• ১৪ মাঘ ১৪৩২, সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Election

কলকাতা

ভোটের আগের দিন উত্তপ্ত কসবা

ভোটের আগের দিনই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কসবা বিধানসভা কেন্দ্র। দিনেদুপুরে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁর উপর হামলার ঘটনায় কাঠগড়ায় তৃণমূল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের কয়েকদিন আগে থেকেই কসবার ৬৭নং ওয়ার্ড এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার হুমকি দিয়ে বারবার তাঁদের উপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের তরফে। তবে শুক্রবার এলাকার অশান্তির মাঝে এলাকায় কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দেখা যায়নি। ফলে নির্বাচনী আবহে কসবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।কসবা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একুশের ভোটে লড়ছেন তৃণমূল প্রার্থী জাভেদ খান, বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ এবং সিপিএমের শতরূপ ঘোষ। ৬৭ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবারই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাড়ি বাড়ি ঢুকে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। শুক্রবার সকালের দিকেও ছবিটা একই ছিল। রামঠিকারী মাঠ এলাকায় জনা ২০ যুবক বাইক নিয়ে একই কথা বলে তাঁদের। আর সেই হুমকি দিতে দিতেই তারা বাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে। সেখানে উপস্থিত এক যুবককে রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।ঘটনার খবর পেয়ে বিকেলের দিকে সেখানে যান বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ, সিপিএমের শতরূপ ঘোষ। শতরূপের অভিযোগ, এলাকায় কয়েকদিন ধরে অশান্তির খবর পেয়েও উদাসীন থানা। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে কসবা থানার ওসিকে অপসারণের দাবি তোলেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁর অভিযোগ, তিনি নিজে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন, বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা এর প্রতিকার চেয়ে বিক্ষোভেও শামিল হয়েছেন। তা সত্ত্বেও পুলিশ পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ। এ নিয়ে পালটা ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, তৃণমূল নয়, বিজেপির তরফেই এলাকার শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে। ভোটের আগে বিজেপিই সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে কসবায়।

এপ্রিল ০৯, ২০২১
রাজ্য

মমতাকে দ্বিতীয়বার নোটিস কমিশনের

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নোটিস নির্বাচন কমিশনের। গত ২৮ মার্চ এবং ৭ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে কমিশন। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাহিনী নিয়ে মমতার মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। কেন তিনি এই ধরনের মন্তব্য করলেন, তা ব্যাখ্যা করতে হবে তৃণমূলনেত্রীকে। এবং এই ব্যাখ্যা দিতে হবে ১০ এপ্রিলের মধ্যে। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে কমিশনের নোটিসের জবাব দিতে হবে।বস্তুত, রাজ্যের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই সরব মমতা। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চাপে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাংলার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তৃণমূল ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বাহিনী। গত ৭ এপ্রিল কোচবিহার উত্তরের সভায় তৃণমূল নেত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট প্রভাবিত করতে এলে তার পালটা দেওয়ার পরামর্শ দেন মহিলা ভোটারদের। তাঁকে বলতে শোনা যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা অশান্তি করতে এলে একদল ওদের ঘিরে ফেলুন। আরেক দল ভোট দিতে যান। কারা এই কাজ করছে, তাদের নাম লিখে রাখুন। এর আগে গত ২৮ মার্চও বাহিনী নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। যা নিয়ে প্রবল আপত্তি কমিশনের। তাঁদের দাবি, তৃণমূলনেত্রীর এই মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। দ্রুত তাঁকে এই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।এটা অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো কমিশনের প্রথম নোটিস নয়। এর আগে গত ৩ এপ্রিল তারকেশ্বরের জনসভা থেকে মমতার করা একটি মন্তব্যের জেরে তাঁকে নোটিস পাঠায় নির্বাচন কমিশন। তারকেশ্বরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, শয়তানদের কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দেবেন না। অভিযোগ তোলেন, বাংলাকে বিজেপি ধর্মের নামে ভাগ করে দিতে চাইছে। বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মমতার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কমিশনের দ্বারস্থ হন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি। তাঁর দাবি ছিল, সংখ্যালঘুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়ে মমতা নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করেছেন মমতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস পাঠায় কমিশন। আজই সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার শেষদিন।

এপ্রিল ০৯, ২০২১
রাজ্য

পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে জাঙ্গিপাড়ায়

গত ৬ এপ্রিল ভোট ছিল হুগলির জাঙ্গিপাড়ায়। সেখানকার ৮৮ নম্বর বুথে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যে কারণে সেই বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনেই ইতিবাচক সাড়া মিলল। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হল, সবদিক বিচার করে ফের ভোটগ্রহণের সবুজ সংকেত দেওয়া হল।এদিন কমিশনের তরফে লিখিতভাবে জানানো হয়, জাঙ্গিপাড়ার ৮৮ নম্বর বুথে প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য পুনর্নির্বাচনের আবেদন করেছিলেন রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব। এই মর্মে আজ দিল্লি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন জানান তিনি। জানান, ৬ তারিখ ভোটের পর বুথের সিসিটিভি পরীক্ষা করে দেখা হয়। কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য ভোটদান পর্ব ভালভাবে দেখা যায়নি। স্ক্রটিনির পর তা দেখেই আবেদন করেছিলেন তিনি। এদিন সন্ধেয় কমিশনের তরফে সবুজ সংকেত মিলল। লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ৬ এপ্রিল ৮৮ নম্বর বুথে প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল। তাই আগামী ১০ এপ্রিল অর্থাৎ চতুর্থ দফা ভোটের দিনই সেই বুথে পুনর্নির্বাচন হবে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ওই বুথে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা।উল্লেখ্য, তৃতীয় দফার ভোটে হাওড়া, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক কেন্দ্র থেকে অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছিল। আরামবাগে যেমন আক্রান্ত হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল খাঁ, তেমনই আবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল শ্যামপুরের বিজেপি প্রার্থী তনুশ্রী চক্রবর্তীকেও। তৃণমূল-আইএসএফ তরজায় উত্তপ্ত হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম ও ক্যানিং পূর্ব। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও সংঘর্ষ ও হামলা কেন? এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে জাঙ্গিপাড়ার ৮৮ নম্বর কেন্দ্রে ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবে হলেও প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই কারণেই পুনর্নির্বাচনের অনুমতি মিলল। তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব পর্যন্ত এই প্রথমবার একটি বুথে পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে।

এপ্রিল ০৮, ২০২১
রাজ্য

শুভেন্দুকে নোটিস নির্বাচন কমিশনের

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেগম বলে সম্বোধন করে কমিশনের কোপে পড়লেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার শুভেন্দুকে এ বিষয়ে শোকজ নোটিস পাঠায় নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ২৯ মার্চ অর্থাৎ নন্দীগ্রামে ভোটের শেষ প্রচারের দিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে মমতা বেগম বলে উল্লেখ করেন। এ নিয়ে তৃণমূল শিবির প্রথমেই তীব্র আপত্তি তোলে। এটা অসম্মানজনক বলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। সেই অভিযোগ ভালভাবে খতিয়ে দেখে ভোট হয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর শুভেন্দুর সেই মন্তব্যকে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ বলে চিহ্নিত করেল কমিশন। আর তারপরই শুভেন্দুকে নোটিস পাঠানোর মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে খবর। যদিও কমিশনের এই শোকজ নোটিস নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি শুভেন্দু অধিকারী কিংবা গেরুয়া শিবিরের কেউই।

এপ্রিল ০৮, ২০২১
কলকাতা

সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জের, মমতাকে নোটিস কমিশনের

ফের নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৩ এপ্রিল তারকেশ্বরের জনসভা থেকে মমতার করা একটি মন্তব্যের জেরে তাঁকে নোটিস পাঠাল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।গত ৩ এপ্রিল তারকেশ্বরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, শয়তানদের কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দেবেন না। অভিযোগ তোলেন, বাংলাকে বিজেপি ধর্মের নামে ভাগ করে দিতে চাইছে। বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মমতার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কমিশনের দ্বারস্থ হন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি। তাঁর দাবি ছিল, সংখ্যালঘুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়ে মমতা নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করেছেন মমতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে।ঘটনাচক্রে তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে দিন দুই আগে কোচবিহারের জনসভা থেকে সরব হয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তাঁর দাবি ছিল, মমতা জনসমক্ষে সব মুসলমানকে এক হতে আহ্বান করেছেন। বলেছেন, সব মুসলমান এক হও, ভোট ভাগ হতে দিও না। তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ ছিল, মমতা যেমন বলছেন, তেমন যদি আমি বলতাম যে, সব হিন্দু এক হয়ে বিজেপিকে ভোট দাও, তাহলে নির্বাচন কমিশন আমাকে ৭-৮ দিনের জন্য নোটিস দিয়ে দিত। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও নোটিস আসে। জানি না, কমিশন আপনাকে নোটিস দেবে কিনা। প্রধানমন্ত্রী সেই কটাক্ষের দুদিনের মধ্যেই মমতাকে নোটিস দিল কমিশন।

এপ্রিল ০৭, ২০২১
রাজ্য

তিন জেলার নির্বাচনী আধিকারিককে সরাল কমিশন

ভোটের আবহেই দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দুই বর্ধমান জেলার নির্বাচনী আধিকারিককে সরিয়ে দিল কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, এঁদের তিনজনের বিরুদ্ধেই ভোটের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা না করার অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখেই এই আধিকারিকদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কলকাতার দুই থানার পুলিশ আধিকারিকদেরও সরানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়ে একথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।নিখিল নির্মলকে সরিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ডিইও করা হয়েছে ২০০৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার সি মুরুগানকে। পূর্ব বর্ধমানের ডিইও করা হয়েছে শিল্পা গৌরীসারিয়াকে। তিনি ২০০৯ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। ২০০৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার অনুরাগ শ্রীবাস্তবকে বসানো হয়েছে পশ্চিম বধর্মানের জেলার নির্বাচন আধিকারিকের পদে। কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, বাংলায় অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট করানোটা একটা চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখেই এই আধিকারিকদের সরানোর সিদ্ধান্ত।তবে শুধু নির্বাচনী আধিকারিকদের সরানো নয়। প্রশাসনিক দিকের পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকটাও খেয়াল রাখতে চায় কমিশন। সেই উদ্দেশ্যেই আগামী পর্বে কলকাতার যে এলাকায় নির্বাচন, সেই এলাকার দুটি থানার আধিকারিকদের বদলে দিয়েছে কমিশন। রিজেন্ট পার্ক থানার ওসি মৃণালকান্তি মুখোপাধ্যায়কে সরিয়ে স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে। বাঁশদ্রোণী থানার ওসি প্রতাপ বিশ্বাসকে পাঠানো হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগে। পরিবর্তে টালিগঞ্জে রাম থামা এবং মলয় বসুকে বাঁশদ্রোণী থানার ওসি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, টালিগঞ্জে এবার হেভিওয়েটেদের লড়াই। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এই আসনে রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লড়ছেন। লড়াইয়ে সিপিএমের দেবদূত ঘোষও। সম্ভবত, সে কারণেই এই কেন্দ্রে বিশেষ নজর কমিশনের।

এপ্রিল ০৭, ২০২১
রাজ্য

পাপিয়া অধিকারীকে মারধর, তৃণমূলের বিরুদ্ধে কমিশনে যাচ্ছে বিজেপি

তৃতীয় দফার ভোটে একের পর এক অশান্তির খবর সামনে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল খাঁর পর এবার উলুবেড়িয়া দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর উপর হামলার অভিযোগ উঠল। উলুবেড়িয়া হাসপাতালে এক বিজেপি কর্মীকে দেখতে যান পাপিয়া। সেখানেই তাঁর উপর হামলা হয়, চড় মারা হয় বলেও অভিযোগ। এর জেরে হাসপাতাল চত্বর রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে।উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় এক বিজেপি কর্মী আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভরতি করা হয়। খবর পেয়ে সেখানে তাঁকে দেখতে যান উলুবেড়িয়া দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন কর্মী সমর্থকও ছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছলে সেখানে পাপিয়া অধিকারীকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাধা দিতে যান বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এরপরই দুপক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার নেয়। শেষে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি কোনওরকমে নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয় পাপিয়া অধিকারীকে।পরে পাপিয়াও সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, তাঁকে হাসপাতাল চত্বরে মারধর করা হয়েছে। আর এই ঘটনার পিছনে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস যে হারছে সেটা তারা বুঝতে পেরেছে। তাই এমন হামলা করছে। যদিও তৃণমূলের তরফে পাপিয়ার উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।পাপিয়া অধিকারীর উপর হামলার খবর পেয়ে তাঁকে ফোন করেন বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। খোঁজ নেন কী ঘটেছিল। বিজেপির তরফে এই হামলার প্রতিবাদ করে কমিশনে অভিযোগ জানানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ২ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে।

এপ্রিল ০৬, ২০২১
রাজ্য

ভোটের মাঝে ফের অপসারিত কলকাতার ৮ রিটার্নিং অফিসার

বঙ্গে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। মঙ্গলবারই ছিল তৃতীয় দফার নির্বাচন। আর সেদিনই ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হল কলকাতার আটজন রিটার্নিং অফিসারকে। বিবৃতি দিয়ে এই খবর জানাল নির্বাচন কমিশন।কমিশনের মতে, পরপর তিন বছর কেউ এক পদে থাকতে পারেন না। সেক্ষেত্রে সেই আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়াই নিয়ম। কিন্তু এতদিন কলকাতার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কার্যকর করা হয়নি। এবার সেই বিধিই কার্যকর করা হল। আর তাই সরানো হয়েছে ওই আট রিটার্নিং অফিসারকে। যদিও সূত্রের খবর, বিভিন্ন সময়ে ওই আট আধিকারিকের উপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের কাছে বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল। কিন্তু কোনও সময়ই তাঁরা সেই অভিযোগগুলির প্রতি গুরুত্ব দেননি। এরপরই সেই খবর পৌঁছায় নির্বাচন কমিশনের কাছে। খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেন কমিশনের আধিকারিকরা। ওই আটজন অফিসারকে শো-কজ করা হয়। তারপরই মূলত তাঁদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। ওই আটজনের পরিবর্ত হিসেবে নতুন রিটার্নিং অফিসারও নাকি ঠিক করে ফেলা হয়েছে।কমিশনের তরফে খবর, কলকাতার মোট আটটি বিধানসভা এলাকার রিটার্নিং অফিসারকে অপসারিত করা হয়েছে। এগুলি হল- কলকাতা বন্দর , জোড়াসাঁকো, ভবানীপুর, এন্টালি, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, শ্যামপুকুর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া। অর্থাৎ কলকাতার ১১টি আসনের মধ্যে আটটিরই রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দিল কমিশন। এই কেন্দ্রগুলিতে এবার একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে কলকাতা পোর্ট বা বন্দর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আবার ফিরহাদ হাকিম। তবে তাঁর এলাকার রিটানিং অফিসারকেও অপসারিত করা হয়েছে।

এপ্রিল ০৬, ২০২১
রাজ্য

বাংলায় দিনভর অশান্তির তৃতীয় দফা

কোথাও প্রতিপক্ষের ইট থেকে মাথা বাঁচাতে প্রার্থীকে হেলমেট পরে বুথে যেতে হল। কোথাও সংঘর্ষে আহত দলীয় কর্মীকে দেখতে গিয়ে সপাটে চড় খেলেন প্রার্থী। কোথাও আবার দিনভর দফায় দফায় প্রার্থীকে হামলার শিকার হতে হল। রাজ্যের ৩ জেলার ৩১ আসনে তৃতীয় দফার ভোটে বিভিন্ন জায়গায় ধরা পড়ল অশান্তির ছবি। ভোটপর্বের মাঝে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে মঙ্গলবার। হুগলির গোঘাটে বিজেপি কর্মীদের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে তৃণমূলের এক বুথ সভাপতির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এর আগে দ্বিতীয় দফার ভোটপর্ব শুরুর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে কেশপুরে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। ওই দফায় ভোটপর্বের মাঝে নন্দীগ্রামে এক বিজেপি কর্মী আত্মঘাতী হয়েছিলেন।হুগলি এবং হাওড়া জেলায় দিনভর পেশিশক্তির লড়াই হয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি-র। হামলার আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে স্পর্শকাতর এলাকা মুক্তিচকে বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন হাওড়ার উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজি। এলাকায় পৌঁছনোর পরেই বিজেপি সমর্থকেরা তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে বলে অভিযোগ। নির্মলের মাথা বাঁচলেও ইটের আঘাতে আহত হন তাঁর দেহরক্ষী।পাশের কেন্দ্র উলুবেড়িয়া দক্ষিণে আক্রান্ত হন বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। সেখানে তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে তাঁকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে আহত এক বিজেপি কর্মীকে দেখতে গিয়ে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে তিনি আক্রান্ত হন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, পুলিশের সামনের চড় মারা হয়েছে পাপিয়ার গালে। ভিডিও ফুটেজ দেখে রাতে পুলিশ দুই হামলাকারীকে গ্রেপ্তারও করে। উলুবেড়িয়া লাগোয়া শ্যামপুরে বিজেপি-র আর এক অভিনেত্রী প্রার্থী তনুশ্রী চক্রবর্তীকে হেনস্থা করারও অভিযোগ উঠেছে মঙ্গলবার। অভিযোগ, জোকা কুমারচক এলাকায় একটি বুথের কাছে তাঁর উদ্দেশে অশালীন শব্দ ছুড়ে দেন তৃণমূলের কিছু সমর্থক।তবে দিনভর অশান্তির নিরিখে এগিয়ে ছিল পাশের জেলা হুগলি। ভোটপর্বের মাঝে গোঘাটে প্রাণহানির পাশাপাশি জেলার আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল খাঁ-র উপর হামলা হয়েছে একাধিক জায়গায়। তাঁর মাথায় বাঁশের বাড়ি পড়তেও দেখা গিয়েছে ভিডিও ফুটেজে। এমনকী, লাঠি হাতে মহিলাদের তাঁর উপর হামলা করতে দেখা গিয়েছে আরামবাগে। খানাকুলের তৃণমূল প্রার্থী মুন্সি নজিবুল করিমকেও বাঁশ দিয়ে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। দুটি ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির বিজেপি-র দিকে।দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় দেখা গিয়েছে ব্যতিক্রমী ছবি। সেখানে তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দিয়েছে আব্বাস সিদ্দিকির দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গিয়েছে প্রভাবশালী তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে। তাঁর অভিযোগ, বুরানগড় এলাকায় বোমা-গুলি নিয়ে সন্ত্রাস করছে আইএসএফ। তাঁকেও বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, শকুন্তলা এলাকায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে আইএসএফ।দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের আইএসএফ প্রার্থী মইদুল ইসলাম এবং ফলতার বিজেপি প্রার্থী বিধান পাড়ুইয়ের উপরেও তৃণমূল সমর্থকেরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগ। রবিবারও হামলায় আহত হয়েছিলেন বিধান। বিষ্ণুপুরের পানাকুয়ায় হয়েছে দফায় দফায় বোমাবাজি। সেখানে সাতসকালেই এক মহিলাকে ভোট না দিতে যাওয়ার জন্য হুমকি দিতে দেখা যায় এক দুষ্কৃতীকে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাতগাছিয়া থেকেও অশান্তির অভিযোগ মিলেছে।অশান্তির নিরিখে প্রথম দুদফার সঙ্গে পাল্লা দিলেও ভোটদানের নিরিখে পিছিয়ে পড়েছে তৃতীয় দফা। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৮ শতাংশের কাছাকাছি। প্রথম দুদফাতে যা গড়ে ৮৫ শতাংশ ছাপিয়ে গিয়েছিল।

এপ্রিল ০৬, ২০২১
রাজ্য

তৃতীয় দফার ভোটযুদ্ধে বিক্ষিপ্ত অশান্তি তিন জেলায়

বঙ্গে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটযুদ্ধ। বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে দুদফার মোট ৬০ আসনের ভোটগ্রহণ পর্ব। আজ তৃতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়া এই তিন জেলার মোট ৩১ আসনে ভোটগ্রহণ। ভাগ্য নির্ধারণ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর। সকাল থেকে ভোটের লাইনে উৎসাহী জনতার ভিড়। পাল্লা দিয়ে ভোট শুরুর পর থেকেঈ নানা অশান্তির খবর আসতে শুরু করেছে। অভিযোগ, তৃণমূল-বিজেপি উভয়পক্ষের। আসুন দেখে নেওয়া যাক কোথায় কোথায় অশান্তির পারদ চড়ছে।সকাল ৫.৫০: উলুবেড়িয়া উত্তরের তুলসিবেড়িয়ায় তৃণমূল কর্মীর বাড়ির সামনে থেকে ইভিএম। ভোট লুটের চেষ্টা করছিলেন গৌতম ঘোষ নামে ওই কর্মী, অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ নিয়ে চূড়ান্ত উত্তেজনা এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।সকাল ৬: ভোট শুরুর আগেই হুগলির গোঘাটে বিজেপি কর্মীর মাকে খুনের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। নিহতের নাম মাধবী আদক। ছেলে বীরুর উপর দুষ্কৃতীরা হামলা চালালে, ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন মা। ব্যাপক মারধরের অভিযোগ ওঠে। তাতেই মাধবীদেবীর মৃত্যু হয় বলে দাবি বিজেপির। অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। সকাল ৬.১৬: ক্যানিং পশ্চিমের হিঞ্চেখালি গ্রামে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি তিনি।সকাল ৬.৩০: ক্যানিংয়ের জীবনতলার হেদিয়া গ্রামে আইএসএফ এজেন্টকে বুথে যেতে বাধাদানের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের অন্তর্গত দুর্গাপুরের ১২৭ নং বুথের ঘটনা। আইএসএফ-তৃণমূলের হাতাহাতিতে হেদিয়া গ্রামে চলল গুলি। ভোট শুরুর আগেই আতঙ্ক এলাকায়।সকাল ৬.৫৪: বাগনানে তৃণমূলের বুথ সভাপতির উপর হামলার অভিযোগ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় তাঁকে। জখম হয়ে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি তিনি। অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে।সকাল ৭.০২: ভোট শুরুর আগে রাজনৈতিক অশান্তি হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে। ১৮৮ নং বুথে বিজেপি ও আইএসএফ এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।সকাল ৭.০৮: ক্যানিংয়ে আক্রান্ত বিজেপি কর্মী। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে। ভর্তি হাসপাতালে। কাঠগড়ায় তৃণমূল।সকাল ৭.১৭: মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থীকে বুথে ঢুকতে বাধাদানের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। নেত্রা হাইস্কুলের বুথের বাইরেই বসে বিক্ষোভ প্রার্থী মইদুল ইসলামের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২ ঘণ্টা বুথে বসতে পারলে আমি কেন পারব না? প্রশ্ন মইদুলের। তাঁর অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। সকাল ৭.২৮: বাগনানের দেউলটিতে বুথের বাইরে অতিরিক্ত জমায়েত। তা হঠাতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর। বুথের বাইরে উত্তেজনা। সকাল ৭.৩৫: তুলসিবেড়িয়ায় তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে ইভিএম উদ্ধারের ঘটনায় কড়া নির্বাচন কমিশন। সেক্টর অফিসারকে সাসপেন্ড। ৪ টি ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না, জানাল কমিশন। রিপোর্ট তলব করলেন ডেপুটি কমিশনার সুদীপ জৈন।সকাল ৭.৪১: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর বিধানসভার অন্তর্গত কুলেরদাঁড়ি অঞ্চলের ১০৭ বুথে বিরোধী এজেন্টদের বসতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটের আগে রাত থেকে চলছে বাড়ি ভাঙচুর, মারধর, খুনের হুমকি।সকাল ৭.৪৪: তারকেশ্বরের রামনগরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ। ভোটের আগের রাতে এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ২ জওয়ানের বিরুদ্ধে। তাকে ধরে গণপিটুনি উত্তেজিত জনতার। ভোরে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান স্থানীয়রা। কিন্তু থানা অভিযোগ গ্রহণ না করায় ফের বিক্ষোভ জনতার।সকাল ৭.৫৫: ক্যানিংয়ের তালদির কুমোরখালির বুথে ইভিএম বিভ্রাট। কুলতলির ২৩৮, ২৩৮এ, ২৩৯ বুথে রাত থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, শুরু হয়নি ভোট। সকাল ৮.০১: উলুবেড়িয়া দক্ষিণের বিজেপি তারকা প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। সেখানে দাঁড়িয়ে জওয়ানদের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন তিনি। পরে বুথে থাকা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা হয় তাঁর।সকাল ৮.১০: ভোটের দিনই বাসন্তীর সোনাখালিতে উদ্ধার ২ ড্রাম বোমা। এলাকায় উত্তেজনা।সকাল ৮.১৭: রায়দিঘি বিধানসভার উত্তর কুমড়োপাড়া ২১৩ ও ২১৪ নং বুথের ৬০ মিটারের মধ্যে ক্যাম্প করে ভোটারদের প্রভাবিত করছে বিজেপি, অভিযোগ তৃণমূলের। সকাল ৮.৩৬: তারকেশ্বরের ১৪ নং বুথে বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তকে ঘিরে জয় বাংলা স্লোগান কয়েকজন যুবকের। এ নিয়ে সাময়িক উত্তেজনা। পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি আয়ত্তে আসে।সকাল ৮.৪৯: বারুইপুর পূর্বের বেলাগাছি, কানাপাড়ায় উত্তেজনা। ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটারদের অভয়বার্তা বাহিনীর জওয়ানদের।সকাল ৯.১৭: মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের লক্ষীকান্তপুরের চৌকিতলায় বিজেপির বিরুদ্ধে বোমাবাজির অভিযোগ তৃণমূলের। সাতগাছিয়া বিধানসভার ২০৫ ও ২০৬ নম্বর বুথে বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীদের মারধর করে তৃণমূল। ৫ জন আহত হন। সাতগাছিয়া বিধানসভার নোদাখালির আইমা এফপি স্কুলের বুথে বোমাতঙ্কও হয়েছে। সকাল ৯.৩৫: হাওড়ার শ্যামপুরে ১৭৩ নং বুথে তৃণমূলের ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। সকাল ১০.০৮: ডায়মন্ড হারবারের পূর্ব দাগিরায় ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন বিজেপি প্রার্থী দীপক হালদার।সকাল ১০.১৯: হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে ফের অশান্তি। বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ঢুকে হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মহিলাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।সকাল ১০.২৬: তারকেশ্বর টাউনের ২৬০ নম্বর বুথে বিজেপি এজেন্ট পাপ্পু সিংকে বুথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ টাউন তৃণমূলের চেয়ারম্যান স্বপন সামন্তের বিরুদ্ধে। দুপক্ষের মধ্যে বচসা।

এপ্রিল ০৬, ২০২১
রাজ্য

তৃতীয় দফার ভোটে আজ মাঠে ৮৩২ কোম্পানি

রাজ্যে আজ তৃতীয় দফার নির্বাচনে তিন জেলার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে বাংলায় আজ তৃতীয় দফার নির্বাচন হতে চলেছে। প্রথম দুই দফায় বড় সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়েও অশান্তি পুরোপুরি এড়ানো যায়নি। এবার তাই বাড়তি তৎপরতা নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। তৃতীয় দফার নির্বাচনে ৮৩২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে ৩টি জেলার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে। তার মধ্যে ৬১৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয়বাহিনী থাকছে শুধুমাত্র বুথের নজরদারির জন্য। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে থাকছে ৩০৭ কোম্পানি। এর মধ্যে বারুইপুর পুলিশ জেলায় ১৩০ কোম্পানি, ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলায় ১১৩ কোম্পানি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ৬৪ কোম্পানি। হাওড়তেও ১৪৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। তার মধ্যে ১৩২ কোম্পানি থাকছে হাওড়া গ্রামীণে ও হাওড়া কমিশনারেটে থাকছে ১১ কোম্পানি। হুগলি গ্রামীণে থাকছে ১৬৭ কোম্পানি বাহিনী। আজ তৃতীয় দফার নির্বাচন হতে চলেছে হাওড়া, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে। এর মধ্যে রয়েছে হাওড়ার ৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৬টি এবং হুগলির ৮টি বিধানসভা কেন্দ্র। হাওড়ার যে ৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে সেগুলি হল-- উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, বাগনান, আমতা, উদয়নারায়ণপুর ও জগৎবল্লভপুর। হুগলিতে ভোট হবে জাঙ্গিপাড়া, হরিপাল, ধনেখালি, তারকেশ্বর, পুরশুড়া, আরামবাগ, গোঘাট ও খানাকুল। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার যে ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে সেগুলি হল - বাসন্তী, কুলতলি, কুলপি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজার, জয়নগর, বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ডহারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া ও বিষ্ণুপুর। এই পর্বে মোট ২০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই পর্বে ৩১টি কেন্দ্রের ৭৮ লাখ ৫২ হাজারের বেশি ভোটার প্রার্থীদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, তৃতীয় দফার এই নির্বাচনে ৩ জেলায় বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে ৬১৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় মোতায়েন করা হবে ৩০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। হুগলিতে মোতায়েন করা হবে ১৬৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। হাওড়ায় থাকবে ১৪৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাধারণত ১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে ১০০জন জওয়ান থাকে। অর্থাৎ ৬১ হাজার ৮০০ জন জওয়ান তৃতীয় দফার ভোটে মোতায়েন হতে চলেছেন। তবে, একটি কোম্পানিতে ১০০ জন জওয়ানের মধ্যে কয়েকজন অন্যান্য নানা কাজে যুক্ত থাকেন। তাই তৃতীয় দফায় সরাসরি ভোটের সঙ্গে ৪৯ হাজারের কিছু বেশি জওয়ান মোতায়েন থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০৬, ২০২১
রাজনীতি

শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট, ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগ। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বা পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। আপত্তিকর পোস্ট নিয়ে আজ সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর তরফে কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়।তৃতীয় দফা ভোটের আগে সোমবার বিকেলে বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়ার নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল কমিশনে যায়। সেখানে তথ্য প্রমাণ সহযোগে অভিযোগ পত্র জমা দেওয়া হয়। অনিন্দ্য চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লাগাতার আপত্তিকর পোস্ট করতেন বলে অভিযোগ। সেই পোস্টের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়।সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের পোস্টের উপর নজর রাখার জন্য কমিশনের মিডিয়া মনিটরিং সেল রয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মিডিয়া মনিটরিং সেলকে শুভেন্দুর অভিযোগ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং সেই অভিযোগে, তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মিডিয়া মনিটরিং সেল ওই পোস্টগুলির উৎস খুঁজে বের করে। এবং যে জেলা থেকে এই পোস্টগুলি করা হয় সেখানে অভিযোগ পাঠানো হয়। জেলায় এই সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে থাকা অফিসাররা আপত্তিকর পোস্টগুলি সেন্সর করা বা মুছে ফেলার কাজ করে। জানা গিয়েছে, অনিন্দ্য চৌধুরী নামের ওই ব্যক্তির আপত্তিজনক পোস্টগুলো ইতিমধ্যেই মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। এবং প্রয়োজনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এপ্রিল ০৫, ২০২১
কলকাতা

বয়ালের বুথে মমতার ধর্না নিয়ে পাল্টা কমিশনে বিজেপি

নন্দীগ্রামের বয়ালের ৭ নম্বর বুথে ২ ঘণ্টা মমতার উপস্থিতি। তৃণমূল বলছে, মুখ্যমন্ত্রী ভোট লুট রুখতে গিয়েছিলেন। এবার পালটা এল বিজেপির তরফে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, গতকাল বয়ালে আইন ভেঙে দুঘণ্টা ধর্না দিয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ভোটের গতি কমিয়ে দেওয়া। যাতে হারের ব্যবধান কমানো যায়।বিজেপি বলছে, নন্দীগ্রামের বুথে মমতার ২ ঘণ্টা বসে থাকা বেআইনি। বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়ার অভিযোগ, নন্দীগ্রাম বিধানসভার ৭ নম্বর বুথে মমতা রীতিমতো ধর্না দিয়েছেন। তিনি প্রার্থী হিসেবে যে কোনও বুথে যেতেই পারেন। কিন্তু ধর্না দিতে পারেন না। দুঘণ্টা ধর্না দিলেন। সব ভুলে গেলেন। ১৪৪ ধারারও তোয়াক্কা করেননি। বহিরাগতদের নিয়ে ভোট প্রভাবিত করেছেন মমতা। গত ৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র নন্দীগ্রামেই শতাংশ ভোট কমল? তার মানে কী? উনি জেনেবুঝে ভোটকে প্রভাবিত করলেন। ভোটের গতি কমিয়ে দিলেন। শুধু তাই নয়, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতার অভিযোগ, তৃণমূলনেত্রী ভোটের পর উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছেন। যদিও এসব হুমকির কোনও অর্থ হয় না। কারণ, এরপর উনি আর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। এসব হুমকির পর যদি কোনও অঘটন ঘটে তাঁর জন্য দায়ী কে হবে?শুক্রবার দুপুরে তৃণমূলের উচ্চস্তরীয় এক প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে একাধিক অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। ইভিএম নিয়েও অভিযোগ জানিয়ে এসেছে শাসক দল।তৃণমূলের পালটা কমিশনে যায় বিজেপির প্রতিনিধি দলও। শিশির বাজোরিয়া, তথাগত রায়দের দাবি, তৃণমূল রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট চায় না। সেকারণেই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে রোজ নতুন নতুন অভিযোগ নিয়ে কমিশনে নালিশ করছেন তাঁরা। কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, গতকাল যেভাবে ভোট হল, তাতে বিজেপি খুশি। আমরা সন্তুষ্ট। শিশির বাজোরিয়া বলছেন, এইভাবে ভোট হলে আমরা মাথা তুলে বলতে পারব, বাংলায় ভোট ভাল হয়েছে।

এপ্রিল ০২, ২০২১
রাজনীতি

‘২০২৪-এ বারাণসী সামলান’, মোদিকে নিশানা তৃণমূলের

বঙ্গে দ্বিতীয় দফা ভোটের দিন প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । নন্দীগ্রামের ভোট পরিস্থিতিতে গেরুয়া ঝড়, দিদির হার দেখেছিলেন তিনি। তাই উলুবেড়িয়ার সভা থেকে তাঁর শ্লেষমিশ্রিত প্রশ্ন ছিল, তাহলে কি অন্য কোনও আসন থেকে ফের লড়াই করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো? সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলও এর জবাব দিয়েছে। নন্দীগ্রামে জয় নিশ্চিত, অন্য আর কোথাও লড়বেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, টুইট করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। ২০২৪এ দিল্লি দখলের লড়াইয়ে নেমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজে লেখা হয়েছে, দিদি নন্দীগ্রাম থেকে জিতছেনই।তাই অন্য কোনও আসন থেকে তাঁর লড়াইয়ের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। পরের অংশের বার্তাই বেশ ইঙ্গিতবাহী। নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তৃণমূলের পরামর্শ বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুন, আপনার মিথ্যাচার প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। বরং ২০২৪এ নিজের জন্য নিরাপদ একটি আসন খুঁজে নিন। কারণ, আপনি বারাণসীতে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন। আর এখানেই উসকে উঠছে জল্পনা। তবে কি পরবর্তী লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই? তারই ইঙ্গিত দিয়ে রাখল দলের তরফে এই টুইট?

এপ্রিল ০২, ২০২১
রাজ্য

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে নজর কাড়ল নন্দীগ্রামই

দ্বিতীয় দফার ভোটের সারা দিনই ছিল ঘটনাবহুল। ভোটের দিন ঘড়ির কাঁটা যত এগিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেতে হয়েছে বুথে। শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়েও হামলা হয়েছে। ইটবৃষ্টিতে ভেঙেছে সংবাদমাধ্যমের গাড়ি। যদিও দ্বিতীয় দফায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট শেষ হয়েছে বলে দাবি করল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৩০টি আসনে মোট ৮০.৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। তার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে ৮১.২৩, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭৮.০৫, বাঁকুড়ায় ৮২.৭৮ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭৯.৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) আরিজ আফতাব। চার জেলায় ৩০টি আসনে ভোট হলেও নজর কেড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর দ্বৈরথ। গোলমালের আশঙ্কা আঁচ করে নন্দীগ্রামের ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। সিল করে দেওয়া হয়েছিল গোটা এলাকা। দুই মেদিনীপুর জুড়েই ছিল কড়াকড়ি। কিন্তু তার পরেও গোলমাল আটকানো যায়নি। বয়ালে কার্যত সম্মুখসমরে দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপি এবং তৃণমূলের সমর্থকেরা। আরিজ আফতাব সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত পদক্ষেপও করেছে কমিশন। মোটের উপর ভোট শান্তিপূর্ণ ছিল। নন্দীগ্রামে বহু বুথে তাদের এজেন্ট বসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। বয়ালে তেমনই একটি অভিযোগ পেয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছন। সেখানে প্রায় দুঘণ্টা ছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের বাহিনীকে আসরে নামতে হয়। বুথ থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কমিশন নিজের দায়িত্ব পালন করছে না। ব্যর্থ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে চলছে। কেন নির্বাচনের দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনসভা করছে়ন, তা নিয়েও সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো। ভোটের দিন পরিস্থিতি অবনতি এবং ব্যর্থতার জন্য তৃণমূল, সিপিএম-সহ বিরোধীদল কমিশনের দিকেই আঙুল তুলছে। যদিও ভোট পরিচালনা করতে কমিশন ব্যর্থ হয়েছে, তা মানতে নারাজ কর্তারা। সিইও স্পষ্টতই বলেন, অভিযোগ পেয়েই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যর্থ হয়নি। ভোট শেষ হওয়ার পরেও বেশ কয়েকটি বুথ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে।কমিশন জানিয়েছে, কেশপুরে মিডিয়া এবং বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেশপুরে উত্তম দলুইয়ের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ১৪৩ ধারায় মামলাও হয়েছে।

এপ্রিল ০১, ২০২১
রাজ্য

ভোটের দিন সকালেই নন্দীগ্রামে আত্মঘাতী বিজেপি কর্মী

ভোটের দিন সকালে বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল নন্দীগ্রামের ভেকুটিয়ায়। অভিযোগ, বুধবার রাতে তৃণমূলের তরফে উদয়শংকর দেব নামে ওই ব্যক্তিকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মৃতের পরিবারের দাবি, সেই আতঙ্কেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই দাবি তৃণমূলের তরফে। জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের পূর্ব ভেকুটিয়ার বাসিন্দা উদয়শংকর দেব। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত তিনি। সক্রিয় কর্মী হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ, সেই কারণেই বারবার তৃণমূলের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা হত তাঁকে। মৃতের পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার গভীর রাতে একদল তৃণমূল কর্মী তাঁদের বাড়িতে যান। অভিযোগ, ভোট দিতে গেলে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত আতঙ্কে ভুগছিলেন উদয়শংকর। পরে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতেই উদ্ধার হয় ওই ব্যক্তির দেহ। ভোটের দিন সকালে অধিকারীদের গড় নন্দীগ্রামে বিজেপি কর্মীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। তৃণমূলের হুমকির জেরেই আত্মঘাতী হয়েছেন উদয়শংকর, এই অভিযোগ তুলে পথে নামেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির দাবিতে সরব হন তাঁরা। বলেন, তৃণমূল যেভাবে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে তাতে আমাদের পক্ষে ভোট দিতে যাওয়া কার্যত অসম্ভব।পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত হবে।

এপ্রিল ০১, ২০২১
রাজ্য

নজিরবিহীন নিরাপত্তায় আজ হাইভোল্টেজ ভোট নন্দীগ্রামে

আজ নন্দীগ্রামে হাইভোল্টেজ ভোট। ভোটগ্রহণের অনেক আগে থেকেই নন্দীগ্রাম জুড়ে টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রয়েছে মহিলা সিআরপিএফ-এর দল। বুধবারই নন্দীগ্রামে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। বিকেল থেকেই মাইকে ঘোষণা শুরু করে দেয় পুলিশ। নন্দীগ্রামে ঢোকা ও বেরনোর প্রতিটি সীমানায় শুরু হয়েছে নাকা চেকিং। চলছে হেলিকপ্টারে নজরদারি। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম কার্যত দুর্গের চেহারা নিয়েছে।এদিকে ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগেই সিল করে দেওয়া হয় নন্দীগ্রাম। জলে এবং স্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ দিয়ে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে বেশ কিছু দিন ধরেই নন্দীগ্রাম এলাকায় বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ তুলে আসছিল তৃণমূল। বুধবার সন্ধ্যায় কার্যত সেই অভিযোগকে কার্যত মান্যতা দিয়েই বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। যে ভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তায় মহিলা সিআরপিএফ নিয়োগ করা হয়েছে, একই ভাবে সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থী মীনাক্ষীর নিরাপত্তাতেও জোর দেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকেই তাঁর জন্য ৪ জন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।বুধবার পুর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক সুমিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, কোনও রকম ঝামেলা বরদাস্ত নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে সুরক্ষায় কোনও খামতি থাকছে না বলে তিনি জানান। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী যে কোনও বুথ এলাকাতেই ১৪৪ ধারা জারি থাকে। কিন্তু নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে শুধু এটুকুই নয়, গোটা বিধানসভা এলাকাতেই ১৪৪ ধারা বজায় থাকবে। জেলাশাসক বলেন, এ বার নন্দীগ্রামে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে, যা বুধ ও বৃহস্পতিবার বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি অতি সংবেদনশীল বুথগুলিতে ৪ ধরনের নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি বুথে থাকবে লাইভ ওয়েবকাস্টিং, সিসিটিভি, ভিডিওগ্রাফি এবং অবজার্ভার। এ ছাড়াও নন্দীগ্রামের ৫০ শতাংশ বুথে লাইভ ক্যামেরায় নজরদারি চলবে, যা তদারক করা হবে তমলুকের নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের কার্যালয় থেকে।নন্দীগ্রামের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৯৯৯। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ২৫৭। মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৮৯৮। পূর্ব মেদিনীপুরের নিরাপত্তা আরও আটোসাঁটো করতে হলদিয়ায় পাঠানো হয়েছে আইপিএস অফিসার প্রবীণ ত্রিপাঠীকে। নন্দীগ্রামে থাকবেন গেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী। এ ছাড়াও নজিরবিহীন ভাবে সুন্দরবন অঞ্চলে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় যে ৩০ কেন্দ্রে ভোট হবে, সেখানে ৫ হাজার ৫৩৫ বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনলাইন নজরদারি চালানো যায়। এ মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭৩২, পূর্ব মেদিনীপুরে ১ হাজার ৬১১, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১ হাজার ৮০২ আর বাঁকুড়াতে ১ হাজার ৩৯০টি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৩ হাজার ৪৯টি বুথে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। মাইক্রো অবজার্ভার থাকবে ১ হাজার ৯১৫টি বুথে। ২৮৬টি বুথে ভিডিয়ো ক্যামেরায় নজরবন্দি করা হবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। ইতিমধ্যেই ৬৩২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে ৩০ কেন্দ্রে। রাজ্যে এই মুহূর্তে ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। আরও ২০০ কোম্পানি আসছে ৮ এপ্রিলের মধ্যে।শেষবার এমন নিরাপত্তার মধ্যে কবে ভোট দেখেছে নন্দীগ্রাম তা স্থানীয়রা বলতে পারছেন না। তাই এবার ভালোয় ভালোয় ভোট মিটলেই তারা খুশি।

এপ্রিল ০১, ২০২১
রাজ্য

ভোট প্রচারে গিয়ে আক্রান্ত অশোক দিন্দা

রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটপ্রচারের শেষলগ্নে আক্রান্ত হলেন বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা। মঙ্গলবার সভা সেরে ফেরার পথে তৃণমূল কর্মীদের হাতে তিনি আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ করেছেন অশোক। যদিও ওই ঘটনাকে বিজেপি-র আদি এবং নব্য-র দ্বন্দ্বের ফলাফল বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে তৃণমূল।অশোকের দাবি, মঙ্গলবার তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না এলাকায় ৪টি সভা করেন। কর্মসূচি সেরে বাড়ি ফেরার পথে ময়না বাজার এলাকায় তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। ইট দিয়ে তাঁর কাঁধেও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অশোক। আচমকা হামলায় প্রাথমিক ভাবে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরে আরও লোকজন সঙ্গে করে এনে বিজেপি কর্মীরা পাল্টা চড়াও হলে হামলাকারীরা চম্পট দেয় বলে গেরুয়াশিবিরের দাবি। অশোকের দাবি, বিজেপি-কে আটকাতেই মঙ্গলবার পরিকল্পনা করে হামলা চালিয়েছে তৃণমূল।

মার্চ ৩০, ২০২১
দেশ

প্রথম দফার ২৬টি আসনই জিতবে বিজেপি, আত্মবিশ্বাসী অমিত শাহ

ভোটের ফল বেরনোর কথা ২ মে। কিন্তু অমিত শাহ ততদিন অপেক্ষা করতে রাজি নন। প্রথম দফার ভোটের পরের দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একপ্রকার ফলাফল ঘোষণা করে দিলেন। দিল্লিতে ঘটা করে সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করলেন, প্রথম দফার ৩০টি আসনের মধ্যে ২৬টি আসনেই জিতবে গেরুয়া শিবির। শাহর দাবি, বিজেপি নিজেদের পূর্ব নির্ধারিত ২০০ আসনের টার্গেট পূরণ করতে চলেছে। আর প্রথম দফা ভোটের পরই সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। গতকাল রাজ্যের ৩০ আসনের নির্বাচনে প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছিল ভোটের হার। গতবারের তুলনায় ভোট পড়েছে অনেকটাই বেশি। ৫ জেলায় ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৮ শতাংশ। সাধারণত বেশি ভোটের হার প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলছেন, দলের কর্মী এবং সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে আমি নিশ্চিত আমরা ২৬টির বেশি আসন পাচ্ছি। আমি বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের সমর্থন করার জন্য। শাহ বলছেন, বাংলায় যেভাবে নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে, সেটাই ইঙ্গিত করছে বিজেপি ২০০ আসনের টার্গেট পূরণ হতে চলেছে। তিনি বলছেন, বাংলার মহিলাদের আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেব আমাদের ভোট দেওয়ার জন্য। বাংলায় আমরা দুশোর বেশি আসন নিয়ে সরকার গড়তে চলেছি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার নজর দিচ্ছেন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে। তাঁর কথায়, বাংলার ভাগ্য এখন নন্দীগ্রামের হাতে। নন্দীগ্রামে পরিবর্তন হলেই বাংলায় পরিবর্তন হবে। যদিও তৃণমূলের দাবি, বাংলায় এই ধরনের কোনও মাইন্ড গেম কাজ করবে না। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন পালটা শাহকে আক্রমণ শানিয়ে বলছেন, আপনার মাইন্ড গেম গুজরাতের জিমখানায় ফেলে আসুন। এটা বাংলা, এখানে এই ধরনের পূর্বাভাস চলবে না।

মার্চ ২৮, ২০২১
রাজ্য

বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেই প্রথম দফায় পড়ল রেকর্ড ভোট

কয়েক মাসের প্রস্তুতির পর আজ শনিবার শুরু হয়ে গেল বাংলা দখলের লড়াই। ৮ দফার মধ্যে প্রথম দফায় রাজ্যের ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ৩০ আসনে ভোটগ্রহণ হয়ে গেল। এর মধ্যে ঝাড়গ্রামের ৪টি এবং পুরুলিয়ার ৯টির সব কটিতেই আজ ভোট গ্রহণ হয়। বাকি তিন জেলার বাকি আসনে দ্বিতীয় দফায় আগামী ১ এপ্রিল ভোট হবে। মোতায়েন ছিল ৭৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইভিএমে বন্দি হল ১৯১ জন প্রার্থীর ভাগ্য। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, অভিযোগ পালটা অভিযোগের মধ্যে মোটের উপর নির্বিঘ্নে শেষ হল প্রথম দফা। রাজ্যের যুযুধান মূল ২ পক্ষই একাধিক ইস্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তবে শাসক-বিরোধী ২ পক্ষই এই ৩০ আসনে ভাল ফল করার আশা প্রকাশ করেছে।সকাল ৭টা থেকে নিয়ম মেনে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। তবে ভোট শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৯০ টি ইভিএম বিভ্রাটের খবর মেলে। পরে সেগুলি বদল করে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পাওয়া সার্বিকভাবে ভোট পড়েছে ৭৭.৯৯ শতাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের ভোট পড়েছে ৮০.১২ শতাংশ, ঝাড়গ্রামে ভোট পড়েছে ৮১.৫০ শতাংশ, পুরুলিয়ায় ৭৭.১৩ শতাংশ, বাঁকুড়ায় ভোট পড়েছে ৭৯.৯০ শতাংশ। সব থেকে বেশি ভোট পড়েছে বাংলা দখলের ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠা পূর্ব মেদিনীপুরে, ৮২.৪২ শতাংশ। এবারের ভোট নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে শুরু থেকেই স্নায়ুর যুদ্ধ চলছিল। তারই বহিপ্রকাশ হল শুভেন্দু অধিকারীর ভাই বিজেপি নেতা সৌমেন্দুর গাড়িতে হামলা দিয়ে। কাঁথিতে তাঁর গড়েই সৌমেন্দুর গাড়ির কাচ ভাঙা হয়, তাঁর গাড়ির ড্রাইভারকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে কমিশনের অভিযোগও জানিয়েছে বিজেপি। ভোটের দিন সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে উদ্ধার হয় বিজেপি কর্মীর রক্তাক্ত দেহ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও জেলা শাসক রিপোর্ট দিয়েছে এই মৃত্যুর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ গন্ডগোল হয়েছে গড়বেতাতেও। সেখানে নিজের এলাকাতেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষ। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। গড়বেতার আঁধারনয়ন স্কুলে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়া হয়। এমনকী, জুতোও দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। পুলিশ ধাওয়া করে কয়েক জন অভিযুক্তকে ধরে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া বাঁকুড়ার ছাতনা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস বটব্যালকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। বাগজুরি বুথে বাধা পেয়ে জওয়ানদের সঙ্গে বচসা তাঁর। এদিকে দাঁতনের মোহনপুরে পতাকা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানে ৪ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মৃদু লাঠি চার্জ করে। এলাকায় পৌঁছে যায় পুলিশ বাহিনীও। শালবনির আমলাশোলের বনকাটা এলাকায় সংঘর্ষে জড়ায় সিপিএম-বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। জখম হন ২ বাম কর্মী। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কেশিয়ারির কশিদা বুথে সক্রিয় বিজেপি কর্মী শক্তিপদ বেরাকে মারধর। কাঠগড়ায় তৃণমূল। এমনকী, ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পুরুলিয়ার ১২৭ নং বুথের বিজেপি কর্মীকে গুলি করার হুঁশিয়ারি পুরুলিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই ঘটনায় রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। নন্দীগ্রামের বয়ালে তৃণমূল কর্মীদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ, জখম বেশ কয়েকজন। প্রতিবাদে মহিলারা পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান। সংঘর্ষ ছাড়াও ইভিএম কারচুপি, বুথ জ্যামের অভিযোগও উঠেছে কোথাও কোথাও। কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের মাজনা হাই মাদ্রাসা বুথে অভিযোগ ওঠে তৃণমূলে ভোট দিলেও তা যাচ্ছে বিজেপির প্রতীকেই। ভোট দিয়ে বেরিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ভোটারদের। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ইভিএম পালটে নতুন করে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরেও। পুরুলিয়ার একটি বুথেও একই অভিযোগ ওঠে। রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় কমিশন। পরে কমিশন ইভিএম কারচুপির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। সকালে ইভিএম বিভ্রাটের জেরে পুরুলিয়ার মানবাজার বিধানসভার পুঞ্চাতেও ভোট শুরুর নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু ঘন্টা পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিকে বিভিন্ন দাবি নিয়ে ছাতনার ২টি এবং রানিবাঁধের একটি বুথে ভোট বয়কট হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিন প্রথমে বিজেপি এবং পরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনে। সেখানে একাধিক ইস্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়।

মার্চ ২৭, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

শেষ কি আমেরিকার দাপট? আইএমএফ রিপোর্টে চমক, মুখ খুললেন এলন মাস্ক

বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার একছত্র আধিপত্য কি শেষের পথে? সদ্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রিপোর্ট সামনে আসার পর তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। আর সেই রিপোর্ট দেখেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন ধনকুবের এলন মাস্ক। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে শুরু করেছে।আইএমএফ তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধির হিসাব তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের মোট আর্থিক বৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। বিশ্ব জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। সেই তুলনায় আমেরিকার অবদান মাত্র ৯.৯ শতাংশ। ফলে তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে ডলারের দেশ।এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে চিনের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়ার দুই দেশ চিন এবং ভারত। একসঙ্গে এই দুই দেশের আর্থিক যোগদান দাঁড়াচ্ছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র এখন এশিয়ায়।আইএমএফের রিপোর্টে আরও দেখা গিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, জার্মানির মতো দেশগুলিও। তবে ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় এশিয়ার দেশগুলির প্রভাব যে দ্রুত বাড়ছে, তা স্পষ্ট।এই রিপোর্ট সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেই এলন মাস্ক লেখেন, অবশেষে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ। কিন্তু এখন সেই জায়গা দখল করছে চিন ও ভারত।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এলন মাস্কের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকার কড়া শুল্কনীতি এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির। চিন ও ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। অথচ আইএমএফের রিপোর্ট বলছে, আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছে এই দুই দেশই।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

মেঝেতে কিশোরী, উপর ঝুঁকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু! এপস্টেইন ফাইলসে ফাঁস চাঞ্চল্যকর ছবি

মেঝেতে শুয়ে রয়েছে এক কিশোরী। তাঁর উপর ঝুঁকে পড়ে আছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এপস্টেইন ফাইলসের সদ্য প্রকাশিত নথিতে এই ছবি সামনে আসতেই নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বহুদিন ধরেই যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এ বার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হল নতুন ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসায়।এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে সামনে এসেছে ব্রিটেনের রাজপরিবারের নামও। গত বছরই জানা যায়, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল প্রিন্স অ্যান্ড্রুর। সেই ঘটনার পর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস নিজের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় উপাধি, সম্মান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেন। রাজপরিবার থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় তাঁকে।এই পরিস্থিতিতেই গত শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত নথির নতুন একটি অংশ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক অজ্ঞাত পরিচয়ের কিশোরী মাটিতে শুয়ে রয়েছেন। তাঁর পাশে এবং উপর ঝুঁকে আছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। একটি ছবিতে দেখা যায়, কিশোরীর পেটের উপর হাত রেখেছেন তিনি। তবে ওই কিশোরী কে, ছবিগুলি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।শুধু ছবি নয়, এই নথিতে উঠে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে জেফ্রি এপস্টেইন ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর মধ্যে ইমেলে যোগাযোগ হয়েছিল। সেই ইমেলে এপস্টেইন অ্যান্ড্রুকে লেখেন, তাঁর এক রুশ বান্ধবী রয়েছে, যিনি ২০ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে লন্ডনে থাকবেন। এপস্টেইনের দাবি ছিল, ওই মহিলার সঙ্গে নৈশভোজ অ্যান্ড্রু উপভোগ করবেন। তবে এই রহস্যময়ী রুশ মহিলার সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আদৌ কখনও দেখা হয়েছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।নতুন করে সামনে আসা এই নথি ও ছবিকে ঘিরে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ। এপস্টেইন কাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এবং বিতর্ক যে এখনও শেষ হয়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
রাজ্য

তৃণমূলের মিছিলে ভাতারে বিধায়কের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগান, মুচকি হাসি বিরোধীদের

বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থী হওয়ার দাবিদারের লড়াই চরমে উঠেছে। ভাতারের তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলে চোর চোর স্লোগান উঠলো। তবে এই চোর চোর স্লোগান বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। ভাতারের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেই এই চোর চোর স্লোগান উঠেছে মুহূর্মুহু। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন ভাতারের প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা। ভাতারের এই মিছিলে স্লোগান ওঠে, মানু চোর, শান্তনু চোর। কেন তাঁদের চোর বলা হচ্ছে? মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত সমিতি থেকে গ্রামপঞ্চায়েত, সর্বত্র লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হচ্ছে। লুঠপাট চলছে। পকেট ভরছে নেতারা। তাদের দাবি, মানগোবিন্দ অধিকারীকে আর যেন বিধায়কপদের টিকিট না দেওয়া হয়। প্রার্থী করতে হবে বনমালী হাজরাকে।সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিধায়ক পদের টিকিট পাওয়া নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। কে হবেন বিধানসভার প্রার্থী, এখন সেই প্রতিযোগিতা চলছে। বর্ধমান জেলার প্রায় প্রতিটি জায়গায় দলের তরফে দুই পক্ষের মিছিল হয়। বর্ধমানে কখনও বিধায়ক খোকন দাসের নেতৃত্বের মিছিল হয়, আবার কখনও কাউন্সিলর রাসবিহারী হালদারের নেতৃত্বে পৃথক মিছিল হয়। ভাতারেও সেই অবস্থা চলছে। সেখানে একাংশ চাইছে মানু অধিকারী নয়, বনমালী হাজরাকে তৃণমূল প্রার্থী করুক। তবে তৃণমূলের মিছিলেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগানে মুচকি হাসছে বিরোধী শিবির।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
বিদেশ

রক্তে ভাসল পাকিস্তান! একযোগে জঙ্গি হামলায় মৃত ১২০ ছাড়াল

পরপর গুলির শব্দ, তার পর একের পর এক বিস্ফোরণ। শনিবার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।হামলা শুধু গুলি ও বোমাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সন্ত্রাসীরা কারাগারেও হামলা চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাস্তুং জেলার একটি জেল ভেঙে প্রায় ৩০ জনেরও বেশি বন্দিকে পালাতে সাহায্য করেছে তারা। একই সঙ্গে নুস্কি জেলার আধাসামরিক বাহিনীর দফতরেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একাধিক নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ভয়াবহ হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছে বালোচিস্তানে। গত কয়েক মাস ধরেই এই এলাকায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। শনিবারও একযোগে একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়েটা, গোদার, মাস্তুং, নুস্কি, দালবানদিন এবং পাঞ্জগুর-সহ বালোচিস্তানের একাধিক জেলায় একসঙ্গে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার পরই পাল্টা অভিযানে নামে পাকিস্তানের সেনা। সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ৪৮ ঘণ্টা ধরে সন্ত্রাসদমন অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩৩ জনের বেশি জঙ্গিকে খতম করেছে পাক সেনা। শুধু শনিবারেই নিহত হয়েছে অন্তত ৯২ জন সন্ত্রাসী।যদিও এই হামলার দায় বালোচ লিবারেশন আর্মি এখনও স্বীকার করেনি, তবে হামলার দিনেই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ওই সংগঠন। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান সরকার ও সেনার বিরুদ্ধে সংঘর্ষে বন্দুক হাতে অংশ নিচ্ছেন মহিলারাও। এই ছবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

ভুল নাকি অপরাধ? গোমাংস কাণ্ডে অলি পাবের ক্ষমা চাওয়ায় প্রশ্ন

সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। পাঁঠার মাংসের বদলে গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার দায়ে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এই ঐতিহ্যবাহী পাব। রবিবার সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি জারি করে রেস্তরাঁর তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। এই ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।অলি পাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩০ জানুয়ারি রাতে রেস্তরাঁর এক কর্মী ভুলবশত একটি গুরুতর ভুল করে ফেলেন। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ওই কর্মীর ভুলের জন্য রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্রেতার ভাবাবেগে আঘাত লাগায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত।এদিকে সায়ক চক্রবর্তীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার পুলিশ অলি পাবের বেয়ারা শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারি ঘিরে শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাংশ ওই কর্মীর পাশে দাঁড়ান, আবার অনেকে সেলেব ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে রেস্তরাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠতে থাকে, ভুল খাবার পরিবেশন করা কি অপরাধ, না কি কর্মীর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে বিষয়টিকে অন্য খাতে বইয়ে দেওয়া হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে অলি পাবের তরফে জানানো হয়, জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মানের ভিত্তিতেই রেস্তরাঁটি পরিচালিত হয়। আট দশকের ঐতিহ্য নিয়ে তারা গর্বিত বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেস্তরাঁর সমস্ত কর্মী ও সহযোগীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বার্তাও দেওয়া হয়।এর মাঝেই গুজব ছড়ায় যে এই ঘটনার জেরে অলি পাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই খবরে বহু নিয়মিত অতিথির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে রবিবারের বিবৃতিতে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, অলি পাব বন্ধ হচ্ছে না। বরং এই কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগের মতোই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে পরপর ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। যদিও বর্তমানে সেই পোস্টগুলি আর পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সেদিন রাতে সায়ক তাঁর দুই বন্ধু অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডুর সঙ্গে অলি পাব যান। তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। খাবার পরিবেশনের পর প্রথমে খিদের চোটে বিষয়টি বুঝতে পারেননি তাঁরা। পরে টেবিলে আরও একটি স্টেক আসতেই সন্দেহ হয়।সায়কের দাবি, তাঁরা একটি মাত্র স্টেক অর্ডার করেছিলেন। কিন্তু বেয়ারা জানান, দুটি স্টেক অর্ডার করা হয়েছেএকটি মাটন এবং একটি বিফ। তখনই সায়ক প্রতিবাদ করেন। তাঁর কথায়, অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বচসার মধ্যেই বেয়ারা স্বীকার করেন যে তিনি ভুল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে রেস্তরাঁর মধ্যেই উত্তেজনা ছড়ায়। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সায়ক। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার ওই বেয়ারাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

গোমাংস বিতর্কে ইউটার্ন! বেয়ারার বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার সায়কের

রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তরাঁ অলি পাব। তাদের বক্তব্যে জানানো হয়েছে, কোনও ক্রেতার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। এই ক্ষমা প্রার্থনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী।অলি পাবের বিবৃতি প্রকাশের পরই সায়ক সোশাল মিডিয়ায় জানান, তিনি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, তিনি জনগণের উপর নির্ভরশীল এবং মানুষ যা বলবেন, সেটাই তিনি মেনে নেবেন। সেই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চাপের মুখেই নিজের অবস্থান বদল করলেন অভিনেতা।গত ২৪ ঘণ্টায় গোমাংস বিতর্ক ঘিরে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয় সোশাল মিডিয়ায়। ঘটনার সূত্রপাত একটি ভ্লগকে কেন্দ্র করে। সেই ভ্লগে রেস্তরাঁর এক বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েন সায়ক। পরে অলি পাব এবং ওই কর্মীর বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে গ্রেপ্তার হন রেস্তরাঁর কর্মী শেখ নাসির উদ্দিন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। আদালতে তোলা হলেও শনিবার তিনি জামিন পাননি বলে খবর।এদিকে শনিবার রাতেই সায়কের বিরুদ্ধেও পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাট্যব্যক্তিত্ব জয়রাজ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ ছিল, সায়কের বক্তব্য থেকে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মধ্যেই রবিবার অলি পাব প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। তার পরই সায়ক নিজে থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।সায়ক চক্রবর্তী তাঁর পোস্টে লেখেন, অলি পাব শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছে, তাই নতুন করে কোনও গল্প বানানোর প্রয়োজন নেই। তিনি স্বীকার করেন, রাগের মাথায় থানায় গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তাঁর মাথা ঠিক ছিল না। তিনি জানান, তিনি কোনওদিন গোমাংস খাননি এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। অলি পাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তিনি প্রত্যাহার করছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন।অভিনেতা আরও লেখেন, রেস্তরাঁর ভুল নিয়ে তাঁর সমস্যা ছিল, কিন্তু তাঁর প্রতিক্রিয়াও হয়তো ভুল ছিল। সে জন্য তিনি দুঃখিত। ভবিষ্যতে ভ্লগ বা ইনস্টাগ্রাম কনটেন্ট বানাতে গিয়ে এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর হিন্দু-মুসলিম কোনও সমস্যা নেই। তিনি কেবল নিজের কিছু ব্যক্তিগত আচার মেনে চলতে চান। তাঁর কনটেন্ট আগেও মানুষের মধ্যে ঐক্যের কথা বলেছে, ভবিষ্যতেও বলবে। পুরো ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আবারও দুঃখপ্রকাশ করেন সায়ক।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

বাজেট ২০২৬–এ পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি: মেট্রোতে জোরালো বিনিয়োগ, গতি পাচ্ছে ফ্রেট করিডর

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্র সরকার। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো রেল প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে চাঙ্গা করতে ফ্রেট করিডর সম্প্রসারণে বরাদ্দএই দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হয়েছে রাজ্যের।মেট্রো রেলে গতি, শহুরে যাত্রায় স্বস্তির আশ্বাসবাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিউ গড়িয়াএয়ারপোর্ট মেট্রো, জোকাএসপ্ল্যানেড লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে শহরের যানজট কমবে, যাত্রার সময় বাঁচবে এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ আরও জনপ্রিয় হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হলে কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার যাত্রীদেরও সরাসরি উপকার হবে।কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬২৭-এ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণে ফের বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। শহর ও শহরতলির গণপরিবহণকে আরও গতিশীল করতে অরেঞ্জ লাইন, পার্পল লাইন ও গ্রিন লাইনের জন্য মোট ২,১৪১.১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দকে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ শহুরে পরিবহণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।অরেঞ্জ লাইন: বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগে জোরনিউ গড়িয়ানেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা। এই অর্থ মূলত ভায়াডাক্ট নির্মাণ, স্টেশন অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেক-নিউ টাউনের সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।পার্পল লাইন: জোকাএসপ্ল্যানেডে শহর-উপশহর সেতুবন্ধনজোকাএসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনের জন্য সর্বাধিক বরাদ্দ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। এই লাইনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রথমবারের মতো মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ যাবে এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ, রোলিং স্টক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে। কেন্দ্রের দাবি, এই লাইনের কাজ দ্রুত শেষ হলে শহরের দক্ষিণ প্রান্তের যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় স্বস্তি মিলবে।গ্রিন লাইন: পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোতে গতি ফেরানোর চেষ্টাপূর্ব-পশ্চিম মেট্রো করিডর বা গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯.০০ কোটি টাকা। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর-৫ পর্যন্ত এই লাইন কলকাতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ অংশের প্রযুক্তিগত কাজ, স্টেশন ফিনিশিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।শহুরে পরিবহণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবপরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি লাইনে বিনিয়োগ শুধু যাত্রী সুবিধা বাড়াবে না, বরং যানজট ও দূষণ কমাতেও বড় ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এই মেট্রো প্রকল্পগুলি।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬২৭-এ অরেঞ্জ, পার্পল ও গ্রিন লাইনের জন্য ঘোষিত বরাদ্দ কলকাতা মেট্রোকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।ফ্রেট করিডর: শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্তবাজেট ২০২৬-এ পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (EDFC)-এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সংযোগ আরও শক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলিকে এই করিডরের সঙ্গে যুক্ত করতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।বিশেষ করে হলদিয়া বন্দর, দুর্গাপুরআসানসোল শিল্পাঞ্চল এবং কলকাতা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত মাল পরিবহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্যবিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট বরাদ্দ শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পূর্ব ভারতের প্রবৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। যদিও রাজ্য সরকার আরও বেশি বরাদ্দের দাবি তুলতে পারে, তবু মেট্রো ও ফ্রেট করিডরএই দুই ক্ষেত্রে ঘোষণাকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য মেট্রো রেল ও ফ্রেট করিডর সংক্রান্ত বিনিয়োগ রাজ্যের শহুরে জীবনযাত্রা ও শিল্প-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে পারে বলেই আশা।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ফাঁকে কেন্দ্রের বাজেট: স্বস্তি সীমিত, হতাশা বিস্তৃত

রবিবার সংসদে ২০২৬২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। টানা নবমবার বাজেট বক্তৃতা করলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তাঁর সরকারের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট। তবে বাজেট বক্তৃতা শেষ হতেই স্পষ্টপ্রত্যাশার পাহাড়ের তুলনায় প্রাপ্তি অনেকটাই খর্ব।বাজেট পেশের আগেই ব্যয় বরাদ্দ ও করছাড় ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহলসর্বত্র উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদে ভাষণ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে প্রথামাফিক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর ক্রমশ স্পষ্ট হয়, বড় কোনও চমক নেই।বিশেষ করে রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাংলা কার্যত ব্রাত্য। পরিকাঠামো, শিল্প বা বিশেষ প্রকল্পকোনও ক্ষেত্রেই রাজ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা শোনা যায়নি। করদাতাদের ক্ষেত্রেও হতাশা চোখে পড়ার মতো। আয়কর কাঠামোয় তেমন কোনও বড় পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ছাড় ঘোষণা হয়নি।তবে সম্পূর্ণ হতাশার ছবি নয়। কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ফলে দৈনন্দিন জীবনে সীমিত হলেও স্বস্তি মিলতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বিমানের যন্ত্রাংশে শুল্ক কমানো হবে। এর ফলে বিমান সংক্রান্ত খরচ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোওভেনের যন্ত্রাংশ-সহ বেশ কিছু বৈদ্যুতিন পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে ১৭টি ক্যানসারের ওষুধে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধও সস্তা হতে চলেছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কিছুটা কমবে বলেই আশা।পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও শুল্কছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারি এবং সৌরশক্তিচালিত প্যানেলের দাম কমতে পারে। মোবাইল ফোন তৈরির কাঁচামালের উপর শুল্ক কমানোয় দেশীয় স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট সস্তা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।চামড়াশিল্পকে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার উচ্চ শুল্কের চাপে থাকা চামড়া রফতানিকারকদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর। পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনা ও ভ্রমণের খরচ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, স্বস্তির পাশাপাশি চাপও বাড়ছে কিছু ক্ষেত্রে। বিলাসবহুল ঘড়ি এবং বিদেশি মদের উপর কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে এই সব পণ্যের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। কফি রোস্টিং ও ব্রিউইং মেশিনে ছাড় তুলে নেওয়ায় সেগুলিও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সার, আমদানিকৃত টেলিভিশন সরঞ্জাম, ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণ সংক্রান্ত যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাজেট বক্তৃতাজুড়ে আত্মনির্ভর ভারত ও বিকশিত ভারত-এর কথা বারবার উঠে এসেছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি করেছে কেন্দ্র। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাস্তবে এই বাজেটে এমন কোনও যুগান্তকারী ঘোষণা নেই, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।সব মিলিয়ে, ২০২৬২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট সীমিত স্বস্তি দিলেও বৃহত্তর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থএই মূল্যায়নই এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal