• ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Football

খেলার দুনিয়া

হতাশা কাটিয়ে এখন এএফসি কাপকেই পাখির চোখ করছেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো

বুধবার হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জিতেও আইএসের ফাইনালের দরজা না খোলায় হতাশ এটিকে মোহনবাগান কোচ, ফুটবলার, সমর্থকরা। ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলেও গোটা মরশুমের দিকে যদি তাকানো যায়, তা হলে একটা কথা মানতেই হবে, হতাশ হওয়ার মতো ফুটবল খেলেনি সবুজমেরুন ব্রিগেড। দু-একটা ছোটখাট ভুল এবং সমস্যার মাশুল দিতে হয়েছে তাদের। আইএসএলের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে হতাশা কাটিয়ে এখন এএফসি কাপকেই পাখির চোখ করছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ জিতেও আইএসএল অভিযান শেষ হলেও কোচ জুয়ান ফেরান্দো খুশি দলের খেলায়। এএফসি কাপের ভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁর মাথায়। ফেরান্দো বলেন, দলের খেলায় আমি খুবই খুশি। খুব কঠিন সময়ে আমাদের দলের ছেলেরা প্রচুর পরিশ্রম করেছে। নিভৃতবাস, কোচ ও খেলার ধরন বদল, সব কিছুর সঙ্গে ওরা মানিয়ে নিয়ে সেরাটা দিয়েছে। তবে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বের ফলাফলে খুশি নন এটিকে মোহনবাগান কোচ। তিনি বলেন, জামশেদপুর এফসি-র কাছে লিগের শেষ ম্যাচ হেরে শীর্ষ স্থানটা হারিয়েছিলাম। এ বার সেমিফাইনালেও হারলাম। এই ফলাফলে আমি একেবারেই খুশি নই। ব্যক্তিগত ভাবে আমি খুব হতাশ। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলাম না। আমার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।এই মরশুমে যতটা ভাল খেলেছে এটিকে মোহনবাগান তত ভাল ফল তারা পায়নি। তবে চোট-আঘাত, শিবিরে কোভিড-হানা, মরশুমের মাঝখানে কোচ-বদল, নতুন কোচের স্টাইল-বদল, এমন নানা পরিস্থিতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও যে সবুজমেরুন ব্রিগেড এত দূর পৌঁছতে পেরেছে, এটা কম কৃতিত্বের নয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এই দলই ফাইনালে উঠতে পারত এবং হয়তো চ্যাম্পিয়নও হতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্য ও পরিস্থিতি তাদের সেই জায়গায় পৌঁছতে দেয়নি।একমাসও বাকি নেই এএফসি কাপ শুরু হতে। আইএসএলে ব্যর্থতার পর এটাই পাখির চোখ ফেরান্দোর। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ভাল প্রস্তুতি প্রয়োজন। এই ব্যাপারে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। তার আগে অবশ্যই খেলোয়াড়দের যথেষ্ট বিশ্রাম দিতে হবে। ৫-৬ দিন পর থেকে প্র্যাক্টিস শুরু করব। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা।

মার্চ ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েও ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হল না এটিকে মোহনবাগানের

৩ গোলের ব্যবধান মুছে দিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন এটিকে কোচ জুয়ান ফেরান্দো। স্বপ্ন দেখেছিলেন ৯০ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল করে দলকে আইএসএলের ফাইনালে তোলার। দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েও স্বপ্নপূরণ হল না সবুজমেরুণ ব্রিগেডের। দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে ১০ ব্যবধানে জিতেও ফাইনালে ওঠা হল না এটিকে মোহনবাগানে। স্বপ্ন আটকে গেল হায়দরাবাদ এফসি গোলকিপার কাট্টিমনির হাতে। দুই পর্ব মিলিয়ে ৩২ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে চলে গেল হায়দরাবাদ এফসি।জয়ের জন্য মরিয়া এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো এদিন ৩৫২ ছকে দল সাজিয়েছিলেন। একেবারে সামনে রেখেছিলেন রয় কৃষ্ণা ও কিয়ান নাসিরিকে। কিয়ানকে নামিয়ে চমক দিতে চেয়েছিলেন সবুজমেরুণ কোচ। কিয়ান ও কৃষ্ণার পেছনে হুগো বোমাস, লিস্টন কোলাসো, জনি কাউকো, শুভাশিস বসু ও কার্ল ম্যাকহিউ। ৩ ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্ঘান, প্রবীর দাস ও প্রীতম কোটাল।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল এটিকে মোহনবাগান। ৭ মিনিটে একটা হাফ চান্স এসে গিয়েছিল সবুজমেরুণের সামনে। প্রবীর দাস একক প্রয়াসে ঢুকে গিয়েও গোল করতে পারেননি। ১৪ মিনিটে প্রবীর দাসের সেন্টারে ঠিকঠাক মাথা ছোঁয়াতে পারেননি রয় কৃষ্ণা। একের পর এক আক্রমণ তুলেনিয়ে এলেও গোলমুখ খুলতে পারছিলেন না এটিকো মোহনবাগান স্ট্রাইকাররা। খেলার গতির বিরুদ্ধে ৩৪ মিনিটে দারুণ সুযোগ এসেছিল হায়দরাবাদ এফসির সামনে। ইয়াসির মহম্মদের কর্ণারে ৬ গজ বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় পেয়েও গোল করতে পারেননি অনিকেত যাদব। মিনিট তিনেক পরেই এটিকে মোহনবাগানের সামনে গোলের সুযোগ এসে গিয়েছিল। প্রবীর দাসের সেন্টার নিজের আয়ত্বে নিয়ে এসেই তিন কাঠে ভেদ করতে পারেননি হুগো বোমাস। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে জনি কাউকোর একটা শট বারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল এটিকে মোহনবাগানের। ৫০ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। ডানদিক থেকে উঠে গিয়ে দুর্দান্ত নীচু সেন্টার করেছিলেন প্রবীর দাস। সামনে শুধু হায়দরাবাদ এফসি গোলকিপার কাট্টিমনিকে পেয়েও গোল করতে পারেননি রয় কৃষ্ণা। তাঁর পুশ দারুণ দক্ষতায় বাঁচান কাট্টিমনি। ৬০ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে সুবিধাজনক জায়গায় ফ্রিকিক পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিস্টন কোলাসো। ৬৪ মিনিটে হুগো বোমাসের সেন্টারে কিয়ান নাসিরির হেড সরাসরি কাট্টিমনির হাতে চলে যায়।৬৯ মিনিটে সন্দেশকে তুলে মনবীর সিংকে নামিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন জুয়ান ফেরান্দো। ফলও পান হাতে নাতে। ৭৯ মিনিটে গোল করে এটিকে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন রয় কৃষ্ণা। শেষ দিকে আক্রমণের চাপ বাড়িয়েও আর গোল তুলে নিতে পারেনি এটিকে মোহনবাগান। সেই কাট্টিমনির হাতেই আটকে গেল সবুজমেরুণের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।

মার্চ ১৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌আইএসএলে ব্যর্থ হলেও লালহলুদ ফুটবলারদের দারুণ কদর, রফিক যাচ্ছেন চেন্নাইনে

এবারের আইএসএলে লিগ টেবিলে লাস্ট বয় হলেও দলবদলের বাজারে এসসি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের কদর যে যথেষ্ট রয়েছে, ইতিমধ্যেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হীরা মণ্ডল, সৌরভ দাসসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলার ইতিমধ্যেই অন্য ক্লাবের প্রস্তাব পেয়ে গেছেন। লালবলুদের আরও এক ফুটবলারের কাছে এসে গেল অন্য ক্লাবের প্রস্তাব। মহম্মদ রফিককে ২ বছরের জন্য প্রস্তাব দিল চেন্নাইন এফসি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই চেন্নাইন এফসির চুক্তিপত্রে সই করবেন মহম্মদ রফিক। সামনের মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের কী অবস্থা হবে, তা জানেন না কোনও ফুটবলারই। স্পনসর নিয়ে এখনও টালবাহনা চলছে। শ্রী সিমেন্ট কর্তারা আইএসএলের শেষলগ্নে এসে বলেছিলেন, চলতি মরশুম শেষেই লালহলুদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। কিছুদিন আগেই আবার শ্রী সিমেন্টের কর্ণধার হরিমোহন বাঙ্গুর বলেছিলেন, তাঁরা ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে থাকতে চান। তবে লালহলুদ কর্তারা আর শ্রী সিমেন্টকে লগ্নিকারী হিসেবে চান না। নতুন স্পনসরের খোঁজে তাঁরা রয়েছেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে অনেকদুর এগিয়েছে। তবে কোনও কিছুই এখনও নিশ্চিত নয়। এই অবস্থায় ফুটবলাররা আর অপেক্ষা করতে চাইছেন না। তাঁরা অন্য ক্লাবের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। বেশ কয়েকজন লালহলুদ ফুটবলার ইতিমধ্যেই অন্য ক্লাবের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সেরে ফেলেছেন। এবার সেদিকেই এগোচ্ছেন মহম্মদ রফিক। চেন্নাইন এফসির প্রস্তাব পছন্দ হয়েছে রফিকের। ৩১ মে পর্যন্ত যেহেতু লালহলুদের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, তাই এখনই চেন্নাইন এফসির চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই করতে পারছেন না মহম্মদ রপিক। ২ বছরের জন্য তিনি চেন্নাইনে যাচ্ছেন। লালহলুদে অধিকাংশ ম্যাচে মাঝমাঠে খেললেও যথেষ্ট ইউটিলিটি ফুটবলার রফিক। মাঝমাঠ ছাড়াই উইং, রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, ফরোয়ার্ডেও খেলতে পারেন। অ্যাটলেটিকো দি কলকাতার হয়ে প্রথম আইএসএলে ফরোয়ার্ডেই খেলেছিলেন। তাঁর গোলেই ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অ্যাটলেটিকো দি কলকাতা। ওই বছর তিনি ইস্টবেঙ্গল থেকে লোনে অ্যাটলেটিকো দি কলকাতায় যোগ দিয়েছিলেন।

মার্চ ১৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌জুয়ান ফেরান্দোর ভুলেই ফাইনালে রাস্তা কঠিন হয়ে গেল এটিকে মোহনবাগানের

লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান হাতছাড়া করে এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো পাখির চোখ করেছিলেন আইএসএল জেতা। তাঁর সেই স্বপ্নে কাঁটা বিছিয়ে দিল হায়দরাবাদ এফসি। আইএসএল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রথম পর্বের ম্যাচে নিজামের শহরের এই দলের কাছে ৩১ ব্যবধানে হেরে ফাইনালের রাস্তা কঠিন হয়ে গেল এটিকে মোহনবাগানের কাছে। কোচ জুয়ান ফেরান্দোর একটা ভুলই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিল সবুজমেরুণ শিবিরকে।জুয়ান ফেরান্দো চেয়েছিলেন প্রথম পর্বের ম্যাচেই ফাইনালের রাস্তা পরিস্কার করতে। সেই লক্ষ্যেই শুরু করেছিল সবুজমেরুণ ব্রিগেড। ম্যাচের শুরু থেকেই এটিকে মোহনবাগানের প্রাধান্য ছিল। সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি জনি কাউকো, রয় কৃষ্ণারা। তবে গোলের জন্য সবুজমেরুণকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ১৭ মিনিটে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। মাঝমাঠ থেকে বাঁদিকে লম্বা বল বাড়ান জনি কাউকো। বল ধরে বাঁদিক ধরে এগিয়ে গিয়ে নীচু সেন্টার করেন লিস্টন কোলাসো। বাঁপায়ের ফ্লিকে বল জালে পাঠান রয় কৃষ্ণা। চলতি মরশুমে তেমন ছন্দে না থাকলেও আসল সময়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন ফিজির এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আধিপত্য থাকলেও গোলসংখ্যা বাড়াতে পারেনি এটিকে মোহনবাগান। অন্যদিকে হায়দরাবাদ এফসি সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু সবুজমেরুণের আঁটোসাঁটো রক্ষণের জন্য সফল হতে পারছিল না। অবশেষে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে সবুজমেরুণ ডিফেন্সের ক্ষনিকের মনোসংযোগের অভাবে সমতা ফেরায় হায়দরাবাদ এফসি। কর্ণার থেকে জটলার মধ্যে বল পেয়ে চার ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে গোল করে সমতা ফেরান সেই বার্থোলোমিউ ওগবেচে। বিরতিতে যাওয়ার আগে এই গোলটাই মনোবল বাড়িয়ে দেয় হায়দরাবাদ এফসির। দ্বিতীয়ার্ধে এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দোর একটা ভুল সিদ্ধান্তই ম্যাচে ফেরায় হায়দরাবাদ এফসিকে। লেনি রডরিগেজকে তুলে নেওয়ায় মাঝমাঠে অনেকটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সেই সুযোগটা দারুণ ভাবে কাজে লাগায় হায়দরাবাদ। ৫৮ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে সিভেরিওর উদ্দেশ্যে বাড়ান ওগবেচে। তিরি ও সন্দেশের যৌথ ট্যাকেলে বল ছিটকে যায় মহম্মদ ইয়াসিরের কাছে। বাঁপায়ের দুরন্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসির। মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় হায়দরাবাদ এফসি। বাঁদিক থেকে ইয়াসিরের কর্ণারে হেডে ৩১ করেন সিভেরিও। ৭৫ মিনিটে হুগো বোমাসের মাইনাস থেকে গোল করার সুযোগ এসেছিল জনি কাউকোর সামনে। কিন্তু তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। শেষদিকে ব্যবধান কমানোর মরিয়া চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি এটিকে মোহনবাগান।

মার্চ ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

লাঠি–ব্যাট–উইকেট নিয়ে মারামারি, ক্ষমতার দখল নিয়ে ধুন্ধুমার মোহনবাগান তাঁবু

কয়েক ঘন্টা পরেই আইএসএলের প্রথম পর্বের সেমিফাইনালে খেলতে নামবে এটিকে মোহনবাগান। তার কয়েকঘন্টা আগেই কিনা ক্ষমতার দখল নিয়ে ধুন্ধুমার কান্ড সবুজমেরুণ তাঁবুতে! হ্যাঁ, শনিবার এইরকম ঘটনারই সাক্ষী থাকল মোহনবাগান ক্লাব তাঁবু। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁবুর বাইরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল দুই পক্ষ। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মোহনবাগান ক্লাবের নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল। শনিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন। শেষদিনে হঠাৎ করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। লাঠি, ক্রিকেট ব্যাট, উইকেট নিয়ে মারপিটে জড়িয়ে পড়ে দুই বিবাদমান গোষ্ঠী। একে অপরের দিকে তেড়ে যায়। লাঠিউইকেট নিয়ে আঘাত করে। ইটপাথরও ছোঁড়ে। ঘটনায় কয়েকজন সমর্থক আহত হন। পরিস্থিতি যখন চরমে ওঠে, ক্লাব তাঁবুর ভেতরে থাকা কর্তারা পুলিশকে ফোন করেন। গন্ডোগোলের খবর পেয়েই দ্রুত ছুটে আসে ময়দান থানার পুলিশ। লালবাজার থেকেও পুলিশের বিশাল বাহিনী হাজির হয়। লাঠি চালিয়ে দুই বিবাদমান গোষ্ঠীকে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। কেন হঠাৎ করে এইরকম অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে অন্ধকারে ক্লাব কর্তারা। শনিবার ছিল ক্লাবের নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন। বিকেল ৫ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যেত। কিন্তু দুপুর হতে না হতেও বেশকিছু সদস্যসমর্থক ক্লাব তাঁবুর বাইরে জড়ো হতে শুরু করেন। এরপরই সদস্যসমর্থকরা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তারপর শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। একে অপরের দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে যায়। ক্লাব সচিব সত্যজিৎ চ্যাটার্জির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ এসে সব তথ্য সংগ্রহ করে। কেন দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল, এই সংঘর্ষের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সদস্যসমর্থকদের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে মোহনবাগানের শীর্ষ কর্তা দেবাশিস দত্ত বলেন, ক্লাব তাঁবুর বাইরে ঝামেলা হয়েছে। কারা ঝামেলা করেছে, কেন করেছে আমরা জানি না। ক্লাবের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। কার সঙ্গে কী সমস্যা হয়েছে বলতে পারব না। পুলিশ তদন্ত করছে। একই কথা শোনা গেছে সত্যজিৎ চ্যাটার্জির মুখেও। গাড়ি ভাঙচুর নিয়ে পুলিশে তিনি কোনও অভিযোগও করছেন না।

মার্চ ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌কেন লালহলুদ ছেড়ে অন্য ক্লাবের পথে হীরা, সৌরভরা?‌

চলতি আইএসএলে চূড়ান্ত ব্যর্থ এসসি ইস্টবেঙ্গল। লিগ টেবিলে একেবারে সবার শেষে। ২০ ম্যাচে মাত্র ১টা জয়। এহেন দলের কোনও ফুটবলারের দিকে অন্যদলগুলি ফিরে তাকাবে, কল্পনার অতীত। ব্যতিক্রমও আছে। লালহলুদের বেশ কয়েকজন ফুটবলারের দিকে হাত বাড়িয়েছে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ইতিমধ্যেই এসসি ইস্টবেঙ্গলের মিডফিল্ডার সৌরভ দাসের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলেছে চেন্নাইন এফসি। হীরা মণ্ডল, নামতেসহ একাধিক ফুটবলারের কাছে প্রস্তাব আছে বেশ কয়েকটা ফ্রাঞ্চাইজির। গত মরশুমেও লালহলুদ জার্সি গায়ে খেলেছিলেন সৌরভ দাস। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে মুম্বই সিটি এফসি থেকে লোনে এসসি ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেন। রবি ফাউলার তাঁকে নিয়মিত খেলাতেন। কিন্তু চলতি মরশুমে চোটের জন্য অধিকাংশ সময়েই মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল সৌরভকে। কয়েকটা ম্যাচে খেললেও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। মারিও রিভেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সৌরভকে সেভাবে নামানোর সাহস দেখাতে পারেননি। তা সত্ত্বেও সামনের মরশুমের জন্য নতুন দল পেয়ে গেলেন এসসি ইস্টবেঙ্গলের এই মিডফিল্ডার। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সৌরভের সঙ্গে চুক্তি করেছে চেন্নাইন এফসি। আইএসএলের দুটি মরশুম মিলিয়ে লালহলুদ জার্সি গায়ে ১৮টি ম্যাচ খেলেছেন সৌরভ। টাটা ফুটবল অ্যাকাদেমি থেকে উঠে এসেছেন সৌরভ দাস। ২০১৬ সালে যোগ দেন মোহনবাগানে। টানা তিন মরশুম সবুজমেরুণ জার্সিতে কাটান এই তরুণ মিডফিল্ডার। আই লিগে মোহনবাগানের হয়ে খেলেন ১৬টি ম্যাচ। আই লিগে তাঁর দুরন্ত পারফরমেন্স নজর কাড়ে মুম্বই সিটি এফসি কর্তাদের। সৌরভ দাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করে মুম্বই। গত মরশুমে জানুয়ারিতে দলবদলের দ্বিতীয় উইন্ডোতে লোনে লালহলুদে যোগ দেন। কেন ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে অন্য দলের দিকে পা বাড়াচ্ছেন ফুটবলাররা? আসলে নিরাপত্তার অভাব। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন শ্রী সিমেন্ট কর্তারা। স্পোর্টিং রাইটসও ফিরিয়ে দিচ্ছে। সামনের মরশুমের স্পনসর নিয়ে এখনও কিছু চূড়ান্ত করতে পারেননি লালহলুদ কর্তারা। বেশ কয়েকটা স্পনসরের সঙ্গে কথা চলছে। তবে বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপ লালহলুদে লগ্নি করতে আগ্রহী। তা সত্ত্বেও ভরসা পাচ্ছেন না ফুটবলাররা। তাই অন্য ক্লাব খুঁজে নিচ্ছেন হীরা মণ্ডল, নামতে, মহেশ সিং, সৌরভ দাসের মতো ফুটবলাররা।

মার্চ ০৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে জুয়ান ফেরান্দোর চোখ এখন সেমিফাইনালের দিকে

আইএসএলের শেষের দিকে দুরন্ত ছন্দে এগিয়েছে জামশেদপুর এফসি। এইরকম দলের বিরুদ্ধে ২ গোলের ব্যবধানে জেতাটা যে যথেষ্ট কঠিন হবে, সেকথা জানতেন জুয়ান ফেরান্দো। তা সত্ত্বেও স্বপ্ন দেখেছিলেন এটিকে মোহনবাগান কোচ। দলকে লিগ শীর্ষে তোলার, লিগশিল্ড জেতার। একইসঙ্গে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার। জামশেদপুর এফসির কাছে হেরে কোনও স্বপ্নই পূরণ হয়নি জুয়ান ফেরান্দোর। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে সবুজমেরুণ কোচের চোখ এখন আইএসএলের সেমিফাইনালের দিকে।২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই জামশেদপুর এফসি ম্যাচ অতীত হয়ে গেছে জুয়ান ফেরান্দোর কাছে। সেমিফাইনালের কথা বলে ফুটবলারদের মোটিভেট করতে শুরু করেছেন সবুজমেরুণ কোচ। লিগ শিল্ড হাতছাড়া হলেও এখনও আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে, ফুটবলারদের এই কথা বলে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেছেন জুয়ান ফেরান্দো। জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে জেতা কঠিন হবে, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন। ফেরান্দো বলেন, জামশেদপুর এফসির মতো দলের বিরুদ্ধে ২ গোলের ব্যবধানে জেতাটা সহজ হবে না, জানতাম। ওরা গোল করার পর কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়। ম্যাচে ফেরার জন্য আমরা সবকিছুই করেছিলাম, কিন্তু সফল হতে পারিনি। খুব খারাপ লাগছে। এবার সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবতে হবে।চোটের জন্য জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি দলের সেরা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হুগো বোমাস। তাঁর না থাকাটা যে দলকে সমস্যায় ফেলেছে, মানতে নারাজ এটিকে মোহনবাগান কোচ। জুয়ান ফেরান্দো বলেন, কোনও একজন ফুটবলার ছিল না বলে অজুহাত দিতে চাই না। ফুটবলাররা সবরকম চেষ্টা করেছে। ওদের বক্সের সামনে প্রচুর পাস খেলেছি। একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ওদের রক্ষণভাগের দৃড়তার জন্য আমরা গোল পাইনি। সেমিফাইনালে সামনে লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা হায়দরাবাদ এফসি। দারুণ লড়াই হবে, জানিয়েছেন জুয়ান ফেরান্দো। তাঁর কথায়, সেমিফাইনালে যতগুলো দল উঠেছে, সবাই যোগ্য দল হিসেবে উঠে এসেছে। চাপ তো থাকবেই। তবে হায়দরাবাদের মতো ভাল দলের বিরুদ্ধে খেলাটাও ভাল অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয় নক আউট পর্বে প্রতিটা ম্যাচই ভাল হবে। প্রত্যেক দলই জেতার চেষ্টা করবে। তবে মনে হয়, ২০টা ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পরে এ বার শেষ তিনটি ম্যাচ সবাই উপভোগ করার চেষ্টা করবে।

মার্চ ০৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

জামশেদপুরের কাছে হেরে লিগ–শিল্ড জেতার স্বপ্ন অপূর্নই থেকে গেল এটিকে মোহনবাগানের

লিগশিল্ড কাপ জেতার জন্য ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হত এটিকে মোহনবাগানকে। স্বপ্ন দেখেছিলেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। দলের ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় স্বপ্নপূরণ হল না। জামশেদপুর এফসির কাছে আইএসএলের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ১০ ব্যবধানে হেরে গত মরশুমের মতো এবছরও লিগশিল্ড জেতার স্বপ্ন অপূর্নই থেকে গেল সবুজমেরুণ ব্রিগেডের। ২০ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্টে লিগ টেবিলে তৃতীয় স্থানে শেষ করল এটিকে মোহনবাগান। ৪৩ পয়েন্টে শীর্ষে জামশেদপুর এফসি। ৩৮ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানে হায়দরাবাদ এফসি। সেমিফাইনালে এটিকে মোহনবাগান খেলবে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। অন্য সেমিফাইনালে জামশেদপুর এফসি খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা কেরালা ব্লাস্টার্সের (৩৪ পয়েন্ট) বিরুদ্ধে।জেতার কথা মাথায় রেখে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে শুরু করে সবুজমেরুণ ব্রিগেড। ম্যাচের প্রথমার্ধে দারুণ দাপট ছিল রয় কৃষ্ণা, লিস্টন কোলাসোদের। কিন্তু গোল তুলে নিতে পারেনি। একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেন জনি কাউকো, লিস্টন কোলাসোরা। ১৪ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত এটিকে মোহনবাগান। জনি কাউকোর দুরন্ত ব্যাকহিল থেকে সুবিধাজনক জায়গায় বল পান শুভাশিস বসু। কিন্তু তিনি তিনকাঠির মধ্যে শট রাখতে পারেননি। ২ মিনিট পর আবার সুযোগ এসে গিয়েছিল এটিকে মোহনবাগানের সামনে। লিস্টন কোলাসোর কাছ থেকে বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে শট নেন জনি কাউকো। এল সাবিয়ার মাথায় লেগে বল বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর মিনিট আটেকের মধ্যেই কার্ল ম্যাকহিউকে তুলে ডেভিড উইলিয়ামসকে মাঠে নামান এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। এই পরিবর্তনটাই ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় সবুজমেরুণ শিবিরকে। মাঝমাঠের রাশ আলগা হয়ে যায় এটিকে মোহনবাগানের। দখল নিয়ে নেয় জামশেদপুর এফসি। ধীরে ধীরে তারা খেলায় ফেরে।৫৬ মিনিটে এগিয়ে যায় জামশেদপুর এফসি। স্টুয়ার্ট বল ধরে গোল লক্ষ্য করে শট নিতে গেলে লেনি রডরিগেজের পায়ে লেগে ঋত্ত্বিক দাসের কাছে যায়। ঠান্ডা মাথায় জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন ঋত্ত্বিক দাস। ৬৫ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। জনি কাউকোর কাছ থেকে বল পেয়ে ডেভিড উইলিয়ামস দুরন্ত শট নিয়েছিলেন। ততোধিক তৎপরতার সঙ্গে বাঁচান জামশেদপুর এফসি গোলকিপার টিপি রেহেনেশ।ম্যাচের শেষলগ্নে একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন রয় কৃষ্ণা, ডেভিড উইলিয়ামসরা। কিন্তু তিন কাঠি ভেদ করতে পারেননি। ৯০ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ডেভিড উইলিয়ামস। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে লিস্টন কোলাসো বল সাজিয়ে দেন জনি কাউকোকে। ৬ গজ বক্সের মধ্যে থেকে বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। অসংখ্য সুযোগ নষ্ট করে জয় অধরা থেকে গেল এটিকে মোহনবাগানের। আসলে দিনটা সবুজমেরুণের ছিল না।

মার্চ ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মহমেডানের দুরন্ত জয়ে মার্কাস জোসেফের স্পোর্টসম্যানশিপ স্পিরিট

খেলা শেষ হতে তখন মিনিট চারেক বাকি। শ্রীনিধির এক ফুটবলার বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করায় পেনাল্টি পায় মহমেডান স্পোর্টিং। ২১ ২ গোল করে হ্যাটট্রিকের মুখে দাঁড়িয়ে মার্কাস জোসেফ। হ্যাটট্রিকের হাতছানি উপেক্ষা করে এগিয়ে দিলেন সতীর্থ আন্দেলো রুডোভিচকে। পেনাল্টি থেকে গোল করে মহমেডানকে ৩১ গোলে জেতালেন রুডোভিচ। সাদাকালো ব্রিগেডের জয়ের থেকেও নজির থেকে গেল মার্কাস জোসেফের স্পোর্টসম্যান স্পিরিট।আই লিগে দুরন্ত ছন্দে এগোচ্ছে সাদাকালো ব্রিগেড। আগের দুটি ম্যাচে জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচেও শ্রীনিধিকে হারাল মহমেডান। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় তুলে নিল সাদাকালো ব্রিগেড। টানা তিন ম্যাচে জয়। আগের ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন মার্কাস জোসেফ। এদিনও জোড়া গোল করে তিনি মহমেডানের জয়ের নায়ক।এদিন ম্যাচের ১৬ মিনিটে ডেভিড কাস্তানেদা গোল করে এগিয়ে দেন শ্রীনিধি এফসিকে। পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মহমেডান স্পোর্টিং। শ্রীনিধির ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। তার ফলও পায় হাতেনাতে। ৪০ মিনিটে সমতা ফেরায়। সৌজন্যে নিকোলামার্কাস জুটি। নিকোলার দুরন্ত সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন মার্কাস জোসেফ।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে মহমেডান স্পোর্টিং। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসতে থাকেন নিকোলা, মার্কাসরা। ৫১ মিনিটে সেই মার্কাস জোসেফের গোলে এগিয়ে যায় সাদাকালো ব্রিগেড। ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান মার্কাস। এগিয়ে গিয়ে গোল বাড়ানোর জন্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মহমেডান। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও তিনকাঠি ভেদ করতে পারেননি মার্কাস, আন্দেলো রুডোভিচরা। অবশেষে ৮৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে রুডোভিচের গোল। টানা ৩ ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে মহমেডান।

মার্চ ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

শেষ ম্যাচের আগে সমর্থকদের কাছে কেন ক্ষমা চাইলেন লালহলুদ কোচ মারিও রিভেরা?‌

মানোলো দিয়াজকে সরিয়ে আইএসএলের মাঝপথে মারিও রিভেরার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। মাঝে কয়েকটা ম্যাচে দায়িত্ব সামলেছিলেন রেনেডি সিং। রেনেডির কোচিংয়ে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল লালহলুদ শিবির। পরপর হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছিল। মারিও রিভেরা দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছিলেন সমর্থকরা। রিভেরা কিন্তু স্বপ্নের সারথি হতে পারেননি। দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেননি। একটা ম্যাচে দলকে জয় এনে দিয়েছেন ঠিকই, লিগ টেবিলে সেই লাস্ট বয় হয়েই থাকতে হচ্ছে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে। শনিবার আইএসএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। বেঙ্গালুরুকে হারালেও লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থানের কোনও হেরফের হবে না লালহলুদ শিবিরের। সেই লাস্ট বয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তবু নিজেদের সম্মানের কথা ভেবে জিততে মরিয়া লালহলুদ ব্রিগেড। শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন মারিও রিভেরা। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ম্যাচে আমরা লড়াই করেছি। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল পাইনি। সমর্থকদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি দলকে প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে না পারার জন্য। তবে ফুটবলাররা সীমিত ক্ষমতা নিয়েও যেভাবে লড়াই করেছে, তাতে সমর্থকরা গর্বিত হবে।মারিও রিভেরা আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফুটবলাররা যথেষ্ট উন্নতি করেছে। জয় না এলেও দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। দলের খেলায় আমি গর্বিত। আশা করছি শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসিকে হারিয়ে সম্মান নিয়ে লিগ শেষ করতে পারব। এতে সমর্থকরা লজ্জার গ্লানি কাটিয়ে কিছুটা মানসিক শান্তি পাবে। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সমস্যায় জর্জরিত লালহলুদ শিবির। চোটের জন্য খেলতে পারবেন না ড্যারেন সিডোয়েল। নাকের চোটের জন্য হীরা মণ্ডল কলকাতা ফিরে এসেছেন। ফ্রান সোতার হাতে চোট। মার্সেলো রিবেইরো পুরো ফিট নন। এই অবস্থায় এশিয়ান কোটার নতুন বিদেশি নেপালের অনন্ত তামাংকে শেষ ম্যাচে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে মারিও রিভেরার।

মার্চ ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল এটিকে মোহনবাগান, এবার লড়াই শীর্ষস্থানের

লিগশিল্ড শেষ পর্যন্ত কি স্পর্শ করতে পারবে এটিকে মোহনবাগান? যে দল লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকে, তারাই লিগশিল্ড পায়। কেরালা ব্লাস্টার্স ও ওডিশা এফসির কাছে আটকে যাওয়ার পর আইএসএলের লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াই থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল। অঙ্কটা বদলে দিয়েছিল হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে জামশেদপুর এফসির জয়। লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে গেলে চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে জিততেই হত এটিকে মোহনবাগানকে। চেন্নাইনকে ১০ ব্যবধানে হারিয়ে জামশেদপুর এফসির ওপর চাপ বাড়াল সবুজমেরুণ শিবির। একই সঙ্গে তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করল জুয়ান ফেরান্দোর দল। চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল এটিকে মোহনবাগান। প্রথম একাদশে রেখেছিলেন রয় কৃষ্ণাকে। মনবীরকে সেন্টার ফরোয়ার্ড করে দিয়ে রয় কৃষ্ণাকে উইংয়ে এনেছিলেন জুয়ান ফেরান্দো। অনভ্যস্ত পজিশনে খেলেও প্রথমার্ধে দুদুটি সুযোগ পেয়েছিলেন ফিজির এই স্ট্রাইকার। ২ মিনিটে জনি কাউকোর কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ডানদিক থেকে শট নিয়েছিলেন রয় কৃষ্ণা। তাঁর সেই শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মনে হচ্ছিল, দিনটা বুঝি এটিকে মোহনবাগানের নয়। কিন্ত ভুল ভাঙতে দেরি হয়নি। এরপর আধিপত্য বজায় রেখে একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে সবুজমেরুণ ফুটবলাররা। তবে গোল আসছিল না। শুরুতেই জ্বলে ওঠা ছাড়া রয় কৃষ্ণাও সুবিধা করতে পারছিলেন না। তবে বিরতির ঠিক আগের মুহূর্তে আবার জ্বলে ওঠেন রয় কৃষ্ণা। এবারও সেই জনি কাউকোরয় কৃষ্ণা যুগলবন্দী। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে ডানদিক থেকে বল ধরে এগিয়ে যান জনি কাউকো। বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত পাস বাড়ান রয় কৃষ্ণার উদ্দেশ্যে। ডানপায়ের কোনাকুনি শটে গোল করেন রয় কৃষ্ণা।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই চাপ বাড়ায় চেন্নাইন এফসি। এইসময় এটিকে মোহনবাগান রক্ষণকে বেশ নড়বড়ে মনে হচ্ছিল। ৬৩ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল চেন্নাইন এফসি। রেগান সিংয়ের শট পোস্টে লেগে ফেরে। এদিন লিস্টন কোলাসো নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। ৬৯ মিনিটে তাঁকে তুলে নিয়ে প্রবীর দাসকে নামান জুয়ান ফেরান্দো। একই সঙ্গে তুলে নেন জনি কাউকোকে। দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময় কোনও দলই গোল করার মতো তেমন সহজ সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ১৯ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছল এটিকে মোহনবাগান। টপকে গেল হায়দরাবাদ এফসিকে। ১৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩৫। ১৮ ম্যাচে জামশেদপুর এফসির পয়েন্ট ৩৭। তারাই রয়েছে শীর্ষে। পরের ম্যাচে জামশেদপুর খেলবে ওডিশার বিরুদ্ধে। এটিকে মোহনবাগানকে শীর্ষে পৌঁছতে গেলে শেষ ম্যাচে জামশেদপুর এফসিকে শেষ ম্যাচে হারাতেই হবে।

মার্চ ০৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

শীর্ষে থাকা জামশেদপুরের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোই লক্ষ্য জুয়ান ফেরান্দোর

১৮ ম্যাচে এই মুহূর্তে ৩৪ পয়েন্ট এটিকে মোহনবাগানের। আইএসএলের লিগ টেবিলে তিন নম্বরে রয়েছে সবুজমেরুন শিবির। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামছে জুয়ান ফেরান্দোর দল। জিতলে আরও একবার সেমিফাইনাল নিশ্চিত। একইসঙ্গে শীর্ষে থাকা জামশেদপুর এফসি-র সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানও কমিয়ে ফেলতে পারবে এটিকে মোহনবাগান। সেই দিকেই তাকিয়ে বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। মঙ্গলবার হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে জামশেদপুর এফসি-র জয়ই চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে এটিকে মোহনবাগানের। শীর্ষে ওঠার লড়াই অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে জিতলে জামশেদপুর এফসি-কে ধরে ফেলবে এটিকে মোহনবাগান। এক ম্যাচ বেশি খেলে পৌঁছবে দ্বিতীয় স্থানে। জামশেদপুর এফসি-র ম্যাচ বাকি ওড়িশা এফসি ও এটিকে মোহনবাগানের সঙ্গে। যদি ওড়িশার কাছে জামশেদপুর হারে, তাহলে এটিকে মোহনবাগান ও জামশেদপুর এফসি ম্যাচ হয়ে দাঁড়াবে লিগ শীর্ষে পৌঁছনোর লড়াই। আপাতত এসব অঙ্ক নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে চেন্নাইন এফসি ম্যাচে ৩ পয়েন্ট তোলার দিকে তাকিয়ে সবুজমেরুন কোচ জুয়ান ফেরান্দো। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এটিকে মোহনবাগান কোচ। জুয়ান ফেরান্দোকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে চেন্নাইন এফসি-র সাম্প্রতিক ফর্ম। ১৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে রয়েছে চেন্নাইন। দলের আত্মবিশ্বাসও তলানিতে। এই অবস্থায় জুয়ান ফেরান্দোর লক্ষ্য গোল পার্থক্য যথাসম্ভব বাড়িয়ে নেওয়া। যদিও চেন্নাইনকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিচ্ছেন ফেরান্দো। তিনি বলেন, ওদের হারানোর কিছু নেই। মরিয়া হয়ে ঝাঁপাবে। কিন্তু আমাদের হারানোর অনেক কিছুই রয়েছে। ম্যাচ জেতার জন্য শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলতে হবে।গোলের জন্য লিস্টন কোলাসো ও মনবীর সিংয়ের দিকে তাকিয়ে বাগান কোচ। আগের ম্যাচে লালকার্ড দেখায় রয় কৃষ্ণা খেলতে পারবেন না। হুগো বোমাস, ডেভিড উইলিয়ামসরা ভাল ছন্দে নেই। তাই ফর্মে থাকা লিস্টন কোলাসো ও মনবীর সিংই ভরসা বাগান কোচের। সদ্য চোট সরিয়ে উঠেছেন বোমাস ও উইলিয়ামস। তাঁদের শুরু থেকে খেলবেন কিনা, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলেননি জুয়ান ফেরান্দো। তিনি বলেন, ওরা কী অবস্থায় রয়েছে, ম্যাচের আগে দেখে সিদ্ধান্ত নেব।

মার্চ ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আইএসলের শেষ ম্যাচ না খেলেই কেন কলকাতায় ফিরলেন লালহলুদের "হীরে"?

আইএসএলে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগেই বড় ধাক্কা এসসি ইস্টবেঙ্গলের। শেষ ম্যাচ না খেলেই কলকাতা ফিরে আসতে হচ্ছে এই মরশুমে ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলা হীরা মন্ডলকে। নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচে নাকের হার ভেঙেছে লালহলুদের এই সাইড ব্যাকের। চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতা ফিরছেন।৫ মার্চ বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ খেলবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। জিতলেও দশম স্থানে ওঠার সম্ভাবনা নেই। তবু লালহলুদের কাছে এটা সম্মান রক্ষার লড়াই। এইরকম ম্যাচে হীরার খেলতে না পারাটা এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছে বড় ধাক্কা। নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচের ১৭ মিনিটে ভিপি সুহেরের কনুই সরাসরি গিয়ে লাগে হীরার নাকে। নাক থেকে রক্ত ঝরতে থাকে লালহলুদের এই তরুণ ডিফেন্ডারের। দীর্ঘক্ষণ মাঠের বাইরে চিকিৎসা চলে। এসসি ইস্টবেঙ্গলের মেডিক্যাল টিম নিষেধ অমান্য করে হীরা শেষ পর্যন্ত মাঠে নামেন। ব্যান্ডেজ বেঁধেই ম্যাচেত শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে যান। ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা গিয়েছে হীরার নাকের হাড় সরেছে। বুধবারই তিনি কলকাতা ফিরেছেন। কলকাতারই এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হবে।লালহলুদ জার্সিতে এই মরশুমে ফুটবল মহলের নজর কেড়েছেন হীরা। দেশি-বিদেশি ডিফেন্ডাররা যখন ভরসা জোগাতে ব্যর্থ, তখন ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন হীরা। ইতিমধ্যেই সামনের মরশুমের জন্য বেশ কয়েকটি ক্লাবের অফার রয়েছে তাঁর কাছে। চলতি আইএসএলে ১৯ ম্যাচের মধ্যে ১টি ম্যাচে জিতেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। ৮ ম্যাচ ড্র করছে। হেরেছে ১০ ম্যাচে। ব্যর্থতার মাঝে এই মরশুমে লালহলুদের প্রাপ্তি একমাত্র হীরা মণ্ডল। এসসি ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ভারতীয় ফুটবলে এই মরশুমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন হীরা। এই পরিস্থিতিতে শেষ ম্যাচে কোনও ক্রমে যাতে মারিও রিভেরার দল হার বাঁচাতে পারেন, সেটাই একমাত্র প্রার্থনা লক্ষ লক্ষ লালহলুদ জনতার।

মার্চ ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌আশার আলো লালহলুদে, নতুন স্পনসরের সঙ্গে চলতি সপ্তাহেই চুক্তি হতে চলেছে

এসসি ইস্টবেঙ্গলকে এই রকম করুণ অবস্থায় কি পড়তে হয়েছে? ১৯২৮ সালে একবার চরম লজ্জার মুখে পড়তে হয়েছিল লালহলুদকে। সেবছর কলকাতা ফুটবল লিগে প্রথম ডিভিশন থেকে দ্বিতীয় ডিভিশনে নেমে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আইএসএলে অবনমন থাকলে আবার সেই রকম চরম লজ্জার মুখে পড়তে হত। এ যাত্রায় বেঁচে গেছে লালহলুদ। তবে লাস্ট বয় হওয়ার লজ্জাও কোনও অংশে কম নয়। লিগের শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে জিতলেও দশম স্থানে পৌঁছতে পারবে না। কারণ পয়েন্টের বিচারে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের সঙ্গে একই বিন্দুতে অবস্থান করলেও প্রথম সাক্ষাৎকারে নর্থইস্টের কাছে পরাজয় এসসি ইস্টবেঙ্গলকে পিছিয়ে দিয়েছে। এরই মাঝে সুখবর লালহলুদ সমর্থকদের কাছে। সামনের মরশুমের জন্য স্পনসর পেতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। বাংলাদেশের বসুন্ধরাকে সামনের মরশুমের জন্য স্পনসর হিসেবে হয়তো দেখা যাবে। কয়েকদিন আগেই বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সায়েম শওভন আনভিকে কলকাতায় ডেকে এনে ক্লাব তাঁবুতে জমকালো সংবর্ধনা দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। ক্লাবের আজীবন সদস্যপদও তুলে দেওয়া হয়েছে। তখন থেকেই একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল যে, বসুন্ধরা গ্রুপকে স্পনসর হিসেবে পেতে চান তাঁরা। কলকাতাতেই স্পনসরশিপের ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে দুই পক্ষের। দ্রুত চুক্তি সারতে আগ্রহী দুপক্ষই। তাই লালহলুদ কর্তাদের ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র লিমিটেডের কর্তারা। লালহলুদ কর্তারা এবার বাংলাদেশ যাচ্ছেন। হঠাৎ কেন ইস্টবেঙ্গলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল বসুন্ধরা গ্রুপ? ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান স্পনসর শ্রী সিমেন্ট সামনের মরশুমে যে আর থাকবে না, এটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। এই অবস্থায় নতুন লগ্নিকারী সংস্থার খোঁজে ছিলেন লালহলুদ কর্তারা। তাঁরা যোগাযোগ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তাদের সঙ্গে। বসুন্ধরাও এমন একটা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়, যাদের এশিয়ান লেভেলে পরিচিতি আছে। বসুন্ধরা গ্রুপ চায় ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের পরিচিতি আরও বাড়াতে। বাংলাদেশে তিনটি বড় ক্লাবকে স্পনসর করছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এবার বিদেশের মাটিতে পা রাখতে চায়। বিনিয়োগের ব্যাপারে বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের একাধিকবার কথা হয়েছে। এখন শুধু সংযুক্ত হওয়ার পালা। চলতি সপ্তাহেই ইস্টবেঙ্গলের এক শীর্ষ কর্তা আইনজীবী নিয়ে বাংলাদেশ যাবেন।

মার্চ ০১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

এসসি ইস্টবেঙ্গলের লাস্ট বয় হওয়ার ভাগ্য ঝুলে রইল শেষ ম্যাচের ওপর

এবারের আইএসএলে লাস্ট বয় হবে কে? লড়াইটা মূলত দাঁড়িয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গল ও নর্থইস্ট ইউনাইটেডের মধ্যে। সোমবার দুই দল মুখোমুখি হওয়ার আগে ১৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ১৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট ছিল এসসি ইস্টবেঙ্গলের। নিজেদের শেষ ম্যাচে ১১ ড্র করে ১৪ পয়েন্টে আটকে থাকল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। অন্যদিকে, এসসি ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট দাঁড়াল ১১। এবারের আইএসএলে লাস্ট বয় কে হবে, তা ঝুলে থাকল এসসি ইস্টবেঙ্গলের শেষ ম্যাচের ওপর। লাস্ট বয় হওয়ার লজ্জা এড়াতে দুই দলই মরিয়া ছিল। ম্যাচের শুরুতে নর্থইস্ট ইউনাইটেড আক্রমণের ঝড় তুললেও মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতেই খেলা ধরে নেয় এসসি ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসতে থাকেন পেরোসেভিচ, লালরিনলিয়ানা নামতে, মহেশ সিংরা। ৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত লালহলুদ। নামতের দুরন্ত শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান নর্থইস্ট গোলকিপার মির্শেদ। ১৭ মিনিটে আবার সুযোগ এসেছিল এসসি ইস্টবেঙ্গলের সামনে। ফ্রান সোতার সেন্টার নর্থইস্টের এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করলে বল যায় নোরেম মহেশ সিংয়ের কাছে। তাঁর শট ক্রশবারে লেগে বেরিয়ে যায়। প্রথমার্ধে এসসি ইস্টবেঙ্গলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য থাকলেও এগিয়ে যায় নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ৪৫ মিনিটে ডানদিক থেকে এগিয়ে গিয়ে এগিয়ে গিয়ে সেন্টার করেন সুহের। ডেশর্ন ব্রাউন হেড করতে ব্যর্থ হলে বল লালহলুদ গোলকিপার শঙ্কর দাসকে পরাস্ত করে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল ফলো করে জোরালো শটে জালে পাঠান মার্কো সাহনেক। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই নর্থইস্ট ইউনাইটেড আধিপত্য দেখাতে থাকে। এসসি ইস্টবেঙ্গলও প্রতিআক্রমণে উঠে আসার চেষ্টা করতে থাকে। অবশেষে প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ৫৪ন মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে এসসি ইস্টবেঙ্গল। নর্থইস্ট ইউড়াইটেডের বক্সে ভেসে আসা বল ফ্রান সোতা হেড করতে উঠলে তাংকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন প্যাট্রিক ফ্লোটম্যান। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান আন্তোনীও পেরোসেভিচ। বাকি সময় দুই দল আক্রমণ তুলে নিয়ে এলেও গোল পায়নি। দুই দলকেই ১ পয়েন্ট করে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছতে পারবে এটিকে মোহনবাগান?‌ কী বলছেন জুয়ান ফেরান্দো

আইএসএলের লিগ টেবিলে শীর্ষস্থানে কি শেষ করতে পারবে এটিকে মোহনবাগান? কাজটা কঠিন হলেও আত্মবিশ্বাসী সবুজমেরুণ কোচ জুয়ান ফেরান্দো। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।কেরালা ব্লাস্টার্স ও ওডিশা এফসির কাছে পরপর দুম্যাচ ড্র করে কিছুটা হলেও চাপে পড়ে গিয়েছিল সবুজমেরুণ শিবির। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে জয় শুধু চাপই কাটায়নি, লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়েও সামিল করেছে এটিকে মোহনবাগানকে। যদি বেঙ্গালুরুর কাছে হারত, তাহলে প্লে অফে ওঠাও কঠিন হয়ে যেত। দলের ফুটবলাররা যেভাবে লড়াই করেছেন, তাতে খুশি জুয়ান ফেরান্দো। সবুজমেরুণ কোচ বলেন, আমাদের কাছে সময়টা সত্যিই খুব কঠিন যাচ্ছে। কোভিড, কোয়ারান্টাইন, যথেষ্ট অনুশীলনের অভাব নিয়ে আগেও অনেকবার বলেছি। সব ক্লাবেরই একই পরিস্থিতি। তবে আমি খুশি। কারণ, কঠিন সময়ে দলের প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ছেলেদের মানসিকতা, চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসা করতে হবে। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও কঠিন। কারণ, আমি দলের সঙ্গে ডিসেম্বরে যোগ দেওয়ায় ক্লাবের প্রাক মরশুম প্রস্তুতিতে ছিলাম না।দুম্যাচ পর দল জয়ে ফিরেছে। সেমিফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত। আপাতত চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে পরের ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন জুয়ান ফেরান্দো। তাঁর লক্ষ্য ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এটিকে মোহনবাগান কোচ বলেন, মনে হচ্ছে পরীক্ষা দিতে বসেছি। পরের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মাত্র দুদিন হাতে আছে। চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে পরের ম্যাচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৩ পয়েন্ট পেতেই হবে। না হলে শীর্ষস্থানের লড়াই থেকে ছিটকে যাব।লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছনোর ব্যাপারে আশাবাদী এটিকে মোহনবাগান কোচ। জুয়ান ফেরান্দো বলেন, আশা করছি লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। তবে ওডিশা ম্যাচের পরে আমাদের হাতে আর কিছু নেই। যেটা আমাদের হাতে আছে, তা হল চেন্নাইন ও জামশেদপুরকে হারানোর চেষ্টা করা। কারণ, এই দুই ম্যাচে আমাদের শক্তিক্ষয় হতে পারে। তার পরে মুম্বই-হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ-জামশেদপুর ম্যাচগুলোর ওপরও নির্ভর করবে আমাদের ভবিষ্যৎ। দেখা যাক কী হয়। আশা করব পরিস্থিতি আমাদের পক্ষেই থাকবে। লিগ টেবলের শীর্ষে ওঠার কথা ভাবার চেয়ে এখন পরের দুই ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট অর্জনের কথা বেশি ভাবাই ভাল। তার পরে দেখা যাবে।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

লাস্ট বয়ের তকমা ঘোঁচানোই এখন চ্যালেঞ্জ এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছে

আইএসএলে এই মুহূর্তে লিগ টেবিলে সবার শেষে রয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। ১৮ ম্যাচে মাত্র ১০ পয়েন্ট। ১৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলে দশম স্থানে রয়েছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড। সোমবার আইএসএলের দুই লাস্ট বয়ের লড়াই। বাকি দুম্যাচ জিতলে বড়জোর দশম স্থানে শেষ করতে পারবে এসসি ইস্টবেঙ্গল। এর বেশি এগোনোর সুযোগ নেই। কারণ, ১৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট পেয়ে নবম স্থানে রয়েছে এফসি গোয়া। বাকি দুটো ম্যাচ জিতলেও গোয়াকে টপকাতে পারবে না। শুধু লাস্ট বয় হওয়ার তকমা মুছবে। আপাতত এটাই লক্ষ্য এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরার। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে লালহলুদ কোচ বলেন, এই ম্যাচটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জিতলে আমরা লিগ টেবিলে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে টপকে যাব। আপাতত সেই চেষ্টাই করব। আমরা ভাল খেলছি ঠিকই। কিন্তু জয় চাই। এই মুহূর্তে আমাদের হারানোর কিছু নেই। লিগের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ফুটবলারদের নতুন করে মোটিভেট করার কিছু দেখছেন না এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। তাঁর কথায়, আমরা যদি শেষ ৪৫ দেখি, তাহলে দেখা যাবে ফুটবলারদের মুড খুবই ভাল জায়গায় আছে। দল আগের থেকে অনেক ভাল খেলছে। আরও বেশি আক্রমণাত্মক। ফুটবলারদের আলাদা করে মোটিভেট করার কিছু নেই। শেষ দুই ম্যাচের জন্য অনন্ত তামাংকে দলে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। কেন নেপালের এই ডিফেন্ডারকে দলে নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। তাঁর কথায়, টমিস্লাভ মার্সেলা অস্ট্রেলিয়ার একটা ক্লাবে গোটা মরশুমের জন্য ভাল প্রস্তাব পেয়েছে। আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যাবে কিনা। আমি ওকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছি। মার্সেলার জায়গায় একজন এশিয়ান কোটার বিদেশি ডিফেন্ডার দরকার ছিল। তাই অনন্ত তামাংকে নেওয়া হয়েছে। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অনন্তকে খেলাবেন কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি মারিও রিভেরা।এসসি ইস্টবেঙ্গেলের দায়িত্ব নেওয়ার পর শেষ কয়েকটা ম্যাচে আলাদা আলাদা ফর্মেশনে দলকে খেলাচ্ছেন মারিও রিভেরা। শেষ দুই ম্যাচে ১৮ জন ফুটবলারকে খেলিয়েছেন। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধেও স্ট্র্যাটেজি বদল করছেন লালহলুদ কোচ। প্রথম একাদশেও বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করতে চলেছেন। তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তবে মারিও রিভেরার চোখ ৩ পয়েন্টে। তাহলেই যে লাস্ট বয়ের তকমা ঘুঁচবে। আপাতত এটাই সম্মানের হয়ে দাঁড়িয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গলের কাছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে এটিকে মোহনবাগানের, কেন?

এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সরাসরি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার। তাঁর সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল ওডিশা এফসি। বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানকে আটকে দিয়ে জুয়ান ফেরান্দোর দলের সামনে আইএসএলের লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার পথে কাঁটা ছড়িয়ে দিল।আইএসএলের লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা দল সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পায়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল খেলে এএফসি কাপের প্লে অফ। আর আই লিগের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এবছর আইএসএলে লিগের শীর্ষস্থান না পেলে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পাবে না এটিকে মোহনবাগান। ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে ড্র অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে সবুজমেরুন শিবিরকে। বৃহস্পতিবার জিতলে লিগের শীর্ষে থাকার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে যেত জুয়ান ফেরান্দোর দল। ওডিশা ম্যাচের পর ১৭ ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানের ঝুলিতে ৩১ পয়েন্ট। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা হায়দরাবাদ এফসি-র ১৮ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামশেদপুর এফসি। তাদের ঝুলিতে ১৬ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট। এটিকে মোহনবাগান রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ১৭ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে মুম্বই সিটি এফসি। সমসংখ্যক ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট কেরালা ব্লাস্টার্সের। মুম্বই ও কেরালা এখনও প্লে অফের লড়াইয়ে দারুনভাবেই রয়েছে। বেঙ্গালুরুর আশাও এখনও শেষ হয়নি। ফলে এটিকে মোহনবাগানের কাজ সহজ হবে না। ২৭ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গালুরু এফসি, ৩ মার্চ চেন্নাইয়িন এফসি ও ৭ মার্চ জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে খেলা রয়েছে এটিকে মোহনবাগানের।একেই ওডিশা এফ সি-র কাছে হার, তার ওপর লালকার্ড দেখেছেন রয় কৃষ্ণা। বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে পরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলা লিস্টন কোলাসো ওডিশা এফ সি ম্যাচে ছন্দ হারিয়েছেন। ফলে এটিকে মোহনবাগানকেও চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। ফলে চিন্তা মাথায় নিয়ে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে জুয়ান ফেরান্দোকে।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

২ ম্যাচের জন্য বিদেশি ডিফেন্ডার!‌ শেষ পর্বে ঘুম ভাঙল এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের‌

সারা বছর ঘুমিয়ে থাকার পর আইএসএলের শেষ পর্বে এসে ঘুম ভেঙেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের! না হলে লিগের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বিদেশি ডিফেন্ডার দলে নেবেন কেন? কোন যুক্তিতে ২ ম্যাচ আগে নতুন ফুটবলার সই করালেন কর্তারা, বোধগম্য নয়।শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জেরবার এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। দল গড়া থেকে শুরু করে, মাঝপথে কোচ বিতরণ, ফুটবলার ছাঁটাই। মাঝে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধেও ফুটবলাররা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। আইএসএলে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি এসসি ইস্টবেঙ্গলের। একটা নর্থইস্ট ইউনাইটেড, আর একটা বেঙ্গালুরু এফ সির বিরুদ্ধে। দুম্যাচের জন্য নেপালের তরুণ ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংকে সই করালেন লালহলুদ কর্তারা।নেপালের থ্রি স্টার ক্লাবে খেলতেন ২৪ বছর বয়সী অনন্ত তামাং। নেপালের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে দারুণ নজর কেড়েছিলেন। সেই সুবাদে জায়গা পান জাতীয় দলে। ২০১৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে সাফ কাপে ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের জার্সি গায়ে অভিষেক হয়। ২০২০ সালে নেপালের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিতও হয়েছিলেন। এখন দেখার বাকি দুটি ম্যাচে তিনি কতটা রক্ষা করতে পারেন লালহলুদ রক্ষণকে। এসসি ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাবের জার্সি গায়ে তোলার সুযোগ পেয়ে খুশি অনন্ত তামাং। লালহলুদ মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এসসি ইস্টবেঙ্গলে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি দারুণ খুশি। আমার কাছে গর্বের মুহূর্ত। চেষ্টা করব দলকে সবরকম ভাবে সাহায্য করতে।🚨𝐀𝐍𝐍𝐎𝐔𝐍𝐂𝐄𝐌𝐄𝐍𝐓🚨We are happy to announce the signing of Nepal🇳🇵defender Ananta Tamang for the remainder of the season.🗣️I am happy to join SC East Bengal. I look forward to helping the club in every way I can. It is a proud moment for me.#WeAreSCEB pic.twitter.com/aRKzGGwMM6 SC East Bengal (@sc_eastbengal) February 23, 2022আইএসএলে ১৮ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে এসসি ইস্টবেঙ্গলের। মাত্র ১টা ম্যাচে জয় এসেছে। ৭টি ড্র। ১০টিতে হার। ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শেষে রয়েছে। বাকি ২ ম্যাচ জিতলেও খুব বেশি হেরফের হবে না। এই অবস্থায় নতুন বিদেশি ফুটবলার সই করানো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এতদিন কি কর্তারা ঘুমিয়ে ছিলেন?এদিকে, বুধবার মুম্বই সিটি এফসির কাছে হার একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা। তিনি মনে করছেন, মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর দল হারার মতো খেলেননি। রিভেরা বলেন, ফুটবলাররা দারুণ খেলেছে। ১ গোলে হারতে হয়েছে। অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম। কাজে লাগাতে পারিনি। পেনাল্টিও পাইনি। এই বার আমাদের প্রাপ্য ছিল না।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ওডিশাকে হারালেই প্লে অফ নিশ্চিত, কিন্তু জুয়ান ফেরান্দোর লক্ষ্য অন্য

আইএসএলের লিগ টেবিলে চলছে সাপলুডোর খেলা। আজ একটা দল শীর্ষে তো পরের দিন অন্যদল তাকে টপকে যাচ্ছে। একসময় সব দলকে টপকে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। এই মুহূর্তে সবুজমেরুণ শিবির আবার নেমে এসেছে তৃতীয় স্থানে। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামছে এটিকে মোহনবাগান। জিতলেই প্লে অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে সবুজমেরুণ কোচ জুয়ান ফেরান্দোর লক্ষ্য বাকি ৪ ম্যাচ জিতে লিগ শেষ করা। টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত এটিকে মোহনবাগান। যা আইএসএলে রেকর্ড। এই রেকর্ড ধরে রাখতে মরিয়া সবুজমেরুণ শিবির। কোচ জুয়ান ফেরান্দোর মাথায় ঘুরছে আবার অন্য অঙ্ক। লক্ষ্য ৩ পয়েন্ট। তাহলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। আগের ম্যাচে জনি কাউকোর শেষ মুহূর্তের গোলে হার বাঁচিয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। শেষ মিনিট পর্যন্ত ফুটবলারদের হার না মানা মানসিকতায় খুশি বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। এই মনোবল ধরে রাখলে ওডিশা ম্যাচ জিততে কোনও অসুবিধা হবে না বলে মনে করছেন তিনি।ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এটিকে মোহনবাগান কোচকে স্বস্তি দিচ্ছে বিদেশি ফুটবলারদের সুস্থ হয়ে ওঠা। কার্ল ম্যাকহিউ, হুগো বোমাস, ডেভিড উইলিয়ামস, রয় কৃষ্ণারা খেলার মতো জায়গায় চলে এসেছেন। বিদেশি ফুটবলারদের ব্যাপারে জুয়ান ফেরান্দো বলেন, দলের বিদেশিরা সবাই এখনও ৯০ মিনিট খেলার মতো জায়গায় আসেনি। তবে মাঠে নামানো যেতেই পারে। ধাপে ধাপে সবাই সুস্থ হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এদের ব্যবহার করব। রয় কৃষ্ণাকে ওডিশার বিরুদ্ধে খেলাবেন কিনা, খোলসা করে কিছু বলেননি এটিকে মোহনবাগান কোচ। কৃষ্ণার ব্যাপারে জুয়ান ফেরান্দো বলেন, ওর চোট খুবি গুরুতর ছিল ওকে অল্প সময় করে খেলিয়ে ৯০ মিনিট খেলার মতো জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।প্রথম পর্বে ওডিশা এফসির কাছে আটকে গিয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। ওই ম্যাচের ফলাফল মাথায় রাখছেন না জুয়ান ফেরান্দো। ওডিশাকে হারালে প্লে অফ নিশ্চিত হলেও তাঁর লক্ষ্য বাকি ৪ ম্যাচে জয় তুলে নেওয়া। আগের ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির কাছে হারের পর প্লে অফের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে ওডিশা এফসির। তা সত্ত্বেও বিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন এটিকে মোহনবাগান কোচ।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 14
  • 15
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সম্পাদকীয়

আগুনপাখির জন্মদিনে—ফিরে দেখা সেই বিকেলের সোনারোদ

কিছু কিছু মানুষের জন্মদিন আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়। আর কিছু মানুষের জন্মদিন ফিরে আসে আমাদের স্মৃতির ভিতর দিয়ে। ১ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন।বাংলা গানের অমূল্য রতন নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিন।এই দিনটিকে শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন বললে বোধহয় তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। কারণ নচিকেতা শুধু গান করেননিতিনি এক সময়কে কণ্ঠ দিয়েছেন। এক প্রজন্মের রাগ, অভিমান, প্রেম, হতাশা, স্বপ্নভঙ্গ, নিঃসঙ্গতা আর বেঁচে থাকার জেদকে শব্দ দিয়েছেন। তাঁর গান শুনতে শুনতে বড় হয়ে ওঠা মানুষগুলির কাছে নচিকেতা কোনও দূরের তারকা নন; তিনি বরং সেই পুরনো বন্ধুর মতো, যার সঙ্গে বহু বছর দেখা না হলেও হঠাৎ কোনও সন্ধ্যায় তাঁর গলা শুনলেই মনে হয়এই তো, মানুষটা এখনও ঠিক আগের মতোই আছে।নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ।বাংলা গানের আকাশটা তখন কেমন যেন ক্লান্ত। একদিকে পুরনো দিনের সুরের নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন সময়ের হাওয়ার টান। বাংলা আধুনিক গান যেন কোথাও দাঁড়িয়ে নতুন ভাষার অপেক্ষা করছে। সেই অপেক্ষার মাঝেই একদিন ঝড়ের মতো এসে দাঁড়ালেন এক যুবক।চেহারায় প্রচলিত নায়কোচিত চাকচিক্য নেই। রংবাহারী পোশাক, পায়ে স্নিকার, মুখে অগোছালো দাড়ি। হাতে গিটার। আর কণ্ঠে এমন এক স্বর, যার মধ্যে মিশে আছে শহরের ধুলো, মধ্যবিত্তের ক্লান্তি, প্রেমের দীর্ঘশ্বাস আর অদ্ভুত এক বিদ্রোহ।তিনি নচিকেতা।মঞ্চে উঠে তিনি শুধু গান গাইতেন না। গান থামিয়ে শ্রোতার সঙ্গে কথা বলতেন। আবার কথার মাঝেই গান ঢুকে যেত। কখনও হাসাতেন, কখনও অস্বস্তিতে ফেলতেন, কখনও এমন কোনও কথা বলে বসতেন, যা বাড়ি ফেরার পরও মাথার মধ্যে ঘুরত।সেই সময় বাংলা গানের মঞ্চে যেন একটি গান-এর বদলে একজন মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন।আর মানুষটি খুব দ্রুত আপন হয়ে গিয়েছিলেন।তারপর একদিন গান আর গান রইল নানচিকেতার গান প্রথমবার শুনে হয়তো কেউ চমকে উঠেছিল। দ্বিতীয়বার শুনে মুগ্ধ হয়েছিল। আর তৃতীয়বারের পর বুঝেছিলএই গান তো আসলে তার নিজের কথা!এই ছিল নচিকেতার জাদু।তিনি কোনও দূরদেশের প্রেমের গল্প বলেননি। তিনি আমাদের পাশের বাড়ির মানুষের গল্প বলেছেন। যে বাবা অবসরের পর সংসারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন, যে ছেলে চাকরি না পেয়ে রাত জাগে, যে মেয়ে প্রেম হারিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, যে মানুষটি ভিড়ের শহরে থেকেও ভীষণ একানচিকেতা তাঁদেরই গল্প গেয়েছেন।তাই তাঁর গান শুনতে শুনতে মনে হত, তিনি আমাদের চেনেন। খুব কাছ থেকে চেনেন।নীলাঞ্জনা যখন বাজত, কোনও এক পুরনো প্রেমের মুখ মনে পড়ত। বৃদ্ধাশ্রম শুনলে নিজের বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করত। আর যখন তাঁর কণ্ঠে উঠে আসতভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদতখন মনে হত, এই তো আমাদের শহর!এই তো আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেল!কংক্রিটের জঙ্গলে দাঁড়িয়ে যে আকাশটুকু প্রতিদিন একটু একটু করে ছোট হয়ে যাচ্ছে, নচিকেতা সেই আকাশের জন্যও গান লিখেছেন।নচিকেতা ছিলেন এক প্রজন্মের ডায়েরিএকটি প্রজন্মের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে অনেক কিছু লেখা থাকে। প্রথম প্রেম, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া, বাড়িতে অশান্তি, মধ্যরাতে একা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা।নচিকেতার গান যেন সেই ডায়েরির পাতাগুলির পাশে লেখা ছিল।ক্যাসেটের যুগ ছিল তখন।একটি গান পছন্দ হলে বারবার রিওয়াইন্ড করতে হত। ফিতে কেঁপে কেঁপে গান ফিরত। কোনও কোনও ক্যাসেট এতবার বাজত যে তার শব্দেও যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে যেত।বন্ধুর বাড়িতে বসে নচিকেতার গান শোনা।কলেজের ক্যান্টিনে তাঁর গান নিয়ে তর্ক।রাতের অন্ধকারে হেডফোন কানে দিয়ে নীলাঞ্জনা শোনা।কারও প্রেম ভেঙে গেলে তাকে নচিকেতার গান শোনানো।কেউ চাকরি না পেলে বেকারে যন্ত্রনায় মলম লাগাতে তার পাশে বসে সারে জাঁহা সে আচ্ছা গুনগুন করা।শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও চারপাশের অসঙ্গতি। গানটি শুরুই হয় বেকার যুবকের আত্মপরিচয় দিয়ে।এসবই ছিল এক সময়ের জীবন।আজকের প্রজন্ম হয়তো বুঝবে না, একটি গান তখন কীভাবে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠত। কোনও অ্যালগরিদম ছিল না, রেকমেন্ডেড ফর ইউ ছিল না। ছিল শুধু বন্ধুর হাতে হাতে ঘুরে বেড়ানো ক্যাসেট, মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গান আর মানুষের নিজস্ব পছন্দ।সেইভাবেই নচিকেতা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন।জীবনমুখীশুধু একটি শব্দ নয়নচিকেতার সঙ্গে জীবনমুখী শব্দটি এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে দুটি শব্দকে আলাদা করা কঠিন।কিন্তু তাঁর গানকে শুধু একটি ঘরানার মধ্যে আটকে রাখাও ভুল।তিনি জীবনকে দেখেছেন বহু দিক থেকে।কখনও তাঁর চোখে জীবন তীব্র ব্যঙ্গের। কখনও বিষণ্ণ। কখনও প্রেমময়। কখনও ক্ষুব্ধ। কখনও নিঃসঙ্গ। আবার কখনও আশাবাদী।তাঁর গান আমাদের শিখিয়েছেজীবন সুন্দর, কিন্তু সবসময় সুন্দর নয়।ভালোবাসা আছে, কিন্তু সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।পরিবার আছে, কিন্তু পরিবারের মধ্যেও মানুষ একা হতে পারে।শহর আছে, কিন্তু শহরের হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের জন্য একটা জানালা খুঁজে পাওয়া কঠিন।এই সত্যগুলিকে তিনি কোনও বক্তৃতার ভাষায় বলেননি। বলেছেন গানের ভাষায়।আর তাই তাঁর কথা সরাসরি গিয়ে বসেছে মানুষের বুকের মধ্যে।বৃদ্ধাশ্রমএকটি গান, একটি আয়নানচিকেতার অসংখ্য সৃষ্টির মধ্যে বৃদ্ধাশ্রম যেন আলাদা করে দাঁড়িয়ে থাকে।এটি কেবল বাবা-মাকে নিয়ে লেখা আবেগের গান নয়। এটি আমাদের সামাজিক বিবেকের সামনে রাখা একটি আয়না।বয়স হয়ে যাওয়া মানুষটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় নাএই সহজ অথচ গভীর সত্যটি নচিকেতা গানের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিয়েছেন।গানটি শুনতে শুনতে কত মানুষ হয়তো নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভেবেছেন। কত মানুষ হয়তো ফোন তুলে বাড়িতে কথা বলেছেন। কত মানুষ হয়তো নিজের অজান্তেই চোখ মুছেছেন।একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কী হতে পারে?যে গান শ্রোতার জীবনকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও বদলে দেয়, সেই গানই তো বেঁচে থাকে।আর নীলাঞ্জনাস্মৃতির নীল আলোঅন্যদিকে নীলাঞ্জনা আমাদের নিয়ে যায় একেবারে অন্য জগতে।প্রেমের গান বাংলা গানে নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু নচিকেতার প্রেমের ভাষা ছিল অন্যরকম। সেখানে প্রেমের সঙ্গে ছিল সময়, স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়ার ব্যথা।নীলাঞ্জনা শুনলে শুধু একটি মেয়ের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে একটা সময়ের কথা।মনে পড়ে সেই বয়স, যখন সন্ধ্যা নামলেই কারও জন্য অপেক্ষা করা যেত। ফোনের রিং বাজলে বুক কেঁপে উঠত। একটি চিঠি কয়েকদিন ধরে বালিশের নিচে রেখে দেওয়া যেত।আজ সেই সময় নেই।মানুষের হাতে স্মার্টফোন আছে, মুহূর্তে বার্তা পৌঁছে যায়। কিন্তু অপেক্ষার সেই দীর্ঘ সৌন্দর্য কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।তাই নচিকেতার গান শুনলে শুধু গান শোনা হয় নাএকটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে ছুঁয়ে দেখা হয়।আগুনপাখি কেন?নচিকেতা থেকে আগুনপাখি হয়ে ওঠার গল্প আসলে তাঁর শ্রোতাদের গল্পও।তিনি আগুনের মতো এসেছিলেন। প্রচলিত গানের অনেক ধারণাকে প্রশ্ন করেছিলেন। গানের বিষয়কে বদলেছিলেন। গায়ক-শ্রোতার দূরত্ব কমিয়েছিলেন।তাঁর গান বলেছিলগান শুধু সাজানো শব্দ নয়।গান প্রশ্ন করতে পারে।গান প্রতিবাদ করতে পারে।গান হাসাতে পারে।গান কাঁদাতে পারে।গান নিজের ঘরের দরজা খুলে দিতে পারে।আর গান কখনও কখনও আয়নার মতো সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেদেখো, এটাই তোমার জীবন।এই কারণেই তিনি আগুনপাখি।সময়ের সঙ্গে বয়স বেড়েছে, গান বুড়িয়ে যায়নিনচিকেতার জীবনে বহু বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলা গানের জগতেও এসেছে অসংখ্য পরিবর্তন। নতুন শিল্পী এসেছেন, নতুন সুর এসেছে, নতুন প্রযুক্তি এসেছে।কিন্তু নচিকেতার গান এখনও শোনা হয়।কারণ তাঁর গান কোনও নির্দিষ্ট দশকের সম্পত্তি নয়।যে বাবা-মায়ের কথা তিনি গেয়েছিলেন, তাঁরা আজও আছেন।যে প্রেমের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই প্রেম আজও মানুষকে কাঁদায়।যে একাকিত্বের কথা তিনি বলেছিলেন, তা আজ আরও গভীর।যে শহরের কথা তিনি গেয়েছিলেন, সেই শহর আজ আরও কংক্রিটে ঢাকা।আর যে মানুষটির কথা তিনি গেয়েছিলেনসেই সাধারণ মানুষটি আজও ঠিক তেমনই বেঁচে আছে।তাই তাঁর গান পুরনো হয় না।বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গান যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।আজ জন্মদিনে তাঁকে মনে পড়ছে অন্যভাবেআজ যখন নচিকেতার জন্মদিন, তখন মনে হয়আমরা কি তাঁকে শুধুই তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে মনে রাখব?না।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই সাহসটির জন্য, যা বাংলা গানে একসময় প্রয়োজন ছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই ভাষার জন্য, যা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে গানের ভাষা করে তুলেছিল।তাঁকে মনে রাখা উচিত সেই কণ্ঠের জন্য, যার মধ্যে কোনও কৃত্রিম মাধুর্য ছিল নাছিল জীবনের খসখসে বাস্তবতা।আর সবচেয়ে বেশি মনে রাখা উচিত সেই মানুষটিকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেনগান শুনে শুধু আনন্দ পেতে নেই, কখনও কখনও নিজের দিকে তাকাতেও হয়।আজও হয়তো কোনও পুরনো ক্যাসেটের বাক্সে তাঁর গান পড়ে আছে।কোনও পুরনো অ্যালবামের মলাটে সময়ের ধুলো জমেছে।কোনও এক মধ্যবয়সী মানুষ অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ ইউটিউবে নচিকেতার গান চালিয়ে দিয়েছেন।গান শুরু হয়েছে।আর মুহূর্তের মধ্যে তিরিশ বছর পেছনে চলে গেছেন তিনি।সেই পুরনো ঘর।সেই জানালা।সেই বিকেল।সেই অসমাপ্ত প্রেম।সেই বন্ধুটি।সেই বয়স।সেই স্বপ্ন।আর কোথাও খুব দূরে, কিংবা খুব কাছে, নচিকেতার কণ্ঠ ভেসে আসছে।ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে,চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদহয়তো সত্যিই আমাদের জীবনের অনেক সোনারোদ হারিয়ে গেছে।কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপারনচিকেতার গান সেই হারিয়ে যাওয়া রোদটুকু এখনও ফিরিয়ে দিতে পারে।এই তো একজন সত্যিকারের শিল্পীর সাফল্য।তিনি চলে যান না।সময় তাঁকে সরিয়ে দিতে পারে না।প্রজন্ম বদলে যায়, গান শোনার মাধ্যম বদলে যায়, শহরের চেহারা বদলে যায়তবু তাঁর কোনও একটি গান হঠাৎ কোথাও বাজে, আর আমরা থমকে দাঁড়াই।মনে হয়এই গানটা তো আমারই কথা।এই অনুভূতিটুকুই নচিকেতার সবচেয়ে বড় অর্জন।তাই আজ তাঁর জন্মদিনে শুধু শুভেচ্ছা নয়।একটি প্রজন্মের হয়ে কৃতজ্ঞতা।সেইসব বিকেলের জন্য, যেগুলিকে তিনি গানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।সেইসব কান্নার জন্য, যেগুলির ভাষা তিনি দিয়েছেন।সেইসব প্রেমের জন্য, যেগুলি পূর্ণতা পায়নি।সেইসব বাবা-মায়ের জন্য, যাঁদের নিঃসঙ্গতার কথা তিনি আমাদের শুনিয়েছেন।সেইসব মধ্যবিত্ত স্বপ্নের জন্য, যেগুলি ভেঙেও মানুষকে বাঁচতে হয়।আর সেইসব মানুষের জন্য, যারা এখনও কোনও এক নির্জন রাতে নচিকেতার গান শুনে মনে মনে বলেএ গানটা যেন আমারই জন্য লেখাজন্মদিনে তাই প্রিয় নচিকেতা, আপনাকে প্রণাম।বাংলা গানের আকাশে আপনার সেই আগুনপাখি আজও উড়ে বেড়াক।আর আমাদের হারিয়ে যাওয়া বিকেলগুলির আকাশেএকটু সোনারোদ হয়ে থাকুক আপনার গান।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মিসবার ইস্তফায় পাকিস্তান ক্রিকেটে বিস্ফোরণ! ৭ ক্রিকেটার ছাঁটাইয়ের পর এবার বোর্ডে বড় ধাক্কা

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে একের পর এক ধাক্কায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান ক্রিকেট। টানা দুই ম্যাচে হারের পর দলের ভিতরে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাত জন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বদল করা হয়েছে কোচিং স্টাফেও। এর মধ্যেই জাতীয় নির্বাচক কমিটি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবা উল হক। তাঁর পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পৌঁছেছে বলে খবর।তবে বোর্ড এখনও তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে মিসবা তাঁর নোটিশের সময়সীমা পালন করছেন। তাঁর ইস্তফাকে ঘিরেই পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটের সূত্রের দাবি, দল থেকে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিসবার সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য হয়েও এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না বলে সূত্রটির দাবি। এই ঘটনাই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।যে সাত জন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সলমন আলি আঘা, মহম্মদ রিজওয়ান, আলি উসমান, ইমাম উল হক, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল এবং মহম্মদ ওয়াইস জাফর। পাশাপাশি প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সরফরাজ আহমেদকে। বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।বাকি টেস্ট ম্যাচগুলির জন্য নতুন কোচিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে দায়িত্বে আনা হয়েছে। বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন অ্যাশলি নফ। সূত্রের খবর, লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ব্যাটিং পরামর্শদাতার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবা।অন্য দিকে, বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের জায়গায় বেশ কয়েক জন নতুন মুখকে দলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাইম আয়ুব বাট, আবদুল্লা ফজল এবং আরাফত মিনহাস। তাঁদের মধ্যে সাইম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজলকে টেস্ট দলেও রাখা হয়েছে। নতুনদের সম্মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা এখনও খুবই কম।ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছে পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যেই দুই শূন্য ব্যবধানে পিছিয়ে বাবরদের দল। সিরিজে এখনও একটি ম্যাচ বাকি।আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহ্যামে শুরু হওয়ার কথা সেই শেষ টেস্ট। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পাকিস্তানের সামনে এখন একমাত্র পথ জয়। তার আগেই নির্বাচক কমিটি এবং কোচিং ব্যবস্থায় এত বড় পরিবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

‘নাচতে রাজি না হওয়ায় চাকরি গেল’, মহিলা বিচারককে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ বর্ষীয়ান আইনজীবীর

দেশের বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পুরুষ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে বহু মহিলা বিচারক তাঁর কাছে এসেছেন। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের বইয়ে যৌন হেনস্থাকে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ডার্টি সিক্রেট বলে উল্লেখ করেছেন।সম্প্রতি এক স্মারক বক্তৃতায় মাই ভিশন অব ইন্ডিয়া: ২০৪৭ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, পেশাগত জীবনে বহু মহিলা বিচারকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন পুরুষ বিচারকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।এক মহিলা বিচারকের হয়ে মামলা লড়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন জয়সিং। তাঁর দাবি, ওই বিচারক তাঁকে জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের কোনও বিচারপতি অবসর নেওয়ার সময় মহিলা জেলা বিচারকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হত। একই রঙের শাড়ি পরতে বলা হত এবং পুরুষ বিচারকরা খাবারের ঘরে ঢোকার সময় তাঁদের উপর ফুল ছড়ানোর মতো আচরণও করা হত।এই ধরনের প্রথার তীব্র সমালোচনা করেন জয়সিং। তাঁর মতে, উচ্চতর বিচারব্যবস্থার কিছু পদমর্যাদাভিত্তিক আচরণ মহিলা বিচারকদের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বলেও তিনি দাবি করেন।ওই মহিলা বিচারকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আরও একটি ঘটনার কথাও বক্তৃতায় জানান জয়সিং। তাঁর দাবি, এক বিচারক ওই মহিলা বিচারককে নিজের বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচতে বলেছিলেন। মহিলা বিচারক সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এর পর তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল বলে দাবি করেন জয়সিং। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।বিচারব্যবস্থায় মহিলা বিচারকদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং যৌন হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে বলেও বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন বিচারপতি ডি এস মুরলীধর। তাঁর মতে, সিনিয়র পুরুষ সহকর্মীদের আচরণের কারণে অনেক মহিলা বিচারক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।বিচারব্যবস্থার পদমর্যাদাভিত্তিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন মুরলীধর। একই অনুষ্ঠানে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, মামলা নিষ্পত্তিতে দেরি এবং তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।অন্য দিকে, আদালতের সময় কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মামলাকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা যে সামান্য সময়, তার বড় অংশ ধনী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলি ব্যবহার করে নেয়।বক্তৃতার শেষে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে আশাবাদী থাকার কারণও জানান জয়সিং। নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা তাঁকে প্রায়ই প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি আরও ভাল হবে বলে তিনি কেন মনে করেন। তাঁর উত্তর, ভারতের সংবিধানই তাঁর আশার জায়গা।জয়সিংয়ের বক্তব্য, যতদিন নাগরিকরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষা করতে পারবেন এবং শাসককে সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন, ততদিন আশার জায়গা থাকবে। তাঁর মতে, সংবিধান বর্তমান রূপে থাকলে সরকারের কোনও সংবিধান-বহির্ভূত পদক্ষেপকে আইনি ভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকবে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

‘মিথ্যা মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখবেন?’ সাড়ে ৫ ঘণ্টা জেরার পর পুলিশকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল পুলিশ। একাধিক ধারায় দায়ের হওয়া এই মামলায় শ্লীলতাহানির ধারাও রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের বেআইনি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুরসভার কর্মী ও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে মহিলা পুলিশকর্মীরাও ছিলেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জন পড়ে যান বলেও জানা যায়।এই ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দেন অভিষেক। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিজের অবস্থান জানান।অভিষেকের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা করে তাঁকে বা তাঁর দলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে কোনও নোটিস ছাড়াই দলের ১৩ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার পর তাঁর দফতরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও দমকলের তরফে সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, অন্য কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি।অভিষেক বলেন, তারাপীঠে আগুনে মানুষের মৃত্যুর সময় কিংবা আলিপুরে আগুনে ইভিএম নষ্ট হওয়ার সময় কেন একই ভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁর দফতরের ক্ষেত্রে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগও সরাসরি খারিজ করেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। ঘটনার ভিডিয়ো তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ঘটনার দিন পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে টেনে নামিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি এমন মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপের প্রয়োজন হয়, তা হলে এত ভয় কেন?জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, মিথ্যা মামলা করে গ্রেফতার করে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা প্রয়োগ করলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলেই বার্তা দেন তৃণমূল সাংসদ।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

ম্যাঙ্গানিজ মিশন: খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী বড় সাফল্য!

অশোকনগর তেলক্ষেত্রের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গ তার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আরও এক সম্পদ উন্মোচনের পথেঝাড়গ্রাম জেলায় ম্যাঙ্গানিজের বিশাল ভাণ্ডার! এই ভান্ডারের খোঁজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি ও খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর (Directorate of Mines Minerals) শিমুলপাল, লবনী, ভাণ্ডারচুয়া, চৌগা পাহাড়, হাসা ডুংরি, কার্কা, বেগুনডিহা, বীরমণ্ডল, বাঁশপাহাড়ি এবং সংলগ্ন ম্যাঙ্গানিজ-সমৃদ্ধ এলাকায় যৌথ প্রাথমিক জরিপ (reconnaissance survey) চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদের প্রকৃত সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে MOIL Limited এখন জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (GSI), ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইন্স (IBM) এবং WBMDTCL-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। এর জন্য ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সময়কালে মাঠপর্যায়ের জরিপ বা ফিল্ডওয়ার্ক নির্ধারিত হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর ধরে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অব্যবহৃত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি সরকারের আমলে ঝাড়গ্রামের খনিজ সম্পদ অবশেষে তার যথাযথ গুরুত্ব ও স্বীকৃতি পেতে চলেছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বিতর্কিত মিছিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস, কিন্তু কেন তড়িঘড়ি শুনানি নয়?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মিছিলের আগেই মামলাটির জরুরি শুনানি করার আবেদন মানেনি আদালত।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটিও শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।প্রস্তাবিত মিছিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, দেশের রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় বড় জমায়েত বা প্রতিবাদ মিছিলের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।আবেদনকারীর আইনজীবী রিজান আহমেদ আদালতে জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনও মিছিলের অনুমতির জন্য কোনও আবেদন করা হয়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি মিছিলের আগে মামলাটির শুনানি করার জন্য বার বার আবেদন জানান। কিন্তু বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনতে রাজি হয়নি।আইনজীবী আদালতে আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। সেই সময় রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলটি কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানান।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে থেকেই কোনও অঘটন ঘটবে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে ধরে নেবে যে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করবেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই, এমন জোরালো পরিস্থিতিও আদালতের সামনে নেই বলে জানান তিনি।এর পর আইনজীবী দাবি করেন, আগের একটি আন্দোলনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আদালতে জানান।আবেদনকারীর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি আইনি বিধি মানছে না এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিচ্ছে না।এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি মূলত সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব। আবেদনকারীকে তাঁর উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকার অথবা দিল্লি সরকারের কাছে জানাতে বলেন তিনি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।মিছিলের আয়োজক সংগঠনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, সংগঠনটির কোনও নথিভুক্ত অফিস বা লেটারহেড নেই। ফলে তাদের সরাসরি মামলার পক্ষ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগেই মামলাটির শুনানি করার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে মিছিলের আগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

২০ বছরের মহাকাব্যের শেষ! হঠাৎই জাতীয় দলকে বিদায় মেসির, স্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব

কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রার পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।মেসির অবসর নিয়ে কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফুটবল থেকেও তাঁর মন কিছুটা সরে গিয়েছিল বলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবসরের কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেই চারটি গোল করেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তাঁর দল সাত-শূন্য ব্যবধানে জয় পায়।তার পরেও আচমকাই এল বড় ঘোষণা। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ফাইনালের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন বলেও জানিয়েছেন এই তারকা।মেসির এই সিদ্ধান্ত মানে আর্জেন্টিনার ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জার্সিতে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। কখনও সাফল্য এসেছে, কখনও এসেছে হতাশা। একাধিকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে সেই অধরা ট্রফি নিজের হাতে তুলেছিলেন মেসি।আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কেরিয়ারে দেশের হয়ে শতাধিক গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ছবার অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পেয়েছেন।বিশ্বকাপের মঞ্চেও মেসির একাধিক নজির রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে গোল ও সহায়তার মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। টানা নয়টি বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শুধু সাফল্য নয়, রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসও। একসময় কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরপর ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন তিনি।এবার সেই জাতীয় দলকেই বিদায় জানালেন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনার ফুটবলে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে দেশের জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনও তাঁকে মাঠে দেখা যেতে পারে। ফলে মেসির ফুটবলযাত্রা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না, শেষ হচ্ছে শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর মহাকাব্যিক অধ্যায়।

আগস্ট ৩১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal