• ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Footbal

খেলার দুনিয়া

‌ঘর ভাঙছে এটিকে মোহনবাগানের, লালহলুদের পথে রয় কৃষ্ণা?‌

এবছর আইএসএলের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল এটিকে মোহনবাগানকে। ফাইনালে উঠতে না পারলেও গোটা প্রতিযোগিতাতেই নজরকাড়া ফুটবল খেলেছিলেন সবুজমেরুণের ফুটবলাররা। এটিকে মোহনবাগানের ফুটবলারদের সামনের মরশুমে পাওয়ার জন্য অন্য ক্লাবগুলি যে ঝাঁপাবে, আইএসএল শেষ হওয়ার পরপরই বোঝা গিয়েছিল। সেটাই ঘটতে চলেছে। এটিকে মোহনবাগানের বেশ কয়েকজন ফুটবলারের কাছে ইতিমধ্যেই অন্য ক্লাবের প্রস্তাব এসে গিয়েছে। দল ছাড়ার পথে ফিজির তারকা রয় কৃষ্ণাও।কদিন আগেই ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের ফুটবলার নামতেকে তুলে নিয়েছে এটিকে মোহনবাগান। এবার সবুজমেরুণের ঘর ভাঙার পথে লালহলুদ কর্তারা। স্পনসরের ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কিছু না হলেও সামনের মরশুমে দল গঠনের ব্যাপারে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যেই এটিকে মোহনবাগানের প্রীতম কোটাল ও রয় কৃষ্ণাকে বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সামনের মরশুমে সবুজমেরুণের এই দুই ফুটবলারকে ইস্টবেঙ্গলে দেখা যেতে পারে।এটিকে মোহনবাগানে গত মরশুমে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি প্রবীর দাস। তিনি আর সবুজমেরুণে থাকতে চাইছেন না। গত মরশুমেই তিনি এটিকে মোহনবাগান ছাড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু সবুজমেরুণ কর্তারা চুক্তির শর্ত দেখিয়ে তাঁকে ছাড়েননি। প্রবীর দাসের সঙ্গে সামনের মরশুমেরও চুক্তি রয়েছে এটিকে মোহনবাগানের। এই মুহূর্তে তাঁকে দলে পেতে আগ্রহী কেরালা ব্লাস্টার্স বেঙ্গালুরু এফসির মতো ক্লাবগুলি। কেরালা ব্লাস্টার্সের থেকে বেঙ্গালুরুর প্রস্তাব অনেকবেশি আকর্ষণীয়। তাদের প্রস্তাব বেশ মনে ধরেছে প্রবীর দাসের। তিনি এটিকে মোহনবাগান ছাড়তে চান। সবুজমেরুণ কর্তাদের কাছে রিলিজের জন্য আবেদনও করেছেন। এখন দেখার এটিকে মোহনবাগান প্রবীরকে রিলিজ দেয় কিনা। গত মরশুমে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা লিস্টন কোলাসো, অস্ট্রেলিয়ার তারকা ডেভিড উইলিয়ামসের দিকেও নজর রয়েছে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির।

মে ০৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

বাংলার সন্তোষ ট্রফি দলের দুই ফুটবলারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার

বাংলার সন্তোষ ট্রফি দলের দুই ফুটবলারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মনোতোষ চাকলাদার ও দিলীপ ওঁরাও কে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক বসে। সেখানেই বাংলার সন্তোষ ট্রফি দলের দুই ফুটবলারকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৯ মে তাঁদের কাছে নিয়োগপত্র পৌঁছে যাবে।সন্তোষ ট্রফির ফাইনালে টাইব্রেকারে কেরালার কাছে হারে বাংলা। যদিও গোটা টুর্নামেন্টে প্রশংসনীয় ফুটবল উপহার দিয়েছে বাংলা দল। অধিনায়ক মনোতোষ চাকলাদার, ফারদিন আলি মোল্লা, দিলীপ ওরাওঁরা নজর কাড়েন। মনোতোষ ও দিলীপের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেও সেই সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়।রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানান, মনোতোষ ও দিলীপের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যম থেকে তাঁদের বিষয়ে অবগত হন। এরপর তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নিজের কোটা থেকে এই দুই ফুটবলারকে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। দিলীপের বাবা পুরসভার সাফাইকর্মী এবং মা অন্যের বাড়়িতে রান্না করেন। মনোতোষও খুবই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছে। সন্তোষ ট্রফির সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেন দিলীপ ওরাওঁ। তাঁর বাড়ি নাগেরবাজারের কাজিপাড়ায়। এখনও বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। মনোতোষের বাড়ি চুঁচুড়ায়, বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। মনোতোষের মা পরিচারিকার কাজ করেন। সন্তোষ ট্রফি চলাকালীন ঝড়ে তাঁদের বাড়ির চাল উড়ে যায়। এমনকী একটা সময় অবধি মনোতোষকে খেলার জুতো অবধি কিনে দিতে পারেনি পরিবার। মনোতোষ এবারের সন্তোষ ট্রফিতে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর অপেক্ষায় রয়েছেন আইএসএলে ডাক পাওয়ার। এই পরিস্থিতিতে দুই ফুটবল প্রতিভার আগামীর চলার পথ মসৃণ করে দিতে পারে রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করা সরকারি চাকরি। বাংলার ফুটবল মহল মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে বাংলার ফুটবলেও জোয়ার আসবে। ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিলে এ রাজ্যে যে তার স্বীকৃতি মেলে রাজ্য সরকারের নয়া ঘোষণাতে সেটাও স্পষ্ট।

মে ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

খলনায়ক সজল বাগ, টাইব্রেকারে হেরে সন্তোষে রানার্স বাংলা

৫ বছরের খরা কাটিয়ে বাংলা কি আবার জাতীয় ফুটবলে সেরার তকমা ছিনিয়ে নিতে পারবে? সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষরক্ষা হল না। অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও হারতে হল বাংলাকে। টাইব্রেকারে ৫৪ ব্যবধানে জিতে সপ্তমবার সন্তোষ ট্রফি জিতল কেরালা। ২৯ বছর পর জাতীয় ফুটবলে আবার সেরার তকমা ছিনিয়ে নিল কেরালা। এবছর সন্তোষ ট্রফিটে অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই শুরু করেছিল কেরালা। একটা ম্যাচেও না হেরে ফাইনালে উঠে এসেছিল। কোয়ার্টার ফাইনাল গ্রুপ লিগে বাংলার বিরুদ্ধেও জিতেছিল। সেমিফাইনালে কর্ণাটকের মতো দলকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৭৩ ব্যবধানে। একদিকে দারুণ ছন্দে, তার ওপর ঘরের মাঠে ম্যাচ। স্বভাবতই ফাইনালে বাংলার বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকে মাঠে নেমেছিল কেরালা। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থন নিয়ে বাংলার বিরুদ্ধে ফাইনালেও দারুণ শুরু করেছিল। বাংলাও কিন্তু কোনও অংশে পিছিয়ে ছিল না। মনে হচ্ছিল গ্রুপ পর্যায়ে হারের প্রতিশোধ ফাইনালেই নেবেন মনোতোষ চাকলাদাররা। ম্যাচের ৫ মিনিটেই বাংলার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। নবি হোসেনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কেরালাও পিছিয়ে ছিল না। তারাও বারবার আক্রমণে উঠে এসে বাংলার রক্ষণকে বিব্রত করছিল। ৩৩ মিনিটে বাংলার ডিফেন্সের ভুলে ফাঁকায় বল পেয়েও বাইরে মারেন কেরলের ভিগনেশ। এক মিনিট পরেই দক্ষতার শীর্ষে উঠে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে বাংলার পতন রোধ করেন গোলকিপার প্রিয়ন্ত সিং। ৩৭ মিনিটে মহিতোষ রায়ের দুরন্ত শট দারুণ দক্ষতার সঙ্গে বাঁচান কেরালার গোলকিপার ভি মিধুন। প্রথমার্ধে আক্রমণ প্রতি আক্রমণে খেলা জমে উঠলেও কোনও দল গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য কেরালার আধিপত্য বাংলার তুলনায় বেশি ছিল। ৫৯ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ারো সুযোগ এসেছিল কেরালার সামনে। বাংলার গোলকিপার প্রিয়ন্ত সিংকে একা পেয়েও বাইরে মারেন জিজো জোশেফ। অবশেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৭ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা সুপ্রিয় পন্ডিতের সেন্টার থেকে দুরন্ত হেডে গোল করে বাংলাকে এগিয়ে দেন দিলীপ ওরাঁও। ম্যাচের একেবারে শেষলগ্নে কেরালার হয়ে সমতা ফেরান বিবিন অজয়ন। অবশেষে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকার ছিল নাটকে ভরা। দুই দলই টাইব্রেকার চলাকালীন গোলকিপার বদল করে। টাইব্রেকারে বাংলার হয়ে গোল করেন দিলীপ ওরাঁও, বাবলু ওরাঁও, তন্ময় ঘোষ এবং গোলকিপার প্রিয়ন্ত সিং। বাইরে মারেন সজল বাগ। কেরালার পঞ্চম শটের সময় বাংলা গোলকিপার বদল করে। কেরালা পাঁচটি শটেই গোল করে।

মে ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবাহনীর বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কী বলছেন জুয়ান ফেরান্দো?‌

এএফসি কাপের মূলপর্বে ওঠার প্লে অফের লড়াইয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশের ঢাকা আবাহনীর বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এটিকে মোহনবাগান। পরের রাউন্ডে পৌঁছতে গেলে আবাহনীর বিরুদ্ধে জিততেই হবে এটিকে মোহনবাগানকে। ধারেভারে এগিয়ে থাকলেও নিজেদের ফেবারিট হিসেবে মানতে নারাজ সবুজমেরুণ কোচ জুয়ান ফেরান্দো। ঘরের মাঠে খেলা হলেও বরং ওপার বাংলার দলকে যথেষ্ট সমীহের চোখে দেখছেন তিনি। তবে জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জুয়ান ফেরান্দো। এই মুহূর্তে দারুণ ছন্দে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে উড়িয়ে দিয়েছে ৫০ ব্যবধানে। সেই ম্যাচ এখন অতীত জুয়ান ফেরান্দোর কাছে। ঢাকা আবাহনীর বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু করতে চান। ওপার বাংলার দলের খেলার ভিডিও দেখেছেন। সেইভাবেই পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। জুয়ান ফেরান্দোর লক্ষ্য শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল তুলে নেওয়া। চোটের জন্য রক্ষণে সন্দেশ ঝিঙ্ঘানকে এই ম্যাচেও পাবেন না জুয়ান ফেরান্দো। রয় কৃষ্ণাও নেই। তা সত্ত্বেও চিন্তিত নন সবুজমেরুণ কোচ। আসলে ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে তাঁর দলের ফুটবলারদের খেলা ভরসা জোগাচ্ছে জুয়ান ফেরান্দো। ঢাকা আবাহনী কিন্তু একেবারেই অবহেলা করার মতো দল নয়। রাফায়েল অগাস্তোর মতো আইএসএল খেলা ফুটবলার রয়েছে ওপার বাংলার দলে। এছাড়াও রয়েছেন কোস্টারিকার বিশ্বকাপার ড্যানিয়েল কলিনড্রেস। আর এক বিদেশি হুসেনিও যথেষ্ট ভাল। তাঁদের দিকে আলাদা নজর দিতে চান ফেরান্দো। তবে ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল মাথায় রাখছেন না। ফেরান্দো বলেন, আগের ম্যাচে পাঁচ গোলে জিতেছি ঠিকই। তবে প্রতিপক্ষ যে হেতু নতুন তাই আগের ম্যাচের পারফরমেন্স তেমন কাজে আসবে না। আমরা এক সপ্তাহ বিশ্রাম পেয়েছি, যে হেতু ওরা আগের ম্যাচে ওয়াক ওভার পেয়েছে তাই আমাদের থেকে বেশি বিশ্রাম পেয়েছে। তবে এসব নিয়ে ভাবছি না। ঢাকা আবাহনীর বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে এটিকে মোহনবাগান অধিনায়ক প্রীতম কোটাল বলেন, এটা আমাদের কাছে ফাইনাল ম্যাচ। গ্যালারিতে আমাদের সমর্থক ভর্তি থাকবে। ফলে আমরা ওদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে থেকে মাঠে নামব। তবে ম্যাচটা ততটাও সহজ হবে না।

এপ্রিল ১৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌সন্তোষ ট্রফির প্রথম ম্যাচে বাংলার জয়ে আশার আলো ইস্টবেঙ্গলে

সামনের মরশুমের জন্য আশা বুক বাঁধতেই পারেন লালহলুদ সমর্থকরা। নতুন স্পনসর হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। ফুটবলার বাছাইয়ের কাজও চলছে। নতুন মরশুমের জন্য ইস্টবেঙ্গল রিক্রূটাররা যে খুব একটা খারাপ দল গড়ছেন না, সন্তোষ ট্রফির প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ পাওয়া গেল। সন্তোষ ট্রফির প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে শুরু করল বাংলা। বাংলার জয়ের নায়ক শুভম ভৌমিক। তাঁর করা একমাত্র গোলেই জিতল বাংলা।লালহলুদ সমর্থকরা প্রশ্ন করতেই পারেন, বাংলার জয়ের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের সম্পর্ক কী? আছে। সামনের মরশুমে লালহলুদ জার্সি গায়ে চাপাতে চলেছেন শুভম ভৌমিক। তাঁর সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের কথাবার্তা চূড়ান্ত। শুভমের গোলে লালহলুদ সমর্থকরা খুশি হতেই পারেন। সামনের মরশুমের দল গঠনের জন্য সন্তোষ ট্রফিকেই বেছে নিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। এই প্রতিযোগিতা থেকেই ফুটবলার তুলে নিতে চান। শনিবার কেরলের মালাপ্পুরমের কোটাপাডি ফুটবল স্টেডয়ামে প্রতিযোগিতার অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ পাঞ্জাবের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। প্রথম ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল গ্রুপ লিগে রীতিমতো ভাল জায়গায় থাকল রঞ্জন ভট্টাচার্যর দল। প্রথম থেকেই ম্যাচের রাশ ছিল বাংলার হাতে। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে বারবার পাঞ্জাব রক্ষণে হানা দিচ্ছিলেন শুভম ভৌমিকরা। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে গোল পায়নি বাংলা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধের ১৭ মিনিটে। ডানদিক থেকে বসের মধ্যে জয় বাজের সেন্টার ভেসে আসে। বল বক্সে পড়ার মুখে ডানপায়ের ভলিতে জালে পাঠান শুভম ভৌমিক। ম্যাচের বাকি সময়ে পাঞ্জাব মরিয়া হলেও বাংলার রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি। এদিন বাংলার রক্ষণকে দারুণ নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক মনোতোষ চাকলাদার। বল দখলের লড়াইয়ে হেড করতে উঠলে পাঞ্জাবের এক ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁর মাথা ফেটে যায়। দুটি সেলাইও করতে হয়েছে। দলের খেলায় খুশি বাংলা দলের কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দীর্ঘ বাস জার্নি করে এসে মাঝে মাত্র একদিন বিশ্রাম পেয়েছে ফুটবলার। তারপর মাঠে নেমে নতুন পরিবেশে এই গরমের মধ্যেও দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। পাঞ্জাবকতে হারিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। পরের ম্যাচ কেরালার বিরুদ্ধে। যথেষ্ট লড়াই করতে হবে।

এপ্রিল ১৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আদৌও সামনের মরশুমে আইএসএলে খেলতে পারবে ‘‌শ্রী–হীন’‌ ইস্টবেঙ্গল?‌

মঙ্গলবারই চিঠি দিয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে চিঠি দিয়ে ক্রীড়া সত্ত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে লগ্নিকারী সংস্থা শ্রী সিমেন্ট। ফলে নতুন করে দল গঠনে আর কোনও বাধা নেই লালহলুদ কর্তাদের। এবার থেকে তাঁরা নিজেদের উছন্দমতো দল গড়তে পারবেন। নিজেদের ইচ্ছেমতো প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবেন। ইস্টবেঙ্গল শ্রীহীন হওয়ায় একটা প্রশ্ন ময়দানে ঘুরপাক খাচ্ছে। সামনের মরশুমে আদৌও কি আইএসএলে খেলতে পারবে লালহলুদ? আশাবাদী ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। নতুন লগ্নিকারী সংস্থা খুঁজে সামনের মরশুমে আইএসএলে খেলতে বদ্ধপরিকর তাঁরা। শ্রী সিমেন্টের কাছ থেকে স্পোর্টিং সত্ত্ব ফেরত পাওয়ার পর বুধবার ক্লাব তাঁবুতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। সাংবাদিক সম্মেলনে ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ইতিমধ্যেই তাঁরা যে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলছেন, সেকথাও জানান। সামনের মরশুমে আইএসএলে খেলার ব্যাপারে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, আশা করছি ইস্টবেঙ্গল সামনের মরশুমে আইএসএল খেলবে। আমরা সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছি। বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাপারটা পরিস্কার হয়ে যাবে। বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করতে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তারা দু-দুবার বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই আইনি বিষয়গুলি দেখাশোনা করছে। বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সায়েম সোহবান এই মুহূর্তে দেশের বাইরে রয়েছেন। তাঁর ২০ এপ্রিল দেশে ফেরার কথা। তারপরই দুই পক্ষের চুক্তির বিষয়টা চূড়ান্ত হবে। যদিও শোনা যাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ শ্রী সিমেন্টের মতো মূল স্পনসর হবে না। তারা সহযোগী স্পনসর হিসেবে থাকতে চায়। আরও বেশ কয়েকটা সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছেন লালহলুদ কর্তারা। চলতি মাসের মধ্যেই স্পনসরের বিষয়টা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। এদিকে, গতবছরের দলের ১১ জন ফুটবলারের বেতন বকেয়া রয়েছে। সেই বকেয়া বেতন শ্রী সিমেন্ট মেটাবে কিনা, এখনও নিশ্চিত নয়। এদিন কার্যকরী কমিটির সভায় ঠিক হয়েছে, শ্রী সিমেন্টকে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হবে। কর্তাদের আশা শ্রী সিমেন্ট ফুটবলারদের বকেয়া বেতন মিলিয়ে দেবেন। ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, ইস্টবেঙ্গলে বিনিয়োগ করার জন্য শ্রী সিমেন্টকে ধন্যবাদ। আশা করছি ফুটবলারদের যে বেতন বাকি আছে, তাও মিটিয়ে দেবে। এই নিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ক্রীড়া সত্ত্ব ফিরে পেয়ে এখন থেকেই দলগঠনে নামতে চলেছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। তাঁদের লক্ষ্য সন্তোষ ট্রফি থেকে ফুটবলার বাছাই করা। সেই লক্ষ্যে ক্লাবের দুই ফুটবলারকে কেরালা পাঠানো হচ্ছে। এবছর দল গঠনে প্রাক্তন ফুটবলারদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে চান লালহলুদ কর্তারা।

এপ্রিল ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌দুর্দান্ত জয়ের পরেও জরিমানা এটিকে মোহনবাগানের!‌ সমর্থকদের জন্য কী দশা

দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে প্রিয় দলের খেলা দেখার সুযোগ পেয়ে আবেগে ভাসছিলেন এটিকে মোহনবাগানের সমর্থকরা। কিন্তু তাঁদের এই আবেগর মূল্য ক্লাবকে যে দিতে হবে, হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি সমর্থকরা। মঙ্গলবার এএফসি কাপে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে হারিয়েও স্বস্তিতে নেই এটিকে মোহনবাগান। মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে সবুজমেরুণ শিবিরকে। এএফসির নিয়ম অনুযায়ী এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আয়োজিত কোনও প্রতিযোগিতায় ব্যানার, ফেস্টুন, টিফো নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন না সমর্থকরা। যদি নিরাপত্তারক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে কোনও সমর্থক গ্যালারিতে ব্যানারফেস্টুন নিয়ে যায়, তাহলে হোম টিমকে শাস্তির কবলে পড়তে হবে। মাঠে কোনও দর্শক ঢুকে পড়লেও শাস্তির কবলে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট দলকে। কারণ মাঠে দর্শক ঢুকে পড়লে ফুটবলারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মঙ্গলবার ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে দলের দুর্দান্ত জয়ের পর নিজেদের ধরে রাখতে পারেননি দুই সমর্থক। তাঁরা মাঠে ঢুকে পড়ে ফুটবলারদের জড়িয়ে ধরেন। করোনা আবহে এমনিতেই ফুটবলারদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে। এইভাবে মাঠে দর্শক ঢুকে পড়ার বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি এএফসি। ব্যাপারটাকে নিরাপত্তার গাফিলতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, আরও নিয়ম ভেঙেছেন সবুজমেরুণ সমর্থকরা। বেশ কয়েকজন দর্শক হাতে নানারকম ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন। যুবভারতীর গ্যালারিকে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে, যা এএফসির নিয়ম বিরুদ্ধ। সমর্থকরা যেসব ব্যানার নিয়ে মাঠে হাজির ছিলেন, তার কোনওটাতে লেখা ছিল, আমাদের মোহনবাগান ক্লাব ফিরিয়ে দাও। মূলত এটিকের সঙ্গে সংযুক্তির প্রতিবাদেই এই ব্যানার। হোম টিম হিসেবে নিয়ম ভাঙার জন্য এটিকে মোহনবাগানের ১০ হাজার ডলার জরিমানা করছে এএফসি। ভারতীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমান ৭ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা।এটিকে মোহনবাগানের পক্ষ থেকে অবশ্য পুরো ঘটনার দায় চাপানো হয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ওপর। কর্তাদের দাবি, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল পুলিশের ওপর। কোন দর্শক, কী নিয়ে ঢুকছে, তাদের দেখা কর্তব্য, ক্লাবের নয়। পুরো স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশের অনুমতি থাকলেও ৩৩ হাজার টিকিট বিক্রির জন্য ছাপা হয়েছিল। মাঠে এসেছিলেন ২৩৭২৭ জন দর্শক।

এপ্রিল ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

শ্রী-হীন ইস্টবেঙ্গল, স্পোর্টিং রাইটস ফিরে পেল

অবশেষে শ্রী সিমেন্টের কাছ থেকে স্পোর্টিং রাইটস ফিরে পেল ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবারই সরকারিভাবে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের হাতে ফিরিয়ে দিলেন শ্রী সিমেন্টের কর্তারা। একই সঙ্গে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়ে গেল দুই পক্ষের মধ্যে। যদিও লালহলুদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। বুধবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে সরকারিভাবে ক্লাবের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে। কোয়েস সরে যাওয়ার পর ২ বছর আগে ইস্টবেঙ্গলের লগ্নিকারী সংস্থা হয়ে এসেছিল শ্রী সিমেন্ট। তাদের হাতে ফুটবল দলে সত্ব ছেড়ে দেন। এই নিয়ে একটা খসড়া চুক্তি হয়েছিল দুই পক্ষের মধ্যে। কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। শ্রী সিমেন্ট ক্লাবের নানা বিষয়ে শর্ত আরোপ করেছিল। এর মধ্যে ক্লাব তাঁবুতে সদস্যসমর্থকদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও ছিল। চুক্তিকে এমন কয়েকটা শর্ত ছিল, যাতে ক্লাবের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। ইস্টবেঙ্গল কর্তারা চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই করতে রাজি হননি।এই অবস্থায় গত মরশুমের শুরুতে শ্রী সিমেন্টের কর্তারা জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা দল গঠন করবেন না। অনেক টালবাহনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে দল গঠন করতে রাজি হয়। শেষ মুহূর্তে দল গঠন করে আইএসএলে খেলতে নামে। পরে জানিয়ে দেয়, এই মরশুমে তারা আর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে নতুন করে লগ্নি করবে না। এবং স্পোর্টিং রাইটসও ফিরিয়ে দেবে। সেইমতো মঙ্গলবার চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়ে গেল। শ্রী সিমেন্ট যে আর থাকবে না, লালহলুদ কর্তারাও জানতেন। তাই তাঁরা নতুন লগ্নিকারী সংস্থার খোঁজে নেমেছেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে অনেকদূর কথাবার্তা এগিয়েছে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের। লালহলুদের শীর্ষ কর্তারাও দুদুবার বাংলাদেশ ঘুরে এসেছেন। এই মাসে আরও একবার যাওয়ার কথা। শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় এখন আর নতুন লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে সমস্যা নেই। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন লালহলুদ সদস্যসমর্থকরা।

এপ্রিল ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত মনবীর–কাউকো, এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে এ কী হাল ব্লু স্টারের!‌

দীর্ঘদিন ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে খেলার সুযোগ পায়নি এটিকে মোহনবাগান। দু বছর পর যুবভারতীতে প্রিয় দর্শকদের সামনে ম্যাচ। ঝলসে উঠল সবুজমেরুণ ব্রিগেড। শ্রীলঙ্কার লিগ চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫০ ব্যবধানে উড়িয়ে দুর্দান্তভাবে এএফসি কাপ অভিযান শুরু করল জুয়ান ফেরান্দোর দল। এটিকে মোহনবাগানের হয়ে দুটি করে গোল করেন জনি কাউকো ও মনবীর সিং। একটি গোল ডেভিড উইলিয়ামসের। এদিন প্রিয় দলের খেলা দেখতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রায় ২৫ হাজার দর্শক হাজির ছিলেন। প্রিয় ফুটবলারদের উৎসাহ দিতে ব্যানার, ফেস্টুন, টিফো নিয়ে মাঠে এসেছিলেন সবুজমেরুণ সমর্থকরা। ফুটবলাররা সমর্থকদের হতাশ করেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন জুয়ান ফেরান্দোর ফুটবলাররা। তারই ফসল ৫ গোল। যতই নেপালে মাচিন্দা এফসিকে হারিয়ে প্লে অফের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে আসুক শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার, ধারেভারে তারা এটিকে মোহনবাগানের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে। তার প্রমাণ এদিন মাঠেই পাওয়া গেল। মনবীর সিং, হুগো বোমাসদের আক্রমণের চাপে শুরু থেকেই দিশেহারা ছিলেন ব্লু স্টারের ফুটবলাররা। ৫ মিনিটেই গোল করার সুযোগ এসে গিয়েছিল এটিকে মোহনবাগানের সামনে। মনবীরের সেন্টার সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি ডেভিড উইলিয়ামস। ব্লু স্টার রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন মনবীররা। তারই ফলশ্রুতিতে ২৪ মিনিটে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। মনবীর সিংয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে থেকে ডানপায়ের কোনাকুনি গড়ানো শটে গোল করেন জনি কাউকো। ২৯ মিনিটে প্রবীর দাসের পাস থেকে গড়ানো শটে ব্যবধান বাড়ান মনবীর সিং।৩৩ মিনিটে ৩০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান। বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করেন ব্লু স্টারের প্রিন্স বোয়াডু। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন জনি কাউকো। দ্বিতীয়ার্ধেও এটিকে মোহনবাগানের আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল। একের পর এক সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু গোল করতে পারছিলেন না উইলিয়ামস, কিয়ান নাসিরি, মনবীররা। অবশেষে ৭৭ মিনিটে মনবীরের পাস থেকে ৪০ করেন ডেভিড উইলিয়ামস। ৮৯ মিনিটে দলের হয়ে পঞ্চম গোল করেন মনবীর সিং।

এপ্রিল ১২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বড় ধাক্কা এটিকে মোহনবাগানের

মঙ্গলবার এএফসি কাপে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে এটিকে মোহনবাগান। আইএসএলের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সমস্যায় সবুজমেরুণ শিবিরে। এএফসি কাপের গ্রুপ পর্যায়ের লড়াইয়ে পাচ্ছে না দলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণাকে। চোটের জন্য খেলতে পারছেন না দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্ঘানকে। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে না পেলেও চিন্তিত নন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। ফিজিতে রয় কৃষ্ণার এক ঘনিষ্ট আত্মীয় মারা গেছেন। সেইজন্য তিনি ফিজিতে ফিরতে যান। সোমবার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে ফিজির দুতাবাসে যান। মোটামুটি পরিস্কার, বড় কোনও অঘটন না ঘটলে এএফসি ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে যাবেন রয় কৃষ্ণা। তাঁর না থাকাটা যে বড় ধাক্কা সেকথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এইরকম পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষ এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। আইএসএলেও বেশ কয়েকটা ম্যাচে রয় কৃষ্ণাকে পাননি। তাসত্ত্বেও কিন্তু হাহুতাশ করেননি। বরং বিকল্প ফুটবলারদের দিয়ে ম্যাচ উতরে গেছেন। এএফসি কাপেও রয় কৃষ্ণার বিকল্প ফুটবলার জুয়ান ফেরান্দোর হাতে রয়েছে। এশিয়া কোটা নিয়ে মোট ৪ জন বিদেশি ফুটবলারকে খেলাতে পারবেন বাগান কোচ। রয় কৃষ্ণা চলে গেলে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হবে না। বরং কোন চার বিদেশিকে খেলাবেন, তা নিয়ে চিন্তামুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে ফেরান্দো হুগো বোমাস, ডেভিড উইলিয়ামসকে আক্রমণভাগে রেখে দল সাজাতে পারবেন। মাঝমাঠে জনি কাউকো, রক্ষণে তিরি। কার্ল ম্যাকহিউ এখনও দলের সঙ্গে যোগ দেননি। ফলে ৪ বিদেশিই এই মুহূর্তে জুয়ান ফেরান্দোর হাতে রয়েছে। সন্দেশ ঝিঙ্ঘান না থাকায় তিরির সঙ্গে রক্ষণে প্রীতম কোটালকে খেলাবেন। রয় কৃষ্ণা ও সন্দেশ না থাকলেও ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে চিন্তিত নন জুয়ান ফেরান্দো। তিনি বলেন, সন্দেশ দেশের হয়ে খেলার সময় থেকেই হাঁটুর চোটে ভুগছে। রয় কৃষ্ণাও থাকবে কিনা জানি না। তবে আমার হাতে বিকল্প রয়েছে। আশা করছি সমস্যা হূবে না। শ্রীলঙ্কার দলটি ততটা শক্তিশালী নয়। তাসত্ত্বেও বিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না জুয়ান ফেরান্দো। তিনি বলেন, ব্লু স্টার শ্রীলঙ্কার লিগ চ্যাম্পিয়ন দল। প্লে অফ ম্যাচে নেপালের মাচিন্দ্রার মতো দলকে হারিয়ে মূলপর্বে উঠে এসেছে। ফলে বিপক্ষকে মোটেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। একই কথা শোনা গেছে জনি কাউকোর মুখে।

এপ্রিল ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ঠিক হয়ে গেল এএফসি কাপে এটিকে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ, কারা?‌ জানতে পড়ুন

এএফসি কাপের প্রাথমিক পর্বের গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে ঠিক হয়ে গেছে এটিকে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ। ১২ এপ্রিল যুবভারতীতে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারের বিরুদ্ধে খেলতে হবে সবুজমেরুণ ব্রিগেডকে। প্লে অফ ম্যাচে নেপালের মাচিন্দ্রা এফসিকে হারিয়ে প্রাথমিক পর্বে উঠে এসেছে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার। গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষকে মেপে নিতে ব্লু স্টার ও মাচিন্দ্রা এফসি ম্যাচ দেখেছিলেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। খেলা দেখে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মনে হয়েছে তাঁর। বিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। ব্লু স্টারের খেলা দেখে সবুজমেরুণ কোচের বিশ্লেষণ, শ্রীলঙ্কার এই দলের পাসিং ফুটবল যথেষ্ট ভাল। মাঝমাঠে পাস খেলতে খেলতে হঠাৎ আক্রমণে উঠে আসে গতি বাড়িয়ে। ম্যাচের কোনও সময়েই হালকাভাব দেখানো চলবে না। ওদের ছোট করে দেখলে ডুবতে হবে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।এটিকে মোহনবাগানের ভিডিও অ্যানালিস্ট ব্লু স্টার ও মাচিন্দা এফসির গোটা ম্যাচ ভিডিও রেকর্ডিং করেছেন। দলের ফুটবলারদের ওই ম্যাচের ভিডিও দেখাবেন জুয়ান ফেরান্দো। বিপক্ষ দলের কোথায় দুর্বলতা, কোন জায়গায় শক্তিশালী সেগুলো ফুটবলারদের সামনে তুলে ধরবেন। বিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা অনুযায়ী ম্যাচের পরিকল্পনা করবেন। এএফসির ম্যাচে এই প্রথম দল নিয়ে মাঠে নামবেন না জুয়ান ফেরান্দো। তাঁর কোচিংয়ে এফসি গোয়া একবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলেছিল। যদিও তেমন আশানূরূপ ফল করতে পারেনি। এটিকে মোহনবাগানকে সাফল্য এনে দিতে চান। তবে এখনই পরের পর্ব নিয়ে ভাবছেন না সবুজমেরুণ কোচ। তাঁর লক্ষ্য একেকটা ম্যাচ ধরে এগোনো। এদিকে, যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে এটিকে মোহনবাগানের। রয় কৃষ্ণাসহ সব বিদেশি যোগ দিয়েছেন। লিস্টন কোলাসো ছাড়া সব ভারতীয় ফুটবলারও অনুশীলন করছেন। লিস্টনের নাকে অপারেশন হয়েছে। কয়েকদিন পরেই তিনি অনুশীলনে যোগ দেবেন। পরে যোগ দিলেও তাঁর খেলতে কোনও অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন জুয়ান ফেরান্দো।

এপ্রিল ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

অনুশীলনে নেমে পড়লেন জুয়ান ফেরান্দো, বাগান কোচের এবার লক্ষ্য কী?

পাখির চোখ করেছিলেন এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। আইএসএলে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছতে না পারায় সে স্বপ্ন আগেই চূরমার হয়ে গিয়েছিল। পরে আইএসএলেস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ। সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল এটিকে মোহনবাগানকে। সবুজমেরুণ শিবিরের আপাতত লক্ষ্য এএফসি কাপ। এএফসি কাপের জন্য শুক্রবার থেকে অনুশীলন শুরু করল এটিকে মোহনবাগান। এদিন সকালে কলকাতা পৌঁছে বিকেলেই ফুটবলারদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। আইএসএল অভিযান শেষ করে ফুটবলারদের ছুটি দিয়েছিলেন জুয়ান ফেরান্দো। তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন ১ এপ্রিল থেকে কলকাতায় এএফসি কাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবেন। সেই মতো এদিন ভোরের বিমানে কলকাতায় চলে আসেন সবুজমেরুণ কোচ। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি উপেক্ষা করে এদিন ফুটবলারদের নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন। যদিও সব ফুটবলারকে এদিন অনুশীলনে পাননি জুয়ান ফেরান্দো। দেশের হয়ে বাহরিনে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গেছেন লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং, প্রীতম কোটাল, অমরিন্দার সিংরা। তাঁরা এদিনের অনুশীলনে ছিলেন না। ছুটি কাটিয়ে এখনও দেশ থেকে ফেরেননি রয় কৃষ্ণা, ডেভিড উইলিয়ামসরা। তাঁরাও প্রথম দিনের প্রস্তুতিতে ছিলেন না। এএফসি কাপের প্রস্তুতি কীভাবে হবে, বাকি সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে বসে সে ব্যাপারে রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন জুয়ান ফেরান্দো। ফুটবলারদের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করেন। তাঁদেরও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ। এএফসি কাপে এটিকে মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচ ১২ এপ্রিল। সবুজমেরুণ প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ঠিক হবে ৫ এপ্রিল। ওই দিন মূলপর্বের জন্য প্লে অফে খেলবে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টার এফসি এবং নেপালের মাচিন্দা এফসি। এই ম্যাচের বিজয়ীর সঙ্গে এটিকে মোহনবাগান প্রথম ম্যাচ খেলবে।

এপ্রিল ০১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌ইস্টবেঙ্গলের পর কলকাতার আরও একটা দল ওপার বাংলার সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে

এপার বাংলার ফুটবলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ওপার বাংলা। মাসখানেক ধরেই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে বসুন্ধরা কিংসের গাঁটছড়া বাঁধার খবর শোনা যাচ্ছে। লালহলুদে লগ্নি করার ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছে বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপ। যারা বাংলাদেশে তিনতিনটি ক্লাবকে স্পনসর করছে। এবার এপার বাংলার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে এগিয়ে আসছে ওপার বাংলার ঐতিহ্যশালী ক্লাব ঢাকা মহমেডান। শুক্রবার দুই ক্লাবের কর্তাদের সঙ্গে এই ব্যাপারে প্রাথমিক কথা হয়েছে। কলকাতার মহমেডান স্পোর্টিং কর্তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কলকাতায় এসেছেন ঢাকা মহমেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ও ফুটবল সচিব আবু হাসান চৌধুরি প্রিন্স। শুক্রবার বিকেলে তিনি মহমেডান ক্লাব তাঁবুতে আসেন। এবার বাংলার মহমেডানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। দুই ক্লাবের কর্তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। আপাতত ঠিক হয়েছে দুই ক্লাবের মধ্যে যুব ফুটবলার বিনিময় হবে। মহমেডান স্পোর্টিং যদি আইএসএলে খেলে, তাহলে সবদিক দিয়ে সাহায্য করবে ওপার বাংলার ঢাকা মহমেডান। এমনকি, ভবিষ্যতে স্পনসর হিসেবে যুক্ত হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। দুই পক্ষের বৈঠকের পর ঢাকা মহমেডানের ফুটবল সচিব তথা ক্লাব ডিরেক্টর আবু হাসান চৌধুরি প্রিন্স বলেন, মাঝে আমাদের ক্লাবের অবস্থাও ভাল ছিল না। সম্প্রতি আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এপার বাংলার মহমেডানও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আজ দুই পক্ষের মধ্যে কথা হয়েছে। আমরা একসঙ্গে পথ চলতে চাই। আপাতত যুব ফুটবলার বিনিময়ের ওপর জোর দিচ্ছি। মহমেডান মাঠ সংস্কার হচ্ছে। সংস্কারের পর যেদিন উদ্বোধন হবে, সেদিন ঢাকা মহমেডানের প্রাক্তন ফুটবলার ও এপার বাংলার মহমেডানের প্রাক্তন ফুটবলারদের মধ্যে একটা ম্যাচ আয়োজন হবে। আর মহমেডান যদি আইএসএলে খেলে তাহলে, সর্বোতভাবে সাহায্য করব। দুই ক্লাবের গাঁটছড়া বাঁধার ব্যাপারে এপার বাংলার মহমেডানের সচিব দানিশ ইকবাল বলেন, দীর্ঘদিন দুই ক্লাবের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল না। আমরা সম্পর্ক স্থাপনের দিকে এগোচ্ছি। একসঙ্গে পথ চলার কথা ভাবছি। অদূর ভবিষ্যতে যুব ফুটবলার বিনিময় হবে। তারপর ধাপে ধাপে এগোব।

এপ্রিল ০১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে?‌ ইস্টবেঙ্গলে আশার আলো

সামনের মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের স্পনসর হিসেবে কি দেখা যাবে বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপকে? সে রকমই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাস খানেক আগে লালহলুদ কর্তাদের আমন্ত্রণে ভারতে এসেছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের শীর্ষ কর্তা। বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সায়েম শওভন আনভিকে কলকাতায় ডেকে এনে ক্লাব তাঁবুতে জমকালো সংবর্ধনা দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। ক্লাবের আজীবন সদস্যপদও তুলে দেওয়া হয়। তখন থেকেই একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল যে, বসুন্ধরা গ্রুপকে স্পনসর হিসেবে পেতে চান তাঁরা। কলকাতাতেই স্পনসরশিপের ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছিল দুই পক্ষের। দ্রুত চুক্তি সারতে আগ্রহী ছিল দুপক্ষই। তাই লালহলুদ কর্তাদের ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র লিমিটেডের কর্তারা। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে লালহলুদের দুই শীর্ষ কর্তা বাংলাদেশ যান। বসুন্ধরা গ্রুপে সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার ও রূপক সাহা। আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছিল। কলকাতায় ফিরে এসে চুক্তির পথ মসৃণ করতে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন লালহলুদ কর্তারা। এরপর আবার জরুরি ভিত্তিতে লালহলুদ কর্তাদের আলোচনার আমন্ত্রণ জানান বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সায়েম শওভন আনভি। বৃহস্পতিবারই আইনজীবী নিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছেন এক শীর্ষ কর্তা। বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তাদের সঙ্গে লালহলুদের সেই শীর্ষ কর্তার একপ্রস্থ বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার আবার আলোচনায় বসবেন বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সায়েম শওভন আনভির সঙ্গে। চুক্তির জন্য বাংলাদেশের যে যে আইনি প্রক্রিয়া সারতে হবে, সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কোন পদ্ধতিতে বসুন্ধরা গ্রুপ লালহলুদে অর্থ লগ্নি করবে, তা চূড়ান্ত হবে।হঠাৎ কেন ইস্টবেঙ্গলের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল বসুন্ধরা গ্রুপ? ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান স্পনসর শ্রী সিমেন্ট সামনের মরশুমে যে আর থাকবে না, এটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। এই অবস্থায় নতুন লগ্নিকারী সংস্থার খোঁজে ছিলেন লালহলুদ কর্তারা। তাঁরা যোগাযোগ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তাদের সঙ্গে। বসুন্ধরাও এমন একটা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায়, যাদের এশিয়ান লেভেলে পরিচিতি আছে। বসুন্ধরা গ্রুপ চায় ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের পরিচিতি আরও বাড়াতে। বাংলাদেশে তিনটি বড় ক্লাবকে স্পনসর করছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এবার বিদেশের মাটিতে পা রাখতে চায়।

মার্চ ৩১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আবার মোহনবাগানে আসছেন 'সবুজ তোতা'

শতাব্দী প্রাচীন মোহনবাগান ক্লাবে বসু পরিবার অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। এবার রাজনীতিকদের বারবাড়ন্ত। দীর্ঘদিন মোহনবাগান ক্লাবের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলে এসেছিলেন স্বপনসাধন বসু। যাকে ময়দান চেনে টুটু বসু নামে। এখনও নতুন প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষিত না হলেও বৃহস্পতিবার চারজন নতুন সহসভাপতি বেছে নেওয়া হয়েছে। জায়গা পেয়েছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ রায় ও মলয় ঘটক। এছাড়া সহসভাপতি করা হয়েছে রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও অসিত চ্যাটার্জিকে।বৃহস্পতিবার মোহনবাগান ক্লাবের নতুন কার্যকরী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। সেই বৈঠকে নতুন চার সহসভাপতির নাম ঘোষণা করা হল। অরূপ রায়, মলয় ঘটক, কুণাল ঘোষ, অসিত চ্যাটার্জির মতো রাজনীতিবিদরা অবশ্য ক্লাবের প্রশাসনে নতুন নয়। এর আগেও ক্লাব প্রশাসনে দেখা গেছে রাজনীতিবিদদের। দীর্ঘদিন সবুজমেরুণ ক্লাবের সহসভাপতির দায়িত্ব সামলেছিলেন প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি। এদিনের সভায় ৪ জন সহসভাপতির নাম ঠিক হলেও বাকি দুজনের নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কমিটিতে কোঅপ্ট করা হয়েছে পিন্টু বিশ্বাসকে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি অরূপ মজুমদারকে কার্যকরী কমিটিতে স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়েছে।এদিকে, আমার মোহনবাগান ক্লাবে হোসে র্যামিরেজ ব্যারেটোকে ফেরানোর চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। যুব ফুটবলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নতুন কমিটির। অনূর্ধ্ব ১৫, ১৮, ২১ স্তরের দলগুলির কোচদের মাথায় ব্যারেটোকে বসানোর কথা ভাবা হয়েছে। এদিন, মোহনবাগান তাঁবুতেও হাজির ছিলেন ব্যারেটো। তাঁর সঙ্গে এব্যাপারে প্রাথমিক কথাও বলেছেন নতুন সচিব দেবাশিস দত্ত।এদিনের বৈঠক শেষে দেবাশিস দত্ত বলেন, মোহনবাগানের সঙ্গে ব্যারেটোর আত্মার সম্পর্ক। ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা একটা বিদেশি কোচের কথা ভাবছি। ব্যারেটোর কথা মাথায় রয়েছে। কার্যকরী কমিটির বাকি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ব্যারোটোও দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তৈরি। তিনি বলেন, মোহনবাগান আমার সেকেন্ড হোম। এই ক্লাবের যে কোনও দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আমি তৈরি। আমার সঙ্গে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এখনও চুক্তি রয়েছে। ওদের কাছ থেকে রিলিজ নিতে হবে।

মার্চ ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌মৃত্যুর মুখে পড়া স্টেডিয়ামেই স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন, পুনর্জন্ম ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের

ডেনমার্কের পার্কেন স্টেডিয়াম। ৯ মাস আগে এই স্টেডিয়ামেই মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। তাঁর ফুটবলজীবন চলে গিয়েছিল অনিশ্চয়তার মুখে। সেই মাঠেই আবার প্রত্যাবর্তন। আর সেই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখলেন গোল করে। এইরকম পুনর্জন্ম সত্যিই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে।গতবছর ইউরো কাপে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষদিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন ডেনমার্কের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। আবার খেলার মাঠে ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে একসময় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সব আশঙ্কা দূর করে মাঠে ফিরেছেন এই ড্যানিশ ফুটবলার।দিনকয়েক আগেই আবার মাঠে ফিরেছেন। কয়েকদিন আগে হল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন এরিকসেন। সেই ম্যাচে ডেনমার্ক ২৪ গোলে হারলেও গোল করেছিলেন এরিকসেন। যদিও সেই ম্যাচে তিনি পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। মঙ্গলবার কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়ামে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে খেলতে নেমেছিল ডেনমার্ক। ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের হাতে নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরিকসেনকে স্বাগত জানাতে স্টেডিয়াম ভরিয়ে দিয়েছিলেন দর্শকেরা। বিশাল ব্যানারও নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। সেই বড় ব্যানারে লেখা ছিল, ওয়েলকাম ব্যাক ক্রিশ্চিয়ান। তিনি মাঠে নামতেই গোটা স্টেডিয়াম গর্জে উঠেছিল। দর্শকদের মুখে একটাই ধ্বনি, এরিকসেন, এরিকসেন।পার্কেন স্টেডিয়ামের এই প্রীতি ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন এরিকসেন। ৫৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে তিনি গোল করেন। এরিকসেনের গোলের আগেই অবশ্য ২ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ডেনমার্ক। ম্যাচের ১৫ মিনিটে ডেনমার্ককে এগিয়ে দেন জোয়াকিম মাহলে। বিরতির ৮ মিনিট পর দ্বিতীয় গোল করেন জেসপার লিন্ডস্ট্রোয়েম। ম্যাচের ৮০ মিনিটে এরিকসেনকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। ম্যাচের সেরাও হয়েছেন এরিকসেন।

মার্চ ৩০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

খেলতে খেলতেই মৃত্যু, লালহলুদ জার্সি আর গায়ে তোলা হল না দেবজ্যোতির

ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন কলকাতা ময়দানে খেলার। সে সুযোগ এসে যাওয়ার পর স্বপ্নের পরিধি আরও বেড়ে যায়। লালহলুদ জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন পূরণের শেষ ধাপে পৌঁছেও আর লালহলুদ জার্সি গায়ে তোলা হল না উদীয়মান ফুটবলার দেবজ্যোতি ঘোষের। মাঠে খেলতে খেলতেই অকালে প্রাণ হারালেন ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার। এই মরশুমে কলকাতা ফুটবল লিগে রেলওয়ে এফসির জার্সি গায়ে চমক দেখিয়েছিলেন দেবজ্যোতি। দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে দলকে কলকাতা লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর খেলা মনে ধরেছিল মহমেডান থেকে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের। সামনের মরশুমের জন্য লালহলুদ কর্তারা তাঁকে সই করানোর ব্যাপারে মনস্থির করেছিলেন। দেবজ্যোতির সঙ্গে কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল লালহলুদ কর্তাদের। কিন্তু আর লালহলুদ জার্সি গায়ে তোলা হল না দেবজ্যোতির। নদীয়ার কৃষ্ণনগরের চৌরাস্তায় বাড়ি দেবজ্যোতির। পরিবারের একমাত্র সন্তান। ফুটবল খেলে যে টাকা রোজগার করতেন, তাতেই সংসার চলত। শনিবার ধুবুলিয়ায় বেলপুকুর পোলতা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত ৮ দলীয় নক আউট ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্বরূপগঞ্জ সেবক সমিতি ও কৃষ্ণনগর সেন্ট্রাল ক্লাবের মধ্যে সেমিফাইনাল ম্যাচ চলছিল। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বিপক্ষ গোলকিপারের একটা শট দেবজ্যোতির বুকে লাগে। মাঠেই পড়ে যান তিনি। বমি করতে থাকেন। মাঠে নাকি কোনও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ছিল না। একটা গাড়িতে করে তাঁকে ধুবুলিয়া গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় কৃষ্ণনগর শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। শক্তিনগর হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুতে ফুটবলমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মার্চ ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

হতাশা কাটিয়ে এখন এএফসি কাপকেই পাখির চোখ করছেন বাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো

বুধবার হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জিতেও আইএসের ফাইনালের দরজা না খোলায় হতাশ এটিকে মোহনবাগান কোচ, ফুটবলার, সমর্থকরা। ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলেও গোটা মরশুমের দিকে যদি তাকানো যায়, তা হলে একটা কথা মানতেই হবে, হতাশ হওয়ার মতো ফুটবল খেলেনি সবুজমেরুন ব্রিগেড। দু-একটা ছোটখাট ভুল এবং সমস্যার মাশুল দিতে হয়েছে তাদের। আইএসএলের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে হতাশা কাটিয়ে এখন এএফসি কাপকেই পাখির চোখ করছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ জিতেও আইএসএল অভিযান শেষ হলেও কোচ জুয়ান ফেরান্দো খুশি দলের খেলায়। এএফসি কাপের ভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁর মাথায়। ফেরান্দো বলেন, দলের খেলায় আমি খুবই খুশি। খুব কঠিন সময়ে আমাদের দলের ছেলেরা প্রচুর পরিশ্রম করেছে। নিভৃতবাস, কোচ ও খেলার ধরন বদল, সব কিছুর সঙ্গে ওরা মানিয়ে নিয়ে সেরাটা দিয়েছে। তবে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বের ফলাফলে খুশি নন এটিকে মোহনবাগান কোচ। তিনি বলেন, জামশেদপুর এফসি-র কাছে লিগের শেষ ম্যাচ হেরে শীর্ষ স্থানটা হারিয়েছিলাম। এ বার সেমিফাইনালেও হারলাম। এই ফলাফলে আমি একেবারেই খুশি নই। ব্যক্তিগত ভাবে আমি খুব হতাশ। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলাম না। আমার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।এই মরশুমে যতটা ভাল খেলেছে এটিকে মোহনবাগান তত ভাল ফল তারা পায়নি। তবে চোট-আঘাত, শিবিরে কোভিড-হানা, মরশুমের মাঝখানে কোচ-বদল, নতুন কোচের স্টাইল-বদল, এমন নানা পরিস্থিতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও যে সবুজমেরুন ব্রিগেড এত দূর পৌঁছতে পেরেছে, এটা কম কৃতিত্বের নয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এই দলই ফাইনালে উঠতে পারত এবং হয়তো চ্যাম্পিয়নও হতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্য ও পরিস্থিতি তাদের সেই জায়গায় পৌঁছতে দেয়নি।একমাসও বাকি নেই এএফসি কাপ শুরু হতে। আইএসএলে ব্যর্থতার পর এটাই পাখির চোখ ফেরান্দোর। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ভাল প্রস্তুতি প্রয়োজন। এই ব্যাপারে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। তার আগে অবশ্যই খেলোয়াড়দের যথেষ্ট বিশ্রাম দিতে হবে। ৫-৬ দিন পর থেকে প্র্যাক্টিস শুরু করব। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা।

মার্চ ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েও ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হল না এটিকে মোহনবাগানের

৩ গোলের ব্যবধান মুছে দিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন এটিকে কোচ জুয়ান ফেরান্দো। স্বপ্ন দেখেছিলেন ৯০ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল করে দলকে আইএসএলের ফাইনালে তোলার। দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়েও স্বপ্নপূরণ হল না সবুজমেরুণ ব্রিগেডের। দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে ১০ ব্যবধানে জিতেও ফাইনালে ওঠা হল না এটিকে মোহনবাগানে। স্বপ্ন আটকে গেল হায়দরাবাদ এফসি গোলকিপার কাট্টিমনির হাতে। দুই পর্ব মিলিয়ে ৩২ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে চলে গেল হায়দরাবাদ এফসি।জয়ের জন্য মরিয়া এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো এদিন ৩৫২ ছকে দল সাজিয়েছিলেন। একেবারে সামনে রেখেছিলেন রয় কৃষ্ণা ও কিয়ান নাসিরিকে। কিয়ানকে নামিয়ে চমক দিতে চেয়েছিলেন সবুজমেরুণ কোচ। কিয়ান ও কৃষ্ণার পেছনে হুগো বোমাস, লিস্টন কোলাসো, জনি কাউকো, শুভাশিস বসু ও কার্ল ম্যাকহিউ। ৩ ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্ঘান, প্রবীর দাস ও প্রীতম কোটাল।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল এটিকে মোহনবাগান। ৭ মিনিটে একটা হাফ চান্স এসে গিয়েছিল সবুজমেরুণের সামনে। প্রবীর দাস একক প্রয়াসে ঢুকে গিয়েও গোল করতে পারেননি। ১৪ মিনিটে প্রবীর দাসের সেন্টারে ঠিকঠাক মাথা ছোঁয়াতে পারেননি রয় কৃষ্ণা। একের পর এক আক্রমণ তুলেনিয়ে এলেও গোলমুখ খুলতে পারছিলেন না এটিকো মোহনবাগান স্ট্রাইকাররা। খেলার গতির বিরুদ্ধে ৩৪ মিনিটে দারুণ সুযোগ এসেছিল হায়দরাবাদ এফসির সামনে। ইয়াসির মহম্মদের কর্ণারে ৬ গজ বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় পেয়েও গোল করতে পারেননি অনিকেত যাদব। মিনিট তিনেক পরেই এটিকে মোহনবাগানের সামনে গোলের সুযোগ এসে গিয়েছিল। প্রবীর দাসের সেন্টার নিজের আয়ত্বে নিয়ে এসেই তিন কাঠে ভেদ করতে পারেননি হুগো বোমাস। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে জনি কাউকোর একটা শট বারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল এটিকে মোহনবাগানের। ৫০ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। ডানদিক থেকে উঠে গিয়ে দুর্দান্ত নীচু সেন্টার করেছিলেন প্রবীর দাস। সামনে শুধু হায়দরাবাদ এফসি গোলকিপার কাট্টিমনিকে পেয়েও গোল করতে পারেননি রয় কৃষ্ণা। তাঁর পুশ দারুণ দক্ষতায় বাঁচান কাট্টিমনি। ৬০ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে সুবিধাজনক জায়গায় ফ্রিকিক পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিস্টন কোলাসো। ৬৪ মিনিটে হুগো বোমাসের সেন্টারে কিয়ান নাসিরির হেড সরাসরি কাট্টিমনির হাতে চলে যায়।৬৯ মিনিটে সন্দেশকে তুলে মনবীর সিংকে নামিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন জুয়ান ফেরান্দো। ফলও পান হাতে নাতে। ৭৯ মিনিটে গোল করে এটিকে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন রয় কৃষ্ণা। শেষ দিকে আক্রমণের চাপ বাড়িয়েও আর গোল তুলে নিতে পারেনি এটিকে মোহনবাগান। সেই কাট্টিমনির হাতেই আটকে গেল সবুজমেরুণের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।

মার্চ ১৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌আইএসএলে ব্যর্থ হলেও লালহলুদ ফুটবলারদের দারুণ কদর, রফিক যাচ্ছেন চেন্নাইনে

এবারের আইএসএলে লিগ টেবিলে লাস্ট বয় হলেও দলবদলের বাজারে এসসি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের কদর যে যথেষ্ট রয়েছে, ইতিমধ্যেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হীরা মণ্ডল, সৌরভ দাসসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলার ইতিমধ্যেই অন্য ক্লাবের প্রস্তাব পেয়ে গেছেন। লালবলুদের আরও এক ফুটবলারের কাছে এসে গেল অন্য ক্লাবের প্রস্তাব। মহম্মদ রফিককে ২ বছরের জন্য প্রস্তাব দিল চেন্নাইন এফসি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই চেন্নাইন এফসির চুক্তিপত্রে সই করবেন মহম্মদ রফিক। সামনের মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের কী অবস্থা হবে, তা জানেন না কোনও ফুটবলারই। স্পনসর নিয়ে এখনও টালবাহনা চলছে। শ্রী সিমেন্ট কর্তারা আইএসএলের শেষলগ্নে এসে বলেছিলেন, চলতি মরশুম শেষেই লালহলুদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। কিছুদিন আগেই আবার শ্রী সিমেন্টের কর্ণধার হরিমোহন বাঙ্গুর বলেছিলেন, তাঁরা ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে থাকতে চান। তবে লালহলুদ কর্তারা আর শ্রী সিমেন্টকে লগ্নিকারী হিসেবে চান না। নতুন স্পনসরের খোঁজে তাঁরা রয়েছেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে অনেকদুর এগিয়েছে। তবে কোনও কিছুই এখনও নিশ্চিত নয়। এই অবস্থায় ফুটবলাররা আর অপেক্ষা করতে চাইছেন না। তাঁরা অন্য ক্লাবের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। বেশ কয়েকজন লালহলুদ ফুটবলার ইতিমধ্যেই অন্য ক্লাবের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সেরে ফেলেছেন। এবার সেদিকেই এগোচ্ছেন মহম্মদ রফিক। চেন্নাইন এফসির প্রস্তাব পছন্দ হয়েছে রফিকের। ৩১ মে পর্যন্ত যেহেতু লালহলুদের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, তাই এখনই চেন্নাইন এফসির চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই করতে পারছেন না মহম্মদ রপিক। ২ বছরের জন্য তিনি চেন্নাইনে যাচ্ছেন। লালহলুদে অধিকাংশ ম্যাচে মাঝমাঠে খেললেও যথেষ্ট ইউটিলিটি ফুটবলার রফিক। মাঝমাঠ ছাড়াই উইং, রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, ফরোয়ার্ডেও খেলতে পারেন। অ্যাটলেটিকো দি কলকাতার হয়ে প্রথম আইএসএলে ফরোয়ার্ডেই খেলেছিলেন। তাঁর গোলেই ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অ্যাটলেটিকো দি কলকাতা। ওই বছর তিনি ইস্টবেঙ্গল থেকে লোনে অ্যাটলেটিকো দি কলকাতায় যোগ দিয়েছিলেন।

মার্চ ১৫, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 14
  • 15
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

গুরুদ্বারের সামনেই সুখবীর বাদলকে কোপ! পেটে হামলার চেষ্টা, রক্তাক্ত প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের নন্দেদে অকালি দল প্রধান তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের উপর আচমকা হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। হামলায় হাতে চোট পেয়েছেন সুখবীর বাদল। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, নন্দেদের একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। গুরুদ্বারের সামনেই আচমকা এক ব্যক্তি সুখবীর বাদলের দিকে এগিয়ে এসে হামলা করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হামলাকারী তাঁর পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। হামলার সময় সুখবীর বাদলের হাতে চোট লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন।ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে নন্দেদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। হামলার সময় তাঁর স্ত্রী তথা অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সুখবীর বাদলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে তাঁর ডান হাতে কাপড় বাঁধা দেখা যায়।হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর নাম যশপাল সিং বলে জানা গিয়েছে। তিনি নিহাঙ্গ শিখ বলে সূত্রের দাবি। হামলায় কৃপাণ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। যশপাল সিং গত দুই বছর ধরে তখত শ্রী হাজুর সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।সুখবীর বাদলের উপর এই প্রথম হামলার চেষ্টা নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।ফলে নন্দেদের এই হামলার পর নতুন করে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী কারণে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে হামলা করা হল এবং এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে আগুন! ছ’শো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা, আরও পাঁচশো আটক

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের আঁচ আরও বাড়ল। গত সোমবার বিধানসভা অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ৬০০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনের নাম এফআইআরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর।গত প্রায় ২০ দিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন করছেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চ-এর ব্যানারে চলছে লাগাতার বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।আন্দোলনকারীরা নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করে অভিযোগের তদন্ত করা হোক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তাঁরা।সোমবার বিধানসভা অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। এর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিজেপি রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দেয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালে আবগারি কনস্টেবল পদের শারীরিক পরীক্ষায় মৃত্যু হওয়া ১৯ জন চাকরিপ্রার্থীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।এই ইস্যুতে বিজেপির ছাত্র সংগঠনও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এখন শুধু ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, জাতীয় স্তরেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে জোট সরকারের শরিক কংগ্রেসের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির ছাত্র সংগঠন আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে। এক দিকে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, অন্য দিকে পুলিশের মামলা এবং বিরোধীদের চাপসব মিলিয়ে হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

‘আপনারা না পারলে আমরা করে দেখাব’, প্যাকেটজাত খাবার নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হলে তার গায়ে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকা উচিতএই বিষয়টি ফের মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের গড়িমসি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। এমনকি কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপের কারণে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র বা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা নরম মনোভাব দেখাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে পি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য জড়িত। তাই কোনও শিল্পগোষ্ঠীর চাপের কারণে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।মামলাকারীর পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পমহলের আপত্তি রয়েছে। সেই কারণেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাকারীর আইনজীবী আরও জানান, গত ৭ মার্চ খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে অবশ্য শিল্পমহলের আপত্তির কথা আদালতে জানানো হয়। তাদের প্রস্তাব ছিল, প্যাকেটের গায়ে সরাসরি সতর্কবার্তা না দিয়ে প্রতিদিন কতটা অতিরিক্ত চিনি, নুন বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া উচিত, সেই পরিমাণ উল্লেখ করা যেতে পারে।কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ব্রিজেন্দর চাহার বিষয়টি আদালতে ব্যাখ্যা করেন। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কারণ, দেশের বহু প্রচলিত খাবারেই ঐতিহ্যগত ভাবে চিনি ও নুনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।কেন্দ্রের এই যুক্তি শুনে আরও কড়া প্রশ্ন করেন বিচারপতিরা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে সুস্থ রাখার বিষয়টি কি সরকারের অগ্রাধিকার নয়? বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যখন বিষয়টি জড়িত, তখন আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেই মত শীর্ষ আদালতের।আদালত স্পষ্ট করে জানায়, প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ফলে প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে আগামী দিনে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

পাইলটের শরীরে নিষিদ্ধ মাদক? ৩০০ ফুট নীচে নেমে যাওয়া বিমানের ঘটনায় তদন্তে বড় তথ্য

ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তে নয়া মোড়। বিমানের পাইলটদের পরীক্ষার ফল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি সূত্র এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানের প্রধান পাইলটের নিশ্চিতকরণমূলক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার ফল এবং বিমানের উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ এখনও তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেননি।৪ অগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিমানটি। মাঝ আকাশে আচমকাই বিমানের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট কমে যায়। ঘটনায় যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের কয়েক জন আহত হন। বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।ঘটনার পর দুই পাইলটেরই বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা করা হয়। প্রধান পাইলটের প্রথম পরীক্ষার ফল নেতিবাচক ছিল না। সেই কারণে নমুনা নিশ্চিতকরণমূলক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরের পরীক্ষাতেও গাঁজার উপস্থিতি পাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। দুই পাইলটকেই তদন্ত চলাকালীন উড়ান থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এর পাশাপাশি বিমানের যান্ত্রিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উড়ানের সময় একাধিক সতর্কবার্তা দেখা গিয়েছিল বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হাইড্রলিক ব্যবস্থা, উড়ান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় উড়ান ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে শুধু পাইলটের ভূমিকা নয়, বিমানের প্রযুক্তিগত বিষয়ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।প্রধান পাইলট তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই ওষুধের কারণেই পরীক্ষায় এমন ফল আসতে পারে। এই দাবি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিমানে তাঁর আচরণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবিনকর্মীরা তাঁর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। বিমান সংস্থাকে পরিচালনাগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে যে বা যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।তবে বিমানের আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও চূড়ান্তভাবে জানা যায়নি। পাইলটের পরীক্ষার ফল, বিমানের প্রযুক্তিগত সমস্যা, উড়ানের তথ্য এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিলসব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও একটি কারণকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা ঠিক হবে না।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
কলকাতা

এনআরএসে নয়, অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্ত! নার্সের মৃত্যু ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত, কী জানাল স্বাস্থ্যদপ্তর?

এনআরএস হাসপাতালের শৌচালয় থেকে নার্সের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। মৃত নার্সের স্বামী ও পরিবারের দাবি মেনে এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে না। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মৃতার স্বামী রাহুল দাস এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন মেনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হবে।নার্সের কীভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও অনুমান করা ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অনুমানের জায়গা নেই। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ঘটনার তদন্তে আলাদা অভ্যন্তরীণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এনআরএস হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই কমিটিতে হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রতিনিধি-সহ একাধিক বিভাগের প্রধানদের রাখা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের এইচডিইউতে কর্মরত ওই নার্সের দেহ বিভাগেরই শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, রাত আটটা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রাত নটা নাগাদ এক রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পর শৌচালয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়।এক জন জুনিয়র চিকিৎসক তাঁর খোঁজ শুরু করেন। শৌচালয়ের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে গ্রুপ ডি কর্মীদের ডেকে দরজা ভাঙা হয়। ভিতর থেকে নার্সকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।এরপর থেকেই নার্সের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, শৌচালয়ের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার কী পরিস্থিতি ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শৌচালয় থেকে কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অভ্যন্তরীণ কমিটির রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য! লালকেল্লা ঘিরে কেন বাড়ল নিরাপত্তা?

স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি বিশেষ রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে সতর্ক হয়েছে দিল্লি। ১৫ অগস্ট লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে ওই রিপোর্টে আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা নিয়ে একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট সামনে আসার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তৎপরতাও বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে গোপন ঘাঁটি তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে আল কায়দার একটি শাখা। ভারতীয় উপমহাদেশে এই সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে। সংগঠনটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে আল কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট হিসেবে।রিপোর্ট অনুযায়ী, বড় কোনও সংগঠিত ইউনিট হিসেবে কাজ না করে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন দলের মাধ্যমে নিজেদের কার্যকলাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এই গোষ্ঠী। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ তৈরি, অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশে সংগঠনটির সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে কি না, তা নিয়েও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিপোর্টে সংগঠনটির সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।গত বছর নভেম্বর মাসে লালকেল্লার বাইরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলার সঙ্গে আল কায়দার যোগ থাকার তথ্যও রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে কেন্দ্র করে এমনিতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তার উপর রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে আল কায়দার নতুন করে সক্রিয় হওয়ার তথ্য সামনে আসায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি আরও বাড়তে পারে।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ছোট ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাজ করায় সংগঠনটির প্রকৃত পরিধি চিহ্নিত করা কঠিন। অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের পরিকাঠামোগত সহযোগিতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।স্বাধীনতা দিবসের আগে এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে সম্ভাব্য জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে এখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
কলকাতা

আর জি করের ফাইল খুলতেই প্রথম গ্রেপ্তার! ওড়িশা থেকে পুলিশের জালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

আর জি কর মামলার ফাইল নতুন করে খোলার পরই বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকার এবং পরিবারের সদস্যদের সই ছাড়াই দেহ সৎকারের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর জি কর কাণ্ডের পর নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের সদস্যদের সই ছাড়াই দেহ সৎকার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।এই ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরব হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকার করে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি দেহ সৎকারের খরচও পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।এই ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পাশাপাশি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামও সামনে এসেছিল। গত সোমবার খড়দা থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অভয়ার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।তদন্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত অথবা শুক্রবার সকালে তাঁকে রাজ্যে নিয়ে আসা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।এর আগে ৯ অগস্ট আর জি কর কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়। পরিবারের সই ছাড়া কীভাবে দেহ সৎকার করা হয়েছিল এবং ওই প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।নির্মল ঘোষের পরিবারের বিরুদ্ধেও এর আগে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ জুলাই তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নির্মল ঘোষের নাম লটারিকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারির পর আর জি কর মামলার তদন্তে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভয়ার দেহ সৎকারের ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিলেন এবং পুলিশের তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাজ্য

স্বপ্ন ছিল পাক আর্মিতে যোগ দেওয়ার! আইএসআইএয়ের এজেন্ট হয়ে কত বার ভারতে এসেছিল পাক জঙ্গি

বেঙ্গল এসটিএফের হাতে গ্রেফতার রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারীদের দাবি, রানা মোট পাঁচ বার ভারতে এসেছিল। প্রতিবারই কলকাতায় এসে তিলজলায় ইজাজের বাড়িতে থাকত বলে জানা গিয়েছে। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার কলকাতায় আসার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে আসার পর ভুয়ো পরিচয়ে একাধিক সরকারি নথি তৈরি করেছিল রানা। ইজাজের বাবা যুবের আলমকে নিজের বাবা বলে পরিচয় দিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। পরে সেই পরিচয়ের ভিত্তিতেই প্যান কার্ড এবং আধার কার্ডও তৈরি করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।জেরায় রানা জানিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই পাকিস্তান সেনায় চাকরি করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এরপর পাকিস্তান সেনা এবং আইএসআইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই যোগাযোগের সূত্রেই সে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে যুক্ত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ক্যারাটের প্রশিক্ষণ নিয়েছিল রানা। পাশাপাশি কাঠমান্ডুতেও তার ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই একটি মসজিদে ইজাজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে গড়ায়। অভিযোগ, ইজাজের সাহায্যেই কাঠমান্ডু থেকে ভারতে ঢুকত রানা।প্রথম বার কলকাতায় আসার সময় রানার কাছে কোনও ভারতীয় পরিচয়পত্র ছিল না বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিহারের রক্সৌল সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে ভারতে প্রবেশ করত সে। পাঁচ বার ভারতে আসার সময়ই একই পথ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবার কাঠমান্ডু থেকে ইজাজই তাকে ভারতে নিয়ে আসত বলে জানা গিয়েছে।সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় রানাকে ডেকেছিলেন বুথ স্তরের আধিকারিক। কিন্তু সে হাজির না হওয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ যায় বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। ইজাজ রানার পাকিস্তানি পরিচয় সম্পর্কে জানত কি না, তা-ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, পরিচয় জানার পরেও ইজাজ তাকে নিজের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।রানার গতিবিধি নিয়েও তদন্তকারীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। ফোর্ট উইলিয়াম ছাড়াও ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সে ঘোরাফেরা করেছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই সব জায়গার ছবি ও ভিডিয়ো তুলে সেগুলি বিদেশে থাকা সন্দেহভাজন যোগাযোগের কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।ভুয়ো পরিচয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করার পর একাধিক সিম কার্ড সংগ্রহ করেছিল রানা বলেও অভিযোগ। ওই সিম ব্যবহার করেই সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে তদন্তকারীদের দাবি। তার যোগাযোগের জাল কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছিল, তা জানতে ফোন ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারের আগে বাংলাদেশের পথে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সেখান থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার ছক ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর আগেই এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হয় সে। এখন রানা ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে আর কারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আগস্ট ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal