• ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

World

খেলার দুনিয়া

T20WC-MS Dhoni : মহেন্দ্র সিং ধোনির টানে আবার মাঠে ‘‌চাচা শিকাগো’‌

মুখে সেই চিরপরিচিত একগাল দাঁড়ি। হাতে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। গায়ের জার্সিতে অভিনবত্ব। অর্ধেক ভারতের, অর্ধেক পাকিস্তানের। জার্সির সামনে মহেন্দ্র সিং ধোনির ছবি। আবার গ্যালারিতে ফিরে এসেছেন চাচা শিকাগো। কে এই চাচা শিকাগো? আসল নাম মহম্মদ বশির বোজাই। মহেন্দ্র সিং ধোনির অন্ধ ভক্ত। আদি বাড়ি পাকিস্তানের করাচি। বর্তমানে কানাডায় থাকেন। একসময় পাকিস্তানের ম্যাচ থাকলেই বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে ছুটে যেতেন। ভারতপাকিস্তান হলে তো কথাই নেই। ধোনি ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর মাঠ থেকে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন চাচা বশির। বিশ্বকাপে ধোনি ভারতীয় দলের মেন্টর হয়ে ফিরতেই আবার গ্যালারিতে ফিরে এসেছেন। রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও ভারতপাকিস্তান ম্যাচে গ্যালারিতে হাজির ছিলেন। মহেন্দ্র সিং ধোনিও তাঁর এই ভক্তকে দারুণ ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চাচা বশিরকে প্রথমবার টিকিট দিয়েছিলেন ধোনি। সেবার মোহালিতে ভারতপাকিস্তান সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে ঢাকায় টি২০ বিশ্বকাপের টিকিটও পৌঁছে গিয়েছিল বশির চাচার কাছে। এবারও ধোনিকে দেখবেন বলে দুবাইয়ে হাজির। নিজের হাতেই তৈরি করেছেন ভারতপাকিস্তান মৈত্রীর জার্সি। নিজের দেশ পাকিস্তান হলেও চাচা বশির কিন্তু জয় চেয়েছিলেন ভারতেরই। আর সেটা মহেন্দ্র সিং ধোনির জ্যই। কিন্তু তাঁর সেই আশা পূরণ হয়নি। চাচা বশির যথেষ্ট বিমর্ষ। মাঝে করোনার জন্য বার হতে পারেননি। অসুস্থ শরীর নিয়েও দুবাইয়ে হাজির হয়েছেন শুধু মহেন্দ্র সিং ধোনির জন্যই। কেন উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলেন? চাচা বশিরএর কথায়, আমি ধোনির অন্ধ ভক্ত। ধোনি অবসর নেওয়ার পর খেলা দেখার ইচ্ছেটাই হারিয়ে গিয়েছিল। আমি টিভিতে পর্যন্ত খেলা দেখতাম না। আবার ধোনির টানে ফিরে এসেছি। আমার স্ত্রীর অপারেশন হবে। ছেলেদের কাছে স্ত্রীকে রেখে চলে এসেছি। এইরকম ম্যাচে কি বাড়িতে বসে থাকা যায়। বাইশ গজে দেখতে না পেলেও মাঠে তো ধোনিকে দেখতে পেয়েছি। রবিবার ম্যাচের পর শোয়েব মালিকসহ বেশ কয়েকজন পাকিস্তানের ক্রিকেটার ধোনির কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। ধোনির সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন। সেই ছবি দেখে আপ্লুত বশির চাচা। ধোনির প্রতি এত টান, একবার রাঁচি পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন চাচা শিকাগো। ক্যাপ্টেন কুলও কখনও ফেরাননি বশির চাচাকে। বহুবার তাঁর জন্য টিকিট রেখে দিয়েছেন। একবার রোদ লাগছে দেখে সুরেশ রায়নাকে দিয়ে চাচা বশিরের জন্য গ্যালারিতে সানগ্লাসও পাঠিয়েছিলেন ধোনি। ধোনির জন্য গলা ফাটাতে গিয়ে পাকিস্তান সমর্থকদের হাতে মারও খেয়েছেন বশির চাচা। ধোনির ছবিসহ ভারতপাকিস্তান মৈত্রী জার্সি প্রসঙ্গে চাচা শিকাগোর বক্তব্য, ধোনি মেন্টর হয়ে ফিরে এসেছে বলেই আমি আবার দুবাইয়ে। ধোনির জন্যই আমার জার্সির একদিকে ভারত, একদিকে পাকিস্তান। আমার জন্ম করাচিতে। শ্বশুর বাড়ি হায়দরাবাদে। দুই দেশের প্রতিই আমার ভালোবাসা রয়েছে। আমার শরীর পাকিস্তানের হলেও, হৃদয় ভারতের। ধোনির জন্যই ভারতের জয় চেয়েছিলাম।

অক্টোবর ২৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

I‌ndia vs Pakistan : আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হার নিয়ে খোঁচা ইমরান খানের!‌

বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে পকিস্তান। ভাবখানা এমন, যেন বিশ্বকাপ জিতেই গেছে। হবে নাই বা কেন, কোনও দিন বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে পারেনি। এই প্রথম বিশ্বকাপে জয়। পাকিস্তানের কাছে তাই অন্যমাত্রা পেয়েছে কোহলিদের হারানো। উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ভারতকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি পাকিস্তানিরা। স্বয়ং সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানও ভারতকে খোঁচা দিয়েছে। রিয়াধে এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ইমরান খান। সেই অনুষ্ঠানে ইমরান বলেন, মধ্য এশিয়ার বাজার ধরতে গেলে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখা দরকার। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ভাল হত। কিন্তু রবিবার বিশ্বকাপে ভারতকে বিধ্বস্ত করার পর ওদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির কথা এখন বলা যাবে না। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে পরোক্ষভাবে কোহলিদের বিশ্বকাপে হারানো নিয়ে খোঁচা দেন ইমরান। প্রাক্তন জোরে বোলার শোয়েব আখতারও ভারতের হার নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। রবিবারের ম্যাচে আগে হরভজন সিং বলেছিলেন, ভারতপাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তানের ওয়াকওভার দেওয়া উচিত। কারণ বিশ্বকাপে তো কখনও জেতেনি। এবারও হারবে। বিরাট কোহলিরা ১০ উইকেটে হারের পর ভাজ্জিকে খোঁচা দিয়েছেন শোয়েব আখতার। তিনি বলেছেন, ভাজ্জি পারছে এই পরাজয় সহ্য করতে। আইপিএলে দারুণ বোলিং করেছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক সলমন বাট বরুণ চক্রবর্তীকে তাচ্ছিল্য করে বলেছেন, বরুণ যে বোলিং করেছেন তা পাকিস্তানের রাস্তর ক্রিকেটে হামেশাই হয়ে থাকে। এটা নয় যে বরুণ ভালো বোলার নয়। কিন্তু ওর যে বৈচিত্র্য, তার সঙ্গে পরিচিত পাক ব্যাটাররা। ওকে সহজেই খেলেছে বাবর ও রিজওয়ান। পাকিস্তানের এক কৌতুক-অভিনেতা ইয়াসির হোসেন বিরাট কোহলির একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। যাতে দেখা যাচ্ছে আইপিএলে শরীরচর্চার ফাঁকে কোহলি নাচছেন। সেটির ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি পাঞ্জাবি গান লেপে দিয়ে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, পাকিস্তানিদের তরফে ফতেহ মুবারক জানাই। বেটার লাক নেক্সট টাইম ইন্ডিয়া! ম্যাচের মতোই অসাধারণ কোহলির নাচ।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World Cup : সামনের বিশ্বকাপে কীভাবে সরাসরি মূলপর্বে খেলবে বাংলাদেশ?‌

এবছর টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ খেলে সুপার ১২র ছাড়পত্র পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সামনের টি২০ বিশ্বকাপে আর যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচ খেলতে হবে না। সরাসরি খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, নামিবিয়াও সরাসরি মূলপর্বে খেলবে।২০২২ টি২০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ায়। পরের বিশ্বকাপ ১৬টি দলকে নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে আইসিসি। এই বিশ্বকাপে সুপার ১২তে খেলা ১২টি দল সরাসরি মূলপর্বে খেলবে। বাকি ৪টি দল যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলে উঠে আসবে। এবছর বিশ্বকাপে দারুণ চমক দেখিয়েছে স্কটল্যান্ড, নামিবিয়ার মতো দেশগুলি। টি২০ বিশ্বকাপের আবির্ভাবেই মূলপর্বে উঠে এসেছে নামিবিয়া। ফলে এইসব দেশকে ঘিরে আইসিসির প্রত্যাশা ক্রমে বাড়ছে। তাই বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইসিসি মননে করছে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তুলতে এইসব দেশের ভুমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, স্কটল্যান্ড, নামিবিয়া সরাসরি খেলার সুযোগ পেলেও বাকি চারটি দেশকে যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলেই উঠে আসতে হবে।এদিকে, রবিবার শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পাশাপাশি আরও বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ শিবির। জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশের ওপেনার লিটন দাসকে। শুধু তাঁর একারই নয়, জরিমানা হয়েছে শ্রীলঙ্কার জোরে বোলার লাহিরু কুমারারও। রবিবার টি২০ বিশ্বকাপে সুপার ১২র শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ ম্যাচে লিটন দাস আউট হওয়ার পর তাঁর দিকে তেড়ে যান শ্রীলঙ্কার লাহিরু কুমারা। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গীর পাশাপাশি গালাগালিও করেন। পাল্টা জবাব দেন লিটন দাস। এরপর লাহিরু ছুটে গিয়ে লিটনকে ধাক্কা দেন। আম্পায়ার ও অন্য ক্রিকেটারদের হস্তক্ষেপে জল বেশিদূর গড়ায়নি।পরে ম্যাচ রেফারি জাগাভাল শ্রীনাথ দুই আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে লিটন দাস ও লাহিরু কুমারার জরিমানা ধার্য করেন। লাহিরু আইসিসির নিয়মের ২.৫ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছেন। অন্যদিকে লিটন দাস দাস লঙ্ঘন করেছেন ১ নম্বর ধারা। লাহিরুর ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা হয়েছে। অন্যদিকে, লিটনের জরিমানা হয়েছে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ। ম্যাচ রেফারি জাগাভাল শ্রীনাথের দেওয়া এই শাস্তি দুই ক্রিকেটারই মেনে নিয়েছেন।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 WC-Virat kohli : পাকিস্তানের কাছে হেরে কেন মেজাজ হারালেন বিরাট কোহলি?‌

রবিবার ভারতপাকিস্তান ম্যাচ শেষে বাবর আজমের সঙ্গে হাত মেলানোর পর বুকে টেনে নেন পাকিস্তানের ওপর ওপেনার মহম্মদ রিজওয়ানকে। পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটাররা ছুটে এসে ঘিরে ধরেন ভারতীয় দলের মেন্টর মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। শোয়েব মালিকরা ছবি তোলেন ধোনির সঙ্গে। দারুণ সৌভাতৃত্বের পরিচয়। কিন্তু মাঠের বাইরে মেজাজ হারালেন ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি। এই প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কোহলি। অধিনায়ক হিসেবে এটাই শেষ টি২০ বিশ্বকাপ। প্রথম ম্যাচেই চিরশত্রু পাকিস্তানের কাছে হারতে হয়েছে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে এটাই প্রথম পরাজয়। মেজাজ এমনিতে খারাপ ছিল। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও খারাপ করে দেন পাকিস্তানের এক সাংবাদিক। কোহলির কাছে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক জানতে চান, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের জন্যই কি হারতে হয়েছে ভারতকে? পাকিস্তানের ওই সাংবাদিকের প্রশ্নে মেজাজ হারান কোহলি।রাগত সুরেই কোহলি বলেন, বাইরে থেকে অনেকেই অনেক কিছু মনে করে থাকেন। বাস্তব সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। মাঠে নেমে চাপটা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রতিপক্ষকে কোনও দল কখনও হালকাভাবে নিয়ে মাঠে নামে না। পাকিস্তানের মতো দল যে কোনও প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিতে পারে। এই সত্যটাকে সকলের মেনে নেওয়া উচিত। আমরা কখনোই মনে করি না এই একটা ম্যাচ জিতলেই সব পাওয়া হয়ে গেল। প্রথম ম্যাচে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে কোহলি আশাবাদী। তিনি বলেন, আমরা খারাপ খেললে সেটা মেনে নিই। বিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতে কুন্ঠিত হই না। হারার পর নজর ঘোরানোর জন্য অন্যরকম কিছু করতে চাই না। ত্রুটিগুলো খুঁজে বার করে সেগুলো সংশোধন করার দিকে নজর দিই।রোহিত শর্মার পরিবর্তে ঈশান কিষানকে খেলানো যেত কিনা, সে প্রশ্নের জবাবে কোহলি বিরক্তি প্রকাশ করে পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন ওই সাংবাদিককে, আপনার কী মনে হয়? আপনার মতামত জানতে চাইছি। আপনি কি টি২০ ক্রিকেটে রোহিত শর্মার মতো ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে মাঠে নামতে পারতেন? আমরা সেরা দল নিয়েই খেলতে নেমেছিলাম। পাকিস্তানকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিতে অবশ্য ভোলেননি কোহলি। তিনি বলেন, পাকিস্তান সব বিভাগেই আমাদের পর্যুদস্ত করেছে। আমাদের ম্যাচে কোনও সুযোগই দেয়নি। আমরা চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিলাম। তার জবাব দেওয়ার জন্য ওরা খুব ভালভাবে প্রস্তুত ছিল।

অক্টোবর ২৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup: বিশ্বকাপে প্রথম ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস বদলে দিলেন বাবর আজমরা

বিশ্বকাপ মানেই ভারতের আধিপত্য। সে একদিনের বিশ্বকাপই হোক কিংবা টি২০। ভারতের বিরুদ্ধে কখনও জয় পায়নি পাকিস্তান। ইতিহাস পাল্টে দিলেন বাবর আজমরা। রবিবার দুবাইয়ে টি২০ বিশ্বকাপে ভারতকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে এই প্রথম বিশ্বকাপে জয় পেল পাকিস্তান। দুর্দান্ত বল করে ম্যাচের নায়ক শাহিন আফ্রিদি। টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। তাঁর লক্ষ্য ছিল রান তাড়া করে খেলা। পাশাপাশি রাতের শিশিরের কথাও মাথায় রেখেছিলেন। দলের অধিনায়ককে হতাশ করেননি পাকিস্তান বোলাররা। প্রথম ওভারেই আঘাত। ম্যাচের চতুর্থ বলেই শাহিন আফ্রিদির দুরন্ত ইয়র্কার রোহিত শর্মার প্যাডে আছড়ে পড়তেই দেওয়াল লিখন পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল ভারতের। রোহিত (০) যখন সাজঘরের রাস্তা ধরেন ভারতের রান ১। এক ওভার পরেই আউট লোকেশ রাহুল (৩)। তিনিও সেই শাহিন আফ্রিদির শিকার। পাকিস্তানের এই জোরে বোলার যে ডেলিভারিতে বোল্ড করেন, এক কথায় স্বপ্নের বল। সুনীল গাভাসকার পর্যন্ত কমেন্ট্রি বক্সে বসে বলেন, ম্যাজিক ডেলিভারি। খেলা সত্যিই দুঃসাধ্য। তিন ওভারের মধ্যেই ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে ভারত। ভেসে উঠছিল ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালের স্মৃতি। সেই ম্যাচেও ৩ ওভারে ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল ভারত। ভারতকে শুরুতে ধাক্কা দিয়েছিলেন মহম্মদ আমির। আর টি২০ বিশ্বকাপে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শাহিন আফ্রিদি।কোহলির সঙ্গে জুটি বেঁধে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন সূর্যকুমার যাদব। ১টা ৪ ও ১টা ৬ মেরে পাল্টা চাপ তৈরি করতে চেয়েছিলেন সূর্যকুমার (৮ বলে ১১)। হাসান আলির অফস্টাম্পের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটকিপার মহম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান কোহলি ও ঋষভ পন্থ। ঋষভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও ইনিংস গড়ার দিকে নজর দেন কোহলি। জুটিতে ওঠে ৫৩। ৩০ বলে ৩৯ রান করে সাদাব খানের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দেন ঋষভ। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ২টি ৪ ও ২টি ৬। রবীন্দ্র জাদেজাও দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। ১৩ বলে ১৩ রান করে তিনি হাসান আলির বলে আউট হন।অন্যপ্রান্ত থেকে একের পর এক উইকেট পড়লেও ধৈর্য হারাননি কোহলি। প্রকৃত নেতার মতোই দলকে টেনে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত সেই শাহিন আফ্রিদির বলে উইকেটকিপার মহম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন কোহলি। ৪৯ বলে ৫৭ রান করেন ভারত অধিনায়ক। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টি ৪ ও ১টি ৬। কোহলি যখন আউট হন ভারতের রান তখন ১৮.৪ ওভারে ১৩৩। হার্দিক পান্ডিয়াও (৮ বলে ১১) ব্যর্থ। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫১ রান তোলে ভারত।পাকিস্তানে লক্ষ্য ছিল ভারতকে এমন রানে আটকে রাখা, যাতে লড়াই করতে সুবিধা হয়। সেই লক্ষ্যে তারা সফল। ভান্ডারে ১৫১ রানে পুঁজি নিয়ে জিততে গেলে শুরুতেই বিপক্ষকে ধাক্কা দেওয়াটা জরুরি। সেই কাজটাই করতে পারেনি ভারতীয় বোলাররা। তবে পাকিস্তানের দুই ওপেনারে প্রশংসাও করতে হবে। দারুণ সতর্কভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে পাকিস্তান তোলে ৪৩। ১০ ওভারে পৌঁছে যায় ৭১ রানে। দুই ওপেনার বাবর আজম ও মহম্মদ রিজওয়ান দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। ভারতীয় বোলারদের কোনও রকম সুযোগই দেননি। টি২০ ক্রিকেটে কেন তিনি র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে রয়েছেন বুঝিয়েস দিলেন। ধীরস্থিরভাবে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ১৭.৫ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। ৫৫ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন মহম্মদ রিজওয়ান। ৫২ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক বাবর আজম। এই প্রথম বিশ্বকাপের আসরে ভারতের বিরুদ্ধে জয় পেল পাকিস্তান।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : আসালঙ্কা ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা জিতল ৫ উইকেটে

আসালঙ্কা ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ। সুপার ১২-র ম্যাচে মাহমুদুল্লার দলকে ৫ উইকেটে হারাল শ্রীলঙ্কা। অপরাজিত ৮০ রান করে ম্যাচের নায়ক চারিথ আসালঙ্কা। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান দানুস শনাকা। দারুণ শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার মহম্মদ নঈম ও লিটন দাস। দুজনের ব্যাটেই বাংলাদেশের ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত ছিল। আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি লিটন দাস। ১৬ বলে ১৬ রানগ করে তিনি লাহিরু কুমারার বলে আউট হন। সাকিবকে দেখে মনে হচ্ছিল বড় রানের জন্য ক্রিজে নেমেছেন। আসালঙ্কার এক ওভারে দুটি বাউন্ডারি মারাতে ছিল তারই ইঙ্গিত। প্রথম রাউন্ডে দারুণ ছন্দে ছিলেন সাকিব। ফর্মে থাকা বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডারের লেগ স্টাম্প ছিটকে দেন করুণারত্নে। ৭ বলে মাত্র ১০ রান করে তিনি আউট হন।অভিজ্ঞতার যে আলাদা মূল্য আছে বুঝিয়ে দিলেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম রাউন্ডে ব্যাটে রান ছিল না। আসল সময়ে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ওপেনার মহম্মদ নঈমের সঙ্গে জুটি বেঁধে তোলেন ৭৩ রান। এই দুই ব্যাটারই বাংলাদেশকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। ১৭তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর প্রথম বলে নঈম আউট হন। ৫২ বলে তিনি করে ৬২। আফিফ হোসেন ৭ রান করে রান আউট হন। ৩৭ বলে ৫৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টা ৪, ২টি ৬। অধিনায়ক মাহমুদুল্লা ৫ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৭১/৪ তোলে বাংলাদেশ।ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। চতুর্থ বলেই ফিরে যান কুশল পেরেরা (১)। নাসুম আমেদের বলে তিনি বোল্ড হন। এরপর দলের বিপর্যয় সামাল দেন পাথুম নিসাঙ্কা ও চরিথ আসালঙ্কা। জুটিতে ওঠে ৬৯। বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব আল হাসান। ২১ বলে ২৪ রান করে সাকিবের বলে বোল্ড হন নিসাঙ্কা। নিসাঙ্কাক আউট করে টি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হয়ে গেলেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। টপকে গেলেন শাহিদ আফ্রিদিকে (৩৯)। একই ওভারে তুলে নেন আভিষ্কা ফার্নান্দোকে (০)। পরের ওভারেই ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে (৬) ফেরান সইফুদ্দিন।১১ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। দলকে চাপ থেকে বার করে নিয়ে আসেন আসালঙ্কা ও ভানুকা রাজাপক্ষে। তাঁদের ৮৬ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ৩১ বলে ৫৩ রান করে নাসুম আমেদের বলে আউট হন রাজাপক্ষে। তিনি যখন আউট হন শ্রীলঙ্কার রান তখন ১৬৫। এরপর বাকি কাজ সারেন আসালঙ্কা। তিনি ৪৯ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৭ বল বাকি থাকতেই ১৭২/৫ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

virat kohli : কোহলির হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটারের স্ত্রী?‌ সত্যিই আজব ব্যাপার

টি২০ বিশ্বকাপে ভারতপাকিস্তান লড়াই। আর কোহলির হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন কিনা পাকিস্তানের এক ক্রিকেটারের ঘরণী! সত্যিই অবাক হওয়ার কথা। তবে পাকিস্তানের ক্রিকেটারের ওই ঘরণী বিরাট কোহলির হয়ে গলা ফাটালেও নিজের স্বামীর দেশেরই জয় চান। সত্যিই আজব ব্যাপার। পাঠকবর্গের খুব জানতে ইচ্ছে করছে কোন ক্রিকেটারের ঘরণী বিরাট কোহলির ভক্ত? তাঁর নামই বা কী। এবার খোলসা করা যাক।পাকিস্তানের জোরে বোলার হাসান আলির স্ত্রী শামিয়া আরজু কোহলির দুর্দান্ত ভক্ত। শামিয়ার কোহলি প্রেমের মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। কারণ কোহলির আবেগ,আগ্রাসনে মুগ্ধ অগনিত ক্রিকেটপ্রেমী। শুধু ক্রিকেট প্রেমীই বা বলি কি করে। ক্রিকেটের বাইরেও অনেক ভক্ত রয়েছে কোহলির। নিজগুনে মহিলাদের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক।শামিয়া আরজুর কোহলি প্রীতির মধ্যে রয়েছে অন্যরকম গল্প। আদতে ভারতের মেয়ে শামিয়া আরজু। হরিয়ানার ছান্দেনি গ্রামে বেড়ে ওঠা। ফরিদাবাদের মানব রচনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি টেক পাশ করেন। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর জেট এয়ারওয়েজে এয়ার হোস্টেস হিসেবে যোগ দেন। কিছুদিন সেখানে কাজ করার পর এমিরেটস এয়ারলাইনসে ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারের পদে যোগ দেন। দুবাইতে কর্মরত অবস্থাতেই হাসান আলির সঙ্গে পরিচয়। দুবছর ধরে চলে প্রেম পর্ব। তারপর বিয়ে। ২০১৯ সালে দুবাইতেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন দুজনে।তিনি যে বিরাট কোহলির ভক্ত ভারতপাকিস্তান ম্যাচের আগে শামিয়া আরজু জানাতে দ্বিধা করেননি। বিরাটের ব্যাটে সাফল্য চাইলেও হাসান আলির স্ত্রী অবশ্য পাকিস্তানের জয় চান। পাকিস্তানের আর এক ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের স্ত্রী সানিয়া মির্জা অবশ্য শামিয়া আরজুর মতো খুল্লামখুল্লা নন। ভারতপাকিস্তান ম্যাচের আগে তিনি মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও অনেক দুরে সরে রয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে শামিয়া আরজু তাঁর কোহলি প্রেমের কথা জানিয়েছেন।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

I‌ndia-Kohli : পাকিস্তান ম্যাচের আগে কেন এতটা বিনয়ী বিরাট কোহলি

শনিবারই বেজে গেল টি২০ বিশ্বকাপের দামামা। রবিবারই সেই বহু কাঙ্খিত মহারণ। টি ২০ বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুবাইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। বাবর আজমের দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে বিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করছেন বিরাট কোহলি। পাকিস্তান ম্যাচের প্রথম একাদশ নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা রেখে দিলেন টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন।বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানের দিক থেকে এগিয়ে থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বিরাট কোহলির দল। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে এখনও একটা ম্যাচেও হারেনি ভারত। তবে রবিবারের ম্যাচে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, সেকথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। বিপক্ষ শিবিরকে অবশ্য যথেষ্ট সমীহ করছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, পাকিস্তান যথেষ্ট শক্তিশালী দল। ওদের গুরুত্ব দিতেই হবে। তবে আমরাও ভাল পরিকল্পনা করেছি। সেই পরিকল্পনাগুলি সফলভাবে প্রয়োগ ঘটাতে পারলে জিততে সমস্যা হবে না। জিততে গেলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সবসময় সেরাটা দিতে হবে। ওদের দলেও বেশ কয়েকজন ভাল ক্রিকেটার রয়েছে। যারা ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। এদিকে, ম্যাচের আগের দিনই ১২ জনের দল ঘোষণা করে দিয়েছে পাকিস্তান। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট অবশ্য দল নিয়ে ধোঁয়াশা রেখেই দিয়েছে। প্রথম একাদশ নিয়ে কোহলি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, এখনই দলের কম্বিনেশন প্রকাশ করব না। মাঠে নামার জন্য দলের প্রত্যেকেই তৈরি। সবাই জানে মাঠে কার কী ভুমিকা রয়েছে। কম্বিনেশন না বললেও এটা নিশ্চিত যে বোলার হার্দিক পান্ডিয়াকে পাচ্ছে না ভারত। ব্যাটার হিসেবেই তাঁকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কোহলির কথাতে তারই ইঙ্গিত মিলেছে। ভারত অধিনায়ক বলেন, হার্দিকের ফিটনেস এখন ভাল জায়গায় রয়েছে। আশা করছি এই বিশ্বকাপেই বোলিং করতে পারবে। তবে ৬ নম্বরে এত দ্রুত হার্দিকের বিকল্প পাওয়া কঠিন। ওর ব্যাটিংয়ের ওপর দলের আস্থা রয়েছে। হার্দিকের ইনিংস কতটা মূল্যবান আমরা জানি। কোহলি খোলসা না করলেও ব্যাটিং অর্ডারে রোহিত ও লোকেশ রাহুল শুরুতে থাকছেন। তিনে কোহলি, চারে সম্ভবত ঋষভ পন্থ, পাঁচে সূর্যকুমার যাদব, ছয়ে হার্দিক পান্ডিয়া। স্পিনার অলরাউন্ডার হিসেবে থাকছেন রবীন্দ্র জাদেজ। দুই জোরে বোলার যশপ্রীত বুমরা ও মহম্মদ সামি। দুই স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T‌20 World Cup : ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জার মুখে পড়ল গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ

২০১৬ টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ৫ বছর পর মধুর প্রতিশোধ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চূর্ণ করে এবার টি২০ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইংল্যান্ড। ক্যারিবিয়ানদের চরম লজ্জার মুখে ফেলে ৬ উইকেটে জিতল ইংরেজরা। আগের বারের টি২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং চরম দুরাবস্থার সামনে পড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনও ব্যাটারই ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। টস জিতে এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইওয়িন মর্গ্যান। ক্যারিবিয়ানদের দলে অনেক তাবড় তাবড় ব্যাটার রয়েছেন। ক্রিস গেল, কায়রন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেলরা সারা বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টি২০ ক্রিকেট লিগ খেলে বেড়ান। অথচ দেশের হয়ে মাঠে নেমে কেউই জ্বলে উঠতে পারলেন না। মাত্র ৫৫ রানে অল আউট। ১৪.২ ওভারের বেশি স্থায়ী হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে লুইসকে (৩) তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ধাক্রা দিয়েছিলেন ক্রিস ওকস। সেই ধাক্কা সামলাতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। তৃতীয় ওভারেই মইন আলি তুলে নেন সিমন্সকে (৬)। এক ওভার পরেই মইন ফেরান হেটমায়েরকে (৯)। গেল (১৩) ছাড়া আর কোনও ক্যারিবিয়ান ব্যাটার দুঅঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি। ডোয়েন ব্র্যাভো (৫), নিকোলাস পুরান (১), পোলার্ড (৬), রাসেল (০) সবাই ব্যর্থ। ১৪.২ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। দুর্দান্ত বোলিং করেন স্পিনার আদিল রশিদ। ২.২ ওভারে ২ রানে তুলে নেন ৪ উইকেট। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরকে জোরালো ধাক্কা দেন মইন। তিনি ১৭ রানে ২ উইকেট নেন। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৫৬ রান। ইংল্যান্ড তো দুরের কথা, নামিবিয়ারও এই রান তুলতে সমস্যা হত না। তবু ৫৬ রান তুলতে ৪ উইকেট হারাতে হয় ইংল্যান্ডকে। ৩.১ ওভারে রবি রামপালের বলে ক্রিস গেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জেসন রয় (১০ বলে ১১)। দলের ৩০ রানের মাথায় ৯ রান করে আকিল হোসেনের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হন জনি বেয়ারস্টো। এরপর জস বাটলারের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন মইন আলি (৩)। নিজের বলে দুরন্ত ক্যাচ নিয়ে লিয়াম লিভিংস্টোনকে (১) আউট করেন আকিল। এরপর দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে দেন বাটলার ও অধিনায়ক ইওয়িন মর্গ্যান। ২২ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন বাটলার। ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন মর্গ্যান। ৬ উইকেটে জেতে ইংল্যান্ড।

অক্টোবর ২৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার

টি২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ ১কে গ্রুপ অফ ডেথ বললে অত্যুক্তি হবে না। একটু হোঁচট খেলেই বিপদ। প্রতিটা ম্যাচই যে উত্তেজক পর্যায়ে পৌঁছবে, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। যার প্রমাণ পাওয়া গেল প্রথম ম্যাচেই। স্কোর বোর্ডে কম রান তুলেও দুর্দান্ত লড়াই করে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। তবে শেষরক্ষ হল না। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক জস হ্যাজেলউড। তাঁর দাপটেই ব্যাটিং বিপর্যয় প্রোটিয়াদের। দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচের সেরার পুরস্কারও ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। আবুধাবি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। দ্বিতীয় ওভারেই অধিনায়ক বাভুমাকে (১২) তুলে নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। এরপরই জ্বলে ওঠেন জস হ্যাজেলউড। ফেরান ভ্যান ডার ডুসেনকে (৭)। এক ওভার পরেই তুলে নেন কুইন্টন ডিকককে (২)। ৪.১ ওভারের মধ্যে ২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। চাপ আরও বেড়ে যায় অষ্টম ওভারের শেষ বলে ক্লাসেন আউট হওয়ায়। ১৩ বলে ১৩ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন ক্লাসেন। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মার্করাম ও ডেভিড মিলার। অ্যাডাম জাম্পার বলে মিলার (১৬) আউট হতেই ধস নামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে। একে একে আউট হন প্রিটোরিয়াস (১), মাহরাজ (০), মার্করাম (৩৬ বলে ৪০)। রাবাডা ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১৮ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেট নেন হ্যাজেলউড। জয়ের জন্য ১১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে নর্টিয়ের বলে শূন্য রানে আউট হন ফিঞ্চ। অন্য ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ১৫ বলে ১৪ রান করে রাবাডার বলে ফিরে যান। অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে মিচেল মার্শকে ফেরান কেশব মহারাজ। ১১ রান করে মার্শ আউট হন। এরপর স্টিভ স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল দলকে টেনে নিয়ে যান। দলের ৮০ রানের মাথায় নর্টিয়ের বলে আউট হন স্টিভ স্মিথ। ৩৪ বলে তিনি করেন ৩৫ রান। তাবরেজ শামসিকে সুইচ হিট করতে গিয়ে বোল্ড হন ম্যাক্সওয়েল (১৮)। ম্যাক্সওয়েল আউট হওয়ার পর চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত মাথা ঠাণ্ডা রেখে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন মার্কাস স্টয়নিস (অপরাজিত ২৪) ও ম্যাথু ওয়েড (অপরাজিত ১৫)। ২ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে ১২১ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

অক্টোবর ২৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌T20 World Cup : বিশ্বকাপে সুপার ১২–র ছাড়পত্র!‌ অভিষেকেই চমক নামিবিয়ার

ক্রেগ ইয়ংয়ের বলে ডেভিড উইসের শট এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি লাইনে আছড়ে পড়তেই বিজয়োৎসবে মেতে উঠলেন নামিবিয়ার ক্রিকেটাররা। প্রত্যেকের চোখে জল। আবেগে ভেসে যাচ্ছেন সবাই। এটাই তো স্বাভাবিক। টি২০ বিশ্বকাপের সুপার ১২র ছাড়পত্র যে এসে গেছে। পরপর দুটি ম্যাচ জিতে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে পড়ল ছোট্ট দেশ নামিবিয়া। টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বেশিদিন অভিষেকও হয়নি, ২০১৯ সালের ২০ মে প্রথম টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ। সেই দেশ এবার লড়াই করবে ভারত, পাকিস্তানের মতো শক্তিধর দেশগুলির সঙ্গে। প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ এর প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হয়েছিল নামিবিয়াকে। আগের ম্যাচে হল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়। শুক্রবার আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে ২০২১ টি২০ বিশ্বকাপের সুপার ১২এর ছাড়পত্র। এই প্রথম টেস্ট খেলিয়ে দেশের বিরুদ্ধে প্রথম জয় পেল নামিবিয়া।গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ায় সুপার ১২তে ২ নম্বর গ্রুপে খেলবে নামিবিয়া। এই গ্রুপের অন্য দেশগুলি হল ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড। অন্যদিকে, গ্রুপ ১য়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। তুলনামূলকভাবে গ্রুপ ২ সহজতর। দুটি গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স সেমিফাইনালে উঠবে। আয়ারল্যান্ডের সামনেও সুযোগ ছিল সুপার ১২এ যাওয়ার। সেক্ষেত্রে তাদের জিততেই হত। অন্যদিকে, নামিবিয়ার সামনেও জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১২৫/৮ রানের বেশি তুলতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার পল স্টার্লিং (২৪ বলে ৩৮)। কেভিন ওব্রায়েন করেন ২৫ এবং অধিনায়ক অ্যান্ডি ব্যালবির্নি ২১। এই তিনজন ছাড়া আর কোনও ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছায়নি। জান ফ্রাইলিঙ্ক ৪ ওভারে ২১ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট দখল করেন। ডেভিড উইসে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। ব্যাট করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তুলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নামিবিয়া। ৪৯ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক জেরার্ড এরাসমাস। ১৪ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন উইসে। ওপেনার ক্রেগ উইলিয়ামস (১৫) ও জেন গ্রিন (২৪)-এর উইকেট দুটি নেন কার্টিস ক্যাম্ফার। এরাসমাস ও উইসের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে ওঠে ৫৩ রান। ম্যাচের সেরা হয়েছেন ডেভিড উইসে।

অক্টোবর ২২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌T20 WC -Wasim Akram : আক্রামের মতে কোহলির সমকক্ষ হতে বাবর আজমের সময় লাগবে

ভারতপাকিস্তান দ্বৈরথের আগে সবসময় তুলনায় চলে আসেন দুই দলের অধিনায়ক। ২৪ অক্টোবর বিশ্বকাপ অভিযানে নামবে ভারত ও পাকিস্তান। দুই দেশের মহারণের আগেই তুলনায় টানা শুরু হয়ে গেছে বিরাট কোহলি ও বাবর আজমের মধ্যে। কারও মতে বিরাট কোহলি পাকিস্তান অধিনায়কের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। কেউ আবার মনে করছেন, দুজনের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াসিম আক্রাম মনে করেন, কোহলির সমকক্ষ হতে বাবার আজমের সময় লাগবে। বাবর এখন উন্নতির পর্যায়ে রয়েছে। আক্রাম বলেছেন, বিরাট কোহলি, কোহলিই। ওর সঙ্গে এই মুহূর্তে কারও তুলনা করা উচিত নয়। কোহলি বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে। প্রচুর রান করেছে। দেশকে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাবর আজম সবে মাত্র একবছর হল দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে একটা কথা বলব, দক্ষতার দিক থেকে বাবর দুর্দান্ত। সব ধরণের ফর্ম্যাটে দারুণ ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে। নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টা ভালভাবে শিখছে। দ্রুত শেখার ক্ষমতা আছে। এই মুহূর্তে বিরাট কোহলির সঙ্গে বাবরের তুলনা করাটা ঠিক হবে না। কোহলি এখন যে অবস্থায় আছে বাবর ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবেই সেইদিকে এগিয়ে যাবে। মাত্র এক বছর হল সব ধরণের ফরম্যাটে দেশকে নেতৃত্বে দিচ্ছেন বাবর আজম। ইতিমধ্যেই তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা প্রশংসিত হচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের র্যাঙ্কিংয়েও কোহলিকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। টি২০ ক্রিকেটে বিশ্বকাপের পরেই দেশের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তর কথা ঘোষণা করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তাঁর নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তে অবাক ওয়াসিম আক্রাম। তিনি বলেছেন, টি২০ ক্রিকেটে বিরাট কোহলির নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তে আমি অবাক। তবে একটা কথা বলব, বর্তমান পরিস্থিতিতে একসঙ্গে তিন ধরণের ফরম্যাটে খেলা খুবই কঠিন। আর আইপিএল তো চতুর্থ ফরম্যাট। এই প্রতিযোগিতাতেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো চাপ থাকে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যর্থ হলেই মালিকদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তবে টি২০ ক্রিকেটে নেতৃত্ব ছাড়ায় কোহলির লাভ হবে বলে মনে করছেন ওয়াসিম আক্রাম। তাঁর যুক্তি, এর ফলে কোহলি অনেক চাপমুক্ত হয়ে ভরডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারবে।

অক্টোবর ২২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : সুপার ১২–তে বাংলাদেশ, আফ্রিদির রেকর্ড স্পর্শ সাকিবের

স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ হেরে আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। আদৌও সুপার ১২র ছাড়পত্র পাবে তো? দ্বিতীয় ম্যাচে ওমানের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়। তবুও অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল বাংলাদেশ শিবির, গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না। মরণবাঁচন ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনিকে ৮৪ রানে উড়িয়ে সুপার ১২এ জায়গা করে নিল বাংলাদেশ। ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে ম্যাচের নায়ক সাকিব আল হাসান। এদিন তিনি টি২০ বিশ্বকাপে শাহিদ আফ্রিদির সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহের রেকর্ড স্পর্শ করেন।টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই ফিরে যান আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাট করা মহম্মদ নঈম (০)। অধিনায়ক মাহমুদুল্লা ও সাকিব আল হাসানের সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮১/৭ রান তোলে বাংলাদেশ। ৩টি চার ও ৩টি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৫০ রান করেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। অন্যদিকে সাকিব আল হাসান ৩৭ বলে করেন ৪৬। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৩টি ৬। লিটন দাস করেন ২৯, আফিফ হোসেন ২১, মুশফিকুর রহিম ৫। ৬ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মহম্মদ সৈফুদ্দিন। পাপুয়া নিউ গিনির হয়ে কাবুয়া মোরেয়া, ড্যামিয়েন রাভু ও আসাদ ভালা ২টি করে উইকেট নেন।জয়ের জন্য ১৮২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাপুয়া নিউ গিনি। ১১ ওভারের মধ্যে ২৯ রানে ৭ উইকেট হারায়। ২০১৪ টি২০ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হল্যান্ড মাত্র ৩৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। পাপুয়া নিউ গিনিকে সবথেকে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করেন কিপলিন ডরিগা। তিনি দলকে টেনে নিয়ে যান। শেষ পর্যর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ৯৭ রানে শেষ হয় পাপুয়া নিউ গিনির ইনিংস। ৩৪ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকলেন ডরিগা। পাপুয়া নিউ গিনির ইনিংসে ধস নামান সাকিব আল হাসান। তিনি ৪ ওভারে ৯ রানে ৪ উইকেট নেন। টি২০ বিশ্বকাপে সাকিবের উইকেটসংখ্যা হল ৩৯। খেলেছেন ২৮ ম্যাচ। ৩৯ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকার শীর্ষে ছিলেন পাকিস্তানের শাহিদ আফ্রিদি। সাকিব আফ্রিদিকে স্পর্শ করেছেন। মহম্মদ সৈফুদ্দিন ও তাস্কিন আহমেদ ২টি করে উইকেট দখল করেন। এই জয়ের ফলে বাংলাদেশের ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট।গ্রুপের অন্য ম্যাচে ওমানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সুপার ১২তে গেল স্কটল্যান্ড। তাদের ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট। বাংলাদেশ দ্বিতীয় হয়ে সুপার ১২তে গেল। বাংলাদেশের ৩ ম্যাচে পয়েন্ট ৪। এদিন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ওমান তোলে ১২২। ১৭ ওভারে ১২৩/২ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় স্কটল্যান্ড।

অক্টোবর ২১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli vs Babar Azam : কোহলি–বাবর মুখোমুখি লড়াইয়ে কে এগিয়ে?‌ টি২০ বিশ্বকাপের আগে দ্বৈরথে দুই অধিনায়ক

২৪ অক্টোবর আগামী রবিবার টি২০ বিশ্বকাপের দ্বৈরথ ভারত ও পাকিস্তানের। ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন বিরাট কোহলি, অন্যদিকে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন বাবর আজম। টি২০ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে এই দুজন প্রথমবার মুখোমুখি হবেন। এতদিন টি২০ বিশ্বকাপে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। অন্যদিকে, পাকিস্তান বেশ কয়েকজনের নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে টি২০ বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছে। ভারতপাকিস্তান ম্যাচ এলেই তুলনা এসে যায় দুই দলের অধিনায়কের। বিরাট কোহলি ও বাবর আজমও অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম নন।টি২০ ফরম্যাটে বিরাট কোহলির থেকে এগিয়ে রয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। টি২০ আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে এই মুহূর্তে বাবর আজম রয়েছেন দু নম্বরে। অন্যদিকে বিরাট কোহলি রয়েছেন চার নম্বরে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন বাবর আজম। আইসিসির বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক রয়েছেন ১ নম্বরে। অন্যদিকে বিরাট কোহলি রয়েছেন দুই নম্বরে। শুধু মাত্র টেস্ট ক্রিকেটেই বাবর আজমের থেকে এগিয়ে রয়েছেন কোহলি। তাও আবার খুব বেশি এগিয়ে নেই। কোহলি রয়েছেন ষষ্ঠ স্থানে, আর বাবর আজম রয়েছেন সাত নম্বরে।বিরাট কোহলির পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি২০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও বাবর আজমের নেই। এই প্রথম টি২০ ফরম্যাটে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবেন বাবর আজম, তাও আবার অধিনায়ক হিসেবে। আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেটে বাবার আজম ৬১ ম্যাচে ২২০৪ রান করেছেন। গড় ৪৬.৮৯, স্ট্রাইক রেট ১৩০.৬৪। সর্বোচ্চ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১২২। ১টি শতরান ও ২০টি অর্ধশতরান রয়েছে বাবরের। ২০২১ সালে ১৭ ম্যাচে ৫২৩ রান করেছেন, সর্বোচ্চ ১২২। গড় ৩৭.৩৫, স্ট্রাইক রেট ১৩২.৭৪। ১টি শতরান ও ৪টি অর্ধশতরান রয়েছে।অন্যদিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৬টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন বিরাট কোহলি। প্রথম খেলেছিলেন ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় টি২০ বিশ্বকাপে। ৬১ বলে অপরাজিত ৭৮ রান করে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন। ওই বছরই দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে বেঙ্গালুরুতে ৯ রান করেছিলেন কোহলি। আমেদাবাদে করেন ২৭। ২০১৪ সালে ঢাকায় টি২০ বিশ্বকাপে ৩৬ রান করে দলকে জিতিয়েছিলেন কোহলি। ২০১৬ সালে এশিয়া কাপে ৫১ বলে ৪৯ রান করে ম্যাচের সেরা হন বিরাট কোহলি। ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে ইডেনে ৩৭ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করেন তিনি। ম্যাচের সেরাও হয়েছিলেন। সবমিলিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৬ ম্যাচে কোহলির সংগ্রহ ২৫৪ রান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭৮। গড় ৮৪.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১১৮.৬৯। ২টি অর্ধশতরান রয়েছে।

অক্টোবর ২১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌‌India vs Pakistan : ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে কোন দুজন ক্রিকেটার পার্থক্য গড়ে দেবেন?‌ জানতে পড়ুন

ক্রিকেট মাঠে ভরতপাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই অন্য উত্তেজনা। প্রচন্ড চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হয় দুদেশের ক্রিকেটারদের। তবে সবথেকে বেশি চাপে থাকেন দুই দেশের অধিনায়ক। ব্যর্থ হলেই সমালোচনার তির ধেয়ে আসে তাঁদের দিকে। কারণ, অধিনায়কদের সামান্য ভুলই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। ২৪ অক্টোবর টি২০ বিশ্বকাপে ভারতপাকিস্তান ম্যাচে বিরাট কোহলি ও বাবর আজমের মস্তিষ্কই ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন পাকিস্তানের ব্যাটিং পরামর্শদাতা ম্যাথু হেডেন।অস্ট্রেলিয়ার এই প্রাক্তন ক্রিকেটার মনে করেন ভারতপাকিস্তান ম্যাচে দলকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়াটাই আসল ব্যাপার। অধিনায়কদের সামান্য ভুলই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। হেডেন বলেছেন, ভারতপাকিস্তান ম্যাচে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে দুই দেশের অধিনায়কের ভুমিকা। এই ম্যাচে দলকে সুচারুভাবে পরিচালনা করাই আসল। অধিনায়কের সামান্য ভুল ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেবে। আরব আমীরশাহীর পরিবেশে ছোটখাট ভুলই মারাত্মক হয়ে দাঁড়াবে।হেডেন মনে করেন, অধিনায়কদের ব্যক্তিগত পারফরমেন্স দলের সাফল্যে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। এই ব্যাপারে তিনি তুলে ধরেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও ইওয়িন মর্গ্যানের উদাহরণ। আইপিএলে ব্যাট হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ এই দুই অধিনায়ক। অথচ তাঁদের নেতৃত্বে আইপিএল ফাইনালে উঠেছিল চেন্নাই সুপার কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্স। হেডেন বলেছেন, আইপিএলেমহেন্দ্র সিং ধোনি ও ইওয়িন মর্গ্যানের ব্যক্তিগত পারফরমেন্স খুবই খারাপ ছিল। ব্যাট হাতে রান পায়নি। কিন্তু দুজনই দলকে দারুণ নেতৃত্ব দিয়েছিল।পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম অধিনায়ক হিসেবে দারুণ ভুমিকা পালন করছেন বলে মনে করেন হেডেন। তাঁর মতে ব্যাট হাতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে বিশ্বকাপে দুই দেশের অধিনায়ককেই চাপ নিয়ে মাঠে নামতে হবে বলে হেডেন মনে করেন। তাঁর কথায়, দলকে জেতানোর জন্য কোহলি ও বাবরের ওপর চাপ থাকবে। বাবর অবশ্য দলকে খুব ভাল নেতৃত্ব দিচ্ছে। ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করছে। আশা করছি পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও নিজেকে মেলে ধরবে।

অক্টোবর ২১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : নেতা রোহিত, বল হাতে কোহলি, প্রস্তুতি ম্যাচে চমক ভারতের

টি২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চমক ভারতের। তবে হার্দিক পান্ডিয়ার হাত ধরে নয়, চমক এল রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির হাত ধরে। বিরাট কোহলি মাঠে থাকতেও অ্যারন ফিঞ্চের দলের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের আর্ম ব্যান্ড রোহিত শর্মার হাতে। এখানেই শেষ নয়, অধিনায়ক রোহিত বল করতে ডাকেন বিরাট কোহলিকে। চমক ছাড়া আর কীই বা বলবেন? বিশ্বকাপে তাহলে কি ষষ্ঠ বোলারের দায়িত্ব পালন করবেন কোহলি? এদিন বল হাতে হয়তো তার মহড়া দিয়ে নিলেন।২৪ অক্টোবর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি২০ বিশ্বকাপে মাঠে নামা আগে প্রথম একাদশ গুছিয়ে নেওয়ার এটাই শেষ সুযোগ ছিল ভারতের কাছে। ফিল্ডিং করতে নামলেও ব্যাটার কোহলিকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল যশপ্রীত বুমরা ও মহম্মদ সামিকেও। নজর ছিল হার্দিক পান্ডিয়ার দিকে। এদিনও তিনি বোলিং করেননি। টসের সময় রোহিত বলেছিলেন, হার্দিক কয়েকদিনের মধ্যেই নেটে বোলিং শুরু করবে। আশা করছি প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগেই বোলিং করার মতো জায়গায় চলে আসবে। ষষ্ঠ বোলারের অভাব মেটাতেই হয়ত বল হাতে তুলে নেন কোহলি। ২ ওভার হাত ঘুরিয়ে দেন ১২ রান।এদিন ভারতের বিরুদ্ধে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেও ডেভিড ওয়ার্নার ব্যর্থ। মাত্র ১ রান করে তিনি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে আউট হন। মিচেল মার্শ (০), অ্যারন ফিঞ্চও (৮) ব্যর্থ। স্টিভ স্মিথ (৫৭), ম্যাক্সওয়েল (৩৭), স্টয়নিসের (অপরাজিত ৪১) দাপুটে ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫২ তোলে অস্ট্রেলিয়া। এদিন বরুণ চক্রবর্তীকে খেলানো হয়েছিল। ২ ওভারে তিনি ২৩ রান দেন। শার্দূল ঠাকুর, রবীন্দ্র জাদেজারা বল হাতে নিজেদের মেলে ধরতে না পারলেও নজর কাড়লেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রাহুল চাহাররা।অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাটিং অর্ডারে এদিন কিছুটা রদবদল করা হয়েছিল। লোকেশ রাহুলের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন রোহিত। এই জুটিই বিশ্বকাপে ওপেন করবেন। জুটিতে ওঠে ৬৮। লোকেশ ৩৯ রান করে আউট হন। তিন নম্বে নেমে সূর্যকুমার যাদেব ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। রোহিত শর্মা ৬০ রান করে অবসর নেন। হার্দিক পান্ডিয়া ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১৭.৫ ওভারে ১৫৩/১ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

অক্টোবর ২০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

DHONI-INDIYA : ধোনিকে ড্রেসিংরুমে পেয়ে উদ্দীপ্ত টিম ইন্ডিয়া

টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সহজ জয় পেয়েছে ভারত। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও ঈশান কিষান। রান পেয়েছেন ৪ নম্বরে ব্যাট করতে নামা ঋষভ পন্থও। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটাররা পরীক্ষিত হলেও চিন্তা থেকে গেছে হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রস্তুতিতে ম্যাচে প্রথম একাদশ বেছে নেওয়ার শেষ সুযোগ।সবকটি টি২০ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এবারও তিনি ভারতের ড্রেসিংরুমে থাকবেন। তবে মেন্টর হিসেবে। এটাই উদ্দীপ্ত করছে কোহলি ব্রিগেডকে। ধোনির ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্ক দলের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত গোটা দল। যেমন ওপেনার লোকেশ রাহুল বলেছেন, ধোনির আবার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমরা তাঁর অধিনায়কত্বে খেলেছি। তখনও ধোনিকে আমরা মেন্টর হিসেবেই দেখতাম। যখন ধোনি অধিনায়ক ছিলেন তখনও তাঁর ড্রেসিংরুমের উপস্থিতি আমাদের ভালো লাগত। ভালো লাগত তাঁর শান্ত স্বভাব। যেভাবে চাপের মুখেও ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলান তা শিক্ষণীয়। ধোনিকে ভারতীয় দলে আমাদের মধ্যে পেয়ে যেমন পরিস্থিতি উপভোগ করছি, তেমনই অনেক মজাও হচ্ছে।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে খেলানো হয়নি রোহিত শর্মা ও বরুণ চক্রবর্তীকে। শার্দুল ঠাকুরকে দিয়ে বোলিংও করাননি বিরাট। তিনি বলেছিলেন, প্রথম ম্যাচের প্রথম একাদশ প্রায় ঠিকই রয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে সকলকেই ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ দিয়ে দেখে নেওয়া হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে এই তিন ক্রিকেটারকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই ম্যাচেই প্রথম একাদশ ঠিক করে নিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। যশপ্রীত বুমরা প্রথম একাদশে থাকবেনই। মহম্মদ শামি ইংল্যান্ড ম্যাচে দারুণ বোলিং করে চাপ বাড়িয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমারের উপর। ইংল্যান্ড ম্যাচে ভুবি চার ওভারে ৫৪ রান দিয়েছেন। তাঁর পরিবর্তে তৃতীয় সিমার হিসেবে খেলানো হতে পারে শার্দুল ঠাকুরকে।স্পিনার হিসেবে ভাবা হয়েছে রবীন্দ্র জাদেজা, বরুণ চক্রবর্তী ও রাহুল চাহারকে। তবে অনেকে মনে করছেন, অভিজ্ঞতার নিরিখে চাহারের পরিবর্তে অশ্বিনে আস্থা রাখতেই পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে হার্দিক পাণ্ডিয়ার বোলিং করতে না পারা ভারতের পারফরম্যান্সে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলেই দাবি তিরাশির বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক কপিল দেবের।

অক্টোবর ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

K‌apil Dev-Hardik Pandya: কপিলের মতে, হার্দিক বোলিং না করলেও প্রভাব পড়বে না

অলরাউন্ডার হিসেবে ভারতের টি২০ বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। অথচ বিশ্বকাপে তাঁর বল করা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পিঠে চোটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বোলিং করছেন না। এমনকি আইপিএলেও তাঁকে বল হাতে দেখা যায়নি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৪ অক্টোবর বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগে হার্দিকের বোলিং করতে না পারাটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।অনেকের মতে বিশ্বকাপে টি২০ বিশ্বকাপে হার্দিক যদি বোলিং না করেন, তাহলে ভারতের কাছে সেটা বড় ধাক্কা। কারণ বিরাট কোহলির কাছে বোলিং অপশন কমে যাবে। ভারতের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব অবশ্য মনে করছেন, হার্দিক বোলিং না করলেও কোনও প্রভাব পড়বে না। হার্দিকের অভাব মিটিয়ে দেওয়ার মতো বোলিং শক্তি ভারতীয় দলের রয়েছে। কপিলদেব বলেছেন, অলরাউন্ডার দলের মধ্যে থাকলে পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশ্বকাপে হার্দিক যদি বোলিং নাও করে, তবুও ভারতের সাফল্যে প্রভাব পড়বে না। হয়তো বিরাট কোহলির কাছে বোলিং অপশন কমে যাবে। দলে অলরাউন্ডার থাকলে অধিনায়কের হাতে অপশন বেড়ে যায়, একজন বোলার ব্যর্থ হলে অলরাউন্ডারের হাতে বল তুলে দিতে পারে।কপিলদেব আরও বলেছেন, হার্দিকের মতো প্রতিভা দলের সম্পদ। যদি ২ ওভারও বোলিং করতে পারে তাহলে দলে অনেকটা ফ্লেক্সিবিলিটি আসবে। তবে আমার মনে হয় ওর অভাব মিটিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা ভারতীয় দলের রয়েছে। পিঠে চোট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বোলিং করছেন না। আইপিএল চলাকালীন নেটে বোলিং করলেও ম্যাচে করেননি। কপিলদেব মনে করেন, একজন অলরাউন্ডারের পক্ষে সম্পূর্ণ চোট সারিয়ে মাঠে ফেরা যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ। আত্মবিশ্বাস ফিরতে সময় লাগে। তাঁর কথায়, যদি নেটে ৪০৫০টা বল করতে পারে, তাহলে ম্যাচে বোলিং করার মতো আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে। না হলে কিন্তু ম্যাচে বোলিং করার মতো আত্মবিশ্বাস ফিরবে না।আইপিএলে বোলিং না করলেও অনেকে আশা করেছিলেন, টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং করবেন হার্দিক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য তাঁর হাতে বল তুলে দেননি কোহলি। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত। এই ম্যাচেও সকলের নজর থাকবে হার্দিকে ওপর। যদি তিনি বোলিং না করেন, সত্যিই সমস্যায় পড়তে হবে ভারতকে। কারণ বিরাট কোহলির হাতে বোলিং অপশন কমে যাবে। হার্দিককে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলালে ষষ্ঠ বোলারের অভাবে ভুগতে হবে ভারতকে।

অক্টোবর ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌T20 World Cup : প্রস্তুতি ম্যাচে ভারত জিতলেও প্রশ্ন থেকে গেল হার্দিককে নিয়ে

টি২০ বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে সব দলের লক্ষ্য থাকে টিম কম্বিনেশন দেখে নেওয়া। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের প্রস্তুতি ম্যাচে সকলের নজর ছিল হার্দিক পান্ডিয়ার দিকে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বোলিং না করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। আদৌও সম্পূর্ণ সুস্থ তো হার্দিক? আইপিএলে একটা ম্যাচেও বোলিং করেননি। প্রস্তুতি ম্যাচে বোলিং করেন কিনা সেটাই ছিল দেখার। না, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও বল হাতে দেখা গেল না হার্দিককে। বিশ্বকাপে তঁার বল করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। হার্দিক পরীক্ষায় পাশ না করলেও, উত্তীর্ণ ঈশান কিষান। তাঁর সামনেও ছিল বড় পরীক্ষা। ওপেনিংয়ে রোহিত শর্মার সঙ্গে কে জুটি বাঁধবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। যদিও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামার আগে টস করার সময়ই কোহলি ধোঁয়াশা দূর করে দিয়েছিলেন রোহিতের সঙ্গী হিসেবে লোকেশ রাহুলের নাম ঘোষণা করে। তিন নম্বরে নামবেন কোহলি নিজে। তাহলে ঈশান কিষান? হয়তো প্রথম একাদশের বাইরেই থাকতে হবে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে যেভাবে ব্যাটিং করলেন, তাঁকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখা কঠিন হবে। এদিন ব্যাট করতে নেমে ভালোই শুরু করেছিলেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জেসন রয় (১৭) ও জস বাটলার (১৮)। মহম্মদ সামি প্রথম ব্রেক থ্রু দেন বাটলারকে তুলে নিয়ে। জেসন রয়কেও তিনি ফেরান। দাওইদ মালানকে (১৮) আউট করেন রাহুল চাহার। এরপর ইংল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যান জনি বেয়ারস্টো ও লিভিংস্টোন। লিভিংস্টোনকে (৩০) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন সামি। বুমরার দুরন্ত ইয়র্কারে বোল্ড হন বেয়ারস্টো (৪৯)। শেষ দিকে মঈন আলির (২০ বলে অপরাজিত ৪৩) ঝড়ে ২০ ওভারে ১৮৮/৫ রানে পৌঁছয় ইংল্যান্ড। ব্যাট করতে নেমে ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও ঈশান কিষান দারুণ শুরু করেছিলেন। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৮২। এরপর মার্ক উডের বলে আউট হন লোকেশ রাহুল (২৪ বলে ৫৪)। ঈশান কিশান ৪৬ বলে করেন ৭০। দুই ওপেনার দাপট দেখালেও গেলেও প্রস্তুতি ম্যাচে রান নেই কোহলি ( ১৩ বলে ১১), সূর্যকুমারদের (৮) ব্যাটে। লোকেশ ও ঈশানই ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন। বাকি কাজ সারেন ঋষভ পন্থ (১৪ বলে অপরাজিত ২৯) ও হার্দিক পান্ডিয়া (১০ বলে অপরাজিত ১২)। ১ ওভার বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জয় ভারতের (১৯২/৩)।

অক্টোবর ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌T20 World Cup : ৪ বলে ৪ উইকেট!‌ কার্টিস ক্যাম্ফারের বিরল নজির টি২০ বিশ্বকাপে

একই ইনিংসে পরপর ৪ বলে ৪ উইকেট! হ্যাঁ, এমন অভাবনীয় নজির ঘটেছে টি২০ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড ও হল্যান্ড ম্যাচে। আর এই বিরল নজির ঘটিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের বোলার কার্টিস ক্যাম্ফার। পরপর ৪ বলে ৪ উইকেট তুলে নেন ক্যাম্ফার। ইনিংসের শেষ ওভারেও ৩ বলে ৩ উইকেট হারায় হল্যান্ড। অ্যাডায়ার তুলে নেন ২ উইকেট, ১টা রান আউট। এই দুই বোলারের দাপটে হল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে ৭ উইকেটে সহজ জয় আয়ারল্যান্ডের। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হল্যান্ডের অধিনায়ক পিটার সিলার। শুরুটা একেবারেই ভাল হয়নি হল্যান্ডের। প্রথম ওভারেই রান আউট হন বেন কুপার (০)। শুরু থেকেই রান তোলার গতি মন্থর ছিল হল্যান্ডের। পঞ্চম ওভারে আউট হন বাস ডি লিডে (৭)। ম্যাচের দশম ওভারে চমক কার্টিস ক্যাম্ফারের। দ্বিতীয় বলে তুলে নেন অ্যাকেরম্যানকে (১১)। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ফেরান যথাক্রমে টেন ডশকাটে (০), স্কট এডওয়ার্ডস (০) ও ভ্যান ডার মারউইকে (০)। অ্যায়ারল্যান্ডের ২২ বছর বয়সী অলরাউন্ডার কার্টিস ক্যাম্ফারের এটাই জীবনের সেরা বোলিং। ৪ ওভারে ২৬ রানে তিনি ৪ উইকেট নেন। চলতি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক হয়ে গেলেন। তবে পরপর ৪ বলে ৪ উইকেট টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম নয়। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেই এই নজির গড়েছিলেন আফগানিস্তানের রশিদ খান। ২০১৯ সালেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরপর ৪ বলে ৪ উইকেট পান শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। টি২০ বিশ্বকাপে এর আগে একমাত্র হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার ব্রেট লি, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের টি২০ বিশ্বকাপে।৫১ রানে ২ উইকেট থেকে হল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৫১। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান ম্যাক্স ওডোওড (৪৭ বলে ৫১) ও অধিনায়ক সিলার। হল্যান্ডের ইনিংসের শেষ ওভারে আবার নাটক। অ্যাডায়ার চতুর্থ বলে তুলে নেন সিলারকে (২১)। পঞ্চম বলে লোগান ভ্যান বিক (১১) রান আউট। ষষ্ঠ বলে ফেরান ব্রেন্ডন গ্লোভারকে (০)। ৯ রানে ৩ উইকেট নেন অ্যাডায়ার। হল্যান্ডের হয়ে একা লড়াই করেন ম্যাক্স ওডোওড। তাঁর সৌজন্যেই ২০ ভারে ১০৬ তোলে হল্যান্ড। জয়ের জন্য একেবারেই বেগ পেতে হয়নি আয়ারল্যান্ডকে। কেভিন ওব্রায়েন (৯)। আন্দ্রে বলবিরাইন (৮) দ্রুত ফিরে গেলেও পল স্টার্লিং (অপরাজিত ৩০) ও গ্যারেথ ডিলেনি (৪৪)। দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ১৫.১ ওভারে ১০৭/৩ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় আয়ারল্যান্ড।

অক্টোবর ১৮, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal