• ১২ বৈশাখ ১৪৩৩, সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Ban

কলকাতা

"এসআইআর কি মৃত্যুকূপ?" কৃষ্ণনগরে বিএলওর আত্মহত্যায় তীব্র আক্রমণে মুখ্যমন্ত্রী

কৃষ্ণনগরে বিএলও রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ফের সরগরম। মৃত্যুর আগে পাওয়া তাঁর সুইসাইড নোটে কাজের অতিরিক্ত চাপ ও নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকেই দায়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠতেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনকে আক্রমণ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেনআর কতজনের প্রাণ যাবে এই এসআইআর-এর জন্য? আর কত মৃতদেহ দেখতে হবে আমাদের?মুখ্যমন্ত্রী জানান, রিঙ্কু তরফদার পার্শ্বশিক্ষক ছিলেন, পাশাপাশি বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। গভীর মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁর সুইসাইড নোটেই নাকি স্পষ্ট লেখা রয়েছে, এসআইআর-এর চাপ তাঁর পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব ছিল না। সেই নোট প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রশ্ন তুলেছেন মমতাএই প্রক্রিয়া চালু রেখে কমিশন কি মানুষের জীবনের মূল্য ভুলে যাচ্ছে?তবে এই ঘটনার দায় উল্টে রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল জানান, কমিশন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করতে বলেছিল, যাতে বিএলওদের ওপর অতিরিক্ত ডিজিটাল কাজের চাপ না পড়ে। কিন্তু রাজ্য সরকার তা মানেনি। তাঁর দাবি, রিঙ্কু অনলাইনে কাজ করতে পারতেন না। যদি ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রাখা হত, তাহলে হয়তো এই ট্র্যাজেডি ঘটত না। তাঁর কথায়, এই মৃত্যুর দায় সম্পূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর।এদিকে রিঙ্কুর মৃত্যুর পরই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল নদিয়ার জেলাশাসকের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। কী কারণে এই মৃত্যু, কী ধরনের কাজের চাপ ছিলএসব তথ্য দ্রুত জমা দিতে বলা হয়েছে।এর আগেও একই অভিযোগ উঠেছিল জলপাইগুড়ির মালবাজারে। সেখানেও এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপেই বিএলও শান্তি মুনি ওরাঁও আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন তাঁর পরিবার। সেই ঘটনার পর মমতা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি পাঠান। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের আরেক বিএলও-র মৃত্যুতে আরও ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।এসআইআর নিয়ে যে বিস্ফোরণধর্মী চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের সর্বস্তরে প্রশ্নএভাবে কি চলতে পারে? আর একজন কর্মকর্তার মৃত্যু কি প্রশাসন ও কমিশনকে নাড়া দেবে? কৃষ্ণনগরের এই ঘটনা সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলল।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
বিনোদুনিয়া

দিতিপ্রিয়ার লিখিত অভিযোগে নতুন ঝড়! রাত পোহাতেই বিস্ফোরণ! শুটিংয়ে ফিরলেন জীতু

সিরিয়ালের সেটে শান্তি ফিরতে না ফিরতেই ফের ঝড়। শুক্রবার বৈঠক মিটিয়ে চিরদিনই তুমি যে আমার-এর শুটিংয়ে ফিরেছিলেন জীতু কমল। মনে হয়েছিল, অপু-আর্য জুটির তিক্ততা মিলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মাত্র রাত কাটতেই টেলিপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ল এক নতুন তথ্যদিতিপ্রিয়া রায় নাকি সহ-অভিনেতা জীতুর বিরুদ্ধে মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন।শোনা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরন্তর আক্রমণ, কটূক্তি এবং জীতু সমর্থকদের বিদ্বেষমূলক মন্তব্যে মানসিকভাবে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন দিতিপ্রিয়া। কাজেও নাকি মন বসাতে পারছেন না। সেই কারণেই আর্টিস্ট ফোরামে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি।অন্দরমহল সূত্র জানাচ্ছে, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছে যে দিতিপ্রিয়া নিজেই নাকি সিরিয়াল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চান। যদিও বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, কিন্তু মহিলা কমিশনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের খবর আর গুঞ্জন নয়। কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় নিজেই জানান, দিতিপ্রিয়া তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। কী করা যেতে পারে, সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছেন। লীনা স্পষ্ট করে দেনলিখিত অভিযোগ এখনও কমিশনে আসেনি, কিন্তু আর্টিস্ট ফোরামে দিতিপ্রিয়া অভিযোগ জানিয়েছেন, তা তাঁর জানা আছে।অন্যদিকে আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, মেইলে দিতিপ্রিয়া কিছু জানিয়েছেন ঠিকই, তবে মেইল পড়ার সুযোগ এখনও হয়নি। অর্থাৎ, অভিযোগের বিষয়বস্তু আরও খোলসা হতে বাকি।এই টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল গত সোমবারের বৈঠক থেকে। চিরদিনই তুমি যে আমার-এর শুটিং বারবার থেমে যাওয়া নিয়ে প্রযোজনা সংস্থা বৈঠক ডেকে বসে। সেখানে নাকি জীতুদিতিপ্রিয়ার মতভেদ এতটাই প্রবল ছিল যে, জীতু মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই জোর গুঞ্জননায়ক কি বদলানো হচ্ছে? সোশ্যাল মিডিয়ায় রটতে থাকে, জীতুর বদলে আসতে পারেন রণজয় বিষ্ণু।কিন্তু বৃহস্পতিবার টিআরপি প্রকাশের পর জীতু জানান, তিনি আর্য চরিত্রেই থাকছেন। শুক্রবার কল টাইম পেয়ে শুটিংয়েও যান। অথচ পরের দিনই সামনে এল উলটো খবরঝামেলা এখনও আগের জায়গাতেই। অপু-আর্যর সমস্যা যে মোটেই মেটেনি, তা ফের স্পষ্ট।টেলিপাড়ায় এখন একটাই প্রশ্নএই দ্বন্দ্বের শেষ কোথায়? শুটিং কি আবার থমকে যাবে? নাকি আগুনের ভিতর থেকেই বেরোবে নতুন সমাধান?

নভেম্বর ২২, ২০২৫
রাজ্য

“কাজের চাপে মরতে বাধ্য করল!”—সুইসাইড নোটে বিস্ফোরক অভিযোগ, কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী মহিলা BLO

কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকা শনিবার সকালে ঘুম ভাঙতেই যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল মহিলা বিএলও রিঙ্কু তরফদারের নিথর দেহ। বয়স চুয়ান্ন। পেশায় পার্শ্বশিক্ষিকা, চাপড়া বাঙালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরে পড়াতেন। পাশাপাশি চাপড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের ব্লক লেভেল অফিসার হিসেবেও কাজ করতেন। কিন্তু সবকিছুর মাঝেই যেন গোপনে তৈরির হচ্ছিল চাপের পাহাড়। সেই চাপই কি শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ?পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে রিঙ্কু দেবী স্পষ্ট লিখে গিয়েছেনঅসহ্য মানসিক চাপ, অনবরত কাজের বোঝা ও অবাস্তব সময়সীমার চাপে তিনি আর বাঁচতে পারছেন না। অভিযোগের তীর সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দিকে। নোটে লেখা, সংসারে কোনো অভাব নেই, রাজনৈতিক বিদ্বেষও নেইতবু এই সামান্য চাকরির জন্য তাঁকে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে যে, আর পথ খোলা ছিল না।নোটে তিনি আরও জানান, অফলাইন কাজের প্রায় সবটাই শেষ করে ফেললেও অনলাইন প্রক্রিয়া সামলাতে না পারায় তিনি ক্রমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। একের পর এক জানানো সত্ত্বেও বিডিও অফিস ও সুপারভাইজার নাকি তাঁর প্রতি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর কথায়২০১ নম্বর পার্টে লোক না থাকায় তাঁর কাঁধে অস্বাভাবিক পরিমাণ দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অথচ পরে অন্য বুথের লোকজনকে বিভিন্ন পার্টে নিয়োগ করা হয়।শেষে তিনি লিখেছেনএখন আমার সুখের সময় ছিল। কিন্তু ওরা আমাকে বাঁচতে দিল না। এই লাইনই যেন কাঁটার মতো বিঁধছে গোটা কৃষ্ণনগরে।ঘটনার পর রাজনৈতিক মহল উত্তাল। তৃণমূল সরাসরি কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলছেডিজিটাল কাজের জটিলতা, অযৌক্তিক সময়সীমা, রাতভর নজরদারি আর শাস্তির আতঙ্কে প্রশাসনিক কর্মীদের ওপর যে মানসিক নির্যাতন চলছে, তা একেবারেই বরদাস্তযোগ্য নয়।অন্যদিকে সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তুলছেএকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি কি এতটাই মানুষ-খেকো হয়ে উঠেছে যে, কর্মীরা প্রাণ দিচ্ছেন চাপের কাছে হার মেনে?কৃষ্ণনগরের শান্ত এলাকা এখন উত্তেজনায় ফাটা। তদন্ত চলছে, কিন্তু একটি প্রশ্ন বার বার ফিরে আসছেএই মৃত্যু কি নিছক অস্বাভাবিক? নাকি প্রশাসনিক চাপের কাছে হার মেনে নেওয়া এক মর্মান্তিক আত্মসমর্পণ?

নভেম্বর ২২, ২০২৫
রাজ্য

FIP–এ বায়োমেট্রিক ধরে ফেলল সব! বহু বাংলাদেশির কাছে মিলল ভারতীয় নথিও

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে ফের তীব্র হল BSFএর নজরদারি। গত মাত্র সাতআট দিনের মধ্যেই স্বরূপনগরের হাকিমপুর ও তারালি সীমান্ত থেকে অন্তত ১৭২০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের অভিযোগেই তাঁদের প্রত্যাবর্তন। সীমান্ত জুড়ে এই সংখ্যাটি প্রশাসনকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।BSF এবং পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক। কেউ কাজের সন্ধানে, কেউ আত্মীয়ের কাছে, আবার কেউ পাচারকারীর মাধ্যমে দালাল চক্রের হাত ধরে অবৈধভাবে এইপারে এসেছিলেন। ধরা পড়ার পর তাঁদের প্রত্যেককে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট সুরক্ষা কেন্দ্রে, যেখানে প্রথমেই ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে তাঁদের বায়োমেট্রিক, ফেসিয়াল ও ডেমোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই সমস্ত তথ্য পাঠানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের কাছে, যেখানে খতিয়ে দেখা হচ্ছেভারতে এসে কেউ কোনও অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।পুলিশি ক্লিয়ারেন্স মেললেই তাঁদের বাংলাদেশে ফেরানো হচ্ছে। আর সেখানেই সামনে আসছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের কাছ থেকে একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছেআধার, ভোটার আইডি, এমনকি প্যান কার্ডও। ফলে সীমান্তের দালাল নেটওয়ার্ক ঠিক কতটা গভীরভাবে কাজ করছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। এসব নথির উৎস খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আধার কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হচ্ছে তথ্য।BSFএর দাবি, হাকিমপুর ও তারালি এলাকায় গত কয়েক দিনে নজিরবিহীনভাবে বেড়ে গিয়েছে অনুপ্রবেশের ঘটনা। একদিকে অসম, অন্যদিকে নদীপথ ও সবুজ সীমানাসব মিলিয়ে সীমান্তের অনেক অংশে নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে BSFএর ধারাবাহিক অভিযানেই মাত্র এক সপ্তাহে ১৭২০ জনকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।কেন এত বড় সংখ্যায় বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছেনতার কারণ খুঁজতে এখন মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থাও। প্রশাসনের আশঙ্কা, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি পাচারকারী ও মানবব্যবসায়ী চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

৫০ রান শেষ দুই ওভারে! ভয়ংকর মেহরব, তারপর সুপার ওভার ড্রামা—তবু জয় বাংলাদেশের

দোহায় রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে শুক্রবার এমন এক ম্যাচ দেখা গেল, যা শেষ বল পর্যন্ত দর্শকদের নাড়িয়ে দিল। ভারত A এবং বাংলাদেশ Aদুটি দলই ১৯৪ রান করায় ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। কিন্তু সুপার ওভারের শেষ বলেই ভারত A-র কপালে জুটল পরাজয়। আর ফাইনালের টিকিট তুলে নিল বাংলাদেশ A।পুরো ম্যাচে নাটক যেন থামতেই চাইছিল না। শেষ ওভারের শুরুতে ভারতকে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। এর আগে ১৯তম ওভারে বাংলাদেশের রিপন মন্ডল মাত্র পাঁচ রান দিয়ে রামনদীপ সিং-কে ফিরিয়ে ম্যাচে দারুণ চাপ তৈরি করেন। শেষ তিন বলে প্রয়োজন আট রান। তখনই ঘটে ম্যাচের প্রথম বড় ভুললং-অফ থেকে জিশান আলম একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেন, আর সেটি ছুঁয়ে চারও হয়ে যায়। সেই চারেই ম্যাচে ফের আশা জাগে ভারত শিবিরে। কিন্তু আশুতোষ শর্মা পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন।শেষ বলে চার না তুললে হার নিশ্চিততবু ভারত অলৌকিকভাবে পেয়ে যায় টাই করার সুযোগ। হর্ষ দুবে লং-অনে বল পাঠিয়ে ইতিমধ্যেই এক রান নিয়েছিলেন, দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে প্রায় থেমে যান। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবর আলির অবিশ্বাস্য ভুলস্টাম্পে দৌড়োতে না গিয়ে তিনি নরম আন্ডার-আর্ম থ্রো মারতে গিয়ে মিস করেন, পিছনে কেউ ছিল না ব্যাক-আপে। ভারত সেই সুযোগে নিয়ে নেয় তিন রান, আর তাতেই ম্যাচ টাই।সুপার ওভারে আবার অচেনা সিদ্ধান্ত ভারত শিবিরে। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারা বৈভব সূর্যবংশীকে ওপেন করানো হল না। ব্যাট করতে নামেন জিতেশ শর্মা। রিপন মন্ডল দুরন্ত ইয়র্কার ফেলে তাঁকে প্রথম বলেই বোল্ড করেন। অন্য ব্যাটার আশুতোষের ব্যাটেও ইয়র্কার সামলানো গেল নাসোজা উঠল এক্সট্রা কভারের হাতে। সুপার ওভারে ভারত তুলল মাত্র এক রান।বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল মাত্র দুই রান। প্রথম বলেই সুয়াশ শর্মা উইকেট নিলেও, দ্বিতীয় বলটি গুগলি ভুল লেন্থে হয়ে ওয়াইডসেই এক রানেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়। ভারত A-র জন্য শেষ হয় এক ব্যর্থ প্রচারণাযেখানে তারা পাকিস্তান A-এর কাছে হারার পর ওমানের বিরুদ্ধেও সমস্যায় পড়েছিল।এর আগেই ভারত A বোলিংয়ে বড় ভুল করে ফেলে। বাংলাদেশের শেষ দুই ওভারে ওঠে ৫০ রান! মেহরব মাত্র ১৮ বলে ৪৮* করেনএর মধ্যে নামন ধিরের বলে এক ওভারে ২৮ রান। হাবিবুর রহমানের ৬৫ রান দলকে মজবুত ভিত্তি দেয়।চেজে বৈভব সূর্যবংশীর ১৫ বলে ৩৮ রানে ভারতের আশা জাগলেও মাঝপথে ছন্দ হারাতে থাকে দল। প্রিয়াংশ আর্য (৪৪) ও জিতেশ শর্মা (৩৩) চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ ওভারের সেই চাপ, ভুল সিদ্ধান্ত আর সুপার ওভারে দুর্বল ব্যাটিংসব মিলিয়ে ভারত A ছিটকে যায় টুর্নামেন্ট থেকে।এমন নাটকীয় লড়াইয়ের শেষে বাংলাদেশ A-র জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থাকবে। আর ভারত A হয়তো ভাবতেই থাকবেসেই মিসড থ্রো আর সুপার ওভারের ভুল সিদ্ধান্তই কিনা শেষ পর্যন্ত বড় দাম চুকিয়ে দিল।

নভেম্বর ২১, ২০২৫
বিদেশ

যুদ্ধে হার, এবার কি প্রতিশোধ? আফগানিস্তানে সরকার বদলের হুমকি দিল পাকিস্তান

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমানায় উত্তেজনা নতুন নয়। কিন্তু এবার যেন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি সরকার ফেলে দেওয়ার হুমকি দিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের বক্তব্য, যদি তালিবান সমঝোতার পথে না আসে এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করে, তবে কাবুলে সরকারবিরোধী শক্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেবে তারা।নিউজ১৮-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানপাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করা তুরস্কের আধিকারিকদের সামনেই পাকিস্তান এই কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, তালিবান তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আশ্রয় দিচ্ছে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার জায়গা করে দিচ্ছে। পাক সেনা চায়, টিটিপির সব নেতা হস্তান্তর করুক আফগানিস্তান, এবং সীমান্ত বরাবর ডুরান্ড লাইনে বাফার জোন তৈরি হোক।কিন্তু আফগানিস্তান সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। কাবুলের বক্তব্য, টিটিপির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই, এবং তারা কখনওই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে নিজের দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেয় না। সেই অবস্থান থেকেই কোনো লিখিত চুক্তিতে যেতে রাজি হয়নি তালিবান সরকার। আর এই অচলায়তনের মধ্যেই পাকিস্তান প্রকাশ্যে হুমকি দিলএই সরকার না মানলে কাবুলে নতুন সরকার গঠনে তারা সক্রিয় ভূমিকা নেবে।শুধু কথাই নয়, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও বহু প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে। নাম রয়েছে হামিদ কারজাই, আশরাফ গনি, আহমেদ মাসুদ, এমনকি নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের নেতা আব্দুল রশিদ দোস্তমেরও। আইএসআই-র তরফে তাঁদের পাকিস্তানে আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি। লক্ষ্য একটাইপাকিস্তানের মাটি থেকেই সরকারবিরোধী শক্তিকে উসকে তালিবানকে ক্ষমতাচ্যুত করা।গত কয়েক মাসে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় তিন দফা বৈঠক হয়েছে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে। কিন্তু একটিও বৈঠক কাজে দেয়নি। পাকিস্তান দাবি জানিয়ে গিয়েছে, আর তালিবান জবাব দিয়েছে স্পষ্ট ভাষায়টিটিপিকে তারা আশ্রয় দেয়নি এবং ডুরান্ড লাইন নিয়ে পাকিস্তানের দাবি মানা সম্ভব নয়।এই অবস্থায় দুই দেশের সম্পর্ক এমন উত্তপ্ত জায়গায় পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ভয়াবহভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নভেম্বর ২১, ২০২৫
দেশ

শাহের কড়া পোস্ট—“কিছু দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে”! কার দিকে ইঙ্গিত?

বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করতে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই পদক্ষেপেই ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নাম না করলেও তাঁর আক্রমণের তির যে মমতার দিকেই ছুটে গিয়েছে, তা পরিষ্কার। শাহ অভিযোগ তুলেছেনঅনুপ্রবেশকারীদের নাকি সুরক্ষা দিচ্ছেন কিছু রাজনৈতিক দল, আর সেই কারণেই তারা ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণে বাধা দিচ্ছে।শুক্রবার স্বরাষ্ট্র দফতরের অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যমে অমিত শাহর বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে যেমন অনুপ্রবেশ রোধ করা জরুরি, তেমনই গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাঁর অভিযোগ, দুর্ভাগ্যবশত, কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে এতটাই আগ্রহী যে, তারা নির্বাচন কমিশনের কাজেরও বিরোধিতা করছে।রাজনৈতিক মহল বলছে, এই মন্তব্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে। কারণ কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী চিঠি লিখে কমিশনকে জানিয়েছেনএসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। তাঁর অভিযোগ, হুট করে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া মাঠে কাজ করা বিএলওদের উপর বিরাট চাপ তৈরি করছে, অথচ তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি। মমতার মতে, এই চাপ শুধু অযৌক্তিক নয়, বিপজ্জনকও। কারণ সাম্প্রতিক অতীতে জলপাইগুড়ির মাল এলাকায় এক বিএলওর আত্মহত্যা, মেমারিতে আরেক বিএলও-র মৃত্যুদুটো ঘটনাই প্রশ্ন তুলেছে এসআইআর প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত চাপ নিয়ে।মমতার চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছেচলমান এসআইআর বন্ধ করা, বিএলওদের উপর জবরদস্তি বন্ধ করা এবং তাঁদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজ চালানো জরুরি। কিন্তু সেই চিঠির ঠিক পরেই শাহের কড়া অবস্থান কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।তবে তৃণমূল শিবির শাহের অভিযোগ মানতে নারাজ। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার পাল্টা বলেন, এসআইআর দু বছর ধরে চললে অসুবিধা নেই। কিন্তু কেন্দ্র কেন বলছে দেড় মাসে করতে হবে? উনি কেন কমিশনের কাজে নাক গলাচ্ছেন? তাঁর মন্তব্যশাহ যে কমিশনের নামে সরাসরি রাজনৈতিক চাপ দিচ্ছেন, তা আর লুকোনো নয়।এসআইআর নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে যে উত্তেজনা তুঙ্গে, সেই ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হল দুই পক্ষের এই চিঠি যুদ্ধ-এ।

নভেম্বর ২১, ২০২৫
রাজ্য

ভূমিকম্প! কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, স্পষ্ট অনুভুত কম্পন, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৫.৫, উৎসস্থল বাংলাদেশ

শুক্রবার সকালেই আচমকা আতঙ্ক। ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় ১০টা ৮ মিনিট। কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ গোটা রাজ্য। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে দক্ষিণের কাকদ্বীপসর্বত্র অনুভূত হল ভূমিকম্পের দোল। ঘরের পাখা, চেয়ার, টেবিল, দেওয়ালের ছবি একের পর এক দুলে ওঠায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। বহু এলাকায় বাসিন্দারা বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।কোথায় ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্র?আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৫। কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের নরসিংদী থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, মাটি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎসস্থলের অগভীরতার কারণেই জোরালো ভাবে কেঁপে ওঠে দুই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।বাংলাদেশে আতঙ্ক, রাস্তায় নেমে এলেন মানুষপ্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও ভয়াবহ দোল অনুভূত হয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও বরিশাল পর্যন্ত কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর বহু মানুষ নিরাপত্তার জন্য বাড়ি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সমাজমাধ্যমে শেয়ার হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়বিল্ডিং থেকে দ্রুত নেমে আসছেন অধিবাসীরা, কোথাও ঝাড়বাতি বা সিলিং ফ্যান দুলছে প্রবল দোলনে।কলকাতায় অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতাকলকাতা সাধারণত বড় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল নয়। তাই এই ধরনের তীব্র কম্পন শহরে খুবই বিরল। শীতের আমেজে অনেক বাড়িতেই সিলিং ফ্যান বন্ধ ছিল, ফলে কম্পন আরও স্পষ্ট দেখা যায় বলে জানান শহরের বাসিন্দারা। বিভিন্ন জায়গায় ঝুলে থাকা লাইট, দেওয়ালে টাঙানো ছবি দুলে ওঠার দৃশ্য ধরা পড়েছে।হুগলি, বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনাসব জায়গাতেই এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায়, দোলন অন্তত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়েছেভূমিকম্পের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে নানা ভিডিও ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন সাধারণ মানুষ। কারও বাড়ির সিলিং ফ্যান দুলছে, কোথাও আবার কর্মীরা অফিস থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেনএমন বহু দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে ইতিমধ্যেই। যাঁর সত্যতা জনতার কথা যাচাই করেনি।বর্তমান পরিস্থিতিএখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কলকাতা ও বঙ্গের বিভিন্ন দমকল ও প্রশাসনিক দফতর সতর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রস্থল অগভীর হওয়ায় কম্পন তীব্র অনুভূত হলেও বড় বিপর্যয় হয়নি।রাজ্যজুড়ে এই অস্বাভাবিক ভূমিকম্পে সতর্কতা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শপরবর্তী ২৪ ঘণ্টা সাবধান থাকা, বাড়ির ভারী জিনিসপত্র স্থিরভাবে বাঁধা রাখা এবং প্রয়োজনে খোলা জায়গায় সরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা জরুরি।

নভেম্বর ২১, ২০২৫
কলকাতা

“এসআইআর বন্ধ করুন”—নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি মমতার, আতঙ্কে রাজ্য

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠালেন। চিঠিতে তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক ও অমানবিক। অবিলম্বে প্রক্রিয়া বন্ধ বা স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কয়েক হাজার বিএলও দিনরাত রাস্তায় ঘুরে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই, নেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বড় কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। এতে এমন সব ভুল-ত্রুটি তৈরি হবে, যার দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বইতে হবে। অনেক প্রকৃত ভোটার ভুলবশত বাদ পড়ে যেতে পারেন। মমতার কথায়, এভাবে চাপিয়ে দেওয়া হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়বে।চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন আত্মহত্যা, অসুস্থতা, হতাশার খবর আসছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে। ইতিমধ্যেই এক বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। আরও বহু বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের ওপর ভয়ঙ্কর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মমতার দাবি, এই পরিস্থিতি বোঝার বদলে কলকাতার সিইও দপ্তর উল্টো বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে, শোকজ করছে, কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অমানবিক করে তুলছে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় দায়িত্ব কি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করা সম্ভব? ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত ডেটা আপলোড করার যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশঙ্কা, চরম চাপে ভুলভ্রান্তি অনিবার্য, আর ভুল ফর্ম জমা পড়লে প্রকৃত ভোটারই সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে লিখেছেন, এই প্রক্রিয়া যে উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি মানুষের ভয়, দুর্দশা ও অস্থিরতা সরাসরি অনুভব করছেন। সেই কারণেই এসআইআর স্থগিত বা বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপও চান।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
বিদেশ

হাসিনার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড? রাষ্ট্রসংঘের কড়া প্রশ্ন বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে

জুলাই বিক্ষোভে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে এবার সরব হল রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছেএই বিচার কি আদৌ ন্যায়সঙ্গত? সব মিলিয়ে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে তৈরি বিচারব্যবস্থা ও তাঁর ক্যাঙারু আদালত বলতে শুরু করেছেন অনেকেই। কারণ, আদালত ঘোষণার আগেই যেন স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলা হয়েছিলহাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ফাঁসির সাজা।রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র রবিনা সামদাসানি এক বিবৃতিতে জানান, এই রায় নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর কথায়, গত বছরের বিক্ষোভ দমনের সময় যে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল, সেই ঘটনার সঠিক বিচার অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে রাষ্ট্রসংঘের হাতে যথেষ্ট তথ্য নেই। তবুও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার হওয়া উচিতএটাই তাঁদের বার্তা।রবিনা আরও বলেন, অভিযুক্ত শেখ হাসিনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অনুপস্থিতিতেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়যে পরিস্থিতির মধ্যেই হোক না কেন, তারা এমন বিচারকে সমর্থন করে না। তাঁদের আশা, বাংলাদেশ সত্যিকারের ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সামলাবে।রাষ্ট্রসংঘের পাশাপাশি হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থার মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড একেবারে সরাসরি মন্তব্য করেছেনজুলাই বিক্ষোভের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সত্যিই ভয়াবহ ছিল, কিন্তু সেই অপরাধের বিচার হতে হবে সুষ্ঠুভাবে। এই বিচারপক্রিয়া না সঠিক, না আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হয়েছে। তাঁর কথায়, মৃত্যুদণ্ড এমনিতেই অত্যন্ত নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক শাস্তি। আধুনিক কোনও ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের জায়গাই নেই।সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সমাজের একাংশের চোখে পুরো বিচার ব্যবস্থাটাই এখন প্রশ্নের মুখে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এই রায় আরও অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নভেম্বর ১৮, ২০২৫
কলকাতা

গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত! মমতার চার পাতার চিঠি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়

গোর্খাল্যান্ডের আলাদা প্রশাসনের দাবিতে এক সময় পাহাড় উত্তাল হয়েছিল। সেই আন্দোলনের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ। রাজ্য সরকার বরাবরই পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মধ্যস্থতার ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সেই মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করেই এবার রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে নতুন সংঘাত দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দার্জিলিং, তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংহকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে। আর এই নিয়োগকে ঘিরেই আপত্তি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চার পাতার চিঠি পাঠিয়ে জানালেন রাজ্যের অসন্তোষ।এর আগে গত মাসেও একই ইস্যুতে মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠির পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছিল যে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দফতরকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু মমতার অভিযোগ, কোনও আলোচনার তোয়াক্কা না করেই আবারও নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। তাঁর কথায়, জিটিএ-র মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের আগে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল, কিন্তু কেন্দ্র সেই পথ নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাক্তন আমলাদের এইভাবে বিশেষ দায়িত্ব দিলে তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক আনুগত্যের ঝোঁক বাড়ে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।মমতার অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে। অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশ সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্র দফতর রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি; উল্টে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রাক্তন আইপিএস ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন বলে জানানো হয়েছে। মমতার বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা পাহাড়ের শান্তি ও স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে পারে।তবে এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো চিঠির কোনও মূল্যই নেই। শুভেন্দুর মন্তব্য, কেন্দ্র আইন বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একজন প্রাক্তন আইপিএসকে নিয়ে অভিযোগ তোলার কোনও মানে হয় না। রাজ্যের অভিযোগকে তিনি ফালতু বলেই সমালোচনা করেছেন।পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। জিটিএ নিয়ে কেন্দ্ররাজ্য সংঘাত নতুন করে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা দার্জিলিং পাহাড়।

নভেম্বর ১৮, ২০২৫
বিদেশ

ফাঁসি! মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী শেখ হাসিনা—বাংলাদেশে নজিরবিহীন রায়

বাংলাদেশের রাজনীতি যেন মুহূর্তে ঝড়ের চোখে ঢুকে গেল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার ঘোষণা করল সেই রায়, যার জন্য দেশজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিলমানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আদালত তিনটি ধারায় তাঁকে দোষী ঘোষণা করে সরাসরি ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে। সেই সঙ্গে একই অপরাধে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও দোষী প্রমাণিত হয়েছেন গণহত্যার মামলায়।রায় ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আদালত চত্বরের বাইরে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। তারপরই শুরু হয় দেশজোড়া তাণ্ডব। ঢাকার রাস্তায় বিক্ষোভ, ককটেল বিস্ফোরণ, আগুন লাগানোসব মিলিয়ে যেন বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে খবরটি। আদালতে ৪৫৩ পাতার রায় পড়তে সময় লাগলেও, রায়ের অভিঘাত সরাসরি গিয়ে লাগে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।আদালত জানায়, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় একাধিক গণহত্যা, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বহু সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, গোপন নথি আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক স্পষ্ট করে বলেন, এটি ইতিহাসে নথিবদ্ধ হওয়ার মতো অপরাধ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও একই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সাবেক আইজি আবদুল্লাহ আল-মামুনও দোষী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। আদালতের মন্তব্যতিনজনের সমন্বিত ভূমিকার কারণেই এই ভয়াবহ ঘটনাগুলো দেশের নাগরিকদের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।রায়ের পরই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনা ও র্যাব নামানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রায় ঘিরে প্রচুর বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আওয়ামী লিগ সমর্থকেরা রায়কে রাজনৈতিক প্রতিশোধ বলে দাবি করেছেন, অন্যদিকে সরকার সমর্থকেরা বলছেনএটা ইতিহাসের বিচার।বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে যে ঝড় চেপে বসেছে, তার রেশ এখন শুধুই রাস্তায় নয়সরাসরি দেশের ভবিষ্যতের ওপরও পড়ে যাচ্ছে।

নভেম্বর ১৭, ২০২৫
বিদেশ

শেখ হাসিনার পরিবারের ইতিহাস এবার মুছে ফেলবে কে? ধানমন্ডি ৩২-এ রহস্যময় তৎপরতা

বাংলাদেশে যেন ইতিহাসের এক ভয়াবহ পুনরাবৃত্তি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী মামলার ৪৫৩ পাতার রায় পড়া চলছে আদালতে, আর ঠিক সেই সময়েই ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ির সামনে দেখা গেল দুটি পে-লোডার। দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে তোলপাড় বাংলাদেশ। প্রশ্ন উঠলঅন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার কি তবে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলতে চাইছে?পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য আরও উদ্বেগ বাড়ায়। জানা গেছে, ধানমন্ডির বাড়ির যে অংশ এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতেই এই পে-লোডার আনা হয়েছিল। কিন্তু বাড়ির দিকের পুলিশি ব্যারিকেডে আটকে যায় তারা। এরপরই তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এলাকায় তখন উত্তেজনা টগবগ করছে।এদিকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সেনা ও পুলিশের কার্যত মুখোমুখি সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ব্যারিকেড তুলে বিক্ষোভ থামাতে চাইলে ক্ষুব্ধ জনতা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে। দুটি পক্ষের সংঘর্ষে বহু বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর।পটভূমিটা আরও জটিল। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর, এবং শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতের অন্ধকারে পে-লোডার এনে ভেঙে ফেলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত এই ৩২ নম্বর বাড়ি। পরে তাতে আগুন লাগানো হয়। দেশজুড়ে সেই ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। আর এবার আবারও, ঠিক রায়ের দিন, পে-লোডার নিয়ে বাড়ির সামনে হাজির হওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। ঢাকার রাস্তায় ককটেল বোমা ফাটছে, সিলেট-ময়মনসিংহ-কুষ্টিয়া মিলিয়ে সাতটি বাস, ভ্যান, এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সেও আগুন ধরানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার বাড়িতেও হামলা হয়েছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগ রবিবার থেকেই সারাদেশে শাটডাউন ডেকেছে।অবস্থা এতটাই ভয়ংকর যে ৫৫ হাজার পুলিশকে মোতায়েন করতে হয়েছে। সেনা ও বিজিবি নেমেছে রাস্তায়। প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছেকোথাও আগুন লাগানো বা ককটেল ছোড়া দেখা গেলে সরাসরি গুলি চালানো হবে।এমতাবস্থায় ধানমন্ডি ৩২-এ পে-লোডারের উপস্থিতি শুধু উত্তেজনা নয়এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকেতও বয়ে আনছে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির অবশিষ্টাংশ ভাঙার চেষ্টা আসলে প্রতীকীদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারটিকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার আরেক প্রচেষ্টা কি? রায় ঘোষণার মাঝেই এমন দৃশ্য পুরো বাংলাদেশকে নতুন করে টালমাটাল করেছে।

নভেম্বর ১৭, ২০২৫
বিদেশ

রায়ের আগেই হুঙ্কার শেখ হাসিনার, “আওয়ামী লিগকে শেষ করা এত সহজ নয়”

রায় ঘোষণার আগে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য এই প্রথম। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে হঠাৎই প্রকাশ্যে এল শেখ হাসিনার একটি অডিয়ো বার্তা। সেই অডিয়ো এখন ঝড় তুলেছে বাংলাদেশজুড়ে। বার্তায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার একটিও সত্যি নয়। বরং তিনি রায়কে কোনও গুরুত্বই দিতে নারাজ।অডিয়ো বার্তায় হাসিনার গলা দৃঢ়। তিনি বলেন, আমার কিছুই যায় আসে না। আল্লাহ আমায় প্রাণ দিয়েছেন, আল্লাহই সেই প্রাণ নেবেন। মানুষ আমার বিচার করবে, আদালতের এই রায় নয়। তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই মামলাকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলেই মনে করছেন।হাসিনা মনে করেন, বর্তমানে দেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকা মহম্মদ ইউনূসই নেপথ্যে। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার নাকি পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লিগকে ধ্বংস করতে চাইছে। হাসিনার বক্তব্য, এটা এত সহজ নয়। আওয়ামী লিগ তৃণমূলের দল, কোনও শক্তির পকেট থেকে তৈরি হয়নি। এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।অডিয়োতে সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক প্রতিবাদ মিছিল প্রসঙ্গে বলেন, এগুলো স্বতঃস্ফূর্ত। মানুষ আমাদের বিশ্বাস দিয়েছে। এই দুর্নীতিপরায়ণ, খুনি ইউনূস আর তাঁর দোসরদের এবার সাধারণ মানুষই চেনাবে, বাংলাদেশ কীভাবে ফিরে দাঁড়ায়।এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন ইউনূস ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে জোর করে বা ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরানো অপরাধ। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার নাকি সুপরিকল্পনা করেই সেই কাজ করেছে। তাঁর দাবি, পুরো উদ্দেশ্যই ছিল দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো।নিজের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন হাসিনা। বলেন, আমি বেঁচে আছি। বেঁচে থাকব। আবার মানুষের জন্য কাজ করব। বাংলাদেশের মাটিতে আমি বিচার করব।সবশেষে মানবতা বিরোধী মামলার অভিযোগ নিয়েই মন্তব্য করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায় স্পষ্ট ক্ষোভআমি ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। আর আমাকে মানবাধিকারের অপরাধী বলা হচ্ছে? এটাই কি বিচার?পুরো অডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশে আলোড়ন পড়ে যায়। রায় ঘোষণার প্রাক্কালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এমন চ্যালেঞ্জিং সুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন নজর আদালতের রায়ের দিকেতার পর বাংলাদেশ রাজনীতির গতিপথ কোনদিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।

নভেম্বর ১৭, ২০২৫
রাজ্য

‘কাগজ নেই, তাই ফিরছি’—এসআইআর শুরু হতেই সীমান্তে তিনশো বাংলাদেশির ভিড়

ভারতবাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর চেকপোস্টে সোমবার সকাল থেকেই ভিড় জমেছে শয়ে-শয়ে মানুষের। কারও হাতে ট্রলি ব্যাগ, কারও মাথায় বোঁচকা, আবার কেউ লোটা-কম্বল বেঁধে দাঁড়িয়ে কাতর চোখে তাকিয়ে রয়েছেন সীমান্তের দিকে। প্রত্যেকের একটাই লক্ষ্যযত তাড়াতাড়ি সম্ভব সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া। কারণ হিসেবে অনেকেই সরাসরি জানাচ্ছেন, এসআইআর-এর ভয়ে আর থাকতে সাহস পাচ্ছেন না ভারতে।বছরের পর বছর কোনও নথিপত্র ছাড়াই রুটি-রুজির খোঁজে ভারতেই বসতি গেড়ে ছিলেন অনেক বাংলাদেশি। কেউ কলকাতার বিরাটিতে, কেউ চিনারপার্কে, কেউ আবার উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় গৃহকর্মী, দিনমজুর বা ছোটখাটো কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু বারোটি রাজ্যজুড়ে এবং পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলায় আচমকাই তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে। আর সেই আতঙ্কই যেন এখন তাঁদের ঠেলে দিচ্ছে সীমান্ত অভিমুখে।সোমবার সকাল থেকে দেখা যায়, স্বরূপনগর থানার অন্তর্গত হাকিমপুর সীমান্তে ভিড় জমছে শতাধিক বাংলাদেশির। দুপুরে সেই সংখ্যা তিনশো ছাড়িয়ে যায়। পুরুষ, মহিলা, কোলের শিশুসবাই মিলে বাড়ির আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের সামনে কাঁটাতারের বেড়া, আর পেছনে অনিশ্চয়তায় ভরা অস্থায়ী জীবনের স্মৃতি।এরই মধ্যে সীমান্তে মোতায়েন ১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিএসএফ জওয়ানরা তাঁদের আটকে নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। যাঁরা বৈধ কাগজ দেখাতে পারছেন না, তাঁদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেই এগোচ্ছেন জওয়ানরা। স্থানীয় মানুষ এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত, অনেকেই বলছেনএ রকম দৃশ্য বহু বছর পর দেখা গেল। যে বাংলাদেশিরা এতদিন গোপনে ভারতেই বসবাস করছিলেন, তাঁরা এবার নিজেরাই দেশে ফিরে যেতে চাইছেন।সাবিনা পারভিন নামে এক মহিলার কথায় উঠে এসেছে সেই আতঙ্কের ছবিটা। তিনি বললেন, বাংলাদেশেই আমার বাড়ি। কিন্তু বিরাটিতে থাকতাম। কোনও কাগজপত্র নেই। বেআইনিভাবেই ছিলাম। আরও এক ব্যক্তি স্বীকার করলেন, তিনি চিনারপার্কে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। বললেন, আধারকার্ড নেই। বাংলায় এসেছিলাম পেটের দায়ে। এখন ভয় লাগছে, তাই ফিরে যাচ্ছি।সীমান্ত এলাকা জুড়ে এখন এক ধরনের চাপা উত্তেজনা। কেন এত মানুষ হঠাৎ দেশছাড়া হয়ে ফিরতে চাইছেন, তা নিয়ে নানা মহলে জোর আলোচনা। স্থানীয়দের চোখের সামনে একটি বড় পরিবর্তনের ছবিযে সীমান্ত দিয়ে একসময় বেআইনিভাবে ঢুকতেন বাংলাদেশিরা, আজ সেখানে দেখা যাচ্ছে উল্টো স্রোত। এসআইআর প্রক্রিয়ার আতঙ্কে এবার তাঁরা নিজের দেশেই ফেরার চেষ্টা করছেন।

নভেম্বর ১৭, ২০২৫
বিদেশ

বাংলাদেশে দাউদাউ করে জ্বলছে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক! ইউনূস কি চরম জনঅসন্তোষের মুখে?

বাংলাদেশ জুড়ে এখন যেন ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের লেলিহান শিখা, আর সেই আগুনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস। তাঁর তৈরি গ্রামীণ ব্যাঙ্কের একের পর এক শাখায় লাগানো হচ্ছে আগুন। কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রামীণ ব্যাঙ্কে যেভাবে অগ্নিসংযোগ চলছে, তা বাংলাদেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে। কোথাও জানালা ভেঙে পেট্রোল ঢেলে আগুন, কোথাও পুরো শাখাই পুড়ে ভস্মীভূত।সর্বশেষ ঘটনা রাজনগরে। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার শাখা সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগে। ভবনের ভিতরের নথি, চেয়ার-টেবিল, কাগজসবই ধ্বংস। স্থানীয়দের মতে, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে ভোররাতে এসে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।এর আগে বগুড়ার শেরপুর হাইওয়ে গাড়ীদহের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক শাখায়ও জনতার তাণ্ডব নেমে আসে। সেখানে ব্যাঙ্কের সামনে জমে ওঠা ক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, বগুড়া দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এই আগুনের ভিতরে রাজনৈতিক রঙ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তীব্র হচ্ছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আরও একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। চান্দুরা শাখায় গভীর রাতে জানালা ভেঙে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে স্থানীয়দের দ্রুত হস্তক্ষেপে, যদিও ব্যাঙ্কের ভেতরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও আসবাবপত্র পুড়ে নষ্ট হয়েছে। ভল্টে থাকা টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেই জানা গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, তবে আতঙ্ক এখনো কাটেনি।নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে দারিদ্র্য দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক মডেলের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত হয়েছিলেন। ক্ষুদ্রঋণের ধারণা বিশ্ববাসীর কাছে শেখায় এই ব্যাঙ্কই। কিন্তু আজ সেই ব্যাঙ্কই কেন জনরোষের কেন্দ্র, কেন একের পর এক শাখায় অগ্নিসংযোগএই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, জনরোষ, কিংবা সরকারের প্রতি আস্থা সংকটসব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।বাংলাদেশে আগুন শুধু ব্যাঙ্ক ভবনে নয়, ছড়িয়ে পড়ছে রাজনীতিতেও। ইউনূস কি আসলেই জনঅসন্তোষের নিশানায়? নাকি এই আগুনের আড়ালে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক খেলা? পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
কলকাতা

রাজভবন থেকে বন্দুক-বোমা? তৃণমূল সাংসদের বিস্ফোরক দাবির পর রাতারাতি সিংহদুয়ার খুলে গেল!

রাজভবন থেকে বন্দুক আর বোমা সরবরাহ করা হচ্ছেতৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যে শনিবার রাতেই অস্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয় রাজভবনে। আর তার পরদিন রবিবার ভোর পাঁচটা থেকেই ঘটে গেল এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ। সাধারণ মানুষ, সাংসদ এবং সাংবাদিকমোট প্রায় ১০০ জনের জন্য খুলে দেওয়া হল রাজভবনের সিংহদুয়ার। যেন কল্যাণের অভিযোগের উত্তরে রাজভবন সরাসরি বলছেএসে দেখে যান, কোথায় বন্দুক বা গোলাবারুদ!তবে ঘটনাপর্ব শুরু হয়েছিল বিহার নির্বাচন নিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি বলেন, এসআইআর পদ্ধতি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন, এবং বিহারের মতো বাংলাতেও মানুষ এই পদ্ধতি গ্রহণ করবেন। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সোজাসুজি অভিযোগ করেন যে রাজভবনে নাকি বিজেপির অপরাধীরা আশ্রয় পাচ্ছেন, এবং রাজ্যপাল তাঁদের বন্দুক-বোমা দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মারতে উস্কানি দিচ্ছেন। তিনি রাজ্যপালকে অপদার্থ বলেও আক্রমণ করেন।এই অভূতপূর্ব অভিযোগ রাজভবনকে স্পষ্টতই নড়িয়ে দিয়েছে। রাতেই বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, সাংসদ যাঁরা রাজভবনে অস্ত্রের মজুত নিয়ে অভিযোগ করছেন, তাঁরা নিজে এসে চোখে দেখে যেতে পারেন। প্রয়োজন হলে নিজেরাই তদন্ত করতে পারেন। অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণিত হলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই জনতার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলে কড়া ভাষায় বার্তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাংসদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার কথাও জানানো হয়। এমনকি লোকসভার স্পিকারের কাছেও তদন্তের আবেদন করা হবে বলে সূত্রের খবর।অন্যদিকে, রাজভবনেই বসবাস করেন রাজ্যপাল। আর সেই জায়গায় অস্ত্র ঢুকতে পারে কীভাবেএই প্রশ্নেই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যপালের নিরাপত্তা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি নাকি রাজভবনেই থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। কলকাতা পুলিশের ওপরেই রয়েছে রাজভবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব। ফলে অস্ত্র মজুতের অভিযোগ উঠতেই স্বাভাবিকভাবেই নজরে এসেছে পুলিশের ভূমিকাও।ভোরের আলো ফুটতেই রাজভবনের বিশাল দরজা খুলে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষকে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দেওয়াএমন দৃশ্য কলকাতায় এর আগে প্রায় দেখা যায়নি। প্রশাসনিক মহল থেকে রাজনৈতিক মহলসব জায়গাতেই এখন একটাই প্রশ্ন, তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ সত্যি, না কি রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির অংশ? রাজভবনের দরজা খুলে দেওয়ার এই পদক্ষেপ ওই অভিযোগকেই নতুন মাত্রা দিয়েছে।অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, তদন্তের দাবিএই সমস্ত কিছুতে রাজ্যের রাজনীতি এখন তুমুল উত্তপ্ত। রাজ্যপাল ও তৃণমূলের এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
রাজ্য

চার বছর ধরে ভুয়ো আধারে ভারতবাস! বাংলাদেশে ফিরতে গিয়ে গ্রেফতার যুবক

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে বহু বাংলাদেশি বছরের পর বছর ধরে ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস করছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR শুরু হতেই বাড়ছে আতঙ্ক, আর এই আতঙ্কেই চোরাপথে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়লেন এক যুবক। তাঁর নাম দুর্জয় রায়, বয়স আঠাশ। কোচবিহারের হলদিবাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।শুক্রবার দুপুরে সিঞ্জারহাট এলাকায় ঘুরতে থাকা সন্দেহজনক ওই যুবককে প্রথমে লক্ষ্য করেন স্থানীয়রা। তাঁর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে খবর দেওয়া হয় দেওয়ানগঞ্জ আউট পোস্টে। পুলিশ এসে প্রশ্ন করতেই দুর্জয় স্বীকার করেন, তাঁর বাড়ি বাংলাদেশে। এরপরই তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।হলদিবাড়ি থানার তদন্তে সামনে আসে আরও তথ্য। দুর্জয়ের বাড়ি বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার মর্দিয়া গ্রামে। চার বছর আগে চোরাপথে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় হোটেলে ও চা বাগানে কাজ করতেন। ভারতে ঢোকার পর তিনি আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টসবই তৈরি করে ফেলেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, আধার-প্যান, ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড, কিছু টাকা উদ্ধার হয়েছে।তদন্তে জানা গেছে, SIR শুরু হতেই তাঁর উপর চাপ বাড়তে থাকে। আশঙ্কা হয়, ধরা পড়ে যাবেন। তাই দালালের মাধ্যমে কাঁটাতার পার করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই মতো তিনি হলদিবাড়ি পৌঁছলেও শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান।গ্রেফতার হওয়ার পর দুর্জয় বলেন, বছর চারেক আগে এখানে ঘুরতে এসেছিলাম। তারপর কাজ করতাম হোটেল, চা বাগানে। পুলিশের দাবি, SIR শুরুর পর চোরাপথে বাংলাদেশে পালাতে গিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। দুর্জয়ের গ্রেফতার এই তালিকায় নতুন সংযোজন।এই ঘটনার পর আবারও সামনে এল রাজ্যের সীমান্তনিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্ন। অভিযোগ, চোরাপথ ব্যবহার করে বহু অনুপ্রবেশকারী এখনও এপারে-ওপারে যাতায়াত করছে, আর তাঁদের অনেকেই আর্থিক দালাল ও নেটওয়ার্কের মারফত ভুয়ো নথি তৈরি করেও ফেলছে সহজেই।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
বিদেশ

ঢাকায় রক্তগরম সকাল! শেখ হাসিনার রায়ের দিন ঘোষণা ঘিরে চরম উত্তেজনা

সকাল থেকেই থমথমে ঢাকা। চারদিক যেন অচেনা খাঁ খাঁ করছে রাস্তা, মোড়ে মোড়ে কড়া নিরাপত্তা, আর চোখে পড়ে শুধু পুলিশের ইউনিফর্ম আর সেনাদের বুটের শব্দ। রাতভর মশাল মিছিল, স্লোগান, উত্তেজনা তার পর ভোর হতেই নেমে এসেছে ভয় আর অপেক্ষার ভারী ছায়া। কারণ আজ, ১৩ নভেম্বর, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজই ঘোষণা হতে চলেছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন।জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ওঠে তা নিয়েই শুরু হয়েছিল এই বহুল আলোচিত মামলা। আজ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণার দিন ঘোষণা করবেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও প্রাক্তন পুলিশকর্তা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তবে মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, যা বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় এনে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।রায়ের দিন ঘোষণার আগের রাতেই আগুনে পুড়েছে ঢাকা। একাধিক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে আগুন, রাস্তায় টায়ার জ্বলছে এমন চিত্রেই কাটিয়েছে রাজধানী। অভিযোগ, এই অগ্নিসংযোগ ও হামলার পেছনে ছিল আওয়ামী লিগের সদস্য ও সমর্থকরা, যারা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন।আজ সকাল থেকেই ঢাকাকে কার্যত লকডাউন করে ফেলেছে প্রশাসন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লিগের পক্ষ থেকে রাজধানী অচল করে দেওয়ার ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যে কোনও অশান্তি ঠেকাতে সকাল ৮টা থেকেই শহরের রাস্তায় টহল শুরু করেছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB), আমর্ড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশাল বাহিনী। সব মিলিয়ে রাজধানীতে মোতায়েন ১৭ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী।ঢাকার প্রতিটি প্রবেশপথে চলছে কড়া তল্লাশি। হোটেল, মেস, এমনকি আবাসিক এলাকাগুলিতেও রাতভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার দিকে যাবতীয় যান চলাচল। নিরাপত্তার চাদর এখন শুধু ঢাকায় নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গাজিপুর ও নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ তাই এক উত্তাল সকাল। একদিকে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের রায়, অন্যদিকে রাজধানীজুড়ে অস্থিরতা। মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন আজকের রায় কি ফের অগ্নিগর্ভ করে তুলবে ঢাকা?

নভেম্বর ১৩, ২০২৫
কলকাতা

জাপানের ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার প্রথম মহিলা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল সাম্মানিক ডি-লিট।

এশিয়ার প্রথম মহিলা হিসেবে জাপানের ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি-লিট পেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার ধনধান্য স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সেই সম্মান তুলে দিলেন ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট নাসু ইয়াসুতোমো। মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।নাসু ইয়াসুতোমো জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জীবনের বড় অংশ উৎসর্গ করেছেন দরিদ্র মহিলা ও শিশুদের কল্যাণে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্তর্জাতিক স্তরে এক বিশেষ নেতৃত্বের প্রতীক। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই কারণেই আমরা প্রথমবার এশিয়ার কোনও মহিলাকে সাম্মানিক ডি-লিট দিচ্ছি।সম্মান গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সম্মানের জন্য জাপানের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। এ বছর আমন্ত্রণ জানানো হলেও যেতে পারিনি। এরপর ওঁরা নিজেরাই বলেছিলেন, আমরা বাংলায় আসব। এত সৌজন্য আমি উপেক্ষা করতে পারিনি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই, এটা মানবিক সৌজন্যের প্রতিফলন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বাংলা ও জাপানের সম্পর্ক বহু পুরনো। একসময় রাসবিহারী বসু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ব্যক্তিত্বরা জাপানে গিয়েছিলেন। আজও সেই সম্পর্ক বজায় রয়েছে। মিৎসুবিসি, হিতাচি-সহ একাধিক জাপানি সংস্থা বাংলায় কাজ করছে। ওয়েবেলও যৌথভাবে কাজ করছে জাপানি সংস্থার সঙ্গে।জাপানের এই সম্মান প্রাপ্তির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই স্বীকৃতি কেবল আমার নয়, বাংলার প্রতিটি নারী ও শিশুর জন্য। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি বাংলার তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে বার্তা দেন শিক্ষার মাধ্যমে, মানবতার মাধ্যমে নিজেরাই হোক বিশ্বের গর্ব।

নভেম্বর ১২, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • ...
  • 81
  • 82
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

‘বাংলায় গুন্ডারাজ’—কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

আসানসোলে কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল। এই ঘটনায় শাসকদলকে আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলায় গুন্ডারাজ চলছে এবং ভয় দেখানো, মারধর ও খুন এখন শাসক দলের চরিত্রে পরিণত হয়েছে। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মৃতের পরিবারের নিরাপত্তা ও আর্থিক সাহায্যের কথাও বলেছেন।মৃত কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের অভিযোগ, ভোট পরবর্তী হিংসার জেরেই এই মৃত্যু। তাঁদের দাবি, রাতে বাড়ি ফেরার সময় কিছু দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে মারধর করে, যার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে এটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া রিপোর্টেও পুলিশ জানিয়েছে, এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সরাসরি যোগের প্রমাণ মেলেনি।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে একটি জায়গায় গাড়ি দাঁড় করানো নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে দেবদীপের বচসা হয়। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে মারধর করা হয়। পরে অন্য একটি জায়গাতেও তাঁর সঙ্গে ঝামেলা বাধে এবং অভিযুক্তরা তাঁকে অনুসরণ করে। শেষ পর্যন্ত তাঁর বাড়ির সামনে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেখানেই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়ে যান।পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মনে করেছিলেন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং নজরদারি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে কড়া নজরদারি! পাড়ায় পাড়ায় বাইকে টহল দেবে বাহিনী

প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই দ্বিতীয় দফার জন্য প্রস্তুতি আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। এবার একশো বিয়াল্লিশটি কেন্দ্রকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। রবিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পুলিশ ও বাহিনীকে বিস্তারিত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।কমিশন জানিয়েছে, ভোটে কোনও অশান্তি যাতে না হয়, তার জন্য পাড়ায় পাড়ায় নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এবার অলিগলিতেও পৌঁছে যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোট একশো ষাটটি মোটরবাইকে জওয়ানরা টহল দেবেন। প্রতিটি বাইকে থাকবেন দুজন করে জওয়ান। কোথাও কোনও গোলমাল দেখা দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।দ্বিতীয় দফার ভোটে মূল লক্ষ্য হল শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ। সেই কারণে ভোটের আগে থেকে গণনা পর্যন্ত কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোথায় কত বাহিনী থাকবে, কোথায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করা হবে, সবকিছুর খুঁটিনাটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বাড়তি নজর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ভোটকেন্দ্রেই নয়, ভোটারদের যাতায়াতের পথেও নজরদারি জোরদার করা হবে। প্রয়োজন হলে সেখানে নজরদারি যন্ত্র বসানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং অফিসার, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। এছাড়াও বিশেষ পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।এদিকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও বিভিন্ন জেলায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। রবিবার তিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপে গিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
দেশ

ভয়াবহ সতর্কবার্তা! আসছে শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, বাড়বে দাবদাহ

প্রকৃতি কি ভয়ংকর রূপ নিতে চলেছে? ইউরোপের আবহাওয়া সংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস এবং আমেরিকার ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে তেমনই আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় একশো চল্লিশ বছর পর পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। অনেকেই একে মেগা এল নিনো বা সুপার এল নিনো বলেও উল্লেখ করছেন।এই পরিস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান গরমে দেশের বহু জায়গায় তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁইছুঁই। বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ শহরগুলির তালিকায় ভারতের একাধিক শহর জায়গা করে নিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বিহারের ভাগলপুর, ওড়িশার তালচের এবং পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল তাপমাত্রার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। এই সব জায়গায় পারদ চুয়াল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, নাগপুর, ভোপাল ও ভুবনেশ্বরেও তীব্র গরমে নাজেহাল পরিস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলেও তাপমাত্রা চল্লিশ ডিগ্রির নিচে নামছে না।এল নিনো এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যখন প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠে। এর ফলে সারা বিশ্বের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত এই প্রভাব কয়েক মাস থাকে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই এল নিনো তখনই শক্তিশালী হতে পারে যখন ভারতে বর্ষাকাল থাকে। ফলে মৌসুমি বায়ুর উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। আগের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, শক্তিশালী এল নিনোর সময় দেশে বৃষ্টিপাত কমে যায়। এতে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতিও চাপে পড়তে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, সাম্প্রতিক অতীতের উষ্ণতম বছরগুলির রেকর্ডও এবার ভেঙে যেতে পারে। কয়েক বছর আগেই দেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের নজির তৈরি হয়েছিল। এবার যদি মেগা এল নিনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়, তবে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের পরেই অশান্তি! অস্ত্র রাখার ডাক অধীরের, বাড়ছে বিতর্ক

প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত হিংসার খবর সামনে আসছে। আসানসোলে এক কংগ্রেস কর্মী খুনের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে এক পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, মানুষকে নিজেদের রক্ষা করতে হলে প্রস্তুত থাকতে হবে।শনিবার গভীর রাতে বহরমপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে। কৃষ্ণ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কৃষ্ণ ঘোষ-সহ তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, রাতে বাড়ি ফেরার সময় কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করে এবং শারীরিক ভাবে হেনস্থা করে। এরপর কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, আক্রান্ত পরিবার তাঁর সঙ্গে আগে সৌজন্য বিনিময় করেছিল। তবে তারা কোন দলের সমর্থক, তা তিনি নিশ্চিত নন। তাঁদের সাধারণ মানুষ বলেই উল্লেখ করেন তিনি।এরপর তিনি এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুষ্কৃতীদের মোকাবিলা করতে হলে ঘরে ঘরে লাঠি বা অস্ত্র রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।এই ঘটনায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। বহরমপুর শহরের এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
কলকাতা

প্রচারের মাঝেই তৃণমূলের গান! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শুভেন্দু, পুলিশের দিকে তোপ

শনিবার বিকেলে ভবানীপুরে প্রচারে বেরিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পদযাত্রা করে জনসংযোগ চালাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই মাইকে বেজে ওঠে তৃণমূলের নির্বাচনী গান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, অনুমতি নিয়ে করা কর্মসূচির মধ্যেই কেন অন্য দলের গান বাজানো হবে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।তিনি কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুভেন্দুর দাবি, তাঁকে প্রচারের সময় বিভিন্ন বিধিনিষেধ মানতে বলা হয়েছে এবং তিনি তা মেনেও চলেছেন। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে মাইকে অন্য দলের গান বাজানোয় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথাও জানান।নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুর কেন্দ্রেই তাঁর লড়াই। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। শেষ দফার প্রচারে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছিলেন। সেই সময় এই ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, তাঁকে কিছু এলাকায় প্রচারে যেতে দেওয়া হয়নি, তা তিনি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এভাবে অন্য দলের প্রচার চালানো তিনি মেনে নেবেন না বলেই স্পষ্ট জানান।এদিকে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই কালীঘাট ও আলিপুর থানার ওসি বদলি করেছে। শুভেন্দুর দাবি, তাঁদের কর্মসূচির জন্য সব জায়গায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। এতে তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।অন্যদিকে তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং ফলাফলেই সব উত্তর মিলবে।ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
রাজ্য

বিকেলেই তাণ্ডবের আশঙ্কা! কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা

দাবদাহের মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর জন্য কমলা সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দপ্তর। রবিবার বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় আগামী কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।আবহাওয়াবিদদের মতে, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায় প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় প্রায় ষাট কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সোমবারও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে।কলকাতার আবহাওয়ায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে। রোদের তেজও থাকবে তীব্র। তবে বিকেলের দিকে আকাশে পরিবর্তন আসতে পারে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার গতিতে দমকা হাওয়া বইতে পারে।দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আগামী মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঝড়বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বুধবারের মধ্যে তাপমাত্রা তিন থেকে চার ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে।উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় সত্তর থেকে একশো দশ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
দেশ

ট্রাম্পের উপর হামলায় কড়া প্রতিক্রিয়া মোদির! কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

ওয়াশিংটনের নৈশভোজে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, গণতন্ত্রে হিংসার কোনও জায়গা নেই।শনিবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে নৈশভোজ চলাকালীন আচমকা গুলি চালায় এক বন্দুকবাজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এক যুবক পরপর গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই ঘটনায় ট্রাম্প অক্ষত রয়েছেন। দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-সহ অন্যান্যরা। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার ছয়শো অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক, অভিনেতা-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। নৈশভোজের পর ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই এই ঘটনায় হুলুস্থুল পড়ে যায়।ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ওয়াশিংটনের হোটেলে হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সকলেই সুস্থ রয়েছেন জেনে তিনি আশ্বস্ত। তাঁদের সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন কামনাও করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই এবং এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা হওয়া উচিত।এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হামলাকারী কে, কীভাবে তিনি কড়া নিরাপত্তা ভেঙে ভিতরে ঢুকলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই হামলার পিছনে কোনও বড় যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ নেই এবং এটি একক হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
দেশ

ক্যামেরা থামল চিরতরে! রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া দেশজুড়ে

প্রখ্যাত চিত্র সাংবাদিক রঘু রাই আর নেই। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রবিবার ভোরে তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছে পরিবার। বিকেল চারটে নাগাদ নয়াদিল্লির লোধি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে এই খবর জানানো হয়েছে।প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ছবির জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রঘু রাই। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ শিল্পমহল ও সংবাদজগত। সংবাদ সংস্থাকে তাঁর পুত্র নিতিন রাই জানিয়েছেন, দুই বছর আগে তাঁর প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও পরে সেই রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্প্রতি ক্যানসার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যায়। বয়সজনিত নানা সমস্যাও ছিল। বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাঁকে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল তিরাশি বছর।ভারতের নানা রূপ তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। অনেকের মতে, তাঁর তোলা ছবিগুলিতে যেন জীবনের স্পন্দন ছিল। প্রতিটি ছবি যেন নিজের গল্প বলত। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছেন ইন্দিরা গান্ধী, দলাই লামা, মাদার টেরেসা-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। উনিশশো চুরাশি সালের ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের তাঁর তোলা ছবি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের নানা মুহূর্তও তিনি লেন্সবন্দী করেছেন।উনিশশো পঁয়ষট্টি সাল থেকে তিনি পেশাগত ভাবে ছবি তোলা শুরু করেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র তেইশ। এক বছর পর তিনি একটি সংবাদপত্রে প্রধান চিত্র সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন এবং প্রায় এক দশক সেখানে কাজ করেন। পরে কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাতেও কাজ করেন। উনিশশো একাত্তর সালে বিখ্যাত ফরাসি চিত্রগ্রাহকের নজরে আসে তাঁর কাজ এবং তা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়। কর্মজীবনে একাধিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। উনিশশো বাহাত্তর সালে তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal