বাংলাদেশের আন্দোলনের ভিডিও ক্লিপিং সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এদের কিছু অতি উৎসাহী মানুষ কেউ পক্ষে বা কেউ বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ফেসবুক সহ সোশাল মিডিয়ায় ক্রমশ মন্তব্য় করে চলেছেন। অনেকেই সেই দেশের ভিডিও পোস্ট করে চলেছেন। এই বিষয়ে সতর্ক করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। তাঁরা এক্স হ্য়ান্ডেলে বলেছে, উত্তেজক ভিডিও শেয়ার করবেন না। গুজবে কান না দিতেও আবেদন জানিয়েছে পুলি।পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বক্তব্য়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট এবং ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে যা বিভেদ এবং অশান্তি তৈরি করতে পারে। অনুরোধ, কোনওরকম গুজবে কান দেবেন না, উত্তেজক ভিডিও শেয়ার করবেন না। রাজ্য প্রশাসন সতর্ক এবং সজাগ রয়েছে। শান্ত থাকুন, শান্তি বজায় রাখুন।
ছাত্র সমাজ ও সাধারণ মানমুষের ২৩ দিনের দেশ জুড়ে আন্দোলনে পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের। আওয়ামী লীগ প্রধান দেশ ছেড়ে আপাতত ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন তাঁর বোন শেখ রেহানা। দেশ ছেড়ে আসার আগে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এই পদত্য়াগের ফলে ১৫ বছরের আওয়ামী লিগের শাসনের অবসান হল। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে জনবিরোধী একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। ছাত্র সমাজের কোটা বিরোধী আন্দোলন আসলে সরকারকে চাপে ফেলার কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছিল। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েছে সেই দেশের শেখ হাসিনা সরকার বিরোধী লোকজন। তাঁদের অভিযোগ, দেশের ভোটব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রহসণে পরিণত হয়েছিল। দেশে ব্যাপক দুর্নীতি, বাক স্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বজনপোষণ, ব্যাংকের টাকা লুট(ঋণের নামে), আয় বৈষম্য়, এসব নানা কারণেই ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে বাংলাদেশের রাস্তায়।কোটা নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত ১ জুলাই। ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার রাজাকারসংক্রান্ত ছাত্র আন্দোলনে ঘৃতাহুতি দেয়। আদালতে গড়ায় কোটা আন্দোলন। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা, তুমি কে, আমি কে, রাজাকার, রাজাকার; কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার, স্বৈরাচার। বাংলাদেশে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। সরকারের বিরুদ্ধে সাহস করে রাস্তায় নামতে থাকেন সাধারণ মানুষ। যাঁর বাড়ির লোক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়, সপরিবারে ও তাঁর আশেপাশের মানুষজনও ভয় সরিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। ক্রমশ লোক বাড়তে থাকা ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সহ দেশের সমস্ত এলাকায়। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনকে নামিয়ে দেওয়া হয় কোটা আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে। মূলত রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করে পুলিশ। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেও আন্দোলন আছড়ে পড়ে দেশজুড়ে। বিক্ষোভ শুরু হয়। স্লোগান দেওয়া হয় এই বলে যে বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি, গুলি কর।ক্রমশ ছাত্র ও জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে বাংলাদেশে। ১৯ জুলাই কার্ফু জারি হয়। দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাপক সংখ্যায় শিক্ষার্থীদের গুলি করে মারা হল। দেশের সমস্ত স্তরের মানুষ এবার গর্জন শুরু করলেন। কয়েকহাজার মানুষ গ্রেফতার হয়। আগস্টে সেনাবাহিনী এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে দাড়াতে অস্বীকার করে। পুলিশও পিছু হটে। ৪ আগষ্ট রাজনৈতিক মোকাবিলার চেষ্টা করে আওয়ামী লিগ ও তার নানা সংগঠন। কিন্তু তা আর কাজে আসেনি। গতকাল, ৫ অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে মার্চ টু ঢাকা বা ঢাকামুখী গণযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। আর সরকারে থাকার সাহস করেনি শেখ হাসিনা। বঙ্গভবন থেকে হেলিকপ্টারে করে বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে য়ান। শেষ মুহুর্তে জাতির উদ্দেশে আর ভাষন দিতে পারেনি মুজিব কন্যা।আন্দোলনের শেষ লগ্নে গণভবনে লুটপাঠ চলে। যে যা পেরেছেন নিয়ে গিয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীনতার কারিগড় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের মূর্তিও ভাঙতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পার বাংলাদেশ জুড়ে যেন স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। মন্দিরে বা সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হলে তৎখনাৎ সাহায্য়ের জন্য় বিশেষ ফোন নম্বর দিয়েছে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে।
ফের বাংলাদেশে অশান্তির বাতাবরণ। এখনও পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে সারা দেশে সংঘাতসংঘর্ষ, গুলি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় অন্তত ৯৭ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন পুলিশ সদস্য। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রথম আলো প্রকাশিত খবরে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।এই সংবাদ মাধ্যমে লেখা হয়েছে, আজ দিনভর সংঘর্ষে নরসিংদীতে ৬ জন, ফেনীতে ৮ জন, লক্ষ্মীপুরে ৮ জন, সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশসহ মোট ২২ জন, কিশোরগঞ্জে ৫ জন, রাজধানী ঢাকায় ১১ জন, বগুড়ায় ৫ জন, মুন্সিগঞ্জে ৩ জন, মাগুরায় ৪ জন, ভোলায় ১ জন, রংপুরে ৪ জন, পাবনায় ৩ জন, সিলেটে ৫ জন, কুমিল্লায় পুলিশ সদস্যসহ ৩ জন, শেরপুরে ২জন, জয়পুরহাটে ২ জন, হবিগঞ্জে ১জন, ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ১ জন, সাভারে ১ জন, কক্সবাজারে ১ জন ও বরিশালে ১ জনসহ ৯৭ জন নিহত হয়েছেন। আজ দিনভর সংঘর্ষে নরসিংদীতে ৬ জন, ফেনীতে ৮ জন, লক্ষ্মীপুরে ৮ জন, সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশসহ মোট ২২ জন, কিশোরগঞ্জে ৫ জন, রাজধানী ঢাকায় ১১ জন, বগুড়ায় ৫ জন, মুন্সিগঞ্জে ৩ জন, মাগুরায় ৪ জন, ভোলায় ১ জন, রংপুরে ৪ জন, পাবনায় ৩ জন, সিলেটে ৫ জন, কুমিল্লায় পুলিশ সদস্যসহ ৩ জন, শেরপুরে ২জন, জয়পুরহাটে ২ জন, হবিগঞ্জে ১জন, ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ১ জন, সাভারে ১ জন, কক্সবাজারে ১ জন ও বরিশালে ১ জনসহ ৯৭ জন নিহত হয়েছেন। নৈরাজ্যবাদীদের কঠোর হাতে প্রতিহত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হাতে নৈরাজ্যবাদীদের দমন করতে আজ দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা এখন সহিংসতা চালাচ্ছে তাদের কেউই ছাত্র নয়, তারা সন্ত্রাসী।সরওয়ার আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন।পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি); বিজিবি, এনএসআই ও ডিজিএফআই মহাপরিচালক, এনসিএসএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করেছে। মঙ্গলবারের পরিবর্তে আগামীকাল সোমবার এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে তারা। এতে সারা দেশ থেকে আন্দোলনকারীদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ রোববার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।আসিফ মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে আমাদের মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি আগমী মঙ্গলবার থেকে পরিবর্তন করে আগামীকাল সোমবার করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।রাজধানীতে দুই শিক্ষার্থীসহ নিহত ৮রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন শিক্ষার্থী ও একজন আওয়ামী লীগের নেতা।নিহতরা হলেন: আওয়ামী লীগ নেতার নাম আনোয়ারুল ইসলাম। ষাটোর্ধ্ব আনোয়ারুল ইসলাম ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। তিনি উত্তরায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে নিহত হন।রাজধানীর জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে গুলিতে নিহত হন হাবিবুল্লাহ বাহার ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাম আবদুল্লাহ সিদ্দিকী (২৩)।কারওয়ানবাজার এলাকায় সংঘর্ষে রমিজ উদ্দিন রূপ (২৪) নিহত হন। তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।এদিকে সন্ধ্যায় আনুমানিক ২৫ বছরের এক যুবকের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন কয়েকজন। নিহত ওই ব্যক্তির নামপরিচয় জানা যায়নি। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।বিকেলে ফার্মগেট এলাকায় সংঘর্ষে নিহত হন তৌহিদুল ইসলাম (২২)। তিনি মহাখালীর ডিএইট কনসালট্যান্ট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী।গুলিস্তান থেকে বিকেলে জহির উদ্দীন নামের এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।রাত ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে জুয়েল (২৮) নামে এক যুবকের মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন কয়েকজন পথচারী।এ ছাড়া রাজধানীর জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া এক কিশোরের লাশ রাতে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। ওই কিশোরের নামপরিচয় জানা যায়নি।সারা দেশে ১৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে নিহত হয়েছেন একজন।পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ডিএমপির যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁও থানা; টাঙ্গাইলের গোড়াই হাইওয়ে থানা; বগুড়ার সদর, দুপচাঁচিয়া ও শেরপুর থানা এবং নারুলী পুলিশ ফাঁড়ি; জয়পুরহাট সদর থানা; কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা; রংপুরের গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও গংগাচড়া; ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আশুগঞ্জ থানা; সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর থানা; হবিগঞ্জের মাধবপুর ফাঁড়ি; ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিস; নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়; দিনাজপুর সদর থানায় আক্রমণ করেছে। আহত পুলিশ সদস্য প্রায় তিন শতাধিক। হামলায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৩ পুলিশ নিহত।সৌজন্যে- প্রথম আলো
কোটা আন্দলন নিয়ে স্তব্ধ বাংলাদেশ। সারা দেশে কার্ফু জারি। দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের হাসিনা সরকার। যদিও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এই ইস্যুতে আজই রায় দিয়েছে। তবে অশান্তির জেরে ওই দেশে পড়তে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা ফিরে আসছে এদেশে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তগুলিতে বানিজ্য বন্ধ। এরইমধ্যে ধর্মতলায় শহিদ মঞ্চ থেকে বাংলাদেশ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না বলেও বেশ কিছু কথা বলে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অসহায়দের জায়গা দেওয়ার পাশাপাশি দু:খ প্রকাশ করেছেন তিনি।এদিন শহিদ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে আমি কোনও কথা বলতে পারি না। কারণ ওটা একটা আলাদা দেশ। বাংলাদেশ নিয়ে যা বলার সেটা কেন্দ্রীয় সরকার বলবে। আমি এটুকু বলতে পারি অসহায় মানুষ বাংলায় দরজা খটখট করে আমরা তাঁদের আশ্রয় নিশ্চয় দেব। কারণ, এটা ইউনাইটেড নেশনের একটা রেজেলিউশন আছে। কেউ যদি রিফিউজি হয়ে যায় তাঁকে পার্শ্ববর্তী এলাকা সম্মান জানাবে। আসমে একটা গন্ডগোল হয়েছিল বোরোদের সাথে। আলিপুরদুয়ারে তাঁরা দীর্ঘ দিন ছিলেন। আমিও গিয়েছিলাম তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে।বাংলাদেশের গন্ডগোলের জেরে প্রাণ গিয়েছে ছাত্রদের। প্রতিবাদে কলকাতাতেও বিক্ষোভ হয়েছে। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কিন্তু আমার আপনাদের কাছে আবেদন, বাংলাদেশ নিয়ে আমরা যেন কোনও প্ররোচনাতে না যাই। আমরা যেন কোনও উত্তেজনাতে না যাই। আমাদের সহমর্মিতা, আমাদের দুঃখ সে যারই রক্ত ঝড়ুক তাঁদের জন্য আছে। আমরা দুঃখী। আমরাও খবর রাখছি। ছাত্র-ছাত্রীদের মহান প্রাণ, তাজা প্রাণগুলো চলে যাচ্ছে।এদিকে এদিন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তাঁর রায়ে হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। বাকি ৭ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে। ৫ শতাংশ একাত্তের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের। বাকি ২ অন্য সংরক্ষণ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যদি আপনাদের কোনও পরিবার থাকে, পরিজন থাকে, কেউ পড়াশুনা করতে যান। কেউ চিকিৎসা করতে এসে ফিরতে না পারেন। যদি কোনও সহযোগিতার দরকার হয়। সহযোগিতা করা হবে।
কোটা বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৯ জন। মঙ্গলবার মারা যান ৬ জন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক সংঘর্ষে মৃতদের মধ্যে ১জন সাংবাদিক, ১জন রিকশ চালক ও ১জন পথচারীও আছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার উত্তরা এলাকায় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন স্থানীয় একটি পোর্টাল ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক মেহেদী হাসান(৩২)। সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে কোনও ঘটনায় এত মানুষের প্রাণ যায়নি। ঢাকা সহ ২৮ টি জেলায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।উত্তরা এলাকাই বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি অশান্ত ছিল। সেখানে মৃত্যু হয় মোট ৫ জনের। এছাড়া চট্টগ্রাম শহর এবং লাগোয়া এলাকাতেও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে গোলমালের খবর এসেছে অন্য শহর থেকেও। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশীদ বৃহস্পতিবার রাতে দাবি করেছেন, সংঘর্ষে জড়িতদের বেশিরভাগই ছাত্র নন। হামলাকারীদের তাঁরা চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা সারা দেশ স্তব্ধ করার ডাক দিয়েছিল। সেই কর্মসূচি সফল করতে সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ, টোল প্লাজা ভাঙচুর, বাসে আগুন, পুলিশের গাড়িতে হামলা, পুলিশ চৌকিতে আগুন দেয়। পুলিশ ও বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের জওয়ানদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার রামপুরায় বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বি-টিভির সদর দফতরে ঢুকে পড়ে আন্দোলনকারীরা। সেখানে পার্ক করা সব গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ভবন লক্ষ্য করে আগুনের গোলা ছোড়ে তারা। তাতে ভবনের বড় অংশে আগুন লেগে যায়। ভবনের ভিতর আটকে পড়েন বি-টিভির কর্মীরা। তারা দমকলকে খবর দিলেও পথ অবরোধের কারণে দীর্ঘ সময় অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী আসতে পারেনি। আগুনে টেলিভিশন চ্যানেলের অনেকটা অংশ ভস্মীভূত হয়ে বিকল হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা বন্ধ করে আন্দোলনকারীদের মতবিনিময়ের আহ্বান জানিয়ে জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আড়িয়াদহতে বাঙালি ভাই ও তাঁর মাকে আক্রমণ করা বহিরাগত ক্রিমিনাল জয়ন্ত সিংকে গ্রেপ্তারির দাবিতে বেলঘরিয়া থানায় বিক্ষোভ দেখায় বাংলা পক্ষ। বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন আক্রান্ত বাঙালি ভাই সায়নদীপ পাঁজার পরিবার। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন বাংলা পক্ষর সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি এবং বাংলা পক্ষর উত্তর চব্বিশ পরগনা শহরাঞ্চল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জয়ন্ত সিংকে গ্রেপ্তার না করলে বাংলা পক্ষর বিরাট আন্দোলনে নামবে। কৌশিক মাইতি বলেন, বহিরাগতরা এসে শুধুমাত্র হকারি স্পট বা সরকারি জায়গা জবর দখল করছে না। বাংলায় এসে ক্রাইম করছে। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এই সব বহিরাগত ক্রিমিনালরা বাংলায় বাড়ছে। বাঙালিকে মারধোর, খুন করছে। মহিলারা সুরক্ষিত না। কামারহাটির বহিরাগত ক্রিমিনাল জয়ন্ত সিং এর গ্রেপ্তারি চাই। একটাই দাবি। যেখানেই বিহার-ইউপির বহিরাগত বাড়ছে, সেখানেই এত ক্রাইম বাড়ছে কেন? পুলিস প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করুক। কদিন আগেই বেলঘরিয়া মোড়ে বাঙালি ব্যবসায়ীর উপর গুলি চলেছিল। অভিযুক্ত বিহারে গ্যাং এটা মেনে নেওয়া যায় না।
(বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে গল্পকাহিনী, তবে কেউ নিজের গায়ে মেখে দায় চাপাবেন না)প্রথম যখন অফিসে আসতো তখন আলুথালু ভাবে থাকতো। তাঁর প্রতি আকর্ষণ হওয়ার কোনও কারণ কারও থাকতে পারে না। সমাজের পুরো বিবর্ণতাই যেন তাঁকে গ্রাস করেছে। দেখলেই মনে হবে জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে এই বয়সেই যেন পেরে উঠছে না। বিদ্ধস্তও চেহারা। কপালে হাত দিয়ে টেবিলে মাথায় রেখে কি ভারি ভারি বিষয় ভাবছে কে জানে। তবে নাতাশার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল ঠিক মাস দুয়েক বাদেই। বস জিজ্ঞেস করছে এসাইনমেন্ট কেমন হচ্ছে? জবাব দিতেও যেন অনীহা। জোর করে যেন জবাব চাইতে হচ্ছে। এভাবেই চলছে মেরেকেটে আরও দিন পনেরো। এবার বদলাতে শুরু করল নাতাশা রায়। আসলে বদল কিছু নয়, আগেরটা ছিল ভেক। এবার ভোল বদল। তাঁকে যে পার্মামেন্ট একটা পোস্ট পেতেই হবে।জিনসের কাটা-ছেঁড়া প্যান্ট, ব্লু টি শার্ট। দুটোই ব্রান্ডেড। মুখে পালিস, ঠোঁট লালে লাল। চোখমুখের চাহনিতে জানান দিচ্ছে নতুন কিছু ঘটছে। অফিসের লোকজনও ভাবছে কাকে দেখছে তাঁরা। কি এমন হল সাজগোজের হঠাৎ এত বড় পরিবর্তন। শুধু তাই না হাঁটাচলাতেও যেন নয়া ছন্দ। অফিসের পুরনো লোকেরাও ভেবে পাচ্ছে না ব্যাপারটা। তাহলে নাতাশা কি......। হতে পারে নতুন কিছু ঘটছে।অফিসগুলোতে তন্বী কেউ এলে আলোচনার শেষ থাকে না। এমন পরিস্থিতি এখন কর্পোরেট যে কোনও অফিসের ক্ষেত্রেই বড় কিছু নয়। তবু লোকেদের মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ, উৎসাহ থাকেই। কি হচ্ছে, কি হতে যাচ্ছে এই গুঞ্জন চলতেই থাকে। এক্ষেত্রেও তাঁর অন্যাথা হওয়ার কথা নয়। নাতাশার দিকে সবারই নজর। কখন অফিসে আসছে, কোন ধরনের পোষাক পরে আসছে, কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেশি। কাজ কম, এমন পিএনপিসি করেই যেন সময় কাটছে অফিসে।সিঁড়ির পাশ দিয়ে উঠতে গিয়েই অফিস বয় রাজু ভিরমি খেয়ে পড়ছিল আর কি। এ কি দেখছে অফিসের বস রাহুল আর নাতাশা চোখে চোখ রেখে গল্পে মশগুল। রাহুল মুখোপাধ্যায় এই অফিসের সকলের বস। রাজু পাশ দিয়ে চলে গেলেও ওরা খেয়াল করেনি। দুজনে তখন আর পৃথিবীর বাকি কিছু দেখতে পাচ্ছে না, এমনই হাল। নিমিষের মধ্যেই রাজু দেখে নিয়েছে দুজনেই মুচকি হেসে কথা বলছে, চার চোখের ভাষাতেই যেন অন্য কথা। এবার রাজুর মনে হল তাহলে অফিসে কিছু একটা ঘটছে। অফিসের লনে কথা বলছিল। প্রায় ঘন্টাখানেক অন্তরের গল্প চলল দুজনের। এরইমধ্যে অফিসের আরেক কর্মী বিকাশ বাইরে বের হয়েই বেশ অবাক হল। এ কি দেখছে। মোবাইল ফোনের কোনও ছবি দেখিয়ে নাতাশা কিছু বোঝাতে চাইছে রাহুলকে। কি দেখাচ্ছে সেটা বুঝতে পারেনি বিকাশ। কিন্তু দুজনের ঘনিষ্ঠতা নজর এড়ায়নি। বরং রাহুলকে এভাবে নাতাশার দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখে বিকাশ নিজেই লজ্জা পেয়ে আর সেখানে দাঁড়ানোর কথা ভাবেনি। তড়তড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গিয়েছে।আজ, বিকাশের বড় একটা এসাইনমেন্ট আছে। রাস্তায় যেতে যেতে নাতাশা ও রাহুলের দুজনের কাছাকাছি হওয়ার দৃশ্য যেন তাঁর চোখে রয়েই গিয়েছে। বিকাশ মনে মনে ভাবছে, নাতাশার সঙ্গে ঝাড়ি মেরে কোনও লাভ হল না। তার মানে রাহুলের সঙ্গে নাতাশা কি সম্পর্কে জড়াচ্ছে? কিন্তু রাহুল তো এমন ছিল না। এমন করবেই বা কেন? ওর সংসার আছে এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে ক্লাস ফোর-এ পড়ে। এতো সিরিয়াস ছেলেটা তাহলে কি সত্যি নাতাশার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে রাহুল? না শুধু গল্প করছে। কিন্তু লনে কখনও যে এর আগে টানা এক ঘন্টা কখনও গল্প করতে দেখেনি রাহুলকে। অফিসে মেয়ে নেই যে তাও নয়। বিকাশের চিন্তা ওদের প্রেম কাহিনী নিয়ে এমন নয়, নিজের কাজের লক্ষ্য যে এবারও পূরণ হওয়ার নয়। সেই নিয়েই অফিসের নীচের গুমটি থেকে একটা বড় সিগারেট ধরিয়ে এসাইনমেন্টের যাওয়ার জন্য ক্যাব ধরল।এদিকে নাতাশা রাহুলের এই এক ঘন্টার গল্প নিয়ে অফিসের মধ্যে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে। বস যখন নতুন কারও প্রেমে পরে তখন অন্য কর্মীদের চাপ বাড়ে বইকি। এবার তো সমস্ত রেসপন্সিবেলিটি নাতাশার জন্য ভর করবে। তাছাড়া এই ছুড়ি যদি পার্মামেন্ট হয় তাহলে তো আর রক্ষে নেই। কাজ তো করবেই না বরং অন্যদের সর্বনাশ। এই ভেবে অফিসের বাকি কর্মীদের ঘুম ছুটেছে। এক বিকাশ চাপ নিয়ে অফিসে সেদিন আর আসেনি।নাতাশার সঙ্গে রাহুলের ঘন্টা খানেকের গল্পে থেমে থাকল না। এবার রাহুলের ভালো মন্দ বুঝতে শুরু করেছে নাতাশা। রাহুলকে বিদেশি চকোলেট চুষতে দেখে অবাক অফিসের কর্মীরা। এ কি দেখছে তারা। যাকে মিষ্টি বা লজেন্স অফার করলে মুখ ঘুরিয়ে নিত। বলতো, ওসব কেউ খায়? বিদেশি নয় এক টাকার লজেন্সও রাহুলে হাতে। ডালমে কুছ তো কালা হ্যায়। না পুরা ডালই কালা হ্যায়। এবার দিন পার হতে থাকে নয়া নয়া আলোচনায়, গমগম করতে থাকে অফিস।রাহুলের অফিস রুমে টেবিলের সামনে দুটো চেয়ার। ঘরে ঢুকে ডান দিকের কোনের চেয়ারে বসে নাতাশা। হঠাৎ করে রাহুলের ঘরের দিকে তাকালে ওই ঘরে আর কেউ আছে কিনা বোঝার উপায় নেই। সেই বিশেষ অ্যাঙ্গেলই চেয়ারে বসে নাতাশা। অফিস লনের পর এবার সরাসরি অফিসে বসের চেম্বারে। এ যে কি হচ্ছে! এই ভেবেই বাকিদের বুক ধরফর করতে শুরু করেছে। হঠাৎ অফিসে হাজির জমাটো বয়। সারা অফিস এবার জমাটো ডেলিভারি বয়ের দিকে তাকিয়ে আছে অবাক নয়নে। সাধারণত এই অফিসে জমাটো ডেলিভারি বয়দের খুব একটা দেখা যায় না। কারণ কেউ কখনও বাইরের খাবার অর্ডার করেনি। অফিস বয়রা খাবার এনে দেয়। কারও বুঝতে অসুবিধা হল না। এই অর্ডার বসের। এবার দুজন জমিয়ে লাঞ্চ করবে একসঙ্গে। নয়া দৃশ্য।যথারীতি খাবারের প্যাকেট ঢুকলো বসের চেম্বারে। অফিস বয় রাজুকে আগেই নাতাশা বলে রেখেছিল খাবার আসবে। অফিস বয়ও ভাবতে শুরু করেছে এটা কি হচ্ছে। আগে তো কখনও রাহুল স্যার কোনও খাবারের অনলাইন অর্ডার করত না। কারণ, অনলাইনের এই জগতেও রাজুর আনা খাবার ছাড়া খায় না বস। রাজুকে বলতো খাবার আনতে। এবারই প্রথমবার জোমাটো বয় অফিসে ঢুকলো রাহুলের খাবার দিতে। খিদের পেটে আর অপেক্ষা নয়। রাহুল ও নাতাশা খেতে শুরু করল। এরই মধ্যে চিৎকার করে সহকর্মী মিষ্টিকে খেতে ডাকলো বস। মিষ্টি সুরেলা কন্ঠে জানিয়ে দিল তাঁর খিদে নেই। এই না খাওয়ার আসল কারণ যে নাতাশা তা বুঝতে অসুবিধা হল না অফিসের অন্যদের। নাতাশা আর বসের ঘনিষ্ঠতায় অফিসে নিজেকে গুরুত্বহীন ভাবতে শুরু করেছে মিষ্টি। বড্ড চাপ নিয়ে ফেলেছে মিষ্টি। তাহলে কি বস আর তাঁকে পছন্দ করছে না? এবার বদ বুদ্ধি ঘুরতে থাকে মিষ্টির। যখন তখন ছুটি, মাইনে বাড়ানো এসব আর কি সহজে হবে? ভাবতে থাকে মিষ্টি। বসকে ভোলানো আর সহজ হবে না। তাহলে উপায়! নাতাশা ও বসকে বিপাকে ফেলতে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে মিষ্টি।অপেক্ষায় থেকে থেকে একদনি রাহুল ও নাতাশার অজান্তে দুজনের পাশাপাশি বসা ছবি তোলে মিষ্টি। অপ্পো মোবাইলে তোলা এই ছবিই এখন তাঁর অস্ত্র। যে করে হোক ঘায়েল করতে হবে নাতাশা ও বসকে। তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে কিভাবে বসকে চাপে ফেলবে। অফিসের রাজনীতি এবার পৌঁছে যায় বসের গৃহস্তের হেঁশেলে। আগুন ধরাতে কি আর দেশলাই কাঠি লাগে! এই একটা ছবিই তো দাউ দাউ করে জ্বালিয়ে দেবে সংসার। নছনছ করে দেবে রাহুল-নাতাশার মধুর সম্পর্ক। এবার সেই ছবি পৌঁছে গেল রাহুলের হোম মিনিস্টারের কাছে। না তাতেও ক্ষান্ত হয়নি মিষ্টি। এবার একের পর এক টেক্ট শুরু করল রাহুলের বউ ববিতাকে। এসব দেখে মাথায় ভুত চাপলো ববিতার।যে সময়ে এই ছবি আর টেক্সট চালাচালি হচ্ছে তখন বস পুরুলিয়ায় অফিসের কাজে প্রচন্ড ব্যস্ত। রাহুলের পুরুলিয়া যাওয়াটা কাজে লাগিয়েছে মিষ্টি। কর্তা ঘরে না থাকায় দুজনে বেশ কতক্ষণ মোবাইলে কথাও বলেছে। আগুনে ঘি পড়তেই রেগে কাইকাই করতে শুরু করে ববিতা। এক মিষ্টির দেওয়া ছবি ও তাঁর মুখে শুনেই মন খারাপের দেশে চলে যায় ববিতা। শরীরে জ্বালা শুরু হয়ে যায়। তাহলে কি সত্যি নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে নাতাশা-রাহুল? ভাবতে শুরু করে ববিতা। এর আগে প্রিয়ার কেসটা সাল্টে দিয়েছিল ববিতা। মনে সন্দেহ বাড়তে থাকে। আর অপেক্ষা না করে ববিতা রাহুলকে ফোন করে জানতে চায় নাতাশা কে? তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক কি? রাহুল অফিসের কাজের ব্যস্ততায় হোম মিনিস্টারের এই প্রশ্নের কি জবাব দেবে বুঝে উঠতে পারছে না। ববিতা এত কথা জানলোই বা কি করে? এবার এই সব মাথায় ঘুরতে থাকে রাহুলের। ববিতাকে বলে কলকাতায় ফিরে সব জানাবে। এখনই বলতে হবে বলে হাউ হাউ করতে থাকে ববিতা। কোনও ভাবে ববিকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে রাহুল। ববিতাকে ম্যানেজ করার সময় ববি বলে ডাকে রাহুল। একের অফিসের চাপ, তারওপর বউয়ের পাহাড় প্রমান অভিযোগ। হাপিয়ে উঠতে থাকে রাহুল।কিছু দিন পর কলকাতায় ফেরে রাহুল। তাঁর মাথায় আছে বউকে ঠান্ডা করতে হবে। কোনওরকমে ববিতাকে বুঝিয়েছে। এসব কিছু না। তোমাকে যাঁরা বলেছে তাঁরা না বুঝে বলছে। এটা তেমন কিছু নয়। কিন্তু সারা অফিস রাহুল-নাতাশার চর্চায় গমগম করছে। তাহলে অফিসের হাল কি হবে? রাহুলের সংসারের আগুন কি সত্যি লেগে গেল? সম্পর্ক নষ্ট করতে নানা চক্রান্ত চললেও নাতাশা ও রাহুলের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকল। নাতাশা লাল টপ পড়লে, রাহুল লাল টি-শার্ট পড়ছে। একজন কালো ড্রেস পড়লে, আরেকজনও তাই পড়ছে। প্রেমের গন্ধে মম করছে অফিস। এবার কাজের বদলে টেবিলে টেবিলে একটাই পিএনপিসি রাহুল ও নাতাশা।এক দিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছে রাহুল। বাড়িতে ফিরতেই গিন্নির মুখ ভার। এক কথা দুকথায় নাতাশাকে নিয়ে দুজনের মধ্যে খুচরো ঝগড়াও হয়ে গেল। রাহুল আর বুঝতে পারে না কি করে বিষয়টা হালকা করবে। এমন ভাব দেখায় সে যেন কিছু জানে না। ববিতাকে বলে কি যে তুমি আজকাল বলছ। নিজে মনে মনে ভাবতে থাকে অফিসের জুনিয়র স্টাফকে নিয়ে কি বলছে ববিতা। এত খবর কিভাবে পেল সে। ওর কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। এসব ভাবতে থাকে। এরপর হঠাৎ ববিতা বলে ওঠে বাড়িতে দুটি সন্তান থাকতেও নাতাশার প্রতি এতো টান কিসের। আমাকে ছাড়তে পারলেও ওদের কি করবে? অভিযোগ এবার আরও গুরুতর। রাহুল ভাবছে কি বলছে ববিতা। কি হল। কেন এসব আজে-বাজে বকছো, ববিতাকে বলে রাহুল। ববিতা একশ্বাসে বলতে থাকে আমি সব জানি। ওই নাতাশার সঙ্গে তুমি কি করছ। আমি কি জানি না ভাবছো। আমাকে ছেড়ে তুমি ওই কচি মেয়েটাকে বিয়ে করতে চাও। এসব বলতে বলতে ববিতার দুই চোখের কোনে জলও চলে আসে। রাহুল কিছুতেই বুঝতে পারে না কেন এসব বলছে ববিতা। তাছাড়া কলকাতাতেই রাহুল ছিল না ৭দিন।কয়েকবার ববিতাকে রাহুল বলে অযথা কি যে ভাবছো, বাজে চিন্তা করো না। ভাতের হাড়ির মতো মুখ করে ছিল ববিতা। কোনও জবাব না পেয়ে এবার ঝাঝানি দিয়ে ওঠে ববিতাকে। কি হয়েছে বলতে পারছো না। পাগল হয়ে গেছে নাকি। নাতাশার সঙ্গে সম্পর্ক! এসব গল্প কে বানিয়েছে। তোমাকে কে বলেছে। তুমি তো দেখছি আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি করতে শুরু করবে। কার কথায় এসব করছো। কান দিয়ে তো ভালো দেখতে পাচ্ছো। গল্পের গরু এতক্ষণে গাছের ডগায় উঠে গিয়েছে। এবার রাহুল ববিতাকে বলে আমার আর কিছু বলার নেই। বলতে থাকো। কিন্তু তোমায় খবরটা দিল কোনও মহানুভব। আমার অফিসে খোচর লাগিয়েছো। গুড। অনেক অনেক চাপের পর মিষ্টির বলা সব কথা বলে দেয় ববিতা। মাথায় যেন বাজ পড়ে রাহুলের। সে নাকি কলকাতা ছাড়ার আগে মিষ্টির ওপর অফিসের দায়িত্ব দিয়েছিল। কাকে দিয়েছে রানির পাঠ। সেই নাকি খবরিলাল। বেইমান, গদ্দার শব্দগুলি মাথায় এলেও এতটা নীচু স্তরে ভাবে না রাহুল। শুধু এটুকু ভাবে কাদের সঙ্গে সে কাজ করছে। জুনিয়র স্টাফ তাঁকে বস হিসাবে একটু গাইড করা। যাতে অসুবিধায় না পরে সেদিকে নজর ছিল রাহুলের। আর মিষ্টি কোথাকার জল কোথায় নিয়ে গিয়েছে। ববিতা রাহুলের কথায় আস্বস্ত হল। বোঝালো এমন কিছু নয়। আর তো দিন পনেরো। তারপর তো নাতাশার চুক্তির মেয়াদ শেষ।কাজের চুক্তি শেষ হতেই নাতাশা অফিস ছাড়লো। এদিকে বসের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তোলপাড়। বিষয়টা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা যে নাতাশার ছিল না তা কিন্তু নয়। তাঁর হাবেভাবেই তা স্পষ্ট। রাহুল অফিসে আসতেই ববিতার মুখ ফ্যাকাসে বিবর্ণ হয়ে যেত। অফিসে গেলে কিছু না ঘটে। তবে নাতাশা অফিস ছাড়লেও দেখা-সাক্ষাৎ ছাড়লো না রাহুলের সঙ্গে। এবার অনেক সতর্ক রাহুল। নাতাশার প্রতি আকর্ষণ বরং আরও বেড়ে গেল রাহুলের। অফিসে না এলেও পার্কস্ট্রিটের রেস্তোরাঁ এখন বাঁধা রাহুল ও নাতাশার। অফিস থেকে সোজা পার্কস্ট্রিট। তারপর বন্ধুদের ঠেক। তারপর বাড়ি। এই রুটিনে চলতে থাকে রাহুলের গতে বাঁধা জীবন।এখন আবার রাহুলের অফিসের টিফিন আসে বাড়ি থেকে। ববিতাই টিফিন বানিয়ে দেয়। রাহুলের প্রতি ববিতার প্রেম যেন নতুন করে উথলে পরতে শুরু করে। আপাতত সংসার টিকে গেল রাহুল ববিতার। এত কিছুর পরও নাতাশা ও রাহুলের সম্পর্কেও কোনও টানাপোড়েন নেই। চব্বিশ বর্ষীয়ার সঙ্গে আটচল্লিশের প্রেমের পড়শ চলছে। একইসঙ্গে দুই ছেলে-মেয়ে আর ববিতাকে নিয়ে চুটিয়ে সংসারও চলছে রাহুলের। এখনও এভাবেই দিন কেটে চলেছে ত্রিকোন প্রেমের সম্পর্কের। তিলোত্তমা নগরীতে এভাবেই চলছে ববিতা-রাহুল-নাতাশার মতো হাজার হাজার সম্পর্ক। অন্য বিষয়ের মতো বৈধ বা অবৈধ বিতর্ক যেমন থাকবে তেমনই প্রেম তো আর বাধা মানে না.......... টিকিয়ে রাখতে শুধু যেন কৌশলের বদল ঘটে।
বাঙালির অনেক স্বপ্ন নিয়ে সল্টলেক তৈরি করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়। কিন্তু আজ সল্টলেক বহিরাগতদের দখলে। বাঙালির ঘর-বাড়ি, জমি, ফুটপাথ, খেলার মাঠ সব দখল হয়ে গেছে। দখল হয়ে যাচ্ছে দুর্গাপুজো কমিটিগুলো। বাঙালির মাছ-ভাত কেড়ে নিরামিষ চাপিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য কাজও করছে বহিরাগতরা। বারবার সল্টলেকে আক্রান্ত হচ্ছে বাঙালি।তাই মাছে-ভাতে প্রতিরোধ গড়তে আজ রবিবার সল্টলেকের BF ব্লকের সুইমিং পুলের পাশে বিশাল মাছ-ভাত উৎসব করলো বাংলা পক্ষ। মাছ ভাত, ডাল, সব্জি ও দই মিষ্টিতে জমে ওঠে এই উৎসব। এই গরম উপেক্ষা করেও সল্টলেকের প্রচুর বাঙালি মাছ-ভাত উৎসবে যোগ দেয় এবং বাংলা পক্ষে যোগদান করে। শেষে শুটকি মাছ ভাজাও হয় প্রতীকি ভাবে। কোনো হিংসা বা হানাহানি না। মা কালীর মাটিতে এভাবেই মাছে-ভাতে প্রতিরোধ হবে৷ সল্টলেকের বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে আগামীতেও নানা অভিনব কর্মসূচী নেবে বাংলা পক্ষ। নিউ টাউন, দমদম এবং কলকাতার নানা আবাসনেও এই ধরণের কর্মসূচি নিতে চলেছে বাংলা পক্ষ।প্রায় ৫০০-৬০০ বাঙালি এই গরমের মধ্যেও মাছ-ভাত উৎসবে যোগ দেয়। প্রচুর অবাঙালিও ভিড় জমায়। উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মনন মন্ডল এবং এমডি সাহীন৷ উত্তর চব্বিশ পরগনা শহরাঞ্চল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়ের উদ্যোগেই আজকের এই ঐতিহাসিক মাছ-ভাত উৎসব হল।
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশে ঈদ-উল-আধহা উদযাপন উপলক্ষে নিম্নলিখিত পরিষেবাগুলি সাময়িকভাবে বাতিল থাকবে। জানিয়েছে পূর্ব রেলওয়ে- 13109/13110 কলকাতা-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট - কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস, 13107/13108 ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট -কলকাতা-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং 13129/13130 কলকাতা-খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস ।* 13107 ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস (যাত্রা শুরু 14.06.2024, 16.06.2024, 18.06.2024 এবং 21.06.2024)* 13110 ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস (যাত্রা শুরু 15.06.2024, 19.06.2024 এবং 22.06.2024 তারিখে)* 13108 কলকাতা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট মৈত্রী এক্সপ্রেস (যাত্রা শুরু 15.06.2024, 17.06.2024, 19.06.2024 এবং 22.06.2024 তারিখে)* 13109 কলকাতা ক্যান্টনমেন্ট মৈত্রী এক্সপ্রেস (যাত্রা শুরু 14.06.2024, 18.06.2024 এবং 21.06.2024 তারিখে)* 13129 কলকাতা - খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস (যাত্রা শুরু 16.06.2024 এবং 20.06.2024 তারিখে)* 13130 খুলনা - কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস (যাত্রা শুরু 16.06.2024 এবং 20.06.2024 তারিখে)
ঘূর্ণিঝড়কে চিহ্নিত করার জন্য চালু হয়েছিল নামকরণের প্রথা। এই নামের সাহায্যে সাধারণ মানুষ ছাড়াও, বিজ্ঞানী, মিডিয়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাও ঘূর্ণিঝড়কে চিহ্নিত করতে পারে। নতুন নামই বুঝিয়ে দেয়, এটা আলাদা ঘূর্ণিঝড়। এব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে, প্রস্তুতি নিতে, বিভ্রান্তি দূর করতে নয়া নাম কাজে লাগে। কোনও অঞ্চলের সাইক্লোনিক সিস্টেমই হল ঘূর্ণিঝড়। বিশ্বের সমস্ত জায়গায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের একইভাবে নামকরণের রীতি চালু আছে।রেমাল নামের অর্থ কি? আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রেমাল রবিবার (২৬ মে) মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মধ্যে আছড়ে পড়বে। চলতি বছরে বঙ্গোপসাগরে এটিই হবে প্রথম প্রাক-মৌসুমি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়। আরবি ভাষায় রেমাল নামের অর্থ- বালি। নামকরণ করেছে ওমান। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের আদর্শ নিয়ম অনুসারে এই নাম বেছে নেওয়া হয়েছে।এবার ওমান কেন বেছে নিল?কিন্তু, ওমান কেন বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের নাম বেছে নেবে? এই প্রশ্নও উঠেছে। আসলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা- ডব্লিউএমও (WMO)-এর সদস্য ১৮৫টি দেশ। এটি রাষ্ট্রসংঘের সংস্থা। পাশাপাশি রয়েছে এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন-এসক্যাপ (ESCAP)। এই সংস্থা রাষ্ট্রসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের অধীনে থাকা একটি আঞ্চলিক কমিশন। যা এশিয়ায় অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির জন্য তৈরি হয়েছে। ওমান যার সদস্য।ঘূর্ণিঝড়ের নাম আদৌ কেন?ঘূর্ণিঝড়ের নাম গ্রহণ করা মানুষের পক্ষে মনে রাখা সহজ, সংখ্যা এবং প্রযুক্তিগত পদের বিপরীতে। সাধারণ জনগণ ছাড়াও, বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়, মিডিয়া, দুর্যোগ ব্যবস্থাপক ইত্যাদিকেও এই নামকরণ সাহায্য করে। একটি নাম দিয়ে, এটি স্বতন্ত্র ঘূর্ণিঝড় শনাক্ত করা, এর উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা, সম্প্রদায়ের প্রস্তুতি বাড়াতে এবং বিভ্রান্তি দূর করার জন্য দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচার করা সহজ।২০০০ সালে ওমানের মাস্কাটে অনুষ্ঠিত হয়, পিটিসির ২৭তম অধিবেশন। পিটিসি বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করতে রাজি হয়। প্যানেলের প্রতিটি দেশ তাদের সুপারিশ পাঠানোর পর, পিটিসি তার তালিকা তৈরি করে। আর, ২০০৪ সালে এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে। পিটিসি ২০১৮ সালে, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেনকেও তাদের সংগঠনভুক্ত করেছে। ২০২০ সালের এপ্রিলে, ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। সদস্য ১৩টি দেশের প্রত্যেক সদস্য ১৩টি করে পরামর্শ দিয়েছিল। সেই তালিকা থেকেই বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হচ্ছে।কোন দেশে এই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে, বা আছড়ে পড়বে নামকরণের ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করা হয় না। বরং, দেশগুলোর পরপর নাম অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা হয়। যেমন, ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ-র নাম দিয়েছিল বাংলাদেশ। আছড়ে পড়েছিল মহারাষ্ট্রে। ভারত নাম দিয়েছিল গতি। আছড়ে পড়েছিল সোমালিয়াতে। ইরান নাম দিয়েছিল নিভার। আছড়ে পড়েছিল তামিলনাড়ুতে।
গত ১২ তারিখ কলকাতায় আসে চিকিৎসার জন্য। এরপর সেখান থেকে নিউ টাউন এর একটি বিলাসবহুল আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেন তারপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায়। বাড়ির লোক বারংবার ফোন করলেও যোগাযোগ করতে পারেনি। এরপরই বাংলাদেশ মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। এরপরই আনোয়ার উল আজিম দেহ উদ্ধার হয় নিউটাউনের বিলাসবহুল আবাসন থেকে।পুলিশ সূত্রে খবর, খুলনার ঝিনাইদহ এলাকার চার আসনের এমপি আনোয়ার উল আজিম। তিনি যখন নিউটাউনের বিলাসবহুল আবাসনে ওঠেন তার সঙ্গে ছিল একজন মহিলা সঙ্গী সহ বেশ কয়েকজন। তবে কারা খুন করল, কেনই বা খুন করল এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে নিউটাউন থানার পুলিশ এবং বিধান নগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ ও এইচডিএফ আধিকারিকেরা তদন্তে নেমেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসনে সিসিটিভি ফুটেজ।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলা পক্ষর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ দাবিপত্র প্রকাশ করেন বাংলা পক্ষর সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। এই দাবিপত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী ও কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা।বাংলা পক্ষ-র দাবিপত্রে ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্ট, কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির পরীক্ষা বাংলায় দেওয়ার সুযোগ, শিক্ষাকে যুগ্ম তালিকা থেকে রাজ্য তালিকায় ফেরত আনা, শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দুই দিনাজপুর জেলায় লোকাল ট্রেন পরিষেবা, শিলিগুড়িতে মেট্রো রেল, একাধিক জেলায় গঙ্গাভাঙন রোধ, রাজ্যের প্রাপ্য টাকার দাবি, জলপাইগুড়িতে AIIMS, দুই সন্তান নীতির ভিত্তিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন সহ ২২ টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে।সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন আমরা এই দাবিপত্র নিয়ে বাংলায় ভোটে লড়া সকল রাজনৈতিক দলের কাছে যাবো। রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীরা জয়ী হয়ে লোকসভায় যাতে এই বিষয়গুলি সরব হন, আমরা সেই প্রতিশ্রুতি চাই। প্রত্যেকটি দাবিই বাঙালি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার প্রয়োজনে দলমতের ঊর্ধে উঠে লোকসভায় সাংসদরা সরব হবেন, এটাই বাংলা পক্ষ আশা করে। কৌশিক মাইতি জানান সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছে এই দাবিপত্র পৌঁছে দেবেন সংগঠনের সহযোদ্ধারা।২০২৪ লোকসভা ভোটে বাংলার রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বাংলা পক্ষর দাবি১) ভারত রাষ্ট্রকে রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছে বাঙালি জাতি। বিহার, মারাঠা, কাশ্মীর, গোর্খা, মাদ্রাজ সবার রেজিমেন্ট আছে। বাঙালি রেজিমেন্ট নেই।অবিলম্বে ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্ট গঠন করতে হবে।২) ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশকে যে ১০ হাজার একর জমি দিয়েছে তা ভারতে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে ফেরত আনতে হবে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশকে দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র এলাকা পুনরায় ভারতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।৩) ইংরেজি ও হিন্দির মত বাংলা ভাষাকেও কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ (দাপ্তরিক ভাষা) ঘোষণা করতে হবে এবং পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সকল কাজ বাংলা ভাষায় হতে হবে।৪) কোন অজুহাতে বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বাংলার প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা চলবেনা।৫) বাংলায় ১টি AIIMS, কিন্তু বিহারে ২টো, অথচ বাংলা কেন্দ্র সরকারকে বিহারের থেকে বেশি ট্যাক্স দেয়। বাংলায় জলপাইগুড়ির দোমোহনিতে রেলের বিস্তীর্ণ জমিতে বা রায়গঞ্জে বাংলার দ্বিতীয় AIIMS চাই।৬) যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য NJP কেন্দ্র করে হাওড়া বা শিয়ালদার মত কোচবিহার এবং এদিকে মালদা পর্যন্ত লোকাল ট্রেন নেটওয়ার্ক গঠন করতে হবে।৭) শিক্ষা, বন সহ স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্য তালিকা থেকে সরানো সব বিষয় পুনরায় রাজ্য তালিকায় ফেরত আনতে হবে। রেসিডুয়াল পাওয়ার ও সাবজেক্টগুলি রাজ্য তালিকাভুক্ত করতে হবে।৮) কলকাতায় মেট্রো আছে। আগ্রা শহরে মেট্রো রেল চালু হয়েছে। আসানসোল ও শিলিগুড়িতে মেট্রো রেল চাই।৯) UPSC সহ সমস্ত কেন্দ্র সরকারি চাকরিতে রাজ্য কোটা থাকতে হবে এবং রাজ্য কোটার পরীক্ষা নিতে হবে রাজ্যের প্রধান ভাষা ও ইংরেজিতে।১০) ভারত-ব্যাপী Delimitation-কে স্থায়ীভাবে বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন করতে হবে।১১) ফিন্যান্স কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫১% করতে হবে৷ হিসেব হবে ১৯৭১ জনসংখ্যার ভিত্তিতে।১২) কয়লা খনি, তেলের খনি ও বন্দরের মালিকানায় কেন্দ্রের অংশীদারিত্ব কমিয়ে ৫০% সেই রাজ্যকে দিতে হবে।১৩) DVC-র মালিকানা ৫০% ঝাড়খন্ড সরকার ও ৫০% বাংলার অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে চাই।১৪) করোনা সময়কালে বাতিল হওয়া সব লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু করতে হবে।১৫) কোন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার সদর বা আঞ্চলিক দপ্তর বাংলা থেকে সরিয়ে অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত করা যাবেনা।১৬) কৃষি প্রধান বাংলার কৃষকেরা কেন্দ্রীয় সরকারের সার বরাদ্দ নীতিতে বৈষম্যের শিকার। কেরোসিনের ক্ষেত্রেও তাই। খরা, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলার প্রতি আর্থিক বঞ্চনা করে দিল্লি। এসব অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।১৭) বাঙালিকে বাংলাদেশি দাগানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।১৮) পশ্চিমবঙ্গে থাকা রাষ্ট্রীয় সড়কগুলিতে টোল ট্যাক্স নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।১৯) স্বাধীনতার পর থেকে বাংলায় একটিও নতুন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি তাই বাংলায় নতুন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চাই, যার ৭৫% আসন পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত হবে।২০) কলকাতা থেকে বিভিন্ন দূরবর্তী জেলা বিশেষত উত্তরের জেলাগুলির সাথে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।২১) মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান জেলায় গঙ্গা নদী ভাঙনের সমস্যার সমাধান করতে হবে।২২) সারা ভারতে দুই সন্তান নীতির ভিত্তিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন পাশ করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। আইন লঙ্ঘন করলে সব সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার বিধান থাকবে।
পয়লা বৈশাখ বাঙালির হালখাতার দিন। হালখাতা কথাটির অর্থ জিজ্ঞ্যাসা করলে কতজন পারবে তা নিয়ে একসন্ধ্যা চায়ের পেয়ালাতে তুফান তোলা আলোচনা চলতেই পারে। আজকের ডিজিটাইজেসন যুগে কিউ আর এবং ইউপিআই এর দৌলতে ক্যাসলেস বাঙালীর হালখারাপ হতে বসা হালখাতা! তবুও পয়লা বৈশাখ বাঙালির আবেগের দিন। ব্যবসা উদযাপনের দিন। পয়লা বৈশাখ মানে শুধু গান-কবিতা না, পয়লা বৈশাখ মানে ব্যবসাও।বাঙালি তরুন প্রজন্মকে ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করতে, বাঙালি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করতে এক অভিনব ও বর্ণাঢ্য টাকা মিছিল এর কথা আয়োজন করল বাংলা পক্ষ। এটি টাকা মিছিলর দ্বিতীয় বছর। রবিবার নববর্ষের প্রথম দিনের সন্ধ্যায় কলকাতার রাসবিহারী মোড় থেকে গড়িয়াহাট মোড় পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য টাকা মিছিল হয়।মিছিলে বাঙালি শিল্পপতিদের (যেমন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, চন্দ্রশেখর ঘোষ, রাজেন মুখার্জী, মতিলাল শীল, আলামোহন দাস, মোস্তাক হোসেন প্রমুখ) বিশাল বিশাল কাট আউট নিয়ে মিছিলে হাঁটা হয়। বাংলা ও বাঙ্গালীর সংগঠন বাংলা পক্ষর তরফে জানানো হয়, শুধুমাত্র সিনেমা বা খেলার নায়ক-নায়িকাদের চিনলে হবে না, বাঙালি পুঁজিপতিদের চিনতে হবে। মিছিলে ছিল ঢাক, রণ পা ও নানা সুসজ্জিত ট্যাবলো।এই মিছিল থেকে বাংলা পক্ষ দাবী তোলে।রাজ্য সরকারি টেন্ডার বাঙালিদের দিতে হবে।খুচরো বাজার থেকে পাইকারি বাজারে বাঙালি ব্যবসায়ীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে৷সমস্ত শহরাঞ্চলের হকারি স্পট ভূমিপুত্রদের দিতে হবে।এই টাকা মিছিলর নেতৃত্ব দেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, মনন মন্ডল, এমডি সাহীন, সৌম্য ঘোড়াই ও জেলা সম্পাদকরা।
বর্ডার পোস্ট রামনগর, দক্ষিণ বঙ্গ সীমান্তের ০৮ ব্যাটালিয়নের সতর্ক বিএসএফ জওয়ানরা, আন্তর্জাতিক সীমান্তে জাল ভারতীয় মুদ্রা পাচারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মুদ্রার ৩১০০ পিস আটক করেছে। একজন ভারতীয় ব্যবসায়ীর সাথে এই জাল ভারতীয় মুদ্রা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করার সময় কারেন্সি নোটগুলোকে হাতেনাতে আটক করা হয়। বিএসএফ-এর গোয়েন্দা বিভাগের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, বর্ডার পোস্ট রামনগরের বিএসএফ জওয়ানরা ১৫,৫০,০০০/- (মূল্য ৫০০৩১০০ পিস) মূল্যের ভারতীয় জাল নোট উদ্ধার করে। যার মধ্যে নোট নম্বর 8FK-986918, নোট নম্বর 8FK-এর ৭৭৯ টি নোট রয়েছে। - 986916-এর ৭৮০ টি নোট, 8FK-986913-এর ৭৭৩ টি এবং 8FK-986933-এর ৭৬৮ টি নোট রয়েছে।বিএসএফ-এর মুখপাত্রের মতে, ০৮ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি রামনগরের সতর্ক বিএসএফ জওয়ানরা নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে জাল ভারতীয় মুদ্রার সম্ভাব্য পাচার সম্পর্কে খবর পান। খবর পেয়ে সৈন্যরা একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে একটি মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপন করে। গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে একটি সন্দেহজনক অটোকে থামিয়ে তাতে বসা সমস্ত ব্যক্তিকে যথাযথভাবে চেক করা হয়, চেকিংয়ের সময় তাদের কাছে কিছু সন্দেহজনক প্যাকেট পাওয়া যায় যার কারণে অটোটি এবং এতে বসা সকল ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। সীমান্ত চৌকি রামনগরে আটক করা হয়। এটি তল্লাশির জন্য আনা হয় এবং মালপত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশির সময় মোহাম্মদ আলীর ব্যাগে সন্দেহজনক প্যাকেট পাওয়া যায়, যা খুললে বিপুল পরিমাণ জাল ৫০০ টাকার নোট উদ্ধার করা হয়। গণনার ভিত্তিতে তাদের সংখ্যা ৩১০০ পাওয়া গেছে। এরপর জাল ভারতীয় মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করে পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত পাচারকারী মোহাম্মদ আলী, পিতা- শেখ সামশুল হক, ঠিকানা- হযরত নিজামুদ্দিন, নয়াদিল্লি।জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী জানায়, বাংলাদেশে কিছু অবৈধ কাজ করার জন্য বদরপুর (নয়া দিল্লি) থেকে অজ্ঞাত কয়েকজন তার সাথে যোগাযোগ করেছিল। যার জন্য সে রাজি হয়েছিল। তিনি ১৩.০৩.২০২৪ তারিখে ট্রেনে করে হাওড়া পৌঁছান এবং বনগাঁ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের যশোরে পৌঁছান। সেখানে তিনি শান্তি নামে এক বাংলাদেশী পাচারকারীর সাথে দেখা করেন যিনি তাকে ১৫,৫০,০০০/- টাকার জাল মুদ্রা দেন এবং ভারতে পৌঁছানোর পর আব্বাস নামে একজন ব্যক্তির কাছে চালানটি হস্তান্তর করতে বলেন।২০২৪ সালের ২১-২২ মার্চ মধ্যরাতে তিনি একটি অজানা এলাকা থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে উমরপুর, পিএস-হাঁসখালীতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বাড়িতে থাকেন এবং সকালে চালানটি নিয়ে যাওয়ার সময় বিএসএফ তাকে নকল ভারতীয়সহ ধরে ফেলে। মুদ্রা ছাড়া একই অটো থেকে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন দালাল ও অটো চালককেও আটক করা হয়েছে।এ কে আর্য, বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ আধিকারিক, এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি তার সৈন্যদের এবং দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা বিভাগের সতর্কতার একটি ইঙ্গিত মাত্র। তিনি জনগণকে কোনও অবস্থাতেই চোরাচালানের পথ অবলম্বন না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, তার সৈন্যরা কোনও অবস্থাতেই সীমান্তে চোরাচালান বা অন্য কোনও ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে দেবে না এবং এর সঙ্গে জড়িতদের রেহাই দেবে না।
১৮ ই ফেব্রুয়ারি রবিবার ডাব্লু বি সি এস (WBCS) সহ সব রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষায় পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা ও বাধ্যতামূলক ভাবে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা শিক্ষার দাবিতে কলকাতায় রাজপথে মহামিছিল করল বাংলা ও বাঙ্গালিত সংগঠন বাংলা পক্ষ। ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ঠিক তার প্রাক্কালে এই মিছিল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর পাড়া হাজরা মোড় থেকে শুরু হয়ে বরীন্দ্রসদন চত্বরে শেষ হয় এই পদযাত্রা। এও পদযাত্রায় হাজার হাজার বাঙালি অংশগ্রহণ করেন।মূলত বাঙ্গালি যুব সমাজের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এই মিছলের নেতৃত্ব দেন বাংলা পক্ষের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। মিছিল থেকে স্পষ্ট হিন্দি-উর্দু তোষণ বিরোধী আওয়াজ ওঠে। দাবী ওঠে বাংলার মাটিতে এই ধরনের কোনও তোষণ চলবে না। তাঁরা এও দাবী রাখে, WBCS এ হিন্দি-উর্দু ঢোকানো চলবে না। সমস্ত স্কুলে এবং রাজ্য সরকারি চাকরিতে বাংলা বাধ্যতামূলক করার জোরালো দাবী তোলে তাঁরা। তাঁদের দাবী, বাংলার সর্বস্তরের বিশিষ্টরা বাংলা পক্ষর পাশে আছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বাঙালির কথা ভাবার অনুরোধ বাংলা পক্ষের।সংগঠনের সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় জনতার কথাকে জানান- ভারতের অন্য রাজ্যে যা স্বাভাবিক বাংলায় তা অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে, বাংলা পক্ষ এই অবস্থার বদল চায়। আজকের এই মিছিলে বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে বাঙালি দল, ধর্মের ঊর্ধে বাংলা পক্ষর দাবির পাশে আছে। বাঙালি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও এই দাবিতে বাংলা পক্ষর পাশে আছেন। সার্বিক ভাবে বাঙালি নিজের অধিকারের দাবিতে জেগে উঠছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে যে চিঠি দেওয়া হচ্ছে, সমর্থন জানিয়ে তাতে স্বাক্ষর করেছেন প্রবীন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ ও গবেষক পবিত্র সরকার, গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী, রূপম ইসলাম, অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, কবি সুবোধ সরকার, নাট্যকার চন্দন সেন, ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য সহ সমাজের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বাঙালিরা। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে ভাষাদিবস পালন অর্থহীন, ভাষা কিভাবে বাঁচবে, বাঙালি কিভাবে বাঁচবে সেই বিষয়ে আন্দোলন দরকার। পথে নেমে বাঙালির দাবিতে সোচ্চার বাংলা পক্ষর আগে আর কেউ হয়নি এই বাংলার মাটিতে। আজকের এই মিছিলের গুরুত্ব এখানেই, হাজার বাঙালি আজ চাকরি থেকে স্কুল শিক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলকের দাবিতে পথে নেমেছে, সমর্থন জানিয়েছেন বাঙালি সমাজের বিভিন্ন জগতের কৃতী সন্তানরা, এ এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন। বাঙালির এই ঐক্যবদ্ধ দাবি বাংলার সরকারকে ভাবতে বাধ্য করবে বলেই তিনি আশাপ্রকাশ করেন।গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক মাইতি ছাড়াও রবিবাসরীয় পদযাত্রায় বাংলা পক্ষের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মনন মন্ডল, রজত ভট্টাচার্য, সম্রাট কর, ডাঃ আব্দুল লতিফ, মহঃ সাহীন, সৌম্যকান্তি ঘোড়ই সহ জাতীয় সংগ্রাম পরিষদ ও বিভিন্ন জেলা নেতৃত্ব।
আবার লাইমলাইটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা পক্ষের জানায়, সেখানে দৃষ্টিহীন ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাসের অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা আরও জানায়, দুই বহিরাগত ক্রিমিনাল সুরজ ঝাঁ ও পাপ্পূ সোনা গান্ধীর শারীরিক-মানসিক অত্যাচারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিহীন, মেধাবী বাঙালি ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাস আত্মহত্যা করেছে। খুনিদের শাস্তির দাবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভার অয়োজন করে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, মৃতা রেনেসাঁ দাস জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের বাসিন্দা। এই অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু-র প্রতিবাদে বাংলা পক্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে মুখর হয়। বাংলা পক্ষ ও ছাত্র সংগঠন বাংলা ছাত্র পক্ষ, ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয়। খুন হওয়া বাঙালি মেয়ের খুনিদের শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের জলপাইগুড়ি জেলার বোন, বাঙালি বোন রেনেসাঁ দাসকে অত্যাচার করে খুন করেছে দুই বহিরাগত জন্তু সুরজ ঝাঁ এবং পাপ্পু সোনা গান্ধী। লজ্জার কথা যে বিপ্লবের কথা বলা, বড় বড় রাজনীতির কথা বলা সব দল, সব ছাত্র সংগঠন আজ চুপ। মিডিয়ায় প্রাইম টাইমে টক শো নেই। কিন্তু বাংলা পক্ষ লড়ছে। বাংলা ছাত্র পক্ষ লড়ছে। এই গুন্ডাদের বাংলার মাটি থেকে উপড়ে ফেলবে বাংলা পক্ষ। খুনিদের ফাঁসি চাই। আমরা বাংলার মাটিতে কোনো কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত ক্রিমিনালদের আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেব না।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, আজ যাদবপুরের বাকি ছাত্র সংগঠন গুলো খুনিদের বাঁচাতে ব্যস্ত। বোনের খুনিদের শাস্তির দাবিতে কেউ সোচ্চার নয়। কিন্তু ভাবুন তো যাদবপুরে বাংলা ছাত্র পক্ষর বড় সংগঠন থাকলে কোনো বহিরাগত জন্তু বাঙালি মেয়েকে অত্যাচার তো দূরের কথা, বাঙালি মেয়েদের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারতো? আমরা আগামীতে সব বড় ইউনিভার্সিটিতে সংগঠন খুলবো। আমরা যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৯০% ডোমিসাইল চালু করিয়েছি। এবার সব বিভাগে ডোমিসাইল চালু করাবো। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোমিসাইল চালু করাবো৷বাংলা ছাত্র পক্ষর প্রধান রণ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যাদবপুর সহ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, মেডিক্যাল কলেজে যাতে গ্রাম তথা জেলার ছেলেমেয়েরা অত্যাচারিত না হয় সেজন্য বাংলা ছাত্র পক্ষ সব জায়গায় লড়াই করবে এবং সংগঠন খুলবে। আমরা যাদবপুরকে বহিরাগতদের আবাদ ভূমি হতে দেব না।এছাড়াও এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, অর্ক ঘোষ, অভিজিৎ দে, কুশনাভ মণ্ডল, লীনা রায় সহ আরও অনেকে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতি সহ নানাবিধ বৈশিষ্টের ওপর ভর করে নানা রেজিমেন্টে ভাগ করা হয়েছে। সেখানে যেমন মাদ্রাজ রেজিমেন্ট আছে তেমনই বিহার রেজিমেন্ট, রেজপুতানা রেজিমেন্ট, গোর্খা রেজিমেন্ট (রাইফেলস), রাজপুত রেজিমেন্ট সহ একাধিক রেজিমেন্ট আছে। বাংলা ভাষা ও বাঙালীর অধিকার রক্ষাকারি একমাত্র সংস্থা বাংলা পক্ষের দাবী বাংলা রেজিমেন্ট। বাংলা পক্ষ জানায়, বাঙালির রক্তে স্বাধীন হয় ভারতবর্ষ, আন্দামানের সেলুলার জেলের প্রত্যেকটা ইঁটে বাঙালি বিপ্লবীদের রক্ত লেগে আছে। পরাধীন ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে বাঙালি বীর সুভাষচন্দ্র বসু ও রাসবিহারী বসু তৈরি করেছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজ। কিন্তু দুঃখের কথা ভারতীয় সেনায় কোনো বাঙালি রেজিমেন্ট নেই। সুভাষ চন্দ্র বসুর মাতৃভাষা বাংলা ভাষায় সেনাবাহিনীর চাকরির পরীক্ষা দেওয়া যায় না।রাত পোহালেই ভারতবর্ষের ৭৫তম সাধারনতন্ত্র দিবস। তার প্রাক্কলে ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্ট ও সেনায় চাকরি পাওয়ার পরীক্ষা বাংলা ভাষায় দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হল বাংলা পক্ষ। ভারতের বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব। বুধবার সংগঠনের ডাকে এক্স হ্যাণ্ডেল (সাবেক টুইটারে) তারা এর প্রচার করে। তার হ্যাশট্যাগ #BengaliRegimentInIndianArmy বাংলা পক্ষের আবেদন, বাংলা থেকে নির্বাচিত ৪২ জন সাংসদ যাতে সংসদে বাঙালি রেজিমেন্টের দাবিতে সরব হয় তা জানিয়ে সাংসদদের চিঠি দিয়েছে বাংলা পক্ষ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ও একটি চিঠি তাঁরা দিয়েছে।বাংলা পক্ষ সংগঠনের পক্ষে তাঁদের অন্যতম শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্টের দাবি লোকসভায় উত্থাপন করার অনুরোধ জানিয়ে বাংলার সকল সাংসদকেই চিঠি দিয়েছে বাংলা পক্ষ। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলা পক্ষর সাধারন সম্পাদক ডঃ গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভারতের স্বাধীনতার জন্য সবথেকে বেশী রক্ত দিয়েছে বাঙালি, ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল আর্মি (Indian National Army) বা আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরী করেছিলেন এক বাঙালি অথচ আজ স্বাধীন ভারতের সেনা বাঙালির কোন রেজিমেন্ট নেই, যেখানে বিহার, পাঞ্জাব, গাড়োয়াল, মারাঠা, গোর্খা রেজিমেন্ট আছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে রাজনীতি করা হয় কিন্তু তাঁর মাতৃভাষায় সেনায় ভর্তি পরীক্ষা হয় না। বাংলা পক্ষ চায় নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে বাংলা ভাষায় সেনার পরীক্ষা ও বাঙালি রেজিমেন্ট গঠন করুক যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। আগামীদিনে সেনার চাকরির স্বপ্ন দেখা বাঙালি যুবকদের স্বার্থে এই দুই দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর করা হবে বলে জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
বাংলা ও বাঙালীর আপন সংগঠন বাংলা পক্ষ তাঁদের ষষ্ট-তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এক অভিনব কর্মসূচি করল। ৭ই জানুয়ারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসে উদযাপন করতে হুগলীর চুঁচুড়া থেকে ৯০ কিলোমিটার গঙ্গাবক্ষে অভিযান করল সংগঠনের সদস্যরা। ভাগীরথী নদীতে দুটি লঞ্চে প্রায় সাড়ে তিনশো সদস্য উপস্থিত ছিলেন এই ভাসমান মিছিলে। নদী বক্ষে এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, মহম্মদ শাহীন, মনন মন্ডল, সৌম্য কান্তি ঘোড়ই সহ বিভিন্ন জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়, দর্পন ঘোষ, মামুদ আলি মণ্ডল, দেবাশীষ মজুমদার, প্রবাল চক্রবর্তী, অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত সাহা, সুতনু পণ্ডিত, ছাত্রপক্ষের রণ ভট্টাচাৰ্য সহ প্রমুখ ব্যক্তি।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানালেন, বাংলা পক্ষ তার গর্বের ৬ বছর অতিক্রম করল। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে সংগঠন ক্রমশঃ বিস্তার লাভ করছে। বাংলার বুকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা বাংলা পক্ষই করেছে। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে বাঙালিকে বঞ্চিত করে এসেছে তা বাঙালির সামনে প্রথম তুলে ধরে বাংলা পক্ষ এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে চলেছে বাংলা পক্ষ। তিনি আরও জানান, বাংলা পক্ষের বিভিন্ন সফলতার মধ্যে অন্যতম WBCS পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক ভাবে বাংলা ভাষার বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা। বাংলার ভূমিপুত্রদের বঞ্চিত করে বহিরাগতরা জাল ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও কাস্ট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বাংলার ভূমিপুত্রদের প্রাপ্য আধাসেনার চাকরি গুলো দখল করছিল সেই তথ্য প্রথম তুলে ধরে বাংলাপক্ষ। বাংলাপক্ষের আন্দোলন ও অভিযোগের ভিত্তিতে জাল ডোমিসাইল চক্রের বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলা পক্ষের বহু পথ চলা বাকি। এবং বাংলাপক্ষের প্রতিটি সদস্য বিশ্বাস করে এক দিন বাংলার সব কিছু বাঙালির হবে এবং বাংলা পক্ষ তা করেই ছাড়বে। স্কুল ও কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বেশি পৌঁছোনোই আগামীর লক্ষ্য। গ্রামে সংগঠনে জোর দেবে সংগঠন।
সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রতিক ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ফিরহাদ হাকিমের উর্দু তত্ত্বের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলো বাংলা পক্ষ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে কলকাতার মেয়র তথা মমতা ব্যানার্জী-র কেবিনেট মন্ত্রীকে বলতে দেখা যায় একদিন বাংলায় ৫০% মানুষ উর্দু বলবে। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা অ বাঞালীড় সংগঠন বাংলা পক্ষ জানায় এই বক্তব্য তীব্র বাঙালি বিরোধী, এটা বাংলাকে উর্দুস্তান বানানোর চক্রান্ত, উর্দু মানেই মুসলমানের ভাষা নয়, প্রতিটা মুসলমানের ভাষা উর্দু নয়। বাংলার ৯৫% মুসলমান জাতিতে বাঙালি, বাংলা ভাষায় কথা বলে।ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রানুছায়া মঞ্চে বিক্ষোভ সমাবেশ করল বাংলা পক্ষ। বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, অরিন্দম চ্যাটার্জী, সৌম্য কান্তি ঘোড়াই, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দাবি ওঠে- ফিরহাদ হাকিমকে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে হবে।এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীও বাংলার মাটিতে উর্দু ভাষায় রাজ্য সরকারি পরীক্ষা দেওয়ার অধিকারের পক্ষে দাবি তুলে WBCS-এ বাংলা বাধ্যতামূলক করার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। বাংলা পক্ষ তখনও পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিল।বাংলার মাটিতে বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে সকল দলে থাকা এই ধরনের বাঙালি-বিরোধীদের বাঙালি জাতির সামনে মুখোশ উন্মোচন করে যাবে বাংলা পক্ষ।
শীতের প্রাক্কালে যখন ভুটান ও তার সীমান্ত এলাকার মানুষজন শীতবস্ত্রের পসরা নিয়ে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিকিকিনির আসর জমাতে শুরু করে, ঠিক সে সময় আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী জনপদ জয়গাঁতে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষ হাজির। জয়গাঁ বর্তমানে একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলার অন্যান্য জায়গার মত গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এখানেও বাড়ছে বহিরাগত দখলদারদের আগমন। জয়গাঁ সহ পুরো আলিপুরদুয়ার জেলায় বাঙালি, কোচ, মেচ, রাজবংশী, আদিবাসী, নেপালী সহ সমস্ত ভূমিপুত্রদের অধিকারের স্বার্থে গর্জে উঠল বাংলা পক্ষ। আলিপুরদুয়ারের ভূমিপুত্রদের কাজ দখল হচ্ছে। অটো, টোটো লাইন, হোটেল, পর্যটন সহ সকল কাজে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকারের দাবিতে এদিন সভা করে বাংলা পক্ষ। সভায় উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য সম্রাট কর ও জেলা পর্যবেক্ষক রজত ভট্টাচার্য। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক আলিপুরদুয়ার জেলার সম্পাদক উত্তম দাস। গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন জয়গাঁর সকল বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের ঐক্যবদ্ধ করবে বাংলা পক্ষ। এখানকার পর্যটন, হোটেল, পরিবহন এর মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা বাঙালির অধিকারে রাখতে হবে। সব ধরনের কাজ কাজে ভূমিপুত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, কোন বহিরাগতর দাদাগিরি চলবে না।কৌশিক মাইতি তাঁর বক্তব্যে বিজেপির বাংলা ভাগ চক্রান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের সচেতন করেন, বাংলা পক্ষ বাংলা ভাগ হতে দেবে না বলে তিনি জানান। সভা ঘিরে এই সীমান্ত শহরের বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত।