• ৯ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Rupees

রাজ্য

অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় আপডেট, ১৭ সেপ্টেম্বর কাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩,০০০ টাকা? অতিরিক্ত ১০ লক্ষ মহিলা পাবেন সুবিধা

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড় আপডেট। সেপ্টেম্বর মাসের ৩,০০০ টাকার কিস্তি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা পড়বে। ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবেও পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার খবর অনুযায়ী, অগস্টে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরের কিস্তিতে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আরও প্রায় ১০ লক্ষ মহিলা এই কিস্তির আওতায় আসবেন।মাসে কত টাকা মিলবে?২০২৬ সালের জুন মাসে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে উপভোক্তার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা বাসিন্দারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। স্থায়ী সরকারি চাকরিতে থাকা এবং কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়মিত বেতন বা পেনশন পাওয়া মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরাও বাদ পড়বেন। পাশাপাশি আয়করদাতারাও এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নন।১৭ সেপ্টেম্বর কারা টাকা পাবেন?সেপ্টেম্বরের কিস্তির জন্য উপভোক্তার নাম যোগ্য তালিকায় থাকা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের মধ্যে গরমিল, DBT সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনও তথ্যগত ত্রুটি থাকলে টাকা জমা পড়তে দেরি হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তথ্যের ভুলের কারণে কিছু উপভোক্তার টাকা আটকে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।তাই যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগী, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে কি না এবং আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ সঠিক রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের ৩,০০০ টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আবেদন ও স্ট্যাটাস সংক্রান্ত তথ্যও নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে জানা যায়।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ব্যবসা

বাজেটের পরই বাজিমাত! ইন্দো-মার্কিন চুক্তিতে সেনসেক্স ৮৫ হাজার, ডলার ভাঙল

সোমবার বাজেটের পরের দিন থেকেই চাঙ্গা হয়ে উঠল শেয়ার বাজার। একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় শক্তিশালী হল ভারতীয় টাকা। সোমবার ডলারের দাম ৪৪ পয়সা কমে দাঁড়ায় ৯১.৪৯ টাকায়। তার পর গভীর রাতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা হতেই টাকার দাম আরও বাড়ে। মঙ্গলবার ডলার আরও ১.০৯ টাকা পড়ে দাঁড়ায় ৯০.৪০ টাকায়, অর্থাৎ এক দিনে প্রায় ১.২ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে টাকা।শেয়ার বাজারেও দেখা গিয়েছে বড়সড় উত্থান। সোমবার সেনসেক্স ৮১,৬৬৬.৪৬ পয়েন্টে বন্ধ হওয়ার পর মঙ্গলবার তা প্রায় ৩,৬০০ পয়েন্ট বেড়ে ৮৫,০০০ পয়েন্টের গণ্ডি পেরিয়েছে। একইভাবে নিফটিও বাজেটের পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ২৫,০৮৮.৪০ পয়েন্টে বন্ধ হওয়ার পর মঙ্গলবার তা প্রায় ১,২০০ পয়েন্ট বেড়েছে।এই উত্থানের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে দীর্ঘ টালবাহানার পর ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে। এই চুক্তির ফলে ভারতের উপর আমেরিকার শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তবে এই চুক্তির পেছনে কিছু শর্তও রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত নাকি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। তার বদলে আমেরিকার কাছ থেকে বেশি করে তেল কিনবে ভারত। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল কেনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আমেরিকা থেকে বিপুল অঙ্কের পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভারত। ট্রাম্পের দাবি, প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য কিনবে দিল্লি।সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সেই কথোপকথনের পর ট্রুথ সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে এই সব দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, এই চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা হয়েছে।এই সব শর্ত সামনে আসতেই কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির প্রভাব শুধু কূটনীতি নয়, আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি ও বাজারের গতিপথেও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
রাজ্য

নির্বাচনের মুখে মালদায় বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা

লোকসভা নির্বাচনের মুখে চাঁচোলের বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় চাঁচোল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির ইনচার্জ তিলক রাম সহ গাড়িতে থাকা আরও তিন দলীয় কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে নির্বাচন কমিশনের স্কোয়াড বাহিনীর অফিসারেরা। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচোল থানার পাহাড়পুর বাইপাস সড়ক সংলগ্ন এলাকায়। যদিও চাঁচোলের বিজেপি নেতা তিলক রাম স্বীকার করেছে যে দলের জেলা নেতৃত্ব বুথ খরচের জন্য এই টাকাগুলি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আর বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হতেই মালদায় শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক।পুলিশ সূত্রে খবর, লোকসভা ভোট ঘোষণা হতেই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের স্কোয়াড বাহিনী মালদার বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি চালানো শুরু করেছে। মূলত মালদার বিহার, ঝাড়খন্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাতেই বেশি করেই তদারকি চলছে। এরই মধ্যে বুধবার রাতে চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চার বিজেপি নেতা একটি চার চাকার গাড়ি নিয়ে মালদা থেকে ফিরছিলেন। সেই সময় চাঁচোলের পাহাড়পুর বাইপাস রোডে ওই গাড়িটি আটকায় নির্বাচন কমিশনের তদন্তকারী টিম স্কোয়াড বাহিনীর অফিসারেরা। কিন্তু পুলিশের ঘেরাটোপে এড়িয়ে গাড়িটি সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ। এরপরই স্কোয়াড টিমের অফিসারেরা ধাওয়া করে গাড়িটিকে মাঝ রাস্তায় আটক করে । তারপরে ওই গাড়ি থেকেই ৮ লক্ষ টাকার পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বিজেপির বিভিন্ন ধরনের প্রচার পত্র, ফেস্টুন। এই ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া ৮ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এদিকে লোকসভা ভোটের মুখে বিজেপি নেতার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের চাঁচোল ১ ব্লক সভাপতি শেখ আফসার আলি জানিয়েছেন, বুথ খরচের জন্য এত টাকা বিজেপি দিচ্ছে তা ভাবতে অবাক লাগছে। এসবই কালো টাকা। মানুষ ১০০ দিনের কাজের টাকা পাচ্ছে না। অথচ সেই গরিব মানুষের টাকা ভোটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। লোকসভা ভোটের মাধ্যমে মানুষ এর বিচার করবে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও আমরা আশা করছি।চাঁচোল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির ইনচার্জ তিলক রাম জানিয়েছেন, মালদা জেলা বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকেই এই আট লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল বুথ খরচের জন্য। এদিন জেলা বিজেপি পার্টি অফিস থেকে টাকাগুলি নিয়েই আমরা চাঁচোলে আসছিলাম। তখনই পুলিশ নজরদারি চালিয়ে টাকাগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যাদের গাড়ি থেকেই টাকাগুলি উদ্ধার হয়েছে সেই বিজেপির কর্মকর্তাদের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়ার টাকাগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী মামলার রুজু করা হয়েছে।

মে ০২, ২০২৪
রাজ্য

এভাবেও স্বপ্ন সত্যি হয়! ১০ টাকার কয়েন জমিয়ে মোটরবাইক কিনলেন লটারি বিক্রেতা

ভাবতেও যেন ভাললাগা আছে। লক্ষ্য স্থির থাকলে তা পূরণ হবেই। নিজের স্বপ্নকে সত্যি করলেন এক লটারি বিক্রেতা। এক বছর ধরে দশ টাকার কয়েন জমিয়ে লক্ষধিক টাকার বিনিময়ে কিনে ফেলেছেন একটি মোটরবাইক। লটারি বিক্রেতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের খবর ছড়িয়ে পরতেই ভিড় জমে বীরভূমের মল্লারপুরের হিরো গাড়ির শো-রুমে। অবশ্যই লটারি বিক্রেতার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে এগিয়ে এসেছেন শো-রুমের কর্ণধার টুটুল মণ্ডল।জানা গিয়েছে, ভারতের তামিলনাড়ুতে দশ টাকার কয়েন জমিয়ে চার চাকার গাড়ি কিনে তাক লাগিয়েছিলেন এক যুবক। নদিয়ার এক যুবক এভাবে কয়েন জমিয়ে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে বাইক কিনেছিলেন। এবার বাংলার বীরভূমের রামপুরহাট থানার চাকপাড়া গ্রামের যুবক লটারি বিক্রেতা তাপস লেট। লটারি বিক্রেতা তাপস লেট জানান, লটারি বিক্রি করতে গিয়ে প্রতিদিন বেশ কিছু ৫ ও ১০ টাকার কয়েন দিতেন। তখনই মনে হয়েছিল ১০ টাকার কয়েন জমিয়ে একটি মোটরবাইক কিনব। সেই মতো স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। জমাতে শুরু করি কয়েন। সেই স্বপ্ন এতদিনে বাস্তবে রুপ দিতে পারলাম। খুব ভালো লাগছে পছন্দের গাড়ি কিনতে পেরে।বীরভূমের মল্লারপুরের বাহিনা মোড়ের জয় জগন্নাথ হিরো শো-রুমে থেকে মোটরসাইকেল কেনেন তাপস। শো-রুমের কর্ণধার টুটুল মণ্ডল বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাপস আমাদের শো-রুমে ফোন করছিলেন। জানিয়েছিলেন লাল রঙের হিরো গ্ল্যামার ক্লাসিক গাড়ি নেবেন। কিন্তু টাকা নিতে হবে সব দশ টাকার কয়েন। প্রথমে লক্ষাধিক টাকার কয়েন নিতে অস্বীকার করি। তাপস ফের জানায় এটা তার স্বপ্ন। এরপরেই তার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে কয়েন নিতে ইচ্ছে প্রকাশ করি। এরপরেই হাসি মুখে ঝোলা ভর্তি করে দশ টাকার কয়েন নিয়ে শো রুমে হাজির তাপসবাবু

নভেম্বর ৩০, ২০২৩
রাজ্য

বিজেপি রাজ্য সভাপতির 'লক্ষীর ভাণ্ডারে ২০০০ টাকা' প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জ্যোতিপ্রিয়র

সুকান্ত মজুমদারের ম্যাচুরিটির অভাব আছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষীর ভাণ্ডারের টাকা ২০০০ করে দেওয়া হবে, সুকান্ত মজুমদারের করা এই মন্তব্যর পরিপ্রেক্ষিতে বর্ধমানে এসে প্রতিক্রিয়া বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের।বর্ধমান জেলা রাইস মিলস এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনায় বর্ধমানের আলমগঞ্জের কল্পতরু ময়দানে চতুর্থ বছর রাইস মিল মেসিনারীর আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর সমাপতি অনুষ্ঠানে রবিবার বর্ধমানে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই মন্তব্যের করেন বনমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওদের কাছে আতঙ্কের বিষয়বস্তু হয়ে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখলে ওরা আঁতকে উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র ভবিষ্যৎ কম্পিটিটার যিনি মোদিকে সরাতে পারে ভারতের রাজনীতি থেকে। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির যে ফলাফল হয়েছিল তার থেকে ৫০শতাংশ ভোট কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন এদিন বন মন্ত্রী।

নভেম্বর ২৭, ২০২২
রাজ্য

মাত্র পাঁচ টাকায় ডিম ভাতের 'মা ক্যান্টিন' বর্ধমানে, মানুষের আশীর্বাদ কুড়ালেন মন্ত্রী থেকে জেলাশাসক

মাত্র পাঁচ টাকায় পেট ভরা খাবার! বুধবার জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং বর্ধমান পুরসভার উদ্যোগে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হল সস্তার খাবার। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প মা ক্যান্টিন চালু হল বর্ধমানে, জেলায় এটি পঞ্চম। মা ক্যান্টিন-এ মাত্র পাঁচ টাকায় খাবার পাওয়া যাবে।বুধবার দুপুরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই পরিষেবার সূচনা হয়। প্রকল্পের সূচনা করেন জেলার মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, বর্ধমান পুরসভার পুরপ্রধান পরেশ সরকার, পূর্ব-বর্ধমান জেলাপরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামানিক, মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি ডঃ তাপস ঘোষ ছাড়াও অন্য আধিকারিকেরা।জানা গেছে, প্রথম দিকে ২২০ জন ব্যাক্তি এই সুযোগ পাবেন প্রতিদিন। এরজন্য সকাল দশটায় কুপন দেওয়া হবে। কুপনের মুল্য ধার্য করা হয়েছে মাত্র ৫ টাকা। দৈনিক মেনুতে থাকবেঃ ভাত, ডাল, তরকারি ও ডিমের ঝোল। প্রতিদিন হাসপাতালে যে হাজার হাজার মানুষ আসেন তাদের খুব সুবিধা ও সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প, তাঁর সকল প্রকল্প-ই মানুষের স্বার্থে। তিনি আরও জানান, এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাইরের রোগীদের সাথে সাথে তাঁদের পরিবারের প্রচুর লোকজন আসেন, তাঁদের স্বল্পমূল্যে খাবারের সুবিধার জন্য-ই এই প্রকল্প শুরু করা হল। তিনি জানান, এর আগে রোগী কল্যাণ কমিটিতে আলোচনা হয়েছে আজ সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হল।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন রাজ্যের সব হাসপাতালে মা ক্যান্টিন চালু করতে হবে, আমরা সেই মত এটা চালু করতে পেরে খুব আনন্দিত। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথও খুব সাহায্য করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য। এখনও অবধি জেলায় ৬ টি মা ক্যান্টিন আছে। জেলার পুরসভাগুলি খুব সাফল্যের সাথে এটা চালায়। তিনি জানান এই মুহুর্তে একটু ফান্ডের সমস্যা আছে, কিছুদিনের মধ্যেই আরও বেশী মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে তাঁর আশা।পুরপ্রধান পরেশ সরকার জানান, জেলার সব পুরসভায়ই মুখমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প সাফল্যের সাথে চলছে। বর্ধমানে এটা শুরু করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। তিনি মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলাকে ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপন করেন পুরসভাকে সার্বিক ভাবে সাহায্য করার জন্য। আজ উপস্থিত রোগীর পরিবারেরা খুব খুশি ৫টাকায় ডিম ভাত পেয়ে। তাঁরা জানান এতে তাঁদের খাওয়া খরচা অনেকটা সাশ্রয় হবে।

নভেম্বর ১৬, ২০২২
রাজ্য

টালিগঞ্জ এগিয়ে থাকবে নাকি বেলঘরিয়া? অর্পিতার ফ্ল্যাটে এখনও চলছে গণনা

এখন টালিগঞ্জের ডায়মন্ড সিটি ফ্ল্যাটের সঙ্গে বেলঘরিয়ার ক্লাব হাউসের প্রতিযোগিতা চলছে। দক্ষিণের টালিগঞ্জে মিলে ছিল প্রায় ২২ কোটি টাকা। বেলঘরিয়ায় পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্লাট থেকে এখনও পর্যন্ত মিলেছে ২০ কোটি টাকা। এখনও টাকা গোনার কাজ চলছে। ইডি আধিকারিকরা দরজা ভেঙে এদিন ঢোকে ওই ফ্ল্যাটে। আসে এসবিআইয়ের আধিকারিকরা। আনা হয় টাকা গোনার জাম্বো মেশিন। তবে শেষ পর্যন্ত কত টাকায় গিয়ে গণনা শেষ হবে, সেটাই এখন দেখার। ইতিমধ্যে একটি ৪ টনের ট্রাক ভর্তি ২০টি ট্রাঙ্ক চলে এসেছে বাঙ্কে নিয়ে যাবার জন্য।

জুলাই ২৭, ২০২২
রাজ্য

পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতার বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার

আগে কলকাতার ডায়মন্ড ফ্ল্যাটে ২২ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল। এবার বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে ১৫ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। তার সঙ্গে কেজি কেজি সোনা পাওয়া গিয়েছে এই ফ্ল্যাট থেকে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও টাকা মিলতে পারে। এখনও টাকার মেশিনে গণনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। একই মামলায় এভাবে বস্তা বস্তা টাকা কখনও উদ্ধার হয়নি এরাজ্যে। আরও কত টাকা উদ্ধার হতে পারে তা নিয়ে সন্দিহান ইডির কর্তারা।কামারহাটি পুরসভার পাশে বেলঘরিয়া রথতলার ক্লাবহাউসে অর্পিতার ফ্ল্যাটে রীতিমত দরজার তালা ভেঙে সেখানে প্রবেশ করেন ইডি আধিকারিকরা। ওই আবাসনের ৫ নম্বর ব্লকের ৮-এ ফ্ল্যাট থেকে টাকার হদিশ মেলে। এসবিআইয়ের হেড অফিস থেকে আনা হয় বড় মাপের চারটে টাকা গোনার মেশিন। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত নগদ ১৫ কোটি উদ্ধার হয়েছে। তবে গোনার কাজ শেষ কিনা এখনও জানা যায়নি। এছাড়া তিন কেজি সোনা মিলেছে এখান থেকে। তাকে তাকে থাক থাক করে সাজানো ছিল টাকা। এখানকার আবাসনের ২ নম্বর ব্লকের ২-এ ফ্ল্যাটটি সিল করে দিয়েছে ইডি। অর্পিতার টাকা উদ্ধারের পরই গ্রেফতার করা হয়েছিল রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। এখন মন্ত্রী রয়েছেন ইডির হেফাজতে।

জুলাই ২৭, ২০২২
দেশ

মধ্যবিত্তের চিন্তা বাড়িয়ে এক লাফে ৫০ টাকা দাম বাড়ল রান্নার গ্যাসের

পেট্রোল-ডিজেলের পর এইবার রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ল। সিলিন্ডার প্রতি ৫০ টাকা বাড়ল গ্যাসের দাম। কলকাতায় এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়ে হল ৯৭৬ টাকা। ১৪.২ কেজি গ্যাসের জন্য উপভোক্তাদের এখন থেকে ৯৭৬ টাকা করে দিতে হবে। তবে এদিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কমল ৮ টাকা। ১৯ কেজি গ্যাসের জন্য উপভোক্তাদের এখন থেকে দিতে হবে ২০৮৭ টাকা। আজ কলকাতায় ভর্তুকিযুক্ত ১৪.২ কেজি রান্নার গ্যাসের দাম ছিল ৯২৬ টাকা। কিন্তু এখন থেকে রান্নার গ্যাসের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা বরাদ্দ করতে হবে বাজারের খরচ থেকে।প্রসঙ্গত, পাঁচ রাজ্যে নির্বাচনের জন্যই রান্নার গ্যাস এবং জ্বালানি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি আটকে রাখা হয়েছিল বলে অনেক বিশেষজ্ঞদের মতামত। পাঁচ রাজ্যের ভোট মিটতেই সরকার নতুন দাম লাগু করছে। রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি দাম বেড়েছে পেট্রোল এবং ডিজেলেরও। সম্প্রতি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে সুর মিলিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের ফলাফলের ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এইবার গ্যাস এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়াবে কেন্দ্র। এবং তাঁর আশঙ্কা সত্যিও হল। বলাই বাহুল্য, এই মূল্যবৃ্দ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের ভাঁড়ারে। এমনিতেই করোনা মহামারির কাঁটায় অনেকের আয়ে প্রভাব পড়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে নাস্তানাবুদ জনগণ। এমতাবস্থায় রান্নার গ্যাসের দামবৃদ্ধি গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতোই। রান্নার গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

মার্চ ২২, ২০২২
রাজ্য

বাসে চালকলের মালিকের ব্যাগ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা গায়েব, গ্রেফতার দুই মহিলা

যাত্রী সেজে বাসে উঠে এক চালকল মালিকের হাতে থাকা ব্যাগ থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে পগারপাড় হয়ে যায় দুই মহিলা। তবে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশের তৎপরতায় বুধবার রাতে ধরা পড়ে যায় কেপমারি চক্রের দুই মহিলা আয়েষা রায় ও এসবেরিয়া বেদি। তবে অবশ্য কেপমারি হওয়া চালকল মালিকের লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার হয়নি। এই ঘটনা যথেষ্টই শোরগোল ফেলে দিয়েছে ভাতারের ব্যবসায়ী মহলে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বছর ত্রিশ বয়সী আয়েষা রায় ও এসবেরিয়া বেদির বাড়ি বীরভূম জেলার আমোদপুর থানার সাহানিপুরে। কেপমারিতে জড়িত থাকার কথা ধৃতরা কবুল করেছে বলে পুলিশের দাবি। কেপমারি হওয়া টাকা উদ্ধার ও চক্রের চক্রের বাকিদের হদিশ পেতে পুলিশ ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। বৃহস্পতিবার দুই ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়।বিচারক ধৃতদের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, টাকা খোয়ানো চালকল মালিক অরূপ ভট্টাচার্যের বাড়ি জেলার রায়না থানার সেহারাবাজারে। ভাতারের নর্জায় তাঁর একটি চালকল রয়েছে। লিখিত অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ভাতার থানায় জানান,অন্য ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আনতে ওইদিন দুপুরে তিনি বর্ধমান শহরে গিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট ২ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩০ টাকা সেদিন সংগ্রহ করেন। একটি হাত ব্যাগে সেই টাকা ভরে নিয়ে তিনি বাসে চেপে মিলে ফিরছিলেন। বাসটি দেওয়ানদিঘি স্টপেজে দাঁড়াতেই কয়েকজন মহিলা শিশুসন্তান কোলে ওই বাসে ওঠে। মহিলারা তাঁর গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। বাস ভিড়ে ঠাসা থাকার কারনে তিনি অন্যত্র সরতে পারেননি। ফলে গাদাগাদি সহ্য করেই বাসে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। অরুপবাবু জানান, খানিক বাদে ওই মহিলা দলটি মাঝ রাস্তায় বাস থেকে নেমে পড়ে। ভিড় একটু খালি হতেই তিনি দেখেন তাঁর হাত ব্যাগের নিচের দিকের কিছুটা অংশ ধারালো কিছু দিয়ে কাটা। ব্যাগে যে টাকা রেখেছিলেন সেই টাকা আর ব্যাগে নেই। কেপমারির শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে অরূপবাবু নর্জায় আর না নেমে সোজা ভাতার থানায় চলে আসেন। থানার পুলিশ কর্তাদের কাছে তিনি সমস্ত ঘটনার কথা খুলে বলে অভিযোগ দায়ের করেন।চালকল মালিকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েই ভাতার থানার পুলিশ নড়েচড়ে বসে। দেওয়ানদিঘির মুখে বর্ধমান-কাটোয়া রাজ্য সড়কে পুলিশ অভিযানে নামে। তখনই কর্জনার কাছে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় আয়েষা রায় নামে এক মহিলা। তাঁকে জেরা করে পুলিশ বীরভূমের আমাদপুরের এসবেরিয়া বেদির নাম জানতে পারে। রাতে পুলিশ আমাদপুর থেকে এসবেরিয়াকেও পাকড়াও করে। এরপর দুই মহিলাকে একসঙ্গে থানায় বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ভাতার থানার পুলিশ অফিসাররা। জেরায় ধৃতরা পুলিশকে জানায়, বেশ কিছু দিন ধরে তারা অরূপ ভট্টাচার্যের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। এরপর তারা বুধবার পরিকল্পনা মাফিক স্বদলবলে বাস উঠে অপারেশন চালিয়ে চালকল মালিকের ব্যাগ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
দেশ

Covid-Exgratia: কোভিডে মৃত্যু হলে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য

এখনও পর্যন্ত কোভিডে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে। শুধু তাঁদেরই নয়, ভবিষ্যতেও যদি কেউ মারা যান, তাঁদের পরিবার-পরিজনকেও ওই ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়া হবে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এ কথা জানাল কেন্দ্র।কোভিডে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি গাইডলাইন তৈরি করতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। করোনায় মৃতদের পরিবারকে কত অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয় তিন বিচারপতির বেঞ্চ। এই নিয়ে সবিস্তারে একটি হলফনামা তলব করা হয় কেন্দ্রের কাছে। সেই হলফনামাতেই লেখা হয়েছে, যারা করোনার ত্রাণ কার্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের মৃ্ত্যুর ক্ষেত্রেও এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের গাইডলাইন অনুযায়ী ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোভিড ১৯-এর উল্লেখ থাকতে হবে।আরও পড়ুনঃ বাংলার জন্য আমি অ্যাভেলেবল আছিত্রয়োদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ মেনে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের ধারায় গড়ে তোলা হয়েছিল রাজ্যের এই বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল। এই তহবিলে প্রতি অর্থ বর্ষে দুই কিস্তিতে টাকা দেয় কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ বা মহারাষ্ট্রের মতো সাধারণ রাজ্যের ক্ষেত্রে ওই তহবিলে ৭৫ শতাংশ অর্থ আসে কেন্দ্র থেকে। অন্য দিকে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত রাজ্যের ওই তহবিলে ৯০ শতাংশ অর্থই দেয় কেন্দ্র। কোভিড পরিস্থিতিতে গত জুন মাসেই কেন্দ্র প্রথম কিস্তির টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে ওই তহবিলে। সেই টাকাই এ বার বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মৃতদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। কোভিড মোকাবিলার কাজে অংশ নিয়ে যাঁদের প্রাণ গিয়েছে, তাঁদের পরিবারকেও দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণের অর্থ। তবে শীর্ষ আদালতে দেওয়া হলফনামায় কেন্দ্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্রে কারণ হিসেবে অবশ্যই কোভিডের উল্লেখ থাকতে হবে।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১
রাজ্য

Elderly Patient: কাটোয়া হাসপাতালে বৃদ্ধ রোগীর বেনজির তান্ডব, ভেঙে চুরমার লক্ষ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সামগ্রী

ভাঙচুর চালিয়ে হাসপাতালের এইচডিইউ বিভাগের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম ভেঙে নষ্ট করে দিল চিকিৎসাধীন এক রোগী। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কটোয়া মহকুমা হাসপাতালে। বৃদ্ধ রোগী অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে তাণ্ডব চালানোর সময়ে তাঁকে বিরত করতে গিয়ে জখম হন এইচডিইউ বিভাগে কর্তব্যরত দুই নার্স। রোগীর তাণ্ডবে দুই নার্সকে জখম হতে দেখে হাসপাতালের আর কোন কর্মী ওই রোগীর কাছে ঘেঁষার সাহস দেখাননি। চিকিৎসাধীন রোগীর এমন তাণ্ডবের জেরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মহলে। কি কারণে রোগী এত ভায়লেন্ট হয়ে উঠলেন সেই বিষয়টি চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রোগী অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি কাটোয়া শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায়। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরিবারের লোকজন গত শনিবার সকালে অরুণবাবুকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে তাঁর বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষায় অরুনবাবুর সোডিয়াম, পটাসিয়ামের ঘাটতি ধরা পড়ে। সেই কারণে তাঁকে হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ড থেকে হাই ডিপেনেন্সি ইউনিটের(এইচডিইউ) ৬ নম্বর বেডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর হাতে স্যালাইনের চ্যানেলও গোঁজা ছিল। সেই অবস্থাতেই একটি কাটের তুল হাতে নিয়ে শনিবার রাতে তিনি হঠাৎই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। এরপরেই তিনি হাসপাতালের এইচডি ইউনিটে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে দেন। এইচডিইউ বিভাগে শনিবার রাতে কর্মরত থাকা এক নার্স বলেন, শনিবার রাতে রোগীর তাণ্ডবের ঘটনা তিনি কোনদিন ভুলতে পারবেন না। ওই রাত তাঁদের চরম আতঙ্কে ও উৎকন্ঠার মধ্যে কাটাতে হয়েছে। তাঁদের চোখের সামনেই দামি ও গুরুত্বপূর্ণ বহু চিকিৎসা সরঞ্জাম ওই রোগী ভেঙে চুরমার করে দেন। ভয়ে আতঙ্কে তাঁরা কিছুই করতে পারেননি। অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে থেকে তাঁদের সব দেখতে হয়। রোগী অরুণবাবু হঠাৎ কেন এমন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন তাও তাঁদের অজানা বলে ওই নার্স জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটটি(এইচডিইউ) চালু হয়। প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা মূল্যের উন্নত যন্ত্রপাতি তখন এইচডিইউ বিভাগে বসানো হয়েছিল। ওই এইচডিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা রোগী অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে দেন। বেড থেকে উঠে একটি কাঠের টুল হাতে নিয়ে তিনি তান্ডব শুরু করে দেন। ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়ার যন্ত্রগুলি তিনি একে একে ভেঙে ফেলেন। কোনরকমে তাঁর হাত থেকে টুলটি কেড়ে নেওয়া গেলেও তাঁকে রোখা যায়নি। এরপর খালি হাতেই তিনি এইচডিইউ বিভাগে থাকা কম্পিউটারের সিপিইউ, মনিটরসহ অনান্য মেশিনপত্র মাটিতে আছড়ে ভেঙে দেন। অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার ও ওষুধের প্যাকেটও তিনি ফেলে দেন। অরুণবাবুকে বিরত করতে গিয়ে কর্তব্যরত দুজন নার্সও আক্রান্ত হন। তারপর আর কেউ তাঁকে বিরত করতে যাওয়ার সাহস করেননি। হাসপাতালের নার্স, সিকিউরিটি গার্ড, সিভিক ভলেন্টিয়ারা সবাই কার্যত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওই রোগীর তান্ডব লীলা দেখতে বাধ্য হন। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার ধীরাজ রায় জানান, তিনি তাঁর চাকুরি জীবনে এমন ঘটনা এই প্রথম দেখলেন। এইচডিইউ বিভাগের অনেক দামি দামি মেশিনপত্র ওই রোগী ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ওই রোগী ভাঙচুর করে নষ্ট করে দিয়েছেন। ঘটনার সবিস্তার রিপোর্ট জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।চিকিৎসাধীন ওই রোগী রাতে হঠাৎই কেন এত ভায়োলেন্ট হয়ে উঠলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সুপার জানিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১
রাজ্য

Laxmir Bhandar: ৫০০ টাকা পেতে গিয়ে অ্যাকাউন্ট থেক উধাও হল ৫ হাজার টাকা!

কথা ছিল প্রত্যেক মাসে অ্যাকাউন্ট ৫০০ টাকা করে পড়বে। কিন্তু টাকা আসার আগেই দ্বিগুণের বেশি টাকা বেরিয়ে গেল অ্যাকাউন্ট থেকে! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ৫০০ টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন করে নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকেই উধাও হয়ে গেলো ৫ হাজার টাকা। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে মহিষাদল ব্লকের এক্তারপুরে এলাকায়। আরও পড়ুনঃ মালদা মেডিক্যাল কলেজে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে আতঙ্কএলাকার একই পরিবারের ছয়জন মহিলার অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচজনের ৫ হাজার টাকা করে, আর একজনে ১৫০০ টাকা অর্থাৎ মোট ২৬,৫০০ টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মহিষাদল ব্লকের এক্তারপুর এলাকার দুয়ারে সরকারের শিবির হয়েছিলো। সেই শিবিরে জানা পরিবারের ৫ মহিলা তাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দুটি ম্যাসেজ কেন ঢুকছে না জানতে যায়। সেখানে তাদের নাম ও ফোন নম্বর নেওয়া হয়। পরের দিন অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়িতে গিয়ে কাগজপত্র নেওয়ার পাশাপাশি আঙুলের ছাপ নেয়। পরে দেখা যায় তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার করে টাকা কেটে নেওয়া হয়ছে। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে জানতে পেরে বিষয়টি মহিষাদল থানায় জানানো হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে মহিষাদলের গোপালপুরের বাসিন্দা তুষার অধিকারী নামক এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মহিষাদল থানার ওসি স্বপন গোস্বামী জানিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১
দেশ

ISKCON Coin: ১২৫ টাকার স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করলেন মোদি

ইসকনের প্রতিষ্ঠাতার ১২৫ তম জন্মবর্ষ উপলক্ষে ১২৫ টাকার স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা তথা হরেকৃষ্ণ মুভমেন্টের প্রবর্তক শ্রীলা ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভূপাদের ১২৫ তম জন্মবর্ষ এটি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেই মুদ্রা প্রকাশ করেন মোদি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি।আরও পড়ুনঃ দলগঠনে চমক এসসি ইস্টবেঙ্গলের, অরিন্দমকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রস্তাব!এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আজ আমরা শ্রীলা ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভূপাদের জন্মবর্ষ পালন করছি। ধ্যান কিংবা ভক্তিতে মনে যে প্রশান্তি মেলে, যেন সেরকমই আনন্দ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আজ একই ভাবে গোটা বিশ্বে প্রভূপাদের যে লক্ষ লক্ষ ভক্ত আছেন, প্রত্যেকেরই একই রকম আনন্দ হচ্ছে।মোদি এ দিন আরও বলেন, আজ বিশ্বজুড়ে কয়েকশো ইসকনের মন্দির রয়েছে। আর সেই সব মন্দিরের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে ভারতীয় সংস্কৃতি। ইসকনই গোটা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশ্বাসের অর্থ হল উদ্যোগ আর উৎসাহ। আর মানবিকতায় বিশ্বাস। প্রাকৃতিক বিষর্পয়ে ইসকনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী এ দিন মনে করিয়ে দেন ২০০১-এর ভূমিকম্পের কথা। সেই সময় কী ভাবে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল ইসকন, সেই কথা উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও মনে করিয়ে দেন যে, দেশে যখনও কোনও বিপর্যয় এসেছে, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে ইসকন। ও্ডিশা বা পশ্চিমবঙ্গের সাইক্লোনের কথাও বলেন তিনি।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২১
রাজ্য

Fake Deed: জাল দলিল করে কোটি টাকা আত্মসাৎ, নাম জড়ালো মেমারির বিএলআরওর

জাল দলিল তৈরি করে অন্যের কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নাম জড়াল ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিকের। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি-২ ব্লকের বিএলআরওর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। এবিষয়ে মেমারি থানার বোহার গ্রামের বাসিন্দা সুজিত কুমার পাঁজা বর্ধমান সিজেএম আদালতে মামলা রুজু করেছেন। সিজেএম কেস রুজু করে তদন্তের জন্য মেরারি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। মেমারি থানার এক অফিসার জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ খতিয়ে দেখে আইন মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মেমারির বোহার গ্রামের বাসিন্দা সুজিত কুমার পাঁজা অভিযোগ করেছেন, বোহারে তাঁদের একটি জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। ভূমি দপ্তরে জমিটি তাঁদের নামে নথিভুক্ত ছিল। জমির পরচাও তাঁদের কাছে রয়েছে। সুজিতবাবুর অভিযোগ, কিছুদিন আগে হঠাতই কয়েকজন ওই জমিটি তাঁদের বলে দাবি করেন। সেই কথা শুনে তিনি অবাক হয়ে যান। এরপর বিএলআরও অফিসে গিয়ে তিনি নতুন করে জমির পরচা তোলেন। সেই পরচা যাচাই করে তিনি জানতে পারেন, জমির অনেকটা অংশ অন্য জনের নামে রেকর্ড করা হয়েছে।কাউকে জমি বিক্রি না করা সত্ত্বেও কি করে এমনটা হল তা জানার জন্য তিনি মেমারি ২ ব্লক বিএলআরও অফিসে খোঁজখবর নেন। সেখান থেকে তিনি জানতে পারেন, মিউটেশন কেস করে জমিগুলি অন্যের নামে রেকর্ডে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মিউটেশন কেসের সার্টিফায়েড কপি তুলে সুজিত বাবু জাল দলিলের বিষয়টি জানতে পারেন। সুজিতবাবুর দাবি, জাল সই করে দলিলটি করা হয়েছে। এমনটা নিশ্চিৎ হওয়ার পর সুজিতবাবু পুনরায় বিএলআরও অফিসে জমির মালিকের নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু, বিএলআরও অফিস থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তার পরেই সুজিতবাবু বর্ধমান আদালতের দ্বারস্থ হন।মামলাকারী সুজিত কুমার পাঁজার আইনজীবী অতনু সরকার এদিন বলেন, জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে থানা সহ প্রশাসনের নানা মহলে জানানো হয়। জেলার পুলিশ সুপারকে জানানোর পরেও থানা ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। জাল দলিল করে প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্বেরও ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ এর পরেও ব্যবস্থা না নিলে বিষয়টি উচ্চমহলে জানানো হবে।মেমারি-২ ব্লকের বিএলআরও অচিন্ত্য চক্রবর্তী যদিও এদিন বলেন, এই বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তাই, এনিয়ে কিছু বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে, বিষয়টি সন্মন্ধে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান ।

আগস্ট ২৫, ২০২১
রাজ্য

Note: ঝোপ থেকে উদ্ধার বাতিল ৫০০-র নোট

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে রাস্তার ধারে ঝোপজঙ্গল থেকে উদ্ধার হল লক্ষাধিক টাকার পুরনো পাঁচশো টাকার নোট! আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে এই পুরনো ৫০০ টাকা ভর্তি বস্তা দেখতে পান ১০০ দিনের কাজের সাফাইকর্মীরা। প্রায় পাঁচ বছর আগে নোট বাতিলে অচল হয়ে যাওয়া এত পুরনো নোট কীভাবে এলাকায় এল, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।নোট বাতিলের প্রায় ৫ বছর পর বাতিল পাঁচশো টাকার নোটের দেখা মিলল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের সিজোন এলাকায়। সেখানে পড়েছিল গুচ্ছ গুচ্ছ বাতিল ৫০০ টাকার নোট। রাস্তার ধারে দুর্গাপুর পুরসভার আগাছা সাফাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় শ্রমিকরা দেখতে পান নোটগুলি। কোথা থেকে কীভাবে এল লক্ষাধিক টাকার পুরনো নোট, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০১৬-র ৮ নভেম্বর ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । দুর্নীতি ও কালো টাকা দমনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তখনকার সময়ে চালু থাকা ৫০০ ও হাজার টাকার নোটকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় রাতারাতি কাগজের টুকরোয় পরিণত হয় ৫০০ ও হাজার টাকার নোট।

জুলাই ২৬, ২০২১
কলকাতা

Fake Officer: শহরে ফের আটক ৪ ভুয়ো অফিসার

দেবাঞ্জন দেবের পর থেকে রাজ্যে একের পর ভুয়ো সরকারি আধিকারিকের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে। এদিন ফের ৪ ভুয়ো আধিকারিকের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। প্রতারণা করে ৩৫ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে ৪ জনকেই আটক করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভুয়ো আ্ইএএস (IAS), ভুয়ো সিবিআই (CBI)-এর পর এবার ভুয়ো ডিএসপি পরিচয়ে হোম গার্ডে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ। ডিএসপি এবং সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগ এসেছে।আরও পড়ুনঃ স্প্যানিশ তারকা এডু গার্সিয়াকে ছেড়ে দিচ্ছে এটিকেমোহনবাগানহোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার নাম করে ৫ জনের থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে বৌবাজার থানায়। বিশ্বাস অর্জন করতে খাকি টুপি ও বেল্ট এবং জাল নিয়োগপত্র দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে মাসুদ রাণা (২৪) মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। এই নিজেকে ডিএসপি বলে পরিচয় দেয়। রবি মুর্মূ (৪০) মালদার গাজল, শুভ্র নাগ রায় (৪৪) দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পরিতোষ বর্মন (৫০) মেদিনীপুরের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশের ভুয়ো ইউনিফর্ম ও কাগজপত্র ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতারণা করায় চোখ কপালে উঠেছে পুলিশের। অভিযোগ, ভুয়ো নামে ডিএসপি পরিচয় দিয়ে রাজ্য পুলিসের হোম গার্ডে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় অভিযুক্তরা। মেদিনীপুর ও চাঁদনি চকের কাছে কসমস হোটেলে ঘটনাটি ঘটেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তার হওয়া ৪ জনের একজন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কনস্টেবল। আগেও এই কাজের জন্য সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অভিযুক্তকে। আজকেই আদালতে পেশ করা হবে এই চারজনকে। ধৃতদের নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার দাবি জানাবে পুলিশ।

জুলাই ০৮, ২০২১
কলকাতা

Nandigram Case: মমতাকে জরিমানা করে নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সরলেন কৌশিক চন্দ

নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। তিনি নিজেই বুধবার বেলা ১১টা নাগাদ সেই রায় ঘোষণা করলেন। সেই সঙ্গে মামলাকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানাও করল কলকাতা হাইকোর্ট।বিচারব্যবস্থাকে কলুষিত করার জন্যই জরিমানা করা হয়েছে। ওই জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে রাজ্য বার কাউন্সিলে, যা পরবর্তীকালে কোভিড চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে। এ বার এই মামলা কোন বেঞ্চে যাবে, মাস্টার অব রোস্টার হিসেবে তা ঠিক করবেন হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল।আরও পড়ুনঃ কলকাতায় সেঞ্চুরি হাঁকাল পেট্রলমামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি চন্দ স্পষ্ট জানান, তাঁর বিরুদ্ধে মামলাকারীর পক্ষ থেকে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার জন্য তিনি সরছেন না। বরং, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার কারণেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর কথায়, আমার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তাই মামলাটি ছেড়ে দেওয়া উচিত এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সাধারণ মানুষের উপর ছাড়া যায় না। এটা বিচারপতি ঠিক করবেন। কারও কোনও রাজনৈতিক পছন্দ থাকতে পারে না, এটা এ দেশে প্রায় অসম্ভব। বিচারপতিরাও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। তাঁরাও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। তাছাড়া বিচারপতির নিয়োগ সংক্রান্ত সিক্রেট রিপোর্ট জনসমক্ষে আনাটা কি ঠিক? একজন মুখ্যমন্ত্রী গোপনীয়তা বজায় রাখারও শপথ নেন।মামলার রায় ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান বলেন, একজন মুখ্যমন্ত্রীকে এই ভাবে জরিমানা করা লজ্জাজনক ঘটনা। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ব্যবস্থা করছি। মমতাকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানার বিরুদ্ধে সরব হয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ তথা জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ওব্রায়েন টুইটে লেখেন, আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে সত্যি কথা বলার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হয়। আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বাস করি যেখানে মিথ্যে প্রচারের জন্য কোনও দাম দিতে হয় না। প্রসঙ্গটা ধরা গেল? মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায় ।

জুলাই ০৭, ২০২১
কলকাতা

Fuel price: কলকাতায় সেঞ্চুরি হাঁকাল পেট্রল

কলকাতায় সেঞ্চুরি হাঁকাল পেট্রলের মূল্য। পাল্লা দিয়ে বাড়ল ডিজেলের দামও। কলকাতায় আজ পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১০০ টাকা ২৩ পয়সা দাঁড়িয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে ২৩ পয়সা। তবে শুধুই কলকাতা নয়। দেশের একাধিক শহরের ছবিটা একইরকম। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, ওডিশা ও বিহার অনেক আগেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পেট্রলের দাম। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে আগেই পেট্রল সেঞ্চুরি হাঁকানোয় তালিকায় ঢুকে পড়েছিল পশ্চিমবঙ্গও। এবার কলকাতাতেও ১০০ টাকার ঊর্ধ্বে চলে গেল পেট্রলের দাম।আরও পড়ুনঃ বিধানসভায় দিলীপ-মদনের রঙিন রসিকতাএদিকে লিটারপ্রতি পেট্রলের দাম বেড়ে হল ১০০.২১ টাকা। একলিটার ডিজেলে খরচ ৮৯.৫৩ টাকা। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে আমজনতার নাজেহালের কথা স্বীকার করে নিলেও পালটা যুক্তিও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে ঠিকই। তবে করোনা ভ্যাকসিনের জন্য এক বছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই জ্বালানি মূল্য কমানোর দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০ ও ১১ জুলাই পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনেও নামবে তৃণমূল বলে জানিয়ে দিয়েছে।

জুলাই ০৭, ২০২১
রাজ্য

LPG price hike: মধ্যবিত্তের হেঁশেলে ফের আগুন! এলপিজির দাম বাড়ল ২৫ টাকা

দেশে একের পর মূল্যবৃদ্ধিতে এমনিতেই নাজেহাল মানুষ। আর এবার গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে ফের বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম (LPG Price)। ভর্তুকিহীন রান্নার গ্যাসের দাম (Cooking Gas Price) বাড়ল সিলিন্ডার পিছু ২৫ টাকা। যার ফলে কলকাতায় ১৪.২ কেজির ভর্তুকিহীন সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হল ৮৬১ টাকা। একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও। ৭৬ টাকা বেড়ে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের (Commercial Gas) দাম দাঁড়াল ১৬২৯ টাকা। কমার্শিয়াল বা ব্যবসার ক্ষেত্রে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৮৪ টাকা বাড়াল তেল সংস্থাগুলি।আরও পড়ুনঃ হুল দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মেমারির চোটখণ্ডেএদিকে, বাকি মেট্রো শহরগুলির তুলনায় গ্যাসের দামে শীর্ষেই রইল কলকাতা। দিল্লিতে ১৪.২ কেজির ভর্তুকিহীন সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ৮৩৪.৫০ টাকা। এছাড়া মুম্বইতেও ভর্তুকিহীন সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ৮৩৪.৫০ টাকা। আর চেন্নাইতে ভর্তুকিহীন সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ৮৫০ টাকা।প্রসঙ্গত, প্রতি মাসের ১ তারিখে রান্নার গ্যাসের দাম সংশোধন করে। এপ্রিলে ১০ টাকা কমানো হয়েছিল গ্যাসের দাম। পয়লা মে কোনও দাম বাড়ানো হয়নি। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দাম বাড়ানো হয়েছিল। আর এবার জুলাইয়ের শুরুতেই ২৫ টাকা বাড়ানো হল দাম। জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধিতে এমনিতেই নাভিশ্বাস অবস্থা ছিল মধ্যবিত্তের, এবার রান্নার গ্যাসের দাম বাড়াতে মাথায় হাত পড়তে চলেছে আমজনতার।

জুলাই ০১, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে পরপর ২ সোনা ভারতের, ভিত তৈরির নেপথ্যে সৌরভেরই অবদান

এশিয়ান গেমসে ভারত পরপর ২ বার সোনা জিতল মেয়েদের ক্রিকেটে। এবারের গেমসে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। ফাইনাল-সহ এবারের এশিয়ান গেমসে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন বাংলার রিচা ঘোষও। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী।ঝুলন বলেন, ২০১৭-র পর থেকেই আমরা বিসিসিআইকে বলেছিলাম ইংল্যান্ডে যেমন সুপার লিগ (এখন দ্য হান্ড্রেড), অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ হচ্ছে। আমাদের দেশে কেন হবে না? তখন বিসিসিআই চলছিল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের নেতৃত্বে। কীভাবে আমাদের দেশে এমন লিগ হতে পারে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। বিসিসিআই ভাবছিল বড় কেউ আসবে কিনা, টিম নেবে না। আইপিএল অনেক বড় মাপের। তার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকবে কিনা। ফলে তিনটি টিমকে আইপিএলের ফাঁকে নিজেদের মধ্যে খেলানো শুরু হলো। যা ট্রায়াল রান বলা যেতে পারে। বিদেশিদের আনা হলো। আমরা প্রথম খেলেছিলাম জয়পুরে। প্রথম থেকেই রেসপন্স ভালো ছিল।ঝুলনের কথায়, মহারাজদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) ২০১৯ সালে বিসিসিআই সভাপতি হলেন। কঠিন সময়ে। কেন না, এর পরেই কোভিড শুরু হয়। যা প্রায় ২ বছর ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দেয়। তবে ক্রিকেট এই সময়কালেও অন্য জায়গায় পৌঁছেছিল মহারাজদা, জয় শাহর জন্য। প্লেয়ার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার- পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে কারও স্যালারি আটকায়নি। সবাই জানেন ওই সময় কতটা কঠিন ছিল। তার মধ্যেই ম্যাচ খেলানোর ব্যবস্থা হয়েছে। চার্টার্ড বিমানে পুরুষ ও মহিলা দলকে দুবাই পাঠিয়ে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল করে কোয়ারান্টিনের মধ্যে কাটানোর পর সকলে পারফর্ম করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে কেউ না কেউ সব সময় থাকতেন। ঝুলন জানান, দেশের মহিলাদের ক্রিকেটে সৌরভের বড় পদক্ষেপ টেস্ট ক্রিকেট ফেরানো। ঝুলন বলেন, আমি এতদিনে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছি। কারণ ২০০৬-এর পর ৮ বছর কোনও টেস্ট খেলিনি। ২০১৪-১৫ নাগাদ খেলার পর আবার বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। মহারাজদা টেস্ট ক্রিকেট ফেরান। কোভিডকালে দাদা, জয় শাহরা আমাদের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার বন্দোবস্ত করেন। অস্ট্রেলিয়ায় গোলাপি বলে টেস্ট ক্রিকেট খেলি, যা দেশের মেয়েদের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিপ্লব। টেস্টই আল্টিমেট ক্রিকেট। যেখানে দক্ষতা, মানসিকতার বিকাশ ঘটে। সবরকম চ্যালেঞ্জের জন্য প্লেয়ারকে তৈরি করে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

হোল্ডিং সেন্টারের দেওয়াল টপকে চম্পট, গন্ধ শুঁকে রোহিঙ্গা যুবককে খুঁজে দিল অরল্যান্ডো

হোল্ডিং সেন্টারের কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না এক রোহিঙ্গা যুবকের। বন দপ্তরের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোর নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফের আটক করল পুলিশ। রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টার থেকে পালানোর পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি চা বাগান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ সোলেমান। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এলাকা থেকে চার জনের একটি সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা দলকে আটক করা হয়েছিল। সেই দলের সদস্য সোলেমানকেও রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।রবিবার সকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে সেন্টারের ভিতর থেকে বেরিয়েছিল সোলেমান। সেই সুযোগেই উঁচু দেওয়াল টপকে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রাজগঞ্জ থানায়। শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি।দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালিয়েও পলাতক যুবকের সন্ধান না মেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়। মালবাজার মহকুমা পুলিশের অনুরোধে জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।সোলেমানের পরনে থাকা বা ফেলে যাওয়া পোশাকের গন্ধ শুঁকিয়ে অরল্যান্ডোকে তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়। এরপর গন্ধ অনুসরণ করে সে হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পানিকৌড়ি মোড় সংলগ্ন একটি চা বাগানের দিকে এগিয়ে যায়। অরল্যান্ডোর দেখানো পথ অনুসরণ করে তল্লাশি চালাতেই চা বাগানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সোলেমানের সন্ধান পান পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকেই তাকে ফের আটক করা হয়।বন দপ্তরের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁদের প্রশিক্ষিত কুকুর সফলভাবে পলাতক বন্দিকে খুঁজে বের করায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর আগে গরুমারা এলাকায় চোরাশিকারীদের দমনে একাধিকবার সাফল্য দেখিয়েছে অরল্যান্ডো। এবার পলাতক বন্দির সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল সে।তবে এই ঘটনায় রাজগঞ্জের হোল্ডিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কড়া পাহারা ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এক যুবক সেন্টারের উঁচু দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোথায় গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দমকা ঝড়ে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম, উড়ল চাল, উপড়ে পড়ল গাছ, খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কালেখাঁতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাতলা তিনপাড়া এলাকা ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে। কারও কারও বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। কারও টিনের চালা উড়ে গিয়েছে। মোদ্দা কথা পুজোর মুখে এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে গ্রামবাসীদের। কি করে সামাল দেবেন এই অবস্থা তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে বাসিন্দাদের। প্রশাসন গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। গ্রামে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়।গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎ দমকা ঝড় ওঠে। ঝড় মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কিছু সময়ের প্রবল ঝড়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা বাড়িও রয়েছে। অসহায় মানুষগুলো এবার কি করবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না। হঠাৎ মাথার ছাদ চলে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা অসহায় বোধ করছেন। ঝড়ে একজন জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় শনিবার সাকালে ওই গ্রামে গিয়ে হাজির হন। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়ক গ্রামবাসীদের জানিয়ে দেন, তিনি গ্রামবাসীদের পাশে আছেন। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, বিধ্বংসী ঝড়ে ওই গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ির চালা উড়ে গিয়েছে। কয়েকটা গাছপালাও ঝড়ে পড়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষাবাদেরও। প্রশাসনের কর্তাদের নজরদারিতে উদ্ধারের কাজ চলছে। সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হবে। বিডিও পারিজাত বোস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান, তারপরই বচসা থেকে হাতাহাতি! উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পশ্চিমবঙ্গ শাখার একটি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে চলছিল। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি জানালে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে গিয়ে কেন প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে কয়েক জন বক্তার বক্তব্য নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়। কয়েক জন পড়ুয়া ও শিক্ষকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পড়ুয়াদের আরও দাবি, তাঁদের নানা নামে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদেরই আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।অন্য দিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, টাকা দিয়ে অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের কর্মসূচি করছিলেন। সেই সময় পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে আয়োজকদের দাবি। অর্থাৎ, সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের একটি বাসও আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বড় বাহিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল।এই ঘটনার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনছেন অনেকে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই তুলনা রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনার অংশ হলেও, তা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কত জন আহত এবং কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কেন অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ুয়াদের আপত্তি তৈরি হয়েছিল, সংঘর্ষ কী ভাবে শুরু হল এবং দুই পক্ষের অভিযোগের মধ্যে কোনগুলি তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর। পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিদেশ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলা! দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত অন্তত ২৭

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহেনেসবার্গ এবং কেপটাউনে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার পর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।প্রথম হামলাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় জোহেনেসবার্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েক জন বন্দুকধারী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে কেপটাউনের একটি জনবহুল এলাকায়। রবিবার ভোরে একটি বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনায় পাঁচ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দুটি হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক পাচার, অবৈধ খনি এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও দেশটির একাধিক এলাকায় ঘটে থাকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।তবে জোহেনেসবার্গ ও কেপটাউনের দুটি হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল এবং একই গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে’, সাধুদের কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। তাই সাধু-সন্তদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁরা মন খুলে গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন।শুভেন্দুর দাবি, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতায় এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে বিধানসভা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শেষে গীতার একটি অধ্যায়ও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কাজকর্ম নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। গীতা পাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা হরেকৃষ্ণ নাম করার ক্ষেত্রেও কোনও ভয় থাকা উচিত নয়।শুভেন্দুর বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনও সাধু-সন্ত নিজের মতো করে সনাতনী ধর্মের প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শুভেন্দু আরও বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সবাইকে এক থাকার বার্তাও উঠে আসে।এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় আরও বড় গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজাদি সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে রাষ্ট্রবাদী মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো তীব্র রাজনৈতিক ভাষাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা ও সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপএই দুই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য সামনে এল। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপির একাংশের মতপার্থক্যের কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা এবং আগামী দিনে আরও বড় গীতাপাঠের ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট, হঠাৎ বিরোধীদের দাবিতে বড় প্রশ্ন তুললেন মুকুল রোহতগি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিরোধী শিবিরের তরফে লোকসভা ও রাজ্যসভাদুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সেই আবহেই প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল তথা প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহতগি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলি ইমপিচমেন্টের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং শক্ত প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব আনা যায় না।রোহতগির যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর মতে, মতের অমিল নিজে থেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়। বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।এই প্রসঙ্গে রোহতগি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের অন্দরে কোনও পর্যায়ে মতের অমিল থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের মতামতকে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভোট অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে বেশি নয় বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোহতগি। অর্থাৎ তিন সদস্যের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। কোনও বিষয়ে দুই কমিশনার এক দিকে থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় বলে তাঁর বক্তব্য।রোহতগি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতির বেঞ্চের তুলনাও করেছেন। তাঁর যুক্তি, বিচারপতিদের মধ্যে কোনও মামলায় মতপার্থক্য থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ই শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হয়। একই ভাবে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতের অমিলকে শুধুমাত্র সেই কারণেই অসদাচরণ বলা যায় না বলে মত তাঁর।তবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাক্তন কেরল মুখ্যসচিব জিজি থমসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে একটি বিমানে দিল্লি যাওয়ার সময় তৎকালীন আমলা জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। থমসনের দাবি, তাঁকে পাঠানমতিট্টা কেন্দ্র থেকে লড়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।থমসনের এই দাবি অবশ্য তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। জ্ঞানেশ কুমারের তরফে এই অভিযোগের কোনও জবাব প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাই অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের আরও একটি বড় কারণ নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মতের পার্থক্য স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি, অন্য দিকে সেই প্রস্তাবের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে মুকুল রোহতগির প্রশ্নদুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন আমলার বিজেপির টিকিটের প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ, দাবি ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে কোনগুলি প্রমাণিত এবং কোনগুলি রাজনৈতিক দাবি, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মায়ের গর্ভগৃহে পুজো, প্রবীণ নেতার পায়ে প্রণাম—বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সফরে আবেগের অন্য ছবি

মন্দির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ।বর্ধমান: বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো ঘিরে শুক্রবার শহরে তৈরি হল এক অন্য আবহ। প্রশাসনিক কর্মসূচি শুরুর আগে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পৌঁছে গর্ভগৃহে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুজো দেন আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে রইল মন্দিরে প্রবেশের মুখে এক প্রবীণ বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং অগ্রজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য।মন্দিরে প্রবেশের সময় অবিভক্ত বর্ধমান জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দেবীপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। দেবীপ্রসাদ মল্লিক পুষ্পস্তবক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এরপরই কোনও আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুহূর্তের সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।বর্ধমানের বিজেপি সংগঠনের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে দেবীপ্রসাদ মল্লিকের নাম দীর্ঘদিনের। আশির দশক থেকেই তিনি বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। সেই সময় বর্ধমান - দুর্গাপুর ভাগ হয়নি, গোটা বর্ধমানই ছিল একটি জেলা। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।আজকের বিজেপি যখন বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তখন তার অতীতের সাংগঠনিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ কর্মীদের ভূমিকার কথাও সামনে আসে এই ধরনের ঘটনায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের মতে, বর্ধমান শহরে দলের সংগঠনকে শূন্য থেকে দাঁড় করানোর সময় দেবীপ্রসাদ মল্লিকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের একত্রিত করার কাজও করেছেন তিনি।আর সেই প্রবীণ নেতার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে তাই শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এর মধ্যে উঠে এসেছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। অবশ্য এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যার যার নিজস্ব হলেও, মুহূর্তটির আবেগ এবং তাৎপর্য বর্ধমানের মানুষের নজর কেড়েছে।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেন বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এসে পুজো দিলেন।পুরোহিতদের উপস্থিতিতে গর্ভগৃহে গিয়ে নিজের হাতে দেবীর পুজো করেন তিনি। পুজোর ডালিতে ছিল পাঁচ রকম ফল ও মিষ্টি, নারকেল, চেলি, পদ্মফুলের মালা, আলতা-সিঁদুর এবং দেবীর জন্য একটি বেনারসি শাড়ি।পুজো শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে তুলে দেন দেবী সর্বমঙ্গলার প্রতিকৃতি। ট্রাস্টের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বাঁশ দিয়ে তৈরি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের একটি রেপ্লিকা এবং দেবীর একটি প্রতিমা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।তবে শুধু পুজো বা সৌজন্য সাক্ষাতেই শেষ হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির সফর। মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।মন্দির সংস্কার, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ভবন সংরক্ষণ, সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়গুলি শুনে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (Detailed Project Report) তৈরি করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে সেই ডিপিআর জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মন্দিরের স্থাপত্য, ইতিহাস এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ককে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের দাবি উঠেছে।মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই দাবিই নতুন করে গুরুত্ব পেল বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতিকে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও তাঁদের আশা।সময়াভাবে মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য অবশ্য বিশেষভাবে ভোগ পার্সেল করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ভোগের মেনুতে ছিল পোলাও, ফুলকপি-আলুর তরকারি, ছানার ডালনা, মাগুর মাছের ঝোল, ডাল, পায়েস এবং বর্ধমানের বিখ্যাত কেশরভোগ।একদিকে কয়েক শতকের ধর্মীয় ঐতিহ্য, অন্যদিকে বর্ধমানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবীণ এক চরিত্রের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধামুখ্যমন্ত্রীর সর্বমঙ্গলা মন্দির সফর তাই একাধিক কারণে আলাদা মাত্রা পেল।সর্বমঙ্গলার গর্ভগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো, মন্দির সংস্কারের জন্য ডিপিআর তৈরির নির্দেশ এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা দেবীপ্রসাদ মল্লিকের পায়ে হাত দিয়ে তাঁর প্রণামএকসঙ্গে এই তিনটি মুহূর্ত বর্ধমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তৈরি করেছে আলোচনার নতুন আবহ।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal