• ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Dev

রাজ্য

যাত্রীদের কষ্টের দিন শেষ, শীঘ্রই শিয়ালদহ মেইন সেকশনে সমস্ত ১২ কোচের লোকাল ট্রেন

শিয়ালদহ মেইন ও নর্থ সেকশনে সমস্ত EMU লোকালগুলিকে ১২ কোচের করার জন্য শিয়ালদহ মেইনের সাবার্বান প্লাটফর্মগুলি অর্থাৎ ১ থেকে ৫ নং প্লাটফর্মের দৈর্ঘবৃদ্ধির কাজ জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। শিয়ালদহ স্টেশনের ইয়ার্ডের জটিলতা সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে, ডেডিকেটেড প্রজেক্ট টিম 24X7 অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে নির্দিষ্ট যাতে সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যায়। নতুন ট্র্যাক, বৈদ্যুতিক লাইন ইত্যাদি স্থাপনের কাজ সহ এমন একটি বিশাল প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা এবং সুস্পষ্ট সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। এই নতুন লে আউটে ইলেকট্রিক ট্রাকশনের বন্দোবস্ত এবং সিগন্যালিং মডিফিকেশনের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ধৈর্যসাপেক্ষ ব্যাপার। ট্রেন চলাচল চালু রেখে এসমস্ত কাজ করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং এবং দক্ষ রেলকর্মীরা এই বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছেন। গ্রীষ্মের ভয়ঙ্কর তাপপ্রবাহ সত্ত্বেও, নিবেদিত প্রজেক্ট টিম বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠছে এবং ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার এবং সিগন্যালিং সরঞ্জামগুলির জন্য নতুন খুঁটি স্থাপন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং নতুন পরিকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই কাজটি নির্ভুলতার সাথে করা হচ্ছে। দিনের যাত্রী চলাচলে ব্যাঘাত কমাতে এবং ধুলা দূষণ কমাতে রাতে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে।যাত্রীদের অসুবিধা কমানোর জন্য, দিনের বেলায় যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে প্ল্যাটফর্ম ১,২,৩ এবং ৪ এর কাছে অতিরিক্ত অস্থায়ী এক্সেস রুট খোলা হয়েছে।প্রতি রাতেই রেলসেবা নিবৃত্তির পরেই পূর্বরেলের কর্মীরা কোমর বেঁধে কাজে নেমে পড়ছেন কারণ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম ট্রেন চলার আগেই কাজ শেষ করতে হবে যাতে যাত্রীসাধারণ কোনওরকম অসুবিধার সম্মুখীন না হন। শিয়ালদহের সমস্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগই প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিভাগীয় কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে চলতে বদ্ধপরিকর যাতে খুব শীঘ্রই শিয়ালদহ মেইন এবং নর্থ এর সমস্ত লোকাল ট্রেনই ১২ বগির করে তোলা যায়। প্রকল্পটি শিয়ালদহে সামগ্রিক পরিচালন নমনীয়তা এবং যাত্রীদের সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৪
দেশ

পতঞ্জলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বন্ধ না হলে মোটা টাকা জরিমানা, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

অসুখ সারানোর বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো বিজ্ঞাপনের কারণে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় সুপ্রিম কোর্টে। গত বছর ২১সে নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের বেঞ্চ, অবিলম্বে পতঞ্জলির এই মিথ্যা বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ সংস্থাটি অমান্য করে চলেছে বলে অভিযোগ ওঠে, ফলে এই বিষয় নিয়ে পতঞ্জলির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ সে মার্চ মঙ্গলবার ভুয়ো বিজ্ঞাপন নিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের প্রতিষ্ঠাতা যোগগুরু বাবা রামদেব ও সংস্থার পরিচালক অধিকর্তা আচার্য বালাকৃষ্ণকে তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিমকোর্টে বিচারপতি হিমা কোহলি ও বিচারপতি আসানউদ্দিন অমানুল্লার বেঞ্চে এই মামলাটি ওঠে। এই মামলায় পতঞ্জলি সংস্থার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুকুল রোহিতেগি এবং বিপক্ষে ছিলেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশনের আইনজীবী পি এস পাটোয়ালিয়া। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি হিমা কোহলি জানতে চান, সুপ্রিম কোর্টের নোটিস অবমাননার কারণ। আইনজীবী রোহিতেগি জানান, জবাব দেওয়া হয়নি। প্রতুত্তরে বিচারপতি কোহলি জানান, আমরা এই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আপনারা জবাব দেননি, ফলে নির্দেশ ও পরিণতির বিষয়টি সামনে আসে এরপরই যোগগুরু বাবা রামদেবকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতিরা। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল আসোসিয়েশনের অভিযোগ, পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ অ্যালোপ্যাথি ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পাশাপাশি রোগ নিরাময়েরও ভুল দাবি করে চলেছেন। সেই সব বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে ও সংস্থার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়ার জন্য সুপ্রিমকোর্টের কাছে আবেদন করেছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল আসোসিয়েশন। নভেম্বর মাসে এই মামলার শুনানির সময় বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ও চিকিৎসা ব্যাবস্থার অপপ্রচার চালিয়ে যাওয়ার জন্য পতঞ্জলি সংস্থাকে ভৎসনা করেছিল সুপ্রিমকোর্ট। বিচারপতি আমানুল্লা জানান, ভবিষ্যতে এই প্রচার চালানো হলে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে বলে সতর্ক বার্তা দেন। জরিমানার বিষয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে রামদেব জানিয়েছেন, কিছু চিকিৎসক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তার সংস্থা পতঞ্জলিকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন। শুধু পতঞ্জলিই নয়, আয়ুর্বেদের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এক সাংবাদ মাধ্যমে রামদেব বলেছেন, যদি আমরা মিথ্যাবাদী হই, তবে ১০০০ কোটি টাকা জরিমানা করুন। আমরা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত।

মার্চ ২১, ২০২৪
রাজ্য

অশান্তির সন্দেশখালিতে বাদশা, দেবদূতরা, শুনলেন অত্যাচারিতদের কথা

অশান্তির স্রোত বইছে সন্দেশখালির আনাচ-কানাচে। শাহজাহানদের বাগে না পেয়ে তাদের ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেই ফি দিন চড়াও হচ্ছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। জমি দখল-লুঠতরাজ-শাসানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর চড়া হচ্ছে দিনে-রাতে। সন্দেশখালির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এক রকম পালা করে দ্বীপাঞ্চলে ছুটে যাচ্ছেন ডান-বাম রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে একাধিক ব্যক্তিত্ব। আজ গিয়েছেলিন বাম মনোভাবাপন্ন সাংস্কৃতিক কর্মী, অভিনেতা, চলচ্চিত্র শিল্পীদের কয়েকজন।এবার সন্দেশখালির সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা-অভিযোগের কথা নিজে কানে শুনে এলেন বাদশা মৈত্র, দেবদূত ঘোষ, সৌরভ পালোধীরা। অশান্তি নিয়ন্ত্রণে উত্তর ২৪ পরগনার এই এলাকার দিকে দিকে ১৪৪ ধারা (Section 144) জারি করেছে পুলিশ। আর তাই আইন মেনেই এদিন এই দলটি গিয়েছিল সন্দেশখালিতে। ১৪৪ ধারার নিয়ম মেনে চারজন-চারজন করে ভাগ হয়ে সন্দেশখালির বাড়ি-বাড়ি ঘুরেছেন বাদশারা। শেখ শাহজাহান, সিরাজউদ্দিন, শিবু-উত্তমদের বিরুদ্ধে ভুরি-ভুরি অভিযোগ তাঁদের কাছে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।এদিন বাড়ি-বাড়ি ঘুরে একদিকে যেমন গ্রামবাসীদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনেছেন তাঁরা তেমনই প্ররোচনায় পা না দিয়েই লড়াইয়ে থাকার বার্তা দিতেও দেখা গিয়েছে বাদশা মৈত্র, দেবদূত ঘোষেদের। এদিন সন্দেশখালির একটি বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে এক মহিলার সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে বাদশা মৈত্রকে।ওই মহিলার উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, আপনারা যে লড়াইটা লড়ছেন, রাজ্যের বাকি মানুষদের মতো আমরাও সেই লড়াইয়ে আপনাদের পাশে আছি। রাতারাতি সব কিছুর বদল হবে না। দলমত নির্বিশেষে এই লড়াই। আইন হাতে তুলে নেবেন না। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। সন্দেশখালির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাদশা। সেখানেও তাঁকে বলতে শোনা যায়, সন্দেশখালির মানুষজন আমাদের বলেছেন, যে ওই মানুষগুলো আবারও গ্রামে ফিরে এলে আমরা আর বেঁচে থাকতে পারব না।মঙ্গলবার সাংস্কৃতিক কর্মীদের এই দলটিতে বাদশা মৈত্র, দেবদূত ঘোষ ছাড়াও ছিলেন সৌরভ পালোধী, জয়রাজ ভট্টাচার্য, বিমল চক্রবর্তী, সীমা মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যরা। উল্লেখ্য, সন্দেশখালির একদা বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান এখনও অধরা। প্রায় ২ মাস কেটে গেলেও শাহজাহানের টিকিও খুঁজে পায়নি পুলিশ।এর আগে শাহজাহানকে গ্রেফতারে আদালতের স্থগিতাদেশ বিষয়টি নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছিল। আদালতের জন্যই শাহজাহানকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না বলেও বিবৃতি মেলে কারও কারও তরফে। যদিও গতকালই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতারে কোনও স্থগিতাদেশ নেই বলেই স্পট করে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪
রাজ্য

রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণায় চমক, বাদ পুরনো ৩ সাংসদ

আসন্ন রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করে দিল তৃণমূল। রবিবার তৃণমূলের এক্স হ্যান্ডলে রাজ্যসভার নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। বিদায়ী ৩ সাংসদকে নতুন তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তাঁদের বদলে নতুন মুখকে রাজ্যসভায় নিয়ে যেতে চান তৃণমূল সুপ্রিমো।রাজ্যসভার ভোটে তৃণমূলের নতুন তিন প্রার্থী হলেন প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব, মতুয়া মহাসংঘের সঙ্ঘাতিপতি তথা প্রাক্তন লোকসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর ও সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষ। রাজ্যসভায় আগেই সাংসদ থাকা নাদিমুল হককে এবারও মনোনয়ন দিয়েছে তৃণমূল। পুরনোদের মধ্যে রাজ্যসভার নির্বাচনে দাঁড়ানোর ছাড়পত্র মেলেনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীর। মনোনয়ন পাননি সাংসদ আবীররঞ্জন বিশ্বাস ও শান্তনু সেন।রাজ্যসভায় তৃণমূলের এই প্রার্থী ঘোষণায় যথেষ্ট চমক দেখছে রাজনৈতিক মবহল। একদিকে মমতাবালা ঠাকুরকে রাজ্যসভায় নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে মতুয়া ভোটারদের আরও কাছে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে শাসক শিবিরের।অন্যদিকে, সুস্মিতা দেবের কাজেও যথেষ্ট খুশি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা তৃণমূলে যোগ দেওয়া থেকেই দলের হয়ে ভিনরাজ্যেও নানা কাজ করে চলেছেন। এমনকী রাজ্যসভায় তাঁর ভাষণও ফি দিন চর্চায় থাকে। ফের একবার তাঁকেই রাজ্যসভায় মনোনয় দিয়ে সোজা ব্যাটে খেললেন তৃণমূলনেত্রী। এছাড়াও সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষকেও এবার রাজ্যসভার ভোটে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। প্রখ্যাত সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাইয়ের স্ত্রী সাগরিকা ঘোষ।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪
রাজ্য

কাটোয়ায় 'দেবতার গ্রাস', মৃত পূণ্যার্থী, পরোক্ষে শব্দ দানবের হাত! অসহায় জনপ্রতিনিধি...

শিবের মাথায় জল ঢালার উদ্দশ্যে বেড়িয়ে কাটোয়ায় মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হল এক পূণ্যার্থীর। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরের ঢোকার কিছুটা আগে বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইনের তারে ধাতব ত্রিশুল ঠেকে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক যুবকের। ২৫ শে শ্রাবন বর্ধমান শহরের অধিষ্টার্থী দেবতা বাবা বর্ধমানেশ্বরের (শিব) জলাভিষেক শোভাযাত্রায় অংশ নেন লক্ষাধিক মানুষ। সেই জলাভিষেক শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে বেরিয়ে প্রাণ গেল এই তরতাজা পৃণ্যার্থীর। বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর বারোটা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়া-পাঁচঘড়া বাইপাস রাস্তায়।বিদ্যুৎস্পৃষ্ট পৃণ্যার্থীকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি স্থানীয় কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় মানুষজন ও তাঁর সতীর্থরা। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বছর তেইশের এই তরতাজা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত যুবকের নাম সৌরভ পন্ডিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে জানা যায়, মৃত পূন্যার্থী সৌরভের হাতে একটি ধাতব ত্রিশুল ছিল, উচ্চশ্বব্দ সৃষ্টিকারী ডিজে সাউন্ড সিস্টেমে গানের সাথে নাচতে নাচতে ত্রিশূলটি বিদ্যুতের হাইটেনশন তারের সাথে সংস্পর্ষ হয়ে যায় এবং সাথে সাথে সৌরভ লরি থেকে ছিটকে পড়েন। তিনি পড়ে যাওয়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়ে যান ওই লরিতে থাকা বাকি পৃণ্যার্থীরা।প্রতি বছর বাংলার শ্রাবণ মাসের ২৫ তারিখে বর্ধমান শহরের প্রাচীন দেবতা বর্ধমানেশ্বরের প্রতিষ্ঠা দিবস মহা সমারোহে পালন করা হয়। ওই দিন বর্ধমান শহরের লক্ষাধিক শিবভক্ত লড়ি, টেম্পো, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাইকে চড়ে কাটোয়া শহর থেকে গঙ্গা জল নেওয়ার জন্য যান। পিতল, আলুমিনিয়াম, মাটির ঘড়ায় জল ভরে তাঁরা পদব্রজে বর্ধমান শহরের উদ্দশ্যে যাত্রা করেন। পৃণ্যার্থীরা কাটোয়া থেকে জল নিয়ে সারারাত ধরে দীর্ঘ ৭০ কিমি রাস্তা পায়ে হেঁটে বর্ধমান শহরে পৌঁছে বর্ধমানেশ্বরের মাথায় জল ঢালেন।এবারেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই লক্ষাধিক পৃণ্যার্থী বিভিন্ন গাড়িতে চড়ে কাটোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন জল আনতে। সেই রকমই একটি লরিতে চড়েছিলেন বর্ধমান শহরের মিড্ডেডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সৌরভ পন্ডিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সৌরভ ও তাঁর লড়ির অন্য পৃণ্যার্থীরা কাটোয়ার মড়িঘাট থেকে গঙ্গাজল ঘটে ভরে বর্ধমান শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তাঁরা কাটোয়ার জাজিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড থেকে পায়ে হেটে বর্ধমানের দিকে যাচ্ছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জনতার কথাকে জানান, লরিতে ডিজে সিস্টেমে তারস্বরে গান বাজছিল। সেই গানের তালে তালে মৃত সৌরভ-ও নাচছিলেন। তার হাতে ছিল একটা স্টিলের (ধাতব) ত্রিশুল। লরিটি জাজিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে কাটোয়া পাঁচঘড়া বাইপাসের কাছে পৌঁছাতেই এক বিকট আওয়াজ হয়। সম্বিৎ ফিরে আসতেই যানা যায়, রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইনের তারের সাথে সৌরভের ত্রিশুলের সংস্পর্শে সৌরভকে গাড়ি থেকে ছিটকে ফেলে দেয়। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন সৌরভ। তার মৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে গোটা পরিবার।উল্লেখ্য, ঠিক এক বছর আগে, কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ থানার অন্তর্গত চ্যাংড়াবান্ধার ধরলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় ডিজের বিদ্যুতে সর্টসার্কিটে বাবা জল্পেশ মন্দিরে জল দিতে যাওয়া ১০ জন পূন্যার্থীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর, সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই উচ্চগ্রামে শব্দ-দানবের ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্থান হয়। সেই ঘটনার পর থেকে কোচবিহার জেলা প্রশাসন জল্পেশ মন্দিরে জল ঢালতে আসা পুর্নার্থীদের ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ করে।বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বর্ধমান শহরের সুস্থ, রুচিশীল ও সমাজ সচেতন মানুষ জন এই শব্দদানবের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। শহর সংলগ্ন দেওয়ানদিঘী থেকে রেল ওভারব্রিজের রাস্তার পাশে যাঁদের বাস তাঁদের অনেকেই এই মহাজাগতিক শব্দের আতঙ্কে বাস্তবিক ঘরছাড়া। তাঁদের কেউ কেউ শহরের দূরবর্তী কোনও জায়গায় দুদিনের জন্য ঠাঁই নিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন তাঁরা কোনও ধর্মাচরণের বিরুদ্ধে নন, কিন্তু ধর্মের নামে যে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে তাঁর তীব্র প্রতিবাদ করছেন। তাঁরা প্রশাসনের উদাসীনতা দেখে তাজ্জব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানালেন, যে অঞ্চল দিয়ে পূন্যার্থীরা এই বিকট শব্দ সৃষ্টিকারি শোভাযাত্রা নিয়ে যাবেন, তাঁর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা থাকেন। যদিও এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখে চূপ থাকেননি ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল আলম (সাহেব)। তিনি তাঁর সামাজিক মাধ্যমের দেওয়ালে লেখেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে ডিজে সাউন্ড দানবের কাছে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অসহায় বোধ করছি.. চাইলেও কিছু করা যাচ্ছে না এখানেই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এক জন প্রতিনিধি যদি কোট আনকোট অসহায় বোধ করেন, তখন সাধরণ মানুষের কি অবস্থা হয়? নুরুলের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন, এখন দেখার সেই ঝড়ের দাপটে কি আদৌ শব্দ দানবের অপমৃত্যু হবে? ......

আগস্ট ১১, ২০২৩
শিক্ষা

মাধ্যমিকে প্রথম কাটোয়ার দেবদত্তা ও দ্বিতীয় বর্ধমানের শুভমের সাফল্যের পিছনে কারণ কি?

এবার মাধ্য়মিক পরীক্ষায় জয়জয়কার বর্ধমান জেলার। বিশেষত কাটোয়া ও বর্ধমান শহরের নাম জ্বল জ্বল করছে। সারা রাজ্যে মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে দেবদত্তা মাঝি। ৬৯৭ নম্বর পেয়ে প্রথম কাটোয়ার দুর্গাদাসী চৌধুরানী হাইস্কুলের ছাত্রী। মাধ্য়মিকে প্রথম স্থানাধিকারী ছাত্রীর উচ্ছ্বসে ভেসে গিয়েছেন। দেবদত্তা জানিয়েছে, এই ফল উৎসর্গ করেছে মাকে। এই সাফল্য এসেছে স্কুলের ও গৃহশিক্ষদের জন্য। ফলপ্রকাশের পর থেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছেন পাড়া প্রতিবেশি থেকে আত্মীয়স্বজনেরা। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে চান তিনি।দেবদত্তা মাঝি প্রাইভেট টিউশন যেমন পড়ত, তেমনই বাড়িতেও নিজের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখত। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়ত এবারের মাধ্যমিকের একমাত্র প্রথম স্থানাধিকারী। সাদামাটা পরিবারে বড় হয়েছে দেবদত্তা। সেলফ-স্টাডি করতেই বেশি পছন্দ করে।এদিকে বর্ধমান শহরের শুভম পাল মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫। এবারে তাঁর রেজাল্ট আকাশছোঁয়া, খবর পেতেই বাড়িতে উৎসবের আমেজ। যেন নিজেই বিশ্বাস করতে পারছেন না শুভম। শহরের ঐতিহ্য়বাহী বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলের ছাত্র শুভম। শুভমের কথায়, ভীষণ ভাল লাগছে। এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। তবে এতটা ভাল ফল হবে আশা করতে পারিনি।প্রত্যেকটা বিষয়ে একজন করে প্রাইভেট টিউটর ছিল শুভমের। মা বাংলার শিক্ষিকা। মায়ের কাছেই বাংলা পড়তাম। শুভম বলেন, মা সব থেকে সাহায্য করেছেন। স্কুলের শিক্ষকরাও পাশে ছিল। সে জানিয়েছে, সারাদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করতাম না। যখন ইচ্ছে হত তখনই পড়তাম। বাঁধাধরা ছিল না কিছুই। পাঠ্য বই ভাল করে পড়তে হবে। প্রতিটা লাইন খুঁটিয়ে পড়েই সাফল্য এসেছে। শুভমের পড়াশোনা ছাড়া গান, আবৃত্তিতে বেশ ঝোঁক রয়েছে।

মে ১৯, ২০২৩
রাজ্য

তীব্র দাবদহ থেকে মুক্তি পেতে মালদার মানুষ ইন্দ্রদেবের শরণাপন্ন

তীব্র দাবদহে ছারখার বঙ্গভূমি। অবশেষে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ থেকে মুক্তি পেতে দেবরাজ ইন্দ্র দেবের শরণাপন্ন হলেন মালদার মানিকচকের ধনরাজ গ্রামের বাসিন্দারা। একটু বর্ষার আশায় ধুমধাম করে ইন্দ্রদেবের পুজো দেন গ্রামবাসীরা। এই পুজোকে কেন্দ্র মেলারও আয়োজন করা হয়। যজ্ঞও করা হয়। ইন্দ্রদেবের কাছে বৃষ্টির কামনা করেন ভক্তরা। পুজোতে হাজির ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা।একটা সময় মৎস্যজীবী এবং কৃষক সম্প্রদায় ধনরাজ গ্রামে মূর্তি তুলে ইন্দ্র দেবের পুজোর সূচনা করেছিলেন। তীব্র গরমেও নদী যাতে কখনোই শুকিয়ে না যায় যাতে জমিতে জলের অভাব না থাকে। মূলত এই কারণেই এখানে ইন্দ্রদেবের পুজো শুরু হয়। সেই নিয়ম মেনে আজও মানিকচকের ধনরাজ গ্রামে পুজিত হন ইন্দ্রদেব। গরমের জন্য় সারা রাজ্যের সঙ্গে মালদার মানুষের অবস্থাও দফারফা। নাজেহাল অবস্থা জেলাবাসীর। ধনরাজ গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই ধুমধাম করে আমরা পুজো দিয়ে থাকি। কিন্তু এবারের পুজোর গুরুত্ব যেন আরও বেশি। এপ্রিল থেকেই কোনও বৃষ্টি নেই, সকলেই চাইছি এই দাবদহ থেকে রেহাই পেতে। দয়া করে বৃষ্টির ব্যবস্থা করুক ইন্দ্রদেব, এটাই আমাদের একান্ত প্রার্থনা।

এপ্রিল ১৮, ২০২৩
রাজ্য

'পাঠান' শাহরুখ প্রচন্ড ব্যস্ত, সাংসদ অভিনেতা দেবকে বড় দায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা দেবকে পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়ার প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেব ঘাড় নেড়ে সেই প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান। রাজ্যের পর্যটন দফতরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসাবে কাজ করবেন টলি অভিনেতা।বুধবার নবান্ন সভাগৃহে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোমোশনের বৈঠক চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেবও। হঠাৎই মুখ্যমন্ত্রী দেবকে বলেন, তুমি বাংলার অ্যাম্বাসাডর হও। দেব মাথা নাড়ে। প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান থাকছে না। বিষয়টি স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, তা নয়। শাহরুখ ব্যস্ত। তাই পর্যটনের ব্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হচ্ছে দেব। এ ব্যাপারে বিজ্ঞাপন তৈরির জন্য গৌতম ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী দেবকে বলেন, তুমি আরও দু তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নাও।

মার্চ ১৫, ২০২৩
রাজ্য

'সিনেমার জন্য দেব হয়েছি, রাজনীতির জন্য নয়,' মিঠুনদার সঙ্গে ফের সিনেমা করবঃ সাংসদ অভিনেতা

নন্দনে জায়গা হয়নি মিঠুন ও দেব অভিনীত সিনেমা প্রজাপতি। তা নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। মিঠুন বিজেপি নেতা ও দেব তথা দীপক অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের সাসংদ। বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, মিঠুন চক্রবর্তী বিজেপি করেন বলেই নন্দনে জায়গা পায়নি প্রজাপতি। এদিকে এদিন এক সংবাদ মাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেব। এই প্রসঙ্গে দেব বলেছেন, আমার কাছে সিনেমা আগে। রাজনীতির জন্য নয়, আমি সিনেমার জন্য দেব হয়েছি। প্রয়োজনে হলে আবার মিঠুনকে নিয়ে সিনেমা করব।এদিন ছিল দেবের জন্ম দিন। টলিউডের অভিনেতা বলেন, প্রজাপতি মানুষ শুধু দেখছে না অন্যদের দেখতে বলছে। নন্দনে শো পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আমার কোনও দুঃখ নেই। তবে কম পয়সায় নন্দনে সিনেমা দেখতে পারতেন মানুষজন। মিঠুন আছেন বলে নন্দনে স্থান পায়নি প্রজাপতি। এই প্রসঙ্গে দেব বলেন, এরপরেও যদি স্ক্রিপ্ট আসে তাহলে ফের তাঁকে নিয়ে সিনেমা করব। আমি কোনও দিন সিনেমার মধ্যে রাজনীতি করিনি, রাজনীতিতে সিনেমা আনিনি। সিনেমা করতে গিয়ে রাজনীতির ক্ষমতা দেখায়নি। আমি ব্যালেন্স করেছি। ছবি ও সিনেমা আমার প্রথম থেকে ভাললাগা, ভালবাসা। সিনেমার জন্য আজ দেব হয়েছি। রাজনীতির জন্য নয়।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রীদেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট উত্তোলন মধ্যে দিয়ে রাঢ়বঙ্গে পুজো শুরু

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রীদেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরের ঘট উত্তোলন মাধ্যমেই মহালয়ার পরদিন থেকে শারদ উৎসবের সূচনা হয়ে গেল রাঢ়বঙ্গে। দুবছর কোভিড বিধির সরকারী নির্দেশিকা মেনেই পুজোর আয়োজন করতে হয়ছিল। এবছর সেরকম কোনও করোনা বিধি নেই। সোমবার কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী থেকে ঘট উত্তোলন করে শোভাযাত্রা ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট প্রতিস্থাপন করা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার ঘট আনার প্রাচীন প্রথা রয়েছে। কথিত আছে বর্ধমানের বাহিরসর্ব্বমঙ্গলা অঞ্চলে জেলেদের জালে একটি অদ্ভূত দর্শন পাথর উঠে আসে। কিছুটা শিলার মত দেখতে ওই পাথর দিয়েই তখনকার দিনে গুগলি, শামুক থেঁতো করতেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই শিলা যে আদতে দেবী মূর্তি, তা পরে বুঝতে পারেন এলাকার এক পুরোহিত। কাহিনী অনুসারে আরও জানা যায় সেই সময় দামোদর নদ লাগোয়া চুন তৈরির কারখানার জন্য শামুকের খোল নেওয়ার সময় শিলামূর্তিটি চলে যায় চুন ভাটায়। তখন শামুকের খোলের সঙ্গে শিলামূর্তিটি পোড়ানো হলেও মূর্তির কোনো ক্ষতি হয়নি।সেই রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পাওয়া মাত্রই বর্ধমানের মহারাজা শিলামূর্তিটিকে নিয়ে গিয়ে সর্বমঙ্গলার পুজো শুরু করেন।দেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট স্থাপনঐতিহাসিক মতে বর্ধমানের মহারাজা শ্রী কীর্তিচাঁদ, ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে সর্বমঙ্গলা মন্দিরটি নির্মাণ করেন। কিন্তু এই মন্দিরে থাকা মাতা সর্ব্বমঙ্গলার মূর্তিটি মন্দিরের থেকেও বেশি প্রাচীন। অনেকের মতে মূর্তিটি ১০০০ বছর পুরোনো, আবার কারো মতে ২০০০ বছরের পুরনো। এই মূর্তিটি হল কষ্টিপাথরের অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী। যা দৈর্ঘ্যে বারো ইঞ্চি, প্রস্থে আট ইঞ্চি। মন্দিরে রুপোর সিংহাসনে দেবী আসীন থাকেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পরে, বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজা উদয় চাঁদ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন। সেই বোর্ডের হাতে এই প্রাচীন মন্দিরটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তার পর থেকে এখনো পর্যন্ত সেই ট্রাস্টি বোর্ডই এই মন্দিরের দেখাশোনা করে আসছে।মায়ের মন্দির থেকে ঢাক, ক্লাব ব্যান্ড ও ব্যান্ড সহযোগে ঘোড়ার গাড়ি করে বিসি রোড হয়ে রাজবাড়ি সামনে দিয়ে শোভাযাত্রা পৌঁছায় কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী ঘাটে। সেখানে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার ঘট উত্তোলনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক ও ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রিয়াঙ্কা সিংলা, স্থানীয় বিধায়ক খোকন দাস, ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ, প্রাক্তন সম্পাদক বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডঃ শ্যামলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ সকল কাউন্সিলার। অগনিত ভক্ত সমাগমে ঘট ভরা সম্পন্ন হয়।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

কোহলিকে ভারতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুললেন বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক!

জাতীয় দল থেকে বিরাট কোহলিকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠল! আর সেই দাবি কিনা তুললেন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিলদেব! হ্যাঁ, এটাই সত্যি। বিরাট কোহলিকে ভারতীয় টি২০ দল থেকে ছেঁটে ফেলা উচিত বলে মন্তব্য করে বোমা ফাটালেন কপিল দেব। তাঁর বক্তব্য, রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হলে, সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে কোহলিকে কেন টি২০ দল থেকে বাদ দেওয়া হবে না?দীর্ঘদিন ব্যাটে বড় রান নেই বিরাট কোহলির। তাসত্বেও অতীত ভাঙিয়ে তিনি খেলে চলেছেন। যতই হোক বিরাট কোহলি বলে কথা। নামের পাশে অজস্র রেকর্ড। তাঁর মতো ক্রিকেটারকে কি সহজে দল থেকে ছেঁটে ফেলা যায়? ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাকি দুটি টি২০ ম্যাচে রান না পেলে কোহলির দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যাবে। যেমন প্রশ্ন তুলেছেন কপিলদেব।কোহলির দলে থাকা নিয়ে কপিল বলেন, কোহলিকে ডাগ আউটে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বের দুই নম্বর স্পিনার যদি বিদেশে টেস্ট খেলার সুযোগ না পায়, তাহলে ফর্ম হারানো কোহলিকেও দিনের পর দিন খেলিয়ে যাওয়ার কোনও যুক্তি। কখনও ক্লান্তি, কখনও আবার ফর্ম ফিরে পাওয়ার আছিলায় বিশ্রাম নিচ্ছেন কোহলি। তাঁর পরিবর্তে যাঁরা সুযোগ পাচ্ছেন, নিজেদের মেলে ধরছেন। সেই বিষয়টা উল্লেখ করে কপিল বলেন, কোহলি প্রত্যাশা অনুসারে পারফরম্যান্স করতে পারছে না। মারকাটারি ব্যাটিংয়ের জন্যই তো ও সুনাম অর্জন করেছিল, কিন্তু এখন ও নিজের যোগ্যতা অনুসারে খেলতে পারছে না। তাই ওকে বাদ দিয়ে তরুণদের সুযোগ দেওয়া উচিত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবে ভারত। শোনা যাচ্ছে টি২০ সিরিজ থেকে বিশ্রাম নিতে পারেন কোহলি।

জুলাই ০৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

মিলার হয়ে উঠলেন ‘‌কিলার’, রাজস্থানকে উড়িয়ে ফাইনালে গুজরাট টাইটান্স

জস বাটলারের দুরন্ত ইনিংস ম্লান হয়ে গেল ডেভিড মিলারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে। তাঁর দাপটেই প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে অভিষেক আইপিএলেই ফাইনালে পৌঁছে গেল গুজরাট টাইটান্স। ৩ বল বাকি থাকতে ১৯১/৩ তুলে ম্যাচ জিতে নেয়। ট্র্যাজিক হিরো হয়েই থেকে গেলেন বাটলার।বাটলারের দাপটে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান তুলে গুজরাট টাইটান্সের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল সঞ্জু স্যামসনের দল। বড় রান তাড়া করতে গেলে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি। সেটাই হয়নি গুজরাট টাইটান্সের। আগের বেশ কয়েকটা ম্যাচে ওপেনিং জুটিতে বড় রান তুলে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা ও শুভমান গিল। ঘরের মাঠে এদিন প্রত্যাশার চাপ পূরণ করতে পারেননি ঋদ্ধি। ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তিনি উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। নিজের আঁতুর ঘরে খালি হাতেই ফিরতে হল ঋদ্ধিকে। বল হাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মহম্মদ সামি। ৪ ওভারে দিয়েছিলেন ৪৩। মাত্র ১ উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যাট হাতে আরও এক ঘরের ক্রিকেটার হতাশ করেন।বোর্ডে কোনও রান ওঠার আগেই ঋদ্ধি আউট। মনে হচ্ছিল ট্রেন্ট বোল্টদের সামনে ভেঙে পড়বে গুজরাট টাইটান্স। তা কিন্তু হয়নি। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে রাজস্থান বোলারদের ছন্দ নষ্ট করে দেন শুভমান গিল ও ম্যাথু ওয়েড। ৭ ওভারেই পৌঁছে যায় ৬৮ রানে। ওয়েডের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে শুভমান আউট। ২১ বলে ৩৫ রান করেন শুভমান। এরপরই ছন্দপতন। দশম ওভারের তৃতীয় বলে ওয়েডকে তুলে নেন ওবেদ ম্যাকক। ৩০ বলে ৩৫ রান করেন ওয়েড।ওয়েড আউট হওয়ার পর গুজরাটের হাল ধরেন ডেভিড মিলার ও হার্দিক পান্ডিয়া। এই দুজনই দলকে টেনে নিয়ে যান। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৬ রান দরকার ছিল গুজরাট টাইটান্সের। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার প্রথম তিন বলে তিনটি ৬ মেরে দলকে ফাইনালে তোলেন মিলার। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৭ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন হার্দিক পান্ডিয়া।প্রথমে ব্যাট করতে নেমে এদিন শুরুটা ভাল হয়নি রাজস্থান রয়্যালসেরও। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায়। যশ দয়ালের আউট হন যশস্বী জয়সওয়াল (৩)। এরপর ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন সঞ্জু স্যামসন। জস বাটলার এদিন শুরু থেকেই ছিলেন সতর্ক। শুরুর দিকে খুব বেশি আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেননি। ৪২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তারপরই ঝড় তোলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৬ বলে ৮৯ রান করে রান আউট হন। ২৬ বলে ৪৭ রান করেন সঞ্জু স্যামসন। এই দুজনের দাপটেই গুটরাজ টাইটান্সের সামনে বড় রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। ২০ বলে ২৮ রান করেন দেবদত্ত পাড়িক্কল।

মে ২৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

দাদাগিরির মঞ্চে শ্রীদেবীর কন্যা, পা মেলালেন দাদার সঙ্গে

জি বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো দাদাগিরি। বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির সঞ্চালনা অনুষ্ঠানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। দাদাগিরি-র মঞ্চে তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই বাংলার মহারাজের সামনে নিজের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ পান।সম্প্রতি জি বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে দাদাগিরি-র আগামী পর্বের নতুন প্রোমো শেয়ার করা হয়েছে। আগামী ১৫ মে দাদাগিরির মঞ্চে হাজির হবেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। দাদাগিরির এই বিশেষ পর্বে সবুজ শাড়ি পরে শ্রীদেবী কন্যা। দাদার সঙ্গে জাহ্নবীকে তার প্রথম ছবি ধড়ক এর গানে পা মেলাতে দেখা যাবে।প্রমোতে দেখা যাচ্ছে, সৌরভ গাঙ্গুলি মনে করিয়ে দিচ্ছেন এই মঞ্চে একসময় এসেছিলেন জাহ্নবীর বাবা তথা প্রযোজক বনি কাপুর। তার প্রয়াত মা তথা বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীদেবীও একসময় এই মঞ্চে এসেছিলেন। এবার মেয়ে এসে পুরো চক্রটা পরিপূর্ণ করলেন। জাহ্নবী কাপুর কি একটুও বাংলা বলতে পারেন? উত্তরে শ্রীদেবীর কন্যা জানিয়েছেন দাদার, আমি শুধুমাত্র একটা লাইন বলতে পারি, তা হলো তাড়াতাড়ি করো। সঙ্গে সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলি হাসি হাসি মুখে বলে ওঠেন, এই লাইনটাই সবাই বলতে পারে।

মে ১১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মিনার্ভা থিয়েটারে 'দেবীগর্জন' গর্জে উঠল

বিজন ভট্টাচার্যর কাছে নাটক শুধু একটা পারফরম্যান্স ছিল না। শিল্প বলতে তাঁর কাছে ছিল সমাজ বদলের হাতিয়ার। থিয়েটারকে বুঝতেন গণের নাটক। যা কেবল সাধারণ মানুষের ভাল-মন্দ-দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কথা বলবে না। নাটকের মধ্য দিয়ে মানুষও হয়ে উঠবেন সেই গল্পের এক একজন অংশ। দেবীগর্জন- বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি অন্যতম নাটক। বীরভূমের সাঁওতাল কৃষকদের আন্দোলন অর্থাৎ দেবীগর্জন নাটক, উৎসর্গ করা হয়েছে কৃষক আন্দোলনের শহীদদের উদ্দেশ্যে, উনিশ বিশ শতক জুড়ে নীল- তেভাগা সহ সমস্ত কৃষক যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। এছাড়া দেবীগর্জন নাটকে দুটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে হয়। বিজন ভট্টাচার্য জানান যে আদিবাসী সাঁওতালরা তাদের আরাধ্য হিসাবে কালী কে আরাধনা করেন, সেই মাতৃ শক্তির আবির্ভাবের কথা খেয়াল রেখেই নাটকে দেবীগর্জন নাম এবং প্রসঙ্গ এসেছে। কৃষক আন্দোলন নাটকে প্রেক্ষাপট হলেও দুটি প্রসঙ্গ নাটকে প্রধান- ধর্মগোলা ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। নির্যাতিত নিপীড়িত সাঁওতাল আদিবাসী কৃষকদের জোতদারদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে এই দেবীগর্জন নাটকের মধ্য দিয়ে। জমিদার প্রথার বিলোপ হলেও মধ্যস্বত্বভোগী প্রভঞ্জন সামন্ততান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পঞ্চায়েতি প্রথাকে পিছনে রেখে কৃষকদের জমি নিজের দখলে করে নেন। এদিকে কৃষি ঋণ ও সুদ জোগাতে হত দরিদ্র আদিবাসী কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়। অবশেষে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তারা, নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়। তিন অঙ্কের এগারোটি গর্ভাঙ্কে দেবীগর্জন হয়ে উঠেছে স্বার্থক গণনাট্য। এখানে আমি রাজা আমারই নীতি ইটাই রাজনীতি প্রভঞ্জনের এই কথায় যেমন সমকালীন জোতদারের মুখোশ খুলে যায়, ধর্মগোলার মজুত ধানের বিতরণের দাবিতে চাষিদের সঙ্গে জোতদারের বিরোধ বাধে, তখন মংলার চেতনায় প্রশ্ন জাগে- কে রাজা, কার রাইজ্য ? এটাই গণনাট্যের মূল। নাটকের শেষে মংলার নেতৃত্বে জোটবদ্ধ ভুঁই চাষির দল পঞ্চায়েতি শাসন চালুর দাবি জানায়। সেই দাবির গর্জনই আসলে দেবীগর্জন। কলকাতার মিনার্ভা থিয়েটারে নাট্যিক কোলকাতার এই দেবীগর্জন নাটকটি মঞ্চস্থ হল। নাটকটিতে সকলের পারফরম্যান্স দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। প্রতাপ কুমার মণ্ডল নাট্যিক কোলকাতা দলের কর্ণধার ও নির্দেশক। তিনি জানিয়েছেন, বিজন ভট্টাচার্য মহশয়ের নাট্য চিন্তা ভাবনা ও দর্শন এর জায়গা থেকে আমরা গত ছয় মাস ধরে এই নাটকের মহড়া দিচ্ছি, চেষ্টা করছি লেখকের মূল ভাবনা কে তুলে ধরার; প্রথম অভিনয়ের মঞ্চায়নের ভুলভ্রান্তি সব শুধরে আমরা শিঘ্রই মঞ্চে ফিরছি; এবং দেবীগর্জন নাটক বাংলা থিয়েটারে যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে, সেটা আমাদের বিশ্বাস। এই নাটকে সৃজিতা বান্টি ভদ্র নাটকের মূল কেন্দ্রে রত্না চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাংলা থিয়েটারের প্রথম সারির অভিনেত্রী একজন সৃজিতা। তাঁর প্রথম নির্দেশনা দেবীগর্জন নাটকটি, তিনি যে মুন্সিয়ানার সঙ্গে অত্যন্ত নিপুণ ভাবে এই নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন, তা যথেষ্ট প্রশংসার দাবী রাখে। এই নাটকে সৃজিতাঁর অভিনয় সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।এই নাটকে তিনি যুব সাউতাল মংলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল শম্ভু। শম্পা দে এই নাটকে গীরি চরিত্রে যথেষ্ট প্রভাবশালী অভিনয় দেখিয়েছেন। শঙ্খ বরণ দাস ত্রিভুবনের চরিত্রে তিনি অসম্ভব দক্ষতার সঙ্গে চরিত্রের রূপ দিয়েছেন। সন্তু সাধু খাঁ নাটকের মূল নেগেটিভ চরিত্র প্রভঞ্জন যার জন্যই এই দেবীগর্জন, তিনি সকল সহশিল্পীদের সঙ্গে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন।

মে ০৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সোশ্যাল মিডিয়ায় কি এমন লিখলেন দেব? নেটিজেনদের মন কাড়ল

২৯ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স এর প্রযোজনায় পরিচালক রাহুল মুখার্জির ছবি কিশমিশ। কিশমিশ এর মাধ্যমে বেশ কয়েক বছর পর ফিরে এলো রোম্যান্টিক দেব। ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলাদাই উন্মাদনা রয়েছে।কিশমিশ দেখে সকলেই ভালো ফিডব্যাক দিচ্ছেন। এর মধ্যেই দেব সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা আনন্দের কথা শেয়ার করে নিলেন। যা সুপারস্টারের অগুণিত ভক্তদের মুগ্ধ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেব একটা ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, আজ পর্যন্ত আমার ৩৯ বছরের এই জীবনে আমার বাবা আমাকে একটি চিঠিও লেখেনি, প্রতিটা সিনেমার মতো আজকেও আমার বাবা এবং আমার পরিবার এসেছিলো Kishmish সিনেমাটি দেখতে, সিনেমা শেষ হওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে বাবার কাছে জানতে পারিনি কেমন লেগেছে সিনেমাটা, সব শেষে যখন বাড়ি ফিরলাম তখন দেখলাম দরজার বাইরে বাবা লিখেছে Kishmish Super duper Hetes। আজকে যেন মনে হলো বাবাকে জীবনে প্রথমবার গর্ববোধ করাতে পারলাম, #Kishmish আপনাদের কতটা ভাল লাগবে তা আমার জানা নেই, কিন্তু আজকের দিনের এই অনুভূতিটা আমার কাছে কিশমিশের মত মিষ্টি হয়ে থাকবে সারা জীবন। সিনেমার ভাষায় আজ যেনো অস্কার পেলাম।তাঁর এই পোস্ট সবাইকে মুগ্ধ করে দিয়েছে। আরও অনেকের কাছে কিশমিশ এর মতো মিষ্টি হয়ে গেছেন টলি সুপারস্টার।

মে ০১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

'কিশমিশ' এর প্রমোশনে ডায়মন্ড প্লাজায় উন্মাদনা

আগামী ২৯ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স প্রযোজিত, পরিচালক রাহুল মুখার্জির ছবি কিশমিশ। দেবকে এই ছবিতে কৃশানু ওরফে টিনটিনের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে। এই ছবিতে রুক্মিণীর চরিত্রের নাম রোহিনী।মুক্তির আগে ছবির প্রমোশন নিয়ে ব্যস্ত টিম কিশমিশ। সেরকমই নতুন বছরে নাগের বাজারের ডায়মন্ড প্লাজাতে উপস্থিত হয়েছিল টিম কিশমিশ। ডায়মন্ড প্লাজাতে কিশমিশ এর প্রমোশনে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এদিন কিশমিশ এর জনপ্রিয় গান অবশেষে ভালোবেসে চলে যাবো গাইলেন গানের গীতিকার ও সুরকার নিলায়ন চ্যাটার্জি। দর্শকরাও তার গানের সঙ্গে তাল মেলালেন। এদিকে দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কিশমিশ এর নতুন গান কান্না মুক্তি পাবে আগামীকাল সকাল ১০টায়। গানটি গেয়েছেন পাপন।

এপ্রিল ১৭, ২০২২
বিনোদুনিয়া

পরিচালকের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ালেন দেব, কিন্তু কেন?

হইচই আনলিমিটেড ছবির প্রচারে ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন দেব। তবে পুরোটাই ছিল ছবির প্রচারের একটা অংশ। এবার কিশমিশের প্রচারটাও দেব করলেন এই একই স্টাইলে।মালদ্বীপে বান্ধবীর মায়ের জন্মদিন সেলিব্রেট করতে যান দেব। সেখান থেকে ফিরেই নিজের টিমের ওপর ক্ষিপ্ত হলেন। কেন এখনো ট্রেলার প্রকাশ্যে আসেনি সেই নিয়েই চলল ঝামেলা। সরাসরি পরিচালকের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ালেনও তিনি।কয়েক দিন আগে পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সমুদ্রের ধার থেকে একের পর এক ছবি শেয়ার করেছেন। কখনো দেখা গেছে মাছ ধরছেন তো কখনো সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত। রুক্সিণী মৈত্রের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে কলকাতায় ফিরেই হলো মাথা গরম!ল্যাদেস্বর টিনটিনের সাথে থাকতে থাকতে টিম @DEVPvt_Ltd ও @RahoolOfficial - এর ল্যাদ লেগে গেছে।যাই হোক কিশমিশ এর Trailer আসছে আগামী ২১শে মার্চ ঠিক রাত ৮ টায়।29 শে এপ্রিল কিশমিশ আসছে এবার তো কাজ কর তোরা।#Kishmish #TrailerOn21stMarch pic.twitter.com/BlBwqTHiQD Dev (@idevadhikari) March 17, 2022নিজের প্রযোজনা সংস্থার অফিসে হাজির হন দেব। আর সেখানে গিয়ে তো তার চক্ষুস্থির। কেউ ঝিমোচ্ছে, কেউ অফিসেই নেই। সবাইকে একে একে ডেকে জিজ্ঞেস করেন কবে মুক্তি পাবে তাঁর আগামী ছবি কিশমিশের ট্রেলার, কেন এখনো রেডি হয়নি ট্রেলার? কারণ ইতোমধ্যেই যে ছবি মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়ে গেছে। দেবের রাগের মুখে পড়ে থতমত খেয়ে যান ছবির পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ও। দেব তাঁর ওপর অভিযোগ আনেন, অন্য ছবি পেয়ে যাওয়াতেই সে এ রকম করছে।Mood 😎 pic.twitter.com/oHuz7lIRee Dev (@idevadhikari) March 18, 2022আসলে পুরোটাই করা সিনেমায় প্রচারের জন্য। দেবের এই চিৎকারের মাঝেই শান্ত করতে দৃশ্যে এন্ট্রি নিল কিশমিশের টিনটিন অর্থাৎ বড় পর্দার দেব। দেব এসে জানিয়ে দেন যে আগামী ২১ মার্চ সোমবার রাত ৮টায় প্রকাশ হবে কিশমিশের ট্রেলার।দেবের কথা অনুযায়ী, ল্যাদেস্বর টিনটিনের সঙ্গে থাকতে থাকতে দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারসের গোটা টিম ও রাহুল মুখোপাধ্যায়ের ল্যাদ লেগে গিয়েছে।

মার্চ ১৮, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সমুদ্র সৈকতে 'এমনি' মৎস্য শিকারে ব্যস্ত সাংসদ অভিনেতা

দেব মানেই টলিউডের সেনশেসন। তাঁর হাঁটা-চলা এক্সপ্রেশন ফলো করেন কিশোর থেকে যুবারা। কিশোরী থেকে পড়ন্ত যৌবনা তাঁর প্রেমে মসগুল। তাদের অনেকেরই হার্টথ্রব হলেন দেব। এই মুহুর্তে টলিউডের সবচেয়ে আলোচিত অবিবাহিত যুবক। দীর্ঘ অভিনয়ের জীবনে এরকম অনেক প্রেমের প্রস্তাব এসেছে। তাঁর প্রেম ও জীবনসঙ্গী নিয়ে গসিপের শেষ নেই সে মিমি থেকে শুরু করে নবাগতা রক্মনী... মাঝে নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। সেই দেব কে এবার একটু অন্য ভাবে পাওয়া গেল। কর্ম ব্যস্ত জীবনের বাইরে বিদেশে ফ্রি টাইম কাটাচ্ছেন তিনি।🎣 pic.twitter.com/O5m9m6szL4 Dev (@idevadhikari) March 8, 2022সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটো ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে দেব মাছ ধরছেন। আর একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে মাছ ধরার পর হাসিমুখে সেই মাছ নিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি। আর এই হাসিমুখের ছবি অনেক মহিলার মন জিতে নিয়েছে। কমেন্ট বস্কে একাধিক কমেন্ট ও এসেছে।একজন ফ্যান লিখেছেন, এই হাসিটা দেখার পর আর কিছুর প্রয়োজন হয় না। আবার একজনের কমেন্ট, টাকা দিয়েও এই হাসি কেনা যাবে না। একজনের আবার ছবিটা এতটাই ভালো লেগেছে যে তিনি লিখেছেন, যদি দাঁত দেখে ক্রাশ খাওয়ার কোনও প্রতিযোগিতা হয় তাহলে আমিই জয়ী হব। কেউ আবার লিখেছেন মাছটা তাঁর মতোই সুন্দর।আবার অনেক বক্রোক্তি -ও এসেছে, অনেকেই বলেছেন এই ছবিটা কারসাজি করা, পিছনের ভদ্রলোকটি কি করে জলের ওপর দাঁড়িয়ে?, কেউ কেউ আবার মাছটিকে গ্রামবাংলার অতি সাধারণ একটি মাছ তেলাপিয়া র সাথেও তুলনা করে লিখেছেন, তেলাপিয়া ধরতে এত দূর যাবার কি দরকার। ছবিটি যে ভাইরাল হয়েছে তা নিয়ে কারোর সন্দেহ নেই। সামাজিক মাধ্যমে দেব জানিয়েছেন মাছটি ধরে তিনি জলেই ছেড়ে দিয়েছেন। এর থেকে তাঁর নম্র মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। সামজিক মাধ্যমে তাঁর ফলোয়াররা একটা জিনিস নিয়ে খুবই কৌতূহলী, সেটা হল তাঁর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ক্যাপসান এমনি। অনেকটা সেই বিখ্যাত বিজ্ঞাপন আমি তো এমনি এমনি খায়......।আসলে দেব তো তাই। রাজনীতি ও তাঁর কেরিয়ার কে কোনও ভাবেই তিনি মেলাতে দেননি। কঠিন সময়ের মধ্যে একদিকে তাঁর ছবি টনিক যেমন লটারি জিতে নেয়, তাঁর ছবি হাউসফুল থাকে বেশ কয়েক সপ্তাহ তেমনই প্রফেশনের বাইরে মানুষ দেব পুরো আলাদা।সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট করা ছবিগুলোও ব্যতিক্রমী। এবারও মাছ ধরতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে সকলের মন জিতে নিলেন।

মার্চ ০৯, ২০২২
রাজ্য

শিবের মাহাত্মের কথা শুনে শিব মন্দিরে গিয়ে পুজো সারলেন খান সাহেব

পুরোহিত ভাতা পাওয়া ব্রাক্ষ্মণদের সঙ্গে বৈঠক কারার সময়ে খান সাহেব জেনেছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবের মাহাত্ম্যের কথা। পুজারী ব্রাহ্মণদের কাছে তিনি এও জেনেছিলেন মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব শিবের মহারাত্রি। তার পরেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ঠিক করে নেন এই বছরের শিবরাত্রির দিনে তিনি দেবাদিদেব শিবের মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন। সেই মত মঙ্গলবার সাত সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে তিনি সোজা চলে যান জামালপুর ব্লকের জৌগ্রামে থাকা সুপ্রাচীন জলেশ্বর শিব মন্দিরে।মন্দিরের পুজারি ব্রাহ্মণের করা মন্ত্রোচ্চারণ শুনে নিজের মুখে তা বলে খান সাহেব শিবের কাছে পূজার্ঘ্য নিবেদন করেন। হাতজোড় করে দেবাদিদেবকে প্রণাম জানিয়ে তিনি আশীর্বাদ প্রার্থনাও করলেন। মুসলিম পরিবারের সন্তান মেহেমুদ খানের এমন শিব ভক্তি দেখে এদিন জলেশ্বর মন্দির চত্ত্বরে থাকা অনেক শিব ভক্তও থমকে দাঁড়িয়ে যান। হঠাৎ করে দেবাদিদেব শিবের দ্বারস্থ হওয়ার কি কারণ তার ব্যখ্যা দিতে কোন কুণ্ঠা বোধ করে নি মেহেমুদ খান। তিনি বলেন, এই জগৎ চালাচ্ছেন উপরওয়ালা।কেউ তাঁকে বলেন আল্লা, আবার কেউ বলেন ঈশ্বর। তাঁর করুণা ছাড়া এই জগৎতে কোন কিছুই সম্ভব নয়। মেহেমুদ খান জানান, রাজ্য সরকারের পুরোহিত ভাতা পাওয়া জামালপুরের ব্রাহ্মণদের সঙ্গে একদিন তিনি একটি বৈঠকে বসেছিলেন। তখন এক প্রবীন ব্রাহ্মণ পুজারির কাছে হিন্দু ধর্মের সর্বশক্তিমান দেবতা শিবের মাহাত্ম্যের কথা তিনি শুনেছিলেন। তারপরেই দেবতা শিবের চরণে পুজো দেওয়ার ব্যপারে মনস্থির করেন। সেই মতই শিবরাত্রির এই দিনে তিনি জলেশ্বর শিব মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে দেবতার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন বলে জানান। পাশাপাশি মেহেমুদ খান এও বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারে বারে এই বাংলার সর্ব ধর্ম সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। সম্প্রীতি বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রীও সকলকে এক হয়ে থাকার বার্তা দেন। তাঁরই দলের একজন সেনাপতি হয়ে তিনিও মনে করেন সব ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানোটাই প্রকৃত ধার্মিকের কাজ। সেই বিশ্বাস ও ভক্তিতে ভর করেই এদিন জলেশ্বর শিব মন্দিরে পৌছে ভক্তি ভরে পুজো দিয়েছেন বলে খান সাহেব জানিয়ে দেন।

মার্চ ০১, ২০২২
নিবন্ধ

আটশ' শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে নিহত কৌরবপক্ষের তেইশতম প্রজন্ম বর্মন বংশের রাজা জল্পেশের শিবমন্দির

আধমাইলটাক লম্বা এক পায়ে চলা পথ-- ধুলায় ধুসর, ভিড়ে ভিড়াক্কার! যাত্রীদের ক্যাঁও ম্যাঁও... ফেরিওয়ালাদের হুল্লোড়... বাচ্চাকাচ্চাদের চ্যাঁ ভ্যাঁ... বাঁশির প্যাঁ পো... মাইকের অমায়িক নির্ঘোষে জয় জয় শিবশঙ্কর কাঁটা লাগে না কঙ্কর... থেকে থেকেই আশেপাশে পিলে চমকানো ব্যোম ভোলে... তবে সব কিছু ছাপিয়ে যেত পথের দুপাশে চট-বস্তা-খড়ের ভুমিশয্যায় সারি সারি বিকলাঙ্গ ভিখারীর আর্তনাদ!বীভৎস ঘা... খসে পড়া আঙ্গুল বা হাত পা... বিকট অঙ্গবিকৃতি... সেই সব ঘা বা হাত পায়ে অনেক সময় লোহার কাঁটা বা বাঁশের কঞ্চি ঢোকানো-- মা বলতো ছোটবেলায় ছেলেধরারা ওদের ধরে নিয়ে গিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে, কেটে-পচিয়ে ভিক্ষে করাচ্ছে! চোখে দেখে সহ্য করতে পারতাম না সেই শিশুবয়সে; ফোঁপাতে ফোঁপাতে, কখনো বা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের হাত ধরে কোনো মতে পেরিয়ে যেতাম সেই পথটুকু!আজ বুঝি, ওরা বেশির ভাগই ছিল কুষ্ঠরোগী-- চিকিৎসাহীণতায় অঙ্গবিকৃতির শিকার! রোগক্লিষ্ট অঙ্গের স্নায়ু শুকিয়ে গিয়ে ব্যথার অনুভূতি চলে যেত, ফলে মানুষের নজর টানতে কাঁটা ঢুকিয়ে বা দগদগে ঘা নিয়ে শুয়ে বসে থাকতে হয়ত খুব বেশি কষ্ট হত না তাদের। তবু জল্পেশ মন্দিরের মহাশিবরাত্রির মেলায় সেই সব ভিখারীরা আমার শৈশবস্মৃতির চিরকালীন দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে গেছে।জল্পেশের শিবমন্দিরজল্পেশ মন্দির। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বিখ্যাত এই শিবমন্দিরের ইতিহাস আজকের নয়। কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন কৌরবপক্ষের মহারথী ভগদত্ত। তাঁর পরের তেইশ প্রজন্ম পেরিয়ে বর্মন বংশের শেষ রাজা জল্পেশ নাকি এই মন্দির রচেন আনুমানিক আটশ শতাব্দীতে। কয়েক শতক পর বখতিয়ার খিলজি-র হাতে ধ্বংস হয়ে যায় সুপ্রাচীন এই শৈবতীর্থ। দ্বাদশ শতাব্দীতে ভুটানের এক রাজা নতুন করে একে গড়ে তুললেও পরে আবার জঙ্গলে ঢাকা পড়ে যায় সব কিছু। ১৫২৪ খ্রীষ্টাব্দে কোচবিহার রাজবংশের বিশ্ব সিংহ আবার গড়ে তোলেন এই দেবস্থান। ১৫৬৩-তে তাঁর ছেলে মহারাজা নারায়ণ, ও ১৬৬৩-তে রাজা প্রাণ নারায়ণ আরো দুবার এর সংস্কার করেন। কোচবিহার রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় জল্পেশ মন্দির ফিরে পায় পুরনো গৌরব। কিন্তু গোল বাধলো আবার। রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ-এর অভিষেকের সময় রাজছত্র ধরতে অস্বীকার করেন অধীনস্থ বৈকুন্ঠপুর রাজ্যের রাজা মহীদেব রায়্কত, এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তখন থেকে স্থানীয় বৈকুন্ঠপুর-এর রায়্কত-রাই মন্দিরের দেখভাল করতেন। এই বৈকুন্ঠপুর রাজ্যেরই অন্তর্গত ছিল পরবর্তীকালে গড়ে ওঠা জলপাইগুড়ি শহর ও আশপাশের এলাকা। জোরালো ভূমিকম্পে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১৮৯৯ সালে রাজা যোগেন্দ্রদেব রায়কতের মহিষী রাণী জগদীশ্বরী দেবী পুনর্নির্মাণ করান বর্তমান মন্দিরটি।জলপাইগুড়ি শহর থেকে তেইশ কি.মি., ময়নাগুড়ি বাইপাস মোড় থেকে মাত্র ছয় কি.মি. দুরে.. জল্পেশ্বর শিবমন্দিরের বহিরঙ্গ রূপটি সাদামাটা, অন্যান্য হিন্দুমন্দিরের থেকে কিছু আলাদা; খানিকটা যেন ইসলামী আদল আছে। ১২৬ ফুট উঁচু, ও ১২০ ফুট চওড়া ধবধবে সাদা মন্দিরের মাথায় বিশেষত্বহীন মূল গম্বুজটিকে ঘিরে চারটি ছোট গম্বুজ। ভিতরে ধাপে ধাপে সিঁড়ি নেমে গেছে গর্ভগৃহে; জলপূর্ণ কুন্ডের মাঝে বিরাজমান অনাদি শিবলিঙ্গ। জুন থেকে অক্টোবর-- ঘোর বর্ষায় তা সম্পূর্ণ ডুবে যায়। বছরে তিনবার উৎসব জল্পেশ-এ-- বৈশাখী, শ্রাবনী, আর মহা-শিবরাত্রি মেলা। সারা বছর ধু ধু মাঠে এলোমেলো বইত উদাসী হাওয়া; পাশ দিয়ে তিরতিরিয়ে বয়ে চলা জরদা নদীর বালি উড়তো হিমালয় ছুঁয়ে আসা উত্তুরে বাতাসে। আর শিবরাত্রির সময় লাখ বারো ভক্তের সমাগমে রমরমিয়ে উঠতো মাইলের পর মাইল ফাঁকা জমি জুড়ে জমে ওঠা মেলা। পনেরো কি.মি. দুরের তিস্তা নদী থেকে জলপূর্ণ ঘট বয়ে এনে অনাদি শিবলিঙ্গের মাথায় ঢেলে দিতেন ভক্তরা। আমার শৈশবে এক পক্ষকাল ধরে চলত সে মেলা। কী না পাওয়া যেত সেখানে! স্বাধীনতার আগে নাকি হাতিও কেনাবেচা হতো; পাশের রাজ্যগুলি, এমনকি নেপাল-ভুটান-পূর্ব বাংলা থেকেও মানুষ আসতেন হাতি কিনতে! এই কদিন বেশিরভাগ বাস নিজের রুট ছেড়ে দিয়ে সামনে বোর্ড ঝোলাতো জল্পেশ মেলা । আন্তর্জাতিক সীমান্তও এসময় হয়ে যেত শিথিল; ভক্তরা আসতেন বাংলাদেশ থেকেও। প্রতি বছর উপোস করে জল্পেশ্বর-র মাথায় জল ঢালতে যেত মা, আর খুব ছোট থেকেই সঙ্গী হতাম আমি। সেই মর্মবিদারী ভিক্ষুককুলের মধ্য দিয়ে যাওয়াটা ছিল বিভীষিকা! ভিড়ের ঠেলায় ছুটতাম ছোটো ছোটো পায়ে... জরদা নদীর কাঠের পুল পেরিয়ে আরো কিছুদুর... মন্দিরের গেটের সামনে দুই হাতির মূর্তি... কারো হাত ধরে ভয়ে ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম বাইরে... ভিড়ে ঠাসা সিঁড়ি দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে নেমে যেত মা... শিবলিঙ্গে জল ঢেলে কোনমতে হাত বাড়িয়ে একটু স্পর্শ করা... একবার মনে আছে আস্ত একটা তাজা কলা মা নিয়ে এসেছিল ফুল পাতার স্তূপ হাতড়ে!ভিখারীদের সেই ভয়ানক দৃশ্য এড়াবার উপায় বার ফেলেছিলাম পরের দিকে। মায়ের হাত শক্ত করে ধরে চোখদুটো আধবোজা করে এদিক ওদিক না তাকিয়ে পেরিয়ে যেতাম রাস্তাটুকু। শেষবার গেছিলাম বোধ হয় সপ্তম শ্রেনীতে পড়ার সময়। চলতে চলতে চট-বাঁশ-ত্রিপলের এক ছাউনি দেখেছিলাম পথের ধারে, বোধ হয় পুতুলনাচ বা জাদুর খেলা বা ওই জাতীয় কিছুর আয়োজন। কোনো মানুষ দেখা যাচ্ছিল না সেখানে। ছাউনির সামনে লম্বা বাঁশের মাথায় বাঁধা ছিল মাইক। গরম হাওয়া বইছিল এলোমেলো। তপ্ত শেষ বসন্তে মেলার ভিড়ে নিঃসঙ্গ এক মাইকের নিশ্চুপ প্রতীক্ষা চার দশক পেরিয়ে, কেন জানি না, মনে জেগে আছে আজো!ডঃ সুজন সরকার বর্ধমান।

মার্চ ০১, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজোয় আজও ধূপ-ধুনোয় সেজে ওঠে ‘স্টিম সাহেব’, জলপাইগুড়ির বুকে ব্রিটিশ আমলের জীবন্ত স্মৃতি

জলপাইগুড়ি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নাম, স্টিম সাহেব। ব্রিটিশ আমলের কয়লা চালিত এই স্টিম রোলারকে ঘিরে এখনও আবেগ রয়েছে বহু মানুষের। প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে জলপাইগুড়ি পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরে পরম যত্নে পুজো করা হয় ঐতিহাসিক এই যন্ত্রটিকে।স্বাধীনতার বহু আগে সুদূর লন্ডন থেকে জলপাইগুড়িতে আনা হয়েছিল কয়লা চালিত এই স্টিম রোলার। ব্রিটিশ সাহেবদের হাত ধরে শহরে আসার কারণেই স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এর নাম হয়ে যায় স্টিম সাহেব। একসময় জলপাইগুড়ি থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর পর্যন্ত রাস্তা তৈরি ও মেরামতির কাজে নিয়মিত ব্যবহার করা হত এই রোলার।সেই সময়ের যান্ত্রিক প্রযুক্তির অন্যতম নিদর্শন ছিল এটি। রোলারের বয়লারে কয়লা দেওয়া থেকে শুরু করে স্টিয়ারিং ঘোরানোপুরো ব্যবস্থাটিই ছিল যান্ত্রিক পদ্ধতিনির্ভর। দেশভাগের পরেও দীর্ঘদিন নিজের দায়িত্ব পালন করেছে স্টিম সাহেব। তবে সময়ের সঙ্গে ডিজেল চালিত রোলারের ব্যবহার বাড়ায় ধীরে ধীরে গুরুত্ব কমতে থাকে এই পুরনো যন্ত্রটির। একসময় পূর্ত দপ্তরের এক কোণে অবহেলায় পড়ে ছিল এটি।১৯৬৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় রোলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে মেরামত করা হয়। সরকারি উদ্যোগে এরপর পূর্ত দপ্তরের সাব ডিভিশনাল অফিস চত্বরেই স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় ঐতিহাসিক এই স্টিম রোলারকে। জানা যায়, কয়েক বছর আগে যে লন্ডন-ভিত্তিক সংস্থা এটি তৈরি করেছিল, তাদের পক্ষ থেকে রোলারটি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।তাই আজও জলপাইগুড়ির মাটিতেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্টিম সাহেব। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বর্তমান কর্মীদের পাশাপাশি বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও নস্টালজিয়ার টানে ছুটে আসেন পূর্ত দপ্তরে।অবসরপ্রাপ্ত কর্মী পার্থপ্রতিম সেনের কথায়, স্টিম সাহেব এখনও তাঁদের কাছে এক জীবন্ত নস্টালজিয়া। বর্তমান কর্মী গৌতম দীক্ষিত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মধু সরকারও মনে করেন, এই ঐতিহ্য ও পরম্পরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও একইভাবে টিকে থাকুক। তাঁদের কাছে স্টিম সাহেব শুধু একটি পুরনো যন্ত্র নয়, বরং জলপাইগুড়ির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘ঝরা পাতা তৃণমূলে নয়’, কংগ্রেসের ‘বটগাছের’ ছায়ায় আসার ডাক অধীরের

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হয়েছে। মমতা শিবিরের জন্য ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য খাম প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জোড়াফুল প্রতীক ও দলের পুরনো নামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন।এই পরিস্থিতির মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান। রেজিনগর নিয়ে অবশ্য মমতার শিবিরের অবস্থান তখনও স্পষ্ট ছিল না।নন্দীগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল বা তৃণমূলের অন্য কোনও শিবিরের পরিবর্তে কংগ্রেসের পাশে আসা উচিত বিরোধীদের।অধীর বলেন, কংগ্রেস একটি বটগাছের মতো এবং তৃণমূল সেই বটগাছের ঝরা পাতা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করতে চান, তাঁদের কংগ্রেসের ছায়ায় আসা উচিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি-বিরোধী ভোটার ও রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে কংগ্রেসের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।তৃণমূলের নতুন প্রতীক নিয়েও কটাক্ষ করেন অধীর। তাঁর কথায়, মমতার শিবির ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক পেয়েছে এবং অন্য শিবির পেয়েছে খাম। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘটনাকেও তিনি তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে তুলে ধরেন। রেজিনগর নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।তবে সঞ্চিতা প্রধান দে কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই সাক্ষাৎ এবং তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি।এর পর নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। মমতা জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হয়েছেন অধীর। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেন এবং কমিশনকে বিজেপির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন। তবে এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ প্রতিনিধি দাবি করায় উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং মমতা শিবিরের কংগ্রেসকে সমর্থনএই তিনটি ঘটনা ঘিরে উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রেজিনগরেও শেষ পর্যন্ত কী ছবি দেখা যাবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
কলকাতা

খাম নিয়ে নতুন সংঘাত, ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে আইনি পথে আইএসএফ? কী বললেন নওশাদ

ঘাসফুল আপাতত বাইরে। নতুন নাম গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস, আর প্রতীক খাম। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই নতুন বিতর্কে জড়াল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। কারণ, খাম প্রতীকটি আগে থেকেই ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই ভোটে লড়ার দাবি করেছে আইএসএফ। এবার সেই প্রতীকই ঋতব্রত শিবিরকে দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নাম হয়েছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম। অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির পেয়েছে আলাদা নাম ও প্রতীক। পুরনো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না।কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের নতুন প্রতীক সামনে আসার পরেই আপত্তি তোলে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ২০২১ সাল থেকেই তাঁদের দল খাম প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে। চলতি বছরেও ওই প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সেই পরিস্থিতিতে একই প্রতীক অন্য একটি দলকে কী ভাবে দেওয়া হল?শুক্রবার ফুরফুরা শরিফে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নওশাদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য গত ১০ মার্চ আইএসএফের খাম প্রতীক নবীকরণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সাল থেকে এই প্রতীকেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই ঋতব্রত শিবিরকে একই প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।নওশাদ জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, আইএসএফকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ নওশাদ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও ষড়যন্ত্রের কথা জানানো হয়নি।অন্য দিকে, ঋতব্রত শিবির অবশ্য নতুন প্রতীক নিয়ে সন্তুষ্ট। নন্দীগ্রামের ওই শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক জানিয়েছেন, তাঁরা খাম প্রতীক পেয়েছেন এবং সেই প্রতীক নিয়েই প্রচারে নামবেন। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন, আইএসএফের দাবি নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বিবেচনা করবে এবং নন্দীগ্রামের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী কোন প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কমিশন। এখন নওশাদ সিদ্দিকীর আপত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে রোহিতের ভবিষ্যৎ কী? দলবদলের জল্পনার মধ্যেই মিলল তাঁর নিজের বার্তা

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রিকেটমহলে নানা জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ঘিরে দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, রোহিত কি ফের মুম্বইয়ের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন? পাশাপাশি তাঁর অন্য কোনও আইপিএল দলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। সেই আলোচনাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের হেড কোচ অভিষেক নায়ার।তবে এই জল্পনার সূত্রপাত কোনও ক্রিকেট ম্যাচে নয়, রোহিত শর্মার নতুন একটি রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা সেই অনুষ্ঠানের টিজারে রোহিত এবং অভিষেক নায়ারের কথোপকথনের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে রোহিতের পোশাকের রং নিয়েই মজার ছলে শুরু হয় দলবদলের প্রসঙ্গ।টিজারে দেখা যায়, রোহিতের পরনে হলুদ পোশাক। সেই রং দেখে অভিষেক নায়ার মজা করে চেন্নাইয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানতে চান, রোহিত কি তবে দল বদলানোর কথা ভাবছেন? কারণ হলুদ রং চেন্নাইয়ের সঙ্গে জড়িত। প্রশ্ন শুনে রোহিতও মজার ছলে পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, তাঁর পোশাকের রং সরষের মতো হলুদ।এর পরেই কথোপকথনে উঠে আসে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রসঙ্গ। অভিষেক নায়ার বলেন, সোনালি এবং হলুদ রঙের সঙ্গে কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজিরও যোগ রয়েছে। ফলে রোহিত কি এবার কলকাতার দলে যোগ দেবেন, সেই ইঙ্গিতও মজার ছলে দেওয়া হয়।অভিষেকের প্রশ্নের মধ্যেই দর্শকদের একাংশ মুম্বইয়ের নামে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই সময় রোহিত মৃদু হেসে বলেন, চিরকাল। তাঁর এই এক শব্দের উত্তর থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এই বক্তব্যকে দলবদলের জল্পনার প্রেক্ষিতে দেখছেন। তবে টিজারের এই কথোপকথন থেকে রোহিতের আইপিএল ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে রোহিতের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। তাঁর নেতৃত্বে দলটি আইপিএলে পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসাবেও রোহিতের সাফল্য রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং এক দিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে।এ বার ক্রিকেটের মাঠের পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দাতেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে রোহিতকে। তাঁর নতুন অনুষ্ঠানের প্রথম টিজার প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টিজারে অভিষেক নায়ারের সঙ্গে রোহিতের কথোপকথনও সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।রোহিত সত্যিই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়বেন কি না, কিংবা অন্য কোনও আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে নতুন অনুষ্ঠানের টিজারে মুম্বই নিয়ে রোহিতের চিরকাল মন্তব্য দলবদলের জল্পনার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে। এখন দেখার, টেলিভিশনের মঞ্চে রোহিতের এই নতুন ইনিংস দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

সারা ঘরে বেলুন দিয়ে সাজানো, ফ্রিজে মেয়ের দেহ, পাশে চকলেট! ঘরে উদ্ধার বাবার ঝুলন্ত দেহ

গুজরাটের আমরেলি জেলায় এক পাঁচ বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু এবং তার বাবার আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ৪০ বছরের কিশোর ধনক তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে হিংমাশীকে হত্যা করার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘরের ভিতর থেকে তিনটি চিরকুট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি মেয়েকে কেন হত্যা করেছিলেন, তারও ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনাটি আমরেলি জেলার সাভরকুণ্ডলা এলাকার হাদিদা গ্রামের। কিশোর ধনক নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী মঞ্জুবেন বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফোন বন্ধ থাকায় তিনি তাঁর ভাইকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই কিশোরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।এর পর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ ফ্রিজের ভিতর হিংমাশীর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, শিশুটিকে হত্যা করার পর তার দেহ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ভাবে তার মৃত্যু হয়েছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর আরও স্পষ্ট হবে।ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তদন্তকারীদের আরও ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরটি বেলুন ও মোমবাতি দিয়ে সাজানো ছিল। শিশুটির জন্য চকোলেটও রাখা হয়েছিল। এমনকি ফ্রিজের উপরে শুভ জন্মদিন হিংমাশী লেখা একটি কাগজ পাওয়া যায়। অথচ সেদিন হিংমাশীর জন্মদিন ছিল না। শিশুটিকে সাদা পোশাক পরানো হয়েছিল এবং মাথায় ওড়নাও দেওয়া ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফ্রিজের ভিতর কুশন রাখা ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি।ঘরে পুজোর আয়োজনও করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই সমস্ত বিষয় দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মেয়ের জন্য শেষবারের মতো জন্মদিন পালনের মতো একটি আয়োজন করেছিলেন কিশোর। তবে কেন এমন আয়োজন করা হয়েছিল, কেনই বা মেয়েটিকে হত্যা করা হল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। পুলিশের তরফে ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি চিরকুট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি চিরকুটে কিশোর তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে নির্মাণকাজে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে সেখানে লেখা ছিল। তাঁর দাবি ছিল, ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে প্রায় সাত লক্ষ টাকার বেশি পাওনা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন।অন্য একটি চিরকুটে মেয়েকে হত্যা করার কারণ হিসেবে কিশোর এমন কথা লিখেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর পরে মেয়েকে যেন কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর একটি চিরকুটে নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে চিরকুটে লেখা কথাগুলি তদন্তের অংশ হিসেবেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরের স্ত্রী কয়েক দিন আগে বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছন। সেখান থেকেই প্রথমে কিশোরের দেহ এবং পরে ফ্রিজের ভিতর শিশুকন্যার দেহের সন্ধান মেলে। ঘটনার পর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আর্থিক সমস্যাই এই ঘটনার মূল কারণ কি না, শিশুকন্যাকে হত্যার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘরটি কেন জন্মদিনের মতো করে সাজানো হয়েছিলএই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, চিরকুট এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য মিলিয়ে গোটা ঘটনার ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

মমতা পাশে দাঁড়াতেই বড় ধাক্কা! পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হলেন মিলন। শুক্রবার তাঁকে একটি পুরনো খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি খুনের মামলায় তিনি অভিযুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় রাজনৈতিক ঘোষণাকে ঘিরে। তাঁর দলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তার পরেই সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। দেশের কথা এবং বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মমতার সেই ঘোষণার পরেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারির খবর সামনে আসে। শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল এবং সেই মামলায় পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। ফলে গ্রেফতারির সঙ্গে পুরনো মামলার যোগ রয়েছে বলেই প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে।কংগ্রেস অবশ্য এই গ্রেফতারিকে স্বাভাবিক ভাবে দেখছে না। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার অর্থ বিজেপি কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে। তবে এটি অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক অভিযোগ; বিজেপির তরফে এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনও বক্তব্য এই ঘটনায় সামনে আসেনি।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগে মিলন প্রধান সকাল থেকেই প্রচারে ছিলেন। তার পর তাঁকে হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় থানাগুলির কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।শুভঙ্কর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হবে, কেন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হল এবং বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি কমিশনের নজরেও থাকা উচিত।অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র এই গ্রেফতারিকে প্রশাসনের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ প্রার্থী হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না, এমন কোনও নিয়ম নেই। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজন মনে হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি নন্দীগ্রামে মমতার কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন।এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে সেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পুরনো মামলায় গ্রেফতারিদুই ঘটনাই একই দিনে সামনে এসেছে। ফলে গ্রেফতারির সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও, পুলিশ জানিয়েছে পুরনো মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনায় কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের পর এই ঘটনায় নন্দীগ্রামের ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

পুজোর আগে সিকিমে বড় বিপদ! পাহাড় থেকে নামছে কাদা-পাথরের স্রোত, বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা

একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ভূমিধসের খবর মিলছে। কোথাও জাতীয় সড়ক বন্ধ, কোথাও হাইওয়ে অবরুদ্ধ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকেরাও। পুজোর মরসুম সামনে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলেও।উত্তর সিকিমে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টি চলছে। শুক্রবার ভোরে সিকিম-শিলিগুড়ি যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের বারডাংয়ের ২০ মাইল এলাকায় ধস নামে। রাস্তার উপর দিয়ে কাদা ও পাথরের স্রোত নামায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রী থেকে পর্যটক, সকলেই সমস্যায় পড়েন।গ্যাংটক জেলাতেও একাধিক জায়গায় ভূমিধস ও কাদাধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। ধসের কারণে বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও বাড়ি ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার কবি-টিংদা কেন্দ্রের বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি যৌথ দল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে।বোজোগহারি সংলগ্ন লুয়িং-রাঙ্কা সড়ক, লোয়ার বোজোগহারি, লিংডিং, হাইকোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি, আপার জেড-বোজোগহারি, পাংথাং-লিংডক সড়ক, পামরো গাঁও, লিং পারবিং, আপার ও মিডল লুয়িং, ফেনজং, রাঙ্কা, রকডং তিনটেক, দারাগাঁও, আপার বুরতুক, সিচে এবং আরিথাং-সহ একাধিক এলাকায় ধসের প্রভাব পড়েছে।বহু জায়গায় এখনও রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু বহুতলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। সিচের নিকাশি জল পরিশোধন কেন্দ্র এবং এনচে স্কুলের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কাছেও ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। ফলে ওই এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।উত্তর সিকিমেও ব্যাপক ধসের খবর এসেছে। ফেনসং, কবি এবং লিংচুম-টিংদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা ফের চালু করার কাজ চলছে। ধসপ্রবণ এলাকায় বৃষ্টির জল যাতে মাটির গভীরে ঢুকে পরিস্থিতি আরও খারাপ না করে, সে জন্য ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ধসপ্রবণ এলাকা দিয়ে যাতায়াত না করার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে আরও বেশি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ৩২ মাইলের কাছে রাডাং এলাকাতেও ধসের কারণে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে।পূর্ব সিকিমের দুগা এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। এই পথটি গ্যাংটকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রাস্তা। ফলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের সমস্যাও বেড়েছে।শুধু সিকিম নয়, নেপালেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জামিরেঘাটে ভূমিধসের কারণে পৃথ্বী হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। রাস্তার উপরের দিক থেকে বড় ধস নেমে কাঠমান্ডুগামী দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাদিংয়ের ট্রাফিক পুলিশ প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, ধসের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রাস্তা পরিষ্কার করতে সময় লাগতে পারে। কৃষ্ণভির এলাকাতেও ধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।ভুটানেও কয়েকটি পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। দোচুলা-ওয়াংদুয়ে সড়কের পেনজালুম দ্রুবচু এলাকায় একমুখী যান চলাচল শুরু হলেও পর্যটকদের সতর্ক হয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পানবাং-মাথাংগুড়ি সংযোগ সড়কের কিছু অংশও অবরুদ্ধ হয়েছে।সিকিম, নেপাল এবং ভুটানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথে ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পুজোর আগে পর্যটন শিল্প নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই সময় পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। ফলে আগামী দিনে বৃষ্টি ও ধসের পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, তার দিকে নজর রাখছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
রাজ্য

‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে’, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ নিয়ে সরব শুভঙ্কর সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ফুল-ঘাস ফ্রিজ করে দেওয়ার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করলেন, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে টালবাহানা করে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও সংরক্ষিত ফুল-ঘাস প্রতীক আপাতত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।এই পরিস্থিতিতে শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বিতর্কের সমাধান করা। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর, স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহের অবকাশ থাকে।কংগ্রেস সভাপতির মতে, ভারতের সংবিধানে প্রতিষ্ঠিত বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। তাঁর কথায়, এই বহুদলীয় ব্যবস্থাই ভারতের বহুত্ববাদের প্রতিফলন। কংগ্রেস বরাবরই এই বহুত্ববাদে বিশ্বাসী।শুভঙ্কর সরকার মহারাষ্ট্রে শিবসেনার দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গেও তৈরি করা হচ্ছে।তবে তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জায়গাটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, মতাদর্শগত লড়াই থাকবেসংসদীয় গণতন্ত্রে এটাই কাম্য। কাউকে পরাজিত করতে হলে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই করব। কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, সেটা বাংলার মানুষ তাঁদের ভোটের রায়ের মাধ্যমে করবেন।এরপরই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভঙ্কর সরকারের অভিযোগ, আজ আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠনের মতো কাজ করছে। তারা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার খেলায় নেমেছে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ইঙ্গিত।একইসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলেছে এবং চলবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় দখল এবং রাজ্যে অপশাসনের অভিযোগও তোলেন তিনি।তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী পরিচয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার।শেষে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন কমিশনের এই দলদাসসুলভ আচরণ গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal