• ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩, শনিবার ০২ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Court

দেশ

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে প্রশ্ন, আদালতে মমতার পক্ষে জোরালো সওয়াল

সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে বুধবার শুরু হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি। নজিরবিহীন ভাবে এই শুনানিতে নিজে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আপাতত মমতার মামলায় সওয়াল করছেন তাঁর আইনজীবীরাই।শুনানি শুরুর সময় প্রথমে সামনের সারিতে বসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কিছুক্ষণ পরেই তিনি নিজের আসন বদলে এজলাসের একেবারে সামনের সারিতে এসে বসেন। শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত রয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। আদালতে মমতার পক্ষে সওয়াল করছেন আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান।আইনজীবীরা আদালতে গত দিনের নির্দেশ পাঠ করে শোনান। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর তরফে একটি নোট জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। সেই নোটটি বিচারপতিদের দেখার জন্য আবেদন জানান আইনজীবীরা। তাঁদের আর্জি, এই নোট অনলাইনে প্রকাশ করা হোক।আইনজীবীদের বক্তব্য, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে কেন এবং কোন যুক্তিতে ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, তা স্পষ্ট ভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এই তথ্য সামনে এলে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি কমবে বলেই আদালতে জানানো হয়।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
দেশ

শুনানির আগেই সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলা মমতার! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় দাবি

এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি বুধবার সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা। সেই শুনানিতে জনতার হয়ে নিজে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুনানির আগেই শীর্ষ আদালতে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করলেন তিনি। এই নতুন মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর মূল আবেদন, অবিলম্বে ভোটারদের নাম বাতিল করার প্রক্রিয়া বন্ধ করা হোক।আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নামের বানান সংক্রান্ত অসঙ্গতির জন্য বহু ভোটারকে অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এই ধরনের নোটিস অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। তাঁর দাবি, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি রয়েছে এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। এই অবস্থায় নামের বানান নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হবেন বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, যেসব ভোটারের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা পড়েছে, তাঁদের নাম অনলাইনে প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন যেন আধার কার্ডকে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাঁরা ফর্ম-৭ জমা দিচ্ছেন, তাঁদের শুনানিতে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হোক।এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ থেকে সমস্ত মাইক্রো অবজার্ভারকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে মামলায়। মমতার বক্তব্য, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত নজরদারির মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা হচ্ছে।বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই সব মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলাও একই দিনে শোনা হবে। কবি জয় গোস্বামীর করা মামলাও সেই তালিকায় রয়েছে।আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলবেন। সেই অনুযায়ী বুধবার সকাল ঠিক ১০টার কিছু পরে তিনি শীর্ষ আদালতে পৌঁছন। শুনানির আগেই তাঁর নতুন মামলার দায়ের হওয়া ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
দেশ

কালো গাউনে সুপ্রিম কোর্টে মমতা? এসআইআর শুনানিতে নজির গড়ার সম্ভাবনা

এসআইআর ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি এখন পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলায় প্রয়োজনে নিজে আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন, এমন ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। সূত্রের খবর, এদিন তাঁকে আইনজীবীর কালো গাউন পরেই দেখা যেতে পারে।এই সম্ভাবনার মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নীল পাড় সাদা শাড়ি পরে এক মহিলা সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন, গায়ে আইনজীবীর কালো গাউন। ছবির মাধ্যমে যে মুখ্যমন্ত্রীকেই বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে তৃণমূল শিবিরে কোনও সংশয় নেই। ছবির উপরে লেখা রয়েছে, শয়তানের উকিল বনাম জনতার উকিল।এসআইআর নিয়ে বাংলার মানুষকে অন্যায়ভাবে হেনস্তা করা হলে কাউকে ছাড়া হবে না বলে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এসেছে।বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের দায়ের করা মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এক নম্বর কোর্টে শুনানির তালিকায় রয়েছে ২১ নম্বরে। একই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে যে পিটিশন দায়ের করেছেন, তা রয়েছে ৩৭ নম্বরে। কবি জয় গোস্বামীর মামলাটি রয়েছে ৩৬ নম্বরে।আইন সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন পোর্টাল বার অ্যান্ড বেঞ্চ জানিয়েছে, বুধবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি গেট পাস ইস্যু করা হয়েছে। তিনি জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্রও ইতিমধ্যেই মিলেছে। ফলে এদিন তাঁর উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত।তবে তিনি আদৌ নিজে সওয়াল করবেন কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে হলে বার কাউন্সিলের সদস্য হওয়া এবং হাই কোর্টে অন্তত তিন বছরের প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগেশচন্দ্র ল কলেজ থেকে আইন পাশ করেছেন এবং আশির দশকে কিছুদিন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসও করেছিলেন। কংগ্রেস নেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে তিনি নিম্ন আদালতে সওয়াল করেছিলেন বলেও জানা যায়।দীর্ঘদিন কোর্ট চত্বর থেকে দূরে থাকার পর আজ সত্যিই তাঁকে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এসআইআর মামলার শুনানিকে ঘিরে গোটা দেশের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ইতিহাস গড়তে চলেছেন মমতা? এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করার জল্পনা

এসআইআর মামলায় প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক দিন আগেই তিনি সে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই সম্ভাবনাই কি বাস্তব হতে চলেছে বুধবার? মঙ্গলবার এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রারের কাছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, মামলার আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে তাঁর সঙ্গে কতজন নিরাপত্তারক্ষী থাকবেন, সেই বিষয়েও আলাদা করে অনুমতির আবেদন জানানো হয়েছে। এই সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স চাওয়াতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি সত্যিই শীর্ষ আদালতে নিজে সওয়াল করবেন মুখ্যমন্ত্রী।নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে কোনও নথিভুক্ত আইনজীবী অথবা মামলার আবেদনকারী নিজে সওয়াল করতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের নথিভুক্ত আইনজীবী নন। তবে এসআইআর ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের সিইও দফতরের বিরুদ্ধে তিনি নিজেই শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সেই কারণে আবেদনকারী হিসেবে তাঁর সওয়াল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বুধবার রাজ্যের এসআইআর মামলায় চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই বক্তব্য রাখতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেস বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। তবু নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমতির আবেদন জমা পড়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে।এই মুহূর্তে দিল্লিতেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তিনি নির্বাচন সদনে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় বৈঠক চলার পর বাইরে এসে মমতা অভিযোগ করেন, তাঁদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।এই আবহে বুধবার শীর্ষ আদালতে এসআইআর মামলায় আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, তিনি সত্যিই সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নিজে সওয়াল করেন কি না।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

১০ কোটির হাওয়ালা যোগ, কিন্তু নথি আনেননি মমতা—হলফনামায় কী বলা হল?

সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযোগ খারিজ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, আইপ্যাকের অফিস থেকে তদন্ত সংক্রান্ত কোনও নথি তিনি নিয়ে যাননি। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টির কাজের সঙ্গে যুক্ত কিছু নথি তিনি সঙ্গে করে এনেছিলেন। ইডির তদন্তে কোনও রকম বাধা দেওয়া হয়নি বলেও হলফনামায় স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিল ইডি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন এবং একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপরই তদন্তে বাধা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।হলফনামায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কয়লা কাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন তিনি খুব অল্প সময়ের জন্যই তল্লাশি চলা জায়গায় ছিলেন। ইডির কোনও নথি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে আসেননি। উল্টে তাঁর অভিযোগ, তদন্তের নামে তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন রাজনৈতিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই ছিল ইডির উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই অভিযান আইনি ভাবে বৈধ ছিল না এবং যথাযথ সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছে।হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটের আগে বিরোধী রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় সংস্থার হানা এখন একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে। এর আগেও মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভি এই অভিযোগ আদালতে তুলে ধরেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইডির বাজেয়াপ্ত করা কোনও নথিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে করে নিয়ে যাননি। শুধুমাত্র দলের অভ্যন্তরীণ কাজের সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল নথি এবং কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী তিনি এনেছিলেন। পঞ্চনামাতেও ইডির বাজেয়াপ্ত নথি নিয়ে যাওয়ার কোনও উল্লেখ নেই বলেই দাবি করা হয়েছে।এদিকে ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়লা কেলেঙ্কারিতে দেশের মোট ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি পশ্চিমবঙ্গে এবং চারটি দিল্লিতে। ইডির দাবি অনুযায়ী, অনুপ মাজির কয়লা পাচার চক্রের মাধ্যমে চুরি হওয়া কয়লা বাঁকুড়া, বর্ধমান ও পুরুলিয়ার একাধিক সংস্থায় বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চুরি হওয়া কয়লার বড় অংশ বিক্রি হয়েছে শাকম্ভরী গ্রুপ অফ কোম্পানিজে।ইডির দাবি, এই মামলায় হাওয়ালা লেনদেনেরও যোগ মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির বক্তব্য, আইপ্যাকের মধ্যস্থতায় হাওয়ালার মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্তদের বয়ানে প্রতীক জৈনের নাম উঠে আসায় তাঁর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
কলকাতা

পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চে কী ভাবে এল মামলা? প্রশ্নে সরব হাই কোর্ট

ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলার বিচার কী ভাবে পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ থেকে হঠাৎ করে ডিভিশন বেঞ্চে চলে এল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে শুক্রবার এই সংক্রান্ত মোট ১৪টি মামলা শুনানির জন্য ওঠে। তার মধ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মামলাও ছিল।ওই মামলায় মামলাকারী তথা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুনানির আবেদন জানাতেই প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যে মামলা পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয়ে রায় পর্যন্ত হয়েছে, তা কী ভাবে কোনও নতুন নির্দেশ ছাড়াই ডিভিশন বেঞ্চে ফিরে এল। আদালতে এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।এর পরেই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দেয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালতকে সঠিক দিশা দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষের আইনজীবীদের এতদিনে দেওয়া সব রায় ও নির্দেশ খতিয়ে দেখে আদালতকে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে। ফলপ্রকাশের পর বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর, খুন, ধর্ষণ, লুঠপাট এবং ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। বিরোধী দলগুলির দাবি ছিল, শাসক দলের কর্মী ও সমর্থকদের হাতেই এই হিংসা ঘটেছে।এই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সেই কারণে বহু মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়, কোথাও বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়। খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।এই সমস্ত মামলা শুনানির জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেছিলেন। ওই বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল, হরিশ টন্ডন, ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, সৌমেন সেন এবং সুব্রত তালুকদার। সেই বেঞ্চ থেকেই সিবিআই তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই মামলাগুলি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য চলে আসে। বর্তমানে ওই পাঁচ বিচারপতির কেউই আর কলকাতা হাই কোর্টে কর্মরত নন।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
কলকাতা

“এটা আদালতের কাজ নয়”—বুথ নিরাপত্তা মামলায় নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি

নির্বাচনী বুথের নিরাপত্তা নিয়ে করা জনস্বার্থ মামলায় নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের প্রায় ৮৩ হাজার বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এই মামলা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়টি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আদালতের উপর সেই দায়িত্ব চাপানো ঠিক নয়। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, এটা নির্বাচন কমিশনের কাজ। তারা চাইলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে। কেন আদালতের উপর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, বুথগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব ছিল ম্যাকিনটোশবার্ন কোম্পানির উপর। কিন্তু রাজ্যের অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করার পরে ওই সংস্থা কাজ থেকে সরে দাঁড়ায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকিনটোশবার্ন প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ করার পর কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে বিষয়টি এখন রাজ্য সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।এর জবাবে মামলাকারী শমীক ভট্টাচার্যের আইনজীবী বলেন, রাজ্য সরকার অন্তত আদালতকে জানাক প্রকৃত পরিস্থিতি কী। পাশাপাশি নির্বাচনী বুথে ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।এই মামলার প্রেক্ষিতে শমীক ভট্টাচার্য আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ভোটের দিন বুথে কী ধরনের ঘটনা ঘটে, তা প্রশাসনের অজানা নয়। তাঁর প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকার পরও কীভাবে ভোটার ও বিরোধী দলের এজেন্টদের ভয় দেখানো হয়। কীভাবে বুথের ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয় বা ক্যামেরার উপর কাগজ, ময়দা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, সিআরপিএফ সাধারণত বুথের বাইরে থাকে। কিন্তু বুথের ভেতরে ভোটার ঢোকার পর কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, বিরোধী দলের এজেন্টরা কীভাবে কাজ করেন, সেই প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। এই সব কারণ দেখিয়েই রাজ্যের প্রায় ৮৩ হাজার বুথে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
দেশ

ইউজিসির নতুন নিয়মে ব্রেক! ‘৭৫ বছর পরেও কি বিভাজনের পথে দেশ?’ প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

ইউজিসি বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চালু করা নতুন ইক্যুইটি রেগুলেশন-এ স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই নির্দেশিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি দেশ আবার জাতিগত বিভাজনের পথে ফিরছে।সম্প্রতি দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ইউজিসির নতুন ইক্যুইটি রেগুলেশন কার্যকর করা হয়। কেন্দ্রের দাবি ছিল, এই নিয়মের উদ্দেশ্য হল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকলের জন্য সমান, নিরাপদ এবং সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে নতুন বিধিতে জাতিভিত্তিক বৈষম্যের সংজ্ঞা এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র তফসিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসি শ্রেণির বিরুদ্ধে হওয়া বৈষম্যকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সাধারণ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সংজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলে অভিযোগ ওঠে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি সুযোগ-সাম্য কেন্দ্র গঠন করার কথাও বলা হয়েছে। এই কেন্দ্রকে পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। এই বিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত পড়ুয়াদের একাংশ এই নিয়মের বিরোধিতা করে সরব হন।এই বিতর্কের জেরেই বিষয়টি পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ ইউজিসির নতুন ইক্যুইটি রেগুলেশনে স্থগিতাদেশ দেয়। আদালত জানায়, আপাতত ২০১২ সালে চালু থাকা ইউজিসির আগের ইক্যুইটি রেগুলেশনই কার্যকর থাকবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এত বছর ধরে জাতিহীন সমাজ গড়ার যে চেষ্টা হয়েছে, এই নতুন নিয়মে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।যদিও কেন্দ্রের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, এই বিধি কোনওভাবেই বিভাজনের জন্য নয়। বরং বৈষম্য দূর করাই এর মূল লক্ষ্য। নতুন প্রোমোশন অফ ইক্যুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন আইন, ২০২৬-এ ধর্ম, লিঙ্গ বা জাতির ভিত্তিতে সব ধরনের বৈষম্য রোধের কথাই বলা হয়েছে। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯-২০ সালে যেখানে ১৭৩টি অভিযোগ ছিল, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৮। এই পরিস্থিতিতেই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে বৈষম্য রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
রাজ্য

১৬৩ ধারা জারি, তবু শুভেন্দুকে অনুমতি—আনন্দপুর কাণ্ডে নাটকীয় মোড়

আনন্দপুরের জতুগৃহ কাণ্ড ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর মিছিল নিয়ে তৈরি হল নতুন জট। পুলিশের তরফে প্রথমে শুভেন্দুর প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নরেন্দ্রপুর থানার পক্ষ থেকে একটি ইমেলে জানানো হয়, যে রুটে মিছিল করার আবেদন করা হয়েছিল, সেখানে একাধিক হাসপাতাল ও স্কুল রয়েছে। মিছিল হলে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে যুক্ত জরুরি পরিষেবার গাড়ি ও কর্মীদের যাতায়াতও ওই রুট দিয়েই চলছে। সেই কারণে মিছিল করলে সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়ে পুলিশের তরফে অনুমতি বাতিল করা হয়।এর পাশাপাশি ঘটনাস্থলের গুদামের চারপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। ওই এলাকায় মিছিল ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের নোটিসে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রমাণ লোপাট, তদন্তের কাজে বাধা বা উদ্ধারকাজে সমস্যা এড়াতেই এই ধারা জারি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগুন লাগার চার দিন পর এই নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, দানবীয় নির্দেশ জারি করে আটকানোর লজ্জাজনক চেষ্টা চলছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির পর কিছুটা স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁকে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় যাওয়ার অনুমতি দেন। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, মিছিলের রুট পরিবর্তন করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শুভেন্দু প্রায় দুই হাজার সমর্থককে নিয়ে গড়িয়া শীতলা মন্দির থেকে ইএম বাইপাস হয়ে নরেন্দ্রপুর থানার আগেই মিছিল শেষ করবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত এই মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।রাজ্য সরকার রুট পরিবর্তন করে অনুমতি দিতে চাইলে বিজেপির তরফে কোনও আপত্তি জানানো হয়নি। এরপরই আদালতের নির্দেশে মিছিলের ছাড়পত্র মেলে। ফলে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ও ১৬৩ ধারা জারি ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল রাজনৈতিক ময়দানে।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
কলকাতা

নবান্নের সামনে নয়, মন্দিরতলাতেই ধরনা—বিজেপিকে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

নবান্নের সামনে ধরনায় বসার অনুমতি পেল না বিজেপি। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রাখল। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নবান্নের সামনে নয়, মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডেই ধরনায় বসতে হবে বিজেপিকে।আদালতের পর্যবেক্ষণ, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং নবান্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন। নবান্নের সামনে এই ধরনের ধরনা বা কর্মসূচি হলে নিরাপত্তা এবং শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। আদালত প্রশ্ন তোলে, যদি নবান্নের কাছাকাছি ধরনা করতেই হয়, তা হলে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে করতে আপত্তি কোথায়। আদালতের মতে, ওই দুই জায়গার মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নয়।এর আগেও একই আবেদন জানিয়ে বিচারপতি শম্পা দত্তের এজলাস থেকে অনুমতি পায়নি বিজেপি। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তবে সেখানেও বিজেপির আবেদন খারিজ হয়ে যায়।উল্লেখ্য, আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে প্রবেশ এবং ফাইল হাতে বেরিয়ে আসার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে নবান্নের সামনে ধরনায় বসতে চেয়েছিল তারা। বিজেপির প্রশ্ন ছিল, কীভাবে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝখানে সেখানে ঢুকতে পারেন এবং কীভাবে তদন্ত চলাকালীন নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিজেপি।এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চ এবং পরে ডিভিশন বেঞ্চ নবান্নের সামনে ধরনার অনুমতি দেয়নি বলে জানায় আদালত।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর বিতর্কে বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন কবি জয় গোস্বামী

পদবি সংক্রান্ত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে তৈরি হওয়া গোলযোগ এবার পৌঁছে গেল সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে মামলাটি দায়ের করেছেন কবি জয় গোস্বামী নিজেই। এত দিন এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন খোদ কবি। ফলে এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় জয় গোস্বামীর নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই তালিকায় রয়েছে তাঁর মেয়ের নামও। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল না থাকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা তুলে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। গত ২ জানুয়ারি তিনি প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছেন।এই বিষয়টি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, আজ যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকতেন, তাঁকেও হয়তো এসআইআরের লাইনে দাঁড় করানো হত।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্য, প্রতিদিন নতুন করে আবেদন জমা পড়ছে এবং তাতে গোটা প্রক্রিয়াটাকেই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। শুনানিতে আইনজীবী জানান, বাংলায় পদবীর নানা রকম বানানের কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেমন মুখার্জি ও মুখোপাধ্যায়এই ধরনের পার্থক্যের জন্যই অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। এমনকি আধার কার্ডও অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।বাংলার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারিই এই মামলার শুনানি হবে। অর্থাৎ আগেই যে দিন ধার্য ছিল, সেই দিনেই বিষয়টি শুনবে শীর্ষ আদালত।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বিতর্কে কড়া হাইকোর্ট! রাজ্যকে বেঁধে দেওয়া হল সময়

বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘ দিন ধরেই কাঁটাতার বসানো নিয়ে সমস্যা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ায় সীমান্তের বড় অংশ এখনও সুরক্ষিত করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর করা মামলায় রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানোর জন্য জমির টাকা আগেই দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। সেই জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কেন্দ্রের হাতে তুলে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য কেন নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে জমি অধিগ্রহণ করছে না। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জমি নেওয়া যায়। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত, সেখানে কেন সেই ধারা প্রয়োগ করা হবে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।বিচারপতি পার্থসারথী সেন বলেন, একটি রাজ্য যদি আন্তর্জাতিক সীমান্তের অংশীদার হয়, তা হলে তারা নিজেরা কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না, তা সত্যিই আশ্চর্যের।আদালত জানায়, যে জমির জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়েছে এবং অধিগ্রহণও হয়েছে, সেই জমি যত দ্রুত সম্ভব হস্তান্তর করতে হবে। এই ক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।রাজ্য এখনও জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে ক্যাবিনেটের অনুমোদন পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি।শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকলে জেলা শাসক সরাসরি আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মামলাকারীর আইনজীবীও জানান, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ ধারায় সেই সুযোগ রয়েছে।মামলায় ২০১৬ সাল থেকে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের প্রসঙ্গও তোলা হয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একাধিকবার রাজ্যকে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত রাজ্য ক্যাবিনেট কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জোর করে জমি অধিগ্রহণ রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ৪০ ধারা প্রয়োগ করা যায় না বলেই রাজ্যের অবস্থান। রাজ্য আরও জানায়, যেসব জমির টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেগুলি ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। কিছু জেলায় এক-দু মাস সময় বেশি লাগতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুরে মে মাসে, জলপাইগুড়িতে জুন মাসে এবং মুর্শিদাবাদে জুন মাসে জমি হস্তান্তরের কাজ শেষ হবে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

হাঁদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে নিয়ে আদালতে লড়াই! নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টি ঘিরে বিতর্ক

হলুদ হয়ে যাওয়া পাতার আড়াল থেকে যাঁরা আজও উঁকি দেন, হাঁদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে, কেল্টু কিংবা বাঁটুলতাঁদের স্রষ্টা আর নেই। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিরা এখনও বেঁচে আছে পাঠকের মনে। সেই সৃষ্টি নিয়েই এ বার জল গড়াল আদালতে। বাংলা কমিকসের কিংবদন্তি শিল্পী প্রয়াত নারায়ণ দেবনাথের কাজ ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে হল শুনানি। মামলা দায়ের করেছে তাঁরই পরিবার।আইনের খবর পরিবেশনকারী সংবাদমাধ্যম লাইভ ল-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কলকাতার এক নামী প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে কপিরাইট সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই এই মামলা। নারায়ণ দেবনাথের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও পুত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে নিম্ন আদালতে একটি বাণিজ্যিক মামলা দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, ২০১২ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে ওই প্রকাশনা সংস্থাকে নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টি করা কমিকস প্রকাশ ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই চুক্তির মেয়াদ ছিল মাত্র দুবছর।পরিবারের দাবি, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ওই প্রকাশনা সংস্থা নারায়ণ দেবনাথের সৃষ্টি করা কমিকস নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করে চলেছে। যা স্পষ্ট ভাবে কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত প্রকাশনা সংস্থার উপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রয়াত শিল্পীর কোনও লেখা বা চিত্রকর্ম ছাপা, প্রকাশ বা বিক্রি করা যাবে না।আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ঠিক আগে এই নির্দেশে চাপে পড়ে প্রকাশনা সংস্থা। তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। তবে হাইকোর্টও নিম্ন আদালতের নির্দেশই বহাল রাখে।সম্প্রতি বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। লাইভ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরা হয়। তাদের দাবি ছিল, বইমেলার মুখে এই নিষেধাজ্ঞা তাদের বড় আর্থিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দেবে। পাশাপাশি বলা হয়, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন পরিবার কোনও আপত্তি তোলেনি। তাই এই সময় মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এছাড়া উইলের চূড়ান্ত প্রোবেট না পাওয়া পর্যন্ত পরিবার মামলা করতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।তবে ডিভিশন বেঞ্চ এই সব যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, উইলের চূড়ান্ত প্রোবেট পাওয়ার আগেও সম্পত্তি ও স্বত্ব রক্ষার জন্য আইনি পদক্ষেপ করা যায়। কপিরাইট লঙ্ঘন একটি চলমান অপরাধ, তাই আগে কেন মামলা করা হয়নি, সেই যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয়। হাইকোর্টের মতে, সমস্ত দিক বিবেচনা করেই নিম্ন আদালত ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল এবং সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
রাজ্য

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানলেন না ‘দাবাং’ বিডিও, এ বার কী করবে পুলিশ?

দাবাং বিডিও হিসেবেই এলাকায় পরিচিত প্রশান্ত বর্মণ। কিন্তু এ বার তাঁর বিরুদ্ধে আরও বড় অভিযোগ উঠল। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি আত্মসমর্পণ করলেন না। শুক্রবারের মধ্যে বিধাননগর মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এ দিন আদালতে হাজির হননি প্রশান্ত বর্মণ। এর পরেই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কী পদক্ষেপ করবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।সল্টলেকের দত্তাবাদের বাসিন্দা স্বপন কামিল্যা নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় প্রশান্ত বর্মণের নাম জড়িয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির একটি খাল থেকে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয়। এই খুনের ঘটনায় একাধিক অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও এখনও অধরা প্রশান্ত বর্মণ। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তিনিই এই খুনের মূল অভিযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার।এই মামলায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে বিধাননগর পুলিশ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট আগাম জামিন বাতিল করে ২২ ডিসেম্বরের নির্দেশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আদালতে হাজির হননি প্রশান্ত। এর পর তাঁকে ফেরার ঘোষণা করে বিধাননগর আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।ফেরার অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টে যান প্রশান্ত বর্মণ। গত ১৯ জানুয়ারি সেখানেও স্বস্তি পাননি তিনি। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে স্থানীয় আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। জানানো হয়, যে আদালতে মামলা বিচারাধীন, সেখানেই তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।এর মধ্যেই প্রশাসন রাজগঞ্জে নতুন বিডিও নিয়োগ করেছে। রাজগঞ্জের জয়েন্ট বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডলকে বিডিওর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ২৩ জানুয়ারি, আত্মসমর্পণের শেষ দিনেও আদালতে হাজির হননি প্রশান্ত বর্মণ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ বার পুলিশ কি কড়া পদক্ষেপ করবে? প্রশান্ত বর্মণই বা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
কলকাতা

এক বছরের অচলাবস্থার অবসান? চিংড়িহাটায় মেট্রো কাজ নিয়ে বড় আপডেট

অবশেষে আশার আলো দেখা গেল কবি সুভাষকলকাতা বিমানবন্দর (জয় হিন্দ) মেট্রো প্রকল্পের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাজ নিয়ে। চিংড়িহাটায় প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল মেট্রোর কাজ। নানা অজুহাতে সেই কাজ এগোনো সম্ভব হচ্ছিল না। তবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কড়া মনোভাব দেখানোর পরেই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বার করল কলকাতা পুলিশ।মেট্রোর কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে উত্তরমুখী, অর্থাৎ সাইন্স সিটির দিক থেকে উল্টোডাঙাগামী যান চলাচলের জন্য নতুন রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে। ক্যাপ্টেন ভেড়ির লাগোয়া অংশ দিয়ে প্রায় ৪৫০ মিটার রাস্তা ঘুরিয়ে চিংড়িহাটা উড়ালপুল পেরিয়ে গাড়ি বের করানো শুরু হয়েছে। এর ফলে মেট্রোর করিডরের নীচ দিয়ে তৈরি হয়ে থাকা রাস্তা অবশেষে যান চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, এই রাস্তা কয়েক মাস আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। চিংড়িহাটা উড়ালপুলে ওঠার আগেই রাস্তাটিকে দুভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। উল্টোডাঙা ট্রাফিক গার্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার থেকে বাস এবং মালবাহী যানগুলি ক্যাপ্টেন ভেড়ির সামনে দিয়ে ঢুকে চিংড়িহাটার দিকে বেরোবে। বাইক, ট্যাক্সি এবং ছোট গাড়িগুলি আগের মতোই ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস ব্যবহার করবে।চিংড়িহাটা মেট্রোর মাত্র ৩৬৬ মিটার কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড এবং কলকাতা মেট্রোর তরফে রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পুলিশের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের চিংড়িহাটা অংশে অন্তত তিন রাত রাস্তা বন্ধ রাখার আবেদনও করা হয়। কিন্তু কোনও অনুরোধেই কাজ না হওয়ায় বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে।এরপরই প্রধান বিচারপতি রাজ্য প্রশাসন ও কলকাতা পুলিশকে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করেন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত জটিলতা মেটানোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরেই দীর্ঘদিন আগে তৈরি হয়ে থাকা রাস্তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হল।কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন, কলকাতা মেট্রোর সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। ট্রাফিক পুলিশের দাবি, নতুন ডাইভারশন চালু হওয়ায় ব্যস্ত সময়েও চিংড়িহাটা ফ্লাইওভারে ওঠার মুখ ফাঁকা থাকবে। পাশাপাশি রাতে রাস্তা বন্ধ করলেও যান চলাচলে বড় সমস্যা হবে না।যদিও উত্তরমুখী রাস্তার সমাধান মিলেছে, তবে দক্ষিণমুখী অর্থাৎ সাইন্স সিটি বা গড়িয়াগামী যান চলাচল কোন পথে ঘোরানো হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে কলকাতা ট্রাফিক সূত্রে খবর।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
কলকাতা

অশান্ত বেলডাঙা নিয়ে আদালতের বড় বার্তা, প্রয়োজনে কেন্দ্র দেবে আরও বাহিনী

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বর্তমানে এলাকায় যে পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে, জীবন ও জীবিকা রক্ষার স্বার্থে তাদের পুরোপুরি ব্যবহার করা হোক। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, যদি বাহিনী পর্যাপ্ত না হয়, তা হলে রাজ্যের অনুরোধে কেন্দ্র আরও বাহিনী অনুমোদন করুক।বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, প্রতিবাদের নামে বেলডাঙায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে, সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অশান্তি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, যা পুলিশ সুপার নিজেই স্বীকার করেছেন। অথচ এরপরেও পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।মামলাকারী আরও জানান, গত বছর জুলাই মাসে একই ধরনের পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে সামসেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানে বাহিনী থাকলেও, বেলডাঙায় সেই বাহিনী কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, বেলডাঙায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অর্থাৎ ১৪৪ ধারা জারি করা হোক। পাশাপাশি দেশের শান্তি নষ্ট করার জন্য বাইরে থেকে কোনও অর্থ আসছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এনআইএ তদন্তেরও আবেদন জানানো হয়।এই অভিযোগের জবাবে রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, এর আগেও মুর্শিদাবাদের ঘটনায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ঘরছাড়াদের নিরাপদে ঘরে ফেরানো হয়েছে। বিচারপতিরা তখন জানতে চান, বর্তমানে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশাসনিক স্তরে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।এরপর রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। এলাকায় পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে এবং তারা নিয়মিত টহল দিচ্ছে বলেও দাবি করে রাজ্য।রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়, বর্তমানে বেলডাঙার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাজারও খুলেছে। এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, যেহেতু কেন্দ্রীয় বাহিনী ইতিমধ্যেই এলাকায় রয়েছে, তাই জীবন ও জীবিকা রক্ষার জন্য তাদের পুরোপুরি ব্যবহার করা হোক। প্রয়োজনে আরও বাহিনী চাইলে কেন্দ্র অনুমোদন দেবে।বিচারপতি পার্থসারথি সেন রাজ্যের উদ্দেশে বলেন, মামলাকারীর অভিযোগ অনুযায়ী রাজ্য প্রথম দিকে পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই অভিযোগের জবাবে রাজ্যের আইনজীবী জানান, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। তাঁর বক্তব্য, মামলাকারী চান সব জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিএসএফ নামানো হোক। তবে রাজ্য ঘটনার দিন থেকেই এবং তার পরেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

জানুয়ারি ২০, ২০২৬
রাজ্য

‘কোর্টে হার, ভোটে হার’! সুপ্রিম রায়ের পর বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের

তৃণমূল কংগ্রেসের করা এসআইআর মামলায় ইতিমধ্যেই বড় রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত তৃণমূলের বেশির ভাগ দাবিকেই মান্যতা দিয়েছে। সেই রায় ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ভোটের মুখে এই রায়কে ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় স্বস্তি বলেই মনে করা হচ্ছে।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বারাসতের জনসভা থেকে তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আজ কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাব। সবাই তৈরি থাকুন।বারাসতের মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়ে অভিষেক বলেন, বাংলা কোনও সাধারণ রাজ্য নয়। এই মাটি উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ বা গুজরাট নয়। এই মাটিই স্বাধীনতা আন্দোলন আর নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে।অভিষেক আরও বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে জানিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি বিচারপতিরা নির্দেশ দিয়েছেন, বিএলএ-২-রা শুনানিতে থাকতে পারবেন। যাঁরা শুনানিতে যাচ্ছেন, তাঁদের রসিদও দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ জারি রেখে অভিষেক বলেন, এসআইআর নিয়ে বিজেপির খেলা শেষ। যাঁরা এক কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছিল, এই রায় সেই সব মানুষের জয়। তাঁর দাবি, এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়, এই জয় বাংলার জয়।অভিষেক আরও বলেন, ভোটাধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। যারা সেই অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালত কড়া জবাব দিয়েছে। শেষে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, কার ক্ষমতা বেশি ১০ কোটি মানুষের, না বিজেপির জমিদারদের?

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের দাবিতে সিলমোহর, এসআইআর শুনানিতে বিএলএ-দের অনুমতি

এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি কেন্দ্রে বিএলএ-দের থাকার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই সরব ছিল। সোমবার সেই দাবিতেই সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, এবার থেকে বিএলএ-রা শুনানিতে থাকতে পারবেন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে তাঁরা কোনও ভোটারের হয়ে সওয়ালও করতে পারবেন।সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাব। তবে এই রায়কে তৃণমূলের নৈতিক জয় হিসেবে মানতে নারাজ বিজেপি।এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন সাংসদ দোলা সেন এবং ডেরেক ওব্রায়েন। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। সেখানেই তৃণমূলের একাধিক দাবি মান্যতা পায়। দুসপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁরা নিজের পক্ষে সওয়াল করার জন্য যে কাউকে সঙ্গে রাখতে পারবেন। আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী বা বিএলএ-দের সাহায্য নেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তার জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারকে স্বাক্ষর বা টিপসই দিয়ে লিখিত অনুমতি দিতে হবে। সেই অনুমতি থাকলেই বিএলএ কোনও ভোটারের হয়ে শুনানিতে হাজির থাকতে পারবেন।এই রায় প্রসঙ্গে তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এতদিন বিএলএ-দের শুনানিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। নির্বাচন কমিশনের একাধিক আপত্তিও ছিল। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও ভোটার চাইলে শুনানিতে অন্যের সাহায্য নিতে পারেন। সেই সাহায্যকারী হিসেবে বিএলএ-দেরও রাখা যাবে।তৃণমূল এই রায়কে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে। তবে বিজেপির বক্তব্য, যেখানে গণতন্ত্রই ঠিকমতো চলছে না, সেখানে নৈতিক জয়ের প্রশ্নই ওঠে না। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, এখনও ফর্ম সেভেন জমা দিতে গেলে তা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এই কাজ তৃণমূলই করছে বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, যতদিন না পুরো প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, ততদিন নির্বাচন হওয়া উচিত নয়।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
রাজ্য

স্বর্ণকার খুন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, আত্মসমর্পণ করতে হবে রাজগঞ্জের বিডিওকে

রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণকার স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষণইয়ের বেঞ্চ আগামী শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে। যে আদালতে মামলাটি চলছে, সেই স্থানীয় আদালতেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ গত ২২ ডিসেম্বর প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল তাঁর। আত্মসমর্পণের পর জামিনের আবেদন করার সুযোগও ছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানেননি তিনি। এরপর গত ডিসেম্বরেই বিধাননগর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর নিউ টাউনের যাত্রাগাছি এলাকা থেকে উদ্ধার হয় স্বর্ণকার স্বপন কামিল্যার দেহ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে উঠে আসে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিনিই মূল অভিযুক্ত।অভিযোগ, নীল বাতি লাগানো সরকারি গাড়ি নিয়ে প্রশান্ত বর্মন দলবলসহ স্বপনের বাড়িতে যান। সেখান থেকে স্বপনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যাত্রাগাছির একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। তদন্ত যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে প্রশান্ত বর্মনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি বলে মনে করছে পুলিশ।এই কারণেই বিধাননগর পুলিশ আদালতে আবেদন জানায়, যাতে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া যায়। কিন্তু বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও আদালতে হাজির হননি প্রশান্ত বর্মন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই জামিনের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। তবে সেখানেও স্বস্তি পেলেন না। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাঁকে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। আপাতত রাজগঞ্জের বিডিও-র আর কোনও পথ খোলা নেই।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
রাজ্য

বিক্ষোভে ঘেরা বিধায়ক! জেড প্লাস নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে হুমায়ুন

বেলডাঙার অশান্ত ঘটনার পর এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নিজের জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও আদালতে জানিয়েছেন তিনি।সোমবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির পর বিচারপতি হুমায়ুন কবীরকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাতে বলেন। আদালত জানায়, নিরাপত্তার প্রয়োজন কতটা, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব প্রশাসনের। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।সম্প্রতি ভিনরাজ্যে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। গত শনিবার সেই বিক্ষোভস্থলে যান হুমায়ুন কবীর। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনিই বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোনওক্রমে এলাকা ছাড়তে হয় তাঁকে।এর আগেও ব্রিগেড পরিদর্শনে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন হুমায়ুন। সেই সময় তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান দিতে থাকেন। এই একের পর এক ঘটনার কথা উল্লেখ করেই তিনি আদালতে নিরাপত্তার আবেদন করেছিলেন।আদালতে হুমায়ুন কবীর আবেদন জানান, অন্তত কিছু দিনের জন্য হলেও যেন তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বলেন, নিরাপত্তা দেওয়ার আগে হুমকির মাত্রা বিচার করতে হবে। সেই মূল্যায়নের পরই সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাই আদালত থেকে সরাসরি নিরাপত্তার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।হুমায়ুন কবীরের আইনজীবী অনুরোধ করেন, যতদিন না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আবেদন গ্রহণ করছে, ততদিন অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা দেওয়া হোক। তবে সেই আর্জি গ্রহণ করেনি আদালত।এদিকে নতুন দল গঠনের পর ব্রিগেডে সভা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। সেই জন্য অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতি মেলেনি বলে তিনি দাবি করেছেন। এখন তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদেই তাঁর সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 19
  • 20
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

নতুন মাসেই বড় ধাক্কা, অটো গ্যাসের দামে লাফ—আবার কি বাড়বে ভাড়া?

নতুন মাস শুরু হতেই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা অনুভব করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি অটোতে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বেড়েছে। লিটার প্রতি অটো গ্যাসের দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৪৪ পয়সা। ফলে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ৮৯ টাকা ৪০ পয়সা। এর ফলে অটো ভাড়া আবার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কিছুদিন আগেও এই গ্যাসের দাম অনেক কম ছিল। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে জ্বালানির দামে বৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এক মাস আগেও জ্বালানি পাওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অটোর দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল।এর আগে জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে বিভিন্ন রুটে অটো ভাড়া ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখন আবার দাম বাড়ায় নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।অটোচালকদের একাংশ জানিয়েছেন, আপাতত ভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবছেন না, তবে গ্যাসের দাম কমলে তাঁদের সুবিধা হবে। অন্যদিকে কিছু চালক বলছেন, ইতিমধ্যেই ভাড়া বেড়েছে এবং পরিস্থিতির কারণে আরও বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে।রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা জানিয়েছেন, ভোটের পরেই গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে এবং খরচ আরও বাড়বে।

মে ০১, ২০২৬
রাজ্য

কাল ফের ভোট ১৫ বুথে, ডায়মন্ড হারবার-মগরাহাটে বড় সিদ্ধান্ত—কোন কেন্দ্রে কী ঘটেছিল জানেন?

শনিবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, মোট ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন হবে। এই সব বুথই ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এছাড়াও ফলতার একটি বুথে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত ১৫টি বুথে ভোট হওয়া নিশ্চিত।পুনর্নির্বাচনের পিছনে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং বুথে টেপ লাগানোর মতো অভিযোগ। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব বুথে টেপ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, সেখানে কিছু ক্ষেত্রে ওয়েব কাস্টিংয়ের ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এই কারণেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৩৪ লক্ষ বেশি ভোটার এবারে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন। আগে যেখানে প্রায় ৫ কোটি ৯৮ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন, এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩১ লক্ষ। বিশেষ সংশোধনের ফলে বহু নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার পরেও ভোটের সংখ্যা বেড়েছে।ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই অতিরিক্ত ৩৪ লক্ষ ভোট কোথায় গেল। প্রায় ৯৩ শতাংশ রেকর্ড ভোটদানের পিছনে শুধু ভুয়ো ভোটার বাদ পড়াই নয়, প্রকৃত ভোটারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

মে ০১, ২০২৬
কলকাতা

গণনার আগে কড়া নজর, মমতা-অভিষেকের বৈঠকে ঠিক হচ্ছে বড় কৌশল

ভোটের ফল ঘোষণার আগে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত চরমে উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং ভাবানীপুরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার পর থেকেই আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে তৃণমূল শিবির। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে কালিঘাটে বৈঠকে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সোমবার ফল ঘোষণা হওয়ার কথা। তার আগে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুমের অবস্থা, সেখানে নজরদারি এবং গণনার দিনের পরিকল্পনাসব কিছু নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা চলছে এই বৈঠকে। মমতা ও অভিষেক দুজনেই পুরো পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন।শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে বৈঠক করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেই কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীরা গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামপুকুর ও বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের কিছু আধিকারিক ইভিএম খোলার চেষ্টা করছেন। এর প্রতিবাদে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে ধর্নায় বসেন তারা।যদিও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, সমস্ত ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।

মে ০১, ২০২৬
কলকাতা

ক্ষুদিরাম থেকে শাখাওয়াত, সর্বত্র কড়া পাহারা—কারচুপির আশঙ্কায় চরম সতর্কতা

বঙ্গের ভোট রাজনীতিতে এবার স্ট্রংরুম ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই একাধিক জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায়। প্রথমে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, পরে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালদুই জায়গাতেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। একদিকে তৃণমূলের কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা ধর্নায় বসেন, অন্যদিকে সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গভীর রাত পর্যন্ত স্ট্রংরুমের বাইরে টানটান পরিস্থিতি ছিল। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চাপানউতোর চলতে থাকে। শুক্রবার সকালেও সেই উত্তেজনা বজায় রয়েছে।সকালে আবার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছন কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। অন্যদিকে বিজেপির এজেন্টরাও স্ট্রংরুমের বাইরে উপস্থিত হয়ে পাহারা দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই তাঁরা সেখানে রয়েছেন।গতকালের ঘটনার পর স্ট্রংরুমগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে গতরাতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন, যদিও নির্বাচন কমিশন সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে থাকার পর তিনি বেরিয়ে এসে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলেন এবং প্রয়োজনে প্রার্থীদের নিজেদের ইভিএম পাহারা দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের জন্য সিসিটিভি দেখার ব্যবস্থা করা উচিত।এই ঘটনার পর শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং বাইরে পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। স্কুলের আশেপাশে প্রবেশের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি হয়েছে এবং নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ঢুকতে পরিচয়পত্র দেখাতে হচ্ছে।ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রেও একই রকম কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম রাখা হয়েছে। পুরো এলাকাকে প্রায় দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং ভিতরে ঢোকার আগে কড়া তল্লাশি করা হচ্ছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে নজরদারি চালাচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে গণনার আগে স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ছে এবং রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগও বাড়ছে।

মে ০১, ২০২৬
রাজ্য

স্ট্রংরুমে হঠাৎ সিসিটিভি বন্ধ, কালনায় চাঞ্চল্য—রাত পাহারায় নামলেন প্রার্থী

দলীয় নেতা-কর্মীদের স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন জেলায় সতর্ক রয়েছেন দলের কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে কালনায় স্ট্রংরুমের সিসিটিভি ক্যামেরা দুই মিনিট বন্ধ থাকার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী স্বপন দেবনাথ। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, দুই মিনিট সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই সময়ের মধ্যেই অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। এরপর তিনি জানান, এখন থেকে তিনি নিজে রাতেও সেখানে পাহারা দেবেন।কালনা কলেজে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম রাখা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি হল কালনা, মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর এবং পূর্বস্থলী দক্ষিণ। অভিযোগ, গতকাল সন্ধ্যার কিছু আগে প্রায় দুই মিনিট সিসিটিভি বন্ধ ছিল। দলের স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে পুলিশকে কারণ জানতে চান স্বপন দেবনাথ। তিনি বলেন, বড় কোনও ঘটনা ঘটতে খুব বেশি সময় লাগে না, এক মুহূর্তই যথেষ্ট, তাই কেন এই সময় ক্যামেরা বন্ধ ছিল তা স্পষ্ট করা দরকার।অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। কালনার বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এত দেরিতে কেন সেখানে পৌঁছলেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল এখন অজুহাত খুঁজছে। তিনি দাবি করেন, মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে এই কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে।

মে ০১, ২০২৬
দেশ

নর্মদায় ভয়াবহ বিপর্যয়! পর্যটকভর্তি প্রমোদতরী ডুবে মৃত্যু, আতঙ্কে দেশ

আনন্দময় ভ্রমণ মুহূর্তে পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) নর্মদা নদীর জলাধারে ডুবে গেল একটি পর্যটকভর্তি প্রমোদতরী। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নৌকাটিতে প্রায় তিরিশ জন পর্যটক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে পনেরো জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি কয়েকজনের খোঁজে এখনও জোর তল্লাশি চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (Madhya Pradesh)।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নৌকাটি যখন জলাধারের মাঝামাঝি পৌঁছেছিল, তখন হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। প্রবল ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। সেই সময় ভারসাম্য হারিয়ে নৌকাটি একপাশে কাত হয়ে জলের মধ্যে ডুবে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। ডুবুরিরা জল থেকে একে একে যাত্রীদের উদ্ধার করতে শুরু করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে (Madhya Pradesh)।উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন জব্বলপুর জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা। প্রথমে স্থানীয় দল উদ্ধারকাজ শুরু করলেও পরে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। রাত নেমে এলেও বাকি নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এপ্রিল ৩০, ২০২৬
কলকাতা

স্ট্রংরুম ঘিরে বিস্ফোরক পরিস্থিতি! মুখোমুখি তৃণমূল-বিজেপি, উত্তপ্ত কলকাতা

ভোট শেষ হতেই ইভিএম নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায় তৃণমূল ও বিজেপি। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে স্ট্রংরুমের বাইরে ধর্নায় বসেন তৃণমূলের প্রার্থী শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ।ধর্না শেষে তাঁরা বাইরে বের হতেই বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। কেন তৃণমূলকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ দেখান বিজেপি সমর্থকরা। শুধু কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নয়, দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যেও তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠক।এদিকে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবানীপুরের শেখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই রয়েছে ভোট শেষে রাখা ইভিএম। এর আগে তিনি ইভিএম বদলের আশঙ্কা প্রকাশ করে কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।রাতের দিকে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও। তাঁদের সঙ্গে পুলিশের বচসার ঘটনাও সামনে এসেছে। অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গেলেও ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।এর আগে মমতা কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, স্ট্রংরুম থেকে গণনাকেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত নজরে রাখতে হবে। কোনও অবস্থাতেই ঢিলেমি করা যাবে না। গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব ছেড়ে না যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য এই শেষ লড়াইটুকুও লড়তে হবে।এই ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটের ফল ঘোষণার আগে ইভিএম নিরাপত্তা নিয়ে এই টানাপোড়েন নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এপ্রিল ৩০, ২০২৬
কলকাতা

অশান্তিতে জ্বলছে বাংলা! ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা, বড় পদক্ষেপ কমিশনের

দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোট-পরবর্তী হিংসা আটকাতে কড়া পদক্ষেপ নিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন । বৃহস্পতিবার প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল স্পষ্ট নির্দেশ দেন, যারা অশান্তি ছড়িয়েছে, তাদের আজ রাতের মধ্যেই গ্রেফতার করতে হবে।বুধবার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই একাধিক এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে আগাম সতর্ক হয়ে উঠেছে কমিশন । বৈঠকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা হয় মূলত ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটের মতোই ভোটের পরের পরিস্থিতিতেও কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। কোনও অশান্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা গোলমাল করে পালিয়ে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট শেষ হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢিলেঢালা করা যাবে না। রাজ্যে এখনও ৭০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। গণনার দিন এবং তার পরেও নিরাপত্তা যেন কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে ।উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের পর কলকাতার বেহালা ও গড়িয়া-সহ একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলার বিভিন্ন অংশ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ এসেছে। ২০২১ সালের ভোটের পরেও রাজ্যে হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগে থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এপ্রিল ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal