• ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার ০৬ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

World

খেলার দুনিয়া

‌১২৯ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙল বাংলা, জানতেনই না অভিমন্যুরা

রনজি সেমিফাইনালের পথে বাংলা। বাংলার ৭৭৩/৭ রানের জবাবে তৃতীয় দিনের শেষে ঝাড়খণ্ড তুলেছে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান। এখনও ৬৩৪ রানে পিছিয়ে ঝাড়খণ্ড। হাতে এখনও দুদিন সময়। যা পরিস্থিতি দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলার রান টপকে ঝাড়খণ্ডের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। একমাত্র অলৌকিক কিছু ঘটলেই বাংলার সেমিফাইনালে যাওয়া আটকে যেতে পারে। প্রায় আড়াই দিন ব্যাট করে বাংলা ঝাড়খণ্ডের ওপর বিশাল রানের বোঝা চাপিয়ে দেয়। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১২৯ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিল বাংলা। অনন্য কৃতিত্বের নজির গড়লেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। বাংলার নজন ব্যাটার হাফসেঞ্চুরি বা তার বেশি রান করেছেন। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন রেকর্ড কোনও দলের নেই। ১২৯ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি দলের ৮ জন ব্যাটার ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত দলের বিরুদ্ধে অর্ধশতরান বা তার বেশি করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। বাংলার হয়ে হাফসেঞ্চুরি বা তার বেশি রান করেছেন অভিষেক রমণ (৬১), অভিমন্যু ঈশ্বরণ (৬৫), সুদীপ ঘরামি (১৮৬), অনুষ্টুপ মজুমদার (১১৭), মনোজ তেওয়ারি (৭৩), অভিষেক পোড়েল (৬৮), শাহবাজ আমেদ (৭৮), সায়নশেখর মণ্ডল (অপরাজিত ৫৩), আকাশদীপ (অপরাজিত ৫৩)। এদিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর প্রথম বলে সায়নশেখর মণ্ডল যখন হাফসেঞ্চুরি করেন, তখনই রেকর্ডের ইতিহাসে নাম লেখায় বাংলা। এরপর ব্যাটিং করতে নামা আকাশ দীপও হাফসেঞ্চুরি করেন। তারই সঙ্গে বাংলা ভেঙে দেয় ১২৯ বছরের প্রাচীন রেকর্ড। পাশাপাশি প্রথম নজন ব্যাটসম্যানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০ রানের বেশি করার নজির প্রথম বার তৈরি হয়। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বাধিক পঞ্চাশ কিংবা তার বেশি রান করার রেকর্ড এতদিন ছিল অস্ট্রেলিয়ানদের দখলে। ১৮৯৩ সালে অক্সফোর্ড অ্যান্ড কেমব্রিজ পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট দলের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ান্স দল প্রথম ইনিংসে করে ৮৩৩। যার মধ্যে ৮ জন ব্যাটার ৫০ বা তার বেশি রান করেছিলেন। রেকর্ড ভাঙার কথা অবশ্য জানতই না বাংলা শিবির।বিশাল রানের সামনে ঝাড়খণ্ডের ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। দিনের শেষে তুলেছে ১৩৯/৫। বাংলার হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন সায়নশেখর মণ্ডল। ২টি উইকেট নিয়েছেন শাহবাজ আমেদ। ঝাড়খণ্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন নাজিম সিদ্দিকি (৫৩)।

জুন ০৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ইতালিকে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের মহড়া শুরু করলেন লিওনেল মেসিরা

বিশ্বকাপ জয়ের কি মহড়া শুরু করে দিল আর্জেন্টিনা? সাম্প্রতিককালে যেরকম ছন্দে রয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, কাতার বিশ্বকাপে বাজিমাত করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার পর এবার ফাইনালিসিমা খেতাব জিতে নিল আর্জেন্তিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে এই জয় নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে লিওনেল মেসিদের। ৩০ ব্যবধানে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তিনটি গোলের পেছনেই মেসির অবদান।কনমেবলউয়েফা কাপ অব চ্যাম্পিয়ন্স পুনরুজ্জীবন ঘটল ফাইনালিসিমার মাধ্যমে। গত বছর উয়েফা ও কনমেবল সম্মিলিতভাবে মউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১ জুন লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইউরো ও কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে একটা ম্যাচ হবে, যার নাম ফাইনালিসিমা। ১৯৮৫ সালে উরুগুয়েকে ২০ ব্যবধানে হারিয়ে কনমেবলউয়েফা কাপ অব চ্যাম্পিয়ন্স খেতাব জিতেছিল। ১৯৯৩ সালে ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৫৪ ব্যবধানে হারিয়ে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২৯ বছর পর আবার ইউরো কাপ জয়ী ও কোপা আমেরিকা জয়ীদের লড়াইয়ে জিতল আর্জেন্তিনা।২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইতালি। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফাইনালিসিমাতেও এদিন ছন্নছাড়া ফুটবল উপহার দিল আজুরিরা। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট নিয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্তিনা। ৫ মিনিটের মাথায় ইটালির বক্সের সামান্য বাইরে মেসিকে ফাউল করেন জর্জিনহো। মেসির ফ্রিকিক দেওয়ালে লেগে ফিরে আসে। ২১ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ইটালি। জিয়াঙ্কোমো রাস্পাদোরির ফ্রিকিকে মাথা ছোঁয়ান আন্দ্রে বেলোত্তি। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দক্ষতায় আর্জেন্টিনা বেঁচে যায়। সাত মিনিট পরেই অবশ্য এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির পাস থেকে গোল করেন মার্তিনেস। বিরতির সামান্য আগে আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। গোলকিপার এমিলিয়ানোর পাস এসে পড়ে মার্তিনেসের পায়ে। তিনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দি মারিয়াকে পাস দেন। আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ উইঙ্গার গোল করতে ভুল করেননি।দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমম তুলে নিয়ে এলেও ইতালির গোলকিপারের জন্য ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে আর মেসিদের ধরে রাখতে পারেনি ইটালি। মেসির পাস থেকে পরিবর্ত হিসাবে নামা ডিবালা আর্জেন্টিনার হয়ে তৃতীয় গোল করেন। খেলা দেখতে ওয়েম্বলিতে হাজির ছিলেন ৮৭ হাজার ১১২ জন দর্শক। তাঁদের সামনেই অনবদ্য ফুটবল উপহার দিয়ে স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত রাখল মেসির আর্জেন্তিনা। ২০১৯ সালের জুন থেকে এই নিয়ে টানা ৩২টি ম্যাচে অপরাজেয় আর্জেন্তিনা। প্রচুর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সামনে খেতাব জিতে উচ্ছ্বসিত মেসি। তিনি বলেন, ঠঅনবদ্য ফাইনাল। ইতালির মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তির পরীক্ষাও হলো ভালোভাবেই।ট ভালো ম্যাচ খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই স্বস্তি দিচ্ছে এলএম টেনকে। আর্জেন্তিনার এখন পাখির চোখ বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছরের খরা মেটানোর।

জুন ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

স্পেনের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেলা স্ট্রাইকার আসছে এটিকে মোহনবাগানে!‌

সামনের মরশুমে দিয়েগো কোস্তাকে কি খেলতে দেখা যাবে সবুজমেরুণ জার্সি গায়ে? শোনা যাচ্ছে স্পেনের এই বিশ্বকাপারকে দলে নেওয়ার জন্য আসরে নেমেছে এটিকে মোহনবাগান কর্তারা। বেশ কিছুধিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল দিয়েগো কোস্তাকে দলে নেওয়া হতে পারে। তাঁর এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন কর্তারা। তবে এখনও চূড়ান্ত কিছু হয়নি। কোস্তাকে দলে নিতে গেলে বিশাল অঙ্কের বেতন দিতে হবে এটিকে মোহনবাগানকে। স্পেনের এই বিশ্বকাপার মার্কি ফুটবলার হওয়ায় আইএসএলের নিয়ম তা আটকাবে না। স্পেনের জার্সি গায়ে ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন দিয়েগো কোস্তা।বর্তমানে ফ্রি ফুটবলার হিসেবে রয়েছেন দিয়েগো কোস্তা। এই মুহূর্তে তিনি কোনও ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন। গতবছর ব্রাজিলের অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে ছিলেন। এই ক্লাবের হয়ে ব্রাজিলীয় সিরি এ লিগ, কোপা ডো ব্রাজিল জিতেছিলেন। গত মরশুমে মিনেইরোর হয়ে ৭টি গোল করেছিলেন দিয়েগো কোস্তা। ব্রাজিলের প্রথম ডিভিশন থেকে ভারতে তিনি আইএসএল খেলতে আসবেন কিনা, সে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া কোস্তার বিপুল বেতন এটিকে মোহনবাগান মেটাতে পারবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তবে এটিকে মোহনবাগান কর্তারা হাল ছাড়ছেন না।আসলে ডেভিড উইলিয়ামস ও রয় কৃষ্ণার এটিকে মোহনবাগান ছাড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। নতুন মরশুমে মুম্বই সিটি এফসিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। শনিবার সবুজমেরুণের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে উইলিয়ামসকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। রয় কৃষ্ণার কাছেও মুম্বই সিটি এফসির প্রস্তাব আছে। এখন দেখার তিনি মুম্বইয়ের প্রস্তাব গ্রহন করেন কিনা।দিয়েগো কাস্তা ছাড়াও আরও দুজন বিদেশি ফুটবলারের দিকে নজর রয়েছে এটিকে মোহনবাগান কর্তাদের। সার্বিয়ার জাতীয় দলের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার প্রিয়োভিচ ও জাপানের ইউমা সুজুকির এজেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁরা। কাশিমা অ্যান্টলার্সের হয়ে খেলা ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড সুজুকির প্রতি বেশি আগ্রহী এটিকে মোহনবাগান। তবে জাপানি সুজুকিকে আনতে বড় সমস্যা হবে ট্রান্সফার ফি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কাশিমা অ্যান্টলার্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সুজুকি। তাঁকে দলে নিতে গেলে ১০ কোটি টাকার বেশি ট্রান্সফার ফি দিতে হতে পারে। জানা গিয়েছে, সবুজমেরুন কর্তারা নাকি সেই টাকা দিতে রাজি।

মে ২৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

পূর্ব বর্ধমানে মহা সমারোহে পালিত হল বিশ্ব নাট্যদিবস

২৭শে মার্চ রবিবার বিশ্ব নাট্যদিবস। এই উপলক্ষে পূর্ব-বর্ধমান জেলার ভাতাড়ের প্রচেষ্টা নাট্যসংস্থা ও নটরাজ মিউজিক কলেজের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা প্রশংসনীয়। নাটক জীবন ও সমাজের দর্পণ। নাটকের মাধ্যমে সমাজকে জাগ্রত করা যায় তা আমরা ব্রিটিশ শাসিত ভারতের সময় থেকেই দেখে এসেছি। এখন এই সময়কালে ছোট থেকে বড়ো সকলে যখন মোবাইলে আকৃষ্ট তখন ভাতাড়ের মত একটা ছোট্ট জায়গায় অনেক অসুবিধা অনেক রকম সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রচেষ্টা যে নিজের চেষ্টা জারি রেখেছে তা অতুলনীয়। আজ সন্ধ্যায় প্রচেষ্টার পক্ষ থেকে তিনটি নাটকের অংশ অভিনীত হয়েছে -- নিরূপ মিত্রের পাওনা গন্ডা; মনোজ মিত্রের-- টাপুর টুপুর আর চন্দন সেনের অনুবীক্ষণ। শুধুমাত্র নাটক মঞ্চস্থ করা নয় একটা ছোট আলোচনা সভার আয়োজন ও করা হয় নাটকের শেষে। যেখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা এবং দর্শক নিজেদের মতামত জানাতে পেরেছেন। এই উদ্যোগ যেমন নাট্য শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তার সঙ্গে আগামী প্রজন্মকে নাটক বিষয় আগ্রহী করে তুলবে। আর শহরের বড়ো বড়ো মঞ্চ থেকে দূরে থাকা নাট্য পিপাসু দের পিপাসা মেটাবে। এই সংস্থার সভাপতি শ্রী প্রসেনজিৎ ব্যানার্জী মহাশয় ও সম্পাদক শ্রী ধীমান ভট্টাচার্য মহাশয়ের ঐকান্তিক চেষ্টা ও পরিশ্রম এগিয়ে নিয়ে চলেছে এই অঞ্চলের নাট্য চর্চাকে। আগামী দিনে ওনাদের আগামী প্রজন্ম নাট্য শিল্প জানবে ও নাট্যচর্চা শিখবে এই আশা রাখি।

মার্চ ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দীপ্তি শর্মার পায়েই শেষ ভারতের সেমিফাইনালের স্বপ্ন

জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার 2 বলে প্রয়োজন ৩ রান। বল হাতে দীপ্তি শর্মা। ক্রিজে মিগনন ডু প্রিজ। প্রিজ ভেবেছিলেন লং অনের ওপর দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দলকে জয় এনে দেবেন। তুলে মেরেও ছিলেন। কিন্তু বাউন্ডারিতে যাওয়ার আগে লং অনে হরমনপ্রীত কাউর বল তালুবন্দী করেন।জয়ের গন্ধ পেয়ে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিলেন মিতালি রাজরা। আম্পায়ার চেক করে দেখেন বল করার সময় দীপ্তি শর্মার পা ক্রিজের বাইরে বেরিয়ে গেছে। নো বল। বেঁচে যান ডু প্রিজ। এক রানের সঙ্গে ফ্রি হিট। শেষ ২ বলে ২ রান তুলে নিতে সমস্যা হয়নি ডুপ্রিজ ও শাবনিম ইসমাইলের। মরণবাঁচন ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩ উইকেটে হেরে মহিলাদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ভারত। দীপ্তি শর্মার পা-ই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিল ভারতকে।টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক মিতালি রাজ। দারুণ শুরু করেছিলেন ভারতের দুই ওপেনার। ৯১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন স্মৃতি মান্ধনা এবং শেফালি ভার্মা। ৭১ রান করে আউট হন স্মৃতি মান্ধনা। শেফালি ভার্মা করেন ৫৩। স্মৃতির সঙ্গে বোঝাবুঝিতে রান আউট হন শেফালি। তিনি আউট হওয়ার পরপরই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইয়াস্তিকা ভাটিয়া। এরপর ভারতীয় ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক মিতালি রাজ ও হরমনপ্রীত কাউর। ৮৪ বলে ৬৮ রান করে আউট হন মিতালি। হরমনপ্রীত ৫৭ বলে করেন ৪৮। পূজা বস্ত্রকার (৩), রিচা ঘোষরা (৮) রান না পেলেও বড় রানে পৌঁছয় ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ২৭৪। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দুটি করে উইকেট পান শাবনিম ইসমাইল এবং মাসাবাটা ক্লাস। একটি করে উইকেট নেন আয়াবোঙ্গা থাকা এবং ক্লয় টাইরন।Deepti Sharma to du Preez, no ball, Its Harman once again and du Preez has holed out, have they changed strike? This was tossed up on off and du Preez saw the chance to hit the winning boundary, was looking to loft it wide of long-on, but she dragged it high and pic.twitter.com/wc5QDLUiHF Cricket Master Updater (@MohsinM55415496) March 27, 2022ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথম দিকে রান তোলার গতি ছিল শ্লথ। তার ওপর পঞ্চম ওভারেই আউট হন লিজেলে লি (৬)। শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামলে দেন লারা গুডাল ও লৌরা উলভারডার্ট।এই দুজনের জুটিতে ওঠে ১২৫। গুডালকে (৪৯) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়। উলভারডার্টকে (৮০) বোল্ড করেন হরমনপ্রীত কাউর। অধিনায়ক সানে লুস করেন ২২। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেনে নিয়ে যান ক্যাপ (৩২)। টাইরন করেন ১৭। নাটক জমে ওঠে শেষ ওভারে। দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭ রান। দ্বিতীয় বলে এশা ছেত্রীকে (৭) রান আউট করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি দীপ্তি শর্মা। তাঁর একটা নো বলেই শেষ ভারতের সেমিফাইনালের স্বপ্ন। শেষ বলে জয়ের রান তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা (২৭৫/৭)। ভারতের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন হরমনপ্রীত কাউর ও রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়। ৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্টে পঞ্চম স্থানে শেষ করল ভারত।

মার্চ ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মরণবাঁচন ম্যাচের সামনে মিতালিরা, ভারত কি পারবে সেমিফাইনালে যেতে?‌

মহিলাদের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ছাড়পত্র কি পাবে ভারত? মিতালি রাজদের ভবিষ্যত এখন নিজেদের হাতে। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচ খেলতে নামছে ২০১৭ বিশ্বকাপের রানার্সরা। সেফিফাইনালের টিকিট পেতে গেলে জেতা ছাড়া রাস্তা নেই ভারতীয় দলের সামনে। হারলে কিংবা পয়েন্ট ভাগাভাগি হলেও মিতালি রাজদের সামনে সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে ভারতের সামনে এসে পড়বে অনেক জটিল অঙ্ক। ভারতীয় শিবির অবশ্য কোনও জটিল অঙ্কের সামনে যেতে চায় না। লক্ষ্য, প্রোটিয়াদের হারিয়েই সেমিফাইনালের টিকিট জোগাড় করা। ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকে ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালে পোঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ৬ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট দক্ষিণ আফ্রিকার। দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে তারাও সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে গেছে। বাকি দুটি জায়গার জন্য লড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে। ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। ভারত ও ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৬। নেট রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে ইংল্যান্ড (+০.৭৭৮) রয়েছে চতুর্থ স্থানে। ভারত (+০.৭৬৮) রয়েছে পঞ্চম স্থানে। ভারত যদি শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় তাহলে সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। কারণ সেক্ষেত্রে পয়েন্টের বিচারে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে যাবে। ভারত হারলেও সেমিফাইনালের টিকিট পেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছে জঘন্যভাবে হারতে হবে গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে। ভারতদক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ ভেস্তে গেলেও মিতালি রাজদের সামনে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ এসে যাবে। ম্যাচ ভেস্তে গেলে ভারতের পয়েন্ট হবে ৭। ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও পয়েন্ট ৭। নেট রানরেটে ক্যারিবিয়ানদের (-০.৮৯০) থেকে এগিয়ে ভারত (+০.৭৬৮)। বোলিং নিয়ে চিন্তা না থাকলেও ভারতের মূল সমস্যা ব্যাটিং। টপ ও মিডল অর্ডারদের ব্যাটাদের ধারাবাহিকতার অভাব। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জিততে গেলে স্মৃতি মান্ধানা, মিতালি রাজদের রান পেতে হবে। বড় জুটি গড়ে তুলতে হবে ভারতকে। সেই কথাই শোনা গেছে ভারতীয় দলের ওপেনার শেফালি ভার্মার মুখে। মরণবাঁচন ম্যাচে নামার আগে তিনি বলেন, আমাদের সামনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। দলের প্রত্যেকেই সেটা জানে। সবাই ১০০ শতাংশ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। জিততে গেলে আমাদের বড় জুটি তৈরি করতে হবে।

মার্চ ২৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সেমিফাইনালের টিকিট পাবে ভারত?‌ জটিল অঙ্ক মিতালিদের সামনে

কদিন আগেই মহিলাদের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ভারতের সুবিধা করে দিয়েছিল পাকিস্তান। আর বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার কাজ কঠিন করে দিল। পাকিস্তানকে উড়িয়ে নেট রান রেট বাড়িয়ে নিয়ে লিগ টেবিলে ভারতের ওপরে উঠে গেল ইংল্যান্ড। এখন সেমিফাইনালে যেতে গেলে লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জেতা ছাড়া রাস্তা নেই মিতালি রাজদের। ভারতের সেমিফাইনালের ওঠার সমীকরণ বদলে দিল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। ৬ ম্যাচে ১২ পয়েন্টে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগেই তারা সেমিফাইনালের ছাড়পত্র পেয়ে গেছে। ৬ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পেয়ে সেমিফাইনালে নিশ্চিত দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্টে তৃতীয় স্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ছিল। বৃষ্টির জন্য ম্যাচ ভেস্তে যায়। দুই দলই ১ পয়েন্ট করে পায়। যদি এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারত, তাহলে ভারতের সুবিধা হয়ে যেত। কিন্ত তা হল না। ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট পাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রইল। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড খেলবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে ৬ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট ইংল্যান্ডের। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিতলে ৭ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট হবে ৮। ফলে জিতলে তারাও সেমিফাইনালে চলে যাবে। কারণ নেট রান রেটে ভারতের থেকে এগিয়ে ইংল্যান্ড। ভারত যদি শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় তাহলে তাহলে ৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। সেক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আর শেষ চারের টিকিট পাওয়া সম্ভব হবে না। ভারতদক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ ভেস্তে গেলেও মিতালি রাজরা সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে। কারণ ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট তখন সমান হয়ে গেলেও নেট রান রেটে ক্যারিবিয়ানদের তুলনায় ভারত এগিয়ে। মিতালি রাজরা অবশ্য আশাবাদী, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েই শেষ চারের টিকিট পাবেন।

মার্চ ২৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়, তবু কি সেমিফাইনালে উঠতে পারবে ভারত?‌

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরপর দুই ম্যাচে হারে পর ঘুরে দাঁড়াল ভারত। গ্রুপ লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশকে ১১০ রানে উড়িয়ে মহিলাদের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার রাস্তা অনেকটাই প্রশস্ত করলেন মিতালি রাজরা। ৬ ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট দাঁড়াল ৬। ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও পয়েন্ট ৬। নেট রান রেটে ক্যারিবিয়ানদের পেছনে ফেলে লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থানে উঠে এল ভারত। ভারতের জয়ে এদিন বড় অবদান রাখলেন বোলাররা। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ ছিল মরণবাঁচনের লড়াই। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিতালি রাজ। লক্ষ্য ছিল বড় রান তুলে বাংলাদেশকে চাপে ফেলা। একই সঙ্গে বড় ব্যবধানে জিতে নেট রানরেট বাড়িয়ে রাখা। বড় ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি নেট রান রেট বাড়ানোর লক্ষ্যে সফল মিতালি রাজরা। ব্যাট কতরতে নেমে এদিন ভাল শুরু করেছিলেন ভারতের দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৭৪। এরপর হঠাৎই ধস নামে ভারতীয় ইনিংসে। পরপর ফিরে যান স্মৃতি মান্ধানা (৩০), শেফালি ভার্মা (৪২) ও মিতালি রাজ (০)। দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। ক্রিজে নেমে হরমনপ্রীত কাউর বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ঝুঁকি নিতে গিয়ে তিনি রান আউট হন। ৩৩ বলে ১৪ রান করেন হরমনপ্রীত। রিচা ঘোষ (২৬), পূজা বস্ত্রকার (অপরাজিত ৩০), স্নেহ রানাদের (২৭) সৌজন্যে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২৯ তোলে ভারত। বাংলাদেশের হয়ে রিতু মনি ৩৭ রানে ৩টি ও নাহিদা আখতার ৪২ রানে ২টি উইকেট নেন। জয়ের জন্য ২২৯ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ১২ রানে প্রথম উইকেট হারায়। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে। বাংলাদেশের টপ অর্ডারের কোনও ব্যাটারই রান করতে পারেননি। একসময় ৩৫ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায়। সেখান থেকে লতা মণ্ডল (২৪) ও সালমা খাতুনের (৩২) জুটি বিপর্যয় কিছুটা সামাল দেয়। রিতু মনি করেন ১৬। ভারতের হয়ে স্নেহ রানা ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন। দুরন্ত বোলিং করে ১৯ রানে ২ উইকেট তুলে নেন ঝুলন গোস্বামী। পূজা বস্ত্রকার ২৬ রানে নেন ২ উইকেট। গ্রুপ লিগে ভারত শেষ ম্যাচে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে ভারত।

মার্চ ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ভারতের সুবিধা করে দিল পাকিস্তান!‌

সোমবার মহিলাদের টি২০ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব যতটা না ছিল, তার থেকেও অনেক বেশি গুরুত্ব ছিল ভারতের কাছে। মিতালি রাজরা প্রবলভাবেই এদিন পাকিস্তানের জয় চেয়েছিলেন। না পাকিস্তানের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থে। বিসমা মারুফরা হতাশ করেননি মিতালি রাজদের। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ভারতের সুবিধা করে দিল পাকিস্তান। ১৩ বছর পর বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে প্রথম জয় পেল পাকিস্তান। ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট ইতিমধ্যেই জোগাড় করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকারও সেমিফাইনালে ওঠা অনেকটাই নিশ্চিত। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। বাকি দুটি জায়গার জন্য লড়াই ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। ৬ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলে ৩ নম্বরে রয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। সোমবার পাকিস্তানের কাছে নিজেদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত করে তুলেছে। প্রথম জয় তুলে নিয়ে পাকিস্তানও নিজেদের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। ৫ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডও দারুণভাবেই সেমিফাইনালের লড়াইয়ে রয়েছে। লড়াইয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ডও। ৬ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। পাকিস্তানের মতো ক্ষীণ আশা রয়েছে বাংলাদেশেরও (৪ ম্যাচে ২ পয়েন্ট)। মঙ্গলবার ভারতকে হারালে তারাও সেমিফাইনালের লড়াইয়ে দারুণভাবে ঢুকে পড়বে। তবে সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমক দিয়েছে পাকিস্তান। বৃষ্টির জন্য অনেক দেরিতে খেলা শুরু হয়। ম্যাচ কমিয়ে নিয়ে আসা হয় ২০ ওভারে। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে তোলে ৮৯। নাইদা দার ১০ রানে ৪ উইকেট নেন। জবাবে ১৮.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৯০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারায় ভারতের অনেকটাই সুবিধা হল। যদি ক্যারিবিয়ানরা জিতত, তাহলে সেমিফাইনালের দিকে অনেকটাই এগিয়ে যেত। এখন সেমিফাইনালের জন্য ভারতের সঙ্গে তাদেরও লড়তে হবে। মঙ্গলাবর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিতলে ভারতও দারুণভাবেই সেমিফাইনালের লড়াইয়ে থাকবে। তবে লিগের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জিততে হবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় শিবির। তবে টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবাচ্ছে দলের ধারাবাহিকতার অভাব। আগের দুটি ম্যাচে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হয়েছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডু অর ডাই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী মিতালি রাজরা।

মার্চ ২১, ২০২২
বিদেশ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত দিলেন জেলেনস্কি

আলোচনায় কাজ না হলে আরও একটা বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে, দাবি করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। তবে একইসঙ্গে তিনি এ-ও মনে করেন যে, যুদ্ধ যদি থামাতে হয় তবে তা আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোলোদিমির সম্প্রতি ইউক্রেনে রাশিয়ার অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। ভোলোদিমির জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমেই ইউক্রেনে রাশিয়ার অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে চান। তবে একই সঙ্গে তাঁর মত, সেই আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তা হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে বাধ্য।ভোলোদিমির বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার স্বার্থে প্রয়োজনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেও আপত্তি নেই তাঁর। তবে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের একটি শর্ত আছে। ভোলোদিমির জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি মনে করে তাদের মদতপুষ্ট ইউক্রেনের দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকাকে ইউক্রেনের সরকার স্বাধীন বলে ঘোষণা করবে, তবে সেই ইচ্ছে পূরণ হবে না। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি এই সংক্রান্ত কোনও বোঝাপড়াতেই আসতে চান না।

মার্চ ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌মাইলস্টোনের ম্যাচে ব্যর্থ ঝুলন, অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে সেমিফাইনাল কঠিন করে তুলল ভারত

মহিলাদের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিতলেই সেমিফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু টানটান উত্তেজনার ম্যাচে অসিদের কাছে ৬ উইকেটে হেরে সেমিফাইনালে যাওয়ার রাস্তা কঠিন করলে তুললেন মিতালি রাজরা। পরিস্থিতি এমন, সেমিফাইনালে যেতে গেলে শেষদুটি ম্যাচে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুধু হারালেই হবে না, নেট রানরেটেও এগিয়ে থাকতে হবে।অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে এদিন টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুটা ভাল হয়নি ভারতের। ৬ ওভারের মধ্যেই হারায় দুই ওপেনারকে। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই ডার্সি ব্রাউন তুলে নেন স্মৃতি মান্ধানাকে (১০)। ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে ফেরান আর এক ওপেনার শেফালি ভার্মাকে (১২)। মনে হচ্ছিল এদিনও ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটতে চলেছে। কিন্তু রুখে দাঁড়ান তিন নম্বরে নামা ইয়াস্তিকা ভাটিয়াকে নিয়ে রুখে দাঁড়ান অধিনায়ক মিতালি রাজ। বিশ্বকাপের আগের চারটি ম্যাচে রান পাননি আধিনায়ক মিতালি। কিন্তু এদিন দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান। ইয়াস্তিকার সঙ্রে ১৩০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। ৩২তম ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন ইয়াস্তিকা। সেই ডার্সি ব্রাউন নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে তুলে নেন ইয়াস্তিকাকে। ৮৩ বলে তিনি করেন ৫৯। ভারতের রান তখন ১৫৮। ইয়াস্তিকা আউট হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ফেরেন মিতালি। ৯৬ বলে ৬৮ রান করেন তিনি। রিচা ঘোষ (৮) ও স্নেহ রানা (০) রান পাননি। শেষ দিকে হরমনপ্রীত কাউর (৪৭ বলে অপরাজিত ৫৭) ও পূজা বস্ত্রকারের (২৮ বলে ৩৪) দুরন্ত ব্যাটিং ভারতকে ২৭৭/৭ রানে পৌঁছে দেয়। জয়ের জন্য ২৭৮ রানের লক্ষ্য যথেষ্ট কঠিন ছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। কারণ এত রান তাড়া করে মহিলাদের বিশ্বকাপে আগে কোনও দল জেতেনি। কিন্তুই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার র্যাচেল হেনেস ও অ্যালিসা হিলি কাজটা অনেকটাই সহজ করে দেন। ওপেনিং জুটিতে ১৯ ওভারে দুজনে তুলে ফেলে ১২১। ভারতীয় বোলাররা এই দুই ওপেনারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। অবশেষে ভারতকে ব্রেক থ্রু এনে দেন স্নেহ রানা। ২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে অ্যালিসা হিলিকে (৬৫ বলে ৭২) তুলে নেন তিনি। পরের ওভারেই র্যাচেল হেনেসকে (৫৩ বলে ৪৩) ফেরান পূজা বস্ত্রকার। মনে হচ্ছিল পরপর দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরতে চলেছে ভারত। কিন্তু মিতালি রাজদের আশায় জল ঢেলে দেন মেগ ল্যানিং ও এলিসে পেরি। দুজনে মিলে জুটি তোলেন ১০৩ রান। এলিসে পেরিকে (২৮) ফেরান পূজা বস্ত্রকার। এরপরই বৃষ্টির জন্য কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। তাতেই মনোসংযোগে চিড় ধরানে মেগ ল্যানিংয়ের। বেথ মুনিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে দলকে জয়ের দিকে টেনে নিয়ে যান। মেঘনা সিংয়ের বলে সেঞ্চুরির মুখে আউট হন ল্যানিং (১০৭ বলে ৯৭)। জয় থেকে অস্ট্রেলিয়া তখন ৮ রান দুরে। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়আর জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪ রান। ঝুলন গোস্বামীর প্রথম বলেই ৪ মারেন মুনি। পরের বলে ২ রান নেন। তৃতীয় বলে আবার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত করেন মুনি (২০ বলে অপরাজিত ৩০)। ৩ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ২৮০ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এদিন দেশের হয়ে ২০০ তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন ঝুলন। মাইলস্টোনের ম্যাচে বল হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ। ৯.৩ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। ৪৩ রানে ২ উইকেট পান পূজা বস্ত্রকার।

মার্চ ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ঝুলনের মাইলস্টোনের দিনেও হার ভারতের

পরপর তিনটি ম্যাচে হার। মহিলাদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছিল গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। চতুর্থ ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে রইল ইংল্যান্ড। ২০১৭ বিশ্বকাপ ফাইনালের বদলার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল মিতালি রাজদের। দলকে জেতাতে না পারলেও আরও একটি মাইলস্টোনে পৌঁছে গেলেন ঝুলন গোস্বামী। ট্যামি বিউমন্টকে আউট করে মহিলাদের একদিনের ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে ২৫০ উইকেটের মালিক হলেন।ভারতের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ছিল ইংল্যান্ড। লক্ষ্য ছিল টার্গেট দেখে পরে ব্যাট করা। তাছাড়া সকালের উইকেটের সুবিধা নিতে চেয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হিদার নাইট। তাই টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। ২৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। ইয়াস্তিকা ভাটিয়া (৮), মিতালি রাজ (১), দীপ্তি শর্মারা (০) রান পাননি।স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কাউর বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করছিলেন। মনে হচ্ছিল এই জুটির ওপর ভর করে ভারত হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে। হরমনপ্রীত কাউর (১৪) ফিরতেই আবার ধস ভারতীয় ইনিংসে। পরপর ফইরে যান স্নেহ রানা (২), স্মৃতি মান্ধানা (৩৩), পূজা বস্ত্রকার (৬)। ৮৬ রানে ৭ উইকেট হারায় ভারত। এই সময় মনে হচ্ছিল হয়তো ১০০ রানের গন্ডি পার করতে পারবে না ভারত। মান বাঁচান দুই বঙ্গতনয়া রিচা ঘোষ (৩৩) ও ঝুলন গোস্বামী (২০)। এই জুটিই ভারতকে ১০০ রানের গন্ডি পার করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৩৬.২ ওভারে ১৩৪ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। ইংল্যান্ডের হয়ে শার্লট ডিন ২৩ রানে ৪টি ও অ্যানা স্ক্রাবসোলে ২০ রানে ২ উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারায় ইংল্যান্ড। ৫ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও ইংরেজ ইনিংসের রাশ ধরেন হিদার নাইট ও ন্যাট স্কিভার। ঝুলন এবং মেঘনা সিং চার রানের মধ্যে ২ উইকেট তুলে নেন। কিন্তু সেই আঘাত স্থায়ী হতে দেননি ইংরেজ অধিনায়ক। ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন হিদার নাইট। তাঁকে সঙ্গ দেন ন্যাট স্কিভার। দুজনে মিলে ৬৫ রানের পার্টনারশিপ করে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেয়। ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন নাইট। স্কিভার ফিরে যান ৪৫ রানে। তিনি ফেরার পর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকলেও অল্প রানের পুঁজি নিয়ে খুব বেশি লড়াই করতে পারেননি ঝুলনরা। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে যায় ইংল্যান্ড। মেঘনা সিং ৩ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন ঝুলন, রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় এবং পূজা বস্ত্রকার।

মার্চ ১৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বিশ্বরেকর্ড ঝুলনের, ক্যারিবিয়ানদের ১৫৫ রানে গুঁড়িয়ে মহিলা বিশ্বকাপে শীর্ষে ভারত

আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ভারতের। মহিলাদের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫৫ রানে গুড়িয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেলেন মিতালি রাজরা। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কাউর। এদিন আনিসা মহম্মদের উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হয়ে গেলেন ঝুলন গোস্বামী। টপকে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার লিন ফুলস্টনকে। আগের দুটি ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক মিতালী রাজ। এদিন তাঁকে চিন্তামুক্ত করলেন স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কাউর। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে এদিন ভাল শুরু করেছিল ভারত। ওপেনিং জুটিতে ৬.৩ ওভারে ওঠে ৪৯ রান। যস্তিকা ভাটিয়া ৬টি চারের সাহায্যে ২১ বলে করেন ৩১। মিতালি রাজ ১১ বলে ৫ রান করে আউট হন। ২১ বলে ১৫ রান করেন দীপ্তি শর্মা। ১৩.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৮। সেখান থেকে ৪২.৩ ওভার পর্যন্ত ভারতের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যায় স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কাউর জুটি।ক্যারিবিয়ান বোলারদের ওপর দারুণ আধিপত্য দেখান স্মৃতি মান্ধানা ও হরমনপ্রীত কাউর। ৬৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ম করেন স্মৃতি। হরমনপ্রীতের হাফ সেঞ্চুরি আসে ৬১ বলে। ১০৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মান্ধানা, ৯টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে। হরমনপ্রীতের সেঞ্চুরি আসে ১০০ বলে, ৮টি চার ও ২দুটি ছয়ের সাহায্যে। ১৩টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ১১৯ বলে ১২৩ রান করে আউট হন স্মৃতি মান্ধানা। ১০টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে হরমনপ্রীত করেন ১০৭ বলে ১০৯। রিচা ঘোষ ৫, পূজা বস্ত্রকার ১০ ও ঝুলন গোস্বামী ২ রানে আউট হন। স্নেহ রানা ২ ও মেঘনা সিং ১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৫০ ওভারে ভারত তোলে ৩১৭/৮। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আনিসা মহম্মদ ৫৯ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট দখল করেন। জয়ের জন্য ৩১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুম শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১২ ওভারে তোলে ১০০। ঝুলন গোস্বামী, মেঘনা সিং, দীপ্তি শর্মারা প্রমম দিকে ডিয়ান্ড্রা ডটিন ও হেইলি ম্যাথুজের সামনে সুবিধা করতে পারেননি। স্নেহ রানা বোলিং করতে এসে জুটি ভাঙেন। তিনি তুলে নেন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ডটিনকে। ৪৬ বলে ৬২ রান করে মেঘনা সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ডটিন। এরপরই ধস নামে ক্যারিবিয়ান ইনিংসে। ৪০.৩ ওভারে ১৬২ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হেইলি ম্যাথিউজ ৪৩ রান করেন। সাতজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছাতে পারেননি। স্নেহ রানা ২২ রানে ৩ উইকেট নেন। মেঘনা সিং ২৭ রানে ২ উইকেট পান। ঝুলন গোস্বামী, রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় ও পূজা বস্ত্রকার একটি করে উইকেট নেন। এদিন আনিসা মহম্মদকে আউট করে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর রেকর্ড গড়লেন ঝুলন গোস্বামী। তাঁর উইকেট সংখ্যা ৪০। টপকে গেলেন লিন ফুলস্টনকে। তাঁর উইকেট সংক্যা ৩৯।

মার্চ ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

রেকর্ড স্পর্শ করেও ভারতকে জেতাতে ব্যর্থ ঝুলন

অবসর প্রসঙ্গে ঝুলন গোস্বামীর মুখে বারবার একটা কথাই শোনা গেছে, যতদিন উপভোগ করব, খেলব। অবসর নিয়ে ভাবছি না। বয়সটা তাঁর কাছে কোনও বাধা আবার প্রমাণ করে দিলেন। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যন্ডের কেটি মার্টিনের উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী অস্ট্রেলিয়ার লিন ফুলস্টনের রেকর্ড স্পর্শ করলেন ঝুলন। দুজনেরই বিশ্বকাপে ৩৯টি করে উইকেট। রেকর্ড স্পর্শ করলেও দলকে জেতাতে ব্যর্থ ঝুলন। নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬২ রানে হারতে হল ভারতকে। মূলত ব্যাটিং বিপর্যয়ের জন্যই হারতে হল ভারতকে।টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান মিতালি রাজ। লক্ষ্য ছিল কম রানের মধ্যে বিপক্ষকে গুটিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬০ রান তোলে কিউয়িরা। যদিও শুরুটা ভাল হয়নি নিউজিল্যান্ডের। তৃতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে ফিরে যান সুজিয়ে বেটস (৫)। অধিনায়ক সোফিয়ে ডিভাইন (৩৫) যখন আউট হন, নিউজিল্যান্ডের রান তখন ৫৪। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান আমিলিয়া কের এবং অ্যামি স্যাটার্থওয়েট। দুজনের জুটিতে ওঠে ৬৭। কেরকে (৫০) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়। সর্বাধিক ৭৫ রান করেন স্যাটার্থওয়েট। ৪১ রানের কার্যকারী ইনিংস খেলেন উইকেটরক্ষক কেটি মার্টিন। ভারতের হয়ে সর্বাধিক চার উইকেট নেন পূজা বস্ত্রকার। ২টি উইকেট পান রাজেশ্বরী গায়েকোয়াড়। ১টি উইকেট নেন দীপ্তি শর্মা। স্লগ ওভারে বোলিং করতে কেটি মার্টিনকে তুলে নিয়ে লিন ফুলস্টনের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেন ঝুলন গোস্বামী। আর একটি উইকেট পেলেই মহিলা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একক ভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির অধিকারি হবেন কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার।ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে ভারত। স্মৃতি মান্ধানা (৬), দীপ্তি শর্মারা (৫) রান পাননি। ইয়াস্তিকা ভাটিয়া করেন ২৮। অধিনায়ক মিতালি রাজ এবং হরমনপ্রীত কাউরের সৌজন্যে কিছুটা রুখে দাঁড়ায় ভারত। মিতালি (৩১) আউট হওয়ার সঙ্গেই আবার ধস নামে ভারতীয় ইনিংসে। একা লড়াই করেন হরমনপ্রীত কাউর। ৬৩ বলে ৭১ রান করেন তিনি। রিচা ঘোষ মাত্র একবল খেলেই আউট হন। স্নেহ রানা (১৮), পূজা বস্ত্রকাররা (৬) রান পাননি। ঝুলন করেন ১৫। ৪৬.৪ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস।

মার্চ ১০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়েও শুধুই দলের কথা ভাবছেন ঝুলন গোস্বামী

মহিলাদের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড তাঁরই দখলে। বিশ্বের প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ উইকেটের মালিকও তিনিই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটও তাঁর দখলে। আরও একটা মাইলস্টোনের সামনে দাঁড়িয়ে ঝুলন গোস্বামী। আর মাত্র ২টি উইকেট পেলেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর রেকর্ড চলে যাবে তাঁর দখলে। ২০০৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পান ঝুলন গোস্বামী। এখনও পর্যন্ত খেলেছেন ২৯টি ম্যাচ। ঝুলিতে ভরেছেন ৩৮ উইকেট। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার লিন ফুল্টস্টনের দখলে। তাংর সংগ্রহে রয়েছে ৩৯ উইকেট। বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নামছেন ঝুলন। এই ম্যাচে ২ উইকেট তুলে নিলেই ফুল্টস্টনকে টপকে যাবেন তিনি। ১৯৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই ২৪৭ উইকেট সংগ্রহ করেছেন ঝুলন। আড়াইশো উইকেটের মাইলস্টোনে পৌঁছতে আর মাত্র ৩ উইকেট প্রয়োজন ঝুলনের। বিশ্বের প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে তিনি এই মাইলস্টোনে পৌঁছবেন। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যে ভাল ছন্দে রয়েছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছেন ভারতের এই অভিজ্ঞ জোরে বোলার। ২৬ রানে তুলে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্রেক থ্রু দেওয়ার জন্য দল তাঁর দিকেই তাকিয়ে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ঝুলন অবশ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে ভাবছেন না। তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে দলের সাফল্য। এই নিউজিল্যান্ডের কাছে বিশ্বকাপ শুরুর আগে ১৪ ব্যবধানে সিরিজ হারতে হয়েছিল ভারতকে। বিশ্বকাপে জিততে মরিয়া ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামার আগে ঝুলন বলেন, এই রেকর্ডের কথা আমার মাথাতেই ছিল না। আমার কাজ হল দলকে শুরুতেই ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে ভালভাবে শুরু করা। দলের সাফল্যে অবদান রাখাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ঝুলন আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খেললে বেশ কয়েকটা ব্যক্তিগত মাইলস্টোনে পৌঁছনো সম্ভব। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। এই রেকর্ডগুলো আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে। দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটাই আমার কাছে আসল। আমি দলের একজন সৈনিক। সুতরাং ব্যক্তিগত মাইলস্টোন আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

মার্চ ০৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সম্প্রীতির অন্য ছবি, ছোট্ট ফাতিমা মিলিয়ে দিল ভারত–পাকিস্তানকে

ভারতের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলার জন্য মাউন্ট মাউঙ্গানুইতে পাকিস্তান টিম বাস এসে দাঁড়াতেই একেএকে নেমে আসছিলেন পাক ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক বিসমা মারুফের কোলে মাস ছয়েকের এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। অনেকেই অবাক চোখে দেখছিলেন। এইটুকু বাচ্চা নিয়ে বিশ্বকাপের আসরে! অবাক হওয়ারই কথা। ওই ফুটফুটে শিশুই ম্যাচের পর মিলিয়ে দিয়েছিল ভারতপাকিস্তানকে। ধরা পড়ে সম্প্রীতির এক অন্য ছবি। মন ভাল করে দেওয়ার এক অনন্য মুহূর্ত।পাকিস্তান টিম হোটেলেই বলুন কিংবা ড্রেসিংরুমে, অন্য আবহ এনে দিয়েছে অধিনায়ক বিসমা মারুফের ৬ মাসের ফুটফুটে কন্যাসন্তান ফাতিমা। গোটা দলের অনুপ্রেরণা। তাকে দেখেই ক্রিকেটাররা উজ্জীবিত। ছোট্ট ফাতিমাই এখন পাকিস্তান শিবিরের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তাকে দেখার জন্য, খুনসুটি করার জন্য বিসমার ঘরে ছুটে আসেন অন্য ক্রিকেটাররা। পাক অধিনায়ক বলেন, দলের সতীর্থরা ওর সঙ্গে খেলা করার জন্য, আদর করার জন্য আমার ঘরে ছুটে আছে। দলের মধ্যে অন্যরকম এনার্জি এনে দিয়েছে আমার ছোট্ট মেয়ে। প্র্যাকটিসের পর অনেকেই আমার ঘরে ছুটে আসে। কয়েক ঘন্টা ওকে কাছে না পেলে খুব মিস করে। কেউ যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তাহলে আমার ঘরে ফাতিমার সঙ্গে খেলা করে। ওকে কাছে পেলে সবাই রিল্যাক্স থাকে। কোনও বিষয়ের ওপর যেখন বেশি ফোকাস, চাপ তৈরি হয়। একজন শিশু কাছে থাকলে, সব চিন্তা দূর হয়ে যায়।Bismah Maroofs legacy will go far beyond her achievements on the field. In a society that often tells women to make choices between career and family, shes showing that you can have both! Such an inspiring person.pic.twitter.com/Vp7EB2iwKd Aatif Nawaz (@AatifNawaz) March 6, 2022ছোট্ট মেয়েকে সামলাতে কোনও সমস্যা হয়না বিসমার। মেয়ে ঘুম থেকে ওঠার আগেই প্র্যাকটিসে চলে যান। যদি কোনও দিন বিসমার প্র্যাকটিসে যাওয়ার আগেই বিসমা উঠে পড়ে, সামলানোর দায়িত্ব বিসমার মায়ের। অধিকাংশ দিনই প্র্যাকটিস থেকে ফেরার পর মেয়ের সঙ্গে দেখা হয় বিসমার। মাকে কাছে না পেলেও অস্বাভাবিক আচরণ করে না ছোট্ট ফাতিমা। তবে মা ফিরে এলে ছাড়তেই চায় না।চলতি বিশ্বকাপে বিসমা ছাড়াও আরও ৭ জন ক্রিকেটার খেলছেন, যাদের সন্তান রয়েছে। তবে পাকিস্তানী ক্রিকেটার হিসেবে তিনিই প্রথম, যিনি সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও ক্রিকেট থেকে সরে যাননি। এই ব্যাপারে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পাকিস্তান কোচ ডেভিড হেম্প ও পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেটের চেয়ারম্যান উরুজ মুমতাজ। ২০২১ সালের আগস্টে তিনি মা হন। তার আগেই কোচ ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মিসবা। তাঁদের কাছ থেকে দলে ফেরার আশ্বাস পেয়েছিলেন। মিসবা বলেন, বোর্ড এ ভাবে পাশে না দাঁড়ালে হয়তো ক্রিকেট ছাড়তে হত আমায়। এখন আমি মা-কে সব সময় সঙ্গে রাখি। জানি মেয়ে নিরাপদে রয়েছে। মা হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসা এক অসাধারণ অনুপ্রেরণা। গোটা বিশ্বের সমস্ত মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্যেই বিসমা মারুফ এক অনুপ্রেরণা।চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জেতার পর বিসমা মারুফ যখন ম্যাচ শেষে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন তখন দেখা যায় ড্রেসিংরুমের বাইরে বিসমার মেয়ের সঙ্গে খেলছেন ভারতীয় দলের সদস্যরা। কেউ গাল টিপছেন, কেউ আদর করছেন। বিসমা মারুফ এসে তাকে কোলে তুলে নেওয়ার পরও হরমনপ্রীত কউর, স্মৃতি মন্ধনা, একতা বিস্তদের দিকে হাসি হাসি মুখে চেয়ে ছিল খুদেটি। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তাঁকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মাতামাতি বেশ উপভোগ করছেন পাক অধিনায়কের কন্যা।

মার্চ ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে রেকর্ড বাংলার মেয়ে রিচা ও মিতালি'র, পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করল ভারত

ক্রিকেটে ভারতপাকিস্তান মানেই টানটান উত্তেজনা। গতবছর পুরুষদের টি২০ বিশ্বকাপে এই ছবিটা দেখা যায়নি। একপেশে ম্যাচে ভারতকে বিধ্বস্ত করেছিলেন বাবর আজমরা। বিরাট কোহলিদের সেই পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নিলেন মিতালি রাজরা। মহিলাদের বিশ্বকাপের একপেশে ম্যাচে পাকিস্তানকে ১০৭ রানে উড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত। একদিনের বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচেই উইকেটের পেছনে পাঁচটি শিকার করে রেকর্ড গড়লেন বাংলার রিচা ঘোষ। একমাত্র মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপ খেলার অনন্য নজির গড়লেন ভারতের অধিনায়ক মিতালি রাজও। নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মাউঙ্গানুইতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক মিতালি রাজ। শুরুটা ভাল হয়নি ভারতের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই আউট হন শেফালি ভার্মা (০)। এরপর স্মৃতি মান্ধানা ও দীপ্তি শর্মা জুটি দলকে টেনে নিয়ে যান। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ৯২ রান তুলে চাপ কাটান। ৪০ রান করে বাইশতম ওভারের শেষ বলে আউট হন দীপ্তি। এরপরই ধস নামে ভারতের ইনিংসে। ২ ওভার পরেই আউট হন ওপর ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ৭৫ বলে তিনি করেন ৫২। স্মৃতি আউট হওয়ার পরপরই ফিরে যান হরমনপ্রীত কাউর (৫), রিচা ঘোষ (১), মিতালি রাজরা (৯)। একসময় ১১৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে যথেষ্ট চাপে পড়ে যায় ভারত। এরপর রুখে দাঁড়ান স্নেহ রানা ও পূজা বস্ত্রকার। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে পাকিস্তান বোলারদের ছন্দ নষ্ট করে দেন। দুজনে মিলে জুটি বেঁধে তোলেন ১২৪। ৫৯ বলে ৬৭ রান করে আউট হন পূজা বস্ত্রকার। ৪৮ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন স্নেহ রানা। ৩ বলে ৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ঝুলন গোস্বামী। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ভারত তোলে ২৪৪/৭। ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার সিদ্রা আমিন ও জাভেরিয়া খান ভারতের দুই প্রারম্ভিক বোলার ঝুলন গোস্বামী ও মেঘনা সিংয়ের আঁটোসাটো বোলিংয়ের সামনে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি। পাওয়ার প্লেতে পাকিস্তানের রান তোলার গতি খুবই মন্থর ছিল। পরের দিকে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে রাজেশ্বরীকে উইকেট উপহার দেন জাভেরিয়া (১১)। আর পাকিস্তান অধিনায়ক বিসমা মারুফকে (১৫) তুলে নেন দীপ্তি শর্মা। ওমাইমা সোহেলকে (৫) ফেরান স্নেহ রানা। দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং করতে এসে সিদ্রা আমিন (৩০) ও নিদা দারকে (৪) তুলে নেন ঝুলন গোস্বামী। এরপরই রাজেশ্বরীর দাপটে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। ৪৩ ওভারে ১৩৭ রানে গুটিয়ে পাকিস্তান। ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন রাজেশ্বরী। ২৬ রানে ২ উইকেট নেন ঝুলন গোস্বামী। ২৭ রানে ২ উইকেট স্নেহ রানার। এদিকে, প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই পাঁচটি শিকার করে রেকর্ড গড়লেন রিচা শর্মা। উইকেটের পেছনে সিদ্রা আমিন, বিসমা মারুফ, নিদা দার ও নাশরা সান্ধুর ক্যাচ ধরেন। আলিয়া রিয়াজকে দুর্দান্ত স্টাম্পড করেন। অন্য কোনও ক্রিকেটারের এই নজির নেই। ৬টি বিশ্বকাপ খেলে নজির গড়েছেন মিতালি রাজও। ৫টি করে বিশ্বকাপ খেলার নজির রয়েছে নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার ডেবি হকলে ও ইংল্যান্ডের শার্লট এডওয়ার্ডসের। তাঁদের রেকর্ড ভেঙে দিলেন মিতালি। মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৬টি বিশ্বকাপ খেলার নজির স্পর্শ করলেন। এই কৃতিত্ব রয়েছে জাভেদ মিয়াঁদাদ ও শচীন তেন্ডুলকারের।

মার্চ ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে বাজিমাত, রবি–রাজের দাপটে ৫ বার বিশ্বসেরা ভারত

ম্যাচের অন্তিমলগ্ন পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত ভারতের। ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন যশ ধুল ব্রিগেড। এই নিয়ে ৫ বার বিশ্বসেরার তকমা ছিনিয়ে নিল ভারত। একটা সময় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ১৮৯ রান তাড়া করে জয় আসবে তো। কিন্তু অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে যেভাবে স্নায়ু চাপ ধরে রাখার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন যশ ধুলরা, এককথায় অবিশ্বাস্য। আর ভারতকে বিশ্বকাপের বৈতরণী পার করার নায়ক হরিয়ানার বাঁহাতি ব্যাটার নিশান্ত সিন্ধু। ম্যাচের প্রথমার্ধ যদি রাজ বাওয়া ও রবি কুমারের হয়, দ্বিতীয়ার্ধটা অবশ্যই নিশান্ত সিন্ধুর। দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি করে ভারতে বিশ্বসেরার খেতাব এনে দিলেন। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারেই ইংল্যান্ড শিবিরকে ধাক্কা দেন রবি কুমার। দুরন্ত ইনসুইংয়ে তুলে নেন ওপেনার জ্যাকব বেথেলকে (২)। চতুর্থ ওভারে সবথেকে বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। রবি কুমারের বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লাগিয়ে বোল্ড হন টম প্রেস্ট (০)। অধিনায়ক টম প্রেস্টের দিকে তাকিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর চওড়া ব্যাট জিতিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ১৮ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংরেজরা। রবি কুমার, রাজ বাওয়াদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পাল্টা আক্রমণ হানার চেষ্টা করছিলেন ইংল্যান্ডের অন্য ওপেনার জর্জ থমাস। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মধ্যে তিনিই সবথেকে বেশি ধারাবাহিক। পরিবর্ত বোলার হিসেবে বল করতে এসে জর্জ থমাসকে তুলে নেন রাজ বাওয়া। ৩০ বলে ২৭ রান করে তিনি আউট হন। এক ওভার পরেই পররপর ২ বলে উইলিয়াম লাক্সটন (৪) ও জর্জ বেলকে (০) তুলে নেন রাজ। জেমস রেউয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন রেহান আমেদ। সেই রাজ বাওয়াই আবার জুটি ভাঙেন। ফেরান রেহানকে (১০)। এরপর অ্যালেক্স হর্টন (১০) সঙ্গ দেন জেমসকে। জুটিতে ওঠে ৩০। হর্টনকে তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন কৌশল তাম্বে। এরপর ইংল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যান জেমস রেউ ও জেমস সেলস। দুজনে মিলে জুটিতে তোলেন ৯৩ রান। এই জুটিই ইংল্যান্ডে লড়াইয়ে ফেরায়। ৪৪ তম ওভারে বল করতে এসে জুটি ভাঙেন রবি কুমার। তাঁর বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে গিয়ে স্কোয়ার লেগে কৌশল তাম্বের হাতে ক্যাচ দেন জেমস রেউ। ১১৬ বলে ৯৫ রান করেন তিনি। জেমস রেউ যখন আউট হন ইংল্যান্ডের রান তখন ১৮৪। একই ওভারের চতুর্থ বলে থমাস অ্যাস্পিনোয়ালকে (০) তুলে নেন রবি কুমার। জোসুয়া বাইডনকে (১) ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে গুটিয়ে দেন রাজ বাওয়া। ৪৪.৫ ওভারে ১৮৯ রানে শেষ ইংল্যান্ড। রবি কুমার ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন, ৩১ রানে ৫ উইকেট নেন রাজ বাওয়া।ইংল্যান্ডের মতো ভারতেরও শুরুটা ভাল হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফিরে যান ওপেনার অঙ্গকৃশ রঘুবংশী (০)। হার্নুর সিং ও শেখ রশিদ দলকে কিছুটা টানেন। হার্নুর (৪৬ বলে ২১) আউট হওয়ার পর ধৈর্যের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন রশিদ। তিনি ও অধিনায়ক যশ ধুল দারুণভাবে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ৮৪ বলে ৫০ রান করে নিজের উইকেট উপহার দেন রশিদ। পরপরই আউট হন ধুল। ৩২ বলে ১৭ রান করে আউট হন ধুল। ৯৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। এরপরই মঞ্চে আবির্ভাব রাজ বাওয়া ও নিশান্ত সিন্ধুর। দুজনের ৬৭ রানের পার্টনারশিপ ভারতকে বিশ্বজয়ের দিয়ে এগিয়ে দেয়। ১৬৪ রানের মাথায় রাজ বাওয়া (৫৪ বলে ৩৫) আউট হওয়ার আবার চাপে পড়ে যায় ভারত। চাপ আরও বেড়ে যায় কৌশল তাম্বে (১) দ্রুত ফেরায়। শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন নিশান্ত সিন্ধু। ৪৭.৪ ওভারে ১৯৫ রান তুলে বিশ্বসেরার মুকুট ছিনিয়ে নেয় ভারত।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

রবি–রাজের দাপটে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভারতের

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বরাবরই আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে ভারত। এই বিশ্বকাপের আগে ৭ বার ফাইনালে উঠে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন। যশ ধুলদের সামনে ছিল পঞ্চমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দারুণভাবে জ্বলে উঠল ভারত। রাজ বাওয়ার দাপটে বড় রান করতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড। ৪৪.৫ ওভারে গুটিয়ে যায়। রাজ বাওয়া নেন ৫ উইকেট, রবি কুমার নেন ৪ উইকেট।ফাইনালে ছিল সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। প্রতিযোগিতায় একটা ম্যাচেও যেমন না হেরে ফাইনালে উঠে এসেছিল ভারত, ইংল্যান্ডও অপরাজিত তকমা নিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছিল। মনে হচ্ছিল দারুণ জমে উঠবে ফাইনাল। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের দাপটে একেবারেই সুবিধা করতে পারল না ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারেই যে ধাক্কা খেয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।অ্যান্টিগুয়ার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। দ্বিতীয় ওভারেই ইংল্যান্ড শিবিরকে ধাক্কা দেন রবি কুমার। দুরন্ত ইনসুইংয়ে তুলে নেন ওপেনার জ্যাকব বেথেলকে (২)। চতুর্থ ওভারে সবথেকে বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। রবি কুমারের বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লাগিয়ে বোল্ড হন টম প্রেস্ট (০)। অধিনায়ক টম প্রেস্টের দিকে তাকিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর চওড়া ব্যাট জিতিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ১৮ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংরেজরা। রবি কুমার, রাজ বাওয়াদের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পাল্টা আক্রমণ হানার চেষ্টা করছিলেন ইংল্যান্ডের অন্য ওপেনার জর্জ থমাস। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মধ্যে তিনিই সবথেকে বেশি ধারাবাহিক। পরিবর্ত বোলার হিসেবে বল করতে এসে জর্জ থমাসকে তুলে নেন রাজ বাওয়া। ৩০ বলে ২৭ রান করে তিনি আউট হন। এক ওভার পরেই পররপর ২ বলে উইলিয়াম লাক্সটন (৪) ও জর্জ বেলকে (০) তুলে নেন রাজ। জেমস রেউয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে চাপ কাটানোর চেষ্টা করেন রেহান আমেদ। সেই রাজ বাওয়াই আবার জুটি ভাঙেন। ফেরান রেহানকে (১০)। এরপর অ্যালেক্স হর্টন (১০) সঙ্গ দেন জেমসকে। জুটিতে ওঠে ৩০। হর্টনকে তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন কৌশল তাম্বে। এরপর ইংল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যান জেমস রেউ ও জেমস সেলস। দুজনে মিলে জুটিতে তোলেন ৯৩ রান। এই জুটিই ইংল্যান্ডে লড়াইয়ে ফেরায়। ৪৪ তম ওভারে বল করতে এসে জুটি ভাঙেন রবি কুমার। তাঁর বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে গিয়ে স্কোয়ার লেগে কৌশল তাম্বের হাতে ক্যাচ দেন জেমস রেউ। ১১৬ বলে ৯৫ রান করেন তিনি। জেমস রেউ যখন আউট হন ইংল্যান্ডের রান তখন ১৮৪। একই ওভারের চতুর্থ বলে থমাস অ্যাস্পিনোয়ালকে (০) তুলে নেন রবি কুমার। জোসুয়া বাইডনকে (১) ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে গুটিয়ে দেন রাজ বাওয়া। ৪৪.৫ ওভারে ১৮৯ রানে শেষ ইংল্যান্ড। রবি কুমার ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন, ৩১ রানে ৫ উইকেট নেন রাজ বাওয়া।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌৫ বার বিশ্বজয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ভারত, কোহলির বার্তায় কতটা উদ্বুদ্ধ যশরা?‌

গত বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও অল্পের জন্য শেষরক্ষা হয়নি। বাংলাদেশের কাছে ফাইনালে ডাকওয়ার্থলুইস নিয়মে হেরে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল। এবার আবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি ভারতের সামনে। যশ ধুল কি পারবেন মহম্মদ কাইফ, বিরাট কোহলি, উন্মুক্ত চাঁদ, পৃথ্বী শদের কৃতিত্ব স্পর্শ করতে? ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই কাইফ, কোহলিদের সঙ্গে একাসনে বসবেন যশ ধুল। ২০২২র আগে ৭ বার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ভারত। ৪ বার চ্যাম্পিয়ন। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের মতো চমকপ্রদ পারফরমেন্স আর কোনও দলের নেই। এবার সামনে ৫ বার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। দেশকে আবার বিশ্বসেরা করার দায়িত্ব যশ ধুল, শেখ রশিদ, ভিকি অস্তোয়াল, রবি কুমারদের সামনে। ইতিমধ্যেই একটা অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করে ফেলেছে ভারতীয় দল। টানা ৩ বার ফাইনালে ওঠা। ভারতের আগে কোনও দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ফাইনালে ওঠার পথে একটা ম্যাচও হারেনি ভারত। ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যানও একই। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই ভারতের মতো দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়ে এসেছে ইংল্যান্ড। ফাইনালে ভারত তাকিয়ে অধিনায়ক যশ ধুল ও সহঅধিনায়ক শেখ রশিদের ব্যাটের দিকে। সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ভারতের জয়ের ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন এই দুই ব্যাটার। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছিলেন যশ ও রশিদ। পরে বল হাতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ভিকি অস্তোয়াল ও নিশান্ত সিন্ধু। জোরে বোলার রবি কুমার ও রাজ্যবর্ধন হাঙ্গারগেকরও দাপটের সঙ্গে বোলিং করছেন। তবে ফাইনালে নামার আগে ভারতীয় দলকে চিন্তায় রেখেছে দুই ওপেনার হার্নুর সিং ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর ফর্ম। ফাইনালে ভারতের লড়াই অবশ্য সহজ হবে না। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডও প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে এসেছে। ব্যাটিংয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক টম প্রেস্ট। বাঁহাতি জোরে বোলার জোসুয়া বাইডেন ১৩ উইকেট নিয়ে চমক দিয়েছেন। রেহান আমেদের স্পিনও ভারতকে সমস্যায় ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে ফাইনালে যে জোরদার লড়াই হবে, সেকথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। তবে ফাইনালে আগে যশ ধুলদের বড় প্রাপ্তি বিরাট কোহলির ভিডিও বার্তা। ভিডিও বার্তায় কোহলি নিজের বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা যেমন শেয়ার করেছেন, তেমনই উদ্বুদ্ধ করেছেন যশ ধুলদের।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্থায়ীকরণ ও ‘সমকাজে সমবেতন’-এর দাবিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দ্বারস্থ SACTWA, ইতিবাচক আশ্বাসে বাড়ল প্রত্যাশা

উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মরত রাজ্য-সহায়তা প্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক কল্যাণ সমিতি (State Aided College Teachers Welfare Association - SACTWA)-এর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষ-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে SACT শিক্ষকদের কর্মজীবনের বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সমকাজে সমবেতন নীতি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত SACT শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোরালো দাবি তোলা হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও SACT শিক্ষকদের বেতন ও পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁদের ন্যায্য অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।এছাড়াও প্রতিনিধি দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র নির্বাচনী সংকল্প পত্রে SACT শিক্ষকদের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানায়। সংগঠনের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব রূপ দেওয়া উচিত।সংগঠনের দাবি ও বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর প্রতিমন্ত্রী ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেন যে, আগামী দিনে বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও মন্ত্রীর এই আশ্বাসে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল দাস, জেলা সভাপতি নন্দন মান্না, মনোজ কুমার মাইতি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি অমিতাভ পাহাড়ি, পীযূষ দাস মহাপাত্র, সুব্রত ভট্টাচার্য-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, SACT শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! মুখ্যমন্ত্রীর ফোনের পরই সিট গঠন, একের পর এক গ্রেপ্তার

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার ভোরে দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। দ্রুত তদন্তের স্বার্থে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।রবিবার দুপুরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানীভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পরই তদন্তে আরও গতি আসে। সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের এগারো বছরের এক নাবালিকা। রবিবার ভোরে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কুলপি রোডে নাবালিকার দেহ রেখে পথ অবরোধ করা হয়। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। এর জেরে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচলও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ, অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয় এবং একাধিক পুলিশ গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।এই ঘটনার জেরে বারুইপুর থানায় মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশকে আক্রমণ, অবরোধ, ভাঙচুর এবং এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
স্বাস্থ্য

বর্ষায় ত্বক ও চুলের যত্নে প্রসাধনী বাছাইয়ে সতর্কতা, কী রাখবেন বিউটি কিটে?

এ বছর বর্ষার আগমন কিছুটা দেরিতে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে এখন বর্ষা সক্রিয় হওয়ায় একদিকে যেমন মিলেছে স্বস্তি, অন্যদিকে বেড়েছে বাতাসের আর্দ্রতা। এই পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের ওপরও পড়ছে বিশেষ প্রভাব। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলো এবং আর্দ্রতার কারণে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বর্ষাকালে সঠিক প্রসাধনী নির্বাচন এবং নিয়মিত ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, সুস্থ থাকার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বর্ষা মানেই একদিকে স্বস্তির বৃষ্টি, অন্যদিকে ত্বক ও চুলের নানাবিধ সমস্যা। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘাম, ধুলো এবং বৃষ্টির জল মিলিয়ে এই সময়ে ত্বক হয়ে উঠতে পারে তৈলাক্ত, আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দেয় ব্রণ, র্যাশ বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের আশঙ্কা। তাই বর্ষাকালে প্রসাধনী ব্যবহারে প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে ভারী বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত প্রসাধনীর বদলে হালকা, নন-কমেডোজেনিক (যা সহজে রোমছিদ্র বন্ধ করে না) এবং জলভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করাই ভালো। এতে ত্বক সতেজ থাকে এবং ব্রণের ঝুঁকিও কমে।বর্ষার বিউটি কিটে কী কী রাখবেন?১. মৃদু ফেসওয়াশ:দিনে অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকে জমে থাকা ঘাম, ধুলো ও অতিরিক্ত তেল দূর হয়। তবে অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করাও ঠিক নয়, এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।২. হালকা ময়েশ্চারাইজার:অনেকেই মনে করেন বর্ষায় ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হালকা জেল বা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।৩. সানস্ক্রিন:মেঘলা আকাশ থাকলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে উপযুক্ত এসপিএফ-যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।৪. ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ:বর্ষায় সাধারণ মেকআপ সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ওয়াটারপ্রুফ কাজল, মাসকারা, আইলাইনার ও লং-লাস্টিং ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ঠিক থাকে।৫. হালকা লিপ বাম:বৃষ্টির সময়েও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করলে ঠোঁট নরম ও সুরক্ষিত থাকে।চুলের যত্নেও নজর দিনবর্ষায় চুলে আর্দ্রতার প্রভাব বেশি পড়ে। ফলে খুশকি, চুল পড়া বা স্ক্যাল্পে সংক্রমণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখা বা অপরিষ্কার রাখা উচিত নয়।প্রসাধনী ব্যবহারে যেসব ভুল এড়াবেন* মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।* অন্যের মেকআপ বা প্রসাধনী ভাগ করে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।* ভেজা হাতে প্রসাধনীর পাত্রে বারবার হাত দেবেন না।* ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রসাধনী ব্যবহার বন্ধ করুন।* সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণপ্রসাধনী ব্যবহার যতই হোক, পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুমই ত্বক ও চুল ভালো রাখার অন্যতম চাবিকাঠি। বর্ষায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী নির্বাচন করলেই এই মৌসুমেও সৌন্দর্য থাকবে অটুট।মনে রাখবেন: বাজারে নতুন কোনও প্রসাধনী কেনার আগে তার উপাদান, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিন। প্রয়োজন হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই নতুন পণ্য ব্যবহার করুন।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

১৪ বছর পরও মেলেনি বিচার! বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় নতুন তদন্তের দাবিতে বড় পদক্ষেপ পরিবারের

আরও একটি পাঁচ জুলাই। প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে হত্যার চৌদ্দ বছর পূর্ণ হলেও এখনও প্রকৃত বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ তুলছে তাঁর পরিবার। দীর্ঘদিনের তদন্তেও মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি বলে দাবি তাঁদের। তাই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য সামনে আসুক এবং প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক।দুই হাজার বারো সালের পাঁচ জুলাই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে গুলিতে নিহত হন উত্তর চব্বিশ পরগনার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। তিনি কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন বিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার শিক্ষক ছিলেন। সুটিয়া গণধর্ষণ মামলায় তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ড গোটা রাজ্যকে নাড়া দিয়েছিল।ঘটনার এত বছর পরেও মামলার পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিবার ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি। রাজনৈতিক মহলেও এই মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই সব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবার এবং সুটিয়ার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, মামলাটি আবার তদন্ত করে সমস্ত সত্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার নেপথ্যে যারা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুবার্ষিকীতে এদিন সুটিয়ার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর স্মরণে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এলাকাজুড়ে তাঁর স্মৃতিতে ব্যানার ও শ্রদ্ধার্ঘ্য দেওয়া হয়। প্রতিবাদ মিছিল, শোকসভা এবং তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন স্থানীয় মানুষ। উপস্থিত বক্তারা একটাই দাবি তোলেন, এত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সদস্য প্রমানন্দ কবিরাজ বলেন, দীর্ঘদিন কেটে গেলেও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হয়নি। তাই নতুন করে তদন্ত করে সমস্ত সত্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মঞ্চের সভাপতি ননীগোপাল পোদ্দারের বক্তব্য, নতুন সরকার বিভিন্ন পুরনো ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নিচ্ছে। তাই বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলাতেও নতুন তদন্ত শুরু হবে বলে তাঁদের আশা।বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমিলা রায় বিশ্বাস জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।অন্যদিকে বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, প্রতিবাদী মঞ্চের উদ্যোগে বসানো আবক্ষ মূর্তিটি বরুণ বিশ্বাসের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি নয়। এই বিষয় নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জুলাই ০৫, ২০২৬
দেশ

দানবাক্সের চুরি বন্ধ হতেই অবিশ্বাস্য বদল! প্রতিদিন কোটি টাকার বেশী বাড়ছে রাম মন্দিরের

pরাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে নিয়মিত চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর বদলে গিয়েছে ছবিটা। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে দানবাক্সের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা বন্ধ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তার পরেই মন্দিরের দৈনিক নগদ আয়ে চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি হয়েছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ষোলো থেকে আঠারো লক্ষ টাকা সরকারি হিসাবে জমা পড়ত, এখন সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে চব্বিশ থেকে ছাব্বিশ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় আট লক্ষ টাকা বেশি জমা পড়ছে।সূত্রের দাবি, বিশেষ উৎসব বা বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে অনুদানের পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তবে সাধারণ দিনগুলিতেও এতদিন যে পরিমাণ অর্থ জমা পড়ত, এখন তার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। মন্দিরের অনুদান গ্রহণের কাউন্টারগুলিতেও আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ষাট হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা জমা পড়ত, এখন সেই অঙ্কও বেড়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্স থেকে নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলেই সরকারি হিসাবে কম টাকা জমা পড়ছিল।শুধু নগদ অর্থ নয়, দানে পাওয়া সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়েও তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া সোনার কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সোনা গলিয়ে সোনার বিস্কুটে পরিণত করা হয়ে থাকতে পারে, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায় এবং লুকিয়ে রাখা যায়।বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই মন্দিরে গিয়ে পরিদর্শন করেছে। মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দানে পাওয়া গয়না, মূল্যবান সামগ্রী, সংরক্ষণের নথি এবং সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি সরকারি টাঁকশালের সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষের লেনদেনের নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক এবং সরকারি টাঁকশালে পাঠানো সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পূর্ণাঙ্গ হিসাবও চাওয়া হয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দানে পাওয়া সমস্ত সোনা ও মূল্যবান ধাতু নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংরক্ষণ বা জমা করা হয়নি। এর একটি অংশ নগদ অর্থের সঙ্গে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ভক্তদের দানের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়ের হিসাব প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। তবে সেই বৈঠকগুলিতে সোনা, রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর পরিমাণ ও সংরক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হত না বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে পুলিশের জালে কুখ্যাত মিনি ফিরোজ! মাথায় ৩৭টি মামলা, ভোরে নাটকীয় গ্রেপ্তার

দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হল গুলশন কলোনির কুখ্যাত দুষ্কৃতী মিনি ফিরোজ ওরফে মহম্মদ ফিরোজ খান। তাঁর সঙ্গে ধরা পড়েছে ঘনিষ্ঠ সহযোগী মহম্মদ সাজিদও। রবিবার ভোরে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছ থেকে গুন্ডাদমন শাখার বিশেষ অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের তপসিয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ ফিরোজ খানের বিরুদ্ধে মোট সাঁইত্রিশটি মামলা রয়েছে। গুলিচালনা, বেআইনি অস্ত্র রাখা, ভয় দেখানো, দুষ্কৃতী কার্যকলাপ এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের হয়েছে। বহুবার পুলিশের নজরে এলেও তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে গিয়েছিলেন।গত প্রায় এক দশক ধরে মধ্য কলকাতার গুলশন কলোনিতে মিনি ফিরোজের দাপট ছিল বলে অভিযোগ। গত বছর গুলিচালনার একটি ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসে। সেই সময় অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয় এবং পরে দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও পরে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পরও তাঁর দাপট কমেনি বলেই অভিযোগ।তদন্তে উঠে এসেছে, মিনি ফিরোজ একা নয়, নিজের একটি দল নিয়েই এলাকায় সক্রিয় ছিল। সেই দলে মহম্মদ সাজিদ, মুস্তাফা-সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। কসবার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। এতদিন সবাই গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও পুলিশের নজরদারি থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই মেলেনি।রাজ্যে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে চলা বিশেষ অভিযানের মধ্যেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডানকুনি টোল প্লাজার কাছে অভিযান চালায় গুন্ডাদমন শাখা। সেখান থেকেই মিনি ফিরোজ এবং সাজিদকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে তপসিয়া থানায় একাধিক মামলা থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেপ্তারের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

জুলাই ০৫, ২০২৬
উৎসব

রথযাত্রায় ঐতিহ্যের পাশে রাজ্য, ১০০-১৫০ বছরের প্রাচীন রথ কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান; জেলাজুড়ে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ নবান্নের

রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথ উৎসবগুলিকে আরও সুষ্ঠু ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ১০০ থেকে ১৫০ বছর বা তারও বেশি পুরনো ঐতিহ্যশালী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই জেলার প্রশাসনের মাধ্যমে এই ধরনের ঐতিহাসিক রথযাত্রা কমিটিগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী ১৩ জুলাই এই অনুদানের চেক সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে পারেন বলেও নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, রাজ্যজুড়ে রথযাত্রা এবং উল্টোরথকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসক (ডিএম)-দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটক এই উৎসবে অংশ নেন। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলায় রথযাত্রার রুট এবং প্রধান জনসমাগমস্থলে সেবা শিবির (ফ্যাসিলিটেশন ক্যাম্প) গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের শিবির উল্টোরথের দিনও চালু রাখতে হবে। প্রতিটি জেলার জন্য এই শিবির পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সেবা শিবিরে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, প্রবীণ নাগরিক, মহিলা, শিশু এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ভক্তবান্ধব পরিষেবাও চালু করা যাবে।এছাড়াও, কোনও জেলার প্রশাসনের মতে যদি কোনও রথযাত্রা কমিটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিপুল জনসমাগম বা উৎসবের ব্যাপ্তির কারণে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার যোগ্য হয়, তবে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।রথযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উৎসবের আগেই জেলা প্রশাসনকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, দমকল, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা, পঞ্চায়েত, পরিবহণ দপ্তর, রথযাত্রা কমিটি, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকগুলিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে।নবান্ন আরও জানিয়েছে, রথযাত্রার রুট ও সেবা শিবিরে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই করতে হবে। পাশাপাশি, ভক্তদের সুবিধার জন্য শিবিরে কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কেও প্রচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।উৎসব শেষ হওয়ার পরে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে গৃহীত পদক্ষেপ, বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার, কর্মসূচির আলোকচিত্র এবং সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জমা দিতে হবে। প্রশাসনের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে সংরক্ষণ, উৎসাহ প্রদান এবং ভক্তদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রাচীন রথযাত্রা হিসেবে সর্বাধিক স্বীকৃত হল মাহেশ রথযাত্রা।মাহেশ রথযাত্রা (হুগলি),স্থান: মাহেশ,জেলা: হুগলী,শ্রীরামপুর মহকুমা,শুরু: আনুমানিক ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ,প্রতিষ্ঠাতা: ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী (Dhrubananda Brahmachari)-এর মাধ্যমে জগন্নাথদেবের পূজার প্রচলন হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয়।বয়স: প্রায় ৬৩০ বছরেরও বেশি (২০২৬ সালের হিসেবে)।বিশেষত্ব: এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, India-র অন্যতম প্রাচীন এবং Puri-র বাইরে সবচেয়ে বিখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রাগুলির একটি।ইতিহাসমাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে বহু শতাব্দী ধরে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমান বিশাল কাঠের রথটি ১৯শ শতকে নতুনভাবে নির্মিত হলেও রথযাত্রার ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দী পুরোনো। প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন।উল্লেখযোগ্য প্রাচীন রথযাত্রামহেশ রথযাত্রা, শ্রীরামপুর (হুগলী জেলা)(Mahesh Rath Yatra) প্রায় ৬৩০+ বছরের ঐতিহ্য।গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা (হুগলী জেলা) Guptipara Rath Yatra প্রায় ২৭০৩০০ বছরের ঐতিহ্য; ভাণ্ডার লুঠ উৎসবের জন্য বিখ্যাত।ময়না রথযাত্রা, চিরঞ্জীবপুর (পূর্ব মেদিনীপুর) Moyna Rath Yatra কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য।মহিষাদল রথযাত্রা, (পূর্ব মেদিনীপুর) Mahishadal Rath Yatra রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক রথযাত্রা।পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক ঐতিহাসিক রথযাত্রা হিসেবে হুগলির মাহেশ রথযাত্রা-ই স্বীকৃত। এর ইতিহাস প্রায় ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে ধরা হয়, ফলে এটি ৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো।

জুলাই ০৫, ২০২৬
রাজ্য

পলাতক সুমিতকে খুঁজতে এবার বড় পদক্ষেপ! রাতভর জেরায় উঠে এল কোন নতুন সূত্র?

জমি কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় এখনও অধরা। তাঁকে খুঁজে বের করতে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে সুমিতের সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র ধরে দেবরাজ চক্রবর্তীকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বেঙ্গল বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের আশা, এই জেরার সূত্র ধরেই পলাতক সুমিতের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রাতে দেবরাজ চক্রবর্তীকে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজের সঙ্গে সুমিত রায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেই কারণেই দেবরাজের কাছ থেকে সুমিতের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।তদন্তে জানা গিয়েছে, জমি কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় প্রথম সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁকে খুঁজতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। পাশাপাশি সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি করা হলেও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি।অন্যদিকে, সম্প্রতি তোলাবাজি, হুমকি এবং প্রতারণার অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল বিশেষ তদন্তকারী দল। বর্তমানে তিনি তদন্তকারীদের হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত সাড়ে দশটা থেকে বাগুইআটি থানায় তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।তদন্তকারীদের সন্দেহ, দেবরাজের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সুমিত রায়ের কোনও যোগ ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তোলাবাজির মাধ্যমে আদায় হওয়া টাকা সুমিতের কাছে পৌঁছত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ মনে করছে, দেবরাজের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে এই মামলার আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই কারণেই আগামী দিনেও তাঁকে ফের জেরা করা হতে পারে।

জুলাই ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal