• ৯ আশ্বিন ১৪৩৩, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Purba Bardhaman

নিবন্ধ

Shree: কুঁড়ে ঘর থেকে ক্রিকেটের নন্দনকাননে

......এবার আমরা ডেকে নিচ্ছি আমাদের গর্ব, আমাদের গ্রামের রত্ন শ্রীতমা দত্তকে। ওনাকে সম্বর্ধনা জানাবেন আমাদের এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্রী প্রতাপ চৌধুরী।একটি ছিপছিপে শ্যামলা মেয়ে উঠে এল মঞ্চে। মেয়ের চোখে অসম্ভব একটা আত্মবিশ্বাস। মুখে একটা আত্মপ্রসাদের হাসি।ভাবছেন তো কে এই শ্রীতমা? কেন তাকে সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে?শ্রীতমা এই পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি ছোট গ্রাম কানপুর এর মেয়ে। আজ সে জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য রূপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। তাই গ্রামের ক্লাব থেকে ওকে সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।ওকে ওর এই সাফল্যের কথা বলতে বলা হলেও একটু হাসল যেন নিজের মনে। হাসবে নাই বা কেন! কারন এখন ও যদি ওর আজকের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে ওর জীবন সংগ্রামের কথা সব বলে তাহলে উপস্থিত অনেকেই অস্বস্তিতে পরবে। তাই যতটুকু বলা যায় সেটুকুই বলে।কারন শ্রীতমার চলার পথ মোটেও সহজ হয়নি। খুব ছোট বেলায় বাবাকে হারায়। না বাবা মারা যায়নি, হারিয়ে গেছে । তাঁর স্মৃতি হারিয়ে গেছিল। কোনো একদিন অজান্তেই বেরিয়ে পড়েছিলেন বাড়ি থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর তখন থেকেই ওদের মা মেয়ের জীবন যুদ্ধ শুরু। মা মিনতি দেবী সাধারণ গৃহবধূ। লেখা পড়ার খুব বেশি জানতেন না। তাই জীবন টা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।কিন্তু গ্রাম হলেও বেশ বর্ধিষ্ণু। অনেক মানুষ বাস করে সে গ্রামে। চার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বিডিও অফিস, ব্যাঙ্ক, কলেজ থাকায় সেখানে বহু মানুষের বাস। সেখানে ই অনেক চেষ্টার পর দু-তিন ঘরে রান্নার কাজ পেয়ে যায়। আর তাতেই মা মেয়ের দিন চলে যায়। শ্রী গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করে। তার সাথে বাড়িতে ও ঘরের কাজ করতে হয়। মা সকালে উঠে কাজে চলে যায়। তাই ঘরের যাবতীয় কাজ ওকে করে আগের দিন করে রাখা ভাত খেয়ে স্কুলে যেতে হয় ওকে। এই ভাবে চলতে থাকে মা মেয়ের জীবন।একদিন সে মায়ের সথে মা যেখানে রান্না করে তাদের বাড়িতে যায়। সেই বাড়ির ছেলেটি বাড়ির পাশের মাঠে ক্রিকেট খেলতে যায়। শ্রী তখন ক্লাস সিক্স। ও ছোটো থেকেই খেলাধুলায় খুব ভালো। স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বরাবরই পুরস্কার পায়। ও ক্রিকেট খেলা খুওব ভালোবাসে। ইন্ডিয়া টিমের খেলা থাকলে ও দেখবেই পাড়ায় কারও বাড়িতে। কারন টিভি কেনার মত সামর্থ তাঁদের নেই, এই ব্যাপারে অনেকে ওর মাকে নানা কথা শোনায়। ও যখন ছেলেদের সঙ্গে খেলতে যায় গ্রামের লোকেরা নানারকম কথা বলে। কিন্তু শ্রী খেলা ছেড়ে যেন থাকতে পারে না। এরপর ও মেয়েদের ক্রিকেট দলের কথা শোনার পর স্বপ্ন দেখতে থাকে। কিন্তু জানে যে সে স্বপ্ন পূরণ হবার নয়। তবুও স্বপ্ন আসে নিজের মত করে। মায়ের সঙ্গে গিয়ে ক্রিকেট কোচিং সেন্টার দেখে ওর ইচ্ছাটা প্রবল হয়। তারপর থেকে ছুটির দিনে সে মায়ের সাথে মাঠে যায়। মা রান্না করে আর ও মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দেখে কি করে খেলা হয়।শ্রীতমাকে সপ্তাহে ওই বিশেষ দিনে মাঠের পাশের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একদিন কোচিং সেন্টারের কোচ ওকে জিজ্ঞাসা করেন ওর বাড়ি কোথায়? ও এখানে কার সাথে আসে? ও তখন সাহস করে বলে ও দাদা আমাকে ক্রিকেট শেখাবে?শুনে অবাক হয়ে যায় কোচ অনির্বাণ রায়। বলে এখানে তো মেয়েদের শেখানো হয়না। তুমি একা কি করে শিখবে?ও বলে কি হয়েছে আমি একাই শিখবো। দেখবে আমাকে দেখে অনেক মেয়ে আসবে।কথাটা বেশ ভালো লাগে অনির্বাণের। ও বলে বেশ আমি ক্লাবের সাথে কথা বলি।পরের সপ্তাহে শ্রী ঠিক হাজির হয়। সেদিন দেখে আরও কয়েকজন রয়েছে। ওকে বলেন, তুই খেলার কথা বলেছিস?হ্যাঁ!একজন বলে ওঠেন জানিস এই খেলার খরচ?ছোটো শ্রী খেলার খরচের কথা শুনে একটু অবাক হয়। ছোটো মনে সেটা ঢোকে না, শুধু অবাক চোখে তাকায়।যারা এসেছেন তাদের মধ্যে একজন বলেন ঠিক আছে ও যদি খেলতে চায় খেলুক। আমরা ক্লাবের তরফ থেকে যত টা পারব সাহায্য করবে।সেই শুরু শ্রীতমার আরেক যুদ্ধ। ওর মা অবশ্য প্রথম প্রথম রাজী ছিলেন না। কিন্তু মেয়ের ইচ্ছা আর অদম্য জেদের কাছে হেরে যান শেষ পর্যন্ত। মেয়েকে আরও একটু ভালো খাবার দেওয়ার জন্য আরও এক বাড়ি কাজ নেন মিনতি। মেয়ের খেলা নিয়ে গ্রামের অনেকে বলে,মেয়ে মানুষের আবার ওত লাফালাফি কিসের ছেলেদের সাথে?আবার অনেকে বলে কুঁজোর ও সখ হয় চিৎ হয়ে শুতেএসব কথা যত শুনে শ্রীতমার মনে জেদ আরও বেড়ে যায়। একদিন অনিদা ওকে বলে তোর স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আরও বড়ো জায়গায় শিখতে হবে।...আমি কি করে বড়ো জায়গায় শিখবো অনি দা?দেখি একবার সুধীরদাকে বলে। সবার বিরুদ্ধে গিয়ে উনিই তো তোর খেলার ব্যবস্থা করেছিলেন। আজ পর্যন্ত তোর যাবতীয় সরঞ্জাম উনিই কিনে দিয়েছেন। উনি যদি আরও একটু সাহায্য করেন তাহলে তোকে দূর্গাপুরের একটা ক্লাবে ভর্তি করে দিতে পারব, আমার চেনা আছে।সুধীরদা সাহায্য করে, শ্রী ভর্তি হয় দূর্গাপুরের ক্লাবে। ওর মাকে ও ওখানে কাজের ব্যবস্থাও করে দেয় ওরা। তবে এসব কিছু সহজ হয়নি। গ্রামের অনেকে অনেক বাজে কথা বলেছে ওর মাকে। যারা আজ ওকে নিয়ে এত উচ্ছাস দেখাচ্ছে তারাই যে একদিন নোংরা কথা বলতেও ছাড়েনি মামেয়েকে।নিজের জেদে অটুট শ্রী মাকে শুধু বলেছে দেখবে একদিন সবাই আমাদের কাছে হেরে যাবে।এরপর শুরু হয় আরেক লড়াই। শহরের বড়ো ঘরের মেয়েদের সাথে খেলা সহজ নয়। সহজে কেউ মেনে নিতে পারে না গ্রামের গরীবের মেয়ে শ্রীতমাকে। পদে পদে হেনস্থা করতে থাকে। ঠিক যেমন কোনি গল্পে আমরা দেখতে পাই। ওর পোষাক নিয়ে হাসাহাসি করে ওখানকার মেয়েরা। এসব কিছু মাঝে মাঝে শ্রীকে একটু দুর্বল করে দেয়। কিন্তু সবাই তো সমান হয় না; শর্মিলা শ্রীতমার বন্ধু হয়ে ওঠে। শহরের মেয়ে হলেও ও একটু অন্য রকম। ও বোঝে শ্রীতমার কষ্ট। শ্রী যখন ভেঙে পরে ও বোঝায় কোনো কিছু খেলার থেকে বড়ো নয়। শর্মিলা বোঝে শ্রী এর মধ্যে একটা আগুন আছে যে টা ওকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।এর মধ্যে আসে বাংলা দলের টিম নির্বাচনের সময়। ক্লাবের হয়ে ও খুব ভালো খেলে তবু অনেক চেষ্টা চলে শ্রী কে না নেওয়ার। কিন্তু ভগবান যার সহায়তা হন তাকে কেউ হারাতে পারে না।তাই কোন কিছু পারে না ওকে থামাতে। ও বাংলা দলে নির্বাচিত হয়। খেলে খুব ভালো। এবার যেতে হয় কোলকাতায়। সেখানেও ওকে সাহায্য করে সুধীর দা। মা মেয়ের থাকার আর মায়ের কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। ওখানেও রান্নার কাজে লাগিয়ে দেয়। এখানে ক্লাব আরও বড়ো আরও ভালো ব্যবস্থা। শ্রী তো খুশিতে নেচে ওঠে। কিন্তু প্র্যাকটিস করতে গিয়ে বোঝে আরও কঠিন জায়গায় এসে পৌঁছেছে সে।কিন্তু স্বপ্নটা তো মনের মধ্যে গেঁথে গেছে জোরদার ভাবে। তবে ওখানে বাংলার দুই মহিলা ক্রিকেটারের চোখে পড়ে শ্রী। ওর একাগ্রতা ও অধ্যবসায় তাদের মুগ্ধ করে। তারা ওকে যথাসম্ভব সাহায্য করেন।এইসময় বাংলা টিমে সূযোগ না পেয়ে পূর্ব ভারতের অন্য একটি রাজ্যের হয়ে শ্রী খেলে।এখন কোনো বাধা আর যেন অন্তরায় না হয় শ্রীতমার জীবনের পথে এই প্রার্থনা করে ওর মা। কিন্তু সেটা তো সহজ নয়। তবে ওর অধ্যবসায় দেখে সুধীর দার মত সহৃদয় ব্যক্তি এখানেও এগিয়ে আসেন ওকে সাহায্য করতে। আর এই মানুষগুলো আছেন বলেই এখনও পৃথিবীর বুকে শ্রীতমার মত মেয়েরা সফলতা পায়।হাজার রকম বাধা সত্ত্বেও শ্রীতমার প্র্যাকটিস চলতে থাকে। এরপর আসে সেই দিন জাতীয় স্তরে নির্বাচনের দিন। প্রথমে তো ওকে জানানোই হয়না। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গে থাকলে সব হয়, ও জানতে পারে নির্বাচনের কথা। ক্লাবের সেক্রেটারির কাছে যায়।স্যার আমি কি যাব না জাতীয় স্তরের নির্বাচনে? বলে শ্রীতুমি! তুমি কি করে যাবে? তুমি এই সবে কয়েক মাস হলো এসেছো।তাও... আমাকে একটা সূযোগ দিন!না না ওইভাবে হয় না। তুমি এখন যাও। বলে ওকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।ও বেরিয়ে যাওয়ার সময় আর একটি মেয়ে ঢোকে। তাকে ঢুকতে দেখে দাঁড়িয়ে পরে শ্রী। তারপর ওদের কথোপকথন শুনে বুঝতে পারে এখানেও খেলা চলছে। ওর পরে যে মেয়েটি ক্লাবে আসে সে কোনো বড়ো ব্যক্তির আত্মীয় তাই সে যাবার সূযোগ পেয়ে যায়।এসব শুনে মন ভেঙে যায় শ্রীতমার। এমন সময় শর্মিলা ওকে বলে তুই চিন্তা করিস না আমি ব্যাপারটা দেখছি। শর্মিলা মেয়েটি খুব চটপটে। ও সব জানায় যতীন্দ্রমোহন বসুকে যে এই ক্লাবের সব বিষয়ে নিজের মতামত জোরদার ভাবে চাপাতে পারেন। ভদ্রলোক খুব অমায়িক। উনিই সেই ব্যক্তি যিনি শ্রী কে এখানে সবরকম ভাবে সাহায্য করেন। উনি আসলে খেলা টা ভালোবাসেন এবং বোঝেন। আরও বোঝেন কার দ্বারা কি হবে।তাই প্রথম দিন থেকেই উনি শ্রীতমার খেলা র অনুরাগী হয়ে ওঠেন। ওকে সবরকম সাহায্য করতে থাকেন।উনি শর্মিলার বাবার বিশেষ পরিচিত।শর্মিলা ওনাকে সব বলে। উনি সব শুনে চুপ করে যান। শুধু বলেন ঠিক আছে আমি দেখছি।ক্লাবের কমিটি যে দিন নাম নির্বাচন করবে সেদিন উনি বললেন সবার আগে শ্রীতমার নাম লেখা হোক। আজ পর্যন্ত ওর মতো কেউ খেলেনি এই ক্লাবে।দু একজন আপত্তি জানানোর চেষ্টা করেন কিন্তু ওনার ব্যক্তিত্বের কাছে চুপ করে যেতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত শ্রীতমার নাম পাঠানো হয়। এরপর শ্রীতমা কঠিন পরিশ্রম করতে থাকে। স্বপ্ন যেন দুয়ারে এসে কড়া নাড়ছে। যত দিন এগিয়ে আসে শ্রীতমার জেদ ও বাড়তে থাকে। নিজের সাথে যেন নিজের কথা আমাকে পারতেই... হবে। আসে সেই দিন, ট্রায়াল ম্যাচ হবে। চারটি ভাগে খেলা হয়, টিম এ, বি, সি, ডি। দুটি ম্যাচে খুব ভালো বোলিং করে এবং একটিতে রানও করে ভালো। অলরাউন্ডার হিসেবে ওর পারফরম্যান্স বেশ ভালো হয়। তাছারা গ্রামের এবড়ো খেবড়ো মাঠে খেলার সুবাদে ফিল্ডিং-এ বরাবরই খুব ভালো ছিলো শ্রী। সেটাই তফাত গড়ে দিলো বাকিদের সাথে। শ্রী নিজের সবটুকু উজার করে খেলে। এত ভালো পারফরম্যান্স হবে ও ভাবতেও পারেনি। ও সিলেক্ট হয় ইন্ডিয়া-এ আন্ডার নাইনটিন এ টিমে।খবরটা সংবাদ মাধ্যমে বের হতেই গ্রামে হইচই পরে যায়। একসময় যারা বিরোধীতা করে ছিল তারা আজ শত মুখে প্রশংসা করতে থাকে।শ্রীতমা স্পোর্টস কোটায় চাকরি ও পেয়ে যায়।আজ গ্রামের মাঝে মাথা উঁচু করে মা মেয়েকে হেঁটে যেতে দেখে তারা ই আজ বাহবা দিচ্ছে যারা একদিন ওদের অপমান করতে ছাড়েনি।আজ শ্রীতমার স্বপ্ন আর তা পূরনের ইচ্ছার কাছে সব হেরে গেছে।শ্রীতমার সফলতা আমাদের গ্রামবাংলায় অনেক শ্রীতমার জন্ম দেবে।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমে আরও কিছু লেখাআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ মিঠির ডায়েরি (বাংলা ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

নভেম্বর ২০, ২০২১
শিক্ষা

School Re-Open: অবশেষে রাজ্যে খুলছে স্কুলের দরজা, ছাত্র-ছাত্রীদের কলতানে মাতবে ক্লাসরুম

বাজলো ছুটির ঘণ্টা। দীর্ঘ প্রায় দুবছর হতে চলল ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের মুখ দেখেনি। অবশেষে বছর শেষে আজ, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের দরজা খুলতে চলেছে। স্কুলগুলিতে স্যানাটাইজারের কাজ শেষ। স্কুলে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। যদিও প্রথম দফায় নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হবে। তার মধ্যেও নানান নির্দেশিকা রয়েছে।রাজ্যের অন্য জেলার মত পুর্ব-বর্ধমান জেলার বিভিন্ন স্কুল আজ খুললো, সরকারি নির্দেশিকা ও কোভিড বিধি মেনে তাঁরা ছাত্রদের স্কুলে প্রবেশ করান। জেলার সিবিএসসি ইংরাজি মাধ্যমের স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুলে আজ ছাত্রদের গোলাপ ফুল দিয়ে নবীনবরন করে নেওয়া হয়। বর্ধমান মডেল স্কুলের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা-কে জানান অতিমারীর কারণে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আজ আবার স্কুল খুলতে চলেছে এবং ঈশ্বরের কৃপায় আমরা আমাদের বিদ্যালয়ে সন্তানদের ফিরে পেতে যাচ্ছি। শিক্ষক ও শিক্ষা-কর্মীদের কাছে আবেদন দয়া করে ভুলে যাবেন না যে এই অবস্থার মধ্যে তাদের মনের মধ্যে অনেক চাপ গিয়েছে, হয় তো অনেকের মধ্যে কিছু খারাপ অভ্যাস জায়গা করে নিতে পারে। তাই তাদের সাথে সহানুভূতির সঙ্গে আচরণ করুন এবং তাদের সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য চরম ধৈর্য ধরে রাখার চেষ্টা করুন। আশা রাখছি খুব শীঘ্রই আমরা শিশুদেরও স্কুলে আসতে দেখব। এর থেকে ভালো দৃশ্য সমাজে আমরা কিছু আশা করতে পারি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ও বাসের ভিতরে বাচ্ছারা মা-বাবা দের হাত ধরে স্কুল বাস/ক্যাব-র অপেক্ষায় যে কলতান করে তা কোনও সঙ্গীতের থেকে কম মধুর নয়। সকলের ভালো ও শুভ কামনা আশা করছি।যাত্রা শুরুএই সময় ছাত্রী-ছাত্রীরা অনলাইনে ক্লাসে অভ্যস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ হয়নি লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার। শিক্ষামহল মনে করে, স্কুলে গিয়ে সরাসরি পড়াশুনার মজাটাই আলাদা। তাছাড়া স্কুলে গিয়ে না পড়লে প্রকৃত শিক্ষা সম্পূর্ণ হতে পারে না। বীরভূমের লাভপুরের শম্ভুনাথ কলেজের ভূগোল-র অধ্যাপক ডঃ কুনাল চক্রবর্তী জনতার কথাকে বলেন ছাত্রদের সাথে অফলাইনে ক্লাস নেওয়ার মজাই আলাদা। যে অনুভুতি সামনা-সামনি ক্লাস নিলে হয় তা কোনোদিন-ই অনলাইনের ক্লাসে সম্ভব নয়। আমরা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা সঙ্গে যুক্ত, ছাত্রদের চোখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি তারা কতটা নিতে পারছে, সেটা কোনও দিন-ই অনলাইনের ক্লাসে সম্ভব নয়। তাছাড়া অনেকেই প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে, সেখানে ইন্টারনেট পরিসেবা ততটা উন্নত নয়, কেউ হয়তো অর্থনৈতিক অবস্থা কারনে মোবাইল কিনতে পারেনি। তবে অনলাইন ক্লাস একটা দিগন্ত খুলে দিল, এটা নিশ্চিত ভাবেই প্রমানিত যে কোনও কিছুই প্রতিবন্ধকতা নয়। মানুষ চাইলে সব কিছুকেই অতিক্রম করতে পারে। আশা রাখি খুব শীঘ্রই ছোটোদেরও স্কুল শুরু হবে।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

U-19: সংসারে চরম অভাব–অনটন, দেশের হয়ে খেলার লক্ষ্যে পূর্ব বর্ধমানের তরুণীর অদম্য লড়াই

দীর্ঘদিন আগেই বাবা মারা গেছেন। মায়ের কাছে বেড়ে ওঠা। সেই মেয়ের চোখে একরাশ স্বপ্ন বড় ক্রিকেটার হওয়া। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের মেয়ে শ্রীলেখা রায়। স্বপ্নপূরণ হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলার এই মহিলা ক্রিকেটার।ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ই স্ত্রী ও কন্যাকে ছেড়ে চলে যান শ্রীলেখা রায়ের বাবা। মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তিনি। ৮ বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছোট থেকেই মায়ের কাছে মানুষ হয়েছে শ্রীলেখা। বাবাকে হারানোর পর রাস্তার ধারে ঘুঘনি বিক্রি করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। তবু খেলার নেশা তাকে কখনও ছাড়েনি। বাড়ির কাছে ছেলেদের ক্রিকেট খেলা দেখেই উৎসাহিত হয়েছিল ছোট্ট শ্রীলেখা। একদিন হাজির হয় অগ্রগামী ক্লাবে অনির্বান হাজরা ও নীলকন্ঠ পাঁজার কাছে। সেখানেই ক্রিকেটে হাতেখড়ি শ্রীলেখা রায়ের। জেলা ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরমেন্সের পর জায়গা হয় দমদম বিডব্লুসিসি ক্লাবে। এখানেই শ্রীলেখা রায়কে ঘষে মেজে তৈরি করেন বাংলা মহিলা ক্রিকেটের দুই মুখ মিঠু মুখার্জি ও বিনীতা রায় মৌলিক। ২০১৫ সাল থেকেই এই কোচিং সেন্টারে প্রথাগত ক্রিকেট শিক্ষা শুরু।বাংলার বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ না পেয়ে ২০১৭ সালে শ্রীলেখা পাড়ি দেয় মিজোরামে। দুটি মরশুম সেখানে কাটিয়ে আবার ফিরে আসে বাংলায়। এই মরশুমে বাংলার জার্সি গায়ে খেলছে শ্রীলেখা। তার নজরকাড়া পারফরমেন্সের সুবাদে এবছর মহিলাদের অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যালেঞ্জার ট্রফিতে খেলার সুযোগ পায়। চ্যালেঞ্জারে মোট চারটি দল অংশ নিয়েছিল। ভারত এ, বি, সি এবং ডি। ভারত এ দলে ছিল শ্রীলেখা। দুটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। একটা ম্যাচে ৩ ওভার এবং অন্য ম্যাচে ৫ ওভার বোলিং করার সুযোগ এসেছিল। ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭ রান করেছিল বাংলার এই অলরাউন্ডার।মা কলকাতায় বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে। সামান্য আয় দিয়েই মেয়ের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শ্রীলেখা রায় বলছিল, যেদিন সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাব, সেদিনই আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। অর্থের অভাবে খেলার সরঞ্জাম কিনতে পারে না শ্রীলেখা। চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি খেলে ফিরে আসার পর শ্রীলেখার বাড়িতে ছুটে গেছেন ভাতার থানার ওসি। তুলে দিয়েছেন খেলার সরঞ্জাম। ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। শ্রীলেখার জন্য গর্বিত ভাতারের বড়বেলুন গ্রামের মানুষ। গ্রামের মানুষকে আরও গর্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় শ্রীলেখা।

নভেম্বর ১৩, ২০২১
রাজ্য

NEET: পূর্ব বর্ধমানের ফুল বিক্রেতার ছেলের সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক ২৫০১, মুখ উজ্জ্বল বাংলার

ফিজিকস ১৮০ মধ্যে ১৪৬, কেমিস্ট্রিতে ১৮০ মধ্যে ১৬৫, বায়োলজিতে ৩৬০ এর মধ্যে ৩৫০। পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার সেহারাবাজার সি কে ইনস্টিটিউশনের আকাশ পোদ্দারের সর্বসাকুল্যে প্রাপ্ত নম্বর ৭২০ মধ্যে ৬৬১। সর্বভারতীয় রেঙ্ক ২৫০১। পার্সেন্টাইল সর্বসাকুল্যে ৯৯.৮৪। হ্যাঁ নিট পরীক্ষায় আকাশের সাফল্যের খতিয়ান। সাফল্যের ধারাবাহিকতা অবশ্যই আছে। কেননা, ২০১৮ সালে মাধ্যমিকে আকাশের প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৭০০ মধ্যে ৬৭০, আর উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০০ মধ্যে ৪৮৬।কেউ ভাবতেই পারেন আকাশের সাফল্য ব্যতিক্রমী কেন? অবশ্যই ব্যতিক্রমী! কেননা সাফল্যের চূড়ায় উঠতে গেলে যে আনুষঙ্গিক অনুকূল পরিবেশের দরকার হয় আকাশের ক্ষেত্রে সেটা প্রায় ছিল না বললেই চলে! বাবা রায়নার সেহারাবাজার এর সামান্য একজন ফুল ব্যবসায়ী। স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ৫ জনের সংসার। দিনান্তে ফুল বিক্রি করে কটা টাকাই বা হয়। বিশেষ করে এই করোনাকালে সব অনুষ্ঠানই প্রায় বন্ধ। বন্ধ তাই ফুল কেনাও। বেঁচে থাকাটাই যাদের দুঃসহ ব্যাপার তাদের কাছে পড়াশোনা, সাফল্য এগুলো দিবাস্বপ্নের মতই। নুন আনতে পান্তা ফুরানো পরিবার না বললেও, শাক আনতে মাছ পুরানো পরিবার বলাই যায়। একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত ভাইয়ের খরচাও তো কম নয়। তবুও অসম্ভব জেদ সঙ্গী করে হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যে স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড় টেনে সাফল্যের তীরভূমি তে পৌঁছে গেল আকাশ।পাঁচজনের দু-কামরা ঘরের একটি কোনই বরাদ্দ ছিল আকাশের পড়াশোনার জন্য। ইডেন গার্ডেন্সে যার খেলার ইচ্ছে তার প্র্যাকটিস ছোট্ট এক কানা গলিতে। একটি টিমটিমে লাইটের আলো, গোটা কতক পাঠ্যবই, জনা চারেক শিক্ষকের পরামর্শ আর বাবা মায়ের আশীর্বাদ পাথেয় করে আকাশের পথ চলা এবং সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া। নিশানায় অবিচল না থাকলে এই লক্ষ্যভেদ কখনোই সম্ভব নয়।বর্ধমান শহরের রাজা স্যার এবং সেহারাবাজার এর নীলlঙ্ক স্যারের কাছে কেমিস্ট্রি, বাঁকুড়ার আকুই গ্রামের প্রসেনজিৎ স্যারের কাছে ফিজিকস এবং বর্ধমান শহরেরই ২০০৭ এর ডাক্তারী পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম হওয়া কামিরুল ইসলামের শিক্ষিকা রুনু মুখোপাধ্যায়ের কাছে জুলজি ও বোটানি পড়েছে আকাশ। না, কোন অনলাইন বা অফলাইন কোচিং এর সঙ্গে যুক্ত ছিল না সে। অর্থ ছিল না, ছিলনা মানসিকতাও। তার কথায়, চারজন টিউশনি স্যার এবং বিদ্যালয়ের স্যারদের সাহায্য নিয়েই এই সাফল্য। স্যাররা না থাকলে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নই দেখতে পারতাম না। প্রথমদিকে পড়াশোনা সময় কম দিলেও শেষের দিকে ভীষণ রকমের পরিশ্রম করেছি। কোন কিছুর হিসেব করে নয়। প্রয়োজন মতো। বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা, জেঠু জেঠিমা দের আশীর্বাদ আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।ছাত্রের সাফল্যে স্বভাবতই খুব খুশি বায়োলজিক্যাল সাইন্স এর ম্যাডাম বর্ধমানের মালির বাগান এর রুনু মুখোপাধ্যায়। তিনি বললেন, হাই স্কুলের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বেদনা অনুভব করি না এই আকাশ দের জন্য। প্রতিবছরই বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী আমাদের পরামর্শ মেনে পরিশ্রম করে ডাক্তারি পড়ার ছাড়পত্র যোগাড় করে। এদের পাশে দাঁড়াতে পেরে বেশ আনন্দ হয়। আকাশের সাফল্য নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম। অত্যন্ত বিনয়ী ও অনুগত ছাত্র। ক্লাসের সময় শতকরা একশভাগ মনোযোগ দিত আর এটাই ওর সাফল্যের বড় দিক। ও অনেক বড় হবে। ওর কার্ডিওলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন যেন সফল হয়!পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত মাঠে যেত আকাশ। ক্যাপ্টেন হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি প্রথম পছন্দ হলেও, ক্রিকেটার হিসেবে তার আদর্শ ভারতীয় দলের হিটম্যান রোহিত শর্মা। প্রিয় গায়ক অরিজিত সিং এর গান শোনা এবং গাওয়া আকাশের আর এক শখ।প্রায় ৩৫ বছর আগে বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে রোজগারের একমাত্র বাহন ছোট্ট ফুলের দোকানটি করেছিলেন বাবা। বিয়ের সিজনে বা বিভিন্ন ধরনের পুজো-অনুষ্ঠানের সময়ে মাঝেমধ্যে আকাশকেও বাবার দোকানে বসতে হতো। ফলের আসায় ফুল বিক্রি! দুর্মূল্যের বাজারে সামান্য রোজগারে শিক্ষাদিক্ষা, খাওয়া পরা ও রোগ ব্যাধির ব্যালেন্স করা দুরূহ ব্যাপার। তাই জীবনটাকে অন্যরকমভাবে অনুভব করেছে সে।ডাক্তারিকে পেশা হিসেবে পছন্দ করার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বললো, আমি আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। আমাদের মত পরিবারগুলির কি কষ্ট আমরা জানি। চিকিৎসার খরচও প্রচুর। আমি চাই কোন গরিব মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। ডাক্তার হয়ে আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে আসবো। আর্থিক দারিদ্রতার মতো কঠিন বাস্তবের সামনে দাঁড়িয়েই আমার এই ডাক্তারি পড়ার সিদ্ধান্ত। গরিব পরিবারের ছেলে মেয়েদের জন্য আমার বার্তা শুধু বই পড়ে যাও। স্কুলের স্যারেরা সাহায্য করবেনই। লক্ষ্যে স্থির থাকো। পরিশ্রম করে যাও। হতাশ নাহলে লক্ষ্যভেদ হবেই।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী তাহলে কার্ডিওলজি? অবশ্যই! ট্রাকে থাকছি। দৌড়ানো বন্ধ করছি না। আমাদের তো একটাই রাস্তা। আকাশের দিকে তাকিয়ে আকাশের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিকূলতার মেঘ সরিয়ে ফুলের সুগন্ধের মতই আকাশের ঝলমলে হাসি ছড়িয়ে পড়ল চতুর্দিকে।শ্রী অনিবার্য

নভেম্বর ০৭, ২০২১
রাজনীতি

Subrata Mukherjee: সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ছোটবেলা কেটেছে বর্ধমানে, শোকে পাথর জন্ম স্থানের গ্রাম

প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল নাদনঘাটের নওপাড়া। অধুনা বর্ধমানের নওপাড়ায় ছোটবেলা কেটেছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। স্থানীয় সুষমা সুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন তিনি। তারপর বাবা চাকরিসূত্রে সপরিবারে নওপাড়া ছেড়ে বজবজে বসবাস শরু করেন। এখনও অনেকেরই অজানা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের জন্ম স্থান পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটের নওপাড়ায়। নওপাড়ায় বর্ষীয়াণ এই রাজনীতিকের মূর্তি স্থাপন করা হবে বলে এদিন ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।নওপাড়ায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের শৈশবের বন্ধুরা তাঁকে সন্টু বলে ডাকতেন। সেকথা জানালেন শামসুল শেখ, তিনকরি বৈরাগ্যরা। তাঁরা অতীতের পাতা থেকে স্মৃতি তুলে ধরলেন। প্রাথমিক স্কুলে পড়ার সময় পেয়ারা পারতে গিয়ে বোলতার কামড় খেয়েছিলেন সুব্রত, জানালেন তিনকরি। মন্ডা খেতে খুব ভালবাসেন। শামসুলের কথায়, খুব ভাল হাডুডু খেলতেন। এককথায় মন্ত্রী হলেও গ্রামকে কখনও ভোলেননি সুব্রত মুখোপাধ্যায়। গ্রামের জলপ্রকল্প, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নয়নেও সুব্রতবাবুর ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।এখন মুখোপাধ্যায় পরিবারের ভিটে বলতে উঁচু মাটির ঢিভি। ঘর-বাড়ির কোনও চিহ্ন নেই। তাছাড়া গ্রামে তাঁদের কয়েক বিঘে চাষের জমি আছে। তা ভাগে চাষ চলছে বংশ পরম্পরায়। আগে ভাগের চাল নিতেন মুখোপাধ্যায় পরিবার। এই গ্রামেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বাবা শিক্ষক অশোক মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি বসেছে। গ্রামে রয়েছে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দির। গ্রামে ঢোকার আগে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরে পুজো দিতেন সুব্রত। একথা জানালেন গ্রামের বাসিন্দারা। আজ নওপাড়ার বাসিন্দারা শোকে মুহ্যমান। তাঁর গ্রামের বন্ধুমহলও শোকে পাথর।

নভেম্বর ০৫, ২০২১
রাজ্য

Rabiranjan: প্রয়াত বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক, ছিলেন বিডিএ-র চেয়ারম্যান

প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ছিলেন রাজ্যের কারিগরী শিক্ষা, বিজ্ঞান ও জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী। ২০১১ সালে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় সিপিএমের দাপুটে নেতা নিরুপম সেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছিলেন। তারপর ২০১৬-তে ফের এই কেন্দ্র থেকে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০২১-এ তাঁকে টিকিটই দেয়নি দল। তবে তিনি বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান পদে ছিলেন দীর্ঘ দিন।জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রবিরঞ্জনবাবু হাই সুগার ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থার কারণে কলকাতায় বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসারত অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে বর্ধমানে। শোকজ্ঞাপন করেছেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন তিনি।

নভেম্বর ০২, ২০২১
রাজ্য

Bijaya Sanmilani: বিজয়া সম্মিলনীর পাল্টা, জামালপুরে ব্লক তৃণমূল সভাপতিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন পঞ্চায়েত প্রধান

নামেই বিজয়া সম্মেলন। বাস্তবে সেই সম্মেলনকে হাতিয়ার করে নিজের নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতা প্ররদর্শনের লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের নেতারা। যেমনটা রবিবার বিকালে দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের চকদিঘীতে।ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেহেমুদ খাঁন গত বুধবার চকদিঘী অঞ্চলের একটি মাঠে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করে তাঁর সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন করেছিলেন। সেই একই মাঠে রবিবার পাল্টা বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করে নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতা জাহির করলেন চকদিঘী পঞ্চায়েতের প্রধান গৌরসুন্দর মণ্ডল। এমনকি তিনি সম্মেলন মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিলেন মেহেমুদ খাঁন কে। তৃণমূলের যুযুধান দুই নেতার লড়াই ঘিরে এখন সরগরম জামালপুর বিধানসভা এলাকা।আর এই লড়াই দেখে বেজায় উল্লশিত বিরোধী শিবির।তৃণমূল কংগ্রেস দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে মেহেমুদ খাঁনের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলেন চকদিঘী অঞ্চলের দাপুটে তৃণমূল নেতা গৌরসুন্দর মণ্ডল ।বাম আমলে এই দুই নেতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ার মত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি। যা প্রকাশ্যে চলে এল রবিরার চকদিঘীতে অনুষ্ঠিত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে।জামালপুর ব্লক তৃণমূলের ব্যানারে গত বুধবার বিজয়া সম্মিলনীর অনু্ষ্ঠান হয় চকদিঘিতে। সেই অনুষ্ঠানে ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খাঁন ছাড়াও এলাকার বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অলোক মাঝি, ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি ভূতনাথ মালিক সহ ব্লকের অন্য শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব উপস্থিত থাকেন। কিন্তু ওই দিনের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন চকদিঘী পঞ্চায়েতের প্রধান গৌরসুন্দর মণ্ডল ও তাঁর অনুগতরা। ওই দিন সম্মেলন মঞ্চ থেকে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে ঝাঁঝালো বক্তব্য রাখেন মেহেমুদ খাঁন। তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের সময় অনেকে পাঁচিলের উপরে উঠে দাঁড়িয়েছিল। পাঁচিলে দাঁড়িয়ে দূর থেকে দেখছিল। তাঁরা ভেবেছিল তৃণমূল আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। যাঁরা পাঁচিলে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তাঁদের বলে দিতে চাই আপনারা সজাগ থাকুন। পাঁচিলে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে শেষ করা যায় না। ২০২৪ সালে বাংলার মা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা দেশের প্রধানমন্ত্রী করবোই।মেহেমুদ খাঁনের এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই রবিবার বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে পাল্টা ঝাঁঝালো বক্তব্য রাখেন চকদিঘী পঞ্চায়েতের প্রধান। দলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি অরবিন্দ ভট্টাচার্য্য ও অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি কাশিনাথ সরকারকে পাশে নিয়ে গৌরুসুন্দর মণ্ডল নাম না করে মেহেমুদ খানের বিরুদ্ধে হুংকার ছাড়েন। গৌরবাবু বলেন, তিনি ছাত্র জীবন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস দলের হয়ে লড়ে আসছেন। অন্য কোনও দল করার কথা তিনি ভাবতেই পারেন না। ২০২৪ শে তিনিও তাঁদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। এরপরেই গৌর বাবু বলেন, তিন দিন আগে একই মাঠে তাঁরা ব্লকের বিজয়া সম্মিলন দেখেছেন। গৌরবাবু দাবি করেন, সেই সম্মেলনে তাঁদেরই দেখা গেল যাঁরা গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে দাপিয়ে বেড়িয়ে ছিল, তৃণমূলের পতাকা ছিঁড়ে তাতে প্রস্রাব করে দিয়েছিল। গৌর বাবু আরও বলেন, তিন দিন আগের সম্মেলনে আমরা এমন একজনকে দেখতে পাই যিনি আগের ভোটে চকদিঘীতে সিপিএমের বিরোধী দলনেতা ছিলেন। উনি দশ আঙুলে ১০ টি সোনার আঙটি, গলায় ১ ভরির মোটা চেন পরে থাকেন। তিনি আবার রাতারাতি তৃণমূলের নেতা হয়ে গেলেন। উনি আবার সম্প্রতি বিজেপির ছেলেদেরকে তৃণমূলে জয়েন করিয়েছেন। আর যিনি ওই সম্মেলন মঞ্চ থেকে বলে যান যাঁরা গত বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচিলের উপর থেকে জল মাপছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে নাকি দল ব্যবস্থা নেবে। পাল্টা প্রশ্ন তুলে গৌর মণ্ডল বলেন, তাহলে যাঁরা ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জল মেপেছিল তাঁদের কি হবে? ২০১৬ সালে দলের সঙ্গে যাঁরা ব্ল্যাকমেলিং করেছিল তাঁদেরও চিহ্নিত করার দাবি তোলেন গৌরসুন্দর মণ্ডল।বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুঁড়ি নিয়ে প্রশ্ন করা বলে জামালপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খাঁন এদিন কোন মন্তব্য করতে চাননি। তবে জেলা তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানান , ঘটনা বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজ খবর নেবেন। দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কিছু হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নভেম্বর ০১, ২০২১
রাজ্য

Raina: পূর্ব বর্ধমানে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার সুপারি কিলার সহ ২

হেলমেটে মুখ ঢেকে দামি হাইস্পিড মোটর বাইকে চড়ে আগে আগে যাচ্ছে দুই যুবক। তাঁদেরই পিছন পিছন যাচ্ছে একটি চারচাকা গাড়ি। গত ২২ অক্টোবর বিকালে তাঁরা যাওয়ার সময়ে কেউ ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি ওই চারচাকা গাড়িতেই সওয়ার রয়েছে সুপারি কিলাররা। যে সুপারি কিলাররা ওইদিন সন্ধ্যায় নৃশংসভাবে খুন করে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার দেরিয়াপুরের দেশ বাড়িতে বেড়াতে আসা কলকাতার ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে। ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার অদূরে জামালপুরের হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স অফিসের সামনের রাস্তায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল সেই ছবি। তারই সূত্র ধরে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনার তদন্ত চালিয়ে এক সুপারি কিলার সহ দুজনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ খুনের ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও নাগাল পেতে চাইছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শনিবার রাতে কলকাতার নারকেলডাঙা এলাকা থেকে পুলিশ দুই জনকে ধরে। তাঁদের নাম জনিসর আলম ওরফে রিকি ও মহম্মদ সাদ্দাম। জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন জানিয়েছেন, দুজনকে আটক করে প্রথমে রায়না থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার দুপুরে তাঁদের দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, নিহত ব্যবসায়ীর বাবার অভিযোগই সত্য। পারিবারিক শত্রুতার জেরেই খুন হতে হয়েছে ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে। সেই কারণেই সব্যসাচীকে খুনের ঘটনায় রিকি ৫০ লক্ষ টাকা সুপারি পেয়েছিল। খুনের ঘটনার পর রিকি নারকেলডাঙার বদলে আনন্দপুরের গুলশন কলোনীতে ডেরা নিয়েছিল।পুলিশ সেখান থেকেই তাঁকে ধরে। এরপরে ধরা হয় মহম্মদ সাদ্দামকে। এই সাদ্দামের চারচাকা গাড়িতে চেপেই অভিযুক্তরা ঘটনার দিন গিয়েছিল রায়নার দেরিয়াপুরে ব্যবসায়ী সব্যসাচীর দেশবাড়িতে। যে গাড়িটি গত দুমাস আগে সাদ্দাম কিনেছিল। সাদ্দাম ওই চারচাকা গাড়িটির ১৯তম মালিক। পুলিশ আরও জেনেছে গত ২২ অক্টোবর সব্যসাচীকে খুনের ঘটনার দিন ওই গাড়িতে সুপারি কিলার ও সাদ্দাম সহ আরো কয়েকজন ছিল।ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেই ফুটেজেই হাইস্পিড মোটর বাইকের পিছন পিছন চারচাকা ওই গাড়িটি যাওয়ার ছবি ধরা পড়ে। একই ছবি পুলিশ জামালপুরের মসাগ্রামের একটি দেকানের ও জানকুলির এক বাসিন্দার বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও দেখতে পায়। পুলিশ পালসিট ও ডানকুনি টোল প্লাজা থেকেও ঘটনার দিনের রাতের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে।হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন দুপুর ২ টো ৩৯ মিনিট নাগাদ সব্যসাচী তাঁর গাড়িতে চেপে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স পার হয়ে সোজা রায়নার দিকের রাস্তা ধরে চলে যায়। এরপর ওইদিন বিকাল ৪ টে ৫৯ মিনিটে বাইক আরোহীদের পিছন পিছন একটি চারচাকা গাড়ি হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোলট্যাক্স অফিসের সামনে এসে দাঁড়ায়। সব্যসাচী তাঁর গাড়িতে চড়ে রায়নার দিকে সোজা চলে গেলেও ওই চারচাকা গাড়িটি সেই পথে যায় না। গাড়িটি টোল ট্যাক্স অফিসের ডান দিকে ঘুরে কালড়াঘাট ও জানকুলি গ্রামের রাস্তা ধরে এগিয়ে যায় দেরিয়াপুরের দিকে। এর খানিকটা বাদ সন্ধ্যা ৬ টা ৪০ মিনিট নাগাদ রায়নার দিক থেকে এসে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স পেরিয়ে শুধুমাত্র বাইক আরোহীরা জামালপুরের দিকে সোজা চলে যায়। তারপর ওই সন্দেহজনক চারচাকা গাড়িটি রাত ৮টা ৪২ মিনিট নাগাদ দ্রুত গতিতে কালাড়াঘাট গ্রামের দিক থেকে ফিরে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স অফিসের পিছনের রাস্তা দিয়ে রায়নার দিকে চলে যায়। তার খানিকটা বাদেই রাত ৮ টা ৫৯ মিনিট নাগাদ সব্যসাচী মণ্ডলের গাড়িটি প্রচণ্ড গতিতে হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর টোল ট্যাক্স অফিসের সামনের রাস্তা দিয়ে জামালপুরের দিকে চলে যায়।সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া বাইকের পিছন পিছন চলা চারচাকা গাড়িটির বিষয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। ওই গাড়িটির বিষয়ে খোঁজ চালাতে চালাতেই পুলিশ গাড়িটির মালিক মহম্মদ সাদ্দাম ও সুপারি কিলার রিকির কাছে পৌছে য়ায়।তদন্তকারীরা জেনেছেন, ঘটনার দিন রিকি সব্যসাচীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বাকি যারা ওই চারচাকা গাড়িতে চড়ে গিয়েছিল তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে সব্যসাচীকে খুন করে।নিহতের বাবা দেবকুমার মণ্ডল রায়না থানায় অভিযোগে জানিয়ে ছিলেন, তাঁর ছোট ভাই ও ভাইপোরা লোক লাগিয়ে সব্যসাচীকে খুন করিয়েছে। সুপারি কিলার ধরা পড়ার পর নিহতের বাবার সেই দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে বহিরাগত সুপারি কিলারদের কারা রাস্তা দেখিয়ে সব্যসাচীর দেশবাড়ি রায়না দেরিয়াপুরে নিয়ে গেল? এই প্রশ্ন পুলিশকেও ভাবিয়ে তুলেছে। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে। সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে।

অক্টোবর ৩১, ২০২১
রাজ্য

Raids for Crackers: পূর্ব বর্ধমানে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বাজি উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার ৪

কালীপুজো ও দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো ও বিক্রি রুখতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রচুর শব্দবাজি উদ্ধার করার পাশাপাশি ৪ জন বাজি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ আদালত যে কোনও ধরণের বাজি বিক্রি ও পোড়ানো নিষিদ্ধ করছে। শুধুমাত্র প্রদীপ অথবা মোমবাতি জ্বেলে দীপাবলি পালন করায়ছাড় দিয়েছে আদালত। আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর করতে শুক্রবার অভিযান আরও জোরদার করলো পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার মেমারি থানার পুলিশ মেমারির গৌরীপুরের একটি বাজি কারখানায় হানা দিয়ে দুটি বস্তায় মজুত করে রাখা ৫০ কেজি শব্দ ও আতসবাজি উদ্ধার করেছে।এছাড়াও ওই কারখানা থেকে ৫০ কেজির বেশি বাজি তৈরির উপকরণও পেয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবকিছু বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি পুলিশ অবৈধভাবে বাজি তৈরির অভিযোগে ওই কারখানার মালিক বাদল মুর্মুকে গ্রেপ্তার করেছে। একই দিনে শক্তিগড় থানার পুলিশ একটি দোকানে হানা দিয়ে ৫ কেজি শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। নিষিদ্ধ বাজি বিক্রির অভিযোগে পুলিশ জগন্নাথ খাঁ ও বনমালি হালদার নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও জেলার মাধবডিহি থানার পুলিম বৃহস্পতিবার রাতে বিনোদপুর এলাকার নিতাই মণ্ডলের বাড়িতে হানা দিয়ে ২ কেজি লঙ্কা বাজি, ১০টি গাছ বাজি, ২৫০টি শব্দবাজি ও ১৫টি তুবড়ি বাজি উদ্ধার করেছে। পুলিশের দাবি, বাজি বিক্রি সংক্রান্ত বৈধ কোনও নথিপত্র ধৃতদের কেউই দেখাতে না পারার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ শুক্রবার ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় সিজেএম যদিও ধৃত সকলের জামিন মঞ্জুর করেন।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Covid Infection: উৎসব মিটতেই কোভিড সংক্রমণ উর্ধমুখী, বর্ধমানে নেওয়া হল কড়া পদক্ষেপ

শারদোৎসব মিটতেই পূর্ব বর্ধমান জেলায ক্রমশ উর্ধ্বমুখী হচ্ছে কোভিড সংক্রমণের গ্রাফ। নতুন করে বুধবার জেলায় ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে ৭ জন বর্ধমান শহরেই বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বৃদ্ধি রুখতে ফের আগের মতোই কড়া পদক্ষেপ নিল জেলার পুলিশ ও প্রশাসন।রাস্তায় নাকা চেকিং শুরু করার পাশাপাশি পুলিশ মাস্ক পড়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামলাল এলাকার একাংশ গণ্ডিবদ্ধ এলাকা হিসাবে ঘোষণা করেন জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা। তার পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় বিধি লাগু করতে এদিন আশরে নামেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পুরসভার কর্মীরা।বিধি মেনে ওই গণ্ডিবদ্ধ এলাকায় আগামী ৭ দিন সমস্ত দোকাণপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। বর্ধমান সদর মহকুমাশাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস ;বর্ধমান পৌরসভার সহ পুর-প্রশাসক আইনুল হক ,বর্ধমান থানার আই সি সুখময় চক্রবর্তী সহ প্রশাসনের প্রতিনিধিরাএদিন গণ্ডিবদ্ধ এলাকা পরিদর্শে যান। তাঁরা সেখানকার মানুষকে সচেতন করেন। মাস্ক পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন। এছাড়াও এলাকার সব দোকানপাট আগামী সাতদিন বন্ধ রাখার কথাও জানিয়ে দেন প্রশাসনের কর্তারা। প্রশাসন সূত্রে খবর,এই মুহূর্তে বর্ধমান শহরে ৫৮ জন অ্যাক্টিভ কোভিড রোগী আছেন। তার মধ্যে ১৭ জনই শ্যামলাল এলাকার। তাই কঠোর ব্যবস্থা বলবত করার দিকেই যেতে হল প্রশাসনকে।বর্ধমান সদর মহকুমাশাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিধি লাগু হওয়া এলাকা স্যানিটাইজ করা হবে। বাইরে থেকে লোক আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণে রুখতে এলাকায় পুলিশ পোস্টিং থাকবে । পৌরসভার সহ-প্রশাসক আইনুল হক জানিয়েছেন, আশাকর্মীরা এই এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করবেন। প্রয়োজনে বাসিন্দাদের আর টি পি সি আর টেস্ট করা হবে। কোন ভাবেই এলাকায় ভিড়বাড়তে দেওয়া হবে না। দোকান বাজার বন্ধ থাকলেও বাসিন্দাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কোনও জিনিসের অভাব হবে না। কোভিড আক্রান্তদের কাছে দুবেলা খাবার যোগান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও এলাকার আক্রান্তদের বাড়ি থেকে বর্জ্যপদার্থ নিয়ে যাবে পুরসভার কর্মীরা।

অক্টোবর ২৯, ২০২১
রাজ্য

Road Rollers : চারটে রোড রোলার গায়েব, ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো বর্ধমান পৌরসভার অন্দরে

এক আধটা নয়। গায়েব হয়ে গিয়েছে বর্ধমান পৌরসভার চার চারটে রোড রোলার। যা জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান পৌরসভার প্রশাসনিক মহলে। বর্ধমান পৌরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান প্রণব চট্টোপাধ্যায়ও রোড রোলার গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। কারা গায়েব করলো পৌরসভার রোড রোলার? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পৌরসভার অন্দরে।নতুন প্রশাসকমণ্ডলী বর্ধমান পৌরসভার দায়িত্ব নেয় মাস দুয়েক আগে। তারপর থেকে শহর জুড়ে শুরু হয়েছে বকেয়া থাকা বেশ কিছু কাজ। শুধু তাই নয়। পৌরসভার অনেক আর্থিক হিসেবনিকেশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবারের বারবেলায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পৌছায় পুরসভার গোডাউনে থাকা চারটি রোলারই গায়েব হয়ে গিয়েছে।পুর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান প্রণব চট্টোপাধ্যায় এদিন চারটি রোলার গায়েব হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে নেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রোড রোলার তো আর পকেটে ভরে নিয়ে যাওয়ার জিনিস নয়। আইনি পথেই এর বিহিত করা হবে। চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, আগামী শনিবারের মধ্যেই এর তত্বতালাশ তাঁরা করে ফেলবেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন প্রশাসক বোর্ড দায়িত্ব নেবার আগে প্রায় তিনবছর সরকারি আধিকারিক বর্ধমান পৌরসভা চালিয়েছেন। এর আগে পাঁচ বছর বর্ধমান পৌরসভার ক্ষমতায় ছিল শাসকদলের বোর্ড।এই বিষয়ে জেলার বিজেপি নেতা সন্দীপ নন্দী কটাক্ষ করে বলেন, এরপর বর্ধমান শহরের নাগরিকরা কোনওদিন শুনবেন গোটা বর্ধমান পৌরসভাটাই গায়েব হয়েগেছে। বর্ধমান পৌরসভায় দীর্ঘদিন যাবৎ দুর্নীতিরাজ চলছে। এখন আবার রোড রোলারও চুরি হয়ে যাচ্ছে। পৌর নির্বাচনে বর্ধমানের মানুষ এইসব ঘটনার যোগ্য জবাব দেবেন বলে সন্দীপবাবু দাবি করেছেন।

অক্টোবর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Ferry Service: কালনা-শান্তিপুর ফেরিঘাট দিয়ে মালবাহী গাড়ি পারাপারের চাপ বাড়ছে, বেড়েছে শঙ্কাও

ফাটল ধরা পড়ায় বন্ধ রয়েছে নদীয়ার গৌরাঙ্গ সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল। তাবলে ঘুর পথে মালবাহী গাড়ি নিয়ে গন্তব্যে পৌছানোর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কোন চালক। ডিজেলের দাম সেঞ্চুরী পার করায় চালকরা তাই পূর্ব বর্ধমানের কালনার ফেরিঘাটে থাকা ভেসেলে তাঁদের মালবাহী গড়ি চাপিয়ে ভাগীরথী পেরিয়ে গন্তব্যে যাতায়াত করছেন। এই ভাবে নদী পথেই কোন চালক তাঁর মালবাহী ট্রাক নিয়ে যাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান। আবার কেউ যাচ্ছেন নদীয়ায়। বিগত কয়েকদিন যাবৎ কালনা-শান্তিপুর ফেরিঘাট দিয়ে মালবাহী গাড়ি পারাপারের চাপ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হল ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। ফেরিঘাট পরিষেবার মাধ্যমে কালনা থেকে শান্তিপুর যাওয়ার ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। এই ফেরিঘাট দিয়ে ভেসেলে মালবাহী ট্রাক ও লরিও পারাপার করা হয়। তবে এতদিন তা ছিল হাতেগোনা। মালবাহী গড়ির চালক সাইদুল সেখ , স্বপন দে প্রমুখরা এদিন বলেন, গৌরাঙ্গ সেতুতে ফাটল ধরা পড়ার পর থেকে ওই সেতু দিয়ে আর মালবাহী ভারী গাড়ি যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না । তার কারণে তাঁরা এখন কালনা-শান্তিপুর ফেরিঘাট দিয়ে ভেসেলে মালবাহী ট্রাক ও লরি পারাপার করিয়ে নিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন । তার কারণে ফেরিঘাট দিয়ে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি ভারী গাড়ি পারাপার করানোর চাপ অনেকাংশেই বেড়ে গিয়েছে। এখানকার ফেরিঘাটের সামনে এখন প্রতিদিনই থাকছে মালবাহী ট্রাক ও লরির লম্বা লাইন। মালবাহী গাড়ি ও সাধারণ যাত্রী দুইয়ের ভিড় বাড়ায় ফেরিঘাটে পুলিশের কড়াকড়িও বেড়েছে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে সব ধরনের সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা। তবুও বিপদের আশঙ্কা পিছু তাড়া করে বেড়াচ্ছে অনেকেরই মনে। কারণ কয়েক বছর আগে এই ফেরিঘাট দিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ভাগীরথী পারাপারের সময় নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। কালনা-শান্তিপুর ফেরিঘাটে এখন যেভাবে চাপ বেড়েছে তা সেই স্মৃতিকেই উস্কে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যাত্রীদের অনেকে। ফেরিঘাটের ম্যানেজার জয়গোপাল ভট্টাচার্য যদিও এদিন জানিয়েছেন, বড় লোহার ভেসেলে করে মালবাহী ভারী যানবাহন ভাগীরথী পারাপার করা হয়। তবে গত চারদিন হল ভারী গাড়ি পারাপার করানোর চাপ অনেকাংশে বেড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কোন ঝুঁকি না নিয়ে সবরকম সাবধানতা মেনে ৩০ টন ওজনের নীচে থাকা যানবাহন ফেরিঘাট দিয়ে ভেসেলে পারাপার করা হচ্ছে।নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রনের জন্যই এই চাপ নিতে হচ্ছে।

অক্টোবর ২৮, ২০২১
রাজ্য

Banned Syrup: নিষিদ্ধ সিরাপসহ কাটোয়ায় ধৃত ভিন রাজ্যের দুই মাদক কারবারী

নিষিদ্ধ কোডাইন সিরাপ সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়লো ভিনরাজ্যের দুই মাদক কারবারী। ধৃতদের নাম রাহুল কুমার ও আমিল হোসেন। আমিল হোসেনের বাড়ি বিহারের সিওয়ান জেলার গরিয়াকুঠি এলাকায়। অপর ধৃত রাহুল ঝাড়খণ্ডের বোকারো স্টিল সিটির বাসিন্দা। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার পুলিশ সোমবর রাতে টহলদারির সময় কাটোয়ার গাঙ্গুলিডাঙ্গার একটি কালভার্টের কাছ থেকে তাদের ধরে। পুলিশের দাবি, তল্লাশিতে ২ লিটার কোডাইন সিরাপ ভর্তি একটি বোতল যুবকদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার পরেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা আন্তরাজ্য চুরি চক্রের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ধৃত দুই যুবক মাদকের কারবারের সঙ্গেও জড়িত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এইসব অপরাধ চক্রে ধৃতদের সঙ্গে আরও কারা কারা যুক্ত রয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ধৃতদের অপরাধ সংক্রাণ্ত অতীত রেকর্ড জানতে ঝাড়খন্ড ও বিহারের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই ধৃতকে মঙ্গলবার কাটোয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় ।তদন্তকারী অফিসার তাঁদের ৭ দিন পুলিশি হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। বিচারক ধৃতদের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেছেন।

অক্টোবর ২৭, ২০২১
রাজ্য

Chotkhanda: লাঠি পেটা ও হাতে ঝাঁটার কাঠি ফুঁটিয়ে দিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে নির্যাতন, গ্রেফতার গুনধর

বৃদ্ধ বাবাকে মারধর ও হাতে ঝাঁটার কাঠি ফুঁটিয়ে জখম করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হল গুনধর ছেলে। ধৃতের নাম সুরজিৎ সরকার। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার চোটখণ্ড গ্রামের উত্তরপাড়ায়। মেমারি থানার পুলিশ মঙ্গলবার ভোরে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃদ্ধ বাবাকে মারধোরে ব্যবহৃত লাঠি ও ঝাঁটাটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতকে বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ৩ নভেম্বর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে, বসত বাড়ি ও জমি-জমা নিয়ে বৃদ্ধ বাসুদেব সরকারের সঙ্গে তাঁর ছেলে সুরজিতের বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলছে। মাঝেমধ্যেই সুরজিৎ তাঁর বাবাকে মারধর করতো বলে অভিযোগ। গত সোমবার সকালে বাড়ির একটি জায়গা ত্রিপল দিয়ে ঘেরা নিয়ে সুরজিতের সঙ্গে তাঁর বাবার বচসা বাধে। অভিযোগ, ওই সময়ে সুরজিৎ অশ্লীল ভাষায় তাঁর বাবাকে গালিগালাজ করে। বৃদ্ধ বাবা তার প্রদিবাদ করলে সুরজিৎ লাঠি দিয়ে তাঁর বাবাকে ব্যাপক মারধোর করে। এমনকি ছেলে সুরজিৎ তাঁর বৃদ্ধ বাবায় হাতের একাধিক জায়গায় ঝাঁটার কাঠি ফুটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।মেমারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে বৃদ্ধ তাঁর ছেলের অত্যাচারের কথা জানিয়ে মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বাবার অভিযোগে পুলিশ ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।

অক্টোবর ২৬, ২০২১
রাজ্য

Raina Murder: দুঁদে পুলিশ অফিসার, সিআইডি ও ফরেন্সিক দল তদন্তে, তবু জট কাটছে না ব্যবসায়ী খুনের

পুলিশের দুঁদে অফিসাররা তদন্তে নামলেও জট কাটছে না। প্রতি মুহুর্তে পুলিশকে বদলাতে হচ্ছে খুনি চিহ্নিতকরণের ছক। পূ্র্ব বর্ধমানের রায়নার দেরিয়াপুর গ্রামের দেশ বাড়িতে বেড়াতে আসা কলকাতার ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে কারা খুন করলো তাহলে? ঘটনার পর থেকে ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর এই প্রশ্নের উত্তর এখনও হাঁতরে বেড়াচ্ছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। খুনিদের নাগাল পেতে রবিবার সিআইডি ও ফরেন্সিক দল দেরিয়াপুর গ্রামে তদন্তে যায়। ছেলেকে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনায় জড়িতরা কবে ধরা পড়ে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন নিহত ব্যবসায়ীর পরিবার।বন্ধু রাজবীর সিংকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার হাওড়ার শিবপুরের বাড়ি থেকে রায়নার দেরিয়াপুরের দেশ বাড়িতে বেড়াতে আসেন ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডল (৩৮)। ওই দিন রাতে ওই বাড়িতেই তিনি খুন হন। দুস্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে ব্যবসায়ীকে খুন করে পালায়। ময়নাতদন্তে তাঁর দেহের ২৯ টি জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়েছে। ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর বন্ধু রাজবীর সিংও চোট পান। এই খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যবসায়ীর গাড়ির চালক আলো সাউ ও রাঁধুনি পার্থ সান্যালকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে জেরার পর জেরা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও খুনের রহস্য উন্মোচন এখনও হয়নি বলে খবর।এদিকে ঘটনার পরদিন মৃত ব্যবসায়ীর বাবা দেবকুমার মণ্ডল রায়না থানায় লিখিত অমিযোগ দায়ের করে দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে খুনের ঘটনা নিয়ে তাঁর ভাই গৌরহরি মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী পূর্ণিমাদেবীও দুই ভাইপো দীনবন্ধু ও সোমনাথ জড়িত রয়েছে। এরাই সুপারি কিলারদের দিয়ে সব্যসাচীকে খুন করিয়েছে বলে দেবকুমারবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন।এদিন বিকালে ফরেন্সিক দলের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট চিত্রাক্ষ সরকার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিন) আমিনুল ইসলাম খাঁনও সেখানে উপস্থিত থাকেন। ফরেন্সিক টিম বাড়িটির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে । রায়না থানার হেপাজতে থাকা ব্যবসায়ীর গাড়িটিও চিত্রাক্ষ বাবু পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিত্রাক্ষবাবু পুলিশকে জানিয়ে দেন, দোতলা বাড়ির নিচের তলাতে ১০ মিনিটের বেশী সময় নিয়ে একাধিক আততায়ী মিলে খুনের ঘটনাটি ঘটিয়েছে।এসডিপিও বলেন , সন্দেহভাজনদের এখনও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আততায়ীদের নাগাল পেতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Music with Cricket: বিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চের ব্যাকড্রপে ভারত-পাক ম্যাচ, উৎফুল্ল দর্শক-শ্রোতা

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট খেলার উত্তেজনাই অন্যমাত্রায় পৌছে যায় সবসময়। খেলার আগে দেশের নানা স্থানে যজ্ঞ, পুজোর রেওয়াজ তো আছেই। দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা গ্রুপের খেলা হলেও ভারত-পাক ম্যাচকে ফাইনাল ম্যাচ হিসাবেই ধরে নেয়। রবিবার টি-২০ বিশ্বকাপের ভারত-পাক ম্যাচের উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেল বর্ধমানের এক ক্লাবের বিজয়া সম্মেলনীতেও।পুলিশ লাইনের কাছে জি টি রোডে দুর্গাপুজোর জন্য যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে সবুজ সংঘ। রবিবার সবুজ সংঘের বিজয়া সম্মেলনী চলছিল। সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করছিলেন জি সা-রে-গা-মা-পা খ্যাত শিল্পী মন্দিরা কর্মকার। কিন্তু ওই মঞ্চের পিছনে ব্যাকড্রপ এল ই ডি জায়েন্ট স্ক্রীনে ভারত-পাকিস্তান খেলা চলছে। রথ দেখা ও কলা বেচার মত জায়েন্ট স্ক্রীনের এই উত্তেজপূর্ন খেলা দেখতে দেখতে শিল্পীর গানও উপভোগ করছে দর্শক-শ্রোতারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট সঞ্ছালিকা সুদেষ্ণা আচার্য জনতার কথাকে জানান একদিকে অনুষ্ঠান, একইসঙ্গে ভারত-পাক ম্যাচের আস্বাদও নিচ্ছেন তাঁরা, তিনি বলেন, আমার মনে হয় আয়োজকরা আশঙ্কা করেছিলেন ভারত-পাক খেলা থাকায় এই বিজয়া সন্মিলনীতে সদস্যদের উপস্থিতির হার কমে যেতে পারে, তাই এই ব্যবস্থা, যাতে কোনও কিছু থেকে কেউ বঞ্চিত না থাকেন। এই দৃশ্যই মনে করিয়ে দেয় এই দেশের সাধারন মানুষ কতটা ক্রিকেটপ্রেমী! মাঝে-মধ্যে খেলার দৃশ্য দেখে উত্তেজিত হয়েও পড়ছেন দর্শকরা। হাততালিও দিয়ে ফেলছেন। এর ফলে একদিকে যেমন বিজয়া সম্মেলনীতে হাজিরও হলেন এলাকাবাসী, আবার বাড়ির বাইরে থাকলেও হট ম্য়াচ দেখা থেকে বঞ্চিত হলেন না তাঁরা। কার্যত খুশি দর্শক-শ্রোতারা।

অক্টোবর ২৪, ২০২১
রাজ্য

Wall Collapsed: ঘরের দেওয়াল ভেঙে আহত পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সহ পাঁচ

ঘরে ঘুমিয়ে থাকার সময় দেওয়াল ভেঙে পড়ায় আহত হলেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সহ একই পরিবারের পাঁচ জন। শনিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১ ব্লকের মাগনপুর গ্রামে। প্রতিবেশীরা আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই এলাকার বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়, ব্লকের বিডিও দেবব্রত জানাসহ জনপ্রতিনিধিরা হাসপাপালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলীর জাহান্নগর পঞ্চায়েতের মাগনপুরে বাড়ি দে পরিবারের। ইট ও মাটির গাঁথনির দেওয়াল ও টিনের চালার ঘরে দে পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন। ওই ঘরেতেই এদিন ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমাচ্ছিলেন। সেইসময় আচমকাই বাড়ির দেওয়ালসহ টিনের চালা হুড়মুডিয়ে ঘেঙে পড়ে।ভেঙে পড়া সেই দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে যান পরিবারের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ পাঁচ জন।প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে গিয়ে ভেঙে পড়া দেওয়াল সরিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন নিম্নচাপের জেরে বিগত কয়েকদিন ধরে হওয়া বৃষ্টিপাতের জেরে ইট মাটির গাঁথনির দেওয়ল দুর্বল হয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২১
রাজ্য

Raina Murder: খুনের পিছনে কারা? কেন খুন করেছে ব্যবসায়ীকে? পুলিশের কাছে অভিযোগ মৃতের বাবার

কলকাতা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে নৃশংস ভাবে খুন হলেন এক ব্যবসায়ী। মৃতর নাম সব্যসাচী মণ্ডল(৩৮)।শুক্রবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার দেরিয়াপুর গ্রামে। জানা গিয়েছে, দুস্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে ব্যবসায়ীকে খুন করে পালায়। শনিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ মর্গে ব্যবসায়ীর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়।এই ঘটনার তদন্তে নেমে রায়না থানার পুলিশ ব্যবসায়ীর গাড়ির চালক ও রাঁধুনিকে নিজেদের কব্জায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে ব্যবসায়ী খুন হলেন নাকি খুনের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীক শত্রুতা ,সেই বিষয়টি এখনও পুলিশের কাছে পরিস্কার নয়। সুপারি কিলারদের দিয়ে কেউ ব্যবসায়ীকে খুন করালো কিনা সেই বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরেও আততায়ীরা ব্যবসায়ীর গলায় থাকা সোনার হারটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়নি। তা দেখে পুলিশের অনুমান আততায়ীরা ব্যবসায়ীর টাকা পয়সা বা গয়নাগাটি ছিনতাই করতে আসেনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলের দেশবাড়ি রায়নার দেরিয়াপুর গ্রামে। তিনি ও তাঁর পরিবার এখন থাকেন হাওড়ার শিবপুরে। সেখানে তাঁর পলিথিন সামগ্রীর ব্যবসা রয়েছে। শুক্রবার সব্যসাচী মণ্ডল তাঁর এক বন্ধু নাজবীর সিংকে সঙ্গে নিয়ে দেরিয়াপুর গ্রামের দেশ বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতে দেশবাড়ির দোতলায় রান্না হচ্ছিল। নাজবীর সিং এর কথায় জানা গিয়েছে, ছাদে রান্না যখন চলছিল তখন সেখানেই ছিল সব্যসাচী। সেই সময়ে সব্যসাচীর গাড়ির ড্রাইভার আলো সাউ উপরে এসে সব্যসাচীকে বলে কোন অফিসার লোক এসেছে। তারা তাঁকে নীচে ডাকছে। এই কথা শুনে গাড়ির ড্রাইভারের সঙ্গেই সব্যসাচী নিচে নেমে যায়। নাজবীর সিং জানান, এর খানিক পরেই তাঁরা আর্ত চিৎকার ও গুলির শব্দ শুনে নীচে নামেন। তখন দেখেন চার জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সব্যসাচীকে কোপাচ্ছে। সেই অবস্থার মধ্যেই অন্য আর এক জন গুলি চালাতে থাকে। নাজবীর দাবি করেন, তিনি সব্যসাচীকে বাঁচাতে গেলে বাংলায় কথা বলা ওই হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে তাঁকে সরিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সব্যসাচী ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ তাঁরা সব্যসাচীকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান বলে বন্ধু নাজবীর সিং ও রাধুনি পার্থ সান্যাল দাবি করেন। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে মৃত বলে জানান। নাজবীর সিং গুলি চলার কথা বললেও এদিন ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃতের দেহে গুলির কোন হদিশ মেলেনি বলে খবর মিলেছে। খুনের ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ)আমিনুল ইসলাম খাঁন, রায়না থানার ওসি পুলক মণ্ডল সহ অন্য পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। রক্তে ভরে থাকা ব্যাবসায়ীর দেশবাড়ির সবিস্তার তাঁরা খতিয়ে দেখেন। এসডিপিও জানান, দেরিয়াপুরের বাড়িতে রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। ব্যবসায়ীর শরীরের একাধীক জায়গায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। নানা দিক ধরে পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । সুপারি কিলার দিয়ে ব্যবসায়ীকে খুন করা হয়েছে কিনা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতর পরিবারের লোকজন ছাড়াও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে এসডিপিও জানিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুপারি কিলার দিয়ে খুন করা হয়েছে এমনটা ধরে নিয়েই পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের অনুমান কলকাতা বা হাওড়ায় খুন করা হলে সন্দেহ মৃতর কাকাদের পরিবারের দিকেই যেত। তাই ব্যবসায়ী সব্যসাচীকে গ্রামের বাড়িতে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করা হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। হাওড়ার পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতর বাবা দেবকুমার মণ্ডল তাঁর ছেলেকে খুনের ঘটনা নিয়ে এদিনই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন,তাঁর ছেলে সব্যসাচীর খুড়তুতো ভাইয়েরা ও দুই ভাইপো সুপারি কিলার লাগিয়ে সব্যসাচীকে খুন করিয়েছে। একই সঙ্গে দেবকুমার বাবু জানিয়েছেন, তাঁর একমাত্র ছেলের ৬ মাসের একটি শিশু কন্যা রয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ভাইয়েদের সঙ্গে তাঁদের অশান্তি চলছে। তা নিয়ে হাওড়াতেও বারবার গণ্ডগোল হয়েছে। ২০১৬ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর ভাইপোরা শ্মশানে সব্যসাচীকে ব্যাপক মারধোর করে বলে এদিন দেবকুমার বাবু বলেন। দেবকুমার বাবু এদিন সরাসরি অভিযোগ করে বলেন ,তার দুই ভাইপো দীনবন্ধু ও সোমনাথ সুপারি কিলার লাগিয়েই তাঁর ছেলে সব্যসাচীকে নৃশংস ভাবে খুন করিয়েছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পর এদিন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যান সিংহ রায় সহ বিশেষ তদন্তকারী দল দেরিয়াপুর গ্রামে মৃতর দেশবাড়িতে যায়। কল্যাণ সিংহরায় বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত কি ভাবে খুন করা হলা তা বলা সম্ভব নয়। তবে মৃতের বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সব দিকেই নজর রাখছি। সেই ভাবেই তদন্ত শুরু হয়েছে। গুলি চালানোর বিষয়টি তাঁর কাছে পরিস্কার নয় বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

অক্টোবর ২৩, ২০২১
রাজ্য

Murder in Purba Bardhaman: গ্রামের বাড়িতে এসে কলকাতার ব্যবসায়ী খুন পূর্ব বর্ধমানে, আটক দুই, জোরদার তদন্তে পুলিশ

গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে খুন হলেন কলকাতার এক ব্যবসায়ী। মৃতর নাম সব্যসাচী মণ্ডল(৪৪)।শুক্রবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার দেরিয়াপুর গ্রামে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে রায়না থানার পুলিশ ব্যবসায়ীর গাড়ির চালক ও রাঁধুনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তবে কারা কি কারণে ব্যবসায়ীকে খুন করলো সেই বিষয়টি এখনও পুলিশের কাছে পরিস্কার নয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলের দেশবাড়ি রায়নার দেরিয়াপুর গ্রামে। তিনি ও তাঁর পরিবার এখন থাকেন হাওড়ার শিবপুরে। সেখানে তাঁর পলিথিন সামগ্রীর ব্যবসা রয়েছে। শুক্রবার সব্যসাচী মণ্ডল তাঁর এক বন্ধু নাজবীর সিংকে সঙ্গে নিয়ে দেরিয়াপুর গ্রামের দেশ বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতে দেশবাড়ির ছাদে রান্না হচ্ছিল। নাজবীর সিংয়ের কথায় জানা গিয়েছে, ছাদে রান্না যখন চলছিল তখন সেখানেই ছিলেন ওই সব্যসাচী। সেই সময়ে কেউ নীচে ডাকছে বলে জানিয়ে সব্যসাচীর গাড়ির ড্রাইভার সব্যসাচীকে নিয়ে ছাদে থেকে নিচে নেমে যায়। এর খানিকটা পর তাঁরা নীচে নেমে রক্তাক্ত অবস্থায় সব্যসাচীকে দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ তাঁরা সব্যসাচীকে উদ্ধার করেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান বলে বন্ধু রাজবীর সিং ও রাধুনি পার্থ সান্যাল দাবি করেছেন। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ব্যবসায়ী সব্যসাচী মণ্ডলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় রায়না থানার পুলিশ। এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খাঁন জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দেরিয়াপুরের বাড়িতে রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। ব্যবসায়ীর দেহের একাধিক জায়গায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে বোঝা যাবে কি জাতীয় জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তদন্ত এখন একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কিভাবে এই ঘটনা ঘটলো তা জানার জন্য মৃতর পরিবারের লোকজন ছাড়াও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে এসডিপিও জানিয়েছেন।

অক্টোবর ২৩, ২০২১
রাজ্য

Tobacco: খৈনি চাওয়া নিয়ে বিবাদের জেরে যুবক খুন গলসিতে, গ্রেফতার গামছা বিক্রেতা

খৈনি চাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিবাদ। তার জেরে বুকে ধারালো কাঁচি গেঁথে দিয়ে এক যুবকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল প্রৌঢ়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে। যুবক সফিউল ইসলাম মণ্ডল (৩১)কে খুনের ঘটনায় ধৃত প্রৌঢ়ের নাম ফিরোজ হোসেন মল্লিক। তাঁর বাড়ি গলসি থানার পুরষায়। গলসি থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ শুক্রবার ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। সিজেএম ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে ৫ নভেম্বর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ফিরোজ ইসলাম পুরষার মাঝেরপুলের মসজিদতলার কাছে একটি সব্জির দোকানে বসেছিল। সেই সময় পেশায় গামছা বিক্রেতা ফিরোজের কাছে গিয়ে তাঁর প্রতিবেশী সফিউল ইসলাম মণ্ডল খৈনি চান। ফিরোজ খৈনি দিতে না চাইলে সফিউল তাঁকে গালিগালাজ করে। তা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিবাদ বাধে। ওই সময় ফিরোজ তাঁর সঙ্গে থাকা গামছা কাটার কাঁচি আচমকা সফিউলের বুকে গেঁথে দেয়। তাতে সফিউল গুরুতর জখম হয়। তাঁর বুকেও তৈরি হয় গভীর ক্ষত। প্রচণ্ড রক্তপাত শুরু হলে সফিউল আর্তনাদ শুরু করে। তা শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সফিউলকে উদ্ধার করে পুরষা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনা নিয়ে সফিউলের দাদা আনোয়ার হোসেন মণ্ডল ওই দিনই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ ফিরোজ হোসেন মল্লিককে গ্রেপ্তার করে। কাঁচিটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে

অক্টোবর ২২, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 23
  • 24
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • 29
  • ...
  • 33
  • 34
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটে পরপর ২ সোনা ভারতের, ভিত তৈরির নেপথ্যে সৌরভেরই অবদান

এশিয়ান গেমসে ভারত পরপর ২ বার সোনা জিতল মেয়েদের ক্রিকেটে। এবারের গেমসে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল। ফাইনাল-সহ এবারের এশিয়ান গেমসে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন বাংলার রিচা ঘোষও। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ঝুলন গোস্বামী।ঝুলন বলেন, ২০১৭-র পর থেকেই আমরা বিসিসিআইকে বলেছিলাম ইংল্যান্ডে যেমন সুপার লিগ (এখন দ্য হান্ড্রেড), অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের বিগ ব্যাশ লিগ হচ্ছে। আমাদের দেশে কেন হবে না? তখন বিসিসিআই চলছিল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসের নেতৃত্বে। কীভাবে আমাদের দেশে এমন লিগ হতে পারে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। বিসিসিআই ভাবছিল বড় কেউ আসবে কিনা, টিম নেবে না। আইপিএল অনেক বড় মাপের। তার পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকবে কিনা। ফলে তিনটি টিমকে আইপিএলের ফাঁকে নিজেদের মধ্যে খেলানো শুরু হলো। যা ট্রায়াল রান বলা যেতে পারে। বিদেশিদের আনা হলো। আমরা প্রথম খেলেছিলাম জয়পুরে। প্রথম থেকেই রেসপন্স ভালো ছিল।ঝুলনের কথায়, মহারাজদা (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) ২০১৯ সালে বিসিসিআই সভাপতি হলেন। কঠিন সময়ে। কেন না, এর পরেই কোভিড শুরু হয়। যা প্রায় ২ বছর ক্রিকেটকে স্তব্ধ করে দেয়। তবে ক্রিকেট এই সময়কালেও অন্য জায়গায় পৌঁছেছিল মহারাজদা, জয় শাহর জন্য। প্লেয়ার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, স্কোরার- পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে কারও স্যালারি আটকায়নি। সবাই জানেন ওই সময় কতটা কঠিন ছিল। তার মধ্যেই ম্যাচ খেলানোর ব্যবস্থা হয়েছে। চার্টার্ড বিমানে পুরুষ ও মহিলা দলকে দুবাই পাঠিয়ে খেলানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাভেল করে কোয়ারান্টিনের মধ্যে কাটানোর পর সকলে পারফর্ম করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। মানসিক স্বাস্থ্য যাতে ভেঙে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে কেউ না কেউ সব সময় থাকতেন। ঝুলন জানান, দেশের মহিলাদের ক্রিকেটে সৌরভের বড় পদক্ষেপ টেস্ট ক্রিকেট ফেরানো। ঝুলন বলেন, আমি এতদিনে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছি। কারণ ২০০৬-এর পর ৮ বছর কোনও টেস্ট খেলিনি। ২০১৪-১৫ নাগাদ খেলার পর আবার বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। মহারাজদা টেস্ট ক্রিকেট ফেরান। কোভিডকালে দাদা, জয় শাহরা আমাদের ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট খেলার বন্দোবস্ত করেন। অস্ট্রেলিয়ায় গোলাপি বলে টেস্ট ক্রিকেট খেলি, যা দেশের মেয়েদের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় বিপ্লব। টেস্টই আল্টিমেট ক্রিকেট। যেখানে দক্ষতা, মানসিকতার বিকাশ ঘটে। সবরকম চ্যালেঞ্জের জন্য প্লেয়ারকে তৈরি করে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

হোল্ডিং সেন্টারের দেওয়াল টপকে চম্পট, গন্ধ শুঁকে রোহিঙ্গা যুবককে খুঁজে দিল অরল্যান্ডো

হোল্ডিং সেন্টারের কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে দেওয়াল টপকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না এক রোহিঙ্গা যুবকের। বন দপ্তরের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোর নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফের আটক করল পুলিশ। রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টার থেকে পালানোর পর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি চা বাগান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ সোলেমান। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন এলাকা থেকে চার জনের একটি সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা দলকে আটক করা হয়েছিল। সেই দলের সদস্য সোলেমানকেও রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।রবিবার সকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে সেন্টারের ভিতর থেকে বেরিয়েছিল সোলেমান। সেই সুযোগেই উঁচু দেওয়াল টপকে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রাজগঞ্জ থানায়। শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি।দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালিয়েও পলাতক যুবকের সন্ধান না মেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়। মালবাজার মহকুমা পুলিশের অনুরোধে জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণী বিভাগের পক্ষ থেকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ অরল্যান্ডোকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।সোলেমানের পরনে থাকা বা ফেলে যাওয়া পোশাকের গন্ধ শুঁকিয়ে অরল্যান্ডোকে তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়। এরপর গন্ধ অনুসরণ করে সে হোল্ডিং সেন্টার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পানিকৌড়ি মোড় সংলগ্ন একটি চা বাগানের দিকে এগিয়ে যায়। অরল্যান্ডোর দেখানো পথ অনুসরণ করে তল্লাশি চালাতেই চা বাগানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সোলেমানের সন্ধান পান পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকেই তাকে ফের আটক করা হয়।বন দপ্তরের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তাঁদের প্রশিক্ষিত কুকুর সফলভাবে পলাতক বন্দিকে খুঁজে বের করায় তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। এর আগে গরুমারা এলাকায় চোরাশিকারীদের দমনে একাধিকবার সাফল্য দেখিয়েছে অরল্যান্ডো। এবার পলাতক বন্দির সন্ধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল সে।তবে এই ঘটনায় রাজগঞ্জের হোল্ডিং সেন্টারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কড়া পাহারা ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এক যুবক সেন্টারের উঁচু দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোথায় গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দমকা ঝড়ে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম, উড়ল চাল, উপড়ে পড়ল গাছ, খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক

হঠাৎ ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড পূর্বস্থলীর গ্রাম। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কালেখাঁতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপাতলা তিনপাড়া এলাকা ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে। কারও কারও বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। কারও টিনের চালা উড়ে গিয়েছে। মোদ্দা কথা পুজোর মুখে এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছে গ্রামবাসীদের। কি করে সামাল দেবেন এই অবস্থা তা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে বাসিন্দাদের। প্রশাসন গ্রামবাসীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। গ্রামে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়।গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হঠাৎ দমকা ঝড় ওঠে। ঝড় মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কিছু সময়ের প্রবল ঝড়ে আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা বাড়িও রয়েছে। অসহায় মানুষগুলো এবার কি করবেন তা ভেবেই পাচ্ছেন না। হঠাৎ মাথার ছাদ চলে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা অসহায় বোধ করছেন। ঝড়ে একজন জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় শনিবার সাকালে ওই গ্রামে গিয়ে হাজির হন। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতি খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়ক গ্রামবাসীদের জানিয়ে দেন, তিনি গ্রামবাসীদের পাশে আছেন। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, বিধ্বংসী ঝড়ে ওই গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ির চালা উড়ে গিয়েছে। কয়েকটা গাছপালাও ঝড়ে পড়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষাবাদেরও। প্রশাসনের কর্তাদের নজরদারিতে উদ্ধারের কাজ চলছে। সরকারি ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা হবে। বিডিও পারিজাত বোস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান, তারপরই বচসা থেকে হাতাহাতি! উত্তপ্ত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পশ্চিমবঙ্গ শাখার একটি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে চলছিল। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পড়ুয়াদের একাংশ আপত্তি জানালে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে। ঘটনায় একাধিক জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিয়েই আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে গিয়ে কেন প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই ধরনের কর্মসূচি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে কয়েক জন বক্তার বক্তব্য নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি জানাতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধর করা হয়। কয়েক জন পড়ুয়া ও শিক্ষকের উপরেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পড়ুয়াদের আরও দাবি, তাঁদের নানা নামে কটাক্ষ করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে তাঁদেরই আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।অন্য দিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, টাকা দিয়ে অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়ার পর তাঁরা নিজেদের কর্মসূচি করছিলেন। সেই সময় পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানে বাধা দেন এবং তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয় বলে আয়োজকদের দাবি। অর্থাৎ, সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের একটি বাসও আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বড় বাহিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও ইট ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলে। ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল।এই ঘটনার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনছেন অনেকে। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে এই তুলনা রাজনৈতিক বা সামাজিক আলোচনার অংশ হলেও, তা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানও শোনা গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। পরিস্থিতি যাতে আরও না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কত জন আহত এবং কার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। কেন অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ুয়াদের আপত্তি তৈরি হয়েছিল, সংঘর্ষ কী ভাবে শুরু হল এবং দুই পক্ষের অভিযোগের মধ্যে কোনগুলি তদন্তে সত্যি প্রমাণিত হয়, এখন সেদিকেই নজর। পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিদেশ

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলা! দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃত অন্তত ২৭

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর বন্দুকবাজের হামলায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহেনেসবার্গ এবং কেপটাউনে দুটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার পর অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।প্রথম হামলাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় জোহেনেসবার্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পানশালায় আচমকা ঢুকে পড়ে কয়েক জন বন্দুকধারী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। ওই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে বন্দুকধারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে কেপটাউনের একটি জনবহুল এলাকায়। রবিবার ভোরে একটি বিনোদন কেন্দ্রের বাইরে আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।পুলিশ জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনায় পাঁচ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এই হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। কোনও সংগঠিত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দুটি হামলার পর দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলাকারীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে রবিবার সকাল পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং গ্যাং-হিংসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক পাচার, অবৈধ খনি এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও দেশটির একাধিক এলাকায় ঘটে থাকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় বন্দুক হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।তবে জোহেনেসবার্গ ও কেপটাউনের দুটি হামলার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। হামলার নেপথ্যে উদ্দেশ্য কী ছিল এবং একই গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে’, সাধুদের কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। তাই সাধু-সন্তদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁরা মন খুলে গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন।শুভেন্দুর দাবি, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতায় এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে বিধানসভা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শেষে গীতার একটি অধ্যায়ও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কাজকর্ম নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। গীতা পাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা হরেকৃষ্ণ নাম করার ক্ষেত্রেও কোনও ভয় থাকা উচিত নয়।শুভেন্দুর বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনও সাধু-সন্ত নিজের মতো করে সনাতনী ধর্মের প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শুভেন্দু আরও বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সবাইকে এক থাকার বার্তাও উঠে আসে।এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় আরও বড় গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজাদি সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে রাষ্ট্রবাদী মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো তীব্র রাজনৈতিক ভাষাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা ও সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপএই দুই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য সামনে এল। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপির একাংশের মতপার্থক্যের কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা এবং আগামী দিনে আরও বড় গীতাপাঠের ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট, হঠাৎ বিরোধীদের দাবিতে বড় প্রশ্ন তুললেন মুকুল রোহতগি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদে নতুন করে প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিরোধী শিবিরের তরফে লোকসভা ও রাজ্যসভাদুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সেই আবহেই প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল তথা প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগির মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহতগি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলি ইমপিচমেন্টের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্য, সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং শক্ত প্রমাণহীন অভিযোগের ভিত্তিতে এমন প্রস্তাব আনা যায় না।রোহতগির যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর মতে, মতের অমিল নিজে থেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি কাজের প্রমাণ নয়। বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।এই প্রসঙ্গে রোহতগি নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের অন্দরে কোনও পর্যায়ে মতের অমিল থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটিই কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের মতামতকে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত হিসেবে দেখা ঠিক নয়।তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভোট অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে বেশি নয় বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোহতগি। অর্থাৎ তিন সদস্যের প্রত্যেকের ভোটের মূল্য সমান। কোনও বিষয়ে দুই কমিশনার এক দিকে থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় বলে তাঁর বক্তব্য।রোহতগি এই পরিস্থিতির সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতির বেঞ্চের তুলনাও করেছেন। তাঁর যুক্তি, বিচারপতিদের মধ্যে কোনও মামলায় মতপার্থক্য থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ই শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে কার্যকর হয়। একই ভাবে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতের অমিলকে শুধুমাত্র সেই কারণেই অসদাচরণ বলা যায় না বলে মত তাঁর।তবে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক শুধু কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাক্তন কেরল মুখ্যসচিব জিজি থমসন সম্প্রতি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে একটি বিমানে দিল্লি যাওয়ার সময় তৎকালীন আমলা জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। থমসনের দাবি, তাঁকে পাঠানমতিট্টা কেন্দ্র থেকে লড়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।থমসনের এই দাবি অবশ্য তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। জ্ঞানেশ কুমারের তরফে এই অভিযোগের কোনও জবাব প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাই অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের আরও একটি বড় কারণ নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক মাসে কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, মতের পার্থক্য স্বাভাবিক এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি, অন্য দিকে সেই প্রস্তাবের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে মুকুল রোহতগির প্রশ্নদুই ঘটনাই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি প্রাক্তন আমলার বিজেপির টিকিটের প্রস্তাব সংক্রান্ত দাবিও বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ, দাবি ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে কোনগুলি প্রমাণিত এবং কোনগুলি রাজনৈতিক দাবি, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, প্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মায়ের গর্ভগৃহে পুজো, প্রবীণ নেতার পায়ে প্রণাম—বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সফরে আবেগের অন্য ছবি

মন্দির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশ।বর্ধমান: বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পুজো ঘিরে শুক্রবার শহরে তৈরি হল এক অন্য আবহ। প্রশাসনিক কর্মসূচি শুরুর আগে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পৌঁছে গর্ভগৃহে গিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ধরে পুজো দেন আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে রইল মন্দিরে প্রবেশের মুখে এক প্রবীণ বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং অগ্রজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য।মন্দিরে প্রবেশের সময় অবিভক্ত বর্ধমান জেলার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দেবীপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। দেবীপ্রসাদ মল্লিক পুষ্পস্তবক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এরপরই কোনও আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। মুহূর্তের সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।বর্ধমানের বিজেপি সংগঠনের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে দেবীপ্রসাদ মল্লিকের নাম দীর্ঘদিনের। আশির দশক থেকেই তিনি বিজেপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি। সেই সময় বর্ধমান - দুর্গাপুর ভাগ হয়নি, গোটা বর্ধমানই ছিল একটি জেলা। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।আজকের বিজেপি যখন বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তখন তার অতীতের সাংগঠনিক পথচলার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ কর্মীদের ভূমিকার কথাও সামনে আসে এই ধরনের ঘটনায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের মতে, বর্ধমান শহরে দলের সংগঠনকে শূন্য থেকে দাঁড় করানোর সময় দেবীপ্রসাদ মল্লিকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের একত্রিত করার কাজও করেছেন তিনি।আর সেই প্রবীণ নেতার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে তাই শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এর মধ্যে উঠে এসেছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। অবশ্য এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা যার যার নিজস্ব হলেও, মুহূর্তটির আবেগ এবং তাৎপর্য বর্ধমানের মানুষের নজর কেড়েছে।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করেন বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এসে পুজো দিলেন।পুরোহিতদের উপস্থিতিতে গর্ভগৃহে গিয়ে নিজের হাতে দেবীর পুজো করেন তিনি। পুজোর ডালিতে ছিল পাঁচ রকম ফল ও মিষ্টি, নারকেল, চেলি, পদ্মফুলের মালা, আলতা-সিঁদুর এবং দেবীর জন্য একটি বেনারসি শাড়ি।পুজো শেষে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানো হয়। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে তুলে দেন দেবী সর্বমঙ্গলার প্রতিকৃতি। ট্রাস্টের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ বাঁশ দিয়ে তৈরি সর্বমঙ্গলা মন্দিরের একটি রেপ্লিকা এবং দেবীর একটি প্রতিমা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।তবে শুধু পুজো বা সৌজন্য সাক্ষাতেই শেষ হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর মন্দির সফর। মন্দিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।মন্দির সংস্কার, ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ভবন সংরক্ষণ, সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যায়ন এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়গুলি শুনে রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপিআর (Detailed Project Report) তৈরি করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৫ তারিখের ক্যাবিনেট বৈঠকে সেই ডিপিআর জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। মন্দিরের স্থাপত্য, ইতিহাস এবং স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ককে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের দাবি উঠেছে।মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই দাবিই নতুন করে গুরুত্ব পেল বলে মনে করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও সংস্কৃতিকে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও তাঁদের আশা।সময়াভাবে মন্দিরে বসে ভোগ গ্রহণ করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য অবশ্য বিশেষভাবে ভোগ পার্সেল করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই ভোগের মেনুতে ছিল পোলাও, ফুলকপি-আলুর তরকারি, ছানার ডালনা, মাগুর মাছের ঝোল, ডাল, পায়েস এবং বর্ধমানের বিখ্যাত কেশরভোগ।একদিকে কয়েক শতকের ধর্মীয় ঐতিহ্য, অন্যদিকে বর্ধমানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রবীণ এক চরিত্রের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধামুখ্যমন্ত্রীর সর্বমঙ্গলা মন্দির সফর তাই একাধিক কারণে আলাদা মাত্রা পেল।সর্বমঙ্গলার গর্ভগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো, মন্দির সংস্কারের জন্য ডিপিআর তৈরির নির্দেশ এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা দেবীপ্রসাদ মল্লিকের পায়ে হাত দিয়ে তাঁর প্রণামএকসঙ্গে এই তিনটি মুহূর্ত বর্ধমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে তৈরি করেছে আলোচনার নতুন আবহ।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal