• ৩ মাঘ ১৪৩২, রবিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

OC

রাজ্য

কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের বিকাশ ভবন অভিযান

CUTAB এর রাজ্য কমিটির ডাকে স্টেট অ্যাডেড কলেজ টিচার্স অধ্যাপকদের ৬৫ বছর পর্যন্ত কাজ সুনির্দিষ্ট পে স্কেল, ওয়ার্কলোডেড সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, SACT II থেকে SACT I এ আপগ্রেডেশন অ্যাডিশনাল বেনিফিট, DEATH গ্যাজুরিটি, ট্রান্সফার অর্ডার সহ একাধিক দাবি, পাশাপাশি গভর্মেন্ট অর্ডার অনুযায়ী SACT এর বেতন কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বিকাশ ভবন অভিযান।রাজ্যের উচ্চশিক্ষার অন্যতম SACT অধ্যাপকেরা হাজারো সমস্যায় জর্জরিত অথচ শিক্ষামন্ত্রী থেকে আধিকারিকরা সমস্যা সমাধানে কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন না বলে দাবি। আধিকারিকদের চূড়ান্ত উদাসীনতা বারবার সমস্যা সমাধানের আবেদনেও কোনো রকম কর্ণপাত করছেন না। তাই আবার রাজপথে। বঞ্চনা এবং শোষণ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন অধ্যাপকেরা।SACT অধ্যাপকেরা তাদের ন্যায্য দাবি দাওয়া নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির হস্তক্ষেপ দাবি করছে ন। তাঁদের প্রয়োজনীয় দাবি ল আদায় না হলে আরও বৃহত্তর এবং লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেবে।

মার্চ ০১, ২০২৪
রাজ্য

সন্দেশখালিতে নির্যাতনের প্রতিবাদে অভিনব প্রতিবাদ মহিলা সমিতির

সন্দেশখালি নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সল্টলেক অভিনব প্রতিবাদ সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির। মঙ্গলবার বিকাল থেকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে সল্টলেক সিটি সেন্টার মেট্রো স্টেশনের সামনে হাতে পোস্টার ব্যানার নিয়ে সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর অত্যাচার তথা সারা বাংলা জুড়ে সাধারণ মানুষের উপর তৃণমূলের অত্যাচারের প্রতিবাদে সামিল হয় সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিত। পাশাপাশি শেখ শাহজাহান এখনো অধরা, কুনাল ঘোষের বক্তব্য চাইলেই শেখ শাহজাহানকে এক সপ্তাহের মধ্যে ধরা যেতে পারে পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীরা বলেন সরকারি মদতে শাহজাহানকে আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪
কলকাতা

সোশ্যাল মিডিয়া চাকরির প্রলোভন, লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষধিক টাকা প্রতারণা। এই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলো বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা রাজীব গোস্বামী বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেন যে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া মারফত একটি চাকরির এসএমএস পান। সেই সূত্র ধরে তিনি যোগাযোগ করলে তাকে একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে অ্যাড করা হয়। সেখানে তাকে বিভিন্ন প্রিপেড টাস্ক করতে বলা হয় যেখান থেকে তিনি রোজগার করতে পারবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তিনি সেই প্রিপেড টাস্ক করতে গিয়ে ১৬ লক্ষ টাকা দিয়ে দেন। এরপরই টাকা চাইতে গেলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারকরা।ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে অভিযোগকারীর সেই টাকা গিয়ে পৌঁছেছিল বেশকয়েকজনের অ্যাকাউন্টে। এরপরই গতকাল নোয়াপাড়া এবং জগদ্দলে হানা দিয়ে কৌশিক বোস, সন্তোষ কুমার সাউ এবং চন্দন কুমার সাউকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ অভিযুক্তদের বিধাননগর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ তাদেরকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনার মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
শিক্ষা

যাদবপুরে অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু নিয়ে গর্জে উঠল 'বাংলা পক্ষ', তোলপাড় বিশ্ববিদ্যালয়

আবার লাইমলাইটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা পক্ষের জানায়, সেখানে দৃষ্টিহীন ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাসের অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা আরও জানায়, দুই বহিরাগত ক্রিমিনাল সুরজ ঝাঁ ও পাপ্পূ সোনা গান্ধীর শারীরিক-মানসিক অত্যাচারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিহীন, মেধাবী বাঙালি ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাস আত্মহত্যা করেছে। খুনিদের শাস্তির দাবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভার অয়োজন করে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, মৃতা রেনেসাঁ দাস জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের বাসিন্দা। এই অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু-র প্রতিবাদে বাংলা পক্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে মুখর হয়। বাংলা পক্ষ ও ছাত্র সংগঠন বাংলা ছাত্র পক্ষ, ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয়। খুন হওয়া বাঙালি মেয়ের খুনিদের শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের জলপাইগুড়ি জেলার বোন, বাঙালি বোন রেনেসাঁ দাসকে অত্যাচার করে খুন করেছে দুই বহিরাগত জন্তু সুরজ ঝাঁ এবং পাপ্পু সোনা গান্ধী। লজ্জার কথা যে বিপ্লবের কথা বলা, বড় বড় রাজনীতির কথা বলা সব দল, সব ছাত্র সংগঠন আজ চুপ। মিডিয়ায় প্রাইম টাইমে টক শো নেই। কিন্তু বাংলা পক্ষ লড়ছে। বাংলা ছাত্র পক্ষ লড়ছে। এই গুন্ডাদের বাংলার মাটি থেকে উপড়ে ফেলবে বাংলা পক্ষ। খুনিদের ফাঁসি চাই। আমরা বাংলার মাটিতে কোনো কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত ক্রিমিনালদের আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেব না।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, আজ যাদবপুরের বাকি ছাত্র সংগঠন গুলো খুনিদের বাঁচাতে ব্যস্ত। বোনের খুনিদের শাস্তির দাবিতে কেউ সোচ্চার নয়। কিন্তু ভাবুন তো যাদবপুরে বাংলা ছাত্র পক্ষর বড় সংগঠন থাকলে কোনো বহিরাগত জন্তু বাঙালি মেয়েকে অত্যাচার তো দূরের কথা, বাঙালি মেয়েদের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারতো? আমরা আগামীতে সব বড় ইউনিভার্সিটিতে সংগঠন খুলবো। আমরা যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৯০% ডোমিসাইল চালু করিয়েছি। এবার সব বিভাগে ডোমিসাইল চালু করাবো। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোমিসাইল চালু করাবো৷বাংলা ছাত্র পক্ষর প্রধান রণ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যাদবপুর সহ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, মেডিক্যাল কলেজে যাতে গ্রাম তথা জেলার ছেলেমেয়েরা অত্যাচারিত না হয় সেজন্য বাংলা ছাত্র পক্ষ সব জায়গায় লড়াই করবে এবং সংগঠন খুলবে। আমরা যাদবপুরকে বহিরাগতদের আবাদ ভূমি হতে দেব না।এছাড়াও এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, অর্ক ঘোষ, অভিজিৎ দে, কুশনাভ মণ্ডল, লীনা রায় সহ আরও অনেকে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৪
দেশ

সুড়ঙ্গের শেষে আলোর দেখা কি মিলবে? পরিযায়ীরা রইলেন সেই তিমিরেই

অবশেষে সুড়ঙ্গ থেকে মুক্তি। আলোর উৎসবের দিন উত্তর কাশির সিল্কিয়ারা- বারকোট সুড়ঙ্গের অন্ধকারে বন্দি হয়েছিলেন একচল্লিশ (৪১) জন শ্রমিক। ১৭ দিন ধরে চলা জীবন মৃত্যুর পাশা খেলায় জিতে আটাশে নভেম্বর এসেছিল মুক্তি। তারপরে দেশ জুড়ে খবরের কাগজ, টেলিভিশন আর সামাজিক মাধ্যমে বীরের অভ্যর্থনা। খবরের কাগজের প্রথম পাতায়, টেলিভিশনের পর্দায় ছবি আর সাক্ষাৎকারের ছড়াছড়ি। তবে তার আয়ু বড় জোর দু থেকে তিন দিন। এরপরেই আবার পর্দার আড়ালে। যাদের নিয়ে এই সাময়িক মাতামাতি তাঁরা সবাই পরিযায়ী শ্রমিক। আচ্ছা, এদের শেষ কবে দেখেছিলেন মনে আছে? বেশ, আমিই আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।সময়ের কাঁটা টাকে একটু পিছিয়ে দিন। তখন বিশ্বজুড়ে মারণ রোগ করোনা ভাইরাসের দাপটে গুটিয়ে গিয়েছে। ভারতেও তার প্রকোপ তীব্র। মারন রোগ ঠেকাতে হঠাৎ ই লকডাউন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী। এই হঠাৎ ঘোষণায় বিদেশ বিভুঁইয়ে রোজগার হারিয়ে, মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের পায়ে হেঁটে ছেলে বৌয়ের হাত ধরে স্বভূমিতে ফেরার আপ্রান চেষ্টা দেখেছিল গোটা দেশ। রাজ্যে রাজ্যে সড়ক পথে স্টেশনে বাস টার্মিনাসে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঢল নেমেছিল। তাঁদের অনেকেই রাস্তায় ক্ষুধায়, তৃষ্ণায়, ক্লান্তিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। অনেকে আবার বিষন্ন মনে ট্রেন লাইন ধরে চলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। কেউ কেউ আবার হাজার মাইল পথ হেঁটে নিজ ভূমে ফিরেছিলেন অবসন্ন দেহ নিয়ে। সেই সময় ও সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়েছিল এদের ছবি আর সাক্ষাৎকার। তারপরে আবার এর চলে গিয়েছিলেন বিস্মৃতির অতল গহ্বরে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় অথবা মহামারিতে প্রান না গেলে এরা তো অগোচরেই থাকেন।দিন প্রতিদিন আমাদের নজর বাতিতে যারা আলোকিত থাকেন তাঁরা হলেন সেলিব্রিটি (Celebrity)। তাই বলিউডের, টলিউডের নায়ক, নায়িকা, ক্রীড়া জগতের নক্ষত্র, রাজনীতিবিদ, অথবা অন্যান্য ক্ষেত্রের দামী ব্যাক্তিদের নামে স্টেডিয়ামের নাম করণ হয়। রাস্তার নাম করণ হয়, মূর্তি তৈরি হয়। কিন্তু যারা স্টেডিয়াম, হাইওয়ে, উড়ালপুল, রেলপথ তৈরি করেন, যাদের শ্রমে ছোট বড়ও কারখানা চলে সেই পুরুষ ও মহিলা শ্রমিকরা নিভৃতবাসেই থেকে যান। অথচ এরাই আমাদের জাতীয় মানবসম্পদ। রুজির খোঁজে পরবাসে গিয়ে অবজ্ঞা, সন্ত্রাস, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে থেকে এরা কাজ করে চলেন। অথচ রাস্ট্রীয় চেতনায় এরা সবাই পরিহার্য। তাই স্বাস্থ বিপর্যয়ে এদের শহর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া যায়। নির্মীয়মান সুড়ঙ্গ, বহুতল, সেতু অথবা উড়ালপুল ধসে পড়ে এদের মৃত্যু হলে রাস্ট্র নির্বিকার থাকে। কর্মস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জনিত সরঞ্জাম না থাকায় এদের মৃত্যু হলে মালিকদের জবাবদিহি করতে হয় না। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে দেশের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ কাজের খোঁজে বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হন। পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলো থেকে আর্থিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে থাকা রাজ্যগুলোয় গিয়ে কাজ করেন তাঁরা। পিছনে পড়ে থাকে গ্ৰাম, পরিবার।এদের নিয়ে দেশে একটা আইন রয়েছে। তাহলো Inter State Migrant Work Men Act, 1979. এই আইনে বলা হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বাসস্থান, স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা, ন্যুনতম মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনোটাই তাঁদের ধরা ছোঁয়ার মধ্যে থাকে না। হাইওয়ে, স্মার্টসিটি, উড়ালপুল, রেলপথ ও স্টেডিয়াম তৈরির জন্য রাস্ট্রের নীতি রয়েছে। এইসব প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন নিয়ে নেতা মন্ত্রীদের আস্থা রয়েছে। অথচ যারা এই প্রকল্পগুলি গড়ে তোলেন তাদের জন্য আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই। পরিযায়ী শ্রমিকরা আমাদের দেশের অদৃশ্য নাগরিক। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নির্মান বিপর্যয় এবং মহামারিতে তাঁরা বন্দি অথবা প্রান হারালে তবেই দৃশ্য মান হন। ততদিন এঁরা থাকুন ঘুমিয়ে পড়া অ্যালবামে

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৩
রাজ্য

২টি বাচ্চা ময়ূর পাচার করতে গিয়ে ধৃত দুই পাণ্ডা, মাথার খোঁজে তদন্ত

দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর থেকে দুটি ময়ূর বাচ্চা সহ গ্রেপ্তার দুই পাচারকারী। পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল। বারুইপুর বনবিভাগ এবং ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে তাদেরকে বারুইপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো সূত্রের খবর, সূত্র মারফত তারা খবর পায় দুটি ভারতীয় ময়ূরের বাচ্চা নিয়ে দুই পাচারকারী বারুইপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। সেই মতো তারা বারুইপুরে হানা দিয়ে দুই পাচারকারীকে আটক করে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে দুটি ভারতীয় ময়ূরের বাচ্চা উদ্ধার হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে তারা বাঁকুড়া থেকে এই ময়ূর গুলি নিয়ে এসেছিলো । এই ময়ূরগুলিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় বিক্রি করা হতো। এই চক্রের সাথে আর কারা রয়েছে জানার চেষ্টা করছে।

নভেম্বর ১০, ২০২৩
রাজ্য

পর্যটন সহ নানা কাজে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকারের দাবিতে ভুটান সীমান্তে বাংলা পক্ষর প্রতিবাদ সভা

শীতের প্রাক্কালে যখন ভুটান ও তার সীমান্ত এলাকার মানুষজন শীতবস্ত্রের পসরা নিয়ে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিকিকিনির আসর জমাতে শুরু করে, ঠিক সে সময় আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী জনপদ জয়গাঁতে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষ হাজির। জয়গাঁ বর্তমানে একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলার অন্যান্য জায়গার মত গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এখানেও বাড়ছে বহিরাগত দখলদারদের আগমন। জয়গাঁ সহ পুরো আলিপুরদুয়ার জেলায় বাঙালি, কোচ, মেচ, রাজবংশী, আদিবাসী, নেপালী সহ সমস্ত ভূমিপুত্রদের অধিকারের স্বার্থে গর্জে উঠল বাংলা পক্ষ। আলিপুরদুয়ারের ভূমিপুত্রদের কাজ দখল হচ্ছে। অটো, টোটো লাইন, হোটেল, পর্যটন সহ সকল কাজে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকারের দাবিতে এদিন সভা করে বাংলা পক্ষ। সভায় উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য সম্রাট কর ও জেলা পর্যবেক্ষক রজত ভট্টাচার্য। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক আলিপুরদুয়ার জেলার সম্পাদক উত্তম দাস। গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন জয়গাঁর সকল বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের ঐক্যবদ্ধ করবে বাংলা পক্ষ। এখানকার পর্যটন, হোটেল, পরিবহন এর মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা বাঙালির অধিকারে রাখতে হবে। সব ধরনের কাজ কাজে ভূমিপুত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, কোন বহিরাগতর দাদাগিরি চলবে না।কৌশিক মাইতি তাঁর বক্তব্যে বিজেপির বাংলা ভাগ চক্রান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের সচেতন করেন, বাংলা পক্ষ বাংলা ভাগ হতে দেবে না বলে তিনি জানান। সভা ঘিরে এই সীমান্ত শহরের বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত।

নভেম্বর ০৩, ২০২৩
রাজ্য

শেষ দিনে ইডির দফতরে নথি জমা দিলেন অভিষেক

১০ অক্টোবরের মধ্যে ইডির কাছে সব নথি জমা করতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তৃণমূলের শীর্ষ নেতার পক্ষ থেকে একগুচ্ছ নথি কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া হয়।আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নথি জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ নাগাদ দুজন ব্যক্তি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দপ্তরে আসে। তাঁরা আটটা নাগাদ বেরিয়ে যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তর থেকে। তাদের প্রশ্ন করলে তারা কোন উত্তর দেয়নি। ED সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নথি জমা দিতেই তারা ED দপ্তরে এসেছিলেন। তাঁরা নথি জমা দিয়েছেন।নথি জমা দেওয়ার জন্য ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্ত অভিষেকের হাতে সময় ছিল। তার কিছু সময় আগে নথি জমা পড়ল। মঙ্গলবার বিকেলেই অভিষেকের নথি জমা সংক্রান্ত বিষয়টি আদালতকে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জানা গিয়েছে, এই প্রসঙ্গে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেছেন, আদালতের নির্দেশ পালন না করলে অভিষেকের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে পারবে ইডি।নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় উঠেছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর নাম। এই সংস্থার সিইও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের কাকুকে জেরায় যা জানতে পারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সেই সূত্রেই ইডি তলব করে অভিষেককে। নিয়োগ মামলায় ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের কাছ থেকে কী কী নথি প্রয়োজন তা আদালতে বুঝিয়ে দেয় ইডি।এরপরই বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, নথি ১০ অক্টোবর অভিষেককে জমা দিতেই হবে। তদন্তের স্বার্থেই সেসব নথির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে উল্লেখ ছিল, ১০ তারিখে নথি জমা দিলে, তা খতিয়ে দেখবে ইডি। তারপরও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজনীয়তা থাকলে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিয়ে তলব করতে হবে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডকে।এদিন নিয়োগ দুর্নীতি মামলা ফের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে ওঠে। ইডির আইনজীবী আদালতে জানান, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও নথি জমা দেননি। তখন বিচারপতি সিনহা জানতে চান ডিভিশন বেঞ্চ নথির হার্ড কপি নাকি সফট কপি চেয়েছিল। জবাবে ইডির আইনজীবী জানান, অভিষেককে হার্ড কপি দেওয়ার কথাই বলা হয়েছিল। সফট কপির বিষয়টি জানা নেই।এরপরই বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, আদালতের নির্দেশ না মানলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারবে ইডি। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নথি জমা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অক্টোবর ১০, ২০২৩
রাজ্য

একেবারে বাড়ির দুয়ারে কুমির, কালনায় ছড়াল আতঙ্ক, দেখুন ভিডিও

কাটোয়ার পর কালনা। কাটোয়ায় ভাগীরথী থেকে কুমির ধরা হয়েছিল। এবার কুমির পূর্ব বর্ধমানের কালনায় রাস্তা দিয়ে একেবারে বাড়ির দুয়ারে ঘোরাফেরা করল। আতঙ্ক ছড়াল স্থানীয়দের মধ্যে। খবর পেয়ে রাতেই হাজির হয় কালনা থানার পুলিশ। তারপর ফায়ার ব্রিগেড আসে, কুমির উদ্ধার করতে চলে আসে বন দফতর।কুকুরের দল চিৎকার না করলে সহজে টের পাওয়া যেত না কুমির নদী থেকে রাস্তায় ঘোরাফেরা করছে। সোমবার রাত ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ কুকুরের টানা চিৎকার শুনে স্থানীয় মানুষজন বাইরে বেরিয়ে দেখে রাস্তায় ঘাপটি মেরে পড়ে আছে প্রায় ১০ ফুটের কুমির। তারপর এপাড়া ও পাড়া ঘোরাঘুরি করেছে। বাড়ির উঠোনে চলাফেরা করতে শুরু করতে।কালনা ১০ নম্বর ওয়ার্ড এর পালপাড়া এলাকায় রাত ১.৩০ নাগাদ ১০ ফুটের একটি কুমির দেখা মাত্র প্রত্যক্ষদর্শীরা কালনা থানায় খবর দেয়। কালনা থানা খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ফোর্স ওই এলাকায় হাজির হয়। কোন মানুষের ক্ষতি যাতে না হয় এবং কোন মানুষ কুমিরটাকে ক্ষতি করতে না পারে সেই কারণে পুলিশ নজর রাখছিল কুমিরটির দিকে। এলাকাবাসীরা জানান, তাঁদের জীবনে এই প্রথম কুমির বাড়ির সামনে চলে এসেছে। এই নিয়ে এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়ায়, এলাকাবাসীরা না ঘুমিয়ে সারারাত ধরে বাড়ির আশেপাশে এবং এলাকাতে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে ফায়ার ব্রিগেড এসে হাজির হয়, বনদপ্তর আসে কুমিরটিকে উদ্ধার করতে। আজ, মঙ্গলবার কালনা শহরের ভাগীরথী তীরবর্তী জাপটপাড়ায় কুমিরটি ঘুরছিল

অক্টোবর ১০, ২০২৩
রাজ্য

বিএমওএইচকে সরাতে পথ অবরোধ, কেন এই দাবি?

মালদার বামনগেলা ব্লকের বিএমওএইচকে বদলির দাবিতে মালদা-নালাগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। গত মঙ্গলবার বামনগোলা ব্লকের মুদিপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে এক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। আর সেই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়াতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেই অসন্তোষের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। এদিন মুদিপুকুর হাসপাতালের সামনে মালদা - নালাগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক গ্রামবাসীরা। এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বামনগোলা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। এরপর বিওএমএইচের বদলিসহ বিভিন্ন দাবি নিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্লকের ডেপুটেশন দেয় বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীরা।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মুদিপুকুর গ্রামীন হাসপাতালটি এলাকার একমাত্র চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্র। বামনগোলা থেকে মালদা মেডিকেল কলেজের দুরুত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। ফলে রাত-বেড়াতে অতি সহজেই রোগীদের মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। এর জন্য অসংখ্য গ্রামবাসীদের কাছে মুদিপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভরসা। কিন্তু এই হাসপাতালের ঠিকমতো চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে না। যার জন্যই এদিন বিএমওএইচ সুদীপ কুন্ডুর বদলি দাবি নিয়ে গ্রামবাসীরা সোচ্চার হন।পুলিশো স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার মুদিপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন এক রোগীর মৃত্যু হয় । মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসার গাফিলতির জেরে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আর তারপর থেকেই বিএমওএইচ-এর ওপর ক্ষোভ বাড়তে থাকে।যদিও এপ্রসঙ্গে বামনগোলা ব্লকের বিএমওএইচ ডা: সুদীপ কুণ্ডু কোনও মন্তব্য করেননি। পুলিশ জানিয়েছে কিছু মানুষ এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩
রাজ্য

কুমিরের পর এবার গঙ্গায় ধরা পড়ল ঘড়িয়াল, মালদার গ্রামে হইচই

এর আগে গঙ্গায় কুমির দেখা গিয়েছিল। কুমির ধরাও পড়েছিল। এবার এল ঘড়িয়াল। বুধবার সকালে মাছ ধরতে গিয়ে মাঝিদের জালে ধরা পড়লো একটি ঘড়িয়ালের বাচ্চা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল শোরগোল পড়ে যায় মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উৎসবটোলা এলাকায়। এরপর মাঝিরা ওই ঘড়িয়ালের বাচ্চাকে গঙ্গা নদী থেকে নিজেদের উৎসবটোলা গ্রামে নিয়ে আসে। ঘড়িয়াল দেখতে ভীড় করে স্থানীয় মানুষজন। তারপর খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। পরে বনদপ্তরের কর্মীরা এসে ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।উৎসবটোলা এলাকার মাঝি তুফান চৌধুরী জানান, এদিন ভোরে তিনি মথুরাপুরের গঙ্গা নদীতে নৌকায় করে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। সেই সময় তার জালেই একটি বাচ্চা ঘড়িয়াল আটকে পড়ে। তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। কোনওরকমে জালে পেঁচানো ওই ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় গ্রামে।বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের ঘড়িয়াল বর্ষার মরশুমে মাঝেমধ্যেই মালদার ফুলাহার এবং গঙ্গা নদীতে দেখা যায়। মূলত ঘড়িয়ালরা প্রজনন ঘটাতে এবং খাবারের খোঁজে এইসময় নদীতে চলে আসে। ফোর ঘড়িয়ালটিকে নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বন দফতর।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
দেশ

ভারতের ‘রকেট ওমেন’, চন্দ্রাভিযানে গুরুদায়িত্ব সামলানো লখনউ-র এই বিজ্ঞানীকে চিনে নিন

চাঁদ মামা এখন দুরের নয় ট্যুরের, সুদুর দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরস এই মন্তব্য ঘরে ঘরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। চাঁদের মাটিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। পুর্বনির্ধারিত দিন ও সময় অনুযায়ী বুধবার ঠিক সন্ধ্যা ৬.০৪ মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফট ল্যাণ্ডিং করে ইসরোর চন্দ্রযান-৩। সারা দেশজুড়ে উল্লাস ও উৎসব। ভারতীয় হিসাবে সত্যিই গর্ব করার মত মুহুর্ত। চাঁদ এখন ভারতের বিজ্ঞানীদের হাতের মুঠোয়।বিক্রমের কাঁধে ভর করে প্রজ্ঞান চাঁদে ল্যান্ড করেই একের পর এক চমক দিতে শুরু করেছে। সফল অবতরণের পর প্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠের একটি ছবি তুলে পাঠায় ল্যান্ডার বিক্রম। তাতে দেখা যায় চাঁদের ঠিক কোন অঞ্চলে নেমেছে বিক্রম। এর পরই বিক্রমের অন্তঃস্থল থেকে বেরিয়ে আসে রোভার প্রজ্ঞান।ইসরো তার সামাজিক মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকালে জানায়,প্রজ্ঞান সঠিক ভাবেই বিক্রমের পেট থেকে চাঁদে ভুমিষ্ট হয়েছে, এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে মুনওয়াকেও বেড়িয়ে পড়েছে সে। ভারতের জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভ চাঁদের মাটিতে এঁকে দিয়ে আসবে রোভার প্রজ্ঞান। চন্দ্রযান-৩-এর চুড়ান্ত সাফল্যে অনেকের মতই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন লখনউয়ের প্রবাসী এক মহিলা। ইসরো খুব বড় দায়িত্ব দিয়েছিল এঁর কাঁধে।সম্পুর্ন ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইসরোর চন্দ্রযান ৩ সফলভাবে চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ফেলেছে, তথ্য তল্লাস করতে ঘোরাঘুরিও শুরু করে দিয়েছে প্রজ্ঞান। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী হিসাবে প্রথম দেশ হয়ে উঠেছে ভারত। ভারতের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে সামগ্র বিশ্ব থেকে অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমের ওয়াল। আজ প্রত্যেক ভারতীয়ের কাছে এই মুহুর্ত খুব আবেগের, আনন্দের ও অত্যন্ত গর্বের। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী শহর লখনউতে উৎসবের ঝাঁজ বেশ খানিকটা বেশি। কারণ চন্দ্রযান ৩-এর সাফল্যের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে লখনউ-র এক ভুমিকন্যার যোগসূত্র। এই শহরেরই মেয়ে ডাঃ ঋতু করিধাল শ্রীবাস্তবের কাঁধেই চন্দ্রযান-৩ এর সফল অবতরণের গুরুত্বদায়িত্ব ছিল।ঋতু করিধাল শ্রীবাস্তব বিজ্ঞানী মহলে ভারতের রকেট ওমেন নামে অধিক পরিচিত। ঋতু করিধাল লখনউ শহরের রাজাজি পুরম এলাকার আদি বাসিন্দা। তার পৈতৃক বাড়ি এখনও রয়েছে এখানে। চন্দ্রযান ৩-এর সাফল্যের পর তার বাড়িতে উৎসবের মেজাজ। ঋতু এর আগেও ISRO-র অনেক বড় বড় প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি চন্দ্রযান ৩ মিশনে সফল অবতরণের মতো গুরুদায়িত্ব তাঁকেই দেওয়া হয়েছিল ইসরোর পক্ষ থেকে। ঋতু করিধাল ছিলেন চন্দ্রযান-৩ প্রোজেক্টে মিশন ডিরেক্টর। এর আগে ঋতু মঙ্গলযানের ডেপুটি অপারেশন ডিরেক্টর ও চন্দ্রযান-২ এর মিশন ডিরেক্টর ছিলেন।করিধালের জন্ম উত্তর প্রদেশের লখনউতে। তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন। পরিবারে পড়াশোনার চল ছিল অনেক আগে থেকেই। তিনি লখনউ-র এক বেসরকারকারি স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনা করেন। তিনি ছাড়াও তাঁর দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মহাকাশ নিয়ে আগ্রহ ছিল বেশী। তিনি যেখানে থাকতেন, সেখানকার পরিবেশ তাঁর পড়াশোনার পক্ষে অনুকুল ছিলনা বলে তিনি সেলফ স্টাডি তে জোড় দেন। ঋতু ছোট থেকেই রাতের আকাশের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকত এবং মহাকাশের কথা চিন্তা করত, সে চাঁদের কথা ভাবত, কীভাবে এটি তার আকার ও রং পরিবর্তন করে, তারাগুলি কে পর্যবেক্ষণ করে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে ঐ গভীর অন্ধকারের পিছনে কী রয়েছে? তার কৈশোরে, তিনি মহাকাশ-সম্পর্কিত যেকোনো কার্যকলাপ সম্পর্কে সংবাদপত্রের প্রতিটি কাটিং সংগ্রহ করতে শুরু করেছিলেন এবং ISRO এবং NASA-এর কার্যকলাপের উপর তাঁর সাংঘাতিক রকমের নজর ছিল।ঋতু লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেছেন। পদার্থবিদ্যা বিভাগেই ডক্টরেট কোর্সে ভর্তি হন। পরে একই বিভাগে শিক্ষকতাও করেন। তিনি ছয় মাস লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা স্কলার ছিলেন। তিনি মহাকাশ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর করার জন্য IISc, ব্যাঙ্গালোরে যোগদান করেন। বাকিটা ইতিহাস। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় অবদানের জন্য ঋতু করিধাল শ্রীবাস্তবকে রকেট ওমেন হিসাবেই স্মরণ করবে।

আগস্ট ২৬, ২০২৩
নিবন্ধ

কেন‌ সমাজতন্ত্র: অ্যালবার্ট আইনস্টাইন

বিশ্ব জুড়ে এখন আলোচনায় ক্রিস্টোফার নোলান (Christopher Nolan) পরিচালিত সিনেমা ওপেনহাইমার (Oppenheimer)। ভারত ও তার ব্যাতিক্রম নয়। এদেশে মুক্তির প্রথম সাতদিনে ওপেনহাইমারের বক্স অফিস হিসেব ৭৩.১৫ কোটি টাকা। দেশ জুড়ে ১৯২৩ টি স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ওপেনহাইমার। শুধু ইংরেজি ভাষায় নয়, হিন্দিতে ও ডাব করে ভারতে দেখানো হচ্ছে এই সিনেমা। পরমাণু বোমার জনক ওপেনহাইমারের সাফল্য ব্যার্থতার পাশাপাশি তাঁর জীবনে নানা ঘাত প্রতিঘাত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। সিনেমায় বিভিন্ন দৃশ্যে পরিচালক অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কে এনেছেন। আইনস্টাইন এবং ওপেনহাইমার দুজনেই ইহুদী। দুজনে ই পদার্থ বিজ্ঞানী। এছাড়াও নানা ভাবে ওপেনহাইমারের জীবনে এই শ্রেষ্ঠ পদার্থ বিজ্ঞানীর প্রভাব রয়েছে। ১৯৩৩ এ জার্মানিতে হিটলার ক্ষমতায় আসেন। আইনস্টাইন সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তিনি আর দেশে ফেরেন নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহে হিটলারের জার্মানি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আইনস্টাইন। তিনি সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট (Franklin D Roosevelt) কে সতর্ক করে চিঠি লেখেন। চিঠিতে আইনস্টাইন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরীক্ষা শুরু করা উচিত বলে পরামর্শ দেন। তাঁর এই চিঠি থেকেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরীক্ষাগার ম্যানহাটন প্রজেক্ট (Manhattan Project) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রোজেক্টের ডাইরেক্টর (Director) হন ওপেনহাইমার। এছাড়াও আমেরিকার প্রিন্সটনে ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ এ (Institute for Advanced Studies in Princeton) দীর্ঘ দিন কাজ করেন ওপেনহাইমার। সেই সুত্রেও আইনস্টাইনের সঙ্গে তাঁর নিকট সম্পর্ক হয়। আমি অত্যন্ত মুর্খ। তবে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন সম্পর্কে লিখতে বসার মতো মুর্খ নই। তাই আমার এই লেখার বিষয় বিজ্ঞানী নয়, সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী আইনস্টাইন।প্রখ্যাত বিজ্ঞানীরা সাধারণত নিজেদের গবেষণা ও আবিষ্কারের বাইরে পা রাখেন না। আইনস্টাইন এই দিক থেকেও উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম। অবসর সময়ে শুধু ভায়োলিনের ছড়েই নয় তাঁর সমান মনোযোগ ছিল দেশ দুনিয়ার রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতির দিকেও। তিনি মনে প্রানে ইহুদীদের জন্য পৃথক দেশ চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই দেশ আরব বা প্যালেস্তিনীয়দের ধ্বংস করে গড়ে উঠুক তা চান নি। তাই ইসরায়েলের আগ্রাসী পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ করে Zionist movement এর নেতাদের তিনি চিঠি লিখেছিলেন। পুঁজির মৃগয়াক্ষেত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাস করেও তাঁর বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব ও মানবতা এবং নীতিবোধ যে পুঁজি বাদ নয় সমাজতন্ত্র ই চায় তা প্রকাশ করতে দ্বিধা করেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভৎস ক্ষত তখনও পৃথিবীর বুকে জেগে রয়েছে। সেই অন্ধকার দিনে ১৯৪৯ সালের মে (May) মাসে নিউ ইয়র্কের (New York) Monthly Review পত্রিকায় আইনস্টাইন লিখলেন Why Socialism। নিখাদ পন্ডিত আর পান্ডিত্য কে চেনাতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন পাথরের আছে ভার, আলোর আছে দীপ্তি। মহান দ্রষ্টার এই আলোক সংকেত আমাদের শেখায় পান্ডিত্যের সঙ্গে যে বিনয় থাকে তার দীপ্তি হীরের মতো দ্যুতি ছড়ায়। আর পন্ডিতের অহংকার পাথরের মতো ভারী হয়ে সমাজের বুকে চেপে বসে। বিশ্ব কবির এই উচ্চারনই অক্ষর হয়ে ফুটে উঠেছে Why Socialism প্রবন্ধের শুরুতে। আইনস্টাইন লিখেছেন আর্থিক ও সামাজিক বিষয়ে বিশারদ নন, এমন কোনো ব্যক্তির কি সমাজতন্ত্র নিয়ে মত প্রকাশ করা ঠিক? নানা কারণে আমি বিশ্বাস করি হ্যাঁ ঠিক। বিশ্ব শ্রেষ্ঠ এই বিজ্ঞানী যে মানবজাতির সংকট নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন তা তাঁর এই প্রবন্ধ পড়লে বোঝা যায়। এই সংকট থেকে পরিত্রাণে তিনি কিন্তু বিজ্ঞানকে বেদিতে বসাননি। প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন সমাজতন্ত্রের অভিমুখ সমাজনৈতিকতার দিকে। বিজ্ঞান কোনো লক্ষ্যর জন্ম দিতে পারে না। কোনো লক্ষ্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেও পারে না। বিজ্ঞান পারে কোন লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ নির্দেশ করতে।সভ্যতার সংকট যে মানুষ কে কতটা হতাশার দিকে নিয়ে গিয়েছিল তা বোঝাতে তিনি লিখেছেন সম্প্রতি এক বুদ্ধিমান বন্ধুর সঙ্গে যুদ্ধের আতঙ্ক নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আমি বলেছিলাম আর একটি যুদ্ধ মানুষের অস্তিকেই বিপন্ন করবে। একটি Supranational institution ই এই বিপদ থেকে মানুষ কে উদ্ধার করতে পারে। আমার এই বক্তব্য শুনে বন্ধু শান্ত স্বরে বলেছিলেন, মানবজাতির বিনাশে আপনি বিরোধিতা করছেন কেন? বন্ধুর এই উত্তর এক ব্যাথাদীর্ণ বিচ্ছিন্নতারই প্রকাশ। এর থেকে মানুষের পরিত্রাণের পথ কী?। তবে সমাজ সম্পর্কে শিক্ষিত বুদ্ধিমান মানুষের এই উদাসীনতা তাঁকে ব্যাথিত করেছিল। প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন সমাজ ই মানুষকে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও কাজ করার যন্ত্রপাতি যোগায়। তাকে ভাবপ্রকাশের রূপ - ভাষা দেয়। মানুষের ভাবনার বিষয় বস্তুর বেশিরভাগটাই দেয় সমাজ। সমাজ, এই ছোট শব্দটির ভিতরে থাকে অতীত ও বর্তমানের লক্ষ লক্ষ মানুষের শ্রম ও কাজ। তার ফলে মানুষের জীবন যাপন সম্ভব হয়। প্রবন্ধে আইনস্টাইন দ্বিধাহীন ভাবে পুঁজিবাদকে ই কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, আমার মতে পুঁজিবাদী সমাজের অর্থনৈতিক নৈরাজ্যই যত নষ্টের গোড়া। পুঁজিবাদ চালিত পদ্ধতিতে ব্যাক্তিগত সম্পত্তি অল্প কিছু মানুষের হাতে জড়ো হয়। তাই হতাশা নয় সামাজিক শক্তির উপরেই আস্থা রেখে লিখেছেন, যতই বিপদ আসুক না কেন সমাজের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেই মানুষ জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে পারে।প্রবন্ধের শেষ দিকে আইনস্টাইন লিখেছেন, আমি স্থির নিশ্চিত এই অনাসৃষ্টি দূর করার একটিই মাত্র পথ আছে, সেই পথ হল সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা। তার সঙ্গে প্রয়োজন সামাজিক লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলার মত শিক্ষা ব্যবস্থা। তবে সমাজ তন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর পাশাপাশি সেই ব্যবস্থার বিপদের দিকগুলি ও তিনি চিহ্নিত করেছিলেন। তাই প্রবন্ধে লিখেছেন, একটি পরিকল্পিত অর্থনীতি মানেই সমাজতন্ত্র নয়। পরিকল্পিত অর্থনীতি মানুষ কে গোলাম বানাতেও পারে। সমাজতন্ত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের ফলে সর্ব শক্তিমান আমলাতান্ত্রিক ও হয়ে উঠতে পারে। ব্যাক্তির অধিকার কি ভাবে সংরক্ষিত হবে? আমলাতান্ত্রিকতার বিপরীতে গণতান্ত্রিক ক্ষমতা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে? আইনস্টাইনের এই দূরদৃষ্টি আমাদের পরবর্তী কালের সোভিয়েত পতন এবং বর্তমান চীনের সামাজিক পরিস্থিতি মনে করায়।ওপেনহাইমার সিনেমায় আইনস্টাইন বিভিন্ন দৃশ্যে এলেও হলিউড তার ধর্মমতে এই মহা বিজ্ঞানীর সমাজতন্ত্রে আস্থাকে এড়িয়ে গিয়েছেন। এইসময় পৃথিবীর বিভিন্ন গোলার্ধে সমাজতন্ত্রের পতন হলেও তা যে সমাজতন্ত্রের মৃত্যু গাথা নয় সেই বিশ্বাস জাগিয়ে রাখে, আমাদের সামনে দিকচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে Why Socialism।

আগস্ট ০৪, ২০২৩
রাজনীতি

বাংলায় ক্ষমতায় থাকার কৌশল বদলেছে সময়ের তালে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের বীজ লুকিয়ে অতীতের ছায়ায়

বিশেষজ্ঞদের মতে মনিপুর মেইতি আর কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষ দুই সম্প্রদায়ের ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়। সারা দেশে যে সংখ্যাগুরুবাদের রাজনীতির প্রতিষ্ঠা হচ্ছে তারই ফল। অনেকেই এখন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার ঘটনার সঙ্গে মনিপুরের তুলনা টানছেন। আমার মতে এই তুলনা স্থান-কাল বিচারে অত্যন্ত ভুল। কয়েক দশক ধরেই এই রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর উৎস খুঁজতে হলে ফিরতে হবে ছয়ের দশকের শেষ দিকে। অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার উৎস খুঁজতে গিয়ে নকশাল আন্দোলনের কথা বলেন। এই দিকচিহ্নেও অনেক ভ্রান্তি রয়েছে। এই রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসার উৎস মুখ রয়েছে ছয়ের দশকের গ্ৰাম বাংলায় অর্থ সামাজিক ও সামাজিক রাজনৈতিক পরিবেশের এক বড় পরিবর্তনের মধ্যে।১৯৪২সালে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গনদেবতা উপন্যাসে এই পরিবর্তনের ভিত্তিভূমির ছবিটি নিপুণ শৈলীতে এঁকেছিলেন। তাঁর উপন্যাসে যে জনপদের পরিচয় পাওয়া যায় সেখানে প্রকৃতি অফুরান সম্পদ নিয়ে ছড়িয়ে আছে আর সমাজকাঠামো এক কঠিন নিগড়ে বাঁধা। সেই জনপদে আদিগন্ত বিস্তৃত জমি আছে আর সে জমিতে যারা খাটে তাদের কারো সামান্য জমিও নেই। সেখানে নাপিত সারাদিন খেটেও পেট ভরার অন্ন যোগাতে পারে না। ধাইমা সম্পন্ন ঘরের সাস্থবান পুত্র-কন্যার জন্মের সহায়ক কিন্তু তার সন্তানদের শরীর অপুষ্টিতে ভরা। কামার উদয়াস্ত খাটে তবু তার পেট চালাতে মহাজনের কাছে চড়া সুদে ধার নিতে হয়। ছুতর এর অবস্থা আরওই বেহাল।এমন এক নির্মম আর্থসামাজিক ব্যাবস্থার সামনে আমাদের দাঁড় করায় তারাশঙ্করের গনদেবতা উপন্যাস। এই উপন্যাস লেখকের কল্পনা থেকে জন্ম নেয়নি, আজকের টেলিভিশনের ভাষায় গ্রাউন্ড জিরোতে দাঁড়িয়ে লেখা। ছয়ের দশকের কথায় ফিরি। যুগান্তর সংবাদ পত্রে ১৯৬৩ সালে ২৭শে জুলাই থেকে ১৯৬৮ সালের ২৭শে মে পর্যন্ত প্রকাশিত হয় তারাশঙ্করের গ্রামের চিঠি, সেখানে গ্ৰাম বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে রিপোর্টিং রয়েছে তার অনেক নামী সাংবাদিক কে লজ্জায় ফেলবে। গ্রাম বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের যে লেখচিত্র তারাশঙ্করের গ্রামের চিঠিতে রয়েছে তার উপরিকাঠামোয় রাখতে হবে ১৯৬৭ সালের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে।১৯৬৭ সালে বামপন্থীরা প্রথম ক্ষমতায় আসে। তার পেছনে ছিল ১৯৫১সাল থেকে একটার পর একটা আন্দোলনের ইতিহাস। ১৯৬৭ সালে শেষবারের মতো একসঙ্গে লোকসভা ও সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। ১৯৫১ সাল থেকে যে গত আন্দোলনগুলিতে রাজ্য উত্তাল হয়েছিল তার পেছনে ছিল তারাশঙ্করের উপন্যাসের গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের একটি বড় অংশ। এই আন্দোলনগুলো কংগ্রেস নামের মহীরুহকে ধাক্কা দিতে শুরু করেছিল। যার ফলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে রাজ্যে চারবার বিধানসভা ভোট হয়।১৯৬৭ থেকে ৭২ এই চার বছরে চার বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। যা ভারতের আর কোথাও হয়নি। ১৯৬৭ সাল থেকে রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন শুরু হলেও তখন শাসক শাসিতের দ্বন্দ্ব ছিল পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী রাজনীতির। এই দ্বন্দ্বে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের হিংসাত্মক সংঘর্ষের চেহারাটা প্রথম ধরা পড়ে ৭০ সালে বাংলায় হরতালের দিনে। ১৯৭০ সালের ১৭ই মার্চ বাংলায় হরতাল হয়েছিল। নৈহাটির গৌরিপুর চটকলে সিপিএম - আইএনটিউসির সংঘর্ষে চার জনের মৃত্যু হয়। সেদিনই বর্ধমানে সাঁই বাড়ির ঘটনা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে একদিনে চৌত্রিশ জনের মৃত্যু হয়। কংগ্রেস বনাম বামপন্থীদের রাজনৈতিক সংঘর্ষে সেখান থেকেই ক্রমশ জটিল আকার নেয়। এই হিংসার আবহে নতুন মাত্রা যোগ করে নকশালপন্থিরা।তবে গ্রাম বাংলায় বামপন্থীরা কংগ্রেসী আধিপত্যের বেদী ইউনিয়ন বোর্ডে ধাক্কা দিতে শুরু করে। কংগ্রেস সমর্থক জোতদার, জমিদার ও গ্রামীন ব্যাবসায়ী দের আধিপত্যে ভিত ও বামপন্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনে কাঁপতে শুরু করে। এই উত্তাল সময় বিস্তৃত আলোচনা সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়। তাই চলে আসি ১৯৭৭ সালে। সেই বছর জুন মাসে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে। ভাগ চাষীদের উচ্ছেদ রুখতে ও ফসলের ন্যায্য ভাগ দিতে সরকার শুরু করে অপারেশন বর্গা। শুরু হয় হাজার হাজার একর বেনামী জমি উদ্ধার করে ভূমিহীন চাষীদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া। ১৯৭৩ সালে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সরকার পঞ্চায়েত আইন করলেও তারা পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে পারেনি। ১৯৭৮ সালের ৪ঠা জুন বামফ্রন্ট সরকার প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচন করে। পঞ্চায়েত ভোটের পরে গ্রাম বাংলার গরীব ও প্রান্তিক মানুষের যে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষমতায়নের পর্ব শুরু হয় তা সারা দেশে আগে দেখা যায় নি। এর দুই তিন দশক পরে গ্রাম বাংলায় কম্যুনিস্ট পার্টি হয়ে ওঠে দাতা, আর সাধারণ মানুষ হয় গ্রহীতা। সেদিন থেকেই রাজ্যের মানুষের সিটিজেন থেকে বেনিফিসিয়ারী তে পরিণত হওয়া শুরু। একটি দলের রাজনৈতিক আধিপত্য সর্বগামী হওয়ায় কোথাও কোথাও মানুষের স্বাধীন পছন্দের উপরে নির্ভরতা কমে পেশীবলে ক্ষমতা দখলের পর্ব শুরু হয়। এর ফলে শুধু বিরোধী দল নয় বামফ্রন্টের শরিক দলের সঙ্গে ও সিপিআইএম এর রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়। এরই মাঝে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বিপুল হারে বাড়তে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করে পঞ্চায়েত দখলে রাখা দস্তুর হয়ে পড়ে।সাতের দশক থেকে রাজ্যের যুবশক্তি ব্যবহারেও পরিবর্তন আসে। বামপন্থী ছাত্র যুব দলের মোকাবিলায় রাজ্যের নব কংগ্রেস যুব কংগ্রেস ও ছাত্রপরিষদের ছাতার তলায় যুবকদের সংঘটিত করে। এই যুবশক্তি কে আর্থিক সুবিধা দিতে পথে নামে মিনিবাস। সিদ্ধার্থ সরকারের বদান্যতায় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের ঋনে মিনিবাসের মালিক হয় তারা। জানা যায়, সেই ঋনের প্রায় নব্বই শতাংশই ফেরত পায়নি ব্যাঙ্ক। এর পরে বামফ্রন্টের আমলে বাম দলের ছাতার তলায় থাকা বেকার, অল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত যুবকের সংখ্যা পথে নামে অটো রিক্সা ও টোটো। বর্তমানে তৃনমূলের আমলে এই সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বাড়ায় সেই জায়গা নিয়েছে অবৈধ বালি খাদান, পাথর খাদান, কয়লা খাদান ও সিন্ডিকেট ব্যবসা। এরই পাশাপাশি বেড়ে উঠেছে বামফ্রন্ট আমলে সৃষ্টি হওয়া প্রোমোটার রাজ। যার অবসম্ভাবী ফল রাজনীতিতে পেশীশক্তি ব্যাবহারের প্রথমাবস্থা পার করে পর্বতের আকার নেওয়া।এখন এই রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং এই সব সুবিধা পাইয়ে দিতে গ্রাম বাংলায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত জোরালো হাতিয়ার। তাই রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে আদর্শ নয় ক্ষমতা ধরে রাখাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্ম দিয়ে চলেছে। এর শেষ কোথায়, কী ভাবে হবে সেই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে ভবিষ্যতের গর্ভে। তবে রাজনীতি তো সমাজ নিরপেক্ষ নয়। আমরা যারা সমাজে বাস করি, সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নই তারাও এর দায় এড়াতে পারি না। আমাদের এড়িয়ে চলার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ক্ষমতার দর্শনের মান্যতা। আমরা মুখে বলি ভারতবর্ষ শান্তির পথ যাত্রী আমরা বুদ্ধদেব, মহাবীর, শিবের পূজারী। অথচ এই উচ্চারনে বিপরীত মেরুতে আমাদের অবস্থান।প্রাক্তন রাজ্যপাল ও প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ গোপালকৃষ্ণ গান্ধী সম্প্রতি এক দৈনিক ইংরেজি সংবাদপত্রে তাঁর লেখা আমাদের দ্বিচারিতার ছবিটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, রোজ সকালে যে পার্কে তিনি হাঁটতে যান সেখানে অনেক দুর্লভ প্রজাতির গাছ রয়েছে। তার পাশাপাশি রয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারে থাকা বিভিন্ন ক্ষেপনাস্ত্র, বিবিধ ট্যাঙ্ক ও অস্ত্রের রেপ্লিকা। সেখানে তিনি দেখেন অনেক বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ওই পার্কে আসেন। পার্কে এসে তাঁরা সন্তানদের সেই সব রেপ্লিকার সামনে দাঁড় করিয়ে গর্বিত মুখে ছবি তোলেন। অনেকে সেলফি ও তোলেন। কিন্তু কেউই পার্কে থাকা দূর্লভ বনানীকুলের কাছে ছেলেমেয়েদের নিয়ে গিয়ে পরিচয় করান না। মহাত্মা গান্ধীর বংশধরের এই অনুভব কি আমাদের কিছু শিখতে বলে? আমরা কি তাঁর সেই অনুভবের সামনে মনের দরজা খুলে দাঁড়াবো?

জুলাই ৩১, ২০২৩
রাজনীতি

তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সহ ৩ নেতার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা, পুলিশের ভূমিকাতে ক্ষুব্ধ শাসক শিবিরের একাংশ

জনতার কথাঃ গলসি ১ ব্লকে গণনার দিন গণ্ডগোল। মারপিঠ হয়। বিরোধীদের অভিযোগ পেয়ে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করল পুলিশ। যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তরা পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেসের আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে কোন তদন্ত না করেই পুলিশ প্রভাবিত হয়ে মামলা রুজু করেছে। সূত্রের খবর, পুলিশের এই ভূমিকা ইতিমধ্যে তাঁরা দলকে জানিয়েছেন। ঘনিষ্ট মহলে পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামাল করার কথাও জানিয়েছেন অভিযুক্তরা। গলসি ১ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়, গলসি ১ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহসভাপতি তথা এবারের বিজয়ী প্রার্থী অনুপ চট্টোপাধ্যায় ও মানকর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান তন্ময় ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছ বুদবুদ থানার পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পঞ্চায়েত ভোটের গণনার দিন কংগ্রেস কর্মী তথা মানকর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রার্থী অসিত কুমার মুখ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের প্রার্থী জয়গোপাল দে কে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারধর করার। এমনকি অভিযোগকারীকে তাঁরা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ঘটনাটি ঘটে বুদবুদ বাজারে দুর্গাপুর যাবার বাসস্ট্যাণ্ড এলাকায়। এবারে মানকর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী অসিত কুমার মুখার্জী পুলিশকে লিখিত এই অভিযোগ করেছেন। তাঁরও এই অভিযোগ ভিত্তিতে পুলিশ খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছেন।আর এখানেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদলের একটা বড়ো অংশ। তাঁরা বলছেন, এ দিন পর্যন্ত জনার্দনবাবু, অনুপবাবুদের বিরুদ্ধে একটি পিঁপড়ে মারার অভিযোগ নেই। ঘটনার সময় ওই এলাকাতেই তিনজনই ছিলেন না। তা হলে তাঁরা কী করে কংগ্রেস প্রার্থীকে মারধর করলেন?তাছাড়া এবার অনুপবাবু ১৭০০ বেশি ভোটে পঞ্চায়েত সমিতিতে নির্বাচিত হয়েছেন। তা হলে তিনি কেন কংগ্রেস প্রার্থীকে মারধর বা হুমকি দিতে যাবেন? তাদের আরও দাবি, অনুপবাবু বিরোধী বিজেপির মণ্ডল সভাপতি রতন সাউয়ের বাড়িতে গিয়ে এজেন্টদের ডেকে নিয়ে এসে গণনা কেন্দ্রে বসিয়েছিলেন। তারপরেও অনুপবাবুর বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত। সূত্রের খবর, গলসি ১ পঞ্চায়েতে সভাপতি পদটি সংরক্ষতি। তাই এবারও দলের একটা বড় অংশ অনুপবাবুকে পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি পদে দায়িত্ব দিতে চাইছেন। সেখানেই দলের নেতাদের একাংশে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনুপবাবু ঘনিষ্টদের আশঙ্কা, এর সঙ্গে দলের একাংশ যোগ রয়েছে। ক্ষুদ্ধ সেই নেতারা পুলিশ ও কংগ্রেসকে প্রভাবিত করে মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে অনুপবাবুকে আটকাতে চাইছেন। এবং তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি পদে বসার চক্রান্ত করছেন। এ ক্ষেত্রে আঙুল উঠেছে, গলসির দলের বিধায়ক নেপাল ঘরুইয়ের এক ঘনিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে। অনুপবাবুর ঘনিষ্ট তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, ভোট গণনার দিন গণনা কেন্দ্রের বাইরে বহু লোকের জমায়েত করেছিলেন ওই নেতাই। কারণ, তাঁর হারের আশঙ্কা ছিল। কংগ্রেসের সঙ্গে পুলিশের আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন জনার্দনবাবুও। তিনি তাঁর কর্মীদের বলেছেন, পুলিশ তদন্ত করল না, অথচ খুনের চেষ্টা মামলা রুজু করে দিল। পুলিশ তদন্ত করলে সিসিটিভি ফুটেছে, মোবাইল লোকেশন সহ একাধিক তথ্য হাতে পেত। কিন্তু, পুলিশ অভিযোগ পেয়েই সরাসরি খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে দিল। ঘনিষ্ট মহলে অভিযুক্তদের দাবি, বুদবুদ থানার ওসি মনজিৎ ধারা তৃণমূলকে হারাতে প্রথম থেকেই বিরোধীদের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন। হেরে যেতেই তৃণমূলকে রুখতে কংগ্রেসকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করে তাঁদের ফাঁসানো চেষ্টা চালাছেন। বিষয়টি দলকে তাঁরা জানিয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে হাইকোটে যাবার চিন্তাভাবনা করছেন তাঁরা। তবে তৃণমূলের অভিযোগ মানতে নারাজ পুলিশ। পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, আইন মেনে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

জুলাই ১৩, ২০২৩
রাজ্য

নির্বাচন কমিশনের গেটে পরপর লাথি শুভেন্দু অধিকারীর, সিসিটিভি এবং ভিডিওগ্রাফি দেখার দাবি

নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কমিশনের নানা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছেন। আজ ভোট চলাকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহাকে ফোনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কমিশনের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পূর্ব ঘোষণা মতো শনিবার ভোটগ্রহণ শেষ হলে সন্ধ্যা ৬টার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে দেখে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। তাই দেখে বেজায় চটে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তিনি কমিশনের গেটে পরপর লাথি মারতে থাকেন।কমিশনারের কর্মীকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমাকে দেখে তালা দিলেন কেন? আপনাদের মাইনে কি মমতা ব্যানার্জি দেয়? কয়লা (অভিষেক ব্যানার্জি) দেয়? দরজা খুলুন। এখন তিনটে লাথি মেরেছি। আরও মারব। অসভ্য কোথাকার! একথা বলার পাশাপাশি, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দরজা খোলার জন্য অপেক্ষাও করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিশির বাজোরিয়া-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা শুভেন্দু অধিকারীর জন্য গেটের দরজা খোলেননি।এরপর শুভেন্দু অধিকারী সদলবলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বাইরে বেরিয়ে আসেন। তিনি এরপর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দরজার বাইরে প্রতীকী বিক্ষোভের অঙ্গ হিসেবে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা দাবি করেছি, কাল দুপুরের মধ্যে সিসিটিভি এবং ভিডিওগ্রাফি দেখতে হবে। যেসব বুথে ছাপ্পা হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। দরকার হলে ভোটের ফল ঘোষণার দিন পিছিয়ে দিতে হবে। ছাপ্পা হওয়া বুথগুলোয় নতুন করে ভোটগ্রহণ করাতে হবে। অবশ্যই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রেখে।এদিন বিজেপি কর্মীরাও এর আগে পৃথকভাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে বিক্ষোভ দেখান। পাশাপাশি, বিক্ষোভ দেখান রাজ্য বামফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্বও। বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়নি। নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির জন্যই সেটা হয়নি।

জুলাই ০৮, ২০২৩
রাজ্য

জরুরি অবতরণ মুখ্যমন্ত্রী মমতার হেলিকপ্টারের, চোট পেলেন কোমর ও পায়ে

সেবকে বায়ুসেনার এয়ারবেসের জরুরি অবতরণ করা হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের। সূত্রের খবর, হেলিকপ্টার থেকে নামতে গিয়ে পায়ে ও কোমরে চোট পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে গাড়িতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বিশেষ বিমানে কলকাতা রওনা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।ক্রান্তির সভা সেরে মঙ্গলবার দুপুরেই উড়ানে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনেই জলপাইগড়ি থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে ফেরার জন্য ওড়ে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। কিন্তু, মাঝ আকাশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে কপ্টারটি। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ওই কপ্টারটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয় বায়ুসেনার সেবক এয়ার বেসে। বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিন দুপুরে জলপাইগুড়ির ক্রান্তিতে পঞ্চায়েতের প্রচার সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল সভা করেছেন কোচবিহারে। সেখান থেকেই বাগডোগরা হয়ে উড়ানে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল তাঁর। সাধারণত ক্রান্তি থেকে বাগডোগরা কপ্টারে যেতে সময় লাগে ১১ মিনিট। ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্যোগের মুখে পড়ে কপ্টার। বৈকণ্ঠপুর জঙ্গলের কাছে মাঝ আকাশে প্রবল দুর্যোগের কবলে পড়ে মমতার কপ্টার। বিপদ বুঝে পাইলট ঝুঁকি না নিয়ে সেবক এয়ার বেসের দিকে কপ্টারটি ঘুরিয়ে দেন। সেবক এয়ার বেসেই কপ্টারটিকে জরুরি অবতরণ করা হয়। এর আগে গত বছর উত্তরপ্রদেশ থেকে কলকাতা ফেরার সময়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মুখে পড়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর উড়ান। কলকাতায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা হবে বলে জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৩
রাজ্য

ভোটের মুখে কোচবিহারের সীমান্ত এলাকা উত্তপ্ত, গুলিতে ঝাঁঝরা- মৃত এক তৃণমূল কর্মী, জখম ৬

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফরের মধ্যেই উত্তপ্ত কোচবিহারের দিনহাটা। পঞ্চায়েত ভোটে প্রচার চলাকালীন কোচবিহারের গীতালদহের জারি ধরলা এলাকায় চলল নির্বাচারে গুলি। দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের, জখম হয়েছেন ৬ জন। নিহতকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই অপকর্ম করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন পর্ব থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট ১১ জনের।গতকাল সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহারের চাঁদমারি থেকে পঞ্চায়েতের প্রচার শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, সীমান্তবর্তী জারি ধরলা গ্রামে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। গীতালদহে এক তৃণমূল কর্মীর বাবু হক নামে এক তৃণমূল কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও ৭ জন।দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, ওপার থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বিজেপি। বিজেপির কয়েক জন নেতা, মন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্য এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে দুষ্কৃতীদের এনে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জারি ধরলা এমন এলাকা যেখানে বিএসএফের নজর ছাড়া কিছু হওয়া সম্ভব নয়। তার পরেও এই ধরণের আক্রমণ হল। বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে কাছে এ রকম ঘটনা ঘটল। বিএসএফ কী করছিল? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ অধিকারীর বিরুদ্ধেও আঙুল তুলেছেন তিনি।কোচবিহারের বিজেপির জেলা সভাপতি সুকুমার রায় তৃণণূলের অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, দিনহাটার গীতালদহে জারি ধরলা এলাকা সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম। যেখানে প্রতিনিয়ত চোরাচালানের কারবার চলে। ওই জায়গায় আমাদের সংগঠন একেবারে নেই বললেই চলে। বর্তমানে কয়েক জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। বরাবরই ওই এলাকায় তৃণমূলের সংঘর্ষ লেগেই থাকে। খুনের পিছনে হয়ত কোনও চোরাচালান কারবারের যোগ থাকতে পারে বা এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল হতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনও দিনহাটার ঘটনার দিকে নজর রেখেছে। রিপোর্ট তলব করেছে জেলা প্রশাসনের কাছে।

জুন ২৭, ২০২৩
কলকাতা

ডাক্তারিতে ডিপ্লোমা কোর্সের ভাবনা মমতার, শর্টকাটের বিরোধিতা চিকিৎসকদের

অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসক চাই। তাই এবার ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠ্যক্রমের কায়দায় ডাক্তারিতেও ডিপ্লোমা কোর্স চালুর প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে এই নয়া চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে রোগী ও চিকিৎসকের অনুপাতের ঘাটতি কমবে। একইভাবে ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেও কাজে লাগানো যাবে।মুখ্যমন্ত্রীর নয়া প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে বিরোধী দলসহ চিকিৎসকদের বড় অংশ। বিজেপির রাজ্য সভপাতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, সিভিক ভলান্টিয়ারের পর সিভিক শিক্ষক এবার সিভিক ডাক্তার বানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে আর একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন আরও কয়েকজন সিভিক মুখ্যমন্ত্রী করলেই তো হয়। অন্যদিকে চিকিৎসকদের একটা বড় অংশের বক্তব্য, এভাবে শর্টকাট পদ্ধতিতে চিকিৎসক তৈরি করা যায় না। এমন হলে ভেঙে পড়বে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।ঠিক কী বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?রাজ্যে ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য জেলা হাসপাতালগুলিকেই ভুগতে হয় বেশি। ঘাটতি পূরণে বাড়ানা হয়েছে ডাক্তারি পাঠ্যক্রমে আসন সংখ্যা। কিন্তু, অনেকেই পাস করার পর এ রাজ্যে থাকছেন না। ফলে লাভের লাভ হচ্ছে না। বৈঠকে উপস্থিত আমলাদের উদ্দেশে মমতা বলেন, অনেক হাসপাতাল হচ্ছে, যেখানে ডাক্তার নেই, নার্স নেই। ইঞ্জিনিয়ারদের মতো ডাক্তারদের একটা ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা যায় কি না দেখো। তাহলে অনেক ছেলে-মেয়ে ডাক্তারি ডিপ্লোমা কোর্সের সুযোগ পাবে। পাঁচ বছর ধরে প্রশিক্ষণে আমরা যে অরিজিনাল ডাক্তার পাচ্ছি, তাদের অনেকটা সময় যাচ্ছে, পড়াশোনা করতে হচ্ছে, পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু হাসপাতাল বাড়ছে, লোকসংখ্যা বাড়ছে, বেড বাড়ছে যদি সমান্তরালভাবে একটি ডিপ্লোমা কোর্স করে অন্তত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে কাজে লাগানো যায়, তাহলে মনে হয় ভাল রেজাল্ট দেবে।

মে ১১, ২০২৩
রাজ্য

মালগাড়ি-লোকালের ধাক্কা, ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত বর্ধমান-হাওড়া ডাউন মেইন লাইনে

মালগাড়ির সঙ্গে ধাক্কায় লোকাল ট্রেনের লাইনচ্যুত হয় বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছে। বর্ধমান-হাওড়া মেন ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বুধবার রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে নিত্য যাত্রী দুর্ভোগ পোয়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালেও এই ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ৯. ১৬ মিনিট নাগাদ পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় স্টেশনের কাছে ট্র্যাক চেঞ্জ করার সময় একই লাইনে চলে আসা মালগাড়ির সঙ্গে ধাক্কায় লাইনচ্যুত হয় যাত্রীবাহী ডাউন ব্যান্ডেল লোকাল। তবে দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। কিন্তু ট্রেনের যাত্রীরা যথেষ্টই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের আধিকারিকরা। দুর্ঘটনার ফলে এখনও ট্রেন চলাচল ব্যহত রয়েছে।পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানিয়েছেন, ৩৭৭৮৪ ডাউন বর্ধমানব্যান্ডেল লোকাল ট্রেনটি রাত ৯. ১৬ মিনিট নাগাদ শক্তিগড় স্টেশনে ঢুকছিল। তখন দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটির গতিবেগ কম থাকায় বড়সড় কোনও বিপদ ঘটেনি। ট্রেনের যাত্রী রাজু রায় বলেন, ওই সময়ে আমরা ট্রেনে বসেই প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করি। আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তারপর দেখতে পাই আমাদের ট্রেনের একটা বগি লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে। ট্রেনে ধীর গতি থাকায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছে পূর্বরেলের পদস্থ কর্তারা। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে।

মে ১১, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 20
  • 21
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

বাংলাদেশে কী চলছে? হিন্দু হত্যা ও মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তাল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

বাংলাদেশে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার। প্রকাশ্যে হিন্দুদের খুন করা হচ্ছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি ও মন্দিরএই অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হল ব্রিটেনের পার্লামেন্টে। আসন্ন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটেনের সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান।ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ব্ল্যাকম্যান বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের বিদেশ সচিবের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাস্তায় হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মন্দিরে হামলা চালানো হচ্ছে। শুধু হিন্দুরাই নন, অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও একই ভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন ব্ল্যাকম্যান। তিনি বলেন, জনমত সমীক্ষায় আওয়ামি লিগের প্রায় ৩০ শতাংশ সমর্থন থাকা সত্ত্বেও দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, বাংলাদেশের কট্টরপন্থী শক্তিগুলি দেশের সংবিধান বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।বাংলাদেশে নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ব্রিটিশ সাংসদ। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের সরকার কী পদক্ষেপ করবে, সে বিষয়ে বিদেশ সচিবের কাছে স্পষ্ট জবাব চান ব্ল্যাকম্যান। উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন ব্রিটেনের চার জন সাংসদ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তা কখনওই প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচন হতে পারে না।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

দু’দিন ধরে জ্বলছে বেলডাঙা, অবশেষে লাঠিচার্জ—পুলিশ এতক্ষণ কোথায় ছিল?

টানা দুদিন ধরে অশান্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, জাতীয় সম্পত্তি ভাঙচুর, রেল অবরোধসব মিলিয়ে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছিল, পুলিশ কোথায়? সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে, রেলগেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, দোকানপাট বন্ধ হয়ে গিয়েছে, ট্রেন চলাচল স্তব্ধতবু পুলিশের কোনও দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠছিল বারবার।অবশেষে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর সেই নীরবতা ভাঙল। জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামল রাস্তায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে করা হল লাঠিচার্জ। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেয়। এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, এত দেরিতে কেন পুলিশের অ্যাকশন?এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ আগেও এলাকায় ছিল। তবে হঠাৎ করে লাঠিচার্জ করা যায় না। প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি যখন আর নিয়ন্ত্রণে আসছিল না, তখন বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোড়া শুরু করায় পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। যাঁরা লুকিয়ে রয়েছেন, তাঁদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।বেলা বাড়লেও এখনও রেল চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বহু দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। স্টেশন চত্বরে টহল দিচ্ছে আরপিএফ। কয়েকজন দোকানদারের অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা দোকানে লুটপাটের চেষ্টা করেছে। যদিও পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক এবং পুলিশ পুরোপুরি নজরদারিতে রয়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

মালদহ থেকে বন্দে ভারত স্লিপার চালু, অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর

বাংলা সফরের প্রথম দিনেই মালদহে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদা টাউন স্টেশন থেকে এ দিন দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি। নতুন এই ট্রেন অসমের উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেন চালু হতেই খুশির হাওয়া মালদহ জুড়ে। উদ্বোধনের পরে ট্রেনের ভিতরে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি মালদহে একটি জনসভাও করেন তিনি।সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, বিশ্বের সব উন্নয়নশীল দেশেই অনুপ্রবেশকারীদের বাইরে বের করে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের এক এক করে বের করে দেওয়া জরুরি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলে সেটা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নেতারাই বছরের পর বছর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় বসবাস করতে দিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের জমি সুরক্ষিত নয়, কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে, টাকা লুট হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।মালদহের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার এলে মালদহের আম নির্ভর অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। রাজ্যে আরও বেশি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হবে। রেশম চাষিদের জন্য কোটি টাকার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পাট শিল্পকে বাঁচাতে কেন্দ্র সরকার সব রকম চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের আগে যখন তৃণমূল কেন্দ্রের অংশ ছিল, তখন এমএসপি ছিল ২৪০০ টাকা, আর এখন তা বেড়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকারও বেশি হয়েছে।বন্যাত্রাণ নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, বহুবার ত্রাণের টাকা দেওয়া হলেও সেই টাকা সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছয়নি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তারা টাকা পায়নি। তাঁর দাবি, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হলে এই সব দুর্নীতি বন্ধ হবে।আম প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নদীভাঙন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৃষ্টি হলেই সব ভেসে যায়, আর বন্যাত্রাণ নিয়ে কী হয়েছে, তা মানুষ নিজেরাই ভালো জানেন।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

কলকাতা থেকে পাঠানো হচ্ছে RPF-RPSF, বেলডাঙায় হাজির হলেন হুমায়ুন কবীর

শুক্রবারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর শনিবারও মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত। স্থানীয় বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগর-লালগোলা রুটের ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে, রেলগেট ভেঙে ফেলা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বচসা করেন।তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় নয়। সক্রিয়তা না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো আক্রান্ত হচ্ছে। জনরোষ এসে জাতীয় সড়ক (NH)-এর উপর পড়ছে। গতকাল সাত ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ ছিল। বিহারে আরও একজন আহত হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি। কিছু মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। কার নির্দেশে তারা NH অবরোধ করছে তা জানা নেই।আজও সাংবাদিকদের টার্গেট করে মারধর করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক পুরোপুরি ধ্বংসের পথে। ক্ষিপ্ত জনতা রাস্তায় নেমে বাঁশ হাতে ও ফ্লেক্স-ব্যানার উপরে ফেলে লাথি মারা সহ নানা ধরণের ভাঙচুর চালাচ্ছে। এলাকায় একজনও পুলিশ দেখা যায়নি। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জানা গেছে, কলকাতা থেকে RPF ও RPSF পাঠানো হচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগে বড় সিকিউরিটি অ্যালার্ট, বন্দে ভারত স্লিপারকে লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্র!

আর হাতে গোনা কয়েক ঘণ্টা, তারপরই মালদহ থেকে ছুটবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। তবে এই আনন্দের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আরপিএফ। গোপন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া ও কালো পতাকা দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে।আজ দুপুরে মালদা টাউন রেলস্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন ট্রেনের। তার আগে আরপিএফের পক্ষ থেকে কালিয়াচক থানার আইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুবোধ কুমার সাউ নামের একজন ব্যক্তি ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে কিছু দুষ্কৃতীরা ট্রেন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনে হামলার চেষ্টা করতে পারে।আরপিএফের আশঙ্কা অনুযায়ী, জামিরঘাটা, খালতিপুর, চমগ্রাম, শঙ্খপাড়া, নিউ ফরাক্কা, বল্লালপুর, ধুলিয়ান, বাসুদেবপুর ও তিলডাঙা এলাকায় ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হতে পারে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কালো পতাকা দেখানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই কালিয়াচক থানাকে স্টেশনগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।এর আগে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস লক্ষ্য করে একাধিকবার পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তখন রেল কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল। এবার যাতে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগেভাগেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

বেলডাঙা উত্তাল! রেল অবরোধ, ট্রেন আটক, ভাঙচুর ও সাংবাদিকের ওপর হামলা

ভীন রাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। শুক্রবারের পর শনিবারও রাস্তায় শত শত মানুষ বিক্ষোভে নেমে আসে। গতকাল সাংবাদিকদের ওপরও হামলা হয়েছে। ট্রেন ও সড়ক অবরোধের ঘটনা লাগাতার চলেছে। শনিবার ফের জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় জনতা। সড়কে চলমান সব কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রেল গেট ভাঙচুর করা হয়েছে, ফলে লালগোলাকৃষ্ণনগর রুটের ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন উঠেছে, এভাবেই কি প্রতিবাদ করা উচিত?শুধু শুক্রবার নয়, শনিবারও সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে ক্ষিপ্ত জনতা রাস্তায় নেমে বাঁশ হাতে হুড়োহুড়ি করছেন। রাস্তার ধারে থাকা ফ্লেক্স ও ব্যানার উপরে ফেলে লাথি মারা হচ্ছে। এলাকায় কোনও পুলিশকর্মীও দেখা যায়নি। কোথায় গেল পুলিশ, সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।গতকাল পরিস্থিতি যখন তপ্ত হয়েছিল, প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়। কিছু আবেদন মেনে নেওয়া হয় এবং কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। তবে তাতে কার্যত পরিস্থিতির কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। শনিবার সকাল থেকেই বেলডাঙায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, রাজ্যে প্রশাসন নেই, তাই এমন হচ্ছে। তার মধ্যে আজ আবার অভিষেক আসছেন। তাই বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড বেলা ১১টা থেকে ৪টা অবধি বন্ধ থাকবে। এই সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সব বন্ধ। নেতারাই তো সমাজ-বিরোধী কাজ করছেন। তাহলে বাংলায় আর কী হবে? কোথাও রোড শো, কোথাও ভাঙচুরএর জন্য যাতায়াত বন্ধ। জনপ্রতিনিধি ভাষণ দেবেন বলে সব বন্ধ।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
কলকাতা

ছাব্বিশ হাজার চাকরি বাতিলের জটিল মামলা আবার আলোচনায়, দাগি প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এল নাম!

কলকাতা হাইকোর্টের একটি উল্লেখযোগ্য রায়ের আলো আবার সমালোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যারা চাকরি পাননি, তাদের মধ্যে কয়েকজন দাগি প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়। এখন ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসএসসি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করেছে ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টের দাগি প্রার্থীদের নাম।এই তালিকায় নাম থাকা মাত্রই বিতর্ক শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামের লক্ষ্মী তুঙ্গারের নামও তালিকায় রয়েছে, যিনি ২০১৬ সালে নিয়োগ বৈধতা নিয়ে মামলা করেছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, বঞ্চিত প্রার্থীর নামে মামলা হয়েছে, যারা লড়েছেন তাঁদের নাম এখন দাগি তালিকায়। এটা একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ। অনেক চূড়া এখনও প্রকাশ পায়নি। তিনি আরও বলেন, নিয়োগ আটকানোর চেষ্টা অনেকবার হয়েছে। তবে যোগ্য শিক্ষকের নিয়োগ বাধ্যতামূলক। তবে এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা কিছুটা প্রকাশ পেয়েছে।চাকরিহারা রাকেশ আলম বলেন, যখন তালিকা প্রকাশিত হলো, তখন স্পষ্ট হলো এই প্যানেল রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে তৈরি। আমরা যোগ্য শিক্ষকদের পক্ষে, কোনও রাজনৈতিক পক্ষ নই। ওএমআর মিসম্যাচের অভিযোগে দাগিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অযোগ্য প্রার্থীরাও উঠে এসেছে।এসএসসি সূত্রে জানা যায়, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একজনও দাগি প্রার্থী থাকবেন না, সেই নির্দেশনা মেনে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত তালিকা ভোটের আগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
কলকাতা

বিএলও-র ইস্তফা ঝড়! এসআইআর প্রক্রিয়া বিপর্যয়ের পথে? নির্বাচনী কমিশনের পদক্ষেপ প্রশ্নের মুখে

শেষ পর্যায়ে এসআইআর প্রক্রিয়া। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলও-দের অসন্তোষ ক্রমশ বেড়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ আগেই তুলেছিলেন বিএলও-রা। এবার অনেকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন।রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-রা গণইস্তফা দিচ্ছেন। শনিবারই উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকে প্রায় ২০০ জন বিএলও অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক নির্দেশিকা ও ম Thomson-এ কাজ করতে গিয়ে তাঁরা হয়রানি ও হেনস্থার মুখে পড়ছেন। বিডিও দফতরের সামনে গেট আটকে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে।বিএলও-দের অসন্তোষ জেলায় জেলায় বাড়ছে। স্বরূপনগরে গতকাল ৫৩ জন বিএলও একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি বিএলও ইস্তফার আবেদন জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ নেবে, তা এখনই প্রশ্নের মুখে। রাজনৈতিক কারণে কি এই ইস্তফার ঘটনা ঘটছে, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে।এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৪ নভেম্বর থেকে তারা এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেছিলেন। কাজের চাপ এবং দীর্ঘ দায়িত্বের কারণে একাধিক বিএলও মৃত্যু বা আত্মহত্যার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের পদক্ষেপই এখন সবার নজর কেড়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal