• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mother

রাজ্য

Mother: দেবী পক্ষে অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে দুর্দশায় ফেলে পালালো গুণধর ছেলে

দেবী পক্ষে বৃদ্ধা মাকে অসহায় অবস্থার মধ্যে বিসর্জন দিয়ে পালালো গুনধর পুত্র। অসুস্থ বৃদ্ধা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন ভরসা পূর্ব বর্ধমানের গলসির নবখণ্ড গ্রামের বাসিন্দারা।নিজের ছেলে সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কান্তি তাঁর বৃদ্ধা মাকে অসহায় অবস্থার মধ্যে বিসর্জন দিয়ে পালালেও বৃদ্ধাকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছেন নবখন্ডের বাসিন্দারই। তাঁরা পুলিশের কাছে বৃদ্ধার নিষ্ঠুর ছেলে সুপ্রিয়র কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।নবখন্ড গ্রামের বাসিন্দারা পাশে থাকলেও নিজের গর্ভের সন্তানের এমন দুর্ব্যাবহার মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না বৃদ্ধা। তাই প্রতিনিয়ত চোখের জল মুছতে মুছতে বৃদ্ধা মমতাদেবী ঈশ্বরের কাছে মুক্তি প্রার্থনা করে চলেছেন। নবখন্ড গ্রামের বাসিন্দাদের কথায় জানা গিয়েছে, নবখন্ড গ্রামের বাড়িটি বৃদ্ধার দেশ বাড়ি। হাওড়ার বকুলতলা থানার দক্ষিণ বাকসারার কেঠোপুল এলাকায় বৃদ্ধার একটি বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িতে বৃদ্ধার ছেলে ও বৌমা এখন থাকে। বৃদ্ধার ছেলে সুপ্রিয় বার্জার পেন্টস কোম্পানীতে মোটা টাকা মাস মাইনের চাকরি করেন। বৃদ্ধার স্বামী অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় মারা যাওয়ার পর সুপ্রিয় সেই চাকরিতে যোগ দেয়। কয়েকবছর আগে দুর্ব্যবহার করে সুপ্রিয় নিজের বৃদ্ধা মাকে হাওড়ার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। তারপর থেকে অসুস্থ শরীর নিয়ে এক প্রকার অনাহারেই নবখন্ড গ্রামের বাড়িতে থাকছিলেন বৃদ্ধা মমতাদেবী। বৃদ্ধার অসুস্থতা বাড়লে প্রতিবেশীরা বৃদ্ধার ছেলেকে ফোন করে বৃদ্ধার চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা কার কথা বলেন।চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গত ৫ অক্টোবর সুপ্রিয় তাঁর বৃদ্ধা মাকে হওড়ায় নিয়ে যায়।চিকিৎসা করিয়ে সুপ্রিয় তাঁর বৃদ্ধা মায়ের শেষ সম্বল টুকুও হাতিয়ে নেয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে মাকে চাপিয়ে নিয়ে এসে সুপ্রিয় নবখন্ড এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে একটু আসছি বলে নেমে পড়ে গুনধর ছেলে সুপ্রিয় পালিয়ে যায়। রাত্রি দেড়টা পর্যন্ত ছেলে সুপ্রিয় আর ফিরে না আসায় অ্যাম্বুলেন্স চালক বৃদ্ধাকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌছে দেয়। পরদিন সকালে ওই বাড়ির বাইরে বৃদ্ধাকে কাতরাতে দেখে প্রতিবেশীরা তাঁকে পুুরসা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।অ্যাম্বুলেন্স চালক অচিন্ত্যকুমার মন্ডল বলেন, হাওড়ায় চিকিৎসা করতে নিয়ে গিয়ে মমতা দেবীর পরনের কাপড়, নগদ টাকাকড়ি ও সোনা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পরেছে তাঁর ছেলে সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অমানবিক এই ঘটনার জানার পর প্রতিবেশীরা সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে গলসি থানায় লিখিত অভিযোগে দায়ের করেছেন। বৃদ্ধা মায়ের প্রতি এমন নির্মম ব্যবহারের কারণ জানতে সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অক্টোবর ০৯, ২০২১
রাজ্য

Buried Body: মাকে খুন করে ঘরের মেঝেতে দেহ পুঁতে রেখে দিয়েছিল ছোট ছেলে, খুঁড়তেই উদ্ধার কঙ্কাল

বৃদ্ধা মাকে খুন করে ঘরের মেঝেতে দেহ পুঁতে রেখে সেই ঘরেই দুবছর ধরে বসবাস করছে ছোট ছেলে।বৃদ্ধা সুকরানা বিবির ছোট ছেলে সহিদুল আলি ওরফে নয়নের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন ছোট বৌমা রুপসুনা বিবি। শেষ পর্যন্ত ছোট বৌমার আনা সেই অভিযোগই সত্যি প্রমান হল। মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া সাহিদুলের দেখানো জায়গা মতো বুধবার ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে খোঁড়া হয় তাঁর ঘরের মেঝে। ফুট চারেক মেঝে খোঁড়ার পরেই বেরিয়ে আসে মানব দেহের হাড়গোড় ও মাথার খুলি। যা দেখে এদিন কার্যত শিউরে ওঠেন বর্ধমান থানার হাঁটুদেওয়ানের পীরতলা ক্যানেলপাড় এলাকার বাসিন্দাা। উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় ও মাথার খুলি বৃদ্ধা সুকরানা বিবির কিনা তা নিশ্চিৎ হতে পুলিশ উদ্ধার হওয়া হাড় ও খুলি ময়না তদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।আরও পড়ুনঃ বর্ধমানে বৃদ্ধা মাকে খুন করে দেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ছেলেবৃদ্ধা সুকরুনা বিবির বড় ছেলে কিসমত আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বর্ধমান থানার পুলিশ হাঁটুদেওয়ান পীরতলা এলাকার সহিদুল আলিকে আটক করে। তাঁকে বর্ধমান থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। জিজ্ঞাসাবাদে মাকে খুন করে ঘরের মেঝেতে দেহ পুঁতে দেওয়ার কথা সাহিদুল আলি স্বীকার করার পরেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এদিন সহিদুলকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর দেখানো জায়গা মতো পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘরের মেঝে খোঁড়ার পরেই উদ্ধার হয় মানবদেহের হড়গোড় ও মাথার খুলি। তারপরেই পুলিশ খুন ও খুনের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করে এদিনই ধৃত সাহিদুলকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতকে ৭ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ তালিয়ান লিগে খেলা ডিফেন্ডার এবার এসসি ইস্টবেঙ্গলেপুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৫৮ বয়সী সুকরানা বিবি তাঁর ছোট ছেলে নয়নের সঙ্গে হাঁটুদেওয়ান পীরতলা এলাকার বাড়িতেই থাকতেন। পেশায় লরি চালক বড় ছেলে কিসমত অন্যত্র থাকেন। সুকরানা বিবি বেড়াতে যেতে খুব ভালবাসতেন। মাঝে মধ্যেই তিনি বেড়াতে বেরিয়ে পড়তেন। মায়ের বেড়াতে বেরিয়ে যাওয়াটা পছন্দ করতো না ছোট ছেলে সহিদুল আলি। মা ও ছোট ছেলের মধ্যে এইসব ছাড়াও নানা কারণে অশান্তিও হত। এই অবস্থার মধ্যেই ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে সুকরানা বিবির আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েও মা সুকরানা বিবির হদিশ পান না বড় ছেলে কিসমত আলি। এরপর ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি বর্ধমান থানায় তাঁর মায়ের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ডাইরি লিপিবদ্ধ করেন।আরও পড়ুনঃ বৃষ্টিস্নাত দক্ষিণবঙ্গে রেল ও রাস্তা অবরোধে নাকাল সাধারণ মানুষকিসমত আলি জানান, তাঁর ছোট ভাই সহিদুলের স্ত্রী রুপসুনা বেশ কয়েকমাস হল শিশু সন্তানদের নিয়ে ভাতারের এরুয়ার গ্রামে বাপের বাড়িতে গিয়ে রয়েছে। ভাতৃবধূকে ছোট ভাইয়ের কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি গত সোমবার এরুয়ার গ্রামে রুপসুনার বাপের বাড়িতে যান। কিসমত আলি বলেন, ওই দিনই রুপসুনার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছোট ভাই সহিদুল তাঁদের বৃদ্ধা মা সুকরুনা বিবিকে খুন করে দেহ ঘরের মেজেতে পুঁতে দিয়েছে। সহিদুল প্রাণে মেরে দিয়ে তাঁকেও মাটিতে পুঁতে দিতে পারে এমন আশঙ্কার কথা রুপসুনা তাঁর ভাসুরকে জানায়। একই সঙ্গে রুপসুনা তাঁর ভাসুরকে জানিয়ে দেয় সে আর তাঁর স্বামীর কাছে আর ফিরে যাবে না। ভাতৃবধূর কাছ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শোনার পরেই কিসমত আলি মঙ্গলবার তাঁর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানান।আরও পড়ুনঃ পূজার ছলে ভুলে থাকিকিসমতের অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে বর্ধমান থানার পুলিশ। হাঁটুদেওয়ান পীরতলা এলাকায় দ্রুত পৌছে পুলিশ সহিদুল আলিকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। পুলিশের দাবি জেরায় সহিদুল জানায়, ঘটনার আগে বেশ কিছু দিন ধরে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে তাঁর অশান্তি চলছিল। ঘটনার দিন মায়ের সঙ্গে বচসা চলার সময়ে মুগুর দিয়ে সে তাঁর মায়ের মাথায় আঘাত করে। মা ঘরের ভিতরে ছিটকে পড়ে। এরপর মায়ের মৃত্যু নিশ্চিৎ করতে তিনি তাঁর মায়ের গলা টিপে ধরেন। বৃদ্ধা মা রুকসুনা বিবি মারা যাওয়ার পর ঘরে ধুপকাটি জ্বালিয়ে সহিদুল কাজে বেরিয়ে যায়। পরে বাড়ি ফিরে এসে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে সহিদুল তাঁর মায়ের মৃতদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে দেয়। এদিন সহিদুলকে তাঁর মাকে খুনের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মা নোংরা পথে চলে গিয়েছিল। মাকে বারণ করলেও মা কথা শুনতেন না। তাই মাকে মেরে দিয়ে ঘরের মেঝেতে পুঁতে দিয়েছি। যদিও এইসব অভিযোগই অসত্য জানিয়েছেন বৃদ্ধার বড় ছেলে সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১
রাজ্য

Killing Old Mother: বর্ধমানে বৃদ্ধা মাকে খুন করে দেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ছেলে

মাকে খুন করে ঘরের মেঝেতে দেহ পুঁতে রেখে দিয়ে সেই ঘরেই বসবাস করছিল ছোট ছেলে। নিষ্ঠুর স্বামী সহিদুল আলি ওরফে নয়নের এই কুকীর্তি সোমবার ভাসুর কিসমত আলির কাছে ফাঁস করে দেয় ছোট বৌমা রুপসুনা বিবি। বৃদ্ধা মা সুকরুনা বিবিকে হত্যার কথা জানার পরেই বড় ছেলে কিসমত আলি তাঁর ছোট ভাই সহিদুল আলির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানান। অভিযোগ পেয়ে এদিনই বর্ধমানের হাঁটুদেওয়ান পীরতলা এলাকার বাড়িতে পৌছে সহিদুল আলিকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। জিজ্ঞাসাবাদে মাকে খুনের কথা স্বীকার করার পরে পুলিশ সহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই বর্ধমান জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বুধবার ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে বৃদ্ধার দেহ উদ্ধারের জন্য পুলিশ এদিনই বর্ধমান আদালতের অনুমতি নিয়েছে।আরও পড়ুনঃ প্রাক্তন সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেত্রীকে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে তৃণমূলপুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৫৮ বয়সী সুকরুনা বিবি তাঁর ছোট ছেলে নয়নের সঙ্গে হাঁটুদেওয়ান পীরতলা এলাকার বাড়িতেই থাকতেন। ছোট ছেলে পেশায় পিকআপ ভ্যানের চালক। বড় ছেলে কিসমত আলিও লরি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি অন্যত্র থাকেন। সুকরুনা বিবি বেড়াতে যেতে খুব ভালবাসতেন। মাঝে মধ্যেই তিনি বেড়াতে বেরিয়ে পড়তেন। মায়ের বেড়াতে বেরিয়ে যাওয়াটা পছন্দ করতো না ছোট ছেলে সহিদুল আলি। তা নিয়ে মা ছোট ছেলের মধ্যে অশান্তিও হত। এই অবস্থার মধ্যেই ২০১৯ সালের ১০ জানুযায়ী হঠাৎ করেই সুকরুনা বিবি নিখোঁজ হয়ে যান। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েও মা সুকরুনা বিবির হদিশ পান না বড় ছেলে কিসমত আলি। এরপর ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী কিসমত আলি বর্ধমান থানায় তাঁর মায়ের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ডায়রি লিপিবদ্ধ করেন।আরও পড়ুনঃ তৃতীয় ঢেউয়ের সংক্রামণের রাশ টানতে ভিক্টোরিয়ায় বড়দিন পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণাকিসমত আলির এদিন জানান, তাঁর ছোট ভাই সহিদুলের স্ত্রী রুপসুনা বেশ কয়েকমাস হল শিশু সন্তানদের নিয়ে ভাতারের এরুয়ার গ্রামে বাপের বাড়িতে গিয়ে রয়েছে। ভাতৃবধূকে ফিরিয়ে আনার জন্য কিসমত মঙ্গলবার এরুয়ার গ্রামে রুপসুনাদের বাড়িতে যান। তখনই রুপসুনার কাছ থেকে কিসমত আলি জানতে পারেন, তাঁর ছোট ভাই সহিদুল তাঁদের বৃদ্ধা মা সুকরুনা বিবিকে খুন করে দেহ ঘরের মেজেতে পুঁতে দিয়েছে। তাঁকেও সহিদুল প্রাণে মেরে দিয়ে মাটিতে পুঁতে দিতে পারে এমন আশঙ্কার কথা রুপসুনা তাঁর ভাসুরকে জানায়। সেই আশঙ্কায় স্বামীর কাছে আর ফিরে যাবে না বলেও রুপসুনা তাঁর ভাসুরকে জানিয়ে দেয়।আরও পড়ুনঃ ভাদ্রের আকাশে শ্রাবণের ধারা, সকাল থেকে ভিজছে শহর থেকে জেলাপুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সহিদুল জানিয়েছে, ঘটনার আগে বেশ কিছুদিন ধরে নিজের মায়ের সঙ্গে তাঁর অশান্তি চলছিল। ঘটনার দিন মায়ের সঙ্গে বচসা চলার সময়ে মুগুর দিয়ে সে তাঁর মায়ের মাথায় আঘাত করে। মা ঘরের ভিতরে ছিটকে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরেই বৃদ্ধা মা রুকসুনা বিবি মারা যান। মায়ের মৃতদেহ ঘরে রেখেই ছোট ছেলে সহিদুল কাজে বেরিয়ে যায়। পরে বাড়ি ফিরে এসে ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে সহিদুল তাঁর মায়ের মৃতদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে দেয়। কিসমতের স্ত্রী মিলি বিবি এদিন বলেন, তাঁর শাশুড়ি মা মাঝে মধ্যেই বেড়াতে বেরিয়ে পড়তেন। তাঁরা ভেবেছিলেন হয়তো বেড়াতে বেরিয়েই তাঁর শাশুড়ি মা নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। কল্পনাও করতে পারছেন না তাঁর দেওর সহিদুল নিজের বৃদ্ধা মাকে খুন করে মৃতদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে দিয়েছে। বৃদ্ধা মাকে হত্যাকারী ছেলের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেন দেওয়ানদিঘীর পীরতলার বাসিন্দারা।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Shahrukh Khan : শাশুড়ির নাচ মুগ্ধ করল শাহরুখ কে

সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ জনপ্রিয় শাহ্রুখ খান। কিন্তু নিজের পরিবারকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি আলোচনা করতে দেখা যায় না তাঁকে। এবার পরিবারের গল্প তুলে ধরলেন কিং খান।তাঁর স্ত্রী গৌরী খানের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শাহরুখ। আসলে, গৌরী তার মা সাবিতা চিব্বার জন্মদিন উপলক্ষে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। এই ভিডিওতে, তার মা উদযাপনের মেজাজে ছিলেন এবং তাকে উদ্দাম নাচ নাচতে দেখা গেছে। ড্যাডি কুল গানে শাহরুখের শাশুড়ির এই ভিডিওটি শেয়ার করার সাথে সাথেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে গৌরী ক্যাপশনে লিখেছেন, কেউ তার পদক্ষেপের সাথে মেলে না। শুভ জন্মদিন মা। শাহরুখও এই ভিডিওটি খুব পছন্দ করেছেন। তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, হুম, শাশুড়ির কাছ থেকে নাচের শিক্ষা নিতে হবে। শুধু শাহরুখই নন, নন্দিতা মেহতানি, মহীপ কাপুর, সঞ্জয় কাপুর, সীমা খান, ভাবনা পান্ডে, একতা কাপুর, মণীশ মালহোত্রা, অমৃতা অরোরা, নীলম কোঠারি সহ অনেক সেলিব্রিটি এই ভিডিওটি পছন্দ করে গৌরীর মাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।বলা বাহুল্য যে একটি সাক্ষাত্কারে, গৌরী প্রকাশ করেছিলেন যে তার মুম্বইয়ের বাড়ি মান্নাত দিল্লিতে বসবাসরত তার মা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গৌরী বলেছিলেন, দিল্লিতে বসে থাকা আমার মায়ের মাধ্যমে আমার পুরো মুম্বাই কর্মীর রিমোট নিয়ন্ত্রিত। তিনি কর্মীদের সাথে হটলাইনে উপস্থিত আছেন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২১
রাজ্য

Poison: মুখে বিষ ঢেলে সৎ মাকে খুনের দায়ে গ্রেপ্তার ছেলে ও বৌমা

মারধরের পর মুখে বিষাক্ত কিছু ঢেলে দিয়ে সৎ মাকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল ছেলে ও বৌমা। মাতৃ হত্যার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার কালাড়াঘাট গ্রামে। পেশায় আশা কর্মী মা মণিকা বোস (৪৫)কে খুনের অভিযোগে ধৃতরা হল ছেলে সুভাষ বোস ওরফে বাবাই ও বৌমা আল্পনা বোস। মৃত ও ধৃত সকলেরই বাড়ি কালাড়াঘাট গ্রামে। মঙ্গলবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ মর্গে মৃতার দেহের ময়না তদন্ত হয়। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছেন মৃতার বাবা কাশিনাথ নন্দী ও তাঁর পরিজনরা।আরও পড়ুনঃ ১০০ পুরসভায় বড়সড় রদবদলমৃতা আশা কর্মী মণিকা বোসের বাপের বাড়ি জামালপুর থানা সন্নিকটে হাওয়াখানা পাড় এলাকায়। মণিকাদেবীর বাবা কাশীনাথ বাবু এদিন জানান, কালাড়াঘাট নিবাসী দিলীপ বোসের স্ত্রী পুত্রসন্তান সুভাষকে জন্ম দেওয়ার কয়েক বছর বাদ মারা যান। এরপর সংসার সামলানো ও নাবালক সন্তান সুভাষকে প্রতিপালনের জন্য ব্যবসায়ী দিলীপ বোস পুনর্বিবাহের মনস্থির করেন। বছর ১৬ আগে তাঁর মেয়ে মণিকার সঙ্গে বিয়ে হয় দিলীপ বোসের। মণিকা নিজে নিঃসন্তান থেকে গিয়ে সুভাষকে পুত্র স্নেহে বড় করে তেলেন। বছর ১০-১১ আগে দিলীপ ঘোষ মারা যান। তারপরেও সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। সংসারে অশান্তি তৈরি হয় সুভার তাঁর সৎ মা মণিকা দেবীর মতামতকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে নিছের ইচ্ছায় ছয় মাস আগে বর্ধমানের বড়শুলের তরুণী আল্পনাকে বিয়ে করার পর থেকে। এই বিয়ে মেনে নিতে না পেরে মণীকাদেবী কালাড়াঘাটের একই বাড়িতে আলাদা থাকছিলেন।আরও পড়ুনঃ সুপার ড্যান্স শো তে ফিরলেন শিল্পাকাশীনাথ বাবু বলেন, সোমবার বিকালে সুভাষ তাঁকে ফোন করে জানায়, মা (মণীকা) কেমন করছে। এমনটা শুনেই তিনি মেয়ের বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন বাড়ির মেঝেতে মণিকা ছটফট করছে। মেয়ে মণিকার শরীরে আঘাতের দাগও দেখতে পান। কাশীনাথবাবু জানান, শারীরিক ওই কষ্টের মধ্যেই মেয়ে মণিকা তাঁকে জানায় মারধোরের পর তাঁর মুখে বিষ জাতীয় কিছু ঢেলে দিয়েছে ছেলে সুভাষ ও তাঁর বৌ আল্পনা। এমনটা শোনার পরেই পরিবারের লোকজন মণিকাদেবীকে দ্রুত জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মণিকাদেবীকে মৃত বলে জানান।আরও পড়ুনঃ দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ঐতিহাসিক লর্ডসে অবিস্মরনীয় জয় ভারতেরএই ঘটনা সবিস্তার উল্লেখ করে সোমবার রাতেই কাশীনাথ নন্দী জামালপুর থানায় সুভাষ ও তাঁর স্ত্রী আল্পনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খা জানিয়েছেন, দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সুভাস বোস ও তাঁর স্ত্রী আল্পনার বিরুদ্ধে খুনের মামালা রুজু হয়েছে। এদিন তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত দুজনকেই বুধবার পেশ করা হবে বর্ধমান আদালতে।

আগস্ট ১৭, ২০২১
রাজ্য

Murder: শাশুড়িকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার জামাই

শাশুড়িকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল জামাই। ধৃতের নাম প্রসেনজিৎ দলুই ওরফে জিৎ। তার বাড়ি বীরভূমের সিউড়ি থানার নিমদাসপুরে। বর্তমানে সে বীরভূমের বোলপুর থানার মিশন কম্পাউন্ড এলাকায় থাকে। মঙ্গলবার রাতে খুন হন পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার মাহাতা গ্রামের ঠাকুরপাড়া নিবাসী শাশুড়ি লীলা আগরওয়াল (৪১)। এই খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ বুধবার রাতে বোলপুরের বাড়ি থেকে প্রসেনজিৎকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত তাঁর শাশুড়ি লীলা আগরওয়ালকে খুনের কথা স্বীকার করেছে।আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শুভেন্দুরসুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বৃস্পতিবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। সিজেএম ধৃতকে ৫ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লীলা আগরওয়ালের প্রথম পক্ষের স্বামীর বাড়ি বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের মিশন কম্পাউণ্ড এলাকার। তাঁর প্রথম পক্ষের স্বামী রাজু আগরওয়ালের সেখানে একটি সাইকেল মেরামতির দোকান রয়েছে। লীলাদেবীর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে আকাশ বোলপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। মেয়ে প্রীতি আগরওয়াল বিবাহিতা। তাঁরই স্বামী প্রসেনজিৎ। লীলা বর্ধমান শহরে ওষুধ ব্যবসায়ী সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। ওই সময়ে লীলাদেবীর সঙ্গে সুদীপ্তবাবুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর দেড় বছর হল লীলাদেবী পাকাপাকিভাবে সুদীপ্তবাবুর কাছেই রয়ে যান। সুদীপ্তবাবুর সঙ্গে লীলার সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে তাঁর স্ত্রী সুদীপ্তবাবুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর থেকে সুদীপ্তবাবু ভাতারের মাহাতা গ্রামে বাড়ি ভাড়া করে সেখানে লীলাদেবীকে নিয়ে থাকা শুরু করেন। ভাতার থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে সেই বাড়ি থেকেই লীলা আগরওয়ালের মৃতদেহ উদ্ধার করে । মৃতার গলায় কালশিটে দাগ ছিল।পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়।আরও পড়ুনঃ দক্ষিণ কলকাতায় দেবীসম্মানের ক্যালেন্ডার শুটলীলাকে খুন করা হয়েছে বলে বুধবার ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রথম পক্ষের স্বামী রাজু আগরওয়াল। তার ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে ভাতার থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে বেশিরভাগ সময়ে লীলার কাছেই থাকতো তাঁর প্রথমপক্ষের মেয়ে। তা নিয়ে লীলার মেয়ের সঙ্গে তাঁর স্বামী প্রসেনজিতের হামেশাই অশান্তি হত। শেষ পর্যন্ত প্রসেনজিৎ শাশুড়িকে খুনের পরিকল্পনা করে। মঙ্গলবার মাহাতা গ্রামের বাড়িতে এসে সে শ্বাসরোধ করে শাশুড়ি লীলাকে খুন করে পলায়। তদন্তে নেমে ভাতার থানার পুলিশ প্রসেনজিতের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখে ঘটনার সময় তাঁর মাহাতা গ্রামের বাড়িতে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। এরপরেই পুলিশ বুধবার রাতে বোলপুরের বাড়িতে হানা দিয়ে জামাই প্রসেনজিৎকে গ্রেপ্তার করে।

আগস্ট ১৩, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Chunky Pandey : মায়ের স্মৃতিতে চাঙ্কি পান্ডে

এই মাসেরই গোড়াতে মাকে হারিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডে। এই দুনিয়ায় মা ছিলেন তাঁর বড় কাছের। মা চলে গেলেও স্মৃতি তাজা আজও। মাকে নিয়ে স্মৃতির ঝুলি উজাড় করলেন চাঙ্কি। জানালেন, ছোট থেকে মেয়ে ভালবাসা মা একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত চাঙ্কিকে মেয়েদের মতো পোশাক পরাতেন। দুল পরতে ভাল লাগত তাঁরও। এখানেই শেষ নয় তিনি যে মামাজ বয় ছিলেন সে কথা অকপটে স্বীকার করে নিচ্ছেন চাঙ্কি। তাঁর কথায়, সাধারণত হিরোইনরা ছবির জন্য বাইরে যেতে হলে তাঁদের মাকে নিয়ে যায়। আমি বোধহয় একমাত্র হিরো ছিলাম যে এই সব ক্ষেত্রে মাকে নিয়ে বাইরে যেতাম। আমার কোনও স্টেডি প্রেমিকা না হওয়া পর্যন্ত মাকেই সব জায়গায় নিয়ে যেতাম আমি। আমি খুশি আমার জন্য সারা দুনিয়া দেখতে পেরেছে মা।চাঙ্কি আরও জানাচ্ছেন মা স্নেহলতা দেবীর মেয়ের শখ ছিল। কিন্তু হল ছেলে। শখ পূর্ণ হল না। অগত্যা, দুধের স্বাদ ঘোলে। দুবছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের পোশাক পরতেন চাঙ্কি। তিনি যোগ করেন, ওই সব কানের দুল পরতে কী ভাল লাগত। এখনও যখন শপিংয়ে যাই মেয়েদের জামাকাপড় কিনে ফেলি। দোকানদার জিজ্ঞাসা করে মেয়ের জন্য না স্ত্রীর জন্য। আমি বলি, আমার জন্য। তবে শান্ত বাচ্চা তিনি যে ছিলেন না সে কথাও জানাচ্ছেন চাঙ্কি। একবার বাবার রেজর দিয়ে নিজের ভুরু অবধি কেটে ফেলেছিলেন তিনি।গত ১০ জুলাই প্রয়াত হন স্নেহলতা পান্ডে। তিনি ছিলেন পেশায় ডাক্তার। কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নাতনি অনন্যা।

জুলাই ২৩, ২০২১
নিবন্ধ

Mother's Day: মাতৃ দিবস ও রবীন্দ্রনাথ

ছেলেটা বাড়ি নেই একবছরের বেশি হয়ে গেছে, কবে ফিরবে কি জানি! মা-কে ফোন করার সময় হয় না। হলেও একটু কথা বলেই ছেড়ে দেয়। বৌকে নিশ্চয়ই সব বলে। আর মেয়েটাও হয়েছে সেরকম, বাপের বাড়ি আসতেই চায় না। এইসব বসে বসে ভাবছিলেন মাধুরী। আর আমার বৌমাকে দেখ প্রত্যেক সপ্তাহে মা বাবার কাছে যাওয়া চাই। বিয়েটা ছেলে নিজের পছন্দ মত করেছে। কিন্তু ছেলে হাত ছাড়া হয়ে যাবে বলে বিয়েটা মেনে নিতে হয়েছে মাধুরীকে। কিন্তু বৌকে খুব একটা পছন্দ করেন না। মাঝে মাঝে ভাবেন কোথায় নিজের পছন্দের মেয়ের সাথে বিয়ে দেব, ঘরকন্নার কাজ শেখাবেন নিজের হাতে তা নয় ; বাবু যে কি দেখে এই মেয়েকে বিয়ে করলো কি জানি বাপু? না আছে কোনো রূপ আর গুণ কি আছে কি জানি! এই সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে মেয়েকে ফোন করলেন----- হ্যালো, মান্তু?হ্যাঁ মা বলো কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো। আমি এখন খুব ব্যস্ত। আজ Mothers Day তাই তোমার নাতনী আমাকে নিয়ে কোথায় যেন যাবে। বলো তাড়াতাড়ি বলে ফেলো। ও তাহলে থাক পরে কথা বলবো। বলে মনটা খারাপ করে ফোনটা কেটে দিল। ভাবলেন হায়রে, আজ মাতৃ দিবস তাই তোর মেয়ে তোকে নিয়ে কোথাও যাবে আর আমি যে তোর মা সেটা ভুলে গেলি। এমন সময় ফোন বেজে উঠলহ্যালো মাধুরীদেবী বলছেন? হ্যাঁ, কে বলছেন? আপনার একটা parcel আছে। একটু দরজার সামনে আসবেন Please? ফোন রেখে মাধুরী ভাবতে লাগলেন কে আবার আমার জন্য কী পাঠালো! মনে হয় আমার বাবু সারপ্রাইজ গিফ্ট পাঠিয়েছে, নাহলে মান্তু মনে হয়। তাই আমার সঙ্গে এখন কথা বললো না। এই ভাবতে ভাবতে গেটের কাছে গিয়ে দেখেন একটি অল্প বয়সী ছেলে হাতে একটা ফুলের তোড়া আর একটা প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে। হ্যাপি মাদারস্ ডে মাসীমা বলে ছেলেটি এগিয়ে দিল জিনিসগুলো মাধুরীর দিকে। ছেলেটির থেকে হাসি মুখে জিনিসগুলে নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন। মনে কৌতূহল কে পাঠিয়েছে--- ছেলে না মেয়ে? ফুলের সঙ্গে একটা চিঠি, উপরে লেখা আগে প্যাকেট খোলো। মাধুরী আস্তে আস্তে প্যাকেট খুললেন। একটা পিওর সিল্ক, ওনার ভীষণ পছন্দের। সুন্দর একটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার বই। এবার চিঠি খুলে পড়তে লাগলেন--মা, জানি ভাবছো কে পাঠালো তোমাকে উপহার? ভেবেছিলে তো তোমার মেয়ে মান্তু কিংবা তোমার বাবু। আমার কথা তোমার মনে আসবে না আমি জানি। কারণ আমাকে তুমি আজও মেনে নিতে পারোনি। কিন্তু আমার কাছে তুমি আমারও মা। আজ মাতৃ দিবস। আজ তুমি মনখারাপ করে বসে থাকলে আমার যে ভালো লাগবে না মা। আমি বেরোবার সময় দেখলাম তোমার মনটা কোনও কারণে আজ ভালো নেই। মন খারাপ কেন মা গো? আমি আছি তোমার সাথে সবসময়। আমি জানি তোমার পছন্দ। দেখতো ঠিক জেনেছি কিনা? আর শোনো অনেক সবার জন্য ভেবেছো এবার শুধু নিজের জন্য ভাববে। আবার আবৃত্তি শুরু করতে হবে।শোনো বিকেলে এই শাড়িটা পড়ে তৈরি থেকো এক জায়গায় যাবো। এবার তো একটু হাসো আমার মিষ্টি মা। তোমার মেয়েপিয়াসীচিঠি পড়তে পড়তে চোখ জলে ভরে গেছে মাধুরীর। যার কথা কোনও দিন মনে ঠাঁই পায়নি আজ সে এতকিছুর কথা ভেবেছে তার জন্য অথচ নিজের পেটের সন্তানরা মায়ের কথা ভুলেই গেছে। মেয়েটা কথাই বললো না! আজ জীবনে প্রথমবার মাতৃ দিবসে কেউ এভাবে আমার কথা ভাবলো রে মা; আজ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে তুই আবার আমার প্রাণের ঠাকুরকে ফিরিয়ে দিলি। তুই তো আমার সত্যিকারের মেয়ে। আজ আমার মাতৃ দিবস আর রবীন্দ্র জয়ন্তী সার্থক করলি। ফোন করে পিয়াসীকে বললেন মাধুরী। পিয়াসীর চোখেও জল। আজ সে পেরেছে।

জুলাই ১১, ২০২১
নিবন্ধ

A New Beginning: নতুন প্রভাত

রাখী রায়আকাশের হাজার তারার মাঝে জানি না কোথায় তুমি মা?? আজ মা-কে খুব মনে পড়ছে, কথা বলতে ইচ্ছা করছে মায়ের সঙ্গে----তাই পায়ে পায়ে টেবিলে রাখা মায়ের ছবির সামনে এসে বসল সংকল্প---আচ্ছা মা আমার সঙ্গে কেন এমন হয় বলতে পারো? বাবার অবহেলা তোমাকে যখন একটু একটু করে হতাশার গিরিখাতে ঠেলে দিচ্ছিল তখন তো আমি কত ছোট ছিলাম, তবুও চেষ্টা করতাম তোমাকে ভালো রাখার। কিন্তু না আমি পারিনি তোমাকে রক্ষা করতে।। আমাকে এই বিশাল পৃথিবীর বুকে একা রেখে তুমি অজানার জগতে হারিয়ে গেলে। দাশুদা আর উমা পিসি না থাকলে আমার যে কি হত কে জানে! তুমি অ্যাসাইলাম থেকে আর ফিরে এলে না। এলে তো স্বর্গরথে চেপে। আমি সব ভুলে পড়াশোনায় ডুবে গেলাম। শপথ করলাম হতাশায় মানুষকে হারিয়ে যেতে দেব না। না বাবা আমার অর্থনৈতিক কষ্ট রাখেনি। কিন্তু পিতৃ স্নেহ কী জানতে পারিনি। আবার দেখো কলেজ জীবনের প্রথম প্রেম চেতনাকে হারালাম ওর বাবার অহংকার আর একগুঁয়েমির কাছে। সেদিন চেতনাও বিদেশে যাওয়ার লোভটা সামলাতে পারেনি। আমার ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে চলে গেল। আজ যখন আমি নিজেকে নিজের মত করে বুঝিয়ে কাজে ডুবতে চাইছি হঠাৎ আবার বিড়ম্বনা। কেন বলতে পারো বারবার আমার সঙ্গে এমন হয়? কেন রে কী হয়েছে সোনা? মা তুমি এসেছ?হ্যাঁ রে এসেছি আমি। এতদিন কেন আসোনি মা? তুইতো এমনি করে আমাকে ডাকিসনি বাবুকি হয়েছে তোর? এত অস্থির কেন তুই? আজ চেম্বারে বসে আছি, তখন আর পেশেন্ট নেই ----আচ্ছা মা তুমি জানো আমি কি কাজ করি? হ্যাঁ রে হ্যাঁ সব জানি। আমাকে ওইভাবে হারিয়ে তুই মানুষের মনের ক্ষতগুলো সাড়াবার শপথ নিয়েছিস। একদম ঠিক বলেছেন মা। মানুষের মনের চোরাকুঠুরিতে অনেক এমন কথা থাকে যা মানুষ কাউকে বলতেও পারে না আবার সহ্য করতেওপারে না, তখন হতাশা গ্রাস করে। আমার কাজ সেইসব না বলা কথা মনে গভীর থেকে টেনে বের করে নিয়ে আসা।একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষ যখন আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় তখন খুব ভালো লাগে মা।এভাবেই তুই এগিয়ে যা বাবা। মানুষের পাশে যেন থাকিস বাবা। এখন বল দেখি তোর কী হয়েছে?হ্যাঁ বলি--- আজ যখন প্রায় চেম্বার খালি আমি একটু রেস্ট করছি তখন হঠাৎ একজন তার মেয়েকে নিয়ে হাজির হয়। প্রথমে একটু বিরক্ত হলেও ভেতরে আসতে বলি। আমি তো অবাক ভদ্রলোককে দেখে। কেন? কে ছিল? চেতনাকে নিয়ে ওর বাবা। আমি যাকে ভালোবেসে ছিলাম সেই চেতনা। প্রানবন্ত, উচ্ছ্বল মেয়ে। রবীন্দ্র সঙ্গীত যার প্রান। সেই চেতনা আজ চুপচাপ হতাশায় ডুবে গেছে। ওর বাবা আজ আমার কাছে ক্ষমা চাইছে। কিন্তু মা আমার মনে তো কোনো ক্ষোভ নেই। আজ আমি বুঝতে পারছি না কি করব? আজকের চেতনার সঙ্গে কলেজের চেতনার কোন মিল নেই। প্রানবন্ত মেয়েটি, আজ নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে। যার রূপ ছিল জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন তার চেহারা আজ শীর্ণকায়। আজ ওকে দেখে আমার একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছে যে বাবা মায়েরা মেয়েদের বিয়ে ছাড়া আর কিছু কেন ভাবতে পারে না কি জানি? চেতনার বাবার অহংকার মেয়েটার সর্বনাশ করে দিল। বনেদি বাড়ির মেয়ে বলে সেরকম বন্ধু ছিল না। আমাদের কথা জানতে পেরে খুব তাড়াতাড়ি ওর বিয়ে দিয়ে দেয়। আমি তখন পর্যন্ত নিজের পসার জমাতে পারিনি। আর চেতনা বোধহয় বিদেশে থাকার লোভ সামলাতে পারেনি। যদিও ভালোবাসার কথা আমি ওকে কোনো দিন মুখে বলিনি জানো মা। ও আমার চোখে কি দেখেছিল জানি না। ও কার্ড দিয়ে চলে গেছিল আর যোগাযোগ হয়নি। আজ ওর বাবার কাছে যা শুনলাম তা খুব বেদনা দায়ক। বিয়ের পর ও বরের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড চলে যায়। সেখানে প্রথম কয়েক মাস বেশ ছিল। তারপর শুরু হয় ওর বরের অবহেলা, মানসিক অত্যাচার। যে গান ছিল ওর প্রান সে গান বন্ধ করে দেয়। প্রথম দিকে বছরে একবার করে আসত দেশে। কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারেনি। ওকে একা কোথাও থাকতে দিত না। না বাপের বাড়ি না শ্বশুর বাড়ি। নিজের আলাদা ফ্ল্যাট ছিল সেইখানে থাকত। চেতনাকে ঘরে রেখে সারাদিন নিজের বন্ধু বান্ধবীদের সাথে ঘুরে বেড়াত। ছোটবোনকে একটু একটু বলেছিল। কিন্তু ওর মা বাবা গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। আর শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওকেই খারাপ ভাবত। এইভাবে মেয়েটার মনটা শেষ করে দেয়। ওর বাবা বললেন, ও একটা বাচ্চা চেয়েছিল তখন শুরু করে শারীরিক অত্যাচার। কোনো রকমে বোনকে একটু জানাতে পেরেছিল। এরপর ও যখন অসুস্থ হয়ে যায় তখন ওর বর ওর বাবাকে ফোন করে নিয়ে আসতে বলে। কয়েক মাস আগে ওর বাবা ওকে নিয়ে আসে। কিন্তু ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। আমাদের এক বন্ধুর কাছ থেকে আমার ঠিকানা নিয়ে আমার কাছে এসেছে। মা আমি পারবো তো চেতনার পুরোনো সব খুশি, আনন্দ ফিরিয়ে দিতে? তোকে যে পারতেই হবে বাবা, নাহলে যে ভালোবাসা হেরে যাবে। তোর স্নেহ দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে নতুন বছরে তুই চেতনার নতুন জীবন দিবি। ওর বাবার কাছ থেকে ওকে চেয়ে নিবি। সারা জীবন ওকে ভালো রাখার অঙ্গীকার করবি নতুন বছরের নতুন প্রভাতে। ঠিক আছে মা। তুমি আমার সঙ্গে থাকলে আমি সব পারব। তুমি থাকবে তো মা? ও খোকা বাবু তুমি এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছ? ওঠো অনেক বেলা হয়ে গেছে। কাজ-কম্ম নেই? কারা এয়েছে দেখো! নববর্ষের নতুন সকাল নতুন ভাবে শুরু হলো সংকল্পের।

জুলাই ০২, ২০২১
কলকাতা

মাকে হারালেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

প্রয়াত হলেন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) মা শিবানী চট্টোপাধ্যায়। বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। বয়সজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। রবিবার দুপুরে প্রয়াত হন। খবর পেয়েই পার্থবাবুর নাকতলার বাড়িতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়রা।বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিক সমস্যায় ভুগছিলেন শিবানীদেবী। রবিবার দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ প্রয়াণ হয় তাঁর। খবর পেয়েই ৫টা নাগাদ পার্থবাবুর নাকতলার বাড়িতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্থবাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান তিনি। এরপরই সেখানে পৌঁছন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাংসদ মালা রায়।তৃণমূলের একাধিক প্রথম সারির নেতার সেখানে পৌঁছনোর কথা। কড়া নিরাপত্তায় এই মুহূর্তে মুড়ে ফেলা হয়েছে নাকতলায় পার্থবাবুর বাসভবন বিজয়কেতন চত্বর। সূত্রের খবর, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় শিবানীদেবীর।

জুন ১৩, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে মার সব থেকেও বৃদ্ধাশ্রমে বাস, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মিসবার ইস্তফায় পাকিস্তান ক্রিকেটে বিস্ফোরণ! ৭ ক্রিকেটার ছাঁটাইয়ের পর এবার বোর্ডে বড় ধাক্কা

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে একের পর এক ধাক্কায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান ক্রিকেট। টানা দুই ম্যাচে হারের পর দলের ভিতরে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাত জন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বদল করা হয়েছে কোচিং স্টাফেও। এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবা উল হক। তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পৌঁছেছে বলে খবর।তবে বোর্ড এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে মিসবা তাঁর নোটিশের সময়সীমা পালন করছেন। তাঁর ইস্তফাকে ঘিরেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের সূত্রের দাবি, দল থেকে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিসবার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হয়েও এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে সূত্রটির দাবি। এই ঘটনাই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।যে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সলমন আলি আঘা, মহম্মদ রিজওয়ান, আলি উসমান, ইমাম উল হক, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল এবং মহম্মদ ওয়াইস জাফর। পাশাপাশি প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সরফরাজ আহমেদকে। বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।বাকি টেস্ট ম্যাচগুলির জন্য নতুন কোচিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্বে আনা হয়েছে। বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন অ্যাশলি নফ। সূত্রের খবর, লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবা।অন্য দিকে, বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জায়গায় বেশ কয়েক জন নতুন মুখকে দলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাইম আয়ুব বাট, আবদুল্লা ফজল এবং আরাফত মিনহাস। তাঁদের মধ্যে সাইম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজলকে টেস্ট দলেও রাখা হয়েছে। নতুনদের সম্মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা এখনও খুবই কম।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যেই দুই শূন্য ব্যবধানে পিছিয়ে বাবরদের দল। সিরিজে এখনও একটি ম্যাচ বাকি।আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহ্যামে শুরু হওয়ার কথা সেই শেষ টেস্ট। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পাকিস্তানের সামনে এখন একমাত্র পথ জয়। তার আগেই নির্বাচক কমিটি এবং কোচিং ব্যবস্থায় এত বড় পরিবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

‘নাচতে রাজি না হওয়ায় চাকরি গেল’, মহিলা বিচারককে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বর্ষীয়ান আইনজীবীর

দেশের বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পুরুষ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বহু মহিলা বিচারক তাঁর কাছে এসেছেন। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের বইয়ে যৌন হেনস্থাকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ডার্টি সিক্রেট বলে উল্লেখ করেছেন।সম্প্রতি এক স্মারক বক্তৃতায় মাই ভিশন অব ইন্ডিয়া: ২০৪৭ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পেশাগত জীবনে বহু মহিলা বিচারকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন পুরুষ বিচারকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।এক মহিলা বিচারকের হয়ে মামলা লড়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন জয়সিং। তাঁর দাবি, ওই বিচারক তাঁকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি অবসর নেওয়ার সময় মহিলা জেলা বিচারকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হত। একই রঙের শাড়ি পরতে বলা হত এবং পুরুষ বিচারকরা খাবারের ঘরে ঢোকার সময় তাঁদের উপর ফুল ছড়ানোর মতো আচরণও করা হত।এই ধরনের প্রথার তীব্র সমালোচনা করেন জয়সিং। তাঁর মতে, উচ্চতর বিচারব্যবস্থার কিছু পদমর্যাদাভিত্তিক আচরণ মহিলা বিচারকদের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বলেও তিনি দাবি করেন।ওই মহিলা বিচারকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আরও একটি ঘটনার কথাও বক্তৃতায় জানান জয়সিং। তাঁর দাবি, এক বিচারক ওই মহিলা বিচারককে নিজের বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচতে বলেছিলেন। মহিলা বিচারক সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এর পর তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল বলে দাবি করেন জয়সিং। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং যৌন হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে বলেও বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন বিচারপতি ডি এস মুরলীধর। তাঁর মতে, সিনিয়র পুরুষ সহকর্মীদের আচরণের কারণে অনেক মহিলা বিচারক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।বিচারব্যবস্থার পদমর্যাদাভিত্তিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন মুরলীধর। একই অনুষ্ঠানে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি এবং তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।অন্য দিকে, আদালতের সময় কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মামলাকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা যে সামান্য সময়, তার বড় অংশ ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলি ব্যবহার করে নেয়।বক্তৃতার শেষে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে আশাবাদী থাকার কারণও জানান জয়সিং। নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাঁকে প্রায়ই প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও ভাল হবে বলে তিনি কেন মনে করেন। তাঁর উত্তর, ভারতের সংবিধানই তাঁর আশার জায়গা।জয়সিংয়ের বক্তব্য, যতদিন নাগরিকরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষা করতে পারবেন এবং শাসককে সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, ততদিন আশার জায়গা থাকবে। তাঁর মতে, সংবিধান বর্তমান রূপে থাকলে সরকারের কোনও সংবিধান-বহির্ভূত পদক্ষেপকে আইনি ভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

‘মিথ্যা মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখবেন?’ সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার পর পুলিশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া এই মামলায় শ্লীলতাহানির ধারাও রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বেআইনি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুরসভার কর্মী ও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জন পড়ে যান বলেও জানা যায়।এই ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দেন অভিষেক। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান জানান।অভিষেকের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা করে তাঁকে বা তাঁর দলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কোনও নোটিস ছাড়াই দলের ১৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার পর তাঁর দফতরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও দমকলের তরফে সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, অন্য কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।অভিষেক বলেন, তারাপীঠে আগুনে মানুষের মৃত্যুর সময় কিংবা আলিপুরে আগুনে ইভিএম নষ্ট হওয়ার সময় কেন একই ভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দফতরের ক্ষেত্রে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। ঘটনার ভিডিয়ো তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ঘটনার দিন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে টেনে নামিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি এমন মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তা হলে এত ভয় কেন?জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, মিথ্যা মামলা করে গ্রেফতার করে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা প্রয়োগ করলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলেই বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

ম্যাঙ্গানিজ মিশন: খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী বড় সাফল্য!

অশোকনগর তেলক্ষেত্রের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গ তার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আরও এক সম্পদ উন্মোচনের পথেঝাড়গ্রাম জেলায় ম্যাঙ্গানিজের বিশাল ভাণ্ডার! এই ভান্ডারের খোঁজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি ও খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর (Directorate of Mines Minerals) শিমুলপাল, লবনী, ভাণ্ডারচুয়া, চৌগা পাহাড়, হাসা ডুংরি, কার্কা, বেগুনডিহা, বীরমণ্ডল, বাঁশপাহাড়ি এবং সংলগ্ন ম্যাঙ্গানিজ-সমৃদ্ধ এলাকায় যৌথ প্রাথমিক জরিপ (reconnaissance survey) চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের প্রকৃত সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে MOIL Limited এখন জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI), ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইন্স (IBM) এবং WBMDTCL-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। এর জন্য ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সময়কালে মাঠপর্যায়ের জরিপ বা ফিল্ডওয়ার্ক নির্ধারিত হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর ধরে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অব্যবহৃত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি সরকারের আমলে ঝাড়গ্রামের খনিজ সম্পদ অবশেষে তার যথাযথ গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বিতর্কিত মিছিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস, কিন্তু কেন তড়িঘড়ি শুনানি নয়?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মিছিলের আগেই মামলাটির জরুরি শুনানি করার আবেদন মানেনি আদালত।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটিও শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।প্রস্তাবিত মিছিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, দেশের রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় বড় জমায়েত বা প্রতিবাদ মিছিলের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।আবেদনকারীর আইনজীবী রিজান আহমেদ আদালতে জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনও মিছিলের অনুমতির জন্য কোনও আবেদন করা হয়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি মিছিলের আগে মামলাটির শুনানি করার জন্য বার বার আবেদন জানান। কিন্তু বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনতে রাজি হয়নি।আইনজীবী আদালতে আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। সেই সময় রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলটি কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানান।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে থেকেই কোনও অঘটন ঘটবে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে ধরে নেবে যে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করবেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই, এমন জোরালো পরিস্থিতিও আদালতের সামনে নেই বলে জানান তিনি।এর পর আইনজীবী দাবি করেন, আগের একটি আন্দোলনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আদালতে জানান।আবেদনকারীর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি আইনি বিধি মানছে না এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিচ্ছে না।এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি মূলত সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব। আবেদনকারীকে তাঁর উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকার অথবা দিল্লি সরকারের কাছে জানাতে বলেন তিনি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।মিছিলের আয়োজক সংগঠনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, সংগঠনটির কোনও নথিভুক্ত অফিস বা লেটারহেড নেই। ফলে তাদের সরাসরি মামলার পক্ষ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগেই মামলাটির শুনানি করার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে মিছিলের আগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal