• ২৫ মাঘ ১৪৩২, বৃহস্পতি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজ্য

আতঙ্কে আন্ডারগ্রাউণ্ড ও বাংকারে দিন কাটানো, তারপর টানা হাঁটা, বর্ধমানের বাড়িতে ফিরলো দুই পড়ুয়া

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণে আন্ডারগ্রাউণ্ডের মধ্যে শ্বাসকষ্ট সহ্য করেই দিন কাটছিল ডাক্তারি পড়ুয়া ছেলের। সেই কথা জানতে পারার পর থেকে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শেখ আকিব মহম্মদের বাবা মায়ের। অবশেষে অবসান হল উৎকণ্ঠার। রাশিয়ান সেনাদের হামলায় তছনছ হয়ে যাওয়া ইউক্রেনের খারকিভ থেকে শনিবার সকালেই বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে শেখ আকিব। ছেলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণ থেকে বাড়ি ফিরে আসতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে আকিবের বাবা মায়ের। খুশি প্রতিবেশীরাও। স্থানীয় বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় এদিনই আকিবের বাড়িতে পৌছে তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পূর্বস্থলীর চুপি কালিতলা এলাকায় বাড়ি শেখ আকিব মহম্মদের। সে ২০১৮ সালে ইউক্রেণের খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার জন্য যায়। দিন দশেক আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণের খারকিভে আটকে পড়ে ডাক্তারি পড়ুয়া এই বাঙালি যুবক। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিন আকিব সহ প্রায় পাঁচ শতাধীক ভারতীয় ছাত্রছাত্রীর ঠাঁই হয় সেখানকার আন্ডারগ্রাউন্ডে। আকিব জানিয়েছে,চেহারা মোটাসোটা হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ডে তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকায় খাবারদাবার কিনে খাওয়াও সেখানে দুরহ হয়ে পড়ে। সামান্য কিছু শুকনো খাবার খেয়ে আতঙ্ক বুকে নিয়েই আন্ডারগ্রাউণ্ডে তাঁকে দিন কাটাতে হয়। গত ১ মার্চ সকালে তাঁরা আন্ডারগ্রাউণ্ড থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখান থেকে ট্রেন ধরে তাঁরা পোলান্ড বর্ডারে পৌছান। ইন্ডিয়ান এম্বাসি পোলাণ্ড বর্ডার থেকে তাঁদেরকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। ৪ মার্চ দিল্লিতে পৌছান। শনিবার সকালে দিল্লী থেকে পূর্বস্থলীর চুপির বাড়িতে ফেরেন। আকিবের বাবা শেখ আমজাদ বলেন, আমার ছেলে বাড়ি ফিরতে পারলেও এখনও অনেক ভারতীয় ছাত্রছাত্রী দেশে ফিরতে পারেনি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ওইসব ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক ভারত সরকার। আকিমের মতোই এদিন ইউক্রেণ থেকে বর্ধমানের নারান দিঘীর বাড়িতে ফিরেছে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ুয়া ছাত্র রোহিত ভগত। বাংকারে কয়েকদিন কাটিয়ে তার পর সাত কিমি পথ হেঁটে পোল্যান্ড বর্ডারে পৌছায় রোহিত। সেখান থেকে ভারতীয় এম্বাসির ব্যবস্থাপনায় অনেক কষ্টে বাড়ি ফিরে আসতে পারলেও স্বস্তিতে নেই রোহিত। কোর্সের ফাইনাল ইয়ার শেষ হতে তাঁর আর তিন মাস বাকি ছিল। এই অবস্থায় শিক্ষাগত ডিগ্রীর ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা ভেবেই রোহিতের দুশ্চিন্তা এখন বহুগুন বেড়ে গিয়েছে। রোহিত জানিয়েছে, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ইউক্রেণে যান। বাকি ছিল ফোর্থ ইয়ারের আর তিন মাসের কোর্স। সামনের জুন মাসেই ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া গোলা বারুদের আঘাত হানা শুরু করেদেয়। তার করণে সমগ্র ইউক্রেণ জুড়ে তৈরি হয়েযায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই অবস্থায় প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁদের কয়েক দিন বাংকারের মধ্যে কাটাতে হয়। কোনওক্রমে সেখান থেকে তাঁরা লিভিয়া পৌছান। পরে সাত কিলোমিটার হেঁটে সেখান থেকে পোলান্ড বর্ডারের নতুন চেকপোস্টে হাজির হন। যেটা খুলেছিল ভারতীয় এম্বাসি, সেই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় এম্বাসি থেকে তাঁদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় পোল্যান্ডের ইন্ডিয়ান এম্বাসির ভাড়া করা হোটেলে। সেটিকেও ক্যাম্প বলা যেতে পারে। ওই ক্যাম্পে ছশোর উপর ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী ছিল। দেশে ফেরার জন্য সেখান থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা করে দেয় ইন্ডিয়া এম্বাসি।শেষপর্যন্থ শনিবায় সকালে বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসতে পেরেছেন বলে রোহিত জানান। ছেলে বাড়ি ফিরে আসায় খুশি রোহিতের পরিবার। তবে ছেলের লেখাপড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে তারাও যথেষ্ট চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন।

মার্চ ০৫, ২০২২
রাজ্য

আনিসের মৃত্যুর ছায়া বর্ধমানে, তুহিনার মৃত্যু নিয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতিতে কংগ্রেস ও বামেরা

পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে মরতে হবে তিন বোনকে। পুর ভোটের আচরণবিধি জারি থাকার সময়েই শহর বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালে আঁকা হয় হুমকি বার্তা দেওয়া এমন এক নজিরবিহীন ছবি। ওই ছবি আঁকানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূল প্রার্থী শেখ বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন বা পুলিশ, কারও তরফেই পুর ভোটের ফল প্রকাশের দিন পর্যন্ত ওই ছবি মোছানোর কোন উদ্যেগ নেওয়া হয়নি। তাই ওই ছবি এলাকায় দেওয়ালে রয়েই যায়। আর আঁকানো ছবির হুমকি মতোই কাণ্ড ২ মার্চ ঘটে শহর বর্ধমানের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকায়। পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই বিকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সেখানকার তৃণমূল সমর্থক পরিবারের কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের(১৭) ঝুলন্ত দেহ। বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি শাসানি দিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত কারার অভিযোগ উঠেছে সদ্য নির্বাচিত ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শেখ বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। আর তুহিনার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এখন আমতার ছাত্র নেতা আনিসকে খুনের ঘটনার মতোই তোলপাড় ফেলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।বর্ধমান রাজ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তুহিনার খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শুক্রবার বর্ধমানের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধামান জেলা সভাপতি বিশ্বরুপ হাজরা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন পুর ভোটের ফল প্রকাশের পরেই শাসক দলের রাজনৈতিক হিংসা ও অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ছাত্রী তুহিনা আত্মঘাতী হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকার মধেও তুহিনাদের বাড়ির ঠিক আগের একটি দেওয়ালে ছবি আঁকা হয় তিনটি মেয়ের দেহ ঝুলছে। এই ঘটনা অমানবিক ও আদিম হিংস্রতার চরম প্রকাশ বলে এসএফআই মনে করে। পুলিশের নির্দেশ পাওয়ার পরেও ওই এলাকার তৃণমূল প্রার্থী দেওয়াল লিখন মোছেননি। আমতার ছাত্র নেতা আনিস খানের মৃত্যু যেমন দুর্ভাগ্যজনক তেমনই দু্ঃখজনক। তাই তুহিনার মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও এসএফআই বৃহত্তর প্রতিবাদ আন্দোলনে নামবে বলে বিশ্বরুপ হাজরা এদিন জানিয়ে দেন। তুহিনার মৃত্যুর ঘটনার বিচার চেয়ে এদিন বিকালে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সদস্যরা বর্ধমান থানার সামনে ধরনায় বসেন। তুহিনার মৃত্যুর ঘটনায় সকল দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করেন এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক অনির্বাণ হাজরা।এসএফআইয়ের মতোই কংগ্রেস দলের নেতৃত্বও তুহিনা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি নেপাল মাহাতো এদিন জেলা কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বাবুরবাগে আত্মঘাতী কলেজ ছাত্রী তুহিনা খাতুনের বাড়িতে যান। তিনি তুহিনার পরিবারের সদস্যদের মুখে দেওয়ালে হুমকি দেওয়া ছবি আঁকা ও ঘটনার দিনের কথা শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান। কংগ্রেস নেতাদের কাছে তৃণমূল কাউন্সিলার বসির আহমেদ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তুহিনার পরিবার। এখনও বসির আহমেদ হুমকি দিচ্ছে বলে তারা কংগ্রেস নেতাদের কাছে অভিযোগে জানান। সব শুনে নেপাল বাবু জানান, ভোটের সময়ে ছবি এঁকে হুমকি দিয়ে এই ধরনের দেওয়াল লেখা চরম থেকে চরমতম অপরাধ। এটা একটা নক্কারজনক ঘটনা। নির্বাচন চলাকালীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের আওতায় থাকে। নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করেও এই ছবি মুছতে পারেনি। এর দ্বারাই বোঝা যায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কতটা। পুলিশ গোটা বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে বলেও নেপালবাবু অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে নেপাল মাহাতো জানিয়ে দেন, দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে প্রয়োজনে তাঁরা আইনি লড়াই লড়বেন। যদিও বসির আহমেদ এদিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিআইডি দিয়ে ঘটনার তদন্ত হোক। তিনি চান আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসুক।তিন তরুণী গাছে ঝুলছে এমন ছবি পুর ভোটের আচরণবিধি জারি থাকার সময়ে যাঁরা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ালে আঁকালো তাদের বিরুদ্ধে কি নির্বাচন কমিশন আইনগত কোন ব্যবস্থা নিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ধমান সদর মহকুমা শাসক তথা পুর নির্বাচনী আধিকারিক তীর্থাঙ্কর বিশ্বাস বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার কাছে কোন অভিযোগও আসেনি। তবে এই প্রসঙ্গে ডি এসপি (সদর) অতনু ঘোষাল বলেন, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা মিললে দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না ।

মার্চ ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

করোনার ভ্রুকুটি এড়িয়ে আবার মূল স্রোতে ফেরার লক্ষে দৌড় শুরু 'সুকুমার সেন কলেজে'

করোনার করাল দৃষ্টি এড়িয়ে আবার মূল স্রোতে ফেরার লক্ষে দৌড় শুরু হয়ে গেছে। সেই দৌড় আসতে আসতে স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আছড়ে পরে গমগম করছে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতিতে। বিদ্যালয়ের কলতান কলোড়িত হচ্ছে কচি কাঁচা দের ঐকতানে। আবার পার্থনা সভায় ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা... সুর ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশে বাতাসে। সবুজ মাঠের ঘাস যেনো কচি কাঁচাদের পায়ের স্পর্শের-ই অপেক্ষায় ছিলো। দীর্ঘ্য দেড় বছর বন্দীদশা কাটিয়ে বুধবার ২ ফেব্রুয়ারি পুর্ব-বর্ধমান এর আচার্য সুকুমার সেন মহাবিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল গোতান মনসাতলা মাঠে। করোনা অতিমারির প্রোকোপে ২০২১-এর বার্ষিক ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত কারা যায়নি। কলেজের ছেলে-মেয়েদের উপস্থিতির হার ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত।আচার্য সুকুমার সেন কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ জয়ন্ত কুমার মুখোপাধ্যায় জনতার কথাকে জানান, হাইজাম্প, লংজাম্প, ডিসকাস, শটপুট, স্বল্প ও মাঝারী দূরত্ত্বের দৌড় প্রতিযোগীতা সহ মোট কুড়িটি ইভেন্ট অনুষ্টিত হয়। সমস্ত ইভেন্ট মিলিয়ে প্রায় দুশো জন ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। কলেজের কর্মী এবং প্রাক্তনীদের জন্যও বিশেষ ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী কোভিড বিধি মেনে সকাল সাড়ে নটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলেছে এবারের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।বার্ষিক ক্রীড়া উৎসববিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য মোতিয়ার রহমান চৌধুরী এবং সুকুমার ঘোষ মহাশয়। মশাল প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে শুভ সূচনা করা হয়। কলেজের প্রাক্তনী এলাকার জনপ্রিয় যোগা বিশেষজ্ঞ ও জিমন্যাস্ট সাবির আলি মির্জা জনতার কথা জানান, আমি নিজে যেহেতু একজন ক্রিড়াবিদ, সে কারনেই মাঠই আমাদের জীবন, আমি মনে করি ছেলে মেয়েরা যত বেশী মাঠে থাকবে, তত বেশী মানসিক ভাবে স্ট্রং হবে। Sportsman Sprit বলে ইংরাজিতে একটা কথা আছে, আমার কাছে যার অর্থ, পরিস্থিতি বিবেচনা করে জীবনযাত্রা কে এগিয়ে নিয়ে চলা। কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে সমস্ত স্টাফ ও ছাত্র ছাত্রী মিলে এই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমরা খুব আনন্দ উপভোগ করেছি।

মার্চ ০৪, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূল সমর্থক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার চার, এফআইআরে নাম কউন্সিলারেরও

পুর ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই এক কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার অভিযোগ উঠলো সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলার ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত থাকলো বর্ধমান পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ এলাকা। বাবুরবাগ নতুনপল্লী এলাকার মৃত ছাত্রী তুহিনা খাতুন (১৭) এর দিদি কুহেলি বিবির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ধমান থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার করে। মৃতার দিদির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রুজু হওয়া এফআইআরে সদ্য জয়ী হওয়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শেখ বসির আহমেদ ওরফে বাদশারও নাম রয়েছে। কাউন্সিলার সহ অভিযুক্ত সকলের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছে মৃতার পরিবার সদস্যরা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শেখ গোলাম নবি ওরফে গোলাপ, তহমিনা বিবি ওরফে তসমিনা, সোনাহার বিবি ওরফে সোনা বিবি, মানোয়ারা বিবি ওরফে মিনু। ধৃতদের সকলের বাড়ি বাবুরবাগের পশ্চিমপাড়ায়। বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর, হুমকি, শ্লীলতাহানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতদের পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে গোলাম নবিকে ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সিজেএম গোলাম নবির ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত ও বাকি ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৭ মার্চ ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন ।এদিন ময়নাতদন্ত শেষে মৃত কলেজ ছাত্রীর মৃতদেহ বাড়িতে পৌছালে এলাকা নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলার বসির আহমেদের নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে মৃতদেহ রেখে এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ধরে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। কাউন্সিলার বসির আহমেদকে তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে বহিস্কারের দাবি তুলেও এলাকার বাসিন্দারা এদিন সোচ্চার হন।বিক্ষোভমৃতার দিদি কুহেলি বিবি পুলিশকে জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য শেখ বসির আহমেদ টিকিট পান। তার পর থেকেই তিনি অনুগামীরাদের নিয়ে তুহিনা সহ তাঁদের পরিবারের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালানো শুরু করে। অত্যাচার দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। কুহেলি জানান, তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন তৃণমূলের অপর একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াের্ডে কাজ করেন। বুধবার ভোটের ফল বের হওয়ার পর বেশ কয়েকজন একজোট হয়ে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির সামনে বোমা ফাটানো হয়। ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর বোন তুহিনা খাতুনকে প্রচণ্ড মারধর করে ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এমনকি তাঁদের পরিবারের অন্য মহিলাদের শ্লীলতাহানি পর্যন্ত করা হয়। এইসব সহ্য করতে না পেরেই ঘটনার পর বাড়িতে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁর বোন তুহিনা আত্মঘাতী হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে কুহেলিদের বাড়ির কাছের একটি দেওয়ালে আঁকা হয় গাছে তিন মহিলার ঝুলন্ত দেহের ছবি। বসির আহমেদ ভোটে জিতলে কুহেলি ও তাঁর দুই বোনের ওই ছবির মতন দশা হবে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। ভোটে জেতার পরই বেলা ৩টে নাগাদ বাদশা সহ কয়েকজন কুহেলিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তুহিনাকে মারধর করা হয়।যদিও বসির আহমেদ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আদৌ ঘটনায় জড়িত নন। মিথ্যাভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিসি তদন্তে আসল তথ্য উঠে আসবে। বসির আহমেদ এমনটা দাবি করলেও তাঁর বিরুদ্ধে রুজু হওয়া এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে শপথ নেওয়া নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার যথেষ্টই বিড়ম্বনায় পড়ে গিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

গ্রাম বাঁচাতে অবৈধ বালি খাদান বন্ধের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের

অন্ধকার নামলেই শুরু হয়ে যায় দামোদরের পাড় লাগোয়া চর থেকে অবৈধ ভাবে বালি তুলে পাচার। তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার শম্ভুপুর এলাকার দামোদরের পাড়ের বোল্ডার পিচিং। এই ঘটনা দেখে গ্রাম বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা ঘটনা নিয়ে গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ পত্র ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পঠিয়েছেন। পাশাপাশি জেলাশাসকের দফতরেও জমা দিয়েছেন অভিযোগ পত্র। মুখ্যমন্ত্রী কি ব্যবস্থা নেন সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, এত কিছুর পরেও যদি নদি পাড়ের বোল্ডার পিচিংয়ের ক্ষতি করে বালি তোলা বন্ধ না হয় তবে তা রুখতেই নিজেরাই আশরে নামবেন। জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম শম্ভুপুর। এই গ্রামেের এক পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদ। পূর্বে নদি পাড়ের ভাঙনে এলাকার অনেক চাষির জমি নদি গর্ভে চলে যায়। বিপন্ন হতে বসে শম্ভুপুর গ্রামের একটা বড় অংশ।বিপর্যয়ের হাত থেকে শম্ভুপুর গ্রামকে বাঁচাতে দামোদর পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা বোল্ডার দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়া হয়। তার পরথেকে শম্ভুপুর গ্রামের মানুষজন স্বস্তিতেই ছিলেন।কিন্তু সম্প্রতি গ্রামবাসীদের রাতের ঘুম ফের কেড়ে নিয়েছে অসাধু বালি কারবারী।গ্রামবাসীরা ওই বালিকারবারীদের বিরুদ্ধেই এখন রুখে দাঁড়িয়েছেন। গ্রামবাসীরা লিখিত ভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, এক বালি কারবারী বর্ধমান সদর ২ ব্লকের বড়শুলের গোপালপুর মৌজায় বালি খাদানের লিজ পেয়েছেন। সেই খাদান থেকে বালি লোড হওয়া ট্রাক ও ডাম্পারগুলির গোপালপুর মৌজার ঘাট দিয়েই যাবার কথা। কিন্তু তা না করে ওই বালি কারবারী জামালপুর ব্লকের শম্ভুপুরে অবৈধ ভাবে নদির বাঁধ কেটে গাড়ি যাতায়াতের ঘাট চালু করেছে। এমনকি সন্ধ্যা নামলেই ওই বালি কারবারীর লোকজন জেসিবি মেশিন নিয়ে গোপালপুর থেকে শম্ভুপুর মৌজা এলাকায় চলে আসছে। এরপর তারাই শম্ভুপুর এলাকার দামোদর পাড়ের বোল্ডার পিচিং লাগোয়া চর থেকে দেদার বালি তুলে নিয়ে ট্রাকে ও ডাম্পারে লোড করে পাচার করাচ্ছে। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, গ্রীন ট্রাইব্যুনালের রায়কে সম্পূর্ণ ভাবে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই শম্ভুপুর এলাকায় অবৈধ ভাবে বালি তুলে পাচার করা হচ্ছে। একারণে শম্ভুপুর গ্রামে দামোদর পাড়ের বোল্ডার পিচিং মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বোল্ডার পিচিং ধসে পড়লে শম্ভুপুর গ্রাম ফের দামোদরের গ্রামের মুখে পড়ে বিপন্ন হবে বলে গ্রামবাসীরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন অতিমাত্রায় ওভারলোড বালির লরি ও ডাম্বার এই এলাকা দিয়ে গিয়ে একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে কালাড়াঘাট থেকে পলেমপুর যাবার নবনির্মিত পিচ রাস্তা। এই বিষয়েটি নিয়ে খুব শীঘ্রই তাঁরা রাজ্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন।গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগ যে অমূলক নয় তা ব্লক ভূমি দফতরের আধিকারিকদের কথাতেই এদিন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভূমি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শম্ভুপুর এলাকা দিয়ে বালির গাড়ি নিয়ে যাবার জন্য যে ঘাট করা হয়েছে সেটি অবৈধ ভাবেই করা হয়েছে। সেই কারণে ভূমি দফতর জামালপুর থানায় এফআইআর করেছে।এছাড়াও জামালপুরের জোড়বাঁধ ও সেলিমাবাদ মৌজা এলাকায় অবৈধ খাদান খোলার অভিযোগ পেয়ে ভূমি দফতর তা নিয়েও এফআইআর করেছে। যদিও এই দুই এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এফআইআর যাই হোক না কোন, সন্ধ্যায় পর থেকে ভোর পর্যন্ত এই দুই এলাকার অবৈধ খাদান থেকে নিত্যদিন বালি লুঠ চলেই যাচ্ছে। বালি লুঠ বন্ধের কোন ব্যবস্থাও হয়নি । জানা গিয়েছে, শম্ভুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের আনা অভিযোগের বিষয়টি জানার পরেই পুলিশ বুধবার রাতে ওই অবৈধ ঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। চারটি বালির লরি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি পুলিশ ওই লরিগুলির চালককে গ্রেফতার করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে বৃহস্পতিবার পুলিশ চার ধৃতকেই পেশ করে বর্ধমান আদালতে। যদিও আদালতের নির্দেশে ধৃত চার লরিটালকই এদিন জামিনে ছাড়া পেয়ে যান।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে কলেজ ছাত্রী আত্মঘাতী, সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে অভিযোগের আঙুল

পুর ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে উতপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমান। বিএ প্রথম বর্ষের পড়ুয়া মৃতা তুহিনা খাতুন(১৮)-র বাড়ি বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরবাগ মসজিদ সংলগ্ন নতুনপল্লীতে। বুধবার বিকালে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করছে। তবে তুহিনার মৃত্যুর জন্য ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদ্য জয়ী তৃণমূল প্রার্থী বসির আহমেদকেই (বাদশা) দায়ী করেছেন মৃতার পরিবার।মৃত ছাত্রীর পরিবারের দাবি, তাঁরা বর্ধমান পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল জয়হিন্দ বাহিনীর সভাপতি মুক্তার মিঞার অনুগামী। জানা গিয়েছে, মুক্তার মিঞা সদ্য কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বসির আহমেদের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর। সেই কারণে, বুধবার জয়ের পরেই বসির আহমেদ তুহিনার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। তার জেরেই তুহিনা আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বসির আহমেদ। তিনি বলেন, কিভাবে এই ঘটনা ঘটল সেই বিষয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সঠিক তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।তিন বোনের ছবি এঁকে হুঁশিয়ারীর অভিযোগজয়হিন্দ বাহিনীর ওয়ার্ড সভাপতি মুক্তার মিঞা বলেন, প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বসির আহমেদ ওরফে বাদসা তুহিনাদের বাড়িতে হুমকি দেওয়া শুরু করে। বাড়ির দেওয়ালে তুহিনা সহ তাঁদের তিন বোনের ছবি এঁকে দিয়েও হুঁশিয়ারী দেওয়া হয়। বুধবার বিকেলে দলবল নিয়ে বাদসা চড়াও হয় তুহিনাদের বাড়িতে। তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।সেই অপমানে তুহিনা আত্মঘাতী হয়েছে। একই অভিযোগ করেন মৃতার দিদি ঝর্ণা বেগম। তিনি বলেন, বাদশা বরাবরই বির্তকে থাকেন। তাঁকে নিয়ে বহুবার বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। কখনও রাজ কলেজের টিচার ইনচার্জকে চড় মারা তো কখনও কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিকে এক ঘরে করে রাখার মত ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছেন। শুধুমাত্র শাসকদলের কাউন্সিলর হওয়ায় তিনি এইসব ঘটনা ঘটিয়েও বেঁচে গেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের একচেটিয়া জয়ও দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আটকাতে পারেনি।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

অনলাইন ব্যাংক সংস্থার হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী

অনলাইন ব্যাংক সংস্থার হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতেই ৫০ হাজার টাকা খোয়ালেন এক ব্যবসায়ী।প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যবসায়ী মনিরুল হকের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের শিবপুর গ্রামে।প্রতারণার ঘটনা নিয়ে ব্যবসায়ী বুধবার ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশকে মনিরুল জানিয়েছেন,তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।তাঁর একটি অনলাইন পেমেন্ট ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের জন্য মঙ্গলবার তিনি নেট থেকে ওই ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর সংগ্রহ করেন। আর সেই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতেই তিনি প্রতারনার শিকার হন। মনিরুল হক জানান, পেটিম পেমেন্ট ব্যাংকের হেল্পলাইন ফোন নম্বরে ফোন করতেই তার কাছে ওটিপি নম্বর চাওয়া হয়। ওটিপি নম্বর শেয়ার করতেই তাঁর অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০,০০০ টাকা গায়েব হয়ে যায়। টাকা তোলার বিবরণ রাতে তার মোবাইলে আসতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। এরপর পুনরায় তিনি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন। তখন তাঁকে জানানো হয় কয়েক ঘন্টার মধ্যেই টাকা পুনরায় একাউন্টে জমা হবে। সময় পেরিয়ে গেলেও একাউন্ট থেকে খোয়া যাওয়া তাঁর একাউন্টে আর জমা হয় না। মনিরুল হক বলেন, প্রতারিত হয়েছেন নিশ্চিৎ হয়ে বুধবার আমি ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। ভাতার থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন অভিযোগের তদন্ত শুরে হয়েছে।

মার্চ ০২, ২০২২
রাজ্য

তৃণমূলের জয়জয়কারের মধ্যেও কাটোয়ায় রবির গড়ে কুপোকাত বীরভূমের কেষ্টর অনুগত প্রার্থী

বিধানসভা ভোটের পর পুর ভোটেও রাজ্য জুড়ে দাপট অব্যাহত রাখলো ঘাসফুল শিবির। যার ব্যতিক্রম ঘটেনি পূর্ব বর্ধমানেও। এই জেলার ছয়টি পুরসভাতেও নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। একমাত্র কালনা পুরসভায় বামেরা অস্তিত্ব জানান দিতে পেরেছে । তবে এতকিছুর মধ্যেও রবির গড় কাটোয়া পুরসভার ভোটে নজরকাড়া পরিজয় ঘটেছে বীরভূমের কেষ্ট মণ্ডলের অনুগামী তৃণমূল প্রার্থীর।যা নিয়েই এখন সরগরম কাটোয়ার রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের ১০৮ টি পুরসভা ভোটের ফলাফল বুধবার ঘোষনা হতেই রাজ্যজুড়ে বইতে শুরু করে সবুজ আবিরের ঝড়। হোলির আগেই এদিন সবুজ আবিরে মাখামাখি হয়ে অকাল হোলিতে মাতোয়ারা হয় বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া,দাঁইহাট,মেমারি ও গুসকরা পৌরসভা এলকার তৃণমূল কর্মীরা। বর্ধমান পুরসভায় বিরোধীরা খাতাই খুলতে পারেনি। এমনকি ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান পুরসভার যে যে ওয়ার্ডে বিজেপি ভাল ফল করেছিল সেই সব ওয়ার্ড সহ ৩৫ টি ওয়ার্ডেই জয়ী হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীরা।একই ভাবে গুসকরা পুরসভার ১৬ টি ওয়ার্ড ও দাঁইহাটের ১৪ টি ওয়ার্ডে একচ্ছত্র আধিপত্য লাভ করেছে তৃণমূল।এই তিন পুরসভায় বিরোধীরা খাতা খুলতে না পারলেও মেমারির ঘাসফুলের খেতে অপ্রত্যাশিত ভাবেই হাত তুলে বসেছে কংগ্রেস ।কিন্তু কোনভাবেই অস্তিত্ব জানান দিতে না পেরে বিনয় কোঙারের গড়ে হারিয়েই গেল কাস্তে হাতুড়ি তারা। মেমারি পৌরসভায় মোট ওয়ার্ড ১৬ টি।এরমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ১৫ টি ওয়ার্ডে।শুধুমাত্র ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী মিঠু সরকার। ভোট প্রাপ্তির হিসাব অনুয়ায়ী মেমারিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামেরা। কালনা পৌরসভায় ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭ টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীরা।শুধুমাত্র কালনার ২ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএম প্রার্থী শর্মিষ্ঠা নাগ সাহা তাঁর প্রতিদ্বন্দি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তনুশ্রী বাগকে ১৮১ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। ঘাসফুলের দখলে গিয়েছে কাটোয়া পুরসভা। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টপাধ্যায় ওরফে রবি ববুর গড় হিসাবেই পরিচিত কাটোয়া। এই পুরসভার ২০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫ টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে তৃণমূলের প্রার্থীরা। ৪ টি ওয়ার্ডে কংগ্রেস প্রার্থী ও ১ টি ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কাটোয়ায় পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীদের মধ্যে যাঁকে নিয়ে সব থেকে বেশী চর্চা হচ্ছে তিনি হলেন অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও ওরফে কেষ্টর অনুগত অরিন্দম বাবু কাটোয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। এদিন ফল বের হতেই দেখাযায় তিনি কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ১১০ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। পরাজয়ের জন্য নিজের দলের লোকজনকেই দায়ী করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,দলের চক্রান্তের জন্যই হেরেছি। অরিন্দমবাবু অভিযোগে বলেন,তৎকাল তৃণমূল কর্মীরা চক্রান্ত করে আমাকে হারিয়েছে। আমি সমস্ত ঘটনা রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব। কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে তৃণমূলের প্রার্থীকে হারিয়ে জঘন্য রাজনীতি করেছে। কেষ্ট মণ্ডলের ঘনিষ্ট তৃণমূল নেতা অরিন্দম বন্দ্যেপাধ্যায়ের এইসব অভিযোগ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি । তবে অরিন্দমের বক্তব্য নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিতে দেরি করেননি জয়ী কংগ্রেস প্রার্থী রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন ,যে প্রার্থী তাঁর নিজের দলের জেলা সভাপতিকে হরিদাস পাল,চোরের সর্দার বলে তাচ্ছিল করেন তাঁর এমন পরিণতি কথা আগে থেকেই ভেবে রেখে ছিলেন কটোয়াবাসী। সেই মতই কাটোয়ার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জিতেয়েছে।আমাকে কোন দল সাহায্য করেনি। কোটোয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হেবি ওয়েট তৃণমূল প্রার্থীর পরাজয়ের জেরে কাটোয়ার নতুন গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব মাথা চাড়া দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ০২, ২০২২
উৎসব

এবার দেবাদিদেব মহাদেব ও জায়গা করে নিলেন থিম ভাবনার পুজোয়

বিশ্ব জুড়ে সমাদর পেয়েছে পশ্চিম বঙ্গের থিম ভাবনার দেবী দুর্গার পুজো আরাধনা। থিমের পুজো আয়োজনে জায়গা করে নেওয়া থেকে পিছিয়ে থাকননি দেবী কালী মাতাও। তিনিও অনেকদিন আগেই বাঙালির থিম ভাবনার পুজো আরাধনায় জায়গা করেনে নেন। কিন্তু দেবাদিদেব হয়েও বাবা মহাদেব অর্থাৎ শিব এই ক্ষেত্রে যেন ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছিলেন। তাই মঙ্গলবার শিবরাত্রির দিনে হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেবকে থিম ভাবনার পুজোয় স্থান করেদিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের একদল শিব ভক্ত। তাঁরাই এক তরুণ মৃৎশিল্পীর থিম ভাবনা অনুযায়ী তৈরি করিয়েছেন বিশালাকার ও সুন্দর একটি শিব মূর্তি। সেই মূর্তির সঙ্গে মানানসই করেই তৈরি হয়েছে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা। থিম ভাবনায় দেবাদিবের পুজো আরাধনা সন্ধ্যায় চাক্ষুষ করে দর্শনার্থীরাও অভিভূত হন। জামালপুর থানার সন্নিকটে রাধাবল্লববাটি এলাকার রয়েছে গোলাবাড়ি নামে পরিচিত একটি পাড়া। সেখানকার একদল যুবক প্রতিবছর কার্তিক মাসে কালী পুজোর আয়োজন করে থাকে। তাঁরাই এইবছর শিবরাত্রির দিন থিম ভাবনায় প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরি করে দেবাদিদেবের পুজো আয়োজনের ব্যাপারে মনস্থির করে। সেই ভাবনা অনুযায়ী মাস দুই আগে থেকে দেবাদিদেব মহাদেবের থিমের মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করে দেন এলাকার তরুণ মৃৎশিল্পী প্রসেনজিৎ দাস ওরফে অভি। সোমবার তিনি প্রতিমার তৈরির কাজ শেষ করেন। তারই মধ্যে ডেকরেটার শিল্পীরা প্রতিমার সঙ্গে মানানসই করে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার কাজও শেষ করে ফেলেন। এদিন মহা ধূমধাম করে হয় সেই দেবাদিদেবের মূর্তিরই পুজার্চনা।প্রতিমা শিল্পী প্রসেনজিৎ দাস জানান, তিনি তাঁর দুই গুর পিরু দে ও আশিস পালের কাছে প্রতিমা তৈরির কাজ শেখেন। তার পর গুরুদের হাত ধরেই থিমের আদলে দুর্গা, কালী, সরস্বতী ও লক্ষ্মী মাতার প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। কিন্তু থিম ভাবনার অঙ্গিকে দেবাদিদেব মহাদেবের প্রতিমা তৈরির কাজ করেন নি। তা নিয়ে একটা আক্ষেপ রয়েই গিয়েছিল। তাই গোলাবাড়ি এলাকার শিব ভক্ত যুবকরা এবছর তাঁকে থিম ভাবনার আঙ্গিকে শিবের প্রতিমা তৈরি করে দেবার প্রস্তাব দিতেই তিনি তা লুফে নেন। প্রসেনজিৎ বলেন, তিনি নিজের হাতে থিম ভাবনার আদলে যে শিব প্রতিমা তৈরি করেছেন তা দেখতে এদিন বহু দর্শনাথী মণ্ডপে ভিড় করেন। দেবাদিদেবকেও থিমের পুজোর স্থান করে দিতে পেরে গর্বিত বোধ করছেন বলে প্রসেনজিৎ দাস এদিন মন্তব্য করেন। পুজো আয়োজকদের পক্ষে পিন্টু রাউত ও দেবাশিষ ভট্টাচর্য্য বলেন, থিম ভাবনায় হওয়া বাংলায় দুর্গা পুজো বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি পেয়েছে। দেবী কালী মাতার পুজোতেও বহু দিন আগেই থিমের ছোঁয়া লেগে গিয়েছে। কিন্তু দেবাদিদেব মহাদেবের পুজো থিম ভাবনায় সাজিয়ে করার ব্যাপারে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন না। তাই থিম ভাবনার পুজো আয়োজনে দেবাদিদেবকে স্থান করেদিতে পেরে তাঁরা সবাই গর্বিত বোধ করছেন। দর্শনার্থী রাখি হাজরা বলেন, থিমের পুজো আয়োজনে এবার দেবাদিদেব মহাদেবও জায়গা করে নিলেন। তাই গোলাবাড়ি পাড়ার শিব পুজো সবার নজর কেড়েছে।

মার্চ ০১, ২০২২
রাজ্য

জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে নয়ানজুলি বোজানোয় ডিভিসির জলে ডুবলো আলু জমি, অবরোধ ক্ষুব্ধ চাষীদের

জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ কাজের জন্য নয়ানজুলি বুজে থাকায় ভিভিসি (Damodar Valley Corporation) জল ছাড়তেই জলে ডুবলো আলু চাষের জমি। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ক্ষুব্ধ চাষীরা। ঘন্টা খানেকের অবরোধ বিক্ষোভের জেরে এদিন সকালের দিকে জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায়। দূর পাল্লার বাস সহ বিভিন্ন যানবাহন জাতীয় সড়কে যানজটে আটকে পড়ে। খবর পেয়ে শক্তিগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাষিদের সঙ্গে কথা বলে । পরে প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন চাষিরা।প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে শক্তিগড় এলাকায় জোরকদমে চলছে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের কাজ। সেই কাজ করতে গিয়ে চাষের জমিতে সেচের জল যাবার জন্য জাতীয় সড়কের ধারে থাকা নয়ানজুলি বুজিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে বোরোধান চাষের জন্য ডিভিসির সেচ খালে জল ছাড়া হয়। নয়ানজুলি বুজে থাকার জন্য সেই জল প্রবাহিত হতে না পেরে বদ্ধ নয়ানজুলি থেকে উপচে গিয়ে সোমবার রাতে অসপাশের ফলন্ত আলু জমিতে ঢুকে পড়ে। তার কারণে শক্তিগড়, আমড়া ও বড়শুল এলাকার বিঘের পর বিঘে আলুর জমি জলে ডুবে যায়। মঙ্গলবার সকালে ফলন্ত আলু জমি জলে ঢুবে থাকতে দেখে কার্যত মাথায় হাত পড়ে যায় আলুচাষীদের। ফসলের এই ক্ষতি মেনে নিতে না পেরে ক্ষিপ্ত চাষিরা এর পরেই ২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে দেন।ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষী সেখ নজরুল ইসলামআমড়া এলাকার বাসিন্দা আলুচাষী সেখ নজরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে জমিতে আলুচাষ করার পর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে চাষীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রবল বর্ষণে আলুর জমি ডুবে যায়। পচে যায় আলুগাছ। তারপর ফের তারা জমি তৈরি করে আলু চাষ করেন। আর এখন নয়ানজুলি বুজে থাকার জন্য ডিভিসির সেচখালে ছাড়া জল আলুর জমিতে ঢুকে গিয়ে পাকা আলু জমির অপূরণীর ক্ষতির করে দিল। তিনি দাবী করেন আমড়া, শক্তিগড় ও বড়শুল নিয়ে কম করে একশো বিঘে আলু জমিতে জল ঢুকেছে। সমস্ত আলু জমি এরজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হল।এলাকার অপর আলুচাষী বাবুল মণ্ডল বলেন, এখন সবেমাত্র জমি থেকে আলু তোলার মরশুম শুরু হয়েছে। আলু জমি জলে ঢুবে যাওয়ায় এখন চাষীরা চরম সংকটে পড়লেন। এবছর আলুর দামও এমনিতে উর্দ্ধমুখী। বর্তমানে একবস্তা (৫০ কেজি) আলুর দাম ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। এই অবস্থায় জমিতে জল দাঁড়িয়ে গেলে পাকা আলু পচে যাবে। চাষীরা এবছর এমনিতেই সমস্যায় জেরবার। শীতে বারে বারে অকাল বর্ষণে দুবার করে আলু চাষ করতে হয়েছে। তাতে বাজারে ও মহাজনী ধারদেনা হয়েছে। প্রশাসন ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না করলে চাষীরা মহা সংকটে পড়বে।জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, চাষীদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভাবতে হবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে। আমরা এই বিষয়ে ওদের সঙ্গে আলোচনা করছি। চাষীদের ক্ষতি মেনে নেওয়া যাবে না।

মার্চ ০১, ২০২২
রাজ্য

স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি কচুরিপানার হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রী করবেন মন্ত্রী

কচুরিপানা নিয়ে হেলাফেলা করার দিন শেষ হতে চলেছে। এইবার কচুরিপানা দিয়েই তৈরি হবে নজরকাড়া হস্তশিল্প সামগ্রী। দুই মাস ধরে প্রশিক্ষণ নেওয়া পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ওইসব হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরী করবেন। এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ নিজে উদ্যোগ নিয়ে পূর্বস্থলী ১ ব্লকের বড়কোবলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মহিলাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। প্রশিক্ষণ কতটা সার্থক হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে সোমবার মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌছান। সেখানে তাঁর সঙ্গেই বিডিও দেবব্রত জানা ও রিজিওনাল হ্যান্ডিক্র্যাফটস প্রমোশন অফিসার পীযূস সিংহ ও উপস্থিত থাকেন। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এদিন বলেন, কচুরিপানা পরিবেশ বান্ধব। সেই কচুরিপানা দিয়ে হস্তশিল্প তৈরি করার জন্য প্রথম পর্যায়ে কুড়িজন মহিলাকে বেছে নেওয়া হয়। তাঁদের ২ মাস ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সব কিছু খতিয়ে দেখে তাঁদের আরও দু-সপ্তাহ প্রশিক্ষন দেওয়ার সিদ্ধান্ত এদিন নেওয়া হয়। তারপর স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর ওই মহিলারাই কচুরিপানা দিয়ে নজরকাড়া নানান হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরী করবেন। উৎপাদিত সেইসব হস্তশিল্প সামগ্রী বিপণনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কালনা নবদ্বীপ ও বর্ধমান শহরেও তা বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। মন্ত্রী জানিয়ে দেন, কচুরিপানা দিয়ে তৈরি হস্তশিল্প সামগ্রীর জন্য তিনি নিজে সেলসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেনপুকুর কিংবা জলাশয়ে কচুরিপানা ভরে থাকলে তা কিভাবে কাজে লাগানো যায় এতদিন সেই ভাবে কেউ মথা ঘামাননি। কিন্তু কচুরিপানা দিয়েও যে হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরি করা যায় সেই দিশা প্রথম দেখায় পূর্বস্থলীর যুবক রাজু বাগ। পূর্বস্থলী ১ ব্লকের বাঁশদহ বিল সহ এলাকার খালবিলে জন্মানো কচুরিপানা দিয়ে রাজু নজরকাড়া ডিজাইনের ঘর সাজানোর সামগ্রী তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেয়। কচুরিপানা ভালোভাবে শুকিয়ে সেগুলি দিয়ে সে বিভিন্ন ডিজাইনের ঝুড়ি, ম্যাট, ব্যাগ সহ ঘর সাজানোর জিনিস তৈরী করে দেখায়। যুবক রাজুর এই শিল্প কীর্তি এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের তা নজরে আসতেই তিনি নড়েচড়ে বসেন। কিছুদিন আগে খালবিল ও চুনোমাছ উৎসবে রাজুর তৈরী করা সেই হস্তশিল্পের একটি প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করে দেন মন্ত্রী। কচুরিপানা দিয়ে তৈরী হস্তশিল্পের সেই কাজ শিখে এলাকার মহিলা ও অন্যান্যরা স্বনির্ভর হতে পারবে ধরে নিয়ে মন্ত্রী তাঁর বিধানসভা এলাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও খোলান। খালবিল ওয়েলফেয়ার সেসাইটি ওই প্রশিক্ষণ শিবিরের যাবতীয় খরচ বহন করে।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
রাজ্য

নোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে গৃহবধূকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী ও মামাশ্বশুর

নোড়া দিয়ে মাথায় আঘত করে গৃহবধূকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হল স্বামী ও মামাশ্বশুর। ধৃতদের নাম বিজয় মুদি ও শ্রীকান্ত মুদি। তাঁদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার মাশিলা গ্রামে। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ রবিবার রাতে বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়ি রক্তমাখা নোড়াটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সোমবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ৮ মার্চ ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বধূর বাবার বড়ির সদস্যরা।পুলিশ জানিয়েছে, গৃহবধূ রেখা মুদির বাবার বাড়ি মাশিলা গ্রামে। তাঁর বাবা সঞ্জিৎ রুইদাস জানিয়েছেন, ভাব ভালবাসা করে তাঁর বড় মেয়ে রেখা বছর আটেক আগে যুবক বিজয়কে বিয়ে করে ।বিজয়ের আদি বাড়ি পুরুলিয়ায় হলেও সে মাশিলা গ্রামে মামার বাড়িতে থাকে। দম্পতির একটি ৬ বছরের ছেলে আছে। সন্দেহ করে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিজয় তাঁর স্ত্রী রেখার উপর নির্যাতন শুরু করে। শনিবার রাতে রেখা ঘরে শুয়ে ছিলেন। অভিযোগ সেই সময় বিজয় ও মামাশ্বশুর মিলে তাঁকে মারধর করা শুরু করে। নোড়া দিয়েও রেখার মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। নোড়ার আঘাতে মাথা ফাটে রেখার। খবর পেয়ে বাপেরবাড়ির লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনার দিনই রেখার বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ রেখার স্বামী ও মামা শ্বশুর কে গ্রেফতার করে।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
রাজ্য

বিজেপি-র ডাকা বাংলা বন্ধে মিছিল পাল্টা মিছিলে সরগরম শহর বর্ধমান

বাংলা বন্ধ সফল করতে বর্ধমান আদালতের আইনজীবী ও ল-ক্লার্ক দের সেরেস্তা বন্ধ করানোর জন্য সোমবার আসরে নামে বিজেপি কর্মীরা। যদিও তা সফল করতে তারা ব্যর্থ হয়। তবে এদিন জোরপূর্বক বর্ধমন শহরের দোকান বাজার বন্ধ করার চেষ্টা না করে বিজেপি শহরে মিছিল করে। বর্ধমান শহরের বিরহাটার ক্লক টাওয়ার থেকে এক প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে জি টি রোড পরিক্রমা করে সিটি টাওয়ারে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেন দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা, সন্দীপ নন্দী, অঞ্জন মুখার্জি সহ অন্যান্য নেতারা। অভিজিৎ তা বলেন, যেভাবে রবিবার রাজ্যজুড়ে গণতন্ত্র লঙ্ঘিত হয়েছে তার প্রতিবাদে এই বনধ সমর্থনে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এদিন বন্ধের সমর্থনে আদালত চত্বরে প্রচার করেন বিজেপি কর্মীরাও।আদালত চত্ত্বরে আইনজীবী ও ল-ক্লার্ক দের বিভিন্ন সেরেস্তা বন্ধ করার জন্য আবেদন জানান বিজেপি কর্মীরা। যদিও আজ বিজেপির ডাকা ১২ঘন্টার বন্ধে কোনও প্রভাব পড়েনি পূর্ব-বর্ধমান জেলায়। সকাল থেকে বাজার হাট খোলা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে। অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে।বিজেপির পাল্টা বাংলা বন্ধের বিরোধিতায় এদিন বর্ধমান শহরে মিছিল করল শাসকদল। টাউনহল থেকে শুরু হওয়া তৃণমূলের মিছিল বর্ধমান শহরের জি টি রোড; বি সি রোড পরিক্রমা করে রাজবাটিতে পৌছায়। সেখানে মিছিল শেষ হয়। মিছিলে ছিলেন দলের শহর সভাপতি অরূপ দাস, বিধায়ক খোকন দাস সহ অন্যান্যরা। তাঁরা বলেন, বিজেপির ডাকা বনধ ব্যর্থ করে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার জন্য আবেদন জানিয়ে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার বিরোধিতা করে এদিন তৃণমূল কংগ্রেস মিছিল করেছে।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
রাজ্য

এ এক ভিন্ন ছবি, বুথ চত্ত্বরে ভোট উৎসবে মাতলেন শাসক-বিরোধী দলের তিন প্রার্থী

পুর ভোটে ভোট লুট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রবিবার সারাটি দিন সোচ্চার থাকে বিরোধীরা। কিন্তু তারাই মধ্যে এদিন সম্পূর্ন উল্টোচিত্র দেখা যায় পূর্ব বর্ধমানের কালনা পৌসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। এখানকার কালনা হিন্দু গার্লস হাই স্কুলের বুথ চত্ত্বরের বেঞ্চে এক সঙ্গে বসে হাসি ঠাট্টা করে খোশ মেজাজেই দিনটা কাটালেন তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম প্রার্থীরা। যা দেখে শাসক ও বিরোধী সব দলের ভোটাররা ভিমড়ি খেয়ে যাবার মতন অবস্থা। কিন্তু তিন তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী বাগ, সিপিএম প্রার্থী শর্মিষ্ঠা বাগ ও বিজেপি প্রার্থী মামনি ঘোষ সেইসবকে কোন গুরুত্বই দিলেন না।বরং এক সুরেই তিন প্রার্থী জানিয়ে দিলেন, কোথায় কি হচ্ছে জানি না। তবে তাঁদের এলাকার ভোটাররা ভোট দিয়ে যাকে খুশি জেতাবেন। সেটাই তাঁরা মাথা পেতে নেবেন।পুরভোটে কালনা পুরসভার একাধিক বুথে ভোট লুট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয় সিপিএম ও বিজেপি দলের প্রার্থী ও এজেন্টরা । কিন্তু তারই মধ্যে ব্যতিক্রম থাকে কালনা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের হিন্দু গার্লস হাই স্কুলের বুথে বসে আড্ডার মাঝেই তৃণমূল, সিপিএম ও বিজেপি দলের প্রার্থীরা ভোটারদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি দেখলেন। একই সঙ্গে ভোটসংক্রান্ত নিজেদের নানা কাজ ও যাঁকে ফোন করার তাও করলেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডে যখন শাসক-বিরোধীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত হাতাহাতি মারামারির উপক্রম তখন তৃণমূলের তনুশ্রী,সিপিএমের শর্মিষ্ঠা ও বিজেপির মামনি এক বঞ্চে একসঙ্গে বসে টিফিন সেরে চা খেয়ে রীতিমতো জমাটি আড্ডাও দিলেন। এনারই যেন বুঝিয়ে দিতে চাইলেন ভোট আসলে গণতন্ত্রের উৎসব।তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী বাগ বলেন, ভোট উৎসবে খুব ভালোভাবেই ভোট হচ্ছে। আমরা তিন প্রার্থী একসঙ্গে ভোট উৎসব এনজয় করছি। বিজেপির প্রার্থী মামনি ঘোষ দাস বলেন, সকাল থেকে চা,টিফিন সবই আমরা একসঙ্গে খেয়েছি। কোন বিরোধ নয়। নিজেদের মতন করেই আমরা একসঙ্গে ভোট করছি। কোন অসুবিধা হয়নি। সিপিএমের প্রার্থী শর্মিষ্ঠা নাগ সাহা বলেন, মানুষ যাকে ভালোবাসবে তাঁকেই বেছে নেবে। আমারা সেটাই চেয়েছি। ভোটাররা যে রায় দেবেন সেটা আমরা মাথা পেতে মেনে নেব। ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াটাই হওয়াটাই বড় কথা।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২
রাজ্য

পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও লুঠের পুরভোটের অভিযোগ তুললেন বিরোধীরা

পুর ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে দলীয় মুখপত্রে বার্তা দিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল। কিন্তু বাস্তবে রবিবার পূর্ব বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় ঠিক তার উল্টোটাই ঘটলো। বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট দেওয়া, বিরোধী দলের এজেন্টের উপরে হামলা সবেতেই অভিযোগের আঙুল উঠলো শাসক দলের দিকে। এমন পুর ভোট দেখে তিতি-বিরক্ত ভোটাররাও। রাজ্যের যে ১০৮ টি পুরসভার নির্বাচন এদিন ভোট হয় তার মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, দাঁইহাট, মেমারি ও গুসকরা পুরসভাও ছিল। এদিন ভোট শুরুর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই গোলযোগ অশান্তি শুরু হয়ে যায় গুসকরা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে। গুসকরার শান্তিপুর পূর্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি বুধে ব্যাপক গণ্ডগোল বেঁধে যায়। বহিরাগতরা বুধে ঢুকে তৃণমূলের হয়ে ছাপ্পা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে স্বোচ্চার হয় সিপিএমের প্রার্থী ও এজেন্টরা। একই অভিযোগ তুলে স্বোচ্চার হন এলাকার ভোটাররাও। পুলিশের বিরুদ্ধে নিস্কৃয়তার অভিযোগ তুলে তাঁরা সবাই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। শুরু হয়ে যায় পুলিশকে লক্ষ করে ইট ছোড়া। ইটের আঘাতে চোট পান গুসকরা ফাঁড়ির আই সি অরুণ সোম সহ ৪ পুলিশ কর্মী। এর পরেই পুলিশ লাঠি চার্জ করে ও লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়। এমন গোলযোগ অশান্তির জন্য প্রায় আধ ঘন্টা ভোট গ্রহন থমকে থাকে সংশ্লিষ্ট বুথে। গুসকরা পুরসভার ভোটে প্রতিদ্বন্দি সিপিএম, বিজেপি উভয় বিরোধী দলের প্রার্থী ও এজেন্ট দের অভিযোগ, বেলা বাড়তেই গুসকরা পুরসভার ১৬ টি ওয়ার্ডের সব বুথেরই দখল নিয়ে নেয় শাসক দলের বহিরাগত দুস্কৃতিরা। ওই দুস্কৃতিরা বিরোধী দলের প্রার্থী, এজেন্ট ও ভোটারদের বুথ থেকে বাইরে বের করে দিয়ে অবাধে ছাপ্পা দিয়ে গেছে। এমনই অভিযোগ এদিন করেছেন জেলা সিপিএম নেতা আলমগীর মণ্ডল ও গুসকরার বিজেপি নেতা পতিতপাবন হালদার।পৌরসভা নির্বাচনএকই ভাবে এদিন কালনা পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডেও গোলযোগ অশান্তির ঘটনা ঘটে। কালনা পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অম্বিকা মহিষমর্দিনী প্রাথমিক স্কুলের বুথের দরজা বন্ধ করে পুলিসের সামনেই তৃণমূলের হয়ে ছাপ্পা ভোট দেবার অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের ক্যামেরাতেও ধরা পড়ে ছাপ্পা ভোট দেবার ছবি। তা বুঝতে পেরেই মুখ ঢেকে বুথ থেকে ছুটে পালায় ওই ভুয়ো ভোটার। ছাপ্পা চলাকালীন ওই বুথে ভোট দিতে গিয়ে নিগৃহীত হয়ে এক ছাত্র বুথ চত্ত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। যদিও এইসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল প্রার্থী মৌসুমী কারফা। কালনা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী শুভদেব হাজরা অভিযোগ করেছেন, কালনার শশীবালা স্কুলের বুথ ভোট শুরুর আগেই তৃণমূল কর্মীরা মারধোর করে তাঁকে বুথ থেকে বের করে দেয় যদিও তৃণমূল প্রার্থী সুনীল চৌধুরী এই অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। কালনা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডেও ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একাধীক বুথে ছাপ্পা ভোট দেওয়া নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সিপিএম প্রার্থী পিয়ালী মুখোপাধ্যায় সহ বাম নেতা কর্মীরা। পিয়ালীদেবী বলেন, ভোটের একদিন আগেই তৃণমূলের দুস্কৃতিরা তাঁকে ব্যাপক মারধোর করে, মাথা ফাটিয়ে দেয়। আর এদিন ভোট শুরুর প্রথম থেকেই তৃণমূলের দুস্কৃতিরা বুথে বুথে ঢুকে ভোট লুঠ শুরু করে দেয়। বাইক বাহিনী হঠাৎ কালনার মহিষমর্দিনী গার্লস স্কুলের বুথে ঢুকে ইভিএম ভেঙে দেয় বলে সিপিএমের অভিযোগ। বাইক বাহিনী সিপিএম প্রার্থী ও কর্মীদের মারধোরও করেছে বলে অভিযোগ। এইসবের জন্য ওই বুথে ভোট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছালে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। ভোট লুঠের জন্য পুলিশকে দায়ী করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সিপিএম প্রার্থী ও কর্মীরা। তাঁরা কালনার নিভূজি মোড়ে সড়কপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে দেয়। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বাম কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। পরে পুলিশ জোর-পূর্বক অবরোধ তুলে দেয়। মেমারি পুরসভার ভোটে তেমন কোন বড়সড় গোলযোগ আশান্তির অভিযোগ বিরোধীরা তোলেন না। তবে এদিন দুপুর ৩টে নাগাদ বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটে মেমারির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুরের ২১০ ও ২১২ নম্বর বুথে। বহিরাগতরা বুথ জ্যাম করে ছাপ্পা ভোট দিতে গেলে বিরোধী দলের প্রার্থী, এজেন্ট ও ভোটাররা একজোট হয়ে তা রুখে দেয়। তা নিয়ে স্কুল চত্ত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পৌরসভা নির্বাচনবর্ধমান পৌরসভার ভোটেও নির্বাচনের নামে ব্যাপক ভোটলুঠ ও বুথে বহিরাগতদের দাপাদাপির অভিযোগ উঠেছে। পুর-নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে বিকালে বর্ধমান সদর মহকুমাশাসকের দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে দেন বিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা। প্রার্থীরা প্লাকার্ড হাতে সেখান মাটিতে বসে পড়েন। তার আগে পুলিশের সাথেও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বচসাও হয়। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায় তার জন্য মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। একই ভাবে ভোটগ্রহণের শেষে বর্ধমানের কার্জন গেটের সামনেও উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন সন্ধ্যায় কার্জন গেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয় বাম, বাম ছাত্র-যুব ও অন্যান্য গণসংগঠনের প্রতিনিধরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, পুরভোটে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য ভোট লুঠ করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে বামেরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কুশপুতুল পোড়ায়। বিক্ষোভের শেষে দলের নেতা অমল হালদার বলেন, জেলার ৬ টি পুরসভার ভোটেই নিরব সন্ত্রাস ও ভোট লুঠ চলেছে। গোটা রাজ্যেই ভোটলুঠ হয়ে হয়েছে। মানুষকে ভোটদানে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদেই তারা পথে নেমেছেন। এই কর্মসূচি চলাকালীন কিছু উচ্ছৃঙ্খল বাম সমর্থক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কটু মন্তব্য করলে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরে অবশ্য উচ্চ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। তৃণমূলের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু বলেন,যেমন সিপিএম তেমনই বিজেপি। সংগঠন নেই জনসমর্থনও নেই। শুধু অভিযোগ তুলেই বিরোধীরা পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার কৌশল নিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২২
রাজ্য

বিধ্বস্ত ইউক্রেন, ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার প্রহর গুনছেন বর্ধমানের পরিবার

গোলা-গুলির লড়াইয়ে তপ্ত ইউক্রেন। রাশিয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইউক্রেনও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। দিন যত গড়াচ্ছে ততই ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেরও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এই রাজ্যের অনেক ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মসূত্রে যাওয়া মানুষ ইউক্রেনৈ আটকে পড়েছেন। যেমনটা ইউক্রেনের পলতভা শহরে আটকে রয়েছে বর্ধমানের রায়ান ১ নম্বর পঞ্চায়েতের নারায়ণদীঘি এলাকার বাসিন্দা তারাচরণ ভকতের ছেলে রোহিত ভকত। ছেলের কথা ভেবে এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছন ভকত পরিবারের সদস্যরা। রোহিতের মা গীতা ভকত শনিবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনে তাঁর ছেলে সারে তিন বছর আগে কম্পিউটার সায়েন্স ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য যায়। আচমকা রাশিয়ান হামলা শুরু হয়ে যাওয়ায় গোটা ইউক্রেন জুড়ে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। অন্যান্য দেশের লোকেরা সবাই নিজের নিজের দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তার ছেলে ও ছেলের সঙ্গীরা। সড়ক পথে প্রায় ৩০০কিলোমিটার দূরে হাঙ্গেরির সীমান্তে নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়েও রাস্তা বন্ধ থাকায় সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। সেখান থেকেই প্লেনে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল ভারতীয় দূতাবাস।রোহিতের পরিবার জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তাঁরা রীতিমত উদ্বেগে রয়েছেন। ছেলের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ রাখছেন ফোনের মাধ্যমে। রোহিত তাদের বড় ছেলে। তাঁদের সাড়ে তিন বছরের আরেকটি পুত্র সন্তান আছে। বর্ধমান শহরের সিএমএস ( বি সি রোড) স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার জন্য রোহিতকে ইউক্রেনে পাঠানো হয় উচ্চ শিক্ষার জন্য। কিন্তু পড়াশোনার একদম শেষ পর্যায়ে এসে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ক্যারিয়ারের কি হবে তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সব আশঙ্কাকে ছাপিয়ে এখন ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার প্রহর গুনছেন মা, বাবা থেকে গোটা পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশীরা।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে পুরভোটের ২৪ ঘন্টা আগে শনিবার বিজেপি নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো

বর্ধমানে পুরভোটের আর ২৪ ঘন্টাও বাকি নেই। তার আগেই শনিবার সকালে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে দুটি সুতলি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো। দুদিন আগেই এই অফিসে বিজেপির ফ্লেক্স পোড়ানোর অভিযোগ ওঠে। বিজেপির অভিযোগ; শাসকদলের বহিরাগত দুস্কৃতীরা এসে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তৃণমূল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী সুধীররঞ্জন কুমার সাউ জানান; সকালে ফোন পেয়ে তিনি এবং দলীয় কর্মীরা এসে দেখেন দুটি বোমা পড়ে আছে দলের অফিসের সামনে। পুলিশ এসে জায়গাটিকে ঘিরে দেয়। তার দাবি; বাইরে থেকে লোক এনে এই ওয়ার্ডের শাসকদলের প্রার্থী ও তার স্বামী আতঙ্ক ছড়াতে চাইছেন। এভাবে ভয় দেখিয়ে এলাকার মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের আতঙ্কিত করতে চাইছেন তাঁরা। এভাবে অফিস বন্ধ থাকলে তার ভোট প্রস্তুতি কীভাবে হবে। এলাকার বাসিন্দা; হারু পন্ডিত জানান; বোমার কথা শুনে আর দেখে এলাকার মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন।এর পিছনেই জনবসতি।অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস জানান, এসব ভুলে ভরা অভিযোগ। তৃণমূল বোমা বন্দুকের রাজনীতি করে না। কোথা থেকে সুতলি জড়ানো কিছু ওরাই নিয়ে আসতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার তিন ছাত্র, উৎকণ্ঠায় পরিবার

ইউক্রেনে বেজে গিয়েছে যুদ্ধের দামামা। রাশিয়া ও ইউক্রেণের মধ্যে প্রতিনিয়ত চলছে গুলি-গোলার লড়াই। যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনের মধ্যেই প্রাণ গিয়েছে শতাধিক মানুষের। এমন যুদ্ধ বিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেই একরাশ আতঙ্ক বুকে নিয়ে ইউক্রেনে আটকে রয়েছে বহু ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী। আটকে পড়াদের মধ্যে এই রাজ্যের পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার তিন বাঙালি পড়ুয়াও রয়েছে। সন্তানরা যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণ থেকে কিভাবে বাড়ি ফিরবে তা ভেবেই এখন চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন এই পড়ুয়াদের অভিভাবকরা।যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনের খারকিভে আটকে রয়েছে কালনার পূর্বস্থলীর চুপি কালীতলা এলাকার ছাত্র শেখ আকিব মহম্মদ। এখন ছেলে ইউক্রেনে কি অবস্থার মধ্যে রয়েছে, কি ভাবে বাড়ি ফিরবে তার কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁর বাবা মা। ছেলের কথা ভেবে শুক্রবার সকাল থেকে বাবা মায়ের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গিয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আকিব মহম্মদ ২০১৮ সালে ইউক্রেনে খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার জন্য যায়। তার পর থেকে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর বৃস্পতিবার থেকে আকিবকে রাখা হয়েছে আণ্ডারগ্রাউণ্ডে। সেখানে তাঁর সঙ্গেই রয়েছে পাঁচশোজন ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী। তাঁরা সবাই ডাক্তারি পড়ুয়া। সবাই সেখানে আতঙ্কে রয়েছে। চেহারা মোটা হওয়ায় আণ্ডারগ্রাউণ্ডের ভিতর শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে বলে আকিব তাঁর পরিবারকে জানিয়েছে। এছাড়াও সে তার পরিবারকে জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ইউক্রেনে বন্ধ হয়ে গিয়েছে এটিএম পরিষেবা। এখন তাঁর কাছে আছে কিছু শুকনো খাবার। এইসব জেনে পূর্বস্থলীর বাড়িতে আকিবের বাবা মা সহ পরিবারের সবাই চোখের জল ফেলে দিন কাটাচ্ছেন।আকিবের বাবা শেখ আমজাদ ও মা সুলতানা বেগম তাঁদের ছেলেকে দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা চাইছেন, কেন্দ্রের সরকার যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেণনে আটকে থাকা সকল ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক।একই ভাবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পরিস্থিতিও যথেষ্ট ভয়াবহ। সেই কিয়েভে এখন আটকে রয়েছে কালনার মুক্তারপুর এলাকার একই পরিবারের দুই পড়ুয়া দীপক হালদার ও বিভাস হালদার। তাঁরা কম্পিউটার ডিপ্লোমা করতে ইউক্রেনে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এই পড়ুয়াদের পরিবার সদস্য ধনঞ্জয় হালদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুই ভাই হোস্টেল ছেড়ে ভারতীয় দূতাবাসে চলে গিয়েছে। ওই দিন অনলাইনে তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়েছে। বিভাষ ও দীপক দুজনেই পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, ইউক্রেনের পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। মুহুর্মুহু রাশিয়ান হামলায় ত্রস্ত হয়ে রয়েছে গোটা ইউক্রেন। তাই দুই ভাই সেখানে এখন শুকনো খাবার খেয়েই রয়েছে। ভারত সরকার দ্রুত দুই সন্তানকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করুক এই আর্জি প্রশাসনের কাছে রেখেছে তাঁদের বাবা মা। পরিবারের সদস্যরা দিনরাত প্রার্থনা করছেন যাতে তাঁদের ঘরের ছেলেরা যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে আসতে পারে।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, আমরাও এই খবর পেয়েছি। আকিব, বিভাস ও দীপককে দেশে ফেরানোর বিষয়ে রাজ্য সরকার সবরকম ব্যবস্থা করছে।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

নেতার পদ্ম প্রচার দেখে ভোটে সাবোটেজের আতঙ্কে ভুগছে মেমারি পুর এলাকার শাসক শিবির

ভোটটা দেবেতো পদ্ম ফুলে? ভালো করে হেসে বলো! বাড়ি বাড়ি পুর ভোটের প্রচারে বেরিয়ে ঠিক এই ভাবেই এক ভোটারের কাছে কাতর ভাবে অনুনয় বিনয় করছেন তৃণমূল নেতা। এমনটা জেনে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হয়তো চমকে উঠবেন। কিন্তু বাস্তবেই চমকে দেওয়ার মতনই এমন ঘটনা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের অনেক বলিষ্ঠ নেতা নেত্রীর সামনেই ঘটেছে মেমারিতে। ভোটারকে মেমারি শহর তৃণমূলের সভাপতি স্বপন ঘোষালের পদ্মফুলে ভোট দিতে বলছেন শুনে তাঁরাই শেষে চিৎকার করে বলে ওঠেন পদ্ম নয়, জোড়া ফুল, জোড়া ফুল। এইসব দেখে মেমারি পৌরসভা ভোটের প্রাক্কালে তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে সাবোটেজের আতঙ্ক।মেমারি সহ রাজ্যের ১০৮ টি পৌরসভার নির্বাচন হবে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি। ১৬ আসনের মেমারি পৌরসভা এবারও নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া মেমারির তৃণমূল কর্মীরা। তাই দলীয় নেতৃত্ব চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মেমারি শহর জুড়ে শুরু হয়ে যায় তৃণমূলের জোরদার প্রচার। দিন দুই আগে মেমারি পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নল পুকুরপাড় এলাকায় দলীয় প্রার্থী পদ্ম ক্ষেত্রপালের সমর্থনে প্রচারাভিযান। সেই প্রচার কর্মসূচীর অগ্রভাগে থাকেন প্রার্থী ও মেমারি শহর তৃণমূলের সভাপতি স্বপন ঘোষাল। এছাড়াও ছিলেন মেমারি পৌরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ী, মেমারি ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তথা বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য্য, জেলাপরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারা ও জেলাপরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বাগবুল ইসলাম। তাঁদের চোখের সামনেই ওই এলাকার প্রৌঢ় ভোটার ছোটন সাহানিকে শহর তৃণমূল সভাপতি স্বপন ঘোষাল বলেন ,ভোটটা দেবেতো পদ্ম ফুলে? ভালো করে হেসে বলো ! এই কথা শুনে প্রচারে বের হওয়া অন্য নেতা নেত্রীরা কার্যত চমকে ওঠেন পরে তাঁরাই চিৎকার করে বলে ওঠেন ,পদ্ম ফুলে নয় , পদ্ম ফুলে নয়। ১ নম্বরে জোড়া ফুলে ভোট দেবেন। ঘটনার পরেই ভাইরাল হয়ে গিয়ে এই ভিডিও এখন মেমারির ভোটারদের ফোনে ফোনে ঘুরছে। ভিডিওর সত্যতা জনতার কথা যচাই করেনি।এই বিষয়ে মেমারি শহর তৃণমূলের সভাপতি স্বপন ঘোষাল যদিও শুক্রবার দাবি করেন, তিনি ওই ভোটারকে পদ্মফুলে ভোট দিতে বলেননি। তিনি বলেন, আমি বলেছি দেবেন তো ভোটটা পদ্মকে ফুলে?। সেটা শুনে সবাই ভুল করে ধরে নেয় আমি পদ্ম ফুলের কথা বলেছি। তাই প্রচারে থাকা অন্যরা বলে ওঠেন পদ্মফুল নয়, জোড়া ফুল। অর্থাৎ দলের জোড়া ফুল প্রতীকের কথা স্বপনবাবু যে ভোটারের কাছে তুলে ধরেননি তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি স্বপন ঘোষাল এও জানান, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির কোন প্রার্থীই নেই। কাজেই সেখানের পদ্মফুলের কোন গল্পও নেই। আর কংগ্রেসের প্রার্থী রুপা খাঁড়া এদিন থেকে তৃণমূলের হয়ে গিয়েছে বলে স্বপন ঘোষাল জানান।তবে স্বপন ঘোষাল যাই বলুন না কেন মেমারির একটা বড় অংশের তৃণমূল কর্মীরা ভোটের দোরগোড়ায় তাঁকে সন্দেহের চোখেই দেখতে শুরু করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দলের প্রথম প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় প্রার্থী হিসাবে স্বপন ঘোষালের নাম ছিল। পরে দ্বিতীয় তালিকায় স্বপনবাবুর নাম বাদ যায়। কর্মীদের বক্তব্য, তা নিয়েই হয়তো ক্ষোভে স্বপন ঘোষাল পদ্মফুলে ভোট দেবার কথা বলে ফেলছেন। আর এইসব দেখে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে ভোটের দিন সাবোটেজ হতে পারে। তাই তাঁরা ঘটনার ভিডিও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়ে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রেখেছেন।মেমারি সিপিএম নেতৃত্ব অবশ্য স্বপন বাবুর কথার মধ্যে ভুল কিছু দেখছেন না। তাঁরা বলেন, কিছুদিন আগে অনুব্রত মণ্ডলকে পাশে নিয়ে মুকুল রায়-ই তে বলেছিলেন বিজেপি মানেই তো তৃণমূল। তাহলে স্বপনবাবুর আর দোষ কোথায়। তিনি তে মুকুলবাবুর সুরেই সুর মিলিয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

পিয়াঁজ চাষের আড়লে জমিতে পোস্ত চাষের রমরমা, গ্রেফতার চার

জমিতে বেআইনী ভাবে পোস্ত চাষ করার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন চার ব্যক্তি। ধৃতদের নাম চিন্ময় বিশ্বাস,পরিমল বিশ্বাস, সমীর বিশ্বাস ও উত্তম বিশ্বাস। ধৃতদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ২ ব্লকের মাজিদা পঞ্চায়েতের বড়ধামাস ও ছোটধামাস এলাকায়। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্বস্থলী থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আবগারি দফতর ওই দুই গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ব্লক প্রশাসনের কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। জমিতে থাকা প্রচুর পোস্ত গাছ নষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি বেআইনি ভাবে পোস্ত চাষ করার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ও আবগারি দফতরের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার মানুষজন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়াঁজ চাষের আড়ালে জমিতে বেআইনী ভাবে পোস্ত চাষের কথা গোপন সূত্র মাধ্যমে জানতে পারে পুলিশ ও আবগারি দফতর।এরপরেই এদিন পুলিশ ও আবগারি দফতরের লোকজন বড়ধামাস ও ছোটধামাস গ্রামে অভিযানে যায়। এই দুই গ্রামের যে চারটি জমিতে পোস্ত চাষ হয়েছিল সেই পোস্ত গাছ তারা নষ্ট করে দেন।পূর্বস্থলী থানার আই সি সন্দীপ কুমার গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ধৃত চার জনের জমিতে থাকা প্রায় সাড়ে ৬ হাজারের বেশী পোস্ত গাছ কেটে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তিরা বেআইনী ভাবে জমিতে পিয়াঁজ চাষের আড়ালে পোস্ত চাষ করেছিলেন। তার জন্য ওই চারজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • ...
  • 40
  • 41
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

লোকসভায় বিস্ফোরণ! স্পিকারের ঘরে ঢুকে গালিগালাজ? কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

বাজেট অধিবেশন ঘিরে লোকসভায় শাসক ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোট লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছে। তার মাঝেই স্পিকারকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজু অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসের ২০ থেকে ২৫ জন সাংসদ একসঙ্গে স্পিকারের ঘরে ঢুকে তাঁকে গালিগালাজ করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। সংসদে দাঁড়িয়ে রিজিজু বলেন, কংগ্রেস সাংসদদের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তা বর্ণনা করার মতো নয়। তাঁর কথায়, স্পিকার নরম স্বভাবের মানুষ বলেই তিনি কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেননি।রিজিজু আরও অভিযোগ করেন, যখন কংগ্রেস সাংসদরা স্পিকারের ঘরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন সেখানে মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর মতো সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উল্টে আরও উসকানি দিচ্ছিলেন। বিজেপির অভিযোগ, সংসদের মর্যাদা নষ্ট করা হয়েছে।অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

গম্ভীরের ডিনার ছেড়ে হাসপাতালে! নামিবিয়া ম্যাচে বড় ধাক্কা কি টিম ইন্ডিয়ায়?

বিশ্বকাপের মাঝেই বড় ধাক্কা টিম ইন্ডিয়ায়। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অভিষেক শর্মা। দিল্লিতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে এই খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভারতীয় শিবিরে। অভিষেক ওই ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দলের পক্ষ থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।জানা গিয়েছে, অভিষেকের পাকস্থলীতে সংক্রমণ হয়েছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগেই তিনি পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন। ম্যাচের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। উচ্চ জ্বর আসে এবং ওষুধ দেওয়া হলেও তাতে বিশেষ উপকার হয়নি। তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি। দিল্লিতে কোচ গৌতম গম্ভীরের আয়োজিত নৈশভোজেও কিছুক্ষণ থাকার পর চলে যান অভিষেক।ভারতীয় দলের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন, অভিষেকের পেটের সমস্যা রয়েছে, তবে দুদিনের মধ্যে তাঁকে মাঠে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি দেখে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি তিনি খেলতে না পারেন, তা হলে তাঁর জায়গায় সঞ্জু স্যামসনের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অভিষেকের অনুপস্থিতি ভারতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।এর আগে চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছেন হর্ষিত রানা। ওয়াশিংটন সুন্দর এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের অসুস্থতা দলের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, অসুস্থতা কাটিয়ে এদিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন জসপ্রীত বুমরা। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর খেলা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলের ওপর এখন চাপ আরও বেড়ে গেল।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
দেশ

বেলডাঙা মামলায় রাজ্যকে বড় ধাক্কা! NIA তদন্তে সায় সুপ্রিম কোর্টের

বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় NIA তদন্তে সায় দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আলাদা করে হস্তক্ষেপ করা হবে না।এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বেলডাঙার পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করবে। পাশাপাশি কেন্দ্র যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে NIA তদন্তও হতে পারে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে এবং মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়।শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, UAPA-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ সঠিক হয়েছে কি না, সেই বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট খতিয়ে দেখবে। অর্থাৎ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া আপাতত হাইকোর্টের নজরেই চলবে।জানুয়ারি মাসের শুরুতে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ জেলায় ফেরার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর এলাকায় রেললাইনেও অবরোধ করা হয়। রেললাইনে বাঁশ ফেলে দেওয়া হয় এবং সেখানে মৃতদেহের ঝুলন্ত ছবি দেখা যায়। পুলিশ পৌঁছলে স্থানীয়দের সঙ্গে বচসা বাধে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। এই ঘটনায় সাংসদ ইউসুফ পাঠান কেন সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় যাননি, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিন দিন পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন মিম নেতা বলেও জানা গেছে।এই অশান্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, শুক্রবার জুম্মাবারের দিন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত থাকে। কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি আগে থেকেই তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাইকোর্টে মামলা হলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি NIA তদন্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়।সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ না করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের আবেদন গ্রহণ করেনি এবং মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠিয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের আবেদনে শীর্ষ আদালত গুরুত্ব দেয়নি।সব মিলিয়ে বেলডাঙা হিংসা মামলায় NIA তদন্তের পথে বড় বাধা সরল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে হাইকোর্টে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে বিস্ফোরক ভিডিও! ভবানীপুরে বিজেপির পতাকায় আগুন, তৃণমূলকে নিশানা শুভেন্দুর

বিধানসভা ভোটের আগে ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। একটি সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ফাঁকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বা দুটি ট্যাক্সি। সেই সময় টুপি পরে মুখ ঢাকা দুজন ব্যক্তি সেখানে এসে একটি বিজেপি পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।ঘটনাকে ঘিরে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আসন্ন বিধানসভা ভোটে ভবানীপুর আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নিরাপদ আসন নয়। পতাকা পোড়ানোর ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে অভিযোগ করেন। শুভেন্দুর কথায়, ভবানীপুরে বিজেপির কার্যালয়ের কাছে তৃণমূল কর্মীরাই এই কাজ করেছে। তিনি আরও বলেন, যত বিজেপির পতাকা পোড়ানো হবে, ততই মানুষের সমর্থন বাড়বে। নন্দীগ্রামের মতো ভবানীপুরেও মানুষ জবাব দেবে।অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নেতা জয়প্রকাশ মিশ্র বলেন, যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করুন। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করে লাভ নেই। তিনি দাবি করেন, ভোটের আগে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি।উল্লেখ্য, ভোটের আগে ভবানীপুরে একাধিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে এসআইআর প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তিনি। ফলে ভবানীপুর এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পতাকা পোড়ানোর এই ঘটনা ঘিরে ভোটের আগে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

ডিএ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা, বিরোধীদের আক্রমণ তীব্র

ডিএ আর বিচারাধীন বিষয় নয় বলে দাবি করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য খারিজ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে এবং এটি এখন ক্লোজড চ্যাপ্টার।সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন ডিএ মামলা এখনও বিচারাধীন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। কীভাবে এরিয়ার দিয়ে ডিএ মেটাতে হবে, তার রূপরেখাও শীর্ষ আদালত দিয়েছে। তাঁর দাবি, মার্চ মাসের মধ্যে ২৫ শতাংশ ডিএ না মেটালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী বারবার বিচার ব্যবস্থাকে অপমান করছেন।একই দিনে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এসআইআর নয়, ডিএ সংক্রান্ত হতাশা থেকেই মানুষ চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডিএ ইস্যুতে রাজ্য সরকার চাইলে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডিএ মামলার প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন, তাই তিনি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না। এই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করেছেন বিরোধী দলনেতা।গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে হবে। ২০০৮ সাল থেকে বকেয়া এরিয়ারও দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী ডিএ দিতে হবে বলে স্পষ্ট করে দেয় আদালত। রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পঞ্চম বেতন কমিশন ও রিভিশন অফ পে অ্যান্ড অ্যালোয়েন্স রুল অনুযায়ী ডিএ দেওয়া হচ্ছে এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের আর্থিক কাঠামোয় পার্থক্য রয়েছে। তবে আদালত AICPI অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।এরপর ডিএ মেটানোর দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ নবান্নে স্মারকলিপি জমা দিতে যায়। অনুমতি না পেয়ে তারা ট্রাফিক গার্ডের কাছেই স্মারকলিপি জমা দেয়। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, সাবজুডিস আর জুডিশিয়ারির পার্থক্য বোঝা উচিত। রাজ্য সরকার আর্থিক সঙ্কটের কথা বললেও বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।ডিএ ইস্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ ও এরিয়ার মেটানো নিয়ে এখন নজর মার্চ মাসের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
দেশ

সরকারি অনুষ্ঠানে এবার বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’! বড় নির্দেশ শাহের মন্ত্রকের

সরকারি অনুষ্ঠানে এবার থেকে রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন একসঙ্গে গাওয়া বা বাজানো হয়, তবে প্রথমে বন্দে মাতরম বাজাতে হবে। এছাড়া গান চলাকালীন উপস্থিত সকলকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বন্দে মাতরম-এর পূর্ণ ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের সংস্করণ, যাতে মোট ছয়টি স্তবক রয়েছে, সেটিই সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়া বা বাজানো উচিত। এতদিন সাধারণত দুটি স্তবক গাওয়া হত। বাকি চারটি স্তবক বাদ থাকত। নতুন নিয়মে ছয়টি স্তবকই গাইতে হবে।জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়, সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির আগমন ও প্রস্থানকালে, জাতির উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে ও পরে রাষ্ট্রীয় গীত বাজানো হবে। পদ্ম সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও বন্দে মাতরম বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে রাজ্যপালের আগমন ও ভাষণের আগে এবং পরে এই গান গাওয়া বা বাজানো হবে। তবে সিনেমা হলে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়নি।উল্লেখ্য, জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন গাইতে সময় লাগে ৫২ সেকেন্ড। তার তুলনায় বন্দে মাতরম-এর পূর্ণ সংস্করণ গাইতে সময় লাগবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্র বছরভর নানা কর্মসূচি নিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, হঠাৎ করে বন্দে মাতরম নিয়ে নতুন করে কথা বলা হচ্ছে। গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুর দিয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, পরের স্তবকগুলো নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করা হতে পারে।কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে একদিকে সমর্থন, অন্যদিকে প্রশ্নদুইই সামনে এসেছে। সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার এই নির্দেশিকা নিয়ে দেশজুড়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
বিদেশ

দুপুরে হাইস্কুলে ঢুকে গুলি! মুহূর্তে লাশের স্তূপ, কাঁপছে কানাডা

কানাডার একটি হাইস্কুলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালালেন এক মহিলা বন্দুকবাজ। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। হামলাকারীরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের বন্দুকের গুলিতেই তিনি জখম হন এবং পরে মারা যান। কেন তিনি এই হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।ঘটনাটি ঘটেছে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি হাইস্কুলে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিট নাগাদ হঠাৎই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। মোট পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ১৭৫। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলের কর্মী ও পড়ুয়া মিলিয়ে অন্তত ১০০ জনকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়েছে।পুলিশ স্কুলে ঢুকে এক জায়গায় ৬ জনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। অন্য একটি অংশ থেকে উদ্ধার হয় আরও ২ জনের দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতদের মধ্যে কতজন পড়ুয়া রয়েছে, তা এখনও জানানো হয়নি।হামলাকারী মহিলা একাই এই হামলা চালিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও, অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।একজন নবম শ্রেণির পড়ুয়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, গুলির শব্দ শোনার পর সে সহপাঠীদের সঙ্গে একটি ঘরে লুকিয়ে ছিল। আতঙ্কে কাঁপছিল সবাই।এর আগে ২০২০ সালে নোভা স্কোটিয়ায় এলোপাথাড়ি গুলির ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। ফের স্কুলে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনায় স্তব্ধ কানাডা।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কলকাতা

নির্বাচন কমিশনে জমা তালিকা নিয়ে কারচুপি? শেষ পর্যায়ে নতুন বিতর্ক

এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও বিতর্ক থামছে না। এবার রাজ্য সরকার অভিযোগ তুলেছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। এই নিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। কারা এই ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা করছে, তা স্পষ্ট না করলেও স্বার্থান্বেষী মহল-এর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে।রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসআইআর-এর কাজের জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট ৮৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিকের নাম জমা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সেই তালিকাই ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া গ্রুপ-বি আধিকারিকদের নামের ডেটাবেস বিকৃত করার চেষ্টা করছে। রাজ্যের দাবি, নির্বাচন কমিশনে যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত পে-লেভেল মানদণ্ড মেনেই প্রস্তুত করা হয়েছে।নবান্ন আরও জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির পর্যবেক্ষণের পরই এই তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ এ, বি, সি ও ডি হিসেবে যে শ্রেণিবিভাগ রয়েছে, তা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত। সেই নিয়ম মেনেই অত্যন্ত সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে গ্রুপ বি কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করে কমিশনে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে কোনও অনিয়ম বা বিচ্যুতি হয়নি বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।নবান্নের বক্তব্য, সম্প্রতি যে অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া। বাস্তবের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বলে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়েও রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যে চাপানউতোর চলছে, এই বিজ্ঞপ্তি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal