• ১৫ কার্তিক ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Singer

রাজ্য

"আমার যাওয়ার সময় হল..দাও বিদায়", ইন্দ্রনীলের সঙ্গে মমতাকে গান স্মরণ করালেন শুভেন্দু

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া গান বেশ ভাইরাল হয়েছিল। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি তীব্র কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নিজের গলায় আমার যাওয়ার সময় হল..দাও বিদায় গান করে মনে করিয়ে দেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, শেষ গানটাও আমরা শুনেছি, দুজন একসঙ্গে ডুয়েট করেছেন-আমার বিদায়ের সময় হলো, দাও বিদায়...আমার যাওয়ার সময় হলো। দুজন মিলেই করেছে, ডুয়েট। এদিন ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার নিয়ে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ইন্দ্রনীলের বেআইনি কারবারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাত থাকতে বলেও মনে করছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, একাতো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে। সিপিএমের সময় যা করতেন তৃণমূলের আমলে একই কাজ করেছেন ইন্দ্রনীল। তবে তৃণমূলের সময় তা আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য় করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেছেন, আমরা এখনও দুকামরার ফ্ল্যাটের বেশি থাকার জায়গা পেলাম না। সিঙ্গুরে খামারবাড়ি বানিয়েছে। স্ত্রীর নামে ইভেন্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তথ্য সংস্কৃতি দফতর থেকে। আর্টিস্টদের কাছ থেকেও টাকার কমিশন নিতেন। নন্দীগ্রামের সময় বিরোধিতা করে গানও করেছেন ইন্দ্রনীল সেন, স্মরণ করাতে ভোলেনি শুভেন্দু অধিকারী।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
রাজ্য

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, ইউনেস্কো মামলায় তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার দুপুর একটা নাগাদ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেন তিনি। তখন থেকেই CGO কমপ্লেক্স ঘিরে ফেলে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ। দুই কমিশনারেটের আধিকারিককে দেখা যায় সেখানে। বিকেল ৫টা ৬ মিনিট নাগাদ দফতর থেকে বেরোতেই তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় কলকাতা পুলিশ। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কুণাল আগরওয়াল।এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেন একা নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইন্দ্রনীল ও মমতার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক চোরেদের জেলে যেতে হবে।তদন্তকারীদের অভিযোগ, মাস আর্ট নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর প্রবেশপাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। পাসের দাম ছিল ১,৮০০ টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এইভাবে বিপুল অর্থ সংগ্রহ হলেও তার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির সঙ্গে ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী মধুচ্ছন্দার যোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে।বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি তদন্তে নামে ইডিও। লালবাজারে তলব এড়ানোর অভিযোগের মধ্যেই আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয় আদালতে। এখন তদন্তকারীদের নজর সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, লেনদেন এবং তার প্রকৃত ব্যবহার খতিয়ে দেখার দিকে।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

সঙ্গীত আকাশের ধ্রুবতারা: সুরের জাদুকর ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের জীবন ও কালজয়ী সৃষ্টির কোলাজ

বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং ভক্তিগীতি ও শ্যামা সঙ্গীতের প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য। বাংলা সঙ্গীত জগতের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেননি। আধুনিক গান দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও, পরবর্তীকালে তিনি আপামর বাঙালির হৃদয়ে ভক্তি ও সুরের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন।প্রথম রেকর্ড থেকেই সাফল্যের শিখরে ১৯৪০ সালে প্রণব রায়ের কথায় এবং সুবল দাশগুপ্তের সুরে পাইওনিয়ার কোম্পানির ব্যানারে তাঁর প্রথম বেসিক রেকর্ড প্রকাশিত হয় যদি ভুলে যাও মোরে, জানাবো না অভিমান। প্রথম গানেই তিনি বাঙালি শ্রোতাদের মণিকোঠায় জায়গা করে নেন। এর পর চলচ্চিত্রের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শহর থেকে দূরে ছবিতে রাধে ভুল করে তুই চিনলে না তোর প্রেমিক শ্যাম রায় গানটি গেয়ে তিনি তুমুল সাড়া ফেলেন।১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পাশের বাড়ি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি সলিল চৌধুরীর সুরে ঝিরঝির ঝিরঝির বরষায় গানটি তৎকালীন সময়ে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। এছাড়াও তাঁর গাওয়া মাটিতে জন্ম নিলাম, এই ঝিরঝির ঝির বাতাসে এবং ঝনন ঝনন বাজে-র মতো আধুনিক গানগুলো আজও শ্রোতাদের নস্টালজিক করে তোলে।সাধক রামপ্রসাদ ও শ্যামা সঙ্গীতের স্বর্ণযুগধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের সঙ্গীত জীবনের এক অবিস্মরণীয় কীর্তি হলো ১৯৫৬ সালের সাধক রামপ্রসাদ চলচ্চিত্রটি। এই ছবির মোট ২৪টি গানের মধ্যে ২৩টি গানই গেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে মা আমার রাজার মেয়ে, ডুব দে রে মন কালী বলে, এমন দিন কি হবে মা তারা এবং মন রে কৃষি কাজ জানো না গানগুলো প্রতিটি বাঙালি পরিবারে ভক্তিরসের জোয়ার এনেছিল।সঙ্গীত মহলে একটি প্রচলিত তথ্য হলো, তাঁর অনুজ পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠে ভক্তিরসের গভীরতা দেখে ধনঞ্জয় বাবু একটা সময় নিজেকে ভক্তিগীতি থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৬৬ সালে ভাইয়ের অকাল প্রয়াণের পর, পান্নালালের পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পাশাপাশি ভক্তিমূলক গানের ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি আবারও ভক্তিগীতি গাওয়া শুরু করেন।সুরকার ও অন্তরালের গীতিকারকণ্ঠশিল্পী পরিচয়ের বাইরেও তিনি ছিলেন এক অসামান্য সুরকার ও গীতিকার। মহাপ্রস্থানের পথে চলচ্চিত্রে তাঁর দেওয়া সুর আজও মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়। খুব কম মানুষই জানেন, তিনি নিজের পরিচয় আড়াল করে শ্রী পার্থ ও শ্রী আনন্দ ছদ্মনামে প্রায় ৪০০ গান রচনা করেছিলেন, যার অনেকগুলোতেই সুর দিয়েছিলেন এবং তাঁর ভাই পান্নালাল ভট্টাচার্যকে দিয়ে গাওয়ানো হয়েছিল।প্রথিতযশা শিল্পীদের চোখে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের বহুমুখী কণ্ঠস্বর ও রাগপ্রধান গানের ওপর অসামান্য দখল শুধু শ্রোতাদেরই নয়, সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের কিংবদন্তি শিল্পীদেরও বিস্মিত করেছিল:সলিল চৌধুরী (কিংবদন্তি সুরকার ও রচয়িতা): ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কণ্ঠের ক্ষমতা ও নিখুঁত তান নিয়ে সলিল চৌধুরী একবার মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন ধনঞ্জয়ের কণ্ঠের রেঞ্জ ও গায়কী এতটাই উঁচুদরের যে তাঁর কণ্ঠকে অনায়াসে মোহাম্মদ রফি বা তালাত মাহমুদের সমকক্ষ বলা যায়।লতা মঙ্গেশকর (সুর সম্রাজ্ঞী): হিন্দি ছবি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু (১৯৫৩)-তে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের সাথে দ্বৈত গান গাওয়ার পর লতা মঙ্গেশকর তাঁর গায়নীতে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি ধনঞ্জয় বাবুকে মুম্বাইয়ে গিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে স্থায়ীভাবে প্লেব্যাক করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু বাংলার প্রতি টানে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য সেই প্রস্তাব বিনম্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও শ্যামল মিত্র: তাঁর সমসাময়িক এই দুই প্রথিতযশা শিল্পী বহু সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, রাগপ্রধান গান এবং ভক্তিগীতির ক্ষেত্রে ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের যে তান ও তালের নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা তৎকালীন সঙ্গীত দুনিয়ায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।তাঁর আমর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম কয়েকটি গানের উল্লেখ না করলেই নয়, মা আমার রাজার মেয়ে, ডুব দে রে মন কালী বলে, এমন দিন কি হবে মা তারা, মন রে কৃষি কাজ জানো না। শেষের গানটি পরে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিস এর জনপ্রিয় বাঙালি গায়ক অরিজিৎ সিং মানবজমিন (Manobjomin) নামক বাংলা একটি বাংলা চলচ্চিত্রে পুনরায় গেয়েছেন। এবং ভীষণ জনপ্রিয় হয় সে গান।১৯৯২ সালের ২৭ ডিসেম্বর এই সুরের জাদুকর না ফেরার দেশে চলে গেলেও, তাঁর সৃষ্টি আজও কোটি কোটি বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের সকালে ভোরের আলো আর সন্ধ্যায় ভক্তি আরতির সুর হয়ে বেঁচে আছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে মার সব থেকেও বৃদ্ধাশ্রমে বাস, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

শতবর্ষের সুরযাত্রার অবসান: প্রয়াত বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতীয় হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের জগতে এক যুগের অবসান ঘটল। বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী, বিশিষ্ট সঙ্গীতগুরু, গবেষক এবং শিক্ষাবিদ সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়াত হলেন। বুধবার দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে শতবর্ষ স্পর্শ করা এই কিংবদন্তি শিল্পী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শুধু শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অঙ্গনেই নয়, সমগ্র বাংলা তথা দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে।গত ৮ জুলাই কোমরের অস্থিভঙ্গের কারণে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কয়েক দিন আগে তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাসভবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত বুধবার দুপুরে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট-এ তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর পুত্র শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিবারের সকলেই আশাবাদী ছিলেন যে তিনি আবার সুস্থ হয়ে মঞ্চে ফিরবেন। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হল না।১৯২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উত্তর কলকাতার টেগোর ক্যাসল স্ট্রিটে এক ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পিতা ছিলেন বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি সঙ্গীতাচার্য সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। পিতার কাছেই শৈশব থেকে তাঁর সঙ্গীত শিক্ষার সূচনা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর অসামান্য কণ্ঠস্বর, রাগসংগীতের গভীর অনুধাবন এবং সুরের প্রতি নিবেদন সকলের নজর কেড়েছিল।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা হয় কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে। পরবর্তীকালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৪৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীতের নন্দনতত্ত্ব, ইতিহাস ও দর্শন নিয়ে তাঁর গভীর আগ্রহ তাঁকে একজন অনন্য গবেষকে পরিণত করে।কর্মজীবনের শুরুতে ডেপুটি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের দপ্তরে চাকরিতে যোগ দিলেও সেই পেশায় বেশিদিন নিজেকে আবদ্ধ রাখতে পারেননি। সঙ্গীতই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র সাধনা। ১৯৫০-এর দশকে তিনি আকাশবাণীর সঙ্গীত বিভাগে যোগ দেন এবং সেখান থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সঙ্গীতের নন্দনতত্ত্ব ও শিল্পদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। ১৯৬৮ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণাগ্রন্থ পরে সঙ্গীতের শিল্পদর্শন নামে প্রকাশিত হয় এবং ভারতীয় সঙ্গীত-চিন্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।দীর্ঘ প্রায় তিরিশ বছর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন তিনি। পরবর্তীকালে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বও সামলান। ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহণের পরও তাঁর কর্মজীবন থেমে থাকেনি। ২০০০ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনয়ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন শিল্পী নন, ছিলেন একজন অসামান্য শিক্ষকও। তাঁর হাত ধরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য শিল্পী। বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা নীহাররঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, পুত্র শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বহু শিষ্য-শিষ্যা আজ দেশের সঙ্গীতজগতে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁদের সকলের কাছেই তিনি ছিলেন একজন কঠোর অথচ স্নেহময় গুরু।যদিও তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি ছিল বিষ্ণুপুর ঘরানা, তবুও তিনি কখনও নিজেকে ঘরানার সংকীর্ণ সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখেননি। পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, পরিবর্তনকে যদি আমি গ্রহণ না করি, তা হলে আমাকে কেউ নেবে না। সেই কারণেই আমি ঘরানার সীমা অতিক্রম করেছি। তাঁর প্রিয় শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন তারাপদ চক্রবর্তী ও উস্তাদ আমির খান, যাঁদের গায়কী তাঁর শিল্পচিন্তাকে সমৃদ্ধ করেছিল।জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সঙ্গীত ছিল তাঁর একমাত্র সাধনা। শতবর্ষ স্পর্শ করার দিনও তিনি মঞ্চে প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে রাগ বেহাগ পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন। অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিয়মিত শিষ্য-শিষ্যাদের গান শেখাতেন এবং সঙ্গীতচর্চায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত রেখেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টির মধ্য দিয়েই রাগ পূরবী নতুন জীবন লাভ করেছে যা তাঁর গভীর সঙ্গীতবোধ ও নন্দনতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় বহন করে।ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক বিরল প্রতিভা, বিশিষ্ট গবেষক এবং আদর্শ শিক্ষক হিসেবে অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান আগামী প্রজন্মের শিল্পী ও গবেষকদের পথ দেখাবে। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত রাগসংগীত, তাঁর গবেষণা, তাঁর দর্শন এবং তাঁর অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর মধ্যে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে তাঁর নাম এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

জুলাই ৩০, ২০২৬
কলকাতা

দেবলীনা নন্দীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ! ফেসবুক লাইভে কী বললেন দুই যুবক?

গত কয়েকদিন ধরেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ও সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দী। আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে সোশাল মিডিয়ায়। এরই মাঝে প্রকাশ্যে এল নতুন অভিযোগ, যা ঘিরে ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।শনিবার বিকেলে নীল ও রিভু নামে দুই যুবক ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেবলীনা নন্দীর ফেসবুক পেজ তাঁরা পরিচালনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেবলীনাকে জনপ্রিয় করে তুলতে তাঁরা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি, ভিডিও এডিট এবং পেজ ম্যানেজমেন্টের কাজ করেছেন। তাঁদের হাত ধরেই নাকি দেবলীনারের ফলোয়ার সংখ্যা ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ১২ লক্ষে পৌঁছয়। কিছু মিউজিক ভিডিওর কাজও করেছেন তাঁরা।অভিযোগকারীদের দাবি, কাজ ছাড়ার পর দেড় বছর কেটে গেলেও তাঁদের প্রাপ্য টাকা দেননি দেবলীনা। বহুবার বকেয়া টাকা চাওয়া হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁদের আরও দাবি, একাধিকবার ফোনে দেবলীনারের মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতিবারই নাকি বলা হয়েছে, দেবলীনা অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি।এই ফেসবুক লাইভ ছড়িয়ে পড়তেই সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয় জোর আলোচনা। কমেন্ট বক্সে কেউ দেবলীনাকে কটাক্ষ করেন, আবার কেউ অভিযোগকারীদের প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পরে কেন তাঁরা এই কথা প্রকাশ্যে আনলেন।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে পারিবারিক সমস্যার কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দেবলীনা নন্দী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।এই বিতর্কের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টা পর অভিযোগকারীরা তাঁদের আগের ফেসবুক লাইভ ডিলিট করে নতুন একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তাঁরা জানান, প্রথম ভিডিও প্রকাশের পর দেবলীনা নিজে ফোন করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমস্ত বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেন। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি দেবলীনা নন্দী।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

লাইভ মঞ্চে লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত, ওসির ভূমিকা নিয়েও তদন্ত

লাইভ পারফরম্যান্স চলাকালীন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মহল। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে একটি বেসরকারি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করতে গিয়ে এই ঘটনার মুখে পড়েন তিনি। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার নাম তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় ভগবানপুরের একটি বেসরকারি স্কুল প্রাঙ্গণে। অভিযোগ অনুযায়ী, লগ্নজিতা চক্রবর্তী যখন জাগো মা গানটি পরিবেশন করছিলেন, তখন অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা ও ওই স্কুলের মালিক মেহবুব মল্লিক আচমকাই মঞ্চে উঠে আসেন। শিল্পীর অভিযোগ, তিনি গালিগালাজ করেন এবং চিৎকার করে বলেন, অনেক হয়েছে জাগো মা, এবার কিছু সেকুলার গান গাও। পাশাপাশি মারধরের হুমকি ও শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ।পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনুষ্ঠান কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে লগ্নজিতা চক্রবর্তী ভগবানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, প্রথমে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর মামলা রুজু হয় এবং অভিযুক্ত মেহবুব মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়।পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন দে জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভগবানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং আরও এক পুলিশকর্মীর ভূমিকা নিয়েও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা অভিযোগ করেন, একজন শিল্পী কি গান গাইবেন, সেটাও শাসক দলের লোক ঠিক করে দিচ্ছে। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছিল। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।লাইভ মঞ্চে একজন শিল্পীর গান বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা এই প্রশ্ন এখন আর শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। সাংস্কৃতিক পরিসরে মতপ্রকাশের অধিকার, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়ে এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
দেশ

গায়ক জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীত জগৎ, লক্ষ লক্ষ স্রোতার হৃদয় ভেঙে চুরমার

ভারতের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গ আর নেই। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্তব্ধ হয়ে গেছে সঙ্গীত জগৎ। সিঙ্গাপুরে সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগ দেওয়ার আগে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন।গানের জগতে জুবিন গর্গ ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভা। অসমিয়া সংগীতকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করার পাশাপাশি তিনি হিন্দি, বাংলা, নেপালি ও আরও অনেক ভাষায় গান গেয়েছেন। বলিউডে তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান গ্যাংস্টার ছবির ইয়া আলি, যা তাঁকে রাতারাতি সারা দেশে পরিচিতি দেয়। অসমে বুকু দুরু দুরু-সহ অসংখ্য গান মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, সুরকার, অভিনেতা এবং সমাজকর্মী হিসেবেও জুবিনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। সংগীতের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের লোকজ ধারা ও সংস্কৃতিকে তিনি সর্বভারতীয় মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বহু তরুণ শিল্পীর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন জুবিন।তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বিরোধী নেতারাও টুইটারে শোকবার্তা জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ভরে উঠেছে অসংখ্য পোস্ট।অসমের মানুষ তাঁকে ডাকতেন গণগায়ক নামে। কারণ, তাঁর গান ছিল আবেগের, প্রতিবাদের এবং ভালোবাসার প্রতীক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে গেছেন। জুবিন গর্গের অকাল প্রয়াণ শুধু একটি সংগীতমুখর জীবনকেই শেষ করেনি, ভেঙে দিয়েছে লক্ষ লক্ষ শ্রোতার হৃদয়। তবে তাঁর কণ্ঠের সুর ও সৃষ্টিগুলো আগামী প্রজন্মের মনেও সমানভাবে বেঁচে থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু বিখ্যাত গায়কের

জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা জুবীন গর্গ আজ স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন। ঘটনাটি ঘটেছে আজ দুপুরে, সিঙ্গাপুরে সমুদ্রসৈকতের কাছে পর্যটনকেন্দ্রে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ডাইভিংয়ের নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জলের নিচে শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন। সমুদ্র থেকে গায়ককে উদ্ধার করে সিঙ্গাপুর পুলিশ। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ ঘটেছে দুর্ঘটনা।সংগীতজগতে এক বহুমুখী প্রতিভা ছিলেন জুবীন গর্গ। আসামিয়া, হিন্দি ও বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় তাঁর গান বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। অভিনেতা হিসেবেও তিনি সমানভাবে প্রশংসিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ভক্তমহল ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভক্তরা শোকবার্তা জানাচ্ছেন। সংগীত মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জুবীন গর্গের মৃত্যু শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের নয়, গোটা দেশের সংগীতভুবনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

অরিজিৎ সিং বর্ধমানে? শুটিংয়ের জায়গা খুঁজতে গেলেন বাংলা সিনেমার গ্রামে

মঙ্গলবার ঠিক সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ অরিজিৎ সিং এলেন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের মৌখিড়া জমিদার বাড়ির কাছে। ঘুরে দেখলেন জেলার একমাত্র জঙ্গল মহলের কালিকাপুর রাজবাড়িও। ছবি তুললেন রাজবাড়ির পুরোহিত পিগলু ওরফে গোপাল চক্রবর্তীর সঙ্গে। তাকে নিরাপত্তাহীন জঙ্গলের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরতে দেখে অবাক হন অনেকে। শোনা যায় সম্প্রতি অরিজিৎ সিং বোলপুরে এসেছেন এবার এলেন আউশগ্রামে হঠাৎই। জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং একটি নতুন ছবির শুটিংয়ের জন্য রেকি করতে এসেছেন বলে জানান চিত্রনাট্যকার, লেখক, আউশগ্রামের ভূমিপুত্র রাধামাধব মণ্ডল। তিনি আরও জানান, যে তিনি ইলামবাজার সংলগ্ন অঞ্চলে শুটিংয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গা খুঁজছেন বেশ কয়েক দিন ধরেই। তাঁকে এদিন হঠাৎ করে আউশগ্রামের রাস্তায় দেখেই চমকে ওঠেন সকলে। যদিও তাঁর আশার বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয়।

জুন ২৬, ২০২৫
রাজ্য

কলকাতায় আসার পথে ইন্ডিয়ান আইডল খ্যাত গায়িকা রাফা ইয়াসমিনের সর্বস্ব চুরি, ট্রেনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ইন্ডিয়ান আইডল খ্যাত এবং বহু চর্চিত মালদার গায়িকা রাফা ইয়াসমিন ও তাঁর পরিবারের ট্রেন যাত্রার সময় সর্বস্ব খোয়া গেল। বুধবার ভোররাতে ডাউন রাধিকাপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের এই ঘটনার পর রেল পুলিশও কোনও সহযোগিতা করেনি, অভিযোগ গায়িকা রাফা ইয়াসমিন এবং তার পরিবারের সদস্যদের। শেষমেশ মালদার কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্তাকে ফোন করে কলকাতার চিৎপুর স্টেশনের জিআরপির সহযোগিতা নেন গায়িকা রাফা ও তার পরিবার। জিআরপির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গায়িকা রাফা ইয়াসমিনের বাবা রাজ্জাক হোসেন।ওই ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় এমন চুরির ঘটনায় রীতিমতো রেল পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাটি ঘটেছে ডাউন রাধিকাপুর - চিৎপুর গামী এক্সপ্রেস ট্রেনে। মালদা শহরের মীরচক এলাকার বাসিন্দা রাফা ইয়াসমিন গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ভারতবর্ষের বিভিন্ন সংগীত মঞ্চে প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন। অল্প বয়সে সঙ্গীত জগতে প্রশংসাও পেয়েছেন রাফা। রাফার বাবা রাজ্জাক হোসেন কলকাতা চিৎপুর স্টেশনের জিআরপির কাছে অভিযোগে করেছেন, মঙ্গলবার মালদা টাউন স্টেশন থেকে গভীর রাতে আমরা ডাউন রাধিকাপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠি। এ - ওয়ান শীততাপ নিয়ন্ত্রিত আমাদের আসন ছিল ১৮, ৩৪ এবং ৩৬ । ভোর ছয়টা নাগাদ আমি যখন বাথরুম যাই তখনই মেয়ে আমাকে ফোন করে বলে একটি ব্যাগ ও মূল্যবান কিছু জিনিস চুরি হয়েছে। সেই ব্যাগে কয়েক হাজার টাকার নগদ, মোবাইল, পরিচয় পত্র, এটিএম কার্ড সহ আরও জরুরি কিছু জিনিস ছিল। সেই ব্যাগটি চুরি গিয়েছে। এই ঘটনার পর রেলের এমার্জেন্সি নম্বর এবং রেল পুলিশকেও ফোন করে পাইনি। তাদের কোন সহযোগিতা মেলেনি।

জুন ১৯, ২০২৪
বিনোদুনিয়া

রিমিক্সের ভিড়ে খোলা হাওয়া মধুরা'র বাংলা দেশাত্মবোধক গানের ভিডিও অ্যালবাম 'ন হন্যতে'

ভারতের ৭৭ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সঙ্গীতশিল্পী মধুরা ভাট্টাচার্যের প্রযোজনায় প্রকাশিত হল অরিজিনাল বাংলা গান;ন হন্যতে ও তার মিউজিক ভিডিও। এই গানটির সুর দিয়েছেন সঙ্গীত শিল্পী মধুরা নিজেই। গানটি কথা লিখেছেন সৃজন। রিলিজ করেছে মধুরার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ও লেবেল MADHURAA থেকে। ভারতের স্বাধীনতা ৭৬ বছর পুর্তী উপলক্ষে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতেই মূলত তাঁর এই উপস্থাপনা বলে জানান শিল্পী মধুরা। মধুরা তার নিজের দাদু (মাতামহ) শ্রী সাধনানন্দ মিশ্র কে (যিনি, দেশ ভাগের বিরুদ্ধে, অনশনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে, জেলও খেটেছিলেন) তাঁর এই গান উৎসর্গ করেছেন।বাংলা সঙ্গীত জগতে মধুরা ভট্টাচার্য অতি পরিচিত নাম। টেলিভিশন সিরিয়াল থেকে রুপালি পর্দায় তাঁর অবাধ বিচরণ। বাংলা সিরিয়ালে গাওয়া তাঁর একাধিক হিট টাইটেল ট্র্যাক আজও বাঙ্গালির ঘরে ঘরে বাজতে শোনা যায়। ন হন্যতে গানটির যন্ত্রানুসঙ্গ ও ব্যবস্থাপনা সোমনাথ রায় ও সুব্রত বোস এর।ন হন্যতে, কথাটির অর্থ, যার ক্ষয় নেই বা মৃত্যু নেই! ন হন্যতে নামটির সাথে আমদের সম্ভবত প্রথম পরিচয় সাহিত্যিক মৈত্রেয়ী দেবীর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসে। জানা যায় মৈত্রেয়ী দেবী তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক মির্চা এলিয়াদের লেখা Bengali Nights বা লা নুই বেঙ্গলী বইয়ের প্রত্যুত্তরে, ন হন্যতে বইটি লেখেন। মৈত্রেয়ী দেবী এই উপন্যাসটি লিখে ১৯৭৬ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পান। ন হন্যতে কথাটি ভগবত গীতা থেকে নেওয়া। আত্মার সম্বন্ধে সেখানে বলা হয়েছে (গীতা ২.২০):অজো নিত্যঃ শাশ্বতোঽয়ং পুরাণো, ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।অর্থাৎ, (আত্মার) জন্ম নেই, (আত্মা) নিত্য, শাশ্বত, প্রাচীন শরীরকে হত্যা করলেও, একে হত্যা করা যায় না।ন হন্যতে গান টির প্রথমে ঘর ছেড়ে এসেছে, ঘরেরই হিফাজতে - প্রাণপাতে দ্বিধাহীন, নশ্বর দেহেও ন হন্যতে এই চারটি লাইনেই তাঁর সঙ্গীত প্রাজ্ঞ্যতার প্রমান দিয়েছেন শিল্পী মধুরা ভাট্টাচার্য। তাঁর গায়কী নিয়ে অতি বড় মূর্খও প্রশ্ন করবে না। কিন্তু তাঁর সুরারোপিত গান সত্যিই মনোরম। ৭ মাত্রার ৩|২|২ ছন্দের রুপক তালে, এই অনবদ্য গানটি মুক্তি পাওয়ার দু দিনের মধ্যেই সঙ্গীত পিপাসুদের মন জয় করতে সমর্থ হয়েছে।ন হন্যতে গানে র্যাপের অংশটির মূল আকর্ষন, গীতিকার ও র্যাপার সৃজনের অনবদ্য র্যাপের সাথে সাথে মধুরার অনবদ্য আলাপ। আহির ভৈরব রাগের আলাপের মুর্ছনায় সঙ্গীত পিপাসু শ্রোতারা মুগ্ধ হতে বাধ্য। ছোট থেকেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিমাপ্রাপ্ত মধুরা তাঁর সঙ্গীত প্রজ্ঞ্যার প্রতি সুবিচার করেছেন বলেই সমলোচকদের ধারণা।মধুরা এই প্রজেক্ট এর কথা বলতে গিয়ে, এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত সকলকে ও ঈশ্বরকে বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, তার সঙ্গীত গুরুজি শ্রী সন্দীপ নাগ, ভিডিওগ্রাফার অভিষেক আগরওয়াল, লিরিসিস্ট সৃজন, মিউজিক আরেঞ্জর সোমনাথ রায়, সুব্রত বোস, ষ্টুডিও ভায়োলিনা ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার তরুণ দাস, এনাদের একজনকেও ছাড়া এই গানটি এতো অল্প সময়ে, মাত্র ৬/৭ দিনের মধ্যে কমপ্লিট করা সম্ভব হতোনা।

আগস্ট ১৫, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে বর্ধমানে সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার শুভারম্ভ

শিশু কিশোর আকাদেমি ও পূর্ব বর্ধমান জেলা তথ্য সংসস্কৃতি দপ্তরের যৌথ আয়োজনে দুই দিন ব্যাপী জেলাভিত্তিক সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার শুভারম্ভ হল ২৭ আগস্ট। প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করলেন ভাইরাল গায়ক মিলন কুমার। দুদিনব্যাপী আবৃত্তি, রবীন্দ্রগীত, নজরুগীত,রাগপ্রধান গান এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রতিযোগিতা চলবে। জেলা তথ্য ও সংসস্কৃতি দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে বর্ধমান-কাটোয়া ট্রেনে গান গেয়ে ভাইরান হন গায়ক মিলন কুমার, সেই মিলন কুমারকে সরকারি মঞ্চে প্রধান অতিথি করে নিয়ে এসে সম্বর্ধনা দেওয়া খুবই তাৎপর্যপুর্ণ। মিলন নিজেও সে কথা জানান। তিনি মানুষের প্রতিনিধি মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চান বলে জানান ভাইরাল গায়ক মিলন কুমার।

আগস্ট ২৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

একটা আলাদা Vibe আছে কিশোর কুমারের

আমরা সকলে প্রথমে সমাজের অংশ, তারপর আমাদের জীবিকাগত পরিচয় গুলো বহনকারী মানুষ। আর সমাজের দিক থেকে দেখলে আমি আমার ছেলেবেলায় যা দেখেছি সেই থেকে বলতে পারি কিশোর কুমারে আমাদের সমাজে অবদান আলীম। ৯০ই এর দশকে দেখেছি প্রচুর সংসার চলত কিশোর কুমারের গান গেয়ে। শিল্পী হিসেবে উনি আমার কেন আমাদের সকলেরই ভীষণ প্রিয়। আমরা যারা Performer বা নিছক গান ভালোবাসি শিল্পীদের concern, television show, performance প্রায়ই শুনে থাকি। পুরোনো শিল্পীদের মধ্যে live show video যা যা available থাকে, তার মধ্যে আমি কিশোর কুমারের ভিডিও দেখি প্রায়ই। আমি ঠিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা হয়ত অনুভূতিটা। একটা আলাদা vibe আছে কিশোর কুমারের performance এ। ঠিক যেন উনি যা ব্যাক্ত করতে চান,শ্রোতা খুব সহজ সরলভাবে ওটা absorb করে নেয়। যেমন zindagi ek safar hai suhana হাজার মন খারাপ কে হারিয়ে দেয় সহজে। নয়ন শরসি এক ছাপা কান্না আবেগকে উষ্কে দিয়ে যায়। আমার বাবা এক সময় youth choir এ ছিলেন। বাবার কাছে শুনেছি উনি মিষ্টি দই পছন্দ করতেন। তা প্রায়ই নেওয়া হতো কলকাতা থেকে। বাবা ও তার কিছু সাথীর সৌভাগ্য হয়েছিল একবার আমাদের এলাকার এক দোকান থেকে দই নেওয়ার। তবে আজ বলতে চাই সেই কিশোর কুমারের কথা যিনি অসংখ্য পরিবারের কাছে পেয়েছেন ঈশ্বরের আসন।খুব অল্প বয়স থেকে শিশু শিল্পী হিসেবে আমার স্তেজের সাথে মিতালী। তাই নানা শিল্পীর সাথে ব্র্যাক স্তেজে আলাপ। এমন কিশোর কন্ঠির সাথেও আলাপ হয়েছে যিনি মঞ্চে ওঠার আগে কিশোর কুমারের ছবিতে প্রণাম করেন। কিশোর কুমারের শিল্পী নন উনি phenomenon...

আগস্ট ০৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

কে কে র মৃত্যুর জন্য এবার রূপঙ্করকে ট্রোল ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের

ভারতীয় সঙ্গীতের এক তারকা কে কে কে হারিয়ে আমরা সবাই মুহ্যমান। নজরুল মঞ্চে গতকাল পর্যন্ত যার লাইভ পারফরম্যান্সের সাক্ষী থাকলেন দর্শকরা সেই কে কে আজ আমাদের সঙ্গে নেই ভাবতে পারছেন না অনেকেই। এরকম একটা পরিস্থিতিতে সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্করের ভিডিও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল সমালোচনা। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারা কেউই রূপঙ্করকে ছেড়ে কথা বলেননি। এবার অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় রূপঙ্করের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাস্বর লিখেছেন, আজ থেকে রূপুংকরবাবুর নাম দিলীপ ঘোষ হোক। কারণ উনিও আলটপকা কথা বলে লাইমলাইটে থাকতে চান। কি অসহ্য সময়, নিজেকেই বলছেন KK-র থেকে ভালো গায়ক। সে তো মানুষ বলবে আপনি লাফাচ্ছেন কেন? রাঘবদা বা কাউকে তো এসব বলতে শুনি না। কমেন্ট বক্সে অভিনেত্রী রিমঝিম গুপ্ত লিখেছেন, এই লোকটা কারও মৃত্যুকেও একটা পাবলিসিটি স্টান্ট করতে পারে জাস্ট ভাবে না। ছি!! আমরা কোন সমাজে, কোন যুগে বসবাস করছি।প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে রূপঙ্কর সংবাদবাদ্যমকে কেকে-র মৃত্যু প্রসঙ্গে দুঃখপ্রকাশ করেছেন রূপঙ্কর। তিনি বলেছেন, দু:খ লাগছে, কষ্ট হচ্ছে। কেকে অত্যন্ত বড় মাপের শিল্পী ছিলেন। এটা ওঁর মৃত্যুর বয়স নয়। অতীতে অনেক মিউজিশিয়ান ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ওর সেই বয়স নয়। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আমি কেকে-র বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাইনি। মানুষ বুঝতে না পারলে সত্যি খারাপ লাগবে। বাংলা গান, বাংলা সাহিত্য নিয়ে বলতে চেয়েছিলাম আমি। চিনিই না মানুষটাকে। ওঁর উপর কেন রাগ থাকবে। আমি ওঁর ভক্ত। আমার বক্তব্য নিয়ে কেউ অন্য কিছু ভেবে থাকলে সেটা তাঁদের ভুল।

জুন ০১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

ইন্ডিয়ান আইডল থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি : পবনদীপ

শহরে বহুজাতিক সংস্থা তাদের ইলেকট্রিক স্কুটির উদ্বোধন করল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টলিউড অভিনেত্রী রাইমা সেন। গান গেয়ে মঞ্চ কাঁপালেন ইন্ডিয়ান আইডল জয়ী পবনদীপ রাজন ও রানার্স আপ অরুণিতা কাঞ্জিলাল। রাইমা সেন এদিন তাঁর আগামী দিনের প্রোজেক্টের কথা জানালেন। অভিনেত্রীর কথায়, মাইঃ অ্যা মাদার্স রেজ নামে একটি টিভি সিরিজ মুক্তি পেয়েছে নেটফ্লিক্সে। একটা বাংলা ওয়েব ফিল্ম করেছি। যেটা পুজোতে মুক্তি পাবে। একটি তামিল ছবি মুক্তি পাবে এই বছর। এছাড়া আশা করছি বিনয় পাঠকের সঙ্গে আমার হিন্দি ছবি আগামী ২ মাসের মধ্যে মুক্তি পাবে।পবনদীপ রাজন জানালেন, ইন্ডিয়ান আইডল থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। অনেক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। অরুণিতা কাঞ্জিলাল জানান, জার্নিটা মিউজিক্যাল ছিল। সকাল থেকে রাত অবধি শোয়ার আগে অবধি এবং শোয়ার পর মিউজিকই করতাম। এখন ক্যাপ্টেনের ভূমিকা পালন করছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।

মে ১৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

বাবা প্রাপ্য সম্মান পাননি, আক্ষেপ জোজোর

অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের কন্যা বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী জোজো। গত ৭ মে অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা তাঁর অভিনয় জীবনে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। জোজো জানিয়েছেন এই খ্যাতি পেয়েও তাঁর বাবা প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেন। তবে জোজোর একটা আক্ষেপ রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বাবা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যে সম্মান প্রাপ্য ছিল, সেইটা পাননি। সেটা ভেবে খারাপ লাগে তাঁর। গায়িকার কথায়, আসলে যে সময় তিনি পুরস্কারটা পেয়েছিলেন, তখন সংবাদমাধ্যম ততটা সক্রিয় ছিল না। বর্তমান সময়ে জাতীয় সম্মান পেলে যতটা মাতামাতি হয়, তখন সেটা ছিল না। শেষ জীবনে দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে হয়েছিল এই বর্ষীয়ান অভিনেতাকে। দীর্ঘ অভিনয় কেরিয়ার, বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দায় দাপিয়ে কাজ করেছেন মৃণাল মুখোপাধ্যায়। মৃত্যুর আগে অসুস্থ অবস্থাতেও নাকি শ্যুটিং ফ্লোরে ফিরে যেতে চাইতেন। বাবার সঙ্গে পর্দায় একাধিক কাজও করেছেন জোজো। ২০১৯ সালের ৭ মে প্রয়াত হন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

মে ১১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

তাইতো রোজই গান বেঁধে যান

সময়টা ১৯৯২ সালের ইংরাজীর এপ্রিল বা মে মাস। কলকাতার হাজড়া মোড়ের ঠিক পাশেই আশুতোষ কলেজ থেকে একটি ছেলে নিজের কলেজের শেষে এক মুহূর্ত ও সময় নষ্ট না করে লাফিয়ে উঠে পড়ল একটি সরকারি বাসে। গন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রাইভেট টিউশন্ পড়াতে যাওয়া।তারপর একের পর এক টিউশন্ সেরে রাত ১১ টা বা ১১.৩০ টায় বেরিয়ে নিজের বাড়ি ফেরা। কোন রকমভাবে হাত মুখ ধোয়া। ততক্ষণ অসুস্থ মা অপেক্ষা করছেন ছেলেটির পথ চেয়ে।মা কে জড়িয়ে ধরে সারাদিনের কথা বলা সঙ্গে একসাথে রাতের খাবার খাওয়া। তারপর এক মূহুর্ত সময় আর নষ্ট না করে নিজের পড়াশোনা নিয়ে বসে পড়া। তাঁরই সঙ্গে চলত সারাদিনের লড়াইয়ের কিছু কিছু মূহুর্ত কে নিজের কলমে কবিতা বা গানের আকারে বন্দী করা।কখন যে প্রভাতী আলোর সাড়া পেয়ে পাখির কুজনে শুরু হয়ে যেত আরও একটা দিন। সেই পাখির কুজনেই টের পেত সে, তাঁর জীবনের আরো একটা দিনের লড়াই শুরু হয়ে গেল।কখনও বা ক্লান্ত শরীরে ভোরের ঠান্ডা পরিবেশে জড়িয়ে আসত বহু দিনের জমে থাকা ঘুম। চোখ জুড়ে যেত ঘুমের দেশে পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছায়। কিন্তু ছেলেটির যে অবকাশ নেই। লড়তে হবে যে তাঁকে এই সমাজে টিকে থাকতে। আবার শুরু হত জীবনের লড়াই। হ্যাঁ, এমন করেই ছোটবেলা পিতৃবিয়োগের পর থেকেই চলেছে সেই ছেলেটির জীবনের বেঁচে থাকার লড়াই।কেউ কি জানেন সেই ছেলেটি কে?সেই বিশ্রামহীন লড়াকু ছেলেটি আর কেউ নন, আজকের বাংলা আধুনিক গানের সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। যিনি একাধারে যেমন অনায়াসে লিখে ফেলেন গানের কথা, পাশাপাশি তৈরি করে ফেলেন তাঁরই মন ভরানো সুর। হয়ে ওঠে নতুন বাংলা গান। নিজেরই দৃপ্ত ও আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে ছড়িয়ে দিতে থাকেন সমাজের সঙ্গীতপ্রেমীদের মাঝে তাঁর স্বরচিত সেই গানেদের। সেই গানেই দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে আমাদের সঙ্গীত সমাজ।ছোটবেলা তাঁর প্রতিদিনের লড়াইয়ের মুহূর্তগুলোকে কলমে বন্দী করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র অবকাশে নিজের মায়ের কাছে গান শেখা শুরু। তারপর নিজের গান তৈরীর আগ্ৰহে পৌঁছে যান নিজের মায়ের গানের শিক্ষকের কাছে। শুরু হয় সঙ্গীত শিক্ষার আর এক অধ্যায়। গান তৈরীর মূল মন্ত্র গুলোর শিক্ষা গ্ৰহণের সঙ্গে সঙ্গে তৈরী করতে থাকেন তাঁর স্বরচিত বাংলা গানেদের।তাঁর গান ক্রমশ সঙ্গীতপ্রেমী ও শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আজ তাঁর গানের ঝুলিতে কম বেশি ১৩৫ থেকে ১৫০ টি গানের সম্ভার। দিন দিন তার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।তিনি জানিয়েছেন নতুন সৃষ্টিতে আনন্দ পান। নতুন কিছু তাঁকে প্রেরণা দেয়।তাঁরই একটি লেখায় তিনি বলেছেন,তোমার চলা স্রোতের টানে,পুরনো সেই দিনের গানে,আমি আবার অন্যরকম,নতুন খুঁজি তাল ও তানে।একটুখানি অন্যরকম,নতুন গানের চেষ্টা করি,না হয় স্রোতের প্রতিকূলেই,আমার গানের বাইবো তরী।প্রথম প্রথম ভরবে না মন,গাইব যখন সন্ধ্যা ইমন,কয়েকটা বার শোনার পরেই,খুঁজে পাবে তাতেই জীবন।তাইতো রোজই গান বেঁধে যাই,তোমার ভালো লাগার আশায়,নতুন করে পড়বে তুমি,আমার গানের ভালোবাসায়।আজ নতুন বাংলা গানের এক নির্ভরযোগ্য মুখ সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। তাঁর গানে খুঁজে পাওয়া যায় জীবনের বিভিন্ন স্বাদ যা প্রতিটি হৃদয়ে আন্তরিক ভাবে সাড়া ফেলে দিয়ে যায় জীবনের প্রতিটা মূহুর্তের ভালোলাগা, কষ্ট, দুঃখ, প্রেম ও স্মৃতি গুলোর। তাঁর এই সঙ্গীতময় পথ আরো দীর্ঘ প্রসারী হোক্ জনতার কথা-র পক্ষ থেকে এই শুভকামনা রইল।

এপ্রিল ১০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

ক্যানসার কেড়ে নিল টম পার্কারের জীবন

চলে গেলেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী টম পার্কার। দ্য ওয়ান্টেড দিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। কয়েক মাস ধরে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করা পার্কার অবশেষে হার মানলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর। টম পার্কার ২০২০ সালের অক্টোবরে ভক্তদের তার টিউমারের কথা বলেছিলেন। ইনস্টাগ্রামে টমের স্ত্রী কেলসি হার্ডউইক লিখেছেন, আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। টম ছিল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্র। তার অমলিন হাসি আর সাহসী উপস্থিতি ছাড়া আমরা জীবন কল্পনাই করতে পারি না। টম-কেলসি হার্ডউইক যুগলের ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। পরিবার ও ব্যান্ডের অন্য সব সদস্য বুধবার যে সময় উপস্থিতি ছিলেন তখনই টম শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ব্রিটিশ-আইরিশ বয় ব্যান্ড দ্য ওয়ান্টেড। ব্যান্ডের অন্য আরেক সদস্য ম্যাক্স জর্জ ও সিবা কেনেসরন, ন্যাথান স্কাইসরা জানিয়েছেন, এই অকালমৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ, টম আমাদের ভাই ছিল... শব্দ দিয়ে এই শূন্যতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। আমাদের মনের পরিস্থিতি বলে বোঝাতে পারব না... টম আজীবন আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালের ৪ আগস্ট যুক্তরাজ্যের বোল্টনে জন্মগ্রহণ করেন টম পার্কার। পুরো নাম থমাস অ্যান্থনি পার্কার। তার দুই সন্তান বোধি থমাস ও প্যারিস পার্কার।

এপ্রিল ০১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে গান গাইলেন বাপ্পি লাহিড়ীর ছেলে

জি বাংলার সোনার সংসার অ্যাওয়ার্ড-এ জি-র ধারাবাহিকের সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। এই অ্যাওয়ার্ডের দিন সঙ্গে থাকে নাচ, গান। এই জি বাংলার মঞ্চে দাঁড়িয়েই প্রয়াত বাবা বাপ্পি লাহিড়ীকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন তাঁর ছেলে বাপ্পা লাহিড়ী। বাপ্পি মারা যাওয়ার সময় দেশে ছিলেন না তিনি। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেশে ফেরেন বাপ্পা। জি বাংলা ২০২২ সোনার সংসার অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চ মাতালেন বাপ্পা লাহিড়ী। মঞ্চে গান গেয়ে তাঁর প্রয়াত বাবাকে সম্মান জানালেন বাপ্পা। প্রথমে বাপ্পি লাহিড়ির গাওয়া গান পরিবেশন করেন জাভেদ আলি। তারপর জাভেদের অনুরোধেই মঞ্চে উঠে আসেন বাপ্পা। কাভি আলবিদা না কহেনাগানটি গেয়ে শোনান তিনি।২০২২ সালের শুরুতেই ভারতীয় সঙ্গীতের তিন তারা চলে গেছেন সকলকে কাঁদিয়ে। প্রথমে লতা মঙ্গেশকর, তারপর বাপ্পি লাহিড়ি, আর তারপর সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৬৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন ডিস্কো কিং। তিনি চলে গেলেও থেকে গেছে তাঁর অমূল্য কীর্তি। বরাবরই ফ্যাশন আইকন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। বলিউডকে ডিস্কো গানের সাথে পরিচিতি করানোর পিছনেও তাঁর বড় হাত ছিল। বাপ্পি লাহিড়ী আমাদের ছেড়ে চলে গেলেও তিনি আমাদের মনের মণীকোঠায় চিরবিরাজমান থাকবেন।

মার্চ ৩১, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

দিঘার মন্দিরের প্রসাদ বিতরণেও টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ! তদন্তে নেমে কী পেল লালবাজার?

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রসাদ বিতরণ থেকে অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন পালনপর্যটন দফতরের একাধিক কাজের বরাত পেয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত তিনটি সংস্থা। গত পাঁচ বছরে এমন অন্তত ১৫০টি টেন্ডারের খোঁজ পেয়েছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। অভিযোগ, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ওই তিনটি সংস্থাকেই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। পর্যটন দফতরের টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল।ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রবেশপত্র বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি এ বার পর্যটন দফতরের টেন্ডার নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক দাবি, গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৫০টি টেন্ডার পেয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত তিনটি সংস্থা। এই টেন্ডারগুলির মোট আর্থিক মূল্য কয়েকশো কোটি টাকা কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।লালবাজার সূত্রে খবর, বিভিন্ন সময়ে ব্যানার লাগানো, রেড রোডে কার্নিভালের আয়োজন, রাস্তা সাজানো, অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন পালন, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রসাদ বিতরণ এবং বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিলির মতো কাজের জন্য টেন্ডার দিয়েছিল পর্যটন দফতর। গোয়েন্দাদের দাবি, এই কাজগুলির অধিকাংশের বরাত পেয়েছে ওই তিনটি সংস্থা। সংস্থাগুলির সঙ্গে ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠদের যোগ রয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের। সেগুলির উপর প্রাক্তন মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই তদন্তের মধ্যেই বুধবারও লালবাজারে হাজিরা দেননি ইন্দ্রনীলের মেয়ে আভেরি সেন। এর আগে মঙ্গলবারও তাঁকে তলব করা হয়েছিল। সে দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়ান তিনি। বুধবার ফের তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার তাঁকে আবার হাজির হতে বলা হয়েছে। এ বারও হাজির না হলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে। প্রয়োজনে গ্রেফতারির কথাও ভাবা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।গোয়েন্দাদের দাবি, ইন্দ্রনীলের সংস্থার সঙ্গে তাঁর মেয়ের সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকার লেনদেন হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের অ্যাকাউন্টেও কয়েক কোটি টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা আবার ইন্দ্রনীলের সংস্থায় ফিরে যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই আভেরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তাঁরা।সূত্রের খবর, জেরায় ইন্দ্রনীল সেন দাবি করেছেন, দুর্নীতির বিষয়ে তাঁর স্ত্রী সব জানেন, তিনি নিজে কিছু জানেন না। এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজনে তাঁর স্ত্রীকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।পর্যটন দফতরের টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে লালবাজার। এই মামলায় নতুন এমপিও আইন প্রয়োগ করা যায় কি না, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তদন্তকারীরা। তবে টেন্ডার বণ্টন বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনও বেআইনি কাজ হয়েছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর উধাও ছিলেন ‘ঘনিষ্ঠ’ শুভ, শেষ পর্যন্ত কোথা থেকে ধরল পুলিশ?

পুজোর পাস বিক্রির মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় তিনি অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। ইন্দ্রনীল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন শুভ। তিনি ইন্দ্রনীলের সংস্থা মাস আর্ট-এর সচিব ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। বুধবার রাতে মধ্য কলকাতার পোদ্দার কোর্টের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল।এই গ্রেপ্তারি নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তেরা কোটি কোটি টাকা চুরি করেছেন। ইন্দ্রনীলকে ডাকাত এবং ধ্রুবজ্যোতিকে নিকৃষ্টতম চোর বলে কটাক্ষ করেন তিনি।তদন্তকারীদের দাবি, পুজোর পাস বিক্রির পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন কাজের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রের লজ সংস্কার, বইমেলা, গানমেলা এবং চলচ্চিত্র উৎসবের মতো সরকারি অনুষ্ঠানের কাজ ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলিকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এইভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি কাটমানি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, সেই টাকা ইন্দ্রনীল নিজে এবং তাঁর আত্মীয়দের সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরানো হয়েছে।পুলিশের দাবি, মন্ত্রিত্বের প্রভাব খাটিয়ে ইন্দ্রনীল তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সংস্থাকে সরকারি কাজের বরাত পাইয়ে দিতেন। আদালতে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তিন জনের গোপন জবানবন্দি ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে মাস আর্ট সোসাইটি, গিডি ক্রিয়েশন, থার্ড আই ক্রিয়েশন এবং রূপকার নামে কয়েকটি সংস্থার নাম। অভিযোগ, বিভিন্ন মেলা ও অনুষ্ঠানের কাজের বরাত পেত এই সংস্থাগুলি। তদন্তকারীদের দাবি, একটি পর্যায়ে গিডি ক্রিয়েশন ৫৩ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকার কাজের বরাত পেয়েছিল। থার্ড আই ক্রিয়েশন-এর হাতে যায় ৫০ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার কাজ। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, এই সংস্থার অনুষ্ঠান আয়োজনের আগের অভিজ্ঞতা ছিল না বলে অভিযোগ।অন্য দুটি সংস্থাকেও আলাদা খাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থার্ড আই ক্রিয়েশন ৩৬ কোটি ৯ লক্ষ ১৪ হাজার টাকার এবং রূপকার ৮ কোটি ২১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকার কাজের বরাত পেয়েছিল।তদন্তকারীদের আরও অভিযোগ, গিডি ক্রিয়েশন থেকে সরাসরি ইন্দ্রনীলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ইন্দ্রনীলের স্ত্রী ও মেয়ের অ্যাকাউন্টেও কাটমানির টাকা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। গিডি ক্রিয়েশন থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা এবং থার্ড আই ক্রিয়েশন থেকে ৬৬ লক্ষ টাকা মাস আর্ট-এর অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া, গিডি ক্রিয়েশন থেকে ইন্দ্রনীলের মেয়ের অ্যাকাউন্টে ২২ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।তদন্তকারীদের দাবি, মোট ২০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই লেনদেন হয়েছে। আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আরও বিপুল পরিমাণ কাটমানি লেনদেনের তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই দিকেও তদন্ত চলছে।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

পাহাড়ে উঠতে পারবেন না সবাই? সান্দাকফু ভ্রমণে কী কড়া নিয়ম আনল জিটিএ?

সান্দাকফু ও ফালুটে বেড়াতে যাওয়ার আগে এ বার থেকে আরও সতর্ক হতে হবে পর্যটকদের। পাহাড়ে ওঠার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শারীরিক সক্ষমতার শংসাপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সান্দাকফু-ফালুট রুটে একাধিক নতুন ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। থাকছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা।জিটিএ সূত্রে খবর, সান্দাকফু-ফালুট রুটের থাকুম ভ্যালি, সাবারগ্রাম এবং ফালুটে ট্রেকার ও সাধারণ পর্যটকদের জন্য রাতে থাকার জায়গায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে পাঠানো হয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পালস অক্সিমিটার এবং প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স। অসুস্থ পর্যটকদের দ্রুত পাহাড়ের নীচে নামিয়ে আনার জন্য মানেভঞ্জনে ২৪ ঘণ্টার জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাও চালু রাখা হয়েছে।শুধু সরঞ্জাম দেওয়াই নয়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় হোমস্টে কর্তৃপক্ষ, গাড়িচালক ও গাইডদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। ট্রেকিং রুট এবং ল্যান্ডরোভার সংগঠনের মাধ্যমে তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে জিটিএ। কোনও পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়লে কী ভাবে দ্রুত সাহায্য করতে হবে, তা শেখানো হচ্ছে তাঁদের।গাইড ও গাড়িচালকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও পর্যটকের তীব্র মাথাব্যথা, বমি ভাব, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট কিংবা হাঁটতে অসুবিধা হলে তাঁকে আর উপরে উঠতে দেওয়া যাবে না। দ্রুত নীচে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যটক ও স্থানীয়দের সাহায্যের জন্য মানেভঞ্জনে পর্যটক তথ্যকেন্দ্র এবং সান্দাকফুতেও বিশেষ কর্মী রাখা হয়েছে।জিটিএ-র পর্যটন বিভাগ এ বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, সান্দাকফু ও ফালুটে ট্রেকিং করতে যাওয়া পর্যটকদের যাত্রা শুরুর আগে শারীরিক সক্ষমতার শংসাপত্র দেখাতে হবে। ল্যান্ডরোভারে যাঁরা সেখানে যাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। শংসাপত্র না থাকলে মানেভঞ্জনের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় কেউ পাহাড়ে ওঠার অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হলে তাঁকে আর উপরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।জিটিএ-র পর্যটন বিভাগের কর্তা দাওয়া গ্যালপো শেরপা জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালিলা শৈলশিরায়, ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সান্দাকফু ও ফালুট। ট্রেকিং কিংবা বেড়াতে গিয়ে উচ্চতার কারণে অক্সিজেনের অভাবে অনেক পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কখনও কখনও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। সেই বিপদ এড়াতেই পর্যটকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে জরুরি চিকিৎসাসব দিকেই নজর বাড়াচ্ছে জিটিএ।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬
দেশ

‘প্রতিবাদের যুগ চলছে, আদালতে এলেন কেন?’ সংরক্ষণ মামলায় আবেদনকারীকে প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির

প্রশ্নফাঁস থেকে ভোটচুরি, নির্বাচন ও এসআইআর নিয়ে দেশজুড়ে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এই আবহেই সংরক্ষিত বিধানসভা আসনে পরিবর্তনের দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের এক ভোটার। শুনানির সময় তাঁকে প্রশ্ন করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। আন্দোলনের পথে না হেঁটে তিনি আদালতে এলেন কেন, তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি। তাঁর মন্তব্য, এটা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের যুগ। সম্ভবত আপনারও সেই পথ অনুসরণ করা উচিত ছিল। জবাবে আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, তাঁদের প্রতিবাদ করার কোনও ইচ্ছা নেই। তা ছাড়া তাঁর গলাও ব্যথা।উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর জেলার ১৯১-কাদিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার জগদীশ সিং এই মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৫২ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কাদিপুর বিধানসভা আসনটি তফসিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এই ব্যবস্থায় মাত্র চার-পাঁচটি পরিবার উপকৃত হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর।জগদীশের দাবি, লোকসভা ও বিধানসভা আসনে তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করা হোক। পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনে যেমন পর্যায়ক্রমে সংরক্ষিত আসন বদলের নিয়ম রয়েছে, বিধানসভা আসনের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা চালুর কথা বিবেচনা করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিক আদালত।আবেদনকারীর যুক্তি, সংরক্ষিত আসন পরিবর্তনের কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাঁর দাবি, এর ফলে ওই কেন্দ্রের ভোটারেরা প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সীমিত সুযোগ পান। কারণ, তাঁরা কেবল তফসিলি জাতির প্রার্থীদেরই ভোট দিতে পারেন।মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে। শুনানিতে বিচারপতিরা জানান, ভোটদানের ক্ষেত্রে ভোটারেরা যে জাতপাতকেই একমাত্র গুরুত্ব দেন, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে ভোটারেরা প্রার্থীর ধর্ম বা জাতপাতের বদলে রাজনৈতিক দল এবং তাদের আদর্শ বিবেচনা করে ভোট দেবেন, সেটাই প্রত্যাশিত।তবে সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আনার দাবিতে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। ফলে আবেদনকারীর দাবি আপাতত আদালতের সমর্থন পেল না।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

‘মবোক্রেসি গণতন্ত্রের বিকল্প নয়’, কৃষ্ণনগরে দাঁড়িয়ে কাদের নিশানা করলেন শমীক?

কৃষ্ণনগরেও বিজেপির গণতন্ত্র বাঁচাও পদযাত্রা। বুধবার এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বিজেপি। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কৃষ্ণনগরের পোস্ট অফিস মোড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তথাকথিত ককরোচ পার্টির নেতাদের কুশপুতুল এবং আরশোলার প্রতীকী মূর্তি পোড়ান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। দেশের অখণ্ডতা ও সংহতি নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।সমাবেশ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন শমীক। তাঁর অভিযোগ, পরিবারতন্ত্র থেকেই দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের জন্ম হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়েছে। তাঁর আরও দাবি, বিদেশি মদতে কিছু শক্তি দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। টুকরে টুকরে গ্যাং-এর সদস্যেরা সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়াতে চাইছে।শমীকের কথায়, ভারতের গণতন্ত্রের ভিত অনেক গভীর। কোনও ভাবেই উচ্ছৃঙ্খল জনতার শাসন গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা সফল হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে বাম ও কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী শক্তি হিসেবে বাম ও কংগ্রেস কার্যত গুরুত্ব হারিয়েছে। তাঁর দাবি, ওই দুই দল তৃণমূলের কাছে নিজেদের সঁপে দিয়েছে। অন্যদিকে, জনসমর্থন হারিয়ে তৃণমূলও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উন্নয়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বাংলার মানুষ বোমা-বারুদের রাজনীতি চান না। তাঁরা চান শিল্প, কারখানা এবং কাজের সুযোগ। রাজ্যে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় বহু যুবককে কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে চলে যেতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।সমাবেশে নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার জেলা কমিটির সদস্য অভিজিৎ দেবনাথও বক্তব্য রাখেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেও কয়েক জন বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র করছেন। এ ধরনের কাজ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং বামপন্থীদের সমালোচনা করে অভিজিতের দাবি, জাতীয়তাবাদী ও সনাতনী সমাজ একজোট হলে দেশবিরোধী শক্তিকে বাংলা তথা দেশ থেকে সরাতে বেশি সময় লাগবে না।কৃষ্ণনগরের এই সমাবেশ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে সাধারণ মানুষের অধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬
রাজ্য

বর্ষায় হারিয়ে গিয়েছিল মা কালীর মূর্তি, পুজোর আগে নদী থেকে কী ভাবে ফিরলেন মা?

বর্ষায় মন্দির থেকে হারিয়ে গিয়েছিল মা কালীর মূর্তি। পুজোর আগে সেই মূর্তিই ফিরে এল গ্রামে। সুন্দরবনের পুঁইজালীতে এই ঘটনায় খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। মায়ের মূর্তি ফিরে পাওয়ায় আনন্দে মেতেছেন গ্রামবাসীরা। নতুন করে পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্দির কমিটি।ঘটনার সূত্রপাত রায়মঙ্গল নদীতে। মাছ ধরতে গিয়ে জালে মা কালীর একটি মূর্তি পান এক মৎস্যজীবী। মাধবকাটি গ্রামের বাসিন্দা বাবলু মণ্ডল সেই মূর্তিটি উদ্ধার করে নিজের গ্রামে নিয়ে যান। পরে গ্রামের একটি মন্দিরে সেটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মূর্তি উদ্ধারের ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন গ্রামের কয়েক জন যুবক।সেই ভিডিও দেখেই মূর্তিটি চিনতে পারেন সুন্দরবনের পুঁইজালী গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি তাঁদের গ্রামের কালীমন্দিরের। বর্ষার সময় মন্দির থেকে সেটি হারিয়ে গিয়েছিল।এর পরেই মাধবকাটি গ্রামের বাসিন্দা ও মন্দির কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন পুঁইজালীর বাসিন্দারা। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকেও জানানো হয়। মাধবকাটির মন্দির কমিটির সদস্যেরা নিজেদের মতো করে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পুঁইজালী গ্রামের বাসিন্দারা মূর্তিটি তাঁদের বলে প্রমাণ দেওয়ার পর সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।মাধবকাটি মন্দির কমিটির এক সদস্য বলেন, আমরা মায়ের মূর্তিটি নদীতে পেয়েছিলাম। পুঁইজালী গ্রামের কমিটি দাবি করে, মূর্তিটি তাঁদের। বিষয়টি থানায় জানিয়েছিলাম। ওঁরা প্রমাণ দিয়েছেন। তাই আমরা মূর্তিটি তাঁদের হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছি।পুঁইজালী পুজো কমিটির সদস্য উত্তম পাত্র বলেন, আমাদের প্রতিমা হারিয়ে গিয়েছিল। এখানকার মন্দির কমিটি ও প্রশাসন সেটি আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। পুঁইজালী কালীমন্দিরে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। মূর্তি ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি।পুজোর আগে হারানো মূর্তি ফিরে পাওয়ায় এখন আনন্দে মেতেছেন পুঁইজালীর বাসিন্দারা। মন্দিরে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন করতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬
দেশ

দুবাই থেকে ফিরতেই হবে টুলু মণ্ডলকে! ১৭ নভেম্বরের সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট

দুবাই থেকে দেশে ফিরতেই হবে টুলু মণ্ডলকে। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে ভারতে ফেরার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। পাথর পাচার এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে অভিযুক্ত টুলু বর্তমানে পরিবারকে নিয়ে দুবাইয়ে রয়েছেন।বীরভূমে পাথর পাচার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে জেলা পুলিশ। অভিযোগ, সরকারি কর্মীদের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশ করে খনিজ পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় ডিসিআর এড়িয়ে যেতেন তিনি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে সেই অঙ্ক প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা বলে দাবি তদন্তকারীদের।এই মামলায় পুলিশের তৎপরতা বাড়তেই এলাকা ছেড়ে চলে যান টুলু। পরে তিনি দুবাইয়ে আশ্রয় নেন বলে জানা গিয়েছে। এ দিন সুপ্রিম কোর্টে তাঁর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মুকুল রোহতগি। তিনি জানান, আদালতের রক্ষাকবচ পেলে দেশে ফিরতে রাজি টুলু। তাঁর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ টুলুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে।আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে মুকুল বলেন, টুলু মণ্ডল দাউদ ইব্রাহিম নন। তিনি দেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে দুবাইয়ে বৈধ ব্যবসা করছেন।এর পরেই রাজ্য পুলিশের বক্তব্য জানতে চান বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শী নাগুর বেঞ্চ। রাজ্য পুলিশের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, টুলু দেশে ফিরলে আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা হবে না। তবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে।দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টুলুকে ভারতে ফেরার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি আদালত জানায়, ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। এই সময়ের মধ্যে পরবর্তী রক্ষাকবচের জন্য স্থানীয় আদালতে আবেদন করতে হবে টুলুকে।ফলে আপাতত দুবাই ছেড়ে দেশে ফিরতে হবে টুলু মণ্ডলকে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পাথর পাচার ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের তদন্ত চলবে। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সকলের।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

বিগ বস বাংলায় ফিরতেই রাজবীরের চুমু! নন্দিনীকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন সৌরভ দাসের মা

বিগ বস বাংলার দুর্গে ফিরলেন নন্দিনী দত্ত। তবে সাধারণ ভাবে নয়, ভূত জুলির সাজে। মঙ্গলবারের পর্বে তাঁকে দেখেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রাজবীর। জড়িয়ে ধরে চুমুতে ভরিয়ে দেন নন্দিনীকে। কিন্তু তাঁদের এই ঘনিষ্ঠ আচরণ মোটেই পছন্দ হয়নি অভিনেতা সৌরভ দাসের মায়ের। তাঁর মতে, প্রেমেরও একটা সীমা থাকা উচিত। রাজবীর ও নন্দিনী সেই সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।রবিবারের পর্বে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, দর্শকদের ভোটে বিগ বস বাংলার দুর্গ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন নন্দিনী। সেই খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজবীর-সহ অন্য প্রতিযোগীরা। দুর্গ ছাড়ার আগে প্রেমিকাকে চুমুতে ভরিয়ে দিয়েছিলেন রাজবীর। তবে পরে জানা যায়, নন্দিনী আসলে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েননি। তাঁকে দুদিনের জন্য রাখা হয়েছিল গোপন ঘরে।মঙ্গলবার রাতে ভূত জুলির সাজে ফের মূল দুর্গে প্রবেশ করেন নন্দিনী। জানা যায়, বেশ কিছু বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে ফিরেছেন তিনি। নন্দিনীকে দেখেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রাজবীর। তাঁকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিতে শুরু করেন। তাঁদের এই ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়ে আগেও আপত্তি জানিয়েছেন অনেকে। খোদ সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাঁদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ বার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অভিনেতা সৌরভ দাসের মা। তাঁর কথায়, মিষ্টি প্রেম হতেই পারে। কিন্তু এটা একটা নোংরামির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। চরম বাড়াবাড়ি হচ্ছে। সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। রাজবীর আর নন্দিনী সেই সীমাটাই পার করে গিয়েছে। শো দেখাই ছেড়ে দেব ভেবেছিলাম।বিগ বস বাংলার ঘরে রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনই শোয়ের পারিবারিক চরিত্র বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

নভেম্বর ০৪, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal