• ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mamata Bannerjee

কলকাতা

আনিস খান হত্যাকাণ্ডে সিট গঠন

ছাত্র নেতা আনিস খানের মৃত্যু ঘিরে কার্যত তোলপাড় হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার পর আড়াই দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও অভিযুক্তকে ধরতে পারেনি। এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তাতে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। নিরপক্ষে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই সাংবাদিক বৈঠকে বসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য। বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন এবং তাঁর নির্দেশ মতো আমরা একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনও করে নিয়েছি। তিন সদস্যের ওই বিশেষ তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে থাকবেন জ্ঞানবন্ত সিং। এর পাশাপাশি ডিআইজি (সিআইডি অপারেশন) মিরাজ খালিদ এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ধ্রুবজ্যোতি দে।প্রাথমিকভাবে এই তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দলের নাম ঘোষণা করলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য। এ ছাড়া তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা যদি মনে করেন তদন্তের স্বার্থে আরও কাউকে এই দলে রাখা প্রয়োজন, তাহলে তাঁরা পুলিশ ফোর্সের থেকে তাঁদের পছন্দমতো নাম যোগ করতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী যে কথা নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে বলেছিলেন, সেই একই কথা আবারও শোনা গেল ডিজির গলায়। বলেন, আমরা চাই ন্যায়বিচার হোক। মুখ্যমন্ত্রীও সেই নির্দেশই দিয়েছেন। আমাদেরকেও সেই মতোই বলা হয়েছে। আমাদের কী করণীয়, তা আমাদের কাছে পুরো পরিষ্কার। যারা দোষী, তাদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। তাদের অবশ্যই ধরতে হবে এবং তাদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২
কলকাতা

আনিস খান হত্যা মামলা এবার হাইকোর্টে

ছাত্রনেতা আনিস খান হত্যাকাণ্ডের জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টেও। রহস্যমৃত্যুর আসল কারণ কী, তা জানতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার আরজি জানিয়ে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচি। দুপুর ২টোয় লিখিত পিটিশন জমা দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতি রাজাশেখর মান্থারের। এদিকে, ঘটনার তদন্তে আমতায় ছাত্রনেতার বাড়িতে পৌঁছন ডিএসপি ডিএনটি সুব্রত ভৌমিক। নিহতের বাবা সালাম খানের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এদিকে এই ঘটনায় এবার হস্তক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রী পুলক রায়ের মাধ্যমে আনিসের বাবাকে নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার দুপুর তিনটে নাগাদ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন আনিসের পরিজনেরা।সোমবার আনিসের বাড়িতে পৌঁছন ডিএসপি সুব্রত ভৌমিক। আমতা থানার ওসি দেবব্রত চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে রাজ্য সরকারের চাকরির প্রস্তাব তাঁর বাবাকে দেওয়া হয়। যদিও তিনি আগে বিচার চেয়ে বসেছেন। দুদিন কেটে গেলেও এখনও অধরা অভিযুক্ত। এই ঘটনায় হয়নি কেউই। উল্লেখ্য, সোমবার আনিসের বাড়িতে ভর্তি পুলিশ। আনিস আগে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। তিনি হুমকি পাচ্ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টিতে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীকে রাজভবনে ‘আমন্ত্রণ’ ধনখড়ের

রাজ্য-রাজ্যপালের সংঘাতে নয়া মাত্রা। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সময় সুবিধামতো রাজভবনে আসার জন্য চিঠি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বৃহস্পতিবার টুইট করে সে কথা জানিয়েছেন তিনি। নরম সুরেই মুখ্যমন্ত্রীকে চলতি সপ্তাহে নিজের সময় বুঝে রাজভবনে যাওয়ার জন্য বলেছেন তিনি।বিভিন্ন সময়ে এই দুই প্রধানের মধ্যে তরজা আবহ দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনে সে কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি বাধ্য হয়ে টুইটারে রাজ্যপালকে ব্লক করে দিয়েছেন। এখানেই থামেনি সে তরজা। সংসদের বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালকে পদ থেকে সরানোর আর্জি নিয়ে তৃণমূল সাংসদরা একাধিকবার সরব হন। এমনকী তাঁরা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি সংসদে স্বতন্ত্র প্রস্তাবও আনেন। এরইমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে রাজভবনে ডাকার বিষয় ঘিরে নতুন করে চাপানউতর শুরু হয়েছে।WB Guv:Impressed upon Honble CM Mamata Banerjee that Dialogue, discussion and deliberation, particularly amongst constitutional functionaries, like the Chief Minister and the Governor, are quintessential to democracy and inseparable part of constitutional governance. 2/2 Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) February 17, 2022রাজ্যপাল টুইটারে লিখেছেন, বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে জবাব বা তথ্য চাওয়া হলেও তার কোনও উত্তর তিনি পাননি। চিঠিতে ধনখড় লিখেছেন, রাজ্যের এই ধরনের ভূমিকা সংবিধান কখনওই সমর্থন করে না। সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী, তাঁর জবাব তলব করার অধিকার রয়েছে।কিছুদিন আগেই মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজিকেও রাজভবনে ডেকে পাঠান রাজ্যপাল। কিন্তু তাঁরা না আসায় উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন জগদীপ ধনখড়। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীকে রাজভবনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। চলতি সপ্তাহেই আসতে বলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে।

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২২
কলকাতা

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পঞ্চভূতে বিলীন হলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

বুধবার সন্ধ্যায় পঞ্চভূতে বিলীন হলে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে পরিসমাপ্তি ঘটল একটি অধ্যায়ের। এর আগে শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় রবীন্দ্রসদনে। সেখানে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পীর দেহে পরিয়ে দেন উত্তরীয়। তিনি ছাড়াও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজন। রবীন্দ্রসদনে ছিলেন বিশিষ্ট এই শিল্পীর কন্যা সৌমী মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রী মাতৃস্নেহে তাঁকে কাছে টেনে নেন। শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রবীন্দ্রসদন পৌঁছন প্রবীণ বামনেতা বিমান বসু। শ্রদ্ধা নিবেদনপর্ব শেষ হলে শিল্পীর নিথর দেহ কালীঘাটের উদ্দেশ্য রওনা দেয়। অন্তিম যাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ যাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলান বহু মানুষ। রাস্তার দুধারে শুধু কালো মাথার ভিড়। বিকেল ছটা নাগাদ শিল্পীর দেহ পৌঁছয় কালীঘাটে। সেখানে তাঁকে দেওয়া হয় গান স্যালুট। কালীঘাটে অন্ত্যেষ্টি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কার্যত এদিন তাঁকে দেখা গেল অভিভাবকের ভূমিকায়। শিল্পীর অন্তিম যাত্রার সঙ্গে অনেকেই তুলনা করেন বাঙালির ম্যাটিনি আইডল উত্তম কুমারের শেষ যাত্রা।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
কলকাতা

আজ গীতশ্রীর শেষকৃত্য, উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরছেন মুখ্যমন্ত্রী

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর পেয়ে উত্তরবঙ্গ সফর মাঝপথে ছেড়েই কলকাতায় ফিরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কোচবিহারে ছিলেন তিনি। সেখানেই গীতশ্রীর মৃত্যুর খবর পৌঁছয় তাঁর কাছে। সেখান থেকে কলকাতায় প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিজের সফরসূচিতে কাঁটছাট করেন মমতা। জানিয়ে দেন, বুধবার সরকারি তত্ত্বাবধানেই হবে সন্ধ্যার শেষকৃত্য।কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। মমতা বলেন, কোচবিহারে আমার সভা রয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যাদির মৃত্যু খবর পেয়ে মন খারাপ হয়ে গেল। তাই বুধবার দ্রুত কাজ সেরে আমি কলকাতায় ফিরে আসছি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সর্ব্বোচ্চ সম্মান দিয়ে সন্ধ্যার শেষকৃত্য করবে। আজ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রবীন্দ্রসদনে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা নিবেদন করা যাবে। বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে পূর্ণ মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।মঙ্গলবার কোচবিহারে অনন্ত মহারাজের একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী। তারপর উত্তরবঙ্গের শিল্পপতিদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচি দ্রুত শেষ করে কলকাতায় ফিরে আসবেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
কলকাতা

গীতশ্রীর প্রয়াণে শোকবিহ্বল মুখ্যমন্ত্রী

সন্ধ্যার প্রয়াণে ব্যথিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ সফরে। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ভাবতে পারিনি মারা যাবেন। গতকাল রাতে অস্ত্রোপচারের পর খবর এসেছিল। কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। এত তাড়াতাড়ি এমনটা ঘটে যাবে তা বুঝতে পারিনি। আমরা যকৃতের চিকিৎসকে পাঠাব বলে ঠিক করেছিলাম। তখন জানতে পারলাম উনি আর নেই। কোভিড থেকে মুক্ত হওয়ার পর সব ঠিক ছিল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত। কী যে হয়ে গেল! উনি স্বর্ণালি সময়ের শিল্পী। সেই যুগের সকলেই চলে গিয়েছেন। উনি ছিলেন। উনিই শেষ সুরের ঝঙ্কার, সুরের স্পন্দন, গানের ইন্দ্রধনু। ওঁর গাওয়া কত গান মনে পড়ছে এখন।মমতা আরও বলেন, একটা শতাব্দীর আর কেউ রইলেন না। এ ক্ষতি অপূরণীয়। আমি মনে করি সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ভারতরত্ন। আজ রাতে ওঁকে পিস ওয়ার্ল্ডে রেখে দেব। বুধবার ১২টার সময় দেহ নিয়ে রবীন্দ্র সদনে রাখা হবে। ৫টা পর্যন্ত ওখানে থাকবে সম্মান প্রদর্শনের জন্য। আমি যেমন করে হোক পৌঁছনোর চেষ্টা করব। এর পর রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান গান স্যালুট দিয়ে ওঁর শেষকৃত্য হবে। শিল্পীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উনি আমাকে গান গাওয়ার অনুরোধ করতেন। ওঁকে কখনও কখনও গান শোনাতে হয়েছে। আমি অবাক হয়ে যেতাম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় আমার কাছে গান শুনতে চাইছেন। জন্মদিনে ওঁকে ফোন করেছিলাম। তখন গান শোনাতে বলেছিলেন।গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি টুইটারে লিখেছেন, কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী বঙ্গবিভূষণ গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অতুলনীয় মমতা ও দেশপ্রেম প্রকাশ করেছেন জাতীয় পুরষ্কারজয়ী সঙ্গীতশিল্পী। তাঁর মৃত্যু সঙ্গীত জগতে অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর পরিবার এবং অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। ওম শান্তি!Her demise is huge loss to the world of music that would be felt forever.Her iconic songs like Amader Chuti Chuti and Ore Sakol Sona Molin Holo will continue to bless our souls for years to come.My deepest condolences to her family and numerous admirers. Om Shanti ! 2/2 Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) February 15, 2022তিনি এক শোকবার্তা দিয়ে বলেন, কিংবদন্তীপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী, অমর সুরসাধিকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীরতম শোকপ্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দশকের পর দশক ধরে তিনি তাঁর অবিস্মরণীয় কণ্ঠমাধুর্যের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান সঙ্গীতপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় আজও শীর্ষে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ২০১১ সালে বঙ্গবিভূষণ, ২০১২ সালে সঙ্গীত মহাসম্মান ও ২০১৫ সালে ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলি বিশেষ সঙ্গীতসম্মান প্রদান করে। এছাড়া তিনি ভারত নির্মাণ অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড সহ বহু সম্মানে ভূষিত হন। তিনি আমৃত্যু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত একাদেমির সভাপতিও ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সঙ্গীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল।স্বর্ণকণ্ঠী গীতশ্রী সন্ধ্যাদির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের হৃদ্য সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে আমি আমার অগ্রজাকে হারালাম। আমি সন্ধ্যাদির পরিবার-পরিজন ও অসংখ্য অনুরাগীকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি ।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
রাজনীতি

উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরেই জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

চার পুরসভার নির্বাচনের ফলাফল ৪০ দেখে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকে ফিরবেন ১৭ ফেব্রুয়ারি। তারপরই তৃণমূল সুপ্রিমো জাতীয় কর্মসমিতির প্রথম বৈঠক ডেকেছেন নিজের বাসভবন কালীঘাটে। সম্প্রতি তিনি সব শীর্ষ পদ অবলুপ্ত করে দিয়ে জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেন। তৈরি হয়েছে ওয়ার্কিং কমিটি। এবার বিশেষ বৈঠক।সম্প্রতি দলে এক ব্যক্তি এক পদ নিয়ে হাজার টানাপোড়েনের মাঝেই পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শনিবার বিকেলে তিনি দলের সমস্ত শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানেই সমস্ত পদের অবলুপ্তি ঘটিয়ে নতুন করে জাতীয় কর্মসমিতি গড়ে দেন। নতুন কর্মসমিতির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন দলের বর্ষীয়ান নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া এই কর্মসমিতিতে রয়েছেন মোট ১৯ জন। তবে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোট ১৬ জনের নাম ঘোষণা করেছেন। পরে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেবেন বলে জানিয়েছিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার কালীঘাটে দলের জাতীয় কর্মসমিতির প্রথম বৈঠকের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭ তারিখ ফিরেই তিনি ১৮ তারিখ বৈঠকে বসবেন। সেখানে কিছু পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করতে পারেন তিনি। এখন জাতীয় কর্মসমিতির শীর্ষে রয়েছেন চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।কেন এই বৈঠক ডাকলেন তড়িঘড়ি? সূত্রের খবর, চার পুরসভার মধ্যে তিনটির মেয়র পদ ঘোষণা করতে পারেন তিনি। দলের কয়েকটি পদে কারা বসবেন জানাতে পারেন তিনি। এখন অন্যান্য রাজ্যে কিভাবে সংগঠন গড়ে তোলা হবে তা নিয়ে নির্দেশ দিতে পারেন তিনি। এমনকী শীর্ষ পদাধিকারীদের নামও ঘোষণা করতে পারেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
কলকাতা

যত জিতব তত নম্র হতে হবে, বললেন মমতা

তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সফরে যাওয়ার আগে চার পুরসভায় তৃণমূলের বিপুল জয়কে জনগণকে উৎসর্গ করলেন দলের সভানেত্রী।বিমানে ওঠার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই জয়ের জন্য আমরা মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। যত জিতব তত আমাদের নম্র হতে হবে। আগামী দিনে আমার লক্ষ্য শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান। আমাদের সমস্ত সামাজিক প্রকল্প যাতে সুষ্ঠু ভাবে চলে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, মঙ্গলবার থেকে রাজ্যে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি শুরু হবে। বিধাননগর, শিলিগুড়ি, চন্দননগর, আসানসোল, কলকাতা পুরসভায় জিতেছি। আগামী দিনে আরও কয়েকটি পুরসভা নির্বাচন আছে।তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের পরিষেবা, বাংলার সবুজায়ন, শিল্প সমৃদ্ধ করা, মায়ের সম্মান, ছাত্র যুবদের সম্মান, শ্রমিক কৃষকের ভালবাসা, সর্বধর্ম সমন্বয়ের মধ্যে দিয়ে সংস্কৃতি সম্প্রীতির মধ্যে দিয়ে আমরা করে চলেছি এবং করে যাব। আরও বেশি করে মানুষের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আগামিদিন আমার ডেস্টিনেশন ইন্ডাস্ট্রি। কাজের সুযোগ বাড়ানো।একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দেন, জনগনের পরিষেবা পুরনিগম, পুরসভা দেবে। সরকারের অনেক কাজ। মঙ্গলবার থেকে আবার দুয়ারে সরকার শুরু হচ্ছে। আমাদের সমস্ত সরকারি প্রকল্প যেন ঠিকমতো চলে তা সবাইকে দেখতে হবে। কোভিড কমে গেলেও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। এই জয় মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি। আজ শিলিগুড়ি যাচ্ছি। কোচবিহারে অনুষ্ঠান আছে। ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের মিটিংও আছে। আজ পঞ্চানন বর্মার জন্মদিন। ওখানে পৌঁছে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করব।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
রাজ্য

শিলিগুড়ির মেয়র হবেন গৌতম দেব

এই প্রথম বার শিলিগুড়ি পুরনিগমে বোর্ড গঠন করবে তৃণমূল। সোমবার সকালে ভোটগণনা শুরুর কিছু ক্ষণের মধ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই আবহেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন শিলিগুড়ির মেয়র হবেন গৌতম দেব।ঘটনাচক্রে সোমবারই তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন মমতা। ওই সফর শুরু হবে শিলিগুড়ি দিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের দিনেই প্রথম বার শিলিগুড়ির ভার পেল তৃণমূল, ফলে শাসক শিবিরে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস। খুশি মমতাও। তিনি বলেন, আমি খুশি। শিলিগুড়িতে জয়ের খবর নিয়ে যাচ্ছি। এটা আমার কাছে বড় ব্যাপার। গৌতম দেব মেয়র হবে শিলিগুড়ির। কারণ ও প্রবীণ নেতা। অন্য জায়গাগুলিতে দল সিদ্ধান্ত নেবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শিলিগুড়িতে আজ কত উন্নয়ন হচ্ছে। শিলিগুড়ি থেকে ভুটান, নেপাল, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়। সেখানে রাস্তা, ফ্লাইওভার, ভোরের আলো এমন সব নানা প্রকল্প আমরা নিয়েছি।শিলিগুড়ি পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জিতেছেন গৌতম। জয়ের পর তিনি বলেন, শিলিগুড়ির মানুষের হয়ে আজ আমরা দিদিকে অর্ঘ্য নিবেদন করব। এই জয় শিলিগুড়ির মানুষকে উৎসর্গ করছি।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
রাজ্য

৩ দিনের সফরে আজ উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

তিনদিনের সফরে আজ উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে সোমবার বিকেলে তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামবেন। রাতে শিলিগুড়িতে থাকবেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ মঙ্গলবার কোচবিহার যাবেন। সেখানে সার্কিট হাইসে থাকবেন তিনি। বুধবার গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।অনন্ত মহারাজের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর বলে জানা গিয়েছে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের বানেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় বীর চিলা রায়ের ৫১২তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মমতা। এরপর কোচবিহার শহর সংলগ্ন শিবযজ্ঞ মন্দিরে তাঁর যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
রাজনীতি

সভানেত্রীর পদ ছাড়া সমস্ত জাতীয় পদের অবলুপ্তি, মমতার বৈঠকে ঘোষিত ২০ জনের জাতীয় কর্মসমিতি

এক ব্যক্তি এক পদ নীতি নিয়ে দলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধের আবহে জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যদের নাম ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌরহিত্যে শনিবার কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে কুড়ি জন সদস্যর নাম চূড়ান্ত করা হয়। সাংগঠনিক নির্বাচনের ১০ দিনের মাথাতেই ঘোষিত হলো তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন জাতীয় কর্মসমিতির। কমিটিতে যেমন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, তেমনই রাখা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। দলের বর্ষীয়ান নেতাদের পাশাপাশি জেলার একাধিক নেতাকেও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা হয়েছে। একইসঙ্গে দলের সভানেত্রীর পদ ছাড়া বাকি সব পদের অবলুপ্তি ঘটানো হয়েছে।সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলে সমস্ত জাতীয় স্তরের শীর্ষপদের আপাতত অবলুপ্তি ঘটানো হল। অবলুপ্তি ঘটালেন স্বয়ং মমতাই! বদলে গড়া হয়েছে ২০ জনের জাতীয় কর্মসমিতি। যারা দলের কাজ দেখাশোনা করবে। কর্মসমিতির মাথায় রয়েছেন মমতা নিজে।তৃণমূলের অন্দরের ব্যাখ্যা, এই পদক্ষেপের মমতা আরও একবার দলের অন্দরে নিজের অবিসংবাদী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন। বস্তুত, সূত্রের দাবি, বৈঠকে উপস্থিতি নেতারা সকলেই মমতার হাতে দলের দায়িত্ব পরিপূর্ণ ভাবে অর্পণ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মমতাই দলে শেষ কথা। নেতাদের সাক্ষর সংবলিত সেই বার্তাও দলনেত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের আরও দাবি, বৈঠকে সকলের সামনেই মমতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কদিন ধরেই পুরভোটের প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের অন্দরের ক্ষোভ যেভাবে প্রকট হয়েছে তাতে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে। এমনকী, এক ব্যক্তি এক পদ চালুর দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের তরুণ প্রজন্মের নেতা-নেত্রীদের লাগাতার প্রচারেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। কিছুটা হলেও ভুল বার্তা যাচ্ছিল সাধারণ মানুষের কাছে। পরিস্থিতি সামলাতে এদিন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে বৈঠক চলে।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আজকের বৈঠকে দলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করেছেন নেত্রী। জাতীয় কর্মসমিতি গঠন সম্পূর্ণ হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়ে দেওয়া হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত মিত্র, যশোবন্ত সিনহা, সুব্রত বক্সী, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুখেন্দুশেখর রায়, অনুব্রত মণ্ডল, গৌতম দেব, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বুলুচিক বরাইক, রাজেশ ত্রিপাঠী, অসীমা পাত্র ও মলয় ঘটক। জাতীয় কর্মসমিতির সভানেত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বাকি পদাধিকারীদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
রাজনীতি

জরুরি ভিত্তিতে কালীঘাটের বাসভবনে বৈঠক ডাকলেন মমতা

চার পুরনিগমের ভোটগ্রহণের দিন শনিবার। এদিনই জরুরি ভিত্তিতে কালীঘাটের বাসভবনে বৈঠক ডাকলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে দলের সর্বস্তরে যে গণ্ডগোল ও মনোমালিণ্যের পালা চলছে তা নিয়েই আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আগামিকাল কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিকেল ৫ টা নাগাদ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ চট্ট্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুব্রত বক্সী ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।সূত্রের খবর, ১০৮ পুরসভার প্রার্থী তালিকা নিয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ চলছে। একাধিক জেলার নেতারা রয়েছেন দ্বিধাবিভক্ত, সেই পরিস্থিতির সামাল কীভাবে দিতে হবে তা নিয়ে বিস্তরা আলোচনা হতে পারে। এছাড়াও দলের বর্তমানে একাধিক নীতি নিয়ে চিন্তায় জেলার নেতারা। নতুন নিয়ম কার্যকর না হলেও পুরানো নিয়ম বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে বারবার সুব্রত বক্সী ও পার্থ চট্ট্যোপাধ্যায়ের কাছে ফোন আসছে বিভিন্ন জেলা থেকে। তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দলে আদৌ এক ব্যক্তি এক পদ নীতি বজায় থাকবে কি না তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও ইদানিং সৌগত রায়, মদন মিত্র কিংবা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিভিন্ন আভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন, তা নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তাও উঠবে এই জরুরি বৈঠকে। এছাড়াও আগামী দিনে জাতীয় স্তরে দলের সংগঠন কীভাবে এগোবে, তা নিয়েও রূপরেখা তৈরি করতে আলোচনা হবে বলেও জানা যাচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
কলকাতা

ছোটদের স্কুল খোলার ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

এবার ছোটদের জন্যও স্কুল খোলার ভাবনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে সরকারি এক অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে এ কথাই জানালেন তিনি।আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উদ্বাস্তুদের জমির দলিল বিলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। সেখান থেকেই প্রাইমারি স্কুল খোলা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।এদিন তিনি বলেন, আপাতত কয়েকটি ক্লাস হচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয় চলছে। প্রাইমারি অর্থাৎ একেবারে ছোটরা এখনও স্কুলে যাচ্ছে না। এবার সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, করোনার আরও একটা স্ট্রেন এসেছে। সে বিষয়টা ভাল করে দেখে নিয়ে স্কুল খোলা হবে।পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আপাতত ছোটদের স্কুল খোলা হলে ৫০ শতাংশ পড়ুয়া নিয়ে ক্লাস করার চিন্তাভাবনা চলছে। রোটেশনে ক্লাস নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগাভাগি করে স্কুল করলে সোমবার যারা আসবে, মঙ্গলবার তারা আসবে না। আবার মঙ্গলবার যারা আসবে বুধবার তারা আসবে না। এভাবে হলে প্রাথমিকের ক্লাসগুলো অন্তত চলতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
দেশ

উত্তরপ্রদেশে অখিলেশকে পাশে নিয়ে যোগী-মোদিকে আক্রমণ মমতার

বাংলায় আটকেছেন মোদি-শাহদের। এ বার উত্তরপ্রদেশ থেকে বিজেপি-কে হঠাতে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির হয়ে প্রচারে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লখনউ-এর ভার্চুয়াল জনসভা থেকে তিনি ঘোষণা করলেন, আগামী মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রচারে যাবেন খোদ প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র বারাণসীতে।লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশেও তৃণমূল লড়াই করবে, এই বার্তা আগেই দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার উত্তরপ্রদেশে গিয়ে অখিলেশ যাদবকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি দখলের বার্তা দিলেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বললেন, আব কি বার, অখিলেশ সরকার, একই সঙ্গে বলতে ভুললেন না, আব কি বার, দেশ কা সরকার। যোগী-রাজ্যে মমতার বার্তা, উত্তরপ্রদেশ থেকে বিজেপিকে সরাতে পারলে, দেশ থেকেও সরবে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে প্রচার করতেই গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মঙ্গলবার লখনউয়ে বিক্রমাদিত্য মার্গে সমাজবাদী পার্টির কার্যালয় থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। আর সেখান থেকেই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন নেত্রী।উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, কোভিড মোকাবিলায় না কি পিএম কেয়ার্স ফান্ডের টাকা তোলা হল। আর তার কোনও হিসেব দেওয়া হল না। কেন তা দেশকে জানাতে হবে। চুপ করে থাকলে হবে না। জবাব দিতে হবেই।কেন্দ্রীয় সরকারের বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা। তিনি বলেন, এমন একটি প্রকল্প করা হয়েছে যেখানে বরাদ্দ একটি রাজ্যের নারী উন্নয়নের বরাদ্দের থেকেও কম। এবং বরাদ্দের প্রায় পুরো অর্থ বিজ্ঞাপনেই খরচ করা হচ্ছে।গঙ্গায় কোভিডে মৃতদের দেহ ভাসানো থেকে শুরু করে উন্নাও গণধর্ষণ সমস্ত বিষয় উল্লেখ করে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লখনউয়ে যৌথ ভার্চুয়াল প্রচার শুরু করেন অখিলেশ যাদব-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অখিলেশের সমর্থনে এত তৎপর হওয়ায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে ধন্যবাদ জানান সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো। এরপর নিজে অল্প সময় বক্তব্য শেষ করে মাইক্রোফোন এগিয়ে দেন মমতার দিকে। তৃণমূল সুপ্রিমো গোড়া থেকেই বিজেপি বিরোধিতায় চড়া সুর তোলেন। যোগীর উদ্দেশে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, আগে ক্ষমা চান, তারপর ভোট চাইবেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর আরও আক্রমণ, বাংলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাবেন বলে তো গিয়েছিলেন প্রচারে। কিন্তু সেখানে আপনাদের ফল কী হল, দেখলেন তো। এবার বিজেপিকে উত্তরপ্রদেশের মাটি থেকে উৎখাত করার জন্য অখিলেশ যে লড়াই চালাচ্ছেন, তাতে ওর হয়ে আমিও এতে শামিল।সোমবার সন্ধ্যায় লখনউ পৌঁছন মমতা। মঙ্গলবার দুপুরে অখিলেশকে পাশে নিয়ে বক্তৃতা দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি উত্তরপ্রদেশের ভোটে লড়াই করতে আসিনি। আমি এখানে এসেছি, আমার ভাই অখিলেশকে সমর্থন জানাতে। উত্তরপ্রদেশের মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে জয়ী করুন। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন, আমি আবার আসব। ১৫ তারিখে আবারও জনসভা করতে আসব। বারাণসীতে যাব।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
কলকাতা

আসন্ন পুরভোটে পার্থ-সুব্রতর তালিকাকেই চূড়ান্ত ঘোষণা করলেন মমতা

আসন্ন পুর নির্বাচনে সুব্রত বক্সী এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সই করা প্রার্থী তালিকাই চূড়ান্ত বলে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে প্রচারে উত্তরপ্রদেশ রওনা হওয়ার আগে সোমবার কলকাতায় তিনি বলেন এই নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি নেই। এইদিকে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন সবাইকে প্রার্থী করা সম্ভব নয়। সব দিক বিচার করে দল যাকে প্রার্থী করেছে তার সমর্থনে দলের সব স্তরের কর্মীদের একজোট হয়ে প্রচারে নামার বার্তা দিয়েছেন তিন।শুক্রবার তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই দলের নীচুতলায় বেশ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এর মূল কারণ ছিল দুটি তালিকা প্রকাশ হওয়ার ঘটনা। এদিন লখনউ রওয়ানা দেওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সামনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি সুব্রত বক্সির সই করা যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেই তালিকাই চূড়ান্ত। একইসঙ্গে এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দেন, সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়, সবাইকে প্রার্থী করাও সম্ভব নয়। আর ক্ষোভ বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়। এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানান, এই ১০৮টি পুরসভা নির্বাচনে দলের হয়ে কোঅর্ডিনেটর করার জন্য দলনেত্রী জেলা ধরে ধরে কিছু নেতানেত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁরা জেলা কমিটি ও পুরসভাগুলিতে থাকা দলের কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবেন। এরপরেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, পুলক রায়কে হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুভাশিষ চক্রবর্তী ও অরূপ বিশ্বাস দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা দেখবেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পার্থ ভৌমিক ও তিনি নিজে। ফিরহাদ হাকিম দেখবেন মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর জেলা। সুব্রত বক্সি দেখবেন কোচবিহার ও পূর্ব মেদিনীপুর এই দুই জেলা। ঝাড়গ্রাম দেখবেন তিনি নিজে। দার্জিলিং জেলার দায়িত্বে থাকছেন গৌতম দেব। শশী পাঁজা দেখবেন দক্ষিণ দিনাজপুর। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দেখবেন আলিপুরদুয়ার জেলা। জলপাইগুড়ি দেখবেন সৌরভ চক্রবর্তী। নদিয়া দেখবেন সুখেন্দু শেখর রায়, ব্রাত্য বসু ও তিনি নিজে। পশ্চিম মেদিনীপুর দেখবেন মানস ভুঁইয়া ও অজিত মাইতি। মলয় ঘটক দেখবেন পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলা। লক্ষ্যণীয় বিষয় বীরভূমের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনও কো-অর্ডিনেটর এদিন নিয়োগ করার কথা জানানো হয়নি। অর্থাৎ সেখানে অনুব্রত মণ্ডলের হাতেই সব কিছু ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২২
রাজনীতি

অখিলেশের আমন্ত্রণে উত্তরপ্রদেশে গেলেন মমতা

বিধানসভা ভোটে সমাজবাদী পার্টির প্রচার করতে উত্তরপ্রদেশে রওনা হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে দমদম বিমানবন্দর থেকে লখনউ রওনা হন তিনি। তৃণমূল সূত্রের খবর, মঙ্গলবার অখিলেশ যাদবের সঙ্গে যৌথ সভা করবেন তিনি।বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, সমাজবাদী পার্টির পক্ষে বিধানসভা ভোটে প্রচার করতে উত্তরপ্রদেশে যাচ্ছি। অখিলেশ আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি চাই উত্তরপ্রদেশ থেকে বিজেপি বিদায় নিক। পিকে-র সংস্থা আই প্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের চুক্তি শেষ করা নিয়ে মমতার বক্তব্য, এ সব প্রশ্নের উত্তর এখানে দেব না।প্রসঙ্গত, এ বার উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোটে লড়ছে না তৃণমূল। দলের নেত্রী মমতা বিজেপি-কে হারানোর উদ্দেশ্যে সব আসনেই অখিলেশের দল এসপি-র নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন করেছেন। বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে পশ্চিমবঙ্গের সব আসনে তৃণমূলকে সমর্থন জানিয়েছিলেন অখিলেশ। এবার তার প্রতিদানের পালা।উত্তরপ্রদেশে প্রার্থী না দিলেও আর এক বিজেপি শাসিত রাজ্য গোয়ার বিধানসভা ভোটে লড়ছে তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে মমতা সোমবার কংগ্রেসের নাম না করে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম সব রাজ্যেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই হোক। কিন্তু সকলে তা চায়নি।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২২
দেশ

সোমবার অর্ধ দিবস ছুটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ১৫ দিন বাজবে লতার গান

লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে সোমবার অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১৫ দিন রাজ্যে বাজবে লতার গাওয়া গান, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।রবিবার সকাল ৮টা ১২ মিনিটে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন লতা মঙ্গেশকর। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী-সহ অসংখ্য মানুষ।While offering my sincerest condolences to her family and the billions of admirers that she leaves behind all over the world, I express my deepest sadness at the demise of the genius that the Nightingale of India truly was. (2/3) Mamata Banerjee (@MamataOfficial) February 6, 2022পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের তরফে জারি করা মুখ্যমন্ত্রী শোকবার্তায় লেখা হয়, কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে আমি গভীরতম শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে আমরা রিক্ত হলাম। সুরসম্রাজ্ঞী ও অনন্য প্রতিভাময়ী সর্বজনশ্রদ্ধেয় লতা মঙ্গেশকর দীর্ঘ আট দশক ধরে কণ্ঠের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। হিন্দি, মরাঠি, বাংলা-সহ ৩৬টিরও বেশি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় তাঁর গাওয়া অগণিত ক্লাসিকাল,গজল, ভজন, আধুনিক ও সিনেমার গান আজও সমান জনপ্রিয়। বাংলার সঙ্গীতজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগ ছিল। আমাদের নক্ষত্রদের সাধনা ও তাঁর প্রতিভা পরস্পরকে সমৃদ্ধ ও অভিষিক্ত করেছিল।I pay my heart-felt tribute to the departed icon of India, Bharatratna Lata Mangeshkar. (1/3) Mamata Banerjee (@MamataOfficial) February 6, 2022ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, লিজিয়ন অফ অনার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড সহ অজস্র পুরস্কার ও সম্মানে তিনি ভূষিত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীতজগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি লতা মঙ্গেশকরের আত্মীয়-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২২
কলকাতা

'পুলিশের মেরুদণ্ডে আঘাত’! টুইট ক্ষুব্ধ রাজ্যপালের

রাজ্যকে নিশানা করে ফের একবার টুইট করলেন রাজ্যপাল। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অমরনাথ কে-কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা নিয়ে এ বার সরব হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটারে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ট্যাগ করেছেন, আইএসএস অ্যাসোসিয়েশন, আইপিএস অ্যাসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশকে।শুক্রবার টুইটারে রাজ্যপাল লিখেছেন, কী উদ্বেগজনক দৃশ্য! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে পূর্ব মেদিনীপুর পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইছেন, রাজ্যপাল কি আপনাকে ফোন করেন! একটি গুরুতর বিষয়, যেদিকে অবিলম্বে নজর দেওয়া প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশের মেরুদণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর আঘাত।What a worrisome scenario! CM Mamata Banerjee in full media glare pulls up Purba Medinipur SP by asking Did governor call you is serious issue needing focussed reflection @IASassociation @IPS_Association.Unfortunate- A spinal blow by CM to Police @WBPolice @KolkataPolice pic.twitter.com/dh4FPSJYsd Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) February 4, 2022বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ভর্ৎসনা করেছিলেন অমরনাথকে। তিনি বলেন, তোমার জেলা সম্পর্কে আমি অভিযোগ পাচ্ছি। কাউকে সাজিয়ে পরিকল্পিত ভাবে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকদিন তোমাদের বলেছি। কিন্তু তোমরা কিছু করোনি। তার পর আমি হস্তক্ষেপ করেছি। এই মন্তব্যের পরই স্বভাবতই ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
কলকাতা

রাজ্যপাল ফোন করেন? পুলিশ আধিকারিককে ভর্ৎসনা মুখ্যমন্ত্রীর

পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক কর্তাদের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন। ওই জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথ কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পর্কে তার কাছে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। তার ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে কি না, রাজ্যপাল তাকে ফোন করে সরাসরি কোনও নির্দেশ দিচ্ছেন কি না পুলিশ সুপারের কাছে তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করারও তিনি নির্দেশ দেন।বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জেলা স্তরে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথ কে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক চলাকালীন হঠাৎই তিনি জানতে চান , কোথায় পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার? লুকিয়ে আছে? মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে আসন থেকে উঠে দাঁড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তাঁর দিকে। বললেন, তোমার জেলা সম্পর্কে বেশ কিছু অভিযোগ পাচ্ছি। কাউকে কাউকে সাজিয়ে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, অভিযোগ আসছে। অনেক দিন ধরে দেখছি। অনেক দিন বলেছি, কিছু করা হয়নি। তুমি কি ওখানে কাজ করতে ভয় পাচ্ছো? তোমাকে কি রাজ্যপাল ফোন করছেন? এটা কোরোনা, ওটা কোরোনা, এসব নির্দেশ দিচ্ছেন রাজ্যপাল?তোমাকে ফোন করলেও তুমি বলবে না জানি। তবে ভয় পেও না। তোমাকে অনেক আশা নিয়ে ওখানে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আমি হলদিয়া নিয়েও কমপ্লেন পেলাম। দুইজন গ্রেপ্তার হল। কিন্তু তোমরা থাকতে আমাকে কেন মাথা ঘামাতে হবে? কারও কথা না শুনে কাজ করতে হবে। ভয় পাওয়ার দরকার নেই। মনে রাখতে হবে জেলার পুলিশ সুপার রাজ্য সরকারের অফিসার। আর যদি তোমার ওখানে কাজ করতে ভয় লাগে পলিটিক্যালি প্রেশারের কারণে তাহলে আমাকে সেটা জানিও। এই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা একসময় অধিকারীদের গড় হিসাবেই পরিচিত ছিল। একুশের ভোটে বিজেপির হার ও দলবদলের জেরে নিজ জেলাতেই এখন চূড়ান্ত কোণঠাসা দশায় রয়েছে অধিকারীরা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যপালকে কাজে লাগিয়ে পরোক্ষে প্রশাসনের উপরে তারা চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন বলে এদিন ইঙ্গিত মিলেছে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
কলকাতা

‘দল একটাই – তৃণমূল,' সাংগঠনিক নির্বাচনের পর গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে সতর্কবাণী মমতার

দলের মধ্যে যে অন্তর্কলহ রয়েছে, তা বুধবার কার্যত বকলমে স্বীকার করে নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বললেন, কথা দিতে হবে পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব হবে না। বুধবার তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন ছিল। নেতাজি ইন্ডোরে তা নিয়ে সকাল থেকেই তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। তৃণমূলের ভিতরে আলাদা কোনও গোষ্ঠী নেই। দল একটাই। গ্রুপও একটাই।বুধবার দলের সাংগঠনিক নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারপার্সন পদে পুনর্নির্বাচিত হয়ে কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বময় নেত্রীর কথায়, নেতা জন্মায় না। নেতা তৈরি হতে হয়। অর্থাৎ, নেতাকে একটা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে তৈরি হতে হয়। কেউ জন্মেই নেতা হয় না। কিছুদিন আগে পর্যন্তও দলের মধ্যে অন্তর্কলহের এক চূড়ান্ত ছবি দেখা গিয়েছিল তৃণমূলে। এবার আর নিচু তলার কর্মীরা নন, একেবারে সামনের সারির নেতাদের মধ্যে কলহ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের মধ্যে সেই সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের কথা এখনও বিরোধীদের মুখে মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছিলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কামারহাটির বিধায়ক তথা মমতার অন্যতম প্রিয় পাত্র মদন মিত্রও সম্প্রতি দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কিছুদিন আগে। আর এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতাজি ইন্ডোর থেকে এই বার্তা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।তিনি আরও বলেন, বাংলায় আরও বাড়তে হবে। আজ আমি যখন এখানে আসছিলাম, তখন আমার কাছে খবর আসছিল, সাত-আট জন বিজেপি বিধায়ক আরও আসতে চান। তাঁরা উন্নয়নে আমাদের সঙ্গে নিশ্চয়ই কাজ করতে পারেন। আরও অনেকেই আসতে চান। তাঁরা আসুন, উন্নয়নে কাজ করুন, সেটা আমরা নিশ্চয়ই চাই। তবে জোর করে যে দলে কাউকে আনা হচ্ছে না, তাও স্পষ্ট করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে আগামী দিনে লড়াই আরও জোরদার হবে, সেই কথাও দলীয় নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশে জানিয়ে রাখলেন তিনি।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিভিসির জল ছাড়ায় বাড়ছে বিপদ! ৫০ হাজার কিউসেক পেরিয়ে জল, এবার কি প্লাবনের আশঙ্কা?

টানা বৃষ্টির জেরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। তার জেরে দ্রুত বাড়ছে ডিভিসির বিভিন্ন জলাধারের জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে দামোদর সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাইথন ড্যামের জলস্তর বর্তমানে ৪৮৪.২৫ ফুট। গত ২৪ ঘণ্টায় এই জলাধার থেকে গড়ে প্রায় ৬৪২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর রয়েছে ৪১৪.১১ ফুট। সেখান থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে।দুই ড্যাম মিলিয়ে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ৭৯৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে দামোদর নদেও জলস্তর বাড়ছে। মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে দফায় দফায় ছাড়া জল পৌঁছচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারাজে।বুধবার সকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে প্রায় ৯৭ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়লে জল ছাড়ার পরিমাণও বাড়তে পারে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে খবর। সে ক্ষেত্রে নিম্ন দামোদর এলাকার একাধিক জায়গায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।ইতিমধ্যেই টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও কোথাও জল জমে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। জাতীয় সড়কেও তার প্রভাব পড়েছে।এর মধ্যেই দুর্যোগের আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে খনি অঞ্চলে। টানা বৃষ্টির জেরে পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুরের ৭ এবং ৯ নম্বর পিট এলাকায় আচমকা ধস নামে। লোকালয়ের একেবারে কাছে মাটি বসে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খনি আবাসনের কাছেই ধস নামায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই ওই এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। তার জেরেই আচমকা মাটি বসে ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। ধসের জায়গায় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই এলাকায় এর আগেও ধস নেমেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৮ সালেও একই জায়গায় ধস হয়েছিল। সেই সময় ধসের জায়গাটি খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ভাবে মেরামত করা হয়নি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।বিজেপির যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার যাদবের অভিযোগ, খনি কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। দ্রুত ধসের জায়গা মেরামত করার পাশাপাশি গোটা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।একদিকে ড্যাম থেকে বাড়ছে জল ছাড়ার পরিমাণ, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে খনি এলাকায় ধসের ঘটনা। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

টোল দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতায় ইডির হানা! শেক্সপিয়র সরণির আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে সকালেই তল্লাশি

জাতীয় সড়কের টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বুধবার সকালে কলকাতায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শেক্সপিয়র সরণির একটি আবাসনে ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের সাত রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে খবর।বুধবার সকালেই ছয় সদস্যের ইডির একটি দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা আবাসনটি ঘিরে রাখেন। আচমকা এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।অভিযোগ, বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে জাতীয় সড়কে নিয়মের বাইরে টোল আদায় করা হত। অনুমোদিত নয় এমন টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন কৌশলে সরিয়ে ফেলা হত বলেও তদন্তকারীদের সন্দেহ।অভিযোগ আরও, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হত। ফলে সরকারি নথিতে সেই লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ধরা পড়ত না। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।এই অভিযোগের তদন্তে নেমে ডিজিটাল নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। টোল থেকে আদায় করা বেআইনি টাকা কোথায় গিয়েছে, কারা সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত এবং পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে আর কারা রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ সাতটি রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।তবে কলকাতার ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল দুর্নীতির অভিযোগের যোগসূত্র ঠিক কোথায়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেক্সপিয়র সরণির ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে কলকাতায় এই তল্লাশির নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফের ছুটল ভারত! ৫.৫ টন ওষুধ আর ১১ উদ্ধারকারী নিয়ে উড়ল বায়ুসেনার বিমান

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও বড় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ৫.৫ টন প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১ জনের উদ্ধারকারী দল নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার পঞ্চম বিমান।ভারতের তরফে আগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই নেপালের বিপর্যয়কবলিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। রসুয়ার শিবিরে সেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পর নেপাল সেনার হাতে তা তুলে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকাজেও সহযোগিতা করছে ভারত।ইন্দো-নেপাল সীমান্তে উদ্ধারকাজে তৎপরতার সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র সীমা বলের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইন্দো-নেপাল এবং ইন্দো-ভুটান সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনী। বিপর্যয়ের সময় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার ও সহযোগিতার কাজেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২৬ অগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেপালের হড়পা বানে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০০৩ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চার হাজারেরও বেশি মানুষের কোনও খোঁজ নেই। তাঁদের মধ্যে আরও কোনও ভারতীয় রয়েছেন কি না, সেই তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।বিপর্যয়ের পর মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কোনও মৃত ব্যক্তি ভারতীয় হলে তাঁর দেহ কী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। স্বজনেরা কী ভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে কী ভাবে দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জানানো হয়েছে।নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, উষ্ণায়নের কারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বান সেই আশঙ্কারই নতুন করে বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জও সতর্ক করেছে।এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে ভারতের একের পর এক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার তৎপরতায় বিপর্যস্ত নেপালের মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

গলব্লাডারের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার! প্রকাশ্যে আসতেই গোপালকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে পিত্তথলির পাথরের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর। গোপালের দাবি, তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা গোপাল পোড়েলের বয়স ৪৭ বছর। তিনি একশো দিনের কাজ করে সংসার চালান। বেশ কিছু দিন ধরে পেটের ডান দিকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো হলে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে।গোপালের অভিযোগ, পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্যই তাঁকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, পিত্তথলির বদলে ভুল করে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন গোপালের এলাকার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিষয়টি সামনে আসার পর গলব্লাডারের পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য গোপালকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল।তবে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বিভ্রাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগটি খারিজ করে দেন।এর মধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আসে। দপ্তরের তরফে প্রথমে বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোন করা হয় গোপাল পোড়েলের সঙ্গে।গোপালের দাবি, তিনি আর্থিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ তাঁর হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।গোপাল আরও জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ঠিক কী কারণে এমন অভিযোগ উঠল, অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরে কী কী পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

বৃষ্টি থামার নাম নেই! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আজও ভারী বৃষ্টি, বৃহস্পতিবার থেকে বদলাবে আবহাওয়া

নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে বাংলায় নাছোড় বৃষ্টি এখনই থামার সম্ভাবনা নেই। বুধবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য জেলাগুলিতে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট।সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বর্ষার দাপট অব্যাহত। সামনে পুজো। তাই কবে বৃষ্টি কমবে, কবে মিলবে পরিষ্কার আকাশের দেখা, সেই প্রশ্নই এখন অনেকের মনে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি।বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে একাধিক নদীতে জলস্তর বেড়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা উপকূল, সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের এলাকায় রয়েছে। ধীরে ধীরে সেটি ঝাড়খণ্ডের দিকে এগোচ্ছে। তবে তার প্রভাবে এখনও বাংলায় জলীয় বাষ্প ঢুকছে। ফলে বৃষ্টির পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটছে না।বুধবার কলকাতা এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে দিনভর বিক্ষিপ্ত ভাবে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ অবস্থান করায় সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তার জেরেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমতে পারে। তবে পুরোপুরি বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে।অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার থেকে বদলাতে পারে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষ করে শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে দক্ষিণবঙ্গে যখন ধীরে ধীরে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তখন উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় নতুন করে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা।সব মিলিয়ে পুজোর আগে বাংলার আকাশ থেকে বর্ষার দাপট কবে পুরোপুরি কাটবে, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
দেশ

নেপালের প্লাবনের পর নদীতে অচেনা মাছের ঢল, খেলে অসুস্থ হচ্ছেন গ্রামবাসী! বড় সতর্কতা

নেপালের ভয়ংকর প্লাবনের প্রভাব এবার বিহারের নদীগুলিতেও পড়েছে। ত্রিশূলী নদীর জল গণ্ডক ও কোসি নদীতে এসে জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে উত্তর বিহারের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী ও বন্যার জলে ভেসে আসছে প্রচুর মাছ। কিন্তু সেই মাছ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিহার প্রশাসন।বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের আপাতত নদী, পুকুর, হ্রদ বা জলাধার থেকে মাছ না ধরার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মাছ ধরা নয়, সেই মাছ কেনা, বিক্রি করা এবং খাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যার সময় নদী ও জলাশয়ের মাছ প্রবল জলস্রোতে দূরের এলাকায় চলে যেতে পারে। বন্যার জলের সঙ্গে দূষিত নর্দমার জল, মৃত প্রাণী এবং বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থও নদী ও জলাশয়ে মিশে যায়। ফলে ওই জলে থাকা মাছের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার আশঙ্কা থাকে।বন্যাকবলিত এলাকায় কিছু অপরিচিত প্রজাতির মাছও দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই মাছ খেয়ে কয়েক জন অসুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে মাছ খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কোনও ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বন্যার জল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে মাছ ধরে খাওয়া বা বাজারে বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপালের প্রশাসনের তরফেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রচুর মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মৃতদেহ এবং মৃত পশুর দেহ পড়ে থাকার খবর সামনে এসেছে। এর ফলে বন্যার জল দূষিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।এই পরিস্থিতিতে নদী বা বন্যার জল থেকে ভেসে আসা মাছকে নিরাপদ মনে না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে মার সব থেকেও বৃদ্ধাশ্রমে বাস, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal