• ১২ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

North 24 Parganas

রাজ্য

মহিলার ব্যাগ খুলতেই চোখ ছানাবড়া! এ যেন অস্ত্রের ভাণ্ডার, আন্তঃরাজ্য চক্রের খোঁজে সিআইডি

গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বড় সাফল্য পেল সিআইডি। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থেকে এক মহিলাকে আটক করে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, প্রায় ২০০ রাউন্ড কার্তুজ এবং নগদ টাকা। রবিবার সকালে অশোকনগর থানার ৮ নম্বর মোড় এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম পূজা বিশ্বাস। তিনি হাবরা পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, নৈহাটি-অশোকনগর রোড দিয়ে একটি ম্যাটাডোরে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে যাত্রা করছিলেন তিনি। আগেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল সিআইডি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোটা পথ তাঁকে অনুসরণ করা হয়।অশোকনগর থানার ৮ নম্বর মোড়ে ম্যাটাডোর থেকে নামার পরই সাদা পোশাকের সিআইডি আধিকারিকরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, প্রায় ২০০ রাউন্ড কার্তুজ এবং নগদ টাকা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অশোকনগর থানার পুলিশ। পরে পূজা বিশ্বাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা।প্রত্যক্ষদর্শী সুখেন সরকার বলেন, সকালে এসে দেখি এক মহিলাকে ঘিরে পুলিশ ও সিআইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। পরে জানতে পারি তাঁর ব্যাগ থেকে প্রচুর গুলি ও বন্দুক উদ্ধার হয়েছে। এই এলাকায় এমন ঘটনা আগে দেখিনি। মহিলাকেও কখনও এখানে দেখিনি। পুলিশ ও সিআইডি খুব ভালো কাজ করেছে।প্রাথমিক তদন্তে সিআইডির অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও কার্তুজ বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে। তবে এগুলি কোথায় পৌঁছানোর কথা ছিল, কী উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল এবং এই অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও আন্তঃরাজ্য চক্র রয়েছে কি না, সেই দিকেও তদন্তকারীরা নজর দিচ্ছেন।

জুলাই ১৯, ২০২৬
কলকাতা

বেআইনি দখল মামলায় বড় মোড়! উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান হাইকোর্টের

ভিআইপি থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত বেআইনি নির্মাণ এবং রাস্তা দখল সংক্রান্ত মামলায় উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট । আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সন্তোষজনক রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় জেলাশাসককে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তেইশে জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানিতে তাঁকে হলফনামা এবং পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।শুক্রবার মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, একাধিকবার রিপোর্ট চাওয়া হলেও স্পষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি আদালতের নির্দেশের পরও দায়সারা রিপোর্ট জমা পড়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, একজন নিম্নপদস্থ কর্মীর মাধ্যমে কেন এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, জেলাশাসক কি নিজেকে ডিভিশন বেঞ্চের চেয়েও বড় মনে করছেন। আদালতের মতে, এই ধরনের আচরণ আদালতের নির্দেশকে গুরুত্ব না দেওয়ারই ইঙ্গিত বহন করছে।আদালত জানায়, এর আগেই সতর্ক করে বলা হয়েছিল, পরবর্তী রিপোর্ট সন্তোষজনক না হলে জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে হবে। সেই নির্দেশও মানা হয়নি। তাই এবার তাঁকে আদালতে উপস্থিত থেকে রিপোর্টের ব্যাখ্যা দিতে হবে।বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী আরও বলেন, আদালতের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ও প্রশ্ন তোলেন, জেলাশাসক কি এতটাই ব্যস্ত যে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় পাচ্ছেন না।মামলাকারীর অভিযোগ, ভিআইপি থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত রাস্তার ধারে বেআইনিভাবে দখল করে পার্কিং এলাকা এবং বিয়েবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নয়ানজুলি ভরাট করে একাধিক বেআইনি নির্মাণও হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে দুই হাজার বাইশ সালে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।মামলার আগের শুনানিতে জেলা প্রশাসন স্বীকার করেছিল যে ওই এলাকায় জবরদখলের ঘটনা ঘটেছে। এরপর আদালত জানতে চেয়েছিল, সেই বেআইনি দখল সরাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একাধিকবার জেলাশাসক বদল হলেও এখনও পর্যন্ত আদালতে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়েনি। সেই কারণেই এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।

জুলাই ১০, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর নথির নামে ডেকে খুন! বাদুড়িয়ায় দেহাংশ উদ্ধার, গ্রেফতার বিএলও

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া-য় চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। এসআইআর সংক্রান্ত নথির কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক বিএলও-সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মৃত যুবকের নাম নাসির আলি (৩৬)। তাঁর বাড়ি পাপিলা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বিএলও-র নাম রিজওয়ান হাসান মণ্ডল ওরফে মন্টু। তিনি পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও। সাগর গাইন নামে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নাসিরের কাছে একটি ফোন আসে। বলা হয়, এসআইআর সংক্রান্ত কারণে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স নিয়ে দেখা করতে হবে। ফোনকারী নিজেকে এইআরও বলে পরিচয় দেন। সেই ফোন পাওয়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নাসির। তারপর আর ফেরেননি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। পরে পরিবার বাদুড়িয়া থানার পুলিশ-এর কাছে নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করে।পরদিন চাতরা এলাকার একটি খাল থেকে নাসিরের মোটরবাইক ও জুতো উদ্ধার হয়। কিন্তু তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। তদন্তে নেমে পুলিশ রিজওয়ান ও সাগরকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর বাদুড়িয়ার বিভিন্ন খাল ও সেতুর নীচে তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতেই তিনটি প্যাকেটের মধ্যে নাসিরের দেহাংশ উদ্ধার হয়। তবে এখনও তাঁর মাথা উদ্ধার হয়নি।কেন এই নৃশংস খুন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। পরিবারের দাবি, নাসিরের সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। মৃতের স্ত্রী বিউটি খাতুন বিবি বলেন, রিজওয়ান তাঁদের পরিচিত ও বন্ধুই ছিলেন। তাঁর স্বামীর উপর এমন অত্যাচারের কঠোর শাস্তি চান তিনি।ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
রাজ্য

পুলিশের কর্মীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি নেতা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর দাবি ধৃতের

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় পুলিশের এক কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে বিজেপি নেতা গোবিন্দ ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে গাইঘাটা এলাকা থেকে তাকে আটক করে বনগাঁ থানার পুলিশ। অভিযোগ, বুধবার রাতে হাসপাতাল কালিবাড়ি এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে এক যুবককে পূর্ব আক্রোশের জেরে মারধর করেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা। আক্রান্ত যুবক নিজে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি কলকাতা পুলিশের কর্মী। ধৃত গোবিন্দ ভট্টাচার্যকে শুক্রবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।এই ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে বনগাঁয়। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, গোবিন্দ জমি মাফিয়া। সমাজবিরোধীদের সঙ্গে চলাফেরা করে। যে যুবককে মারধর করা হয়েছে, তিনি একজন পুলিশ কর্মী। বিজেপি একটা উশৃঙ্খল দল। তবে ধৃত বিজেপি নেতা গোবিন্দ ভট্টাচার্যের দাবি, শুধুমাত্র বিজেপি করার কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এটা তৃণমূলের ষড়যন্ত্র।এই ঘটনায় বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কির্তনীয়াও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আমাদের কার্যকর্তারা ঘরে বসে থাকলেও পুলিশ কেস দিচ্ছে। এটা তৃণমূলের পূর্বপরিকল্পনা। মামলা হবে, জামিন নেব। তবে ২০২৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিসর্জন হবে।অন্যদিকে, আক্রান্ত যুবক এবং তাঁর পরিবার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
রাজ্য

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের, যুবকের মাথা ফাটিয়ে, হাত কেটে দিল গৃহবধূ

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়ায় যুবকের উপরে আক্রমণ ও তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রতিবেশী গৃহবধূর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনগাঁয়। প্রতিবেশী গৃহবধূর সঙ্গে যুবকের চার বছরের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়ায় যুবকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া, ব্লেড দিয়ে হাত কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। শুধু যুবকের উপর হামলা করেই থামেনি প্রতিবেশী ওই গৃহবধূ। যুবকের পরিবারের অভিযোগ, ওই গৃহবধূ তাদের বাড়ির খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে এবং বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ থানার সভাইপুর এলাকায়। সোমবার বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করে যুবক। যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ। অভিযুক্ত গৃহবধূকে মঙ্গলবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ।

মে ২৮, ২০২৫
রাজ্য

নিমিষের ঝড়ে লন্ডভন্ড গাইঘাটার ৬টি গ্রাম, ভেঙে চুরমার একাধিক বাড়ি

১০ মিনিটের ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার ৬ টি গ্রাম। আচমকা এই ঝড়ে ভেঙেছে ৩০ -৩৫ বাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান বিডিও ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের আচমকা ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার রামনগর গ্রামপঞ্চায়েতের ৬ টি গ্রাম কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এদিন দুপুরে হঠাৎ ঝড় ও ব্যাপক শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগে গ্রামের একাধিক বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে। কোথাও ভেঙ্গে গিয়েছে পাকা বাড়ির দেওয়াল। শিলার আঘাতে আহত হয়েছেন কয়েকজন। নষ্ট হয়ে গিয়েছে মাঠের ফসল। প্রশাসন সূত্রে খবর, রামনগর গ্রামপঞ্চায়েতের শশাডাঙ্গা, তেঁতুলবেড়িয়ার আগারপাড়া, রঘুনন্দনপুর, চক ঝাউডাঙা ও পিপলি গ্রামে ৩০ থেকে ৩৫ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে গ্রামগুলি পরিদর্শন করেন গাইঘাটার বিডিও নীলাদ্রি সরকার ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইলা বাগচি, জেলা পরিষদের সদস্য অভিজিৎ বিশ্বাস সহ পুলিশ প্রশাসন ও জন প্রতিনিধিরা। গাইঘাটার বিডিও নীলাদ্রি সরকার বলেন, যাঁদের ঘড় ভেঙ্গেছে তাঁদের জন্য ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেওয়া হচ্ছে ত্রিপল। যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫
রাজ্য

উত্তর ২৪ পরগণায় বাংলাদেশ সীমান্তে ফেন্সিংয়ের তৎপরতা, ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক বিএসএফের

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বিস্তীর্ণ অংশে এখনও কাঁটা তারের বেড়া নেই। সম্প্রতি মালদার বৈষ্ণবনগরের সীমান্ত এলাকায় শুধু বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির নয়, দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ফেন্সিং দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা ব্লকের সীমান্ত এলাকায় নানা জায়গায় কাঁটা তারের ফেন্সিং নেই। সেই এলাকায় কাঁটাতার দিতে গাইঘাটা ব্লক অফিসে বিএসএফ এর সঙ্গে বৈঠক করল ব্লক প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ-এর ৫ ও ১৪৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের আধিকারিকরা। তাছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাইঘাটার বিডিও, গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও ব্লকের ভূমি রাজস্ব দপ্তরে আধিকারিকরা। গাইঘাটার বিডিও নীলাদ্রি সরকার বলেন, রামনগর এবং ঝাউডাঙা গ্রামপঞ্চায়েতের মধ্যে সীমান্ত পড়ছে। এই এলাকায় কাটাতার দেওয়ার জন্য প্রায় ১০০ একর জমি কেনা হবে। জমি নিয়ে কোন সমস্যা নেই। জমি কেনার কাজ শুরু হয়েছে। গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইলা বাগচি বলেন, গাইঘাটা ব্লকে সীমান্তে কাটাতার দেওয়া নিয়ে কোন জমি জট নেই। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে জমি মাপা হয়ে যাবে।

জানুয়ারি ২১, ২০২৫
রাজ্য

সেনা ও আধা-সেনার চাকরিতে জাল ডোমিসিয়াল সার্টিফিকেটের ছড়াছড়ি! অভিযোগ পেয়ে কাঁকিনাড়া থেকে গ্রেপ্তার দুই

ভারতীয় সেনা ও আধা-সেনার চাকরিতে বাংলার কোটায় জাল ডোমিসিয়াল শংসাপত্র দাখিল করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ বাংলা পক্ষের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁকিনাড়া থেকে দুই বহিরাগত দালালকে আজ বৃহস্পতিবার ডায়ামন্ড হারবার জেলা পুলিস গ্রেপ্তার করে।সরকারি সুত্রে জানা গেছে, ডোমিসিয়াল সার্টিফিকেট সাধারণত দুধরনের হয়, ক্যাটাগরি-এ ও ক্যাটাগরি-বি। এ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য অন্য রাজ্য থেকে আসা ওই ব্যক্তিকে সেই রাজ্যে দশ থেকে পনের বছর স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে হবে। আর বি ক্যাটাগরি সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য অন্য রাজ্য থেকে আসা ওই ব্যক্তির কোনও নিকটাত্মীয়কে সেই রাজ্যে দশ বছরের বেশী স্থায়ী ভাবে বসবাসের প্রমান দাখিল করতে হবে।বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালি সংগঠন বাংলা পক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই এই জাল ডোমিসিয়াল বিষয়ে আওয়াজ তুলেছে। তাঁরা জনতার কথাকে জানায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থানার ঠিকানা দিয়ে জাল ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বানিয়ে বাংলার রাজ্য কোটায় আধাসেনার চাকরি দখল করেছিল আদিত্য প্রতাপ সিং এবং অমিত সিং নামে দুই ব্যাক্তি৷ বাংলা পক্ষের স্থানীয় সদস্যেরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, তাঁরা কেউই পশ্চিমবঙ্গে থাকে না, তাঁরা সকলেই অন্য রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। বাংলা পক্ষর মহেশতলা বিধানসভার সম্পাদক সুশাস্ত চক্রবর্তী মহেশতলা থানায় অভিযোগ জানিয়ে একটি এফআইআর করেন। সেই এফআইআর নং (FIR) - 535/23, Dated- 07/10/2023.বুধবার গভীর রাতে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের কাঁকিনাড়া থেকে জাল ডোমিসাইল ও জাল কাস্ট সার্টিফিকেট চক্রের অন্যতম দুই বহিরাগত পাণ্ডা বিক্কি চৌধারী ও রাজু চৌধারীকে গ্রেপ্তার করে ডায়ামন্ড হারবার পুলিস জেলার মহেশতলা থানা। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালত পেশ করলে বিচারক দুই অভিযুক্তের ৪ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে এই চক্রের আর এক মাথা কাঁকিনাড়ার এক সেনা জওয়ান রাহুল শার বিরুদ্ধে ১৭ মাহার রেজিমেন্টে তথ্য প্রমাণ সহ অভিযোগ জানানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনী।বাংলা পক্ষের শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, আধাসেনায় বাংলার রাজ্য কোটার হাজার হাজার চাকরি দখল হয়ে যাচ্ছে। জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে দালাল মারফৎ ভিন রাজ্যের লোকজন বাংলার চাকরি দখল করছে। গত এক বছর বাংলা পক্ষ এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করছে। CRPF ভবনে বিক্ষোভ কর্মসূচীও করেছিল বাংলা পক্ষ। গত কয়েক মাসে ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর সহ বিভিন্ন মহকুমা শাসকের অফিসে, পুলিস সুপারের অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচী করেছে বাংলা পক্ষ। বিএসএফ, সিআইএসএফ সহ বিভিন্ন সেনা ক্যাম্পের বাইরেও ঘেরাও কর্মসূচী করেছে বাংলা পক্ষ। কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও করেছিল বাংলা পক্ষ। কৌশিক মাইতি আরও জানান তাঁরা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটা দালাল কে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে। বাংলা পক্ষ বাংলার বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের বঞ্চিত হতে দেবে না বলে তিনি জানান।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৪
রাজ্য

দত্তপুকুরে বিস্ফোরণঃ সাসপেন্ড ফাঁড়ির ওসি, কিসের গবেষণা চলত ইঁটাভাটায়?

এগরার পর দত্তপুকুরের বাজি বিস্ফোরণের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। সোমবার দত্তপুকুর থানার মৌজপুলে গিয়ে দেখা গেল ধ্বংসস্তুপের মতো পরে রয়েছে বাজি কারখানার বাড়িটি। দমকল বিভাগ এদিন চকোলেট বাজিতে জল দিয়ে ঠান্ডা রাখছিল। কড়া রোদে যদি ফের কোনও ঘটনা ঘটে! এদিকে এদিন বিস্ফোরণ স্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে আরেকটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯। রাজ্য সরকারের সবুজ বাজি প্রকল্প নেওয়ার পর এই বিস্ফোরণে হতবাক রাজ্যের সাধারণ মানুষ। এদিনও বিস্ফোরণ স্থল দেখতে ভিড় জমায় মানুষজন। ঘটনার পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য বারে বারে অভিযোগ জানানো সত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকী মাস-পিটিশন লেখাও হয়েছিল। গ্রামবাসীরা স্বাক্ষরও করেছিল। কিন্তু তা কোনও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনকে দেওয়া হয়নি। তার পরিনতি ঘটল সোমবার।সামনের বাড়িতে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ ও দেওয়াল ছিটকে পড়ছে। তাছাড়া বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল। ঘরের বক্সখাটও ভেঙে গিয়েছে। ঘরে দেওয়ালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আলমারি থেকে ড্রেসিংটেবল ভেঙে খান খান। ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থা। ঘটনার সময় ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে জানালা দিয়ে ঝাঁপ দেওয়ায় বেঁচে গিয়েছেন তাজমিরা বিবি. তখন বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না.এদিকে এদিন ইঁটভাটা থেকে টেষ্ট টিউব ছাড়াও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে কি ধরনের গবেষণা চলত তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে গ্রামবাসীদের। আদৌ বোমা না আরও ভয়ানক কোনও কান্ড সেখানে ঘটত তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। এনআইএয়ের দুই প্রতিনিধি এদিন বিস্ফোরণ এলাকা ঘুরে দেখেন৷ এনআইএ ঘটনার ভয়াবহতা দেখে নিজেরাই উদ্যেগ নিয়ে ছুটে গিয়েছেন। তাঁরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।এদিন সেখানে পৃথক পৃথক ভাবপ গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম। দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা। এদিন দত্তপুকুর কাণ্ডের জেরে নীলগঞ্জ ফাঁড়ির ওসি হিমাদ্রি ডোগরাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওই পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সঞ্জয় বিশ্বাস।

আগস্ট ২৮, ২০২৩
রাজ্য

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপলো দত্তপুকুর, এখনও অবধি ৭ জনের মৃত্যু, এনআইএ তদন্তের দাবী বিজেপির

এগরার পর এবার দত্তপুকুর! বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপলো এলাকা। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে বিস্ফোরণে এখনও অবধি সাত জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। আরও বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, আহতের সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কয়েকটি শিশুও থাকার আশঙ্কা করছে তাঁরা। ভশ্মিভুত বাজি কারখানাটি অবৈধ ভাবে চলছিল বলে জানা যায়।পুলিস সুত্রে জানাযায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে বাজি কারখানাটিতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল ভয়ঙ্কর, তার জেরে অকুস্থলের পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে, কারুর বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে বাজি কারখানাটি চলছিল। স্থানীদের কাছ থেকে খবর বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিসে কাছে তাঁরা অভিযোগ জানায় সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে বাজি কারখানাটি চলছিল। তাদের আরও অভিযোগ, বার বার তাঁরা প্রশাসনকে জানালেও কোনও রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিস্ফোরণ স্থলে পুলিশ আসতেই স্থানীয়রা তাঁদের কাছে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পুলিসকে ঘিরে ধরে চলতে থাকে নানাবিধ স্লোগান।মে মাসে এগরার কাছে খাদিকুলে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ৯ জনের মৃত্যু হয় ঐ ঘটনায়। এগ্রার ঘটনার অব্যবহিত পরেই বজব্জে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। পরপর দুটি ঘটনায় টঙ্ক নড়ে পুলিস প্রশাসন মহলের। এগরা ও বজবজে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই বেআইনি বাজি উদ্ধারে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় চিড়ুনি তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সে তল্লাসি চলাকালীন দত্তপুকুরে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হয় প্রায় ২০০ কুইন্টাল বাজি।ঐ দুটি ঘটনার ১০০ দিন কাটতে না কাটতেই আবারও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বাংলার মাটি। এ বারও অভিযোগের তীর সেই বেআইনি বাজি কারখানা দিকে। স্বানভিক ভাবেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে জনমানসে। স্থানীয় মানুষজনের ক্ষোভ, প্রশাসন যদি আরও সচেতন হত তাহলে এতগুলি প্রান হয়ত রক্ষা পেত। এই দুর্ঘটনাও হয়ত এড়ানো যেত। উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি সামসুলের বাড়ি লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে, পুলিস এসে পৌঁছালে তাঁরা রণে ভঙ্গ দেয়। তাঁকেই মূল অভিযুক্ত বলে দাবী করছে স্থানীয় মানুষজন। স্থানীয়দের অভিযোগ এখনও এলাকার একাধিক জায়গায় বিস্ফোরক মজুত রাখা আছে। ঠিকমত তল্লাসী করলে তা উদ্ধার সম্ভব।স্বাভাবিক ভাবেই এতবড় ঘটনাই রাজনিতীর রং লাগবেই, বিজেপি রাজ্য সম্পাদক বলেন, গোটা রাজ্যই বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে ,এই অপদার্থ দল যত দিন ক্ষমতায় থাকবে। তত দিন রাজ্যের মানুষ মরতেই থাকবে। স্থানীয়দের থেকে খবরাখবর নিচ্ছি। তার ভিত্তিতে একটা রিপোর্ট তৈরি করে অমিত শাহকে পাঠাব। এনআইএ তদন্ত চাইব।

আগস্ট ২৭, ২০২৩
রাজ্য

কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা বাগদার পঞ্চায়েত সদস্যের, অভিযোগের তির প্রধানের দিকে

মানসিক চাপে কিটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পঞ্চায়েত সদস্য। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের বয়রা গ্রামপঞ্চায়েতের ঘটনা। তৃণমূলের প্রধানের কথায় আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছে তারই দলের পঞ্চায়েত সদস্য। এদিকে সংবাদ মাধ্যমে মুখ খোলায় লাগাতার হুমকির অভিযোগ প্রধানের অনুগামীদের বিরুদ্ধ। অভিযুক্ত প্রধানের নাম অসিত মণ্ডল। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অসিত।জানা গিয়েছে, বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিদহ গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য দিলীপ দাসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার নাম করে ওই গ্রাম থেকে প্রায় ৫০ জন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার, ১৫ হাজার করে টাকা নিয়েছে। এসব কাজ করেছেন তিনি প্রধান অসিত মণ্ডলের কথা মতো। সেই টাকা তিনি প্রাধানকে দিয়েছেন। তবে গুরুতর অভিযোগ টাকা দিয়েও গ্রামের কেউ ঘর পায়নি। ফলে তাঁরা এখন টাকা ফেরত চাইছে। কিন্তু টাকা দিচ্ছেন না প্রধান। পরবর্তীতে বিষয়টি তিনি দলেও নেতৃত্বকে জানান এবং সংবাদমাধ্যের সামনে ওই ঘটনা তুলে ধরেন। অভিযোগ, তার পর থেকে দিলীপকে পঞ্চায়েত প্রধান অসিত মণ্ডলের লোকজন হুমকি দিতে থাকে। ভয়ে তারা বাড়ি থেকে বেড়তে পারছেন না। পঞ্চায়ের সদস্যর স্ত্রী মঞ্জু দাসের দাবি, নানা হুমকির ফলে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল আমাদের পরিবার। আর সেই মানসিক চাপে চলতি মাসের ছয় তারিখ শুক্রবার বিকেলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে দিলীপ। দুই দিন বনগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। সোমবার দিলীপ দাসের স্ত্রী মঞ্জু দাস, অভিযুক্তদের শান্তি ও নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে বনগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। টাকা তোলার কাজে দিলীপ দাস নিজেই যুক্ত বলে পাল্টা অভিযোগ করেন প্রধান অসিত মণ্ডল। প্রধানের দাবি, সাংসারিক কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল দিলীপ। আমার সঙ্গে দিলিপের কোনও যোগাযোগ নেই। গ্রামের একাধিক লোকের কাছ থেকে টাকা তুলেছে দিলীপ। নানা দুষ্কর্মের সঙ্গে যুক্ত আছে পঞ্চায়েত সদস্য। আবাস যোজনার টাকা তুলে প্রধানকে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আমি কোন টাকা নেইনি। পুরোপুরি মিথ্যা অভিযোগ।

জানুয়ারি ১২, ২০২৩
রাজ্য

গণ প্রতিরোধ মঞ্চের চার সদস্য দেখা করলেন অসুস্থ মীনাক্ষী দত্তের সঙ্গে

পানিহাটি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিহত পৌরপিতা অনুপম দত্তের স্ত্রী মীনাক্ষী দত্তের সাথে দেখা করতে আজ গণ প্রতিরোধ মঞ্চের চার সদস্য টুম্পা কয়াল, প্রতিমা দত্ত, কাঞ্চন শর্মা ও প্রতাপ বসু মীনাক্ষী দত্তের আগরপাড়ার বাড়িতে যান। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দীর্ঘ ৪০ মিনিট আলোচনা করেন মীনাক্ষী দত্তের সাথে। এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে প্রতিনিধি দলের পক্ষে প্রতিমা দত্ত জানালেন, শারীরিকভাবে অসুস্থ রয়েছেন মীনাক্ষী দত্ত সে কারণেই দীর্ঘ আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আশ্বস্ত করেছেন যে কোন প্রয়োজনে গণ প্রতিরোধ মঞ্চের সদস্যরা সর্বতভাবে সাহায্য করবে মীনাক্ষী দত্তকে।উল্লেখ্য, ২০২২ র মার্চ মাসে মীনাক্ষী দত্তের স্বামী অনুপম দত্ত দুস্কৃতী দ্বারা গুলি বিদ্ধ হয়ে নিজের বাড়ি থেকে ঢিল ছোরা দুরত্ব মারা যান। অনুপম আগরপাড়া স্টেশন রোডে তাঁর আরোহী স্কুটারে পিছনের সিটে ওঠার মুহুর্তে এক দুষ্কৃতী কয়েক হাত দূর থেকে অনুপমকে লক্ষ করে গুলি চালায়। তৎকালীন পানিহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুপমের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় । সেই রাতের মধ্যে গ্রেফতার হয় অমিত পণ্ডিত নামে এক দুস্কৃতী। সেই ঘটনার পর থেকেই অনুপম দত্তের স্ত্রী মীনাক্ষী ও আত্মীয় পরিজনেরা দোষীদের চরম শাস্তির দাবি করে আসছিলেন। যার নেতৃত্বে এই ঘটনাটি ঘটে সে বাপি জামিন পেয়ে গেলে তাঁদের কোনও ক্ষতি হতে পারে সেই আশঙ্কায় মীনাক্ষী ও তাঁর তার দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২২
রাজ্য

হালিশহরে আগ্নেয় অস্ত্র দেখিয়ে চায়ের দোকানে লুটের ঘটনায় গ্রেফতার তিন দুষ্কৃতী

গত ১০ আগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে চায়ের দোকানে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে লুট করে এক দল দূস্কৃতী। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে হালিশহর থানার তৎপরতায় ভাটপাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে মিঠুন দাস (২৩) সৌরভ সাও(২০) মনু সাউ (১৯) নামে তিন দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। আজ অভিযুক্তদের ব্যারাকপুর মহাকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

আগস্ট ৩০, ২০২২
রাজ্য

স্বামীর খুনের আসামী ছাড়া পাওয়ায়, আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন অনুপম দত্তের স্ত্রী

এদিন আদালত থেকে মূল অভিযুক্ত বাপি পণ্ডিতের জামিনের খবর এলাকায় জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তারা একজোট হয়ে রাত পৌনে দশটা নাগাদ আগরপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে বিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখতে থাকে। এদিকে জামিন পাওয়ার ঘটনার খবরে বিক্ষোভ চলাকালীনই অনুপম দত্তের স্ত্রী তথা ওই ওয়ার্ডের পৌরমাতা মীনাক্ষী দত্ত তার দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে কামারহাটি সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিক্ষোভকারী বলেন, যদি বাপিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন ।এখানে উল্লেখ্য, ১৩ মার্চ ২০২২ অনুপমের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে, আগরপাড়া স্টেশন রোডে স্কুটারে ওঠার মুহুর্তে এক দুষ্কৃতী কয়েক হাত দূর থেকে অনুপমকে লক্ষ করে গুলি চালায়। তৎকালীন পানিহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুপমের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় । সেই রাতের মধ্যে গ্রেফতার হয় অমিত পণ্ডিত। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে আসে, খুনের সুপারি দিয়েছিল বাপি। জানাযায় এর আগে অন্য এক দুষ্কৃতীকে অনুপমকে মারা জন্য সুপারি দেইয়েছিল বাপি, সে কাজটি না করায় পুর ভোটের ঠিক পরেই অমিতকে কাজে লাগায়। সেই ঘটনার পরেই অনুপম দত্তের স্ত্রী মীনাক্ষী ও আত্মীয় পরিজনেরা দোষীদের চরম শাস্তির দাবি করে আসছিলেন। এমতবস্থায় বাপি জামিন পেয়ে গেলে তাঁদের কোনও ক্ষতি হতে পারে সেই আশঙ্কায় মীনাক্ষী ও তাঁর পরিবার।

আগস্ট ৩০, ২০২২
রাজ্য

নিম্নচাপের জের, সুন্দরবনের ভাঙ্গাবাধ পরিদর্শনে সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, হাড়োয়া মিনাখা সহ নদী বাঁধ পরিদর্শন সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের। ৪৮ ঘণ্টা আগে ভরা কোটাল ও নদীর জলস্থর বেড়ে গিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের গৌড়েশ্বর নদী বসিরহাটের ইছামতি, হাড়োয়ার বিদ্যাধরি বাঁধ ভেঙেছিল। পাশাপাশি সন্দেশখালি ছোট কলা গাছে রায়মঙ্গল কালিন্দী সহ একাধিক নদী বাধে ফাটল দেখা গিয়েছিল। ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে বাঁধের কাজ হলেও। সরকারিভাবে বসিরহাট মহকুমার সেচও পুর্তোর সরকারি আধিকারিক প্রবীর সাধু, রানা চ্যাটার্জি, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুর্তের কর্মদক্ষ নারায়ণ গোস্বামী সহ ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল বাধ পরিদর্শনে যান। প্রতিনিধি দল সরজমিনে এলাকা খতিয়ে দেখেন। যেসব দুর্বল বাঁধ রয়েছে সেগুলো দ্রুত মেরামতি নির্দেশ দেন তাঁরা। পাশাপাশি ভাঙা বাধ গুলো পরিদর্শন করেন। এদিন, হিঙ্গলগঞ্জ সন্দেশখালি সহ একাধিক ব্লকে বাধ পরিদর্শন প্রশাসনিক আধিকারিকরা পাশাপাশি তারা জানান, চলতি মাসের ১৮ ই আগস্ট সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে, সেখানে সুন্দরবনের নদীবাদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তুলে দেবেন।

আগস্ট ১৬, ২০২২
রাজ্য

জগদ্দলের চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন রেল লাইনে বোমাবাজি করার অভিযোগে ধৃত মদ্যপ যুবক

মদ্যপ অবস্থায় জগদ্দল স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের চার নম্বর লাইনে বোমা মারার অভিযোগ উঠল এক মদ্যপ যুবকের বিরুদ্ধে । শুক্রবার রাতের ঘটনা এক মদ্দপ যুবক জগদ্দল রেল স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চলে বমাবাজি করে বলে পুলিস সুত্র খবর। প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে গেলে রেলপাড়ের বস্তি এলাকার মানুষজন চারদিক থেকে ওই যুবককে ঘিরে রাখে । খবর পেয়ে নৈহাটি জিআরপি থানা এবং জগদ্দল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ওই যুবকের পকেট থেকে পুলিশ আরও তিনটি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক জেরায় ধৃত যুবক জানিয়েছে, তার নাম পিন্টু নন্দী। সূত্রের খবর, ধৃতের বাড়ি জগদ্দলের গুপ্তার বাগান এলাকায়। কি কারনে ওই যুবক বোমা মারলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আগস্ট ১৩, ২০২২
দেশ

সীমান্তে অনুপ্রবেশ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নিশানা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম বাংলা সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৬টি অত্যাধুনিক ভাসমান আউটপোস্ট এবং ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্সের উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার কলকাতা থেকে হেলিকল্টারে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে উড়ে যান। এদিনই বনগাঁর হরিদাসপুরে মৈত্রী সংগ্রহালয়ের শিলান্যাস করেন অমিত শাহ। অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশ ঘটে। তবে এবার যে অত্যাধুনিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার ফলে এই অনুপ্রবেশ এবং পাচার বন্ধ হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া অনুপ্রবেশ ও পাচার রোখা কঠিন বলেও মন্তব্য করেছেন শাহ। একইসঙ্গে এদিন তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ-এর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।এদিন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রশংসায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব বিএসএফ-এর। অনুপ্রবেশ ও পাচারকারীদের রুখতে সচেষ্ট বিএসএফ। শুধু ফেন্সিং দিয়েই হবে না, দেশের সুরক্ষা দিতে পারে বিএসএফ। অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে টহলদারির ওপর আরও বেশি জোর দিতে হবে।সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের কাজের পরিধি বৃদ্ধি নিয়ে এর আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিরোধ বেধেছিল। এবিষয়ে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বাংলাদেশের যুদ্ধের প্রসঙ্গও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সময় ভারতীয় সেনা ও বিএসএফের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। এদিন বিকেলে শিলিগুড়িতে জনসভা ছাড়াও বেশ কয়েকটি সংগঠনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে অমিত শাহর।बीएसएफ की इन फ्लोटिंग सीमा चौकियों पर स्वास्थ्य सुविधाओं के लिए बोट एम्बुलेंस का भी शुभारंभ किया।किसी भी आपातकालीन स्थिति में ये बोट एम्बुलेंस बहुत सहायक सिद्ध होगी। pic.twitter.com/wNYjLkU0PD Amit Shah (@AmitShah) May 5, 2022এদিন এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমিত শাহর সফর নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যদি কেউ বলে বাংলায় গেল খুন হয়ে যাব। আমার গায়ে লাগে। উল্লেখ্য বাংলার রাজনৈতিক হিংসা প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।উল্লেখ্য, দেশের সীমান্ত এলাকাগুলিতে বিএসএফ-এর কাজের পরিধি বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এক্ষেত্রে ঘোরতর অপত্তি রয়েছে বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যের। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামিকাল, শুক্রবার কলকাতায় ফিরে দলের রাজ্য ও জেলাস্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন অমিত শাহ।

মে ০৫, ২০২২
রাজ্য

কাল বাংলায় সীমান্ত পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সুন্দরবনে ৬টি ভাসমান বিওপি ও বোট অ্যাম্বুলেন্সের সূচনা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামিকাল এরাজ্যে আসছেন। তিনি বৃহ্পতিবার বিএসএফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত পরিদর্শন করবেন। এই সফরে অমিত শাহ বিএসএফ-এর সুন্দরবনের জলে অবস্থিত ০৬ টি আধুনিক ভাসমান বিওপি-সতলজ, নর্মদা, কাবেরী, গঙ্গা, সবরমতি, কৃষ্ণা এবং বোট অ্যাম্বুলেন্স এর বিওপি হিঙ্গলগঞ্জে পৌঁছানোর পর উদ্বোধন করবেন। ভাসমান বিওপি উদ্বোধনের পর শ্রী শাহ বিওপি হরিদাসপুরে অবস্থিত মৈত্রী সংগ্রহালয় (জাদুঘর) এর উদ্বোধন করবেন।বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যবেক্ষণ ও সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিএসএফের এবং সরকার তাই সেখানে আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর জোর দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সংলগ্ন আমাদের সীমান্তের সব বিওপিকে নজরদারি ও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে শক্তিশালী করার ওপরও জোর দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের নজরদারি জোরদার ও মজবুত করতে ভাসমান বিওপির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের এই দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে বোট অ্যাম্বুলেন্সও চালু করা হচ্ছে যা সাহেব খালি থেকে শামসের নগর পর্যন্ত এলাকায় সেবা দেবে। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বিএসএফ-এর বীরত্ব সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে ফ্রেন্ডশিপ মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের সময় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং, আইপিএস, যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া, আইপিএস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, ইস্টার্ন কমান্ড এবং ডাঃ অতুল ফুলঝেলে, আইপিএস, ইন্সপেক্টর জেনারেল সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার উপস্থিত থাকবেন।

মে ০৪, ২০২২
কলকাতা

তিলোত্তমায় দেখা মিলল কালবৈশাখীর, বজ্রবিদ্যুসহ ঝড়-বৃষ্টি দুই ২৪ পরগনাতেও

অবেশেষ দেখা মিলল কালবৈশাখীর। সাপ্তাহের শেষে শনিবাসরীয় সন্ধ্যাতেই কলকাতায় আচমকা ধুলো উড়তে শুরু করে। কালবৈশাখীতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে মহানগরবাসী। বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ায় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে কল্লোলিনী কলকাতা। কালবৈশাখীর ঝড়ে গ্রীষ্মের দহণ এদিন যেন নিমিষে উধাও হয়ে যায়।সোমবার কলকাতায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তার আগেই প্রকতি সদয় হল তিলোত্তমা কলকাতার প্রতি। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমানেও এদিন বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা নামে। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতে স্বস্তি এসেছে। এদিন কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি চলে।হাঁসফাঁস গরমে স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি দিতে বাধ্য হয় রাজ্য সরকার। এদিকে গরমের ছুটি ঘোষণার পর দিন থেকেই প্রকৃতি সদয় হতে শুরু করে। এদিন হঠাৎ ঝড়-জলে অফিস ফেরত মানুষজন বিপাকে পড়ে। তবু বৃষ্টিতে খুশিই হয়েছেন তাঁরা। পূবালি হাওয়ার জেরে রাজ্যে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করছে বলে জানিয়ে ছিল হাওয়া অফিস।

এপ্রিল ৩০, ২০২২
রাজ্য

Fraud: চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় দু’জন গ্রেফতার বর্ধমানে

চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল দুই প্রতারক। ধৃতদের নাম প্রবীর মণ্ডল ও কিষাণ মণ্ডল। এদের মধ্যে প্রবীরের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে। অপর ধৃত কিষাণ একই জেলার শাসন থানা এলাকার বাসিন্দা। তারা বর্তমানে শক্তিগড় থানার গাংপুর দিঘিরপাড় এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিল। বর্ধমান সাইবার থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে সেখান থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বুধবার দুই ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার ও প্রতারণার ঘটনায় জড়িত বাকিদের হদিশ পেতে তদন্তকারী অফিসার ধৃতদের ১০ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে এদিন আদালতে আবেদন জানায়। সিজেএম ধৃতদের ৬ দিন পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।আরও পড়ুনঃ গলসির হোটেলে মধুচক্রের আসরে পুলিশের হানা, গ্রেপ্তার ৪ যুবতী ২ যুবকপুলিশ জানিয়েছে, আউশগ্রাম থানার দারিয়াপুরের বাসিন্দা পূজা চট্টোপাধ্যায়। একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরির জন্য তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইন্টারভিউ দেন। সেদিনই সন্ধ্যাবেলায় এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে ইন্টারভিউয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা জানান। ওই ব্যক্তি পরের দিন পূজাকে তাদের অফিসে যোগাযোগ করতে বলে। অফিসে গেলে চাকরি পাওয়ার জন্য পূজাকে কম্পিউটার কোর্স করতে বলা হয়। তার জন্য তাঁর কাছ থেকে দুদফায় নেওয়া হয় ১৮ হাজার টাকা। পাশাপাশি পূজা সহ কয়েকজনের ট্রেনিংও হয়। এর কিছুদিন পর পূজাকে ফের একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে তাতে টাকা পাঠাতে বলা হয়। টাকা না দিলে চাকরি হবে না বলেও তাঁকে জানানো হয়। চাকরি না পাওয়া সত্ত্বেও বারবার টাকা চাওয়া দেখে পূজার সন্দেহ হয়। সংস্থাটি চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চক্র চালাচ্ছে বুঝতে পেরে ওই সংস্থার কর্তাদের কাছে পূজা টাকা ফেরত চান। তারপর থেকেই সংস্থার কর্তারা তাঁকে টাকা ফেরত না দিয়ে তাঁকে এড়িয়ে চলতে থাকে। এরপরেই পূজা বর্ধমান সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।

আগস্ট ১২, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মিসবার ইস্তফায় পাকিস্তান ক্রিকেটে বিস্ফোরণ! ৭ ক্রিকেটার ছাঁটাইয়ের পর এবার বোর্ডে বড় ধাক্কা

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে একের পর এক ধাক্কায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান ক্রিকেট। টানা দুই ম্যাচে হারের পর দলের ভিতরে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাত জন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বদল করা হয়েছে কোচিং স্টাফেও। এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবা উল হক। তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পৌঁছেছে বলে খবর।তবে বোর্ড এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে মিসবা তাঁর নোটিশের সময়সীমা পালন করছেন। তাঁর ইস্তফাকে ঘিরেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের সূত্রের দাবি, দল থেকে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিসবার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হয়েও এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে সূত্রটির দাবি। এই ঘটনাই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।যে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সলমন আলি আঘা, মহম্মদ রিজওয়ান, আলি উসমান, ইমাম উল হক, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল এবং মহম্মদ ওয়াইস জাফর। পাশাপাশি প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সরফরাজ আহমেদকে। বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।বাকি টেস্ট ম্যাচগুলির জন্য নতুন কোচিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্বে আনা হয়েছে। বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন অ্যাশলি নফ। সূত্রের খবর, লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবা।অন্য দিকে, বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জায়গায় বেশ কয়েক জন নতুন মুখকে দলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাইম আয়ুব বাট, আবদুল্লা ফজল এবং আরাফত মিনহাস। তাঁদের মধ্যে সাইম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজলকে টেস্ট দলেও রাখা হয়েছে। নতুনদের সম্মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা এখনও খুবই কম।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যেই দুই শূন্য ব্যবধানে পিছিয়ে বাবরদের দল। সিরিজে এখনও একটি ম্যাচ বাকি।আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহ্যামে শুরু হওয়ার কথা সেই শেষ টেস্ট। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পাকিস্তানের সামনে এখন একমাত্র পথ জয়। তার আগেই নির্বাচক কমিটি এবং কোচিং ব্যবস্থায় এত বড় পরিবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

‘নাচতে রাজি না হওয়ায় চাকরি গেল’, মহিলা বিচারককে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বর্ষীয়ান আইনজীবীর

দেশের বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পুরুষ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বহু মহিলা বিচারক তাঁর কাছে এসেছেন। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের বইয়ে যৌন হেনস্থাকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ডার্টি সিক্রেট বলে উল্লেখ করেছেন।সম্প্রতি এক স্মারক বক্তৃতায় মাই ভিশন অব ইন্ডিয়া: ২০৪৭ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পেশাগত জীবনে বহু মহিলা বিচারকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন পুরুষ বিচারকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।এক মহিলা বিচারকের হয়ে মামলা লড়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন জয়সিং। তাঁর দাবি, ওই বিচারক তাঁকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি অবসর নেওয়ার সময় মহিলা জেলা বিচারকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হত। একই রঙের শাড়ি পরতে বলা হত এবং পুরুষ বিচারকরা খাবারের ঘরে ঢোকার সময় তাঁদের উপর ফুল ছড়ানোর মতো আচরণও করা হত।এই ধরনের প্রথার তীব্র সমালোচনা করেন জয়সিং। তাঁর মতে, উচ্চতর বিচারব্যবস্থার কিছু পদমর্যাদাভিত্তিক আচরণ মহিলা বিচারকদের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বলেও তিনি দাবি করেন।ওই মহিলা বিচারকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আরও একটি ঘটনার কথাও বক্তৃতায় জানান জয়সিং। তাঁর দাবি, এক বিচারক ওই মহিলা বিচারককে নিজের বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচতে বলেছিলেন। মহিলা বিচারক সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এর পর তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল বলে দাবি করেন জয়সিং। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং যৌন হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে বলেও বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন বিচারপতি ডি এস মুরলীধর। তাঁর মতে, সিনিয়র পুরুষ সহকর্মীদের আচরণের কারণে অনেক মহিলা বিচারক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।বিচারব্যবস্থার পদমর্যাদাভিত্তিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন মুরলীধর। একই অনুষ্ঠানে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি এবং তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।অন্য দিকে, আদালতের সময় কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মামলাকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা যে সামান্য সময়, তার বড় অংশ ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলি ব্যবহার করে নেয়।বক্তৃতার শেষে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে আশাবাদী থাকার কারণও জানান জয়সিং। নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাঁকে প্রায়ই প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও ভাল হবে বলে তিনি কেন মনে করেন। তাঁর উত্তর, ভারতের সংবিধানই তাঁর আশার জায়গা।জয়সিংয়ের বক্তব্য, যতদিন নাগরিকরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষা করতে পারবেন এবং শাসককে সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, ততদিন আশার জায়গা থাকবে। তাঁর মতে, সংবিধান বর্তমান রূপে থাকলে সরকারের কোনও সংবিধান-বহির্ভূত পদক্ষেপকে আইনি ভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

‘মিথ্যা মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখবেন?’ সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার পর পুলিশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া এই মামলায় শ্লীলতাহানির ধারাও রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বেআইনি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুরসভার কর্মী ও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জন পড়ে যান বলেও জানা যায়।এই ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দেন অভিষেক। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান জানান।অভিষেকের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা করে তাঁকে বা তাঁর দলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কোনও নোটিস ছাড়াই দলের ১৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার পর তাঁর দফতরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও দমকলের তরফে সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, অন্য কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।অভিষেক বলেন, তারাপীঠে আগুনে মানুষের মৃত্যুর সময় কিংবা আলিপুরে আগুনে ইভিএম নষ্ট হওয়ার সময় কেন একই ভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দফতরের ক্ষেত্রে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। ঘটনার ভিডিয়ো তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ঘটনার দিন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে টেনে নামিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি এমন মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তা হলে এত ভয় কেন?জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, মিথ্যা মামলা করে গ্রেফতার করে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা প্রয়োগ করলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলেই বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

ম্যাঙ্গানিজ মিশন: খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী বড় সাফল্য!

অশোকনগর তেলক্ষেত্রের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গ তার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আরও এক সম্পদ উন্মোচনের পথেঝাড়গ্রাম জেলায় ম্যাঙ্গানিজের বিশাল ভাণ্ডার! এই ভান্ডারের খোঁজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি ও খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর (Directorate of Mines Minerals) শিমুলপাল, লবনী, ভাণ্ডারচুয়া, চৌগা পাহাড়, হাসা ডুংরি, কার্কা, বেগুনডিহা, বীরমণ্ডল, বাঁশপাহাড়ি এবং সংলগ্ন ম্যাঙ্গানিজ-সমৃদ্ধ এলাকায় যৌথ প্রাথমিক জরিপ (reconnaissance survey) চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের প্রকৃত সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে MOIL Limited এখন জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI), ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইন্স (IBM) এবং WBMDTCL-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। এর জন্য ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সময়কালে মাঠপর্যায়ের জরিপ বা ফিল্ডওয়ার্ক নির্ধারিত হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর ধরে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অব্যবহৃত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি সরকারের আমলে ঝাড়গ্রামের খনিজ সম্পদ অবশেষে তার যথাযথ গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বিতর্কিত মিছিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস, কিন্তু কেন তড়িঘড়ি শুনানি নয়?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মিছিলের আগেই মামলাটির জরুরি শুনানি করার আবেদন মানেনি আদালত।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটিও শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।প্রস্তাবিত মিছিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, দেশের রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় বড় জমায়েত বা প্রতিবাদ মিছিলের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।আবেদনকারীর আইনজীবী রিজান আহমেদ আদালতে জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনও মিছিলের অনুমতির জন্য কোনও আবেদন করা হয়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি মিছিলের আগে মামলাটির শুনানি করার জন্য বার বার আবেদন জানান। কিন্তু বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনতে রাজি হয়নি।আইনজীবী আদালতে আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। সেই সময় রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলটি কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানান।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে থেকেই কোনও অঘটন ঘটবে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে ধরে নেবে যে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করবেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই, এমন জোরালো পরিস্থিতিও আদালতের সামনে নেই বলে জানান তিনি।এর পর আইনজীবী দাবি করেন, আগের একটি আন্দোলনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আদালতে জানান।আবেদনকারীর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি আইনি বিধি মানছে না এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিচ্ছে না।এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি মূলত সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব। আবেদনকারীকে তাঁর উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকার অথবা দিল্লি সরকারের কাছে জানাতে বলেন তিনি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।মিছিলের আয়োজক সংগঠনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, সংগঠনটির কোনও নথিভুক্ত অফিস বা লেটারহেড নেই। ফলে তাদের সরাসরি মামলার পক্ষ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগেই মামলাটির শুনানি করার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে মিছিলের আগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal