• ১৭ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Story

নিবন্ধ

Mysterious Palace : রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

গল্পের মাঝে এসে হাজির চা আর পকোড়া। কারোর সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই,সবাই বিভোর হয়ে রয়েছে গল্পে।মামা থেমে বললেন নে সবাই চা টা খেয়ে নে তারপর আবার শুনবি।সবাই একসাথে বলে উঠলো চা খেতে খেতেই শুনি।তুমিও চা খেতে খেতে বলে যাও।বেশ বাবা বেশ তাই হবে, বলে মামা হাসলেন।আবার শুরু করলেন---এরপর কেটে গেছে অনেক গুলো বছর, হয়েছে অনেক পরিবর্তন।জমিদার বাবু নেই,বড়ো ছেলেও নেই সব কিছু তখন আমার দাদুর ঘাড়ে। আর শক্ত হাতে হাল ধরে রয়েছেন গিন্নি মা।একদিন হটাত ধূমকেতুর মতো একমুখ দাড়ি গোঁফ নিয়ে হাজির ছোট চন্দ্র আর ঘটনা চক্রে সেদিন গ্রামের প্রায় শেষ সীমানায় একটা মরা পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটা কঙ্কাল। পুকুরটা এখন মজে গেছে ঠিকই কিন্তু একসময় এর গভীরতা ছিলো অনেক। গ্রামের যারা এখন মধ্যবয়স্ক তারা চাপা গুঞ্জন তুলল যে ওটা সেই ভবানী ঠাকুরের মেয়ের, যে হটাত করেই হারিয়ে গেছিল।এ খবর জমিদার বাড়িতেও পৌঁছালো, কিন্তু সেখানে তখন ছোটোবাবুর আসার আনন্দ।তবু গিন্নিমা বলে উঠলেন মহাদেবের মনে কি আছে তিনিই জানেন আজই আমার চন্দ্রও ফিরে এলো।চন্দ্র এসে কিন্তু চুপচাপই রয়েছে।মায়ের সঙ্গে টুকটাক কথা বলছে। এর মাঝে যখন গ্রামের পুকুরের খবরটা এলো সে হটাত অস্থির হয়ে উঠলেন। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে সেই যে দরজা দিলেন আর খুললেন না।হরিয়া তো ছোটো বাবু কে দেখে খুব খুশী হয়ে তাকে বললো দেখো ছোটবাবু হামি সব ঠিক রেখেছি।তুমার উয়ো ছবি সব একদম ঠিক আছে।হরিয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে ঘরে ঢুকে গেছিলেন তিনি।রাতে কিছু খায়নি সে।দরজাও খোলেনি।সকালবেলা অনেকবেলা পর্যন্ত দরজা না খোলায় আর ভিতর থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখা গেলো শ্যামার ছবি বুকে নিয়ে চন্দ্রশেখরের নিথর দেহ শুয়ে আছে।গিন্নিমা শুধু বললেন ও শান্তি পেল, ভবানী ঠাকুরের অভিশাপ ফলতে লেগেছে।এরপর সত্যি কোনো ছেলে তিরিশ পেরোয়নি।শুধু আমি টিকে আছি। যখন আমার চাঁদ এলো তখন আমি বুঝলাম এবার হয়তো আমাদের অপেক্ষার অবসান হবে।কিন্তু সেটা যে উজানের বন্ধু হয়ে আমার বাড়িতে আসবে ভাবিনি।ভাবনা একটা হতো যে কিভাবে সে আসবে।চাঁদ ও ছোটো থেকে মানে তরুন বয়স থেকে স্বপ্নে ওর মুখ আবছা দেখতে থাকে।এবার মা রাশি আমাকে বলতো তোর এখানে এসে কি মনে হয়েছে?রায়া বলে ওঠে ও তো এসে থেকেই বলে যাচ্ছে আমি আগে এসেছি, এখানে এটা আছে, ওখানে ওটা ছিলো।মামা বললেন যেমনবাগানে ঘুরতে ঘুরতে পিছন দিকে এক জায়গায় বলল এখানে একটা আম গাছ ছিলো ।তারপর ছাদের ঘরে যাওয়া তো আমরা সবাই দেখলাম ।এরপর আর কোনো সন্দেহ থাকার জায়গাই নেই যে ও শ্যামা।রাশি আর চাঁদ এবার দুজনেই একে একে বলল যে আমরা তো দুজনে দুজনকে দেখেই চিনেছি এ স্বপ্ন তে দেখা সেই মুখ যা আমাদের জীবনকে রহস্যে মুড়ে রেখেছিল।এবার মামা বললেন একবার রাশির মা বাবার সঙে কথা বলতে হবে, আমাকে ওনাদের ফোন নম্বর টা দে।আচ্ছা রাশি তোকে ছাদে কে নিয়ে গেছিল?একজন বয়স্ক লোক ।হ্যাঁ মনে পড়ছে না ঠিক----- হ্যাঁ হ্যাঁ হরিয়া।হ্যাঁ হরিয়া ছাড়া আর কে হবে? ওই নাকি দীর্ঘদিন ঐ ঘর দেখে শুনে রাখত আর ঐ ঘরের সামনেই নাকি মরে পড়েছিল ।যাক মহাদেবের অসীম কৃপায় আজ আবার যে দুজন কে পেয়েছি, এবার আর কোনো ভুল করতে চাই না। আমি আজই রাশির বাবা মা কে ফোন করবো। সেরকম হলে ওনাদের এখানে আসতে বলবো।সবাই কিন্তু চুপচাপ হয়ে গেছে সেই সময়ের এই বেদনা বিধুর প্রেমের কাহিনী শুনে।রাশির চোখে জল, চাঁদ কখন যেন রাশির পাশে এসে বসেছে।যেন দুজনে ফিরে যেতে চাইছে সেই সুদূরে যেখানে ওদের প্রেম প্রকাশ পাওয়ার আগেই মুছে গেছিল।সমাপ্তলেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

অক্টোবর ১০, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace : রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্ব

মামা গল্প বলতে বলতে থেমে গিয়ে বললেন এই দাঁড়া দাঁড়া আমার তো ভুল হযে যাচ্ছে। ঘটনাটা আমরা দাদুর দাদুর আমলের।আমার দাদুর বাবারা ছিলেন তিন ভাই।বয়স হচ্ছে রে, তাই সব গুলিয়ে ফেলছি।সে যার আমলেই হোক তোমার দাদুর বাবার বা দাদুর দাদুর তুমি বলে যাও।মামা আবার শুরু করলেন....বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো । এর মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে; বড়ো ছেলের ছেলে মানে আমার দাদুর বাবার আগমন ঘটেছে, মেজো ছেলে বাঙলা দেশের তালুকের দায়িত্ব নিয়ে সেখানে বৌ নিয়ে আছে। আর ছোটো পড়াশুনার পাট চুকিয়ে গ্রামে ফিরে মন দিয়েছে আঁকায়। কলকাতায় সে আঁকার ট্রেনিং নিয়ে এসেছে যে ।আর এখানকার জমিদারির দায়িত্ব দেখাশোনা করতে লেগেছে বড় ছেলে।এমন সময় গিন্নিমার কানে গেলো একটা কথা। আসলে ঠিক কানে গেল বল চলে না। ওনাদের ভবানী ঠাকুর নিজে কদিন পুজো করতে না এসে অন্য একজনকে পাঠিয়ে ছিলেন।তাই তার খবর নিতে পাঠান গিন্নিমা । যদিও তার কানে একটা কথা এসেছে। তাই আরো উতলা হয়ে তিনি তার বিশেষ কাজের লোক শঙ্করী কে পাঠান খবর নিতে।সে এসে বলে যা শুনেছেন সব সত্যি। শ্যামা ফিরে এসেছে বাপের বাড়ি। তার ঠাঁই হয়নি সেখানে, তার স্বামী মারা গেছে আর সন্তান ও নেই।তাই তাকে আর কেউ রাখতে চায়নি শ্বশুর বাড়িতে।একথা শুনে গিন্নিমার মনটা খুব খারাপ হলো। তিনি বললেন ভবানী ঠাকুরকে খবর দাও।ভবানী ঠাকুর গিন্নিমার ডাকে তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। খুব কান্নাকাটি করতে লাগলেন।একে তো মা-মরা মেয়ে তায় আবার এই অবস্থা,কি যে করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।গিন্নিমা বললেন -- কোনো চিন্তা করবেন না আমি তো আছি। আপনি শ্যামা মা কে আমার কাছে নিয়ে আসুন।গিন্নিমার এইকথা শুনে ভবানী ঠাকুর অনেকটা যেন হাল্কা হলেন।তিনি বললেন তাই হবে গিন্নিমা । আমি কালই ওকে আপনার কাছে নিয়ে আসবো। আপনি ওকে একটু আপনার পায়ে ঠাঁই দিলে আমি বেঁচে যাই গিন্নিমা।এই বলে ভবানী ঠাকুর চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলেন।পরদিন মেয়েকে সঙ্গে করে এলেন জমিদার বাড়ি। গিন্নিমা শ্যামাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।বড়মার কথা তোর মনে পড়েনি? আমি কি তোর মা নই? এরকম অনেক মান অভিমানের কথা চলল।এর মধ্যে বড়ো বৌ ও এসে দাঁড়িয়েছে ঘরে, সেও শ্যামাকে খুব ভালোবাসত।তার ছেলেকে কোলে তুলে নিল শ্যামা । গিন্নিমা বললেন আজ থেকে ওর সব দেখাশোনার দায়িত্ব তোর । তুই তো ওর পিসিমা। এই বলে শ্যামার হাতে নিজের নাতি মানে আমার দাদুর দায়িত্ব তুলে দিলেন।আর অন্যদিকে ছোটো চন্দ্র বিয়ে থা না করে সারাদিন কলকাতা থেকে নিয়ে আসা এক বিহারি চাকর কে সঙ্গে নিয়ে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আঁকার সরঞ্জাম নিয়ে।তার কানেও শ্যামার কথাটা গেছে, কিন্তু সে কিছু বলেনি।এইভাবেই দিন যেতে থাকে.....বড়ো বৌদির ছেলেকে নিয়ে বেশ কাটে শ্যামার সারাদিন ।তর মাঝে বড়মাকেও সাহায্য করে।বড়ো বৌদির সঙ্গে টুকটাক গল্প করে দিন কেটে যায় । শ্যমাকে বাড়ির কাজের লোকেরাও ওর মিষ্টি স্বভাবের জন্য খুব ভালোবাসে।এর মধ্যে চন্দ্র এর সঙ্গে দেখা হয়েছে। কেমন আছো ছোটদা? জিজ্ঞাসা করে শ্যামা ।ভালই আছি রে। তোর কি চেহারা হয়েছে রে শ্যামা?আমার আবার চেহারা; তুমি এবার একটা বিয়ে থা করো ।তুইও এসেই শুরু করে দিলি? মা বলেছে নিশ্চয়?শ্যামা চুপ করে রইল।এভাবে টুকটাক কথা হয় শ্যামা আর চন্দ্রের মধ্যে। আগের থেকে শ্যামা অনেক চুপচাপ হয়ে গেছে।একদিন চন্দ্রের বিহারী কাজের লোক হরিয়ার খুব জ্বর হয় সেদিন বড়মা শ্যামার উপর দায়িত্ব দেন ছোটদার ঘর পরিষ্কার করে দেওয়ার এবং খাওয়ার নিয়ে দিয়ে আসার। সেদিন শ্যামাকে একটা ছবি দেখায় চন্দ্র, সেটা শ্যামার বিয়ের পর এঁকেছিল সে।তোর বিয়ের পর তো আমার সঙ্গে আর তোর দেখা হয়নি তাই তোকে দেখাতেও পারিনি।খুব সুন্দর হয়েছে গো ছোটদা । তবে এখন তুমি আরো অনেক ভালো আঁকো ।চন্দ্রের ঘরে কেউ ঢোকে ও পছন্দ করতো না। কিন্তু শ্যামাকে কিছু বলেনি।শ্যামা দেখে শোওয়ার ঘরের পাশে একটা বড়ো ঘরে ছবি আঁকত চন্দ্র।শ্যামা দেখেছে যে সেখানে কিছু ছবি ঢাকা দেওয়া আছে।কৌতূহলী হয়েছে ঠিক কিন্তু কোনোদিন হাত দেয়নি। আর চন্দ্র এখন খুব চুপচাপ নিজের মনে থাকে ওকেও জিজ্ঞাসা করার সাহস হয়নি।যে ছবি গুলো দেওয়ালে টাঙানো আছে সেগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখে যখন ঐ ঘরে যায়। যদিও খুব একটা যায়না বড়মা না পাঠালে।এদিকে হরিয়ার মাঝে মাঝেই শরীর ভালো যাচ্ছে না তাই শ্যামার উপর সেইদিন গুলোতে দায়িত্ব পরে শ্যামার উপর।এরকমই একদিন সন্ধ্যাবেলায় ছোটদার ঘরে আলো দিয়ে আসার সময় চন্দ্র বলে একটু কিছু খাবার নিয়ে আয় তো রে ক্ষিদে পেয়েছে।এটা আবার ওর স্বভাব মাঝেমাঝেই ক্ষিদে পায়।বেশ এনে দিচ্ছি বলে চলে যায় শ্যামা।একটু পরে বাটি করে নারকেল আর মুড়ি নিয়ে এসে দেখে ঘরে কেউ নেই।ছোটদা বলে ডাকতেই আঁকার ঘর থেকে আওয়াজ আসে এঘরে দিয়ে যা ।ওঘরে যেতেই দমকা হাওয়ার জোরে ঢাকা দেওয়া ছবি গুলো থেকে ঢাকা সরে যায় আর শ্যামা চমকে যায় এ যে তার ছবি।চন্দ্রও অপ্রস্তুত হয়ে যায়, আবার নিজেকে সামলে নিয়ে তাড়াতাড়ি ঢাকা দিতে যায় ।কি করেছো এগুলো? কেনো করেছো? কেউ এগুলো দেখলে কি ভাববে জানো?চন্দ্র চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ তারপর বলে কেনো তুই কি কিছুই বুঝিসনা?আমার বোঝার দরকার নেই। লোকে তোমাকে কিছুই বলবে না, যতো দোষ হবে আমার।তোকে এভাবে দেখ্তে আমার একদম ভালো লাগেনা যে, তাই তো আমার স্বপ্ন দিয়ে তোকে এঁকেছি।শ্যামা কাঁদতে থাকে, কেনো কেনো করলে এমন?শ্যামাকে কাঁদতে দেখে চন্দ্র আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না শ্যামাকে জড়িয়ে ধরে, আর ঠিক সেইসময় একজন কাজের মেয়ে শ্যামা কে ডাকতে আসে আর ওদের দেখে ছুটে নেমে যায় ।এইপর্যন্ত বলে মামা একটু থামলেন।বলো বলো তাড়াতাড়ি বলো, চাঁদ বলেতারপরের ঘটনা খুব ছোটো করে বলি, একথা শেষে ওঠে গিন্নিমার কানে,গিন্নিমা বিশ্বাস করেন না। কিন্তু জমিদার মশায়ের কানেও উঠে যায় ।ব্যাস আর যায় কোথায় ।শুরু হয়ে যায় জমিদারি খেলা। ভবানী ঠাকুরকে পাঠানো হলো শহরে কিছু একটা কাজে। তারপর দিন ভবানী ঠাকুর এসে শ্যামার খোঁজ করাতে অবাক হয়ে যান গিন্নিমা ।কি শ্যামা বাড়ি ফেরেনি কাল?না, আমি ভাবলাম আমার আসতে দেরি হবে ভেবে আপনি তাকে রেখে দিয়েছেন আপনার কাছে।গিন্নিমা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। চারদিকে খুঁজতে বলেন, কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না।তখন কিছু লোক হাহুতাশ করে আর কিছু লোক বাজে কথা বলে, যেমন সবসময় হয়।কাঁদতে কাঁদতে চলে যান ভবানী ঠাকুর। আর পুজো করতে আসেন না।সেদিন রাতে জমিদার গিন্নি ধরেন শশীশেখর বাবুকে কি করলে মেয়েটাকে? জমিদার বাবু মেজাজে বলেন আমি কি করে জানব?তুমি কিছু না জেনে কেনো এমন করলে? একথা চন্দ্র জানলে তাকে তুমি বেঁধে রাখতে পারবে তো?এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দরজায় টোকা পরে। দরজা খুলে তো চমকে যান গিন্নিমা।চন্দ্র তুই! কিছু বলবি বাবা?মায়ের কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল কিছু না বুঝেই এতোবড়ো একটা কাজ করে ফেললেন? আমাকে একবার জিজ্ঞাস করলেন না?চুপ করে রইলেন শশীশেখর বাবু।চলে গেলো চন্দ্র ঘর থেকে।একদিন চন্দ্র আবার কোথাও উধাও হয়ে গেলো,কাউকে কিছু না বলে।হরিয়া কিন্তু রয়ে গেলো ছোটো বাবুর ঘরটা আগলে।গ্রামেও এর মধ্যে প্রচার হয়ে গেলো যে জমিদারবাবুই শ্যামাকে গুম করে দিয়েছেন।একদিন ভবানী ঠাকুর পাগলের মতো এসে কাছরিতে ঢুকে পড়লেন,সেখানে তখন জমিদারবাবু নিজে উপস্থিত।ভবানী ঠাকুর বললেন আমার মেয়েটা কি ক্ষতি করেছিল যে তাকে মেরে দিলেন? আমি অভিশাপ দিচ্ছি তোমাদের বংশে ছেলেরা বেশিদিন বাঁচবে না,যতদিন না আমার মেয়ে ফিরে আসছে। আর এও বলে রাখলাম যদি সত্যি চন্দ্র তাকে ভালোবেসে থাকে সেও ফিরবে।এরপর কেউ আর ঐ গ্রামে ভবানী ঠাকুরকে দেখেনি।তারপর সত্যি এই বংশের ছেলেরা বেশিদিন বাঁচে না। আমিই রয়েছি শুধু ওদের মিলিয়ে দেবার জন্য বোধহয়। কারণ আমার দাদুর মাও যে শ্যামা কে বড্ড ভালবাসতেন। উনি বলেছিলেন যেন আমার বংশেই আবার চন্দ্র ফিরে আসে।তিনি যতদিন জীবিত থেকেছেন ছোটো দেওরের খোঁজ করে গেছেন। কিন্তু যে নিজে হারিয়ে যায় তাকে কি আর খূঁজে পাওয়া যায়?ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

অক্টোবর ০৩, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্ব

অবশেষে সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাঁদ অর্থাত চন্দ্রশেখর রায়চৌধুরী উজানের মামাতো দাদা বাড়ি এলো দুপুর তখন প্রায় একটা। কিন্তু তখন আর কে গল্প শুনবে আর কেই বা শোনাবে?সুতরাং দুপুরের খাবার পর সবাই কে বিশ্রাম করে বিকেলে ঠিক পাঁচটার সময় চায়ের টেবিলে হাজির হতে বললেন মামা।সবাই ঘরে গেল ঠিকই কিন্তু কেউ ঘুমোতে পারলো না। রাশি কে দেখে তো মনে হচ্ছে কি যেন খূঁজে বেড়াচ্ছে মনে মনে।পাঁচটা বাজতেই সবাই হাজির চায়ের টেবিলে। চাঁদ বলল কি ব্যাপার বলতো হটাত ডেকে পাঠালে , আবার এইভাবে বিকেলে হাজির হতে বললে? কিছুই তো বুঝতে পারছিনা। মামা বললেন চা খেয়ে নাও তারপর একটা জিনিস দেখাব। যদিও চাঁদ চট বেলায় একবার দেখেছিল।চা খাওয়া হয়ে গেলে মামা ওদের একটা ঘরের সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন। চাঁদ বলল এই ঘরে আবার কি দেখাবে? কোনো দিন তো খোলাই হয়না। দরজা খুলে চাঁদের বাবা মানে মামা বাবু ঘরে ঢুকে আলো জ্বেলে সবাই কে ভিতরে ডাকলেন। ঘরটায় পরপর সব পুরুষের এবং মহিলাদের ছবি আছে এই বংশের । সব একে একে মামা দেখাচ্ছেন এবং পরিচয় দিচ্ছেন; আর রাশি পায়ে পায়ে একটা ছবির সামনে এসে দাঁড়িয়ে কি যেন বিড় বিড় করছে সেটা খেয়াল করে চাঁদ । ও অবাক হয়ে সেদিকে যায়, গিয়ে তো আরো অবাক । জোরে বলে ওঠে-- বাবা আমার এই বেশে ছবি এখানে কিভাবে এলো? আমি তো কখন তুলিনি।সবাই সেই দিকে ছুটে গেলো । দেখে তো সবাই অবাক। উপরের ঘরে রাশির মতো দেখতে একটি মেয়ের ছবি, আবার নিচে চাঁদের মতো এ কার ছবি? উজান বলল মামা কি ব্যাপার গো কিছুই তো মাথায় ঢুকছে না। কোনোদিন কোনো গল্পও শুনিনি মায়ের কাছে। কি গল্প আছে আমাদের বলো ।মামা বললেন বেশ বেশ চল এঘর থেকে , বাইরে গিয়ে বসি তারপর সব বলছি। বলতে তো আমাকে হবেই।এই বলে সবাই কে বের করে নিয়ে ঘরে চাবি লাগিয়ে সবাই গিয়ে বৈঠকখানা ঘরে গিয়ে বসল।মামীমাও এসে বসলেন।এরপর মামা শুরু করলেন গল্প......মামা গল্প শুরু করলেন-- কাহিনী তখনকার যখন জমিদার ছিলেন আমার দাদুর বাবা শশীশেখর রায়চৌধুরী ।তার তিন ছেলে বড় ইন্দুশেখর, মেজো বিধুশেখর, আর ছোট চন্দ্রশেখর।এদের মধ্যে বড় আমার দাদু আর মেজো দাদু তখন কলকাতায় পড়াশুনা করছেন । আর বাড়িতে আমার ঠাকুমা আছেনআর ছোটো দাদু। সে দাদাদের থেকে বেশ ছোট ; তখন সে গ্রামের স্কুলেই পড়ছে। এমন সময় আমাদের কুলদেবতা মহাদেবের পুজোয় নিযুক্ত হন আমাদের কুল পুরোহিত বামাচরণ ভট্টাচার্য মশায়ের ছেলে ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচর্য মানে আমাদের ভবানী দাদু।ওনার মেয়ে শ্যামা সুন্দরী ছিলেন প্রায় আমাদের ছোট দাদুর বয়সী,বছর পাঁচের ছোট ।বাবার সঙ্গে মাঝে মাঝে ফুল নিয়ে আসত আমাদের বাড়িতে। মা মরা মেয়ে,আমাদের বড়মা খুব স্নেহ করতেন শ্যমাকে । একে নিজের কোনো মেয়ে নেই তায় আবার শ্যামার মা ছিলো না।সবাই বড়মা কে গিন্নীমা ডাকত। শ্যামাও তাই ডাকত।কিন্তু বড়মা তাকে বলে তুই আমাকে গিন্নিমা বলবি না,বড়মা বলবি,তারপর থেকে শ্যামা বড়মা ডাকতে থাকে। তখনো গ্রামের দিকে মেয়েদের পড়ার সেরকম চল ছিল না। কিন্তু শ্যামা পাঠশালায় যেত।মাঝে মধ্যে আসত জমিদার বাড়িতে।ছোট চাঁদের সঙ্গে তার বেশ বন্ধুত্ব হয়েছে,প্রায় সমবয়সী দুজন।ওদের খেলতে দেখে বড়মা খুব আনন্দ পেতেন।ছোট দাদু খুব আঁকতে ভালোবাসতেন, তাই দাদারাও শহর থেকে আদরের ভাইকে নানান সরঞ্জাম এনে দিত। ছোটদাদার অত জিনিস শ্যামা অবাক চোখে দেখত। এইভাবে দুজনে বেশ থাকতো,কখন ঝগড়া করে বড়মাকে নালিশ জানাতো আবার কখন কচড়ে কাঁচা আম, তেঁতুল,বা বাড়ির তৈরী আচার এনে ছোট দাদাকে খাওয়াতো।দেখ্তে দেখ্তে শ্যামা বারো বছরের হলো যখন আর ঘরে রাখা যাবে না। এবার ওর বিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে আমার বাবার আগমন হয়ে গেছে। বড়ো বৌদিও শ্যামাকে বেশ ভালবাসে কারণ শ্যামা ছাড়া কথা বলার মতো কেই বা আছে ছোট দেওরটি ছাড়া।শ্যামার বিয়ে হয়ে গেলো ।শ্যামার বিয়ে হয়ে যাওয়াতে সব চেয়ে বেশি একা হয়ে গেল চন্দ্র; কারণ সবসময় হুকুম তো শ্যামাই শুনত।অবশ্য বেশিদিন তাকেও একা থাকতে হয়নি,কলকাতায় পড়তে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। ওখানে সে পড়ার সঙ্গে আঁকার চর্চায় মনোনিবেশ করলো। এদিকে কিছুদিনের মধ্যে মেজদাদুরও বিয়ে হয়ে গেলো ।আমার দাদুএখানকার জমিদারি দেখাশোনায় দাদুর সঙে লেগে পড়ল ।আর মেজদাদু তখনো পড়া শেষ হয়নি বলে কলকাতায় থাকতে লাগল ছোট ভাই কে নিয়ে।এইভাবে বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো ।শ্যামার কথা প্রায় সবাই ভুলতে বসেছে এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা...ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্ব

রায়া আর তিয়া দুজনেই রাশি কে দেখে একটু যেন অবাক হলো; ওদের মনে হলো ও যেন এ জগতে নেই।ওকে যেন একটু অন্যরকম লাগল।ওরা ডাকল রাশি এই রাশি কি বলছিস?না ও যেন ওদের ডাক শুনতেই পেল না । তখন রায়া ওকে ধাক্কা দিয়ে ডাকল এই রাশি কি বিড়বিড় করছিস?রায়ার ধাক্কাতে যেন রাশির সম্বিত ফিরল। ও বলল কি হয়েছে? এতক্ষণ যেন কিছুই হয়নি এমন করে কথা বলল রাশি।রায়া,তিয়া অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আর বলল কি হয়েছে মানে! তুই তো বলবি কি হয়েছে? কি বলছিলি তুই এতোক্ষণ?রাশি যেন কিছুই জানে না সেরকম করেই বলল আমি কি বলছিলাম? কই কিছু বলিনি তো।ওর এই ব্যবহারে তো ওরা রীতিমত বিস্মিত।কিন্তু ওরা আর কথা না বাড়িয়ে বলল -- যা তুই এবার চেঞ্জ করে খেতে চল।ওরা তিন জন আর পাশের ঘর থেকে উজান আর অত্রি কে দিশা এসে ডেকে নিয়ে গেলো ।ওরা সবাই মিলে খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পরলো। মামা মামী ও বললেন ওদের শুয়ে পড়তে।ওরা যে যার মতো করে নিজেদের ঘরে চলে গেল।উজান বোন দিশার সঙ্গে একটু কথা বলবে বলে বসে রইল নিচে।বিশাল বাড়ি মামাদের। উজান অনেকদিন পর এলো তাই একটু বোনের কাছে জেনে নিচ্ছে কঁ দিকে কি আছে।ঘন্টা খানেক পর উজানও শুতে চলে গেলো। ঘরে গিয়ে ওরা একটু পরের দিন কি করবে সেটা আলোচনা করে যে জার মতো শুয়ে পড়ল।বেশ অনেকটা রাতে তিয়ার ঘুম ভেঙে গেলো বাইরে যাবে বলে। ও ওয়াশ রুম থেকে ফিরে এসে দেখে রাশি বিছানায় নেই, ঘরেই নেই। ও তখন রায়াকে ডাকল। রায়া একটু বিরক্ত হয়ে উঠলো। রাশি ঘরে নেই শুনে তো ঘুম উড়ে গেলো ওরও।ওরা বেরিয়ে উজানদের ডাকল। উজান, অত্রিও ভয় পেয়ে গেলো এতো রাতে ওদের ডাক শুনে।ওরা বেরিয়ে এসে যখন শুনল রাশি ঘরে নেই তখন তো রীতিমত ভয় পেল ওরাও।কি করবে ঠিক করতে পারলো না। এতো বড়ো বাড়ির কোথায় গেলো ওরা তো কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। রায়া তখন উজান কে বলল রাশি কি বিড়বিড় করে বলছিল সেই কথা গুলো।উজান কিছু ভেবে না পেয়ে মামা কে ডাকল।মামা মামী বেরিয়ে এলো কৌতূহলী হয়ে। যখন শুনল রাশি কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তখন মামী বলে উঠলো-- আমি বললাম না এ সেই, দেখো ঠিক তার জায়গায় তাকে পাওয়া যাবেমামা একটু বিচলিত হয়ে বলল তুমি চুপ করো তো।মামা মামীর কথা ওদের কেউ বুঝতে পারলো না। রায়া তখন বলল রাশির বলা কথাগুলো।রাযার কথা শুনে মামা মামী বললো চলো তো দেখি গিয়ে।মামা আর মামী ছাদের দিকে চললো ওনাদের পিছনে ওরা চার জনও চলল ।মনে ওদের অনেক প্রশ্ন জাগছে। মামা মামীর কথায় কি যেন একটা আছে সেটা বুঝতে পারছে না ওরা।ওরা ছাদে গেলো, এদিক ওদিক খুঁজল বিশাল ছাদের কিন্তু কোথাও রাশি নেই।ওদের খুব ভয় করতে লাগল। তখন মামা বলল ঐ দেখো ঐ ঘরে আলো জ্বলছে, কে জ্বালালো আলো? অবাক এবার মামা মামী। ঘরটাই বা খুলল কে? এই সব প্রশ্ন করতে করতে ঘরে গিয়ে দেখল রাশি ওখানে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে। আরো যা দেখল তা হলো কিছু ছবি।রাশিকে ঐভাবে উপরের ঘরে অজ্ঞান অবস্থায় পরে থাকতে দেখে ওরা সবাই যেমন অবাক হলো, আরো অবাক হলো ঐ ঘরে থাকা কিছু ছবি দেখে। যেগুলো দেখে তো খুবই পুরনো মনে হচ্ছে কিন্তু ছবির মেয়েটির সঙ্গে রাশির হুবহু মিল আছে।সবাই কৌতূহলী হয়ে মামা মামীমার দিকে তাকাল, কিন্তু তখন আগে রাশিকে ঠিক করা দরকার ছিলো তাই আর কথা না বাড়িয়ে অত্রি আর উজান দুজনে ধরে নামিয়ে নিয়ে এলো রাশিকে; তারপর ওদের ঘরে শুইয়ে দিয়ে চোখে মুখে জল দিয়ে ওর জ্ঞান ফেরাবার চেষ্টা করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে ও সবাই কে একসাথে দেখে প্রথমে একটু অবাক হলো। তারপর আবার চোখ বুজে ফেলল। মামা বললেন --আজ রাতটা ও বিশ্রাম নিক, ওকে তোরা এখন কোনো প্রশ্ন করিসনা। সকালে জা শোনার শুনিস।আর তোদের বলতে ভুলে গেছি কাল সকলে চাঁদ আসছে।এই বলে ওনারা বেরিয়ে গেলেন। ওর কিছুক্ষণ বসে থেকে তারপর যে যার মতো শুয়ে পড়ল ।পরদিন সবার ঘুম ভাঙতে একটু দেরি হলো। রাশি কিন্তু শুয়ে রইল। রায়া তিয়া ওকে জোর করে তুলে নিয়ে গেলো ।ও চুপ করে আছে দেখে মামী জিজ্ঞাসা করলেন --রাশি কাল রাতে তুই ছাদে কি করতে গিয়েছিলি? তুই চিনে গেলি কি করে ছাদে? ঐ ঘরের চাবি কোথায় পেলি?এই প্রশ্ন গুলো শুনে রাশি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর বললো কাল শোওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হটাত বেশ খানিকটা রাতে দরজায় আওয়াজ শুনে আমার ঘুম ভেঙে গেলো । আমি ভাবলাম অত্রি বা উজান হবে তাই উঠে দরজা খুলতে গেলাম।খুলে দেখি একজন মহিলা ঘোমটা দেওয়া।আমাকে বলল আমার সঙ্গে এসো।আমি সম্মহিতের মতো ওঁর পিছনে চললাম।ঐ আমাকে ঐ ঘরে নিয়ে গেলো। তারপর আমার কিছু মনে নেই।কিন্তু একটা ব্যাপার কি জানো আমি তোমাদের বাড়িটা যেন চিনি, এখানে যেন কতো এসেছি।আর একটা জিনিস আমি সেই ছোটো থেকে কিছু স্বপ্ন দেখি আবছা আবছা এখানে এসে তোমাদের বাড়ি দেখে এটা বুঝতে পারি আমার সেই স্বপ্ন এখানকার সঙ্গে যুক্ত।পুরোটা ঠিক বুঝতে পারছিনা।তোমরা নিশ্চয় জানো,আমাকে বলবে ।ওর কথা শুনে এবার মামা বললেন তোকে দেখেই আমরা বুঝেছি সব। বলবো আর একটু অপেক্ষা কর , চাঁদ আসুক।ওরও যে জানা দরকার। শুধু তুই নয় রাশি ও যে এর সঙ্গে যুক্ত।এরপর ওরা চা জলখাবার খেয়ে রাজবাড়ির চারদিকটা দেখ্তে বেরোল সবাই মিলে।রাশি যেতে চাইছিল না, কিন্তু ওরা ওকে আর একা রেখে যেতে রাজী হলো না।তাই ও সঙ্গেই গেলো ।রাজবাড়ির বাগানে ঘুরতে ঘুরতে ও হটাত একজায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল, সবাই ডাকলো কিন্তু মনে হলো ও যেন ওর মধ্যে নেই।ও তখন বলল এখানে তো একটা বড়ো আমগাছ ছিলো ।গাছটা কি হলো? বলেই ও ওখানেই বসে পড়তে যাচ্ছিল রায়া ওর পাশে থাকায় ধরে ফেলল।রাশি যেন আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো । ওরা কিছুতেই বুঝতে পারছে না কি ঘটছে রাশির সঙ্গে। কেনই বা রাশি এরকম ব্যবহার করছে!?মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরছে সবার, কিন্তু মামা বলেছেন সব বলবেন চাঁদ মানে ওনাদের ছেলে আসলে।উজানের দাদাভাই দিল্লিতে ডাক্তারি পড়ছে।ওর এখানে পৌঁছাতে দুপুর হবে।সুতরাং এখন অপেক্ষা ছাড়া গতি নেই---ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্ব

বীরভূমের এক প্রত্যন্ত গ্রামে উজানের মামার বাড়ি। ওনারা ওখানকার জমিদার ছিলেন। আজও তার প্রতীক হিসাবে বিশাল রাজবাড়ি দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্য বহণ করে। যদিও উজানের বড়ো মামা-মামি ছাড়া কেউই আজ ওখানে থাকেনা। অন্যান্য তিন মামা বিদেশে থাকেন। যদিও পারিবারিক দুর্গা পুজোয় বছরে একবার আসেন। উজানের মা ঐ বাড়ির একমাত্র মেয়ে। তাই উজানের আদরও খুব মামার বাড়িতে।এবার তাই ১২ ক্লাস বোর্ড এক্সামএর পরে উজানের বন্ধুরা যখন বলে সবাই মিলে কোথাও বেড়াতে যাবে আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে, তখন উজান ওর মামার বাড়ি যাবার প্রস্তাব দেয়। ওর এই বন্ধুরা অনেকদিন ধরেই ওর মামার বাড়ি দেখ্তে চেয়েছিল।রাশি, হিয়া, দিয়া, অত্রি আর উজান সেই নার্সারি থেকে আজ পর্যন্ত একসঙ্গে পড়ছে। এবার যে যার মতো আলাদা হয়ে যাবে। তাই তার আগে ওরা শুধু নিজেরা কোথাও যেতে চায়। উজানের মামার বাড়ি যাবার কথায় কারো বাড়ি থেকেই কোনো আপত্তি হয়নি।ওরাও খুব excited এই প্রথম শুধুমাত্র বন্ধুরা মিলে কোথাও বেড়াতে যাবে। ওদের মধ্যে হিয়া দিয়া যমজ বোন, হিয়াটা খুব চঞ্চল দিয়া একটু শান্ত; আর রাশি মেয়েটা একটু যেন বেশিই চুপচাপ। যদিও তাতে ওদের বন্ধুত্বের কোনো অসুবিধা নেই। রাশির একটা ব্যাপার ওরা ছোট থেকেই দেখে আসছে যে ও মাঝে মাঝেই কেমন উদাস হয়ে যায়। ছোটোবেলায় তার কারণ অবশ্য একটা বলতো,এখন বড়ো হয়ে গেছে এখন আর কিছু বলেনা কিন্তু সেই উদাস হয়ে যাওয়া আজও আছে। ওরা সবাই সবাইকে খুব ভালো করে জানে। তাই রাশিকে কোনো রকম বিরক্ত করেনা। যাইহোক সবাই খুব খুশি বেড়াতে যাওয়া নিয়ে। সারা দিন ফোনে শুধু প্ল্যান হয়ে যাচ্ছে কি করবে না করবে, কে কি পোশাক নেবে, কতো দিন থাকবে, আশেপাশে কোথায় কি আছে দেখবে এইসব করে যাচ্ছে সারাদিন।এইসব করতে করতে যাবার দিন চলে এলো। সবাই মিলে বিশ্বভারতী এক্সপ্রেস ট্রেনের কামরায় উঠে বসল। সবাই খুব হৈচৈ করে আনন্দ করতে লাগল যেন মুক্ত বিহঙ্গ। ট্রেন ছেড়ে দিলে ওদের আনন্দ যেন আর ধরে না। সে কি উত্তেজনা সবার কিন্তু রাশি যেন একটু বেশি চুপচাপ। কি হয়েছে জানতে চাইলে বলবে না ওরা জানে তাই ওকে বিরক্ত করে না। রাশি জানালা দিয়ে দেখ্তে দেখ্তে চলে। আর ওরা চড়ুই পাখির মত কিচির মিচির করতে থাকে। কু ঝিকঝিক ট্রেন চলতে থাকে।ট্রেন অবশেষে যখন পৌঁছল তখন বেশ খানিকটা রাত হয়েছে। স্টেশনের বাইরে ওদের জন্য গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ওরা মামার বাড়ির গাড়িতে মালপত্র উঠিয়ে বসল। রাত হয়ে যাওয়ার কারণে কিছুই বুঝতে পারলো না ওরা পথের সম্বন্ধে। মামার বাড়ি যেহেতু গ্রামে তাই খুব তাড়াতাড়ি চুপচাপ হয়ে যায়।তবুও শুক্লপক্ষের রাত বলে চারিদিকে রূপোলি জ্যোত্স্নায় ভেসে যাচ্ছে। ওদের খুব ভালো লাগছে, কারণ কলকাতায় এই ব্যাপারটা ওরা অনুভব করতেই পারে না। রাশির মন যেন উচাটন হয়ে যায়; ও বলে কি সুন্দর লাগছে দেখেছিস চল আমরা কিছুটা হেঁটে যাই ,কি উজান চিনতে পারবি না পথ।ওদের সবাই হৈ হৈ করে বলে উঠলো চল চল চল সবাই মিলে হেঁটেই যাবো। অগত্যা উজান রাজী হয়। সবাই গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে থাকে; যদিও রাস্তা অল্পই বাকি ছিল। তবুও ওরা বেশ উপভোগ করতে লাগল। সব থেকে বেশি যেন রাশি আনন্দিত হলো। সবাই রাশির এই স্বভাবের সঙ্গে পরিচিত তাই ওরা অবাক হলো না।মামার বাড়ির সামনে এসে যেন রা। ওদের পৌঁছোনোর আওয়াজ পেয়ে মামা-মামি আর বোন দিশা বেরিয়ে এলো। দিশা তো হৈ হৈ করে উঠলো। কিন্তু মামা-মামি যেন রাশিকে দেখে একটু চমকে গেলো সেটা উজানের চোখে পড়ল। কিন্তু ও কাউকে কিছু বললো না। ওদের ভিতরে নিয়ে গেলো, তারপর পরিচয় পর্ব সারার পর মামি বললো ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে চলে আয় খেয়ে নিবি।সবাই মামির কথামতো ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হতে লাগল একে একে। রাশি, তিয়া আর রায়া একটা ঘরে আর উজান আর অত্রি একটা ঘরে থাকবে এরকম ব্যবস্থা হলো। রায়া তো খুব এক্সাইটেড; তিয়াও তাই। শুধু রাশি যেন একটু বেশিই চুপচাপ হয়ে গেছে বাড়িতে ঢোকার পর। সবাই সেটা বুঝেছে কিন্তু কেউ কিছু বলেনি। আসলে রাশি তো ঐরকম তাই। তিয়া আর রায়া দুজনে যখন এতো বড়ো রাজবাড়ির অতিথি হয়ে থাকার কথা নিয়ে আলোচনা করছে তখন হটাত রাশি বলে উঠলো আপন মনে আমি সব চিনি, আমার মনে হচ্ছে এসেছি এখানে, কিন্তু কবে? তিয়া আর রায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে।ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১
নিবন্ধ

বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)

মৌপিয়া আজ বড় শান্ত হয়ে মধুপ এর দেওয়া একগুচ্ছ গোলাপ বুকে নিয়ে শুয়ে আছে। আজ ওদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী। পাশে ডিভোর্স পেপার হাতে বসে আছে মধুপ। মৌপিয়া পেপার টা মধুপের হাতে দিয়েছে একটু আগে। সসে এ জীবন থেকে মুক্তি চায়। আমরা আজ মুক্ত------ বলে মধুপ। বলে চলে দুজন দুজনকে মুক্তি দিলাম পিয়া। কিন্তু আমি তো এটা চাইনি। আমি যে তোমাকে আজও ভালোবাসি। খুব খুব ভালোবাসি--- বলতে বলতে মধুপ শুয়ে পড়ে মৌপিয়ার পাশে। এই মৌপিয়ার সাথে মধুপের বিয়ে হয় দুবছর আগে ভ্যালেনটাইন ডে তে। তার ঠিক একবছর আগে ঐ দিন ওদের পরিচয় হয় বীরভূমের লাল মাটি তে। বড়ো ব্যবসাদার বাবার আদরের ছোটো ছেলে মধুপ, সখের ফটোগ্রাফার। সখের টানে গেছিল বীরভূম আর মৌপিয়া বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গেছিল। সেখানেই দুজনের আলাপ। তারপর এক বছরে নদীতে কত জল বয়ে গেছে। বাড়িতে অমত থাকা সত্ত্বেও মৌপিয়ার সাথেই বিয়ে করে মধুপ। আদরের ছেলের জন্য সব মেনে নেয় মা বাবা। বেশ কাটছিল দুজনের। হঠাৎ করে ওদের জীবনে ঢুকে পড়লেন অরিত্র, মধুপের ছোট্ট বেলার বন্ধু। বিদেশে থাকার জন্য বিয়েতে থাকতে পারেনি তাই দেশে ফিরেই দামি উপহার নিয়ে দেখা করতে আসে। অবাধ যাতায়াত মধুপের বাড়িতে। সবাই বেশ ভালোবাসে অরিত্রকে। অরিত্র ফিল্ম মেকিং এর কাজ করে। নতুন ফিল্মে মৌপিয়া কে কাজের অফার দেয়। মৌপিয়া ও কথা দিয়ে ফেলে মধুপের সাথে না আলোচনা করে। এতে মধুপের খারাপ লাগে ঠিকই কিন্তু মুখে কিছু বলে না। কারণ ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। জীবনের পরিবর্তন শুরু হয় তখন থেকেই। আস্তে আস্তে সেটা সকলের চোখে লাগে। ছোটখাটো বিষয়ে অশান্তি লাগে। সব কিছু স্পষ্ট হয়ে যায় যে দিন আলমারি তে ডিভোর্সের পেপার টা দেখতে পায়। আর ফোনে বলা কিছু কথা কানে আসে মধুপের। সেদিন থেকেই মধুপের মনে মুক্তির চিন্তা আসে। ভাবে আর তো কটা দিন পরেই বিবাহ বার্ষিকী ঐদিন মুক্তি হবে অশান্তির জীবন থেকে। তাই আজ একগুচ্ছ বিষাক্ত গোলাপের সঙ্গে জীবন থেকে মুক্তি উপহার দেয়। নিজেও মৌপিয়ার পাশে চিরদিনের মত ঘুমিয়ে পরে। মুক্তি জীবন থেকে দুজনের।।লেখিকাঃ রাখি রায়

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২১
দেশ

Secret Tunnel: বিধানসভার গোপন সুড়ঙ্গে লুকিয়ে অজানা ইতিহাসের হাতছানি

রহস্যে মোড়া দিল্লি বিধানসভা চত্বর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কত ইতিহাস যে চাপা পড়ে যায়, তার কোনও ইয়ত্তা নেই। যদিও কালের নিয়মে অনেকসময় তা আবার বেরিয়ে আসে। ঠিক যেমন দিল্লি বিধানসভার ভিতরে খোঁজ মিলল সেই ব্রিটিশ যুগের গোপন সুড়ঙ্গের। দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য লালকেল্লার সঙ্গে সংযুক্ত একটি সুরঙ্গের হদিশ মিলেছে বৃহস্পতিবার। দিল্লি বিধানসভার অন্দরের একটি ঘরে সুড়ঙ্গের প্রবেশ পথের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। দিল্লি বিধানসভা থেকে লালকেল্লার দূরত্ব প্রায় ৬ কিমি। তাই সুদীর্ঘ সুড়ঙ্গটির খোঁজ মেলার পর দিল্লি বিধানসভার অন্দরে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে।আরও পড়ুনঃ উমেশের ধাক্কা সত্ত্বেও প্রথম ইনিংসে ৯৯ রানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড হঠাৎ এই সুরঙ্গ আবিষ্কারের মধ্যে অনেক রহস্যের গন্ধ পাওয়া গেলেও, আদতে এর পেছনে রয়েছে অন্য কাহিনি। এই বিষয়ে দিল্লি বিধানসভার অধ্যক্ষ রামনিবাস গোয়েল জানিয়েছেন, বিধানসভা থেকে লালকেল্লা সংযোগকারী এই সুড়ঙ্গ মূলত ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অন্যত্র সরানোর সময় জনরোষের হাত থেকে বাঁচতেই এটি ব্যবহার করা হত। এই প্রসঙ্গে দিল্লি বিধানসভার অধ্যক্ষ আরও বলেন, যখন আমি প্রথম বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আসি তখন থেকেই গুঞ্জন শুনেছিলাম যে এখানে লালকেল্লা সংযোগকারী একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ইতিহাসের কথা মাথায় রেখে সুড়ঙ্গটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। এখন আমরা এটি খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু আমরা কোনওরকম খনন কার্য চালাচ্ছি না, কারণ মেট্রো প্রকল্প ও নর্দমা নির্মাণের ফলে এখন আর সুড়ঙ্গটির কোনও অস্তিত্ব নেই।আরও পড়ুনঃ ফোনে কথা বলছেন নার্স, ভ্যাকসিন পড়ল পর পর ৩ ডোজ!ব্রিটিশ আমলের মতো সুড়ঙ্গটি চলাচলের যোগ্য করা যাবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি। তবে এই ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ সাধারণ মানুষের সামনে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি এই সুড়ঙ্গের কিছু মেরামতি করে তা দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আগামী বছর ১৫ অগস্ট দর্শকের জন্য সম্ভবত এই সুড়ঙ্গ খুলে দেওয়া হবে।১৯১২ সালে ব্রিটিশ রাজত্বের সময় কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ার পর, বর্তমান দিল্লি বিধানসভা ভবনটি তখন কেন্দ্রীয় আইনসভা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৯২৬ সালের পর এটিকে আদালতে রূপান্তরিত করা হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কোর্টে নিয়ে আসার সময় এই সুড়ঙ্গটি ব্রিটিশরা ব্যবহার করত।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২১
দেশ

Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টে রচিত হতে চলেছে নতুন ইতিহাস

শীর্ষ আদালতে রচিত হতে চলেছে নয়া ইতিহাস। কলোজিয়ামের সুপারিশেই আগেই শিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্র। তিন মহিলা বিচারপতি-সহ মোট ৯ বিচারপতি শপথ নিচ্ছেন আজই। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমণের উপস্থিতিতে শপথ নেবেন তাঁরা। সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডিশনার বিল্ডিং কমপ্লেক্সের অডিটোরিয়ামে হবে সেই শপথ অনুষ্ঠান। এর আগে কখনও এ ভাবে নতুন বিচারপতিরা একসঙ্গে শপথ নেননি। তাই এ দিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তৈরি হবে এক নয়া ইতিহাস।আরও পড়ুনঃ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই রকেট হানা, ভয়ে কাঁপছে কাবুলবাসীআজ যাঁরা শপথ নেবেন, তাঁরা হলেন কর্নাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এএস ওকা, বিচারপতি বিভি নাগারত্ন, তেলঙ্গনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিমা কোহলি, গুজরাত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বিক্রম নাথ, সিকিমের প্রধান বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী, কেরল হাইকোর্টের বিচারপতি সিটি রবিকুমার, মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ, গুজরাত হাইকোর্টের বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী ও আইনজীবী পএস নরসিমহা।সাধারণত প্রধান বিচারপতির ঘরেই শপথ নেন নতুন বিচারপতিরা। এ দিন ৯ বিচারপতি শপথ নিলে সুপ্রিম কোর্টে মোট বিচারপতির সংখ্যা হবে ৩৩। মোট ৩৪ বিচারপতি পদ রয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। অর্থাৎ একটি পদ খালি থেকে যাবে। সুপ্রিমকোর্টের জনসংযোগ দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে প্রথমবার ৯ বিচারপতি একই সঙ্গে শপথ গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া এই প্রথম শপথ অনুষ্ঠান হবে অডিটোরিয়ামে। কোভিড বিধি মেনে চলার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ৩১, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Yuvraj Anandraj Thakre : নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরলেন যুবরাজ আনন্দরাজ ঠাকরে

পরিচালক শুভেন্দু দাস তার নতুন ছবি আত্মনির্ভর ভারত-এর নির্মাণ এর কাজ শুরু করবেন। এটি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র। এই তথ্যচিত্রের মূল চরিত্র যুবরাজ আনন্দরাজ ঠাকরের ওপর যার শরীরের ৭০% অংশ অকেজো।যুবরাজ আনন্দরাজ ঠাকরেকে সামনাসামনি পেয়ে তার লড়াইয়ের গল্প শুনল জনতার কথা।জনতার কথা ঃআত্মনির্ভর ভারত যেখানে অনুপ্রেরণামূলক গল্প পাবেন দর্শকরা। আপনার এখানে অভিনয় করার ইচ্ছা হল কেন?যুবরাজ ঃ আত্মনির্ভর ভারত রিয়েল স্টোরি। আমি যে লড়াই করেছি সেই লড়াইয়ের গল্প বলে এই ছবিটি। গল্পটা প্রথমে মারাঠিতে ছিল। সেখান থেকে হিন্দিতে ট্র্যান্সফর্ম করেন প্রযোজক রাজীব পাল। তারপর পরিচালক শুভেন্দু দাস গল্পটা শোনেন এবং তার খুব ভালো লাগে। এই গল্পের ওপর আমাকে কাজ করতে হবে। তারপর কাজ শুরু হয়।জনতার কথাঃ শুটিং কোথায় হয়েছে?যুবরাজঃ শুটিং ইন্দোর, মহারাষ্ট্র ও কলকাতাতে হয়েছে।জনতার কথাঃ শুটিং এর কোনও অভিজ্ঞতা শেয়ার করো।যুবরাজঃ শুটিং করতে গিয়ে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। কারণ চরিত্রটা তো রিয়েল। আমার বাবা, মা, শিক্ষক, আমি যে স্কুলে পড়েছি, আমার শারীরিক যে সমস্যা রয়েছে সবটাই দেখানো হয়েছে। গল্পটা তো খুব যন্ত্রণার। শুটিং এর সময় অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।জনতার কথাঃ শুভেন্দুর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?যুবরাজঃ পরিচালক শুভেন্দু দাসের সঙ্গে অভিনয় করে আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছে। আমি গর্বিত শুভেন্দুর সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি বলে। সবাইকে বলবো আপনারা অবশ্যই ছবিটা দেখবেন। অনেক কিছু শিখতে পারবেন।ছবি ঃ প্রকাশ পাইন

আগস্ট ২৬, ২০২১
নিবন্ধ

End of Game: খেলা শেষ

এমনি বরষা ছিল সেদিন----গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে ধারা স্নান করছে তৃণা। যেন নিজেকে ধুয়ে নিতে চাইছে।পাশের ঘরে অভি মানে অভিজ্ঞান শিকদার বিখ্যাত একটা cosmetic কোম্পানির একজন কর্তা ব্যক্তি , ঘুমোচ্ছে ; হয়তো চিরনিদ্রা।তৃণা ভাবছে কি হবে ? সে কি খুশি হলো?তবে একটা ব্যাপার সে আর কাউকে তারমতো বঞ্চিত হতে দেবে না।সে আজ অভিকে নিয়ে এসেছিল পুরনো দিনটা মনে করাবে এই বলে।একবছর আগে এখানেই এরকম দিনেই অভি শুরু করেছিল এই শরীরের খেলা। তৃণা তখন স্বপ্ন দেখছে সুপার মডেল হবার।সেই স্বপ্নকে সাকার করবে অভি এটাই ছিলো কথা। সেই থেকে বহুবার এখানে এসেছে ওরা।কিন্তু শেষ দুমাস কিছু একটা হচ্ছে ওর আড়ালে সেটা বুঝতে পারছিল তৃণা। গতসপ্তাহে পুরো ঘটনাটা পরিষ্কার হলো যখন তার জায়গায় নতুন একটা মুখ বিশেষ বিজ্ঞাপন টায় দেখ্তে পেল।শোনা কথা গুলো সত্যি সেটা বুঝল তৃণা।তারপর আজ এই দুর গ্রামে তাদের বেড়াতে আসা।এই গ্রামে বর্ষায় সাপের উত্পাত খুব।অভিকে আবার সাপে কামড়ায়নি তো??সবই সম্ভব এই গ্রামে, এই বর্ষায়।লেখিকাঃ রাখি রায়

আগস্ট ২২, ২০২১
নিবন্ধ

Blood Relation: রক্তের টান - অন্তিম পর্ব

আমরা তখন ইউনিভার্সিটির ছাত্র। মাষ্টার্স করছি। আমি আর দীপ্ত স্কুল থেকে একসাথে পড়ি। কলেজ আর ইউনিভার্সিটিতে ও এক সাথেই থাকি। দীপ্ত খুব ভালো গান করে বরাবর। ইউনিভার্সিটির একটা কম্পিটিশনে যুগ্ম প্রথম হয় ফিজিক্সের দীপ্ত সেন আর ইংরাজীর মধুছন্দা ব্যানার্জী।তারপর ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিনত হয়।মধুর বাড়ি শিলিগুড়ি। ওর বাবা ওখানকার সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার উপর ওরা ব্রাহ্মণ। ওদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা বন্ধুরা খুব চিন্তিত ছিলাম। মধু বড়লোকের মেয়ে ওর কাছে এটা ছেলে খেলা এরকম অনেক কিছু আমরা ভাবতাম। মাস্টার্স কমপ্লিট করে দীপ্ত পিএইচডি করার প্রস্তুতি নিতে থাকে। মধুও মাস্টার্স শেষ করে শিলিগুড়ি গিয়ে একটি স্কুলে চাকরি পায়। এরমধ্যে দীপ্ত পিএইচডিতে যোগ দেয়। কিন্তু মধুর বাবা ওর বিয়ে ঠিক করেন। তখনই সমস্যা শুরু হয়। মধু ওর মা, বাবাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ওর মা বুঝলেও বাবা বোঝে না।অগত্যা মধু পালিয়ে চলে আসে দীপ্তর কাছে। আমরা বন্ধুরা তখন বুঝতে পারি মধুর ভালোবাসা কত গভীর। ওরা বিয়ে করে। তখন দীপ্ত কয়েকটি টিউশন পড়ায় মাত্র, আর স্কলারশিপের কটা টাকা।আমার বাড়ি যেহেতু এখানে আর আমার বাবারও কিছু নামডাক ছিল তাই বাবাকে বলে একটা স্কুলে মধুর একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিই।বেশ আনন্দের মধ্যে দিয়ে কাটতে থাকে ওদের জীবন। স্বাচ্ছন্দ্য স্বচ্ছলতা না থাকলেও আনন্দ ছিল।অনিমেষবাবুর সাথে কথা বলার পর মেহুলের মনের মধ্যে তোলপাড় চলে। কি করবে ও এখন? কিভাবে দুটো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মানুষকে সামনাসামনি আনবে? যখন আবার একটা মানুষ অসুস্থ। বলা যায় এটা ওই মানুষটার শেষ ইচ্ছা। এইসব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরে।ওকে দেখে মাধুরীদেবী মানে ওর দিয়া বলে ওঠে কি ব্যাপার দিদি ভাই আজ এত দেরি কেন? কোথায় গিয়েছিলে? তোমাকে এত গম্ভীর দেখাচ্ছে কেন?বলছি সব বলছি। আগে ফ্রেশ হয়ে আসি। তোমার সঙ্গে আজ অনেক কথা আছে। আলোচনাও আছে অনেক। বলে মেহুল বাথরুমে ঢুকে পড়ে।মাধুরীদেবী ভাবেন কি বলবে মেহুল!একটু পরেই মেহুল বেরিয়ে এসে মাধুরী দেবীকে নিয়ে নিজের ঘরে এসে বসে।শোনো দিয়া আজ আমি যা যা জানতে চাইব সব আমাকে বলবে। কোনও কিছু আমার কাছে লুকিয়ে রাখবে না। অনেক দেরি হলেও একটা চেষ্টা আমাকে করতেই হবে।কি বলছিস আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।বুঝতে পারবে বললে বুঝতে পারবে।সেদিন আমি যখন তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম সৌরীশ সেন নামে কাউকে চেনো কিনা? তুমি চমকে উঠেছিলে আমি সেটা লক্ষ্য করেছি। তার মানে তুমি চেনো।হ্যাঁ না মানে হ্যাঁ চিনি।এবার আমি যা বলছি দেখো সব ঠিক বলছি কিনা?অবাক চোখে তাকায় মাধুরীদেবী মেহুলের দিকে।মেহুল একে একে সব বলে যা শুনেছে অনিমেষ বাবুরকাছে। এবার বলো মা কে কি তোমরা আবার বিয়ে দিতে পেরেছিলে?না না কোলকাতা থেকে ফিরে গিয়ে তোর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন আমাদের ফ্যামিলি ডাক্তার তোর আসার খবর শোনায়। এও বলেন যে তোর মাকে খুব সাবধান থাকতে হবে। শরীরের অবস্থা খুব খারাপ কোনওরকম উত্তেজনা চলবে না। তাই আমরা আর তোর বাবাকে খবর দিতে পারিনি। আর তোর দারুণ চায়নি মাও না। মাধুরীদেবী বলেন আমি জানতাম কোথাও একটা মস্ত ভুল হচ্ছে। বারবার বলেছিলাম মেয়েটাকে দীপ্তকে একবার বলার সূযোগ দিতে।না মেয়ে শুনলে না মেয়ের বাবা। এখন আমি কি করি?? বলে কপাল চাপড়াতে লাগলেন। মাঝখানে তুই কত কষ্ট ভোগ করলি। পারবে ওরা এখন তোকে সেসব ফিরিয়ে দিতে?সেসব এখন ছাড়ো। এখন যেটা করতে হবে মা কে আনতে হবে কলকাতায়। একমাত্র আমার শরীর খারাপ শুনলেই আসবে।তুমি ফোন করে বলো আমার খুব জ্বর। কিছুতেই জ্বর ছাড়ছে না।সেরকমই করলেন মাধুরীদেবী। মধুছন্দাকে ফোন করে বলেন মেহুলের খুব জ্বর।সেকথা শুনে পরদিনই ফ্লাইট ধরে মধুছন্দা চলে আসে। মেহুল একটু নাটক করে শরীর খারাপের।বিকেলে প্ল্যান অনুযায়ী অনিমেষবাবু মেহুলকে দেখতে আসে।অনিমেষ বাবুকে দেখে মধুছন্দা একটু ঘাবড়ে যায়। মেহুল পরিচয় করাতে গেলে অনিমেষ বলেন ওনারা পূ্র্ব পরিচিত। মধুছন্দা এড়িয়ে যেতে চান কিন্তু অনিমেষ বাবু চেপে ধরেন। এবং বলেন সৌরীশ অর্থাৎ দীপ্ত খুব অসুস্থ। প্রথমে শুনতে চায় না তখন মেহুল জোর করে।বলে মা ভুল বুঝে আর কত কষ্ট দেবে মানুষটাকে আর তুমি আমি সবাই কেন আর কষ্ট পাব। একবার বলার সূযোগ তো দিতে হবে।মধুছন্দা বলে তুমি ছোটো যা জানো না তা নিয়ে বড়দের মাঝে কথা বলো না।মেহুল কিন্তু থামে না বলে আর আমি ছোট নেই। আর আমি এখন পুরোটাই জানি। আমার মনে হয় তোমারও জানা উচিত। যে মানুষটা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে সে কখনও মিথ্যা বলবে না।মধুছন্দা বলে মানে? কে জীবনের শেষ পর্যায়ে?অনিমেষ বাবু বলেন দীপ্ত; ওর ব্রেইনে একটা টিউমার হয়েছে অপারেশন করতে হবে। তাতে ও নাও বাঁচতে পারে। তাই আমাদের সবার অনুরোধ তুমি একবার সত্যিটা শোনো।তারপর সব শোনে মধুছন্দা।মেহুল বলে আমি তো স্যারের ঘরে তোমার অতো বড় একটা ছবি দেখে অবাক হয়ে গেছিলাম। তারপর আঙ্কেল আমাকে সব বলেন।মধুছন্দা অঝোরে কাঁদতে থাকে। বলে সে কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে?অনিমেষ বলেন সব হবে তুমি চলো আমাদের সাথে।সবাই মিলে চলে সৌরীশ সেনের বাড়িতে। অনিমেষ বাবু মল্লিকাকেও ডেকে নেন।অনিমেষ বাবুর সাথে মধুছন্দাকে দেখে অবাক হয়ে যান সৌরীশ।মধু মেহুলকে এগিয়ে দিল ; তোমার মেয়ে, আমি এতদিন আগলে রেখে ছিলাম এবার তুমি সামলে রাখবে। তাড়াতাড়ি তোমাকে সুস্থ হতে হবে। বলে মধুছন্দা কাঁদতে থাকে। মল্লিকা এর মধ্যে খাবার দাবার নিয়ে হাজির। মধুছন্দা মল্লিকার কাছেও ক্ষমা চায়।মল্লিকা বলে, না বৌদি আমার কাছে নয় তুমি দাদার কাছে ক্ষমা চেয়েছ ওতেই হবে। দুঃখ শুধু একটাই ভুল বুঝে তুমি মেয়েটাকে বাবার থেকে দূরে রাখলে। যাক পুরনো সব ভুলে আবার নতুন করে শুরু করো। দাদা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক আর আমার কিছু চাই না।অপরাধ বোধে ভুগতাম তোমাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জন্য নিজেকে দায়ী মনে হত। আজ এতদিন পরে আবার সব ঠিক হল। এবার সবাই একটু মিষ্টি মুখ করো। মল্লিকা প্লেটের মধ্যে মিষ্টি নিয়ে সবাইকে দেয়।মেহুল গিয়ে বাবার পাশে বসে। সৌরীশবাবু ওকে বুকের মধ্যে টেনে নেন।অনিমেষ বাবু বলেন, দীপ্ত একেই বলে রক্তের টান।-সমাপ্ত- লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রক্তের টান - দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রক্তের টান - তৃতীয় পর্ব

আগস্ট ১৫, ২০২১
নিবন্ধ

Blood Relation: রক্তের টান - তৃতীয় পর্ব

হ্যালো, আঙ্কেল আমি মেহুল বলছি। ...... হ্যাঁ, ঠিক চিনেছেন। ........ হ্যাঁ আমি যাই তো। আপনার সঙ্গে দেখা হয়নি। আমি তো কলেজ থেকে যাই। .........বলছিলাম আপনার সাথে খুব জরুরি একটা দরকার আছে। একদিন দেখা করতে চাই। ......... আপনার সুবিধা মত বলুন আমি ঠিক হাজির হয়ে যাব। ......... ঠিক আছে আঙ্কেল তাহলে কাল দেখা হচ্ছে। এখন রাখি। এই বলে মেহুল ফোন রেখে দিলে। পরের দিন ঠিক সময়ে অনিমেষ বাবু আর মেহুল হাজির নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায়। বসো, কি খাবে বলো? কিছু না। একটু কফি। আচ্ছা তাহলে কোল্ড কফি হয়ে যাক। বললেন অনিমেষ বাবুতাই হোক। দুটো কোল্ড কফি অর্ডার দিয়ে জমিয়ে বসলেন। বলো তো মা কি দরকার এই বুড়োটাকে? ঠিক বুঝতে পারছি না কিভাবে কথাটা বলবো? কোনো দ্বিধা না করে বলো। আমার মনেও একটা কৌতূহল জেগেছে তোমার কৌতূহলের সাথে মিলে যেতেও পারে। তাই বলছি বলে ফেলো, কোনও সংকোচ করো না। স্যারের বাড়িতে যাওয়ার পর থেকেই এই প্রশ্নগুলো জেগেছে। কিন্তু স্যারকে জিজ্ঞাসা করতে পারছি না। আর যাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি সে তো কাছে থাকে না, তাই ভাবলাম আপনি তো স্যারের খুব কাছের বন্ধু তাই ভাবলাম আপনার কাছেই জানতে পারব। বেশ বেশ বলো না কি জানতে চাও। বলছি স্যারের তো নিজের বলতে কেউ নেই শুনছি, তবে ওনার ঘরে ওই ছবিটি কার? আপনি কি চেনেন ছবির ওই ভদ্র মহিলা কে? অনিমেষ বাবু মেহুলের প্রশ্নে একটু যেন চমকে গেলেন; সাথে সাথে নিজেকে ঠিক করে নিয়ে বলেন আমার মনে যে কথাটি এসেছে তার সাথে তোমার প্রশ্ন রিলেটেড। মেহুল এবার চমকে যায়, মানে? আমার প্রশ্ন হলো তুমি কে? কি তোমার পরিচয়? আর তোমার এই কৌতূহল কেন? তুমি কি চেন? কাকে চেনার কথা বলছেন? ছবির সঙ্গে তোমার মিল আমি সেদিনই খেয়াল করেছি যেদিন হাসপাতালে তোমাকে দেখি। বলতে পারো চমকে গেছিলাম তোমাকে দেখে। তারপর ভাবলাম মানুষে মানুষে তো মিল হয়। তাই চুপ করে ছিলাম। আজ তোমার কথায় আবার সেটা ফিরে এল। বলো চেনো ছবির ওই ভদ্রমহিলাকে? চুপ করে থেকো না বলো!! মেহুল বলে----- হ্যাঁ চিনি। কে হন উনি? আ আ-- মার মা----ঠিক আন্দাজ করেছিলাম আমি। বলেন অনিমেষ বাবু। আপনি আমার মাকে চেনেন? হ্যাঁ খুব চিনি। তা তিনি এখন কোথায়? শিলিগুড়িতে? নাকি অন্য কোথাও? মা সাউথের একটা স্কুলে পড়ায়। আমি দাদু দিদার কাছে বড়ো হয়েছি। মা ছুটিতে আমাদের কাছে আসে। অনিমেষ বাবু এবার জিজ্ঞাসা করেন তোমার বাবা? মেহুলের মুখটা কালো হয়ে যায়। বলতে থাকে, আমি জানি না কে আমার বাবা। কারণ সব জায়গায় মায়ের নাম দেওয়া আছে। যেখানে বাবার নাম দরকার হয়েছে শুধু লেখা আছে ডি. সেন। এর বেশি আমি কিছু জানি না। খুব ছোট বেলায় একবার মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বাবার কথা। মা খুব কেঁদে ছিল আর বলেছিলেন বাবা হারিয়ে গেছে। তারপর থেকে কোনও দিন কাউকে আর জিজ্ঞাসা করতে পারিনি। স্যারের ঘরে মায়ের ছবি দেখে মনের কোণে তাই এত প্রশ্ন।এখানে কোথায় থাক? কার কাছে?আমি আর আমার দিদা ইউনিভার্সিটির কাছে একটা ভাড়া বাড়িতে থাকি।এবার আঙ্কেল আপনি বলুন আমার মায়ের ছবি স্যারের ঘরে কেন?সেটা জানতে গেলে তোমাকে একটা গল্প শুনতে হবে। অত সময় আছে তো তোমার কাছে?হ্যাঁ আমার কাছে সময় আছে। শুধু একবার বলে দিই দেরি হবে ফিরতে।বলে মেহুল ওর দিকে ফোন করে বলে দেয়। এবার আপনার গল্প শুরু করে দিন।অনিমেষ বাবু বলেন এবার কিছু অর্ডার না করলে এরা তুলে দেবে। তাছাড়া খিদেও পেয়েছে কি বলো?মেহুল ওনার কথা শুনে হেসে ফেলে। বলে তাহলে এদের চিকেন কাটলেটটা খুব ভালো। বলে ও ওয়েটারকে ডেকে দুটি কাটলেট অর্ডার দেয়।এবার আপনার গল্প শুরু করুন আঙ্কেল।গল্প শুরু করেন অনিমেষ বাবু ...............ক্রমশঃলেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রক্তের টান - দ্বিতীয় পর্ব

আগস্ট ০৮, ২০২১
নিবন্ধ

Blood Relation: রক্তের টান - দ্বিতীয় পর্ব

কিরে দিদিভাই কি ভাবছিস? কদিন ধরে দেখছি তুই কেমন অন্যমনস্ক! কি হয়েছে? তোদের গ্রূপের বন্ধুদের সঙ্গে কিছু হয়েছে?কিরে উত্তর দিচ্ছিস না কেন?হুঁ?কি হ্যাঁ হ্যুঁ করছিস?ও হ্যাঁ, বলো কি বলছো?আমি যে এতক্ষণ বকে যাচ্ছি তোর কানে কিছুই ঢোকেনি!?না মানে খেয়াল করিনি; বলো।বলছি তোর কি হয়েছে? কেমন চুপচাপ হয়ে গেছিস! আমার দিদিভাই তো এত চুপচাপ থাকার মেয়ে নয়।না গো তেমন কিছু হয়নি। একটা প্রশ্ন খুব ঘুরপাক খাচ্ছে মাথার মধ্যে।কি প্রশ্ন? আমাকে বলা যাবে?আচ্ছা দিয়া তুমি সৌরীশ সেন নামে কাউকে চেনো?কী!! সৌ-- রীশ সেন? সে --সে আবার কে? আমি চিনব কি করে?না না তুমি চেনো বলিনি। জিজ্ঞাসা করছি চেনো কিনা?না না আমি ঐ নামে কাউকে চিনি না। একটু যেন উত্তেজিত হয়ে পড়লেন মাধুরীদেবী।আরে বাবা ওরকম করছো কেন! উনিইতো স্যার যাকে হসপিটালে ভর্তি করেছিলাম।তাকে আমি চিনব কি করে?না মানে মা ও তো এখানেই পড়ে ছিল। ওনার বয়স মায়ের কাছাকাছি হবে আর উনি ওখানেই পড়ে ছিলেন। তাই জিজ্ঞাসা করলাম।না না আমি চিনব কেমন করে?মেহুল বুঝতে পারলো মাধুরীদেবী র কাছে কোনও সদুত্তর পাওয়া যাবে না। উঠে পড়ল খাবার টেবিল থেকে।মনে আবার একটা খটকা -------- দিয়া এতটা রিয়্যাক্ট করলো কেন?নামটা শুনে যেন একটু চমকেই উঠলো মনে হলো। কিন্তু কেন?মেহুল কলেজে চলে গেল। মাধুরীদেবী মনে মনে মেহুলের বলা কথা গুলো ভাবতে লাগলেন। আরও ভাবলেন মধু এসব শুনলে মেয়েটার পড়া বন্ধ করে নিয়ে না চলে যায় এখান থেকে। ভাবলেন মেহুল যদি ওর মাকে এই কথাগুলো বলে তাহলে আর রক্ষা থাকবে না। মনে মনে বললেন ----- কি যে করি? আমার হয়েছে যত জ্বালা। সারা জীবন বাপ বেটি জ্বালালো এখন নাতনীও সামিল হয়েছে।এদিকে মেহুল কলেজে দুটি ক্লাস করার পর আর ভালো লাগলো না ও রিমা আর সৈকতকে বললো যাবি স্যারকে দেখতে?ওরা ক্লাস আছে বলে গেল না।কিন্তু মেহুল কলেজে আর থাকতে পারল না।রোজ একবার এস. এস. এর বাড়ি না গেলে ওর মন ভালো লাগে না। অদ্ভুত একটা টান অনুভব করে ও। মনে যে ফাঁকা জায়গাটা আছে, যে কষ্টটা আছে সেটা ভুলে যায় ওনার কাছে গেলে।ওদিকে সৌরীশবাবুও অধীর হয়ে মেহুলের পথ চেয়ে থাকেন। ওনার মধ্যে যেন পিতৃ সত্ত্বা জাগৃত হয়েছে মেহুল কে পেয়ে।এইভাবে বেশ কিছু দিন কাটল। কিন্তু মেহুল ওর প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার পথ বের করতে পারছে না। ওর শেষ পর্যন্ত মনে এল অনিমেষ বাবুর কথা।ক্রমশঃলেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্ব

আগস্ট ০১, ২০২১
নিবন্ধ

Blood Relation: রক্তের টান - প্রথম পর্ব

হ্যালো, হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে। আজ স্যার কে ছেড়ে দেবে। আমি কালকেই হসপিটালে সব কাগজ পত্র রেডি করে রাখতে বলেছি, যাতে বেশি দেরি না হয়।হ্যাঁ রে বাবা বাড়িতে খবর দেওয়া আছে। বাড়িতে তো আছে শুধু সবসময়ের কাজের লোক বিশু দা! ওনার বাড়িতে খবর দিতে গিয়ে পাড়ার চায়ের দোকানে শুনলাম একা মানুষ, বিশুদা থাকে সঙ্গে।ঠিক আছে আমি আধাঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাব। রাখছি।বলে ফোন কেটে রেডি হতে লাগল মেহুল।মেহুল সেন, যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে মাসকম্যুনিকেশন নিয়ে পড়ে। তার সাথে সমাজসেবা করে ওর কয়েকজন বন্ধু মিলে।মেহুলকে রেডি হতে দেখে ওর দিদা বলে উঠল আজ আবার হসপিটাল যাবি এখন? কখন ফিরবি? দিন দিন বাউন্ডুলে হয়ে যাচ্ছিস।ডার্লিং মানুষের সেবা করতে চাইছি আর তুমি বলছো বাউন্ডুলে!!তোমার তো জানা আছে আমাদের যে স্যারকে রাস্তায় অসুস্থ হতে দেখে হসপিটালে ভর্তি করেছিলাম ওনার কেউ নেই। একা থাকেন। খুব ভালো মানুষ। আজ ওনাকে ডিসচার্জ করে দেবে। তাই ওনাকে বাড়ি দিয়ে আসতে যাচ্ছি।ঠিক আছে সময় মতো বাড়ি ফিরে এসো। তোমার মা ফোন করলে কৈফিয়ত দিতে পারব না।কুল ডার্লিং; ম্যায় হু না। তোমাকে কিছু বলতে হবে না। যা বলার আমি বলব।ঠিক আছে; খেয়ে যেও। বলে মেহুলের দিদা মাধুরী দেবী ওর ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।কিছুক্ষণের মধ্যেই মেহুল বেরিয়ে পড়ল। হসপিটালে গিয়ে দেখল ওরা যেমন এসব কাজে যুক্ত তাদের দুতিন জন হাজির আর স্যার মানে প্রফেসর সৌরীশ সেনের বন্ধু অনিমেষ রায় দাঁড়িয়ে। এ কদিন উনিই রোজ এসেছেন। স্যার নিষেধ করায় আর কাউকে মানে ডিপার্টমেন্টে খবর দেওয়া হয়নি।হসপিটালে সব মিটিয়ে একটা ক্যাব ভাড়া করে অনিমেষবাবু আর মেহুল সৌরীশ বাবুকে নিয়ে রওনা দিলেন। বাকিরা নিজের কাজে গেল।গাড়ি চলতে লাগলো। অনিমেষ বাবু বললেন এই কদিন এই বাচ্চা ছেলে-মেয়েগুলো যা করল ভাবা যায় না। কে বলে এখনকার ছেলে মেয়েরা স্বার্থপর?ওরা সব বিষয়ে কি ভীষন দক্ষ। সেদিন তো এই মেহুল না থাকলে তোকে বাঁচাতে পারা যেত না। এটি আমি বলছি না ডাক্তারবাবু বলেছেন।সৌরীশবাবু ক্লান্ত শরীর গাড়ির ব্যাক সিটে এলিয়ে দিয়ে বসেছেন। এতক্ষণ বন্ধুর কথা শুনছিলেন।উনি ক্লান্ত গলায় বললেন এখনকার ছেলেমেয়েদের ভালো না যারা বলে খুব ভুল বলে।এবার মেহুলকে বলেন তুমি এবং তোমার বন্ধুরা নিশ্চয়ই পড়াশোনা করো?হ্যাঁ স্যার যাদবপুরেই পড়ি। অন্য ডিপার্টমেন্ট। আপনার পরিচয় জানি আপনার গান শুনে। আপনার গান খুব ভালো লাগে আমার।তুমি ও কি গান করো?হ্যাঁ, মায়ের কাছে শিখেছি।কথাবার্তা বলতে বলতে সৌরীশবাবুর বাড়ি এসে পড়ে।মেহুল আর অনিমেষবাবু দুজনে মিলে একদম ওনার শোওয়ার ঘরে নিয়ে যায় সৌরীশবাবুকে।ওনাকে বিছানায় বসিয়ে সোজা দাঁড়াতেই মেহুলের চোখ চলে যায় দেয়ালে টাঙানো একটা ছবির দিকে।কি হলো মা বসো।হুঁ - হ্যাঁ বসছি। আপনি চুপ করে শুয়ে বিশ্রাম নিন। অনেকটা পথ এসেছেন।আমি বিশুদাকে সব বুঝিয়ে দিই, আপনিও একটু ওষুধ গুলো দেখে নিন।তুমি বিশুকে চিনলে কি করে?আপনাকে হসপিটালে ভর্তি করার পর আপনার ব্যাগে রাখা ছোট ডায়েরিটা থেকে আপনার ঠিকানা নিয়ে খবর দিতে এসে বিশুদার সঙ্গে পরিচয় হয়।স্যরি স্যার আপনার ব্যাগে হাত দেওয়ার জন্য।না না স্যরি হওয়ার কি আছে। এছাড়া কি-ই বা করার ছিল।ঠিক আছে স্যার আপনি দেখুন আর বিশুদা তুমিও দেখে নাও- মেহুল কথা বলছে ঠিকই কিন্তু চোখ বারবার চলে যাচ্ছে ছবিটার দিকে;সেটা খেয়াল করলেন অনিমেষবাবু। উনি নিজেও কম অবাক হননি মেহুলকে দেখার পর। তবুও ভেবেছেন মানুষে মানুষে মিল তো থাকে। তবুও মনের কোনে একটা প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছে।মেহুল সব বুঝিয়ে দিয়ে আবার আসার কথা দিয়ে বেরিয়ে পড়ে সৌরীশবাবুর বাড়ি থেকে।ভদ্রলোকের জন্য খুবই মায়া হচ্ছে, অসুস্থ মানুষ, একা, দেখাশোনা করার এক ঐ কাজের লোক ছাড়া কেউ নেই। এইসব সাত পাঁচ ভাবছে আর মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছে ছবিটা।বারবার মনে হচ্ছে কোথায় পেলেন ঐ ছবি উনি!!এমন সময় ফোন বেজে উঠলোহ্যাঁ ডার্লিং আসছি একঘন্টার মধ্যে, বলে ফোনটা কেটে একটা ট্যাক্সি ধরলো।ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়

জুলাই ২৫, ২০২১
নিবন্ধ

Forgive Me: রূপু আমাকে ক্ষমা করিস

পলা না! এই নামটা হটাত শুনে পৌলমী বিস্ময়ের সঙ্গে পিছন ফিরে তাকাতেই সম্বোধনকারী বলে উঠলোকি রে চিনতে পারছিস না? না কি চিনতে চাইছিস না? আমি রে রূপসা।উফ্ফ কতদিন পরে তোকে দেখলাম। কোথায় থাকিস এখন? তুই আগের থেকেও সুন্দর হয়েছিস। এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে থামল রূপসা।পৌলমী অবাকই হয়েছে রূপসাকে দেখে কারণ সত্যিই ও চিনতে পারেনি। কি হয়ে গেছে রূপসা। একটু অস্বস্তি বোধ করলো পৌলমী।তাছাড়া ওর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছাও খুবএকটা নেই, তাই ওকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বলল অফিসের কাজে এসেছি কিছুদিনের জন্য।চল না দুজনে একটু বসি আগের জায়গাটায়। অনেক কথা আছে তোর সঙ্গে।না রে এখন একটা মিটিং আছে আমাকে যেতে হবে।পরে শুনব বলে চলে যাচ্ছিল পৌলমী। রূপসা হাতটা ধরে আটকে বলল তাহলে তোর ঠিকানা টা দে যাব একদিন তোর কাছে। পৌলমী চারিদিকে তাকিয়ে দেখে দু এক জন অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে আছে।রূপসার হাতটা যেন অদ্ভুত শীতল।পৌলমী একটা কার্ড বের করে দিয়ে বলল ফোন করে আসিস। বলে চলে গেল।তারপর একটা ক্যাব বুক করে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য।মনটা যেন কেমন একটা বিষণ্ণতায় ভরে গেল।কাকতালীয় ভাবে ক্যাবএর চালক ছেলেটি -- হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে সকাল বিকালবেলা--- গান টা চালিয়েছে।চোখের সামনে কলেজের দিনগুলো ভেসে উঠলো।পৌলমী আর রূপসা দুই অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। কলেজে সবাই ওদের মাণিকজোড় বলে। দুজনের মিল খুব , দুজনেই লেখাপড়া আর খেলাধুলায় দুটোতেই ভালো। কিন্তু কোনো হিংসা ছিলনা দুজনের মধ্যে। শুধু অর্থনৈতিক ফারাক ছিল, পৌলমী ছিল শহরের এক নাম করা বনেদি বাড়ির মেয়ে আর রূপসা ছিল মফস্বলের মধ্যবিত্ত ঘরের । কিন্তু এটা ওদের বন্ধুত্বএর বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি।বেশ কাটছিল ওদের পড়াশুনা আর খেলা ধুলা নিয়ে।কিন্তু ওদের মাঝে কোথা থেকে চলে এলো স্যান্ডি ( সন্দীপ সামন্ত) । ফাইনাল ইয়ারের শুরুতেই পৌলমীর সঙ্গে পরিচয় হয় ছেলেটার।এই সম্পর্ক যেন দুই বন্ধুর সম্পর্কের বাঁধন টা আলগা করে দেয়।রূপসা বারবার বারণ করে পৌলমীকে ছেলেটার সঙ্গে মিশতে কিন্তু পৌলমী শোনেনা।পৌলমীর বাড়ি খুব রক্ষণশীল ।রূপসা বোঝায় পৌলমী কে যাতে ও এই সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু পৌলমী বোঝে না।রূপসা এও বলে ওর বাড়িতে জানতে পারলে ওর সব বন্ধ হয়ে যাবে।পৌলমী রূপসাকে এড়িয়ে চলতে থাকে।এর মধ্যে ওদের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়।ঠিক শেষ পরিক্ষার আগের দিন একটা বেনামী চিঠি পৌলমীর বাবার হাতে এলো যাতে পৌলমীর সঙ্গে স্যান্ডির সম্পর্কের কথা লেখা আছে। পৌলমী বুঝল এটা রূপসার কাজ। কারণ ও ছাড়া আর কেউ জানত না।ভীষণ অভিমানে রূপসার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলো পলা। কিন্তু মনে একটা প্রশ্ন থেকেই গেলো কেনো করলো রূপসা এটা?আজ থেকে দশ বছর আগের ঘটনা এসব।দশ বছর পর আবার দেখা। কি বলতে চায় ও? এসব ভাবছিল ড্রাইভার ছেলেটির ডাকে সম্বিত ফিরল পৌলমীর।নেমে ভাড়া মিটিয়ে এপার্টমেন্ট এ ঢুকল। এটাই ওর বর্তমান ঠিকানা। ফ্ল্যাট এ ঢুকে শপিং করা জিনিস গুলো রেখে স্নান করে সামান্য কিছু খেয়ে শুয়ে পরলো।আজ খুব ক্লান্ত লাগছে মনটাও ভালো নেই। ঘুম ভাঙলো কলিং বেলের আওয়াজে।ক্যুরিয়ার এসেছে। খুলে দেখে একটা চিঠি, রূপসার।প্রিয় পলাজানি আমার উপর তর খুব রাগ, অনেক অভিমান। তাই আমার সঙ্গে কথা বললি না।কিন্তু তোর মনে যে প্রশ্নটা আজও তোকে কষ্ট দেয় তর উত্তর তো আমার কাছেই আছে। সেদিন আমার কোনো উপায় ছিলনা ও ছাড়া।তোকে বহুবার নানা ভাবে বারণ করা সত্বও তুই কিছুতেই আমার কথা শুনলি না।স্যান্ডিকে আমি অনেকদিন ধরে চিনি। ও আমাদের এলাকার কুখ্যাত নেতার ছেলে। ওর দৌরাত্বে এলাকার মেয়ের অত্তিস্ট হয়ে গেছিল। কিন্তু বাবা রাজনৈতিক নেতা বলে কেউ কিছু করতে পারত না। কিন্তু একটা ঘটনার পরে ওর নামে অনেক অভিযোগ জমা পড়ায় ওকে শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওর যে ভালো মানুষের রূপটা দেখেছিলি ওটা ভেক । মেয়ে পোটানোর মুখোশ। ঐ ভাবে ও অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে।যেদিন তুই আমাকে ওর ছবি দেখালি সেদিন থেকেই তোকে সাবধান করেছি। তুই শুনলি না। অমর সঙ্গে কথা বলাও প্রায় বন্ধ করে দিলি। কিন্তু যেদিন ও আমাকে তোর সঙ্গে দেখল বুঝে গেল যে আমি বাঁধা দেবো। ব্যাস ও অমনি প্ল্যান করে ফেলল তোর সর্বনাশ করার। ওর দুর্ভাগ্য বশত আমি জেনে ফেলি।তখন আর সময় ছিলোনা তোকে বোঝানোর। আমার হাতে তো কোনো প্রমান ছিলোনা। তাই কাকুকেই চিঠি লিখলাম।যেদিন থেকে তোর বাড়ির লোক তোকে পাহারা দিতে লাগল ও বুঝল এটা আমার কাজ। শুরু হলো অমানসিক অত্যাচার। শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চলতো। মুখ বুজে সব সহ্য করছিলাম। কিন্তু কতদিন? আর না পেরে নিজেকে শেষ করে দিলাম একদিন।কিন্তু তোর কষ্ট আমাকে কষ্ট দিত। সত্যি টা যে তোকে বলা হয়নি।সেদিন যদি আমি তোর বাড়িতে না জানাতাম তাহলে পরীক্ষার শেষতারপর কি হলো জানিস? আমি পরীক্ষার পর বাড়ি গেলাম। একদিন ওর বাবা এলাকার কুখ্যাত নেতা আমার বাবার কাছে এলো বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। হ্যাঁ আমার সঙ্গে স্যান্ডির । ঠিক প্রস্তাব নয় হুমকি বলতে পারিস। নাহলে বাবার দোকানটা বন্ধ করে দেবে। সবার কথা ভেবে আমি রাজী হয়ে গেলাম।বিয়ে হয়ে গেল। কোনোরকম অনুষ্ঠান ছাড়া।ফুলশয্যার রাতে বুঝলাম আমার শাস্তি বিয়েটা। তোকে সাবধান করার শাস্তি।শুরু হলো অকথ্য অত্যাচার। মানসিক আর শারীরিক ।মুখ বুজে সব সহ্য করতে লাগলাম বাবা ,মা,ভাইয়ের কথা ভেবে। কিন্তু কতদিন সহ্য করবো বল? তাই একদিন নিজেকে শেষ করে ফেললাম।কিন্তু তোকে যে সত্যি টা বলা হয়নি।সেদিন তোর বাড়িতে না জানালে তোর চরম সর্বনাশ হয়ে যেত। যেদিন আমাকে তোর সঙ্গে দেখে স্যান্ডি সেদিন ও প্ল্যান করে লাস্ট এক্সামের দিন তোকে ওদের বাগান বাড়িতে নিয়ে যাবে।আমি আর ঠিক থাকতে পারলাম না ।তোর বাড়িতে চিঠিটা লিখ্লাম। কারণ তোকে বোঝানো যাবে না। এবার তোর উত্তর পেলি তো? এবার নিশ্চিন্তে ভালবাসা দিয়ে নীড় টা গড়ে তোল। তোর কোনো ভয় নেই। তাকেও আমি শেষ করে দিয়েছি।তুই ভালো থাক। এবার আমার মুক্তি-রূপসাপড়তে পড়তে চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো পৌলমীর। শেষ টুকু আবার পড়বে বলে চোখটা মুছে দেখে সব সাদা। কিছু লেখা নেই। পৌলমী হাহাকার করে ওঠে। বলে রূপু আমাকে ক্ষমা করিস।লেখিকাঃ রাখি রায়

জুলাই ১৮, ২০২১
নিবন্ধ

Mother's Day: মাতৃ দিবস ও রবীন্দ্রনাথ

ছেলেটা বাড়ি নেই একবছরের বেশি হয়ে গেছে, কবে ফিরবে কি জানি! মা-কে ফোন করার সময় হয় না। হলেও একটু কথা বলেই ছেড়ে দেয়। বৌকে নিশ্চয়ই সব বলে। আর মেয়েটাও হয়েছে সেরকম, বাপের বাড়ি আসতেই চায় না। এইসব বসে বসে ভাবছিলেন মাধুরী। আর আমার বৌমাকে দেখ প্রত্যেক সপ্তাহে মা বাবার কাছে যাওয়া চাই। বিয়েটা ছেলে নিজের পছন্দ মত করেছে। কিন্তু ছেলে হাত ছাড়া হয়ে যাবে বলে বিয়েটা মেনে নিতে হয়েছে মাধুরীকে। কিন্তু বৌকে খুব একটা পছন্দ করেন না। মাঝে মাঝে ভাবেন কোথায় নিজের পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে দেব, ঘরকন্নার কাজ শেখাবেন নিজের হাতে তা নয় ; বাবু যে কি দেখে এই মেয়েকে বিয়ে করলো কি জানি বাপু? না আছে কোনো রূপ আর গুণ কি আছে কি জানি! এই সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে মেয়েকে ফোন করলেন----- হ্যালো, মান্তু?হ্যাঁ মা বলো কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো। আমি এখন খুব ব্যস্ত। আজ Mothers Day তাই তোমার নাতনী আমাকে নিয়ে কোথায় যেন যাবে। বলো তাড়াতাড়ি বলে ফেলো। ও তাহলে থাক পরে কথা বলবো। বলে মনটা খারাপ করে ফোনটা কেটে দিল। ভাবলেন হায়রে, আজ মাতৃ দিবস তাই তোর মেয়ে তোকে নিয়ে কোথাও যাবে আর আমি যে তোর মা সেটা ভুলে গেলি। এমন সময় ফোন বেজে উঠলহ্যালো মাধুরীদেবী বলছেন? হ্যাঁ, কে বলছেন? আপনার একটা parcel আছে। একটু দরজার সামনে আসবেন Please? ফোন রেখে মাধুরী ভাবতে লাগলেন কে আবার আমার জন্য কী পাঠালো! মনে হয় আমার বাবু সারপ্রাইজ গিফ্ট পাঠিয়েছে, নাহলে মান্তু মনে হয়। তাই আমার সঙ্গে এখন কথা বললো না। এই ভাবতে ভাবতে গেটের কাছে গিয়ে দেখেন একটি অল্প বয়সী ছেলে হাতে একটা ফুলের তোড়া আর একটা প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে। হ্যাপি মাদারস্ ডে মাসীমা বলে ছেলেটি এগিয়ে দিল জিনিসগুলো মাধুরীর দিকে। ছেলেটির থেকে হাসি মুখে জিনিসগুলে নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন। মনে কৌতূহল কে পাঠিয়েছে--- ছেলে না মেয়ে? ফুলের সঙ্গে একটা চিঠি, উপরে লেখা আগে প্যাকেট খোলো। মাধুরী আস্তে আস্তে প্যাকেট খুললেন। একটা পিওর সিল্ক, ওনার ভীষণ পছন্দের। সুন্দর একটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার বই। এবার চিঠি খুলে পড়তে লাগলেন--মা, জানি ভাবছো কে পাঠালো তোমাকে উপহার? ভেবেছিলে তো তোমার মেয়ে মান্তু কিংবা তোমার বাবু। আমার কথা তোমার মনে আসবে না আমি জানি। কারণ আমাকে তুমি আজও মেনে নিতে পারোনি। কিন্তু আমার কাছে তুমি আমারও মা। আজ মাতৃ দিবস। আজ তুমি মনখারাপ করে বসে থাকলে আমার যে ভালো লাগবে না মা। আমি বেরোবার সময় দেখলাম তোমার মনটা কোনও কারণে আজ ভালো নেই। মন খারাপ কেন মা গো? আমি আছি তোমার সাথে সবসময়। আমি জানি তোমার পছন্দ। দেখতো ঠিক জেনেছি কিনা? আর শোনো অনেক সবার জন্য ভেবেছো এবার শুধু নিজের জন্য ভাববে। আবার আবৃত্তি শুরু করতে হবে।শোনো বিকেলে এই শাড়িটা পড়ে তৈরি থেকো এক জায়গায় যাবো। এবার তো একটু হাসো আমার মিষ্টি মা। তোমার মেয়েপিয়াসীচিঠি পড়তে পড়তে চোখ জলে ভরে গেছে মাধুরীর। যার কথা কোনও দিন মনে ঠাঁই পায়নি আজ সে এতকিছুর কথা ভেবেছে তার জন্য অথচ নিজের পেটের সন্তানরা মায়ের কথা ভুলেই গেছে। মেয়েটা কথাই বললো না! আজ জীবনে প্রথমবার মাতৃ দিবসে কেউ এভাবে আমার কথা ভাবলো রে মা; আজ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে তুই আবার আমার প্রাণের ঠাকুরকে ফিরিয়ে দিলি। তুই তো আমার সত্যিকারের মেয়ে। আজ আমার মাতৃ দিবস আর রবীন্দ্র জয়ন্তী সার্থক করলি। ফোন করে পিয়াসীকে বললেন মাধুরী। পিয়াসীর চোখেও জল। আজ সে পেরেছে।

জুলাই ১১, ২০২১
নিবন্ধ

A New Beginning: নতুন প্রভাত

রাখী রায়আকাশের হাজার তারার মাঝে জানি না কোথায় তুমি মা?? আজ মা-কে খুব মনে পড়ছে, কথা বলতে ইচ্ছা করছে মায়ের সঙ্গে----তাই পায়ে পায়ে টেবিলে রাখা মায়ের ছবির সামনে এসে বসল সংকল্প---আচ্ছা মা আমার সঙ্গে কেন এমন হয় বলতে পারো? বাবার অবহেলা তোমাকে যখন একটু একটু করে হতাশার গিরিখাতে ঠেলে দিচ্ছিল তখন তো আমি কত ছোট ছিলাম, তবুও চেষ্টা করতাম তোমাকে ভালো রাখার। কিন্তু না আমি পারিনি তোমাকে রক্ষা করতে।। আমাকে এই বিশাল পৃথিবীর বুকে একা রেখে তুমি অজানার জগতে হারিয়ে গেলে। দাশুদা আর উমা পিসি না থাকলে আমার যে কি হত কে জানে! তুমি অ্যাসাইলাম থেকে আর ফিরে এলে না। এলে তো স্বর্গরথে চেপে। আমি সব ভুলে পড়াশোনায় ডুবে গেলাম। শপথ করলাম হতাশায় মানুষকে হারিয়ে যেতে দেব না। না বাবা আমার অর্থনৈতিক কষ্ট রাখেনি। কিন্তু পিতৃ স্নেহ কী জানতে পারিনি। আবার দেখো কলেজ জীবনের প্রথম প্রেম চেতনাকে হারালাম ওর বাবার অহংকার আর একগুঁয়েমির কাছে। সেদিন চেতনাও বিদেশে যাওয়ার লোভটা সামলাতে পারেনি। আমার ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে চলে গেল। আজ যখন আমি নিজেকে নিজের মত করে বুঝিয়ে কাজে ডুবতে চাইছি হঠাৎ আবার বিড়ম্বনা। কেন বলতে পারো বারবার আমার সঙ্গে এমন হয়? কেন রে কী হয়েছে সোনা? মা তুমি এসেছ?হ্যাঁ রে এসেছি আমি। এতদিন কেন আসোনি মা? তুইতো এমনি করে আমাকে ডাকিসনি বাবুকি হয়েছে তোর? এত অস্থির কেন তুই? আজ চেম্বারে বসে আছি, তখন আর পেশেন্ট নেই ----আচ্ছা মা তুমি জানো আমি কি কাজ করি? হ্যাঁ রে হ্যাঁ সব জানি। আমাকে ওইভাবে হারিয়ে তুই মানুষের মনের ক্ষতগুলো সাড়াবার শপথ নিয়েছিস। একদম ঠিক বলেছেন মা। মানুষের মনের চোরাকুঠুরিতে অনেক এমন কথা থাকে যা মানুষ কাউকে বলতেও পারে না আবার সহ্য করতেওপারে না, তখন হতাশা গ্রাস করে। আমার কাজ সেইসব না বলা কথা মনে গভীর থেকে টেনে বের করে নিয়ে আসা।একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষ যখন আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় তখন খুব ভালো লাগে মা।এভাবেই তুই এগিয়ে যা বাবা। মানুষের পাশে যেন থাকিস বাবা। এখন বল দেখি তোর কী হয়েছে?হ্যাঁ বলি--- আজ যখন প্রায় চেম্বার খালি আমি একটু রেস্ট করছি তখন হঠাৎ একজন তার মেয়েকে নিয়ে হাজির হয়। প্রথমে একটু বিরক্ত হলেও ভেতরে আসতে বলি। আমি তো অবাক ভদ্রলোককে দেখে। কেন? কে ছিল? চেতনাকে নিয়ে ওর বাবা। আমি যাকে ভালোবেসে ছিলাম সেই চেতনা। প্রানবন্ত, উচ্ছ্বল মেয়ে। রবীন্দ্র সঙ্গীত যার প্রান। সেই চেতনা আজ চুপচাপ হতাশায় ডুবে গেছে। ওর বাবা আজ আমার কাছে ক্ষমা চাইছে। কিন্তু মা আমার মনে তো কোনো ক্ষোভ নেই। আজ আমি বুঝতে পারছি না কি করব? আজকের চেতনার সঙ্গে কলেজের চেতনার কোন মিল নেই। প্রানবন্ত মেয়েটি, আজ নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে। যার রূপ ছিল জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন তার চেহারা আজ শীর্ণকায়। আজ ওকে দেখে আমার একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছে যে বাবা মায়েরা মেয়েদের বিয়ে ছাড়া আর কিছু কেন ভাবতে পারে না কি জানি? চেতনার বাবার অহংকার মেয়েটার সর্বনাশ করে দিল। বনেদি বাড়ির মেয়ে বলে সেরকম বন্ধু ছিল না। আমাদের কথা জানতে পেরে খুব তাড়াতাড়ি ওর বিয়ে দিয়ে দেয়। আমি তখন পর্যন্ত নিজের পসার জমাতে পারিনি। আর চেতনা বোধহয় বিদেশে থাকার লোভ সামলাতে পারেনি। যদিও ভালোবাসার কথা আমি ওকে কোনো দিন মুখে বলিনি জানো মা। ও আমার চোখে কি দেখেছিল জানি না। ও কার্ড দিয়ে চলে গেছিল আর যোগাযোগ হয়নি। আজ ওর বাবার কাছে যা শুনলাম তা খুব বেদনা দায়ক। বিয়ের পর ও বরের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড চলে যায়। সেখানে প্রথম কয়েক মাস বেশ ছিল। তারপর শুরু হয় ওর বরের অবহেলা, মানসিক অত্যাচার। যে গান ছিল ওর প্রান সে গান বন্ধ করে দেয়। প্রথম দিকে বছরে একবার করে আসত দেশে। কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারেনি। ওকে একা কোথাও থাকতে দিত না। না বাপের বাড়ি না শ্বশুর বাড়ি। নিজের আলাদা ফ্ল্যাট ছিল সেইখানে থাকত। চেতনাকে ঘরে রেখে সারাদিন নিজের বন্ধু বান্ধবীদের সাথে ঘুরে বেড়াত। ছোটবোনকে একটু একটু বলেছিল। কিন্তু ওর মা বাবা গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। আর শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওকেই খারাপ ভাবত। এইভাবে মেয়েটার মনটা শেষ করে দেয়। ওর বাবা বললেন, ও একটা বাচ্চা চেয়েছিল তখন শুরু করে শারীরিক অত্যাচার। কোনো রকমে বোনকে একটু জানাতে পেরেছিল। এরপর ও যখন অসুস্থ হয়ে যায় তখন ওর বর ওর বাবাকে ফোন করে নিয়ে আসতে বলে। কয়েক মাস আগে ওর বাবা ওকে নিয়ে আসে। কিন্তু ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। আমাদের এক বন্ধুর কাছ থেকে আমার ঠিকানা নিয়ে আমার কাছে এসেছে। মা আমি পারবো তো চেতনার পুরোনো সব খুশি, আনন্দ ফিরিয়ে দিতে? তোকে যে পারতেই হবে বাবা, নাহলে যে ভালোবাসা হেরে যাবে। তোর স্নেহ দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে নতুন বছরে তুই চেতনার নতুন জীবন দিবি। ওর বাবার কাছ থেকে ওকে চেয়ে নিবি। সারা জীবন ওকে ভালো রাখার অঙ্গীকার করবি নতুন বছরের নতুন প্রভাতে। ঠিক আছে মা। তুমি আমার সঙ্গে থাকলে আমি সব পারব। তুমি থাকবে তো মা? ও খোকা বাবু তুমি এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছ? ওঠো অনেক বেলা হয়ে গেছে। কাজ-কম্ম নেই? কারা এয়েছে দেখো! নববর্ষের নতুন সকাল নতুন ভাবে শুরু হলো সংকল্পের।

জুলাই ০২, ২০২১
নিবন্ধ

Friends: একা এবং বন্ধুরা

জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে/ বন্ধু হে আমার রয়েছ দাঁড়ায়ে।। এই পংক্তিটা প্রথম পড়ি কৈশোরে। রবীন্দ্রনাথ হয়তো ঈশ্বরকেই বুঝিয়েছেন বা কোন ঈশ্বরপ্রতিম মানুষকে। কিন্তু আমার মনে পড়ত কতগুলো স্কুল ইউনিফর্ম পরা, এলোমেলো চুল, বা দুই বিনুনি, দুষ্টু হাসির মুখগুলোকে। আর মনে হত, ওরে বাবা! সারাজীবন থাকবে আবার মরার পরেও? কী সাংঘাতিক কান্ড। পৃথিবীতে অবতীর্ণ হওয়ার বছর তিনেক পরেই তাঁরা আমার জীবনে পদার্পণ করেছেন। (জনান্তিকে বলে রাখি এখনও অক্লেশে হাড়মাস ভাজা করে চলেছেন)।পড়তাম এক মিশনারি স্কুলে যেখানে বহুবিধ পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। জানিয়ে পরীক্ষা, না জানিয়ে পরীক্ষা। কিন্তু চাপ ছিল না। মানে চাপ শব্দটা জানলে তো চাপে পড়বে। আমরা কিছু দুষ্টু ছেলে-মেয়ে হইহই করে উঠে যেতাম পরের ক্লাসে। কড়া নজরদারির মধ্যে দুষ্টুমির নিত্য নতুন উদ্ভাবন। সেই জন্যই বোধ হয় কখনও আমরা কেউ ক্লাসরুম প্রেমের স্বাদ পেলাম না। অধরা থেকে গেল সেই রোমাঞ্চ আমাদের কাছে। একসময় স্কুল শেষ, কিন্তু কলেজেও বন্ধু হলো না সেভাবে। পুরোনো হ্যাংওভার কাটলে তবেই না নতুন বন্ধু?ইউনিভার্সিটিতে এসে দুটো পাখা জুড়লো পিঠে। মনে হলো এলেম নতুন দেশে। আহা! সবই কি সুন্দর। কত নতুন নতুন জিনিস। মুগ্ধ মোহিত আমি-র জুটলো নতুন বন্ধু। চললো নতুন অভিযান। সারা রাতের ক্লাসিক্যাল গানের সুরে ভেসে যাওয়া, কখনও ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন-এ ঘুরে ঘুরে ছবি দেখা, সব মিলিয়ে সে এক সব পেয়েছির দেশ। মধ্যিখানে বেশ কিছু বছর যোগাযোগ বিহীন। নেই তো নেইই.. । কি যেন নেই। হঠাৎ অভিমানে নাকের ডগা লাল হয়ে, গলার কাছে ব্যথা করে উঠলেও বলার লোক নেই। দুষ্টুমি করার লোক নেই। খোঁজ নেওয়ার লোকও তো নেই। অতঃপর, হঠাৎ একদিন মিলিল তারা মিলিল সে মেলা কি যে মেলা.... রাত ১২টায় ফোন করে জানান দেওয়া যে আমরা আছি,/তোর কাছাকাছি।আরও পড়ুনঃ প্পিতৃদিবসে বাবাকে খোলা চিঠি এক কন্যার আবার শুরু নরক গুলজার, বেড়াতে যাওয়া, পিকনিক করা, সে তো আছেই। এতটুকু মনখারাপেও ফোন বা লিখে লিখে তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ শিকেই তোলা। অন্য কোথাও রাগ হলে, তাদের ওপর সেই রাগ ঝাড়া। সেখানে বলতে পারব না মানে কি কোথাওই পারব না? দোস্তলোগ হ্যায় না! এর মধ্যেই আবার সেই সুপ্ত বাসনা লেখালেখি করার মাদকতা ফিরিয়ে দিল এক বন্ধু। সে কি ছিনেজোঁক! প্রায়ই ফোনে উস্কানি দেয়। কিঞ্চিৎ লোভও দেখায়। অতএব মাঠে নেমে পড়া। এখন সবাই মিলে বেঁধে বেঁধে আছি। পৃথিবীতে এত বছর কাটানোর পরে বুঝেছি, জীবন-মরণের সীমানা ছাড়িয়ে বন্ধুই তো থাকে। ওরা আছে তাই আমি আছি।সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

জুন ২৩, ২০২১
বিনোদুনিয়া

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভাবী সন্তানের প্রতি বার্তা নুসরতের!

টলিপাড়ায় কান পাতলে নুসরতকে নিয়ে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি এবং নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, প্রসঙ্গেই আলোচনা শোনা যেত। তবে শুক্রবার থেকে কাহিনি নয়া মোড় নিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী-সাংসদ। তিনি নিজে অন্তঃসত্ত্বা নাকি সন্তান দত্তক নিতে চলেছেন, সে বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি নুসরত স্বয়ং। তারই মাঝে বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরি নিয়ে তৈরি হল নয়া জল্পনা।শুক্রবার রাত থেকে তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জ্বলজ্বল করছে একটি ফুলের ছবি। আর তাতে লেখা রয়েছে, তুমি তোমার মতো করে বেড়ে ওঠো। মুখে কিছু না বললেও ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে কি নতুন অতিথিকে নিয়ে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন অভিনেত্রী? সেই প্রশ্নেই এখন ঘুরছে টলিপাড়ায়।ধর্মীয় ভেদাভেদকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যবসায়ী নিখিল জৈনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন নুসরত। বিয়েও করেন দুজনে। তাঁদের তুরস্কে গিয়ে এলাহি বিয়ে নজর কেড়েছিল সকলের। তবে কয়েকমাস ধরে যেন বদলে গিয়েছে সব কিছু। শোনা যাচ্ছে, নিখিলের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই রাখেন না নুসরত। একসঙ্গে থাকেন না তাঁরা। বিয়ে নিয়ে যখন টানাপোড়েন চলছে ঠিক তখনই সামনে আসে নুসরত-যশের ঘনিষ্ঠতা। একসঙ্গে আজমের শরিফ বেড়াতে যাওয়ার ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। তারপর থেকে কখনও ডিনার আবার কখনও কফি ডেটেও বারবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁদের। যদিও প্রেম করছেন কিনা, সে বিষয়ে যশ কিংবা নুসরত কেউ কিছুই বলেননি। সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের মাঝে এবার শোনা যাচ্ছে নুসরতের মা হওয়ার খবর। এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি তাঁর।

জুন ০৫, ২০২১
দেশ

রাজপথে নারীশক্তির নয়া ইতিহাস

নারীশক্তির এক নতুন ইতিহাস রচিত হল ৭২তম সাধারণতন্ত্র দিবসে। এই প্রথমবার ভারতীয় বায়ুসেনার দুই মহিলা পাইলট অংশ নিলেন দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে। একজন মাটিতে, অন্যজন আকাশের বুকে গড়লেন অনন্য নজির। ভাবনা কান্থ ও স্বাতী রাঠোর। দেশের সামরিক শক্তিতে মহিলাদের অবস্থানকে প্রদর্শিত করলেন তাঁরা। ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে খচিত থাকবে এই দুই নাম।ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ২৮ বছরের ভাবনা কান্থ প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে এদিন অংশ নেন বায়ুসেনার ট্যাবলোতে। সেই প্রতিরক্ষা ট্যাবলোতে লাইট কমব্যাট বিমান, হেলিকপ্টার ও সুখোই-৩০ ফাইটার বিমান প্রদর্শিত হয়। সেখানেই স্যালুটরত অবস্থায় দেখা যায় ভাবনাকে। অন্যদিকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট স্বাতী রাঠোর ছিলেন Mi-17 V5 হেলিকপ্টারে। মোট চারটি চপারকে সেই সময় দেখা যায় ফ্লাইপাস্ট প্যারেডে। তাতেই অংশ নিলেন স্বাতী। গড়লেন নয়া ইতিহাস।#RepublicDay: Flt Lt Bhawna Kanth, one of the first three female fighter pilots of the country, is part of the Indian Air Force tableau at the Republic Day parade pic.twitter.com/60JSBMVtvZ ANI (@ANI) January 26, 2021

জানুয়ারি ২৬, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

আমেরিকার ভোটে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জয়জয়কার! লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হলেন কেরলের নিত্যা

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল রিপাবলিকান শিবির। কংগ্রেসের দুই কক্ষ, সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল। অন্য দিকে, বিভিন্ন জায়গায় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এই নির্বাচনে বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকেরা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম কেরলে জন্ম নেওয়া নিত্যা রমন। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি। এই জয়ের ফলে শহরটির প্রথম এশীয়-আমেরিকান মেয়র হলেন নিত্যা। প্রতিদ্বন্দ্বী কারেন বাসকে হারিয়ে ৫১.১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। বাস পেয়েছেন ৪৮.৩৩ শতাংশ।এই নির্বাচনে শুধু নিত্যাই নন, জয় পেয়েছেন আরও কয়েক জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অরুণা মিলার। ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর হায়দরাবাদে জন্ম তাঁর। মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় চলে যান অরুণা। পরে মিসৌরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৯ সালে স্নাতক হওয়ার পর দীর্ঘ দিন সরকারি চাকরি করেন তিনি। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে মেরিল্যান্ডের আইনসভায় নির্বাচিত হন অরুণা। ২০২২ সালে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসাবে মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন তিনি। এ বারও নির্বাচনে জয় পেয়েছেন অরুণা।এ বারের নির্বাচনে আরও এক নতুন মুখ পিয়া ডান্ডিয়া। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রায় ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন পিয়া। পেশায় শিক্ষাবিদ এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করতেন তিনি। পরে নিউ ইয়র্কের হারলেম এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হন। এই জয়ের ফলে ওই কেন্দ্র থেকে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসাবে মার্কিন কংগ্রেসে জায়গা করে নিলেন পিয়া।আমেরিকার রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের এই সাফল্য নতুন করে নজর কেড়েছে। চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী কিংবা শিক্ষাবিদ নানা পেশা থেকে উঠে এসে রাজনীতির ময়দানে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন তাঁরা। জন্ম বা বেড়ে ওঠা আমেরিকায় হলেও তাঁদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সঙ্গে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

২০২১ সালে বেকসুর খালাস, পরে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত! তেজপালের সাজা নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় আপাতত কোনও স্বস্তি পেলেন না তেহেলকা পত্রিকার প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক তরুণ তেজপাল। তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিরুদ্ধে তাঁর আবেদন বিচারাধীন থাকলেও আপাতত জেলেই থাকতে হবে তাঁকে।বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বম্বে হাই কোর্টের ৬ অগস্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন তেজপাল।২০১৩ সালে নিজের এক জুনিয়র সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল তেজপালের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে এই মামলায় বেকসুর খালাস করেছিল। কিন্তু সেই রায় খারিজ করে বম্বে হাই কোর্ট তাঁকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয়।হাই কোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তেজপাল। তাঁর আবেদন ছিল, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত রাখা হোক। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আর্জিতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। ফলে ধর্ষণ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা আপাতত বহাল থাকল।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

বোমাতঙ্ক বম্বে হাই কোর্টে! নিশানায় অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ও, তল্লাশি চালিয়ে কী পেল পুলিশ?

বম্বে হাই কোর্টে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেল পাঠানোকে কেন্দ্র করে শুক্রবার মুম্বইয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল। ওই ইমেলে আদালত চত্বর, মহালক্ষ্মী রেসকোর্স এবং বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের বাংলো জলসায় হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। খবর পেয়েই তিনটি জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে কোথাও সন্দেহজনক কিছু মেলেনি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।এই হুমকি ইমেলটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইমেল পাঠানোর পিছনে কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও বিপজ্জনক বস্তু বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।এর আগে গত ২ নভেম্বর, সোমবার মহারাষ্ট্রের একাধিক জেলা ও দায়রা আদালতেও বোমা হামলার হুমকি দিয়ে ইমেল পাঠানো হয়েছিল। আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই খবর পাওয়ার পরেই সংশ্লিষ্ট আদালতগুলিতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।বোমা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়কারী দলও তল্লাশিতে অংশ নেয়। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে পরীক্ষা চালানোর পরেও কোথাও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। পর পর আদালতে বোমা হামলার হুমকি এবং এ বার বম্বে হাই কোর্টের পাশাপাশি অমিতাভ বচ্চনের বাড়ির নাম উঠে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

প্রাক্তন হকি অধিনায়কের বাড়িতে চুরি! নগদ-গয়নার সঙ্গে উধাও ১৯৮০ সালের অলিম্পিকের সোনার পদক

নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না তো ছিলই। এ বার চোরেদের হাত থেকে রেহাই পেল না অলিম্পিকের সোনার পদকও! প্রাক্তন ভারতীয় হকি অধিনায়ক এম এম সোমায়ার বাড়িতে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে ভারতীয় দলের জেতা সোনার পদক-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পদক চুরি গিয়েছে। পাশাপাশি নগদ টাকা এবং মূল্যবান গয়নাও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও ধরা পড়েনি অভিযুক্তেরা। উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া সামগ্রীও।বেঙ্গালুরুর হ্যাল থার্ড স্টেজ এলাকায় থাকেন সোমায়া। এলাকাটি ইন্দিরানগর থানার অধীনে। গত ২৮ অক্টোবর রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। সেই সময় পরিবারের সঙ্গে কোডাগুতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন হকি তারকা। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে চোরেরা সেখানে ঢুকে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁরাই ফোন করে সোমায়াকে বিষয়টি জানান। এর পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।পুলিশ সূত্রে খবর, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিকে পাওয়া সোনার পদক। এ ছাড়াও ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে পাওয়া রুপোর পদক এবং ১৯৮৬ সালের সিওল এশিয়ান গেমস ও ১৯৮২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্রোঞ্জ পদকও চুরি গিয়েছে। অর্থাৎ, সোমায়ার দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক এখন চোরেদের হাতে।এ ছাড়া বাড়ি থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, সোনা ও রুপোর গয়নাও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।ঘটনার তদন্তে এলাকার বিভিন্ন বাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ছবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সোমায়ার বাড়ির উল্টো দিকের একটি বাড়ির ক্যামেরায় দুজন সন্দেহভাজনের ছবি ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ২৮ অক্টোবর রাত ২টো ৩৪ মিনিট নাগাদ ওই দুজন সোমায়ার বাড়িতে ঢুকেছিল। একজনের পরনে ছিল নীল রঙের জামা, অন্য জনের লাল।অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন সোমায়া। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য দুটি বিশেষ দল তৈরি করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩১(৪) এবং ৩০৫ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।ভারতীয় হকির ইতিহাসে পরিচিত নাম এম এম সোমায়া। দীর্ঘ দিন দলের হাফ ব্যাক হিসেবে খেলেছেন তিনি। তিনটি অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বও সামলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে নাইরোবিতে পুজো কাপ জেতে ভারত। ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে তাঁকে অর্জুন পুরস্কার দেওয়া হয়।দেশের হয়ে অলিম্পিকে সোনা জেতা এক ক্রীড়াবিদের বাড়ি থেকে সেই পদকই চুরি যাওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন ক্রীড়ামহল। যে পদক এক সময় দেশের সাফল্যের স্মারক ছিল, সেটি এখন কোথায়, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

প্রথমে স্ত্রীকে খুন, পরের দিন পার্টির নামে বাড়িতে ডেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড! কীভাবে সামনে এল ঘটনা?

স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অশান্তি। সেই রাগ থেকেই স্ত্রী-সহ তাঁর পরিবারের সাতজনকে খুনের অভিযোগ উঠল এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে। বেঙ্গালুরুতে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাত বছরের এক শিশুও। অভিযুক্তের নাম ইন্দুশেখর। দুদিন ধরে পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে নিজের স্ত্রী সুনীতাকে খুন করেন ইন্দুশেখর। তার পর তাঁর দেহ কাপড়ে মুড়ে নন্দী পাহাড়ের কাছে ফেলে আসেন। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি যাতে কারও সন্দেহ না হয়, তার জন্য তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন অভিযুক্ত। প্রতিবেশীদের জানান, স্ত্রী বেড়াতে গিয়েছেন।এর পরের দিন আরও ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। দুই শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে নিজের বাড়িতে পার্টির জন্য আমন্ত্রণ জানান ইন্দুশেখর। তাঁরা স্ত্রীদের নিয়ে বাড়িতে আসেন। অভিযোগ, সেখানেই তাঁদের উপর হামলা চালান অভিযুক্ত। একে একে খুন করা হয় দুই শ্যালক, তাঁদের স্ত্রী দিব্যা ও নলিনী, শাশুড়ি রূপবতী এবং শিবকুমারের সাত বছরের ছেলে পুনীতকে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শ্যালক ও শাশুড়ির সঙ্গে সুনীতার ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্য পছন্দ করতেন না ইন্দুশেখর। এই বিষয়টি নিয়েই তাঁর মনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমেছিল। সেই আক্রোশ থেকেই পরিবারের সকলকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্ত্রী সুনীতাকে শিলবাটার পাথর দিয়ে আঘাত করে খুন করেন অভিযুক্ত। পরে সেই একই পাথর ব্যবহার করে শ্যালক ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও খুন করা হয় বলে অভিযোগ। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির রক্তের দাগ মুছে ফেলতে রাসায়নিক ব্যবহার করেন তিনি। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার নলিনীর মা শ্রীরামপুরা থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে। এর পরেই গ্রেফতার করা হয় ইন্দুশেখরকে।অভিযুক্তের ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ওই গাড়িতে করেই দেহগুলি অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। খুনে ব্যবহৃত শিলবাটার পাথরও উদ্ধার করা হয়েছে।এ দিকে নন্দী পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে সাত বছরের শিশু পুনীতের দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সেটিই প্রথম উদ্ধার হওয়া দেহ বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, জেরায় ইন্দুশেখর সাতজনকে খুনের কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর সমস্ত দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাকি দেহগুলির খোঁজেও তল্লাশি চলছে।এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ সাহায্য করেছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এমনকি অভিযুক্তের মেয়ের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি বাড়িতে এতগুলি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও প্রতিবেশীরা কেন কিছু বুঝতে পারলেন না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক অশান্তি থেকে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আপাতত অভিযুক্তের বয়ান, উদ্ধার হওয়া তথ্যপ্রমাণ এবং নিখোঁজদের খোঁজের উপরেই নির্ভর করছে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

১৮ বছরের অপেক্ষা শেষ করতে মরিয়া ভারত! নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছেন বুমরাহ-জাদেজা, পন্থকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শেষ বার টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ভারত ২০০৮-০৯ মরসুমে। তার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৮ বছর। এ বার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মরিয়া ভারতীয় দল। আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাই চোটের ঝুঁকি থাকলেও দলের প্রথম সারির ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ম্যাচে নামানো হচ্ছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও এই সিরিজ ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে দুটি চার দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন ভারতীয় টেস্ট দলের কয়েক জন নিয়মিত ক্রিকেটার। এ বার সেই প্রস্তুতি ম্যাচের তৃতীয়টিতে খেলতে নামবেন জসপ্রীত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাডেজা। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা এই ম্যাচের জন্য ভারত এ দলে যোগ দিয়েছেন দুজনেই। তাঁদের সঙ্গে দলে রয়েছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণও।দীর্ঘ দিন মাঠের বাইরে থাকার পর ম্যাচের ছন্দ ফিরে পেতেই বুমরাহ ও জাডেজাকে এই ম্যাচে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে দুজনের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি বলে মনে করছে ভারতীয় শিবির। অন্য দিকে, চোটের কারণে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে খেলতে পারবেন না প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। তাই তিনিও এই প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।তবে ভারতীয় শিবিরে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। তৃতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলতে পারছেন না ঋষভ পন্থ। এখনও পুরোপুরি চোটমুক্ত হতে পারেননি ভারতীয় দলের এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। বর্তমানে তিনি রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে। তাঁর পরিবর্তে ভারত এ দলে জায়গা পেয়েছেন তিলক বর্মা।শেষ বার অগস্ট মাসে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলেছিলেন পন্থ। সেই ম্যাচেই তাঁর পাঁজরের পাশের পেশিতে চোট লাগে। নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচেই পন্থের খেলার কথা ছিল। কিন্তু চোটের কারণে প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তৃতীয় ম্যাচ থেকেও ছিটকে গেলেন।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা প্রথম টেস্টের আগে পন্থ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কি না। তাঁকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ভারতীয় শিবির। শুধু চোট সারলেই হবে না, নিউজিল্যান্ডের পরিবেশ ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যও কিছুটা সময় প্রয়োজন। প্রথম টেস্টের আগে কতটা ম্যাচ অনুশীলন করতে পারবেন পন্থ, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চাইছে ভারত। সেই লক্ষ্যেই বুমরাহ, জাডেজাদের প্রস্তুতি ম্যাচে নামানো হচ্ছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে পন্থের চোট কতটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
দেশ

এসআইআর বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশনে বড় রদবদল! সীমা খন্নার ক্ষমতায় কাটছাঁট, নয়া নির্দেশ জারি

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ফের বড় পরিবর্তন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাজের দায়িত্ব বণ্টনে নতুন নির্দেশ জারি হয়েছে। এ বার থেকে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নার অধীনে থাকা বিভিন্ন বিভাগের ফাইল সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পবন কুমার শর্মার মাধ্যমে পাঠাতে হবে। গত ৪ নভেম্বর এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের সময় বার বার উঠে এসেছিল সীমা খান্নার নাম। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের কাজে তিনি অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছেন। এমনকি ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের ক্ষমতা কমিয়ে দিল্লি থেকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে নতুন নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি সীমা খান্নার ক্ষমতা কিছুটা কমানো হল?যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশের ফলে সীমা খান্নার পদমর্যাদা বা রিপোর্ট করার নিয়মে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, সীমা খান্না আগেও ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পর্যায়ের আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট করতেন। এখনও সেই ব্যবস্থাই থাকছে। কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নতুন করে কাজের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে।কেন বার বার বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের কাজের দায়িত্ব বণ্টন? গত কয়েক মাস ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কমিশনের অন্দরেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে খবর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও কমিশনের অন্য দুই সদস্য বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধু কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে কাজের দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত একটি নির্দেশও ছিল।এর আগে চলতি বছরের ২৮ জুলাই কাজের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন নির্দেশ জারি হয়েছিল। সেই নির্দেশে তৎকালীন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের কাছ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সরিয়ে সীমা খান্নার হাতে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি সরাসরি রিপোর্ট করার সুযোগ পান। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান কমিশনের দুই সদস্য।নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ডেপুটেশনে থাকা অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক আইএএস আধিকারিক ওই নির্দেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি কার্যকর হয়নি। ২৯ জুলাই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দুই নির্বাচন কমিশনার আলাদা ভাবে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দেন। পরের দিন, অর্থাৎ ৩০ জুলাই, তাঁদের যৌথ নির্দেশের পর ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি বলে জানিয়েছে কমিশন।এ দিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নতুন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যাঁদের নাম এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকায় ওঠেনি এবং যাঁরা নতুন করে ভোট দেওয়ার যোগ্য হয়েছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন ভোটারদের নাম তোলা এবং ভোটার তালিকায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। ওই তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ দিন ১২ ডিসেম্বর। জমা পড়া দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি করতে হবে ২০২৭ সালের ১৬ জানুয়ারির মধ্যে। তার পর ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। এই নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর অভিযোগেও উঠে এসেছিল সীমা খান্নার নাম।অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৭ মে-র নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর প্রক্রিয়া বহাল রেখেছে। ফলে এক দিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এগোচ্ছে, অন্য দিকে কমিশনের অন্দরে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা-সহ ৭ পুরসভায় এখনই ভোট নয়! হাই কোর্টের নির্দেশে বড় ধাক্কা, কবে হবে নির্বাচন?

কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের সাতটি পুরসভায় এখনই হচ্ছে না নির্বাচন। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না রাজ্য নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে পুরভোট নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরসভাগুলির নির্বাচন নিয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না। অর্থাৎ, আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত আইনি জট কাটাতে হবে। তার পরেই ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করে সরকার। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রথম থেকেই সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলি। তাদের আপত্তি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়।পুজোর ছুটির মধ্যে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে ওঠে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানির পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মামলা মিটে যাওয়ার আগে পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে না। ফলে নভেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন হতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন হয়নি। কোথাও পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে, কোথাও আবার পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসকেরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত নির্বাচন করানোর পক্ষে সওয়াল করে আসছিল রাজ্য সরকারও।আদালতের নির্দেশের পর এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশের পর এ বিষয়ে তাঁদের কিছু বলার থাকতে পারে না। তবে দীর্ঘদিন ভোট না হলে সাধারণ মানুষকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।হাই কোর্টের এই নির্দেশের পর কলকাতা, হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভায় কবে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আপাতত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

নভেম্বর ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal