• ১২ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

MP

খেলার দুনিয়া

Champion!! : শাপমোচন মেসির, ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে কোপা জিতল আর্জেন্টিনা

নাসরীন সুলতানাকোপা আমেরিকার ফাইনাল নিয়ে উত্তেজনায় কাঁপছিল গোটা ফুটবল বিশ্ব। যতই হোক আর্জেন্টিনাব্রাজিল ম্যাচ বলে কথা। লাতিন আমেরিকার দুই মহাশক্তিধর দেশ। বিশ্ব ফুটবলেও সাড়া জাগানো অন্যতম দুই সেরা দল। আবার দুই দলে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়রের মতো তারকা। ম্যাচ যে অন্যমাত্রায় পৌঁছবে সেকথা বলাই বাহুল্য। অবশেষে কোপায় ব্রাজিলের সাম্প্রতিককালের আধিপত্য ভেঙে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ফাইনালে জিতল ১০ ব্যবধানে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান। ২৮ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন। শাপমোচন লিওনেল মেসিরও।বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। অথচ দেশকে একটাও ট্রফি দিতে পারেননি। এই যন্ত্রণা ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছিল লিওনেল মেসিকে। অধিনায়ক হিসেবেও বাড়তি দায়িত্ব ছিল। এবছর গোটা কোপাতেই অন্য তাগিদ দেখা গেল মেসির মধ্যে। চোট পেয়েছেন, পায়ে রক্ত ঝড়েছে, কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বদনাম ঘোঁচাতে কতটা মরিয়া ছিল, তাতেই প্রমাণ। ফাইনালে গোল পাননি ঠিকই, কিন্তু তাঁর দুরন্ত লড়াই স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবারের কোপায়। ফাইনালে চিরশত্রু ব্রাজিলের বিরুদ্ধে লড়াই যে সহজ হবে না, জানতেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। তাই প্রথম একাদশে ৫ জন ফুটবলার বদল করেছিলেন। ভরসা করেছিলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, মন্টিয়েল, রোমেরো, অ্যাকুনাদের ওপর। হতাশ করেননি ডি মারিয়ারা। শুরুর দিকে অবশ্য তুলনামূলকভাবে ব্রাজিলের আক্রমণের চাপ বেশি ছিল। নেইমার, রিচারলিসনরা কয়েকবার হানা দিয়ে যান আর্জেন্টিনার রক্ষণে। এরপরই খেলায় ফেরে আর্জেন্টিনা। ২২ মিনিটে গোলও তুলে নেয়। নিজেদের অর্ধ থেকে রডরিগো ডি পল লম্বা পাস বাড়ান ডানদিকে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার উদ্দেশ্যে। রেনান লডির ভুলে বল পেয়ে যান ডি মারিয়া। প্রথম টাচে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে দ্বিতীয় টাচে বল লব করে ব্রাজিল গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান।দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ৫২ মিনিটে রিচারলিসন আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠালেও অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। মিনিট তিনেক পরেই রিচারলিসনের শট দারুণ দক্ষতার সঙ্গে বাঁচান আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমি মার্টিনেজ। নেইমারকে এদিন কড়া নজরে রেখেছিলেন ওটামেন্ডি। তবুও মাঝে মাঝে জ্বলে উঠলেন। শেষদিকে একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এসেও সমতা ফেরাতে পারেনি ব্রাজিল। তিন কাঠির নিচে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার মার্টিনেজ। ৮৮ মিনিটে অবিশ্বাস্য সুযোগ নষ্ট মেসির। এডারসনকে একা পেয়েও বল জালে রাখতে পারেননি। ফাইনালে গোল না পেলেও ২০২১ কোপার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে লিওনেল মেসির নাম। তাঁর কাছে এবারের কোপা সে শাপমোচনের।

জুলাই ১১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Wimbledon: উইম্বলডনের নতুন রানি অ্যাশলে বার্টি, তৈরি করলেন অন্য নজির

নাসরীন সুলতানা আগেও গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন। কিন্তু উইম্বলডন জেতার মর্যাদাই আলাদা। তাই স্বপ্ন ছিল উইম্বলডন খেতাব। এই ট্রফিটা ক্যাবিনেটে শোভা না পেলে তাঁর টেনিস জীবন অপূর্ণই থেকে যেত। স্বপ্নপূরণ করতে মরিয়া ছিলেন। বেছে নিয়েছিলেন এবছরের উইম্বলডনকে। অবশেষে স্বপ্নপূরণ। সেন্টার কোর্টে জীবনের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডস্লাম জিতে নিলেন অ্যাশলে বার্টি। ৪১ বছর পর প্রথম অস্ট্রেলীয় মহিলা হিসেবে ট্রফি জিতে ইতিহাস তৈরি করলেন। ক্যারোলিনা প্লিসকোভার বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ৬৩, ৬৭(৬৪), ৬৩ সেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন হলেন বার্টি।আরও পড়ুনঃ প্রতিবছর রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ, কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী? জানুনচেক প্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা প্লিসকোভার বিরুদ্ধে জয় অবশ্য সহজে আসেনি অ্যাশলে বার্টির। যথেষ্ট লড়ে জিততে হয় এই অস্ট্রেলিয়ান টেনিস তারকাকে। শুরুর দিকে ফাইনাল খেলার চাপ নিতে পারেননি ক্যারোলিনা প্লিসকোভা। প্রথম তিনটি গেমে একটা পয়েন্টও ঘরে তুলতে পারেননি তিনি। চতুর্থ গেমে ডাবল ফল্ট করে ০৪ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন। তারপর খেলায় ফেরেন প্লিসকোভা। যদিও শেষ পর্যন্ত ৬৩ ব্যবধানে প্রথম সেট জিতে নেন বার্টি। প্রথম সেট জিততে সময় নেন ২৮ মিনিট।আরও পড়ুনঃ উইম্বলডনের ফাইনালে জকোভিচের সামনে ইতালির বেরেত্তিনিদ্বিতীয় সেটে দারুণভাবে প্রত্যাবর্তন করেন প্লিসকোভা। একসময় ৩১ ব্যবধানে এগিয়ে যান অ্যাশলে বার্টি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ান প্লিসকোভা। একসময় সমতা ফেরান। তখন খেলার ফল দাঁড়ায় ৩৩। সমানে সমানে লড়াই চলতে থাকে। স্কোর ৫৫ হয়ে যায়। ৬৫ ব্যবধানে এগিয়েও যান বার্টি। এরপর সেট টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে অ্যাশলে বার্টি ডাবল ফল্ট করলে ৭৬ (৬৪) ব্যবধানে সেট জিতে নেন প্লিসকোভা। আরও পড়ুনঃ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনার দোসর জিকা ভাইরাসতৃতীয় সেটের শুরু থেকেই অবশ্য অ্যাশলে বার্টির দাপট ছিল। প্লিসকোভার সার্ভিস ভেঙে ৩০ ববধানে এগিয়েও যান। এরপর আর বার্টিকে সমস্যায় ফেলতে পারেননি প্লিসকোভা। নিজের সার্ভিস ধরে রেখে দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম পাকা করেন অ্যাশলে বার্টি। ৪১ বছর পর প্রথম অস্ট্রেলিয়ান মহিলা হিসেবে উইম্বলডনে চ্যাম্পিয়ন হলেন। ১৯৮০ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ইভন গুলাগং। এটা বার্টির দ্বিতীয় গ্র্যান্ডস্লাম খেতাব। এর আগে ২০১৯ সালে ফরাসি ওপেন চ্যাম্পিয়ন হন তিনি।

জুলাই ১১, ২০২১
রাজনীতি

Soumitra Khan: ফের ফেসবুকে পোস্ট করে কাকে বার্তা দিলেন সৌমিত্র খাঁ?

জল দুধের সাথে বন্ধুত্ব করল এবং নিজের স্বরূপ ত্যাগ করে দুধের সঙ্গে মিশে গেল। ফেসবুকে ফের দীর্ঘ পোস্ট দিলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। আর তাঁর এই পোস্ট ঘিরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হতে চলেছে। সাংসদের ব্যাখ্যা, শিক্ষা ও শিক্ষিত ছাত্রের মধ্যে রাজনীতিবিদরা ঢুকে পড়েছেন। বেনোজলরা এখন চাকরি পেয়ে যাচ্ছে। সেটাই বলতে চেয়েছেন। তবে, রাজনৈতিক মহলে কিন্তু ইতিমধ্যেই তাঁর এই পোস্ট ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে যখন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বাংলার চার সাংসদ, তখন যুবমোর্চার সভাপতি থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন সৌমিত্র খাঁ। রাতে আবার জানান, বিএল সন্তোষ, অমিত শাহ ও তেজস্বী সূর্যের নির্দেশে ইস্তফার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছেন! মাঝে আবার ফেসবুক লাইভে এসে শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে নিশানা করেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ। বলেন, যিনি বলছেন তাঁর নেতৃত্বে সব কিছু হয়েছে। আমি এলাকায় না প্রবেশ করে জিতেছি। আমার মনে হয়েছে যুবমোর্চার পদ দিয়েছে দল। লড়াই করেছি। এই যিনি বিধানসভার দলনেতা হয়েছেন তিনি নিজেকে জাহির করছেন, দলকে নয়। যেভাবে চলছে তাতে যুবমোর্চার সভাপতি হিসেবে লড়াই করা মুশকিল হয়ে উঠছে। এখন যিনি নেতা হয়েছেন পুরো ফোকাস এক জায়গায় চলে গিয়েছে। তিনি দিল্লি যাচ্ছেন বারবার। নেতাদের ভুল বুঝিয়ে প্রমাণ করতে চাইছেন তিনিই সবচেয়ে বড় নেতা। তিনি একসময় তৃণমূলে বড় নেতা দেখিয়েছেন। সৌমিত্রের কথায়, মাননীয় সভাপতিকে বললেও অর্ধেকটা বোঝেন, অর্ধেকটা বোঝেন না। বাংলা বিজেপি যেভাবে চলছে, তাতে ভালো কিছু হবে না। নতুন নেতা এসে দিল্লির নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করেছেন। দলটা একটা জেলার মধ্যে চলে যাচ্ছে। পরিষ্কার বলছি, নরেন্দ্র মোদি যতদিন বাঁচবেন বিজেপি করব।এরই মধ্যে ফের একবার ফেসবুক পোস্ট করে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করলেন সৌমিত্র।

জুলাই ১০, ২০২১
স্বাস্থ্য

Corona-Nasal spray: করোনা প্রতিরোধে নতুন দিশা, বাজারে আসছে ন্যাজাল স্প্রে

করোনা প্রতিরোধে শুধু টিকাতেই আটকে থাকতে চান না বিজ্ঞানীরা। তাই বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে করোনার ওষুধ। ইতিমধ্যে ডিআরডিও-র তত্ত্বাবধানে একটি ওষুধও এসে গিয়েছে। আর এবার করোনা প্রতিরোধে ন্যাজাল স্প্রে বাজারে আসার অপেক্ষায়। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই তৃতীয় ট্রায়াল শেষ করে ফেলবে করোনার ন্যাজাল স্প্রে। ভারতে এর তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস (Glenmark Pharmaceuticals)। সংস্থার দাবি, করোনার বিরুদ্ধে তাঁদের ন্যাজাল স্প্রে অত্যন্ত কার্যকর।আরও পড়ুনঃ বর্ধমানে নকল স্যানিটাইজারের রমরমা, গ্রেপ্তার ৪জানা গিয়েছে, তাঁদের ন্যাজাল স্প্রে বাজারজাত করার অনুমতি চেয়ে গত সপ্তাহে ড্রাগ রেগুলেটরের কাছে আবেদন করেছে গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস (Glenmark Pharmaceuticals)। যদিও ড্রাগ রেগুলেটরের অন্তর্গত সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি (SEC) প্রথমে সংস্থাটিকে তৃতীয় ট্রায়াল সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে। যা শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। সংস্থার দাবি, সামনে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে কানাডার সংস্থা স্যানোটিজের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে গ্লেনমার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস (Glenmark Pharmaceuticals)। এই বিষয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতে সার্স-কোভ-২ (SARS-COV-2) ভাইরাসের মোকাবিলা করতে একসঙ্গে কাজ করবে তাঁরা।ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশেই তাঁদের ন্যাজাল স্প্রে বাজারজাত করেছে কানাডার সংস্থা স্যানোটিজ (Sanotize)। যা করোনার বিরুদ্ধে খুবই ভাল কাজ করছে বলেই সূত্রের খবর।

জুলাই ০৯, ২০২১
রাজনীতি

Soumitra Khan: সিদ্ধান্ত বদল, পদত্যাগ প্রত্যাহার করলেন সৌমিত্র খাঁ

দুপুরে রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। তার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রত্যাহার। ফেসবুকে সৌমিত্র খাঁ জানিয়েছেন, বিজেপি নেতা বিএল সন্তোষ, অমিত শাহ ও তেজস্বী সূর্যর নির্দেশেই ইস্তফা প্রত্যাহার করলেন তিনি। বিজেপি সূত্রের খবর, মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় মন ভেঙে যায় সৌমিত্রর। দুপুর ১টা পর্যন্ত দিল্লির ফোন পাওয়ার আশায় ছিলেন। মুকুল রায়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও যাননি। তবে ফোন আসেনি। বেশ কয়েকবার শিব প্রকাশকে ফোন করেন। ডাক আসছে না, নিশ্চিত হওয়ার পর ফেসবুকে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন সৌমিত্র। লেখেন,আজ থেকে ব্যক্তিগত কারণে যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। বিজেপিতে ছিলাম, আছি আর আগামী দিনে বিজেপিতেই থাকব। আরও পড়ুনঃ টিকা না নিয়েই সার্টিফিকেট, সমস্যার সমাধানে হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরতার পর ফেসবুক লাইভে এসে শুভেন্দু ও দিলীপকে আক্রমণও করেন সৌমিত্র। দিল্লির নেতৃত্বকে ভুল বোঝাচ্ছেন শুভেন্দু, সাড়ে ৯ মিনিটের ভিডিওয় আগাগোড়া এই অভিযোগই করে গিয়েছেন। সৌমিত্রর কথায়, এক নেতা এসেছেন, যিনি বলছেন তাঁর নেতৃত্বে সব কিছু হয়েছে। আমি এলাকায় না প্রবেশ করে জিতেছি। আমার মনে হয়েছে যুবমোর্চার পদ দিয়েছে দল। লড়াই করেছি। এই যিনি বিধানসভার দলনেতা হয়েছেন তিনি নিজেকে জাহির করছেন, দলকে নয়। যেভাবে চলছে তাতে যুবমোর্চার সভাপতি হিসেবে লড়াই করা মুশকিল হয়ে উঠছে।তিনি দিল্লি যাচ্ছেন বারবার। নেতাদের ভুল বুঝিয়ে প্রমাণ করতে চাইছেন তিনিই সবচেয়ে বড় নেতা। তিনি একসময় তৃণমূলে বড় নেতা দেখিয়েছেন। সভাপতির কাছে অভিযোগ করেও কাজ হয়নি বলে দাবি করেন সৌমিত্র। তিনি বলেন,সভাপতিকে বললেও অর্ধেকটা বোঝেন, অর্ধেকটা বোঝেন না। বাংলা বিজেপি যেভাবে চলছে, তাতে ভালো কিছু হবে না। নতুন নেতা এসে দিল্লির নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করেছেন। দলটা একটা জেলার মধ্যে চলে যাচ্ছে। ফেসবুকে এমন অভিযোগের কয়েক ঘণ্টা পর বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত বদলান সৌমিত্র খাঁ। ফেসবুকে তিনি জানান,বিএল সন্তোষজি-র নির্দেশে তাঁর সম্মান রাখতে আমি ইস্তফা প্রত্যাহার করলাম। এছাড়াও অমিত শাহ ও তেজস্বী সূর্যও তাঁকে ভরসা দেওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত বদল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

জুলাই ০৭, ২০২১
দেশ

Local Train: লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতে রেলমন্ত্রীকে চিঠি স্বপন দাশগুপ্তর

রাজ্যে যে কার্যত লকডাউন পরিস্থিতি চলছে তার নিন্দা আগেই করেছে বিজেপি। এ বার রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে লোকাল ট্রেন চালু করার দাবি জানাল গেরুয়া শিবির। দলের রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বৃহস্পতিবারই লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়ে রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়ালকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠি-সহ টুইটও করেছেন স্বপন। লিখেছেন, রাজ্যে এখন যে লকডাউন চলছে তা খামখেয়ালি এবং শৃঙ্খলাহীন। এই দাবির সঙ্গে গয়ালকে চিঠিতে বিজেপি সাংসদ লিখেছেন, বাংলার সাধারণ মানুষের সুবিধা করে দিতে রেলমন্ত্রী হিসেবে এবং ব্যক্তিগতভাবে আপনি আশা করি উদ্যোগী হবেন। আমি বিশ্বাস করি, বাংলার মানুষ আপনার পদক্ষেপের আশায় রয়েছেন।আরও পড়ুনঃ দুয়ারে সরকার,-এর পর এবার পূর্ব বর্ধমানে দুয়ারে পুলিশবিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে গত ৬ মে রাজ্যে করোনা রুখতে কড়া বিধিনিষেধ চালু করা হয়। রাজ্য সরকার সেটাকে লকডাউন না বললেও কার্যত সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়। লোকাল ট্রেন চলাচল সেই থেকেই বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি বিধিনিষেধে রাজ্য সরকার অনেক ছাড় দিলেও এখনও লোকাল ও মেট্রো রেল চালুর অনুমতি দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি তা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী বিক্ষোভও হয়েছে।The terms of the lockdown in W Bengal are whimsical. Buses are allowed but local trains Kolkata Metro are not. Commuters are facing enormous hardship loss of livelihood. I have today requested the Rail Minister to initiate the process of resumption of services. pic.twitter.com/5jQ6LOrb1L Swapan Dasgupta (@swapan55) July 1, 2021বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যে বিধিনিষেধে নতুন ছাড় শুরু হচ্ছে। এই সময় ট্রেল চলাচল স্বাভাবিক না হলেও কিছু ছাড় মিলবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টই জানিয়েছেন, এখন ট্রেন চালালে করোনা সংক্রমণ এক লাফে বেড়ে যাবে। তারই বিরোধিতা করে রেলমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে স্বপন দাবি করেছেন, গত ১৫ দিনে রাজ্যে লকডাউন পরিস্থিতিতে অনেক ছাড় মিলেছে। অফিস, থেকে রেস্তরাঁ, জিম, সেলুন ও পার্লার চালু হয়েছে। লোকাল বাসও চালু হয়েছে। কিন্তু ট্রেন চালু না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যে অল্পসংখ্যক গণপরিবহণ চালু রয়েছে তাতে খুবই ভিড় হচ্ছে। সুতরাং লোকাল ট্রেন চালু হলে যাত্রী সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে।

জুলাই ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Olympic: দীপা'র দীপ জ্বালিয়ে রাখলেন বাসচালক কন্যা প্রণতি

এই মুহূর্তে ভারতের ক্রীড়া আকাশে উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক। দ্বিতীয় ভারতীয় জিমন্যাস্ট হিসাবে প্রণতি নায়েক টোকিও অলিম্পিকে যাচ্ছেন। অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী প্রথম ভারতীয় জিমন্যাস্ট হলেন দীপা কর্মকার। ছোটবেলায় মাসীর বাড়িতে বেড়ে ওঠা প্রনতি তিন বোনের মধ্যে মধ্যমা। বাবা শ্রীমন্ত দূরপাল্লার বেসরকারি বাসের চালক। মাঝে মাঝেই অনেক দূরে বাস নিয়ে যেতে হত তাঁকে। মেয়েদের পড়াশোনার জন্য পিংলাতে তাঁদের মাসীর বাড়িতে দিয়ে আসেন।আরও পড়ুনঃ ২৫ বছর আগের যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিলেন দিলেন স্টারলিং ও হ্যারিকেনচরম আর্থিক অনটনের মধ্যে কেটেছে প্রণতির শৈশব। দুবেলা দু-মুঠো অন্ন যোগান দেওয়া যেখানে দূরহ কাজ, সেখানে জিমন্যাস্টিক বিলাসিতা মাত্র। চাম্পিয়ানরা সর্বদা কঠিন পরিস্থিতিতেই জেগে ওঠেন। তাঁরা স্থান কাল পাত্রের উর্দ্ধে। মহঃ আলি, মারাদোনা, পেলে, বেন জনসন, টাইসন...... উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাবে না সেই সমস্ত তারকাদের নাম। তিন বোনের মধ্যমা প্রণতির চোখে ছিলো অন্য স্বপ্ন। মাটির কুঁড়ে ঘরে বড় হয়ে ওঠা প্রণতির লক্ষ্য ছিল অনেক দূরে নিবদ্ধ। খুব ছোটোতে পিংলা গ্রামেই তাঁর জিমন্যাস্টিকে হাতেখড়ি। সেখানকার এক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শুভাশিষ চক্রবর্তীর হাত ধরেই তাঁর যাত্রা শুরু। জিমন্যাস্টিককে যোগাসন ভেবে অনুশীলন করতে করতে কখন যে তিনি জিমন্যাস্ট হয়ে গেছেন বুঝতেই পারেননি প্রণতি। মেদিনীপুর জেলা চাম্পিয়ান হওয়ার পর রাজ্য স্তরে প্রতিযোগিতার জন্য কলকাতায় আসেন। আরও আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন ছিল নিজেকে পরবর্তি স্তরে উন্নিত করার জন্য। তাই মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর বাবা তাঁকে সাই-এ (Sports Authority of India) নিয়ে আসেন। প্রাথমিক বাছাইপর্বে সাইয়ের নির্বাচকেরা তাঁকে বাতিল করে দেন। কিন্তু ওখানকার এক কর্মী দিলীপ বিশ্বাস রত্ন চিনতে ভুল করেননি। তিনি প্রনতিকে নিয়ে সরাসরি সাই-র ডাইরেক্টরের কছে হাজির হন। ডাইরেক্টর সুস্মিতা-ই কোচ মিনারা বেগমের কাছে পাঠান জিমন্যাস্টিক শিক্ষা লাভ করতে।আরও পড়ুনঃ জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর সাড়ে ২২ বছরের জেলশুরু হয় তাঁর স্বপ্নের ঘষামাজা। কোনও হস্টেল না পেয়ে স্টেডিয়াম সংলগ্ন এক পরিচিতের বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রবল আর্থিক অনটনের মধ্যে চলতে থাকে অনুশীলন। চাম্পিয়ানদের পথ কোনও দিনই সুগম হয় না। কঠিন অনুশীলন শেষে ভাড়া বাড়ি ফিরে ঘর মোছা, বাসন মাজা সহ অনেক কাজই তাঁকে করতে হত। মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তাঁর মা তাঁকে নিয়ে পিংলা ফিরে যাওয়া মনস্থির করেন। বেঁকে বসেন কোচ মিনারা বেগম। তাঁর বাড়ি হয়ে ওঠে প্রণতির পরবর্তী কয়েক বছরের ঠিকানা। জাতীয় মিটে সোনা পাওয়ার পর প্রণতি হস্টেল পান। মাথা গোঁজার জায়গা পেয়ে জিমন্যাস্টে পুরোমাত্রায় মনোনিবেশ করেন।তিনি বলেন মিনারা ম্যাডাম-ই আমাকে আমার বাবা-মায়ের কাছে না থাকার যন্ত্রণা ভুলিয়ে দিয়েছিলেন। দিনে ছয় ঘন্টা অনুশীলন করতে হত ম্যাডামের কাছে। সকালে তিন ঘণ্টা ও বিকেলে তিন ঘণ্টা। প্রথমবার জাতীয় মিটে নেমে সোনা জেতার পর আমি হস্টেল পেয়ে যাই। প্রায় ১৯ বছর হস্টেলে আছি। প্রথম দিকে বাবা-মায়ের জন্য খুবই কষ্ট হতো। এখন জিমন্যাস্টিকই আমার ধ্যান-জ্ঞান। যখনই কোনও দুঃখ-কষ্ট পাই তখনই আরও অনুশীলনের জেদ বেড়ে যায়। সমস্ত মন খারাপ, রাগ, অভিমানকে জিমন্যাস্টিকে আরও ভাল পারফরম্যান্সে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করে যাই। তিনি জানান, কোচ মিনারা তাঁকে ছোট বেলায় শিখিয়েছিলেন, লক্ষ্য সবসময় উঁচু রাখতে। কখনও কেউ লক্ষ্য জিজ্ঞেস করলে অলিম্পিক খেলার কথা বলতে বলেছিলেন। বার বার সে কথা বলতে বলতে ওটাই তাঁর ধ্যান জ্ঞ্যান হয়ে গিয়েছে।আরও পড়ুনঃ ভোটপ্রচারে আসা নাড্ডার হেলিকপ্টার দেখতে যাওয়ার অপরাধে জরিমানাসাই থেকে মিনারা অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে সাইয়ের জিমন্যাস্টিক কোচ লক্ষণ শর্মা। তাঁর কাছে অন্যশীলন করেন প্রণতি। জিমন্যাস্টিক্সে সাফল্যের সুবাদে ভারতীয় রেলে চাকরি পেয়েছেন। পিংলায় নিজেদের বাড়ি ছিল না, মাসির বাড়িতে থাকতেন। চাকরির পয়সা জমিয়ে মেদিনীপুরে জমি কিনে বাড়ি বানিয়েছেন। ২০১৯ তে এশীয় আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সে ব্রোঞ্জ পান প্রণতি। সেখানে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় তখন অলিম্পিকের টিকিট পাননি। করোনা আতিমারির জন্য মে মাসের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বাতিল হওয়ায় এশিয়া কোটায় সুযোগ পেয়ে যান। তবে তাঁকে চিন্তায় রাখছে সঠিক প্রস্তুতির অভাব। লকডাউনে সেভাবে অনুশীলন করতে না পারায় খুবই চিন্তিত প্রণতি। তিনি বলছেন, লকডাউনে প্রায় একমাস বসে ছিলাম। ফিটনেসের ঘাটতি হচ্ছিল। ২ মাস ট্রেনিংয়ের সুযোগ পেয়েছি। আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। অতিরিক্ত চেষ্টা করতে গিয়ে চোট লেগে গেলে সমস্যায় পড়ে যাব। সামনে ২০২২ সালের কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমস আছে। সেটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন প্র্যাক্টিস করতে পারিনি। ছন্দে আসতে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগবে। সেখানে দুমাসে কতটা উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে যেতে পারব সেটা দেখার।আরও পড়ুনঃ মনের ঘরের স্বজনচোট আঘাত জিমন্যাস্টিকদের নিত্য সঙ্গী। বহু জিমন্যাস্টের কেরিয়ার অকালেই শেষ হয়ে গিয়েছে আঘাতের কারণে। প্রণতি-র প্রাক্তন কোচ মিনারা এখনও সময় পেলেই তাঁকে ফোন করে নানা বিষয়ে সাবধান করেন। চোট বাচিয়ে অনুশীলন করার কথা বার বার স্মরণ করিয়ে দেন। অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনের পর সকলের আগে ফোনে শুভেচ্ছা জানায় দীপা কর্মকার। তিনিও প্রণতিকে বলেন নিজেকে বাঁচিয়ে প্র্যাক্টিস করিস। এই মুহূর্তে যেন কোনও চোট আঘাত না লাগে। দীপা কর্মকার, অরুণা রেড্ডির পর প্রণতি-ই তৃতীয় ভারতীয় মহিলা যাঁর আন্তর্জাতিক মিটে পদক আছে। অভিজ্ঞ দীপা মিউজিক নিয়েও তাঁর উত্তরসুরীকে সতর্ক করে দেন। প্রসঙ্গত, মিউজিক ফ্লোর জিমনাস্টিকের খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ অঙ্গ। মিউজিকটির সুরকার, প্রযোজক, গায়ক সব কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, রিও অলিম্পিকে দীপা মিউজিক নিয়ে সমস্যায় পড়েন। সেকারণেই তিনি প্রণতিকে আগে থাকতেই সাবধান করে দেন। দীপা কর্মকারের ট্রাম্প কার্ড ছিল ছিল প্রোদুনোভা ভল্ট। তবে প্রণতি প্রচলিত ফ্রন্ট ও ব্যাক ৩৬০ ডিগ্রি ভল্ট করেন।আরও পড়ুনঃ নির্যাতিতাদের অভিযোগ নথিভুক্ত করল জাতীয় মহিলা কমিশন প্রণতি জানান, বাবার অর্থনৈতিক অনটন ও সংসার চালাতে জেরবার অবস্থা দেখে ক্রমশ মনের ভিতরে একটা জেদ তৈরি হচ্ছিল। যখন অনুশীলণের অবসরে অন্যরা ডায়েট খাবার খাচ্ছে, তখন আমার জন্য মুড়ি। ক্ষিদের জ্বালা থেকে তৈরি হয়েছে নাছোড়বন্দা জেদ। তিনি জানতেন জবাব দেওয়ার একটাই জায়গা পারফরম্যান্স, পারফরম্যান্স-ই শেষ কথা বলে। তিনি নিজের কাছেই শপথ নেন, জিমন্যাস্টিকের মঞ্চে সে নিজেকে প্রমাণ করবেই। তিনি বলেন আমি উপলব্ধি করেছিলাম, জিমন্যাস্টিক ছাড়া সামনে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই। এতেই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। সফল আমাকে হতেই হবে। আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যদের উপর হামলা, রণক্ষেত্র যাদবপুরপ্রণতির স্বপ্ন সফল হওয়ার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে। দীপা কর্মকারের পর তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় জিমন্যাস্ট হিসাবে অলিম্পিকে যোগ্যাতা অর্জন করেছেন। বাংলার প্রথম। টোকিওতে সাফল্যের মন্ত্র নিয়ে লক্ষণ শর্মার তত্বাবধানে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন সল্টলেকের সাই কমপ্লেক্সে।আরও পড়ুনঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে বড় হবে আইল্যাশ, কীভাবে ? জেনে নিনমাটির কুঁড়ে ঘর সঙ্গে অভাবের প্রতিবন্ধকতা সেখান থেকে অলিম্পিকের জিমন্যাস্ট ফ্লোর। ওই আর্থসামাজিক পরিবেশে থাকা কোনও মানুষের কাছে এটা কল্পনা করা আকাশকুসুম স্বপ্নেরই নামান্তর। হাল ছাড়েননি প্রণতি। কয়েকদিন আগে করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ় সম্পূর্ণ হয়েছে প্রণতির। জৈব সুরক্ষা বলয়ের ভিতরেই রয়েছেন। সময় পেলে ঘরের মধ্যেই টিভিতে সিনেমা দেখেন, গান শোনেন আর মেডিটেশন করে মনের জোর বাড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, অলিম্পিক্সে নিজের সেরাটা দেব। তারপর ফলাফল যা হওয়ার হবে।জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জুন ৩০, ২০২১
রাজ্য

Fake Vaccination: রাজ্যে সরকারি অনুমতি ছাড়া করোনা টিকার ক্যাম্প নয়

কসবায় ধৃত দেবাঞ্জন দেবের কাণ্ড কারখানা রীতিমতো হতবাক করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের। মানুষের জীবন নিয়ে যে কেউ এমন ছেলেখেলা করতেও পারেন, এটাই কার্যত কল্পনাতীত ছিল সকলের। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যজুড়ে টিকাকরণের জন্য এ বার নতুন এবং অনেকাংশে কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে নয়া নির্দেশ জারি করে সমস্ত সমস্ত জেলাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারের অনুমতি ব্যতীত কোনও টিকাকরণ ক্যাম্পের আয়োজন করা যাবে না।আরও পড়ুনঃ ভ্যাকসিন কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ দিলীপেরস্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে শনিবার একটি ৭ পাতার নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেই নির্দেশিকার প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য ভবনের অনুমতি ছাড়া কোনও টিকাদান শিবিরে আয়োজন করা যাবে না। কসবা কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি যাতে কোনওভাবেই এ রাজ্যে না ঘটে, বস্তুত তা নিশ্চিত করতে চাওয়া হয়েছে এই নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে। বেসরকারিভাবে যদি কোনও সংস্থা ভ্যাকসিন ক্যাম্প করতে চায়, তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে নিযুক্ত নোডাল অফিসারের কাছে স্পষ্ট করতে হবে কী ধরনের চুক্তির মাধ্যমে এই ক্যাম্প করা হচ্ছে। জেলার ক্ষেত্রে তা জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানাতে হবে।কসবা কাণ্ডে পুলিশের নাকের ডগায় ভুয়ো ক্যাম্প চললেও পুলিশ তা জানতে পারেনি। কারণ, রক্তদান শিবির বা এহেন জনস্বাস্থ্য কল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য পুলিশি অনুমতি লাগে না। এ বার টিকাকরণ শিবির করতে গেলে পুলিশের অনুমতিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই নতুন নির্দেশিকায়। ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য কোনও টাকা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটাও উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে কোভিড টিকা কোথা থেকে এল তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে এই ক্যাম্পকে। পাশাপাশি প্রতিটি টিকা যাতে কো-উইন পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে।

জুন ২৬, ২০২১
দেশ

Corona-Tax: করোনা চিকিৎসায় অর্থসাহায্যের ক্ষেত্রে আয়কর ছাড়

কোভিড (COVID-19) চিকিৎসার সাহায্যের ক্ষেত্রে আয়কর ছাড় নিয়ে বড় ঘোষণা কেন্দ্রের। মহামারিকালে কোনও সংস্থার কর্মীকে চিকিৎসার জন্য যে পরিমাণ অর্থ দিয়ে সাহায্য করবে, ঠিক সেই পরিমাণ আয়কর (Income Tax) ছাড় মিলবে। করোনায় নিহত কর্মীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ক্ষেত্রেও একই ছাড় মিলবে। শুক্রবার আয়কর কাঠামো সংশোধনের পর জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর (Anurag Thakur)। এই খবরে স্বভাবতই খুশির হাওয়া বিভিন্ন মহলে।আরও পড়ুনঃ টিকা বিতর্কে ভাঙা হল রবীন্দ্রনাথের মূর্তি থেকে দেবাঞ্জনের নামের ফলক শুক্রবার করদাতাদের স্বস্তি দিতে আরও বেশ কয়েকটি বড় ঘোষণা করেছে কেন্দ্রের আয়কর বিভাগ। তাতে বলা হয়েছে, সরাসরি যারা কর দেন, তাদের জন্য তৈরি প্রকল্প বিবাদ সে বিশ্বাস-এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অগস্টের ৩১ তারিখ পর্যন্ত এই স্কিমে ট্যাক্স জমা দেওয়া যাবে। করদাতারা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিজেদের কর জমা দিতে পারবেন। কোনও অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না।তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তি মিলেছে কোভিডে অর্থসাহায্যের ক্ষেত্রে। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে অনুরাগ ঠাকুর জানিয়েছেন, ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবর্ষে কোভিড তহবিলে টাকা দান করলে, সেই পরিমাণ অর্থ করের আওতার বাইরে। সংকটের মধ্যে কোনও সংস্থা যদি তাদের কর্মীদের চিকিৎসার (Corona Treatment) খরচ বহন করে কিংবা এককালীন টাকা দিয়ে থাকে, তবে সেই টাকায় করছাড় দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অঙ্কের করছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই টাকা এক্সগ্রাশিয়া বাবদ দান করতে পারে সংস্থা। মহামারি সংকটের মাঝে করকাঠামো নিয়ে কেন্দ্রের এই ঘোষণায় স্বস্তিতে বহু করদাতা। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে কেন্দ্রকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা সকলেই।

জুন ২৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ICC WTC: হেরেও আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন বিরাট

আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শুরু থেকে প্রাধান্য রেখে ভারতকে হারিয়ে চাম্পিয়ান হল কেন উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ড। ম্যাচে শেষে তিনি বলেন, এটা একেবারে আলাদা অনুভূতি। ধন্যবাদ বিরাট সহ ভারতীয় দলকে। ভারতও দারুন ক্রিকেট খেলেছে এই ম্যাচে। দারুন একটা টেস্ট ম্যাচ আমরা খেললাম।টেস্ট চম্পিয়ানশিপ ফাইনালের নির্ধারিত অতিরিক্ত দিনের (ষষ্ট) রোদ ঝলমলে আলোকজ্জ্বল আকাশ বলে দিলো ম্যাচটা কতটা আকর্ষনীয় হতে চলেছে। নির্ধারিত সময়েই খেলা শুরু হল।১৯৭৯ তে কানপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ভারত শেষ ছয় দিনের টেস্ট ম্যাচ খেলে। ম্যচটি অমিমাংসিত ভাবে শেষ হয়। যদিও সেই ম্যাচের ব্যাটসম্যানদের মত ধৈর্য দেখাতে আজ ব্যার্থ ভারতীয় দল। সকালেই টুইট করে সচিন সাবধান করে দেন, তিনি টুইটে লেখেন সকালের প্রথম ১০ ওভার খুব কঠিন এবং প্রথম সেশনই বলে দেবে ম্যচ কোন দিকে গড়াবে। First 10 overs today will be critical the 1st session will decide in which direction the match will head.India will have to plan the day backwards with the match run-rate hovering around 2.3 rpo, we will see some different use of tactics by both sides today.#WTC21 #INDvNZ Sachin Tendulkar (@sachin_rt) June 23, 2021জেমিসন এই টেস্টে দুই ইনিংসেই বিরাট কে আউট করলেন। বিরাট ফিরে যেতেই নিউজিল্যান্ড ম্যচে ফিরে আসে। তাঁর ব্যাটিং গড় দেখলে বোঝা যায় দ্বিতীয় ইনিংসে কতটা ভয়ঙ্কর কোহলি, এই ম্যাচে ভারত তাঁর দিকেই তাকিয়ে ছিলো। মাত্র ১৩ রান করে জেমিসনের বলে শরীরের অনেক দূর থেকে খেলতে গিয়ে ওয়াটলিংয়ের হাতে ধরা দিলেন। এটাই ওয়াটলিংয়ের টেস্ট কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ। এখানে উল্লেখ্য, খেলার মধ্যে আঙ্গুলে চোট পেয়েও তিনি খেলা চালিয়ে যান। এর থেকে বোঝা যায় ম্যাচটা জেতার জন্য তাঁরা কতটা মরীয়া ছিলেন।এই রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ খেলায় বিরাটের দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন শর্ট খেলে ফিরে যাওয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমলোচনার ঝড় উঠেছে। বিরাটের ফিরে যাওয়ার কিছু পরেই জেমিসনের বলে ১৫ রানে ফিরে গেলেন পূজারা, ৭২ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে বেকায়দায় পরে ভারত। ঋষভ পন্থ কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন শেষ রক্ষা হয়নি। Kane Williamson and his champion side ✨#WTC21 Final | #INDvNZ pic.twitter.com/5aM6mZNxaj ICC (@ICC) June 23, 2021সাউদি (৪ উইকেট) ও বোল্টের (৩ উইকেট) দাপটে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে ভারতের বহুচর্চিত মিডিলঅর্ডার। ১৭০ রানে অলআউট হয়ে যায় তাঁরা, ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন পন্থ। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডকে নির্ধারিত ৫৩ ওভারে ১৩৯ রান করতে হবে।লাথাম ও কনওয়ের উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে ৫২ রানে অপরাজিত থেকে যান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তাঁকে যোগ্য সহায়তা করেন বর্ষীয়ান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রস টেলর। তিনি ৪৭ রান করেন অপরাজিত থাকেন।গতকালের ভরতের প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকারের আশঙ্কায় সঠিক হল। আজ তিনি বলেন শেষ দিনে পিচে কোনও জুজু ছিল না। রোদ ছিল, সুইংও সেরকম ভাবে লক্ষ করা যাইনি। সব কিছু দেখে প্রচন্ড হতাশ সুনীল সহ প্রাক্তন ক্রিকেটার।ম্যাচ রিপোর্টঃ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জুন ২৪, ২০২১
কলকাতা

Nandigram Case: নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি শেষ, রায়দান স্থগিত

নন্দীগ্রাম মামলা অন্যত্র সরানো হবে কি না, তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta HC) শুনানি শেষে আজ রায়দান হল না। বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ থেকে মামলা অন্যত্র সরানোর আর্জি সংক্রান্ত আবেদনের শুনানির কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। এদিনের মতো রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি।আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ১৭ জুলাই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা এই মুহূর্তে দুটি মামলার শুনানি চলছে। প্রথমত, মামলাটি অন্য বিচারপতির বেঞ্চে স্থানান্তরের। দ্বিতীয়, নন্দীগ্রামের ভোট ফলাফলের পুনর্গণনার। তবে বৃহস্পতিবার প্রথম মামলার শুনানিই হয়েছে। দ্বিতীয় বিষয়টি ধরা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় মামলাকারীকে হাজির থাকতে হয়। তাই বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ভার্চুয়ালি এজলাসে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে সওয়াল করেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। সূত্রের খবর, তিনি শুরুতেই বিচারপতির কাছে মামলা স্থানান্তরের আবেদনের পক্ষে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর তরফে একাধিকবার আবেদন করা সত্ত্বেও কেন মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না বিচারপতি কৌশিক চন্দ। তাতে বিচারপতি জানান, এই মামলা শুনতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।

জুন ২৪, ২০২১
দেশ

Lord Jagannath: ভক্তদের অনুপস্থিতিতে শুরু জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা

গতবছর করোনার (Corona Pandemic) প্রথম ঢেউয়ের কারণে ইতিহাসে প্রথমবার ভক্তদের ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল পুরীর (Puri) জগন্নাথ দেবের (Lord Jagannath) স্নানযাত্রা। বছর ঘুরতেও ছবিটা বদলাল না। দেশজুড়ে টিকাকরণ শুরু হলেও আছড়ে পড়েছে মারণ ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। আর তাই রথযাত্রার আগে রীতি মেনে এবারেও জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার আয়োজন করা হলেও, তাতে থাকছেন না কোনও ভক্ত। এমনকী, রাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠ কর্মচারী কোভিডে আক্রান্ত হওয়ায় থাকবেন না পুরীর গজপতি রাজা দিব্যসিংহ দেবও। যদিও প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নেই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রীতি মেনে সমস্ত কিছুর আয়োজন শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, স্নানযাত্রায় অনূর্ধ্ব ৫০০ জন সেবায়েত কোভিড-পরীক্ষা করিয়ে আচার সম্পন্ন করার অনুমতি পেয়েছেন।আরও পড়ুনঃ রাজ্যে দ্রুত উপনির্বাচনের আর্জি মুখ্যমন্ত্রীরকথিত আছে, জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভু মনুর যজ্ঞের প্রভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন প্রভু জগন্নাথ। তারপর এই পূণ্যতিথিটিকে জগন্নাথদেবের জন্মদিন হিসেবে পালন করার নির্দেশ দেন মনু। সেই জন্মদিন উপলক্ষে পৌরাণিক কাল থেকে এই বিশেষ স্নান উৎসব পালিত হয়ে আসছে আজও। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম পূর্ণিমাতেই জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার আয়োজন করা হয়। এদিন গর্ভগৃহ থেকে মূর্তি তুলে এনে স্নান মণ্ডপে স্থাপন করা হয়। সেখানেই সুগন্ধি জল দিয়ে স্নান করানো হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে। স্নানের পাশাপাশি চলে মূর্তির সাজসজ্জা-অলঙ্করণ ইত্যাদি। ১০৮ ঘড়া জলে স্নানের পরেই জ্বরে কাবু হয়ে পড়েন জগন্নাথদেব। তাই এইসময় গৃহবন্দি অবস্থায় থাকেন। রথ পর্যন্ত বিশ্রাম নেন। তাই ভক্তরা জগন্নাথ দেবের দর্শন পান না। এই কয়েকদিন পুজোও হয় না তাঁর। রীতিমত কম্বল চাপা দিয়ে পড়ে থাকেন জগতের নাথ। তবে রথযাত্রার দিন রাজবেশে রথে করে তিনি যাবেন মাসির বাড়িতে। এ বার তা সম্পন্ন হবে ১২ জুলাই।তবে তার আগে এই স্নান যাত্রার আয়োজনে কোথাও কোনও খামতি রাখেনি মন্দির প্রশাসন। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। মন্দির চত্বরে যেমন কোনও ভক্ত প্রবেশ করতে পারবেন না, তেমনই জগন্নাথ দেবের স্নান দেখতেও কেউ উপস্থিত থাকতে পারবেন না। যদিও, জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা গোটা বিশ্বে লাইভ স্ট্রিম করা হবে বলে জানিয়েছে পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, রাজা দিব্যসিংহ দেবের অনুপস্থিতিতে তাঁরই এক প্রতিনিধি হিসেবে নির্দিষ্ট রীতি পালন করে সোনার ঝাড়ু দিয়ে স্নানবেদী পরিষ্কার করবেন বলেই খবর। কারণ কোভিডবিধি মেনে আপাতত নিভৃতাবাসে রয়েছেন রাজা দিব্যসিংহ দেব। এদিকে, ১৪৭৫টি আইসক্রিমের কাঠি দিয়ে জগন্নাথ দেবের মূর্তি বানিয়ে তাক লাগালেন ওডিশার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ নায়েক। তাঁর কীর্তি দেখে অবাক নেটিজেনরাও।

জুন ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ICC WTC: ম্যাচে ফেরালেন শামি

বৃষ্টি বিঘ্নিত টেস্ট ফাইনাল পঞ্চম দিনের খেলা শুরুতেও বিলম্ব। চতুর্থ দিনের শেষে ২ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে অপরাজিত ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসন ও রস টেলর বেশী দূর টানতে পারলেন না। শুরু থেকেই শামি-বুমরা-ইশান্ত ত্রয়ী আগুনে পেস বোলিং করছিলেন। উইকেট পড়া শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। অবশেষে শামির ফুল লেংথ বলে শরীর না নিয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে শুভমান গিলের হাতে ধরা দিলেন টেলর। শর্ট কভারে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ গিলের। কয়েক ওভার পর এবার আঘাত হানেন ইশান্ত। দ্বিতীয় স্লিপে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন হেনরি নিকোলস। দলের রান তখন ১৩৪ / ৪ উইকেটে। ভারত দারুন ভাবে ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টায়। শামি আবার আঘাত হানে, ওয়াটলিংয়ের উইকেট নড়িয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ড শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। ১৩৫/৫ এ মধ্যাহ্নেভোজে যায় নিউজিল্যান্ড।নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক গ্র্যান্ডহোমকে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসার আপ্রান চেষ্টা করছিলেন। জুটি খুব বেশীক্ষণ স্থায়ী হল না। শামির আগুনে পেস বোলিংয়ের বলের লাইন ভুল করে এলবি ডাব্লিউ হলেন গ্র্যান্ডহোম। ষষ্ঠ উইকেটের পতন দলের। আগের বলে ছক্কা মারার পরের বলেই শামি জেমিসনকে স্বাগত জানান বাউন্সার দিয়ে। সোজা বুমরার হাতে বল যেতেই সপ্তম উইকেটের পতন। নিউজিল্যান্ডের রান তখন ১৯২। ভারতের প্রথম ইনিংসের রান অতিক্রম করার পরই ফিরে গেলেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন। অর্ধশতরান থেকে মাত্র ১ রান দূরে থেমে যান। ইশান্তের অফ ষ্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল থার্ডম্যান অঞ্চলে পাঠাতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে বিরাটের হাতে ধরা পরেন। ২২১ রানে অষ্টম উইকেটের পতন।দীর্ঘ সময় পেস আক্রমণের পর বিরাট অশ্বিনকে আক্রমণে নিয়ে আসেন। নিউজিল্যান্ডের রান যখন ২৩৬, অশ্বিনের হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বল ওয়াগনার সামলাতে না পেরে স্লিপে রাহাণের হাতে ক্যাচ দিয়ে দেন। দক্ষতার সাথে রাহাণে বল তালুবন্দী করেন। নবম উইকেটের পতন।নিজিল্যান্ডের দশম উইকেট দখল করলেন জাদেজা। একটু জোরের ওপর বলটা ছেড়েছিলেন জাদেজা, একটু দেরিতে থার্ডম্যানে খেলতে চেয়েছিলেন সাউদি। ব্যাটের নাগাল এড়িয়ে বল লাগে সোজা উইকেটে। সাথে সাথে নিজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। প্রথম ইনিংসে নিজিল্যান্ড ২৪৯ রান করে, তারা ভারতের থেকে এই মুহুর্তে ৩২ রানে এগিয়ে। সময় যদিও খুব বেশী বাকি নেই। এই সামান্য লিড কতটা কাজে লাগে সেটাই দেখার।আরও পড়ুনঃ জেমিসনের বলের দাপটে দিশেহারা ভারতভারতের দুই প্রারম্ভিক ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল ভালো শুরু করলেও খুব বেশীক্ষণ এই জুটি টানতে পারলো না। দলের ২৪ রানে অন সাইডে ফ্লিক করতে গিয়ে সাউদির বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরলেন। সাউদি আবার আঘাত হানেন, এবার রোহিত ১৯ রানে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরে যান ভারতের রান যখন ৫১। অধিনায়ক বিরাট পুজারাকে নিয়ে অপরাজিত থেকে নির্ধারিত পঞ্চম দিনের খেলা শেষ করলেন। ভারতের রান ৬৪। Stumps in Southampton 🏏India finish the day on 64/2, with a lead of 32! Tim Southee claimed the wickets of the openers.#WTC21 Final | #INDvNZ | https://t.co/nz8WJ8wKfC pic.twitter.com/qlKrCVGAJn ICC (@ICC) June 22, 2021আবহাওয়া ঠিক থাকলে অতিরিক্ত দিন খেলা হলেও ফলাফলের সম্ভবনা খুব কম বলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের ধারনা। ষষ্ঠ দিন আলোকজ্জ্বল থাকবে এবং সুর্যের দেখা মিলতে পারে বলে আবহাওয়ার পুর্বাভাসে জানা যাচ্ছে।দুই দলই তাঁদের সর্বস্ব দিয়ে জেতার জন্য ঝাঁপাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ম্যাচ রিপোর্টঃ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জুন ২৩, ২০২১
রাজনীতি

BJP on Delimitation: সৌমিত্রকে জরুরি তলব দিল্লিতে

বিকেলেই কিছুটা রুষ্ট সুরে শাসানি দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। রাত হতে না হতেই সৌমিত্র খাঁ-কে ডেকে পাঠালেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। রাঢ়বঙ্গকে পৃথক রাজ্য দেখতে চাওয়ার দাবি করে এ বার দলীয় নেতৃত্বের রোষানলের মুখে পড়তে হতে পারে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কে। ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ। যদিও লক্ষ্যণীয় বিষয়টি হল, শুধুমাত্র সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কেই দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লাকে ডেকে পাঠানো হয়নি।আরও পড়ুনঃ করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সতর্কতা জারি, এবার নিস্তার নেই শিশুদেরও , বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাসৌমিত্রর উপর যে কোপ নেমে আসবে তার ইঙ্গিত অবশ্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই মিলেছিল। মঙ্গলবার সকালে রাজ্য বিজেপির মিডিয়া সেলের একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে দিলীপ ঘোষ নিজেও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত সকলে সৌমিত্রর বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁর মন্তব্যের যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে, তা জানানো হয় বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে। এরপরই বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দিলীপ আবারও জানিয়ে দেন, বিজেপি এই দাবিকে সমর্থন করে না। দিলীপ বলেন, দলে থাকতে গেলে দলের সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করতে হবে।এরপরই কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হন সৌমিত্র। রাঢ়বঙ্গকে আলাদা রাজ্য করার দাবি তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বলে এ দিন তিনি জানান। সৌমিত্র জানিয়েছেন, এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব সতর্ক করেন জন বার্লা ও সৌমিত্র খাঁ-কে। দিলীপ জানান, দল দুই সাংসদের সঙ্গে কথা বলবে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা বিতর্কের রেশ অবশ্য বাংলার রাজনৈতিক গণ্ডিতেই আটকে ছিল। তবে এ বার তার রেশ দিল্লিতেও ধাক্কা মারল। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই বিতর্ক নিয়ে দিল্লির নেতারা মুখে কুলুপ এঁটেই ছিলেন। কিন্তু, এ বার নাড্ডার তলব স্পষ্টত বুঝিয়ে দিচ্ছে, সৌমিত্র খাঁ-র মন্তব্যকে ভাল চোখে দেখছে না দল।

জুন ২২, ২০২১
কলকাতা

আজ থেকে খুলল কালীঘাট মন্দির

রাজ্যের করোনা (Coronavirus) পরিস্থিতির একটু উন্নতি হতেই বিভিন্ন মন্দির খুলছে ভক্তদের জন্য। মঙ্গলবার থেকে খুলে গেল কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Temple) দুয়ার। সকাল ৬টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মন্দির। এই সময়ের মধ্যে ভক্তরা পুজোর ডালা নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। পুজো দেওয়ায় কোনও বাধা নেই। তবে যথাযথ কোভিড বিধি মেনেই হবে মা কালীর আরাধনা। মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ। শারীরিক দূরত্ব মেনে পুজোর লাইনে দাঁড়াতে হবে। এমনই বেশ কয়েকটি নিয়ম মেনে তবেই ভক্তদের জন্য মন্দির খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে বেশ খুশি দর্শনার্থীরা। অনেকদিন পর পুজো দেওয়ার সুযোগ পেয়ে এদিন সকালেই ভক্তরা ভিড় করেন মন্দির চত্বরে।আরও পড়ুনঃ এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মুখ্যমন্ত্রীকরোনা আবহে রাজ্যে মে মাসের ৫ তারিখ থেকে কড়া বিধিনিষেধ লাগু হওয়ার পরপরই প্রসিদ্ধ মন্দিরগুলি একে একে বন্ধ হতে থাকে। তার আগে ভক্তদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল বেশ কয়েকটি মন্দিরে। সংক্রমণ এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেয় বিভিন্ন মন্দির কর্তৃপক্ষ। তবে মাস দুই পর রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি একটু নিয়ন্ত্রণে এলে ফের কোভিড (COVID-19) বিধি মেনে মন্দির খুলতে থাকে। তারকেশ্বর এবং তারাপীঠের মন্দির খোলা হয়েছিল গত সপ্তাহেই। চলতি সপ্তাহে আবার তারকেশ্বরের মন্দিরে ভক্তদের প্রবেশের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। জানানো হয়, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুদফায় মন্দিরে ঢুকতে পারবেন ভক্তরা। গর্ভগৃহে প্রবেশেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জুন ২২, ২০২১
রাজ্য

Soumitra Khan: উত্তরবঙ্গের পর পৃথক রাজ্যের দাবি সৌমিত্রেরও

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত উত্তরবঙ্গ। স্রেফ এই অভিযোগ তুলেই উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য কিংবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি তুলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি (BJP) সাংসদ জন বার্লা। তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। দলের কেউ কেউ তাঁকে সমর্থন করেছেন, কেউ আবার বিরোধিতা। এসবের মাঝেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ তথা যুব মোর্চা সভাপতি সৌমিত্র খাঁ (Soumitra Khan)। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে যোগাভ্যাসের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনুন্নয়ন নিয়ে বার্লার দাবিকে সমর্থন জানালেন তিনি। বললেন, রাঢ়বঙ্গও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এখানকার কোনও যুবকের চাকরি হয় না। এখানকার সম্পদ নিয়ে যাওয়া হয় অন্যত্র। কিন্তু উন্নয়নের লেশমাত্র নেই। এখন পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম নিয়ে পৃথক রাজ্যের দাবি উঠতেই পারে।আরও পড়ুনঃ দিলীপের নিশানায় রাজ্য সরকারবঙ্গভঙ্গ চাইছে বিজেপি। জন বার্লার দাবির পর থেকে এই অভিযোগে সরব শাসকদল তৃণমূল (TMC)। দলের নেতারা এর বিরোধিতায় তীব্র সমালোচনায় মুখর। এই অবস্থায় সৌমিত্র খাঁর দাবি ঘিরে আরেকপ্রস্ত বিতর্কের অবকাশ তৈরি হল। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে বলব, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বহিরাগত শব্দটি এনেছেন, তাতে এই দাবি উঠবেই। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ২৩ জন মন্ত্রী রয়েছেন। আমাদের এলাকার মানুষ বঞ্চিত। রাঢ়বঙ্গের যুবকদের চাকরি নেই। আমাদের এলাকার সম্পত্তি রাজ্যের কোষাগারে যাচ্ছে। আমরা কিছু পাচ্ছি না। আগামী দিনে রাঢ়বঙ্গ থেকেও পৃথক রাজ্যের দাবি উঠবে। অর্থাৎ যে কোনও বঞ্চনার শিকার হলেই পৃথক রাজ্যের দাবি ওঠাকে যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে করেন সৌমিত্র খাঁ। জন বার্লার পর সৌমিত্র খাঁ। প্রায় একইসুরে অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলে পৃথক রাজ্যের দাবিতে বিজেপির একের পর এক নেতার বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

জুন ২১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ICC WTC: জেমিসনের বলের দাপটে দিশেহারা ভারত

ভারতের প্রথম ইনিংসের ২১৭ রানের জবাবে এখনও অবধি নিউজিল্যান্ড চোখে চোখ রেখে জবাব দিচ্ছে। তৃতীয় দিনের খেলা সমাপ্তিতে তাঁদের রান ১০১/২ উইকেটে। ক্রিজে আছেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন ও টেলর।লাথাম ও কনওয়ে প্রথম উইকেটের জুরিতে ৭০ রান জগ করেন। তাঁদের ব্যাটিং এর সামনে ভারতীয় বলারদের দৃশ্যতই দিশেহারা লাগছিল। ভারতীয় জোরে বোলাররা পিচ থেকে সেরকম ফায়দা তুলতে পারছিলেন না, বিরাট অশ্বিনকে বল তুলে দেন। ৭০ রানে অশ্বিনের বলে শর্ট মিড অফে বিরাট কে ক্যাচ দিয়ে লাথামকে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম উইকেট পতন হয়।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিশতরান করার পরেই কনওয়ে ফাইনালে প্রথম অর্ধশতরান করলেন। ব্যক্তিগত ৫৪ রান করে ইশান্ত শর্মার বলে অন ড্রাইভ করতে গিয়ে শামির হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। এর আগে বৃষ্টি ভেজা সাদাম্পটনে খেলা নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুক্ষন পর শুরু হল। এই নিয়ে টানা তিনদিন বৃষ্টির জন্য খেলা বিঘ্নিত হল। এইরকম চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলায় বৃষ্টি বারবার তাল কেটে দিলে খেলার ছন্দে ফিরতে খেলোয়াড়দের খুব সমস্যা হয়। শুরুতেই বিপর্যয়! জেমিসনের বলে ভারতের ১৪৯ রানের মাথায় এলবিডব্লিউ হলেন বিরাট। জেমিসনের দ্রুতগতির ইনসুইং বল ব্যাটের নাগাল এড়িয়ে উইকেটের সামনে সোজা প্যাডের ওপর আছরে পড়ে। আম্পায়ার আউট দিলেও বিরাট রিভিউ নেয়। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। আগেরদিনের সাথে কোনও রান যোগ না করে ফিরে যান বিরাট। অধিনায়কের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত।পন্থকে সাথে নিয়ে দলের ১৫০রান পুর্ণ করেন আজিঙ্কা। ভারতীয় যখন একটু সস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিল ঠিক তখনই ১৫৬ রানে আবার উইকেট পতন, জেমিসনের বলে ফিরে গেলেন পন্থ। অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল দায়িত্বঞ্জ্যানহীন শট খেলে দ্বিতীয় স্লিপে লাথাম কে ক্যাচ দিয়ে ৪ রানে আউট হয়ে ফিরে যান। আজিঙ্কা রাহানে তাঁর ব্যক্তিগত অর্ধশতরান পূর্ণ করার আগেই ৪৯ রানে ফিরে গেলেন, ওয়াগনার বল শুরু করার আগে কেন উইলিয়ামসন ফিল্ডিংয়ে একটা ছোট্ট পরিবর্তন করলেন, লাথামকে স্কোয়ার লেগে নিয়ে এলেন আর ওয়াগনার শর্ট বল করতে থাকলেন। আজিঙ্কা পুল করতে গিয়ে লাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে দিলেন। ভারতের শেষ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নে গেলেন ১৮২ রানের দলের মাথায়। দলের ষষ্ঠ উইকেটের পতন হল। অশ্বিন ও জাদেজা ভারতকে ২০০ রানের গণ্ডী পার করেন। দুজনে মিলে স্কোর বোর্ড চালু রেখে খেলছিলেন। ভারতের ২০৫ রানে অশ্বিন সাউদির অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে লাইনে পা না নিয়ে গিয়ে ড্রাইভ খেলে আবার লাথামের হাতে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ আউট। ভারত মধ্যাহ্নভোজনের বিরতিতে ২১১/৭। মাত্র দু-রান যোগ করেই ইশান্ত শর্মা আউট। জেমিসনের বলে স্লিপে টেলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান। যসপ্রীত বুমরাকে ফিরিয়ে দিয়ে জেমিসন ইনংসে পঞ্চম উইকেট দখল করেন।বোল্টের অন সাইডের একটি বল ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক ওয়াটকিং-র তালু বন্দি হয়ে ফিরে যান জাদেজা। এর সঙ্গেই ভারতের ইনংসের পরিস্মাপ্তি ঘটে ২১৭ রানে। গতকাল ম্যাচ শেষে প্রেশ বিঞ্জপ্তিতে বিরাট জানান ২৫০ রান করতে পারলে এই পিচে লড়াই করা যাবে। টিম ইন্ডিয়া কে তাঁর অনেক আগেই থেমে যেতে হল। ম্যাচ রিপোর্টঃ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়আরও পড়ুনঃ প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ক্রিজে বিরাট-আজিঙ্কা, মন্দ আলোয় সমাপ্ত দ্বিতীয় দিনের খেলা

জুন ২০, ২০২১
বিনোদুনিয়া

কাঞ্চনের বিরুদ্ধে এফআইআর স্ত্রী পিঙ্কির

কাঞ্চন-পিঙ্কির দাম্পত্য জীবন নিয়ে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। এ বার সরাসরি অভিনেতা তথা সদ্য বিজয়ী তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের বিরুদ্ধে নিউ আলিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তাঁর স্ত্রী পিঙ্কি। কাঞ্চনের বান্ধবী তথা অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। পিঙ্কির অভিযোগ, তাঁকে মানসিক নির্যাতন করেছেন কাঞ্চন। মত্ত অবস্থায় গালিগালাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, নিজের বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে কাঞ্চন গাড়ি থেকে তাঁকে নামিয়ে হেনস্থা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন পিঙ্কি।সংবাদমাধ্যমে পিঙ্কি জানিয়েছেন, শনিবার রাতে তাঁর নিউ আলিপুরের বাড়িতে হাজির হন কাঞ্চন। সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে তাঁকে না পেয়ে চেতলা থেকে ফেরার সময় তাঁর গাড়ি আটকান কাঞ্চন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী শ্রীময়ীও। দুজনে মিলে তাঁকে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। গাড়ি থেকে তাঁকে টেনে নামানোর চেষ্টা হয়। শ্রীময়ীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে পিঙ্কি কেন সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলছেন, তা নিয়ে তাঁকে চেপে ধরেন কাঞ্চন। অন্যদিকে, শ্রীময়ী বলেন, কার লেজে পা দিয়েছো জানো না।শ্রীময়ীর সঙ্গে কাঞ্চনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই গুঞ্জন টলিপাড়ায়। এর আগে যদিও তাতে কর্ণপাত করতে চাননি পিঙ্কি। তবে রবিবার কাঞ্চনের পাশাপাশি শ্রীময়ীর নামেও পিঙ্কি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে সূত্রের খবর। পিঙ্কির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন কাঞ্চন। শনিবার মত্ত অবস্থায় তাঁকে গালিগালাজও করেন।কাঞ্চনের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন এর আগে উড়িয়ে দিয়েছিলেন শ্রীময়ী। পিঙ্কি কেন তাঁর নামে অভিযোগ করলেন, তা নিয়ে রবিবার বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুখ খোলেননি তিনি। এ নিয়ে কাঞ্চনও কোনও বিবৃতি দেননি।

জুন ২০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

টেস্ট চাম্পিয়ান্সিপ ফাইনালের ডিউক বলের মালিক এক ভারতীয়

ভারত ও নিউজিল্যান্ডের যে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হচ্ছে। ভারত ম্যাচের বেশ কয়েকদিন আগে সাউদাম্পটনে পৌছে গেছিলো। নিউজিল্যান্ড বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের সাথে সিরিজ খেলে ফাইনালের মাঠে আসে। দুই দলের প্রথম একাদশ, পিচ ও আবহাওয়া অনেক কিছুই নিয়ে জনমানষে কৌতুহলের শেষ ছিল না, দিস্তার পর দিস্তা সেসব নিয়ে লেখা চলেছে। হটাৎ করেই সেই আলোচনা তে ডিউক বলের নাম চলে আসে। আইসিসি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ডিউক বলে খেলা হবে। আমরা এর আগে এসজি ও কোকাবুরা বলের নাম জেনেছি। ক্রিকেট বিশ্বে সাধারণত তিন ধরনের বলে প্রথমশ্রেণী ও আন্তঃর্জাতীক খেলাগুলি হয়। যথাক্রমে এসজি, কোকাবুরা ও ডিউক। এসজি বল ভারতে তৈরি হয়। এর ওপরিভাগে ৬টি সেলাই থাকে, পুরোটাই হাতে সেলাই করা হয়। ভারতে রঞ্জিট্রফি সহ প্রথমশ্রেণীর সমস্ত খেলা ও টেস্ট এবং একদিবশীয় ম্যাচ এসজি বলে হয়। বলটি খুব তাড়াতাড়ি নরম হয়ে পড়ে,পালিশ ও খুব শীঘ্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে স্পিন বোলাররা এই বল খুব পছন্দ করে। কোকাবুরা অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি হয়। মাঝের দুটি লাইন হাতে সেলাই করা হয়। বাইরের দিকের দুটি করে চারটি লাইন মেসিনে সেলাই করা হয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়া সহ নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণআফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবোয়ে এই বল ব্যবহার করে। মাঝের দুটি সিম/সেলাই হাতে করার জন্য প্রথম দিকে জোরে বোলারদের বল নিয়ন্ত্রন করতে সমস্যা হয়। এই বল রিভার্স সুইংইয়ের পক্ষে খুব আদর্শ। ডিউক বল সম্পুর্ণ হতে সেলাই করা। মোট ছটি লাইন সেলাই থাকে, হাতে সেলাইয়ের জন্য সিম-টা বলের উপরিভাগের থেকে একটু উঠে থাকে সেই কারনে প্রথম ওভার থেকেই বল দুই দিকেই (ইন সুইং, আউট সুইং) যথেচ্ছ মুভ করতে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে বোলাররা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বলের রং সাধারণত অন্য বলের থেকে গাড় লাল হয়ে থাকে। বলটি তৈরি হয় ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্টইন্ডিজে এই বলে খেলা হয়ে থাকে।এখানে উল্লেখ্য আইসিসি টেস্ট চাম্পিয়ান্সিপের ফাইনালে যে বলে খেলা হবে সেই ডিউস ক্রিকেট বলের প্রস্তুতকারী সংস্থা ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেডের মালিক এক ভারতীয়। এই ভারতীয় ব্যবসায়ীর নাম দিলীপ জাজোদিয়া। তিনি সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে চূড়ান্ত ফাইনালের যে বলে খেলা হবে সেই বলটি দেখিয়েছিলেন। দেখিয়ে তিনি বলেছিলেন তাঁর এবং তাঁর কোম্পানির জন্য এটা বিশেষ সম্মান। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আই সি সি কে ধন্যবাদ ঞ্জ্যাপন করেছেন।আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নির্দেশে বলটিতে একটি বিশেষ লোগো রয়েছে। জাজোদিয়া জানিয়েছিলেন যে দুই দলকেই বেশ কিছু বল সরবরাহ করা হয়েছে ম্যাচের আগে অনুশীলন করার জন্য। মজার ব্যাপার ফাইনালের দুই দলই (ভারত এবং নিউজিল্যান্ড) সাধারণত ডিউক বল ব্যবহার করে না।তিনি আরও জানিয়েছিলেন যে, ক্রিকেট বল তৈরির সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল, এটি কোথাও পরীক্ষা করা যায় না, একেবারে নতুন হস্তান্তর করতে হয়। সুতরাং, কোনও বলের দূর্বলতা কেবলমাত্র ম্যাচের সময়ই জানা যায়।জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জুন ২০, ২০২১
কলকাতা

Wall Collapse: হনুমানের লাফে পাঁচিল ভেঙে পড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

এক বাড়ির ছাদ থেকে আরেক বাড়ির ছাদে হনুমান লাফ দিতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পাঁচিল। আর সেই পাঁচিল চাপা পড়ে মারা গেলেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। মর্মান্তিক ওই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে হাওড়ার বালির হাজরাপাড়া এলাকায়। গত দুদিনের অতিভারী বৃষ্টিতে এমনিতেই জীর্ণ বাড়িটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আর তার উপর হনুমান এসে ছাদে লাফ দিতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছাদের একাংশ। আর তাতেই পাঁচিলের একাংশ ভেঙে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ষাটোর্ধ্ব ওই মহিলার। এই ঘটনায় কার্যত শোকস্তব্ধ বালির হাওড়ার হাজরাপাড়া। এইভাবে কারও মৃত্যু হতে পারে তা বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউই। বেলুড় স্টেট জেনারেল হাসপাতালে মহিলাকে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, জীর্ণ বাড়ির নীচে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরতি দাস নামের ওই মহিলা। শুক্রবার বিকেলে ওই ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে বালির হাজরাপাড়া এলাকা।এদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে মৃতার আত্মীয় সোমা দে জানান, যখন তিনি এবং তাঁর স্বামী দুজনে মিলে বিকেলে বাড়িতে গাছ লাগাচ্ছিলেন, তখন মেজদিদি আরতি দাস সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় হঠাৎ একটা আওয়াজ হয়। দেখেন মেজদিদি মাটিতে পড়ে আছেন। একটা হনুমান এক ছাদ থেকে আমাদের ছাদে লাভ দেওয়ার সময় একাংশ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ওনার মাথায়। আকস্মিক এই ঘটনা চোখের সামনে ঘটে যায়। মৃতার ছেলে অর্ণব দাস জানান, একটা হনুমান এক অ্যাসবেস্টস থেকে অন্য অ্যাসবেস্টসে লাফ দিতে গিয়ে ছাদের একাংশ মায়ের মাথায় এসে পড়ে। সেই সময় বাড়িতে তিনি ছিলেন না। এরপর খবর পেয়েই হাসপাতালে দ্রুত ছুটে আসেন। দেখেন এই ঘটনা।মৃতার ভাই আশীষ দে জানান, শুক্রবার বিকেলে তাঁরা বাড়ির বাগানে গাছ লাগাচ্ছিলেন। তখন একটা হনুমান ছাদের ওপর লাফিয়ে যাওয়ার সময় উপরের সিঁড়ির কাছে প্রায় ৬টি ইঁটের চাঁই ভেঙে মেজদির মাথায় পড়ে। এই ঘটনার উনি মারাত্মকভাবে মাথায় আঘাত পান। ঘটনাটা বালি হাজরাপাড়া লেনে ঘটে। বর্ষায় ইঁটের চাঁই আলগা অবস্থায় ছিল। এই অবস্থায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জুন ১৯, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 28
  • 29
  • 30
  • 31
  • 32
  • 33
  • 34
  • ...
  • 39
  • 40
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মিসবার ইস্তফায় পাকিস্তান ক্রিকেটে বিস্ফোরণ! ৭ ক্রিকেটার ছাঁটাইয়ের পর এবার বোর্ডে বড় ধাক্কা

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে একের পর এক ধাক্কায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান ক্রিকেট। টানা দুই ম্যাচে হারের পর দলের ভিতরে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাত জন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বদল করা হয়েছে কোচিং স্টাফেও। এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবা উল হক। তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পৌঁছেছে বলে খবর।তবে বোর্ড এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে মিসবা তাঁর নোটিশের সময়সীমা পালন করছেন। তাঁর ইস্তফাকে ঘিরেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের সূত্রের দাবি, দল থেকে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিসবার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হয়েও এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে সূত্রটির দাবি। এই ঘটনাই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।যে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সলমন আলি আঘা, মহম্মদ রিজওয়ান, আলি উসমান, ইমাম উল হক, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল এবং মহম্মদ ওয়াইস জাফর। পাশাপাশি প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সরফরাজ আহমেদকে। বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।বাকি টেস্ট ম্যাচগুলির জন্য নতুন কোচিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্বে আনা হয়েছে। বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন অ্যাশলি নফ। সূত্রের খবর, লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবা।অন্য দিকে, বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জায়গায় বেশ কয়েক জন নতুন মুখকে দলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাইম আয়ুব বাট, আবদুল্লা ফজল এবং আরাফত মিনহাস। তাঁদের মধ্যে সাইম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজলকে টেস্ট দলেও রাখা হয়েছে। নতুনদের সম্মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা এখনও খুবই কম।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যেই দুই শূন্য ব্যবধানে পিছিয়ে বাবরদের দল। সিরিজে এখনও একটি ম্যাচ বাকি।আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহ্যামে শুরু হওয়ার কথা সেই শেষ টেস্ট। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পাকিস্তানের সামনে এখন একমাত্র পথ জয়। তার আগেই নির্বাচক কমিটি এবং কোচিং ব্যবস্থায় এত বড় পরিবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

‘নাচতে রাজি না হওয়ায় চাকরি গেল’, মহিলা বিচারককে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বর্ষীয়ান আইনজীবীর

দেশের বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পুরুষ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বহু মহিলা বিচারক তাঁর কাছে এসেছেন। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের বইয়ে যৌন হেনস্থাকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ডার্টি সিক্রেট বলে উল্লেখ করেছেন।সম্প্রতি এক স্মারক বক্তৃতায় মাই ভিশন অব ইন্ডিয়া: ২০৪৭ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পেশাগত জীবনে বহু মহিলা বিচারকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন পুরুষ বিচারকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।এক মহিলা বিচারকের হয়ে মামলা লড়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন জয়সিং। তাঁর দাবি, ওই বিচারক তাঁকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি অবসর নেওয়ার সময় মহিলা জেলা বিচারকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হত। একই রঙের শাড়ি পরতে বলা হত এবং পুরুষ বিচারকরা খাবারের ঘরে ঢোকার সময় তাঁদের উপর ফুল ছড়ানোর মতো আচরণও করা হত।এই ধরনের প্রথার তীব্র সমালোচনা করেন জয়সিং। তাঁর মতে, উচ্চতর বিচারব্যবস্থার কিছু পদমর্যাদাভিত্তিক আচরণ মহিলা বিচারকদের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বলেও তিনি দাবি করেন।ওই মহিলা বিচারকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আরও একটি ঘটনার কথাও বক্তৃতায় জানান জয়সিং। তাঁর দাবি, এক বিচারক ওই মহিলা বিচারককে নিজের বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচতে বলেছিলেন। মহিলা বিচারক সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এর পর তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল বলে দাবি করেন জয়সিং। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং যৌন হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে বলেও বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন বিচারপতি ডি এস মুরলীধর। তাঁর মতে, সিনিয়র পুরুষ সহকর্মীদের আচরণের কারণে অনেক মহিলা বিচারক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।বিচারব্যবস্থার পদমর্যাদাভিত্তিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন মুরলীধর। একই অনুষ্ঠানে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি এবং তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।অন্য দিকে, আদালতের সময় কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মামলাকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা যে সামান্য সময়, তার বড় অংশ ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলি ব্যবহার করে নেয়।বক্তৃতার শেষে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে আশাবাদী থাকার কারণও জানান জয়সিং। নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাঁকে প্রায়ই প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও ভাল হবে বলে তিনি কেন মনে করেন। তাঁর উত্তর, ভারতের সংবিধানই তাঁর আশার জায়গা।জয়সিংয়ের বক্তব্য, যতদিন নাগরিকরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষা করতে পারবেন এবং শাসককে সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, ততদিন আশার জায়গা থাকবে। তাঁর মতে, সংবিধান বর্তমান রূপে থাকলে সরকারের কোনও সংবিধান-বহির্ভূত পদক্ষেপকে আইনি ভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

‘মিথ্যা মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখবেন?’ সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার পর পুলিশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া এই মামলায় শ্লীলতাহানির ধারাও রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বেআইনি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুরসভার কর্মী ও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জন পড়ে যান বলেও জানা যায়।এই ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দেন অভিষেক। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান জানান।অভিষেকের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা করে তাঁকে বা তাঁর দলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কোনও নোটিস ছাড়াই দলের ১৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার পর তাঁর দফতরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও দমকলের তরফে সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, অন্য কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।অভিষেক বলেন, তারাপীঠে আগুনে মানুষের মৃত্যুর সময় কিংবা আলিপুরে আগুনে ইভিএম নষ্ট হওয়ার সময় কেন একই ভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দফতরের ক্ষেত্রে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। ঘটনার ভিডিয়ো তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ঘটনার দিন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে টেনে নামিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি এমন মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তা হলে এত ভয় কেন?জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, মিথ্যা মামলা করে গ্রেফতার করে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা প্রয়োগ করলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলেই বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

ম্যাঙ্গানিজ মিশন: খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী বড় সাফল্য!

অশোকনগর তেলক্ষেত্রের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গ তার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আরও এক সম্পদ উন্মোচনের পথেঝাড়গ্রাম জেলায় ম্যাঙ্গানিজের বিশাল ভাণ্ডার! এই ভান্ডারের খোঁজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি ও খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর (Directorate of Mines Minerals) শিমুলপাল, লবনী, ভাণ্ডারচুয়া, চৌগা পাহাড়, হাসা ডুংরি, কার্কা, বেগুনডিহা, বীরমণ্ডল, বাঁশপাহাড়ি এবং সংলগ্ন ম্যাঙ্গানিজ-সমৃদ্ধ এলাকায় যৌথ প্রাথমিক জরিপ (reconnaissance survey) চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের প্রকৃত সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে MOIL Limited এখন জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI), ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইন্স (IBM) এবং WBMDTCL-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। এর জন্য ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সময়কালে মাঠপর্যায়ের জরিপ বা ফিল্ডওয়ার্ক নির্ধারিত হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর ধরে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অব্যবহৃত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি সরকারের আমলে ঝাড়গ্রামের খনিজ সম্পদ অবশেষে তার যথাযথ গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বিতর্কিত মিছিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস, কিন্তু কেন তড়িঘড়ি শুনানি নয়?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মিছিলের আগেই মামলাটির জরুরি শুনানি করার আবেদন মানেনি আদালত।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটিও শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।প্রস্তাবিত মিছিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, দেশের রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় বড় জমায়েত বা প্রতিবাদ মিছিলের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।আবেদনকারীর আইনজীবী রিজান আহমেদ আদালতে জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনও মিছিলের অনুমতির জন্য কোনও আবেদন করা হয়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি মিছিলের আগে মামলাটির শুনানি করার জন্য বার বার আবেদন জানান। কিন্তু বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনতে রাজি হয়নি।আইনজীবী আদালতে আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। সেই সময় রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলটি কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানান।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে থেকেই কোনও অঘটন ঘটবে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে ধরে নেবে যে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করবেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই, এমন জোরালো পরিস্থিতিও আদালতের সামনে নেই বলে জানান তিনি।এর পর আইনজীবী দাবি করেন, আগের একটি আন্দোলনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আদালতে জানান।আবেদনকারীর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি আইনি বিধি মানছে না এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিচ্ছে না।এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি মূলত সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব। আবেদনকারীকে তাঁর উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকার অথবা দিল্লি সরকারের কাছে জানাতে বলেন তিনি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।মিছিলের আয়োজক সংগঠনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, সংগঠনটির কোনও নথিভুক্ত অফিস বা লেটারহেড নেই। ফলে তাদের সরাসরি মামলার পক্ষ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগেই মামলাটির শুনানি করার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে মিছিলের আগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal