• ১৪ মাঘ ১৪৩২, রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

ED

দেশ

নথি নেওয়ার অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে মামলা, কেন এই রায় জরুরি জানাল সুপ্রিম কোর্ট

এই মামলায় মূল অভিযোগ একটাই। ইডি যখন তল্লাশি চালাচ্ছিল, সেই সময় সেখানে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতির মতো গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দেশের সব তদন্তকারী সংস্থা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আড়ালে অপরাধীরা যেন রক্ষা না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। শীর্ষ আদালতের মতে, এই বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং একাধিক রাজ্যে আইন ভাঙার মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইডি দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করেছিল। সেই প্রসঙ্গে আদালত জানায়, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থারই রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্ত চললে রাজনৈতিক কাজের অজুহাতে তদন্তে বাধা দেওয়া চলবে না।এই মামলায় সব পক্ষকে আগামী দুসপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। নোটিসও জারি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে তল্লাশি হয়েছিল এবং সংলগ্ন এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও স্টোরেজ ডিভাইসও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।উল্লেখ্য, আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এই মামলার শুরু। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে ও পরে মিলিয়ে সারাদিন ধরে চলে দীর্ঘ শুনানি। শুনানি শেষে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, এই মামলায় রায় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশের সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
দেশ

I-PAC কাণ্ডে শীর্ষ আদালতে তোলপাড়, মমতা-ডিজি-সিপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আই-প্যাক সংক্রান্ত ইডির মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হল বৃহস্পতিবার। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির শুরুতেই ইডির তরফে অভিযোগ করা হয়, তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার হস্তক্ষেপ করছেন এবং তদন্তে বাধা দেওয়া হচ্ছে।ইডির আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা আদালতে আক্রমণাত্মক সওয়াল করে বলেন, শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকও তদন্তে বাধা দিয়েছেন। তুষার মেহেতার প্রশ্ন, একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক কীভাবে উর্দি পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তল্লাশির মাঝে ঢুকে পড়েন। ইডি যখন নথি পরীক্ষা করছিল, তখন সেই ফাইল কীভাবে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।তুষার মেহেতা আরও জানান, ইডি প্রথমে স্থানীয় থানায় গিয়ে নিয়ম মেনে অনুমতি নিয়েই তল্লাশি শুরু করেছিল। তা সত্ত্বেও তল্লাশির মাঝখানে কেন বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী সেখানে হাজির হয়, সেই প্রশ্নও তোলা হয় আদালতে। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় উপস্থিত থাকা সমস্ত পুলিশ আধিকারিক, ডিজি রাজীব কুমার-সহ, সবাইকে সাসপেন্ড করা উচিত।শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টে আগের একটি মামলার সময় ঘটে যাওয়া হট্টগোলের প্রসঙ্গও তোলেন তুষার মেহেতা। তাঁর অভিযোগ, সেদিন আইনমন্ত্রী প্রায় পাঁচশো লোক নিয়ে আদালত চত্বরে হাজির হন এবং শুনানির মাঝেই স্লোগান শুরু হয়। যার জেরে শুনানি মুলতুবি রাখতে হয়। তুষার মেহেতার প্রশ্ন, আদালত কি যন্তর মন্তর হয়ে উঠছে?ইডির বক্তব্য, তদন্তের সময় এই ধরনের হস্তক্ষেপ এখন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। যখনই কোনও তদন্ত শুরু হয়, তখনই হইচই করে গোটা প্রক্রিয়াটাই ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা হয়। শুধু ইডির ক্ষেত্রেই নয়, অতীতে সিবিআই তদন্ত চলাকালীন সিবিআই আধিকারিকদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়েছিল বলেও আদালতে জানান তিনি। এর ফলে তদন্তকারী সংস্থার মনোবল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেই প্রশ্ন তোলেন তুষার মেহেতা।তিনি আরও বলেন, ইডি কয়লা দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে, কলকাতা থেকে গোয়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। সেই টাকার বেনিফিসিয়ারি হিসেবে প্রতীক জৈনের নাম উঠে আসে। আদালতের নির্দেশ নিয়ে ইডি তদন্তে নামে। কিন্তু সেই তদন্তের মাঝেই রাজ্য পুলিশের এই ভূমিকা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে বলে দাবি তাঁর।ইডির তরফে এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা ও বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে ইডির এই সমস্ত অভিযোগের কড়া বিরোধিতা করেন রাজ্যের তরফে সওয়াল করা আইনজীবী কপিল সিব্বল।

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
কলকাতা

হাইকোর্টে বড় ধাক্কা! ইডির বিরুদ্ধে তৃণমূলের মামলা খারিজ

কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে তৃণমূলের করা মামলা খারিজ করে দিল আদালত। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এই মামলার শুনানির পর জানান, তৃণমূলের অভিযোগ আদালতে টেকেনি।এ দিন কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আদালতে জানান, ইডি কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁর দাবি, আইপ্যাক সংস্থার ডিরেক্টরের বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেই তল্লাশির সময় তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশীস চক্রবর্তী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তা হলে তিনি যে তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে মামলা করলেন, সেই তথ্যের উৎস কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রের আইনজীবী।ইডির সওয়ালে আরও বলা হয়, যেসব নথির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিয়ে গিয়েছেন। ফলে ইডির বিরুদ্ধে নথি বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগ ঠিক নয়। এমনকি ইডির আইনজীবী মন্তব্য করেন, যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে হয়, তা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সেই মামলায় পক্ষ করা উচিত।এই যুক্তির ভিত্তিতেই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তৃণমূলের করা মামলা খারিজ করে দেন। তবে ইডির তরফে দায়ের করা আলাদা মামলাটি এখনও হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।রায় ঘোষণার পর রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইডির আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, তৃণমূলের কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। সেই কারণেই আদালত এই মামলা খারিজ করেছে। অন্যদিকে আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে তারা কোনও নথি নেয়নি। যে কাগজপত্র নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল, সেগুলি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নিয়ে গিয়েছেন। আদালতে এই সব যুক্তি উঠে আসায় বিষয়টি অন্য দিকে মোড় নিতে পারে বুঝেই শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে বলা হয়, নথি বাজেয়াপ্ত না হয়ে থাকলে মামলা চালিয়ে যাওয়ার অর্থ নেই। তার পরেই মামলা খারিজ হয়ে যায়।

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
কলকাতা

ফাইল চুরির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা, নবান্নের সামনে ধর্নায় বসতে চলেছে বিজেপি

I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় নথি চুরির অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে নবান্নের সামনে ধর্নায় বসতে চায় বিজেপি। তবে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি না মেলায় বিষয়টি গড়ায় আদালতে।এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আদালত বিজেপিকে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। ফলে নবান্ন অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বাংলায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়লা পাচার মামলায় ইডি আধিকারিকরা I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির অভিযোগ, তল্লাশির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী নথি নিয়ে বেরিয়ে যান এবং এতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে বাধা দেওয়া হয়।এই ঘটনার প্রতিবাদে নবান্নের বাইরে ধর্নায় বসার ঘোষণা করে বিজেপি। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়।এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, যারা কোনও দিন নবান্নের ভিতরে বসতে পারবে না, তারা বাইরে বসতে চাইছে। তাঁর বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারীই প্রথম ধর্নার ডাক দিয়েছিলেন। দেবাংশুর দাবি, বিজেপি নিজেদের সমীক্ষাতেই বুঝে গিয়েছে তারা এবার ৫০-৬০ আসনের বেশি পাবে না, তাই বাইরে বসে রাজনৈতিক উপস্থিতি জানানোর চেষ্টা করছে।এই I-PAC সংক্রান্ত মামলার রেশ গিয়ে পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টেও। ইডি শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের কমিশনারের বিরুদ্ধে মোট ১৭টি ধারায় মামলা দায়েরের আবেদন জানিয়েছে। ইডির অভিযোগ, বাজেয়াপ্ত করা বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ইডি অফিসারদের হাত থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগের সপক্ষে পিটিশনে ছবিও জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।ইডির আরও দাবি, পঞ্চনামা রেকর্ড করতে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকরা বাধা দিয়েছেন এবং ইডি আধিকারিকদের ভয় দেখানো হয়েছে। সেই কারণে তল্লাশির সমস্ত প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়নি। কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও অনুমতি ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে নিজে হাতে তথ্যপ্রমাণ নিয়ে যান।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার পরই রাজ্যে বিশেষ বাহিনী! RAF নামল কলকাতায়

ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যে পাঠানো হল সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিস এবং আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি কিছু নথি ও হার্ডডিস্ক সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই ঘটনার পরেই রাজ্যে আসে সিআরপিএফের এক কোম্পানি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF।সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে এই এক কোম্পানি RAF বাংলায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত বাহিনীটিকে রাজারহাটের সিআরপিএফ ক্যাম্পে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, অথবা কোনও বড় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এই RAF বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা হিংসার ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হতে পারে এই বিশেষ বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় RAF-এর কাছে রয়েছে বিশেষ গাড়ি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, যা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।এদিকে আইপ্যাক-কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতর। সিবিআই সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ওই কমপ্লেক্সে কোনও আধাসেনা মোতায়েন ছিল না। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতের আবহে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে ‘চুরি-ডাকাতি’র তুলনা ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একটি পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজে। অন্যটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই রাজ্য সরকারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি দক্ষিণ প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।ইডির দায়ের করা পিটিশনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি অভিযানের সময় অযাচিত প্রবেশ এবং একটি ফাইল নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।এই মামলায় নিজেদের যুক্তি জোরদার করতে ইডি অতীতের তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।পিটিশনে প্রথম যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির। সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৭ মে-র। নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআইয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি ইডির।এতেই শেষ নয়। কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানি ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বার্তা পাঠিয়ে জমায়েত করেছিলেন।এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যেন ডিলিট বা ক্লোন না করা হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা পাচার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেন কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়ার সরণী থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে। সবশেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা নিয়ে নতুন মোড়! এবার আবাসনের বাসিন্দাদের তলব পুলিশের

আই-প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি মামলা দায়ের করেছে এবং সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারও আগাম সতর্কতা হিসেবে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশির ঘটনা খতিয়ে দেখতে আবাসনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের তলব করল পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ভোর ছটা নাগাদ লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছয় ইডি। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি। সেই খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু সময় পর তাঁকে একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায়। সেই ফাইলে কী ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।এই ঘটনার তদন্তে নামিয়ে লাউডন স্ট্রিটের ওই আবাসনের একাধিক বাসিন্দা এবং আশপাশের প্রতিবেশীদের নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। ইডি তল্লাশির সময় তাঁরা কী শুনেছিলেন, অফিসাররা বাড়িতে ঢোকার পর কীভাবে চলাফেরা করছিলেন, তল্লাশির সময় কোনও অশান্তি হয়েছিল কি নাএই সব বিষয়েই তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ সংগ্রহ করতে চাইছে পুলিশ।জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মামলা দায়ের করেছিলেন এবং পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে যে মামলা রুজু করা হয়েছে, এই দুই মামলার ক্ষেত্রেই প্রতীক জৈনের আবাসনের বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের তলব করা হয়েছে।ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশির সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি বা অফিস থেকে উল্লেখযোগ্য কোনও নথি বা প্রমাণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তাদের হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এসেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। ইডির হাতে থাকা দুটি সিসিটিভি ফুটেজে একটিতে দেখা যাচ্ছে, এক পুলিশ অফিসার সিআরপিএফ জওয়ানকে ধাক্কা দিচ্ছেন। অন্য ফুটেজে প্রতীক জৈনের বাড়ির সামনে বচসার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

ফোন না ধরতেই সন্দেহ! প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছনোর পুরো কাহিনি বললেন মমতা

বৃহস্পতিবার ভোর ছটা নাগাদ আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। একই সঙ্গে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসেও অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময়েই সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ইডির অভিযোগ, তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।এই ঘটনার পরদিন ফের মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে তিনি পুরো ঘটনার খবর পেলেন এবং ঠিক কী হয়েছিল, তা নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার দাবি, শুরুতে তিনি কিছুই জানতেন না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে একটি বার্তা পাঠালেও সেটি তিনি তখন দেখেননি। পরে টেলিভিশনের খবর দেখে জানতে পারেন যে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি পৌঁছে গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন তদন্তকারীরা হয়তো কথা বলতে এসেছেন। মমতা বলেন, সকালে কিছু একটা হচ্ছে এমন খবর পেয়েছিলেন, কিন্তু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকে ভোর চারটের আগে ঘুমোতে পারেন না। সেই কারণে অভিষেকের পাঠানো বার্তাটিও নজরে আসেনি।এরপর তিনি জানান, খবর পেয়ে প্রতীক জৈনকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু ফোন ধরেননি তিনি। তখনই তাঁর সন্দেহ হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তাঁর মনে হয়েছিল দলের সমস্ত তথ্য নিয়ে কেউ পালিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটাই আগে দেখা দরকার। মমতা বলেন, তিনি যেমন মানুষকে ভালবাসেন, তেমনই দলের প্রতীক জোড়া ফুলের পাশেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান। তাঁর বক্তব্য, দলকে রক্ষা না করলে মানুষের জন্য লড়াই করা সম্ভব নয়।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অসহায় মানুষ বিপদে পড়লে তাঁর কাছেই আসে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় বিজেপির হয়েও আইপ্যাক কাজ করেছিল। তখন প্রশান্ত কিশোর ছিলেন, এখন তিনি নেই। বর্তমানে প্রতীক জৈন সংস্থার দায়িত্বে রয়েছেন। মমতার অভিযোগ, তৃণমূলের একমাত্র আইটি সেল এবং যাবতীয় তথ্যই লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবেই সেখানে গিয়েছিলেন এবং কোনও অন্যায় করেননি। তাঁর অভিযোগ, ইডি সকাল ছটা থেকে তল্লাশি চালাচ্ছিল এবং তিনি পৌঁছন সাড়ে এগারোটার সময়। এই পাঁচ ঘণ্টায় দলের সমস্ত তথ্য চুরি করার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার আগুনে ঘি! জল জীবন মিশনের টাকা নিয়ে বড় অভিযোগ বিরোধী দলনেতার

আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুক্রবার দুপুরে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তার আগেই এই ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশিকে ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছড়ায়। তল্লাশির মাঝেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ছবি ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সেই অভিযোগেই ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে ইডি।শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী আইপ্যাকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের জল জীবন মিশন প্রকল্পে বাংলাকে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২১ সালে এই প্রকল্পের কাজের বরাত পেয়েছিল একটি সংস্থা, যার মোট বরাতের অঙ্ক ছিল ১৭০ কোটি টাকা।বিরোধী দলনেতার দাবি, ওই সংস্থার কাছ থেকে কাকদ্বীপের একটি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ১৬ কোটি টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি ওই লেনদেনের চেক নম্বরও প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই টাকা দুর্নীতির টাকা।একই সঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী আদতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য নিয়ে যেতে পারেননি। তাঁর মতে, যে প্রস্তাবিত প্রার্থী তালিকা মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে গিয়েছেন বলে বলা হচ্ছে, তার কপি অনেকের কাছেই রয়েছে। আর যে ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাতে কী তথ্য ছিল, তা কেউই জানে না।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

আইপ্যাক রেড ইস্যুতে আগুন ঝরালেন অভিষেক! মতুয়াগড় থেকে মোদী-শাহকে খোলা চ্যালেঞ্জ

আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে একদিন আগেই তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই তল্লাশির সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। এবার একই ইস্যুতে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।শুক্রবার নদিয়ার তাহেরপুরে মতুয়াগড়ের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ করেন অভিষেক। আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা নিয়ে তিনি বলেন, ভোটার লিস্ট সংক্রান্ত একটি অ্যাপ তৈরি করেছিল আইপ্যাক, যাতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়। তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে বলেই সেই সংস্থার উপর ইডি নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শাস্তি হিসেবে একদিকে ইডি পাঠানো হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটাকেই বিজেপির রাজনীতির ফর্মুলা বলে কটাক্ষ করেন তিনি।সভা মঞ্চ থেকে আরও চড়া সুরে অভিষেক বলেন, বিজেপির কাছে ক্ষমতা, টাকা ও কেন্দ্রীয় সংস্থা আছে, কিন্তু মানুষের সমর্থন নেই। তৃণমূলের কাছে কিছু না থাকলেও মানুষের ভালোবাসা আছে। শেষ কথা বলবে সাধারণ মানুষই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা মিডিয়া ভোট দেয় না। ভোট দেয় শ্রমিক, কৃষক, মা-বোনেরা। বাংলার মানুষ এমন জবাব দেবে যে বিজেপির অহংকার চূর্ণ হয়ে যাবে।এই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং ইডি, সিবিআই দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যত কেন্দ্রীয় সংস্থা, যত টাকা, যত ক্ষমতাই ব্যবহার করা হোক না কেন, বাংলার মানুষ দিল্লির শাসকদের কাছে মাথা নত করবে না।এসআইআর ও নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে। না হলে মোদী, শাহ ও শান্তনু ঠাকুরকে সরে যাওয়ার দাবি জানায় তৃণমূল। তাঁর বক্তব্য, এখন আওয়াজ তোলার সময়, পিছিয়ে থাকার সময় নয়।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হাই প্রোফাইল মামলার মাঝেই বিস্ফোরণ! আদালতে দাঁড়িয়ে ফোন হ্যাকের অভিযোগ ইডি আইনজীবীর

আদালতে ছিল অত্যন্ত উচ্চপ্রোফাইল মামলা। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশিকে কেন্দ্র করেই এই মামলার সূত্রপাত। শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে শেষ পর্যন্ত শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।তবে শুনানি স্থগিত হওয়ার আগেই আদালতের ভিতরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী। কেন্দ্রের ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী এই মামলায় ইডির হয়ে সওয়াল করছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দুপুর ২টো ৩০ মিনিটে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা ছিল। তার ঠিক আগে, দুপুর দেড়টা নাগাদ আচমকাই তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে যায়।আদালতকক্ষে দাঁড়িয়ে ধীরজ ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, তাঁর ফোন সম্পূর্ণভাবে হ্যাক করা হয়েছে। ফোন করার চেষ্টা করলেও কাউকে ধরতে পারছিলেন না। হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও তিনি হঠাৎ লগ আউট হয়ে যান। পরে আবার লগ ইন করতে গেলে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্ট অন্য একটি নম্বরে চলে গেছে। তিনি আরও জানান, যাঁদের ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই কল অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিল। এমনকি কেউ কেউ ফোনের ওপার থেকে তাঁর কাছে টাকা দাবি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এই অভিযোগ বিচারপতির নজরে আনতে গেলে আদালতে উপস্থিত অপরপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে থামান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আগে মামলার শুনানি শুরু হোক, তার পরে এসব বিষয় বলা যেতে পারে। এর মধ্যেই আদালতকক্ষে ভিড় বাড়তে থাকে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ একাধিকবার কক্ষ ফাঁকা করার নির্দেশ দেন এবং কিছুটা সময়ও দেন। কিন্তু ভিড় না কমায় শেষ পর্যন্ত শুনানি স্থগিত করে এজলাস ছেড়ে ওঠেন তিনি।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

হাইকোর্টে তুলকালাম! আইপ্যাক মামলার শুনানিতে বিশৃঙ্খলা, এজলাস ছেড়ে উঠলেন বিচারপতি

আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাকের দফতরে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জোড়া মামলার শুনানির দিনেই আদালতে তৈরি হল চরম বিশৃঙ্খলা। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইডি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। পাল্টা ইডি-র বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসও মামলা করে। বৃহস্পতিবার এই দুই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এজলাসে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার জেরে শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস ছেড়ে উঠে যান। আগামী ১৪ জানুয়ারি ইডি ও তৃণমূলের মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।এদিন আদালত কক্ষে আইনজীবীদের পাশাপাশি প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়। শুরু হয় হইচই ও চেঁচামেচি। শুধু এই মামলা নয়, তালিকাভুক্ত অন্যান্য মামলার শুনানিও ঠিকমতো চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। আদালতের বাইরেও আইনজীবীদের ভিড় ছিল। ভিতরে থাকা অনেক আইনজীবী বেরোতে চাইছিলেন না, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।এই অবস্থায় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ অনুরোধ করেন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত নন এমন সবাই যেন এজলাস ছেড়ে বাইরে চলে যান। কিন্তু বিচারপতির নির্দেশের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকায় শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে বিচারপতি এজলাস ছেড়ে উঠে যান। এর জেরে দিনের মতো শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই ইডি-র তরফে একটি বিবৃতি জারি করে দাবি করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছনোর আগ পর্যন্ত তল্লাশি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চলছিল। ইডি-র দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছয়। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সহযোগী এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সরিয়ে নেন। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় বলে দাবি ইডি-র।ইডি আরও জানায়, এই তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আইন মেনেই করা হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দল বা দলীয় দফতরকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়নি। নির্বাচনের সঙ্গে এই তল্লাশির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তাদের বক্তব্য, এটি আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলারই অংশ।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীকের বাড়ি থেকে আইপ্যাক—ED অভিযানে কেন এত ক্ষুব্ধ মমতা?

ভোটের মুখে বাংলা জুড়ে চরম উত্তেজনা। তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন নির্বাচনী নথি হাতিয়ে নিতেই আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবস্থিত আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।এই খবর পেয়ে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি তিনি যান সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে। সেখানে দাঁড়িয়েই মমতা অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং এসআইআর সংক্রান্ত নথি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ট্রান্সফার করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, ইডির এই অভিযান সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অপরাধমূলক।মমতা জানান, রাজ্যে যখন এসআইআর সংক্রান্ত কাজ চলছে, ঠিক সেই সময় এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি ভেস্তে দিতেই এই পদক্ষেপ। এরপর আইপ্যাকের অফিসেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়, নথি চুরির অভিযোগে ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবে বিধাননগর পুলিশ।আইপ্যাকের অফিসেই দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন মুখ্যমন্ত্রী। একের পর এক বৈঠক সারেন তিনি। দফতর যে ভবনে রয়েছে, তার বেসমেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা জানান, প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত এবং অফিসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকবেন।মমতা বলেন, আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করা হয়েছে। পার্টির কাগজ, তথ্য, হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতিক নথি সব লুট করা হয়েছে। লড়াই করার সাহস নেই বলেই এখন লুট করতে নেমেছে। সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত আমি জীবনে দেখিনি।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোর থেকেই এই অভিযান শুরু হয়। সকাল ছটা নাগাদ আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে আমরা মেনে নেব না। আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দিই, সেটা কি ঠিক হবে?এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের ডাকও দেন মমতা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালেই রাজ্যের সব ব্লক এবং ওয়ার্ডে মিছিল হবে। তাঁর কথায়, এই লুটের বিরুদ্ধে তৃণমূল পথে নামবে।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

তল্লাশিতে বাধা না ক্ষমতার অপব্যবহার? হাইকোর্টে বড় অভিযোগ ইডির

আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থার দফতরে তল্লাশি চলাকালীন বাধা দেওয়া হয়েছেএই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়।ইডির তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চলাকালীন ইডির কাজে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে ফাইল ও নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, তল্লাশির সময় জোর করে একাধিক নথি বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে যাতে কেন্দ্রীয় সংস্থা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, তার জন্য অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি জানায় ইডি।বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার অনুমতি দেন এবং প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে, এই মামলার শুনানি আগামী দিনেই শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার ও অফিসে তল্লাশি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সংগঠনের খুঁটিনাটি, প্রার্থিতালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ইডিকে দিয়ে এই অভিযান চালিয়েছে। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।ইডির বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়নি। সংস্থার দাবি, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে। কলকাতার ছটি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। নগদ টাকা, হাওয়ালার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি। নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করে জানায় ইডি। পাশাপাশি, সাংবিধানিক পদে থাকা এক ব্যক্তি বেআইনি ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথা ঘোষণা করেন। পাল্টা আইনি পদক্ষেপের কথা জানায় ইডিও। তার পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।উল্লেখ্য, কয়লাকাণ্ডের একটি পুরনো মামলায় দীর্ঘদিন পর ফের সক্রিয় হয়েছে ইডি। প্রায় দু-তিন বছর ধরে কার্যত স্থগিত থাকা ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতার তিনটি জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। একটি দল পৌঁছয় লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে, অন্য দলটি সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে এবং তৃতীয় দলটি পোস্তায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যায়।এই পরিস্থিতিতে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ঢোকার সময় খালি হাতে গেলেও, বেরনোর সময় একটি সবুজ ফাইল হাতে দেখা যায় তাঁকে। সেই ফাইলে নথিপত্রের পাশাপাশি একটি হার্ড ডিস্কও ছিল বলে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁদের নির্বাচনী পরিকল্পনা, সংগঠনের তথ্য, প্রার্থিতালিকা এবং এসআইআর সংক্রান্ত কাজের খুঁটিনাটি হাতিয়ে নিতেই ইডিকে দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।এর পরে তিনি সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে যান। সেখান থেকেও কয়েকটি নথিপত্র গাড়িতে তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেগুলি তৃণমূলের দলীয় কাগজপত্র। তাঁর অভিযোগ, ইডি সব তথ্য ট্রান্সফার করে নিয়ে গিয়েছে। এই আবহেই ইডি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতি দেয় এবং পরে আদালতের দ্বারস্থ হয়।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত অফিসের সামনেই থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী! বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। তৃণমূলের নির্বাচনী তথ্য, প্রার্থিতালিকা এবং ভোটের কৌশল হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে ব্যবহার করে এই অভিযান করিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইডি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলে দেন।ইডি হানার খবর পেয়ে এ দিন সকালে প্রথমে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সোজা চলে যান সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে। ইডি অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে অফিস থেকে বেরিয়ে মমতা স্পষ্ট করে জানান, আইপ্যাক কোনও সাধারণ বেসরকারি সংস্থা নয়। এটি তৃণমূলের স্বীকৃত টিম। সেই টিমের কাছ থেকে কাগজপত্র ও তথ্য নিয়ে যাওয়া বেআইনি কাজ বলেই তাঁর দাবি।মমতা জানান, ইডি নির্বাচনের সম্পূর্ণ রণকৌশল নিয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লড়াই করতে না পারলে এজেন্সি ব্যবহার করে দলের তথ্য লুঠ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ভাবে ডেটা, কৌশল এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তাঁর বার্তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করুন।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ইডির ফরেন্সিক টিম অফিসে এসে হার্ড ডিস্ক ও বিভিন্ন তথ্য ট্রান্সফার করেছে। পরে তা অস্বীকার করা হলেও তিনি নিজে তা দেখেছেন বলে দাবি করেন। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নথি নিয়েও যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, তৃণমূল একটি নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল, নিয়মিত আয়কর দেয়, অডিট হয়। প্রয়োজনে নোটিস দেওয়া যেত। কিন্তু ভোট এলেই এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোর ছটা থেকে এই অভিযান শুরু হয়, যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিল না। তখনই দলের সমস্ত ল্যাপটপ, ডেটা, নির্বাচনী কৌশল ও এসআইআর সংক্রান্ত নথি ট্রান্সফার করা হয়। তাঁর মতে, এটি সরাসরি অপরাধ। অফিসের টেবিল ফাঁকা করে সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নতুন করে নথি তৈরি করতে গেলে নির্বাচনই শেষ হয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এসআইআর প্রসঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি মহিলা ও তরুণদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে লক্ষ লক্ষ নাম মুছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে বলেও অভিযোগ তোলেন মমতা।এর আগেও প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সল্টলেকের অফিস থেকে বেরিয়ে ফের বলেন, বাংলায় জিততে চাইলে নির্বাচনে লড়াই করুন। ডেটা চুরি করে বা ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, বাংলা দেশের গেটওয়ে। বাংলা ঠিক না থাকলে কিছুই ঠিক থাকবে না।মমতা আরও প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির অফিস বা তাদের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় এই ধরনের অভিযান চালানো হলে কি তা মেনে নেওয়া হবে। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্র ও কাজ করার অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। তিনি জানান, ইডির ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথাও ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির চুরি, ডাকাতি ও লুঠের বিরুদ্ধে পথে নামার আহ্বান জানান তিনি।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

দলের সমস্ত ডেটা ট্রান্সফার করে নিয়েছে ইডি! বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী

আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। তৃণমূলের নির্বাচনী তথ্য, প্রার্থিতালিকা ও ভোটের কৌশল হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে ব্যবহার করা হয়েছে। এই আবহেই একেবারে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায় তৃণমূলনেত্রীকে।ED হানার খবর পেয়ে এদিন সকালে প্রথমে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি সোজা চলে যান সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুললেও, সল্টলেকের অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে মমতা স্পষ্ট করে দেন, আইপ্যাক কোনও সাধারণ বেসরকারি সংস্থা নয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের স্বীকৃত ভোটকুশলী টিম। সেই টিমের অফিসে ঢুকে সব নথি নিয়ে যাওয়া বেআইনি কাজ বলেই দাবি করেন তিনি।মমতা বলেন, ভোর ছটা থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে, যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিলেন না। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় দলের সমস্ত ডেটা, ল্যাপটপ, নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি, এমনকি SIR সংক্রান্ত কাজের কাগজও ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে ঢুকে এ ভাবে কাগজপত্র তুলে নেওয়া সরাসরি অপরাধ। অফিসের টেবিল ফাঁকা হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নতুন করে সব নথি তৈরি করতে গেলে নির্বাচনই পেরিয়ে যাবে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।এর পর কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তৃণমূল একটি রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল। নিয়মিত আয়কর দেয়, অডিট হয়। প্রয়োজন হলে নোটিস দেওয়া যেত। কিন্তু ভোট এলেই শুধু বিরোধীদের নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপিকে কখনও এই ভাবে নোটিস দেওয়া হয় না। টাকা ও পেশীশক্তির জোরে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।SIR প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মহিলা ও তরুণরা। তিনি দাবি করেন, যুক্তিহীন অজুহাতে নাম কাটা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন বিজেপির ইশারায় কাজ করছে। এখনও ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা চুপ করে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মমতা।সল্টলেকের অফিস থেকে বেরিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, নিজের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ED নির্বাচনের সমস্ত রণকৌশল, দলের তথ্য, প্রার্থিতালিকা কেড়ে নিয়ে গেছে। ভোটারদের ডেটা লুঠ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তৃণমূলের সঙ্গে প্রতারণা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সল্টলেকের অফিসের বাইরে দাঁড়িয়েও তিনি বলেন, বাংলায় জিততে চাইলে নির্বাচনে লড়াই করে জিততে হবে। দলের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরে হানা দিয়ে ডেটা হাতিয়ে নেওয়া কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

আইপ্যাক তল্লাশিতে রাজনীতির ঝড়, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নতুন মোড়

আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি চলাকালীন রাজ্য দেখল এক নজিরবিহীন ছবি। তল্লাশির মাঝেই প্রথমে সেখানে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কোনও রকম দেরি না করে তিনি তড়িঘড়ি বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়েন।প্রায় পনেরো মিনিট পরে মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে। সেই ফাইলে কী রয়েছে এবং কেন এই তল্লাশি, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই বক্তব্য রাখেন তিনি। কথা বলতে গিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। তাঁর অভিযোগ, প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি পাঠানো হয়েছে দলের আইটি ইনচার্জের সব হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করার জন্য। প্রার্থী তালিকা, দলের পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক কৌশল হাতিয়ে নেওয়াই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে তিনি দাবি করেন।মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এটাই কি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ তাঁর দলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে নেওয়া? তিনি আরও বলেন, যিনি দেশ রক্ষা করতে পারেন না, তিনিই এই ধরনের কাজ করছেন।প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান আইপ্যাকের গডরেজ ওয়াটারসাইডের অফিসে। সেখানে দেখা যায়, একের পর এক ফাইল বের করে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে তোলা হচ্ছে। সেই সব ফাইল ঘিরেই নতুন করে রহস্য দানা বাঁধে।সূত্রের খবর, কয়লা পাচার সংক্রান্ত কিছু নথি খতিয়ে দেখতেই ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে পৌঁছন ডিসি সাউথ এবং পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ইডির চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য, বালি পাচারে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অভিযুক্ত অরুণ শারফ-সহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অরুণ শারফের সংস্থা জিডি মাইনিংয়ের নামেও চার্জশিট জমা পড়েছে। বিচারভবনে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।গত ৬ নভেম্বর ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন অরুণ শারফ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওয়েস্টবেঙ্গল স্যান্ড মাইনিং, ট্রান্সপোর্ট, স্টোরেজ ও সেল সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম উপেক্ষা করে বালি তোলা এবং তা বিক্রি করা হত। এই অবৈধ কারবারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ রোজগার করা হয়েছে বলে ইডির দাবি। মোট ১৪৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অরুণ শারফ ছাড়াও তাঁর সংস্থার চার কর্মীর বিরুদ্ধেও চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারের ৫৭ দিনের মাথায় এই চার্জশিট পেশ করল ইডি।এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর বালি পাচার কাণ্ডের তদন্তে নামে ইডি। ওই দিন ঝাড়গ্রাম ও বেহালায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা। সেই সময় জিডি মাইনিংয়ের বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি হয়।ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সুবর্ণরেখা নদী থেকে নিয়ম না মেনে দেদার বালি তোলার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, এঁরা সকলেই অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত। শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

জানুয়ারি ০৩, ২০২৬
দেশ

জঙ্গি ঘাঁটির অভিযোগে তোলপাড়! অর্থ জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে নতুন মোড়। জেহাদি যোগ ও মানি লন্ডারিং অভিযোগে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকিকে গ্রেপ্তার করল ইডি। আর্থিক লেনদেনে বড় গরমিলের হদিশ।দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু হওয়ার পরই নজরে আসে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরমহল। জেহাদি কার্যকলাপের অভিযোগে আগে থেকেই বিতর্কে ছিল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবার সেই সন্দেহ আরও গভীর করল তাদের আর্থিক লেনদেনের গরমিল। দীর্ঘদিনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ইডি শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকিকে।দিল্লি বিস্ফোরণের পর থেকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় ছিল হরিয়ানার এই আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়। অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিজ প্রতিষ্ঠানটিকে সাসপেন্ডও করে। তার পরই দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ প্রতারণা এবং জালিয়াতির দুটি আলাদা এফআইআর দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ছাত্র ভর্তির নামে জাল ডকুমেন্ট, বেআইনি স্বীকৃতি এবং অন্যায় আর্থিক লেনদেন চলছিল বহুদিন ধরে।ঠিক সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই মঙ্গলবার সকালে ইডি একযোগে দিল্লি এবং আরও ২৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাভেদ সিদ্দিকিকে সারা দিন ধরে জেরা করা হয়। নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া এবং আর্থিক নথিতে অসংগতি ধরা পড়তেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি।এদিকে বিস্ফোরণের পর ফরিদাবাদে কয়েকজন চিকিৎসকের গ্রেপ্তারি এবং দেশজুড়ে জঙ্গি যোগে একাধিক ডাক্তার আটক হওয়ার পর আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আরও ঘনঘন সামনে এসেছে। আত্মঘাতী জঙ্গি উমর-উল-নবির সঙ্গেও আল ফালাহর যোগ পাওয়া গেছে বলে সূত্রের দাবি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল, যেখানে চিকিৎসক থেকে ছাত্রঅনেকেই যুক্ত ছিল।সব মিলিয়ে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সন্দেহের মেঘ ঘনায়মান। আর্থিক জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং, বেআইনি স্বীকৃতি, জেহাদি কার্যকলাপসব অভিযোগ একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে। তদন্তের প্রথম পর্যায়েই প্রতিষ্ঠাতা গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

নভেম্বর ১৯, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

শুভমন-র 'শুভ' হলোনা ইডেন টেস্ট! এই টেস্টে আর মাঠে নামছেন না গিল, বিসিসিআইয়ের সরকারি ঘোষণা

যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাই সত্যি হল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে চলতি টেস্ট ম্যাচে আর খেলবেন না ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল। রবিবার সকালেই বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজন পড়লেও আর মাঠে নামার মতো অবস্থায় নেই তিনি। বোর্ডের পক্ষ থেকে বিবৃতী দিয়ে জানানো হয়েছে,কলকাতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের খেলা চলাকালীন শুভমন গিল ঘাড়ে চোট পান। দিনের শেষে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং এই টেস্টে আর অংশ নিতে পারবেন না।হঠাৎ বেড়ে ওঠা ব্যথা, হাসপাতালে ভর্তি অধিনায়ক। শনিবার ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই ঘাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন গিল। ব্যথা কমানোর ওষুধ খেলেও তেমন আরাম মেলেনি। ব্যাট করতে নামার আগে এবং ম্যাচ চলাকালীনও ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের নিজের তৃতীয় বলেই সাইমন হারমারকে স্লগ-সুইপ করতে গিয়ে ব্যথা ফের বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ছুটে আসেন দলের ফিজিয়ো। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে মাঠ ছাড়তে বলা হয়।মাত্র তিন বল ক্রিজে থাকতে পেরেছিলেন গিল। ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে ঘাড় ঘোরাতেই সমস্যায় পড়ছিলেন তিনি।এমআরআই রিপোর্টে পুরনো চোটের মিল.সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে গিলকে দক্ষিণ কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তাঁর এমআরআই স্ক্যান করা হয়। রিপোর্টে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে গিল একই ধরনের চোট পেয়েছিলেন এবং সেই সময়কার রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান রিপোর্টের মিল পাওয়া গিয়েছে।২৬ বছর বয়সী হওয়ায় শরীরের সহনশক্তি ভালোচিকিৎসকেরা এটিকে পেন থ্রেশহোল্ড বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এ বার ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেশি যে গিল তা সহ্য করতে পারছেন না। তাই চিকিৎসকেরা তাঁকে দলের সঙ্গে হোটেলে না রেখে পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।গিলের পরবর্তী চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিসিসিআইয়ের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল প্যানেল।অধিনায়ক ছাড়াই কঠিন পরীক্ষায় ভারত, শনিবারই দলের অন্দরে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে পুরো ইডেন টেস্টই হয়তো গিলকে বাইরে বসে কাটাতে হবে। রবিবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। এখন কঠিন, বাউন্সি ও অনিশ্চিত ইডেন পিচে অধিনায়ককে ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে ভারতীয় দলকে।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

ঈশান কোনে মেঘ দেখছেন সঞ্জু! তিরুঅনন্তপুরমে কিউয়িদের উড়িয়ে ৪-১ সিরিজ় জয় ভারতের

বিশ্বকাপের আগে বোলার ও ফিল্ডিংয়ের বাস্তব পরীক্ষা নিতে টস জিতে আগে বোলিং বেছে নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শিশির বাড়লে অর্শদীপ সিংহ, বরুণ চক্রবর্তীরা রান সামলাতে পারেন কি না, সেটাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু পরিকল্পনার মাঝেই দৃশ্যপট বদলে দিলেন ঈশান কিশন। ব্যাট হাতে ঝড় তুলে তিরুঅনন্তপুরমে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪৬ রানে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় জিতে নিল ভারত।ভারত তোলে ৫ উইকেটে ২৭১ রানটি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। জবাবে কিউয়িদের ইনিংস থামে ১৯.৪ ওভারে ২২৫ রানে। ম্যাচে দুদল মিলিয়ে ওঠে ৪৯৬ রান ও ৩৬টি ছক্কাটি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে যা নতুন নজিরের শামিল।দুবছরের বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফেরা ঈশান কিশন যেন প্রমাণ করতেই নেমেছিলেন। তিন নম্বরে নেমে ৪৩ বলে নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ৬টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে কিউয়ি বোলারদের কার্যত ছেলেখেলা বানান ঈশান। তাঁকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৩০ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন সূর্য। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ৫৭ বলে ১৩৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন।এর পর পাঁচ নম্বরে নেমে হার্দিক পাণ্ড্য করেন ১৭ বলে ৪২। শেষ দিকে রিঙ্কু সিংহ ও শিবম দুবে নামেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সারতে। কিউয়ি বোলারদের মধ্যে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন লকি ফার্গুসন (৪১ রানে ২ উইকেট), বাকিরা ভারতীয় ব্যাটিং তাণ্ডবের সামনে অসহায় দেখিয়েছেন।লক্ষ্য তাড়ায় নিউ জ়িল্যান্ডের শুরুটা নড়বড়ে হলেও ফিন অ্যালেন (৩৮ বলে ৮০) এবং রাচিন রবীন্দ্র (১৭ বলে ৩০) লড়াই জিইয়ে রাখেন। অ্যালেন আউট হওয়ার পরই ভেঙে পড়ে কিউয়িদের ইনিংস। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে ম্যাচ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেন অর্শদীপ ও অক্ষর পটেল।চাপের মুখে ড্যারেল মিচেল চেষ্টা করলেও একা কিছু করার ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলারদের মধ্যে উজ্জ্বলতম পারফরম্যান্স অর্শদীপের৫১ রানে ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে এটাই তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট। অক্ষর নেন ৩৩ রানে ৩ উইকেট। হার্দিক কার্যকর হলেও বুমরাহ ও বরুণ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন, যা বিশ্বকাপের আগে ভাবনার জায়গা রেখে গেল।সব মিলিয়ে, ঈশানের শতরান আর অর্শদীপের পাঁচ উইকেটদুটোই একসঙ্গে এনে দিল ভারতের বড় জয় এবং আত্মবিশ্বাসী সিরিজ় সমাপ্তি।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

২৭ জনের মৃত্যু! এখনও নিখোঁজ বহু! এক সপ্তাহ পরে সিট গঠন, প্রশ্ন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে

আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। শুক্রবার রাতের দিকে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে দমকল ও পুলিশের যৌথ দল। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭-এ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অবশেষে ওই কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পরে সিট গঠন হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন পরে কেন তদন্তে এই তৎপরতা।গত রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকার ওই কারখানায় আগুন লাগে। রাত প্রায় ৩টে নাগাদ কারখানার গুদাম অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর টানা প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলে। ১২টি ইঞ্জিন নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় দমকলকে। আগুনের তীব্রতায় কারখানার ভিতরেই আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে তাঁদের আর্তনাদ শোনার কোনও সুযোগই পাননি কেউ।ভয়াবহ এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরে অবশেষে সিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বারুইপুর জেলা পুলিশ। আগুনে পুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওই কারখানাতেই এবার তদন্ত চালাবে বিশেষ দল। পাঁচ সদস্যের এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপার শুভেন্দু কুমার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি (ক্রাইম), ডিইবি-র এক ইন্সপেক্টর এবং আরও এক জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরেন্সিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, কারখানায় কী ধরনের নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এবং কীভাবে আগুন এত দ্রুত ছড়ালসব দিকই খতিয়ে দেখবে সিট। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নামজাদা একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। জলাভূমি বুজিয়ে কারখানা তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই সংস্থার ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। তদন্ত আরও গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

দিল্লি যাওয়ার আগে বিস্ফোরক চিঠি মমতার! ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সোমবার বিকেলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠির মূল বিষয়, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া।চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। মমতার চিঠি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্যায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক মাস আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০। নতুন চিঠিতে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।মমতা আরও লিখেছেন, ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮,১০০ জন মাইক্রো-অবজার্ভার মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই নিয়োগের কোনও আইনি ভিত্তি নেই। শুরু থেকেই বাংলায় নির্বাচনী রোল সংশোধনের ক্ষেত্রে ERO এবং AERO-দের ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের একমাত্র আইনগত ক্ষমতা ERO এবং AERO-দের। অথচ সেই ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।চিঠিতে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে যেখানে SIR প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে কেন এই ধরনের মাইক্রো-অবজার্ভার মোতায়েন করা হয়নি। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই কেন আলাদা নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ত্রিপুরা ক্যাডারের চার জন আইএএস অফিসার-সহ একাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।মমতার অভিযোগ, কিছু পর্যবেক্ষক বেআইনিভাবে CEO অফিস থেকে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তথ্য বদলের চেষ্টা করছেন। এর ফলে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে এবং তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। চিঠিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই বিষয়গুলির তাৎক্ষণিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।একই আইন সারা দেশে প্রযোজ্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে আলাদা নিয়মে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার দাবি, এই প্রক্রিয়া গণতন্ত্র এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মানুষের আস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

‘বাঁচাও’ চিৎকার, তারপর ভয়াবহ পতন! তিনতলা থেকে ফেলে খুন বৃদ্ধা ভাড়াটিয়াকে

ভাড়াটিয়াকে তিনতলার ছাদ থেকে ফেলে খুনের অভিযোগ উঠল বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগর থানার অন্তর্গত সন্তোষপুর শান্তিনগরের বিবেক দল এলাকায়। মৃত বৃদ্ধার নাম শেফালী মান্না। বয়স ৭৬ বছর।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শেফালী মান্না অভিযুক্ত বাসুদেব ঘোষের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ আচমকাই এলাকায় বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শোনা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, দুতলার ছাদ থেকে ওই বৃদ্ধা নীচে পড়ে গিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির মালিক বাসুদেব ঘোষ ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে রবীন্দ্রনগর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেই ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর বাসুদেব ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল। অতীতে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। আবার এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এলাকাবাসীর বক্তব্য, দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
রাজ্য

তদন্ত এনআইএ-র হাতে, মুর্শিদাবাদে পুলিশ সুপার বদল! নবান্নের বড় সিদ্ধান্ত

বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদল। শুক্রবার ওই ঘটনার তদন্তভার পায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তার পরের দিনই বদল করা হয় মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে। এর পর শনিবার নবান্ন থেকে একযোগে ২২ জন আইপিএস পদমর্যাদার আধিকারিকের বদলির নির্দেশ জারি করা হয়। শহর ও জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে এই রদবদল ঘিরে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধৃতিমান সরকারকে। কুমার সানি রাজকে পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ শাখা এসএসআইবি-তে। ধৃতিমান সরকার এর আগে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করেছেন।শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটেও গুরুত্বপূর্ণ বদল হয়েছে। যুবভারতী কাণ্ডের পরে সাসপেন্ড হওয়া তৎকালীন ডিসি অনীশ সরকারের জায়গায় ডিসি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন পুষ্পা। বনগাঁর পুলিশ সুপার দীনেশ কুমারকে করা হয়েছে ডিসি (উত্তর)। ডিসি (দক্ষিণ শহরতলি) বিদিশা কলিতাকে পাঠানো হয়েছে বনগাঁর পুলিশ সুপার হিসেবে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন চারু শর্মা। ডিসি (পূর্ব) পদে আনা হয়েছে জসপ্রীত সিংকে। ডিসি (পূর্ব শহরতলি) হয়েছেন অমিত বর্মা এবং ডিসি (দক্ষিণ) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক সরকারকে।এছাড়াও বারাসতের পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝারখরিয়াকে দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার করা হয়েছে। অমিত পি জাভালগিকে পাঠানো হয়েছে আইজি, বারাসত রেঞ্জে। অলোক রাজোরিয়া পেয়েছেন ডিআইজি, বর্ধমান রেঞ্জের দায়িত্ব। মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন পুলিশ সুপার আরিশ বিলালকে পাঠানো হয়েছে এসএসআইবি-তে। প্রদীপ কুমার যাদবকে বদলি করে এসএসআইবি, উত্তরবঙ্গ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।বেলডাঙা অশান্তির পর একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

স্কটিশ চার্চ কলেজে রহস্যমৃত্যু! হস্টেল থেকে উদ্ধার ছাত্রীর নিথর দেহ

স্কটিশ চার্চ কলেজের এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলেজ চত্বরে। মৃত ছাত্রীর নাম ঋষিতা বণিক। তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন এবং কলেজের হস্টেলেই থাকতেন। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হস্টেল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋষিতার বাড়ি ত্রিপুরায়। গত ২৪ জানুয়ারি হঠাৎই হস্টেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হলে প্রথমে তাঁকে হস্টেলের সিক রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত আরজি কর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সেখানে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকেরা জানান।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিষক্রিয়ার কারণেই ছাত্রীর মৃত্যু হতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। হস্টেলের অন্যান্য পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। পাশাপাশি, মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।সূত্রের খবর, ঋষিতা বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি কোনও ওষুধ সেবন করেছিলেন বলেও প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। সেই ওষুধ থেকেই বিষক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। তবে যদি খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকে, তা হলে অন্য কেউ কেন অসুস্থ হননি, সেই প্রশ্নও উঠছে। সব দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগোচ্ছে পুলিশ।উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে স্কটিশ চার্চ কলেজে একটি গুরুতর অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশ্লীল বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, ওই অধ্যাপক মূলত দরিদ্র পরিবারের ছাত্রীদের টার্গেট করতেন এবং কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের অনুপযুক্ত বার্তা পাঠাতেন। সেই ঘটনায় পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

আনন্দপুর ট্র্যাজেডিতে বড় ঘোষণা, মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেক মৃতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে এই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। মৃতদের পরিবারগুলির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের একটি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনার চার দিন পর পর্যন্ত মোট ২৫ জনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার দুদিন পর ডেকরেটিং গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ওই গুদামের সঙ্গে যুক্ত মোমো কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ওই মোমো কোম্পানির দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার আনন্দপুরে মিছিল করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সরকারি চাকরির দাবি তোলেন। পাশাপাশি মোমো কোম্পানির মালিককে গ্রেফতার না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।এদিকে, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন। এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুরে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। এরপর তিনি জানান, মৃতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে এবং আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মৃতদের পরিবারগুলির জন্য সাহায্যের ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানান, প্রত্যেক মৃতের পরিবারের একজনকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এই আর্থিক সাহায্য শোকস্তব্ধ পরিবারগুলিকে কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি জোগাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল যে সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পাশে রয়েছেন।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকা শুনানিতে হইচই, কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত কাউন্সিলরের

এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে শুনানি কেন্দ্রে হুলস্থুল কাণ্ড। অভিযোগের কেন্দ্রে কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মেয়র পরিষদের সদস্য অসীম বসু। শরৎ বোস রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন তিনি সেখানে পৌঁছন। তারপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।গত কয়েক দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা নথি নিচ্ছেন, কিন্তু তার বদলে কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কাউন্সিলর অসীম বসু শুনানি কেন্দ্রে যান বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছেই তিনি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকী, রসিদ না দিলে কোনও নথি জমা না দিতে শুনানিতে আসা মানুষজনকে নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, কাউন্সিলর এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জন এভাবে শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে পারেন না। বিষয়টি শান্তভাবে আলোচনা করা যেত। তাঁদের আরও বক্তব্য, এই ঘটনার ফলে শুনানির কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং দেরি হচ্ছে।ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু বলেন, মানুষ কীভাবে প্রমাণ করবেন তাঁরা কোন কোন নথি জমা দিয়েছেন, যদি কোনও রসিদ না দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে নথি নেওয়ার পর রসিদ দিতে হবে। তা সত্ত্বেও কেন এই অনিয়ম চলছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রসিদ না দিলে প্রয়োজনে শুনানি বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন কাউন্সিলর।এই ঘটনাকে ঘিরে ভবানীপুর এলাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal