• ২০ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Clash

বিনোদুনিয়া

পাপিয়ার ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টালিগঞ্জে বিস্ফোরণ! ইট-ডিমের লড়াইয়ে রণক্ষেত্র স্টুডিওপাড়া

টলিপাড়ার সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ঘোষণার মাত্র একদিনের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও চত্বর। বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ইট, পাটকেল এবং ডিম ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।বুধবার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও প্রাঙ্গণ থেকে দীর্ঘদিনের ফেডারেশন ভেঙে নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পুরনো কাঠামোর পরিবর্তে নতুন কনফেডারেশন তৈরি করা হবে এবং সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনা হবে। একই সঙ্গে টলিউডে যোগ্য ও বৈধ কর্মীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। অবৈধভাবে বা নিয়ম না মেনে কাজ পাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান।এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সকালে স্টুডিও প্রাঙ্গণে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় স্টুডিওর ভিতরে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। পরে কাছাকাছি একটি মাঠে জটলা তৈরি হয় এবং সেখানেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়।এক পক্ষের অভিযোগ, সংগঠনের পদ এবং প্রভাব ধরে রাখার জন্য কিছু নেতা বহিরাগতদের নিয়ে এসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে পাল্টা স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানায় অপর পক্ষ। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল এবং ডিম ছুড়তে শুরু করে।ঘটনায় স্টুডিওপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের জেরে কিছুক্ষণ কাজকর্মও ব্যাহত হয় বলে জানা গিয়েছে।ঘটনার পর টেকনিশিয়ানদের একাংশ বিদায়ী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, সংগঠনের আর্থিক বিষয় এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি টলিপাড়ার চলমান অস্থিরতা দূর করতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের দাবিও তুলেছেন অনেকেই।নতুন সংগঠন গঠনের ঘোষণার পরই যে ভাবে টালিগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তাতে আগামী দিনে টলিপাড়ার সাংগঠনিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

জুন ০৪, ২০২৬
রাজ্য

চারটার পরেই আগুন! বীরভূমে ভোটকেন্দ্রে তুমুল সংঘর্ষ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মারধর

বীরভূমের খয়রাশোল এলাকায় ভোট চলাকালীন হঠাৎই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। বিকেল চারটার পর থেকেই অশান্তির আশঙ্কা ছিল বলে আগে থেকেই সতর্ক করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়ে ওঠে। দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের বুধপুর গ্রামের একটি বুথে আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা খণ্ডযুদ্ধে পরিণত হয়।স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, ইভিএমে নির্দিষ্ট বোতাম চাপলেও অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট চলে যাচ্ছে। প্রায় দুইশো ভোট পড়ার পর এই বিষয়টি ধরা পড়ে বলে দাবি করেন গ্রামবাসীরা। এই অভিযোগ ঘিরে ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় এবং তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।খবর পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের আসার কথা জানানো হয়। কিন্তু তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের তীব্র বচসা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ, স্থানীয়রা জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন এবং মারধরও করা হয়। এই ঘটনায় কয়েকজন জওয়ান ও গাড়ির চালক আহত হন। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এগোতে দেখা যায়। গোটা এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে তাণ্ডব! ট্যাংরায় ৫০ জনের হামলায় রণক্ষেত্র এলাকা

ভোটের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা। গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে ট্যাংরা এলাকায় ভয়াবহ অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার রাত প্রায় সোয়া নটা নাগাদ পুলিন খাটিক রোডে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, একই পরিবারের তিন সদস্যকে বেধড়ক মারধর করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা বিক্রম খাটিক প্রতিদিনের মতো নিজের বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করতে যান। কিন্তু সেদিন সেখানে অন্য একটি গাড়ি রাখা ছিল। সেই গাড়ি সরাতে বলতেই দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় এবং প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ জন একসঙ্গে বিক্রম খাটিক ও তাঁর পরিবারের উপর চড়াও হয়।এই হামলায় গুরুতর আহত হন বিক্রম খাটিক, সাবিত্রী খাটিক ও সানি খাটিক। তাঁদের লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুধু মারধরই নয়, অভিযুক্তরা বাড়ির ভিতর ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলেও দাবি পরিবারের।বিক্রমবাবুর স্ত্রী প্রীতি খাটিক অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা এলাকার শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এর আগেও থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।পরিবারের দাবি, তারাও ওই দলের সমর্থক হিসেবেই পরিচিত। বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে খাটিক পরিবার। বিক্রম খাটিকের আর্জি, তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক, কারণ তিনি আশঙ্কা করছেন ফের হামলার শিকার হতে পারেন।এই ঘটনায় ট্যাংরা থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভোটের আগে এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ২২, ২০২৬
রাজ্য

উত্তপ্ত বরাহনগর! হামলার অভিযোগে রাস্তায় বিজেপি, ফোন করলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

সোমবার রাতে বরাহনগরে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বরাহনগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।জানা গিয়েছে, বরাহনগরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের আমতলায় বিজেপির একটি সভা ছিল। সেই সভা শেষ হওয়ার পর হঠাৎই কয়েকজন দুষ্কৃতী সেখানে এসে বিজেপি কর্মীদের হুমকি ও গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। এরপর আচমকাই তাদের উপর হামলা চালানো হয়। বিজেপির দাবি, বন্দুকের বাট দিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় তিন থেকে চারজন কর্মী আহত হয়েছেন।সজল ঘোষের অভিযোগ, তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত অজয় গুপ্তার নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর আগেও ওই ব্যক্তি এবং তার সহযোগীরা বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। সে সময় পুলিশকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। এরপর তিনি বিজেপি কর্মীদের নিয়ে বরাহনগর থানার সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান।বিক্ষোভ চলাকালীন সজল ঘোষকে ফোন করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগারওয়াল। ফোনে তিনি পুরো ঘটনা জানান এবং বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মনোজ আগারওয়াল তাঁকে আশ্বাস দেন যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সজল ঘোষ পরে জানান, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেছেন, ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের পর পুলিশ জানায়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই জন্য বিজেপিকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে রাত পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলেই জানা গিয়েছে।

এপ্রিল ১৪, ২০২৬
কলকাতা

সিইও দফতরের সামনে রণক্ষেত্র! ঘেরাও, সংঘর্ষ, মারামারি—একাধিক মামলা, আটক বহু জন

সিইও দফতরের সামনে ঘেরাও, সংঘর্ষ এবং বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হেয়ার স্ট্রিট থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। জানা গিয়েছে, দুটি মামলাই পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।গত বুধবার দুপুরে বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ফর্ম ছয় জমা দেওয়া নিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়িয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ধস্তাধস্তি চলে। বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা আক্রমণের মুখে পড়েন তৃণমূল কর্মীরাও।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দিনভর উত্তেজনা চলার পর শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।অন্যদিকে আরও একটি মামলায় তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর, এক শিক্ষক নেতা-সহ মোট ছজনের নাম রয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সচিন সিংহ এবং শান্তি রঞ্জন কুণ্ডু। এছাড়াও বিএলও মঞ্চের মইদুল ইসলাম-সহ অন্যদের নামও রয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই মামলার ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত আঠারো জনকে আগাম গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বারো জনকে নোটিস পাঠিয়ে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশের দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের রোড শো ঘিরে উত্তেজনার ঘটনাতেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে দুটি আলিপুর থানায় এবং একটি কালীঘাট থানায় নথিভুক্ত হয়েছে।

এপ্রিল ০৪, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ির সামনে সংঘর্ষ! রোড শোতেই চরম অশান্তি

ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনই চরম উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রোড শো চলাকালীন দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।ঘটনাটি ঘটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে। সেখানে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এগিয়ে আসতে হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।এ দিন রোড শো চলাকালীন তৃণমূল সমর্থকরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরাও। দুই পক্ষের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে।পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অমিত শাহের কনভয় ওই এলাকায় পৌঁছয়। তখন জুতো ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। উত্তেজনার মধ্যে কনভয় এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে।এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহকে কনভয় থেকে নেমে যেতে হয়। পরে তিনি একটি ছোট গাড়িতে উঠে ওই এলাকা পার হন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।মনোনয়ন জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই ধরনের ঘটনার জেরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
বিদেশ

পাক–আফগান রক্তক্ষয়ী সংঘাত, পাকিস্তানের পাশেই আমেরিকা! ট্রাম্পের মন্তব্যে চাঞ্চল্য

ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে পাকআফগান সংঘাত। রক্তক্ষয়ী এই লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই যুদ্ধে ইসলামাবাদকেই সমর্থন করছে আমেরিকা। পাশাপাশি তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো। এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন এবং প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপ করবেন। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী একজন মহান নেতা এবং সে দেশের সেনা প্রধানকেও তিনি সম্মান করেন। পাকিস্তান ভালো কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ দপ্তরও পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেছে। তাদের বক্তব্য, তালিবানের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে পাকিস্তানের। তালিবান সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। তাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি হামলা চালাচ্ছে, যা গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতদিন তালিবানকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি আমেরিকা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সমর্থন করে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।সংঘাতের সূত্রপাত গত রবিবার। পাকিস্তানের হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে পাক সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ চালায় আফগান বাহিনী। তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তানের অন্তত ১২টি সীমান্ত পোস্ট এখন তাদের দখলে। সেই হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এরপর শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় পাল্টা আক্রমণ চালায় পাকিস্তান। দুই পক্ষই সেনা মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।পাকিস্তানের দাবি, কান্দাহার আকাশে তাদের যুদ্ধবিমান টহল দিচ্ছে। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, এবার সরাসরি যুদ্ধের পথে এগোবে দেশ। অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ।এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তালিবান তাদের আত্মঘাতী বাহিনী সক্রিয় করেছে বলেও খবর মিলেছে। ফলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
বিদেশ

ভোরে তেহরানে ভয়াবহ হামলা! যুদ্ধের মুখে ইরান–ইজরায়েল, সারা বিশ্বে চরম উত্তেজনা

যুদ্ধের আশঙ্কা আগেই করা হচ্ছিল। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। আজ ভোরে ইরানের উপর বড়সড় হামলা চালাল ইজরায়েল। রাজধানী তেহরানে পরপর বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে শহর। হামলার পরই ইরান জুড়ে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন। একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ছুটতে দেখা গেছে শহরের রাস্তায়।এই হামলার পর ইরানের পাল্টা জবাব আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলে সাইরেন বাজতে শুরু করেছে। হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরান নিজেদের আকাশপথ খালি করে দিয়েছে। পরিস্থিতি যে কোনও সময় আরও ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে ভারত আগেই তাদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল। আমেরিকা ও চিনও তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বলেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অতর্কিতে হামলা চালাল ইজরায়েল। খবর অনুযায়ী, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে।আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা, ইজরায়েল একা এই সিদ্ধান্ত নেয়নি। অনেকেরই ধারণা, আমেরিকার সমর্থনেই এই হামলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন রয়েছে। এই উপসাগরের মধ্যেই রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছয়। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, প্রয়োজন হলে তারা এই প্রণালী বন্ধ করে দেবে। তা হলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সেই কারণেই হরমুজ প্রণালীর পথ খোলা রাখা আমেরিকার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত বছরও ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। এবার নতুন করে হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাল্টা জবাবে ইরান কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মত। যদি তা ঘটে, তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে এবং তার ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
কলকাতা

পতাকা লাগানো নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ! সখেরবাজারে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি

পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে রবিবার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হল বেহালার সখেরবাজারে। তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু করে ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবার রোডে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।রবিবার সখেরবাজার মোড়ে বিজেপির একটি সভা ছিল। সেই সভায় বক্তব্য রাখার কথা ছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেবের। সভাকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এলাকায় দলীয় পতাকা লাগাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলের কর্মীরা পতাকা লাগাতে বাধা দেন। তা থেকেই শুরু হয় বচসা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।ঘটনাস্থলের কাছেই রয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের অফিস। অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ওই অফিসে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।এরপর বিপ্লব দেব সভায় বক্তব্য রাখার পর ফের অশান্তি ছড়ায় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির সভা শেষ হতেই তৃণমূল কর্মীদের দিকে আঙুল তুলে বিজেপি গন্ডগোল বাধায়। অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, সভা ভন্ডুল করতেই তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপির সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে সভামঞ্চ। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীদের চেষ্টায় বেশ কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পরেও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৃণমূলের বিধায়ক দেবাশিস কুমার ও রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমার বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, বাংলায় গণতন্ত্র রয়েছে বলেই বিজেপি মঞ্চ বাঁধতে পেরেছে। এসআইআর নিয়ে বিজেপির ষড়যন্ত্র কাজ করছে না বুঝেই পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য, এই ভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
রাজ্য

বিধায়কের হাত থেকেও ছিনতাই! ফর্ম সেভেন ঘিরে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক ঝড়

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ তারিখে যদি বিজেপি কর্মীরা ইআরও অফিসে ফর্ম জমা দিতে আসে, তাহলে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে ডিজে বাজিয়ে ভদ্রভাবে প্রতিবাদ জানাতে। আজ সেই ১৯ তারিখ। আর ঠিক এই দিনেই জেলায় জেলায় উত্তেজনার ছবি সামনে এল।এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি কেন্দ্রগুলিকে ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক বচসা ও হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে। আসানসোল, বনগাঁ থেকে চুঁচুড়া একের পর এক জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।আসানসোল দক্ষিণ থানার মহকুমাশাসক দফতরের সামনে হেয়ারিং কেন্দ্র ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, একটি কালো গাড়িতে করে বিপুল সংখ্যক ফর্ম সেভেন নিয়ে এসেছিলেন বিজেপির নেতারা। বিষয়টি জানাজানি হতেই তৃণমূল নেতৃত্ব গাড়িটি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ, গাড়ির সামনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। এর পর তৃণমূল ও বিজেপি নেতাদের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই ঘটনায় এক বিজেপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে বহু ফর্ম সেভেন জমা দিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।তৃণমূলের এক নেতা বলেন, যদি কোনও সমস্যা থাকে, তা হলে বিএলও বা ইআরও-র কাছে জানানো উচিত। কিন্তু হাজার হাজার ফাইল নিয়ে এসে অশান্তি করা হচ্ছে। বিজেপির এক ব্লক নেতা পাল্টা দাবি করেন, তিনি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে কাজ করতে দিচ্ছে না এবং ফাইল ছিনিয়ে নিচ্ছে।শুধু আসানসোল নয়, বনগাঁ উত্তর মহকুমাশাসক দফতরের সামনেও উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার হাত থেকে ফর্ম সেভেন ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন তৃণমূল কর্মীরা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।চুঁচুড়া সদর মহকুমাশাসক দফতরের শুনানি কেন্দ্রেও অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। সেখানে বিধায়ক অসীত মজুমদারের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ফর্ম জমা দিতে আসা এক ব্যক্তির সঙ্গে ঠেলাঠেলি ও মারধর করা হয় এবং তাঁর ফর্ম ছিঁড়ে ফেলা হয়।এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি কেন্দ্রগুলিতে এই অশান্তির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
রাজ্য

খালের বাঁধ, রাস্তা, শ্মশান—সবই বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ! ময়নায় রাজনৈতিক ঝড়

সরকারি সেচ দফতরের জমি বেআইনি ভাবে বিক্রি করা হচ্ছেএই অভিযোগ তুলে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ তুলেছেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তমলুক ব্লকের শ্রীরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তেলিপোতা বাজার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।বিধায়কের দাবি, শ্রীরামপুর গ্রামের তেলিপোতা বাজার এলাকায় হাঁসুয়াখালি খালের বাঁধ সংলগ্ন রাস্তার পাশে দীর্ঘ অংশ জুড়ে বেআইনি ভাবে বেড়া দিয়ে জায়গা দখল করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই জায়গা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জ্যোৎস্না ভৌমিক ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খালের বাঁধের ধারে যে রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতেন, সেই সরকারি জায়গা বেআইনি ভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি খালের পাশে থাকা শ্মশানের জমিও বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। এই খবর পেয়ে ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।পরিদর্শনের পর অশোক দিন্দা অভিযোগ করেন, খালের পাড়ের জমি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য ছিল। অথচ তৃণমূল নেতারা মোটা টাকার বিনিময়ে সেই জমি বিক্রি করছেন। তাঁর দাবি, সরকারি জমির গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে বিডিও এবং ভূমি সংস্কার দফতরের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা ও তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি চিত্তরঞ্জন। তাঁর বক্তব্য, তেলিপোতা বাজারের কাছে ৭৬০ দাগের জমিটি সম্পূর্ণ রায়ত জমি এবং তিনি সহ পাঁচজন সেই জমি বৈধ ভাবে কিনেছেন। সেখানে কোনও রাস্তা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। চিত্তরঞ্জনের আরও বক্তব্য, খালের উল্টো দিকে ৭৬২ দাগে শ্মশানের জমি রয়েছে এবং যাতায়াতের জন্য আলাদা রাস্তা আছে। নিজেদের রায়ত জমি ঘিরে দেওয়াই হয়েছে, টাকার বিনিময়ে জমি বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা কী হয়, তা নিয়ে এখন তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ০৭, ২০২৬
বিদেশ

‘খুনিদের সরকার চাই না!’—চিৎকারে কেঁপে উঠল নেপাল, রাস্তায় তরুণদের সাথে ওলির কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ

নেপালে ফের অশান্ত জেন জি আন্দোলন। গত সেপ্টেম্বরে যে জনবিক্ষোভ ইউএমএলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, সেই আন্দোলনের তরুণেরা আবার পথে নামলেন। আর তাঁদের সামনে দাঁড়াতেই মাঠে নেমে পড়েছেন কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর নেতাকর্মীরা। দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের একাধিক জায়গা। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে বৃহস্পতিবার কয়েকটি এলাকায় কার্ফু জারি করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সিমারা চকে জড়ো হতে শুরু করেছিলেন জেন জি আন্দোলনকারীদের বড় একটি দল। যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ানো পরিবেশের মধ্যেই পুলিশ বলপ্রয়োগ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সিমারা বিমানবন্দরের দিকেও ততক্ষণে জমে উঠেছে ভয়ার্ত উত্তেজনা। সেখানে ইউএমএল নেতাকর্মীদের সঙ্গে জেন জি তরুণদের ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।সংঘর্ষের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ওলির দলের দুই শীর্ষ নেতামহেশ বসনেট এবং শঙ্কর পোখারেল। দুজনেই সেদিন কাঠমান্ডু থেকে বিমানে সিমারায় পৌঁছান একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে। তাঁদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন জেন জি-র জেলা সমন্বয়ক সম্রাট উপাধ্যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।বিমানবন্দরে মহেশ-শঙ্কর জুটি নামতেই জেন জি বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলেনখুনিদের সরকার চাই না। আর সেই স্লোগানকে ঘিরেই চোখের পলকে শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়া, ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কিসব মিলিয়ে এলাকাজুড়ে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়। আহত হন অন্তত ছয় জন জেন জি কর্মী। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় বাহিনী মোতায়েন করে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে জারি হয় কার্ফু। নেপালে ফের দাঁত-নখ বের করে উঠছে তরুণদের জেন জি আন্দোলনএটা যেন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

জমি বিবাদের মিমাংসা চলাকালীন ধুন্ধুমার, তৃণমূল বিধায়কের অফিসেই এই কান্ড!

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা ও উত্তেজনায় ধুন্ধুৃমার কান্ড মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে। এই ঘটনায় জখম একাধিক।শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে খোদ জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের কার্যালয়ে। জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে মীমাংসা বৈঠক চলছিল। আর তখনই তৃণমূলের দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ও মারপিট হয়। এতেই একাধিক আহত হয়। জখমদের মধ্যে রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকের রানীনগর অঞ্চলের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি খাইরুল ইসলামের ছেলেও রয়েছে।জানা গিয়েছে, একটি জায়গা রেকর্ড করা নিয়ে দফরপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান মঞ্জুর আলির লোকজনের সঙ্গে রানীনগর অঞ্চলের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি খাইরুল ইসলামের অনুগামীদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। শুক্রবার সেই বিবাদের মিমাংসা করার জন্য রঘুনাথগঞ্জে জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের কার্যালয়ে এসেছিল উভয়পক্ষ।আর সেখানে এসেই উভয় পক্ষের বচসা বেধে যায়। এরপর শুরু হয় হাতাহাতি, মারপিট।লোহার রড দিয়েও মারধর চলে বলে অভিযোগ। উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস। তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে জঙ্গিপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জুন ০৬, ২০২৫
রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মেলনী ঘিরে ভাতারে বিশৃঙ্খলা, কোনওরকমে সামলালেন বিধায়ক

পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনীকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি। গন্ডগোলের রেশ গড়িয়েছে বর্ধমান-কাটোয়া রাজ্য় সড়কে। রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিজয়ার অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত অশান্তি ও দ্বন্দ্বে চলতে থাকে বিশৃঙ্খলা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী নিজে পরিস্থিতি সামলাতে নাজেহাল হয়ে যান। নিজে পথে নেমে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষমেশ ভাতার হাউজিং মাঠে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। কোনওপ্রকারে অনুষ্ঠান শুরু হলেও উত্তেজনা চলতেই থাকে। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অশোক হাজরাকে উত্তেজিত হতে দেখা যায়। ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশ অশোকবাবুকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সময় মঞ্চের আশপাশে কর্মীদের একাংশ চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। মঞ্চে অশান্তি চলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে দিয়ে বিজয়া সম্মিলনী শেষ করে দিতে বাধ্য হন নেতারা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী বলেন, বিজয়া সম্মিলনী একটা মিলনের অনুষ্ঠান। আনন্দের বিষয়। তাই আমরা প্রথম থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব বলে ঠিক করেছিলাম। বক্তৃতা পর্ব রেখে অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত করতে চাইনি। বিশৃঙ্খলার বিষয়টি অবশ্য বিধায়ক এড়িয়ে যান। এ নিয়ে তাঁর সাফাই, বাইরে কি ঘটেছে সঠিক জানি না। অনুষ্ঠান সুষ্ঠ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই ভাতারে দলের সহ সভাপতি অশোক হাজরার সঙ্গে দলের একাংশের মনোমালিন্য চলছে। বিশেষ করে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অশোকবাবুর প্রভাব রয়েছে। দলের অভ্যন্তরের কিছু সমস্যা এমনিতেই চলছিল। বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে তা প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও অশোক হাজরার দাবি, বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে প্রচুর জনসমাগম হয়েছিল। অত্যাধিক ভিড়ের কারণে সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে তারপর সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠান হয়েছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

বর্ধমান জেলা বিজেপির কার্যালয়ে তালা বিক্ষুব্ধদের, ধুন্ধুমার কাণ্ড

এর আগেও বর্ধমান জেলা বিজেপি কার্যালয়ে ভাংচুর হয়েছে। এবার একেবারে প্রতিষ্ঠা দিবসেই বিজেপির ওই জেলা কার্যালয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড। বৃহস্পতিবার বিজেপি কর্মী রাজু পাত্রের নেতৃত্বে একদল বিক্ষুব্ধ দলীয় কর্মী পূর্ব বর্ধমানের ঘোরদৌড়চটির জেলা কার্যালয়ের মূল গেটের সামনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পাশাপাশি সামনে চলে তুমুল বিক্ষোভ। দলের কার্যালয়ে আটকে পড়েন জেলা যুব মোর্চার সভাপতি পিন্টু সাম সহ অন্যারা। যথারীতি তালা খোলা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বচসা চলতে থাকে।বিক্ষুব্ধরা তালা না খোলায় হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে দেয় এক কর্মী। যা নিয়ে শুরু হয় হাতাহাতি। পিন্টু সামের নেতৃত্বে হাতুড়ি এবং লাঠি নিয়ে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের নিয়ে তেড়ে যায় একদল কর্মী। এতেই পিছু হটে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ। তারাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।সম্প্রতি বর্ধমান সদর জেলার সহ সভাপতি শ্যামল রায়কে শোকজ করার পর কোন্দল একেবারে প্রকাশ্যে আসে। যুব মোর্চার সভাপতি পিন্টু সাম বলেন, দলে থাকতে গেলে দলের নিয়মনীতি মেনেই চলতে হবে। দলই ঠিক করে কে কোন পদে থাকবে। তাই দলবিরোধী কোন কাজ আমরা বরদাস্ত করব না। বিক্ষুব্ধ রাজু পাত্রের অভিযোগ, অযোগ্য সভাপতি অভিজিৎ তা একদম নিস্ক্রিয়। ফলে দলীয় যে কাজ তা ব্যহত হচ্ছে। আন্দোলন গতি পাচ্ছে না। অভিজিৎ তায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে বিক্ষুব্ধরা। ২০২১ -এ ব্যাপক ভাংচুর হয়েছিল বিজেপির এই কার্যাকয়ে

এপ্রিল ০৬, ২০২৩
রাজ্য

পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে উল্টো পুরান বর্ধমানে! দলীয় কর্মিদেরই প্রকাশ্যে হুমকি বিধায়কের

পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে। রাজ্যে নেতৃত্বের নির্দেশে ইতিমধ্যেই রাজ্যে জুড়ে গুটি সাজাতে শুরু করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিজেপিকে কোনঠাসা করতে ছোট-বড় বিভিন্ন জনসভা থেকে আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানে বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকে চিত্রটা ঠিক উল্টো। বিরোধীদের পরিবর্তে প্রকাশ্যে নিজের দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য হুমকি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ধমান-উত্তরের বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক।রবিবার বর্ধমান ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল পক্ষ থেকে আয়োজিত শীতবস্ত্র প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিধায়ক তার দলের বেশ কয়েকজন নেতার নাম না করেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর কুত্তার দশা হবে বলে হুঁশিয়ারী করেন। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তাদের দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক বলেন, আমি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বলছি, খেলা শুরু হয়ে গেছে। জামালের (সেখ জামাল রায়ান ১ নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি) টিম রেডি আছে। তুমি তোমার দম নিয়ে রেডি হও। যেদিন বলবে, যে জায়গায় বলবে সেখানে দেখা হবে। কার কত প্লেয়ার আছে।বিধায়ক নিশীথ মালিকের এই মন্তব্যর পরেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে। তৃণমূলের অন্দরমহলেও শুরু হয় চাপান উতর। উল্টোদিকে এই মন্তব্যর পরিপেক্ষিতে ব্লকের জেলাপরিষদ সদস্য নরুল হাসান জানান, বিধায়ক অনেক পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। আমরা দলের পুরাতন কর্মী, দলের জন্মলগ্ন থেকে আছি। বিধায়ক ১১ সালের পর তৃণমূলে এসেছেন। উচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশ সত্ত্বেও বিধায়ক পুরানো দিনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন না, তাদের প্রাপ্য সম্মান টুকুও দেন না। বিধায়ক নিশীথ মালিক নিজেই একজন অশিক্ষিত, তাই তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ছেড়ে নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন বলে দাবী নরুল হাসানের।বিজেপি অবশ্য গোটা বিষয়টি তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছে। বিজেপি নেতা সুধীররঞ্জন সাউ বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে এলাকায় রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মধ্যেই লড়াই করবে। গোটা ব্লক দুর্নীতিতে ভরে গেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েতে গেলে পরিষেবা পাচ্ছেন না।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২২
রাজনীতি

উত্তপ্ত রায়না, শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়

ফের রায়নায় গণ্ডগোল। শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তেজনা ছড়ালো। মিছিলে না যাওয়ায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও তার স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠলো ব্লক সভাপতির অনুগামীদের বিরুদ্ধে।বুধবার বিকালে রায়না ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বাইক র্যালি ও পথসভার আয়োজন করা হয় রায়নার বৈঠারি গ্রামে। অভিযোগ সেই সভায় যোগ না দেওয়ায় কাইতি পঞ্চায়েতের প্রধান তনুজা বেগম ও তার স্বামী সেখ সিরাজকে মারধর করে ব্লক সভাপতির অনুগামীরা। বৃহস্পতিবার সকালে একটি স্কুটিতে করে পঞ্চায়েত অফিসে যাচ্ছিলেন তনুজা বেগম। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী সেখ সিরাজ। তিনি আবার রায়না ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কিষাণ মোর্চার সভাপতি। অভিযোগ, পঞ্চায়েতে যাবার সময় অসীম পালের লোকজন তাদের রাস্তা আটকায়। স্কুটি দাঁড় করিয়ে সেখ সিরাজকে মাটিতে ফেলে মারধর করে গ্রামেরই চার তৃণমূল কর্মী। রায়হান ওরফে বুড়ো, সাহারো, মনি ও মিরাজ এই চারজন হামলা করে বলে অভিযোগ। প্রধান তনুজা বেগম আটকাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এরা সকলেই তৃণমূল ব্লক সভাপতি অসীম পালের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেন প্রধান। তাদের আলমপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রধান তনুজা বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সেখ সিরাজকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই অসীম পাল টেলিফোনে জানিয়েছেন, ওই প্রধান নিজেকে শাহেনসা মনে করেন। অঞ্চলের লোককে বিশেষ পাত্তা দেন না। অঞ্চলে যা কাজ হয় সবটাই নিজেদের সুবিধার্থে করে। প্রধানের বাড়িতে বসেই টেণ্ডার হয়। বাড়িতেই দুতিনজন কনট্রাকটর আছে তারাই সব কাজ করে বলে অভিযোগ। গ্রামে মসজিদে যাবার রাস্তা খারাপ অথচ প্রধানের বাড়ির সামনের রাস্তা ভালো। এটা এলাকাবাসীদের ক্ষোভের কারণ হতে পারে। এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানান সভাপতি।বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, বিষয়টি শুনেছি। যে বা যারা প্রধানের উপর আক্রমণ করেছে পুলিশকে বলবো তাদের বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নিতে।

নভেম্বর ২৪, ২০২২
রাজ্য

আতঙ্ক কাটেনি সাঁইথিয়ার বহরাপুর গ্রামে, আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন অনেকে, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক

সাংগঠনিক ভাবে না স্বীকার না করলেও উত্তররোত্তর বেড়েই চলেছে গোষ্ঠী দ্বন্দ। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, পঞ্চায়েত ভোট যত এগিয়ে আছে নিজেদের দলের ভিতরেই এলাকা দখলের লড়াইয়ে বারুদের স্তুপে পরিণত হয়েছে গ্রাম বাংলা। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের জেরে সোমবার থেকে চাপা উত্তেজনা বীরভূম জেলার সাঁইথিয়ার কাছে বহরাপুর গ্রাম। সোমবার বোমাবাজির ফলে জখম হন ২ জন। আতঙ্ক ছড়িয়েছে বহরাপুরে সংলগ্ন এলাকা । গ্রামবাসিরা গ্রাম ছাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এখনও অবধি বীরভূম জেলা পুলিশ এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে।বহরাপুর গ্রামে পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ তৃণমূলের সাঁইথিয়া ব্লক সভাপতি সাবের আলি খান এবং তৃণমূল নেতা তুষার মণ্ডলের গোষ্ঠীর সাথে ঝামেলার কারনেই এই দূর্ঘটনা। এখনও অবধি বহরাপুর ও তার আশপাসের এলাকা তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বম্ব স্কোয়াড। টহলদারি চলানো হচ্ছে। বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে জানান, গ্রামে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে, পুলিস সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করছে। মানুষের ভরসা ফেরাতে গ্রাম জুড়ে টানা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যাতে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে সেই দিকেও পুলিস নজর দিচ্ছে।যে দুজন বোমার আঘাতে আহত, তাঁদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। একজনকে আইসিইউ ভর্তি করা হয়েছে। সুত্র মারফত জানা যায়, আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসারা জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

নভেম্বর ১৫, ২০২২
রাজনীতি

গোষ্ঠী কোন্দলে লাগাম টানা যাচ্ছে না! শীর্ষ নেতৃত্বের হুঁশিয়ারী, নিষেধাজ্ঞা কাজ হচ্ছে না কিছুতেই

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হুঁশিয়ারী কিংবা নিষেধাজ্ঞা, তবু দলের গোষ্ঠী কোন্দলে লাগাম টানা যাচ্ছে না। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বিরুদ্ধে বুধবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পূর্ববর্ধমানের মেমারি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ ইসমাইল। তিনি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা। সিপিএম ও বিজেপির লোকদের নিয়ে গ্রাম দখলের রাজনীতি করতে নেমেছেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী । তিনি আরো বলেন, যারা দুর্দিনে মার খেয়ে পার্টি করেছিল তাদেরকে তিনি সরিয়ে দিতে চাইছেন। দলকে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই তিনি ময়দানে নেমেছেন।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মঙ্গলবার মেমারি ২ নম্বর ব্লকে মন্ত্রী সিদ্দিকুলা চৌধুর মেমারি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হরিসাধন ঘোষের সমর্থনে র্যালিতে অংশ নেন। ওই র্যালি থেকে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন,মুখ্যমন্ত্রী ৭২ টি প্রকল্প চালু করেছেন মানুষের জন্য। বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাবো এসসি, এসটি মা বোন ভাইদের কি পান নি আমাদের জানান। কি করতে হবে আমাদের বলুন। দলের নেতারা কেউ কাটমানি খাবে না। আমরা চাঁদা তুলবো,বলে তুলবো।আমরা চাল আলু দিয়ে খিচুড়ি ভাত খাবো।আমি কাউকে কাটমানি খেতে দেবো না।আমি কাউকে চার পয়সা চাই নি।আপনারাও দেন নি।আমিও চাই নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন,দলের কথা, প্রশাসনের কথা বাইরে বলা উচিত নয়।এটা দল বিরোধী কাজ।দল এসব বরদাস্ত করবে না। মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঠাকুর ঘরে কে,আমি তো কলা খায় নি।কাটমানি নিয়ে আমি তো কারো নাম করে কিছু বলে নি।তাহলে ওর এত গায়ে লাগছে কেন। আমার কাছে তথ্য আছে তা যদি আমি প্রকাশ করি তাহলে উনি আর সাতগাছিয়া বাজারে মুখ দেখাতে পারবেন না।পাশাপাশি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও ওর বিরুদ্ধে অনেক তথ্য আছে।আমার কাছে যা খবর দল ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর আমি সিপিএমের ত্রাস ছিলাম।সুতরাং আমি বিজেপি বা সিপিএমের সঙ্গে সম্পর্ক রাখি না।

নভেম্বর ০৯, ২০২২
রাজ্য

দুয়ারে সরকারেরও গোষ্ঠীকোন্দল! বর্ধমানে পুরমাতার সাথে অশান্তি দলীয় নেতার

দুয়ারে সরকারেও শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের টাউনহলে দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা অশান্তি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর মিঠু সিংয়ের অনুগামীদের সঙ্গে ওই ওয়ার্ডেই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর মধ্যে চরম অশান্তি হয়। বিবদমান দুই গোষ্ঠীর ঝামেলা হাতাহাতিতে গড়ায়। কাউন্সিলরের এক অনুগামীকে বেড়ধক মারধর করা হয়। জখম তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীর নাম বাপ্পা ঘোষ। অশান্তির খবর পেয়ে টাউনহলের দুয়ারে সরকার শিবিরে ছুটে যান কাউন্সিলর মিঠু সিং। তার সঙ্গেও ফের ঝামেলা অশান্তি শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা গোলাব সোনকারের সঙ্গে টাউনহল চত্বরে প্রকাশ্যে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন কাউন্সিলর মিঠু সিং। পুলিশের সামনেই দুই গোষ্ঠী মারামারি করে।ঘটনার সূত্রপাত উপভোক্তাদের সাহায্যে ফর্ম পূরণ করাকে কেন্দ্র করে। কাউন্সিলর মিঠু সিংয়ের অনুগামীরা দুয়ারে সরকার শিবিরে উপভোক্তাদের সাহায্যে তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছিলেন। অভিযোগ এই নিয়ে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা গোলাব সোনকারের নেতৃত্ব কাউন্সিলরের অনুগামীদের উপর হামলা করা হয়। মারধর করা হয়।তবে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা গোলাব সোনকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবী করেন তারা কয়েকজন মিলে দুয়ারে সরকার শিবির কাজকর্ম দেখতে যান। তখন শোনেন ঝামেলা হয়েছে। উল্টে কাউন্সিলর তার সঙ্গে ঝামেলা অশান্তি করেন। তিনি বলেন, ভোটের সময় আমার বাইকে চেপে ওয়ার্ডে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করে মিঠু সিং। ছটের সময় কেন তার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গম পেলো না? কেন জানতে গেলে উনি বলেন কৈফিয়ত দেবেন না। এলাকায় ড্রেন পরিস্কার হয় না। ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ।কাউন্সিলর মিঠু সিং বলেন বিধায়ক খোকন দাসকে গোটা বিষয়টি জানাবেন।তারপর পুলিশের দ্বারস্থ হবেন। তিনি আরো বলেন, ছমাস আগে যে বিজেপি থেকে তৃণমূলে এসেছে তার কাছে আমি কোন কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।আমি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে আছি।

নভেম্বর ০৩, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

চিনুন একটুকরো অচেনা বাংলাকে! রইল দুর্গাপুজোয় মন ভাল করা সেরা ৫ অফবিট ট্রাভেল ডেস্টিনেশন

দুর্গাপুজোর ছুটি মানেই বাঙালির বেড়ানোর পরিকল্পনা। দিঘা, পুরী কিংবা দার্জিলিংয়ের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে প্রতি বছরই পুজোর সময় উপচে পড়ে ভিড়। ফলে পরিবার নিয়ে নিরিবিলিতে কয়েকটা দিন কাটানোর সুযোগ অনেক সময়ই মেলে না। তাই এবার যদি ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতি, পাহাড়, সমুদ্র কিংবা বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য উপভোগ করতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি তুলনামূলক অফবিট গন্তব্য। রইল এমনই পাঁচ জায়গার হদিশ।দাওয়াইপানি, দার্জিলিংদার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম দাওয়াইপানি। পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেকটাই দূরে এই গ্রাম থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম প্যানোরামিক দৃশ্য। দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোয় পাহাড়ের রং বদলে যাওয়ার দৃশ্য এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।জঙ্গলঘেরা পরিবেশ, নিরিবিলি সকাল এবং পাহাড়ি পথে হাঁটার সুযোগসব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে শান্তিতে সময় কাটানোর জন্য দাওয়াইপানি হতে পারে আদর্শ ঠিকানা।কলকাতা থেকে প্রায় ৬২৪ কিলোমিটার দূরে এই পাহাড়ি গ্রাম। ট্রেনে গেলে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশনে নেমে প্রায় ৭৬ কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিতে হয়। বিমানপথে নিকটতম বিমানবন্দর বাগডোগরা। দাওয়াইপানিতে বেশ কিছু হোমস্টে রয়েছে। সেখানে প্রতি রাতে মাথাপিছু আনুমানিক ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া মিলিয়ে মাথাপিছু প্রায় ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।বাগুরান জলপাই, পূর্ব মেদিনীপুরদিঘা বা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাগুরান জলপাই হতে পারে ভালো বিকল্প। কাঁথি মহকুমার এই তুলনামূলক কম পরিচিত সমুদ্রসৈকত ঘিরে রয়েছে সবুজ ঝাউবন। সৈকতে প্রায়ই দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার।ভোরের শান্ত পরিবেশে সমুদ্রের ধারে হাঁটা কিংবা বিকেলে সূর্যাস্ত উপভোগসব মিলিয়ে নিরিবিলি সমুদ্রভ্রমণের জন্য জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়। রাতে সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে তৈরি হয় অন্যরকম আবহ।কলকাতা থেকে বাগুরান জলপাইয়ের দূরত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। হাওড়া থেকে ট্রেনে কাঁথি গিয়ে সেখান থেকে টোটো বা অটো করে পৌঁছনো যায়। সৈকতের কাছে রয়েছে বেশ কিছু সাধারণ রিসর্ট ও হোমস্টে। প্রতি রাতে মাথাপিছু আনুমানিক ৮০০ থেকে ১,৮০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা।বরন্তি, পুরুলিয়াপাহাড়, জলাশয়, জঙ্গল এবং আদিবাসী সংস্কৃতির স্বাদ একসঙ্গে পেতে চাইলে পুরুলিয়ার বরন্তি হতে পারে পুজোর ছুটির অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। বিহারীনাথ ও পাঞ্চেত পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মুরাডি লেক।পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা জলাশয়ের ধারে সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। পাশাপাশি ঘুরে দেখা যায় অযোধ্যা পাহাড়। স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। সময় ও সুযোগ থাকলে ছৌ নৃত্যের অনুষ্ঠানও উপভোগ করা যেতে পারে।কলকাতা থেকে বরন্তির দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার। ট্রেনে আসানসোল পৌঁছে সেখান থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কপথে বরন্তি যাওয়া যায়। এলাকায় রয়েছে ইকো-রিসর্ট ও গ্রামীণ হোমস্টে। প্রতি রাতে মাথাপিছু প্রায় ১,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে মাথাপিছু আনুমানিক খরচ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা।কোচবিহার রাজবাড়িপুজোর ছুটিতে প্রকৃতির পাশাপাশি ইতিহাস ও বাংলার ঐতিহ্য উপভোগ করতে চাইলে গন্তব্য হতে পারে কোচবিহার। কোচবিহার রাজবাড়িকে ঘিরে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যও বহু পুরনো। ফলে কলকাতার ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে বাংলার প্রাচীন পুজোর রীতি ও রাজপরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ মিলবে।রাজবাড়ির পাশাপাশি ঘুরে দেখা যেতে পারে প্রাচীন মদনমোহন মন্দির। সময় হাতে থাকলে কাছাকাছি ডুয়ার্সের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও ঘুরে আসা যায়।কলকাতা থেকে কোচবিহারের দূরত্ব প্রায় ৬৮০ কিলোমিটার। ট্রেনে সরাসরি কোচবিহার স্টেশনে পৌঁছনো সম্ভব। বিমানপথে বাগডোগরা গিয়ে সেখান থেকে সড়কপথে কোচবিহার যাওয়া যায়। পর্যটকদের জন্য রয়েছে পর্যটন লজ, হোমস্টে ও বাজেট হোটেল। প্রতি রাতে মাথাপিছু প্রায় ১,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে মোট খরচ আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা হতে পারে।টাকি, উত্তর ২৪ পরগনাপুজোর ছুটিতে একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চাইলে উত্তর ২৪ পরগনার টাকিও হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। ইছামতী নদীর তীরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই শহরের দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ বিজয়া দশমীর বিসর্জন।দশমীর দিন ইছামতী নদীতে ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিমা কাছাকাছি সময়ে বিসর্জন দেওয়ার দৃশ্য দেখতে প্রতি বছরই বহু মানুষের সমাগম হয়। প্যান্ডেল বা আলোর চাকচিক্যের বদলে এই ঐতিহ্যবাহী বিসর্জনই টাকির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।কলকাতা থেকে টাকির দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। লোকাল ট্রেনে টাকি রোড স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া যায়। সড়কপথেও রয়েছে যোগাযোগের সুবিধা। থাকার জন্য রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের লজ, নদীর ধারের রিসর্ট এবং বাজেট হোমস্টে। প্রতি রাতে মাথাপিছু আনুমানিক ১,২০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। চার দিনের সফরে মাথাপিছু মোট খরচ প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে।পুজোর ছুটিতে এবার একটু অন্যরকম ভ্রমণদুর্গাপুজোর ছুটিতে একই পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রে ভিড়ের মধ্যে সময় কাটানোর বদলে এবার চাইলে বেছে নিতে পারেন এই পাঁচ গন্তব্যের যে কোনও একটি। দাওয়াইপানিতে পাহাড় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা, বাগুরান জলপাইয়ে সমুদ্র, বরন্তিতে পাহাড়-জঙ্গল ও জলাশয়, কোচবিহারে ইতিহাস-ঐতিহ্য কিংবা টাকিতে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিসর্জনপুজোর ছুটিতে মিলতে পারে একেবারে ভিন্ন ধরনের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

২০২৬ সালের কৌশিকী অমাবস্যা কবে? জেনে নিন তারাপীঠের বিশেষ পুজোর দিনক্ষণ

ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিথিতে স্নান, দান, পিতৃতর্পণ-সহ নানা ধর্মীয় আচার পালনের রীতি রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে ভাদ্র অমাবস্যার আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশেষ করে বীরভূমের তারাপীঠে এই অমাবস্যা কৌশিকী অমাবস্যা বা তারা রাত্রি হিসেবে বিশেষভাবে পালিত হয়। এই উপলক্ষে মা তারার দর্শন ও পুজো দিতে দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্ত তারাপীঠে ভিড় করেন।১০ না ১১ সেপ্টেম্বরকবে কৌশিকী অমাবস্যা?২০২৬ সালের কৌশিকী অমাবস্যার তারিখ নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কারণ, অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে। এই তিথি শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে।তবে কৌশিকী অমাবস্যার মূল তাৎপর্য অমাবস্যার রাতকে ঘিরে। সেই কারণে তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যার প্রধান পুজো ও বিশেষ রাত্রিকালীন অনুষ্ঠান হবে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতেই। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ রাত হিসেবে ধরা হচ্ছে ১০ সেপ্টেম্বরের রাতকে।কেন তারা রাত্রি নামে পরিচিত কৌশিকী অমাবস্যা?কৌশিকী অমাবস্যার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে তারাপীঠের নাম। বীরভূমের এই ঐতিহ্যবাহী শক্তিসাধনার ক্ষেত্রটি মা তারার অন্যতম প্রধান সাধনভূমি হিসেবে পরিচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যার রাতে মা তারার আরাধনা করলে ভয়, সংকট ও নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিক শক্তি লাভ করা যায়।এই বিশেষ রাতে তারাপীঠ মন্দির ও সংলগ্ন এলাকায় পুজো, আরতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। রাতভর চলে মা তারার আরাধনা। ভক্তদের পাশাপাশি সাধকরাও মন্ত্রজপ, ধ্যান ও সাধনায় মগ্ন থাকেন।কৌশিকী অমাবস্যায় কী করেন ভক্তরা?এই তিথিতে ভক্তরা মা তারা বা মা কালীর পুজো করেন। প্রদীপ জ্বালানো, মন্ত্রজপ, নামস্মরণ এবং ধ্যানের পাশাপাশি অনেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের খাবার ও বস্ত্র দান করেন। পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণও এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার।অনেকেই এই দিন জীবনের নেতিবাচক চিন্তা ও অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার সংকল্প নেন। তবে তন্ত্রসাধনার মতো বিশেষ ধর্মীয় আচার অভিজ্ঞ গুরু বা সাধকের নির্দেশ ছাড়া না করাই শ্রেয়। সাধারণ ভক্তরা বাড়িতেই সহজভাবে মা তারা বা মা কালীর পুজো, দীপদান ও নামস্মরণ করতে পারেন।বাড়িতে কীভাবে করবেন কৌশিকী অমাবস্যার পুজো?কৌশিকী অমাবস্যার সন্ধ্যায় স্নান করে পুজোর স্থান পরিষ্কার করে মা তারা বা মা কালীর ছবি কিংবা মূর্তির সামনে প্রদীপ জ্বালানো যেতে পারে। এরপর লাল ফুল, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করে পারিবারিক রীতি অনুযায়ী মন্ত্রজপ বা নামস্মরণ করা যায়।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পুজোয় বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে ভক্তি, একাগ্রতা ও নিষ্ঠাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুজোর শেষে পরিবারের সুখ-শান্তি, মঙ্গল এবং সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষার জন্য মা তারার কাছে প্রার্থনা করতে পারেন ভক্তরা।তাই ২০২৬ সালের কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ রাত্রিকালীন পুজো ও তারাপীঠের মূল অনুষ্ঠান হবে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে। যদিও অমাবস্যা তিথি পরের দিন, অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত থাকবে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
দেশ

দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্কে নতুন বিস্ফোরণ! বাগেশ্বর বাবাকে কী বললেন পরমাত্মানন্দ?

দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক থামার নাম নেই। এবার তাঁকে তীব্র আক্রমণ করলেন পরমাত্মানন্দজী মহারাজ। তাঁর দাবি, কে কী পরবেন, কীভাবে চলবেন বা কী খাবেন, তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার বাগেশ্বর বাবার নেই।বাগেশ্বর বাবাকে বাচাল ছেলে বলেও কটাক্ষ করেন পরমাত্মানন্দ মহারাজ। তাঁর কথায়, বাঙালির খাবার নিয়ে এভাবে নির্দেশ দেওয়া এক ধরনের অসভ্যতা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালি নিজের পছন্দমতো মাছ-মাংস খাবেন। তাঁর বক্তব্য, পুজোর কয়েক দিন বাঙালি কচি পাঠার ঝোল, ইলিশ মাছের ভাপা, মাছের কাটলেট বা মাংসের নানা পদ খেতেই পারেন। দেবতাকে মাছ-মাংস দিয়ে ভোগ দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।পরমাত্মানন্দ মহারাজের আরও দাবি, অন্য রাজ্যের মানুষকে বাগেশ্বর বাবা নিজের মতো করে ধর্মের কথা বলতে পারেন। কিন্তু বাঙালিকে সেইভাবে বোঝাতে গেলে বাঙালি তা মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্য, শাস্ত্রে দেবীকে মদ্য মাংস বলি প্রিয়া বলা হয়েছে। তাই বাঙালির ধর্মীয় রীতি ও খাবারের সংস্কৃতিকে অন্য জায়গার নিরামিষ ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়।বাগেশ্বর বাবার আমিষবিরোধী মন্তব্যের প্রসঙ্গে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মোবাইলের আলো জ্বেলে তাঁরা পরমাত্মানন্দ মহারাজের বক্তব্যকে সমর্থন করেন বলে জানানো হয়েছে।এই বক্তব্যের মধ্যেই সিপিএমকেও কটাক্ষ করেন পরমাত্মানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, রাজ্যে দীর্ঘ ৩৪ বছরের সিপিএম শাসনের শেষের দিকেও ব্রিগেড সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু মানুষের সেই উপস্থিতি সত্ত্বেও পরে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাগেশ্বর বাবাকেও কটাক্ষ করেন। তাঁকে হনু বাবা বলেও মন্তব্য করেন মহারাজ।এর আগে রাজ্য সফরে এসে দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বাগেশ্বর বাবা তথা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি দাবি করেছিলেন, নবরাত্রির সময়ে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পিছনে আমিষ রান্না করা হয় এবং সেখানে নানা ধরনের খাবার তৈরি হয়, যা তাঁর পছন্দ নয়।এই মন্তব্যের পরেই বাঙালিকে পাখণ্ডী বা ভণ্ড বলেও আক্রমণ করেছিলেন বাগেশ্বর বাবা বলে অভিযোগ। আমিষভোজীদের বহিষ্কার করার বার্তাও তিনি দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর সেই বক্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে বিজেপির একাধিক নেতাও জানান, ওই মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মত। অন্যদিকে, বাঙালির ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ তুলে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে কংগ্রেস।ফলে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কে এবার নতুন করে উত্তাপ ছড়াল পরমাত্মানন্দ মহারাজের মন্তব্যে। বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বাঙালির নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় রীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

নিহত আপ্তসহায়কের মা-ই কি নন্দীগ্রামে বিজেপির মুখ? জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

নন্দীগ্রাম মানেই হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াই। তার উপর এবার সেখানে উপনির্বাচন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গোটা বাংলার রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নন্দীগ্রামের দিকে। উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ইতিমধ্যেই নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরে এখনও সেই তৎপরতার ছবি দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।রেয়াপাড়ার বিধায়ক কার্যালয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বিজেপির একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। সেখানে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। এর মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে একাধিক নাম নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে হাসি রথের নাম। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই হাসি রথ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সেই কারণেই তাঁকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে খবর।চন্দ্রনাথ রথকে ঘিরেও রয়েছে একটি মর্মান্তিক ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে আততায়ীদের গুলিতে তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। সেই চন্দ্রনাথের মা হাসি রথের নাম এবার নন্দীগ্রামের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।তবে শুধু হাসি রথই নন, বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অঞ্জন ভারতী, মেঘনাদ পাল এবং প্রলয় পালের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনজনই তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পরিচিত কার্যকর্তা। ফলে শেষ পর্যন্ত কার নাম নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের জন্য বেছে নেওয়া হয়, সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা জানিয়েছেন, দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী কে হবেন, তা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই ঘোষণা করবে। এই বিষয়ে তাঁর কিছু বলার নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের মধ্যে এখনও তেমন কোনও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এমনকি প্রশাসনের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও তৃণমূলের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে জানা গিয়েছে।বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ জোড়াফুল প্রতীক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর থেকে জেলার নেতাদের তেমন কোনও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও দেখা যাচ্ছে না বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।এর মধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রামনগরের প্রাক্তন বিধায়ক অখিল গিরিকে দু-একটি বৈঠকে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু উপনির্বাচন ঘোষণার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। দলের অন্য নেতাদেরও ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে বিজেপি যখন প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন তৃণমূল শিবিরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হাসি রথের নাম কি শেষ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাবে, নাকি অন্য কোনও পরিচিত মুখকে বেছে নেওয়া হবে, এখন সেটাই দেখার। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
বিদেশ

কোমরে শিকল, রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হল কিশোরীকে! ভিডিও ভাইরাল হতেই হতবাক নেটিজেন

বাংলাদেশের সিলেট নগরীতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ভিডিয়োতে কিশোরীকে শিকল দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তালিবানি কায়দা চলছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন।ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। শাহজালালপুরের ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেটের একটি দোকানে চুরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ১৬ বছরের ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে জানা গিয়েছে।এর পর রাত ১১টা নাগাদ কিশোরীর কোমরে শিকল বাঁধা হয় বলে অভিযোগ। তাকে রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনার ভিডিয়ো পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিয়োতে কিশোরীকে কাঁদতে কাঁদতে হাঁটতে দেখা যায় এবং কয়েক জন তাকে শিকল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে উদ্ধার করে শাহপরাণ থানার পুলিশের কাছে নিয়ে যান।ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশও নড়েচড়ে বসে। মঙ্গলবার ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার পর তিন জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতদের নাম জাকির হোসেন, তাঁর ভাই মোজাক্কির হোসেন এবং বুরহান উদ্দিন।শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োর ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।অন্য দিকে, কিশোরীর বিরুদ্ধেও চুরির চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকেও আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।ঘটনাটি ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্ন উঠছে। চুরির অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কিশোরীর সঙ্গে এমন আচরণ করা হল কেন, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে তিন জন গ্রেফতার হলেও গোটা ঘটনা নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ নেই, অপেক্ষা ডিএনএ রিপোর্টের! শুভ্রাংশুর নতুন ছবিতে বাড়ল উৎকণ্ঠা

নেপালে হড়পা বানের পর নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা রায়। প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। প্রশাসন থেকে বিদেশ মন্ত্রক, এমনকি কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসেও যোগাযোগ করেছেন পরিবার। কিন্তু এখনও কোনও ইতিবাচক খবর মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রী শর্মিষ্ঠাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সাদা-কালো ছবি নিজের প্রোফাইলের ছবি করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। সেই ছবি ঘিরেই নতুন করে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে ওই ছবি দেখে শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অগস্ট। হাওড়ার একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে কয়েক জন সহযোগীর সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। ২৫ অগস্ট রাতেও স্বামীর সঙ্গে তাঁর স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু পরের দিন, ২৬ অগস্ট নেপালে হড়পা বান আসার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর তাঁর সঙ্গে পরিবারের কোনও যোগাযোগ হয়নি।স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যান শুভ্রাংশু। নেপালের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে থাকেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরেও যোগাযোগ করেন।ভবানী ভবন থেকে স্থানীয় থানা, বিদেশ মন্ত্রকসব জায়গাতেই শর্মিষ্ঠার খোঁজে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি।এর মধ্যেই নেপালে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি পরিচয়হীন দেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।ফলে এক দিকে শর্মিষ্ঠার সন্ধান না মেলা, অন্য দিকে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষাসব মিলিয়ে পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। তার মধ্যেই শুভ্রাংশুর সাদা-কালো ছবি সামাজিক মাধ্যমে নজর কাড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।শুভানুধ্যায়ীদের একাংশ ওই ছবিকে উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে শর্মিষ্ঠার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এবং নেপালে চলা অনুসন্ধানের পরেই গোটা বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

জলপাইগুড়ির স্কুলে প্রধান শিক্ষককে মারধর! ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী, তদন্তে শিক্ষা দপ্তর

জলপাইগুড়ির জেলা স্কুলে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। ঘটনার আগে ঠিক কী হয়েছিল, ছাত্রদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কী নিয়ে সমস্যা হয়েছিল এবং কেন পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখতে বুধবার স্কুলে পৌঁছন জেলা স্কুল পরিদর্শকের নেতৃত্বাধীন দল।স্কুল পরিদর্শক সুজিত সরকারের নেতৃত্বে এদিন তদন্ত শুরু হয়। স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিদর্শক দলের সদস্যরা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কারা ছিলেন, ছাত্রদের কী অভিযোগ ছিল এবং প্রধান শিক্ষককে মারধরের আগে পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, সেই সব বিষয় জানতে চাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, গোটা ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী ভাবে পরিস্থিতি বদলেছিল, তা খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। জলপাইগুড়ির জেলা স্কুল পরিদর্শককে এই নির্দেশ দিয়েছেন স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সচিব বিনোদ কুমার।মঙ্গলবার শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। স্কুলের মিড ডে মিলের ঘরে ওই আয়োজন হয়েছিল। কয়েক জন ছাত্র সেখানে উঁকি দেওয়ায় তাঁদের প্রধান শিক্ষক মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই পরে ছাত্রদের একাংশ প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয় বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ, ছাত্ররা প্রধান শিক্ষককে মারধর করে তাঁর মাথায় আঘাত করে। এর পর স্কুল চত্বরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ স্কুলে পৌঁছয়। পরে পুলিশই প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুইয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্রদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগগুলির সঙ্গে মঙ্গলবারের ঘটনার কী সম্পর্ক রয়েছে, তা-ও তদন্ত করে দেখছে শিক্ষা দপ্তর।এখন মূল প্রশ্ন, শিক্ষক দিবসের আয়োজন ঘিরে ঠিক কী থেকে এত বড় অশান্তি তৈরি হল এবং প্রধান শিক্ষককে মারধরের আগে স্কুলে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী দলের রিপোর্টেই সেই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
কলকাতা

গেরুয়ার অসম্মান বরদাস্ত নয়! যাদবপুরের মঞ্চ থেকে ‘শিকড়-সহ উপড়ে ফেলার’ হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

বাংলায় দাঁড়িয়ে গেরুয়ার অসম্মান কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, গেরুয়াকে যারা অপমান করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি-র মতো স্লোগান নিয়েও কড়া বার্তা দেন তিনি।যাদবপুরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, তিনি এই এলাকায় দাঁড়িয়ে একটি শপথ নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান এবং কয়েকটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ উঠে আসে। যারা গেরুয়া নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শিকড়-সহ উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।এর পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ২০১১ সালে কমিউনিস্ট সরকারকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি পণ করেছিলেন। পরে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ২০২৬ সালে জামাতি সরকারকে সরানোর কথাও তিনি বলেছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের সহযোগিতায় সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।যাদবপুরের মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়ার গুরুত্ব আরও বাড়বে। বক্তব্যের শেষে তিনি বার বার বলেন, গেরুয়াই হবে।এদিনের গেরুয়া সম্মান যাত্রা শুরু হয়েছিল গোলপার্ক থেকে। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শঙ্খধ্বনি এবং উলুধ্বনিতে মিছিলের পরিবেশ বদলে যায়। গেরুয়া পতাকা হাতে মিছিলে হাঁটেন সাধু-সন্তরাও।মিছিলে শুভেন্দুর পাশে ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী তাপস রায়। উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও। পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজকেও শুভেন্দুর পাশে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়।মিছিল যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর বন্দে মাতরম গানে অংশ নেন উপস্থিত সকলে। এরপর মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। সেখান থেকেই গেরুয়ার অসম্মান এবং দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।শুভেন্দুর এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। গেরুয়া সম্মান যাত্রা এবং তার শেষে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বক্তব্যকে ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal