পুজোর মুখে সিকিমে ভয়াবহ দুর্যোগ! বরফে ডুবল রাস্তা, একের পর এক এলাকায় ভূমিধস
পুজোর মুখে দুর্যোগের কবলে সিকিম। শুক্রবার রাত থেকে ভারী তুষারপাতের কারণে উত্তর সিকিমের একাধিক পাহাড়ি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। কোথাও কয়েক ফুট গভীর বরফ জমেছে, আবার কোথাও ভূমিধসে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যেই পর্যটকদের ভিড় অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।শনিবার ভূমিধসের কারণে বিধ্বস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ রেখে মেরামতির কাজ শুরু হয়। সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত প্রায় ৫২ কিলোমিটার এলাকায় ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দিনভর রাস্তা মেরামতির কাজ চলে। সিকিমগামী গাড়িগুলিকে গরুবাথান হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সমস্যায় পড়েন পর্যটকেরা।উত্তর সিকিমেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ভারী তুষারপাতের কারণে ইউমথাং থেকে জিরো পয়েন্ট যাওয়ার রাস্তার এক হাজার তিনশো ফুটের বেশি উচ্চতার অংশ কয়েক ফুট বরফে ঢেকে গিয়েছে। ফলে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তুষারপাতের কারণে জিরো পয়েন্ট থেকে ডঙ্গিলার রাস্তাও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথের চ্যাপটেন এলাকায় ভূমিধস হয়েছে। লাচেন থেকে থাঙ্গু যাওয়ার রাস্তার পুচি এলাকাতেও ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। যদিও থাঙ্গু থেকে গুরুডংমার যাওয়ার পথ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।মঙ্গন থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাকদুং-টিনটেক হয়ে যাওয়ার ওই রাস্তা ইএমএল মর্চের কাছে ৮ মাইলে বন্ধ রয়েছে। ফলে উত্তর ও পূর্ব সিকিমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথে যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে।এর মধ্যেই শনিবার উত্তর ও পূর্ব সিকিমের নানু-বলায় পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। বরফে ঢাকা রাস্তায় বিপজ্জনক কালো বরফ তৈরি হলেও অনেকেই সেই ঝুঁকি উপেক্ষা করে ঘুরতে বেরিয়েছেন। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।অন্যদিকে পশ্চিম সিকিমের রিম্বি এলাকায় ভূমিধসের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। শনিবারও পাহাড় থেকে কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে এসেছে জনপদের দিকে। এলাকায় বড় অংশ জুড়ে পাহাড় ধসে পড়েছে। নতুন করে বিপদের আশঙ্কায় রিম্বির ৩০টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজও চলছে।পাশের দেশ নেপালেও ভারী তুষারপাতের কারণে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পর্যটকদের ওই সব এলাকায় যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সিকিমে ছবিটা অনেকটাই আলাদা। দুর্যোগের মধ্যেও উত্তর ও পূর্ব সিকিমে পর্যটকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকায় আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ একদিকে তুষারপাত এবং অন্যদিকে ভূমিধসের কারণে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বরফে তৈরি কালো বরফও পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।সিকিমের পরিস্থিতির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের পাহাড় নিয়েও নজরদারি বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। দার্জিলিং পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্সের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, তোর্সা-সহ বিভিন্ন পাহাড়ি নদীতে বারবার হড়পা বানের ঝুঁকি তৈরি হওয়া এবং পাহাড়ি শহরগুলির পরিকল্পিত সম্প্রসারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার।ফলে পুজোর মুখে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা পর্যটকদের জন্য সিকিমের আবহাওয়া ও রাস্তার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উত্তর ও পূর্ব সিকিমের একাধিক পথে এখনও তুষারপাত ও ভূমিধসের প্রভাব রয়েছে।

