• ২ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Protest

বিদেশ

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে! যে কোনও মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা

সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এমন অবস্থায় যে কোনও মুহূর্তে ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় নয়াদিল্লি।গত বছরের শেষ দিকে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ থেকেই ইরানে এই আন্দোলনের শুরু। মাত্র দুসপ্তাহের মধ্যেই তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় নেমেছেন প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ মানুষ। সরকার বিরোধী এই বিক্ষোভে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকার কড়া দমন নীতি নিয়েছে বলে অভিযোগ।দেশ জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় ব্ল্যাকআউট জারি রয়েছে। বিমান পরিষেবাও কার্যত বন্ধ। ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাইরের দুনিয়ার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সেখানে থাকা প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। প্রয়োজন হলে কীভাবে তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই বিষয়েও পরিকল্পনা শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।এদিকে নরওয়ের একটি বেসরকারি সংগঠন রবিবার একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, বিক্ষোভ ও সরকারি দমন-পীড়নের জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এছাড়াও ইরানের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্র ও ত্রাণ শিবিরে হামলার খবর সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি এখন কার্যত অগ্নিগর্ভ অবস্থায় রয়েছে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
রাজ্য

শান্তনুর মন্তব্যে আগুন মতুয়া সমাজে, রাস্তায় নামছে মহাসঙ্ঘ

মমতা ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে মান্যতা দিতে নারাজ শান্তনু ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। শান্তনু ঠাকুরের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গাইন বলেন, মমতা ঠাকুরের ডাকা কর্মসূচির সঙ্গে প্রকৃত মতুয়াদের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই এই ধরনের আন্দোলনের পথে হাঁটা হচ্ছে।উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের একটি মন্তব্য ঘিরে গত শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি। মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীদের সঙ্গে শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ঠাকুরবাড়ি চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।শান্তনু ঠাকুরের দাবি, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীরা কেন এই ধরনের মন্তব্য করা হল, তার ব্যাখ্যা চাইতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই সময়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।অভিযোগ উঠেছে, মমতাবালা ঠাকুরের এক অনুগামীকে মাটিতে ফেলে কিল, চড়, লাথি ও ঘুষি মারা হয়। ওই ব্যক্তি শরীরের একাধিক জায়গায় চোট পান। এই ঘটনার পর মতুয়া সমাজে ক্ষোভ আরও বাড়ে।প্রসঙ্গত, সোমবার শান্তনু ঠাকুর মন্তব্য করেছিলেন, ৫০ লক্ষকে আটকাতে যদি ১ লক্ষ মতুয়া ভোট না দিতে পারে, সেটাও মেনে নিতে হবে। এই মন্তব্য ঘিরেই মতুয়া সমাজে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই ঠাকুরবাড়িতে হাজির হয়েছিলেন মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীরা। তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।এই ঘটনার প্রতিবাদেই ফের রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি রাজ্যজুড়ে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে মমতা ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া গোঁসাইদের মারধরের প্রতিবাদ এবং এসএআর তালিকায় মতুয়াদের নাম বাদ না যাওয়ার দাবিতে এই কর্মসূচি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।রবিবার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে বৈঠক করে মমতা ঠাকুরের সংগঠন। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরী জানান, আগামী ৫ জানুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
কলকাতা

বাংলাদেশ ইস্যুতে বিক্ষোভ, পুলিশের দাবি খারিজ করে জামিন দিল আদালত

বাংলাদেশে দীপু হত্যার প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল কলকাতাতেও। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শহর। সেই ঘটনার জেরে গ্রেফতার হওয়া ১২ জন বিক্ষোভকারীকে শুক্রবার শর্তসাপেক্ষে জামিন দিল আলিপুর আদালত। তিন হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।এই ঘটনায় মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এর মধ্যে সাত জন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। শুক্রবার বাকি ১২ জনের জামিন মঞ্জুর হওয়ায় এই মামলায় ধৃত সকলেই আপাতত মুক্তি পেলেন।মঙ্গলবার বেকবাগানে বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের অফিসের সামনে তীব্র বিক্ষোভ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে কুশপুতুল পুড়িয়ে ছুড়ে মারেন। এই ঘটনায় আট জন পুলিশকর্মী আহত হন। হাই কমিশনের বাইরে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে পুলিশের অভিযোগ।এই ঘটনার পর মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সেদিন আদালত ১২ জন পুরুষ অভিযুক্তকে দুদিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। শুক্রবার ফের তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়।এদিন আদালতে পুলিশ ১২ জন অভিযুক্তের ১২ দিনের পুলিশি হেফাজত চায়। পুলিশের দাবি ছিল, ধৃতদের সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সরকারি আইনজীবী জানান, তদন্তে ইতিমধ্যেই ১১ জন সাক্ষীর বয়ান সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশের উপর হামলার প্রমাণ হিসেবে ইনজুরি রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়েছে।সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা জরুরি। তাঁর দাবি, একই সংগঠন ফের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। এতে আবার অশান্তি ছড়ালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে। পুলিশকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে, হাসপাতালে থেকে ছাড়া পেলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা এখনই কাজে যোগ দিতে পারবেন না।তিনি আরও জানান, হাই কমিশনের বাইরে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কুশপুতুল পুড়িয়ে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারা হয়েছে। সেদিন একই ঘটনা হাই কমিশনের ভিতরেও ঘটতে পারত বলেও আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এমনকি শুক্রবারও একই সংগঠন ফের কর্মসূচিতে নেমেছে বলে দাবি করে পুলিশ।অন্যদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবী আদালতে বলেন, খুনের চেষ্টার ধারা যুক্ত করা হলেও তার স্বপক্ষে কোনও নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুদিনের তদন্তে খুনের চেষ্টার কোনও প্রমাণ আদৌ পুলিশ পেয়েছে কি না।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ১২ জন অভিযুক্তকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
কলকাতা

বাংলাদেশে হিন্দু খুনের প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতা, বাংলা হাইকমিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভ, ধুন্ধুমার

কলকাতার রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠল মঙ্গলবার। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভ ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় একাধিক বিক্ষোভকারী আহত এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দীপুচন্দ্র দাসকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নৃংশস ভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। তাঁকে মারধর করে পোস্টে বেঁধে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী বাংলাদেশ পুলিশ স্বীকার করে দীপু কোনওরকম সাম্প্রদায়িক কথা বলেনি। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশ পুলিশ তাঁকে না রক্ষা করে হত্যাকারীদের হাতে তুলে দেয় বলে অভিযোগ।বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্য়াচারের প্রতিবাদেই এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকরা হাইকমিশনের সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন। প্রথমদিকে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বেগবাগান এলাকায় একাধিক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা।পুলিশ সূত্রে খবর, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের মূল গেটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বারবার মাইকে সতর্কবার্তা দিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ধস্তাধস্তি শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। লাঠিচার্জের পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনী। সাময়িকভাবে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সেই কারণেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানিয়ে তাঁরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫
রাজ্য

মৃত ভোটারের তালিকায় জীবিত কাউন্সিলর! নিজের সৎকার করতে শ্মশানে হাজির তৃণমূল নেতা

ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ হতেই চাঞ্চল্য হুগলির ডানকুনিতে। মৃত ভোটারের তালিকায় উঠে এল এক জীবিত কাউন্সিলরের নাম। আর সেই তালিকা দেখে নজিরবিহীন প্রতিবাদে নামলেন তিনি নিজেই। প্রতীকীভাবে নিজের সৎকারের আয়োজন করে শ্মশানে পৌঁছে গেলেন ওই কাউন্সিলর। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।ঘটনাটি ডানকুনি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের। তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সূর্য দে দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। মঙ্গলবার সকালে যখন ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ হয়, তখন দেখা যায় সূর্য দে-র নাম মৃত ভোটারের তালিকায় রয়েছে। তাঁর ক্রমিক নম্বর ৪০ এবং বুথ নম্বর ২২৬। জীবিত কাউন্সিলর নিজের চোখেই দেখেন, তাঁকে সরকারি নথিতে মৃত দেখানো হয়েছে।এই ভুলে ক্ষুব্ধ হয়ে কাউকে কিছু না জানিয়েই অভিনব প্রতিবাদে নামেন সূর্য দে। প্রতীকীভাবে নিজের সৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগাড় করেন তিনি। তারপর সেগুলি সঙ্গে নিয়ে সরাসরি শ্মশানে পৌঁছে যান। কাউন্সিলরের এমন প্রতিবাদে ডানকুনি জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।শ্মশানে বসেই নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করেন সূর্য দে। তিনি বলেন, তিনি নিজেই হেঁটে এসেছেন নিজের সৎকার করতে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে কীভাবে মৃত দেখানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, যেহেতু তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছে, তাই এসে যেন তাঁকেই চুল্লিতে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।ভোটার তালিকার খসড়ায় এমন গরমিল ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
রাজ্য

ফলতায় মহিলাদের ক্ষোভের মুখে নির্বাচন পর্যবেক্ষক! ছাতা হাতে ধাওয়া, স্লোগানে উত্তেজনা

ফলতায় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগান বৃহস্পতিবার মহিলাদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বৃদ্ধ ভোটারদের তালিকা যাচাই করতে তিনি দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পায়রাচালি এলাকায় যান। ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর বুথের ভোটাররা ঠিক আছেন কিনা, তাঁরা জীবিত কিনাসেটা খতিয়ে দেখতে তিনি বাড়ি বাড়ি যাচ্ছিলেন।ঠিক সেই সময় এলাকার তৃণমূল-সমর্থিত মহিলাদের একদল হঠাৎ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কেউ ছাতা হাতে তেড়ে যান, কেউ আঙুল তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ করতে থাকেনকেন গ্রামে রাস্তা হয়নি, কেন ঘর পাচ্ছেন না, কেন ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ। এসব উন্নয়নমূলক অভিযোগই তাঁরা পর্যবেক্ষকের সামনে তুলতে থাকেন।মুরুগান পরে জানান, এই ধরনের অভিযোগের সঙ্গে এসআইআর-এর কোনও সম্পর্ক নেই। এসআইআর হল ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, উন্নয়ন বা সরকারি প্রকল্পের কাজ নয়এই বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন। তবুও বিক্ষোভ থামেনি।ঘটনায় অসন্তুষ্ট মুরুগান জানান, তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট আজই জাতীয় নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। তাঁর কথায়, আপত্তি থাকলেও এসআইআর-এর কাজ নিয়মমতো চলবে। বিক্ষোভের জেরে এলাকায় কিছুক্ষণ উত্তেজনা তৈরি হয়, তারপর পর্যবেক্ষক সেখান থেকে ফিরে আসেন।

ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
কলকাতা

বিবাদী বাগে আগুন! নির্বাচন কমিশনের গেটে তালা দিতে ছুটলেন বিএলও, ধস্তাধস্তিতে উত্তাপ

কলকাতার বুকে আজ যেন দুদিক থেকে আগুন। একদিকে নবাগত চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভে ফুঁসছে রাজপথ, অন্যদিকে মুখ্য নির্বাচন অফিসারের দফতর ঘিরে তীব্র আন্দোলনে নেমেছেন বিএলওদের একাংশ। সকালে থেকেই বিবাদী বাগ এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টাসব মিলিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে ব্যারিকেডের দুই পাশে দুই শিবির। এক পাশে কড়া নিরাপত্তায় দাঁড়িয়ে পুলিশকর্মীরা, আর অন্য পাশে ক্ষুব্ধ বিএলওরা। হঠাৎই এক বিএলও কমিশনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভিড়। অনেকে সামনেই বসে পড়েন ধরনায়। ধাক্কাধাক্কিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। এমনকি বিক্ষোভ চলাকালীন এক বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েন।বিএলওদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই তাঁদের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিনই ফোনে নতুন নির্দেশ আসছে, সঙ্গে আছে ডিজিটাইজেশনের চাপ। তাঁদের দাবি ছিলফর্ম ডিজিটাইজ করার জন্য কিছুটা সময় বাড়ানো হোক। কিন্তু রাজ্যে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দেন, একটুও সময় বাড়ানো হবে না। বরং ৪ ডিসেম্বর নয়, ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে হবে। আর সেই নির্দেশের প্রতিবাদে আজ রাস্তায় নেমে পড়েছেন বিএলওদের একাংশ।এক বিক্ষুব্ধ বিএলও বলেন, আমাদের ওপর অমানবিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। কাজ করব না এমন নয়কিন্তু এত কম সময়ে এই বিশাল দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব। সঠিক পরিকল্পনাই নেই। আরও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরাবাংলায় কেন এত সমস্যা? কেন বাকি রাজ্যগুলির মতো যথাযথ প্রশিক্ষণ বা পরিকাঠামো দেওয়া হয়নি?নবাগত চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন সামলাতে ব্যস্ত পুলিশকে আজ একই সঙ্গে সামলাতে হচ্ছে কমিশন ভবনের সামনে ক্ষুব্ধ বিএলওদেরও। দিনের শেষে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়েই চরম উত্তেজনা শহরজুড়ে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
রাজ্য

এসআইআর ফর্ম আপলোডে বিপত্তি, বিএলও-কে আটকে রেখে বিক্ষোভ! মাথাভাঙ্গায় উত্তেজনা

কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় এসআইআর-এর ফর্ম আপলোড করতে গিয়েই তৈরি হল বড়সড় বিপত্তি। আর সেই বিপত্তি ঘিরেই উত্তেজনা ছড়াল পচাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাংকোবা এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, বিএলও অ্যাপে ফর্ম আপলোড না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসীরা প্রথমে তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান, পরে উত্তেজনা এতটাই বাড়ে যে তাঁকে আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।মাথাভাঙ্গার ২৪৩ ও ২৪৪ নম্বর বুথে কয়েক দিন আগে ভোটার তালিকা থেকে ৪২৫ জনের নাম উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে নতুন তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায়যে ৪২৫ জনের নাম গায়েব বলা হয়েছিল, তাঁদের নামই রয়েছে পূর্ণাঙ্গ তালিকায়। তার পর থেকেই গ্রামবাসীরা উদ্বেগে ছিলেন, তাঁদের নাম অ্যাপে ঠিকমতো আপলোড হচ্ছে কি না।এদিন বিএলও সেই ৪২৫ জনের তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে গেলে অ্যাপে বারবার সাকসেসফুল নয় দেখায়। ওই মুহূর্তেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। আপলোড না হওয়া মানেই আবার তাঁদের নাম মুছে গেল কি নাএই আশঙ্কায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, গ্রামের একদল মানুষ বিএলও-কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এবং পরে তাঁকে আটকে রাখেন।বিএলও ঘটনাস্থলেই বুঝিয়ে বলেন, যান্ত্রিক কোনও গোলযোগের কারণে তখনই সাকসেসফুল দেখাচ্ছে না, তবে ২৬ তারিখের পর এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাঁর দাবি, অ্যাপ পরে নিজে থেকেই আপডেট নেবে এবং নাম ঠিকমতো আপলোড হয়ে যাবে। কিন্তু আশ্বস্ত হননি গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগসিরিয়াল নম্বর ৪১৭ থেকে ৮৪৬ পর্যন্ত কোনও নামই অ্যাপে উঠছে না, আর এই বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে এলাকার এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গোলমাল বাঁধানোর চেষ্টা করছেন।উত্তেজনা বাড়তে থাকতেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ ও প্রশাসন। গ্রামবাসীরা জানান, তাঁরা শুধু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে তাঁদের নাম আবার মুছে যাচ্ছে কি না। আর সেই উদ্বেগই মুহূর্তে অশান্তির রূপ নেয়। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
বিদেশ

কাশ্মীরে আগুন ধরাল ছাত্ররাই! গুলির পর রাস্তায় ফুঁসছে Gen Z

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) ফের দাউদাউ করে জ্বলছে জনরোষ। কদিন আগেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল এই অশান্ত ভূখণ্ড। এবার সেই আগুন ছড়িয়েছে নতুন প্রজন্মের হাতে ক্লাসরুম থেকে রাস্তায় নেমেছে Gen Z। শুরুতে প্রতিবাদ ছিল কেবল শিক্ষাব্যবস্থা ও ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে, কিন্তু দিন গড়াতেই সেই ক্ষোভ রূপ নিয়েছে শেহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনআন্দোলনে।মুজাফফরাবাদে একসময় যে মিছিলগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ, তা এখন যেন রণক্ষেত্র। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন হঠাৎই এক বন্দুকধারী ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একজন গুরুতর আহত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পুলিশের উপস্থিতিতেই এক ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি চালাচ্ছে, আর মুহূর্তের মধ্যেই বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে।এই গুলির ঘটনাই বদলে দিয়েছে আন্দোলনের মোড়। ক্ষুব্ধ ছাত্ররা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে, শেহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছে। আমরা চুপ থাকব না এমন স্লোগানে মুখর মুজাফফরাবাদের আকাশ। দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল ও বাংলাদেশে Gen Z তরুণদের মতোই এখানে যুব সম্প্রদায়ের তীব্র ক্ষোভ স্পষ্ট।সবকিছুর শুরু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা টিউশন ফি ও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবে ক্ষোভ উগরে দেয় ছাত্ররা। প্রশাসন প্রথমে আন্দোলনকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দেগে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে দেয়। কিন্তু এই দমননীতি উলটে আগুনে ঘি ঢালে।এটাই প্রথম নয়। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও একই ধরনের আন্দোলন হয়েছিল। তখনও ছাত্ররা অভিযোগ করেছিল প্রশাসন তিন-চার মাস অন্তর লাখ লাখ টাকা নিচ্ছে সেমিস্টার ফি নামে। পরে আন্দোলনে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও, যাঁরা দাবি করেন, তাঁদের বহুদিনের বকেয়া বেতনও মেটানো হয়নি।এবারের আন্দোলনে যোগ দিয়েছে স্কুল স্তরের ছাত্ররাও। তাঁদের ক্ষোভ নতুন ই-মার্কিং বা ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে। অক্টোবরের ৩০ তারিখে ঘোষিত ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরেই রাগে ফুঁসে ওঠে গোটা অঞ্চল। ছমাস দেরিতে প্রকাশিত ফলাফলে ছাত্রছাত্রীরা দেখে কেউ অপ্রত্যাশিতভাবে ফেল করেছে, আবার কেউ পাস করেছে এমন বিষয়ে যার পরীক্ষাতেই বসেনি!সরকার এখনও মুখ খোলেনি। তবে মিরপুর শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, তারা ই-মার্কিং প্রক্রিয়ার উপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু তাতে শান্ত হয়নি ছাত্ররা। তাঁদের দাবি, পুনর্মূল্যায়নের ফি সম্পূর্ণ মাফ করতে হবে। কারণ বর্তমানে প্রতিটি বিষয়ের রিচেকিং ফি ১,৫০০ টাকা। অর্থাৎ সাতটি বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ন চাইলে একজন ছাত্রকে গুনতে হবে ১০,৫০০ টাকা যা মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।পাক অধিকৃত কাশ্মীরের এই ছাত্র আন্দোলন এখন গোটা অঞ্চলে বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে। মুজাফফরাবাদ থেকে মিরপুর পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে একই স্লোগান আমাদের ভবিষ্যৎ ফেরত দাও!। প্রশাসনের কড়া দমননীতি, পুলিশি হুমকি, এমনকি গুলি কিছুই থামাতে পারছে না তরুণদের রাগ।

নভেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

ভারতে ইজরায়েলি অর্থমন্ত্রী, প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক এসএফআইয়ের

৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর তিন দিনের ভারত সফরে আসছেন ইজরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। এই সফর ঘিরে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই)। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির অভিযোগ, বিজেপি সরকার ইজরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (BIT) স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করার পথ খুলে যাবে বলেও দাবি করেছে এসএফআই। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের ঐতিহাসিক নীতি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার পরিপন্থী।সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ইজরায়েলি শাসনকে তারা অপরাধী রাষ্ট্র মনে করে, কারণ ফিলিস্তিনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সংগঠনের দাবি, এমন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো এবং বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।এসএফআই ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর সংগঠনের সমস্ত ইউনিটকে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবাদের মূল স্লোগান হবে বেজালেল স্মোটরিচ গো ব্যাক।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৫
রাজ্য

'এসএসসি-র নয়া নিয়োগ পরীক্ষায় ফের দাগিদের সুযোগ', বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

নয় বছর পর আবারও হতে চলেছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার আগেই উঠছে একাধিক প্রশ্নআসন্ন পরীক্ষা কি সত্যিই হবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ? আর কি দেখা যাবে না অনিয়ম, কারও চোখের জল? প্রায় ৬ লক্ষ প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই পরীক্ষার ওপর। তবু রাজনৈতিক মহলে সংশয় কাটছে না।এই পরিস্থিতিতেই আসানসোলে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এখনও ১৫২ জন দাগি প্রার্থীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নেবেন। যদিও তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। শুভেন্দুর কথায়, ১৯৫৮ জন দাগি শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে ১৮০৬ জনের নাম প্রকাশ করেছে কমিশন। কিন্তু ১৫২ জনকে বাদ রাখা হয়েছে না, বরং তাঁদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ এক প্রহসনের পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, টাকা নিয়ে কেন্দ্র ঠিক হয়েছে, তৃণমূল নেতারা পুলিশের সহযোগিতায় গোটা প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করছে। এর ফল কিছুই হবে না, হবে কেবল অশ্বডিম্ব।অন্যদিকে, পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। তিনি জানান, এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার। এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসবেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী। আর ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশের জন্য বসবেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার জন। প্রথম দিনে গোটা রাজ্যে থাকছে ৬৩৬টি পরীক্ষা কেন্দ্র, দ্বিতীয় দিনে ৪৭৮টি কেন্দ্র।অর্থাৎ, দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হতে চলা শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশাসন আশাবাদী হলেও বিরোধীরা মনে করছে এর মধ্যেও লুকিয়ে আছে অনিয়মের ছাপ

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

কলকাতা 'ল কলেজে ঘটনার প্রতিবাদ সামশেরগঞ্জে, পথে বামেরা

কলকাতার ল কলেজে ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে সামসেরগঞ্জেও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বামেরা। শনিবার বিকেলে DYFI এবং SFI এর নেতৃত্বে সামসেরগঞ্জের কাকুড়িয়ায় রাস্তা অবরোধ ঘিরে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে পুলিশের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।মুখ্যমন্ত্রীর কুশ পুতুল পুড়িয়ে বিক্ষোভ করে বামেরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ। যদিও রাস্তা অবরোধে বাধা দেওয়ার সময় থেকেই পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি হয় বাম কর্মী সমর্থকদের। তামান্না খাতুনের খুনিদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপশি কলকাতার কলেজে ধর্ষণ কাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান বাম কর্মী সমর্থকরা।

জুন ২৮, ২০২৫
স্বাস্থ্য

দিনের পর দিন কাজ করেও বেতন জোটেনি, শেষমেশ অবস্থান-বিক্ষোভ মালদা মেডিক্যাল কলেজে

দিনের পর দিন বেতন না মেলায় অবশেষে ক্ষোভ দানা বাঁধলো মেডিক্যাল কলেজের শতাধিক অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে। কাজ করেও তাঁদের বেতন জোটেনি। বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে সোমবার সকাল থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিলেন মালদা মেডিকেল কলেজের শতাধিক অস্থায়ী কর্মী। এদিন সকাল থেকেই মেডিকেল কলেজের ট্রমা কেয়ার ভবনের সামনের অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েন অস্থায়ী কর্মীরা। যতক্ষণ পর্যন্ত বেতন সমস্যা না মেটানো হবে ততক্ষণ কর্মবিরতি চলবে বলেও সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হওয়া অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, পরিশ্রম করেও প্রতিমাসে নিয়ম করে বেতন মিলছে না। এই মেডিকেল কলেজের হাউসকিপিং, নিরাপত্তারক্ষী সহ বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ১৮১ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। ১৪ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন প্রত্যেকেই। কিন্তু বেতনের সময় এলেই আর নিয়ম করে তা দেওয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ অস্থায়ী কর্মীদের ছয় মাসের বেতন মেলেনি। আবার কেউ চার মাস এবং তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে গণস্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি দেওয়া হলেও কোনওরকম সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাই নিজেদের বকেয়া বেতনের দাবিতে এদিন কর্মবিরতির ডাক দিয়ে এভাবে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছে। এদিন বিক্ষোভকারী এক অস্থায়ী কর্মী অম্লান মিশ্র বলেন, আমি নিজে ছয় মাস ধরে বেতন পাইনি। অথচ মেডিকেল কলেজের প্রতিদিনই ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা ডিউটি করছি। আমার মতো শতাধিক অস্থায়ী কর্মী মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছে না। অথচ আমরা কর্তব্যে কোনও সময় গাফিলতি করি না। মালদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পার্থ প্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, নির্দিষ্ট একটি এজেন্সির মাধ্যমেই ওই অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করেন। এখানে মেডিকেল কলেজের কোনও হাত নেই। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জুন ০৯, ২০২৫
রাজ্য

প্রকাশ্যে বিজেপির অন্তর্কলহ। বিধান নগরে বিজেপি কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত দলীয় কর্মীরা

মঙ্গলবার সকালে বিধান নগরের করুণাময়ী তে বিজেপি কর্মীদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। পুলিশ কর্মীর সাথে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ভাইরাল হওয়া কথোপকথনের ভিত্তিতে, অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেপ্তার হওয়ার দাবি নেই এদিনের বিক্ষোভসূচি। সেই মতো বিধান নগরের বিজেপি সমর্থকরা জমায়েত হয় করুনাময়ী। অভিযোগ এই সময় লেকটাউন অঞ্চলের বিজেপি নেতা পীযূষ কানরিয়ার নেতৃত্বে বেশ কিছু বিজেপি কর্মী এসে যোগ দেয় এদিনের বিক্ষোভসূচিতে। এরপরই তারা জড়িয়ে পড়ে নিজেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজিত হয়ে ওঠে, নিজেরা নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। বিধান নগরের বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করে পীযূষ কানুরিয়া লোকজন নিয়ে এসে তাদের উপরে হামলা করেছে। এমনকি পীঊশ কানরিয়াকে সাসপেন্ড হওয়া বিজেপি কর্মী বলেও দাবি করে তারা। যদিও অপরদিকে পীযুষ কানারিয়া জানায় তাদের দল বড় হচ্ছে তাই এ ধরনের ঝামেলা। তবে তারা দলীয় বিষয় দলের ভেতরেই মিটিয়ে নেবেন বলেও দাবি করেছেন।

জুন ০৪, ২০২৫
রাজ্য

খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রং মেশানোর অভিযোগে কান ধরে উঠবস! ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার ব্যবসায়ীরা

খাবারে রং মেশানোর অভিযোগে কয়েকজন দোকানিকে কান ধরে উঠবস করার অভিযোগ উঠল খাদ্য সুরক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।ঘটনাটি ঘটেছে, সাঁইথিয়া থানার আহমদপুরে। বৃহস্পতিবার ওই এলাকার খাবারের দোকানে পরিদর্শনে যান জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে বেশ কিছু দোকানের ফ্রিজে দু-তিন দিনের পুরনো মাংস, মিষ্টি, তেলে ভাজা দেখতে পান। আধিকারিকরা সেই সমস্ত জিনিস নষ্ট করে দেন। এরপর লক্ষ্য করেন খাবারে মেশানো হচ্ছে নিম্নমানের রং। যে রং খাবারে মেশানো হচ্ছে সেটা মানুষের শরীরে ক্ষতিকারক। ক্ষতিকারক রং হাতেনাতে ধরা পড়ার পর কয়েকজন দোকানিকে কান ধরে উঠবস করান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে ঘটনার বিরোধিতা করা হয়েছে।ব্যবসায়ী সুভাষ সাহু বলেন, আমার দোকানে কামধেনু রং পেয়েছিল। সেই অপরাধে আমাকে বেশ কয়েকবার কান ধরে উঠবস করিয়েছে। শুধু আমাকে নয়, বেশ কয়েকজন দোকানিকে একই শাস্তি দিয়েছে।সিউড়ি মারচেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, খাবারে কোন রং মিশিয়ে থাকলে দোকানদারকে জরিমানা করতে পারেন। নোটিশ দিতে পারেন। কিন্তু তিনি নিজে হাতে কোন শাস্তি দিতে পারেন না। বিষয়টি আমরা নিন্দা করছি। সঠিক জায়গায় আমরা অভিযোগ জানাব।জেলা খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক প্রসেঞ্জিত বটব্যাল বলেন, যে ভাবে মানুষের শরীরে রং ঢুকছে তাতে মানুষের শরীরের ক্যান্সার এবং অসংক্রমিত রোগ বাসা বাঁধছে। ওই দোকানি আমাদের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। তারা বলতে থাকে দামী রং দিতে পারব না। লোক চাইছে তাই কমা রং দিয়েই খাবার তৈরি করব। আমরা জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি। প্রথম সাবধান করা হচ্ছে। পরে তাদের নোটিশ করা হবে। তারপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মার্চ ১৪, ২০২৫
রাজ্য

প্রাক্তন সিবিআই অফিসার উপেন বিশ্বাসের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দেখালো বেশ কিছু আইনজীবী।

আইনজীবীদের দাবী.......আমাদের আন্দোলনের তিনটে ইস্যু এবং সোসাইটিকে একটি বার্তা দিতে চাই যে ওপেন বিশ্বাস আমাদের কাছে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের আইকন বলে আমরা মনে করতাম। কিন্তু দিনের শেষে যেটা উপলব্ধি করলাম দীর্ঘদিন উনি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মন্ত্রী থাকাকালীন, উনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য কোন কাজ করেননি। পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের লোকেদের উনি ব্যবহার করে খির খেয়েছেন বাড়ি বসে। তিনি ফোন ধরেন না দেখা করতে এলে দেখা করেন না। কিন্তু মহান ভগবতকে বাড়িতে ডেকে ভুরিভোজ খাওয়াচ্ছেন। পরবর্তীকালে প্রত্যেকটা লোক যারা ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসের নাম করে ক্ষীর খাচ্ছেন তাদের প্রত্যেকের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মিছিল হবে।

মার্চ ০২, ২০২৫
রাজ্য

সন্দেশখালিতে নির্যাতনের প্রতিবাদে অভিনব প্রতিবাদ মহিলা সমিতির

সন্দেশখালি নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সল্টলেক অভিনব প্রতিবাদ সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির। মঙ্গলবার বিকাল থেকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে সল্টলেক সিটি সেন্টার মেট্রো স্টেশনের সামনে হাতে পোস্টার ব্যানার নিয়ে সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর অত্যাচার তথা সারা বাংলা জুড়ে সাধারণ মানুষের উপর তৃণমূলের অত্যাচারের প্রতিবাদে সামিল হয় সর্বভারতীয় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিত। পাশাপাশি শেখ শাহজাহান এখনো অধরা, কুনাল ঘোষের বক্তব্য চাইলেই শেখ শাহজাহানকে এক সপ্তাহের মধ্যে ধরা যেতে পারে পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীরা বলেন সরকারি মদতে শাহজাহানকে আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪
রাজ্য

স্কুল সহ রাজ্য সরকারি চাকরিতে বাংলা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ বাংলা পক্ষ'র

১৮ ই ফেব্রুয়ারি রবিবার ডাব্লু বি সি এস (WBCS) সহ সব রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষায় পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা ও বাধ্যতামূলক ভাবে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা শিক্ষার দাবিতে কলকাতায় রাজপথে মহামিছিল করল বাংলা ও বাঙ্গালিত সংগঠন বাংলা পক্ষ। ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ঠিক তার প্রাক্কালে এই মিছিল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর পাড়া হাজরা মোড় থেকে শুরু হয়ে বরীন্দ্রসদন চত্বরে শেষ হয় এই পদযাত্রা। এও পদযাত্রায় হাজার হাজার বাঙালি অংশগ্রহণ করেন।মূলত বাঙ্গালি যুব সমাজের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এই মিছলের নেতৃত্ব দেন বাংলা পক্ষের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। মিছিল থেকে স্পষ্ট হিন্দি-উর্দু তোষণ বিরোধী আওয়াজ ওঠে। দাবী ওঠে বাংলার মাটিতে এই ধরনের কোনও তোষণ চলবে না। তাঁরা এও দাবী রাখে, WBCS এ হিন্দি-উর্দু ঢোকানো চলবে না। সমস্ত স্কুলে এবং রাজ্য সরকারি চাকরিতে বাংলা বাধ্যতামূলক করার জোরালো দাবী তোলে তাঁরা। তাঁদের দাবী, বাংলার সর্বস্তরের বিশিষ্টরা বাংলা পক্ষর পাশে আছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বাঙালির কথা ভাবার অনুরোধ বাংলা পক্ষের।সংগঠনের সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় জনতার কথাকে জানান- ভারতের অন্য রাজ্যে যা স্বাভাবিক বাংলায় তা অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে, বাংলা পক্ষ এই অবস্থার বদল চায়। আজকের এই মিছিলে বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে বাঙালি দল, ধর্মের ঊর্ধে বাংলা পক্ষর দাবির পাশে আছে। বাঙালি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও এই দাবিতে বাংলা পক্ষর পাশে আছেন। সার্বিক ভাবে বাঙালি নিজের অধিকারের দাবিতে জেগে উঠছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে যে চিঠি দেওয়া হচ্ছে, সমর্থন জানিয়ে তাতে স্বাক্ষর করেছেন প্রবীন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ ও গবেষক পবিত্র সরকার, গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী, রূপম ইসলাম, অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, কবি সুবোধ সরকার, নাট্যকার চন্দন সেন, ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য সহ সমাজের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বাঙালিরা। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে ভাষাদিবস পালন অর্থহীন, ভাষা কিভাবে বাঁচবে, বাঙালি কিভাবে বাঁচবে সেই বিষয়ে আন্দোলন দরকার। পথে নেমে বাঙালির দাবিতে সোচ্চার বাংলা পক্ষর আগে আর কেউ হয়নি এই বাংলার মাটিতে। আজকের এই মিছিলের গুরুত্ব এখানেই, হাজার বাঙালি আজ চাকরি থেকে স্কুল শিক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলকের দাবিতে পথে নেমেছে, সমর্থন জানিয়েছেন বাঙালি সমাজের বিভিন্ন জগতের কৃতী সন্তানরা, এ এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন। বাঙালির এই ঐক্যবদ্ধ দাবি বাংলার সরকারকে ভাবতে বাধ্য করবে বলেই তিনি আশাপ্রকাশ করেন।গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক মাইতি ছাড়াও রবিবাসরীয় পদযাত্রায় বাংলা পক্ষের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মনন মন্ডল, রজত ভট্টাচার্য, সম্রাট কর, ডাঃ আব্দুল লতিফ, মহঃ সাহীন, সৌম্যকান্তি ঘোড়ই সহ জাতীয় সংগ্রাম পরিষদ ও বিভিন্ন জেলা নেতৃত্ব।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৪
শিক্ষা

যাদবপুরে অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু নিয়ে গর্জে উঠল 'বাংলা পক্ষ', তোলপাড় বিশ্ববিদ্যালয়

আবার লাইমলাইটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা পক্ষের জানায়, সেখানে দৃষ্টিহীন ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাসের অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা আরও জানায়, দুই বহিরাগত ক্রিমিনাল সুরজ ঝাঁ ও পাপ্পূ সোনা গান্ধীর শারীরিক-মানসিক অত্যাচারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিহীন, মেধাবী বাঙালি ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাস আত্মহত্যা করেছে। খুনিদের শাস্তির দাবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভার অয়োজন করে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, মৃতা রেনেসাঁ দাস জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের বাসিন্দা। এই অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু-র প্রতিবাদে বাংলা পক্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে মুখর হয়। বাংলা পক্ষ ও ছাত্র সংগঠন বাংলা ছাত্র পক্ষ, ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয়। খুন হওয়া বাঙালি মেয়ের খুনিদের শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের জলপাইগুড়ি জেলার বোন, বাঙালি বোন রেনেসাঁ দাসকে অত্যাচার করে খুন করেছে দুই বহিরাগত জন্তু সুরজ ঝাঁ এবং পাপ্পু সোনা গান্ধী। লজ্জার কথা যে বিপ্লবের কথা বলা, বড় বড় রাজনীতির কথা বলা সব দল, সব ছাত্র সংগঠন আজ চুপ। মিডিয়ায় প্রাইম টাইমে টক শো নেই। কিন্তু বাংলা পক্ষ লড়ছে। বাংলা ছাত্র পক্ষ লড়ছে। এই গুন্ডাদের বাংলার মাটি থেকে উপড়ে ফেলবে বাংলা পক্ষ। খুনিদের ফাঁসি চাই। আমরা বাংলার মাটিতে কোনো কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত ক্রিমিনালদের আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেব না।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, আজ যাদবপুরের বাকি ছাত্র সংগঠন গুলো খুনিদের বাঁচাতে ব্যস্ত। বোনের খুনিদের শাস্তির দাবিতে কেউ সোচ্চার নয়। কিন্তু ভাবুন তো যাদবপুরে বাংলা ছাত্র পক্ষর বড় সংগঠন থাকলে কোনো বহিরাগত জন্তু বাঙালি মেয়েকে অত্যাচার তো দূরের কথা, বাঙালি মেয়েদের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারতো? আমরা আগামীতে সব বড় ইউনিভার্সিটিতে সংগঠন খুলবো। আমরা যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৯০% ডোমিসাইল চালু করিয়েছি। এবার সব বিভাগে ডোমিসাইল চালু করাবো। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোমিসাইল চালু করাবো৷বাংলা ছাত্র পক্ষর প্রধান রণ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যাদবপুর সহ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, মেডিক্যাল কলেজে যাতে গ্রাম তথা জেলার ছেলেমেয়েরা অত্যাচারিত না হয় সেজন্য বাংলা ছাত্র পক্ষ সব জায়গায় লড়াই করবে এবং সংগঠন খুলবে। আমরা যাদবপুরকে বহিরাগতদের আবাদ ভূমি হতে দেব না।এছাড়াও এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, অর্ক ঘোষ, অভিজিৎ দে, কুশনাভ মণ্ডল, লীনা রায় সহ আরও অনেকে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৪
রাজ্য

ফিরহাদের "বাংলায় একদিন ৫০% মানুষ উর্দু বলবে" বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ বাংলা পক্ষর

সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রতিক ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ফিরহাদ হাকিমের উর্দু তত্ত্বের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলো বাংলা পক্ষ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে কলকাতার মেয়র তথা মমতা ব্যানার্জী-র কেবিনেট মন্ত্রীকে বলতে দেখা যায় একদিন বাংলায় ৫০% মানুষ উর্দু বলবে। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা অ বাঞালীড় সংগঠন বাংলা পক্ষ জানায় এই বক্তব্য তীব্র বাঙালি বিরোধী, এটা বাংলাকে উর্দুস্তান বানানোর চক্রান্ত, উর্দু মানেই মুসলমানের ভাষা নয়, প্রতিটা মুসলমানের ভাষা উর্দু নয়। বাংলার ৯৫% মুসলমান জাতিতে বাঙালি, বাংলা ভাষায় কথা বলে।ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রানুছায়া মঞ্চে বিক্ষোভ সমাবেশ করল বাংলা পক্ষ। বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, অরিন্দম চ্যাটার্জী, সৌম্য কান্তি ঘোড়াই, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দাবি ওঠে- ফিরহাদ হাকিমকে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে হবে।এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীও বাংলার মাটিতে উর্দু ভাষায় রাজ্য সরকারি পরীক্ষা দেওয়ার অধিকারের পক্ষে দাবি তুলে WBCS-এ বাংলা বাধ্যতামূলক করার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। বাংলা পক্ষ তখনও পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিল।বাংলার মাটিতে বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে সকল দলে থাকা এই ধরনের বাঙালি-বিরোধীদের বাঙালি জাতির সামনে মুখোশ উন্মোচন করে যাবে বাংলা পক্ষ।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

স্কুল আছে, শিক্ষকও আছেন, কিন্তু পড়ুয়া শূন্য! রাজ্যের ৪১৩৩ স্কুল নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত

স্কুল রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন। কিন্তু সেই স্কুলে পড়ুয়া নেই একজনও। রাজ্যে এমন পড়ুয়াশূন্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের সংখ্যা ৪১৩৩। এবার এই স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ফাঁকা স্কুলবাড়িগুলি যাতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, তার জন্য বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, শিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলাস্তরে একটি কমিটি কাজ করবে। স্কুলগুলির ভবনের অবস্থা, পরিকাঠামো, অবস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ি ভবিষ্যতে কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করবে কমিটি।শিক্ষা দফতরের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এমন ৪১৩৩টি স্কুল চিহ্নিত হয়েছে যেখানে বর্তমানে একজনও পড়ুয়া নেই। অথচ এই স্কুলগুলির সঙ্গে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং শিক্ষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।এই স্কুলবাড়িগুলিকে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও স্কুলবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। কোথাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার প্রস্তাব আসতে পারে। আবার কোনও ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পিপিপি মডেলে স্কুল চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হতে পারে।তবে কোনও স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনই চূড়ান্ত হয়নি। জেলাস্তরের কমিটি পরিকাঠামো ও স্থানীয় প্রয়োজন যাচাই করার পর প্রস্তাব পাঠাবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই পর্যালোচনা এবং প্রস্তাব তৈরির প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের ৪১৩৩ পড়ুয়াশূন্য স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।পড়ুয়া না থাকা স্কুলগুলির ভবন যাতে দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই বিকল্প ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কোন স্কুলে কী পরিবর্তন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন, ভবনের পরিকাঠামো এবং জেলাস্তরের কমিটির রিপোর্টের উপর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই ভোগান্তি, ১০ ঘণ্টা পথেই! এশিয়ান গেমসে কেন এমন পরিণতি বরুণের?

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্যের পুত্র বরুণ সান্যাল এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে মিক্সড মার্শাল আর্টে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় নামার আগেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে।এবারই এশিয়ান গেমসে মিক্সড মার্শাল আর্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ৭৭ কেজি বিভাগে ভারতের প্রথম পুরুষ প্রতিনিধি হিসেবে নামার কথা ছিল বরুণের। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এশিয়ান গেমসে সুযোগ পান তিনি। তবে প্রথমে নির্বাচিত ক্রীড়াবিদদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। পরে সংশোধিত তালিকায় জায়গা পান বরুণ।রবিবার প্রতিযোগিতায় নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সনায় যান বরুণ। ওজনভিত্তিক লড়াইয়ে নামার আগে অনেক প্রতিযোগীই সনায় গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত জল কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সনায় যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বরুণ।জানা গিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছিল। এর পর তাঁর পেশিতে টান ধরে এবং শরীরে জলের পরিমাণও আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যায়। রাত একটা নাগাদ সনাতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। এক নেপালি ক্রীড়াবিদ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর বরুণকে প্রতিযোগিতার জন্য অনুপযুক্ত বলে জানান। ফলে ৭৭ কেজি বিভাগে আর লড়াইয়ে নামার অনুমতি পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকেই নাম প্রত্যাহার করতে হয় তাঁকে।তবে বরুণের অসুস্থতার পিছনে শুধু সনার ঘটনাই নয়, জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই একাধিক সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে। জানা গিয়েছে, এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনায় তাঁর নাম নথিভুক্ত করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে একের পর এক দফতরে গিয়ে নথিভুক্তির কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়েছিল বলে অভিযোগ।এর পর থাকার ঘর নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। বরুণ যে ঘর পেয়েছিলেন, সেখানে আরও দুজন ক্রীড়াবিদকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সমস্যা মেটাতেও বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় চলে যায়।এই সমস্ত সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও কমে যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওজন ঠিক রাখতে সনায় যেতে হয়েছিল বরুণকে।কিন্তু সনায় গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেননি। ফলে এশিয়ান গেমসে ইতিহাস তৈরির সুযোগ পেয়েও লড়াইয়ে নামতে পারলেন না বরুণ। তাঁর এই পরিস্থিতির জন্য এশিয়ান গেমসের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
দেশ

সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবিতে ফের ধর্মঘট, মাসের শেষে টানা পাঁচ দিন বিপাকে গ্রাহক?

দেশজুড়ে ফের ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালু এবং শনি ও রবিবার ছুটির দাবিতে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ ফের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও দেশজুড়ে এক দিনের ধর্মঘট পালন করেছিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা।ধর্মঘটের আগে এবং পরে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্থ শনিবার এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা ব্যাঙ্কভেদে আলাদা হতে পারে।ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি হল সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করা। অর্থাৎ শনি ও রবিবার নিয়মিত ছুটি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন কর্মীরা। সেই দাবির পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘটের প্রভাব কমাতে আগেভাগেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিবের নেতৃত্বে ২১ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং নাবার্ডের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।ধর্মঘটের সময়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা কী ভাবে যতটা সম্ভব সচল রাখা যায়, সেই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। ধর্মঘটের জেরে যাতে আর্থিক লেনদেন ও জরুরি পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাঙ্কের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ও মিলে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত জরুরি কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।অন্য দিকে, কর্মী সংগঠনগুলির কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক চালুর দাবি ঘিরে কর্মী সংগঠন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা কোন দিকে যায়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বড় ধাক্কা! আদালতের নির্দেশে বন্ধ পোষ্য বিক্রি

উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে বেআইনি পাখি, মাছ, কুকুরছানা-সহ বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি বন্ধে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার আদালতের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা ছিল। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে নজরদারি শুরু হয়। কলকাতা পুলিশ এবং শুল্ক দফতরের আধিকারিকেরা বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বাজারের সংগঠনের তরফেও মাইকিং করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে ব্যবসায়ীদের আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারের সদস্যদের কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে।গ্যালিফ স্ট্রিটের এই সখের হাট দীর্ঘদিনের পুরনো। বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাঁরা এখানে ব্যবসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এক সময় সরকারই তাঁদের এখানে বসার অনুমতি দিয়েছিল। এখন ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম সামনে আসায় বহু ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়েছেন।সখের হাটের সদস্য অমর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বাজারে সাতশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি শতাব্দীপ্রাচীন বাজার এবং বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে ব্যবসা চালানো নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।অমর বলেন, যত দিন এই রাস্তার উপর ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি মীমাংসা না হচ্ছে, তত দিন ব্যবসা চালানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর কাছেই সেই লাইসেন্স নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আদালতের নির্দেশ তাঁরা মেনে নিয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন সখের হাটের ওই সদস্য।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটে পাখি ও বিভিন্ন পোষ্য বিক্রি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দেশীয় পাখি কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় এই বাজারে নজরদারি চালিয়েছে বন দফতর। অতীতে এই বাজারে বেআইনি পাখি বিক্রির অভিযোগে অভিযান এবং পাখি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।এ বার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। রবিবার থেকেই বাজারে পুলিশ ও শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর করা যায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে কত জন প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স দেখাতে পারেন, সে দিকেই এখন নজর।তবে এই নির্দেশের ফলে বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাতশোর বেশি সদস্যের এই পুরনো বাজারে কত জন বৈধ ভাবে ব্যবসা চালাতে পারবেন, কত জনকে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে, তা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।গ্যালিফ স্ট্রিটের সখের হাটের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় দুটিআদালতের নির্দেশ মেনে বেআইনি পোষ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স নিশ্চিত করা। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর বাজারের চেহারা কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
রাজ্য

কিষানজির ছায়াসঙ্গী মঙ্গল, সঙ্গে স্ত্রী মালতী! জঙ্গলমহলে বড় সাফল্যের দাবি এসটিএফের

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল মাহাতো ও তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মুকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। শনিবার দুপুরে শালবনি থানার সরবেড়িয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের এসটিএফের হাতে আসার খবর ছড়ায়। তবে তাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, নাকি আত্মসমর্পণ করেছেন, তা নিয়ে রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।মঙ্গল মাহাতো পুলিশের খাতায় পতিত মাহাতো, পাপ্পু, সমীর এবং পান্ডে নামেও পরিচিত। পুলিশ সূত্রের দাবি, তিনি সিপিআই মাওবাদীর সাব জোনাল কমিটির সদস্য ছিলেন। ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে তাঁর মাথার দাম পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মালতী মুর্মু সংগঠনের এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁর বিরুদ্ধেও দুই লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।পুলিশের দাবি, মঙ্গলের হাতে একে-৪৭ এবং মালতীর হাতে ইনসাস রাইফেল থাকত। তবে তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।মঙ্গল মাহাতো দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে তিনি মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। প্রথমে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করার পর স্কোয়াডের সদস্য হন। ২০০৯ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি।লালগড় আন্দোলনের সময় মঙ্গলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি। পরে তিনি মাওবাদী নেতা কিষানজির দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিষানজির মৃত্যুর সময় সুচিত্রা মাহাতো ছাড়া মঙ্গলই সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ওই সময় বাহিনীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।মালতী মুর্মুর জীবনও অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা মালতী ছোটবেলাতেই মাকে হারান। পরে জ্যাঠার বাড়িতে বড় হন। প্রায় ১৫ বছর বয়সে তিনি মাওবাদী স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গল ও মালতীর মধ্যে সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাঁরা বিয়ে করেন।২০১১ সালের পর দুজনেই ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী নেতা আকাশের স্কোয়াডে যোগ দেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। প্রথমে বাংলা লাগোয়া পূর্ব সিংভূমের জঙ্গলে, পরে দলমা ও সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের ঘোরাফেরা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় ঘাঁটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।এর মধ্যে যৌথ বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের জেরে আকাশ-সহ কয়েক জন মাওবাদী বাংলার দিকে ফিরেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আগস্ট মাসে মদন মাহাতো, বীরেন সিং এবং মীরা পাহাড়িয়াকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে অনিতা কায়েম আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়।সংগঠনের সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়ার পর আকাশও জঙ্গল ছেড়ে শহরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জনের বিরুদ্ধেও পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।এই পরিস্থিতিতেও মঙ্গল ও মালতী জঙ্গলেই ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তাঁদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পারেন বলে খবর। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের লালাট গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে আকাশকে এসটিএফ গ্রেফতার করে।আকাশকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গল মাহাতোর সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে তদন্তকারীরা তথ্য পান বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আকাশের গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গল জঙ্গলে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে চলে আসেন বলেও তদন্তকারীদের দাবি।এর পরেই শালবনির সরবেড়িয়া গ্রামে মদন মাহাতোর এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শনিবার দুজনকে এসটিএফ নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের খবর।তবে এই ঘটনায় এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। মঙ্গল ও মালতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নাকি তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। এসটিএফের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এলে গোটা ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

মমতাকে হারানোর ছক নাকি ক্যামাক স্ট্রিটে! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড়

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই দাবির স্বপক্ষে তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের অনেক আগে থেকেই তৃণমূলের ভিতরে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এক দিকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্য দিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তরুণ নেতাদের একটি অংশ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই দ্বন্দ্ব খুব বেশি দেখা না গেলেও দলের ভিতরে টানাপোড়েন চলছিল বলে দাবি ঋতব্রতর।তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই তালিকার প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তালিকায় আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতার নাম ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে ওই ১৪ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসেনি।ঋতব্রত আরও দাবি করেছেন, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের সমস্যায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের নির্দেশ দলের ভিতর থেকেই দেওয়া হয়েছিল।এই দাবির সঙ্গে ভবানীপুরের নির্বাচনী ঘটনাকেও জুড়ে দেখার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরে ভোটগণনার সময় তৃণমূলের এক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সেই সময় খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ঋতব্রতর বর্তমানে করা অভিযোগের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা প্রমাণিত নয়।ঋতব্রতর দাবি, তাঁর কাছে এই অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালতেও সেই প্রমাণ পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও জবাব এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর পরিকল্পনা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তালিকার প্রথমে থাকা এবং ক্যামাক স্ট্রিট থেকে নির্দেশ যাওয়ার অভিযোগসবই আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে গত কয়েক মাসে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ভিতরে-বাইরে বিতর্কও হয়েছে। ফলে ঋতব্রতর এই নতুন দাবি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।এখন প্রশ্ন, ঋতব্রত যে ১৪ জনের তালিকার কথা বলছেন, সেখানে আর কারা ছিলেন এবং তিনি যে সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলেছেন, সেগুলি কী। সেই তথ্য প্রকাশ্যে এলে তাঁর অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরে তাণ্ডব! প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ, নিশানায় একাধিক তৃণমূল কার্যালয়

শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের বিজয়গড়-সহ একাধিক এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার, যিনি মলয় মজুমদার নামেও পরিচিত, তাঁর বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।মলয় মজুমদারের অভিযোগ, হামলাকারীদের একটি দল তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং তাঁর দাদা ও বউদিকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ক্ষতি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রাক্তন বিধায়কের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে বিজেপির দুই নেতা অনুপম তালুকদার ও সজল বসুর নেতৃত্ব রয়েছে। তাঁদের দলবলই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি মলয়ের। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে বিজেপির যোগের বিষয়টি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।মলয় আরও অভিযোগ করেছেন, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় খোলা যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলের কর্মীদেরও নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।শুধু মলয় মজুমদারের বাড়ি নয়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে ঢুকে দলের মহিলা কর্মীদের মারধর করা হয়। তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে এসেছে।এর পর যাদবপুরের একাধিক এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপল্লি, বিজয়গড়, বাঘাযতীন ডি ব্লক-সহ কয়েকটি জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে পরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা পুরভোটের আগে পর্যন্ত ওই কার্যালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।সীমা ঘোষের অভিযোগ, তাঁকেও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না এবং বিজেপি বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও কথা বলা যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।ঘটনার পর যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু তৃণমূলের কার্যালয় বা মলয় মজুমদারের বাড়িই নয়, এলাকার একাধিক রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ফলে শনিবার সন্ধ্যার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।অন্য দিকে, মলয় মজুমদারের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বা জনরোষের জেরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পালটা দাবি করেছে বিজেপি।ফলে যাদবপুরের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন, হামলার পিছনে কারা ছিল এবং কেন একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কার্যালয়কে নিশানা করা হল। মলয় মজুমদারের দায়ের করা অভিযোগ এবং অন্যান্য পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(অন্তিম পর্ব)

দ্বিতীয় পর্বের পরঃসৌভিক, কিছু দরকার? স্নেহা, না সেরকম কিছু না, তোমার আর সায়নীর মধ্যে সব ঠিক আছে? সৌভিক, কেন বলোতো? স্নেহা, শেষ দুদিন দেখলাম সায়নী তোমায় খুব বাজে ভাবে এড়িয়ে চলছে। সৌভিক এবার নড়েচড়ে বসলো, স্নেহাও লক্ষ্য করেছে মানে এটা সৌভিকের মনের ভুল মোটেও নয় আর সায়নীর কি হয়েছে সেটা স্নেহার থেকে ভালো কেও বলতেও পারবেনা সুতরাং যখন সুযোগ নিজে হেঁটে এসেছে তখন সেটা কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।সৌভিক, হ্যাঁ, সেটা ওই করছে, কিন্তু কেন করছে তার কোনো সদুত্তর আমার কাছে নেই, তোমার কাছে যদিও থাকে তবে তুমি বলতে পারো, আমি চেষ্টা করে দেখবো যদিও কিছু করতে পারি তো। স্নেহা, কি হয়েছে সেটা আমিও ঠিক জানিনা তবে তোমায় এটুকু বলতে পারি ওর মাথায় কিছু একটা চলছে আর আমাদের সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনাও ঘটছে, তোমার সাহায্য লাগবে। সৌভিক, কিরকম সাহায্য লাগবে? আর কি ঘটছে সেটা বললে ভালো হতো। স্নেহা, সব জানার দরকার নেই, শুধু তুমি আজ রাতের তৈরী থেকো। আমি যাকে সন্দেহ করছি সেই যদিও এসবের পিছনে থেকে থাকে তবে তাকে আজকেই আমরা হাতেনাতে ধরবো। এই বলে স্নেহা সৌভিকের কেবিন থেকে বাইরে বেরোয়, আজকেও রাহুল হন্তদন্ত হয়ে কোথায় যেন একটা বেরিয়ে গেলো।তখন সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, সৌভিকের ভাড়া করে দেওয়া ট্যাক্সিটা এসে থামলো সায়নীদের এপার্টমেন্টটার সামনে।ট্যাক্সির ডানদিকের দরজাটা খুলে প্রথমে স্নেহা নামলো, তারপর সায়নী নামতে গেলো,কিন্তু সায়নী দেখলো আশেপাশের পরিবেশটা কেমন যেন আরো অন্ধকার হয়ে এসেছে। ড্রাইভার সায়নীকে বললো, ম্যাম আপনি ঈশানের সাথে এরকম কেন করলেন? সায়নী ভয় পেলো ড্রাইভারের এই আকস্মিক প্রশ্নের সামনে, সায়নী দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এপার্টমেন্টর দিকে পা বাড়ালো কোনোদিকে না তাকিয়ে, কিন্তু আজ ঈশান যেন ওর পিছু ছাড়ছেনা, সায়নী যেখানে যেখানে যাচ্ছে সেখানে সেখানে আশেপাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে ওকে একই প্রশ্ন করছে, তুমি এটা ঈশানের সাথে কেন করলে? প্রথমে সিকিউরিটি গার্ড, তারপর পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধা, মাঠে খেলতে থাকা বাচ্চারা, আর বহুদূরে দাঁড়িয়ে ঈশান ওই একই হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ওর চোখে মুখে রক্ত লেগে, কি বীভৎস লাগছে ওকে। সায়নী এবার আর হাঁটলো না, ওই সোজাসুজি দৌড় দিলো, একের পর এক সিঁড়ি বেয়ে ওই উপরে উঠে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো কিন্তু ওর কাছে চাবি ছিলোনা, পাশে স্নেহাও নেই, ওই কোথায় গেলো?সিঁড়ি দিয়ে কেও একজন উপরে উঠে আসছে, পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে শরীরটাও স্পষ্ট হচ্ছে। একি এটা যে ঈশান, ওর দিকেই এগিয়ে আসছে, সায়নী আরো জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করলো, ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো কিন্তু এই দুনিয়ায় যেন কেও নেই ওর আর্তনাদ শোনার মতো, কেও যেন নেই ওকে বাঁচানোর মতো। ঈশান হাঁটতে পারছেনা, ওর পা দুটো ভাঙ্গা আর একটা হাত নেই এখন দৃশ্যমান। সে এসে সায়নীর সামনে দাঁড়ালো আর মুখের ওই সরল হাসিটা এখন আর সরল লাগছেনা বরং ভয়ানক পৈশাচিক লাগছে। ঘরঘরে গলায় ঈশান বললো, সায়নী, কেমন আছো? শুনলাম তুমি নাকি প্রথম হয়েছো? সায়নী কাঁদতে কাঁদতে বললো, সরি ঈশান, আমি ভুল করেছি, প্লিজ আমায় ক্ষমা করো প্লিজ। ঈশান এবার আরো বিকৃত হাসি হাসলো, সরি? মনে আছে সেইদিনের কথা? ঠিক কিভাবে তুমি আমায় কিছু না করেও আমার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল? কিভাবে একটা মধ্যবিত্ত বাড়ির বড়ো ছেলেকে তুমি শেষ করে দিয়েছিলে? তোমার বাবার তো অঢেল সম্পত্তি ছিল তোমার কি সত্যিই কিছু ক্ষতি হতো সায়নী? হতোনা, কিন্তু আমার হয়েছে, আমার পর আমার ভাইকে দেখার কেও ছিলোনা, মা অসুস্থ এখনো অপেক্ষা করে আমার ফেরার। তোমায় আমি ছাড়বোনা সায়নী, এভাবেই তুমিও শেষ হবে আর তোমার ওই অহংকারী বাবার কোল শূন্য হবে তবেই আমার প্রতিশোধ পূরণ হবে। সায়নী আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো, তারপর বুঝলো ওকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে স্নেহা, ওকে শান্ত করার চেষ্টা করছে আর সামনে দাঁড়িয়ে রাহুল।সায়নী যখন ওদের দেখলো তখন আরো কান্নায় ভেঙে পড়লো, রাহুল ও আমায় শেষ করে দেবে বলেছে প্লিজ বাঁচা আমায়। সায়নী রাহুলের পায়ে পরে কাকুতি মিনতি করতে শুরু করে দিলো।সায়নীর এই অবস্থা দেখে রাহুল ওকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে বললো, ঘরে চল আমি আছি, আমি ওকে বুঝিয়ে বলবো ও এলে, তুই চিন্তা করিসনা। স্নেহা দরজা খুললো তারপর ওরা দুজনে সায়নীকে নিয়ে গিয়ে ঘরে শোয়ালো। কিছুক্ষণ দুজনেই সায়নীর পাশে বসে ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলো, সায়নী ঘুমাতে রাহুল ডাইনিংএ এসে বসলো আর সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসলো স্নেহা।রাহুল, আমার মনে হয় এবার আমার যাওয়া উচিত, সৃজা অপেক্ষা করছে হয়তো । স্নেহা, না রাহুলদা, তোমায় তো এখানে থাকতেই হবে।রাহুল স্নেহার দিকে একবার তাকায়, চোখে প্রশ্ন দৃশ্যমান।স্নেহা, থাকতে হবে তার কারণ এতক্ষন আমি ভাবছিলাম এই গল্প ঈশান আর সায়নীর প্রেমের কিন্তু ভুল ছিলাম, আসলে এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তো তুমি, ওরাতো ব্যাস দুটো পার্শ্ব চরিত্র। তাই নয় কি?স্তম্ভিত রাহুল স্নেহার দিকে তাকিয়ে বললো, কি বলতে চাও তুমি? স্নেহা কোনো কথার উত্তর না দিয়ে নিজের ফোনটা বের করে একটা ছবি দেখিয়েছো রাহুলকে প্রশ্ন করে, এটাই তোমার ঈশান তাই না? রাহুল এবার আরো অবাক হয়,স্নেহা রাহুলকে বলে, কি রাহুলদা তুমি কি ভেবেছিলে, খেলা খেলতে শুধুই তুমি পারো? আমি পারিনা? আমি আগেই সৌভিককে পাঠিয়েছিলাম তোমার পিছনে। সন্দেহ আমার হয়েছিল তারও দুদিন আগে যখন আমি নিজে তোমায় ওই পাগলাগারদে ঢুকতে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ পুরো তৈরী হয়নি কিন্তু পরে হয়েছে, পরে হয়েছে এটা ভেবে যে যেদিন থেকে তুমি এসেছো তারপর থেকেই কেন ঈশানের আত্মা ওকে তাড়া করছে? আত্মার প্রতিশোধের ব্যাপার হলে তো সে অনেক আগেই আসতে পারতো। এই কেনর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার মনে পড়লো তুমি ঠিক কিভাবে নিজের লাঞ্চবক্স বারবার সায়নীকে দিয়ে যেতে খাওয়ার জন্য। কেও সন্দেহ করতোনা কিন্তু আমি করেছি, কি ওষুধ মেশাতে ওতে?রাহুল স্নেহাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে যা ভাবছে তা সত্যি নয় কিন্তু স্নেহা যেন বোঝার ইচ্ছাতেই নেই।স্নেহা বলে চলে, চুপ করো রাহুলদা, আমার কাছে সব প্রমান আছে, আর ঈশান তো কোনোদিনও মরেই নি, ওই আছে ওই পাগলাগারদে যাকে তুমি রোজ দেখতে যাও, যাকে তোমার স্ত্রী সৃজাও দেখতে যায়, এসব তোমাদের প্ল্যান। আমি বিগত দুদিনে বারবার ওই জায়গায় গেছি, তোমাদের দেখেছি। একটা জীবিত মানুষের কিভাবে ভুত হয়ে কাওকে ভয় দেখায়? কেন করছো মেয়েটার সাথে এরকম? রাহুল এবার টেবিল চাপড়ে বলে, হ্যাঁ আমাদের প্ল্যান আর যা করেছি বেশ করেছি, আর সায়নীকে যতদিন না ওই বেডের পাশে এনে ফেলতে পারছি ততদিন আমি থামবোনা। ওর মতো ডাইনির সুস্থ শরীরে বেঁচে থাকার অধিকার নেই।স্নেহা, মুখ সামলে রাহুলদা, কে ডাইনি? তোমার বন্ধুকে না করেছিল বলে ডাইনি হয়ে গেলো? বাহ্ রে বাহ্ এইতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ পুরুষ। বলি ঘেন্না হয়না নিজের উপর?রাহুলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট, সাথে যখন এই ঘৃণা শব্দটা সে শুনলো যেন তার কান লাল হয়ে ধোঁয়া বেরোবে, সে বললো , ঠিক আছে তুমি যখন এতদূর বললে তবে পুরোটা শোনো আর তারপর যদি তোমার মনে হয় আমি দোষী তবে পুলিশ ডেকো আমি নিজে ধরা দেবো। এই বলে রাহুল নিজের ফোনে 101 ডায়েল করে স্নেহার হাতে দিয়ে বলে, যদি মনে হয় আমি ভুল আমার কথা শোনার পরেও তবেই ফোন করো। স্নেহা, ঠিক আছে বলো, সব অপরাধীকেই শেষবারের নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।রাহুল বলতে শুরু করে - ফার্স্ট ইয়ারে যখন ঈশান আসে তখন ও খুবই সহজ সরল একটা ছেলে ছিল তবে প্রতিবাদে কোনোদিনও পিছু হাটতো না। ওর ওই গুন ওকে ইউনিয়নের অনেকের কাছেই পছন্দের পাত্র করে তুলেছিল। তো এই ঈশান ছিল পড়াশোনায় দুর্দান্ত, ওর বাবা ছিলোনা। মা আর ভাইয়ের দায়িত্ব ওর উপরেই ছিল আর সেই জন্য দিনরাত খেতে পড়াশোনা করতো। প্রথম সেমেস্টারের রেজাল্ট যখন আসে তখন ওই প্রথম হয় আর অবাক করা বিষয়ে সায়নী যে কিনা বিক্রমের সাথে সবসময় ঘুরতো সে বন্ধুত্বের হাত বাড়ায় ঈশানের দিকে। মাঝে মাঝেই নিজের চারচাকায় নিয়ে ওকে ঘুরতে যেত, বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্টে দুজনকে একসাথে দেখতে পেতাম। আমি অতটা ভাবিনি বিষয়টা নিয়ে, ক্রমে বছর ঘুরলো দুজনে এই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব বললেও কেও বিশ্বাস করতোনা আর উল্টোদিকে বিক্রমও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতোনা যে সায়নী ঈশানের সাথে সবসময় থাকে।মাঝে মাঝে বুঝতে পারতাম ঈশান সায়নীকে শুধু বন্ধু আর ভাবেনা।রাহুল একটু থামে ওর গলা ধরে এসেছে, টেবিলের উপরে রাখা জলের বোতল থেকে খানিকটা জল খায় তারপর বলে, তখন লাস্ট সেমিস্টার, পরীক্ষা শুরুর আগেরদিন ঈশানকে নিয়ে সায়নী কোথায় একটা গেলো। বেশ কিছুক্ষন পর যখন ঈশান ফিরলো ওই খুব খুশি ছিল, ও নিজের মাকে পর্যন্ত ফোন করে সায়নীর ব্যাপারে বললো আর আমায় বললো সায়নী নাকি বলেছে সায়নী ওকে বিয়ে করতে চায়। ব্যাপারটায় আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম, যাক শেষ পর্যন্ত সব ভালো হচ্ছে।কিন্তু বুঝিনি এটা সবে শুরু, পরেরদিন থেকে সায়নী কেমন যেন বদলে গেলো, ঈশানকে পাত্তা দিতোনা, কথা বলার সুযোগটুকু দিতোনা আর রাতে বাড়ি ফিরে ঈশান মেসেজ করার চেষ্টা করলে সেখানেও ওকে পেতোনা।এভাবে দুটো পরীক্ষা শেষ হলো, পরীক্ষার শেষে ঈশান আমায় ওর হোয়াটস্যাপ দেখিয়ে বললো একটাও মেসেজ সায়নীর কাছে নাকি ডেলিভার হচ্ছেনা। আমি দেখলাম আর বুঝলাম সায়নী ওকে ব্লক করেছে, এটা জানতে পেরে ওই বেচারা আর থাকতে পারেনি তখনই ক্লাসের মাঝে গিয়ে সায়নীকে প্রশ্ন করে যে ওই এমন কেন করলো। সায়নীর ব্যবহার আরো খারাপ ছিল, ও সেসময় হাসে আর ঈশানকে বলে যে ঈশান কখনো নিজের ক্লাস নিয়ে ভেবেছে? কোথায় ঈশানের কুঁড়েঘর আর কোথায় সায়নীর বাবার রাজপ্রাসাদ, ঈশানের কোনো যোগ্যতা নেই সায়নীর পাশে। তারপর বিক্রমের হাত ধরে সায়নী ঈশানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়।ঈশান ভেঙে পরে, ওর মধ্যে আর ক্ষমতা ছিলোনা পড়াশোনা করার। পরের একটা পরীক্ষাও সে দিতে আসতে পারেনি, ঘরে বসে থাকতো চুপচাপ। যেদিন রেজাল্ট এলো সেদিন ও শুধু দেখেছিলো কিভাবে সায়নী ওর জায়গাটা ছিনিয়ে নিয়েছে, কিভাবে একটা নোংরামি ওকে এতটা পিছনে ঠেলে দিয়েছে যে ওর একটা বছর নস্ট হয়ে গেছে। ঈশানের চোখ দিয়ে যে জলের ফোটা সেদিন পড়েছিল সেটাই সায়নীর ধ্বংসের কারণ আজ। ঈশান তারপর আর কোনোদিনও সুস্থ হতে পারেনি, ওই নিজের উপর ভরসা রাখতে পারেনি, সব ভুলে গেছে শুধু সায়নীর নামটা মনে আছে আজও। সায়নীর সাথে ওর কোনো পুরোনো বন্ধুর যোগাযোগ নেই কেন জানো? ঠিক এই কারণে, কারণ কেওই এটা মেনে নিতে পারেনি যেটা সায়নী ঈশানের সাথে খেলেছে। এরপরও তুমি বলবে সায়নী ঠিক আর আমি ভুল?স্নেহা এতদূর শুনে বললো, মিথ্যা সব মিথ্যা রাহুলদা, সায়নীকে আমি চিনি ওই এরকম মেয়ে মোটেও না। পিছনে কখন সৌভিক এসে দাঁড়িয়েছে রাহুল বুঝতে পারেনি, সেও বলে উঠলো, রাহুলদা সব শেষ, তুমি ধরা পরে গেছো এবার কোর্টে তোমার সাথে দেখা হবে। সৌভিক স্নেহার থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন করতেই যাচ্ছিলো পুলিশে এমন সময় সায়নীর গলার স্বর শোনা গেলো। সায়নী ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে আর সৌভিকের দিকে তাকিয়ে হাসছে উন্মাদের মতো।স্নেহা গিয়ে সায়নীকে শান্ত করার চেষ্টা করলো কিন্তু কোনো লাভ হলোনা, সায়নী হেসেই চললো তারপর ওই হাসির মাঝেই বললো, ঈশান তুমি মরেও আমার পিছন ছাড়লে না? ঠিকই বলেছিলাম সেদিন, তুমি আসলে কুকুরেরও অধম, তোমার সাথে প্রেম করবো আমি? ছিঃ, ঘেন্না হয় তোমার মতো ছেলেগুলোকে। কোনো ক্লাস নেই এদিকে নাকি বড়োলোক বাড়ির মেয়েকে বিয়ে করবে। বেশ করেছি, তুমি এই কোম্পানিতে চাকরি করার যোগ্য নও ঈশান, ওটার যোগ্য শুধু আমি, ওই গোল্ড মেডেলের যোগ্য শুধুই আমি। বোকা ছেলে, তোমার মতো ছেলেগুলোকে হারিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সোজা।এই জানো এখনো আবার একটা ছেলে আমার ফাঁদে পা দিয়েছে, ওটাকেও শেষ করবো ঠিক তোমার মতো। আমায় অনেক উঁচুতে যেতে হবে ঈশান, যেখানে পৌঁছাতে তোমার দুজন্ম আরো লাগবে। নিজেকে দেখো, না আছে একটা হাত, না ঠিক করে হাঁটতে পারছো, মরে ভুত হয়েও সেই আমার পিছনে ঘুরে বেড়াচ্ছ, হোয়াট আ লুসার। সৌভিককেও তোমার মতোই শিখিয়ে পরিয়ে দিও যাতে ভুত হয়ে ভয় দেখিয়ে বেড়াতে পারে।সায়নী এই বলে উন্মাদের মতোই হেসে চলেছে, ওর হাসি আজ বাঁধ মানছেনা।দুদিন পর শহরের এক নামি পাগলাগারদে: সায়নী নিজের বেডে বসে পাশের ছেলেটাকে বলে, এই ছেলে তোমার নাম কি?ছেলেটার মুখে একটা সরল হাসি ফুটে ওঠে, সে বলে, আমি ঈশান।সায়নী, তুমি ঈশান? জানো ঈশান বলে একটা ভুত আমায় খুব জ্বালায়, ওকে একটু বকে দেবে গো?ঈশান বলে, ভুত? সে কি মানুষের থেকেও বেশি ভয়ানক?বাইরে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো সৌভিক, সামনে স্নেহা আর রাহুল এককাপ চা নিয়ে দাঁড়িয়ে।সৌভিকই প্রথম মৌনতা ভেঙে বললো, সরি দাদা, আর একটু হলে আমিও এই পাগলাগারদেই হয়তো থাকতাম। খারাপ লাগছে ঈশানকে দেখে, ওর পরিবার....রাহুল, চিন্তা করোনা, ওর ভাইয়ের দায়িত্ব আমার আর সৃজার। ওর ভাই এখন লাস্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছে, ওই ছেলেটাও ঈশানের মতোই পড়াশোনায়, ঠিক একটা কিছু করেই নেবে।স্নেহা, দাদা একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো। রাহুল, কি প্রশ্ন? স্নেহা, সায়নীকে তুমি পাগল করলে কিভাবে? রাহুল একটু হাসলো তারপর বললো, amphitamin, ওকে দিনের পর দিন এটারই ডোস দিয়েছি আর শেষদিন যখন ও পাগলের মতো হাসছিলো তখন ওকে যে বোতলের জলটা তুমি দিয়েছিলে ওটাতে শেষ ডোস ছিল, আমি জল খাওয়ার সময়ে মিশিয়ে দিয়েছিলাম, তোমার অলক্ষ্যে। ব্যাস, আমি জানতাম আমি যদি আজ পুলিশের কাছে ধরা পরেও যাই তবুও তোমরা সায়নীকে বাঁচাতে পারবেনা। ভাগ্য সহায় ছিল যে সায়নী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তোমরা আর আমায় জেলে পাঠাওনি, বদলে ওকে পাগল হতে দেখেছো আর ভয়ে ওর থেকে দূরে সরে গেছো । স্নেহা, জেলে তো ওরই যাওয়া উচিত, যে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো নিজের স্বার্থে। রাহুল, পরজন্মে দুজন যেন সুস্থ মানুষের মতো বাঁচতে পারে এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। ওরা নিজেদের চা শেষ করে নিজেদের গোঁন্ত্যব পথে পা বাড়ালো। তখন সূর্য ডুবে গেছে, বাইরেটা অন্ধকার গ্রাসঃ করেছে আর ভিতরে?তখনও সায়নী নিজের খেয়ালে ঈশানের সাথে বকবক করে চলেছে, যেন দুজন দুজনকে ছেড়ে এক মুহূর্ত থাকতে পারবেনা। ওদের মধ্যে কি সত্যিই কোনোদিনও ভালোবাসা তৈরী হয়নি? বোঝা মুশকিল। কারণ দৃশ্যত উন্মাদদের থেকে অনেক বেশি উন্মাদ হয় সুস্থ স্বাভাবিক মানুষেরা।সমাপ্তসায়ন্তন গোস্বামী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal