• ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Siliguri

রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নিয়ে অমিত শাহের মুখে এমন কথা! কী বদলেছে বাংলায়, মঞ্চে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই আবহেই উত্তরবঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য জমি দেওয়াএকাধিক বিষয় তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সমন্বয়ের কথা জানান শাহ।মঞ্চে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পাওয়া সহজ হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজন হলে ফোন করলেই অনুমতি পাওয়া যায়, চিঠি পরে যায়। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।শাহ আরও জানান, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফ এবং এসএসবির জন্য ১১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই জমি ২০১৪ সাল থেকেই চাওয়া হচ্ছিল। আরও ২৯ একর জমি দেওয়ার বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব রয়েছে। বাংলার উন্নয়ন এবং রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ বন্ধ না হলে বাংলা বা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সেই কারণে সীমান্তে কাঁটাতারের প্রয়োজন রয়েছে।এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময়ের কথাও টেনে আনেন শাহ। তাঁর দাবি, বিএসএফের জন্য জমি দেওয়ার বিষয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছিল। এমনকি তিনি নিজে তাঁর দফতরেও গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মতি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত জমি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শাহ।শাহের কথায়, এসএসবি বা বিএসএফ কোনও রাজনৈতিক দল নয়। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দল-মত নির্বিশেষে জওয়ানদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর ১০০ দিনের সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি তুলে ধরে অমিত শাহের এই বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য জমি দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে।

আগস্ট ২১, ২০২৬
দেশ

চিকেনস নেকে বড়সড় নিরাপত্তা আতঙ্ক! পানের দোকানের আড়ালে কী চলছিল? গ্রেপ্তার যুবক

পূর্ব ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি সিকিমে বড়সড় অভিযানে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং গ্যাংটক পুলিশের যৌথ অভিযানে ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপ, উগ্রপন্থী প্রচার এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের মতাদর্শ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গ্যাংটকের নাং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া উনিশ বছরের মহম্মদ আরজু একটি পানের দোকানের আড়াল থেকে এই কার্যকলাপ চালাতেন বলে অভিযোগ। তবে এই অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ আরজু তাঁর বাবার সঙ্গে গ্যাংটকের লোয়ার এমজি মার্গ এলাকায় একটি পানের দোকান পরিচালনা করতেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই ব্যবসার আড়ালেই তিনি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে উগ্রবাদী প্রচার চালাতেন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করতেন। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তারা একটি সামাজিক মাধ্যমের গোষ্ঠীর সন্ধান পেয়েছে, যার মাধ্যমে দেশবিরোধী প্রচার এবং উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। সেই সূত্র ধরেই মহম্মদ আরজুর নাম সামনে আসে। এরপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং গ্যাংটক পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত যুবকের আচরণে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাঁর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই পরীক্ষায় বিভিন্ন কথোপকথন, সন্দেহজনক তথ্য আদান-প্রদান এবং ভারত ও পাকিস্তানে অবস্থানকারী কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং কোনও বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর যোগসূত্র আছে কি না।সিকিম পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, অনলাইনের মাধ্যমে উগ্রবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সিকিমের বিধায়ক কলা রাই। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর কড়া নজরদারি চালানো প্রয়োজন।

জুলাই ০১, ২০২৬
রাজ্য

মাত্র ৮ মাসেই ভেসে গেল কোটি টাকার সেতু! কাটমানির অভিযোগে বিস্ফোরক শুভেন্দু

উত্তরবঙ্গের প্রবল বর্ষণে বড় ধাক্কা খেল দুধিয়া সেতু। মাত্র আট মাস আগে তৈরি হওয়া এই সেতু ভেসে যাওয়ায় শিলিগুড়ি ও মিরিকের সরাসরি যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি নতুন সেতু কীভাবে ভেসে গেল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দুধিয়া সেতু নির্মাণে কোনও অনিয়ম বা কাটমানির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত সরকারের প্রধান লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব অস্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে দেওয়া।মুখ্যমন্ত্রী জানান, টানা বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় ছোট-বড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। দার্জিলিং, মিরিক এবং সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে পরিস্থিতির উপর প্রশাসন কড়া নজর রাখছে। নবান্নের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চলছে। সেচ দপ্তর ও জেলা প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।তিনি আরও জানান, বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের যাতে কোনওরকম ক্ষতি না হয়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে।এদিকে আবহাওয়া দপ্তরও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।শনিবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।অন্যদিকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। আগামী কয়েক দিন বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।দুধিয়া সেতু ভেসে যাওয়ার ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত কম সময়ে নতুন নির্মিত সেতুর এমন পরিণতি কেন হল? প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তের দাবিও জোরালো হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের মানুষ এখন অপেক্ষা করছেন দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার।

জুন ১৯, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় আসছে বুলেট ট্রেন! দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ছয় ঘণ্টায়, বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের এক মাসের মধ্যেই রেল প্রকল্পগুলিতে নতুন গতি এসেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে পাশে নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প নানা কারণে আটকে ছিল। এখন সেই বাধা কাটিয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আগের সরকার রেলের বহু উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেনি। এমনকি কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও নানা বাধা তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।বাংলার জন্য রেলের বরাদ্দ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হত। বর্তমানে সেই অঙ্ক বেড়ে চোদ্দ হাজার দুইশো পাঁচ কোটিতে পৌঁছেছে। জমি অধিগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংক্রান্ত সমস্যাগুলিও ধীরে ধীরে মিটছে বলে জানান তিনি।রেলমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে একশো দুইটি অমৃত ভারত স্টেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দশটি স্টেশনের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে নয়টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং তেরোটি অমৃত ভারত ট্রেন চলাচল করছে বলেও তিনি জানান।সবচেয়ে বড় ঘোষণা আসে বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে। রেলমন্ত্রী বলেন, দিল্লি থেকে বারাণসী, পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি বুলেট ট্রেন করিডর তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ছয় ঘণ্টায় পৌঁছনো সম্ভব হবে।কলকাতা মেট্রোর উন্নয়নের জন্যও বড় পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শহরের মেট্রো পরিষেবায় ষাটটি নতুন প্রজন্মের ট্রেন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব থেকে পশ্চিম ভারতে পণ্য পরিবহণের জন্য একটি নতুন ফ্রেট করিডর চালু হবে। এই করিডর ডানকুনি থেকে শুরু হয়ে সুরাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।রেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে রেলপথের শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আগামী দিনে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাংলার রেল পরিকাঠামো আরও আধুনিক ও উন্নত হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

জুন ০৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোট মিটতেই রণক্ষেত্র! কড়া পদক্ষেপে নামল শিলিগুড়ি পুলিশ, একের পর এক গ্রেফতার

ভোট শেষ হতেই হিংসার আশঙ্কায় কড়া অবস্থান নিল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রশাসন এবার শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় হিংসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কোনও রকম আপস করা হবে না। তিনি বলেন, হিংসার ঘটনার মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ টহলও বাড়ানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে, কেউ যেন আইন নিজের হাতে না তুলে নেন। কোনও ধরনের প্ররোচনামূলক কাজ বা গুজব ছড়ানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোশ্যাল মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ালেও রেয়াত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শহরের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড়া হবে না।

মে ০৬, ২০২৬
রাজ্য

বাংলার ভোট দেখতে বিদেশিরা! শিলিগুড়িতে নজর কাড়ল গণতন্ত্রের উৎসব

রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটের উৎসব। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব বলা হয়। সেই উৎসব এবার দেখতে বিদেশ থেকেও প্রতিনিধি দল এসে পৌঁছেছে বাংলায়। শিলিগুড়িতে এসে তাঁরা সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন।শিলিগুড়ি কলেজের নির্বাচন কেন্দ্র ঘুরে দেখেন বিদেশি প্রতিনিধিরা। এই দলে নামিবিয়া, জর্জিয়া, নেপাল, ফিলিপিন্স, সুইজারল্যান্ড এবং কেনিয়াএই ছয়টি দেশের প্রতিনিধি রয়েছেন। সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যরাও আছেন। সব মিলিয়ে মোট ১৩ জনের এই দল প্রথমেই প্রশাসনিক আধিকারিক এবং ভোটকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কীভাবে এত বড় পরিসরে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়, তা তাঁদের বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়।বিপুল সংখ্যক পুলিশ, প্রশাসনিক কর্মী এবং সরকারি আধিকারিকদের একসঙ্গে কাজ করতে দেখে বিদেশি প্রতিনিধিরা বিস্মিত হন। যদিও তাঁরা সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনে কিছু বলতে চাননি।এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানান, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন বিশ্বজুড়ে পরিচিত তার উৎসবমুখর পরিবেশের জন্য। সেই অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখতেই বিদেশি প্রতিনিধিরা এসেছেন। তাঁরা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ঘুরে দেখবেন এবং কীভাবে প্রতিটি বুথে নজরদারি করা হচ্ছে, তা বুঝবেন। এছাড়া তাঁরা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও দেখবেন।কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে বিদেশি প্রতিনিধিরা যথেষ্ট মুগ্ধ। এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বে ভারতের গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
রাজ্য

রাষ্ট্রপতিকে সামনে পেয়েই বড় দাবি! বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের ডাক বিজেপি সাংসদের

শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শিলিগুড়িতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁকে স্বাগত জানানোর সময় প্রোটোকল ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়, কোনও প্রোটোকল ভঙ্গ করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি ভবন এবং নবান্নের মধ্যে নজিরবিহীন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।এর মধ্যেই সুযোগ নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, বাংলার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তাঁর দাবি, এই অবস্থায় একমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তার অধীনে নির্বাচন করলেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব। দ্রুত বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি জানান তিনি।এর কিছুক্ষণ পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনিই শনিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠান শেষ করে দিল্লি পৌঁছানোর আগেই বিজেপি সাংসদ রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলছেন। তাঁর প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতিকে দেখেই কি এই কথা মনে পড়ল? তাঁর দাবি, দলের বড় নেতারা যা বলেন, রাজু বিস্তাও সেটাই বলছেন।গৌতম দেব আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিজেপি সাংসদের চিন্তা করার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, যদি তৃণমূল ভোটে কারচুপি করত, তাহলে রাজু বিস্তা কীভাবে জিতলেন? তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাংসদ নিজের কেন্দ্রে খুব একটা থাকেন না, অথচ ভোটের আগে বড় বড় কথা বলছেন।উল্লেখ্য, বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ বলে অভিযোগ তুলে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব আগেও একাধিকবার রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলেছে। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই দাবি বারবার করেছেন। তবে সেই দাবি এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তাই রাজু বিস্তার এই দাবিকেও গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব।

মার্চ ০৮, ২০২৬
রাজ্য

বাংলায় এসে বিস্ফোরক মন্তব্য রাষ্ট্রপতির! ‘মমতা হয়তো আমার উপর রাগ করেছেন’

ভোটের আগে বাংলায় রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সভাস্থল নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার অনুমতি দেয়নি। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত অন্য জায়গায় সভা করতে হয়েছে।শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে তিনি মঞ্চে ওঠার পর দেখা যায় দর্শকাসনে অনেক চেয়ারই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত চেয়ার ফাঁকা কেন। তাঁর সন্দেহ, কেউ হয়তো বাধা দিয়েছে।উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রথমে ঠিক হয়েছিল এই সম্মেলন হবে বিধাননগরে। কিন্তু পরে একাধিকবার সভাস্থল বদল করতে হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি দেয় প্রশাসন। তবে আয়োজকদের অভিযোগ, অনেক আমন্ত্রিত অতিথি নিরাপত্তা পাশ না পাওয়ায় অনুষ্ঠানে ঢুকতে পারেননি। পুলিশ তাদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ।সভা শেষে রাষ্ট্রপতি সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরে যান, যেখানে প্রথমে সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন এবং বলেন, তিনি আসলে এখানেই সভা করতে চেয়েছিলেন। জায়গাও যথেষ্ট ছিল। তবে কেন রাজ্য সরকার অনুমতি দিল না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি তাঁর ছোট বোনের মতো। তবে হয়তো কোনও কারণে তিনি তাঁর উপর রাগ করেছেন, সেই কারণেই সভা করতে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়েও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি কোনও রাজ্যে গেলে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ তাঁকে স্বাগত জানান। সেটাই নিয়ম এবং প্রোটোকল।শেষ পর্যন্ত বিধাননগরে পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় একটি শালগাছ লাগিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন রাষ্ট্রপতি।অন্যদিকে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানান, রাজ্যের পক্ষ থেকে তিনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। জেলা শাসক এবং পুলিশ কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর কথায়, এর আগেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায় যখন এসেছিলেন, তখনও তিনি তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সভাস্থল নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা মূলত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মার্চ ০৭, ২০২৬
রাজ্য

শিলিগুড়িতে মহাকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস, বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি ও ১২ জ্যোর্তিলিঙ্গের প্রতিরূপে নতুন তীর্থক্ষেত্র

শিলিগুড়ি জেলার মাটিগাড়ায় এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্পের সূচনা হল বুধবার। মহাকাল মহাতীর্থ-সহ একাধিক জনহিতকর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শুভ শিলান্যাস করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭.৪১ একর জমির উপর গড়ে উঠতে চলা মহাকাল মহাতীর্থকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিবমন্দির নির্মাণ করা হবে। মন্দির চত্বরে থাকবে ভারতবর্ষের ১২টি জ্যোর্তিলিঙ্গের প্রতিরূপ এবং ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির। দুটি প্রবেশপথ, চার কোণে চার দেবতার মূর্তি, সাংস্কৃতিক হল ও কনভেনশন সেন্টার এই মহাতীর্থকে এক পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে। মহাকাল মূর্তির মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট, যার মধ্যে ১০৮ ফুট উচ্চ ব্রোঞ্জের মূল মূর্তি বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই মন্দির নির্মাণের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু মন্দির নয়, মহাদর্শনের জন্য বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তিও এখানে তৈরি করা হচ্ছে। বাংলার এই পুণ্যতীর্থ যুগ-যুগান্ত ধরে বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে থাকবে।ভাষণে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভূমি। কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াক, দিঘায় জগন্নাথ ধাম ও দুর্গা অঙ্গন নির্মাণের পাশাপাশি রাজ্য সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের উন্নয়ন ও সংস্কারে নিরন্তর কাজ করেছে। তারকেশ্বর, তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা, জল্পেশ মন্দির, ফুল্লরা মন্দির, মদনমোহন মন্দির থেকে শুরু করে পাথরচাপুরি মাজার, মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরএকাধিক তীর্থক্ষেত্রের সংস্কার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফুরফুরা শরিফের উন্নয়ন, জাহের থান ও মাঝি থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, কবরস্থান সংস্কার এবং ইসকনকে ৭০০ একর জমি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ রাজ্যের সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভাবনাকেই তুলে ধরে। ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি রক্ষায় দার্জিলিং ও কলকাতার বাড়ি রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও স্মরণ করান তিনি।মতুয়া সমাজ, রাজবংশী, তপশিলি ও আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ সব শ্রেণির মানুষের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মুখে প্রচার করা যায় না, ধর্ম হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। ভাষণের শেষে তিনি মহাদেবের আশীর্বাদে বিশ্বচরাচরে শান্তি, সৌহার্দ্য ও কল্যাণ কামনা করেন।মাটিগাড়ার মহাকাল মহাতীর্থ প্রকল্প শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং উত্তরবঙ্গের পর্যটন, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬
রাজ্য

বাংলাদেশে হিন্দু খুনের প্রতিবাদে কড়া সিদ্ধান্ত, হোটেলে ‘নো এন্ট্রি’ বাংলাদেশিদের

বাংলাদেশে অশান্ত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দেশজুড়ে নৈরাজ্যের আবহে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠছে। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার পর এবার অমৃত মণ্ডল নামে আরও এক হিন্দু যুবককে খুন করা হয়েছে বলে খবর। প্রতিবেশী দেশের এই ঘটনায় আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত সরকার। এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হল সাধারণ মানুষও।বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন মালদহ ও শিলিগুড়ির হোটেল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নো এন্ট্রি বোর্ড ঝুলবে হোটেলগুলিতে। দেশের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিকেরা।হোটেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে ঘর দেওয়া হবে না। তবে মানবিকতার কারণে যাঁরা মেডিক্যাল ভিসায় চিকিৎসার জন্য ভারতে আসছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছিল। এবার সেই ছাড়ও তুলে নেওয়া হল। মেডিক্যাল ভিসা বা স্টুডেন্ট ভিসায় আসা বাংলাদেশিদেরও আর হোটেলে জায়গা দেওয়া হবে না।হোটেল মালিক সংগঠনগুলির দাবি, বাংলাদেশে যেভাবে সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম অত্যাচার চলছে এবং কিছু মহল থেকে শিলিগুড়ি করিডর ও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে হুমকির মতো মন্তব্য করা হচ্ছে, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেই কারণেই আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। শিলিগুড়ির একাধিক হোটেলে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এই বিষয়ে হোটেল মালিক সংগঠনের এক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে যা ঘটছে এবং যে ধরনের মন্তব্য সামনে আসছে, তার প্রতিবাদ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। সংগঠনের অধীনে থাকা ১৮২টি হোটেল ছাড়াও আরও ৩০ থেকে ৪০টি হোটেল একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, গত বছরও বাংলাদেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর কলকাতা ও শিলিগুড়ি-সহ একাধিক জায়গায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে ঘর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার ফের সেই একই পথে হাঁটলেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
রাজ্য

নাগরিকত্ব পেতে ব্যবহার হচ্ছে না তো? এসআইআর আবহে ডেথ সার্টিফিকেট কেলেঙ্কারি

এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। চুরি গিয়েছে একটি আস্ত ডেথ রেজিস্ট্রার বই। সেই বইয়ে ছিল টানা ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট। কলকাতা হাইকোর্ট ওই সব সার্টিফিকেট বাতিল করার নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই ডেথ সার্টিফিকেটগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ায় অসাধু উদ্দেশে ব্যবহার করা হচ্ছে না তো?ঘটনার সূত্রপাত একটি জমি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে। ওই মামলায় এক পক্ষ আদালতে একটি ডেথ সার্টিফিকেট জমা দেয়, যেখানে বলা হয় মামলাকারীর বাবার মৃত্যু হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই ডেথ সার্টিফিকেটটি সম্পূর্ণ জাল। বিষয়টি সামনে আসার পর মামলার অন্য পক্ষ রাজ্যের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ দফতরে আরটিআই করে জানতে চায়, ওই সার্টিফিকেটের আগে ও পরে থাকা মোট ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট কারা পেয়েছেন।কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতর জানায়, নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের ওই ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট সংক্রান্ত কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই। এরপর পঞ্চায়েতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে ১০০ পাতার একটি সম্পূর্ণ ডেথ সার্টিফিকেটের বই। এই ঘটনার পর দ্রুত ওই সার্টিফিকেটগুলি বাতিল করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হয়।চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট জেলাশাসককে নির্দেশ দেয়, দ্রুত ওই ১০০টি ডেথ সার্টিফিকেট বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে এবং জনসমক্ষে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা জানাতে হবে। তবে অভিযোগ, সেই নির্দেশ জারির পর কয়েক মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।লোয়ার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জানিয়েছেন, জেলা শাসকের দফতর থেকে কোনও নির্দেশ না আসায় ওই ১০০টি সার্টিফিকেট বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়নি। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী এখনও সেগুলি বৈধ হিসেবেই রয়েছে। এই অবস্থায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় টাকার বিনিময়ে এই সার্টিফিকেট ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি মামলাকারীর।সব বিষয় উল্লেখ করে এবং কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের কপি সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত থেকে বই নিখোঁজ, রাজ্যের দফতরের কাছে তথ্য নেই, হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়নি। এর ফলে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই ডেথ সার্টিফিকেটগুলি বেআইনি ভাবে ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
রাজ্য

চার নাবালিকার পাচারের চেষ্টা—তার পরেই ফের তিন ছাত্রী নিখোঁজ! শিলিগুড়িতে আতঙ্ক

বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল তিন নাবালিকা। কিন্তু তারা সেই পার্টিতে আর পৌঁছইনি। তারপর থেকেই তাদের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ হওয়ার দুদিন কেটে গেলেও তিন স্কুলছাত্রীর কোনও হদিস নেই। ফলে শিলিগুড়ি জুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল উদ্বেগ।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শহরের মাটিগাড়ার গেটবাজার এলাকার একাধিক সিসিটিভিতে তিনজনকে শেষবার দেখা গিয়েছে। সেই সূত্র ধরে ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি শিলিগুড়ির বিভিন্ন জায়গায় চলেছে সার্চ অপারেশন। এর মধ্যেই উঠছে আশঙ্কাএরা কি কোনও পাচারচক্রের খপ্পরে পড়েছে?এই আশঙ্কা আরও জোরালো কারণ, মাত্র কয়েক দিন আগেই জ্যোৎস্নাময়ী স্কুলের সামনে থেকে চার নাবালিকাকে পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরপর দুটি ঘটনায় শহরে আতঙ্ক বাড়ছে, এবং অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন করে অস্বস্তি।নিখোঁজ তিনজনের বয়স ১৪ বছর। তারা কবি সুকান্ত হাই স্কুলের ছাত্রী এবং শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চানন কলোনির বাসিন্দা। পরিবারগুলি প্রধাননগর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাকেশ সিং জানিয়েছেন, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। নাবালিকাদের খোঁজে তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য সব সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুরসভার মেয়র গৌতম দেবও ঘটনাটি নিয়ে স্পষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বারবার স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রশ্নশহরে কি কোনও অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাদের মাধ্যমে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিশোরীদের? প্রশাসন কি আরও সতর্ক হওয়া উচিত নয়?কবি সুকান্ত হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রিশিন বিশ্বাস জানান, এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বুধবার তারা কেউ স্কুলে আসেনি। আমরা পরে শুনলাম তারা নিখোঁজ। প্রশাসন যদি আরও সতর্ক নজরদারি করে, তা হলে ভালো হয়।এখন দেখার, সিসিটিভিতে ধরা পড়া সেই শেষ মুহূর্তের সূত্র ধরে কত দ্রুত তিন নাবালিকাকে উদ্ধার করতে পারে পুলিশ। উদ্বিগ্ন শহর আজ একটাই প্রশ্ন করছেকোথায় গেল মেয়েগুলো?

নভেম্বর ২১, ২০২৫
রাজ্য

সাহু নদীর তীরে রক্তাক্ত দেহ, ২০০ মিটার দূরে গাছে ঝুলছেন স্বামী—চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে

রবিবার ভোরেই শিলিগুড়িতে সামনে এল এক হাড়হিম করা দৃশ্য। সাহু নদীর পাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল এক মহিলার গলাকাটা মৃতদেহ। তার কাছাকাছি কোথাও নয়, প্রায় ২০০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল মহিলার স্বামীর নিথর দেহ। নরেশ মোড়ের এই দৃশ্য দেখে মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। খবর যায় আশিঘর থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে।মৃত দম্পতি তপন মণ্ডল ও অনিমা মণ্ডল স্থানীয় বাসিন্দা। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের দাম্পত্য। দুই ছেলেকে নিয়ে স্বাভাবিক, শান্ত সংসার। প্রতিবেশীদের মতে, এই দম্পতির মধ্যে কোনও দিন উচ্চবাচ্য বা অশান্তির শব্দ কানেও আসেনি। দুজনেই নিয়মিত নিজেদের কাজে যেতেন, সময়মতো বাড়ি ফিরতেন। তপন ছিলেন রাজমিস্ত্রি, অনিমা একটি কারখানায় কাজ করতেন।কিন্তু শনিবার আচমকাই সবকিছু বদলে যেতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকেই আর কোনও খোঁজ মেলেনি তাঁদের। ফোনও সুইচ অফ। পরিবার ও প্রতিবেশীরা রাতভর খোঁজ চালান। থানায় অভিযোগও জানানো হয়। কিন্তু পরদিন সকালে যা দেখা গেল, তা কোনও পরিবারই কল্পনা করেননি। নদীর পাড়ে অনিমার রক্তাক্ত দেহ। গলা প্রায় আলাদা হয়ে গিয়েছে। সেই দেহ থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই গাছে তপনের ঝুলন্ত দেহ।পুলিশ এখন এই ঘটনাকে ঘিরে নানা দিক তদন্ত করছে। জোড়া খুন? নাকি স্বামী আগে স্ত্রীকে খুন করে পরে নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন? নাকি এর পেছনে আরও কোনও অদৃশ্য চরিত্র রয়েছে? কোনও সূত্র এখনই হাতে পাচ্ছে না পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি, তাঁদের মধ্যে কোনও অশান্তি ছিল না। দুই ছেলের কাজের চাপও ছিল স্বাভাবিক। তাই এর পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য।স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, রাতের অন্ধকারে কিছু সন্দেহজনক আওয়াজ তারা শুনেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, নদীর দিক থেকে কিছু অচেনা লোককে নাকি দেখা গিয়েছিল। যদিও পুলিশ এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি নয়। দম্পতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।শিলিগুড়ির শান্ত ভোলাপাড়া এলাকা এই ঘটনার পর পুরোপুরি আতঙ্কে। ২০ বছরের দাম্পত্যের এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউই মানতে পারছেন না। রহস্য যত গভীর হচ্ছে, ততই বাড়ছে স্থানীয়দের উদ্বেগ।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
রাজ্য

উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী শঙ্খধ্বনি! শিলিগুড়িতে শুভেন্দু-সুনীল বনসালের বৈঠক ঘিরে গরম রাজনীতি

উত্তরবঙ্গের রাজনীতি এখন কার্যত গরম হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে মুখোমুখি শুভেন্দু অধিকারী ও সুনীল বনসাল বিজেপির ভোট কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠককে ঘিরে কার্যত রাজনৈতিক হাওয়া বদলেছে। উত্তরবঙ্গের আসন্ন ভোটকে সামনে রেখেই আজ নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠকে বসছে বিজেপি। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন উত্তরবঙ্গের সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতিরা।বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক আবহে যেন অন্যরকম উত্তাপ। SIR ক্যাম্পে সকাল থেকেই হাজির সাংসদ রাজু বিস্তা, প্রাক্তন ত্রিপুরা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। শুধু ক্যাম্পে উপস্থিতিই নয়, রাজু বিস্তা নিজ হাতে ভোটারের ফর্ম ফিলআপ করে দিচ্ছেন ছবি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিজেপির দাবি, মানুষের সঙ্গে মাটিতে থেকে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।দলের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গের সব জেলা নিয়ে এই বৈঠক হবে নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে। শুক্রবার থেকে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, আজকের বৈঠক থেকেই আমরা লক্ষ্য স্থির করছি উত্তরবঙ্গে আসন বাড়ানোই প্রধান লক্ষ্য। বহু মানুষ ফর্ম ফিলআপ করতে পারছেন না। আমরা কমিশনকে জানাব, প্রতিটি এলাকায় হেল্প ডেস্ক চালু করা হোক।এদিন আশ্রমপাড়ায় হেল্প ডেস্কে উপস্থিত হয়ে নিজে ফর্ম পূরণ করে দেন রাজু বিস্তা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে মানুষ তৃণমূলের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বুঝে গিয়েছেন। এবার তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবেই।বিজেপি এবার নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নতুন কৌশল নিয়েছে। কর্পোরেট স্টাইলের এস আই আর কমপ্লেন সেল অ্যান্ড মনিটরিং সেল খুলেছে মেদিনীপুর সংগঠনিক জেলা বিজেপি কার্যালয়ে। সূত্রের খবর, এই কল সেন্টার থেকেই বিএলএ-২ দের সহায়তা ও বিএলও দের কাজের উপর নজরদারি চালানো হবে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তি নির্ভর নয়, এটি আমাদের মাঠপর্যায়ের ফিডব্যাক সিস্টেমও।রাজ্য বিজেপি সূত্রের দাবি, উত্তরবঙ্গে দলের সংগঠন আগের তুলনায় আরও মজবুত। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগেই জমা পড়া সাংগঠনিক রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০২১ সালের তুলনায় এবার অন্তত ৪৪ থেকে ৪৮টি আসনে তৃণমূলকে হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মোট বিধানসভা আসন ৫৪টি। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ছাব্বিশের ভোটে উত্তরের দুর্গ হবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।এই বৈঠক তাই শুধু সাংগঠনিক আলোচনা নয়, উত্তরবঙ্গের বিজেপি ঘাঁটিতে মনোবল চাঙ্গার প্রচেষ্টাও। রাজনৈতিক মহল বলছে, শুভেন্দুবনসালের এই বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী যুদ্ধের প্রথম সুরই বেজে গেল।

নভেম্বর ১৩, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

‘আমার শহর, আমার জয়’— রেড কার্পেটে নায়িকার মতো প্রত্যাবর্তন রিচার, মাতোয়ারা শিলিগুড়ি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। অবশেষে ঘরে ফিরলেন বাংলার গর্ব, বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামতেই শিলিগুড়ি যেন উৎসবে ফেটে পড়ল। ফুলে ভরা খোলা জিপে শহর চষে বেড়ালেন তিনি। রাস্তাজুড়ে উচ্ছ্বাস, উল্লাস, আর রিচা, রিচা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল গোটা শহর।নিজের শহরে ফিরে আবেগাপ্লুত রিচা বলেন, নিজের শহরে, নিজের মানুষদের ভালোবাসা পেয়ে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। তাঁর এই কথায় যেন আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় শিলিগুড়িতে।বাঘাযতীন পার্কে আজ বিকেলে তাঁর জন্য নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ক্রীড়া সংগঠনগুলি। উপস্থিত থাকবেন শহরের নামী ক্লাব, স্কুল, এবং মহিলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও। রিচার জন্য থাকবে গার্ড অফ অনার ও রেড কার্পেট সংবর্ধনা।শহরের সুভাষপল্লিতে তাঁর বাড়িতে এখন উৎসবের আবহ। আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে গোটা পাড়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, আমাদের মেয়েই আজ গোটা দেশের গর্ব। রিচার মা স্বপ্না ঘোষ মেয়ের পছন্দের খাবার ফ্রায়েড রাইস, পনির আর মিক্সড ভেজ নিজ হাতে রান্না করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে নজরদারি কড়া করা হয়েছে, যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়।ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রিচাকে। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে পুলিশে চাকরির প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। বাংলার এই মেয়ে ভারতের প্রথম মহিলা ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হয়েছেন ৫২ বছর পর ভারতীয় মহিলা দল এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।২২ বছর বয়সি রিচা ঘোষ এই বিশ্বকাপে করেছেন মোট ২৩৫ রান, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঝোড়ো ৯৪ রানের ইনিংস। ফাইনালে তাঁর ২৪ বলে ৩৪ রান ভারতকে জয় এনে দেয়। গোটা টুর্নামেন্টে ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন তিনি।আজ শিলিগুড়ির প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি ঘরে রিচার নামেই গর্ব। তাঁর সাফল্যে উজ্জ্বল বাংলা, গর্বিত দেশ।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ঝটিকা সফরে উত্তরবঙ্গে সৌরভ, শিলিগুড়িতে মহারাজকে নিয়ে উন্মাদনা

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যে দায়বদ্ধতা পালনে কতটা অবিচল তার দৃষ্টান্ত আরও একবার স্থাপন করলেন। তাঁর মা নিরুপা গঙ্গোপাধ্যায় অসুস্থ। বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে কয়েকদিন আগেই ভর্তি করা হয়। মায়ের চিকিৎসার তদারকি করছেন, মায়ের প্রতি যেমন যত্ন নিচ্ছেন, ঠিক সমভাবেই তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করে চলেছেন সমান তালে। পরিবারের এই বিপদের সময়েও তিনি একটি বাণিজ্যিক সংস্থাকে কথা দিয়ে কথা রাখলেন।আজ সকালেই সৌরভ ঝটিকা সফরে শিলিগুড়িতে হাজির হলেন। একটি বাণিজ্যিক সংস্থার রিটেলারস মিটে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। কয়েক মাস আগে সৌরভ মালদহ গিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গের এই জেলায় সেদিন মহারাজকে নিয়ে বিপুল উন্মাদনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ব্যতিক্রম হলো না শিলিগুড়িতেও।যে ডিস্ট্রিবিউটররা এদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন তাঁরা কেউ চাইছিলেন মহারাজকে ক্যামেরাবন্দি করতে। কেউ তুলতে চাইছিলেন নিজস্বী। সৌরভ সংস্থাটির কর্ণধারকে দেখিয়ে বলে ওঠেন, উনি বিগত ২০ বছরে এই প্রথম শিলিগুড়িতে এলেন। তবে আমি কিন্তু পাঁচ-ছয়বার এসেছি।সৌরভের এই শিলিগুড়ি সফরে অবশ্য ক্রিকেট সংক্রান্ত কোন কর্মসূচি ছিল না। তিনি এদিন সন্ধ্যার মধ্যেই শহরে ফিরে এসেছেন। ইডেনে তিনি একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন। আজ সিএবিতে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠক আছে। ক্রীড়া বিল পাস হয়ে গিয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরে সিএবির এজিএম হবে, নাকি বিসিসিআইয়ের দিকে নজর থেকে তা পিছিয়ে দেওয়া হবে, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে এদিনের বৈঠকে। সৌরভ ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি সিএবি সভাপতি পদে লড়বেন। ক্রীড়া বিল আইনে পরিণত হলে ক্রীড়া প্রশাসনে অনেক বদল আসবে। সৌরভ-সহ অনেকেই ফের ক্রীড়া প্রশাসনে অনেকটা সময়ের জন্য ফিরতে পারবেন। টানা ১২ বছর প্রশাসনে থাকার পর চার বছরের কুলিং অফ। তারপরেও ফের প্রশাসনিক পদে আসা যাবে। বয়সের সীমা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ করা হচ্ছে।

আগস্ট ১৪, ২০২৫
রাজ্য

বাগডোগরায় রানওয়ে ছাড়িয়ে ঘাসজমিতে ঢুকে গেল বায়ুসেনার বিমান, জখম চালক ও ক্রু

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল বায়ুসেনার বিমান। পাক ১১টা ৫৮মিনিট নাগাদ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে বিমানবন্দর চত্বর। ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায় বায়ুসেনা, অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলকর্মীদের। জানা যায়, দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বায়ুসেনার এএন-৩২ বিমান। বায়ুসেনার উদ্ধারকারী দল, দমকলকর্মীরা মিলে দূর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান থেকে চালক সহ ৬ জনকে উদ্ধার করে। আহতদের একজন চালক এবং একজন ক্রু রয়েছেন। এদের ব্যাংডুবি সামরিক বিভাগের বেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ এঁটেছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে ভারতীয় বায়ুসেনা তড়িঘড়ি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বায়ুসেনা এবং পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা ৫৮ মিনিটে এএন-৩২ বিমানটি বাগডোগরা বিমানবন্দরের রানওয়েতে নামার সময় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রানওয়ে ছেড়ে প্রায় ঘাসজমির মধ্যে ২২০ ফুট ঢুকে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দ ও ধুলো উড়তে দেখা যায়। দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই বিমানবাহিনীর ডিভিওআর রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই বায়ুসেনার দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স, মেডিকেল টিম, উদ্ধারকারী দল, বায়ুসেনার আধিকারিকরা পৌঁছে যান। বিমানের পাইলট, কো পাইলট ও ৪ জন ক্রু সহ মোট ৬ জন ছিলেন। আহত হয়েছেন একজন পাইলট ও একজন ক্রু। তাঁরা সামরিক হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও আঘাত গুরুতর নয় বলেই জানা গিয়েছে। তবে রানওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটলেও বাগডোগরা বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল করতে কোনও সমস্যা হয়নি। শুক্রবার সব বিমানই স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করেছে। অন্যদিকে শুক্রবার হরিয়ানার পঞ্চকুলায় ভেঙে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি যুদ্ধবিমান। দৈনন্দিন প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। যুদ্ধবিমান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন চালক।

মার্চ ০৮, ২০২৫
রাজ্য

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শিলিগুড়িতে, SSB-এর ইতিহাস গর্ব করার মতো

নেপাল-ভুটানের সীমান্ত, কাশ্মীরের উপত্যকা বা নকশালবাদ নির্মূলের অভিযান, প্রতিটি ক্ষেত্রে এসএসবি-র জওয়ানরা তাদের জীবন উৎসর্গ করে ভারতকে সুরক্ষিত করেছে। অটল বিহারি বাজপেয়ী ২০০১ সালে এক সীমা, এক বাহিনী নীতি চালু করেছিলেন।৬১ বছরের দীর্ঘ যাত্রায়, এসএসবি সেবা, সুরক্ষা এবং ভ্রাতৃত্ব স্লোগানকে শুধুমাত্র কার্যকর করেনি বরং জাতি প্রথম ধারণাকেও তুলে ধরেছে। উন্মুক্ত সীমান্ত থেকে মাদক পাচার, মানব পাচার, অস্ত্রের চলাচল এবং দেশবিরোধী উপাদানগুলির অনুপ্রবেশকে এসএসবি-র জওয়ানরা কঠোরভাবে আটকেছে। বিহার এবং ঝাড়খণ্ড নকশাল মুক্ত হয়েছে, এতে এসএসবি-র জওয়ানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নেপাল-ভুটানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আস্থা, ঐতিহ্য এবং বন্ধুত্ব রয়েছে; এর কৃতিত্ব এসএসবি-র প্রাপ্য। এসএসবি ১৮৩ জন মানব পাচারকারী সহ ৩০১ জন পীড়িতকে আটক করেছে, যার মধ্যে ২৩১ জন তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিহারে বন্যা, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে ভূমিধস, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার মতো সকল দুর্যোগের সময় এসএসবি দেশের নাগরিকদের পাশে থেকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে।মাদকমুক্ত ভারত অভিযানের আওতায় প্রায় ৩৬,০০০ যুবককে সচেতন করে মাদক থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে এসএসবি বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। মোদী সরকার গত ১০ বছরে আমাদের জওয়ানদের সুরক্ষার জন্য প্রচুর কাজ করেছে। ১০ বছরে ১৩,০০০ এর বেশি বাড়ি, ১১৩টি ব্যারাক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সহযোগিতা মন্ত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা শ্রী অমিত শাহ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ৬১তম প্রতিষ্ঠা দিবস প্যারেড অনুষ্ঠানে জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং এই উপলক্ষে আগরতলা ও পেট্রাপোলের বিএফজি-র নবনির্মিত আবাসিক কমপ্লেক্সের ই-উদ্বোধন করেন।এসএসবি-র সমস্ত জওয়ানকে ৬১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, আজকের এই দিনে আমরা আবার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করছি এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হচ্ছি যে ভারতের দুই প্রতিবেশী বন্ধু দেশের উন্মুক্ত সীমান্তে জাতি-বিরোধী তৎপরতাগুলিকে খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেপাল-ভুটানের সীমান্ত হোক, কাশ্মীরের উপত্যকা হোক বা পূর্বাঞ্চল থেকে নকশালবাদ নির্মূলের জন্য ভারতের অভিযান হোক, আমাদের জওয়ানরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে ভারতের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন।তিনি আরও বলেন, এসএসবি-কে যখন সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তার পূর্বে এর প্রাক্তন অবতারে ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর সাংস্কৃতিক বিবরণ, ভাষার সমৃদ্ধি এবং তাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করেছে এসএসবি। ২০০১ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ী এক সীমা, এক বাহিনী নীতি গ্রহণ করেন। এরপর এসএসবি-কে আমাদের দুই বন্ধু দেশ নেপাল এবং ভুটানের সীমান্ত পর্যবেক্ষণ এবং সুরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।অমিত শাহ বলেন, ৬১ বছরের যাত্রায় এসএসবি এখন পর্যন্ত চারটি পদ্মশ্রী, একটি কীর্তি চক্র, ছয়টি শৌর্য চক্র, দুটি রাষ্ট্রপতি সাহসিকতা পদক, ২৫টি পুলিশ সাহসিকতা পদক এবং ৩৫টি সাহসিকতা পদক অর্জন করেছে। এই জাতীয় স্তরের সম্মানগুলোই প্রমাণ করে যে আমাদের এসএসবি কর্তব্য পালনে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আজ, ৬১তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গ্যালান্ট্রি মেডেল, প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল, ইন্ডিয়ান পুলিশ মেডেল এবং ভারত-নেপাল, ভারত-ভুটান, বামপন্থী উগ্রপন্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় শ্রেষ্ঠ ব্যাটালিয়নগুলিকে ট্রফি এবং মেডেল প্রদান করা হয়েছে। যারা তাদের সাহসিকতা এবং কর্তব্যপরায়ণতার জন্য এই পদক অর্জন করেছেন, তাদের সবাইকে অনেক অভিনন্দন।তিনি আরও যোগ করেন, আজ এখানে এসএসবি-র সাথে সংশ্লিষ্ট আটটি ভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের ই-উদ্বোধন এবং ই-শিলান্যাসও হয়েছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে এসএসবি-র জওয়ান এবং তাদের পরিবারের জন্য আবাসনের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণের সময় তাদের জন্য উন্নত রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার সূচনা করা হয়েছে।তিনি বলেন, ৬১ বছরের গৌরবময় ইতিহাসে, সেবা, সুরক্ষা এবং ভ্রাতৃত্বের স্লোগানকে এসএসবি শুধুমাত্র তার কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত করেনি, বরং জাতির সেবা এবং জাতি প্রথম ধারণাকেও উজ্জ্বল করেছে। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দেশপ্রেম ও ভারতের সঙ্গে গভীর সংযোগের এক অসাধারণ আবেগ জাগ্রত করার কাজ করেছে এসএসবি। নেপাল এবং ভুটানের ২,৪৫০ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখার গুরু দায়িত্ব পালন করেছে এসএসবি। যখন সীমান্তে বেড়া থাকে, তখন নিরাপত্তার দায়িত্ব সহজ হয়, কিন্তু উন্মুক্ত সীমান্তের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। নেপাল এবং ভুটানের ২,৪৫০ কিলোমিটার সীমান্তে, আজ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো চিন্তা নেই, কারণ সেখানে এসএসবির জওয়ানরা প্রহরায় রয়েছে। এসএসবির জওয়ানরা উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে মাদক, মানব পাচার, অস্ত্র পরিবহণ এবং দেশবিরোধী বিষয়বস্তুর প্রবেশ কঠোর সতর্কতার সাথে আটকেছে। শুধু তাই নয়, পূর্বাঞ্চলে নকশালবিরোধী অভিযানে এসএসবি, সিআরপিএফ এবং স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মিলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নকশালমুক্ত করতে সহায়তা করেছে। প্রায় চার দশক পরে আজ বিহার এবং ঝাড়খণ্ড নকশালমুক্ত হয়েছে এবং এতে এসএসবির জওয়ানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসএসবির জওয়ানরা ঝাড়খণ্ডের কোকারাজাল জেলার রাই মোনা ন্যাশনাল পার্ক, বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ, হাতি নালা, হরানালা, তাওয়াং-এর বঙ্গে জাং, নেগো ট্যাংক এবং উত্তরাখণ্ডের সীমান্ত এলাকায় কঠিন পোস্টে সতর্ক প্রহরায় দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। শিলিগুড়ি করিডর পূর্ব ভারতের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। নেপাল এবং ভুটানের মধ্যে এক উচ্চমানের সমন্বয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আস্থা, ঐতিহ্য এবং বন্ধুত্বের মেলবন্ধন রয়েছে।ভারত-নেপাল মৈত্রী চুক্তির মর্যাদাকে সর্বদা সম্মান জানিয়ে, নো ম্যানস ল্যান্ড-এ ১,১০০-এর বেশি অবৈধ দখলদারিকে এসএসবির মাধ্যমে সরানো হয়েছে, যা একটি বড় সাফল্য। সীমান্তের ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত সরকারি জমিতে অবৈধ দখল প্রতিরোধের জন্য গত তিন বছরে এসএসবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং কোনো বিতর্ক ছাড়াই হাজার হাজার একর সরকারি জমি অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করেছে। প্রায় ৪,০০০-এর বেশি পাচারকারী ধরা পড়েছে। এক বছরে ১৬,০০০ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। ২০৮টি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করেছে এসএসবি। ১৮৩ জন মানব পাচারকারী এবং ৩০১ জন ভুক্তভোগী, যার মধ্যে ২৩১ জন তরুনি, তাদের উদ্ধার করার কাজও করেছে এসএসবি।এসএসবির প্রশংসা করে শ্রী অমিত শাহ বলেন, গত সাত বছরে ৬০০-এর বেশি মাওবাদীকে গ্রেপ্তার, ১৫ জনের বেশি মাওবাদীর মৃত্যু এবং ২৮ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণ প্রমাণ করে যে এসএসবি কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে, এসএসবির জওয়ানরা তাদের বিভিন্ন অভিযানে ১৯ জনের বেশি সন্ত্রাসবাদীকে খতম করেছে এবং ১৪ জন সন্ত্রাসবাদীকে গ্রেফতার করেছে। শুধুমাত্র সুরক্ষা প্রদান নয়, বিহারের বন্যা, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের ভূমিধস, এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার মতো দুর্যোগের সময় এসএসবি দেশের জনগণের পাশে থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে। খেলাধুলাতেও, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মোট ৭২টি পদক জিতেছে এসএসবি।এসএসবির প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার যুবসমাজকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে মধু উৎপাদনের জন্য মৌমাছি পালন, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, মোবাইল মেরামত এবং মোটর ড্রাইভিংয়ের মতো বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নেশামুক্ত ভারত অভিযানের অধীনে প্রায় ৩৬,০০০ যুবককে সচেতন করে এবং নেশা মুক্ত করতে এসএসবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।শ্রী অমিত শাহ মোদি সরকারের সাফল্যের উল্লেখ করে বলেন, গত ১০ বছরে মোদি সরকার আমাদের জওয়ানদের সুরক্ষার জন্য প্রচুর কাজ করেছে। সিএপিএফ-এর ৪১,২১,৪৩১টি আয়ুষ্মান সিপিএফ কার্ড নিবন্ধিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ১,৬০০ কোটি টাকার পেমেন্ট হয়েছে এবং ১৪,৩৮,০০০ কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ১০ বছরে ১৩,০০০-এর বেশি বাড়ি, ১১৩টি ব্যারাক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধার ভবন নির্মাণের কাজ মোদি সরকার করেছে। সিপিএফ ই-আবাস ওয়েব পোর্টালের সুবিধা এখন পর্যন্ত ৬৩,১৪৬ জন কর্মী গ্রহণ করেছেন। সিএপিএফ-এর জওয়ানরা ১৫ই নভেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত ৬ কোটি গাছ লাগিয়ে বসুন্ধরার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৪
রাজ্য

আরজি কর কাণ্ডের বিচার চাই, এবার ভোর দখলের ডাক শিলিগুড়িতে

এবার শিলিগুড়িতে ভোর দখলের ডাক। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর আরজি করের ঘটনার একমাস পূর্তি হচ্ছে। সেই দিনই ভোর ৪টে ১০ মিনিট থেকে ৬টা পর্যন্ত শিলিগুড়ির রাস্তায় মঙ্গল প্রার্থনা ও শপথবাক্য পাঠের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিন শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠক করে টেবিল টেনিস তারকা অর্জুন মান্তু ঘোষ, সমাজসেবী ও শিক্ষিকা সুনন্দা সরকার ও পৌলমী চাকি নন্দীরা জানান, আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা এখনও বিচার পায়নি। দ্রুত যাতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যারা তাদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়, এই দাবিতে তাঁরা পথে নামবেন। শুধু শিলিগুড়ি নয়, অন্যান্য জায়গাতেও একই ভাবে সকলকে পথে নামার ডাক দিয়েছেন তাঁরা।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৪
রাজ্য

রাখে হরি মারে কে? সাক্ষাৎ যমরাজকে ফাঁকি দিয়েছেন মালগাড়ির সহকারী চালক, জানুন উপস্থিত বুদ্ধি

সত্য়ি! রাখে হরি তো মারে কে? কিছু প্রবাদ প্রবচন তৈরি হয় নির্দিষ্ট কিছু ভাগ্য়বান মানুষের জন্য়ই। মালগাড়ি ও কাঞ্চনজঙ্ঘার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও বেঁচে গিয়েছেন মালগাড়ির সহচালক মন্নু কুমার। বেসরকারি হাসপাতালে লড়াই করছে এই সহকারী চালক। দুর্ঘটনায় মৃত্য়ু হয়েছে চালকের।এদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মালগাড়ির চালক ও সহকারী চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হল। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের যাত্রী চৈতালি মজুমদারের ভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে রেল। চালক অনিল কুমার এবং সহকারী চালক মন্নু কুমারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগ, বেপরোয়া গতিতে ট্রেন চালানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।সোমবার দুর্ঘটনায় লোকো পাইলট অনিল কুমারের মৃত্যু হলেও উপস্থিতবুদ্ধির জোরে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন সহকারী চালক মন্নু কুমার। প্রাথমিকভাবে মন্নু তদন্তকারী দলের কাছে যে বিবৃতি দিয়েছেন সেই অনুযায়ী, চোখের সামনে মৃত্যু অবধারিত দেখে চালকের আসন থেকে নেমে নীচের দিকে বসে গিয়েছিলেন তিনি। আর এতেই যমরাজের হাত থেকে নিজের প্রাণ ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন বছর ৩২-এর মন্নু। আপাতত শিলিগুড়ির খালপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সহকারী লোকো পাইলট। তাঁর মাথায় এবং বুকে চোট রয়েছে। আইসিইউতে রাখা হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই তরুণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যদিও রেলের কোনও আধিকারিক এনিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। রেল সূত্রের খবর, সহকারী লোকো পাইলট সুস্থ হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।গতকাল নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে মালগাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন লোকো পাইলট অনিল কুমার। সঙ্গে ছিলেন সহকারী মন্নু কুমার। দুজনে কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে শিলিগুড়িতেই থাকেন। মালগাড়ি নিয়ে বেরিয়ে রাঙ্গাপানি স্টেশন পর্যন্ত এসেছিলেন তাঁরা। আটটা নাগাদ অনিল বাড়িতে ফোন করে স্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেন। সিগন্যাল পেয়ে রাঙ্গাপানি স্টেশন থেকে বেরিয়ে কিছুটা এগিয়ে যায় মালগাড়ি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার আগে বাঁক নিয়ে মেন লাইনে প্রবেশ করে সেটি। এরপরই সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখন একমাত্র জানা রয়েছে সহকারীর। চোখের সামনে বিপদ দেখে জরুরি ব্রেক কষেছিলেন লোকো পাইলট অনিল। কিন্তু মন্নু বুঝে গিয়েছিলেন যে ব্রেক কষলেও বিপদ অবধারিত। তাই নিজের আসন ছেড়ে নীচে বসে পড়েন তিনি। দুর্ঘটনায় চোট পেয়ে জ্ঞান হারালেও নিজের বুদ্ধিতে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন মন্নু। জ্ঞান ফেরার পর থেকে তিনি শুধু খোঁজ করে চলেছেন অনিলের।

জুন ১৮, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

টুকিটাকি

যেখানে আজ লাখো ভক্তের ঢল, সেখানেই একদিন জঙ্গলের মাঝে ৭০ জনেরও কম মানুষে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণের জন্মোৎসব

আজ মথুরার আকাশে কৃষ্ণনাম। জন্মভূমির প্রাঙ্গণে ভক্তির ঢেউ। আলো, ফুল, মন্ত্রোচ্চারণ আর অসংখ্য মানুষের পদধ্বনিতে মুখর শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান। জন্মাষ্টমীর মধ্যরাত যত এগিয়ে আসে, ততই যেন অপেক্ষার প্রহর ঘন হয়কখন জন্ম নেবেন নন্দলাল, কখন বাজবে শঙ্খ, কখন খুলবে সেই পবিত্র মুহূর্তের দ্বার!কিন্তু আজকের এই বিপুল আয়োজনের দিকে তাকালে বিশ্বাস করাই কঠিন, একদিন এই একই জন্মভূমিতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ছিল নিভৃত, ছোট্ট এক আয়োজন। ছিল না লক্ষ মানুষের ভিড়, ছিল না আলোর ঝলকানি, ছিল না উৎসবের এত জৌলুস। ছিল শুধু কয়েকজন মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা আর এক গভীর স্বপ্নকৃষ্ণের জন্মভূমিতে তাঁর জন্মদিনকে নতুন করে উদযাপন করার স্বপ্ন।সেই গল্পের শুরু ১৯৫৭ সালে।তখন মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান আজকের মতো সুসজ্জিত ছিল না। চারদিকে ছিল অনেকটাই অনুন্নত, জঙ্গলঘেরা পরিবেশ। অসমতল জমির সেই প্রাচীন পরিসর পরিচিত ছিল কৃষ্ণ চবুতরা নামে। ইতিহাসের স্তর আর বিশ্বাসের আবরণে ঢাকা সেই ভূমিকে ঘিরে তখনও ভবিষ্যতের বিরাট জন্মোৎসবের কোনও আভাস যেন দৃশ্যমান ছিল না।জন্মাষ্টমীর প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাথরাসের কবি গোপাল প্রসাদ ব্যাসের নেতৃত্বে সেখানে জড়ো হলেন কয়েকজন মানুষ। কোনও বিশাল মঞ্চ নয়, কোনও বিপুল জনসমাবেশ নয়কৃষ্ণকে ঘিরে কবিতা, আলোচনা আর অনুভবের এক ছোট্ট আসর। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৭০ জনেরও কম।সংখ্যার বিচারে হয়তো সামান্য। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে সেই জমায়েত ছিল অসামান্য।কারণ, কখনও কখনও বড় কোনও আন্দোলনের শুরু হয় না হাজার মানুষের গর্জনে; শুরু হয় মুষ্টিমেয় কয়েকটি মানুষের নীরব বিশ্বাসে। সেই দিনটিও যেন তেমনই এক দিন। কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করা হল, তাঁকে ঘিরে বলা হল নানা কথা। ভক্তেরা ভাগ করে নিলেন তাঁদের অন্তরের অনুভূতি। দিনের সেই আয়োজনে ছিলেন প্রায় ২৫ জন আয়োজক এবং ৪৫ জন ভক্ত।আজকের মথুরার সঙ্গে সেই ছবির কোনও মিল নেই। আজ জন্মাষ্টমীতে এখানে মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তেরা ছুটে আসেন কৃষ্ণের জন্মভূমির টানে। কিন্তু সেই বিপুলতার বহু আগে, নিভৃত এক কোণে কয়েকজন মানুষ যেন ভবিষ্যতের সেই উৎসবের প্রথম প্রদীপটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।আয়োজনটির পরিসর ছিল ছোট, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বড়।তখন জন্মস্থানও ছিল অন্যরকম। পদ্মশ্রী মোহন স্বরূপ ভাটিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এই এলাকা ছিল জঙ্গলঘেরা এবং অসমতল। আধুনিক পরিকাঠামোর চিহ্ন ছিল না বললেই চলে। সেই জায়গাকেই নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার ও সমতল করার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। কারও হাতে ছিল শ্রম, কারও হাতে ছিল সময়, কারও হাতে ছিল শুধু বিশ্বাসসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল জন্মভূমির চেহারা।একটি পরিত্যক্ত, অনুন্নত পরিসর ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে লাগল ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।১৯৫৭ সালে শুরু হল কেশবদেব মন্দির নির্মাণের কাজ। পরের বছর, ১৯৫৮ সালে, মন্দিরের উদ্বোধন হল। আর তার পর থেকেই জন্মাষ্টমীর আয়োজন ক্রমশ পেতে শুরু করল একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত রূপ।তারপর ইতিহাস এগিয়েছে নিজের গতিতে।একসময় যে জায়গায় কয়েকজন মানুষকে নিয়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করে কবিতা পাঠের আসর বসেছিল, সেখানেই বছর ঘুরে জন্মাষ্টমী হয়ে উঠল বিরাট জনউৎসব। ছোট্ট সেই জমায়েতের জায়গা নিল অসংখ্য মানুষের সমাবেশ। কয়েক ডজন ভক্তের জায়গায় এল হাজার হাজার, তারপর লক্ষ মানুষের পদধ্বনি। আয়োজন বাড়ল, পরিকাঠামো বদলাল, উৎসবের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ল বহুদূর।তবু এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো অন্য কোথাও।উৎসব বদলেছে, সময় বদলেছে, জন্মস্থানের চেহারা বদলেছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে অগণিত। কিন্তু বদলায়নি কৃষ্ণকে ঘিরে মানুষের সেই অদৃশ্য টান।সেই টানই হয়তো ১৯৫৭-এর সেই ছোট্ট আসরের প্রাণ ছিল। আর আজও সেই টানেই মানুষ রাত জেগে অপেক্ষা করেন কৃষ্ণের জন্মমুহূর্তের জন্য।মথুরার রাত যখন গভীর হয়, মন্দিরচত্বর যখন কৃষ্ণনামে মুখর হয়ে ওঠে, তখন হয়তো ইতিহাসের সেই প্রথম দিনটির কথাও মনে পড়ে। মনে হয়, এত আলো, এত ভিড়, এত আয়োজনের বহু আগে কোথাও এক ছোট্ট প্রদীপ জ্বলেছিল। সেই প্রদীপের আলোয় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষতাঁদের হৃদয়ে ছিলেন একমাত্র কৃষ্ণ।সেই কয়েকজনের বিশ্বাস আজ লক্ষ মানুষের উৎসব।সময়ের স্রোতে আয়োজনের আকার যতই বদলাক, কৃষ্ণের জন্মভূমির মাটিতে সেই প্রথম দিনের আবেগ যেন এখনও মিশে আছে। তাই জন্মাষ্টমীর রাতে মথুরার আকাশে যখন শঙ্খধ্বনি ওঠে, ভেসে আসে হরে কৃষ্ণ নাম, তখন মনে হয়উৎসব বড় হয়েছে, মানুষ বেড়েছে, জৌলুস বেড়েছে; কিন্তু লালাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা আজও সেই একই রকম নির্মল, একই রকম গভীর।যেন কয়েকজনের হাতে জ্বালানো সেই ছোট্ট প্রদীপ আজও জ্বলছেশুধু তার আলো পৌঁছে গিয়েছে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
টুকিটাকি

বাল গোপাল থেকে দ্বারকাধীশ, কোথাও জগন্নাথ—জন্মাষ্টমীর আগে কৃষ্ণের পদচিহ্নে ভারতের ১০ তীর্থের গল্প

কোথাও তিনি ননীচোরা বালক, কোথাও মুরলীধর, কোথাও প্রেমের কৃষ্ণ, আবার কোথাও রাজাধিরাজ দ্বারকাধীশ। কোথাও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রাধার অমোঘ প্রেমকথা, কোথাও তিনি জগন্নাথকাঠের দারুবিগ্রহে অধিষ্ঠিত এক অনন্য দেবসত্তা। ভারতের মানচিত্রে কৃষ্ণ যেন একটিই নাম, অথচ তাঁর রূপের বিস্তার অসংখ্য।সামনেই জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে সাজসজ্জা, বিশেষ পুজো, নামসংকীর্তন, ভজন এবং রাতভর উৎসবের আয়োজন। কোথাও ফুলে সেজে উঠছে গর্ভগৃহ, কোথাও আলোর মালায় বদলে যাচ্ছে মন্দিরচত্বর। মধ্যরাতে যখন শঙ্খধ্বনি আর ঘণ্টার আওয়াজে ঘোষণা হবে কৃষ্ণজন্মের, তখন ভারতের নানা প্রান্ত যেন একই সুরে উচ্চারণ করবেহরে কৃষ্ণ।কিন্তু কৃষ্ণকে জানতে গেলে শুধু পুরাণের পাতা কিংবা গীতার শ্লোকের দিকে তাকালেই হয় না। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের নানা প্রান্তের মন্দিরে, জনশ্রুতিতে, স্থাপত্যে, উৎসবে এবং মানুষের বিশ্বাসে। বৃন্দাবনের কুঞ্জ থেকে দ্বারকার সমুদ্রতট, পুরীর রথযাত্রা থেকে কেরলের গুরুবায়ুরপ্রতিটি তীর্থে কৃষ্ণ যেন নতুন করে জন্ম নেন।জন্মাষ্টমীর আগে সেই কৃষ্ণতীর্থগুলির কয়েকটি ঘুরে দেখা যাক।রাধারমণ মন্দির, বৃন্দাবনশালগ্রাম থেকে আবির্ভূত কৃষ্ণবৃন্দাবনের সরু গলি, পুরনো দালান আর অসংখ্য মন্দিরের ভিড়ে রাধারমণ মন্দিরের অবস্থান বিশেষ। গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের ইতিহাস। বৈষ্ণব পরম্পরার বিশ্বাস অনুযায়ী, শালগ্রাম শিলা থেকেই আবির্ভূত হয়েছিল রাধারমণজির বিগ্রহ।মন্দিরের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী, ১৫৪২ সালে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে এই আবির্ভাব ঘটে। সেই কারণেই রাধারমণকে ঘিরে বৃন্দাবনের ভক্তি-পরম্পরায় রয়েছে এক বিশেষ আবেগ।এখানে কৃষ্ণ যেন বিশাল রাজকীয় আড়ম্বরের দেবতা নন; বরং ঘরের আপনজন। ছোট্ট বিগ্রহ, নিবিড় সেবা আর শতাব্দী পেরিয়ে আসা আচারসব মিলিয়ে রাধারমণ মন্দিরে কৃষ্ণভক্তির এক অন্তরঙ্গ রূপ অনুভব করা যায়।বাঁকে বিহারী মন্দিরত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় মায়াবী কৃষ্ণবৃন্দাবনের কথা উঠলে বাঁকে বিহারী মন্দিরের নাম উচ্চারণ না করলে যেন শহরের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণের বিগ্রহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ অপরিসীম।প্রচলিত ইতিহাসে এই মন্দিরের সঙ্গে স্বামী হরিদাসের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তাঁর সাধনা ও ভক্তির পরম্পরার মধ্য দিয়েই বাঁকে বিহারীর আরাধনা জনপ্রিয়তা পায়।এই মন্দিরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য জন্মাষ্টমীকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্য দিনগুলির তুলনায় কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনেই এখানে বিশেষ মঙ্গল আরতির আয়োজন করা হয়।বৃন্দাবনের অগণিত ভক্তের কাছে সেই মুহূর্ত যেন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়কৃষ্ণের জন্মের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার এক বিরল অনুভূতি।মদন মোহন মন্দিরযমুনার ধারে প্রাচীন বৈষ্ণব স্মৃতিযমুনার কাছাকাছি আদিত্য টিলার উপর দাঁড়িয়ে থাকা মদন মোহন মন্দির বৃন্দাবনের প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আদিত্য আচার্য একটি বটগাছের নীচে মদন মোহনের বিগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মন্দির ও ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।লালচে ইটের নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী শিখর এবং যমুনার কাছাকাছি অবস্থান মন্দিরটির আবহকে অন্যরকম করে তুলেছে। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, বৃন্দাবনের বর্তমান শহরের আড়ালে এখনও কোথাও লুকিয়ে রয়েছে কয়েক শতাব্দী আগের সেই বৈষ্ণব জনপদ।রঙ্গজি মন্দিরবৃন্দাবনে দক্ষিণ ভারতের স্থাপত্যের ছোঁয়াবৃন্দাবনের মন্দির বলতেই সাধারণত উত্তর ভারতীয় স্থাপত্যের কথা মনে আসে। কিন্তু রঙ্গজি মন্দির সেই ধারণাকে বদলে দেয়।শ্রীরঙ্গমের রঙ্গনাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরের কাজ শুরু হয় ১৮৪৫ সালে এবং ১৮৫১ সালে তা সম্পূর্ণ হয়। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব এখানে স্পষ্ট, যদিও তার সঙ্গে মিশেছে উত্তর ভারতের স্থানীয় শিল্পরীতি।বৃন্দাবনের এই মন্দির তাই শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, ভারতীয় স্থাপত্য-সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্রও। কৃষ্ণভক্তি যে কোনও একটি অঞ্চল বা ভাষার সম্পত্তি নয়রঙ্গজি মন্দির তারই এক স্থাপত্যিক প্রমাণ।দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকাবৃন্দাবনের বালক থেকে সমুদ্রতীরের রাজাবৃন্দাবনে কৃষ্ণ যেখানে গোপাল, মাখনচোর, বাঁশিওয়ালা; দ্বারকায় এসে সেই কৃষ্ণই যেন রাজাধিরাজ।গুজরাতের সমুদ্রতীরবর্তী দ্বারকা শহরের সঙ্গে কৃষ্ণের সম্পর্ক ভারতীয় পুরাণ-পরম্পরায় অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরা ত্যাগের পর কৃষ্ণ সমুদ্রের কাছাকাছি দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর রাজ্য গড়ে ওঠে।দ্বারকাধীশ মন্দির তাই কৃষ্ণের আর এক পরিচয়ের সামনে আমাদের দাঁড় করায়যিনি শুধু প্রেমিক বা রাখাল নন, তিনি রাষ্ট্রনায়ক, রাজা এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতির কেন্দ্র।চারধামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে দ্বারকার গুরুত্বও আলাদা। মন্দিরের বর্তমান কাঠামো বহু শতাব্দীর পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে আজকের রূপ পেয়েছে। ফলে দ্বারকাধীশ শুধু একটি মন্দির নয়, পুরাণ ও ইতিহাসের দীর্ঘ সংলাপেরও সাক্ষী।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকৃষ্ণের অনন্য দারুরূপকৃষ্ণের রূপের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বিস্ময়করভাবে ধরা পড়ে ওড়িশার পুরীতে। এখানে তিনি জগন্নাথদাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে অধিষ্ঠিত।কাঠের তৈরি এই বিগ্রহ ভারতীয় মন্দির-সংস্কৃতির এক বিরল ঐতিহ্য। প্রতি বছর নবকলেবর-সহ নানা আচার, রথযাত্রা এবং শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রথা জগন্নাথধামকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।বর্তমান মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাসের সঙ্গে পূর্ব গঙ্গবংশের রাজা অনন্তবর্মন চোড়গঙ্গদেবের নাম যুক্ত। তবে মন্দিরের নির্মাণ ও সম্পূর্ণতার সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে।পুরীতে কৃষ্ণ যেন বৃন্দাবনের কিশোর নন, দ্বারকার রাজাও নন। তিনি এখানে জগন্নাথজগতের নাথ। তাঁর রূপে আঞ্চলিক সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য, বৈষ্ণব ভাবনা এবং ভারতীয় ধর্মীয় পরম্পরার এক বিস্ময়কর সমন্বয় দেখা যায়।গুরুবায়ুর মন্দিরদক্ষিণের ভূলোক বৈকুণ্ঠকেরলের ত্রিশূর জেলার গুরুবায়ুরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ কৃষ্ণতীর্থ। ভক্তদের কাছে এই স্থান ভূলোক বৈকুণ্ঠ নামে পরিচিত।মন্দিরের উৎপত্তিকে ঘিরে রয়েছে নানা পুরাণকথা ও কিংবদন্তি। গুরুবায়ুরাপ্পন নামে পূজিত কৃষ্ণের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নিজস্ব আচার, পুজোপদ্ধতি এবং গভীর ভক্তি-সংস্কৃতি।উত্তর ভারতের বৃন্দাবনের সঙ্গে এখানকার পরিবেশের বিস্তর পার্থক্য। ভাষা আলাদা, স্থাপত্য আলাদা, পুজোর রীতিও আলাদা। কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি মানুষের নিবেদন একই রকম গভীর।এখানেই হয়তো ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়েঅঞ্চল বদলালেও অনুভূতিটি বদলায় না।নিকুঞ্জবনমন্দির নয়, তবু রহস্যে মোড়া এক তীর্থবৃন্দাবনের সব পবিত্র স্থান যে মন্দির, তা নয়। নিকুঞ্জবন তার সবচেয়ে রহস্যময় উদাহরণগুলির একটি।ঘন গাছপালায় ঢাকা এই স্থানকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসের শেষ নেই। বৈষ্ণব ভাবধারায় রাধা-কৃষ্ণের নিকুঞ্জলীলা ও এই স্থানের সম্পর্কের কথা বলা হয়।স্থানীয় বিশ্বাসে সূর্যাস্তের পর নিকুঞ্জবনে প্রবেশ না করার রীতি রয়েছে। এই বিশ্বাসকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।দিনের আলোয় যেখানে বৃন্দাবনের আর পাঁচটি পবিত্র স্থানের মতোই মানুষের আনাগোনা, সন্ধ্যার পর সেই জায়গাটিই যেন অন্য এক আবহ ধারণ করে। ঘণ্টাধ্বনি বা আরতির বদলে সেখানে অনুভূত হয় নিস্তব্ধতাআর সেই নীরবতার মধ্যেই যেন বেঁচে থাকে বৃন্দাবনের পুরনো কাহিনি।প্রেম মন্দিরআধুনিক বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের লীলার আলোকচিত্রবৃন্দাবনের প্রাচীন মন্দিরগুলির পাশে প্রেম মন্দির তুলনায় নবীন। কিন্তু তার স্থাপত্য ও আলোকসজ্জার জাঁকজমক তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তুলেছে।জগদগুরু শ্রী কৃপালু জি মহারাজের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১২ সালে এর উদ্বোধন হয়। সাদা মার্বেলের বিশাল কাঠামো, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার দৃশ্য মন্দিরটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাইরের দেওয়ালে ৮৪টি প্যানেলে রাধাকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।অর্থাৎ বৃন্দাবনের কয়েক শতাব্দী পুরনো স্মৃতির পাশে প্রেম মন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে আধুনিক সময়ের ভক্তির এক নতুন ভাষা হয়ে।বৃন্দাবনযেখানে শহরটাই যেন কৃষ্ণের গল্পএই তালিকার শেষে এসে আবারও ফিরতে হয় বৃন্দাবনে। কারণ বৃন্দাবনকে কেবল মন্দিরের শহর বলে বোঝা যায় না।এখানে গলি মানেই কোনও গল্প, ঘাট মানেই কোনও স্মৃতি, কুঞ্জ মানেই কোনও কিংবদন্তি। যমুনার জল, মন্দিরের ঘণ্টা, সন্ধ্যার আরতি, রাস্তার ভজন, ফুলের মালাসবকিছুর মধ্যেই যেন কৃষ্ণের উপস্থিতি।জন্মাষ্টমীর সময়ে সেই বৃন্দাবন আরও একবার বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে মন্দিরে। কোথাও কীর্তন, কোথাও ভজন, কোথাও কৃষ্ণের জন্মলীলার আয়োজন। মধ্যরাত পেরিয়ে যখন কৃষ্ণজন্মের মুহূর্ত আসে, তখন মনে হয়হাজার হাজার বছর আগের কোনও পুরাণকথা বুঝি আবার বর্তমান হয়ে উঠল।ভারতের নানা প্রান্তে কৃষ্ণের নাম এক, কিন্তু তাঁর রূপ বহুরঙা। বৃন্দাবনে তিনি প্রেমের বাঁশিওয়ালা, দ্বারকায় রাজা, পুরীতে জগন্নাথ, গুরুবায়ুরে আপন গৃহদেবতা। কোথাও তিনি শালগ্রাম থেকে আবির্ভূত স্বয়ম্ভূ বিগ্রহ, কোথাও কাঠের দারুরূপ, কোথাও বা মন্দিরের গর্ভগৃহের নীরব অন্ধকারে জেগে থাকা বিশ্বাস।এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে সুন্দর সত্যটি লুকিয়ে আছেকৃষ্ণের রূপ বদলায়, মন্দির বদলায়, ভাষা বদলায়, আচার বদলায়; কিন্তু তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা বদলায় না।জন্মাষ্টমী তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মদিন নয়। এ যেন ভারতীয় সংস্কৃতির সেই চিরন্তন উৎসব, যেখানে পুরাণ এসে মিশে যায় ইতিহাসে, ইতিহাস এসে মিশে যায় লোকবিশ্বাসে, আর বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক গভীর ব্যক্তিগত অনুভবে।সেই কারণেই জন্মাষ্টমীর রাতে ভারতের কোনও এক মন্দিরে যখন শঙ্খ বাজে, অন্য প্রান্তে কোনও ভক্ত যখন কৃষ্ণনাম জপ করেন, তখন দূরত্বটা আর থাকে না। বৃন্দাবন থেকে দ্বারকা, পুরী থেকে গুরুবায়ুরএকই সুরে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটাই নামকৃষ্ণ।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

'উত্তম'কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতু! শাড়িজুড়ে মহানায়কের সোনালি দিন—ঋতুপর্ণার সাজে ফিরল উত্তম-সুচিত্রার নস্ট্যালজিয়া

৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন একটি দিন, যেদিন বর্তমান যেন একটু থমকে দাঁড়ায় অতীতের সামনে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের সূচনায় তাই শুধু শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক কিংবা স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ রইল না উদযাপন। টালিগঞ্জের বাতাসে এদিন মিশে ছিল এক অন্যরকম নস্ট্যালজিয়াসাদা-কালো পর্দা, পুরনো সিনেমার গান, উত্তম-সুচিত্রার অমর রসায়ন আর বাঙালির চিরচেনা মহানায়ক-কে নতুন করে আবিষ্কারের আবেগ।চার দিনব্যাপী এই বিশেষ উদযাপনের সূচনা হয় মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের তারকাপ্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু তারকাখচিত সেই অনুষ্ঠানে একটি শাড়িই যেন আলাদা করে হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।আর সেই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে এসে অভিনেত্রী যেন শুধু নিজের পোশাক বেছে নেননি, সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা সিনেমার এক বিস্মৃতপ্রায় অথচ চিরজাগ্রত সময়কে। তাঁর পরনের ঘিয়ে রঙের নগজের শাড়ির পাড় ও আঁচলজুড়ে ফুটে উঠেছিল উত্তম কুমারের সিনেমার নানা স্মৃতি। কোথাও মহানায়কের মুখ, কোথাও উত্তম-সুচিত্রার অমলিন উপস্থিতিআর আঁচলজুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল এই পথ যদি না শেষ হয়-এর সেই চিরপরিচিত মুহূর্ত।যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজেঋতুকে কি ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই অমর মুহূর্ত?শর্মিলার শাড়ির পাড়ে হাত রেখে উত্তমের সেই গানবাংলা সিনেমার প্রেমের এক অনন্ত দৃশ্য। সকলে হয়তো স্বীকার করবেন না, তবু বাংলা সিনেমার প্রতিটি অভিনেত্রীর কল্পনায় কোনও না কোনওভাবে উত্তমই ছিলেন সেই স্বপ্নের নায়ক। তিনি শুধু নায়ক-ই নন ছিলেন কারও দাদা, কারও বাবা, কারও বন্ধু, কারও প্রেমিকসম্পর্কের নাম বদলেছে, উত্তম বদলাননি।তিনি ছিলেন, আছেনবাঙালির চিরকালের নায়ক।একটি শাড়ি তখন আর নিছক পোশাক থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতির ক্যানভাস।উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের জুটি বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতিতে যে জায়গা দখল করে রয়েছে, তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে অন্য ভাষায় তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস যেন দেখা গেল ঋতুপর্ণার সাজে। মেরুন থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজের সঙ্গে ঘিয়ে রঙের সেই শাড়ি, রং মিলিয়ে গয়নাসব মিলিয়ে সাজে ছিল সংযম, আভিজাত্য এবং আবেগের মিশেল।তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শাড়ির আঁচল।ক্যামেরার সামনে সেই আঁচল মেলে ধরার মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও পুরনো বাংলা ছবির ফ্রেম হঠাৎ করেই বর্তমানের মধ্যে ফিরে এসেছে। একদিকে ঋতুপর্ণা, অন্যদিকে আঁচলে ধরা উত্তম-সুচিত্রার সেই অমর সময়দুই প্রজন্মের দুই ভুবন যেন এক জায়গায় এসে মিলল।উত্তম কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতুএদিনের অনুষ্ঠানে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যাঁর চোখ ঋতুর শাড়িতে আটকে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, জিৎ, পাপিয়া অধিকারী কিংবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়মহানায়কের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন আলাদা এক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ঋতুর উত্তম শাড়ি।আর এই দৃশ্য যে শুধু দর্শকের চোখেই ধরা পড়েছে, তা নয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারাও কার্যত মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন সেই বিশেষ শাড়ির কাজ। ঋতুপর্ণার আঁচল টেনে তার নকশা খুঁটিয়ে দেখতে দেখা যায় দেবকে। পাশে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চোখেও স্পষ্ট কৌতূহল ও মুগ্ধতা। জিৎ-এর নজরও আটকে যায় মহানায়কের মুখ আঁকা সেই আঁচলে। মুহূর্তটি যেন প্রতীকীবর্তমান টলিউডের জনপ্রিয় মুখেরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলা সিনেমার সেই সোনালি সময়ের সামনে, যার কেন্দ্রে এখনও একইভাবে উজ্জ্বল উত্তম কুমার।ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য তারকাদের ভিড়ও যেন পিছু হটে যায়। একফ্রেমে ঋতুপর্ণার শাড়ি হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমানের সেতু।শুধু মহানায়কের সিনেমার স্মৃতিই নয়, গোটা শাড়ির নকশায় ছড়িয়ে ছিল বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের আবহ। পুরনো পোস্টার, পরিচিত চরিত্র, সিনেমার দৃশ্যসব মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল একটি চলমান চলচ্চিত্র-অ্যালবাম। পর্দায় যে দৃশ্যগুলি একসময় বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করেছিল, সেগুলিই এবার উঠে এসেছে কাপড়ের বুননে।এখানেই ঋতুপর্ণার এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের বিশেষত্ব।উত্তম কুমারকে স্মরণ করার প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে অভিনেত্রী যেন তাঁর পোশাককেই করে তুললেন স্মৃতির ভাষা। সিনেমা শেষ হয়ে যায়, পোস্টার পুরনো হয়ে যায়, প্রেক্ষাগৃহ বদলে যায়কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায় মানুষের মনে। সেই ছবিগুলিকেই যেন শাড়ির আঁচলে ধরে রাখলেন তিনি।আর সেই কারণেই তাঁর সাজ হয়ে উঠল নিছক ফ্যাশন নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক বক্তব্যও।মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এই দৃশ্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলউত্তম কুমার কেবল একটি নাম নন, কেবল কয়েকটি কালজয়ী ছবির নায়কও নন। তিনি বাঙালির যৌথ স্মৃতির অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর হাসি, তাঁর সংলাপ, তাঁর নায়করূপ এবং তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের রসায়নসবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন এক আবেগ, যার বয়স বাড়ে না।শতবর্ষ পেরিয়েও সেই আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায় কখনও সিনেমার পর্দায়, কখনও গানে, কখনও স্মৃতিচারণে, আবার কখনও একটি শাড়ির আঁচলে।ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের এই অভিনব সাজ তাই মহানায়ককে শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়। বরং পুরনো দিনের বাংলা সিনেমাকে আজকের চোখে নতুন করে দেখার এক সুন্দর প্রয়াস। যে পথে উত্তম-সুচিত্রা একদিন বাঙালির হৃদয়ে হেঁটেছিলেন, সেই পথ যেন সত্যিই এখনও শেষ হয়নি।শুধু বদলে গেছে মাধ্যম।এবার সেই পথের গল্প লেখা হয়েছে শাড়ির আঁচলে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal