• ১২ আষাঢ় ১৪৩৩, রবিবার ২৮ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Student

শিক্ষা

যাদবপুরে অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু নিয়ে গর্জে উঠল 'বাংলা পক্ষ', তোলপাড় বিশ্ববিদ্যালয়

আবার লাইমলাইটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা পক্ষের জানায়, সেখানে দৃষ্টিহীন ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাসের অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা আরও জানায়, দুই বহিরাগত ক্রিমিনাল সুরজ ঝাঁ ও পাপ্পূ সোনা গান্ধীর শারীরিক-মানসিক অত্যাচারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিহীন, মেধাবী বাঙালি ছাত্রী মালবাজারের রেনেসাঁ দাস আত্মহত্যা করেছে। খুনিদের শাস্তির দাবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভার অয়োজন করে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, মৃতা রেনেসাঁ দাস জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের বাসিন্দা। এই অস্বাভাবিক ছাত্র মৃত্যু-র প্রতিবাদে বাংলা পক্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে মুখর হয়। বাংলা পক্ষ ও ছাত্র সংগঠন বাংলা ছাত্র পক্ষ, ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয়। খুন হওয়া বাঙালি মেয়ের খুনিদের শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠে বাংলা পক্ষ।বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের জলপাইগুড়ি জেলার বোন, বাঙালি বোন রেনেসাঁ দাসকে অত্যাচার করে খুন করেছে দুই বহিরাগত জন্তু সুরজ ঝাঁ এবং পাপ্পু সোনা গান্ধী। লজ্জার কথা যে বিপ্লবের কথা বলা, বড় বড় রাজনীতির কথা বলা সব দল, সব ছাত্র সংগঠন আজ চুপ। মিডিয়ায় প্রাইম টাইমে টক শো নেই। কিন্তু বাংলা পক্ষ লড়ছে। বাংলা ছাত্র পক্ষ লড়ছে। এই গুন্ডাদের বাংলার মাটি থেকে উপড়ে ফেলবে বাংলা পক্ষ। খুনিদের ফাঁসি চাই। আমরা বাংলার মাটিতে কোনো কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত ক্রিমিনালদের আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেব না।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, আজ যাদবপুরের বাকি ছাত্র সংগঠন গুলো খুনিদের বাঁচাতে ব্যস্ত। বোনের খুনিদের শাস্তির দাবিতে কেউ সোচ্চার নয়। কিন্তু ভাবুন তো যাদবপুরে বাংলা ছাত্র পক্ষর বড় সংগঠন থাকলে কোনো বহিরাগত জন্তু বাঙালি মেয়েকে অত্যাচার তো দূরের কথা, বাঙালি মেয়েদের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারতো? আমরা আগামীতে সব বড় ইউনিভার্সিটিতে সংগঠন খুলবো। আমরা যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৯০% ডোমিসাইল চালু করিয়েছি। এবার সব বিভাগে ডোমিসাইল চালু করাবো। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ডোমিসাইল চালু করাবো৷বাংলা ছাত্র পক্ষর প্রধান রণ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা যাদবপুর সহ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে, মেডিক্যাল কলেজে যাতে গ্রাম তথা জেলার ছেলেমেয়েরা অত্যাচারিত না হয় সেজন্য বাংলা ছাত্র পক্ষ সব জায়গায় লড়াই করবে এবং সংগঠন খুলবে। আমরা যাদবপুরকে বহিরাগতদের আবাদ ভূমি হতে দেব না।এছাড়াও এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, অর্ক ঘোষ, অভিজিৎ দে, কুশনাভ মণ্ডল, লীনা রায় সহ আরও অনেকে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৪
উৎসব

বর্ধমানে স্কুল ছাত্র তৃপ্তিময়ের তৈরি মূর্তির বোধন ষষ্টিতে

বর্ধমানের প্রাচীনতম ওয়ার্ড দামোদরের পাশে কাঞ্চন নগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় এর দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র শ্রী তৃপ্তিময় ঘোষ বিগত আট বছর ধরে নিজের হাতে পারিবারিক দুর্গা ঠাকুর বানিয়ে নিজেই পুজো করে বর্ধমানবাসীকে স্তম্ভিত করেছে । এলাকার মানুষজন অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। তার এই প্রতিভা আরো বিকশিত হোক এবং তার সৌরভ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক যাতে, দেবী দুর্গা আমাদের শুধু লৌকিক দেবতাই নয় সমগ্র জাতির মা, যিনি এক ধারে নিজের সংসারকে রক্ষা করছেন অন্যদিকে সমগ্র পৃথিবীকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাচ্ছেন।মানুষ ও প্রাণীকুল অর্থাৎ জীব বৈচিত্রের ইকোলজি প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করছেন। ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত, শিক্ষা রত্ন ও জাতীয় শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়, মনে করেন মাতৃরূপী নারী শক্তি যে পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে তার আইকন হচ্ছেন আমাদের আরধ্যা দেবী দুর্গা দশভূজা। ১৯০৩ সালে কাঞ্চননগরে আশিটির বেশি দুর্গাপুজো হতো, এবং স্কুলেও দুর্গা পুজোর জন্য এক মাস ছুটি থাকত। এই আশিটি দুর্গা পুজোয় এলাকার অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থা ও এলাকার কৃষ্টি সংস্কৃতি আভিজাত্য ঐতিহ্য এর ধারক বাহক হিসাবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে বারবার দামোদরের ভয়াল বন্যাকে উপেক্ষা করে।তাই কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় এর কীর্তিমান ছাত্র তৃপ্তিময় ঘোষ এর নিদর্শন যা বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও এলাকার আভিজাত্যকে তুলে ধরেছে । তাদেরই পূর্বপুরুষ শ্রীযুক্ত নলিণাক্ষ ঘোষ মহাশয়, বিদ্যালয়ের প্রথম ট্রাস্টির নয় জন সদস্যের মধ্যে শুধু একজনই ছিলেন তাই নয়, তিনি সেই সময় ব্রিটিশ আমলে দীননাথ দাস মিডিল ইংলিশ স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কার্যভার গ্রহণ করেন, এবং সেই সময়ের বিদ্যালয়ের দুর্গাপুজোর সমস্ত দায়-দায়িত্ব প্রথম ডাক্তার ভূতনাথ দাস এর সঙ্গে ভাগ করে পরিচালনা করতেন। আমরা বিদ্যালয়ের তরফ থেকে তৃপ্তিময় ঘোষ ও তার পরিবারকে অসংখ্য শুভেচ্ছা বুক ভরা ভালবাসা জানাচ্ছি ও তার উদ্ভাবন শক্তি আরও বিকশিত ও প্রসারিত হোক এই কামনা করছি। তৃপ্তিময় জনতার কথাকে জানায়, আমি এই পূজা প্রথম শুরু করি শুধু দুর্গা মূর্তি দিয়ে। তারপর বিগত আট বছর ধরে, আমি এই প্রতিমা তৈরি করি। আমি কোনো মিস্ত্রির কাছে প্রতিমা তৈরি শিখিনি। আমার এই প্রতিমা তৈরিতে সাহায্য করেন আমার মা। এই পূজা তে সেইরকম কোনো উপকরণ লাগে না। আমি মনে করি যে মা কে পূজা করতে কোনো কিছু লাগে না শুধু যেটা লাগে সেটা হল ভক্তি ও ভালোবাসা। আমার এই পূজার মূল আকর্ষণ হল নবমীর দিন আমি আমার মা কে পূজা করি। আমি প্রথম পূজা শুরু করি ২ বছর ৫ মাস বয়স থেকে। আমি আমার বাড়ি তে দুর্গা পূজা করি, ও এক বার আমি কালী পুজো করে ছিলাম। আমার পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হয় না । আমার বাবা এক জন ব্যবসায়ী আর আমার দাদু স্কুলের ট্রাস্ট বডির সদস্য ছিলেন ও দাদু র বাবা এই মিডিল ইংলিশ স্কুলের হেড মাস্টার ছিলেন। আমরা থাকি তেলি পাড়া, কাঞ্চন নগর এ। আমি দুর্গা, কালী, সরস্বতী মূর্তিও বানাতে পারি। এখানে উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে স্কুলের পূর্ব দিকে কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির এলাকা ও তেলিপাড়া-টি লাট সাহেব পাড়া বলে খ্যাত ছিল। বিদ্যালয়ে দুর্গা পুজোর বা লক্ষ্মী পূজো বা ষষ্ঠীতে পুজোর পূজারী ছিলেন অভয়পদ ভট্টাচার্যের পরিবার যাদের আদি বাড়ি ছিল বনতীর সুপুর, চিন্ময়পদ ভট্টাচার্য ছিলেন শেষ পূজারী। তাই ব্রিটিশ আমলের স্কুল ও ডিসপেন্সারি শুধুমাত্র গরিবদের জন্য লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যের ধারক বাহক ছিল তাই নয়, পূজার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় যে সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং জীব বৈচিত্র্য কে বাঁচিয়ে রাখার উত্তম পথপ্রদর্শক তা বারবার প্রমাণ করে। হয়তো সেই জন্যই এই ইকো ইস্কুলে কৃত্রিম পাখির বাসা বিদ্যালয় এর আভিজাত্য ঐতিহ্য ও সামাজিকতাকে তুলে ধরেছে, এবং লক্ষীর বাহন পেঁচা কোভিড পরিস্থিতিতে সমগ্র কাঞ্চন নগর তথা বর্ধমানবাসীকে সোশ্যাল ভ্যাকসিন হিসাবে কাজ করে প্যান্ডেমিকের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। তথ্যসূত্র বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল যেখানে বলা হয়েছে বার্ণ আউল অ্যাক্ট এজ এ সোশ্যাল ভ্যাকসিন অথবা পেঁচা বায়ো ইন্ডিকেটার হিসাবে কাজ করে পরিবেশে এবং মহামারী থেকে রক্ষা করে।

অক্টোবর ২০, ২০২৩
কলকাতা

র‍্যাগিংয়ে মৃত ছাত্রের মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ মমতার, একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ছেলের অকাল মৃত্যুর শোক এখনও কাটেনি। দোষীদের সাজার দাবিতে সোচ্চার ছাত্রের বাবা মা। এরইমধ্যেই সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব়্যাগিংয়ে নিহত পড়ুয়ার মা, বাবা নবান্নে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। কথা বলতে বলতে এদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের মা। শান্তনা দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এরই মাঝে মৃতের মাকে তাঁর বাড়ির কাছে চাকরি এবং ভাইয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর তরফে মৃত ছাত্রের পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নিহতের স্মৃতিতে বগুলা গ্রামীণ হাসপাতালের নামকরণ করা হবে। ওই হাসপাতালেই বসানো হবে তার মূর্তি।গত ৯ আগস্ট রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের বারান্দা থেকে পড়ে দিয়ে স্নাতকস্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু হয়। যা ঘিরে শোরগোল পড়ে য়ায়। ব়্যাগিংয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই নাবালক পড়ুয়ার। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্তে নেমে বর্তমান ও প্রাক্তনী মিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরই ১৩ জনকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের জেরায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের অনুমান, ব়্যায়গিংয়ের জেরেই ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে।ইউজিসি গাইডলাইন মেনে কেন যাদবপুরে সিসি ক্যামেরা নেই তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আতসকাচে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভমিকাও। স্টুডেন্টস অফ ডিন ও রেজিস্ট্রারকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে লালবাজার।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৩
রাজ্য

কলরব হোক পরিবেশ নিয়ে, খোঁজা হোক অসুখের বীজ, মুক্ত চিন্তার আকাশ যাদবপুর ফিরে পাক হৃত গৌরব

সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের পাতায়, টি ভি চ্যানেলে ও সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত ভেসে উঠছে যাদবপুরের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে র্যাগিংয়ে ছাত্র মৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য। জনমানসেও ছড়িয়েছে গভীর উদ্বেগ। তুমুল নিন্দা আর সমালোচনার ঝড় বইছে। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়ে ওঠা এবং এগিয়ে চলার মধ্যে রয়েছে এক আকাশ সমান ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের ধারক হল রবীন্দ্রনাথের মুক্ত চিন্তার আধারে শিক্ষা দানের পথ নির্দেশ। রয়েছে অধ্যাপক অধ্যাপিকাদের পড়ুয়াদের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু এক অন্ধকার জগতকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণত তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথম, অধ্যাপক -অধ্যাপিকারা, দ্বিতীয়, পড়ুয়ারা, তৃতীয়, প্রশাসন বিভাগ। এই তিন স্তম্ভের নির্মাণ ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম যাদবপুরের প্রথম উপাচার্য ত্রিগুনা সেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ শুরু করার জন্য তিনি ডেকে এনেছিলেন পঁচিশ বছরের এক যুবককে। সেই যুবকের মস্তিষ্কে ছিল রবীন্দ্রনাথের মুক্ত চিন্তার আকাশ। সেই যুবক আজকে নবতিপর বিশ্ববন্দিত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। দেড় দশক আগে পর্যন্ত এই ঐতিহ্যের পথে চলা অধ্যাপক অধ্যাপিকারা সংখ্যায় ভারী ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংখ্যাটি কমেছে। এখনও যে দু-এক জন রয়েছেন তাঁরা নিভৃতে কর্মজীবনের শেষ প্রহরের জন্য অপেক্ষা করেছেন।আরও পড়ুনঃ যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি সিপিএমের ছাত্র ইউনিয়নকে নিশানা মমতারপ্রশ্ন উঠেছে যে বিদ্যালয়ের ব্রত তমসো মা জ্যোতির্গময়... সেখানে আজ এই অন্ধকার কেন? অনেকে বলছেন এই অন্ধকারের শুরু নকশাল আন্দোলনের সময় থেকে। সেদিন পরীক্ষা পিছোনোর দাবি না মানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুন হয়েছিলেন উপাচার্য গোপালচন্দ্র সেন। কিন্তু সেদিন অন্ধকারের পাশে আলোও ছিল। সেই সময়ই তো কলকাতার রাজপথে যাদবপুরের এক নকশালপন্থি ছাত্রর গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষের কলম লিখেছিল, ময়দান ভারী হয়ে নামে কুয়াশায়, দিগন্তের দিকে মিলিয়ে যায় রুটমার্চ, তার মাঝখানে পথে পড়ে আছে ও কি কৃষ্ণচূড়া? নিচু হয়ে বসে হাতে তুলে নিই তোমার ছিন্ন শির, তিমির। সেই আলো অন্ধকারের দিনেও জাগ্ৰত ছিল বোধ, তাই বোধহীন রাজনীতির শিকার যখন পিতৃসম এক অধ্যাপক তখন আরেক পিতৃসম অধ্যাপক এক ছাত্রের ছিন্নশির কোলে তুলে নেন পরম মমতায়।কয়েক বছর আগে যাদবপুর থেকে পাশ করে বেরোনো বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের সম্পর্কের এই রসায়ন প্রায় শুন্যে এসে ঠেকেছে। আর এর মধ্যেই রয়েছে যাদবপুরের অসুখের বীজ। প্রাক্তনদের মতে এই অসুখ শুধু হোস্টেলের মধ্যেই ছড়িয়েছে তা নয়, গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ই তা ছড়িয়ে পড়েছে।পেশাগত কারণে তিন দশক ধরে রাজ্যের ছাত্র রাজনীতিকে খুব কাছ থেকে দেখছি। বাম আমলে যখন রাজ্যের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের ক্ষমতায়ন সম্পুর্ন তখনও যাদবপুরের ছবিটা ছিল ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে এসএফআইয়ের দাপট থাকলেও বাকি বিভাগ গুলোতে তারা ছিল সংখ্যালঘু। যাদবপুরের সবচেয়ে বড় বিভাগ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ছাত্র সংসদ FETSU নির্বাচনে প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে জিতে আসছে Democratic Student Federation। এই সংগঠন বামপন্থী হলেও কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের অনুগামী নয়। We the Independent বা WTI এই ছাত্র সংগঠন তিন দশক ধরে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সংসদ। SFSU য়ের নির্বাচনে জিতে আসছে। এরাও কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন নয়। কলা বিভাগের ছাত্র সংসদ AFSU তে নির্বাচনে এসএফআই অতীতে দীর্ঘকাল জিতেছে। মাঝে মাঝে ছাত্রর সংসদের নির্বাচনে জিতেছিল বামপন্থী সংগঠন AISA । তবে ২০০৫ সালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে তৈরি হয় Forum for Arts Students বা FAS, এই সংগঠনের মধ্যে রয়েছে Radical Left ছাড়াও বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী পড়ুয়া। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে কয়েকটি ছোট ছোট নকশাল পন্থি সংগঠন।আরও পড়ুনঃ র্যাগিং কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, মমতা বড় দায়িত্ব দিলেন টিএমসিপি নেত্রী রাজন্যাকেঅনেকেই বলছেন যাদবপুর মানেই রাজনীতির আখড়া। এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে উত্তাল বাংলায় এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়। জাতীয়তাবাদী নেতা অরবিন্দ ঘোষ, সতীশ চন্দ্র মুখার্জি এবং রাজা সুবোধ চন্দ্র মল্লিক প্রতিষ্ঠা করেন কাউন্সিল অফ এডুকেশন। ভারতীয় পড়ুয়াদের জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উচ্চ মানের শিক্ষার সুযোগ করে দিতেই এই প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়। ১৯৫৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। তাই জন্মলগ্ন থেকেই যাদবপুরের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে ধারাবাহিকতা রয়েছে। ছয়ের দশকে বাংলায় উত্তাল ছাত্র আন্দোলন ও সত্তরের নকশালবাড়ি আন্দোলনে প্রথম সারিতে ছিল যাদবপুর সিঙ্গুর-নন্দীগ্ৰাম যাদবপুরের পড়ুয়ারা আন্দোলনে নেমেছিল। ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে হোক কলরব আন্দোলন দেখেছে যাদবপুর।বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কোন একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠন জেতেনি। বিভিন্ন বিভাগে নির্বাচনে বিভিন্ন দল জেতায় হস্টেল থেকে শুরু করে বিভাগীয় অলিন্দে ক্ষমতাও ভাগাভাগি হয়েছে। ছাত্র রাজনীতি এই আবহের মধ্যে র্যাগিংয়ের মত কদর্য প্রথা যে অঞ্চলে যে ছাত্রর সংগঠনে ক্ষমতা রয়েছে সে সেখানে র্যাগিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা জাহির করেছে। তাই নানান বিষয়ে ভিন্ন মত থাকলেও র্যাগিং আটকাতে কতৃপক্ষ কড়া হলেই সব সংগঠনই বাধা দিয়ে এসেছে। বহু প্রাক্তনীর মতে গত দেড় দশকে শুধু হস্টেলে নয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও অনেকেই র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি Indian Express য়ে যাদবপুরের এমেরিটা অধ্যাপক সুপ্রিয়া চৌধুরী লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ২০০৯ সালে নতুন পড়ুয়াদের জন্য আলাদা হস্টেলের ব্যাবস্থা করা হয়। সেই সময় এর বিরুদ্ধে সব ছাত্র সংগঠন ই প্রতিবাদে নামে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে Anti Ragging Committee মাঝরাতে হস্টেলে হস্টেলে নজরদারি চালায়। নজরদারি চালিয়ে ২০১৩ সালে দুই ছাত্রকে র্যাগিংয়ের অভিযোগে দুটি সেমেস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু, অভিযুক্তদের বাঁচাতে পড়ুয়ারা উপাচার্য সৌভিক ভট্টাচার্যকে ঘেরাও করেন। কোনো ছাত্র সংগঠনই এর প্রতিবাদ করেনি। এমনকি Dean ও শাস্তির সিদ্ধান্ত বিবেচনা করতে বলেন। এই পরিস্থিতিতে উপাচার্য পদত্যাগ করেন।প্রাক্তন অধ্যাপিকার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যাদবপুরের র্যাগিংয়ের শিকড় অনেক গভীরে। আর এই অপরাধ চলার পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পক্ষই দায় এড়াতে পারে না। এই কলুষিত পরিবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত করতে হবে। তবে বিভিন্ন মহল থেকে যে ভাবে একপেশে সমালোচনা চলছে সেটাও বন্ধ হওয়া উচিৎ। শিক্ষাক্ষেত্রে যাদবপুর যে উৎকর্ষতা ছুঁয়েছে তাকেও স্বীকার করতে হবে এবং রক্ষা করতে হবে। ২০২২ সালে National Institutional Ranking Framework (NIRF) য়ের সমীক্ষায় এই রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে প্রথম স্থানে ছিল যাদবপুর। গোটা দেশের মধ্যে ছিল চতুর্থ স্থানে। চলতি বছরেও NIRF য়ের তালিকায় দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থান পেয়েছে যাদবপুর। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও দেশের নটি আইআইটির পরে। সম্প্রতি ইসরোর চন্দ্রায়ন team য়েও যাদবপুরের একাধিক অধ্যাপক ও গবেষক বিজ্ঞানী রয়েছেন।আরও পড়ুনঃ যাদবপুর কাণ্ড: সমস্ত জায়গায় সিসি টিভির সিদ্ধান্ত ঝুলে, তবে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ ঘোষণাযে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই গবেষণার মান উচ্চ পর্যায়ের না হলে উৎকর্ষতা ছুঁতে পারে না। উচ্চমানের গবেষণার জন্য অর্থের প্রয়োজন। অথচ ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রীয় অনুদান প্রায় বন্ধ রয়েছে। রাস্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযান প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ পায়নি এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নীতি আয়োগ থেকে অর্থ আসার কথা Special Assistance Program খাতে যে কেন্দ্রীয় অর্থ আসার কথা তাও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গত ছবছর ধরে Major Research Project প্রকল্পে UGC অনুদান দেওয়া বন্ধ রেখেছে। ২০১৯ সালে UGC যাদবপুরকে দেশের Institutes of Eminence য়ের তালিকায় রাখে। এরফলে পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০০কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার কথা ছিল। এই অনুদানের চল্লিশ শতাংশ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। কিন্তু রাজ্য সরকার তা না দেওয়ায় UGC যাদবপুরের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা বাজেটেও যাদবপুরের জন্য বরাদ্দ প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর জন্য বছরে ৫৫-৬০কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে চলতি বছরে যাদবপুরের জন্য রাজ্যের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা। যাদবপুরের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে আর্থিক ভাবে দুর্বল মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ও বিপন্ন হবে। যাদবপুরের কলা বিভাগের পড়ুয়াদের মাসিক বেতন ৭৫ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগে ১৫০ টাকা। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২০০ টাকা। হস্টেলে থাকার মাসিক খরচ ২৫ টাকা। এই কারণে গ্ৰাম, মফস্বল ও শহরে আর্থিক ভাবে দুর্বল মেধাবী পড়ুয়ারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়ে দেশে বিদেশে নামি দামী প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। অনেকে দেশ বিদেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করছেন অথবা পড়াচ্ছেন। এই আকালের সময় এমন একটি শিক্ষা কেন্দ্রকে টিঁকিয়ে রাখাও সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তাই কাঠ কাটতে গিয়ে গোটা গাছটা কেটে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৩
কলকাতা

যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি সিপিএমের ছাত্র ইউনিয়নকে নিশানা মমতার

যাদবপুরের ছাত্রমৃত্যু ইস্যুতে সিপিএমকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে ইমাম-মোয়াজ্জেমদের সভায় যাদবপুরের সিপিএম অনুমোদিত ইউনিয়নকে আক্রমণ করেন। সমালোচনা করেন সিপিএম এবং তাদের ছাত্র সংগঠনের রাজনীতির। সম্প্রতি যাদবপুরে এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে রাজ্য তোলপাড়। যাদবপুর ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ। বিভিন্ন সংগঠন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। ঘটছে হাতাহাতি, সংঘর্ষের ঘটনা।সোমবার নেতাজি ইন্ডোরের সভায় যাদবপুরের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাদবপুর নিয়ে আগে আমরা গর্ববোধ করতাম। যাদবপুরে কীভাবে একটা ছাত্রকে সিপিএমের ইউনিয়ন মেরে ফেলল। এরা জীবনে বদলাবে না। এত রক্ত নিয়েও এরা বদলায়নি। বছরের পর বছর রক্ত নিয়ে খেলেও এদের শান্তি নেই।সভায় সিপিএমের পাশাপাশি বিজেপিকেও একহাত নেন। ডাক দেন, বিজেপি হঠাও ইন্ডিয়া বাঁচাও। কংগ্রেস বা সিপিএম তাঁকে যতই বিজেপিপন্থী বলুক না-কেন, গেরুয়া শিবিরকে তোপ দেগে সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাকে ভাতে মারতে চায় মোদী সরকার। একদলের সরকারের নীতি চলবে না। আমরা সকলের উন্নতির পক্ষে। মোদী সরকার আর ৬ মাস থাকবে। আর একটু ৬ মাস কষ্ট করতে হবে আপনাদের, তারপর সব ম্যানেজ করে নেব।২৬টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের ইন্ডিয়া জোটে রয়েছে জোটে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসও। কিন্তু, তারপরও জোটসঙ্গী বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসকে সোমবারের বক্তব্যে রেয়াত করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। বিজেপির সঙ্গে তিনি এই দুই সর্বভারতীয় জোটসঙ্গী দলকেও এক আসনে নিশানায় রেখে বুঝিয়ে দেন, জোট শুধু সর্বভারতীয় রাজনীতিতে। রাজ্যে তৃণমূল আছে তাদের একলা চলো নীতিতেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একসঙ্গে বোর্ড গঠন করছে বাম-কংগ্রেস-বিজেপি। হিংসা লাগানোর জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে। বাংলায় সিপিএম-কংগ্রেসকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।

আগস্ট ২১, ২০২৩
কলকাতা

যাদবপুর কাণ্ড: সমস্ত জায়গায় সিসি টিভির সিদ্ধান্ত ঝুলে, তবে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ ঘোষণা

যাদবপুরের মেন হস্টেলে সিসি ক্যামেরা নেই। এই নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। ছাত্র মৃত্যুর পর সিসি ক্যামেরা নেই কেন তা নিয়ে বারেবারে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর এক সপ্তাহের বেশে অতিক্রান্ত হলেও কোন হেলদোল নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। তবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হস্টেলে সিসি ক্যামেরা বসানো নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু। আপাতত শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটেই সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্যরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এদিনের সিদ্ধান্ত, রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশে পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যেসব দু-চাকা বা চার-চাকা প্রবেশ করবে সেগুলোতে কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্টিকার তাকাও বাধ্যতামূলক। চালকদেরও কাছে থাকতে হবে নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে মাদক নেওয়ার সময় ধরা পড়লে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। তবে, ক্যাম্পাসে প্রবেশে কেন ২৪ ঘন্টা ক্যামেরায় নজরদারি থাকবে না তার কোনও উত্তর দিতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।কেন হস্টেলে সিসি ক্যামেরা থাকবে না? প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু বলেন, হস্টেলে রেজিস্টার খাতা বা লগ বুক থাকছে। হস্টেলের গেটে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করে বসানো হবে সিসিটিভি। এ ব্যাপারে সিসিটিভি-র সংস্থার সঙ্গে কথাও বলা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা নিয়ে সব সিদ্ধান্ত নেবে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল।অন্যদিকে যাদবপুরের প্রথমবর্ষের ছাত্র-মৃত্যুর তদন্তে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠন করল রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতর। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই কমিটিকে।

আগস্ট ১৭, ২০২৩
রাজ্য

আইসিএসই-তে দেশের সেরা বর্ধমানের ছাত্র সম্বিত, গর্বিত করল বাংলাকে

সর্বভারতীয় আইসিএসই (ICSE) বোর্ডের দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করল বর্ধমান সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্র সম্বিত মুখোপাধ্যায়। বর্ধমানের সম্বিত উজ্জ্বল করল বাংলার মুখ। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত বর্ধমান। বর্ধমানের সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের ছাত্র সম্বিত ৯০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৮৯২ নম্বর পেয়ে ভারত সেরা হয়েছে। সম্বিতদের বাড়ি বর্ধমান শহরের পার্কাসরোডে। তবে কলকাতার লেকটাউনের বাড়িতেও তার পরিবার থাকে। ভারত সেরা ছাত্রটির লক্ষ্য দক্ষ সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।সম্বিত কখনও পড়াশুনাকে চাপ হিসেবে নেয়নি। সে নিয়মিত ৭-৮ ঘন্টা পড়াশুনা করত। পরীক্ষার আগে আর একটু বেশি সময় পড়ত সে। পড়ার জন্য রুটিন তৈরি ছিল। মোট ৯০০ নম্বরের পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৯৯, বাংলায় ৯৫, ইতিহাস ও সিভিক্স-এ ১০০, ভূগোলে ৯৯, অংকে ১০০, ফিজিক্সে ৯৯, কেমিস্ট্রিতে ১০০, বায়োলজিতে ১০০ এবং কম্পিউটার এপ্লিকেশনে ১০০ নম্বর পেয়েছে সম্বিত। সম্বিতের এখন লক্ষ্য আইআইটি পাওয়া। সে সফল সফটওঅ্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। এই ফল তাঁকে সামনের বড় পরীক্ষাগুলোতে আরও ভাল ফল করার উৎসাহ যোগাবে বলে সম্বিত জানিয়েছে।পড়াশুনা ছাড়া সম্বিতের সখ গিটার বাজানো, ছবি আঁকা। দাবা খেলতেও ভালবাসে সে। সময় পেলে ক্রিকেট খেলা দেখে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে সম্বিত প্রথম হয়ে আসছে। আইসিএসই-তে প্রথম হওয়ায় বাবা-মা, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রাইভেট শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সেন্টজেভিয়ার্সের ছাত্রটি। সম্বিতের বাবা মনোজ মুখোপাধ্যায় পেশায় কেমিক্যাল বিজ্ঞানী ও মা সুতপা মুখোপাধ্যায় দেবীপুর স্টেশন গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা।

মে ১৪, ২০২৩
রাজ্য

১০ মার্চ ছাত্র ধর্মঘটের ডাক বাম ছাত্র সংগঠনের

আজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এআইডিএসও র ছাত্র মিছিল কলেজ স্কোয়ার পরিক্রমা করে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে শেষ হয়। বিষয়ঃ রাজ্যের ৮২০৭ টি সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত রুখতে, দুর্নীতি মুক্তভাবে সমস্ত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ সহ সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ বাতিলের দাবিতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ হরণকারী শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে, সরকারি শিক্ষা বাঁচানোর লক্ষ্যে রাজ্যের সংগ্রামী শিক্ষাপ্রেমী মানুষ, এবং এই উদ্দেশে আগামী ১০ মার্চ সারা বাংলা ছাত্র ধর্মঘটের ডাক । এআইডিএসও র আরো দাবী রাজ্যের ৮২০৭ টি স্কুলের যে ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হয়েছে তা পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক সহ সমস্ত শিক্ষাপ্রেমী মানুষকে উদ্বিগ্ন করেছে। সম্প্রতি রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের স্কুল পর্যবেক্ষনের রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যে ৩০ জনের কম ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে চলছে এমন স্কুলের সংখ্যা কলকাতা সহ প্রতিটি জেলায় কয়েকশ। সরকারি স্কুলে ছাত্র সংখ্যা কমে যাওয়ার ঘটনা আকস্মিক নয়। বামফ্রন্ট সরকারের সময়েও ছাত্র সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলের সংখ্যা নেহাতই কম ছিল না। বর্তমান তৃণমূল সরকার এখনও পর্যন্ত এবিষয়ে সদর্থক কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বামফ্রন্ট সরকার প্রাথমিকে পাশফেল তুলে দিয়ে স্কুল শিক্ষার সর্বনাশ শুরু করে ড্রপআউট বৃদ্ধির প্রচেষ্টা শুরু করেছিল আর বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশফেল তুলে দিয়ে স্কুল শিক্ষাকে পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে নিয়ে এসেছে৷ পাশাপাশি সরকারি স্কুলে প্রত্যেক বছর ব্যাপক ফি বাড়ানো হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। কোভিড পরিস্থিতির পরে পরিবারগুলোর রোজগারের পথ যখন বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং এখনও রাজ্য সরকার শিক্ষার ফি মকুব করার মতন ছাত্রস্বার্থবাহী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উপরন্তু মুখে কেন্দ্র সরকারের বিরোধিতা করলেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নিয়ে আসা জাতীয় শিক্ষা নীতিকে তারা এ রাজ্যে চালু করেছে। যে শিক্ষা নীতি গণতান্ত্রিক, সার্বজনীন শিক্ষাকে ধ্বংস করে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্পোরেট পুঁজির লুঠের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিনত করছে। আর এক দিকে পাশ ফেল না থাকা, রাজ্যের স্কুলগুলোতে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি এবং শিক্ষকের অভাব সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোর বেহাল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংখ্যা কমে যাওয়া কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আরও আশঙ্কা এই শিক্ষা নীতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র সংখ্যা কম এই অজুহাতে এই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেই পিপিপির আওতায় এনে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশি বিদেশি মালিকদের হাতে তুলে দেবে সরকার। সেখানে রমরমিয়ে চলবে শিক্ষা ব্যাবসা। যার সাথে দেশের গরীব পরিবারের ছাত্রছাত্রীদেরর কোনও সম্পর্ক থাকবে না। এই প্রক্রিয়ার একটু একটু করে চলে যাবে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ। তাই সরকারের এই শিক্ষা স্বার্থবিরোধী, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ হরণকারী শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে, সরকারি শিক্ষা বাঁচানোর লক্ষ্যে রাজ্যের সংগ্রামী শিক্ষাপ্রেমী মানুষ, ছাত্র শিক্ষক অভিভাবকদের উদ্দ্যেশ্যে আগামী ১০ মার্চ ছাত্র ধর্মঘটের আহ্বান রাখছি আমরা।

মার্চ ০২, ২০২৩
কলকাতা

অনেক ছাত্রছাত্রী বাংলা বিমুখ, কেন পড়েন না? আক্ষেপ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

কলকাতা বইমেলায় ঢুকতেই আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু হলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বইমেলায় বেশ কয়েকটি স্টল পরিদর্শন করেন হাইকোর্টের বিচারপতি। যথারীতি সাধারণ মানুষ তাঁকে ছেকে ধরেন।বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, না না, ভগবান যদি কেউ থাকেন, যদি কিছু থাকেন, সেটা হচ্ছে ভারতবর্ষের সংবিধান এবং ভারতবর্ষের আইন। কোনও মানুষ ভগবান নন। ভারতবর্ষে কোনও মানুষ ভগবান নন। ভারতবর্ষে ভগবান যেটা তৈরি করে গিয়েছেন আমাদের গণপরিষদ, সেটা হল ভারতবর্ষের সংবিধান এবং তার অধীনে যে আইনগুলো আছে, সেগুলো। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, দুর্নীতির অদৃশ্য হাত কবে সামনে আসবে? আর কত অপেক্ষা করতে হবে? জবাবে চুপ করে থাকেন বিচারপতি। ফের পালটা প্রশ্ন ধেয়ে আসে, এটা কি বলা কঠিন স্যার? জবাবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, না না, বলা কঠিন কিছু না।তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়ে দেন বই লেখার ইচ্ছা আছে। বই লেখা প্রসঙ্গে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, হ্যাঁ, আমার ইচ্ছে আছে। পালটা প্রশ্ন আসে, আপনার অভিজ্ঞতার কথা, সেই নিয়ে বই? জবাবে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সে তো থাকবেই। ছোটবেলা থেকেই বইমেলায় আসেন বলে জানিয়েছেন অভিজিতবাবু।বাংলা ভাষার বই প্রসঙ্গে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, কলকাতা বইমেলায় এত মানুষ আসেন, এত ভালো ভালো বই। বিশেষ করে আমি বলব, ভালো বাংলা বই লেখা হয় এবং প্রকাশ পায়। আমি মনে করি, যারা বাংলা বিমুখ তাঁদের একটু বাংলা বইয়ের দিকে নজর দেওয়া দরকার। বাংলা বইয়ের এত ভালো ভালো টাইটেল আছে, আমি নিজেও সবসময় পড়ি। কিনি, সংগ্রহ করি। সেটাতো করা উচিতই। এখনকার অনেক ছাত্রছাত্রী, তাঁরা বাংলা বিমুখ। বাংলা পড়েন না। কেন পড়েন না, সেটা তাঁদের পরিবারের লোকেরা বলতে পারবেন। আমি মনে করি, অসম্ভব ভালো ভালো বাংলা বই বহুদিন ধরে লেখা হয়ে আসছে। পড়লে যেমন ভালো লাগে, মজা লাগে, আনন্দ পাই।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৩
রাজ্য

খুদে স্কুল পড়ুয়াদের রসগোল্লা খাইয়ে রসগোল্লা দিবস পালন তৃণমূল নেতা অপার্থিব ইসলামের

ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখতে গ্রামের আটচালায় শতাধিক খুদে পড়ুয়াকে নিয়ে বসলো রসগোল্লার পাঠশালা। বাংলার রসগোল্লার খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে। ২০১৮ সালে জিআই স্বীকৃতি মেলার পর থেকে প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর দিনটিকে রসগোল্লা দিবস হিসেবে পালিত হয় ঠিকই।কিন্তু এই বিশেষ দিনটির তাৎপর্য ও রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে খুদে পড়ুয়ারা এখনও সেভাবে ওয়াকিবহাল নয়। তা জানাতে মঙ্গলবার শতাধিক খুদে স্কুল পড়ুয়াকে রসগোল্লা খাইয়েই রসগোল্লার সৃষ্টি ইতিহাসের পাঠ দিলেন পূর্ব বর্ধমানে খণ্ডঘোষের জনপ্রতিনিধিরা। একবারে শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তাঁরা খুদে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরলেন রসগোল্লার সৃষ্টি কর্তার পরিচিতি ও কাহিনী।বাংলার প্রসিদ্ধ মিষ্ঠান্ন গুলির অন্যতম হল রসগোল্লা। এই রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাসও বহু প্রাচীন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী নদীয়া জেলার হারাধন ময়রাকে রসগোল্লার প্রথম সৃষ্টিকর্তা বলে ধরা হয়।তবে কলকাতার বাগবাজারের নবীনচন্দ্র দাস ওরফে নবীন ময়রাকে আধুনিক স্পঞ্জ রসগোল্লার প্রথম সৃষ্টিকর্তা বলে ধরা হয়।১৮৬৮ সালে নবীন ময়রাই গোটা পৃথিবীতে রসগোল্লার পরিচিতি ঘটিয়ে ছিলেন বলে ধরা হয়। তাই তাঁকেই রসগোল্লার কলম্বাস বলে উল্লেখ করা হয় ।ছানা, ময়দা ও চিনি সহযোগে তৈরি রসগোল্লা নিয়ে গর্ববোধ করেন না এমন কোন বাঙালি মেলাই ভার।এই রসগোল্লার জিআই স্বীকৃতি (Geographical Indication) পেতেও পশ্চিমবঙ্গকে মিষ্টি লড়াইয়ে সামিল হতে হয় ওড়িষ্যার সঙ্গে।শেষ পর্যন্ত বাংলাই ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর জয় করে জিআই স্বীকৃতি।রসগোল্লার এই গর্বের ইতিহাস খুদে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরতে মঙ্গলবার বিকেলে খণ্ডঘোষের জনপ্রতিনিধিরা বাদুলিয়া গ্রামের পীড়তলার আটচালায় একটি শিক্ষা মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।সেই অনুষ্ঠানে শিক্ষকের ভূমিকায় সামিল হন খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সদস্য অপার্থিব ইসলাম।তাঁর সঙ্গে সহ শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন অপর জেলাপরিষদ সদস্য তথা স্কুল শিক্ষক বিশ্বনাথ রায় ,সগড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুখেন্দু পাল ,স্কুল শিক্ষক অনাবিল ইসলাম এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী শেখ কামাল উদ্দিন। প্রায় শতাধিক স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া আটচালায় রসগোল্লার ইতিহাস বিষয়ের পাঠ নিতে উপস্থিত হয়। তাদের সবার হাতে প্রথমে রসগোল্লা তুলেদেন আপার্থিব ইসলাম সহ অন্য সকল জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকরা।তাঁরা তার পর খুদে পড়ুয়াদের রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাস নিয়ে পাঠদান শুরু করেন।তাঁরা রসগোল্লার সৃষ্টিকর্তার পরিচিতি,রসগোল্লা সৃষ্টির সময়কাল,কি কি উপকরণ দিয়ে কি ভাবে রসগোল্লা তৈরি হয় এবং ওড়িষ্যার সঙ্গে কতটা মিষ্টি যুদ্ধের পর বাংলার রসগোল্লা জিআই স্বীকৃতী লাভ করে,সেইসব কিছুই খুদে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরেন।বাংলার গৌরবের রসগোল্লার ইতিহাস নিয়ে শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের পাঠদান অভিভাবক মহলের প্রশংসা কুড়োয়।পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তাঁদের দলীয় কর্মীদের ভোট রাজনীতির পাঠ দিচ্ছেন।তা না করে এমন সময়ে হঠাৎ করে গ্রামের আটচালায় খুদে পড়ুয়াদের রসগোল্লা নিয়ে পাঠদানের কি প্রয়োজন হল? এই প্রশ্নের উত্তরে অপার্থিব ইসলাম বলেন, বাংলার রসগোল্লা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। তার পর থেকে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার রসগোল্লার প্রসিদ্ধি। তার জন্য প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর রসগোল্লা দিবস পালিত হয়।এই রসগোল্লা দিবস পালনে শহর এলাকার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা উৎসাহ দেখালেও গ্রাম বাংলায় তেমনটা হয় না। সেই কারণে গ্রামের খুদে পড়ূয়ারাও জানতে পারে না কেন বাংলার রসগোল্লা বিখ্যাত? রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাসটাই বা কি?অপার্থিব বাবু বলেন,আজকের খুদে পড়ুয়ারা বাংলার আগামী ভবিষ্যৎ। তাঁরা যদি বাংলার গর্বের রসগোল্লা সমন্ধে অন্ধকারে রয়ে থা তবে আগামী দিনে বাংলার রসগোল্লার ইতিহাসটাই মানুষের মনথেকে মুছে যাবে।সেটা যাতে না হয় তাই এদিন খুদে পড়ুয়াদের বোঝানো হয়।

নভেম্বর ১৫, ২০২২
রাজ্য

বালি বোঝাই ট্রাক্টারের ধাক্কায় প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রের

বর্ধমান শহরের বেড়মোড়ে বালি বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক স্কুল ছাত্রের। দুর্ঘনায় জখম হয় ছাত্রের বাবা।পূর্ব-বর্ধমানের খণ্ডঘোষের কেশবপুর থেকে বাবার সঙ্গে মোটরবাইকে করে বর্ধমানের গোলাহাটে যাওয়ার পথে বেড়মোড় এলাকায় একটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর বাইকটিকে ধাক্কা মারলে মন্তাসীর সেখ (১১) রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। জখম বাবা আজমগীর সেখ ও বর্ধমান মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।মন্তাসীর সেখ বর্ধমানের দেওয়ানদীঘি এলাকায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুল-র চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। পুলিশ ঘাতক ট্রাক্টরটি ও চালককে আটক করেছে।

অক্টোবর ১৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে স্কুল ছাত্রের রহস্য মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

বর্ধমানে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ইংরাজি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রের রহস্য মৃত্যু ঘিরে শুক্রবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত ছাত্রের নাম সৌমেন মুর্মু (২০)। সকালে হস্টেলের নীচ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই হস্টেলের আবাসিক ছিলো সৌমেন মুর্মু। আজ সকালে সে হস্টেলে আসে। আসার কিছুক্ষণ পরই তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হস্টেলের নীচে পরে থাকতে দেখা যায়। তার মাথায় ও চোখে রুমাল জড়ানো ছিলো বলে জানিয়েছেন হস্টেলের আবাসিক ও স্থানীয়রা। কি ভাবে তার মৃত্যু হল খতিয়ে দেখছে বর্ধমান থানার পুলিশ।সৌমেন পূর্ব-বর্ধমান জেলার মেমারি থানার পাল্লা রোডের কাছে সাহাপুর গ্রামের বাড়ি। তার বাবা মুনু মুর্মু। ঘটনার ঘটার কিছু পরেই বর্ধমান থানার আইসি সুখময় চক্রবর্তী অকুস্থলে পৌছে যান। তাঁর তত্বাবধানে চদন্ত চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২
স্বাস্থ্য

হোস্টেলের দাবীতে আন্দোলনে বর্ধমান ডেন্টাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা

বর্ধমানের ডেন্টাল কলেজের ছাত্ররা আন্দোলনে নেমেছেন। তারা দাবি তোলেন, ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে অবিলম্বে হোস্টেল চাই তাদের জন্য। রীতিমতো শ্লোগান দিয়ে তারা ধরণা চালিয়ে যাচ্ছেন।২০০৯ এ বর্ধমান ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এই কলেজে এখনও পর্যন্ত কোনোও হোস্টেল নেই। নতুন নতুন নার্সিং থেকে মেডিকেল কলেজ সবার হোস্টেল আছে।শুধু তাঁদেরই নেই।তাদের আরো বক্তব্য হোস্টেল না থাকায় তাদের বাইরের মেস বা পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতে হচ্ছে। জুনিয়র ডাক্তার বা ছাত্র হিসেবে এই সুযোগ তাদের প্রাপ্য। যদি কোনো ব্যবস্থা না হয় তারা আরও বড় আন্দোলনে নামবেন।তাদের কথায়, তারা জেলা এবং রাজ্যস্তরে জানিয়েছেন। কোনো ফল হয় নি তাতে। আজ থেকে তারা আন্দোলন শুরু করলেন। তবে আউটডোর সহ রোগীর পরিষেবা সব চালু রেখেছেন তারা।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২
রাজ্য

বাগুইআটির পর ইলামবাজার, অপহরণের পর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র খুন

পাথর ব্যবসায়ীর ছেলেকে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ উঠল। আসানসোল পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রের গলাকাটা ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় বীরভূমের ইলামবাজারের জঙ্গলে। জানা গিয়েছে, ছাত্রের বাবার কাছে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ফোন এসেছিল। মৃতের ছাত্রের বন্ধু সালমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।বাগুইআটির দুই মাধ্যমিক ছাত্রকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় তোলপাড়। তারপর ইলামবাজারে ক্ষত-বিক্ষত ছাত্রের দেহ মিলল। শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ হয় আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারংয়ের ছাত্র সৈয়দ সালাউদ্দিন। তারপর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ মুক্তিপন চেয়ে ফোন আসে তার বাবার কাছে। পুলিশকে পুরো বিষয়টা জানায় সালাউদ্দিনের বাবা। অপহরণকারীরা পুলিশকে জানাতে নিষেধ করেছিল। অপহরণকারীরা জানিয়েছিল, তারা দুর্গাপুরে আছে। ইলামবাজারের দিকে যাচ্ছে। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রের মৃতদেহ মেলে। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটির দূরে মোটর বাইক মিলেছে। পুলিশ মনে করছে, একেবারে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জেনে যাওয়ায় তড়িঘড়ি খুন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছে, অপহরণকারীরা ছাত্রের ঘনিষ্ঠ বা কাছের কেউ এই কাণ্ডে সহযোগিতা করেছে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২
রাজ্য

বাগুইআটির দুই ছাত্র খুনে অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র পুলিশের জালে

বাগুআটির দুই কিশোর হত্যার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরীকে। দীর্ঘ টানাপড়েন, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, পুলিশ কর্তা সাসপেন্ডের পর বিধাননগর পুলিশের হাতে শুক্রবার সকালে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে গ্রেফতার বাগুইআটি খুনের মূল অভিযুক্ত৷ সূত্রের খবর, ফোনের টাওয়ার লোকেটেড করেই তার সন্ধান পায় পুলিশ৷ অভিযুক্ত বারবার লোকেশন বদবাচ্ছিল, হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে ভিন রাজ্যে পালানোর পরিকল্পনা ছিল সত্যেন্দ্রর৷ আদতে সে বিহারের বাসিন্দা। শেষমেষ তার কিন্তু সেই ইচ্ছা আর সফল হল না৷ অভিযুক্তের ফাঁসি চাইছে, মৃত ছাত্রদের পরিবারের সদস্যরা৷অতনু দে ও অভিষেক নষ্করকে এই সত্যেন্দ্রই খুন করেছে বলে দুই পরিবারের তরফে অভিযোগ কা হয়েছে। অভিযোগ, এই সত্যেন্দ্রই ২২ আগস্ট দুই পড়ুয়াকে মোটর বাইক কেনার জন্য নিয়ে যায়। অতনু দে এবং অভিষেক নস্করকে শ্বাস রোধ করে খুন করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাট পর নহু দিন পলাতক ছিলেন সত্যেন্দ্র।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২২
রাজ্য

গঙ্গারামপুরে স্কুলের ক্লাসরুমে ভিতর ইউনিফর্ম পরে নাচ ভাইরাল

ক্লাসরুমের ভেতরে পড়ুয়াদের নাচের ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ইউনিফর্ম পরে বাংলা গানে নাচের ভিডিও ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় গঙ্গারামপুর শহরজুড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে গঙ্গারামপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নিরঞ্জন ঘোষ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে।ঘটনা নিয়ে শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতির্ময় রায়।জানা গেছে গঙ্গারামপুর শহরের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত নিরঞ্জন ঘোষ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৪০০জন এবং শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছে প্রায় ৪০জন। জানা গেছে গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় যুব সংসদ প্রতিযোগিতা। সেইসময় বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর বেশকিছু ছাত্রছাত্রী ক্লাসরুমে ইউনিফর্ম পরে নাচ করে। ইতিমধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে পরে সোস্যাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় গোটা গঙ্গারামপুর শহরজুড়ে। ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতির্ময় রায়।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২২
রাজ্য

বর্ধিত হারে ডিএ না দেওয়ায় কর্মবিরতিতে অংশগ্রহণ করা শিক্ষক ও কলেজের কর্মীদের হুমকি জামালপুরের ছাত্র নেতার

বর্ধিত হারে মহার্ঘভাতা সহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার ২ ঘন্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল বাম সমর্থিত কর্মি সংগঠন। সেই কর্মবিরতির ডাকে সামিল হওয়ার জন্য পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর কলেজের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের রুমে ঢুকে শাসালেন ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিট্টু মল্লিক। তাঁর আচরণে শিক্ষক মহলের অনেকেই আরাবুলের ছায়া দেখতে পেয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানিয়েছেন।টেবিল চাপড়ে শিক্ষকদের হুঁশিয়ারিও দিলেন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ এই ছাত্র নেতা। প্রসঙ্গত, তিনি জামালপুর কলেজের ছাত্র নন। কলেজ পড়ুয়া না হয়েও শুধুমাত্র শাসক দলের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে একজন যুবক কি ভাবে কলেজ শিক্ষকদের এইভাবে হুমকি ও হুঁশিয়ারি দিতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরাই। মঙ্গলবার ২ ঘন্টার কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ কলেজে আটকেও রাখা হয়।

আগস্ট ৩১, ২০২২
শিক্ষা

আবার অশান্তি বর্ধমানের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (ইউ আই টি)

আচমকাই সেশনের মাঝে ফিস বৃদ্ধি, প্রতিবাদে ক্লাস বন্ধ রেখে বিক্ষোভ ছাত্রছাত্রীদের। ফিস বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামলো বর্ধমানের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ বছরের মাঝে হঠাৎই কলেজ কর্তৃপক্ষ পাঁচ হাজার টাকা ফিস বাড়িয়েছে। ফলে সমস্যার মধ্যে পড়েছে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, আগষ্ট মাসের ১৬ তারিখে কলেজের তরফে একটি নোটিফিকেশন দেওয়া হয়েছে তাতে জানানো হয়েছে ১ আগষ্ট থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে ফিস বাড়ানো হয়েছে। আগষ্টের ৩১ তারিখে বর্ধিত ফিস জমা না দিলে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা ফাইন দিতে হবে বলেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ছাত্রছাত্রীরা।প্রতিবাদে সোমবার থেকে পঠন পাঠন বন্ধ রেখে কলেজ চত্ত্বরে বিক্ষোভ আন্দোলনে সামিল হয়েছে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা। ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সিভিল, ইলেকট্রিকাল, সিএসই, আইটি, ইসিই, এইআইএফ বিভাগের ২৮০ জন ছাত্রছাত্রী এই আন্দোলনে সামিল হয়েছে। তাদের দাবী অবিলম্বে এই বর্ধিত ফিজ মুকুব করতে হবে। যতদিন কর্তৃপক্ষ এই ফিস মুকুব না করবে ততদিন আন্দোলন চলবে বলে জানাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা।এই বিষয়ে ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রিন্সিপাল অভিজিৎ মিত্র টেলিফোনে জানান, ২০২১ সালে এই ছাত্রছাত্রীরা যখন ভর্তি হয়েছিল তখন তাদের নোটিফিকেশনের মাধমে জানানো হয়েছিল যেকোনো সময়ে ফিস বাড়ানো হতে পারে। এতদিন কোভিড পরিস্থিতিতে ফিস বাড়ানো হয়নি। এবার খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এক্সিকিউটিভ কমিটিতে আলোচনা করে ফিস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগস্ট ২৯, ২০২২
রাজ্য

দামোদরের ঘূর্ণিতে তলিয়ে যাওয়া তরুণের দেহ উদ্ধার

অবশেষে শনিবার দুপুরে উদ্ধার হল দামোদরের ঘূর্ণিতে তলিয়ে যাওয়া তরুণের দেহ। প্রায় একদিন পরে তার দেহ মিলল। নিহত তরুণের নাম সৌরশুভ্র সাঁই। বাড়ি কালনাগেটের কাছে আমতলায়।এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই নিয়ে গত কয়েকবছরে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটল আপাত শান্ত দামোদরে তলিয়ে গিয়ে।জানা গেছে; গতকাল বিকেলে কয়েকজন বন্ধুর সাথে দামোদরের চরমানায় বেড়াতে দিয়েছিল সৌরশুভ্র। সেখানে খেলতে খেলতেই সে জলে তলিয়ে যায়। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞদের ধারণা সে নদীর কোন দয়ে পড়ে আর উঠতে পারেনি।গতকাল থেকে নানাভাবে সন্ধান করেও দেহ মেলেনি। ডিজাস্টের ম্যানেজমেন্ট ; কুইক রেসপন্স টিম সহ স্থানীয় মানুষেরা উদ্ধারের জন্য নানা ভাবে চেষ্টা করে অবশেষে দেহ উদ্ধার করতে পারে।

আগস্ট ২৭, ২০২২
রাজ্য

পাঁশকুড়া গার্লস হাই স্কুলের চারজন ছাত্রীর ওপর তরল জাতীয় পদার্থ ছুড়ে মারে দুজন যুবক, এলাকায় উত্তেজনা

শুক্রবার স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের সময় পাঁশকুড়া গার্লস হাই স্কুলের চারজন ছাত্রীর ওপর তরল জাতীয় পদার্থ ছুড়ে মারে স্থানীয় দুজন যুবক, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ওই দুই যুবক লস্যি খেতে খেতে যাওয়ার সময় ওই লস্যি ছাত্রীদের গায়ে ছুড়ে মারে,ধৃত ২ যুবক বলেন, ক্লাস রুম থেকে ক্লাস সেভেনের ছাত্রীরা ভেঙ্গানোর ফলেই রাগবশত ওই লস্যি তাদের গায়ে ছুড়ে মারে, আতঙ্কিত ছাত্রীরা অসুস্থ বোধ করলে তাদের তৎক্ষণাৎ পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যান স্কুলের শিক্ষিকারা, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জানান ওই চারজন ছাত্রীর মধ্যে দুজনের স্যাম্পেল পরীক্ষা করার পর এসিড হালকা স্যাম্পল পাওয়া যায়, এখন ছাত্রীদের অবস্থা স্থিতিশীল, প্রত্যেককেই তাদের অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ।

আগস্ট ২৭, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে বড় বিস্ফোরণ! ক্ষোভে ফেটে পড়ে সরাসরি ফিফাকে কাঠগড়ায় তুলল ইরান

বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচ ড্র করার পর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে ইরান। মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি এবার ফিফার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তুলেছে দলটি। অধিনায়ক মেহদি তারেমি এবং কোচ আমির ঘালেনোইর দাবি, আয়োজনের বিভিন্ন সমস্যার কারণে শুরু থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাঁদের। সেই পরিস্থিতির প্রভাব দলের পারফরম্যান্সেও পড়েছে বলে অভিযোগ।গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে এক-এক গোলে ড্র করার পর ড্রেসিংরুমে একটি আবেগঘন বার্তা লিখে রেখে যায় ইরান দল। সেই বার্তায় তারা জানায়, তাদের কাছে ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, সম্মান এবং চরিত্রেরও পরীক্ষা। বার্তায় আরও বলা হয়, পয়েন্ট জেতা সম্ভব, কিন্তু সম্মান অর্জন করা যায় না। স্বচ্ছতা ও মর্যাদা নিয়েই ইতিহাসের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায় তারা। পাশাপাশি সিয়াটলের আতিথেয়তা এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়।এটি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার ড্রেসিংরুমে বার্তা রেখে যাওয়ার ঘটনা। এর আগেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর একই ধরনের বার্তা লিখেছিল ইরান দল।ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মেহদি তারেমি বলেন, এই বিশ্বকাপ তাঁদের কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক অভিজ্ঞতা। তাঁর অভিযোগ, শুরু থেকেই বিভিন্ন সমস্যার কথা জানানো হলেও ফিফার পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর সমাধান করা হয়নি। এমনকি ফিফার সভাপতি প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।ইরানের অভিযোগ, দলের বেশ কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক কর্মী ভিসা না পাওয়ায় প্রতিযোগিতার সময় দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। এর ফলে ফুটবলারদের যাতায়াত, অনুশীলন এবং শারীরিক পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সমস্যা তৈরি হয়। তারেমির দাবি, একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এমন পরিস্থিতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যদি কোনও দলকে বিদায় দিতেই হয়, তা মাঠের খেলায় হোক, আয়োজনের সমস্যার কারণে নয়।একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোচ আমির ঘালেনোইও। তাঁর অভিযোগ, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। যদি দলকে আরও আগে আয়োজক দেশে পৌঁছতে দেওয়া হত, তাহলে ফুটবলাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক ভালো অবস্থায় থাকতেন। ভবিষ্যতে কোনও দলের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি যেন না হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।গ্রুপ পর্ব শেষে ইরানের পরের পর্বে ওঠা এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফিফার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগও বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি বিজেপি বিধায়ক! অস্ত্রোপচারের পর কী জানালেন পাপিয়া অধিকারী?

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। শনিবার তাঁকে বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী একই দিন তাঁর ডান হাতের একটি আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিধায়কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় হাসপাতালের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর জানানো হয়েছে।পাপিয়া অধিকারী জানান, তাঁর ডান হাতের মধ্যমা আঙুলে সংক্রমণ হয়েছিল। সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আঙুল ফুলে যায় এবং তীব্র যন্ত্রণার কারণে হাত নাড়াতেও অসুবিধা হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। সেই কারণেই আর দেরি না করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে অস্ত্রোপচার চলে।অস্ত্রোপচারের পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে পাপিয়া অধিকারী বলেন, তিনি এখন অনেকটাই ভালো আছেন। একই সঙ্গে বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবারও প্রশংসা করেন তিনি। বিধায়কের কথায়, টালিগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় এই সরকারি হাসপাতাল তাঁর বাড়ির সবচেয়ে কাছের। এখানকার চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের কর্মীরা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করেছেন। অস্ত্রোপচার কক্ষের পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও তাঁর ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।পাপিয়া অধিকারীর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন দলের সহকর্মী এবং অনুগামীরা। আপাতত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
দেশ

হঠাৎ কেঁপে উঠল দিল্লি-সহ উত্তর ভারত! আতঙ্কে রাস্তায় মানুষ, কী জানাল ভূকম্প বিশেষজ্ঞরা?

শনিবার সন্ধ্যায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। সেই কম্পনের প্রভাব অনুভূত হয়েছে দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায়। পাশাপাশি পাকিস্তান, চিন, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানেও মাটি কেঁপে ওঠে। হঠাৎ কম্পন অনুভূত হওয়ায় বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর ও অফিস ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটা চার মিনিটে আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ছয় দশমিক দুই। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের কালাফগান এলাকার কাছাকাছি, ভূপৃষ্ঠের প্রায় দুইশো পনেরো কিলোমিটার গভীরে। গভীরতা বেশি হওয়ায় কম্পন বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনুভূত হয়েছে।দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন টের পান বাসিন্দারা। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য বাড়ি ও অফিস থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর জানানো হয়নি।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একই দিনে পাকিস্তানেও সকালে পাঁচ দশমিক পাঁচ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। পরে সন্ধ্যায় আবারও সেখানে কম্পন অনুভূত হয়। এ ছাড়া শনিবার সকালে হিমাচল প্রদেশের চাম্বা এলাকায় তিন দশমিক দুই মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়। তবে সেই ঘটনাতেও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।এক দিনের মধ্যে পরপর একাধিক ভূমিকম্পের ঘটনায় দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন এবং পরবর্তী আপডেটের অপেক্ষায় রয়েছেন।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

রিষড়ায় স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীর মর্মান্তিক পরিণতি! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

হুগলির রিষড়ায় এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত ব্যক্তি ওই মহিলার স্বামী। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।শনিবার সকালে রিষড়ার তিন নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বত্রিশ বছরের মণিকা ওঝার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর গলায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার সময় পাশের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল দম্পতির ছয় বছরের মেয়ে। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই তাঁরা মহিলার নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।প্রতিবেশীদের দাবি, শুক্রবার রাতে ওই বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসার শব্দ শোনা গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকা দীপঙ্কর সরকার কয়েক দিন আগে বাড়ি ফিরেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে তদন্তকারীরা তাঁর সন্ধান শুরু করেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, মহিলার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তি মেট্রো লাইনে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। পরে তাঁর পরিচয় জানতে গিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তিনি রিষড়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দীপঙ্কর সরকার। এরপর থেকেই দুই ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তি এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে দীপঙ্করের মনে সন্দেহ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে দম্পতির ছয় বছরের শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশীরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেফতার আউশগ্রাম-২ তৃণমূল সভাপতি ও ছেলে, আদালতে মিলল শর্তসাপেক্ষ জামিন

পাঁচ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় নতুন মোড়। বিজেপি কর্মীর বাড়ি, দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ আব্দুল লালন এবং তাঁর পুত্র শেখ আফজল রহমান ওরফে সঞ্জুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালত তাঁদের শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করায় আইনি মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর রাতে কলকাতার গড়ফা থানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করে আউশগ্রাম থানার অধীন ছোড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এলাকা ছেড়ে কলকাতায় আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁদের বাড়ি আউশগ্রাম থানার গেঁড়াই গ্রামে।এই মামলার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১৯ মে, যখন আউশগ্রাম থানার ভুঁয়েড়া গ্রামের এক বিজেপি কর্মী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালের ৩ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ শেখ আব্দুল লালনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি লাঠি, রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়। পরিবারের মহিলারা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।শুধু বাড়িই নয়, অভিযোগকারীর বাড়ির পাশেই থাকা কাপড়ের দোকানেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় সাত লক্ষ টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর প্রাণভয়ে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হন অভিযোগকারী। তাঁর আরও দাবি, পরবর্তী সময়েও অভিযুক্তরা এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ বজায় রেখেছিল এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই গত ২৫ মে একই মামলায় ভুঁয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা গৌতম আঁকুড়ে নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শেখ আব্দুল লালনের বিরুদ্ধে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে আউশগ্রাম থানায় মোট পাঁচটি পৃথক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। গ্রেফতারের আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর ছেলে পূর্ব বর্ধমান জেলা ও দায়রা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক অভিযোগের গুরুত্ব, ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুট এবং এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে সেই আবেদন খারিজ করে দেন।শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমানের মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারকের (সিজেএম) আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা। অন্যদিকে, ধৃতদের আইনজীবী দাবি করেন, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং পূর্বে কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি। সেই যুক্তিতে জামিনের আবেদন করা হয়।উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পুলিশি হেফাজতের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা, সাক্ষীদের প্রভাবিত না করা এবং মামলার প্রমাণ নষ্ট না করার শর্তে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর পুত্রকে জামিন মঞ্জুর করা হয়।এদিকে, একই দিনে আউশগ্রামের আরও একটি মামলায় শেখ আব্দুল লালনকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্তকারী অফিসার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলার সম্পূর্ণ নথিপত্র আদালতে উপস্থিত না থাকায় ভারপ্রাপ্ত সিজেএম আবেদনটি গ্রহণ না করে নিয়মিত আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। ফলে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো সম্ভব হয়নি এবং জামিনে মুক্তি পান তিনি।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগে বহু ক্ষেত্রে সিজেএম আদালত পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। তাছাড়া জেলা আদালত ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন নাকচ করে জামিন মঞ্জুর হওয়ায় বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।যদিও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং অভিযুক্তদের নির্ধারিত সমস্ত শর্ত মেনে চলতে হবে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

তারাতলা কাণ্ডে ফিরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবার সরাসরি গ্রেফতারির দাবি কুণালের! বেঁধে দিলেন সময়সীমাও

তারাতলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ষোলো। এখনও জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল এবং এর জন্য কার গাফিলতি দায়ী, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এই ঘটনার জেরে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আর সেই আবহেই ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে সরব হলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ।এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, তারাতলার সংশ্লিষ্ট বহনের নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদনের নথিতে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি থাকে, তাহলে এখনও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।কুণাল ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নথি দেখিয়ে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষরের কথা বলেছিলেন। তাই যদি তিনি সত্যিই দোষী হন, তাহলে আইন অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত। তিনি দাবি করেন, শনিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যেই এই পদক্ষেপ করা হোক। পাশাপাশি তিনি বলেন, ওই দিন বিকেলে একটি রাজনৈতিক বৈঠক রয়েছে। সেখানে যদি ফিরহাদ হাকিম কাউন্সিলরদের নিয়ে উপস্থিত হন, তাহলে ধরে নিতে হবে তাঁকে গ্রেফতার করার কোনও সদিচ্ছা নেই।তিনি আরও দাবি করেন, যদি ফিরহাদ হাকিমকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। অন্যদিকে, যদি তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে বোঝা যাবে সরকার সত্যিই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। দলের দাবি, কোনও রাজনৈতিক নেতার পক্ষে গ্রেফতারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার অধিকার নেই।শনিবার সকালে তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং কাউন্সিলর সামস ইকবালের বিরুদ্ধে তারাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

‘স্যাটা ভাঙা মার’ মন্তব্যেই বিপদ! হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নতুন বিতর্কে তোলপাড়

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্যাটা ভাঙা মার মন্তব্যের জেরে শনিবার সন্ধ্যায় বহরমপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি যুব মোর্চা এবং সামাজিক সংগঠন রাম সীতা সেবা মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন মন্তব্য সমাজে উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।শুক্রবার রেজিনগরে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিজেপি সরকার গঠন করেছে, তাতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে পরাজিত হওয়ার পরেও কয়েক জন বিজেপি নেতা অযথা দাপট দেখাচ্ছেন। এরপরই তিনি বলেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তাহলে তিনি মুসলিমদের একজোট করে স্যাটা ভাঙা মার দেবেন। এমনকি তিনি আরও দাবি করেন, সেদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশ সুপারের কথাও ভাববেন না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।হুমায়ুন কবির অতীতেও একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিরোনামে উঠে এসেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় তাঁর একাধিক মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা হয়েছিল। পরে বিতর্কের জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নওদা এবং রেজিনগর দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন তিনি। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তাঁর ছেলের জন্য।এবারের বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিজেপি যুব মোর্চা এবং অভিযোগকারী সংগঠনগুলির দাবি, একজন বিধায়কের এমন বক্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

যাঁর নামে কাঁপত বারাবনি, আজ কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ! সামনে যা হল, তাতে চাঞ্চল্য

একসময় বারাবনির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন অসিত সিং। সেই অসিত সিংকে শনিবার খালি পায়ে, হাফপ্যান্ট পরা এবং কোমরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় পুলিশের পাহারায় দেখে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গৌরান্ডি এলাকায়। ধৃত নেতাকে সামনে পেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। শুরু হয় বিক্ষোভ, ওঠে কঠোর শাস্তির দাবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী সভায় হামলার মামলার তদন্তে ধৃত অসিত সিং, তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিং এবং সহযোগী আকবর আলমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই সময়ই বহু মানুষ সেখানে জড়ো হন। ধৃতদের দেখে বিক্ষোভ শুরু হয়। অনেকে চোর চোর স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, ধৃতদের লক্ষ্য করে চটি ছোড়া হয়। উত্তেজিত কয়েক জন পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ধৃতদের মারার চেষ্টাও করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তদন্তের কাজ শেষ করে।এই মামলার সূত্রপাত দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়। অভিযোগ, গৌরান্ডিতে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী সভা ভণ্ডুল করতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর, বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। সেই মামলার তদন্তেই এদিন ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে অসিত সিং এবং তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে ধরা হয় আকবর আলমকে। এর আগে অসিত সিংয়ের আর এক ভাই পিন্টু সিংও গ্রেফতার হয়েছিলেন। ফলে এই মামলায় অভিযুক্ত মূল চক্রের প্রায় সকলেই এখন পুলিশের হেফাজতে।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বারাবনি এলাকায় অসিত সিং এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দাদাগিরি, অত্যাচার ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। এক সময় তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে, বারাবনি থানার মধ্যেই জন্মদিন পালন নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়।এবার একসময়ের সেই প্রভাবশালী নেতাকে পুলিশের হেফাজতে দেখে অনেকেই স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

জুন ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal