১১ই নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার, আপনার রাশিচক্র অনুযায়ী দিনটি কেমন কাটবে তা জানতে নিচে প্রতিটি রাশির জন্য সংক্ষিপ্ত রাশিফল দেওয়া হলো:🐏 মেষ (Aries): কাজের চাপ কমে আরাম।🐂 বৃষ (Taurus): অর্থ বিনিয়োগে লাভ।👥 মিথুন (Gemini): নতুন পরিচয় উপকারে আসবে।🦀 কর্কট (Cancer): মন খারাপ বা অস্থিরতা। বিশ্রাম নিন।🦁 সিংহ (Leo): নেতৃত্বের সুযোগ।🌾 কন্যা (Virgo): ভুল বোঝাবুঝি মিটবে।⚖️ তুলা (Libra): আনন্দের খবর।🦂 বৃশ্চিক (Scorpio): চাকরিতে অগ্রগতি।🏹 ধনু (Sagittarius): প্রেমে সুখবর।🐐 মকর (Capricorn): খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।🌊 কুম্ভ (Aquarius): ব্যবসা থেকে লাভ।🐟 মীন (Pisces):নতুন কাজ/বিদেশ যোগাযোগ।
১০ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার, আপনার রাশিচক্র অনুযায়ী দিনটি কেমন কাটবে তা জানতে নিচে প্রতিটি রাশির জন্য সংক্ষিপ্ত রাশিফল দেওয়া হলো:🐏 মেষ (Aries): নতুন কাজের যোগ। অর্থ লাভ। 🐂 বৃষ (Taurus): পরিবারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধৈর্য দরকার।👥 মিথুন (Gemini): ভ্রমণ বা নতুন যোগাযোগ।🦀 কর্কট (Cancer): খরচ বাড়বে, স্বাস্থ্য সতর্ক।🦁 সিংহ (Leo): সম্মান ও প্রশংসা।🌾 কন্যা (Virgo): অফিসের চাপ, ফল ইতিবাচক। ⚖️ তুলা (Libra): বন্ধুর সহায়তায় কাজ এগোবে।🦂 বৃশ্চিক (Scorpio): ব্যবসায় লাভ, টাকা ফেরত মিলতে পারে।🏹 ধনু (Sagittarius): পারিবারিক খুশি। 🐐 মকর (Capricorn): নতুন দায়িত্ব।🌊 কুম্ভ (Aquarius): প্রেমে শুভ সময়।🐟 মীন (Pisces): কাগজপত্রে সতর্কতা দরকার।
তিন বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে গৃহে ফিরলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাড়িতে ফিরে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য। জেলবন্দি জীবনের শেষপ্রান্তে এসে নাকি পার্থ চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন একটি চিঠি সরাসরি দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে! আর সেই চিঠিই এখন সামনে এসেছে।সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে পার্থ লিখেছেন, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারলাম, দল আমাকে সাসপেন্ড করেছে। কিন্তু দলীয় সংবিধানের কোন ধারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। চিঠিটি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছেও।২০২২ সালের ২৩ জুলাই, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে গ্রেফতার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেদিন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কারও সঙ্গে কথা বলতে চান কি না। উত্তরে পার্থ বলেছিলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু ফোনে সংযোগ পাননি। পরে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, চেষ্টা করেছিলাম, পাইনি। পরবর্তীতে ফিরহাদ হাকিম জানান, তল্লাশির সময় ফোন নিয়ে নেওয়া হয়, তাই যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।গ্রেফতারের পাঁচ দিন পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেন দলের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সমস্ত পদ থেকে সরানো হল। সেই সিদ্ধান্তের পর দল থেকে সাসপেনশন, মন্ত্রিত্ব হারানো একে একে সবই ঘটে যায় পার্থর জীবনে।আর আজ, দীর্ঘ তিন বছর পর, সেই পার্থ আবার মুক্ত আকাশের নিচে। আর ঠিক সেই সময়ই প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর জেলবন্দি অবস্থায় লেখা চিঠি। সূত্রের দাবি, ওই চিঠিতে পার্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উল্লেখ করেছেন নব্য সেনাপতি হিসেবে। লিখেছেন, অনেক সময়ে দল অভিযুক্ত নেতাদের পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে দল কেন দাঁড়াল না, তার উত্তর আজও পাইনি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই চিঠি নতুন করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে এমন সময়, যখন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখনও দলের বাইরে, কিন্তু তাঁর প্রত্যাবর্তনে দলের ভেতরে চলছে নানা গুঞ্জন।
দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই একই কায়দায় বিস্ফোরণ এবার ইসলামাবাদে। মঙ্গলবার দুপুরে পাকিস্তানের রাজধানীর একটি আদালতের বাইরে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২ জনের। আহতের সংখ্যা বহু। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মঘাতী হামলাও হতে পারে।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ ইসলামাবাদের আদালত চত্বরের পার্কিং এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে আচমকা বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। ভয়াবহ আওয়াজে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ ছয় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা যায়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। ঘটনার সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন বহু আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ।বিস্ফোরণের পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি এবং করাচি-সহ পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলিতে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।প্রাথমিক অনুমান, গাড়ির মধ্যে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে নাশকতার দিকটিও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, এর মধ্যে মানবসৃষ্ট উপাদানও থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম কাজ শুরু করেছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, এর ঠিক একদিন আগে সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ১৩ জনের। তদন্তে উঠে এসেছে, বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়েছিল গাড়ির ভিতর থেকে। একই ধাঁচে মঙ্গলবার ইসলামাবাদেও বিস্ফোরণ হওয়ায় জঙ্গি নেটওয়ার্ক জুড়ে আশঙ্কা ছড়িয়েছে।দিল্লি ও ইসলামাবাদে টানা দুই দিনে ঘটে যাওয়া এই দুই বিস্ফোরণ এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা মহলও ঘটনাটির দিকে নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি ১৯৯৫ সাল থেকে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর, ২০১৫ সালে বিধাননগরের মেয়র, ২০১৬ সালে নিউটাউনের বিধায়ক এমন একজন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta) নিজেই খুঁজে পাচ্ছেন না নিজের নাম ভোটার তালিকায়! শুধু তিনি নন, নেই তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তের নামও। বিষয়টি জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য।বিধাননগর কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সব্যসাচীর অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে উধাও তাঁর নাম। অথচ, এক সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, প্রাক্তন সাংসদ সরলা মাহেশ্বরী, অ্যাডভোকেট জেনারেল নরনারায়ণ গুপ্ত প্রমুখ ছিলেন তাঁরই ভোটার! নিজেকে প্রমাণে তিনি সামনে আনেন ২০০০ সালের কাউন্সিলর পদে জেতার সার্টিফিকেটও।ক্ষুব্ধ সব্যসাচীর কথায়, আমার নাম যদি ২০০২ সালের তালিকায় না থেকে থাকে, তবে সেই সময় জ্যোতি বসুর মতো ব্যক্তিত্বরা আমার ভোটার হলেন কী করে? আমি টানা কাউন্সিলর ছিলাম, মেয়রও হয়েছি। আজ আমার নামটাই উধাও! তিনি আরও বলেন, এই এনুমারেশন ফর্ম কীভাবে পূরণ করব জানি না। অনেকবার জেলাশাসক এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কোনও সুরাহা নেই। ফর্ম ফাঁকাই জমা দেব বলে ভাবছি।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সব্যসাচীর সল্টলেকের বাড়ি ডিএল ২৩৯ নম্বরে, থানা বিধাননগর পূর্ব। ওই পাড়ার মোট আটটি বাড়ি ডিএল ২৩২ থেকে ২৪০ সবগুলিই উধাও ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে। অনুমান করা হচ্ছে, ডিলিমিটেশনের পর হয়তো ওই সব ঠিকানা ভুলবশত অন্য কোনও বিধানসভার সাপ্লিমেন্টারি পার্টে চলে গিয়েছে।একসময় এই অঞ্চল ছিল রাজ্যের অন্যতম বড় বিধানসভা বেলগাছিয়া পূর্বের অন্তর্ভুক্ত। এখন সেটি বিধাননগর বিধানসভা। প্রশাসনের দাবি, তালিকার ডেটা মার্জিং ত্রুটি-র কারণেই এমন বিপত্তি ঘটেছে।রাজনৈতিক মহল বলছে, নির্বাচন কমিশনের এই গাফিলতি শুধু প্রশাসনিক নয়, বড়সড় লজ্জার বিষয়। টানা জননেতা হিসেবে জনপ্রিয় সব্যসাচীর নিজের নামই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে তাহলে সাধারণ ভোটারদের অবস্থা কী!
বারো দিন পর দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় অবশেষে বড় সাফল্য পুলিশের হাতে। গ্রেপ্তার হল রাজগঞ্জের বিতর্কিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের গাড়িচালক রাজু ঢালি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু তুফান থাপা। রাজু রাজারহাটের বাসিন্দা, এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই বিডিওর সঙ্গে কাজ করতেন। তুফান, বিডিওর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেই জানিয়েছে পুলিশ।তদন্তকারীদের হাতে এসেছে সিসিটিভি ফুটেজ, যেখানে দেখা যাচ্ছে নীলবাতি লাগানো একটি সরকারি গাড়িতে দেহ লোপাটের দৃশ্য। এই ফুটেজকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক দুই অভিযুক্তকে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলা, পশ্চিম মেদিনীপুরের নীলদা পোস্ট অফিস এলাকার দিলামাটিয়ার বাসিন্দা। দত্তাবাদে বহু বছর ধরে তাঁর সোনার গয়নার দোকান ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে দোকান থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর নিউটাউনের যাত্রাগাছির বাগজোলা খালের ধারে ঝোপের ভেতর থেকে মেলে তাঁর নিথর দেহ।পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে স্বপনকে। তাঁদের অভিযোগে সরাসরি নাম উঠে আসে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। জানা যায়, কয়েকদিন আগে ওই বিডিওর বাড়ি থেকে কিছু গয়না হারিয়ে গিয়েছিল। সেই গয়না নাকি স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপনের দোকানে বিক্রি করা হয়, এমনই দাবি করেন প্রশান্তবাবু। সেই নিয়েই প্রথমে সংঘাত বাঁধে। পরে ২৮ অক্টোবর, একটি নীলবাতি গাড়ি নিয়ে ফের দত্তাবাদে আসেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, তাঁকে দোকানের সামনে নামতে দেখা গিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর থেকে উধাও হয়ে যান স্বর্ণ ব্যবসায়ী।পরের দিন তাঁর দেহ উদ্ধার হয় খালের ধারে। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বিতর্কিত বিডিও। শুক্রবার প্রকাশ্যে এসে তিনি দাবি করেন, অপহরণ ও খুনের ঘটনায় তাঁর কোনও যোগ নেই। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর গাড়িচালক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পরিবারের দাবি, মূলচক্রী প্রশান্ত বর্মনকেও অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের ছেলেকে তুলে নিয়ে খুন করা হয়েছে। এখন গাড়িচালককে ধরেছে, কিন্তু আসল অপরাধী বাইরে ঘুরছে, ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বপনের ভাই।এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে নীলবাতি গাড়ির উপস্থিতি ঘিরে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে খুনের দেহ লোপাটএই অভিযোগে প্রশাসনও চাপে। তদন্তে আরও নাম জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা।
আজকের দিনটি ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় স্মরণ করাল। ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বরএক শতাব্দী ও অর্ধকাল আগে, ৩৭ বছর বয়সী এক সাহিত্যিক তাঁর অন্তরের অনুজ্ঞায় লিখে ফেলেছিলেন একটি গানবন্দে মাতরম, সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাং। নৈহাটির সেই নীরব প্রেরণা থেকেই জন্ম নিয়েছিল এমন এক স্তব, যা শতবর্ষ পেরিয়েও অনুরণিত আজও ভারতবাসীর হৃদয়ে।সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এই গানটিকে সাত বছর পরে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ-এ অন্তর্ভুক্ত করেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে ভারতীয়দের একত্রিত করেছিল এক মহৎ আহ্বানেদেশমাতৃকার বন্দনায়। ভারত সরকার পরবর্তীতে একে জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা প্রদান করে।আজ, বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ম্বরে পালিত হল এই ঐতিহাসিক রচনার ১৫০ বছর পূর্তি।বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক সম্মেলনে শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায় স্মরণ করালেন,কোন জাতি দেশকে মা রূপে, কোন জাতি পিতা রূপে সম্বোধন করে। বন্দে মাতরম-এর এই দুই শব্দে যে ভারতমাতার বন্দনা করা হয়েছে, তাঁর স্নেহচ্ছায়ায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল আসমুদ্রহিমাচল ভারতবাসী। প্রথম স্তবকটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হওয়ায় এটি সর্বজনগ্রাহ্য ও সর্বজনাদৃত হতে পেরেছে।বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন,বন্দে মাতরম এমন এক উচ্চারণ যা আমাদের ছোটবেলাকে দেশপ্রেমে উষ্ণ করেছিল। আজও এই উচ্চারণ আমাদের অনুপ্রাণিত করে সেই মহত্তম দেশনায়কদের দেখানো পথে এগিয়ে যেতে।উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশপ্রেমমূলক কবিতা আবৃত্তি ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত অনুষ্ঠান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমর আহ্বানবন্দে মাতরম।
সোনারপুরে শুল্ক আধিকারিককে মারধরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, অভিযোগ পাওয়ার পর FIR দায়েরের ক্ষেত্রে পুলিশ একটিও আইন মানেনি। বিচারপতির প্রশ্ন, অভিযোগ পেয়েই FIR দায়ের? প্রাথমিক অনুসন্ধান করলেন না কেন? সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন সম্পর্কে জানেন না?বিচারপতি আরও জানতে চান, ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শুল্ক আধিকারিককে নোটিস পাঠানো হয়েছিল কি না। সরকারি আইনজীবী এই প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। ফলে হাই কোর্টের তীব্র প্রতিক্রিয়া আইনের চোখে সবাই সমান, পুলিশ যদি নিয়ম ভাঙে, আদালত চুপ করে থাকতে পারে না।প্রসঙ্গত, গত মাসে সোনারপুরে এক শুল্ক আধিকারিকের গাড়িতে অটো ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বচসা বাঁধে স্থানীয় অটোচালকদের সঙ্গে। সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামলালেও কিছুক্ষণ পর প্রায় ৫০-৬০ জন দুষ্কৃতী আধিকারিকের আবাসনে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ওই শুল্ক আধিকারিককে বেধড়ক মারধর করা হয়, মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকেও হেনস্তা করা হয়। পরে তাঁকে কল্যাণী এইমসে ভর্তি করা হয়।পুলিশ তদন্তে নামে এবং পরদিনই তিন অটোচালক আজাদ আলি মণ্ডল, সুরজ আলি মণ্ডল ও অলোক মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও আটজন গ্রেপ্তার হয়, কিন্তু তাঁরা এফআইআরে নাম না থাকায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান। এই নিয়েই পুলিশের তদন্তে বেআইনি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বলেন, আইন অনুযায়ী প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়া সরাসরি FIR দায়ের করা যায় না। পুলিশের এই আচরণ স্পষ্টতই বেআইনি। হাই কোর্টের নির্দেশ, আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR-এর ভিত্তিতে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালতের মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, পুলিশের কাজের ধরন নিয়ে আদালত আর চোখ বন্ধ করে থাকবে না। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আইন ভাঙলে সে সাধারণ মানুষ হোক বা পুলিশ কাউকেই ছাড়া হবে না।
ফের রক্তে ভেসে গেল ফ্রান্সের রাস্তা। বুধবার সকালে আটলান্টিক উপকূলে ওলেরন (Olron) শহরের শান্ত সকাল মুহূর্তে পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎই বেপরোয়া গতিতে ঢুকে পড়ে একটি গাড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বহু মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গাড়িচালককে থামানোর চেষ্টা করা হলেও, তিনি ক্রমাগত চিৎকার করছিলেন আল্লাহু আকবর!এই ভয়ঙ্কর ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, ৩৫ বছরের ওই চালক ওলেরনেরই বাসিন্দা। তাঁর নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে তিনি লা কোটিনিয়ে (La Cotinire) নামের এক ছোট মৎস্যগ্রামের বাসিন্দা। ঘটনাস্থলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময়ও তিনি ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় বিপুল পুলিশবাহিনী। উলটে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে ধৃতকে উদ্ধার করার সময়ও তাঁকে ক্রমাগত চিৎকার করতে শোনা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি ইচ্ছাকৃত হামলা বলেই মনে হচ্ছে। তবে তাঁর সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ফরাসি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের অতীতে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং মাদক সংক্রান্ত একাধিক অপরাধের জন্য আগে দুবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাকে। ফলে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি ধর্মীয় উন্মাদনায় প্ররোচিত পরিকল্পিত হামলা সেই প্রশ্নে এখন ফুঁসছে ফ্রান্স।ওলেরন ফ্রান্সের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ, যা সাধারণত পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য। সেই শান্ত শহরে সকালবেলায় এমন নৃশংস হামলায় চমকে গিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল ঘিরে কড়া নিরাপত্তা জারি করেছে পুলিশ। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জম্মু-কাশ্মীরে ফের পাক মদতে জঙ্গি হামলার ছক! ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদ একসঙ্গে কাশ্মীরের মাটিতে হামলার পরিকল্পনা করছে। অপারেশন সিঁদুরের ছমাস পরই আবারও এমন নাশকতার গন্ধে উদ্বেগ বেড়েছে দিল্লি থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত। গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হতে পারে ফিদায়েঁ হামলা।রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরেই সীমান্তে নজরদারি চালাচ্ছে পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি। ড্রোন ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণরেখার দুর্বল জায়গাগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (SSG) ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদতেই সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। অর্থাৎ, শুধু জঙ্গিরাই নয়, পাক সেনার একাংশও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত।সূত্রের খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নতুন করে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT)। এই ব্যাট বাহিনী সাধারণত জঙ্গিদের সীমান্তে গাইড করার কাজ করে এবং ভারতের সেনাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই বাহিনীর উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে কাশ্মীরে ফের বড় আকারের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে ইসলামাবাদে একটি গোপন বৈঠক হয়, যেখানে আইএসআই এবং পাক সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই নেওয়া হয় অপারেশন সিঁদুরের প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত। সেই বৈঠকেই নির্ধারিত হয় নতুন করে সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশের রূপরেখা।প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন পর্যটক। সেই ঘটনার পরই ভারতীয় সেনা চালায় অপারেশন সিঁদুর, যেখানে একাধিক পাক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। পাকিস্তান সেই সময় আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ পুড়িয়ে ফেললেও, এখন আবার প্রতিশোধের নেশায় নাশকতার নতুন ছক কষছে বলে মনে করছে ভারতের গোয়েন্দারা।ইতিমধ্যে জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী সব এলাকা ও দুর্গম উপত্যকায় টহল বাড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ব্যাটালিয়ন, বাড়ানো হয়েছে ড্রোন নজরদারি ও থার্মাল সেন্সর সিস্টেম। সেনা সূত্রে খবর, প্রতিটি ঘাঁটি ও বাঙ্কারে দেওয়া হয়েছে উচ্চ সতর্কতার নির্দেশ।ভারতের প্রতিরক্ষা মহল মনে করছে, পাকিস্তান অপারেশন সিঁদুরের পর কূটনৈতিকভাবে চাপে পড়েছিল, তাই এখন তারা জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করে প্রক্সি যুদ্ধ চালাতে চাইছে। এই হামলার মূল লক্ষ্য হবে সেনা কনভয়, পর্যটক বাস, অথবা সীমান্তের কোনও ফরওয়ার্ড পোস্ট।এক প্রবীণ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, লস্কর ও জৈশ এখন একত্রে কাজ করছে। তাদের হাতে নতুন ড্রোন, আমেরিকান রাইফেল এবং পাকিস্তানের সেনা প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা রয়েছে। এটি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও।সব মিলিয়ে জম্মু-কাশ্মীর আবারও রণক্ষেত্রের মুখে দাঁড়িয়ে। অপারেশন সিঁদুরের পর শান্তি ফিরছিল উপত্যকায়, কিন্তু পাক মদতে এই নতুন ষড়যন্ত্র ফের অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেনা ও গোয়েন্দারা এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন, যাতে কাশ্মীরের আকাশে আর কোনও কালো ছায়া না নামে।
উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে ভোরের শান্ত সকাল মুহূর্তে পরিণত হল বিভীষিকায়। কার্তিক পূর্ণিমার পুণ্যস্নান শেষ করে স্টেশনে ফিরছিলেন বহু ভক্ত। সকালের ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা। প্ল্যাটফর্মের উল্টো দিকে নামতে গিয়ে হাওড়া-কালকা মেলের তলার তলায় চলে গেলেন তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ গেল অন্তত ছয় পুণ্যার্থীর, আহত একাধিক। চিৎকারে, কান্নায় আর আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে ভীতি, স্তব্ধ হয়ে যায় চুনার স্টেশন।বুধবার ভোরবেলা ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর জেলার চুনার রেলওয়ে স্টেশনে। কার্তিক মাস হওয়ায় বহু পুণ্যার্থী সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। রেলসূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোরের সেই ভিড়ে অনেকেই প্ল্যাটফর্মের বিপরীত পাশে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতিতে এসে পড়ে হাওড়া-কালকা মেল। আর তারই ধাক্কায় থেঁতলে যান পুণ্যার্থীরা। সেকেন্ডের মধ্যেই মৃত্যু, লুটিয়ে পড়ে নিথর দেহ, চারদিকে শুধু আর্তনাদ আর শোকের হাহাকার।ঘটনার পরই স্টেশন জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা। পুলিশ ও রেল আধিকারিকরা দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রেল প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেকেন মানুষজন ট্র্যাক দিয়ে নামলেন, স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ-কে উদ্ধারকাজে নেমে পড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আহতদের যত্নসহকারে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগেই ছত্রিশগড়ের বিলাসপুরের কাছে মালগাড়ি ও যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণ যায় ১১ জনের। তার রেশ কাটার আগেই ফের ট্র্যাজেডি। রেল নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দলবদল আর ব্যক্তিগত জীবনের ওঠানামাসব মিলিয়ে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে শোভন চট্টোপাধ্যায়। প্রায় ছয় বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে এলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ফিরলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ২০১৮ সালে দল ছাড়ার পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র অবস্থান নিয়েছিলেন শোভন, বিজেপিতেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল না বললেই চলে। শেষে বহু নাটকীয়তার পর আবার ঘরে ফেরার সিদ্ধান্ত।কিন্তু শোভনের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এলেন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়। দল যখন শোভনকে বেহালা পূর্ব থেকে প্রার্থী করেছিল, সেই সময় ছিলেন না তিনি তৃণমূলে। আজ শোভন ফিরতেই রত্নার অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নতাহলে রত্নার ভবিষ্যৎ কী? শোভন কি আবার নিজের পুরনো বেহালা পূর্ব কেন্দ্র ফিরে পাবেন? রাজনৈতিক অন্দরে এখন এমনই কৌতূহল।আজ শোভনের দলবদলের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না বলেন, উনি দক্ষ প্রশাসক। আট বছর সময় নষ্ট হল। কথায় গর্বের সুর থাকলেও আক্ষেপও স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন, আপনারাই বলুন, আগে উনি কী রকম ছিলেন আর এখন কী রকম হয়েছেন! তবে তৃণমূল নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও বিতর্কে জড়াতে চাননি রত্না। তাঁর ভাষায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দায়িত্ব দিয়েছেন, তখন অবশ্যই দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত। দলের নীতিনির্ধারণে আমি নেই, তাই এ নিয়ে বলার কিছু নেই।শুধু তাই নয়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদালতের অবস্থানও এই মুহূর্তে শোভন ও রত্নার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। এখনও তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। আদালত শোভনের ডিভোর্স আবেদন খারিজ করেছে। আবার রত্নার একত্র থাকার আবেদনও মানেনি আদালত। এই অবস্থায়ও রত্নার প্রকাশ্য বার্তাশোভনকে ঘরে ফেরার ডাক। তিনি বলেন, তৃণমূল ভবনের মতো গোপাল ভবনের দরজাও ২৪ ঘণ্টা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জন্য খোলা।দলের রাজনীতি, ব্যক্তিগত সম্পর্কদুই অঙ্গনেই চলছে নাটকীয়তা। শোভনের প্রত্যাবর্তনে তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণ যেমন নতুন মোড় নিল, তেমনই রত্নার মন্তব্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অধ্যায়ও ফিরে এল আলোচনায়। এখন দেখার, রাজনীতি ও সংসারের কোন পথে এগোয় শোভন-রত্নার গল্প।
দীর্ঘ সাত বছর পর আবার নিজের পুরনো দলে ফিরলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও তৃণমূলের একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ শোভন চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে ফিরলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ সালের ১৮ অগস্টসেই দিন বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন শোভন। আজ, ৭ বছর পর, ঠিক উল্টোপথে হাঁটলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ নিয়েই তৃণমূল ভবনে ঢুকলেন শোভন-বৈশাখী জুটি।ভবনে ঢোকার মুখে শোভনের গলায় শোনা গেল আবেগ, মমতাদির আশীর্বাদ নিয়ে আজ ফিরে এলাম। এটা আমার নিজের ঘর। যোগদানের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট বলেন, এটা আমার নিজের সংসার। ঘরের ছেলে হিসেবে ফিরলাম। তৃণমূল কংগ্রেসকে আবার শক্তিশালী করব। বক্সীদা আমার ভাই, অপরূপ আমার বন্ধুওদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যা দায়িত্ব দেবেন, নিষ্ঠা নিয়ে পালন করব।আজকের এই অনুষ্ঠান একেবারে আবেগে ভরপুর। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অরূপ বলেন, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছে। আজ থেকে আবার মাঠে নেমে কাজ শুরু করবেন। সুব্রতবাবুও জানিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শোভন ফিরছেন। বৈশাখীকেও বিশেষভাবে স্বাগত জানানো হয়।রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছেনির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে শোভনের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল সরকারের প্রথম দুদশকে কলকাতার উন্নয়নের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন, মন্ত্রিসভায় থেকেছেন। কিন্তু ২০১৮ সালে আচমকা সব পদ ছেড়ে দেন। এর পর বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়ের হাত ধরে। কিন্তু খুব বেশি দিন গেরুয়া শিবিরে সক্রিয় ছিলেন না তিনি।মজার বিষয়, তৃণমূল ছাড়লেও মমতার বাড়িতে ভাইফোঁটা নিতে প্রায় প্রতি বছরই গিয়েছেন শোভন। সেই সম্পর্কের সূত্রই যেন এবার তাঁকে ফিরিয়ে আনল ঘরের উঠোনে। সম্প্রতি এনকেডিএ-র চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার পরই তাঁর ফেরার ইঙ্গিত মিলছিল। আজ সেটাই আনুষ্ঠানিক হল।রাজনীতির অন্দরে এখন চাপা গুঞ্জনশোভন কি আবার কলকাতা পুরসভা কিংবা শহর রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন? ভোটের আগে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কি তৃণমূলের বড় চমক? সময়ই বলবে। তবে আজ তৃণমূল ভবনে তাঁর হাসিমুখে যেন স্পষ্ট লেখাঘরের ছেলেকে ঘর ডেকেছে, আর সে ফিরেছে।
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলা নিয়ে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পাল্টা কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া লিখেছেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যের এবং গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোনো উপযুক্ত অনুসন্ধানের জন্য অপেক্ষা না করেই তা-ও আবার যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ধসের সঙ্গে যুঝছেন।যখন সমগ্র স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে ব্যস্ত হয়ে আছে, তখন বিজেপি নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক গাড়ির কনভয় নিয়ে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে কোনো খবর না দিয়ে। রাজ্য প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ বা তৃণমূল কংগ্রেসকে কীভাবে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা যাবে?এখানেই থামেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী পদের গরিমা নিয়েও। প্রশ্ন তুলেছেন মোদির নৈতিকতা নিয়েও। তাছাড়া কোনও প্রমান ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওপর দোষারোপ করেছেন কিছুমাত্র প্রমাণ ছাড়া, আইনানুগ কোনো তদন্ত ছাড়া এবং কোনো প্রশাসনিক রিপোর্ট ছাড়া। এটা শুধু রাজনৈতিক নিম্নতা স্পর্শ করল না, যে সাংবিধানিক নৈতিকতা তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, সেই নৈতিকতারও লঙ্ঘন হল। যে কোনো গণতন্ত্রে আইন তার নিজস্ব পথ নেয় এবং কোনো ঘটনার দায় নির্ধারিত হয় যথাযথ প্রক্রিয়ায় -কোনো রাজনৈতিক বেদীর উচ্চতা থেকে করা একটি ট্যুইটের মাধ্যমে নয়।উত্তরবঙ্গ কাল যাবো, আজ কার্নিভাল !!!কার্নিভাল নাকি বাংলার ঐতিহ্য ! তা দশমীর চার দিন পর সরকারি অনুদান আর প্রশাসনিক চোখ রাঙানির জেরে প্রতিমা নিরঞ্জন আটকে রেখে, মিছিল করিয়ে ঘাটে যাওয়া কবে থেকে বাংলার ঐতিহ্য হয়ে গেলো?আর মুখ্যমন্ত্রী চটজলদি উত্তরবঙ্গ যেতে আগ্রহী নন কেন, pic.twitter.com/mD0TeqWIaz Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) October 5, 2025মমতা বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল একটি কেন্দ্রে, যেখানে মানুষ নিজেরাই বিজেপির একজন বিধায়ককে নির্বাচন করেছেন। তথাপি এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তথাকথিত শক্তিমত্তা দেখায় প্রধানমন্ত্রী দ্বিচারিতা অনুভব করলেন না। এই ধরনের অসার এবং অতি-সরলীকৃত সাধারণীকরণ শুধু অপরিণতই নয়, তা দেশের সর্বোচ্চ পদের সঙ্গে মানানসইও নয়।
বন্যা ও ভমি ধ্বসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। এরই মধ্যে নাগরাকাটায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তাঁদের ওপর তৃণমূল কংগ্রেস প্রাণঘাতী হমলা করেছে বলে অভিযোগ। মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়েছেন খগেন মুর্মু। আঘাত পেয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। যদিও তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এবার এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জখম সাংসদের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছেন। নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে বলেছেন, যেভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরাযাদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কও রয়েছেনপশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।যেভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরাযাদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কও রয়েছেনপশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।আমার Narendra Modi (@narendramodi) October 6, 2025আমার একান্ত কামনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসায় লিপ্ত না হয়ে মানুষের সাহায্যে আরও মনোযোগী হোক। আমি বিজেপি কার্যকর্তাদের আহ্বান জানাই, তারা যেন জনগণের পাশে থেকে চলতি উদ্ধার কাজে সহায়তা করে যান।এদিকে নাগরাকাটায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংজি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক্স হ্যান্ডেলে বলেছেন, তিনি টেলিফোনে আমার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান এবং স্পষ্ট বার্তা দেন রাজনীতিতে হিংসার কোনো স্থান নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই অন্যায় ও অত্যাচার কখনো মেনে নেবে না। সবাই মিলে এই হিংসার রাজনীতি প্রতিহত করতে হবে। বাংলার মানুষ গণতন্ত্রের শক্তিতে বিশ্বাস রাখে।
জন্মশতবর্ষের সূচনায় মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের অভিনব থিম বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার পীঠস্থান এক সিনেমা হলের আবহে মণ্ডপ, বাজবে মহানায়ক উত্তম কুমারের জনপ্রিয় গানের সুর।পূর্ব বর্ধমানের কালনা এবার দুর্গাপুজোয় দেখবে অন্য রকম চমক। আস্ত নন্দন-এর আবহ টেনে আনা হচ্ছে প্যান্ডেলে, আর সেই আবহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক উত্তমকুমার। জন্মশতবর্ষের সূচনায় মহানায়ককে ঘিরে বছরভর নানা আয়োজন চলছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, আর সেই আবহকেই এ বার থিমে প্রতিষ্ঠা করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।মণ্ডপজুড়ে থাকবে উত্তমকুমারের সিনেমার অমর মুহূর্ত, পর্দায় চলবে তাঁর অভিনীত ছবির ক্লিপিংস, আর চারপাশে বাজবে কালজয়ী গান। এক কথায়, তৈরি হচ্ছে সিনেমা হলের মতো পরিবেশ। প্রতিমা আসছে কোলড়ার শিল্পী অভিজিৎ রায়ের হাত ধরে। স্থানীয় শিল্পীরা তৈরি করছেন সাজসজ্জা ও আলোকব্যবস্থা।ক্লাব সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক সুরজিৎ বক্সী বলেন, নন্দনের আদলে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। মাল্টিপ্লেক্সের দাপটে সিঙ্গল স্ক্রিন হারিয়ে গেলেও নন্দন এখনও গর্বের জায়গা। সেই নন্দনের আবহেই মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে চাই।থিমের রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন এলাকার বিশু সাহা। যদিও মাঠ ছোট, ফলে নন্দনের হুবহু অনুকরণ সম্ভব নয়, তবে পরিবেশ তৈরির দিকেই জোর দিচ্ছেন তিনি। ক্লাবের সচিব সুকল্যাণ কুণ্ডুর কথায়, বর্তমান প্রজন্মের কাছেও মহানায়কের কীর্তি পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারাও বুঝতে পারে, মহানায়ক কাকে বলে।ক্লাবের এক সদস্য জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও সংহতি ক্লাব দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত করবে সামাজিক উদ্যোগ। দুই শতাধিক মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হবে।সব মিলিয়ে, কালনার এই অভিনব থিম শুধু পুজোর আনন্দই বাড়াবে না, বরং মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রতি বাঙালির চিরন্তন শ্রদ্ধাকেই আরও গভীর করবে।
রাশিয়ার নতুন আক্রমণের পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি প্রশাসনিক ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছেন কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান টিমার তাকাচেঙ্কো। আগুন লাগার পর পেচেরস্কি জেলার ওই ভবন থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়, যা ইউক্রেনীয় সরকারের কেন্দ্রীয় ভবনের কাছাকাছি অবস্থিত।ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই প্রথমবার রুশ হামলায় কোনো সরকারি ভবনের ছাদ ও উপরের তলা ক্ষতিগ্রস্ত হলো। কিয়েভে এই আক্রমণে তিনজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন, এবং সরকারি ভবন ছাড়াও একাধিক স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো জানান, প্রথমে ড্রোন হামলা এবং পরবর্তীতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে ভবনে আগুন ধরে যায়। জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত একটি আবাসিক ভবনের চারটির মধ্যে দুটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সভিয়াতোশিনস্কি জেলায় নয়তলা একটি ভবনের কয়েকটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া, ধ্বংসাবশেষ পড়ে ১৬ তলা ও দুটি নয়তলা ভবনে আগুন লাগে। তাকাচেঙ্কোর মতে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবেই বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে।অন্যদিকে, ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকে একাধিক বিস্ফোরণে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি মালেটস্কি। একই অঞ্চলের ক্রিভি রিহ শহরে রুশ হামলায় পরিবহন ব্যবস্থা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকজান্ডার ভিলকুল।
কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাকে তলব করেছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ইডির কলকাতার সিএজিও কমপ্লেক্সের দফতরে অঙ্কুশ হাজরাকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। যদিও অঙ্কুশ বা তাঁর প্রতিনিধি কারও তরফেই ইডির সমন প্রসঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে, বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর আগেও নানা ঘটনায় টলিউডের একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা।গত বছর থেকে, বলিউড এবং দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকাদের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের অবৈধ অনলাইন বেটিং অ্যাপের প্রচার নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত করছে। ইতিমধ্যেই এই তালিকায় নাম রয়েছে রানা দত্তুগুথি, বিজয় দেবেরাকোন্ডা (Vijay Deverakonda), প্রকাশ রাজ (Prakash Raj), হরভজন সিং, উর্বশী রাউতেলা এবং সুরেশ রৈনার মতো তারকাদের।এবার অঙ্কুশ হাজরাও সেই তালিকায় রয়েছেন। জানা গেছে যে নিষিদ্ধ অনলাইন বেটিং অ্যাপ প্ল্যাটফর্মের প্রচারের বিষয়ে ইডির চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে অভিনেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে, বাঙালি অভিনেতাকেও ইডি অফিসে হাজির হতে হবে।সূত্র জানিয়েছে, যে বেটিং কোম্পানিগুলি তাদের অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট প্রচারের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। যেহেতু জনপ্রিয় তারকারা এই বিজ্ঞাপনের সাথে যুক্ত, তাই স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহারে প্রভাবিত হচ্ছে।
কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ও রাজনীতিবিদ শোভন চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক দায়ের করা বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) মামলা খারিজ হয়েছে আলিপুর আদালতে। পাশাপাশি, স্ত্রীর (রত্না চট্টোপাধ্যায়) একসঙ্গে থাকার আবেদনটিও বাতিল করা হয়েছে। আইনি বিবাহবিচ্ছেদ না হলে, দাম্পত্যে আইনি বিচ্ছিন্ন অবস্থাই গণ্য হবে।২০১৭ সাল থেকে মামলাটি চলছে, দীর্ঘ আট বছর পর আদালতের এই রায় এসেছে।শোভন চট্টোপাধ্যায় তার আবেদনপত্রে রত্নার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিলেনযেমন: সন্তানদের দেখাশোনা না করা, অর্থ/সম্পত্তি তছনছ করা, মানহানির অভিযোগকিন্তু এসব প্রমাণ করতে পারেননি আদালতে। তাই রায় ফিরে গেছে।অন্যদিকে, রত্নার একসঙ্গে থাকার দাবি বা আবেদনের ক্ষেত্রেও আদালত সাড়া দেয়নি।ফলে সে দাবি খারিজ হয়েছে। আলিপুর আদালতের বিচারক স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে শোভনের অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণ যোগ্য নয়; তাই ডিভোর্স দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে, সেপারেট থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেনআইনে বিবাহিত আবারও একসাথে থাকার নির্দেশ নেই। একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছেডিভোর্সের আবেদনে যে যুক্তিগুলো দাখিল করা হয়েছিল, তাতে আদালত সন্তোষজনক প্রমাণ না পাওয়ায় শোভন এবং রত্নার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার রায় দিয়েছেন।
বুধবার সকালে দিল্লির সিভিল লাইন্সে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার বাসভবনে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক জনশুনানি চলাকালীন এক ব্যক্তি তাঁকে আক্রমণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই ব্যক্তি প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু কাগজপত্র দেন এবং তারপর হঠাৎ করে তাকে আঘাত করেন। আক্রমণকারী, যার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর, তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করে সিভিল লাইন্স থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছেছেন। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিজেপি এবং কংগ্রেস ও আপ নেতারাও মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।