• ৭ কার্তিক ১৪৩৩, সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

INDIA

খেলার দুনিয়া

Tajinderpal Singh : দুবার ফাউল!‌ অলিম্পিকে হতাশ করলেন তেজিন্দারপাল সিং তুর

২০১৮ সালের এশিয়াডে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন। ২০.৭৫ মিটার দূরত্বে তিনি লোহার বল নিক্ষেপ করেছিলেন। অলিম্পিকে নিজের সেরা পারফরমেন্সের কাছে পৌঁছতে পারলেন না। টোকিও অলিম্পিকে পুরুষদের শটপুটে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ ভারতের তেজিন্দারপাল সিং তুর। যোগ্যতা অর্জন পর্বে ১৬ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তেজিন্দারপাল সিং ১৩ নম্বরে শেষ করেন এই পাঞ্জাবতনয়।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়া২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা তেজিন্দর সাড়া জাগিয়ে টোকিওর ছাড়পত্র আদায় করে নিয়েছিলেন। কিন্তু অলিম্পিকে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না। পুরুষদের শট পুটের এ গ্রুপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রথম প্রচেষ্টায় ১৯.৯৯ মিটার দূরত্বে লোহার বল ছোঁড়েন তেজিন্দর। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তাঁর কাছ থেকে আরও ভাল ফলাফল আশা করা হলেও প্রত্যাশাপূরণ করতে ব্যর্থ হন পাঞ্জাবের অ্যাথলিট। বল ছোঁড়ার পর সার্কেলের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ায় তেজিন্দরের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা বাতিল হয়ে যায়। তৃতীয় প্রচেষ্টাও একই কারণে বাতিল হয়ে যায়। ফলে প্রথম প্রচেষ্টার ভিত্তিতে তিনি ত্রয়োদশ স্থান দখল করনে।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুএ গ্রুপ থেকে মোট তিন জন ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র পান। এই গ্রুপে প্রথম স্থানে শেষ করেন নিউজিল্যান্ডের টম ওয়ালশ। তিনি ২১.৪৯ মিটার দূরত্বে লোহার বল নিক্ষেপ করেন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে ব্রাজিলের দারলান রোমানি ও মিশরের মোস্তাফা হাসান। দুজনে ২১.৩১ ও ২১.২৩ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন। তাঁদের থেকে অনেকটা পিছিয়ে থেকে যোগ্যতাঅর্জন পর্ব শেষ করেন তেজিন্দারপাল।আরও পড়ুনঃ একনজরে টোকিও অলিম্পিক ভিলেজের অন্দরমহলটোকিওতে নিজের সেরা পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেন নি তেজিন্দারপাল সিং তুর। এই বছর পাতিয়ালায় ইন্ডিয়ান গ্রাঁ পি-তে ২১.৪৯ মিটার দূরত্বে লোহার বল ছুঁড়ে টোকিওর টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন। যা এশিয়ান রেকর্ডও। অলিম্পিকে ২২ মিটারের দূরত্ব অতিক্রম করাই লক্ষ্য ছিল তেজিন্দারের। এই দুরত্ব অতিক্রম করলে হয়তো পদকও জিততে পারতেন।

আগস্ট ০৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sonam Malik : ‌অলিম্পিকের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় সোনম মালিকের

অলিম্পিক অভিষেকে দাগ কাটতে ব্যর্থ ভারতীয় কুস্তিগীর সোনম মালিক। মহিলাদের ৬২ কেজি বিভাগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রূপোজয়ী মঙ্গোলিয়ার বোলোরতুয়া খুরেলখুর কাছে প্রথম রাউন্ডেই হেরে টোকিও থেকে বিদায় নিতে হল ১৯ বছরের সোনমকে। রেপেচেজ রাউন্ডে খেলে আবার টুর্নামেন্টে ফিরে আসার সুযোগও হারিয়েছেন এই ভারতীয় মহিলা কুস্তিগীর। সোনমকে প্রথম রাউন্ডে হারানো বোলোরতুয়া খুরেলখু দ্বিতীয় রাউন্ডে হেরে গেছেন। বোলোরতুয়া যদি দ্বিতীয় রাউন্ডে জিততেন, তাহলে রেপেচেজ খেলে আবার প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার সুযোগ পেতেন সোনম।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুএদিন মঙ্গোলিয়ার বোলোরতুয়া খুরেলখুর বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুটা দারুণভাবে শুরু করেছিলেন সোনম। শক্তিশালী বোলোরতুয়ার বিরুদ্ধে শুরুতেই পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে ২০ ব্যবধানে এগিয়ে যান ১৯ বছরের ভারতীয় কুস্তিগীর। কিন্তু অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফিরে আসেন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রূপোজয়ী ২৫ বছরের মঙ্গোলীয় কুস্তিগীর। একেবারে শেষ মুহূর্তে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ম্যাচে সমতা ফেরান বোলারতুয়া। টাচডাউনের ভিত্তিতে মূ্ল্যবান পয়েন্ট অর্জন করার জন্য তিনিই জয়ী হন।আরও পড়ুনঃ প্মাথায় চোট পেয়ে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন মায়াঙ্ক আগরওয়ালপ্রথম রাউন্ডে হারলেও ৬২ কেজি বিভাগের রেপেচেজ রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেতে পারতেন ভারতীয় কুস্তিগীর। যদি তাঁকে হারানো মঙ্গলিয়ার কুস্তিগীর ক্যাটেগরির ফাইনালে পৌঁছতেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে বুলগেরিয়ার তাইবে য়ুসেইনের কাছে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেন বোলোরতুয়া খুরেলখুর। ১০ এসইউপি পয়েন্ট নিয়ে মঙ্গোলিয়ার কুস্তিগীরকে হারিয়ে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন বুলগেরিয়ার প্রতিযোগী। ফলে রেপেচেজ রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাননি সোনম মালিক।আরও পড়ুনঃ বেলজিয়ামের কাছে হেরে সোনার স্বপ্ন শেষ মনপ্রীতদেরঅলিম্পিক অভিষেকে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নিয়ে হতাশ সোনম। অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে টোকিও অলিম্পিকে মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন সোনম। তিনি যে এই পর্যন্ত পৌঁছবেন, অনেকেই আশা করেননি। ২০১৭ সালে এক জটিল স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এই কুস্তিগীর। সোনমের ডান হাত এবং কাঁধ পুরোপুরি অসাড় হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকেই অন্য লড়াই শুরু হয়েছিল সোনমের জীবনে। ঘটনার ৬ মাস পর ফের অনুশীলনে নেমে পড়েছিলেন। ২০১৮ সালেই ম্যাটে ফিরে এসেছিলেন। সে বছরের এশিয়ান ক্যাডেট ও ওয়ার্ল্ড ক্যাডেট চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন সোনম। ২০১৯ সালে আরও এক বিশ্ব ক্যাডেট চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিলেন সোনাম। তাঁকে সিনিয়র লেভেলে তুলে আনা হয়েছিল। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী সাক্ষী মালিককে ২০২০ সালে লক্ষ্ণৌতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ট্রায়ালে হারিয়ে দিয়েছিলেন সোনম।

আগস্ট ০৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Hockey : ‌বেলজিয়ামের কাছে হেরে সোনার স্বপ্ন শেষ মনপ্রীতদের

২ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। তাতেও শেষরক্ষা হল না। বেলজিয়ামের কাছে ৫২ ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল মনপ্রীতদের। হ্যাটট্রিক করে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক আলেক্সজান্ডার হেনড্রিকস। সেমিফাইনালে হারলেও পদক জয়ের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে ভারতের। ব্রোঞ্জ জয়ের লড়াইয়ে নামতে হবে। ম্যাচের ২ মিনিটেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। পেনাল্টি কর্ণার থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লয়িক লুপার্ট। পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে খেলায় ফিরে আসে। প্রথম ৫ মিনিট বেলজিয়ামের আধিপত্য থাকলেও আস্তে আস্তে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাত নিয়ে নেয় ভারত। ৭ মিনিটে পরপর দুটি পেনল্টি কর্ণার আদায় করে। দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্ণার থেকে সমতা ফেরান হরমনপ্রীত সিং। প্রতিযোগতিতায় এটা তাঁর পঞ্চম গোল। পরের মিনিটেই আবার গোল। ডানদিক থেকে দুর্দান্ত পাস বাড়ান অমিত রোহিদাস। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে ভারতকে এগিয়ে দেন মনদীপ সিং। প্রথম কোয়ার্টারে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভারত।আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারেরদ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরু থেকেই সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। ১৭ মিনিটে পরপর তিনটি পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে। কিন্তু অমিত রোহিদাস দুর্দান্তভাবে ব্লক করায় গোল পায়নি বেলজিয়াম। ২ মিনিট পরেই অবশ্য পেনাল্টি কর্ণার থেকে সমতা ফেরান আলেক্সজান্ডার হেনড্রিকস। ২৪ মিনিটে ভারতকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি দিলপ্রীত সিং। ২৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হয় ভারত।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুতৃতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের গতি কিছুটা কম ছিল। আসলে ভারতের তারুণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে খেলার গতি কমিয়ে দিয়েছিল রেড লায়ন্সরা। লক্ষ্য ছিল প্রতি আক্রমণে উঠে এসে গোল তুলে নেওয়া। কিন্তু ভারতীয় ডিফেন্সে রুপিন্দার, অমিতরা সে সুযোগ দেননি। ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার পেয়েছিল ভারত। হরমনপ্রীতের শট আটকে দেন বেলজিয়ামের ডিফেন্ডাররা। এদিন স্কুপ বল দারুণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করছিলেন মনপ্রীতরা। কিন্তু বেলজিয়াম ডিফেন্স অনেক বেশি সংগঠিত থাকায় সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিল না।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াচতুর্থ কোয়ার্টারের জ্বলে ওঠেন আলেক্সজান্ডার হেনড্রিকসরা। ৪৯ মিনিটে পরপর তিনটি পেনাল্টি কর্ণার পায় বেলজিয়াম। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে দলকে ৩২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আলেক্সজান্ডার হেনড্রিকস। এইসময় গ্রিন কার্ড দেখে ২ মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় অধিনায়ক মনপ্রীত সিংকে। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় বেলজিয়াম। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করেন হেনড্রিকস। প্রতিআক্রমণ থেকে উঠে এসে দলের হয়ে শেষ গোল করেন ডোহমেন।

আগস্ট ০৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Mayank Agarwal : মাথায় চোট পেয়ে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল

ইংল্যান্ড সফরে চোটআঘাত যেন কিছুতেই পেছন ছাড়ছে না ভারতীয় শিবিরের। এবার চোটের শিকার ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল। নেটে ব্যাটিং করার সময় মহম্মদ সিরাজের বাউন্সার আছড়ে পড়ে তাঁর মাথার পেছন দিকে। চোটের জন্য ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন ভারতীয় দলের এই ওপেনার।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুনিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল খেলতে গিয়ে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন শুভমান গিল। তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছেন আবেশ খান, ওয়াশিংটন সুন্দর। এই দুই ক্রিকেটারও ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন। এবার কনকাশনের কারণে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন ময়াঙ্ক আগরওয়াল।আরও পড়ুনঃ ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরাসোমবার ট্রেন্টব্রিজে নেটে ব্যাটিং করার সময় মহম্মদ সিরাজের বলে মাথার পিছন দিকে মায়াঙ্কের চোট লাগে। সিরাজের শর্ট বল খেলতে গিয়ে বলের ওপর থেকে চোখ সরিয়ে নেওয়ায় মাথার পিছনে চোট পান। হেলমেট খুলে মাটিতে বসে পড়েন তিনি। ফিজিও নীতিন প্যাটেল এসে মায়াঙ্ককে নেট থেকে সরিয়ে নেন। তাঁর কনকাশন পরীক্ষা হবে। তাই প্রথম টেস্ট খেলতে পারবেন না। উল্লেখ্য, এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সিরাজের শর্ট বলেই চোট পেয়ে গোটা সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দর।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়ামায়াঙ্ক আগরওয়াল ছিটকে যাওয়ায় রোহিত শর্মার সঙ্গে প্রথম টেস্টে লোকেশ রাহুল ওপেন করতে পারেন। যদিও ইংল্যান্ড সিরিজে লোকেশ রাহুলকে মিডল অর্ডারের জন্য ভেবেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। পৃথ্বী শ এখনও শ্রীলঙ্কা থেকে ইংল্যান্ডে পৌঁছতে পারেননি। চোটের কারণে আগেই সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছেন ওপেনার শুভমান গিল। এই পরিস্থিতিতে লোকেশ রাহুল ছাড়া দলে স্পেশ্যালিস্ট ওপেনার বলতে রয়েছেন বাংলার অভিমন্যু ঈশ্বরন। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তাঁকে মাঠে নামিয়ে ঝুঁকি নেবে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ওপেন করার থেকে রাহুল এখন মিডল অর্ডারেই খেলতে বেশি পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে সুযোগ এসে গেলেও যেতে পারে বাংলার ওপেনার অভিমন্যু ঈশ্বরনের কাছে। বুধবার থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে প্রথম টেস্ট ম্যাচ। এখন দেখার টিম ম্যানেজমেন্ট কাকে দলে নেয়, লোকেশ রাহুল, না বাংলার ঈশ্বরণকে।

আগস্ট ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Hockey : ‌মনপ্রীতরা কি পারবেন ৪১ বছরের শাপমুক্তি ঘটাতে?‌

মঙ্গলবার টোকিও অলিম্পিকে বেলজিয়ামকে হারাতে পারলেই ঘটবে ৪১ বছরের শাপমুক্তি। ভারতীয় পুরুষ হকি দলের সামনে খুলে যাবে পদকের দরজা। হারলেও পদকের সম্ভাবনা থাকতে। সেক্ষেত্রে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামতে হবে মনপ্রীতদের। ভারত কি পারবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বেলজিয়ামকে হারিয়ে টোকি অলিম্পিকের ফাইনালে পৌঁছতে? সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী মনপ্রীতরা।২০১৬ রিও অলিম্পিকে এই বেলজিয়ামের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। মনপ্রীতদের সামনে এবার প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ। মনপ্রীতদের কাছে কাজটা কঠিন হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। মহিলাদের হকিতে রানি রামপালরা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রমান করে দিয়েছে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। রানি রামপালদের সাফল্য তাগিদ বাড়িয়ে দিয়েছে মনপ্রীতদের। বিশ্বের ১ নম্বর দল হলেও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ভারতের আশার আলো সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। রেড লায়ন্সদের বিরুদ্ধে শেষ ৫ ম্যাচে ৪টিতে জয় মনপ্রীতদের। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে এই বেলজিয়ামের কাছেই হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। অতীত মাথায় রাখছেন না মনপ্রীতরা। আগের ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় শিবিরের। গ্রুপ লিগের ম্যাচের কথা ভুলে কোয়ার্টার ফাইনালে নতুনভাবে শুরু করেছিলেন মনপ্রীতরা। আগের ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে দারুণ জয় তুলে নিলেও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বারবার সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। সতীর্থদের বলেছেন, আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এখনও দুটো ম্যাচ বাকি। মাটিতে পা রেখে বেলজিয়াম ম্যাচে ফোকাস করতে হবে। বিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন মনপ্রীত। তাঁর কথায়, গত দেড়দুবছর ধরে অস্ট্রেলিয়া ও বেলজিয়াম বিশ্বের ১ নম্বর জায়গা ধেরে রেখেছে। সুতরাং বেলজিয়াম যথেষ্ট কঠিন প্রতিপক্ষ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ওদের বিরুদ্ধে জিততে গেলে আমাদের দক্ষতার শীর্ষে উঠতে হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে হয়েছিল অধিনায়ক মনপ্রীতকে। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কোচ গ্রাহাম রিড খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেলজিয়ামের মতো দলের বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচ ১১ জন মাঠে থাকা জরুরি। আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। কার্ড দেখা চলবে না।

আগস্ট ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Kamlpreet Kaur : ‌পদক জিততে ব্যর্থ কমলপ্রীত, শেষ করলেন ষষ্ঠ স্থানে

আশা জাগিয়েও শেষরক্ষা হল না। পদক অধরাই থেকে গেল কমলপ্রীত কাউরের। টোকিও অলিম্পিকে মহিলাদের ডিসকাস থ্রোতে ১২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করলেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট। ৬৩.৭০ মিটার ছুঁড়ে তিনি এই স্থান অর্জন করেছেন। যোগ্যতা অর্জন পর্বে সাড়া জাগিয়ে শুরু করেছিলেন কমলপ্রীত কাউর। জীবনের প্রথম অলিম্পিকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। দুটি কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড মিলিয়ে দ্বিতীয় হন ২৫ বছরের এই ভারতীয় অ্যাথলিট। ৬৪ মিটার দূরত্ব ছুঁড়ে ইভেন্টের দ্বিতীয় প্রতিযোগী হিসেবে সরাসরি ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র পান কমলপ্রীত। কিন্তু ফাইনালে নিজের সেরা পারফরমেন্স করতে পারলেন না। বৃষ্টিবিঘ্নিত ইভেন্টে ফাউলের জন্য পাঁচটি থ্রোর মধ্যে কমলপ্রীতের তিনটি থ্রো বাতিল হয়ে যায়। বাকি দুটি প্রচেষ্টায় সর্বাধিক ৬৩.৭০ মিটারের দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হন এই ভারতীয় অ্যাথলিট। ফাইনালে কমলপ্রীত কাউরের কাছ থেকে যোগ্যতা অর্জন পর্বের থেকে ভাল ফলাফল প্রত্যাশা করেছিল দেশবাসী। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না পাঞ্জাবের এই অ্যাথলিট। ফাইনালে প্রথম প্রচেষ্টায় ৬১.৬২ মিটার দূরত্বে ডিসকাস ছোঁড়েন কমলপ্রীত। তাঁর দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ফাউলের জন্য বাতিল হয়ে যায়। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৬৩.৭০ মিটার দূরত্বে ডিসকাস ছোঁড়েন ভারতীয় অ্যাথিলট। তাঁর বাকি দুটি প্রচেষ্টা থেকে ভাল ফল প্রত্যাশা করলেও দুটি ক্ষেত্রেই তাঁর থ্রো বাতিল হয়ে যায়। ফলে তৃতীয় থ্রোয়ের বিচারে ষষ্ঠ স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেন কমলপ্রীত। পদকের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। মহিলাদের ডিসকাস থ্রোতে সোনা জিতেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভালারি অলম্যান। প্রথম প্রচেষ্টাতে তিনি ৬৮.৯৮ মিটার ছোঁড়েন। তাঁর ৫টি প্রচেষ্টার মধ্যে সেটাই ছিল সেরা। রুপো পেয়েছেন জার্মানির ক্রিস্টিন পুডেঞ্জ। তিনি ৬৬.৮৬ মিটার দূরত্বে নিজের সর্বোচ্চ ডিসকাস নিক্ষেপ করেন। ব্রোঞ্জ জিতেছেন কিউবার ইয়াইমে পেরেজ। তিনি ছোঁড়েন ৬৫.৭২ মিটার ছোঁড়েন। এদিন বৃষ্টির জন্য বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে।যোগ্যতা অর্জন পর্বে প্রথম প্রচেষ্টায় ৬০.২৯ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন কমলপ্রীত। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৬৩.৯৭ মিটার অতিক্রম করে ভারতীয় অ্যাথলিটের ছোঁড়া চাকতি। তৃতীয় প্রচেষ্টায় আরও খানিকটা এগিয়ে চমকে দিয়েছিলেন কমলপ্রীত। তবে নিজেরই গড়া জাতীয় রেকর্ড তিনি ভাঙতে পারেননি। চলতি বছর পাতিয়ালায় হওয়া ভারতীয় গ্রাঁ পি-তে ৬৬.২৯ মিটার দূরত্বে চাকতি ছুঁড়ে টোকিও অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন ২৫ বছরের কমলপ্রীত। তার আগে গত মার্চে হওয়া ফেডারেশন কাপে ৬৫.০৬ দূরত্বে ডিসকাস ছুঁড়ে পুরনো জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছিলেন দেশের প্রথম অ্যাথলিট হিসেবে ৬৫ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করার অনন্য নজিরও গড়েছিলেন কমলপ্রীত। অলিম্পিকে নিজের সেরা পারফরমেন্স করতে পারলেন না।

আগস্ট ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Women Hockey : ‘‌চক দে ইন্ডিয়া’‌, অলিম্পিক হকির ইতিহাসে রানিরা

টোকিও অলিম্পিকে চক দে ইন্ডিয়া। ইতিহাস রানি রামপালদের। সোনা জয়ের অন্যতম ফেবারিট শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ১০ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ভারতীয় মহিলা হকি দল। আগের দিন গ্রেট ব্রিটেনের দর্পচূর্ণ করে সেমিফাইনালে উঠেছেন মনপ্রীতরা। এদিন অস্ট্রেলিয়ার দম্ভে আঘাত করে সেমিফাইনালে রানি রামপালরা। স্বর্ণযুগে ভারতীয় হকি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই একসময় অনিশ্চিত ছিল। পুল এর প্রথম ৩ ম্যাচে পরাজয়। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। গ্রুপ লিগে পরপর দুম্যাচে আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধ অবিশ্বাস্য জয়। তবুও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত ছিল না ভারতের সামনে। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের কাছে আয়ারল্যান্ড হারলে তবেই শেষ আটের ছাড়পত্র পাওয়া যেত। ভাগ্য সহায় ছিল রানি রামপালদের। ব্রিটেনের কাছে আয়ারল্যান্ডের পরাজয় টোকিও অলিম্পিকে মহিলাদের হকিতে কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র এনে দিয়েছিল ভারতকে।কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের লড়াই সহজ ছিল না। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই এগিয়ে। তবুও গুটিয়ে থাকেননি রানি রামপালরা। আসলে গ্রুপ লিগের শেষ দুটি ম্যাচের পারফরমেন্স আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। অঘটনের স্বপ্ন দেখেছিলেন রানি রামপালরা। তাঁদের স্বপ্ন দেখা যে একেবারেই অমূলক ছিল না, প্রমাণ হয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলা উপহার দিল ভারত। রানি রামপালদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ সাক্ষাৎকার। ২০১৯ সালের আগস্টে টোকিও অলিম্পিকের টেস্ট ইভেন্টে ২২ ড্র হয়েছিল সেই ম্যাচ। আমরাও পারি, এই বিশ্বাস দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন কোচ সোয়ার্ড মারিজিনে।আরও পড়ুনঃ ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরাম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ২ মিনিটেই গোল করার সুযোগ পেয়েছিল। ভারতীয় ডিফেন্ডারদের তৎপরতায় গোল পায়নি। ৯ মিনিটে রানি রামপালের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। উল্টে ২২ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ভারতকে এগিয়ে দেন পেনাল্টি কর্ণার বিশেষজ্ঞ গুরজিৎ কাউর। এরপর সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুদ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের চাপ বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া। সুযোগও তৈরি করে। কিন্তু তিনকাঠির নীচে ভারতীয় গোলকিপার সবিতা পুনিয়া অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। ভারতীয় ডিফেন্সও দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়। ম্যাচে ৭ টি পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। অলিম্পিকে সোনা জয়ের অন্যতম ফেবারিটকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস রানি রামপালদের। অলিম্পিকে ভারতের মহিলা দলের সেরা সাফল্য ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকে। সেবারই প্রথম অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পেয়েছিল ভারতীয় মহিলা হকি দল। ৬ দলের মধ্যে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিল।

আগস্ট ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌‌PV Sindhu : প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধু

টোকিও অলিম্পিকে দেশকে পদক এনে দিলেন পিভি সিন্ধু। চীনের হে বিং জিয়াংকে ২১১৩, ২১১৫ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতলেন। অলিম্পিকে প্রথম ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে ব্যক্তিগত বিভাগে দুদুটি পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন সিন্ধু। সেমিফাইনালে বিশ্বের একনম্বর তারকা তাই জুর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। সেমিফাইনালে হারলেও পদক জয়ের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি পিভি সিন্ধুর। ব্রোঞ্জের সম্ভাবনা ছিল। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ের এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার প্রতিপক্ষ ছিল হে বিং জিয়াও। অলিম্পিকে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামার আগে পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে হে বিং জিয়াও এগিয়ে ছিলেন। এর আগে এই দুই শাটলার মুখোমুখি হয়েছিলেন ১৫ বার। বিং জিয়াও জিতেছিলেন ৯ বার, আর সিন্ধু জিতেছিলেন ৬ বার। অলিম্পিকে জিতে পরিসংখ্যান কিছুটা উন্নত করলেন সিন্ধু।আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারেরপ্রথম গেমের শুরুতেই হে বিং জিয়াওয়ের বিরুদ্ধে ৪০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন পিভি সিন্ধু। সেখান থেকে সমতা ফেরান চীনের এই তারকা। একসময় ম্যাচের ফল ছিল ৮৮। এরপর ম্যাচের ওপর আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন পিভি সিন্ধু। পরপর ৬ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ১৪৮ ব্যবধানে এগিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ২১১৩ পয়েন্টে প্রথম গেম জিতে নেন সিন্ধু। সেমিফাইনালে তাই জুর বিরুদ্ধে যে যে ভুল করেছিলেন এই ভারতীয় শাটলার, এদিন প্রথম গেমে সেই ভুল গুলি শুধরে নেন। স্ম্যাশ, নেট প্লে, ড্রপ শট নেওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন। দ্বিতীয় গেমেও সিন্ধু ধারবাহিকতা দরে রেখেছিলেন। দারুণ শুরু করে ৪১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। কিন্তু দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসেন চীনের হে বিং জিয়াও। ১১৮ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় স্কোর ১১১১ করেন। সেখান থেকে আবার ম্যাচে এগিয়ে যেতে থাকেন সিন্ধু। শেষ পর্যন্ত ২১১৫ পয়েন্টে দ্বিতীয় সেট জিতে নেন এইই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। আরও পড়ুনঃ স্ ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরাপ্রথম ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে ব্যক্তিগত বিভাগে দুদুটি পদক জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন পিভি সিন্ধু। আর ভারতীয় হিসেবে দ্বিতীয়। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন কুস্তিগীর সুশীল কুমার। তিনি ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে একধাপ ভাল করে রুপো জিতেছিলেন। অন্যদিকে পিভি সিন্দু ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।

আগস্ট ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Hockey : ‌৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরা

১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকে শেষবার পদক এসেছিল ভারতের। ৪১ বছরের শাপমোচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মনপ্রীতরা। গ্রেট ব্রিটেনকে ৩১ ব্যবধানে হারিয়ে অলিম্পিক হকির সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। পদকের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হল মনপ্রীতদের। সেমিফাইনালে ভারতের সামনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম।রিও অলিম্পিকে কোয়ার্টার ফাইনালে আকাশদীপের করা গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। বেলজিয়ামের কাছে ৩১ ব্যবধানে হেরে পদকের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল। এদিন গ্রেট ব্রিটেনকে হারিয়ে স্বপ্ন পূরণের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত।আরও পড়ুনঃ কিশোর কুমারের জন্মদিনে নতুন চমক আনছেন পুত্র অমিত গ্রুপ লিগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ছাড়া গোটা প্রতিযোগিতাতেই দারুণ খেলা উপহার দিয়ে এসেছে ভারত। গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন মনপ্রীতরা। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ভারতের। ১ মিনিটেই ডি বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন মনদীপ। কিন্তু গ্রেট ব্রিটেনের ডিফেন্ডাররা এমনভাবে ঘিরে ধরেন, গোলে শট নেওয়ার সুযোগ পাননি। ৭ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। সিমরনজিৎ সিংয়ের পাস থেকে দলকে এগিয়ে দেন দিলপ্রীত সিং। শুরুতে গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় মনপ্রীতদের। ১৬ মিনিটে শুটিং এরিয়ায় বল পেয়ে ২০ করেন গুরজন্ত সিং।আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারেরদ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে গ্রেট ব্রিটেন। বারবার আক্রমণে উঠে এলেও ভারতীয় ডিফেন্স ভেদ করতে পারছিল না। অবশেষে ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার কাজে লাগিয়ে স্যামুয়েল ওয়ার্ড ব্যবধান কমান। ম্যাচের শেষ দিকে ভারতকে চেপে ধরে গ্রেট ব্রিটেন। একের পর আক্রমণ তুলে নিয়ে আসলেও রুপিন্দার সিংদের তৎপরতায় তিন কাঠি ভেদ করতে পারেনি। ৫৪ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখে অধিনায়ক মনপ্রীত সিং মাঠের বাইরে চলে গেলেও ছন্দ হারায়নি বারত। ৫৭ মিনিটে গ্রেট ব্রিটেনের ম্যাচে ফেরার আশা শেষ করে দেন হার্দিক সিং। প্রতিআক্রমণে উঠে এসে নীলাকান্ত শর্মার কাছ থেকে বল পেয়ে দুরূহ কোন থেকে ৩১ করেন হার্দিক। একই সঙ্গে ৪৯ বছর পর অলিম্পিক হকির সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ভারত। শেষবার সেমিফাইনাল খেলেছিল ১৯৭২ সালে। মিউনিখ অলিম্পিকের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। আর ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকে ৬টা দল অংশ নিয়েছিল। কোনও সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।

আগস্ট ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Satish Kumar : স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারের

অলিম্পিকে পুরুষদের বক্সিংয়ে স্বপ্ন শেষ ভারতের। পুরুষদের সুপার হেভিওয়েট ক্যাটেগরিতে কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের ১ নম্বর তারকা উজবেকিস্তানের বাখোদির জালোলভের কাছে হের পদকের স্বপ্ন শেষ ভারতীয় এই বক্সারের। মহিলাদের বক্সিংয়ে লাভলিনা বগোঁগাইয়ের হাত ধরে একটা পদক নিশ্চিত হয়েছে। সুপার হেভিওয়েট ক্যাটেগরিতে ৯১ কেজি বিভাগে প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়েছিলেন সতীশ কুমার। সরাসরি নেমেছিলেন প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে জামাইকার রিকার্ডো ব্রাউনকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন সতীশ কুমার। আর এক ধাপ এগোতে পারলে দেশের হয়ে পদক নিশ্চিত ছিল সতীশ কুমারের। কিন্তু শেষরক্ষা হল না উজেবেকিস্তানের বাখোদির জালোলভের কাছে হারায়। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুবারের ব্রোঞ্জজয়ী সতীশ। প্রথম ভারতীয় হিসেবে অলিম্পিকের সুপার হেভিওয়েট ক্যাটাগরির জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন সতীশ। তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশবাসী। বক্সিংয়ে শনিবার তিনি জিতলেই আরও একটি পদক নিশ্চিত হত ভারতের। কিন্তু বাখোদির জালোলাভের কাছে ৫০ ব্যবধানে উড়ে গেলেন সতীশ। জালোলাভের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি এই ভারতীয় বক্সার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাখোদির জালোলাভের বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ড থেকেই সুবিধা করতে পারেননি সতীশ। একবার তাঁর চোখে আঘাত লাগে। ম্যাচ ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা মানসিকতা দেখিয়ে লড়াই চালিয়ে যান। যদিও পেরে ওঠেননি। সতীশ কুমারের থেকে বাখোদির জালোলাভের উচ্চতা অনেক বেশি। সেই উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বাখোদির বার বার পাঞ্চ করে যান সতীশের ওপর। বিশ্বের ১ নম্বর তারকার পাঞ্চের জবাব দিতে পারেননি সতীশ। তাড়াচে বাখোদির জালোলাভকে দেখে মনে হচ্ছিল আত্মবিশ্বাসের শিখড়ে রয়েছেন। শুরু থেকেই জয়ের বিশ্বাস নিয়েই যেন কোর্টে নেমেছিলেন ৯১ কেজি বিভাগের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বক্সার। তাঁর খেলাতেও তারই ইঙ্গিত ছিল। সারাক্ষণ একটা হাত চালিয়ে সতীশকে ডিফেন্স করতে ব্যস্ত রাখেন। অন্য হাত দিয়ে ভারতীয় বক্সারের মুখে পাঞ্চ করে যান। তাতেই ব্যাকফুটে চলে যান সতীশ কুমার।

আগস্ট ০১, ২০২১
স্বাস্থ্য

Corona Update: উদ্বেগ বাড়িয়ে ডেল্টার প্রভাবে ফের বাড়ছে সংক্রমণ

রাজ্যে ফের বাড়ল করোনার দৈনিক সংক্রমণ। স্বাস্থ্য দপ্তর প্রকাশিত শনিবারের বুলেটিনে নতুন করে রাজ্যে ৭৬৯ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। উদ্বেগ বাড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও উত্তরবঙ্গের সংক্রমণের হারও। কলকাতাতেও গত দুদিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে সংক্রমণ। জেলায় করোনা সংক্রমণের দিকে নজর করলে বোঝা যাবে, রাজ্যের কয়েকটি অংশে সিংহ ভাগ আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পঙ ও জলপাইগুড়ি মিলিয়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ২০৬। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৈনিক আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে দার্জিলিঙে (৬৫), তার পরেই রয়েছে জলপাইগুড়ি (৬১)। আরও পড়ুনঃ অনুমতি ছাড়াই ম্যারাথনে দৌঁড়লেন দিলীপ-সৌমিত্ররাদক্ষিণবঙ্গে এখনও উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। শেষ ২৪ ঘণ্টায় এই জেলায় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯, যা রাজ্যেও সর্বোচ্চ। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ব্যারাকপুর কমিশনারেট ও বারাসত পুর এলাকায় একাধিক কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ভারতে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও ফের বাড়ল সংক্রমণ। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রবিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮৩১। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩৯ হাজার ২৫৮ জন। দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ লক্ষ ২৪ হাজার ৩৫১ জনের। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮২৪। অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৪ লক্ষ ১০ হাজার ৯৫২। করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ৮ লক্ষ ২০ হাজার ৫২১ জন।এই মুহূর্তে ভারতে সংক্রমণ বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা নিচ্ছে ডেল্টা রূপ। ডেল্টার হাত ধরেই ভারতে তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রসঙ্গে গুলেরিয়া বলেন, হাম বা চিকেন পক্সের ক্ষেত্রে আর ভ্যালু প্রায় ৮। অর্থাৎ এক জনের থেকে আট জনের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় দেখেছি এক জনের থেকে পুরো পরিবারকে আক্রান্ত হতে। চিকেন পক্সের ক্ষেত্রেও এটাই হয়। ডেল্টা রূপে আক্রান্ত এক জনের পক্ষে গোটা পরিবারকে আক্রান্ত করার ক্ষমতা রয়েছে।ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে সেরো সার্ভেতে দেখা গিয়েছে অ্যান্টিবডির পরিমাণ অনেকটাই। তবে এই বিষয় নিয়ে বেশি খুশি হওয়ার কারণ নেই বলেই জানিয়েছেন গুলেরিয়া। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি আগে কেরলে অ্যান্টিবডি অনেক বেশি ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে সংক্রমণ বাড়ছে। কারণ একটা সময়ের পরে শরীরে অ্যান্টিবডির পরিমাণ ও ক্ষমতা দুইই কমতে থাকে। ফলে একমাত্র টিকাই ভরসা। যত দ্রুত সম্ভব সবাইকে টিকা দেওয়া দরকার। তবেই দেশে সংক্রমণ কমানো যাবে বলে মনে করেন এইমস প্রধান।

আগস্ট ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Puja Rani: রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ীর কাছে হেরে স্বপ্ন শেষ বক্সার পূজা রানির

অনেক আশা ছিল পূজা রানিকে ঘিরে। হতাশ করলেন হরিয়ানার এই বক্সার। লাভলিনা বড়গোহাঁই পারলেও ব্যর্থ হলেন পূজা রানি। টোকিও অলিম্পিকের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে পদক জয়ের সম্ভাবনা হাতছাড়া করলেন ভারতের এই মহিলা বক্সার। মিডলওয়েট ক্যাটেগরিতে ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী তথা বিশ্বের তিন নম্বর বক্সার চীনের লি কুইয়ানের সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না পূজা রানি। ৫-০ ব্যবধানে উড়ে গেলেন এই ভারতীয় বক্সার।টোকিও অলিম্পিকে মহিলা বক্সিংয়ের ৬৯ কেজি বিভাগে সেমিফাইনালে পৌঁছে পদক নিশ্চিত করেছিলেন লাভলিনা। লাভলিনার মতো লড়াই লড়তে পারলেন না পূজা। ম্যাচে প্রথম থেকেই ব্যাকফুটে ছিলেন এই ভারতীয় বক্সার। তিন রাউন্ড থেকে তিনি কোনও পয়েন্টই ঘরে তুলতে পারেননি। উল্টে আক্রমণাত্মক স্ট্রাটেজিতে ম্যাচের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেন কুইয়ান। চিনা প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক মুভমেন্টের জবাব দিতে পারেননি ভারতের পূজা।২০১৮ সালে বক্সিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব জিতেছিলেন চিনের লি কুইয়ান। কেন তিনি বিশ্বের এক নম্বর তারকা, তা ফের প্রমাণ করলেন ৩১ বছরের বক্সার। ২০১৭ ও ২০১৯ সালের এশিয়ান বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা কুইয়ানের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি পূজা। ২০১৯ ও ২০২১ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জেতা এই ভারতীয় বক্সার শনিবার ঘুরেই দাঁড়াতে পারলেন না। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আবজেরিয়ার ইচরাক চাইবকে ৫-০ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন পূজা রানি। ওই ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা। সেই বক্সার যে কোয়ার্টার ফাইনালে এভাবে হারবেন, তা হয়তো কল্পনার মধ্যেই আনেননি অনেকে। যদিও এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে পথ চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পূজা।চলতি অলিম্পিকের প্রি-কোয়াটার ফাইনাল থেকেই ছিটকে যেতে হয়েছিল কিংবদন্তি মেরি কমকে। ইতিমধ্যে মহিলাদের বক্সিংয়ে ৬০ কেজি বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেন ভারতের সিমরনজিৎ কৌর। এই দুই হারের ক্ষততে প্রলেপ দেন লাভলিনা বরগোঁহাই। মহিলাদের ৬৯ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে পৌঁছে দেশের জন্য পদক নিশ্চিত করেন অসমের বক্সার। চাইনিজ তাইপের চেন নিয়েন-চিনকে ৪-১ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছেন লাভলিনা। তিন রাউন্ডেই দাপট অব্যাহত রেখে তিনি সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন। ভারতের জন্য অন্তত একটা ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন বরগোঁহাই।

জুলাই ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Hockey: জয়ের হ্যাটট্রিক, দ্বিতীয় স্থানে থেকে অলিম্পিক হকির শেষ আটে ভারত

কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। পুল এ-তে কত নম্বর স্থান দখল করে, সেটাই ছিল দেখার। জাপানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে টোকিও অলিম্পিকের হকির শেষ আটে ভারত। টানা ৩ ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে গেল।অলিম্পিকে ভারতের সবচেয়ে বেশি সাফল্য হকিতেই। অথচ ১৯৮০ সালের অলিম্পিকে সোনা জেতার পর আর পদকই আসেনি।একের পর এক অলিম্পিকে শুধুই ব্যর্থতায় হতাশ হতে হয়েছে ভারতীয় হকিকে। এবার মনপ্রীতরা ৪১ বছরের পদকের খরা মেটাতে পারেন কিনা সেদিকেই সকলের নজর।নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে জয় দিয়ে টোকিও অলিম্পিক অভিযান শুরু করেছিল ভারত। তারপর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭-১ ব্যবধানে হার। অনেকেই মনপ্রীতদের নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। তবে স্পেনকে তিন গোলে হারানোর পর শক্তিশালী আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় ভারতের জায়গা সুনিশ্চিত করে দেয় অলিম্পিক হকির কোয়ার্টার ফাইনাল।এদিন প্রথম কোয়ার্টারে ভারত এগিয়ে ছিল ১-০ গোলে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভারতের লিড গিয়ে হয় ২-১। তৃতীয় কোয়ার্টারে ফল ছিল ৩-২। চতুর্থ কোয়ার্টারে হল সবচেয়ে বেশি গোল। এর ফলে ৫-৩ গোলে জিতে পুল এ-র দুইয়ে থেকে শেষ আটে জায়গা পাকা করলেন মনপ্রীতরা।১৭ ও ৫৬ মিনিটে ম্যাচে জোড়া গোল করেন গুরজন্ত সিং। ১৩ মিনিটে প্রথম গোলটি করেছিলেন হরমনপ্রীত সিং। এ ছাড়া ৩৪ মিনিটে শমশের সিং ও ৫১ মিনিটে নীলকান্ত শর্মাও গোল করে দলের জয়ে অবদান রাখেন।গ্রুপ পর্যায়ের খেলার শেষে পুল এ-র শীর্ষে রইল অস্ট্রেলিয়া। পাঁচটির মধ্যে চারটিতে জিতে ভারত রইল দুইয়ে। অস্ট্রেলিয়া চারটি ম্যাচে জিতেছে এবং একটি ড্র করেছে। প্রতি পুলে ছটি করে দলের মধ্যে থেকে চারটি করে দল পৌঁছায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ভারতের পরের প্রতিপক্ষ অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি।হকিতে ভারত শেষ অলিম্পিক সোনা জিতেছিল ১৯৮০ সালে। ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে পঞ্চম, ১৯৮৮-র সিওল অলিম্পিকে ষষ্ঠ, ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে সপ্তম, ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকে ভারত অষ্টম স্থানে শেষ করেছিল হকিতে। ২০০০ সালে সিডনি ও ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে ভারত হকিতে ছিল সপ্তম স্থানে। ২০০৮ সালে অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে দ্বাদশ ও ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে ভারতকে অষ্টম স্থানে থেকেই অভিযান শেষ করতে হয়েছিল।

জুলাই ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Olympics Hockey: আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল ভারত

অলিম্পিক হকিতে এগিয়ে চলেছে ভারত। গ্রুপ লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গতবারের সোনাজয়ী আর্জেন্টিনাকে ৩১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পাশাপাশি পুল এতে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করল।একপ্রকার কঠিন গ্রুপে রয়েছে ভারত। বর্তমান বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে রয়েছে আগের অলিম্পিকে সোনাজয়ী আর্জেন্টিনা। পুলের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতলেও অস্ট্রেলিয়াআর কাছে বড় ব্যবধানে হারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরের ম্যাচে স্পেনের বিরুদ্ধে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান মনপ্রীতরা। ৩০ ব্যবধানে জিতে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এদিন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল ভারত।আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত ছিল ভারতের। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় তুলে নিলেন মনপ্রীতরা। অলিম্পিকে যাওয়ার আগে আর্জেন্টিনায় প্রস্তুতি সফরে গিয়েছিল ভারত। শেষ ম্যাচে ৪২ ব্যবধানে জিতেছিল। যদিও সেই জয়ের কথা মাথায় রেখে মাঠে নামেননি মনপ্রীতরা। গুটিয়ে না থেকে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারত। ৪ মিনিটে প্রায় ভারতকে এগিয়ে দিচ্ছিলেন দলপ্রীত। খুব কাছ থেকে নেওয়া তাঁর ফ্লিক আটকে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার। ১৫ মিনিটে ড্রিবল করতে গিয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সিমরণজিৎ সিং। ১৭ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। স্কোরিং সার্কেলের মধ্যে লুকাস রোসিকে আটকে দেন ভারতীয় ডিফেন্ডাররা। প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। যদিও ভারতের আধিপত্য বেশি ছিল।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। ৪২ মিনিটে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রুপিন্দাররা। ৪৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বরুণ কুমার। চতুর্থ কোয়ার্টারে নাটক জমে ওঠে। ৪৮ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্ণার পায় আর্জেন্টিনা। মাইকো ক্যাসেলা গোল করে সমতা ফেরান। অনেকেই মনে করছিলেন ম্যাচ হয়তো ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে। তখনই জ্বলে ওঠেন ভারত। ৫৭ মিনিটে বিবেক প্রসাদ সাগর গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ২ মিনিট পর আবার গোল ভারতের। ৮ নম্বর পেনাল্টি কর্ণার কাজে লাগিয়ে হরমনপ্রীত সিং ৩১ করেন। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পেয়ে পুল এতে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করল ভারত।

জুলাই ২৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Cricket : দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ৪ উইকেটে হারল ভারত

প্রথম ম্যাচে হারের পর ঘুরে দাঁড়াল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল। শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক ধনঞ্জয় ডিসিলভা। ৩৪ বলে অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতালেন।টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনকা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ৫ উইকেটে ১৩২ রান। সর্বাধিক ৪০ রান করেন অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান। এই ম্যাচে ভারতীয় টি ২০ দলে অভিষেক হয় রুতুরাজ গায়কোয়াড়, দেবদত্ত পাড়িক্কল, নীতীশ রানা ও চেতন সাকারিয়ার। শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের ওপেনার রুতুরাজ। ৭ ওভারে দলের ৪৯ রানের মাথায় তিনি আউট হন ১৮ বলে ২১ রান করে। এরপর ঝোড়ো গতিতে রান তোলা অব্যাহত রাখেন শিখর ধাওয়ান ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জ ব্যাঙ্গালোরের ওপেনার দেবদত্ত পাড়িক্কল। ১৩তম ওভারে প্রথম বলে আকিলা ধনঞ্জয়ের বলে বোল্ড হন অধিনায়ক হন শিখর ধাওয়ান। ৫টি চারের সাহায্যে ৪২ বলে ৪০ রান করে তিনি। ভারতের রান তখন ৮১। ১৫.৩ ওভারের মাথায় আউট হন দেবদত্ত পাড়িক্কল। একটা চার ও ভারতীয় ইনিংসের একমাত্র ছক্কা মেরে তিনি ২৩ বলে ২৯ রান করেন। ১৩ বলে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি সঞ্জু স্যামসন। শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় কিছুটা সফল ভুবনেশ্বর কুমার। ১২ বলে ৯ রান করে শেষ ওভারে আউট হন নীতীশ রানা। ১১ বলে ১৩ করে অপরাজিত থাকেন ভুবি।জয়ের জন্য ১৩৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। আভিস্কা ফার্নান্ডোকে (১৩) তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার। সমরাউইক্রমাকে (৮) ফেরান বরুণ চক্রবর্তী। কুলদীপের বলে স্টাম্পড হন দাসুন শনাকা (৩)। মিনোদ ভানুকাকেও (৩১ বলে ৩৬) ফেরান কুলদীপ। হাসারাঙ্গা করেন ১৫। তাঁকে তুলে নেন রাহুল চাহার। ৩৪ বলে ৪০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ধনঞ্জয় ডিসিলভা। ২ বল বাকি থাকতে ১৩৩/৬ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Deepika Kumari : তিরন্দাজিতে পদকের আশা জাগিয়ে রাখলেন দীপিকা কুমারী

তিরন্দাজিতে একের পর এক ব্যর্থতার পর আশার আলো দীপিকা কুমারী। মহিলাদের রিকার্ভ সিঙ্গলসে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলেন এই ভারতীয় তিরন্দাজ। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৬৪ ব্যবধানে তিনি হারান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার মুসিনোফার্নান্ডেজকে। অলিম্পিকের শুরু থেকেই একের পর এক ব্যর্থতা ভারতের। মিশ্র বিভাগ, দলগত বিভাগে ব্যর্থতার পর ব্যক্তিগত বিভাগেও ব্যর্থ তরুণদীপ রাই ও প্রবীণ যাদবরা। দেশের সম্মানরক্ষার দায়িত্ব ছিল দীপিকা কুমারীর ওপর। যদিও শুরুটা ভাল হয়নি এই ভারতীয় মহিলা তিরন্দাজের। আশা জাগিয়েও প্রথম সেট হেরে যান। ২৫ পয়েন্ট (৭+৯+৯) অর্জন করতে সক্ষম হন দীপিকা। অন্যদিকে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী ২৬ পয়েন্ট নিয়ে ওই সেট জিতে যান।পরের দুই সেটে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন দীপিকা কুমারী। দ্বিতীয় সেটের প্রথম শট থেকে ৮ পয়েন্ট পেলেও দীপিকার পরের দুটি শট লক্ষ্যভেদ করে। মোট কুড়ি পয়েন্ট অর্জন করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। ওই সেটে ২৫ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয় আমেরিকার তিরন্দাজ। তৃতীয় সেট থেকে ২৭ পয়েন্ট (১০+৯+৮) অর্জন করেন দীপিকা। সেখানে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ওই মোকাবিলা হেরে যান মার্কিন তারকা।ম্যাচের শেষ দুই সেটে দুই প্রতিযোগীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। চতুর্থ সেটে ২৪ পয়েন্ট অর্জন করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। তিন শট থেকে যথাক্রমে ৯, ৬ ও ৯ পয়েন্ট পান দীপিকা। অন্যদিকে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ওই সেট জেতেন আমেরিকার তিরন্দাজ। পঞ্চম সেটে দীপিকার হাত থেকে যথাক্রমে ৯, ৯ ও ৮ পয়েন্ট আসে। ২৬ পয়েন্ট অর্জন করে ওই সেট জিতে যান ভারতীয় তিরন্দাজ। পৌঁছে যান কোয়ার্টার ফাইনালে।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Puja Rani : মহিলা বক্সিংয়ের ৭৫ কেজি বিভাগে কোয়ার্টার ফাইনালে পূজা রানি

অন্য ইভেন্টে যখন একের পর এক ব্যর্থতা, ভারতবাসীকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বক্সিং। আগের দিনই টোকিও অলিম্পিকের শেষ আটে পৌঁছে গিয়েছিলেন লভলিনা বরগোঁহাই। বুধবার আরও এক ভারতীয় মহিলা বক্সার পৌঁছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ৭৫ কেজি বিভাগের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে হরিয়ানার পূজা রানি বোরা দাপটের সঙ্গে উড়িয়ে দিলেন আলজেরিয়ার ইচরাক চাইবকে।পূজা রানি ও আচরিকা চাইবের কাছে এটাই প্রথম অলিম্পিক। আর মিডলওয়েট বক্সিংয়ে এদিন তাঁদের ছিল প্রথম বাউট। ৩০ বছরের পূজার চেয়ে চাইব বছর দশেকের ছোট। দুবারের এশিয়া চ্যাম্পিয়ন পূজা রানি শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখেন। তিনটি রাউন্ডেই তিনি পেছনে ফেলে দেন ইচরাক চাইবকে। চাইব জোরালোভাবে পাঞ্চ করতে চাইছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পূজা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখায় চাইব সুবিধা করতে পারেননি। বরং পূজার কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে বারবারই বেগ পেতে হল চাইবকে। শেষে ৫-০ ব্যবধানে জিতে অলিম্পিকের শেষ আটে পৌঁছে গেলেন পূজা। কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার তাঁর সামনে চিনের লি কিয়ান।পরিবারের অমতেই বক্সিংয়ে আসা পূজা রানির। হরিয়ানার ভিওয়ানি জেলার নিমড়িওয়ালি গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। বাবাকে না জানিয়েই ভর্তি হন হাওয়া সিং বক্সিং আকাদেমিতে। কারণ, তিনি জানতেন পুলিশ অফিসার বাবা কখনোই বক্সার হওয়ার অনুমতি দেবেন না। পূজা আগে জানিয়েছিলেন, তাঁরা বাবা চাননি তিনি বক্সার হোন। বাবা বলতেন, আচ্ছে বাচ্চে বক্সিং নেহি খেলতে। মার লাগ জায়েগি। অর্থাৎ ভাল বাচ্চারা বক্সিংয়ে খেলেনা। এই খেলায় চোট লাগবে! পূজার বাবার ধারণা ছিল, যাঁরা খুব আগ্রাসী মনোভাবসম্পন্ন তাঁদের জন্যই বক্সিং, কিন্তু পূজার মতো মেয়েদের জন্য নয়। কিন্তু পূজা তাঁর বাবামাকে বরাবরই বোঝানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন, তিনি বক্সিংয়ে ভালো করবেন এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বক্সিং রিংয়ে চোট পেলেও বাবা যাতে বুঝতে না পারেন, সে কারণে চোট না সারা অবধি বন্ধুর বাড়িতেও কাটিয়েছেন। বাবাকে রাজি করাতে না পারায় পেশাদার বক্সিংয়ে নামার জন্য প্রস্তুত হয়েও পূজাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে মাস ছয়েক! কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন যে আকাশকুসুম কল্পনা ছিল না সেটা পূজা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। পরিবারের আস্থা পূজা অর্জন করেছিলেন ২০০৯ সালে ৬০ কেজি বিভাগে জাতীয় যুব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জয়ের পর। এর দুই মাস পর হরিয়ানার নামি বক্সার প্রীতি বেনিওয়ালকে হারিয়ে দেন পূজা। এই জয়ের পর আর তাঁকে বক্সিং নিয়েই এগিয়ে যেতে পরিবার বাধা দেয়নি। হরিয়ানা সরকারের আয়কর অফিসারের চাকরিও পান পূজা। ২০১২ ও ২০১৫ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে যথাক্রমে রুপো ও ব্রোঞ্জ জেতেন মিডলওয়েটে। ২০১৪ সালের ইনচেয়ন এশিয়ান গেমসে জেতেন ব্রোঞ্জ। ২০১৯ সালে ব্যাঙ্ককে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে লাইট হেভিওয়েটে সোনা জেতার পর চলতি বছর দুবাইয়ে মিডলওয়েটেই সোনা জেতেন।তবে অলিম্পিকে আসার যাত্রা পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না পূজা রানির কাছে। ২০১৭ সালে দেওয়ালির সময় বাজি ফাটাতে গিয়ে হাত পুড়ে যায়, তখনও ছয় মাস বক্সিং অনুশীলন চালাতে পারেননি। এই সময় নষ্টের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ট্রেনিংয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কাঁধে মারাত্মক চোট পান, যা তাঁর কেরিয়ার শেষ করে দিতে পারত। রানির ইচ্ছা ছিল ৮১ কেজি বিভাগে খেলা চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে। অলিম্পিকে নেমে পদক জয়ের লক্ষ্যে আপাতত পেরোলেন প্রথম বাধা। অভিজ্ঞতা, অদম্য মানসিকতা আর কৌশলের মেলবন্ধন ঘটিয়ে দেশের হয়ে পদক আনুন পূজা রানি, এটাই এখন কামনা।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Praveen Yadav : তরুণদীপের পর অলিম্পিক থেকে বিদায় প্রবীণ যাদবেরও

তিরন্দাজির ব্যক্তিগত বিভাগে প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকেও শেষরক্ষা হল না ভারতের প্রবীন যাদবের। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের ১ নম্বর তারকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যাডি এলিসনের কাছে হেরে অলিম্পিকের ব্যক্তিগত বিভাগ থেকেও বিদায় নিলেন।প্রথম রাউন্ডে বিশ্বের ২ নম্বর রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির গালসান বাজারঝাপভকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন প্রবীন যাদব। প্রথম সেটে প্রবীন যাদব স্কোর করেন ২৯। অন্যদিকে গালসান বাজারঝাপভ করেন ২৭। প্রথম সেট ২৯২৭ স্কোরে জিতে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে যান প্রবীন যাদব। দ্বিতীয় সেটে মরিয়া হয়ে ওঠেন গালসান বাজারঝাপভ। প্রথম দুটি শটে তিনি পারফেক্ট ১০ করেন। কিন্তু শেষ শটে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয় সেটে তাঁর পয়েন্ট দাঁড়ায় ২৭। অন্যদিকে প্রবীন যাদব সংগ্রহ করেন ২৮ পয়েন্ট। ২০ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছে যান ভারতীয় এই তিরন্দাজ।আরও পড়ুনঃ একনজরে টোকিও অলিম্পিক ভিলেজের অন্দরমহলকিন্তু প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম দুটি সেটে কিছুটা লড়াই করলেও তৃতীয় সেটে জঘন্য পারফরমেন্স প্রবীন যাদবে। প্রথম সেটে বিশ্বের ১ নম্বর তারকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যাডি এলিসন করেন ২৮ (৯+১০+৯) স্কোর। অন্যদিকে প্রবীণ যাদব করেন ২৭ (৯+৮+১০)। প্রথম সেট জিতে ২০ ব্যবধানে এগিয়ে যান ব্র্যাডি এলিসন। দ্বিতীয় সেটে প্রবীণ যাদব স্কোর করেন ২৬ (১০+৯+৭)। এলিসন করেন ২৭ (৮+১০+৯)। তৃতীয় সেটে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হন ভারতীয় তিরন্দাজ। এলিসন যেখানে স্কোর করেন ২৮ (৮+৯+৯)। প্রবীণ যাদব স্কোর করেন ২৬ (৮+৮+৭)। ৬০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান ব্র্যাডি এলিসন।আরও পড়ুনঃ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আরও কাছাকাছি পিভি সিন্ধুপ্রবীণ যাদবের আগে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেন তরুণদীপ রাই। তবে তিনি ইজরায়েলের ইটে সানির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই করেছিলেন। প্রবীণ যাদব কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি। মিক্সড ইভেন্টে দীপিকা কুমারীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পুরুষদের দলগত বিভাগেও ব্যর্থতা। তিরন্দাজি থেকে পদকের আশা প্রায় শেষ ভারতের।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Tarundeep Rai : তিরন্দাজির ব্যক্তিগত বিভাগের প্রি–কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় তরুণদীপ রাইয়ের

দলগত ও মিক্সড ইভেন্টের পর ব্যক্তিগত ইভেন্টেও ব্যর্থতা শুরু হল। ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছলেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ তরুণদীপ রাই। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ইজরায়েলের। ইটে সানির সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করেও ৬৫ ব্যবধানে হেরে অলিম্পিক থেকে বিদায় নিতে হল।দলগত ইভেন্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে ব্যক্তিগত ইভেন্টের দারুণভাবে শুরু করেছিলেন ভারতের এই অভিজ্ঞ তিরন্দাজ। রাউন্ড অফ ৩২এ তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল ইউক্রেনের ওলেক্সি হুনবিন। তাঁকে ৬৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন তরুণদীপ রাই। ওলেক্সি হুনবিনের বিরুদ্ধে সেরা ছন্দে ছিলেন তিনি।আরও পড়ুনঃ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আরও কাছাকাছি পিভি সিন্ধুপ্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ভারতীয় এই তিরন্দাজকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছিল। আর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তরুণদীপ। প্রথম সেটে তিনটি শটে তিনি সংগ্রহ করেন ২৪ স্কোর। অন্যদিকে ইটে সানি স্কোর করেন ২৮। প্রথম সেট জিতে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন ইজরায়েলি এই তিরন্দাজ। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তরুণদীপ। ২৭২৬ ব্যবধানে জিতে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সমতা ফেরান। তৃতীয় সেটে লড়াই আরও জমে ওঠে। দুজনই স্কোর করেন ২৭। তৃতীয় সেট অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ায় দুজনই ১ পয়েন্ট করে পান। চতুর্থ সেট জিতে এগিয়ে যান তরুণদীপ রাই। দুর্দান্ত পারফরমেন্সের ভিত্তিতে তিনি স্কোর করেন ২৮। অন্যদিকে ইটে সানি স্কোর করেন ২৭। চতুর্থ সেটের শেষে তরুণদীপ ৫৩ এগিয়ে যান।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াপঞ্চম সেটে লড়াই জমে ওঠে। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি তরুণদীপ রাই। ২৭২৮ ব্যবধানে পঞ্চম সেটে হেরে যান। দুজনের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫৫। কিন্তু মোট স্কোরের বিচার এগিয়ে থাকার সুবাদে ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছে যান ইজরায়েলি তিরন্দাজ। আজই পুরুষদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রবীণ যাদব ও মহিলাদের সিঙ্গলস রিকার্ভে নামবেন দীপিকা কুমারী।

জুলাই ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌India Women Hockey : গ্রেট ব্রিটেনের কাছেও হার, অলিম্পিক থেকে কার্যত ছিটকে গেলেন রানিরা

টানা ৩ ম্যাচ হেরে অলিম্পিক থেকে কার্যত ছিটকে গেল ভারতীয় মহিলা হকি দল। পুল এর ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের কাছে রানি রামপালরা হারলেন ৪১ ব্যবধানে।প্রথম ম্যাচে হল্যান্ডের কাছে ৫১ ব্যবধানে হেরেছিল ভারতীয় মহিলা হকি দল। দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির কাছে হার ২০ ব্যবধানে। পরপর দুটি ম্যাচ হেরে অনেকটাই ব্যকফুটে চলে গিয়েছিল ভারত। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রাখতে গেলে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে জিততেই হত ভারতকে। কিন্তু রানি রামপালরা জ্বলে উঠতে ব্যর্থ।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াম্যাচের শুরু থেকেই গ্রেট ব্রিটেনের আধিপত্য। ২ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। হানা মার্টিন গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। শুরুতেই গোল হজম করে হতদ্যোম হয়ে পড়ের রানি রামপালরা। তবে ১২ মিনিটে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। ১৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ভারতের সামনে। নবনীত কাউর গোলের সামনে ফ্রি হিট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ২ মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়ায় গ্রেট ব্রিটেন। সেই হানা মার্টিন আবার গোল করেন। ২৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ব্যবধান কমান গুরজিৎ কাউর।আরও পড়ুনঃ পেগাসাস স্পাইওয়্যার! ভাবের ঘরে চুরি? আপনি কতটা সুরক্ষিত? আক্রান্ত কারা?দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা খেলায় ফেরে ভারত। শুরুতেই পরপর তিনটি পেনাল্টি কর্ণারও আদায় করে। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ৪১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় গ্রেট ব্রিটেন। পেনাল্টি কর্ণার থেকে ৩১ করেন লিলি ওসলে। এখানেই ম্যাচে ফেরার আশা শেষ হয়ে যায় রানি রামপালদের। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট তিনেক আগে ডি বক্সের মধ্যে শরীর দিয়ে বল আটকালে পেনাল্টি পায় গ্রেট ব্রিটেন। গ্রেস ব্যালসডন পেনাল্টি থেকে ৪১ করেন।

জুলাই ২৮, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 33
  • 34
  • 35
  • 36
  • 37
  • 38
  • 39
  • ...
  • 42
  • 43
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

জেল থেকে ফিরেই হুমকির অভিযোগ! আমোদপুরে তৃণমূল নেতাকে দড়ি বেঁধে ঘোরালেন স্থানীয়রা

বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার আমোদপুরে এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। জামিনে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের বিভিন্ন জনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযুক্তের নাম তাহিরুল শেখ। তিনি সাঁইথিয়া ব্লকের ভ্রমরকোল অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি। ঘটনার খবর পেয়ে আমোদপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।ঘটনার সূত্রপাত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের দিন। অভিযোগ, ওই দিন ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ওঝার ছেলে, নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ বিজেপির কয়েকজন নেতাকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা তাহিরুল শেখের নাম জড়ায়। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রায় দুমাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।বিজেপির অভিযোগ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের দলের কর্মীদের হুমকি দিতে শুরু করেন তাহিরুল। রবিবার বেলার দিকে তিনি আমোদপুর লাগোয়া ঈশ্বরপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাধুর বাড়িতে যান। সেই খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে আমোদপুর বাজার এলাকায় ঘোরান। পরে তাঁকে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয়।বিজেপির ভ্রমরকোল মণ্ডল সভাপতি সুদীপ ঘোষের দাবি, ভোটের দিন তাহিরুলের নেতৃত্বে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়েছিল। তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, জামিনে মুক্তির পর ফের বিজেপি কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সেই খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুসের বক্তব্য, বিজেপি অনেক জায়গাতেই পুলিশের মদতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করছে। তবে আমোদপুরের এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের দিন বিজেপি নেতাদের মাথা ফাটানোর অভিযোগের জেরেই তাহিরুল জনরোষের মুখে পড়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। আমোদপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

রং-তুলিতে সমাজের মুখ আঁকা থামল! প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, বয়স ৮৭

ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াই, সঙ্গে মূত্রনালির সংক্রমণকলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস শিল্পীর। চিত্রকলার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও রেখেছিলেন স্বতন্ত্র ছাপ।বাংলার শিল্পজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বিশিষ্ট শিল্পী। তার উপর মূত্রনালির সংক্রমণ এবং শারীরিক নানা জটিলতা ক্রমশ তাঁর অবস্থাকে সংকটজনক করে তোলে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে মাইলোপ্রোলিফেরেটিভ নিওপ্লাজম নামে এক ধরনের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। চলছিল কেমোথেরাপিও। শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সংক্রমণের কারণে সেপসিসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন বর্ষীয়ান শিল্পী।ফরিদপুর থেকে কলকাতা, শিল্পী হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। পরিবারের পরিবেশও তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর মা সুন্দর আল্পনা আঁকতেন। মায়ের সেই শিল্পচর্চা ছোট্ট যোগেনের মনে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল।দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এই শহরেই শুরু হয় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টে পড়াশোনা করেন তিনি। শিল্পশিক্ষা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে প্যারিসে পাড়ি দেন যোগেন চৌধুরী। ইউরোপীয় শিল্পধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয় সেই সময়। ভারতীয় শিল্পের ঐতিহ্য এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্পভাবনার সংমিশ্রণ তাঁর কাজকে স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারির কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।ব্যঙ্গ, সমাজ ও রাজনীতিক্যানভাসে ধরা পড়ত সময়ের ছবিযোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজ ও রাজনীতির নানা অসংগতি তুলে ধরার ক্ষমতা। তাঁর ছবিতে কেবল রং, রেখা কিংবা অবয়বের প্রকাশ ঘটত না; ফুটে উঠত সমকালীন সমাজের নানা প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতা। ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি সমাজের অসংগতিগুলিকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করতেন। সেই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ইউরোপীয় আধুনিক শিল্প আন্দোলনের প্রভাব তাঁর কাজে লক্ষ করা যায়। তবে প্রভাবের মধ্যেও নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষের অবয়ব, অভিব্যক্তি এবং সামাজিক বাস্তবতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম প্রশংসিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনাতেও ছিল তাঁর ছোঁয়াক্যানভাসের বাইরেও বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপুজোর থিম এবং প্রতিমা-ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে বেহালা নূতন দল দুর্গাপুজোর প্রতিমার স্কেচ তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী। পরের বছর ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমার চালচিত্রের নকশাতেও তাঁর শিল্পভাবনার প্রতিফলন ঘটেছিল।বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পের যে বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়েছে, সেখানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথাগত শিল্পচর্চা থেকে জনপরিসরের শিল্পবিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় রেখেছিলেন তিনি।শিল্পের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেওচিত্রকর হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনও ছিল যোগেন চৌধুরীর। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে উপস্থিতি তাঁকে অন্য পরিচিতিও দিয়েছিল।তবে তাঁর দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে শিল্পচর্চা। রং, রেখা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজকে দেখার যে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে হারালেন বাংলা তথা ভারতের শিল্পজগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃষ্টি, শিল্পভাবনা এবং সমাজকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনেও শিল্পপ্রেমীদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে। মানুষটি চলে গেলেন, কিন্তু ক্যানভাসে রেখে গেলেন সময়, সমাজ ও মানুষের বহু না-বলা কথার চিহ্ন।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
দেশ

হস্টেলে আত্মহত্যা রুখতে বিশেষ ফ্যান! অতিরিক্ত ওজন পড়লেই খুলে যাবে, বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন

সুরাট: পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় অভিনব উদ্যোগ বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়েরছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্টেলের ঘরে বিশেষ প্রযুক্তির সিলিং ফ্যান বসাল গুজরাটের সুরাটের বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় (Veer Narmad South Gujarat University)। আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি এই বিশেষ ফ্যানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি স্প্রিং মেকানিজম। ফ্যানে অতিরিক্ত ওজন পড়লে সেটি খুলে নীচে নেমে আসবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে ফ্যানকে আত্মহত্যার কাজে ব্যবহার করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ সিলিং ফ্যানের পরিবর্তে বিশেষ ব্যবস্থাযুক্ত এই ফ্যান ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হল, কোনও পড়ুয়া চরম মানসিক সংকটের মুহূর্তে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সেই ঝুঁকি কমানো।বিশেষ স্প্রিং ব্যবস্থার কারণে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ওজন পড়লে ফ্যানটি তার মাউন্টিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করবে যন্ত্রটির নকশা, নির্ধারিত ওজনসীমা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উপর।#WATCH | Surat, Gujarat | Veer Narmad South Gujarat University installs anti-suicide ceiling fans, with special spring mechanism, in hostels, designed to detach under excessive weight and cut off the power supply. https://t.co/1GM7E91n3K ANI (@ANI) October 24, 2026শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক পড়ুয়াই মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, কাউন্সেলিং এবং সময়মতো সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থাও জরুরি।বিশেষ ফ্যান বসানোর এই উদ্যোগ হস্টেলের নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বিকল্প প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়পড়ুয়াদের পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনে দ্রুত পেশাদার সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ‘অর্ণব’! বুধবার কোথায় আছড়ে পড়বে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়? বাংলায় কোথায় কতটা বৃষ্টি?

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে চলেছে। অভিমুখ বদলে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে মঙ্গলবার তীব্র এবং বুধবার অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে সেটি। অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলার উপকূলেও বাড়ছে সতর্কতা। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং সমুদ্রে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, রবিবারের মধ্যে সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর পর অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে সোমবার সকালের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হতে পারে অর্ণব।আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটির গতিপথে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগোলেও পরে সেটি বাঁক নিয়ে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রের উপর দিয়ে এগোনোর সময় ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে বুধবারের মধ্যে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে সেটি। ফলে আগামী কয়েক দিন বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার উপর বিশেষ নজর রাখছেন আবহবিদেরা।কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ? কোন দিকে এগোচ্ছে?আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল আন্দামানের শ্রীবিজয়পুরম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে। কাকিনাড়া থেকে প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে, মছলিপত্তনম থেকে ১,০৬০ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে প্রায় ১,১৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল নিম্নচাপটি।প্রাথমিক ভাবে ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার গতিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগোচ্ছিল সেটি। রবিবার দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার পর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর গতিপথ বদলে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর মঙ্গলবারের মধ্যে তা তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে পারে। পরে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বুধবার কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়?সম্ভাব্য গতিপথের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে বুধবার দুপুর নাগাদ স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।তবে ঘূর্ণিঝড়ের নির্দিষ্ট গতিপথ, তীব্রতা এবং স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় আবহাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। তাই চূড়ান্ত ল্যান্ডফলের স্থান ও সময় সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।উত্তাল সমুদ্র, মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতানিম্নচাপের প্রভাবে ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে আবহাওয়ার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রবিবার থেকেই সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়তে পারে। সোমবার ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। মঙ্গলবার তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তা ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। বুধবার অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সময় হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও মঙ্গলবার থেকে সতর্কতা জারি থাকার কথা জানানো হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।অর্থাৎ, উপকূলবর্তী জেলাগুলির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলিতেও ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ সমান হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতার মাত্রা বদলাতে পারে।উত্তরবঙ্গেও কি বাড়বে বৃষ্টি?ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দুই বঙ্গেই তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তার পর তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।কলকাতার তাপমাত্রা কত?রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৪ ডিগ্রি বেশি। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৫ ডিগ্রি কম।সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের পরবর্তী গতিপ্রকৃতিই এখন আবহাওয়াবিদদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও বাংলার উপকূলেও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৩০০তম ম্যাচেই ইতিহাস ভারতের! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ জয়ের বিশ্বরেকর্ড, জোড়া মাইলফলকে উজ্জ্বল টিম ইন্ডিয়া

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ৩০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেই জোড়া মাইলফলক স্পর্শ করল টিম ইন্ডিয়া। একদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় দল হিসেবে ৩০০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার নজির, অন্যদিকে প্রথম দল হিসেবে ২০০টি ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই দুই সাফল্য ভারতীয় ক্রিকেটের মুকুটে নতুন পালক যোগ করল।শনিবারের ম্যাচটি ভারতের কাছে শুধুমাত্র সিরিজের আর একটি লড়াই ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে নিজেদের জায়গা আরও শক্তিশালী করে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও ছিল। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় ভারত। ফলে মাঠের লড়াইয়ে সাফল্যের পাশাপাশি রেকর্ডের পাতাতেও স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।৩০০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, তালিকায় দ্বিতীয় ভারতছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে ভারত। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল এই ফরম্যাটে ভারতীয় দলের ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় দল হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত।এই তালিকায় এখনও শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী দেশটি এখনও পর্যন্ত ৩০৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। অর্থাৎ, ম্যাচ খেলার সংখ্যার বিচারে পাকিস্তানের থেকে মাত্র চারটি ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছে ভারত। অন্যদিকে, শনিবারের ম্যাচের পর নিউ জ়িল্যান্ডের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৯।পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারত কতটা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ফরম্যাটে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাফল্যের নিরিখেও ভারতীয় দল যে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তা স্পষ্ট হয়েছে তাদের জয়ের পরিসংখ্যানে।২০০ জয়ের নজির গড়ে বিশ্বের এক নম্বর ভারত৩০০তম ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে ২০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি জয়। এই কৃতিত্ব অর্জন করে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে নজির গড়ল ভারত। অর্থাৎ, শুধু ম্যাচ খেলার সংখ্যাতেই নয়, জয় তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করল টিম ইন্ডিয়া।জয়ের পরিসংখ্যানে ভারতের ধারেকাছে আপাতত রয়েছে পাকিস্তান। তারা এখনও পর্যন্ত ১৭৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা নিউ জ়িল্যান্ডের জয়ের সংখ্যা ১৩৫। ফলে এই পরিসংখ্যানে ভারতের সঙ্গে অন্য দলগুলির ব্যবধান যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।এই সাফল্য ভারতীয় দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই প্রতিফলন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলা, চাপের মুখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ভারতকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।চলতি বছরেও সাফল্যের ধারায় টিম ইন্ডিয়াআন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে চলতি বছরেও ভারতের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩৭টি ম্যাচ খেলে ২৫টিতে জয় পেয়েছে ভারতীয় দল। ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির মধ্যেও এই জয়ের হার দলের ধারাবাহিকতার পরিচয় বহন করছে।অন্যদিকে, পরাজয়ের সংখ্যার নিরিখেও ভারতের রেকর্ড উল্লেখযোগ্য। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারতে হয়েছে ভারতকে। এই বিভাগে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে একাধিক শক্তিশালী ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ।ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া, দুই দলই ৯২টি করে ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। ফলে এই তালিকায় তারা যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়ের সংখ্যা ১০১।রেকর্ডের সঙ্গে শেষ বল পর্যন্ত লড়াইনজির গড়ার ম্যাচে ভারতীয় দলের জয়ও এসেছে যথেষ্ট লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এক বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল।আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং ২০০ জয়ের সাফল্যদুইয়ের মেলবন্ধন ভারতীয় ক্রিকেটের শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। এই ফরম্যাটে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে ২০০ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করা নিঃসন্দেহে বড় কৃতিত্ব।সব মিলিয়ে, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ভারতের কাছে হয়ে থাকল দ্বিগুণ আনন্দের উপলক্ষ। একদিকে মাঠে জয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। পরিসংখ্যানের নিরিখে ভারত যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান শক্তি, ৩০০তম ম্যাচে ২০০ জয়ের নজির সেই দাবিকেই আরও জোরালো করল।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটিতে ইতি! সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতের

২০২৭ সালের দুর্গাপুজো থেকে বদলাতে চলেছে সরকারি হাসপাতালের ছুটির রীতি। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বিশেষ রোস্টার, অর্ধেক থাকবেন অ-চিকিৎসক কর্মী। চিকিৎসক ও নার্সদের থাকতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিউটিতে।কলকাতা: দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি বা ছুটি-ছুটি মেজাজের দিন শেষ হতে চলেছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে। স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা দীর্ঘদিনের এক অলিখিত রীতিতে এবার ইতি টানার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আগামী বছর থেকে পুজোর ছুটিতে হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো জরুরি ক্ষেত্রে দীর্ঘ ছুটির প্রচলিত ধারণা বদলানোই সরকারের লক্ষ্য।শুক্রবার, বিজয়া দশমীর পর দ্বাদশীর দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অন্যান্য সরকারি দফতরের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কাজের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি অফিসে ছুটির প্রভাব এক রকম হলেও হাসপাতালের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে রোগীর চিকিৎসা, জরুরি বিভাগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা কোনওভাবেই বন্ধ রাখা যায় না। তাই পুজোর সময়েও পর্যাপ্ত কর্মী নিয়ে হাসপাতাল চালু রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ১৯৪৭ সালের পর থেকে রাজ্যে কার্যত একটি অলিখিত রীতি চলে আসছিল। ষষ্ঠী থেকেই সরকারি দফতরগুলিতে পুজোর আবহে কাজের গতি কমে যেত, আর সেই ছুটির রেশ চলত লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। কিন্তু হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ ছুটি-ছুটি ভাব আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়ার প্রচলিত রেওয়াজ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।আগামী বছর থেকে কী নিয়ম চালু হবে?স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের দুর্গাপুজো থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীএই চার দিনের জন্য বিশেষ ডিউটি রোস্টার চালু থাকবে। হাসপাতালের পরিষেবা সচল রাখতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। অ-চিকিৎসক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই চার দিনে মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে কাজে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আগাম নির্দিষ্ট ছুটির রোস্টার থাকবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। হাসপাতালের প্রয়োজন এবং পরিষেবার চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থাৎ, পুজোর দিনগুলিতে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কাজের প্রয়োজনের উপর।এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুজোর সময়েও হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা, রোগী সামলানো এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।এ বছর থেকেই কাজে ফেরার নির্দেশশুধু আগামী বছরের পরিকল্পনাই নয়, চলতি বছরেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শারদ্বত। তাঁর দাবি, অন্যান্য সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে শুরু করে সাফাইকর্মীবিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কাজে ফিরেছেন।এমনকি যাঁরা আগে থেকেই ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতির অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালগুলিতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন অগ্রাধিকার।পরিষেবা সচল রাখাই মূল লক্ষ্যদুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির প্রচলন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে পুজোর সময় চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে নতুন রোস্টার কীভাবে কার্যকর হবে, হাসপাতালভিত্তিক কর্মী বণ্টন কীভাবে হবে এবং চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব নির্ধারণে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট, আগামী বছর থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পুজোর ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বদল আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুমেও যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও শিথিলতা না আসে, সেই লক্ষ্যেই ছুটির বদলে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের! আতঙ্কের মাইকিংয়ে গ্রেফতার আরও এক ঘোষক, ধৃতের সংখ্যা ২

সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণার অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে দুই ঘোষকের নাম। কেন এমন ঘোষণা, নেপথ্যে কারও নির্দেশ ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয় ঘিরে তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ঘোষণার ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম কুশল মজুমদার। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। অভিযোগ, এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আতঙ্কিত দর্শনার্থীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। যদিও ওই ঘোষণার উদ্দেশ্য এবং তার সঙ্গে বিপর্যয়ের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজনের খোঁজঘটনার পরই মণ্ডপে মাইক থেকে কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল। অবশেষে দ্বিতীয় সন্দেহভাজন কুশল মজুমদারকেও পাকড়াও করা হল।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুর খোঁজ মিলছিল না। তাঁর বাড়িতে গিয়েও পুলিশ তাঁকে পায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করে পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন আটটি মোবাইল নম্বরের উপর নজরদারি চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।আতঙ্কের ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে প্রশ্নচোরবাগান কাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা যায়। একটি ভিডিয়োতে গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। অন্য একটি ভিডিয়োতে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের ভিতরে কয়েক মিটার দূরেই ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। আতঙ্কিত দর্শনার্থীদের চিৎকারের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায় এক পুলিশকর্মীকে।এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইক থেকে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং অনেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি। তদন্তের স্বার্থে ভিডিয়োগুলির সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও ওই ঘোষণার বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে।নির্দেশ দিয়েছিল কে? খতিয়ে দেখছে পুলিশতদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। মণ্ডপে যখন ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তখন ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা করা হয়? ঘোষকরা কি নিজেরাই এমন কথা বলেছিলেন, নাকি তাঁদের পিছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হলেও তা কীভাবে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারদুজনেরই বাড়ি অমর বসু সরণিতে, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া সঞ্জীবকে শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল বলে জানা গিয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুলিশের।চোরবাগানের বিপর্যয় ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে মাইকে করা ওই ঘোষণা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে গ্রেফতারের পর এবার এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেদিকেই নজর কলকাতার।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

পরকীয়ার সন্দেহে দাম্পত্যে অশান্তি, বাড়ি ফিরতেই চরম পরিণতি! বংশীহারিতে স্বামী খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী

দেড় বছরের দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তিকে ঘিরে বিবাদ, ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার স্ত্রী, তদন্তে পুলিশ।পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরেই স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিকাশ রায়। তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়ই কলোনির দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে এলাকারই বাসিন্দা শিউলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সংসার চালানোর জন্য কলকাতায় কাজ করতেন বিকাশ। সেই কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হত তাঁকে।অভিযোগ, বিকাশ বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী যুবক অনুপ দাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শিউলি। অনুপ পেশায় টোটোচালক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই সম্পর্কের কথা ক্রমে জানাজানি হয়ে যায়। সম্প্রতি বাড়ি ফেরার পর বিষয়টি বিকাশেরও নজরে আসে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল বলে দাবি পরিবারের।ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিকাশ ও শিউলিকে ঘরের বাইরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বারবার ডাকাডাকি করলেও প্রথমে কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। পরে শিউলি দরজা খুললে ঘরের মেঝেতে বিকাশের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বংশীহারি থানায়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে বিকাশের মৃত্যু হল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের তরফে শিউলির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বিকাশের পরিবারের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, নিজের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই পরিকল্পনা করে তাঁর দাদাকে খুন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দেড় বছরের দাম্পত্যের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের পিছনে থাকা সমস্ত তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal