• ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

IR

রাজ্য

রেল লাইনে ফেঁসে যাওয়া টোটোকে ঠেলে বিপদমুক্ত করছেন খোদ পুরপিতা

ডাউন হাওড়া লোকাল আগের ষ্টেশন থেকে ছেড়েছে, এদিকে এক টোটো চালক অন্তঃস্বত্তা মহিলাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে রেলগেট পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ রেললাইনে টোটো-র একটি চাকা ফেঁসে গেল। কিছুতেই সেখান থেকে টোটোটিকে তুলে আনতে পারছিলেন না। পথচলতি মানুষ সেদিকে তাকিয়েও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিলেন নিজের কাজে। এক ব্যক্তি মটরবাইকে চেপে রেলগেট পার হতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন। মটরবাইকটিকে রেলগেট পার করে রেখে নিজে হাত লাগালেন টোটোটিকে সেখান থেকে উদ্ধার করার জন্য। একসময় তিনি উপলব্ধি করলেন একাজ একার দ্বারা সম্ভব নয়, ডাকলেন এক পথচলতি মানুষকে, ততক্ষণে ট্রেন ও শিয়ড়ে! দুজনের প্রচেষ্টায় টোটো রেল লাইনের মৃত্যু ফাঁদ থেকে মুক্ত হয়।ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি শহরের। টোটো চালক মেমারি গ্রামীন হাসপাতাল থেকে অন্তঃস্বত্তা মহিলাকে নুদিপুর অভিমুখে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যে ব্যক্তি টোটোটিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন তিনি মেমারি পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ী। যখন রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক নেতাদের আচার ব্যবহার নিয়ে মানুষ ব্যথিত, ক্ষূব্ধ, মর্মাহত! সেই সময় তাঁর এই মানবিক ব্যবহার জনমানসে এক অন্য ভাবমুর্তির প্রচার পাচ্ছে। যদিও তিনি নিজে এটাকে খুব সাধারণ ঘটনা বলেই আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, মেমারি শহরের পূর্ব দিকের ইলামপুর গেটে এই ঘটনাটি ঘটে। স্বপন বিষয়ী জানান, প্রতিনিয়তই এই ধরনের ঘটনা মেমারি শহরে ঘটে থাকে। রেল গেটের রাস্তার অবস্থা খুবই বেহাল। তিনি আরও জানান, মেমারি শহরের ওপর তিনটি রেলগেট (ইলামপুর, মালগুদাম, পুরসভা) প্রায় সবকটিরই অবস্থা উনিশ-বিশ একই। রেল কর্তৃপক্ষ উদাসীন এই ব্যাপারে। যেকোনও দিন বড় ধরনের কোনও দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি আবেদন করেন এই ধরনের কোনও বিপদে যদি কেউ পড়েন একজন সহনাগরিক হিসাবে তাঁর পাশে থাকুন।টোটোচালক বলেন, অন্তঃস্বত্তা মহিলাকে নিয়ে যেভাবে বিপদে পরেছিলাম চেয়ারম্যান স্যার না থাকলে আজ কি হত ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। চাকাটা লাইনের ফাঁকে আটকে যাওয়ার পর অনেকেই পাশ কাটিয়ে চলে গেল, কেউ ফিরেও তাকালো না। এক ভদ্রলোক লাইন পেরিয়ে তাঁর মটরবাইকটিকে রেখে ফিরে এসে আমার সাথে হাত লাগিয়ে টোটোটাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন। সেই ভদ্রলোক আর কেউ নন আমাদের মেমারি পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ী।

নভেম্বর ০৮, ২০২২
রাজ্য

মায়ের সাথে মনোমালিন্য, আত্মহনন কিশোরীর

পড়াশোনায় অমনযোগী হওয়ায় মায়ের বকুনি খেয়ে অভিমানে আত্মঘাতী হল কিশোরী। মৃতার নাম শ্রেষ্ঠা সরকার (১৪)। বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেমারীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হরেকৃষ্ণপল্লীতে।বেশ কয়েক দিন ধরেই ঠিকঠাক পড়াশোনা করছিলো না শ্রেষ্টা তাই মা তাকে গতকাল বকাঝকা করে। অভিমানে বাড়ির ভিতরে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে শ্রেষ্টা। মেমারি থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে পাঠায়।

নভেম্বর ০৭, ২০২২
রাজ্য

খোদ চেয়ারম্যানের বাড়ির নাকের ডগায় পুরমাতার বিনা প্ল্যানে বাড়ি করার অভিযোগ বর্ধমানে

বর্ধমান পুরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের শাসকদলের কাউন্সিলর চন্দ্রা দাসের বিরুদ্ধেই এবারে পোস্টার পড়ল বর্ধমান শহরের কয়েকটি এলাকায়। ওই পোস্টারে কে বা কারা লাগিয়েছে জানা যায় নি। সেখানে লেখা আছে বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়ির ১০মিটারের মধ্যেই ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চন্দ্রা দাস বিনা প্ল্যানে বাড়ি করেছেন।তার স্বামী ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা স্বপন দাস এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি; এগুলো কিছু লোক হিংসা করে করছেন। তারা দলের বদনাম করছেন। তিনি জানান, ওই জায়গায় একটি মনসা মন্দির ও সহায়তা কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। সেটার প্ল্যান তারিখ পেরিয়ে যাবার পর রিনিউ করতে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, বর্ধমান পুরসভা এ ব্যাপারে কঠোর। কেউ বেআইনি কাজ করলে অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র জানান, বর্ধমান পুরসভা সব দিক দিয়েই ব্যর্থ। এই অভিযোগ এলাকা থেকেই উঠেছে। কাউন্সিলর বিনা প্ল্যানে এতবড় বাড়ি করছেন কীভাবে? আয়ের উৎস কী? এগুলো তদন্ত হওয়া উচিত। আর, বিজেপি পোস্টার দেবার রাজনীতি করে না। ওদের দলের লোকেরাই এসব করেছে।

নভেম্বর ০৫, ২০২২
নিবন্ধ

ফারাও এর দেশ ঘুরে... (ভ্রমণ কাহিনী) প্রথম পর্ব

শুরুর কথাইতিহাসের ছাত্রী হয়েছি অনেক বড় বয়সে। ছোটবেলায় ইতিহাস নিয়ে পড়ার কথা খুব একটা ভাবিও নি। তবে যেটা ছোট বেলা থেকেই আকর্ষণ করত, তা হল গল্প। গল্প শুনতে বা পড়তে তখন ও ভালো লাগত আজও লাগে। বিভিন্ন দেশের গল্প, বিভিন্ন সময়ের গল্প। বাবা অনেক দেশের বই কিনে দিতেন আর মা পড়ে শোনাতেন। একটু বড় হতে নিজেই পড়তে থাকতাম সে সব। পুরাণ, রুপকথা, ইতিহাস ছোটোদের মতন করে লেখা বই সব। আর সেই রকম ই একটা বই আমার ছিল, Wonders of the World। এই বইটার হাত ধরেই প্রথম পরিচয় হল পিরামিড এর সাথে। এতটাই আশ্চর্য হয়ে গেছিলাম যে বলার নয়। পিরামিড, হিয়েরগ্লিফ, ফারাও তুত, সব মিলিয়ে কেমন ঘোর লেগে গেল। তখনও বুঝিনি যে এই ঘোর অনেক দিন ধরে তাড়া করে বেড়াবে আমায়।বড় হতে লাগলাম এই স্বপ্ন নিয়ে যে একদিন যাব, দেখব, বুঝব মিশরকে। বাবার কাছে মিশর সংক্রান্ত অনেক বই ছিল। খালি ঘাঁটতাম। একদিন আনন্দমেলা বা কোন একটা মাসিক পত্রিকা থেকে জেনে ফেললাম কার্টার ও কারনারভান এর আভিশাপ এর গল্প। সত্যজিৎ নিয়ে গেলেন শেয়াল দেবতার কাছে। জেনে ফেললাম আনুবিস কি ভয়ঙ্কর শক্তিশালী। মিশর রহস্য তে সুনীল গাঙ্গুলী প্রথম ভাল ভাবে সেখালেন হিয়েরগ্লিফ কাকে বলে আর কি ভাবেই বা সেতা লেখা বা পড়া হয়। কাকাবাবুর আর সন্তু কে যেন স্বপ্নে দেখতে পেতাম আর ভাবতাম অদের সাথে আমিও চলেছি রহস্যের সমাধানে। ইংরেজি ছবির হাত ধরে The Mummy দেখে জানার চেষ্টা করলাম মিশরীয় ভাবনা চিন্তা। এ সব ই যেন আমায় মিশরের সাথে আর বেশী করে জুড়ে দিচ্ছিল। আর চোখের সামনে মিশর দেখার স্বপ্ন টাকে তৈরি করতে সাহায্য করছিল।ইতিহাস নিয়ে যখন পড়তে শুরু করলাম, পৃথিবীর ইতিহাস syllabus এ ছিলনা। তবুও বোঝার চেষ্টা করতাম যে আমাদের সাথে অদের কি মিল, কথায় মিল। আমাদের দেশের পুরাণ বা কিংবদন্তির সাথে ওদের এত সাযুজ্য কেন। যেমন Geranldine Pinch বলেছেন many definitions have been proposed সেই থেকেই ধরে নিতে থাকি যে ওরা আর আমরা মানুষ বলেই এত সাযুজ্য। তবে পরে ভুল ভাঙে আর বুঝতে পারি যে ওরা, মিশরীয় রা আমাদের থেকেও অনেকটাই উন্নত মানের মানুষ ছিলেন।পড়া শেষে, ইতিহাস এর শিক্ষিকা হয়ে স্কুলে যোগ দিলাম। বার্ষিক প্রদর্শনী হিসেবে মিশরকে বেছে নিলাম আর অদম্য উৎসাহে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে নেমে পরলাম গবেষণার কাজে। Internet এর যুগে মিশর যেন নিজেকে উজার করে দিতে লাগল আমাদের কাছে। আর বহু দিনের সেই ছুঁতে চাওয়ার ইচ্ছে টাকে বার বার উশকে দিতে লাগল। এর সঙ্গে যোগ হল বাবার উৎসাহ। বিভিন্ন পর্যটন মেলা ঘুরে মিশরে বেড়াতে যাওয়া নিয়ে তথ্য যোগার করে বেড়াতো। আর তাঁর সাথে যুক্ত হল আমার বর। তারও বহুদিনের সখ আর স্বপ্ন যেন মিশে গেল। তারপর আর কি, যেমন ভাবা তেমন কাজ। জীবনসঙ্গীকে আর বাড়ির সবাইকে সঙ্গে করে ২০১৮ এর পূজার ছুটি তে পাড়ি দিলাম মিশর। সঙ্গে অনেক না দেখা স্বপ্ন, কিছু বই , ক্যামেরা আর লেখার খাতা কে নিয়ে। নীলনদের পাড়ে , ফারাও এর দেশে।যা কিছু দেখে এলাম তা ভোলার নয়। তবুও যেন একটা না পাওয়া থেকেই গেল, খালি মনে হতে লাগল যে সব শেষ হল না। তাও যা দেখলাম তাও মন্দ কি।**ফারাও এর দেশ ঘুরে**স্থানীয় সময় দুপুর ১২ টায় আমরা কায়রোর মাটিতে নামলাম। শুরু হল স্বাপ্নের দেশে যাত্রা। ইতিহাস এর ছাত্রী হিসেবে মিশর সব সময়ই প্রিয় বিষয় ছিল। আর স্বপ্ন ও দেখতাম কোন এক দিন ঠিক যাবো সেই দেশ এ। তবে সত্যি সেটা সম্ভব হবে ভাবিনি কোনদিন। নিজের চোখ কে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না যে মিশর আমার সামনে। কায়রোর সুন্দর বিমান বন্দর ছাড়িয়ে যখন বেরলাম মনের মধ্যে এক অদ্ভুত উত্তেজনা অনুভব করছিলাম। গাড়ি তে করে রওনা হলাম নিজেদের হোটেলের দিকে। আর অন্য দিকে যেন স্বপ্ন আস্তে আস্তে তার রঙ দেখাতে লাগল। মিশর আসার আগেই ঠিক করে ছিলাম মনে মনে যে, এই কদিন এ যা দেখব সব ক্যামেরা বন্দি করা যাবেনা। তাই চোখের দায়িত্ব বাড়বে অনেকটাই। দেখতে লাগলাম প্রাণ ভরে কায়রো শহর। ধূসর রঙের শহর কায়রো। মরুভুমির কাছে বলে বাতাসে আর্দ্রতা বেশ কম আর তার ফলে নীল আকাশ ঝক ঝক করছে। নীল আকাশের সাথে ধূসর রঙের ঘর বাড়ি এক অদ্ভুত সামঞ্জস্য তৈরি করেছে।কায়রো কে এক ঝলক দেখলে মনে হবে নিজের দেশেই আছি। মরুভূমির দেশ বলে এখানে বাড়ির রঙ ধূসর বা হাল্কা। চড়া রঙের ব্যাবহার এরা জানেনা। আসলে এদের দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস এতটাই বর্ণময় যে অন্য কোথাও রঙ ব্যাবহারের প্রয়োজন হয়না। তবে একটা ব্যাপার বোঝা গেল সহজে, যে এই দেশেরও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আসতে সময় লাগবে । সামাজিক উন্নয়ন ও অনেকটাই পিছিয়ে বলে মনে হল। রাস্তায় ভাল রকম ট্রাফিক জ্যাম পেতে হল তবে অবশেষে আমরা আমাদের হোটেলে এসে উপস্থিত হলাম। দীর্ঘ যাত্রা ও অপেক্ষার অবসান হল।রাস্তায় আসার পথে একটা ব্যাপার দেখে খুব মজা লাগল যে, প্রতিটি বাড়ির ছাদ আবর্জনায় ভর্তি। বাড়ির যত বাতিল জিনিষ পত্র দিয়ে ছাদ বোঝাই। এর কারণ ঠিক বোঝা গেলনা তবে পরে বুঝেছিলাম যে এটা সমগ্র মিশরের ই চরিত্র। যে কোন শহরেই এই এক ব্যাপার। আর কায়রো রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও একটা অদ্ভুত গ্রাম্য চরিত্র আছে, হয়ত সেটা শিকড়ের টানের চটেই।বিমানে আসার কোন ক্লান্তিই যেন আমাদের দমাতে পারছিল না। শুধু মাত্র দুপুরটুকু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধেবেলার আয়োজন নিয়ে মেতে উঠলাম। সন্ধ্যের কায়রোর মধ্যে দিয়ে আমরা চললাম Nile Cruise এ রাতের খাবার খেতে। মানে নীল নদের উপর নৌকা বিহার ও তার সাথে খানা পিনা। নীল নদের সামনে দাঁড়িয়ে মনে পরে যেতে লাগল স্কুলের ভূগোল বই এর প্রশ্ন মিশর কে কোন নদীর দান বলা হয়? বা পৃথিবীর দীর্ঘতম নদীর নাম লেখ। সেই প্রশের উত্তরে ভুল কখনও করিনি তবে এটাও ভাবিনি যে একদিন সেই নদীর সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারব। চওড়া নদী, রাতের অন্ধকারেও তার গভীরতা সম্মন্ধে যথেষ্ট ধারণা করা যায়। শহরের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া সত্ত্বেও নংরা আবর্জনা নদীর ধারে নেই। নদীর দুই পাশ সুন্দর করে বাঁধিয়ে দেওয়া আছে। শহরের বিভিন্ন আলো নীল নদ কে ছুঁয়ে যেন নিজেদের ধন্য করে নেবার চেষ্টা করছে। এত বিশাল সেই নদীর সামনে দাঁড়িয়ে আমার কেমন যেন মনে হল যে, এই যে সব কিছু হচ্ছে তাতে নীল এর কিছু এসে যায়না। সে যেন আপন তালে আপন ছন্দে ও গতি তে বয়ে চলেছে, বয়ে চলাটাই তার এক মাত্র কাজ, যা সে জীবনের শুরু থেকে করে আসছে। এত কিছু ঘটেছে তার চোখের সামনে, সব কিছুর সাক্ষী সে। তাই এই সব মানুষ জন দের বেশি উৎসাহ নিয়ে তার কোন মাথাব্যাথা নেই।আমরা Nile Pharaoh নামের একটি নৌকা বা cruise এ উঠলাম। নৌকার সামনেটা খুব সুন্দর করে সাজানো। পুরো নৌকা টাই ট্র্যাডিশনাল মিশরীয় ধাঁচে সাজানো। মিশরীয় solar boat এর আদলে। নৌকায় প্রবেশের মুখ পাহারা দিচ্ছে রাজার প্রহরীরা। নৌকার ভিতরে অনেক টেবিল সাজানো আর তার এক পাশে একটি মঞ্চ, সেখানে নাকি নাচ গান হবে। নৌকার ছাদেও যাওয়া যায় সেখানেও টেবিল পাতা আছে।Nile Pharoa, বোট, কায়রোছাদে গিয়ে বেশ শীত শীত করছিল। নীল নদের উপর দিয়ে বয়ে আসা ঠাণ্ডা হাওয়ার চোটে। নৌকা চলতে শুরু করল রাত ৮ টায়। আর তার সাথে শুরু হল সেই খালি মঞ্চে বেলি ড্যান্স belly dance আর সুফি গানের অনুষ্ঠান। বিভিন্ন রকম খাবারের মধ্যে দিয়ে শুরু হল রাতের খাওয়া। খাওয়া শেষ করে গেলাম নৌকার ছাদে। নীল নদের কালো জল ঠেলে এগিয়ে চলেছে নৌকা। গোটা শহরটাকে দেখা যাচ্ছে নদী থেকে। জলের আসা যাওয়া দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল যে, এই সেই নীল নদ। যাকে নিয়ে পৃথিবী জুড়ে গল্প বা রোমাঞ্চের শেষ নেই। যার তৈরি প্লাবন ভূমিতে তৈরি হয়েছে পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্শন তার উপর দিয়ে বয়ে চলা নৌকাতে চলেছি আমি। আর আজও, এত আধুনিক যুগেও মিশরের জন্য এই নদীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাত প্রায় ১০.৩০ নাগাদ আমাদের নৌকা ভ্রমণ শেষ হল আর ক্লান্ত শরীরে আমরা হোটেলে ফিরে এলাম। রাতে ভাল ঘুম আমাদের সবার অত্যন্ত প্রয়োজন কারণ পরের দিনের জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে।শ্রেয়া ঘোষ (বর্ধমান)ক্রমশ...

নভেম্বর ০৫, ২০২২
রাজ্য

অভিষেকের নির্দেশে সরতে হচ্ছে অভিযুক্ত দাঁইহাটের পুরপ্রধান শিশির মন্ডলকে

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। একেই নানা দুর্নীতির অভিযোগে জেরবার মমতা-অভিষেকের দল। তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরেই পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য শিশির মণ্ডলকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন।পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার শীর্ষ নেতৃত্বের এই নির্দেশের কথা প্রকাশ্যে আনেন। শিশির মণ্ডল তরুণীর অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘরে ও বাইরে তাঁকে নিয়ে নিন্দার ঝড় বাইছে। বিরোধীরা এই অভিরযোগকে হাতিয়ার করেশাসক দলের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছে। দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডলের সঙ্গে এক তরুণীর টেলিফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড মঙ্গলবার দুপুর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন,শিশির মণ্ডলকে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন। দলের সেই নির্দেশ এদিন শিশির মন্ডলকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। দলের নির্দেশ মতো পদত্যাগ করবো বলে জানিয়ে দিয়েছেন শিশিরবাবু।

নভেম্বর ০৪, ২০২২
রাজ্য

পঞ্চায়েত ভোটের আগে বাড়িতে ত্রিশূল, দা, তরোয়াল রাখার দাওয়াই দুই বিজেপি নেতার

পঞ্চায়েত ভোটের আগে বাড়িতে ত্রিশূলে রেখে শান দিতে বললেন বীরভূম জেলা বিজেপি সভাপতি ধ্রুব সাহা। ভাষণ দিতে গিয়ে ধ্রুব সাহা বলেন, বাড়িতে ত্রিশূল তৈরি করুন। তাতে ভাল করে শান দিন। এই ত্রিশূল দিয়ে বীরভূমের অসুর বধ করতে হবে। বাড়িতে দা তৈরি করুন, তরোয়াল বানান। বীরভূম জেলা সভাপতির সুরে সুর মিলিয়ে ঘরে ঘরে ত্রিশূল রাখার হুঙ্কার দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। বরানগরে এক সভায় রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সামনে একটা যুদ্ধ আসছে। তৃণমূল নিজেরাই বোম-গুলিতে মারামারি করে মরছে। পঞ্চায়েত ভোটে আত্মরক্ষার জন্য মা-বোনেরা ঘরে ঘরে ত্রিশূল রাখুন।এদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপি নেতাদের হুঙ্কারকে সন্ত্রাসে উস্কানি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন। তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় বলেন, অযথা অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে বিজেপি। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসুরা মাঝে-মধ্যেই এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য রাখেন। প্ররোচনা দিচ্ছেন। এমন ধরনের অস্ত্র দিলে রাজ্যে শান্তি কি থাকবে? তেমন কিছু হলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ-মিলিটারি আছে। ওদের এসব নিয়ে ভাবতে হবে না।সামনের বছর রাজ্যে গ্রামপঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগেই মহড়া দিতে শুরু করেছে তৃণমূল-বিজেপি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ভাল ফল করতে হলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাঁপাতেই হবে। তা নাহলে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে। ২০১৮ গ্রামপঞ্চায়েত ভোটে জোরদার লড়াইয়ের ফল ২০১৯ লোকসভা ভোটে পেয়েছিল বিজেপি। ২ থেকে এক লাফে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৮-তে। তাই ফের এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি।

নভেম্বর ০২, ২০২২
রাজ্য

কাজের বদলে জুটল কুপ্রস্তাব, তৃণমূল পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগে ছিঃছিঃ রব পূর্ব বর্ধমানে

চেয়েছিলেন কাজ, জুটেছে সহবাসের প্রস্তাব। অভিযোগ তরুণীর। অভিযুক্ত তৃণমূল পুরপ্রধান। আর ওই দুজনের সেই অডিও ভাইরাল হতেই চারিদিকে ছিঃছিঃ রব উঠেছে। তরুণীর অভিযোগের তীরে বিদ্ধ পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডল। যদিও শিশির মন্ডল পুরো বিষয়টাকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনায় তোলপাড় জেলার রাজনৈতিক মহল।দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডল দীর্ঘদিন কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ২০০০-তে তিনি প্রথম দাঁইহাট পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ওই পুরসভার বিরোধী দলনেতা হন। ২০১৮-তে অনাস্থা এনে পুরবোর্ডের পতন ঘটিয়ে শিশির মণ্ডল পুরপ্রধান হন। তারপর ২০২২-এর পুরনির্বাচনে ফের জয়ী হয়ে শিশির মণ্ডল দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রাক্তন শিক্ষক ও দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বর বিরুদ্ধে মেয়ের বয়সী তরুণীকে সহবাসের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে বিস্মিত দাঁইহাটের বাসিন্দা।সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অডিও ও ভিডিও কথোপকথনে পুরুষ কন্ঠের ব্যক্তি দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডল বলে দাবি করা হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিও এবং ভিডিওর সত্যতা জনতার কথা যাচাই করেনি। সেই কথোপকথন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০-তে স্নাতক হয়েছেন তরুণী। ফোনের শুরুতেই ওই তরুণী চেয়ারম্যানকে কাকু সম্মোধন করে একটা কাজের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। চেয়ারম্যান তাঁর কাছে জানতে চান কোন স্কুলে পড়াশুনা করেছেন, বাড়ি কোথায়, বাবার নাম, পরিবারের অবস্থা কেমনসহ নানা বিষয়। অভিযোগ, সেই কথোপকথনেই সহবাসের প্রস্তাব দিয়ে বসেন চেয়ারম্যান। তবে দাঁইহাট পুরপ্রধান শিশির মণ্ডল ওই অডিও এবং ভিডিও কথোপকথন তাঁর নয় বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, ওই অডিওতে আমার গলায় অন্য কেউ এইসব কথা বলছে। এই ধরনের অশালীন কাজ কোনদিনও আমি করতে পারি না। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্যই এই চক্রান্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হবে। বিজেপির বক্তব্য, এটাই তৃণমূল নেতাদের আসল রূপ।

নভেম্বর ০২, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে এক পরিত্যক্ত কারখানায় আগুন, দমকল গিয়ে আগুন আয়ত্তে আনে

একটি পরিত্যক্ত কারখানায় আগুন লাগলো পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। বুধবার দুপুরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে জামালপুরের নবগ্রাম ময়না এলাকার একটি বন্ধ কারখানায় ভিতরে আগুন ধরে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান বহুদিন ধরে কারখানাটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এই পরিত্যক্ত কারখানায় কি উৎপাদন হত স্থানীয়রা কেউই বলতে পারছেন না।আগুন লাগার পর পাশের একটি ইট তৈরীর কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় খবর দেওয়া হয় মেমারি দমকল বিভাগে। দমকলের একটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন আয়ত্তে আনে।দমকল আধিকারিক সঞ্জয় কুমার দত্ত বলেন, কারখানার ভিতরে থাকা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিসপত্রে আগুন লাগে। পাশাপাশি সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঝোপঝাড়ে। দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। আর একটি পাম্পসেট দিয়েও পাশের পুকুর থেকে জল নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

নভেম্বর ০২, ২০২২
রাজ্য

মালদহের মৃত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে এসে এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারপারসন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন

মালদহের গাজলের মৃতের বাড়িতে এসে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এসসি কমিশনের চেয়ারম্যানের হুসিয়ারী ডিএম এম এসপিকে তলব করা হবে ব্যবস্তা নেওয়া হবে।গাজোলে মৃত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে এলেন জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারপারসন অরুন হালদার। বুধবার রহস্য মৃত্যু হয় গাজরের বহিরগাছি এলাকার বাসিন্দা ধনঞ্জয় সরকারের। এই ঘটনায় বহিরগাছি দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয় বিজেপি কর্মীর পরিবারের তরফে। আজ সকালে ওই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আসেন জাতীয় এসসি কমিশনের ভাইস চেয়ারপারসন অরুণ হালদার। কথা বলেন পরিবারের সাথে। এরপর গাজল বিডিও অফিসে বিডিও এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সাথে বৈঠক করেন তিনি। যদিও পরিবারের দাবি প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা সিবিআই তদন্তের দাবি করছি।ধনঞ্জয় সরকারের বাড়িতে গিয়ে অরুন হালদার তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষন কথা বলেন। তাদের অভিযোগের পর কেন এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর তিনি সেখান থেকে গাজলের বিডিও অফিসে আসেন। সেখানে ডিএম, এসপি-কে তলব করলেও তাঁরা আসেন নি। তিনি বলেন, তাঁরা না আসায় চরম অপমানিত হয়েছি। আমাকে বিডিও সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তাঁরা কেন পরিবারের সাথে কথা বলেনি সোজন্য সাক্ষাৎ করেছি।এসসি কমিশনের ভাইস ভাইস চেয়ারপারসন অরুণ হালদার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ওই পরিবার বিচার পাবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি। কিন্তু মালদায় এসে চূড়ান্ত অসৌজন্যমূলক ব্যবহার পেলাম। ডিএম এসপি দেখা পর্যন্ত করতে আসলেন না। ডিএম এসপিকে তলব করব। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি সেদিন পরিষ্কার ভাষায় বলেন, রাজনীতি করতে আমি এখানে আসিনি।

নভেম্বর ০২, ২০২২
রাজ্য

প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আচমকা আগুন, হাসপাতালের স্টোররুম ভস্মীভূত

আচমকা আগুন লাগার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের গলসির পুরসা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।দমকলের দুটি ইজ্ঞিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন আয়ত্তে আনে। আগুনে স্টোররুম ভস্মীভূত হয়ে যায়। এমনকি স্টোররুমের সাটার লাগানো গেটও আগুনের লেলিহান শিখায় দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্টোররুমে থাকা বেড ও বেশ কিছু নথিপত্রও পুড়ে যায় আগুনে।মঙ্গলবার দুপুর ১ টার সময় স্টোররুম থেকে গলগল করে ধোঁয়া বের দেখে রুগীর আত্মীয় পরিজনরা।খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান সর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।আগুনের ফুলকি ও ধোঁয়া দেখে রুগী ও রুগীর আত্মীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নভেম্বর ০১, ২০২২
রাজ্য

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভষ্মীভূত হল একটি পোল্ট্রি ফার্ম, ক্ষতি লক্ষাধিক টাকার

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভষ্মীভূত হল একটি পোল্ট্রি ফার্ম। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের খুড়ুল গ্রামে। ভাতারের খুড়ুল গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধদেব ঘোষের একটি পোল্ট্রি ফার্ম ছিল। ওই ফার্মে মুরগি পালন করে সংসার চলতো তাদের। দুএকদিনের মধ্যেই বাচ্ছা মুরগি আসার কথা। তার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। গতরাতে হঠাৎ দাউ দাউ করে পোল্ট্রি ফার্মটি জ্বলতে দেখা যায়। দু একজনের নজরে আসতেই গ্রামবাসীরা জড়ো হয়ে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।ভয়াবহ আগুনে ভষ্মীভূত হয় পোল্ট্রি ফার্মটি। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান পোল্ট্রি ফার্ম মালিক। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফার্ম মালিক ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।তাদের সন্দেহ ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে কেউ আগুন লাগাতে পারে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২২
রাজ্য

'অভিনব ভাই ফোঁটা' ভাই জ্ঞ্যানে গাছকে ফোঁটা আরভি ও আরশি-র

আয়োজন সবই ছিল। ফোঁটার চন্দন থেকে সব আনুষঙ্গিক আচার শুধু মানুষের বদলে গাছকে ফোঁটা দিলেন দুই বোন। তাদের কোনো ভাই নেই। তাই বৃক্ষপ্রেমী বাবা মায়ের উদ্যোগে এই অভিনব ফোঁটার অনুষ্ঠান হল পূর্ব বর্ধমানের মালিরবাগান এলাকায়। হাজির ছিলেন প্রতিবেশীরা।এই এলাকার আবু আজাদ বৃক্ষপ্রেমী বলে পরিচিত। প্রতিবছর অনেক গাছ বিতরণ করেন বর্ধমানের নানা এলাকায়। নিজেও লাগিয়েছেন অনেক গাছ। তার দুই ছোট মেয়েই গাছকে ফোঁটা দিল আজ। আবু আজাদ জানাচ্ছেন তার দুই মেয়ে আরভি মোল্লা ও আরশি মোল্লা। বড় মেয়ে বর্ধমানের বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ছোট মেয়ে এখনও স্কুলে ভর্তি হয়নি, সে বাড়িতেই পড়ে মায়ের কাছে। আরভির স্কুলের বন্ধুদের থেকে শুনেছে ভাইকে ফোঁটা দিতে হয়। সে বাড়ি এসে বাবাকে জিজ্ঞেস করে বাবা আমাদের তো ভাই নেই আমরা কাকে ফোঁটা দেব? আজাদ জানান তিনি মেয়ের প্রশ্নের কোন উত্তর খুজে পান নি। সত্যি তো ওদের ভাই নেই, তাহলে কাকে ফোঁটা দেবে!তিনি জানাচ্ছেন, আমার স্ত্রীকে কথাটা বললাম। আমার স্ত্রী বললেন আমাদের তো কোনও ফোঁটা নেই। কিন্তু শিশু মন সেটা কি বোঝে? তাদের সেটা বলা যাবে না। আমি চিন্তায় পরে গেলাম কি করা যায়। শেষে আমার স্ত্রীর মাথা থেকে একটা সুন্দর ভাবনার কথা আমাকে বললেন, গাছের থেকে পরম আপন ভাই আর কে হবে। তাই আমরা স্বামী স্ত্রী মিলে উদ্যোগ নিলাম আমার মেয়েরা তাদের গাছ ভাইকে ফোঁটা দেবে।অন্যদিকে ছোট্ট আরভি জানিয়েছে, এবার থেকে গাছকে ভাই হিসেবেই দেখবে। তার যত্ন করবে। প্রতিবারই ফোঁটা দেবে গাছেদের। তাদের মা রেশমা খাতুনা জানান, তাদের মুসলিম পরিবারে ফোঁটার চলন নেই। কিন্তু মেয়ের আগ্রহের কাছে হার মেনেছেন তারা। গাছের চেয়ে আপন আর দীর্ঘদিনের সাথী আর কে হতে পারে? তাই গাছকেই ফোঁটা দেওয়া হল। তাঁদের এই অভিনব চিন্তা ভাবনে মন ছুঁয়ে গেছে স্থানীয় মানুষজনের।

অক্টোবর ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

'বিরাট' এক ক্রিকেটীয় রহস্য উপন্যাসের আরও এক অধ্যায়

কখনো কখনো মনে হয় ক্রিকেট খেলাটার একটা নিরন্তর কাজ আছে। ক্রিকেট অবতার বানানোর। আবার কখনো কখনো মনে হয় কিছু ক্রিকেটারের নিজস্ব ডিউটি থাকে ক্রিকেট খেলাটাকেই কে উপাস্য বানানোর। মোদ্দা কথা এই দু ধরনের এনটিটি ই সারা পৃথিবীর সব বাইশ গজকে করে তোলে এক একটা কলোসিয়াম। আর যে দেশের ধর্মেরই নাম হয় ক্রিকেট, সে দেশের আট থেকে আশি সবাই যে এই বিয়ন্ড দ্য বেস্ট বা লার্জার দ্যান লাইফ এর রোমান্টিসমে হাবুডুবু খাবেই এ আর নতুন কি! আমরা ভাগ্যবান পিপে ভর্তি এই আনন্দের স্রোত আমাদের সিক্ত করে প্রায়ই। আজ যেমন আস্বাদিত হলাম বিরাট কিং কোহলির আঘ্রানে।নেভিল কার্ডাস সাহেবই ক্রিকেট নামক সঙ্গীতের ঠিক টিউনটা ধরতে পেরেছিলেন। রান, ফর্ম, ব্যাড প্যাচ এসব নিয়ে নয়, বিরাট কোহলিরা জন্মেছে ওই বললাম না ক্রিকেট দেবতাকে সবচেয়ে মহার্ঘ্য পরিজাতের ডালি সাজিয়ে অর্ঘ্য দেওয়ার জন্য। আমার আপনার খুশি-আনন্দ-চিৎকার-কান্না-হাসি-হার-জিৎ সব কিছু এই দেবতা-পূজারীর মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু অমোঘ- অবিনশ্বর ঘটনায় স্রেফ সাক্ষী স্বরূপ থেকে যাওয়ার জন্যই।সাবাস বিরাট।তোমার খেলা দেখতে পাওয়ার জন্য আমরা সত্যিই ভাগ্যবান।

অক্টোবর ২৪, ২০২২
রাজ্য

গোপন সুত্রে খবর পেয়ে দুই ব্যক্তিকে আগ্নেয় অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার বর্ধমান পুলিসের

আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতদের শনিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ গোদা হাইওয়ের কাছ থেকে রবিদাস নামে একজনকে আটক করে। তার কাছ থেকে একটি পাইকগান ও এক রাউণ্ড গুলি উদ্ধার হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রদীপ কুমার অধিকারী নামে আর এক ব্যক্তির খোঁজ পায় পুলিশ। তার বাড়ি শ্যামসুন্দর। রাতেই বর্ধমান থানা পুলিশ তার বাড়িতে যায় এবং তার কাছ থেকেও একটি পাইপ গান ও এক রাউণ্ড গুলি উদ্ধার করে। পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। শনিবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয় দুজনকে। রবিদাসকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ধৃত রবিদাসের বাড়ি বর্ধমানের বিসি রোড এলাকায় ও প্রদীপ কুমার অধিকারীর বাড়ি রায়না থানার শ্যামসুন্দর এলাকায়।

অক্টোবর ১৫, ২০২২
রাজনীতি

দলের আস্থায়ী কার্যালয় থেকে বোমা উদ্ধারে চাঞ্চল্য, দলীয় কোন্দল দাবী দুই গোষ্ঠীর

তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের ভিতর থেকে তাজা বোম উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। পুলিশ জামালপুরের জোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েত অমরপুর গ্রামের হিরু সেখের নির্মীয়মান বাড়ি থেকে ৯ টি তাজা বোমা উদ্ধার করে। জোৎশ্রীরাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কার্তিক ঘোষের দাবী দলীয় গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে তাদেরকে হেনস্তা করার জন্যই বোমা রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খানের গোষ্ঠীর লোকজনই এখানে বোম রেখেছে তাদের বদনাম করার জন্য। তারা প্রদীপ পাল ও অরবিন্দ ভট্টাচার্যের সঙ্গে দল করেন। তারা দলের পুরনো কর্মী।একই দাবী করেন জোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েতের সদস্যা রেবা ধারা পঞ্চায়েত সদস্য গোষ্ঠ পাল। তারা বলেন, ব্লক সভাপতি মেহমুদ খানের অনুগামীরা এই ফাঁকা অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে বোম রেখেছে। এখানে বাচ্চারাও খেলে। নির্মীয়মান বাড়ি মালিক তৃণমূল কর্মী হিরু সেখ বলেন,এখানে বোম রেখে তাদের বদনাম করা হচ্ছে।বিজেপি নেতা রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম থেকেই গোষ্ঠী কোন্দল আছে। আর এতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছে। নিজেদের মধ্যে বালির টাকার ভাগ নিয়ে অশান্তি করছে তৃণমূল নেতারা। তার ফল ভোগ করছে এলাকার বাসিন্দারা।রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি দেবু টুডু বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে বলতে পারবো। তবে পুলিশ প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই বিষয়ে জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

অক্টোবর ১৫, ২০২২
রাজ্য

ভাইরাল পোড়া পাহাড়ের 'গুহা', আদিম নাকি খনিজ সম্পদের জন্য খোঁড়া , জানুন বিস্তারিত

প্রসঙ্গ দক্ষিণ বাঁকুড়ার খাতড়া ব্লকের গোড়াবাড়ি পঞ্চায়েতের অধীন ভাইরাল হওয়া আমডিহা ও দামোদরপুর মৌজায় অবস্থিত পোড়া পাহাড়ের গুহা। কেউ বলেন কড়া পাহাড়। তবে কেউ বা কড়ো পাহাড়। তবে পোড়া পাহাড়া এই নামটা বেশি শোনা যায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে। নাম করণের ইতিহাস অবশ্য জানা নেই কারও কাছে। তবে বাসিন্দাদের একাংশের অভিমত, বর্ষা বা নিম্নচাপের সময় পাহাড়ের চূড়ার দিকে তাকালে কিছু পুড়লে যেমন ধোঁয়া হয় সেই রূপ ধোঁয়া দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায় । এই কারণে হয়তো পাহাড়ের নাম হয়েছে পোড়া পাহাড়। আমার বাড়ি থেকে পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করার সময় গ্রামের এই পাহাড়ের নাম ভূগোল এ যেদিন প্রথমবার পড়লাম সেদিন যে কি আনন্দ হয়েছিল তা বলে বোঝানো যাবেনা। এই পাহাড় কোন আদি অনন্তকালে গড়ে উঠেছে তার সঠিক তথ্য পরিসংখ্যান কেউই দিতে পারবেনা। তবে আমার গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ের উত্তর দিকে যে গুহা রয়েছে সেটি তৈরির সঠিক গল্প এলাকার অনেকেই আপনাকে বলে দেবে। গুহা নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য পরিবেশন করা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই ঝড় আছড়ে পড়েছে জেলা ছাড়িয়ে সারা রাজ্য জুড়ে । কেউ আবার ১৯৬২ সালের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য তুল ধরে আদিম যুগের সত্যতা প্রমাণ করতে চাইছেন। কোনও অধ্যাপক গবেষক বলছেন গুহাটি বহু প্রাচীন। কেউ আবার আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য উল্লেখ করে বলেছেন এলাকায় আদিম মানুষের বসবাস ছিল। তাঁরা গুহাটি তৈরি করে ছিলেন বসবাসের জন্য। কেউ বলছেন এখানে নাকি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু আসতেন। ওই গুহায় বসে বোমা বাঁধতেন। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী কংসাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় আদিম যুগের কোনও নিদর্শন থাকলেও পোড়া পাহাড়ের গুহার সঙ্গে আদিম যুগের কোনও যোগ নেই। কারণ, গুহাটি যাঁরা নিজের হাতে ড্রিল করে পাথর কেটে তৈরি করেছেন তাঁরা সবাই এখনও মরে যায়নি। আর যাঁরা সেখানে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন তাঁদের অনেকে এখনো জীবিত সুস্থ সবল আছেন। গুহায় কাজ করা সেইসব শ্রমিকদের অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরছি আপনাদের কাছে ।ছোট বেলায় বাবার (ঁশঙ্কর চন্দ্র মাহালী) কাছে শুনেছিলাম পাহাড়ে পাথর কেটে গুহা তৈরি হয়েছে। আমার বৃদ্ধা মা বিশাখা মাহালীর (৭৭) কাছে পাহাড়ে গুহা তৈরির বিষয়ে একদিন জানতে চেয়ে ছিলাম। মা বলেছিলেন বিয়ের বেশ কিছুদিন পর পাহাড়ে কোনও ধাতু উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময়ই গুহাটি তৈরি হয়। আগে কোনও গুহা ছিলোনা বলে শুনেছি। আমার গ্রাম কুঁড়েবাকড়া (আমডিহা) ও পাশাপাশি গ্রামে খোঁজখবর নিতে শুরু করলে অনেকেই জানিয়েছেন এই তো সেদিন গুহাটি তৈরি হয়েছে।কুঁড়েবাকড়া গ্রামের বাসিন্দা আসরফ আলি (৬৫), বড়মেট্যালা গ্রামের আলোক কুমার মাহাতো (৬২), বিশ্বনাথ রজক, মাইলিহীড় গ্রামের কৃষ্ণপদ বাস্কে সহ অনেকেই জানালেন পোড়া পাহাড়ে কোনও গুহা ছিলোনা। এই তো সেদিন গুহাটি তৈরি হল। কিশোর বয়েসে নিজেরা গুহা তৈরির কাজ দেখেছি । ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে যে গুহার বয়স এখন পঞ্চাশ -পঞ্চান্ন বছরের বেশি কিছুতেই নয়। আমরা দাঁড়িয়ে থেকে গুহা তৈরির কাজ দেখলাম। আর কোথা থেকে কে একদিন বেড়াতে এস দাবি করছেন তিনিই নাকি গুহার আবিষ্কারক। তাঁরা জানান জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এই পাহাড় থেকে উলফার্ম নামে এক প্রকার ধাতু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিল । সেই সময় স্থানীয় বেশকিছু যুবককে এই কাজে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ করেছিল । যাঁরা প্রথম দিন থেকে কাজ করেছেন এবং এখনো সুস্থ স্বাভাবিক জীবিত আছেন তাঁরা হলেন খাতড়া ব্লকের খাতড়া ২ পঞ্চায়েতের বড়মেট্যালা গ্রামের বাসিন্দা দশরথ মাহাতো (৭০)। মাইলিহীড় গ্রামের বাসিন্দা নগেন্দ্রনাথ ভুঁইয়া (৭০)। বড়মেট্যালা গ্রামের অনিল মাহাতো, তিলাবনী গ্রামের কৃষ্ট মাঝি, দাঁড়শোল গ্রামের শিবু মাহাতো, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মাহাতো।পাহাড়ে গুহা খননের দিন থেকে কাজ করে পরে ভারত সরকারের জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এর মাইনিং বিভাগে যিনি চাকরি করেছেন তিনি দাঁড়শোল গ্রামের বাসিন্দা নিমাই বাউরি। তিনি জানান, ১৯৬৮ সালের এপ্রিল মাসে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এর মাইনিং ডিভিশন গুহা খননের কাজ শুরু করেছিল। প্রায় দুই তিন বছর কাজ হয়েছে। খননের আগে পাহাড়ে কোনও গুহা ছিলোনা। জি গোরাচারি নামে একজন মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারের আন্ডারে কাজ হয়। আমি টেকনিক্যাল লাইনে কাজ করতাম। দু বছর কাজ হওয়ার পরও বাণিজ্যিকভাবে কোনও সফলতা না পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখান থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে তারা চলে যায় রাখামাইনসে। গত প্রায় ১০ - ১২ বছর আগে নিমাইবাবু অবসর গ্রহণ করে এখন বাড়িতে আছেন।এঁদের মধ্য থেকে উলফার্ম উত্তোমনের কাজে ড্রিল হেল্পার হিসাবে যিনি কাজ করেছেন সেই দশরথ মাহাতো জানিয়েছেন। তাঁর বয়স যখন ১৬ - ১৭ বছর সেই সময় জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কর্মীরা তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় হাফ (আধ) কিলোমিটার দূর দাঁড়শোল গ্রাম সংলগ্ন তিলাবনী মৌজায় ক্যাম্প করে থাকতেন। যে দিন তাঁরা প্রথম সেখানে এলেন সেই দিন গ্রামের অনেকের সাথে কৌতুহল নিয়ে হাজির হয়ে ছিলাম। বিকাল নাগাদ তাঁরা যখন সেখানে তাঁবু খাটানোর কাজ করছিলেন সেই সময় ধরাধরি করে দিতে বলেছিলেন কোনও একজন অফিসার। আমরা কয়েকজন তাঁবু খাটানোর কাজে সাহায্য করে ছিলাম তাঁদের। তাঁবু খাটানোর কাজ শেষে পরের দিনও যেতে বলে ছিলেন। ক্যাম্পে ২২ টি তাঁবু খাটানো হয়েছিল। সেখান থেকেই পাহাড়ে কাজ করার জন্য যেতে বলে ছিলেন তাঁরা। এলাকার ৩০ জন যুবককে পাহাড়ে কাজ করার জন্য নেওয়া হয়েছিল । ক্যাম্প থেকে প্রায় দুই কিলোমটার পোড়া পাহাড়ে গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে যেত। পাশাপাশি গ্রামের যাঁরা ছিলেন হেঁটে যেত। ওই ক্যাম্পে সরকারি কর্মচারী ছিলেন ২২ জন।আলোককুমার মাহাতো নামে এক ব্যক্তি জানান, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে যখন ক্যাম্প হয়েছিল সেই সময় আমরা সেখানে যেতাম। ওই সময় ১০-১১ বছর বয়স ছিল। ক্যাম্পে সিংবাবু নামে এক ড্রাইভার ছিলেন। গাড়িতে করে তিনি কংসাবতী নদীর কেচন্দা ঘাট থেকে ক্যাম্প ও পাহাড়ে ব্যবহারের জন্য জল আনতেন। কারণ, ক্যাম্পে কোনও জলের ব্যবস্থা ছিলোনা। নদীতে জল আনতে যাবার সময় গাড়িতে চাপতে চাইলে নিয়ে যেতেন। আবার পাহাড়ে কাজের জায়গায় যেতে চাইলে সেখানেও নিয়ে যেতেন। তাই শুরু থেকেই গুহা খননের কাজ দেখেছি।দশরথ মাহাতো জানান, মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার দাসগুপ্তবাবুর অধীনে ড্রিল হেল্পার হিসাবে কাজ করতাম। মাসে ৩০০ টাকা মজুরি ছিল। তিনি জানান পাহাড়ের উত্তর পশ্চিম কোনায় পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা কালো রং এর একটি বড় প্রাচীরপাথর আছে। ওই পাথরের উত্তর দিক থেকে ড্রিল করে প্রথম উলফার্ম সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরু করার সময় প্রত্যেককে মাথায় টুপি (হেলমেট), পায়ে ফুল সু (জুতো) পরে নিতে হতো। পাথরে এক সঙ্গে ১৮ টি ড্রিল করে তাতে ডিনামাইট দিয়ে পাথর বার্স্ট করা হতো। এই কাজ করতেন অফিসারদের মধ্যে শিবশঙ্কর দাস নামে এক ব্যক্তি। কালো প্রাচীরপাথরের স্তরটি যে দিকে গিয়েছে সেই দিকেই পাথরটি ড্রিল করে ডিনামাইট দিয়ে বার্স্ট করে একটু একটু করে কেটে গুহাটি ভিতরের দিকে ঢুকেছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ছয় ফুট উচ্চতা এবং সাড়ে পাঁচ ছয় ফুট চওড়া গুহার ভিতরে কাজ করতে হতো। ভিতরে সম্পূর্ণ দাঁড়িয়ে কাজ করা যেত না কিছুটা ঝুঁকে কাজ করতে হতো। পাথরের আয়তন অনুযায়ী সব জায়গায় সমান ভাবে পাথর কাটা যায়নি। কোথাও বেশি আছে তো কোথাও একটু কম আছে। গুহার ভিতর অন্ধকার থাকায় কার্বাইট ল্যাম্প দেওয়া হতো। সেই আলোতে কাজ করতে হতো। উলফার্ম টুকরো (কালো পাথর) সংগ্রহ করে কাপড়ে মুড়ে সেগুলিকে তাঁরা বাইরে পাঠাতেন। কেটে কেটে ভিতরে ঢোকার সময় কালো পাথর ছাড়া ভিতরে যে মাটি ও পাথর বালি জমা হতো ট্রলিতে করে সেগুলিকে ভিতর থেকে বের করে ফেলা হতো। মূল গুহা ছাড়াও প্রাচীরপাথর যে দিকে যতটুকু গিয়েছে সেই দিকে ততটুকু পাথর কেটে শাখা গুহা তৈরি হয়েছে। ভিতের এই রকম আট-দশটি শাখা গুহা আছে। প্রাচীরপাথরটি প্রায় আড়াই থেকে তিন চেন অর্থাৎ আড়াই থেকে তিনশো ফুট গুহাটি কাটা হয়েছে। ড্রিল করে পাথর কাটার আগে ড্রিল মেশিন দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠানো হতো। সেখান থেকে নির্দেশ এলে তবেই পাথর কাটা হতো। প্রায় দুই-তিন বছর কাজ করার পর দেখা গেল যে পরিমাণ খরচ হচ্ছিল সেই খরচটুকুও সেখান থেকে উঠছিলো না। ফলে পোড়া পাহাড় থেকে উলফর্ম সংগ্রহের কাজ বন্ধ করে তাঁরা অন্য জায়গা চলে যায়।খাতড়া ২ পঞ্চায়েতের মাইলিহীড় গ্রামের বাসিন্দা নগেন্দ্রনাথ ভুঁইয়া (৭০) জানান ২০-২২ বছর বয়সে কাজে যোগ দিয়ে ছিলেন তিনি। ভিতরে ডিনামাইট বার্স্ট করার পর ভিতরে ঢুকে পাথর মাটি ট্রলিতে করে বাইরে আনা হতো। ট্রলি যাতায়াতের জন্য ট্রেন লাইনের মতো লাইন ছিল। লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ট্রলি ছিল রিভলভিং। যে দিকে ইচ্ছা ঘোরানো যেত। পাহাড়ে যেখানে উলফার্ম তোলার কাজ চলছিল সেখানে জলের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পাহাড়ের ঢালে সিমেন্টের বাঁধ দিয়ে জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কংসাবতী নদী থেকে গাড়িতে (ট্যাঙ্ক) জল এনে সেখানে চৌবাচ্চায় ঢেলে রাখা হত। সেই জল দিনভর বিভিন্ন কাজে এবং পাথরে ড্রিল করার কাজে ব্যবহার হতো। পাহাড়ে গুহার অদূরে জল ধরে রাখার জায়গাটি আজও সম্পূর্ন অক্ষত আছে।দশরথবাবু জানান, এই পোড়া পাহাড়ে যাঁরা কাজ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে আমডিহা গ্রামের ঁবলাই মাহাতো, চিত্তরঞ্জন মাহাতো, কুঁড়েবাকড়া গ্রামের প্রয়াত হাবু শেখ, বড়মেট্যালা গ্রামের দশরথ মাহাতো, রবি রজক, গৌর সর্দার, জগত সর্দার, গৌর সর্দার (দ্বিতীয়), গতি মাহাতো, ছোটমেট্যালা গ্রামের ঁরতন মাহাতো, অনিল মাহাতো, দাঁড়শোল গ্রামের গুহিরাম মাহাতো, রঞ্জিত মল্লিক (কাঁদরু), ঁননিগোপাল সর্দার, নিমাই বাউরি, গাঁঠিরাম মাহাতো , শিবু মাহাতো, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মাহাতো, রানিবাঁধ থানার ধাদকিডিহি গ্রামের সুধীর মাহাতো, ভেলাইগোড়া গ্রামের ঁধরম মান্ডি, মাইলিহীড়, নগেন ভুইয়া, ঁপবিত্র ভুঁইয়া, তিলাবনী গ্রামের, ঁলস্কর বাস্কে, কৃষ্ণ মাঝি সহ ৩০ জন যুবক কাজ করতেন। কাজ বন্ধ করে সরকারি কর্মীর এখান থেকে চলে যাবার সময় তাঁদের নিয়ে যেতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু এখান থেকে কেউ যেতে রাজি হয়নি। দাঁড়শোল গ্রাম থেকে নিমাই বাউরি ও ননিগোপাল সর্দার নামে দুজন ব্যক্তি গিয়েছিলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে তাঁদের স্থায়ী চাকরি হয়ে যায়। এদের মধ্যে কয়েক বছর আগে ননিগোপাল সর্দার মারা যান। নিমাই বাউরি এখনো সুস্থ স্বাভাবিক আছেন।পরিশেষে বলি গুহা নিয়ে মানুষের কাছে মিথ্যা ভূল তথ্য পরিবেশন না করে আসুন সঠিক তথ্য তুলেধরে বাঁকুড়ার পর্যটন মানচিত্রে আরও একটি নতুন পালকের সংযোজন করতে উদ্যোগী হই আমরা সকলে। মুকুটমণিপুর পর্যটন কেন্দ্র থেকে মাত্র চার সাড়ে চার কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে পোড়া পাহাড়। অপরদিকে পাহাড় সংলগ্ন কুরকুটিয়া ডুংরি (টিলা)। তার মধ্যখানে সুন্দর ঝিল, অদূরেই পাহাড় সংলগ্ন কৃপাসিন্ধু আশ্রম এবং মন্দির। এখানকার সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের যে মনকাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মুকুটমণিপুরে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সেখানে ঢোকার আগে বা পরে পাহাড়, গুহা, ঝিল, মন্দির দর্শন করে যেতে পারেন । ইচ্ছা করলে ঝিল সংলগ্ন প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে পিকনিক করতে পারবেন অনায়াসে। তাহলে আর দেরি কেন, এই মরসুমে যাঁরা মুকুটণিপুরে বেড়াতে আসার মনস্থির করছেন তাঁরা পোড়া পাহাড়ের গুহা দেখে যাবার কথা অবশ্যই ভেবে রাখুন।(সুশীল মাহালীর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া)

অক্টোবর ১৫, ২০২২
রাজ্য

বিদায়ী বর্ষার ব্যপক বর্ষনে সংকটে শস্যগোলা। চরম ক্ষতির শঙ্কায় চাষীরা

গত তিনদিন ধরে দফায় দফায় বৃষ্টিপাতের জেরে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের কয়েকটি এলাকায় ধানজমি জলমগ্ন হয়েছে। ফলে কৃষকরা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। জমিতে ধানগাছে থোর আসতে শুরু করেছে সেসব ধানগাছ জলমগ্ন হয়ে থাকলে গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার কৃষকরা। আউশগ্রামের সোমাইপুর ও আউশগ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় বেশকিছু ধানজমি জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ওই এলাকায় পাঁচটি বড় নালা এক জয়গায় এসে মিশেছে। স্থানীয় এলাকায় পঞ্চগঙ্গা নামে পরিচিত ওই নিচু জলাভূমি এলাকা।গত তিনদিন দফায় দফায় বৃষ্টিপাতে পঞ্চগঙ্গা সহ তার আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। জলে ডুবে যায় প্রচুর ধানজমি। এছাড়া আউশগ্রামের কুনুর নদীর সংলগ্ন সিলুট, বসন্তপুর এলাকায় বেশকিছু ধানজমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। বৃষ্টির জেরে কুনুর নদীর জলও বেড়েছে। নদী ছাপিয়ে এলাকা প্লাবিত। ওই এলাকার কৃষকরাও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা আশিষ কুমার বারুই বলেন, এখনও পর্যন্ত যা বৃষ্টি হয়েছে তাতে ধানের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বরঞ্চ সেচের জলের অভাবটা অনেকটাই মিটবে। কৃষকদের সুবিধা হবে বলে তিনি জানান।

অক্টোবর ১৪, ২০২২
রাজ্য

ছেলে ধরা সন্দেহে তিন মহিলাকে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ

ছেলে ধরা সন্দেহে তিন মহিলাকে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে বর্ধমান থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।পুলিশের পক্ষ থেকে মহিলাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্ধমান শহরের বিধানপল্লী ঘোষপাড়া এলাকার ঘটনা।স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে রক্ষাকালী পুজোর চাঁদার নাম করে তিন মহিলা বিধানপল্লীর ঘোষপাড়ায় ঢোকে। অভিযোগ বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে একটি ৩ বছরের বাচ্চাকে নিয়ে পালানোর সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। কোথায় ও কি জন্য বাচ্চাটিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো মহিলাদের থেকে তার কোনো সদুত্তর না মেলায় স্থানীয়রা তাদের মারধর করে এমনকি মাথার চুল পর্যন্ত কেটে দেয় বলে অভিযোগ।পরে পুলিশ পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।যদিও অভিযুক্ত মহিলাদের দাবী, তারা পুজোর জন্য ভিক্ষা সংগ্রহ করতেই এলাকায় গিয়েছিল। মিথ্যা অভিযোগে তাদের হেনস্থা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। মহিলাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধমূলক কাজ কর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ১৩, ২০২২
রাজ্য

সুর কাটলো কার্নিভালের, ক্ষোভ উগরে দিয়ে মঞ্চ ত্যাগ পুরসভার চেয়ারম্যানের, জেলাশাসকের প্রশংসা

কার্নিভালের মঞ্চ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেমে গেলেন বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার। তিনি বলেন, কার্নিভাল খুব ভাল হচ্ছে আমার কারো বিরুদ্ধে ক্ষোভ বা রাগ নেই। আমার একটাই দুঃখ৷ দুমাস ধরে পৌরকর্মীরা কার্নিভালের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এদিন কার্নিভালের মঞ্চ থেকে একবারের জন্যও পৌরকর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হলো না। তিনি বলেন, রাস্তা পরিস্কার করা থেকে দুর্গাপুজো ও কার্নিভালের জন্য সবকিছু প্রস্তুত করেছে দু-আড়াই হাজার পৌরকর্মী। পৌরকর্মী ও আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানানো হল না এটাই আমার দুঃখ। আমি একজন সামান্য শিক্ষক, আমার বয়স হয়েছে তাই আমি কারো অন্যায়টা গিলতে পারিনা। এরপর তিনি আর মঞ্চে ওঠেননি।এখানে উল্লেখ্য রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বর্ধমান শহরেও কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন করেন মুম্বাইয়ের চলচিত্র অভিনেতা চাঙ্কি পাণ্ডে।এবিষয়ে জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানান, তারা পৌরসভার কাছে কৃতজ্ঞ। কার্নিভাল খুব ভাল ও সাক্সেস হয়েছে। জেলাশাসক জানান, আজকের কার্নিভালে ৩০টি পূজা কমিটি অংশগ্রহণ করেছে। মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখে তিনি এ খুশি সে কথাও তিনি জানান। পরবর্তি সময়ে আরও বড়ো ভাবে কার্নিভাল করার কথাও তিনি ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, পরের বছর জেলার অন্যান্য সাব-ডিভিশন থেকেও দুর্জাপূজা কমিটি গুলিকে আহ্বান করবেন এই কার্নিভালে অংশগ্রহণ করার জন্য। জেলাশাসক জানান এই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। সেদিন ইউনেস্কোর আমাদের বাংলার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ ঘোষণা করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপন র্যালি করা হয়েছিলো বর্ধমান শহরে। শুক্রবারের অনুষ্ঠানটিকে সফল করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

অক্টোবর ০৭, ২০২২
রাজ্য

দেবীর নয়টি রূপের নব-কুমারী পুজো বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে

কোভিড বিধি শিথিল হতেই সেই পুরনো ছন্দে ফিরেছে উৎসব।ছন্দে ফিরেছে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির। প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই নবমীর দিনে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। যদিও অন্যান্য জায়গায় অষ্টমীতে কুমারী পুজো হলেও এখানে নবমী তিথিতেই নজন কুমারীকে দেবী দুর্গার নটি রূপে পুজো করা হয়ে থাকে। দেবীর নটা রূপের বিভিন্ন কুমারীরা হলেন, কালিকাঃ প্রত্যুষা ভট্টাচার্য, সাগ্নিকা মিশ্রঃ মালিনী, প্রত্যাশা চক্রবর্তীঃ সুভগা,কব্জিকাঃ রীতবৃতি ব্যানার্জী,কালসন্দর্ভাঃ মেঘা রায়,বর্ণিতা মুখার্জিঃ মালিনী,কালসন্দর্ভাঃ ঐশী মুখার্জি, পৌষালী চক্রবর্তীঃ মালিনী আর উমাঃ সুর্বণা ব্যানার্জী। নবকুমারী পুজোর জন্য অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন মন্দিরে বেশ ভিড় দেখা যায় মন্দিরে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,বর্ধমানের রাজপরিবারের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির অন্যতম। বাহির সর্বমঙ্গলা অঞ্চলে বাস করা চুনুরীদের কাছ থেকে পাওয়া কষ্ঠি পাথরের অষ্টাদশী ভূজা দেবী মূর্তি বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। ১৭৪০ সালে রাজা কীর্তি চাঁদ অষ্টাদশী দেবী মূর্তিকে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে মহতাব চাঁদ এই মন্দির তৈরী করেন। রাজা নেই তো কি হয়েছে, রাজার নিয়ম নীতি সবই এখনও বর্তমান। পুজোর দিনগুলোয় ঐতিহ্য মেনে অক্ষরে অক্ষরে মানা হয় সেই রাজ পারিবারের রীতিনীতি। নিয়ম নিষ্ঠায় কোনও নড়চড় হয় না। বর্ধমান শহর ছাড়িয়ে জেলা ও ভিন জেলার বহু ভক্ত এদিন নবকুমারী পুজোয় উপস্থিত হন।জমিদারি প্রথা বন্ধ হলে, ১৯৫৯ সালে তৎকালীন মহারাজ উদয় সিংহ একটি ট্রাস্টি বোর্ড তৈরি করেন এবং তাদের হাতেই মন্দিরের দায়িত্ব তুলে দেন তিনি। এরপর থেকে আজও এই পুজো এবং মন্দিরের দায়িত্ব নিয়ম মেনে পালন করে চলেছে এই ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা।অন্যান্য অনেক জায়গায় অষ্টমী তিথিতে কুমারী পুজো আয়োজন করা হলেও যেহেতু এখানে নবরাত্রি পুজো হয়। তাই নবমী তিথিতে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কুমারী পুজো হয়ে আসছে।ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, একেবারে নিয়ম মেনেই এখানে নব কুমারী পুজো হয়। কোভিডের জন্য গত বছর শুধুমাত্র একজন কুমারীকে পুজো করা হয়। কিন্তু এবার ৯ জন কুমারীকেই পুজো করা হচ্ছে। এদিন পুজো শেষে মালসায় করে ভোগ বিতরণ করা হয়।

অক্টোবর ০৪, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 35
  • 36
  • 37
  • 38
  • 39
  • 40
  • 41
  • ...
  • 92
  • 93
  • ›

ট্রেন্ডিং

শিক্ষা

সাহিত্য, বিজ্ঞানচিন্তা ও সৃজনশীলতার আলোকবর্তিকা ‘INSPIRE 2026’

সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিজ্ঞানচিন্তা, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে বর্ধমান শহরে সূচনা হল বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক প্রদর্শনী INSPIRE - 2026। নতুনকে জানার কৌতূহল, অজানাকে আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্নসব মিলিয়ে প্রথম দিনেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠল এক টুকরো জীবন্ত বিজ্ঞানভুবন।বর্ধমান মডেল স্কুলের উদ্যোগে এবং Oriental Association for Education and Research (OAER)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় যথেষ্ট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ১৪ আগস্ট ২০২৬ ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর শুভ সূচনা করেন। প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ ই আগস্ট পর্যন্ত।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ও OAER এবং বর্ধমান মডেল স্কুলের পরিচালক ও আধিকারিকবৃন্দ। তবে অনুষ্ঠানের প্রকৃত প্রাণ হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের খুদে ও তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কল্পনা, অনুসন্ধিৎসা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতিফলন ছড়িয়ে ছিল প্রদর্শনীর প্রতিটি প্রান্তে। কোথাও বিজ্ঞানের জটিল সূত্র পেয়েছে সহজবোধ্য মডেলের রূপ, কোথাও প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিলেমিশে তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ছবি। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাট্যচর্চার নানা আয়োজন প্রদর্শনীকে দিয়েছে আরও বহুমাত্রিক রূপ।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র INSPIRE - 2026 -এর উদ্দেশ্য এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, তিনদিনের এই প্রদর্শনীর নামকরণই যেন তার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রকাশ করেINSPIRE - 2026। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীতে এসে বোঝা যায়, আগামী প্রজন্মের প্রতিভা কতটা বিস্ময়কর। শিক্ষকদের সহযোগিতা থাকলেও ভাবনার মূল উৎস যে শিক্ষার্থীরাই, তাঁদের তৈরি মডেল, তাঁদের ব্যাখ্যা এবং দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আত্মবিশ্বাসই তার প্রমাণ।শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখে মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথাও জানান। তাঁর উপলব্ধিআজকের প্রজন্মের কাছ থেকে শেখার মতো এখনও অনেক কিছুই বাকি। তাঁর কথায়, একসময় ছিল আমাদের প্রজন্ম, তারপর এল কম্পিউটারের যুগ, আর এখন আমরা প্রবেশ করেছি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নতুন প্রজন্মকে শেখানো নয়, তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কারণ, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করবে এই নতুন প্রজন্মই।সাংবাদিকদের রিয়েল জেন জি প্রসঙ্গেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, ছাত্রছাত্রীরাই ভবিষ্যৎতারা সতেজ, সৃষ্টিশীল এবং সম্ভাবনাময়। বাংলা তথা ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি নিহিত রয়েছে তাদের মধ্যেই। তাই তাদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করাই প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান থাকলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের কথা শোনা এবং তারা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে, কী চায়তা জানা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন তাঁর পরবর্তী উদ্যোগআড্ডা উইথ জেন জি।মন্ত্রী বর্ধমান মডেল স্কুলের সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং INSPIRE - 2026 -এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।বিদ্যালয়ের কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল-এর বক্তব্যেও উঠে আসে সময়ের সঙ্গে পথ চলার অপরিহার্যতার কথা। তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি, সময়ের সঙ্গে তাল না মেলাতে পারলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের আধুনিকতম শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ধমান মডেল স্কুল কখনও পিছিয়ে থাকেনি, ভবিষ্যতেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমী সকলকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার উন্মেষ প্রত্যক্ষ করার আহ্বান জানান তিনি।OAER-এর অন্যতম সদস্য সত্যরাজ আদিত্যাংশু মেদ্দা-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিপিন বিহারী সিং ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট আয়োজিত INSPIRE-এ অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্রছাত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা ছাড়া এই আয়োজন কখনও সার্থক হয়ে উঠত না।তবে INSPIRE 2026 কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; বরং এটি যেন শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার এক বর্ণময় ক্যানভাস। সাহিত্য, ইতিহাস, ভাষা, নৃত্য, সঙ্গীতের পাশাপাশি নাট্য ও আবৃত্তির আয়োজনও রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।নাট্য ও আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষিকা এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সুদেষ্ণা আচার্য জানান, এবারের পরিবেশনায় থাকছে প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার মনোজ মিত্রের কালজয়ী নাটক নরক গুলজার। ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং গভীর সামাজিক বাস্তবতার অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সেই নাটক নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসও INSPIRE - 2026 -এর সাংস্কৃতিক পরিসরকে করেছে আরও অর্থবহ।বর্ধমান মডেল স্কুলের নৃত্য বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা প্রখ্যাত কত্থক শিল্পী তুনা রুদ্র জানান, এবারের তাঁদের থিম The Rhythm of Togetherness এটি Dance ও Sociology বিভাগের এক অনন্য যৌথ উপস্থাপনা, যেখানে নৃত্য ও সমাজবিজ্ঞানের নিজস্ব ভাবনাগুলি সুন্দরভাবে একসূত্রে মিলিত হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চিত্র। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতি, খাদ্য, পোশাক ,সংস্কৃতি ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন হলেও আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়আমরা ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্যই আমাদের শক্তি ও গর্ব।বিভিন্ন মডেল ও চার্টের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে।নৃত্যের ছন্দ এবং সমাজবিজ্ঞানের ভাবনাদুইয়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে The Rhythm of Togetherness আমাদের মনে করিয়ে দেয় বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয়, ঐক্য আমাদের শক্তি।সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই Inspiring Thoughts, Creating Futureএই মূলমন্ত্র যেন বাস্তব রূপ পেল INSPIRE - 2026-এর প্রাঙ্গণে। এখানে বিজ্ঞান কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় আবদ্ধ নয়, প্রযুক্তি কেবল যন্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, আর সৃজনশীলতা কেবল কল্পনার জগতে বন্দি নয়। বরং তিনটির সম্মিলিত শক্তিতে শিক্ষার্থীরা আঁকছে আগামী দিনের ছবি।নতুন ভাবনার অঙ্কুর, উদ্ভাবনের সাহস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের স্বপ্নকে সামনে রেখে বর্ধমান মডেল স্কুলের এই আয়োজন তাই নিছক একটি বার্ষিক প্রদর্শনী নয়এ যেন আগামী দিনের সম্ভাবনাময় প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের এক উজ্জ্বল মঞ্চ।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

নির্মলকে ঘিরে থানা চত্বরে তুমুল উত্তেজনা, ডিম-জুতোর মালা! অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দিতে কী উঠে এল?

ওড়িশা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই থানার বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্মলকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ থানার সামনে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে এবং গান বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়।বারাকপুর মহকুমা আদালতে নির্মল ঘোষকে পেশ করার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। সেই কারণে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে থানা থেকে বের করা হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক জন নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। তাঁর দিকে জুতোর মালাও ছোড়া হয়। এমনকি তাঁকে চড় এবং লাথি মারার অভিযোগও উঠেছে।অন্যদিকে, শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে অভয়ার বাবার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ওই রাতের ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখছেন।গত ৯ অগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর পর শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই অভয়ার বাবা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগ দায়েরের মাত্র দুদিনের মধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মোবাইলের টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তাঁর সন্ধান পায় রাজ্য পুলিশ। সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্যে ওই হোটেলে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়।এরপর তাঁকে ওড়িশার আদালতে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নির্মল ঘোষকে খড়দহে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানঘাটের ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে অভয়ার প্রতিবেশী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নির্মল ঘোষের গ্রেফতারের পর অভয়ার বাবা ও মায়ের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। শ্মশানঘাটে সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, নির্মল ঘোষ এবং সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের পরেই তা স্পষ্ট হবে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

বেরনোর সুযোগও পেলেন না! চামোলির সুড়ঙ্গে আচমকা জলস্রোত, মৃত্যু ৭ শ্রমিকের, আটকে আরও ২

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা তীব্র জলস্রোত ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও দুই শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরদার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ চামোলির পিপলকোটির মায়াপুরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শিফট বদলের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবল জলস্রোত ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে জল ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ২২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। রাতেই বেশ কয়েক জন শ্রমিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাত হয়েছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনার উদ্ধারকারী দল। সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল বের করতে পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।আহত শ্রমিকদের স্থানীয় গোপেশ্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা গুরুতর, তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।উদ্ধারকারী দল আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলস্তর কমিয়ে আটকে থাকা দুই শ্রমিককে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসাই এখন প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই তাঁদের পরিবারের উৎকণ্ঠা বাড়ছে।ঘটনার পর উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঠিক কী ভাবে এত বিপুল জল সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি সুমিত রায়ের, বুধবার পর্যন্ত গ্রেফতার নয়! পরের শুনানিতে কী হবে?

সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচের মেয়াদ বুধবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৯ অগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে সুমিত রায়ের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদনের শুনানি হয়। আদালতে সুমিতের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ জানান, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন তাঁর মক্কেল। গত আট দিনে তাঁকে ছয় বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। প্রতিবারই তিনি তদন্তকারীদের কাছে হাজির হয়েছেন এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন।সুমিতের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। একই সঙ্গে তদন্ত কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চায় আদালত।তদন্তের অগ্রগতি এবং জিজ্ঞাসাবাদে কী কী তথ্য উঠে এসেছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য সময় চান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। সোমবার পর্যন্ত সময় চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করে। এরপরই জানানো হয়, বুধবার মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। সেই পর্যন্ত সুমিত রায়ের গ্রেফতারির উপরও রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন সুমিত রায়। তবে শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলায় আগাম জামিন না মেলায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ওই মামলায় তাঁর গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।এ ছাড়াও জমি ও চাকরি সংক্রান্ত মামলার বাইরে সুমিতের বিরুদ্ধে আরও চারটি এফআইআর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণে গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। দ্রুত শুনানির আবেদনও করা হয়েছিল। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেননি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। নিয়ম মেনেই পরে মামলাটি শুনানি হতে পারে।এই পরিস্থিতিতে সুমিত রায়ের জন্য আপাতত স্বস্তি এনে দিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। বুধবারের শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি এবং সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
কলকাতা

বঙ্গবিভূষণ গেল, কয়েক ঘণ্টাতেই সুরবদল! নেতাজি মন্তব্যে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ অনন্ত মহারাজের

বঙ্গবিভূষণ সম্মান হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। সমাজমাধ্যমে ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কোনও অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যে কেউ মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক চলছিল। তাঁর বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, নেতাজিকে অপমান করলে তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর পর বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেয়। মমতা সরকারের আমলে গত ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।তবে সম্মান প্রত্যাহারের পরেও প্রথমে নিজের বক্তব্যের পক্ষেই সাফাই দিয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি ছিল, তিনি নেতাজিকে অপমান করেননি। ইতিহাসে থাকা কিছু তথ্যই তিনি মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, নিজের বক্তব্যে কোনও মনগড়া তথ্য বা মিথ্যা যোগ করেননি তিনি।অনন্ত মহারাজ আরও দাবি করেছিলেন, তিনি যে সময়ের কথা বলেছেন, সেই সময়ে তাঁর জন্মই হয়নি। তাই সেই ইতিহাস নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখাকে তিনি অপরাধ বলে মনে করেন না। তবে ভুল হয়ে থাকলে আইনি পথে শাস্তি দেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই অবশ্য তাঁর সুর বদলে যায়। সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিওবার্তায় অনন্ত মহারাজ বলেন, নেতাজির প্রতি সম্মান রেখেই তিনি দুঃখপ্রকাশ করছেন। তাঁর বক্তব্যের কোনও অংশে কেউ মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তার জন্য তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত বলেও জানান।ফলে বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পর অনন্ত মহারাজের এই দুঃখপ্রকাশকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এক দিকে তাঁর আগের বক্তব্য, অন্য দিকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনাদুই অবস্থান নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এখন এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কোনও আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয় কি না, সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১৪, ২০২৬
দেশ

গুরুদ্বারের সামনেই সুখবীর বাদলকে কোপ! পেটে হামলার চেষ্টা, রক্তাক্ত প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের নন্দেদে অকালি দল প্রধান তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের উপর আচমকা হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। হামলায় হাতে চোট পেয়েছেন সুখবীর বাদল। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, নন্দেদের একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। গুরুদ্বারের সামনেই আচমকা এক ব্যক্তি সুখবীর বাদলের দিকে এগিয়ে এসে হামলা করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হামলাকারী তাঁর পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। হামলার সময় সুখবীর বাদলের হাতে চোট লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন।ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে নন্দেদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। হামলার সময় তাঁর স্ত্রী তথা অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সুখবীর বাদলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে তাঁর ডান হাতে কাপড় বাঁধা দেখা যায়।হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর নাম যশপাল সিং বলে জানা গিয়েছে। তিনি নিহাঙ্গ শিখ বলে সূত্রের দাবি। হামলায় কৃপাণ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। যশপাল সিং গত দুই বছর ধরে তখত শ্রী হাজুর সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।সুখবীর বাদলের উপর এই প্রথম হামলার চেষ্টা নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।ফলে নন্দেদের এই হামলার পর নতুন করে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী কারণে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে হামলা করা হল এবং এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে আগুন! ছ’শো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা, আরও পাঁচশো আটক

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের আঁচ আরও বাড়ল। গত সোমবার বিধানসভা অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ৬০০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনের নাম এফআইআরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর।গত প্রায় ২০ দিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন করছেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চ-এর ব্যানারে চলছে লাগাতার বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।আন্দোলনকারীরা নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করে অভিযোগের তদন্ত করা হোক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তাঁরা।সোমবার বিধানসভা অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। এর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিজেপি রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দেয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালে আবগারি কনস্টেবল পদের শারীরিক পরীক্ষায় মৃত্যু হওয়া ১৯ জন চাকরিপ্রার্থীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।এই ইস্যুতে বিজেপির ছাত্র সংগঠনও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এখন শুধু ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, জাতীয় স্তরেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে জোট সরকারের শরিক কংগ্রেসের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির ছাত্র সংগঠন আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে। এক দিকে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, অন্য দিকে পুলিশের মামলা এবং বিরোধীদের চাপসব মিলিয়ে হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

‘আপনারা না পারলে আমরা করে দেখাব’, প্যাকেটজাত খাবার নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হলে তার গায়ে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকা উচিতএই বিষয়টি ফের মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের গড়িমসি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। এমনকি কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপের কারণে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র বা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা নরম মনোভাব দেখাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে পি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য জড়িত। তাই কোনও শিল্পগোষ্ঠীর চাপের কারণে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।মামলাকারীর পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পমহলের আপত্তি রয়েছে। সেই কারণেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাকারীর আইনজীবী আরও জানান, গত ৭ মার্চ খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে অবশ্য শিল্পমহলের আপত্তির কথা আদালতে জানানো হয়। তাদের প্রস্তাব ছিল, প্যাকেটের গায়ে সরাসরি সতর্কবার্তা না দিয়ে প্রতিদিন কতটা অতিরিক্ত চিনি, নুন বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া উচিত, সেই পরিমাণ উল্লেখ করা যেতে পারে।কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ব্রিজেন্দর চাহার বিষয়টি আদালতে ব্যাখ্যা করেন। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কারণ, দেশের বহু প্রচলিত খাবারেই ঐতিহ্যগত ভাবে চিনি ও নুনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।কেন্দ্রের এই যুক্তি শুনে আরও কড়া প্রশ্ন করেন বিচারপতিরা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে সুস্থ রাখার বিষয়টি কি সরকারের অগ্রাধিকার নয়? বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যখন বিষয়টি জড়িত, তখন আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেই মত শীর্ষ আদালতের।আদালত স্পষ্ট করে জানায়, প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ফলে প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে আগামী দিনে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal