• ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Pakistan

বিদেশ

ফের পাক হামলা, এক রাতেই খুন ৯ শিশু! উত্তপ্ত আফগান সীমান্ত

আফগানিস্তানে ফের বোমা হামলা পাকিস্তানের। মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা চিরে আচমকাই বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল সীমান্তবর্তী এলাকা। সেই হামলায় প্রাণ গেল নয়-নয়টি শিশু এবং এক মহিলার। আফগান তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের বাড়িতে সরাসরি বোমা ফেলেছে পাকিস্তানি বাহিনী। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বালক এবং চারজন বালিকা। এক মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল কয়েকটি পরিবার।মুজাহিদ তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ মানুষের ঘরে বোমা ফেলেছে। ৯ শিশু এবং এক মহিলা শহিদ হয়েছেন। আফগান সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে, কোনও সামরিক লক্ষ্য নয়, এই হামলা ছিল স্পষ্টভাবে বেসামরিকদের ওপর। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে কাবুল।সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চার আফগান নাগরিক। তবে পাকিস্তানের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। সীমান্তেই যে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে, তা আর আড়াল করা যাচ্ছে না।গত মাস থেকেই ডুরান্ড লাইন ঘিরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। দুই দেশই একে অন্যকে দোষারোপ করছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগানিস্তান টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এক্ষেত্রে পাকিস্তান চাইছে, সীমান্ত বরাবর একটি বাফার জোন তৈরি হোক।কাবুল অবশ্য টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, ডুরান্ড লাইন নিয়ে পাকিস্তানের দাবিই অবৈধ। ফলে তিন দফা শান্তি বৈঠকেও কোনও সুরাহা আসেনি। আর তারই মাশুল আবারও দিতে হল নিরীহ মানুষকে।এই ঘটনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ভারত ফ্যাক্টর টেনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের হাতের পুতুল হয়ে নাচছে আফগানিস্তান। পাশাপাশি তালিবানকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেনআক্রমণ করলে তার ৫০ গুণ জবাব দেবে পাকিস্তান।ফলে সীমান্তে আগুন আরও জ্বলছে। আর দুই দেশের রাজনৈতিক অন্ধকারে একের পর এক নিশ্চিহ্ন হচ্ছে শিশুর মুখ, ঘরের আলো, অগণিত স্বপ্ন।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
দেশ

সিন্ধ কি ভারতের মানচিত্রে ফিরছে? বেড়ে চলেছে রাজনৈতিক জল্পনা

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ভারতপাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন তলানিতে, ঠিক সেই সময়েই সিন্ধ প্রদেশকে ঘিরে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্যে যেন ফিরে এল ইতিহাস১৯৪৭ সালের দেশভাগ, সিন্ধের বিচ্ছেদ, আর সেই স্মৃতির ক্ষত। দিল্লির এক অনুষ্ঠানে রাজনাথ বলেন, সিন্ধি হিন্দুরা কোনওদিনও মেনে নিতে পারেননি তাঁদের জন্মভূমি পাকিস্তানে চলে যাওয়াকে। এরপরই তিনি এমন মন্তব্য করেন যা মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছেকে জানে, কাল হয়তো সিন্ধ আবার ভারতেই ফিরে আসবে।রাজনাথ সিং জানান, লালকৃষ্ণ আডবাণীর লেখায় তিনি পড়েছিলেন কীভাবে দেশভাগের সময়ে সিন্ধি হিন্দুরা নিজেদের জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা সারা জীবন বয়ে বেড়িয়েছেন। স্বাধীনতার পরে বহু সিন্ধি হিন্দুই ভারতবর্ষে চলে আসেন। কিন্তু মন থেকে তাঁরা কখনওই সিন্ধ হারানোর যন্ত্রণা ভুলতে পারেননি। সেই প্রসঙ্গেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সিন্ধ আজ ভারতের ভৌগোলিক অংশ নয়। তবে সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দিক থেকে সিন্ধ সবসময়ই ভারতের অঙ্গ। আর সীমান্ত বদলাতে পারেএটাই ইতিহাস বলে। কে বলতে পারে, কাল সিন্ধ আবার ভারতের সঙ্গেই যুক্ত হলো!তিনি আরও বলেন, যাঁরা সিন্ধু নদীকে পবিত্র মনে করেন, তাঁরা আমাদের। তাঁরা কোথায় থাকেন, সেটা মুখ্য নয়। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও শুরু হয়েছে জল্পনাএ কি কূটনৈতিক বার্তা, নাকি ভবিষ্যতের কোনও ইঙ্গিত?গুজরাট ও রাজস্থানের সীমান্ত ছুঁয়ে থাকা সিন্ধ প্রদেশ নিয়ে এই বক্তব্য পাকিস্তানকে স্বভাবতই অস্বস্তিতে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত। এর আগেও রাজনাথ সিং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেনপাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অংশ হিসেবেই থাকবে। এবার সিন্ধকে ঘিরে তাঁর মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তপ্ত ভারতপাক সম্পর্কের আবহে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: একই গ্রুপে ভারত–পাকিস্তান, প্রকাশিত সূর্যকুমারদের ম্যাচ সূচি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ একই গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তান। সূর্যকুমারদের সম্পূর্ণ ম্যাচ সূচি, গ্রুপ তালিকা, ভেন্যু ও তারিখ জেনে নিন এক নজরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: একই গ্রুপে ভারতপাকিস্তান, সূর্যকুমারদের ম্যাচের সূচি প্রকাশ। র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে চার গ্রুপে ভাগ করেছে আইসিসি। ভারতের গ্রুপে পাকিস্তানসহ পাঁচ দল। ৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু।আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে গ্রুপ ভাগ করে দিয়েছে। চারটি গ্রুপে পাঁচটি করে দল অংশ নেবে টুর্নামেন্টে। সুপার এইটে উঠবে প্রতিটি গ্রুপের প্রথম দুই দল।সহজ গ্রুপে ভারত, একই গ্রুপে পাকিস্তানটি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ভারত পেয়েছে তুলনামূলক সহজ গ্রুপ। সূর্যকুমার যাদবদের সাথে সেই গ্রুপে হয়েছে পাকিস্তান (৭), নেদারল্যান্ডস (১৩), নামিবিয়া (১৫) এবং আমেরিকা (১৮)। ভারতপাকিস্তান ছাড়া সব কটি দলই অ্যাসোসিয়েট সদস্যফলে কাগজে-কলমে গ্রুপটি ভারতের পক্ষে সুবিধাজনক।কঠিন চ্যালেঞ্জে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাআয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কার গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জ়িম্বাবোয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমানচারটি টেস্ট খেলিয়ে দেশ। ইংল্যান্ডের গ্রুপও কঠিন। তাদের মুখোমুখি হতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, নেপাল ও কোয়ালিফায়ার ইটালি। দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রুপে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কানাডাযা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্ত গ্রুপগুলির মধ্যে একটি বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।ভারতের ম্যাচ সূচি কবে খেলবে কার বিরুদ্ধে?আইসিসি সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে, ভারত গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচ খেলবে৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অহমদাবাদ ভারত বনাম আমেরিকা১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দিল্লি ভারত বনাম নামিবিয়া১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, কলম্বো ভারত বনাম পাকিস্তান১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মুম্বই ভারত বনাম নেদারল্যান্ডসভেন্যুর তালিকাঃভারতের পাঁচটি শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচ হবেঅমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই ও চেন্নাই।শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ হবে কলম্বোর দুটি স্টেডিয়াম ও ক্যান্ডিতে।ফাইনাল সম্ভাব্য ভেন্যুঅমেদাবাদ।দুটি সেমিফাইনাল হবে কলকাতা এবং মুম্বইয়ে। তবে পাকিস্তান সেমি বা ফাইনালে পৌঁছলে তাদের ম্যাচ স্থানান্তরিত হবে শ্রীলঙ্কায়।২৫ নভেম্বর প্রকাশ হবে অফিসিয়াল সূচিঃআইসিসি ২৫ নভেম্বর সরকারি ভাবে পুরো সূচি ঘোষণা করবে। তার আগেই গ্রুপ ভাগ ও সম্ভাব্য দ্বৈরথ নিয়ে ক্রিকেট মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
দেশ

দিল্লির বুকে আন্তর্জাতিক অস্ত্র চক্র! চিন-তুরস্ক থেকে পাকিস্তান হয়ে ঢুকত মারাত্মক অস্ত্র

দিল্লির বিস্ফোরণের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। তার মধ্যেই রাজধানীতে ফের বড় সাফল্যের দাবি করল দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচারের এক ভয়ংকর চক্রের হদিশ। চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই চক্র শুধু দেশীয় নয়এর শিকড় গভীরভাবে ছড়ানো ছিল চিন, তুরস্ক আর পাকিস্তান পর্যন্ত।তদন্তে উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। লরেন্স বিষ্ণোই, বাম্বিহা গ্যাং, গোগি-হিমাংশু ভাইদের মতো কুখ্যাত অপরাধচক্র এই নেটওয়ার্কের নিয়মিত ক্রেতা ছিল। তাদের হাতে পৌঁছনো অস্ত্রগুলির উৎস ছিল চিন ও তুরস্ক। সেগুলি প্রথমে পাকিস্তানে ঢুকত, পরে আইএসআইয়ের সাহায্যে পাঞ্জাব সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে চলে আসত ভারতে। এরপরে তা ছড়িয়ে পড়ত দিল্লিসহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে রোহিনী এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে মনদীপ ও দলবিন্দর নামে দুই ব্যক্তিকে প্রথমে ধরে ফেলে পুলিশ। তাদের কাছে অস্ত্র লেনদেন চলাকালীনই হানা দেয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পরে সেই জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই খুলতে শুরু করে আরও অন্ধকার দিক। জানা যায়, পিস্তলের বড় চালান এসেছে পাকিস্তান-পাঞ্জাব সীমান্ত দিয়ে। এর সূত্র ধরে উত্তরপ্রদেশের বাগপতের রোহন তোমরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি অজয় নামে আরেকজনের নাম উঠে এসেছে, যার খোঁজে তল্লাশি চলেছে। এই চারজনের ঘাঁটি ছিল পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ জুড়ে।পুরো ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত হয়েছে ১০টি অত্যাধুনিক পিস্তল। এর মধ্যে পাঁচটি তুরস্কে তৈরি, তিনটি চিনেরযেগুলি সাধারণত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের অস্ত্রভাণ্ডারে দেখা যায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, যে ড্রোন রুট দিয়ে অস্ত্র ঢুকত, সেটি ব্যবহার করা হত একাধিকবার। প্রতিবার ২-৩ কেজি ওজন বহন করত সেই ড্রোন। সন্দেহ, আরও বহু চালান আগেই দেশে ঢুকে পড়েছে।এই সাফল্যকে অত্যন্ত বড় বলে দাবি করছে দিল্লি পুলিশ। কারণ, নভেম্বরের ১০ তারিখ লালকেল্লার কাছে ভয়ংকর বিস্ফোরণে ১৩ জন প্রাণ হারানোর পর থেকেই রাজধানী জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি রয়েছে। সেই ঘটনার পর অস্ত্র পাচার, নাশকতা এবং আন্তর্জাতিক গ্যাং যুক্ত থাকার সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছিল। নতুন তথ্য উঠে আসায় রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফের আঁটসাঁট করা হচ্ছে।দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, এই চক্র শুধু অপরাধ নয়, বরং পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে চলছিল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের কোনও যোগাযোগ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে।রাজধানীতে যখন আতঙ্ক চরমে, ঠিক তখনই এই আন্তর্জাতিক অস্ত্র চক্র ভেঙে দেওয়া নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছেদেশের ভেতরে এত বড় অস্ত্র নেটওয়ার্ক এতদিন কীভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল?

নভেম্বর ২২, ২০২৫
বিদেশ

ভারত–পাক সংঘর্ষকে ‘লাইভ ল্যাব’ বানাল চিন! মার্কিন রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

কথায় আছেকারও সর্বনাশ, কারও পৌষমাস। ভারতপাকিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতি যেন সেই পুরনো কথাকেই আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিল। কারণ সদ্য প্রকাশিত মার্কিনচিন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের এক রিপোর্টে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত মে মাসের ভারতপাক সংঘর্ষকে নাকি নিজেদের আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করার আদর্শ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছিল বেজিং।রিপোর্টে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, চিন প্রথমবারের মতো বাস্তব যুদ্ধে তাদের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম প্রয়োগ করেছে। এর মধ্যে ছিল জে-১০ ফাইটার জেট, PL-15 লংরেঞ্জ ক্ষেপণাস্ত্র এবং HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। সহজ কথায়, ভারতপাক সংঘর্ষ হয়ে উঠেছিল চিনের সামরিক গবেষণার এক লাইভ ল্যাবরেটরি।রিপোর্টের আরও দাবিএই পরীক্ষার পর জুন মাসে চিন পাকিস্তানকে প্রস্তাব দেয় নতুন করে আরও উন্নত অস্ত্র কেনার, যার মধ্যে ছিল ৪০টি জে-৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, কেজে-৫০০ বিমান এবং সম্পূর্ণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অর্থাৎ বেজিং পাকিস্তানকে আরও গভীরভাবে নিজেদের সামরিক গ্রাহক এবং পরীক্ষার ক্ষেত্র বানাতে চাইছে।তবে প্রশ্ন উঠেছেএই পরীক্ষায় চিনের কতটা সাফল্য মিলেছে? ওয়াকিবহাল মহলের ব্যাখ্যা একেবারেই উৎসাহব্যঞ্জক নয়। কারণ পাকিস্তান ভারতবিরোধী অভিযানে চিনের তৈরি PL-15 ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও দেখা যায় সেটি আছড়ে পড়ার পরও বিস্ফোরিত হয়নি। ভারত সীমান্তের এক গ্রামে প্লাস্টিক মোড়কের মতো অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সেই ক্ষেপণাস্ত্রটি। এটি চিনের প্রযুক্তির দুর্বলতা হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।এছাড়া পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানযা চিনের সহায়তায় তৈরিভারতীয় বায়ুসেনার আঘাতে ধুলিসাৎ হয়ে যায়। এই ঘটনাও বেজিংয়ের সামরিক শক্তির বাস্তব চিত্র সামনে আনে।রিপোর্টটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষিতে। উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর-সমর্থিত সংগঠন TRF-এর হামলায় নিহত হন ২৬ নিরস্ত্র মানুষ। তার জবাবে ৭ মে ভারত ভোররাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে। পাকিস্তান পাল্টা বেসামরিক এলাকা ও সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায়, কিন্তু ভারত শুধু প্রতিরোধই করেনিপ্রত্যাঘাত করে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটি তছনছ করে দেয়। সেই অভিযানে মারা যায় ১০০-র বেশি জঙ্গি এবং প্রায় ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। টিকে থাকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদই যুদ্ধবিরতির আর্জি জানায়।এই পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন রিপোর্টের দাবিচিন নাকি পর্দার আড়ালে পাকিস্তানের মাধ্যমেই নিজেদের অস্ত্রের কার্যক্ষমতা যাচাই করে নিয়েছে। তবে প্রযুক্তির একাধিক ব্যর্থতা প্রমাণ করছে, বেজিংয়ের স্বপ্নের আধুনিক যুদ্ধকৌশল হয়তো বাস্তব পরীক্ষার আগুনে ততটা টেকেনি।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
দেশ

ভারতীয় নৌসেনার গোপন তথ্য পাকিস্তানে! কর্নাটকে গ্রেপ্তার দুই যুবক, সামনে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য

ভারতের নৌবাহিনীর গোপন তথ্য পাকিস্তানে পাচারের অভিযোগে কর্নাটকের উদুপিতে গ্রেপ্তার হলেন দুই যুবক। অভিযোগ এতটাই গুরুতর যে কোচিন শিপইয়ার্ডের সিইও নিজে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন। ধৃতদের পরিচয় রোহিত (২৯) এবং সানত্রী (৩৭), দুজনেই উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের বাসিন্দা। দেশবিরোধী এই কর্মকাণ্ড ঘিরে এখন উত্তপ্ত গোটা দক্ষিণ ভারত।তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, রোহিত একসময় কেরলের কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডে কাজ করতেনযে শিপইয়ার্ড ভারতীয় নৌসেনার রণতরী, সাবমেরিন থেকে শুরু করে একাধিক অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রকল্প তৈরি করে। অভিযোগ, সেখানেই কাজ করার সময় তিনি বিভিন্ন নৌগোপন তথ্য হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাচার করতেন। পরে তিনি কর্নাটকের একটি জাহাজ নির্মাণ সংস্থায় যোগ দিলেও পাচার বন্ধ হয়নি। বরং আরও নিয়মিতভাবে একই কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি।শিপইয়ার্ডের সিইওর নজরে আসে তাঁর সন্দেহজনক গতিবিধি। তথ্য যত বেরোতে থাকে, ততই স্পষ্ট হয় যে রোহিতের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এমন কিছু নথি ও চিত্র, যা কোনও ভাবেই সাধারণ কর্মীর কাছে থাকার কথা নয়। অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।রোহিতকে জেরা করতেই উঠে আসে সানত্রীর নাম। জানা যায়, বারবার সানত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন রোহিত। তাঁর কাছেও কিছু গোপন তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তবে সানত্রীর ভূমিকাটি কতটা গভীর, তিনিও পাচার নেটওয়ার্কের অংশ কি নাসবটাই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পুলিশ সূত্রের দাবি, গোটা চক্রটির পেছনে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কোনো যোগ রয়েছে কি না, তাও প্রধানত পরীক্ষা করা হচ্ছে। কীভাবে এত বড় নিরাপত্তা সংস্থার ভিতর থেকে তথ্য চুরি হল, কীভাবে তা বিদেশে পৌঁছলসবকিছুর দিকেই নজর তদন্তকারীদের।দেশের নৌসেনা সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ পাচ্ছে বহু অজানা তথ্য, আর ততই স্পষ্ট হচ্ছে চক্রটি আরও বড় হতে পারে।

নভেম্বর ২২, ২০২৫
বিদেশ

যুদ্ধে হার, এবার কি প্রতিশোধ? আফগানিস্তানে সরকার বদলের হুমকি দিল পাকিস্তান

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমানায় উত্তেজনা নতুন নয়। কিন্তু এবার যেন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি সরকার ফেলে দেওয়ার হুমকি দিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের বক্তব্য, যদি তালিবান সমঝোতার পথে না আসে এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করে, তবে কাবুলে সরকারবিরোধী শক্তিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেবে তারা।নিউজ১৮-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানপাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করা তুরস্কের আধিকারিকদের সামনেই পাকিস্তান এই কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, তালিবান তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আশ্রয় দিচ্ছে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার জায়গা করে দিচ্ছে। পাক সেনা চায়, টিটিপির সব নেতা হস্তান্তর করুক আফগানিস্তান, এবং সীমান্ত বরাবর ডুরান্ড লাইনে বাফার জোন তৈরি হোক।কিন্তু আফগানিস্তান সেই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে। কাবুলের বক্তব্য, টিটিপির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই, এবং তারা কখনওই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে নিজের দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেয় না। সেই অবস্থান থেকেই কোনো লিখিত চুক্তিতে যেতে রাজি হয়নি তালিবান সরকার। আর এই অচলায়তনের মধ্যেই পাকিস্তান প্রকাশ্যে হুমকি দিলএই সরকার না মানলে কাবুলে নতুন সরকার গঠনে তারা সক্রিয় ভূমিকা নেবে।শুধু কথাই নয়, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও বহু প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে। নাম রয়েছে হামিদ কারজাই, আশরাফ গনি, আহমেদ মাসুদ, এমনকি নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের নেতা আব্দুল রশিদ দোস্তমেরও। আইএসআই-র তরফে তাঁদের পাকিস্তানে আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি। লক্ষ্য একটাইপাকিস্তানের মাটি থেকেই সরকারবিরোধী শক্তিকে উসকে তালিবানকে ক্ষমতাচ্যুত করা।গত কয়েক মাসে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় তিন দফা বৈঠক হয়েছে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে। কিন্তু একটিও বৈঠক কাজে দেয়নি। পাকিস্তান দাবি জানিয়ে গিয়েছে, আর তালিবান জবাব দিয়েছে স্পষ্ট ভাষায়টিটিপিকে তারা আশ্রয় দেয়নি এবং ডুরান্ড লাইন নিয়ে পাকিস্তানের দাবি মানা সম্ভব নয়।এই অবস্থায় দুই দেশের সম্পর্ক এমন উত্তপ্ত জায়গায় পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ভয়াবহভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নভেম্বর ২১, ২০২৫
বিদেশ

সেনাপ্রধানকে সর্বশক্তিমান করতে সংবিধান সংশোধন—বিচারপতিদের একের পর এক পদত্যাগে তুমুল তোলপাড়

পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই এবার ভয়ঙ্কর সংকট তৈরি হয়েছে দেশের বিচার ব্যবস্থায়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের যুগলবন্দিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে যে স্বৈরশাসনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই উঠছিল, এবার তা যেন আরও বাস্তব হয়ে উঠল। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে একের পর এক বিচারপতি ইস্তফা দিচ্ছেন। সর্বশেষ লাহোর হাই কোর্টের বিচারপতি শামস মেহমুদ মির্জা নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে মাত্র একদিনের ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি পদত্যাগ করেছিলেন।বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, শাহবাজ সরকার সংবিধান পাল্টে দেশে প্রায় সামরিক শাসনের মতো পরিবেশ তৈরি করছে। নতুন সংশোধনীতে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে দেওয়া হয়েছে অসামান্য ক্ষমতাএমন রক্ষাকবচ আগে কোনও সেনাপ্রধান পাননি। উল্টো দিকে, সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সম্পর্কিত মামলাগুলি সুপ্রিম কোর্টের বদলে নতুন সাংবিধানিক আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিচারব্যবস্থার মূল কাঠামোকেই নড়বড়ে করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।এই ঘটনা চরম অচলবস্থা তৈরি করেছে পাকিস্তানে। বিচারপতিরা প্রকাশ্যে বলছেন, এভাবে আদালতের ক্ষমতা খর্ব এবং সেনাকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হলে গণতন্ত্র রক্ষা অসম্ভব হয়ে উঠবে। তাঁদের মতে, এই সংশোধন সংবিধানের আত্মাকে আঘাত করছে।গত বুধবার জাতীয় সংসদে সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিল পাশ করে শাহবাজ সরকার। ওই আইন অনুসারে প্রথমবার সেনাবাহিনীতে সৃষ্টি করা হয়েছে নতুন একটি পদচিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস। এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে আসিম মুনিরকে। এরপর প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তড়িঘড়ি সই করে দিয়েছেন বিলে। আর এর পরপরই দুই সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি ও লাহোর হাই কোর্টের বিচারপতি ইস্তফা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁদের ক্ষোভ।পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনা ও প্রশাসনের মেলবন্ধনে তৈরি হওয়া এই ক্ষমতার গঠন গণতন্ত্রের জন্য ভয়ঙ্কর। বিচারব্যবস্থার উপর চাপ বাড়লে সামনে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছেপাকিস্তান কি সত্যিই নতুন একনায়কতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
দেশ

ইসলাম গ্রহণ ও পাকিস্তানে বিয়ে? নিখোঁজ সরবজিৎকে নিয়ে নতুন বিস্ফোরক দাবি

পাকিস্তান সফর শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শিখ তীর্থযাত্রী সরবজিৎ কৌরের ঘটনা ঘিরে সামনে এল চাঞ্চল্যকর দাবি। প্রকাশ্যে এসেছে একটি নিকাহনামা এবং তাঁর নামে এক পাসপোর্টের প্রতিলিপি, যেখানে বলা হয়েছেতিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং শেখুপুরার নয়া আবাদি এলাকার বাসিন্দা নাসির হুসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই নথিগুলি ভাইরাল হতে না হতেই দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তৎপরতা দেখা দিয়েছে।১৩ নভেম্বর ভারতীয় জঠা পাকিস্তান থেকে ফিরলেও সরবজিৎকে আর পাওয়া যায়নি। ৪ নভেম্বর গুরু নানক দেবজির প্রকাশ উৎসব উপলক্ষে মোট ১,৯২৩ জন শিখ তীর্থযাত্রী পাকিস্তানে যান। দশ দিনের সফরে তাঁরা একাধিক গুরুদ্বারায় গমন করেন। সফর শেষে ফেরার সময়ই দেখা যায়সরবজিৎ কৌরের নাম নেই পাকিস্তানের এক্সিট লিস্টে, নেই ভারতের রি-এন্ট্রি রেকর্ডেও। তখনই শুরু হয় বড়সড় উদ্বেগ।এরপর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাঁর সন্ধানে নেমেছে। দুদেশের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাকিস্তানে ভারতীয় হাই কমিশন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন এবং উঠেই আসছে সেই নথিগুলির সত্যতা যাচাইয়ের প্রশ্ন। ঠিক কবে, কোথায়, কীভাবে সরবজিৎ জঠা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেনএটিও তদন্তের মূল দিক হয়ে উঠেছে।এদিকে SGPC তাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থার দাবি, তীর্থযাত্রায় যাওয়ার ভিসা অনুমোদনে তাদের কোনও ভূমিকা নেই। সবটাই সরকারি নিয়ম মেনে হয়। SGPC জানিয়েছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পরই তারা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর আবেদনকারীরা পাসপোর্ট জমা দেন, যা SGPC সরকারকে পাঠিয়ে দেয় মাত্র। বাকি সব যাচাই করে ভারত সরকারই ভিসা পাকিস্তান হাই কমিশনে পাঠায়।SGPC আরও জানায়, অতীতেও বহু হিন্দুশিখ তীর্থযাত্রীকে ভিসা পর্যায়ে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং এটি পুরোপুরি সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। কোনও ভিসা তারা অনুমোদন করে না, শুধু আবেদনগুলি পৌঁছে দেয়। সরবজিতের নিখোঁজ হওয়া এবং নিকাহনামা বিতর্ক নিয়ে SGPC বলেছেধর্মীয় সফরকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধন করা নিন্দনীয় এবং এতে সংস্থার উপর সন্দেহ তৈরি হয়। এই ঘটনা সম্পর্কে তারাও প্রথমে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পেরেছে।সমগ্র ঘটনার তদন্ত এখন দুই দেশের গোয়েন্দাদের হাতে। নথিগুলি সত্যি নাকি সাজানোতা সামনে এলেই স্পষ্ট হবে সরবজিৎ কৌর কি সত্যিই পাকিস্তানে স্বেচ্ছায় থাকতে চেয়েছেন, নাকি আরও কোনও বড় রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পিছনে।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
দেশ

আত্মঘাতী হামলার ছক কষেছিলেন উমর! পুলিশের হাতে জোরালো প্রমাণ

দিল্লির বুক কাঁপিয়ে দিয়েছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। লালকেল্লার কাছেই বিস্ফোরণে ইতিমধ্যেই প্রাণ গিয়েছে নয় জনের। ঘটনার পরই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে সীমান্ত পেরনোর সময় সন্দেহভাজন গাড়িটির ভিতরে এক ব্যক্তির হাত ও অস্পষ্ট মুখ। তদন্তকারীদের মতে, সেই ব্যক্তিই সম্ভবত পুলওয়ামার চিকিৎসক মহম্মদ উমর যিনি ফরিদাবাদের বিস্ফোরণ চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত।তদন্তে প্রকাশ, ফরিদাবাদের ঘটনায় সহযোগী চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের গ্রেফতারির পর থেকেই উমর ছিলেন আতঙ্কে। সেই থেকেই নাকি আত্মঘাতী হামলার ছক কষতে শুরু করেন তিনি। উমরই বিস্ফোরক বোঝাই হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে আশঙ্কা পুলিশের। ওই গাড়ির মালিক মহম্মদ সলমনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দেড় বছর আগেই গাড়িটি বিক্রি করে দেন তিনি। তারপর আরও দুইবার হাতবদল হয়ে গাড়িটি পৌঁছয় পুলওয়ামার তারিক নামে এক ব্যক্তির কাছে। তাকেও হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।তদন্তকারীদের বক্তব্য, দিল্লির বিস্ফোরণ ও ফরিদাবাদের বিস্ফোরক উদ্ধারের মধ্যে অদ্ভুত মিল রয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়েছে একই মডেলের আইইডি ডিভাইস। সুতরাং এই দুটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র থাকা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা উমরের ফোন রেকর্ড, ব্যাংক ট্রানজ্যাকশন ও পেশেন্ট ডেটা খতিয়ে দেখছে।সূত্রের দাবি, উমরের মোবাইল থেকে পাকিস্তানের বালাকোটে এক সন্দেহভাজন নম্বরে বারবার যোগাযোগের চিহ্ন মিলেছে। এই মুহূর্তে দিল্লি, কাশ্মীর ও ফরিদাবাদ পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। বিস্ফোরণ পরবর্তী এই গোটা রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে প্রতি ঘণ্টা।

নভেম্বর ১১, ২০২৫
দেশ

গোপনে পরমাণু বিস্ফোরণ? পাকিস্তানকে ঘিরে ফের ছায়াযুদ্ধের গন্ধ, এবার বিস্ফোরক বার্তা দিলেন রাজনাথ সিং

অপারেশন সিঁদুরের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে চাপের মুখে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি ইসলামাবাদ গোপনে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে! ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক তোলপাড়। আর সেই দাবিকে ঘিরে রবিবার পাকিস্তানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ওরা যদি সত্যিই পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা করে, তাহলে করুক। ওদের থামানো যাবে না। তবে ভারতও যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রশ্ন ওঠে, পাকিস্তান যদি সত্যিই পরমাণু বিস্ফোরণ চালায়, ভারতও কি পাল্টা পরীক্ষা করবে? রাজনাথের জবাব, আগে ওরা করুক, তারপর দেখা যাবে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান, রাশিয়া, চিন এবং উত্তর কোরিয়া এই চার দেশ গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে একাধিক ভূমিকম্প আসলে গোপন পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফল। বিশেষ করে এপ্রিল-মে মাসে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে যে ৪.০ থেকে ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, তা ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের চাগাই-১ ও চাগাই-২ বিস্ফোরণের তীব্রতার সঙ্গে মিলে যায়।এই দাবির পরই আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে তদন্তের দাবি উঠেছে। ইসলামাবাদ যদিও এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া এসেছে বেশ কড়া ভাষায়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের গোপন ও বেআইনি পারমাণবিক কর্মকাণ্ড কোনও নতুন বিষয় নয়। দশকের পর দশক ধরে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক রপ্তানি আইন ভেঙে, চোরাপথে চুক্তি করেছে। ভারত বরাবরই সেই তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেছে।ট্রাম্পের দাবি ও রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। দক্ষিণ এশিয়ায় ফের বাড়ছে পারমাণবিক তাপমাত্রা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের গোপন পরীক্ষা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং ভবিষ্যতের একটি বড় সংঘাতের ইঙ্গিতও বটে।ভারতীয় কূটনীতিক মহলের দাবি, ইসলামাবাদকে ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়বে। আর নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান যতই গোপনে ষড়যন্ত্র পাকাক, ভারত প্রস্তুত আছে প্রত্যেক পরিস্থিতির জন্য।

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
দেশ

কাশ্মীরে আবারও পাক ষড়যন্ত্র! আইএসআই-র ছত্রছায়ায় তৈরি হচ্ছে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা

জম্মু-কাশ্মীরে ফের পাক মদতে জঙ্গি হামলার ছক! ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, লস্কর-ই-তৈবা এবং জৈশ-ই-মহম্মদ একসঙ্গে কাশ্মীরের মাটিতে হামলার পরিকল্পনা করছে। অপারেশন সিঁদুরের ছমাস পরই আবারও এমন নাশকতার গন্ধে উদ্বেগ বেড়েছে দিল্লি থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত। গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হতে পারে ফিদায়েঁ হামলা।রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরেই সীমান্তে নজরদারি চালাচ্ছে পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি। ড্রোন ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণরেখার দুর্বল জায়গাগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (SSG) ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ মদতেই সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। অর্থাৎ, শুধু জঙ্গিরাই নয়, পাক সেনার একাংশও এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত।সূত্রের খবর, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নতুন করে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT)। এই ব্যাট বাহিনী সাধারণত জঙ্গিদের সীমান্তে গাইড করার কাজ করে এবং ভারতের সেনাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই বাহিনীর উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে কাশ্মীরে ফের বড় আকারের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে ইসলামাবাদে একটি গোপন বৈঠক হয়, যেখানে আইএসআই এবং পাক সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই নেওয়া হয় অপারেশন সিঁদুরের প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত। সেই বৈঠকেই নির্ধারিত হয় নতুন করে সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশের রূপরেখা।প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন পর্যটক। সেই ঘটনার পরই ভারতীয় সেনা চালায় অপারেশন সিঁদুর, যেখানে একাধিক পাক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। পাকিস্তান সেই সময় আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ পুড়িয়ে ফেললেও, এখন আবার প্রতিশোধের নেশায় নাশকতার নতুন ছক কষছে বলে মনে করছে ভারতের গোয়েন্দারা।ইতিমধ্যে জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী সব এলাকা ও দুর্গম উপত্যকায় টহল বাড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ব্যাটালিয়ন, বাড়ানো হয়েছে ড্রোন নজরদারি ও থার্মাল সেন্সর সিস্টেম। সেনা সূত্রে খবর, প্রতিটি ঘাঁটি ও বাঙ্কারে দেওয়া হয়েছে উচ্চ সতর্কতার নির্দেশ।ভারতের প্রতিরক্ষা মহল মনে করছে, পাকিস্তান অপারেশন সিঁদুরের পর কূটনৈতিকভাবে চাপে পড়েছিল, তাই এখন তারা জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করে প্রক্সি যুদ্ধ চালাতে চাইছে। এই হামলার মূল লক্ষ্য হবে সেনা কনভয়, পর্যটক বাস, অথবা সীমান্তের কোনও ফরওয়ার্ড পোস্ট।এক প্রবীণ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, লস্কর ও জৈশ এখন একত্রে কাজ করছে। তাদের হাতে নতুন ড্রোন, আমেরিকান রাইফেল এবং পাকিস্তানের সেনা প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা রয়েছে। এটি শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও।সব মিলিয়ে জম্মু-কাশ্মীর আবারও রণক্ষেত্রের মুখে দাঁড়িয়ে। অপারেশন সিঁদুরের পর শান্তি ফিরছিল উপত্যকায়, কিন্তু পাক মদতে এই নতুন ষড়যন্ত্র ফের অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেনা ও গোয়েন্দারা এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন, যাতে কাশ্মীরের আকাশে আর কোনও কালো ছায়া না নামে।

নভেম্বর ০৬, ২০২৫
দেশ

"অপারেশন সিঁদুর ভুলতে পারেনি পাকিস্তান-কংগ্রেস", নতুন করে বিস্ফোরক মন্তব্য মোদির

বিহারের আরায়ায় রবিবার নির্বাচনী প্রচারে এসে কংগ্রেস ও আরজেডিকে একযোগে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এল জাতীয় নিরাপত্তা, কাশ্মীর, এবং অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ।মোদি বলেন, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে পাকিস্তান ও কংগ্রেসদুই পক্ষই এখনও ধাক্কা সামলাতে পারেনি। পাকিস্তানে বিস্ফোরণের সময় কংগ্রেসের রাজপরিবারর ঘুম নষ্ট হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মন্তব্যআমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সন্ত্রাসীদের ঘরে ঢুকে মারব। অপারেশন সিঁদুর সেই অঙ্গীকার পূরণ করেছে। সঙ্গে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মোদি। বলেন, এটি তাঁর গ্যারান্টি ছিল এবং আজ তা বাস্তব।বিহার রাজনীতিতে মহাগঠবন্ধনের দিকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস কখনওই তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করতে চাইনি। কিন্তু আরজেডির চাপেই কংগ্রেসকে রাজি হতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়আরজেডি বন্দুক ঠেকিয়ে কংগ্রেসকে সিএম প্রার্থী ঘোষণা করাতে বাধ্য করেছে।মোদি দাবি করেন, কংগ্রেস-আরজেডির মধ্যে গভীর বিরোধ আছে, এবং নির্বাচন শেষে তারা পরস্পরকে দোষারোপ করবে। তাই তাঁদের উপর আস্থা রাখা যায় না। মহাগঠবন্ধনের ইস্তেহারকে তিনি মিথ্যার আর প্রতারণার দলিল আখ্যা দেন। এনডিএর ঘোষণাপত্রকে বলেন সত্ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, যা বিহারের উন্নয়নের জন্য তৈরি।এদিন ১৯৮৪র শিখবিরোধী দাঙ্গার কথাও টেনে আনেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস আজও সেই সময়ের দোষীদের সম্মান দিচ্ছে। তিনি বলেনআরজেডির নাম জঙ্গলরাজের সঙ্গে জড়িত, আর কংগ্রেসের পরিচয় শিখ গণহত্যার সঙ্গে। বিহার ভোটমাঠে শেষ দফা প্রচারে তাই তীব্র হচ্ছে ভাষার লড়াই। একদিকে এনডিএর উন্নয়নের দাবি, অন্যদিকে পরিবর্তনের ডাকদুই পক্ষের জোর প্রচারের মধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ভোটযুদ্ধের ময়দান।

নভেম্বর ০২, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে সৌরভের বক্তব্যে ঝড়! তবে যুক্তির বালাই নেই

এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। এশিয়া কাপের সূচি ঘোষণা হয়েছে। তাতে ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে। এ ছাড়া সুপার ফোর আর ফাইনালেও দুই দলের দ্বৈরথের সম্ভাবনা। এশিয়া কাপের আসর বসছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি, যিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানও।বঙ্গীয় বাণিজ্য পরিষদের অনুষ্ঠানে গতকাল বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সৌরভ বলেন, পহেলগাঁওয়ের ঘটনা কাম্য নয়। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ বরদাস্ত করা যায় না। কেন্দ্রীয় সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আশা করি, এমন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ আর ঘটবে না। একইসঙ্গে আমি মনে করি, খেলাধুলো চালিয়ে যাওয়া উচিত।এরপরেই কিছু সংবাদমাধ্যম সৌরভের বক্তব্যের পুরোটা না দেখিয়ে একাংশ প্রচার করতে থাকে। যা নিয়ে সৌরভের সমালোচনায় নেমে পড়েন রাজ্যের বিজেপি নেতারাও। সৌরভের বক্তব্যের পুরোটা না শুনেই, কিংবা পরিস্থিতি অনুধাবন না করেই। যার ফলে সেই বিজেপি নেতাদের একচোখামিও সামনে এসেছে।এশিয়া কাপের সূচি অনুমোদিত হয়েছে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভায়। যে সভায় বিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। তাছাড়া বিসিসিআইয়ের সম্মতি ছাড়া তো এশিয়া কাপের সূচি ঘোষিত হতে পারে না। লেজেন্ডদের টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ ভারত খেলেনি ক্রিকেটারদের আপত্তিতে। তবে এখনও কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ্যে বলেনি বা বিসিসিআইকে নির্দেশ দেয়নি যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা যাবে না। তা দিয়ে থাকলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠকেই তা জানাত বিসিসিআই। বোর্ড সচিব এখন দেবজিৎ সাইকিয়া, যিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ঘনিষ্ঠ। তাঁকে প্রশ্ন করার সাহস সেই মিডিয়ার নেই যারা সৌরভকে ভিলেন বানানোর উদ্দেশ্য নিয়ে চলছে! কেন বিসিসিআইকে প্রশ্ন করা হচ্ছে না?সৌরভকে সফট টার্গেট করা কি টিআরপি বাড়াতে। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন চান ভারত-পাক দ্বৈরথ হোক। হলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পাশাপাশি বিভিন্ন টুর্নামেন্টে হোক। নাহলে সবটাই বন্ধ থাকুক। সৌরভ নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার হিসেবে। মতামত ব্যক্ত করা গণতান্ত্রিক অধিকার। আর তা নিয়েই বিতর্ক তৈরির অপচেষ্টা।সৌরভ গতকালের অনুষ্ঠানে বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের কমেন্ট সেকশন তিনি দেখেন না। ফলে কে কী বলল তাতে যায় আসে না। নিজের সততা বজায় রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই ২৮, ২০২৫
বিদেশ

সিন্ধু প্রদেশে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হাতে নিহত শীর্ষ লস্কর সন্ত্রাসী সাইফুল্লাহ খালিদ

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তৈয়বা (LeT) এর শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজাউল্লাহ নিজামানি, যিনি আবু সাইফুল্লাহ খালিদ নামেও পরিচিত। রবিবার বিকেলে সিন্ধুর বাদিন জেলার মাতলি শহরে নিজের বাসার কাছেই একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গুলি করে হত্যা করেছে তাকে। হত্যাকারীদের পরিচয় এখনও অজানা। সাইফুল্লাহ খালিদ ভারতের তিনটি বড় সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন:১। ২০০১ সালে উত্তরপ্রদেশের রামপুরে সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা,২। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc) এ হামলা,৩। ২০০৬ সালে নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা।নেপালে ভিনোদ কুমার নামে ভুয়া পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন লস্করের নেপাল মডিউলের নেতৃত্ব দেন, যেখানে তিনি অর্থায়ন, নিয়োগ ও লজিস্টিক সহায়তার দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে তিনি স্থানীয় এক নারী নাগমা বানুকে বিয়ে করেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তার কার্যক্রম শনাক্ত করার পর তিনি পাকিস্তানে ফিরে যান এবং সিন্ধুর বাদিন জেলায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি লস্কর ও জামাত-উদ-দাওয়ার হয়ে নিয়োগ ও অর্থ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।তার মৃত্যু ভারতের সাম্প্রতিক অপারেশন সিন্দুর এর পর ঘটেছে, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়ে ১০০-রও বেশি সন্ত্রাসীকে হত্যা করে। সাইফুল্লাহ খালিদের মৃত্যু লস্কর-ই-তৈয়বার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তিনি সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন।

মে ১৮, ২০২৫
দেশ

নেট প্রভাবী জ্যোতির মোবাইলে ‘জাট রনধাওয়া’ নামে কার নম্বর সেভ ছিল

হরিয়ানার জনপ্রিয় ইউটিউবার ও ভ্রমণ ব্লগার জ্যোতি মলহোত্রা সম্প্রতি পাকিস্তানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক সদস্য শাকির ওরফে রানা শাহবাজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং তার নম্বর মোবাইলে জাট রনধাওয়া নামে সেভ করে রেখেছিলেন ।পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, মলহোত্রা পাকিস্তানে ভ্রমণের সময় পাকিস্তান হাই কমিশনের এক কর্মকর্তা, এহসান-উর-রহিম ওরফে দানিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন ।তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, মলহোত্রা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানি সংস্থার কাছে সরবরাহ করতেন এবং তার সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে পাকিস্তানের পক্ষে ইতিবাচক প্রচার চালাতেন । এই ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

মে ১৮, ২০২৫
দেশ

পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার ইউটিউবার, পাকিস্তানেও গিয়েছেন তিনি

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে হরিয়ানার হিসারে গ্রেফতার হলেন ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কমিশনের মাধ্যমে ভিসা নিয়ে তিনি পাকিস্তানে যান, যেখানে লাভজিহাদের ফাঁদে পড়ে পাক হাইকমিশনের কর্মচারী দানিশের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, জ্যোতি পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য পাচার করে দিতেন ।পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার জনপ্রিয় ব্লগার জ্যোতি রানী। হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, জ্যোতি রানী পাকিস্তান হাইকমিশনের ওই কর্মকর্তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং দুবার পাকিস্তান ভ্রমণ করেন।অপারেশন সিন্দুরের সময় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে শুক্রবার হরিয়ানা পুলিশ ৩৩ বছর বয়সী ভ্রমণ ব্লগার জ্যোতি রানীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে , রানির একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যার নাম ট্র্যাভেল উইথ জো। তার ৩,৭৭,০০০ এরও বেশি সাবস্ক্রাইবার এবং ১,৩২,০০০ এরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তার সাথে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।

মে ১৭, ২০২৫
দেশ

আমেরিকার দাবি খারিজ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়লেন নরেন্দ্র মোদি

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট করেন, পাকিস্তান পর্যদুস্ত হওয়ার পর ভারতের সেনা কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পাকিস্তানই যে যুদ্ধবিরতি চেয়েছে তা জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে আমেরিকার যে কোনও ভূমিকা নেই সেকথা স্পষ্টই বললেন নরেন্দ্র মোদি। মোদি নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেইল যে মানবেন না তাও জানিয়ে দিয়েছেন মোদি। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বললে সন্ত্রাসবাদ বা পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে কথা বলতে হবে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, অপারেশন সিন্দুর বন্ধ হয়নি। স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তান আমাদের স্কুল, কলেজ, গুরুদোয়ারা, মন্দির, নাগরিকদের ঘরকে নিশানা করেছে। পাকিস্তানের মুখোশ খুলে গিয়েছে। পাকিস্তানের ড্রোন, মিসাইল ধংস করেছে। ভারতের মিসাইল, ড্রোন হামলা করেছে। পাকিস্তানের বায়ুসেনার এয়ারবেসকে লোকসান করেছে। পাকিস্তান বাঁচার রাস্তা খুঁজতে শুরু করে। ১০ মে দুপুরে পাকিস্তানের সেনা আমাদের ডিজিওএমের সঙ্গে কথা বলবে। মোদি বলেন, পাকিস্তানের বুকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধংস করা হয়। এখন অপারেশন সিন্দুর স্থগিত করেছি। সামনের দিনে পাকিস্তানের সব পদক্ষেপের ওপর নজর রাখা হবে। ভারতের তিন সেনা এয়ার ফোর্স, আর্মি ও নেভি, তাছাড়া বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ও অন্য আধিসামরিক বাহিনী এলার্ট আছে। সার্জিক্যাল ও এয়ার স্ট্রাইকের পর অপরেশন সিন্দুর ভারতের নয়া হাতিয়ার। নিউ নরমাল। ভারতে আতঙ্কবাদীদের হামলা হলে মুতোড় জবাব দেওয়া হবে। আমাদের মতো জবাব দেব। কোনও নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেইল ভারত সহ্য করবে না। আতঙ্কবাদী ও সরকারকে ভারত আলাদা ভাবে দেখবে না। মরে যাওয়া আতঙ্কবাদীদের সৎক্রিয়া কর্মের সময় ওদের আধিকারিকরা ছিলেন। যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তানকে ধুলো চাটিয়েছি। মরুভূমি ও পাহাড়ে ক্ষমতার প্রদর্শন করেছি। মেড ইন ইন্ডিয়া হাতিরায় প্রমান করেছি। একুশ শতকের যুদ্ধে ভারতের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেশ কার্যকরী। দেশবাসীর সবাইকে একজোট থাকতে হবে। এই যুগ যুদ্ধের নয়, তবে আতঙ্কবাদীদেরও নয়। জিরো টলারেন্স জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসীদের পুষলে আতঙ্কবাদীরাই পাকিস্তানকে সমাপ্ত করে দেবে। জঙ্গিদের পরিকাঠামো ধংস করতে হবে। এর বাইরে কোনও রাস্তা নেই। সন্ত্রাস, কথা এতসঙ্গে হয়না। টেরর ও ট্রেড একসঙ্গে হয় না। জল ও রক্ত এক সঙ্গে বইতে পারে না। পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাসী, পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই কথা হবে।

মে ১২, ২০২৫
দেশ

সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন পাকিস্তানের, শ্রীনগর জুড়ে বিষ্ফোরণ, শহরে শহরে ব্ল্যাক আউট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ বিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। তার তিন ঘণ্টার মধ্যেই সেই সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। ফের গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। শ্রীনগর, জম্মুর আকাশে ড্রোন দেখা যায়। বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা যায় শ্রীনগরে। পাশাপাশি সীমান্তে আর্টিলারি ফায়ারের শব্দ শোনা গিয়েছে। এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণার কয়েক ঘন্টা পরেই শ্রীনগর জুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।ভারত ও পাকিস্তান সম্পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক সংঘর্ষ বিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনার ফলেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে উভয় দেশ। শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ভারত ও পাকিস্তান একটি পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক সংঘর্ষ বিরতিতে সম্মত হয়েছে। দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ায় উভয় দেশকে অভিনন্দন। ট্রাম্পের পোস্টের কয়েক মিনিট পরেই, পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন পাকিস্তান এবং ভারত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তান সর্বদা তার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার সাথে আপস না করে এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে! ভারতের তরফে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিও সংঘর্ষ বিরতির প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন। বিকেল ৫টা থেকে দুই দেশ আর কোন সংঘর্ষে লিপ্ত হবে না। আলোচনার পর জানিয়ে দিল ভারত। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, সামরিক কর্মকর্তাদের স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রে সকল ধরণের তৎপরতা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমওরা ১২ মে আবার কথা বলবেন বলে শনিবার সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি।বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, ভারত ও পাকিস্তান আজ সব ধরণের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভারত সর্বদা সকল ধরণের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় এবং আপোষহীন অবস্থান বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।এই সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। তিন ঘণ্টার মধ্যে ফের গুলি চালাতে শুরু করে পাক সেনা। এমনকী ড্রোন হানা আবার শুরু করে। সীমান্তে কিছুক্ষণ বিরতির পর পাকিস্তান গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। তারপরই দুই পক্ষই ফায়ারিং শুরু করে দেয়। জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব ও রাজস্থানের একাধিক শহরে ফের ব্ল্যাক আউট শুরু হয়ে যায়। শহরগুলি অন্ধকারাচ্ছন হয়ে পড়ে। এই সময়ে ড্রোন হামলা শুরু করে পাকিস্তান। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে ওই ড্রোনগুলি ধংস করে ভারতের সেনা।

মে ১০, ২০২৫
দেশ

পাকিস্থানে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধবংস, জম্মু সহ দেশের বহু শহরে ব্ল্যাক আউট, ৩টে পাক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

অপারেশন সিন্দুরের পর লাহোরে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করে পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে ভারত। পহেলগাঁওয়ে বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত অপারেশন সিন্দুর-এর মাধ্যমে তার যোগ্য জবাব দিয়েছে। ভারত গতকাল পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। সন্ধ্যের পর থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও গুজরাটের বহু শহর ব্ল্যাক আউট করা হয়েছে। জম্মুতে ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে পাকিস্তান। দুটি যুদ্ধ বিমান গুলি করে ধ্বংস করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ৭ ও ৮ মে মধ্য রাতে পাকিস্তান ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে। অবন্তীপুরা, শ্রীনগর, জম্মু, পাঠানকোট, অমৃতসর, জলন্ধর, লুধিয়ানা, আদমপুর, চণ্ডীগড়, ভুজ সহ ১৫টি শহরে এই হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে, ভারতের কাউন্টার ইউএএস (Unmanned Aerial System) ও এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা সফলভাবে এই আক্রমণগুলিকে প্রতিহত করে। এদিকে ভারতের পাল্টা পদক্ষেপে লাহোরে পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লাহোরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করে। অন্যান্য সীমান্তবর্তী এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর আসে। লাহোরে এয়ার ডিসেন্স সিস্টেম গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কুপওয়ারা, বারামুল্লা, উরি, পুঞ্চ, মেন্ধার ও রাজৌরি সেক্টরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মর্টার শেল নিক্ষেপে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জন নিরীহ নাগরিকের। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন মহিলা ও ৫ জন শিশু। পাশাপাশি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ৭ মে রাতে অবন্তীপুরা, শ্রীনগর, জম্মু, পাঠানকোট, অমৃতসর, কাপুরথালা, জলন্ধর, লুধিয়ানা, বাথিন্ডা, চণ্ডীগড়, এবং ভুজ-এর মতো উত্তর ও পশ্চিম ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থান লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী সেই হামলাগুলি সফলভাবে প্রতিহত করে।

মে ০৮, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • ›

ট্রেন্ডিং

টুকিটাকি

যেখানে আজ লাখো ভক্তের ঢল, সেখানেই একদিন জঙ্গলের মাঝে ৭০ জনেরও কম মানুষে শুরু হয়েছিল কৃষ্ণের জন্মোৎসব

আজ মথুরার আকাশে কৃষ্ণনাম। জন্মভূমির প্রাঙ্গণে ভক্তির ঢেউ। আলো, ফুল, মন্ত্রোচ্চারণ আর অসংখ্য মানুষের পদধ্বনিতে মুখর শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান। জন্মাষ্টমীর মধ্যরাত যত এগিয়ে আসে, ততই যেন অপেক্ষার প্রহর ঘন হয়কখন জন্ম নেবেন নন্দলাল, কখন বাজবে শঙ্খ, কখন খুলবে সেই পবিত্র মুহূর্তের দ্বার!কিন্তু আজকের এই বিপুল আয়োজনের দিকে তাকালে বিশ্বাস করাই কঠিন, একদিন এই একই জন্মভূমিতে কৃষ্ণের জন্মোৎসব ছিল নিভৃত, ছোট্ট এক আয়োজন। ছিল না লক্ষ মানুষের ভিড়, ছিল না আলোর ঝলকানি, ছিল না উৎসবের এত জৌলুস। ছিল শুধু কয়েকজন মানুষের বিশ্বাস, ভালোবাসা আর এক গভীর স্বপ্নকৃষ্ণের জন্মভূমিতে তাঁর জন্মদিনকে নতুন করে উদযাপন করার স্বপ্ন।সেই গল্পের শুরু ১৯৫৭ সালে।তখন মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান আজকের মতো সুসজ্জিত ছিল না। চারদিকে ছিল অনেকটাই অনুন্নত, জঙ্গলঘেরা পরিবেশ। অসমতল জমির সেই প্রাচীন পরিসর পরিচিত ছিল কৃষ্ণ চবুতরা নামে। ইতিহাসের স্তর আর বিশ্বাসের আবরণে ঢাকা সেই ভূমিকে ঘিরে তখনও ভবিষ্যতের বিরাট জন্মোৎসবের কোনও আভাস যেন দৃশ্যমান ছিল না।জন্মাষ্টমীর প্রায় এক সপ্তাহ আগে হাথরাসের কবি গোপাল প্রসাদ ব্যাসের নেতৃত্বে সেখানে জড়ো হলেন কয়েকজন মানুষ। কোনও বিশাল মঞ্চ নয়, কোনও বিপুল জনসমাবেশ নয়কৃষ্ণকে ঘিরে কবিতা, আলোচনা আর অনুভবের এক ছোট্ট আসর। উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৭০ জনেরও কম।সংখ্যার বিচারে হয়তো সামান্য। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে সেই জমায়েত ছিল অসামান্য।কারণ, কখনও কখনও বড় কোনও আন্দোলনের শুরু হয় না হাজার মানুষের গর্জনে; শুরু হয় মুষ্টিমেয় কয়েকটি মানুষের নীরব বিশ্বাসে। সেই দিনটিও যেন তেমনই এক দিন। কৃষ্ণকে নিয়ে লেখা কবিতা পাঠ করা হল, তাঁকে ঘিরে বলা হল নানা কথা। ভক্তেরা ভাগ করে নিলেন তাঁদের অন্তরের অনুভূতি। দিনের সেই আয়োজনে ছিলেন প্রায় ২৫ জন আয়োজক এবং ৪৫ জন ভক্ত।আজকের মথুরার সঙ্গে সেই ছবির কোনও মিল নেই। আজ জন্মাষ্টমীতে এখানে মানুষের ঢল নামে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তেরা ছুটে আসেন কৃষ্ণের জন্মভূমির টানে। কিন্তু সেই বিপুলতার বহু আগে, নিভৃত এক কোণে কয়েকজন মানুষ যেন ভবিষ্যতের সেই উৎসবের প্রথম প্রদীপটি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।আয়োজনটির পরিসর ছিল ছোট, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল বড়।তখন জন্মস্থানও ছিল অন্যরকম। পদ্মশ্রী মোহন স্বরূপ ভাটিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় এই এলাকা ছিল জঙ্গলঘেরা এবং অসমতল। আধুনিক পরিকাঠামোর চিহ্ন ছিল না বললেই চলে। সেই জায়গাকেই নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার ও সমতল করার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। কারও হাতে ছিল শ্রম, কারও হাতে ছিল সময়, কারও হাতে ছিল শুধু বিশ্বাসসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল জন্মভূমির চেহারা।একটি পরিত্যক্ত, অনুন্নত পরিসর ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে লাগল ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।১৯৫৭ সালে শুরু হল কেশবদেব মন্দির নির্মাণের কাজ। পরের বছর, ১৯৫৮ সালে, মন্দিরের উদ্বোধন হল। আর তার পর থেকেই জন্মাষ্টমীর আয়োজন ক্রমশ পেতে শুরু করল একটি নিয়মিত ও সুসংগঠিত রূপ।তারপর ইতিহাস এগিয়েছে নিজের গতিতে।একসময় যে জায়গায় কয়েকজন মানুষকে নিয়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করে কবিতা পাঠের আসর বসেছিল, সেখানেই বছর ঘুরে জন্মাষ্টমী হয়ে উঠল বিরাট জনউৎসব। ছোট্ট সেই জমায়েতের জায়গা নিল অসংখ্য মানুষের সমাবেশ। কয়েক ডজন ভক্তের জায়গায় এল হাজার হাজার, তারপর লক্ষ মানুষের পদধ্বনি। আয়োজন বাড়ল, পরিকাঠামো বদলাল, উৎসবের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ল বহুদূর।তবু এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হয়তো অন্য কোথাও।উৎসব বদলেছে, সময় বদলেছে, জন্মস্থানের চেহারা বদলেছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েছে অগণিত। কিন্তু বদলায়নি কৃষ্ণকে ঘিরে মানুষের সেই অদৃশ্য টান।সেই টানই হয়তো ১৯৫৭-এর সেই ছোট্ট আসরের প্রাণ ছিল। আর আজও সেই টানেই মানুষ রাত জেগে অপেক্ষা করেন কৃষ্ণের জন্মমুহূর্তের জন্য।মথুরার রাত যখন গভীর হয়, মন্দিরচত্বর যখন কৃষ্ণনামে মুখর হয়ে ওঠে, তখন হয়তো ইতিহাসের সেই প্রথম দিনটির কথাও মনে পড়ে। মনে হয়, এত আলো, এত ভিড়, এত আয়োজনের বহু আগে কোথাও এক ছোট্ট প্রদীপ জ্বলেছিল। সেই প্রদীপের আলোয় ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষতাঁদের হৃদয়ে ছিলেন একমাত্র কৃষ্ণ।সেই কয়েকজনের বিশ্বাস আজ লক্ষ মানুষের উৎসব।সময়ের স্রোতে আয়োজনের আকার যতই বদলাক, কৃষ্ণের জন্মভূমির মাটিতে সেই প্রথম দিনের আবেগ যেন এখনও মিশে আছে। তাই জন্মাষ্টমীর রাতে মথুরার আকাশে যখন শঙ্খধ্বনি ওঠে, ভেসে আসে হরে কৃষ্ণ নাম, তখন মনে হয়উৎসব বড় হয়েছে, মানুষ বেড়েছে, জৌলুস বেড়েছে; কিন্তু লালাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা আজও সেই একই রকম নির্মল, একই রকম গভীর।যেন কয়েকজনের হাতে জ্বালানো সেই ছোট্ট প্রদীপ আজও জ্বলছেশুধু তার আলো পৌঁছে গিয়েছে অগণিত ভক্তের হৃদয়ে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
টুকিটাকি

বাল গোপাল থেকে দ্বারকাধীশ, কোথাও জগন্নাথ—জন্মাষ্টমীর আগে কৃষ্ণের পদচিহ্নে ভারতের ১০ তীর্থের গল্প

কোথাও তিনি ননীচোরা বালক, কোথাও মুরলীধর, কোথাও প্রেমের কৃষ্ণ, আবার কোথাও রাজাধিরাজ দ্বারকাধীশ। কোথাও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রাধার অমোঘ প্রেমকথা, কোথাও তিনি জগন্নাথকাঠের দারুবিগ্রহে অধিষ্ঠিত এক অনন্য দেবসত্তা। ভারতের মানচিত্রে কৃষ্ণ যেন একটিই নাম, অথচ তাঁর রূপের বিস্তার অসংখ্য।সামনেই জন্মাষ্টমী। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। মন্দিরে মন্দিরে সাজসজ্জা, বিশেষ পুজো, নামসংকীর্তন, ভজন এবং রাতভর উৎসবের আয়োজন। কোথাও ফুলে সেজে উঠছে গর্ভগৃহ, কোথাও আলোর মালায় বদলে যাচ্ছে মন্দিরচত্বর। মধ্যরাতে যখন শঙ্খধ্বনি আর ঘণ্টার আওয়াজে ঘোষণা হবে কৃষ্ণজন্মের, তখন ভারতের নানা প্রান্ত যেন একই সুরে উচ্চারণ করবেহরে কৃষ্ণ।কিন্তু কৃষ্ণকে জানতে গেলে শুধু পুরাণের পাতা কিংবা গীতার শ্লোকের দিকে তাকালেই হয় না। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় ভারতের নানা প্রান্তের মন্দিরে, জনশ্রুতিতে, স্থাপত্যে, উৎসবে এবং মানুষের বিশ্বাসে। বৃন্দাবনের কুঞ্জ থেকে দ্বারকার সমুদ্রতট, পুরীর রথযাত্রা থেকে কেরলের গুরুবায়ুরপ্রতিটি তীর্থে কৃষ্ণ যেন নতুন করে জন্ম নেন।জন্মাষ্টমীর আগে সেই কৃষ্ণতীর্থগুলির কয়েকটি ঘুরে দেখা যাক।রাধারমণ মন্দির, বৃন্দাবনশালগ্রাম থেকে আবির্ভূত কৃষ্ণবৃন্দাবনের সরু গলি, পুরনো দালান আর অসংখ্য মন্দিরের ভিড়ে রাধারমণ মন্দিরের অবস্থান বিশেষ। গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরের ইতিহাস। বৈষ্ণব পরম্পরার বিশ্বাস অনুযায়ী, শালগ্রাম শিলা থেকেই আবির্ভূত হয়েছিল রাধারমণজির বিগ্রহ।মন্দিরের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী, ১৫৪২ সালে বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে এই আবির্ভাব ঘটে। সেই কারণেই রাধারমণকে ঘিরে বৃন্দাবনের ভক্তি-পরম্পরায় রয়েছে এক বিশেষ আবেগ।এখানে কৃষ্ণ যেন বিশাল রাজকীয় আড়ম্বরের দেবতা নন; বরং ঘরের আপনজন। ছোট্ট বিগ্রহ, নিবিড় সেবা আর শতাব্দী পেরিয়ে আসা আচারসব মিলিয়ে রাধারমণ মন্দিরে কৃষ্ণভক্তির এক অন্তরঙ্গ রূপ অনুভব করা যায়।বাঁকে বিহারী মন্দিরত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় মায়াবী কৃষ্ণবৃন্দাবনের কথা উঠলে বাঁকে বিহারী মন্দিরের নাম উচ্চারণ না করলে যেন শহরের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণের বিগ্রহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগ অপরিসীম।প্রচলিত ইতিহাসে এই মন্দিরের সঙ্গে স্বামী হরিদাসের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। তাঁর সাধনা ও ভক্তির পরম্পরার মধ্য দিয়েই বাঁকে বিহারীর আরাধনা জনপ্রিয়তা পায়।এই মন্দিরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য জন্মাষ্টমীকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বছরের অন্য দিনগুলির তুলনায় কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনেই এখানে বিশেষ মঙ্গল আরতির আয়োজন করা হয়।বৃন্দাবনের অগণিত ভক্তের কাছে সেই মুহূর্ত যেন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়কৃষ্ণের জন্মের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার এক বিরল অনুভূতি।মদন মোহন মন্দিরযমুনার ধারে প্রাচীন বৈষ্ণব স্মৃতিযমুনার কাছাকাছি আদিত্য টিলার উপর দাঁড়িয়ে থাকা মদন মোহন মন্দির বৃন্দাবনের প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, আদিত্য আচার্য একটি বটগাছের নীচে মদন মোহনের বিগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মন্দির ও ভক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।লালচে ইটের নির্মাণ, ঊর্ধ্বমুখী শিখর এবং যমুনার কাছাকাছি অবস্থান মন্দিরটির আবহকে অন্যরকম করে তুলেছে। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, বৃন্দাবনের বর্তমান শহরের আড়ালে এখনও কোথাও লুকিয়ে রয়েছে কয়েক শতাব্দী আগের সেই বৈষ্ণব জনপদ।রঙ্গজি মন্দিরবৃন্দাবনে দক্ষিণ ভারতের স্থাপত্যের ছোঁয়াবৃন্দাবনের মন্দির বলতেই সাধারণত উত্তর ভারতীয় স্থাপত্যের কথা মনে আসে। কিন্তু রঙ্গজি মন্দির সেই ধারণাকে বদলে দেয়।শ্রীরঙ্গমের রঙ্গনাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এই মন্দিরের কাজ শুরু হয় ১৮৪৫ সালে এবং ১৮৫১ সালে তা সম্পূর্ণ হয়। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের প্রভাব এখানে স্পষ্ট, যদিও তার সঙ্গে মিশেছে উত্তর ভারতের স্থানীয় শিল্পরীতি।বৃন্দাবনের এই মন্দির তাই শুধু ধর্মীয় তীর্থ নয়, ভারতীয় স্থাপত্য-সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনক্ষেত্রও। কৃষ্ণভক্তি যে কোনও একটি অঞ্চল বা ভাষার সম্পত্তি নয়রঙ্গজি মন্দির তারই এক স্থাপত্যিক প্রমাণ।দ্বারকাধীশ মন্দির, দ্বারকাবৃন্দাবনের বালক থেকে সমুদ্রতীরের রাজাবৃন্দাবনে কৃষ্ণ যেখানে গোপাল, মাখনচোর, বাঁশিওয়ালা; দ্বারকায় এসে সেই কৃষ্ণই যেন রাজাধিরাজ।গুজরাতের সমুদ্রতীরবর্তী দ্বারকা শহরের সঙ্গে কৃষ্ণের সম্পর্ক ভারতীয় পুরাণ-পরম্পরায় অত্যন্ত গভীর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মথুরা ত্যাগের পর কৃষ্ণ সমুদ্রের কাছাকাছি দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানেই তাঁর রাজ্য গড়ে ওঠে।দ্বারকাধীশ মন্দির তাই কৃষ্ণের আর এক পরিচয়ের সামনে আমাদের দাঁড় করায়যিনি শুধু প্রেমিক বা রাখাল নন, তিনি রাষ্ট্রনায়ক, রাজা এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্মৃতির কেন্দ্র।চারধামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে দ্বারকার গুরুত্বও আলাদা। মন্দিরের বর্তমান কাঠামো বহু শতাব্দীর পরিবর্তন, পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে আজকের রূপ পেয়েছে। ফলে দ্বারকাধীশ শুধু একটি মন্দির নয়, পুরাণ ও ইতিহাসের দীর্ঘ সংলাপেরও সাক্ষী।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকৃষ্ণের অনন্য দারুরূপকৃষ্ণের রূপের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বিস্ময়করভাবে ধরা পড়ে ওড়িশার পুরীতে। এখানে তিনি জগন্নাথদাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে অধিষ্ঠিত।কাঠের তৈরি এই বিগ্রহ ভারতীয় মন্দির-সংস্কৃতির এক বিরল ঐতিহ্য। প্রতি বছর নবকলেবর-সহ নানা আচার, রথযাত্রা এবং শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রথা জগন্নাথধামকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে।বর্তমান মন্দিরের নির্মাণের ইতিহাসের সঙ্গে পূর্ব গঙ্গবংশের রাজা অনন্তবর্মন চোড়গঙ্গদেবের নাম যুক্ত। তবে মন্দিরের নির্মাণ ও সম্পূর্ণতার সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে।পুরীতে কৃষ্ণ যেন বৃন্দাবনের কিশোর নন, দ্বারকার রাজাও নন। তিনি এখানে জগন্নাথজগতের নাথ। তাঁর রূপে আঞ্চলিক সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য, বৈষ্ণব ভাবনা এবং ভারতীয় ধর্মীয় পরম্পরার এক বিস্ময়কর সমন্বয় দেখা যায়।গুরুবায়ুর মন্দিরদক্ষিণের ভূলোক বৈকুণ্ঠকেরলের ত্রিশূর জেলার গুরুবায়ুরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির দক্ষিণ ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ কৃষ্ণতীর্থ। ভক্তদের কাছে এই স্থান ভূলোক বৈকুণ্ঠ নামে পরিচিত।মন্দিরের উৎপত্তিকে ঘিরে রয়েছে নানা পুরাণকথা ও কিংবদন্তি। গুরুবায়ুরাপ্পন নামে পূজিত কৃষ্ণের বিগ্রহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নিজস্ব আচার, পুজোপদ্ধতি এবং গভীর ভক্তি-সংস্কৃতি।উত্তর ভারতের বৃন্দাবনের সঙ্গে এখানকার পরিবেশের বিস্তর পার্থক্য। ভাষা আলাদা, স্থাপত্য আলাদা, পুজোর রীতিও আলাদা। কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি মানুষের নিবেদন একই রকম গভীর।এখানেই হয়তো ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়েঅঞ্চল বদলালেও অনুভূতিটি বদলায় না।নিকুঞ্জবনমন্দির নয়, তবু রহস্যে মোড়া এক তীর্থবৃন্দাবনের সব পবিত্র স্থান যে মন্দির, তা নয়। নিকুঞ্জবন তার সবচেয়ে রহস্যময় উদাহরণগুলির একটি।ঘন গাছপালায় ঢাকা এই স্থানকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাসের শেষ নেই। বৈষ্ণব ভাবধারায় রাধা-কৃষ্ণের নিকুঞ্জলীলা ও এই স্থানের সম্পর্কের কথা বলা হয়।স্থানীয় বিশ্বাসে সূর্যাস্তের পর নিকুঞ্জবনে প্রবেশ না করার রীতি রয়েছে। এই বিশ্বাসকে ঘিরে বহু কিংবদন্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।দিনের আলোয় যেখানে বৃন্দাবনের আর পাঁচটি পবিত্র স্থানের মতোই মানুষের আনাগোনা, সন্ধ্যার পর সেই জায়গাটিই যেন অন্য এক আবহ ধারণ করে। ঘণ্টাধ্বনি বা আরতির বদলে সেখানে অনুভূত হয় নিস্তব্ধতাআর সেই নীরবতার মধ্যেই যেন বেঁচে থাকে বৃন্দাবনের পুরনো কাহিনি।প্রেম মন্দিরআধুনিক বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের লীলার আলোকচিত্রবৃন্দাবনের প্রাচীন মন্দিরগুলির পাশে প্রেম মন্দির তুলনায় নবীন। কিন্তু তার স্থাপত্য ও আলোকসজ্জার জাঁকজমক তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তুলেছে।জগদগুরু শ্রী কৃপালু জি মহারাজের উদ্যোগে ২০০১ সালে মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০১২ সালে এর উদ্বোধন হয়। সাদা মার্বেলের বিশাল কাঠামো, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং রাধাকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার দৃশ্য মন্দিরটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে।মন্দিরের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বাইরের দেওয়ালে ৮৪টি প্যানেলে রাধাকৃষ্ণের লীলার বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।অর্থাৎ বৃন্দাবনের কয়েক শতাব্দী পুরনো স্মৃতির পাশে প্রেম মন্দির দাঁড়িয়ে রয়েছে আধুনিক সময়ের ভক্তির এক নতুন ভাষা হয়ে।বৃন্দাবনযেখানে শহরটাই যেন কৃষ্ণের গল্পএই তালিকার শেষে এসে আবারও ফিরতে হয় বৃন্দাবনে। কারণ বৃন্দাবনকে কেবল মন্দিরের শহর বলে বোঝা যায় না।এখানে গলি মানেই কোনও গল্প, ঘাট মানেই কোনও স্মৃতি, কুঞ্জ মানেই কোনও কিংবদন্তি। যমুনার জল, মন্দিরের ঘণ্টা, সন্ধ্যার আরতি, রাস্তার ভজন, ফুলের মালাসবকিছুর মধ্যেই যেন কৃষ্ণের উপস্থিতি।জন্মাষ্টমীর সময়ে সেই বৃন্দাবন আরও একবার বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে মন্দিরে। কোথাও কীর্তন, কোথাও ভজন, কোথাও কৃষ্ণের জন্মলীলার আয়োজন। মধ্যরাত পেরিয়ে যখন কৃষ্ণজন্মের মুহূর্ত আসে, তখন মনে হয়হাজার হাজার বছর আগের কোনও পুরাণকথা বুঝি আবার বর্তমান হয়ে উঠল।ভারতের নানা প্রান্তে কৃষ্ণের নাম এক, কিন্তু তাঁর রূপ বহুরঙা। বৃন্দাবনে তিনি প্রেমের বাঁশিওয়ালা, দ্বারকায় রাজা, পুরীতে জগন্নাথ, গুরুবায়ুরে আপন গৃহদেবতা। কোথাও তিনি শালগ্রাম থেকে আবির্ভূত স্বয়ম্ভূ বিগ্রহ, কোথাও কাঠের দারুরূপ, কোথাও বা মন্দিরের গর্ভগৃহের নীরব অন্ধকারে জেগে থাকা বিশ্বাস।এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতীয় কৃষ্ণভক্তির সবচেয়ে সুন্দর সত্যটি লুকিয়ে আছেকৃষ্ণের রূপ বদলায়, মন্দির বদলায়, ভাষা বদলায়, আচার বদলায়; কিন্তু তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা বদলায় না।জন্মাষ্টমী তাই শুধু কৃষ্ণের জন্মদিন নয়। এ যেন ভারতীয় সংস্কৃতির সেই চিরন্তন উৎসব, যেখানে পুরাণ এসে মিশে যায় ইতিহাসে, ইতিহাস এসে মিশে যায় লোকবিশ্বাসে, আর বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক গভীর ব্যক্তিগত অনুভবে।সেই কারণেই জন্মাষ্টমীর রাতে ভারতের কোনও এক মন্দিরে যখন শঙ্খ বাজে, অন্য প্রান্তে কোনও ভক্ত যখন কৃষ্ণনাম জপ করেন, তখন দূরত্বটা আর থাকে না। বৃন্দাবন থেকে দ্বারকা, পুরী থেকে গুরুবায়ুরএকই সুরে যেন প্রতিধ্বনিত হয় একটাই নামকৃষ্ণ।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

'উত্তম'কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতু! শাড়িজুড়ে মহানায়কের সোনালি দিন—ঋতুপর্ণার সাজে ফিরল উত্তম-সুচিত্রার নস্ট্যালজিয়া

৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এমন একটি দিন, যেদিন বর্তমান যেন একটু থমকে দাঁড়ায় অতীতের সামনে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের সূচনায় তাই শুধু শ্রদ্ধা, পুষ্পস্তবক কিংবা স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ রইল না উদযাপন। টালিগঞ্জের বাতাসে এদিন মিশে ছিল এক অন্যরকম নস্ট্যালজিয়াসাদা-কালো পর্দা, পুরনো সিনেমার গান, উত্তম-সুচিত্রার অমর রসায়ন আর বাঙালির চিরচেনা মহানায়ক-কে নতুন করে আবিষ্কারের আবেগ।চার দিনব্যাপী এই বিশেষ উদযাপনের সূচনা হয় মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের তারকাপ্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু তারকাখচিত সেই অনুষ্ঠানে একটি শাড়িই যেন আলাদা করে হয়ে উঠল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।আর সেই শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে এসে অভিনেত্রী যেন শুধু নিজের পোশাক বেছে নেননি, সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা সিনেমার এক বিস্মৃতপ্রায় অথচ চিরজাগ্রত সময়কে। তাঁর পরনের ঘিয়ে রঙের নগজের শাড়ির পাড় ও আঁচলজুড়ে ফুটে উঠেছিল উত্তম কুমারের সিনেমার নানা স্মৃতি। কোথাও মহানায়কের মুখ, কোথাও উত্তম-সুচিত্রার অমলিন উপস্থিতিআর আঁচলজুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল এই পথ যদি না শেষ হয়-এর সেই চিরপরিচিত মুহূর্ত।যদি হই চোরকাঁটা ওই শাড়ির ভাঁজেঋতুকে কি ছুঁয়ে গিয়েছিল সেই অমর মুহূর্ত?শর্মিলার শাড়ির পাড়ে হাত রেখে উত্তমের সেই গানবাংলা সিনেমার প্রেমের এক অনন্ত দৃশ্য। সকলে হয়তো স্বীকার করবেন না, তবু বাংলা সিনেমার প্রতিটি অভিনেত্রীর কল্পনায় কোনও না কোনওভাবে উত্তমই ছিলেন সেই স্বপ্নের নায়ক। তিনি শুধু নায়ক-ই নন ছিলেন কারও দাদা, কারও বাবা, কারও বন্ধু, কারও প্রেমিকসম্পর্কের নাম বদলেছে, উত্তম বদলাননি।তিনি ছিলেন, আছেনবাঙালির চিরকালের নায়ক।একটি শাড়ি তখন আর নিছক পোশাক থাকে না। হয়ে ওঠে স্মৃতির ক্যানভাস।উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেনের জুটি বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতিতে যে জায়গা দখল করে রয়েছে, তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে অন্য ভাষায় তুলে ধরার এক অভিনব প্রয়াস যেন দেখা গেল ঋতুপর্ণার সাজে। মেরুন থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজের সঙ্গে ঘিয়ে রঙের সেই শাড়ি, রং মিলিয়ে গয়নাসব মিলিয়ে সাজে ছিল সংযম, আভিজাত্য এবং আবেগের মিশেল।তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শাড়ির আঁচল।ক্যামেরার সামনে সেই আঁচল মেলে ধরার মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, যেন কোনও পুরনো বাংলা ছবির ফ্রেম হঠাৎ করেই বর্তমানের মধ্যে ফিরে এসেছে। একদিকে ঋতুপর্ণা, অন্যদিকে আঁচলে ধরা উত্তম-সুচিত্রার সেই অমর সময়দুই প্রজন্মের দুই ভুবন যেন এক জায়গায় এসে মিলল।উত্তম কে আঁচলে বাঁধলেন ঋতুএদিনের অনুষ্ঠানে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, যাঁর চোখ ঋতুর শাড়িতে আটকে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, দেব, যিশু সেনগুপ্ত, জিৎ, পাপিয়া অধিকারী কিংবা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়মহানায়কের মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন আলাদা এক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল ঋতুর উত্তম শাড়ি।আর এই দৃশ্য যে শুধু দর্শকের চোখেই ধরা পড়েছে, তা নয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারাও কার্যত মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন সেই বিশেষ শাড়ির কাজ। ঋতুপর্ণার আঁচল টেনে তার নকশা খুঁটিয়ে দেখতে দেখা যায় দেবকে। পাশে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চোখেও স্পষ্ট কৌতূহল ও মুগ্ধতা। জিৎ-এর নজরও আটকে যায় মহানায়কের মুখ আঁকা সেই আঁচলে। মুহূর্তটি যেন প্রতীকীবর্তমান টলিউডের জনপ্রিয় মুখেরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাংলা সিনেমার সেই সোনালি সময়ের সামনে, যার কেন্দ্রে এখনও একইভাবে উজ্জ্বল উত্তম কুমার।ফলে কয়েক মুহূর্তের জন্য তারকাদের ভিড়ও যেন পিছু হটে যায়। একফ্রেমে ঋতুপর্ণার শাড়ি হয়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অতীত ও বর্তমানের সেতু।শুধু মহানায়কের সিনেমার স্মৃতিই নয়, গোটা শাড়ির নকশায় ছড়িয়ে ছিল বাংলা সিনেমার সোনালি দিনের আবহ। পুরনো পোস্টার, পরিচিত চরিত্র, সিনেমার দৃশ্যসব মিলিয়ে যেন তৈরি হয়েছিল একটি চলমান চলচ্চিত্র-অ্যালবাম। পর্দায় যে দৃশ্যগুলি একসময় বাঙালির আবেগকে স্পর্শ করেছিল, সেগুলিই এবার উঠে এসেছে কাপড়ের বুননে।এখানেই ঋতুপর্ণার এই শ্রদ্ধার্ঘ্যের বিশেষত্ব।উত্তম কুমারকে স্মরণ করার প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে অভিনেত্রী যেন তাঁর পোশাককেই করে তুললেন স্মৃতির ভাষা। সিনেমা শেষ হয়ে যায়, পোস্টার পুরনো হয়ে যায়, প্রেক্ষাগৃহ বদলে যায়কিন্তু কিছু ছবি থেকে যায় মানুষের মনে। সেই ছবিগুলিকেই যেন শাড়ির আঁচলে ধরে রাখলেন তিনি।আর সেই কারণেই তাঁর সাজ হয়ে উঠল নিছক ফ্যাশন নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক বক্তব্যও।মহানায়কের জন্মশতবর্ষে এই দৃশ্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিলউত্তম কুমার কেবল একটি নাম নন, কেবল কয়েকটি কালজয়ী ছবির নায়কও নন। তিনি বাঙালির যৌথ স্মৃতির অংশ। তাঁর অভিনয়, তাঁর হাসি, তাঁর সংলাপ, তাঁর নায়করূপ এবং তাঁর সঙ্গে সুচিত্রা সেনের রসায়নসবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন এক আবেগ, যার বয়স বাড়ে না।শতবর্ষ পেরিয়েও সেই আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায় কখনও সিনেমার পর্দায়, কখনও গানে, কখনও স্মৃতিচারণে, আবার কখনও একটি শাড়ির আঁচলে।ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের এই অভিনব সাজ তাই মহানায়ককে শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়। বরং পুরনো দিনের বাংলা সিনেমাকে আজকের চোখে নতুন করে দেখার এক সুন্দর প্রয়াস। যে পথে উত্তম-সুচিত্রা একদিন বাঙালির হৃদয়ে হেঁটেছিলেন, সেই পথ যেন সত্যিই এখনও শেষ হয়নি।শুধু বদলে গেছে মাধ্যম।এবার সেই পথের গল্প লেখা হয়েছে শাড়ির আঁচলে।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
কলকাতা

উত্তমের ‘অমৃতকাল’ ফেরানোর অঙ্গীকার, বাংলা ছবির জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা

একটা সময় ছিল, বাংলা সিনেমা শুধু বাংলার দর্শকের বিনোদন ছিল নাসারা দেশের চলচ্চিত্র মানচিত্রে তার ছিল আলাদা এক মর্যাদা। অভিনয়, গল্প, সঙ্গীত, নির্মাণসব মিলিয়ে বাংলা ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত গোটা দেশ। আর সেই সোনালি সময়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর পর্দার উপস্থিতি, অভিনয়ের স্বাভাবিকতা এবং বাঙালির আবেগের সঙ্গে তাঁর অদ্ভুত সংযোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে এনে দিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতা।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে সেই হারানো গৌরবের কথাই যেন নতুন করে সামনে এল। নন্দনের একতারা মুক্তমঞ্চে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে উঠে এল বাংলা সিনেমাকে ফের দেশের চলচ্চিত্রের প্রথম সারিতে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, প্রয়োজন হলে পরিকাঠামো, বাজেট এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিল রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, একসময় গোটা ভারতকে নেতৃত্ব দিত বাংলা সিনেমা। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল টলিউডের। সেই জায়গায় আবার ফিরতে হবে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই সন্ধ্যাকে তাই তিনি শুধু উদ্যাপনের মুহূর্ত হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় হিসেবেও। তাঁর বার্তাচলচ্চিত্রশিল্পের কী প্রয়োজন, কোথায় পরিকাঠামোর ঘাটতি, কী ধরনের সরকারি সহযোগিতা দরকার, এমনকি প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ বা আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সরকার তা বিবেচনা করবে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিধ্বনিত হল উত্তমকুমারের সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের সেই আত্মবিশ্বাস। যে সময়ে বাংলা ছবির অভিনেতা, পরিচালক, সঙ্গীতশিল্পী এবং কলাকুশলীদের কাজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দর্শকের কাছে পৌঁছত, সেই পরিবেশই ফেরানোর ডাক উঠল জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে।অনুষ্ঠানের আবহও ছিল সেই স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার মতো। দর্শকে পরিপূর্ণ নন্দন চত্বর। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে মিঠুন চক্রবর্তী, জিৎ। সঙ্গে সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্মের পরিচিত মুখ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে বিশাল পর্দায় ফুটে উঠল উত্তমকুমারের অভিনীত বিভিন্ন চরিত্র। নেপথ্যে ভেসে এল সন্ন্যাসী রাজার হরি ওম ধ্বনি। পর্দায় দেখা গেল মহানায়কের অবিস্মরণীয় দৃশ্য এবং সংলাপ। যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য সময় পিছিয়ে গেলফিরে এল উত্তমের সেই পর্দার জাদু।জন্মশতবর্ষের এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে আগেই আলোচনা করেছিলেন। শিল্পীদের সম্মিলিত উপস্থিতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। তাঁর মতে, উত্তমকুমার এমন এক নাম, যিনি প্রজন্মের বিভাজন মুছে সবাইকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ভুলে এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়উত্তমকুমারের উত্তরাধিকার বহন করা বাংলা চলচ্চিত্র।আর সেই জায়গাতেই অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবদার ছিল স্পষ্টদেশের অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও প্রযোজনা সংস্থা বা চলচ্চিত্র নির্মাতা কলকাতা কিংবা বাংলায় শুটিং করতে আসেন, তাঁদের উৎসাহ দিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।মিঠুনের প্রস্তাব ছিল, বাইরে থেকে আসা ছবির ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভরতুকি দেওয়া হোক। তবে সরাসরি নগদ অর্থ নয়, করছাড় বা এই ধরনের সরকারি সুবিধার মাধ্যমে সেই সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির ইঙ্গিত পেয়ে মিঠুন জানান, তাঁর আবদার মেনে নেওয়া হয়েছে।এই প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এল বাংলাকে চলচ্চিত্রের শুটিং গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সম্ভাবনা। শুধু বাংলা ভাষার ছবি নয়, দেশের অন্যান্য ভাষার বড় বাজেটের ছবিও যদি বাংলায় শুটিং করতে আসে, তাহলে স্থানীয় শিল্পী ও কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, স্টুডিয়ো, লোকেশন, পরিবহণ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পসব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানের আর একটি বড় আকর্ষণ ছিল পদযাত্রা। নন্দন থেকে শুরু হওয়া সেই শোভাযাত্রায় সামনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। নন্দন চত্বর ঘুরে পদযাত্রা পৌঁছয় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, জওহরলাল নেহরু রোড হয়ে রবীন্দ্রসদন মেট্রো স্টেশনের পাশ দিয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়।সেই পদযাত্রায়ও যেন একসঙ্গে হাঁটল বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক প্রজন্ম। একটি ভিন্টেজ গাড়িতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত, মমতাশঙ্কর, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপ রায়, রঞ্জিত মল্লিক ও হরনাথ চক্রবর্তী। তাঁদের পিছনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, শুভশ্রী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী-সহ আরও অনেকে। শেষ সারিতে ছিলেন নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও কলাকুশলীরাহাতে উত্তমকুমারের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড।জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছিল নানা আয়োজন। আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, ভবানীপুরের বিজলী প্রেক্ষাগৃহ থেকে কলকাতা জিপিওবিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধা জানানো হয় মহানায়ককে। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে উত্তমকুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভবানীপুরে উদ্বোধন করা হয় তাঁর ২০ ফুটের পূর্ণাবয়ব কাটআউট। জিপিও-তে ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয় উত্তম-স্মরণে বিশেষ কভার।শুধু সরকারি অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি স্মরণ। শিল্পীদের একাংশ উত্তমকুমারের বাড়িতেও পৌঁছে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। বাড়ির তরফে শিল্পীদের আপ্যায়নে ছিল লুচি, আলুর তরকারি এবং পায়েসযেন মহানায়কের জন্মদিনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির চিরপরিচিত ঘরোয়া আবেগেরই পুনরাবৃত্তি।জন্মশতবর্ষের পরবর্তী কর্মসূচিতেও থাকছে উত্তমকুমারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরে দেখার আয়োজন। রাজারহাটের নিউটাউনে উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নন্দনে সত্যজিৎ রায়ের নায়ক দিয়ে শুরু হবে উত্তমকুমারের ছবির বিশেষ উৎসব। শিশির মঞ্চে হবে নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার এবং অ্যাক্টিং অফ উত্তমকুমার শীর্ষক আলোচনা। রবীন্দ্রসদনে নাচ, গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাঙ্গীতিক শ্রদ্ধার্ঘ।তবে এই জন্মশতবর্ষের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনও একটি অনুষ্ঠান নয়। বরং উত্তমকুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হওয়া। কারণ মহানায়ককে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর ছবি দেখানো নয়তাঁর সময়ের বাংলা সিনেমার সৃষ্টিশীল সাহস, উৎকর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনা।একদিন যে বাংলা সিনেমা গোটা দেশের চলচ্চিত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্র ছিল, সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়। প্রয়োজন ভালো গল্প, দক্ষ নির্মাতা, নতুন মুখ, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং সবচেয়ে বড় কথাএকটি সুস্থ চলচ্চিত্র-পরিবেশ। সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মহান অভিনেতার শতবর্ষ উদ্যাপন হয়ে থাকল না। তাঁর নামকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো দিনগুলিকে ফিরে পাওয়ার একটি নতুন স্বপ্নও উচ্চারিত হল নন্দনের মঞ্চে।মহানায়ক হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁর অভিনয়ের সেই সময়, বাংলা সিনেমার সেই গৌরবসেটুকু কি নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ থেকে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অঙ্গীকারই শোনা গেল।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

“তাঁকে দেখার পথ যে শেষ হয় না”—জন্মশতবর্ষের শুরুতেই স্মৃতির পর্দায় চিরউজ্জ্বল উত্তমকুমার

তাঁকে দেখার পথ যেন কোনওদিন শেষ হওয়ার নয়। তাঁর অভিনয় দেখেও যেন কোনওদিন আশ মেটে না। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা, বদলেছে দর্শকের রুচি ও প্রযুক্তিতবু বাঙালির হৃদয়ের পর্দায় এক নায়ক আজও একইরকম উজ্জ্বল। তিনি অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়বাঙালির চিরপরিচিত উত্তমকুমার। সম্ভবত বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম এবং শেষ ম্যাটিনি আইডল, যাঁকে ঘিরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনা চলতেই থাকবে।আজ থেকে শুরু হল সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষের পথচলা। আগামী এক বছর জুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান, আলোচনা, প্রদর্শনী ও শ্রদ্ধার্ঘ্যে ফিরে ফিরে আসবেন উত্তমকুমার। তবে তাঁকে স্মরণ করার জন্য কোনও বিশেষ দিন বা শতবর্ষের প্রয়োজন হয় না। কারণ উত্তমকুমার বাঙালির কাছে শুধু একজন অভিনেতার নাম নন, তিনি এক বিস্ময়কর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাএকটি সময়ের নাম, একটি আবেগের নাম।এই আবেগেরই অন্যরকম প্রকাশ দেখা গেল কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে। জন্মশতবর্ষের সূচনালগ্নে প্রাত্যহিক সমবেত সভায় ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তমকুমারের শিল্পীসত্তা ও অভিনয়জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়।তিনি মনে করিয়ে দেন, উত্তমকুমারকে শুধুমাত্র প্রেমিক নায়ক হিসেবে দেখলে তাঁর অভিনয়-প্রতিভার বিশালতাকে ছোট করে দেখা হয়। রোম্যান্টিক নায়কের পরিচিত ছকের বাইরে গিয়ে ভৃত্য, দেশপ্রেমিক, খলনায়কবিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছিলেন তিনি। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও কোমল, কখনও কঠিন, কখনও সংবেদনশীল, কখনও তীব্রঅভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের কথায় উঠে আসে ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত অভিনয়ের চারটি ধারার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ভরত মুনির কথিত অভিনয়ের বিভিন্ন রীতিকে যেন স্বতঃস্ফূর্ত ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনয় শুধু চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত না, বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি বাঙালির আত্মবিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছিল। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছবির নায়ক হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞান।অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, একসময় দশকের পর দশক ধরে সিনেমার পর্দায় ছড়িয়ে থাকা উত্তমকুমারের নাক্ষত্রিক ব্যক্তিত্বই দর্শককে টেনে নিয়ে যেত সিনেমা হলের অন্ধকারে। সেই সময় সিনেমা দেখা মানেই ছিল উৎসব, আর উত্তমকুমার ছিলেন সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।আজ সেই সময় অনেকটাই ইতিহাস। যে শহর ও মফস্সলের অলিগলিতে একসময় একের পর এক সিনেমা হল ছিল, তার অধিকাংশই আজ হারিয়ে গিয়েছে। হারিয়েছে সেই পোস্টার, হারিয়েছে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, হারিয়েছে প্রজেক্টরের আলোয় পর্দা জুড়ে মহানায়কের আবির্ভাবের সেই সম্মিলিত উচ্ছ্বাস। কিন্তু হারায়নি উত্তমকুমার।বরং সিনেমা হলের অস্তিত্ব ফিকে হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন আরও গভীরভাবে ঢুকে পড়েছেন বাঙালির স্মৃতিতে। এই পথ যদি না শেষ হয়শুধু একটি গানের দৃশ্য নয়, তা হয়ে উঠেছে বাঙালির রোম্যান্টিক কল্পনার এক চিরন্তন প্রতীক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য দৃশ্য, তাঁর সংলাপ, তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা, তাঁর চলনআজও অজান্তেই ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির পর্দায়।প্রযুক্তির বদল এসেছে। সিনেমা এখন মোবাইলের পর্দায়, অ্যানিমেশন ও রিলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতেও অ্যানিমেশন, রিল এবং বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে শিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করার নানা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে উত্তমকুমারের মতো সাংস্কৃতিক আইকনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পথও আজ আরও বিস্তৃত।তবে মাধ্যম বদলালেও উত্তমকুমারের আবেদন বদলায়নি। কারণ তাঁর জনপ্রিয়তার ভিত্তি কোনও প্রযুক্তি নয়, কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নয়তা মানুষের আবেগে নির্মিত।তাই জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা মানে শুধু একজন অভিনেতাকে স্মরণ করা নয়। ফিরে দেখা বাঙালির এক হারিয়ে যাওয়া সময়কে, সিনেমা হলের সেই অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোকে, পর্দায় মহানায়কের আবির্ভাবে দর্শকের উচ্ছ্বাসকে এবং ভালোবাসার সেই ভাষাকে, যা প্রজন্ম পেরিয়েও পুরনো হয় না।উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ তাই নিছক এক শতবর্ষ উদ্যাপন নয়। এটি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক দীর্ঘ যাত্রা।যে যাত্রার পথ আজও শেষ হয়নি।হয়তো কোনওদিন শেষও হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদা স্টেশনে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক, বাতিল কিছু লোকাল ট্রেন, আগে পড়ুন এই খবর

শিয়ালদা স্টেশনে অত্যাবশ্যকীয় ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার জন্য শিয়ালদা ডিভিশনে শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর এবং রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যবর্তী রাতে ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক থাকবে।এই ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০০:০০ ঘণ্টা থেকে ০৭:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদা স্টেশনে DN/Main লাইনের KM 0/17L থেকে KM 0/19M-এর মধ্যে পয়েন্ট নং 208A/209B-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। এর অধীনে বিদ্যমান ৫২ কেজি DSS-কে ৬০ কেজি DSS-এ রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি সমস্ত ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিং-এর ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে।যাত্রীদের অসুবিধা যাতে সর্বনিম্ন রাখা যায়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সপ্তাহান্তের গভীর রাত ও ভোরের সময় এই কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট দলগুলি সাইটে মোতায়েন থাকবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।ট্রাফিক ব্লকের সময় কিছু সিগন্যালিং ও ট্রেন চলাচলও প্রভাবিত হবে। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্র্যাক সার্কিটে পরিবর্তন করা হবে এবং ব্লকের সময় লাইন নং ৬ ও লাইন নং ১১-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট প্রভাবিত থাকবে।পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম সংখ্যক শহরতলির ট্রেন পরিষেবা বাতিল থাকবে এবং কিছু ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে শর্ট-টার্মিনেট করা হবে।*বাতিল হওয়া ট্রেন পরিষেবাগুলি হল:* শিয়ালদহাবরা: 33651, 33653 UP / 33652, 33654 DN শিয়ালদাকল্যাণী সীমান্ত: 31311 UP, 31313 UP / 31312, 31314 DN শিয়ালদাডানকুনি: 32213 UP, 32215, 32217 UP / 32214, 32216, 32218 DN শিয়ালদারানাঘাট: 31615 UP / 31620 DN শিয়ালদাহাবরা: 31213 UP / 31214 DN শিয়ালদাবারাসাত: 33431 UP / 33432 DN শিয়ালদাদত্তপুকুর: 33613 UP / 33618 DNএছাড়াও, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 53172 DN (লালগোলাসিয়ালদহ) ট্রেনটি দমদম জংশন (DDJ)-এ শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। পরবর্তীতে ট্রেনটির খালি রেক উপযুক্তভাবে শিয়ালদায় নিয়ে আসা হবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের সংশ্লিষ্ট দলগুলির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের পরিবর্তিত ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিয়ালদা স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পয়েন্ট কনভার্সনের এই কাজটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন। এর ফলে কিছু ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস না করে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।যাত্রীদের ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে যাত্রার আগে নিজেদের যাত্রা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার এবং সর্বশেষ ট্রেন পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সুষ্ঠু ট্রেন চলাচলের বৃহত্তর স্বার্থে এই কাজ করা হচ্ছে। সাময়িক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য সিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সীতাভোগ-মিহিদানার শহর বর্ধমানে খাদ্য দফতরের হানা, কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা?

মিষ্টির জন্য বিখ্যাত বর্ধমান। এই শহরের সীতাভোগ ও মিহিদানার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। শক্তিগড়ের ল্যাংচারও যথেষ্ট নামডাক আছে। কিন্তু কি খাচ্ছেন মিষ্টিরসিকরা? খাদ্য দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এল বর্ধমানের মিষ্টির দোকানের কঙ্কালসার চেহারা। একের পর এক দোকান মেয়াদ উত্তীর্ণ দ্রব্যসামগ্রী রাখছে। এই তালিকায় নামীদামী দোকানও আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে খাবারের গুণমান নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও মিষ্টির দোকান, হোটেল ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বুধবার পূর্ব বর্ধমানের সদর শহর বর্ধমানে একাধিক নামী মিষ্টির দোকানে হানা দিলেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। অভিযানে বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির উদ্ধারের পাশাপাশি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া আইসক্রিম ও নরম পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি।সীতাভোগ-মিহিদানার জন্য পরিচিত বর্ধমান শহরে এদিনের অভিযান শুরু হয় বর্ধমান পুরসভার সামনের একটি নামী মিষ্টির দোকান থেকে। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। দোকানে তল্লাশি চালানোর সময় বেশ কয়েক কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ পনিরের সন্ধান মেলে। উদ্ধার হওয়া ওই পনির নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পনির বিক্রি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।এরপর বি বি ঘোষ রোডের আরও একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানে অভিযান চালানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। শুধু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধারই নয়, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত রং, মশলা, ঘি-সহ একাধিক সামগ্রীর নমুনাও সংগ্রহ করেন আধিকারিকরা। একটি দোকান থেকে ঘির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও ধরনের গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।বর্ধমান শহরের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চলছে এই নজরদারি। মঙ্গলবার শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব এবং সংলগ্ন বিভিন্ন খাবারের দোকানে অভিযান চালিয়েছিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বুধবারও পূর্ব বর্ধমানের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আমড়া এলাকার একাধিক হোটেলে পরিদর্শন করেন ফুড সেফটি অফিসাররা।আমড়ার একটি হোটেল পরিদর্শনের পর ফুড সেফটি অফিসার প্রদীপ্ত মণ্ডল জানান, সেখানে কোনও অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত খাদ্যসামগ্রীরও মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি। তবে হোটেলের ভিতরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানায় দফতর। হোটেল মালিককে নোটিশ দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকান ও বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানের উপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা যথেষ্ট বেশি। ফলে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনেও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, হোটেল এবং খাবারের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

উত্তমের ঠোঁটে হেমন্তের কণ্ঠ—সুর আর অভিনয়ের সেই অলৌকিক রসায়ন

আজ ৩ সেপ্টেম্বর। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়। এই দিনেই জন্মেছিলেন সেই মানুষটি, যাঁকে বাঙালি আজও ভালোবেসে মহানায়ক বলে ডাকেউত্তমকুমার।রূপোলি পর্দায় তাঁর হাসি, চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি কিংবা নিছক নীরব উপস্থিতিসবকিছুই একসময় বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু উত্তমকুমারের সেই পর্দার জাদুকে আরও কয়েক গুণ গভীর করে তুলেছিল একটি কণ্ঠ।সে কণ্ঠ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।উত্তমকুমারের ঠোঁটে হেমন্তের গানবাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেখানে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগত না, কে গান গাইছেন? বরং মনে হতোউত্তমই যেন গানটি গাইছেন।এটাই ছিল উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্কের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক। একজন ছিলেন অভিনয়ের সম্রাট, অন্যজন কণ্ঠ ও সুরের জাদুকর। অথচ তাঁদের দুজনের কণ্ঠস্বরের মডুলেশন, উচ্চারণ, আবেগ এবং শব্দের ভেতরের নাটকীয়তার এমন আশ্চর্য মিল ছিল যে, পর্দায় হেমন্তের কণ্ঠ হয়ে উঠত উত্তমেরই আরেকটি পরিচয়।উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন হেমন্তবাংলা সিনেমায় প্লেব্যাক গান শুধু গান নয়। পর্দার অভিনেতার চরিত্র, আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে গায়ককে একাত্ম হতে হয়। উত্তমকুমারের ক্ষেত্রে এই কাজটি হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এমনভাবে করেছিলেন যে, পরবর্তীকালে তাঁদের যুগলবন্দি বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক ঘরানা হয়ে দাঁড়ায়।শাপমোচন-এর গান থেকে শুরু করে হারানো সুর, ইন্দ্রাণী, মরুতীর্থ হিংলাজএকাধিক ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠ উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায় যে, গান শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যেত উত্তমের মুখ আর হেমন্তের কণ্ঠদুটো আলাদা করে ভাবা যেত না।সুরের আকাশে তুমি যে গো শুকতারা, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাসএই গানগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে সুর বা কথা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল উত্তমের অভিনয় এবং হেমন্তের কণ্ঠের সেই অসাধারণ সামঞ্জস্য।হেমন্তের গলায় ছিল এক ধরনের গভীরতা, বিষণ্ণতা এবং সংযত আবেগ। উত্তমের অভিনয়ের মধ্যেও ছিল ঠিক সেই সংযত আবেগের প্রকাশ। তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করতেন না; চোখের দৃষ্টি, ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া কিংবা মুখের অভিব্যক্তিতেই অনেক কথা বলে দিতেন।ফলে হেমন্ত যখন গাইতেন, তাঁর কণ্ঠের আবেগকে উত্তম পর্দায় এমনভাবে ধারণ করতেন যে গানটি আর শুধু প্লেব্যাক থাকত নাতা হয়ে উঠত উত্তমের চরিত্রের অন্তরের ভাষা।প্রথম পরিচয় কি শাপমোচন-এ?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম পরিচয় নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি আকর্ষণীয় বিতর্ক রয়েছে।সাধারণভাবে বলা হয়, ১৯৫৫ সালে শাপমোচন ছবির সময় থেকেই তাঁদের ঘনিষ্ঠ পেশাগত সম্পর্কের সূত্রপাত। কিন্তু গবেষক সুশান্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেই ১৯৫১ সালের সহযাত্রী ছবিতে হেমন্ত নাকি উত্তমের জন্য গান গেয়েছিলেন। তর্কের খাতিরে ১৯৫৫ সালে শাপমোচন কেই মেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেই সিনেমার ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস গানে যে ঝড় বাংলা সিনেমার আকাশে উঠেছে আজও তার রেশ রয়ে গেছে।সমস্যা হল, সহযাত্রী-র সমস্ত প্রিন্ট আজ আর পাওয়া যায় না। ফলে সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তাই ইতিহাসের নিশ্চিত দলিল হিসেবে শাপমোচন-কেই তাঁদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর সেই সূচনা যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, তা পরবর্তী কয়েক দশকের বাংলা সিনেমাই প্রমাণ করেছে।সলিল-হেমন্ত এবং উত্তমএকই সময়ের তিন উত্থানএই গল্পের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে একদিকে সলিল চৌধুরী গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের গান লিখছেন, সুর করছেন। অন্যদিকে তরুণ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কণ্ঠের পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন।১৯৪৭ সালে সলিলের লেখা ও সুর করা গাঁয়ের বধূ হেমন্তের কণ্ঠে এক ঐতিহাসিক সৃষ্টি হয়ে ওঠে।অন্যদিকে একই সময় চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য সংগ্রাম করছেন অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক ছবি ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁকে কেউ কেউ ফ্লপ মাস্টার বলেও ঠাট্টা করছেন।কিন্তু ভাগ্য তখন অন্য গল্প লিখছিল।বসু পরিবার, সাড়ে চুয়াত্তর এবং অগ্নিপরীক্ষাপরপর তিনটি ছবির সাফল্যের পর অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠলেন উত্তমকুমার।অর্থাৎ, বাংলা সংস্কৃতির এক অসাধারণ যুগে প্রায় একই সময়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছিলেন সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং উত্তমকুমার।শাপমোচন: যে ছবিতে তৈরি হল ইতিহাসশাপমোচন-এর সঙ্গীত পরিচালনার জন্য প্রথমে সুধীর মুখোপাধ্যায়ের পছন্দ ছিলেন শচীন দেববর্মণ। কিন্তু তাঁর অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তখন হেমন্ত ছিলেন বম্বেতে। কলকাতায় ফেরার একটি সুযোগও তিনি খুঁজছিলেন। ফলে শাপমোচন শুধু একটি চলচ্চিত্রের কাজ ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল হেমন্তের কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আর সেই ছবিতেই তৈরি হল উত্তম-হেমন্তের সেই সুরেলা রসায়ন, যা পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত স্বাক্ষর হয়ে দাঁড়ায়। হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের পর্দার ব্যক্তিত্ব যেন নতুন মাত্রা পেল।আশ্চর্য মিল শুধু গানে নয়, কথার কণ্ঠেও!উত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের সবচেয়ে চমকপ্রদ অজানা তথ্যগুলির একটি লুকিয়ে রয়েছে হারানো সুর ছবিতে। সাধারণত আমরা ভাবি, একজন অভিনেতার মুখের সঙ্গে গায়কের গলা মেলানোই প্লেব্যাকের সাফল্য। কিন্তু উত্তম ও হেমন্তের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। হারানো সুর-এর একটি দৃশ্যে উত্তমের চরিত্রকে সুচিত্রা সেনের চরিত্রকে নাম ধরে ডাকতে হয়। ডাবিংয়ের সময় কোনও কারণে উত্তমকুমার উপস্থিত ছিলেন না। সেই সংলাপটি দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়!ফল?দর্শকের কাছে তা আলাদা করে বোঝাই যায়নি। হেমন্তের কথা বলার গলার সঙ্গে উত্তমের কণ্ঠের এমন মিল ছিল যে, সেই সংলাপ ছবির অন্যান্য সংলাপের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে যায়। এ যেন প্রমাণ করেশুধু গানেই নয়, কথার মডুলেশনেও হেমন্ত ছিলেন উত্তমের এক অদ্ভুত ভয়েস ডাবল।তারে বলে দিওএক যুগের শেষের ইঙ্গিত?১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া দুই ভাই ছবিতে হেমন্তের কণ্ঠে তারে বলে দিও শ্রোতাদের কাছে আজও স্মরণীয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই সময় থেকেই ধীরে ধীরে উত্তমকুমারের প্লেব্যাকে হেমন্তের ব্যবহার কমতে শুরু করে। হেমন্ত অবশ্য উত্তমের ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করে গিয়েছেন। কিন্তু উত্তমের ঠোঁটে তাঁর কণ্ঠের সেই আগের অবাধ উপস্থিতি আর থাকল না। ক্রমশ উত্তমের কণ্ঠ হয়ে উঠলেন অন্যরাওশ্যামল মিত্র, মান্না দে প্রমুখ।তবুও উত্তমের সঙ্গে হেমন্তের কণ্ঠের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য গায়কের কণ্ঠ শুনলে দর্শকের একটা অংশের মনে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা চলে আসত।সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদসুরের অন্য অধ্যায়উত্তম-হেমন্ত সম্পর্ককে শুধুমাত্র প্লেব্যাকের মধ্যে আটকে রাখলে ভুল হবে। সপ্তপদী, বন্ধু, নায়িকা সংবাদ, সাথীহারা সহ উত্তমকুমারের একাধিক ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গীত-অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, হেমন্ত কখনও উত্তমের কণ্ঠ হয়ে গান গেয়েছেন, কখনও তাঁর ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। ফলে তাঁদের পেশাগত সম্পর্ক ছিল বহুমাত্রিক। একজন অভিনেতা হিসেবে উত্তম যেমন হেমন্তের কণ্ঠের শক্তিকে বুঝতেন, তেমনই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে হেমন্তও বুঝতেন উত্তমের অভিনয়-ব্যক্তিত্বকে। এই বোঝাপড়াটিই তাঁদের কাজকে এত স্বাভাবিক করে তুলেছিল।মহিষাসুরমর্দিনীর বিকল্প অনুষ্ঠানেও হেমন্তের ভূমিকাউত্তম-হেমন্ত সম্পর্কের আরও একটি কম-আলোচিত ঘটনা জড়িয়ে আছে মহালয়ার সঙ্গে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী বাঙালির মহালয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একসময় আকাশবাণী সেই অনুষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে দেবী দুর্গতিহারিণী আয়োজন করেছিল। জানা যায়, উত্তমকুমার সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে রাজি ছিলেন না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে অনুরোধ ও আশ্বাস না দিলে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজি হতেন না। পেশাগত সহযোগিতার বাইরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত আস্থাও তৈরি হয়েছিল।তবে সব সম্পর্কেই কি শুধু মধুরতা থাকে?উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়েও পরবর্তী সময়ে নানা গল্প ছড়িয়েছে। কোনও কোনও সূত্রে তাঁদের মধ্যে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা বচসার কথা বলা হয়েছে। একটি কাহিনিতে উত্তম ও গৌরী দেবীর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উঠে আসে। আবার আরও একটি বহুল প্রচলিত গল্পে অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে উত্তম ও হেমন্ত পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের কথা বলা হয়।তবে এই কাহিনিগুলির নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে এগুলিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। বরং তাঁদের সম্পর্কের যে অংশটি নথিবদ্ধ এবং শিল্পের ইতিহাসে অমোচনীয়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান মুছে যায়নি।উত্তমের প্রয়াণহেমন্তের নীরবতার রহস্য১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তমকুমারের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বাংলা যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একটি বিষয় অনেকের নজরে পড়েছিলহেমন্ত মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন উত্তমের মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে বিশেষ মন্তব্য করেননি।কেন?তার উত্তর হয়তো তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। পরবর্তী জীবনে এক সাক্ষাৎকারে হেমন্ত বলেছিলেন, উত্তম তাঁর সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর নিজের অন্তরের একটি বিরাট অংশ। একটি সম্পর্কের গভীরতা বোঝার জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকারোক্তি আর কী হতে পারে?একই আকাশের দুই নক্ষত্রউত্তমকুমার চলে গেলেন ১৯৮০ সালে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় চলে গেলেন ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।দুজনের জীবনের শেষ অধ্যায় আলাদা হলেও বাংলা সংস্কৃতির স্মৃতিতে তাঁরা আজও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছেন।উত্তমের মুখে হেমন্তের গান শুনলে আজও মনে হয় গানটি যেন হেমন্ত গাইছেন না, উত্তম নিজেই গাইছেন।আসলে এখানেই তাঁদের সম্পর্কের সাফল্য।একজনের কণ্ঠ অন্যজনের অভিনয়ের সঙ্গে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল যে, দর্শক গায়ককে ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতিটাকেই অনুভব করতেন।হেমন্তের কণ্ঠে উত্তমের প্রেম, বিরহ, অভিমান, আনন্দ কিংবা বিষণ্ণতাসবই যেন আরও সত্যি হয়ে উঠত।জন্মদিনে মহানায়ককে ফিরে দেখাআজ উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করার অসংখ্য পথ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী ছবি আছে, আছে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর অমর জুটি, আছে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তার ইতিহাস।কিন্তু উত্তমকে নতুন করে অনুভব করার একটি সহজ পথ এখনও আছেচোখ বন্ধ করে তাঁর ঠোঁটে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান শুনুন।তখন হয়তো বোঝা যাবে, কেন কয়েক দশক পরেও উত্তম-হেমন্তের যুগলবন্দি বাঙালির স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি।কারণ সেটি নিছক একজন অভিনেতার জন্য একজন গায়কের গান ছিল না।সেটি ছিলঅভিনয় ও সুরের মিলন।মুখ ও কণ্ঠের মিলন।তারকা ও গায়কের মিলন।আর শেষ পর্যন্তদুই মহান শিল্পীর এক আত্মিক সংলাপ।উত্তমকুমারের জন্মদিনে তাই তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি মনে পড়ে যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই কণ্ঠও।যে কণ্ঠ একসময় উত্তমের ঠোঁটে প্রাণ পেয়েছিল।আর সেই কারণেই বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও একটি কথা সত্যি হয়ে আছেউত্তমের মুখে হেমন্তের গানএ যেন উত্তমকুমারেরই আর-একটি কণ্ঠ।জীবন খাতার প্রতি পাতায়যতই লেখো হিসাব নিকাশকিছুই রবে নালুকোচুরির এই যে খেলায়প্রাণের যত দেয়া নেয়াপূর্ণ হবে না।পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যায়, শব্দের পর শব্দ নিঃশেষ হয়ে আসেতবু উত্তম-হেমন্তের সেই অনন্য রসায়নকে সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ করা বোধহয় অসম্ভব।কারণ তাঁদের সম্পর্ক শুধু পর্দায় গাওয়া কিছু গানের সমীকরণ ছিল না; ছিল কণ্ঠ আর অভিনয়ের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন। উত্তম কুমারের ঠোঁটে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ ভেসে উঠত, মনে হতোএকজন অভিনয় করছেন, আর অন্যজন তাঁর মনের কথাগুলো গেয়ে চলেছেন। যেন দুটি মানুষ নন, একই অনুভূতির দুই ভিন্ন প্রকাশ।তাঁদের গান লেখা যায়, গান গাওয়ার ইতিহাস বলা যায়, সিনেমার দৃশ্যের কথা বলা যায়কিন্তু সেই অনুভূতিটুকু ভাষায় ধরা যায় না।উত্তম-হেমন্তকে তাই ব্যাখ্যা করা যায় নাশুধু অনুভব করা যায়।কোনও এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় পুরনো রেকর্ডে - এই পথ যদি না শেষ হয়..., আর চোখের সামনে ভেসে উঠলে উত্তমকুমারের সেই চিরচেনা মুখতখনই বোঝা যায়, কিছু রসায়ন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না।তারা থেকে যায় মানুষের হৃদয়েসুরে, স্মৃতিতে, আর এক অমলিন ভালোবাসায়। উত্তম-হেমন্তের পথ শেষ হইয়াও শেষ হয় না।।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal