২০২৬
দেশ

গুরুদ্বারের সামনেই সুখবীর বাদলকে কোপ! পেটে হামলার চেষ্টা, রক্তাক্ত প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের নন্দেদে অকালি দল প্রধান তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের উপর আচমকা হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। হামলায় হাতে চোট পেয়েছেন সুখবীর বাদল। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, নন্দেদের একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। গুরুদ্বারের সামনেই আচমকা এক ব্যক্তি সুখবীর বাদলের দিকে এগিয়ে এসে হামলা করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হামলাকারী তাঁর পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। হামলার সময় সুখবীর বাদলের হাতে চোট লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন।ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে নন্দেদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। হামলার সময় তাঁর স্ত্রী তথা অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সুখবীর বাদলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে তাঁর ডান হাতে কাপড় বাঁধা দেখা যায়।হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর নাম যশপাল সিং বলে জানা গিয়েছে। তিনি নিহাঙ্গ শিখ বলে সূত্রের দাবি। হামলায় কৃপাণ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। যশপাল সিং গত দুই বছর ধরে তখত শ্রী হাজুর সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।সুখবীর বাদলের উপর এই প্রথম হামলার চেষ্টা নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।ফলে নন্দেদের এই হামলার পর নতুন করে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী কারণে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে হামলা করা হল এবং এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাজ্য

সঙ্গীদের বাঁচাতে ফোন ভাঙলেন রানা, নোটবুক খুলতেই তদন্তকারীদের হাতে এল বড় সূত্র

মোবাইল ভেঙে ফেলেও রক্ষা হল না! সঙ্গীদের নাম আড়াল করতে ফোন নষ্ট করেছিলেন বলে জেরায় দাবি করেছেন ধৃত পাক গুপ্তচর রানা রউফ খালিদ। কিন্তু তাঁর নোটবুক থেকেই তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে আরও ছয় জন সন্দেহভাজনের নাম। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন নেপালের বাসিন্দা এবং এক জন বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে হাবড়া থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম। তাঁর সহযোগী মহম্মদ ইজাজকেও তপসিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, রানার সঙ্গে বিদেশে থাকা কয়েক জন সন্দেহভাজনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।জেরায় রানা কী তথ্য দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার সেনা ছাউনি, সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ছাউনি, রেলস্টেশন এবং রেলপথের ছবি, ভিডিয়ো ও মানচিত্র সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানো হত। এই কাজে তপসিয়ার ইজাজ তাঁকে সাহায্য করতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।তদন্তকারীদের আরও দাবি, নেপালে থাকা পাঁচ জনের কাছে ওই তথ্য পাঠানো হত। তাঁদের নাম কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি এবং হারুণ সফদার বলে রানা তাঁর নোটবুকে লিখে রেখেছিলেন। বাংলাদেশের বাসিন্দা পাভেলের নামও সেই নোটবুকে পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই ছয় জনের সঙ্গে রানার যোগাযোগ ছিল।বিদেশে থাকা ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য মুছে ফেলতেই নেপালে গিয়ে নিজের মোবাইল ভেঙে ফেলেছিলেন বলে জেরায় রানা দাবি করেছেন। তবে দুটি সিম কার্ড নষ্ট করেননি তিনি। সেই সিম কার্ড দুটি তদন্তকারীরা উদ্ধার করেছেন। ফলে মোবাইল নষ্ট করলেও যোগাযোগের সূত্র পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি বলে তদন্তকারীদের অনুমান।জেরায় রানা আরও জানিয়েছেন, কাঠমান্ডুতে কয়েক জনের সঙ্গে বৈঠকের পর বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। বাংলাদেশে পাভেল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। যশোরে পৌঁছনোর পর পাভেল তাঁকে একটি নতুন মোবাইল দেওয়ার কথা ছিল। সেই ফোনে দুটি সিম ঢুকিয়ে নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে ফের যোগাযোগের পরিকল্পনা ছিল বলে জেরায় উঠে এসেছে।বাংলাদেশ ও নেপালে থাকা ওই ছয় জনের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সরকারের কাছে তথ্য পাঠানো হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। তাঁদের সঙ্গে রানার যোগাযোগের ধরন এবং কী ধরনের তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের দাবি, চরবৃত্তির মাধ্যমে তথ্য পাচার করে অর্থ সংগ্রহ করতেন রানা। যদিও গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে মাত্র ৩৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছে। হাবড়ার চোংদা বাজারের কাছে ধরা পড়ার পর নিজের আধার ও ভোটার কার্ড দেখিয়ে নিজেকে তপসিয়ার বাসিন্দা ওয়াহাব আলম বলে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি বলে অভিযোগ।বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রানা প্রথমে অস্বস্তিতে পড়েন বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক বলে স্বীকার করেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর কাছ থেকে সিম কার্ড উদ্ধারের পর মোবাইলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শেষ পর্যন্ত সেটি ভেঙে ফেলার কথাও স্বীকার করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।

আগস্ট ১২, ২০২৬
রাজ্য

১৪ বছর ভারতে থেকে ভুয়ো পরিচয়! বাংলাদেশ পালানোর আগেই হাবড়ায় ধরা পাক গুপ্তচর

ভারতে ১৪ বছর ধরে বসবাস, তৈরি হয়েছিল ভুয়ো ভারতীয় নথি! বাংলাদেশে পালানোর আগেই হাবড়ায় পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে ধরা পড়ল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তি। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম এবং তাঁর সহযোগী মহম্মদ ইজাজের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়মের ছবি, একটি মানচিত্র, একাধিক দেশের ফোন নম্বর এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।মঙ্গলবার রাতে যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় হাবড়ার চোংদা মোড়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ভারতীয় সেনা, সামরিক পরিকাঠামো এবং রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।তদন্তকারীদের দাবি, রানা ও ইজাজের কাছ থেকে কলকাতার সেনা সদর দফতর ফোর্ট উইলিয়মের ছবি এবং একটি মানচিত্র পাওয়া গিয়েছে। সেই ছবি এবং মানচিত্র কী ভাবে তাঁদের হাতে এল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আগামী ১৫ অগস্টের আগে কোনও বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে সেনা গোয়েন্দাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনার গতিবিধি, সামরিক পরিকাঠামো এবং রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙা সীমান্ত এলাকায় সেনার গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। ঠিক কী কী তথ্য কোথায় পাঠানো হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত দুজনের বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সলাবাদ জেলার হাফিজাবাদ গ্রামে। ২০১২ সালে নেপালের কাঠমান্ডু সীমান্ত দিয়ে রক্সৌল হয়ে ভারতে ঢোকার পর কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন রানা। পরে সহযোগী ইজাজের সাহায্যে ওয়াহাব আলম নামে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। পরে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম বাদ পড়ে।রানা একাধিক বার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েছিলেন বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ হয়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। ১১ অগস্ট বিশেষ সূত্রে রানার গতিবিধি সম্পর্কে খবর পাওয়ার পর নজরদারি শুরু করে বিশেষ তদন্তকারী দল। যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় তাঁদের গতিবিধি নজরে আসে। এর পর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ হাবড়ার চোংদা মোড়ে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তকারীদের আরও দাবি, বাংলাদেশে ঢোকার আগে কয়েক জন সীমান্ত দালালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন রানা। তাঁদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের একাধিক ফোন নম্বর, দুটি সিম কার্ড, একটি নোটবুক এবং বিভিন্ন বার্তার তথ্য উদ্ধার হয়েছে। কিছু তথ্য ও ফোন নম্বর মুছে ফেলার চেষ্টার প্রমাণও মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে আগে ধৃত কয়েক জনের সঙ্গেও রানা ও ইজাজের যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। রানার ফোনে তাঁদের নম্বরও পাওয়া গিয়েছে। সেই সূত্র ধরে আরও কয়েক জনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে খবর। ফলে গত ১৪ বছরে ভারতে থেকে ধৃতেরা ঠিক কী ধরনের কার্যকলাপ চালিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তাঁরা কার আশ্রয়ে ছিলেন, কী ভাবে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করলেন, তাঁদের অর্থের উৎস কী ছিল এবং সেনা ও রেলের তথ্য কী ভাবে বিদেশে পৌঁছতএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ফোর্ট উইলিয়মের ছবি ও মানচিত্র উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আগস্ট ১২, ২০২৬
কলকাতা

মেসি-কাণ্ডে অরূপের রক্ষাকবচ বাড়ল, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বড় পদক্ষেপে নিষেধ! আদালতে কী হল?

মেসি-কাণ্ডে আপাতত স্বস্তিতে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৭ নভেম্বর।অরূপ বিশ্বাসকে আগেই রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাই কোর্টের একক বেঞ্চ। সেই নির্দেশই আপাতত বহাল রাখল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। অরূপের রক্ষাকবচ বাতিলের দাবিতে শতদ্রু দত্ত যে মামলা করেছিলেন, তাতেও এখনই কোনও হস্তক্ষেপ করেনি আদালত।মঙ্গলবার শুনানিতে মেসি-কাণ্ডের তদন্ত সংক্রান্ত দুটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। তিনি জানান, তদন্তে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী সবরকম সহযোগিতা করছেন। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পুলিশ অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তদন্ত শেষ হলে চার্জশিটও জমা দেওয়া যাবে। তবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ করা যাবে না।গত ডিসেম্বর মাসে ভারতে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। তাঁকে সামনে থেকে দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক ফুটবলপ্রেমী যুবভারতীতে জড়ো হয়েছিলেন। অনেকেই মোটা টাকা খরচ করে টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত সময়ের আগেই যুবভারতী ছেড়ে বেরিয়ে যান মেসি। এরপর ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ।সেই ঘটনার পরই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার দিন মেসির সঙ্গে একাধিক বার তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সমাজমাধ্যমে মেসির সঙ্গে অরূপের ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও মেসির ছবি প্রকাশ্যে আসে।অব্যবস্থার অভিযোগে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মেসির ভারত সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, প্রভাব খাটিয়ে অরূপ মেসির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।এই মামলায় অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই একাধিক বার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিয়েছেন। পুলিশের তলবে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়টিও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে। আপাতত সেই কারণেই তাঁর রক্ষাকবচ বহাল থাকল বলে মনে করা হচ্ছে।এখন প্রশ্ন, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অরূপের বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ না করার নির্দেশের পর মেসি-কাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে এগোয়। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ১১, ২০২৬
বিদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘মেসি’ হয়ে ওঠার নেপথ্যের মানুষ আর নেই, প্রয়াত জর্জ মেসি

৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মেসির পরিবারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল মহলেজর্জ মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা ছিলেন না, ছেলের দীর্ঘদিনের এজেন্ট ও পরামর্শদাতাও ছিলেন। মেসির ফুটবলজীবনের শুরু থেকে তাঁর পাশে ছিলেন জর্জ। ছেলের প্রতিভার উপর আস্থা রেখে ছোটবেলা থেকেই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।রোজারিওতেই ছোটবেলায় ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল মেসির। নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের যুব দলে খেলার সময় তাঁর প্রতিভা নজর কাড়ে। শারীরিক বৃদ্ধির জন্য হরমোনের চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল মেসির। সেই পরিস্থিতিতে ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জর্জই তাঁকে নিয়ে স্পেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বার্সেলোনায় মেসির ফুটবলজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় থেকেছেন জর্জ। মেসির পেশাদার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সাঁ জাঁ এবং ইন্টার মায়ামিমেসির ক্লাবজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাবার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।শুধু ফুটবল নয়, মেসির ব্যক্তিগত জীবনেও বাবার প্রভাব ছিল গভীর। কঠিন সময়েও জর্জ ছেলের পাশে থেকেছেন। তাই মেসির জীবনে জর্জ ছিলেন একইসঙ্গে বাবা, অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং দীর্ঘদিনের পেশাদার প্রতিনিধি।চলতি বছর বিশ্বকাপের সময় থেকেই জর্জের অসুস্থতার খবর সামনে আসতে শুরু করেছিল। মেসিও একসময় জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা কারণে তিনি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। পরে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষ হল জর্জ মেসির।মেসির ফুটবলজীবনের উত্থানের সঙ্গে জর্জের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ছেলের প্রতিভায় বিশ্বাস রেখে যে মানুষটি তাঁর পথচলার শুরু থেকে পাশে ছিলেন, তাঁর প্রয়াণে মেসির জীবনে তৈরি হল এক গভীর শূন্যতা। ফুটবল দুনিয়াতেও নেমে এসেছে শোকের আবহ।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
ভ্রমণ

সিকিমের অফবিট সৌন্দর্যে মুগ্ধ করবে জুলুক থেকে জোংগু, ঘুরে এলে মন চাইবে বারবার

ব্যস্ত শহরের কোলাহল, কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি আর প্রতিদিনের দৌড়ঝাঁপ থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি পেতে আমরা কয়েকজন বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম ভারতের উত্তর-পূর্বের ছোট্ট অথচ অপরূপ সুন্দর রাজ্য সিকিমের উদ্দেশ্যে। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা আর সবুজ প্রকৃতির টানে বহুদিন ধরেই সিকিম আমাদের স্বপ্নের গন্তব্য ছিল।শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে চড়ে যখন সিকিমের পথে যাত্রা শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পারলাম এক অন্য জগতে প্রবেশ করতে চলেছি। তিস্তা নদী আমাদের পথসঙ্গী হয়ে বয়ে চলছিল। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা, দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর নদীর কলকল শব্দ যেন মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিল।গ্যাংটক পৌঁছে আমরা প্রথমেই শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলা দেখে মুগ্ধ হলাম। তবে আমাদের আসল লক্ষ্য ছিল সিকিমের কিছু অফবিট বা কম পরিচিত স্থান ঘুরে দেখা। তাই পরদিন সকালে আমরা রওনা দিলাম জুলুকের উদ্দেশ্যে। পূর্ব সিকিমের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি পর্যটকদের কাছে এখনও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। পথে বিখ্যাত জিগজ্যাগ রোডের ৩২টি বাঁক দেখে আমরা অভিভূত হয়ে গেলাম। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের রাস্তা দেখতে যেন বিশাল কোনো শিল্পকর্মের মতো লাগছিল।জুলুকের ঠান্ডা আবহাওয়া আর নিস্তব্ধ পরিবেশ আমাদের মন জয় করে নিল। রাতের আকাশে অসংখ্য তারার মেলা দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গের খুব কাছাকাছি এসে গেছি। শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে এই অভিজ্ঞতা সত্যিই ছিল অসাধারণ।পরের দিন আমরা গেলাম থাম্বি ভিউ পয়েন্টে। ভোরবেলায় সূর্যের প্রথম আলো যখন কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা শৃঙ্গে পড়ল, তখন সেই দৃশ্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। সোনালি আলোয় ঝলমল করা পর্বতশ্রেণি আমাদের চোখে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে রইল।এরপর আমরা উত্তর সিকিমের এক সুন্দর অফবিট গ্রাম জোংগুতে পৌঁছালাম। এটি লেপচা সম্প্রদায়ের সংরক্ষিত এলাকা। এখানকার মানুষজন অত্যন্ত আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ণ। তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করল। ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, পাহাড়ি ঝরনা এবং সবুজ বনভূমির মধ্যে কয়েকটি দিন কাটিয়ে মনে হলো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অপূর্ব সহাবস্থান প্রত্যক্ষ করছি।জোংগু থেকে ফেরার পথে আমরা কয়েকটি অজানা ঝরনা এবং ছোট পাহাড়ি গ্রামে থামলাম। প্রতিটি স্থান যেন প্রকৃতির নিজস্ব হাতে সাজানো একেকটি চিত্রপট। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও ঝরনার শব্দ, আবার কোথাও শুধুই নীরবতাসব মিলিয়ে সিকিমের প্রকৃতি যেন হৃদয়কে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।ভ্রমণের শেষ দিনে আমরা বুঝতে পারলাম, সিকিম শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি এক অনুভূতির নাম। এখানে পাহাড় শুধু চোখকে নয়, মনকেও ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির এত কাছে এসে জীবনের ছোট ছোট সুখগুলোর মূল্য আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়।ফেরার পথে গাড়ির জানালা দিয়ে শেষবারের মতো পাহাড়গুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সিকিম যেন নীরবে বলছেআবার এসো। আমরাও মনে মনে প্রতিশ্রুতি দিলাম, এই অফবিট সৌন্দর্যের রাজ্যে আবার ফিরে আসব। কারণ সিকিমের মায়া একবার যার মনে জায়গা করে নেয়, তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় তার সবুজ পাহাড়, নীল আকাশ আর মেঘের দেশে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশ

এসআইআর নিয়ে শুনানি, তারপরই হুমকি! অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নিরাপত্তা নিয়ে বড় পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের

এসআইআর প্রক্রিয়ার পর বিবেচনাধীন ভোটারদের নামের নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সেই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নিরাপত্তা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠল। হুমকি, পথ দুর্ঘটনা এবং বাড়িতে চিঠি আসার অভিযোগের পর বিষয়টি পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। এবার নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারপতির ছেলে তাঁর বাবার নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের শুনানির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর বাবা এবং পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে পড়ছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রভাব বিস্তার করতেই এই ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।আবেদন অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পথে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি একটি পথ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে পুলিশের তরফেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর কয়েক দিন পর রাজারহাটের বাড়িতে একটি হুমকি চিঠি পৌঁছয়। পরে কলকাতার বাড়িতেও একই ধরনের হুমকি চিঠি আসে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও তাঁর পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত এবং বাড়তি নিরাপত্তার আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চ জানায়, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে যেতে পারেন।শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির আবেদনটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। ফলে এখন অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারপতি এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে হাইকোর্ট কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের দায়িত্বে থাকা এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে ঘিরে হুমকি ও নিরাপত্তার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পথ দুর্ঘটনা এবং পরপর হুমকি চিঠির অভিযোগের পর সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশ

ডিসেম্বরে ফিরবই! আবেগঘন বার্তায় বড় ঘোষণা শেখ হাসিনার, বাংলাদেশ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

দেশ ছাড়ার দুই বছর পর প্রথমবার সাংবাদিকদের উদ্দেশে অডিয়ো বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ঠিক কোন দিনে ফিরবেন, তা পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা।অডিয়ো বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নাড়ির টান। গত দুই বছরে দেশের পরিস্থিতি দেখে তিনি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন। তাঁর দাবি, যে আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল, সেটি শুধুমাত্র ছাত্র আন্দোলন ছিল না। পরিকল্পিতভাবে সেই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছিল।সরকার পতনের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেছে এবং সেই পদক্ষেপকে অপরাধ বলা যায় না।তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর সরকারের সময়ে শুরু হওয়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত পরবর্তী সরকার বন্ধ করে দেয়। শেখ হাসিনার দাবি, আন্দোলনের সময় এবং পরে আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, সাংবাদিক এবং মুক্তিযোদ্ধারাও নানা ধরনের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশে শেখ হাসিনা আবেদন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জানান, জেলেও যেতে হলে তিনি প্রস্তুত। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নয়, দেশের মানুষের কাছেই ফিরতে চান তিনি।ভারতে থাকার প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার তাঁকে যথেষ্ট সম্মান ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে। ভারতকে বন্ধু দেশ বলেই উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাঁর কথায়, শেষ পর্যন্ত নিজের দেশেই ফিরতে চান তিনি এবং সেই লক্ষ্যেই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশে জঙ্গি কার্যকলাপ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
রাজ্য

অটল পেনশন যোজনায় বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল এই জেলা, মিলল দেশের দ্বিতীয় স্থান

কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প **অটল পেনশন যোজনা (APY)**-য় উপভোক্তা নথিভুক্তির নিরিখে গোটা দেশের মধ্যে বিহারের পরেই দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে মালদা জেলা। এই সাফল্যকে স্বীকৃতি জানাতে বুধবার মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সংবর্ধনা ও পুরস্কৃত করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক রাজেনবীর সিং কাপুর, ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি-সহ জেলা প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। অটল পেনশন যোজনার প্রসারে ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্কিং করেসপন্ডেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন উপস্থিত বক্তারা।জেলাশাসক রাজেনবীর সিং কাপুর বলেন, অটল পেনশন যোজনায় নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে মালদা জেলার এই সাফল্য অত্যন্ত গর্বের। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্কিং করেসপন্ডেন্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতেও একইভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।এদিনের অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কর্মী ও আধিকারিকদের মধ্যে যারা এই প্রকল্পে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রাহককে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন, তাঁদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে উৎসাহিত করবে।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ মালদায় অটল পেনশন যোজনার আওতায় নাম নথিভুক্ত করেছেন। দেশের মধ্যে এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে বিহার, আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা।তবে প্রশাসনের একাংশের মতে, এখনও বহু সাধারণ মানুষ এই প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নন। এছাড়া প্রতি বছর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রকল্পটি সক্রিয় রাখতে হয় বলেও অনেকেই আগ্রহ দেখান না। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, অটল পেনশন যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কাজের স্বীকৃতি দিতেই এদিন সফল ব্যাঙ্কগুলিকে সম্মান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই ৩১, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের সুরযাত্রার অবসান: প্রয়াত বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতীয় হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের জগতে এক যুগের অবসান ঘটল। বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী, বিশিষ্ট সঙ্গীতগুরু, গবেষক এবং শিক্ষাবিদ সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত হলেন। বুধবার দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে শতবর্ষ স্পর্শ করা এই কিংবদন্তি শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শুধু শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অঙ্গনেই নয়, সমগ্র বাংলা তথা দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে।গত ৮ জুলাই কোমরের অস্থিভঙ্গের কারণে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কয়েক দিন আগে তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাসভবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার দুপুরে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট-এ তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর পুত্র শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিবারের সকলেই আশাবাদী ছিলেন যে তিনি আবার সুস্থ হয়ে মঞ্চে ফিরবেন। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হল না।১৯২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উত্তর কলকাতার টেগোর ক্যাসল স্ট্রিটে এক ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পিতা ছিলেন বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি সঙ্গীতাচার্য সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। পিতার কাছেই শৈশব থেকে তাঁর সঙ্গীত শিক্ষার সূচনা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর অসামান্য কণ্ঠস্বর, রাগসংগীতের গভীর অনুধাবন এবং সুরের প্রতি নিবেদন সকলের নজর কেড়েছিল।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা হয় কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে। পরবর্তীকালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৪৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীতের নন্দনতত্ত্ব, ইতিহাস ও দর্শন নিয়ে তাঁর গভীর আগ্রহ তাঁকে একজন অনন্য গবেষকে পরিণত করে।কর্মজীবনের শুরুতে ডেপুটি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের দপ্তরে চাকরিতে যোগ দিলেও সেই পেশায় বেশিদিন নিজেকে আবদ্ধ রাখতে পারেননি। সঙ্গীতই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র সাধনা। ১৯৫০-এর দশকে তিনি আকাশবাণীর সঙ্গীত বিভাগে যোগ দেন এবং সেখান থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সঙ্গীতের নন্দনতত্ত্ব ও শিল্পদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। ১৯৬৮ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণাগ্রন্থ পরে সঙ্গীতের শিল্পদর্শন নামে প্রকাশিত হয় এবং ভারতীয় সঙ্গীত-চিন্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।দীর্ঘ প্রায় তিরিশ বছর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন তিনি। পরবর্তীকালে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বও সামলান। ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহণের পরও তাঁর কর্মজীবন থেমে থাকেনি। ২০০০ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনয়ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন শিল্পী নন, ছিলেন একজন অসামান্য শিক্ষকও। তাঁর হাত ধরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য শিল্পী। বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা নীহাররঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, পুত্র শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বহু শিষ্য-শিষ্যা আজ দেশের সঙ্গীতজগতে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁদের সকলের কাছেই তিনি ছিলেন একজন কঠোর অথচ স্নেহময় গুরু।যদিও তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি ছিল বিষ্ণুপুর ঘরানা, তবুও তিনি কখনও নিজেকে ঘরানার সংকীর্ণ সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখেননি। পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, পরিবর্তনকে যদি আমি গ্রহণ না করি, তা হলে আমাকে কেউ নেবে না। সেই কারণেই আমি ঘরানার সীমা অতিক্রম করেছি। তাঁর প্রিয় শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন তারাপদ চক্রবর্তী ও উস্তাদ আমির খান, যাঁদের গায়কী তাঁর শিল্পচিন্তাকে সমৃদ্ধ করেছিল।জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সঙ্গীত ছিল তাঁর একমাত্র সাধনা। শতবর্ষ স্পর্শ করার দিনও তিনি মঞ্চে প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে রাগ বেহাগ পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিয়মিত শিষ্য-শিষ্যাদের গান শেখাতেন এবং সঙ্গীতচর্চায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত রেখেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টির মধ্য দিয়েই রাগ পূরবী নতুন জীবন লাভ করেছে যা তাঁর গভীর সঙ্গীতবোধ ও নন্দনতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় বহন করে।ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক বিরল প্রতিভা, বিশিষ্ট গবেষক এবং আদর্শ শিক্ষক হিসেবে অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান আগামী প্রজন্মের শিল্পী ও গবেষকদের পথ দেখাবে। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত রাগসংগীত, তাঁর গবেষণা, তাঁর দর্শন এবং তাঁর অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর মধ্যে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে তাঁর নাম এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

জুলাই ৩০, ২০২৬
রাজ্য

বেতন, ডিএ, পেনশন— সবকিছুর আগে বড় রদবদল সপ্তম বেতন কমিশনে

রাজ্য সরকারের সপ্তম বেতন কমিশনে বড় পরিবর্তন করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে অতনু চক্রবর্তীর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন আইএএস অফিসার নবীন প্রকাশকে। তবে চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলেও কমিশনের কাজের পরিধি, শর্ত এবং নীতিতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।গত বাইশ জুলাই রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছিল। তখন জানানো হয়েছিল, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার এবং অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব অতনু চক্রবর্তী কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন। কিন্তু মাত্র আট দিনের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন নবীন প্রকাশ।রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন বেতন কমিশন এবং মহার্ঘ ভাতা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত মহার্ঘ ভাতা এক ধাক্কায় কুড়ি শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করেন। একই দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, খুব দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কমিশন গঠন করা হয়েছে।এই কমিশনের দায়িত্ব হবে সরকারি, সরকার পোষিত এবং আধা সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো, পদোন্নতি, পেনশন এবং মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত সুপারিশ করা। এছাড়া পেনশনভোগীদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ও কমিশন পর্যালোচনা করবে।রাজ্য সরকার কমিশনকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করার আগে একই পদে কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

জুলাই ২৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 103
  • 104
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
টুকিটাকি

কাঁচা কুমড়ো না পাকা কুমড়ো, কোনটি বেশি উপকারী?

কুমড়ো বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সবজি। কাঁচা সবুজ কুমড়ো হোক বা পাকা হলুদ-কমলা কুমড়ো, দুটিরই রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কুমড়োর পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পাকা কমলা কুমড়ো বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত।কাঁচা কুমড়োতে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন C-এর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। এতে ক্যালোরিও কম, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। কিছু জাতের অপরিপক্ব কুমড়োতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকারিতাও দেখা যায়। তবে কাঁচা কুমড়ো রান্না করে খাওয়াই ভালো, কারণ তাতে হজম সহজ হয়।অন্যদিকে, পাকা হলুদ বা কমলা কুমড়োর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন A-তে রূপান্তর করে। ফলে চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পাকা কুমড়ো উপকারী। এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। রান্না করলে কুমড়োর বিটা-ক্যারোটিন শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।কুমড়োকে ক্যানসারের ওষুধ বা নিশ্চিত প্রতিরোধক বলা যায় না। তবে এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনল, ভিটামিন C ও E এবং খাদ্যআঁশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কুমড়ো খাওয়া উপকারী হতে পারে।কুমড়োর বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন E। হৃদ্স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগত বিচারে বিটা-ক্যারোটিনের জন্য পাকা কমলা কুমড়ো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাঁচা কুমড়োকেও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নেই। অল্প তেলে রান্না করে, অতিরিক্ত ভাজা বা চিনি এড়িয়ে কুমড়ো খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে কুমড়ো রাখলেই মিলবে বেশি সুষম পুষ্টি।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ওয়াকফ-অশান্তির মামলায় নাম, এবার তৃণমূল ছেড়ে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ইনজামুল! কেন এই দলবদল?

ওয়াকফ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বিতর্কে ছিলেন ধুলিয়ানের পুরপ্রধান ইনজামুল ইসলাম রাজা। এবার সেই ইনজামুলই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই দলবদল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সেই মামলা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে কংগ্রেসের যোগদান সভায় বড়সড় দলবদল হয়। ইনজামুল ইসলাম রাজার পাশাপাশি ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শরিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ একাধিক কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেন। একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবায়দুর রহমানও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।ইনজামুলের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ কটাক্ষ করে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই অনেকে দলবদল করছেন। সামশেরগঞ্জের অশান্তিতে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁরাও নিজেদের বাঁচাতে দল পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলবদল করেও তাঁরা আইনি পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর দাবি, সামশেরগঞ্জের অশান্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের এই ভাঙন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ধুলিয়ান পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ-অশান্তির মামলা চলার মধ্যেই ইনজামুলের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এ দিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক বাইচুংয়ের, ‘স্থানীয় রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল! যুবভারতীর ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের মাঠে নামার খবরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিতর্কও। একদিকে এই ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল খরচ এবং দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এর জন্য ঘরোয়া ফুটবল সূচি ও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া সরাসরি ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মাত্র প্রদর্শনী ম্যাচের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ না করে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। বাইচুংয়ের মতে, এমন ম্যাচের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে তা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে উল্টে পিছিয়ে দিতে পারে।বাইচুংয়ের কথায়, ম্যাচ বয়কট করলে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ম্যাচ আয়োজনের আগে ফেডারেশনকে আরও সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিপুল খরচ, প্রশ্নের মুখে ঘরোয়া ফুটবলকলকাতায় ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের পর্যবেক্ষক দল যুবভারতী পরিদর্শনও করেছে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে তাদের তরফে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া কাঠামো নিয়ে। ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইএসএলের সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্লাবগুলির প্রস্তুতি এবং গোটা মরসুমের পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে ফিফা এশিয়ান কাপের বিষয়টিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং অন্যান্য সূচির সংঘাতের কারণে ভারত এশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই বলেই জানানো হয়েছে।বাইচুংয়ের প্রশ্নএক ম্যাচের জন্য এত টাকা কেন?বাইচুং ভুটিয়ার যুক্তি, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতে থাকে, তবে তা আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করা যায় না কেন? তাঁর মতে, সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমস বা অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।এবার পাল্টা বার্তা ব্রাজিলেরভারতীয় ফুটবল মহলে যখন ম্যাচ বয়কট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে এই ম্যাচ নিয়ে কী ধরনের বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিন্তিত নয়। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই।বয়কট নিয়ে ব্রাজিলের তরফে বিশেষ মাথাব্যথা নেই বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং এই ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম প্রত্যাহারের বিষয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফুটবল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাজিলের কলকাতা সফরকে যুক্ত করার কোনও কারণ দেখছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ভারত আমাদের সমর্থন করেছে, বলছে ব্রাজিলব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে রড্রিগো কেতানোও এই ম্যাচের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরভারত বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজিলকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনকে তাই শুধু বাণিজ্যিক বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখছে না ব্রাজিল।ব্রাজিলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চায়। অর্থাৎ ভারতের মাটিতে এসে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সারাই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় তারা।স্টিমাচের কটাক্ষেও বাড়ছে বিতর্কব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচও। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার মধ্যে এখনও প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হয়নি। সেই সমস্যা সমাধান না করে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য উল্টে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।অর্থাৎ একদিকে বাইচুংয়ের আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে স্টিমাচের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো নিয়ে অভিযোগসব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ নেই।ম্যাচ হবে, বিতর্কও চলবে?একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ভারতকে দেখার স্বপ্নে ফুটবলপ্রেমীরা উত্তেজিত। অন্যদিকে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বিপুল খরচ, আইএসএলের সূচি এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচেরা।ব্রাজিলের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত বার্তা স্পষ্টতারা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত এবং সূচি বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্কও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মাঠের ৯০ মিনিট কি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে, নাকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

দুই দশকের ডুরান্ডের আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই, ডার্বির আগে হাবাসের মন্ত্র—‘আবেগ নয়, বুদ্ধিই শেষ কথা’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে সময় গড়িয়েছে, বদলেছে দল, কোচ, ফুটবলারকিন্তু লাল-হলুদ শিবিরের ডুরান্ড-খরা কাটেনি। ২২ বছর পর সেই আক্ষেপ মুছে ফেলার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে প্রতিপক্ষ আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর তাগিদ, অন্যদিকে ডার্বির অতিরিক্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে ম্যাচের আবহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তবে এই আবেগকেই নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।হাবাসের কাছে ডার্বি মানেই শুধু আবেগের লড়াই নয়, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব যতই বেশি হোক, তাঁর দলকে মাঠে নেমে এটিকে একটি সাধারণ ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।হাবাসের কথায়, ডার্বিতে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগ যদি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৌশল এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কোন মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং কখন কৌশল বদলাতে হবেসেই বুদ্ধিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ধাক্কা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার। চলতি ডুরান্ডে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিক বার সমস্যায় ফেলেছে।বিষ্ণুকে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে হাবাসকে। তাঁর জায়গায় প্রথম একাদশে বিপিন সিংয়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভাবনায় রয়েছেন জেসিন টিকে। ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নিজের দাবিও জোরালো করেছেন তিনি।শুধু বিষ্ণু নন, ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামা যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে সমস্যাকে সামনে রেখে অজুহাত তৈরি করতে তিনি একেবারেই রাজি নন।হাবাসের বক্তব্য, রেফারিং, প্রতিপক্ষ কিংবা দলের কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলার না থাকার মতো বিষয়কে সামনে রেখে ম্যাচের আগে অজুহাত খোঁজা অর্থহীন। মাঠে যে ফুটবলাররা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই সেরাটা দিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে সক্ষম।অন্যদিকে, মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। সবুজ-মেরুন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করেছেন হাবাস। তবে নিজের দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের উপরও তাঁর আস্থা অটুট। ফলে ফাইনালে দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ডার্বির উত্তাপের মধ্যেও অবশ্য প্রস্তুতির ধরন বদলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালের আগে মাঠের অনুশীলন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। হাবাসের মতে, এই মুহূর্তে আরও একটি অনুশীলনের চেয়ে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া বেশি জরুরি। গত কয়েক দিনে ম্যাচের প্রস্তুতি এবং রিকভারির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছে। তাই ফুটবলারদের শরীরকে তরতাজা রাখাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।মাঠের বদলে হোটেলেই চলবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ইনডোর সেশনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবে দল।সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটানোর হাতছানি, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান, আবার ২০০৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও ফিরছে। কিন্তু ইতিহাস কিংবা আবেগ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না হাবাস। তাঁর কাছে হিসাবটা একেবারেই সরল৯০ মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনও অজুহাত ছাড়াই ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে।২২ বছর আগের সেই জয়ের স্মৃতি কি আবারও লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে? নাকি ডার্বির মঞ্চেই ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়বেউত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে।

আগস্ট ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal