• ৯ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Theatre

বিনোদুনিয়া

ধূমকেতু পাপেট থিয়েটারের সপ্তম জাতীয় পুতুল নাটকের উৎসব

ধুমকেতু পাপেট থিয়েটারের পরিচালনায় ও কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের সহযোগিতায় সপ্তম জাতীয় পুতুল নাটক উৎসব সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো দুদিন ধরে উত্তর কলকাতার বাগবাজার রিডিং লাইব্রেরীতে। সংস্থার পরিচালক দিলীপ মন্ডল জানান এবার উৎসবের থিম জনসেবায় পুতুলের ব্যবহার, শিক্ষা স্বাস্থ্য ও সমাজ সচেতনতা। আমরা গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে কলকাতার নানান স্কুল ও সংস্থায় আমরা পাপেট কর্মশালা ও সেমিনার করে চলেছি। আসাম ও নাগাল্যান্ডে ওয়াকসপ সেমিনার করার পরেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলে এবং বিভিন্ন সংস্থায় পাপেটের কর্মশালা ও সেমিনারের করেছি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছতা, স্বচ্ছ ভারত নিয়ে পুতুল নাটক করা হয়। এবারের উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠান হয় বাগবাজার রিডিং লাইব্রেরীতে দুদিনে ধরে। প্রদীপ জ্বালিয়ে এই উৎসবের শুভ সূচনা করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী সমিত সাহা ও নাট্য নির্দেশক সুরজিৎ সিনহা। তাদের উত্তরীয় ও স্বারক দিয়ে সংবর্ধনা জানান ধূমকেতু পাপেট এর কর্ণধার দিলীপ মন্ডল। প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো ধুমকেতু পাপেট থিয়েটারের স্বাধীনতা বিপ্লবীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলেমেয়েদের নিয়ে জগায়ের স্বপ্ন রাংতাল থিয়েটারের মানব পুতুল এবং সংবেদনের ঠোঙার পাপেট মঞ্চস্থ হয়। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু বেলা দুটো থেকে। এদিন ছিলো শিল্পাঞ্জলির র তারের পুতুল নাচ আর কথা বলা পুতুল, ধুমকেতু পাপের থিয়েটারের কথা বলা পুতুল, অরুণ কুমার ঘোষের পুতুল নাচ, আশা নিকেতনের জগায়ের স্বপ্ন দ্বিতীয় পর্ব আর স্বনির্ভর দলের পাপেটে পড়া পড়া খেলা। এই ছিলো উৎসবের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের ধূমকেতু পাপেট আয়োজিত জাতীয় পুতুল উৎসবের মূল আকর্ষণ। সব মিলিয়ে সমগ্র অনুষ্ঠানটি এক কথায় অনবদ্য হয়ে ওঠে। সামগ্রিক অনুষ্ঠান এর ভাবনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন ধূমকেতু পাপেট এর কর্ণধার দিলীপ মন্ডল।

জানুয়ারি ১৪, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ুধ-এর নতুন প্রযোজনা ‘মাস্টারদা: ১৯৩০’

স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামী মাস্টারদা সূর্য সেনের প্রতি নিবেদিত এক শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসাবে দমদমের ঐতিহ্যবাহী নাট্যদল রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ুধ মঞ্চস্থ করল তাঁদের নতুন প্রযোজনা মাস্টারদা: ১৯৩০। নাটকটি লিখেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. দানী কর্মকার। কলকাতার মুক্তাঙ্গন মঞ্চে মঞ্চস্থ হল নাটকটি। মাস্টারদার জীবন ও দর্শনমগ্ন এক সমষ্টিজীবন এই নাট্য। এই নাটক এক বেদনাদায়ক এবং একই সাথে বিস্মৃত ইতিহাসের গৌরবময় পাঠে পরিণত হয়েছে। ডকু থিয়েটারের আঙ্গিকে মঞ্চের নির্ধারিত পরিসরেই উঠে এসেছে ঐতিহাসিক সেই সময়। অবিভক্ত বাংলার অজস্র বিপ্লবীদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে অবিস্মরণীয় আত্মবলিদানের এক রক্তাক্ত দলিল যেন এই নাটক। এ যেন সংলাপের মাধ্যমে এক অখন্ড জীবন-কথা। নাট্যকার সংলাপ, আবহে, অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চের পরিসরে ত্রিশের সেই ঐতিহাসিক যুগ রচনা করেছেন আশ্চর্য দক্ষতায়। ঐতিহাসিক হলেও এই নাটক সমকালীন চিরন্তন মহাকাব্য হয়ে উঠেছে। ত্রিশের দশকে ব্রিটিশ পরাধীনতার সেঁকল ছিঁড়তে বাংলার যে সমস্ত বিপ্লবী তরুণ তরুণী সংগ্রাম করেছেন তাঁদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টারদা। গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলনের বিপরীতে চট্টগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মাস্টারদা। আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের দলের নাম রেখেছিলেন ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা। সেইসব স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম ও অবদানের পাশাপাশি এই নাটকে উল্লেখিত হয়েছে তৎকালীন ঐতিহাসিক ঘটনা ও মুহূর্ত। এ যেন অগ্নিযুগের বিপ্লবনাট্য।অতিমারি কাটিয়ে মাস্টারদার জীবন ও সাধনার সমস্ত তথ্য সাল-তারিখসহ ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের এই নাটকটি সত্যি অনবদ্য। মাস্টারদার চরিত্রে কাজল শম্ভুর চরিত্রায়ন প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চরিত্রে যথাক্রমে ঝুমা ঘোষ ও বর্ণালী কর্মকার নাটকে প্রাণ সঞ্চার করেছেন।নাটকের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিত সরকার, রাজদীপ সাহা, বিনায়ক কর্মকার, লোকনাথ দাস, ঈশান কর্মকারসহ এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী। নাটকের আবহ ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ড. দানী কর্মকার। নাটকের বিশাল প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও আবেগময় মুহূর্ত সৃষ্টিতে আবহ বিরাট ভূমিকা রেখেছে। মঞ্চে বিশাল রক্তাক্ত ক্যানভাস নাটকের বিষয়ভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে। আলো আঁধার ও যুদ্ধের ভয়াবহতা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন আলোক পরিকল্পক গোবিন্দ কর্মকার। এছাড়া রূপসজ্জায় ছিলেন সৌগত মিত্র, পোশাক ভাবনায় সীমা কর্মকার এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন বর্ণালী কর্মকার।

জুন ২৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

কাঁচড়াপাড়া ফিনিকের নাটক " বন্ধনহীন গ্রন্থি "

কাঁচরাপাড়া কাজী নজরুল ইসলাম মঞ্চে কাঁচরাপাড়া ফিনিক প্রযোজিত নাটক বন্ধনহীন গ্রন্থি মঞ্চস্থ হলো। এক পৌঢ় দম্পতির নিঃসঙ্গ বেদনা নাটকের বিষয়বস্তু। দুই পুত্র বিদেশে ব্যাস্ত থাকার কারণে দীর্ঘ কয়েক বৎসর পুত্র, পুত্রবধু ও নাতি-নাতনীদের মুখদর্শনেবঞ্চিত দম্পতির অতীতচারণে উঠে আসে। নিজেদের স্বার্থপরতার কথা, পুত্রদের উচ্চশিক্ষা বিদেশে না হলে সমাজে সম্মান না থাকার কথা, আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় দূরত্ব তৈরি করা ইত্যাদি। এরই মধ্যে ধূমকেতুর মতো উদয় হয় পৌড়ের ভাগ্নে এবং ছোটবোন। বিনাপয়সায় চক্ষু অস্ত্রপচার শিবিরে মাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য সুদূর বর্ধমানের এক গ্রাম থেকে সটান চলে আসে সুধাময়ের বাড়িতে এক/দুদিনের জন্য থাকতে। প্রথমে বিরক্তি হলেও পরে ভাগ্নে কার্তিক এবং বোন মিনতির সাহচর্যে এবং কার্তিকের মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনের প্রতি কর্তব্যকর্মে মুগ্ধ হয়ে ওঠে।পরিশেষে উপলব্ধি করে যে একা একা বাঁচা যায় না। নিঃসঙ্গতা কাটাতে হলে পরস্পর পরস্পরের হাত ধরে আনন্দের সঙ্গে বাঁচতে হবে। তাই প্রতিবেশী দীবাকর বাবুর কথা মত একটি সংস্থার সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নাটকের সমাপ্তি।নীল কৌশিকের মঞ্চ অন্যমাত্রা এনে দেয়। বাপ্পা সেনের আলো - দুঃখ, বেদনা, আনন্দ ও স্মৃতি রোমন্থনে দারুন ভাবে কাজ করেছে। সুজয় সেনগুপ্তর আবহ, দৃশ্যায়ন তৈরিতে সহায়তা করেছে। অভিনয়ে কনক মুখার্জি ও অমিতা সেন অনবদ্য। তপন মণ্ডল ও সুতপা দাস যথাযথ , তবে কার্তিক চরিত্রে গৌতম ঘোষের অনবদ্য অভিনয় অনেকদিন মনে থাকবে।এককথায় উপভোগ্য একটি প্রযোজনা। এই নাটকের পরিচালক কাবেরী মুখার্জি নাট্যকার অতনু মজুমদারের নাটকের বক্তব্যকে সহজ এবং সুন্দর ভাবে দর্শকের কাছে উপস্থাপিত করেছেন।

জুন ০৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

ইউটিউবে দর্শকদের নাটক দেখাতে বিশেষ ভাবনা

নাটক দেখবো। কিন্তু তাও আবার ইউটিউবে? সেরকমই ভাবনা নিয়ে এসেছে ইউপিক্স কলকাতা। করোনা পরিস্থিতিতে ইউটিউবের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় সেই ইউটিউব কে কাজে লাগিয়ে নাটকের ভাবনা নিয়েছে এই সংস্থা। তাদের এই ইউটিউব চ্যানেলের শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল যাদবপুরের ইন্দুমতি সভাগৃহ তে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বদেশ গাঙ্গুলি, প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, রিমি গাঙ্গুলি, অভিজিৎ সেন, রিপণ দাস সহ অন্যান্যরা। বাংলাদেশে ইউটিউবের মাধ্যমে নাটককে তুলা ধরার বিষয়টা বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। তাদের আদলেই নাটককে ইউটিউবের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে তুলে ধরার ভাবনা নিয়েছে ইউপিক্স কলকাতা। ইউপিক্স কলকাতা-র প্রতিষ্ঠাতা সানি মন্ডল জানিয়েছেন নবাগত চলচ্চিত্র পরিচালকরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য এগিয়ে এসেছে ইউপিক্স কলকাতা। এদিন এই সংস্থার পক্ষ থেকে হ্যাপি বার্থডে, টোটাল সোশ্যাল, এবং দ্য ট্রিপ এই তিনটি ছোট নাটকের পোস্টার উন্মোচন করা হয়। চ্যানেলটি ৫ জুন ইউটিউবে লঞ্চ হবে। সেদিন হ্যাপি বার্থডে নাটকটি দেখতে পাবেন দর্শকরা।

মে ২৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সালকিয়া সব্যসাচী থিয়েটার দলের নাট্য সেমিনার

বর্তমানে বিভিন্ন থিয়েটার দল থিয়েটার সেমিনারের আয়োজন করছে। থিয়েটার সেমিনারের মূল লক্ষ্য থিয়েটার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। সেরকমই সালকিয়া সব্যসাচী বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সন্ধ্যাবেলায় থিয়েটার সেমিনারের আয়োজন করে। সালকিয়া শিল্পাশ্রম স্কুলে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সাতটি স্কুলের ৭৫ জন ছাত্রছাত্রী এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। বিশিষ্ট অভিনেতা, পরিচালক ও বেতার শিল্পী মুরারী মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য দক্ষতায় প্রায় দু-ঘন্টা ধরে বিশ্লেষণ করেন থিয়েটার নিয়ে আলোচনা করেন এর মধ্যে ছিল থিয়েটার কি? থিয়েটারের প্রয়োজনীয়তা কেন? মুরারী মুখোপাধ্যায় জানান বিদ্যালয় থেকেই শুরু হওয়া দরকার থিয়েটার শিক্ষা।এছাড়াও অভিজিৎ চ্যাটার্জী ও এই বিষয়ে আলোচনা করে। ছাত্রছাত্রীরা মুগ্ধ হয়ে এই থিয়েটার আলোচনা শুনে আপ্লুত হন। ছাত্রছাত্রীরাও প্রশ্নোত্তর পর্বেও যোগদান করে। শেষে তারা বলে এই প্রথম এমন একটি অনুষ্ঠানে তারা অংশ নিল যেখানে তারা শিখলো যে পুঁথিগত বিদ্যা ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতাই জীবনে সব নয়। এই থিয়েটার সেমিনার নিয়ে তারা জানল চরিত্র গঠন, মনের বিকাশ ও জ্ঞানের ভান্ডার একমাত্র থিয়েটারই বৃদ্ধি করতে পারে।

মে ১২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

নাটক নিয়ে বিশেষ ভাবনা, অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে নাটকের বিভিন্ন বিষয়

নাটকের জন্য একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম টাইমস অফ থিয়েটার-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হল কলকাতা প্রেস ক্লাবে। গুগল প্লে স্টোরে এই অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিল্পব দাশগুপ্ত, শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমিত্র বসু, জগন্নাথ বসু, উর্মিমালা বসু, অংশুমান ভৌমিক, মুরারি রায়চৌধুরী, প্রদীপ মিত্র, সঞ্চয়িতা ভট্টাচার্যর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।টাইমস অফ থিয়েটার প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নাটক নিয়ে কাজ করতে করতেই আমাদের মনে হয়েছিল যে নাটকের জন্য এমন কিছু করা দরকার যা নাটককে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দেবে। রোজকার জীবনে নাটক যেন বন্ধুর মতো থাকে। তাই টিওটি রেডিও অ্যাপ তৈরি হল। টিওটি রেডিও অ্যাপে সারাদিন নাটক, নাটক নিয়ে আলোচনা, নাটকের গল্প, নাটকের গান, নাটকের কুইজ, ছোটদের নাটক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। টিওটি রেডিও অ্যাপের কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি নেই। বিশ্বের যেকোনও প্রান্ত থেকে এই অ্যাপের মাধ্যমে যুক্ত থাকা যাবে।

মে ১০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মিনার্ভা থিয়েটারে 'দেবীগর্জন' গর্জে উঠল

বিজন ভট্টাচার্যর কাছে নাটক শুধু একটা পারফরম্যান্স ছিল না। শিল্প বলতে তাঁর কাছে ছিল সমাজ বদলের হাতিয়ার। থিয়েটারকে বুঝতেন গণের নাটক। যা কেবল সাধারণ মানুষের ভাল-মন্দ-দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কথা বলবে না। নাটকের মধ্য দিয়ে মানুষও হয়ে উঠবেন সেই গল্পের এক একজন অংশ। দেবীগর্জন- বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি অন্যতম নাটক। বীরভূমের সাঁওতাল কৃষকদের আন্দোলন অর্থাৎ দেবীগর্জন নাটক, উৎসর্গ করা হয়েছে কৃষক আন্দোলনের শহীদদের উদ্দেশ্যে, উনিশ বিশ শতক জুড়ে নীল- তেভাগা সহ সমস্ত কৃষক যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। এছাড়া দেবীগর্জন নাটকে দুটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে হয়। বিজন ভট্টাচার্য জানান যে আদিবাসী সাঁওতালরা তাদের আরাধ্য হিসাবে কালী কে আরাধনা করেন, সেই মাতৃ শক্তির আবির্ভাবের কথা খেয়াল রেখেই নাটকে দেবীগর্জন নাম এবং প্রসঙ্গ এসেছে। কৃষক আন্দোলন নাটকে প্রেক্ষাপট হলেও দুটি প্রসঙ্গ নাটকে প্রধান- ধর্মগোলা ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। নির্যাতিত নিপীড়িত সাঁওতাল আদিবাসী কৃষকদের জোতদারদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে এই দেবীগর্জন নাটকের মধ্য দিয়ে। জমিদার প্রথার বিলোপ হলেও মধ্যস্বত্বভোগী প্রভঞ্জন সামন্ততান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পঞ্চায়েতি প্রথাকে পিছনে রেখে কৃষকদের জমি নিজের দখলে করে নেন। এদিকে কৃষি ঋণ ও সুদ জোগাতে হত দরিদ্র আদিবাসী কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়। অবশেষে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তারা, নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়। তিন অঙ্কের এগারোটি গর্ভাঙ্কে দেবীগর্জন হয়ে উঠেছে স্বার্থক গণনাট্য। এখানে আমি রাজা আমারই নীতি ইটাই রাজনীতি প্রভঞ্জনের এই কথায় যেমন সমকালীন জোতদারের মুখোশ খুলে যায়, ধর্মগোলার মজুত ধানের বিতরণের দাবিতে চাষিদের সঙ্গে জোতদারের বিরোধ বাধে, তখন মংলার চেতনায় প্রশ্ন জাগে- কে রাজা, কার রাইজ্য ? এটাই গণনাট্যের মূল। নাটকের শেষে মংলার নেতৃত্বে জোটবদ্ধ ভুঁই চাষির দল পঞ্চায়েতি শাসন চালুর দাবি জানায়। সেই দাবির গর্জনই আসলে দেবীগর্জন। কলকাতার মিনার্ভা থিয়েটারে নাট্যিক কোলকাতার এই দেবীগর্জন নাটকটি মঞ্চস্থ হল। নাটকটিতে সকলের পারফরম্যান্স দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। প্রতাপ কুমার মণ্ডল নাট্যিক কোলকাতা দলের কর্ণধার ও নির্দেশক। তিনি জানিয়েছেন, বিজন ভট্টাচার্য মহশয়ের নাট্য চিন্তা ভাবনা ও দর্শন এর জায়গা থেকে আমরা গত ছয় মাস ধরে এই নাটকের মহড়া দিচ্ছি, চেষ্টা করছি লেখকের মূল ভাবনা কে তুলে ধরার; প্রথম অভিনয়ের মঞ্চায়নের ভুলভ্রান্তি সব শুধরে আমরা শিঘ্রই মঞ্চে ফিরছি; এবং দেবীগর্জন নাটক বাংলা থিয়েটারে যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে, সেটা আমাদের বিশ্বাস। এই নাটকে সৃজিতা বান্টি ভদ্র নাটকের মূল কেন্দ্রে রত্না চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাংলা থিয়েটারের প্রথম সারির অভিনেত্রী একজন সৃজিতা। তাঁর প্রথম নির্দেশনা দেবীগর্জন নাটকটি, তিনি যে মুন্সিয়ানার সঙ্গে অত্যন্ত নিপুণ ভাবে এই নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন, তা যথেষ্ট প্রশংসার দাবী রাখে। এই নাটকে সৃজিতাঁর অভিনয় সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।এই নাটকে তিনি যুব সাউতাল মংলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল শম্ভু। শম্পা দে এই নাটকে গীরি চরিত্রে যথেষ্ট প্রভাবশালী অভিনয় দেখিয়েছেন। শঙ্খ বরণ দাস ত্রিভুবনের চরিত্রে তিনি অসম্ভব দক্ষতার সঙ্গে চরিত্রের রূপ দিয়েছেন। সন্তু সাধু খাঁ নাটকের মূল নেগেটিভ চরিত্র প্রভঞ্জন যার জন্যই এই দেবীগর্জন, তিনি সকল সহশিল্পীদের সঙ্গে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন।

মে ০৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

"কৃষ্ণপক্ষ" সিঁথি অনুরণন- এর নাটক সকলের বিশেষভাবে ভালো লাগবে

উত্তর কলকাতার মিনারভা থিয়েটার হলে সিঁথি অনুরণন এর নবতম প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হলো কল্লোল চক্রবর্তী র লেখা পূর্ণাঙ্গ নাটক কৃষ্ণপক্ষ ।এই নাটকের মূল বিষয় হলো, একটি আবহ যা অনাদিকাল ধরে চলে আসা রিরংসা, লোভ, মোহ, মাৎসর্যকে ধারণ করে বসে আছে। অনভিপ্রেত হিসেবে সে কিছু মৃত্যু বহন করছে। কিন্তু মৃত্যু যেহেতু একটি নির্ণয় বা পরিণাম হয়ে থাকতে পারে না, সেই কারণে এই নাটকের অন্তিম পর্যায়ে চন্দ্রোদয় এর কথা বলে জীবনে ফিরে আসা হচ্ছে। যে দমবন্ধ পরিবেশের মধ্যে দর্শককুল সতত তাদের মস্তিষ্কের সঞ্চালনে বাধা পেয়ে অসার হয়ে যাচ্ছিল, তা থেকে শেষমেশ মুক্তি পায়। এই নাটকের কুশীলবরা নিষ্ঠুরতাকে সঙ্গী করে এবং তাদের জীবনের পরাজয়, অবসাদ, বিষন্নতা এই সবের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর দ্যোতক হয়ে ওঠে।মিনার্ভা থিয়েটার হলে নবীন পরিচালক ও অভিনেতা দেবাঞ্জন চ্যাটার্জীর পরিচালনায় সমস্ত কুশীলবরা তাঁদের সেরা অভিনয় দিয়ে নাটকটিকে একটি উচ্চ মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন। নাটকের আবহ তৈরি করেছেন সুশান্ত চক্রবর্তী। ভুজঙ্গের চরিত্রে চঞ্চল বন্দ্যোপাধ্যায়, মালতী- ডাঃসংঘমিত্রা সাহা,বেজি - তুষারকান্তি বাগচি, মঞ্জু - পাপিয়া রায়, ধ্রুব - দেবাঞ্জন, অশোক-অর্ণব মজুমদার,নবা- সুদীপ শিকদার, প্রধান- ডাঃ সোমনাথ সাহা, পুলিশ-আশিস কুমার চন্দ্র ও মহিলা কনস্টেবল এর চরিত্রে দীপিকা ঘোষ মুন্সিয়ানার সাক্ষর রেখেছেন। আলো, ধ্বনি, সাজসজ্জা, শব্দ প্রক্ষেপণ যথাযথ। সবমিলিয়ে কৃষ্ণপক্ষ নাটকটি সকল দর্শকদের নজর কারে।

মে ০৫, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো কাঁচরাপাড়া ফিনিকের সপ্তম বর্ষ নাট্যোৎসব ২০২২

কাঁচরাপাড়া ফিনিক নাট্য সংস্থা আয়োজিত প্রয়াত সৌমিত্র মুখার্জী স্মরণে সপ্তম বর্ষ মিলন নাট্য উৎসব বিপুল দর্শক সমাগমে স্থানীয় কাজী নজরুল ইসলাম মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো। সংস্থার সভাপতি যমুনা কান্ত চক্রবর্তী উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। প্রতিদিন ফিনিকের সদস্য- সদস্যা দের সমবেত সংগীত এর মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয় । প্রথম দিন গ্রুপ থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদক দেবাশিস বন্দোপাধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। এবং পরবর্তী দিনগুলিতে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব শান্তনু মজুমদার, সঞ্জয় সেনগুপ্ত, দুলাল চক্রবর্তী, ডঃ অপূর্ব দে, এবং প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যকে উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক ও স্মারক দিয়ে সম্মান জানানো হয়।তিন দিনে মোট সাতটি নাটক যথাক্রমে - গোবরডাঙ্গা রূপান্তরের যুদ্ধ, ডানলপ চোখের রাহুগ্রাস, আঁতপুর জাগৃতির অথ ভগবতী কথা , রানিকুঠি জীয়নকাঠির আশ্চর্য বসন্ত , বীরনগর মালঞ্চ নাট্যগোষ্ঠীর আমরা মানুষ, এবং- বরানগরের অন্ধ গলির রাজা, ও চন্দননগর রঙ্গ পিঠের পাসপোর্ট মঞ্চায়িত হয়। প্রত্যেকটি নাটক দর্শকদের প্রশংসা ধন্য হয়।শেষদিনে ফিনিক - এর সভাপতি উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে শেষ হলো কাঁচরাপাড়া ফিনিকের এই তিনদিনের নাট্য উৎসব।

এপ্রিল ০৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

অনুষ্ঠিত হলো গোবরডাঙ্গা চেতক আয়োজিত নাট্য বিষয়ক সেমিনার " দলগুলির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলেও থিয়েটারে দর্শক কমে যাচ্ছে কেন"?

গোবরডাঙ্গা চেতক তাদের নিজস্ব মহলা কক্ষে আয়োজন করেছিলো এক নাট্য বিষয়ক সেমিনারের। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গোবরডাঙ্গা পৌরসভার পৌরপিতা ও নাট্য অভিনেতা শঙ্কর দত্ত। তিনি এই উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানান এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। গোবরডাঙ্গা চেতকের নাট্য বিষয়ক সেমিনারের বিষয় ছিলো নাট্য দলগুলির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সাধারণ দর্শকের নাট্য বিমুখতা...কেন? এই নিয়ে আলোকপাত করেন গোবরডাঙ্গা শিল্পায়নের নির্দেশক আশীষ চট্টোপাধ্যায়, ভাবনা থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদক অভিক ভট্টাচার্য , গোবরডাঙ্গা নাবিকনাট্যমের নির্দেশক জীবন অধিকারী এবং অশোকনগর নাট্যমুখ এর নির্দেশক অভি চক্রবর্তী সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ আইচ। সকলেই বর্তমান সময়ের নাট্য দল গুলির আর্থিক অনটন, অভিনেতা অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিক না দিতে পারা, পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ন দেওয়া,প্রচারের অভাব এর পাশাপাশি দর্শকদের ভালো মন্দ, সময়-ব্যস্ততা, টিভি সিরিয়াল-ফেসবুকের রমরমা,টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ, নাটকের নামি অনামি শিল্পীদের অভিনয় সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ ও নানা কথা আলোচনা করেন থিয়েটার ব্যক্তিত্বরা। দীর্ঘ দু ঘন্টা এই সেমিনার চলে। এই আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন গোবরডাঙ্গা চেতক এর সম্পাদক ও নির্দেশক দীপক সাহা।মঞ্চে উপস্থিত সকল নাট্য ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে চেতক নাট্য দলের সদস্যরা। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন গোবরডাঙ্গা চেতকের সভাপতি শৈলেন মুখোপাধ্যায়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি এক কথায় খুব তাৎপর্য পূর্ন হয়ে ওঠে। চেতকের কর্ণধার দীপক সাহা এক সাক্ষাৎকারে জানালেন ১৯৮৯ সাল থেকে আমাদের এই দলের পথ চলা শুরু হয়। কোনো সরকারী গ্র্যান্ড বা সাহায্য ছাড়াই আমরা প্রতি বছর চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে থেকে নাট্য উৎসব, সেমিনার ও নাট্য কর্মশালা করে চলেছি।

এপ্রিল ০৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো তিন দিনের ইমন নাট্যমেলা

প্রতি বছরের মতন এ বছর ও মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার আয়োজন করেছিল তিন দিনের ইমন নাট্যমেলা। গত ২৫ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ সংস্থার নিজ উদ্যোগে নির্মিত পদাতিক মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই নাট্যমেলায় মঞ্চস্থ হয় মূকাভিনয়, আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য ও নাটক। এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় সঙ্গীত, নৃত্য, অঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা।প্রথম দিন সন্ধ্যা ৬টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্য পরিচালক অভি চক্রবর্তী, তপন দাস, দোলা রায় হাওলাদার, অপূর্ব দে, জীবন অধিকারী, অভিজিৎ ব্যানার্জী ও ইমন মাইমের কর্ণধার ধীরাজ হাওলাদার সহ বহু বিশিষ্ট রা। প্রথম দিন ছিল গৌতম অধিকারী-র কথাবলা পুতুল এবং তারপর মঞ্চস্থ হয় দত্তপুকুর দৃষ্টি-র বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য নির্দেশিত নাটক জুতা আবিষ্কার বাসুদেব আইচ পরিচালিত নটরাজ নৃত্য গোষ্ঠীর নৃত্যানুষ্ঠান এবং হালিশহর রংতাল থিয়েটারের মূকাভিনয়, পরিচালনায় ছিলেন রতন চক্রবর্তী। উৎসবের দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত হয় সংগীত প্রতিযোগিতা এবং তারপর ছিল নৃত্য প্রতিযোগিতা এরপর বিকেল ৫টা থেকে অনুষ্ঠিত হয় আইসকা মসলন্দপুর এর পরিবেশনায় ক্যারাটে প্রদর্শনী, পরিচালক স্বরাজ হাওলাদার। এদিন সম্মান জ্ঞাপন করা হয় বিশিষ্ট মূকাভিনয় শিল্পী মুকুল দেব, বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, রণেন চক্রবর্তী, দীপক মুস্তাফি প্রমুখদের। এদিনের অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল মীনাক্ষী পাঠকের পরিচালনায় মল্লার নৃত্যগোষ্ঠীর নৃত্যানুষ্ঠান, অনন্যা চক্রবর্তীর পরিচালনায় অনুশীলা কাব্যগীতি-র আবৃত্তি, মূকাভিনেতা শ্রীকান্ত বসু-র একক মূকাভিনয় ও শতকমল মাইম সেন্টারের মূকাভিনয়; পরিচালনায় ছিলেন কমল মন্ডল।এবছরের ইমন নাট্যমেলার তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দিন, সকাল ১০টায় ছিল অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও তারপর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। এদিন সন্ধ্যায় প্রথমেই ছিল সমস্ত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা গুলির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং তারপর একে একে পরিবেশিত হয় চন্দনা রায়ের পরিচালনায় ছন্দাবলী ও রনিতা দাস-এর পরিচালনায় সৃজন কলাকেন্দ্রের নৃত্যানুষ্ঠান ও সৌরজ্যোতি অধিকারী ও কৃষ্ণেন্দু তালুকদারের গান। এরপর মঞ্চস্থ হয় জীবন অধিকারীর পরিচালনায় গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের নাটক অথ বৃষমঙ্গল কথা ধীরাজ হাওলাদারের পরিচালনায় মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার এর মূকাভিনয় আজি হতে শতবর্ষ পরে এবং শঙ্খশুভ্র বিশ্বাসের পরিচালনায় খাঁটুরা শিল্পাঞ্জলীর পাপেট শো।এই নাট্যমেলার শেষ দিনে মঞ্চে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ আইচ। তাঁকে ইমন মাইমের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়। ইমন নাট্যমেলা-২০২২ এর প্রতিটি দিন উৎসবস্থল পরিপূর্ণ করে দর্শকরা নাটক, মূকাভিনয় ও অন্যান্য অনুষ্ঠান গুলি উপভোগ ও সমাদর করেছেন। মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার-এর কর্ণধার ধীরাজ হাওলাদার সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন-এই নাট্যমেলায় এত দর্শক বন্ধু এবং সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলির সহৃদয় অংশগ্রহণ আমাদের সাহস ও শক্তি যোগায় এবং এই উৎসব কে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলে। মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টার এর নাট্যমেলা মছলন্দপুর এর সংস্কৃতি জগতে একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য আয়োজন হয়ে উঠেছে একথা বলাই যায়।

এপ্রিল ০১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

পূর্ব বর্ধমানে মহা সমারোহে পালিত হল বিশ্ব নাট্যদিবস

২৭শে মার্চ রবিবার বিশ্ব নাট্যদিবস। এই উপলক্ষে পূর্ব-বর্ধমান জেলার ভাতাড়ের প্রচেষ্টা নাট্যসংস্থা ও নটরাজ মিউজিক কলেজের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা প্রশংসনীয়। নাটক জীবন ও সমাজের দর্পণ। নাটকের মাধ্যমে সমাজকে জাগ্রত করা যায় তা আমরা ব্রিটিশ শাসিত ভারতের সময় থেকেই দেখে এসেছি। এখন এই সময়কালে ছোট থেকে বড়ো সকলে যখন মোবাইলে আকৃষ্ট তখন ভাতাড়ের মত একটা ছোট্ট জায়গায় অনেক অসুবিধা অনেক রকম সমস্যা থাকা সত্ত্বেও প্রচেষ্টা যে নিজের চেষ্টা জারি রেখেছে তা অতুলনীয়। আজ সন্ধ্যায় প্রচেষ্টার পক্ষ থেকে তিনটি নাটকের অংশ অভিনীত হয়েছে -- নিরূপ মিত্রের পাওনা গন্ডা; মনোজ মিত্রের-- টাপুর টুপুর আর চন্দন সেনের অনুবীক্ষণ। শুধুমাত্র নাটক মঞ্চস্থ করা নয় একটা ছোট আলোচনা সভার আয়োজন ও করা হয় নাটকের শেষে। যেখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা এবং দর্শক নিজেদের মতামত জানাতে পেরেছেন। এই উদ্যোগ যেমন নাট্য শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তার সঙ্গে আগামী প্রজন্মকে নাটক বিষয় আগ্রহী করে তুলবে। আর শহরের বড়ো বড়ো মঞ্চ থেকে দূরে থাকা নাট্য পিপাসু দের পিপাসা মেটাবে। এই সংস্থার সভাপতি শ্রী প্রসেনজিৎ ব্যানার্জী মহাশয় ও সম্পাদক শ্রী ধীমান ভট্টাচার্য মহাশয়ের ঐকান্তিক চেষ্টা ও পরিশ্রম এগিয়ে নিয়ে চলেছে এই অঞ্চলের নাট্য চর্চাকে। আগামী দিনে ওনাদের আগামী প্রজন্ম নাট্য শিল্প জানবে ও নাট্যচর্চা শিখবে এই আশা রাখি।

মার্চ ২৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মঞ্চস্থ হলো মুকুলিকা গানের স্কুল আয়োজিত দুদিনের মুক্ত মঞ্চে থিয়েটার উৎসব ২০২২

গোবরডাঙ্গা মুকুলিকা গানের স্কুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হলো এই প্রথম ২ দিন ব্যাপি আনন্দধারা মুক্ত মঞ্চে নাট্যৎসব ২০২২। প্রথমদিন এই উৎসবের সূচনা হয় সেমিনার দিয়ে। আমার ছেলেবেলা আমার থিয়েটার- শীর্ষক সেমিনারে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নাট্য পরিচালক আশিষ চট্টোপাধ্যায়,ভাবনা থিয়েটারের সম্পাদক অভীক ভট্টাচার্য্য, নাট্যব্যক্তিত্ব দীপা ব্রহ্ম, নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা জীবন অধিকারী ও ইমন মাইম সেন্টার এর কর্ণধার ধীরাজ হাওলাদার। সেমিনারে দীপা ব্রহ্ম একটি সঙ্গীত পরিবেশনও করেন, সেমিনারের বিষয়টি এবং উপস্থাপনা উপস্থিত শ্রোতা দের বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে। সেমিনার পরিচালনায় ছিলেন জীবন অধিকারী।এই নাট্য উৎসবের উদ্বোধনী সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন গোবরডাঙ্গা পৌরসভার পৌর প্রধান শংকর দত্ত ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শ্রীমতি রত্না বিশ্বাস চৌধুরী এবং সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ আইচ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।উৎসবের প্রথম দিন অনিমা দাসের কথায় ও সুরে সম্মিলিত সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে মুকুলিকার ছাত্র-ছাত্রীরা নাট্য উৎসবের সূচনা করে। প্রথমদিন এই উৎসবের মুল আকর্ষণ ছিলো শ্রুতিনাটক। অনিমা দাসের নির্দেশনা ও মুকুলিকার প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয় দুটি শ্রুতিনাটক শান্তিনীড়, ও আমার একলা আকাশ। প্রসঙ্গত শান্তিনীড় নাটকটি রচনা করেন অনিমা দাস। মুকুলিকা প্রয়োজিত বনানী মুখোপাধ্যায় এর নাটক সখা শ্রুতি নাটকটি সকলের ভালো লাগে, নির্দেশনা অনিমা দাস। এরপর গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের নাটক স্বীকারোক্তি মঞ্চস্থ হয়, গল্প নন্দিতা বাগচী, নাটক সুব্রত সরকার, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা জীবন অধিকারী। উৎসবের দ্বিতীয়দিন মঞ্চস্থ হয় ন্যাজার্ট ভাবনা প্রোয়োজিত নাটক কাঁথা, নির্দেশনা সমরেশ বসু, রচনা মোহিত চট্টোপাধ্যায়। ঐদিনের দ্বিতীয় নাটক টি ছিলো দৃষ্টি দত্তপুকুরের উপস্থাপনা পান্ডুলিপির সাদা পাতা।শেষ পরিবেশনা ছিলো ধীরাজ হাওলাদারের পরিচালনায় ইমন মাইম সেন্টার এর মূকাভিনয়। দর্শকরা দারুণভাবে উপভোগ করেছেন সেই মুকাভিনয়। সমগ্র উৎসব পরিকল্পনা, ভাবনা ও পরিচালনায় ছিলেন মুকুলিকার কর্ণধার অনিমা দাস।

মার্চ ২৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

অনুষ্ঠিত হলো গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের নাট্য উৎসব ২০২২

গোবরডাঙ্গা শিল্পায়ন স্টুডিও থিয়েটারে মহা সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হলো তিনদিন ধরে গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের নাট্য মিলন উৎসব ২০২২। শাঁওলি মিত্র নামাঙ্কিত মঞ্চে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট একাডেমির প্রধান হৈমন্তী চট্ট্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন আশিস দাস, কৃষ্ণেন্দু চট্ট্যোপাধ্যায়, শ্যামল দত্ত, বাসুদেব কুন্ডু সহ বহু বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব। নাবিক সম্মানে সম্মানিত করা হয় অভিনেতা নরেন কন্ডু কে। এদিন মঞ্চস্থ হয় দুটি নাটক। প্রথম নাটক আমতা পরিচয়ের থ্যাঙ্ক ইউ দাদাজি। নির্দেশক - ঋতুপর্না বিশ্বাস। দ্বিতীয় নাটক গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের অথ বৃষ মঙ্গল কথা, নির্দেশনা ও সামগ্রিক পরিকল্পনা - জীবন অধিকারী। দুটি নাটকই দর্শক সাধারনের মন জয় করে। বিশেষ করে অথ বৃষ মঙ্গল কথা নাটক টি দর্শকদের মনে আনন্দের জোয়ার এনে দেয়, হাস্যরসে এই সময়ের একটি অন্য রকম প্রযোজনা দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিল। দ্বিতীয় দিন মুকুলিকা গানের স্কুল পরিবেশন করেন শ্রুতি নাটক তাহার নামটি রঞ্জনা, বিধায়ক ভট্টাচাৰ্য এর এই নাটক টি পাঠ করেন অনিমা দাস ও আস্তিক মজুমদার, তারপর হরিপাল আশ্রমিক পরিবেশন করেন নাটক সেলসম্যান নাট্যকার ও নির্দেশক ভাস্কর দাস ও দিনের শেষ নাটক সূর্য সন্ধান থিয়েটার জঙ্গলমহলের এই নাটকটির নাট্যকার ও নির্দেশক সঞ্জয় আচার্য। তৃতীয় দিন অর্থাৎ উৎসবের শেষ দিন নাবিক সম্মান প্রদান করা হয় মায়া রাহা কে, তিনি ১৯৭৭ সালে নাবিক নাট্যমের প্রথম নাটকের প্রথম অভিনেত্রী ছিলেন। এই দিনের প্রথম নাটক ছিলো হালিশহর উনিটি মালঞ্চ প্রযোজিত আত্মকথন নির্দেশনায় ছিলেন দেবাশিস সরকার, দ্বিতীয় নাটক খড়দহ থিয়েটার জোন প্রযোজিত কাম ব্যাক বিনোদিনী নির্দেশক তপন দাস এবং সব শেষ ইমন মাইম সেন্টার পরিবেশন করেন একটি মুখাভিনয়। নির্দেশক ছিলেন ধীরাজ হওলাদার। সবমিলিয়ে সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো নাবিক নাট্যমের নাট্য উৎসব ২০২২।

মার্চ ১৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

"আভি রাত বাকি হ‍্যায়" রঙ্গকর্মীর এই নতুন নাটক জীবন কে এক গভীর সঙ্কট এর মুখোমুখি দাঁড় করায়

আমরা সকলেই কম বেশি জীবনের নানা সমস্যায় জর্জরিত। অর্থনৈতিক, সামাজিক সমস্যার পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনেও নানা ঘাত প্রতিঘাতে আমাদের মন ভালো নেই। বর্তমান সময়ে প্রতিটা পরিবারে কিছু না কিছু সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা যখন আরো বাড়তে থাকে তখন সেই পরিবারটা শেষ হয়ে যায় তিলে তিলে। ১৯৮০ সালে বোম্বের মিল ওয়ার্কার দের নিয়ে বিখ্যাত মারাঠি নাট্যকার জয়ন্ত পাওয়ার লিখেছিলেন তার জনপ্রিয় নাটক আধান্তর। রঙ্গকর্মীর প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাট্য নির্দেশক ও অভিনেত্রী উষা গাঙ্গুলীর অনুপ্রেরণায় সেই নাটক মারাঠি ভাষা থেকে হিন্দি অনুবাদ করেছেন কৈলাশ সিঙ্গার। সেই হিন্দি নাটক অভি রাত বাকি হ্যায় একাডেমি হলে মঞ্চস্থ হলো। নাট্যরূপ ও নির্দেশনা সৌতি চক্রবর্তী।এই নাটকটি একটা অতি সাধারণ গরীব পরিবার কে কেন্দ্রকরে মঞ্চস্থ হয়েছে। যে পরিবারে রয়েছে তিন ভাই, এক বোন আর মা। বড় ভাই বাবা স্বপ্ন দেখে বিরাট সাহিত্যিক হবার। মেজো ভাই নাড়ুর স্বপ্ন মস্তান বা ডন হবার। আর পরিবারের ছোট ছেলে মোহন সারাদিন রেডিওতে ক্রিকেট শোনে।তার দিশাহীন জীবন। বোন মঞ্জুর বিয়ে হয়েছে কারখানার এক লেভার রানের সাথে। রানে ইউনিয়ান লিডার। সে সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। কিন্তু মঞ্জু একটা কারখানায় কাজ করলেও ঠিকমত টাকা পায়না, তাই শে পাড়ার একজনের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, পেটে আসে সন্তান।পরিবারের সবাই তাকে প্রশ্ন করলে মঞ্জু উত্তর দেয় বাঁচতে গেলে লাগে পয়সা। কে দেবে টাকা, কারখানায় ঠিকমত টাকা দেয়না, তাইসে এই পথে গেছে। বড় ছেলে বাবা চেয়েছিল তার লেখা উপন্যাস কাগজে ছাপাতে। পারেনি সে। সামান্য টাকায় সে প্রকাশক কে দিয়ে দেয়।সেই শোক ভুলতে প্রতিদিন নেশা করে।মেজো নাড়ু প্রায়দিন মস্তানী করে পাড়ায়। সংসারে সে কিছুই দেয়না, মায়ের থেকে এসে টাকা চায়, আর খেতে আসে। ছোটো মোহন রেডিও তে ক্রিকেট শুনে কাটায়। দিশাহীন,লক্ষহীন জীবনের এক বেকার যুবক। বাড়িতে প্রতিদিন অশান্তি, পরিবারে আর্থিক অভাব, গালিগালাজ এসব রোজকের ঘটনা। এই চলতে চলতে মঞ্জুর সাথে যে লোকের অবৈধ সম্পর্ক ছিলো সেই লোক কে খুন করে নাড়ু। পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এই পরিবারের ছেলে মেয়েদের যে পিতা সে অনেক আগে মারা যায়। তার এল এই সি মাত্র ১৫ হাজার টাকা পায়। পাশাপাশি মঞ্জুর স্বামী রানের কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। তাদের মালিক মাত্র ২৫ হাজার টাকা দেয়। শেষমেষ পরিবারের সকলেই মাকড়সার জালের মতন নিজেদের জীবনে আর্থিক অনটন, মানহানিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, এখান থেকে কোনো ভাবে বেরিয়ে আসার উপায় নেই।অসহায় এক পরিবার লক্ষ বিহীন,দিশাহীন এক অজানা অন্ধকারে তলিয়ে যায় সকলেই। করোনার পরবর্তী সময়ে বহু পরিবারের এই অবস্থার স্বীকার। অসাধারণ একটি নাটক আভি রাত বাকি হ্যায়। রঙ্গকর্মীর নতুন নাটকটি এখন কার সময় উপযোগী নাটক। চমৎকার উপস্তাপনা। এই নাটকে দারুন অভিনয় করেছেন (বড় ছেলে বাবা) শুভম, (মেজো ছেলে নাড়ু) দিপেস রজক, (ছোট ছেলে মোহন) ওম তেওয়ারী, (মেয়ে মঞ্জু) স্নেহা রায়, (জামাই রানে) অনিরুদ্ধ সরকার, (মা) রঞ্জিনী ঘোষ, (নাড়ুর সঙ্গী বাটার) রহত নাদিম, (বড় ছেলের বন্ধু সতীশ) শঙ্কর দে, (মামি) শ্রেয়া খৈতান। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিষেক, বাপ্পা, অরিজিৎ ও সুভাষ। এই নাটকে সৌমেন চক্রবর্তী র আলো, সৌতি চক্রবর্তীর মঞ্চ নজর করেছে। সবমিলিয়ে এক ঘন্টা পঞ্চাশ মিনিটের রঙ্গকর্মীর এই নতুন হিন্দি নাটক আভি রাত বাকি হ্যায় এক কথায় জীবনের গল্পগাথা।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২২
রাজ্য

'বঙ্গবালা' শাঁওলি-র প্রয়াণে বাংলার নাট্য জগৎ আনাথ

সকলের অগোচরে না ফেরার জগতে চলে গেলেন বিশিষ্ট নাট্যকার অভিনেত্রী শাঁওলি মিত্র। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। রবিবার নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মঞ্চ কাঁপানো অভিনেত্রী। বাবার শম্ভু মিত্রের পথ অনুসরণ করে ফুলের ভারে নয় একেবারে অনারম্বরে লোকচক্ষুর আড়ালে কিরীটি শ্মশানে সম্পন্ন হল শেষকৃত্য। সেখানে হাজির ছিলেন নাট্যকার অর্পিতা ঘোষ।নাথবতী অনাথবৎ খ্যাত শাঁওলি-র বাবা শম্ভু মিত্রের মতো মৃত্যুর পরে তার ইচ্ছার কথা লিখে গিয়েছেন। লিখেছিলেন তাঁর শেষকৃত্যের পরই যেন সকলকে জানানে হয়। সেই ইচ্ছাকে সম্পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। শম্ভু মিত্র ও তৃপ্তি মিত্রের কন্যার কয়েক বছর ধরেই বাড়িতে চিকিৎসা চলছিল।ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী ছায়াছবি যুক্তি তক্কো আর গপ্পো তে বঙ্গবালার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল শাঁওলি মিত্র-কে। তিনি একাধিক কালজয়ী নাটকে সুনামের সাথে অভিনয় করেছেন, তাঁর অভিনীত অন্যতম কয়েকটি নাটক ডাকঘর, পুতুলখেলা, একটি রাজনৈতিক হত্যা, বিতত বীতংস ...... আরও অনেক। নাট্যজগতে তাঁর অসামান্য অভিনয়ের অবদানের জন্য তিনি ২০০৯-এ ভারত সরকারের সর্বোচ্চ সন্মান পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হন। তিনি ২০১১-তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ্বশত জন্মবর্ষ উদযাপন কমিটির চেয়ারপার্সন মত গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।শাঁওলি মিত্রের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ২০১১রাজ্যে পালাবদলের সময় তিনি পথে নেমে তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। অনন্য অভিনয়ের জন্য ২০০৩-এ সংগীত নাটক অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১২-তে তাঁকে বঙ্গবিভূষণ ও ২০১৪ সালে দীনবন্ধু পুরস্কার প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমির দায়িত্বে ছিলেন । শাঁওলীর প্রয়াণে বাকরুব্ধ বাংলার নাট্যজগৎ।

জানুয়ারি ১৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

Simla A Bong positive : সিমলা এ বং পজিটিভের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠান

সিমলা এ বং পজিটিভ নাট্যদল তাদের পঞ্চম জন্মদিন উদযাপন করল হেদুয়ায়। রক্তদান কর্মসূচর মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। মোট ৫২ জন এদিন রক্ত দেন। এই রক্তদান কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা কিঞ্জল নন্দ অভিনেত্রী বাসবদত্তা চ্যাটার্জি। এছাড়া বিনামূল্যে অক্সিজেন পার্লার ও ছিল।আরও পড়ুনঃ সাহসী পোশাকে আলুপোস্ত রেঁধে ভাইরাল রিম্পিবিকালে থিয়েটার নিয়ে একটা সেমিনার হয়। মে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন অনিন্দ্য ব্যানার্জি, পঙ্কজ মুন্সী, কমল চ্যাটার্জি, ত্রিগুণা শঙ্কর প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। অনিন্দ্য ব্যানার্জি এই আলোচনাসভায় জানান করোনা পরিস্থিতিতে থিয়েটারের অবস্থা খুব খারাপ। সরকার থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে থিয়েটারের অবস্থা আরও বিপন্ন হতে পারে। এছাড়া এদিন উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তপতী মুন্সী ও সমাজসেবী শ্রেয়া পাণ্ডে।

আগস্ট ০৩, ২০২১
বিনোদুনিয়া

A Bong Positive : এ বং পজেটিভের জন্মদিনে কিঞ্জল

আগামী ১ লা আগস্ট কলকাতা সিমলা এ বং পজেটিভ নাট্য দলের পঞ্চম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে সারাদিন ব্যাপী নানান রকমের উদযাপন। এই দিন সকাল থেকেই মহৎ রক্তদান কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান। বেলা ১২ টার সময় এই রক্তদান কর্মসূচী তে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত অভিনেতা বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, ও কিঞ্জল নন্দ। সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে বিনামূল্য অক্সিজেন পার্লারের। বিকেল ৫ টা থেকে থাকছে থিয়েটার নিয়ে এক সেমিনার। করোনা পরিস্থিতিতে সমস্ত ক্ষেত্রে যখন ধীরে ধীরে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, থিয়েটার হল গুলো খোলার প্রতি দৃষ্টি নেই কারোর, কাজের অভাবে অসংখ্য শিল্পী নিজেদের পেশা ছেড়ে বাধ্য হচ্ছেন অন্য কাজ করতে, এরকম অবস্থায় কি হতে পারে থিয়েটারের ভবিষ্যত? এই বিষয়ক এই থিয়েটার আলোচনা চক্রে উপস্থিত থাকবেন অনিন্দ্য ব্যানার্জী, অনুরাধা মুখার্জী, পঙ্কজ মুন্সী, কমল চ্যাটার্জী, ত্রিগুণা শঙ্কর এর মতোন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।। কলকাতা সিমলা এ বং পজেটিভ এর পঞ্চম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠান। উপস্থিত থেকে সারা দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলবেন শিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

জুলাই ২৯, ২০২১
বিনোদুনিয়া

প্রয়াত স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত

প্রয়াত অভিনেত্রী স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত (Swatilekha Sengupta)। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ছোট পর্দার পাশাপাশি থিয়েটারের মঞ্চে দাপিয়ে অভিনয় করে গিয়েছেন স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। বিখ্যাত থিয়েটার শিল্পী রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তর স্ত্রী ছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।১৯৮৪ সালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পর্দায় অভিনয়ের যাত্রা শুরু স্বাতীলেখার। সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি ঘরে বাইরে-র বিমলা অভিনয় নিয়ে আজও প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলা ছবির দর্শক। সেই থেকে সৌমিত্র ও স্বাতীলেখার জুটিকে পছন্দ করেছিলেন অনুরাগীরা। কিন্তু তার পরে মঞ্চের বাইরে দেখা যায়নি তাঁকে। দীর্ঘ ৩১ বছর পরে সৌমিত্রর সঙ্গেই পর্দায় ফিরলেন তিনি। প্রযোজক-পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে বড় পর্দায় দেখা যায় তাঁকে। বেলা শেষে ছবিতে সৌমিত্র-স্বাতীলেখার রসায়ন দেখে আপ্লুত দর্শকদের জন্য ফের বেলাশুরু-তে অভিনয় করেন তাঁরা। কিন্তু ছবি মু্ক্তি পাওয়ার আগেই চলে গেলেন নায়ক-নায়িকা। গত বছর নভেম্বর মাসে মৃত্যু হয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। বুধবার চলে গেলেন স্বাতীলেখাও।১৯৭০ সালে ইলাহাবাদে মঞ্চজীবন শুরু তাঁর। মঞ্চজীবনে পেয়েছেন বিভি করন্থ, তাপস সেন এবং খালেদ চৌধুরীর মতো ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য। ১৯৭৮ সালে নান্দীকার নাট্যদলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। সেখানেই আলাপ ও প্রেম হয় নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের সঙ্গে। তার পরে বিয়ে এবং সংসার। ভারতীয় নাট্যজগতে তাঁর অবদানের জন্য সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কারও পেয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেত্রী। তাঁর কন্যা সোহিনী সেনগুপ্তও একই ভাবে নাট্য ও পর্দার জগতে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। মঞ্চে শঙ্খপুরের সুকন্যা, মাধবী, পাতা ঝরে যায় ইত্যাদিতে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখাছিলেন স্বাতীলেখা। নান্দীকার-এর বেশ কিছু নাটকের সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

জুন ১৬, ২০২১

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে পরপর ২ সোনা ভারতের, ভিত তৈরির নেপথ্যে সৌরভেরই অবদান

এশিয়ান গেমসে ভারত পরপর ২ বার সোনা জিতল মেয়েদের ক্রিকেটে। এবারের গেমসে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। ফাইনাল-সহ এবারের এশিয়ান গেমসে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন বাংলার রিচা ঘোষও। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী।ঝুলন বলেন, ২০১৭-র পর থেকেই আমরা বিসিসিআইকে বলেছিলাম ইংল্যান্ডে যেমন সুপার লিগ (এখন দ্য হান্ড্রেড), অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ হচ্ছে। আমাদের দেশে কেন হবে না? তখন বিসিসিআই চলছিল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের নেতৃত্বে। কীভাবে আমাদের দেশে এমন লিগ হতে পারে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। বিসিসিআই ভাবছিল বড় কেউ আসবে কিনা, টিম নেবে না। আইপিএল অনেক বড় মাপের। তার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকবে কিনা। ফলে তিনটি টিমকে আইপিএলের ফাঁকে নিজেদের মধ্যে খেলানো শুরু হলো। যা ট্রায়াল রান বলা যেতে পারে। বিদেশিদের আনা হলো। আমরা প্রথম খেলেছিলাম জয়পুরে। প্রথম থেকেই রেসপন্স ভালো ছিল।ঝুলনের কথায়, মহারাজদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) ২০১৯ সালে বিসিসিআই সভাপতি হলেন। কঠিন সময়ে। কেন না, এর পরেই কোভিড শুরু হয়। যা প্রায় ২ বছর ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দেয়। তবে ক্রিকেট এই সময়কালেও অন্য জায়গায় পৌঁছেছিল মহারাজদা, জয় শাহর জন্য। প্লেয়ার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার- পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে কারও স্যালারি আটকায়নি। সবাই জানেন ওই সময় কতটা কঠিন ছিল। তার মধ্যেই ম্যাচ খেলানোর ব্যবস্থা হয়েছে। চার্টার্ড বিমানে পুরুষ ও মহিলা দলকে দুবাই পাঠিয়ে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল করে কোয়ারান্টিনের মধ্যে কাটানোর পর সকলে পারফর্ম করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে কেউ না কেউ সব সময় থাকতেন। ঝুলন জানান, দেশের মহিলাদের ক্রিকেটে সৌরভের বড় পদক্ষেপ টেস্ট ক্রিকেট ফেরানো। ঝুলন বলেন, আমি এতদিনে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছি। কারণ ২০০৬-এর পর ৮ বছর কোনও টেস্ট খেলিনি। ২০১৪-১৫ নাগাদ খেলার পর আবার বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। মহারাজদা টেস্ট ক্রিকেট ফেরান। কোভিডকালে দাদা, জয় শাহরা আমাদের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার বন্দোবস্ত করেন। অস্ট্রেলিয়ায় গোলাপি বলে টেস্ট ক্রিকেট খেলি, যা দেশের মেয়েদের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিপ্লব। টেস্টই আল্টিমেট ক্রিকেট। যেখানে দক্ষতা, মানসিকতার বিকাশ ঘটে। সবরকম চ্যালেঞ্জের জন্য প্লেয়ারকে তৈরি করে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

হোল্ডিং সেন্টারের দেওয়াল টপকে চম্পট, গন্ধ শুঁকে রোহিঙ্গা যুবককে খুঁজে দিল অরল্যান্ডো

হোল্ডিং সেন্টারের কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না এক রোহিঙ্গা যুবকের। বন দপ্তরের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোর নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফের আটক করল পুলিশ। রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টার থেকে পালানোর পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি চা বাগান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ সোলেমান। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এলাকা থেকে চার জনের একটি সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা দলকে আটক করা হয়েছিল। সেই দলের সদস্য সোলেমানকেও রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।রবিবার সকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে সেন্টারের ভিতর থেকে বেরিয়েছিল সোলেমান। সেই সুযোগেই উঁচু দেওয়াল টপকে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রাজগঞ্জ থানায়। শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি।দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালিয়েও পলাতক যুবকের সন্ধান না মেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়। মালবাজার মহকুমা পুলিশের অনুরোধে জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।সোলেমানের পরনে থাকা বা ফেলে যাওয়া পোশাকের গন্ধ শুঁকিয়ে অরল্যান্ডোকে তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়। এরপর গন্ধ অনুসরণ করে সে হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পানিকৌড়ি মোড় সংলগ্ন একটি চা বাগানের দিকে এগিয়ে যায়। অরল্যান্ডোর দেখানো পথ অনুসরণ করে তল্লাশি চালাতেই চা বাগানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সোলেমানের সন্ধান পান পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকেই তাকে ফের আটক করা হয়।বন দপ্তরের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁদের প্রশিক্ষিত কুকুর সফলভাবে পলাতক বন্দিকে খুঁজে বের করায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর আগে গরুমারা এলাকায় চোরাশিকারীদের দমনে একাধিকবার সাফল্য দেখিয়েছে অরল্যান্ডো। এবার পলাতক বন্দির সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল সে।তবে এই ঘটনায় রাজগঞ্জের হোল্ডিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কড়া পাহারা ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এক যুবক সেন্টারের উঁচু দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোথায় গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দমকা ঝড়ে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম, উড়ল চাল, উপড়ে পড়ল গাছ, খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কালেখাঁতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাতলা তিনপাড়া এলাকা ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে। কারও কারও বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। কারও টিনের চালা উড়ে গিয়েছে। মোদ্দা কথা পুজোর মুখে এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে গ্রামবাসীদের। কি করে সামাল দেবেন এই অবস্থা তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে বাসিন্দাদের। প্রশাসন গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। গ্রামে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়।গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎ দমকা ঝড় ওঠে। ঝড় মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কিছু সময়ের প্রবল ঝড়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা বাড়িও রয়েছে। অসহায় মানুষগুলো এবার কি করবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না। হঠাৎ মাথার ছাদ চলে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা অসহায় বোধ করছেন। ঝড়ে একজন জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় শনিবার সাকালে ওই গ্রামে গিয়ে হাজির হন। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়ক গ্রামবাসীদের জানিয়ে দেন, তিনি গ্রামবাসীদের পাশে আছেন। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, বিধ্বংসী ঝড়ে ওই গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ির চালা উড়ে গিয়েছে। কয়েকটা গাছপালাও ঝড়ে পড়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষাবাদেরও। প্রশাসনের কর্তাদের নজরদারিতে উদ্ধারের কাজ চলছে। সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হবে। বিডিও পারিজাত বোস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান, তারপরই বচসা থেকে হাতাহাতি! উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পশ্চিমবঙ্গ শাখার একটি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে চলছিল। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি জানালে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে গিয়ে কেন প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে কয়েক জন বক্তার বক্তব্য নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়। কয়েক জন পড়ুয়া ও শিক্ষকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পড়ুয়াদের আরও দাবি, তাঁদের নানা নামে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদেরই আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।অন্য দিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, টাকা দিয়ে অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের কর্মসূচি করছিলেন। সেই সময় পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে আয়োজকদের দাবি। অর্থাৎ, সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের একটি বাসও আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বড় বাহিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল।এই ঘটনার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনছেন অনেকে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই তুলনা রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনার অংশ হলেও, তা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কত জন আহত এবং কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কেন অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ুয়াদের আপত্তি তৈরি হয়েছিল, সংঘর্ষ কী ভাবে শুরু হল এবং দুই পক্ষের অভিযোগের মধ্যে কোনগুলি তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর। পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিদেশ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলা! দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত অন্তত ২৭

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহেনেসবার্গ এবং কেপটাউনে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার পর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।প্রথম হামলাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় জোহেনেসবার্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েক জন বন্দুকধারী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে কেপটাউনের একটি জনবহুল এলাকায়। রবিবার ভোরে একটি বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনায় পাঁচ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দুটি হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক পাচার, অবৈধ খনি এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও দেশটির একাধিক এলাকায় ঘটে থাকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।তবে জোহেনেসবার্গ ও কেপটাউনের দুটি হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল এবং একই গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে’, সাধুদের কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। তাই সাধু-সন্তদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁরা মন খুলে গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন।শুভেন্দুর দাবি, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতায় এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে বিধানসভা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শেষে গীতার একটি অধ্যায়ও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কাজকর্ম নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। গীতা পাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা হরেকৃষ্ণ নাম করার ক্ষেত্রেও কোনও ভয় থাকা উচিত নয়।শুভেন্দুর বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনও সাধু-সন্ত নিজের মতো করে সনাতনী ধর্মের প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শুভেন্দু আরও বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সবাইকে এক থাকার বার্তাও উঠে আসে।এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় আরও বড় গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজাদি সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে রাষ্ট্রবাদী মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো তীব্র রাজনৈতিক ভাষাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা ও সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপএই দুই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য সামনে এল। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপির একাংশের মতপার্থক্যের কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা এবং আগামী দিনে আরও বড় গীতাপাঠের ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট, হঠাৎ বিরোধীদের দাবিতে বড় প্রশ্ন তুললেন মুকুল রোহতগি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিরোধী শিবিরের তরফে লোকসভা ও রাজ্যসভাদুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সেই আবহেই প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল তথা প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহতগি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলি ইমপিচমেন্টের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং শক্ত প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব আনা যায় না।রোহতগির যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর মতে, মতের অমিল নিজে থেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়। বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।এই প্রসঙ্গে রোহতগি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের অন্দরে কোনও পর্যায়ে মতের অমিল থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের মতামতকে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভোট অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে বেশি নয় বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোহতগি। অর্থাৎ তিন সদস্যের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। কোনও বিষয়ে দুই কমিশনার এক দিকে থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় বলে তাঁর বক্তব্য।রোহতগি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতির বেঞ্চের তুলনাও করেছেন। তাঁর যুক্তি, বিচারপতিদের মধ্যে কোনও মামলায় মতপার্থক্য থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ই শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হয়। একই ভাবে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতের অমিলকে শুধুমাত্র সেই কারণেই অসদাচরণ বলা যায় না বলে মত তাঁর।তবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাক্তন কেরল মুখ্যসচিব জিজি থমসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে একটি বিমানে দিল্লি যাওয়ার সময় তৎকালীন আমলা জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। থমসনের দাবি, তাঁকে পাঠানমতিট্টা কেন্দ্র থেকে লড়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।থমসনের এই দাবি অবশ্য তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। জ্ঞানেশ কুমারের তরফে এই অভিযোগের কোনও জবাব প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাই অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের আরও একটি বড় কারণ নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মতের পার্থক্য স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি, অন্য দিকে সেই প্রস্তাবের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে মুকুল রোহতগির প্রশ্নদুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন আমলার বিজেপির টিকিটের প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ, দাবি ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে কোনগুলি প্রমাণিত এবং কোনগুলি রাজনৈতিক দাবি, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মায়ের গর্ভগৃহে পুজো, প্রবীণ নেতার পায়ে প্রণাম—বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সফরে আবেগের অন্য ছবি

মন্দির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ।বর্ধমান: বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো ঘিরে শুক্রবার শহরে তৈরি হল এক অন্য আবহ। প্রশাসনিক কর্মসূচি শুরুর আগে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পৌঁছে গর্ভগৃহে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুজো দেন আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে রইল মন্দিরে প্রবেশের মুখে এক প্রবীণ বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং অগ্রজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য।মন্দিরে প্রবেশের সময় অবিভক্ত বর্ধমান জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দেবীপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। দেবীপ্রসাদ মল্লিক পুষ্পস্তবক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এরপরই কোনও আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুহূর্তের সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।বর্ধমানের বিজেপি সংগঠনের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে দেবীপ্রসাদ মল্লিকের নাম দীর্ঘদিনের। আশির দশক থেকেই তিনি বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। সেই সময় বর্ধমান - দুর্গাপুর ভাগ হয়নি, গোটা বর্ধমানই ছিল একটি জেলা। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।আজকের বিজেপি যখন বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তখন তার অতীতের সাংগঠনিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ কর্মীদের ভূমিকার কথাও সামনে আসে এই ধরনের ঘটনায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের মতে, বর্ধমান শহরে দলের সংগঠনকে শূন্য থেকে দাঁড় করানোর সময় দেবীপ্রসাদ মল্লিকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের একত্রিত করার কাজও করেছেন তিনি।আর সেই প্রবীণ নেতার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে তাই শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এর মধ্যে উঠে এসেছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। অবশ্য এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যার যার নিজস্ব হলেও, মুহূর্তটির আবেগ এবং তাৎপর্য বর্ধমানের মানুষের নজর কেড়েছে।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেন বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এসে পুজো দিলেন।পুরোহিতদের উপস্থিতিতে গর্ভগৃহে গিয়ে নিজের হাতে দেবীর পুজো করেন তিনি। পুজোর ডালিতে ছিল পাঁচ রকম ফল ও মিষ্টি, নারকেল, চেলি, পদ্মফুলের মালা, আলতা-সিঁদুর এবং দেবীর জন্য একটি বেনারসি শাড়ি।পুজো শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে তুলে দেন দেবী সর্বমঙ্গলার প্রতিকৃতি। ট্রাস্টের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বাঁশ দিয়ে তৈরি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের একটি রেপ্লিকা এবং দেবীর একটি প্রতিমা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।তবে শুধু পুজো বা সৌজন্য সাক্ষাতেই শেষ হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির সফর। মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।মন্দির সংস্কার, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ভবন সংরক্ষণ, সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়গুলি শুনে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (Detailed Project Report) তৈরি করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে সেই ডিপিআর জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মন্দিরের স্থাপত্য, ইতিহাস এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ককে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের দাবি উঠেছে।মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই দাবিই নতুন করে গুরুত্ব পেল বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতিকে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও তাঁদের আশা।সময়াভাবে মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য অবশ্য বিশেষভাবে ভোগ পার্সেল করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ভোগের মেনুতে ছিল পোলাও, ফুলকপি-আলুর তরকারি, ছানার ডালনা, মাগুর মাছের ঝোল, ডাল, পায়েস এবং বর্ধমানের বিখ্যাত কেশরভোগ।একদিকে কয়েক শতকের ধর্মীয় ঐতিহ্য, অন্যদিকে বর্ধমানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবীণ এক চরিত্রের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধামুখ্যমন্ত্রীর সর্বমঙ্গলা মন্দির সফর তাই একাধিক কারণে আলাদা মাত্রা পেল।সর্বমঙ্গলার গর্ভগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো, মন্দির সংস্কারের জন্য ডিপিআর তৈরির নির্দেশ এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা দেবীপ্রসাদ মল্লিকের পায়ে হাত দিয়ে তাঁর প্রণামএকসঙ্গে এই তিনটি মুহূর্ত বর্ধমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তৈরি করেছে আলোচনার নতুন আবহ।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal