• ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Jamalpur

রাজ্য

দামোদরে ইলিশ! খুশির হাওয়া দক্ষিণবঙ্গে। এবার কি নিয়মিত পাওয়া যাবে? প্রশ্ন মুখে মুখে

দক্ষিণবঙ্গে খুশির হাওয়া, পূর্ব বর্ধমান জেলায় দামোদরে জেলের জালে ধরা দিলো রুপালী সুন্দরী। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরে দামোদরে এক জেলের জালে উঠলো প্রায় ১ কেজি ১০০ গ্রামের ইলিশ। স্থানীয় সুত্রে জানা যায় প্রায় ২০ বছর পর জামালপুরের দামোদরে ধরা পড়লো ইলিশ। দামোদরের জলে পাওয়া রূপালী সুন্দরীকে দেখতে স্থানীয় মানুশের ভিড় জমে যায়। কোন পথে জামালপুরে ইলিশ দামোদরে পৌছলো তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে মৎস্য বিশেষজ্ঞ মহলে। নোনা জলের কুলীন মাছ দামোদরের মিষ্টি জলে চলে কোন পথে এল? কেউ কেউ জানাচ্ছেন জামালপুরে থেকে ভাগ হয়ে যাওয়া মুন্ডেশ্বরী নাব্যতা বেড়ে যাওয়ায় জল প্রবাহ বেশী হওয়ায় ইলিশের গতিপথ হয়ত সুগম হয়েছে। দুর্গাপুর ব্যারেজ হয়ে প্রবাহিত দামোদর তার গতিপথ পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের কাছে জ্যোতসিরাম থেকে পরিবর্তন করে এবং তারপরে দুটি চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি দামোদর চ্যানেল (আমতা চ্যানেল নামেও পরিচিত) এবং অপরটি কঙ্কা-মুন্ডেশ্বরী চ্যানেল। মূল চ্যানেলটি শেষ পর্যন্ত হুগলি নদীর (গঙ্গা) সাথে মিলিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।বিশিষ্ট মৎস্য চাষী বৃন্দাবন ঘোষ জানান, যেহেতু গঙ্গা হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে সেক্ষেত্রে বর্ধমান জেলায় দামোদরে ইলিশ পাওয়া খুব একটা আশ্চর্যের বিষয় নয়। গলসি এলাকার দামোদরের পাড়ের বাসিন্দা শিল্পী সুব্রত বৈরাগি জনতার কথাকে জানান, এই এলাকার অনেক জেলে আছেন যারা নিয়মিত ভাবে দামোদরের জলে মাছ ধরে থাকেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন দামোদরে ইলিশ পেয়েছেন তবে তার কোনটায় ৪৫০-৬০০ গ্রামের বেশী নয়। সুব্রত আরো জানান, তবে নিয়মিত ভাবে ইলিশ এখানে পাওয়া যায় না।হটাৎ হাজির হওয়া অতথি কে দেখতে শুক্রবার সকালে জামালপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাছের আড়তে ভিড় জমে যায়। দক্ষিণবঙ্গে টানা বৃষ্টিতে কয়েক দিন আগেই ডিভিসি-র জলাধার থেকে ব্যাপক জল ছাড়ার ফলে বানভাসি হয় জামালপুরের বিভিন্ন এলাকা। মাছ সবসময় স্রোতের বিপরীতে ভেসে বেড়ায়। এখন জামালপুরে ইলিশ ধরার পড়ায় মনে করা হচ্ছে দূর্গাপুরের ডিভিসি-র ব্যারেজ থেকে ছাড়া জলের তোড়ে মোহনা থেকে স্রোতে বিপরীতে ভাসতে ভাসতে কিছু ইলিশ জামালপুরের দামোদরে এসে পড়েছে। ইলিশটি ধরা পড়ে তপন বিশ্বাস নামে এক মৎস্যজীবীর জালে। সেই খবরে খুশির হাওয়া জামালপুর সহ দক্ষিণবঙ্গে, খবর চাউর হতেই অনেকেই জাল হাতে নিয়ে দামোদরের পাড়ে হাজির হয়ে পরেন। যদি তার শিকে ছেঁড়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশটিকে কিনতে অনেকে ইচ্ছা প্রকাশ করায় মাছের আড়তে নিলাম ডাকেন আড়তদার। ১২০০ টাকা থেকে ডাক শুরু হয়, শেষমেশ ২১০০ টাকায় কেজিতে এসে থামে ডাক। জানাযায় জামালপুরের স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মণ বিশ্বাস ওই মাছটি ২,১০০ টাকা কেজি দরে মাছটিকে কিনে নেন। গর্বিত ক্রেতা লক্ষ্মণ বিশ্বাস বলেন, এক কেজি ওজনের জীবন্ত ইলিশ পেয়ে আমি খুবই খুশি। তাই টাকার কথা মাথায় ছিলনা। তায় ২,১০০ টাকায় মাছটি কিনে ফেললাম।স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী এবং আড়তদারেরা জানান, জামালপুর এলাকায় এর আগেও মাছ পাওয়া গেছে। আনুমানিক বছর ২০ আগে দামোদরে ইলিশ পাওয়া যেত। দীর্ঘ ২০ বছর পরে দামোদরের জলে ইলিশ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়। জামালপুর ব্লকের মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিক (FEO) নিত্যানন্দ মণ্ডল জনতার কথাকে জানান, আমি শুনেছি উত্তর মোহনপুর এলাকার মৎস্যজীবী তপন বিশ্বাস মাছটি পেয়েছেন। জামালপুরের বাসস্ট্যান্ডের পাশে মাছের আড়তের আড়তদার প্রভাত পাত্রের আড়তে মাছটি নিলাম হয়েছে। আড়তদার প্রভাত পাত্র বলেন, ভরা বর্ষায় নোনা জল থেকে উঠে এসে মিষ্টি জলে ডিম পাড়তে আসে ইলিস। সেই ভাবেই হয়তো ইলিসটি এসেছিল, এবং কাল্লা এবং জামালপুরের মাঝে ধরা পড়ল। তবে আশার কথা শুনিয়েছেন প্রভাত সহ স্থানীয় মৎস ব্যাবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, ইলিশ হল ঝাঁকের মাছ। একটি যখন ধরা পড়েছে তখন আগামী কয়েকদিনে আরও মাছ ধরা পড়বে। সেই আশায় দক্ষিণবঙ্গের মৎসপ্রেমী রা।

অক্টোবর ০৫, ২০২৪
রাজ্য

শিক্ষক দিবসে মায়েদের সংবর্ধনা দিল জামালপুর এক গ্রাম পঞ্চায়েত

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আমাদের প্রথম শিক্ষক মা যার মাধ্যমে আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষালাভ শুরু হয়। আজকে সেই মায়েদের জামালপুর এক গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হলো।মা-ই প্রথম পাঠশালা, প্রথম আদর্শ শিক্ষক। তাই সন্তান আদর্শ ও সৎ হওয়ার পিছনে মায়ের ভূমিকাই বেশি। একটি সন্তান পৃথিবীতে কত বড় হবে, কত ভালো হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে মায়ের উপর। তাই শিক্ষক দিবসে এবার জীবনের প্রথম শিক্ষক মায়েদের সংবর্ধনা দিলো জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত।উপপ্রধান শাহাবুদ্দিন মন্ডলের সার্বিক উদ্যোগে জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত দফতরেই মায়েদের সম্মান জানালো হলো। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, প্রধান ডলি নন্দী সহ বিশিষ্টরা।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৩
রাজ্য

তিন কুখ্যাত দুস্কৃতী গ্রেফতার, উদ্ধার লক্ষাধিক টাকা মুল্যের সরঞ্জাম

তিনি কুখ্যাত দুস্কৃতিকে গ্রেপ্তার করে লক্ষাধিক টাকা মূলের বোমাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম উদ্ধার করলো পুলিশ। বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পুলিশ হুগলী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় টানা অভিযান চালায়। সেই অভিযানেই ধরা পড়ে দুস্কৃতিরা। পুলিশ জানিয়েছে ,ধৃতদের নাম পিযুশ হালদার, মৃত্যুঞ্জয় শা ওরফে মনি ও মানু সাঁতরা ওরফে বিজয়। এদের মধ্যে পিযুশ জামালপুর থানার কলুপুকুর গ্রামের বাসিন্দা।বাকি দুই ধৃতর মধ্যে মত্যুঞ্জয় হুগলী জেলার শ্রীরামপুর এবং মানু হুগলীর গুড়াপ থানা এলাকার বাসিন্দা । বৃহস্পতিবার তিন দুস্কৃতিকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। আরো চোরাই সামগ্রী উদ্ধার ও চক্রের বাকিদের হদিশ পেতে পুলিশ ধৃতদের ১০ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুপ্রভাত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, গত ২৩ নভেম্বর জৌগ্রামের আমড়ার মোড়ে একটি দোকানের পিছনের দিকে তালা ভেঙে চুরি হয়।তারপরই পুলিশ টেকনোলজি ও সোর্স কাজে লাগিয়ে দুস্কৃতির নাগাল পায়।

নভেম্বর ১০, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে এক পরিত্যক্ত কারখানায় আগুন, দমকল গিয়ে আগুন আয়ত্তে আনে

একটি পরিত্যক্ত কারখানায় আগুন লাগলো পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। বুধবার দুপুরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে জামালপুরের নবগ্রাম ময়না এলাকার একটি বন্ধ কারখানায় ভিতরে আগুন ধরে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান বহুদিন ধরে কারখানাটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এই পরিত্যক্ত কারখানায় কি উৎপাদন হত স্থানীয়রা কেউই বলতে পারছেন না।আগুন লাগার পর পাশের একটি ইট তৈরীর কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় খবর দেওয়া হয় মেমারি দমকল বিভাগে। দমকলের একটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন আয়ত্তে আনে।দমকল আধিকারিক সঞ্জয় কুমার দত্ত বলেন, কারখানার ভিতরে থাকা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিসপত্রে আগুন লাগে। পাশাপাশি সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঝোপঝাড়ে। দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। আর একটি পাম্পসেট দিয়েও পাশের পুকুর থেকে জল নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

নভেম্বর ০২, ২০২২
রাজ্য

দূর্ঘটনার কারন জানতে জামালপুরে গ্রামে পরিদর্শনে এলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা

জামালপুরের কানাঘূষা গ্রামে পরিদর্শনে এলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা। নবান্নের নির্দেশে ওই টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা মৃতের পরিবারে লোকজনদের সvঙ্গেও দেখা করেছেন। গ্রামের পাশ দিয়ে বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুতের তার গিয়েছে। কাঠের খুঁটিতে তার গুলি বাঁধা রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা সেগুলি সরানোর দাবি জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা বিষয়টি দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই খুঁটি থেকেই বিদ্যুতের তার ছিড়ে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। গ্রামের বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হয়েছিলেন। তারপরই এদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন

অক্টোবর ৩০, ২০২২
রাজ্য

যুবতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য বর্ধমানে

পায়ে দড়ি বাঁধা অবস্থায় বাড়ির পিছনে যুবতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের নারায়ণপুর গ্ৰামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জামালপুর থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে। মৃত যুবতীর নাম দুলালী মালিক(২৪)।রোজকার মত শনিবার রাতে দুই বোন ঘরে শুতে যায় রবিবার সকালে ঘরের পিছনের দিকে অংশে কার্ণিশ থেকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তবে দুটি পা দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ছিল সেই জন্য পুরো ঘটনাকে ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। আত্মহত্যা যদি হয় তাহলে পায়ে দড়ি বাঁধা কি করে? নেপথ্যের কারণ কি তা জানতে কৌতুহল গোটা এলাকায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২২
রাজ্য

বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে তরিদাহত হয়ে মৃত্যু হল এক কৃষকের

বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু হল এক কৃষকের। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে বর্ধমানের জামালপুরে। জামালপুর থানার কানঘোষা গ্রামে শুক্রবার এক সরোজ মালিক (৩৩) নামে এক ব্যক্তি চাষের জমিতে যাওয়ার পথে বিদ্যুতের ছেঁড়া তাঁরে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। মৃতদেহ বাড়ির সামনে রেখে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় এলাকার মানুষজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জামালপুর থানার পুলিশ। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয়দের অভিযোগ একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভাগকে জানানো স্বত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এলাকাবাসী জানায়, এর আগে তড়িদাহত হয়ে গবাদি পশু মারা গেছে বেশ কিছু দিন আগে। তারপরেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলে।

অক্টোবর ২৮, ২০২২
রাজ্য

ডাম্পার ও বাইকের দুর্ঘটনায় বর্ধমানের জামালপুরে মৃত্য হল এক যুবকের

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাইক আরোহীর। ঘটনা কে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের থানা মোড় সংলগ্ন এলাকায়। বেপরোয়া ডাম্পারের ধাক্কা মোটরসাইকেলে। আরোহী ছিটকে পড়েন রাস্তায়। তারপরেই ডাম্পারের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে মর্মান্তিক পরিনতি বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে। ঘাতক ডাম্পারটিকে আটক করেছে পুলিশ। চালক ও খালাসি পলাতক। মৃত বাইক আরোহীর নাম উজ্জ্বল কোটাল। বয়স ২৩ বছর। বাড়ি হুগলীর খানাকুলের রঘুনাথপুর এলাকায়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ বর্ধমান মর্গে।জানা গেছে, সুজিপুর থেকে জামালপুর হয়ে খানাকুল ফিরছিলেন উজ্জ্বল কোটাল বাইকে। সে সময় জামালপুর নেতাজী মাঠ এলাকায় থানা মোড় সংলগ্ন রাস্তায় বেপরোয়া ডাম্পার পিছন থেকে বাইকে ধাক্কা মারলে বিপত্তি ঘটে। কিছুক্ষণের জন্য মেমারী তারকেশ্বর রাস্তায় ব্যহত হয় যান চলাচল। জামালপুর থানার পুলিশ দ্রুত হাজির হয় ঘটনাস্থলে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি। ঘাতক ডাম্পারের চালক খালাসি র খোঁজ চলছে ।

অক্টোবর ২৮, ২০২২
দেশ

বাংলাদেশি অনুপ্রেবেশকারি সন্দেহে ব্যাঙ্গালোরে গ্রেপ্তার বর্ধমানের দম্পতি ও শিশুর মুক্তি দাবিতে ভাইফোঁটার দিন অভিনব কর্মসূচী বাংলাপক্ষর

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের দম্পতি পলাশ অধিকারী, তার স্ত্রী শুক্লা অধিকারী ও তাদের দেড় বছরের পুত্র আদিকে গত ২৭ শে জুলাই, ২০২২ সালে বাংলাদেশী তকমা লাগিয়ে গ্রেপ্তার করেছে ব্যাঙ্গালোর পুলিস। FOREIGNERS ORDER ACT, 1948 (U/s-7(2)); FOREIGNERS ACT, 1946 (U/s-14 (B)) ধারায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে। পলাশ ও শুক্লা পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভা অন্তর্গত জৌগ্রামের বাসিন্দা। বাংলা পক্ষের শীর্ষ পারিষদ কৌশিক মাইতি জানান, বিজেপি শাসনাধীন কর্ণাটক সরকার বাঙালির উপর আক্রমণ করেই চলেছে ক্রমাগত। এর আগে বাঙালির বস্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। নানা সময় নানা বাঙালিকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাংলা পক্ষ পলাশ, শুক্লা অধিকারী ও তাঁদের শিশু পুত্রের মুক্তির দাবিতে ভাইফোঁটার দিন কলকাতার রানুছায়া মঞ্চে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচী করল। এইদিন তাঁরা প্রতীকি ভাইফোঁটার আয়োজন করে। ভাইফোঁটার বিশেষ আয়োজনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বসত এক প্লেট মিষ্টি। কিন্তু আজকের এই আয়োজনে প্লেটে কোনও মিষ্টি ছিলো না, কপালে ভাইফোঁটা ছিলো না, কারণ হিসেবে তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ধমানের বাঙালি বোন বাঙালি হওয়ার জন্য ব্যাঙ্গালোরের জেলে বন্দী, সেই বোন শুক্লা অধিকারী আজকের দিন জেলে থাকায় তাঁর ভাইয়েদের ফোঁটা দিতে পারেননি। এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা বাঙালি ভাইবোনদের ব্যাঙ্গালোরের জেল থেকে মুক্ত করে আনবোই। বাঙালি হওয়া কি অপরাধ? বাঙালিকে প্রতিনিয়ত আক্রমণ করা হচ্ছে নানা বিজেপি শাসিত রাজ্যে। আজকের এই পুণ্য ভাইফোঁটার দিনে আমাদের বোন শুক্লা ব্যাঙ্গালোরের জেলে বন্দি৷ আমরা ওদের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়বো। বাংলার সমস্ত চাকরি-কাজ- ব্যবসা দখল করছে বহিরাগতরা, বঞ্চিত হচ্ছে বাঙালিরা। বাধ্য হয়ে তারা অন্য রাজ্যে কাজে যাচ্ছে। তাই যাতে আর বাঙালিকে বাইরে কাজে যেতে না, বেসরকারি চাকরি- ঠিকা কাজ- টেন্ডারে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ সময়ের দাবি। আমরা সেই জন্যও লড়ছি।তিনি আরও জানান, বাংলা পক্ষ ঐ পরিবারের পাশে আছে, আমরা তাদের বাড়িও গেছিলাম, তাদের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয় বিধায়ক অলোক মাঝি ও বাংলার প্রশাসনের সাথেও কথা বলেছে বাংলা পক্ষ। বাংলা পক্ষ ব্যাঙ্গালোরের পুলিস কমিশনারকে ইমেল করেছে, তাদের যাতে জেল থেকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়।গর্গ চট্টোপাধ্যায় জানান, পরিবারের থেকে আমরা একটা ভয়ংকর কথা জানতে পারি, ওনাদের আইনজীবী আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড জমা দিলেও জমির দলিলের ইংরেজি ভার্সান জমা দিতে বলা হয়েছে। বাংলা পক্ষ এই তিন বাঙালির মুক্তির জন্য ব্যাঙ্গালোরে নানা বাঙালি সংগঠন ও আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে। বাংলার বাইরে মূলত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাঙালিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তকমা লাগিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলা পক্ষ এই সভা থেকে দাবী তোলে, ভারতে বাঙালি হিসাবে জন্মানো কি অপরাধ? তিনি আরও জানান, এর একটা বড় সমাধান, বাংলায় সমস্ত বেসরকারি চাকরি, ঠিকা কাজে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চাই। তাহলে বাংলার বাঙালিকে কাজের জন্য আর বাইরে যেতে হবে না।

অক্টোবর ২৭, ২০২২
রাজ্য

দলের ব্লক সভাপতিকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ দলেরেই পঞ্চায়েত প্রধানের

দলের কাজিয়া বিজয়া সম্মেলনের সভাতেও অব্যাহত। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চকদীঘি কালিতলায় বিজয়া সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের উদ্যোগে।সেই সভায় জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খানকে মুর্খ ও ক্লাস ফোর পাশ বলে কটাক্ষ করেন চকদীঘি পঞ্চায়েত প্রধান গৌড় সুন্দর মণ্ডল। তিনি বলেন, দলের সভাপতি শুক্রবার হাজার খানেক লোক নিয়ে বিজয়া সম্মেলনী করেন।কয়েকটা হার্মাদ নিয়ে তিনি দল করছেন। শনিবারের বিজয়া সম্মেলনে যাতে কর্মী সমর্থকরা না আসতে পারে, তারজন্য বাস ইউনিয়নকে চাপ দেওয়া হয়েছে। বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবুও দলের কর্মী সমর্থকরা হাজির হয়েছেন।তিনি বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও জেলা সভাপতি বলেছেন সবাইকে নিয়ে চলতে।অথচ ব্লক সভাপতি পুরনো কর্মী সমর্থকদের বাদ দিয়ে হার্মাদ নিয়ে দল করছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২২
রাজনীতি

জামালপুরের পঞ্চায়েত সমিতির মূল ফটকের পাশে ফেষ্টুন ঘিরে চাঞ্চল্য

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের পঞ্চায়েত সমিতির মূল ফটকের পাশে ফেষ্টুন ঘিরে চাঞ্চল্য। নাম না করে বিজেপিকে তোপ পূর্ব-বর্ধমান জেলার তৃণমূলে মুখপাত্র দেবু টুডুর। পাশাপাশি বিজেপি র দাবি এই ফেষ্টুন জনরোষে মানুষ লাগিয়েছে।পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের পঞ্চায়েতে সমিতির অফিসের মূল ফটকের পাশেই আজ সকালে একটি ফেষ্টুন নজরে আসে এলাকার মানুষের। ফেষ্টুনে লেখা রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাটমানির টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা অবিলম্বে দিতে হবে। রাতারাতি বড়লোক হওয়া তৃণমূল নেতাদের অবিলম্বে টাকার হিসেব দিতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছে কাজের নামে যে কাটমানি নেয়া হয়েছে তা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।স্বাভাবিকভাবেই এই ফেষ্টুন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠেছে বর্ধমান জেলার জামালপুরে। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু জানান, যারা কেন্দ্রের টাকা দিচ্ছে না মানুষকে বঞ্চিত করছে তারাই রাতের অন্ধকারে এই পোস্টার লাগিয়েছে এবং আগামী দিনে যদি কেন্দ্র টাকা না দেয় আবাস যোজনা ও একশ দিনের কাজের। গ্রামে গ্রামে বৃহত্তর প্রতিবাদ গড়ে উঠবে। মানুষের কাছে এর জবাব দিতে হবে।পাশাপাশি বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলার সহ-সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, এলাকার মানুষ জনরোষে এই ফেষ্টুন লাগিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘিরে জামালপুরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা

অক্টোবর ২১, ২০২২
রাজনীতি

দলের আস্থায়ী কার্যালয় থেকে বোমা উদ্ধারে চাঞ্চল্য, দলীয় কোন্দল দাবী দুই গোষ্ঠীর

তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের ভিতর থেকে তাজা বোম উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। পুলিশ জামালপুরের জোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েত অমরপুর গ্রামের হিরু সেখের নির্মীয়মান বাড়ি থেকে ৯ টি তাজা বোমা উদ্ধার করে। জোৎশ্রীরাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি কার্তিক ঘোষের দাবী দলীয় গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে তাদেরকে হেনস্তা করার জন্যই বোমা রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খানের গোষ্ঠীর লোকজনই এখানে বোম রেখেছে তাদের বদনাম করার জন্য। তারা প্রদীপ পাল ও অরবিন্দ ভট্টাচার্যের সঙ্গে দল করেন। তারা দলের পুরনো কর্মী।একই দাবী করেন জোৎশ্রীরাম পঞ্চায়েতের সদস্যা রেবা ধারা পঞ্চায়েত সদস্য গোষ্ঠ পাল। তারা বলেন, ব্লক সভাপতি মেহমুদ খানের অনুগামীরা এই ফাঁকা অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে বোম রেখেছে। এখানে বাচ্চারাও খেলে। নির্মীয়মান বাড়ি মালিক তৃণমূল কর্মী হিরু সেখ বলেন,এখানে বোম রেখে তাদের বদনাম করা হচ্ছে।বিজেপি নেতা রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম থেকেই গোষ্ঠী কোন্দল আছে। আর এতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছে। নিজেদের মধ্যে বালির টাকার ভাগ নিয়ে অশান্তি করছে তৃণমূল নেতারা। তার ফল ভোগ করছে এলাকার বাসিন্দারা।রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি দেবু টুডু বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে বলতে পারবো। তবে পুলিশ প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই বিষয়ে জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

অক্টোবর ১৫, ২০২২
রাজ্য

'বলরামদেব প্রচুর পরিশ্রম করতেন বলে সন্ধ্যাবেলা সুরা পান করতেন' বর্ধমানের বিজেপি নেতার ভিডিও ভাইরাল

বলরামদেব প্রাচীনকালে সেচের বন্দোবস্ত করেছিলেন। প্রচুর পরিশ্রম করতেন। সেই কারণে সন্ধ্যাবেলা সুরা পান করতেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপসের এমনই বলতে শোনা যাচ্ছে বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ তা কে (যদিও জনতার কথা ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি)। সভায় বক্তব্য রাখছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওই তিনি বলছেন, প্রাচীনকালে বলরামদেব সেচের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি খুব খাটাখাটুনি করতেন। সেই কারণে সন্ধ্যাবেলা সুরা পান করতেন। সুরা পান করলেও নিজেকে ঠান্ডা রেখে ঘুমিয়ে যেতেন। আবার সকাল থেকে কাজ আর কাজ। শুধু কাজ নিয়েই থাকতেন। তার এই ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। প্রবীণ বিজেপি নেতা নরেশ কোনার বলেন, এমনটা বলা ঠিক হয়নি। উনি এই তথ্য কোথা থেকে পেলেন জানিনা। দেবতাদের নিয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়। সভায় বক্তব্য রাখছিলেন।ভাইরাল হওয়া ভিডিওই তিনি বলছেন, প্রাচীনকালে বলরামদেব সেচের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি খুব খাটাখাটুনি করতেন। সেই কারণে সন্ধ্যাবেলা সুরা পান করতেন। সুরা পান করলেও নিজেকে ঠান্ডা রেখে ঘুমিয়ে যেতেন। আবার সকাল থেকে কাজ আর কাজ। শুধু কাজ নিয়েই থাকতেন। তার এই ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব।প্রবীণ বিজেপি নেতা নরেশ কোনার বলেন, এমনটা বলা ঠিক হয়নি। উনি এই তথ্য কোথা থেকে পেলেন জানিনা। দেবতাদের নিয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়।সভায় বক্তব্য রাখছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওই তিনি বলছেন, প্রাচীনকালে বলরামদেব সেচের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি খুব খাটাখাটুনি করতেন। সেই কারণে সন্ধ্যাবেলা সুরা পান করতেন। সুরা পান করলেও নিজেকে ঠান্ডা রেখে ঘুমিয়ে যেতেন। আবার সকাল থেকে কাজ আর কাজ। শুধু কাজ নিয়েই থাকতেন। তার এই ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। প্রবীণ বিজেপি নেতা নরেশ কোনার বলেন, এমনটা বলা ঠিক হয়নি। উনি এই তথ্য কোথা থেকে পেলেন জানিনা। দেবতাদের নিয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২২
রাজ্য

বর্ধিত হারে ডিএ না দেওয়ায় কর্মবিরতিতে অংশগ্রহণ করা শিক্ষক ও কলেজের কর্মীদের হুমকি জামালপুরের ছাত্র নেতার

বর্ধিত হারে মহার্ঘভাতা সহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার ২ ঘন্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল বাম সমর্থিত কর্মি সংগঠন। সেই কর্মবিরতির ডাকে সামিল হওয়ার জন্য পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর কলেজের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের রুমে ঢুকে শাসালেন ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিট্টু মল্লিক। তাঁর আচরণে শিক্ষক মহলের অনেকেই আরাবুলের ছায়া দেখতে পেয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানিয়েছেন।টেবিল চাপড়ে শিক্ষকদের হুঁশিয়ারিও দিলেন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ এই ছাত্র নেতা। প্রসঙ্গত, তিনি জামালপুর কলেজের ছাত্র নন। কলেজ পড়ুয়া না হয়েও শুধুমাত্র শাসক দলের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে একজন যুবক কি ভাবে কলেজ শিক্ষকদের এইভাবে হুমকি ও হুঁশিয়ারি দিতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরাই। মঙ্গলবার ২ ঘন্টার কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ কলেজে আটকেও রাখা হয়।

আগস্ট ৩১, ২০২২
রাজ্য

প্লাস্টিক ও ডেঙ্গু মুক্ত গ্রাম তৈরির লক্ষ্যে জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত

দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবস। এদিন পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিল জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত। আজকের দিনেই প্লাস্টিক ও ডেঙ্গু মুক্ত গ্রাম তৈরির লক্ষ্যে পদযাত্রার আয়োজন করে জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত। পদযাত্রা থেকে লিফলেট ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে পথ চলতি সাধারণ মানুষজন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের প্লাস্টিক না ব্যবহার করার আবেদন জানানো হয়। তুলে ধরা হয় প্লাস্টিকের ক্ষতিকারক দিকগুলি। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়েও সচেতন বার্তা প্রেরণ করা হয়। সামনের সারিতে থেকে পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সাহাবুদ্দিন মন্ডল। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এমন অভিনব উদ্যোগকে সাদুবাদ জানিয়েছেন সকল স্তরের মানুষজন। এদিন সরেজমিন নেমে ব্যবসায়ীদের প্লাস্টিক কিংবা প্লাস্টিকজাত জিনিস না ব্যবহার করার অনুরোধ রাখেন স্বয়ং উপপ্রধান সাহাবুদ্দিন মন্ডল। এছাড়াও তিনি ডেঙ্গু নিয়েও সচেতন করেন। পাশাপাশি এদিন কচিকাঁচাদের হাতে একটি করে জীবনস্বরূপ গাছ তুলে দেওয়া হয়। কারণ, পরিবেশ ও দেশ ভালো রাখতে গাছের বিকল্প কিছু হয় না। এভাবেই স্বাধীনতা দিবস পালন করলো জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত।

আগস্ট ১৫, ২০২২
রাজ্য

অনুব্রতর গ্রেপ্তারে বঙ্গ বিজেপির পালে হাওয়া লাগার উচ্ছ্বাস

গুরু পাচার মামলায় সিবিআই বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করতেই উজ্জীবিত বঙ্গ বিজেপি। যার রেশ শুক্রবার দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। কোমরে দড়ি পরিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের মুখোশ পরিয়ে এক ব্যক্তিকে নিয়ে এদিন বিকালে জামালপুর বাজার ও ঝুলনতলায় ঘুরলেন বিজেপি নেতা ও কর্মীরা।পাশাপাশি তারা বাদ্যি বাজিয়ে বিলি করলেন নকুলদানা ও গুড় বাতাসা। ঝুলন তলায় কোমরে দড়ি পরানো অনুব্রতকে দেখে দর্শনার্থীদের অনেকেই থমকে দাঁড়িয়ে যান। প্রতীকী অনুব্রত তাঁদের হাতে নকুলদানা ও গুড় বাতাসা তুলে দেওয়ার পর তাঁরা মেলা তলাতেই হেঁসে গড়াগড়ি খেলেন। যদিও বিজেপির এই কর্মসূচী নিয়ে কোন গোলযোগ অশান্তির কোন ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য কয়লা ও গরু পাচার কান্ডে বৃহস্পতিবার সাতসকালে বোলপুর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হন দক্ষিণ বঙ্গের তৃনমূলের এই ডাকসাইটে নেতা। সিবিআইয়ের হাতে অনুব্রত গ্রেপ্তার হতেই হটাৎ করে যেন বঙ্গ বিজেপি পালে হাওয়া লেগেছে। ২১ বিধানসভার ফল বেরবার পর থেকে সেভাবে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের চোখে পড়েনি। বৃহস্পতিবার বেলা বারতেই বিজেপি কর্মি সমর্থকদের উচ্ছাস চোখে পরার মত।

আগস্ট ১৩, ২০২২
রাজ্য

শহর কলকাতার অনুকরণে গ্রামীণ এলাকার সড়ক পথের পরিচিতিতেও স্থান করে নিলেন বিশ্বকবি ও বিদ্রোহী কবি

মনীষীদের নামেই পরিচিতি পেয়ে আসছে বাংলার রাজধানী শহর কলকাতার একাধীক রাজপথ। তা নিয়ে কলকাতাবাসীর গর্বের অন্ত নেই। তবে আর শহর আঁকড়ে থাকা নয়। এবার শহর ছাড়িয়ে গ্রামীণ এলাকার সড়ক পথের নামকরণেও জায়গা করে নিলেন বাংলার মনীষীরা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে চালু হল বাইপাশ রোড। শুধু মনীষীদের নাম দিয়েই দায় সারেননি জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্তারা। সুসজ্জিত বেদী তৈরি করে বাইপাশ রোডের এক প্রান্তে কাজী নজরুল ইসলাম আর অপর প্রান্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ণাবয়ব মূর্তিও বসানো হয়েছে।কবিগুরুর জন্মদিবস সোমবার ঘটা করে পালিত হয় জামালপুরে। ওই দিনই ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের উপস্থিতিতে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। আগামী ২৪ মে বিদ্রোহী কবীর জন্মদিবসের দিন তাঁরও মূর্তিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। কলকাতা শহরের অনুকরণে মূর্তি বসিয়ে গ্রামের সড়ক পথের নামকরণ হওয়ায় যারপরনাই খুশি জামালপুর বাসী।ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গায়েছে ,জেলার মেমারি থেকে ৪০ কিমি পথ পেরিয়ে পৌছানো যায় হুগলীর তারকেশ্বর। সেই দিকে যেতে ১৫ নম্বর এই রাজ্য সড়কে জামালপুরের পুলমাথা এলাকা থেকে বাঁক ঘুরে হাফ কিমির মতো পথ গেলেই পড়ে দোবাঁধি এলাকা। এই দোবাঁধি এলাকাতাতেই একই রাস্তা দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটি রাস্তা গিয়েছে দামোদরের উপরে থাকা হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুতে ওঠার জন্য। অপর ভাগটি দিয়ে সোজা তারকেশ্বর যাওয়া যায়। বাইপাস রোডটি জামালপুর হাসপাতাল যাবার রাস্তার কাছ অবধি গিয়ে তারকেশ্বর যাবার রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। এই এলাকাটিকে জামালপুর ব্লকের হেডকোয়ার্টার হিসাবেই ধরা হয়। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতি নিজস্ব তহবিল থেকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে এই দোবাঁধি এলাকাতে প্রতিস্থাপন করেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি। আর পুলমাথা এলাকায় কাজী নজরুল ইসলামের পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হয়েছে।পাশাপাশি সমিতির তরফে আনুমানিক হাফ কিমি-র এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পথের নাম করণ করা হয়েছে রবীন্দ্র-নজরুল বাইপাশ।এই বিষয়ে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন বলেন, এলাকার উন্নয়নে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতি অনেক কাজ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হল বাইপাস রোডের দুই প্রান্তের এক প্রান্তে বিশ্বকবি ও অন্য প্রান্তে বিদ্রোহী কবির পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসিয়ে সড়ক পথে একটা পরিচিতি দেওয়া। কলকাতা কিংবা অন্য জেলার মানুষজন যখন গ্রামীন এলাকার এই পথ ধরে যাবেন তখন তাঁরাও শহরের ছোঁয়া খুঁজে পাবেন। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ্য ভূতনাথ মালিক বলেন, সদিচ্ছা থাকলে গ্রামকেও শহরের আদলে সাজানো যায়। আমরা সেই লক্ষেই যেমন এগিয়ে যেতে চাইছি ,তেমনি চাইছি বাংলার বিশিষ্ঠ ব্যক্তি ও মনীষীদের মর্যাদা দিয়ে তাঁদের জীবন ও দর্শনকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে। তাই পঞ্চায়েত সমিতি এমন কর্মকাণ্ডে সামিল হয়েছে। জামালপুর হাসপাতাল যাবার রাস্তার কাছে যে জায়গায় বাইপাশ রোডটি শেষ হচ্ছে সেই খানে আগামী আর কয়েক মাসের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হবে। তখন বাইপাশ রোডটির এক প্রান্ত রবীন্দ্র- নজরুল বাইপাশ, আর অপর প্রান্ত রবীন্দ্র -বিবেকানন্দ বাইপাশ নামেই পরিচিতি পাবে। ভূতনাথবাবু এও জানান, শ্রীচৈতন্য দেবের পদধূলি ধন্য জামালপুর ব্লকের কুলীন গ্রামের পরিচিতি সারা দেশ জুড়ে রয়েছে। হিন্দু ও বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান এই কুলীন গ্রাম। এই গ্রামেরই ভূমিপুত্র মালাধর বসু প্রথম ভাগবত শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য রচনা করেছিলেন। সেই মালাধর বসুকে সন্মান জানিয়ে তাঁর একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি মেমারি-জৌগ্রাম রোডের কুলীনগ্রাম সংলগ্ন দত্তপাড়া মোড়ে প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কাজটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবার পর ওই জায়গাটিকে মালাধর বসু মোড় নামেই পরিচিতি দেওয়া হবে।বিডিও (জামালপুর)শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, জামালপুরের বাইপাশ রোডটি দুই বরেণ্য মানুষের পরিচয়ে পরিচিতি পাবে এটাই সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। মূর্তি প্রতিস্থাপনের মধ্যদিয়ে আগামী দিনে বাংলার আরও অনেক গুণীজন ও মনীষীকে জামালপুর বাসীর সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মে ১০, ২০২২
রাজ্য

চেরি ফল, কমলা ও লিচু দিয়ে সাজানো গাড়িতে চড়ে বিয়ে করতে গিয়ে তাক লাগালো বর

বিয়ে করতে যাবার আগেই রীতিমতো সেলিব্রিটি বনে গেলেন বর। আর এর কারণটাও যথেষ্ট সড়া ফেলে দেওয়ার মতোই। ঐতিহ্য মনে নতুন ধুতি পাঞ্জাবি পরিহিত বর অভিষেক ঘোষ মাথায় টোপর চাপিয়ে ও গলায় রজনীগন্ধার ঝুলিয়ে বিয়ে করতে যাবার জন্য রওনা হন ঠিকই। কিন্তু বরের গাড়িটি অর্থাৎ বাহনটি ছিল একেবারে ব্যতিক্রমি সাজে সজ্জিত। ফুল নয়, তার বদলে চেরি ফল, লিচু ,কমলা লেবু আর লিচুর পাতা দিয়ে অপরুপ ভাবে সাজানো ছিল বরের গাড়ি। যা দেখে নেটিজেনদের পাশাপাশি মুগ্ধ কণে পরিবারের সদস্যরাও।বর অভিষেক ঘোষের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার হরগোবিন্দপুর গ্রামে। নিজের বিয়েতে ব্যতিক্রমি কিছু একটা করার ইচ্ছা জাগে সংস্কৃতি মনস্কো অভিষেকের। তাই এই ব্যাপারে সে বেছে নেয় বিয়ে করতে যাবার গাড়িটিকেই। যেমন ভাবা তেমনই কাজ। এর জন্যে অভিষেক যোগাযোগ করে জামালপুরের হাটতলা এলাকা নিবাসী শিল্পী রবীন্দ্রনাথ পালের সঙ্গে। তিনি অভিষেককে ফুলের বদলে হরেক রকম ফল দিয়ে বিয়ে করতে যাবার গাড়িটি সাজানোর প্রস্তাব দেন।সেই প্রস্তাব তৎক্ষণাত অভিষেক লুফে নেয়। চেরি ফল ,লিচু, কমলা লেবু আর লিচু গাছের পাতা দিয়ে সাজানো চারচাকা গাড়িতে চড়েই অভিষেক বৃহস্পতিবার রাতে পাত্রীর বাড়ি মেমারির দেবীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।এর আগে আঙুর আর চেরি ফল দিয়ে বরের গাড়ি সাজিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন শিল্পী রবীন্দ্রনাথ পাল। আর এবার লিচু, চেরি ফল আর কমলা লেবু দিয়ে বরের গাড়ি সাজিয়ে সকলের প্রশংসা কুড়িয়ে নিলেন শিল্পী রবীন্দ্রনাথ। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন ফুল দিয়ে বরের গাড়ি সাজানোটার মধ্যে নতুনত্ব কিছু নেই। সেই তুলনায় হরেক রকম ফল দিয়ে বরের গাড়ি সাজানোর মধ্যে আলাদা একটা চমক থাকে। অভিষেকও তাঁর নিজের বিয়েতে তেমন চকমই দিতে চেয়েছিল। তাই ৩ কেজি চেরি ফল,২৬ কেজি লিচু, ৬০ টি কমলা লেবু ও লিচু গাছের পাতা দিয়ে বর অভিষেকের গাড়িটি নজরকাড়া ভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন। বর হিসাবে অভিষেককে বাকিদের থেকে আলাদা ভাবে তুলে ধরতেই এতসব কর্মকাণ্ড বলে শিল্পী দাবী করেছেন।অভিষেক ঘোষ জানান, বিয়ে করতে যাবেন বলে তাঁর বাহন টিকে শিল্পী রবীন্দ্রনাথ পাল যে ভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন তা এককথায় অভিনব। এর সব ক্রেডিটটাই শিল্পীর। শিল্পীর এই ভাবনার তারিফ তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোকজনও না করে পারেন নি। অভিষেক এও বলেন,ফল দিয়ে সাজানো গাড়িতে চড়ে বিয়ে করতে গেছি দেখে কনে বাড়ির আমন্ত্রিতরাও মুগ্ধ। আমিও বাহবা কুড়োলাম।

এপ্রিল ২৯, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল নেতাদের বিক্রী করা ওভারলোড মাটি বোঝাই ডাম্পারের চাকায় পিষ্ট নিরীহ গ্রামবাসী, বিক্ষোভ

প্রশাসন ও ভূমি দফতরকে অন্ধকারে রেখেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের জৌগ্রামে চলছিল পুকুরের মাটি কেটে পাচার। তৃণমূলের নেতারাই পুকুরের মাটি কেটে পাচার করাচ্ছে বলে আগে থেকেই এলাকায় গুঞ্জনও ছড়িয়ে ছিল। সেই গুঞ্জনই শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমানিত হয় শনিবার সকালে ওভার লোড মাটি বোঝাই ডাম্পারের ধাক্কায় এলাকার প্রৌঢ় বরুণ রক্ষিত(৫৮) এর মৃত্যুর ঘটনার পরেই।ঘটনা জানাজানি হতেই জৌগ্রামের শীতলাতলা এলাকায় বাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা বরুণ রক্ষিতের দেহ ও ঘাতক ডাম্পারটি আটকে রেখে দুর্ঘটনাস্থল এলাকায় বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। খবর পেয়ে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) সুপ্রভাত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে জামালপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছায়।মৃতদেহ উদ্ধার করতে গিয়েও পুলিশ মৃতর পরিবার ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে। প্রায় ঘন্টা তিনেক ধরে মৃতদেহ আটকে রেখে চলে বিক্ষোভ।পুলিশ অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ সামাল দিয়ে বেলা পৌনে ১২ টা নাগাদ মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ময়নাতদন্তের জন্য এদিনই মৃত ব্যক্তির দেহ পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ মর্গে।ঘাতক ডাম্পার আটক করে পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।পাশাপাশি পুলিশ ডাম্পারের চালক ও খালাসির সন্ধানও চালাচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বরুণ রক্ষিতের বাড়ি জৌগ্রামের উত্তর পাড়ায়। এদিন সকালে তিনি সাইকেলে চেপে বাজার যাচ্ছিলেন। জৌগ্রাম শীতলাতলা এলাকায় তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মৃতর ভাগ্নে সুরজিত রক্ষিত ও এলাকাবাসী শিবু পোড়েল জানান, জৌগ্রামের জলেশ্বর তলা এলাকায় রয়েছে প্রাচীন শিব মন্দির। সেই মন্দিরের কাছেই রয়েছে বড় দেবত্তর পুকুর। বিগত তিন চারদিন যাবৎ জেসিবি মেসিন দিয়ে ওই পুকুরের মাটি তুলে ডাম্পারে লোড করে পাচার করা হচ্ছে।অজস্র মাটি বোঝাই ডাম্পার এখন সারাদিন ধরে জৌগ্রাম- রাণাপাড়া রোড দিয়ে যাতাযাত করছে। সুরজিত রক্ষিত অভিযোগে বলেন,এদিন সকালে আমার মামা বরুণ রক্ষিত সাইকেলে চেপে বাজারে যাচ্ছিলেন। তখন বেপরোয়া গতীতে চলা ওভারলোড মাটি বোঝাই একটি ডাম্পার আমার মামাকে ধাক্কা মারে। মামা মাটিতে পড়ে গেলে ডাম্পারের চাকা মামার মাথা উপর দিয়ে চলে যায়। মামা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।মৃতর আত্মীয় পরিজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগে জানিয়েছেন,এলাকার ঐতিহ্যশালী জলেশ্বর শিব মন্দিরের দেবত্তর সম্পতির মধ্যেই পড়ে ওই পুকুরটি। ওই দেবত্তর সম্পত্তির অন্যতম সেবাইত অরবিন্দ ভট্টাচার্য্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। তিনি ইতিপূর্বে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব সামলেছেন। এখনও অরবিন্দ ভট্টাচার্য্য জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। বাকি সেবাইত গণ অরবিন্দ বাবুদেরই আত্মীয়।এলাকাবাসীরঅভিযোগ প্রশাসন ও ভূমি দফতরকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে সেবাইত অরবিন্দ ভট্টাচার্য্য ও জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য মৃদুল কান্তি মণ্ডল এবং এলাকার তৃণমূল কর্মী আফজল মোল্লা নিজেদের মধ্যে রফা করে পুকুরের মাটি তুলে চড়া দামে বিক্রী করে দিচ্ছে। ২ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজের জন্য যাঁরা মাটি কিনছে তাঁদেরকেই এই তৃণমূল নেতারা জলেশ্বরের পুকুরের মাটি কেটে বিক্রী করেছে বলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগে জানিয়েছেন।এই বিষয়ে জানতে তৃণমূল নেতা তথা জৌগ্রামের জলেশ্বর শিব মন্দিরের সেবাইত অরবিন্দ ভট্টাচার্য্যর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় । তিনি বলেন,আমি ছাড়াও আমার পরিবারে আরও তিন জন জলেশ্বর শিব মন্দিরের দেবত্তর সম্পত্তির সেবাইত।জৌগ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মৃদুল কান্তি মণ্ডল ও আফজল মোল্লার সঙ্গে আমাদের সকল সেবাইতের একটা রফা চুক্তি হয়। সেই চুক্তিপত্রে আমিও সই করি।চুক্তি অনুযায়ী ঠিক হয়েছিল পুকুরের পাড় বাঁধিয়ে দিয়ে বাকি পুকুরের মাটি ওরা বিক্রী করবে।কত টাকার রফা চুক্তি হয় সেই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানাতে চান নি অরবিন্দবাবু। তবে তিনি এই কথা কবুল করেন,২ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজের জন্য যাঁরা মাটি কিনছে তাঁদেরকেই মৃদুলরা মাটি বিক্রী করবে বলে শুনেছিলেন। পুকুরের মাটি তুলেনিয়ে বিক্রীর ব্যাপারে ভূমি দফতরের অনুমোদন নেওয়ার ব্যাপরাটা মৃদুল দেখে নেবে বলেছিল।শেষ অবধি ভূমি দফতরের অনুমোদন মৃদুল নিয়েছিল কিনা তা জানেন না বলে অরবিন্দ ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।পঞ্চায়েত সদস্য মৃদুল কান্তি মণ্ডল যদিও কোন রাখঢাক না রেখে স্বীকার করে নেন, জলেশ্বর শিব মন্দিরের দেবত্তর পুকুরের মাটি জেসিবি দিয়ে কেটে ডাম্পারে লোড করে তাঁরা ২ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসানের কাজের জায়গায় বিক্রীর জন্য তিন দিন হল পাঠাচ্ছেন। ভূমি সংস্কার দপ্তর এর অনুমোদন নেননি বলে মৃদুল কান্তি মন্ডল স্বীকার করে নেন। এই ঘটনা নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে জামালপুর ব্লকের বিজেপি নেতা জীতেন্দ্র নাথ ডকাল বলেন, বালি ,মাটি সবকিছু থেকেই অবৈধ ভাবে মুনাফা লোটার জন্য এখন দৌড়াচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা।আর মুনাফালোভী নেতাদের ঠিক করা ওভারলোড মাটিবাহী ডাম্পারের চাকায় পিষে মরতে হল নিরীহ গ্রামবাসীকে। এটাই এখন বাংলার সাধারণ মানুষের ভবিতব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এপ্রিল ১০, ২০২২
রাজ্য

রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মাথায় উনান আর কাঁধে জ্বালানি কাঠ নিয়ে তৃণমূলের অভিনব প্রতিবাদ

দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের মুখে হাসি ফুটবে বলে জানিয়ে কেন্দ্রের সরকার ঘটাকরে চালু করেছিল উজ্জ্বলা গ্যাস যোজনা। সেই এলপিজি গ্যাসের সিলিণ্ডার প্রতি দাম এখন ১০০০ টাকা ছুঁয়েছে। আর তার কারণেই গ্রাম গঞ্জের দরিদ্র পরিবারের মহিলারা এখন এলপিজি গ্যাস ছেড়ে ফের অপরিস্কার জ্বালানি ব্যবহারেই ফিরে এসেছে। কেন্দ্রের মোদী সরকারের এই ব্যর্থতা জনসমক্ষে তুলে ধরতে হাতে উনান ও কাঁধে জ্বালানি কাঠ নিয়ে তৃণমূলের মিছিলে হাঁটলেন মহিলারা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরোধীতায় মঙ্গলবার এমন অভিনব প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতৃত্ব যদিও তৃণমূলের এমন মিছিলের আয়োজনকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাঁদের বক্তব্য, এমন মিছিল থেকেই পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বাস্তবে গৃহিণীদের দুর্গতি ঘোচাতে পারে নি।দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী এদিন পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে পথে নামে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কর্মীরা। প্রতিবাদ থেকে পিছিয়ে থাকেনি জামালপুর ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরাও। জামালপুর ব্লক তৃণমূল যুব যুব কংগ্রেসের সভাপতি ভূতনাথ মালিকের নেতৃত্বে এদিন জামালপুর পুলমাথা এলাকা থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। প্রায় দেড় কিমি পথ পরিক্রমা করে প্রতিবাদ মিছিল শেষ হয় হরেকৃষ্ণ কোঙার সেতুর কাছে। মিছিলে জামালপুরের বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অলোক মাঝি, ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেহেমুদ খাঁন সহ অন্য নেতারা অংশ নেন।প্রতিবাদ মিছিলের একেবারে প্রথম সারিতে থাকেন তৃণমূল সমর্থক গৃহস্থ পরিবারের মহিলারা। তাঁদের অনেকে মাথায় উনান ও কাঁধে জ্বালানি কাঠের বোঝা নিয়ে মিছিলে হাঁটেন। রাজনৈতিক দলের মিছিলে উনান ও জ্বালানি কাঠের বোঝা নিয়ে হাঁটার কারণ প্রসঙ্গে রুপা দাস ও সন্ধ্যারাণী ল্যাঙ্কা বলেন, আমরা দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারের বধূ। উনানে কাঠ কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে আগে পরিবারে রান্নাবান্না হত।মোদী সরকারের কথায় বিশ্বাস করে এলপিজি গ্যাসের কানেকশান নিয়েছিলেন। তার পর করোনা অতিমারির প্রভাবের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউন জারি থাকে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আমাদের মত দরিদ্র পরিবার গুলির সদস্যদের আর্থিক রোজগার বাড়ে নি। বরং কমেছে। কিন্তু এসবের কোনকিছুরই খোঁজ খবর না রেখে এলপিজি গ্যাসের সিলিণ্ডার প্রতি দাম এখন প্রায় ১০০০ টাকার মত করে দিয়েছে। এত দামে গ্যাস সিলিণ্ডার কিনে আর বাড়িতে রান্নাবান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই খালি গ্যাস সিলিণ্ডার ও ওভেন বাড়ির চৌকির নিচে রেখে দিয়ে এখন ফের আগের মতই কাঠের উনানে রান্না করছেন। তাই মোদী সরকারের এমন কীর্তি জনসমক্ষে তুলে ধরতেই এদিন মাথায় উনান ও কাঁধে জ্বালানি কাঠ নিয়ে হেঁঠেছেন বলে রুপা দাস ও সন্ধ্যারাণী ল্যাঙ্কা মন্তব্য করেন।বিধায়ক অলোক মাঝি বলেন, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন কি ভুল তাঁরা করেছেন। এদিনের প্রতিবাদ মিছিলে সেই ভুলেরই প্রকাশ ধরা পড়েছে সাধারণ গৃহস্থ পরিবারের মহিলাদের মাথায় উনান ও কাঁধে জ্বালনি কাঠ নিয়ে হাঁটায় মধ্য দিয়ে। ব্লক তৃণমূল যুব সভাপতি ভূতনাথ মালিক জানান, শুধু রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানোই নয়। পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই কেন্দ্রের মোদী সরকার পেট্রোল, ডিজেল এমনকি জীবনদায়ী ওষুদের দামও বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর বিজেপি নেতারা সবার বিকাশের বুলি আওড়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে স্বরুপ এখন গ্রামের মহিলারা উনান ও জ্বালানি কাঠ নিয়ে পথে নামছে। আগামী দিনে এই মহিলারাই ভোটের বাক্সে বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিয়ে দেবে।

মার্চ ২৯, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

হুমায়ুন গ্রেফতার, অধীরের অবস্থান! রেজিনগর উপনির্বাচনে দিনভর তপ্ত রাজনীতি, "জিতবে বিজেপিই" - শুভেন্দু

রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। শাসক দলের বিরুদ্ধে বুথ দখল, ভোট লুট এবং বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস। অভিযোগের প্রতিবাদে বহরমপুরে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে অবস্থান বিক্ষোভও হয়। গ্রেফতার করা হয় আজপ নেতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। তবে ভোটের দিন সকালেই সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের গ্রেপ্তারি। তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ রেজিনগর উপনির্বাচনে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। সকালে শক্তিপুরে নিজের বাড়ির কাছের বুথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোট দেন হুমায়ুন। বুথ থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে কুকুর বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি বলেন, কুকুরকে কীভাবে মুগুর মেরে শায়েস্তা করতে হয়, তা তিনি ভালোভাবেই জানেন। প্রয়োজনে পাল্টা অ্যাটাকের কথাও বলেন তিনি।এরপর রেজিনগর পার্টি অফিসে যাওয়ার পথে সেখানে পৌঁছে যায় রেজিনগর থানার আইসি। হুমায়ুনকে পার্টি অফিস ছেড়ে চলে যেতে বলা হলে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা শুরু হয়। পরে আইসির নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেই হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোটের দিন এভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘোরাফেরা করা যায় না, একথা একজন বিধায়কের জানা দরকার বলে জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে আমাদের ব্যবধান অনেকটা বাড়বে। গতবারের থেকে ৫থেকে ৬ গুন তো বাডডবেই। মার্জিন কম হলেও রেজিনগরে আমরা জিতবো। মুসলিম যুবক ও মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, রেজিনগরে নিশ্চুপ সন্ত্রাস ও ভোট লুট চলছে। তাঁর দাবি, পুলিশ বিজেপির ক্যাডারের ভূমিকা পালন করছে এবং কংগ্রেস এজেন্টদের বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হুমায়ুনের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে অধীর বলেন, তাঁকে দিয়ে নাটক করানো হচ্ছে এবং তিনি বিজেপির গেস্ট আর্টিস্ট।মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল ইসলাম চৌধুরীর অভিযোগ, পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে দিয়ে বুথ দখল করেছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার দাবি, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। যদিও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত রেজিনগরে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

বন্যপ্রাণী সপ্তাহে দীননাথ দাস বিদ্যালয়ে ফিটনেস ও পরিবেশ সচেতনতার পাঠ

ফিট ইন্ডিয়া থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিপদশরীরচর্চা, কুইজ ও বন্যপ্রাণী পরিচিতির মাধ্যমে দিনভর শিক্ষামূলক কর্মসূচিবর্ধমান: শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, আর পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতাদুই বার্তাকেই সামনে রেখে বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত হল একাধিক শিক্ষামূলক কর্মসূচি। ফিট ইন্ডিয়া ভাবনায় শরীরচর্চা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে গিয়ে পরিবেশ, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জীব নন্দীর উদ্যোগে প্রথমে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যালয়ের মাঠে। সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনে অংশগ্রহণ করানো হয় তাদের। কাঠের ডাম্বেল দিয়ে নানা ধরনের ব্যায়াম ও ক্রীড়ামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছোটদের বোঝানো হয়, কীভাবে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলে নিজেকে ফিট রাখা যায়।এরপর আয়োজন করা হয় বিভিন্ন দূরত্বের দৌড়। শেষপর্বে দল তৈরি করে ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয় কাবাডি খেলায়। শরীরচর্চার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে দলগত মানসিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার বার্তাও দেওয়া হয়।বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনিমেষ বর্মন বলেন, ফিটনেস কোনও সাময়িক বিষয় নয়, এটি ধারাবাহিক কর্তব্য। ছোট বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস তৈরি করতে বিদ্যালয় বিশেষভাবে যত্নশীল।মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সচেতনতার পাঠঅন্যদিকে, চলতি বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে সেখানে গিয়ে প্রথমেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারে অংশ নেয় পড়ুয়ারা।বিজ্ঞানীরা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন, পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্তার কীভাবে জীবজগতের উপর প্রভাব ফেলছে। পরিবেশ দূষণ কমাতে সচেতন নাগরিক হিসেবে ছোটদের কী ভূমিকা থাকা উচিত, সেই বিষয়েও দেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।এরপর বিভিন্ন বিষয়ের উপর আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। সঠিক উত্তর দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী পুরস্কারও অর্জন করে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অয়নাংশু পুরস্কার পেয়ে নিজের আনন্দের কথা জানায়।প্রকৃতিকে কাছ থেকে চেনার সুযোগসেমিনার ও কুইজের পর রমনার বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় পড়ুয়াদের। সেখানে সায়েন্স সেন্টারের আধিকারিকরা বিভিন্ন পশুপাখির সঙ্গে তাদের পরিচয় করান। প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য, পরিবেশে তাদের ভূমিকা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পড়ুয়াদের বোঝানো হয়।শিক্ষক সামিম মণ্ডলের কথায়, ছোটদের কাছে আজকের শিক্ষামূলক ভ্রমণ ছিল অত্যন্ত আনন্দের। একইসঙ্গে তারা প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত সায়েন্স সেন্টারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও অর্জন করে। বন্যপ্রাণী সপ্তাহে সরকারের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করে তোলার এই প্রচেষ্টা জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ফিটনেস, পরিবেশ সচেতনতা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণতিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাকে একসঙ্গে সামনে রেখে দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ পড়ুয়াদের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, হয়ে উঠল বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার এক অভিনব পাঠ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি লিপিবদ্ধ করেন দীপ্ত সুন্দরবাবু।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআরে নাম বাদ? এবার ফের ভোটার তালিকায় ওঠার সুযোগ! কী করতে হবে, জানাল কমিশন

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য নাগরিকদের নাম ফের তোলার প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর সিইও দফতর এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগীর তরফে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা এএসডিডি তালিকায় থাকা কারণে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা প্রথম বার ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন।অর্থাৎ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়লেও কেউ যদি এখনও ভোটার হওয়ার যোগ্য হন, তা হলে নতুন করে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট বিএলও-র কাছে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে। সিইও দফতরের ওয়েবসাইটে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকাও রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না দেখে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় আবেদন করা যাবে।পাশাপাশি যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরাও নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন এবং অফলাইনদুই পথেই আবেদন করার সুযোগ থাকছে। অর্থাৎ এসআইআরে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পাশাপাশি প্রথম বার ভোটার হতে চলা তরুণ-তরুণীদের জন্যও এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সিইও দফতরের প্রকাশিত তথ্যেও এএসডিডি তালিকা এবং বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা আলাদা করে প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকা দেখে যোগ্য ভোটারদের দাবি জানানোর সুযোগ রয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর চলাকালীন যাঁদের নাম তালিকায় ওঠেনি, অথচ তাঁরা যোগ্য ভোটার, তাঁদের জন্য ফের আবেদন করার সুযোগ রাখা হচ্ছে।এদিকে বাংলায় বেশ কিছু ভোটারের নাম নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যাঁদের নাম নিয়ে আপত্তি বা মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও আদালত ও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালগুলির কাজ চলছে।তবে নতুন প্রক্রিয়ায় আবেদন করার শেষ তারিখের কথা মঙ্গলবারের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে যাঁদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে, তাঁদের দ্রুত নিজেদের নাম সংশ্লিষ্ট তালিকায় রয়েছে কি না দেখে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর এই নতুন প্রক্রিয়ায় এখন নজর থাকছে পরবর্তী নির্দেশের দিকে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশকে সরানোর দাবি, এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ রাহুল-মমতারা! চিঠিতে কী লিখল ইন্ডি জোট?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হতে চাইছে ইন্ডি জোট। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জোটের নেতারা। বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে যে কোনও সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে সেই চিঠির কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী দলগুলি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইন্ডি জোটের একাধিক নেতা। তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবিও জানানো হয়েছে। এর আগে ইন্ডি জোটের নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে যৌথ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছিলেন।রাষ্ট্রপতিকে লেখা চিঠিতে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, ওমর আবদুল্লা, শরদ পওয়ার, এম এ বেবি, তেজস্বী যাদব-সহ ইন্ডি জোটের একাধিক দলের শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তাঁদের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরতেই এই সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই চিঠি পাঠানোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ইন্ডি জোটের বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। তাঁদের মিছিল মাঝপথে আটকে দেয় পুলিশ। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক নেতা আকাশবাণী ভবন চত্বরে ধর্নায় বসেন।মিছিল আটকে দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের উপরে উঠে প্রতিবাদ জানান। পরে তিনি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢুকে গাছের তলায় বসে অবস্থান শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বললেও তাঁরা ধর্না চালিয়ে যান। সন্ধ্যার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েক জন বিরোধী নেতা সেখানে যোগ দেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও পরে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।প্রায় নঘণ্টা ধরে অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত পুলিশ আকাশবাণী ভবন চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করে। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিরোধী নেতাদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে মিছিলের সময়ও একাধিক বিরোধী সাংসদকে আটক করা হয়েছিল।তবে এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে আনুষ্ঠানিক আবেদন কমিশনে পৌঁছয়নি। ফলে বিরোধীরা কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্যে ফারাক রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য ইন্ডি জোটের আবেদন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে চিঠির জবাব কবে আসে এবং রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী নেতাদের সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

২৫ বছর একটানা সরকারের শীর্ষে মোদী! তাঁকে নিয়ে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উঠে এল যে ১০ বড় দিক

সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন নরেন্দ্র মোদী। এই উপলক্ষে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবারের সেই প্রস্তাবে শুধু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখই নয়, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রিসভার দাবি, দেশ সবার আগে, নাগরিক সবার আগে নীতিকে সামনে রেখেই এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা এগিয়েছে।২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম বার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মোদী। তার পর গুজরাটে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয় এবং পরবর্তী সময়ে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গও মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উঠে এসেছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটে নেওয়া কিছু উদ্যোগ পরে জাতীয় স্তরেও প্রয়োগ করা হয়েছে।এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে গুজরাটের স্বাগত কর্মসূচি। নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সেই অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চালু হয় প্রগতি। বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় করে আটকে থাকা প্রকল্পের সমস্যা মেটানো এবং কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। গুজরাটের কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পৃথক ব্যবস্থা তৈরির জ্যোতিগ্রাম প্রকল্পের অভিজ্ঞতাকেও জাতীয় স্তরে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬০ কোটি জনধন হিসাব খোলা হয়েছে, চার কোটির বেশি বাড়ি তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ২৫ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তবে এই পরিসংখ্যানগুলি মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।মহিলা, কৃষক, যুবসমাজ এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও রয়েছে প্রস্তাবে। কেন্দ্রের হিসাবে, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মহিলা লাখপতি দিদি কর্মসূচির আওতায় আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন। আইনসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের সাংবিধানিক ব্যবস্থা এবং কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধির মতো প্রকল্পের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশেষ ভাবে দুর্বল জনজাতি গোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী জনমন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।সংস্কারের প্রসঙ্গও বিশেষ ভাবে এসেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে। পণ্য ও পরিষেবা কর চালু, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং পুরনো ঔপনিবেশিক আইন বদলের মতো পদক্ষেপকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, ডিজিটাল লেনদেন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের উপর জোর দেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।পরিকাঠামো ও উৎপাদন ক্ষেত্রের অগ্রগতির দাবিও রয়েছে মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, সরকারি মূলধনী ব্যয় ২০০১ সালের প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন ১২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণ এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিমাণও প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি হয়েছে বলে প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে।প্রযুক্তির ব্যবহারকেও মোদীর ২৫ বছরের নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছে মন্ত্রিসভা। জনধন হিসাব, আধার এবং মোবাইল সংযোগের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেনে নতুন পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার প্রসঙ্গ রয়েছে প্রস্তাবে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব কোভিড টিকা তৈরি এবং চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণকে ভারতের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রেও কাজ এগোনোর কথা বলা হয়েছে।সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে মোদীর ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাকে গুজরাটের প্রশাসন থেকে জাতীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক পর্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গরিব মানুষের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প, মহিলা ও কৃষকের ক্ষমতায়ন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং প্রশাসনিক সংস্কারএই বিভিন্ন ক্ষেত্রকেই সেই দীর্ঘ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
দেশ

ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধর্না, শেষে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের আটক!

ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর উত্তপ্ত থাকল রাজধানী দিল্লি। সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপর একের পর এক নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত আকাশবাণী ভবনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধর্নায় বসে থাকার পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও অন্যান্য বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল শুরু করেছিলেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। তাঁদের অন্যতম দাবি ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। মিছিল আটকে দেওয়া হলে রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের উপরে উঠে প্রতিবাদ জানান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।এর পরেও থামেননি রাহুল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কয়েক জন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আকাশবাণী ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে একটি গাছের তলায় বসেই ধর্না শুরু করেন তাঁরা। পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বললেও রাহুল-প্রিয়াঙ্কারা তা মানেননি। নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাবেন বলে জানান।সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধর্নার পরিসরও বাড়ে। রাতের দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং মহুয়া মৈত্র-সহ আরও কয়েক জন নেতা সেখানে পৌঁছে ধর্নায় যোগ দেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও লখনউ যাওয়ার পথে ফিরে এসে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।প্রায় আট থেকে নয় ঘণ্টা ধরে অবস্থান চলার পর রাতে পুলিশ আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢোকে। একে একে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের আটক করে বাসে তোলা হয়। ডেরেক ওব্রায়েনকেও ফের আটক করা হয়। এর আগে দিনের প্রথম পর্বে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিলের সময়ও তাঁকে আটক করা হয়েছিল।তবে এই বিক্ষোভের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে আলাদা দাবি সামনে এসেছে। কমিশনের আধিকারিকদের বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনও রাজনৈতিক দল আগাম কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদন করেনি। ফলে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক না হওয়ার প্রশ্নে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক তৈরি হয়েছে।দিনভর ব্যারিকেড, আটক, আকাশবাণী ভবনে ধর্না এবং পরে পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কমিশনের পাল্টা বক্তব্যদুই মিলিয়ে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট, কিন্তু উঠল ‘ভোটলুট’-এর অভিযোগ! নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে কী ঘটল?

নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছিল ভোটারদের ভিড়। ভোটের হারও নজর কেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। দুই কেন্দ্রেই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিতে বেরিয়েছেন। তবে ভোটের হার বেশি হলেও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে দিনভর উত্তপ্ত থেকেছে দুই কেন্দ্র। বিরোধী দলগুলির একাংশ ভোটে অনিয়ম ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। বিজেপি অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।রেজিনগরে ভোট শুরু হওয়ার পরই উত্তেজনা তৈরি হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর পুলিশের বিরুদ্ধে ভোটে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসার পর তাঁকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। নির্বাচন কমিশনের তরফেও এই ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।হুমায়ুনের গ্রেফতারির পর রেজিনগরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বেশ কিছু বুথে তাঁদের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রেজিনগরে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। কংগ্রেসের তরফে এই দাবিতে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে।নন্দীগ্রামেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, কয়েকটি বুথে দলের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি। বিরোধীদের তরফে কোথাও কোথাও ভোটে অনিয়ম এবং এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাম ও আইএসএফের তরফেও অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগকে বিজেপি নস্যাৎ করেছে।অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে ভোট দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এবারের ফলাফলে বড় ব্যবধান দেখা যেতে পারে। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ তাঁর আগের জয়ের ব্যবধান ছাপিয়ে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই দাবি ফল প্রকাশের পরেই যাচাই হবে। নন্দীগ্রামে ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়ায় উপনির্বাচনের নিরিখে ভোটদানের হার নিয়ে বিশেষ চর্চা শুরু হয়েছে।রেজিনগরেও ভোটের হার ৭৮ শতাংশের বেশি। বিপুল ভোট পড়ার পাশাপাশি বিরোধীদের পুনর্নির্বাচনের দাবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপি পাল্টা দাবি করেছে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে এবং বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।এই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন ছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। নন্দীগ্রাম আসনটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেওয়ার পর এবং রেজিনগর আসনটি হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দেওয়ার কারণে উপনির্বাচন হয়। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন নজর শুক্রবারের ফলাফলের দিকে। তার আগে দুই কেন্দ্রে বিপুল ভোটের হার এবং বিরোধীদের পুনর্নির্বাচনের দাবিদুই-ই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬
কলকাতা

‘এত তাড়াহুড়ো করে নিরাপত্তা কেন তুলে নেওয়া হল?’ অভিষেকের মামলা শুনে প্রশ্ন বিচারপতির

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হল। অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে হোমগার্ড ছাড়া তাঁর সঙ্গে কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নেই। এই মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছেন, নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের কারণ-সহ বিস্তারিত তথ্য রাজ্যকে জানাতে হবে। আগামী ১৩ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।আদালতে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ জানান, ২০১৩ সালে অভিষেককে ওয়াই শ্রেণির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। পরের বছর তা বাড়িয়ে ওয়াই প্লাস করা হয়। ২০১৫ সালে জেড এবং ২০১৬ সালে জেড প্লাস শ্রেণির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়। আইনজীবীর দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর ১০ মে আচমকাই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। এই সিদ্ধান্তের আগে তাঁকে কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে।আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জেড প্লাস নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার পরে নিরাপত্তার মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। তাঁর দাবি, মাত্র দুজন নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু দিনের মধ্যেই সোনারপুরে অভিষেকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে আদালতে জানানো হয়। তার পরেও আরও কয়েকটি হামলার অভিযোগ ওঠে। বিমানবন্দর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর কার্যালয়কে ঘিরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আইনজীবী আদালতে দাবি করেন। অতীতে অভিষেকের চোখে গুরুতর আঘাতের ঘটনাও ঘটেছিল বলে সওয়ালে উল্লেখ করা হয়।শুনানির সময় নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালত জানতে চায়, নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে এত দ্রুত নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একাধিক হামলার অভিযোগ ওঠার পর ভবিষ্যতে কোনও ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। পাথর ছোড়ার মতো ঘটনায় কারও গুরুতর আঘাত লাগতে পারে বলেও আদালত সতর্ক করে।এর আগে অভিষেকের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির সামনে থাকা পুলিশ কিয়স্কও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পুনর্বহালের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।মঙ্গলবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে মামলার বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হয়। আদালত সেই রিপোর্ট তলব করেছে। আগামী ১৩ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানিতে নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত, তার ভিত্তি এবং পরবর্তী সময়ে অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে রাজ্যের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অক্টোবর ০৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal