• ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩, শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Test

রাজ্য

অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় আপডেট, ১৭ সেপ্টেম্বর কাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩,০০০ টাকা? অতিরিক্ত ১০ লক্ষ মহিলা পাবেন সুবিধা

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড় আপডেট। সেপ্টেম্বর মাসের ৩,০০০ টাকার কিস্তি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা পড়বে। ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবেও পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার খবর অনুযায়ী, অগস্টে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরের কিস্তিতে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আরও প্রায় ১০ লক্ষ মহিলা এই কিস্তির আওতায় আসবেন।মাসে কত টাকা মিলবে?২০২৬ সালের জুন মাসে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে উপভোক্তার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা বাসিন্দারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। স্থায়ী সরকারি চাকরিতে থাকা এবং কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়মিত বেতন বা পেনশন পাওয়া মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরাও বাদ পড়বেন। পাশাপাশি আয়করদাতারাও এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নন।১৭ সেপ্টেম্বর কারা টাকা পাবেন?সেপ্টেম্বরের কিস্তির জন্য উপভোক্তার নাম যোগ্য তালিকায় থাকা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের মধ্যে গরমিল, DBT সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনও তথ্যগত ত্রুটি থাকলে টাকা জমা পড়তে দেরি হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তথ্যের ভুলের কারণে কিছু উপভোক্তার টাকা আটকে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।তাই যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগী, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে কি না এবং আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ সঠিক রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের ৩,০০০ টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আবেদন ও স্ট্যাটাস সংক্রান্ত তথ্যও নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে জানা যায়।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা! বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য

বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত, তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি।বিধানসভায় বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুরে থানার সামনে কয়েক জনকে ছবি পোড়াতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন বলেও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলতে পারে না। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই রাতে অতনু দাসকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।অতনু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ এই গ্রেফতারির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবা বাংলার মানুষকে পাখণ্ডী বলে অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিবাদ করার কারণে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রদীপ প্রসাদ আরও দাবি করেন, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনাগুলিতে মামলা বা গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, একসময় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পোড়ানো হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, এখানে কুশপুতুল নয়, একটি ছবি পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তাই এই ঘটনায় এত দ্রুত গ্রেফতারি কেন হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাঙালির অসম্মানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি গ্রেফতার হতে হয়, তাতেও তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল এবং কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারি, অন্য দিকে কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগসব মিলিয়ে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তবে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অতনু দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

৭৫ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষা নয়! রাতভর উপাধ্যক্ষকে ঘেরাও, অন্ধকারে আটকে পড়ুয়ারা

উপস্থিতির হারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তপ্ত সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ। পরীক্ষায় বসার দাবিতে কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদ তারান্নুমকে রাতভর ঘেরাও করে রাখেন পড়ুয়াদের একাংশ। অভিযোগ, তাঁর ঘরের বাইরে দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ চলে। ঘরের ভিতরে আলো ও জলের ব্যবস্থাও ছিল না বলে জানা গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও উপাধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।সম্প্রতি সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল, ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে পড়ুয়ারা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। এই নিয়মকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় জটিলতা। পরে বিষয়টি নিয়ে কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজের পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ান বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচি।কৌস্তুভ জানান, যাঁদের উপস্থিতি ৭৫ শতাংশের কম, তাঁরা উপস্থিতির বিষয়ে নিজের লিখিত ঘোষণা দিয়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু ফর্ম পূরণের সময় ফের উপস্থিতির হার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। তখন অন্তত ৪০ শতাংশ উপস্থিতি থাকার শর্ত সামনে আসে।এই শর্তে বিপাকে পড়েন বহু পড়ুয়া। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৯০০ পড়ুয়ার মধ্যে ৬০০ জনই পরীক্ষায় বসতে পারবেন না বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। একটি সেমেস্টারে ১৮০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ১৪৪ জনের উপস্থিতি ৪০ শতাংশের নিচে বলে জানা যায়। ফলে পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ে।সমস্যা মেটাতে বৃহস্পতিবার কৌস্তুভ বাগচির সঙ্গে বৈঠকে বসেন কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং পড়ুয়ারা। সেই বৈঠকের পর উপস্থিতি নিয়ে নিজের লিখিত ঘোষণা দেওয়ার ভিত্তিতে পড়ুয়াদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যায়। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি কাটেনি জট।এর পরেই উপস্থিতির হার নিয়ে কলেজ চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরীক্ষায় বসার দাবিতে পড়ুয়াদের একাংশ উপাধ্যক্ষ মহম্মদ তারান্নুমকে ঘেরাও করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভও চলতে থাকে। অভিযোগ, উপাধ্যক্ষের ঘরে আলো ও জলের ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে অন্ধকারের মধ্যেই নিজের ঘরে আটকে থাকতে হয় তাঁকে।কলেজের বাইরে তখন পড়ুয়াদের একাংশের বিক্ষোভ চলছিল। পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কেন সরে যাচ্ছেন না, তা নিয়েও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিতির নিয়ম এবং পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান পড়ুয়ারা।এই পরিস্থিতিতে উপাধ্যক্ষ মহম্মদ তারান্নুম জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হবে বলে তাঁর বক্তব্য।তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, উপস্থিতির হার নিয়ে তৈরি হওয়া জট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। পরীক্ষা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বহু পড়ুয়ার উদ্বেগও রয়েছে। ফলে সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে রাতভর ঘেরাও এবং বিক্ষোভের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বিতর্কিত মিছিল ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, কেন্দ্র ও পুলিশকে নোটিস, কিন্তু কেন তড়িঘড়ি শুনানি নয়?

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মিছিলের আগেই মামলাটির জরুরি শুনানি করার আবেদন মানেনি আদালত।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে। ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত অন্য মামলাগুলির সঙ্গে এই মামলাটিও শোনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।প্রস্তাবিত মিছিলের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি পুলিশ আধিকারিক রাজেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, দেশের রাজধানীর স্পর্শকাতর এলাকায় বড় জমায়েত বা প্রতিবাদ মিছিলের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।আবেদনকারীর আইনজীবী রিজান আহমেদ আদালতে জানান, আয়োজকদের পক্ষ থেকে এখনও মিছিলের অনুমতির জন্য কোনও আবেদন করা হয়নি বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি মিছিলের আগে মামলাটির শুনানি করার জন্য বার বার আবেদন জানান। কিন্তু বেঞ্চ ৩ সেপ্টেম্বরের আগে মামলাটি শুনতে রাজি হয়নি।আইনজীবী আদালতে আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন রয়েছে। সেই সময় রাজধানীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মিছিলটি কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানান।তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, আগে থেকেই কোনও অঘটন ঘটবে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তাঁর বক্তব্য, আদালত এই মুহূর্তে ধরে নেবে যে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণ আচরণ করবেন। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবেই, এমন জোরালো পরিস্থিতিও আদালতের সামনে নেই বলে জানান তিনি।এর পর আইনজীবী দাবি করেন, আগের একটি আন্দোলনে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোনও দুষ্কৃতী বা উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আদালতে জানান।আবেদনকারীর আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। তিনি দাবি করেন, সংগঠনটি আইনি বিধি মানছে না এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নিচ্ছে না।এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি মূলত সরকার ও পুলিশের দায়িত্ব। আবেদনকারীকে তাঁর উদ্বেগ কেন্দ্রীয় সরকার অথবা দিল্লি সরকারের কাছে জানাতে বলেন তিনি। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি।মিছিলের আয়োজক সংগঠনকে মামলায় পক্ষভুক্ত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, সংগঠনটির কোনও নথিভুক্ত অফিস বা লেটারহেড নেই। ফলে তাদের সরাসরি মামলার পক্ষ করা সম্ভব হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত মিছিলের আগেই মামলাটির শুনানি করার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে মিছিলের আগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

আগস্ট ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গল দুর্গে ফাটল ভারতীয় স্পিনের ঘুর্নীতে, বিরাট রানে জয়! বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে বড় ধাক্কা শ্রীলঙ্কাকে, ম্যাচের নায়ক মানব সুতার

গল দুর্গে শেষ দিনে ভারতীয় স্পিনের সামনে দাঁড়াতেই পারল না শ্রীলঙ্কা। টেস্টের প্রথম চার দিন লড়াই জমে উঠলেও পঞ্চম দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিল ভারত। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের বাকি ছটি উইকেট তুলে নিয়ে ১৬৫ রানে প্রথম টেস্ট জিতে নিল ভারত। আর এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার।জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে ছিল ৩৭২ রানের কঠিন লক্ষ্য। চতুর্থ দিনের শেষে তাদের স্কোর ছিল ৮৪ রানে ৪ উইকেট। ফলে শেষ দিনে ভারতের দরকার ছিল আর ছটি উইকেট, আর শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল আরও ২৮৮ রান। শেষ পর্যন্ত কোনওটাই করতে পারেনি তারা। ২০৬ রানেই শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস।এক ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন মানবপ্রথম টেস্টে সারাংশ জৈন নাকি মানব সুতারকাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে ম্যাচের আগে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পান মানব। আর সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করলেন তিনি।দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে অভিষেক টেস্টেই নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন বাঁহাতি স্পিনার। বিশেষ করে পঞ্চম দিনে তাঁর বোলিংই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয়।দীর্ঘক্ষণ উইকেটের জন্য অপেক্ষা করার পর রবীন্দ্র জাডেজা ধনঞ্জয় ডিসিলভাকে ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। ১৫১ বলে ৫৯ রান করে ধনঞ্জয় মানবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর নিরোশান ডিকওয়েলাকে ১০ রানে তুলে নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।তবে ভারতের আসল আঘাত আসে মধ্যাহ্নভোজের পর।দিনুশার ৮৪-র লড়াইও শেষ মানবের হাতেশ্রীলঙ্কার হয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন সোনাল দিনুশা। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় বোলারদের যাবতীয় চেষ্টা ব্যর্থ করে দিচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন কেশর নুয়ান্তা। ভারতের কাছে তখন প্রতিটি রানই হয়ে উঠেছিল বড় উদ্বেগের কারণ।কিন্তু ৭৬তম ওভারের প্রথম বলেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মানব। ৮৪ রানে থাকা দিনুশাকে ফেরান তিনি। সামনে এগিয়ে এসে শট খেলতে গিয়ে লেগ গালিতে ধ্রুব জুরেলের হাতে ক্যাচ দেন দিনুশা।এরপর যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।ওই ওভারেই আরও দুই উইকেট তুলে নেন মানব। প্রভাত জয়সূর্যকে ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরান তিনি। এরপর লাহিরু কুমারা তিন বল খেলার পর মানবের ওভারের শেষ বলে ক্যাচ দেন ঋষভ পন্থের হাতে।এক ওভারে তিন উইকেটএই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।এরপর জাডেজার ওভারে একটি রিভিউ নষ্ট করে ভারত। হাতে আর কোনও রিভিউ অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু তাতেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি তারা। লড়াই চালিয়ে যাওয়া নুয়ান্তাকেও ৭৮তম ওভারে ফিরিয়ে দেন মানব। চতুর্থ বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন নুয়ান্তা। সেই উইকেটের সঙ্গেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের জয়।১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা মানবপ্রথম টেস্টে সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মাঠে তার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি মানব সুতার। দুই ইনিংসে মোট ১০ উইকেট নিয়ে তিনি শুধু ম্যাচের সেরা বোলারই নন, ভারতের জয়ের মূল কারিগর হয়ে উঠলেন।গলে একসময় বাঁহাতি স্পিনের সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন রঙ্গনা হেরাথ। এবার সেই গলেই ভারতীয় বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতারের দাপট দেখল শ্রীলঙ্কা।জয় এল, কিন্তু চিন্তা বাড়াল টপ অর্ডার১৬৫ রানের বড় জয় পেলেও ভারতীয় দলের জন্য সবকিছু স্বস্তির নয়। বিশেষ করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শুভমন গিল এবং যশস্বী জয়সওয়ালের ব্যাটিং ফর্ম।শুভমন প্রথম ইনিংসে করেন ১৬ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৮। যশস্বীর দুই ইনিংসের সংগ্রহ ৩২ ও শূন্য। অর্থাৎ দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ টপ অর্ডার ব্যাটারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত রান আসেনি।তাঁদের ব্যর্থতার কারণে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের উপর চাপও তৈরি হয়েছিল। বড় রান তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়েছে দেবদত্ত পডিক্কলকে। দ্বিতীয় ইনিংসেও ভারতীয় ব্যাটিং খুব একটা স্বস্তি দেয়নি।ফলে সিরিজের পরবর্তী টেস্টগুলিতে শুভমন-যশস্বীর ফর্ম ভারতীয় দলের জন্য বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়শ্রীলঙ্কার মাটিতে এই জয় শুধু একটি টেস্ট জয় নয়, ভারতের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানের জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ভারতীয় শিবিরের।একদিকে মানব সুতারের দুরন্ত অভিষেক, অন্যদিকে জাডেজা-প্রসিদ্ধদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানসব মিলিয়ে গলে ভারত পেল দারুণ শুরু। তবে সিরিজ যত এগোবে, শুভমন গিল ও যশস্বী জয়সওয়ালের ব্যাটে রান ফেরানোই ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।গলের দুর্গে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারত তাই একদিকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে এগিয়ে গেল, অন্যদিকে নতুন স্পিন-নায়ক হিসেবে মানব সুতারের উত্থানেরও সাক্ষী থাকল ক্রিকেটবিশ্ব।

আগস্ট ২০, ২০২৬
দেশ

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে আগুন! ছ’শো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা, আরও পাঁচশো আটক

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের আঁচ আরও বাড়ল। গত সোমবার বিধানসভা অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ৬০০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনের নাম এফআইআরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর।গত প্রায় ২০ দিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন করছেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চ-এর ব্যানারে চলছে লাগাতার বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।আন্দোলনকারীরা নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করে অভিযোগের তদন্ত করা হোক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তাঁরা।সোমবার বিধানসভা অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। এর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিজেপি রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দেয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালে আবগারি কনস্টেবল পদের শারীরিক পরীক্ষায় মৃত্যু হওয়া ১৯ জন চাকরিপ্রার্থীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।এই ইস্যুতে বিজেপির ছাত্র সংগঠনও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এখন শুধু ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, জাতীয় স্তরেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে জোট সরকারের শরিক কংগ্রেসের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির ছাত্র সংগঠন আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে। এক দিকে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, অন্য দিকে পুলিশের মামলা এবং বিরোধীদের চাপসব মিলিয়ে হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

সৌরভের বাড়িতে পুলিশ কেন? জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগের পর সরাসরি কেন্দ্রের দিকে আঙুল

পুদুচেরিতে সৌরভ দাসের বাড়িতে পুলিশের যাওয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম মুখপাত্র সৌরভের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পিছনে বিজেপি সরকারের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে।সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ জানান, কয়েক ঘণ্টা আগে পুদুচেরি পুলিশ তাঁর বাড়িতে যায়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর। কেন পুলিশ বাড়িতে এসেছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।সৌরভের অভিযোগ, পুদুচেরি পুলিশ কেন এ ভাবে হয়রানি করছে? কে নির্দেশ দিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে? এটাই কি আইনি প্রক্রিয়া? তাঁর দাবি, শুধুমাত্র তাঁকে ভয় দেখানোর জন্যই পরিবারের সদস্যদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে।ককরোচ জনতা পার্টির এই মুখপাত্রের আরও অভিযোগ, পুদুচেরির বিজেপি সরকার তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও তাঁর এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি সৌরভ।সৌরভ আরও বলেন, তাঁকে চুপ করানোর জন্য পরিবারের উপর চাপ তৈরি করা হলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না। ভয় দেখিয়ে তাঁর বক্তব্য বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ধরনের ঘটনা বরং আইন মেনে চলা এবং আরও উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।তবে সৌরভের অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুদুচেরি প্রশাসন বা বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে কেন পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল এবং সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

আগস্ট ১২, ২০২৬
দেশ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, শেষমেশ কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা! ভাইরাল ভিডিওতে কী বললেন তরুণী?

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে আলোচনায় উঠে আসা এক তরুণীর একটি ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে তাঁকে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যাচ্ছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।পুলিশের দায়ের করা শূন্য নম্বর এফআইআরে ওই তরুণীর বয়স পঁচিশ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বয়স মাত্র পনেরো বছর। তিনি বলেন, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কনট প্লেস থেকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে গিয়েছিলেন। সেখানে আশপাশের মানুষের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।ভিডিওতে ওই তরুণী বলেন, তিনি বড় ভুল করেছেন এবং তাঁর মন্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। তিনি গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান, এই ভুল আর কোনও দিন করবেন না। নিজের আচরণের জন্য তিনি লজ্জিত বলেও দাবি করেন।এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় কয়েকজন তাঁর এবং তাঁর মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে তিনি তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান, তরুণ প্রজন্মকে শুধুমাত্র শাস্তি নয়, সঠিক পথও দেখানো উচিত।উল্লেখ্য, গত তেইশে জুলাইয়ের বিক্ষোভে আপত্তিকর স্লোগান ও মন্তব্যের অভিযোগে ঊনত্রিশে জুলাই নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে থানায় শূন্য নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ভাইরাল ভিডিও এবং তরুণীর দাবির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

সাংবাদিক পেটানো ও অশান্তি, ধর্মতলা কাণ্ডে গ্রেপ্তার ১৬ জনেরই জামিন

ধর্মতলায় আন্দোলন ঘিরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জনেরই জামিন মঞ্জুর করল ব্যাঙ্কশাল আদালত। মঙ্গলবার আদালতে ধৃতদের হাজির করা হলে প্রথমে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই নির্দেশে পরিবর্তন আসে। পরে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ প্রত্যাহার করে প্রত্যেক অভিযুক্তকে ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেন।নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রতিবাদের আবহ তৈরি হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা মিছিলে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। মিছিলের শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কিছু বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন এবং তাঁদের উপর হামলা চালান। পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, জলের বোতল ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে একে একে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।২৬ জুলাই ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে দুদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার ফের তাঁদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। এদিন তদন্তের স্বার্থে পুলিশ জেল হেফাজতের আবেদন জানায় এবং আদালত প্রথমে সেই আবেদন মঞ্জুরও করে।ঠিক সেই সময় আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, যেসব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে পূর্বে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং যাঁরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করেন, তাঁদের অযথা আটক রাখা উচিত নয়। পাশাপাশি নাবালক আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশও দেয় শীর্ষ আদালত। আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, সংশ্লিষ্ট এফআইআরের ভিত্তিতে অপ্রয়োজনীয় কড়া পদক্ষেপ থেকেও বিরত থাকতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরই ধর্মতলা মামলার অভিযুক্তদের আইনজীবীরা পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। যদিও এই মামলার কোনও অভিযুক্তই নাবালক নন, তবু পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয় যে, এই পর্যায়ে তাঁদের জেল হেফাজতে রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই। এরপরই ব্যাঙ্কশাল আদালত আগের নির্দেশ সংশোধন করে ১৬ জনকেই জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়।এই সিদ্ধান্তের ফলে ধর্মতলা অশান্তি মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় এল। যদিও মামলার তদন্ত চলবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযুক্তদের তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

জুলাই ২৯, ২০২৬
দেশ

ছররা চালানোর অভিযোগে নতুন মোড়, অন্তর্তদন্তে যা জানা গেল তাতে বাড়ছে বিতর্ক

গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের উপর ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রথমে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তর্তদন্তে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। সেই কর্মসূচিতে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী এবং যুব অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে এগোতে গেলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। সেই সময় লাঠিচার্জের পাশাপাশি ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন। পরে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আহতদের মধ্যে ছিলেন এক ছাত্র, এক কর্মজীবী যুবক এবং এক সাংবাদিক। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীও আহত এক আন্দোলনকারীর ক্ষত প্রকাশ্যে দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছেও জানতে চাওয়া হয়, ছররা গুলি চালানোর অনুমতি কে দিয়েছিলেন।এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তর্তদন্তে দাবি করা হয়েছে, সংসদ অভিযানের সময় কনৌট প্লেস এলাকায় মোতায়েন থাকা এক দ্রুত কর্মী বাহিনীর জওয়ান ছররা নিক্ষেপকারী অস্ত্র থেকে মোট সাত বার গুলি চালিয়েছিলেন। তদন্তে দাবি, এর মধ্যে পাঁচ বার গুলি ছোড়া হয় বিক্ষোভকারীদের দিকে এবং দুই বার রাস্তার দিকে। আরও দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জওয়ান তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের অনুমতি নিয়েই এই পদক্ষেপ করেছিলেন।জানা গিয়েছে, গত ২২ জুলাই সংসদ অভিযান চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও দ্রুত কর্মী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের তথ্য থেকেই এই দাবি সামনে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।তবে এই ঘটনার বিষয়ে সরকারি স্তরে চূড়ান্ত তদন্ত বা আদালতের কোনও রায় এখনও প্রকাশিত হয়নি। তাই বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং অভিযোগগুলির সত্যতা সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

জুলাই ২৭, ২০২৬
দেশ

লাঠিচার্জ নিয়ে বড় বার্তা শীর্ষ আদালতের! আন্দোলনকারীদের অধিকার নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ

সোমবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এবং পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল দেশের শীর্ষ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে আইন মেনে প্রতিবাদ করার অধিকার দিয়েছে। তাই শুধু বিক্ষোভ হচ্ছে বলেই সেখানে লাঠিচার্জ করা যায় না।ছাত্র-যুবদের সংসদ চলো কর্মসূচির সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত। আদালত জানিয়েছে, ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, যতক্ষণ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং আইন মেনে চলছে, ততক্ষণ শুধুমাত্র বিক্ষোভের কারণ দেখিয়ে বলপ্রয়োগ করা যায় না। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত এবং সেই অধিকার রক্ষা করা জরুরি।শুনানির সময় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে পুলিশের আহত হওয়ার ঘটনাও উঠে আসে। সেই বিষয়টিও আলাদাভাবে বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালত জানিয়েছে, যদি পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে সেই অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে।সরকারের কাছেও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। আদালতের বক্তব্য, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ যেমন খতিয়ে দেখা দরকার, তেমনই বিক্ষোভে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন, তাঁদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী কেন দেওয়া হয়নি, তারও ব্যাখ্যা দিতে হবে।শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রাজ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতি বা প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলার বিস্তারিত শুনানি আগামীকাল হবে।

জুলাই ২৭, ২০২৬
দেশ

ছাত্র আন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক ঝড়! অমিত শাহকে কড়া চিঠি রাহুলের, কী লিখলেন?

ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। শনিবার তিনি পদ ছাড়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। রবিবার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। চিঠিতে তিনি বিশে জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রতিবাদকারীদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে একাধিক প্রশ্ন করেছেন।রাহুল গান্ধীর দাবি, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সংসদ অভিযানের সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়। তাঁর অভিযোগ, কয়েক জন আন্দোলনকারী আহত হন এবং চিকিৎসার নথিতেও আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনার তদন্তও চলছে।চিঠিতে রাহুল গান্ধী অমিত শাহের কাছে দুটি প্রশ্ন তোলেন। প্রথমত, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছররা ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছিল? দ্বিতীয়ত, সাধারণ পোশাকে যাঁরা আন্দোলনকারীদের মারধর করছিলেন, তাঁরা কারা এবং তাঁদের দায়িত্ব কে দিয়েছিল? তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব ছিল।এর আগে এক আহত আন্দোলনকারীকে সংবাদমাধ্যমের সামনে এনে রাহুল দাবি করেছিলেন, তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেই ঘটনার উল্লেখ করেই এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, দেশের স্বার্থ এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যে কোনও রাজনৈতিক পদের চেয়ে বড়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশবিরোধী শক্তি ছাত্র আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিল। তবে রাহুল গান্ধী সেই বক্তব্যের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরও এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

জুলাই ২৬, ২০২৬
কলকাতা

সাংবাদিক নিগ্রহ থেকে হিংসা, ধর্মতলার ঘটনায় একের পর এক গ্রেপ্তার! পুলিশের হাতে আরও তিন অভিযুক্ত

ধর্মতলায় নিট আন্দোলনের ছাত্র মিছিলকে ঘিরে হিংসার ঘটনায় আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। এর আগে এগারো জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নতুন তিন জন ধরা পড়ায় রবিবার সকাল পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চৌদ্দ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শাহবাজ খান, শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন এবং মহম্মদ জহিরউদ্দিন মাল। শাহবাজ কড়েয়া এলাকার বাসিন্দা। সলমান হোসেন রাজাবাগানের এবং জহিরউদ্দিন ভাঙড়ের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় জড়িত আরও কয়েক জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।শুক্রবার ধর্মতলায় নিট আন্দোলনের ছাত্র মিছিল চলাকালীন হিংসার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক নিগ্রহের শিকার হন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর আহত সাংবাদিকদের হাসপাতালে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে বিধানসভাতেও তিনি একই বার্তা দেন এবং জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুণ্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি, মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমে একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করছে।পুলিশের দাবি, ধৃতদের কেউই পড়ুয়া নন। তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর কয়েক জন অভিযুক্ত ভিন রাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। মহম্মদ আজাদ এবং মহম্মদ আফরোজ নামে দুই অভিযুক্তকে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক জড়ো করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত প্রায় সত্তর জনকে হামলার ঘটনায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

জুলাই ২৬, ২০২৬
দেশ

'ককরোচ'দের চাপেরই জের! অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী

অবশেষে ককরোচদের প্রধান দাবি মেনে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আগেই ককরোচ জনতা পার্টির বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছিল কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিজেপির কাছ থেকে কেন্দ্র সময় নিয়ে নেয়। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি মেনে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় করা দীর্ঘ পোস্টে নিজের পদত্যাগের কারণ জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইতিমধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত সেই পদত্যাগ গৃহীত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ইস্তফা পাঠানোর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকে নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি, কোনওসময় মুখ লুকোয়নি। তাঁর দাবি, ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশবিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা। আমার এই পদত্যাগপত্র দেশের জন্য।যন্তর মন্তরে একাধিক দাবি নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন শুরু করে। তারমধ্যে প্রধান দাবি ছিল, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র লিকের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রথম দিকে শুধু মাত্র ককরোচ জনতা পার্টি সেই আন্দোলন করে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র সংগঠন সেই আন্দোলনে যুক্ত হয়। দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেই আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকে। সেলিব্রেটি, খেলোয়াররাও আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। কার্যত চাপে পড়েই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলেই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
কলকাতা

মিছিলে ঢুকেছিল বহিরাগত? সত্তর জন চিহ্নিত, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

ধর্মতলায় সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের নামে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, আন্দোলনে এমন বহু ব্যক্তি যোগ দিয়েছিলেন, যাঁদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলন বা নিট ইস্যুর কোনও সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগতদের আনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয়। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে উসকে দিয়ে বড় সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করা। তবে পুলিশ সংযম দেখিয়েছে বলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি।তিনি আরও জানান, ঘটনায় আহত হয়েছেন একাধিক সাংবাদিক। ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রায় সত্তর জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকজনের নামও বিধানসভায় উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী।প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মতলার অশান্তির প্রকৃত কারণ এবং কারা এর নেপথ্যে ছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

চাপ বাড়তেই বড় ঘোষণা! নিট মামলায় দ্রুত বিচারের পথে কেন্দ্র, সামনে নতুন অধ্যায়

নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই দীর্ঘ ছাব্বিশ দিনের অনশন শেষ করেছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। অনশনের পর কেন্দ্র নিট সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।দীর্ঘদিন ধরে সোনম ওয়াংচুক প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবারের উদ্বেগকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।দীর্ঘদিন ধরে নিট, জেইই এবং অন্যান্য সর্বভারতীয় পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই এই সংস্থার কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে একাধিক পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে।সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।সোনম ওয়াংচুকের অনশন দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে। বহু পড়ুয়া, অভিভাবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এখন নজর, সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষা ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আসে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
কলকাতা

ধর্মতলার ঘটনায় বড় বার্তা শুভেন্দুর! সাংবাদিক নিগ্রহে কড়া অবস্থান, সেবাশ্রয় নিয়েও বিস্ফোরক দাবি

ধর্মতলায় ছাত্র আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শনিবার বিধানসভায় তিনি বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না। তিনি জানান, আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।বিধানসভায় শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari) দাবি করেন, আন্দোলনের শুরুতে পুলিশকে সংযম বজায় রাখার নির্দেশ ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মিছিল প্রথমে শান্তিপূর্ণ ছিল। পরে ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জুতো ও বোতল ছোড়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশ উসকানিতে পা না দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari) আরও জানান, সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁর দাবি, তদন্তে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বিধানসভায় কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন এবং বলেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।একইসঙ্গে সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। বিধানসভায় তিনি কয়েকটি নথি ও ছবি দেখিয়ে তদন্তের দাবি করেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া ওই সময়ে পাওয়া যায়নি।তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে বিষয়টি নিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তাঁর দাবি, যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য সামনে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই ২৫, ২০২৬
রাজ্য

সাংবাদিকের উপর হামলা গণতন্ত্রের লজ্জা, প্রতিবাদের নামে নৈরাজ্য নয়: শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্রের

কলকাতা: সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সেই প্রতিবাদের নামে সাংবাদিক, পুলিশ কিংবা অন্য কোনও কর্তব্যরত ব্যক্তির উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও জায়গা নেই।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে বহু সাংবাদিককে কাছ থেকে কাজ করতে দেখেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত সততা ও সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করে চলেছেন। ফলে সম্প্রতি সাংবাদিকদের উপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক উপস্থাপনায় পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত যে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল, সেগুলি রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আরজি কর-কাণ্ড থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগএই ধরনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় বহু সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তাঁর মতে, সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাঁরা পেশাগত সততার পরিচয় দিয়েছেন, তাঁদের উপর আক্রমণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।সম্প্রতি কংগ্রেস, ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, সেই মিছিল চলাকালীন তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও সাংবাদিক বা অন্য কারও উপর হামলা করা হয়নি।তবে তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আবহের মধ্যে কিছু মানুষ ঢুকে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে গোটা আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদের ভাষা যদি হিংসা ও নৈরাজ্যে পরিণত হয়, তাহলে মূল দাবি এবং আন্দোলনের উদ্দেশ্যই মানুষের কাছে আড়ালে চলে যায়।কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি বক্তব্য রাখেন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের নীতি বা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিরোধ থাকতেই পারে। সরকারবিরোধী আন্দোলন করাও রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই প্রতিবাদের সময় পুলিশও তার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে। তাই পুলিশের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলা কিংবা সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তি নষ্ট করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রত্যেকের পেশাগত অবস্থান নিয়ে তিনি মন্তব্য করছেন না। তবে হামলার শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের পেশাগত কাজের সঙ্গে পরিচিত। তাঁর দাবি, তাঁরা নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। একইসঙ্গে তিনি এমন কিছু সাংবাদিকের ভূমিকারও সমালোচনা করেন, যাঁরা অতীতে একতরফা সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগের মুখে পড়েছেন এবং বর্তমানে আক্রান্ত সাংবাদিকদের নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বা তাঁদের অপমান করার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, সাংবাদিকতার জগতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সহকর্মীর উপর হামলা বা আক্রমণকে কোনওভাবেই সমর্থন করা উচিত নয়।এদিকে, আজও প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিকেল ৫টায় কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা। শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইন মেনে প্রতিবাদ করতে ইচ্ছুক সকলকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যারা আন্দোলন করছেন, তাঁদেরও শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।বক্তব্যে বলা হয়, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য যদি হয় শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তাহলে সেই দাবিকে সামনে রেখেই গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন চালানো উচিত। আন্দোলনের মধ্যে হিংসা, ভাঙচুর বা নৈরাজ্য ঢুকে পড়লে মূল দাবি দুর্বল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিকভাবে তার প্রভাবও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তিনি বলেন, কোনও সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের লক্ষণ। কিন্তু গালিগালাজ, হিংসা, হামলা কিংবা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস কখনও সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্রের মূল কাঠামো এবং আইনের শাসনকে সম্মান করতেই হবে।তাঁর কথায়, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতন্ত্র। সেই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম, প্রশাসন এবং সাধারণ নাগরিকসবার। তাই প্রতিবাদের অধিকার যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই প্রতিবাদের নামে নৈরাজ্য ও হিংসার বিরুদ্ধেও সম্মিলিতভাবে অবস্থান নিতে হবে।নিজের বক্তব্যের শেষে আক্রান্ত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনও চাপ বা হামলার কাছে নতি স্বীকার না করে সাংবাদিকদের তাঁদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। সত্য, সাধারণ মানুষের স্বার্থ এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতার পক্ষে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের নিরপেক্ষ নথি তৈরিতে সাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য।তাঁর বার্তা, মতপার্থক্য গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, কিন্তু হিংসা কখনও গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। প্রতিবাদ হোক, প্রশ্ন উঠুক, রাজনৈতিক লড়াই হোককিন্তু সেই লড়াই যেন কখনও নৈরাজ্যের পথে না যায়।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

সুপ্রিম কোর্টের দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা’, তরুণদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের

দেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের কোনও নাগরিক যদি অন্যায়ের শিকার হন, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাঁর অভিযোগ শোনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সর্বদা প্রস্তুত। বিশেষ করে তরুণদের আশ্বস্ত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগ তাঁদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।দেশজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং গত ২০ জুলাই দিল্লিতে চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া এক বক্তব্যে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্যায় হয়ে থাকলে সুপ্রিম কোর্ট আইন ও নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় সেই অভিযোগ শুনবে। যেখানে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে, সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।প্রধান বিচারপতির বলেন, আমি প্রতিটি নাগরিক এবং বিশেষ করে দেশের তরুণদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, যদি কারও প্রতি কোনো অবিচার হয়ে থাকে, তবে সুপ্রিম কোর্ট আইন ও নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমার মধ্যে থেকে সেই অভিযোগ শুনবে। যেখানেই সম্ভব, আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। জনগণের সমস্যা ও দুর্ভোগের সমাধানে বিচার বিভাগ সর্বদা প্রস্তুত।চলমান বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের যৌক্তিকতা বা দাবির গুণাগুণ নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের সামনে রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি শুনতে অস্বীকার করেছেএমন দাবি সঠিক নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।তিনি জানান, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যখন প্রথম আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল, তখন যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনও আবেদন দাখিল করা হয়নি। আদালতের কাছে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে কেবল একটি চিঠি বা স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের চিঠি বা স্মারকলিপি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়েরের স্বীকৃত আইনি পদ্ধতি নয়।প্রধান বিচারপতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে কোনও বিষয় নিয়ে শুনানি চাইলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে যথাযথ আবেদন বা পিটিশন দাখিল করতে হয়। পরে যখন নিয়ম মেনে আবেদনগুলি দায়ের করা হয় এবং আদালতের সামনে সেগুলির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়, তখন সেগুলিকে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এই প্রসঙ্গেই প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা। আদালত কোনও অবিচারকে প্রশ্রয় দেবে না।সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার আবহে প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত বুধবার ২০ জুলাইয়ের চলো সংসদ কর্মসূচিতে পুলিশের কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (suo motu) হস্তক্ষেপ করুকএমন মৌখিক আবেদন জানিয়েছিলেন এক আইনজীবী। সেই সময় আদালত বিষয়টি গ্রহণ না করায় নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়।এর পর শুক্রবার প্রকাশ্য আদালতেই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার সঙ্গে বেঞ্চে থাকা প্রধান বিচারপতি জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে কোনও রিট পিটিশন দায়ের হয়নি। ফলে আদালত শুনানি বা তালিকাভুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেএমন খবরকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে সমালোচনা করেন।এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে দুটি নতুন আবেদনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। ওই আবেদনে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের কথিত বাড়াবাড়ি এবং ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হয়। আইনজীবী জানান, আবেদনগুলির জন্য ইতিমধ্যে ডায়েরি নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সেগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্তও হয়েছে।বিষয়টি শুনে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, আবেদনগুলি সোমবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে। ফলে এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের পথ এখন কার্যত উন্মুক্ত হয়েছে।পুরো বিতর্কের সূত্রপাত গত ২০ জুলাইয়ের চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে হাজার হাজার ছাত্র ও বিক্ষোভকারী সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। যদিও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভকারীদের একাংশ সহিংস হয়ে ওঠে এবং পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।এই ঘটনাকে ঘিরে দিল্লি হাইকোর্টেও একাধিক আবেদন দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশি পদক্ষেপের সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।অন্যদিকে, আদালতের তৎপরতার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছেন। এরপর শুক্রবার সিজেপি-র একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে।বৈঠককে গঠনমূলক বলে দাবি করলেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামছে না। পুলিশের ভূমিকার জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তদন্ত এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারএই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।ফলে একদিকে সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি নিয়ে শুনানির প্রস্তুতি, অন্যদিকে দিল্লি হাইকোর্টের নথি সংরক্ষণের নির্দেশ এবং কেন্দ্রের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনাসব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন একাধিক স্তরে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সুপ্রিম কোর্টের দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা মন্তব্য সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে বিচার বিভাগের ভূমিকা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
কলকাতা

নিট আন্দোলনে বড় চমক! দিল্লির যন্তর মন্তরে যোগ দিচ্ছেন মমতা, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের আবহে এবার দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সোমবার তিনি আন্দোলনস্থলে উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে একুশে জুলাইয়ের সভা থেকেই আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। প্রয়োজনে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পরই তাঁর এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এবার সেই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালেও এবার দলনেত্রীর সরাসরি উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি বিরোধী ইস্যুগুলিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, দিল্লি সফরে তিনি বিরোধী শিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিজেপির তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। আবার বিরোধী রাজনৈতিক মহলের অন্য অংশ থেকেও মমতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে নিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লির আন্দোলন এখন আরও বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 15
  • 16
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বড় চমক! কবে নিজের গর্ভগৃহে ফিরবেন তারাপীঠের মা তারা?

মহালয়ার আগেই তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে মা তারাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ষষ্ঠীর দিনও তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু মন্দিরের সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা তারাকে মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যারতির পর নতুন বেদিতে অধিষ্ঠিত হবেন দেবী। ওই দিন রাজরাজেশ্বরী রূপে তাঁর বিশেষ পুজো হবে।তারাপীঠ মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। দেবীর আসনের বেদির উচ্চতা আট ইঞ্চি বাড়ানো হয়েছে। এই সংস্কারের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। অযোধ্যার রামমন্দিরের কারিগরদের দিয়ে বিশেষ রেলিং তৈরি করানো হচ্ছে। তবে দিল্লি হয়ে সেই রেলিং তারাপীঠে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় সংস্কারের কাজও পিছিয়ে যায়। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন সব ধর্মীয় আচার মেনে মা তারাকে নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠা করা হবে।মন্দির কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন ভোরে শিবমন্দির থেকে মা তারাকে নিয়ে আসা হবে বিশ্রাম মঞ্চে। সেখানে দিনভর পুজো ও দর্শন চলবে। সন্ধ্যারতির পর দেবীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মূল গর্ভগৃহে। নতুন বেদিতে প্রতিষ্ঠার আগে শুদ্ধিকরণ-সহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ লগ্নে মা তারাকে রাজরাজেশ্বরী রূপে সাজিয়ে মহালক্ষ্মী হিসেবে পুজো করা হবে।সংস্কারের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে রাখা হলেও তাঁর নিত্যপুজো ও দর্শন বন্ধ হয়নি। সেখানেই নিয়মিত পুজো চলছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার দুদিন পর সংস্কারের কাজের জন্য মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরানো হয়েছিল। মহালয়া অমাবস্যার ঠিক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ষষ্ঠীর দিন তাঁকে ফেরানোর কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সংস্কারের কাজ বাকি থাকায় সেই পরিকল্পনাও কার্যকর করা যায়নি।পুলক চট্টোপাধ্যায় আরও জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চতুর্দশীর দিন ভোরে মা তারাকে শিবমন্দির থেকে বিশ্রাম মঞ্চে নিয়ে আসা হবে। ২৫ অক্টোবর সারাদিন সেখানেই থাকবেন দেবী। সন্ধ্যারতির পর তাঁকে আবার নিজের মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় মা তারার এই বিশেষ আরাধনাকে ঘিরে এখন প্রস্তুতি চলছে তারাপীঠ মন্দিরে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দু সরকারের বিচারে কলকাতার সেরা পুজো কোনটি? প্রথম স্থান পেল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার!

রাজ্যে পালাবদলের পর এ বারই প্রথম দুর্গাপুজো। তার মধ্যেই কলকাতার সেরা পুজোগুলির নাম ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ২৩টি পুজো কমিটিকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মান জানানো হয়েছে। সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সমাজ সচেতনতার মতো বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।সরকারের বিচারে এ বারের সেরার সেরা হয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো সমিতি। তৃতীয় হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম হয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় স্থানে টালা বারোয়ারি, তৃতীয় স্থানে বেহালা অরুণোদয় সমিতি এবং চতুর্থ স্থানে আহিরীটোলা সর্বজনীন। অন্য দিকে, সেরা মণ্ডপের পুরস্কার পেয়েছে খিদিরপুর ২৫ পল্লি। এই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে আমরা কজন কল্যাণ সমিতি।আলোকসজ্জার বিভাগেও ঘোষণা করা হয়েছে পুরস্কারজয়ীদের নাম। এই বিভাগে প্রথম হয়েছে সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। তৃতীয় হয়েছে শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব।পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে নলিন সরকার স্ট্রিট। দ্বিতীয় হয়েছে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের পুজো। তৃতীয় স্থান পেয়েছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ।সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম হয়েছে কাশীবোস লেন। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। তৃতীয় হয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে অজেয় সংহতি।এ ছাড়াও চারটি পুজো কমিটিকে বিশেষ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বি জি লাইন্স আবাসিক দুর্গাপুজো কমিটি, শ্যাম স্কোয়্যার, ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক এবং সমাজসেবী সংঘ।সব মিলিয়ে, দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬-এ কলকাতার একাধিক পরিচিত পুজো কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে। সেরার সেরা হিসেবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম উঠে আসার পাশাপাশি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলো, পরিবেশ এবং সমাজ সচেতনতার বিভাগেও আলাদা করে সেরাদের বেছে নিয়েছে সরকার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুজোর আগে কি মিলবে স্বস্তি?

কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে এখনই এই মামলার শুনানি হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে জামিন মিলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জেলবন্দি তৃণমূলের এই নেতা।গত ১২ মে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তার পর থেকে তিনি জেলে রয়েছেন। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েও স্বস্তি পাননি প্রাক্তন মন্ত্রী। এ বার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন তিনি।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মামলার তদন্ত ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। পুরসভায় নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মতো একাধিক মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। সেই তদন্তের সূত্রেই সুজিতের বিরুদ্ধে পুর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। গত ১২ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তদন্তের সময় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ছেলের রেস্তরাঁকে ঘিরেও একাধিক বেআইনি কাজের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই সব অভিযোগের তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন ইডির আধিকারিকেরা। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হওয়ায় সুজিতের আইনি লড়াই আরও জটিল হয়েছে। এ বার সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আবেদন কোন দিকে এগোয়, সেটাই দেখার। পুজোর আগে শীর্ষ আদালতে শুনানি না হলে আপাতত জেলেই থাকতে হতে পারে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহে দু’বার আটক অভিজিৎ দীপকে! দিল্লিতে তিরঙ্গা মিছিলের আগেই কেন কড়া পদক্ষেপ পুলিশের?

ফের আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসে দলের তিরঙ্গা মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই মিছিলে বড় জমায়েতের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবারই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য ১১ জনের একটি দলকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর পর শুক্রবার সকালে মিছিল শুরুর ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয়। তার পরেই তাঁকে আটক করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আটক হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লি এসেছিলেন অভিজিৎ। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরেই তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ। এ বার জাতীয় পতাকা হাতে তিরঙ্গা মিছিল শুরুর আগেই ফের তাঁকে আটক করা হল।বৃহস্পতিবারই সিজেপিকে মিছিলের অনুমতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, ১১ জনের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারে। শুক্রবার সকালে মিছিলের আগে অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে নোটিস দেয় পুলিশ। কনট প্লেসে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয় তাঁকে।তবে অভিযোগ, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন অভিজিৎ। সেই সময় তাঁকে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ। তার আগে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলেও জানা গিয়েছে। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা। অভিজিতের দাবি, তিনি কোনও আইন ভাঙেননি।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

টেবিল-ছাতা পেতেও মিলল না ছাড়! সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে নতুন করে জট তৈরি হল কলকাতা হাই কোর্টে। একক বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার সেই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের রায় খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে জানতে চান, বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না। তাঁর প্রশ্ন, আবেদন করেও অনুমতি না পেলে পুলিশ কী করবে? সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অনুমতি চেয়ে গণপূর্ত দফতর এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে ইমেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও আবেদনের কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান মামলাকারীর আইনজীবী।এর পরেই রাস্তার ধারে থাকা স্টলগুলি নিয়ে কড়া অবস্থান জানান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, অনুমতি না থাকলে কোনও স্টলই রাখা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সিপিএমের বুকস্টল কোথায় রয়েছে, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে শামিম আহমেদ জানান, বুকস্টলটি দলের কার্যালয়ের সামনে। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির সঙ্গে একই লাইনে রয়েছে কি না, নাকি রাস্তার উপরে এগিয়ে এসেছে, সেই প্রশ্নও করেন প্রধান বিচারপতি। সিপিএমের আইনজীবী দাবি করেন, বুকস্টলটি অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে রয়েছে।রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্য স্টলগুলির অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। এর পর প্রধান বিচারপতি বলেন, অনুমতি না থাকলে সব স্টলই সরিয়ে দিতে হবে। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন।সিপিএমের আইনজীবী জানান, একক বেঞ্চও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। অন্য দিকে, অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কী ভাবে বুকস্টল চালানো সম্ভব? সিপিএমের তরফে পাল্টা জানানো হয়, দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর তিন-চার দিন রয়েছে। তাই মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে বুকস্টল চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক।শেষ পর্যন্ত আরও একটি প্রস্তাব দেন সিপিএমের আইনজীবী। তিনি জানান, দলের কার্যালয়ের সামনে পাঁচ ফুট লম্বা একটি টেবিল পেতে, কোনও ছাউনি ছাড়াই শুধু ছাতা ব্যবহার করে বুকস্টল চালাতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি আদালত। পাল্টা সওয়ালে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, বনগাঁ থানার আইসি আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। এর পরেই প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল করা যাবে না।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

পঞ্চমীর পর ষষ্ঠীতেও কলকাতার মেট্রোয় জনপ্লাবন! দরজা বন্ধ করতেই হিমশিম কর্মীরা

পঞ্চমী থেকেই ভিড়ে ঠাসা কলকাতা। মেট্রো স্টেশনে পা রাখার জায়গা নেই। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে অনেক সময় বন্ধ করা যাচ্ছে না মেট্রোর দরজা। ফলে একের পর এক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে ট্রেন। ষষ্ঠীতেও পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি। মেট্রোর পাশাপাশি লোকাল ট্রেনেও যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোর পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা। ভিড়ের কথা মাথায় রেখেও অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন প্রতিমা দর্শনে। এখন তো তৃতীয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা। ফলে পঞ্চমী আসতেই শহরের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। পঞ্চমীর রাতে চাঁদনি চক, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক স্টেশনে কার্যত জনস্রোত দেখা যায়। বিকেল থেকেই মেট্রোয় ঠাসাঠাসি ভিড় ছিল।তার উপর একাধিক মেট্রো বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। ট্রেন এলেই তাতে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করতে সমস্যা হয়। কোথাও কোথাও ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীদের যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হয় বলেও জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চমীর রাতেই মেট্রোয় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।ষষ্ঠীতেও ছবিটা প্রায় একই। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস, ট্রেন এবং মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ে। মেট্রোর তরফে বারবার একই ট্রেনে ওঠার জন্য তাড়াহুড়ো না করতে বলা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পুজোর ভিড়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চাইছেন সকলেই। কারণ, যাতায়াতে সময় কম লাগলে আরও বেশি প্রতিমা দেখার সুযোগ মিলবে।শিয়ালদহমুখী লোকাল ট্রেনেও ভিড়ের ছবিটা আলাদা নয়। ট্রেনের ভিতরে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড় থাকায় সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। পুজোর সময়ে শহর ও শহরতলির যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আগামীকাল, অর্থাৎ সপ্তমী থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চললে ভিড় কিছুটা সামলানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুজোর বাকি দিনগুলিতে মেট্রো ও লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

অক্টোবর ১৬, ২০২৬
দেশ

যুদ্ধের বাজারেও ভারতের বিরাট সাফল্য! বৃদ্ধির পূর্বাভাস এক ধাক্কায় বাড়াল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি। বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বড় সুখবর দিল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। চলতি অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল এই আন্তর্জাতিক সংস্থা। আগে এই হার ৬.৪ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে চাপ থাকলেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার।সংস্থার সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে। এর আগে গত জুলাইয়ে ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। নতুন অনুমান অনুযায়ী, বৃদ্ধির সম্ভাবনা ০.৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।শুধু চলতি অর্থবর্ষ নয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থাকতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। আগে ওই অর্থবর্ষে ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, আগামী দুবছরেও দেশের অর্থনীতির গতি বজায় থাকার আশা করছে সংস্থাটি।এর আগে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কও চলতি অর্থবর্ষে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করেছিল। এ বার আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের রিপোর্টেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলল।ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানোর পিছনে কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। সংস্থার মতে, দেশের বাজারে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা যথেষ্ট শক্তিশালী। সাধারণ মানুষের কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ভাল ফল অর্থনীতির বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি, ভারতের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, বিপুল জনসংখ্যা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বিশেষ করে পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।তবে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ। তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে।আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের অনুমান, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলারে পৌঁছতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। তবে ২০২৭ সালে তেলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও দেশের বাজারে চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।অন্য দিকে, চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অর্থনীতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই দেশগুলির সম্মিলিত আর্থিক বৃদ্ধির হার ৩.৭ শতাংশ হতে পারে। আগে এই হার ৩.৮ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল।তবে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। জার্মানির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অনুমান ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে, যুদ্ধ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার। দেশের বাজারে চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তিশালী অবস্থান আগামী দিনেও আর্থিক বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬
দেশ

সূর্যকান্তকে নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট, বিজেপির আক্রমণের মুখে পিছু হটল কেরল কংগ্রেস?

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের পদত্যাগ দাবি করে কেরল কংগ্রেসের একটি পোস্ট ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিতর্কের পর এ বার প্রধান বিচারপতিকে নিশানা করে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে কেরল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামনে আসতেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি মুছে দিয়েছে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ওই পোস্ট করার জন্য দায়ী ব্যক্তিকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।সোমবার দিল্লিতে বিক্ষোভ এবং রাজধানীতে জারি করা বিধিনিষেধ নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধান বিচারপতি জানান, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই তা তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পরেই কেরল কংগ্রেসের সরকারি সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে তাঁকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা যদি তাঁর এক্তিয়ারের মধ্যে না পড়ে, তা হলে যেন তিনি পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি, তাঁর পরিবর্তে এই বিষয় সামলাতে পারবেন, এমন কাউকে খুঁজে নেওয়ার কথাও লেখা হয় ওই পোস্টে। বার্তাটি সামনে আসতেই কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয় বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় ওই পোস্টের ছবি ভাগ করে নেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি আগেই বলেছিলেন, কংগ্রেসের পরবর্তী নিশানা হবে বিচারব্যবস্থা। কংগ্রেস দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, দেশবিরোধী শক্তিগুলি একজোট হচ্ছে। এর মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক ভারতীয়দেরও একজোট হওয়ার আহ্বান জানান রিজিজু।বিতর্ক বাড়তে থাকায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ জানান, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বের অজান্তে এবং তাঁদের অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়াই ওই পোস্ট করা হয়েছিল।কী পরিস্থিতিতে ওই পোস্ট করা হয়েছিল, তা দল খতিয়ে দেখবে বলেও জানিয়েছেন সানি। তাঁর বক্তব্য, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে কংগ্রেসের কোনও আপত্তি নেই। সমাজমাধ্যমে এমন কোনও পোস্ট করা হলে, যা দলের এই অবস্থানের সঙ্গে মেলে না, তা কেরল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের মতামত বলে গণ্য করা যাবে না।প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিতর্কে এক দিকে বিজেপির আক্রমণ, অন্য দিকে কেরল কংগ্রেসের ব্যাখ্যাসব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর বেড়েছে। বিতর্কিত পোস্ট প্রত্যাহার এবং দায়ী ব্যক্তিকে সরানোর সিদ্ধান্তের পরেও এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

অক্টোবর ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal