• ৩ বৈশাখ ১৪৩৩, রবিবার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Banerjee

কলকাতা

ভবানীপুরে কাটা প্রায় ৪৫ হাজার ভোটার! খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই জরুরি বৈঠক মমতার

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। কত ভোটারের নাম বাদ পড়ছে এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে।প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালেই কালীঘাটে নিজের বাসভবনে জরুরি বৈঠক ডাকেন তিনি। সূত্রের খবর, ভবানীপুরের কাউন্সিলর এবং সংশ্লিষ্ট বিএলএ-দের নিয়ে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৪৪ হাজার ৭৭০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বুথ, অর্থাৎ মিত্র ইনস্টিটিউশন বুথেও বাদ গিয়েছে বহু নাম। ২৬০ নম্বর বুথে মোট ১২৭ জন ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ১৩ জন মৃত। বাকিদের অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায়নি বা তাঁরা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার সকালে প্রথম খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। তার পরপরই এই বৈঠক ডাকায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বেড়েছে। মনে করা হচ্ছে, ভবানীপুরে কারা বাদ পড়লেন এবং তার প্রভাব কী হতে পারে, সে বিষয়ে দলীয় স্তরে বিস্তারিত নজর রাখতেই মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠক করছেন।উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ওই কেন্দ্রের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতেই তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে ছিল। ফলে ভোটার তালিকার এই পরিবর্তন রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
কলকাতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়া হল না মুখ্যমন্ত্রীর! সম্মতি মিলল না রাষ্ট্রপতির

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিলে সম্মতি দিলেন না রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ফলে রাজ্য-সহায়তাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য বা চ্যান্সেলর পদে আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। রাজ্যপালের বদলে মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করার যে প্রস্তাব ছিল, তা কার্যকর হল না রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়ায়।রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ এপ্রিল ২০২৪ পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় আইন (সংশোধনী) বিল ২০২২ রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য সংরক্ষিত রেখেছিলেন রাজ্যপাল। ওই বিলে রাজ্যের সহায়তাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য পদে রাজ্যপালের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীকে বসানোর প্রস্তাব ছিল। একই দিনে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধনী) বিল ২০২২-ও রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। সেই বিলে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আমির-ই-জামিয়া বা চ্যান্সেলর পদে রাজ্যপালের জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। তবে দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতি ওই সংশোধনী বিলে সই করেননি।বর্তমানে রাজ্যের সহায়তাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মূল আইনে স্পষ্ট ভাবে বলা রয়েছে, রাজ্যপাল তাঁর পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হবেন। সেই আইনি অবস্থান মাথায় রেখেই রাষ্ট্রপতি এই দুই সংশোধনী বিলে সম্মতি দেননি বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়েই চ্যান্সেলর পদে আপাতত কোনও বদল হচ্ছে না।প্রসঙ্গত, নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্য পদে রাজ্যপালের বদলে মুখ্যমন্ত্রীকে আনা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিধানসভায় বিল পাশও হয়। পরে তৎকালীন রাজ্যপাল সেই বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না মেলায় সেই আইন কার্যকর হল না।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
কলকাতা

সাফ নির্দেশ মমতার, গঙ্গাসাগর মেলায় ভিআইপি কালচার বন্ধ

গঙ্গাসাগর মেলায় কোনও ভিআইপি সংস্কৃতি চলবে না। নবান্নে বৈঠক থেকে এই কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভিআইপিদের জন্য যেন সাধারণ মানুষের কোনও রকম সমস্যা না হয়। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাগরদ্বীপে বসে গঙ্গাসাগর মেলা। মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে ভিড় করেন। সেই বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে মেলা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় রাজ্যের তরফে। আগামী জানুয়ারির গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে সোমবার নবান্নে প্রস্তুতি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। ১২ জানুয়ারি মন্ত্রীরা মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনও ভিআইপি বা বিশেষ অতিথির জন্য যেন সাধারণ পুণ্যার্থীরা কোনও সমস্যায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হবে।রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য মেলা চত্বরে থাকবেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক। প্রত্যেক পুণ্যার্থীর হাতে থাকবে বিশেষ ব্যান্ড এবং পরিচয়পত্র। সকলেই বিমার আওতায় থাকবেন। নিরাপত্তার জন্য ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলবে।যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মেলাকে কেন্দ্র করে চলবে প্রায় ২৫০০ বাস, ২৫০টি লঞ্চ এবং ব্যবহার করা হবে ২১টি জেটি। সব মিলিয়ে গঙ্গাসাগর মেলাকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভাবে পরিচালনা করতেই এই প্রস্তুতি বলে জানানো হয়েছে।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
রাজ্য

‘ফাইনাল লিস্ট প্রকাশ করে পরের দিন ভোট ঘোষণা করবে বিজেপি’—মমতার দাবিতে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজবংশী ভোটকে নজরে রেখেই কি বড়সড় শক্তি-প্রদর্শন? এসআইআর বিতর্কের উত্তাপের মধ্যেই কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে বিশাল জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, বন্দেমাতরম বিতর্ক, বিজেপির রাজনীতিএকাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেন এসআইআর প্রসঙ্গ নিয়ে।মমতার অভিযোগ, এসআইআর পুরো বিষয়টাই একটি রাজনৈতিক চাল। তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে দিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। মঞ্চ থেকে বলেন, সকলেই এসআইআরে নাম তুলুন। এটা ওদের কৌশল। সামনে নির্বাচন, তাই সবটাই প্ল্যান করে করা হয়েছে। আমরা না করলে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট করবে।তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ফাইনাল লিস্ট তৈরি করে পরের দিনেই নির্বাচন ঘোষণা করতে পারে, যাতে কেউ আদালতে যাওয়ার সুযোগ না পায়। যদিও আইনি বিষয় আদালতের উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন তিনি, কিন্তু রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিকভাবেই লড়বেন বলে স্পষ্ট করেন।মমতার অভিযোগ, বিজেপির হাতে রাজ্য গেলে বাংলার অস্তিত্বই বিপদে পড়বে। তাঁর কথায়, বিজেপি এলে আপনার ঠিকানা, সম্মান, সবটাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। বাংলাকে ডিটেনশন ক্যাম্প বানিয়ে দেবে। কিন্তু বাংলায় আমরা তা হতে দেব না। কোনও এনআরসি হবে না, কোনও ডিটেনশন ক্যাম্পও নয়।ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সুর তুলে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ ও অসমে ডিটেনশন ক্যাম্প চালু করা হয়েছে, কিন্তু বাংলায় তা কখনওই হতে দেওয়া হবে না।এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার কটাক্ষ করে বলেন, এ কী অদ্ভুত কথা! যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই উনি হেরে গিয়েছেন। এখন থেকেই হারের অজুহাত দিচ্ছেন।কোচবিহারের রাজনীতিতে এবং রাজবংশী ভোটে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

মমতার রুদ্রমূর্তি! কোচবিহারের মঞ্চেই কেন্দ্রের নোটিস ছিঁড়ে তুফান তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

নতুন শ্রম কোড রাজ্যে লাগু হবে নাএ কথা আগেই জানিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবার কেন্দ্রের পাঠানো সেই শ্রম আইনের প্রতিলিপি রাজ্যের হাতে আসে। সেখানে ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই শর্তকে সম্পূর্ণ অসম্মানজনক বলে দাবি করে কোচবিহারের জনসভা থেকেই কাগজ ছিঁড়ে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।দুদিনের কোচবিহার সফরে গিয়ে কেন্দ্রকে একের পর এক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেন্দ্রের নতুন শ্রম আইন নিয়ে। মমতার অভিযোগ, কয়েক দিন আগে কেন্দ্র থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেখানে ১০০ দিনের কাজের টাকার জন্য নতুন নিয়ম চাপানো হয়েছে, যা রাজ্য কোনওভাবেই মানবে না। তাঁর কথায়, আমরা এই শর্ত মানি না, মানবও না। এটা আমাদের অপমান করার চেষ্টা। তাই আমি এই কাগজ ছিঁড়ে ফেললাম। এটা কেন্দ্রের নোটিস নয়এটা আমার নিজের কাছে থাকা কাগজ। কেন্দ্রের কাগজ হলে তাও মানাতাম না।কেন্দ্রের নতুন শ্রম কোডে বিভিন্ন রাজ্যে একই কাজের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো, পৃথক নিরাপত্তা বিধি এবং নানা জটিলতা দূর করার দাবি করা হয়েছিল। দেশের ৪৪টি আলাদা শ্রম আইনকে একত্র করে চারটি নতুন কোড চালুর কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র। নভেম্বর থেকেই সেই শ্রম আইন কার্যকর হয়েছে। তবে কোনও রাজ্যে এই কোড চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সিদ্ধান্তের উপর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা এই নয়া কোড মানবে না। যদিও কিছু বেসরকারি সংস্থা ইতিমধ্যেই এই নতুন নিয়ম চালু করেছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য নোটিস-ছিঁড়ে ফেলা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

রাতের গোপন বৈঠক, তীব্র ধমক—কোচবিহারে কী বার্তা দিলেন মমতা?

একজন প্রাক্তন মন্ত্রী, অন্যজন বর্তমান। দুজনই তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁদের মধ্যে চলা বিবাদে অস্বস্তি বাড়ছে দলে। সেই ঘটনাই সামনে এল ঠিক তখনই, যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহার সফরে গিয়েছেন। সামনে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই উদয়ন গুহ এবং রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ঘিরে দলীয় অমিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।সোমবার মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহারে পৌঁছনোর পর বিকেলে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেদিন তাঁর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। কিন্তু তৃণমূল সূত্রের খবর, রাতেই সার্কিট হাউসে জেলার নেতাদের নিয়ে আলাদা বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মমতা। সেখানেই বর্তমান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মধ্যে চলা বিরোধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দলের ভেতরকার এই টানাপোড়েন বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রী নাকি স্পষ্ট বার্তা দেন।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুজন মন্ত্রী-সহ সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া এবং গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশী বদন বর্মন। সূত্রের দাবি, মমতা পরিষ্কার জানিয়েছেনদলে প্রবীণ-নবীন কোনও বিভেদ চলবে না। সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে।রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটে কোচবিহারের ৯টি বিধানসভার মধ্যে ৫টিতে তৃণমূল অল্প ব্যবধানে এগিয়েছিল, বাকি চারটিতে এগিয়েছিল বিজেপি। বরাবরই উত্তরবঙ্গ তৃণমূলের জন্য কঠিন এলাকা বলে ধরা হয়। লোকসভা নির্বাচনে সেই ছবি খানিক বদলালেও, সামনে বিধানসভা ভোট। এখন যদি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও বাড়ে, তা হলে দল আবারও পুরনো সমস্যায় পড়তে পারেএমন আশঙ্কা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

উত্তরবঙ্গে এনআরসির নোটিসে আতঙ্ক, মমতার মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল

বাংলায় এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের বিভিন্ন জায়গায় অসম সরকারের পক্ষ থেকে এনআরসি-র নোটিস পাঠানো হচ্ছিল। এ নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিল তৃণমূল। এবার সরাসরি মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পুলিশকে দিলেন কড়া নির্দেশ।বৈঠকে মমতা বলেন, বাংলার নাগরিকদের কাছে অসম সরকারের নোটিস পাঠানোর কোনও অধিকার নেই। নমঃশূদ্র ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি জানান, বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির প্রশ্নই নেই। তিনি বলেন, মানুষকে সম্মান নিয়ে বাঁচতে দিতে হবে, ভয় দেখিয়ে নয়। মমতা স্পষ্ট নির্দেশ দেন, অন্য রাজ্যের কেউ এসে বাংলার সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে পারবে না। পুলিশকে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনও অপরাধীকে ধরতে অন্য রাজ্য আসে, তাহলে রাজ্যের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের নামে অভিযোগ মানেই সে অপরাধী নয়।সাম্প্রতিক কয়েক মাসে আলিপুরদুয়ারের জটেশ্বরের এক গৃহবধূর কাছে এনআরসি নোটিস পৌঁছেছিল। কোচবিহারেও একই ঘটনা ঘটেছিল। সেই নিয়ে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও জল্পনা তৈরি হয়। এই প্রেক্ষিতেই মমতা ফের জানালেন, বাংলার মানুষকে এনআরসির নামে আতঙ্ক দেখিয়ে হেনস্থা করতে দেবেন না।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫
রাজ্য

ভোটের আগে তুঙ্গে উত্তাপ, নদিয়ায় মমতা—কী বার্তা দেবেন মতুয়া অধ্যুষিত জেলাকে?

রাজ্যে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার এখনও কয়েক মাস বাকি হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ এখন থেকেই বেড়েই চলেছে। দলগুলির চাপানউতোর, এসআইআর-এর কাজ এবং মাঠে মাঠে কর্মসূচিসব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ গরম। এই আবহেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় জনসভা শুরু করেছেন। এবার তাঁর সভা হতে চলেছে নদিয়ায়।আগামী ১১ ডিসেম্বর কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে মমতার জনসভা হওয়ার কথা। সেই সভার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে শনিবার সেখানে পৌঁছেছিলেন এডিজি সাউথ বেঙ্গল, কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের সুপার এবং অন্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কোথায় কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে, প্রবেশ পথের নিরাপত্তা কেমন হবেসবই পর্যালোচনা করা হয়েছে।এসআইআর চলাকালীন মমতার প্রথম সভা হয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। এরপর তিনি মালদহ ও মুর্শিদাবাদে সভা করেন। প্রতিটি জায়গায় তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দেন যে এসআইআর নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। তৃণমূল মানুষের পাশে আছে এবং শুধুই মানুষের রাজনীতি করেন, ভোটের রাজনীতি করেন নাএই বার্তাই বারবার দিয়েছেন তিনি।৯ ডিসেম্বর মমতার কোচবিহারে সভা রয়েছে। তার দুই দিন পরই নদিয়ার সভা। যদিও জেলা পুলিশের তরফে এখনও সরকারিভাবে সভার ঘোষণা স্বীকার করা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা তাঁদের কাছে এখনও পৌঁছোয়নি। কিন্তু মাঠ ঘুরে দেখে নেওয়া থেকে পরিষ্কার, প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, বনগাঁর মতো নদিয়াতেও বড় সংখ্যক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ থাকেন। তাই কৃষ্ণনগরের এই সভা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মমতা এই মঞ্চ থেকে কী বার্তা দেন, তা এখনই জল্পনার কেন্দ্রে।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

৭০% সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক, ৯০টি সিট—হুমায়ুনের নতুন অঙ্কে মমতার মাথাব্যথা বাড়ল?

বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের সুর তোললেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কয়েকদিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন যে নিজের দল গড়বেন এবং ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবেন। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি বললেন, তিনি বিধানসভায় অপজিশন হিসেবেই থাকতে চান। ভোটের এখনও সময় আছে, কিন্তু মুর্শিদাবাদের মাটি ইতিমধ্যেই নতুন রাজনৈতিক অঙ্ক কষতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাবরি মসজিদ ইস্যুই।হুমায়ুন দাবি করেন, বেলডাঙায় প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার। তাঁর দেওয়া তথ্যানুসারে, রাজ্যে মোট ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২ কোটি ৮২ লক্ষ ৫৩৩ জন সংখ্যালঘু এবং তার মধ্যে ২ কোটি ৪২ লক্ষ মানুষ বাঙালি মুসলমান। তাঁর বক্তব্য, যেসব এলাকায় মুসলিম ভোট ৪২ থেকে ৮২ শতাংশএমন প্রায় ৯০টি আসনে সংখ্যালঘুদের নিজেদের প্রতিনিধি পাঠানো উচিত। আর এই আসনগুলোকেই তিনি মূলত লক্ষ্য করেছেন।তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা কমেছে। তাঁর কথায়, ২০১১ সালে মুসলিম বিধায়ক ছিলেন ৬৭ জন, ২০১৬-তে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭-তে, আর ২০২১ সালে আরও কমে হয় ৪৪। এই পরিসংখ্যান দেখিয়ে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে বিঁধেছেন।হুমায়ুন বলেন, তিনি ৯০টি আসনে লড়বেন, আর বাকি ২০৪টি আসনে লড়াই হোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। তাঁর দাবি, তিনি সরকার গড়তে চান না, বরং বিধানসভায় বিরোধী শিবিরে থেকে লড়াই করবেন ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে। ২২ ডিসেম্বর তিনি নিজের দল ঘোষণা করবেন বলেও জানান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুনের এই ঘোষণা তৃণমূলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। শাসকদলের দাবি, এই সবই হচ্ছে বিজেপির পরোক্ষ মদত-এ। সংখ্যালঘু ভোটভাগের এই অঙ্ক মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
কলকাতা

মোদী গেলে বিজেপি শেষ, মমতা থাকলে তৃণমূল অজেয়—কল্যাণের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিজেপিতে যেমন নরেন্দ্র মোদি সবার মূল মুখ, তেমনই তৃণমূলে একমাত্র মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই মন্তব্য করলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, যত দিন মোদী রয়েছেন, তত দিন বিজেপি টিকে থাকবে। ঠিক সেই ভাবেই যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, তত দিন তৃণমূলকে কেউ নড়াতে পারবে না। কল্যাণের কথায়, দল চলে মমতার নামেই, বাকিরা কী বলছেন, তাতে দলের কিছু আসে যায় না।মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মন্তব্যে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মোদী থাকলে যেমন পদ্মফুল ফুটবে, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলে তৃণমূলকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। আগেও একাধিকবার তিনি বলেছেন, তাঁর কাছে একমাত্র নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্য কিছু তাঁর মাথায় থাকে না।তৃণমূলের অন্দরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন নতুন নয়। এক সময় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা নিয়ে বক্তব্য রাখায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তখন অনেকেরই মত ছিল, এতে তৃণমূলের অন্দরের নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতাদের অবস্থান বারবার আলোচনায় এসেছে।এই প্রসঙ্গে বিজেপির সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূলে এখনও এমন অনেক প্রবীণ নেতা রয়েছেন, যাঁরা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন। অন্য দিকে, তৃণমূলের মুখপাত্রের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখই আসলে তৃণমূলের মুখএ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।

ডিসেম্বর ০২, ২০২৫
রাজ্য

নির্বাচনের মুখে স্বাস্থ্য-ঝড় ডায়মন্ড হারবারে, মহেশতলা থেকে বড় ঘোষণা অভিষেকের

নির্বাচনের ঠিক আগে নিজের সংসদীয় এলাকায় ফের বড় উদ্যোগ শুরু করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার থেকে মহেশতলা বিধানসভা এলাকায় শুরু হল সেবাশ্রয় ২ স্বাস্থ্যশিবির। এই শিবিরের উদ্বোধন করেন তিনি নিজেই। ডায়মন্ড হারবার মডেল নিয়ে যে তিনি আত্মবিশ্বাসী, সেটাও স্পষ্ট করে দেন এই মঞ্চ থেকেই।এদিন তিনি জানান, মহেশতলায় আপাতত দুটি বড় স্বাস্থ্যশিবির করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ চিকিৎসার জন্য আসছেন। কাউকে ফেরানো হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অন্যান্য বিধানসভাতেও সাত দিনের করে একাধিক স্বাস্থ্যশিবির করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।তার দাবি, ইতিমধ্যেই সেবাশ্রয় ২-এর মাধ্যমে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। শুধু পরীক্ষা নয়, রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে বলেই জানান তিনি।সোমবার থেকেই ভোটার তালিকার বিশেষ পরিমার্জন বা এসআইআর নিয়ে সরব হন তিনি। শীতকালীন অধিবেশন শুরুর দিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন, সংসদ ড্রামা করার জায়গা নয়। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে মহেশতলার মঞ্চ থেকেই পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর জেরে বাংলায় প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁরা এসআইআর-এর বিরোধী নন, কিন্তু অপরিকল্পিত ভাবে এই কাজ চালানোর বিরোধিতা করছেন। ঠিকমতো প্রশিক্ষণ না দিয়ে বিএলওদের মাঠে নামানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।শুধু এসআইআর নয়, বঞ্চনার অভিযোগও ফের তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, হাইকোর্ট একশো দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিলেও এখনও তা মানেনি কেন্দ্র সরকার। রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র এক টাকাও দেয়নি।এদিন তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত সাত বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর বাবদ বাংলার কাছ থেকে কেন্দ্র প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা আদায় করেছে। অথচ রাজ্যের পাওনা প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা এখনও মেটানো হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি বছরে বছরে কেন্দ্রকে দেওয়া টাকার হিসেবও তুলে ধরেন।এই সমস্ত অভিযোগ ও রাজনৈতিক বার্তার মধ্যেই সেবাশ্রয় ২ ঘিরে মহেশতলা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
কলকাতা

বারাসাত মর্গে চোখ উধাও! প্রশাসনিক ব্যর্থতায় ফেটে পড়ল জনরোষ, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় অবরুদ্ধ

বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দেহ সংরক্ষণ নিয়ে ভয়াবহ গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। মর্গ থেকে এক মৃত ব্যক্তির একটি চোখ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মৃতদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করার সময় দেখা যায় এক চোখ নেই। এরপরেই মৃতের পরিবার চোখ চুরি হয়েছে বলে সোচ্চার হয়। মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার জেরে প্রায় ১০১৫ মিনিট মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকে পড়ে বলে জানা যায়।ঘটনার সূত্রপাতমালদার বাসিন্দা প্রীতম ঘোষ (৩৪) একটি পথদুর্ঘটনায় মারা যান। নিয়ম অনুযায়ী দেহ পাঠানো হয় বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। দিন কয়েক পর পরিবার দেহ নিতে আসলে তারা দেখে দেহের একটি চোখ নেই। পরিবারের দাবি, দেহ মর্গে পাঠানোর সময় চোখ ঠিক ছিল। দেহ নিতে আসার পর দেখা যায় একটি চোখ উধাও। এটা সাধারণ ভুল নয়, এটা চুরি। পরিবারের অভিযোগে উঠে আসে অঙ্গ পাচার চক্রের সম্ভাবনা। তাদের দাবি, হাসপাতালের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক।প্রচণ্ড উত্তেজনা, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় ঘিরে বিক্ষোভখবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে জটলা বাড়তে থাকে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন ঠাকুরনগর। ফেরার পথে তাঁর কনভয় ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্থানীয়রা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় থেমে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তাকর্মীরা তৎপর হন। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থামিয়ে নিজে নেমে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ শোনেন এবং সমবেদনা জানান।মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা: পুরো বিষয়টির তদন্ত হবেইবিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। দোষী কেউ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি মৃতের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য ও চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, দেহ যেখানে রাখা হয়েছিল, সেখানে ইঁদুরের উৎপাত ছিল। অঙ্গচ্ছেদ ইচ্ছাকৃত চুরি নয়, এটি রোডেন্ট ইনজুরি হতে পারে। তবে পরিবার এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের যুক্তি, ইঁদুর হলে কাটা অংশের চিহ্ন থাকত। আমরা যা দেখেছি, তা কোনওভাবেই ইঁদুরের কামড়ের মতো নয়।এদিকে এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, সরকারি হাসপাতালের মর্গ কতটা নিরাপদ? অঙ্গ পাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনও চক্র সক্রিয় কি না? শাসক শিবিরের দাবি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। পুলিশ-প্রশাসন জানিয়েছে, মর্গে দেহ রাখা এবং হস্তান্তরের সমস্ত প্রক্রিয়ার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মর্গের কর্মীদের পরিচয়, ডিউটি লগ, সিসিটিভি ডেটা, সবই পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও দেহ হস্তান্তর রিপোর্টও পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, মর্গে দেহই যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে কোথায় যাব? সরকারি হাসপাতালের মর্গে দেহ নিরাপদ না হলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়? এটা শুধু একটি পরিবারের ঘটনা নয়, পুরো পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

"আমি খেলতে নামলে কেউ ধরতে পারবেন না.." বনগাঁ থেকে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের রাজনীতি যখন SIR ঘিরে তপ্ত, ঠিক তখনই বনগাঁর ত্রিকোণ পার্কে সভামঞ্চে আগুনঝরা ভাষণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি প্রশ্ন তুললেন, কেন মাত্র দুই মাসে SIR করার এত তাড়াহুড়ো? তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট। জনগণকে আশ্বস্ত করে মমতার ঘোষণাআমরা থাকতে আপনাদের তাড়াতে দেব না। আমি বলছি, ভয় পাবেন না।সভা শুরুর আগেই ঘটে অদ্ভুত এক ঘটনা। নির্ধারিত সময়ের আগে হেলিকপ্টারের ইনস্যুরেন্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বাতিল হয় উড়ান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটি জানার পরই তাঁর মনে হয়েছেনির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই যেন কোথাও কোনও কনফ্রন্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। তবু তিনি হাস্যরসের সুরে বলেন, মজার খবর তো! এতে আমারই ভাল হয়েছে। রাস্তা দিয়ে আসতে এসে বহু মানুষের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটাই আমার জনসংযোগ।এরপরই বিজেপিকে সরাসরি উদ্দেশ করে তাঁর স্পষ্ট চ্যালেঞ্জবারবার বলছি, আমার সঙ্গে খেলতে যাস না। আমি খেলতে নামলে যে খেলাটা খেলব, সেখানে আমাকে ধরতেও পারবে না, ছুঁতেও পারবে না, নাগালও পাবে না।বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহারের অভিযোগও তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, সব এজেন্সি নিয়ে বসে থাক, কোটি কোটি টাকা খরচ করো। মানুষ টাকা নেবে, কিন্তু ভোট দেবে না। একবার টাকা দিলে সারা বছর চলবে কী করে?নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ টেনে মমতার মন্তব্য, তিনি কেবল ভোটের রাজনীতি করেন না, মানুষের রাজনীতি করেন। তাঁর কথায়, আমি যদি কিছু ধরি, শেষ করে ছাড়ি। তৃণমূল কংগ্রেস থাকতে কারও গায়ে হাত দিতে দেব না। রাস্তাই আমাকে রাস্তা দেখায়।SIR-প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, SIR করতে তিন বছর লাগে। আমরা SIR-এর বিরোধী নই। কিন্তু দুই মাসে করার কারণ কী? এর পিছনে কী উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে?বনগাঁর মঞ্চে তাঁর এই তীব্র আক্রমণ নিঃসন্দেহে নতুন করে গতি ফেলেছে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপে। SIR, মতুয়া ভোট, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাসবকিছু মিলিয়ে আগামী সময় রাজ্য রাজনীতিতে আরও ঝড় তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কলকাতা

মঞ্চ প্রস্তুত, ভিড় তৈরি—তবু কেন উড়তে পারল না মমতার হেলিকপ্টার? সামনে এল চাঞ্চল্যকর কারণ

মতুয়াগড়ে প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। মঞ্চ তৈরি, নিরাপত্তা মোতায়েন, রুটমার্চের পথ পুরোপুরি খালি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেনএই প্রত্যাশায় ঘিরে ফেলেছিল এলাকা। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তেই বদলে গেল পুরো সফরসূচি। হেলিকপ্টারে যাত্রা করার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হল না। বাধ্য হয়ে সড়কপথেই পৌঁছতে হল তাঁকে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্ধারিত হেলিকপ্টারের ইনস্যুরেন্স বা বিমা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে উড়ান বাতিল করতে হয়। এত বড় গলদ জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। যে সংস্থা হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষেবার দায়িত্বে ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই শোকজ নোটিশ জারি হয়েছে।পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এদিন স্পষ্ট জানান, সংস্থারই দায়িত্ব ছিল হেলিকপ্টারের বিমা সঠিক সময়ে নবীকরণ করা। কিন্তু তারা দাবি করেছে, লন্ডনের একটি সংস্থার মাধ্যমে এই ইন্সুরেন্স করানো হয়। সময়ের ফারাকের কারণ দেখিয়ে তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার আগে বিমা নবীকরণ সম্ভব নয়। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে শেষ মুহূর্তে তৈরি হল এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।যেখানে সমস্ত প্রস্তুতি আঁটসাঁট, সেখানে এমন প্রশাসনিক ফাঁক চোখে লাগার মতোই। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আয়োজনের মাঝে এই ভুলে একপ্রকার অস্বস্তি ছড়িয়েছে প্রশাসনের মধ্যেই।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কলকাতা

৯ দিনের মিশন! ব্যাগ গুছিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ অভিষেকের—তৃণমূলের ভিতরে কি চাপা উত্তেজনা?

ব্যাগ গুছিয়ে ৯ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ুন, এই কদিন আর বাড়ি ফেরা চলবে নাসোমবারের বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত এমনই কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন দলের নেতাদের। SIR-এর কাজ প্রায় শেষের দিকে, তবুও জেলার কাজের গতিপ্রকৃতি এবং দিদির দূত অ্যাপে তথ্য আপলোডে নিয়মিত ঢিলেমি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সেই কারণেই নতুন করে ১৩ জনের একটি বিশেষ টিম তৈরি করে দিলেন অভিষেক। এই সদস্যরা আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে দেখবেন SIR প্রকল্প ঠিকমতো হচ্ছে কি না, বিএলএ২রা কাজ কীভাবে সামলাচ্ছেন এবং অ্যাপে যেসব তথ্য তোলা দরকার, তা আদৌ ঠিকভাবে আপলোড হচ্ছে কি না।পার্টির তরফে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, যে সব নেতা বিএলএ২ হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের অ্যাপে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তথ্য ঠিকমতো তুলছেন না তাঁরা। অভিষেক এদিন বৈঠকে সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরই ১৩ জন নেতাকে পৃথক পৃথক জেলায় পাঠানো হয়। তাঁদের বলা হয়েছে কোঅর্ডিনেটর। কাজ সম্পূর্ণ না হলে কেউ ফিরতে পারবেন না। জেলায় জেলায় তৃণমূলের তৈরি ওয়ার রুমেও যেতে হবে তাঁদের।এই তালিকায় রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, মানস ভুঁইয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বেচারাম মান্না, দিলীপ মণ্ডল, সুজিত বসু, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, উদয়ন গুহ, সামিরুল ইসলাম-সহ আরও কয়েকজন। তাঁদের মূল দায়িত্বমাঠ পর্যায়ে SIR কাজ গতি পাওয়া, অভিযোগ শুনে সমাধান করা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রতিদিন রিপোর্ট দেওয়া।এদিকে বিজেপি মনে করছে, তৃণমূলের এই জরুরি মোতায়েন আতঙ্কেরই প্রমাণ। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা মন্তব্য করেছেন, যখন শিয়রে যম থাকে তখন এমনই উত্কণ্ঠা দেখা দেয়। তৃণমূলের মধ্যেও সেই একই অবস্থা। এখন অবিশ্বাস আর হতাশা বাড়বে। এটা গৃহযুদ্ধের আগের পর্ব। এভাবেই তৃণমূল শেষ হয়ে যাবে।cরাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে অভিষেকের এই কড়া শৃঙ্খলাবিধান এবং সংগঠনকে আবার মাঠে নামানোর উদ্যোগদলের ভিতরে চাপা অস্থিরতারই প্রতিফলন। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব বলছে, এটি কেবলই সংগঠনের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার রুটিন ব্যবস্থা।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
কলকাতা

"এসআইআর কি মৃত্যুকূপ?" কৃষ্ণনগরে বিএলওর আত্মহত্যায় তীব্র আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী

কৃষ্ণনগরে বিএলও রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ফের সরগরম। মৃত্যুর আগে পাওয়া তাঁর সুইসাইড নোটে কাজের অতিরিক্ত চাপ ও নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকেই দায়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠতেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে আক্রমণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেনআর কতজনের প্রাণ যাবে এই এসআইআর-এর জন্য? আর কত মৃতদেহ দেখতে হবে আমাদের?মুখ্যমন্ত্রী জানান, রিঙ্কু তরফদার পার্শ্বশিক্ষক ছিলেন, পাশাপাশি বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। গভীর মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁর সুইসাইড নোটেই নাকি স্পষ্ট লেখা রয়েছে, এসআইআর-এর চাপ তাঁর পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব ছিল না। সেই নোট প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রশ্ন তুলেছেন মমতাএই প্রক্রিয়া চালু রেখে কমিশন কি মানুষের জীবনের মূল্য ভুলে যাচ্ছে?তবে এই ঘটনার দায় উল্টে রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল জানান, কমিশন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করতে বলেছিল, যাতে বিএলওদের ওপর অতিরিক্ত ডিজিটাল কাজের চাপ না পড়ে। কিন্তু রাজ্য সরকার তা মানেনি। তাঁর দাবি, রিঙ্কু অনলাইনে কাজ করতে পারতেন না। যদি ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রাখা হত, তাহলে হয়তো এই ট্র্যাজেডি ঘটত না। তাঁর কথায়, এই মৃত্যুর দায় সম্পূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর।এদিকে রিঙ্কুর মৃত্যুর পরই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল নদিয়ার জেলাশাসকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। কী কারণে এই মৃত্যু, কী ধরনের কাজের চাপ ছিলএসব তথ্য দ্রুত জমা দিতে বলা হয়েছে।এর আগেও একই অভিযোগ উঠেছিল জলপাইগুড়ির মালবাজারে। সেখানেও এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপেই বিএলও শান্তি মুনি ওরাঁও আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন তাঁর পরিবার। সেই ঘটনার পর মমতা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি পাঠান। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের আরেক বিএলও-র মৃত্যুতে আরও ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।এসআইআর নিয়ে যে বিস্ফোরণধর্মী চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের সর্বস্তরে প্রশ্নএভাবে কি চলতে পারে? আর একজন কর্মকর্তার মৃত্যু কি প্রশাসন ও কমিশনকে নাড়া দেবে? কৃষ্ণনগরের এই ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলল।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
রাজ্য

“কাজের চাপে মরতে বাধ্য করল!”—সুইসাইড নোটে বিস্ফোরক অভিযোগ, কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী মহিলা BLO

কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকা শনিবার সকালে ঘুম ভাঙতেই যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল মহিলা বিএলও রিঙ্কু তরফদারের নিথর দেহ। বয়স চুয়ান্ন। পেশায় পার্শ্বশিক্ষিকা, চাপড়া বাঙালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরে পড়াতেন। পাশাপাশি চাপড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের ব্লক লেভেল অফিসার হিসেবেও কাজ করতেন। কিন্তু সবকিছুর মাঝেই যেন গোপনে তৈরির হচ্ছিল চাপের পাহাড়। সেই চাপই কি শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ?পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে রিঙ্কু দেবী স্পষ্ট লিখে গিয়েছেনঅসহ্য মানসিক চাপ, অনবরত কাজের বোঝা ও অবাস্তব সময়সীমার চাপে তিনি আর বাঁচতে পারছেন না। অভিযোগের তীর সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দিকে। নোটে লেখা, সংসারে কোনো অভাব নেই, রাজনৈতিক বিদ্বেষও নেইতবু এই সামান্য চাকরির জন্য তাঁকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে যে, আর পথ খোলা ছিল না।নোটে তিনি আরও জানান, অফলাইন কাজের প্রায় সবটাই শেষ করে ফেললেও অনলাইন প্রক্রিয়া সামলাতে না পারায় তিনি ক্রমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। একের পর এক জানানো সত্ত্বেও বিডিও অফিস ও সুপারভাইজার নাকি তাঁর প্রতি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর কথায়২০১ নম্বর পার্টে লোক না থাকায় তাঁর কাঁধে অস্বাভাবিক পরিমাণ দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অথচ পরে অন্য বুথের লোকজনকে বিভিন্ন পার্টে নিয়োগ করা হয়।শেষে তিনি লিখেছেনএখন আমার সুখের সময় ছিল। কিন্তু ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না। এই লাইনই যেন কাঁটার মতো বিঁধছে গোটা কৃষ্ণনগরে।ঘটনার পর রাজনৈতিক মহল উত্তাল। তৃণমূল সরাসরি কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলছেডিজিটাল কাজের জটিলতা, অযৌক্তিক সময়সীমা, রাতভর নজরদারি আর শাস্তির আতঙ্কে প্রশাসনিক কর্মীদের ওপর যে মানসিক নির্যাতন চলছে, তা একেবারেই বরদাস্তযোগ্য নয়।অন্যদিকে সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলছেএকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি কি এতটাই মানুষ-খেকো হয়ে উঠেছে যে, কর্মীরা প্রাণ দিচ্ছেন চাপের কাছে হার মেনে?কৃষ্ণনগরের শান্ত এলাকা এখন উত্তেজনায় ফাটা। তদন্ত চলছে, কিন্তু একটি প্রশ্ন বার বার ফিরে আসছেএই মৃত্যু কি নিছক অস্বাভাবিক? নাকি প্রশাসনিক চাপের কাছে হার মেনে নেওয়া এক মর্মান্তিক আত্মসমর্পণ?

নভেম্বর ২২, ২০২৫
দেশ

শাহের কড়া পোস্ট—“কিছু দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে”! কার দিকে ইঙ্গিত?

বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করতে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই পদক্ষেপেই ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নাম না করলেও তাঁর আক্রমণের তির যে মমতার দিকেই ছুটে গিয়েছে, তা পরিষ্কার। শাহ অভিযোগ তুলেছেনঅনুপ্রবেশকারীদের নাকি সুরক্ষা দিচ্ছেন কিছু রাজনৈতিক দল, আর সেই কারণেই তারা ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণে বাধা দিচ্ছে।শুক্রবার স্বরাষ্ট্র দফতরের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যমে অমিত শাহর বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে যেমন অনুপ্রবেশ রোধ করা জরুরি, তেমনই গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাঁর অভিযোগ, দুর্ভাগ্যবশত, কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে এতটাই আগ্রহী যে, তারা নির্বাচন কমিশনের কাজেরও বিরোধিতা করছে।রাজনৈতিক মহল বলছে, এই মন্তব্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে। কারণ কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী চিঠি লিখে কমিশনকে জানিয়েছেনএসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। তাঁর অভিযোগ, হুট করে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া মাঠে কাজ করা বিএলওদের উপর বিরাট চাপ তৈরি করছে, অথচ তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি। মমতার মতে, এই চাপ শুধু অযৌক্তিক নয়, বিপজ্জনকও। কারণ সাম্প্রতিক অতীতে জলপাইগুড়ির মাল এলাকায় এক বিএলওর আত্মহত্যা, মেমারিতে আরেক বিএলও-র মৃত্যুদুটো ঘটনাই প্রশ্ন তুলেছে এসআইআর প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত চাপ নিয়ে।মমতার চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছেচলমান এসআইআর বন্ধ করা, বিএলওদের উপর জবরদস্তি বন্ধ করা এবং তাঁদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজ চালানো জরুরি। কিন্তু সেই চিঠির ঠিক পরেই শাহের কড়া অবস্থান কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।তবে তৃণমূল শিবির শাহের অভিযোগ মানতে নারাজ। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা বলেন, এসআইআর দু বছর ধরে চললে অসুবিধা নেই। কিন্তু কেন্দ্র কেন বলছে দেড় মাসে করতে হবে? উনি কেন কমিশনের কাজে নাক গলাচ্ছেন? তাঁর মন্তব্যশাহ যে কমিশনের নামে সরাসরি রাজনৈতিক চাপ দিচ্ছেন, তা আর লুকোনো নয়।এসআইআর নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে যে উত্তেজনা তুঙ্গে, সেই ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হল দুই পক্ষের এই চিঠি যুদ্ধ-এ।

নভেম্বর ২১, ২০২৫
কলকাতা

“এসআইআর বন্ধ করুন”—নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি মমতার, আতঙ্কে রাজ্য

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক ও অমানবিক। অবিলম্বে প্রক্রিয়া বন্ধ বা স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কয়েক হাজার বিএলও দিনরাত রাস্তায় ঘুরে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই, নেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বড় কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। এতে এমন সব ভুল-ত্রুটি তৈরি হবে, যার দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বইতে হবে। অনেক প্রকৃত ভোটার ভুলবশত বাদ পড়ে যেতে পারেন। মমতার কথায়, এভাবে চাপিয়ে দেওয়া হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়বে।চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন আত্মহত্যা, অসুস্থতা, হতাশার খবর আসছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে। ইতিমধ্যেই এক বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও বহু বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের ওপর ভয়ঙ্কর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মমতার দাবি, এই পরিস্থিতি বোঝার বদলে কলকাতার সিইও দপ্তর উল্টো বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে, শোকজ করছে, কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অমানবিক করে তুলছে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় দায়িত্ব কি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করা সম্ভব? ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত ডেটা আপলোড করার যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশঙ্কা, চরম চাপে ভুলভ্রান্তি অনিবার্য, আর ভুল ফর্ম জমা পড়লে প্রকৃত ভোটারই সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে লিখেছেন, এই প্রক্রিয়া যে উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি মানুষের ভয়, দুর্দশা ও অস্থিরতা সরাসরি অনুভব করছেন। সেই কারণেই এসআইআর স্থগিত বা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপও চান।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
কলকাতা

গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত! মমতার চার পাতার চিঠি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়

গোর্খাল্যান্ডের আলাদা প্রশাসনের দাবিতে এক সময় পাহাড় উত্তাল হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। রাজ্য সরকার বরাবরই পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মধ্যস্থতার ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সেই মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করেই এবার রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে নতুন সংঘাত দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দার্জিলিং, তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংহকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে। আর এই নিয়োগকে ঘিরেই আপত্তি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চার পাতার চিঠি পাঠিয়ে জানালেন রাজ্যের অসন্তোষ।এর আগে গত মাসেও একই ইস্যুতে মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠির পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছিল যে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দফতরকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু মমতার অভিযোগ, কোনও আলোচনার তোয়াক্কা না করেই আবারও নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। তাঁর কথায়, জিটিএ-র মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের আগে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল, কিন্তু কেন্দ্র সেই পথ নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাক্তন আমলাদের এইভাবে বিশেষ দায়িত্ব দিলে তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক আনুগত্যের ঝোঁক বাড়ে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।মমতার অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে। অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশ সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্র দফতর রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি; উল্টে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রাক্তন আইপিএস ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন বলে জানানো হয়েছে। মমতার বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা পাহাড়ের শান্তি ও স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে পারে।তবে এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো চিঠির কোনও মূল্যই নেই। শুভেন্দুর মন্তব্য, কেন্দ্র আইন বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একজন প্রাক্তন আইপিএসকে নিয়ে অভিযোগ তোলার কোনও মানে হয় না। রাজ্যের অভিযোগকে তিনি ফালতু বলেই সমালোচনা করেছেন।পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। জিটিএ নিয়ে কেন্দ্ররাজ্য সংঘাত নতুন করে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা দার্জিলিং পাহাড়।

নভেম্বর ১৮, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ...
  • 30
  • 31
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

লোকসভায় বড় ধাক্কা, বিল পাশ না হতেই পথে বিজেপি! এবার লক্ষ্য বাংলা-তামিলনাড়ু

লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এই প্রথম সংসদে এমন পরাজয়ের মুখে পড়তে হল সরকারকে। প্রয়োজনীয় সমর্থন না মেলায় বিলটি পাশ করা সম্ভব হয়নি।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শাসকদল (BJP) এবার দেশজুড়ে প্রচারে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তাদের মহিলা বিরোধী বলে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এই প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দুই রাজ্যকে, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু। কারণ, এই দুই রাজ্যেই সামনে নির্বাচন রয়েছে। শাসকদলের লক্ষ্য, মহিলাদের জন্য সংরক্ষণে বিরোধিতা করেছে বিরোধীরাএই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া (BJP) ।সংসদে বিল পাশ না হওয়ার পরই শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। এর পাশাপাশি মহিলা সাংসদদের নেতৃত্বে প্রতিবাদও শুরু হয় সংসদ চত্বরে।অন্যদিকে বিরোধী দলগুলিও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে তৎপর। তারা দাবি করছে, তারা সংরক্ষণের বিরোধী নয়, বরং আসন পুনর্বিন্যাসের কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, মহিলাদের সংরক্ষণের পক্ষে তারা আগেও ছিল, এখনও রয়েছে (BJP) ।এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এই ইস্যু আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
কলকাতা

বুথে ‘লক্ষ্মণরেখা’! একশো মিটার ঘিরে কড়া পাহারা, ভোটে নজিরবিহীন কড়াকড়ি

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার একের পর এক নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি বুথে থাকবে সর্বক্ষণ নজরদারি এবং ব্যবহার করা হবে আধুনিক প্রযুক্তি। বুথের চারপাশে প্রায় একশো মিটার এলাকা সাদা চক দিয়ে ঘিরে একটি নির্দিষ্ট সীমানা তৈরি করা হবে। এই সীমানার ভিতরে শুধুমাত্র ভোটারদেরই প্রবেশের অনুমতি থাকবে, অন্য কেউ ঢুকতে পারবেন না।ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বুথের বাইরে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বুথ লেভেল কর্মী এবং তাঁর সহকারী এই নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে বসে নথি পরীক্ষা করবেন। বুথের বাইরে টেবিল বসিয়ে সেখানেই এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।ভোটার স্লিপ বিলির ক্ষেত্রেও কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি ভোটারদের হাতে স্লিপ পৌঁছে দিতে হবে। যাঁদের হাতে স্লিপ দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাঁদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। ভোটের দিন সেই ভোটার উপস্থিত হলে কেন আগে স্লিপ নেননি, তাও জানতে চাওয়া হতে পারে। সঠিক নথি ও ছবির মিল দেখেই ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।ভুয়ো ভোট আটকাতে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা মৃত ভোটারদের তালিকাও আবার খতিয়ে দেখা হবে। নজরদারি আরও জোরদার করতে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের শরীরে লাগানো ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। বুথের আশেপাশে কোনও সন্দেহজনক ঘটনা নজরে এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সব মিলিয়ে ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোট চলাকালীন কোন আচরণ অপরাধ হিসেবে ধরা হবে, তা নিয়ে আগাম প্রচার চালানো হবে এবং সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
কলকাতা

পনেরো ঘণ্টার তল্লাশি ঘিরে তুমুল বিতর্ক! কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল

শুক্রবার দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালায় আয়কর দফতর। প্রায় পনেরো ঘণ্টা ধরে এই তল্লাশি চলে এবং সেই সময় তাঁর বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে।তৃণমূলের অভিযোগ, কোনও আইনি ভিত্তি ছাড়াই একজন জনপ্রতিনিধিকে এইভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন এই ধরনের পদক্ষেপ আইন বিরুদ্ধ বলেই দাবি করা হয়েছে চিঠিতে। কেন ভোটের আগে এত দীর্ঘ সময় ধরে একজন প্রার্থীকে বাড়ির মধ্যে আটকে রেখে তল্লাশি চালানো হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় নিজেদের সম্পত্তির সমস্ত তথ্য আগেই জানিয়ে দেন। সেই অবস্থায় হঠাৎ করে এই তল্লাশি কেন করা হল, তা স্পষ্ট নয়। তৃণমূলের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ ভোটের আগে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলতেই করা হচ্ছে।দলের এক নেতা বলেন, ভোটের আগে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগের নির্বাচনেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।ভোটের আবহে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
রাজ্য

চার্জশিট দিতে দেরি, বড় ফায়দা অভিযুক্তদের! বেলডাঙ্গা কাণ্ডে ১৫ জন জামিনে মুক্ত

বেলডাঙ্গা হিংসা মামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিল বিশেষ আদালত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে না পারায় ১৫ জন অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা নব্বই দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা করতে পারেনি বলেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।মোট পঁয়ত্রিশ জন ধৃতের মধ্যে পনেরো জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে জামিন পেলেও তাঁদের উপর একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা কলকাতা পুরসভা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। মামলার শুনানির দিন তাঁদের আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রত্যেককে দশ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে।চলতি বছরের শুরুতে ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের খুনের অভিযোগ ঘিরে মুর্শিদাবাদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদেহ বাড়িতে ফিরতেই বেলডাঙ্গায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার একটি অংশে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত হন সংবাদকর্মীরাও। সেই সময় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি উঠেছিল। পরে আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়। মামলাটি উচ্চ আদালত হয়ে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষে তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায় এবং তারা তদন্ত শুরু করে।এই অবস্থায় চার্জশিট জমা দিতে দেরি হওয়ায় অভিযুক্তদের জামিন মেলায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
রাজ্য

ফের চাঞ্চল্য আইআইটি খড়গপুরে! ছাত্রের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, রহস্য ঘনীভূত

আইআইটি খড়গপুরে ফের এক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত পড়ুয়ার নাম জয়বীর সিং দোড়িয়া। একুশ বছর বয়সী এই ছাত্র মেনুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তৃতীয় বর্ষে পড়তেন। তিনি আইআইটি খড়গপুরের নেহেরু হলে থাকতেন।শনিবার সকালে নেহেরু হলের নীচ থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর বাড়ি গুজরাতের আহমেদাবাদে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনায় গোটা ক্যাম্পাসে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ষোলো মাসে এই নিয়ে আটজন পড়ুয়া ও গবেষকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটল আইআইটি খড়গপুরে। এর মধ্যে সাতটি ঘটনাই ঘটেছে ক্যাম্পাসের ভেতরে। পাঁচজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল।সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে এক পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়েছিল রেললাইনের ধারে। সেই ঘটনাও ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল।এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নেহেরু হল থেকে তিনি কীভাবে অন্য একটি হলের ছাদে পৌঁছলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কখন তিনি বেরিয়েছিলেন, তা জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার পর ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত! আকাশপথে জেলায় জেলায় সিইও, চাঞ্চল্য রাজ্যে

নির্বাচনের আগে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবার হেলিকপ্টারে করে জেলায় জেলায় সফর করবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal। এতদিন সড়কপথে সফর হলেও এবার দ্রুত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পৌঁছতে আকাশপথ বেছে নেওয়া হয়েছে।আগামী ২০ ও ২১ এপ্রিল তিনি মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার এবং পশ্চিম মেদিনীপুর সফর করবেন। এই জেলাগুলিতে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ রয়েছে। তার আগে প্রস্তুতি কতটা সম্পূর্ণ, তা খতিয়ে দেখবেন তিনি। এই সফরের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে হেলিকপ্টার ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এর আগে ২০০৬ সালে তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেন ভোটের আগে হেলিকপ্টারে জেলা সফর করেছিলেন। প্রায় ২০ বছর পর আবার সেই ধরনের উদ্যোগ দেখা গেল।কয়েক মাস আগেই তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী দফতরে বিক্ষোভের ঘটনার পর গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর নিরাপত্তা ওয়াই প্লাস স্তরে উন্নীত করা হয়। এবার তাঁর সফরকে আরও দ্রুত এবং নিরাপদ করতে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।রাজ্যে এ বার দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার পর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট রয়েছে। এর আগে তিনি একাধিক জেলায় গিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও দাবি শুনেছেন।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
রাজ্য

দেশ ভাগের চক্রান্ত? ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস বিল পেশ হতেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দক্ষিণের একাধিক রাজ্য বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছে। এবার সেই বিরোধিতায় সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।কোচবিহারে নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিলের মাধ্যমে দেশকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র আগাম ফলাফল বুঝতে পেরে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে। তিনি বলেন, এখন যখন লোকসভায় ৫৪১টি আসন রয়েছে, তা বাড়িয়ে ৮৫০-এর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, এইভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং বা শিলিগুড়ির মতো জায়গার অস্তিত্বই মুছে যেতে পারে।বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং এক মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই চলবে। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধেও একসময় প্রতিবাদ হয়েছিল এবং আজও সেই লড়াইয়ের মানসিকতা বজায় রয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলার উপর বারবার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং অতীতে ভোটের সময় হিংসার ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর দাবি, বাংলা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে মানুষই শেষ কথা বলবে। এই মন্তব্যের পর ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
বিদেশ

বড় স্বস্তি বিশ্বে! হরমুজ প্রণালী খুলতেই তেলের বাজারে নয়া আশার আলো

অবশেষে বিশ্বের জন্য বড় স্বস্তির খবর এল। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা করেছে Iran। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের জেরে এই জলপথ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এবার সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য তা আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তেল, গ্যাস সহ বিভিন্ন জ্বালানি পরিবহনে আর বাধা থাকছে না বলে মনে করা হচ্ছে।লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। প্রায় ৪০ দিনেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর শুক্রবার ফের হরমুজ প্রণালী চালু করার কথা জানানো হয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি জানিয়েছেন, যতদিন এই সংঘর্ষবিরতি কার্যকর থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা হবে। তবে নির্দিষ্ট রুট মেনেই জাহাজ চলাচল করতে হবে, যা আগেই ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা ঘোষণা করেছিল।ইরানের এই ঘোষণায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং ধন্যবাদ জানান।তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের বন্দরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ এখনও বলবৎ থাকবে। তাদের দাবি, সম্পূর্ণভাবে স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হবে। এর ফলে ভারতের মতো দেশ, যারা ইরান থেকে সরাসরি তেল আমদানি করে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে।উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পরই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হয়ে ওঠে এবং গ্যাসের বাজারেও চাপ বাড়ে। এখন হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় সেই সঙ্কট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal