• ৯ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Sp

খেলার দুনিয়া

ফাইনালে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, সামনে এল চমকপ্রদ কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে রবিবার স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই মহারণে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তবে সবার নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সিদ্ধান্ত।ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না।কুসংস্কারই সিদ্ধান্তের মূল কারণআর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মিলেই বিশ্বাস করেন যে তিনি যেভাবে পুরো বিশ্বকাপ চলাকালীন বুয়েনস আইরেসের সরকারি বাসভবন থেকেই প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন, সেই রীতি ভাঙলে দলের ভাগ্যে প্রভাব পড়তে পারে।তিনি নিজের এই ম্যাচ-ডে রুটিনকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। এমনকি একটি নির্দিষ্ট জ্যাকেটও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরেন, যা তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী আর্জেন্টিনার জন্য শুভ। তাই ফাইনালের মতো ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে সেই অভ্যাস বদলাতে নারাজ তিনি।আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে কাবালাআর্জেন্টিনায় ফুটবলকে ঘিরে কাবালা (Cbala) বা সৌভাগ্যের কুসংস্কার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করেন।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তবিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মিলেইও সেই সংস্কৃতিরই অংশ। তাঁর বিশ্বাস, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলবেন, ততক্ষণ আর্জেন্টিনার সৌভাগ্য অটুট থাকবে।ঐতিহাসিক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বরবিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা।বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই মহারণের দিকে। আর সেই সময় দেশের প্রেসিডেন্ট মাঠে না থাকলেও, নিজের লাকি রুটিন বজায় রেখে টেলিভিশনের সামনে থেকেই দলের জন্য শুভকামনা জানাবেন হাভিয়ের মিলেই।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

আবারও স্পেনের কাছে অসহায় ফ্রান্স! বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে দিল ইয়ামালের দল

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে যে ফ্রান্সকে দেখে শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে হয়েছিল, নকআউটে সেই দলকে যেন চিনতেই পারল না ফুটবল বিশ্ব। স্পেনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ছন্দহীন ফুটবল খেলল দিদিয়ের দেশঁর দল । আক্রমণে এমবাপে, বার্কোলা ও ওলিসে থাকলেও তাঁদের খেলায় ছিল না ধার, ছিল না পরিকল্পনা। অন্যদিকে বল দখল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে আবারও ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল স্পেন।ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সের আক্রমণ আটকে দেয় স্পেনের মাঝমাঠ। এমবাপেরা বারবার আক্রমণে উঠলেও শেষ মুহূর্তে থেমে যায় সব চেষ্টা। ম্যাচের কুড়ি মিনিটে বক্সের মধ্যে ইয়ামালকে ফাউল করেন দিগনে। পেনাল্টি থেকে নিশ্চিত গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল।এর কিছুক্ষণ পরই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়াম সালিবা। এতে ফ্রান্সের রক্ষণ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধে স্পেন একের পর এক আক্রমণ করলেও ঝুল কুন্ডে ও উপামেকানো কয়েকবার বিপদ সামাল দেন। কিন্তু ফ্রান্সের আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচেই কার্যত নিষ্প্রভ ছিল। এমবাপে ঠিকমতো বলই পেলেন না, আর যে কটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলিও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ফরাসি ফুটবলাররা।দ্বিতীয়ার্ধে আটান্ন মিনিটে পেদ্রো পোরোর গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রান্স আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মাঝমাঠে বারবার বল হারায় তারা। যে কটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেগুলিও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। তাঁর একের পর এক দুর্দান্ত সেভ স্পেনকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে রাখে।এই জয়ের মাধ্যমে টানা তিনটি বড় প্রতিযোগিতায় ফ্রান্সকে হারাল স্পেন। দুই হাজার চব্বিশ সালের ইউরো কাপ, দুই হাজার পঁচিশ সালের নেশন্স লিগের পর এবার দুই হাজার ছাব্বিশ সালের বিশ্বকাপেও ফ্রান্সকে হারিয়ে দিল তারা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই, কেন বারবার স্পেনের কৌশলের সামনে অসহায় হয়ে পড়ছে ফ্রান্স? তিন বছরেও কেন সেই সমস্যার সমাধান করতে পারলেন না দেশঁ?দীর্ঘ ষোলো বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। এবার কি ইয়ামাল, রদ্রি এবং তাঁদের সতীর্থরা বিশ্বকাপ জিতে নতুন ইতিহাস গড়বেন? সেই উত্তর মিলবে ফাইনালের মঞ্চেই।

জুলাই ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফুয়েন্তের কৌশলের কাছে অসহায় ফ্রান্স, এমবাপেকে নিষ্ক্রিয় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইয়ামালের স্পেন

স্পেনের আধিপত্য, লুই দে লা ফুয়েন্তের নিখুঁত কৌশল এবং দুর্দান্ত দলগত ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারল না ফ্রান্স। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ২-০ গোলে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল লামিনে ইয়ামালদের স্পেন। ম্যাচজুড়ে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলের মতো তারকাদের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখে প্রমাণ করে দিল স্প্যানিশরা কেন এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল।ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই বোঝা যাচ্ছিল স্পেন আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছে। বলের দখল, দ্রুত পাসিং এবং মাঝমাঠে চাপ তৈরি করে ফরাসিদের নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখার চেষ্টা করেন লুই দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। অন্যদিকে দিদিয়ের দেশঁর দল কাউন্টার অ্যাটাকের অপেক্ষায় থাকলেও স্পেনের সুচিন্তিত অফসাইড ট্র্যাপ সেই পরিকল্পনাকে বারবার ব্যর্থ করে দেয়।পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তে এবং পেদ্রো পোরোর নেতৃত্বে স্পেনের রক্ষণভাগ এমনভাবে লাইন ধরে খেলছিল যে এমবাপে ও দেম্বেলে একাধিকবার অফসাইডে ধরা পড়েন। বিশেষ করে এমবাপেকে প্রায় সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখেন কুবারসি। ফলে ফরাসি অধিনায়ক নিজের স্বাভাবিক গতিতে খেলাই গুছিয়ে উঠতে পারেননি।প্রথম দশ মিনিটেই স্পেন একটি বিপজ্জনক ফ্রিকিক পেলেও গোল আসেনি। তবে ২০ মিনিটে ঘটে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত লামিনে ইয়ামালের গায়ে লাথি মেরে বসেন লুকাস ডিগনে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে অনায়াসে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজ়াবাল। দেশের জার্সিতে চলতি মৌসুমে এটি তাঁর ১৪তম গোল, যা স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বাধিক গোলের নতুন নজির।গোল হজম করার পর ফ্রান্স কিছুটা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে। মাঝমাঠে বলের দখল বাড়ালেও শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হতে থাকে। এমবাপে ও দেম্বেলে কয়েকটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন অসাধারণ দক্ষতায় দুবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন। বিপরীতে ইয়ামাল, ওয়ারজ়াবাল এবং আলেক্স বায়েনা নিয়মিতভাবে ফরাসি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।এরই মধ্যে ৩০ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফ্রান্সের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়াম স্যালিবা। তাঁর পরিবর্তে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া নামলেও রক্ষণে স্থিতি ফেরাতে পারেনি ফরাসিরা।দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। কিন্তু স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং অফ দ্য বল মুভমেন্ট বারবার ফরাসিদের হতাশ করে। অন্যদিকে প্রতি আক্রমণে ধার বজায় রাখে স্পেন।৫৮ মিনিটে সেই পরিকল্পনাই সফল হয়। দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফরাসি রক্ষণে তৈরি হওয়া ফাঁক কাজে লাগিয়ে বল পান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের জোরালো শটে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।দুই গোলে পিছিয়ে পড়তেই দেশঁ একের পর এক পরিবর্তন করেন। ব্র্যাডলি বার্কোলার জায়গায় নামানো হয় ডেজ়িরে ডুয়েকে। পরে মাইকেল ওলিসে ও লুকাস ডিগনের পরিবর্তে মাঠে আসেন রায়ান চেরকি ও থিয়ো হার্নান্দেজ়। কিন্তু পরিবর্তনেও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। বরং স্পেনের রক্ষণ আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফরাসি আক্রমণ সামাল দেয়।৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল জালে বল জড়ালেও সামান্য অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। তবুও তরুণ স্প্যানিশ তারকা পুরো ম্যাচজুড়ে নিজের গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতায় ফরাসি রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন।ম্যাচের শেষ দিকে মরিয়া চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। ৮৭ মিনিটে বক্সের সামনে ফ্রিকিক পেলেও এমবাপের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সংযুক্ত সময়েও উসমান দেম্বেলের জোরালো শট অসাধারণ সেভ করে দেন উনাই সিমন। শেষ পর্যন্ত আর গোল শোধ করতে না পেরে ২-০ ব্যবধানেই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল স্পেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে দাপটও বজায় রাখল লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। অন্যদিকে, বড় মঞ্চে দলকে উদ্ধার করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও লিওনেল মেসির মতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপে। পুরো ম্যাচে স্পেনের পরিকল্পিত ফুটবল, রক্ষণশৈলী এবং দলগত সমন্বয়ই ছিল জয়ের মূল চাবিকাঠি।

জুলাই ১৫, ২০২৬
রাজ্য

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ পরিদর্শনে চাঞ্চল্য! হাসপাতালের ভিতরে যা ধরা পড়ল, তারপরই বড় পদক্ষেপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আচমকা পরিদর্শনের পর বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হল। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং পরিষেবা নিয়ে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসার পর বারো জন কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার জন ওয়ার্ড মাস্টার, চার জন নন-মেডিক্যাল সুপার, একজন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিস্টার, প্রসূতি বিভাগের দুই জন সিস্টার ইনচার্জ এবং একজন পরিষেবার মান নিয়ন্ত্রণ আধিকারিক।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আচমকা পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বারান্দায় পরিচ্ছন্নতার অভাব লক্ষ্য করেন। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বারান্দায় বিড়াল ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সেই নির্দেশ মেনেই তদন্তের পর বারো জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারাসত মেডিকেল কলেজ আগে জেলা হাসপাতাল ছিল। এখনও পুরনো ভবনেই অনেক পরিষেবা চালাতে হচ্ছে। ফলে কিছু পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প তৈরি করে স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। খুব শীঘ্রই সেই প্রস্তাব পাঠানো হবে।বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই একাধিক সরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বারাসত মেডিকেল কলেজেও তিনি পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খতিয়ে দেখেন। এরপরই রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে আরও কঠোর নজরদারির ঘোষণা করেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিষেবার মান উন্নত করতে সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামীণ হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতালেও একই ব্যবস্থা চালু হবে। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন ব্যবহার বন্ধ করতে প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ দল হাসপাতালগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শন চালাবে।হাসপাতালে দালালচক্রের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে। যাঁদের কাছে সেই পরিচয়পত্র থাকবে না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জুলাই ১০, ২০২৬
কলকাতা

হাসপাতালের ভিতরে কে দালাল, কে আসল কর্মী! এবার এক নজরেই ধরা পড়বে, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

হাসপাতাল থেকে দালালচক্র নির্মূল করতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবার থেকে হাসপাতালগুলির উপর সরাসরি নজরদারি চলবে স্বাস্থ্যভবন থেকেই। দালালদের চিহ্নিত করতে নতুন পরিচয় ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই কর্মী এবং অন্যান্য কর্মীদের জন্য আলাদা রঙের পরিচয়পত্র থাকবে। রোগীদের হাতে থাকবে এক ধরনের রঙিন ব্যান্ড এবং রোগীর পরিজনদের জন্য থাকবে অন্য রঙের ব্যান্ড। এই পরিচয়চিহ্নের বাইরে হাসপাতালের ভিতরে যাঁদের দেখা যাবে, তাঁদের পরিচয় যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হাসপাতালের প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের জন্য আলাদা রঙের পরিচয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও রোগীর পরিজনদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং পরিষেবা আরও স্বচ্ছ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ত্রিশ জুলাইয়ের মধ্যে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করার কাজ শেষ করতে হবে। স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলির পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হবে। হাসপাতালের ভিতরে অনিয়ম, ভুয়ো পরিচয়ে ঘোরাফেরা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের জন্য ল্যামিনেশন করা আলাদা পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে। অতীতে হাসপাতালের ভিতরে ভুয়ো পরিচয়ে বিভিন্ন কাজ করার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতেই এই নতুন পরিচয় ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জুলাই ০৯, ২০২৬
রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডে কড়া বার্তা বিজেপি সরকারের, তিন আইপিএসের সাসপেনশন আরও ১২০ দিন বৃদ্ধি, নতুন করে তদন্তে জোর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বহুল আলোচিত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন মামলা। প্রশাসনিক স্তরে এই মামলার তদন্তকে আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল বিজেপি সরকার। আরজি কর-কাণ্ডের সময়ে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ পদে থাকা তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানো হয়েছে। সরকারের দাবি, ওই সময় তদন্ত ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে ওঠা একাধিক অভিযোগের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া চলবে।সাসপেন্ড হওয়া তিন আধিকারিক হলেন তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্ত এবং তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই আরজি কর মামলার প্রশাসনিক দিকগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সূত্রেই তিন আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার সেই নিলম্বনের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হল।সরকারি সূত্রের দাবি, শুধুমাত্র অপরাধের তদন্ত নয়, ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা, তথ্য পরিবেশন, অপরাধস্থল সংরক্ষণ এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এই তিন আধিকারিক যথাযথ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই কারণেই বিভাগীয় তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সাসপেনশন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর হয়ে সিবিআই ইতিমধ্যেই তিন আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গত মাসে তাঁরা পৃথকভাবে সিবিআই দফতরে হাজিরা দেন। তদন্তকারীরা তাঁদের বয়ান রেকর্ড করেন এবং ঘটনার সময় পুলিশের সিদ্ধান্ত, তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। সূত্রের খবর, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও তাঁদের ফের ডেকে পাঠানো হতে পারে।২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। কলকাতা পুলিশ অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করলেও তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে চলে আসা, পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ, তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক এবং হাসপাতালের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত অসাধু চক্রকে আড়াল করার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়ে।ঘটনার জেরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরে বিনীত গোয়েলকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে দেন। যদিও তিনি অন্য একটি প্রশাসনিক দায়িত্বে বহাল ছিলেন। কিন্তু সরকার বদলের পর তাঁর ভূমিকা নতুন করে তদন্তের আওতায় আসে।এই মামলায় বিতর্ক আরও বাড়ে ঘটনার প্রায় দুসপ্তাহ পরে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, তবু সেখানে দেখা যায় বলে দাবি করা হয় যে, যেখান থেকে চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই সেমিনার হলে একাধিক বহিরাগত প্রবেশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ভিডিওটি সেমিনার হলের হলেও অপরাধস্থল সুরক্ষিত ছিল। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে।অন্যদিকে, অপরাধস্থলের চেহারা বদলে যাওয়া, সেমিনার হলের কাঠামোয় পরিবর্তন, রাতদখল কর্মসূচির রাতে ভাঙচুর এবং প্রমাণ সংরক্ষণে ব্যর্থতার মতো একাধিক অভিযোগের সঙ্গেও অভিষেক গুপ্তের নাম উঠে আসে। তদন্তকারীরা এখন সেই সমস্ত অভিযোগের নথি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখছেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আরজি কর মামলায় শুধুমাত্র অপরাধীদের বিচারের মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং ঘটনার সময় প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করতে চাইছে বর্তমান সরকার। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই তিন আইপিএস আধিকারিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি বিজেপি বিধায়ক! অস্ত্রোপচারের পর কী জানালেন পাপিয়া অধিকারী?

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। শনিবার তাঁকে বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একই দিন তাঁর ডান হাতের একটি আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিধায়কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় হাসপাতালের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর জানানো হয়েছে।পাপিয়া অধিকারী জানান, তাঁর ডান হাতের মধ্যমা আঙুলে সংক্রমণ হয়েছিল। সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আঙুল ফুলে যায় এবং তীব্র যন্ত্রণার কারণে হাত নাড়াতেও অসুবিধা হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। সেই কারণেই আর দেরি না করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে অস্ত্রোপচার চলে।অস্ত্রোপচারের পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে পাপিয়া অধিকারী বলেন, তিনি এখন অনেকটাই ভালো আছেন। একই সঙ্গে বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবারও প্রশংসা করেন তিনি। বিধায়কের কথায়, টালিগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় এই সরকারি হাসপাতাল তাঁর বাড়ির সবচেয়ে কাছের। এখানকার চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের কর্মীরা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করেছেন। অস্ত্রোপচার কক্ষের পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও তাঁর ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।পাপিয়া অধিকারীর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন দলের সহকর্মী এবং অনুগামীরা। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘আমি স্পেনের ফুটবলার!’ বারবার বলেও লাভ হল না, নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে অপমানিত তারকা

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অদ্ভুত এক ঘটনার মুখে পড়লেন স্পেনের তারকা ফুটবলার বোরহা ইগলেসিয়াস। নিজের দলের হোটেলে ফিরেও প্রবেশ করতে না পেরে বেশ কিছুক্ষণ সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে। ঘটনাটি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করার পর ফুটবলারদের একদিনের ছুটি দিয়েছিলেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে সতেজ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।ছুটির দিনে স্ত্রী মারিয়া ভালেরোকে নিয়ে শহর ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ইগলেসিয়াস। পরে হোটেলে ফিরতেই ঘটে বিপত্তি। হোটেলের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে চিনতে পারেননি। ফলে টিম হোটেলের দরজার সামনেই আটকে দেওয়া হয় স্পেনের এই তারকা স্ট্রাইকারকে।পরিস্থিতি সামাল দিতে ইগলেসিয়াস বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি স্পেনের জাতীয় দলের ফুটবলার। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা পরিচয়পত্র এবং অনুমতির প্রমাণ চাইতে থাকেন। এমনকি তাঁকে নিজের নামও বলতে হয়। তবুও প্রথমে তাঁরা নিশ্চিত হতে পারেননি।ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্প্যানিশ সমর্থক ও সাংবাদিকও নিরাপত্তারক্ষীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। পরে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইগলেসিয়াস। কিছুক্ষণের মধ্যেই দলের প্রতিনিধিরা এসে বিষয়টি মিটিয়ে দেন এবং তিনি হোটেলে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন স্পেনের সামনে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জয় না পাওয়ায় পরের পর্বে ওঠার লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করাই এখন স্পেনের প্রধান লক্ষ্য।তবে মাঠের বাইরের এই ঘটনাই এখন সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দলের এক তারকা ফুটবলারকে নিজের হোটেলের দরজায় দাঁড়িয়ে পরিচয় প্রমাণ করতে হওয়ায় বিস্মিত ফুটবলপ্রেমীরা।

জুন ২০, ২০২৬
দেশ

স্পিকারের দরজায় অভিষেকের চিঠি! বিদ্রোহী সাংসদদের বড় পরিকল্পনার আগেই দিল্লিতে তৃণমূলের পাল্টা চাল

দিল্লিতে তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হল। সূত্রের খবর, আজই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আলাদা ব্লক গঠনের আবেদন জানাতে পারেন তৃণমূলের একাংশ সাংসদ। তার আগেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি নিয়ে স্পিকারের দিল্লির বাসভবনে পৌঁছলেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ।জানা গিয়েছে, তিন পাতার ওই চিঠি আগেই ই-মেলের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। রবিবার সাগরিকা ও কীর্তি সরাসরি স্পিকারের হাতে সেই চিঠি তুলে দেন। চিঠিতে অভিষেকের আবেদন, তৃণমূলের কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে যেন আলাদা স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এমন পদক্ষেপের কোনও সাংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নেই।স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কীর্তি আজাদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভাজনকে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর আশা, আইন ও সংবিধান মেনেই সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকার।অন্যদিকে, সাগরিকা ঘোষের বক্তব্য, লোকসভার মধ্যে তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে আলাদা ব্লক তৈরির উদ্যোগ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। এর কোনও আইনি বৈধতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।এ দিন দিল্লিতে একজোট হন বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদরা। সূত্রের দাবি, প্রায় কুড়ি জন সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন। এরপর তাঁদের স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, তাঁরা আলাদা ব্লক গঠন করে এনডিএকে সমর্থনের আবেদন জানাতে পারেন।এই পরিস্থিতিতেই স্পিকারের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী হবে। ফলে স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৪, ২০২৬
রাজ্য

পুলিশের ঘেরাটোপে হাফপ্যান্ট পরে ফলতার রাস্তায় জাহাঙ্গির, বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ

ফলতার রাজনীতিতে একসময় যাঁর দাপট ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, সেই জাহাঙ্গির খান এখন পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ফলতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও অতীতে অন্যান্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে যেমন কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছিল, এ ক্ষেত্রে সেই ছবি দেখা যায়নি। তবুও পুলিশের সদস্যরা তাঁকে হাত ধরে নিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে জনতার কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।তদন্তকারীরা প্রথমে জাহাঙ্গিরকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নথি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়েও নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার সূত্র খুঁজে বের করতেই এই পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তাঁর উপস্থিতিতে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারি নিজেই ছিল নাটকীয়। গত ৮ জুন নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর এসটিএফ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে এবং পরে কলকাতায় নিয়ে আসে।ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের সময় থেকেই জাহাঙ্গিরকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। ২১ মে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি হঠাৎ নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেছিলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভোটের ব্যালট বা ইভিএমে তাঁর নাম ও দলীয় প্রতীক বহাল ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ৭,৭৮৩টি ভোটও পান।নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি অভিযান, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং ঝুকেগা নেহি মন্তব্যসব মিলিয়ে জাহাঙ্গিরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বেড়েছিল। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের পর সেই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।এদিকে অভিযুক্তদের এলাকায় ঘোরানো নিয়ে রাজ্য জুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবও এই ঘটনায় পড়েছে। এর আগে একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আইন অনুযায়ী পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সামাজিক সম্মানহানি করার অধিকার তাদের নেই।সেই প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাপুনর্নির্মাণ নাকি জনসমক্ষে বার্তা দেওয়ার চেষ্টাতা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জুন ১১, ২০২৬
দেশ

ভোরের ঘুম ভাঙল আগুনে! হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত অন্তত ৪

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিহারের একটি হাসপাতালে আগুন লেগে মৃত্যু হল অন্তত চার জনের। ভয়াবহ এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ মুজফ্ফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আচমকা আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, চিকিৎসক এবং কর্মীদের মধ্যে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ছতলায় থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো তলা। দমকলকর্মীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি জন রোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।তবে সব রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের অনেকেই গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় অন্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সঠিক কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।মুজফ্ফরপুর দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। বহু রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে বের করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে ধোঁয়া এবং আগুনের তীব্রতার কারণে কয়েকজনকে আর বাঁচানো যায়নি।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে আগুন লাগল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জুন ০৪, ২০২৬
কলকাতা

বহিষ্কারের পর বিস্ফোরক সন্দীপন! ‘সই জাল হয়েছে, অভিযোগ না করে উপায় ছিল না’

সই সংক্রান্ত বিতর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার পর ইতিমধ্যেই বহিষ্কৃত হয়েছেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বহিষ্কারের পরও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সন্দীপন সাহা। তাঁর দাবি, নিয়ম বহির্ভূত কাজ হয়েছে বলেই তিনি অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই সই সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।সন্দীপন সাহার অভিযোগ, গত ৬ মে তৃণমূলের একটি বৈঠকে বিধায়কদের উপস্থিতিতে আলোচনা হলেও সেখানে বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে কোনও প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। কিন্তু পরে ১৯ মে যে রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়, তাতে ৬ মে উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কয়েকজন বিধায়ক ওই বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের নাম রেজোলিউশনে যুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ এবং অনৈতিক।সন্দীপনের বক্তব্য, যাঁরা বৈঠকে ছিলেন না, তাঁদের উপস্থিত দেখিয়ে রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও দাবি করেন, উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর দিয়েই রেজোলিউশন জমা দেওয়া সম্ভব ছিল। তা না করে কেন অন্য পথ নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সন্দীপন। তাঁর দাবি, এত বড় ভুলের দায় এড়ানো যায় না।দলকে না জানিয়ে কেন তিনি বিধানসভা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন সন্দীপন। তাঁর কথায়, একজন বিধায়ক হিসেবে তিনি সংবিধান ও নিয়ম মেনে চলার শপথ নিয়েছেন। সেই দায়িত্ব থেকেই তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে কোনও অভিযোগ বা প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না বলেই তিনি অন্য পথ বেছে নিয়েছেন।সন্দীপন আরও অভিযোগ করেন, দলের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করার পরিবেশ নেই। কোনও প্রশ্ন তুললে তার উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে দলের ভিতরে নিজের মতামত বা আপত্তি জানানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাঁর।বহিষ্কৃত এই বিধায়কের কথায়, সই সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রশ্ন করছেন। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা এবং অভিযোগ জানানো ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনও পথ খোলা ছিল না বলেই দাবি করেছেন সন্দীপন সাহা।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বৈঠকে অনুপস্থিতি থেকে বহিষ্কার! কী এমন ঘটল দুই বিধায়কের সঙ্গে?

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হল দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূলের দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির কাছে সই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই দুই বিধায়কের নাম হিসেবে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নাম উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানায় তৃণমূল কংগ্রেস।দলের তরফে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বারবার দলীয় নেতৃত্বের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত থেকেছেন দুই বিধায়ক। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগও আনা হয়েছে। সেই কারণেই তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূলের অন্দরে একাধিক ঘটনা নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল। কোথাও বোর্ড ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কোথাও আবার কাউন্সিলরদের পদত্যাগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মাত্র কুড়ি জন বিধায়কের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করে।এর আগে দলীয় বৈঠকেই প্রকাশ্যে অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। তাঁদের সঙ্গে কুণাল ঘোষও দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। দলের ভিতরে আরও খোলামেলা আলোচনা এবং মত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত বলেই দাবি করেছিলেন তাঁরা।পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে তাঁদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে বৈঠকে তাঁদের বক্তব্য শোনেন তিনি। এরপর তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দলের ভিতরে প্রত্যেকের মতামত জানানোর অধিকার রয়েছে।তবে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বাড়ে যখন বিধানসভার অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দেখা যায়। পরে দিল্লিতেও শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁদের সৌহার্দ্যপূর্ণ কথাবার্তার ছবি সামনে আসে। যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, সেটি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। কিন্তু সেই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার মধ্যেই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে কড়া বার্তা দিল তৃণমূল কংগ্রেস।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

ওপরের নির্দেশে অভিষেকের চিকিৎসা হচ্ছে না! বিস্ফোরক অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসা করা হচ্ছে না বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, উপর মহল থেকে নির্দেশ আসার কারণেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।হাসপাতাল থেকে অভিষেককে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, আমরা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি। এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। উপর থেকে বলে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা না করতে। একই অভিযোগ তিনি একাধিকবার করেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।এরপর হাসপাতাল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের করে আনা হয়। তাঁকে বেশ ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। ধীরে ধীরে গাড়িতে ওঠেন তিনি। গাড়িতে তাঁর পাশে বসেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। গাড়িতে বসে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে নিতে দেখা যায় অভিষেককে। তারপর তাঁকে নিয়ে অন্য একটি হাসপাতালে রওনা দেয় গাড়ি।এর আগে সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়, ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। হামলার পরেও তিনি নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন।সেই সময় অভিষেক বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব।পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিষেককে নিরাপদে সেখান থেকে বের করে আনে। এরপর তাঁকে চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

খাস কলকাতায় পাক গুপ্তচর চক্রের হদিস! জুতোর ব্যবসার আড়ালে চলত ভয়ঙ্কর খেলা

খাস কলকাতায় পাক গুপ্তচর চক্রের বড় পর্দাফাঁস করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আইএসআই-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এন্টালির বাসিন্দা জাফর রিয়াজকে। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।জানা গিয়েছে, কলকাতায় জুতোর ব্যবসা করত জাফর। তার দুটি কারখানাও ছিল। কিন্তু সেই ব্যবসার আড়ালেই চলত গুপ্তচরবৃত্তির কাজ। নিজের নামে সিম কার্ড তুলে তা পাকিস্তানের গোয়েন্দা অফিসারদের হাতে পৌঁছে দিত সে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জাফরের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা রাবিয়া জাফফার নামে এক মহিলার সঙ্গে। বিয়ের পর ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা কলকাতাতেই থাকত। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বর্তমানে তারা লাহোরেই পড়াশোনা করছে।২০১২ সালে একটি পথ দুর্ঘটনার পর জাফরের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়। আর্থিক সমস্যার কারণে স্ত্রীকে লাহোরে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় সে। এরপর থেকেই পাকিস্তানে তার যাতায়াত বাড়তে থাকে। এমনকি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টাও করছিল বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে দাবি, এই সুযোগকেই কাজে লাগায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। টাকার লোভ দেখিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে নামানো হয় জাফরকে।পরবর্তীতে কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে প্রথমে দিল্লি এবং পরে পঞ্জাবে ঘাঁটি গাড়ে সে। তবে শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২০২২ সালে পঞ্জাব পুলিশের বিশেষ অভিযানকারী দল জাফর ও তার সহযোগী মহম্মদ শামশেদকে গ্রেফতার করে। ধৃত শামশেদ বিহারের মধুবনির বাসিন্দা।তদন্তকারীদের দাবি, জাফর ভারতের বিভিন্ন সেনা ছাউনি, সামরিক দফতর এবং জওয়ানদের গতিবিধির ছবি ও ভিডিও তুলে সরাসরি আইএসআই-এর কাছে পাঠাত। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুয়ো পরিচয়ে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে তার ওটিপি পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হত।সেই নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানের গুপ্তচররা সুন্দরী মহিলাদের ছবি দিয়ে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল তৈরি করত। এরপর ভারতীয় সেনার জওয়ানদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চলত। তদন্তকারীদের দাবি, এই গোটা হানি ট্র্যাপ চক্রের মূল মাথাদের অন্যতম ছিল জাফর।বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং গোটা নেটওয়ার্ক কতটা বড়, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

মে ২১, ২০২৬
রাজ্য

মাঝরাতে সরকারি হাসপাতালে হানা স্বাস্থ্যসচিবের! দেখে হতবাক চিকিৎসকরা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকের মাত্র বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন মোডে নামল স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার গভীর রাতে শহরের পাঁচটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ করেই পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। এই আকস্মিক সফর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় হাসপাতালগুলিতে। স্বাস্থ্যদপ্তরের বার্তা স্পষ্ট, শুধু নির্দেশ নয়, এবার বাস্তবে কাজ দেখতে চায় নতুন সরকার।শনিবার রাত প্রায় বারোটার সময় নীল রঙের টি-শার্ট পরে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন স্বাস্থ্যসচিব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ মানসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় এবং সহকারী সুপার দৈপায়ন বিশ্বাস। ট্রমা কেয়ার থেকে শুরু করে জেনারেল মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের একাধিক ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন তিনি। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান।পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কড়া নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যসচিব। তিনি বলেন, কোথাও যেন ময়লা না থাকে। প্রতিটি ওয়ার্ডের বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করারও নির্দেশ দেন তিনি।এরপর রাতেই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং এসএসকেএম হাসপাতালেও যান স্বাস্থ্যসচিব। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে যেসব রোগী বেড না পেয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত বেডের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।স্বাস্থ্যসচিব আরও নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালগুলিতে লাইভ বেড স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সেই স্ক্রিনে কোন হাসপাতালে কত বেড খালি রয়েছে, তা দেখা যাবে। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালের খালি বেডের তথ্যও সেখানে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালগুলিতে পানীয় জলের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন স্বাস্থ্যসচিব। তিনি জানতে চান, রোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য দেওয়া জল আদৌ পানযোগ্য কি না। প্রতি মাসে সেই জলের মান পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভাকে প্রতি সপ্তাহে পানীয় জলের গুণমান পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।উল্লেখ্য, শুক্রবার এসএসকেএমের একাডেমিক ভবনে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দালালরাজ বন্ধ করা, রোগীদের রেফার কমানো এবং কাউকে যেন চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে না হয়, সেই বিষয়ে একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই স্বাস্থ্যসচিবের এই রাতের পরিদর্শন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

মে ১৭, ২০২৬
রাজ্য

আর জি করে নতুন বিস্ফোরণ! সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজাকেই তদন্তের আওতায় আনার দাবি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘিরে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার সরাসরি সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজার ভূমিকাতেই প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু প্রশ্ন তোলাই নয়, তাঁকে তদন্তের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিও তুলেছেন তিনি।শনিবার আচমকাই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমার্জেন্সি ভবনে হাজির হন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, হাসপাতালের এই ভবনেই ওই তরুণী চিকিৎসকের উপর নৃশংস অত্যাচার চালিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।অভিজিৎবাবুর দাবি,তদন্ত চলাকালীন এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘর রয়েছে যা প্রায় দুবছর ধরে তালাবন্ধ ও সিল করা অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁর বক্তব্য, ওই ঘর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বা অপরাধসংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। অথচ সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা সেই ঘর খুলে দেখার প্রয়োজনই মনে করেননি।তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি, এমন একটি ঘর রয়েছে যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনক্রিমিনেটিং তথ্য মিলতে পারত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এখনও পর্যন্ত সেটি খোলা হয়নি। আমি নিজে গিয়ে দেখলাম, ঘরটি এখনও সিল করা অবস্থাতেই রয়েছে।এতেই শেষ নয়। আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দাবি করেন, ঘটনার রাতেই হাসপাতালের একটি সিঁড়ি দিয়ে একটি মৃতদেহ নামানোর দৃশ্য এক নার্স মোবাইলে রেকর্ড করেছিলেন। পরে সেই ভিডিও নাকি সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজা নিজের কাছে রেখে দেন এবং সংশ্লিষ্ট নার্সকে ভিডিওটি ফোন থেকে মুছে ফেলতে বলেন। এমনকি তাঁকে ভয়ও দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়,নার্সকে বলা হয়েছিল ভিডিওটি ডিলিট না করলে বিপদে পড়তে হবে। তিনি বাধ্য হয়ে ভিডিওটি মুছে দেন এবং কপি তুলে দেন সীমা পাহুজার হাতে। তারপর থেকে সেই ভিডিও আর প্রকাশ্যে আসেনি।তাঁর দাবি, ওই সিঁড়ি সরাসরি হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে পৌঁছয় এবং সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট প্যাসেজ দিয়ে সেই জায়গায় যাওয়া যায়, যেখানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। অথচ এই সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ রুট নিয়ে তদন্তে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।এই প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বিজেপি সাংসদ বলেন,এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন তদন্তকারী অফিসার এগুলো দেখলেন না? কে তাঁকে প্রভাবিত করেছিল? কেন সত্য সামনে আনার চেষ্টা হয়নি?তিনি আরও দাবি করেন, সীমা পাহুজার ভূমিকা নিছক গাফিলতি নয়, বরং প্রমাণ লোপাটের সঙ্গে যুক্ত থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর মতে, গোটা সিবিআই সংস্থাকে দায়ী করা ঠিক হবে না, তবে নির্দিষ্ট ওই অফিসারের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি।এদিকে রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফের খুলছে আর জি কর কাণ্ডের তদন্ত-ফাইল। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মামলার শুনানির জন্য বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চে এবার এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে।এই আবহেই আর জি করে গিয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।এদিকে হাসপাতাল প্রশাসনও কড়াকড়ি শুরু করেছে। হাসপাতাল চত্বরে বেআইনি পার্কিং রুখতে নির্দেশ জারি হয়েছে। পাশাপাশি দালালচক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো, রোগী ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে বেআইনি টাকা আদায়ের অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে, আর জি কর কাণ্ডে তদন্তের মোড় যে আরও নাটকীয় দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট। এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং সিবিআই এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই।

মে ১৭, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কাণ্ডে বড় অ্যাকশন! একসঙ্গে সাসপেন্ড তিন আইপিএস অফিসার

ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নির্যাতিতা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্তও।যাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা হলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ডের সময় পুলিশের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। এফআইআর করতে দেরি এবং তদন্তে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সেই সময় পুলিশের আধিকারিক এবং অফিসারদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মূল মামলার তদন্ত যেহেতু সিবিআই করছে, তাই সেই তদন্তে রাজ্য সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।আরজি কর কাণ্ড সামনে আসার পর নির্যাতিতার পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দুই পুলিশ অফিসার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।আরজি কর কাণ্ডের সময় কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে ছিলেন বিনীত গোয়েল। ডিসি সেন্ট্রাল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় পুলিশের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেছিলেন এবং সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এত প্রশ্ন কেন উঠেছিল।এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল নতুন সরকার।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

শাহজাহানদের জেল নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা! মোবাইল উদ্ধার, সাসপেন্ড দুই শীর্ষ আধিকারিক

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জেলের ভিতর থেকেই অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।শুক্রবার বিধানসভা থেকে নবান্নে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানান, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। এরপর রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসির উপস্থিতিতে এবং কারা দফতরের ডিজির নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকেই অপরাধচক্র চালানো হচ্ছিল। তাঁর কথায়, গোটা রাজ্যের অপরাধীরা জেলের ভিতর থেকেই নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে।এই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণও শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কাজ একদিনের নয়। বছরের পর বছর ধরে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দুর্নীতির আঁতাত তৈরি হয়েছে। সেই চক্র ভাঙতে সময় লাগবে।শুভেন্দু আরও জানান, দমদম থেকে বহরমপুর পর্যন্ত একাধিক সংশোধনাগারে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বন্দিদের আলাদা সেলে রাখা থেকে শুরু করে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলে বসে যারা অপরাধচক্র চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, দায়িত্বে গাফিলতি হলে শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে নয়, যারা তাদের সাহায্য করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোন কোন বন্দির কাছে মোবাইল ছিল, কার নামে সিম ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং কীভাবে সেই ফোন জেলের ভিতরে পৌঁছল, তা জানতে সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে।

মে ১৫, ২০২৬
রাজ্য

রামপুরহাট হাসপাতাল পরিদর্শনে বিধায়ক, কড়া নির্দেশ ধ্রুব সাহার

বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বৃহস্পতিবার রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীর সুপারভাইজার এবং প্রিন্সিপ্যালকে ধমক দেন।ধ্রুব সাহা বলেছেন, প্রিন্সিপ্যাল ঠাণ্ডা ঘরে বসে থাকেন, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেন না। ওয়ার্ড ও শৌচালয়ের অবস্থা খারাপ। রোগীদের পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসছে।এদিন বিধায়ক কড়া নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। তিনি প্রিন্সিপ্যালকে স্পষ্ট বলেন, ঠাণ্ডা ঘরে বসে না থেকে হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর নজর দিন। নিরাপত্তারক্ষীর সুপারভাইজারকেও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্য সতর্ক করেন বিধায়ক ।গত কয়েক মাস ধরে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে নোংরা পরিবেশ, রোগী হয়রানি ও চিকিৎসায় গাফিলতির বিভিন্ন অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়কের কাছে নালিশ জানিয়েছিলেন। তার পরেই আজ বিধায়কের এই সারপ্রাইজ ভিজিট।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

মে ১৪, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 27
  • 28
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে পরপর ২ সোনা ভারতের, ভিত তৈরির নেপথ্যে সৌরভেরই অবদান

এশিয়ান গেমসে ভারত পরপর ২ বার সোনা জিতল মেয়েদের ক্রিকেটে। এবারের গেমসে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। ফাইনাল-সহ এবারের এশিয়ান গেমসে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন বাংলার রিচা ঘোষও। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী।ঝুলন বলেন, ২০১৭-র পর থেকেই আমরা বিসিসিআইকে বলেছিলাম ইংল্যান্ডে যেমন সুপার লিগ (এখন দ্য হান্ড্রেড), অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ হচ্ছে। আমাদের দেশে কেন হবে না? তখন বিসিসিআই চলছিল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের নেতৃত্বে। কীভাবে আমাদের দেশে এমন লিগ হতে পারে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। বিসিসিআই ভাবছিল বড় কেউ আসবে কিনা, টিম নেবে না। আইপিএল অনেক বড় মাপের। তার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকবে কিনা। ফলে তিনটি টিমকে আইপিএলের ফাঁকে নিজেদের মধ্যে খেলানো শুরু হলো। যা ট্রায়াল রান বলা যেতে পারে। বিদেশিদের আনা হলো। আমরা প্রথম খেলেছিলাম জয়পুরে। প্রথম থেকেই রেসপন্স ভালো ছিল।ঝুলনের কথায়, মহারাজদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) ২০১৯ সালে বিসিসিআই সভাপতি হলেন। কঠিন সময়ে। কেন না, এর পরেই কোভিড শুরু হয়। যা প্রায় ২ বছর ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দেয়। তবে ক্রিকেট এই সময়কালেও অন্য জায়গায় পৌঁছেছিল মহারাজদা, জয় শাহর জন্য। প্লেয়ার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার- পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে কারও স্যালারি আটকায়নি। সবাই জানেন ওই সময় কতটা কঠিন ছিল। তার মধ্যেই ম্যাচ খেলানোর ব্যবস্থা হয়েছে। চার্টার্ড বিমানে পুরুষ ও মহিলা দলকে দুবাই পাঠিয়ে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল করে কোয়ারান্টিনের মধ্যে কাটানোর পর সকলে পারফর্ম করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে কেউ না কেউ সব সময় থাকতেন। ঝুলন জানান, দেশের মহিলাদের ক্রিকেটে সৌরভের বড় পদক্ষেপ টেস্ট ক্রিকেট ফেরানো। ঝুলন বলেন, আমি এতদিনে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছি। কারণ ২০০৬-এর পর ৮ বছর কোনও টেস্ট খেলিনি। ২০১৪-১৫ নাগাদ খেলার পর আবার বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। মহারাজদা টেস্ট ক্রিকেট ফেরান। কোভিডকালে দাদা, জয় শাহরা আমাদের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার বন্দোবস্ত করেন। অস্ট্রেলিয়ায় গোলাপি বলে টেস্ট ক্রিকেট খেলি, যা দেশের মেয়েদের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিপ্লব। টেস্টই আল্টিমেট ক্রিকেট। যেখানে দক্ষতা, মানসিকতার বিকাশ ঘটে। সবরকম চ্যালেঞ্জের জন্য প্লেয়ারকে তৈরি করে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

হোল্ডিং সেন্টারের দেওয়াল টপকে চম্পট, গন্ধ শুঁকে রোহিঙ্গা যুবককে খুঁজে দিল অরল্যান্ডো

হোল্ডিং সেন্টারের কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না এক রোহিঙ্গা যুবকের। বন দপ্তরের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোর নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফের আটক করল পুলিশ। রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টার থেকে পালানোর পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি চা বাগান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ সোলেমান। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এলাকা থেকে চার জনের একটি সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা দলকে আটক করা হয়েছিল। সেই দলের সদস্য সোলেমানকেও রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।রবিবার সকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে সেন্টারের ভিতর থেকে বেরিয়েছিল সোলেমান। সেই সুযোগেই উঁচু দেওয়াল টপকে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রাজগঞ্জ থানায়। শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি।দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালিয়েও পলাতক যুবকের সন্ধান না মেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়। মালবাজার মহকুমা পুলিশের অনুরোধে জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।সোলেমানের পরনে থাকা বা ফেলে যাওয়া পোশাকের গন্ধ শুঁকিয়ে অরল্যান্ডোকে তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়। এরপর গন্ধ অনুসরণ করে সে হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পানিকৌড়ি মোড় সংলগ্ন একটি চা বাগানের দিকে এগিয়ে যায়। অরল্যান্ডোর দেখানো পথ অনুসরণ করে তল্লাশি চালাতেই চা বাগানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সোলেমানের সন্ধান পান পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকেই তাকে ফের আটক করা হয়।বন দপ্তরের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁদের প্রশিক্ষিত কুকুর সফলভাবে পলাতক বন্দিকে খুঁজে বের করায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর আগে গরুমারা এলাকায় চোরাশিকারীদের দমনে একাধিকবার সাফল্য দেখিয়েছে অরল্যান্ডো। এবার পলাতক বন্দির সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল সে।তবে এই ঘটনায় রাজগঞ্জের হোল্ডিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কড়া পাহারা ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এক যুবক সেন্টারের উঁচু দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোথায় গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দমকা ঝড়ে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম, উড়ল চাল, উপড়ে পড়ল গাছ, খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কালেখাঁতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাতলা তিনপাড়া এলাকা ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে। কারও কারও বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। কারও টিনের চালা উড়ে গিয়েছে। মোদ্দা কথা পুজোর মুখে এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে গ্রামবাসীদের। কি করে সামাল দেবেন এই অবস্থা তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে বাসিন্দাদের। প্রশাসন গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। গ্রামে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়।গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎ দমকা ঝড় ওঠে। ঝড় মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কিছু সময়ের প্রবল ঝড়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা বাড়িও রয়েছে। অসহায় মানুষগুলো এবার কি করবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না। হঠাৎ মাথার ছাদ চলে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা অসহায় বোধ করছেন। ঝড়ে একজন জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় শনিবার সাকালে ওই গ্রামে গিয়ে হাজির হন। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়ক গ্রামবাসীদের জানিয়ে দেন, তিনি গ্রামবাসীদের পাশে আছেন। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, বিধ্বংসী ঝড়ে ওই গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ির চালা উড়ে গিয়েছে। কয়েকটা গাছপালাও ঝড়ে পড়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষাবাদেরও। প্রশাসনের কর্তাদের নজরদারিতে উদ্ধারের কাজ চলছে। সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হবে। বিডিও পারিজাত বোস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান, তারপরই বচসা থেকে হাতাহাতি! উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পশ্চিমবঙ্গ শাখার একটি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে চলছিল। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি জানালে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে গিয়ে কেন প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে কয়েক জন বক্তার বক্তব্য নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়। কয়েক জন পড়ুয়া ও শিক্ষকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পড়ুয়াদের আরও দাবি, তাঁদের নানা নামে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদেরই আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।অন্য দিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, টাকা দিয়ে অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের কর্মসূচি করছিলেন। সেই সময় পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে আয়োজকদের দাবি। অর্থাৎ, সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের একটি বাসও আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বড় বাহিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল।এই ঘটনার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনছেন অনেকে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই তুলনা রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনার অংশ হলেও, তা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কত জন আহত এবং কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কেন অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ুয়াদের আপত্তি তৈরি হয়েছিল, সংঘর্ষ কী ভাবে শুরু হল এবং দুই পক্ষের অভিযোগের মধ্যে কোনগুলি তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর। পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিদেশ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলা! দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত অন্তত ২৭

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহেনেসবার্গ এবং কেপটাউনে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার পর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।প্রথম হামলাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় জোহেনেসবার্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েক জন বন্দুকধারী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে কেপটাউনের একটি জনবহুল এলাকায়। রবিবার ভোরে একটি বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনায় পাঁচ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দুটি হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক পাচার, অবৈধ খনি এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও দেশটির একাধিক এলাকায় ঘটে থাকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।তবে জোহেনেসবার্গ ও কেপটাউনের দুটি হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল এবং একই গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে’, সাধুদের কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। তাই সাধু-সন্তদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁরা মন খুলে গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন।শুভেন্দুর দাবি, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতায় এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে বিধানসভা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শেষে গীতার একটি অধ্যায়ও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কাজকর্ম নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। গীতা পাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা হরেকৃষ্ণ নাম করার ক্ষেত্রেও কোনও ভয় থাকা উচিত নয়।শুভেন্দুর বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনও সাধু-সন্ত নিজের মতো করে সনাতনী ধর্মের প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শুভেন্দু আরও বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সবাইকে এক থাকার বার্তাও উঠে আসে।এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় আরও বড় গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজাদি সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে রাষ্ট্রবাদী মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো তীব্র রাজনৈতিক ভাষাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা ও সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপএই দুই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য সামনে এল। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপির একাংশের মতপার্থক্যের কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা এবং আগামী দিনে আরও বড় গীতাপাঠের ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট, হঠাৎ বিরোধীদের দাবিতে বড় প্রশ্ন তুললেন মুকুল রোহতগি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিরোধী শিবিরের তরফে লোকসভা ও রাজ্যসভাদুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সেই আবহেই প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল তথা প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহতগি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলি ইমপিচমেন্টের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং শক্ত প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব আনা যায় না।রোহতগির যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর মতে, মতের অমিল নিজে থেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়। বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।এই প্রসঙ্গে রোহতগি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের অন্দরে কোনও পর্যায়ে মতের অমিল থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের মতামতকে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভোট অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে বেশি নয় বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোহতগি। অর্থাৎ তিন সদস্যের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। কোনও বিষয়ে দুই কমিশনার এক দিকে থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় বলে তাঁর বক্তব্য।রোহতগি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতির বেঞ্চের তুলনাও করেছেন। তাঁর যুক্তি, বিচারপতিদের মধ্যে কোনও মামলায় মতপার্থক্য থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ই শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হয়। একই ভাবে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতের অমিলকে শুধুমাত্র সেই কারণেই অসদাচরণ বলা যায় না বলে মত তাঁর।তবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাক্তন কেরল মুখ্যসচিব জিজি থমসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে একটি বিমানে দিল্লি যাওয়ার সময় তৎকালীন আমলা জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। থমসনের দাবি, তাঁকে পাঠানমতিট্টা কেন্দ্র থেকে লড়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।থমসনের এই দাবি অবশ্য তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। জ্ঞানেশ কুমারের তরফে এই অভিযোগের কোনও জবাব প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাই অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের আরও একটি বড় কারণ নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মতের পার্থক্য স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি, অন্য দিকে সেই প্রস্তাবের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে মুকুল রোহতগির প্রশ্নদুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন আমলার বিজেপির টিকিটের প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ, দাবি ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে কোনগুলি প্রমাণিত এবং কোনগুলি রাজনৈতিক দাবি, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মায়ের গর্ভগৃহে পুজো, প্রবীণ নেতার পায়ে প্রণাম—বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সফরে আবেগের অন্য ছবি

মন্দির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ।বর্ধমান: বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো ঘিরে শুক্রবার শহরে তৈরি হল এক অন্য আবহ। প্রশাসনিক কর্মসূচি শুরুর আগে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পৌঁছে গর্ভগৃহে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুজো দেন আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে রইল মন্দিরে প্রবেশের মুখে এক প্রবীণ বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং অগ্রজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য।মন্দিরে প্রবেশের সময় অবিভক্ত বর্ধমান জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দেবীপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। দেবীপ্রসাদ মল্লিক পুষ্পস্তবক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এরপরই কোনও আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুহূর্তের সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।বর্ধমানের বিজেপি সংগঠনের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে দেবীপ্রসাদ মল্লিকের নাম দীর্ঘদিনের। আশির দশক থেকেই তিনি বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। সেই সময় বর্ধমান - দুর্গাপুর ভাগ হয়নি, গোটা বর্ধমানই ছিল একটি জেলা। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।আজকের বিজেপি যখন বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তখন তার অতীতের সাংগঠনিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ কর্মীদের ভূমিকার কথাও সামনে আসে এই ধরনের ঘটনায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের মতে, বর্ধমান শহরে দলের সংগঠনকে শূন্য থেকে দাঁড় করানোর সময় দেবীপ্রসাদ মল্লিকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের একত্রিত করার কাজও করেছেন তিনি।আর সেই প্রবীণ নেতার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে তাই শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এর মধ্যে উঠে এসেছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। অবশ্য এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যার যার নিজস্ব হলেও, মুহূর্তটির আবেগ এবং তাৎপর্য বর্ধমানের মানুষের নজর কেড়েছে।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেন বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এসে পুজো দিলেন।পুরোহিতদের উপস্থিতিতে গর্ভগৃহে গিয়ে নিজের হাতে দেবীর পুজো করেন তিনি। পুজোর ডালিতে ছিল পাঁচ রকম ফল ও মিষ্টি, নারকেল, চেলি, পদ্মফুলের মালা, আলতা-সিঁদুর এবং দেবীর জন্য একটি বেনারসি শাড়ি।পুজো শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে তুলে দেন দেবী সর্বমঙ্গলার প্রতিকৃতি। ট্রাস্টের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বাঁশ দিয়ে তৈরি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের একটি রেপ্লিকা এবং দেবীর একটি প্রতিমা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।তবে শুধু পুজো বা সৌজন্য সাক্ষাতেই শেষ হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির সফর। মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।মন্দির সংস্কার, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ভবন সংরক্ষণ, সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়গুলি শুনে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (Detailed Project Report) তৈরি করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে সেই ডিপিআর জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মন্দিরের স্থাপত্য, ইতিহাস এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ককে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের দাবি উঠেছে।মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই দাবিই নতুন করে গুরুত্ব পেল বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতিকে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও তাঁদের আশা।সময়াভাবে মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য অবশ্য বিশেষভাবে ভোগ পার্সেল করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ভোগের মেনুতে ছিল পোলাও, ফুলকপি-আলুর তরকারি, ছানার ডালনা, মাগুর মাছের ঝোল, ডাল, পায়েস এবং বর্ধমানের বিখ্যাত কেশরভোগ।একদিকে কয়েক শতকের ধর্মীয় ঐতিহ্য, অন্যদিকে বর্ধমানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবীণ এক চরিত্রের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধামুখ্যমন্ত্রীর সর্বমঙ্গলা মন্দির সফর তাই একাধিক কারণে আলাদা মাত্রা পেল।সর্বমঙ্গলার গর্ভগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো, মন্দির সংস্কারের জন্য ডিপিআর তৈরির নির্দেশ এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা দেবীপ্রসাদ মল্লিকের পায়ে হাত দিয়ে তাঁর প্রণামএকসঙ্গে এই তিনটি মুহূর্ত বর্ধমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তৈরি করেছে আলোচনার নতুন আবহ।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal