• ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SA

রাজ্য

বঙ্গীয় হকার সংগঠন রেল পুলিসের অত্যা চার নিয়ে আন্দোলনের হুমকি

শক্তিগড় রেলস্টেশনে জোরদার আন্দোলনে রেল হকাররা। তাদের দাবি আরপিএফ স্বেচ্ছাচারিতা করছে। দমন পীড়ন চালিয়ে টাকা আদায় করছে। এর বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।বঙ্গীয় হকার সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেন মল্লিক জানান, এক মাস আগে রসুলপুর থেকে এক হকারকে তুলে আনা হয়। তার কাছে নিয়মিতভাবে আরপিএফকে টাকা দেবার দাবি করা হয়। অস্বীকার করলে ডাকাতি ও মহিলা কামরায় ওঠা সহ নানা কেস দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে তারা ডেপুটেশন দিতে এলে একটা মীমাংসা হয় জিআরপির উপস্থিতিতে। কিন্তু তারপরও নাদিমবাবুর নামে একটি শমন জারি করা হয়। রেল পুলিসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই বিক্ষোভ বলে তাঁরা জানান।তারা দাবী, রাষ্ট্র আমাদের স্থায়ী কাজ দিতে পারেনি। চুরি, আসৎ উপায় অবলম্বন না করে ট্রেনে ট্রেনে ফেরি করি। এই কাজে বাধা দিতে গেলে জোর লড়াই হবে বলে তাঁরা হুঙ্কার ছাড়েন।

আগস্ট ২০, ২০২২
রাজ্য

স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনের প্রাক মুহুর্তে বিপ্লবীদের আস্ত্র ভান্ডারের হদিস বালুরঘাটে

বহু বিপ্লবী লড়াই, সংগ্রাম ও আত্মবলিদানের ফলে আমাদের এই দেশমাতৃকা ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছে। তারপর থেকে দেশের প্রবাহিত নদীগুলির মধ্যে দিয়ে বহু জল প্রবাহিত হয়েছে। দেশ স্বাধীনতা লাভের ৭৪ টি বসন্ত পার করে ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে। আর সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বালুরঘাট শহরের প্রাচীন স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম প্রাচ্য ভারতি স্কুল ভাড়ার ঘর থেকে অনুশীলন সমিতির ব্যবহার করা অস্ত্রশস্ত্রের হদিস মিললো।উল্লেখ্য যে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে বালুরঘাট ক্ষুদ্র হলেও অসামান্য অবদান রেখেছে। দেশের পঞ্চম স্থান হিসেবে স্বাধীনতার লাভের আগেই একদিনের জন্য হলেও স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ইংরেজদের ইউনিয়ন জ্যাক নামিয়ে বালুরঘাটে তিরাঙ্গা পতাকা উড়িয়েছিলেন। আর সেই সমস্ত ইতিহাস তৈরীর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল যুগান্তর, অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠনগুলির। প্রাচ্যভারতী প্রতিষ্ঠান যা বর্তমানে একটি ক্লাব সংগঠনের পাশাপাশি একটি বিদ্যালয়ের রূপ পেয়েছে সেই প্রাচ্য ভারতীতে ছিল যুগান্তর অনুশীলন সমিতির মতো গোপন বিপ্লবী সংগঠনের আস্তানা।বিপ্লবীদের অনেক অস্ত্র লুকানো থাকতো এই সংগঠনের বিভিন্ন বিভিন্ন জায়গায়। সেই অস্ত্রের কিছু অংশবিশেষ উদ্ধার হল প্রাচ্যভারতীর ভাঁড়ার ঘর থেকে। পাশাপাশি কিছু প্রাচীন মূর্তির ধ্বংসাবশেষ ও উদ্ধার হয় শুক্রবার দুপুরে প্রাচ্য ভারতি স্কুলের ভাড়ার ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে। বিদ্যালয় এর শিক্ষকেরা সেই অস্ত্রশস্ত্র এবং মূর্তিগুলি উদ্ধার করে সযত্নে রেখে দেন। আগামী দিনে এই অস্ত্রশস্ত্র গুলি নিয়ে তারা স্কুলেই একটি ছোট্ট মিউজিয়াম তৈরি করতে চান বলে স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন। স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে এই ধরনের স্বাধীনতার কাজের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র খুঁজে পাওয়ার ফলে স্বাধীনতা যুদ্ধে বালুরঘাটের অবদানের ইতিহাস জানতে অনেক শিক্ষকরা আশাবাদি বলে জানান।

আগস্ট ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌মাঠে নেমে পড়লেন লক্ষ্মী, প্রথম দিনের অনুশীলনে অভিনবত্ব

কয়েকবছর ধরে ভাল খেলেও রনজিতে সাফল্য আসেনি। অরুণলালকে সরিয়ে এবছর বাংলা ক্রিকেট দলের দায়িত্ব লক্ষ্মীরতন শুক্লার হাতে তুলে দিয়েছেন সিএবি কর্তারা। রনজি জয়ের লক্ষ্যে বুধবার থেকে মাঠে নেমে পড়লেন বাংলার নবনিযুক্ত কোচ। সিএবির ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ৬টি উইকেটে টানা ৬ ঘন্টা ধরে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের নিয়ে পড়ে রইলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা, সৌরাশিস লাহিড়ী, শিবশঙ্কর পালরা।এই মরশুমের জন্য ৪১ জন ক্রিকেটারকে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা। আপাতত তাঁদের নিয়েই প্রস্তুতি চলবে। প্রস্তুতি শিবিরে ডাক পাওয়া মনোজ তেওয়ারি, মহম্মদ সামি, মুকেশ কুমাররা প্রথম দিনের অনুশীলনে ছিলেন না। এদের কেউই শহরে নেই। অভিমন্যু ঈশ্বরণ, অনুষ্টুপ মজুমদাররা অবশ্য একসময়ের সতীর্থর অধীনে চুটিয়ে অনুশীলন করেন। ভেজা টেনিস বল ও প্লাস্টিকের বলে ব্যাটিং অনুশীলন চলে দীর্ঘক্ষণ। গত কয়েক মরশুম ধরে বাংলার মূল সমস্যা ব্যাটিং। ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার দারুণ অভাব। সেদিকেই নজর দিতে চাইছেন লক্ষ্মী। তাই শুরু থেকেই অনুশীলনে অভিনবত্ব নিয়ে এসেছেন। প্রথম দিনের অনুশীলনে মূলত ব্যাটিংয়ের প্রাথমিক বিষয়গুলির অপর নজর দেন লক্ষ্মীরতন। ব্যাটারদের ব্যাকফুট ও ফ্রন্ট ফুটের ব্যবহার নিয়ে পরামর্শ দেন। এছাড়া হুক শট, সুইপ শটও অনুশীলন করান। কীভাবে বল ছাড়তে হবে, সেটাও নিজের হাতে দেখিয়ে দেন।প্রথম দিনের অনুশীলেন পর লক্ষ্মীরতন বলেন, ইন্ডোরে আজ আমরা অনুশীলন শুরু করলাম। প্রথম দিন মূলত ব্যাটিংয়ের বেসিক জিনিসের ওপর জোর দিয়েছি। প্লাসিক বলের পাশাপাশি ভেজা টেনিস বলেও অনুশীলন করিয়েছি। কীভাবে বল ছাড়তে হয় সেটাও দেখিয়েছি। বল ছাড়টা ব্যাটিংয়ের একটা শিল্প। নিজের নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে লক্ষ্মী বলেন, এই দায়িত্বটা নতুন হলেও জায়গাটা পরিচিত। মনেই হচ্ছে না যে এই কাজটা আগে কখনও করিনি। যখন ছেলেদের অনুশীলন করাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিল আমি তো এখানেই ছিলাম। এখন শুধু প্রাথমিক ব্যাপারগুলোর দিকে জোর দিতে চাই।আপাতত এভাবেই অনুশীলন চলবে।এদিকে, বাংলার সিনিয়র দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব ২৫ দলের জোরে বোলিং কোচ করা হল ময়দানের সুপরিচিত ম্যাকো শিবশঙ্কর পালকে।

আগস্ট ০৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

'অরুণের' প্রস্থানে বাংলার আবার 'লক্ষ্মী' লাভ, আশায় বুক বাঁধছেন ক্রীড়া প্রেমীরা

ভারতীয় ক্রিকেটে লক্ষ্মীরতন শুক্লা শুধুমাত্র একটা নাম নয়, লক্ষ্মীরতন শুক্লা একটি বিশ্বাস। যে বিশ্বাসের আশায় এখন দুলছে বাংলার ক্রিকেট। ৩০ রানে ৫ উইকেটে ধুঁকছে বাংলা, লক্ষ্মীর আগমনে সেই রান পৌছে গেলো ৩০০/৫। কিনান স্টেডিয়াম, ব্যাট হাতে বাংলার ক্রাইসিস ম্যান উল্টো দিকে বল হাতে তৎকালীন সময়ের ভারতের দ্রুততম পেস বোলার আশিস নেহেরা। লক্ষ্মীর ইনিংসের প্রথম বল মাঠের বাইরে। ছয় রান। লক্ষ্মী মানে আসাধ্যসাধন, লক্ষ্মী মানে আশ্বাস।বাংলা ক্রিকেটের আকাশে অরুণলাল অস্তমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোজাগরীর লক্ষ্মীর আবির্ভাব। ক্রীড়াপ্রেমী বাংলার মানুষের আশা, লক্ষ্মী কোজাগরী পূর্ণিমার রাতের ঝলমলে আকাশের মতো আলো ছড়িয়ে বাংলার ক্রিকেট ভাঁড়ারে বহু মূল্যবান রতন এনে দেবেন। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) আগামী মরসুমে বাংলার সিনিয়র দলের কোচ হিসাবে লক্ষ্মীরতন শুক্লার নাম বিবেচনা করেছেন। ক্রিকেট ছাড়ার পর থেকেই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাওড়ার ডুমুরজলাতে বিনা পারিশ্রমিকে বাচ্চাদের নিয়ে কোচিংয়ে মেতে ওঠেন। যাঁরা ব্যক্তিগত ভাবে তাঁকে চেনেন তাঁরা জানেন, লক্ষ্মী কি প্রচন্ড ফিটনেস ফ্রিক। নিত্যদিন জিমে ১-২ ঘণ্টা সময় কাটান নিজেকে ফিট রাখতে। অত্যাধুনিক কোচিং ম্যানুয়ালের সঙ্গে সুপরিচিত এরকম একজন মানুষকে বাংলা দল পাশে পেয়ে ভীষণ রকম উপকৃত হবে সে কথা বলাই বাহুল্য। এর আগে তিনি বাংলা অনুর্ধ ২৩ দলের দায়িত্ব সামলেছেন।লক্ষ্মী খেলার শেষে মাঠ থেকে সোজা বাড়িতে ফিরে এসে পরিবারের মানুষজন ও কিছু ঘনিষ্ট বন্ধুবান্ধবের সাথেই সময় কাটাতে বেশী পছন্দ করেন। তাঁর জীবনদর্শন গড়পড়তা পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা। তাঁর কথা একটা প্রতিবেদনে লিখে শেষ করা মুশকিল। তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন যোগ্য ব্যক্তিদের স্যার সম্বোধন করতেন অবলীলায়। যা তাঁর শিক্ষা ও বংশপরিচয়ের প্রমান রাখে। ছোটোবেলায় দাদার সাথে সাইকেলের পিছনে বসে ব্লাউজের পিস বিক্রী করেছেন অভাবের সংসারের পাশে থাকতে, সে থেকেই হয়ত জন্ম নিয়েছে লড়াকু মানসিকতার, হার না মানা লক্ষ্মীর।উল্লেখ্য, লক্ষ্মী ২০১৬-তে বর্তমান শাসক দলের হয়ে ভোটে লড়ে হাওড়া উত্তর বিধানসভা থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। বিধায়ক হয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া রাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পান। ২০২১-র ৫ জানুয়ারি লক্ষ্মী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বান্দ্যপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে তিনি দল ও মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যহতি চান। মমতা প্রেসকে জানান লক্ষ্মী খুব ভালো ছেলে, ও খেলায় মোনযোগ করতে চায়। বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে প্রবাদটির প্রতি সন্মান দিয়েই বোধহয় লক্ষ্মী মাঠে-ই ফিরে গেলেন। ঘাসফুল নয় তাঁকে টানছিল মাঠের সবুজ ঘাস। শাসক দলের বিধায়ক, মন্ত্রিত্ব...... হাজারো সুবিধা, প্রলোভন যে ছেলে অবলীলায় ছক্কা মেরে মাঠের বাইরে পাঠাতে পারে, মাঠ তো তাঁকে টেনে নেবেই। অভিষেক ডালমিয়া ও তাঁর সহকারীরা একেবারে সঠিক মানুষকেই বাংলার দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন বলে বাংলার প্রাক্তনীরা জানাচ্ছেন।ভোটের প্রচারে লক্ষ্মীরতন শুক্লাতাঁর জীবনটাই এক লড়াই, স্কুল বেঙ্গল খেলায় জম্মুতে গিয়ে একপ্রকার জোর করে প্রথম দলে ঢুকে ম্যচ জেতানো ইনিংস উপহার দেওয়া। তাঁর নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাস তাঁকে অনেকটা সামনে নিয়ে গেছে। তাঁর এই অদম্য মনোভাবের পরিচয় তিনি রেখেছিলেন সে ছোটবেলা থেকেই। নদিয়ার গয়েসপুরে অনুর্ধ ১৬ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট টুর্নামেন্টের ফাইনালে হুগলীর পাঁচ জন ব্যাটারকে রান আউট করে ম্যান অফ দা ম্যাচ হওয়া ক্রিকেটারের নাম লক্ষ্মীরতন শুক্লা। যাখনই যে দলে খেলেছেন সেই দলকে খাদের কিনারা থেকে তোলার দ্বায়িত্ব নেওয়া যেন তাঁর কাছে সহজাত ব্যাপার ছিল। তাঁর খেলা ফুটে উঠত দল খাদে পড়লেই। তাঁর কেরিয়ার অ্যানালিসিস করলে দেখা যাবে ৩০/৫ অবস্থায় নেমে লক্ষ্মী যে খেলা খেলেছেন, ৩৫০/৫ এ তাঁকে সেভাবে পাওয়া যাইনি।২০১১-১২-র মরসুমে বিজয় হাজারে ট্রফিতে সারা টুর্নামেন্ট জুড়ে অনবদ্য পারফরমেন্স করে বাংলাকে চাম্পিয়ন করেন। ফাইনালে মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে বল হাতে দুরন্ত পারফরমেন্সের (৯.২ - ১ - ৩৮ - ৪) পর ব্যাট করতে নেমে অনবদ্য অপরাজিত শতরান (১০৬) করেন। ফাইনালে সেরা খেলোয়াড়ও তিনিই নির্বাচিত হন লক্ষ্মী। মনে রাখতে হবে সেই দলে বাংলার আইকন সৌরভ গাঙ্গুলী, বর্তমান ভারতীয় দলের দ্রুততম পেস বোলার মহঃ শামি-ও ছিলেন।তাঁর খেলোয়াড় জীবনের মূল মন্ত্র ছিল মাঠে না নেমে হারবো না। এই মনোভাবটাই তিনি তাঁর সহ-খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন। মুম্বাই ক্রিকেটে একটা কথা খুব চালু আছে খাড়ুশ, যার অর্থ হল উইকেটে পরে থাকো। বোলার তোমার উইকেটে অর্জন করুক, তুমি তাকে তোমার উইকেট বিসর্জন দিও না। লক্ষ্মী তাঁর সহ-খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁর মনোভাব তুমিও পারবে ছড়িয়ে দিতে সফল হয়েছিলেন, তাই বহু জুনিয়ার খেলোয়াড় আজও লক্ষ্মীকে মনে রেখেছে। কলকাতা ময়দানে বিভিন্ন বড় দলে খেলেও কোনও নির্দিষ্ট স্ট্যাম্প লাগতে দেননি তাঁর গায়ে। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে তিনি কালিঘাট ক্লাবকে পাঁচ মুকুট চাম্পিয়ান করেছিলেন।লক্ষ্মীর জন্ম হাওড়া শহরে ঘুশুড়ি এলাকায়। শুক্লা স্থানীয় ঘুশুড়ি শ্রী হনুমান জুট মিল হিন্দি হাই স্কুলে এবং ডন বস্কো হাই অ্যান্ড টেকনিক্যাল স্কুল, লিলুয়া থেকে পড়াশোনা করেন। তাকে স্থানীয় মানুষ জন ভালোবেসে বিট্টু নামে ডাকেন, শুক্লা বাংলা অনূর্ধ্ব-১৬ দলে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ খেলায় উড়িষ্যা-র বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ৫৬ এবং ৫ উইকেট নিয়ে তাঁর আগমন জানান দিয়েছিলেন। এরপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলা খেলতে খেলতে, মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন সেই ম্যাচে ২৬ রান এবং ২টি উইকেট দখল করে তাঁর যোগ্যতার প্রতি সুবিচার করেন। পরের সিজিনে তিনি দলীপ ট্রফির জন্য নির্বাচিত হন।হার না মানা লক্ষ্মীরতন শুক্লাক্রিকেট বিশেষঞ্জদের মতে তাঁর ব্যাটিং ছিল ভয়ডরহীন। তিনি দ্রুত গতিতে বোলিং করতেন এবং একজন আন্তর্জাতিক মানের সুদক্ষ ফিল্ডার ছিলেন। তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতার জন্য তাঁকে ১৯৯৯ এ সফরকারী পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ভারত এ-তে খেলার জন্য ডাক পেয়েছিলেন। ওপেনিং বোলিং করে শুক্লা ওয়াজাহাতুল্লাহ ওয়াস্তি, ইউসুফ ইউহানা এবং ইনজামাম-উল-হক এর উইকেট নিয়েছিলেন, সেই মাচে তিনি ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। ১৯৯৯ এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচ দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার শুরুক মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলিয়ে তাঁকে বাতিলের তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়।শুক্লা ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের হয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধেও দারুণ খেলেছিলেন, সেই ম্যাচে তিনি ৪ টি উইকেট নেন। সে সময়ের পাকিস্তানের চার মহারথী শহীদ আফ্রিদি, ইনজামাম, আজহার মাহমুদ, এবং ইউহানাকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন, তাঁর এ হেন পারফরমেন্সের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা ছিল হয়ত খুব শীঘ্রই লক্ষ্মী ভারতীয় টেস্ট দলে ডাক পাবেন।২০১১-১২ দেশের সেরা অলরাউন্ডারের পুরস্কার লালা অমরনাথ ট্রফি পান লক্ষ্মীরতন শুক্লা। এবং আশ্চর্যের ব্যাপার, সেই সেরা অলরাউন্ডারকে তাঁর সেরা সময়ে দেশের হয়ে খেলে নিজেকে প্রমান করার নুন্যতম সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁকে মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলিয়ে শুধু যে তাঁর প্রতি অবিচার করা হল তা নয়। দেশ একজন লড়াকু ছেলের লড়াই দেখা থেকে বঞ্চিত হল। যাঁর জানপ্রান লড়াই বাংলার অগণিত ক্রিকেটপ্রেমী দেখতে অভ্যস্ত ছিল, সেটা কলকাতা ময়দানের লিগ খেলা হোক বা রঞ্জি ট্রফির ম্যাচ। তাঁর এই মনোভাব অসম্ভব ছোঁয়াচে ছিল। প্রায়সই সেই রোগে আক্রান্ত হয়ে জুনিয়র খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের উজার করে দিতেন।সারা বাংলা লক্ষ্মীরতন শুক্লার দিকে তাকিয়ে, গত দুটি রঞ্জীতে বাংলা অরুনলালের কোচিং -এ একবার ফাইনাল ও এবার (২০২২) সেমিফাইনালে পোঁছেও চুড়ান্ত সফলতা পাইনি। লক্ষ্মী-সৌরাশিষ জুটি কি বাংলাকে সি উচ্চতায় পৌছাতে পারবেন? পারিবারিক জীবনেও লক্ষ্মী-সৌরাশিষ জুটি অনেকদিনের। সেই সমঝোতা কতটা কাজে লাগে বাংলার ক্রিকেটে সেই দিকেই তাকিয়ে বাংলা ক্রিকেটপ্রেমী জনগণ। লক্ষ্মী-সৌরাশিষ দুজনে একসঙ্গে বহু ম্যাচ বাংলার হয়ে খেলেছেন। পুরনো পেস-স্পিন জুগলবন্দী দেখার আশায়। সৌরাশিষ এর আগে বাংলার অনুর্ধ ২৩ টিমকে নিয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁর সাফল্য ঈর্ষনীয়। সৌরাশিষের সাধাসিধে জীবনযাত্রা ক্রিকেটের প্রতি সততা ও অনুগত প্রান উপরি পাওনা বাংলার ক্রিকেটে।বাংলার ক্রিকেটের আর এক জনপ্রিয় ব্যাটার মনোজ তিওয়ারি। যিনি লক্ষ্মী-র ছেড়ে আসা পদে আসীন হয়ে বাংলার বর্তমান ক্রীড়া রাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্ভবত বিশ্ব ক্রিকেটে হয়ত বা যেকোনও ধরনের খেলায়, এক প্রাক্তন ক্রীড়া রাষ্ট্রমন্ত্রী কোচিং এ বর্তমান ক্রীড়া রাষ্ট্রমন্ত্রী খেলবেন। এক প্রাক্তন ক্রিকেটারকে একবার তাঁর ঘনিষ্ট মহলে বলতে শুনেছিলাম, লক্ষ্মীরতন শুক্লা কমপক্ষে ১০০ একদিনের ম্যাচ খেলা উচিত ছিল, বাস্তবে সেটা হইনি, কিন্তু সেকারণে তাঁর কমিটমেন্টের কোনও খামতি ছিল না। বর্তমানে অনেকের মুখেই শোনা যায় এ বাঙালি ও অবাঙালি, লক্ষ্মী হেঁসে তাঁদের বলে যে বাঙলাই জন্মেছে সেই বাঙ্গালি। গর্বিত করেছে এই বাংলা বহুবার... আরও করবে ভবিষ্যতে। তাঁর কথাতেই শেষ করি। বাংলার জার্সির লোগোতে বাঘের ছবি আছে,মাঠেও তাঁর প্রতিফলন দেখতে চাই বাংলা তোমার থেকে......।কুনাল মুখোপাধ্যায়(বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদস্ত আধিকারিক)

জুলাই ৩১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ইস্টবেঙ্গলে আসছেন অভিজ্ঞ গোলকিপার, মোহনবাগান ছেড়ে দিল সন্দেশকে

গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্যকে এই মরশুমে রাখছে না ইস্টবেঙ্গল। এই ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লালহলুদ কর্তারা। নিজের ভবিষ্যত বুঝে আগেই নর্থইস্ট ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন এই বঙ্গ গোলকিপার। তাংর পরিবর্তে বাংলার আর এক অভিজ্ঞ গোলকিপারকে নিতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। শুভাশিষ রায়চৌধুরির সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত লালহলুদের। শুধুমাত্র চুক্তিপত্রে সই করা বাকি।লালহলুদে চূড়ান্ত হয়ে গেছেন বাঙালী মিডফিল্ডার সৌভিক চক্রবর্তী। হায়দরাবাদ এফসিকে ট্রান্সফার ফি দিয়েই তাঁকে নিচ্ছে লালহলুদ। সৌভিক চক্রবর্তীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করছে ইস্টবেঙ্গল। একসময় খেলে যাওয়া ব্রেন্ডন ভানলালরেমডিকাকেও সই করানোর পথে অনেকটাই এগিয়েছে ইমামি ইস্টবেঙ্গল। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের কভার ছবি পালটে ইস্টবেঙ্গল দলের ছবি রেখেছেন ব্রেন্ডন। ইস্টবেঙ্গলের তালিকায় রয়েছেন আরও তিন ভারতীয় ফুটবলার। এরা হলেন হলেন ভি পি সুহের, ঋত্বিক দাস ও অনিকেত যাদব।এদিকে, সন্দেশ ঝিংঘানকে রিলিজ দিল এটিকে মোহনবাগান। বৃহস্পতিবারই তাঁকে রিলিজ দেওয়ার কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করল সবুজমেরুণ। ২০২০ সালে কেরালা ব্লাস্টার্স থেকে ৫ বছরের চুক্তিতে এটিকে মোহনবাগানে যোগ দেন সন্দেশ। পরের বছর তিনি ক্রোয়েশিয়ার সিবেনিকে যোগ দেন। চোটআঘাতের জন্য সিবেনিকের জার্সি গায়ে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। সিবনিক থেকে ফিরে এসে তিনি আবার এটিকে মোহনবাগানে যোগ দেন।এবার কি লালহলুদ জার্সি গায়ে খেলতে দেখা যাবে সন্দেশকে? তেমন সম্ভাবনা জোরালো হল। ইস্টবেঙ্গল এই ডিফেন্ডারকে দলে পেতে আগ্রহী। এটিকে মোহনবাগান রিলিজ দেওয়ায় লালহলুদ সুযোগ নেওয়ার জন্য তৈরি। যদিও সন্দেশের ইচ্ছে বিদেশের কোনও ক্লাবে খেলা। বিদেশের ক্লাবে সুযোগ না পেলে লালহলুদ জার্সি গায়ে দেখা যেতে পারে সন্দেশকে।

জুলাই ২৮, ২০২২
রাজ্য

পার্থর প্রমীলা সঙ্গ নিয়ে বিব্রত দল! অর্পিতা, মোনালিসা... আর কে কে?

২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারি নিয়ে দল সাংবাদিক সম্মেলন করলেও, এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য রাখেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। যদিও সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিমরা যে কথা বলেছেন, সেটি তৃণমূল নেত্রীরই বক্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের ধারনা মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল জল মাপছেন। তবে সুত্রের খবর, পার্থ ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত কিছুটা নরম। ঘনিষ্ট মহলের ধারনা, যে কোনও মানুষের বিপদ হলে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হয় এরকমই মনে করছেন নেত্রী, তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সতীর্থ নিয়ে কিছুটা সময় দেওয়ার কথাও হয়ত ভাবছেন তিনি।শিল্পমন্ত্রীর এই ঘোর দুর্দিনে ঘনিষ্টমহলে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলছেন তৃণমূল নেত্রী। আদালতের নির্দেশ হাতে না পেয়ে পার্থকে সরানো উচিত হবে না বলে শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেন। তবে দলের অনেকেই পার্থর প্রমীলা-আসক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুক্রবার ইডি-র হানার পরই পার্থ ঘনিষ্ঠ হিসাবে নাম উঠে এসেছে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় নামে জনৈক অভিনেত্রীর নাম। রাত গড়াতে না গড়াতেই আরও এক মহিলার নাম নাম উঠে আসে। তিনি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মোনালিসা দাস। ইডি সুত্রে জানা যায়, পার্থ ঘনিষ্ট অভিনেত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ২১কোটির বেশি নগদ টাকা, সোনার গহনা ও বিদেশী নোট। অপরদিকে বিজেপি নেতাদের দাবি, বীরভূম জেলায় শান্তিনিকেতনে অধ্যাপিকা মোনালিসার কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি বাড়ি আছে, সে সবই পার্থের আনুকুল্যে। সেখানকার স্থানীয়রা সংবাদমাধ্যমে বলেন, পার্থ সহ অনেক ভিভিআইপিদের আনাগোনা ছিল এই বাড়িগুলিতে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম।কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-র (ইডি) তদন্তকারীরা এসএসসি দুর্নীতি মামলার একেবারে মূলে পৌঁছতে চাইছেন। জনমানসে একটা প্রশ্ন বারবারই উঠে আসছে, এবং যেটি নিয়েই সবচেয়ে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা হল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল মহাসচিবের সঙ্গে এই দুই মহিলার পরিচয় বা ঘনিষ্ঠতা-র উৎস কি বা কে? টলিগঞ্জের বিলাসবহুল আবাসনের অন্যান্য আবাসিকরা জানান, অর্পিতার ফ্ল্যাটে লালবাতি গাড়ি চড়ে রাতে কেউ আসতেন। তবে কে বা কারা আসতেন সে বিষয়ে তাঁরা খোলসা করে কিছু বলেননি।আসানসোলের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালের অধ্যাপিকা মোনালিসার নাম সামনে আসতেই নানা প্রশ্ন ভেসে আসছে। সুত্র মারফত জানা যায়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকোত্তর মোনালিসা প্রথম জীবনে বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করতেন। ২০১৪ তে তিনি কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালের অধ্যাপিকা হিসাবে যোগদান করেন। এবং খুব স্বল্প দিনে ২০১৮ তেই তিনি অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হয়ে যান এবং উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় প্রধান হয়ে যান। তাঁর এই উল্কা গতির উত্থান তাঁর পরিচিত জনের অনেকেই ভালো চোখে নেননি। কিন্তু তৃণমূলের উচ্চস্তরের নেতাদের ঘনিষ্ট হওয়াতে কেউই এবিষয়ে মুখ খোলেননি। এই মুহুর্তে মোনালিসার আয় বহির্ভুত সম্পত্তির সাথে সাথে তাঁর শিক্ষকতা যোগ্যতা ও চাকরির সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল।

জুলাই ২৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মডেলিং থেকে অভিনয়ে পা অভিনেত্রী উপাসনা ঘরুই

মডেলিং জগতে বেশ জনপ্রিয় নাম উপাসনা ঘরুই। বিভিন্ন ব্যান্ডের শ্যুটে দেখা গিয়েছে তাকে। বেশ জনপ্রিয়তার শিখরে উপাসনা ঘরুই। কলকাতা শহর ও মুম্বই শহরে দেখা গিয়েছে তাকে নানান শ্যুটিং এ।তবে এবার তার মডেলিং থেকে অভিনয় জীবনে পা। খুব তাড়াতাড়ি তার নতুন ছবির শ্যুটিং শুরু হবে। কলকাতা শহরে হবে নতুন ছবির শ্যুটিং। তবে ছবির গল্প নিয়ে উপাসনা এখনই সেরকম কিছু জানাতে চান না।এর আগে মিউজিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে উপাসনা ঘরুই কে। তবে অভিনেত্রী উপাসনা ঘরুই জানান, এই মুহূর্তে আমি সিনেমা করতে চাই। ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চাই।

জুলাই ১৫, ২০২২
বিনোদুনিয়া

বিশেষ সম্মানে সম্মানিত আইএনআইএফডি সল্টলেক

প্ল্যাটিনাম সেন্টার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করল সল্টলেকের আইএনআইএফডি। উপস্থিত ছিলেন আইএনআইএফডি গ্লোবালের সিইও অনীক খোসলা সহ আরও বিশিষ্টরা। এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন টলিউড অভিনেতা বিক্রম চ্যাটার্জি ও অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। গত ২৫ বছর ধরে সফলভাবে ফ্যাশন ও ইন্টিরিয়র ডিজাইনে নজর কেড়েছে আইএনআইএফডি সল্টলেক। অ্যাওয়ার্ড পেয়ে সংস্থার সকলেই উচ্ছ্বসিত। এক সাক্ষাৎকারে ম্যানেজার অর্ণব রায় জানিয়েছেন, ভারতের প্ল্যাটিনাম সেন্টার অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত। আইএনাইএফডি সল্টলেকের পরিশ্রমের ফসল হল এই অ্যাওয়ার্ড। ফ্যাশন ও ইন্টিরিয়র ডিজাইনে আগামী দিনে নতুন প্রতিভা তুলে আনার ভাবনা রয়েছে আমাদের।

জুলাই ০৮, ২০২২
রাজ্য

'মা কালি' বিতর্কে কড়া সমালোচনা করলেন টলিউডি অভিনেত্রী

ভারতীয় চিত্র পরিচালক লীনা মানিমেকালাইয়ের তথ্যচিত্রের একটি পোস্টারে দেবী কালী রূপে এক মহিলাকে ধূমপান করতে দেখা যায়। সেই পোস্টার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সোমবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বেফাঁস কথা বলে ফেলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মিত্র। যার জেরে আসমুদ্র হিমাচল রে রে শুরু করে দেন। তাঁর করা সেই মন্তব্য নিয়ে দানা বাঁধে নতুন এক বিতর্ক। মহুয়ার করা মন্তব্য নিয়ে কড়া বিবৃতি দেই ভারতীয় জনতা পার্টি। তাঁর মন্তব্য নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে শুরু করে বিজেপি। সাংসদের দল সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফেও টুইট করে জানিয়ে দেওয়া হয়, তৃণমূল দল মহুয়ার বক্তব্যকে সমর্থন করছে না।চিত্র জগতের পক্ষ থেকেও এই মন্তব্য নিয়ে বিবৃতি দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। ইতি মধ্যে মৌবনি সরকার তাঁর সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন এই বিতর্কিত মন্তব্যের, তিনি লিখেছেন আমি একবার মা কালীর উপর একটি সংক্ষিপ্ত সঙ্গীত চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলাম, যা আমি শেয়ার করব, কিন্তু রাজনীতিবিদরা যারা নিজেদের অত্যন্ত স্মার্ট মনে করে বক্তব্য রাখেন, আমার কাছে মা কালী শুধুমাত্র একজন মহিলা যিনি মদ্যপান করেন..., ইত্যাদি ইত্যাদি, দয়া করে আগে নিজেদেরকে শিক্ষিত করুন তারপর মা কালী সম্পর্কে বলার সাহস দেখান। এটা লজ্জার যে আপনি বাংলার, যেখানে মা কালী দেবীরুপে পুজিত হন এবং আপনার নিজের সাংস্কৃতির প্রতি সত্যিই অকৃতজ্ঞ, সেকারনে আপনাকে আরও স্মার্ট বা শিক্ষিত করে তুলতে পারে না। আপনাদের মত এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভোট দিতে এবং সমর্থন করতে আমাদের লজ্জা হওয়া উচিত যার যারা নিজেদেরকে ঈশ্বরের ওপরে মনে করেন। তিনি আরও বলেন আমার মনে হয় আমরা ইতিমধ্যেই এর জন্য অনেক মূল্য পরিশোধ করছি।২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে হিন্দু দেবতা শিব কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে বিপাকে ফেলেছিলেন বর্তমান তৃনমূল কংগ্রেসের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। সম্প্রতি বিজেপির অপসারিত যুবনেত্রী নুপুর শর্মা-র মন্তব্য ঘিরে সারা দেশ জুড়ে অস্থিরতার বাতাবরণ তৈরি হয়। তৃনমূল সংসদ মহুয়া মিত্র সেই একই পথে হেঁটে ধর্মীয় ভাবাবেগকে আবার আযাচিত ভাবে আঘাত হানলেন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।এখানে উল্লেখ্য হিন্দু দেবতা মা কালী কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তৃণমূল সাংসদের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্যেরা বৌবাজার থানায় বুধবার দুপুরে মোট ৫৬টি অভিযোগ দায়ের করেন। মহুয়ার গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

জুলাই ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌বাংলার সঙ্গে দীর্ঘ ক্রিকেট জীবনের সম্পক ছিন্ন করলেন ঋদ্ধিমান

২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলার সিনিয়র দলের জার্সি গায়ে অভিষেক। তারপর মাঝে কেটে গেছে ১৫টা বছর। অবশেষে ১৫ বছর পর বাংলার ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন ঋদ্ধিমান সাহা। বাংলা থেকে অন্য রাজ্যের হয়ে খেলার জন্য ছাড়পত্র নিয়ে নিলেন। চললেন ত্রিপুরায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সামনের মরশুমে ত্রিপুরার হয়ে রনজি খেলতে দেখা যাবে ঋদ্ধিমানকে। সামনের সপ্তাহেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে ত্রিপুরার সঙ্গে চুক্তি।সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ সিএবিতে আসেন ঋদ্ধিমান সাহা। তার আগেই সিএবিতে পোঁছে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া ও সচিব স্নেহাশিস গাঙ্গুলি। তিনজনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। টানা ৪০ মিনিট ধরে বৈঠক হয়। ঋদ্ধিমানকে বাংলা ছেড়ে না যাওয়ার অনুরোধ করেন অভিষেক ডালমিয়া ও স্নেহাশিস গাঙ্গুলি। দুজনের অনুরোধে সাড়া দেননি ঋদ্ধি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিয়ে নেন। সিএবির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ঋদ্ধিমান সাহা সিএবিতে এসে সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার কাছে রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার নো অবজেকশন সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে অন্য রাজ্যের হয়ে খেলার জন্য এনওসি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋদ্ধিমানের জন্য শুভেচ্ছাও জানানো হয়েছে। ভারতীয় টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর ঋদ্ধি সিএবিকে জানিয়েছিলেন, তিনি এবছর রঞ্জি খেলবেন না। পারিবারিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান। তারপরই সিএবি যুগ্মসচিব দেবব্রত দাস ঋদ্ধিমানের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঋদ্ধিমান দাবি করেছিলেন দেবব্রত দাসের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা। সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া অবশ্য দেবব্রতর বক্তব্যের দায় নিতে চাননি। এরপর রঞ্জি কোয়ার্টার ফাইনালে ঋদ্ধিমানকে বাংলা দলে রাখা হয়। কিন্তু ঋদ্ধির অভিযোগ ছিল, তাঁকে না জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত। এরপরই তিনি বাংলার হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নেন। এনওসি পেয়ে ঋদ্ধি বলেন, বাংলা না ছাড়ার জন্য আমাকে আগেও অনুরোধ করা হয়েছিল। আজকেও অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আগে থেকেই আমার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে। আজ এনওসি নিয়ে নিলাম। কোন রাজ্যের হয়ে খেলবেন, সে প্রসঙ্গে ঋদ্ধি বলেন, এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। বেশ কয়েকটা রাজ্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। চূড়ান্ত হলে সবাইকে জানাব। ত্রিপুরার সঙ্গে কথা অনেকদূর এগিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে চূক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। বাংলার সঙ্গে তাঁর কোনও ইগোর লড়াই ছিল না বলে জানিয়েছেন ঋদ্ধিমান।

জুলাই ০২, ২০২২
রাজ্য

মা সারদা নিয়ে তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের

মন্তব্যের পাঁচ দিন পর কড়া জবাব বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের। তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি বলেছিলেন, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে স্বামী বিবেকানন্দর কয়েকজন সতীর্থ মহারাজ মা সারদাকে বলেছিলেন, পরবর্তীতে কালীঘাট মন্দির এলাকায় মনুষ্যরূপে জন্ম নেব। সেই জন্মের পর ত্যাগ, তিতিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক কাজে যুক্ত হব। রাজনৈতিক কাজকর্মও করব। ওই বিধায়ক আরও বলেছিলেন, সময়, সংখ্যাতত্ত্ব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মা সারদা। কারণ দুর্গাপুজোর অষ্টমী-নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে তাঁর জন্ম। দিদি-ই মা সারদা, দিদি-ই সিস্টার নিবেদিতা, দিদি-ই ঘরের দুর্গা। নির্মল মাজির এই মন্তব্যে চারিদিকে আলোড়ন পড়ে যায়। ভক্তদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পেয়েছে বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন। তাঁদেরকে ভক্তরা জানিয়েছেন, বিধায়কের ওই বক্তব্যে তাঁরা আঘাত পেয়েছেন।শুক্রবার তৃণমূল বিধায়কের ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খোলে বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন। মঠের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবিরানন্দজি মহারাজ বলেছেন, ওই রাজনৈতিক নেতার উক্তি মা সারদার মর্যাদাকেই ভুলুণ্ঠিত করেছে।স্বামী সুবিরানন্দজি মহারাজ বলেছেন, সম্প্রতি কোনও এক রাজনৈতিক নেতা তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, শ্রী শ্রী মা সারদা দেবী নাকি দেহত্যাগের আগে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের বলে গিয়েছেন, তিনি এর পরে মানবী রূপে দক্ষিণ কলকাতায় আবির্ভূত হবেন। তখন তিনি ত্যাগ, তিতিক্ষা, সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে যাবেন। শ্রী শ্রী মাকে নিয়ে রামকৃষ্ণ মঠ-মিশন ও অন্যান্যদের থেকে প্রামাণিক যে যে গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তাতে এরকম কোনও তথ্য নেই। তাহলে ওই নেতা কীভাবে এমন অদ্ভুত তথ্য পেলেন কোথায়? কী ভাবে তা প্রকাশ্য সভায় বললেন? তা আমাদের বুদ্ধির অগোম্য।রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের সকল সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী অত্যন্ত দুঃখ-ক্ষোভের সঙ্গে মনে করছে ওই নেতার বক্তব্যের দ্বারা আমাদের পরম আরাধ্যা শ্রী শ্রী মায়ের মর্যাদা হানি করেছেন। আমাদের সকলের মায়ের এই অসম্মান আমাদের দুঃসহ বলে মনে হচ্ছে। এই দুঃসাহস যেন আর কেউ না দেখায়।

জুন ৩০, ২০২২
রাজ্য

আদিবাসীদের আন্দোলন স্মরণ জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার, জানিয়ে দিলেন সরকার তাঁদের পাশে আছে

সারা রাজ্যে মহা সমারোহে পালিত হল হুল উৎসব। ইংরেজ অপশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে সংগ্রাম হয়েছিল তা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত, সেই বিশেষ এই দিনটিকে স্মরণ করে পালিত হয় হুল দিবস। অলচিকি ভাষায় হুল কথার অর্থ বিদ্রোহ। ১৮৫৭ তে সিপাহী বিদ্রোহের ২ বছর আগে ১৮৫৫ তে সংগঠিত হওয়া এই বিদ্রোহ-ই আলো দেখিয়েছিলো ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে জোড়ালো করতে। একই পরিবারের ভাইবোন সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব,আর দুই বোন ফুলমনি এবং ঝানু মুর্মু-র এই আন্দোলন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই ছয় ভাইবোনের ডাকা আন্দোলনে এককাট্টা হয়েছিল চারশোটি গ্রাম। সে ডাকে সাঁওতালরা ছাড়াও সারা দিয়েছিলো সমস্ত নির্যাতিত মানুষ।বৈদ্যপুর রথতলায় হুল উৎসব-এ উপস্থিত অতিথিবর্গপূর্ব বর্ধমান জেলার অনগ্রসর, শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কালনা-২ ব্লকের বৈদ্যপুর রথতলায় বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানে হুল উৎসব পালন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সম্পা ধারা, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি ও পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী শাখা সংগঠনের সভাপতি দেবু টুডু, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর উজ্জ্বল প্রামানিক, কালনা মহকুমাশাসক সুরেশ কুমার জগৎ, কালনা-২ বিডিও ও জেলা অনগ্রসর শ্রেনীকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধিকারিকগন।এদিনের এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের আম্বেদকর মেধা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, আদিবাসী আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে পথ দেখিয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে আমাদের আমরা ভুলতে পারি না। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা উপস্থিত সকলকে হুল দিবসের শুভেচ্ছা জানান। জেলাশাসক বলেন, বিদ্রোহের সময় যে অবদান আদিবাসীদের ছিল, আজকের সমাজেও তাদের অবদান ভোলার নয়।জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে আদিবাসী প্রথায় বরন করা হচ্ছেতিনি আরও বলেন,আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি যত উদযাপন করতে পারি সেটা আমাদের পক্ষে মঙ্গল। তিনি আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য যা যা সুবিধা দেয় সেটা তাঁরা যেন ঠিক ঠিক সময় সরকারি দপ্তরে উপস্থিত হয়ে গ্রহণ করেন। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে উপস্থিত হয়ে তাঁদের জাতিগত সংসাপত্র গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, জমির পাট্টা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সরাসরি সরকারি দপ্তরে তাঁরা যেন যোগাযোগ করেন। সরকার আপনাদের পাশে আছে।কালনার-২ বৈদ্যপুর রথতলা সংলগ্ন বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপিঠ সংলগ্ন ময়দানের এই অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতির হার ছিল যথেষ্ট। এদিন নানারকম আদিবাসী সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ধামসা, মাদল এর ছন্দে পা মেলান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু।

জুন ৩০, ২০২২
রাজ্য

'গোপনে সারদা কর্তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন শুভেন্দু, নিয়েছেন টাকা,' গ্রেফতারের দাবি কুণালের

দলের রাজ্য দফতরে নারদের টাকা নেওয়ার ভিডিও দেখিয়ে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারের দাবি করেছিল বিজেপি। এবার একই পরথে হাঁটল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রধান দফতরে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের বক্তব্য শোনানো হল। সাংবাদিকদের দেখানো হল সুদীপ্ত সেনের চিঠি। এসব দেখিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব শুভেন্দু অধিকারীর গ্রেফতারির দাবি তুলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা সারদাকান্ডে অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ এদিন বলেন, সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেনের চিঠিতে অভিযুক্ত নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু চোর, ব্ল্যাকমেলার। সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে নগদে টাকা নিয়েছেন। বিজেপি করছে নিজেকে বাঁচাতে। আগের চিঠিতে সুদীপ্ত সেন লিখেছেন তিনি যখন রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়েছিলেন তখনও শুভেন্দু দেখা করতে গিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে। বিজেপি অফিসে নারদার ফুটেজ দেখিয়ে গ্রেফতারের দাবি করা হয়েছিল। তদন্ত শুরু করে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বাদ ছিল শুধু শুভেন্দু।কুণালের দাবি, ৫০ লক্ষ টাকা কাঁথি পুরসভার নামে ব্যাংক ড্রাফটের কথা বলেছেন সুদীপ্ত। শুভেন্দুকে গ্রেফতার করে তদন্ত করতে হবে। তৃণমূল নেতা তাপস রায় সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে শুভেন্দুকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানান। শুভেন্দু ইস্যুতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে নিশানা করেছেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যপাল কিসের বিনিময়ে শুভেন্দুকে রাজনৈতিক প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই বিষয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। যদিও শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেছেন কুণালের কথার তিনি জবাব দেন না।

জুন ২৪, ২০২২
রাজ্য

আদালতের নির্দেশে মন্ত্রী-কন্যার খোয়ানো চাকরি পাচ্ছেন ববিতা, সঙ্গে আরও সুযোগ

দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল পেলেন চাকরিপ্রার্থী ববিতা সরকার। রাজ্যের শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতার খোয়ানো চাকরি পাচ্ছেন ববিতা সরকার। এই রায়ে এদিন আদালত চত্বরেই আনন্দে চোখে জল চলে আসে ববিতার। শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ববিতা সরকারকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার। পাশাপাশি বাকি বিষয়গুলিতে অবিলম্বে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পর্ষদকে।বেআইনি ভাবে মেধাতালিকা থেকে তাঁকে টপকে রাজ্যের মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ববিতা সরকার। সওয়াল-জবাব, তথ্য়-প্রমাণ খতিয়ে দেখে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমে মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতাকে শিক্ষকতার চাকরি থকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। এতদিন পর্যন্ত চাকরি করে যে বেতন অঙ্কিতা পেয়েছিলেন তাও ফেরানোর নির্দেশে দেয় আদালত।এদিন অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, নির্লজ্জভাবে অঙ্কিতাকে বেনিয়ম করে চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ববিতা সরকারকে চাকরিতে নিযুক্ত করতে হবে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার ১০ দিনের মধ্যে অঙ্কিতার ফেরত দেওয়া টাকা দিতে হবে ববিতাকে।

জুন ২৪, ২০২২
রাজ্য

২১ জুলাই সফল করতে শিক্ষকদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠকে কাকলি

কোভিড পরিস্থিতির কারণে পর পর দুবছর ধর্মতলায় ২১ জুলাই শহিদ দিবসে আনুষ্ঠানিক সমাবেশ করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য বছরের মতো ২০২০ ও ২০২১-এ ধর্মতলায় শহিদ বেদিতে মাল্যদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভার্চুয়াল বক্তব্য রেখেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ফের ধর্মতলায় জনসভা করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তারই প্রস্তুতি সভা চলছে রাজ্যজুড়ে। বর্ধমান জেলাতেও চলছে মিছিল, মিটিং।শুক্রবার দেওয়ানদিঘীতে বর্ধমান এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে শিক্ষকরা মিলিত হয়েছিলেন শহিদ দিবস সফল করার শপথ নিয়ে। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ব্লক তৃণমূলের সভাপতি কাকলি তা গুপ্ত, তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি আবু বক্কর। হাজির ছিলেন শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা। ছিলেন বর্ধমান এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষরাও। জেলা জুড়ে দেওয়াল লিখন, পাড়ায় পাড়ায় বৈঠক, মিছিল, মিটিং চলছে ২১ জুলাই সফল করার জন্য।

জুন ২৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ুধ-এর নতুন প্রযোজনা ‘মাস্টারদা: ১৯৩০’

স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামী মাস্টারদা সূর্য সেনের প্রতি নিবেদিত এক শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসাবে দমদমের ঐতিহ্যবাহী নাট্যদল রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ুধ মঞ্চস্থ করল তাঁদের নতুন প্রযোজনা মাস্টারদা: ১৯৩০। নাটকটি লিখেছেন ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. দানী কর্মকার। কলকাতার মুক্তাঙ্গন মঞ্চে মঞ্চস্থ হল নাটকটি। মাস্টারদার জীবন ও দর্শনমগ্ন এক সমষ্টিজীবন এই নাট্য। এই নাটক এক বেদনাদায়ক এবং একই সাথে বিস্মৃত ইতিহাসের গৌরবময় পাঠে পরিণত হয়েছে। ডকু থিয়েটারের আঙ্গিকে মঞ্চের নির্ধারিত পরিসরেই উঠে এসেছে ঐতিহাসিক সেই সময়। অবিভক্ত বাংলার অজস্র বিপ্লবীদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে অবিস্মরণীয় আত্মবলিদানের এক রক্তাক্ত দলিল যেন এই নাটক। এ যেন সংলাপের মাধ্যমে এক অখন্ড জীবন-কথা। নাট্যকার সংলাপ, আবহে, অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চের পরিসরে ত্রিশের সেই ঐতিহাসিক যুগ রচনা করেছেন আশ্চর্য দক্ষতায়। ঐতিহাসিক হলেও এই নাটক সমকালীন চিরন্তন মহাকাব্য হয়ে উঠেছে। ত্রিশের দশকে ব্রিটিশ পরাধীনতার সেঁকল ছিঁড়তে বাংলার যে সমস্ত বিপ্লবী তরুণ তরুণী সংগ্রাম করেছেন তাঁদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টারদা। গান্ধীজীর অহিংস আন্দোলনের বিপরীতে চট্টগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মাস্টারদা। আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের দলের নাম রেখেছিলেন ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা। সেইসব স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম ও অবদানের পাশাপাশি এই নাটকে উল্লেখিত হয়েছে তৎকালীন ঐতিহাসিক ঘটনা ও মুহূর্ত। এ যেন অগ্নিযুগের বিপ্লবনাট্য।অতিমারি কাটিয়ে মাস্টারদার জীবন ও সাধনার সমস্ত তথ্য সাল-তারিখসহ ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের এই নাটকটি সত্যি অনবদ্য। মাস্টারদার চরিত্রে কাজল শম্ভুর চরিত্রায়ন প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার চরিত্রে যথাক্রমে ঝুমা ঘোষ ও বর্ণালী কর্মকার নাটকে প্রাণ সঞ্চার করেছেন।নাটকের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিত সরকার, রাজদীপ সাহা, বিনায়ক কর্মকার, লোকনাথ দাস, ঈশান কর্মকারসহ এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী। নাটকের আবহ ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ড. দানী কর্মকার। নাটকের বিশাল প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও আবেগময় মুহূর্ত সৃষ্টিতে আবহ বিরাট ভূমিকা রেখেছে। মঞ্চে বিশাল রক্তাক্ত ক্যানভাস নাটকের বিষয়ভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে। আলো আঁধার ও যুদ্ধের ভয়াবহতা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন আলোক পরিকল্পক গোবিন্দ কর্মকার। এছাড়া রূপসজ্জায় ছিলেন সৌগত মিত্র, পোশাক ভাবনায় সীমা কর্মকার এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন বর্ণালী কর্মকার।

জুন ২৩, ২০২২
রাজ্য

নতুন গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত গলসি, নজর রাখছে জেলা নেতৃত্ব

নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং তার জেরে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ ঘিরে তেতে উঠেছে গলসি ১ ব্লকের রাজনৈতিক পারদ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে তাতে রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা বড় বিপদে পড়তে পারে শাসক তৃণমূল। এমনকি ওই ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির কাজকর্ম শিকেয় উঠতে পারে।রাজনৈতিক মহলের দাবি, দিন দুয়েক আগে শাসকদলের পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে দলেরই কোন্দল রয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজ না করে তৃণমূল পরিচালিত গলসি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারের টাকা পাওয়ার অভিযোগ তুলে সবর হয়েছেন ওই সমিতিরই সদস্য-সদস্যাদের একাংশ, বেশ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ সহ খোদ সভাপতি রোকেয়া বেগমও। যদিও লিখিত কোন অভিযোগ নেই। তবে তাঁদের দাবি, ঠিকাদার কোন কাজ না করেই দুদফায় কাজের অনুমোদিত সমস্ত অর্থ তুলে নিয়েছে। আর তা হয়েছে ঠিকাদার অনুপবাবুর ঘনিষ্ঠ বলে। আর এই অভিযোগকে ঘিরে সরগরম গলসির রাজনীতি। কিন্তু সেই সব অভিযোগ উড়িয়ে অনুপবাবুর পাল্টা দাবি, যা হয়েছে সব নিয়ম মেনেই হয়েছে। ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে দলের ভাবমূর্তি, প্রাশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছেন অভিযোগকারীরা। কিন্তু, দলের জেলা নেতৃত্ব জানেন কোথায় কি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গলসি ১ ব্লকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলেও তার তীব্রতা সব থেকে বেশি দেখা যাচ্ছে গত এক মাসধরে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দলের আদিগোষ্ঠীর পরিবর্তে নতুন গোষ্ঠী মাথা চড়া দিয়েছে ওই ব্লকে। ফলে দিন যত যাচ্ছে ততই নতুন গোষ্ঠীর কোন্দল প্রকাশে চলে আসছে। এলাকায় কোন গোষ্ঠী আধিপত্য বিস্তার করবে, তা নিয়েই নতুন গোষ্ঠী-বিরোধ। যার এক দিকে রয়েছেন ব্লক তৃণমূল প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলা সহ সভাপতি জাকির হোসেন এবং তাঁর অনুগামীরা। অন্য দিকে, পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চট্রোপাধ্যায় ও তাঁর গোষ্ঠী।স্থীনায় সূত্রে খবর, গলসি ১ পঞ্চায়েত সমিতিতে আধিপত্য রয়েছে অনুপবাবুর। আর সভাপতি রোকেয়া সহ বেশ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ আর সদস্য রয়েছেন জাকিরের দিকে। কিন্ত এমনটা ছিল না। মাস পাঁচেক আগেও জাকিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিল অনুপ। আর তাঁদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল দলের ব্লক সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের। এলাকার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের ওই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলছে। তারই জেরে মারপিট, পার্টি অফিস ভাঙচুর, বোমাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠছে দুই পক্ষের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই লড়াইয়ে তিতিবিরক্ত ছিলেন। কিন্ত নতুন করে জাকির আর অনুপের কোন্দল দলকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমান সফরের আগেই গলসির এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব ঘুম ছুটিয়েছে জেলা নেতৃত্বের।কিন্তু কেন এমন হলো?রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাকির আর অনুপের দূরত্ব বেড়েছে পারাজ-শিল্ল্যা রোডের উপর পঞ্চায়েত সমিতির টোল নিয়ে। তাঁদের দাবি, ওই টোল নিজের ঘনিষ্ঠদের পাইয়ে দেওয়ার জন্য উঠে-পরে লেগেছিলেন জাকির হোসেন। কিন্তু, পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ম মেনে দরপত্র ডেকে দেওয়াতে তা হয়নি। এরপর যত দিন গড়িয়েছে ততই দূরত্ব বেড়েছে জাকির আর অনুপের। সম্প্রতি পারাজে কাঠের সেতুর উপর টোল আদায় বন্ধ করেছে প্রশাসন। যে কাঠের সেতুর উপর অবৈধভাবে টোল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জাকিরের অনুগামীদের বিরুদ্বে। এই টোল আদায় বন্ধ করার পেছনে অনুপ কলকাটি নেড়েছে বলে মনে করছেন জাকিরের অনুগামীরা। ফলে জাকির আর অনুপের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের ভেঙে দেওয়া গলসি ১ ব্লক সভাপতি পদে দুজনই দৌড়ঝাঁপ করছেন। আর সেই দৌড়ে অনুপকে পেছনে ফেলতে জাকির গোষ্ঠী অনুপ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারকে কাজের আগে টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সবর হয়েছেনে, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।জেলাস্তরে এক নেতার বক্তব্য, গলসির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবৈধ বালি খাদান চালানো, বৈধ বালি খাদান থেকে টাকা তোলার অভিযোগ ছিলই। তারপরে নতুন করে এমন সব অভিযোগ আসছে যা দলকে ভাবিয়ে তুলছে। তবে দল এইসব বেনিয়ম বরদাস্ত করবে না। আগামীতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তৃণমূলের জেলা শীর্ষ জানিয়ে দিয়েছে।

জুন ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দর বাড়ানোর খেলায় মেতেছেন!‌ ঋদ্ধিকে নাকি প্রস্তাবই দেয়নি বরোদা–গুজরাট

সিএবির যুগ্মসচিব দেবব্রত দাসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঋদ্ধিমান সাহা। প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া আসরে নামলেও বরফ গলেনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ঋদ্ধির কাছে নাকি বেশ কয়েকটি রাজ্যের হয়ে খেলার জন্য প্রস্তাব রয়েছে। এই তালিকায় বরোদা ও গুজরাটও ছিল। কিন্তু বরোদা ও গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে, ঋদ্ধিমান সাহাকে তাদের রাজ্যের হয়ে খেলার কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষকর্তা অনিল প্যাটেল বলেছেন, ঋদ্ধিমান সাহাকে গুজরাটের হয়ে খেলার জন্য কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। হেট প্যাটেল নামে আমাদের একজন তরুণ উইকেটকিপার রয়েছে। ও দারুণ খেলছে। ঋদ্ধিমানকে দলে নিয়ে কেন আমরা ওর ক্রিকেটজীবন নষ্ট করব?বরোদার পক্ষ থেকেও ঋদ্ধিকে কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়শনের সচিব অজিত লেলে এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখান থেকে সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, গত একমাস ধরে আমি দেশের বাইরে। ঋদ্ধিমান সাহাকে আমাদের হয়ে খেলার প্রস্তাব দেওয়ার কোনও খবর আমার কাছে নেই। অম্বাতি রায়ুডুকে আমরা নিয়েছি। নতুন করে ঋদ্ধিকে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা আমাদের নেই। ত্রিপুরা অবশ্য ঋদ্ধির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু ঋদ্ধির আর্থিক চাহিদা মেটানোর ব্যাপারে কিছুটা হলেও অনীহা রয়েছে।এদিকে, বোরিয়া মজুমদারের সঙ্গে তাঁর বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন ঋদ্ধি। চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি। ঋদ্ধিমান জানিয়েছেন, ওই একবারই নয়, বোরিয়া মজুমদার নাকি আগেও এইরকম কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, আমি দেখাতে চেয়েছিলাম একটা সাক্ষাৎকারের জন্য একজন সাংবাদিক কতটা নীচে নামতে পারেন! আমি পরে জানতে পেরেছি ওই সাংবাদিক এমনটা আগেও করেছেন। সে কারণেই বিসিসিআই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এবং ওই সাংবাদিককে শাস্তি দিয়েছে। আমি প্রথমে মুখ খুলিনি বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকার শর্ত মেনেই। ঋদ্ধিমান আরও বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম যে হুমকির ঘটনার কথা প্রকাশ্যে নিয়ে আসব না। কেন না, সকলেরই কেরিয়ার রয়েছে। কিন্তু যদি এমন আচরণের পরেও কারও আক্ষেপ না থাকে, তাহলে কতক্ষণ আর চুপ থাকা যায়?

জুন ২২, ২০২২
বিনোদুনিয়া

পীযুষ সাহার হাত ধরে প্রিন্সের বড়পর্দায় অভিষেক, জালবন্দী নিয়ে উন্মাদনা

সমরেশ মজুমদারের রহস্য উপন্যাস অবলম্বনে জালবন্দী তৈরি করেছেন বাংলার সকলের পরিচিত প্রযোজক ও বহু শিল্পীর কারিগর পীযূষ সাহা। এই ছবি দিয়েই বাংলা ছবিতে অভিষেক হলো পীযুষ সাহার পুত্র প্রিন্স-এর। ছবিতে অভিনয় করেছেন দীপঙ্কর দে, পায়েল সরকার, জুন মালিয়া, দর্শনা বণিক, পম্পা সাহা, খরাজ মুখোপাধ্যায়, পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায় ও রণজয়। ক্যামেরার দায়িত্ব সামলেছেন গোপী ভগত।পীযুষ সাহা পরিচালনার ক্ষেত্রে বরাবর দর্শককে নতুন মুখ ও নতুন ধরণের গল্পের সন্ধান দিয়ে এসেছেন বহু বছর ধরেই। তার হাত ধরেই অঙ্কুশ, শুভশ্রী, রুবেলের রূপালী পর্দার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। গ্যাঁড়াকল, তুলকালাম, কেল্লাফতে, রাজু আঙ্কেল, বাজিমাত, নীল আকাশের চাঁদনী, বেপরোয়া-এর মত ছবি দর্শকমহলে ছাপ রেখে গেছে। এবার পীযুষ সাহার ছেলে প্রিন্স কতটা দর্শকদের মন জয় করতে পারে সেটাই দেখার।জালবন্দী নিয়ে প্রিন্স জানালেন, অনেকটাই এক্সাইটেড। পাশাপাশি একটু নার্ভাস ও আছি। দেখা যাক দর্শক কিভাবে আমাকে অ্যাক্সেপ্ট করে। সিনিয়রদের থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তবে এখনও অনেক কিছু শেখা বাকি আছে।

জুন ২০, ২০২২
রাজ্য

কিডনি বেচে অভাবের সংসার চালাতে ফেসবুকে পোস্ট বর্ধমানের যুবকের, শোরগোল শহরজুড়ে

করোনা শুধু জীবন কাড়েনি, বেঁচে থাকলেও তার রসদ ছিনিয়ে নিয়েছে। করোনা আবহে লকডাউনের কারণে বহু মানুষের পেশা, কাজ হারিয়ে গিয়েছে। অভাব-অনটন বেড়েছে লাখো লাখো সংসাসারে। এবার বেঁচে থাকার তাগিদে সোশাল মিডিয়ায় কিডন বিক্রি করার আবেদন জানালেন বর্ধমান শহরের প্রতিবন্ধী যুবক। তাঁর এই পোস্টে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বর্ধমানে। বর্ধিষ্ণু শহরের হলটা কী! শেষমেশ কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন একেবারে প্রকাশ্য়ে। তবে জেলা প্রশাসন তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে।নিজের কিডনি বিক্রি করবে বলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বর্ধমানের টিকরহাটের ভাড়া বাড়িতে থাকা প্রতিবন্ধী যুবক সম্রাট গোস্বামী। যুবকের পরিবারের রয়েছে স্ত্রী ও এক সন্তান। বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেছেন সম্রাট। পরে কম্পিউটারে কোর্স করে সম্রাট একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেটা অপারেটরের কাজে যোগ দেন। লকডাউনের সময়ে সেই কাজ চলে গিয়েছে। সেই থেকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সম্রাটের পরিবার। এমনকী অন্নসংস্থানের জন্য লোকের বাড়িতে পরিচারিকারকাজ শুরু করেছেন সম্রাটের স্ত্রী মণীষাদেবী। মণীষা জানিয়েছেন, তিনি দুটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে পান মাত্র ২৪০০ টাকা। অথচ বাড়ি ভাড়া মেটাতে হয় তিন হাজার টাকা। এরপর রয়েছে খাওয়া ও অন্যান্য খরচ।সম্রাট এদিন বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক চেষ্টা করেও রোজগারের পথ খুঁজে পাইনি। তা নিরুপায় হয়ে নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। আশা একাটাই, ক্রেতা মিলে গেলে মোটা টাকা পাওয়া যাবে। তা দিয়ে রুটি রুজি জোগাড়ের একটা পথ তৈরি হবে। মণীষার আবেদন, সরকার বা কোনও সহৃয় ব্যক্তি তাঁর স্বামীর একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিলে সংসারটা বেঁচে যাবে।সম্রাটের বোন বনশ্রীও কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, লকডাউনে আমাদেরও কাজ চলে গিয়েছে। ভাড়া বাড়িতে থআকি{ শুনেছি কিডনি বিক্রি করলে মোটা টাকা পাওয়া যায়। তাই আমার স্বামী ও আমি দুজনেই কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার প্রক্রিয়া বেশ খানিকটা এগিয়ে গেলে বুঝতে পারি আমরা প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়েছি। তাই আর কিডনি বিক্রি করা হয়নি। আমাদের পরিবারও বহু কষ্টে আছে। ভাই সোশাল মিডিয়ায় কিডনি বিক্রির পোস্ট করেছে। কিন্তু চাইলেই তো আর কিডনি বিক্রি করা হবে না, ক্রেতাও তো পেতে হবে। তাছাড়া ভাই মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে অসুস্থ। সেদিকটাও মাথায় রাখতে হবে।সম্রাট ও বনশ্রীর বাবা মুর্শিদাবাদ জেলায় পুরসভার কর্মী ছিলেন। সঙ্কটে সেই পুরসভাও পাশে দাঁড়ায়নি। অভিযোগ, এক হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সামান্যই। তাই ছেলে বউয়ের মুখ চেয়ে এখন সোস্যাল মিডিয়ায় কিডনির ক্রেতা খুঁজছেন সম্রাট। বিষয়টি জানার পর ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমা শাসক তীর্থাঙ্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন,আইন মেনে পরিবারটিকে সমস্ত রকম সাহায্য করা হবে।

জুন ১৯, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 30
  • 31
  • 32
  • 33
  • 34
  • 35
  • 36
  • ...
  • 82
  • 83
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চোরবাগানে দুর্গাপুজোর ভিড়ে মর্মান্তিক বিপর্যয়! পদপিষ্টের আশঙ্কা, একাধিক মৃত্যুর দাবি সূত্রের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল আতঙ্কে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি, তার সঙ্গে বিপুল দর্শনার্থীর চাপসব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে তৈরি হল ভয়াবহ পরিস্থিতি। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আনন্দবাজার সুত্রে জানা যায় এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তাদের থানায় ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপের আলো এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ।প্রবল বৃষ্টির জেরেই কি বিপত্তি?সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। শুরু হয় ঠেলাঠেলি। সেই সময় কয়েক জন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁদের পিছনে থাকা ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, মণ্ডপের ভিতরের একটি বৃত্তাকার পথে এই বিপত্তি ঘটে। ওই পথে দর্শনার্থীদের ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষের জমায়েত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।হাসপাতালে আহতদের ভিড়, চলছে চিকিৎসাঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কলকাতা পুলিশের সূত্রে প্রথমে ৩৫ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, পরে মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্রে দাবি করা হয়, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, কয়েক জনকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে আহতদের চিকিৎসা চলছে। কয়েক জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দও।হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মৃত ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মহিলা, তিন জন পুরুষ এবং একটি শিশু রয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে এই মৃত্যুসংখ্যা বা মৃতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।উদ্ধারকাজে জোর, উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর মণ্ডপ চত্বরে উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়। পুলিশ ও দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্ধারকাজে অসুবিধা না হয়।অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি যখন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন পর্যাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী সময়মতো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সাহায্যের আবেদন জানিয়েও তাঁরা সাড়া পাননি বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। আপাতত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পদপিষ্ট হয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।৩৬০ ডিগ্রির মণ্ডপে কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের পুজোর ভাবনা অরব, যার ইংরেজি ব্যাখ্যা বিয়ন্ড সাউন্ড। শব্দের পরিচিত সীমা ছাড়িয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছনোর ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল মণ্ডপ। সৃজনশীল পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ দেখার ব্যবস্থা। সেরা পুজোর তালিকায়ও এই পুজো তৃতীয় স্থান পেয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি বৃত্তাকার এলিভেটেড করিডোর ঘিরেই বিপত্তি ঘটেছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর। ওই পথে একসঙ্গে কত জনের চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, ভিড়ের সময় প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বেরোনোর পথ ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলি এখন গুরুত্বপূর্ণ।উল্লেখ্য, এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী, যিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত। তবে দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণই গুরুত্বপূর্ণ হবে।হেল্পলাইন চালু রাজ্য সরকারেরঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। দুর্ঘটনায় আহতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে বা সংশ্লিষ্ট সহায়তার জন্য এই নম্বর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।সপ্তমীর সন্ধ্যায় উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তবে কত জনের মৃত্যু হয়েছে, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি নাতার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারি বিবৃতি ও তদন্তের পরেই।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
উৎসব

দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের উন্মাদনা! ফুটবলের টানে মাঠে ফিরুক কচিকাঁচারা, অভিনব থিম পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির

পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এ বার ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ। কোথাও বিশ্বজয়ী স্পেনের উল্লাস, কোথাও ভারতীয় ফুটবলের ছবি, আবার কোথাও লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে পুজোর মণ্ডপেই যেন তৈরি হচ্ছে এক টুকরো বিশ্বকাপের আসর। বাঙালির চিরন্তন ফুটবলপ্রেমকে উদ্যাপন এবং নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনার বার্তা দিতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।পুজোর থিম মানেই এখন শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ সচেতনতা কিংবা নানা অভিনব ভাবনার মেলবন্ধন। সেই ধারাতেই এ বার ফুটবলকে সঙ্গী করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি। ক্লাবের ২৯তম বর্ষের পুজোয় তাদের থিম ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড। অর্থাৎ, ভাষা, দেশ ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল যে গোটা বিশ্বকে একই সুতোয় বেঁধে রাখতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে।মণ্ডপের প্রবেশপথ থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ার আয়োজন। সামনে রাখা হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের সরকারি বল ট্রিয়োন্ডা। বলটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের আবহ। মণ্ডপের এক দিকে রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি, অন্য দিকে স্থান পেয়েছে ভারতীয় ফুটবল দলের ছবি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গৌরবের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।এই থিমের অন্যতম আকর্ষণ ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতিকৃতি। তাঁদের ফুটবলজীবনের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি থাকছে আরও কয়েক জন তারকা ফুটবলারের প্রতিকৃতি। বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মাঠের উত্তেজনা, গোলের উল্লাস এবং সমর্থকদের আবেগে ভরা সেই সব মুহূর্তে।মণ্ডপের অন্দরসজ্জাতেও থাকছে চমক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ৭০টি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তের ছবি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। ভারতীয় ফুটবলের জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ জায়গা। দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে এই মণ্ডপ শুধু পুজো দেখার জায়গা নয়, ফুটবলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনাকেও বিশেষ ভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপের এক পাশে গ্যালারির আদলে তৈরি অংশে থাকবে ফাইনালের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি। দুর্গাপ্রতিমার পাশেও স্থান পাচ্ছে ফাইনালের স্মরণীয় দৃশ্য এবং ফুটবল তারকাদের ছবি। মণ্ডপের একেবারে উপরের দিকে থাকবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকা। আলোর কারুকার্যে সেই সব পতাকার রং ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি দৃশ্যমান আবহ তৈরি করাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।এখানেই শেষ নয়। মণ্ডপে থাকবে একটি বড় পর্দা, যেখানে দেখানো হবে বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের হাইলাইটস। ফলে প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীরা ফিরে দেখতে পারবেন মাঠের সেরা মুহূর্তগুলি। গোল, সেভ, দুরন্ত পাস কিংবা ট্রফি জয়ের উল্লাসবিশ্বকাপের নানা স্মৃতি মণ্ডপের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।তবে এই আয়োজনের পিছনে শুধুই দর্শকদের আকর্ষণ করার ভাবনা নেই। উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য, ছোটদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মাঠমুখী করে তোলা। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি শিশু-কিশোরদের আকর্ষণ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে খেলাধুলার আনন্দ, দলগত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা এবং শরীরচর্চার গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফুটবলকে মাধ্যম করেছে ক্লাব।ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি থাকে পরাজয় মেনে নেওয়া, সতীর্থের পাশে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা। ফুটবল ইউনাইটস ওয়ার্ল্ড থিমের মাধ্যমে সেই সামাজিক ও মানবিক বার্তাও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি।দুর্গাপুজোর উৎসবের সঙ্গে ফুটবলের আবেগকে মিলিয়ে এই উদ্যোগ কতটা দর্শকপ্রিয় হয়, তা অবশ্য সময়ই বলবে। তবে মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে বিশ্বকাপের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক তারকা থেকে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসসব কিছুকে এক ছাতার তলায় এনে পুজোর আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করেছে ক্লাব। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে এসে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ছোটদের মনে জাগবে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের টানেই হয়তো এক দিন তারা মোবাইল সরিয়ে রেখে আবার ছুটবে গ্রামের মাঠে, পায়ে বল নিয়ে।দুর্গামণ্ডপে বিশ্বকাপের আবহ, আর সেই আবহ থেকেই মাঠে ফেরার ডাকপূর্ব সাতগেছিয়া সংহতির এ বারের পুজোর ভাবনায় ফুটবল তাই শুধু খেলা নয়, নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলারও এক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal