• ১৪ মাঘ ১৪৩২, সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

AC

বিদেশ

রক্তে ভাসল পাকিস্তান! একযোগে জঙ্গি হামলায় মৃত ১২০ ছাড়াল

পরপর গুলির শব্দ, তার পর একের পর এক বিস্ফোরণ। শনিবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।হামলা শুধু গুলি ও বোমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসীরা কারাগারেও হামলা চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাস্তুং জেলার একটি জেল ভেঙে প্রায় ৩০ জনেরও বেশি বন্দিকে পালাতে সাহায্য করেছে তারা। একই সঙ্গে নুস্কি জেলার আধাসামরিক বাহিনীর দফতরেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একাধিক নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছে বালোচিস্তানে। গত কয়েক মাস ধরেই এই এলাকায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। শনিবারও একযোগে একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়েটা, গোদার, মাস্তুং, নুস্কি, দালবানদিন এবং পাঞ্জগুর-সহ বালোচিস্তানের একাধিক জেলায় একসঙ্গে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার পরই পাল্টা অভিযানে নামে পাকিস্তানের সেনা। সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে সন্ত্রাসদমন অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩৩ জনের বেশি জঙ্গিকে খতম করেছে পাক সেনা। শুধু শনিবারেই নিহত হয়েছে অন্তত ৯২ জন সন্ত্রাসী।যদিও এই হামলার দায় বালোচ লিবারেশন আর্মি এখনও স্বীকার করেনি, তবে হামলার দিনেই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ওই সংগঠন। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান সরকার ও সেনার বিরুদ্ধে সংঘর্ষে বন্দুক হাতে অংশ নিচ্ছেন মহিলারাও। এই ছবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
রাজ্য

আনন্দপুর আগুন দুর্ঘটনা নয়! ব্যারাকপুর থেকে বিস্ফোরক দাবি অমিত শাহের

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন মোমো কোম্পানির আধিকারিক। কিন্তু ঘটনার এতদিন পরেও মোমো কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার না করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্ন তুলে প্রথমে সরব হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই সুরেই কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠে বিজেপির কর্মিসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন অমিত শাহ। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে জড়িত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে।সভায় বক্তব্যের শুরুতেই অমিত শাহ বলেন, আনন্দপুরের মোমো কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এরপরই তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা কোনও দুর্ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতির ফলেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।তৃণমূলকে আক্রমণ করে শাহ বলেন, এই ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৭ জন এখনও নিখোঁজ। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মোমো কোম্পানিতে কারা টাকা ঢেলেছে, মালিক কার সঙ্গে বিদেশ সফরে গিয়েছেন এবং কেন এখনও পর্যন্ত ওই মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি, তার জবাব রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, মৃতরা বাংলার নাগরিক। তা হলে এখানে কেন ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁর আরও প্রশ্ন, যদি এরা অনুপ্রবেশকারী হতেন, তা হলে কি সরকারের প্রতিক্রিয়া একই রকম হত।অগ্নিকাণ্ডে জড়িতদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অমিত শাহ বলেন, এই ঘটনায় যাঁরা যুক্ত, তাঁদের সকলের জেলে যাওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রীরা ৩২ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং জলাজমির উপর বেআইনি ভাবে গুদাম তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই ঘটনা ঢাকার চেষ্টা করুন, এপ্রিলের পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে একে একে সকল অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালই হবে তৃণমূলকে বিদায় জানানোর বছর।অমিত শাহের এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। দলের নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, বিজেপির প্রতিবাদের ধরনই তাদের সংস্কৃতি প্রকাশ করে। তাঁর কটাক্ষ, শুভেন্দু অধিকারী যখন প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে ডিজে বাজছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান চলছে। তন্ময় ঘোষ আরও বলেন, অমিত শাহ যখন বাংলায় এসে এই ধরনের মন্তব্য করছেন, তখন মধ্যপ্রদেশে দূষিত জল খেয়ে মানুষের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন কোনও দিনই বাস্তব হবে না।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

“এটা আদালতের কাজ নয়”—বুথ নিরাপত্তা মামলায় নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি

নির্বাচনী বুথের নিরাপত্তা নিয়ে করা জনস্বার্থ মামলায় নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের প্রায় ৮৩ হাজার বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এই মামলা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়টি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আদালতের উপর সেই দায়িত্ব চাপানো ঠিক নয়। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, এটা নির্বাচন কমিশনের কাজ। তারা চাইলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে। কেন আদালতের উপর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে? আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, বুথগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব ছিল ম্যাকিনটোশবার্ন কোম্পানির উপর। কিন্তু রাজ্যের অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করার পরে ওই সংস্থা কাজ থেকে সরে দাঁড়ায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকিনটোশবার্ন প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ করার পর কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে বিষয়টি এখন রাজ্য সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।এর জবাবে মামলাকারী শমীক ভট্টাচার্যের আইনজীবী বলেন, রাজ্য সরকার অন্তত আদালতকে জানাক প্রকৃত পরিস্থিতি কী। পাশাপাশি নির্বাচনী বুথে ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।এই মামলার প্রেক্ষিতে শমীক ভট্টাচার্য আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ভোটের দিন বুথে কী ধরনের ঘটনা ঘটে, তা প্রশাসনের অজানা নয়। তাঁর প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকার পরও কীভাবে ভোটার ও বিরোধী দলের এজেন্টদের ভয় দেখানো হয়। কীভাবে বুথের ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয় বা ক্যামেরার উপর কাগজ, ময়দা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, সিআরপিএফ সাধারণত বুথের বাইরে থাকে। কিন্তু বুথের ভেতরে ভোটার ঢোকার পর কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, বিরোধী দলের এজেন্টরা কীভাবে কাজ করেন, সেই প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। এই সব কারণ দেখিয়েই রাজ্যের প্রায় ৮৩ হাজার বুথে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

আনন্দপুরে আগুনে মৃত্যু: সত্যিই কি বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করা হয়েছিল? প্রকাশ্যে পুলিশের রিপোর্ট

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, বাইরে থেকে কি গুদামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের একাংশ প্রথম দিকে সরাসরি গুদামের মালিকের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই আটকে পড়ে প্রাণ হারান কর্মীরা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? নাকি ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ?প্রায় ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাউদাউ করে জ্বলেছিল আনন্দপুরের ওই কারখানা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানার ভিতরে দুটি আলাদা গুদাম ছিল। একটি ছিল একটি নামী মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার, অন্যটি একটি ডেকরেটর্স সংস্থার। দুটি গুদামেই ছিল প্রচুর শুকনো খাদ্যদ্রব্য ও দাহ্য সামগ্রী। এর মধ্যেই মজুত ছিল পাম তেল। আগুন লাগার পর এই দাহ্য বস্তুগুলিই আগুনকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮ জন কর্মীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে প্রশাসনের ধারণা, এখনও অন্তত ২৫ জন কর্মী নিখোঁজ। সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া ওই কারখানায় আদৌ কেউ জীবিত রয়েছেন কি না, তা নিয়েই গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে পুলিশ। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, বাইরে থেকে কেউ গুদামের দরজায় তালা লাগাননি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আগুন লাগার সময় গুদামের টিনের চাল ভেঙে পড়ে। তার জেরেই ভিতরে আটকে পড়েন কর্মীরা এবং কারখানাটি কার্যত মৃত্যুকূপে পরিণত হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেকরেটর্স সংস্থার গুদামে ঢোকা ও বেরনোর জন্য দুটি গেট ছিল। আগুন লাগার সময় ওই দুই গেটের সামনেই থাকা টিনের চাল ভেঙে পড়ে। ফলে গেট দুটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মীরা প্রাণপণে গেট খোলার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। বিকল্প কোনও বেরনোর পথ খুঁজে পাননি তাঁরা।শেষ পর্যন্ত আটকে পড়া কর্মীরা টিনের চাল ভেঙে বেরনোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ই সেখানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আরও ভয়াবহ আকার নেয়। সেখানেই পুড়ে মৃত্যু হয় একাধিক কর্মীর।মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার গুদামেও প্রায় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই গুদামের মূল গেটের সামনেই দাউদাউ করে জ্বলছিল আগুন। ফলে গেটের চাবি নিজেদের কাছে থাকলেও তিন কর্মী আগুনের তাপে গেটের কাছে পৌঁছতে পারেননি। ওই গুদামেও প্রচুর পাম তেল মজুত ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানেও আগুন ধরে যায়।প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তাঁরা গেটের পাশেই থাকা একটি অফিস ঘরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি। সেখানেই মৃত্যু হয় তিন কর্মীর।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

বলিউডে ভূমিকম্প! প্লেব্যাক ছাড়ার ঘোষণা অরিজিৎ সিংয়ের, চমকে গেলেন অনুরাগীরা

তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আসমুদ্রহিমাচল। সেই অরিজিৎ সিংই আর ছবির জন্য গান গাইবেন নাএমন ঘোষণায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কার্যত চমকে গিয়েছেন অনুরাগীরা। সোশাল মিডিয়ায় নিজেই সেই ঘোষণা করেছেন জনপ্রিয় গায়ক।নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে তাঁকে ভালোবাসার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। এরপরই তিনি জানান, এখন থেকে আর নতুন কোনও ছবিতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে কাজ করবেন না। এই অধ্যায় থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর কথায়, এই যাত্রাটা ছিল ভীষণ সুন্দর।সেই সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, ঈশ্বর তাঁর প্রতি খুবই সদয় ছিলেন। তিনি নিজেকে ভালো সঙ্গীতের একজন ভক্ত বলেই মনে করেন। ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবেই আরও শিখবেন, আরও কাজ করবেন। অনুরাগীদের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গান তৈরি করা তিনি বন্ধ করছেন না। কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে, সেগুলি শেষ করবেন। তাই এই বছর শ্রোতারা কিছু নতুন গান পেতেও পারেন।এই ঘোষণার পর থেকেই মনখারাপ অনুরাগীদের। আচমকা এমন সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। সত্যিই কি অরিজিৎ এমন ঘোষণা করলেনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল জন্ম অরিজিৎ সিংয়ের। একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। গত বছরই পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন তিনি।২০০৫ সালে ফেম গুরুকুল-এর প্রতিযোগী হিসেবেই প্রথম নজর কাড়েন অরিজিৎ। যদিও সেই প্রতিযোগিতায় তিনি বিজয়ী হননি। কিন্তু তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মার্ডার ২ ছবিতে গাওয়া ফির মহব্বত গান দিয়েই বলিউডে তাঁর যাত্রা শুরু। তারপর একের পর এক সুপারহিট গান। ধীরে ধীরে বলিউডের পুরুষ প্লেব্যাক কণ্ঠ মানেই অরিজিৎএমন ধারণা গড়ে ওঠে।মাত্র ৩৮ বছর বয়স অরিজিতের। এখনও চল্লিশ পেরোননি। সকলেরই ধারণা ছিল, সামনে তাঁর আরও দীর্ঘ সোনালি পথ পড়ে রয়েছে। কিন্তু সেই সময়েই আচমকা প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, ছবিতে গান গাইবেন না ঠিকই, কিন্তু তাঁর সঙ্গীতচর্চা থামছে না। অন্যভাবে তিনি গান নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।তাহলে কি অন্য কোনও বড় পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছেন অরিজিৎ? সেই উত্তর আপাতত সময়ই দেবে। তবে আপাতত তাঁর অনুরাগীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নকেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠ?

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

মোমো নয়, ডেকরেটর্স কারখানাও জ্বলছে! নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে উদ্বেগ

প্রায় বারো ঘণ্টা পেরিয়ে গেল, এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। রবিবার গভীর রাত থেকে জ্বলছে একটি নামজাদা মোমো কারখানা। তার পাশেই রয়েছে একটি ডেকরেটর্স সংস্থার কারখানা। সেই দুই কারখানায় কাজ করা বহু কর্মীর এখনও কোনও খোঁজ নেই। ফোন বন্ধ, কোনও যোগাযোগ নেই। উদ্বেগে, আতঙ্কে ভেঙে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৩ জন নিখোঁজের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন মোমো কারখানার কর্মী এবং দশ জন ডেকরেটর্স সংস্থার শ্রমিক। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন গুরুপদ সাউ। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। তিনি মোমো কারখানার পাশের ডেকরেটর্সের গুদামে ফুলের কাজ করতেন। রবিবার রাতেও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল গুরুপদের। তিনি জানিয়েছিলেন, গুদামের ভিতরে কাজ করছেন। কিন্তু সোমবার ভোরে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ। এরপর থেকেই উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবারের।ঘটনাস্থলে হাজির গুরুপদের এক আত্মীয় জানান, গুরুপদ রাতে গুদামেই ছিলেন বলে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয়। সকাল থেকে তাঁকে ফোন করা হলেও কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু গুরুপদ নন, তাঁর সঙ্গে কাজ করা আরও অনেক শ্রমিকেরও খোঁজ নেই। তাঁদের অনেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে।প্রথমে মনে করা হয়েছিল, মোমো কারখানার নাইট শিফ্টে থাকা তিন জন কর্মী নিখোঁজ। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা বেড়েছে। পরে জানা যায়, শুধু মোমো কারখানাই নয়, পাশাপাশি থাকা ডেকরেটর্সের গুদাম থেকেও একাধিক কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। সব মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।এখনও আগুন পুরোপুরি নেভেনি। ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো সম্ভব হয়নি। দমকল ও পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে বাড়ছে উদ্বেগ। প্রিয়জনদের কোনও খবর না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
কলকাতা

নাইট শিফটে ঢুকেছিলেন, আর বেরোননি! আনন্দপুর কাণ্ডে বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা

নয় ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরে একটি নামজাদা মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানায় আগুন লাগে। পরে জানা যায়, ওই একই গোডাউনে একটি ডেকরেটর সংস্থার কর্মীরাও কাজ করতেন। ফলে আগুনের ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায়। কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয়েছে শহর কলকাতার একাংশ।গত কয়েক দিনে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত শহরবাসী। তবে সবকটিকে ছাপিয়ে গিয়েছে আনন্দপুরের এই ঘটনা। রাত থেকে জ্বলছে গোটা কারখানা। সামনের দিকের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ভিতরের অংশে এখনও দমকল পৌঁছতে পারেনি। ১২টি ইঞ্জিন নামানো হলেও আগুনের উৎসস্থল পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হয়নি দমকলকর্মীদের।প্রথমে জানা গিয়েছিল, রাতের নাইট শিফটে মোমো সংস্থার তিনজন কর্মী কারখানার ভিতরে ছিলেন। আগুন লাগার সময় তাঁরা গোডাউনেই আটকে পড়েন। এক কর্মীর পরিবারের অভিযোগ, শেষবার ফোনে তিনি জানিয়েছিলেন কারখানার গেট বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুরুতে নিখোঁজের সংখ্যা তিনজন বলা হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিনজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে তিনজন ওই মোমো সংস্থার কর্মী এবং বাকি দশজন ডেকরেটর সংস্থার বলে জানা গিয়েছে। তবে পুলিশ এখনও এই সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাইট শিফটে থাকা কর্মীদের মধ্যে একজন ছিলেন পঙ্কজ হালদার। সোমবার সকালে জ্বলন্ত কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর দাদা। মুখে চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। তিনি জানান, এখনও ভাইয়ের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। দমকল বা পুলিশের কাছ থেকেও কোনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
বিদেশ

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে পুতিনের পাল্টা চাল! গাজার জন্য ১ বিলিয়ন ডলার, শর্তে চমক

বিশ্ব কূটনীতির মঞ্চে নতুন চাল দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সদ্য গঠিত গাজা পিস বোর্ডে রাশিয়াকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আমন্ত্রণের পরই পুতিন জানালেন, গাজার উন্নয়নের জন্য তিনি ১ বিলিয়ন ডলার দিতে প্রস্তুত। তবে এই অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তাঁর প্রস্তাব, আমেরিকা যে রুশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে, সেখান থেকেই এই টাকা কেটে নেওয়া হোক।গাজায় শান্তি ফেরাতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে বোর্ড অফ পিস গঠন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক ভাবে তিন বছরের জন্য এই বোর্ডের সদস্য হওয়া যাবে। তবে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে হলে দিতে হবে ১ বিলিয়ন ডলার। আমন্ত্রিত দেশগুলির তালিকায় রয়েছে রাশিয়াও।এই আমন্ত্রণ পাওয়ার পর পুতিন প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে জানান, প্যালেস্টাইনের সঙ্গে রাশিয়ার বিশেষ সম্পর্কের কারণে তিনি গাজার উন্নয়নে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে চান। তাঁর বক্তব্য, এই অর্থ আমেরিকা যে রুশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, সেখান থেকেই দেওয়া হোক। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে কার্যত বল আমেরিকার কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন পুতিন।উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে আমেরিকা ও পশ্চিমি দেশগুলি। জি-৭ দেশগুলির যৌথ সিদ্ধান্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে। শুধু আমেরিকাতেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়া বহুবার এই অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানালেও তা মানেনি ওয়াশিংটন।এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া বুঝে নিয়েছে, এই অর্থ সহজে আর ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সেই অর্থেরই একটি অংশ গাজার উন্নয়নে ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়ে কৌশলী চাল দিলেন পুতিন। পিস বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য যে ১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, ঠিক সেই অঙ্কের অর্থই ফ্রিজ করা সম্পত্তি থেকে দেওয়ার কথা বলেছে মস্কো।শুধু গাজাই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একইভাবে সাহায্য করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুতিন। যদিও ট্রাম্পের বোর্ড অফ পিসে রাশিয়া শেষ পর্যন্ত যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তবে গাজা ইস্যুতে এই প্রস্তাব দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
দেশ

সাইরেন বাজতেই নিভে গেল আলো, উত্তরপ্রদেশে হঠাৎ ব্ল্যাকআউট ঘিরে আতঙ্ক

সময় তখন সন্ধ্যা ৬টা। হঠাৎ সাইরেনের তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা উত্তরপ্রদেশ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারে ডুবে যায় রাজ্যের সবকটি জেলা। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যোগীরাজ্যে। প্রথমে বড়সড় কোনও হামলার আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে জানা যায়, জঙ্গি হামলা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিতে গোটা রাজ্য জুড়ে একটি মক ড্রিল চালানো হচ্ছিল।প্রশাসন সূত্রে খবর, সাইরেন বাজতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন। বরেলি, মিরাট, লখনউ, কানপুর-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরের সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। এই মক ড্রিলে অংশ নেয় সিভিল ডিফেন্স, এডিআরএফ, এনডিআরএফ, দমকল এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরাও। সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সে কারণে আগেই এই মহড়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, গোটা রাজ্যে ব্ল্যাকআউট করা হলেও জরুরি পরিষেবা যেমন হাসপাতাল, রেল স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলিকে এর বাইরে রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানেই এই মহড়া চালানো হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমস্ত জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়। সরকারের দাবি, এই মক ড্রিল সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা বিমান ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য ব্ল্যাকআউট ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শহরের সমস্ত আলো বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে শত্রুপক্ষ সহজে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে না পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ঘরের ভিতরেই থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
কলকাতা

খোলা লিফটের গর্তে পড়ে মৃত্যু! তিন বছরের শিশুর মর্মান্তিক পরিণতি কলকাতায়

নির্মীয়মান বহুতলের একটি খোলা লিফটের গর্ত থেকে উদ্ধার হল তিন বছরের শিশুর নিথর দেহ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে এন্টালি থানার অন্তর্গত ৪/৫১ কনভেন্ট লেন এলাকায়। বুধবার রাতে ওই এলাকার একটি নির্মীয়মান বহুতলের লিফটের গর্ত থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভ।পরিবারের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। লিফটের গর্ত সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল, তার চারপাশে কোনও ঘেরাটোপ বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এমন একটি বিপজ্জনক জায়গা অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছিল।সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন শিশুটির বাবা-মা। তাঁরা এই মৃত্যুর বিচার চাইছেন। পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর প্রোমোটারের কাছে বিচার চাইতে গেলে উল্টে শিশুটির বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, থানায় বেশি কিছু বললে বিপদ হতে পারে। এমনকী শিশুর মাকেই দোষারোপ করা হয় বলে অভিযোগ।এলাকাবাসীদের বক্তব্য, লিফটের গর্ত ঘিরে রাখা থাকলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। তাঁদের অভিযোগ, অধিক মুনাফার আশায় নির্মীয়মান বহুতলে কোনও নিরাপত্তারক্ষী রাখা হয়নি। নিয়ম মানা হয়নি নির্মাণের ক্ষেত্রেও। তিন বছরের শিশুর মৃত্যুর পর বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে শহরের প্রোমোটার রাজ।এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ নেয়নি পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। যদিও এলাকার মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শিশুর মৃত্যুর দায় কার, তা নিয়ে জোরদার তদন্তের দাবি উঠেছে।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
কলকাতা

স্কুলের মধ্যেই ভয়ংকর অভিযোগ! চার বছরের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, গ্রেফতার শিক্ষক

স্কুলের মধ্যেই শিশুকন্যাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মহেশতলায়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ পক্সো আইনে মামলা রুজু করে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।স্কুল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার অন্যান্য দিনের মতোই স্কুলে গিয়েছিল ওই চার বছরের শিশু। অভিযোগ, স্কুলের মধ্যেই বাংলার শিক্ষক চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে গল্পের বই দেওয়ার নাম করে ক্লাসরুমের বাইরে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তাঁকে স্কুলের দোতলায় নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার পর শিশুটি বাড়ি ফিরে মাকে সব কথা জানায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুলে ছুটে যান। স্কুলের গেটের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার দাবি ওঠে। এর মধ্যেই শিশুকন্যার পরিবারের তরফ থেকে মহেশতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পক্সো ধারায় মামলা রুজু করে। তৎপরতার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন এতদিন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।এই ঘটনার পর অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে চান। পুরো ঘটনার জেরে স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হয়েছে। আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে স্কুল চত্বরে।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
রাজ্য

খাওয়ার থালা হাতে নামতে গিয়েই ঘটে ঘটল.... সুন্দরবনের পর্যটকের মর্মান্তিক পরিণতিতে কেঁপে উঠল রাজ্য

শীতের মরশুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রাতের অন্ধকারে লঞ্চ থেকে মাতলা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন এক পর্যটক। তাঁর খোঁজে রবিবার সকাল থেকে চলছে তল্লাশি। নিখোঁজ যুবকের নাম সুমন্ত পাল। বয়স ২৬ বছর। তিনি দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার বাসিন্দা।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ জানুয়ারি গড়িয়া থেকে ২২ জনের একটি পর্যটক দল সুন্দরবনের কৈখালিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখেন। ওই দলেরই সদস্য ছিলেন সুমন্ত। দুদিন জঙ্গল ভ্রমণের পর শনিবার রাতে তাঁরা আবার কৈখালিতে ফিরে আসেন। মাতলা নদীর উপর একটি লঞ্চেই তাঁদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।শনিবার রাতে ওই লঞ্চেই ঘটে যায় দুর্ঘটনাটি। জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ খাওয়াদাওয়ার সময় সুমন্ত হাতে ভাতের থালা নিয়ে লঞ্চের সিঁড়ি দিয়ে উপর থেকে নীচে নামছিলেন। সেই সময়ই তিনি ভারসাম্য হারিয়ে সিঁড়ি থেকে সরাসরি মাতলা নদীতে পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর স্রোতে তলিয়ে যান তিনি।ঘটনার পর লঞ্চের চালক ও সঙ্গে থাকা কয়েক জন জলে নেমে তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাতলা নদীতে স্রোত প্রবল থাকায় তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। এরপর বনদপ্তর ও কুলতলি থানায় খবর দেওয়া হয়। রবিবার সকাল থেকে নদীতে তল্লাশি শুরু হলেও দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।লঞ্চের চালক শুভেন্দু সরদার জানিয়েছেন, রাতে খাবার নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরেই ওই যুবক নদীতে পড়ে যান। পর্যটক দলের সদস্য জয় সাহা বলেন, তাঁদের সকলের বাড়িই গড়িয়ায়। ২২ জন বন্ধু মিলে সুন্দরবন ঘুরতে এসেছিলেন। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। লঞ্চে থাকা অন্যান্যদের জেরা করা হচ্ছে। নিখোঁজ যুবকের পরিবারের কাছেও ইতিমধ্যেই দুঃসংবাদ পাঠানো হয়েছে।

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
দেশ

ইরান থেকে ভারতে ফিরলেন আটকা পড়া ভারতীয়রা, IGI বিমানবন্দরে শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য

অবশেষে শেষ হলো আতঙ্ক। ইরান থেকে আটকে থাকা ভারতীয়রা ফিরলেন দেশে। শুক্রবার রাতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই বাণিজ্যিক বিমান অবতরণ করে। ইরানের বিক্ষোভ-আন্দোলনের জেরে যে সতর্কবার্তা দিয়েছিল ভারতীয় সরকার, তা কার্যকর হয়, আর শেষ পর্যন্ত আটকে থাকা সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে এল।ভারতের বিদেশমন্ত্রক আগেই বলেছিল, প্রয়োজন ছাড়া ইরানে যাওয়া বারণ। ইরানে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত ভারতে ফিরে আসতে বলা হয়েছিল এবং তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। অবশেষে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল চালু হতেই আটকে থাকা ভারতীয়রা দেশে ফিরলেন।ভারতে ফিরে এসেই সবাই কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন। তারা জানালেন, তেহরান থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন এবং উদ্ধারকাজে দূতাবাস ক্রমাগত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল।এক এমবিবিএস পড়ুয়া বলেন, বিক্ষোভের খবর শুনেছি, কিন্তু নিজের চোখে কোনও মিছিল দেখিনি। শেষ কয়েকদিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। অন্য একজন ভারতীয়, যিনি এক মাস ধরে ইরানে ছিলেন, তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা আমাদের গাড়ির সামনে এসে কিছু অশান্তি করত। ইন্টারনেট না থাকার কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। সবাই চিন্তায় ছিল।একজন ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারও জানান, সবাই ভয়ভীতিতে ছিল। তেহরানে আগুন লাগানো হচ্ছিল, ভিড় কিছুটা ভয়ঙ্কর ছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা শাসকদের সমর্থকের তুলনায় কম ছিল।কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, এখনও ইরানে প্রায় ৯০০০ ভারতীয় রয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সরকার তাদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
বিদেশ

নোবেল না পেলেও হাতে এল মেডেল, ট্রাম্পের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন নোবেলজয়ী নেত্রী

তিনি আগেই দাবি করেছিলেন, আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন তিনি, তাই নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই প্রাপ্য। কিন্তু নোবেল ঘোষণার সময় সেই পুরস্কার পাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার ঘটল এক বিস্ময়কর ঘটনা। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেলেও সেই পুরস্কারের মেডেল এসে পৌঁছল ট্রাম্পের হাতেই।নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। বৃহস্পতিবার তিনি হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানেই নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন মাচাদো। হোয়াইট হাউসে প্রায় এক ঘণ্টা দুজনের বৈঠকও হয়।বৈঠকের পরে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে মাচাদো জানান, তিনি স্বেচ্ছায় নিজের মেডেল ট্রাম্পকে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার স্বীকৃতি হিসেবেই এই মেডেল তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে দিয়েছেন।যদিও আগেই নোবেল কমিটির তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এইভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার বা তার মেডেল অন্য কাউকে হস্তান্তর করা নিয়মবিরুদ্ধ। তবুও হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প এই মেডেল নিজের কাছেই রাখবেন বলে জানিয়েছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, মারিয়া তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল তাঁকে দিয়েছেন।প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা। সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাঁকে বন্দি রেখে মাদক পাচারের মামলায় বিচার চলছে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত মাসে নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মাচাদো নিজে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর কন্যা। তার আগে প্রায় ১১ মাস ভেনেজুয়েলায় আত্মগোপনে ছিলেন মাচাদো।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিদেশ

বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ফের হামলা, সিলেটে পরিচিত শিক্ষকের বাড়িতে আগুন

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা যেন থামছেই না। একের পর এক হত্যার ঘটনার মাঝেই ফের আতঙ্ক ছড়াল সিলেটে। এবার নিশানায় এক পরিচিত হিন্দু শিক্ষক ও তাঁর পরিবার। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাহোর গ্রামে বীরেন্দ্র কুমার দে নামে এক শিক্ষকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচে গোটা পরিবার। তবে আতঙ্ক এখনও কাটেনি তাঁদের।বীরেন্দ্র কুমার দে এলাকায় ঝানু স্যার নামেই পরিচিত। পেশায় শিক্ষক। অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ভালো ছিল। তাই এমন ঘটনার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় হতবাক। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকের বাড়িতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। জ্বলন্ত বাড়ি থেকে কোনওমতে প্রাণ বাঁচিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। কে বা কারা এই অগ্নিসংযোগ করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা বেড়েছে বলে অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই একের পর এক হিন্দু হত্যার খবর সামনে এসেছে।চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ৯ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ১২ জানুয়ারি ফেনিতে সমীরকুমার দাস নামে ২৮ বছরের এক যুবককে খুন করা হয়। ১০ জানুয়ারি সিলেটে খুন হন আরেক হিন্দু যুবক। তার আগেও মিঠুন সরকার নামে এক যুবকের মৃত্যু হয় জনতার তাড়া খেয়ে। ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে দুজন হিন্দু খুন হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
দেশ

নথি নেওয়ার অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে মামলা, কেন এই রায় জরুরি জানাল সুপ্রিম কোর্ট

এই মামলায় মূল অভিযোগ একটাই। ইডি যখন তল্লাশি চালাচ্ছিল, সেই সময় সেখানে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতির মতো গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দেশের সব তদন্তকারী সংস্থা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আড়ালে অপরাধীরা যেন রক্ষা না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। শীর্ষ আদালতের মতে, এই বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং একাধিক রাজ্যে আইন ভাঙার মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইডি দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করেছিল। সেই প্রসঙ্গে আদালত জানায়, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থারই রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত চললে রাজনৈতিক কাজের অজুহাতে তদন্তে বাধা দেওয়া চলবে না।এই মামলায় সব পক্ষকে আগামী দুসপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। নোটিসও জারি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে তল্লাশি হয়েছিল এবং সংলগ্ন এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও স্টোরেজ ডিভাইসও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।উল্লেখ্য, আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এই মামলার শুরু। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে ও পরে মিলিয়ে সারাদিন ধরে চলে দীর্ঘ শুনানি। শুনানি শেষে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, এই মামলায় রায় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশের সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
দেশ

কাশ্মীরে আকাশপথে অনুপ্রবেশের ছক? বারুদভর্তি পাক ড্রোন ভাঙল সেনা

এবার আর একটি জায়গায় নয়। সন্ধ্যা নামতেই রামগড় সেক্টর, পুঞ্চ এবং জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় পাকিস্তানের ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ভারতীয় সেনার তরফে সঙ্গে সঙ্গে গুলি চালানো হয়। সেনা সূত্রের খবর, একাধিক ড্রোন ভেঙে পড়েছে। সেই ড্রোনগুলিতে বারুদ ছিল বলেও জানা গিয়েছে।ভারতীয় সেনার দাবি, সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই এই ড্রোন হামলার ছক কষা হচ্ছিল। গত দুসপ্তাহে তিন থেকে চার বার অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে পাকিস্তানের ড্রোন ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করেছে। এর পিছনে বড় কোনও পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করছে সেনা। আগেও সীমান্তবর্তী এলাকায় বারবার পাক ড্রোন দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন সেনা প্রধানও। পাকিস্তানের গতিবিধি নিয়ে তখনই সন্দেহ দানা বাঁধে।এরই মধ্যে গুজরাট উপকূলেও নতুন করে রহস্য ঘনিয়েছে। আরব সাগরে নজরদারির সময় ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী একটি সন্দেহজনক নৌকা ভেসে থাকতে দেখে। নৌকাটিতে পাকিস্তানের পতাকা লাগানো ছিল এবং নাম লেখা ছিল আল মদিনা। নৌকার ভিতর থেকে বেশ কিছু সন্দেহজনক বস্তু ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে উপকূল রক্ষী বাহিনীর সূত্রে জানা গিয়েছে।এই নৌকা ব্যবহার করে কোনও অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছিল কি না, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নৌকা থেকে ৯ জন পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলেও খবর। আকাশ ও সমুদ্রদুই দিক থেকেই পাকিস্তানের এই নড়াচড়া ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে নিরাপত্তা মহলে।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিদেশ

ইরানে বন্ধ আকাশপথ, যুদ্ধের দোরগোড়ায় মধ্যপ্রাচ্য?

ইরানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিক্ষোভ, প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং বিদেশি হুমকির মধ্যেই এবার আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হল। ইরানের এয়ারস্পেস বন্ধ হওয়ায় বহু বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ভিতরে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতাও বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার হুমকি দিয়েছে প্রশাসন। অন্য দিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রয়োজনে সে দেশে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ইরান এখন গভীর সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে।বুধবার জানা যায়, সাময়িকভাবে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু ইরান থেকে ওড়া এবং ইরানের উদ্দেশে যাওয়া আন্তর্জাতিক বিমানগুলিকেই ওঠানামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪ সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে। তবে হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়ে ইরান প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।সূত্রের খবর, সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কাতেই আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি আন্তর্জাতিক বিমানকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে মার্কিন হামলার আশঙ্কাই বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।ইতিমধ্যেই ইরানে আন্দোলনকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। সেই আবহেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুবসমাজকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, সাহায্য আসছে। বিভিন্ন সূত্রে খবর, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সরানো শুরু করেছে।অন্য দিকে, ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিতে পিছপা হয়নি। প্রতিবেশী দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরাক থেকে কুর্দিশ বাহিনী ইরানে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত বড় যুদ্ধের রূপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
দেশ

I-PAC কাণ্ডে শীর্ষ আদালতে তোলপাড়, মমতা-ডিজি-সিপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আই-প্যাক সংক্রান্ত ইডির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হল বৃহস্পতিবার। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির শুরুতেই ইডির তরফে অভিযোগ করা হয়, তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার হস্তক্ষেপ করছেন এবং তদন্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে।ইডির আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা আদালতে আক্রমণাত্মক সওয়াল করে বলেন, শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকও তদন্তে বাধা দিয়েছেন। তুষার মেহেতার প্রশ্ন, একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক কীভাবে উর্দি পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তল্লাশির মাঝে ঢুকে পড়েন। ইডি যখন নথি পরীক্ষা করছিল, তখন সেই ফাইল কীভাবে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।তুষার মেহেতা আরও জানান, ইডি প্রথমে স্থানীয় থানায় গিয়ে নিয়ম মেনে অনুমতি নিয়েই তল্লাশি শুরু করেছিল। তা সত্ত্বেও তল্লাশির মাঝখানে কেন বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী সেখানে হাজির হয়, সেই প্রশ্নও তোলা হয় আদালতে। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় উপস্থিত থাকা সমস্ত পুলিশ আধিকারিক, ডিজি রাজীব কুমার-সহ, সবাইকে সাসপেন্ড করা উচিত।শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টে আগের একটি মামলার সময় ঘটে যাওয়া হট্টগোলের প্রসঙ্গও তোলেন তুষার মেহেতা। তাঁর অভিযোগ, সেদিন আইনমন্ত্রী প্রায় পাঁচশো লোক নিয়ে আদালত চত্বরে হাজির হন এবং শুনানির মাঝেই স্লোগান শুরু হয়। যার জেরে শুনানি মুলতুবি রাখতে হয়। তুষার মেহেতার প্রশ্ন, আদালত কি যন্তর মন্তর হয়ে উঠছে?ইডির বক্তব্য, তদন্তের সময় এই ধরনের হস্তক্ষেপ এখন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। যখনই কোনও তদন্ত শুরু হয়, তখনই হইচই করে গোটা প্রক্রিয়াটাই ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা হয়। শুধু ইডির ক্ষেত্রেই নয়, অতীতে সিবিআই তদন্ত চলাকালীন সিবিআই আধিকারিকদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়েছিল বলেও আদালতে জানান তিনি। এর ফলে তদন্তকারী সংস্থার মনোবল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেই প্রশ্ন তোলেন তুষার মেহেতা।তিনি আরও বলেন, ইডি কয়লা দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে, কলকাতা থেকে গোয়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। সেই টাকার বেনিফিসিয়ারি হিসেবে প্রতীক জৈনের নাম উঠে আসে। আদালতের নির্দেশ নিয়ে ইডি তদন্তে নামে। কিন্তু সেই তদন্তের মাঝেই রাজ্য পুলিশের এই ভূমিকা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে বলে দাবি তাঁর।ইডির তরফে এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা ও বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে ইডির এই সমস্ত অভিযোগের কড়া বিরোধিতা করেন রাজ্যের তরফে সওয়াল করা আইনজীবী কপিল সিব্বল।

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
বিদেশ

নোবেল নিয়ে পোপের দরবারে মাচাদো, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির নেপথ্যে কি ভ্যাটিকান?

গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মাচাদো। সেই পুরস্কারই মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিতে চান তিনি, যাতে নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে বন্দি করা যায়এমন দাবিও করেছিলেন মাচাদো। এবার সেই নোবেলজয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল চতুর্দশ পোপ লিওর। এই সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।সোমবারই নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তার মধ্যেই পোপের সঙ্গে মাচাদোর সাক্ষাৎ হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্পের সমর্থনে ক্ষমতা দখলের প্রস্তুতি হিসেবেই কি এই বৈঠক? প্রথম মার্কিন পোপের সঙ্গে এই সাক্ষাতের রাজনৈতিক তাৎপর্য খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।জানা গিয়েছে, পোপ লিওর সঙ্গে দেখা করার কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না মাচাদোর। ভ্যাটিকান পরে তাদের দৈনিক বুলেটিনে এই সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সফর করছেন মাচাদো।আগামী সপ্তাহে তিনি আমেরিকা যাচ্ছেন। সেখানে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগেই পোপের সঙ্গে দেখা হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে। যদিও প্রথম মার্কিন পোপ লিও ভেনেজুয়েলার উপর আমেরিকার আগ্রাসনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন।মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহরণের ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে সরব হয়েছেন পোপ। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির উপর তাঁর নজর রয়েছে এবং দেশের অবস্থা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সামাজিক সুরক্ষা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন পোপ লিও।অন্যদিকে, ট্রাম্প ও মাচাদোদুজনেই প্রকাশ্যে মাদুরোর বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, মাদুরো দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলেছেন। মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন মাচাদো।এই প্রেক্ষাপটে পোপ লিওর সঙ্গে মাচাদোর সাক্ষাৎ যে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার লড়াইয়ে এই বৈঠক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 70
  • 71
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

শেষ কি আমেরিকার দাপট? আইএমএফ রিপোর্টে চমক, মুখ খুললেন এলন মাস্ক

বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার একছত্র আধিপত্য কি শেষের পথে? সদ্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রিপোর্ট সামনে আসার পর তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। আর সেই রিপোর্ট দেখেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন ধনকুবের এলন মাস্ক। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করেছে।আইএমএফ তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধির হিসাব তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের মোট আর্থিক বৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। বিশ্ব জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। সেই তুলনায় আমেরিকার অবদান মাত্র ৯.৯ শতাংশ। ফলে তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে ডলারের দেশ।এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে চিনের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়ার দুই দেশ চিন এবং ভারত। একসঙ্গে এই দুই দেশের আর্থিক যোগদান দাঁড়াচ্ছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র এখন এশিয়ায়।আইএমএফের রিপোর্টে আরও দেখা গিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, জার্মানির মতো দেশগুলিও। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় এশিয়ার দেশগুলির প্রভাব যে দ্রুত বাড়ছে, তা স্পষ্ট।এই রিপোর্ট সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেই এলন মাস্ক লেখেন, অবশেষে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করছে চিন ও ভারত।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এলন মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকার কড়া শুল্কনীতি এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির। চিন ও ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। অথচ আইএমএফের রিপোর্ট বলছে, আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছে এই দুই দেশই।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

মেঝেতে কিশোরী, উপর ঝুঁকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু! এপস্টেইন ফাইলসে ফাঁস চাঞ্চল্যকর ছবি

মেঝেতে শুয়ে রয়েছে এক কিশোরী। তাঁর উপর ঝুঁকে পড়ে আছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এপস্টেইন ফাইলসের সদ্য প্রকাশিত নথিতে এই ছবি সামনে আসতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বহুদিন ধরেই যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এ বার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হল নতুন ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসায়।এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে সামনে এসেছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের নামও। গত বছরই জানা যায়, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল প্রিন্স অ্যান্ড্রুর। সেই ঘটনার পর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস নিজের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় উপাধি, সম্মান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেন। রাজপরিবার থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় তাঁকে।এই পরিস্থিতিতেই গত শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত নথির নতুন একটি অংশ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক অজ্ঞাত পরিচয়ের কিশোরী মাটিতে শুয়ে রয়েছেন। তাঁর পাশে এবং উপর ঝুঁকে আছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। একটি ছবিতে দেখা যায়, কিশোরীর পেটের উপর হাত রেখেছেন তিনি। তবে ওই কিশোরী কে, ছবিগুলি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।শুধু ছবি নয়, এই নথিতে উঠে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে জেফ্রি এপস্টেইন ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মধ্যে ইমেলে যোগাযোগ হয়েছিল। সেই ইমেলে এপস্টেইন অ্যান্ড্রুকে লেখেন, তাঁর এক রুশ বান্ধবী রয়েছে, যিনি ২০ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে লন্ডনে থাকবেন। এপস্টেইনের দাবি ছিল, ওই মহিলার সঙ্গে নৈশভোজ অ্যান্ড্রু উপভোগ করবেন। তবে এই রহস্যময়ী রুশ মহিলার সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আদৌ কখনও দেখা হয়েছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।নতুন করে সামনে আসা এই নথি ও ছবিকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ। এপস্টেইন কাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এবং বিতর্ক যে এখনও শেষ হয়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলের মিছিলে ভাতারে বিধায়কের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগান, মুচকি হাসি বিরোধীদের

বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থী হওয়ার দাবিদারের লড়াই চরমে উঠেছে। ভাতারের তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে চোর চোর স্লোগান উঠলো। তবে এই চোর চোর স্লোগান বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। ভাতারের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেই এই চোর চোর স্লোগান উঠেছে মুহূর্মুহু। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন ভাতারের প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা। ভাতারের এই মিছিলে স্লোগান ওঠে, মানু চোর, শান্তনু চোর। কেন তাঁদের চোর বলা হচ্ছে? মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে গ্রামপঞ্চায়েত, সর্বত্র লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হচ্ছে। লুঠপাট চলছে। পকেট ভরছে নেতারা। তাদের দাবি, মানগোবিন্দ অধিকারীকে আর যেন বিধায়কপদের টিকিট না দেওয়া হয়। প্রার্থী করতে হবে বনমালী হাজরাকে।সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিধায়ক পদের টিকিট পাওয়া নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। কে হবেন বিধানসভার প্রার্থী, এখন সেই প্রতিযোগিতা চলছে। বর্ধমান জেলার প্রায় প্রতিটি জায়গায় দলের তরফে দুই পক্ষের মিছিল হয়। বর্ধমানে কখনও বিধায়ক খোকন দাসের নেতৃত্বের মিছিল হয়, আবার কখনও কাউন্সিলর রাসবিহারী হালদারের নেতৃত্বে পৃথক মিছিল হয়। ভাতারেও সেই অবস্থা চলছে। সেখানে একাংশ চাইছে মানু অধিকারী নয়, বনমালী হাজরাকে তৃণমূল প্রার্থী করুক। তবে তৃণমূলের মিছিলেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগানে মুচকি হাসছে বিরোধী শিবির।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

রক্তে ভাসল পাকিস্তান! একযোগে জঙ্গি হামলায় মৃত ১২০ ছাড়াল

পরপর গুলির শব্দ, তার পর একের পর এক বিস্ফোরণ। শনিবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।হামলা শুধু গুলি ও বোমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসীরা কারাগারেও হামলা চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাস্তুং জেলার একটি জেল ভেঙে প্রায় ৩০ জনেরও বেশি বন্দিকে পালাতে সাহায্য করেছে তারা। একই সঙ্গে নুস্কি জেলার আধাসামরিক বাহিনীর দফতরেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একাধিক নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছে বালোচিস্তানে। গত কয়েক মাস ধরেই এই এলাকায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। শনিবারও একযোগে একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়েটা, গোদার, মাস্তুং, নুস্কি, দালবানদিন এবং পাঞ্জগুর-সহ বালোচিস্তানের একাধিক জেলায় একসঙ্গে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার পরই পাল্টা অভিযানে নামে পাকিস্তানের সেনা। সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে সন্ত্রাসদমন অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩৩ জনের বেশি জঙ্গিকে খতম করেছে পাক সেনা। শুধু শনিবারেই নিহত হয়েছে অন্তত ৯২ জন সন্ত্রাসী।যদিও এই হামলার দায় বালোচ লিবারেশন আর্মি এখনও স্বীকার করেনি, তবে হামলার দিনেই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ওই সংগঠন। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান সরকার ও সেনার বিরুদ্ধে সংঘর্ষে বন্দুক হাতে অংশ নিচ্ছেন মহিলারাও। এই ছবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভুল নাকি অপরাধ? গোমাংস কাণ্ডে অলি পাবের ক্ষমা চাওয়ায় প্রশ্ন

সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। পাঁঠার মাংসের বদলে গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার দায়ে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এই ঐতিহ্যবাহী পাব। রবিবার সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে রেস্তরাঁর তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। এই ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।অলি পাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩০ জানুয়ারি রাতে রেস্তরাঁর এক কর্মী ভুলবশত একটি গুরুতর ভুল করে ফেলেন। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ওই কর্মীর ভুলের জন্য রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতার ভাবাবেগে আঘাত লাগায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত।এদিকে সায়ক চক্রবর্তীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ অলি পাবের বেয়ারা শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারি ঘিরে শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাংশ ওই কর্মীর পাশে দাঁড়ান, আবার অনেকে সেলেব ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে রেস্তরাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠতে থাকে, ভুল খাবার পরিবেশন করা কি অপরাধ, না কি কর্মীর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে বিষয়টিকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে অলি পাবের তরফে জানানো হয়, জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতেই রেস্তরাঁটি পরিচালিত হয়। আট দশকের ঐতিহ্য নিয়ে তারা গর্বিত বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেস্তরাঁর সমস্ত কর্মী ও সহযোগীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তাও দেওয়া হয়।এর মাঝেই গুজব ছড়ায় যে এই ঘটনার জেরে অলি পাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই খবরে বহু নিয়মিত অতিথির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে রবিবারের বিবৃতিতে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, অলি পাব বন্ধ হচ্ছে না। বরং এই কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগের মতোই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে পরপর ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। যদিও বর্তমানে সেই পোস্টগুলি আর পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সেদিন রাতে সায়ক তাঁর দুই বন্ধু অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডুর সঙ্গে অলি পাব যান। তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। খাবার পরিবেশনের পর প্রথমে খিদের চোটে বিষয়টি বুঝতে পারেননি তাঁরা। পরে টেবিলে আরও একটি স্টেক আসতেই সন্দেহ হয়।সায়কের দাবি, তাঁরা একটি মাত্র স্টেক অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু বেয়ারা জানান, দুটি স্টেক অর্ডার করা হয়েছেএকটি মাটন এবং একটি বিফ। তখনই সায়ক প্রতিবাদ করেন। তাঁর কথায়, অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বচসার মধ্যেই বেয়ারা স্বীকার করেন যে তিনি ভুল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে রেস্তরাঁর মধ্যেই উত্তেজনা ছড়ায়। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সায়ক। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার ওই বেয়ারাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

গোমাংস বিতর্কে ইউটার্ন! বেয়ারার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার সায়কের

রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। তাদের বক্তব্যে জানানো হয়েছে, কোনও ক্রেতার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এই ক্ষমা প্রার্থনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী।অলি পাবের বিবৃতি প্রকাশের পরই সায়ক সোশাল মিডিয়ায় জানান, তিনি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, তিনি জনগণের উপর নির্ভরশীল এবং মানুষ যা বলবেন, সেটাই তিনি মেনে নেবেন। সেই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চাপের মুখেই নিজের অবস্থান বদল করলেন অভিনেতা।গত ২৪ ঘণ্টায় গোমাংস বিতর্ক ঘিরে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয় সোশাল মিডিয়ায়। ঘটনার সূত্রপাত একটি ভ্লগকে কেন্দ্র করে। সেই ভ্লগে রেস্তরাঁর এক বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন সায়ক। পরে অলি পাব এবং ওই কর্মীর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন রেস্তরাঁর কর্মী শেখ নাসির উদ্দিন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। আদালতে তোলা হলেও শনিবার তিনি জামিন পাননি বলে খবর।এদিকে শনিবার রাতেই সায়কের বিরুদ্ধেও পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাট্যব্যক্তিত্ব জয়রাজ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ ছিল, সায়কের বক্তব্য থেকে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মধ্যেই রবিবার অলি পাব প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। তার পরই সায়ক নিজে থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।সায়ক চক্রবর্তী তাঁর পোস্টে লেখেন, অলি পাব শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছে, তাই নতুন করে কোনও গল্প বানানোর প্রয়োজন নেই। তিনি স্বীকার করেন, রাগের মাথায় থানায় গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তাঁর মাথা ঠিক ছিল না। তিনি জানান, তিনি কোনওদিন গোমাংস খাননি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। অলি পাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তিনি প্রত্যাহার করছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন।অভিনেতা আরও লেখেন, রেস্তরাঁর ভুল নিয়ে তাঁর সমস্যা ছিল, কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়াও হয়তো ভুল ছিল। সে জন্য তিনি দুঃখিত। ভবিষ্যতে ভ্লগ বা ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট বানাতে গিয়ে এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর হিন্দু-মুসলিম কোনও সমস্যা নেই। তিনি কেবল নিজের কিছু ব্যক্তিগত আচার মেনে চলতে চান। তাঁর কনটেন্ট আগেও মানুষের মধ্যে ঐক্যের কথা বলেছে, ভবিষ্যতেও বলবে। পুরো ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আবারও দুঃখপ্রকাশ করেন সায়ক।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

বাজেট ২০২৬–এ পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি: মেট্রোতে জোরালো বিনিয়োগ, গতি পাচ্ছে ফ্রেট করিডর

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্র সরকার। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো রেল প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে চাঙ্গা করতে ফ্রেট করিডর সম্প্রসারণে বরাদ্দএই দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হয়েছে রাজ্যের।মেট্রো রেলে গতি, শহুরে যাত্রায় স্বস্তির আশ্বাসবাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউ গড়িয়াএয়ারপোর্ট মেট্রো, জোকাএসপ্ল্যানেড লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে শহরের যানজট কমবে, যাত্রার সময় বাঁচবে এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ আরও জনপ্রিয় হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার যাত্রীদেরও সরাসরি উপকার হবে।কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণে ফের বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। শহর ও শহরতলির গণপরিবহণকে আরও গতিশীল করতে অরেঞ্জ লাইন, পার্পল লাইন ও গ্রিন লাইনের জন্য মোট ২,১৪১.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দকে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ শহুরে পরিবহণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।অরেঞ্জ লাইন: বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগে জোরনিউ গড়িয়ানেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ মূলত ভায়াডাক্ট নির্মাণ, স্টেশন অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেক-নিউ টাউনের সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পার্পল লাইন: জোকাএসপ্ল্যানেডে শহর-উপশহর সেতুবন্ধনজোকাএসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য সর্বাধিক বরাদ্দ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। এই লাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রথমবারের মতো মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যাবে এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ, রোলিং স্টক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে। কেন্দ্রের দাবি, এই লাইনের কাজ দ্রুত শেষ হলে শহরের দক্ষিণ প্রান্তের যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় স্বস্তি মিলবে।গ্রিন লাইন: পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোতে গতি ফেরানোর চেষ্টাপূর্ব-পশ্চিম মেট্রো করিডর বা গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯.০০ কোটি টাকা। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর-৫ পর্যন্ত এই লাইন কলকাতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অংশের প্রযুক্তিগত কাজ, স্টেশন ফিনিশিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।শহুরে পরিবহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবপরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি লাইনে বিনিয়োগ শুধু যাত্রী সুবিধা বাড়াবে না, বরং যানজট ও দূষণ কমাতেও বড় ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এই মেট্রো প্রকল্পগুলি।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬২৭-এ অরেঞ্জ, পার্পল ও গ্রিন লাইনের জন্য ঘোষিত বরাদ্দ কলকাতা মেট্রোকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।ফ্রেট করিডর: শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্তবাজেট ২০২৬-এ পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (EDFC)-এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ আরও শক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলিকে এই করিডরের সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।বিশেষ করে হলদিয়া বন্দর, দুর্গাপুরআসানসোল শিল্পাঞ্চল এবং কলকাতা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত মাল পরিবহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যবিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট বরাদ্দ শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পূর্ব ভারতের প্রবৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। যদিও রাজ্য সরকার আরও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলতে পারে, তবু মেট্রো ও ফ্রেট করিডরএই দুই ক্ষেত্রে ঘোষণাকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য মেট্রো রেল ও ফ্রেট করিডর সংক্রান্ত বিনিয়োগ রাজ্যের শহুরে জীবনযাত্রা ও শিল্প-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে বলেই আশা।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফাঁকে কেন্দ্রের বাজেট: স্বস্তি সীমিত, হতাশা বিস্তৃত

রবিবার সংসদে ২০২৬২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। টানা নবমবার বাজেট বক্তৃতা করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তাঁর সরকারের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট। তবে বাজেট বক্তৃতা শেষ হতেই স্পষ্টপ্রত্যাশার পাহাড়ের তুলনায় প্রাপ্তি অনেকটাই খর্ব।বাজেট পেশের আগেই ব্যয় বরাদ্দ ও করছাড় ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহলসর্বত্র উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদে ভাষণ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর ক্রমশ স্পষ্ট হয়, বড় কোনও চমক নেই।বিশেষ করে রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাংলা কার্যত ব্রাত্য। পরিকাঠামো, শিল্প বা বিশেষ প্রকল্পকোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা শোনা যায়নি। করদাতাদের ক্ষেত্রেও হতাশা চোখে পড়ার মতো। আয়কর কাঠামোয় তেমন কোনও বড় পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ছাড় ঘোষণা হয়নি।তবে সম্পূর্ণ হতাশার ছবি নয়। কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ফলে দৈনন্দিন জীবনে সীমিত হলেও স্বস্তি মিলতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বিমানের যন্ত্রাংশে শুল্ক কমানো হবে। এর ফলে বিমান সংক্রান্ত খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোওভেনের যন্ত্রাংশ-সহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিন পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে ১৭টি ক্যানসারের ওষুধে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধও সস্তা হতে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কিছুটা কমবে বলেই আশা।পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও শুল্কছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিচালিত প্যানেলের দাম কমতে পারে। মোবাইল ফোন তৈরির কাঁচামালের উপর শুল্ক কমানোয় দেশীয় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট সস্তা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।চামড়াশিল্পকে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার উচ্চ শুল্কের চাপে থাকা চামড়া রফতানিকারকদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণের খরচ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, স্বস্তির পাশাপাশি চাপও বাড়ছে কিছু ক্ষেত্রে। বিলাসবহুল ঘড়ি এবং বিদেশি মদের উপর কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই সব পণ্যের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। কফি রোস্টিং ও ব্রিউইং মেশিনে ছাড় তুলে নেওয়ায় সেগুলিও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সার, আমদানিকৃত টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাজেট বক্তৃতাজুড়ে আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ভারত-এর কথা বারবার উঠে এসেছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্র। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাস্তবে এই বাজেটে এমন কোনও যুগান্তকারী ঘোষণা নেই, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।সব মিলিয়ে, ২০২৬২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট সীমিত স্বস্তি দিলেও বৃহত্তর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থএই মূল্যায়নই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal