• ১২ আশ্বিন ১৪৩৩, শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Cm

কলকাতা

শিক্ষক দিবসে শুভেন্দুর বড় ঘোষণা! বদলাবে সিলেবাস, ফিরবে এনসিসি, নিয়োগ নিয়েও মিলল আশ্বাস

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে স্কুলের সিলেবাস এবং এনসিসি ফেরানোর মতো একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। একই সঙ্গে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে শিক্ষক নিয়োগ-সহ শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান বিজেপি সরকার নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের আমলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার ফলে কারচুপির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এদিন তিনি জানান, এসএসসিকে বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষায় ৫ নম্বরের বেশি রাখা যাবে না।শিক্ষানীতি নিয়েও আগের সরকারকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে জাতীয় শিক্ষানীতি রাজ্যে চালু করা হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, খেলা, মেলা এবং ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতার মতো বিভিন্ন খাতে অর্থ দেওয়া হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে তিন বছর কম্পোজিট গ্র্যান্ট আটকে রাখা হয়েছিল।স্কুলের সিলেবাস নিয়েও বড় পরিবর্তনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সিলেবাসে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিল। অন্যদিকে স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরার মতো ব্যক্তিত্বদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।শুভেন্দুর প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেই ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানানো হবে না কেন? তাঁর বক্তব্য, টাটাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সিলেবাসে এক পাতা লেখা থাকলেও স্বামী প্রণবানন্দকে নিয়ে একটি লাইনও নেই। এই ধরনের বিষয় বদলে স্কুলের সিলেবাসে আরও ভারসাম্য আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।শিশুদের মনে কোনও ধরনের বিভাজনের বীজ বোনা উচিত নয় বলেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার মাধ্যমে ছোটদের মধ্যে দেশ, সমাজ এবং মানুষের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে।এদিন এনসিসি নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের আমলে রাজ্যে এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যে এনসিসি ফিরিয়ে আনা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি খেলাধুলার দিকেও আগের সরকার যথেষ্ট নজর দেয়নি বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।সবশেষে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষক নিয়োগ করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিশ্চিন্ত থাকার বার্তা দেন তিনি। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে চলা হবে বলেও স্পষ্ট করে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও অন্যায় হবে না।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

গলব্লাডারের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার! প্রকাশ্যে আসতেই গোপালকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে পিত্তথলির পাথরের বদলে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দপ্তর। গোপালের দাবি, তাঁর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার বাসিন্দা গোপাল পোড়েলের বয়স ৪৭ বছর। তিনি একশো দিনের কাজ করে সংসার চালান। বেশ কিছু দিন ধরে পেটের ডান দিকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো হলে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে।গোপালের অভিযোগ, পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্যই তাঁকে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু তাঁর দাবি, পিত্তথলির বদলে ভুল করে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হয়।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন গোপালের এলাকার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিষয়টি সামনে আসার পর গলব্লাডারের পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য গোপালকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল।তবে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা বিভ্রাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগটি খারিজ করে দেন।এর মধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আসে। দপ্তরের তরফে প্রথমে বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ফোন করা হয় গোপাল পোড়েলের সঙ্গে।গোপালের দাবি, তিনি আর্থিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল। চিকিৎসার খরচ চালানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ তাঁর হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।গোপাল আরও জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই নথি খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ঠিক কী কারণে এমন অভিযোগ উঠল, অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরে কী কী পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
কলকাতা

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী, এবার সরাসরি আমলা-পুলিশের কাছে অভিযোগ! সপ্তাহে দু’দিন খুলছে দরজা

সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা হলে এবার থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাধারণ মানুষ সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ওই দুই দিন আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনতে হবে।এই সময়ে আধিকারিকদের যাতে বাইরে সরকারি কাজে যেতে না হয়, সেই বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে তাঁদের।সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেইল এবং মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করতে হবে। অফিসে এমন জায়গায় এই তথ্য রাখতে হবে, যাতে সহজেই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর বা বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ওই তথ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নতুন ব্যবস্থার আওতায় একাধিক স্তরের সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ থাকবে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক, পুর কমিশনার, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসক এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের মতো আধিকারিকদের কাছে সাধারণ মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মহাপরিদর্শক, পুলিশ কমিশনার, উপমহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার, উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।বন দফতরের ক্ষেত্রেও একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান মুখ্য বনপাল, অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল, মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় বন আধিকারিক, অতিরিক্ত বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং বনাঞ্চল আধিকারিকদের কাছেও অভিযোগ জানানো যাবে।রবিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না এবং সরকারি আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে রাজ্যের কর্মীবর্গ দফতর।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য জনতার দরবারে বসেন। এবার সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হল।

আগস্ট ৩০, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে নতুন রহস্য! মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি ঋতব্রতর, উঠল টেন্ডার-হুমকির প্রশ্ন

বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রবিবার তাঁর কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও পাওয়া গিয়েছে। সেই চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক জীবন, দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার দাবি এবং তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ রয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হাতে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ছাত্রজীবন বা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনও দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না। কোনও কাজের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি দলীয় নানা বিষয়ে আপত্তি থাকলেও সব সময় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।ওই চিঠিতেই তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ থাকায় মৃত্যুর নেপথ্যে ওই সংস্থার কোনও বিষয় রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও এই মুহূর্তে এমন কোনও যোগের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।এর মধ্যেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আসল তৃণমূল-এর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশঙ্কা, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর কোনও ধরনের চাপ বা হুমকি তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।চিঠিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে উন্নয়ন নিগমের টেন্ডার নিয়ে তাঁকে কোনও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগম-সহ অন্যান্য উন্নয়ন পর্ষদে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ঋতব্রত।আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মৃত্যুর আগে আশিসের লেখা চিঠিতে যেহেতু উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ রয়েছে, তাই ওই সংস্থার টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা জরুরি।ফলে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এখন একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। শেষ চিঠিতে কেন তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন নিগমের প্রসঙ্গ এল, টেন্ডার নিয়ে তাঁর উপর কোনও চাপ তৈরি হয়েছিল কি না এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই বিষয়গুলির আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি নাসবই তদন্তের বিষয়। আপাতত এই প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি। তদন্ত এগোলেই মৃত্যুর নেপথ্যের প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।

আগস্ট ১৭, ২০২৬
রাজ্য

নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের, অনন্ত মহারাজকে কি গ্রেপ্তার করা হবে? মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় তীব্র জল্পনা

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আইন সবার জন্য সমান এবং নেতাজি সম্পর্কে কটূক্তি করলে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এরপরই অনন্ত মহারাজকে ঘিরে গ্রেপ্তারির জল্পনা শুরু হয়েছে।দিনহাটায় একটি কর্মসূচি শেষে অনন্ত মহারাজ নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকার কারণেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আজাদ হিন্দ ফৌজের লড়াই সম্ভব হয়েছিল। একই সঙ্গে নেতাজির নেতৃত্ব এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। নেতাজিকে নিয়ে এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন থানায় অভিযোগ জমা পড়ে। বিতর্ক ক্রমশ বাড়তে থাকায় বুধবার মুখ্যমন্ত্রীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোনও ব্যক্তির নাম না করে স্পষ্ট করে দেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। নেতাজি সম্পর্কে কটূক্তি বা অসম্মানজনক মন্তব্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও এবার কঠোর পদক্ষেপ হতে পারে?এই পরিস্থিতিতে নিজের বক্তব্য নিয়ে সুর কিছুটা নরম করেছেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি, তিনি কারও নামে বদনাম করেননি এবং কোনও মিথ্যা বা মনগড়া কথা বলেননি। তাঁর বক্তব্য, তিনি ইতিহাসের কথাই বলেছেন এবং কাউকে গালাগালি করেননি।অনন্ত মহারাজ আরও জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী কী বলেছেন, সেটি তাঁর বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।তবে মুখ্যমন্ত্রীর আইন সবার জন্য সমান বার্তার পর অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। ইতিমধ্যেই দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তদন্ত কতদূর এগোয় এবং নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনায় আইনগত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ১২, ২০২৬
কলকাতা

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে বড় ঘোষণা, ১৭ অগস্ট থেকেই কার কার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা?

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১৭ অগস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই যাঁদের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, তাঁদের পাশাপাশি নতুন আবেদনকারীরাও এই সুবিধা পাবেন।সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিয়ে একদিকে যেমন অনেক মহিলা টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন, অন্যদিকে আবার যোগ্য নন এমন ব্যক্তিদেরও টাকা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণেই উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করে রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ১৩ অগস্ট পর্যন্ত এই যাচাইয়ের কাজ চলবে। যাঁদের নাম এবং তথ্য যাচাই হয়ে গিয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে ১৭ অগস্ট থেকেই টাকা পাঠানো হবে। নতুন করে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরাও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এই সুবিধা পাবেন।শুধু প্রথম দফার টাকা নয়, প্রতি মাসে যাতে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পৌঁছয়, সেই বিষয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই অর্থ দফতরের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করেই টাকা দেওয়া হবে। গত সরকারের আমলে বিভিন্ন আর্থিক প্রকল্পে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, নতুন সরকারের আমলে তা কোনওভাবেই হতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে ইতিমধ্যেই যে তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে, সেটিও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে। ফলে ১৭ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নজর থাকছে রাজ্যের বহু মহিলার।

আগস্ট ১২, ২০২৬
রাজ্য

জঙ্গলমহল নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! ধর্ম পরিবর্তন ও জমি কেনাবেচায় নতুন আইন, আর কী করতে চলেছে সরকার?

বাঁকুড়ায় সাত জেলার প্রশাসনিক বৈঠকের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জঙ্গলমহলের উন্নয়ন থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা, আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন তিনি।মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় সাতটি জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গত তিন মাসে তাঁর সরকার কী কী কাজ করেছে এবং আগামী দিনে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তার একটি হিসাব তুলে ধরেন তিনি।জঙ্গলমহল এবং প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে জঙ্গলমহলের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিদেশি অর্থের সাহায্যে ধর্মান্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং এ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।সাংবাদিক বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। সীমান্ত এলাকায় জমি হস্তান্তর, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকা সংশোধন, ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বাতিল এবং গো-সুরক্ষার মতো একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মহরমের সময় তলোয়ার নিয়ে মিছিল বা প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।এরপরই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বড় মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কিছুদিনের মধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে। একইসঙ্গে এক দেশ, এক প্রধান, এক রাজ্য, এক মুখ্যমন্ত্রী, এক আইন-এর কথাও বলেন তিনি।ধর্ম পরিবর্তন এবং জমি কেনাবেচা নিয়েও নতুন আইনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আরও দুটি কাজ তাঁর বাকি রয়েছে। তার মধ্যে ধর্ম পরিবর্তন এবং জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত আইন আনার বিষয়টি রয়েছে।তবে শুধু আইন বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, জঙ্গলমহলের উন্নয়নকেও আগামী দিনের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। আগামী তিন মাসের জন্য এই এলাকার উন্নয়ন নিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির কথাও জানিয়েছেন তিনি।বাঁকুড়ার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ধর্ম পরিবর্তন ও জমি কেনাবেচা নিয়ে প্রস্তাবিত আইন কেমন হবে এবং কবে তা কার্যকর হবে, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১১, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে কাদা-জুতো! ‘চোর’ স্লোগানের পর পানিহাটি থেকে বিস্ফোরক বার্তা শুভেন্দুর

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, রবিবার তাঁর গাড়ি যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি।পানিহাটিতে তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছিল। টেলিভিশনের ছবিতে তিনি এক জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে দেখেছেন বলেও জানান শুভেন্দু।শুভেন্দুর আরও দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পরিচিত মুখ বা দলীয় পতাকা তিনি দেখতে পাননি। একই সঙ্গে তিনি মমতার হালিশহর সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ছুটির দিনে এক জন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মমতা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাকে যথাসম্ভব নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তবে তাঁর পরামর্শ, কেউ সাহায্য চাইলে অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। কিন্তু এমন কোনও জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।হালিশহরের ঘটনার সূত্রপাত থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। রবিবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গেই মমতাকে তিলোত্তমার বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়কার একাধিক অভিযোগ তুলে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক দিকে হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ, অন্য দিকে সেই ঘটনার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যসব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

‘লম্বা লড়াই, তবে তিলোত্তমাই জিতবে’, পানিহাটিতে শুভেন্দুর বিস্ফোরক ঘোষণা, ফের তদন্তের নির্দেশ

অভিশপ্ত ৯ অগাস্টের দুবছর পূর্ণ হল। তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার পানিহাটিতে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু-রহস্য আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সভায় শুভেন্দু বলেন, লম্বা দুবছরের লড়াই। দীর্ঘ লড়াই। তবে আমি বলছি, নিশ্চিত ভাবে এই লড়াইয়ে তিলোত্তমা জিতবে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও জায়গা থাকবে না। ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিলোত্তমার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের পেছনে তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই সূত্রে তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তৎকালীন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের তদন্ত প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনা গোটা রাজ্য তথা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছিল। তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই তিলোত্তমার পরিবার দাবি করে এসেছে, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্তের ঘোষণাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে তিলোত্তমার পরিবার। তাঁদের আশা, এত দিন যে প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি, নতুন তদন্তে তার কিছুটা হলেও স্পষ্ট হবে।তিলোত্তমার মৃত্যুর দুবছরের স্মরণসভায় নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করে বলেন, রাখিপূর্ণিমার দিন অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযানের সময় তিলোত্তমার মায়ের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ হয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।শুভেন্দুর কথায়, আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামী দিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে। ফলে তিলোত্তমাকাণ্ডে নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে ঠিক কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হয় এবং পুরনো কোনও প্রশ্নের নতুন উত্তর মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

‘রাজনীতিটাই জটিলতা’, শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর এনডিএ নিয়ে বড় বার্তা দুই সাংসদের

এনডিএ-তে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনার মধ্যেই শনিবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন এনসিপিআইয়ের দুই সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমান। বৈঠকের পর এনডিএ নিয়ে তাঁদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তাঁরা। আবু তাহের জানান, এনডিএ-র নামে কোনও বৈঠকে তাঁরা যাবেন না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিটাই জটিলতা। প্রতিদিন জটিলতার মধ্যে দিয়ে চলছি।এনসিপিআইয়ের মোট ২০ জন সাংসদ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানকে ঘিরেই মূলত জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই তিন সাংসদের নির্বাচনী এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে তাঁদের বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।এই তিন সাংসদ এখনও পর্যন্ত এনডিএ-র বিভিন্ন বৈঠক থেকে দূরে থেকেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়। তার পরেই শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়।পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন দুই সাংসদ। বৈঠকে তাঁদের রাজ্য এবং নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তাঁরা। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেন দুই সাংসদ।বৈঠকের পর আবু তাহের এবং খলিলুর রহমান জানান, তাঁদের উত্থাপিত সমস্যাগুলি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এনডিএ-র সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা পুরোপুরি থামেনি।বিশেষ করে তিন সংখ্যালঘু সাংসদকে ঘিরে যে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই আবু তাহেরের এনডিএ-র নামে কোনও বৈঠকে যাব না মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী ডাকা বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি এবং তার পরেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎদুই ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে রাজনৈতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ হাসপাতালে মিঠুন! অস্ত্রোপচারের খবর ছড়াতেই ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী, জানালেন বড় আপডেট

জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী অসুস্থ হয়ে কলকাতার বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সকালে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যরা। মুখ্যমন্ত্রী অভিনেতার সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।গত কয়েক বছরে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর একাধিক নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক নির্বাচনেও বয়সের তোয়াক্কা না করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার করেছেন। প্রচারের মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রচার থামাননি।মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী নিউটাউনে মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এবার অভিনেতার হাসপাতালে ভর্তির খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে যান তিনি। বেশ কিছুক্ষণ মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকেও তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানেন।হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মিঠুন চক্রবর্তী বাংলার সম্পদ। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়েও বাংলার মানুষের কাছে মিঠুনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি আরও জানান, ছোট একটি অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বর্তমানে অভিনেতা সুস্থ আছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজের সমাজমাধ্যমেও সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করেছেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মিঠুন চক্রবর্তীর হাতে অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

আগস্ট ০৭, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর বড় ডাক! স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যজুড়ে তেরঙ্গা উৎসব, জেনে নিন পুরো কর্মসূচি

স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে এবার রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে হর ঘর তেরঙ্গা কর্মসূচি। এতদিন এই কর্মসূচি বাংলায় সরকারি উদ্যোগে পালিত হয়নি। এবার প্রথমবার রাজ্য সরকার কেন্দ্রের এই উদ্যোগে সামিল হচ্ছে। আগামী ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবানীপুর থেকেই শুরু হবে তেরঙ্গা যাত্রা এবং তিনি নিজেও সেই মিছিলে অংশ নেবেন।বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার ভবানীপুরের সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা পর্যন্ত বিশাল তেরঙ্গা মিছিল হবে। রাজ্যের সব মানুষের কাছে তিনি আবেদন করেছেন, প্রত্যেকে যেন নিজের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাজ্যজুড়ে প্রায় সত্তর লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে কেন এই কর্মসূচি পালন করা হয়নি, তা তিনি জানেন না। তবে এবার থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর এই কর্মসূচি পালন করা হবে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমা, ব্লক, পুরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ভবন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে। প্রবন্ধ লেখা, অঙ্কন প্রতিযোগিতা, সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ১০ আগস্ট বিকেল তিনটায় নেতাজির মূর্তির পাদদেশ থেকে আরও একটি বড় তেরঙ্গা মিছিল বের হবে। সরকারি কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই এই মিছিলে অংশ নেবেন। ইতিমধ্যেই প্রায় তিরিশ হাজার মানুষ অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এবারের উদযাপন রাজ্যজুড়ে বিশেষ মাত্রা পাবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

আগস্ট ০৬, ২০২৬
কলকাতা

অবশেষে ঘোষণা! এই তারিখ থেকেই মিলবে অন্নপূর্ণার তিন হাজার টাকা, কারা পাবেন জানাল সরকার

অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। চলতি আগস্ট মাসের তিন হাজার টাকার কিস্তি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করিয়ে এই মাসের মধ্যেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পনেরো আগস্টের পর থেকেই ধাপে ধাপে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হবে।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইনে আবেদন করার সময় বহু ক্ষেত্রে ভুল তথ্য জমা পড়েছে। কোথাও ভুল নথি, কোথাও আবার ব্যাঙ্কের তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তাই প্রত্যেকটি আবেদন বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে বিডিও স্তরে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই প্রকৃত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী মালতী রাভা রায় জানিয়েছেন, যাঁরা প্রকৃতভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাঁরাই টাকা পাবেন। ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে বা যোগ্য না হয়েও আবেদন করলে কোনওভাবেই টাকা দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো অথবা যাঁরা করদাতা পরিবারের সদস্য, তাঁদের এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না।সরকারের দাবি, অনেক আবেদনকারী নিজেরা আবেদন না করে অন্যের মাধ্যমে আবেদন করায় তথ্যগত ভুল হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের তথ্য সঠিকভাবে যুক্ত না থাকায় সমস্যাও তৈরি হয়েছে। সেই সব আবেদনও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও যোগ্য মানুষ যাতে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এই সমীক্ষা করা হচ্ছে। সব তথ্য যাচাইয়ের পরই ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা পাঠানো হবে।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
কলকাতা

বদলে যাচ্ছে ‘বাংলার বাড়ি’র নাম! আগামীকালই বড় ঘোষণা, লক্ষ লক্ষ পরিবারে ঢুকবে টাকা

রাজ্যের আবাসন প্রকল্পে বড় পরিবর্তনের পথে সরকার। এতদিন যে প্রকল্প বাংলার বাড়ি নামে পরিচিত ছিল, সেটির নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন নামের এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবেন।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে প্রায় দশ লক্ষ পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাঠানো হবে। এই প্রকল্পে বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা। এর মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। এবার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা উপভোক্তারা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন।সরকার জানিয়েছে, যাঁরা প্রথম কিস্তির অর্থ ব্যবহার করে বাড়ির লিন্টন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করেছেন, শুধুমাত্র তাঁরাই এই পর্যায়ে দ্বিতীয় কিস্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। সমস্ত নথি ও নির্মাণের অগ্রগতি যাচাই করার পরেই টাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, যাঁরা এখনও বাড়ির নির্মাণ নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত শেষ করতে পারেননি, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হচ্ছে না। নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর নতুন করে সমীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।সরকারি সূত্রের দাবি, উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাচাই প্রক্রিয়ায়। প্রকৃত যোগ্যদের কাছেই সরকারি অনুদান পৌঁছে দিতে একাধিক স্তরে নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সম্পূর্ণ যাচাইয়ের পরেই অর্থ ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে বহু পরিবারের বাড়ি তৈরির কাজ ফের গতি পাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নতুন নামে আবাস প্রকল্প চালুর মধ্য দিয়ে রাজ্যের আবাসন কর্মসূচিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

আগস্ট ০৫, ২০২৬
দেশ

বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! আরও পাঁচ হাজার মহিলা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা, কারা থাকছেন তালিকায়?

দিল্লির বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ দলের অন্যান্য সাংসদরা। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, রাজ্যের উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে।বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে। যাঁরা আবেদন করার পরেও এখনও এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাননি, তাঁদের জন্য নতুন সুযোগের ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রত্যেক এনসিপিআই সাংসদ তাঁদের নিজ নিজ লোকসভা এলাকায় অতিরিক্ত পাঁচ হাজার উপভোক্তার নাম সুপারিশ করতে পারবেন। সেই তালিকায় থাকবেন এমন মহিলারা, যাঁরা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি।ইতিমধ্যেই বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে গিয়েছে। তবে অনেক আবেদনকারী এখনও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে কুড়ি জন সাংসদের মাধ্যমে মোট এক লক্ষ নতুন উপভোক্তা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।বৈঠকের পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী রায় জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য নতুন রাস্তা, সমন্বিত শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা এখনও পাননি, তাঁদের মধ্যে পাঁচ হাজার জনের নাম প্রত্যেক সাংসদ সুপারিশ করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।সূত্রের খবর, বৈঠকে কয়েকজন সাংসদ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও অনেক এলাকায় নিচুতলার কর্মীদের সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবের কথাও তুলে ধরা হয়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আগস্ট ০৪, ২০২৬
কলকাতা

চিনার পার্ক থেকে নবান্ন! হামিমের নিশানায় কি মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা? জেরায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডল এবং তার সহযোগীদের জেরা করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তাঁদের দাবি, শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভা বা যাতায়াতের পথ নয়, চিনার পার্কের বাড়ির আশপাশেও নজরদারি চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি হামিম বা তার সহযোগীরা নবান্ন চত্বরেও গিয়েছিল কি না, তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গত সপ্তাহে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় জানা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখা ছিল তার অন্যতম দায়িত্ব। অভিযোগ, বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই এই নজরদারি চলছিল। নিরাপত্তার কোথাও দুর্বলতা রয়েছে কি না, সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামিম মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক জনসভা এবং কর্মসূচির আশপাশে গিয়েছিল। পাশাপাশি চিনার পার্কের বাড়ির অবস্থানও খতিয়ে দেখেছিল বলে দাবি। এমনকি বাড়ির কাছাকাছি কোথাও থাকার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। যদিও সত্যিই সেখানে কোনও বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।তদন্তকারীদের ধারণা, হামিম ও তার সহযোগীরা নবান্ন চত্বরেও গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে থাকতে পারে। সেই কারণেই ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। হামিমের গতিবিধি এবং তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ রেখেছিল, সেই তথ্যও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও হাওড়ার উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও হামিমদের নজরদারির তালিকায় ছিলেন। অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অপহরণের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। এই তথ্য হামিমকে জেরা করেই পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।ইতিমধ্যেই হামিমের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতার বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তবে এই নেটওয়ার্কে আরও কারা জড়িত, অর্থ কোথা থেকে আসত এবং আর কী কী পরিকল্পনা ছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ধৃতদের জেরা চলছে।

আগস্ট ০৪, ২০২৬
রাজ্য

দিল্লিতে বড় বৈঠক! শুভেন্দুর সঙ্গে এনসিপিআই সাংসদদের মুখোমুখি বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

দিল্লির বঙ্গভবনে মঙ্গলবার এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে যায়। এবার তৃতীয় সপ্তাহে সেই বৈঠক হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই বৈঠকের দিকেই।প্রথমে বৈঠকটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে হওয়ার কথা ছিল। পরে স্থান পরিবর্তন করে বঙ্গভবন ঠিক করা হয়। তবে গত আটাশে জুলাই রাজ্যের ব্যস্ততার কারণে দিল্লি যেতে পারেননি শুভেন্দু। সেই কারণে বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। এবার মঙ্গলবার সেই বৈঠক হওয়ার কথা।বৈঠকে কতজন সাংসদ উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, প্রায় কুড়ি জন সাংসদ উপস্থিত থাকতে পারেন। যদিও শেষ মুহূর্তে সেই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আলোচনা চলছে।এর আগে বৈঠক স্থগিত হওয়ার পর এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে না এলেও, মঙ্গলবারের বৈঠকে সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।সূত্রের খবর, কয়েকজন সাংসদ তাঁদের এলাকায় প্রশাসনিক সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলতে পারেন। কোথাও কোথাও সাংসদদের এলাকায় কাজ করতে সমস্যার অভিযোগও উঠে এসেছে। সেই বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।এদিকে সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছেন, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য এলাকার উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন, সাংসদদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, বৈঠকে কুড়ি জনের মতো সাংসদ থাকার কথা তিনি শুনেছেন। শেষ পর্যন্ত কতজন উপস্থিত থাকেন, তার উপরেই রাজনৈতিক বার্তার গুরুত্ব অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।মঙ্গলবারের এই বৈঠক ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৩, ২০২৬
কলকাতা

আজ থেকেই স্কুলে বড় বদল! পড়ুয়াদের পাতে নতুন খাবার, নিজেই রান্নাঘরে মুখ্যমন্ত্রী

আজ থেকে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য নতুনভাবে মিড ডে মিল সরবরাহ শুরু হল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পাইলট প্রকল্পের আওতায় বড় রান্নাঘরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনের আগে যজ্ঞে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং প্রতীকীভাবে খাবার তৈরির কাজেও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকেরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকটি স্কুলের পড়ুয়ারাও উপস্থিত ছিল। পরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করা হয়।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আজ থেকেই সরকারি স্কুলে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্যসম্মত, পরিচ্ছন্ন এবং উন্নত মানের খাবার পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করা এবং তাদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই বহু বছর আগে মিড ডে মিল প্রকল্প চালু হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সেই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হচ্ছে।সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আধুনিক রান্নাঘরে তৈরি খাবার বৈদ্যুতিক গাড়িতে করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি খাবারের পাত্র সিল করা থাকবে যাতে খাবারের মান ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। স্কুলে পৌঁছে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সেই সিল খোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিড ডে মিলের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।মিড ডে মিল নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা থাকবেই। তবে সরকারের লক্ষ্য পড়ুয়াদের উন্নত মানের খাবার পৌঁছে দেওয়া। তিনি আরও জানান, অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখে রাজ্যের স্কুলগুলিতেও সপ্তাহে দুই দিন ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মিড ডে মিল প্রকল্পে যুক্ত রাঁধুনিদের নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাঁধুনি কাজ হারাবেন না। নতুন ব্যবস্থাতেও তাঁদের যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের মাসিক সম্মানী দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

কোটি কোটি টাকা থেকে বিলাসবহুল গাড়ি! টুলুর সম্পদের খতিয়ান প্রকাশ্যে

বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে বড় দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, টুলুর নামে থাকা একাধিক সম্পত্তি, ব্যাঙ্কের অর্থ এবং দামি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই মামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, টুলু মণ্ডলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় তিরানব্বই কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া তিপ্পান্ন লক্ষ টাকা নগদ, দুইশো আটষট্টি গ্রাম সোনা, চারশো গ্রাম রুপো এবং তেষট্টি গ্রাম প্ল্যাটিনাম উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা তিনটি টাকা গোনার মেশিন, একটি কম্পিউটার, দুটি পেনড্রাইভ, তিরাশিটি ট্রাক ও ডাম্পার এবং বিএমডব্লিউ ও অডি-সহ মোট দুইশো বিয়াল্লিশটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, টুলুর নামে মোট একুশটি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। তার মধ্যে রয়েছে সাতটি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস, দুটি পেট্রল পাম্প, একটি পার্কিং এলাকা, দুটি স্টোন ক্রাশার এবং প্রায় তিনশো বিঘা জমি। এই সম্পত্তিগুলিও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।এই দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এত বড় সম্পদের সাম্রাজ্য অল্প সময়ে তৈরি হওয়া সম্ভব নয় এবং গোটা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে প্রশাসনের উচ্চস্তরের সহযোগিতা ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড সম্ভব নয়।টুলু মণ্ডল এখনও পলাতক। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমান, চলতি বছরের মে মাসের পর তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। তবে তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জুলাই ৩১, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 15
  • 16
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা, শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া! তিন দিন পরেই ভারত-পাকিস্তান মহারণ

২০২৭ সালের পুরুষদের এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের পূর্ণ সূচি ঘোষণা করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় বসবে এবারের ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। প্রতিযোগিতা শুরু হবে ২ অক্টোবর এবং ফাইনাল হবে ২১ নভেম্বর। মোট ১৪টি দলকে নিয়ে হবে ৫৭টি ম্যাচ।এবারের বিশ্বকাপের শুরুটাই হবে অন্য রকম। ১৪টি দলের মধ্যে তিনটি দলকে নিয়ে প্রথমে হবে একটি বিশেষ সুপার সিরিজ। সেই পর্বের তিনটি ম্যাচ হবে ২, ৪ এবং ৬ অক্টোবর নামিবিয়ার উইন্ডহোকে। এই পর্বের শীর্ষে থাকা দল মূল গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নেবে।এর পর ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি করে দল। ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল। অন্য গ্রুপে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ এবং আরও একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল।ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ৭ অক্টোবর। প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ভারত। ম্যাচটি হবে কেপটাউনে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আবারও বড় মঞ্চে মুখোমুখি হবে দুই দল।তার পরেই ক্রিকেটপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচ। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। অর্থাৎ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শুরু হওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই দেখা যাবে ভারত-পাকিস্তান মহারণ।ভারতের তৃতীয় ম্যাচ ১৪ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচ হবে ত্শোয়ানে। এরপর ১৭ অক্টোবর যোগ্যতা অর্জনকারী একটি দলের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। গ্রুপ পর্বে ভারতের শেষ ম্যাচ ২৪ অক্টোবর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটি হবে ভিক্টোরিয়া ফলসে।এবারের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলির একটি হল নতুন ফরম্যাট। গত কয়েকটি বিশ্বকাপের মতো সরাসরি একটি দীর্ঘ গ্রুপ পর্বের পর সেমিফাইনালে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না। প্রথমে হবে তিন দলের সুপার সিরিজ। তার পর ১২ দলের গ্রুপ পর্ব এবং শেষে সাত দলের সুপার সেভেন পর্ব।দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল সরাসরি সুপার সেভেনে যাবে। পাশাপাশি দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে যে দল তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে থাকবে, সেই দলও পরের পর্বে জায়গা পাবে। ফলে গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।সুপার সেভেনে মোট সাতটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। এই পর্বে গ্রুপ পর্বের কোনও পয়েন্ট বহন করা হবে না। ২৫ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে সুপার সেভেনের ম্যাচগুলি। এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার প্রথম চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে।সেমিফাইনাল হবে ১৭ এবং ১৮ নভেম্বর। প্রথম সেমিফাইনাল হবে কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ত্শোয়ানে। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। প্রয়োজনে ২২ নভেম্বর রাখা হয়েছে ফাইনালের সংরক্ষিত দিন।এবারের বিশ্বকাপ যৌথ ভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়া। মোট ১২টি মাঠে হবে ৫৭টি ম্যাচ। আফ্রিকার মাটিতে ২৪ বছর পর ফিরছে পুরুষদের এক দিনের বিশ্বকাপ।সব মিলিয়ে ভারতের জন্য বিশ্বকাপের শুরুতেই অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের মতো বড় প্রতিপক্ষ। তার পর আফগানিস্তান, একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল এবং জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের লড়াই। নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব থাকায় শুরু থেকেই ভারতীয় দলের সামনে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
বিদেশ

বিমানের ককপিটে কেন হামলা? স্মিত মচ্ছরকে ছুরিকাঘাতের নেপথ্যে কী, মুখ খুললেন নেতানিয়াহু

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ককপিটের ভিতরে সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন। হামলার জেরে বিমানটি আচমকা উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরে যাত্রী ও বিমানের কর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী নিরাপদে রক্ষা পান।ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানের কর্মীরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। এই ঘটনায় বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।বৃহস্পতিবার হামলার নেপথ্যের কারণ নিয়ে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত সহ-পাইলট ইসলামপন্থী ও উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত ছিলেন। তবে তাঁকে কে বা কারা এই মতাদর্শে প্রভাবিত করেছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই বলেও জানান নেতানিয়াহু। কোনও নির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও এখনও নিশ্চিত হয়নি।নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে ইজরায়েল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা হামলার আসল কারণ এবং এর পিছনে কোনও পরিকল্পনা বা সংগঠিত যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষও ঘটনার পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী যোগের বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে।ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে যায়। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফেরানো সম্ভব হয় এবং তাবুকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করা হয়।ঘটনার পর সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে আহত স্মিত মচ্ছরকে তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং প্রাথমিক ভাবে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।এই ঘটনার সঙ্গে ৯/১১-এর মতো বিমান হামলার তুলনা করেছেন নেতানিয়াহু এবং অন্য কয়েক জন। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য, অভিযুক্তের মতাদর্শগত যোগ এবং ঘটনার আগে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলির চূড়ান্ত উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। তাই হামলাটিকে নির্দিষ্ট কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত সরকারি তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছে। ঘটনাটির পর ইজরায়েলগামী বিমানের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইজরায়েলে যাতায়াতকারী পাইলটদের পরিচয় ও নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, মাঝ আকাশে ককপিটে হামলার ঘটনায় বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো গিয়েছে। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা হলেও, হামলার আসল উদ্দেশ্য এবং এর পিছনে কারও সংগঠিত ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও তদন্তের বিষয়। তদন্ত শেষ হলেই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি আরও স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর পাসের টাকা কোথায় গেল? ইডির জেরায় ইন্দ্রনীল, মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ পাঠানোর দাবি

দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তের সূত্র ধরে তাঁর সংস্থা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেনের দাবি সামনে এনেছে ইডি। তবে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য, ওই টাকা রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। ফলে লেনদেনটির প্রকৃতি নিয়ে তদন্ত চলছে।ইডির দাবি, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের আওতায় রয়েছে ম্যাসআর্ট নামে একটি সংস্থা। এই সংস্থার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুচ্ছন্দা সেন-সহ আরও কয়েক জনের নাম জড়িয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং পাসের নামে কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।তদন্তকারীদের আরও দাবি, ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার সরকারি কাজ বা টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। এই টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্দ্রনীলের মালিকানাধীন অক্টেভ রেকর্ডস-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি জমা পড়েছিল। পরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন।ওই ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন সম্পর্কে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো টাকা রয়্যালটি বাবদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই অর্থের উৎস, কারণ এবং পুজোর পাসের টাকা সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হয়ে উঠেছে।এর আগে মঙ্গলবার ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। তাঁর আত্মীয় ও সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ঠিকানাতেও অভিযান হয়। সিঙ্গুরে তাঁর বাগানবাড়িতেও তদন্তকারীরা পৌঁছেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রায় ১৫টি ঠিকানায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।তল্লাশি অভিযানের পর বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁর বক্তব্য নথিবদ্ধ করেন তদন্তকারীরা। পুজোর পাস, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টাকার আদানপ্রদান নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ইডির তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। এই অভিযোগের সত্যতা এবং ওই অর্থের পরবর্তী গতিপথ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং ইডির উত্থাপিত অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।এই মামলায় আগামী দিনে আরও কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি থেকে ইঙ্গিত মিলছে। পুজোর পাস থেকে সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে, সরকারি টেন্ডারের সঙ্গে সেই অর্থের কোনও যোগ রয়েছে কি না এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের প্রকৃতি কীএই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। এদিকে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো ৩০ লক্ষ টাকা ছিল রয়্যালটি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই লেনদেন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
রাজ্য

‘সবাইকে নিয়ে আসুন, শুধু ব্যাগেজটা বাদ’! মমতাকে অধীরের বার্তা ঘিরে নতুন চর্চা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার তাঁর বক্তব্য, মমতা তাঁর সঙ্গে থাকা সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে কংগ্রেসে ফিরলে তাঁকে বাংলায় নেতৃত্ব দিতে আপত্তি নেই। তবে একই সঙ্গে তিনি ব্যাগেজ বাদ দিয়ে আসার কথা বলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই ব্যাগেজ মন্তব্যকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।অধীরের বক্তব্যের আগে অবশ্য বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে নিজের দলের প্রার্থীকে সরিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন মমতা। পরে দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকেও তাঁকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা যায়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে কংগ্রেস ও মমতার সম্পর্ক নিয়ে তাই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।অধীর বলেন, মমতা তাঁর সমস্ত সাংসদ ও বিধায়ককে নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার নিচে এলে তিনি সেই নেতৃত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের মতো বড় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মমতা বাংলায় নেতৃত্ব দিলে তাঁর আপত্তি নেই। তবে মমতার সঙ্গে থাকা ব্যাগেজ বাদ দেওয়ার শর্তও তিনি উল্লেখ করেন।অধীরের এই বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। কারণ অতীতে অভিষেক ও অধীরের মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গিয়েছে। যদিও ব্যাগেজ বলতে অধীর নির্দিষ্ট করে কারও নাম করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের ওই অংশকে অভিষেককে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে বিভিন্ন মহল।মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের ইতিহাসও দীর্ঘ। তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের আগে মমতা দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পৃথক দল তৈরি করে তিনি বাংলার রাজনীতিতে নিজের রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করেন। এখন আবার কংগ্রেসে ফেরার আহ্বান সামনে আসায় সেই পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন। মিলন প্রধানকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয় এবং নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টেও ওই জামিনের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের আবেদনের শুনানি হয়েছে।তবে অধীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রস্তাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের তরফে এই প্রস্তাব গ্রহণের কোনও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এসেছে কি না, সেটিও আলাদা বিষয়।অধীরের বক্তব্যের পর এখন নজর থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের প্রতিক্রিয়ার দিকে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই প্রস্তাব নিয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মমতা-কংগ্রেস সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও বাড়ছে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
রাজ্য

‘মৃত্যুকামনা করিনি’, শুভেন্দুর আক্রমণের পর সুর বদল হুমায়ুনের! রেজিনগরে তুঙ্গে তরজা

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। হুমায়ুনের কয়েক দিন আগের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বৃহস্পতিবার রেজিনগরের প্রচারসভা থেকে তাঁকে কড়া আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা হুমায়ুন দাবি করেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করেননি এবং তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যু চাননি। তাঁর দাবি, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অত্যাচারের অবসানের কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, যাঁরা একতরফাভাবে অত্যাচার ও জুলুম চালান, তাঁদের পতন ইতিহাসে বার বার দেখা গিয়েছে। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সেই কথা প্রযোজ্য বলে দাবি করেন তিনি।হুমায়ুন আরও দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অন্য ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু চাননি। বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।এর আগে হুমায়ুনের বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য প্রার্থনার কথা উঠে আসে। সেই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয়েছিল।বৃহস্পতিবার রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে সেই বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে মতবিরোধ, তর্ক এবং সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যু কামনা করার মতো ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।শুভেন্দু আরও বলেন, হুমায়ুন যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তার বিচার রেজিনগরের মানুষের উপর ছেড়ে দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক লড়াইয়ে শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।হুমায়ুন অবশ্য শুভেন্দুর আক্রমণের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কথা বললেই অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়। নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি অত্যাচারীর পতনের কথা বলেছেন, কোনও ব্যক্তির মৃত্যুকামনা করেননি।রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দুই নেতার এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এক দিকে শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুনের আগের বক্তব্যকে সামনে রেখে ভোটারদের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য দিকে হুমায়ুন নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মৃত্যুকামনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে ভোটের আগে এই বিতর্ক প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক চাপানউতোর ভোটের প্রচারে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
কলকাতা

এত বছর চলল নমাজ, এখন নিরাপত্তার প্রশ্ন কেন? বিমানবন্দর মসজিদ মামলায় বড় সিদ্ধান্ত হাই কোর্টের

কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে একটি মসজিদে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নমাজ পড়ার ব্যবস্থা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু গত ১১ জুলাই থেকে সেখানে নমাজ পড়া বন্ধ রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মামলাকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ধর্মাচরণের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়। বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানিতে সওয়াল-জবাব হলেও আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ।মামলাকারীর আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, বিমানবন্দর সংলগ্ন ওই মসজিদে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে নমাজ পড়া হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, এত দীর্ঘ সময়ে সেখানে নমাজ পড়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কোনও সমস্যা হয়নি। তাহলে এখন কেন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নমাজ বন্ধ করা হল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।আইনজীবীর বক্তব্য, কলকাতা বিমানবন্দরের আট নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে ওই মসজিদে নমাজ পড়তে যেতে হত। বর্তমানে সেই প্রবেশের ব্যবস্থাই বন্ধ রয়েছে। তাঁর দাবি, ওই জমি এখনও অধিগ্রহণ করা হয়নি। তাই একেবারে নমাজ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।কিশোর দত্ত আদালতে আরও বলেন, ধর্মীয় প্রার্থনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ম মেনে অন্তত ওই মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সেই ভিত্তিতেই আপাতত নমাজ পড়ার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।এই মসজিদকে ঘিরে নিরাপত্তার প্রশ্ন অবশ্য নতুন নয়। বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং দ্বিতীয় রানওয়ের সঙ্গে মসজিদের অবস্থান নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে। মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রয়েছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ে আপত্তির কথাও আগে প্রকাশ্যে এসেছে।এর আগে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, সরকার কাউকে ধর্মপালনে বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে তাঁর বক্তব্য ছিল।এখন হাই কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে। দীর্ঘদিনের ধর্মাচরণের ব্যবস্থা ফের চালু হবে কি না, নাকি বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরবর্তী আদালতীয় প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
রাজ্য

অন্নপূর্ণা থেকে আবাস, কৃষি থেকে শিক্ষাশ্রী! শুক্রবার থেকেই ২০ প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারবেন

পুজোর মরসুমের মধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে দিতে শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে তিন দিনের বিশেষ সেবা সেতু অভিযান। ২, ৩ ও ৪ অক্টোবর এই শিবির চলবে। কলকাতার ১৬টি বরো এবং রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক ও পুর এলাকায় এই পরিষেবা শিবির আয়োজন করা হচ্ছে।এই শিবিরে একাধিক সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন এবং পরিষেবা সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শিক্ষাশ্রী, জয় জোহার, প্রধানমন্ত্রী কিষান ক্রেডিট কার্ড, প্রধানমন্ত্রী কিষান স্বনিধি-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য জানার পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিরা নতুন করে আবেদনও করতে পারবেন বলে জানা গিয়েছে।প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবির চলার কথা। বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। একাধিক ব্যাঙ্কের তরফেও কাউন্টার খোলার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে সরকারি প্রকল্পের আবেদন বা পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সাধারণ মানুষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।কলকাতায় প্রতি দুটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে বিশেষ সহায়তা শিবির খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের কাছাকাছি শিবিরে গিয়ে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য নিতে এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।এবারের সেবা সেতু অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হল সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে অনেকের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তাঁরা অনেক সময় আবেদন করতে পারেন না। সেই সমস্যা কমাতেই একই জায়গায় বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শিবিরে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে পারে বলে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে অনেক মানুষ আসতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি ভিড় সামলানোর দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।কলকাতার প্রতিটি শিবিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য লালবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিন দিনই শিবিরগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের কাউন্টারে যাতে ভিড়ের কারণে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, সে দিকেও নজর থাকবে প্রশাসনের।সাম্প্রতিক সরকারি কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেবা সেতু অভিযান সেবা সংকল্প অভিযান-এর একটি অংশ। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ২ থেকে ৪ অক্টোবর জনকল্যাণমূলক পরিষেবা শিবির আয়োজনের কথা রয়েছে।ফলে সরকারি প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করতে চান বা কোনও প্রকল্পের পরিষেবা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন, এমন মানুষের জন্য ২ থেকে ৪ অক্টোবরের এই শিবির গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিজের এলাকার শিবিরের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারি তথ্যসূত্র থেকে যাচাই করে নিয়ে সেখানে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
দেশ

চার অ্যাকাউন্টে ৮০৪ কোটি, চাওয়া হয়েছিল ব্যবহারের অনুমতি! সুপ্রিম কোর্টে কী হল তৃণমূলের?

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা বিপুল টাকা ব্যবহার করা নিয়ে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের চারটি ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালানোর অনুমতি চেয়ে করা আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে হাই কোর্টকে মামলাটির দ্রুত শুনানি করতে অনুরোধ করেছে শীর্ষ আদালত।চারটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলির টাকা ব্যবহার করার অনুমতি চেয়েছিল মমতা শিবির। দলের দৈনন্দিন কাজ চালানো এবং সামনে থাকা নির্বাচনী কর্মসূচির জন্য অর্থের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাদের পক্ষের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন। প্রতি মাসে প্রায় ১২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন বলেও তৃণমূল শিবিরের তরফে জানানো হয়েছিল।মমতা শিবিরের হয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে দাবি করেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় দলের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্মীদের বেতন, দফতরের খরচ এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজ চালাতে অর্থ প্রয়োজন বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের সময় দলের আরও বেশি খরচ হয়।এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট চারটি অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি চালানোর অনুমতি দেয়নি। গত অগস্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, আগের নির্দেশ অনুযায়ী বিশেষ আধিকারিকের মাধ্যমে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে চারটি অ্যাকাউন্ট আলাদা করে চালানোর অনুমতি দিলে আগের নির্দেশই কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। তাই ওই পর্যায়ে অতিরিক্ত অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেওয়া হয়নি।বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় মমতা শিবির। কিন্তু বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। আদালত মামলার মূল অভিযোগের সত্যতা বা অ্যাকাউন্টের টাকার চূড়ান্ত অধিকার কার, সেই প্রশ্নেরও নিষ্পত্তি করেনি। বরং কলকাতা হাই কোর্টকে দ্রুত শুনানির অনুরোধ করেছে।এই মামলায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কোন পক্ষ দলটির সম্পদ ও ব্যাঙ্কের টাকার উপর অধিকার রাখবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, এই বিরোধের মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত টাকার অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।অন্যদিকে, মামলায় সরকারি পক্ষের তরফে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার আগের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা জমা বা স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। আদালত বৃহস্পতিবার এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।এর আগে তিনটি অন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর ব্যবস্থা করেছিল। সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে করা আবেদনেও সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে বর্তমানে চারটি অ্যাকাউন্টের প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা সরাসরি ব্যবহার করার অনুমতি মমতা শিবির পেল না।তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, তারা মামলার মূল মেরিটে প্রবেশ করছে না। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ বেআইনি কি না, কার অধিকার রয়েছে বা তদন্তে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটাএসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এই শুনানিতে হয়নি। এখন কলকাতা হাই কোর্টে মূল মামলার দ্রুত শুনানির দিকেই নজর থাকবে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal