• ১৭ কার্তিক ১৪৩৩, শুক্রবার ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Resign

দেশ

‘ককরোচ’-এর আন্দোলনে বড় ধাক্কা কেন্দ্রের! তৃতীয় বৈঠকের আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, নতিস্বীকার কি সরকারের?

নিজস্ব সংবাদদাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পালাবদলের ইঙ্গিত। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র লাগাতার আন্দোলন এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া প্রতিবাদের আবহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে প্রথম থেকেই সরব ছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিলশিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনও সমঝোতাই সম্ভব নয়।এই পরিস্থিতিতে শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সামনে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এল কেন্দ্র?ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই সমাজমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে সূত্রের খবর।নিট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি সামনে এনেছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের দাবি, পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে এর জন্য রাজনৈতিক দায় স্বীকার করতে হবে।এই দাবিকে কেন্দ্র করেই গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সিজেপির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে মোট তিনটি প্রধান দাবি রাখা হয়েছিল। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।সরকারের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যে দুদফা বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির বিষয়ে সরকারের তরফে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনও সমঝোতা হচ্ছিল না। বরং কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ফের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রের তরফে আলোচনায় থাকার কথা ছিল জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের। কিন্তু বৈঠকের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণা হয়ে যায়। এর ফলে আন্দোলনকারীদের প্রথম এবং মূল দাবিই কার্যত পূরণ হয়ে গেল।শনিবার সকালেই সিজেপির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে কেন্দ্র যদি কোনও সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে তৃতীয় দফার বৈঠকেরও কোনও অর্থ নেই। এমনকি আন্দোলনকারীদের তরফে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষোভের পরিধি আরও বাড়তে পারে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলতে পারে।এই আবহেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তাঁর নিজের বক্তব্যে পদত্যাগকে সরাসরি আন্দোলনের চাপের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়নি। বরং তিনি গত কয়েকদিনের পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তাঁর দাবি, কোনও মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, তা তিনি কখনও চাননি।পদত্যাগের ঘোষণা করে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ৩ মে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তিনি বিষয়টির দায় নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কখনও তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যায় না হওয়া।গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাঁকে ব্যথিত করেছে বলেও জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যাতে কোনও দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে এবং আন্দোলনে যুক্ত কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়েএই বিষয়গুলিও তিনি বিবেচনায় রেখেছেন।ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁর মতে, তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, গোটা সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থারও।তাঁর পদত্যাগের ঘোষণার পর এখন নজর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আন্দোলনকারীরা কি এই সিদ্ধান্তকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পথ হিসেবে দেখবেন, নাকি তাঁদের বাকি দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার হবেতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।তবে একটি বিষয় স্পষ্টনিট পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন আর শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেও, বৃহত্তর প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও বাকি। আগামী দিনে কেন্দ্র কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

'ককরোচ'দের চাপেরই জের! অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী

অবশেষে ককরোচদের প্রধান দাবি মেনে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আগেই ককরোচ জনতা পার্টির বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছিল কেন্দ্র। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিজেপির কাছ থেকে কেন্দ্র সময় নিয়ে নেয়। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি মেনে অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় করা দীর্ঘ পোস্টে নিজের পদত্যাগের কারণ জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইতিমধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত সেই পদত্যাগ গৃহীত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ইস্তফা পাঠানোর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকে নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি, কোনওসময় মুখ লুকোয়নি। তাঁর দাবি, ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশবিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা। আমার এই পদত্যাগপত্র দেশের জন্য।যন্তর মন্তরে একাধিক দাবি নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন শুরু করে। তারমধ্যে প্রধান দাবি ছিল, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র লিকের জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রথম দিকে শুধু মাত্র ককরোচ জনতা পার্টি সেই আন্দোলন করে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র সংগঠন সেই আন্দোলনে যুক্ত হয়। দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেই আন্দোলনে যুক্ত হতে থাকে। সেলিব্রেটি, খেলোয়াররাও আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। কার্যত চাপে পড়েই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলেই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলের সঙ্গে 'মধু চন্দ্রিমা' শেষ, দলের সব পদে ইস্তফা, এবার কি ঋত-ববির পথে?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার পারদ চড়ালেন প্রবীণ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি-সহ দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। শনিবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা একটি চিঠিতে নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার কথা জানান চন্দ্রিমা।সূত্রের খবর, গত ৩ জুন তাঁকে যে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই পদ থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার বিভিন্ন শাখা সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সিগনেটরি হিসেবে যে দায়িত্বে ছিলেন, সেখান থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।ইস্তফাপত্রে কারণের উল্লেখ নেইচন্দ্রিমার ইস্তফাপত্রে পদত্যাগের কোনও নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি কেবল কোন কোন সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ছেন, সেই তালিকাই তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক মহলে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছেচিঠিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন হিসেবে উল্লেখ করেননি, যা অনেকের নজর কেড়েছে।জল্পনা বাড়াচ্ছে পুত্রের রাজনৈতিক অবস্থানইতিমধ্যেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুত্র সৌরভ বসু তথাকথিত ঋতব্রতপন্থী নব্য তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চন্দ্রিমার এই পদত্যাগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেতিনিও কি একই রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন?যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা থাকলেও, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।বদলে যাচ্ছে তৃণমূলের সাংগঠনিক সমীকরণ?সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়েও জোর চর্চা চলছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বাইপাস সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে নতুন ব্যানার টাঙানো হয়েছে, যেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে অরূপ রায়ের নাম রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি না থাকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়াও ওই কার্যালয়ে ঋতব্রত, সন্দীপন, ফিরহাদ হাকিম ও জাভেদ খানের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।নজরে রাজনৈতিক মহলচন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে তিনি ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক অবস্থান নেবেন বা কোনও নতুন শিবিরে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে রাজনৈতিক জল্পনা যতই তুঙ্গে উঠুক, পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।

জুলাই ০৪, ২০২৬
কলকাতা

তারাতলা বিপর্যয়ের পর বড় ধাক্কা তৃণমূলে! দল ছাড়লেন কাউন্সিলর, বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

তারাতলা গোডাউন ধসের ঘটনার পর বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল। কলকাতা পুরসভার আটচল্লিশ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন। তাঁর দাবি, তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। এই ঘটনার পর আর তৃণমূলে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি।বিশ্বরূপ দে বলেন, একের পর এক ঘটনায় দলের নাম জড়িয়ে পড়ায় তিনি অত্যন্ত ব্যথিত। তাঁর কথায়, তারাতলার ঘটনায় বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছেন, অনুমোদিত নকশাতেই গুরুতর ত্রুটি ছিল। সেই কথা জানার পর তাঁর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, যে দলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, সেই দলের আমলেই যদি এমন গুরুতর গাফিলতি হয়ে থাকে, তবে তা মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এই ঘটনার যন্ত্রণা তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না বলেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।বিশ্বরূপ দে জানান, অতীতে দলের পাশে থেকেছেন এবং দলের কঠিন সময়েও আনুগত্য বজায় রেখেছেন। কিন্তু এই ঘটনার পর তাঁর মনে হয়েছে, তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই ভুলের জন্য ভবিষ্যতে তাঁকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনের অনুমোদিত নকশাতেই একাধিক ত্রুটি ছিল। তিনি সেই সংক্রান্ত নথিও বিধানসভায় তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই বিশ্বরূপ দে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।তারাতলা বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় একের পর এক নতুন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসায় আগামী দিনে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জুন ২৬, ২০২৬
রাজ্য

‘আনুগত্যের পুরস্কার’ থেকে ইস্তফা— তৃণমূলে বিস্ফোরণ, মমতাকে বার্তা: ভুঁইফোঁড়দের নয়, ফিরুন পুরনো সৈনিকদের কাছে

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিলেন বারাসতের সাংসদ তথা দলের প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। দলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি কার্যত শাসকদলের বর্তমান সাংগঠনিক রণকৌশল নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন। শুধু পদত্যাগ করেই থেমে থাকেননি কাকলি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র উদ্দেশে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন নতুন ভুঁইফোঁড় সংস্থা বা বাহ্যিক পরামর্শদাতাদের উপর নির্ভর না করে, দলের পুরনো নিষ্ঠাবান কর্মীদের উপরেই আস্থা রাখা হোক।এই পদক্ষেপ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, কয়েক দিন আগেই দলের সংসদীয় মুখ্যসচেতকের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কাকলিকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ( Kalyan Banerjee)-কে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় কালীঘাটে হওয়া বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল।পদচ্যুত হওয়ার ঠিক পরের দিন সমাজমাধ্যমে কাকলির একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ১৯৭৬ থেকে পরিচয়, ১৯৮৪-তে পথচলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছিল তাঁর ক্ষোভ ও অভিমান।তার পর নয় দিন কাটতে না কাটতেই রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)-র কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ালেন তিনি।চিঠিতে কাকলি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন,নেত্রী যদি আগের মতো পুরনো, পরীক্ষিত ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে দল চালান, তবে দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। ভুঁইফোঁড় সংস্থার উপর ভরসা করে কঠিন রাজনৈতিক লড়াই জেতা সম্ভব নয়।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যে পরোক্ষে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে যুক্ত পেশাদার সংস্থাগুলির ভূমিকাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই প্যাক (Indian Political Action Committee)-এর ভূমিকা নিয়ে ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের একাংশের অসন্তোষের ইঙ্গিত আগেও সামনে এসেছিল। কাকলির বক্তব্য সেই ক্ষোভকেই আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল বলে মনে করা হচ্ছে।ইস্তফাপত্রে তিনি রাজ্যের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, জবাবদিহি এবং মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।নিজের সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায়ও এড়িয়ে যাননি কাকলি। বিধানসভা ভোটে তাঁর সাংগঠনিক এলাকায় দল প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। সেই নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়েই জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কাকলির এই পদত্যাগ শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরে জমতে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনী ধাক্কার পর দল যখন আত্মসমালোচনার পর্যায়ে, তখন এক প্রবীণ সাংসদের এমন প্রকাশ্য বার্তা নিঃসন্দেহে দলীয় নেতৃত্বের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কবার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৫, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে হঠাৎ পদত্যাগ! অবশেষে মুখ খুললেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস

ভোটের আগে আচমকা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ ঘিরে এখনও জল্পনা থামেনি। তিনি কি কোনও চাপের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীও এই বিষয়ে ইঙ্গিত করে বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন। তবে সেই জল্পনার মধ্যেই রবিবার কলকাতায় ফিরে নিজেই মুখ খুললেন সিভি আনন্দ বোস।দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে কিছুটা দার্শনিক সুরেই তিনি বলেন, এটি তাঁর নিজের সচেতন সিদ্ধান্ত। তাঁর কথায়, এটাই বিদায় নেওয়ার সঠিক সময়। একজন গেলে তবেই তো আরেকজন আসবে।এ সময় তিনি করজোড়ে প্রণাম জানিয়ে বলেন, বাংলায় যে সময় তিনি কাটিয়েছেন, তা তাঁর কাছে খুবই সুন্দর অভিজ্ঞতা। বাংলার মানুষের ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন বলেও জানান। পাশাপাশি তিনি এও জানান, এখন তিনি চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রের একজন ভোটার হয়েছেন। সেটি তাঁর কাছে দ্বিগুণ আনন্দের বিষয়।তবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি বিদায়ী রাজ্যপাল। আসন্ন নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে কাজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তাঁর কথায়, আপাতত সে ধরনের কোনও পরিকল্পনা নেই।তবে ভোটের মুখে তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, এর পিছনে বড় কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিতও থাকতে পারে।

মার্চ ০৮, ২০২৬
কলকাতা

বিএলও-র ইস্তফা ঝড়! এসআইআর প্রক্রিয়া বিপর্যয়ের পথে? নির্বাচনী কমিশনের পদক্ষেপ প্রশ্নের মুখে

শেষ পর্যায়ে এসআইআর প্রক্রিয়া। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলও-দের অসন্তোষ ক্রমশ বেড়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ আগেই তুলেছিলেন বিএলও-রা। এবার অনেকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন।রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিএলও-রা গণইস্তফা দিচ্ছেন। শনিবারই উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা ব্লকে প্রায় ২০০ জন বিএলও অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক নির্দেশিকা ও ম Thomson-এ কাজ করতে গিয়ে তাঁরা হয়রানি ও হেনস্থার মুখে পড়ছেন। বিডিও দফতরের সামনে গেট আটকে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে।বিএলও-দের অসন্তোষ জেলায় জেলায় বাড়ছে। স্বরূপনগরে গতকাল ৫৩ জন বিএলও একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি বিএলও ইস্তফার আবেদন জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ নেবে, তা এখনই প্রশ্নের মুখে। রাজনৈতিক কারণে কি এই ইস্তফার ঘটনা ঘটছে, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে।এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলও-দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৪ নভেম্বর থেকে তারা এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেছিলেন। কাজের চাপ এবং দীর্ঘ দায়িত্বের কারণে একাধিক বিএলও মৃত্যু বা আত্মহত্যার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের পদক্ষেপই এখন সবার নজর কেড়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজনীতি

একেই হুমায়ুন কবীরে অস্থির! এবার দুর্নীতির অভিযোগ জেলা পরিষদের সদস্যপদে ইস্তফা দাপুটে তৃণমূলনেত্রীর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। দলের হেভিওয়েট নেত্রী ও জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি শাহনাজ বেগম জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। শুধু পদত্যাগই নয়, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে নিজের দলের পরিচালিত জেলা পরিষদ বোর্ডকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।১৭ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান শাহনাজ বেগম। তার প্রতিলিপি জমা পড়েছে জেলা শাসকের কাছেও। তবে প্রশাসনিক চিঠির থেকেও বেশি আলোড়ন তৈরি করেছে তাঁর ফেসবুক পোস্ট। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, চোর জেলা পরিষদের একজন অংশীদার হয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই এক লাইনের মন্তব্যেই জেলা তৃণমূল রাজনীতিতে তীব্র অস্বস্তি ছড়িয়েছে।শাহনাজ বেগম দাবি করেছেন, তিনি কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভই যে এবার প্রকাশ্যে এসেছে, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে দলের অন্দরে এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা।মুর্শিদাবাদ জেলা রাজনীতিতে শাহনাজ বেগম অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম। একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে জেলা পরিষদে তৃণমূলের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। ২০১৩ সাল থেকে সোমপাড়া, রামপাড়া ও রামনগর বাছড়া এলাকা থেকে টানা তিনবার নির্বাচিত হন তিনি। কর্মাধ্যক্ষ থেকে সহকারী সভাধিপতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন শাহনাজ।যদিও আপাতত অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেননি তিনি। তবে পদ ছাড়লেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই বিস্ফোরক ইস্তফা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
কলকাতা

যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার দায় নিলেন অরূপ, ইস্তফা গ্রহণ মুখ্যমন্ত্রীর

ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফা গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন অরূপ। সেই চিঠি গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আপাতত এই দপ্তরের দায়িত্ব নিজেই সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস জানান, ১৩ ডিসেম্বর মেসির আগমনের সময় যুবভারতীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্ত যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে হয়, সেই কারণেই তিনি ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সেই আবেদন মেনে নিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তর নবান্ন থেকেই দেখভাল করবেন মুখ্যমন্ত্রী।তবে অরূপ বিশ্বাস তাঁর হাতে থাকা বিদ্যুৎ দপ্তরের দায়িত্বে বহাল থাকছেন। ওই দপ্তরের কাজ আগের মতোই তিনি সামলাবেন বলে জানা গিয়েছে।উল্লেখ্য, ১৩ ডিসেম্বর গোট ট্যুর-এর অংশ হিসেবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ এবং রড্রিগো ডি পল। কিন্তু হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও বহু দর্শক মেসিকে এক ঝলক দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মেসি মাঠ ছাড়ার পর গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া হয়, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতার একাংশ। সেই সময় স্টেডিয়ামেই উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ঘটনার পর অব্যবস্থার অভিযোগে মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
কলকাতা

“চার বছর ধরে অভিযোগ!”—অবশেষে চাপের মুখে পদত্যাগ করলেন অধ্যাপক কল্যাণ ভট্টাচার্য

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে বিস্ফোরক পরিস্থিতি তৈরি হল শুক্রবার। প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি ও শারীরিক হেনস্থার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কল্যাণ ভট্টাচার্য। সকাল থেকেই চাপে ছিলেন তিনি। আর সেই চাপের উৎস হাসপাতালের ছাত্রছাত্রীদের একটানা আন্দোলন। অধ্যক্ষের দফতরের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মেডিক্যাল কলেজের পরিবেশ।অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রথম বর্ষের ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন এইচওডি। একাধিক ছাত্রী বারবার বিষয়টি অভিযোগ জানালেও ব্যবস্থা হয়নি বলে দাবি পড়ুয়াদের। অবশেষে সাম্প্রতিক হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসতেই ফেটে পড়ে ক্ষোভ। শুক্রবার দুপুর বারোটার পর থেকেই স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সদস্যরা প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে অবস্থান শুরু করেন। তাঁরা জানান, তাঁরা লিখিত আকারেই এমন অভিযোগ গত কয়েক বছর ধরে তুলে আসছেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।বিকেলের দিকে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন এইচওডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক মৈত্রেয়ী মণ্ডলকে। একই সঙ্গে সাত সদস্যের একটি কমিটিও তৈরি হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সেই কমিটির রিপোর্ট যাবে অধ্যক্ষের হাতে। এরপর তা স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হবে, আর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।এক বিক্ষোভকারী ছাত্র বলেন, আমাদের দাবি আংশিকভাবে পূরণ হলেও ক্ষোভ থেকেই যাচ্ছে। চার বছর ধরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনও দিন ব্যবস্থা হল না। আজ আন্দোলনের জেরে পদক্ষেপ হল। অন্যদিকে এমএসভিপি অঞ্জন অধিকারী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মেডিক্যাল কলেজে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে। হেড স্যার ইস্তফা দিয়েছেন। এখন সমস্তটাই কমিটির রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে।এই পুরো ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলছেশিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ কতটা গভীর? আর চাপ না থাকলে কি কোনও অভিযোগ কখনও গুরুত্ব পায়?

নভেম্বর ২১, ২০২৫
বিদেশ

সেনাপ্রধানকে সর্বশক্তিমান করতে সংবিধান সংশোধন—বিচারপতিদের একের পর এক পদত্যাগে তুমুল তোলপাড়

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই এবার ভয়ঙ্কর সংকট তৈরি হয়েছে দেশের বিচার ব্যবস্থায়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের যুগলবন্দিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে যে স্বৈরশাসনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই উঠছিল, এবার তা যেন আরও বাস্তব হয়ে উঠল। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে একের পর এক বিচারপতি ইস্তফা দিচ্ছেন। সর্বশেষ লাহোর হাই কোর্টের বিচারপতি শামস মেহমুদ মির্জা নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি পদত্যাগ করেছিলেন।বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, শাহবাজ সরকার সংবিধান পাল্টে দেশে প্রায় সামরিক শাসনের মতো পরিবেশ তৈরি করছে। নতুন সংশোধনীতে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে দেওয়া হয়েছে অসামান্য ক্ষমতাএমন রক্ষাকবচ আগে কোনও সেনাপ্রধান পাননি। উল্টো দিকে, সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সম্পর্কিত মামলাগুলি সুপ্রিম কোর্টের বদলে নতুন সাংবিধানিক আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিচারব্যবস্থার মূল কাঠামোকেই নড়বড়ে করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।এই ঘটনা চরম অচলবস্থা তৈরি করেছে পাকিস্তানে। বিচারপতিরা প্রকাশ্যে বলছেন, এভাবে আদালতের ক্ষমতা খর্ব এবং সেনাকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হলে গণতন্ত্র রক্ষা অসম্ভব হয়ে উঠবে। তাঁদের মতে, এই সংশোধন সংবিধানের আত্মাকে আঘাত করছে।গত বুধবার জাতীয় সংসদে সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিল পাশ করে শাহবাজ সরকার। ওই আইন অনুসারে প্রথমবার সেনাবাহিনীতে সৃষ্টি করা হয়েছে নতুন একটি পদচিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস। এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে আসিম মুনিরকে। এরপর প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তড়িঘড়ি সই করে দিয়েছেন বিলে। আর এর পরপরই দুই সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি ও লাহোর হাই কোর্টের বিচারপতি ইস্তফা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁদের ক্ষোভ।পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনা ও প্রশাসনের মেলবন্ধনে তৈরি হওয়া এই ক্ষমতার গঠন গণতন্ত্রের জন্য ভয়ঙ্কর। বিচারব্যবস্থার উপর চাপ বাড়লে সামনে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছেপাকিস্তান কি সত্যিই নতুন একনায়কতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
রাজ্য

রাজ্যপালের পদত্যাগ দাবি মুখ্যমন্ত্রীর, রাজভবনে যাবেন না মমতা

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছিলেন রাজভবনেরই এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী। যা ঘিরে আজ ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশানা করলেন সিভি আনন্দ বোসকে। রাজ্যপালের পদত্যাগ দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে এবার থেকে কোনও কাজে আর রাজভবনে যাবেন না বলেও সাফ জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তবে রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে কোথায় তিনি যাবেন তাও এদিন স্পষ্ট করেছেন তৃণমূলনেত্রী।মাননীয় রাজ্যপাল! আমার কী দোষ আপনি বলুন। আমি তো জানিই না ঘটনা পুরো। রাজ্যপালের তো পদত্যাগ করা উচিত। মহিলাদের উপর নির্যাতন করার আপনি কে? প্রেসকে ডেকে এডিট করে কিছু ভিডিও দেখিয়েছে। পুরোটা কি দেখিয়েছে? কপিটা আমার কাছে আছে। এখনও তো সব বেরোয়নি। আর একটা পেনড্রাইভ পেয়েছি। আরও কেলেঙ্কারি। বাবারে! আমাকে এখন রাজভবনে ডাকলে আমি আর যাব না। আমাকে রাস্তায় ডাকলে যাব। রাজ্যপালের কথা বলতে হলে আমাকে রাস্তায় ডাকবেন। রাস্তায় গিয়ে কথা বলে আসব। রাজভবনে আর যাব না। যা কীর্তি-কেলেঙ্কারি শুনছি তাতে আপনার পাশে বসাটাও পাপ।উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। রাজভবনেরই এক অস্থায়ী কর্মী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন। দুবার রাজভবনের পিস রুমে তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন সিভি আনন্দ বোস, এমনই অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছেন ওই মহিলা। যদিও রাজ্যপাল নিজে অবশ্য। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে পাল্টা সোচ্চার হয়েছেন রাজ্যপাল। রাজভবনের তরফে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেই ভিডিও নিয়েও তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এডিট করে ওই ভিডিও প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

মে ১১, ২০২৪
রাজ্য

চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন আইপিএস অফিসার

নিঃশর্তে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন কোচবিহারের শীতলকুচিতে ভোটকেন্দ্রে গুলিকাণ্ডে সাসপেন্ড হওয়া পুলিশ সুপার তথা আইপিএস অফিসার দেবাশিস ধর। ২০২১ বিধানসভা ভোটের সময়ে কোচবিহারের শীতলখুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চার গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময়ে কোচবিহারের পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। বিধানসভার ভোট মিটে যেতেই দেবাশিসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল রাজ্য গোয়েন্দা দফতর তথা সিআইডি। লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর ইস্তফা যথেষ্ট তাৎপর্য পূর্ণ।বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের কোন একটি লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা দেবাশীষ ধর। এরআগে উত্তরবঙ্গের আইজি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্র থেকে। স্বভাবতই জল্পনা তুঙ্গে।

মার্চ ২১, ২০২৪
রাজনীতি

সিপিএম বা কংগ্রেস নয়, কেন বিজেপিতে? ব্যাখ্যা দিলেন সদ্য প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব জল্পনার অবসান। শেষমেশ বিজেপিতেই যোগদান করছেন বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করলেন সদ্য ইস্তফা দেওয়া বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বেশ কয়েকমাস ধরেই চর্চায় ছিল অভিজিৎবাবুর রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়টি। এক সাক্ষাৎকারে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি আইনজীবী তথা বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে গুরু হিসাবে মানেন। তারপরই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি কখনও রাজনীতিতে এলে সিপিআইএমে যোগ দেবেন তিনি। সেই সম্ভাবনা আর নেই। কেন সিপিআইএম বা কংগ্রেসে যোগ দিলেন না বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? এদিন নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে যুক্তি দিয়ে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদ্য ইস্তফা দেওয়া এই বিচারপতি।অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিজেপিই একমাত্র দল, যারা তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাই এই দলেই যোগদান করলাম। তাঁর কথায়, শেষ সাত দিন বিজেপির সঙ্গে কথা হয়েছে। দুপক্ষের সহমতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওই দিনগুলিতে বিচারের কাজ করিনি। ছুটিতে ছিলাম।এরপরই বিস্ফোরক অভিজিৎ বলেন, তৃণমূল একটি দুষ্কৃতীদের দল বলে মনে করি। তৃণমূলকে আমি রাজনৈতিক দল বলেই মনে করি না। তৃণমূল হল একটি আদ্যোপান্ত যাত্রাদল। ওদের যাত্রাপালার নাম হল মা-মাটি-মানুষ। স্পষ্ট বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকৃত রাজনীতিবিদ বলে আমি মনে করি। তবে অন্য যাঁর কথা বলছেন, তাকে আমি তালপাতার সেপাই বলে মনে করি।কে এই তালপাতার সেপাই? জবাবে অভিজিৎ বলেন, যাঁকে আপনারা সেনাপতি বলছেন। আমি কারও নাম করছি না। আমি তো এখানে কোনও কুকথা বলছি না। তাঁর নামটাকে আমি কুকথা বলে মনে করি। তালপাতার সেপাই বলেছে, বিচারব্যবস্থা ওর গ্রেফতারি আটকেছিল। তালপাতার সেপাই বিচার ব্যবস্থার কিছু জানেন না। ওঁর পেটে বোমা মারলেও কিছু বেরোবে না। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত কিছু ব্যবস্থা নেয়নি, ওঁর ভাগ্য ভাল।অভিজিৎবাবুর ভবিষ্যদ্বাণী, তৃণমূল ভিতর ভিতর ভেঙে পড়ছে। এই দল বেশি দিন আর নেই। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সেই অবস্থা হবে, যা ২০০৯ সালে সিপিএমের হয়েছিল। আর ২০২৬ সাল পর্যন্ত দলটাই থাকবে না। শুধু কয়েকটা গ্রেফতারির প্রয়োজন। তবে কাদের গ্রেফতারি প্রয়োজন তা এদিন স্পষ্ট করেননি তিনি।এরপরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সিপিএমে যোগ দেব না কারণ আমি ঈশ্বর বিশ্বাসী। ধর্মে বিশ্বাস করি। তাদের সঙ্গে আমার মিল হবে না। আর কংগ্রেস হল পারিবারিক জমিদারির একটা দল। এখানে জয়রাম রমেশের মতো শিক্ষিত মানুষেরা থাকেন। কিন্তু তাঁরা পদ পান না। রাহুল গান্ধীর মতো নেতাদের পিছনে থেকে যেতে হয়। তাই এ দলে যাওয়ার কোনও প্রস্নই নেই।

মার্চ ০৫, ২০২৪
রাজ্য

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ঘোষণা ঘিরে শোরগোল, কোন কেন্দ্রে কোন দলের প্রার্থীর সম্ভাবনা?

শেষমেশ ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নিজের পদত্যাগের কথা জানিয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আগামী মঙ্গলবার মাস্টারদা সূর্য সেনের মূর্তির নীচে দাঁড়িয়ে সব প্রশ্নের জবাব দেবেন। আগামিকাল হাইকোর্টে যাবেন তাঁর দায়িত্বে থাকা মামলাগুলি ছেড়ে দেওয়ার জন্য স্বাক্ষর করতে। রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন এই বিতর্কিত বিচারপতি। এই নিয়ে চলছে জোর চর্চা। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভায় যোগ দিতে পারেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তমলুক কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সদ্য পদত্যাগ করা বিচারপতির। বিচারপতির পদত্যাগ ঘিরে তুমুল শোরগোল পরে গিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব বিচারপতির এই সিদ্ধান্তের কড়স সমালোচনা করেছে। সিপিএম বলছে, এর ফলে চাকরি প্রার্থীরা বিপাকে পড়ল। অধীর চৌধুরী তাঁকে কংগ্রেসে যোগদানের আবেদন জানিয়েছেন।

মার্চ ০৩, ২০২৪
রাজনীতি

শেষমেশ শুভেন্দুর হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে নিলেন কৌস্তভ

দীর্ঘ মতবিরোধের পর হাতের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন বুধবার। এরপর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিজেপির দিকেই ধাবিত হবে? এই নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত বিজেপিতে-ই যোগ দিলেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। বৃহস্পতিবার বিজেপি দফতরে কৌস্তভের হাতে পদ্মপতাকা তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা।বিগত বেশ কয়েকমাস যুব নেতা কৌস্তভের সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সম্পর্ক ভাল ছিল না। ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থানকে কেন্দ্র করে ফাটলের সূত্রপাত। পরে তৃণমূল বিরোধীতায় অধীর চৌধুরীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন এই আইনজীবী নেতা। কংগ্রেস থেকেই সেই পর্বে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা শোনা গিয়েছিল কৌস্তভ বাগচীর গলায়। এমনকী পতাকাছাড়া শুভেন্দু ও কৌস্তুভকে ডিএ আন্দোলন বা শিক্ষা দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনেও দেখা যায়। শেষমেষ গতকাল কংগ্রেস ছাড়েন তিনি। আর বৃহস্পতিবার যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে।কেন বিজেপিতে তাঁর যোগদান? সেই ব্যাখ্যায় এদিনও কৌস্তভ বাগচীর মুখে কংগ্রেসের সমালোচনা শোনা গেল। বললেন, মানুষের চাহিদা পূরণ না করতে পারলে তো রাজনীতি করার কোনও অর্থ নেই। যেখানে প্রদেশ কংগ্রেসের গুরুত্ব নেই। সেখানে সে দলের সঙ্গে থাকার কোনও অর্থ নেই। এখনও সেখানে থাকলে নিজেকে অসম্মানিত করা হবে। সন্দেশখালি নিয়ে কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্ব চুপ। আমার মনে হচ্ছে দিনের পর দিন কংগ্রেস যেভাবে তৃণমূল নিয়ে নরম মনোভাব দেখাচ্ছে, সেখানে আত্ম মর্যাদা নিয়ে সেই দলে থাকা যায় না।কৌস্তভের সাফ দাবি, সন্দেশখালিকাণ্ডে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অথচ কংগ্রেসের কোনও বক্তব্য নেই। দলের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষের থাকলেও কেউ বলছেন, কেউ বলছেন না। আমার মনে হয়েছে এখানে থাকাটা নিজের আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমঝোতা করা। এই তৃণমূলের প্রতি নরম অবস্থান নিয়ে রাজ্যে তৃণমূলকে উৎখাত করা যাবে না।দুয়ারে লোকসভা ভোট। পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী হবেন তিনি? কৌস্তভ বলেন, আমি কোনও শর্তে দল করি না। চাওয়া পাওয়ার জায়গা নেই। অত্যাচারী শাসকদলকে এ রাজ্য থেকে উৎখাত করতেই বিজেপিতে যোগদান।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, কৌস্তভ ভাল যুবনেতা। মমতা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এলাকায় যান। এ জন্য পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করেছে। আমরা চাই কৌস্তভ বাগচী বিজেপিতে ভাল করে কাজ করতে পারবেন। আমাদের সকলের একটাই লক্ষ্য- দেশে মোদীজির হাত শক্তিশালী করা ও বাংলা থেকে মমতা কোম্পানিকে উৎখাত করা।বিজেপিতে যোগ দিয়েই কৌস্তভ বাগচী বলেন, মানুষের চাহিদা পূরণ না করলে তো রাজনীতি করার কোনও অর্থ নেই। যেখানে প্রদেশ কংগ্রেসের গুরুত্ব নেই। সেখানে সে দলের সঙ্গে থাকার কোনও অর্থ নেই। সন্দেশখালি নিয়ে কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্ব চুপ। আমার মনে হচ্ছে দিনের পর দিন কংগ্রেস যেভাবে তৃণমূল নিয়ে নরম মনোভাব দেখাচ্ছে, সেখানে আত্ম মর্যাদা নিয়ে সেই দলে থাকা যায় না।কৌস্তভ ছাড়াও এদিন হাত শিবির ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখান কংগ্রেস নেতা শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ মজুমদার এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সৌমিত্র দত্ত।

ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪
রাজনীতি

হাইকমান্ডকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দল ছাড়লেন আইনজীবী কংগ্রেস নেতা, লক্ষ্য কি গেরুয়া শিবির?

অবশেষে দল ছাড়লেন আইনজীবী কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী। হাইকমান্ডের সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের সখ্যতা নিয়ে বারবার প্রতিবাদ করেছেন, প্রশ্ন তুলেছিলেন নানা মহলে। তৃণমূল বিরোধিতায় নানা পরিস্তিতিতে তুলোধোনা করতে ছাড়েননি রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সর্বভারতীয় শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত।রাজ্যের নানা বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি কংগ্রেস হাইকমান্ডের শীতল মনোভাব নিয়ে বহুবার কড়া সমালোচনা করেছেন। গর্জে উঠেছেন সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে টিভি প্যানেল ডিসকাশান অবধি। এরই পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে কৌস্তভের।২০২৩ এর মার্চ মাসে কৌস্তভের গ্রেপ্তারের অব্যবহিত পরেই শুভেন্দু অধিকারী কৌস্তভের গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন। রাজনীতির ময়দানে দুজনে চরম বিরোধী হলেও কংগ্রেস নেতা তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সম্প্রতি মমতা সরকারের দুর্নীতি, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে কয়েকজন যুবক সোচ্চার হয়েছেন তাঁদের মধ্যে কৌস্তভ অন্যতম। তাঁর দ্রুত মুক্তির দাবি করি। পুলিশ যে কায়দায় রাত তিনটের সময় ওঁর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়েছে তার প্রতিবাদ করছি। আমরা সোচ্চার হবো। এর পর থেকেই দুজনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবী। বিশিষ্টদের ধারণা এখন হাতএ ফুল (পড়ুন পদ্ম) ধরা সময়ের অপেক্ষা।লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন, তার উত্তরে কৌস্তভ বাগচীর জানান, কংগ্রেস হাইকমান্ডের কাছে রাজ্য তৃণমূলরেই বেশি গুরুত্ব। প্রদেশ কংগ্রেসের কোনও গুরুত্বই নেই। কংগ্রেস তার রাজনৈতিক সত্তা হারিয়েছে, ঠিক সেই কারণেই পদত্যাগ বলে দাবি করেছেন আইনজীবী কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪
রাজনীতি

জেলবন্দি অনুব্রত মন্ডলের বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সহসভাপতির পদত্যাগ, কেন?

গরুপাচার কাণ্ডে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি জেলবন্দি। এই সময়ে দল ছাড়লেন তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি বিপ্লব ওঝা। সেই সঙ্গে বীরভূমের জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করলেন তিনি। মঙ্গলবার ঘট করে সাংবাদিক সম্মেলনে দলত্যাগ ও পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন বিপ্লববাবু।একসময় বিপ্লব ওঝা বীরভূম জেলা কংগ্রেসের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০০৭-এ তিনি নলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান হন। ২০০৯ বীরভূম লোকসভায় তৃণমূলের টিকিটে সংসদ শতাব্দী রায় জয়ী হন। তারপরই প্রথম সমস্ত কাউন্সিলর নিয়ে তৃণমূল যোগদান করেন বিপ্লববাবু। সে সময় নলহাটি পুরসভা রাজ্যে তৃণমূলের প্রথম দখলে আসে। পরবর্তী সময়ে তিনি নলহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান হন। নলহাটি বিধানসভার উপনির্বাচনে তিনি তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। জিততে পারেননি। বামফ্রন্টের কাছে পরাজিত হন।পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জেলা পরিষদের সদস্য হন। কিন্তু তাঁকে কোন পদে রাখা হয়নি। কিন্তু বছরখানেক ধরে দলে ব্রাত্য করে রাখা হয় বিপ্লববাবুকে। সেই আক্ষেপেই তিনি দলত্যাগ করলেন বলে দাবি বিপ্লববাবুর। তবে এখনও কোন দলে যোগদান করছেন সে কথা না জানাননি। তবে আজই নলহাটিতে আসছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ওই মঞ্চেই বিপ্লববাবুর বিজেপিতে যোগদান করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। তিনি যে রাজনীতি থেকে সরে যাবেন না তা স্পষ্ট।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে সমবায় সমিতির ১০ জন সদস্যের ৮ জন গন-পদত্যাগ! পিছনে কি তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল?

পঞ্চায়েত নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল ও সংঘর্ষ। পূর্ব বর্ধমানের জামার সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে এই মূহুর্তে পরিচালন সমিতির সদস্য সংখ্যা দশ। এর মধ্যে একসাথে আটজনের পদত্যাগের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকে। পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, যুব তৃণমূল কংগ্রেসের একটা গোষ্ঠী তাদের নানান ভাবে অপমান ও হেনস্থা করছে। যার কারণে সমবায়ে সম্মানের সাথে কাজ করা যাচ্ছে না।তাঁরা জানান, এবিষয়ে একাধিকবার উচ্চ নেতৃত্বকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। সেকারণেই পদত্যাগ বলে জানাচ্ছেন পদত্যাগীরা। এই সমবায় সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কোনার বর্তমানে রায়ান ২ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্য। তিনি এর আগে তৃণমূলের ব্লক সহ সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও ছিলেন। এরকম একজন উচ্চনেতৃত্ব সহ আট জন একসাথে পদত্যাগ করায় যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সঞ্জয় বাবু জানান, আমরা যে কজন সমিতির পরিচালনার দায়িত্বে আছি তারা সকলেই প্রবীণ, সম্মানের সাথে দল করে এসেছি। সঞ্জয় বাবু আরও বলেন, যুব তৃণমূলের কিছু দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা পদে পদে অপমানজনক কথাবার্তা বলে। এমনকি পঞ্চায়েতে গেলেও সেখানে অপদস্থ হতে হয়, তাই এই পদত্যাগ বলে জানান সঞ্জয় কোনার।অপর এক পদত্যাগী এই সমিতির সহ সভাপতি সেখ আপসিয়া জানান, আমরা সবাই তৃণমূল কংগ্রেস করি। কিন্তু তৃণমূলের যুব গোষ্ঠীর অত্যাচারে আমরা বাধ্য হই পদত্যাগ করতে। অপরদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই যুব নেতা অরূপ গুপ্ত ও শেখর গাঙ্গুলিরা জানান, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো হিসাব দিতেন না। আমরা হিসাব চাইতে গেলে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন। কেন সারের দাম বাড়লো গ্রামের মানুষ সেটা জানতে গিয়েছিল মাত্র। উল্টে এই যুব নেতারা অভিযোগ করেন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য হলেও গ্রামের উন্নয়নের জন্য কিছু করেন নি।বিষয়টি নিয়ে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কাকলি গুপ্ত তা জানান, কিছুদিন আগেই ব্লকের সিআই এর কাছে এলাকার চাষীরা অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি জানান, জামার সমবায় সমিতির সবচেয়ে বড় সমস্যা এদের বোর্ড চাষিদের কাছে হিসাব দিতে অনীহা। তিনি বলেন, যদি সব কিছু পরিষ্কার থাকে তাহলে হিসাব দিতে আপ্ততি কেন? কাকলি তা জানান, যখন পরিচালন সমিতি গঠন হয় তখন সঞ্জয় কোনার ও তার পেটুয়া লোকেদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছিলেন। চাষীরা হিসাব চেয়ে পাচ্ছিলেন না, যারা গ্রাম চালাচ্ছে তাদের কাছে চাষীরা অভিযোগ করেছে।জামার সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের ম্যানেজার পাপাই কোনার জানালেন, একসাথে আটজনের পদত্যাগে সমবায়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশাকরি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

নভেম্বর ০৫, ২০২২
রাজ্য

অভিষেকের নির্দেশে সরতে হচ্ছে অভিযুক্ত দাঁইহাটের পুরপ্রধান শিশির মন্ডলকে

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। একেই নানা দুর্নীতির অভিযোগে জেরবার মমতা-অভিষেকের দল। তরুণীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরেই পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য শিশির মণ্ডলকে জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন।পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার শীর্ষ নেতৃত্বের এই নির্দেশের কথা প্রকাশ্যে আনেন। শিশির মণ্ডল তরুণীর অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘরে ও বাইরে তাঁকে নিয়ে নিন্দার ঝড় বাইছে। বিরোধীরা এই অভিরযোগকে হাতিয়ার করেশাসক দলের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছে। দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান শিশির মণ্ডলের সঙ্গে এক তরুণীর টেলিফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড মঙ্গলবার দুপুর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন,শিশির মণ্ডলকে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন। দলের সেই নির্দেশ এদিন শিশির মন্ডলকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। দলের নির্দেশ মতো পদত্যাগ করবো বলে জানিয়ে দিয়েছেন শিশিরবাবু।

নভেম্বর ০৪, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

নেতানিয়াহুর গদি কি টলমল? ইজরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে বিরোধী নেতাকে সমর্থন আরব দলগুলির!

ইজরায়েলের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলি। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে আইজেনকোটের পক্ষে ১২০ আসনের সংসদে ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলে সরকার গড়তে প্রয়োজন ৬১ জন সাংসদের সমর্থন। সেই হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারেন বিরোধী নেতা।বৃহস্পতিবার যৌথ তালিকা জোট জানায়, তারা দেশের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগের কাছে আইজেনকোটকে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করবে। এর আগে আর একটি আরব-নেতৃত্বাধীন দল রাআমও একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ তালিকা জোটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।যৌথ তালিকা জোটের হাতে রয়েছে ১১টি আসন। অন্য দিকে, রাআমের আসন সংখ্যা আট। দুই দল মিলিয়ে মোট ১৯ জন সাংসদ রয়েছেন। ইজরায়েলের সংসদে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলির পক্ষে এই সংখ্যা রেকর্ড বলে জানা যাচ্ছে। এই দুই দলের সমর্থন নিশ্চিত হলে আইজেনকোটের পক্ষে মোট ৬৭ জন সাংসদের সমর্থন থাকতে পারে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে তাঁর শিবির।অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর শিবিরের সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁদের হাতে রয়েছে ৫৩টি আসন। তবে প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুকে কত জন সাংসদ সমর্থন করবেন, সেই সংখ্যা আরও কম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের একটি অংশও তাঁর পাশে নেই। ওই জোটের সাতটি আসনের মধ্যে চারটি আসন রয়েছে দেগেল হা তোরাহের হাতে। তারা জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বা আইজেনকোটকাউকেই প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন করবে না। টাইমস অফ ইজরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা থেকে ছাড় দেওয়ার আইন পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। সেই কারণেই জোটের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।সব মিলিয়ে ইজরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য কাকে আমন্ত্রণ জানাবেন, তা ঠিক করবেন। আরব দলগুলির সমর্থনে আপাতত সেই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন গাদি আইজেনকোট। তবে শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলের ক্ষমতা কার হাতে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

এসএসসি গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগে বড় খবর! ইন্টারভিউয়ের তালিকায় কারা, দেখে নিন নাম

এসএসসি-র গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় খবর। বৃহস্পতিবার ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট ৩৮ হাজার প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। কারা এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন, তা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিতে পারবেন চাকরিপ্রার্থীরা।কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জমা দেওয়া সংশোধিত শূন্যপদের হিসাবের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম রাজ্যস্তরের বাছাই পরীক্ষা বা এসএলএসটি-র মাধ্যমে নন-টিচিং স্টাফের ক্লার্ক পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের নাম এই তালিকায় রাখা হয়েছে।প্রার্থীরা স্কুল সার্ভিস কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রকাশিত তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে নিতে পারবেন। নামের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যও মিলিয়ে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে প্রার্থীদের মূল নথি, শংসাপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হবে। পাশাপাশি নেওয়া হবে ইন্টারভিউ। তবে নথি যাচাই এবং ইন্টারভিউয়ের দিনক্ষণ এখনও জানায়নি কমিশন। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে কমিশনের ওয়েবসাইটে।কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ ডি পদের পরীক্ষা হয়েছে ১ মার্চ। অন্য দিকে, গ্রুপ সি পদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ৮ মার্চ। গ্রুপ সি পদে শূন্যপদের সংখ্যা ২,৯৮৯। গ্রুপ ডি পদে শূন্যপদ রয়েছে ৫,৪৮৮টি। এই দুই পদে নিয়োগের জন্যই প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার পর নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আলাদা দিনে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে ফল প্রকাশ পিছিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ইন্টারভিউয়ের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ফলে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

ভেন্টিলেশনে প্রাক্তন মন্ত্রী ! কিডনি বিকল, ব্রেন স্ট্রোকের পর কী বলছেন চিকিৎসকেরা?

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। কলকাতার একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন তিনি। কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ায় চলছে ডায়ালিসিস। এর পাশাপাশি ব্রেন স্ট্রোক এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যাও রয়েছে তাঁর। চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর কথা ভাবলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আপাতত অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। উজ্জ্বল বিশ্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও।উজ্জ্বল বিশ্বাসের অসুস্থতা নিয়ে সমাজমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর উজ্জ্বল বিশ্বাসের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ধাক্কা তাঁর শরীর ও মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলেও অভিযোগ করেছেন কুণাল। অন্য দিকে, মহুয়া মৈত্রও উজ্জ্বল বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার কামনা করেছেন তিনি।গত কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ উজ্জ্বল বিশ্বাস। গত ৫ অক্টোবর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর হৃদ্যন্ত্রের বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরের দিনই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। প্রায় ১৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা।কিন্তু দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রাক্তন মন্ত্রী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সপ্তমীর দিন তাঁকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানান। সেই সঙ্গে ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। একের পর এক শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হয়। শ্বাস নিতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য গলায় অস্ত্রোপচার করে শ্বাস নেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছে।উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উজ্জ্বল বিশ্বাস। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থ ভাবে কৃষ্ণনগরের মানুষের সেবা করার পরেও উজ্জ্বল বিশ্বাসের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, জেল থেকে ফেরার পর থেকেই শারীরিক ভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার, ব্রেন স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হন তিনি।সব মিলিয়ে উজ্জ্বল বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকেরা আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি তাঁর। পেসমেকার বসানোর বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

সিঙ্গুরে কি ফিরছে গাড়ি কারখানা? শিল্পনীতি ঘোষণার দিনেই বড় ইঙ্গিত শুভেন্দুর!

রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করল বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার নতুন শিল্পনীতির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই নীতিতে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুতের শুল্ক থেকে শুরু করে কর্মীদের ভবিষ্যনিধি সংক্রান্ত বিষয়েও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে সরকার। আর নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার দিনেই সিঙ্গুর নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সিঙ্গুরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন করে কিছু করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।গত ১৫ বছর তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলায় বড় শিল্প আসেনি বলে বারবার অভিযোগ করেছে বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শিল্পের প্রসার নিয়ে নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। বাংলায় নতুন শিল্প আসুক, তৈরি হোক কর্মসংস্থানএমনটাই চাইছেন সাধারণ মানুষ। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে শিল্প ফিরিয়ে আনার কথা বলে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে শিল্প দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা। কয়েকটি ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগও এসেছে। এরই মধ্যে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। তবে সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানো নিয়ে কী ভাবছে সরকার, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিলই।সেই প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সিঙ্গুর নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই বিষয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ করব। সেই বিষয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু একটা করব। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি সিঙ্গুরে আবার গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে উঠতে পারে? যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করেননি মুখ্যমন্ত্রী।সিঙ্গুরের সঙ্গে বাংলার শিল্পায়নের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে হুগলির সিঙ্গুরে প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উদ্যোগে বাংলায় ছোট গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন একাংশের কৃষক। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জমি আন্দোলনের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন তিনি। টানা ২৬ দিন অনশনের পর তা প্রত্যাহার করেন।২০০৮ সালের অগস্ট মাসে সিঙ্গুরে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। পরিস্থিতির চাপে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টাটা মোটরস কারখানার কাজ বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন রতন টাটা। পরে গুজরাতের সানন্দে তৈরি হয় ন্যানো গাড়ির কারখানা।২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তৃণমূল সরকার। তবে জমি ফেরত পাওয়ার পরেও সেখানে চাষবাস সেভাবে শুরু হয়নি। অন্য দিকে, নতুন করে শিল্পও গড়ে ওঠেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গুরে শিল্প ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের দিন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য তাঁদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে সিঙ্গুরে ঠিক কী ধরনের শিল্প গড়ে উঠবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা করতে হবে।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে ফের ভয়াবহ বিপর্যয়! হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়ি, মৃত ২, ধ্বংসস্তূপে বহু?

দিল্লিতে ফের বাড়ি ভেঙে বড়সড় বিপর্যয়। বৃহস্পতিবার সকালে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি নির্মীয়মাণ তিনতলা বাড়ি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরকদমে কাজ চালাচ্ছে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। চাওরি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে গলি সিতারা এলাকায় নির্মাণকাজ চলছিল বাড়িটিতে। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তিনতলা বাড়িটি। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদের নাম চন্দরপাল (৬০) এবং বিজয় কুমার (৩৩)।প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বাড়িটির নির্মাণকাজ চলছিল। সেই সময় পুরনো ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। তার জেরেই গোটা বাড়িটি ভেঙে পড়ে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। তাঁদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সেই সব ঘটনায় প্রাণহানিও হয়েছে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এমন দুর্ঘটনা ঘটল রাজধানীতে। পর পর এই ধরনের ঘটনায় দিল্লির নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এই পরিস্থিতিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি। রাজধানীতে একের পর এক বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

এসআইআর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের! ফর্ম ৬ জমা দিতে আর লাগবে না এই নথি

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ জমা দিতে গেলে আর দিতে হবে না এসআইআর সংক্রান্ত ডিক্লারেশন বা ঘোষণা। যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলছে, সেখানেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কমিশন। এর ফলে নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হল।এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই ফর্ম ৬-এ ডিক্লারেশন জমা দেওয়ার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে ফর্ম ৬-কে যুক্ত করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের আপত্তির বিষয়টিই গুরুত্ব পেল বলে মনে করা হচ্ছে।ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তুলতে হলে ফর্ম ৬ পূরণ করতে হয়। এত দিন এসআইআর চলাকালীন এই ফর্ম জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীদের একটি অতিরিক্ত ঘোষণা দিতে হচ্ছিল। সেই ঘোষণায় আবেদনকারীর পরিবারের পুরনো ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হচ্ছিল। বিশেষ করে আবেদনকারীর বাবা-মা, দাদু-দিদার নাম শেষ এসআইআরের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, সেই তথ্য দিতে হচ্ছিল।অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণ করার সময়ও এই সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। ফর্মের নির্দিষ্ট অংশে এসআইআর সংক্রান্ত ঘোষণা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এই নিয়ম নিয়েই আপত্তি ওঠে। বিরোধীরাও প্রশ্ন তোলেন, নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে গেলে কেন এসআইআরের অতিরিক্ত ঘোষণা দিতে হবে?নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যও এই নিয়ম নিয়ে আপত্তি জানান। কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধুর বক্তব্য ছিল, আইন সংশোধন না করে ফর্মে এই ধরনের পরিবর্তন করা যায় না। সংসদের মাধ্যমে আইন সংশোধনের পরেই ফর্মে প্রয়োজনীয় বদল আনা উচিত। কিন্তু সেই আপত্তি সত্ত্বেও নিয়ম চালু করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত ঘোষণা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়া ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই নতুন করে ফর্ম ৬ জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার কমিশন আরও জানিয়েছে, বর্তমানে যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে, সেখানেও ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার সময় আর অতিরিক্ত ঘোষণা দিতে হবে না। অর্থাৎ, অনলাইনে ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রেও এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হল।এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার ক্ষেত্রে এত দিন যে অতিরিক্ত নিয়ম মানতে হচ্ছিল, তা আর মানতে হবে না। তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দুই নির্বাচন কমিশনারের আগের আপত্তি এবং বিরোধীদের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

বাবরি মসজিদ নিয়ে সুর বদল হুমায়ুনের! মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন বিধায়ক?

বাবরি মসজিদ বিতর্কে আচমকাই সুর বদল নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। মুর্শিদাবাদে বাবরের নামে মসজিদ তৈরি হলে কোনও অনুমতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেন হুমায়ুন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানালেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি বাবরি নাম না চান, তা হলে তাঁর ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে হবে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল তৈরি করেন হুমায়ুন কবীর। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে সেই দল গড়ে ভোটের ময়দানে নামেন তিনি। সেই সময়ই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। তা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এর পর মুর্শিদাবাদে মসজিদ তৈরির কাজও শুরু হয়।গত ২ নভেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সভায় আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় তাঁকে। সেখানে মসজিদ নির্মাণের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সভা থেকেই আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন হুমায়ুন। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে তাঁকে আটকে দেখাক বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।এর পরেই বুধবার বাবরি মসজিদ বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদের অনেক কৃতী মানুষের নামে মসজিদ তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু বাবরের নামে মসজিদ তৈরি হলে কোনও পরিকল্পনা বা অনুমোদন মিলবে না। এই বিষয়ে জেলার জেলাশাসককে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই বৃহস্পতিবার সকালে সুর নরম করেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি যদি বাবরি নাম না চান, তা হলে তাঁর ইচ্ছাকে মান্যতা দিতেই হবে। হুমায়ুনের এই মন্তব্যের পরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এত দিন যে বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি, সেই অবস্থান থেকে কি তবে সরে আসছেন নওদার বিধায়ক?হুমায়ুনের মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, বাবরি মসজিদ তৈরি হবে না। হুমায়ুনের কথারও কোনও স্থিরতা নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। সজলের কটাক্ষ, কখনও এক কথা, কখনও অন্য কথা বলেন হুমায়ুন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন তিনি। তাই তাঁর কথায় গুরুত্ব দিতে চান না বলেও জানান বিজেপি বিধায়ক।বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে হুমায়ুনের এই নতুন মন্তব্যে বিতর্কে আরও একটি নতুন মোড় এল। মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির পর সত্যিই কি মসজিদের নাম বদলাবেন তিনি, নাকি ভবিষ্যতে আবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন? আপাতত সেই দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

বোতলের ভিতরে মা কালী! মহাদেবের কোলে শিশুর মতো শুয়ে দেবী, বাঁকুড়ার শিল্পীর সৃষ্টি দেখে অবাক নেটপাড়া

কাচের বোতলের ভিতরে আস্ত মা কালী! তাও আবার প্রচলিত রূপে নয়। মহাদেবের বুকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে নেই দেবী। বরং দেবাদিদেব মহাদেবের কোলেই শিশুর মতো শুয়ে রয়েছেন তিনি। আর এমনই এক অভিনব শিল্পকর্ম তৈরি করে সকলকে অবাক করে দিয়েছেন বাঁকুড়ার শিল্পী ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।সাধারণত কালীমূর্তিতে মহাদেবের বুকের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দেবীকে। কিন্তু সেই চেনা ছবির বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ অন্য ভাবনায় মূর্তিটি তৈরি করেছেন ইন্দ্রনীল। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, গোটা মূর্তিটি তৈরি হয়েছে একটি কাচের বোতলের ভিতরে। ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন রঙের সুতো। সরু তারের সাহায্যে একের পর এক সুতো বোতলের ভিতরে ঢুকিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন তিনি।কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন গানটি মা কালীর ভক্তদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রচলিত কালীমূর্তির সঙ্গে এই গানের ভাবনা জড়িয়ে রয়েছে। তবে ইন্দ্রনীলের তৈরি মূর্তিতে ফুটে উঠেছে দেবী ও মহাদেবের সম্পর্কের এক অন্য দিক।এই শিল্পকর্ম তৈরির পিছনে রয়েছে শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা। ইন্দ্রনীলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অসুর বধের পর প্রচণ্ড ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন দেবী। তাঁকে শান্ত করতে মহাদেব তাঁর সামনে শুয়ে পড়েন। দেবীর পা মহাদেবের বুকে পড়তেই শান্ত হন তিনি। পৌরাণিক কাহিনির এই পরিচিত দৃশ্যের পরের অংশটিই নিজের কল্পনায় সাজিয়েছেন শিল্পী।তাঁর ভাবনায়, দেবী শান্ত হওয়ার পর মহাদেব তাঁকে নিজের কোলে তুলে নেন। ছোট্ট শিশুর মতো বুকে আগলে আদর করেন। দেবী ও মহাদেবের সম্পর্কের মধ্যে থাকা ভালোবাসা, স্নেহ এবং মমতার সেই ছবিই ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। প্রচলিত চিত্রকল্পের বাইরে গিয়ে এমন ভাবনা তাঁর শিল্পকর্মকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৩০ বছর ধরে ছবি আঁকা এবং নানা ধরনের সৃজনশীল শিল্পকর্মের সঙ্গে যুক্ত। বোতলের ভিতরে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করাই তাঁর বিশেষ পরিচিতি। বাংলার পরিচিত বোতলশিল্পীদের মধ্যেও তিনি অন্যতম।দীর্ঘ শিল্পীজীবনে দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সামনে নিজের কাজ তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন ইন্দ্রনীল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের সাধনা, ধৈর্য এবং অভিনব ভাবনার জোরেই নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন বাঁকুড়ার এই শিল্পী।একটি ছোট্ট কাচের বোতলের ভিতরে রঙিন সুতোর সাহায্যে এমন সূক্ষ্ম কাজ সত্যিই নজর কাড়ার মতো। আর মা কালী ও মহাদেবের পরিচিত সম্পর্ককে এক নতুন ভাবনায় তুলে ধরে শিল্পী বুঝিয়ে দিয়েছেন, শিল্পের জগতে কল্পনার কোনও সীমা নেই।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal